যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭ ইং

|   ঢাকা - 04:47am

|   লন্ডন - 10:47pm

|   নিউইয়র্ক - 05:47pm

  সর্বশেষ :

  ধর্ম অবমাননা নিয়ে রংপুরে সহিংসতা, আদালতে টিটু রায়ের স্বীকারোক্তি   টিকাতেই নিরাময় হবে ক্যান্সার   মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা ‘জাতিগত বৈষম্যের’ শিকার : অ্যামনেস্টি   ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র জালিয়াতি, আটক ৮   নাইজেরিয়ায় মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৫০   রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চলতি সপ্তাহে সমঝোতার আশা সু চি’র   জানুয়ারি থেকে সব বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ ভাতা: প্রধানমন্ত্রী   আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে সেরা হলেন যারা   পদত্যাগ নয়, জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন মুগাবে   কেন সৌদি আরব এমন করছে?   মরক্কোয় ত্রাণ নেওয়ার সময় পদদলিত হয়ে নিহত ১৫   ৭ মার্চকে ঐতিহাসিক দিবস ঘোষণা চেয়ে হাইকোর্টে রিট   শাহজালালের মাজারের কুপের পানিকে জমজমের পানি বলে প্রতারণা : তদন্তের নির্দেশ আদালতের   এলপিজি আমদানির জাহাজ কিনলো বেক্সিমকো পেট্রোলিয়াম   রোহঙ্গিা সঙ্কট নিরসনে চীনের ৩ ধাপের প্রস্তাব

>>  কলাম এর সকল সংবাদ

কেন সৌদি আরব এমন করছে?

মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জনমনে এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্নটি হচ্ছে- কেন সৌদি আরব এমনআচরণ করছে? বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে কেন এই আচরণ?

প্রশ্ন উঠছে- কেন প্রতিবেশী কাতার,লেবানন, ইয়েমেন ও সিরিয়ার সঙ্গে এভাবে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে সৌদি সরকার? মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে সৌদি আরব কী সত্যিই কী ইসরাইলের সঙ্গে জোট বাধছে?

বলার অপেক্ষা রাখে না- আরব বিশ্ব তথা গোটা মধ্যপ্রাচ্য চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে সময় পার করছে। এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে সৌদি আরব –সে কথা না বললেও চলে। একদিকে সৌদি রাজতান্ত্রিক সরকার অভ্যন্তরীণ

বিস্তারিত খবর

মুখোমুখি অবস্থানে যাচ্ছে পাকিস্তান-আমেরিকা

 প্রকাশিত: ২০১৭-১০-২৯ ১৩:০৬:১১

ধীরে ধীরে মুখোমুখি অবস্থানে চলে যাচ্ছে আমেরিকা ও পাকিস্তান। পরিস্থিতি যেখানে গিয়ে ঠেকেছে তাতে এখন আর মনে হয় না এ অবস্থান থেকে সরে আসতে পারবে ‘সাবেক মিত্র দুই দেশ’। আমেরিকা পাকিস্তানকে কঠোর বার্তা দিচ্ছে আর পকিস্তান উল্টো সে বার্তার জবাব দিচ্ছে; মাথা নত করে মেনে নিচ্ছে না। উপায়ান্তর না দেখে মার্কিন প্রশাসন শুক্রবার যা বলেছে তার সরল অর্থ হলো- “পাকিস্তান কথা না শুনলে ওয়াশিংটন ভিন্ন পথ বেছে নেবে।” কী সেই পথ এখনই তা বলছে না মার্কিন সরকার। তবে পাকিস্তানও ঠিক আগের অবস্থানে নেই; পাক কর্মকর্তারা এখন আর এসব হুমকি ধমকিতে টলছেন না।

গত ২৪ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্র রেক্স টিলারসন পাকিস্তান সফর করেছেন। সেখান থেকে তিনি ভারতেও যান। এ সফরে তার সঙ্গে ছিলেন দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস। এখানে একটু উল্লেখ করে রাখি যে, গত ২১ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগান নীতি ঘোষণার সময় পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়ার জন্য অভিযুক্ত করেন এবং পাকিস্তান সন্ত্রাসীদের জন্য অভয়ারণ্য হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। বিপরীতে ট্রাম্প সন্ত্রাস-বিরোধী লড়াইয়ের জন্য ভারতের ব্যাপক প্রশংসা করেন। এর পরপরই এলিস ওয়েলসের পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়া সফর করার কথা ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্যে পাকিস্তান ক্ষুব্ধ হয়ে এলিস ওয়েলসের সে সফর স্থগিত করে দেয়।

একই সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে দ্রুত সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যেগ নেয় পাকিস্তান। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার আফগান নীতি ঘোষণার মাধ্যমে পাক সরকারকে নতুন মিত্র বেছে নিতে বাধ্য করেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর খুব দ্রুত পাকিস্তানের পাশে ছুটে এসেছে পুতিনের রাশিয়া। ট্রাম্পের আফগান নীতির বিষয়েও মস্কো নিজের রিজার্ভশনের কথা জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ার করে মস্কো বলেছে, পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে মারাত্মক আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে যা আফগানিস্তানের জন্য নেতিবাচক পরিণতি বয়ে আনবে। মূলত এরপরই পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতিতে রাশিয়া মুখী অবস্থান পরিস্কার হতে শুরু করে। এরপরই আমেরিকার বিষয়ে মাথা না নোয়ানোর নীতি গ্রহণে সাহসী হয়ে ওঠে পাক সরকার।

গত কয়েক বছর ধরে ইসলামাবাদ ও মস্কোর মধ্যে ধীরে ধীরে সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে দুই দেশ শীতল যুদ্ধের সময়কার মতপার্থক্যের কবরদিয়েছে এবং পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে নিজেদের ভুলত্রুটি সংশোধন করে এক কাতারে ঠাঁই করে নিচ্ছে।এমন সময় এ সেতুবন্ধন তৈরি হচ্ছে যখন আঞ্চলিক রাজনীতিতে পাকিস্তান অনেকটা কোণঠাসা এবং আমেরিকা ও ন্যাটো জোটের দ্বারা সমালোচিত। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন চাপ মোকাবেলার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে এমন উষ্ণ সম্পর্ক তৈরিরচেষ্টা করে আসছিল। সে কারণে মার্কিন চাপ সত্ত্বেও সিরিয়া যুদ্ধে কথিত আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দেয় নি ইসলামাবাদ; সৌদি চাপে যোগ দেয় নি ইয়েমেন যুদ্ধে।

এ বিষয়ে গত ৪ অক্টোবর দ্য রিপোর্টে ‘ কীভাবে এবং কেন পাকিস্তানের সাহায্যে এগিয়ে এল রাশিয়া?’ শিরোনামে কলাম লিখেছিলাম।

রেক্স টিলারসন ২৪ অক্টোবর পাকিস্তান সফরে যাওয়ার আগে তিনি আফগানিস্তানে যান এবং সেখানে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, তিনি পাকিস্তানের জন্য কঠোর বার্তা নিয়ে যাচ্ছেন। ওই সফরে টিলারসন রাজধানী ইসলামাবাদে না নেমে বরং তিনি গ্যারিসন শহর রাওয়ালপিন্ডির একটি বিমানঘাঁটিতে নামেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনেকটা নিচু পর্যায়ে স্বাগত জানানো হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডিতে তাকে স্বাগত জানান পাক পররাষ্ট্র দপ্তরের মধ্যম পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা। মার্কিন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য পাকিস্তান সাধারণত যে ধরনের অভ্যর্থনার ব্যবস্থা করে থাকে এটা তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না।

রাওয়ালপিন্ডি থেকে টিলারসনকে গাড়িতে করে ইসলামবাদের মার্কিন দূতাবাসে নেওয়া হয়। পরে তিনি পাক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহীদ খাকান আব্বাসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মুহাম্মাদ আসিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়াসহ দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

ওই বৈঠকে টিলারসন বলেছেন, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই ও পাকিস্তানের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তোলা উগ্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসলামাবাদকে সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে। জবাবে পাক প্রধানমন্ত্রী আব্বাসি বলেছেন, “সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লড়াইয়ে আমরা ফলাফল দিয়েছি এবং আমেরিকার সঙ্গে আমরা সুসম্পর্ক চাই। আমেরিকা এ বিষয়ে ইসলামাবাদের ওপর আস্থা রাখতে পারে।"

পরে টিলারসনের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে পাকিস্তান সিনেটকে ব্রিফ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি সিনেটকে জানান, টিলারসনের সঙ্গে বৈঠকে পাক প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বলেছেন, “আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে ১৬ বছরের যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী পরাজিত হয়েছে এবং এ পরাজয় মেনে নেওয়া উচিত। কিন্তু তারা তা মেনে নিতে নারাজ। অথচ আফগান যুদ্ধে পরাজয় মেনে নিলেই কেবল দেশটির সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব।” এখানে খেয়াল করার বিষয় হলো- ড্রোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর আফগান পরিস্থিতির উন্নতির জন্য আরো কয়েক হাজার সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার ঠিক বিপরীত উচ্চারণ হচ্ছে পাক প্রধানমন্ত্রী আব্বাসির বক্তব্য।

টিলারসনের সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তান প্রতিনিধিদলের সদস্যরা পরিষ্কার করে আরো বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে ইসলামাবাদ নিজের সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রেখেই ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করবে। আফগানিস্তানে যেহেতু সামরিক সমাধান ব্যর্থ হয়েছে সে কারণে রাজনৈতিক সমাধানের জন্য মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা নয় বরং রাজনৈতিক নীতি নির্ধারকদেরকে এখন নীতি ঠিক করতে হবে। পাকিস্তান বলছে, আফগানিস্তানে মার্কিনদের ১৬ বছরের ব্যর্থতা তাদের সামনেই রয়েছে। আফগান পরিস্থিতি উন্নয়নের এখন একটাই পথ আর তা হলো আফগানিস্তানে আমেরিকার পরাজয় মেনে নেওয়া।

টিলারসনের সঙ্গে বৈঠকে পাক প্রতিনিধিদল মার্কিন সরকারকে সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে যে, চাইলেই ইসলামাবাদ এখন আর আমেরিকার ডাকে সাড়া দেবে না এবং কারো বিরুদ্ধে প্রক্সি যুদ্ধ করবে না। এ বিষয়ে খাজা আসিফ সিনেটকে বলেছেন, “আমেরিকা থেকে পাকিস্তান সামান্য পরিমাণ অর্থনৈতিক সহযোগিতা পায় কিন্তু কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা পায় না। অতীতে আমেরিকার হয়ে প্রক্সি যুদ্ধ করেছি তবে আমরা আর এখন তেমনটা নেই। পাকিস্তান কখনোই আমেরিকার আধিপত্যকামী মনোভাবের সামনে নতজানু হবে না এবং ওয়াশিংটনের হয়ে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না।”

পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা আফগানিস্তানে হামলা চালাচ্ছে বলে আমেরিকা যে অভিযোগ করছে- তারও কাটকাট জবাব দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটি বলেছে, “পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য নেই। তালেবানের পাকিস্তানের ভুখণ্ড ব্যবহারের দরকার নেই কারণ তাদের সরাসরি দখলে রয়েছে আফগানিস্তানের শতকরা ৪০ ভাগ এলাকা। সেই ভূখণ্ড ব্যবহার করে তালেবান তাদের তৎপরতা চালাতে পারছে স্বাভাবিকভাবেই। শুধু তাই নয়, আফগান সহিংসতার অবসান না ঘটানোর জন্য পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফ আমেরিকা ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীকে অভিযুক্ত করেছেন।

এ বিষয়ে বিবিসি’র কাছে খাজা আসিফ খোলসা করে বলেছেন, “আফগান পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান ও আমেরিকার মধ্যে আস্থার বিশাল ঘাটতি রয়েছে।”

টিলারসনের পাকিস্তান সফরটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ধারণা করা হচ্ছে- এ সফরের ভেতর দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের মনোভাব ও অবস্থান বোঝার চেষ্টা করেছেন। দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস দেশে ফিরে বলেছেন, পাকিস্তানসন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে আমেরিকা সঙ্গে কাজ করবে কিনা সে বিষয়ে ইসলামাবাদকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি আরো বলেছেন, আমেরিকা দেখতে চায় আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বক্তব্যের পর আমেরিকার অবস্থান পরিষ্কার হয়েছে। ওয়াশিংটন খুব কঠোর অবস্থান নিয়েছে তা আর বলা অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু পাকিস্তানও নরম হচ্ছে না। টিলারসনের সঙ্গে বৈঠকে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে ইসলামাবাদ নিজের সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রেখেই ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করবে। তবে আফগানিস্তানে মার্কিনিদের ১৬ বছরের ব্যর্থতা তাদের সামনেই রয়েছে। আফগান পরিস্থিতি উন্নয়নের এখন একটাই পথ আর তা হলো আফগানিস্তানে আমেরিকার পরাজয় মেনে নেওয়া।”

টিলারসনকে পাক কর্মকর্তারা আরো বলেছেন, আমেরিকার কাছ থেকে পাকিস্তান কোনো রকমের সামরিক সরঞ্জাম, অর্থনৈতিক সহায়তা কিংবা অন্য বস্তুগত সুবিধা চায় না। পাকিস্তান শুধু পারস্পরিক সমতা ও সম্মানের ভিত্তিতে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক চায়। এ কথার সুস্পষ্ট অর্থ হচ্ছে- মার্কিন সরকার তার মিত্রদের সঙ্গে বিশেষ করে কথিত তৃতীয় বিশ্বের মিত্রদের সঙ্গে যে প্রভুর মতো আচরণ করে পাকিস্তান তা আর মানবে না। পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের এইসব কথাবার্তা থেকে এটাও পরিষ্কার হয়ে উঠছে যে, আমেরিকার সঙ্গে খুব বেশি দিন আর পাকিস্তানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে না। এর ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। ভারতকে আমেরিকা ড্রোন সরবরাহ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না- সেসব ড্রোন পাকিস্তান সীমান্তে এমনকী পাকিস্তানের আকাশেও ওড়াবে; পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরিতে ব্যবহার করবে ভারত যা পাকিস্তানের জন্য অস্বস্তির কারণ। এরইমধ্যে পাকিস্তান বলেছে, দিল্লিকে ড্রোন দিলে দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্য বিনষ্ট হবে।

ইসলামাবাদ সফরের সময় টিলারসন পাকিস্তান সরকারের কাছে ৭৫ জন ‘ওয়ান্টেড’ ব্যক্তির তালিকা দিয়েছে। জবাবে ইসলামাবাদ দিয়েছে ১০০ অপরাধীর তালিকা যারা আমেরিকায় আশ্রয় নিয়েছে।

এসব ঘটনার পর পাকিস্তানের সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসাদ দুররানি সম্প্রতি ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, মার্কিন সরকার আফগানিস্তানে সেনা মোতায়েন করার জন্য পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, মার্কিন সরকার দক্ষিণ এশিয়ায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে আফগানিস্তানে নিজের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে চায়। জেনারেল দুররানি বলেন,“আমেরিকা পাকিস্তানকে শত শত কোটি ডলার অর্থ সাহায্য দেয় বলে যে কথা প্রচলিত রয়েছে তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং আমেরিকার প্রতি পাকিস্তানের নির্ভরশীলতার যুগ শেষ হয়ে গেছে।”

পাকিস্তানের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের এসব শক্ত কথার পরও জনমনে যে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে তা হচ্ছে- শেষ পর্যন্ত এমন শক্ত অবস্থান টিকে থাকতে পারবে তো পাকিস্তান? আমেরিকা যদি পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাহলে কী করবে দেশটি? এর জবাব জেনারেল আসাদ দুররানির কথাতেই রয়েছে। যদিও তিনি তা বিস্তারিত বলেন নি তবে ধারণা করা যায়- পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে গেলে পাকিস্তানও আমেরিকা ও ন্যাটো সেনাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। আর সেটা হচ্ছে আফগানিস্তানে মোতায়েন মার্কিন ও ন্যাটো সেনাদের জন্য পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার নিষিদ্ধ করে দেবে ইসলামাবাদ। এ ব্যবস্থা নিলে আফগানিস্তানে থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করা কঠিন হবে আমেরিকা জন্য।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় কথিত সন্ত্রাসী হামলা দোহাই দিয়ে আফগানিস্তানে যে আগ্রাসন চালিয়েছিল আমেরিকা তাতে কৌশলে ও চাপ প্রয়োগ করে পাকিস্তানকে জড়িয়ে নানা রকম সুবিধা নিয়েছে আমেরিকা। বিপরীতে পাকিস্তানের আর্থিক ক্ষতি তো বটেই; আফগান সংকটের পর নানা সন্ত্রাসী ও মার্কিন ড্রোন হামলায় পাকিস্তানের ৬৫ হাজারের বেশি সামরিক ও বেসামরিক মানুষ মারা গেছে। উল্টো এখন সেই পাকিস্তানকে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য দোষারোপ করা হচ্ছে; পাশাপাশি পাকিস্তান সন্ত্রাসীদের জন্য নিরাপদ স্বর্গ হয়ে উঠেছে বলে আমেরিকা অভিযোগ করে আসছে। আমেরিকার পক্ষ থেকে বাড়তি চাপ প্রয়োগের কারণে পাকিস্তান দিনে দিনে এই শক্ত অবস্থানে চলে গেছে। এছাড়া, সারা বিশ্বে যে অন্যায় ও বর্বর যুদ্ধ এবং সাম্রাজ্যবাদী নীতি চাপিয়ে দেয় আমেরিকা তা থেকে হয়ত পাকিস্তান দূরে সরে যেতে চাইছে। এই অবস্থান যদি পাকিস্তান ধরে রাখতে পারে এবং মার্কিন বলয় থেকে বেরিয়ে আসে তাহলে তা যেমন নিজের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে তেমনি দক্ষিণ এশিয়া ও ইরানসহ অনেক মুসলিম দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে। মার্কিন বলয় থেকে বের হতে পারলেই মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের বড় রকমের উন্নতি বে বলে আশা করা যায়। এ অঞ্চলে মার্কিন বিরোধী প্রধান দেশ ও শক্তি হচ্ছে ইরান। পাকিস্তান যদি সেই শিবিরে যোগ দেয় তাহলে এ অঞ্চলে মার্কিন বিরোধী শক্তি অনেক বেশি জোরদার হবে।

মার্কিন যুদ্ধবাজ নেতা ও রিপাবলিকান দলের সিনেটর জন ম্যাককেইন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকাকে বের করে দেবে ইরান। পাকিস্তান ও ইরানের সম্ভাব্য ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিনিদের ক্ষয়িষ্ণু প্রভাবের এই বিষয়টা আঁচ করে কী তিনি এমন মন্তব্য করেছেন?

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, রেডিও তেহরান।

বিস্তারিত খবর

আইনস্টাইনের ‘সুখী জীবনের তত্ত্ব’

 প্রকাশিত: ২০১৭-১০-২৩ ১২:৫৭:৫৭

নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের জগতবিখ্যাত তত্ত্বের আড়াল থেকে এবার বেরিয়ে এল তার জীবন দর্শনের এক অনন্য তত্ত্ব।

পদার্থবিদ্যার গবেষণায় নিজেকে সমর্পণকারী এই মহান বিজ্ঞানী সাদামাটা জীবনে বিশ্বাস করতেন বলে মনে হয়। অস্থির, অশান্ত জীবন তার পছন্দ নয়। সফলতার খাতিরেও তিনি অশান্তিকে প্রশ্রয় দিতে রাজি নন। এক টুকরো কাগজে লেখা এক বাক্যের কয়েকটি শব্দে তিনি সেই প্রয়াস ব্যক্ত করে গেছেন।

এখন থেকে প্রায় ৯৫ বছর আগে ১৯২২ সালে টোকিওর একটি ঘটনা। পদার্থবিজ্ঞানের ওপর লেকচার দিতে টোকিও সফরে ছিলেন আইনস্টাইন। উঠেছিলেন ইমপেরিয়াল হোটেলে। তখন তার খ্যাতি ছিল জগতজোড়া। এর আগের বছর পদার্থে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন জার্মানিতে জন্ম নেওয়া আইনস্টাইন। 

জাপানের ঐতিহ্যবাহী হোটেল ইমপেরিয়াল হোটেল। সেখানে থাকার সময় একদিন একজন বার্তাবাহক এলেন। আইনস্টাইনের জন্য একটি চিঠি এনেছেন। প্রেরক কে ছিলেন, জানা যায়নি। আইনস্টাইন চিঠিটি গ্রহণ করলেন। এরপর কিছু মুর্হূতের নাটকীয়তা।

চিঠি পৌঁছে দেওয়া বাবদ আইনস্টাইনের কাছ থেকে টিপস নিতে চাইলেন না বার্তাবহক। জাপানিদের সাধারণ সৌজন্য এমন- কাজের পারিশ্রমিক ছাড়া অতিরিক্ত কিছু নিতে চান না তারা। অথবা এমনও হতে পারে, ওই সময় আইনস্টাইনের হাতের কাছে ছোটখাটো এমন কিছু ছিল না, যা তাকে দেওয়া যায়। কিন্তু বার্তাবাহককে খালি হাতে ছাড়তে ছাইছিলেন না তিনি।

আইনস্টাইন তাকে একটি চিরকুট দেন। সেই চিরকুটেই রয়েছে আইনস্টাইনের ‘সুখী জীবনের তত্ত্ব’। তাতে জার্মান ভাষায় তিনি লিখেছেন : ‘নিরন্তর অশান্তির মধ্য দিয়ে সফল জীবনের সাধনার চেয়ে শান্ত ও ভদ্র জীবন বেশি আনন্দ বয়ে আনে।’ একেই তত্ত্ব বলা হচ্ছে। এই তত্ত্ব এই প্রথমবার সামনে এল।

তত্ত্ব না বলে একে তার একান্ত জীবনদর্শন বলা যায়। নিজের জীবনের খ্যাতির বিষয়ে তিনি এমনটি বলেছেন কিনা, তা বলার সুযোগ নেই- এমনটি মনে করেন জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনস্টাইনের ওপর গড়ে ওঠা সবচেয়ে বড় সংগ্রহশালার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংগ্রহবিদ রনি গ্রোজ। তবে সেই সময় খ্যাতির শিখরে ছিলেন তিনি। বিজ্ঞানীদের বাইরে বিশ্বের সাধারণ মানুষের মধ্যে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

সেই বার্তাবাহক এখন বেঁচে নেই। ঘটনা সম্পর্কে জানা গেছে তার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে। তিনি হাম্বুর্গে থাকেন। তার পরিচয় জানা যায়নি। বার্তাবাহককে আইনস্টাইন যে চিরকুটটি দিয়েছিলেন, তা এখন ওই আত্মীয়ের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি এটি নিলামে বিক্রি করতে চলেছেন। নিলামকারী প্রতিষ্ঠান উইনার মঙ্গলবার জেরুজালেমে এটি নিলামে তুলবে।

ওই আত্মীয়ের ভাষ্যমতে চিরকুটটি দেওয়ার সময় আইনস্টাইন বার্তাবাহককে বলেছিলেন, ‘আপনি যদি সৌভাগ্যবান হন, তাহলে সাধারণ টিপসের চেয়ে এই চিরকুট হয়তো অনেক বেশি মূল্যবান হবে।’ চিরকুটে  সময় ও স্থানের উল্লেখ করে স্বাক্ষর করেন আইনস্টাইন। সেটি টোকিওর ইমপেরিয়াল হোটেলে প্রদর্শন করা হয়।

মহান এই বিজ্ঞানীর ‘সুখী জীবনের তত্ত্ব’ হোক আর অন্য কিছু হোক, বিজ্ঞানের বাইরে আইনস্টাইনকে মূল্যায়ন করতে চান না রনি গ্রোজ। তার মতে, বিজ্ঞানপ্রতিভার অপর নাম আইনস্টাইন। তবে চিরকুটটি তার ব্যক্তিগত জীবনের ভাবনা হতে পারে বলে মনে করেন গ্রোজ।

এলএবাংলাটাইমস/সি/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

মরনঘাতি ‘ব্লু হোয়েল’! সাবধান!!

 প্রকাশিত: ২০১৭-১০-০৯ ১২:১৩:৫৭

গেমটি খেললেই মৃত্যুকে আপন মনে হবে, সুইসাইড করতে সহায়ক মনবৃত্তি তৈরী করে এই ব্লাক গেইমটি! অ্যাপ স্টোর, প্লে স্টোর, ইন্টারনেট বা গুগল কোথাও খুঁজে পাবেন না এই গেম, কারণ এটি ভার্চূয়ালি অবৈধ।

একমাত্র একজন গেমার যদি আপনাকে ইনবক্সে বা মেইল আমন্ত্রণ করে, তবেই খুঁজে পেতে পারেন গেমটি। কারো পাঠানো কোনো গোপন লিংকের মাধ্যমে চলে এই হ্যাকারদের কার্যাদি।

এটি একটি সুইসাইড গেইম অর্থাৎ গেম খেললে মৃত্যু অনিবার্য। এ গেম খেললে কীভাবে মৃত্যু হবে? কী বলেন মনোবিদ?

সাইকোলজিক্যাল বিশ্লেষণ এবং পরামর্শ :
Blue whale এর অর্থ নীল তিমি। নীল তিমিরা মৃত্যুর আগে সাগরের তীরে উঠে আসে– তারা আত্মহত্যা করে বলে অনেকের ধারণা! এ কারণেই গেমের নাম রাখা হয়েছে ‘Blue whale’ বা নীল তিমি। মনে রাখবেন– গেমটি বাধ্য করে তার ইনস্টলকারীকে সবগুলো স্তর খেলার জন্য। ‘ব্লু হোয়েল’ গেমটি ৫০টি লেভেলে বিভক্ত। F57 নামক রাশিয়ান হ্যাকার টিম গেমটি তৈরি করে। ২০১৩ সালে তৈরি হয়েছিল গেমটি, কিন্তু ২০১৫ সালে VK.com নামক সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচুর ডাউনলোড হয় গেমটি।

ফিলিপ বুদেকিন নামক রুশ হ্যাকার যে কিনা সাইকোলজির ছাত্র ছিলো এবং ভার্সিটি থেকে বহিষ্কার হয়েছিলো–তার মাথার বুদ্ধি থেকেই জন্ম নেয় এই গেমটি। রাশিয়ান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তারের পর সে জানায় হতাশাগ্রস্থদের পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেবার জন্যই সে গেমটি বানিয়েছে। হতাশাগ্রস্থদের পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। রাশিয়ায় এ গেম খেলে মৃতের সংখ্যা ১৫১ জন, এবং রাশিয়ার বাইরে মারা গেছে ৫০ জন।

জুলিয়া ওভা ও ভের্নিকা ওভা নামক দুই বোন প্রথম এই গেইমের শিকার। গেমটির ৫০ তম লেভেলে গিয়ে ছাদ থেকে লাফিয়ে ওরা সুইসাইড করেছিলো। জুলিয়া ওভা মৃত্যুর ঠিক আগে সোশাল নেটওয়ার্কে নীল তিমির ছবি আপলোড দিয়ে লিখেছিলো– ‘The end!’

গেমটি মূলত একটি ডার্ক ওয়েভের গেম। ডার্ক ওয়েভ হলো ইন্টারনেটের অন্ধকার জগৎ।

মনে রাখবে- গেমটি একবার ডাউনলোড করলে আর কখনোই আনইনস্টল করতে পারবেন না। গেমটি আপনার ফোনের সিস্টেমে ঢুকে আপনার আইপি এড্রেস, মেইলের পাসওয়ার্ড, ফেসবুক পাসওয়ার্ড কনট্যাক্ট লিস্ট, গ্যালারি ফটো এমনকি আপনার ব্যাংক ইনফর্মেশন, আপনার লোকেশান ও তারা জেনে নিচ্ছে! ‘ব্লু হোয়েল’ গেম ওপেন করা মাত্র আপনাকে একজন অ্যাডমিন পরিচালনা শুরু করবে।

আপনাকে জিজ্ঞেস করবে– ‘গেমটি খেলা শুরু করলে আপনি কোনোভাবেই এর থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন না, আপনি সর্বশেষে মৃত্যু বরণও করতে পারেন, আপনি কি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে আগ্রহী?’

আপনি ইয়েস বা নো অপশনের মধ্যে ‘ইয়েস’ অপশন ক্লিক করা মাত্রই পা দিয়ে দেবেন মৃত্যু ফাঁদে। গেমটির প্রথম দশটা লেভেল খুবই আকর্ষণীয়। ইউজার এডমিন কিছু মজার মজার নির্দেশনা দেন– যেমন রাত তিনটায় ঘুম থেকে উঠে হরর ছবি দেখা, চিল্লাচিল্লি করা, উঁচু ছাদের কিনারায় হাঁটাহাঁটি করা, পছন্দের খাবার খাওয়া ইত্যাদি নির্দেশনা দিতে দিতে এডমিন হাতিয়ে নেবেন আপনার পার্সোনাল ইনফরমেশন। প্রথম দশটা লেভেল পার করার পর আপনাকে তৈরি করা হবে পরবর্তী দশটি লেভেলের জন্য।

পনেরো লেভেল পর্যন্ত চলবে আপনার ইনফরমেশান হাতানোর কাজ! পনেরো লেভেলের পর আপনাকে কঠিন মিশন দেয়া শুরু হবে! যেমন অ্যাডমিন আপনাকে বলতে পারে আপনার হাতে ব্লেড দিয়ে নীল তিমির ছবি আঁকুন! প্রথম বিশটা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করার পর অ্যাডমিন তার কৌশল পরিবর্তন করতে শুরু করে। আপনি টেরই পাবেন না প্রথম বিশ ধাপে সংগ্রহ করে ফেলা আপনার তথ্যের উপর ভিত্তি করে আপনাকে মোহাক্রান্ত বা হিপনোসিস পদ্ধতি প্রয়োগ শুরু করা হবে। আপনি তখন ভাববেন এই গেম ছাড়া আপনার বেঁচে থাকা অসম্ভব। আপনাকে শীতের দিনে খালি গায়ে ঘুরতে বলা হবে, বাবার পকেট থেকে টাকা চুরি করা, বন্ধুর মোবাইল চুরি করা, আপনার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুটার সাথে দুর্ব্যবহারের মিশন দেয়া হবে আপনাকে। আবার এসবের প্রমাণের ছবি বা ফটো এডমিনকে পাঠাতে হবে আপনার। এভাবেই কৌশলে বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের থেকে কৌশলে আলাদা করে ফেলা হবে আপনাকে এবং আপনি পৌঁছে যাবেন পঁচিশ লেভেলে।

পঁচিশ লেভেলের পর নির্দেশনা আসবে মাদক বা ড্রাগ নেবার। এভাবেই সম্মোহিত করে করে আপনাকে তিরিশ লেভেল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। তিরিশ তম লেভেল আপনি অতিক্রম করার পর গেম এডমিন হঠাৎ আপনার সঙ্গে একটু চিট শুরু করবে। ৩১ তম লেভেল আনলক করবে না, এদিকে আপনি হয়ে উঠবেন ক্রেজী। তারপর কিছুদিন আপনাকে সারপ্রাইজ দিয়ে হঠাৎ এডমিন– বলবে একত্রিশ তম লেভেল আনলকড! আপনার নগ্ন ছবি চাওয়া হবে এই স্তরে। আপনি হিপনোসিস ও মাদকের কারণে নিজের নগ্ন ছবি পাঠাতেও চিন্তা করবেন না, ড্রাগ নেবার মাত্রা বাড়াতে থাকবেন আপনি।

এরপর নির্দেশনা আসবে আপনার ভালোবাসার মানুষের সাথে সেক্স করে গোপনে ছবি তুলে আপলোড করতে বা নিজের শরীরে একাধারে শ খানেক সুঁই ফোটাতে এবং ফটো আপলোড করে পাঠাতে। এভাবেই চলে যাবেন আপনি চল্লিশ তম লেভেলে। এবার আপনি ভীত হয়ে গেমার টিমকে অনুরোধ করবেন আপনাকে মুক্তি দেবার জন্য। আপনি কাঁদবেন, হাতজোর করবেন, চাইবেন গেমটি আনইনস্টল করার জন্য। তখন শুরু হবে ব্ল্যাকমেইলিং।

গেমার টিম বা এডমিন তখন আপনারই পাঠানো সকল তথ্য ফাঁস করে দেবার হুমকি দেবে, আপনি বাধ্য হয়ে প্রবেশ করবেন একচল্লিশ তম স্তরে। একচল্লিশ থেকে ঊনপঞ্চাশ তম লেভেলে আপনি প্রচণ্ড হতাশ আর মাদকাসক্ত হবেন…পঞ্চাশতম স্তরে আপনাকে মুক্তির শর্ত দেয়া হবে। বলা হবে আপনাকে নিজের শরীরে অ্যানাসথেসিয়ার ড্রাগ ক্যাটামিন পুশ করে তাদের ছবি পাঠাতে এবং নিশ্চিত দশ তলার চেয়েও উঁচু কোনো ছাদের একেবারে কিনারায় দাঁড়িয়ে যদি সেলফি আপলোড দিতে পারেন তবে আপনি মুক্ত।

আপনি সেটা পারবেন না কারণ শরীরে পুশ করা ক্যাটামিন আপনার মস্তিষ্কে চলে যাবে ততোক্ষণে। আপনার মোবাইলের স্ক্রিনে তখন নির্দেশ আসবে– ‘নিচের দিকে তাকাও। লাফ দাও, মুক্তি পাও!’ আপনি মুক্তি পেতে গিয়ে আত্মহত্যা করবেন।

এই ব্লু হোয়েল গেমটিতে ব্যবহার করা হয়েছে চমৎকার গ্রাফিক্স, ব্যাক গ্রাউন্ড মিউজিক যা ভীষণ করুণ! All i want ও Ranway গানের মিউজিক ব্যবহার করা হয়েছে। দুটো মিউজিক শুনলেই শরীরের রক্ত হিম হয়ে যাবে।

সবশেষে বলব– এসব আজেবাজে গেম কেউ আপলোড করবেন না। নিজেকে ভালোবাসুন, পরিবারকে সময় দিন, জীবনকে ভালোবাসুন।


এলএবাংলাটাইমস/সি/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

আজ শরতে কাশের বনে হাওয়ার লুটোপুটি

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৯-২৪ ০১:৪৫:০২

এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি,

কবি কি অতিরিক্ত আবেগ থেকে এ কথা লিখেছেন, আমরা কি কট্টর জাতীয়তাবাদী ভাবনা থেকে এ গান গাই; নাকি সত্যি সত্যি আমাদের জন্মভূমি সকল দেশের রানী? এটা ঠিক সবার কাছেই তার জন্মভূমিকে সকল দেশের রানী মনে হতে পারে। নিছক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, জন্মভূমির সাথে মিশে থাকে মানুষের আবেগ। আমার হৃদয়ে বৃষ্টি নিয়ে যত আবেগ, একজন ভিনদেশির কাছে হয়তো বৃষ্টি মানেই জল কাদা মাখা নোংরা দেদার। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কাছে তুষারপাত, জাপানের মানুষের কাছে চেরি ফোটার দিন, কানাডার মানুষের কাছে পাতা ঝরার কাল যতটা আবেগ নিয়ে আসে; কৃষ্ণচূড়াও বাঙালির মনে ততটাই আবেগ সঞ্চার করে। আবেগ দূরে রেখেও আমি ভেবে দেখেছি, বাংলাদেশ কি নিছক জন্মভূমি বলেই আমার এত প্রিয়, নাকি সত্যিই বাংলাদেশ সুন্দর? আমি মন থেকে বলছি, বাংলাদেশ সত্যি অনেক সুন্দর। কোনো নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিবেচনায় হয়তো অন্য কোনো দেশ এগিয়ে থাকবে। কিন্তু বৈচিত্র্যে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। এই যে আমরা বলি ষড়ঋতুর বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের অনন্যতা হলো ছয়টি আলাদা ঋতুর আলাদা বৈশিষ্ট্যে। বাংলাদেশের ছয় ঋতুর আলাদা রং আছে, রূপ আছে, গন্ধ আছে। আপনি যদি ক্যালেন্ডারের পাতার দিকে নাও তাকান, প্রকৃতির দিকে তাকালেই বলে দিতে পারবেন এখন কোন ঋতু। কৃষ্ণচূড়া গাছে যখন আগুন লাগে, আপনি বুঝে যাবেন গ্রীষ্মের দাপট; গন্ধরাজ-বেলি বা দোলনচাঁপার সৌরভ বা কদমের সৌন্দর্য আপনাকে বর্ষার গান মনে করিয়ে দেবে। শিউলি, কাশের ঢেউ আর নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা জানিয়ে দেবে শরৎ এসেছে। হেমন্তে ধানের খেতে বাতাসের ঢেউ আপনাকে উদাস করবে। শীত এসে প্রকৃতিকে কিছুটা জবুথবু করে দেয় বটে, তবে শীতের ফুলের রং রাঙিয়ে দেবে আপনার মন। পলাশ-শিমুল আপনার মনে বসন্তের হাওয়ার দোলা এনে দেবে। কিন্তু এত সুস্পষ্ট আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকার পরও আমরা কি সবাই শীত, গ্রীষ্ম আর বর্ষার বাইরে অন্য ঋতুগুলো অনুভব করতে পারি?

বসন্তকে বলা হয় ঋতুরাজ। কিন্তু আমার প্রিয় বর্ষা। অবশ্য এবার বর্ষা নগরবাসীর জন্য এমন ভোগান্তি নিয়ে এসেছিল যে, জোর গলায় সে ভালোবাসার কথা বলতে পারিনি। বসন্ত যদি ঋতুর রাজা হয়, তাহলে ঋতুর রানী শরৎ। বাংলাদেশের ঋতু বৈচিত্র্য যতটা দেখার, তারচেয়ে বেশি অনুভবের। তবে ইটকাঠের নাগরিক জঙ্গলে থেকে আপনি ঋতুর মজাটা অনুভব করতে পারবেন না। আপনাকে একটু আশপাশে যেতে হবে। কাশের সমুদ্রের ঢেউ আপনাকে জানিয়ে দেবে শরৎ এসেছে। আর শরৎ মানেই বাতাসে উৎসবের গন্ধ, ঢোলের আওয়াজ। শরৎ নিয়ে গান-কবিতার কমতি নেই। শরৎ নিয়ে মান্না দের একটা গান আছে, ‘আজ শরতে কাশের বনে হাওয়ার লুটোপুটি, মন রয় না, রয় না এই বিদেশে, চায় যে এবার ছুটি।’ কবি এখানে বিদেশ বলতে শহর বুঝিয়েছেন আর ছুটি মানে পূজার ছুটি। কাশের মজাটা হলো, এর বীজ লুকিয়ে থাকে বালুর গভীরে। শরৎ এলেই ফোটে কাশ। মনে আছে ১৯৯২ বা ’৯৩ সালে বাংলাবাজার পত্রিকায় কাজ করার সময় একবার শাহবাগ থেকে কাশফুলের ছবি তুলিয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর পাশের খালি জায়গা, এখন যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্কিং, সেখানে বাতাস ঢেউ খেলে যেত কাশের সমুদ্রে। হয়তো কোনো নদীর চর থেকে বালু এনে ভরাট করা হয়েছিল জায়গাটি। এখন আর শহরের এমন প্রাণকেন্দ্রে কাশ খুঁজে লাভ নেই। তবে এই ঢাকায় এখনো কাশের সমারোহ আছে। উত্তরার দিয়াবাড়ি, আফতাবনগর, আশুলিয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় গেলেই কাশের সমুদ্রে হারিয়ে যেতে পারবেন। তবে ইদানীং নগরবাসীর কাশ বিলাসিতার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়কের পাশের খালি জায়গা। শুক্রবার বিকালে সেদিকে গেলেই চমকে যাবেন আপনি। শত শত মানুষ ছুটে যায় সেখানে। তবে আমার শঙ্কা, শাহবাগের কাশ যেমন হারিয়ে গেছে বছর দশেক পর হয়তো দিয়াবাড়ি, আফতাবনগর বা পূর্বাচলের কাশের সমুদ্র দখল করে নেবে জনসমুদ্র। তখন কাশের খোঁজে হয়তো আপনাকে আরো দূরে মেঘনা, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী বা পদ্মার চরে যেতে হবে।

শুধু কাশ নয়; ছাতিম, জারুল, মধুমঞ্জুরি, শ্বেতকাঞ্চন, কামিনী, রঙ্গন, টগর, রাধাচূড়া, নয়নতারা, কল্কেসহ নানা ফুলে ফুলে সাজে শরতের প্রকৃতি। তবে কাশের মতোই শরতের আরেকটি পরিচিতি হলো শিউলি। ভোরবেলা হালকা কুয়াশায় শিউলিতলায় সাদা চাদর বিছিয়ে রাখা ফুল অন্যরকম এক আবেশ তৈরি করে। এখনো ঢাকার অনেক বাড়িতে শিউলি গাছ আছে। তবে আমি সবচেয়ে বড় শিউলি গাছ দেখেছি নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে। একটি নয়, একাধিক আকাশছোঁয়া শিউলি গাছ আছে সেখানে। এছাড়া শিশু একাডেমি, বাংলা একাডেমি, রমনা পার্কসহ আরো অনেক জায়গায় মিলবে শিউলির দেখা। তবে শিউলির দেখা পেতে আপনাকে যেতে হবে ভোরবেলায়। কারণ শিউলির সাথে সূর্যের আড়ি আছে। গল্প আছে, এক নাগরাজার অপরূপ সুন্দরী রাজকন্যা পারিজাতিকা সূর্যের প্রেমে পড়েন। কিন্তু শত চেষ্টা করেও সূর্যকে না পেয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। তার চিতাভস্ম থেকে জন্ম নেয় যে গাছ, তাতেই ফোটে শিউলি ফুল। কিন্তু সূর্যের দেখা পেলেই বেদনায় ঝরে পড়ে বিরহী শিউলি। শিউলি নিয়ে হাহাকার কবির কণ্ঠেও। কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন:

শিউলি ফুলের মালা দোলে শারদ-রাতের বুকে ঐ
এমন রাতে একলা জাগি সাথে জাগার সাথী কই...।

কবি-সাহিত্যিকদের আদিখ্যেতা সবচেয়ে বেশি সম্ভবত বসন্ত নিয়ে। এরপর হয়তো বৃষ্টি নিয়ে। তবে বাংলা সাহিত্যে শরৎ বন্দনারও কমতি নেই। চর্যাপদ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত শরৎ বন্দনায় ব্যয় হয় অনেক কালি। মহাকবি কালিদাস শরতে এনেছেন ভিন্ন ব্যঞ্জনা, ‘কাশফুলের মতো যার পরিধান, প্রফুল্ল পদ্মের মতো যার মুখ, উন্মত্ত হাঁসের ডাকের মতো রমণীয় যার নূপুরের শব্দ, পাকা শালিধানের মতো সুন্দর যার ক্ষীণ দেহলতা, অপরূপ যার আকৃতি সেই নববধূর মতো শরৎকাল আসে।’ বাঙালির সব আবেগ মূর্ত হয় যার কলমে, শরৎ নিয়ে সেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখাই বোধহয় সবচেয়ে বেশি:

শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি
ছড়িয়ে গেল ছাড়িয়ে মোহন অঙ্গুলি।
শরৎ, তোমার শিশির-ধোওয়া কুন্তলে-
বনের পথে লুটিয়ে পড়া অঞ্চলে
আজ প্রভাতের হৃদয় ওঠে চঞ্চলি।
শরৎ নিয়ে সব লেখা উদ্ধৃত করলে লেখার আকার ভদ্রতা ছাড়িয়ে যাবে। তবু কাজী নজরুল ইসলামের একটা গানের কথা বলার লোভ সামলাতে পারছি না:
এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো শিউলি বিছানো পথে
এসো ধুইয়া চরণ শিশিরে এসো অরুণ-কিরণ রথে।
দলি শাপলা শালুক শতদল এসো রাঙায়ে তোমার পদতল
নীল লাল ঝরায়ে ঢল ঢল এসো অরণ্য পর্বতে।

আমরা সাধারণ মানুষ। অত কাব্য বুঝি না। প্রকৃতি ভালোবাসি। প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে ভালো লাগে। অমল ধবল পালে যে মন্দ মধুর হাওয়া লাগে আমরা তাতে ভেসে যাই। তাই মন্দ মধুর শীতল হাওয়ার ছোঁয়া পেতে ভোরেই বেরিয়ে পড়–ন শিউলির খোঁজে। নরম আলোর বিকালটা কাশের সাথে কাটাতে চাইলে ঘুরে আসুন আপনার বাড়ির পাশের কোনো নদীর চর থেকে। আর ঢাকায় থাকলে চলে যান দিয়াবাড়ি, আফতাবনগর বা পূর্বাচলে। একটাই অনুরোধ ক্যামেরার চোখে, ফেসবুকের ওয়ালে বা ট্যাবের পর্দায় নয়; প্রকৃতি দেখুন নিজের চোখে, অনুভব করুন হৃদয় দিয়ে।


এলএবাংলাটাইমস/সি/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ফিদেল কাস্ত্রো : এক অটল মানব

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-১৩ ০৩:৪১:১৬

ফিদেল আলেসান্দ্রো কাস্ত্রো রুজ, যিনি ফিদেল কাস্ত্রো বা শুধু কাস্ত্রো নামেই পরিচিত। কিউবান রাজনৈতিক নেতা ও সমাজতন্ত্রী বিপ্লবী।

ফিদেল ১৯২৬ সালের ১৩ আগস্ট কিউবার পূর্বাঞ্চলীয় ‍ওরিয়েন্তে প্রদেশে বিরান শহরের কাছে জন্মগ্রহণ করেন।মহান বিপ্লবীর জন্মদিনে অকৃত্রিম শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ফিদেল কাস্ত্রোর জীবন ইতিহাসে ফিরে তাকালে দেখা যায়,  ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। বাবার নাম অ্যাঞ্জেল কাস্ত্রো। বাবা ছিলেন চিনিকল মালিক।  মায়ের নাম লিনা রুজ গনজালেস। ভাই রাউল ও র‌্যামন ছাড়াও ফিদেল বড় হয়েছেন বোন অ্যাঞ্জেলা, এমা ও অগাস্টিনার সাহচর্যে।

ফিদেলের পড়াশোনা শুরু হয় প্রাইভেট জেসুইট বোর্ডিং স্কুলে। এরপর সান্তিয়াগোর ডলোরস কলেজ ও হাভানার বেলেন কলেজ পেরিয়ে কাস্ত্রো ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব হাভানার ল’ স্কুলে। স্বচ্ছল পরিবারের ছেলে হিসেবে আইনজীবী হয়ে সহজ-সরল দিন কাটাতে পারতেন ফিদেল।কিন্তু ফিদেল বেছে নেন বন্ধুর পথ। হাভানার ল স্কুলে এসে জড়িয়ে পড়েন ছাত্র আন্দোলনে। ওই সময়েই তার মনে কিউবান জাতীয়তাবোধ, সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা ও সমাজতন্ত্রের প্রতি পক্ষপাতের ছাপ পড়ে।

১৯৪৭ সালে ডমিনিকান রিপাবলিকে তখনকার স্বৈরশাসক রাফায়েল ত্রুজিলোকে উৎখাতে এক বিদ্রোহে অংশ নেন ফিদেল। তাতে ব্যর্থ হলেও দমে যাননি তিনি। পরের বছর চলে যান কলম্বিয়ার বোগোতায়। সেখানে তিনি সরকারবিরোধী দাঙ্গায় অংশ নেন।

একই বছর কাস্ত্রো যোগদেন সংস্কারপন্থি দল ‘পার্টি দো অর্তোদক্সোতে (অর্থোডক্স পার্টি)’। কমিউনিস্টবিরোধী ওই দলের প্রার্থী এদুয়ার্দো চিবা ১৯৪৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়।

এ সময় মার্কসবাদে আকৃষ্ট হন ফিদেল; একইসঙ্গে কিউবান কংগ্রেস নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ১৯৫২ সালে মার্কিন মদতপুষ্ট স্বৈরশাসনের অবসান ঘটাতে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেন তিনি। এজন্য  ‘দ্য মুভমেন্ট’ নামে একটি গ্রুপ গঠন করেন। ১৯৫৩-র ২৬ জুলাই দ্য ‍মুভমেন্টের ১৫০ সদস্য কিউবার সান্তিয়াগোতে থাকা মানকাদা মিলিটারি ব্যারাকে আক্রমণ করে। ওই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে কাস্ত্রোকে বন্দি করা হয়। এরপর তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জেলে থাকার সময় ফিদেল তার দলের নাম বদলে রাখেন ‘টুয়েন্টি সিক্সথ অব জুলাই ‍মুভমেন্ট’। দুই বছর পর এক ‍চুক্তির মাধ্যমে মুক্তি পেয়ে সহযোগীদের নিয়ে মেক্সিকোয় পাড়ি জমান ফিদেল। সেখানেই দেখা হয় আর্জেন্টাইন চে গুয়েভারার সঙ্গে।

মেক্সিকোতেই ফিদেল, রাউল ও চে পরিকল্পনা করেন কিউবায় পুনরায় ফিরে গিয়ে বাতিস্তা সরকার উৎখাত করবেন। ১৯৫৬ সালের ২ ডিসেম্বর ফিদেল আর তার ৮১ জন সহযোগী অস্ত্রশস্ত্রসহ ছোট্ট নৌকায় চেপে কিউবার উত্তরাঞ্চলের মানজানিলোতে নামার পরিকল্পনা করেন।

তাদের আসার খবর পেয়ে বাতিস্তা সেখানে বাহিনী পাঠায়। ফিদেলরা নামার সময় গুলি চালালে বেশ কয়েকজন নিহত হয়। চে আর রাউলসহ বাকিদের নিয়ে জঙ্গলে আশ্রয় নেন ফিদেল। সরকারি বাহিনীর সঙ্গে গেরিলা যুদ্ধ শুরুর পর জনগণের সমর্থন নিয়ে ১৯৫৮ সালের শেষ দিক থেকে ফিদেল বাহিনী একের পর এক শহর দখল করতে থাকে। ১৯৫৯ সালের জানুয়ারিতে কিউবা দখলে নেয় ‘টুয়েন্টি সিক্সথ অব জুলাই ‍মুভমেন্ট’।

ফিদেল কাস্ত্রোর সমর্থন নিয়ে ওই বছরই প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ম্যানুয়েল উরুতিয়া, হোসে মিরো কর্দোনা হন প্রধানমন্ত্রী। ফিদেলকে দেওয়া হয় সেনাপ্রধানের দায়িত্ব। পরের মাসেই মিরো পদত্যাগ করলে প্রধানমন্ত্রী হন ফিদেল। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কারখানা এবং খামারগুলোকে জাতীয়করণ করেন তিনি, করেন ভূমি সংস্কার। এই সময় ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়া হয় এবং একইসঙ্গে কিউবায় বিদেশি কোম্পানির সম্পদ জাতীয়করণ করেন। ১৯৬০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং তেল কেনার চুক্তি করেন ফিদেল।

যুক্তরাষ্ট্র মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো ওই তেল পরিশোধনে আপত্তি জানালে ফিদেল তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করেন। ক্ষমতা নেওয়ার পর ১৯৬১ সালই ছিল ফিদেল কাস্ত্রোর জন্য সবচেয়ে সঙ্কটকালীন বছর। বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সঙ্গে তাদের আনুষ্ঠানিক সম্পর্কে ছেদ টানে। ওই বছরের এপ্রিল ফিদেল কাস্ত্রো কিউবাকে ‘সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র’ ঘোষণা করেন। এ সময় সিআইয়ের প্রশিক্ষণে ওই বছরই কিউবা থেকে পালিয়ে যাওয়া ১৪০০ দেশত্যাগী কিউবার ‘বে অফ পিগে’ ফিরে ফিদেলকে উৎখাতের চেষ্টা চালায়।

১৯৬৫ সালে কাস্ত্রো কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে নিজের দলকে একীভূত করেন, নিজে হন দলের প্রধান। কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি আবির্ভূত হন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির একনিষ্ঠ সমালোচক হিসেবে।

১৯৬৬ সালে কাস্ত্রো এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশে দেশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত করতে গড়ে তোলেন নানা সহায়ক প্রতিষ্ঠান। পরের বছর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন লাতিন আমেরিকান সলিডারিটি অর্গানাইজেশন, যার হাত ধরে এর পরের কয়েক দশকে ওই অঞ্চলের অনেকগুলো দেশেই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়।

১৯৭০ এর দশকে কাস্ত্রো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সোভিয়েত বিপ্লব এগিয়ে নিয়ে যেতে সামরিক সহায়তাও পাঠান। তার পাঠানো সেনাবাহিনী যুদ্ধ করে অ্যাঙ্গোলা, ইথিওপিয়া ও ইয়েমেনে।

১৯৭৩ সালে আলজিয়ার্সে জোট নিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলোর সম্মেলনে যোগ দেন কাস্ত্রো। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা হয় তার। দুই নেতাই একে অপরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় সামরিক আগ্রাসন না চালালেও ফিদেলকে হত্যা করতে একের পর এক চেষ্টা চালিয়ে যায়।কিউবার গোয়েন্দাদের দাবি, কেবল  কাস্ত্রোকে হত্যার জন্য ৬৩৮টি চেষ্টা চালিয়েছে সিআইএ।

ফিদেল কাস্ত্রোর শাসনামলে কিউবাজুড়ে ১০ হাজার নতুন স্কুল খোলা হয়। শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া হয় পাহাড়ি, দুর্গম প্রত্যন্ত সব অঞ্চলে। এর ফলও মেলে হাতেনাতে, অল্প সময়ের মধ্যে কিউবার স্বাক্ষরতার হার হয়ে দাঁড়ায় ৯৮ শতাংশ।

তবে কাস্ত্রোর সমালোচনাও কম নয়। পশ্চিমারা তাকে ‘অধিকার হত্যাকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। তার আমলে বন্ধ হয়েছে পেশাজীবী আন্দোলন, শ্রমিক ইউনিয়নের ধর্মঘট করার অধিকার। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বেসরকারি গণমাধ্যম, বিপাকে পড়েছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। বিরোধী দলগুলোকে দমন-পীড়ন ও সেসব দলের নেতা-কর্মীদের নির্যাতন এবং জোরপূর্বক দেশত্যাগ করানোরও অভিযোগ আছে ফিদেলের ‍বিরুদ্ধে।

১৯৯১ সালে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কিউবার অর্থনীতি বড় ধাক্কা খায়। ধস ঠেকাতে নতুন পন্থা নেন ফিদেল কাস্ত্রো। ডলারের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সঙ্গে স্বল্প আকারে পর্যটনও চালু করেন ফিদেল। প্রায় চার দশক পর ১৯৯৬ সালে আবারো যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান ফিদেল।

২০০১ সালে হারিকেন মিশেলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত কিউবায় যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য পাঠাতে চাইলেও তা ফিরিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নগদ টাকায় খাদ্য কেনার প্রস্তাব দেন ফিদেল। এ সময় তিনি ১১৮টি কারখানা বন্ধের আদেশ দেন।

নব্বই দশকের শেষদিক থেকে কাস্ত্রো অসুস্থতায় ভুগতে থাকেন। আর ২০০৬ সালের  ৩১ জুলাই আচমকা এক ঘোষণায় ছোটভাই ও সরকারের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা রাউলের হাতে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেন ফিদেল।

২০০৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি কাস্ত্রো আনুষ্ঠানিকভাবে কিউবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। ২০০৮ সালে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর প্রকাশ্যে খুব একটা আসতেন না ফিদেল। অবসরে নিজের অভিজ্ঞতা ও মত পত্রিকায় প্রকাশ করতে ‘রিফ্লেকশন অব ফিদেল’ নামে কলাম লেখা শুরু করেন ফিদেল। ২০০৭ সালে তার আত্মজীবনী ‘মাই লাইফ’ প্রকাশিত হয়।

১৯৫৯ সালে ক্ষমতা দখলের পর কম লোকই ভেবেছিল ফিদেল কিছু করতে পারবেন।কিন্তু তিনি দেশের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ, হত্যার ষড়যন্ত্র পেরিয়ে একটি কমিউনিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। যা টিকে আছে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরও।

২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর তিনি মারা যান। আদর্শ ভিন্ন হলেও মৃত্যুর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ফিদেল কাস্ত্রোকে বিশ্বের অনেক নেতা বিংশ শতকের প্রতীক বলে অভিহিত করেন।


এলএবাংলাটাইমস/সি/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন উদ্যোগের অভাব

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-১২ ০৮:২৪:৩০

গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পর থেকে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে রুটিন বা দৈনন্দিন কার্যক্রম ছাড়া আর কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। এশিয়ার অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ দেশেই এখনও নিয়োগ দেওয়া হয়নি মার্কিন রাষ্ট্রদূত। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও বেশিরভাগ কর্মকর্তাও এখনও নিয়োগ পাননি। জনবলের এই সংকটের কারণেই মূলত রুটিন কাজের বাইরে নতুন কোনও উদ্যোগ নিতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন এখনও তাদের এশিয়া নীতি তৈরি করেনি। চীন বা ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশে এখনও দেশটির রাষ্ট্র্রদূত নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও এখনও অনেক পদে নিয়োগ না দেওয়ায় শূন্যতা তৈরি হয়েছে।’
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ট্রাম্পের এশিয়া নীতি কী হবে এবং সেই নীতি পরিচালনার জন্য কাদের নিয়োগ দেওয়া হবে সে বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ দক্ষিণ এশিয়া নীতির একটি অংশ বাংলাদেশ। যতক্ষণ পর্যন্ত না সেই নীতি সবার কাছে পরিষ্কার হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে নতুন উদ্যোগের জন্য।’
এ বিষয়ে আরেক সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক মোহাম্মাদ জমির বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিকল্পনা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প কিছুদিন আগে সৌদি আরব সফর করেছেন এবং তার মধ্যপ্রাচ্য নীতির বিষয়ে লোকজন এখন অনেক কিছু জানে।’ জমির বলেন, ‘আগামী কিছুদিনের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা আছে। এই সফর হলে ওয়াশিংটন হয়তো তার বৃহৎ দক্ষিণ এশিয়া নীতি তৈরি ও বাস্তবায়ন শুরু করবে।’
বর্ষীয়ান এই কূটনীতিকের মতে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা কোনও দেশ নয়। এ কারণে মার্কিন নীতি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত কয়েক মাসে রুটিন কাজের বাইরে দুই দেশ টিকফা বৈঠক করেছে। সেখানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সম্পর্কের নতুন উদ্যোগ নেওয়াটা কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি।  

বিস্তারিত খবর

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশও

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-০৮ ১০:৫৯:১৯

হাসান মাহামুদ
মানুষের তৎপরতার কারণে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমনের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এই গ্যাসের নির্গমন মাত্রা কমিয়ে আনার বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয় জলবায়ু সম্মেলন। চূড়ান্ত চুক্তির খসড়ার বিষয়ে সমঝোতা হয় বিশ্বের ১৯০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণে ওই সম্মেলনে। চুক্তিটিকেই বলা হয় ‘প্যারিস জলবায়ু চুক্তি’। এটি বর্তমান বিশ্বে সর্বাধিক দেশের সম্মতিতে তৈরি হওয়া একটি চুক্তি। এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে বিশ্বের ১৭৫টি দেশ। ২০১৬ সালের এপ্রিলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। আন্তর্জাতিক কোনো চুক্তিতে একদিনে এত বেশিসংখ্যক রাষ্ট্রের স্বাক্ষর করার এটি নতুন একটি রেকর্ড।
চুক্তি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হয়, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি এমন পর্যায়ে বেঁধে রাখার উদ্যোগে নেওয়া হবে, যাতে তা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না হয়। বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবেলার এই চুক্তিকে জাতিসংঘের মহাসচিব অভিহিত করেছিলেন ‘ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি’ হিসেবে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দুটি দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। বিষয়টি বর্তমানে সারাবিশ্বেই স্বীকৃত। এই দুটো দেশও চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করে।  আমরা জানি, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগের নাম এবং কারণ। আগামী সব প্রজন্মের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে। সমর্থনকারী সব দেশসহ নীতিনির্ধারকরাও আশা করেছিলেন, প্যারিস চুক্তি সবার ভবিষ্যতকে সুন্দরভাবে গড়ে দেবে। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় নতুন করে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে।
জলবায়ু চুক্তিটি নিয়ে প্যারিসে অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি ছিল ২১তম কপ সম্মেলন বা ‘কনফারেন্স অব পার্টি’। এতে উপস্থিত থাকা বাংলাদেশের একটি গবেষণা সংস্থার নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে একবার সম্মেলনটি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন- ‘সম্মেলনের সময়ও রিপাবলিকান সিনেটরদের এ বিষয়ে অনীহার বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।’ প্রসঙ্গত, তখন দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডেমোক্রেট পার্টির প্রার্থী বারাক ওবামা। সম্মেলনে চুক্তিটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক দিক থেকে বলা হয়েছে, কমপক্ষে ১০০ বিলিয়ন ডলার হবে। যদিও অনেকেই এই ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তিনি আরো বললেন- ‘তখন আমেরিকার প্রতিনিধিরা বলেছিলেন, তাদের ইচ্ছা থাকলেও অনেক কিছু করতে পারে না। তাদের রিপাবলিকান সিনেটরদের বোঝাতে হয়। আবার, চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন কিছু তারা করবে না।’ অবশ্য ডোনাল্ট ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার কথা বলেছিলেন। ‍২ জুন তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই চুক্তি থেকে বের করে আনেন।
কার্বন ব্রিফের তথ্য অনুযায়ী, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের জন্য দায়ী। এছাড়া ৫৫ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ করে থাকে ৫৫টি দেশ। এই দেশগুলো চুক্তিতে অনুসমর্থন দিলেই কার্যকর হবে প্যারিস চুক্তি। বাকি দেশগুলোও এতে অনুসমর্থন জানালে বিশ্বব্যাপী গ্রিন হাউজ গ্যাসের নিঃসরণের পরিমাণ কমতে শুরু করবে কার্যকরীভাবে। সবকিছু প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোচ্ছিল। কিন্তু এখানে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! ট্রাম্পের ঘোষণার মাধ্যমে কার্বন নির্গমনকারী সবচেয়ে বড় দেশটিই সরে গেল।
যদিও এর আগে গত ২৮ মার্চ ট্রাম্প আগের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জলবায়ু নীতির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ‘ক্লিন পাওয়ার প্ল্যান’সহ অন্তত ছয়টি পদক্ষেপ বাতিল করে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ-বিরোধীসহ ছয়টির বেশি পদক্ষেপ বাতিল হয়ে গেল। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র কার্বণ নিঃসরণের অঙ্গীকার করেছিল। ওবামার ক্লিন পাওয়ার প্ল্যানের (সিপিপি) গ্রিন রুল কার্বন নিঃসরণে সহায়ক ছিল। ওই নীতি অনুযায়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নিরুত্সাহিত করার কথা বলা ছিল। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। এমনকি সরকারি জমিতে কয়লা উত্পাদন এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুকেন্দ্র নির্মাণে অনুমতি না দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। এই পদক্ষেপকে ওবামার ‘কয়লাবিরোধী যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। ওবামার নীতি রিপাবলিকান পরিচালিত রাজ্যে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিল। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
এখন ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন নীতিতে কাজের ক্ষেত্র যেমন বাড়বে, তেমনি জ্বালানি আমদানিও কমে যাবে। ব্যবসায়ীরা তার পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও পরিবেশবাদীরা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, এই পদক্ষেপ দেশে এবং বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র যে অঙ্গীকার করেছিল তা নতুন আদেশে ভঙ্গ হবে। পরিবেশবাদীরা আইনের আশ্রয় নেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেছে এই ধরনের নির্বাহী আদেশে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পর বিশ্বব্যাপী হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নতুন নির্বাহী আদেশকে প্যারিস চুক্তি ভঙ্গের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে চীন। এই প্রেক্ষাপটে বেইজিং আশঙ্কা করছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম রাখার ঐতিহাসিক অঙ্গীকার থেকে সরে আসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তারা জানিয়েছে, তেমন ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রের ওই অঙ্গীকারের দায় চীন নেবে না। চীনের এই প্রতিক্রিয়ার পর আরো সংশয়ের মধ্যে পড়েছে জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের প্যারিস অঙ্গীকার।
এরই মধ্যে অনেকেই বলছেন, ট্রাম্পের আদেশের ফলে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নে বিঘ্ন ঘটবে। যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ২৬ থেকে ২৮ শতাংশ কমানোর যে অঙ্গীকার করেছিল, ট্রাম্প কয়লাভিত্তিক বিদ্যুকেন্দ্র চালু করলে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কঠিন হবে। জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণে রেখে এই গ্রহকে পরবর্তী  প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য রাখা সত্যিই এক কঠিন চ্যালেঞ্জের  মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট এবং ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভালুয়েশন-এর ২০১৭ সালের এক যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, বাতাসে ক্ষতিকর কণার কারণে বিশ্বে প্রতি বছর ৪২ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। যার মধ্যে চীনে ১১ লাখ ৬ হাজার, ভারতে ১০ লাখ ৯০ হাজার এবং বাংলাদেশে ১ লাখ ২২ হাজার জন ২০১৫ সালে মারা গেছেন। এর থেকে প্রতিবেদনের জন্য জমা রাখার বিধানটি ছিল।
শিল্পোন্নত দেশগুলো পরিবেশ রক্ষায় কোনো বিধি-বিধান না মানায় বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে। একদিকে সাগর জলের উচ্চতা বৃদ্ধি, আবার অন্যদিকে অসময়ের খরা, বৃষ্টি, ঝড়, জলোচ্ছাসের বৃদ্ধি ঘটছে মাত্রাতিরিক্তভাবে। এর আর্থিকসহ বিভিন্ন ক্ষতির পরিমাণও বিশাল। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী না হয়েও বাংলাদেশ শুরুর দিকের কয়েকটি দেশের সঙ্গেই ওই চুক্তিতে অনুসমর্থন দেয়। বর্তমান সরকারেরও এ বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু আমরা সাধারণ জনগণের অনেকেই এখনো এই চুক্তিতে কি রয়েছে, তাই জানি না। সরকারের উচিত, চুক্তিটির সব বিষয় প্রকাশ করা।
তবে, সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে- চুক্তিটি বাস্তবায়ন না হলে আমরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবো। সেক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে আ্যান্টার্কটিকার বরফ পিণ্ড যেভাবে তার অবস্থান থেকে সরে আসছে, তেমনি মানবজাতির স্বার্থে পৃথিবী নামক এই গ্রহকে রক্ষার স্বার্থেই বিশ্বের সর্বাপেক্ষা শক্তিধর দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে না গিয়ে, এর সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবেন।
লেখক : সাংবাদিক।  

বিস্তারিত খবর

ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনঃ

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৫-১৭ ১৬:১১:৪৭

শুধু শাহবাগে নয়, প্রতিটি পরিবারে, পাড়ায়, মহল্লায় প্রতিরোধ গড়ে তুলুন ধর্ষণ বিরোধী। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে জলাশয়- কোথায় হচ্ছে না ধর্ষণ? পাঁচ বছরের শিশু থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, কেউই এসব জানোয়ারদের ছোবল থেকে বাঁচতে পারছে না। কিছু দিন আগে মেয়ের ধর্ষণের বিচার না পেয়ে মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন একজন বাবা। আর বাকিরা যারা বেঁচে আছে, তারা না মরে বেঁচে আছে ঠিক যেমনটি বেঁচে আছে তনুর মতো কন্যাদের বাবারা ।
আমাদের অন্যায্য পুরুষ শাষিত সমাজে ধর্ষকরা নন্দিত, ধর্ষিতারা নিন্দিত। ধর্ষনের সমস্ত দায়ভার, সমস্ত লজ্জ্বা, সমস্ত অপমান আর উপহাসের ভারী পাহাড় সমাজ তুলে দেয় নারীর উপর, আর পশুর ন্যায় ধর্ষক পুরুষরা পৈশাচিক অত্যাচার করেও তাদের ক্ষমতা, উপর তালার মানুষদের সহযোগিতা আর অর্থের বলে পার পেয়ে যায় তাদের অপরাধ থেকে। সমাজে লজ্জিত, লাঞ্ছিত হয় ধর্ষিতা নারী, অত্যাচারিত হয়েও মুখ ঢেকে চলতে হয় সমাজের উপহাস এড়াতে- কারণ কলঙ্ক শুধু নারীর জন্য, পুরুষের জন্য নয়। সমাজের এই কলঙ্কজনক পরিস্থিতির মোকাবেলা সম্মিলিতভাবে না করা পর্যন্ত সমাজে, দেশে এসব অত্যাচার চলতে থাকবেই। সামাজিক অবহেলায় তিল তিল করে মরে যাওয়া ধর্ষিতা্দের অভিশাপগ্রস্ত দেশটির নাম বাংলাদেশ। মাঝে মাঝে ভয় হয়, ধর্ষকের অভয়ারণ্য কি হয়ে যাচ্ছে আমার আপনার প্রিয় বাংলাদেশ !
যারা আমাদের চারপাশের সমাজকে নারীর বসবাসের অযোগ্য করে যাচ্ছে, মানুষ নামের সেই সব হিংস্র পশুদের আর ছাড় দেবেন না- এই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞ। প্রতিটি মানুষ মেরুদন্ড সোজা করে এদের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, যারা ভাবে ধর্ষণ করার লাইসেন্স তাদেরকে বিত্তবান পিতা বা বিচারহীন সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্র তাদেরকে দিয়েছে। যেহেতু রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা চোখে ঠুলি আর মুখে কুলুপ দিয়ে বসে আছে তাই আমাদের সন্তানের দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে ।
ধর্ষণ প্রতিটি নারীর মেধা, বল, আশা, স্বপ্ন, লক্ষ্য, ও সম্ভ্রমকে ধূলায় মিশিয়ে দেয়। ধর্ষিতা মায়ের সন্তানের বেদনা, ধর্ষিতা বোনের ভাইয়ের কষ্ট, ধর্ষিতা কন্যার পিতার শোক, নারীর সর্বস্ব হারানো অপরিমেয় মরম-জ্বালা উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন । বর্বর ধর্ষকদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলাতেই হবে।
গত ২৮ মার্চ জন্মদিনের পার্টিতে নিয়ে দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের এই মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ দেশের শীর্ষস্থানীয় অলঙ্কারের ব্র্যান্ড ‘আপন জুয়েলার্স’র মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে। নারীর সম্মানে যারা হাত দিয়েছে তাদের প্রতি ঘৃণা জানিয়ে আসুন প্রতিজ্ঞা করি কোনো নারী আর নিজেকে সাজাবে না “আপন জুয়েলার্স' অলঙ্কারে”- যদি সেই অলংকার বিনামূল্যেও হয় , তবুও না।ঠিক তেমনি ভাবে ধর্ষক ও ধর্ষক পরিবারকেও সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যান করুন| পৃথিবীর যেই প্রান্তেই তারা পালাক না কেন তাঁদেরকে ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করুন|
আমরা যদি একটু পিছনের দিকে দেখি একটা সময় নারীর প্রতি “এসিড সন্ত্রাস” একটা মারাত্মক সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছিল| তথ্য উপাত্ত অনুসারে বাংলাদেশে প্রথম এসিড সন্ত্রাস ঘটনা ঘটে ১৯৬৭ সালে। এর পর আবার এসিড সন্ত্রাস আলোচনায় আসে ১৯৯৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বরে শামিমার নামক এক ১৪ বছর বয়সীর প্রতি এসিড নিক্ষেপ করায়। এসিড সারভাইভাল ফাউন্ডেশনের হিসাবে ১৯৯৯ সাল থেকে বাংলাদেশে ৩ হাজারেরও বেশি এসিড হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ২০০২ সাল। ওই বছর ৫০০টি এসিড হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই হামলার ঘটনা কমতে থাকে। ২০১১ সালে ৯১টি ও ২০১২ সালে ৭১টি হামলা হয়েছে। ২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকার এসিড সন্ত্রাস দমনে কঠোর আইন প্রণয়ন করে। অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের পাশাপাশি এসিডের ব্যবহার, মজুত ও বিক্রির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এসিড নিক্ষেপকারীর জামিন নামঞ্জুর ও এক বছরের মধ্যে তাদের বিচার শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়, আগে যেখানে বছরের পর বছর লেগে যেত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি দেয়ায় বিধান করা হয়েছে। বাংলাদেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী এসিড ছোড়ার শাস্তি হিসেবে রয়েছে সর্বনিন্ম ৭-১২বছরের জেল বা সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
এই পরিসংখ্যানে দেখলে বুঝা যায় বাংলাদেশের এসিড নিক্ষেপের ঘটনা যেভাবে কঠোর হাতে দমন করা হয়েছ দেরিতে হলেও, তাহলে ধর্ষনের ক্ষেত্রে কেন হচ্ছে না ? নাকি আরো কিছু নারীর অভিশাপে অভিশপ্ত হতে হবে আমাদের? আমি এটাও স্বীকার করছি, আইন বিদ্যমান থাকলেও অনেক সময় আইনের অপর্যাপ্ত প্রয়োগ না করার কারনে এসিড নিক্ষেপকারী দিব্যি ঘুরে বেড়ায়। তার পরেও এসিড সন্ত্রাস শূন্যের কোঠাতে না নামলে ও অনেক মাত্রায় নিবারণ করা হয়েছে । যে হারে ধর্ষনের মাত্রা বাড়ছে এটা একটা সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়ে গিয়েছে । নারীকে ঘরে বসিয়ে রাখলে বা ছালার বস্তা পড়িয়ে রাখলেও যারা শকুন তাদের চোখ ঠিক খুঁজে বের করবেই। এদের প্রতিহত করতে পারে শুধু মাত্র মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে । এই সব ধর্ষিতারা আমার আপনার সন্তান নয়, কিন্তু তাতে কি? কাল যে এই বিষাক্ত সাপের ছোবল থেকে আপনার সন্তানকে বাঁচাতে পারবেন তার কি কোন নিশ্চয়তা আছে? এবার যদি এই বিত্তশালী পিতার কুপুত্ররা রেহাই পেয়ে যায়, তবে বলবো সামনের দিন আরো ভয়াভয়! তাই আর দেরি নয়, আসুন আমাদের সমাজের নারীদের সম্মান, তাদের স্বপ্নের সূর্য্য স্নাত দিন আর চন্দ্রিমার আলোয় স্নাত নিরাপদ রাত আমরা ফিরিয়ে আনবোই।
ধন্যবাদ সমস্ত সংবাদ মাধ্যম কে/সংবাদ কর্মীকে যারা ধর্ষিতার ছবি প্রকাশ করেননি ।

ভার্জিনিয়া

বিস্তারিত খবর

আমেরিকা থেকে এ্যাথলেটে বাংলাদেশি তরুণী

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৫-১৪ ০২:৫৯:৪৮

বাংলাদেশে এ্যাথলেটিকস এমন একটি খেলা যার মান বছরের পর বছর ধরে ক্রমান্বয়ে শুধু নেমেছে।  কথাটা নির্মম শোনালেও প্রায় দুই যুগ ক্রীড়া সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতার আলোকে এটা আমার ব্যাক্তিগত মুল্যায়ন। যে বাংলাদেশের এ্যাথলেটরা এক সময় অলিম্পিকে পদক জয়ের স্বপ্ন দেখতো, তাদের এখন প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য বাড়ীর পাশে পশ্চিমবঙ্গের এ্যাথলেটদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে ইন্দো বাংলা বাংলাদেশ গেমসে পদক জেতা। বলাবাহুল্য সেখানেও তারা পিছিয়ে একটি রাজ্য দলের কাছে।

দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক খ্যাত সাফ গেমসে একসময় দ্রুততম মানব হত শাহআলম-বিমল চন্দ্র তরফদাররা, সেখানে এখানে এই ইভেন্ট থেকে খালি হাতে ফেরে বাংলাদেশ। কর্মকর্তাদের অর্থ কেলেংকারি, নারী কেলেংকারি, এ্যাথলেটদের মানের অবনমন, স্পন্সর ও মিডিয়ার অবহেলা- এসবই এতদিন পত্রিকার শিরোনাম হত এ্যাথলেটিকসকে ঘিরে। হতাশার এই মিছিলে বেশ চটকদার এক ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশ এ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন সাধারণ সম্পাদক। বাংলাদেশী বংশোৎভূত আমেরিকান এ্যাথলেটদের খেলার সুযোগ দেয়া হবে লাল-সবুজ পতাকার পদতলে। খোদ নিউইয়র্কে বসেই এমন ঘোষণা ফেডারেশনের নতুন সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টুর।

ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে একটি নাম। সে হল- আলিদা সিকদার। বয়স উনিশ বছর। বাবা মোমেন সিকদার পুরো পরিবার নিয়ে লসএ্যাঞ্জেলসের সান্তিয়াগোতে থাকেন বহু বছর। আলিদার মায়ের নাম নাসরিন আহমেদ। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যালিফোর্নিয়ায় লং জাম্প ও হাইজাম্পে চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড় হলেন আলিদা।

মাস খানেক আগে আলোচ্য খেলোয়াড় ও তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য লসএ্যাঞ্জেলসে গিয়েছিলেন আব্দুর রকিব মন্টু। তারা সম্মতি দিয়েছে ১৩ মে থেকে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে শুরু হওয়া ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে বাংলাদেশের এ্যাথলেটিকস দলের হয়ে খেলবেন আলিদা। রবিবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা আয়োজিত এক মত বিনিময় সভায় এই তথ্য দেন বাংলাদেশ এ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন সাধারণ সম্পাদক। তিনি আরো জানান, শুধু আলিদা নন, এভাবে ভালো খেলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরো এ্যাথলেট নেবার ইচ্ছা আছে তাঁর।

আব্দুর রকিব মিন্টু আমেরিকান গ্রিনকার্ডধারী। ওনার বাবা, বড় ভাই ও বোনেরা সবাই খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে পরিবারের বেশীরভাগ সদস্য নিউইয়র্কে থাকেন। আব্দুর রকিব ঢাকা ও নিউইয়র্ক আসা যাওয়ার মধ্যে থাকেন বলে জানালেন। বর্তমানে উনি বাংলাদেশে সহকারী এ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন। কিছুদিন আগে বাংলাদেশ এ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের এডহক কমিটিতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তির পরে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছেন, পিছিয়ে পড়া এ্যাথলেটিকসকে নতুন করে সাজানোর। উপজেলা, জেলা, বিভাগ পর্যায় থেকে শুরু করে এ্যাথলেটিকসের একটি অবকাঠামো নির্মাণ, আন্ত:স্কুল প্রতিযোগিতা, খেলোয়াড় উন্নত প্রশিক্ষণ, প্রকৃত কোচদের মূল্যায়ন, বর্ষপঞ্জী তৈরীসহ ট্র্যাক এ্যান্ড ফিল্ডের গৌরবোজ্জ্বল অতীত ফিরিয়ে আনার আকাঙ্খা আব্দুর রকিব মন্টুর।

তবে সময়ই বলে দেবে নতুন সাধারণ সম্পাদকের কথা ও কাজের মিল কতখানি? আসন্ন ইসলামিক সলিডারিটি গেমস হতে যাচ্ছে তাঁর নেতৃত্বে ফেডারেশনের নতুন চ্যালেঞ্জ! এই গেমসে খেলছে আলিদা। এভাবে আরো খেলোয়াড়দের সুযোগ দেবার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু যে আমেরিকায় এসে এ্যাথলেটরা গেমস ভিলেজ থেকে পালিয়ে যায়, সেই দেশ থেকে যাবে বাংলাদেশে খেলতে? প্রশ্নবিদ্ধ হবে নাতো তাদের দেশপ্রেম? এই প্রশ্ন উপস্থিত অনেকের মুখে।

শুনলে অবাক লাগে যে বাংলাদেশের চারজন দ্রুততম মানব এই নিউইয়র্কে থাকেন। চারজনের মধ্যে সাইদুর রহমান ডন ও শাহানউদ্দিন ব্যাক্তিগত ব্যস্ততার কারনে স্পোর্টস কাউন্সিলের সর্বশেষ এই অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি। তবে ছিলেন দুইজন, তারা হলেন-শাহজালাল মোবিন ও বিমল চন্দ্র তরফদার।

শাহজালাল মোবিন বর্তমানে এক হাইস্কুলের ট্র্যাক এ্যান্ড ফিল্ডের কোচ। ব্রংকসের রিভারডেইলে ফিল্ডস্টোন স্কুলে এই দায়িত্বে আছেন তিনি। ১৯৮৫, ৮৬ ও ৯০ সালে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব মোবিন বলেন, আমেরিকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা খেলোয়াড়দের সুযোগ দেবার বিষয়টি আমি স্বাগত জানাই। এখানকার কোচিং অনেক উন্নত। কারন প্রতিদ্বন্দ্বীতা অনেক বেশী। সেই তুলনায় সাফ কিংবা এশিয়ান পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা কম হওয়াতে, সেখানে আমেরিকায় বসবাসকারী বাংলাদেশী এ্যাথলেটদের ভালো করার সুযোগ অনেক বেশী।’

শাহজালাল মোবিনের দুই ছেলেও এ্যাথলেট। ‘মবিন ভাইয়ের ছেলেরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারে!’ এই অভিমত বিমলের। বিমল চন্দ্র তরফদার। সে অনেকদিন আগের কথা। বিকেএসপির এক অসম্ভব প্রতিভাবান এ্যাথলেটের পায়ের মাংসপেশী দেখে একসময় সবাই তার মাঝে কার্ল লুইসের ছায়া খুঁজে পেতো। বহুদিন আগে  প্রচন্ড আক্ষেপ নিয়ে সেই কথা বলেছিলেন  বিকেএসপির তৎকালীন পরিচালক ফারুকুল ইসলাম। কিন্তু, বাস্তবে কার্ল লুইসের দেশে এসে বিমল হয়ে গেলেন ফেরারী।

১৯৯৬ সালে আটলান্টা অলিম্পিক গেমসে খেলতে এসে মূল কন্টিনজেন্টের সঙ্গে আর দেশে ফিরে যাননি বিমল। থেকে গেছেন এখানে। সম্মানের জীবন ছেড়ে বেছে নিলেন অজ্ঞাতবাস। ওই ঘটনার ২১ বছর পরে কোন খেদ নেই বিমলের। বলেন, ‘দ্রুততম মানব হিসেবে আমার রেকর্ড এখনও ভাঙ্গতে পারেনি কেউ। ১৯৯৩ সালে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুততম মানব হয়েছি। কিন্তু তাতে কি হয়েছে? কোন আর্থিক প্রাপ্তি মেলেনি। পরিবারের কাছে হাত পেতে চলতে হয়েছে। কোন আর্থিক নিশ্চয়তা ছিল না। কিসের টানে তবে পড়ে থাকবো দেশে? যে কারনে মনে হয় না আটলান্টা অলিম্পিক গেমস থেকে এখানে থেকে গিয়ে কোন ভুল করেছি!’


এলএবাংলাটাইমস/সি/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা সামগ্রিকভাবে পূরণ হয় নি

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৪-২২ ০১:৩৭:১২

আকরামুল হাসান মিন্টু
মুক্তিযুদ্ধ মুক্তির নিমিত্তে যুদ্ধ। এই মুক্তি যে কারোরই অধিকার বা তার সত্তার মুক্তি। কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধ বলতে বোঝায় পশ্চিম পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের শোষণের হাত থেকে মুক্তি লাভ। মূলত এটা ছিল আমাদের ভৌগোলিক স্বাধীনতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাধ্যমে আমরা পাকিস্তানীদের বৈষম্যের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ এখনো অব্যাহত আছে। এই প্রত্যয় আমাদের পাথেয়।
মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা মূলত তিনটি- সাম্য,মানবিক মর্যাদা, আর্থনীতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার। যা আমরা পাকিস্তানী শাসকদের কাছ থেকে পাই নি। যা আমরা উপনিবেশিক শাসনকালে বঞ্চিত হয়েছি। এখানে সাম্য বলতে সামাজিক চুক্তি- রাষ্ট্র বনাম জনগণের মধ্যে চুক্তি। রাষ্ট্র জনগণের অধিকার প্রদানে এবং জনগণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে বাঁধিত হবে। এই ভিত্তিতে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে যে বৈষম্য তা দূরীভূত করা। মানবিক মর্যাদা- মানুষ হিসেবে মানুষের মূল্যায়ন অর্থে বিবেচনা। সামাজিক ন্যায়বিচার হল- সমাজে বিদ্যমান সকল বৈষম্যের উর্ধে উঠে সত্যের ভিত্তিতে বিচার করা বোঝায়। এককথায়- সাম্য,মানবিকতা এবং ন্যায়বিচার ইত্যাদি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম চাওয়া-পাওয়া।
সত্যি কথা বলতে গেলে মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা সামগ্রিকভাবে পূরণ হয় নি। সকল ক্ষেত্রে আংশিক সফলতা অর্জন করতে পেরেছে। মূলত আমরা প্রথম হোঁচট খেয়েছি স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম চার বছর। আমার দৃষ্টিতে এই চার বছর ছিল হাহাকারের সময়। যা রফিক আজাদ তার কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন-  ভাত দে হারামজাদা নইলে,মানচিত্র চিবিয়ে খাব। কবি ’৭৪ এর মন্বন্তরের কথা বলেছেন। আসলে, সময়টা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ যা, জাতি রাষ্ট্র গঠনের জন্য যথেষ্ট ছিল বলে আমি মনে করি। আমরা এখানে হোঁচট খেয়েছি। জাতি রাষ্ট্র গঠনে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। পারিবারিক শাসনের উর্ধে উঠতে পারি নি। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যক্তিকরণ করা হল। চলল একনায়কতন্ত্র।
পরবর্তী ১৯৭৬-৮১ ছিল বাংলাদেশের স্বর্ণযুগ। বাংলাদেশের ইতিহাস রচনার সূত্রপাত এই সময়েই। আবির্ভূত হল জাতীয়তাবাদের দামাল স্লোগান নিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জিয়াউর রহমান। আর এই জাতীয়বাদই হয় বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের মুখ্য প্রতীক। আমরা বাঙ্গালি থেকে বাংলাদেশী হলাম। বাংলাদেশের নিজস্ব সত্তার জন্ম হল। তাজউদ্দীন (সমাজতন্ত্রী), মোশতাক(পুঁজিবাদী),ভাসানী(পিকিংবাদী) ইত্যাদি আদর্শের মৃত্যু হল। বাংলাদেশী জাতীয়বাদের আদর্শিক নেতা হলেন জিয়া। সামাজিক,সামরিক ও অর্থনৈতিক শিল্পের উন্নয়ন হল। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বিরাজ করল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। এই ছিল স্বাধীনতার পর আমাদের প্রাপ্তি।
মুক্তিযুদ্ধ এক শ্রেণীর নিকট পৈতৃক সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। তারা মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যা আদৌ কামনা ছিল না। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে এটা কখনো কামনা করি নাই। মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করে এক শ্রেণীর শাসক মহল ব্যক্তি স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে। ফলে, আমাদের নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধকে হেঁয়ালি মনে করে এবং মুক্তিযোদ্ধাকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। আমাদেরকে এই প্রবণতা থেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত আদর্শকে উদ্ধার করতে হবে।
স্বাধীনতার এই দীর্ঘদিন পর- আমার প্রত্যাশা হল মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত আদর্শকে বর্তমান প্রজন্মের নিকট উপস্থাপন করা। আর তা করার জন্য জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। এই সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য আবার আমাদের জাতীয় স্বার্থে জাতীয়তাবাদকে সামনে রেখে সম্মুখ দিকে এগিয়ে যেতে হবে।


লেখক,আকরামুল হাসান মিন্টু,সেক্রেটারি,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।  

বিস্তারিত খবর

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা গড়ার

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৪-২০ ০৯:০৩:০২

 দারুস সালাম শাকিল

১৭৫৭ সালে যখন পলাশীর আম্রকাননে আমাদের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত যায়। সেই স্বাধীনতার পর থেকে আমরা পরাধীন। তারপরে তিতুমীর, হাজী শরিয়তুল্লা, সূর্যসেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বিভিন্ন সময়ে আমাদের দেশের স্বাধীনতাকামীরা আমাদের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে। কিন্তু তাদের এই আন্দোলনগুলো অনেকটা সফলতার মুখ দেখে নি।ফলে, তাদের চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও আমরা স্বাধীনতা পাই নি। পরবর্তীতে হোসেন শহীদ সরোয়ারদী ও আরও কিছু লোকজনের সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অবিভক্ত বাংলা দাবি করে।
পাকিস্তান আলাদা হবে, ভারত আলাদা ও দুই বাংলা একসাথে থাকবে।  সেই আন্দোলন ভেস্তে যাওয়ার পরে। সেই আন্দোলন ফলপ্রসূ হচ্ছিল না। তারপরে আবার পাকিস্তান রাষ্ট্রের পক্ষে আন্দোলন শুরু করে। তখন বঙ্গবন্ধু কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে পড়াশোনা করে। ১৯৩৯ সালে জিন্নার দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত পাকিস্তান বিভক্ত হলে বঙ্গবন্ধু দেখলেন যেই লাউ, সেই কদু। ১৯৪৮ বঙ্গবন্ধুকে ইসলামিয়া কলেজের হোস্টেলে তার ভগ্নিপতি দেখতে যাওয়ার সময় তিনি বলেন। যেই আশা করে আমরা পাকিস্তান করলাম, দেশকে স্বাধীন করলাম। সেই আশা মিথ্যা। আমরা শিয়ালের কাছ থেকে নেকড়ের কাছে এসে পরলাম। পাকিস্তান দিয়ে আমাদের দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব না। ইংরেজদের আমলে আমাদের উপর যেই দুঃশাসন ছিল, পাকিস্তানী আমলে তা কোনভাবেই কমে নি।
১৯৪৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় এসে উর্দুকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করার ঘোষণা দেন। তারা আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির উপরও আঘাত করে। অথচ, দুই পাকিস্তান মিলিয়ে ৬০ শতাংশ মানুষ তখন বাংলা ভাষায় কথা বলত। সত্যিকারে পাকিস্তান জন্মের মাধ্যমে দেশ ভাগ হয়েছিল। কিন্তু আমাদের মুক্তি আসে নি। তাই আমার কাছে স্বাধীনতার অর্থ হলো আমরা শোষণ ও বঞ্ছনা থেকে মুক্তি পেয়েছি। আমরা একটি সার্বভৌম দেশ পেয়েছি।
কেননা পাকিস্তানী আমলে অর্থনৈতিক শোষণ তো ছিলই সেই সাথে সরকারি চাকরিতেও বাঙালিদের নিয়োগের হার ছিল যৎসামান্য। তখনকার বাংলাদেশে ধনী বা কোটিপতি বাঙ্গালির সংখ্যা ছিল না বললেই চলে। যেই কয়েকজন ছিল তারাও বলতে গেলে ছিল পাকিস্তানের দালাল। এমনকি তখনকার পাকিস্তান ক্রিকেট টিমেও বাঙালিদের রাখা হত না। যা ও দুই একজনকে রাখা হত তাদের খেলায় সুযোগ দেওয়া হত না। তাছাড়া, বাঙালি কোন সামরিক কর্মকর্তাকে মেজরের উপর পদোন্নতি দেওয়া হত না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে আমাদের স্বাধীনতা আসে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা গড়ার। বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে বাংলাদেশকে দাড় করাবার। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু সত্যি করে বলতে গেলে দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৬ বছর পরও আমাদের স্বাধীনতা প্রত্যাশা পূরণ হয় নি। এর কারণও আছে কিছু। 
১৯৪৭-১৯৭১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৪ বছরের বেশিরভাগ সময় জুড়েই পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সামরিক বাহিনীর প্রভাব ছিল। যার ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পরও থেকে গিয়েছিল ১৯৯০ সাল পর্যন্ত। ১৯৭৫ সালের পর থেকে বলতে গেলে জিয়াউর রহমান ও এরশাদ ই সামরিক শাসক হিসেবে সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতা দখল করে রাখে। এরপরের কয়েকটি বছর বাংলাদেশকে কাটাতে হল বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন শিরোপা নিয়ে।
তাই বলা যায় এক ধরণের ডিক্টেটরশিপ, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে আমাদের স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন বা প্রত্যাশা পূরণ হয় নি। তবে ১৯৭১-৭৫ সাল পর্যন্ত মাত্র চার বছরে বাংলাদেশে অনেক কিছু পেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে। বৈদেশিক সম্পর্কের উন্নয়ন, ওআইসি ও ইউএনও’র সদস্য পদ লাভ করা থেকে শুরু করে দ্রুততম সময়ে সংবিধান প্রণয়ন। এমনকি গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় একটি সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে নির্বাচনও দিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর ৪ বছরের শাসনামল ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার সোনালি অর্জন।
আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি আজ যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন। তাহলে বাংলাদেশের সমসাময়িক সময়ে স্বাধীনতা লাভ করা দেশগুলোর চেয়ে ভাল থাকত বাংলাদেশের অবস্থান। বঙ্গবন্ধুই জাগিয়ে তুলেছিলেন শিশু বাংলাদেশকে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের পর অনেকটা সময় কেটে যায় জিয়াউর রহমান ও এরশাদ সামরিক শাসনের মাধ্যমে। আবার ১৯৯১ থেকে শুরু হয় খালেদা জিয়ার লুটতরাজের রাজনীতি। সত্যিকার অর্থে তাদের কেওই বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ধারণ করতে পারে নি। তাই, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রত্যাশা সেইভাবে পূরণ হয় নি।
কিন্তু আশার কথা হল সাম্প্রতিক সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ স্বাধীনতার প্রত্যাশা পূরণে সমর্থ হচ্ছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো বাংলাদেশের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে স্থান দিয়েছে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায়। দেশে এখন মেগা প্রকল্পগুলোর যাত্রা শুরু হয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলের কাজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে দেশ ও বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। বাংলাদেশের ঝুলিতে যুক্ত হচ্ছে আন্তর্জাতিক পুরস্কার। সারা বিশ্বের দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের দিকে। ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলাধুলায়ও বাংলাদেশের অবস্থান এখন অন্য উচ্চতায়।
বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সবাই যে স্বাধীনতার পক্ষে ছিল বা আছে ব্যাপারটা কিন্তু এই রকম না। আগে ইংরেজ, বর্গী, পাকিস্তানী ইত্যাদি ছিল। এখন কিন্তু সেটা না। তবুও এখনো অনেকে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করুক তা চায় না। এখনো পাকিস্তানী দালাল দোসররা বাংলাদেশের অগ্রগতিকে দমিয়ে রাখতে চায়, এবং তারা এ জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নতিকে ব্যাহত করতে জ্বালাও পোড়াও, হরতাল দিয়ে এখনো একটা শক্তি কাজ করে যাচ্ছে।বর্তমান সরকারের অগ্রগতি যদি অব্যাহত থাকে তবে অচিরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রত্যাশা পূর্ণ হবে। তাই স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর আমার প্রত্যাশা হল সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। যেই বাংলাদেশ নিয়ে আমরা বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব। 
       
লেখকঃ সাংগঠনিক সম্পাদক,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।   

বিস্তারিত খবর

রুয়েটের দুই মেধাবী বন্ধু প্রাণীজগতকে ক্যামেরায় বন্দির অদ্ভুত কাণ্ডকীর্তির রহস্য

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৩-২৮ ১৬:১৭:০২

বৈচিত্র্যময় জগতে ভালোবাসার রুপরেখা, আকর্ষণীয় বস্তু বা বিষয় নিয়ে যুগে যুগে মানব জাতি কতোই না আগ্রহ, উৎসাহ, উদ্দীপনা দেখিয়ে আসছে। কারো কারো অদ্ভুত ধরণের মোহ বা ভালোবাসার জাগ্রত হয়, তা অবশ্যই সচরাচর সবার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠেনা। ভালোবাসার গভীরতা কারো প্রতি কারো অনেক অংশে বেশিই ধরা দেয়। এই ভালোবাসার গভীরতা ঈশ্বরের অবদান বললে ভুল হবেনা বৈকি। প্রাণীজগতের বৈচিত্র্যের স্বরূপ তুলে ধরার প্রতি এমন ভালোবাসা কারো কারো একেবারে নেই বললেই চলে। কিন্তু এমনও কিছু মানুষ আছে দিবানিশিদির প্রতিটি ক্ষণে পশু-পাখির পেছনে সময় কাটান, পশুপাখি তাদের মন ছুঁয়ে সদাসর্বদা ছুটে নিয়ে বেড়ায় মনুষ্য জগতের আড়ালে কিছু অপ্রয়োজনীয় স্হানে। সেসব স্হানে উন্নত প্রযুক্তির ক্যামেরা দিয়ে পশু পাখির জীবনকে নান্দনিক রূপে তুলে ধরেন। বলা যায় তারা পশু পাখি প্রেমী সমাজে দৃষ্টান্ত মূলক আদর্শ মানুষ।

হঠাৎ করেই নজরুল ইসলাম তোফার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় রাজশাহী শহরের পাশ ঘেঁষে পদ্মা নদীর মাঝ বরাবর ঠান্ডা, শীতল অল্প স্বল্প পানির নিকট শুকনো বালুচরে। অবাক করার মতোই দু'বন্ধু গভীর পানিতে নেমে ক্যামেরার লেন্স রাইফেলের মতো তাক করে মৃদু পায়ে উড়ন্ত পাখিকে টার্গেট করে। কখন পাখি মাছ ধরে বালিচরে পানি সংলগ্ন কুল ঘেঁষে দু'দন্ড অবস্থান করবে। আবার এদেশের যুদ্ধ সৈনিকে মতো হামাগুড়ি দিয়ে অসম্ভব ঠান্ডা বালুচরে ঘন্টা পর ঘন্টা শুয়ে থেকে পাখিকে ক্যামেরা বন্দি করে সৌখিন মনের মানুষের মনোরঞ্জনের জন্য, অবশ্যই তারা সমাজে ও দেশের কাছে উপহার স্বরূপ হয়ে রবে। এমন কাজে কৃতিত্বপূর্ণ দু'বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের এক মুহূর্তে জানা গেলো তাদের কর্ম ও পরিবারের আদ্যোপান্ত।

একজনের নাম মোঃ রিফাত ইকবাল অপর জনের নাম শ্রী দিপু দত্ত। তারা রুয়েট ফাইনাল ইয়ারের মেধাবী ছাত্র। রাজশাহীর তালাইমারীতে দু'বন্ধু একই সঙ্গে থাকে। চমৎকার মাথায় ক্যাপ পরিহিত রিফাত ইকবালের জন্ম ঢাকায় অপর বন্ধুর খোঁচা খোঁচা সুন্দর দাড়ি দিপু দত্তের জন্ম খুলনা। তারা উন্নত প্রযুক্তির নিজস্ব ক্যামেরায় সাড়ে চার বছর ধরে ফ্রেমে বন্দী করে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখির জীবন যাত্রার নান্দনিক ছবি। প্রাণীজগতের বিচিত্র রূপ, পরিচয় নাম সংগ্রহের নেশা ছড়িয়ে দিতে চান শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সের সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে। সবাই পছন্দ করে বলেই দিনে দিনে এমন নেশা  আরো গভীরে প্রবেশ করে। পশু-পাখি ছবি তোলা এমন কৌশলী আচরণ না দেখলে সত্যিই বিশ্বাস হবে না বৈকি। তারা লেখাপড়ার পাশা পাশি পশু-পাখির অদ্ভুত কাণ্ডকীর্তি নিয়ে ছবি তোলে ব্যস্ত সময় পার করে। জানা গেল তাদের নাকি এমন আগ্রহের কারণ এক ধরনের মানসিক তৃপ্তি এবং চরম বিনোদন।

পশু-পাখির প্রতি ভালোবাসার এমন ধরন জাগ্রত হয় তাদের এক বড় ভাই মোঃ কুদরাতী খুদার নিকট থেকে। তারা বলেন, পশু-পাখির প্রতি মমত্ব বোধ থাকাটা খুবই জরুরী। যারা ফুল-পাখি পশুর প্রতি ভালোবাসার নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করে তাদের মানসিক বিকাশ সুন্দর হয়। আচরণে অনাবশ্যক রূঢ়তা প্রকাশ পায় না। কিন্তু নাগরিক জীবনে প্রাকৃতিক পরিবেশ, একটু সবুজের ছোঁয়া ক্রমশ দুর্লভ হয়ে উঠছে। কাক ছাড়া অন্য কোন পাখি চোখে পড়ার মতো খোঁজে পাওয়া দুর্লভ। আসলে তারা দেশ, মাটি, মানুষ ও প্রকৃতিকে ভালোবাসে। আর প্রকৃতির মাঝে উঠাবসা করতে গিয়ে পাখির প্রতি ভালোবাসা নিবিড় ভাবে জাগ্রত হয়।

দিপু দত্ত বলেন, বাংলাদেশের অপরূপ প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার পশু-পাখি। এ দেশের মানুষ পশু-পাখির ডাকে ঘুমিয়ে পড়ে আবার পশু-পাখির কলকাকলিতে জাগে। পশু-পাখি সংরক্ষণে গনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে, পশু-পাখি নিয়ে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা তৈরি করতে এবং বাংলাদেশের পশু-পাখি সম্পর্কে জানতে ও জানাতে আমি সহ আমার বন্ধু রিফাত ইকবাল কাজ করে যাচ্ছি।

জানা গেল, ছোট বেলা থেকেই তারা পশু-পাখি প্রেমী মেধাবী ছাত্র। এ দেশের সবুজ বৃক্ষের মাঝে হাজারো পশু-পাখির প্রতি তাদের আলাদা ভালোলাগা অজান্তেই জন্ম নেয়। তবে বর্তমানে গাছপালার সংখ্যা অনেকটা কমে এসেছে। সেহেতু সঙ্গে সঙ্গে কমে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের পাখি। শহুরে জীবনে তো এগুলোর দেখা পাওয়া যায় না। এমন কথা জানান দিলেন মোঃ রিফাত ইকবাল। তিনি আরও জানান,  একটি ভাল ছবির পেছনে থাকে অনেক অনেক হতাশা, অপেক্ষা, ভাগ্য, চেষ্টা আর সফলতা। অধিকাংশ  মানুষ  শুধু ছবিটাই দেখে Behind the scene ভাবার চেষ্টা  করে না।

অনেকেই তাকে জিজ্ঞেশ করে কোন লেন্সে, কোন ক্যামেরায় উঠানো হয়েছে ছবি,  কিন্তু খুব কম মানুষই জানার চেষ্টা করে ছবিটা কিভাবে তোলা হয়েছে। আসলে সবাই ভাল ছবি তুলতে চায় কিন্তু সময় দিতে চায় না এবং সঠিক স্থান নির্ধারণ করতে চায় না। ক্যামেরার গিয়ার এর বাইরেও যে কিছু থাকে অধিকাংশই তা আয়ত্ত করতে চায় না।

পশু-পাখি নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ এবং নান্দনিকতার বিভিন্ন সাইটের দায়িত্ববোধ নিয়ে এ দেশের মন্ত্রিসভায় একটি যুগোপযোগী আইনের খসড়া অনুমোদন হয়েছে। নীতিগতভাবে এই আইনটি ‘প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৬’। আসলে বলতে গেলে,  বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক আগেই এই আইন হয়েছে, এ দেশে অনেক দেরিতে হলেও বাস্তবায়িত হবে কতটুকু তা ভাববার বিষয়। যেহেতু আইনটি করেছে সরকার, সেহেতু  আমাদের দায়িত্ববোধ থেকে হলেও পশু-পাখির অনুমোদিত আইন যথাযথ ভাবে মেনে চলা উচিত।

বিস্তারিত খবর

ছাত্রের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় প্রথম বর্ষটি

 প্রকাশিত: ২০১৭-০২-০৪ ০৯:৪১:০৮

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্তিম সময়ে এসে আমার অভিজ্ঞতা আমাকে বলছে যে একজন ছাত্রের জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো প্রথম বর্ষটি। গ্রাম-গ্রামান্তর থেকে একটি ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে তার মেধার সাক্ষর রেখে। 

বিশেষ কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে ক্লাসের সেরা মেধাবীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় আবাস গড়ার সুযোগ পায়। আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাদের অধিকাংশই আসে মধ্যবিত্ত কিংবা নিন্মমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আসার প্রথম দিনটি থেকে প্রত্যেকটি ছেলের নতুন আশা আর বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয় এক নতুন পথ চলার। 

প্রথম বর্ষের প্রতিটি ছাত্র কাঁদা মাটির মতো নরম। এদের যেভাবে গড়া হবে এরা ঠিক সেভাবেই গড়ে উঠবে। কিছুদিন আগে ডাসের সামনে কয়েকজন প্রথম বর্ষের জুনিয়রদের কফি খেতে দেখলাম। কফি খাওয়ার পরে টাকা না দিয়েই চলে যাচ্ছিল দেখে ডাক দিয়ে পরিচয় জিজ্ঞেস করলাম। ওরা পরিচয় দিল। বললাম টাকা না দিয়ে কেন যাচ্ছো। উত্তরে বললো ওদের নাকি কে বলেছে যে ডাসে ফ্রী কফি খেলে সমস্যা নেই। আমি ওদের বুঝিয়ে বলে ভুলটা ভাঙিয়ে দিলাম। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ছেলেটে এসেছে তার নিজস্ব বিচার বিবেচনা নিশ্চয়ই রয়েছে। ওদেরকে বুঝিয়ে বললে ওরা অবশ্যই বুঝবে। সিনিয়র হিসেবে দায়িত্বটা আমাদেরই বেশি। ওদের বোঝানো উচিৎ যে ক্যাম্পাসে কি কিরা উচিৎ আর কি করা উচিৎ নয়। 

আমরা ওদের যা শিখাবো ওদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ভিত্তি কিন্তু ঠিক সে ভাবেই গড়ে উঠবে। পারিবারিক বদ্ধ পরিবেশ থেকে মুক্ত পরিবেশে এসে প্রথম বর্ষের অনেক ছেলে নিজেদের ধরে রাখতে পারে না। সাময়িক উত্তেজনায় অনেক সময় বিচার বিবেচনা ওদের লোপ পায়। বিপত্তিটা ঠিক তখনই ঘটে। 

ওদের খামখেয়ালী এবং উদাসীন চলাফেরা যদি সিনিয়র হিসেবে আপনি আমি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি তাহলে একদিন এই খামখেয়ালী কাজ গুলোই নিজের অজান্তেই প্রত্যহ অপরাধে পরিণত হবে। তখন এই দায় কে নিবে ???? প্রথম বর্ষের ছেলেটি যা শিখে দ্বিতীয় বর্ষে উঠবে তখন তার প্রথম বর্ষের ছোট ভাইটি সে যা শিখেছে তাই ই শিখবে। 

এরপর দেখবেন আস্তে আস্তে প্রথম বর্ষ থেকে শেষ বর্ষ পর্যন্ত সবাই ই নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করবে। অন্যায় এবং অপরাধ যদি নিয়ন্ত্রণ করতে হয় তাহলে তার মূলে হাত না দিয়ে যতোই উপরে ঠিক করার চেষ্টা করুন না কেন আপনার চেষ্টা ফলপ্রসূ হবে না। 

আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুম থেকে ব্যক্তিগত রূম, হলের ক্যান্টিন থেকে ক্যাম্পাস ক্যান্টিন প্রত্যেকটি যায়গা থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যেটি প্রয়োজন তা হলো আমরা যারা সিনিয়র তাদের আন্তরিকতা এবং যারা জুনিয়র তাদের আগ্রহ।
আসিফ তালুকদারসাধারণ সম্পাদক, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 

বিস্তারিত খবর

মুক্তিবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধার ফারাক

 প্রকাশিত: ২০১৭-০১-২২ ১০:৪০:২৩

আজ বিজয়ের এই ক্ষনে আপনি কি আপনার মুক্তিযোদ্ধা বাবা , মা , ভাই বা বোনটিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ? বা কৃতজ্ঞতা ? শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কি আপনার পাড়ার সেই রিক্সা চালক বা আপনার গ্রামের সেই খ্যাতমার্কা কৃষকটিকে অথবা গায়ে মাছের আঁশটে গন্ধযুক্ত জেলেকে,বা আপনাদের স্টেশনের লাল জামা পড়া সেই কুলিকে অথবা আপনার গ্রামের সেই মালুপল্লীর কামারকে যারা নিজের জীবন উৎসর্গ করতেই যুদ্ধে গিয়েছিলো যার বিনিময় আজ আপনি স্বাধীন দেশের নাগরিক । তারা যদি শহীদ হয়ে যেতেন তবে আপনারা  সেই শহীদ কে সামনে রেখে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে কিছুটা হলেও কিছু সুযোগ সুবিধা পেতেন যা আজ তারা জীবিত ফিরে আসার জন্য হয়তো পাচ্ছেন না । আসোলেই  যারা ফিরে এসেছিলেন তারা সত্যিই দুর্ভাগ্যবান , কারণ তাদের কথা কয়জনই বা ভাবে ? তারা বেঁচে থেকে যে অবহেলা পেয়েছেন  মরে গেলে  অন্ততপক্ষে “শহীদ ” নামক খেতাবটি তো  পেতেন ।

যে পেশীশক্তি দিয়ে,ধমনীর টগবগে রক্তের ধারায় বলীয়ান হয়ে ,বঙ্গবন্ধুর ডাকে,জয় বাংলা স্লোগানের হুঙ্কারে যারা  আমাদেরকে পাকিস্তানী বর্বর সেনা বাহিনী ও তাদের দোসর কিছু  নির্লজ্জ বাঙালী রাজাকার,আলবদর ,শান্তি বাহিনী, মুসলিম লীগ ,জামাতে ইসলাম ,নামক কিছু হিংস্র পশুদের হাত থেকে  রক্ষা করে ছিলেন,যারা উপহার দিয়েছেন আমাদের একটা নিদৃষ্ট  মানচিত্র ,লাল সবুজের পতাকা, আজ তাদের পেশী শক্তি কমে বার্ধ্যকে এসে দাঁড়িয়েছে ।যারা  জীবন সময়ের  প্রায় শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছেন,আর কয়েকটা বছরের মধ্যেই এক এক করে যারা এই মাটি থেকে ঝরে পড়বেন,যাদের পেশিশক্তি ও রক্তের ধারার উপর দাঁড়িয়ে আপনারা  যারা লাল সবুজের দেশে উন্নয়নের জোয়ার আনবার কাজে আজ নিবেদিত প্রাণ  তারা এই মানুষগুলোকে কি নামে ডাকবেন ? জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ?নাকি শুধুই মুক্তিযোদ্ধা । তাদের প্রতি আমাদের  কি কোনো  কৃতজ্ঞতা বা দায়িত্ববোধ নেই ?
সুইডেনের স্টোকহোল্মে একবার ওয়াটার ফেষ্টিভেল দেখতে গিয়েছি, হঠাৎ খেয়াল করলাম এক জায়গায় একদল যন্ত্রী তাদের অর্কেস্ট্রা প্লে করছেন, সেখানে অনেক বৃদ্ধমানুষ এক নিদৃষ্ট ধরণের স্যুট ও মাথায় হ্যাট পরে খুবই গর্বের সাথে বসে রয়েছেন ,তাদের সারা শরীর আর হ্যাট জুড়েই রয়েছে বিভিন্ন রকম ব্যাজ যা প্রায় তাদের স্যুট আর হ্যাটের রঙকেই ঢেকে ফেলেছে,সেই সময়ের ছবিটা আমার মাথায় গেথে গেলো, শুধুই বিস্ময় নিয়ে দেখলাম কিন্তু তখন সুইডেনে একদম নতুন যাওয়াতে আর ভাষার উপর কোনো রকমই কব্জা না থাকাতে  এবং বাঙালী স্বভাবসুলভ অযথা লজ্জাবোধ থাকার কারণে কাউকেই কিছু জিজ্ঞেস করা হলোনা । কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেই বৃদ্ধদেৱ একজনকে আবিষ্কার করলাম এক লাইব্রেরিতে তখন আমি কিছুটা সুইডিশ ভাষা রপ্ত করেছি । আমি আজ তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “সেদিন তোমরা ওখানে কি করছিলে?” তিনি উত্তর দিলেন, তারা সবাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের যোদ্ধা বা ভলান্টিয়ার ছিলেন তাই তাদের কে সেদিন অর্কেস্ট্রা বাজিয়ে সম্মানিত করা হচ্ছিলো শুধু তাই নয় তাদেরকে দেশের যেকোনো উৎসবের সময়ই বিভিন্নভাবে সম্মানিত করা হয় যে কারণে বিভিন্ন ব্যাজে তাদের স্যুট ও হ্যাট ঢেকে গিয়েছে ।কিন্তু এবার আরো অবাক হলাম যখন শুনলাম তার বয়স ৭২এবং তিনি ওই লাব্রেরিতে কাজ করেন । আমি বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন করলাম ,”সুইডেনের নিয়ম অনুযায়ী একজন মানুষ তো খুব বেশিও যদি হয় তবে তাকে ৬৫ বছরেই অবসরে যেতে হয় তবে তুমি কি করে কাজ করছো ? ” তিনি জানালেন একজন মুক্তিযোদ্ধা সরকারের সব ধরণের সুযোগ সুবিধা পাবার পরও তিনি যতদিন চাইবেন ততদিন কাজ করতে পারবেন ,এটাও তাদের জন্য দেশের দেয়া সন্মান ।”

দুঃখে কষ্টে বুকের মধ্যে মোচোড়  দিয়ে উঠলো ,হায়রে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্য  সম্মানটুকু দূরেই থাকে, যে সব মুক্তিযোদ্ধারা চাকুরীজীবি ছিলেন তাদের সাথেও হয়েছে প্রহসন ,তাদের চাকরির বয়স ৬০ থেকে ২ বছর বাড়িয়ে ৬২ করা হলো তার কিছুদিন পরই সরকারের অনেক আমলা আর কর্মজীবীদের চাকরির বয়স ও ৬২ করে দেয়া হলো । এই কি জাতির  শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পুরস্কার ? জামাত ঘারানার  আমলার দুৰ্ব্যেবহার সহ্য করতে না পেরে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান চিঠি লিখে আত্মহত্যা করলেন, তার কি কোনো বিচার হোলো ? জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানকে পাড়ার মাস্তানরা পিটিয়ে মেরে ফেললো , তার কি কোনো বিচার হলো ? ঘরের মধ্যে ঢুকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানকে কুপিয়ে মেরে ফেলা হলো ,তার কি কোনো বিচার হলো ? জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা পথে ঘটে বেওয়ারিশ লাশ হয়ে যাচ্ছে , না খেয়ে না চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে  আমরা কি তার খবর রাখি ? অথচ ১৬ই ডিসেম্বরে আমরা আনন্দ উৎসব করি ,  ২৬শে মার্চ আমরা  সংসদ ভবনের সামনে বিশাল আয়জনে বিশাল অংকের অর্থের বাজেটে আলোকসজ্জা করি, বিভিন্ন শোভা সেমিনারে  শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নামে বক্তৃতার তুবড়ী ছুটাই । কেন এই অসংগতি ? আজ স্বাধীনতার পক্ষের সরকার থাকার পরও কেন এই অসঙ্গতি দূর হচ্ছেনা ? এর কারণ কি ? যেখানে আমাদের বঙ্গবন্ধুর কন্যা তাদের ব্যাপারে খুবই সংবেদনশীল ।

চলুন অসংগতি গুলো খুঁজি ! ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পক্ষের প্রত্যেকটি বাঙ্গালীরই মুক্তিযুদ্ধে প্রতক্ষ বা পরোক্ষভাবে অবদান রয়েছে !একজন দরিদ্র বৃদ্ধাও তার ক্ষেতের শেষ মুলো আর বেগুন তুলে এনে মুক্তিযোদ্ধাদের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন । একজন ভিক্ষুক তার ভিক্ষা করা থলের ভিতর থেকে শেষ মুঠো চালটুকুও  মুক্তিদের খাবারের জন্য বের করে দিতে দ্বিধা করেননি ।এক গৃহস্থ স্বপরিবারে হত্যা হয়েছে শুধু মাত্র কজন  মুক্তি বাহিনীকে এক রাত আশ্রয় দেবার কারণে । এ ধরণের ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে ।কারণ তখন কিছু কুলাঙ্গার যুদ্ধপরাধী ছাড়া গোটা জাতিই ছিল এক মরণপণ যুদ্ধের মধ্যে । তাই এরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা । তাহলে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা কারা ?

বঙ্গবন্ধুর  ৭ই মার্চের ভাষণে একটা অঘোষিত  গেরিলা যুদ্ধের স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল । তিনি বলেছিলেন , “আমরা ওদের ভাতে মারবো , পানিতে মারবো ” এটি ছিল শত্রুপক্ষের খাদ্য পানি বা রসদ সরবরাহ বন্ধের একটা গেরিলা যুদ্ধের কৌশল । তিনি বলেছিলেন , তোমাদের যার যাকিছু আছে তাই দিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে ,প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো ” এটা শত্রুপক্ষের উপর চারিদিক থেকে হিট এন্ড রান নামক গেরিলা যুদ্ধের কৌশল অর্থাৎ শত্রুকে চারিদিক থেকে গোপন আক্রমণের মাধ্যমে দিকবিদিকজ্ঞানশূন্য করে ফেলা বা শত্রুর মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা । অতঃপর তিনি এই যুদ্ধকে একটা জনযুদ্ধে পরিণত করতে সক্ষম হলেন যখন তিনি বললেন ,”রক্ত যখন দিতে শিখেছি তখন রক্ত আরো দেবো তবুও এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ !” এখানে ইনশাল্লাহ শব্দের ব্যবহারের মাদ্ধমে বঙ্গবন্ধু ধর্মপ্রাণ মানুষদের বোঝাতে সক্ষম হলেন যে তিনি এই যুদ্ধে সৃষ্টিকর্তার কাছেও সাহায্য চেয়েছেন অর্থাৎ তিনি ধর্মনিরপেক্ষ বটে তবে নাস্তিক নন যা ওই সময়ে পাকিস্তান শক্তি প্রচার করছিলেন বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে ।পরিশেষে তিনি বললেন “আওয়ামীলীগের প্রত্যেকটা কমিটির মাধ্যমে যুদ্ধের ট্রেনিং শুরু করতে অর্থাৎ যুদ্ধ অবশ্যভাম্বি তার জন্য উপযুক্ত দক্ষতা অর্জন করা । এই উপযুক্ত দক্ষতা অর্জনে  সেদিন যারা  ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তারাই ছিল মুক্তিবাহিনী ।

পাঠক, আমি বোধহয় এখানে মুক্তিবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধার মাঝের পার্থক্যটি একটু পরিষ্কার করতে পেরেছি । সেদিন এই মুক্তিবাহিনীতে যুক্ত হয়েছিল; ছাত্র ,শিক্ষক ,চাষী ,জেলে কামার ,কুমার ,রিক্সাওয়ালা, কুলি মজুর তথা বাংলার সর্বশ্রেণীর জনগণ যারা সরাসরি রণাঙ্গণে যুদ্ধ করেছেন স্বল্পমাত্রার ট্রেনিং নিয়েই তারা মরণপণ করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন । এদের মধ্যে যারা রণাঙ্গণে মারা গেছেন তারাই আমাদের শহীদ আর যারা ফিরে এসেছিলেন তারা গাজী যাদেরকে আমি “বিজয়ী বীর ” বলে আখ্যায়িত করতে চাই । স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বা দেশের ভিতর বিভিন্নভাবে যে সব কণ্ঠশিল্পী তাদের সংগীত দিয়ে যুদ্ধ করেছেন তারাও মুক্তিযোদ্ধা বা কণ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা , যে সব বুদ্ধিজীবীরা দেশের ভিতর থেকে কলমের বা বুদ্ধির যুদ্ধ করেছেন তারাও অবশই মুক্তিযোদ্ধা ,বুদ্ধিজীবী মুক্তিযোদ্ধা , দেশে ও প্রবাসে যে যেখানে তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন তারা সবাই তার নিজ নিজ ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা । যদিও মুক্তির গান এর কণ্ঠ শিল্পীদের আমি একটু বেশি সম্মানের চোখেই দেখি কারণ তারা শুধু কলকাতার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রেই নিজেদের  সীমাবদ্ধ না  রেখে সরাসরি  রণাঙ্গণে তাদের গানের দল নিয়ে ছুটে  বেরিয়েছিলেন,  সেটাই তাদের স্বকীয়তা ।

মোটকথা সেদিন যারা বেঙ্গল রেজিমেন্ট ,ই পি আর ,পুলিশ ,আনসার বাহিনী ছিলেন যারা পাকিস্তান বাহিনী থেকে বের হয়ে এসে দেশের জনতার এক কাতারে দাঁড়ালেন এবং বঙ্গবন্ধুর আহব্বান যারা যুদ্ধের জন্য ট্রেনিং নিয়ে রণাঙ্গণে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন তারাই মুক্তি বাহিনী তারাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান । অথচ আমরা বা নতুন প্রজন্ম তাদের কয়জনকে চেনে ? যখনি মুক্তিযুদ্ধের কথা আসে আমরা বিভিন্ন মিডিয়াতে ঘুরে ফিরে অল্পকিছু চেনামুখ ই দেখতে পাই । তবে বাকি শ্রেষ্ঠ সন্তানরা কোথায় গেলো ? যুদ্ধক্ষেত্রে জাতির হিরোদের নাম যখন আসে তখন আমরা মাত্র ৭ জনের ছবি দেখতে পাই যারা সবাই ছিলেন রেগুলার আর্মির সদস্য । অথচ সরকারি হিসাবে ১লক্ষ্য ৭৫ হাজার (এফ এফ ) মুক্তিবাহিনীর মধ্যে ৭৫ হাজার ছিলেন রেগুলার আর্মি যারা জনতার কাতারে এসে দাঁড়ান এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন  বাংলাদেশ সরকারের অনুগত সেনা বাহিনী হিসাবে প্রকাশ পায় যার সর্বাধিনায়ক ছিলেন জেনারেল ওসমানী যারা  বিভিন্ন  সেক্টরে বিভক্ত হয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করেন কিন্তু এর বাইরে ১ লক্ষ্য ছিলেন মুক্তিফৌজ যারা বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার আর্মির হাতে স্বল্পকালীন ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধের রণাঙ্গণে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বা ট্রেনিং নিচ্ছিলেন , মোটকথা এরা সবাই বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়েই রণাঙ্গণে মৃত্যুর জন্যই তৈরী হচ্ছিলেন । এরাই মুক্তিবাহিনি , এরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, এরাই বিজয়ী বীর অর্থাৎ ১৯৭১ এ রণাঙ্গণের ১ লক্ষ্য ৭৫ হাজার জন মুক্তিবাহিনীই আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান । এর বাইরে যারা তারা মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু মুক্তিবাহিনী নয় ।

তাই আমাদের উচিত সেই মুক্তিবাহিনীকে তাদের সঠিক মূল্যায়ন করে তাদের ঋণ শোধ করা । দেশের ওই ১ লক্ষ্য ৭৫ হাজার জন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রত্যেকের নাম একটা নামফলক থাকা উচিত যা শতবছর পর প্রজন্ম তাদের পূর্বপুরুষদের বীরগাথা জেনে এ দেশকে ভালোবাসতে উদ্বুদ্ধ হবে,নিজেদের আত্মসম্মান বাড়াবে যা তাদের পৃথিবীর বুকে সম্মানিত জাতি হিসাবে মাথা উঁচু করে চলতে শিখাবে । আজ দুঃখের সাথেই বলছি প্রায় ১২ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ১ লক্ষ্য ৭৫ হাজার জনকে সঠিক মূল্যায়ন করা কি যায়না ?  তাদের মধ্যে আজ কজনই বা বেঁচে রয়েছেন ? আর যারা বেঁচে আছেন তারাই বা আর কটা বছর বেঁচে থাকবেন ?যারা আপনাকে দেশ দিলো,জাতির পরিচয়ের স্থায়ীত্ব দিলো,বর্বর পাকিস্তানী মৌলবাদী বাহিনী ও তাদের এদেশের কুলাঙ্গার দোসরদের  হাত থেকে মুক্ত করলো তাদের দায়িত্ব নিতে কি এই জাতি অক্ষম ? কেন মুক্তিবাহিনীর যোদ্ধারা ,জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা তাদের নিশ্চিত নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারবেন না তাদেরই অর্জন করা এই দেশে ? কেন মুক্তিবাহিনীকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে তাদের উপযুক্ত সন্মান নিয়ে প্রহসন চলবে ? উত্তর গুলো আপনারাই খুজুন । আমি শুধুই স্পষ্ট করেই বলতে চাই ১৯৭১ এর বঙ্গবন্ধুর ডাকে ঝাঁপিয়ে পরা ওই ১লক্ষ্য ৭৫ হাজার জন মুক্তিবাহিনীই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান তার বাইরে কেউ নয়।
জয় বাংলা , জয় বঙ্গবন্ধু , জয় শেখ হাসিনা ,জয় হোক আমাদের সব বিজয়ী বীরদের !


এলএবাংলাটাইমস/সি/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ঢাকা থেকে প্রকাশিত হলো ‘শঙ্খচিল’ এর শহীদ কাদরী সংখ্যা

 প্রকাশিত: ২০১৭-০১-২০ ০১:১৭:৩২

ঢাকা থেকে প্রকাশিত হলো শিল্প সাহিত্যের পত্রিকা ‘শঙ্খচিল’ -এর শহীদ কাদরী সংখ্যা। প্রায় শতাধিক কবি, লেখক ও শিল্পীর লেখায় সমৃদ্ধ সংখ্যাটি পাওয়া যাবে আসছে একুশে বইমেলার লিটলম্যাগ চত্বরে।

মাহফুজ পাঠক ও ইকবাল মাহফুজ সম্পাদকদ্বয় জানিয়েছেনÑ ‘আমরা শহীদ কাদরীর উপরে সংখ্যা প্রকাশের কাজ শুরু করি তাঁর মৃত্যুর প্রায় তিন মাস পূর্বে। সংখ্যা প্রকাশের মতামত জানিয়ে তাঁকে চিঠি লিখি। কবিপতœী নীরা কাদরী সেই চিঠি কবিকে পড়ে শুনিয়েছিলেন। সংখ্যাটিতে দেশ ও বিদেশ থেকে যারা বিভিন্ন তথ্য, ছবি ও বই সরবরাহ করে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা।’

সংখ্যাটিকে একটি বৈচিত্রপূর্ণ সংখ্যা করার লক্ষেÑ স্মৃতিমেঘ, জলছায়া, আড্ডা, নিবেদিত কবিতা, দীর্ঘ কবিতা, সনেট, অনুগল্প এমন কিছু বিষয়ে কাদরীর কবি জীবনকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিকৃতি বিভাগে রয়েছে কাইয়ুম চৌধুরী ও মুর্তজা বশীরসহ আরো ৬ শিল্পীর আঁকা শহীদ কাদরীর প্রতিকৃতি। রয়েছে ৬টি কবিতার অনুবাদ। সংগীত বিভাগে কবীর সুমন, মুয়ীয মাহফুজ ও তাজুল ইমামের লেখাগুলো সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে।
সাক্ষাৎকার বিভাগে রয়েছে আদনান সৈয়দের নেয়া শহীদ কাদরীকে নিয়ে মাহমুদুল হকের স্মৃতিচারণ। এছাড়া তমিজ উদ্দীন লোদী, শামস আল মমীন ও শিখা আহমেদের নেয়া শহীদ কাদরীর দীর্ঘ সাক্ষাৎকার।

চিত্রকথা বিভাগে নাসির আলী মামুনের লেখায় উঠে এসেছে আটলান্টিকের পাড়ে সমুদ্রের বিশালতা আর কাদরীর স্বেচ্ছানির্বাসনের ক্ষুদ্রতা। আল মাহমুদ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছেনÑ ‘শহীদ কাদরী সাহেব সুখী হতে চেয়েছিলেন।’ জার্মানি থেকে শঙ্খচিলের জন্য হাতে লিখে অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন শহীদ কাদরীর সাথে তাঁর প্রথম ও শেষ দেখার স্মৃতিকথা।

এছাড়া কবির ৮টি কবিতা নিয়ে এঁকেছেন ৮ জন শিল্পী। কবিকে চিঠি লিখেছেনÑ হাফিজুর রহমান, আজাদ আলাউদ্দীন ও তরুণ কবি শ্বেতা শতাব্দী এষ। সংখ্যাটি গবেষণার ক্ষেত্রে সহযোগী হতে পারে। ৩৫২ পৃষ্ঠার (পেপারব্যাক) সংখ্যাটির মূল্য রাখা হয়েছে ১৫০ টাকা। বিপ্লব সরকারের আঁকা তরুণ শহীদ কাদরীর প্রতিকৃতি অবলম্বনে প্রচ্ছদ করেছেন সব্যসাচী হাজরা। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।   


এলএবাংলাটাইমস/এল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ভাল থাকুক আমেরিকান প্রবাসী বাংলাদেশীরা

 প্রকাশিত: ২০১৬-১২-১১ ০৮:২০:১০


মানব সভ্যতার ইতিহাসে অভিবাসন নতুন কিছু নয়। নিরাপদ আশ্রয়, জীবিকা ইত্যাদি নানা কারণে মানুষ দেশান্তরী হয় এবং হচ্ছে। আবার অনেকেই প্রবাসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে যাকে বলা হয় ডায়াস্পোরা। ডায়াস্পোরার দিক থেকে বাংলাদেশ নবীন। কিন্তু আকার ও জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশী ডায়াস্পোরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

নিউইয়র্কের জ্যাকসনহাইটস, ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলেস কিংবা লন্ডনের ব্রিকলেনের দিকে তাকালেই বাংলাদেশী ডায়াস্পোরার গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। তাছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে লন্ডনে কয়েকজন বাঙালির এমপি নির্বাচিত হওয়া তো উল্লেখ করার মত। প্রবাসে বাংলাদেশীদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ায় আশা করা যায় বাংলাদেশী ডায়াস্পোরা এগিয়ে যাবে আরও বহুদূর। 
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সদ্য সমাপ্ত মার্কিন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উৎকণ্ঠা দেখা দেয় আমেরিকান অভিবাসী ও মুসলিমদের মধ্যে। বাংলাদেশী অভিবাসীরাও এই উৎকণ্ঠার বাইরে নয় তা অনুমান করা যায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের মাধ্যমে। আমেরিকায় কমিউনিটি সাংবাদিকতা খুব শক্তিশালী হওয়ার কারণে বিভিন্ন স্টেটে অভিবাসীদের ছোট ছোট প্রতিবাদ র‍্যালিও ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে কমিউনিটি পত্রিকাগুলোতে। যা দেখে নির্বাচনী প্রচারণার সময় নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনালড ট্রাম্পের অভিবাসন নিয়ে করা বেফাঁস মন্তব্যের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সহজেই উপলব্ধি করা যায়।       এ সকল প্রতিবাদে সাড়া দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস এঞ্জেলেস শিক্ষা বোর্ড থেকে শুরু করে মেয়র ও পুলিশ প্রধানকেও দেখা যায় অভিবাসীদের পক্ষে অবস্থান নিতে। অবৈধ অভিবাসীদের দুশ্চিন্তার কথা ভেবে তারা প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগতভাবে অভিবাসীদের নিরাপত্তার জন্য বিবৃতি দিচ্ছে। কিছু দিন আগে লস এঞ্জেলেস বাংলাটাইমসের(LABaglatimes) প্রকাশিত এক খবরের শিরোনাম ছিল   “অভিবাসীদের তাড়াতে সাহায্য করবে না পুলিশঃ বললেন পুলিশ প্রধান চার্লি বেক”। 
তাছাড়া, লস এঞ্জেলেস মেয়রও লস এঞ্জেলেসের সাউথল্যান্ডকে অভিবাসীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ঘোষণা করলেন। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা বোর্ডও ঘোষণা করল আদালতের অনুমতি ছাড়া তারা কোন শিক্ষার্থী বা স্টাফদের তথ্য দিবে না যুক্তরাষ্ট্রীয় অভিবাসন বিভাগকে। ফলে ট্রাম্পও অনেকটা নড়েচড়ে বসেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় অবৈধ অভিবাসী তাড়াতে প্রতিজ্ঞা করলেও, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর এই বিষয়ে আর কোন মন্তব্য করে নি। ট্রাম্পের এখনকার মৌনতা দেখে মনে হচ্ছে উনি রক্ষণশীলদের বা কট্টরপন্থীদের সমর্থন আদায় করার জন্যই অনেকটা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে এমন মন্তব্য করেছিলেন। ভারতের নির্বাচনের সময় যেমনটি করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। 
বাংলাদেশী অভিবাসীদের নিয়ে তেমন কোন গবেষণা হয় নি বললেই চলে। তাই আমেরিকায় কি সংখ্যক বাংলাদেশী বাস করে এর সঠিক সংখ্যা বলা দুরহ। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে ৫,০০,০০০ লক্ষ বাংলাদেশী বসবাস করে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, মিশিগান, টেক্সাস ইত্যাদি বিভিন্ন স্টেটে। আমেরিকার মত দেশে এতো সংখ্যক বাংলাদেশীদের বসবাস সত্যিই গর্ব করার মত। তাই, একটি কথাই বলব সকল দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠা কাটিয়ে আমেরিকার মাটিতে ভাল থাকুক সকল প্রবাসী বাংলাদেশীরা। ভাল থাকুক লস এঞ্জেলেসের “লিটল বাংলাদেশ”।  
লেখক, মোস্তাকিম ভুঁইয়াশিক্ষার্থী,  গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।          

বিস্তারিত খবর

আনুগত্য ও আত্মত্যাগের চূড়ান্ত নজির কুরবানি

 প্রকাশিত: ২০১৬-০৯-০৯ ১৮:২৮:১০

মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিমের (আ.) পবিত্র স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক একটি ঘটনা হচ্ছে বর্তমান মুসলিম সমাজে প্রচলিত কুরবানির পূর্বইতিহাস। মহান আল্লাহর প্রিয় বন্ধু নবী ইবরাহিম (আ.) আল্লাহ প্রদত্ত অনেকগুলো পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন এবং তার ঈমানি বলে প্রতিটি পরীক্ষাতেই তিনি কৃতকার্য হন। যার একটি হচ্ছে কুরবানির ঘটনা।

ঘটনাটি এমন; ইবরাহিম (আ.) দীর্ঘ দিন সন্তানহীন ছিলেন। আল্লাহর কাছে অনেক চাওয়ার পর জীবনের শেষ লগ্নে একটি ছেলে সন্তান লাভ করেন। যার নাম রাখেন ইসমাইল। অতি আদরের পুত্র ইসমাঈল শৈশব পেরোনোর আগেই একদিন স্বপ্নে ইবরাহিমকে (আ.) প্রিয় বস্তু কোরবানি করার নির্দেশ এলো। অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্বের পর তিনি ১০০ উট কুরবানি করলেন। পরের রাতে একই স্বপ্ন দেখলেন, তিনি বুঝতে পারলেন এ স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে দেখানো হচ্ছে। আবার ১০০ উট কোরবানি করলেন। আবারো স্বপ্ন দেখলেন সবচেয়ে প্রিয় জিনিসের কোরবানি করো। এবার তিনি স্পষ্ট হলেন ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করার নির্দেশ পেয়েছেন। সেদিনই তিনি পুত্রের কাছে স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করলেন। যেমন পিতা তেমন পুত্র, সাথে সাথে ইসমাইলও (আ.) রাজি হয়ে গেলেন। তাঁকে কুরবানি করতে নিয়ে গেলে আল্লাহ বেহেশত থেকে পশু পাঠিয়ে ইসমঈলের বদলা কুরবানি করালেন। কঠিন এই ঈমানি পরীক্ষায় খলিলুল্লাহ ইবরাহিম (আ.) সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হলেন।

এরই ধাবরাহিকতায় আজকের কুরবানি ওয়াজিব হয় মুসলানদের উপর। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কাছ থেকে কিছু ঈমানি পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। ইবরাহিমের (আ.) এই কুরবানি থেকে আমাদের জন্য শিক্ষা হলো, প্রভূর সন্তুষ্টির জন্য আমরা যেকোনো সময় যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে বাধ্য, তা যত কঠিই হোক না কেন। এটাই ঈমানের দাবি। কারণ আল্লাহর আনুগত্য আমাদের উপর ফরয। কুরবানিতে আমরা যদিও বাহ্যিকভাবে শুধু একটি পশু জবাই করি। কিন্তু বাস্তবে এর মাধ্যমে মনে ইবরাহিমের সেই চেতনা জাগ্রত হতে হবে। মহান আল্লাহ এটাই শুধু চান স্বীয় বান্দার কাছে। মহাগ্রন্থ আল-কুরাআনে তিনি বলেন, “আল্লাহ তোমাদের কুরবানির পশুর রক্ত বা মাংস কিছুই দেখেন না। তিনি শুধু তোমাদের অন্তরের তাকওয়াটাই (আল্লাহর ভয়) দেখে থাকেন।” [সুরা হজ : ৩৬]

আমাদের জীবনের সবকিছুই যে শুধু আল্লাহর জন্য হতে হবে। তাঁর প্রদত্ত বিধান মতে, একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টি লাভের জন্য জীবনের সব কাজ পরিচালিত হবেÑ এরও একটি নজির এই কুরবানি। যেমন আল্লাহ বলেন, “বলো! নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মৃত্যু সব কিছু একমাত্র আল্লাহর জন্য।” [সুরা আনআম : ১৬২]

এজন্যে মহান এই সত্তার আনুগত্য ও তাঁর জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগই শাশ্বত এই কুরবানির বিধান। তাই এই পশু কুরবানির সাথে নিজের পাশবিক সত্ত্বাকেও কুরবানি করে আল্লাহর একজন অনুগত বান্দা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সমস্ত অপকর্ম থেকে মহান মুবিবের দরবারে ক্ষমা চেয়ে নিজেকে একজন খাঁটি মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।  


এলএবাংলাটাইমস/সি/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ব্রিটেন কি আদৌ বের হতে পারবে ইইউ থেকে?

 প্রকাশিত: ২০১৬-০৬-২৬ ১৪:৫৫:৩৭

যুক্তরাজ্য আর ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকতে চায় না- এ ব্যাপারে সে দেশের নাগরিকরা ভোটও দিয়েছে না থাকার পক্ষে, যা কি না ব্রেক্সিট নামে পরিচিতিও পেয়েছে।

চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে গেলে দেখা যায় দেশটি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গেছে। এক পক্ষ ইউনিয়নে না থাকার পক্ষে, আরেক পক্ষ থাকার পক্ষে। দুই পক্ষেই ভোট পড়েছে প্রায় সমান। এ অবস্থায় এখন কি ঘটতে পারে সেখানে?

২৪ জুন সন্ধ্যা ঠিক ৬টায় নিশ্চিত হয়ে যায় যে, ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসছে যুক্তরাজ্য। কিন্তু যুক্তরাজ্য কি এখনই বেরিয়ে আসবে ইউনিয়ন থেকে ? এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, না।

বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে বেশি ভোট পড়লেও আদৌ তারা এখান থেকে বের হতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বের হতে সক্ষম হলেও দুই বছর বা তারও বেশি সময় লাগবে এ প্রক্রিয়া সস্পন্ন হতে। কিন্তু এরই মধ্যে শুরু করেছে নজীরবিহীন সব ঘটনা।

প্রয়োজন হবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর
গণভোটের ফল প্রকাশের পর ডাউনিং স্ট্রিটের ঠিক বাইরে এক বিবৃতিতে ডেভিড ক্যামেরন বলেন, সরকার এ ফল মেনে নেবে। সেই সঙ্গে পালন করবে ব্রিটিশ জনগণের নির্দেশ। যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের নিশ্চিন্তে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ভোটের ফল যাই হোক না কেন, তারা মোটেও ক্ষতিগ্রস্থ হবেন না।

‘জাহজটিকে সঠিক’ রাখার জন্য তিনি ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে থেকে যাবেন। একই সঙ্গে ঘোষণা দেন যে, আসছে শরতে তিনি পদত্যাগ করবেন। কেননা ‘দেশকে পরবর্তী গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার সঠিক ক্যাপ্টেন’ তিনি নন।

নতুন কনজারভেটিভ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিকে অনুষ্ঠিত হবে বলে ধারণ করা হচ্ছে।


বাজার প্রতিক্রিয়া
গণভোটের ফল বলতে গেলে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে নাটকীয় প্রতিক্রিয়া ফেলে বাজারে। লন্ডন শেয়ার বাজারে দিনের শুরুতে শেয়ারের দাম পড়ে যায় ৮ শতাংশ। বার্কলেস ও আরবিএস এক পর্যায়ে ৩০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পায়। তবে দিনের শেষ দিকে শেয়ার বাজারের মূল্য সূচক কিছুটা বেড়ে যায়। আর দিন শেষ হয় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে।

বৈদেশিক মূদ্রাবাজারে পাউন্ডের মূল্যমানও হ্রাস পায়। ১৯৮৫ সালের পর পাউন্ডের বিনিময় মূল্য কখনোই এতো হ্রাস পায়নি। এক পর্যায়ে পাউন্ডের বিনিময় মূল্য হ্রাস দাঁড়ায় ১.৩৩০৫ ডলার। অর্থাৎ পাউন্ডের বিনিময় মূল্য হ্রাস পায় ১০ শতাংশেরও বেশি। তবে দিনের শেষে পাউন্ডের বিনিময় মূল্য সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৩৬ ডলার।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গবর্নর মার্ক কার্নে বলেছেন, ব্রেক্সিটের পর বাজার ও অর্থনীত যে অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে তা আশা করা হচ্ছিল। তবে তার ব্যাঙ্ক যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রযোজনে সব ধরনের সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।


ইউরোপীয় নেতাদের হতাশা
ইউরোপিয় নেতাদের সবাই চেয়েছিলেন, যুক্তরাজ্য ইউরোপিয় ইউনিয়নে থেকে যাক। তাই গণভোটের ফল ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে এক ধরনের হতাশার সৃষ্টি করেছে।

তড়িঘড়ি করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কিভাবে মোকাবিলা করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা। আগামী সপ্তাহের ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের আগে জার্মানি,ফ্রান্স ও ইতালির নেতারা সোমবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন।

ইউরোপীয় কাউন্সিলরের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক ইউনিয়নের ২৭টি দেশের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ভোট ঐতিহাসিক। কিন্তু তা ইইউ’র জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত নয়।

জার্মানির নেতা অ্যাঙ্গেলা ম্যারকেল বলেছেন, ভোটের এই ফল ইইউ’র জন্য খুবই দঃখজনক। এখন কি ঘটবে তা আন্দাজ করা খুবই কঠিন।


প্রত্যাহার
ইইউ থেকে সদস্য পদ প্রত্যাহারের বৈধ আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ২০০৯ সালের লিসবন চুক্তির ৫০ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে। তবে কখনো ব্যবহার করা হয়নি।

ক্যামেরন বলেছেন, কখন প্রত্যাহার করা হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ইইউ থেকে কোনো সদস্য দেশ ইচ্ছে করলেই বের হয়ে যেতে পারবে না। যদি কেউ বের হয়ে যেতে চায়, সে ব্যাপারে আলোচনা করে তা সকলকেই অনুমোদন করতে হবে।

এই আলোচনা শেষ করতে হবে দুই বছরের মধ্যে। কিন্তু কোনো কোনো সদস্য দেশ মনে করে, এই আলোচনা শেষ হতে দুই বছরের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগবে। যেকোনো নুতন চুক্তির ব্যাপারে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভেটো দেয়ার অধিকার রয়েছে।

তবে যুক্তরাজ্যোর বেরিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে প্রবল যুক্তিতর্ক হবে। এর ফলে এক-দুই বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া হবে না।

এছাড়া যুক্তরাজ্যের প্রত্যাহারের বিষয়টি অনমোদনের প্রয়োজন রয়েছে পার্লমেন্টেও।


এলএবাংলাটাইমস/সি/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

আমেরিকানরা কি মুক্তবাণিজ্য থেকে বেরিয়ে আসতে চায়

 প্রকাশিত: ২০১৬-০৫-২১ ২১:১৬:০০

২০১১ সালে আমেরিকার কান্ট্রি সিঙ্গার রনি ডানের ‘ কস্ট অব লিভিন’ গানটির মধ্য দিয়ে সে সময়ের চাকরি সন্ধানী মানুষের হতাশার সুর ধ্বনিত হয়েছিল। গানের দুটো কলি ছিল : ‘ ব্যাংক হ্যাজ স্টাটের্ড কলিং / এ্যান্ড দি উলভস আর এ্যাট মাই ডোর।’ আমেরিকার শিল্পকেন্দ্রগুলোর সর্বত্র একই রকম সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছিল। কারণ ওই সময়টা ছিল শ্রমিক ও চাকরিজীবীদের জন্য দুঃসময়। ১৯৯৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ কারখানা শ্রমিক কর্মচারী চাকরি হারিয়েছিল।
উপরে বর্ণিত ওই সংখ্যাটা এমনিতে এমন বিশাল কিছু নয়। কারণ আমেরিকার ডায়নামিক অর্থনীতিতে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ লোক চাকরি হারায় এবং নতুন চাকরিও সৃষ্টি হয়। তবে সাম্প্রতিক কিছু সমীক্ষায় উদ্বেগজনক চিত্রও পাওয়া গেছে। ১৯৯৯ - ২০১১ সালে কলকারখানায় যত ছাঁটাই হয়েছিল তার এক পঞ্চমাংশের জন্য দায়ী ছিল চীনের প্রতিযোগিতা। যারা চাকরি হারিয়েছিল সাধারণত তারা কাছাকাছি কোথাও নতুন চাকরি পায়নি। আবার তারা অন্য কোথাও চাকরির সন্ধানে যায়নি। আমেরিকায় এখন ২৪ থেকে ৬৪ বছর বয়সী ৫ শতাংশ লোক প্রায়শই অক্ষমতা সুবিধা ভোগ করে থাকে। সোজা কথায় সে দেশের চাকরি বা বেকারত্ব পরিস্থিতি ভাল নয় বরং নৈরাশ্যজনক।
সমীক্ষার ওই উদ্বেগজনক চিত্রের কারণে মার্কিন বাণিজ্যের বিষয়টি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একটা স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। রিপাবলিক মনোনয়ন প্রার্থীদের মধ্যে যিনি এ পর্যন্ত শীর্ষস্থানে আছেন সেই ডোনাল্ড ট্রাম্প অঙ্গীকার করেছেন যে , নির্বাচিত হলে তিনি চীন ও মেক্সিকোর পণ্য আমদানির উপর নিবর্তনমূলক শুল্ক বসাবেন। ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের মধ্যে হিলারির প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্সও বাণিজ্য প্রশ্নে কঠোর বক্তব্য রেখেছেন। ওদিকে প্রেসিডেন্ট ওবামা ট্রান্স প্যাসিফিক পাটনারশিপ (টিপিপি) নামে যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন তার প্রতি পূর্ব ঘোষিত সমর্থন থেকে সরে এসেছেন হিলারি ক্লিনটন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কয়েক দশক যাবত আমেরিকা ও অন্যত্র মুক্তবাণিজ্য ছিল সমৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি। এখন মূলধারার রাজনীতিকরা মুক্তবাণিজ্যের সমর্থনে দাঁড়াতে শুধু শঙ্কিত বোধই করছেন না , এর বিরুদ্ধে তারা ঘৃতাহুতিও দিচ্ছেন।
মুক্তবাণিজ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠের লাভ হলেও কিছু অংশের ক্ষতিও হয়। আমেরিকা এখন সেই ক্ষতির দলে পড়ে গেছে। সেই ক্ষতিটা যা ধারণা করা হয়েছিল তার চেয়েও বেশি ঘনীভূত ও দীর্ঘস্থায়ী। এর এক মস্ত কারণ চীনের উত্থান। বিশ্বে কারখানাজাত পণ্যের রফতানিতে চীনের ভাগ ১৯৯১ সালে ছিল ২ শতাংশ। ২০১৩ সালে তা ১৯ শতাংশে দাঁড়ায়। এতে মার্কিন অর্থনীতি আঘাতপ্রাপ্ত হয়। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অনেকে আমেরিকায় সেসব শিল্প গুটিয়ে নেয়। অনেক কারখানায় খরচ কমাতে লোক ছাঁটাই হয়। এতে বেকারত্ব বাড়ে।
এমন আশঙ্কা মোকাবেলায় সবচেয়ে খারাপ যে পদক্ষেপটা হতে পারে তা হলো সংরক্ষণবাদী নীতি যার পক্ষে ফেরি করে বেড়াচ্ছেন ট্রাম্প। চীনের উৎপাদিত পোশাক , জুতা , আসবাব, খেলনা ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী দামে বেশ সস্তা। আমেরিকায় এগুলোর আমদানি যথেষ্ট পরিমাণে বেড়ে গেছে। তেমনি বেড়েছে নিম্ন আয়ের লোকদের এগুলোর ক্রয় ক্ষমতা। তারা কিনতে পারে এমন পণ্যসামগ্রীর বৈচিত্র্যও গেছে বেড়ে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মার্কিন শিল্প। তাই দাবি উঠেছে এসব পণ্যের আমদানি বন্ধের। কিন্তু এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে এসব আমদানি বন্ধ করলে আমেরিকার মধ্যম আয়ের লোকদের ক্রয়ক্ষমতা ২৯ শতাংশ হ্রাস পাবে। আর সবচেয়ে দরিদ্ররা ক্রয়ক্ষমতা হারাবে ৬২ শতাংশ। কারণ এরা আমদানি পণ্যের পেছনে আনুপাতিক হারে বেশি অর্থ ব্যয় করে।
কিন্তু বিদেশী পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কারণে যেসব মার্কিন শ্রমিক বেকার হয়ে যাচ্ছে তাদের স্বার্থরক্ষার কি ব্যবস্থা আছে ? বাণিজ্য - সমন্বয় সহায়তা নামে এক ফেডারেল কর্মসূচী আছে যার সুবিধা নিয়ে অনেক মার্কিন শ্রমিক চাকরির বাজার থেকে একেবারেই চলে যায়। কিন্তু সেটা তো আর সমস্যার সমাধান নয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক দর্শনের মূল বৈশিষ্ট্য হলো সংরক্ষণবাদ , আমদানি সীমিত করার জন্য তিনি নানান পদক্ষেপের কথা বলেছেন যার মধ্যে রয়েছে সব ধরনের আমদানি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ কর বসিয়ে দেয়া। জনমত সমীক্ষায় দেখা যায় ট্রাম্পের প্রস্তাব আমেরিকানদের প্রভাবিত করেছে। ১৭ মার্চ ইউগভ পোলের জরিপে দেখা যায় ৪৮ শতাংশ আমেরিকান আমদানি কর বৃদ্ধির সমর্থক। ২৪ মার্চ ব্লুমবার্গ পোলের সমীক্ষায় জানা গেছে চাকরি রক্ষার জন্য দুই - তৃতীয়াংশ আমেরিকান আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষপাতি।
সূত্র : ইকোনমিস্ট।

বিস্তারিত খবর

যে সত্য চাপা দেয়া যায় না: বিভিন্ন গ্রন্হে উল্লেখিত জিয়া'র স্বাধীনতার ঘোষণা

 প্রকাশিত: ২০১৬-০৩-২৬ ১৩:৩০:১৯

‘আমরা বীরের সম্মান দিতে জানি না। কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে বাংলাদেশের একজন মাত্র মুক্তিযোদ্ধার ছবি আছে, বুকের ওপর দু’হাত আড়াআড়ি করে দাঁড়ানো। তিনি জিয়াউর রহমান।’ - বাংলা একাডেমির একুশের বইমেলায় এবার প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত লেখক গবেষক এবং এক সময়ের জাসদ নেতা মহিউদ্দিন আহমদের আলোচিত বই ‘বিএনপি সময় অসময়’-এর ১৭৫ পৃষ্ঠায় এই কথাগুলো লেখা আছে। বইটির বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা স্থান পায়। মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বই ও দলিল উদ্ধৃত করে বইটিতে লেখা হয়, ‘‘জিয়াউর রহমানের কথা প্রথম শোনা যায়, ১৯৭১ সালে। তার নেতৃত্বের স্ফূরণ ঘটেছিল ওই সময়েই, মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে। অষ্টম ইস্ট বেঙ্গলের উপ-অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান একাত্তরের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে অর্থাৎ ২৫ ও ২৬ মার্চের মধ্যবর্তী রাতে হানাদারদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। তার রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আবদুর রশিদ জানজুয়া ও অন্য অবাঙালি সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেফতার ও হত্যা করে জিয়া বিদ্রোহ শুরু করেন। তিনি চট্টগ্রামের অসামরিক টেলিফোন অপারেটরকে এরপর বলেন, চট্টগ্রামের ডেপুটি কমিশনার, পুলিশের এসপি, ডিআইজি এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের জানাতে যে, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অষ্টম ব্যাটালিয়ন বিদ্রোহ করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করবে তারা। ২৫ ও ২৬ মার্চের মধ্যবর্তী রাতে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জিয়া যে তার সৈনিকদের কাছে স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন, তা তার সহকর্মীরা সবাই সমর্থন করেন। এই একটি চরম মুহূর্তে জিয়াউর রহমান বিদ্রোহের সিদ্ধান্তটি নিতে পেরেছিলেন। তার সঙ্গে মেজর মীর শওকত আলী, ক্যাপ্টেন অলি, ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান, ক্যাপ্টেন সাদেক হোসেন, লে. শমসের মবিন চৌধুরী, লে. মাহফুজুর রহমান এবং অষ্টম বেঙ্গলের অন্যান্য বাঙালি সদস্যও ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেন। বিদ্রোহের পর ২৭ মার্চ, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জিয়া পাদপ্রদীপের আলোয় চলে আসেন। তার কণ্ঠস্বর ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’, দিশেহারা মানুষকে স্বস্তি দিয়েছিল, উদ্দীপনা যুগিয়েছিল।’’


একাত্তরের ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমানের ‘উই রিভোল্ট’ বলে হানাদারদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে নিজেকে অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করে প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করার দুঃসাহসিক এবং একইসঙ্গে ঐতিহাসিক ঘটনা একটি রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রী এবং তাদের ঘরানার বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে বহুদিন ধরে দুঃসহ এক বোঝার মতো হয়ে আছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের উজ্জ্বল উপস্থিতি খাটো করতে তারা সব সময়ই নানা বিতর্কের অবতারণা করেন। তারা জিয়াকে নিয়ে কূট মন্তব্য করেন। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় এই বীরকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী এবং স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি বলে আখ্যায়িত করতেও কুণ্ঠিত হন না। কিন্তু সত্য ধামাচাপা দেয়া যায় না। তারা মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকাকে যতোই খাটো কিংবা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন, ততোই তা যেন আরও দ্বিগুণ শক্তিতে মাটি ফুঁড়ে বের হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত কয়েকটি আলোচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ বই এর উদাহরণ। এসব বইয়ে উল্লেখিত তথ্যাদি নিয়েই আমার এই লেখা।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, লেখক, গবেষক যারাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন, বই লিখছেন তাদের বইয়ে জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা গৌরবের সঙ্গেই উঠে আসছে। উঠে আসছে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিলেন এবং এই ঘোষনাটি তিনি নিজের হাতে নিজেই লিখেছিলেন। মেজর জিয়া যখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বলেন, ‘উই রিভোল্ট’, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই তিনি আর কেবল একজন মেজরই নন, তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন স্বাধীনতা যোদ্ধা। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কারণ এই পরম আকাংখিত ঘোষণাটির অপেক্ষায় ছিল স্বাধীনতাকামী জনগন। তাই দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ তার বেতার ভাষণে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও পরবর্তীতে তার নেতৃত্বাধীন জেড ফোর্সের যুদ্ধকে স্টালিনগ্রাডের যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেন।

মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী তিন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে খোন্দকার, মঈদুল হাসান ও এস আর মীর্জার কথোপকথন নিয়ে প্রথমা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর কথোপকথন’ শীর্ষক বইয়ে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে স্থান পেয়েছে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ কে খোন্দকার ছিলেন মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান সেনাপতি ও আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী, মঈদুল হাসান ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, তাজউদ্দীন আহমদ-এর বিশেষ সহকারী ও মূলধারা ’৭১ গ্রন্থের লেখক এবং এস আর মীর্জা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গঠিত যুব শিবিরের মহাপরিচালক।

কথোপকথনে এ কে খোন্দকার বলেন, ‘‘২৭ মার্চ সন্ধ্যার কিছু আগে চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। অবশ্য মেজর জিয়া কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে এসে প্রথমেই যে ঘোষনাটি দেন, সেটি ভুলভাবে দেন। সেই ঘোষনায় তিনি নিজেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ঘোষনা করেছিলেন। যুদ্ধের সময় সামরিক বাহিনীর একজন বাঙালি মেজরের কথা শোণা সম্পূর্ণ অন্য ব্যাপার। আমি নিজে জানি, যুদ্ধের সময় অনেক মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে শুনেছি এবং যুদ্ধের পরবর্তী সময়েও শুনেছি মেজর জিয়ার ঘোষনাটি তাদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে কতটা উদ্দীপ্ত করেছিল। তার এ ঘোষণাটি পড়ার ফলে সারাদেশের ভেতরে এবং সীমান্তে যতো মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তাদের মধ্যে এবং সাধারণ মানুষের মনে সাংঘাতিক একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করলো যে, হ্যাঁ, এবার বাংলাদেশ একটা যুদ্ধে নামলো। জিয়ার ২৭ মার্চ ঘোষণা শোনার সঙ্গে সঙ্গে সারাদেশে এবং বাংলাদেশের বাইরে যারা ছিল, তাদের মধ্যে যে একটা প্রচন্ড উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়, সে সম্পর্কে কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়।’’

মঈদুল হাসান বলেন, ‘‘অন্যের কথা কী বলবো, মেজর জিয়ার বেতার ঘোষণা শুনে আমি নিজে মনে করেছিলাম যে না, সত্যি তাহলে সামরিক বাহিনীর বিপুল সংখ্যক লোক বিদ্রোহ ঘোষনা করেছে। এটা আমার মনে বিরাট প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং আমি উৎসাহবোধ করি। আমি আশপাশে যাদের চিনতাম, তারাও এই ঘোষণায় উৎসাহিত হয়। সুতরাং জিয়ার সেই সময়টুকুর সেই অবদান খাটো করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’’

এস আর মীর্জা বলেন, ‘‘২৫ মার্চের পরে আমি সব সময় রেডিও সঙ্গে রেখেছিলাম। এম এ হান্নান সাহেবের ঘোষণা আমি শুনিনি। ২৭ মার্চের বিকালে পরিস্কার শুনলাম, বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষনা দিলেন। এই ঘোষণা শুনে আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম এই ভেবে যে, হ্যাঁ এখন মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বে। কারণ তাদের সঙ্গে বাঙালী সেনারাও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে।’’

এ কে খোন্দকারের সাম্প্রতিক সাড়া জাগানো বই ‘১৯৭১ : ভেতরে বাইরে’-এর ৫৯, ৬০ ও ৬১ নম্বর পৃষ্ঠায় মেজর জিয়ার ঘোষণা সম্পর্কে তার উপরোক্ত বক্তব্য ছাড়াও তিনি লিখেন, ‘‘মেজর জিয়া চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে এসে প্রথম যে ঘোষণা দিলেন, সেটা ভুলভাবেই দিলেন। কারণ তিনি প্রথম ঘোষণায় নিজেকে প্রেসিডেন্ট বলে সম্বোধন করেছিলেন। পরে সংশোধন করে মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। সেটি টেপে ধারণ করা হয় এবং ২৭ মার্চ সন্ধ্যার কিছু আগে তা পুনঃপ্রচার করা হয়। আর এভাবেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রকাশ ঘটল। ... রেডিওতে আমি মেজর জিয়ার ঘোষণা শুনেছি। আমি ওই সময় জিয়াকে চিনতাম না। তবে এই ঘোষণায় আমি স্বস্তিবোধ করলাম এবং আশ্বস্ত হলাম যে অন্তত মেজর পর্যায়ের একজন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা এই যুদ্ধে জড়িত হয়েছেন।... সেই সংকটময় মুহূর্তে জিয়ার ভাষণটি বিভ্রান্ত ও নেতৃত্বহীন জাতিকে কিছুটা হলেও শক্তি ও সাহস যোগায়। ... মেজর জিয়া যে কাজটি করতে পেরেছিলেন, তা করা উচিত ছিল জাতীয় পর্যায়ের প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের এবং এর জন্য তাঁদের একটা পূর্ব পরিকল্পনাও থাকা প্রয়োজন ছিল।’’

২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের বড় মেয়ে শারমিন আহমদের লেখা ‘তাজউদ্দীন আহমদ : নেতা ও পিতা’ বইটি। এতে বলা হয়, ‘‘কালুরঘাটে চট্টগ্রাম বেতারের শিল্পী বেলাল মোহাম্মদ প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে মেজর জিয়াউর রহমান (পরবর্তী সময়ে জেনারেল ও প্রেসিডেন্ট) ২৭ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণাটি অধিকাংশ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। তিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। জিয়াউর রহমানের ঘোষণাটি সে সময় বাঙালী সৈনিকদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছিল।’’

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের সম্পাদনায় বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে ২০০৩ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার ৪৯ নম্বর পাতায় মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা সম্পর্কে লেখা হয়, ‘‘একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী সেনারা বাঙালী হত্যার অভিযানে লিপ্ত হবার পর তাদের হাতে বন্দী হন শেখ মুজিবুর রহমান। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ চলে যান আত্মগোপনে। জনগণ তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। এই সংকটময় মুহূর্তে একাত্তরের ২৬ ও ২৭ মার্চের মধ্যবর্তী সময়ে মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। বাংলাদেশের পূর্ব বিঘোষিত পতাকা সমুন্নত রাখে। মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। মেজর জিয়া এবং তার বাহিনী সামনের সারিতে থেকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন। তারা বেশ কয়েকদিন চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর অভিযানের মুখে কৌশলগতভাবে তারা সীমান্ত অতিক্রম করেন। মুক্তিযুদ্ধের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় জিয়াউর রহমান বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালের জুন মাস পর্যন্ত ১ নং রণাঙ্গণের অধিনায়ক হিসেবে এবং ‘জেড’ ফোর্সের প্রধান হিসেবে জিয়াউর রহমান একজন অসম সাহসী যোদ্ধা হিসেবে প্রতিরোধ আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। নয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান অসাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। তার বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতার পর তাকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।’’

জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক মরহুম হুমায়ুন আহমদ তার মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ উপন্যাসে উল্লেখ করেন Ñ ‘‘একাত্তরের ২৭ মার্চ শনিবার রাত আটটায় রেডিওর নব ঘুরাতে ঘুরাতে এই দেশের বেশ কিছু মানুষ অদ্ভূত একটা ঘোষণা শুনতে পায়... মেজর জিয়া নামের একজন নিজেকে রাষ্ট্র প্রধান ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। তিনি সর্বাত্মক যুদ্ধের ডাক দেন। দেশের মানুষের ভেতর দিয়ে তীব্র ভোল্টেজের বিদ্যুতের শক প্রবাহিত হয়... তাদের নেতিয়ে পড়া মেরুদন্ড একটি ঘোষণায় ঋজু হয়ে যায়...তাদের চোখ ঝলমল করতে থাকে। একজন অচেনা অজানা লোকের কণ্ঠস্বর এতোটা উন্মাদনা সৃষ্টি করতে পারে ভাবাই যায় না।’’

মুক্তিযুদ্ধের ৩ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর কে এম সফিউল্লাহ (বীর উত্তম) তাঁর [Bangladesh at War, Academic Publishers, Dhaka 1989] বইয়ের ৪৪-৪৫ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘‘মেজর জিয়া ২৫ মার্চের রাত্রিতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সদলবলে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন, তার কমান্ডিং অফিসার জানজুয়া ও অন্যদের প্রথমে গ্রেফতার এবং পরে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। পরে ২৬ মার্চ তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর মোকাবেলার জন্য সবাইকে আহবান জানান। এতে তিনি নিজেকে রাষ্ট্র প্রধান রূপে ঘোষণা করেন। ২৭ মার্চ মেজর জিয়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে আরেকটি ঘোষণায় বলেন, বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর সামরিক সর্বাধিনায়করূপে আমি মেজর জিয়া শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।’’

মুক্তিযুদ্ধের এক নম্বর সেক্টর কমান্ডার (১১ জুন থেকে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১) পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর রফিক-উল ইসলাম (বীর উত্তম) তাঁর ‘A Tale of Millions’ বইয়ের ১০৫-১০৬ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘‘২৭ মার্চের বিকেলে তিনি (মেজর জিয়া) আসেন মদনাঘাটে এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। প্রথমে তিনি নিজেকে রাষ্ট্র প্রধান রূপে ঘোষণা করেন। পরে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছেন।’’ কেন জিয়া মত পরিবর্তন করেন তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মেজর রফিক-উল-ইসলাম। ‘‘একজন সামরিক কর্মকর্তা নিজেকে রাষ্ট্র প্রধান রূপে ঘোষনা দিলে এই আন্দোলন রাজনৈতিক চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং স্বাধীনতার জন্য এই গণ-অভ্যুত্থান সামরিক অভ্যুত্থানরূপে চিত্রিত হতে পারে, এই ভাবনায় মেজর জিয়া পুনরায় ঘোষণা দেন শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে। এই ঘোষনা শোনা যায় ২৮ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত।’’

মেজর এম এস এ ভূঁইয়া (সুবিদ আলী ভূঁইয়া) তাঁর ‘মুক্তিযুদ্ধে নয় মাস’ বইয়ের ৫৩ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘‘এখানে মেজর জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ সম্পর্কে কিছু বলা প্রয়োজন। আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, বেতার কেন্দ্র থেকে যাঁরা সেদিন মেজর জিয়ার ভাষণ শুনেছিলেন তাঁদের নিশ্চয় মনে আছে, মেজর জিয়া তাঁর প্রথম দিনের ভাষণে নিজেকে ‘হেড অব দি স্টেট’ অর্থাৎ রাষ্ট্র প্রধান রূপেই ঘোষণা করেছিলেন।’’ তিনি আরও লিখেন... ‘‘স্বাধীনতার ঘোষণা কার নামে প্রচারিত হয়েছিল সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা এই যে, জিয়াউর রহমান নিজে উদ্যোগ নিয়েই এই ঘোষণা প্রচার করেছিলেন। এতে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের কতটুকু সুবিধা হয়েছিল তাও বিচার্য।

১৯৭১-এর মার্চে তরুণ ক্যাপ্টেন অলি আহমদ (পরবর্তীতে কর্নেল) যিনি মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণার সময় তাঁর সঙ্গেই ছিলেন, পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড ব্রæকস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম), অক্সফোর্ড ব্রæকস বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পিএইচডি অভিসন্দর্ভের অনুবাদ গ্রন্থে - (রাষ্ট্র বিপ্লব : সামরিক বাহিনীর সদস্যবৃন্দ এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, অন্বেষা প্রকাশন, ঢাকা, ২০০৮) বলেছেন, ‘‘মেজর জিয়া ছিলেন আমাদের নেতা এবং বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।’’

মুক্তিযুদ্ধের ৫ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী (বীর উত্তম), (পরবর্তীতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল) লিখেছেন, ‘‘অষ্টম বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডার জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করলে এবং পরে স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক দিলে আমি সানন্দে যুদ্ধে যোগদান করি।’’ এছাড়াও ২০০৯ সালের ২৪ মার্চ মীর শওকত আলী (বীর উত্তম)-এর একটি সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয় বাংলাভিশন চ্যানেলে। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে মেজর জিয়া রিভোল্ট করেন এবং পরে নিজের নামে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।’’

কূটনীতিক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ নূরুল হুদা তার ‘দুশো ছেষট্টি দিনে স্বাধীনতা’ শীর্ষক বইয়ের ১৯ পৃষ্ঠায় লিখেন Ñ ‘‘২৭ মার্চ শনিবার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন, ওই দিন চট্টগ্রামে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়া তার গুরুগম্ভীর ও তেজোদীপ্ত কণ্ঠে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। মেজর জিয়াকে তখন চিনতাম না। ওই দিনের আগে তার নামও কোনদিন শুনিনি, তবুও ওই পরিস্থিতিতে মেজর জিয়ার কণ্ঠে ঐতিহাসিক সেই স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে মনে উৎসাহের জোয়ার বয়ে গেল। তখন বন্দী জীবন যাপন করে কেমন যেন মনমরা ও হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। তাই মেজর জিয়ার কণ্ঠে এই ঘোষণা যেন আশার আলো দেখতে পেলাম। ঘোষণাটি খুবই সময়োচিত ছিল।

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ অলি আহাদ (মরহুম) তার ‘জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৭-৭৫’ বইতে স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে লিখেন, ‘‘আমি আবদুল গাফফার চৌধুরীর সহিত নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করিতাম এবং মাঝে মাঝে তাঁহার অভয় দাস লেনের বাসায় রাত্রিযাপন করিতাম। তাঁহার বাসায় রাত্রিযাপন করিতে গিয়া তাঁহারই রেডিও সেটে ২৭শে মার্চ চট্টগ্রাম বেতর কেন্দ্র হইতে ‘স্বাধীন বাংলা রেডিও;র ঘোষণা শুনিতে পাই। এই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হইতে মেজর জিয়াউর রহমানের কন্ঠস্বরে স্বাধীন বাংলার ডাক ধ্বনিত হইয়াছিল। এই ডাকের মধ্যে সেই দিশেহারা, হতভম্ব, সম্বিতহারা ও মুক্তিপ্রাণ বাঙালি জনতা শুনিতে পায় এক অভয়বাণী, আত্মমর্যাদা রক্ষার সংগ্রামে ঝাঁপাইয়া পড়িবার আহবান, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের লড়াইয়ের সংবাদ। ভারতের সমরনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেএফআর জ্যাকব ‘‘Surrender At DACCA : Birth of a Nation’’ বইয়ে লিখেছেন, ‘‘চট্টগ্রামের ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড মেজর জিয়াউর রহমান রেজিমেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বেতার ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ২৭ মার্চে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণা অনেকেই শুনেছেন। যারা নিজ কানে শোনেননি তারাও মুখে মুখে চারদিকে প্রচার করেন। তিনি আরও বলেন, মেজর জিয়া বাঙালি রেগুলার ও আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানদের সহায়তায় চট্টগ্রামে পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।’’

বাংলাদেশে ভারতের প্রথম ডেপুটি হাই কমিশনার জে এন দীক্ষিত তাঁর Liberation And Beyond : Indo-Bangladesh Relations বইতে লিখেন, ‘‘চট্টগ্রামের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমান স্বল্পকালীন পরিসরে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র দখল করেন এবং সেই কেন্দ্র থেকে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণায় তিনি বাংলার সকল সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পাক হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধের আহবান জানান।’’

‘১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমিতে মুক্তিযুদ্ধের ১১ জন সেক্টর কমান্ডার বক্তৃতা দিয়েছিলেন। সেক্টর কমান্ডারদের উপস্থিতিতে জিয়াউর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয় এভাবে ...২৫ মার্চ পাকবাহিনীর বর্বর হামলার পর চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাকারী ও তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তোলার কৃতিত্বের অধিকারী কর্নেল জিয়াউর রহমান...‘তুমুল করতালির মধ্যে বক্তৃতা করতে ওঠেন তিনি।’’ (সূত্র : দৈনিক বাংলা, ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২)।

বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী সাবেক আমলা আবুল মাল আবদুল মুহিত তার বইয়ে উল্লেখ করেন, The next evening Major Zia announced the formatica of a provisional government under his and solicited the support of the world in the liberation of Bangladesh.

১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান যখন ভারতে রাষ্ট্রীয় সফরে যান, তখন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডি রাষ্ট্রপতি জিয়ার সম্মানে দেয়া ২৭ ডিসেম্বর ’৭৭ ভোজসভায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জিয়ার ভূমিকা স্মরণ করে বলেন, ...“ইতোমধ্যে আপনার দেশের ইতিহাসের পাতায় একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা এবং সর্বপ্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দানকারী হিসেবে আপনার মর্যাদা এরইমধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পরে জাতীয় অগ্রগতি ও জনকল্যাণে নিবেদিত একজন জননেতা হিসেবে বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের বাইরে আপনি গভীর শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন।”

‘ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা সুখান্ত সিং যিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং পরবর্তীতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন, তিনি তার India’s Wars Since Independence : The Liveration of Bangladesh বইয়ে লিখেছেন, ‘ইতোমধ্যে ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম বেতার থেকে একজন বাঙালি অফিসার মেজর জিয়ার কণ্ঠস্বর ভেসে আসে।’’

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান (মরহুম) লিখেছেন, ‘‘২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান নিজ দায়িত্বে নিজেকে বাংলাদেশের কমান্ডার ইন চিফ ও প্রভিশনাল রাষ্ট্রপ্রধান বলেছেন। এটা কেউ তাকে বলেনি।’’

শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম তার ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম’ বইয়ে লিখেছেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই ২৭ মার্চ মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দেন যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।’’

বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল কাজী নুরুজ্জামান রচিত ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধঃ একজন সেক্টর কমান্ডারের স্মৃতিকথা’ বইতে তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘‘মেজর জিয়া নিজেকে দেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন।’’

বুদ্ধিজীবী ও লেখক বদরুদ্দিন উমর লিখেছেন, ‘‘মেজর জিয়াই ছিলেন সেই ব্যক্তি, যিনি ২৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন আর সেটা সশস্ত্র বাহিনীগুলোর প্রতিরোধ সংগঠিত করার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছিল। সেটা ঘটেছিল এমন এক মুহূর্তে যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব অকেজো হয়ে পড়েছিল।’’

২৮ মার্চ ১৯৭১। ভারতের ‘দি স্টেটসম্যান’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ‘‘...১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ‘জিয়াউর রহমান’ এক অবিস্মরণীয় নাম। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছিল ২৫ মার্চ রাতেই। আর এই ২৫ মার্চ মধ্যরাতেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন মেজর জিয়া। শুধু বিদ্রোহ ঘোষণাই করেননি, নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঐতিহাসিক ঘোষণাটিও পাঠ করেছিলেন। সেই দুঃসময়ে বাঙালি জাতি ছিল দিশেহারা, দিকনির্দেশনাহীন। ঠিক এ সময়ে মেজর জিয়ার প্রত্যয়দীপ্ত বলিষ্ঠ কণ্ঠের ঘোষনা ছিল তূর্যধ্বনির মতো। প্রথম ঘোষণায় তিনি নিজেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করে স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠ করেছিলেন।’’

একাত্তরের স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে যে নামটি বাংলাদেশের মানুষের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছিল, সেই সমরনায়ক জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সেনানায়ক এবং পরে রাষ্ট্রনায়ক হয়েছিলেন। বিএনপির মতো একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন যা ৩৭ বছর ধরে জনপ্রিয় দল হিসেবে রাজনীতিতে সগৌরবে টিকে আছে। মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র, উন্নয়ন, উৎপাদন, জাতীয় পরিচয়, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আজ জিয়াউর রহমানের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের এক কিংবদন্তি নেতার নাম।
তথ্যসুত্রঃ বিভিন্ন প্রবন্ধ, বই ও ইন্টারনেট।


লেখকঃ মারুফ খান (প্রবাসী সংগঠক ও সাবেক ছাত্রনেতা)

বিস্তারিত খবর

রাষ্ট্রীয় অর্থ লোপাট কেন, কিভাবে ও কারা?

 প্রকাশিত: ২০১৬-০৩-১৯ ১৪:৪৪:৫৫

সাম্প্রতিককালের কয়েকটি ঘটনা এখন আর কেবল ক্ষমতাসীনদের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। ঘটনাগুলোর ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া পুরো জাতিকে অক্টোপাসের মতো গিলে খেতে চাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জিএসপি বন্ধ করে দেয়া, আমাদের দেশের নাগরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে একাধিক শুনানি এবং এ ব্যাপারে বিরূপ সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের ভারি বেকায়দায় ফেলেছে। অস্ট্রেলিয়া কর্তৃক আমাদের দেশের রফতানিপণ্য বহনকারী বিমান তাদের দেশে ল্যান্ড করার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল, তা এখন বর্ধিত কলেবরে ইউরোপ ও আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল হয়েছে। গ্রেট ব্রিটেন কর্তৃক অস্ট্রেলিয়ার মতো একই কায়দায় বাংলাদেশী পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং সে দেশের প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সরাসরি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে তা লিখিতভাবে জানানোর পর এ দেশের সরকারের মধ্যে বেশ অস্থিরতা শুরু হয়ে গেছে।

সরকারের এসব অস্থিরতার মাঝে নতুন করে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে দুনিয়া কাঁপানো আরেকটি আর্থিক কেলেঙ্কারি। ফিলিপাইনের পত্রিকাগুলো প্রথমে সংবাদটি প্রকাশ করে। তারপর তাবৎ দুনিয়ার সব মিডিয়ায় বিদ্যুৎগতিতে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের মানুষ খবরটি শোনার পর কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা আমেরিকার ফেডারেল ব্যাংকে জমা ছিল। একদল হ্যাকার বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সুইফট’ কোড এবং পাসওয়ার্ড হ্যাক করে ব্যাংকের সার্ভারে ঢুকে পড়ে। তারপর অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৮০০ কোটি টাকা সরিয়ে নেয়। পৃথিবীর বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন বুথ, শাখা বা ভল্টে হ্যাক হওয়ার কথা শোনা যায়। কিছু দিন আগে বাংলাদেশের কয়েকটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু ফেডারেল ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের মতো অঘটন বাংলাদেশ তো নয়ই, দুনিয়ার কোথাও ঘটেনি। ফলে সারা পৃথিবীর ফেডারেল রিজার্ভ-ব্যবস্থায় বড় ধরনের একটি ধাক্কা লেগেছে। এ অবস্থায় বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দুনিয়ার ফেডারেল ব্যাংকগুলো ঘটনাটির তদন্তে এবং আসামিদের শনাক্ত করার জন্য আদাজল খেয়ে নেমেছে। বাংলাদেশ ইচ্ছে করলেও তাদের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া ৮০০ কোটি টাকার প্রসঙ্গ ইতঃপূর্বে সংঘটিত বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির মতো ধামাচাপা দিতে পারবে না।

আন্তর্জাতিক মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখে চুরির ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন ফেডারেল ব্যাংক তাদের স্বীকারোক্তিতে বলেছে, অনলাইনে ৮০০ কোটি টাকা ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কার দু’টি ব্যাংকে পরিশোধের নির্দেশনা পাওয়ার পর তারা বিধি মোতাবেক বাংলাদেশ ব্যাংককে তা অবহিত করেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে তারা নিয়ম মোতাবেক ৮০০ কোটি টাকা ট্রান্সফার করে দেয়। দুর্ঘটনাটি ঘটার পর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রায় এক মাস তা গোপন রাখে। জনগণ, মিডিয়া এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তো দূরের কথা তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ডকেও ঘটনাটি জানায়নি। পরে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় খবর প্রচার হলে এবং ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সে দেশের সরকার পাচারকৃত অর্থের লেনদেনকারী ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করলে বাংলাদেশের সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বিষয়টি স্বীকার করে নিতে বাধ্য হন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন আইটি বিশেষজ্ঞ, অভিজ্ঞ ব্যাংকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এক বাক্যে স্বীকার করেন যে, হ্যাকারদের যদি বাংলাদেশের প্রভাবশালী গোষ্ঠী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা সাহায্য না করত, তবে কোনো অবস্থাতেই মার্কিন ফেডারেল ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা সরিয়ে নেয়া সম্ভব হতো না। এ দিকে, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর খুবই দ্রুত কিছু অদ্ভুত ও আজগুবি ঘটনা ঘটতে থাকে, যা মানুষের সন্দেহের যাত্রা বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। গভর্নর আতিউর রহমান ভারতে চলে গেলেন একটি পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে যোগদানের জন্য। সেখানে গিয়ে তিনি মিডিয়ার কাছে সর্বপ্রথম মুখ খোলেন। তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ ছিল তিনি বা তার প্রতিষ্ঠানের অন্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ৮০০ কোটি টাকা চুরির ঘটনা এক মাস ধরে সরকারের কাউকে জানাননি। গভর্নর ভারতীয় মিডিয়ার কাছে বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। অন্য দিকে রাকেশ নামে এক ভারতীয় আইটি বিশেষজ্ঞকে রহস্যজনকভাবে তড়িঘড়ি করে, এমনকি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে না জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইটি পরামর্শক হিসেবে মৌখিকভাবে নিয়োগ দেয়া হয়। মৌখিকভাবে নিয়োগ পেয়ে রাকেশ মিডিয়ার সাথে কথা বলা শুরু করেন এবং তার কোম্পানির লোকজন বাংলাদেশ ব্যাংকের পুরো আইটি বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তারা অনেক বিভাগের চলমান সফটওয়্যার মুছে নতুন সফটওয়্যার ইনস্টল করেছে। পত্রিকার খবর অনুযায়ী, রাকেশ পুরনো সফটওয়্যারের যাবতীয় তথ্য কোনো ব্যাকআপ ছাড়াই মুছে ফেলেছেন। ওই দিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরত বিশ্বব্যাংকের এক কর্মকর্তা হ্যাকিংয়ের ঘটনা, বাংলাদেশ রিজার্ভের উচ্চগতি এবং জাতীয় গর্ব নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক কবিতা লিখে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।

পত্রপত্রিকার মাধ্যমে দেশবাসী খুব ভালো করেই জানেন, পাঁচ-ছয় বছর ধরে গভর্নর আতিউর এবং অর্থমন্ত্রী আবুল মালের সম্পর্ক তিক্ততার সর্বোচ্চ সীমায় ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো বিষয়ে মন্ত্রী বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল না। ফলে মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যেও দ্বন্দ্ব বেধে যায়। দেশের পুরো ব্যাংকিং খাতের লুটপাট, নৈরাজ্য, শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারি ও অন্যান্য বড় আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির প্রধান কারণ ছিল, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং মন্ত্রণালয়ের বিরোধ। আর্থিক খাতের চোর-বাটপাড়, টাউট, লুটেরা ও দুর্নীতিবাজেরা রাতারাতি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। দুই-তিনজন বিতর্কিত ব্যবসায়ীকে সিন্ডিকেটের প্রধান বানানো হয়, যারা দেশের ব্যাংক-বীমা পরিচালনার সাথে যুক্ত এবং একই সাথে ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোয় অবাধ বিচরণে সক্ষম। এই চক্রটি অত্যন্ত কৌশলে মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে করায়ত্ত করে ফেলে। তাদের সিদ্ধান্তের বাইরে সরকারি-বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বোর্ড গঠিত হওয়া কিংবা প্রধান নির্বাহী পদে নিয়োগ পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। দেশের খেলাপি ঋণ কিভাবে রিশিডিউলড হবে, কার ঋণের সুদ মওকুফ হবে, কে ঋণ পাবে ইত্যাদি বিষয় কথিত সিন্ডিকেট কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হওয়া শুরু হলো।

সিন্ডিকেটটির হাতে যখন অযাচিত অর্থ চলে এলো, তখন তারা সেই অর্থ দেশ-বিদেশে পাচার এবং বৈধ ও অবৈধ উপায়ে বিনিয়োগের সব প্রস্তুতি গ্রহণ করল। সোনা চোরাকারবার, বিদেশে অর্থ পাচার, মাদক ব্যবসা এবং ক্যাসিনো ব্যবসার আন্তর্জাতিক চক্রের সাথে সিন্ডিকেটটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়ল। ঢাকা বিমানবন্দর এবং দেশের স্থলবন্দরগুলোকে তারা এসব চোরাচালানের গেটওয়ে বানিয়ে ফেলে। চার-পাঁচ বছরে ঢাকা বিমানবন্দর এবং কক্সবাজার উপকূলে স্বর্ণ ও মাদকের যে চালান ধরা পড়েছে, তা তামাম দুনিয়ার রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। সাধারণভাবে বলা হয়ে থাকে, চোরাকারবারিরা ইচ্ছে করেই প্রতি এক হাজারটি চালানের মধ্যে একটি চালান ধরিয়ে দেয়। সেই হিসেবে, ধরা পড়া স্বর্ণ ও মাদকের পরিমাণকে এক হাজার দিয়ে গুণ করলে এই অবৈধ ব্যবসার পরিমাণ এবং লেনদেনকৃত অর্থের যে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠবে, তা আমাদের দেশের গোয়েন্দারা হিসাব না করলেও পশ্চিমা দেশের গোয়েন্দা এবং সরকারি প্রশাসন খুব ভালো করেই জানে।

ঢাকা বিমানবন্দর, কার্গো ভিলেজ, উত্তরা ও বিমানবন্দর সড়কটির নিয়ন্ত্রণ যে প্রথমত চোরাকারবারিদের দখলে এবং দ্বিতীয়ত, উল্লিখিত সিন্ডেকেটের প্রভাবাধীনে চলছে এই নির্মম সত্যটি যদি সরকার অনুধাবন করত এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিত তাহলে অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেন তাদের দেশে বাংলাদেশের পণ্যবাহী বিমান অবতরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারত না। যারা আন্তর্জাতিক এভিয়েশন ব্যবসা বোঝেন এবং আইয়াটা (IATA) সম্পর্কে জানেন, তারা পশ্চিমা দেশের সন্দেহ বা উদ্যোগকে মোটেও সমালোচনা করবেন না। সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থা, দেশী-বিদেশী চক্রান্ত, সরকারের অগণতান্ত্রিক ও একগুঁয়ে পথ চলা, বিরোধী দলগুলোর বিনাশ সাধন, আইএস বা জেএমবি নামক জঙ্গিদের অপতৎপরতার কারণে আমাদের ভূখণ্ডের যেকোনো মারাত্মক সমস্যা বিমানযাত্রার মাধ্যমে যেকোনো দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বাংলাদেশের লুটেরা চক্রের সিন্ডিকেটটি দেশ-বিদেশের ব্যাংক-বীমা, শেয়ার মার্কেট, বিমান ব্যবসা, হোটেল ব্যবসা, মাদক চোরাচালান, স্বর্ণ চোরাচালান, আইটি ব্যবসা, দেশের টেলিফোন ও ইন্টারনেট গেটওয়ের ব্যবসা, স্যাটেলাইট সম্প্রচার, বিতরণ এবং পরিবহন ব্যবসাগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। রাষ্ট্র ও সরকারের স্পর্শকাতর স্থানের হাঁড়ির খবর তাদের নখদর্পণে। তারা নিয়ন্ত্রণ অথবা প্রভাব বিস্তার করতে পারে না বাংলাদেশে এমন কোনো স্থান বা ক্ষেত্র বোধ হয় নেই। তাদের সিন্ডিকেটের কয়েক সদস্য আন্তর্জাতিক ক্যাসিনো ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। নেপাল, ফিলিপাইন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা প্রদেশের নামকরা কয়েকটি ক্যাসিনো ও রিসোর্টের মালিকানা রয়েছে সিন্ডিকেট সদস্যদের। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি পাঁচতারা মানের হোটেল ও রিসোর্টেও তাদের মালিকানা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের লুট করা টাকা ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে গেছে এটাকে যদি কেউ কু হিসেবে গ্রহণ করে তবে অনেক কিছুর রহস্যই দ্রুত উদঘাটন করা সম্ভব। সরকার যদি অত্যন্ত সৎসাহস ও দৃঢ়তা নিয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট এবং বাংলাদেশের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া অর্থের লোপাট হওয়ার নেপথ্য কারণ খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হয়, তবে ঘোর অমানিশার ভয়ঙ্কর অন্ধকার এ দেশের অর্থনীতিকে গ্রাস করে ফেলবে। একটি বিষয় বোঝার জন্য বলছি কেন ফিলিপাইন সরকার, মার্কিন ফেডারেল ব্যাংক ও এফবিআই বাংলাদেশের চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধার এবং অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে? কেন বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা কবিতা রচনা করছেন? এ কাহিনীর পরবর্তী পর্ব কী হতে পারে? এ ব্যাপারে বক্তব্য পেশ করে আজকের নিবন্ধের ইতি টানব।

প্রথমত, মনে রাখতে হবে, ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো হ্যাকাররা কোনো একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ লোপাট করল। এটি আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থাপনার ফেডারেল সিস্টেমের জন্য একটি বিরাট অশনি সঙ্কেত। কোনো একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভার হ্যাক হলে কিংবা কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপরাধী সিন্ডিকেটের অপতৎপরতার কারণে অন্য যেকোনো দেশের ফেডারেল ব্যাংকের নিরাপত্তা যে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে, তা আলোচ্য অপকর্মের মাধ্যমে ধরা পড়েছে। এ ঘটনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ, ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সেখানকার ব্যাংকিং-ব্যবস্থা মারাত্মক ইমেজ সঙ্কটে পড়ে গেছে। আগামী দিনে হ্যাকার চক্রটি আরো বড় কোনো অপকর্ম যে করবে না, এ কথা কেউ নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারবে না। কাজেই মার্কিন ও ফিলিপাইন সরকার সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির হোতাদের খুঁজে বের করার জন্য।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের সাথে বিশ্ব অর্থনীতির মোড়ল বলে খ্যাত বিশ্বব্যাংকের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তিক্ততার তলানিতে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের দেয়া অতীত ঋণ এবং চলমান প্রকল্পের জন্য তারা বাংলাদেশের সাথে কাজ করছে বটে। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশবিরোধী মনোভাব পোষণ করে আসছে। বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রতিষ্ঠানটিই তৃতীয় বিশ্বের অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা কিং মেকার এবং কিং ডেস্ট্রয়ারের ভূমিকায় সফলতা দেখিয়ে আসছে। জাতিসঙ্ঘের অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদের পর বিশ্বব্যাংককেই সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী সংগঠন বলে বিবেচনা করা হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বব্যাংকের সাথে সম্পর্কের অবনতি এবং উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে বিশ্বমোড়ল বেশ বেকায়দায় পড়েছে। তারা গত সাত বছরে প্রকাশ্য বিরোধিতায় বাংলাদেশের সাথে পেরে ওঠেনি। ফলে কূটনৈতিকভাবে তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা তৎপরতা শুরু করে দেয়। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ তিনটি প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে অটোমেশন পদ্ধতি চালু করার জন্য তারা অর্থায়ন করেছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোয় সব সময় তাদের মনোনীত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই কাজ করে থাকে। খবরে প্রকাশ, বাংলাদেশ ব্যাংকের অটোমেশনের কাজটি করেছিল ফিলিপাইনের একটি কোম্পানি। কাজেই আলোচ্য লুটপাট-বাংলাদেশী সিন্ডিকেট এবং বিশ্বব্যাংক কর্তার কবিতাকে কু হিসেবে নিয়ে তদন্ত করলে অনেক কিছু জানা যাবে বলে আশা করা যায়।

তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় রিজার্ভের ৮০০ কোটি টাকা চুরির ব্যাপারে সরকার যদি যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তবে মার্কিন ফেডারেল ব্যাংকও অন্য বড় নামকরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ জমা রাখতে অস্বীকার করতে পারে। অথবা বাংলাদেশের সাথে অনলাইন ব্যাংকিং বন্ধ রাখতে পারে। আল্লাহ না করুন যদি এরূপ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, তবে আমাদের অর্থনীতি, রাজনীতি, জনজীবনসহ দেশের সার্বিক অবস্থার কী অবনতি হবে তা ভাবতেই মাথা ঘুরে ওঠে। সরকারকে বলব বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার জন্য। সরকারের পদক্ষেপগুলোর একটিও সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখেনি এবং হয়তো রাখবেও না। একজন গভর্নরের চাকরিচ্যুতি, দুইজন ডেপুটি গভর্নরকে অব্যাহতি, একজন সচিবকে ওএসডি করা ইত্যাদি কর্মে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে হয়তো কিছুটা আইওয়াশ হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এসব কর্ম সরকারের জন্য বুমেরাং বলেই বিবেচিত হচ্ছে। সুতরাং নতুন কিছু করতে হবে। বিদেশী বন্ধুদের বুদ্ধি কিংবা সহযোগিতা দিয়ে কোনো লাভ হবে না। খাঁটি বাঙালি রক্ত ধারণ করে, এমন প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ এবং ব্যাংকিং-বিশেষজ্ঞ খুঁজে আনতে হবে দরকার হলে সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপার থেকেও আনা যেতে পারে।

বিস্তারিত খবর

হোয়াইট হাউসে বাংলাদেশী-আমেরিকান ছাত্রদের কাজ করার সুযোগ সৃষ্টির করুন

 প্রকাশিত: ২০১৬-০৩-১৪ ১১:৫৮:৩০

আমেরিকায় বাংলাদেশী আমেরিকান ৫ হাজার ইজ্ঞিনিয়ার, ১ হাজারের উপরে ডাক্তার, ৩ শত ফার্মাসিষ্ট, কয়েক হাজার ব্যবসায়ী ও ৩০  হাজার বাড়ীর মালিক আছেন ৷

আগামী জুন মাসের শেষে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সামার ভেকেশন আরম্ভ হবে ৷ এখন থেকে নিজ নিজ এলাকার কংগ্রেসম্যানের সাথে যোগাযোগ করে আপনাদের ছেলে মেয়েদের হোয়াইট হাউসে, ক্যাপিটাল হিলে ও মন্ত্রনালয়গুলিতে ভলেনটিয়ার হয়ে কাজ করার সুযোগ করে দিলে ভবিষ্যতে আমাদের অধিকার যেমন ঈদের ছুটি, ডিউটি ফ্রি বানিজ্য বিল, মুসলিম হেরিটেজ মাস ও কংগ্রেসে আমেরিকান মুসলিম ককাস গঠনে সহজ হবে ৷

আমাদের ছেলে মেয়েরা কংগ্রেসে লবিংয়ের  নিয়ম কানুন সম্বন্ধে অবগত হবে ৷এ ছাড়াও আমেরিকান মিডিয়া মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার ছালায় তাহার ও প্রতিবাদ করা যাবে ৷বর্তমানে ৬ জন মুসলিম মহিলা হোয়াইট হাউসে কাজ করিতেছে ৷ রুমানা আহমদ (বাংলাদেশী আমেরিকান) হিজাব পড়ে কাজ করিতেছে ৷ সে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপ উপদেষ্টা বেন রোডসের সহকারী ৷ সামারের ছুটির সময় আমাদের আমাদের জাতীয় ও আঞ্চলিক সমিতি ও মসজিদের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউস ভ্রমনের ব্যবস্হা করতে পারেন ৷ সে জন্য নিজ নিজ এলাকার কংগ্রেসম্যানের মাধ্যমে পারমিশন নিতে হবে ৷

এ বছর নবেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের ইলেকশন হবে ৷ আমাদের স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা নিজ নিজ এলাকার কংগ্রেসম্যান ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর জন্য ভলেনটিয়ার হয়ে কাজ করার সূযোগ আছে ৷ আমেরিকা ইমিগ্রান্ট কান্ট্রি বারাক ওবামা যদি প্রেসিডেন্ট হতে পারেন , তবে আমাদের ছেলে মেয়েরাও প্রেসিডেন্ট, কংগ্রেসম্যান ও সিনেটর হতে পারবে ৷ আমরা করব জয়৷

বিস্তারিত খবর

দারিদ্র্যতা জয় করতে শিক্ষা বিস্তারে নিয়োজিত উদয়ন

 প্রকাশিত: ২০১৬-০৩-১০ ১৩:৪৪:৩১

"তোমরা আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটা শিক্ষিত জাতি উপহার দেব" এই বাক্যটি  আমাদের সবার জানা । একই সুরে সুর মিলিয়ে উদয়ন ফাউন্ডেশন সেই উক্তিটি কে সত্য করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে । আমরা মানুষরা সামাজিক জীব, সমাজে আমাদের বসবাস, সমাজে চলাচল করতে গেলে আমাদের চোখে অনেক কিছু পড়ে। আমরা দেখতে পাই ক্ষুধার যন্ত্রনায় কেউ কাতরাচ্ছে, কেউবা অসুস্থতায় ভুগছে দিনের পর দিন। আমরা তাদের জন্য কতটুকুই বা করতে পারি? হয়তো অনাহারের মুখে দু’বেলা অন্ন তুলে দিতে পারি, হয়তোবা অসুস্থ মানুষটির জন্য ১ মাসের ঔষধ কিনে দিতে পারি, তারপর? তারপর কি আমরা কোন খোঁজ রাখি তাদের? আর যদি আমরা তাদের খোঁজ রাখি, কি করতে পারি তাদের বর্তমান অবস্থাকে পরিবর্তন করার জন্য? “উদয়ন ফাউন্ডেশন” এই দরিদ্র অবস্থার পরিবর্তনের র্দীঘ স্থায়ী পরিকল্পনা নিয়ে ১৯৯৫ সালের জুন মাসে প্রতিষ্ঠা হয়।

 “উদয়ন ফাউন্ডেশন” এর প্রতিষ্ঠাতা রেদোয়ান বারী চৌধুরী শিক্ষাকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিলেন, দারিদ্রতা কে দীর্ঘস্থায়ী ভাবে উন্মোচনের জন্য। ১৯৯৫ সালে রেদোয়ান চৌধুরী ৩ জন সদস্য নিয়ে তার জন্মস্থান থেকে ক্ষুদ্র আকারে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করেন। অবশেষে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানের বিস্তৃতি লাভ করে, এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়।

 ১৯৯৫ সালে দরিদ্র শিশুদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে উদয়ন ফাউন্ডেশন এর কার্যক্রম শুরু হয়, তারপর ২০১০ সালে, বিভিন্ন জেলার স্কুলের সাথে যোগাযোগ করে ৬ষ্ঠ শ্রেনী থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত  দরিদ্র শিশুদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয়। একই সালে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে কয়েকটি জেলায় শিশুদের মাঝে Hand Sanitization বিতরন করা হয় এবং আজ অবধি কিছু সংখ্যক ‍স্কুলে Hand Sanitization বিনা মূল্যে বিতরন করা হচ্ছে।

 তারপর, ২০১১ সালে এর মধ্যে উল্লেখিত “শর্তাধীন নগত টাকার সমপরিমান দ্রব্য হস্তান্তর” এর কার্যক্রম হাতে নেয়। এই কার্যক্রম এর মূল উদ্দেশ্য হলো, শিশু শ্রম ও শিশু পাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং শিশুদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখা। বাংলাদেশের দরিদ্র ঘরের একজন শিশু যদি কাজ করে তবে তার মাসিক আয় গড়ে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকার উদ্ধর্ে নয়, তাই উদয়ন ফাউন্ডেশন একটি পরিবারকে তার সন্তানের অর্জিত টাকার সমপরিমান দ্রব্য  দিয়ে সেই পরিবারের শিশুটি কে স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এই “শর্তাধীন নগদ টাকার সমপরিমান দ্রব্য হস্তান্তর” কার্যক্রম এর মাধ্যমে।

 বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য উদয়ন ফাউন্ডেশন বিনামূলে্য সবার মাঝে কম্পিউটার শিক্ষার উৎসাহ তৈরি করেন। এই উৎসাহ কে ধরে রাখার জন্য বিনা মূল্যে চট্রগ্রামে ৩টি, মিরশরাইয়ে ৫টি, ফেনীতে ৪টি এবং সাতক্ষীরায় ২টি এবং সিলেটে ১টি কম্পিটার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন  এবং যার প্রত্যেকটি কম্পিউটার সেন্টার উদয়নের প্রতিনিধি ও উদয়নের পাঠ্য পুস্তক দ্বারা পরিচালিত।

 প্রতিবন্ধিদের জন্য বাংলাদেশে তেমন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা প্রতিবন্ধি ট্রেনিং সেন্টার নেই, আর যা আছে তা স্বল্প আয়ের মানুয়ের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তাই উদয়ন ফাউন্ডেশন প্রতিবন্ধিদের নিয়ে কাজ করেছে, প্রতিবন্ধিদের অবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যে উদয়ন ফাউন্ডেশন সাতক্ষীরায় ক্লান্তিহীন কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে।

 এছাড়া ও উদয়ন ফাউন্ডেশন দুস্থ পরিবারের শিশুদের পড়া লেখার উন্নতির জন্য গনিত, ইংরেজী, বিজ্ঞান এবং অন্যান্য বিষয় শিশুদের দক্ষ করে তোলার জন্য উদয়ন ফাউন্ডেশন ভিডিও তৈরি করছে যা বিনামুল্যে শিশুদের মাঝে বিতরন করা হবে যাতে করে তারা সবার সাথে একসাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। এতে করে গরীব ছাত্র/ছাত্রীদের বাবা মায়ের প্রাইভেট পড়ানো নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। কারন উদয়ন এমনি ভাবে ভিডিও টি তৈরি করবে যা একজন শিক্ষক হিসেবে কাজ করবে।

 উদয়ন ফাউন্ডেশনের বর্তমান প্রকল্প এর মধ্যে অন্যতম প্রকল্প গুলো হলো, দরিদ্র শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান, বাংলাদেশের যুব সমাজের উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ব্যাবসার মাধ্যমে মহিলাদের উন্নয়ন, বর্জ্য থেকে এর্নাজি, মেয়েদের মেধা এবং দক্ষতার উন্নয়ন, প্রযুক্তি কে কাজে লাগিয়ে দেশের সকল জনগোষ্ঠির উন্নয়ন, শীতের সময় হত দরিদ্রের কে সুরক্ষা করা । এইসব প্রকল্প বাংলাদেশের বিভিন্ন জাগায় স্বয়ংক্রীয় ভাবে চলে আসছে। উদয়ন ফাউন্ডেশন দেশের এবং দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে আসছে এবং ভবিষ্যতে উদয়নের এই প্রচেষ্টা অব্যহত থাকবে ।

 উদয়নের অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে একটি হলো- “রাইটিং সেন্টার” । রাইটিং সেন্টার এর উদ্দেশ্য হলো দক্ষতার সাথে লিখার অভ্যাস গড়ে তোলা, যাতে করে কর্ম জীবনে সঠিক ভাবে যে কোন ধরনের ব্যবসায়ীক অথবা চাকুরীর প্রয়োজনে দেশ বিদেশের সাথে সৌহার্দপূর্ন যোগাযোগ স্থাপন ও প্রজেক্ট লিখতে সক্ষম হয়।  এছাড়া ও বিশুদ্ধ পানি পান করার জন্য দুস্থদের মাঝে Water Purifier বিতরন করা হয় । গর্ভবতী মায়েদের নির্যাতন এবং গর্ভাবস্থায় শিশু মৃত্যু হার কমানোর লক্ষে্য উদয়ন ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে।

এছাড়াও বাংলাদেশের যে কোন প্রতিকূল অবস্থাতে উদয়ন ফাউন্ডেশন পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। রানা প্লাজা ধ্বংসের পর উদয়ন ফাউন্ডেশন নগদ অর্থ সহ বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করেছে।
 উদয়ন ফাউন্ডেশন বহুল আলোচিত শিশু রবিউল ইসলাম শান্তকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে উদারতার পরিচয় দেয়।

 উদয়নের সহযোগিতায় মিরশসরাই থানার (চট্রগ্রাম জেলা)  অর্ন্তগত বারইয়ার হাট পৌরসভায়  এবং ছাগলনাইয়া থানার (ফেনী জেলা) অর্ন্তগত উত্তর মন্দিয়ায়  ২টি এতিমখানা পরিচালনা করছে।

উদয়নের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে, কুতুব উদ্দিন দূর্লভ (কান্ট্রি চিপ), রাদিয়ান রাহাব (ডাইরেক্টর অব গ্লোবাল ওপারেশন), পলাশ চৌধুরী (জেনারেল সেক্রেটারি), মেহেনাজ চৌধুরী (ডাইরেক্টর অব ওম্যান এডুকেশন এমপাওয়ারমেন্ট) অন্যতম।

 স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে আপনাকেও শামিল করতে চায় একজন রেদোয়ান চৌধুরী। জনাব! আপনাকেই বলছি। আসুন না, একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই, সুন্দর সমাজ গড়তে শামিল করি নিজেকে।

বিস্তারিত খবর

চার বছর পর আজ ২৯ ফেব্রুয়ারি

 প্রকাশিত: ২০১৬-০২-২৯ ১৩:৪১:২৬

চার বছর পর আবার ফিরে এসেছে ২৯ ফেব্রুয়ারি বা লিপ ইয়ার (অধিবর্ষ)। এভাবেই চার বছর পর পর আমাদের মাঝে ফিরে আসে এই দিনটি। দিনটিকে ঘিরে অনেকেই নানা পরিকল্পনা করে থাকেন। বিয়ে থেকে শুরু করে নানান পরিকল্পনা থাকে এ দিনকে ঘিরে।

অধিবর্ষ (ইংরেজি : Leap year) হচ্ছে একটি বিশেষ বছর, যাতে সাধারণ বছরের তুলনায় একটি দিন (বা চন্দ্রবছরের ক্ষেত্রে একটি মাস) জোতির্বৈজ্ঞানিক বছরের সঙ্গে সামাঞ্জস্য রাখার জন্য বেশি থাকে।

জোতির্বৈজ্ঞানিক বছর বা পৃথিবী যে সময়ে সূর্যের চারপাশে একবার ঘুরে আসে তার উপরই ঋতুর পরিবর্তন ও অন্যান্য মহাজাগতিক ঘটনাবলির পুনরাবৃত্তি নির্ভর করে।

এর সময়কাল হচ্ছে প্রায় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড, অথচ প্রচলিত গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জিমতে বছর হিসাব করা হয় ৩৬৫ দিনে।

এভাবে প্রতিবছর প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় গোনার বাইরে থেকে যায় ও চার বছরে সেটা প্রায় এক দিনের সমান হয়। এই ঘাটতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য প্রতি চার বছর পরপর ৩৬৬ দিনে বছর হিসাব করা হয়।

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি মতে, প্রতি চার বছরে একবার ফেব্র“য়ারি মাসে ও বাংলা সন অনুযায়ী ফাল্গুন মাসে এই অতিরিক্ত ১ দিন যোগ হয়। তাই অধিবর্ষে ফেব্রুয়ারি ও ফাল্গুন মাস হয় যথাক্রমে ২৯ ও ৩১ দিনে। যেমন : ২০১২ একটি অধিবর্ষ ও এর ফেব্রুয়ারি মাস হয়েছে ২৯ দিনে।

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত