যুক্তরাষ্ট্রে আজ রবিবার, ০৫ Jul, ২০২০ ইং

|   ঢাকা - 11:15pm

|   লন্ডন - 06:15pm

|   নিউইয়র্ক - 01:15pm

  সর্বশেষ :

  দেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ লাখ মানুষ   করোনার মধ্যেও শত শত মানুষের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন   রক্ত দান ও ফ্লাইওভারে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নিক্সন লাইব্রেরি   সাউথ লস এঞ্জেলেসে এ্যাম্বুলেন্স চুরির ঘটনায় আটক ১   করোনায় মারা গেলেন লস এঞ্জেলেস পুলিশ কর্মকর্তা   ভিন্নরকম আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস   বর্ষসেরা চিকিৎসক হয়ে যুক্তরাজ্যের বিলবোর্ডে বাংলাদেশি ফারজানা   দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২৯, শনাক্ত ৩২৮৮   অরেঞ্জ সিটির আন্তর্জাতিক স্ট্রিট ফেয়ার হচ্ছে না   ক্যালিফোর্নিয়া পালন করবে ব্যতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস   ক্যালিফোর্নিয়ার নাগরিকদের করোনা ভীতি কমছে   ভাবুন সকলেই করোনায় আক্রান্ত’, বললেন মেয়র   সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলো মায়ের গর্ভের আট মাসের শিশু   আগুনে পুড়লো সান বার্নারদিনো ন্যাশেনাল ফরেস্টের ১০০ একর   যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে বিশিষ্টজনদের ভাস্কর্য রক্ষায় ট্রাম্পের উদ্যোগ

>>  কলাম এর সকল সংবাদ

কেমন আছে আমেরিকান বাংলাদেশিরা


সাড়া বিশ্ব জুড়ে চলছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। আর ভয়াবহ এই ঢেউ পড়েছে বাংলাদেশের উপর। কিন্তু এখনো পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে উপরের অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে অবস্থা একটু স্থিতিশীল হলেও বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছে, যে কোন মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তাদের ধারণা চলমান কৃষ্ণাঙ্গ আন্দোলনের কারণে যে কোন মুহূর্তে করোনায় আবার নতুন করে ভেঙে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ট্রাম্প প্রশাসনের উচিত খুব দ্রুত একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে আসা। এটাই নাগরিকদের জন্য মঙ্গলজনক

বিস্তারিত খবর

যেভাবে করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখবেন

 প্রকাশিত: ২০২০-০৬-০৪ ১০:২৪:৫২

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকরী লকডাউন প্রত্যাহার করা হচ্ছে । ইতিহাসের পাতায় একদিন লিখা থাকবে যে বিশ্ব নেতাদের কাছে সামান্য কাগজের টাকার সামনে মানুষের অমূল্য জীবন মূল্যহীন বস্তুতে রূপান্তরিত হয়েছিলো । তবে আপনি যদি সমাজতন্ত্রের আদর্শে বিশ্বাসী দেশগুলার দিকে একবার তাকান তাহলে তারা কিন্তু অধিকাংশই ভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে শতভাগ সফলতা অর্জন করে আবার অনান্য দেশকেও তাদের দেশের মেডিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছে । যেমন তাইওয়ান হংকং কিউবা ভিয়েতনাম সহ আরো অনেকেই আছে । এদিক থেকে ক্যাপিটালিজমে বিশ্বাসী দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলের স্বর্গরাজ্য নিউজল্যান্ড কিন্তু সফলতা অর্জন করে সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছে কারণ তারা মানুষের জীবনের মূল্যায়ন করতে জানে ।

এইটা একটা ফ্যাক্ট যে আপনি আপনার দেশের নাগরিকদের কিভাবে দেখছেন বা তাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা কিভাবে নিশ্চিত করতে পারছেন । তাই যেহেতু আমরা এখন এতটা সৌভাগ্যবান না সেহেতু আমাদের নিজ নিজ জীবন এবং পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নিজেদেরই দায়িত্ব নিতে হবে । কারণ মনে রাখবেন আপনি মারা গেলে সেটা সরকারি হিসাবে একটা সংখ্যা মাত্র কিন্তু নিজ পরিবার এবং প্রিয়জনের কাছে একটা পৃথিবীর সমান । এদিকে বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের ভাইরোলজিস্ট ডা. জামালউদ্দিন জানিয়েছেন যে করোনা ভাইরাস তার জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে শক্তি বাড়াচ্ছে ।

এখানে উল্লেখ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জন হপকিন্স ভার্সিটির গবেষণা মোতাবেক ভাইরাসটিতে এই পর্যন্ত 5 টা জিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে যেখানে আগের চেয়ে ওআরএফ 1 এবি জিনের আধিক্য লক্ষণীয় বলে তিনি জানিয়েছেন যেটা হচ্ছে সবচেয়ে ভয়াবহ । তাই আমাদের এখন থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে । কিন্তু আমরা অধিকাংশ সবাই একটা বিশেষ ভুল বারবার করে যাচ্ছি । আর সেটা হচ্ছে আমরা মাস্ক তো পড়ছি নাক এবং মুখ সুরক্ষিত রাখতে কিন্তু আপনার চোখ ? আপনারা কি জানেন না যে বিশ্বের সব গবেষকরা বারবার বলে যাচ্ছেন যে প্রতিনিয়ত ক্ষার জাতীয় সাবান দিয়ে হাত ধৌত করার পাশাপাশি আপনার নাক মুখ আর চোখ কে সুরক্ষিত রাখতে হবে ? কারণ করোনা ভাইরাস মানব দেহে শুধুমাত্র নাক মুখ ও চোখ দিয়েই প্রবেশ করার ক্ষমতা রাখে । তাই বাইরে বের হলে আপনার চোখ কে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দিতে ছবি সংবলিত গগলস কিংবা ফেস শিল্ড ব্যবহার করুন । যারা চোখের সমস্যার জন্য পাওয়ার গ্লাস ব্যবহার করেন তারা গগলস না নিয়ে ফেস শিল্ড ব্যবহার করবেন । আর বাকিরা ফেস মাস্কের সাথে গগলস ব্যবহার করবেন । এইসব গগলস কিংবা ফেস শিল্ড বাইরে থেকে এসে ক্ষার জাতীয় ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করে নিবেন না হয় বাসার বারান্দায় রোদ্রে ঘন্টাখানেক রেখে দিলে সূর্য রশ্মিতে অটোমেটিক জীবাণু মুক্ত হয়ে যাবে । এইসব ফেস শিল্ড ও গগলস আপনারা অনলাইনে অর্ডার করে সংগ্রহ করতে পারেন অথবা বিভিন্ন মেডিক্যাল বা সার্জিক্যাল স্টোরে খোজ করলেই পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ । তবে যারা আর্থিক সমস্যার কারণে কিনতে পারবেন না তারা চোখের সাথে টাইট ভাবে ফিট থাকে ধূলাবালি ময়লা প্রবেশ করতে পারে না এমন সানগ্লাস ব্যবহার করতে পারেন । তাছাড়া আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখবেন যে আপনি যদি সাধারণ কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করেন তাহলে কিন্তু করোনা ভাইরাসের জীবাণু প্রতিহত করা সম্ভব না । এর জন্য আপনাকে একমাত্র সার্জিক্যাল মাস্ক বা এন95 ব্যবহার করতে হবে ।

যাইহোক ফেস শিল্ড গগলস মাস্ক এইসব পড়ে বাইরে চলাফেরা করলে আপনাকে অদ্ভুত দেখাবে হয়তো মানুষ আপনাকে নিয়ে হাসাহাসিও করতে পারে কারণ আমাদের সমাজের একটাই কাজ যে মানুষ নিয়ে তামাশা করা । কিন্তু আপনারা এসব মানুষদের কেয়ার করবেন না । আপনার অসাবধানতার কারণে যদি আপনার বা আপনার পরিবারের সদস্যদের কিছু হয়ে যায় মনে রাখবেন এদের একজন মানুষকেও আপনার পাশে পাবেন না । এবার আপনাদের সবার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জন হপকিন্স ভার্সিটির বিশ্ব সেরা গবেষকদের সমস্ত দিক নির্দেশনার লিস্ট করে দিচ্ছি যেটা অনুসরণ করলে ইনশাআল্লাহ আপনারা পরিবার পরিজন নিয়ে ভাইরাস হতে সুরক্ষিত থাকতে পারবেন।
# মাস্ক গ্লাভস এবং গগলস বা ফেস শিল্ড দিয়ে চোখ পরিপূর্ণ কাভার করে এমন চশমা বা সানগ্লাস পড়ে বাজার করতে যান ৷ মহিলারা মাথায় ওড়না বা স্কার্ফ ব্যবহার করবেন আর পুরুষরা পারলে মাথায় টুপি পড়তে পারেন ৷ কারণ চুল থেকেও ভাইরাস সংক্রমিত হয় । যেমন ধরুন মেয়েদের চুল তো স্বাভাবিক ভাবেই বড় লম্বা হয়ে থাকে আর অনেক ছেলে আছে যারা চুল বড় রাখতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন । এখন বাইরে বের হলে আপনাদের খোলা চুলের উপর বাতাসে ভেসে থাকা ভাইরাস এসে যদি পড়ে যায় এবং সেই চুল খোলা থাকলে নিশ্চয়ই আপনার চোখে মুখে নাকের সংস্পর্শে আসবেই আসবে । তখনই ভাইরাস আপনার নাক মুখ চোখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে । তাই চুল বেধে বা ঢেকে বাইরে চলাফেরা করতে হবে সবাইকে

# আপনার ব্যবহৃত জুতা বা স্যান্ডেল অবশ্যই দরজার বাইরে খুলে বাসায় ঢুকবেন ।।

# বাসায় এসে বাজারের ব্যাগ বা প্যাকেট অন্য কাউকে ধরতে দেবেন না ৷ যিনি আনবেন তিনিই সাবধানে সব কিছু ঠিকঠাক সংরক্ষণের কাজ করবেন ৷।

# ডিম এবং ফলমূল ক্ষার জাতীয় সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুতে হবে ৷ যেসব ফল বা শাক সবজি সাবান দিয়ে ধোয়া সম্ভব না সেগুলো হালকা গরম পানিতে ভিনেগার অথবা লবন দিয়ে আধা ঘন্টা ডুবিয়ে রাখতে হবে ৷।

# যেসব প্যাকেটের ভেতর ফয়েল প্যাকেট থাকে যেমন গুড়াদুধ চা কফি বা বিস্কুট ইত্যাদির বাইরের কাগজ প্লাস্টিকের প্যাকেট ফেলে দেবেন ৷।

# কিছু শাকসব্জি যেসব সাবান দিয়ে ধোয়া সম্ভব না সেসব বারান্দা বা অন্য কোন জায়গায় ২৪ ঘন্টা রেখে দেবেন ৷ রোদে রাখতে পারলে আরো বেশি ভালো কারণ সূর্য রশ্মি জীবাণু ধবংস করে । আর যেসব জিনিস সাথে সাথে ব্যবহার করতে হবে সেসব ভিনেগার বা লবন মিশ্রিত কুসুম গরম পানিতে আধা ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে তারপর ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে ৷।

# মাছ মাংশ উপরোক্ত একই নিয়মে ভালো মতন ধুয়ে ডিপ ফ্রিজে রেখে দেবেন ৷।

# এসব ধোয়ার সময়ও গ্লাভস পরাই থাকবে ৷ সেসময় যদি চোখ চুলকায় বা মাথা চুলকায় তাহলে অন্য কারো সাহায্য নেবেন কিন্তু নিজের হাত বা কনুই ব্যবহার করবেন না ৷ সাহায্যকারীও এরপর হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন ।।

# খাবার-দাবার ছাড়া অন্যান্য সকল প্রয়োজনীয় জিনিষ যেমন সাবান শ্যাম্পু রেজর ওয়াশিং পাউডার ইত্যাদি এক থেকে দুইদিন আলাদা জায়গায় প্যাকেট সহই রেখে দিন ।৷

# সবকিছু হয়ে গেলে পরিহিত Dress বা জামা কাপড় খুলে তারপর গ্লাভস খুলে সেসব খুলে ফেলা ড্রেস সাবান বা খার জাতীয় ডিটারজেন্ট পানিতে চুবিয়ে তারপর হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিবেন ৷ কিন্তু বেটার অপশন হচ্ছে সাথে সাথে ভালো ভাবে গোসল করে নিতে হবে ৷ তারপর নতুন পোশাক পরবেন ৷ এর জন্য বাইরে যাওয়ার পূর্বে আগে থেকেই বাথরুমে এইসব কিছু রেডি করে রাখবেন ।।

# সমস্ত রকম রান্নাই যেন বেশী সময় ধরে উচ্চ তাপে ভালোভাবে রান্না করা হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন ৷ কারণ উচ্চ তাপে জীবাণু মরতে সাহায্য করে ।।

# হাতের নখ ছোট রাখবেন Specially মেয়েরা । কারণ ভাইরাস নখের ভেতর থেকে যায় যা সাবানে যায়না ।।

# মানিব্যাগ চশমা মোবাইল বাইরে থেকে এসে Antiseptic Solution বা Sanitizer দিয়ে ভালো ভাবে মুছে নিবেন ৷ কারণ বাজারের পাশাপাশি টাকা এবং মোবাইলে সবচাইতে বেশি ভাইরাস সংক্রমণ ঘটাচ্ছে তাই সাবধান সবাই । আর মাস্ক সংকট থাকলে ব্যবহার করা মাস্ক রোদে রেখে দিন যাতে জীবাণু মরতে পারে ।।

# ঘর মুছতে 20 লিটার পানিতে 1 টেবিল চামচ ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করুন । তবে বাসায় যদি মুরব্বী মানুষ ছোটো বাচ্চা বা এজমা সহ এলার্জির রোগী থাকে তাহলে এই ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত উপাদান ব্যবহার করবেন না । কারণ এই পাউডার এমন কিছু ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে যা Respiratory Syndrome সরাসরি ইফেক্ট করে মানুষের জীবন হুমকির সম্মুখীন করতে পারে । এইজন্য বেটার অপশন হিসাবে বাজারে যেসব ক্লিনার রয়েছে সেসব ব্যবহার করলেই হবে ।।

# প্রতিদিন আধা ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা জিম বা ইয়োগা করবেন নিয়মিত । কারণ বাসায় বসে থাকলে আপনার শরীরের সমস্ত অর্গানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হয়ে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করতে পারে । তাই জিম ইয়োগা করে শরীরের অর্গান স্বাভাবিক রাখুন সুস্থতার জন্য ।।

# প্রতিদিন কমপক্ষে আট ঘন্টা ঘুমাবেন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ফ্রেশ ওয়াটার খাবেন । বেটার দেশে ভাইরাস অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাসায় পানি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ছাকনী দিয়ে ছেকে জল পান করুন । ডাক্তার এবং গবেষকদের মতে এইটা এখন সর্বোচ্চ নিরাপদ পন্থা জল পান করার । কারণ এই মুহূর্তে বাইরের যেকোনো পানিই নিরাপদ না মানুষের জন্য । তবে মিনারেল ওয়াটারে সমস্যা নাই ।।

# আপাতত ভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মার্কেট থেকে নতুন জামা কাপড় কসমেটিকস কেনা হতে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন । এবং বিয়ে শাদি জন্মদিন পার্টি করা সহ যেকোনো জনসমাগম অনুষ্ঠান বর্জন করুন ।।

# অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করবেন সবসময় । কারন আপনি জানেন না যে আপনার পাশের মানুষটা ভাইরাসের আক্রান্ত কিনা সো বোকার মতন রিস্ক নিবেন না । বাইরে একে অন্যের থেকে কমপক্ষে ছয় ফিট দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করবেন । এইসব ভুল করেও অবহেলা করবেন না । আপনার সামান্য অবহেলা সারাজীবনের কান্নার কারণ হতে পারে এই মূহুর্তে।
পরিশেষে কিছু কথা বলে শেষ করতে চাই । বিশ্বখ্যাত শীর্ষ ধনীদের মাঝে অন্যতম আলীবাবা'র প্রতিষ্ঠান জ্যাক মা বলেছেন যে " আপনি যদি বানরের সামনে একটি কলা এবং কিছু টাকা রাখেন তাহলে বানর নি:সন্দেহে কলাটাই বেছে নেবে কারণ বানর জানেনা যে টাকা দিয়ে অনেক কলা কেনা সম্ভব । বাস্তবিক অর্থে আপনি যদি টাকা এবং স্বাস্থ্য এ দুইটা'কে মানুষের সামনে রাখেন তাহলে মানুষ টাকা'কেই বেচে নেবে কারণ মানুষ জানেনা যে স্বাস্থ্য অনেক টাকা এবং সুখ বয়ে নিয়ে আসতে পারে ।। " তাই সিদ্ধান্তটা আপনাদের । জীবিত থাকলে বহু অর্থ সম্পদ উপার্জন করতে পারবেন । কিন্তু জীবনের ঝুকি নিয়ে অর্থ উপার্জন করতে যেয়ে জান হারালে পৃথিবী থেকে শূন্য হাতে প্রস্থান করতে হবে । আমি বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিশেষ একটা অনুরোধ রাখতে চাই । দয়াকরে আপনারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল কলেজ ভার্সিটি মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের জীবন হুমকির মুখে ফেলে অপেন করে দিবেন না পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত । কারণ সম্প্রতি ফ্রান্স এই বোকামি করতে যেয়ে একদিনে 70 জন শিশু আক্রান্ত হওয়ার পর আবার সাথে সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব বন্ধ করে দিয়েছে । এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে সর্বোচ্চ শিক্ষার্থীদের পড়ালেখাতে ব্রেক হবে সেসন লস হবে যেটা পরিবর্তিতে রিকভার করা সম্ভব কিন্তু একবার কারোর জীবন চলে গেলে সেটা আর রিকভার করা সম্ভব না । আজ যে চীন বিশ্ব অর্থনীতিতে রাজ করছে তারা আশির দশকের পূর্বে বাংলাদেশের চাইতে ভঙ্গুর অবস্থার মাঝে ছিলো । আশির দশকের পর সে দেশের সমাজতান্ত্রীক সরকার অর্থনৈতিক বিস্ফোরণ সৃষ্টি করলেন । কিভাবে জানেন ? একটা দেশের জনসংখ্যা সে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তির চাবিকাঠি যদি আপনি সঠিক ভাবে তার ব্যবহার করতে জানেন । চীন সরকার আশির দশক থেকে দীর্ঘ বারো বছর সে দেশের সকল অনার্স মাস্টার্স মানে স্নাতক স্তরের পড়ালেখা বন্ধ করে দিয়েছিলো । কারণ চীন সরকার তার জনগনকে বলেছিলো যে তারা এত ডিগ্রি অর্জন করে কি করবে ? দেশে তো কর্মসংস্থান নাই যে তারা এই পড়ালেখাতে তাদের শ্রম মেধা সময় আর অর্থ ইনভেস্ট করে অর্থ উপার্জন করতে পারবে তাই না ? এইজন্য তিনি শিক্ষার্থীদের সমস্ত শ্রম মেধা সময় এবং অর্থ ইনভেস্ট করে পারিবারিক ভাবে নিজ নিজ বাসায় যে যার মেধা অনুযায়ী শিল্প অথবা প্রডাক্ট উৎপাদন করতে বললেন যেটা চীন সরকার নিজ দায়িত্বে বিশ্ব বাজারে বিক্রি করার ব্যবস্থা করবেন । তারপর বাকিটা এখন ইতিহাস । চীনের অর্থনীতি এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতার দিকে সারা বিশ্বের সব রাষ্ট্ররা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে । মাত্র এক যুগ তারা স্নাতক পড়াশোনা বন্ধ রেখে নিজের দেশের চেহারা পাল্টে দিয়েছিলো । সেখানে আমাদের বর্তমান অবস্থা নিশ্চয়ই তাদের আশির দশকের চাইতে কম না । আমরাও অর্থনৈতিক ভাবে ব্যাপক একটা বিস্ফোরণ ঘটানোর পজিশনে আছি এখন । কিছুদিন কেনো বছর খানেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখলেও তেমন কিছুই যায় আসবে না বর্তমান পরিস্থিতিতে । এমনিতেই কয়েক কোটি বেকার জনগোষ্ঠী রয়েছে আমাদের দেশে এবং করোনা মহামারীতে আরো 23 শতাংশ মানুষ তাদের কর্ম হারিয়েছে ।

এমন অবস্থায় কেউ তাদের জীবন হুমকির সম্মুখীন করে ডিগ্রি অর্জন করে দেশের কোথায় কি করতে পারবে ? আমার কথা হচ্ছে এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে দেশের অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না । কিন্তু দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের এসব মেধাবী শিক্ষার্থীদের কিছু হয়ে গেলে সেটা নিশ্চিত ভবিষ্যত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে । এদিকে বিশ্ব অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে করোনা মহামারীর কারণে সারা পৃথিবীতে প্রায় 200 কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে যাবে । তাই এখন থেকেই সব দেশের উচিত তাদের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে কিভাবে ভবিষ্যত অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগানো যায় তার বিশেষ ভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা । করোনা পরিবর্তি পৃথিবীতে আপনাদের টিকে থাকতে হলে কাজ নিয়ে লজ্জা করা যাবে না । আর অভিভাবকদের বলবো যে আপনার সন্তানের জীবন হুমকির সম্মুখীন করে এই মূহুর্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে কি অর্জন করতে পারবেন ? একটা সার্টিফিকেট ? কি কাজে আসবে এই সার্টিফিকেট বর্তমান পরিস্থিতিতে ? কিছুই না নিশ্চয়ই । তবে আপনার সন্তান সুরক্ষিত থাকলে বেচে থাকলে কিন্তু কিছুদিন পরে এই একই সার্টিফিকেট অর্জন করে অনেক কিছুই করতে পারবে ইনশাআল্লাহ । জীবন বিপন্ন করে শিক্ষা অর্জন করতে যাবেন না । জীবনের মূল্যায়ন করতে শিখুন সবাই । আর করোনা ভাইরাসকে ভয় করে সতর্কতা অবলম্বন করুন সবাই । কারণ যার চিকিৎসা নাই সেটাকে ভয় করাই বুদ্ধিমানের কাজ । চিকিৎসা আজ অথবা কাল অবশ্যই আবিষ্কার হবে । কারণ পবিত্র আল কোরআনে আল্লাহ পাক বলেছেন যে তিনি পৃথিবীতে এমন কোনো রোগ দেন নাই যার চিকিৎসা দেন নাই । তাই আপনারা সবাই যার যার বিশ্বাসের স্থান হতে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করুন সমাধানের জন্য । এবং প্রকৃতিকে সময় দিন নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে । কারণ প্রকৃতি না বাচলে মানুষ বাচবে না । পরিবেশ বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে এই করোনা ভাইরাসই পৃথিবীর জন্য শেষ বিপর্যয় নয় । এখনই যদি বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন না করা যায় তাহলে পরিবেশ আরো অনেক জীবাণু উগলানো শুরু করবে পৃথিবীর জন্য যেটার পরিনতি আরো ভয়াবহ হতে পারে । পরিবেশ প্রকৃতি গাছপালার কাজ হচ্ছে পৃথিবীর সব জীবাণু শোষন করে মানুষের বেচে থাকার জন্য ফ্রেশ অক্সিজেন সরবরাহ করা । অথচ আমরা এই মানবজাতি আজ এতটাই বোকা এবং নির্বোধ অধম হয়ে গেছি যে সামান্য কিছু টাকার লোভে গাছপালা বন জঙ্গল উজার করে কেটে বিক্রি করে নিজেদের জীবন নিজেরাই ধবংস করে দিচ্ছি । যার কারণে ফ্রেশ অক্সিজেন সরবরাহ কমে যাচ্ছে আর প্রকৃতি বিষাক্ত জীবাণু শোষন করতে পারছে না এবং আমরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে নিজেদের চিকিৎসার পেছনে লাখ লাখ টাকা খরচ করে দিচ্ছি বাচার জন্য আশ্চর্য্য ফিলোসফি আমাদের তাই না ? আমার পক্ষে সম্ভব হলে বাংলাদেশ সহ সারা পৃথিবীতে গাছ কাটার জন্য মৃত্যুদন্ডের বিধান করতাম । কারণ শুধুমাত্র প্রকৃতি ধবংস করার জন্য কোটি কোটি মানুষের জীবন হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত । আপনি কিউবা'তে যান সেখানে সরকারি পারমিশন ছাড়া গাছ কাটলে জেল জরিমানা সহ উভয়  শাস্তির বিধান রয়েছে । যার কারণে তাদের দেশের মানুষের অসুস্থতা কম ও দীর্ঘজীবী হয় সবাই । শুধু ল্যাটিন আমেরিকার কিউবা না বিশ্বের বহু দেশেই গাছ কাটার জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে । আমি চাই বিশ্বের সব দেশেই পৃথিবী রক্ষার জন্য গাছ কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার আইন প্রণয়ন করা হোক কঠোর শাস্তির বিধান বাস্তবায়ন করে । সবাই “গাছ লাগান - মানুষ বাচান”।

বিস্তারিত খবর

দুঃসময়ের ঈদ

 প্রকাশিত: ২০২০-০৫-২৩ ১১:৪৮:৪৬

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা রইলো। ঈদ আরবী শব্দ যার অর্থ হচ্ছে খুশি। আজ হয়তো আমাদের অনেকেরই মন ভীষন খারাপ কারণ এবারের ঈদে নতুন জামা কাপড় কসমেটিকস পাঞ্জাবী কিনে বন্ধু বান্ধবী আত্মীয় স্বজন মিলে আনন্দ করতে পারবো না এইজন্য নিশ্চয়ই । অথচ আমরা যদি বিষয়টা বাস্তবিক অর্থে বর্তমান পরিস্থিতির সাথে তুলনা করি তাহলে এই মুহূর্তে আপনি যদি সুস্থ থাকেন কিংবা ঠিকভাবে নিশ্বাস নিতে পারছেন বা আপনার পেটে একবেলা অন্তত খাবার দিতে পারছেন অথবা আপনার পরিবার আপনার সাথে আছে এবং সবাই জীবিত রয়েছেন তাহলে আপনাদের সবার আল্লাহর দরবারে আলহামদূলিল্লহ পড়ে বিশেষ ভাবে শুকরিয়া আদায় করা উচিত। কারণ আপনি এই পৃথিবীর সৌভাগ্যবান মানুষের মাঝে একজন।এখন আপনি যদি আল্লাহ সুবহানাতাআলার এত রহমত অস্বীকার করে এই সামান্য নতুন জামা কাপড় বা ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার জন্য আফসোস করেন তাহলে হয়তো আল্লাহ পাক আপনার প্রতি নারাজ হওয়াটা অসম্ভব কিছুই না।

আমরা হচ্ছি সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল মোহাম্মদ (সা.) এর  উম্মাত। যারা যারা এই মূহুর্তে জীবনের পরোয়া না করে ঈদের না‌মে শপিং করছেন তারা কি বল‌তে পারবেন আমাদের রাসূলে পাক হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.) কয়টা ঈদের নতুন পোষাক প‌রে‌ছেন? ঈদে নতুন জামা পড়াটা কি ফরজ কাজের মাঝে পড়ে ইসলামে ? তাহলে কেনো এত হতাশা আজ আপনাদের মাঝে? আপনারা কি জানেন যে, সারা বিশ্বে প্রায় তিনশো কোটি মানুষের দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে পৃথিবীতে যারা তাদের লজ্জা ঢাকার মতন কাপড় পায় না এবং তিন বেলা খাবার পাওয়াটা যেনো আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতন তাদের কাছে? এছাড়া এই একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে জাতিসংঘ এবং ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে সারা বিশ্বে প্রায় আট হাজার শিশু মারা যায় শুধুমাত্র ক্ষুধা নামক ভাইরাসের কারণে! না, জানেন না। কারণ ক্ষুধা নামক ভাইরাস ধনীদের কখনো হত্যা করে না। তাছাড়া প্রতিদিন পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ কবরে চিরনিন্দ্রায় শায়িত হচ্ছে আর বহু মানুষ হসপিটালে তাদের শেষ নিশ্বাসের প্রহর গুনছে আবার অনেকেই অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছে কিন্তু এতকিছু বাদেও আপনি যদি ভালো থাকেন তাহলে বোকার মতন নিজের জীবন নিয়ে এত আফসোস কেনো করছেন? যারা ভালো আছেন সুস্থ স্বাভাবিক আছেন পরিজন পরিজন নিয়ে ভালো আছেন তাদের প্রতিটা দিন আল্লাহর অশেষ রহমতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা উচিত। জীবন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আল্লাহর বিশেষ রহমত থেকে বঞ্চিত হবেন না দয়া করে।

এই ভাইরাসের একটা ভালো দিক কি জানেন আপনারা? এই যে আমরা হিন্দু মুসলিম খ্রিস্টান শিখ ইহুদী বৌদ্ধ আস্তিক নাস্তিক সাদা কালো ধনী গরিব সবাইকে এক কাতারে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে এইটা বোঝানোর জন্য যে দিনশেষে আমরা সবাই কিন্তু মানুষ। আমাদের রক্ত শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সবকিছু অভিন্ন শুধুমাত্র বিশ্বাস ছাড়া।এই বিশ্বাসকে মানুষের জন্য ঐক্যবদ্ধ করতে হবে আমাদের। সবাইকে মানুষ হিসাবে ভালোবাসতে হবে অন্যথায় এই সুন্দর পৃথিবী নষ্ট হয়ে যাবে।
সর্বপ্রথম মানুষকে মানুষ হিসাবে প্রাধান্য দিন, দেখবেন পৃথিবীটা আসলেই অনেক সুন্দর। ভাইরাস কিন্তু সবাইকে মানুষ হিসাবেই আক্রমণ করছে। তবে আমি বিশ্ব নেতাদের কাছে একটা প্রশ্ন রাখতে চাই যে, আপনাদের অর্থনীতি কি আসলেই মানুষের জীবনের চাইতে মূল্যবান? অন্যথায় ভবিষ্যতে পৃথিবীর ইতিহাসে লিখা থাকবে যে পৃথিবীর সংকটময় মূহুর্তে বিশ্ব নেতাদের কাছে তথাকথিত অর্থনীতির সামনে মানুষের জীবন মূল্যহীন বস্তুতে রূপান্তরিত হয়েছিলো। তাই দয়াকরে আপনারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লক ডাউন শিথিল করে বিশ্ব অর্থনীতির দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিবেন না । এইসব সাধারণ জনতা সারা জীবন রাষ্ট্রকে রাজস্ব ট্যাক্স প্রদান করে। এখন প্রতিটা রাষ্ট্রের এইটা দায়িত্ব এবং কর্তব্য যে তারা নিজ নিজ দেশের জনগণের সেই ঋণ শোধ করবে তাদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা প্রদান করে। আর আপনারা সাধারণ মানুষ নিজ নিজ বিশ্বাসের স্থান থেকে ধৈর্য্য ধরে পজিটিভ মাইন্ডেড থাকার চেষ্টা করবেন। এই যুদ্ধটা হচ্ছে আমাদের বেচে থাকার যুদ্ধ । তাই হার মানা যাবে না হতাশ হওয়া যাবে না ।

এদিক থেকে আমি আমার জীবন নিয়ে শত কষ্টের মাঝেও হতাশা খুব একটা প্রকাশ করি না কারণ আমার কাছে লাইফের ফিলোসফি হচ্ছে আল্লাহ কখনো আমাদের দুর্বল করে দেন অধিক শক্তিশালী হবার জন্য । কখনো আল্লাহ হৃদয় ভেঙে চূর্ণ করে দেন আমাদের পরিপূর্ণ করার জন্য । কখনো আল্লাহ আমাদের দুঃখ সইতে দেন অধিক সহনশীল হবার জন্য । কখনো আল্লাহ আমাদের ব্যর্থতা দেন জীবন সংগ্রামে জয়ী হবার জন্য । কখনো আল্লাহ আমাদের একাকিত্ব দেন অধিক সচেতন হবার জন্য । কখনো আল্লাহ আমাদের সর্বস্ব ছিনিয়ে নেন আল্লাহর রহমতের মূল্য বোঝানোর জন্য। তাই সর্বদা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা'র শুকরিয়া আদায় করুন। সবাই সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন ও একে অপরকে সাহায্য করুন আর মানুষ হয়ে মানুষকে ভালোবাসুন। কারণ একমাত্র মানুষের জন্য মানবতাই এখন এই পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারবে । সবাইকে আবারো ঈদের শুভেচ্ছা রইলো । ঈদ মোবারক।

লেখক: অভিনেতা ও সমাজকর্মী

বিস্তারিত খবর

জন্মদিন আমার কাছে একটা মন খারাপের দিন!

 প্রকাশিত: ২০২০-০৫-১২ ১৬:১৯:৫১

জন্মদিন আমার কাছে বিশেষ কিছু না একটা মন খারাপের দিন ছাড়া। কারণ জন্মদিন হচ্ছে জীবন মৃত্যুর মাঝামাঝি আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সময়। বললে হয়তো বিশ্বাস করবেন না যে, আমি আজ পর্যন্ত কখনো জন্মদিনে কেক কাটি নাই। তবে আশ্চর্য্য হলেও এটাই সত্যি। মম বাতি জ্বালিয়ে জীবনের হারিয়ে যাওয়া দিনগুলা নিয়ে আনন্দিত হওয়ার কিছু খুঁজে পাই না। প্রতিবার জন্মদিনের আমার বিশেষ কাজ হচ্ছে দরগাতে যেয়ে জিয়ারত করে সেখানকার মাসজিদে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই এই পৃথিবীতে এখনো বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছি এই সৌভাগ্যের জন্য। তারপর সেখানে অবস্থানরত সব গরীব দুঃখী মানুষ ফকির আর এতিম বাচ্চাদের মাঝে 200 / 500 / 1000 / 2000 টাকা মানে যেটা আমার পকেটে থাকে সব সমান ভাবে ভাগ করে দান করে দেই । এমনও জন্মদিন গেছে যেদিন মাত্র একশো টাকা দান করতে পারছি কারণ আমার কাছে তখন সেটাই সামর্থ্য ছিলো। এছাড়া ক্ষুধার্ত মানুষ বিশেষ করে রাস্তার এতিম বাচ্চাদের খোজার চেষ্টা করি এবং তাদের খাবারের ব্যবস্থা করে দেই। কারণ তাদের দুই চোখের তৃপ্তি আর মুখের নিষ্পাপ হাসিটাকে জীবনের সবচাইতে বড়ো অর্জন মনে করি আমি। প্রচন্ড মানসিক শান্তি পাই যেটা আর কোনো কিছুতেই আমি খুঁজে পাই না। আমাদের নবীজি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা [সা:] এর একটা কথা সবসময়ই হৃদয়ের মাঝে স্পন্দিত হতে থাকে, তিনি বলেছিলেন "যে এতিম বাচ্চাদের মাথায় হাত রাখে সে যেনো আমার মাথাতেই হাত রাখলো কারণ আমিও একজন এতিম।" আর আমাদের ধর্মে ছোটো ছোটো বাচ্চাদের আল্লাহ পাক ফেরেশতাদের সমান মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি সেটাকে কোনো ধর্মের শিশুদের নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। তিনি মানব শিশুর কথা বলেছেন। মানুষের মাঝে ভেদাভেদ মানুষের সৃষ্টি। সৃষ্টিকর্তা তো সবাইকে ভালোবাসেন। যাইহোক এবারের জন্মদিনেও এমন কিছু করার ইচ্ছা ছিলো কিন্তু হঠাৎ এই করোনাভাইরাসের মহামারী সারা পৃথিবীকে বিপর্যস্ত করে দেয়ার কারণে সেই ইচ্ছাটা আপাতত পূরণ হচ্ছে না।


এদিকে বহু বছর পর পবিত্র রমজান মাসে নিজের জন্মদিন আসাতে পরম সৌভাগ্যবান মনে করছি নিজেকে। ইচ্ছা ছিলো এতিম বাচ্চা পথশিশুসহ গরীব মানুষদেরকে ইফতার করাবো এবং ঈদের নতুন জামা উপহার দিবো যেমনটা আমি সবসময়ই করে আসছি কয়েক বছর ধরে। শুধু ঈদ উৎসব বলে না বরং বৈশাখ ভালোবাসা দিবস বা নতুন বছর এবং শীতের সময় এভাবে প্রতিনিয়ত প্রতিবছর নিজের টাকা জমিয়ে এইসব পথশিশু আর এতিম বাচ্চাদের জন্য নতুন জামা কাপড় উপহার দিয়ে আসছি কারণ আমার ভালো লাগে তাদের জন্য কিছু করতে যাদের দেখার কেউ নাই। আমি যদি দশ টাকা ইনকাম করি তাহলে এদের জন্য সেখান থেকে দুই টাকা বরাদ্দ থাকবেই থাকবে। ছয় সাত বছর আগে যখন এইসব কাজ শুরু করেছিলাম তখন পরিচিত মানুষদের কাছে বা বিত্তশালীদের কাছে ডোনেশান চাইতাম এইসব কাজ করার জন্য। কিন্তু তারা হাসাহাসি করতো সাহায্য করা বাদ দিয়ে। তাই পরবর্তীতে আর কারোর কাছে সাহায্য চাই না। নিজে যা পারি সেটা দিয়েই এইসব কাজ করি এখন। মাঝে মাঝে ভাবি যে, একজন মানুষের এক বেলার চা সিগারেটের খরচে একজন মানুষের দুই বেলার খাবার দেয়া সম্ভব অথচ কেউ কারোর জন্য কিছু করতে চায় না । আমি এইসব ভেবে হাসি কারণ আমি জানি কাফনের কাপড়ের পকেট হয় না দুনিয়ার ধন সম্পদ টাকা পয়সা সাথে করে নিয়ে যাবার জন্য। পরকালে অন্ধকার কবরে মানুষের সাথে একমাত্র যাবে তার ভালো কাজ বা সৎকর্ম এবং পরকালের একমাত্র সম্পদ হচ্ছে এই দুনিয়ার মানুষের মুখের হাসি দোয়া এবং ভালোবাসা । আমি তাই পরকালের সম্পদ আহরণ করতে ভালোবাসি আজীবন । তবে হ্যা আমি কখনো যাকাত ফেতরার মতন রাস্তা থেকে উপহারের জামা কাপড় ক্রয় করি না । সরাসরি মার্কেট থেকে ভালো জামা কাপড় ক্রয় করি পথশিশু আর এতিম বাচ্চাদের জন্য । কারণ আমি নিজে যেটা পড়তে পারি না যা খাইতে পারি না সেটা কিভাবে আরেকজনকে খাইতে বা পড়তে দিতে পারি? সমাজের মতন এতটা বিবেকহীন মানুষে এখনো রূপান্তরিত হতে পারি নাই। হাদিসে আছে আল্লাহ তো আপনাদের দান সদকার শুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন করবেন যে তুমি যেটা নিজে খেতে পারো না তুমি যা নিজে পড়তে পারো না সেটা কিভাবে আরেকজনকে দান করতে পারো? তখন মানুষের পূণ্যের কাজ তার পাপে রূপান্তরিত হবে। সমাজে আমরা বহু মানুষ আছি যারা বাসায় তিন বেলা পেট ভরে খেয়ে আবার রেস্ট্রুরেন্টে যেয়ে এক্সট্রাভাবে আরো কিছু খাই ।

অথচ ঠিক সেই রেস্টুরেন্টের নিচেই অনেক ক্ষুধার্ত অসহায় মানুষ বসে থাকে একবেলা সামান্য কিছু আহার করার আশায়। কতজন আজ পর্যন্ত আপনারা সেই রাস্তা থেকে তাদের তুলে এনে দামি রেস্ট্রুরেন্টে বসিয়ে একবেলার জন্য ভালো খাবার খাইয়েছেন? না করলে একবার অন্তত করে দেখেন অকৃত্রিম মানসিক প্রশান্তি পাবেন যা বন্ধু বান্ধবীদের সাথে পার্টি করে পাবেন না। আমি এমন কাজ প্রায়ই করি কারণ ভালো লাগে করতে মানুষের জন্য । আমি গত কয়েক বছর ধরে ঈদের সময় নতুন জামা কাপড় আর কিনি না নিজের জন্য। সেই টাকা দিয়ে দশ বিশটা মানে যতটা সম্ভব হয় আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সেই কয়টা এতিম বাচ্চা আর পথশিশুদের ঈদের জন্য নতুন জামা কাপড় কিনে দেই । কারণ আমার তো সারা বছর ধরে প্রতি মাসে নতুন জামা কাপড় কেনা হয়ই কিন্তু এরা তো সামান্য তাদের লজ্জা স্থান ঢাকার জন্যেও এক টুকরা কাপড় পায় না। এই অপরাধ বোধটা আমার মাঝে কাজ করে আর তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিলাসিতা করতে ইচ্ছা করে না । আমি এসব ভালো কাজ করতে সবসময়ই পবিত্র দরগা শরীফ কে বেছে নেই । যার মাঝে অন্যতম হচ্ছে আমার নিজস্ব দুই ঐতিহ্যবাহী শহর রাজশাহীর হযরত শাহ মাখদূম রূপোশ [র:] এর দারগা এবং খুলনার হযরত খান জাহান আলী [র:] এর দারগা শারীফ। কারণ একমাত্র দারগা শারীফ হচ্ছে এমন এক স্থান যেখানে সব ধর্মের মানুষ আসা যাওয়া করতে পারে এবং আমি যখন মানুষের জন্য কাজ করি তখন শুধুমাত্র সেই মানুষটাকে দেখি তার পরিচয় দেখি না । পরিচয় দেখে মানবসেবা হয় না । আমার ধর্ম আমাকে সেই শিক্ষা প্রদান করে না । আমার ধর্ম মানুষের মাঝে ভেদাভেদ সৃষ্টির শিক্ষা দেয় না । মানুষকে মানুষ হিসাবে ভালোবাসতে শিক্ষা দিয়েছেন আমার রব আল্লাহ পাক এবং আমার প্রিয় রাসূল হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা [সা:] । তাই এখানকার প্রায় সবাই আমাকে চেনে জানে এবং আমার কাজে সাহায্য করেন। আমার ছেলেবেলা থেকে এসব কিছুর জন্য একমাত্র প্রেরণা হচ্ছেন বিশ্ব মানবতার মা মাদার তেরেসা। তার জন্যই মানুষের জন্য বেচে থাকতে শিখেছিলাম । তাছাড়া নিজের জীবনেরও ইতিহাস আছে। আজ থাক এসব কথা। এই মুহূর্তে বিশ্ব মহামারী করোনা ভাইরাসের বিপর্যয়ের বৈশ্বিক ভাবে সম্মুখীন আমরাও। নিজ দেশ এবং দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব বিবেকের জায়গা থেকে যা যা করা সম্ভব সব কিছু করেছি ইতিমধ্যে।


যখন প্রথম প্রথম করোনার প্রকোপ শুরু হয় তখন দেশের বাজারে মাস্ক আর হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যাপকভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়। এই সময়ে নিজ অর্থে মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনে নিজ এলাকার গরীব মানুষ এবং বন্ধু বান্ধব সহ পরিচিত সব মানুষদের গিফট করেছিলাম। তারপর কাজ কর্ম বন্ধ হয়ে যাবার কারণে আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হতে হয় কিন্তু এরপরও থেমে থাকিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা + জন হপকিন্স ভার্সিটির গবেষক + বিশ্বখ্যাত হেলথ জার্নাল নেচার মেডিসিনের সব তথ্য উপাত্ত স্টাডি করে করে নিজস্ব ভাবে আর্টিকেল লিখে দেশে এবং বিদেশের সমস্ত পরিচিত মানুষদের মাঝে শেয়ার করে করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করেছি সবার সুরক্ষার জন্য । আমার পরিচিত এবং পরিচিতদের পরিচিত অনেক গরীব এবং মধ্যবিত্ত সম্ভ্রান্ত মর্যাদাশীল পরিবার রয়েছেন যারা এই কঠিন পরিস্থিতিতে পরে অসহায় হয়ে গেছেন । তারা না পারে নিজেদের খারাপ অবস্থার কথা কাউকে বলতে না পারে লজ্জা ভেঙ্গে মানুষের কাছে কিছু চাইতে । এইসব মানুষের জন্য আমাদের মেয়র এবং এমপি সাহেবদের মাধ্যমে গোপনে খাদ্যশস্যের ব্যবস্থা করে দিয়ে সাহায্য করেছি । এদিকে উন্নত বিশ্বের সব দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ রূপে ভেঙে পড়েছে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারণে । সেখানে আমাদের দেশটা অনেক ছোটো একটা উন্নয়নশীল রাষ্ট্র । আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা হুমকির সম্মুখীন স্বাভাবিক ভাবেই । এমন করোনা পরিস্থিতির মাঝে মানুষ তাদের অনান্য রোগের জরুরী স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । শিশুরাও এর বাইরে নয় । আমি রাজশাহী ঢাকা আর খুলনার জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তাদের নাম্বার কালেক্ট করে যেসব বাড়িতে বা পরিবারের মাঝে সরবরাহ করেছি যাদের যাদের বাড়িতে অসুস্থ মানুষ রয়েছে । পাশাপাশি সারা দেশের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের নাম্বার কালেক্ট করে সেইসব পরিবার এবং পরিচিতদের মাঝে সরবরাহ করেছি যাদের বাসায় নবজাতক শিশু রয়েছে আর প্রেগন্যান্সি প্রিয়ড সাফার করছেন । এতে করে তারা জরুরী স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন না এবং অকাল মৃত্যুর হতে সুরক্ষিত থাকতে পারবেন । বর্তমানে মানুষ খাদ্য এবং চিকিৎসার অভাবে কারণে জীবন মৃত্যুর সম্মুখীন হচ্ছে । কার্যত লকডাউন বা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বহু মানুষ খাদ্য সংকটে পড়েছে । এইসব মানুষদের জন্য রাজশাহী ঢাকা খুলনা এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক পুলিশ প্রশাসন সিটি কর্পোরেশন সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা যারা খাদ্যশস্য সরবরাহের কাজ করছেন তাদের নাম্বার কালেক্ট করে এইসব শহরের পরিচিত বিপদগ্রস্থ মানুষদের দিয়েছি এবং বলেছি তাদের পরিচিত অনান্য বিপদগ্রস্থ মানুষদেরকে দিতে যাতে সবাই বাচতে পারেন। উপরোক্ত কাজগুলা সঠিক ভাবে এক্সিকিউট করতে অনেক ধৈর্য্য পরিশ্রম এবং স্ট্রং স্ট্রাটেজির প্রয়োজন হয় যেটা করতে যেয়ে অনেক সময় আমাকে অনেকের কাছে ছোটো হতে হয়েছে আবার বহু মানুষ প্রশংসা করেছে। আমি আসলে মানুষের সমালোচনার দাম দেই না এখনো । কারণ যারা সমালোচনা করে তারা কিছুই করতে পারে না এবং সেইখানেই পড়ে থাকে যেখানে তারা ছিলো। অন্যের নেগেটিভ কথার দাম দিবেন তো আপনি জীবনে শূন্যতা ছাড়া আর কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। আমার ইচ্ছা ছিলো দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য আরো বেশি কিছু করার কিন্তু অর্থের কাছে তো আমি নিরুপায়। মামা চাচা ফুফুরা আমার মা বাবার অধিকার তাদের প্রাপ্য সম্পদ আত্মসাৎ করার কারণে আমরা নিজেদের মিডল ক্লাস পরিচয় দিতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করি আজীবন । বংশের পরিচয় দিয়ে চরম অপছন্দ করি মানে এক কথায় কখনো দেই না। আমার কাছে মানুষ তার কর্মের সমান বড়ো এবং স্বপ্নের সমান বিশাল । বংশীয় বা আভিজাত্যের পরিচয় তারাই দেয় যারা সমাজে অস্তিত্বহীন বা নিজের বলে কোনো পরিচয় নাই যাদের । আপনি ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখতে পারেন মানুষ তার বংশীয় বা আভিজাত্যের পরিচয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারে নাই । যারা ইতিহাস সৃষ্টি করে অমরত্ব লাভ করেছেন পৃথিবীতে তারা সবাই তাদের কর্ম এবং স্বপ্নের বিশালতার জন্যই তা অর্জন করেছেন । তাই সবাই নিজ কর্মে বিশ্বাসী হন আর স্বপ্ন দেখুন প্রতিনিয়ত । আপনি যত বড়ো স্বপ্ন দেখতে পারবেন আপনি ঠিক তত বড়ই ব্যক্তিত্ব হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। তবে মনে রাখবেন দিনশেষে আমাদের সবাইকে কিন্তু একই মাটির অন্ধকার কবরে যেতে হবে। তাই অহংকার করবেন না নিজেকে নিয়ে বা অহংকারী হয়ে যাবেন না । এবং যা কিছুই অর্জন করবেন জীবনে তার জন্য সৃষ্টিকর্তার দরবারে শুকরিয়া আদায় করবেন । অন্যথায় আপনার সমস্ত অর্জন বৃথা হয়ে যাবে । কারণ মহান আল্লাহ পাক অহংকারীদের ঘৃণা করেন। অহংকার করা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য মানায় কারণ তিনিই এর একমাত্র দাবিদার। যাইহোক অনেক কথা বলে ফেললাম। এবার দেশ নিয়ে কিছু কথা শেয়ার করবো ।

আমাদের বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের করোনা মহামারী দুর্যোগ মোকাবেলা করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু শুধুমাত্র একজন মানুষ ভালো হলে তো দেশ পরিবর্তন করা সম্ভব না। তার জন্য আমাদের সবাইকে সৎ হতে হবে। তিনি নির্দেশ দিলেন ডাক্তারদের মাস্ক পিপিই নিয়ে যেনো অভিযোগ না আসে। অথচ তার কথা অমান্য করে নিম্ন মানের মাস্ক পিপিই বিভিন্ন হসপিটালে সরবরাহ করার অভিযোগ উঠলো। এরপর সেই যারা যারা অভিযোগ দিয়েছেন তাদেরকে ওএসডি না হয় ট্রান্সফার করা হলো। আর নিম্ন মানের মাস্ক ব্যবহার করে ডাক্তার পুলিশ প্রশাসন একের পর এক আক্রান্ত হতেই আছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত হাজার হাজার কোটি টাকার খাদ্যশস্য এমনকি নগদ অর্থ পর্যন্ত বরাদ্দ করে দিচ্ছেন দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের গরীব অসহায় অভাবী মানুষদের জন্য । অথচ চারিদিকে পত্র পত্রিকায় বিভিন্ন নিউজ দেখা যাচ্ছে যে বহু মানুষের বাসায় খাদ্য নাই। অনেকে নাই খেয়ে দিন পার করছে । মায়েরা ঠিক ভাবে খাবার পাচ্ছে না তাই বুকে দুধ আসছে না যে কারণে দুধের শিশু দুধ পাচ্ছে না এমন সংবাদ পর্যন্ত দেখলাম । অথচ সেদিন সরকার থেকে শিশুদের দুগ্ধজাত খাদ্য কেনার জন্যেও বরাদ্দ দিয়ে দিয়েছেন। একদিন তো প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংসদে বললেন যে তার কাছেও নাকি এসএমএস আসে যে আপা আমার বাসায় খাবার নাই। অথচ তিনি তার সর্বোচ্চ দিয়ে এই দুর্যোগ মোকাবেলা করার ব্যবস্থা করে যাচ্ছেন। আমার জানামতে দেশে যে পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে তাতে সরকার অন্তত ছয় মাস দেশের মানুষকে বাড়িতে বসে খাওয়াতে পারবে কিন্তু শুধুমাত্র অনিয়মের কারণে সেটা হয়তো সম্ভব হবে না । আমার বাড়িতে প্রতিটা দিন আট দশ জন করে ফকির আসছে। তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে বলে যে তারা কোনো ত্রাণ বা অর্থ সাহায্য পাই নাই । প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ভাবছে সরকার হয়তো তাদের জন্য কিছুই করছে না । সরকার ত্রাণ লুটপাটকারীদের ধরার চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং ইতিমধ্যেই অনেককে বরখাস্ত করেছেন জেলেও দিয়েছেন । কিন্তু এভাবে হয়তো সবাইকে চিহ্নিত করা সম্ভব না যাদের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এর জন্য প্রয়োজন প্রতিটা গ্রাম মহল্লায় সেখানকার পৌর মেয়র বা মেম্বার অথবা কাউন্সিলরদের কর্মকান্ড গোপনে পর্যবেক্ষণ করার জন্য কিছু কর্মী নিয়োগ দেয়া যাদের কাজ হবে সবকিছু শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রিপোর্ট করা। কারণ এখনকার মেম্বার কাউন্সিলর'রা তাদের শপথ বাক্য ভুলে গেছেন । এমন ভয়াবহ ভাইরাস পরিস্থিতিতেও সামান্য জীবাণু নাশক স্প্রে করার জন্যেও কাউকে খুজে পাওয়া যায় না। সবাই দায়িত্বহীন ভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করছেন কারণ কারোর জবাবদিহিতা নাই। আরেকটা বিশেষ কথা হচ্ছে এভাবে লকডাউনের সময় বাড়ি বাড়ি ফকির যাতায়াত করলে আমাদের লকডাউন থেকে তো কোনো লাভ হবে না । কারণ এইসব গরীব মানুষ ফকির তো শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ঘোরাফেরা করে এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে যাচ্ছে মানে তারা বিভিন্ন মানুষের সংস্পর্শে আসছে। এখন আমরা তো আর জানতে পারছি না যে কার শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু রয়েছে। তাহলে এরাই তো মানুষের বাড়িতে বাড়িতে লকডাউনে থাকা অবস্থায় ভাইরাস সংক্রমণের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে তাই না। এইসবের একটাই কারণ সেটা হচ্ছে দুর্নীতি আর অনিয়ম। আজ যদি এমন দুর্নীতিবাজ কিছু মানুষের কারণে বাংলাদেশ ভাইরাস মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে যায় তাহলে বিশ্ব হয়তো বাংলাদেশকে একঘরে করে দিতে পারে।

কারণ অনান্য দেশ সফলতা অর্জন করলে নিশ্চয়ই চাইবে না যে দেশে ভাইরাস রয়েছে তাদের সাথে আপাতত সম্পর্ক রাখতে। যার প্রভাব সরাসরি আমাদের দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্থ করে দিবে । এমনিতেই সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে ধ্বস নেমেছে এখন। গ্লোবাল ইকোনমির বিভিন্ন গবেষকরা জানিয়েছেন প্রায় দেরশো কোটি মানুষ তাদের জব হারাতে পারে । ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ছয় লাখ + নর্থ আমেরিকাতে প্রায় দশ লাখ + চীনে আট কোটি নব্বই লাখ + ভারতে প্রায় তেরো কোটি মানুষ তাদের জব হারিয়ে বেকার হয়ে গেছে । সামনে পৃথিবীর সব দেশেই আরো এমন হতে যাচ্ছে । বিশেষ করে বিভিন্ন দেশে কর্মরত বিদেশী শ্রমিকদের জীবন জব হারিয়ে দুর্বিষহ হয়ে যাচ্ছে । যার মাঝে মিডল ইস্ট গল্ফ জোনের আরব রাষ্ট্র হতে প্রায় দশ লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক জব হারিয়ে দেশে ফিরছেন । এভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের দেশের বিদেশী শ্রমিকদের ফেরত পাঠানো শুরু করে দিয়েছে । কারণ ভাইরাস পরিস্থিতি পরবর্তী নতুন যে বিশ্বের জন্ম হতে যাচ্ছে সেখানে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বহু থাকবে । তখন এইসব কর্মহীন জনগোষ্ঠিদের নিজ নিজ দেশের সরকার তাদের দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য কাজে লাগাবে । এখানে বিদেশী শ্রমিকদের রাখলে তাদের দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে না । এতকিছু চিন্তা করে হয়তো দেশের অর্থনীতি বাচানোর জন্য সরকার লকডাউন শিথিল করছেন । ভরসা একটাই মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা । কিন্তু আফসোস বাংলাদেশের জলবায়ু ধবংস হয়ে গেছে বহু আগে । পৃথিবীর সবচাইতে বিষাক্ত জলবায়ুর দেশ হচ্ছে বর্তমান বাংলাদেশ । এই জলবায়ু ধবংসের কারণে আর ভেজাল খাদ্য গ্রহণ করে করে আজ দেশের প্রতিটা ঘরে ঘরে দুই তিন জন করে এজমা হার্ট ডিজিজ ডাইবেটিকস ব্লাড প্রেসার কিডনি বা পেটের সমস্যার রোগী রয়েছেন । তাই আপনার ইমুউনিটি সিস্টেম খুব স্ট্রং ভালো কথা মানলাম । তবে আপনি আক্রান্ত হয়ে বেচে গেলেও আপনার পরিবারের অনান্য সদস্যদের বাচাতে পারবেন তো? সহ্য করতে পারবেন কি আপনার চোখের সামনে আপনার বৃদ্ধ বা অসুস্থ মা বাবা বৌ বাচ্চা ভাই বোনের মৃত্যু? ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মরলে আপনি সরকারি হিসাবে একটা সংখ্যা হবেন মাত্র কিন্তু পরিবার প্রিয়জনদের কাছে এই সংখ্যাটা একটা পৃথিবী সমান মনে রাখবেন কথাটা । এইজন্য সাবধান আমাদের হতে হবে বাচার জন্য যতদিন ভ্যাকসিন না আসছে । ভ্যাকসিন অবশ্যই আসবে আজ অথবা কাল। কারণ সবকিছুর একটা শেষ আছে । তবে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন এই করোনা ভাইরাসই শেষ বিপর্যয় না পৃথিবীর মানুষের জন্য । জলবায়ু ধবংস করে ফেলার জন্য পরিবেশ বাতাস আগের মতন আর রোগ জীবাণু শোষন করতে পারছে না । যার কারণে তারা বিভিন্ন রোগের জীবাণু এখন উগলানো শুরু করেছে যার পরিমাণ হবে আরো ভয়াবহ মানবজাতির জন্য । এইজন্য আমি গত ছয় সাত বছর ধরে বারবার বলে আসছি যে " গাছ লাগান মানুষ বাচান " । আল্লাহ পাক কোরআনে একটা কথা বলেছেন যে " তোমরা প্রকৃতি ধবংস করো না - প্রকৃতি তার প্রতিশোধ নিবে " । এখন কিন্তু ঠিক সেটাই হচ্ছে । প্রকৃতি তার প্রতিশোধ নিচ্ছে মানবজাতির প্রকৃতির সাথে অমানবিক পাশবিকতার জন্য । তাই এখন আমাদেরকে বাচতে হলে এই প্রকৃতিকে আগে বাচাতে হবে । প্রয়োজনে গাছ কাটার অপরাধে মৃত্যুদন্ডের আইন প্রণয়ন করতে হবে ।

যাইহোক আপনাদের সবার কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ আসেন আমরা সবাই নিজ নিজ বাসায় সরকারের নির্দেশ মেনে অবস্থান করি। এই যুদ্ধটা বাসায় থেকে দেশ বাচানোর যুদ্ধ দেশের মানুষ বাচানোর যুদ্ধ । আপনার আমার সামান্য একটা ভুলের জন্য একটা এলাকা একটা শহর এমনকি একটা দেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে । অথচ চারিদিকে আপনারা এমন ভাবে চলাফেরা করছেন যেনো ভাইরাস দিনের বেলা ঘুমিয়ে থাকে। এবারের ঈদে না হয় মার্কেট নাই বা করলেন বেচে থাকার জন্য। আপনাদের আশেপাশে যেসব গরীব মানুষ রয়েছে বা অভাবী মানুষ রয়েছে যারা দুর্নীতির শিকার হয়ে সরকারের খাদ্যশস্য সাহায্য হতে বঞ্চিত হচ্ছে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে তাদেরকে আপনার ঈদের খরচের টাকাটা দিয়ে বাচতে সাহায্য করুন। এতে মহান আল্লাহ সুবহানাতাআলা অনেক খুশি হবেন । আপনার আর আপনার পরিবারের উপর তার রহমত বর্ষণ করবেন । এরপরও যদি মার্কেটে যেতে ইচ্ছা করে তাহলে খেয়াল রাখবেন আপনার ঈদ আনন্দের রঙিন কাপড় যেনো সাদা কাপড়ে রূপান্তরিত না হয়ে যায় । তবে একটা কথা কি জানেন যে আমাদের দেশে ধনীরা যদি তাদের সম্পদের সঠিক হিসাব অনুযায়ী যাকাত প্রদান করতো তাহলে দেশে গরীব বলে আর কেউ থাকতো না এবং আত্মীয় স্বজনরা যদি কারোর সম্পদ আত্মসাৎ না করতো তাহলে মধ্যবিত্ত বলে কারোর অস্তিত্ব থাকতো না। আমি আমাদের দেশকে কখনো গরীব ভাবি না। এদেশের সব টাকা এক শ্রেণীর মানুষের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে যার কারণে দেশটা অসম অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সম্মুখীন হয়ে আছে যেখানে ধনীরা আরো ধনী হয়ে যাচ্ছে আর মধ্যবিত্ত এবং গরীব শ্রেণীর মানুষ দিন দিন রাস্তার ভিখারী হয়ে পড়ছে। হয়তো একদিন দুর্নীতি বন্ধ হবে এবং দেশটা প্রকৃত অর্থে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত হবে ইনশাআল্লাহ। কিন্তু তার জন্য আমাদের সবাই সবাইকে সাহায্য করতে হবে ভালো কাজ করতে এবং সবাইকে ভালোবাসতে হবে। যাইহোক সবাই ভালো থাকবেন এবং সবাইকে ভালো রাখবেন এই কামনা রইলো। আসেন সবাই এবার আমরা মানবিক হয়ে যাই।

লেখক: অভিনেতা

বিস্তারিত খবর

করোনা: প্রকৃতির প্রতিশোধ না কি মানবজাতির জন্য শিক্ষা?-২

 প্রকাশিত: ২০২০-০৫-০২ ১২:২৮:১১

ইসলামে মানবজাতির জন্য কেবলমাত্র সৎকাজগুলোই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং শান্তি ও সম্প্রীতির বিষয়গুলোই প্রচারিত হয়েছে। ইসলামের মূল বিষয় হচ্ছে ‘একমাত্র আল্লাহর উপাসনা করা’ আর অহংকার, হিংসা, সমকামিতা, অবৈধ যৌনমিলন, ভণ্ডামি, অসত্যতা, দুর্নীতি, নৈরাজ্য, খুন, নিপীড়ন, অত্যাচার ও অবিচার সহ মানবজাতির জন্যে ক্ষতিকারক সকল বিষয়কে নিষিদ্ধ করা।

পবিত্র কুরআন শরীফ কেবলমাত্র মুসলমানদের জন্য নয় সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহতায়ালা কর্তৃক সর্বশেষ ধর্মগ্রন্থ হিসাবে প্রেরিত হয়েছে। সহজ, সরল ও সৎ ভাবে জীবন-যাপনের বিষয়গুলো এখানে নির্দেশিত হয়েছে, আল্লাহর একত্ববাদ প্রচার করা হয়েছে, এবং বিশ্বাসীদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে উত্তম প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যে উপরোক্ত বিষয়গুলির সাথে কি কেউ বিরোধিতা করতে পারে বা কোনো বিতর্ক করতে পারে? তাহলে, মুসলমানদেরকে কেন নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে? নিরীহ মুসলিম মহিলাদেরকে কেন ধর্ষণ করা হয়েছে? ‘গুচ্ছ বোমা’ দ্বারা মুসলিম শিশুদের কেন হত্যা করা হয়েছে? গুয়ানতানামো উপসাগরে কেন পবিত্র কোরআনকে অপমান করা হয়েছে? কোথায় ছিল তখন মানব সভ্যতা ও মানবতাবাদী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়? সভ্য বিশ্বের নেতারা কোথায় ছিল? আল্লাহ সর্বশক্তিমান, তিনি সবকিছুই পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তিনিই বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। কুৎসিত, ও বর্বর বিশ্ব নেতারা সম্ভবত: ইসলাম, ইসলামী একেশ্বরবাদ, মুসলমান এবং পবিত্র কুরআনকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল।

বিশ্বকে অবশ্যই জানতে হবে যে, মহান আল্লাহতায়ালাই পবিত্র কুরআন ও ইসলামকে রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ কুরআনে ইরশাদ করেছেন, “আল্লাহতা’আলা তার আলোকে তিনিই রক্ষা করবেন যদিও অবিস্বাসীগণ তা নিভিয়ে দিতে চায় এবং অপছন্দ করে।” সুতরাং, মহামারী করোনা হচ্ছে প্রকৃতির প্রতিশোধ আর সীমালংঘনকারীদের জন্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ শিক্ষা। আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কোনো বিপদাপদই পৃথিবীতে আসে না এবং যে আল্লাহকে বিশ্বাস করে আল্লাহ তাকে সৎ পথে পরিচালিত করেন এবং আল্লাহতায়ালা সর্বজ্ঞাত (সূরা তাগাবুন: আয়াত -১১) পবিত্র কুরআনের এই বাক্যে চারটি (চার) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে: ১) আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোন বিপদ/বিপর্যয় নেই, ২) আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি সম্পূর্ণ বিশ্বাস ৩) সঠিক পথে পরিচালিত হওয়া, এবং ৪) আল্লাহ সর্বজ্ঞাত।

সুরা তাওবার ৫১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “আল্লাহ আমাদের জন্য যা আদেশ করেছেন তা ব্যতীত আমাদের কিছুই কখনও ঘটবে না। তিনিই আমাদের রক্ষাকারী এবংআল্লাহর প্রতি অবশ্যই মুমিনদের ভরসা করা উচিত।” সুরা আল হাদিদের ২২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না; তা জগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।” সুতরাং, আমার কোনও সন্দেহ নেই যে করোনা মানবজাতির জন্য আল্লাহ প্রদত্ত এক ভয়ানক শাস্তি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা সীমালংঘনকারীদের জন্যে ভয়াবহ শাস্তির কথা বার বার উল্লেখ করেছেন। অতীতে মানবজাতিকে সৎ পথে ফিরিয়ে আনতেও তিনি অভিন্ন শাস্তি দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদেরকে ধ্বংস করে অতীতের বিভিন্ন সময়ের মতো ‘নতুন’ জাতি তৈরি করতে পারেন বা পুনরুত্থানের দিনটিও সৃষ্টি করতে পারেন। আমি মনে করি যে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির সেরা মানবজাতিকে মহামারী করোনার মাধ্যমে শিক্ষা দিতে চান। আল্লাহ চান যে অতীতের শিক্ষা নিয়ে আমরা পাপের জন্য অনুশোচনা করি, ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আল্লাহর নির্দেশিত পথে ফিরে আসি। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে যথাক্রমে ১০০ এবং ২০০ বার ‘ক্ষমা’ এবং ‘রহমত’ শব্দের উল্লেখ করেছেন। তিনি মানবজাতিকে অনুশোচনা করার এবং তাঁর নিকট থেকে ক্ষমা ও করুণা লাভের নির্দেশ দিয়েছেন। সুরা আয যুমারের ৩৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, “হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেরাই সীমা লঙ্ঘন করেছ (মন্দ কাজ ও পাপ করে)! আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না: নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
সুতরাং করোনা আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত অতীতের মতোই ভয়াবহ এক শাস্তি যা-তে আমরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিতে পারি। বিশ্ব নেতাদের (বিশেষতঃ পশ্চিমা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ) আগ্রাসন, অন্যায়, ও বর্বরতার মাধ্যমে মানবজাতি ও মানবসভ্যতা ধ্বংস করার জন্যে আল্লাহর কাছে অনুশোচনা করার এটাই সর্বোত্তম সময়। আমাদেরকে অবশ্যই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, একমাত্র আল্লাহতায়ালার উপাসনা করতে হবে, পবিত্র কুরআনে বর্ণিত নির্ধারিত পথ অনুসরণ করতে হবে এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ন্যায়বিচার করতে হবে। মহান আল্লাহ যদি আমাদের প্রতিশ্রুতি ও কার্যোপ্রনালীতে সন্তুষ্ট হন তবে অবশ্যই তিনি মানবজাতিকে ক্ষমা করবেন এবং করোনা থেকে আমাদেরকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ, পরম করুণাময় ও সেরা বিচারক!

বিস্তারিত খবর

করোনা মোকাবিলায় চাই সঠিক পরিকল্পনা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৫-০১ ১৪:৩৩:৪৬

যেকোনো সমস্যার সমাধান ও মহামারি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেকে না বুঝে গুরুতর বিষয়ে নানা কথাই প্রায়ই বলে থাকি। বর্তমানে চলমান করোনাভাইরাসে সৃষ্ট মহামারি, মহামারি নিয়ন্ত্রণ এবং তা কতদিন অব্যাহত থাকবে, এসব বিষয়ে কেবল এক্সপার্টরাই বলতে পারবেন। তবে আমি নিশ্চিত যে, খুব তাড়াতাড়ি কিংবা সহসাই এই কোভিড-১৯ সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ কোভিড-১৯ এর টিকা আবিষ্কারের প্রচেষ্টা চলছে। তবে তা বাজারে আসতে অনেক সময় লেগে যাবে। কাজেই এই সময়টুকু আমাদেরকে কোভিড-১৯ এর সাথেই থাকতে হবে। কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ কমবে-বাড়বে, মৃত্যুহারও কমবেশি হবে এ রকম অবস্থা চলতেই থাকবে।
২.
আমি ব্যবস্থাপনার শিক্ষার্থী হিসেবে করোনাভাইরাসের সৃষ্ট পরিস্থিতির ব্যবস্থাপনার ওপর বেশি জোর দিতে চাই। করোনাভাইরাস মোকাবিলা নিয়ে আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সরকারের বিভিন্ন মহল এবং প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের নিকট থেকে শুরুতেই বিভিন্ন মতামত, বক্তব্য এবং মন্তব্য গণমাধ্যমে এসেছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই তা মোকাবিলার প্রস্তুতি সম্পর্কে আমরা অনেক কিছুই শুনেছি। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, কোভিড-১৯ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং বাস্তবতার মাঝে ব্যাপক ব্যবধান। অর্থাৎ প্রস্তুতির সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে প্রস্তুতির কোনো শেষ নেই। আমাদের চেয়ে শতগুণ ভালো ব্যবস্থাপনার দেশ ইউরোপ-আমেরিকা। তারাও বলছে যে, তাদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি রয়েছে। করোনা প্রতিরোধে আমাদের যেসব সুরক্ষা সামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে, আমেরিকা এবং ইউরোপের দেশগুলোরও একই ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। বাংলাদেশের কিছু সংখ্যক লোক করোনা প্রতিরোধ নিয়ে বেশি কিছু আশা করেছিল। তারা ধরেই নিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং প্রশাসন ব্যাপক কিছু করে ফেলবে। কিন্তু সে রকম কিছু আশা করা মোটেই উচিত হয়নি। করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশেও সময় যথেষ্ট ছিল না। করোনা প্রতিরোধে মাত্র এক-দুই মাসের মধ্যে আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার খুব বেশি উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। কারণ বাংলাদেশে গত ৫০ বছর ধরে স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় ভঙ্গুর। মোট জিডিপির এক শতাংশের কম স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ হয়েছে।

বর্তমানে চলমান কোভিড-১৯ পুরোটাই অপরিচিত সংক্রামক রোগ। এটি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি, সুরক্ষা সামগ্রী এবং সরকারের টেকনিক্যাল ব্যবস্থার যথেষ্ট ঘাটতি ছিল। করোনার সর্বশেষ পর্যায়ে এসে শ্বাসকষ্ট হয়। এর জন্য প্রয়োজন ভেন্টিলেটর। কিন্তু বাংলাদেশে পুরো জাতির জন্য রয়েছে মোট দুই হাজার ভেন্টিলেটর। এর মধ্যে ১৫০০ ভেন্টিলেটর গত আট-দশ বছরে তৈরি করা হয়েছে। এর আগে গত ৪০ বছরে বিগত সরকার, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রশাসন এত ভেন্টিলেটর তৈরি করেনি। অর্থাৎ গত ৪০ বছরে আমাদের মোট ভেন্টিলেটরের সংখ্যা ছিল ৫০০। কাজেই করোনার আবির্ভাবের পর গত কয়েক দিনে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অনেক কিছুই করা সম্ভব, এমন ভাবনা অকল্পনীয়। কাজেই সরকার কম চেষ্টা করেছে কিংবা আগে থেকে করলে আরও ভালো হত- এসব আবেগী কথা। অনেকে না বুঝেই কথাগুলো ব্যক্ত করছেন।

৩.
বর্তমানে করোনাভাইরাস পরীক্ষা কেন্দ্রের বিস্তার হয়েছে। আগে মাত্র একটি কেন্দ্রে পরীক্ষা করা হতো। এখন পর্যন্ত ২৫টির মতো কেন্দ্রে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ নেই। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার যে অবস্থা, তাতে যদি ইউরোপ আমেরিকার মতো ব্যাপক সংক্রমণ হয়, তাহলে দ্রুত তো নয়ই, অনেক সময় নিয়েও মোকাবিলা করতে পারব না। হোম কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন এবং লকডাউন শব্দগুলো পশ্চিমা বিশ্ব থেকে এসেছে। সেখানে এসব বিষয় যত সহজে করা যায়, বাংলাদেশে বিষয়গুলো ভাবা অসম্ভব। কারণ আমাদের বাসাবাড়ির যে অবস্থা, সেখানে হোম কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন এবং লকডাউনের বিষয়গুলো সম্ভব নয়। বিশেষ করে পুরান ঢাকার বাসাবাড়ির যা অবস্থা, সেখানে লোকজন এমনিতেই বাড়ির বাইরে থাকে। রাতের বেলা কেবল বাসায় ঘুমাতে যায়। বস্তিগুলোতে ঘরে থাকার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই।

এসব দিক বিবেচনায় করোনা মোকাবিলা বাংলাদেশে জন্য অত্যন্ত কঠিন কাজ। ইতোমধ্যে সে শিক্ষা আমরা পেয়েছি। দেশের মোবাইল কোম্পানি বিগ ডাটা বিশ্লেষণ থেকে তারা একটি হিসাব দিয়েছে, আমাদের দেশে ঘরে থাকার বিষয়টি ৭০ থেকে ৮২ শতাংশ পর্যন্ত সফল। যা শহরের হিসাব। তবে গ্রামে এখনও ব্যাপকভাবে করোনার বিস্তার ঘটেনি। কাজেই আমাদের বেঁচে থাকতে হলে ঘলে থাকা, সামাজিক দূরত্ব, স্যানিটাইজার এসব বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর নির্ভর হওয়ার সুযোগ খুব বেশি নেই। করোনা প্রতিরোধে আমরা যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি, তা দিয়ে আমরা কতদূর পর্যন্ত যেতে পারতাম? এত অল্প সময়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। যেসব হাসপাতাল করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোও মাত্র কয়েক বছর আগে তৈরি করা হয়েছে। মুগদা হাসপাতাল, কুর্মিটোলা হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল এগুলো ৮/১০ বছর আগে নির্মিত। কাজেই এখন রাজনীতি করার সময় নয়। আমরা যতই প্রস্তুতি গ্রহণ করি না কেন, ইউরোপ আমেরিকার মতো হতে পারব না। হোয়াইট হাউজের সামনে গিয়েও নার্সরা পিপিইর জন্য আন্দোলন করেছে। এগুলো গণমাধ্যমে এসেছে। কাজেই করোনা প্রতিরোধে প্রস্তুতির কোনো শেষ নেই। করোনায় আক্রান্ত হলে বাংলাদেশের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হবো- এমন বিশ্বাসে আশ্বস্ত হওয়া যাবে না। এখন আমাদের উচিত হবে মহামারি বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পরামর্শ নেয়া।

৪.
রাজনীতিবিদরা বলেছিলেন, করোনা মোকাবিলায় আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে রাজনীতিবিদরা রাজনৈতিক কারণে জনগণকে আশ্বস্ত করতে চান। আমাদেরকে তাদের কথায় আশ্বস্ত হলে চলবে না। যারা রাজনীতিবিদদের কথায় আশ্বস্ত হয়েছিলেন আমি তাদেরকে বোকা মনে করি। দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে জীবন ও জীবিকার ওপর প্রভাব পড়বে। তবে জীবন আগে বাঁচাতে হবে।

করোনা মোকাবিলায় ব্যবস্থাপনার ঘাটতি হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদেরকে কিছু শিল্পকারখানা স্বল্প পরিসরে চালু করতে হবে। দেশের পোশাকশিল্পের কয়েকটা ক্যাটাগরি আছে। বিশ্বমানের কতকগুলো কারখানা রয়েছে। শ্রমিকরা যদি কারখানায় না থাকে, তাহলে থাকবে কোথায়? তারা থাকবে বস্তিতে, খুপরি ঘরে। সেখানে সামাজিক দূরত্বের কোনো ব্যবস্থাই নেই। কাজেই তারা যদি কারখানায় শিফটভিত্তিক কাজ করে এবং সেখানে স্যানিটাইজার থেকে শুরু করে মাস্ক পরাসহ অন্যান্য সুবিধা থাকে, তাহলে কারখানা খুলে দিতে সমস্যা নেই। করোনা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন শারীরিক সক্ষমতা। শারীরিক সক্ষমতার জন্য পুষ্টি দরকার। আমি জানি, ৩০ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিককে দিনে নাস্তা হিসেবে একটি করে ডিম এবং কলা দেয়া হয়। শ্রমিকরা যে আট ঘণ্টা ডিউটি করবে, অন্তত সে সময় ভালো জায়গায় থাকবে। সে কারখানায় না আসলে বস্তিতে খুপরি ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে থাকত। করোনা পরিস্থিতি আমাদের জন্য নতুন। এর জন্য কেউ তৈরি ছিল না। কাজেই কী ধরনের সমস্যা হবে, সেটাও আমরা জানি না। কিছু কিছু মালিক শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থাও করতে পারেন। ঘিঞ্জি ঘরের মধ্যে ২৪ ঘণ্টা থাকার চেয়ে কারখানায় কাজ করা উত্তম।

এদিকে মুরগির খামার শেষ হয়ে যাচ্ছে। ডিম নষ্ট হচ্ছে। কৃষক কলার দাম পাচ্ছে না। কাজেই শ্রমিকরা কারখানায় এলে দৈনিক ২৫ লক্ষ ডিম এবং কলা বিক্রি হবে। কৃষি ও কৃষককে বাঁচাতে হবে। যা বাজার অর্থনীতির সাথে সম্পৃক্ত। গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আমার অত্যন্ত পছন্দের ব্যক্তিত্ব। আমি মনে করি কিট নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। আশা করছি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে। রক্ত দিয়ে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। রক্তের মাধ্যমে কোভিড-১৯ পরীক্ষা হলে ভালো হতো। ড. বিজন শীলের উচিত ছিল সংশ্লিষ্ট সবার কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করা। তবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে দ্রুত কোন সিদ্ধান্তে আসা যাবে না। বরং তা মোকাবিলায় সঠিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা অবশ্যক।


লেখক: উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়



বিস্তারিত খবর

করোনা: প্রকৃতির প্রতিশোধ না কি মানবজাতির জন্য শিক্ষা?

 প্রকাশিত: ২০২০-০৫-০১ ১৩:৫৯:০০

করোনাভাইরাস (COVID-19) সংক্রমণ চীন এর উহান প্রদেশে ২০১৯ সালের ২৭ ডিসেম্বরে শুরু হয় এবং প্রথম রোগী ২০২০ এর জানুয়ারীতে মারা যায়। তখন থেকে COVID-19 সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। ২৮ শে এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মোট ৩,০৮১,৩৬৫ জন সংক্রামিত হয়েছে এবং ২১২,৩৭৭ মানুষ মারা গেছে। প্রতি মুহূর্তে চিত্রটি বাড়ছে। কোনও ওষুধ এবং অ্যান্টিবডি উদ্ভাবিত হয়নি এবং মানুষ আজ পুরোপুরি বিপর্যস্ত। মানবজাতির মেধা ও সকল প্রকার শক্তি কার্যত: ব্যর্থ হয়েছে। এভাবে যদি আরো কয়েক মাস চলতে থাকে তাহলে পুরো সভ্যতাই হয়তো ধ্বসে পড়তে পারে।

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে কম আয়ের এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলির তুলনায় বিজ্ঞান নিয়ন্ত্রিত, উচ্চ-আয় এবং সামরিক দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলোতেই করোনার ‘সর্বনাশা’ বহুগুণ বেশি। আর বিশ্বের ‘সেরা’ শক্তি আমেরিকা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। আমেরিকার পরেই আছে তার নিকটতম মিত্র দেশগুলো। কেবল আমেরিকাতেই ১,০১০,৫০৭ জন COVID-19 এ আক্রান্ত হয়েছে, যা বিশ্বের ৩২.৭৯%। ২৮ শে এপ্রিল পর্যন্ত আমেরিকাতে মারা গেছে ৫৬,৮০৩, যা বিশ্বের ২৬.৭৫%, তারপরে ইতালি (২৬,৯৭৭), স্পেন (২৩,৮২২), ফ্রান্স (২৩,২৯৩), যুক্তরাজ্য (২১,০৯২), বেলজিয়াম (৭,৩৩১), এবং জার্মানি (৬,১২৬)। ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত COVID-19 এ আক্রান্ত হয়ে NATO ভুক্ত দেশগুলোর মোট মৃত্যু ১৮০,০০০ এর বেশি, যা বিশ্বের ৮৪.৭৭%।

অন্যদিকে, একই সময়ে সিরিয়ায় COVID-19 এ আক্রান্ত হয়েছে মাত্র ৪৩ জন আর মারা গেছে মাত্র ৩ জন, লিবিয়ায় ৬১ জন সংক্রামিত এবং ২ জন মারা গেছে, ইয়েমেনে কেবল ১ জন আক্রান্ত আর সেরেও উঠেছে সে। আফগানিস্তানে ১,৮২৮ জন আক্রান্ত হয়েছে আর মারা গেছে ৫৮ জন। রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের SHITHOLE দেশগুলিতে COVID-19 এ খুব সামান্যই ক্ষতি হয়েছে: হাইতি’তে সংক্রামিত – ৭৬ ও মৃত্যু – ৬, এল সালভাদোর: আক্রান্ত – ৩৪৫ ও মৃত্যু – ৮, এবং আফ্রিকা: ৩৪,১৯৭ এবং মৃত্যু ১,৪৭৫। আমি কখনোই অস্বাভাবিক মৃত্যু সমর্থন করি না এবং মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি যে Every Live Matters; সে মুসলিম, খ্রিস্টান বা অন্য যে কোনো বর্ণ বা ধর্ম হতে পারে। তবুও, সত্যবাদী হয়ে বলতে হবে যে সাম্প্রতিক দশকগুলিতে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা সবচেয়ে বেশি ‘ভুক্তভোগী’ ছিল। মুসলমানদের বিরুদ্ধে সব ধরণের হত্যাকান্ডকে “মৌলবাদ” বা “সন্ত্রাসবাদের” নির্লজ্জ সংজ্ঞার আবরণে পশ্চিমা অভিযানের জন্যে ‘বৈধ’ করা হয়েছিল। এমনকি শিশু, বালক, বৃদ্ধ, রোগী এবং মহিলারাও পশ্চিমা সামরিক বাহিনীর ‘বর্বর’ হত্যাকাণ্ড থেকে মুক্তি পাননি। মুসলিম বিশ্বের ‘Class Less’ নেতারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্যে ‘কথা’ বলতেও ‘ভয়’ পেয়েছেন।

লিবিয়া, ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, কাশ্মীর, ইয়েমেন এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ‘ধ্বংসলীলা’ আসলে ‘মানবতা’ এবং মানবসভ্যতাকে ‘সম্পূর্ণ’ ধ্বংস করে ফেলেছে। কেউ কাঁদেনি সেদিন – এক ফোঁটা অশ্রু বর্ষণও করেনি, কোনো মানবতাবাদী সংস্থা ‘দুঃখ’ প্রকাশও করেনি – মুসলমানদের বিরুদ্ধে ‘সবকিছু’ই যেন ‘বৈধ’ ছিল। সাদা ঐশ্বর্যে’র জনক রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প চলতি অভাবনীয় এবং অসহনীয় মৃত্যু ও আমেরিকানদের অকল্পনীয় দুর্ভোগের জন্য নিশ্চয়ই মুসলমানদেরকে মোটেই দায়ী করতে পারবেন না। যদিও তিনি মুসলিমদেরকে আমেরিকার একমাত্র ‘সমস্যা’ হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন। মসজিদগুলি নিরীক্ষণের জন্য ডাটাবেস করেছেন, মুসলমানদের surveille করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমেরিকাতে মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের অভিবাসনতো প্রায় অসম্ভব। তিনি জেরুজালেমকে ইস্রায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে কোটি কোটি মুসলমানকে হতাশ করে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরিত করেছেন। মুসলমানদের কী দোষ ছিল? মুসলিম শিশু ও নারীরা কেন এই সভ্য বিশ্বে ভুগেছেন? কিছু মুসলিম দেশকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রাখার ‘ভুয়া’ অভিযোগের আওতায় কেন ধ্বংস করা হয়েছে? আসলে তথাকথিত সভ্য ও আধুনিক রাষ্ট্রগুলোর কাছে মুসলমানদের সমস্যাগুলি ছিল: ১) ইসলামের শিক্ষাকে অনুসরণ করে মুসলিমরা একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উপাসনা করে না ২) মুসলমানরা সমকামী বিবাহ বা সমকামিতা গ্রহণ করতে পারে না কারণ আল্লাহ মানবজাতিকে এ জাতীয় আচরণের বিরুদ্ধে ‘সতর্ক’ করে দিয়েছেন। অথচ আধুনিক সভ্যতার নামে সমকামী বিবাহকে বিভিন্ন দেশে বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। সমকামিতার কারণেই আল্লাহতায়ালা লূত (আ:) এর সময়ে পুরো জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন (সূরা আল-আরাফ ৩: ৫) এবং ৩) মুসলমানরা পবিত্র কোরআনের শিক্ষাকে অনুসরণ করে, যা শেষ ও একমাত্র অবিকৃত ধর্মগ্রন্থ।

বিস্তারিত খবর

আমি একসময় শ্রমিক ছিলাম

 প্রকাশিত: ২০২০-০৫-০১ ১৩:৫১:৩৮

আমি একসময় শ্রমিক ছিলাম। সাসেক্স ইউনিভার্সিটিতে এম.এস.সি করার সময় ট্যুইশন ফিসের জন্যে পেট্রোল পাম্পে কাজ করতাম ভোর ৬টা থেকে, পাশাপাশি একটা গুদামে শ্রমিকের কাজ করতাম, আবার উইকএন্ডে রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করতাম। রাতে বাসায় ফিরতে ১ টা বেজে যেতো। শ্রমিক হিসেবে ২০/২৫ কেজি ওজনের চালের বস্তা, পেঁয়াজের বস্তা বইতে হতো, দূরে কোথাও কোনো রেস্টুরেন্টে পৌঁছে দিতে হতো। আবার রাতে ঐ জায়গাগুলো থেকে পেমেন্টের টাকা আনতে হতো। ভীষণ সাইনোসাইটিসের সমস্যা নিয়েও প্রচন্ড ঠান্ডা ফ্রিজরুমে কাজ করতে হতো। বিলেতে কাউন্টারে যখন সেলসম্যানের কাজ করেছি তখন সেরা সেলসম্যান হতে চেয়েছি। রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজে যে অনেকটা মেধা কাজে লাগাতে হয় তা নিজে ওয়েটার না হলে জানাই হতোনা। মন খারাপের সন্ধ্যা বেলায় হাসিমুখে কাস্টমারের অর্ডার আনা চাট্টিখানি কথা না। পড়ালেখার পাশাপাশি এতো কাজ করেও আমার কখনো নিজেকে ছোটো মনে হতোনা। কাজ যেমনই হোক, আমি করতাম সর্বোচ্চ সততা নিয়ে। ট্যুইশন ফিসের টাকা দেশে চেয়ে মা-বাবাকে বিপদে ফেলবার চাইতে নিজে কাজ করে উপার্জন করাই আমার কাছে ভালো মনে হতো। আমার নানা-নানী, মামা-মামীদের সবাই ওখানে। আমার নানাভাই ছিলেন বটগাছের মতো। আর আমার তিন মামা এবং তিন মামী, তাদের কোনো তুলনাই হয়না। রমজান মাসে ইফতারের সময় পেট্রোল পাম্পে ছুটি ছিলোনা। আমার ছোটমামী বাইরে থেকে শক্ত আর মনটা একদম নরম। ছোটমামী নিজে ইফতার না করে অনেকটা পথ হেঁটে এসে আমায় ইফতার পৌঁছে দিতেন- এই ঋণ কেমন করে শোধ করি? এক কাজ থেকে অন্য কাজে যাওয়ার ফাঁকে সময় থাকতো কম। বড়মামী আমার সময় বাঁচানোর জন্যে গোসলের পানি গরম করে দরোজায় দাঁড়িয়ে রইতেন। গোসল করে বের হলে প্রায়ই নতুন জামা টেবিলে গুছিয়ে রাখতেন। আর আমার নানু, পৃথিবীর সেরা নানু। আমি তাকে দিদি বলে ডাকি। দিদি প্রতিদিন একলা ঘরে শুধু আমার জন্যে মজার মজার রান্না করে পথের দিকে চেয়ে রইতেন। আমার সব রাগ-অভিমান চলতো এই দিদির উপর তবু দিদি কখনো বিরক্ত হতেননা। দিদি বিলেতে না থাকলে আমার কখনো মাস্টার্স করা সম্ভবই হতোনা। তাদের সাথেই থেকেছি, অনেক অনেক আদর-যতন আর সাহায্য পেয়েছি। তবে যখনই তারা আমার ট্যুইশন ফিস দিতে চেয়েছেন, আমি বিনয়ের সাথে না করেছি। এই টাকাটা আমি নিজের শ্রম দিয়ে কাজ করেই আয় করেছি।

২০০৫ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ইংল্যান্ডে ছিলাম। তখন মানুষ লন্ডন থাকতে চাইতো যেকোনো মূল্যে, কিন্তু সেই সময় আমি দেশে চলে এসেছিলাম, স্বেচ্ছায়। ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী ছিলো, ভালো চাকুরি ছিলো, অনেক টাকার হাতছানি ছিলো, বৃটিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিলো কিন্তু এসব কিছুই আমায় টানেনি, যতোটা টেনেছিলো আমায় আমার দেশ। সীমিত সামর্থ্যের মাঝেই দেশের কাজ করতে চেয়েছি। আমার ছাত্র-ছাত্রীকে কম্পিউটার সায়েন্স কিংবা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কঠিন বিষয়গুলো সহজ করে বুঝানোর চেষ্টা করেছি। ক্লাসে হাসিখুশি থেকে পরীক্ষার হলে কড়া হয়েছি। পড়ার ফাঁকে সময় যখনই পেয়েছি- সহজ ভাষায় দেশকে ভালোবাসা শিখিয়েছি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শিখিয়েছি, মা-বাবাকে সম্মান করতে বলেছি আর সকল রকম শ্রম এবং শ্রমজীবী মানুষকে মর্যাদা করা শিখিয়েছি। বন্ধুদের কাছ থেকে টাকা উঠিয়ে কর্মহীন মানুষকে পরিশ্রম করে কর্মসংস্থানের পথ দেখানোর চেষ্টা করেছি। নিজের শ্রম দিয়ে কি করে স্বাবলম্বী হওয়া যায়- সেই পথ বাতলে দেওয়ার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছি।

আজ ১লা মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে উপযুক্ত মজুরি আর দৈনিক সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে ওই শহরের হে’ মার্কেটের শ্রমিকরা। মিছিলে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় পুলিশ। এতে ১১ শ্রমিক নিহত হন। আহত ও গ্রেফতার হন আরও বহু শ্রমিক। পরে প্রহসনমূলক বিচারে ৬ জন শ্রমিককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এতে বিক্ষোভ আরও প্রকট আকার ধারণ করে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাবিশ্বে। পরবর্তীতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ১৮৮৯ সালের ১৪ই জুলাই ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৮৯০ সাল থেকে দিনটি ‘মে দিবস’ বা ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। সবাইকে অনুরোধ, প্রতিটা শ্রমিকের প্রতি ফোঁটা ঘামের মর্যাদা দিতে শিখুন। রিকশাচালক, দিনমজুর, চা-য়ের দোকানের পিচ্চি ছেলেটা, বাসার কাজের মেয়েটা, ড্রাইভার, দোকানের সেলসম্যান, অফিসের পিয়ন, রেস্টুরেন্টের ওয়েটার কিংবা এমন পেশার মানুষদেরকে ছোটো করে না দেখে তাদের দীর্ঘশ্বাস শুনুন। তাদের সাথে জবরদস্তুি না করে আবেগ নিয়ে কাজ করুন। কঠিন করে শক্ত কথা না বলে ভালোবেসে হাসিমুখে কথা বলুন। ভদ্র পোশাকের আমাদের চাইতে ময়লা কাপড়ের ওরাই হয়তো বেশি সৎ। হয়তো আমাদের আয়ের চাইতে তাদের আয়টুকু সৃষ্টিকর্তার কাছে বেশি পছন্দের। হয়তো তাদের সাথে উত্তম ব্যবহারের কারণে হাশরের মাঠে শেষ বিচারের দিন আপনি-আমি হবো সৌভাগ্যবান। সকল শ্রমজীবী ভাই-বোনদের জন্যে অনেক শ্রদ্ধা...


লেখক: সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, লিডিং ইউনিভার্সিটি, সিলেট, বাংলাদেশ

বিস্তারিত খবর

করোনা পরবর্তী পৃথিবীতে যে ৯টি পরিবর্তন নিয়ে আসবে!

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-২১ ১০:০২:৪৩

মানব সভ্যতা এখন এক বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলা করছে। সম্ভবত আমাদের এই প্রজন্মের সবচেয়ে বড় সংকট। বিভিন্ন দেশের সরকার এবং জনগণ আগামী কয়েক সপ্তাহে যে সিদ্ধান্তগুলো নেবে তা আমাদের ভবিষ্যত পৃথিবীর গতিপথ, চরিত্র বদলে দেবে। এই বদলে যাওয়াটা যে শুধু আমাদের স্বাস্থ্য পরিষেবা পদ্ধতিতে হবে, ব্যাপারটা তেমন নয়। বদলে যাবে আমাদের অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সংস্কৃতির গতিপথ।
কেমন হতে পারে করোনা পরবর্তী পৃথিবী? কী কী পরিবর্তন আসতে পারে ‘বিশৃঙ্খলা তত্ত্ব’ দিয়ে সেটা বুঝিয়েছেন একদল গবেষক। তারা বলছেন, করোনাভাইরাস ভূমিকম্পের মতো আফটার শক দিয়ে বিশ্বকে স্থায়ীভাবে পুনর্নির্মাণ করবে। এক্ষেত্রে নয়টি বড় পরিবর্তনের কথা বলেছেন তারা।

১. দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়বে

নানা ধরনের স্বল্পমেয়াদী জরুরি অবস্থা তখন আমাদের জীবনে হয়ে যাবে ডাল-ভাতের মতো। খুব বড়সড় বিপর্যয় বা জরুরি অবস্থার চরিত্রই এরকম। ঐতিহাসিক সমস্ত প্রক্রিয়াকে খুব দ্রুত ঘটিয়ে ফেলে। সাধারণ সময়ে আমাদের যে সিদ্ধান্ত নিতে এবং বাস্তবায়নে লেগে যেত বছরের পর বছর, বড়সড় বিপর্যয়ে তা হয় অসম্ভব দ্রুত।

২. পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাড়বে

একটা দেশ তখন কিন্তু বেশ বড় মাপে একটা সামাজিক নিরীক্ষার জায়গা হয়ে যায়। যেমন সবাই বাড়িতে থেকে কাজ করলে এবং দূরত্ব মেনে যোগাযোগ বজায় রাখলে কী হয়? সমস্ত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে চলে গেলে কি ঘটনা ঘটবে? স্বাভাবিক সময় কোন দেশের সরকারই এ ধরনের কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় রাজি হতো না।

৩. অভ্যাস থেকে যাবে

এক ক্রান্তিকাল পার করছি আমরা। করোনার সংক্রমণ এড়াতে আমরা বর্তমানে হোম কোয়েরেন্টিন পালন করছি, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছি। করোনা ঝড় থামলেও এই অভ্যাস থেকে যাবে। প্রযুক্তিভিত্তিক যোগাযোগ বেড়ে যাবে। তবে দরিদ্র এবং ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলি বিশেষত অপ্রস্তুত এবং দুর্বল থাকবে।

৪. প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকিতে পড়বে

সরকার ও কর্পোরেট ব্যবস্থা বড় ধাক্কা খাবে। অনেক বড় বড় সংস্থাগুলি ধসে পড়বে। বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেট থেকে শুরু করে বিমান শিল্প, অফিস ভবন, শপিংমল, এয়ারলাইনস এবং বিমানবন্দরগুলি প্রচুর ঝুঁকিতে পড়বে। অর্থনৈতিক পতনের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের অনেক দেশের সরকার পড়ে যেতে পারে।

৫. পেট্রো-রাজ্যগুলো ধসে পড়বে

ইকুয়েডর থেকে ইরান পর্যন্ত পেট্রো-রাজ্যগুলোতে রাষ্ট্র ব্যবস্থার পতন কোনও অবাস্তব দৃশ্য নয়। তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় ভেনিজুয়েলার সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অতি মুদ্রাস্ফিতি এবং অনাহার আরও বেড়ে যাবে। এছাড়া তেলের দাম পড়ে যাওয়া ও হজ বাতিলের ফলে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। দেশটির বৃহত্তম আয়ের উৎস এই দুটি খাত। ভাইরাসের সংক্রমণ এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় এমনিতেই ইরানের অবস্থা খারাপ। করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক দুরাবস্থা ইরানের সরকারকে ফেলে দেবে এমন সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।

৬. অভিবাসী সংকট দেখা দেবে

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়ায় ব্যর্থ রাষ্ট্রগুলো থেকে নিশ্চিত জীবনের আশায় লোকেরা ইউরোপ-আমেরিকার মতো উন্নত দেশে পাড়ি জমাতে মরিয়া চেষ্টা করবে। আন্তর্জাতিক বাঁধা-নিষেধ উপেক্ষা করে তারা শরণার্থী হিসেবে বিভিন্ন দেশে প্রবেশ করবে। এরই মধ্যে তুরস্ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা চিরকালীনভাবে ৪ কোটি সিরিয়ান শরণার্থীর চাপ সহ্য করতে পারবে না। প্রয়োজনে তারা ইউরোপীয় সীমান্ত খুলে দেবে। মিশর, সুদানের, মেক্সিকোর মতো দেশগুলো থেকে লোকেরা দলে দলে ইউরোপে ঢুকবে। ফলে অভিবাসী সংকট বাড়বে।

৭. জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটবে

অনেক দেশ অভিবাসীদের ঢল বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটবে। খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহ, শস্য রফতানি ইত্যাদি কারণে জাতীয়তাবাদ মাথা চাড়া দেবে। অভিবাসীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে স্থানীয়রা। ইউরোপের অসংখ্য দেশে রক্তক্ষয়ী সংঘাতও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

৮. প্রযুক্তি ব্যয় হ্রাস পাবে

করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব কমাতে এবং আরও স্থিতিশীল ও টেকসই দিকনির্দেশে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা আজ কোন বড় বিনিয়োগের কথা চিন্তা করতে পারি না। বর্তমানে জৈব প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে বৃহত্তম বিনিয়োগ শুরু করার সুস্পষ্ট জায়গা। তবে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে প্রযুক্তিগত দিকে বড় বিনিয়োগ কমে যাবে।

৯. সভ্যতার সংকট সৃষ্টি হবে

করোনাভাইরাস মানব সভ্যতার জন্য ১/১১ এর চেয়েও বড় পরীক্ষা এবং একই সঙ্গে আর্থিক সংকট হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে। এটি একটি বিস্ময়কর ধাক্কা যা বিশ্বব্যবস্থাকে ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে। জৈবিক ও সভ্যতা উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক বিবর্তন আসবে। সরকারী-বেসরকারী খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং স্বল্পমেয়াদি ত্যাগের লক্ষ্যে যোগাযোগ অর্জনের মতো দীর্ঘমেয়াদী অগ্রাধিকারগুলি থমকে যাবে। অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকটের কারণে যুদ্ধ-বিগ্রহ বেড়ে যাবে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সন্ত্রাসবাদ বৃদ্ধি পাবে।

বিস্তারিত খবর

করোনা মোকাবেলায় জার্মান অভিজ্ঞতা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৩ ০৮:১৩:৫৩

করোনাভাইরাসের ভয়াবহ ছোবলে গোটা বিশ্ব আজ উদ্বিগ্ন ও বিপর্যস্ত। দেশে দেশে মৃত্যুর মিছিল দেখে বিশ্ববাসী এখন দিশেহারা। এ দুঃসময়ে বিশ্বের প্রতিথযশা বিজ্ঞানী, চিকিৎসক থেকে শুরু করে প্রভাবশীল রাজনীতিক ও নীতিনির্ধারকরা কেমন জানি থমকে গেছেন।

ইউরোপের কয়েকটি দেশ যেমন-ইতালি, স্পেন, ফ্রান্সে এখন লকডাউন অবস্থা বিরাজ করছে। ইউরোপসহ বিশ্বের এ মহামারী অবস্থায় অন্যসব দেশকে অনুসরণ না করে জার্মানি অনুসরণ করছে তাদের নিজস্ব পন্থা। জার্মানির অভিজ্ঞতার আলোকে আমার কিছু ব্যক্তিগত শিক্ষণীয় তথ্য এখানে আলোকপাত করছি।

জার্মানির ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৫ হাজার লোকের কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে। দেশটিতে এ ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে ১ হাজার ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ইউরোপের অন্য কয়েকটি দেশের তুলনায় অতি নগণ্য।

জার্মানিতে আক্রান্তের হারের চেয়ে মৃত্যুর হার অনেক কম কেন এমন প্রশ্নের জবাবে জার্মানির ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিয়ান ড্রসটেন বলেন, মৃত্যুহার এত কম হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে জার্মানিতে প্রচুর পরিমাণে করোনার ল্যাব টেস্ট করানো হচ্ছে।

উদাহরণস্বরূপ তিনি উল্লে­খ করেন, গত এক সপ্তাহে জার্মানিতে অর্ধ মিলিয়ন অর্থাৎ ৫ লাখ করোনা টেস্ট করানো হয়েছে। এজন্য এখানে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলে মৃত্যুর সংখ্যা খুবই কম।

এ প্রসঙ্গে আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমি জার্মানির বন শহরের যে এলাকায় বাস করি সেখানকার একটি স্কুলের একজন শিক্ষকের করানো টেস্ট পজিটিভ পাওয়া গিয়েছিল বিধায় ওই স্কুলের ১৮৫ শিক্ষার্থী তাদের পুরো পরিবার এবং স্কুলের সব স্টাফের পরিবারসহ টেস্ট করানো হয়েছিল এবং সব ক’টি পরিবারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত লকডাউন অবস্থায় রাখা হয়েছিল। এরপর পর্যায়ক্রমে শহরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যায়ামাগার, নাইট ক্লাব ও রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এ অবস্থায় দেশটির প্রায় অর্ধেকের বেশি মানুষ বাসায় বসে অফিসের কাজ করেছে। গণপরিবহনগুলো স্বাভাবিক হলে লোকজন কমে গেছে প্রায় ৫০ শতাংশ।

ড্রাইভারের নিরাপত্তার স্বার্থে বাসগুলোর সামনের দরজা লক করে দেয়া হয়েছে। সব ধরনের সভা-সমাবেশ, সামাজিক প্রোগ্রামগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ৫০ জনের বেশি লোক এক জায়গায় সমবেত হওয়া নিষিদ্ধ, দুজন লোকের বেশি একসঙ্গে চলাফেরা করা যাবে না এবং একজন মানুষ থেকে আরেকজনের দূরত্ব কমপক্ষে ১.৫ মিটারের বেশি বজায় রেখে কথোপকথন ও চলাফেরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সুপারশপগুলোতে কেনাকাটার জন্য সবাইকে নির্দিষ্ট ট্রলি ব্যবহার এবং একসঙ্গে দু’জনের বেশি প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। এখানে বিধিনিষেধগুলো খুব কঠোরভাবে আরোপ না করা হলেও সবাই নিজের দায়িত্ববোধ থেকে অধিক সতর্কতার সঙ্গে দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লে­খ্য, এখন পর্যন্ত আমি কোনো জার্মানকে মুখে মাস্ক আর হাতে গ্লাভস পরতে দেখিনি। এদের ধারণা অনুযায়ী, ভাইরাস কখনও বাতাসে ছড়ায় না, তারপর করোনাভাইরাসটি ওজনে একটু ভারি হওয়ায় এক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার খুব ফলপ্রসূ নয়। যেহেতু ভাইরাসটি আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির সিক্রেশন ড্রপলেটের মাধ্যমে অন্য কাউকে সংক্রমণ করতে পারে, সেহেতু এখানে সামাজিক দূরত্ব তথা একজন মানুষ থেকে আরেকজনের কমপক্ষে ১.৫ মিটার দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করে দেয়া হয়েছে।

প্রায় সব অফিস খোলা রাখা হয়েছে; কিন্তু কাজের ঘণ্টা নমনীয়। অফিসের প্রায় সব কাজ ই-মেইলে বা ফোনের মাধ্যমে করা যাচ্ছে। কিন্তু জরুরি কোনো কাজ অ্যাপয়নমেন্ট নিয়ে করতে হচ্ছে। বিভিন্ন অফিস, সুপারশপ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারের প্রধান দরজাগুলোর ওপর নোটিশে সবকিছুর নির্দেশনা দেয়া আছে। আর হাত ধোয়ার জন্য ওয়াশরুমগুলোতে রাখা হয়েছে বিশেষ স্যানিটাইজার।

করোনা প্রতিরোধে জার্মানি মূলত তিনটি পন্থা অবলম্বন করেছে, তা হচ্ছে-অনুসন্ধান, আইসোলেশন আর রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা প্রদান। কোভিড-১৯ আক্রান্তে কোনো উপসর্গ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক টেস্ট করানো, টেস্ট পজিটিভ হলে সেই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা সম্ভাব্য সবার টেস্ট করানো হচ্ছে।

যাদের টেস্ট পজিটিভ হচ্ছে তাদের সম্পূর্ণরূপে আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাদের অবস্থা খুব ক্রিটিকাল তাদের হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। মৃদু উপসর্গ, এমনকি সম্পূর্ণ সুস্থ ব্যক্তিরা প্রচুর পরিমাণ শারীরিক ব্যায়ামের দ্বারা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার মাধ্যমে এ ভাইরাস প্রতিরোধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। যেহেতেু ভাইরাসটির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি, তাই জার্মানরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সচেতনতাকেই এ মহামারীর হাত থেকে রক্ষার একমাত্র কৌশল হিসেবে অবলম্বন করেছে।

পরিশেষে জার্মানির অভিজ্ঞতা থেকে আমি যে বার্তাটি বাংলাদেশের সবাইকে দিতে চাই, সেটি হচ্ছে যেহেতু উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের বেশি বেশি টেস্ট করানোর সক্ষমতা নেই, তাই পুরোপুরি লকডাউন হতে পারে আমাদের সর্বোত্তম পন্থা।

সর্দি, জ্বর আর কাশি এ তিনটি উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে না গিয়ে সম্পর্ণরূপে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত। অন্যান্য প্রয়োজনীয় সতকর্তা অবলম্বনের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের প্রতিদিনের শারীরিক ব্যায়াম আর ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবারের কোনো বিকল্প নেই।

মনে রাখবেন, করোনা মানেই মৃত্যু নয়, তাই গুজবে কান দিয়ে আতঙ্কিত হবেন না। সচেতনতাই এর একমাত্র সমাধান।

লেখক: মো. নূর-ই-আলম সিদ্দিকী

পিএইচডি ফেলো, ইউনিভিার্সিটি অব বন, জার্মানি; সহকারী অধ্যাপক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর



এলএবাংলাটাইমস/এম/এইচ/টি

বিস্তারিত খবর

করোনা ভাইরাস: কিছু তথ্য এবং আমাদের দেশে করণীয়

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৩ ০৭:১৫:৪০

আমি ডাক্তারি পেশার সঙ্গে জড়িত কেউ নই। তার পরও সারা বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাসের বর্তমান মহামারির সময় আমার সাধারণ জ্ঞানলব্ধ কিছু কথা এখানে তুলে ধরতে চাই। আশাকরি দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কথাগুলো অপ্রাসঙ্গিক হবে না।

১) আমি বেশ কিছুদিন আগে থেকে লক্ষ করছি—পৃথিবীর বিষুবরেখা থেকে উত্তরের কর্কটক্রান্তি এবং দক্ষিণে মকরক্রান্তির মাঝে থাকা গ্রীষ্ম প্রধান দেশগুলোতে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব দেখা গেলেও সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশর, আলজেরিয়া, মরক্কো, মেক্সিকো, কিউবাসহ উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বিষুবরেখা সংলগ্ন স্থানগুলোতে এ ভাইরাস এখনো তেমনভাবে মহামারি আকারে দেখা দেয়নি এবং কোভিড-১৯ জনিত কারণে মৃত্যুর হারও কম। এ বিষয়টির যথার্থতা বিবেচনায় আনার ব্যাপারে বেশ কিছু স্বনামধন্য ডাক্তার এবং বিজ্ঞানীরাও সহমত পোষণ করা শুরু করেছেন। বিষয়টি সত্য হলে আমাদের মতো স্বল্প উন্নত বা গরিব দেশগুলোর জন্য সেটা হবে বিরাট একটি আশীর্বাদ।

২) ডাক্তার, বিজ্ঞানীদের মতে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের ৮০-৮৫ শতাংশ রোগী এমনিতে ভালো হয়ে যায়। বাকি ১৫-২০ শতাংশ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন পড়ে। এসব রোগীদের ‘ফাইব্রাসিস’ জনিত কারণে ফুসফুসের কার্যক্রম বন্ধ বা আংশিক বন্ধ হয়ে গেলে তাদের চিকিত্সার জন্য ‘ভেন্টিলেটরের’ (VENTILATOR) প্রয়োজন হয়। ভেন্টিলেটরের সাহায্যে কৃত্তিমভাবে এসব রোগীকে অক্সিজেন সরবরাহ করে ১-২-৩ সপ্তাহ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হলে, এসব রোগীদের ২-১ শতাংশ ছাড়া বেশির ভাগ রোগী আরোগ্য লাভ করেন। তা না হলে, ভেন্টিলেটরের সাহায্য ছাড়া, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এই ১৫-২০ শতাংশ রোগীর প্রায় সকলেই মারা যাবেন।

৩) আমরা প্রায়শই ‘আইসিইউ’ (ICU) কথাটি শুনে আসছি। এসব আইসিউর প্রধান যন্ত্র ভেন্টিলেটর। এ যন্ত্রটি চালনা করার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘এনেস্থিওলজিস্ট’ (ANESTHESIOLOGIST), নার্স ও সহকারীদের প্রয়োজন হয়। এখন প্রশ্ন উঠবে এ বিষয়ে আমাদের সক্ষমতা কতটুকু? আমার জানা মতে, ‘কোভিড-১৯’ মোকাবিলা করার মতো পর্যাপ্ত আইসিইউ বেড আমাদের দেশে নাই এবং শীত প্রধান দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও যদি এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে সেক্ষেত্রে অসংখ্য আইসিইউ বেড তৈরি করে এসব রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা একটি দুরূহ বা অসম্ভব কাজ হবে বলেই আমার নিজস্ব ধারণা।

আমার জানামতে, দেশে ১ হাজারের বেশি এনেস্থিওলজিস্ট ডাক্তার আছেন। নার্স এবং সহযোগীদের সংখ্যাও কম নাই। এদের মধ্য থেকে এসব আইসিউগুলো পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার-নার্স-সহযোগীদের বেছে নিয়ে, এই আপত্কালীন সময়ের জন্য তাদের সবার বেতন বাড়িয়ে এবং গ্রুপ বিমার আওতায় আনা গেলে, আমার বিশ্বাস, তারা এ কাজে অংশ নিতে রাজি হবেন। ১৫ দিনের একটি ‘ক্রাশ প্রোগ্রামের’ মাধ্যমে তাদেরকে প্রশিক্ষিত করে তোলা সম্ভব।

৪) আমাদেরকে সঠিক মানের মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও ভাবতে হবে। ২-৩ দিন আগে বিদেশি একটি খবরে দেখলাম, ইতালির স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ‘এস্পেসিফিকেশন’ (SPECIFICATION ) সঠিক না থাকার জন্য, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ৬০ লাখ মাস্কের একটি চালান ব্যবহার অযোগ্য ঘোষণা করেছেন ! আমি জানি না আমাদের দেশে ব্যবহারকৃত মাস্কগুলো N৯৫ মানের কি না। তবে এ ধরনের মাস্কগুলো খুবই ব্যয়বহুল। সেক্ষেত্রে সরকার চাইলে পর্যাপ্ত সংখ্যক ‘সার্জিক্যাল মাস্ক’ আমদানি করার ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। বর্তমানে ব্যবহারকৃত মাস্কগুলোর বেশির ভাগই সম্ভবত মানসম্পন্ন নয়।

৫) আমাদের মতো জনবহুল একটি দেশে সকল নাগরিকের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করানো একটি কঠিন কাজ। তার পরও যেসব মানুষ তাদের কোভিড-১৯ হয়েছে এমন ধারণা থেকে ‘আইডিসিআর’ (IEDCR) প্রদত্ত টেলিফোন নম্বরে ফোন করেন, তাদের সকলকে পরীক্ষা করানোর সুযোগ করে দেওয়া উচিত হবে । এসব সন্দেহজনক মানুষের ভেতরে যদি গুরুতরভাবে আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়, তাদেরকে সত্তর এ্যাম্বুলেন্সে করে আইসিইউ সমৃদ্ধ বিশেষায়িত স্থায়ী/অস্থায়ী হাসপাতালে এনে চিকিত্সা করানোর ব্যবস্থা করাতে হবে।

৬) দুই দিন আগে বেশকয়জন তরুণ ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার মিলে একটি ভেন্টিলেটর যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন এমন একটি খবর কাগজে পড়েছি। বিষয়টি আশা জাগানিয়া। ঘটনাটি সত্য হলে আমাদের প্রশাসনের উচিত হবে অতি সত্তর বিষয়টি যাচাই করে দেখা এবং যন্ত্রটি ব্যবহারযোগ্য হলে সেটিকে ব্যবহারে নিয়ে আসা, প্রয়োজনে, তাদেরকে আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা করা। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনেক দেশপ্রেমিক নাগরিক, ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থাও হয়তো এসব কাজে এগিয়ে আসবেন। সেক্ষেত্রে, সরকারের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, এ ধরনের বিষয়গুলো জানার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসন যেন তাদের কাছে পৌঁছে গিয়ে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

পরিশেষে, লন্ডনের ‘রয়েল লন্ডন হাসপাতালের’ এক জন বাঙালি ডাক্তারের কিছু কথা দিয়ে লেখাটি শেষ করব।

‘COVID 19’ মহামারির এই দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন তিনি যেন এই মুহূর্ত থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে নিজের হাতে তুলে নেন। বিলেতের এনএইচএস NHS এ কাজ করার সুবাদে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমি এই রোগের ভয়াবহতা দেখেছি। পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্বাস্থ্যব্যবস্থা হওয়া সত্ত্বেও এদেশে পরিস্থিতি যে কতখানি মারাত্মক তা বলে বা লিখে বোঝানো সম্ভব নয়। আমি এই ভেবে শিউরে উঠছি যে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভয়ংকর এই পরিস্থিতিকে কীভাবে মোকাবিলা করবে। আপাতত ‘মেইক শিফট ব্যবস্থার’ মাধ্যমেও যদি অন্তত আরো ২-১ হাজার আইসিইউর ব্যবস্থা করা যায় তাহলেও অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।

এই যুদ্ধের সম্মুখযোদ্ধাদের (চিকিত্সক, নার্স- সহযোগী) অনেককেই করুন পরিণতি বহন করতে হবে। সারা বিশ্বের মানুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের বাহবা দিন, তাদের উদ্দীপ্ত করুন। বিশ্বাস করুন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা তাদের সর্বস্ব দিয়ে আপনাদের বাঁচানোর চেষ্টা করবে।’

লেখক :মাস্টার মেরিনার (আয়ারল্যান্ড) এএফএনআই (লন্ডন) ও শিপিং কনসালটেন্ট


এলএবাংলাটাইমস/এম/এইচ/টি

বিস্তারিত খবর

ক্ষমতা দখলের তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ‌‌‌‘করোনা’!

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৩ ০৬:৫৫:০৬

বিশ্ব অর্থনীতি বা ক্ষমতা দখল নিয়ে বহু বছর ধরে একটা স্নায়ূযুদ্ধ চলছিল যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে। যেটা পৃথিবীর সকলের কাছে ছিল ওপেন সিক্রেট। সবাই জানতেন বিশ্ববাজারে নিজেদের সেরা প্রমাণের জন্য সমাজতান্ত্রিক চীন ও পুঁজিবাদী আমেরিকার লড়াই শুরু হয় ৯০ এর দশক থেকেই। যা ২০০০ সাল থেকে প্রকট হতে থাকে। তবে সবকিছুকে এখন ছাপিয়ে বিশ্বে আলোচনার বিষয় করোনাভাইরাস। যার জন্ম হয়েছে, চীনের উহান শহরে। যে শহরেই রয়েছে ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ভাইরাসবিদ্যার অন্যতম বড় গবেষণাগার। যেটিকে পৃথিবীর অন্যতম সেরা ভাইরাসবিদ্যার গবেষণাগার হিসেবেও ধরা হয়। তাই প্রথম থেকেই নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা চলতে থাকে।

নভেম্বরে চীনে প্রথম করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়। তার আগে থেকেই কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা বিভাগগুলোতে। দক্ষিণ চীন সাগরে বেশ কিছু আমেরিকান চালকবিহীন ছোট ছোট সাবমেরিন পায় জেলেরা। যেগুলো যদিও অকেজো অবস্থাতেই উদ্ধার করা হয়। কিন্তু সেই সময়ই চীন দাবি করে, সাবমেরিনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের। যেগুলো দিয়ে হয় তারা চীনের উপর নজরদারি করছে অথবা চীন সাগরে বিশেষ কোনও প্রজেক্টে কাজ করছে। এরপর যখন করোনাভাইরাস চীনে ছড়াতে শুরু করলো তখন চাইনিজ আর্মির পক্ষ থেকে বলা হলো, সাবমেরিনগুলো মূলত ভাইরাস ছড়ানোর কাজ করেছে। তাই মাছের বাজার থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে। এছাড়াও চাইনিজ গোয়েন্দারা কিছু ভিডিও ছাড়ে যাতে দাবি করা হয়, আমেরিকার এজেন্টরা ভাইরাস কাশি দিয়ে চীনের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ছড়াচ্ছে।
চীনের দাবিতে ঘি ঢালতে শুরু করেন রাশিয়ান গবেষকরা। তারা দাবি করেন, ভাইরাসটি অ্যাকটিভ করা হয় নিউইয়র্কের একটা গবেষণাগারে। ফলে আলোচনা শুরু হয়ে, যুদ্ধটা শুরু করেছে আমেরিকা, চীনকে ধ্বংস করার জন্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে। দোষ চাপায় চীনের উপরই। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প তো এটাকে ‘চীনের ভাইরাস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে কয়েকদিনের ভেতর ঘুরে যায় দৃশ্যপট। চীন ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে উঠলো। আর ছড়িয়ে পড়লো চীনের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোতে। আর সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত চীনের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপের দেশগুলো।

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন এই বায়োলজিক্যাল অস্ত্র ব্যবহার করে অর্থনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি পৃথিবীর নেতৃত্বও নিয়ে নিলো চীন। আর এর পেছনের অন্যতম চালক হচ্ছে ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়া। তাই তো অনেকেই বলছেন, কোনও গুলি না চালিয়েই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধটা জিতে নিলো চীন! আর তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে, সৈনিকের চেয়ে অনেক বেশি সম্মান বেড়ে গেল যুদ্ধের ময়দানে ডাক্তার পেশার। আর গতানুগতিক অস্ত্রের দাম কমে বেড়ে গেল স্বাস্থ্য সূরক্ষা ইকুইপমেন্টের।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/সি

বিস্তারিত খবর

এই নিউইয়র্ক আমি চাই না

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২৭ ১৯:৩৬:৪৩

আসছে গ্রীষ্মে আমার নিউইয়র্কে বাসের এক যুগ পূর্ণ হবে। বেশি দিন ধরে নিউইয়র্কে বাস করছেন এমন কেউ হয়তো বলবেন, এক যুগ তথা ১২ বছর এমনকি সময়? যা নিয়ে ঘটা করে কিছু বলতে বা লিখতে হবে। তা আমারও জানা। তবুও নিউইয়র্ক ঘিরে আমার ব্যক্তিগত ভালোবাসা ও উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা নিয়ে নিজ অভিব্যক্তি লেখা উচিত বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে।
আমেরিকাতে আসা অভিবাসীদের নিয়ে একটি কথা প্রচলিত আছে। তা হলো—অভিবাসীদের বয়ে নিয়ে আনা বিমানটি যে শহরে অবতরণ করবে, অধিকাংশ প্রবাসীদের জীবনগল্পের শুরু এবং শেষ এই শহরকে নিয়েই। নিজ জীবন নাটকের চিত্রনাট্য লেখা ও মঞ্চস্থ হয় সেই প্রথম আসা শহরে। সে ক্ষেত্রে আমার চিত্রনাট্য বেশ ব্যতিক্রম। ২০০৬ সালে আমেরিকা এসে উঠলাম ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে ভাইয়ের বাসায়। নিজের চাকরিসহ সন্তানদের লেখাপড়ার শুরু হলো বেশ ভালোভাবে। তবে এমনতর পরিবেশ আমার প্রথমে মোটেই ভালো লাগেনি। একঘেঁয়ে যাপিত জীবন। মনে শান্তি নাই। গতানুগতিক জীবন বাস। সকালে উঠে কাজে যাও। বিকেলে কাজ থেকে নিজ বাসায় টিভির সামনে বসে সময় কাটানো অথবা কোন স্বজন অথবা ভাই–ভাবিদের নিয়ে স্বল্প সময়ের নিরামিষ আড্ডা। প্রতিদিন ভাই–ভাবির একই চেহারা দেখে দেখে অনেকটা অসহায় হয়ে একদিন ভাবিকে বললাম, ভাবি আগামীকাল যদি পারো একটি মুখোশ পরে আস। তখন হয়তো আমার মনে হবে নতুন একটি চেহারা দেখতে পেলাম।
পাঠকেরা হয় তো ভাবছেন, আমি একজন বোহিমিয়ান টাইপের কেউ। আসলে তা নয়। দেশে থাকতে আমি প্রায় প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক সমাবেশ ও খেলাধুলায় সংযুক্ত থাকতে ভালোবাসতাম। যা এখানে এসে পুরোপুরি পাওয়া ছিল দুষ্কর। তবে বর্তমানে আমেরিকার সর্বত্র অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক উৎসবের কমতি নেই। অনেক স্থানে তা বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ বটে। নিউইয়র্কের বন্ধু–বান্ধব, অনেক চেনা স্বজনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত ফোনে যোগাযোগ থাকাতে নিউইয়র্কের সব সামাজিক অনুষ্ঠানের হালনাগাদ খবর বরাবর পেতাম। বছরব্যাপী আয়োজিত সব উৎসবসহ আঞ্চলিক নির্বাচন আয়োজনের খবর শুনে মন খুবই খারাপ হতো। ভাবতাম যদি নিউইয়র্কে অভিবাসী জীবন শুরু করতাম, সবাইকে এভাবে এক সঙ্গে পেতাম।
নিউইয়র্কে ফিরে আসার ইচ্ছে ও আকুলতা একেবার চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে আসায় কোন পূর্বপরিকল্পনা না করেই হট করে চলে এলাম ভালোবাসা আর স্বপ্নের নিউইয়র্ক শহরে। কুইন্সের উডসাইডে তিন রুমের বাসা ভাড়া নিলাম একটু আয়েশে থাকার অভিপ্রায়ে। নিউইয়র্ক বাসের প্রথম দিন বাসার পাশে বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা উডসাইডে নিউইয়র্কের বৃহত্তম আঞ্চলিক সংগঠন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। নগরজুড়ে তিনটি ভোট কেন্দ্রের একটি উডসাইড। সেখানে উপস্থিত হয়ে একেবারে হতবাক। কেন্দ্রের চারপাশে সিলেটী অভিবাসী ছাড়াও নিউইয়র্কে বসবাসরত অন্যান্য জেলার নেতৃবৃন্দ সদলবলে উপস্থিত। পুরো এলাকা দেশীয় স্টাইলে ভোট প্রদানের পরিবেশে উৎসবমুখর। সেই আনন্দঘন পরিবেশে হঠাৎ দেখা আমার একজন আত্মীয়ের সঙ্গে, যিনি আমাকে ম্যারিল্যান্ডেও দেখেছিলেন। তিনি আমাকে দেখেই বলে উঠলেন, আজ দেখি আপনি ভীষণ খোশমেজাজে আছেন! আপনি পুরোই বদলে গেছেন। উত্তরে বললাম, সুবোধ বালকেরা নীরব বনে সুন্দর, আড্ডাবাজরা রাস্তার মোড়ে। হেসে উত্তর দিলেন, দারুণ বললেন ভাইজান।
প্রথমে মাসখানিক গেল আত্মীয়স্বজনের বাসায় দাওয়াত নিমন্ত্রণের আবদার রক্ষা করতে করতে। চাকরি নিয়ে সবার নানা পরামর্শ আর উপদেশের কমতি নেই। তবে আমি একটু বেশি নিশ্চিত হয়ে বসে রইলাম। ধারণা ছিল, নিউইয়র্কের তুলনায় অনেক ক্ষুদ্র রাজ্য ম্যারিল্যান্ডে চাকরি পেলাম অল্প কয়দিনে। আর নিউইয়র্কের মত শহর যেখানে হাজার হাজার সেবা প্রতিষ্ঠান আর বাণিজ্যিক স্থাপনায় চারদিক ঘেরা, সেখানে সামান্য উদ্যোগে আমার চাকরি হওয়ার কথা। কিন্তু ২০০৯ সালের বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। সারা দেশে তখন চলছে স্মরণকালের ভয়াবহ মন্দা। শত শত প্রতিষ্ঠানে চলছে লে অফ। কোথাও কর্মচারী ছাঁটাই প্রক্রিয়া। যেখানেই যাই, সবাই বলে দুঃখিত ‘নো হায়ারিং’।
বেশ কয়েক দিন এখানে–সেখানে নানাজনের রেফারেন্স নিয়ে ঘোরাফেরা করে কোন লাভ হল না। এদিকে জমানো ডলারে চলছে লাল সিগন্যাল। বাধ্য হয়ে দেশে রাখা ভালো পরিমাণের টাকাকে ডলার বানিয়ে আনা হল নিউইয়র্কে। এভাবে বছরের কিছু কম সময় চলার পর পাওয়া গেল মোটামুটি মধ্যম আয়ের চাকরি। সন্তানেরা কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেরা শুরু করল খণ্ডকালীন কাজ। দ্রুত আমরা পরিবারের সবাই নিউইয়র্কের ‘লাইফ লিভ নাইসলি’ ট্র্যাকে চড়ে বসলাম, যা চলতে লাগল তার নির্দিষ্ট গতিতে। জীবন ক্রমে সুন্দর আর আনন্দ অনুভবে চলমান হলো নানা আয়োজনে আর উৎসবে।
দিন–রাত নির্ঘুম শহর নিউইয়র্কের উৎসব আর আনন্দে সময় কাটানোর নানা রূপ ধীরে ধীরে নিজেই দেখতে পেলাম। দিন রাত ২৪ ঘণ্টা সপ্তাহে সাত আর বছরে ৩৬৫ দিন পুরো সময় নিউইয়র্কবাসী ছুটছে। আমেরিকার মেডিকেল জার্নালে খবর বেরোল, আমেরিকার সব রাজ্যের অধিবাসীদের মধ্যে নিউইয়র্কবাসীর গড় আয়ু বেশি। কারণ লোকজন পায়ে হেঁটে বেশি চলাচল করে, শারীরিক ব্যায়াম করতে জিমে সময় কাটায়। তা ছাড়া বছরব্যাপী নানা ধরনের ছোট–বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মনোরঞ্জনের শতভাগ পূর্ণ করতে পারে, যা অন্যান্য রাজ্য কিছুটা হলেও সীমিত।
নিউইয়র্ক আসতে না আসতেই শুরু গ্রীষ্মকালীন নানা উৎসব, মেলা আর বনভোজন। বয়স ভেদে সব অভিবাসী, জাতি–ধর্ম নির্বিশেষে সবাই ছুটছেন রাজ্যের নানা অবকাশযাপন কেন্দ্রে। বাঙালিরা দল বেঁধে বাস ভাড়া করে গান গাইতে গাইতে চলছেন সাগর তীরের নির্ধারিত পিকনিক স্পটে। ছোট বড় সবার কী যে আনন্দ, তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। এত সবের পাশাপাশি স্থানীয় ও জেলাভিত্তিক সামাজিক সমিতির আয়োজনে ঈদ ও পূজা পুনর্মিলনী, ইফতার পার্টিসহ দেশ থেকে আগতদের ঘটা করে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সব জায়গায় প্রবাসীদের মিলন মেলা। যেখানে একে অপরের সঙ্গে দেখা–সাক্ষাৎসহ মনের ভাব বিনিময়ে সবাই যেন উন্মুখ হয়ে থাকেন প্রবাসীরা।
সেই চিরযৌবনা আর ভালোবাসার ফুলেল সৌরভ নিয়ে যে, নিউইয়র্ক শহর সারাক্ষণ মেতে থাকতম, কলকল আওয়াজে আনন্দের জলস্রোতে পরিপূর্ণ থাকত দুপুরে, বিকেলে আর সন্ধ্যায় কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকার হিলসাইড আর ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টারের কালো পিচঢালা জনপদে, আজ কিনা সেই মুখরিত জনপদ আর শত শত কবি সমাজসেবক আর রাজনীতিবিদদের চায়ের কাঁপে ঝড় তোলা আড্ডার দেখা মিলে না। জ্যাকসন হাইটের ১৫/২০টি ব্যস্ত খরিদ্দারের পরিপূর্ণ খাবার দোকানের সব চেয়ার উল্টিয়ে রাখা। এক কাপ চা নিতে যেখানে লাইনে দাঁড়াতে হতো, আজ সেই লাইন উধাও। সব ধর্ম–বর্ণসহ নানা গোষ্ঠী আর গোত্রের মিলন স্থল বলে দুনিয়া জোড়া ইতিমধ্যে সুখ্যাতি পাওয়া জ্যাকসন হাইটের ডাইভারসিটি প্লাজা আজ নীরব, নিস্তব্ধ। শূন্য চত্বরে অভিবাসীরা হিমশীতল ঠান্ডায় ধূমায়িত চায়ের কাপ নিয়ে বন্ধুদের জন্য অপেক্ষা করে না। সবাই আজ নিজ গৃহে স্বেচ্ছাবন্দী।
যে নিউইয়র্কের রাস্তায় রোড রেইজ (পথ বিবাদ) ছিল নিয়মিত আর স্বাভাবিক দৃশ্য, আজ সেই ব্যস্ত বি কিউ হাইওয়ে, হিলসাইড অ্যাভিনিউসহ নগরের অধিকাংশ রাজপথ সুনসান নীরব, ভীষণ ফাঁকা। যা আমার এক যুগের নিউইয়র্ক বাসে কখনো চোখে পড়েনি, যাই দেখি তাই মনে হয় অবিশ্বাস্য। যা ভুলেও কখনো নিজ ভাবনায় আসেনি। চারদিকে আতঙ্কের চাহনি, আগামীর অনিশ্চিত দিন–রাত, কত দিন থাকবে করোনার এই তাণ্ডব। প্রাণ সংহারের এই অজেয় দৈত্যের কবলে কার হবে জীবননাশ, সেই রূপ হাজারো ভাবনা আর উৎকণ্ঠায় নিউইয়র্ক নগরে আনন্দহীন নগরীতে রূপান্তরিত হতে চলছে। ভালোবাসার নিউইয়র্কে আজ শুধু ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি। কী হবে আজ অথবা আগামীকাল? সে জিজ্ঞাসার ভার নগরবাসীর নিকট বড্ড ভারী লাগছে। সেই ভার সইতে হবে কত দিন কে জানে? ভালোবাসার আর কর্মচঞ্চল নিউইয়র্ক নগর ফিরে আসুক আগের সেই রূপে, এই মুহূর্তে ৬০ লাখ নিউইয়র্কবাসীর একমাত্র কামনা সেটি বলেই আমার বিশ্বাস।
-প্রথম আলোর সৌজন্যে

বিস্তারিত খবর

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে আপনার/আমার যত করণীয়

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২৬ ০৬:৪৯:৪৮



প্রাণঘাতী কভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) আজ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বের ১৯৮টি দেশে। পুরো বিশ্ব, পুরো গ্রহে আজ ছড়িয়ে পড়েছে মরণব্যাধী এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। এতো দ্রুত গতিতে এতো বিশাল সংখ্যক মানুষকে আর কেউ ঘায়েল করতে পেরেছে কিনা তা খতিয়ে দেখার কাজ ঐতিহাসিকদের। কিন্তু নতুন এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় যে, এই গ্রহে বসবাসকারী আমরা কেউ বিচ্ছিন্ন প্রাণী নই। আমরা সবাই এক। 

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটির সংক্রমণ বা প্রাদুর্ভাব কমাতে কিছু করণীয় কাজের কথা বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্বের প্রতিটি দেশের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার দেওয়া এই ম্যানুয়ালটি মেনে চলার কথা বলছে। 

যেহেতু সর্বনাশা এই ভাইরাসটির এখনো কোন প্রতিষেধক নেই। তাই আমাদের এ সকল করণীয় মেনে চলা শুধু আবশ্যক বা বাঞ্ছনীয় নয়, বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত। তাই চলুন আপনি, আমি, আমরা সবাই মিলে এই গ্রহের স্বার্থে; বিশ্বমানবতার স্বার্থে নিচের করণীয় কাজগুলো মেনে চলি। প্রাণঘাতী করোনা থেকে নিজে নিরাপদ থাকি। সেইসাথে অন্যকে নিরাপদ রাখি। নিরাপদ রাখি আমাদের প্রিয় পরিবেশ ও প্রিয় পৃথিবীকে।   

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে সবাইকে নিরাপদ রাখতে আপনার যত করণীয়

সামাজিক দূরত্বঃ 
চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করার কথা। জানতে চান সামাজিক দূরত্ব কী? এই সামাজিক দূরত্ব বলতে বোঝায় ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ না করা। সম্মানজনক দূরত্ব বজায় রাখা। কারো সাথে দেখা করা বা কথাবার্তা বলার সময় কমপক্ষে ২-৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা। যাতে করে ভাইরাসটি দ্রুত সংক্রমিত বা ছড়িয়ে পড়তে না পারে। সেইসাথে একত্রে অনেকে জড়ো না হওয়া, হৈ চৈ বা আড্ডাবাজি না করাই হল সামাজিক দূরত্ব। 
যা পরিহার করবেন 
কোন একটি গ্রুপে একত্রে জড়ো হওয়া। অতিরিক্ত ঘুমানোর অভ্যাস। থিয়েটারে যাওয়া। সকল প্রকার খেলাধুলা ও খেলার মাঠ থেকে বিরত থাকা। প্রেমিকার সাথে বাইরে ডেটিং এ যাওয়া। বাইরে ঘুরতে যাওয়া। অ্যাথলেটিক ইভেন্ট। জনবহুল স্থানে গমন। শপিং মল, বার, রেস্টুরেন্ট বা অপ্রয়োজনীয় কাজে ভ্রমণ। এমনকি আপনার বাসায় অতিথি আগমনও বন্ধ করতে হবে আপনাকে। 
ভাবছেন, এসব কেন পরিহার করবেন? এসব পরিহার করবেন কারণ প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি যাতে কোনভাবেই একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে না পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)’, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটির নিয়ে গবেষণা করেন। 

তাদের করা গবেষণা ফলাফলে দেখা যায়, নতুন এই ভাইরাসটি বাতাসে সর্বোচ্চ ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। কাঠের উপর এই টিকে থাকার সময় হল ২৪ ঘণ্টা। আর প্লাস্টিক বা স্টেইনলেস স্টিলের উপর এই সময় ২-৩ দিন। এবার ভাবুন। 
সুতরাং আপনার করোনা নাই। এসব বিধি আপনার জন্য নয়। যতদ্রুত সম্ভব এই মানসিকতা পরিহার করুন। কেন? কারণ গত বৎসরের ডিসেম্বরে এই ভাইরাসটি শুধু উহানেই ছিল। আপনার, আমার এই বীরত্বপূর্ণ মানসিকতার জন্যই এটা আজ বিশ্বের ১৯৮টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।        
যা করা নিরাপদ 
বাসায় বসে এখন যা করা নিরাপদ। হাঁটা চলা করেন। বাসায় কাজ করেন। নিজ আঙিনায় খেলাধুলা করেন। ভাল বই পড়েন। রান্নাবান্না করেন। গান শুনেন। গ্রুপে ভিডিও চ্যাট করেন। সিনিয়র প্রতিবেশীদের কল বা টেক্সট করেন। বন্ধুকে টেক্সট বা কল করেন। পরিবারকে সময় দেন। আর বারবার সাবান পানি দিয়ে নিজের হাত ধুয়ে পরিষ্কার করে। ভাবছেন বারবার মানে আবার কতবার? কমপক্ষে ১৫-১৬ বার। 
এর বাইরে ভাল থাকার জন্য আপনি করতে পারেন আরও নানা সৃজনশীল কাজ। নিজে নিরাপদ থাকুন। অন্যকে নিরাপদ রাখুন। আর এই দায়িত্ব আপনার, আমার সকলের।   

আর্টিকেলটি লিখতে গিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা ও ক্যালিফোর্নিয়া স্বাস্থ্যবিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত বিভিন্ন লিফলেট ও ম্যানুয়ালের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। 

 

বিস্তারিত খবর

সন্দেহ ক্রমেই দানা বাঁধছে! বিশ্বটাকে হাতে নিয়ে নাচাচ্ছে নাতো চীন?

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২৪ ০২:১৯:৪৩

বিশ্বটাকে হাতে নিয়ে নাচাচ্ছে নাতো চীন? এখনই উচিত গোটা বিশ্বের এক হওয়া, চীনকে বিশ্ব জুড়ে বয়কট করা..বিশ্বের সমস্ত দেশের আর্থিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ উসুল করা | যে সব তৃতীয় বিশ্বের দেশ এই মারাত্মক ভাইরাস এ আক্রান্ত হবে তার সকল দায়ভার চীনের উপর চাপানো..দরকারে বিদেশে থাকা চীনের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণ মেটানো উচিত | বিশ্ব জুড়ে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য শুধু মাত্র চীন দায়ী.. জবাবদিহি চীনকে করতেই হবে.. শুধু ভয় একটাই বিশ্বের মেরুদন্ডটা যেন ততদিনে ভেঙ্গে না যায় l
 
চীন খুব দ্রুত করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পাচ্ছে | একের পর এক অস্থায়ী হাসপাতাল বন্ধ করছে উহানে নতুন করে মাত্র একজনের সংক্রমণ ঘটেছে..গোটা চিনে মাত্র 13 জন | বেশ অবাক লাগছে না ভাবতে?? মনে হচ্ছে না এটা কি ভাবে সম্ভব?? আর একটু অবাক হবেন এটা জানলে একের পর এক বিদেশী মিডিয়া ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান আরো অনেক দেশের মিডিয়া কে দেশ থেকে বার করে দিচ্ছে যাতে তারা চীনের কোনো খবরই না করতে পারে..

ইতালি, ব্রিটেন, ফ্রান্স, আমেরিকা, ইরান ক্রমশঃ ভয়াবহ স্টেজ এ পৌঁছাচ্ছে..আমেরিকার, ইউরোপের স্টক মার্কেট ও ক্র্যাশ করে গেছে..বিশ্ব জুড়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি | অথচ একটু চাইনিজ মিডিয়া দেখবেন কি দারুন দৃশ্য | সবাই মাস্ক খুলে ফেলছে, একে অপরকে জড়িয়ে ধরছে, হিরো দের মতো ওয়েলকাম হচ্ছে সবার.. বেশ অবাক লাগছে না দেখে??

এত বড়ো ক্রাইসিস অথচ এত ফাস্ট রিকভারি?? শেয়ার মার্কেট থেকে কার্রেনসি ড্রপ কোনো কিছুতেই আঘাত লাগলো না..এতোই উন্নত ষোলো খানা হাসপাতাল রাতারাতি তৈরী হয়ে গেলো,আপনি বিশ্বাস করেন এসবের জন্য কোনো প্রিপারেশন ছিলো না তাদের কাছে?? 2,00, 000 করোনা ভাইরাস ইনফেক্টেড থেকে 0 ইনফেক্টেড সব হাসপাতাল রাতারাতি উবে গেলো সবাই আনন্দে মাতোয়ারা প্রেসিডেন্ট কি সুন্দর মৌনব্রত পালন করলো দারুন লাগছে না শুনতে??

যেন সিনেমার মতো সাজানো সন্দেহ জাগে সবটা সত্যি সাজানো নয় তো?? নিজের ঘর কিছুটা পুড়িয়ে বিশ্ব কে জ্বালিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত নয় তো?? বিশ্বকে ভয়ানক বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে নিজে অধীশ্বর হবার চক্রান্ত নয় তো??

শুনেছিলাম লংকা পড়াতে গিয়ে হনুমান নিজের ল্যাজে আগুন লাগিয়ে ছিলো | উহান হনুমানের ল্যাজের মতো ব্যবহার হলো না তো?? চীনা দের লাইফ স্টাইল বা খাদ্যাভ্যাস দেখা যায় তাহলে বোঝা যায় খুব সহজেই যে তারা কতটা নিষ্ঠুর, কতটা হিংস্র, তারা পারে না এমন কোনো কাজ নেই যদি সত্যিই বিশ্বের অধীশ্বর হবার জন্য এই ভাইরাসকে চীন হাতিয়ার করে থাকে তাহলে অবাক হবার কিছু থাকবে না সত্যিটা হয়তো খুব তাড়াতাড়ি বেরোবে,কিন্তু তখন বিশ্বের মেরুদন্ড থাকবে তো চীনের সামনে দাঁড়ানোর জন্য ?

বিস্তারিত খবর

করোনার ভয় পেলে চলবেনা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-১৪ ০২:৫৬:৪৯

করোনার মতো কঠিন সময়ে খুব বড় একটা অসুস্থতা কাটিয়ে উঠলাম। যদিও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। ফেব্রুয়ারীর ২৪ তারিখ থেকে প্রচন্ড হাঁচি, নাক মুখ দিয়ে  অনবরত পানি পড়েছে, গায়ে ১০১ এর বেশি তাপমাত্রা বুকে ব্যাথা,  শ্বাস কষ্ট, সমস্ত শরীরে প্রচন্ড ব্যাথা। ডাষ্ট এলার্জি আছে তাই ওটাতেই আক্রান্ত হয়েছি ভাবলাম। কাজ ফেলে ছুটি নিয়ে বাসায় বসে থাকতে ভালো লাগেনা।পরদিন অফিসে গেলাম কিন্তু বসে কোনো কাজ করতে পারলামনা। তারপর নানান ওষুধে কদিন গেল। কিন্তু জ্বর বা অন্য কোনো কষ্ট কমলোনা। শ্বাস কষ্ট বেড়ে গেল, কোনো কথা উচ্চারণেও কষ্ট হচ্ছিল। এমন কষ্ট কোনোদিন হয়নি। নিজের বুক ফেড়ে নিজেই পরিস্কার করতে মন চাচ্ছিলো। ফেব্রুয়ারীর ২৯ তারিখে বক্ষ ব্যাধি বিশেষজ্ঞের কাছে গেলাম। আমার এক ভাই জোর করে নিয়ে গেলেন। ডাক্তার কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। এক্সরে রিপোর্ট দেখিয়ে বললেন বুকের ডানপাশের ফুসফুসে অনেকটা পানি জমেছে। এছাড়াও আরো কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। ডাক্তার বললেন তিনমাস ওষুধ খেতে হবে।

 আমার মনের জোর খুব বেশি কিন্তু শ্বাস কষ্টের কাছে হেরে যাচ্ছিলাম বারবার। তবুও ঘড়ির কাটা ধরে ওষুধ খেতে লাগলাম। ১০ দিন ওষুধ খাওয়ার পরে সামান্য কষ্ট কমলো। গতকাল থেকে কিছুটা ভালো আছি। ১৭ দিন প্রায় তেমন কোথাও যাইনি। ঘরে বসে আছি। এর মধ্যে বাসার অন্যান্য সদস্যদেরও জ্বর সর্দি কাশি হলো। নেবুলাইজার মেশিন কিনেছি। ইনজেকশন ওষুধ সব চলেছে এক সাথে। গত দশ বছরে এতোটা অসুস্থ হইনি। আশা করছি আগামী রবিবার থেকে  কাজ করতে পারবো। যদিও আরও আড়াই মাস ওষুধ খেতে হবে। পৃথিবীতে নিঃশ্বাস নিতে পারার সুখের তুলনা নেই।

বিস্তারিত খবর

বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করতে হবে

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-১০ ০৪:২৬:০৬

আসলে মার্চ মাসটাই আমাদের কাছে এক অনন্য মাস হিসাবে পরিনত । বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষন, ১৭ মার্চ জাতির জনকের জন্মদিন , ২৫ মার্চের কালোরাত ও ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষনা । আবার এই বাংলাদেশে সেই মহামানবটিই  ( বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান )  এই মার্চেই পৃথিবীতে আসেন । এবার তার জন্মের ১০০ তম বার্ষিকী । সহজভাবে তা চিত্রায়নের সুযোগ নাই । আবার অতি রন্জিত করাও ঠিক হবে না । অতি মুজিব প্রেমীদের ও অনু প্রবেশকারীদের কারনে তা বিতকিৃত করার আলামতে খোদ প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেছেন ।

মুজিব বর্ষে অনেক কিছু করার সুযোগ ছিল । দেশে বিদেশে তা পালন হবে নানান ভাবে র‌্যালিী, আলোচনা সভা, চিত্রাংকন ও নানান প্রকাশনার মাধ্যমে । কিন্তু তার চেয়ে বেশী করার মাধ্যম গুলো করতে পারত দুতাবাস গুলো । বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দেড়শত এর মত দুতাবাস ছিল আছে আরও বাড়ছে , তারা জাতির পিতাকে বহি:বিশ্বে বহুজাতির কাছে মুলধারায় উপস্থাপন করতে পারত । বিভিন্ন ভাষায় জাতির জনকের জীবনি প্রকাশ করে বুক আকারে । পৃথিবীর অনেকেই জানে না জাতির জনক শেখ মুজিব ১৯২০ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বেচেছিলেন তাও আবার তাকে মেরে ফেলা হয়েছে । তিনি ৩৫৭৯ দিন জেল জীবন কাটিয়েছেন যা ১০ বছরের সমান ‘ যা বিশ্বে নেলসন মেন্ডেলার সমকক্ষ । মাত্র ৪৫ বছর তিনি আলো বাতাসে ছিলেন। তাকে সপরিবারে মেরে ফেলা হয়েছে । পৃথিবীতে দ্বিতীয় ব্যাক্তি কেউ নেই যার এই বর্নাট্য করুন জীবনি । অথচ আমরা যারা আওয়ামী মনোভাবের বা বাংলাদেশী তারা তার কথা জানি প্রতিবছর বলে ও বেড়াচিছ ।  কিন্তু বিশ্ব ইতিহাসে তার অবদান সামগ্রিক প্রচার কে করবে ।  তিনি বিশ্বের একজন আইডল নেতা হবার সুযোগ ছিল । মহাত্বা গান্ধি কে যদি বিশ্ব জানতে পারে , নেলসন মেন্ডেলাকে যদি বিশ্ব জানতে পারে তাহলে শেখ মুজিব কে কেন জানবে না বিশ্ব । এ্ই কাজটা কে করবে । কেন বিশ্বের বিভিন্ন লাইব্রেরীতে জাতিন জনকের উপর কোন বই থাকবে না । কেন তার জীবনি ছোট বড় আকারে বিশ্বের নামি দামি প্রকাশনি কেন তৈরী করবে না । আমাদের তো টাকার কোন অভাব্ নেই । আমাদের সরকারের উচিত বিশ্বের নামি দামি লেখকদের দিয়ে তার জীবনি প্রকাশ করা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় । শত শত কোটি টাকা খরচ করে জন্ম শত বার্ষিকী আমরা পালন করব , দেশের সেরা সেরা লেখকরা গল্প কবিতা গান রচনা করছেন । কিন্তু তাতো সবই ঢাকা কেন্দ্রিক তোষামোদর জন্য । ইংরেজীতে কি করতে পারছি , কেন আমরা ফরাসি ভাষায় ,স্পেনিশ ভাষায় , হিন্দি ভাষায় , চায়নিজ ভাষায় , আরবি ভাষায় তার জীবনি নিজেদের খরচে প্রকাশ করছি না । কাজের কাজ তো সেটাই ।  সারা বিশ্বে জন্ম শত বার্ষিকী পালিত হবে কিন্তু বিশ্বের নতুন প্রজন্মকে আমরা কিভাবে তাকে চেনাব । আমরা যদি বাংলাদেশে নেলসন মেন্ডেলাকে চিনি , আমাদের বাচচারা যদি নেলসন মেন্ডেলাকে চিনে , আমাদের বাচচার যদি মার্টিন লুথার কিং ( সাদা কালোর মুভমেন্টের আইকন ) কে চিনে তাহলে আমেরিকান নতুন প্রজন্ম কেন জাতির জনককে চিনবে না । আমাদের আইকনিক নেতা জাতির জনকে তাদের কারও চেয়ে কম নন । তিনি অনেক উর্ধে ,তিনি তার জীবন উ্যসর্গ করেছেন মানুষের মুক্তির জন্য । আমাদের উচিত বিশ্বের সেরা সেরা লাইব্রেরীতে শেখ মুজিবের উপর বই প্রেরন করা । তা কিভাবে সম্ভব তা খুজে বের করতে হবে । বিশ্বের সেরা সেরা প্রকাশনিকে বলতে হবে তারা যেন তা প্রকাশ করে । তাহলে ই তাকে বিশ্বের আইকন হিসাবে পরিগনিত করা যাবে ।

বিশ্বের শত শত দেশে আমাদের দুতাবাস রয়েছে , তাদের উচিত তাদের মাধ্যমে সে দেশের মুলধারায় জাতির জনকের জীবনি বিভিন্ন স্কুল কলেজের লাইব্রেরীতে স্পন্সর শিপের মাধ্যমে তা প্রকাশ করে বিতরন করা ।  বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে  আমাদের অনেক আইকনিক ব্যবসায়ী রা রয়েছেন দুতাবাস তাদের বিশেষ মর্যাদা দিয়ে থাকে , দুতাবাসের কর্মকর্তারা তাদের সাথে যৌথভাবে ইংরেজী বই প্রকাশ করে বা সে দেশের ভাষায় জাতির জনকের জীবনি ছোট  আকারে বা বড় আকারে প্রকাশের উদ্যেগ নিতে পারে । ব্যাবয়ায়ীদের অনুরোধ করতে পারে জন্ম শতাবার্ষিকী বা তার পরেও যে বহি:বিশ্বে তা ছড়িযে দেয়া । অনেক ভাল কাজ করার সুযোগ রযেছে । আসলে বিদেশী কোন গবেষক যদি সঠিক ভাবে জানতে পারে কে ছিলেন শেখ মুজিব, কি ছিল তার জীবনের লক্ষ্য , কেমন ছিল তার ব্যবহার, তিনি কেমন কাটিয়েছেন তার ৫৫ বছর , কতটা সফল নায়ক ছিলেন তাহলে তারাই লিখতে বা গবেষনা করতে শুরু করবে । তার জীবনি নিয়ে  পিএইচ ডি হবে । আসলে আমরা বাংলাদেশের মধ্যই তাকে আটকে রেখেছি । তার সঠিক বিশ্ব মুল্যায়ন হয়নি , হচেছও না । যে শত  শত  মিলিয়ন ডলার খরছ হবে দেশ বিদেশে এ্ই মার্চ মাস জুড়ে তার আপ  কামিং কোন রেজাল্ট আসবে না । তার জন্য গান রচনা হচেছ, কনসার্ট হবে, শত শত সুভেনির, বই , গল্প , উপন্যাস রচিত হচেছ হবে । কিন্তু তার পরিথি সীমাদ্বই । আমরা তাকে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের মধ্যই আটকে রেখেছি মাত্র । নিউ ইযর্কে তিনটি বাংলাদেশে শত শত , আমেকিরার বিভিন্ন ষ্টেটে অর্ধশত অনুষ্টান হছেছ,বিশ্বের প্রায় দু শত শহরে বাংলাদেশী প্রবাসীরা তার জন্ম শতবার্ষিকী  পালন করবেন পুরো মার্চ মাস জুড়ে  তাকে তুলে  ধরার জন্য ।  কিন্তু আমাদের বিভিন্ন ভাষার পাবলিকেশন না হলে তাকে আমারা বাংলা ভাষার দুটো দেশের কিছু মানুষের কাছেই রেখেদিলাম । আমাদের বিশ্ব দরবারে তাকে ‍তুলে ধরতে হবে ।

অসাধারন এক অনন্য মানব শেখ মুজিব। অসাধারন ছিল তার চিন্তা । লোভ লালসাহীন, এক প্রানবন্ত হ্যামিলনের বাশিওয়ালা । সাত কোটি  মানুষের স্ব্প্ন পুরুষ ছিলেন । তাকে নিযে গবেষনার বিস্তর মাধ্যম পড়ে আছে । আমরা তাকে নিয়ে অহেতুক বাড়াবাড়ি করে তাকে ক্ষুদ্রতায় আবদ্ব করেছি । তার অনন্য পোষাকটাও আজ অবমুল্যায়ন হচেছ  । তিনি তার একটি পোষাককে তার নামে সমাদ্রিত করতে পেরেছেন । মুজিব কোট বলতে একটি বিশেষ পোষাক কে বোঝায় । এ নিয়েও গবেষনার সুযোগ আছে । এক শত বছর আগে তিনি জন্মেছিলেন মাত্র ৫৫ বছরের বর্নাট্য জীবন কজনের আছে । তার উদাসিনতার জন্য তার আত্ব বিশ্বাসের জন্য তার সাথে আরও সতের জন প্রান হারান । পৃথিবীতে কোন গোষ্টিকে এমন ভাবে মেরে ফেলার ইতিহাস নেই । কালের আবর্তে আজ তার মৃত্যু শক্তিতে রুপান্তরিত হয়েছে ।  সব মানুষকে মৃত্যু বরন করতে হয় , তার এ্ই আত্ব ত্যাগ তাকে আল্লাহ এক অনন্য মর্যাদার আসনে বসাবেন এই প্রত্যাশা কোটি কোটি মুক্তিকামি বাংলাদেশীদের । আমরা এ্ই ক্ষনজন্মা বিরপুরুষের বিদেহী আত্বার শান্তি কামনা করি । আর সবার কাছে অনুরোধ “যে যেভাবে পারেন তার জীবনি দেশে বিদেশে নানান ভাষায় প্রকাশ করুন“ । বাংলাদেশের ইংরেজী মাধ্যমের স্কুল গুলোতেও তার জীবনি প্রকাশ জরুরী পার্ঠ্যসুচিতে । আর আমরা যারা লেখক সংগঠক মুজিব আদর্শের  আছি তাকে ভালবাসি তার জীবনি প্রকাশে ও ছড়িযে দিতে সর্বাত্বক নিবেদিত হই নানান ভাষায় । নানান মাধ্যমে তাকে নেলসন মেন্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং এর সম পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে । জাতির জনক তাদের চেয়ে ও উর্ধে । “আমাদের উদাসীনতায় তিনি ক্ষুদ্র একটি গোষ্টির মাঝে ঘুরপাক খাচেছন”।

 
লেখক: সাংবাদিক-কলামিস্ট

বিস্তারিত খবর

করোনা' মানেই 'মৃত্যু' নয়, বাঁচতে হলে জানতে হয়

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-০৭ ০৬:১১:৩২

দেশি-বিদেশি মিডিয়া হাউজগুলোকে গত মাস দেড়েক ধরে খুব সুক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছি। দেশীয় মিডিয়া হাউজের কথা অবশ্য ধর্তব্যের বাইরে, কারণ এদের নিউজগুলোর মাঝে কোন সৃজনশীলতা নেই। নেই নিজস্ব রিসার্চ, ডাটা। এরা যেখানে যা পায় তা-ই অনুবাদ করে ছেড়ে দেয়। তাই, গ্লোবাল সিরিয়াস ইস্যুতে সচেতন ব্যক্তিমাত্রই বিদেশি মিডিয়া হাউজগুলোর ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন, এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু, 'করোনা' ইস্যুতে এই বিদেশি মিডিয়া, বিশেষ করে আমেরিকান মিডিয়াগুলোকে বেশ ইন্টারেস্টিং লাগছে আমার কাছে। তারা সারাদিন 'করোনা' কে তাদের লিড নিউজ হিশেবে দেখাচ্ছে, খবরের পাতা থেকে জিনিসটা সরাচ্ছেই না একদম। বিশ্বের কোন প্রান্ত থেকে যদি করোনাতে কোন একটা মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়, সাথে সাথে সেটা তুলে দিচ্ছে লিড নিউজে৷

মিডিয়াগুলো করোনায় মৃতের সংখ্যা হাইলাইট করছে বলে আমি বিরোধিতা করছিনা। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, করোনায় আক্রান্ত হাজার হাজার লোক প্রতিদিন সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরছে, এই নিউজটা লিড নিউজ হিশেবে দেখাচ্ছেনা আমেরিকান মিডিয়াগুলো, বিশেষ করে সি এন এন, ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস। এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুহার ২% এর কাছাকাছি। এই ২% এর পাশে আমি ইচ্ছে করলে 'মাত্র' শব্দ যোগ করতে পারতাম, কিন্তু করিনি। আমার কাছে একটা প্রাণের মূল্যও অনেক। কিন্তু ব্যাপার হলো, এই যে হাজার হাজার মানুষ করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরছে, এটা কেনো মানুষকে জানানো হচ্ছেনা?

আরেকটা ইন্টারেস্টিং ডাটা শেয়ার করি। করোনা নিয়ে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হইচই করছে আমেরিকান মিডিয়া হাউজগুলোই। মুহুর্তে মুহুর্মুহু সংবাদ ছাপাচ্ছে তারা করোনা নিয়ে৷ এতে করে সারা পৃথিবীতে একটা প্যানিক ছড়িয়ে পড়েছে ভালোভাবে যে, করোনা ধরলে আর বুঝি রক্ষে নেই৷ অথচ, করোনায় মৃতের সংখ্যার পাশাপাশি আমাদের যদি সুস্থ হয়ে উঠার ডাটাও মিডিয়া জানাতো, তাহলে বোধকরি মানুষ এভাবে প্যানিকড হয়ে পড়তো না। মানুষ এখন ভাবছে, করোনা মানেই মৃত্যু।

কিন্তু, এই বছর খোদ আমেরিকাতেই নর্মাল ফ্লু'তে মারা গেছে বিশ হাজারের মতো মানুষ৷ একেবারে টাটকা খবর কিন্তু। নর্মাল ফ্লু মানে বুঝেছেন তো? এই যে জ্বর, সর্দি-কাশি ইত্যাদিতে। দেখুন, এই নর্মাল ফ্লুয়ের জন্য দুনিয়ায় হাজার রকমের প্রতিষেধক মজুদ আছে। আছে বাহারি রকমের চিকিৎসা৷ এতোকিছু থাকা সত্ত্বেও, আমেরিকার মতোন দেশে এই ফ্লুতেই মারা গেছে বিশ হাজারেরও অধিক মানুষ। পুরো বিশ্বের হিশেব যে কি, তা তো বলার বাইরে। অথচ, যে করোনাকে নিয়ে এতো হইচই মিডিয়া করছে, সেই করোনায় এখন পর্যন্ত মারা গেছে তিন হাজারের কিছু বেশি মানুষ। এই করোনার কিন্তু কোন প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। কোন প্রতিষেধক না থেকেও এতে মারা গেছে তিন হাজার, আর হাজার রকমের প্রতিষেধক মজুদ থাকার পরেও নর্মাল ফ্লুতে আমেরিকায় নাই হয়ে গেছে বিশ হাজার। তাহলে, কোনটাকে বেশি ডেঞ্জারাস মনে হচ্ছে ডাটানুসারে? কিন্তু দেখুন, আমেরিকার মিডিয়া এটা নিয়ে কোন বাতচিত করছেনা। তারা সারাদিন ওই এক করোনা নিয়েই আছে। এখানে কি তাহলে কোন 'গেম' চলছে? আমি জানিনা।

'করোনা আর মৃত্যু' শব্দ দুটো শুনতে শুনতে আপনি নিশ্চয় ভয়ে কুঁকড়ে আছেন, না? তাহলে আপনাকে কয়েকটা আশার কথা শুনাই৷ হয়তো আপনার ভয়টা চলে যাবে। স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।

(১) এখন পর্যন্ত করোনাতে কোন শিশুর মৃত্যু সংবাদ পাওয়া যায়নি। শিশু মানে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে ০-৯ বছরের কোন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা দুনিয়ার কোথাও ঘটেনি। তাই, আপনার বাচ্চার ব্যাপারে বেশি ভয় পাওয়ার দরকার নেই। তবে, সতর্ক থাকতে হবে অবশ্যই।

(২) ১০-১৯ বছরের একজনের মৃত্যু সংবাদ পাওয়া গেছে এখন পর্যন্ত, তবে অনেকের মতে, সেটাও রহস্যজনক। আদৌ করোনায় কিনা, তা পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত না।

(৩) করোনা আক্রান্ত ৭০,০০০ মানুষের ওপরে একটা স্ট্যাডি হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে ৮১% মানুষের সর্দি-কাশি হচ্ছে করোনার ফলে, আবার সেরেও যাচ্ছে। সুতরাং, বিশ্বাস রাখুন, আপনার-আমার যদি করোনা হয়েও থাকে, সাধারণ জ্বর-সর্দির মতো তা আবার সেরেও যাবে, ইন শা আল্লাহ৷ আশা নিয়ে বাঁচুন, ভালো থাকবেন।

(৪) ডাটা অনুসারে, করোনায় যারা মারা গিয়েছে, তাদের ৫০ ভাগের বয়স ৭০ বছরের উর্ধ্বে। আর ৩০% এর বয়স ৬০-৬৯ এর মধ্যে। মানে, ৮০% লোক যারা মারা গেলো বা যাচ্ছে, তাদের গড় বয়স ৬০-৭০ এর উর্ধ্বে। আরো স্পষ্টভাবে, এই করোনায় বুড়োরাই মারা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

না, ভয় পাওয়ার কারণ নেই। বুড়ো হলেই যে করোনায় ধপাস করে মারা পড়ছে, তা কিন্তু নয়। রিসার্চে দেখা গেছে, বুড়োদের মধ্যে করোনায় যারা মারা যাচ্ছে, তারা প্রায় সবাই আগে থেকেই কোন না কোন রোগে আক্রান্ত, যেমন- ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ, অ্যাজমা, লিভার ইত্যাদি।

সব ডাটাকে একত্র করলে যা সারমর্ম দাঁড়ায় তা হলো, সুস্থ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাদের বেশি, তাদের ক্ষেত্রে করোনায় মারা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তাই, আশাহত হবেন না। মনে জোর রাখুন।

গত দু'দিন ধরে আমার নিজেরও হালকা হালকা গা গরম। মাঝে মাঝে মনে হলো, আমাকে বুঝি করোনাই পেয়ে গেলো। তো, আমি যদি এই ফ্যাক্টরগুলো সম্পর্কে না জানতাম, আমি কি ভাবতাম জানেন? আমি ভাবতাম, আমার যদি সত্যিই সত্যিই করোনা ধরা পড়ে, তাহলে সেদিন আমি আর বাসায় ফিরবো না। আমার মাধ্যমে আমার মা, স্ত্রী, সন্তান আক্রান্ত হবে, আমি এটা ভাবতেই পারিনা। তো, কি করবো তাহলে? কক্সবাজারের দিকে চলে যাবো, কিংবা কোন নির্জন পাহাড়ি অঞ্চলে। বাসায় কোনোভাবে ব্যাংকের কার্ডটা পাঠিয়ে বলবো, 'বেঁচে থাকলে দেখা হবে'।

তো, বাঁচলে তো ফিরবো। যদি না বাঁচি? সম্ভবত আমার লাশটাও খুঁজে পাবেনা আমার পরিবার৷ এই ভাবনাগুলো কোত্থেকে আসতো জানেন? প্যানিক থেকে। প্যানিক এতো ভয়ানক জিনিস। তাই, ভাইয়েরা, প্যানিক হবেন না। স্বাভাবিক জীবনযাপন করুন, কিন্তু অতি অবশ্যই সতর্কতার সাথে৷

এই যে বিশাল একটা লেখা পড়লেন, এই লেখার সারমর্ম কি? আমি কি করোনা নিয়ে হাসি তামাশা করছি? পাত্তা না দিতে বলছি?

না, মোটেও তা নয়। করোনাকে অবশ্যই পাত্তা দিতে হবে। সতর্ক হতে হবে৷ বাইরে বেরুলে মাস্ক পড়তে হবে, বারেবারে হাত ধুতে হবে, লোকারণ্য এলাকা এড়িয়ে চলতে হবে। সবই করতে হবে, কিন্তু প্যানিক হওয়া যাবেনা। প্যানিক হলে স্বাভাবিক জীবনযাপন বিপর্যস্ত হবে ভীষণভাবে। তখন করোনায় আপনার মৃত্যুর সম্ভাবনা না থাকলেও, প্যানিক থেকে তৈরি ডিপ্রেশানে আপনার মৃত্যুর সম্ভাবনা কিন্তু হুড়মুড় করে বেড়ে যাবে।

চলুন, সকাল-সন্ধ্যার যিকিরগুলো নিয়মিত করি। বেশি বেশি ইস্তিগফার করি। ভয় না পেয়ে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করি।

বিস্তারিত খবর

ভাষা আন্দোলন ও জাতীয় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার প্রাণ পুরুষ ডাঃ গোলাম মাওলা

 প্রকাশিত: ২০২০-০২-২১ ১০:৪২:০৪

 কোন দেশেই মায়ের ভাষা বা মানুষের মুখের ভাষায় কথা বলার জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে এমন তথ্য জানা যায়না, জীবন দিতে হয়েছে এমন প্রমানও পাওয়া যাবেনা। বাঙ্গালী জন্ম থেকেই সংগ্রামী-ত্যাগী জাতি হিসেবে পরিচিত। এ জাতি যখনই যা কিছু অর্জণ করেছে তার পেছনে বিসর্জণ দিতে হয়েছে অজস্র প্রাণ। তেমনি তার মুখের ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করতেও মুখোমুখি হতে হয়েছিল রক্ত ঝরানো সংগ্রামের। বাঙ্গালীর মায়ের ভাষা, রাষ্ট্র ভাষা “বাংলা”কে প্রতিষ্ঠিত করতে যে সুদীর্ঘ আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল সে ইতিহাস সকলের জানা। কিন্তু একটি পরাক্রমশালী দানবচক্রের হাত থেকে আমার জন্মগত অধিকার মুখের ভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে যারা প্রান দিয়েছেন তারা অবিনশ্বর। আর যারা ধারাবাহিক এ সংগ্রামকে অধিকার আদায়ের শেষ স্তম্ভে পৌছে দিয়েছিলেন তাদের অনেককেই আমরা মনে রাখিনি। ইতিহাস দেয়নি তাদের সঠিক মর্যাদা। আজ আমি এমন একজন ইস্পাত কঠিন দৃঢ় মানসিকতার পরিচায়ক, অকালে ঝরে যাওয়া একজন মহান পুরুষের কথা বলবো যিনি একাধারে ভাষা সংগ্রামী, প্রখ্যাত চিকিৎসক, সফল রাজনীতিক, সমাজসেবক ও বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ ছিলেন। তিনি ভাষা আন্দোলন ও জাতীয় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার প্রান পুরুষ ডাক্তার গোলাম মাওলা।

মহান ভাষা আন্দোলন ও আমাদের বাঙ্গালীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রথম প্রতীক জাতীয় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রানপুরুষ ভাষা সৈনিক ডাক্তার গোলাম মাওলা ছিলেন শরীয়তপুরের সুর্যসন্তান। রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং বাঙ্গালীর চির ঐতিহ্যের ঠিকানা জাতীয় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ডাঃ গোলাম মাওলার নেতৃত্ব প্রদান, ভূমিকা ও ত্যাগের তথ্য মাতৃভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে কতটুকুন ঠাঁই পেয়েছে তা আমার জানা নেই। নতুন প্রজন্ম এই ক্ষনজন্মা মানুষটির কীর্তির কথা খুব একটা জানে বলেও আমার মনে হয়না। জাতির সামনে প্রয়াত এই মহান পুরুষের গৌরবান্বিত ঐতিহাসিক অর্জনের সুবিস্তার স্থান পায়নি কোথাও । দীর্ঘ দিন ভাষা সংগ্রামের এই প্রান পুরুষটি রাষ্ট্র থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বলয় সর্বত্রই উপেক্ষিত ছিলেন।

১৯২০ সালের ২০ অক্টোবর শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার মোক্তারেরচর ইউনিয়নের পোড়াগাছা গ্রামে ঐতিহ্যবাহী একটি মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন গোলাম মাওলা। তার পিতার নাম আব্দুল গফুর ঢালী এবং মায়ের নাম ছিল জমিলা খাতুন। গোলাম মাওলার পিতা ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। জাজিরা থানার পাঁচুখার কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেনী পাশ করে গোলাম মাওলা নড়িয়া বিহারী লাল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি হন।

১৯৩৯ সালে সেখান থেকে তিনি বিজ্ঞান বিভাগে কৃতিত্বের সাথে মেট্রিক পাশ করেন। ৪১ ও ৪৩ সালে তিনি ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএসসি ও বিএসসি পাশ করেন। এরপরে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ব বিষয়ে এমএসসি পাশ করার পর ১৯৪৫ সালে কোলকাতা মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ডাক্তারী কোর্সে ভর্তি হন। সে বছর মাত্র দুইজন মুসলিম বাংগালী ছাত্র কোলকাতায় এমএসসি পাশ করার পর এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয় । একজন গোলাম মাওলা অপর জন মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ (এ সময় গোলাম মাওলা একটি সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছুদিন অসুস্থ্য থাকেন)। কোলকাতায় ছাত্রাবস্থাতেই মাওলার সাথে শখ্যতা হয় বঙ্গবন্ধুর।

গোলাম মাওলা যখন ঢাকা জগন্নাথ কলেজের ছাত্র তখন বৃটিশ শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্ত হবার জন্য শৃংখলিত মানুষের আর্তনাদ তাকে ব্যথিত করতো। বিপ্লবী চেতনা থেকেই তিনি বৃটিশ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন। ভারতে লেখা পড়ার সুযোগে তিনি মুকুল ফৌজের অধিনায়ক হিসেবে বৃটিশ তাড়ানোর আন্দোলনে অগ্রনী ভ’মিকা পালন করেন। ৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর কোলকাতা থেকে মাওলা ঢাকা মেডিকেল কলেজে চলে আসেন। ৪৮ সাল থেকেই মাওলা সহ কয়েকজন ছাত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র ইউনিয়ন (ছাত্র সংসদ) প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালান। ৪৮ সালে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ গঠন করা হলে গোলাম মাওলা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি মনোনীত হন।

১৯৫০ সালে ফেব্রুয়ারী মাসে হিন্দু- মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে হাতে গোনা কয়েকজন ছাত্রনেতা রাজপথে শান্তি মিছিল বের করেছিল। এদের মধ্যে গোলাম মাওলা অন্যতম ছিলেন বলে ভাষা সৈনিক গাজিউল হক তার একটি স্মৃতি চারণ মূলক লেখায় ১৯৮৪ সালে উল্লেখ করেছিলেন। একই বছর ১৯৫০ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদ গঠন হলে প্রথম ভিপি নির্বাচিত হন ডাঃ নাজির আহমেদ ( তিনি সেনা বাহিনীতে চাকুরী নিয়ে পাকিস্তান চলে গেলে আর কখনো ফিরে আসেননি)। ঢাকা মেডিকেলের ২য় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ৫২’র জানুয়ারীতে ভিপি নির্বাচিত হন গোলাম মাওলা।

১৯৫২ সালের মহান ভাষা অন্দোলনে যে ক’জন তৎকালিন ছাত্রনেতা অসীম সাহসিকতা, সুচিন্তিত পদক্ষেপ, দক্ষতা আর সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমে মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করার ভ’মিকা রেখে ভাষা সৈনিক/ভাষা সংগ্রামীর খেতাব অর্জণ করেছিলেন ডাক্তার গোলাম মাওলা ছিলেন তাদের প্রথম কাতারের অন্যতম দিকপাল, সফল অর্জণের পুরোধা এবং ইতিহাস রচনার পথিকৃত। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো যে, ক্ষনজন্মা সেই পুরুষ তার কীর্তির দ্বীপ্তি ছরিয়ে বড় অসময়ে আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। অকৃজ্ঞ জাতি আমরা, যাকে মনে না রেখে অনেক কাল পর্যন্ত উপেক্ষিত করে রেখেছি। ২১ আসে ২১ যায়, কিন্তু এই নির্লোভ, ত্যাগী, পরোপকারী, নীরবে চলে যাওয়া মাওলাকে আমরা সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে অনেক কুন্ঠাবোধ করেছি। মাত্র ৪৬ বছর বয়সে মৃত্যু বরনের পূর্বে তিনি অসামান্য কীর্তি ও গৌরবগাথা রেখে গেছেন বাঙ্গালী জাতির জন্য।

সংক্ষেপে ডাঃ মাওলা সম্পর্কে কিছু লিখতে গিয়ে আমাকে ইতিহাসের পেছনে অনেক সাতরাতে হয়েছে। মাত্র সেদিন (২০১০ সালে) জাতীয় সংসদের তৎকালিন ডেপুটি স্পীকার ও শরীয়তপুন-২ আসনের সাবেক সাংসদ কর্নেল (অবঃ) শওকত আলীর অক্লান্ত চেষ্টায় ভাষা সৈনিক মরহুম ডাঃ গোলাম মাওলাকে জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মরনোত্ততর ২১শে পদক প্রদান করেছেন। এছারাও জাতীয় বীর কর্নেল (অবঃ) শওকত আলীর কল্যানে কীর্তিনাশা নদীর উপর নির্মিত সেতু ও নড়িয়ায় একটি সড়কের নামকরন করা হয়েছে গোলাম মাওলার নামে। ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে বিশেষ অনুরোধ করে শওকত আলী সাহেব ২০০৭ সালের ২৫ এপ্রিল ধানমন্ডির ১ নং সড়কটির নামকরন করিয়ে নেন গোলাম মাওলার নামে।

এ ছাড়াও শওকত আলী সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সহায়তায় শরীয়তপুর সরকারী পাবলিক লাইব্রেরীকে ২০০৯ সালে “ভাষা সৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলা পাবলিক লাইব্রেরী” নামে নাকরন করান।। গোলাম মাওলার নামে কয়েকটি সংঘ, সংসদ বা ক্লাব ধরনের সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা জানা যায়। এর মধ্যে ডাঃ গোলাম মাওলা তরুন স্মৃতি সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল অনেক আগে। তার কোন কার্যক্রম আছে বলে আমার জানা নেই। তবে ১৯৯৭ সালের ২রা মে শওকত আলী এমপির উদ্দীপনায় ভাষা সৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলা স্মৃতি সংসদ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। যার কিছু কিছু কার্যক্রম এখনো চলমান।

পরিতাপের বিষয় যে, আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস ও শহীদ দিবসের বর্ষপূর্তিতে গোলাম মাওলার পরিবারের কাউকে কোন প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন মনে রাখেনি। দেশের প্রগতিশীল ধারার অনেক ব্যক্তির সম্পাদনায় জনপ্রিয় কয়েকটি জাতীয় দৈনিক সহ সকল দৈনিক পত্রিকায় ২১ কে নিয়ে বিশেষ সাময়ীকি/ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে দেশের নামজাদা সব লিখিয়েরা পাতায় পাতায় লিখে থাকেন। কিন্তু বিশেষভাবে গোলাম মাওলার ইতিহাস তুলে ধরে কেউ দুটি লাইন রচনা করেননি কোনদিন।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট দেশ বিভাগের কিছুদিন পর আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যাঞ্চেলর ডঃ রিয়াজ উদ্দিন সর্ব প্রথম উচ্চারন করেন পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা হবে উর্দূ। সাথে সাথে এর প্রতিবাদ করেন ডঃ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, ডঃ কাজী মোতাহার হোসেন ও ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ঘোষনা করেন উর্দূই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। সেদিন সর্ব প্রথম ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্ররা এর প্রতিবাদ করে। এর তিন দিন পর ২৫ মার্চ কার্জন হলে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জিন্নাহ তার বক্তব্যের পূনরাবৃত্তি করলে ছাত্র সমাজ বিক্ষোভে ফেটে পরে। শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন এর পুরোভাগে এবং যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন গোলাম মাওলা।

ছাত্রদের বিক্ষোভের ফলে জিন্নাহ মন্তব্য করেন রাষ্ট্রভাষার বিরোধীতা করার পেছনে পঞ্চম শক্তির হাত রযেছে। জিন্নাহর মৃত্যুর পর পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ১৯৪৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা পূনরাবৃত্তি করেন। ৫১ সালে লিয়াকত আলী খান আততায়ীর গুলিতে নিহত হলে খাজা নাজিম উদ্দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মনোনীত হন।

১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারী নাজিম উদ্দিন ঢাকার ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে আবার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষনা করেন। এখানেও ছাত্ররা তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পরেন। সে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র ডাঃ মুঞ্জুরের কক্ষে মেডিকেল কলেজের ভিপি হিসেবে একটি বিশেষ জরুরী সভা আহবান করে গোলাম মাওলা সিদ্ধান্ত দেন যে, “নাজিম উদ্দিনের ঘোষনার কড়া জবাব দিতে হবে”। ২৮ জানুয়ারী গোলাম মাওলা ঢাকা মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন (ঢামেকসু) এর সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভিপি হিসেবে এর প্রতিবাদ লিপি পেশ করেন তিনি।

৩১ জানুয়ারি ঢাকা বার লাইব্রেরী মিলনায়তনে এক সম্মেলন হয়। এতে কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে কেন্দ্রীয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। এখানে ডাঃ গোলাম মাওলা ঢাকা মেডিকেলের ভিপি হিসেবে অন্যতম সদস্যপদ লাভ করেন। ৪ ফেব্রুয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক আমতলায় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রতিনিধিত্ব করে রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে বক্তব্য রাখেন গোলাম মাওলা।

১৯৫২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী রাত ৮টায় পুনরায় ঢাকা বার এসোসিয়েশন লাইব্রেরীতে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের জরুরী সভা হয়। গোলাম মাওলা অসুস্থ্য থাকায় তিনি ছাত্র সংসদের জিএস শরফুদ্দিন আহমেকে পাঠান। সেই সভায় সিদ্ধান্ত হয় ২০ ফেব্রুয়ারী ঢাকায় ধর্মঘট, মিছিল, সভা-সমাবেশ ও পিকেটিং করা হবে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে। রাতে ছাত্রাবাসে ফিরে শরফুদ্দিন মাওলাকে সকল সিদ্ধান্তের কথা খুলে বলেন। মাওলা তৎক্ষনাৎ বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জিং এবং দুঃসাহসিক ভেবে শরফুদ্দিনকে একটি বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করেন। শরফুদ্দিন ছিলেন পুরান ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা।

পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই ঢাকার আদিবাসীদের (ঢাকাইয়া কুট্টি) বেশীর ভাগেরই আনুগত্য ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্র এবং উর্দু ভাষার প্রতি। তখন ঢাকা শহর ২২টি পঞ্চায়েতের স্থানীয় সরকার পদ্ধতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতো। এই ২২ পঞ্চায়েতের সর্দার ছিলেন পুরান ঢাকার লায়ন সিনেমা হলের মালিক কাদের সর্দার। ১৯ ফেব্রুয়ারী মাওলার পরামর্শে শরফুদ্দিন আহমেদ, ডাঃ আদুল আলীম চৌধুরী (পরবর্তীতে ৭১ এর ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবি) ও ডাঃ মুঞ্জুরকে নিয়ে কাদের সর্দারের বাড়িতে গিয়ে তাকে রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে ভ’মিকা নিতে অনুরোধ জানান।

কাদের সর্দার প্রথমে ছাত্রদের কথা ততটা পাত্তা না দিলেও পরে যুক্তি প্রদানের এক পর্যায়ে তিনি রাজি হয়ে যান। এবং ঐ মুহুর্তেই সর্দার তার সচিবের মাধ্যমে চিঠি লিখিয়ে ২২ পঞ্চায়েতকে পাঠিয়ে জানিয়ে দেন রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্র আন্দোলনকে সহায়তা করতে হবে (ডাক্তার মাওলা সেদিন এই কৌশল অবলম্বন না করলে ২০ তারিখের ধর্মঘট এবং ২১ ফেব্রুয়ারীর ১৪৪ ধারা ভঙ্গে স্থানীয় ঢাকাবাসীর সমর্থন পাওয়া যেতনা)। ১৯ তারিখ রাত পার হয়েছে অনেক দুঃচিন্তা ও উত্তেজনায়। ২০ ফেব্রুয়ারী গোলাম মাওলা ছাত্রদের আবেগ বুঝতে পেরে এবং কয়েকজন মেডিকেল ছাত্রের প্রস্তাবে মাইক ভাড়া করে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত দেন।

মাওলা সাহেব ২ জন ছাত্রকে ডেকে হোষ্টেল ঘুরে ২৫০ টাকা উঠিয়ে আনতে বললে ছাত্ররা মাত্র কিছুক্ষনের মধ্যে ৪৫০ টাকা উঠিয়ে মাওলার হাতে তুলে দেন। তিনজন ছাত্র তিন দিকে চলে গেলেন মাইক ভাড়া করতে। মাওলা সাহেব একজনকে নির্দেশ দিলেন ওয়াইজ ঘাটের ফেক্টর দোকানের ১০০ ওয়াটের সে-ই মাইকটি অবশ্যই আনতে হবে, যে মাইকে জিন্নাহ ঘোষনা দিয়েছিল “উর্দূই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা”। যথারীতি তিন সেট মাইকই পাওয়া গেল। ফেক্টর দোকানের সেই ১০০ ওয়াটের মাইকও আসলো। ডাঃ আব্দুল আলীম চৌধুরীর কক্ষকে কন্ট্রোল রুম বানিয়ে সেখান থেকে গোলাম মাওলা সহ মেডিক্যাল কলেজের ও সংগ্রাম পরিষদের নেতারা অবিরাম বত্তব্য দিতে শুরু করলেন। ছাত্রদের আন্দোলন তুমুল আকার ধারন করলো।

মুসলিমলীগ সরকার রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের তীব্রতা আঁচ করতে পেরে ২০ ফেব্রুয়ারী বিকেলে সমগ্র ঢাকা শহরে একমাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে দেয়। এ সংবাদ প্রচারের সাথে সাথে জ্বলন্ত বারুদের মত ক্ষেপে উঠে সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে ঢাকা মেডিক্যালের ছাত্ররা (ঐ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়ুয়া ছাত্রদের ভেতর একটা ভীতি কাজ করতো পাক সরকারের আচরনের উপর। পাশাপাশি কিছু এ্যাম্বিশন কাজ করতো সরকারের অনুকুলে থেকে শিক্ষা জীবন শেষে সিএসপি অফিসার/আমলা হওয়ার সুযোগ গ্রহনের জন্য। কিন্তু মেডিকেলের ছাত্ররা ঐ লোভের তোয়াক্কা করতো না, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তাদের ভূমিকা ছিল নির্লোভ ও সাহসী।

তাদের ধারনা ছিল এমবিবিএস পাশ করে প্রাইভেট প্রাকটিস করেও সম্মানের সাথে বাঁচা যাবে। সেকারনে ভাষা সংগ্রামের চুড়ান্ত পর্বে ঢামেকসুর ভিপি গোলাম মাওলার তাত্বিক যুক্তি ও প্রজ্ঞাময় নেতৃত্বে সবচেয়ে বেশী ভ’মিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল তারা)। ১৪৪ ধারা ভাংতে হবে এই জিঘাংসা তখন বিদ্যুৎ গতিতে কাজ করতে থাকে ছাত্রদের মধ্যে। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১৫ জন পলিট ব্যুরোর নেতাদের মধ্যে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ব্যাপারে দ্বিধা দ্বন্দ চলতে থাকে। ৪৪ ধারা ওভারলুক করার পক্ষে থাকেন মাত্র চারজন। বাকি ১১ জন সায় দেননি। গোলাম মাওলা, আব্দুল মতিন,অলি আহাদ ও সামসুল আলম শক্ত অবস্থানে থাকেন পুলিশি ব্যারিগেট ভাঙ্গার সিদ্ধান্তে অটল থাকলেন।

২১ ফেব্রুয়ারি ভোর থেকেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত ছাত্র ছাত্রী ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে জড়ো হতে থাকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায়। তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে থাকেন আ- জনতা। নেতাদের দ্বান্দিক চিন্তা থেকে বেড়িয়ে ছাত্ররা সত্যাগ্রহি পদ্ধতি অবলম্বন করে প্রতি ১০ জনের একেকটি দলে তারা রাস্তায় বেড়–তে থাকে। প্রথম দিকে বেড়নো ৩/৪ টি দলকেই পুলিশ গ্রেফতার করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। মেয়েদের একটি দলের উপরও পুলিশ বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে তাদের লাঞ্ছিত করলো। পুলিশের সাথে আন্দোলন কারীদের তুমুল ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি ও ধাওয়া পল্টা ধাওয়া চলতে থাকে দীর্ঘক্ষন।

পুলিশ এক পর্যায়ে বৃষ্টির মতো টিয়ার সেল নিক্ষেপ ও গুলি করতে শুরু করলে প্রথমেই শহীদ রফিকের মাথায় গুলি লাগে। মাথার খুলি গুলি লেগে ১২/১৩ ফিট দুরে গিয়ে পরে (বর্তমান শহীদ মিনারে কাছে)। পাশাপাশি আরো ২টি লাশ পরে যায় মাটিতে। এরপর ছত্র ভঙ্গ হতে থাকে ছাত্ররা। তারা অভয়াশ্রম হিসেবে জড়ো হতে থাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকায়। মেডিকেলের সংগ্রামরত ছাত্ররা শত শত আহত আন্দোলনকারীকে চিকিৎসা দিতে থাকে। সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের বিশৃংখল অবস্থায় কান্ডারী হিসেবে আবির্ভূত হন গোলাম মাওলা।

২১ শের হত্যাকান্ডের পর পরই বিকেলে নেতারা জরুরী বৈঠকে মিলিত হন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। সেখানে আন্দোলনের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করা হয়। এখানে উপস্থিত থাকেন তমুদ্দন মজলিশের রাজনৈতিক ফ্রন্টের আহবায়ক আবুল হাশিম, সাপ্তাহিক সৈনিক সম্পাদক আব্দুল গফুর, কমরুদ্দিন আহমেদ, শামসুল হক, কাজী গোলাম মাহবুব, অলি আহাদ, মোঃ তোয়াহা, কবীর উদ্দিন আহমেদ, শহিদুল্লাহ কায়সার, কেজি মোস্তফা, মাহবুব জামাল জাহেদী ও গোলাম মাওলা।

এই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২১শের রাতে অলি আহাদ ও আব্দুল মতিনের উপস্থিতিতে মাওলা সাহেবের কক্ষে আবার সভা বসে। সেখানে গোলাম মাওলাকে নতুন সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক করে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। ২১শের উত্তাল আন্দোলনে রক্ত ঝরার পর ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পরে। ২২ ফেব্রুয়ারী কর্ম পরিষদের বিলুপ্তি ঘোষনা করেন পরিষদের আহবায়ক আব্দুল মতিন নিজেই। কেন্দ্রীয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এবং ঢাবি কর্ম পরিষদ ব্যর্থ হয়ে গেলে গোলাম মাওলার নেতৃত্বে নতুন সংগ্রাম কমিটি আন্দোলনে প্রান ফিরে পায়।

২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদদের লাশ রাখা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে। কাউকে লাশ দেখতে দেয়া হয়নি। পুলিশ সারাক্ষন পাহারায় রাখে। ২২ ফেব্রুয়ারী সকালে শহীদদের গায়েবানা জানাজা পড়ানো হয় অসংখ্য জনতার উপস্থিতিতে। এরপরে ছাত্ররা রাজপথে আবার মিছিল বের করে। পুলিশ সেখানে গুলি চালালে এদিনও হতাহত হয় আরো কয়েকজন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হয়ে উঠে আন্দোলনের প্রান কেন্দ্র। সকল মতাদর্শের উর্ধে উঠে গোলাম মাওলা হয়ে উঠেন একতার প্রতীক। ২৩ ফেব্রুয়ারী সকালে ঢাকা মেডিকেলের ৩ নম্বর সেডের বারান্দায় দাড়িয়ে শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে একটি স্মৃতি স্তম্ভ নির্মানের কথা হচ্ছিল। ছাত্ররা তৎক্ষনাৎ সিদ্ধান্ত নেয় ঐ দিনই স্তম্ভ নির্মান করতে হবে। তখন প্রশ্ন উঠলো নকশা তৈরী এবং উপকরন সংগ্রহের। এমন সময় গোলাম মাওলা বললেন, মেডিকেলের ৩য় বর্ষের (সম্ভবত) ছাত্র বদরুল আলমকে ডেকে পাঠাতে। বদরুলের আঁকা ঝাকিতে হাত ভালো। বদরুল এলে মাওলা তাকে শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ তৈরীর জন্য একটি নকশা প্রস্তুতের নির্দেশ দিলেন। মাওলার নির্দেশে বদরুল আলম ডাঃ মির্জা মাজহারুল ইসলামকে সহ ডাঃ সাইদ হায়দারের সাহায্য নিয়ে তিন জনের মমনশীল চিন্তা থেকে একটি নকশা প্রস্তুত করা হয়।

২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মেডিকেলের ছাত্ররা সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন মেডিকেল কলেজের যে স্থানে প্রথম গুলি চালানো হয়েছিল সেখানেই শহীদ মিনার স্থাপন করা হবে। সিদ্ধান্ত মতে নির্মানাধীন নার্সেস কোয়ার্টারের ইট-বালু-সুরকি আর হোসেনী দালান সড়কের পুরান ঢাকাইয়া পিয়ারু সরদারের গুদাম থেকে সিমেন্ট এনে সারা রাত জেগে ১০ ফুট উঁচু ও ৬ ফুট প্রস্থের ঐতিহাসিক প্রথম শহীদ মিনার নির্মান করা হয়। ছাত্রদের সাথে রাতভর নিজের কাধে করে ইট সিমেন্ট বহন করেন মাওলা।

২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে মাওলাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে নির্মান কাজ শেষ হলে মিনারের চার দিকে রশি বেধে দেয়া হয়। মিনারের নিচের অংশে লাল শালু কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে তার ওপরের অংশে হাতে লেখা দুটি পোষ্টার সাটানো হয়। এর একটি পোষ্টারে লেখা ছিল “ শহীদ স্মৃতি অমর হোক” অপরটিতে “ রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই”। শহীদ শফিউর রহমানের পিতা মৌলভী মাহাবুবুর রহমান ২৪ তারিখে প্রথমবার উদ্বোধন করেন শহীদ মিনারের। ২য় বার ২৬ ফেব্রুয়ারী উদ্বোধন করেন দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম সামসুদ্দিন।

শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে মিনার নির্মান করা হয়েছে এ খবর পৌছে যায় বিভিন্ন এলাকায়। দলে দলে নারী- পুরুষ- আবাল- বৃদ্ধ- বনিতা এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে থাকেন শহীদ বেদীতে। টাকা পয়সা দান করতে থাকেন পূন্যার্থীরা। জানা গেছে অনেক গৃহবধু তাদের স্বর্নালংকারও খুলে দিয়েছেন মিনারের পাদদেশে। এই পরিস্থিতিেিত নতুন করে উত্তেজিত হয় পাক সরকার । ২৬ ফেব্রুয়ারী সেনা ও পুলিশ সদস্যরা ভেঙ্গে ধুলিসাৎ করে দেয় শহীদ মিনারটি। সেদিনের “ শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ” নামক স্থাপনাটি আজ শুধু ২১ শের স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত একটি স্থাপত্যই নয়, এটি বাঙ্গালী জাতির গর্বের ইতিহাস, সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলনের তীর্থস্থান। বাঙ্গালীর ঐতিহ্য ও চেতনার উৎস স্থল।

শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি গুড়িয়ে দেয়ার পর এতবড় একটা আন্দোলন নতুন করে যখন নেতৃত্ব শুন্য অবস্থায় তখন অত্যন্ত সাহসী কান্ডারীর ভ’মিকা পালন করেন গোলাম মাওলা। জাতির চরম দূর্দিনে তার আবির্ভাব ছিল একটি ঐতিহাসিক প্রয়োজনের প্রেক্ষাপট। তিনি হয়ে উঠেন আন্দোলনের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। গোলাম মাওলার বিরামহীন নেতৃত্বে ১৯৫৬ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারী বাংলা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি লাভ করে।

এমবিবিএস পাশ করার পর গোলাম মাওলা পাকিস্তান মেডিকেল এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা রেড ক্রোসের সম্পাদক হিসেবে ব্যাপক সুখ্যাতি অর্জণ করেন। তিনি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ভাইজির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে নড়িয়া থেকে শেরে বাংলা এ,কে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন গিয়াস উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। কিছুকাল পরে তিনি মারা গেলে ৫৬ সালে ঐ আসনে উপনির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট থেকে মাওলাকে মনোনয়ন দেয়া হয়।

হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচনী এলাকার ভোজেশ্বরের একটি জনসভায় এসেছিলেন। গোলাম মাওলার পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে সরওয়ার্দী বলেছিলেন, “ গোলাম মাওলা আমার চেয়েও বেশী শিক্ষিত, তিনি বিএসসি, এমএসসি ও এমবিবিএস, তাকে আপনারা ভোট দিন”। বঙ্গবন্ধু গোলাম মাওলাকে তাঁর একান্ত বন্ধু পরিচয়ে গোলাম মাওলার জন্য ভোট চেয়েছিলেন। এসময় সরওয়ার্দ্দী ও শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান প্রায় তিন সপ্তাহ নড়িয়ার পোড়াগাছায় অবস্থান করে গোলাম মাওলার নির্বাচনী সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৬২ সালে জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে মাদারীপুরের একটি আসন থেকে গোলাম মাওলা আ’লীগের টিকিটে এমএনএ নির্বাচিত হয়ে পার্লামেন্টে বিরোধী দলের হুইপ নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন পাকিস্তান সরকার গোলাম মাওলাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য আহবান করলে তিনি তা ঘৃনাভরে প্রত্যাক্ষান করেছিলেন।

তৎকালীন বৃহত্তর ফরিদপুর বিশেষকরে মাদারীপুর মহকুমায় আওয়ামীলীগকে সংগঠিত করার জন্য গোলাম মাওলা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন। বর্ষিয়ান আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ডাক্তার মাওলা মাদারীপুর মহকুমা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন এবং ১৯৫৬ থেকে ৫৭ সাল পর্যন্ত মাওলা ফরিদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তার সাথে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ভাঙ্গা থানার কাজী রোকোনুজ্জামান এমপি। ডাঃ গোলাম মাওলা জাতীয় রাজনীতি ছেড়ে মাদারীপুর এসে একজন আদর্শ চিকিৎসক হিসেবে প্রাকটিস শুরু করলেন। ডাক্তার মাওলার চেম্বারটিই ছিল তথন আওয়ামীলীগের একমাত্র ঠিকানা। তিনি গরীব রোগীদের থেকে কখনো পয়সা নিতেন না ।

উপরোন্ত গরীবদের বীনা পয়সায় ঔষধও সরবরাহ করতেন। কোলকাতা মেডিকেলে এমবিবিএস পড়া অবস্থায় মাওলার শরীরে একটি সংক্রামক ব্যাধির উপস্থিতি ধরা পরেছিল। চিকিৎসার পর তা নিয়ন্ত্রনে এসছিল কিন্তু পূর্নাঙ্গ নিরাময় হয়নি। মানুষের চিকিৎসা করতে করতে তিনি নিজেই অসুস্থ্য হয়ে পরেন। ৫২’র ২১ শে ফেব্রুয়ারীর শহীদদের রক্তে ঢাকার পিচ ঢালা কালো রাজ পথে যে আল্পনা আঁকা হয়েছিল তাতে ডাঃ মাওলা বাঙ্গালী জাতির মুক্তির ছবি দেখতে পেয়েছিলেন। তাই তিনি অনাগত মুক্তি সংগ্রাম ও স্বাধীনতাকে ইঙ্গিত করে তার সহকর্মী ও বন্ধুদের বলতেন “ বাঙ্গালীর সুদিন আসবে, হয়তো আমি সেদিন থাকবোনা বা দেখবোনা, তোমরা তা অবশ্যই ভোগ করবে”। মায়ের ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করে মুক্তিকামী সে গোলাম মাওলা স্বাধীনতা লাভের ৫ বছর পূর্বে মাত্র ৪৬ বছর বয়সে ১৯৬৭ সালের ২৯ মে মৃত্যুবরন করেন।

মৃত্যকালে আমরন এই মহান সংগ্রামী নেতা তার তিন কন্যা ও ১ জন পূত্র সন্তানের জন্য কোন সম্পদ রেখে যেতে পারেননি। শুধু তিনটি জীবন বীমা কোম্পানীতে তার নামে তিনটি পলিসি খোলা ছিল ( সম্ভবত হোমল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ফেডারেল ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স ও আলফা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি)। তার তিনিটি বীমার মৃত্যুদাবীর অর্থ থেকেই পরিবারের সহায়তা হয়েছিল বেশীরভাগ। মাওলা সাহেবের সহধর্মিনী ও তার তিন কন্যাই মৃত্যু বরন করেছেন। ডাঃ গোলাম মাওলার একমাত্র জীবীত পূত্র সন্তান ডাঃ গোলাম ফারুখ নড়িয়া উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে গিয়েছেন কয়েক বছর আগে। তিনিও শারীরিকভাবে অনেক অসুস্থ্য। ডাক্তার ফারুখ রাষ্ট্রের কাছে দাবী জানিয়েছেন, সকল মহান ভাষা সংগ্রামীদের যথাযথভাবে সম্মানীত করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

ভাষা সৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলার গৌরবময় ইতিহাসের কথা এ দেশের নতুন প্রজন্মকে জানানোর ব্যবস্থা এর আগে কেউ করেনি। তিনি উপেক্ষিত ছিলেন রাজনৈতিক অঙ্গনের বহু ক্ষেত্রে। মাতৃভাষার সঠিক ইতিহাস রচনায় গোলাম মাওলাকে উহ্য রাখলে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনও স্বাধীনতার ইতহাস প্রশ্নবিদ্ধ হবে। দেশের নতুন প্রজন্ম গোলাম মাওলাকে জানতে চায়। এ দায়ীত্ব বাংলা ভাষাপ্রেমী প্রতিজন গবেষক, লেখক, প্রকাশক, রাজনীতিবিদ ও সরকারের। ভাষা সংগ্রামের ইতিহাসে ডা. গোলাম মাওলার জন্য সঠিক স্থান নির্ধারণ করে দেয়া এখন সময়ের দাবী।

বিস্তারিত খবর

উতোল বাসন্তী হাওয়ায় প্রাণে লাগে সুখের দোলা

 প্রকাশিত: ২০২০-০২-১৬ ০৯:৩৬:৩২

মনের উঠোনে আজ বসন্তের উতল হাওয়া। প্রাণে প্রাণে লাগবে সুখের দোলা, মুখ রেখে দখিনা বাতাসে চুপি চুপি বলার দিন ‘সখী, ভালোবাসি তারে।’ আজ বৃহস্পতিবার ভালোবাসা দিবস। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন’স ডে। রোমান বিশ্বাসে-বসন্তের আবিরে স্নানশুচি হয়ে বৃহস্পতিবার কিউপিড ‘প্রেমশর’ বাগিয়ে ঘুরে ফিরবে হৃদয় থেকে হৃদয়ে। অনুরাগ তাড়িত পরান এফোঁড়-ওফোঁড় হবে দেবতার বাঁকা ইশারায়। বৃহস্পতিবার হৃদয় গহনে তারাপুঞ্জের মত ফুটবে চন্ডীদাসের সেই অনাদিকালের সুর: ‘দুঁহু তরে দুঁহু কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া/ অর্ধতিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া/সখি কেমনে বাঁধিব হিয়া…। আকুতি ঝরবে— ‘তুমি কি দেবে না সাড়া প্রিয়া বলে যদি ডাকি, হেসে কি কবে না কথা, হাত যদি হাতে রাখি।’
পৃথিবীর সব সাহিত্য ডুবে অছে ভালোবাসা নিয়ে কাব্য-মহাকাব্য, গল্প, কবিতা, গান, উপন্যাসের অতলান্তে। অতলান্তকে তল পাওয়া গেছে, তারপরও ’ভালোবাসা কী?’ এই প্রশ্নে খেই হারিয়েছেন। কবিগুরুর ভাষায়, ’তোমরা যে বলো দিবস রজনী ‘ভালোবাসা’ ‘ভালোবাসা’ সখী ভালোবাসা কারে কয়! সে কি কেবলই যাতনাময়। সে কি কেবলই চোখের জল? সে কি কেবলই দুঃখের শ্বাস? জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ভাষায় : ‘আধো রাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়, মনে পড়ে মোরে প্রিয়, চাঁদ হয়ে রব আকাশের গায়, বাতায়ন খুলে দিও।’ আধুনিক কবির কণ্ঠে প্রেয়সীকে বলা: ‘পৃথিবীর কাছে তুমি হয়তো কিছুই নও, কিন্তু কারও কাছে তুমিই তার পৃথিবী।’ অথবা ‘সুখী হবার জন্য তোমার চারপাশে অসংখ্য মানুষের দরকার নেই, শুধু সেই সত্যিকারের কয়েকজনই যথেষ্ট যারা, তুমি যা তার জন্যই তোমাকে ভালোবাসবে।’ একালের কবির অনুভব ‘তোমার সাথে প্রতিটি কথাই কবিতা, প্রতিটি মুহূর্তেই উৎসব—তুমি যখন চলে যাও, সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর সব আলো নিবে যায়…।’
ভালোবাসার কথা প্রকাশের জন্য সুদৃশ্য মলাটে মোড়া বইয়ের আটপৌরে দিন ফুরিয়েছে। আঙুল কেটে রক্তে রক্ত মিলিয়ে দেয়া, চিঠির ভাঁজে গোলাপের পাপড়ি গুঁজে দেয়া, দিস্তায় দিস্তায় কাগজ নষ্ট করে কাব্য চর্চা এখন ম্রিয়মাণ।

বাঙালির বসন্ত বরণের দিন। একদিকে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন অপরদিকে আজ বৃহস্পতিবার এসেছে ভালোবাসা দিবসের ছোঁয়া। প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের গবেষকদের অনেকে বলে থাকেন, ফেব্রুয়ারির এই সময়ে পাখিরা তাদের জুটি খুঁজে বাসা বাঁধে। নিরাভরণ বৃক্ষে কচি কিশলয় জেগে ওঠে। তীব্র সৌরভ ছড়িয়ে ফুল সৌন্দর্যবিভায় লাজুক আর ঢলঢলে হতে থাকে। অনেক দিবসের ভিড়ে ভালোবাসা দিবস আলাদা মাত্রায় উত্কীর্ণ। এর সাথে প্রেম এবং অনুরাগের অমনিবাস। এই দিবসটির সূচনা সেই প্রাচীন দুটি রোমান প্রথা থেকেই। এক পাদ্রি ও চিকিত্সক ফাদার সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামানুসারে দিনটির নামকরণ হয়েছে ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’।

খ্রিস্টীয় এই দিবসের রেশ ধরে আমাদের দেশে ও বিদেশে এদিন ১৪ ফেব্রুয়ারি কেবল প্রেমবিনিময় নয়, তরুণ-তরুণীদের মাঝে গোপনে বিয়ের বাতিক দেখা যায়। রাজধানীর উদ্যানমালা, বইমেলা, ক্যাম্পাস, কফিশপ, ফাস্টফুড শপ, লং ড্রাইভ, নিভৃতে কাটান প্রণয়কাতর তরুণ-তরুণীরা। ফুল দোকানে থরে থরে সাজানো মল্লিকা, জুঁই, গাঁদা উঠে আসবে ললনাদের খোঁপায়।

(লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক)

বিস্তারিত খবর

হাজারো আবেগ, মহিমা, আক্ষেপের অবসান, আমারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

 প্রকাশিত: ২০২০-০২-১১ ০৩:৫৫:১৫

দিনটি ৯ ফেব্রুয়ারি, রবিবার। বাঙালি জাতির জন্য এই মাসটি এমনিতেই আবেগের। সেই আবেগের মাসে অন্যরকম এক ইতিহাস গড়ার মন্ত্র নিয়ে বিশ্বকাপের মত বড় কোন আসরের এই ফাইনালের প্রথমবার আকবর বাহিনী। দেশ এবং প্রবাসে ক্রিকেটপ্রেমী কোটি মানুষের উৎকণ্ঠা মাঠে এবং টিভি সেটের সামনে। পারবে কি বাংলাদেশ? কারণ একটাই অনেকবার এই ক্রিকেট মাঠে ভারতের সাথে ফাইনালে ইতিহাস রচিত হয়নি তবে ঝরেছে চোখের জল। তবে এবার এসেছে বিশ্ব জয়ের আনন্দ অশ্রু।

হ্যাঁ শেষ পর্যন্ত নিরাশ করেনি বাংলাদেশ। রুদ্ধশ্বাস, শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে সেই ভারতকে হারিয়ে রূপকথার গল্প বানিয়ে ইতিহাস গড়েছে আকবর-শরীফুলরা। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ জিতেছে, করেছে বিশ্বজয়। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নিল বাংলাদেশের যুবারা। যেকোনো ধরনের ক্রিকেটে এবারই প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো টাইগাররা।

টাইগারের গর্জনে কম্পিত পুরো বিশ্ব। সিনিয়রা যখন একের পর এক ব্যর্থতার গল্প রচিত করছে সেখানে জুনিয়রা অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে। এই প্রাপ্তি যে কত আবেগের, কত মহিমার, কত আক্ষেপের অবসান তা শুধু আমারই জানি। আজ আমরাও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে এমন টিম স্পিরিট, টেম্পার, ম্যাচের লাগাম শেষ পর্যন্ত ধরে রাখা, ক্যাপ্টন নক এর আগে কখনই দেখেনি।

এর জন্য বিসিবি একটি বড় ধন্যবাদও পেতে পারে। কারণ গত দুই বছর ধরে দেশ এবং দেশের বাইরে প্রায় ৩০ টি ম্যাচ খেলিয়েছে জুনিয়রদের। আর এই সব গল্পের পেছনে যারা কাজ করেন তারা হলো কোচিং স্টাফ। তবে এবার একজনের নাম না বললেই নয়।

আকবরদের সাফল্যের পেছনে এই মানুষটির অবদান অনিস্বীকার্য। এমন কোচ, একজন শিক্ষক, একজন বন্ধু থাকলে পরিশ্রম বিফলে যাবে না। বিশ্বকাপ ট্রফি অর্জনের কারিগর এই রিচার্ড স্টোনিয়ার(কন্ডিশনিং কোচ)। এই বিশ্বকাপে যুবারা যতগুলো ম্যাচ খেলেছে তার পেছনে ইতিহাস গড়ার মূল উজ্জীবিত মানুষটি সত্যি অসাধরণ। প্র্যাকটিস, ম্যাচের আগে টিম স্পিরিট, প্রতিপক্ষকে হারানোর সব মন্ত্র এমনকি মাঠে সর্বদা মানসিক চাপ দূরে রাখার সব কাজটি উনি করেছেন।

রিচার্ডকে হতাশ করেনি আকবররা। দিনশেষে এই অর্জনের ভাগিদার আপনিও। রিচার্ড আপনাকে অসংখ্য শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা।

বিশ্বকাপ জিতে গেছে যুবারা। তবে এই বিশ্বজয়ের উল্টো চিত্রও ঘটছে পাকিস্তানে। যুবারা যা করেছে সেই জায়গায় অনেক ঘাটতি আছে সিনিয়রদের তা আজ স্পষ্ট। হয়তো আকবররা বয়সে তরুণ কিন্তু কাজটি করেছে সিনিয়রদের মেজাজে। যেটি তামিম-মুমিনুলরা করতে ব্যর্থ। জুনিয়ররা দেখিয়ে দিল কিভাবে বিশ্ব জয় করতে হয়। আকবর বুঝিয়ে দিল কিভাবে ক্যাপ্টন নক খেলতে হয়। শরীফুল-রকিবুলরা দেখিয়ে দিল কিভাবে একজন বোলার বোলিং, ফিল্ডিং, ব্যাটিং করতে হয়।

শেখার শেষ নেই, সে ছোট অথবা বড় হোক। যাদের হাত ধরে আজ ইতিহাস রচিত হয়েছে তাদের বিশ্বজয়ের অনুপ্রেরণায় এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।

"আবারো অভিনন্দন আকবর-শরীফুল তোমাদের"


লেখক: সাংবাদিক, সম্পাদক

বিস্তারিত খবর

জাতীয় জীবনে গৌরবময় ও ঐতিহ্যপূর্ণ দিন ২১ ফেব্রুয়ারি

 প্রকাশিত: ২০২০-০২-১১ ০১:২১:২২

বাংলা ভাষা বাংলাদেশের মানুষের মাতৃভাষা। এই মায়ের ভাষাকে রক্ষা করতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে বাঙালি জাতি। তাইতো ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির চেতনার দিন, নবজাগরণের দিন। কবিরাও বলেছে, ‘মায়ের ভাষা, সেরা ভাষা খোদার সেরা দান।’ মাতৃভাষা বা ভাষা হলো সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম মাধ্যম। ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের বাহন। শিল্পকর্ম ও অগ্রগতির ধারক। একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জাতীয় জীবনে এক গৌরবময় ও ঐতিহ্যবাহী দিন। বাঙালির জাতীয় জীবনের সকল চেতনার উৎস হচ্ছে এ দিনটি। বাংলা ভাষাকেই রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করার ঐতিহাসিক দিন এটি। "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি।’’ এমন গান শুনলেই মনে হয় আমরা ১৯৫২ সালের সেই দিনটিতে ফিরে যাই। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচিত এমন গান চির অম্লান হয়ে রবে। প্রত্যেক জাতির জীবনে বিরল কিছু স্মরণীয় দিন থাকে, ইংরেজিতে যাকে বলে- 'রেড লেটার ডে'। সুতরাং একুশের ফেব্রুয়ারি দিনটা অনন্য স্বতন্ত্রতায় ইতিহাসের পাতায় পাতায় কালজয়ী সাক্ষী হয়েই থাকবে। এই দেশের সকল চিত্রশিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সুরকার এবং গীতিকাররা একুশকে ধারণ করেছিল তাদের লেখায়, সুরে, কণ্ঠে আর শিল্পীর তুলিতে। আর সেসব গান, কবিতা বা শিল্পকর্ম আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়। একুশকে সাথে নিয়ে সামনে এগিয়ে চলতে পথ দেখায়।

১৯৫২ সালে একুশে ফেব্রুয়ারির সময় একজন ভাষা সৈনিক:- মাহবুব উল আলম চৌধুরী একুশের কবিতা লিখে খুব আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বলা যায় তিনিই অমর একুশের প্রথম কবিতার জনক। এই দিবসের তাৎপর্য উল্লেখ করে বিশিষ্ট ভাষা বিজ্ঞানী হুমায়ুন আজাদ বলে ছিল, ''আমি মুগ্ধ আমি প্রীত, আমাকে স্বীকৃতি দিয়েছে, আমার প্রাণের কথা আমার ভাষায় জানাতে পারব বলে আমার হৃদয় স্পন্দন বেড়েছে। সত্যিই গর্বিত আমি।’’ তাই তো ভাষা আন্দোলন জাতি গোষ্ঠীর সর্ব বৃৃৃহৎ চেতনার ইতিহাস। ভাষার অধিকার আদায়ের সেই রাজপথ রঞ্জিত করা ইতিহাস। এখন বাংলাদের বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক ভাবেই স্বীকৃত। একুশ এখন সমগ্র বিশ্বের। কিন্তু কেমন ছিল একুশের প্রথম প্রহর বা একুশের অগ্নিস্ফুলিঙ্গের প্রথম সেই বারুদের সংযোজন। আর তখনকার সেই বিদ্রোহের অনুষঙ্গটাই বা কি ছিল? তা ক্ষুদ্র পরিসরে আলোচনার চেষ্টা করা মাত্র। সেই দিনের প্রথম কিছু বা প্রথম সৃষ্টি কিংবা তার অবদানকে নিয়েই লেখা। আজকের তরুণ প্রজন্ম আগামী দিনের স্বপ্ন দেখতে পারে এই লেখাটি বিশ্লেষণ করে। আসলেই এ আলোচনায় অনেক দিকই চলে আসেতে পারে, সব কিছু তো তুলে ধরা সম্ভব হবে না। তবুও মৌলিক কিছু কথা না বললেই নয়।

এই ভাষার সঙ্গেই যেন সংশ্লিষ্ট জীবনবোধ, সাহিত্য-সংস্কৃতি স্বাতন্ত্র্য, জাতির আধ্মাতিক সত্তা সংরক্ষণের সংগ্রামের মূর্ত রূপ ছিল ২১ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের জনগণের কাছে তাই এমন দিনের গুরুত্বটা অবশ্যই হৃদয়গ্রাহী। প্রথমে এই ভাষার জন্যে এদেশের ছাত্ররাই যেন আন্দোলন চালিয়ে নিলেও পরবর্তীতে গোটা দেশবাসী ছাত্রদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে ছিল। ফলে সেই সময়র ছাত্রদের মনোবল অনেক বেড়ে যায় এবং তারা সামনের দিকে দৃঢ় মনোবলে এগোতে শুরু করে। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার আন্দোলনে সেই ছাত্রসমাজ ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মিছিলও করে ছিল। পুলিশ মিছিলের উপর গুলী চালায়। এতে অনেকে নিহত হয়েছিল, আজ তাদেরকেই শহীদ বলা হয়। এ হত্যাযজ্ঞের জন্য ছাত্র সমাজসহ সকল শ্রেণীর মানুষেরা ভাষার আন্দোলনকে আরো বেগবান করে। ভাষার জন্যেই যেন আন্দোলনের প্রথম লিফলেট প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি গুলি বর্ষণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। লিফলেটটির আকার ছিল প্লেট অনুযায়ী ১/১৬। গুলি বর্ষণের অল্প কিছুক্ষণ পর পরই হাসান হাফিজুর রহমান, আমীর আলী সহ অনেকেই যেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের উল্টোদিকে ক্যাপিটাল প্রেসে চলে যান। সেখানে গিয়ে হাসান হাফিজুর রহমান লিফলেটের খসড়া তৈরি করেন। দুই তিন ঘণ্টার মধ্যেই ‘মন্ত্রী মফিজউদ্দীনের আদেশে গুলি’ শীর্ষক লিফলেটটি ছাপার কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। হাসান হাফিজুর রহমান লিফলেটটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আসেন। প্রায় দুই/তিন হাজার লিফলেট ছাপানো হয়েছিল। উৎসাহী ছাত্ররাই এমন লিফলেটগুলো চারদিকে ছড়িয়ে দিয়ে ছিল। বলা যায় যে, চকবাজার, নাজিরা বাজার এবং ঢাকার অন্য সব এলাকাতেও লিফলেটগুলো কর্মীদের মাধ্যমে ঐদিনই ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। এই স্মৃতি মতো অনেক স্মৃতিই যেন আমাদের ভাষা আন্দোলনকে অমর ও অক্ষয় করে রেখেছে।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত হত্যাকান্ডের খবর সারা দেশেই পৌঁছে যায়। অতঃপর পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নবেম্বর ইউনেস্কো এর সাধারণ পরিষদের ৩০তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বাংলাদেশসহ ২৭টি দেশের সমর্থন নিয়ে সর্বসম্মতভাবে একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতির মাঝে যে চেতনার উন্মেষ হয়, তার চরম বিস্ফোরণ ঘটে ছিল ঊনসত্তর থেকেই একাত্তরে।বাংলাদেশের সমস্ত আন্দোলনের মূল চেতনা একুশে ফেব্রুয়ারি। তখন থেকেই বাঙালি উপলব্ধি করেছিল তার বাঙালি জাতীয়তাবোধ, তার সংস্কৃতির অতন্দ্র প্রহরী। এমন এই সংগ্রামী চেতনাই বাংলার সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক আন্দোলন এই দু'ধারাকে একসূত্রে গ্রথিত করে মুক্তি সংগ্রামের মোহনায় এনে দিয়েছে। আর এই পরিপ্রেক্ষিতেই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জীবনে একটি গুরুত্ব পূর্ণ দিন। একুশের চেতনাই যেন বাঙালি জাতিকে দিয়েছে অন্যায় ও অবিচার, অত্যাচার এবং শোষণের বিরুদ্ধেই আপোষহীন সংগ্রামের প্রেরণা।একুশের প্রথম নাটক 'কবর', তা মুনীর চৌধুরী রচনা করেছিল। এমন এই ভাষা আন্দোলনে জড়িত থাকার অপরাধেই যেন ’৫২ সালে জেলে আটক ছিলেন মুনীর চৌধুরী সহ রণেশ দাশগুপ্ত। তাদের পাশাাপাশি অনেক লেখক বা সাংবাদিকরাও জেলে আটক হয়ে লাঞ্ছিত হয়েছিল। রণেশ দাশ গুপ্ত জেলের এক সেলে আটক, আর অন্য একটি সেলেই মুনীর চৌধুরীকে ভাষা আন্দোলনের ওপর একটি নাটক লিখে দেওয়ার অনুরোধ করে চিরকুট পাঠান। সে চিরকুটের লেখাটি ছিল- শহীদ দিবসে রাজবন্দিরাই নাটকটি মঞ্চায়ন করবেন, জেলে মঞ্চসজ্জা ও আলোর ব্যবস্থা করা যাবে না। এমন কথাগুলো কৌশলে মুনীর চৌধুরীকে বলা হয়, নাটকটি এমনভাবে লিখতে হবে, যাতে খুব সহজে কারাগারেই এটি অভিনয় করা যায়। মুনীর চৌধুরী ’৫৩ সালের ১৭ জানুয়ারি নাটকটি লিখে শেষ করেন। ওই বছরের একুশে ফেব্রুয়ারি, রাত- ১০টায় কারাকক্ষগুলোর বাতি নিভিয়ে দেওয়ার পর শুধুমাত্র হ্যারিকেনের আলো-আঁধারিতেই কবর নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। অভিনয়ে অংশ নেন বন্দি নলিনী দাস, অজয় রায় প্রমুখ।

ভাষার আন্দোলনটি জাতীয়তাবাদেরই প্রথম উন্মেষ। আন্দোলনের প্রত্যক্ষ ফল ছিল বাঙালি জাতির আপন সত্তার উপলব্ধি এবং ঐক্যবদ্ধ হওবার প্রেরণা। এমন আন্দোলন বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার আন্দোলনের অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত হওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। এমন আন্দোলনে প্রথম ছাপচিত্র অঙ্কন করেছিলেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী, বায়ান্নর ভাষাকর্মী- মুর্তজা বশীর। ছাপচিত্রটির শিরোনাম হলো ‘রক্তাক্ত একুশে’। মুর্তজা বশীর ১৯৫২ সালের  একুশে ফেব্রুয়ারির ছাত্রহত্যার প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলেন। শহীদ বরকতের রক্তে তার সাদা রুমাল রঞ্জিত হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আঁকা তাঁর এমন ছাপচিত্রটিতে তিনি একুশের ঘটনা অঙ্কিত করেছিল। একজন গুলিবিদ্ধ ছাত্রনেতাকে একেঁছেন সেখানেই ফুটে উঠে- মিছিলে গুলি বর্ষণের ফলে পড়ে যান, তার স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ডটি পড়ে যায় এবং তার হাতে থাকা বইটিও মাটিতে পড়ে রক্তাক্ত হয়ে যায়। অমর একুশে আজও বাংলাদেশে শহীদ স্মরণে গ্রন্থমেলার আয়োজন করেই যেন মাতৃভাষার জন্যে বিভিন্ন শহীদ ও বুদ্ধিজীবীদেরকে স্মরণ করা হয়। অমর একুশে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য বিশ্লেষণে শুধু শহীদ দিবস কিংবা গ্রন্থমেলা পালনেই সরকার সীমাবদ্ধ থাকেনি, তাকে এই বাঙালির জাতীয় জীবনের সর্বত্র প্রভাব বিস্তারেও আগ্রহী ভূমিকা পালন করছে। একুশে ফেব্রুয়ারির পূর্ণ ইতিহাস কিন্তু সাধারণ ছাত্র-জনতার ইতিহাস। এমন এ ইতিহাসের নায়ক অথবা মহানায়ক তারাই। কোনো দল অথবা দলীয় নেতার নেতৃত্বে এর জন্ম হয়নি। এই দেশের চিন্তাবিদ-বুদ্ধিজীবীরা তাদের যুক্তিবাদী সৃজনশীল লেখনীর দ্বারা সমাজজীবনে এর ক্ষেত্র রচনা করেছিল। দেশের স্বাধীনচেতা মৃত্যুঞ্জয়ী তরুণরা সেই উর্বর ক্ষেত্রেই রক্তবীজ বপন করেছিল। ফলেই আজকের এই সোনালি ফসল। এই তরুণদের সংগ্রামী চেতনা সমগ্র সমাজে ছড়িয়ে পড়ে এবং গড়ে তোলে এক অজেয় শক্তি। তাই তো পরবর্তী সময়েই রাজনীতিতে প্রদান করে নতুন দ্যোতনা। সংস্কৃতির ক্ষেত্রেই যেন সৃষ্টি হয় এক নতুন শক্তি। সৃষ্টি হয় নতুন ইতিহাস। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি ওই সব শহীদ এবং বীর যোদ্ধাদের রক্ত, অশ্রু ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা একুশে ফেব্রুয়ারির মতো এই স্মরণীয় দিবসটি লাভ করতে পেরেছি। এমন দিনের সৃষ্টিতে তরুণরা রক্তাক্ত অবদান রাখলেও এখন তা বিশ্বজনীন হয়ে উঠেছে।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হলে শাসক চক্র বাঙালী জাতিকে দুর্বল করতেই বাংলার মাতৃভাষা বা মায়ের ভাষার উপর চক্রান্ত শুরু করে। এর প্রতিবাদে ১৯৫২ সালের শুরুতে মায়ের ভাষা রক্ষার আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। আন্দোলন ঠেকানোর জন্য সরকার ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। ‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই’ প্রাণের দাবীতে ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্র যুব সমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে মিছিল করে। এ মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার সহ নাম না জানা অনেকেই যেন সেই দিন শহিদ হয়েছিল। আর বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত হওয়া মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের খবর সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে দেশবাসী প্রচন্ড বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। উপায় না দেখে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতেই বাধ্য হয়ে ছিল। একটু ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি দিলে পরিস্কার ভাবে জানা যাবে, তা হলো পাকিস্তান সৃষ্টির পূর্বে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় এর তৎকালীন উপাচার্য- ড. জিয়াউদ্দিন উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিল। আর পূর্ববঙ্গ থেকে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন এবং বাংলাকেই রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন। এইভাবেই যেন ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত। এ দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তান সৃষ্টির শুরু থেকেই উর্দুকে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চক্রান্ত চলতে থাকে। ১৯৪৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেছিল উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এর ফলেই তুমুল প্রতিবাদের ধ্বনি উচ্চারিত হয়েছিল। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ঘোষণার পর পরই এদেশের ভাষা আন্দোলন জোরদার হতে থাকে।

পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই শাসকগোষ্ঠী রাজনৈতিক, সামাজিক ক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে তাদের উপনিবেশ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিল। এ উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই বাঙালিদের মাতৃভাষার উপর চরম আঘাত হানে। পাকিস্তান সৃষ্টির পর পরই যেন রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলন শুরু হলেও ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নেই বাঙালি জাতি আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হয়। কেউ কবিতা লিখে, কেউ গান বা নাটক লিখে, কেউ বা চলচ্চিত্র কিংবা চিত্রাঙ্কন করে। ভাষা আন্দোলনের গুরুত্বটা যে, এ সবের মাধ্যমেই এ দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রামী শিক্ষা নিয়ে থাকে। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই যেন জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শাসকচক্রের প্রতিটি ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হয়ে ছিল। জানা প্রয়োজন তা হলো, একুশে ফেব্রুয়ারির পরের দিন অর্থাৎ ২২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয় একুশের প্রথম ক্রোড়পত্র এবং প্রথম অঙ্কিত চিত্র। ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে ছিল তৎকালীন ‘দিলরুবা’ পত্রিকার প্রকাশক এবং এতে স্কেচ আঁকেন শিল্পী আমিনুল ইসলাম আর লেখেন ফয়েজ আহমদ এবং আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দীন। সেই গুলোকে বিকেল পাঁচটার মধ্যে কাগজে ছাপা হয়ে যায় এবং পত্রিকার কর্মীরাই রাজপথে কাগজ গুলো বিলি করে ছিল। সেই দিন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে কারফিউ ছিল বলে ৬ টার  আগেই হাতে হাতে কাগজ বিলি করা হয়ে যায়। তাইতো ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে প্রেরণা দিয়েছিল একুশ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের রক্ত রাঙ্গা ইতিহাস। বলা যায় যে, সর্ববস্তরে মানুষ ও ছাত্র সমাজের তীক্ষ্ম মেধা দ্বারাই মাতৃভাষার জন্যে সংগ্রাম করেছিল। তাই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত একুশে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে গৃহীত হওয়ার ব্যাপারটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এখন আমাদের কর্তব্য বাংলা ভাষা চর্চার মাধ্যমে উন্নত জাতি হিসেবে নিজেকে দাঁড় করানো।

ভাষার জন্য জীবন দান এ বিরল আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সম্পূর্ণ ভাবে ঘোষণা করে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় এ দিনটিকে প্রতি বছর পালন করে আসছে। জাতিসংঘে এর আগেও ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতি সংঘের সংস্থা ইউনেস্কো আনুষ্ঠানিক ভাবেই এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়। বাংলাদেশ ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনের ৩০ তম অধিবেশনে এক পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবটির খসড়াও পেশ করেছিল। বাংলাদেশকে সমর্থন জানায় ২৭টি দেশ। দেশ গুলো হলো:- সৌদি আরব, ওমান, বেনিন, শ্রীলঙ্কা, মিশর, রাশিয়া, বাহামা, ডেমিনিকান প্রজাতন্ত্র, বেলারুশ, ফিলিপাইন, কোতে দি আইভরি, ভারত, হুন্ডুরাস, গাম্বিয়া, মাইক্রোনেশিয় ফেডারেশন, ভানুয়াতু, ইন্দোনেশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, কমোরো দ্বিপপুঞ্জ, পাকিস্তান, ইরান, লিথুনিয়া, ইতালি, সিরিয়া, মালয়েশিয়া, স্লোভাকিয়া ও প্যারাগুয়ে। ইউনেস্কোর এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই যেন বাংলা ভাষা সহ বিশ্বের চার হাজার ভাষাও সম্মানিত হয়। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তৎকালীন পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালির মাঝে নবচেতনার জন্ম হয়। তা হচ্ছে স্বাধীকারের স্বপ্ন। এর পথ ধরেই যেন আসে বাঙালীর মুক্তি ও স্বাধীন বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মাতৃভাষার উন্নয়ন এবং বিস্তারে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করা যায়। আর মাতৃভাষার প্রতি অবশ্যই এই দেশের শ্রদ্ধাবোধ বাড়াবে। আজও তাই বাংলা ভাষা ও তার সাহিত্য এবং সংস্কৃতি একুশের চেতনায় যেন বিকশিত হচ্ছে। আজও তা অব্যাহত রবে নব নব রূপেই জাতির হৃদয়ে সাড়া দিবে। বাংলা ভাষার জন্যেই সেই সময় একুশের প্রথম গান রচনা করে বাঙালি জাতি হৃদয়কে পুলকিত করেছিল। ভাষাসৈনিক আ.ন.ম. গাজীউল হকের প্রথম গানটির প্রথম লাইন: '‘ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না"। এমন ভাষা-আন্দোলনের সুচনার গান হিসেবে এটি সে সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল এবং আন্দোলনের মহা অস্ত্র হিসেবে কাজ করেছিল। গানটির সুর দেয়া হয়েছিল হিন্দি গান ‘দূর হাটো, দূর হাটো, ঐ দুনিয়াওয়ালে, হিন্দুস্তান হামারা হায়’ এর অনুকরণে। একুশের হত্যাকাণ্ডের পরপরই গাজীউল হকের এ গানটি ছিল ভাষাকর্মীদের প্রেরণার মন্ত্র। শুধুমাত্র রাজপথের আন্দোলনে নয়, জেলখানায় রাজবন্দিদের দুঃখ কষ্ট নিবারণে এবং তাদের মনোবল চাঙ্গা করতে এই গান ছিল প্রধান হাতিয়ার। ১৯৫৩ সালে একুশের প্রথম বার্ষিকীতে আরমানিটোলার ময়দানে আয়োজিত জনসভায় গানটি ১ম গাওয়া হয়। ভাষার জন্য সেসময় কারো অবদান কম ছিলনা। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে যেন চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়ছিল।প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবির একটি অংশে প্রভাতফেরি ও শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার দৃশ্য রয়েছে। খালি পায়ে ফুল দিতে যাওয়ার সেই দৃশ্যে বিখ্যাত গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ এমন গানটি সম্পূর্ণ বাজানো হয় আবহসঙ্গীত হিসেবে। পরিশেষে বলতে চাই যে, বিশ্বের কোন দেশে কিন্তুু মাতৃভাষার জন্য এই ভাবে আন্দোলন হয়নি। সেদিক দিয়ে বাংলাভাষার একটি বিশেষ স্থান বিশ্বে আছে। যা‘সবার উর্ধ্বে। তাই আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব কমিয়ে সরকারকে নিজ দেশের চ্যানেলগুলোর প্রতি সবাইকে বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলা সহ প্রত্যেক বছর বই মেলা বৃহৎ আকারে আয়োজন করেই- আমাদের বাংলাভাষা কিংবা মাতৃভাষাকে খুব শক্তিশালী করতে হবে। তাহলেই হয়তো একুশে ফেব্রুয়ারী “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস“ বা দেশীয় একুশের বিভিন্ন উৎসব পালন করাটাও সার্থক হবে। ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের অহংকার। আমাদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের ধারক। সুতরাং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গেই একমত পোষণ করে বলাই যায়,-"সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে। সার্থক জনম, মাগো, তোমায় ভালোবেসে"॥

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও প্রভাষক

বিস্তারিত খবর

তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করুন : রাষ্ট্রপতি

 প্রকাশিত: ২০২০-০১-১৫ ১০:৩৪:৩৬


রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেষ্ট থাকার আহবান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন,‘বিশ্বায়নের এ যুগে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন একান্ত অপরিহার্য। তাই ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিদ্যমান টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ও তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।’

রাষ্ট্রপতি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা- ২০২০’ উপলক্ষে আজ এক বাণীতে এ কথা বলেন।

‘ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ১৮ জানুয়ারি-২০২০ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন,তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় বিস্তার টেলিযোগাযোগ খাতের গুরুত্বকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। মূলত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্ববাসীকে এক কাতারে শামিল করেছে।

আবদুল হামিদ উল্লেখ করেন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার সুফল বাংলাদেশের সব অঞ্চলের জনগণের মধ্যে পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে ‘রূপকল্প-২০২১’ ঘোষণা করেছে, যা ইতোমধ্যে অনেকাংশেই বাস্তবায়িত হয়েছে।

তিনি বলেন,সরকার তথ্যপ্রযুক্তি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এর ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বিনির্মাণ অব্যাহত রেখেছে। ফলে দেশব্যাপী সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে জনগণ ক্রমাগত তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে সম্পৃক্ত হচ্ছেন এবং জনগণ ঘরে বসেই তাদের মৌলিক নাগরিক সেবাসহ নানাবিধ সেবা পাচ্ছেন।

রাষ্ট্রপতি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা-২০২০’র সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

বিস্তারিত খবর

শীতঋতুতে গ্রামীণ জনজীবনের সুস্বাদু পিঠা

 প্রকাশিত: ২০২০-০১-১৫ ১০:২৪:৪৩

বাঙালীর লোক ঐতিহ্যে বিভিন্ন পিঠার ইতিহাস গ্রামীণ মানুষের ঘরে ঘরে শীত ঋতুতেই যেন বারবার হাজির হয়। শীতে নানা ধরনের পিঠার গুরুত্ব ও ভূমিকা পৃথিবীর ইতিহাসে সে তো এক কালজয়ী সাক্ষী। শীত কালে গ্রামীণ মানুষদের কাছেই পিঠা ছিল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এমন পিঠার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আজ গ্রাম কেন্দ্রীক থাকেনি। তা শহরেও প্রবেশ করেছে অনেক আগেই। শহরের সবখানে এখন নানা রকমের পিঠা পাওয়া যায়। এ দেশের গ্রামাঞ্চলের মানুষ অন্য কোনো ঋতুর চেয়ে এই শীতঋতুতেই যেন বিভিন্ন ধরনের পিঠার উৎসবে করে থাকে। যুগ যুগ ধরে মানুষ সুস্বাদু উপাদেয় পিঠা খাদ্যদ্রব্যের উৎসব পালনও করে আসছে।

হেমন্ত আসতে না আসতেই বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয় নবান্ন। চলে পিঠা বানানোর প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে গ্রামেগঞ্জে তৈরিও হচ্ছে নানান স্বাদের পিঠা। শুধুই যে গ্রামে তা নয়, শহরের আনাচে কানাচে গড়ে ওঠে বিভিন্ন পিঠার দোকান। এই দোকানেও পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যায় গ্রামের মানুষদের মতো। তবে গ্রামীণ জনপদের মানুষ যেভাবে পিঠা তৈরি করে শহরের মানুষ ততটা ভালো পারে না। গ্রামই তো পিঠা তৈরি করার শিকড় স্থান। শীতকালের আমেজে খেজুর গুড় আর রস ছাড়া তো পিঠা তৈরির পূর্ণতা কখনই উৎকৃষ্ট হয় না। খেজুরের রস দিয়ে ভাপা পিঠা, পুলি, দুধ চিতই পায়েস যাই হোক না কেন শীতঋতু আর খেজুর গাছ ছাড়া অসম্ভব। শীতঋতুতে গ্রামে গঞ্জে খেজুর রস আর শীতের হরেক রকম পিঠা নিয়েই তো হয় উৎসবের আমেজ। বাড়িতে তাদেরই নিজ আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত করে পিঠা খাওয়ানো ও জামাই মেয়েদের বাড়িতে নিয়ে এসে নতুন কাপড় চোপড় উপহার দেওয়ার যেন হাজার বছরের রীতি। উনুনের পাশে বসে গরম গরম ধোঁয়া বা ভাপ উঠা ভাপা পিঠা খেজুর গুড় বা গাঢ় খেজুর রসে চুবিয়ে খাওয়ার ষোলকলা পূর্ণ হয় না শীতঋতু ছাড়া। শুভ সকালে সারারাত্রির বাসি, ঠান্ডা ভাপা পিঠা খেজুর রসে চুবিয়ে খেতে মন্দ লাগে না। মজার বেপার হল শীত কালের এই অমৃত ভাপা পিঠা শুধুই যে গ্রামের মানুষের কাছে প্রিয় তা কিন্তু নয়। শহরের অলিতে গলিতেও দেখা যায় অনেক ভাপা পিঠার দোকান। নারিকেল আর খেজুর গুড়ের সমন্বয়ে চালের আটা মিশ্রণে ভাপা পিঠা তৈরীও হয়। তবে বিভিন্ন বয়সের মানুষ হুমড়ি খেয়েই সেগুলো পিঠা খায়। বলতেই হয় গ্রামই পিঠা তৈরির শ্রেষ্ঠ স্থান।

এলাকা ভেদে ভিন্ন ভিন্ন নামকরণে চিহ্নিত পিঠা বা আলাদা গঠনে নকশাকৃতির পিঠা লক্ষনীয়। গ্রামীণ জনপদের মানুষ অগ্রহায়ণ মাসে সাধারণত নতুন ধান উঠার পর পরই যেন পিঠা তৈরির আয়োজন শুরু করে। আসলে শীতঋতুতে হরেক রকম পিঠার বাহারি উপস্থাপন এবং আধিক্য হয় বলেই কিশোর-কিশোরীরা মামার বাড়ি যাওয়ার জন্য ব্যতিব্যস্ততা দেখায়। মামার বাড়ি মধুর হাড়ি এই কথাটি যে যুগে যুগে হয়তো সত্যিই রয়ে যাবে। গ্রামবাংলার বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী পিঠার অনেক নাম গ্রামের মানুষের দ্বারে এসে হানা দেয় আজও। বিভিন্ন পিঠা উৎসবের প্রস্তুতি গ্রামাঞ্চলের ধনী-গরীব নির্বিশেষে প্রতিটি ঘরে ঘরেই শুরু হতে দেখা যায়। সুতরাং গাঁ গেরামেই আত্মীয়-পরিজনের আগমন ঘটে। নানার বাড়িতে কিশোর-কিশোরীরা শীতকালীন ছুটি নিয়ে বেড়াতে যাবে বলে তাদের যেন দু'চোখে ঘুম আসে না। মেয়ে-জামাই তাদের সন্তানদের সঙ্গেই শশুর বাড়ি হওয়ার ইচ্ছাটাও পোষন করে। গ্রামে অনেক হতদরিদ্র পরিবারেও যেন বিনোদনের চরম দৃশ্যপট উদয় হয় শীতকালে। আজকাল শীতঋতুর অনেক পিঠা শহরেও মেলা উৎসবের আয়োজন করে গ্রাম গঞ্জের সংস্কৃতিকে ধরে রাখার দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করছে। দিকনির্দেশনার পথ প্রদর্শক হিসেবে দেখা যায় সুশীল সমাজকে, প্রগতিশীল মানুষ এবং শিল্পী, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীকে। সুতরাং গ্রাম গঞ্জের ধনী পরিবার নানান জাতীয় পিঠার ঐতিহ্য ফিরে পেয়ে তাদের মেয়ে জামাইকে দাওয়াত দিয়ে খাইয়ে থাকে। শীতঋতুর এই হরেক রকম পিঠা তৈরির আপ্পায়নে গ্রামীণ জনপদের মানুষেরা এখন দিনে দিনে অতীতের বিলুপ্ত হওয়া পিঠাগুলো এখন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে এবং সংস্কৃতির প্রতিও সচেতন হচ্ছে ।

আহা, কি আনন্দ ঘরে ঘরে। ভোজন প্রিয় বাঙালির ঐতিহ্যে পিঠার ইতিহাস খুব পুরনো হলেও বর্তমানে পিঠার স্বাদ আধুনিক ও রন্ধন শিল্পের নানান করণ কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। পিঠার চমৎকার গন্ধে বাড়ির উঠান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। খেজুর রসের গন্ধযুক্ত পিঠা সবার কাছে আজ সমাদৃত। হতদরিদ্র গাঁ গেরামের খেটে খাওয়া শ্রমিক মানুষের দু:খ-কষ্টের মধ্যেও পিঠা খাওয়ার তৃপ্তির মুহূর্ত যেন অনাবিল এক শান্তির পরশ বয়ে আনে। তাদের খুব পরিশ্রম ও দু:খ-কষ্টের জীবন হলেও বিভিন্ন পিঠা উৎসবের আয়োজন করতে একটুও পিছপা হয় না। তারা অবাক করে দেবার মতোই অনেক পদের পিঠার তৈরি বলতে পারে। এ দেশে ১৫০ বা তারও বেশি রকমের পিঠা থাকলেও মোটামুটি প্রায় তিরিশ প্রকারের পিঠার প্রচলন খুবই বেশি লক্ষ্যনীয়। তাছাড়া আরও কতো রকমারি পিঠা অঞ্চল ভেদে রয়েছে সেই গুলোর নাম বলে শেষ করা যাবে না। তবুও সে এক নিঃশ্বাসে বলা শুরু করে। যেমন: নকশি পিঠা, ভাঁপা পিঠা, ছাঁচ পিঠা, রস পিঠা, দোল পিঠা, পাকান পিঠা, চাপড়ি পিঠা, চিতই পিঠা, মুঠি পিঠা, ছিট পিঠা, পাতা পিঠা, খেজুরের পিঠা, পুলি পিঠা, পাটিসাপটা পিঠা,পানতোয়া পিঠা, ডিম চিতই পিঠা, জামদানি পিঠা, ভেজিটেবল ঝাল পিঠা, সরভাজা পিঠা, ছিটকা পিঠা, গোলাপ ফুল পিঠা, চাঁদ পাকন পিঠা, মালপোয়া পিঠা, ঝালপোয়া পিঠা, কাটা পিঠা, তেজপাতা পিঠা, তেলপোয়া পিঠা, লবঙ্গ লতিকা পিঠা, হাঁড়ি পিঠা, মালাই পিঠা, চুটকি পিঠা, গোকুল পিঠা, নারকেল পিঠা, আন্দশা পিঠা, পুডিং পিঠা, মুঠি পিঠা, সুন্দরী পাকন পিঠা, রসফুল পিঠা, মেরা পিঠা, তেলের পিঠা, চাপড়ি পিঠা, সেমাই পিঠা, দুধরাজ পিঠা, গোকুল পিঠা, বিবিয়ানা পিঠা, ঝিনুক পিঠা, ঝুড়ি পিঠা, ফুল পিঠা, ফুল ঝুরি পিঠা, কলা পিঠা, ক্ষীর কুলি, কুশলি পিঠা, ফিরনি পিঠা, সূর্যমুখী পিঠা, নারকেলের ভাজা পুলি পিঠা, ঝাল মোয়া পিঠা, নারকেলের সেদ্ধ পুলি পিঠা, নারকেল জেলাফি পিঠা, চিড়ার মোয়া পিঠা, নারকেল নাড়ু পিঠা এবং কাউনের মোয়া পিঠা ইত্যাদি নাম অঞ্চল ভেদে পিঠা হিসেবেই বিবেচ্য।

এদেশের হতদরিদ্র গাঁ গেরামের মানুষ পিঠা তৈরি করার জন্য বিভিন্ন প্রকার গুড় কিংবা চিনি ব্যবহার করে। খেজুর গাছের রস থেকে নানান পদের গুড় গ্রামাঞ্চলের মানুষের উল্লেখযোগ্য। পিঠা তৈরিতে মিষ্টি জাতীয় খাবারটাই প্রধান। সেক্ষেত্রে খাঁটি গুড় ব্যবহার করা প্রয়োজন। তাতেই পিঠার স্বাদ পরিপূর্ণ হয়। একটু জানা দরকার যে, খেজুর গাছের খাঁটি গুড় আপনি চিনতে পারবেন কিভাবে? একজন খেজুর গাছ চাষীর বিশ্লেষণ মতে, খেজুর গুড়ের রং অবশ্যই বিভিন্ন রকম হতে পারে। হয়তো কোনো গুড় হালকা খয়েরি, কোনোটা একটু লালচে, কোনোটা আবার কমলা রঙের। খেয়াল করা দরকার কোন রংটা বিশেষ করে খাঁটি গুড়। অবশ্য চাষীদের মতেই জানা যায়, সবচেয়ে গাঢ় খয়েরি রঙের গুড়টাই আসল গুড়। আর গুড়ের রং যত হালকা হবে, বুঝতে হবে ওর মধ্যেই যেন কেমিক্যাল কিছু ভেজাল পন্য মেশানো হয়েছে।আসল গুড় অবশ্যই চমৎকার এক ধরনের ঘ্রান যুক্ত হবে। খেজুর গাছের খাঁটি গুড়ের কিনারায় আঙুল দিয়ে চাপ দিয়েই ভাঙা যাবে। যদি ভাঙা না যায়, শক্ত প্রকৃতির হয়ে থাকে সেই রকম গুড় গুলোতে ভেজাল আছে। খেজুর গুড় ক্রয় করার সময় গুড়ের ধারটাতে "দুই আঙুল" দিয়েই চেপে দেখবেন। যদি তা নরম হয়, তবে বুঝবেন গুড়টি ভীষণ ভাল। তাছাড়াও গুড় ভেঙে একটু খেয়েও দেখবেন যদি সে গুড়গুলি কচকচ করে অবশ্যই তাতে চিনির মিশ্রণ আছে। জানা দরকার যে খুব খাঁটি গুড় মুখে দিলেই গলে যায়, কচ কচ করবে না। যদি বাসায় নিয়েও যান- ভেজাল গুড় একটু পরীক্ষা করে দেখা যেতেই পারে, তা হলো:- খাঁটি গুড় - দুধ একসাথে জ্বাল দিলে তা কখনো ছানা হয়ে যাবে না। খেজুর গাছের রস থেকে প্রধানত তৈরি হয় পাটালী ও ঝোলা গুড়।

সুতরাং এমন গুড় নামক মিষ্টি খাবার সামগ্রী দিয়েই ভালো পিঠা হয়। চাষীদের শ্রম দ্বারাই যেন তৈরি হয় গুড়ের বিভিন্ন পিঠা। শীত কালের আয়োজনে সত্যিই এমন ধরণের পিঠা গুলোকে ধনী কিংবা গরীবের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় না করে সাধ ও সাধ্যের মধ্যেই যেন রসনা বিলাস করে আসছে। গ্রামীন বাঙালির পিঠা উৎসবের রসনা বিলাসী দিক হয়তো বা পৃথিবীতে আর নেই। গ্রাম বাংলায় ধানের মৌসুম অনুযায়ী নানান পিঠা তৈরি হয়। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন মিলে পিঠা খাওয়ার আনন্দকে কেন্দ্র করে গ্রামের দরিদ্র মজুরদের সঙ্গে নিয়ে ধান মাড়াই করে চালের আটা তৈরি করে মেতে উঠে বিভিন্ন পরিবার। পিঠা তৈরি নানান জাতের চালও শীতঋতুতে গ্রামীণ বাজারেও ক্রয় করা হয়ে থাকে। কোনো কোনো পরিবার অনেক আগেই পিঠা তৈরির প্রয়োজনীয় বাৎসরিক চাহিদা ঘরে মজুদ করে রাখে। খেজুর গুড় বা নারিকেলের যোগান এখন তারা গ্রামে ফ্রিজ ব্যবহার করে পিঠা তৈরির মজা উপভোগ করছে। আয়েস করে পিঠা খাওয়ার তৃপ্তির ঢেঁকুর গ্রামঞ্চলে কনকনে শীতের সময় খুব ছড়িয়ে পড়ে। নিশ্চয় এইসব পিঠার চাল মেশিনে ভাঙানো বা পাটায় পিষানো চাউলে হয়ে থাকে। এক সময় ঢেঁকিতে গীত গাইতে গাইতে চাল থেকে আটা তৈরি করতো গ্রামীণ মেয়েরা। ঢেঁকির শব্দ এখনো কানে বাজলেও পিঠা খাওয়ার উৎসব কমে যায়নি বলা চলে। যে সব মেয়েরা বাবা বাড়ি আসতে পারেনা তাদের শ্বশুরবাড়িতে শীত মৌসুমী পিঠা পাঠাতেও ভুল করেনা। গ্রাম বাংলার মানুষের এমনই জীবন সত্যিই নান্দনিকতার বহিঃপ্রকাশ ও তাদের উৎসব পূর্ণ বিনোদনের এ জীবন আসলেই ইতিহাসের কালজয়ী সাক্ষী।

লেখক: কলামিস্ট ও প্রভাষক।

বিস্তারিত খবর

মনের সুখই আসল সুখ

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৭ ১২:৩১:৫৬

মানুষের এই জগত জীবন অতি সংক্ষিপ্ত জীবন। তাদের আছে দুঃখ-কষ্ট, সুখ-শান্তি, আশা-ভরসা, সফলতা বা বিফলতার জীবন। এরই মধ্যে জীবনের নানা অপূূর্ণতাকে নিয়েই মানুষ অভিযোগ কিংবা ক্ষোভও প্রকাশ করে থাকে। তারা জীবন যাপনের অংশে যেন অনন্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আফসোস করে। তারা কোনোদিন তা পরিপূর্ণ করতে পারে না বা কোনো দিনই পরিতৃপ্ত হতে পারে না। কেউ কেউ খুব কঠোর পরিশ্রম করে সফল হলে বলতেই হয়, তা সৃষ্টিকর্তারই নিয়ামত। আসলে সুখ-শান্তির প্রত্যাশা হলো- মানুষদের সহজাত প্রবণতার একে বারেই ভিন্ন দিক। তাকে জোর জবরদস্তি করে কখনোই আদায় করা যায় না। ইসলাম চেয়েছে দেহ এবং মনের প্রয়োজন সমভাবে পূরণ করতে পারলে মানুষ পেতে পারে সুখের সন্ধান। তার জন্য মানুষের বিজ্ঞতার আলোকেই পরিশ্রম করা প্রয়োজন। সমগ্র পৃথিবীতে এমন কাউকেই পাওয়া যাবে না যে, তারা সুখী হতে চায় না। আসলে যার যা চিন্তা চেতনাতেই যেেন সুখী হতে চায়। অনেকেভাবে অর্থকড়ি, শিক্ষা-দীক্ষা, বিবাহ, সন্তান-সন্ততি, পরিবার, সামাজিক বা অর্থনৈতিক প্রতিপত্তি মানুষকে অনেক 'সুখী' করতে পারে। সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জরিপ করে দেখা গেছে, এ সকল অর্জন আসলে মানব জাতিকে সুখী করতে পারে না। লাখ লাখ মানুষদের জন্যেই প্রকৃত সুখ যেন হয় যায় সোনার হরিণ।

সারাদুনিয়া খুব সুন্দর এবং তাকে উপভোগ বা সুখ-শাস্তি জন্য মানুষের আছে স্বাধীনতা। এই দুনিয়াকে যেমন পেয়েছে মানুষ। তেমনি সেখানেই অনেক সুখ লাভের প্রকৃৃত পন্থাকে সৃষ্টি করেছে মহান সৃষ্টি কর্তা। এই মানুষদের আনন্দ, ভোগ-বিলাস অথবা সৌন্দর্য উপভোগে যেন আল্লাহ তায়া’লার পক্ষ থেকে আছে প্রতিদান। তার কাছে এ দুনিয়া আখেরাতের সাথেই সম্পৃক্ত, দৈহিক ও শারীরিক আনন্দ উপভোগ করা অন্তরের আনন্দের সাথেই যেন যুক্ত। তাই দুনিয়াতে ভোগের মাধ্যমেই অর্জিত সুখ কিংবা শান্তি মানুষের অভ্যন্তরীণ পরিতুষ্টি কিংবা প্রশান্তির সাথেই সম্পৃক্ত থাকে। আবার যারা মনে করে যে 'সুখ' হয়তো গাড়ি, বাড়ি, অলঙ্কার, কাপড় চোপড় কিংবা ধন-দৌলতের মধ্যে আছে। কিন্তু এই সব প্রাপ্তি মানুষকে সাময়িক ভাবে কিছুটা সুখ দিতে পারলেও যেন প্রকৃত পক্ষেই স্থায়ী সুখ প্রাপ্তির জন্য এধরণের বহু চাহিদাগুলোও বড় ভূমিকা পালন করে না। এমন কথাগুলো সমাজ বিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী বা চিকিৎসা বিজ্ঞানীরাই মনে করে থাকে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, সুখ বৈষয়িক বা জাগতিক কোনো ব্যাপার নয়। সুখটা হল বহুলাংশে মনস্তাত্ত্বিক বা আধ্যাত্মিক ব্যাপার। সুখপ্রাপ্তির জন্য আসলেই কোনো 'শর্টকাট পদ্ধতি কিংবা রাস্তা' নেই। পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ দিনের চব্বিশ ঘণ্টাতে সুখী হিসেবে থাকে না। তাদের জীবনে যেন- হতাশা, দুঃখ-কষ্ট আছে। পার্থক্য হলো সুখী মানুষরা হতাশা, দুঃখ-কষ্টকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারে। অন্যরা তা পারেন না। মানব শরীরটা শুধুই রক্ত-মাংসে গড়া কোনো জড়বস্তু নয়। আছে আত্মা যা কিনা শরীরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আবেগ-অনুভূতিই শরীরের ওপর প্রচণ্ড প্রভাব ফেলে। বস্তু জগতে কাম, ক্রোধ, লোভ-লালসা, মোহ, মাৎসর্য, ঈর্ষা ও প্রতিহিংসা আমাদের দুঃখ, কষ্ট, অশান্তি, অসুখ এবং ধ্বংসের মূলকারণ। মানুষ তার সততা, সৎ কর্ম বা অটল সৃষ্টিকর্তা প্রীতি দ্বারা উল্লিখিত বদগুণ থেকে নিজকে দূরে রেখে এই পার্থিব জীবনে পরম স্বর্গসুখ লাভ করতে পারে।

একসময়ে মনে হতো সুখের চেয়ে শান্তি ভালো। সেই সময়েই মানুষ, সুখ আর শান্তিকে কখনো এক করে দেখতে চায়নি। কিন্তু এখন মনে হয় শান্তি ছাড়া সুখ ভোগ সম্ভব নয়। আর সুখ ছাড়া জীবনে যেন 'শান্তি' আসতেই পারে না। "সুখ আর শান্তি" দুটোই আলাদা শব্দ। এদের অর্থের মধ্যে যেন বিস্তর পার্থক্য আছে। কিন্তু বাস্তবে ''সুখ বা শান্তি" চলে যেন একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে। সুখ শব্দটি মানুষের দেহনির্ভর। আর শান্তি শব্দটি সে মানুষের মননির্ভর হয়ে থাকে। সুতরাং বাস্তবে শরীরের অস্তিত্বকে বাদ দিয়ে- মনের অস্তিত্বের কথা ভাবা খুবই কঠিন। সারাজীবন মানুুষ বাঁচে নিজ শরীরকে নিয়ে। আবার মৃত্যুতেই শরীরের আর কোনো প্রয়োজন থাকে না, ফুরায় সুখ-দুঃখের অনুভব। মনো বিজ্ঞানীরা বলে, সুখ হলো জেনেটিক বা বংশানুগতিসম্বন্ধীয়। আবার বেশকিছু বিজ্ঞানীরা তাদের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সূত্র ধরে বলে, তারা মস্তিষ্কের এমন কিছু অংশ নির্ণয় করেছে, আর যেন যেখান থেকেই 'সুখ নিঃসৃত' হয়। জনপ্রিয় স্কাউটের জনক রবার্টস্টিফেনসন স্মিথলর্ড় ব্যাডেন পাওয়েল অব গিলওয়েল বলেছেন-- "সুখ লাভের প্রকৃত পন্থা হলো অপরকে সুখী করা"। এমন সুন্দর পৃথিবীটাকে যেমন পেয়েছো তারচেয়ে একটু শ্রেষ্ঠতর কিছু রেখে যাওয়ার চেষ্টাও করো, তোমাদের মৃত্যুর পালা যখন আসবে তখন সানন্দে এই অনুভুতি নিয়ে 'মৃত্য বরন' করতে পারবে। তুমি অন্তত জীবন নষ্ট করনি কিংবা সাধ্য মতই সদ্ব্যবহার করেছ। তাই এমন ভাবেই সুখে বাঁচতে ও সুখে মরতে প্রস্তুত থাকা প্রতিটি মানুষেরই উচিত। আর হিংস্রতাকে পরিত্যাগ করতে না পারলে মানব জাতি কখনোই পেতে পারে না 'শান্তি'। মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাতেই দুঃখের বড় কারণ।

হার্ভার্ডের এক মনো বিজ্ঞানী ড্যান গিলবার্ট বলেছে, নিজস্ব সুখ নিজেকেই সংশ্লেষণ করতে হবে। শরীরে মনস্তাত্ত্বিক একটি ইম্মিউন সিস্টেম রয়েছে যা কিনা তোমার পারিপার্শ্বিকতা বা তোমার বিশ্বকেই জানতে ও বুঝতে সাহায্য করার মাধ্যমে তোমাকে সুখী করে তুলবে। নতুন নতুন কাপড়-চোপড় ক্রয় করা কিংবা 'লটারির অগাধ টাকা' অর্জনে তোমার জীবনের সব দুঃখ দূর করে অনাবিল আনন্দ ও সুখ বয়ে আনবে, এই ধরনের কল্পনা মানুষের চিন্তা শক্তিকে ভুল পথে পরিচালিত করে। 'মিশিগানের হোপ' কলেজের এক সাইকোলজি বিভাগের প্রফেসর ডেভিড মায়ারেরই উক্তিমতে, জেনেটিক বা বংশানুগতি সম্বন্ধীয় তত্ত্বের ভিত্তিতে- যে যাই বলে থাকুক না কেন, মানুষের সুখ অনেকাংশেই 'নিজস্ব নিয়ন্ত্রণাধীন একটি অনুভূতি'।এ 'সুখ' অনেকটা মানুষের কোলেস্টেরল লেভেলের মতো, যা জেনেটিক্যালি প্রভাবান্বিত, আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যেন মানুষের আচার-আচরণ বা লাইফ স্টাইল ও খাদ্যাভ্যাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। জানা দরকার,
সুখের বিপরীত শব্দটা হলো অসুখ। যে সুখী নয় সে সুস্থও নয়। অসুখ হতে পারে শারীরিক বা মানসিক। শারীরিক অসুস্থতায় ভুগলেও মানুষের জীবনে 'সুখ' থাকে না। তবুও ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমেই- শারীরিক অসুস্থতা বহুলাংশেই সারানো যায়। কিন্তু মানুষ যদি মানসিক অসুস্থতার শিকার হয়, তখন জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। কারণ, মানসিক রোগ যেন পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল রোগ। সুতরাং সুখকে মাঝে মাঝেই এক ধরনের স্বার্থিক উদ্দেশ্য মনে করা হয়। মানুষের কী আছে- তার ওপর সুখ নির্ভর করে না। মানুষ কী ভাবে তার ওপর সম্পূর্ণ ভাবে যেন সুখ নির্ভর করে। এককথায় যদি বলা হয় তাহলে, যার যা আছে এবং যে অবস্থায় আছে, তার জন্যেই মানুষকে শোকরিয়া জানিয়ে যদি দিন শুরু করা হয়- তাতে সুখ আসবে। মানুষ যখন যা ভাবছে তার ওপর ভিত্তি করেই- তার ভবিষ্যতের সুখ আসতে পারে। সুতরাং কাজ-কর্ম ও চিন্তা ধারায় পজিটিভ অ্যাপ্রোচ নিয়ে জীবনটা শুরু করলে সুফল আসবে এবং সুখী হবে। আত্মবিশ্বাসে বিশ্বাসী, জ্ঞানী-গুণী, মর্যাদাবান, হৃদয়বান এবং সৎ মানুষ সাধারণত সব সময় সুখী হয়। যারা শুধু নিতে চায়, দিতে জানে না বা চায় না, তারা সুখী হয় না।

মহান সৃষ্টি কর্তার ওপর যার বিশ্বাস যত দৃঢ় হয়, এই বস্তু জগতে তিনিই তত সুখী। 'সুস্থ, সুন্দর এবং সুখী' জীবনযাপনের জন্যেই প্রকৃতিতে হাজারও নিয়ামত রয়েছে। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গত উন্নয়নের ফলে বা বিশ্বাস প্রক্রিয়ার প্রভাবেই যেন 'প্রাকৃতিক জীবন' থেকে সরে এসে কৃত্রিম, অসুস্থ, ক্ষতিকর বা অসুখী জীবনধারণের প্রতিই ঝুঁকে পড়ছে মানুষ। প্রাকৃতিক জীবনযাত্রা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে যেন বিশ্বজুড়েই লাখো-কোটি মানুষের শরীর, মন কিংবা আত্মার ওপর প্রচণ্ড নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করার মাধ্যমেই- মানুষরা অতি সহজে সুস্থ, সুন্দর ও সুখী জীবনের অধিকারী হতে পারে। জানা যায় যে পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় ধনীর মধ্যে অন্যতম হল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ারেন বাফেট। তাঁর কাজ-কর্ম, টাকা-পয়সা, সুখ-শান্তি বা জীবনদর্শনের অনেক গল্প প্রচলিত থাকলেও কিছুটা জানি কিছুটা জানি না। 'ওয়ারেন বাফেট' কোনো সময়ে ব্যক্তিগত বিমানে চড়েনি। তিনিই বিশ্বের সর্ব বৃহৎ মালিকানার একটি জেট কোম্পানির মালিক। তিনি পঞ্চাশ বছর আগে কেনা ৩ কক্ষ বিশিষ্ট একটি বাড়িতেই বসবাস করে। আর তিনি সেই বাসায় অনলাইন ব্রিজ খেলে অপরিসীম 'আনন্দ লাভ ও সুখ' ভোগ করে থাকেন। অবিশ্বাস্য শোনালেও এমন কথা গুলো সত্যি কিংবা অনুপ্রেরণাদায়ক। সারা বিশ্বের বিশাল ধন সম্পদের মালিক পরম সুখী ওয়ারেন বাফেট মনে করেন, ধন-দৌলত নয়, মনের সুখই আসল সুখ কিংবা অন্যকে সুখী করবার মধ্যেও "প্রকৃত সুখ" রয়েছে।


লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও প্রভাষক।

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত