যুক্তরাষ্ট্রে আজ সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 09:33am

|   লন্ডন - 03:33am

|   নিউইয়র্ক - 10:33pm

  সর্বশেষ :

  মুশফিকের অনবদ্য ডাবল সেঞ্চুরি   প্রথম দিনে বিএনপির ১ হাজার ৩২৬টি মনোনয়নপত্র বিক্রি   ৪ হাজার ৩৬৭টি মনোনয়ন বিক্রি করেছে আ.লীগ, আয় ১৩ কোটি টাকা   সিডনিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক ‘লিভ মি অ্যালন’ মঞ্চায়িত   ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলের ভয়াবহতা বাড়ছেই, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১   নির্বাচন এক সপ্তাহ পেছাল, ৩০ ডিসেম্বর ভোট   বিশ্বের সবচেয়ে সেক্সি পুরুষ ইদ্রিস এলবা   একটা গোলাপি হিরার দাম ৪১৮ কোটি!   ৩ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনলেন খালেদা জিয়া   ইসরায়েলিদের গুলিতে হামাস কমান্ডারসহ নিহত ৭   প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির শতবর্ষ পূর্তিতে স্মরণানুষ্ঠান   ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবে বিএনপিসহ ৮ দল   ঢাবির হলে ছাত্রদের বের করে কক্ষ দখল করল ছাত্রলীগ   ইতালিতে আইয়ুব বাচ্চু’র স্মরনে “রূপালী গিটার”   পেটারসনে ‘বাংলাদেশ বুলেবার্ড’ নামে সড়ক হচ্ছে

>>  কলাম এর সকল সংবাদ

ওরা বাংলাভাষার অবমাননা করেছে

একজন নারীকে চরিত্রহীন বলায় ব্যারিষ্টার মঈনুলকে আটক করা, বাংলাভাষার সুস্পষ্ট অবমাননা। ব্যারিষ্টার মঈনুল টকশোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির বিব্রতকর প্রশ্নে তাকে চরিত্রহীন বলতে চেয়েছেন। তাকে চরিত্রহীনা বলেননি। চরিত্রহীন শব্দটি পুংলিঙ্গবাচক আর মাসুদা ভাট্টি স্ত্রীবাচক এবং বাস্তবেও একজন ভদ্র মহিলা। চরিত্রহীন শব্দটি সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে বেপরোয়া আচরণ ও সাংবাদিকতা পেশা বুঝাতে তাঁর ক্ষেত্রেও পুংলিঙ্গবাচক (চরিত্রহীন) শব্দ ব্যবহার করা যায়। ব্যারিষ্টার মঈনুল তাই করেছেন। তিনি বাংলা ভাষায় মোটেও অজ্ঞ নন। তিনি মাসুদা ভাট্টির

বিস্তারিত খবর

ওয়াশিংটনে ঠাকুর দর্শন

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-২৫ ১৬:০৫:৩৫

শিরোনামটি এমনও হতে পারতো ঠাকুর বাড়ির ঠাকুর দর্শন! কিন্তু করা সম্ভব হয়নি, কারণ পূজামন্ডপগুলো করা হচ্ছে স্কুলে কিংবা মন্দিরে।গত সপ্তাহে ভার্জিনিয়ার সম্পা বণিক দিদির বাসায় পূজার আয়োজন দেখলাম। ঘরোয়া পরিবেশে বণিক বাড়ির পূজা মণ্ডপে অনেক অতিথি দেখে মনে পরে গেলো ফেলে আসা পুজোর স্মৃতিময় দিনগুলির কথা। সম্পা দি গত বছর দাওয়াত দিয়েছিলেন, কিন্তু কাজ থাকতে যেতে পারিনি। তাই দেশীয় আমেজটা উপভোগ করতে পারিনি।

গত সপ্তাহে মেট্রো ওয়াশিংটনে নীলাচল আয়োজন করেন শারদীয় পূজা উৎসবের। স্থানীয় একটি অডিটোরিয়ামে নির্মিত পূজামণ্ডপে প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছিল। আয়োজনে ছিল, দেশীয় খাবার, প্রসাদ, উলুধ্বনি, ডাকের তাল ও নাচ। সম্প্রীতির বন্ধনে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অনেক মানুষ ছুটে গিয়েছিলো।

গত শনিবার ছিল গ্রেটার ওয়াশিংটন হিন্দু সোসাইটির পূজা আয়োজন। তপন দত্ত দা, পঙ্কজ চৌধুরী দা ও উত্তম দাদার সাথে পরিচয় বহুদিনের। সেই সুবাদে পূজা উৎসবে যোগদানের আগ্রহের মাত্রাটা ছিল বেশি।

বিপুল-জিনিয়া ও আমি সকালের পূজা অর্চনা পর্বে অংশ নিতে না পারলেও সন্ধ্যায় গিয়ে খানিক স্বাদ মেটালাম। ভার্জিনিয়ার একটি স্কুলে এই আয়োজন দেখে মনে হয়নি প্রবাসের বুকে পূজামণ্ডপে আছি। দেশীয় আমেজে মা দুর্গার প্রতিমা, প্রসাদ, খাবার, আশীর্বাদ, ধুনচি নাচ কোন কিছুর কমতি ছিল না।

ছোট বেলায় পাশের বাড়ির ভিওয়াবাড়ি,কালীবাড়ি ও কৈবত পাড়ায় তিনদিনের পূজোৎসবে সারারাত কাটিয়ে দিয়েছি বন্ধুরা দল বেঁধে। সারাদিনের ডাকের বাজনা ও মাইকে সিনেমার গান এবং ক্ষণে ক্ষণে 'দূর্গা মা কি? জয় বলে মহাধ্বনি এখন কাজে বাজে। তখন বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখে শুনতাম ঠাকুর দেখতে যাচ্ছি। সেই থেকেই চলছে ঠাকুর দর্শন। গ্রামের দৃশ্যপট পেড়িয়ে ঢাকার মণিপুরীপাড়াতে আয়োজন ছিল আরো বিশাল। সন্ধ্যা হলে চলে যেতাম পূজামণ্ডপে।

গ্রেটার ওয়াশিংটন হিন্দু সোসাইটির পূজামণ্ডপে ঢুকেই শুনতে পেলাম সেই পরিচিত ঢাকের আওয়াজ, উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি এবং সেই ধুনচি নাচ। প্রধান ফটকে ঢুকতেই মা দূর্গা ও অসুরের প্রতিমা। ভিতরে উৎসবমুখর পরিবেশ। ভুলে গেলাম প্রবাস জীবনে ব্যস্তদিনের কথা।

ঢাকের তালে নেচে যাচ্ছে সুমা দি, দিনার ভাবি, রুমা দি সহ আরো অনেকে। অন্যদিকে ছবি তোলার ব্যস্ত সুদীপ দা, রাজীব দা ও বিপ্লব দত্ত। রুমি ভাই ব্যস্ত ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার নিয়ে । কে কোন ধর্মের সেটা বড় কথা নয়, মুখে সিঁদুর মেখে এক কাতারে সবাই মা দুর্গার আশীর্বাদে আনন্দে মেতে উঠছে।

ক্ষণিকের এই জীবনে আনন্দ করতে পারাটাই বড় সার্থকতা। এবং তাই প্রমানিত প্রবাসে শারদীয় দূর্গা উৎসবের আয়জন।

বিস্তারিত খবর

গ্রামের একটি তৃণমূল বীরের বাদ্যযন্ত্র নিয়ে কাহিনী

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-১৫ ১৪:২২:৪৩

এ পৃথিবীতে যুগে পর যুগে কিছু মানুষের সৃষ্টি হয়, তারা অনেকেই কোটি কোটি টাকায় করে ভোগ-বিলাস। আবার গড়েও তুলে ধন-সম্পদ এবং বাড়ি-গাড়ি। কিন্তু এমনও কিছু বিকল্প চিন্তা চেতনার মানুষকে খোঁজে পাওয়া যায়, জীবনে তার তেমন কোনকিছুর মোহ নেই, নেই তার নূন্যতম মনের ইচ্ছা পূরণের বৃহৎ উচ্চাকাঙ্খা। জীবন সঠিক পথে পরিচালনার উদ্দেশ্যে নেই চিন্তা। অতীব ক্ষিন চিন্তার এই মানুষটির অর্থের কোনো ধরনের লোভ না থাকলেও প্রয়োজন আছে তার পেটে ভাতে বেঁচে থাকার অধিকার। কিন্তু উপার্জনের আদৌ কোনোই পরিকল্পনা নেই, এমন এক প্রতিভাবান, সরল-সরল, কোমল মনের ছোট্ট মানুষ, শুধুই দেখে রঙিন রঙিন স্বপ্ন, চরম আশা আশঙ্কার অনেক ধরনের মিউজিক নিয়ে। মিউজিক জগতের বহু গুনে কিংবা প্রতিভার অধিরকারী ছেলেটি সবাইকে অবাক করে দেওয়ার মতোই। তার মিউজিকের নেশা নিত্য দিনের জীবন সঙ্গী। এমন ব্যক্তির নাম তার মো: আব্দুল বারী।

নওগাঁ জেলার মান্দা থানায় ১৩ নং কশর ইউনিয়ন এর পাঁজর ভাঙা গ্রামে নিজ পিতা-মাতা, সহধর্মিণী রাজিয়া সহ এক পুত্র সন্তান রনককে নিয়ে বসবাস করে। গ্রামের সহজ সরল মানুষের কাছে গান এবং মিউজিক বাজানোটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। ছেলে মেয়েরা তার কাছে মিউজিকের সহিত কিভাবে গান করতে হয় তা শিখে নিয়েই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিনোদন দিয়ে থাকে। এ মিউজিক প্রেমী আব্দুল বারী তাদের সহযোগী হয়েই সকল অনুষ্ঠানে মিউজিক বাজায়।
আব্দুর বারী যেন অনেক মিউজিক বাজাতে পারে। যেমন: হারমোনিয়াম, ড্রামস, কঙ্গো, জুড়ি, ফুলোট ও আঁড় বাঁশি। এর মধ্যে ড্রামস মিউজিকই উপস্থিত দর্শকের মাঝে বাজিয়ে বেশ আনন্দ পায়। জনপ্রিয় মিউজিক সহ অন্যান্য মিউজিক গুলো নিয়ে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বায়না যায়। এমন তরুণ প্রজন্মের প্রতিভাবান তারুণ্যের প্রতিক, স্বল্প ভাষী, মিউজিক ম্যান আব্দুল বারী অল্প বয়সেই অসংখ্য শ্রোতা এবং দর্শকের হৃদয় জয় করেছে । এখন তার বয়স ২৭/২৮ হয়তো হবে। ছাত্র জীবনের শুরুতেই নেমে আসে জীবনের এক অমানিশার ঘোর আঁধার, পড়া শোনা হয়নি বললেই চলে। সঙ্গীত, নৃত্যের সঙ্গে বিভিন্ন মিউজিকের সখ্যতায় ছোটবেলা কাটে তার। নিজস্ব স্টাইল বজায় রেখেই মিউজিক বা বাদ্যযন্ত্রে আত্মবিশ্বাসের সাথেই কাজ করে। এমন ছেলেটির মজার কাহিনীর আদ্যোপান্ত জেনেই, শ্রোতা কিংবা পাঠকের হৃদয় হয়তো সংস্কৃতি চর্চায় প্রসারিত হবে। সাংস্কৃতিক পরি মণ্ডলেই তার বেড়ে ওঠা নয়। বাবার নাম মো: কমর উদ্দিন শাহানা তিনি একজন গুণী মৌলবী। তার মাতা, মোছা: মনোয়ার বেগম একজন পর্দাশীল গৃহিণী মহিলা।

বাবা মিউজিক অনুরাগী না হলেও বংশে কিন্তু তার দাদা ছিল, একজন "কবি" গানের সরদার বা ছন্দের গায়ক। ক্লাস সেভেন পর্যন্ত এই গুনী মিউজিক ম্যান আব্দুল বারীকে তার বাবা ধরে বেঁধেই জোর পূর্বক লেখাপড়া শেখাতে পেরেছে। পরিবারের কেউ ভাবে নি সে প্রফেশনালি ড্রামস বাদক হয়েই লেখা পড়ার পাঠ চুকে দিবে। ইচ্ছে ছিল ছেলে বড় হয়ে সমাজের আর দশটা ছেলের মতো উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে চাকরি করবে। কিন্তু হায়! কি অদ্ভুত, বাল্য বয়সেই মস্তিষ্কের কোষে কোষে গেঁথে গেল যাত্রা দলের গান, যাত্রার নৃত্য আর প্রিয় সেই যাত্রার মিউজিক। সকল কিছু ছাপিয়ে দিনে দিনেই হাতের নাগালে নিয়ে নিল যাত্রার সেই 'ড্রামস মিউজিক'। তাকেই বাজিয়ে যেন মাতিয়ে তোলে আজ অবধি দর্শকদের মন। মন্ত্রমুগ্ধ বাদ্যের ঢংঙে অনেকেই বায়না করে।

তরুণ বয়সের দিকের কথা, নিজ গ্রামের স্কুলে প্রতি বছর যাত্রা নাটকে নারী চরিত্রের পাঠ গাওয়া এবং নাচনেওয়ালী মেয়ে নিয়ে আসতো। সেখানেই মোঃ আব্দুল বারী শৈশবেই তাদের সহিত একই তালে বা ভঙ্গিতে নাচনেওয়ালী সঙ্গে নাচতো। সুুুধী দর্শক গণ নারী-পুরুষের নৃত্যে বেশ মজা নিতো। তাছাড়া তার গায়ক হিসেবে পরিচিতি যতটুকুই ছিল তার চেয়েও নাচ ও মিউজিক বাজানোর পরিচিতি অনেকাংশেই যেন উর্ধে ছিল। মিউজিক বাজানো অভিজ্ঞতা তার দেখে দেখেই শেখা। তেমন কোন উস্তাদ গুরু ছিলো না, বলতে গেলে নিজস্ব প্রতিভা। তবে বাড়ির পাশে একজন দক্ষ, খুব প্রবীণ ব্যক্তি উত্তর অনেক সুন্দর হারমোনিয়াম এবং অর্গান বাজাতো। মোঃ আব্দুল বারী তার সঙ্গে উঠা বসা করতো। এই উত্তম নামের ব্যক্তি অব্দুল বারীর এমন প্রতিভা দেখে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেত। বলা যায়, অল্প বয়সে কচি মেধার ছেলেটিকে এমন ভাবে সঙ্গে না নিয়ে ঘুরলে হয়তো জীবনে শিক্ষা-দিক্ষার দ্বার প্রান্তে পৌঁছাতে পারতো। "আব্দুল বারী" কাঁচা বুদ্ধিতে উত্তমের সঙ্গী সাথী হয়ে দূর-দূরান্তের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচতো ও বিভিন্ন মিউজিক বাজিয়ে দর্শকদের আনন্দ দিত। আর এই সব কারণেই শ্রী উত্তম কুমার প্রয়োজনের তাগিদে মো: আব্দুল বারীকে ব্যবহার করতো। এমন ব্যতিক্রম চিন্তা ধারার ছোট্ট ছেলেটি উত্তমের ডাকে স্কুল ফাঁকি দিয়েই বিয়ে-বাদি, কিচ্ছা-কাহিনী, যাত্রা-পাটি এবং স্কুল-কলেজের অনুষ্ঠানে নৃত্য করা এবং মিউজিক বাজানোর কাজে দূরদূরান্তে চলে যেতো। তার বাবা মার হাজারো বাধা উপেক্ষা করে। লেখা-পড়ায় ক্ষতি হতে লাগল মুটেও সে গুণধর তরুণের টের পাওয়ার কোনই মানসিকতা ছিলোনা। শিক্ষক তার বাবাকে জানালেন আপনার ছেলে স্কুলে আসে না। স্কুল কর্তৃপক্ষ এই অনিয়মিত ছাত্র আর চায় না। বাবা নিরুপায় এখন এই ছেলেকে নিয়ে কি করবে? পরে ভাবনা চিন্তা করেই স্থির করলেন চার ছেলে ও দুই মেয়ে মধ্যে একটিকে হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হলে মন্দা হয়না। যথারীতি সেখানে আব্দুল বারীকে ভর্তি করিয়েও মিউজিক বাজানোর এ পোকা থেকে সরাতে পারেননি। আসলে তার মনে ভর করে থাকা ড্রামস মিউজিক। তাই তো মাদ্রাসার ছাঁদেই বানিয়ে ফেলতো "ড্রামস মিউজিক", তাদেরই অনেক ওজুর বদনা, পানির কলস ও খাবার প্লেট-বাটি। ছাত্রদের কাছে বাজিয়ে আনন্দ করতো এবং নাচতো।

সুতরাং প্রতিদিনের এমন আচরণে তার উস্তাদ চরম বেত্রাঘাত করলে সেখান থেকে পালিয়ে আসে নিজ বাড়ি। দু’তিন বার পাঠিয়েও তাকে মন স্থির করাতে পারেনি। তবে বলতেই হয় এই অল্প সময়ের মধ্যেই ৩ পারা কোরআন শরীফ মুখস্থও করেছে। তার এত সুন্দর শুদ্ধ উচ্চারণ, শ্রুতি মধুর গলা শুনলে সত্যিই অবাক হতে হয়। প্রতিভাবান এই ছেলে লেখাপড়ায় অনুগত নাহলে আবারও চরম মারধর করে। জেদী এই ছেলে "আব্দুল বারী" পালিয়ে যায় বাড়ি থেকে এবং ৬ মাস নাটরের এক যাত্রা ক্লাবে উঠে। সে অল্প সময়ের মধ্যেই যাত্রা দলের মেয়েদের নৃত্য গুরু হয়ে উঠে। সেখানে থাকতে থাকতেই যাত্রার সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র বাজনো পুঙ্খানুপুংখ শিখে ফেলে। বিশেষ করে যাত্রা দলের বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে ড্রামস বাজানোর পারদর্শীকতায় অতুলনীয় ছিল। যেখানেই যাত্রা দল ভাড়া যেতো সেখানেই মেয়েদের সঙ্গে চলে যেতো। কারণ তাদের গুরু ড্রামস না বাজালে মেয়েরা নাকি নাচতে পারতো না। এমন প্রতিভাবান ছেলের সন্ধান অনেক খোঁজা খুঁজি পর মিলে। বাড়িতে জোর করে ধরে এনেও এ জগৎ থেকে সরিয়ে রাখতে পারেননি তার বাবা। কি করবে ছেলেকে? পড়াশুনায় নারাজ, স্থির করলেন তাকে বিয়ে দিলে হয়তোবা ঠিক হবে।যথারীতি বিয়ে হয় সংসার একটি পুত্র সন্তান আসে কিন্তু এই মিউজিক জগৎ থেকে দুরে রাখতে পারেন নি। স্ত্রীর রাজিয়া দেখল তাকেই লেখা পড়া করতে হবে। না হলে সংসার চলবে কি করে। তাই তার স্ত্রী বিএ পাশ করেই এখন আশা ব্যাংক এর ক্যারিয়ার। কিন্তু তার আজও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে অনেক পরিকল্পনা, মনের ইচ্ছা পুরনের আকাঙ্খা। তার চাওয়া একটাই "মিকচার মেশিন" অর্থাৎ সেই যন্ত্রের মাধ্যমেই নাকি সব ধরনের মিউজিক মিশ্রণ করে শ্রুতি মধুর বাদ্যে শ্রোতা, দর্শনের মন জয় করে। তাছাড়া কোন সুহৃদ ব্যক্তির সান্নিধ্য পেলে তার ড্রামস মিউজিক বাদ্যটি কাজে লাগাতে আশা পোষণ করে।

লেখক : টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

বিস্তারিত খবর

তারেক রহমানকে দেশে ফেরাতে ‘বাংলাপোল থেকে ইন্টারপোল’

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-১৪ ০২:৫১:৩৮

তারেক রহমান ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। তাকে চাইলেও ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে পারবে না।

ব্রিটিশ সরকার যদি বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ অনুযায়ী ইন্টারপোলের কাছে হস্তান্তর করতে চায়, তাহলে ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ আইনের আর্টিকেল ২, ৩ ও ৬ ধারা পরিবর্তন করতে হবে, যা কখনোই সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে যেসব দেশের বন্দিবিনিময় চুক্তি, বহিঃসমর্পণ চুক্তি বা অপরাধী বিনিময় চুক্তি রয়েছে শুধু সেসব দেশ থেকেই অপরাধীকে ফেরত পাঠান যায়। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের এ ধরনের কোন চুক্তি নেই। ফলে তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনারও কোন ধরনের সুযোগ নেই। বরং উল্টো ব্রিটিশ সরকারের দায়িত্ব তার জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করা।

১৯৪৮ সালের সার্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণাপত্রের ১৪নং অনুচ্ছেদ মতে বিশ্বের সব মানুষের নিজ দেশের সরকারের নির্যাতন বা নিগ্রহ থেকে বাঁচতে অন্য কোন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের অধিকার রয়েছে। বাংলাদেশ ও ব্রিটেনসহ বিশ্বের সব দেশই এই আইনে স্বাক্ষরদাতা। তাছাড়া কাস্টমারি ইন্টারন্যাশনাল ল এবং ১৯৫১ সনের শরণার্থী কনভেনশন মতে এরূপ নিগৃহীত ভীত কোন ব্যক্তিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেশে ফেরত পাঠান যাবে না। সেই সঙ্গে যদি কোন ব্যক্তির তার দেশের বিচারে মৃত্যুদণ্ড শাস্তির সম্মুখীন হওয়ার আশংকা থাকে, ব্রিটেন সেই আশ্রয়প্রাপ্তকে ফেরত পাঠাতে পারবে না। তাই তারেক রহমানকে ব্রিটেন থেকে ফেরত দেয়াটা অনেকটাই অসম্ভব।

আসলে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনের কৌশল হিসেবেই ইন্টারপোলের ভয় দেখাচ্ছে সরকার। যদিও এপর্যন্ত বাংলাদেশী ৫৭ নাগরিকের বিরুদ্ধে মোস্ট ওয়ান্টেড হিসেবে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি থাকলেও তাদের কাউকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারেনি সরকার। অথচ আদালত দ্বারা এখনও সাজাপ্রাপ্ত না হওয়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন আমাদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। সরকারের আসল উদ্দেশ্য ফিরিয়ে আনা নয়। বরং তারেক রহমানের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে আন্তর্জাতিক বিশ্বে তাকে কলংকিত হিসেবে দেখান। সরকার আমাদের পুলিশ বাহিনীকে যেভাবে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, এবার ইন্টারপোলকেও একইভাবে ব্যবহার করে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। যদিও এটা করা কখনোই সম্ভবপর নয়।

আমরা আমাদের নেতাদের সব অপকর্ম ও দুর্নীতির বিচার চাই। রাষ্ট্রের কোষাগার লুট করে আর গরিব মানুষের টাকা ছিনতাই করে রাজনীতির এই ভয়াবহ রাজনৈতিক-অর্থনীতির ধ্বংস চাই। এদেশে সরকারি কমিটি করে রাজনৈতিক বিবেচনায় হাজার হাজার মামলা প্রত্যাহার করা হয়, এমনকি ফাঁসি হলেও রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে মাফ পাওয়া যায়। এরূপ অপসংস্কৃতির অবসান আমাদের কাম্য হলেও এ থেকে সহসা মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। যেসব দুর্নীতির মামলায় তারেক জিয়ার বিচার হচ্ছে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধেও একই রকমের হাজার হাজার মামলা ছিল। কিন্তু তারা ক্ষমতায় এসেই নিজেদের বিরুদ্ধে করা সাড়ে সাত হাজারের বেশি এরকম মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বিরোধী দলের কারও মামলা প্রত্যাহার করা তো দূরের কথা উল্টা নতুন নতুন মামলা দিয়ে তাদের জুলুম-নির্যাতন করা হচ্ছে। তাই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এসব মামলা পরিচালনার কোন নৈতিক অধিকার এই সরকারের থাকা সঙ্গত নয়। বাংলা পুলিশ দিয়ে বিরোধী দলকে নির্যাতন করা সম্ভব হলেও ইন্টারপোলকে দিয়ে সেই কাজ করান কখনই সম্ভব নয়। এটা হয়তো সরকারও জানে।

লেখক : সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ।।

বিস্তারিত খবর

নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে জন্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুরুত্ব অদ্বিতীয়

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-১০ ১৪:৫২:৪৩

নারী সম্ভবত মহাজগতের সবচেয়ে আলোচিত এক প্রাণী, এ কথা বলেছিলেন ভার্জিনিয়া উলফে, তিনি নিজে এবং নারী সমাজের জন্যেই একটি নিজস্ব কক্ষ চেয়েছিল, কিন্তু তা পান নি। এমন এ ধারার আলোচনাতেই তাঁর পতিপক্ষের সবাই অংশ নিলেও শুধু যার সম্পর্কে অনেক গভীর আলোচনা, সেই নারীই বিশেষ সুযোগ পায় নি অংশ নেয়ার। বলতেই হয় এমন পতিপক্ষটির নাম পুরুষ, নিজের বানানো অলীক বিধাতার পার্থিব প্রতিনিধি, আর পুরুষমাত্রই যেন খুুুব প্রতিভাবান, আবার কেউ কেউ তাঁর বিধাতার চেয়েও নাকি প্রতিভাদীপ্ত;- অন্ধ ও বধির, লম্পট ও ঋষি, কবি ও কামুক, দালাল ও দার্শনিক, বালক ও বৈজ্ঞানিক, পাপী কিংবা প্রেরিত পুরুষ, অর্থাৎ এমন এ পুরুষ প্রজাতির সবাই অংশ নিয়েছিল নারী সম্পর্কেই অন্তত একটি নেতিবাচক শ্লোক রচনায়। কিন্তু ঐ শ্লোক আসলেই যেন অশ্লীল আবর্জনার মতো। এমন প্রতিপক্ষ কিংবা এই পুরুষ জাতিরা কখনো কারো মূল্য বা অধিকারকে স্বীকার করে না। এমনকি নারীদের অস্তিত্বই স্বীকার করে না অনেক সময়। সুতরাং পুরুষরা নারী সমাজ সম্পর্কে বেশ কয়েক হাজার বছর ধরে যেগুলো শ্লোক রচনা করেছে আবার তার অনেক বিধিবিধান সবটাই যেন সন্দেহজনক এবং আপত্তিকর। বলতেই হচ্ছে পুরুষ নারীকে দেখে দাসীরূপে, করেও রেখেছে দাসী; তবে স্বার্থে এবং ভয়েই কখনো সখনও মহিমাকীর্তন করে দেবী রূপে। এমন চোতুর পুরুষ এই প্রাণী, নারীদের নিন্দায় সামান্য সত্য কিংবা সামাজিক ভাবে তাদের মূল্যায়ন করলেও পর্বতীতে যেন মহিমাকীর্তন ছেড়ে তারা সুপরিকল্পিত ভাবে প্রতারণা করে। যুগে যুগেই পুরুষরা সাধারণত প্রতারণা ক'রে এসেছে নারীকে। তবে আশান্বিত কথা গুলো হচ্ছে উনিশশতক থেকে একগোত্র পুরুষ লড়াই করছে নারী সমাজের পক্ষে।তাছাড়াও বর্তমানে আবার গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এক চৌকশ মেধাবী সুদক্ষ নারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যেই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই কাজ করছে।
নারীর ভাগ্য উন্নয়নের জন্য বিশ্ব প্রেক্ষাপটের সহিত বাংলাদেশও আজ অনেকাংশেই সক্রিয়। এই জন্যে বাংলাদেশ সরকারের রয়েছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কর্মসূচি। বলতেই হয় আওয়ামী লীগ সরকার এমন উদ্যোগকে বাস্তবায়িত করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে নারীদের কল্যাণেই কাজ করছে তাঁর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় স্বতন্ত্র ভাবে বা স্বতঃস্ফূর্ততা সহিত। এমন এই মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলি তা হচ্ছে, মহিলা ও শিশু বিষয় সম্পর্কিত জাতীয় নীতি, উন্নয়ন মূলক অনেক কর্ম সূচি গ্রহণ, মহিলাদের আইন ও সামাজিক অধিকার বিষয়াদি, মহিলাদের কর্মের সুযোগ সৃষ্টি ইত্যাদি। এ আওয়ামী লীগ সরকার নারীদের আর্থসামাজিক অবস্থানকেই মজবুতের জন্যেই চাকরিজীবী নারীদের ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করেছে, তাদের সন্তানের পরিচয়ের ক্ষেত্রেও বাবার পাশাপাশি মায়ের নামটি সংযুক্ত করেছে। এই দেশের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুুুষদে সমান অধিকার। এই অধিকারকে সরকার নিশ্চিত ভাবেই প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে কাজ করছে।
গ্রামীণ নারী সমাজের আর্থ-সামাজিক অবস্থানকেই মজবুত করার জন্যে বিভিন্ন রকম ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের জীবনযাপনের মানোন্নয়ন, কাজকর্মে সম্পৃক্ত করবার জন্যেই গ্রামে "একটি বাড়ি, একটি খামার" প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তাদের তাঁত শিল্প, হস্ত শিল্প এবং কুটির শিল্প বিকাশের জন্যে এ সরকার থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। গ্রামীণ নারী সমাজের যখন সহায়তা দেওয়া হয়, দেখা যায় তারা তাদের প্রদেয় সহায়তা কখনো নয় ছয় হয় না। এই সহায়তাকেই পুরোপুরি ব্যবহার করে নারীরা পরিবারকে আর্থিক সচ্ছলতা দিতে পারছে।
জানা দরকার যে, জাতীয় সংসদে নারীদের জন্যেই ৩০টি সংরক্ষিত আসনসহ পুরুষের পাশাপাশি তাঁরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারে। তা ছাড়াও তাঁরা সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের মহিলাদের জন্যেই আছে সংরক্ষিত আসন। আবার চাকরিতেও মহিলাদের জন্য রয়েছে বিশেষ ধরনের এক পদ্ধতি। সেই পদ্ধতিতেই চাকরি পেতে সহায়ক হয়। বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠলেও এ দেশের সংসদ বা সরকারি চাকরিতে নারীর জন্য সংরক্ষিত আসন ও কোটা সংখ্যা বৃদ্ধি এক অর্থেই নারী সমাজকে এসব গুরুত্ব পূর্ণ পদে আনতে আগ্রহী করেছে এ সরকার।শহুরে নারীদের পাশাপাশি গ্রামীণ নারীর অবস্থানের দিকে যদি তাকাই, তাহলে সেখানেও নারীদের প্রতি বর্তমান সরকার বহু পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশে নারী ক্ষমতায়ন এমন সরকারের একটি গুরুত্ব পূর্ণ লক্ষ্য। নারীদের জন্যেই বিনিয়োগের একটি বিশেষ ব্যবস্থা বিদ্যমান রেখেছে সরকার। এমন নারীদের হাতে যখন অর্থ আসে, তখন তাঁদের দরিদ্র পরিবার জানে এখন দুঃখের দিন গুলোর পরিসমাপ্তি হয়তো সামনেই। গ্রামীণ নারী সমাজকেই আর্থিক সহায়তা দিয়ে তাঁদের পায়ের তলার মাটিকে শুধু যে সরকার মজবুত করছে তা না, সে নারীদের স্বাস্থ্যের দিকেও যেন সরকারের বহু দৃষ্টি রয়েছে। যার ফলেই আজ, গ্রামীণ নারীর সুবিধার্থে গড়ে উঠেছে বহু কমিউনিটি ক্লিনিক। সুতরাং মাতৃমৃত্যু হ্রাস এমন এ বাংলাদেশে অনেকখানিই সফলতার দ্বারপ্রান্তে।
বাংলাদেশের নারীসমাজ রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বলা যায়, একেবারেই অনেক আগে পিছিয়ে ছিল। এখন নারীদের দিকে বর্তমান এই আওয়ামী লীগ সরকার চৌকশ সু দৃষ্টির জন্যেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং চাকরিতেও অনেকাংশে গুরুত্ব পূর্ণ ভাবে অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে। উন্নয়নের দেশ, এ বাংলাদেশ। নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্যে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের একটি রোল মডেলে অবস্থান করছে বলেই মন্তব্য করেছে, জাতীয় সংসদের স্পিকার- "শিরীন শারমিন চৌধুরী"। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে স্পিকার, সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী, সংসদ উপনেতা সহ বিরোধী দলের নেতাও- "নারী"।জাতীয় সংসদে মোট- '৭৩ জন' নারীর প্রতিনিধিত্বও রয়েছে। উচ্চ কিংবা নিম্ন আদালতেও আসীন আছে উল্লেখ যোগ্য সংখ্যক নারী বিচারক। আবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়েও রয়়েছে নারী সচিব। দিনে দিনে বাড়ছে নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা। এ দেশের নারীরা পুলিশ, সেনা বাহিনী বা জাতি সংঘের শান্তি বাহিনীর মতো চ্যালেঞ্জিং কাজে উচ্চ পদে সু-দক্ষতার সঙ্গেই কাজ করছে। নারী বিজ্ঞানী, নভোচারী, গবেষক, উদ্ভাবক, রাষ্ট্র নায়ক, যোদ্ধা থেকে শুরু করেই যেন সমাজের সর্বস্তরে তাঁদের প্রতিভা, মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে। সমাজে এ নারীদের ব্যাপক অংশ আজও যে পশ্চাদপদ অবস্থায় পড়ে রয়েছে তা এই পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণেই হয়তোবা কিছুটা। এ অসম্ভব কাজ গুলোকেই সম্ভবনাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দিয়েছে গণমানুষের জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সুুতরাং নারী সমাজের গতানুগতিক ভাবেই শিক্ষকতায়, ডাক্তারি পেশায় এবং মিডিয়া লাইনেও নারীর আধিপত্য এবং তাদের দাপট রয়েছে।
সুতরাং ঐতিহ্যগত ভাবেই কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতির পাশাপাশি এমন এই বাংলাদেশ এখন শিল্প ভিত্তিক অর্থনীতিতেই গড়ে উঠছে। এ দেশীয় তৈরি পোশাক ও ব্যবহৃত বিভিন্ন ঔষধ শিল্পের সহিত তথ্য প্রযুক্তি খাতও বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে চলছে। একটু জানা দরকার, এ দেশের পল্লী অঞ্চলে নারী সমাজ তেমন অগ্রগতি না হলেও অপর দিকেই যেন নারীরা ধর্ষণ, যৌননির্যাতন, এসিডনিক্ষেপ, নারীহত্যা, নারীপাচার,
নারী অপহরণ, নারী বৈষম্য ও নারীকে বিভিন্ন ভাবে শোষণের সঙ্গে নানা ধরনের অন্যায় অবিচার থেকে অনেকাংশেই যেন মুক্তি দিতে পারছে সরকার। তবে এমন এই সরকারের ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে যা কিছু চোখে পড়ছে তাকেও যথাযথ ব্যবস্থাও নিয়েই খুব দ্রুতগতিতেই বিচারের আওতায় নিয়ে আসছে।বাংলাদেশের নারীদের সুরক্ষায় অসাম্প্রতিক সময়ে হয়েছে বিভিন্ন আইন। প্রিভেনশন অ্যান্ড রেসট্রেইন অব হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যাক্ট, পর্নোগ্রাফি কন্ট্রোল আইন সঙ্গেই পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ আইন ইত্যাদি। নির্যাতিতা নারীদের আইনগত সুবিধা এবং অভিযোগ নেওয়ার জন্যেই এ দেশে প্রতিটি জেলায় খোলাও আছে স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার। তাই ধর্ষিতা নারীদের অনেক হেল্প করার জন্যেই যেন কয়েকটি সরকারি হাসপাতালেও সরকারের উদ্যোগে জরুরি পরীক্ষার জন্যেই ডিএনএ ল্যাব খোলা হয়েছে।
নারী সমাজের পায়ের তলা সৃদৃঢ় ভিত্তি তৈরি করতে অবশ্য প্রয়োজন রয়েছে নারী শিক্ষা। এখন এ দেশে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সব ছাত্রীদের বিনামূল্যে অধ্যয়ন করতেই সহায়তা প্রদান করছে। প্রবেশিকা পরীক্ষা থেকে শুরু করেই যদি এমন নারী সমাজের বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফলের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হয়, তবে ভালো ফলাফলধারী হিসেবে দেখা যাবে নারীই এগিয়ে রয়েছে। শুধু শহরে নয়, গ্রামেও যে মেয়েটি প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাচ্ছে তার মধ্যেও ব্যক্তি সচেতনতা দিনে দিনেই গড়ে উঠছে। বর্তমানে বাংলাদেশের নারী শিক্ষায়, স্বাস্থ্যে, আইনগত ভাবে, আর্থিকভাবে, মানসিক সাপোর্টে প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রকে সঙ্গে পাচ্ছে। সেই সঙ্গে নারীর অগ্রগতির পথে পাশে রয়েছে তাঁর পরিবার।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী "শেখ হাসিনা" গ্রামীণ নারীদের অবস্থানকে চৌকশ ভাবে তুলে ধরে বলেন, তাদের জীবন যাপন এবং অবস্থাকে সঠিক সময়েই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের প্রচ্ছন্ন ভূমিকার প্রতি এই সরকার ও জনগণের অনুভূতিকে জাগ্রত করার সঙ্গে নারীর বহুমুখী কার্যক্রমের সমর্থন দিতে হবে। তাদের বহু ধরনের বাস্তবতাকে তুলে ধরে এই নারীদের অর্থনৈতিক কিংবা সামাজিক মর্যাদাকেই সমুন্নত রাখতে হবে। পরিবেশ ও প্রাণ বৈচিত্র্য এবং তাদের কৃষিকর্ম রক্ষায় গ্রামিণ নারীদের যে ভূমিকা রয়েছে, তাঁর উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট ভাবে নিশ্চিত করেই সহযোগিতা প্রদান প্রয়োজন। এ দেশের গ্রামাঞ্চলে পরিশ্রমী নারীর পাশা পাশি সকল নারী সমাজকেই প্রচ্ছন্ন ভাবে ব্যাপক অবদানে রাখলে নারী সমাজ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়নে আর অবহেলিত থাকবে না। তাঁদের ঘর-সংসারের যাবতীয় কাজকর্মের পাশাপাশি সামান্য আয়ে তাঁরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করবে বলেই জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বাস। তিনি বলেছেন, পারিবারিক ভাবেই নারীরা বিশেষ করে গ্রামীণ নারী সমাজ প্রচন্ড চাপের মুখে থাকে। আবার দেখা যায়, তাঁরা কোনো কাজ করেও শ্রমমুল্য এবং সম্মান ঠিক মতো পায় না। অত্যাচার, নির্যাতন আর বৈষম্যের মূল শিকারে অবস্থান করে গ্রামীণ নারী সমাজ। আবার স্বীকার করে নিতে হবে যে, গ্রামীণ নারীসমাজ ঐতিহ্যগত ভাবে যেন গ্রামীণ কৃষি ও বীজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও প্রাণ বৈচিত্র্য এবং পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। কৃষি ব্যবস্থার কাঠামো গড়ে উঠেছে এক কথাতেই বলা যায় নারী সমাজের বহুবিধ জ্ঞান, পরিশ্রম এবং দীর্ঘ অনুশীলনের মাধ্যমে। বাংলাদেশের নারীসমাজ পরিশ্রম করেই ঘরে ঘরে বিভিন্ন প্রকারের কৃষি বীজ উৎপাদনের মধ্য দিয়েই পুরুষদের চাষাবাদের জন্য সহযোগিতা করে থাকে। পাশাপাশি পরিবার কিংবা সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেই তাঁদের ভূমিকাও সারা বাংলাদেশ জুড়ে এক ধরনের ঐতিহ্যপূর্ণ সংস্কৃতিতে পরিনত হয়েছে। আর এ দেশের গোল্ডেন গার্লরা যে আমাদের চরম শক্তি। গোল্ডেন গার্ল তথা আমাদের গার্মেন্টস-নারীরা তো বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অনেক সাফল্য এনেছে। তাঁদের এ সরকার অনেক সুযোগ সুবিধা দিয়েছে এবং তাঁরা অবিরাম পরিশ্রম করেই এ দেশের সুনাম বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।
প্রত্যন্ত গ্রামে কিংবাা শহরে গরিব-অসহায় মেয়েদের বাল্যবিবাহের শিকার হয়, আবার অনেক নারীরাও যেন নেশায় আসক্ত হয়়ে যাাচ্ছে। এই সন্তানদের তো মানুষ করতে হবে। এমন সন্তানকেই মানুষের মতো মানুষ হওয়ার দোষ বা দ্বায় সরকারের নয়। তবুও এ আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিবন্ধী নারী সহিত সকল নারীসমাজের আত্মমর্যাদা, বাল্যবিবাহ এবং নেশায় আসক্ত থেকে পরিত্রাণের ব্যবস্থা নিয়েছে। সুুতরাং পরিশেষেই একটি কথা বলি, নারীরা কখনই কোনো দুর্বল মানুষ নয়। কেউ নারী হয়ে জন্মায় না। সমাজ একটি মানব শিশুকে ধীরে ধীরে নারী'তেই পরিণত করে। শৈশব থেকে হাজারো নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে হতেই হয় "নারী"। পারিবারিক এবং সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে নারীরা নিজেই নিজেকেই অবলা ভাবতে শিখে। নারীর মন ও মননের বিকাশের জন্য শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। নারীদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হতে হবে, তাদের কারো উপর নির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকার মতো সে দুর্বিসহ এবং অসহায় জীবন আর নেই। তাই নারীকে ভাঙতে হবে তার শৃঙ্খল। মানুষ হিসেবেই মূল্যায়ন কিংবা একটি সম্মানজনক জীবন নারী পেতেই পারে। তাই "শেখ হাসিনা" যোগ্য মানুষ হিসেবেই বাঁচার অধিকার যেন নারী সমাজকে নিশ্চিত করছে। তিনি বলেন, সমাজ তখনই পরিবর্তন হবে, যখন এই সমাজের সর্বস্তরের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে। সুতরাং দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য সকল পুরুষদের প্রতি আহ্বানসহ প্রত্যেকে নারীদের উন্নততর জীবনচর্চারও নির্দেশনা দিয়েছে।
লেখক : কলামিস্ট ও প্রভাষক।

বিস্তারিত খবর

কোটা বাতিলের ঘোষণা নাকি প্রতারণা?

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-০৪ ১৪:৩৫:১০

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে একই স্থানে একই বিষয়ে একই মুখে দু’রকম ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছেন। তা হলো কোটা বাতিলের ঘোষণা। আজ ০৩ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে মন্ত্রীসভার বৈঠকে তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে কোটা বাতিলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছেন। এর আগে মাননীয় মন্ত্রীপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকুরিতে কোটা বাতিলের প্রস্তাব করেছেন। ঠিক তখনি ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটির অধীনে সরকারি ব্যাংকসমুহে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে অনেকগুলো পদে শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হয়েছে। (বিজ্ঞপ্তি নম্বর- ১৫১/২০১৮, তারিখ- ১আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ)। ৪০তম বিসিএসেও মুক্তিযোদ্ধা কোটাসুবিধা ও তাদের ৩২বছর বয়সের সুযোগ রয়েছে। যেসব পদে কোটা বাতিলের ঘোষণা হয়েছে, ঠিক তাতেই শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বহু নিয়োগ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে চলমান রয়েছে। অর্থাৎ একদিকে মাত্র কয়েকটি পদে কোটা বাতিলের ঘোষণা অন্যদিকে উক্ত পদেই শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি কেমন হল? এটি কি আদৌ কোটা বাতিলের ঘোষণা, নাকি আগের মতোই প্রতারণা?
কোটা অর্থ, অন্যায় বৈষম্য বা অন্যায় সুবিধাদান। এতে একপক্ষ বৈষম্যের শিকার হয় এবং অন্যপক্ষ অন্যায় সুবিধা পায়। জনগোষ্ঠির মাঝে ভারসাম্য রক্ষা বা সমতা বিধানে কোটার প্রচলন হয়। বাংলাদেশে ৫৬ভাগ কোটা প্রচলিত। এতে ১০ভাগ করে জেলা ও নারী কোটা, ০৫ভাগ উপজাতি কোটা, ০১ভাগ প্রতিবন্ধী কোটা এবং সর্বাধিক ৩০ভাগ রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাকোটা। জেলা, নারী ও উপজাতি কোটায় দেশের প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠি বিশেষ সুবিধা পায়। প্রকৃতপক্ষে বিভাগীয় ও প্রত্যন্ত জেলার জীবনমান সমান নয়। পুরুষ ও নারীর যোগ্যতা ও জীবনমান সমান নয়। একইভাবে পাহাড়ি ও সমতল এলাকার জীবনমানও সমান নয়। এসব ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষায় অন্তত ০৩ভাগ করে কোটা বিবেচনা করা যায়। আর একান্ত মানবিক কারণে ০১ভাগ প্রতিবন্ধী কোটা বাতিল করা উচিত নয়। এ ১০ভাগ কোটা বহাল রাখা, একান্ত মানবিক বিষয়।

৩০ভাগ মুক্তিযোদ্ধাকোটা তেমন গুরুত্বপুর্ণ নয়। এটি সম্পুর্ণ ঐতিহাসিক ও চেতনার বিষয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পর্যালোচনায় কোথায়ও এ কোটার অস্তিত্ব নেই। বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, ভাতা ও কোটা ছিলনা। তখন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ছিলনা। যারা বঙ্গবন্ধুর প্রতি কোটা বৈষম্যের অপবাদ দেন, তারা তাঁর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বিকৃত করেন। কেউ যদি বলেন, বঙ্গবন্ধু মুক্তিযোদ্ধা কোটা চালু করেছেন বা মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দিয়েছেন; সম্পুর্ণ মিথ্যা কথা। বঙ্গবন্ধু ২লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা, তাদের জন্য ভাতা ও কোটা চালু করলে, কখনোই ৩০লাখ শহীদের ঘোষণা দিতেননা। বঙ্গবন্ধু তাঁর সকল ভাষণ ও কর্মকান্ডে তৎকালিন সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালিকে একীভূত করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য শুধু ৬৭৬ যোদ্ধাকে বিশেষ খেতাব প্রদান করেছেন। ঘোষিত ৩০লাখ শহীদের পক্ষ থেকে ৭জনকে বীরশ্রেষ্ঠ এবং অবশিষ্ট সকল যোদ্ধা, বন্দী, আত্মত্যাগী ও সহযোগী বীর বাঙ্গালির পক্ষ থেকে ৬৬৯ জনকে (বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতিক) খেতাব প্রদান করেছেন। তিনি দেশের সবাইকে মুক্তিযোদ্ধা ও লাখো শহীদের পরিবারভুক্ত করেছেন। তিনি ৩০লাখ শহীদ ও অগণিত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, তাদের জন্য ভাতা ও তাদের সন্তান-সন্ততির জন্য কোটা চালুর কথা কখনো ভাবেননি।  এজন্যই তিনি বাঙ্গালি জাতির পিতা স্বীকৃত হয়েছেন।
বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতের পর স্বার্থান্বেষী রাজনীতিবিদগণ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অযথা বাড়াবাড়ি করেছেন। তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বর্জন করে সাড়ে সাত কোটি বীর বাঙ্গালির পরিবর্তে নিজেদের পছন্দমত ২লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা করেছেন। তালিকাভুক্তদের জন্য ভাতা ও তাদের সন্তান-সন্ততির জন্য কোটা চালু করেছেন। জাতীয় সংসদ থেকে বাজেট বরাদ্দ দিয়ে অবৈধ স্বার্থের বিনিময়ে কোটাভোগীদের রাজনৈতিক হাতিয়ারে ব্যবহার করেছেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের অধীনে কমপক্ষে ৪/৫টি পরিবারকে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসুবিধা প্রদান করে তাদের দ্বারা ভোটকেন্দ্র দখলের পায়তারা করেছেন। এভাবে মুক্তিযোদ্ধা কোটাভোগীরা সরকারের কাছে গুরুত্বপুর্ণ বিবেচিত হয়েছেন। সরকার তাদের স্বার্থ রক্ষায় একটি পুর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় চালু করেছেন। এতে হাজার হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দিচ্ছেন। দেশের সকল চাকুরি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে ৩০ভাগ মুক্তিযোদ্ধাকোটা পুরোপুরি পরিপালন করেছেন। স্বাধীনতার পর এযাবত দেশে যত নিয়োগ হয়েছে এবং তাতে ৩০ভাগ মুক্তিযোদ্ধাকোটা পরিপালনে যেটুকু ব্যাত্যয় ঘটেছে, তা পুরণ করেছেন। যেমন ধরুন, কোনো প্রতিষ্ঠানে এযাবত ১০০০ নিয়োগ হয়েছে। তাতে ৩০ভাগ মুক্তিযোদ্ধাকোটায় ৩০০জন নিয়োগের কথা। হয়তো ১০০পদে ব্যাত্যয় ঘটেছে। বর্তমানে উক্ত প্রতিষ্ঠানে আরো ১০০পদ খালি হয়েছে। তাতে মুক্তিযোদ্ধাকোটায় ৩০পদ ও ব্যাত্যয়ঘটিত ১০০পদ মিলে সম্পুর্ণ নিয়োগপ্রক্রিয়া শুধু মুক্তিযোদ্ধাকোটায় সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি বিসিএস, বিভিন্ন ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধাকোটায় নিয়োগ হয়েছে। এভাবে দেশের সকল প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা কোটাভোগীগণ প্রাধান্য লাভ করেছেন। ২লাখ তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার থেকে কোটাভোগীরা সংখ্যায় প্রায় ২০লাখে উন্নীত হয়েছেন। এমতাবস্থায় সরকার কোটা বাতিলের ঘোষণা দিলেও তা মুক্তিযোদ্ধা কোটার ক্ষেত্রে কখনো প্রযোজ্য হবেনা। ষঢ়যন্ত্রের মাধ্যমে কোটা বাতিলের ছলনায় কোটাভোগীদের অপশক্তি প্রদর্শনে সরকার তাদেরকে আন্দোলনে নামিয়ে শোডাউনের পায়তারা করেছেন। অর্থাৎ সরকার ছলেবলে কৌশলে মুক্তিযোদ্ধাকোটা বহাল রাখবেন।
মূলত সরকারের উচিত, কোটার যৌক্তিক সংস্কার করা। উল্লেখিত ১০ভাগ মানবিক কোটা বহাল রেখে মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল কোটা বাতিল করা। বাঙ্গালি জাতির পিতার মহান আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা রক্ষা করা। এপ্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা কোটাভোগীদের অসার দাবি যৌক্তিকভাবে খন্ডন করা। তা হলো- দেশের কোটাবঞ্চিত কোটি কোটি ছাত্রজনতা, তারাও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম। তারাও বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম। তারাও লাখো শহীদ প্রজন্ম। তারা অমুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম নয়। শুধুমাত্র ২লাখ তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা দেশ স্বাধীন করেনি। প্রচলিত ২লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ও কোটার ফলে ৩০লাখ শহীদের আত্মত্যাগ অস্বীকার করা হয়েছে। লাখো শহীদ প্রজন্মের প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে। বাঙ্গালি জাতির পিতার মুখশ্রিত ’১৯৭১ এর সকল বাঙ্গালিই মুক্তিযোদ্ধা’ ঘোষণাটি শাস্বত ও চিরন্তন সত্য। যারা এ সত্য অস্বীকার করবে, তারা বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম নয়। সুতরাং শুধুমাত্র প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকুরিতে নয়, সকল চাকুরিতে কোটা বাতিলের ঘোষণাটি  দ্রুত গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা উচিত। এছাড়া সরকারের এ ঘোষণা, সাব্যস্ত হবে নিছক প্রতারণা।


বিস্তারিত খবর

বিশ্বের ১'শ ব্যক্তির মধ্যেই পলককে রাজনীতিবিদ ক্যাটাগরিতে মূল্যায়ন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-২৬ ১৩:৫৮:৫৩

বাংলাদেশের সাংবিধানিক নামের এইদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। এমন এই দেশ সুুুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা, মাছে-ভাতের নদী মাতৃক দেশ। এমন দেশের সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। সুতরাং এমন এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার উঠে পড়েই লেগেছে। বলতে বাধা নেই এই দেশ, একটি উন্নয়নশীল দেশ। এইদেশে শিক্ষার হার উন্নত দেশের তুলনায় কম বলা চলে। দেখা যায় স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষার মানের উন্নয়ন ঘটেনি সেই হারে। আবার মানুষের জীবন যাপনের ব্যাপক পরিবর্তনও ঘটেছে। সাথে সাথে রুচিবোধের পাশা পাশি সামাজিক রীতিনীতি, কৃষ্টি কালচারের চর্চাটাও অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এই দেশের সরকার বৃহৎ একটি স্বপ্ন কিংবা আশা আকাঙ্ক্ষার আলোকে সমাজ পরিচালিত করছে। বাংলাদেশকে নিয়ে সুচিন্তিত পরিকল্পনায় আওয়ামী লীগ সরকার বিরাট এক পরিবর্তন আর ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ নামক একটি প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
বর্তমান সরকার ডিজিটাল কার্যক্রমের মাধ্যমে সারা বিশ্বে তথ্য প্রযুক্তির সুফল পাওয়ার লক্ষ্যেই নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগ সরকার মহাকাশে খুব গুরুত্বপূর্ণ এক সফল নির্মাণ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। তবে জানা দরকার মহাকাশে বিভিন্ন প্রকার স্যাটেলাইট রয়েছে। এই গুলোর মধ্যে- 'আবহাওয়া স্যাটেলাইট,' 'পর্যবেক্ষক স্যাটেলাইট,' 'ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট'। তাছাড়া বিএস-ওয়ান স্যাটেলাইট হচ্ছে যোগাযোগ ও সম্প্রচার স্যাটেলাইট।
"বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট" এর কাজ মুলত টিভি চ্যানেল গুলোর স্যাটেলাইট সেবা নিশ্চিত করা। এমন এই স্যাটেলাইটের সাহায্যে চালু করা যাবে ডিটিএইচ বা ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস। তাছাড়াও এই 'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট' যেসব জায়গায় অপটিক কেবল কিংবা সাবমেরিন কেবল পৌঁছায়নি সে সব জায়গায় এমন স্যাটেলাইটের সাহায্যে নিশ্চিত ভাবেই তা পৌঁছাবে।আরও পারে ইন্টারনেট সংযোগ। সুতরাং আওয়ামী লীগ সরকার স্যাটেলাইটের সুফল পৌঁছে দিতে যেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের দোরগোড়ায় অনেকে কাজ করছে। তাদেরই মধ্যে ‘'সবচেয়ে প্রভাবশালী'’ ও "কর্মদক্ষ" ১০০ জন ব্যক্তির নামের এক তালিকা "আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক অ্যাপলিটিক্যাল" প্রকাশ করেছে। এমন এই তালিকায় উল্লেখ যোগ্য ব্যক্তির মধ্যেই 'অস্ট্রেলিয়ার প্রধান মন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল,' 'ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা-আকুফো আদো' ও 'ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের প্রতিষ্ঠাতা টিম বারনার্সলি'র সঙ্গে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রতিমন্ত্রী 'জুনাইদ আহমেদ পলক' এর নামও স্থান পেয়েছে।একুশ শতকে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই শেখ হাসিনা ছয় জানুয়ারি ২০০৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় বারের মতো শপথ নিয়েছিলেন। সুতরাং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের বছরে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ ও তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণই ছিল সরকারের মূল নির্বাচনী ইশতেহার। তাই সরকার চ্যালেঞ্জ নিয়েই যেন দিনে দিনে তথ্য প্রযুক্তির অনেক ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনে সক্ষম।
অ্যাপলিটিক্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা "রবিন স্কট" বলেছেন, 'বিশ্বের নানা প্রান্তে যারা ডিজিটাল গভার্নেন্স প্রতিষ্ঠায় রত তারা নিরলস ভাবেই কাজ করছে, তাদের খুঁজে পেরেছি এটা অনেক আনন্দের বিষয়। এমন এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিগণ স্ব স্ব ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়ন। তাঁরা জ্ঞানের আলোকে সারাবিশ্ব সহ বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছায়ে দিচ্ছে এবং বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির কাজ করছে। এই প্রযুক্তির ঝুঁকি কমানোর অনেক চেষ্টাও করছেন।' বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমন এই উদ্যোগের আলোকে বলা যায়, ১২ ডিসেম্বর, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ এর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা ছিল ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে এদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত হবে। একটি উন্নত দেশ হবে, সমৃদ্ধশালী ডিজিটাল সমাজ হবে, এমন ডিজিটাল যুগের জন সাধারণ অনেকাংশেই যেন সফলতার দ্বার প্রান্তেই পৌঁছাবে, রূপান্তরিত অনেক উৎপাদন ব্যবস্থা চালু হবে, নতুন নতুন জ্ঞানভিত্তিক সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সমন্বয়ে একটি জ্ঞান ভিত্তিক সমাজের স্বপ্নেই বিভর ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১মবারের মতো ‘'ওয়ার্ল্ডস হান্ড্রেড মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল পিপল ইন ডিজিটাল গভার্নমেন্ট’'- শীর্ষক তালিকায় প্রতিমন্ত্রী পলকের নাম এসেছে ‘রাজনীতিবিদ’ ক্যাটাগরিতে।সুতরাং তাঁদের প্রধান এই বিষয়ের কাজও ত্বরান্বিত হচ্ছে।
আসলেই এমন এই উদ্যোগের ডিজিটাল বাংলাদেশ সত্যিই বিশ্বের জ্ঞানভিত্তিক সমাজের সঙ্গে মিলিয়েই বাংলার জনগোষ্ঠীকে উপহার দেওয়া খুব প্রয়োজন বৈকি। আমাদের দামাল ছেলেরা অনেক রক্ত দিয়ে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আজকের এই বাংলাদেশ পেয়েছে। আজ আমরা তিল তিল করেই দাঁড়াতে শিখছি। তাই বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের সোনার ছেলেরা হাতের নাগালে পেয়ে যাবে অনেক আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ। তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর উন্নয়নশীল দেশ ও সমৃদ্ধশালী নতুন জীবন।
‘বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি’ ২০০৯ সালের ১৭ থেকে ১২ নভেম্বরে “ডিজিটাল বাংলাদেশ সামিট” নামক এ বিষয়ে প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল, যাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো আলোচিত হয়। প্রচলিত শিক্ষা ও সংস্কৃতিতেও আমূল পরিবর্তন এনেই তথ্য প্রযুক্তির সমন্বয় করতে হবে। আর না পারলেই যেন ভবিষ্যতে তরুণ প্রজন্মের কর্ম সংস্থান নিয়ে খুব বড় ধরনের জটিলতায় পড়তে হবে। এমন একথা গুলো বলেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তির মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ডিজিটাল বাংলার এই তথ্য প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা থেকে মন্ত্রিত্ব পাওয়া এমন মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার আরও বলেন, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় বেকার তৈরির কারখানা। আসলেইতো এই প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রকৃত পক্ষে সামনের দিন গুলোতে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা অসম্ভব হবে। কারণ, বর্তমানে দেখা যায় যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা পাঠ্যক্রম, পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষক সহ শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। সুুতরাং এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অভিযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘সঠিক সময়েই’ মোস্তাফা জব্বারকে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন।
এদিকে আবার "তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ" থেকে পাঠানো একটি বিবৃতিতে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং তাঁর সুযোগ্য সন্তান মাননীয় আইসিটি উপদেষ্টা জনাব, সজীব ওয়াজেদ জয় এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে দেশীয় "ডিজিটাল বাংলাদেশ" নির্মাণের অভিযাত্রায় ডিজিটাল সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তনে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই এক অনবদ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে এটি তার বৈশ্বিক স্বীকৃতি।”
ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তাঁর অবদান আসলেই অনেক উল্লেখযোগ্য।বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে তিনি বয়সের বিবেচনায় সবচেয়ে তরুণ। পলক আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছে ২০১৪ সাল থেকে। ২০১৬ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘ইয়াং গ্লোবাল লিডার্স’ তালিকাতেও পলকের নাম আসে। হয়তো বা তাঁর চৌকস ও সুদক্ষ কর্মদক্ষতায় তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞানের আলোকেই গড়ে উঠবে "ডিজিটাল সোনার বাংলাদেশ।"

বিস্তারিত খবর

কোটার রায় কি বৈধ ছিল?

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৫ ১৪:৩৩:৩৩

রায় নিয়ে মন্তব্য করলে যদি আদালত অবমাননা হয়, ইতিহাস বিকৃত করলে কি অবমাননা হয়না? মুক্তিযুদ্ধের সুপ্রতিষ্ঠিত ইতিহাস অবমাননা এবং বাংলাদেশের ১৬কোটি জনতার বঞ্চণা সত্তেও হাইকোর্টের আপীল বিভাগে মাত্র ২লাখ তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার জন্য শতকরা ৩০ভাগ কোটা পরিপালনে যে রায় হয়েছে, তা বৈধ কিনা সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করছি।
১২ জুলাই, ২০১৮ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিষয়ে হাইকোর্টের রায় আছে। এজন্য ৩০ভাগ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হস্তক্ষেপ করা যাবেনা। মাননীয় নেত্রীর বক্তব্যের অনলাইন ভিডিওসুত্র দ্রষ্টব্য- https://www.youtube.com/watch?v=ZfLjJxUsWmY&t=161s| তিনি হাইকোর্টের রায় ও মামলার রেফারেন্স হিসেবে মাননীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর প্রেসব্রিফিংয়ের কথা উল্লেখ করেন। লেখার কলেবর কমাতে উক্ত প্রেসব্রিফিংয়ের অনলাইন ভিডিওসুত্র প্রদত্ত হল- https://www.youtube.com/watch?v=va38Y5u6jbA&feature=share|
১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে লড়াকু বীর ও শহীদের সংখ্যা প্রসঙ্গে স্বাধীনতার স্থপতি বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুস্পষ্ট বক্তব্য ও তাদের প্রতি গৃহীত কর্মপন্থা বিদ্যমান। যারা এর বিরোধীতা করে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ও কোটা প্রণয়ন করেছে, তারা নিঃসন্দেহে স্বাধীনতা বিরোধী। আর স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষে রায় প্রদান কি বৈধ?
বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ এর ১০ জানুয়ারী দেশে ফিরে প্রথম ভাষণেই মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ হারানো ৩০ লাখ শহীদ ও লাখো সম্ভ্রমহারা মা-বোনের সংখ্যা সুস্পষ্ট ঘোষণা করেন। তিনি লাখ লাখ জনতার উদ্দেশ্যে বলেন-আপনারাই লড়াই করে এদেশ স্বাধীন করেছেন। আপনাদেরই ৩০লাখ প্রাণ হারিয়েছেন এবং লাখ লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন। আপনাদের জানাই স্যালুট। আজ এ স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব আপনাদেরই। ভাষণটি অনলাইন দ্রষ্টব্য-https://www.youtube.com/watch?v=__CHdKMmQfo| (এ প্রসঙ্গে আরো অসংখ্য উদ্ধৃতি ও প্রমাণ বিদ্যমান)। বঙ্গবন্ধু মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের সংখ্যাটি ভাষণেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। লাখ লাখ শহীদ থেকে ০৭(সাত) জনকে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি তথা বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব প্রদান করেছেন। আর অগণিত মুক্তিযোদ্ধা থেকে ৬৬৯ জনকে তিন স্তরে (বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক) খেতাব প্রদান করেছেন। প্রদত্ত খেতাব অনুসারে, মুক্তিযোদ্ধার চেয়ে শহীদের সংখ্যা অনেক কম। শহীদগণ মুক্তিযোদ্ধাদের অংশ মাত্র। যুদ্ধে আহত, নিহত, গাজী, বন্দী, শরণার্থী ও সহায়তাকারী সবাই মুক্তিযোদ্ধা। অর্থাৎ শহীদগণ সবাই মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাগণ সবাই শহীদ নন। শহীদগণ প্রাণপণ যুদ্ধ না করলে, বাংলাদেশ স্বাধীন হতনা। যেমন, ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ কালো রাতের ঘটনা। সে রাতে বঙ্গবন্ধু ও বীর শহীদগণ ব্যতিত প্রায় সবাই আত্মরক্ষা ও দেশত্যাগে ব্যস্ত ছিলেন। তখন বহু বীর জীবনের মায়া ত্যাগ করে পাকবাহিনীর বিরূদ্ধে অস্ত্র ধরেছিলেন। তারা যুদ্ধ করতে করতে প্রাণ হারিয়েছেন। এ শহীদদের চেয়ে বড় মুক্তিযোদ্ধা কে? বঙ্গবন্ধু শ্রদ্ধাভরে বারবার তাদের স্মরণ করেছেন। তাদের বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব দিয়েছেন। অর্থাৎ ৩০লাখ শহীদ সবাই উচ্চ মানের মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়া অন্যরা সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা। তাদের সংখ্যা ব্যাপক। বঙ্গবন্ধু তাদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেননি। তিনি ৩০লাখ শহীদেরও পুর্ণাঙ্গ তালিকা করেননি।
বলা হয়েছে, ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটা চালু হয়েছে। ২৭ জুন, ২০১৮ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে এ দাবি করেন। অনলাইন ভিডিও দ্রষ্টব্য-https://www.youtube.com/watch?v=cq5QU7YjpmQ| বঙ্গবন্ধুর সকল ভাষণ, কর্মকান্ড, শাসনপ্রণালী, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের খেতাবপ্রদান ও জীবনচরিত বিশ্লেষণে সুস্পষ্ট হয়, তিনি সারাজীবন বৈষম্যমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গড়তে সংগ্রাম করেছেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ ভেদাভেদ করেননি। বঙ্গবন্ধু মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করলে, তা ছিল ব্যাপক। ০৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ ও ৬৬৯ জন খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া আপামর জনতাকেই তিনি সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা করেছেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের সন্তান-সন্ততি নির্বিশেষে কারো জন্যই কোটা চালু করেননি। তিনি তালিকা প্রণয়ন বা কোটা চালু করলে, সবার আগে ৩০ লাখ শহীদ ও সম্ভ্রমহারা মা-বোনের তালিকা করতেন এবং তাদের অসহায় সন্তানদের কোটা দিতেন। তখন অগণিত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করা সম্ভব ছিলনা। তাই কেউ যদি দাবি করেন- তিনি ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেয়েছেন, তা জঘন্য মিথ্যাচারিতা।
বঙ্গবন্ধু শহীদ হবার পর তাঁর আদর্শ ও নীতি বর্জন করে স্বার্থান্বেষী মহল প্রায় ২লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা করে। তাদের জন্য ভাতা ও তাদের সন্তান-সন্ততিকে দেশের ১৬ কোটির জনতার তুলনায় শতকরা ৩০ভাগ কোটাসুবিধা প্রদান করে। এতে ৩০লাখ বীর শহীদ ও লাখ লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনের সংখ্যা ও স্বীকৃতি মুছে যায়। অগণিত লড়াকু বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বঞ্চিত হয়। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা, এম এ জি ওসমানী, খন্দকার মোশতাকসহ বহু ত্যাগী নেতা মুক্তিযোদ্ধা তালিকা বঞ্চিত হন। প্রতিষ্ঠিত হয় যে, শুধু তালিকাভুক্ত ২লাখ মুক্তিযোদ্ধাই দেশ স্বাধীন করেছেন। অন্যরা মুক্তিযোদ্ধা নন। ৩০লাখ শহীদ ও লাখো সম্ভ্রমহারা মা-বোনের তালিকা তো দুরের কথা; তাদের সন্তান-সন্ততির স্বীকৃতি প্রশ্নই আসেনা। এভাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর মহান আদর্শ বিলুপ্ত হয়। আর তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান-সন্ততি ও নাতি-নাতনিদের শতকরা ৩০ভাগ কোটাসুবিধার ফলে দেশে বৈষম্যের পাহাড় সৃষ্টি হয়।
মহামান্য আদালত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর চেতনা বিবেচনা ছাড়াই স্বার্থান্বেষী মহলের পক্ষে একপেঁশে রায় দিয়েছে। ২লাখ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য শতকরা ৩০ভাগ কোটা পরিপালনে জোর তাগিদ দিয়েছে। মূলত আদালতের কাজ, আইন বিশ্লেষণ ও বিচার পরিচালনা করা; ইতিহাস গবেষণা নয়। আদালতের উচিত ছিল, প্রচলিত ২লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকার যথার্থতা নির্ণয় করা। যারা মুক্তিযোদ্ধাদের অবৈধ তালিকাটি করেছে, তাদের চিহ্নিত করা। তারা জঘন্য অপরাধী। মামলার এজাহার অনুসারে অপরাধীদের বিচার করা। কোটার প্রকৃত হকদার মুক্তিযোদ্ধারা নাকি বীর শহীদের স্বজনেরা, তা বিবেচনা করা। আদালত তা করেনি। বাচ-বিচার ছাড়াই প্রচলিত ২লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা যথার্থ বিবেচনা করেছে। তাদের পক্ষে বৈষম্যমূলক রায় প্রদান করেছে। প্রকৃতপক্ষে, বিচারবিভাগের কর্মকান্ড বিশ্লেষণ ও তদারকির জন্য বিধিবদ্ধ সংস্থা থাকলে, আদালত কখনই স্বার্থান্বেষী মহলের পক্ষে এমন রায় দিতে পারতনা।
অতএব উচিত, মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে প্রদত্ত রায়টি নিখুঁত বিশ্লেষণ করা। মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের স্বীকৃতি, সংখ্যা ও কোটা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের সমাধান করা। বাঙ্গালি জাতির জনকের প্রকৃত আদর্শ বাস্তবায়ন করা। বীরশহীদ, আত্মতাগী, ভুক্তভোগী ও বীরযোদ্ধা নির্বিশেষে দেশের আপামর জনতাকে মুক্তিযোদ্ধা ও লাখো শহীদের প্রজন্ম ঘোষণা করা। প্রচলিত কোটার কারণে লাখো শহীদের স্বজন ও আপামর জনতা যে বঞ্চণার শিকার হয়েছে, তা নিরসন করা। বঞ্চিতদের দাবি পূরণ করা। চাকুরিতে প্রবেশে বয়স কমপক্ষে ৪৫ বা ৪০ করা।

বিস্তারিত খবর

মাদক নির্মূলে ক্রসফায়ার নয়

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৬-০৫ ১৫:৫১:৫৪

"মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে'', ''মাদক এক ভয়ংকর কীট, জীবনকে কুরে কুরে খায়'', "মাদক পরিহার করুন এবং নিজে বাঁচুন, আগামী প্রজন্মকে বাঁচান", "অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীর ছোবল থেকে বর্তমান ও আগামী নতুন প্রজন্মকে বাঁচান", "আমরাও বাঁচতে চাই, মাদকমুক্ত জীবন চাই" এমন মাদক বিরোধী প্রচারপত্র বিতরণ, উদ্বুদ্ধকারী বহু স্লোগান সংবলিত পোস্টার, ব্যানার, প্লেকার্ড বা আয়োজনে রয়েছে পথসভা কিংবা পথে পথে গণমানুষের কন্ঠস্বরে ধ্বনিত হয় মাদকবিরোধী প্রতিবাদ সহ অনেক র‌্যালি। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগেই আয়োজন হচ্ছে মাদক বিরোধী আলোচনা সভা এবং সেমিনার। মাদকদ্রব্য ব্যবহার এবং এর অবৈধ পাচারের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গড়ে তোলা সহ বিভিন্ন কর্মসূচি হচ্ছে সারা দেশে। বাংলাদেশের এমন এ সমস্যা ক্রমাগতভাবেই দিনে দিনেই যেন বিপুল আকার ধারণ করছে। তাই মাদকদ্রব্য থেকে পরিত্রাণের জন্যই বর্তমান সরকার "জিরো টলারেন্স" নীতি অবলম্বন করছে।
মাদকের অপব্যবহার ও মাদকাসক্তি নিয়ে পৃথিবীর প্রায় সকল দেশ যারপর নাই উদ্বিগ্ন। জনসাধারণের মধ্যেই মাদকাসক্তির বিস্তৃতি দেশের অর্থনীতি এবং সামাজিক আবরণের উপরেই অসুভ প্রভাব ফেলে।এদেশেও আশির দশক থেকে মাদকের ক্রমবর্ধমান অপব্যবহার জাতিকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। সমীক্ষা থেকে ধারনা করা যায় যে, বাংলাদেশের মাদকাসক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বিশ্বের মাদকাসক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি হারের প্রায় দ্বিগুণ। এমন দেশের মাদকাসক্তির অধিকাংশই তরুণ প্রজন্ম এবং তাদের শতকরা ৮০ ভাগ মাদকাসক্তদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ এর মধ্যে।মাদকাসক্তির ক্ষেত্রে এদেশের ভৌগোলিক অবস্থান খুবই নাজুক বৈকি। মাদক উৎপাদন কারী গোল্ডেন ট্রাংগেল ও গোল্ডেন ক্রিসেন্টের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে। তাই বাংলাদেশকে ঘিরেই গোল্ডেন ট্রাংগেল সৃষ্টিকারী তিনটি মাদকদ্রব্য উৎপাদনকারী দেশ হলো: মায়ানমার, থাইল্যান্ড এবং লাওস। আর গোল্ডেন ক্রিসেন্ট সৃষ্টিকারী দেশ গুলো হলো হচ্ছে: পকিস্তান, আফগানিস্তান এবং ইরান। সুতরাং এমন ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেই বাংলাদেশ মাদক পাচারের ট্রানজিট হিসেবে বহু দিন ধরেই ব্যবহার হয়ে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশে এ মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার ও পাচার সংক্রান্ত বিষয়কে নিয়ে যেন সরকার নড়েচড়েই বসেছে। বিগত দশকের শুরুতে বিভিন্ন ভাবে সরকার বন্ধ করার নিয়োম নীতি গ্রহণ করলেও এখন যেন একটু কঠোর ভাবে অর্থাৎ বলা যায় চিরুনি অভিযান। দেখা যায় যে, এখন পর্যন্তই বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্য উদ্ধারসহ অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। আবার কাউকে না কাউকেই মেরে ফেলছে। অতীত ইতিহাস স্মরণেই বলতে পারি এমন ধরনের কর্মসূচি এদেশে কখনোই ছিল না। কিন্তু সরকার হঠাৎ করেই যেন নড়ে চড়ে বসেছে। তারা নাকি দীর্ঘ দিন থেকেই এ বিষয় নিয়ে
অনেক উদ্বিগ্ন। তাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সহ সকল গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়েই গোপন ভাবে একটি বৃহৎ তালিকা তৈরি করেছে।
মাদকমুক্ত একটি সমাজ গঠনের প্রয়াস নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী 'আসাদুজ্জামান খান কামাল' বলেন, মাদককে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত যেন এমন অভিযান চলতেই থাকবে। সমাজের বিভিন্ন স্তরে মাদক গেড়ে বসেছে বলেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে কর্ণপাত করাচ্ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে মাদক চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বাহিনীর অভিযান হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেমন জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছিলেন, সুতরাং তেমনি ভাবে মাদক দ্রব্যের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স ঘোষণায় আগামী নির্বাচন পরিকল্পনা করছেন। সরকারের এ সুন্দর উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য বলেই মনে করি। কিন্তু সারা দেশে চলমান মাদক বিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চলছে তা অবশ্যই যেন ভয়াবহ।বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অনেকেই দেখতে চান না। বন্ধের দাবি জানিয়েও আসছেন, অনেক গুনী জন ব্যক্তি, তম্মধ্যে প্রধান ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি হচ্ছেন: গল্পকার ও কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, নির্মাতা ও অভিনেতা রামেন্দু মজুমদার, আতাউর রহমান, মামুনুর রশীদ, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, কবি নির্মলেন্দু গুণ, মফিদুল হক, গোলাম কুদ্দুছ ও হাসান আরিফ। গণমাধ্যমেই তাঁদের পাঠানো বিবৃতিতে বলেয়েছেন, সমগ্র দেশে মাদক বিরোধী যে ধরনের একটি ভয়ংকর অভিযান চলছে, তার যথাযথ যৌক্তিকতা অনুধাবন করেছে।বাংলাদেশে খুব কম পরিবার রয়েছে যারা মাদকের ভয়াবহতায় নিজ পরিবার রক্ষা করতে পেরেছে। সে দিক থেকে সঙ্গত কারণেই যেন সর্ব স্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনও পাচ্ছে এমন এই মাদকবিরোধী অভিযানে।
আসলে মাদক শুধু বাংলাদেশ নয়, বর্তমান বিশ্ব যে কঠিন সঙ্কটের মুখো মুখি তা হলো মাদকের বিস্তার, যা তারুণ্যের সম্ভাবনাকে অনেকাংশেই নিষ্ক্রিয় করে মরন পথে ধাবিত করছে। প্রয়োজন আছে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান তবে মেরে ফেলা ধারাটি প্রশ্নবিদ্ধ।
মানুষকে উন্নত জীবন দিতে অবশ্যই মাদক পরিহার প্রয়োজন। কিন্তু গভীর উদ্বেগের সঙ্গেই গুনী জনরা অনেক দক্ষতার সহিত লক্ষ্য করেছেন, প্রতি দিনই অসংখ্য মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছে। তাতো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থায় এমন মৃত্যু কখনোই গ্রহণ যোগ্য নয়। বলা যায় সংবিধান প্রদত্ত এমন ভাবে মানব জীবনকে মেরে ফেলার অধিকার কারও নেই। গণ মাধ্যম ও বিভিন্ন স্যোশাল মিডিয়ায় কিছু নিহত ব্যক্তিদের সম্পর্কে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তা অবশ্যই জনগণকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন যা বলেছে তা হলো, মাদক সন্ত্রাসীদের মুল শেকড় উৎপাটনে র‌্যাব প্রধানের ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে কোনো প্রকারের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে দায়িত্ব হলো মূল মাদক অপরাধীকেই খুঁজে বের করা সহ তাদেরকেই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। কিন্তু বিচার আর কোথায় পশুর মতো হত্যা হচ্ছে। এ হত্যারই বা শেষ কোথায়। জনগণের চাওয়া, মাদকের বিরুদ্ধে আইন করে বিচার হোক। এমন বিচার বাংলার মানুষ চায়, কিন্তু এ ক্রসফায়ার তো কোন সমাধান নয়। আবার দেখি ক্রসফায়ারকে যেন নতুন নামে অভিহিত করে বলা হচ্ছে "বন্দুকযুদ্ধ"। বন্দুক যুদ্ধে নিহত করাটাই তো আর মাদক নির্মূলের সমাধান বলে মনে করছে না এদেশের সুশিক্ষিত সুশীল সমাজ। এ ভাবে হত্যা করা গণতান্ত্রিকরাষ্ট্র ও সমাজে অকল্পনীয়। বলতেই পারি, টেকনাফে নিহত পৌর কমিশনার একরামের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পূর্ব অভিযোগের তথ্য গণ মানুষের কাছে আলোচনায় উঠে আসেনি। সুতরাং এই একটি ঘটনা সমগ্র অভিযানকেই প্রশ্নবিদ্ধ এবং জনগণকে আতঙ্কিত করতে যথেষ্টই হবে বলে মনে করি। সামাজিক সুস্থ্যতা অবশ্যই জণসাধারণ চায়। তাই বলে এমন অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেই হয় তো নয়, মাদক দ্রব্যের ছড়াছড়ির পরিবেশে একটা সুস্থ্য পরিবারে কখনোই একজন সুস্থ্য সন্তান গড়ে তোলা উঠতে পারে না। সরকার যদি চেষ্টা করে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূল অল্প সময়ের মধ্যে অবশ্যই করতে পারবে তা সকলেই বিশ্বাস করে। সুতরাং এটাকেও নিয়ে কোনো রাজনীতি করা ঠিক হবে না। অবশ্যই বাংলাদেশের জনগণ খুব চতুরতার সহিত দেখছেন, বুঝছেন এবং সামনে নির্বাচনকেও নিয়ে ভাবছেন।


লেখক: সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

বিস্তারিত খবর

কেন বিপথে কিশোরেরা : আপনার সন্তানের দিকে নজর দিন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৬-০৫ ১৫:৩৬:২১

প্রযুক্তি বদলে দিয়েছে বহুকিছু। গ্রাম থেকে শহর। কিশোর-তরুণদের আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। কমেছে খেলার মাঠ, বিনোদনের জায়গা। যৌথ পরিবার ভেঙে তৈরি হয়েছে একক পরিবার। একই ভবনে বসবাস করা এক পরিবারের কাছে অন্য পরিবার অচেনা।
পারিবারিক বন্ধনের শিথিলতা আর প্রযুক্তির আগ্রাসন তৈরি করেছে নানা সংকটের। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ জড়িয়ে   পড়েছে নানা অপরাধে। মাদকাসক্তি, ইভটিজিং, খুনাখুনিসহ নানা অপকর্মে উঠছে তাদের নাম। পশ্চিমা আদলে গড়ে উঠছে কিশোর গ্যাং।
শিশু-কিশোরদের অপরাধ কার্যক্রম থেকে দূরে রাখতে পারিবারিক বন্ধন জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সমাজ ও মনোবিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, মূলত পরিবারের যতেœর অভাবেই শিশু-কিশোররা বিপথে চলে যাচ্ছে। সমাজও এক্ষেত্রে দায় এড়াতে পারে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, সন্তানের সঠিক পরিচর্যা, তাদের হাত খরচ, নিয়মিত স্কুলে যায় কি না, তারা কোথায় কি করছে এসব বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখতে হবে। এক্ষেত্রে বাবা ব্যস্ত থাকলে মাকে দায়িত্ব নিয়ে সন্তানের সব ভালো মন্দের খোঁজ রাখতে হবে। সমাজে যেসব সন্তান আজ প্রতিষ্ঠিত তাদের প্রত্যেকের পেছনে বাবা মায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। যেসব বাবা মা তাদের সন্তানদের পেছনে নিবিরভাবে লেগে থাকেন তাদের সন্তানরা বিপথে যাওয়ার সুযোগ পায় না। একই সঙ্গে ঢাকা শহরের প্রত্যেকটি অ্যাপার্টমেন্টের মালিকদের প্রত্যেকটি ভবনে বাচ্চাদের খেলার জন্য একটি নির্দিষ্ট প্লে গ্রাউন্ড রাখার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, নিজ সন্তানের প্রতি নজর রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্বের ভেতরে পরে। তাই বাবা মায়ের উদ্দেশ্যে একটাই মেসেজ থাকবে সন্তানের সঙ্গে মিশুন, তার কথা শুনুন এবং আপনার ব্যক্তিগত কিছু সুখ দুঃখের গল্প বা বিষয় বন্ধুসুলভ আচরণ নিয়ে শিক্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করুন। এতে করে বাবা মায়ের প্রতি সন্তানের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়বে। একইসঙ্গে আপনার সন্তানের যদি ব্যক্তিগত কোনো অভাব, আকাক্সক্ষা, না পাওয়ার বেদনা, ক্ষোভ থাকে সেটাও সে অনায়াসে আপনার সঙ্গে শেয়ার করবে। এতে করে সন্তান বিপথে যাবে না। এক কথায় সন্তান ও বাবা মায়ের মধ্যে কোনো গ্যাপ থাকবে না।
সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক রাশেদা ইরশাদ নাসির বলেন, আমার সন্তানের দিকে আমাকেই নজর দিতে হবে। আপনার সন্তানের দিকে আপনার। এটা অনেক আদি সময় থেকেই চলে আসছে। যার যার সন্তান তার তার সম্পদ। কাজেই নিজের ব্যক্তিগত সম্পদকে আমি কিভাবে নিরাপত্তা দেবো সেটা আমার উপর নির্ভর করে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. নাসরীন ওয়াদুদ বলেন, কিশোর সন্তানকে বিপথ থেকে ফিরিয়ে আনতে বাবা মা দু’জনেরই বাচ্চাকে সময় দিতে হবে। তাদের নিয়ে সপ্তাহ অন্তর ঘুরতে যেতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। তারা কি বলতে চায় সেটা মন দিয়ে শুনতে হবে। কোনটা তাদের জন্য ভালো, কোনটা মন্দ সেটা তাদের বুঝাতে হবে, দেখাতে হবে, শিখাতে হবে। কারণ একটা বাচ্চা মানুষ করা সোজা কথা নয়। সত্যি বলতে আমরা নিজেরাই কনফিউজড যে বাচ্চাকে আমরা বুকে জড়িয়ে ধরে মানুষ করবো, নাকি ডে কেয়ার সেন্টারে রেখে। বর্তমান সময়ে আমরা বাবা মায়েরা এতো বেশি আধুনিক আর ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত থাকি যে বাচ্চাকে প্রপার টাইম দেয়ার মতো যথেষ্ট সময়ই থাকে না। প্রত্যেক বাবা মায়েরই উচিত নিজ নিজ বাচ্চার কাছে একজন মডেলে পরিণত হওয়া। যেন তারা বড় হয়ে বাবা মায়ের মতোই হতে চায়। আর বাচ্চারা যদি কোনো মডেল বা আইডলই না পায় তাহলে তারা বড় হবে কিভাবে, আর স্বপ্নই দেখবে কিভাবে।
সমাজ পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইদানিং শিশু কিশোরদের একটা বিশাল অংশ, যারা ছোট্টবেলা থেকেই স্মার্টফোনে আসক্ত। দেড় দুই বছরের বাচ্চা বাবা মায়ের ফোন নিয়ে গেম ডাউনলোড করে খেলছে। বাবা-মা ভীষণ গর্বিত। সেই বাচ্চারা নিজের বাসায় সারাক্ষণ ফোনে মুখ গুঁজে পড়ে থাকে। এমনকি আত্মীয় বন্ধুর বাড়িতে গিয়েও ফোনখানা নিয়ে নিঃশ্বাস বন্ধ করে খেলতে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তার বদলে বাবা মা কী পায়? পায় নিরবচ্ছিন্ন আড্ডার সুযোগ। সন্তান তাদের বিরক্ত করে না। তার বদলে ভবিষ্যতে বাবা মা এমন একটি ছেলে বা মেয়ে পায় যে প্রযুক্তি ও পণ্য আসক্ত, কল্পনাশক্তিহীন এবং বইপাঠে অনিচ্ছুক। আজ যে স্মার্টফোনটা সে ব্যবহার করে, কাল নতুন ফোনের জন্য তার বায়না খুব স্বাভাবিক। আজ যে বাচ্চাটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করার কোনো কারণ নেই, তারই একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকে ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রামে। অথচ যে বয়সে সন্তানের হাতে তুলে দেয়ার কথা রঙবেরঙের বই, রঙিন পেন্সিল, সেই বয়সে তারা তুলে দেন স্মার্টফোন আর ওয়াইফাই কানেকশন। এখানে অসুবিধা একটাই রঙিন বই, খাতা আর রং পেন্সিল দিয়ে বসিয়ে সেগুলো ব্যবহারের সময় সন্তানের পাশে থেকে তাকে সময় দিতে হয়। কিন্তু স্মার্টফোনে তো তা না করলেও চলে। ফলে ফোনটি তার হাতে দিয়ে নিজেদের জগতে চলে যাওয়া খুব সহজ। কিন্তু তারা জানেনও না, কত বড় ক্ষতি তারা সন্তানের করেন।
নাবিল আল নাহিয়ানের বয়স মাত্র চার বছর। পশ্চিম তেজতুড়ি বাজারের এ্যঞ্জেলস হাইস্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী। সকালে ঘুম থেকে উঠে মায়ের হাত ধরে গুটি গুটি পায়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে পথ চলা তার। ছোট্ট নাহিয়ানের পছন্দের খাবার হচ্ছে দুধভাত আর চকোলেট। চকোলেট খাওয়ার আশির্বাদে মুখের দাঁত প্রায় সবগুলোতেই পোকা ধরেছে। বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মা সরকারি কর্মকর্তা। বড় ভাই খুশবু ক্লাস সেভেনে পড়েন। বাবা মা দু’জনেই চাকরিজীবী হওয়াতে প্রায় সময় দুই ভাই খুশবু আর নাহিয়ানকে একা বাসায় থাকতে হয়। খুশবু সবসময়ই একটু লাজুক ও চুপচাপ প্রকৃতির। এদিকে নাহিয়ান পুরোটাই তার বিপরীত মেরুতে অবস্থান। দুষ্টুমি আর চঞ্চলতা যেন তার রক্তে মিশে আছে। সম্প্রতি তার শখ জেগেছে নিজস্ব একটি ফোন ও সিম চাই। সবার ফোন আছে তাদের ফোনে অনেকেই ফোন দেয় কিন্তু নাহিয়ানের ফোনতো নেই এমনকি তাকে কেউ ফোন দেয় না। সরকারি কর্মকর্তা ছোট মামা তুষারকে একদিন কানে কানে বললো মামা আমার একটি ফোন চাই। ভাগনের ছোট্ট এই আবদার রাখতে মামা কিংবা বাবা মা কেউই না করেনি। এখন নাহিয়ানের নিজস্ব একটি ফোন হয়েছে। পরিচিত কেউ কেউ মাঝে মধ্যে তাকে ফোন দিলে সে রিসিভ করে কথা বলে। বাকিটা সময় সে ফোনে গেমস খেলাতেই ব্যস্ত সময় পার করে। ছোট্ট এই বয়সে নাহিয়ানের রয়েছে আলাদা ডেক্সটপ এমনকি ওয়াইফাই সংযোগ। যেটাতে সে মন চাইলেই কার্টুনসহ বিভিন্নভাবে ভার্চুয়াল জগতে ব্যস্ত থাকতে পারে। একটা সময় বিকাল হলেই তার বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গেলেও আজকাল সে প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকেই বেড় হয় না। হয়তো এমন করে একদিন সে ভুলে যাবে তার প্রিয় খেলার মাঠটিকে। বিকালে মা অফিস থেকে ফিরে হয়তো নাহিয়ানকে যে সময় দেয় সেটা তার জন্য পর্যাপ্ত নয়। রাতে বাবা যখন বাসায় ফিরে তখন হয়তো প্রায় রাতেই ঘুমিয়ে থাকে ছোট্ট নাহিয়ান। নাহিয়ানের মতো অনেক শিশু-কিশোরই বড় হচ্ছে অনেকটা সমাজ বিচ্ছিন্ন মানুষ হিসেবে।

বিস্তারিত খবর

মাদক নির্মূল হোক, মানবাধিকার নয়

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৬-০৪ ০৬:০০:১৬

আমাদের দেশে বীভৎস আর পৈশাকি নির্যাতন-হত্যাকা- যেন দিনদিন বাড়ছেই। ঘটনাগুলোর কোনো কোনোটির স্থিরচিত্র, ভিডিও চিত্র কিংবা অডিও ক্লিপ প্রকাশ হওয়ায় নৃসংশতার সাক্ষী হচ্ছি আমরা। এর মধ্যে সাম্প্রতিক উল্লেখযোগ্য দু’তিনটি ঘটনা; শিশু রাজন হত্যার ভিডিও, এমসি কলেজে খাদিজার উপর বদরুলের রাম দা’র কুপ, শিশু রবিউলের পেট ফুলা মৃতদেহের ছবি আমরা দেখেছি এবং সর্বশেষ গত শুক্রবার প্রকাশিত টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হত্যার অডিও ক্লিপ শুনেছি। অমানবিক এসব ঘটনাগুলো দেখতে দেখতে আমরা এতোটাই পাষাণ হয়ে গেছি যে, এসব মৃত্যু বা হত্যাকা- আমাদের মনে আর তেমন একটা নাড়া দেয় না। তবে একরামুলের অডিও ক্লিপটি আমাদের সেই পাষাণ দিলকেও নাড়িয়ে দিয়েছে প্রবলভাবে! ঘুম হারাম করে দিয়েছে কোটি জনতার। সামাজিক মাধ্যমে অডিও ক্লিপটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থেকে তা-ই বুঝা যায়।
“যাচ্ছি মা...” বলে নিজের শেষ পরিণতির দিকে দাবিত হচ্ছিলেন একরামুল। ফোনের অপরপ্রান্তে প্রিয় বাবাকে গুলি করার শব্দ শুনছে মেয়ে, প্রিয়তম স্বামীর বুক ঝাঝরা করা বুলেটের শব্দ শুনছেন স্ত্রী! সেসময় “আব্বু, তুমি কাদতেছো যে!”, “আমার স্বামী কিচ্ছু করে নাই” এরকম বুক ফাটা আর্তনাদ ছাড়া কিছু করার ছিল না তাদের। মৃত্যু সবার জন্য অবধারিত। তাই বলে এতো বীভৎসভাবে, এতো নির্দয়ভাবে প্রিয়জনের মৃত্যুর সাক্ষী হতে হবে আমাদের! কেউ কখনও না ভাবলেও, না কামনা করলেও তা-ই ঘটেছে-ঘটছে। মানবতা-মানবাধিকারের প্রশ্ন এখানে কি অবান্তর?
রাজনকে নির্যাতনের ভিডিও আমরা দেখেছি, কীভাবে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল তা দেখিনি। খাদিজার উপর নৃসংশ হামলার ভিডিও দেখেছি, কিন্তু ভাগ্যগুণে তিনি বেঁচে ফিরেছেন। রবিউলের বায়ু পথে গাড়ির পাম্পার দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়েছে, মৃত্যুর পর তার ফুলা পেটে লাশের ছবি দেখেছি। নির্যাতনের চিত্র দেখিনি। কিন্তু একরামুলকে হত্যার পুরো প্রক্রিয়া আমরা কান দিয়ে শুনেছি।

গত ২৬ মে, শনিবার দিবাগত রাতে মাদকবিরোধী অভিযানে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় নিহত হন টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর ও স্থানীয় যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একরামুলের পরিবার দাবি করছে, একরামুল নির্দোষ, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে রেকর্ডকরা অডিও প্রকাশ হওয়ার পর সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একরামুলের পরিবার বলছে, তাঁকে বাসা থেকে র‌্যাব এবং ডিজিএফআই এর স্থানীয় দু'জন কর্মকর্তা ডেকে নেওয়ার পর হত্যা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সময়কার ফোনকলের এই অডিও সাংবাদিকদের শুনিয়েছে তার পরিবার । সেই অডিওতে শোনা যাচ্ছে যে, একরামুল নিহত হওয়ার ঘটনার সময় এবং তার আগমুহুর্তে ঘটনাস্থলে মোবাইল ফোনে তিনবার কল এসেছিল। শেষ ফোন কলটি রিসিভ হলেও ঘটনাস্থল থেকে ফোনটিতে কেউ উত্তর দিচ্ছে না। যিনি ফোন করেছেন, প্রথমে তার কিছুটা কথা আছে। কিন্তু পরে ঘটনাস্থল বা সেই প্রান্ত থেকে একটা ভয়াবহ পরিবেশের চিত্র পাওয়া যায় এই অডিওতে। একরামুল হকের স্ত্রী আয়শা গণমাধ্যমকে বলেছেন, ঘটনার আগমুহুর্তে তার দুই মেয়ে প্রথমে একরামুলের মোবাইল ফোনে কল করে তার সাথে অল্প সময় কথা বলেছিল। এই কথোপকথনে পরিস্থিতি গুরুতর মনে হওয়ায় সাথে সাথে আয়শা বেগম নিজে ফোন করেন। তার ফোন কলটি রিসিভ করা হয়, কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে কোনো জবাব পাননি। তিনি গুলি এবং ঘটনাস্থলের সব শব্দ শুনতে পেয়েছেন। প্রথমে মেয়ের কল রিসভি করে একরামুল বলেছিলেন, “যাচ্ছি মা...“। কেন জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেন, “জরুরি কাজে”। এসময় তার কণ্ঠ ভারি শুনে মেয়ে প্রশ্ন করে, “আব্বু, তুমি কান্না করতেছো যে!”। তখন একরামুলের স্ত্রী মোবাইল নিয়ে কথা বলেতে চাইলে অপরপ্রান্ত থেকে গুলির শব্দ আর গুঙ্গানির আওয়াজ শুনা যায়। তখন মা-মেয়ে আর্তনাদ করে ওঠেন। চিৎকার করে বলতে থাকেন, “আমার স্বামী কিচ্ছু করে নাই যে। আমার স্বামী নির্দোষ।”চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছে, ৪ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই অভিযানে ১২৭ জন নিহত হয়েছেন। (বৈশাখী টিভি অনলাইন,  ৩১ মে ২০১৮)। তবে এ সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। শুরু থেকেই বিচার বহির্ভূত এই হত্যাকা-গুলো নিয়ে প্রশ্ন ছিলো। আজও রয়ে গেছে। সচেতন সমাজ সবসময় এই হত্যাকা-ের প্রতিবাদ ও এ ধরণের ঘটনা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। সর্বশেষ একরাম হত্যার অডিও প্রকাশের চলমান মাদক বিরোধী অভিযান সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে অবিলম্বে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশের দশজন শীর্ষ বুদ্ধিজীবি। (বিবিসি বাংলা, ২ জুন ২০১৮)। তারা বলেছেন, এই অভিযানে প্রতিদিন অনেক মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছেন। যা পুলিশ বন্দুক যুদ্ধে নিহত বলে বর্ণনা করছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সমাজ ব্যবস্থায় এমন মৃত্যু কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যাবস্থায় এমন মৃত্যু কখনই গ্রহনযোগ্য নয়। সংবিধানে প্রদত্ত জীবনের অধিকার এভাবে কেড়ে নেয়া যায় না।
রাজন, খাদিজা বা রবিউলদের হত্যা-নির্যাতনকারী ছিলো সাধারণ মানুষ। তাদের ঘটনাগুলো প্রকাশের প্রতিবাদ-ক্ষোভ আর সমালোচানার ঝড় উঠেছিল দেশে-বিদেশে। সব ঘটনায়ই অভিযুক্তরা বিচারের মুখোমুখি হয়েছে। যদিও সব ঘটনার বিচার এখনও শেষ হয়নি। এবার একরামুলের ঘটনায় অভিযোগ খোদ রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর। তাই বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই ঘটনাটি দেশের সাধারণ মানুষকে আতঙ্কগ্রস্থ করে তুলেছে। মাবাধিকারকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

মাদকদ্রব্যগুলো মানুষের জীবন বিধ্বংসী বস্তু। আমাদের জাতীয় অগ্রগতির প্রতিবন্ধকও এটি। তাই এটাকে নির্মুল করার বিকল্প নেই। সকার মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। যা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু চলমান অভিযানে বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা এই অভিযানকে শুধু প্রশ্নবিদ্ধ করবে না এর সাফল্যকেও ম্লান করে দিতে পারে। তাই সরকারের উচিৎ, মাদকের সাথে জড়িত সকল শ্রেণির লোকদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা।

লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট।

বিস্তারিত খবর

চিত্রশিল্পী রফিক বইয়ের রাজ্য থেকেই একজন সাদা মনের মানুষ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-১৪ ১৩:৫৬:৪০

সারা বিশ্বের মনীষীদের বইয়ের নেশার প্রতি দৃষ্টি দিয়ে মানব জীবনকে এক দৃষ্টান্ত মূলক উক্তি দিয়েছিলেন টলস্টয়। সেটি ঠিক এমন যে, ”জীবনে মাত্র তিনটি জিনিসের প্রয়োজন বই, বই, এবং বই।” জ্ঞান অর্জনের প্রধান মাধ্যমই হচ্ছে বই। সুতরাং জীবনকে সফলতার আলোকে আলোকিত করার প্রধান উপায় হচ্ছে বই। তাই তো ভালো বই পড়েই জ্ঞান অর্জন করে যথাযথ প্রয়োগ ঘটিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের অনেক পরিবর্তনের চিন্তা করাটাই বাঞ্ছনীয়। পৃথিবীতে যারা পুস্তক পড়ে বড় হয়েছেন এবং জগৎ বিখ্যাত সফল মানুষ হয়েছেন, তারাই তো অনেক বেশী বেশী জ্ঞানার্জনেই পুস্তক পাঠে সময় দিয়েছেন। সারা বিশ্বের বরেণ্য মনীষীর জীবন ইতিহাস ঘাঁটলে এমন কথার সত্যতা চোখে পড়বেই। বইয়ের পাতায় পাতায় ডুবে দিয়েই ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, যুবরাজ ফাতিক, আল রাযী, ইবনেসিনা, ইবনে রুশদ, মাদাম মেরি কুরি, ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং কবি আল মাহমুদসহ বহুসংখ্যক জ্ঞান পিপাসুরাই পুুস্তক পাঠে যেন ইতিহাস সৃষ্টি করে সবার জ্ঞাতার্থেই রেখেছেন। মহৎ জীবনের আলোকে আজও তেমনি ভাবেই বই পড়ুয়া অসংখ্য ব্যক্তির সৃৃষ্টি হচ্ছে এবং আগামীতেও হবে।
বিশ্ব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ আলোকিত ব্যক্তির অধ্যায়ের মাঝে আর না গিয়ে বলতে চাই যে, শৈল্পিক চেতনার অধিকারী সত্য, সুন্দর ও মঙ্গলের দিক বেছে নিয়েই শৈশবের একাকিত্বে যে বলিষ্ঠ পুরুষ, পুস্তক পাঠের মধ্য দিয়ে আজও সহকারী অধ্যাপক পদে অবস্থান করে বইয়ের জগতে যুবরাজ হয়ে রয়েছেন। এমন এই মহৎ জীবনযাত্রার সামান্য খণ্ডচিত্র তুলে ধরারই প্রয়াস মাত্র। তিনিই বইপ্রেমিক, রাজশাহী চারুকলা মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক বা চিত্রশিল্পী মোঃ রফিকুল ইসলাম তালুকদার। ডাক নাম রফিক।
বিস্ময়কর বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী রফিক ছোট কাল থেকেই জ্ঞান পিপাসু ছিলেন। তিনি মানবতার কল্যাণে জ্ঞান সাধনার একটি বৃৃৃহৎ প্লাটফর্ম হিসেবে শিক্ষকতায় নিজেকেই নিয়োজিত রাখতে চান এবং সেখানেই তার চরম আনন্দ। তিনি বলেন, যারা তাঁর সাহচর্যে এসেছে, কিংবা তাঁর খোঁজ রাখেন, তারাই জানেন যে, জ্ঞান আহরণে তাঁর কী আকুল আগ্রহ, কি তীব্র নেশা! কিশোর কালেই যেন সকল কুচিন্তা দূর করে, সময় নষ্ট না করে শুধুমাত্র বইয়ের নেশায় ডুব দিয়েছিলেন, যখনই কোনো নতুন পুস্তক হাতের নিকট পেয়েছেন কিংবা কোনও সৎ, জ্ঞানী ব্যক্তির সন্ধান পেয়েছেন তখনই নিজের অন্যান্য সব কাজ ফেলে দিয়ে আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করে নিবিষ্ট মনে তাঁদের আদর্শে চলার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, জ্ঞান সাধনার জন্য ছোটবেলা থেকে পুস্তক, পত্রিকা সংগ্রহ এবং পড়ার নেশাটি প্রকট ছিল। যখন গ্রামে ডাকঘর ছিল না তিন কিলো দূরেই একটি ডাকঘরে গিয়ে পছন্দের দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা ডাকযোগে টাকা মার্নি অর্ডার করেই সংগ্রহ করতো। কারণ এই যে, সপ্তাহে দু’দিন হাটে যাওয়া হতো বলে তখনকার লোভনীয় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা নেয়া হতো এই ভাবে। তখনকার দিনে প্রতি হাটবারেই ৩/৪টি করে পত্রিকা এক সঙ্গেই পেতেন। ৩/৪ দিন সময় লাগত ঢাকা থেকে ডাকযোগে পত্রিকাগুলো আসতে এবং ঐ খবরই তাঁর কাছে তখন টাটকা মনে হতো। এমন ভাবেই শুরু হয় তাঁর জ্ঞান চর্চার জগৎ। এমন সাদা মনের মানুষের নাম অবশ্যই স্বর্ণাক্ষরে লেখা হোক বা না হোক, বই পড়ে নিজস্ব কর্মকে অনেকাংশেই গুছিয়ে নিয়েছেন।
তিনি তাঁর শৈশবের স্মরণীয় অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি অকপটে বলতে থাকেন। উল্লেখ করার মতো হচ্ছে, রেডিওতে স্বদেশ কিংবা বিদেশের খবর ছোট বেলা থেকেই তিনি শুনতে পছন্দ করতেন। যেমন: বি বি সি, ভয়েস অব আমেরিকা, কায়রো, পিকিং, আকাশ বাণী, টোকিও, তেহরান, জাপান, জার্মান ও রেড়িও মস্কো সহ আরও অনেক যা এখন তাঁর আর মনে পড়ছে না বলেই জানালেন। তিনি প্রত্যেক হাট বারে হাটে গিয়ে পরিচিত বইয়ের দোকানে দোকানে বই পছন্দ করতেন এবং জ্ঞান অর্জনের ভালো বই পেলেই ক্রয় করতেন। ছোটবেলা থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই শিশুদের মন এবং তাদের মেধাকে খুবই গুরুত্বের সহিত দেখতেন। তিনি তাদের বিভিন্ন আদর্শিক দিকটা চিন্তা করেই অজস্র পুস্তক সংগ্রহ করতেন। আজও সংগ্রহ করছেন মুক্তিযুদ্ধের উপর অনেক সচিত্র ইতিহাস।
তিনি জানান শুধুমাত্র বই সংগ্রহেই ব্যস্ত ছিলেন না।বই সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরিও করেছেন। ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রামে রউফাবাদ সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মানসিক প্রতিবন্ধীদের প্রতিষ্ঠানে ইন্সটাকটর হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে অল্প কিছু দিন চাকুরি করার পরপরই ভালো না লাগায় রাজশাহীতে আবার চলে আসেন এবং ১৯৯৮ সালে বগুড়া মেডিকেল কলেজে দুই বছর চাকুরি করেই আবার সেখানেও ভালো না লাগায়, সেই চাকুরিটাও ছেড়ে দিয়ে রাজশাহীর নিজ বাড়িতে চলে আসেন। বলে রাখি, এর আগেও তিনি বগুড়া আর্ট কলেজে ১৯৯৬ সালে যোগদানের পর সেখানেও কেন যে মন বসাতে পারছিলেন না। সে কথা তিনি প্রকাশ করেন নি। তাছাড়াও তিনি ঢাকায় একটি মিনার্ভা অফসেট প্রিন্টিং এ বেশ কিছু দিন চাকুরি করে সেটিও ছেড়ে দেন। এতোগুলো প্রতিষ্ঠানে চাকুরি ছাড়ার পর তাঁর চাকুরি করার ইচ্ছেটা কিন্তু বলবত ছিল। পরে তিনি রাজশাহীর একটি জনপ্রিয় শিল্প ও সংস্কৃতির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ রাজশাহী চারুকলা মহাবিদ্যালয় এ গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের শিক্ষক হন। সেখানেই ২০০১ সালে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করার পর এখনও তিনি পদোন্নতি নিয়েই সহকারী অধ্যাপক হিসেবে আছেন। নজরুল ইসলাম তোফাকে জানান বাঁকি জীবনটা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই থাকতে চান।তিনি আরও জানালেন, শিক্ষকতার পাশা পাশি বহু প্রবন্ধ বইয়ের মাঝেই অনেক আনন্দ পান। প্রবন্ধের চাহিদা তাঁর কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এমন প্রিয় বই ছাড়াও যেমন: বিভিন্ন ভাষার অভিধান, পুরাকীর্তির কোষ, পরিভাষা, লৌকিক জ্ঞান, ভাষা বিজ্ঞাপন ও ভাষা বিষয়ক বই, জীব ও সাহিত্যকর্ম, রবীন্দ্রনাথের রচনা সমগ্র সহ রবীন্দ্র চিত্রাবলীর উপর প্রায় সকল গ্রন্থই তাঁর রয়েছে। জানা যায় সেগুলোর মূল্য ১লক্ষ টাকারও বেশী। নজরুল বিষয়ক বই, বিবিধ প্রবন্ধ সংকলন, সাহিত্য গবেষণা ও সমালোচনা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসের কবিতার উপরে বই, মানব কল্যাণ কাব্য, নাটকের টেকনিক্যালের বই, একুশের উপর কবিতা অন্যান্য বহু বই, ফোকলোর, ইতিহাস,
যোগ ব্যায়াম, খেলা ধুলা, ধর্ম, নাচ, সঙ্গীত, সংস্কৃতি, সমাজ কল্যাণ, সমাজ বিজ্ঞান, রাষ্ট্র বিজ্ঞান, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান, কৃষি বিজ্ঞান, উদ্ভিদ বিজ্ঞান, কাঠ বিজ্ঞান, সাধারণ বিজ্ঞান, পরিবেশ বিজ্ঞান, মৃত্তিকা বিজ্ঞান, ভেষজ বিজ্ঞান, পশু ও মৎস বিজ্ঞান, কীট-পতঙ্গ বিজ্ঞান ও কীটতত্ত্বের বই, হোমিও চিকিৎসা ও ঔষধ বিজ্ঞান, পশু পালন ও পশু চিকিৎসাবিদ্যা,
চিকিৎসার ইতিহাস, দর্শন ও মনোবিদ্যা, ভূপ্রকৌশন ও কারিগরি বিদ্যা, প্রাণী বিদ্যা, পদার্থ বিদ্যা, রসায়ন বিদ্যা, উদ্যান তত্ত্ব, ভূগোল, গণিত, স্হলপথ জলপথ এবং আকাশ পথে উপর বই, সাংবাদিকতা, আইন, লোক প্রশাসন, শিক্ষা, চলচ্চিত্র ও চিত্রকলা, জীবনী গ্রন্থমালা, ভাষা আন্দোলন গ্রন্থামালা সহ বহু অফিস আদালত সম্পর্কিত পুুুস্তক রয়েছে। ষড়ঋতুর উপর ছড়া কবিতা গানের বই, ছবির বই আলাদা আলাদা ভাবে অনেক গুলো পুস্তক রয়েছে। রুবাইয়াত এর উপর প্রায় ৫/৬ টি বই রয়েছে। স্থাপত্য শিল্প, ভেষজ চিকিৎসাও ভেষজ গুনাগুনের বহু পুস্তক। সর্বোপরি বিভিন্ন মসলার গুনাগুন সম্পর্কিত বই, স্কাউট, শ্রবণ প্রতিবন্ধী, শারীরিক প্রতিবন্ধী, মানসিক প্রতিবন্ধীর উপরেও বই রয়েছে। ব্যাংক ও এনজিও উপর তাঁর সংগ্রহে রয়েছে অনেক গুলো বই। ক্ষুদ্র এবং কুটির শিল্পের উপর নানা ধরণের পুস্তকও সংগ্রহে রয়েছে। তাছাড়াও পদবীর উপর বেশ কয়েকটি বই রয়েছে। টেলিভিশনের সাংবাদিকতা, উপস্থাপনা ও কারিগরি দিক নিয়েও বই রয়েছে।
মোঃ রফিকুল ইসলাম তালুকদার নিজ বাসভবনেই কোমলমতী বহু শিশুদের ড্রইং এবং হাতের লেখা শেখান। সব বয়সী মানুষরা সে সুযোগ পেয়ে থাকে। তিনি জানালেন, প্রতেকটি ভাষার ও লেখার একটি ব্যাকরণ রয়েছে, যেটা লোকে জানে না। বিধায় বই দেখে তাঁরা ভালো লেখা লিখতেও পারে না। সুতরাং সংগৃহীত বই দেখিয়েই তিনি তাদেরকে যত্নের সহিত প্যাকটিস করিয়ে থাকেন। তিনি চারুকলার শিক্ষক হওয়ায় চারুকলার সকল বিষয়ের উপরেই আলাদা আলাদা ধরনের অনেক বই রয়েছে। যেমন: পেন্সিল ড্রইং, পেন ড্রইং, পেন্সিল স্কেচ, পেন স্কেচ, মোম রঙ, প্যাস্টেল রঙের ছবির উপরে ওয়াটার কালার ছবি, তেল রঙের ছবির উপর, পোট্রেইটের উপর, বিখ্যাত ব্যক্তিদের পোট্রেট, শিশুদের পোট্রেট এবং বড়দের পোট্রেট। এছাড়াও তাঁর আছে সৌন্দর্য দর্শন অথবা নন্দনতত্ত্বের উপরে কমপক্ষে দু’শো মতো জনপ্রিয় পুস্তক ও ম্যাগাজিন।
তাঁর সুখী জীবনে জন্য ও সৎভাবে চলতে যা জানা প্রয়োজন রয়েছে তার প্রত্যেকটি বিষয়ের উপর বই সংগ্রহটাই আগে। বই সংগ্রহ করে পড়ার অভ্যাসটি বলা যায় নিত্যদিনের সঙ্গী। সেই ছোটবেলা থেকেই আজ অবধি বই সংগ্রহের পাশাপাশি তিনি অনেক আগের দিনের দেশীয় পয়সা সংগ্রহের নেশায় মত্ত ছিলেন। এমন ভালো লাগার অনেক পয়সা একবার তাঁদের ঘরে চুরি হওয়ায় সেই গুলো সংগ্রহে রাখতে পারেন নি। তিনি জানালেন, যখন ভোটের সময় হয় তখন ভোটের কাগজ সহ পোস্টার সংগ্রহ করতেন এবং যত্ন সহকারে সেগুলো রেখে দিতেন। এভাবেই তিনি ছোট থেকেই সংগ্রহের নেশায় ডুব দিয়েছেন। আজও পুরোপুরিভাবে পুস্তক সংগ্রহের নেশায় উঠে পড়ে লাগেন। বলা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার ছাত্র অবস্থা থেকেই আজ অবধি অনেক বেশি পুস্তক সংগ্রহ করেছেন।
১৯৭৩ সাল হতে বই সংগ্রহ এবং পড়ার মধ্য দিয়েই বহু জ্ঞান পিপাসু ব্যক্তির সান্নিধ্য পেয়েছেন। পড়ার ঘরেও নামিদামি ব্যক্তির সান্নিধ্যসহ অনেক উপদেশ গ্রহণ করেছেন। তাঁর কাছে দুনিয়ার সবচেয়ে বেশী ভালো লাগার জায়গা ছিল পুস্তক পড়া শুনার ঘর।তিনি শৈশর থেকে আজঅবধি এমন ঘরে যেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। তিনি জানালেন, তাঁর বাবা: মোঃ বিরাজ উদ্দিন তালুকদার, মাতা: সালমা বেগম ইসলাম ধর্মের আদর্শে পরিপূর্ণ জীবন পরিচালিত করেছেন। এমন এই আদর্শিক বাবা-মার সুসন্তানকে যেন কখনোই বই ক্রয় ও পাড়ায় নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করেনি। শৈশবে শিক্ষা জীবনে তাঁর বাবা মায়ের সৎ এবং আদর্শ জীবন ধারাকে কর্মে প্রতিফলন ঘটিয়ে ধর্মীয় বই পড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই তিনি শৈশবেই ধর্মীয় বই সংগ্রহ পড়তেন এবং আজও পড়ছেন। এ ধারার সংগৃহীত মূল গ্রন্থের মধ্যেই কোরআন শরীফ ও সহীহ হাদিস উন্নতম। তাছাড়াও আরও ইসলামী ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন বই। যেমন: বোখারি, মুসলিম, তিরমিজি, নাসায়ী, ইবনেমাজাহ্, আবুদাউদ, মুয়াত্তা ইমাম মালেক এর সব খন্ডই রয়েছে। তাঁর কাছে সব
ধারার অনেক বই সংগ্রহে রয়েছে। এই গুনী ব্যক্তির শিশু ও কৈশোর কাল কেটেছে গ্রামের বাড়ি হরেক রকম বইয়ের মধ্যে। ছোটবেলায় খুব শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তিনি জীবনে কখনোই খেলা ধুলা বা গান বাজনা করবেন নি। বলা যায় খেলা ধুলায় তাঁর মন বসতো না। ছোট বেলায় তাঁর অনেক বন্ধুই ছিল কিন্তু পরবর্তীতে একটি বইয়ে যখন পড়েছিল- ‘যার বন্ধু যত বেশী তার শত্রুও ততই বেশী’। তাই ঠিক সে সময় সে জ্ঞানের আলোকে নিজেকেই গুটিয়ে নিয়ে একাকিত্বে চলতে চেষ্টা করেছেন। বই সংগ্রহে তিনি যেন অন্য লোকের চেয়ে একটু আলাদা এই কারনে যে, তিনি মনে করতেন, ভালো বই শুধু যে জ্ঞান চর্চা বা গবেষণার জন্য উপযুক্ত হবে তা কিন্তু নয়, চরিত্র গঠনের জন্যেও ব্যতিক্রমী ভালো বইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি জীবনের শুরুতে পড়াশোনা করেছেন, জয়পুর হাট জেলার আঁকলাস, শিবপুর, শ্যামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হাই স্কুল নবম শ্রেণী পর্যন্ত। তার পরেই মর্ত্তুজা পুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপরে রাজশাহী এসে রাজশাহী চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে বি, এফ, এ (প্রাক) ডিগ্রীতে ভর্তি হন। সেখান থেকে বি, এফ, এ এবং এম,এফ,এ (গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগ) হতে সম্মানের সহিত ২য় বিভাগে পাস করেন। তিনি বলেন, শিক্ষাজীবনে সকল ক্লাসে তিনি দ্বিতীয় শ্রেণীতে পাশ করেন। উল্লেখ্য যে, তিনি রাজশাহী চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পরবর্তীতে সেই প্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ এবং অনুষদ হয়েছে। সার্টিফিকেট অনুসারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বই প্রেমী ছাত্র।
তাঁর সংগৃহীত পুস্তক বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রীদেরকে উচ্চ শিক্ষার জন্য পড়তে দিতেন। এমন বইগুলো পড়ে অনেকেই এম ফিল ও পি এইচ ডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এতেই তাঁর নাকি অনেক আনন্দ। তাঁর আরও আনন্দিত হওয়ার অনেক দিক রয়েছে। তিনি বলেছেন, ২০১৩ সালে রমজান মাসে ঈদের পরে যে সোমবার দিন ছিল, সেই দিনে চাঁপাই নবাবগঞ্জের সোনা হাটির সকল প্রাথমিক ও মাধ্যম বিদ্যালয়ের প্রধানদেরকে নিয়ে হাতের লেখার উপর সেমিনার এবং ওয়ার্কশপ এর আয়োজন হয়ে ছিল।তিনি সেখানে অনেকের উপস্থিতির মাঝেই সম্ভবত ছিলেন,সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মজিবুর রহমান, হাইকোর্টের বিচারপতি, জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসার। সেখানে বহু সুনামের সহিত হ্যান্ড রাইটিং এক্সপার্ট হিসেবে এই ব্যাকরণ বিদ্যার অধিকারী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম তালুকদারকে নিযে যান। তিনি বলেন, সেখানেই তাঁকে খুব সম্মান করেছিলেন। তিনি বলেন, এমন এ সম্মান আজীবন মনে রাখার মতো।
তিনি স্বপরিবারকে নিয়ে নিজ পরিকল্পনায় শৈল্পিক চেতনায় নির্মিত বাসা ভাটপাড়ায় থাকেন। রাজশাহী শহরের পশ্চিমে ঐতিহ্য পূর্ণ চিড়িয়াখানার উত্তরেই সুফিয়ানের মোড়ে, বাড়ি নম্বর ৯৬, আরও পরিস্কার ভাবে ঠিকানা বলেছেন, ডাকঘর- রাজশাহী জি, পি, ও, থানা- রাজ পাড়া, রাজশাহী। জানা দরকার তাঁর স্হায়ী জন্মস্হান। গ্রাম- শিবপুর, ডাকঘর- শিবপুর, উপজেলা- ক্ষেতলাল, জেলা- জয়পুরহাট। এস এস সি সার্টিফিকেট অনুসারে তাঁর জন্ম তারিখ ২০ মার্চ ১৯৭১ সাল। প্রকৃত পক্ষে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১১ অক্টোবর ১৯৬৫ সালের সোমবার দিন। ১৯৯৭ সাল ৩ এপ্রিল মুসলিমা খাতুনকে সহধর্মিণী করেছিলেন। তিনিও একজন দক্ষ চিত্রশিল্পী। দীর্ঘদিন পর ২০১০ সালের ২০ জানুয়ারীতে তাঁর এক মাত্র মেয়ে রিসতা ইসলামের জন্ম হয়। তিনি সন্তানকে নিয়ে ৫ ওয়াক্ত নামাজ নিজস্ব বইয়ের ঘরেই পড়েন। শুধু জুম’আর নামাজ মসজিদে গিয়ে পড়েন। অবসরেও মেয়েকে নিয়ে টিভিতে খবর, টক শো, গান এবং শিক্ষা মূলক অনুষ্ঠান দেখে আনন্দ উপভোগ করেন। আর বাঁকি যতটুকু সময় থাকে সেসময় টুকু শুধুই বইয়ের মধ্যে ডুবে থাকেন। সুন্দর জীবন গড়তে পুস্তকের কোনো বিকল্প নেই। সুদক্ষ এমন এ চিত্র শিল্পী ও বই পড়ুয়া কিংবা বইপ্রেমিক মোঃ রফিকুল ইসলাম তালুকদার মনে করেন যে, ‘ভালো পুস্তকেই ভালো জ্ঞান, খারাপ পুস্তকে খারাপ জ্ঞান।’ অভিজ্ঞ লেখকগণের অনেক গুলো পুস্তক পড়ে সর্বজ্ঞানে জ্ঞানানীত হয়ে যথাযথ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, ”পড়, পড় এবং পড়, পড়েই জীবন গড়।”

লেখক: টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা ও একজন আইনজীবীর কান্না

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৪-১৫ ১১:৪৩:৫৪

সেদিন সুপ্রিমকোর্টের একজন নামকরা আইনজীবী আদালত থেকে ফিরে অঝোরে কান্না করছিলেন। খবর পেয়ে অনেকেই তাকে দেখতে গেলেন। কেউ তাঁর কান্না থামাতে পারেনি। কান্নার কারণ শুনে ন্যুনতম দেশপ্রেম আছে, এমন কেউ অশ্রু ধরে রাখতে পারেনি। তাঁর মক্কেলদের জানানো হয়, তিনি আদালতে যাবেন না। তারা হতাশায় ভেঙে পড়েন।
আইনজীবী মহোদয় অনেক বড় মানের। আইনের দিগি¦দিক তাঁর জানা। তিনি কোনো মামলায় হারেননি। আদালতে তাঁর নামডাক সফলদের শীর্ষ সারিতে। বিচারকগণও তাকে একইভাবে চেনেন। কখনো তাঁর বিপক্ষে রায় দেবার সুযোগ পাননি। কিছুদিন আগে মাননীয় প্রধান বিচারপতি একটি মামলায় তাঁর বিপক্ষে গিয়ে সরাসরি স্বীয় অক্ষমতা প্রকাশ করেন। বলেন, “আমাদের কিছু করার নেই। গভর্নমেন্ট গেছে পাগল হয়ে। তারা একটি রায় চায়।” একথা বলেই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের প্রদত্ত যুক্তি সংশোধন করেন এবং বলেন, “এটি সংশোধন করুন, তা না হলে আসামিকে ফাঁসি দেয়া যাবেনা।” এ কর্মকান্ডে আইনজীবী মহোদয় বিস্মিত হন। তাঁর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। অজান্তেই চোখের পানিতে পোশাক ভিজে যায়। ভগ্ন-হৃদে আদালত ত্যাগ করেন। বাসায় ফিরে প্রধান বিচারপতির অক্ষমতার কথা ভেবে অনুশোচনা করেন এবং নিজেকে সান্ত¦না দেন।
সম্প্রতি আরেকটি মামলায় তিনি হেরেছেন। তাঁর মক্কেল প্রধান আসামির চেয়ে দ্বিগুণ সাজা পেয়েছে। সে ছিল সহযোগী আসামি। বিচারশুনানির ৬৩২ পৃষ্ঠা রায় বিবরণীতে সে মূল অপরাধী সাব্যস্ত হয়নি। তাই আইনজীবী মহোদয় ভেবেছিলেন, নিশ্চয়ই তাঁর মক্কেল প্রধান আসামির চেয়ে কম সাজা পাবে। কারণ, পৃথিবীতে প্রধান অপরাধীর চেয়ে সহযোগীর অধিক সাজাদানের নজির নেই। অথচ আদালত প্রধান আসামিকে বিশেষ বিবেচনায় ৫ (পাঁচ) বছর আর সহযোগীদের ১০ (দশ) বছর সাজা দেন। তিনি রায় শুনে অবাক হন। বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “এ রায় কি আইনসম্মত হল?” বিচারক রীতিমতো হুমকি দেন। বলেন, “আপনার সাহস তো কম নয়। আপনি আদালত অবমাননা করছেন। সবসময় আইনের দোহাই দেবেননা। বুঝতে হবে, এটি রাজনৈতিক মামলা।” তিনি নিশ্চুপ হয়ে যান। বুঝে নেন, রাজনৈতিক মামলায় আইনের সঠিক প্রয়োগ প্রযোজ্য নয়। তিনি এতে খুবই কষ্ট পান। আইনি পেশা ছেড়ে দেবার মনস্থির করেন। আদালতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
বাসায় ফিরে ডুকরে কাঁদতে থাকেন। তাঁর স্ত্রী ও সন্তান সান্ত¦না দেন। তারা বলেন, মামলা দুটো নেয়াই ভুল ছিল। একথা শুনে তিনি শক্ত হন এবং বলেন, এ দুটো মামলাতেই আইনের সর্বোচ্চ অপপ্রয়োগ হয়েছে। এটি দেশ ও জাতির জন্য অশনি সংকেত। বিচারবিভাগ যেভাবে কলুষিত হয়েছে, তাতে জাতির ধ্বংস অনিবার্য।
এরপর ব্যর্থ মামলা দুটি বর্ণনা করেন। প্রথম মামলাটি, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে। বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই তা সমাধা করে গেছেন। তাঁর শাসনকালে ১৯৭১ সালে সংঘটিত জঘন্য অপরাধের জন্য ১৯৫ পাকসেনা মূল অপরাধী স্বীকৃত ছিল। এরপরও বিশেষ মহলের চাপে তিনি দালাল আইনে বিচার শুরু করেছিলেন। বহু বাঙ্গালিকে আটক করেছিলেন। বিচারে চিকন আলি নামে একজনের ফাঁসিও কার্যকর হয়েছে। পরবর্তীতে পাকিস্তানে আটক বাঙ্গালিদের ফেরত আনতে উক্ত ১৯৫ যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেন। তখনই দালাল আইনে প্রচলিত বিচার বাতিল করেন এবং বলেন, “প্রধান অপরাধীদের ছেড়ে আমি আমার যুদ্ধবিধ্বস্থ অসহায় নাগরিকদের অপরাধী সাব্যস্ত করা সঠিক মনে করিনা।” একথা বলে বিচারের সকল কাগজপত্র নিশ্চিহ্ন করেন। কোলাবরেটরস বা দালালের সংজ্ঞাও পরিবর্তন করেন। লেখক মঈদুল হাসান ‘মুলধারা ৭১’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা-৪১) উল্লেখ করেন, “দেশ মুক্ত হওয়ার পর বেসামরিক প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন বিষয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে মন্ত্রিসভা এই অভিমত প্রকাশ করেন যে, অধিকৃত অঞ্চলে সরকারী অফিসার ও কর্মচারী যারা দৃশ্যত পাকিস্তানীদের সাথে সহযোগীতা করে চলেছেন, তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই প্রাণের ভয়ে তা করতে বাধ্য হয়েছেন এবং প্রকৃতপক্ষে তারা স্বাধীনতার গোপন সমর্থক।” এভাবে বঙ্গবন্ধু স্বীয় জামাতাসহ মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তান সরকারে কর্মরত সবাইকে দায়মুক্তি প্রদান করেন। বাংলাদেশে দালাল আইনের কার্যকারিতা চিরতরে শেষ হয়।
মুক্তিযুদ্ধকালে এদেশের মানুষ নিতান্তই অসহায় ছিল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা আত্মরক্ষার জন্যই পাকবাহিনীকে সহযোগীতা করেছিল। তাই প্রধান অপরাধী ১৯৫ পাকসেনার বিচার ব্যতিরেকে যুদ্ধবিধ্বস্থ বাংলাদেশিদের বিচার মোটেও আইনসম্মত নয়। এতে পাকিস্তানিদের পরিবর্তে বাংলাদেশিরাই ঘাতক, খুনি, ধর্ষণকারী ও মানবতাবিরোধী অপরাধী সাব্যস্ত হয়। বাংলাদেশে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারে তা সুস্পষ্ট হয়েছে। বিশ্ববাসী এখন পাকিস্তানিদের যুদ্ধাপরাধী মনে করেনা, বাংলাদেশিদেরকেই তা জানে। এতে বাংলাদেশের বিচারবিভাগের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে। অবিচারের বিজয় আর সুবিচারের পতন হয়েছে।
অন্য মামলাটি আরো স্পষ্ট। তাতে প্রধান আসামি বেগম জিয়া। মামলার বিশাল ডকুমেন্টে তা প্রমাণ হয়েছে। অন্যরা সহযোগী। বিচারে প্রধান আসামির চেয়ে সহযোগীর অধিক সাজা অবৈধ। প্রধান আসামির জামিন হলে, সহযোগীরও তা নিশ্চিত। প্রধান আসামি বিশেষ বিবেচনায় যা পায়, সহযোগীরা তার চেয়ে বেশি পায়। এটিই আইনি বিধান। অথচ আদালত বেগম জিয়াকে ৫ (পাঁচ) বছর ও সহযোগীদের ১০ (দশ) বছর সাজা দিলেন। আমার মক্কেল দ্বিগুণ সাজা পেল। এ অবৈধ রায় বিচারবিভাগকে কলঙ্কিত করেছে। এতে আমার ব্যর্থতার কিছু নেই। আমরা আইনজীবীরা নিরূপায়। বাংলাদেশে বিচারক অভিসংশন বা বিচারিক শুদ্ধ-অশুদ্ধতা বিশ্লেষণের প্রকাশ্য মাধ্যম নেই। আফসোস, আমি এ বিচারবিভাগে কেন এতোদিন ছিলাম! একথা বলে আইনজীবী মহোদয় আবার কাঁদতে থাকেন।


লেখক : শিক্ষানবিস আইনজীবী, ঢাকা।

বিস্তারিত খবর

রোহিঙ্গা ও উইঘুর— পার্থক্য শুধু মানচিত্রে

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৩-২২ ১১:৫০:৪০

ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং ঝু বুধবার (২১ মার্চ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে চীন নিরপেক্ষ থাকবে।’ মানে তারা ঘনিষ্ট মিত্রদেশ মিয়ানমারকে এ ব্যাপারে কিচ্ছুটি বলবে না। এর আগেও দেশটির তরফ থেকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে পরিষ্কার কোনো অবস্থান পরিলক্ষিত হয়নি। কিন্তু চীন রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আসলেই কি নিরপেক্ষ ও নির্বিকার? তা হলে কেন, ভাবা দরকার।

বঙ্গোপসাগর বিধৌত উর্বর আরাকানে কেবল চীনের বিপুল অঙ্কের বন্দর-বাণিজ্যিক স্বার্থই জড়িত নেই, এর সঙ্গে যুক্ত কোনো ভিন্নমতাবলম্বী কিংবা ভিন্ন ধর্মাদর্শের জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চীনাদের উদ্ভাবিত ভয়াবহ ‘ঠান্ডা মাথার নিপীড়ন কৌশল’। মিয়ানমার তার বড়ভাই চীনের কাছ থেকে সেটি রপ্ত করে আরাকানে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যবহারিকভাবে প্রয়োগ করেছে। সংগত কারণে চীন নিরপেক্ষ থাকার আবডালে দেখে নিচ্ছে তাদের কৌশল কতটা সফল হচ্ছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা এবং বেসামরিক সরকারের বিতর্কিত ডি-ফ্যাক্টো অং সান সু কির হাতে।

আমাদের কেউ কেউ তবু রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনকে পাশে পেতে চান। তাদের একটা বিষয় মাথায় রাখা দরকার, আরাকান তথা রাখাইনে যেভাবে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনা-নিপীড়ন চালিয়ে বাংলাদেশে বিতাড়িত করা হয়েছে এবং যা এখনও চলমান, ঠিক একই কাজটা গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে চীনা কর্তৃপক্ষ করছে দেশটির সংখ্যালঘু জাতিগাষ্ঠী উইঘুরদের ওপর।

উইঘুর অধ্যুষিত জিনজিয়াংয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে চীন। সব রকমের মানবাধিকার লঙ্ঘন করে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে উইঘুরদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবন। এমনকি নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে বিয়ে, সন্তানের নামকরণ থেকে শুরু করে নিজ অঞ্চলের বাইরে চলাচলের ওপর। এ ছাড়া প্রায় সময় চীনা পুলিশ ও সেনাদের হাতে মরছে নিরীহ উইঘুররা। নির্যাতিত হচ্ছে অজস্র নারী। সেখানকার ১ লাখ ২০ হাজার উইঘুরকে ‘পুনঃশিক্ষণ’ প্রকল্পের নামে এক ভয়ানক ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে। এর বাইরে স্ব-ভূম ছাড়তে বাধ্য করেছে তিন লাখের বেশি উইঘুরকে, যারা বাধ্য হয়েছে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করতে।

মনে রাখা দরকার, রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সংঘটিত নির্যাতন-নিপীড়নে এসব উপাদানের প্রাবল্য রয়েছে। উপরন্তু রাখাইনে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের জন্য চৈনিক কৌশলে ক্যাম্পও তৈরি সম্পন্ন করেছে প্রায়। ট্রানজিট ক্যাম্পের নামে তৈরি এসব ক্যাম্পেই রাখা হবে ফেরত নেয়া রোহিঙ্গাদের। (বাস্তবে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। নিলেও যাচাই-বাছাইয়ের নামে কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গাকে নেবে তারা)। যদিও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এসব ক্যাম্পে স্বল্পকাল রাখা হবে রোহিঙ্গাদের, কিন্তু আমার ধারণা এসব ক্যাম্পে চীনের উইঘুর দমন-পীড়নের কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি করবে দেশটি।

এ পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে চীনের ‘নিরপেক্ষ’ থাকার ‘ভদ্রবেশ’ আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছু নয়। উইঘুর ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চীন ও মিয়ানমারের পরিকল্পিত দমন-পীড়নের যদ্দুর পাঠ ইতিহাস থেকে নিয়েছি, তাতে আমি মনে করি, এ দুই জাতিগোষ্ঠী একই রকমের দমন-পীড়ন কৌশলের সহজ শিকার।

লেখক: কবি, সাংবাদিক, গবেষক

বিস্তারিত খবর

শিল্পীদের সামাজিক দ্বায়বদ্ধতায় আর্থিক উন্নয়ন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৩-০৭ ০০:০৫:১০

মানব জাতির শিল্প চৈতন্য বোধ ও মনুষ্যত্ব বোধ বা মানুষের মানুষ ছাড়া অন্য কোনো পরিচয় আশা করা যায় না। আপাত দৃষ্টিতে সুচিন্তিত অভিমতের আলোকে দেখা যায় যে, তরুণ প্রজন্ম হতাশার কুয়াশায় উচ্চ আকাঙ্ক্ষার পথ যেন হারিয়ে ফেলছে। প্রত্যেকে নিজস্ব ভাবনার পক্ষে যে কোন যুক্তি উপস্থাপন করুক না কেন, ভাবনার এক বিস্তৃত পর্যালোচনায় উঠে আসে শিল্পীদের জীবিকা অর্জন কঠিন। এমন কঠিন ও অমশ্রিণ পথ রয়েছে বলেই কি শিল্প সাধনা করবে না তরুণ প্রজন্ম?

জানা দরকার, কিছুটা বিশৃঙ্খলা বা অসংগতি রয়েই গেছে দেশীয় শিল্পাঙ্গানে, অশিকার করার যে উপায় নেই। আবার বলা যায় কিছুটা বিশৃঙ্খলা ছাড়া শিল্প সংস্কৃতির বিবর্তনও ঘটে না। জীবিকা অর্জন কঠিন বলেই কি শিল্পীরা গরিব, দরিদ্র মানুষ হবে, তা কিন্তু নয়। মানুষ দরিদ্র হয়, যখন তাদের হৃদয়, কল্পনায়, সৃজনশক্তি কুঞ্চিত হয়ে যায়। এই কথা গুলো জানা গেলো, জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের অমিয় বাণীতে যা শিল্প চৈতন্যবোধের চিন্তায় তরুণ প্রজন্মের কাছে মাইলফলক হয়ে রবে।

শিল্প চর্চায় অর্থ উপার্জনের প্রয়োজন রয়েছে, অর্থ উপার্জন না হলে শিল্পচর্চার গুরুত্ব ও শিল্পের পরিধি বাড়ানো সম্ভব নয়। সেহেতু সৃৃৃজনশীল শিল্পীদেরকে একটু কৌশলী হতেই হবে। তবে ভিন্ন মতাবলম্বীরা হয়তো একে বাঁকা চোখে বা বাঁকা ভাবেই দেখবেন।আসলে অর্থ না পেলে যে শ্রমের স্বার্থকতা হয়ে যায় দুর্বিসহ। শিল্পের তথ্য ও তত্ত্বের ভিতর দিয়ে সযত্নে লালিত চিন্তা-চেতনায় এদেশের শিল্প সামনের দিকে এগুচ্ছে আবার বাধাও পাচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম চলতে গিয়ে যেন আবার সেই অর্থ কষ্টে হোঁচটও খাচ্ছে।তাদের শিল্প বিপ্লবে রয়ে যাচ্ছে সংশয়, তাদের পূর্ব বিশ্বাসের অসাড়তা দ্বারা তারা বাধা প্রাপ্ত হলেও নিত্য নবচিন্তা এবং চেতনায় নবউদ্দ্যমে আপন পথ খুঁজে নিচ্ছেন এবং নেবেও। শিল্পচর্চায় ধৈর্য তাদের যেন দিনে দিনে একটু কম হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ তারা দাঁড় করাচ্ছেন মৌলিক চাহিদা শুধুই “অর্থ”।

ইতিহাসও বলে “অর্থ” উপার্জনের সুগম পথ অথবা প্রক্রিয়া একটু অমশ্রিণ। তাই তো এ পথে একজন শিল্পীকে যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, তা তো মোটেও যেন উপলব্ধি করছে না তরুণ প্রজন্ম। অর্থ উপার্জনের জন্য কষ্ট এবং শ্রম দিতেই হবে। সমাজ যদি সে অর্থ উপার্জনের পথ সুগম না করে বুঝতেই হবে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী শিল্পচর্চা হয়তো হচ্ছে না। ধরা যাক যে, অ্যাবসট্রাক্ট বা বিমূর্ত ধারার ছবি অঙ্কনের পদ্ধতি সমাজের সাধারণ মানুষ কতটুকুই জানে বা বুঝে। অ্যাবসট্রাক্ট কাজে যদি একজন শিল্পী শুরুতেই এমন ধারা শুরু করে, তা হলে শিল্পী খ্যাতি অথবা “অর্থ” চাওয়াটাই বৃথা চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।

এ সম্পর্কে জনপ্রিয় শিল্পী মর্তুজা বশীর বলেছেন, অ্যাবসট্রাক্ট কাজে সমাজের প্রতি শিল্পীদের খুুুব একটা দ্বায়বদ্ধতা প্রকাশ পায়না। এখানে আরেকটা বিষয় উল্লেখ করা অনেকটাই জরুরী মনে করি। তা হলো, শিল্পীর বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সঙ্গে যেন দর্শকের অভিজ্ঞতার বিস্তর পার্থক্য রয়েছে, তাই তরুণ শিল্পী হুবহু যে বার্তা অথবা দর্শনটি জানাতে চান, দর্শক কখনোই তার শতভাগ বুঝতে পারে না। শিল্পীর এই নিজস্ব অবস্থান ও জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করেই এমন পার্থক্য দেখা দেয়। আবার বলছি না যে, বিমূর্ত ছবি আঁকা যাবে না। অবশ্যই আঁকাতে হবে, তবে “অর্থ” উপার্জনের পথ খুঁজে নিয়েই সৃৃৃজন শীল কর্ম করা বাঞ্ছনীয়। সামাজিক চাহিদা অনুযায়ী আজকের এ তরুণ শিল্পীদের জীবন যাত্রার শুরুতেই রিয়ালিষ্টিক বা বাস্তবধর্মী ছবি অঙ্কনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়াটাই যথার্থ।

সাধারণ মানুষের জন্যই সহজবোধ্য রুচিশীল এবং মন ছোঁয়ানো অথবা আবেদনময়ী ছবি অংঙ্কনেই আজকের শিক্ষানুরাগী তরুণ প্রজন্ম যুগোপযোগী শিল্পচর্চায় অগ্রসর হতে হবে। মনে রাখা দরকার যে, প্রত্যেককেরই একটি নিজস্ব স্টাইল বা সৃষ্টিশীলতা রয়েছে। তাই বলে শুরুতেই নয়। সামাজিক চাহিদা অনুযায়ী না এঁকে নাম ধামের জন্যই শুরু থেকে এই বিমূর্ত ধারণায় ছবি আঁকাটা ঠিক হবে না। শুরুতেই খ্যাতির জন্য আঁকা হলে অবশ্যই ধরাও খেতে হবে।এক সময় খ্যাতিটি আপনা আপনিই চলে আসবে। যদি সেই আর্ট বা চিত্রাঙ্কনটি সত্যিকার সামাজিক চাহিদার আর্ট হয়। হাজার বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি জনগোষ্ঠীর এমন এই শিল্প-সংস্কৃতি।

এ অভিজ্ঞতার আলোকে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অর্জন তার শিল্প বোধ, জীবন যাপনের পাশাপাশি নানাবিধ চিন্তা চেতনার মাঝেই রয়েছে রুচিশীলতা। এদেশের নারী-পুরুষের রুচিশীল এবং তাদের নিজস্ব স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইতিবাচক ভাবনার সংমিশ্রণ ঘটিয়েই শিল্প চর্চায় অগ্রসর হতে হবে। ফলে তা হতে পারে দুর্বল, অসুস্থ; হতে পারে পরিশীলিত, রুচিশীল। এটি নির্ভর করে, সেই জনগোষ্ঠীরা কীভাবে, কেমন করে গড়ে উঠছে তার মৌল সত্যের ওপর। মানুষ যদি আপন জীবনাচরণের মৌলিক যেসব গুণাবলি তাকে নির্ণয় করতে না পারে, তাহলে সেই খণ্ডিত বোধ তীব্রভাবে আঘাত করবে শিল্প, সংস্কৃতিকে। যদি পার্থক্য নির্ণয় করা না যায় ত্যাগ ও সহিষ্ণুতার, সাহস ও সন্ত্রাসের, শক্তি ও ক্ষমতার, বিনয় ও দম্ভের, সত্য ও মিথ্যার এবং রুচি ও অরুচির- তাহলেই তো বলা যায়, মূল্য বোধে ও আর্থিক দৈন্যতার ভিত নড়ে যাওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। মূল্যবোধ ও আর্থিক চাহিদায় শিল্প সংস্কৃতির অনেক সহায়ক উপাদান। সুতরাং মূল্য বোধের অবক্ষয় দুর্বল করে শিল্প সংস্কৃতিক চেতনা। দুর্বল সাংস্কৃতিক চেতনায় পীড়িত করে জনগোষ্ঠীর মানবিক বোধ। তাই বিচক্ষণতার আলোকেই তরুণ প্রজন্মকে তাদের শিল্প সাধনায় অগ্রসর হয়েই অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজতে হবে।

শিল্প সংস্কৃতি গ্রহণ-বর্জনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়।মানুষ ক্রমাগত নিজের বিকাশ ঘটাতেও পারছেন। দৈনন্দিন চারপার্শ্বে যা কিছু ঘটে যাচ্ছে, এগুলোকে দ্বায়িত্বে নেওয়াই শিল্পীর কাজ। শিল্পীর শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন শৈল্পিক চেতনার মধ্য দিয়েই মানুষের মনের খোরাক পুরনে এবং তাদেরকে শিল্পের পরিপূর্ণতা দিয়েই অর্থ উপার্জনের কথা ভাবতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়, শিল্প থেকে আর্থিক উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম শিল্পী এবং দর্শকদের জানাশোনার পরিধির ওপর নির্ভর করেই শিল্প সৃষ্টি করতে হবে।কোন আঙ্গিক থেকে শিল্পটি উপস্থাপন করা হয়েছে তার উপরেই শিল্পের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক চাহিদা রয়েছে বলে মনে করেন নজরুল ইসলাম তোফা। শিল্পী যত বিচক্ষণতার অধিকারী হবে ততই তার শিল্পকর্ম অর্থবহুল এবং অর্থ উপার্জনের পথ সুগম হবে। শিল্পী যদি সেই বিচক্ষণতার অধিকারী না হোন, তাহলে নিছক চিত্র এঁকে আর্থিক দৈন্যতায় থাকতে হবে। সুতরাং সেখানে অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজে পাওয়া যাবে না বৈকি। শিল্পীর যদি দৃষ্টি এবং মননে সেই আবরণ বা পর্দাটা দিনে দিনে দূরীভূত হয়ে যায়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে তরুণ শিল্পীদের অন্তর দৃষ্টি এবং ভাবনার গভীরতা অনেক কম। তাই ধরেই নিতে হবে তরুণপ্রজন্মের শিল্পীদের অর্থ উপার্জনের পথ অমশ্রিণ।

নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

বিস্তারিত খবর

অপসংস্কৃতরি ধারক যখন সুশীল সমাজ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০২-১২ ১৫:০৯:০০

শোকে অথবা দুঃখ, বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় এবং প্রতবিাদরে সমাবশেে ইদানীং ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘প্রদীপ প্রজ্বলন’ আর ‘আলোর মছিলি’। প্রদীপ জ্বালানো হচ্ছে অনুষ্ঠান-উৎসবরে উদ্বোধনওে। একে বলা হচ্ছে ‘মঙ্গল প্রদীপ’। এই প্রদীপ ঘাড়ে করে হচ্ছে শোভা যাত্রাও। রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে দনি মান নচে-েগয়ে,ে মছিলি করে আলোয় আলোয় ভুবন ভরয়িে ফলোর আশাও করা হচ্ছ।ে শোভা সখোনে  অবশ্যই দখো যায় কন্তিু তাতে কারো কোন মঙ্গল কখনো হয়ছেে এমন শোনা যায় ন।ি বরং সখোনে নয়িমতি লাঞ্ছতি হচ্ছে শত শত নারী যা কনিা একবোরে ‘ওপনে সক্রিটে’। তারপরও সটোই নাম ‘মঙ্গল শোভা যাত্রা’। ওদকিে প্রজ্বলতি অগ্নি শখিার সামনে দাঁড়য়িে নয়ো হচ্ছে ‘বজ্র কঠনি শপথ’। সইে শখিাকে আবার প্রায়শই মহমিান্বতিও করা হয় পুষ্পস্তবক র্অপণরে মাধ্যম।ে এসবরে বশেীর ভাগই হচ্ছে দশেরে র্সবোচ্চ শক্ষিা প্রতষ্ঠিানগুলোত।ে এতে অংশ নচ্ছিনে ভসি,ি প্রভোস্ট, অধ্যাপক, সমর নায়কসহ দশেরে সব বশিষ্টিজনরো তথা সমাজরে র্সবোচ্চ শক্ষিতি সুশীল শ্রণেী। আমাদরে মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রীও আছনে ঐ দল,ে তাদরেকওে প্রদীপ জ্বালাতে দখো গছেে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান।ে

বাত,ি মোমবাতি আর অগ্নশিখিা কন্দ্রেকি এসব আয়োজন আমাদরে দশে ও সমাজে অনকেটা নতুন মনে হলওে বশ্বিব্যাপী এর প্রসার এবং প্রয়োগরে ইতহিাস সুর্দীঘ। এক্ষত্রেে সবচয়েে উল্লখেযোগ্য বোধকরি ‘অলম্পিকি মশাল’। এই মশাল এতটাই সম্মানতি যে এটা রীতমিত প্রদক্ষণি করে সারা বশ্বি। ঘুরে ফরেে দশেে দশে।ে প্রতটিি দশে একে দয়িে থাকে রাষ্ট্রীয় র্মযাদা এবং অর্ভ্যথনা। রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান, মন্ত্রী, শাস্ত্রী সবাইকে সব কাজ ফলেে ছুটতে হয় এই একখণ্ড আগুনরে পছেন।ে
অগ্নশিখিার এই অভ্রভদেী মাহাত্ম্যরে কারণ বোধকরি আঁধাররে উপরে এর সুস্পষ্ট আধপিত্য। আলোর ধাওয়াতইে তো পালায় আঁধার। শক্তি হসিবেওে এর গুরুত্ব র্সব স্বীকৃত। তাই আমাদরে র্শৌয-র্বীয তথা ‘স্পরিটি’-এর তুল্য হতে পারে যনে একমাত্র এই আগুনই। বোধকরি সজেন্যইে অলম্পিকিসহ সব গমেসে এর র্সবোচ্চ  অবস্থান ও র্মযাদা নশ্চিতি করা হয়ছেে শক্ত আইন- কানুনরে মাধ্যম।ে অথচ মজার ব্যাপার হচ্ছে মশালরে ক্ষমতা নইে নজিে থকেে জ্বলবার। মানুষ জ্বালালে তবইে জ্বল।ে যে প্রদীপ বা মোমরে আলোতে আঁধার হয় দূর তার সাধ্য নইে সামান্যতম বাতাসরে মুখে টকিে থাকার যদি না মানুষ দয়া করে সটোকে রক্ষা করে নজি হাতরে তালুর আড়াল।ে যে জ্যোতি ও শখিার জন্ম এবং স্থায়ত্বি মানুষরে হাতরে মুঠোয়, মানুষরে করুণা নর্ভির, সটো কভিাবে পতেে পারে মানুষরে ভক্ত,ি সম্মান আর শ্রদ্ধা তা বুঝে আসে না কছিুতইে। বুদ্ধতিে ধরে না। ববিকেওে মানে না।
   
কোন জ্যোতি বা আলোকে যদি সক্ষমতার প্রতীক ধরতইে হয় তবে তার অনবর্িায দাবীদার হলো ‘র্সূয’। বাতি বা প্রদীপরে মত র্সূযরে দরকার হয় না মানুষরে কোন দয়া, করুণা বা সহায়তা। বরং মানুষকইে তার নত্যিদনিরে জীবনরে র্স্বাথে নর্ভির করতে হয় র্সূযরে উপর। এই র্সূযরে দাপট এতটাই র্সবব্যাপী যে পৃথবিীর নভিৃততম গুহা-কোণও বাধ্য তার আলোকে প্রবশোধকিার দতি।ে এহনে ক্ষমতাধর র্সূযও নয়িত দশিা হারায় ভাসমান মঘেমালার কাছ।ে রাহুর গ্রাসরে কাছ।ে অসহায় আত্মসর্মপণে বাধ্য হয় রাতরে কালো আঁধাররে কাছ।ে চাঁদরে গায়ে আলো ফলেে যদওি সে চষ্টো করে রাতরে সাথে লড়তে কন্তিু তাতওে নয়িমতি বাঁধ সাধে পৃথবিী, অমাবস্যার রাতে ঘটে তার চূড়ান্ত পরাজয়। তাই আঁধারকে জয় করা আর হয়ে ওঠে না র্সূযরে। এসব তথ্য বজ্ঞৈানকি সত্য। বশ্বিরে তাবৎ শক্ষিতি জনগোষ্ঠী এই সত্যরে ব্যাপারে বজ্ঞি। তারপরও তারা প্রদীপ আর মোমবাতরি ঠুনকো আলোর ধারার মধ্যে দখেতে পায় মানুষরে ‘মঙ্গল’। নজি হাতে জ্বালায় আর নভিায় যে শখিাকে তাকইে কনিা বলে ‘অনর্বিাণ’ আর ‘চরিন্তন’। কি ভয়ানক বভ্রিম, কি ভীষণ র্মূখতা। এহনে আগুনরে শখিাতইে যখন পশে করা হয় ‘পুর্ষ্পাঘ্য’, তাকে সাক্ষী রখেে যখন নয়ো হয় ‘বজ্রকঠনি’ শপথ। তখন তাকে কি বলা যায়? বহুমাত্রকি র্মূখতা নাকি জ্ঞানরে র্দুভক্ষি?
   
অনকে শ্রদ্ধার যে পুর্ষ্পাঘ্য, সটো আগুনরে বদেি ছাড়াও র্অপণ করা হয় শহীদরে কবরে এবং স্মৃতরি মনিার সমূহ।ে কন্তিু আমরা কউে জানি না যে এই র্অঘ্য বদিহেী আত্মারা দখেে কনিা, গ্রহণ করে ক।ি কম্বিা এগুলো আদৌ তাদরে কোন কাজে আসে কনিা। নর্দিষ্টি কোন প্রমাণপঞ্জি ছাড়াই আমরা জীবতিরা এটাকে বানয়িে নয়িছেি মৃতকে সম্মান জানানোর উপায়। জীবদ্দশায় আমরা অন্যরে কাছ থকেে ফুল পতেে ভালবাস,ি ফুল পলেে খুশী হই। ফুলরে প্রতি র্সাবজনীন এই ভাল লাগাই সম্ভবত: মৃতকে পুর্ষ্পাঘ্য র্অপণরে পছেনে প্রধান যুক্ত।ি কন্তিু সইে ফুল কচ্ছিুক্ষণ পর ডাস্টবনিে ছুড়ে ফলেতে হলে কি মূল্য থাকলো সইে র্অঘ্যরে? এটা বস্তুত সম্মানরে নামে মৃতরে সাথে অসম্মানজনক প্রতারণা বশিষে। এমন কাজ শুধুমাত্র জাত প্রতারকদরে পক্ষইে করা সম্ভব।

অথচ দহেত্যাগী অবনিশ্বর মানবাত্মাকে লাভবান করতে পারে এমন সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর প্রমাণতি পদ্ধতইি রয়ে গছেে আমাদরে হাত।ে নশ্বর এবং অবনিশ্বর জগতরে মাঝে র্কাযকর যোগ সূত্ররে তমেন পথ দখেয়িে গছেনে চরি সত্যবাদী হসিবেে বশ্বি স্বীকৃত হযরত মুহম্মদ সা:। মহা জগতরে মহান স্রষ্টার কাছে একান্ত র্প্রাথনাই সইে একমাত্র উপায়। তবে সইে র্প্রাথনাও হতে হবে স্রষ্টাই ভাষায়, স্রষ্টারই দয়ো ফরমটে অনুযায়ী। অন্য কোন ভাবে নয় অথবা ভাষাহীন কোন নীরবতার মাধ্যমওে নয়। বষিয়টা যে অফসিে কাজ করি সইে অফসিরে ফরমটে মনেে বসরে কাছে দরখাস্ত করার মত। নজিরে মন মত ফরমটে ব্যবহার করে বসরে কাছ র্পযন্ত পৌঁছানোর আশা করা নতিান্তই বোকামি মাত্র। তাই মানবাত্মাকে সম্মানতি করার সইে প্রমাণতি পথ ছড়েে আমাদরে অতি প্রয়ি র্সবজন শ্রদ্ধয়ে আত্ম ত্যাগীদরে জন্য সাক্ষ্য-প্রমাণ বহিীন মনগড়া পদ্ধতরি প্রয়োগ কি কখনো যুক্তগ্রিাহ্য হতে পার?ে
   
বস্তুত কোন যুক্তি দয়িইে ‘মঙ্গল প্রদীপ’, ‘শোভা যাত্রা’ আর ‘পুর্ষ্পাঘ্য’কে মানব সমাজে প্রতষ্ঠিা করা সম্ভব নয়। প্রমাণ করা সম্ভব নয় যে বশৈাখ মাস আদৌ কারো আবাহনরে পরোয়া করে কনিা। সৃষ্টরি আদতিওে বশৈাখ যভোবে এসছেে প্রতি বছর সে ভাবইে আসে এবং আসতে থাকবে আগামীতওে। কোন মানুষরে অনুমতি নয়িে বশৈাখ আসে না, কারো গানা-বাজনার অপক্ষোয় সে বসওে থাকে না। ঐ দনিরে ‘রৌদ্র-স্নান’ কোন বশিষে ক্ষমতা নয়িে আসে না, তাই তার সাধ্য নইে ‘ধরাকে শুচ’ি করার। রোদ যদি এ দনি না-ই ওঠে তাহলে দুনয়িার অশুচি দূর হবে না এটা মনে করারও কোন কারণ নইে। বস্তুত মানুষরে সৃষ্ট অশুচি দূর করার দায়-দায়ত্বিও মানুষরেই, চন্দ্র-র্সূয এসে সগেুলো দূর করে দবেে তমেন আশা করা নতিান্তই গণ্ড র্মূখতা ছাড়া আর কছিু না।

এসব সবই জানে আমাদরে র্ধূত শক্ষিতি জনরো, সম্ভবত এ কারণইে এর দায় চাপয়িে থাকনে আমাদরে র্পূব পুরুষদরে উপর। বলে থাকনে এগুলোই নাকি আমাদরে ভূখণ্ডরে সহস্র বছররে পুরানো আচার। এগুলোই আমাদরে মূল সংস্কৃতি ও কালচার। কন্তিু এমন অযথা কাজ আমাদরে র্পূব পুরুষরা কখনো করছেনে বলে জানা যায় না। তারা ছলিনে বাস্তববাদী, সস্তা আবগেরে গা ভাসয়িে দয়োর মানুষ তারা ছলিনে না। তাই বশৈাখরে সময়টাকে তারা বুদ্ধমিত্তার সাথে ব্যবহার করছেনে বাৎসরকি পণ্য বপিণন এবং ব্যবসায়কি হসিাব-নকিাশ ঠকি রাখার কাজ।ে বশৈাখরে তমেন ব্যবহার এখনো যর্থাথ।
তারপরও গায়রে জোড়ে বলা হচ্ছে এসবে পুণঃ প্রত্যার্বতন এবং এগুলোর পুনরুজ্জীবনই নাকি চপেে বসা সব অপসংস্কৃতকিে দূর করে নজিস্ব সংস্কৃততিে ফরিে যাওয়ার একমাত্র উপায়। তাহলে কি এখন আমরা আবার পাঠ্য পুস্তকে লখিবো যে ‘পৃথবিী স্থরি, র্সূয ঘুরছে তার চারদিকি’ে? জ্বর হলে এখন রোগীর গায়ে পানি ঢালা হয় অথচ কছিুদনি আগওে এসব রোগীকে কাঁথা-কাপড় দয়িে মুড়ে রাখা হতো। র্পূব পুরুষদরে অনুসরণরে আবদার অনুযায়ী আমরা কি এখন থকেে আবার জ্বররে রোগীকে কাঁথা-কাপড় দয়িে মুড়ে রাখা শুরু করবো? শক্ষিা-দীক্ষার র্বতমান বই-পত্র, কম্পউিটার-ইন্টারনটে ছড়েে আমরা কি আবার ফরিে যাবো গাছরে বাকলরে উপর লখিন আর পুঁথি পাঠ?ে র্পূব পুরুষদরে আচার-কালচার রক্ষাই যদি হয় মানব জন্মরে উদ্দশ্যে তা হলে আমাদরে তাই করা উচতি নয় কি?

একটা সময় ছলি যখন সমাজরে মাতব্বর এবং মোড়লরো নতুন যে কোন তত্ত্ব-তথ্যরে কথা শুনলইে ভয় পতেনে। ক্ষপেে যতেনে। মানুষকে ছল-েবল-েকৌশলে হলওে বরিূপ করে রাখতনে ঐসব নতুনত্বরে ব্যাপার।ে সত্যরে উদ্ভাবন ও আগমনে সমাজরে উপর তাদরে একচ্ছত্র আধপিত্য হারানোর ভয়ই ছলি সইে পছিুটানরে মূল কারণ। র্বতমান সমাজরে কথতি শক্ষিতি অধপিতরিাও কি সইে একই শঙ্কায় আতংকতি? তা না হলে কনে তারা সমাজ ও সভ্যতাকে পছেনে নতিে চাইছনে বজ্ঞৈানকি সত্যসমূহ প্রমাণসহ প্রকাশতি হওয়ার পরও? বশিুদ্ধ জ্ঞানরে অনুসন্ধানে রত বশ্বি পণ্ডতিরো যখন কোরআনকি সত্যকইে মনেে নতিে বাধ্য হচ্ছনে জগতরে প্রতটিা বষিয়ে তখন সমাজকে মোমবাতরি আলো আর প্রদীপরে পছেনে দাঁড় করানোর চষ্টো র্অবাচীনরে মূঢ়তা ছাড়া আর কি হতে পার।ে
   
মানুষরে সার্মথ্য, র্মযাদা ও সম্মান যে কত ব্যাপক বস্তিৃত তা উপলব্ধি করার জন্য এইসব ‘মূঢ় শক্ষিতি’দরে বশেী করে কোরআন শরফি পড়া উচতি। কারণ একমাত্র এই কোরআনইে ঐতহিাসকি সব প্রমাণপঞ্জি আর নর্দিশনসহ পরম মমতায় তুলে ধরা হয়ছেে মানুষরে সার্মথ্য ও সম্মানরে ব্যাপ্ত।ি এই কোরআন থকেইে আমরা জানতে পারি য,ে মানুষরে আঙ্গুলরে ইশারায় দ্বখিণ্ডতি হতে পারে চাঁদ (সূরা ক্বামার: আয়াত ১ এবং সংশ্লষ্টি হাদসি সমূহ দ্রষ্টব্য)। উন্মাতাল সাগরও বাধ্য হয় নজিরে বুক চরিে মানুষকে চলার পথ করে দতিে (মুসা আ:-এর ঘটনাবলী দ্রষ্টব্য)। মানুষরে পক্ষইে সম্ভব পরম স্রষ্টার সংরক্ষতি এলাকায় প্রবশে করা যখোনে যতেে পারনে না স্বয়ং জবিরাইল ফরেশেতাও (সূরা নজম: আয়াত ৭ূ১১ এবং ম’েরাজরে হাদসি সমূহ দ্রষ্টব্য)। মানুষরে এইসব অনন্য গুণাবলীর কারণইে সৃষ্টর্কিতা আল্লাহ পাক স্বয়ং তাঁর এই বশিষে সৃষ্টরি সাথে প্রভুত্ব নয়, করছেনে বন্ধুত্ব। তনিি রসুলুল্লাহ সা:-কে করছেনে তাঁর ‘হাববি’, ইব্রাহীম আ:-কে করছেনে ‘খললি’।  আর মানুষকে করতে চয়েছেনে তাঁর ‘খলফিা’ তথা ‘প্রতনিধি’ি।
   
এসব কোন মধ্যযুগীয় কথা-র্বাতা নয়। এগুলো পাক-সৌদি বা জামাতদিরে আবষ্কিৃত কোন দাওয়াইও নয়। এগুলো মহা এই জগতরে র্সব যুগরে র্সবকালীন কথামালা। অতি সরল সত্য ও পরম র্দশন। পরপর্িূণ এই র্দশনই এ জগতরে মূল সংস্কৃত,ি এর উপরইে আর্বততি হয়ে চলছেে এই মহাবশ্বি। পরম এই র্দশনরে বাহরিে কোন সংস্কৃতি থাকতে পারে না, হতওে পারে না। দুনয়িার সব জাত,ি র্ধম, র্বণ, সমাজ নর্বিশিষেে সমগ্র মানব গোষ্ঠীর জন্যই র্সবাবস্থায় প্রয়োজন এবং প্রযোজ্য এই একক সাংস্কৃতকি র্দশন। অঞ্চল ভত্তিকি সামাজকি ও সাংস্কৃতকি আচারগুলোও হতে হবে মূল এই সংস্কৃতরি আলোকইে। কারণ একমাত্র এই সংস্কৃততিইে রয়ছেে বশ্বি মানবরে সমস্ত মঙ্গলামঙ্গলরে নশ্চিয়তা, অন্য কোথাও নয়। এখন র্পযন্ত কউে পারনেি পরম এই সত্যকে চ্যালঞ্জে করত,ে পারবে না ভবষ্যিতওে। যারা সত্যকে ভয় পায় এবং সত্যরে সাথে যাদরে রয়ছেে নয়িত র্স্বাথরে সংঘাত তারাই বস্তুত একে ঠকোতে চায় সন্ত্রাসীদরে নামে কালার করে অথবা কাল্পনকি সব ক্রয়িা-প্রতক্রিয়িার দোহাই দয়ি।

অথচ এটাই সইে সংস্কৃতি যখোনে স্পষ্ট করা হয়ছেে য,ে এই মহাবশ্বিে র্সব স্রষ্টা আল্লাহ পাকরে পরই মানুষরে স্থান। আল্লাহ আর মানুষরে মাঝামাঝি আর কছিু নইে। কোন মাধ্যম নইে। কোন  অবলম্বনও নইে। আর সইে মানুষই কনিা প্রদীপ জ্বালায় মঙ্গলরে আশায়। অগ্নপিণ্ডি মাথায় তুলে দৌড়ায় রাস্তা-ঘাট।ে ফুল দয়ে আগুনরে শখিায়। আর বশৈাখকে বলে ‘আয় আয় আয়’। কি ভয়ানক অবচিার। কি নদিারুণ আত্ম প্রতারণা।

লখেকরে বই পতে: Search ‘Mainul Ahsan’ at ‘amazon.com’


               

বিস্তারিত খবর

বিজ্ঞাপন শিল্পে বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়

 প্রকাশিত: ২০১৮-০২-০৬ ১১:৫১:১৫

শিল্প-সুন্দর মন ও জীবনের জন্যই সৃষ্টি, সৌন্দর্য্যের শৈল্পিক ব্যবহার যুগ যুগ ধরেই আবহমান বাংলায় মানব জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। শিল্পের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। আসলে জোর দিয়ে বলতেই হচ্ছে বিজ্ঞাপন শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প মাধ্যম। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর সৃষ্টির সাহিত্যতত্ত্বে সৌন্দর্য সম্পর্কে আলোকপাত করতেই বলেছে, সুন্দরের হাতে বিধাতার পাসপোর্ট আছে, সর্বত্রই তার প্রবেশ সহজ। অর্থাৎ সুন্দর সব কিছুতে খুব সহজে, সর্বত্রই প্রবেশাধিকার পায় মানুষ। তাই সুন্দরের প্রতি আকর্ষণবোধ হওয়া মানুষের চিরন্তনী স্বভাব। বিধাতার পাসপোর্টধারী এসুন্দর শিল্পকলার মধ্যে বিজ্ঞাপন শিল্প অস্তিত্ব ত্বরান্বিত হওয়ার জন্যই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, খেলা ধুলা, বিনোদন এবং মানবাধিকার ইত্যাদি কর্মকান্ড জড়িত। বিজ্ঞাপন একটি নিপুণ শিল্প শৈলী মাধ্যম। সাধারণ অর্থে বলা যায়, পন্যদ্রব্যের পরিচিতি এবং বেচাকেনার জন্যই খরিদ্দারদের আকর্ষণ করার ব্যবসায়িক কৌশল বা আর্ট। ব্যবসা বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই বিজ্ঞাপন শিল্পের গুঁড়া পত্তন হয়েছে।পণ্যদ্রব্য সম্পর্কে ক্রেতাদের মধ্যে জানাজানি এবং তা ক্রয়ের জন্য এক ধরনের প্রভাবিত করার লক্ষে ভাড়া করা জায়গায় চাপানো অথবা বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে সংবাদ চাপানোর নাম বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপন শিল্পকে বলা চলে বাণিজ্যের প্রসাধন। মেয়ে যেমন প্রসাধন দিয়ে নিজকে আকর্ষণীয় করে তুলে, ঠিক তেমনই বিজ্ঞাপন পন্যকে শিল্প সম্মত ভাবেই প্রকাশ করে ক্রেতাদের কেনার আগ্রহ বাড়ানোর এক সেতু বন্ধনের অনবদ্য শিল্প কৌশল।
সংবাদ পত্রে দেখা যায় অজস্র প্রকারের বিজ্ঞাপন, আবার রেডিও শুনতে যাওয়া হোক না, সেখানেও শ্রবণইন্দ্রিয়কে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে বিজ্ঞাপন। টেলিভিশনের সামনে বসুন না, সেখানেও চোখ-কান দুটোকে আকৃষ্ট করছে বিজ্ঞাপন। সিনেমা দেখতেও বাড়তি আকর্ষণ পাওয়া যায় বিজ্ঞাপনের। পথচারী পথ চলতে গেলেও পেয়ে থাকে বিজ্ঞাপনের অনেক দৃষ্টি নন্দন আবহ। লঞ্চ, স্টীমার, রেল গাড়ি, বাস বা বিমান যাতেই চলাফেরা করা হোক না কেন, দেশীয় বিজ্ঞাপনের সঙ্গে পরিচয় ঘটবেই। হাট-বাজারে, গঞ্জে ও শহরে ক্যানভাসাররা ছায়ায় মতো অনুসরণ করবেই বিজ্ঞাপনের পসরা সাজিয়ে। সেলসম্যানেরা দোকানে বিজ্ঞাপন চাপিয়ে দিতে তারা যেন, প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যান এবং তারা বলেও থাকে অন্য ঔষধের চেয়ে তার কম্পানির ঔষধটাই শ্রেষ্ঠ ঔষধ। এক সময় দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চলের গঞ্জে এবং হাটে বাজারে মুড়ির টিন বা তেলের টিনে শব্দ সৃষ্টি করে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মজার মজার বিষয় ভিত্তিক বিজ্ঞাপন বা বার্তা প্রচার করেছিল। এখন এই প্রযুক্তির বিজ্ঞাপন বিলুপ্তির পথে হলেও তাকে বিজ্ঞাপনের আওতাতেই গন্য করা হয়। সকল দিক বিবেচনা করে বলা যায় বর্তমান যুগ যেন গুরুত্বপূর্ণ এক বিজ্ঞাপনের যুগ।
বিজ্ঞাপন শিল্প সর্ব প্রথম কোথায় বা কবে থেকেই শুরু তার সঠিক ইতিহাস এখনও জানা না গেলেও ধারনা মাফিক বলা যায়, অতি প্রাচীন কাল থেকেই বিজ্ঞাপন শিল্প বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভাবেই ব্যবহার হয়। ছাপারযন্ত্র আবিষ্কারের আগে প্রধানত মুখে মুখে প্রচার করেই বিজ্ঞাপন শিল্পের এমন বৃহৎ কাজটি সম্পাদন করেছিল। সুতরাং বলাই যায় যে, পঞ্চাদশ শতাব্দীতে ইউরোপে বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা চালু ছিল। ১১৪১সালে ফ্রান্সের বৈরী শহরে খুব চিৎকার করে উৎপাদিত পন্যদ্রবের কথা ঘোষণা করেছিল। ঐ সময় ১২ জন লোকের একটি দল বৈরী শহরে উৎপাদিত পণ্যের জন্য একটি বিজ্ঞাপন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিল। কোম্পানি এসংস্হাকে ফ্রান্সের আষ্টম লুই স্বীকৃতি দিয়েছিল বৈকি। সম্ভবতঃ এটিই হবে পৃথিবীর প্রথম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রাপ্ত বিজ্ঞাপন সংস্থা। সুতরাং এই উপ-মহাদেশের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায় সর্বপ্রথম বিজ্ঞাপন শুরু, বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমেই। কিন্তু বিগত শতাব্দীতে এ দেশে বিজ্ঞাপন হয়েছিল ঢোল পিটিয়ে এবং কন্ঠ ধ্বনির চিৎকার ঘটিয়ে। অনেক পন্ডিত ব্যক্তিবর্গদের মতে, বিজ্ঞাপন পোস্টার শুরু প্রচীন গ্রীস ও রোমে। গ্রীস এবং রোমান ব্যবসায়ীরা দোকানে সাইন বোর্ড ছাড়াও কাঠের ফলকে অথবা দেয়ালে প্রচারকেরা বৌদ্ধ জীবন যাত্রার নানা ঘটনা চিত্রায়িত করে সেইগুলিকে মুখের কথার দ্বারাই এক জায়গা থেকে অন্যান্য জায়গায় ঘুরে ঘুরে প্রচার করেছিল। ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে এসে আরও অনেক আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে ছাপার নানান কায়দা আবিষ্কার করে তারা, ছাপাকে বিভিন্নভাবে বিজ্ঞাপন করে ও পণ্যেদ্রব্যের প্রচারের কাজে লাগাতে শুরু করে। আবার বিলেতে ছাপাখানার প্রবর্তন হয়েছিল উইলিয়াম ক্যাক্সটনের মাধ্যমে ১৪৭৭খ্রিস্টাব্দে, শুধুমাত্র অক্ষ বিন্যাসেই তা ছাপা বিজ্ঞাপন হয়ে উঠে। তাকে দোকানে দোকানে লটকিয়ে তাঁর প্রকাশিত বইয়ের বিজ্ঞাপন প্রচার করেছিল। অবশ্য এই বিজ্ঞাপনটি ছিল হ্যান্ড বিলের আকারেই যেন ছাপানো। পরবর্তীতে পুস্তক-পুস্তিকা, সাময়িকী এবং সংবাদ পত্র ইত্যাদির প্রসার ঘটার সঙ্গে অথবা যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রগতির ফলে বিজ্ঞাপনের বিভিন্ন দিক জোরালো হয়। সেই সময়ে বিভিন্ন কারণেই বিজ্ঞাপন ব্যবহার হতো। তবে তখন সবচেয়ে বেশিরভাগ বিজ্ঞাপন ছিল উৎপাদিত মালা মাল সম্বন্ধে জনসাধারণেরকে অবহিত করা। পরে আবার লিথোগ্রাফির ব্যবহারে আধুনিক জগতে সর্ব প্রথম রঙিন পোস্টার আর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন ধাঁচের বিজ্ঞাপন নির্মাণ করে ফরাসি চিত্রশিল্পী জুলেসেরে। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ ফ্রান্সে তাঁর নিজের লিথোগ্রাফিক প্রেস থেকে প্রথম রঙিন বিজ্ঞাপনী পোস্টার বের করেছিল। তারপরেই তিনি থিয়েটার মিউজিক হল, রেস্তরাঁ এবং আরও অজস্র রকমের জিনিসপত্রের বিজ্ঞাপনের জন্য নানান প্রকার রূপ রেখা বেঁধে দিয়েছিল শিল্পী জুলসেরে। সেটা হলো রঙিন ছবির সঙ্গে খুব কম লেখার সমন্বয় ঘটিয়ে এমন একটি ভিস্যুয়াল জিনিস দাঁড় করেছিল যা খানিকটা দূর থেকেই সে বিজ্ঞাপন গুলো লোকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে পারতো। পথচারীরাও সে বিজ্ঞাপনটিতে কি বলতে চেয়েছিল তা একঝলকে দেখেই, খুব দ্রুত বুঝে নিতে পারতো। অর্থাৎ জ্বল জ্বলে রঙিন ফর্ম, জোরদার লাইন এবং স্পষ্ট অক্ষর মিলিয়ে মিশিয়ে জুলসেরেই তৈরী করেছিল যুগসেরা শ্রেষ্ঠ ম্যুরাল। বিজ্ঞাপন বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন একজন শিল্পী আরও যে সব অপরূপ পোস্টার অংঙ্কন করেছিল সেগুলো শৈল্পিক বিজ্ঞাপনে সমাদৃত হয়েছিল এক কথায় সারা দুনিয়া। আসলে তখন বিজ্ঞাপন শিল্পীর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞপ্তি জিনিস পত্রের কাটতি।এই বিজ্ঞাপনের সাহায্যেই ব্যক্তি তথা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রয়োজনকে অত্যাবশ্যক করে তোলেছিল পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন স্থানের অনেক বড় বড় শিল্প কারখানা। তার সাথে সাথেই বলা যায়, নতুন পন্যদ্রব বাজার জাতের জন্যই বিজ্ঞাপনের জরুরি প্রয়োজন হয়ে উঠে। সুতরাং বলাই চলে, সর্ব প্রথম আকর্ষণীয়ভাবে যে বিজ্ঞাপনটি বেরিয়েছিল সেটি ১৪৮০ সালে, তা লন্ডনে ছাপা হয়েছিল। এমন এই বিজ্ঞাপন পৃথিবীর ১ম স্বার্থক বিজ্ঞাপন বলেই শিল্পী জুলসেরে বিশ্বের এই লন্ডন স্হান টিকে বিজ্ঞাপন শিল্পের জন্মস্থান বলেছিল। বিশ শতকের বিজ্ঞাপন শিল্প এটি একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল। তার সাথে সাথেই মানুষের শিল্প বোধের বৈচিত্র্যময় পরিবর্তন ঘটিয়েছিল। সুতরাং বলাই যায়, বিজ্ঞাপন শিল্পের কদর আরও দিন দিন বাড়ছে।
বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন শিল্পের ইতিহাস টানার সঙ্গে সঙ্গে মনে করি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ভৌগলক অবকাঠামো উঠে আসে বৈকি। সত্যিকার অর্থে যদি দেশীয় রাজনৈতিক পাশাবলদ গুলিকে বাদ দেওয়া হয় এবং যদি বাংলাদেশের অর্থনীতির দিকে দৃষ্টি দেওয়া যায়, তবে দেখা যাবে ভারত উপমহাদেশে ইন্ডাস্ট্রিজ বা শিল্প কারখানা যখন শুরু ঠিক তখনই বিজ্ঞাপন শিল্পের সূচনা। যে সব জায়গায় ক্রেতারা ছিল সেসব জায়গায় বিজ্ঞাপন প্রথা শুরু হয়েছিল। তাদের পন্যদ্রবকে পরিচিতি করার জন্যেই বা খবর পৌঁছে দেওয়ার জন্যে। সুতরাং সে অর্থে ঘটা করেই বলা যায়, ভারতে যখন বিজ্ঞাপনের সূচনা হয়েছিল ঠিক তখন থেকে বর্তমানের এই বাংলায় বিজ্ঞাপন শিল্পের শুরু হয়।
বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন শিল্পের শুরু জোরদার ভাবে এখন বলাই যায়, অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধে অর্থাৎ ইংরেজদের হস্তগত হওয়ার পরপরই বৈকি। এদেশে তখন অনেক সস্তায় প্রিন্ট মেশিন অথবা বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি নিয়ে আসে বিলাত থেকে ইংরেজরা। তখন থেকে এদেশীয় সামান্তবাদ প্রভূরা বা বাবু শ্রেণীর লোকেরা খুব বেশি উৎসাহী হয়ে উঠে। তারা বিলাত থেকে আসা শিল্পী বা কারিগরদের পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করে। সেই সময়েই শিল্পীদের নাম, ঠিকানা সহ তাদের পরিচয় তোলে ধরার জন্যেই এক প্রকার ব্যক্তিগত কৌশলেই বলা যায় বিজ্ঞাপন শিল্প নির্মাণ করেছিল। এডভারটাইজিং আর্ট বা বিজ্ঞাপন শিল্প আসলে সে সময় সম্পূর্ণ রূপেই মুদ্রণ যন্ত্রের উপর নির্ভরশীল ছিল। ১৮১৬ খ্রিস্টাব্দে “সচিত্র বাংলা” বইয়ের প্রথম সাক্ষাতেই পাওয়া যায়। এমন এই বই যা, গঙ্গা কিশোর ভট্টাচার্য দ্বারা প্রকাশিত হয়েছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আমলে বাংলাদেশে। তারপর এলো বৃটিশ আমল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারত ও বাংলাদেশের মিত্র বাহিনীর স্বপক্ষে বহু পোস্টার লিফলেটের ভূমিকা এদেশে নতুন একটি ট্রেন্ড তৈরী হয়, তা ইংরেজদের প্রভাবে। ভারতীয়দের চৌকস দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারাই পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস জাতীয়তা বোধ গড়ে তুলতে এমন এই বিজ্ঞাপন শিল্পের নানান প্রচার প্রচারণার প্রসারতা লাভ করে।
১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান ভাগের ফলেই শিল্প কারখানার সিংহভাগ পড়ে যায় পশ্চিম পাকিস্তানে। পন্যের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন শিল্পের মূল অফিস গুলো পশ্চিম পাকিস্তানে থেকে যায়। তাই সে সময়ে মুসলিম তরুণ শিল্পী কলকাতা থেকে ঢাকায় আসে। তৎকালীন গোড়া ইসলামী পাকিস্তান সরকার এবং শাসকের বিরুদ্ধে শিল্পের ব্যবহারিক প্রয়োজনীয়তা, বাংলাদেশের উন্নতির স্বার্থেই শিল্পকলার প্রয়োজন যে আছ, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের বোধগম্য হয়েছিল এবং তিনি বিজ্ঞাপনী পোস্টারে প্রতিবাদী হয়েছিলেন। ১৯৪৮ সালে আর্ট স্কুল স্থাপিত হলেও বাংলাদেশে বিজ্ঞাপন শিল্পের চাহিদা খুব কম ছিল। বলা যায়, লোক সংখ্যার তুলনায় শিল্পকারখানা কম থাকার ফলে পন্যের উৎপাদন তুলনা মূলক চাহিদা অনেক বেশী থাকার কারণে নতুন পন্যদ্রব্য বাজার সৃষ্টি করতে বেশি বেগ পেতে হতো না। এই কারণেই তখন বিজ্ঞাপন শিল্পের প্রতিযোগিতা কম ছিল। তাই একই ধরনের মনোপলিশি অথবা নিজ খেয়াল খুশি মতো ব্যবসা করে যেতো। আবার পাকিস্তান আমলে ৬০ দশকের বিজ্ঞাপন শিল্পকে লক্ষ্য করলে সেসময় বিজ্ঞাপন প্রচার বাংলাদেশে যতটুকুই হয়েছিল, তা শুধুই শিল্পপতিরা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে করেছে। এমনকি দৈনিক পত্রিকা গুলির বিশেষ সংখ্যা এবং সামলিম্যান্ট প্রিন্টের আগ মুহুর্তের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হতো পশ্চিম পাকিস্তানে দিকে। তবে সে সময়ের বাংলাদেশে দু’তিনটি বিজ্ঞাপন সংস্থার নাম উল্লেখ করা যায়। যেমন, এভার গ্রিন পাবলিসিটি কামআর্ট,গ্রিন ওয়েজ,এডভারটাইজিং কর্পোরেশন। তারা প্রসাধনী পন্যের প্যাকোডিজাইন থেকে শুরু করে প্রেস লে-আউট পর্যন্ত করেছে। এই সাফল্যের পাাশাপাশি বাংলা চলচ্চিত্রের বিজ্ঞাপনও করেছে। ১৯৭১ সালের পরই বাংলাদেশে বিজ্ঞাপন শিল্পের প্রচার মাধ্যমগুলির উন্নতি যেন চোখে পড়ে। বিশেষ করে অডিও ভিস্যুয়ালের অনন্য অবদানের জন্যই বলা যায় যে, দেশীয় টিভি, রেডিও, আপসেট প্রিন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উপর নির্ভর করে চলে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা। দুটি উদাহরণ দিয়েই বলা যেতে পারে, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা সুস্পষ্টভাবে বিজ্ঞাপনের সিংহ ভাগ জায়গা দখল করে রেখেছে সরকারী দর পত্র বিজ্ঞাপন গুলো। কোনও শিল্প উন্নত দেশের দৈনিক পত্রিকা গুলোতে দেখা যাবে, শিল্প পতিদের পন্যের প্রচারের প্রতিযোগিতায় বিজ্ঞাপন আধিক্য। সমাজের পরিবর্তনের সাথে সাথেই ক্রেতাদের মনো ভাবের উপরে খুব প্রভাব বিস্তার করে। গ্রামাঞ্চলের মানুষ দৈনন্দিন উৎপাদিত পন্যদ্রব জনসাধারণের নিকটবর্তী করতে ব্যর্থ ছিল। বলা যায় এক যুগের মতো সময় লেগেছিল দেশের সকল মানুষের কাছে পৌঁছাতে এবং তা সম্ভব হয়েছিল বিজ্ঞাপন শিল্পে র বদৌলতে। অবশ্য কলকারখানার কারিগরি পদ্ধতি অনেকাংশেই পরিবর্তন ও তার পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পরিবর্তনেরই বিজ্ঞাপন ধারার অনেক উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশের মুদ্রণ যন্ত্রের ব্যবহার অনেকাংশেই যেন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ফটোকম্পোজ, ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশন এবং রি-প্রোডাকশন এর নতুন পদ্ধতি চালু করে বাংলাদেশকে এক ধাপ এগিয়ে নিচ্ছে বলা যায়। যার পরিপেক্ষিতে লেজার প্রেস, আপসেট এবং ফ্লোক্সওগ্রাফির অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন কাজের সমন্বয় ঘটিয়ে বহু ধরনের বিজ্ঞাপন নির্মাণ হচ্ছে। বর্তমানে আজ বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তি আগমনেই ত্বরান্বিত হচ্ছে বিজ্ঞাপন শিল্প। আর এই শিল্পের সিংহভাগ পন্যদ্রবের উৎপাদনকে কাজে লাগিয়ে। আবার সামাজিক যোগাযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই উন্নতিশীল ডিজিটাল বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সমৃদ্ধশালী ও পরিচ্ছন্ন হওয়াতেই বিজ্ঞাপনের আধিক্য অনেক বেশি।

লেখক : টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

বিস্তারিত খবর

মামলা যখন নিপীড়নের হাতিয়ার

 প্রকাশিত: ২০১৮-০২-০৬ ১১:৪৪:৪৬

প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই ক্ষমতাসীনরা তাদের কায়েমি স্বার্থ হাসিলের জন্য গণতন্ত্রকামী, মানবতাবাদী তথা সুষ্ঠু সমাজ বিনির্মাণের যারা স্বপ্ন দেখতেন তাদের উপর নিপীড়নের মাধ্যম হিসেবে সে সময়ের  বিচার ব্যবস্থাকে  ব্যবহার  করতেন। আমাদের এই উপমহাদেশেও যারা ব্রিটিশদের অত্যাচার-নির্যাতনের প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন তাদেরও বিদ্রোহী  হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, এমনকি আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতাদের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়েছিল। পশ্চিম পাকিস্তানিরা স্বাধীনতার বীজ অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এদেশের মুক্তিকামী মানুষের উপর সব রকম দমন-নিপীড়ন চালিয়েছিল। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়েও মহান স্বাধীনতার অনেক সংগঠককে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছিল শুধুমাত্র আইনের শাসন ও মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলার জন্য। সময়ের পরিক্রমায় ২০০৭ সালে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের অবৈধ সরকার ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার মানসে, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিকে নিঃশেষ করে দিতে একে একে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে মামলা করতে থাকে। এরই অংশ হিসেবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়। গ্রেফতার হন তিনি। এক পর্যায়ে তাকে বিদেশেও পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মতোই বরাবরের মতো আপসহীন  বিএনপি চেয়ারপারসন  খালেদা জিয়া। কোনোভাবেই তাকে বিদেশ পাঠাতে পারেনি মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের অবৈধ সরকার। বাধ্য হয়ে তার বিরুদ্ধেও অনেক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেফতার করা হয় তাকেও। এক পর্যায়ে অবৈধ সরকার দুজনকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে বাধ্য হয়।

মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকারের সাথে আঁতাতের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতা আরোহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে  ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি তার লেখা আত্মজীবনীমূলক বই (বাই দ্য কোয়ালিশন ইয়ারস-১৯৯৬-২০১২) তে উল্লেখ করেছেন, (আমি ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব নিই এবং শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলেও মইন উ আহমেদের বহাল থাকার ব্যাপারে তাকে আশ্বস্ত করি) কিন্তু অবাক ব্যাপার হলো ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলাগুলো আদালতের মাধ্যমে বাতিল করা হয়। এছাড়া চাঁদাবাজির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছিল সেগুলোও বাদীদের মাধ্যমে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাগুলো চলতে থাকে। যে মামলার রায়ের জন্য দেশবাসী উদ্বিগ্ন, দেশের ১৬ কোটি মানুষ উদ্বিগ্ন, সেটা মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের অবৈধ সরকারেরই দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা। যারা কোনো আইনি ভিত্তি নেই। শুধুমাত্র যেনতেনভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনকে সাজা দেয়াই এর মূল লক্ষ্য। কিন্তু প্রশ্ন হলো শেখ হাসিনা কেন মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের দেখিয়ে দেয়া পথে হাঁটলেন? কারণ ক্ষমতাসীনরাসহ এদেশের শত্রুরা বুঝে গেছে বেগম খালেদা জিয়া যতদিন বেঁচে থাকবেন, এদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের আশা ভরসার একমাত্র আশ্রয়স্থল হিসেবে তিনিই কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিবেন। তারা বুঝে গেছে, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী এখন তিনি। ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচন করতে হলে তাকে দাবিয়ে রাখা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

এবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার দিকে একটু আলোকপাত করা যাক! ১৯৯১ সালের ৯ জুন কুয়েতের তৎকালীন আমীর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের জন্য ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা পাঠান কুয়েত দূতাবাসের মাধ্যমে। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান সেই টাকাটা এনেছিলেন। ওই টাকা দুই ভাগ হয়, একটি অংশ বাগেরহাটের জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্টে যায়। যেটার ট্রাস্টি ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান, তার স্ত্রী সুফিয়া রহমান ও ছেলে রিয়াজ রহমান। অথচ সেখানে কোনো মামলা হয়নি। অপর অংশ  ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৩৪ টাকা ৮০ পয়সা (সুদসহ) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে যায়। এই ট্রাস্টের অধীনে বেগম খালেদা জিয়া নিজে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলেননি, অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত বিষয়েও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না। কোন স্বাক্ষর বা লেনদেনও তিনি করেননি। ট্রাস্টের কোনো দায়িত্বও তিনি পালন করেননি। আর ট্রাস্টের বিধান মোতাবেক যদি কোনো অনিয়ম হয় সেক্ষেত্রে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা এ নিয়ে মামলা করতে পারে। এখানে দুদকের মামলা করার কোনো এখতিয়ারও নেই। কিন্তু তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুদকের কিছু কর্মকর্তাকে দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে মামলাটি দায়ের করে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই। রাষ্ট্রপতির ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের কাগজ ছাপিয়ে সাদা কাগজে এতিম তহবিল নাম করে জালিয়াতি করে স্বাক্ষরবিহীন দলিল তৈরি করা হয়। সরাসরি নথিপত্র ছাড়া স্বাক্ষরবিহীন ঘষামাজা ছায়ানথি দিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। মামলার এজাহারকারী ও তদন্ত কর্মকর্তার অভিযোগ ছিল, বেগম খালেদা জিয়াসহ ৭ আসামি মিলে টাকা আত্মসাৎ করার কাজে সহযোগিতা করেন এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট নাম সর্বস্ব একটি ট্রাস্ট। তবে এজাহারে এটাও বলা হয়েছে, ২০০৬ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৯ হাজার ৭৫৭ টাকা ৩২ পয়সা ট্রাস্টে অব্যয়িত রাখা হয় অর্থাৎ এখানে কোনো আত্মসাৎ হয়নি। অবাক ব্যাপার হচ্ছে, এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুন-উর রশীদই আবার মামলার জবানবন্দি ও জেরায় বলেছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট নাম সর্বস্ব নয় এটা রেজিস্টার্ড সরকারের নিয়ম-নীতি মেনে পরিচালিত হয়। দুদক কর্তৃক ৩২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি এবং জেরায় কোনো সাক্ষী বলেনি বেগম খালেদা জিয়া কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। জেরায় তারা স্বীকার করেন ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৩৪ টাকা ৮০ পয়সা বর্তমানে ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত ব্যাংকের স্টেটমেন্ট অনুযায়ী ৫ কোটি ৮৮ লাখ ২৫ হাজার ১২০ টাকা ৯৬ পয়সা ব্যাংকে স্থিতি আছে। অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো মূল নথিও দুদক আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি। যেহেতু কোনো অনিয়ম ছিল না অর্থ কে, কখন, কিভাবে প্রেরণ করেছেন এই মর্মেও দুদকের কোন সাক্ষী জবানবন্দি ও জেরায় বলতে পারেনি। তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নিয়োজিত আব্দুস সাত্তার তার সাক্ষে বলেছেন, যদি কোনো তথ্য পাওয়া যায়, ভবিষ্যতে সেটা অবহিত করা হবে। এমতাবস্থায় এ মামলার বিচারকাজ কিভাবে শেষ হলো সেটাই জাতির কাছে প্রশ্ন?

আসলে এই মামলা যে চলতে পারে না এটা বুঝার জন্য আইনজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজনে পড়ে না। তারপরও এই মামলা চলেছে, কারণ ক্ষমতাসীনরা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে যেনতেনভাবে একটা রায় দিতে চায় তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। ক্ষমতাসীন জোটের নেতাদের কথায়ই তা পরিষ্কার। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীসহ মহাজোটের অনেক নেতাই মামলা সম্পর্কে আগাম তথ্য দিয়েছেন।  তাদের বেঁধে দেয়া সময়সীমার মধ্যেই এ মামলার  রায়ের দিন ধার্য হয়েছে। এখন দেখার বিষয় ৮ ফেব্রুয়ারি কি হয়! ন্যায় বিচার হলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালাস পাবেন এটা পরিষ্কার  কিন্তু  অন্যকিছু হলে  জনগণ কি তা মেনে নিবে? বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তির প্রাণস্পন্দন। আসলে শুধু বেগম খালেদা জিয়া বা তাঁর স্বামী স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কিংবা  ছেলে তারেক রহমান শুধু দেশীয় চক্রান্তের শিকার নন।  স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী আগ্রাসী শক্তির ও  প্রতিপক্ষ তারা। তবে দেশ যখনই সংকটে পড়েছে তখনই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তারা। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের পূর্ব পর্যন্ত জিয়াউর রহমান দেশবাসীর কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিলেন কিন্তু ২৫ মার্চের ভয়াল রাতে এদেশের নিরস্ত্র জনগণের উপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের সময় তখনকার রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা জীবন বাঁচানোর জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাড়ি জমান। সেই ভয়াবহ দুঃসময়ে দেশের নিরস্ত্র জনগণ যখন চরম দিশেহারা হয়ে পড়ে, কিংকর্তব্যবিমূঢ় সেনাবাহিনী, বিডিআর ও পুলিশ সদস্যগণও দিক নির্দেশনার অভাবে হয়ে পড়ে হতাশ, তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দৃপ্তকন্ঠে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা থেকেই জাতি পথের দিশা পায়। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মরণপণ লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বীর বাঙালি। শুধু তাই নয়, ক্ষমতা আরোহণের পরও জিয়াউর রহমানের উৎপাদনমুখী ও গ্রামভিত্তিক রাজনীতির কারণে সারাদেশ কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠে। তার ঐতিহাসিক ১৯ দফা ও খালকাটা কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে উৎপাদনের বিপ্লব শুরু হয়। জিয়াউর রহমান তার প্রজ্ঞার ব্যবহার ঘটিয়েই মধ্যপ্রাচ্যের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অচলাবস্থার ইতি ঘটান। ফলে সেখানকার শ্রমবাজার ব্যবহারে যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। আজ আমাদের অর্থনীতিতে বিদেশি রেমিটেন্সের যে রমরমা অবস্থা সেটা শহীদ জিয়ার একক কৃতিত্ব।

বাংলাদেশকে নতজানু করার বদ মতলব থেকে উদ্ভূত ফারাক্কা নামের অবৈধ কর্মকান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যার ব্যাপারে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ফলে ভারত বাধ্য হয়, বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা দিতে। তিনি বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র সীমায় দক্ষিণ তালপট্টির দ্বীপের মালিকানা দাবি করে এর সমর্থনে সেখানে নৌবাহিনী পাঠান। প্রতিরোধের মুখে ভারত সেখান থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়। তিনি তথ্য-উপাত্ত দিয়ে ভারতকে জানিয়ে দেন এই দ্বীপটি বাংলাদেশের। অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জিয়া ছিলেন আপসহীন। আর এ কারণেই দেশি-বিদেশি শত্রুর রোষানলে পড়েছিলেন তিনি। ১৯৮১ সালের ৩০ মে সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপথগামী সদস্যের হাতে শাহাদাতবরণ করেন তিনি, এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের আহ্বানে ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন তারই সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া। সময়ের পরিক্রমায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রশ্নে ধীরে ধীরে তিনিও পরিণত হন স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীকে।  স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে গণমানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন আপসহীন নেত্রী হিসেবে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে শরিক হয়েও এক সময় প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেন।  বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারের অধীনে নির্বাচন বয়কট করে ধীরে ধীরে জনগণের আরো কাছে চলে আসেন। কোনো নির্বাচনে পরাজয়ের ইতিহাস নেই তার। যেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার সাধারণ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবরা গণতন্ত্রের উপর আঘাত হেনে মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে চাইলে আবারো আপসহীন ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে আলোচনার মাধ্যমে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হলেও বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন দেশের বাইরে তার কোনো ঠিকানা নেই।

ওয়ান-ইলেভেনের পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হয়ে বুঝতে পারে বাংলাদেশে কখনও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আবারো বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই সরকার গঠিত হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের মাধ্যমে তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করে দেয়। শুধু আওয়ামী লীগ নয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী শক্তিও সোচ্চার হয় জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তির বিপক্ষে। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ জানুয়ারির মতো ভোটারবিহীন নির্বাচনের নাটক মঞ্চস্থ করে তারা। আবারো জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সোচ্চার হয়ে উঠেছে সার্বভৌমত্ববিরোধী আগ্রাসী শক্তি। যারা জনরায়কে উপেক্ষা করে, জনগণের আশা আকাক্সাকে পদদলিত করে  এদেশে একটি পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এরই ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তথাকথিত প্রহসনের মামলা। শুধু তাই নয়, ঐ শক্তিই স্বাধীনতার মহান ঘোষকের সন্তান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাই সময় এসেছে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে সবাইকে এগিয়ে আসা। বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপি চেয়ারপারসন নন, তার বিরুদ্ধে রায় দেয়া হলে তিনি শুধু সাজা ভোগ করবেন কিন্তু আধিপত্যবাদীদের করাল থাবায় নিপতিত হবে পুরো দেশ। ইতিমধ্যে যা হয়ে গেছে।  একজন খালেদা জিয়াকে মামলার রায়ের মাধ্যমে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হলে কিছু যাবে আসবে না কিন্তু পরাজিত হবে গণতন্ত্র, পরাজিত হবে গণতন্ত্রকামী কোটি মানুষের স্বপ্ন। ক্ষণমতাসীনরা হয়তো মনে করছে খালেদা জিয়াকে সাজা দিলেই বিএনপি নিঃশেষ হয়ে যাবে কিংবা বিএনপিকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলা যাবে। কিন্তু শহীদ জিয়ার যে আদর্শ ছড়িয়ে গেছে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে, বাঙালি জাতীয়তাবাদের আদর্শে উজ্জীবিত যে জাতি তাদেরকে কি এত সহজেই পরাভূত করা সম্ভব হবে!

লেখক : প্রবাসী সংগঠক ও ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কর্মী।

বিস্তারিত খবর

শুধু ভাষা চর্চা নয়, শুদ্ধ ভাষা চর্চা হোক আমাদের অঙ্গীকার

 প্রকাশিত: ২০১৮-০২-০৩ ১১:৩২:৪০

ফেব্রুয়ারি মাস এলেই আমাদের শুরু হয় ভাষা নিয়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করা দোষের কিছু নয়বরঞ্চআনন্দের। কিন্তু কেবলমাত্র ফেব্রুয়ারি মাস এলেই ভাষার প্রতি এই অতি আগ্রহ কিছুটা বিস্মিত করে। শুধু প্রবাসী বলে কথা নয়, দেশের মানুষই বা কতোটা শুদ্ধ ভাষা চর্চার প্রতি মনোযোগী সেটাও একটু গুরত্ব নিয়েখেয়াল করা দরকার।

সাধারণ বা গতানুগিক আড্ডায় ভাষা চর্চা বা ভাষার ব্যাবহারের কথা বলছিনা। বলছি বিভিন্ন সভা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় কিংবা প্রতিবেদন উপস্থাপনায় বক্তারা যে ভাষার ব্যাবহার বা উচ্চারণ করেন তার কথা। বিকৃত উচ্চারণ ও ভাষার অশুদ্ধতার কারণে দর্শক ও শ্রোতারা প্রকৃত বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানার ও শোনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেএবং বিরক্ত হয়তা নিয়ে বক্তারকোন ভ্রূক্ষেপ নেই। দর্শক ও শ্রোতা কেন বক্তৃতার প্রতি তিক্ত অনুভূতি প্রকাশ করছে এ নিয়ে আদৌ কোন মাথাব্যথা নেই। বক্তৃতা একটি সৃজনশীল নান্দনিক শিল্প। শ্রুতিমধুর ও সাবলীল উচ্চারণ এবং আত্ম-প্রত্যয়ী ভঙ্গিমার মাধ্যমে প্রকাশ করা হলে তা হতে পারে অনেক বেশি আকর্ষণীয় ও প্রনবন্ত।এজন্য প্রয়োজন শুদ্ধভাষা চর্চায় উদ্যোগী হওয়া।
যে কোনকিছুর চর্চা বা অনুশীলন করলেই একসময় তাতে দক্ষ হয়ে উঠা সম্ভব। উন্নত বিশ্বে বা পশ্চিমা দেশে স্কুল লেভেল থেকেই পাবলিক স্পিকিং এবং প্রেজেন্টেশন নিয়ে বেশ গুরত্ব দেয়া হয়। আমাদেরদেশেপাবলিকস্পিকিং বা জন সমক্ষে কথা বলার জন্য কোন কোর্স বা ট্রেনিং দেয়া হয়না। মঞ্চে উঠে জোড়ে জোড়ে চিৎকার করে কিছু আবেগপুর্ন কথা বললেই মনে করা হয় বেশ ভালো বক্তৃতা দেয়া হয়ে গেলো। আসলে কি তাই! দেশ থেকে যখন প্রথম নিউজিল্যান্ডে যাই সেখানকার কর্ম সংস্থান সার্ভিস বা ওয়ার্ক এন্ড ইনকাম” অফিস থেকে প্রথমেই সবাইকে যে কাজটি করতে বলেছিল তা ছিল পাবলিকস্পিকিং বা জন-সমক্ষে কথা বলার ও বায়োডাটা লিখার দক্ষতা অর্জনের ট্রেনিং নেয়া। এখন মনে হয় আসলেই তো! প্রত্যেকের তাই করা দরকার। বিশেষ করে যারা নেতা হতে চান বা মঞ্চে উঠতে পছন্দ করেন তাদের জন্য বিষয়টা অত্যন্ত জরুরী।জন সমক্ষে কথা বলার মতো উপযুক্ত দক্ষতা ছাড়া এধরণের কাজ করে উপস্থিত সবাইকে অহেতুক বিরক্ত করা কতখানি যুক্তিযুক্ত বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার।এতে বিষয় বস্তু সম্পর্কে ধারণা পাওয়াতো দুরের কথা বরঞ্চ আগত অতিথিদের সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই নয়।
বক্তৃতা মানুষের জীবনে গুরম্নত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তারকরে। ব্যক্তিত্বের বিকাশ, নিজের চিন্তাধারার সম্প্রসারণ, স্বীয় আদর্শ, চেতনা ও আবেগ প্রকাশ করার জন্য বক্তৃতার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।যারা বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন বা এখনো দিচ্ছেন তাদের বক্তৃতা শুনেই মানুষ উজ্জীবিত হয়েছে, জীবন বিলিয়ে দিয়েছে বা এখনো দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। দেশ জাতি ও মানবতার বৃহৎ কল্যানে আত্মনিয়োগ, সুন্দর, স্বপ্নময় ও কাঙ্খিত সমাজ গঠন করার লক্ষ্যেই নিজেকে সুবক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা দরকার। আর এরজন্য সবচে আগে প্রয়োজনশুদ্ধ ভাষা চর্চার উদ্যোগ। আমাদের অন্তর্গত আগ্রহ থেকে তা করা দরকার। বিশেষ করে যখন কোন জন সমাবেশে কথা বলতে হয় তার জন্য যতোটুকু সম্ভব শুদ্ধ ও সাবলীল উচ্চারণ অনুশীলন করে নেয়া খুব দরকার। 

যারা শিল্পসাহিত্য, আবৃত্তি, সঙ্গীত, অভিনয়, রাজনীতি এমন কি শিক্ষকতা বা প্রশিক্ষণের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের প্রায়ই মঞ্চে উঠতে হয়। জন সমক্ষে দাঁড়াতে হয়। মাইক্রোফোনে কথা বলতে হয়। এই কথা বলা বা উপস্থাপনা যদি দর্শক-শ্রোতাকে আকৃষ্ট বা মুগ্ধ করে তাহলে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু তাদের বিকৃত উচ্চারণ ও ভাষার অশুদ্ধতার কারণে কিংবা বাক্তিত্তের অসতর্কতায় যদি দর্শক-শ্রোতা বিরক্তবোধ করেন তাহলে সকল প্রস্তুতি ও উদ্যোগ পণ্ড হয়ে যায়। তখন পুরো বিষয়টা হয়ে পরে সমালোচনার। যারা আয়োজক তাদের পড়তে হয় বিব্রতকর অবস্থায়। তাই বক্তৃতা ও উপস্থাপনার ক্ষেত্রে পূর্বপ্রস্তুতি নেয়া ও শুদ্ধ ভাষা উচ্চারণ করা খুবই প্রয়োজন।
বক্তৃতার গ্রহনযোগ্যতার জন্য বক্তার ভাষার উৎকর্ষতা ও সঠিক ব্যাবহার অনেক দরকারি একটা বিষয়। দেশী হোক বিদেশী হোক শব্দ উচ্চারনে মনোযোগ দেয়া দরকার। বক্তৃতায় বোধকরি আঞ্চলিকতা বাদ দিয়ে শুদ্ধভাষী হওয়ার চেষ্টা করা উচিৎ। চিন্তামুক্ত চেহারায় পরিষ্কারভাবে শব্দচয়ন দর্শক ও শ্রোতাদেরঅনেকবেশীআকর্ষিতকরে।ভাষাগত দৈন্যতাপুরো বক্তব্যকে অস্পষ্ট করে ফেলে।নিজের কন্ঠের প্রাণবন্ত উচ্চারন ও আত্মবিশ্বাসের অভাবে বক্তৃতার বিষয়ের গুরুত্ব সঠিক ভাবে অনুধাবন করা যায়না। তাই বক্তৃতা দেয়া ও প্রতিবেদন উপস্থাপনার ক্ষেত্রে দৃঢ় মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাসী হওয়া ভীষণ জরুরি।

সত্যি কথা বলতে কি শ্রোতার মনোযোগ ও বক্তৃতার বিষয়ের উপর জোরালো সমর্থন নির্ভর করে বক্তার শুদ্ধ উচ্চারণ ও সাবলীল বাচন ভঙ্গীর উপর। অনমনীয় নয়, সোজা ও স্বাভাবিক ভাবে দাড়িয়ে সুন্দর ভঙ্গীতে শব্দ উচ্চারণ ও ভাষার যথাযথ ব্যাবহারের উপর পুরো অনুষ্ঠানটির গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে। সামাঞ্জস্যপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি দিয়েও অনেক সময় পুরো বিষয়টিকে আর্কষনীয় করে তোলা যায়। কার্যকর মাত্রায় শব্দের সংখ্যার ব্যাবহার ও দর্শক-শ্রোতাদের দিকে চোখে চোখে তাকিয়ে কথা বললে বক্তব্য হয় অনেক আনন্দদায়ক ও উপভোগ্য। উচ্চস্বর ও উত্তেজনা পরিহার করে প্রাণোচ্ছল ও উষ্ণ কণ্ঠে কথা বলেও নিজের বক্তব্য সুন্দর ভাবে প্রকাশ করা যায়।
বিভিন্ন সভা সমিতিতে প্রায়ই দেখা যায় বক্তারা এসব বিষয়ের উপর একেবারেই গুরত্ত দেন না। এতে অনেক শ্রম ও সময়ের বিনিময়ে যে সভা ও সেমিনারের আয়োজন করা হয় তার যথাযথ উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়না। আমার মনে হয় বক্তৃতা বা কিছু উপস্থাপনে এ ব্যাপারগুলোর অনুশীলন খুব জরুরি। কেবল মঞ্চে দাড়িয়ে কিছু একটা বলতে পারাটাই আত্মতৃপ্তি হওয়া উচিত নয়। তার আগে শুদ্ধ উচ্চারণ ও ভাষার সঠিক ব্যাবহার চর্চা করা দরকার। শুধু সভা সমিতি, সেমিনার, অনুষ্ঠান করেই শেষ নয় বাংলা ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে হৃদয়য়ের গভীরে, মননে ও চিন্তায় তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। বিশুদ্ধ উচ্চারণ ও চমৎকার বাচন ভঙ্গী একটি ভাষার প্রাণ। এর উপর ভাষার গ্রহণযোগ্যতাও অনেকাংশে নির্ভর করে। ঘরোয়া আলাপন ও আড্ডায় না হোক অন্তত পেশাগত ও বাহ্যিক পরিবেশে শুদ্ধ ভাষা চর্চা দরকার।

বিস্তারিত খবর

বঙ্গবন্ধুর সাথে স্বপ্নে কিছু কথা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-১২ ১৩:২৬:৫৫

০২ জানুয়ারী, ২০১৮। আরবী মাসের ১৪ তারিখ। আইয়্যাম বিজের ২য় রোজা পালনের পর শেষ রোজার জন্য প্রস্তুত। যথারীতি বই পড়তে পড়তে ঘুমে পড়েছি। স্বপ্নে দেখি, গ্রামের পরিবেশে শীতের সকালে মিষ্টি রোদে ঘরের বারান্দায় বসে কোরান পাঠ করছি। তাকিয়ে দেখি, সামনে বঙ্গবন্ধু দাঁড়িয়ে। স্বাভাবিক বেশভূষা। সাদা পাঞ্জাবি, পাজামা ও কালোকোট। ৭ই মার্চে ভাষণদানকালে যে পোশাক ছিল, হুবহু তাই। আমি তো অবাক! ভালো করে নজর করলাম, দিব্যি বঙ্গবন্ধু। আমি অস্থির হয়ে উঠে পড়লাম। তাড়াতাড়ি বারান্দা থেকে নামতে লাগলাম। বঙ্গবন্ধু শান্ত গলায় বললেন,
থাম! এতো অস্থির হবার দরকার নেই।
আমি বারান্দা থেকে নামতেই বঙ্গবন্ধু হাত এগিয়ে দিলেন। আমি আস্সালামু আলাইকুম বলে হাত ধরেই বঙ্গবন্ধুকে জড়িয়ে ধরলাম। এতোটাই আবেগাপ্লুত হলাম যে, হাউমাউ করে কান্না শুরু করলাম। বঙ্গবন্ধু আমাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেন। এরপর দেখি, একটি সুন্দর চেয়ারে উঠানে মিষ্টি রোদে বঙ্গবন্ধুকে বসিয়েছি। আর তখনও হাত ধরে আছি।
আমি বললাম, পিতা! কেমন আছেন?
বঙ্গবন্ধু হাত ছেড়ে (ধমকের সুরে) বললেন, এই! তুই আমাকে পিতা বললি কেন?
আমিঃ আপনি তো বাঙ্গালি জাতির পিতা।
বঙ্গবন্ধুঃ সাবধান! আমাকে জাতির পিতা বলবিনা।
আমিঃ আমিতো শুধু জাতির পিতা বলিনি। বাঙ্গালি জাতির পিতা বলেছি।
বঙ্গবন্ধুঃ (কিছুক্ষণ থেমে) ও....! তাহলে ঠিক আছে।
বঙ্গবন্ধুঃ আমি অল্প সময়ের জন্য তোর সাথে দেখা করতে এসেছি।
বঙ্গবন্ধুঃ তুই রোজা আছিস না?
আমিঃ জ্বি পিতা। (স্বপ্নে মনে হচ্ছে, আমি রোযা আছি)।
বঙ্গবন্ধুঃ আমি তোকে একটি কষ্টের কথা জানাবো।
আমিঃ জ্বি পিতা, বলেন?
বঙ্গবন্ধুঃ প্রতিবছর বেশ কয়েকদিন আমাকে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। তাতে কোরানখানী, পুস্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা অনুষ্ঠানসহ কত কি হয়। এবছর ১৫ই আগষ্টের রাতে সাইফুল নামে একজন কোরানের হাফেজকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের হাফেজ পিতাকেও নির্যাতন করা হয়েছে। আমার যে কী কষ্ট হয়েছে, বুঝাতে পারবোনা।
আমি কান্না করছি। চোখের পানি মুছে ফুরাতে পারছিনা।
বঙ্গবন্ধুঃ তুই কাঁদিস ক্যান?
আমিঃ পিতা! আপনি কারো সাথে দেখা করে এটা বলেননি?
বঙ্গবন্ধুঃ আমার দেখা করার পারমিশান নাই।
আমিঃ পিতা! আমার সাথে..?
বঙ্গবন্ধুঃ শুধু তোর সাথে অল্প সময়ের জন্য দেখা করার পারমিশান পেয়েছি।
আমিঃ পিতা! একজন কোরানের হাফেজকে হত্যা করলো কেন?
বঙ্গবন্ধুঃ ওরা তাকে জঙ্গি হিসেবে হত্যা করেছে।
বঙ্গবন্ধুঃ তুই সেদিন রোজা ছিলি। তোর দোয়ায় আমি শান্তি পেয়েছি।
আমিঃ পিতা! সেদিন আমি হয়তো আইয়্যামবিজের রোজা ছিলাম।
বঙ্গবন্ধুঃ যে রোজাই হোক।
আমিঃ আল্লাহর কাছে আরো দোয়া করছি, আপনার যেন স্থায়ী শান্তি হয়।
বঙ্গবন্ধুঃ তোকে একটা দায়িত্ব দিচ্ছি। গত ১৫ই আগষ্টে আমার কষ্টের বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দিস।
আমিঃ কাকে জানাবো? কিভাবে জানাবো?
বঙ্গবন্ধুঃ সবাইকে জানাবি। লেখার মাধ্যমে জানাবি।
আমিঃ আমার লেখা কয়জনইবা প্রকাশ করবে, আর কয়জনইবা দেখবে?
বঙ্গবন্ধুঃ সে চিন্তা তোর কেন? তোকে দায়িত্ব দিয়েছি, তুই জানাবি।
আমিঃ পিতা! এতে আমার ক্ষতি হবে না তো?
বঙ্গবন্ধুঃ ইনশাল্লাহ, কেউ তোর ক্ষতি করবেনা।
আমিঃ ইনশাল্লাহ, অবশ্যই জানাবো।
বঙ্গবন্ধুঃ শুকরান। তবে সাবধান।
আমিঃ কেন পিতা?
বঙ্গবন্ধুঃ তুইতো রাজনীতি বুঝিসনা।
আমিঃ কিসের রাজনীতি?
বঙ্গবন্ধুঃ এখন চলছে- জঙ্গি অভিযান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অবৈধ স্বার্থ হাসিল আরো অনেক কিছু।
আমিঃ এসব নিয়ে রাজনীতি হয় কিভাবে?
বঙ্গবন্ধুঃ এ যে জঙ্গি অভিযান। সম্পুর্ণ রাজনীতির খেলা। যেমন- গুলশান হলি আর্টিজানে হামলা। এটা সবারই জানা।
আমিঃ জ্বী পিতা, তাই?
বঙ্গবন্ধুঃ হলি আর্টিজানে হামলার পর সেনাবাহিনীর প্রেসব্রিফিং শুনিসনি? তারা বললো, মাত্র ৬/৭ জঙ্গি হামলা চালিয়েছে। জঙ্গিদের আক্রমণে প্রথমেই ২পুলিশ নিহত ও ৪০পুলিশ আহত হয়েছে। তারপর জঙ্গিরা হোটেলে প্রবেশ করে ১৫/১৬ জনকে নিরাপদে ছেড়ে দিয়েছে। আর দেশের সুদক্ষ প্রতিরক্ষাবাহিনী জঙ্গিদেরকে সারারাত অবকাশ দিয়েছে। এসুযোগে জঙ্গিরা ২০ জনকে হত্যা করে সারারাত হোটেলের মেঝেতে নিরবে কাটিয়েছে। সকালে অপারেশন থান্ডারবোল্ট শুরু হলে, জঙ্গিরা যুদ্ধ করে নিহত হয়েছে। এঘটনার পর এখনও সে হামলায় অভিযুক্তদের পাওয়া যায় কিভাবে? এটা কি রাজনীতির খেলা নয়? থাক, তুই বুঝবিনা।
আমিঃ ও আচ্ছা! এটা বলার দুঃসাহস কি কারো আছে?
বঙ্গবন্ধুঃ ঠিকই। ঘুমন্ত ও অলস বাঙ্গালি জাতিকে সহজে জাগানো যায়না।
বঙ্গবন্ধুঃ তুই বিসিএসে ২বার ভাইভা দিয়েছিস। তোর চাকরি হয়নি কেন, জানিস?
আমিঃ পিতা! আমি জানিনা।
বঙ্গবন্ধুঃ এটাও রাজনীতি। তোর মুক্তিযোদ্ধা কোটা নেই, তাই চাকরি হয়নি।
আমিঃ জ্বী পিতা? মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রাজনীতি?
বঙ্গবন্ধুঃ এটা আরো জঘন্য রাজনীতি।
আমিঃ তার মানে?
বঙ্গবন্ধুঃ দেশ স্বাধীনের জন্য আমি কতইনা সংগ্রাম করেছি। অথচ মাত্র ২লাখ তালিকাভুক্ত ব্যক্তি স্বাধীনতার স্বার্থ ভোগ করছে।
আমিঃ পিতা! আপনি বর্তমান ঘটনাবলীও দেখতে পান এবং জানেন?
বঙ্গবন্ধুঃ আমি সাধারণ মৃতদের মতো নই। আমি জীবিত। তোরা বুঝবিনা। আমি সবই দেখতে পাই, সবই বুঝি। শুধু প্রকাশ করতে পারিনা।
আমিঃ জ্বী পিতা! আপনি কি মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করেননি? অসহায়, দুস্থ ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেননি?
বঙ্গবন্ধুঃ শুধুমাত্র ৬৭৬ জনকে খেতাব দিয়েছিলাম। এছাড়া দেশের আপামর জনতাকেই মুক্তিযোদ্ধা ও লাখো শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলাম। তখন মুক্তিযোদ্ধা-ভাতা বা কোটার প্রয়োজন ছিলনা। আমি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও করিনি। আমি কি জানতাম, ওরা ৩০লাখ শহীদ নিয়ে প্রশ্ন তুলবে? ৩০লাখ শহীদ পরিবারকে বাদ দিয়ে মাত্র ২লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা করবে? আমি কখনো মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ আলাদা করিনি।
বঙ্গবন্ধুঃ তুই আফসোস করিসনা। তোর বিসিএস হয়নি তো কি হয়েছে? তুই কি এখনও ঐ চাকরি চাস?
আমিঃ পিতা! আমি ধন্য। আমি আপনার কাছ থেকে সান্তনা পেয়েছি। তবে পিতা! আমার মতো আরো বহুজন এ বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এর কোনো প্রতিকার নেই?
বঙ্গবন্ধুঃ অবশ্যই আছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা-ভাতা ও কোটা বাতিল করতে হবে। তখন কেউ মুক্তিযোদ্ধা পদবি ব্যবহার করে অবৈধ স্বার্থের জন্য বাড়াবাড়ি করবেনা। তখন ৩০লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেনা। ৩০লাখ শহীদ পরিবার বঞ্চিত হবেনা। সবাই খাঁটি দেশপ্রেমিক হবে।
বঙ্গবন্ধুঃ আমার সময় শেষ। ঐ দেখ, ডাকতে এসেছে।
আমিঃ (কান্না করছি) কোথায়?  কাউকে তো দেখা যাচ্ছেনা।
বঙ্গবন্ধুঃ তুই দেখতে পাবিনা। যা দায়িত্ব দিলাম, ঠিকমতো পালন করিস।
আস্সালামু আলাইকুম বলে হাত এগিয়ে দিলেন। আমি আবার বঙ্গবন্ধুকে জড়িয়ে ধরেছি। চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে।
এসময় ঘুম ভেঙে গেল। দেখি, চোখের পানিতে বালিশটা বাস্তবেই ভিজে গেছে। মনে হলো, কি মহান সম্পদ হারালাম। হায় আবার যদি বঙ্গবন্ধুর দেখা পেতাম! খুবই অস্বস্তি বোধ করছিলাম। রাত বাজে তিনটা। নফল নামাজ পড়লাম। তারপর সেহরী সেরে কোরান পড়ে বঙ্গবন্ধুর জন্য দোয়া করলাম। স্বপ্নে বঙ্গবন্ধুর কাছে যা শুনলাম, তা সত্যি কিনা যাচাই করার জন্য নিহত হাফেজ সাইফুল লিখে গুগলে সার্চ দিলাম। দেখলাম, সম্পুর্ণ সঠিক। আমি জানতাম না, ১৫ই আগষ্টে হাফেজ সাইফুল নামে কারো হত্যার ঘটনা। আবার হাফেজ সাইফুলের বাবা হাফেজ কিনা, তা জানার প্রশ্নই আসেনা। বঙ্গবন্ধু স্বপ্নে আমার সাথে দেখা করে তাঁর এ কষ্টের কথা বলার অর্থ কি, আমি ভেবে পাচ্ছিলামনা। স্বপ্নের এ কথাগুলো লেখা উচিত কিনা, অনেক চিন্তা করলাম। বিবেকের তাড়নায় লিখতে বাধ্য হলাম। আমি পেশাদার লেখক নই। তাই ভূল-ভ্রান্তি অস্বাভাবিক নয়। মূলত এটা স্বপ্নে দেখা বিষয়। তবু আশংকা হয়, বিষয়টি কে কিভাবে নেয়। আসলে স্বপ্ন নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নেই। আমি স্বপ্নে বঙ্গবন্ধুর দেয়া নির্দেশ পালন করেছি, শুধু এ আশায়- যদি আবার বঙ্গবন্ধুর দেখা পাই।


বিস্তারিত খবর

হারিয়ে যাচ্ছে জীবন বোধ, ভাবনার এখনই সময়...

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-০৯ ১২:২৮:০৭

অস্ট্রেলিয়াতে এখন সামার। এ সময়ে স্কুল হলিডে থাকে। প্রায় সব বাবা-মা’রাই তাদের ছেলে্মেয়েদের নিয়ে বেড়াতে বের হয়। কেউ কাছে কেউ দুরে। কেউবা আবার দেশের বাইরে। বেড়াতে বের হয়েছি আমরাও। খাবারের দোকানে বসে অপেক্ষা করছি খাবার আসার। এ সময়ে টেবিলে খবরের কাগজটা টেনে নিতেই চোখ পড়লো শিরনাম।পাঁচ বছরের বাচ্চারা কিভাবে হতাশা ও বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি পেতে পারে তার উপর শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। এজন্য প্রাইমারী স্কুলের সিলেবাসে নতুন করে এ বিষয়টা অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা করছে তারা। তাহলে অদুর ভবিষ্যতে তরুণদের সুইসাইড করার প্রবণতা কমতে পারে বলে তারা মনে করছে। ২০২০ সাল থেকে কিন্ডারগার্ডেন থেকে ইয়ার টেন স্কুল কারিকুলামে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে স্বাস্থ্য সচেতনতা, ব্যাক্তি উন্নয়ন সম্পর্কে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মুলতঃ মানসিক অসুস্থতা ও তরুণদের সুইসাইড করার প্রবণতা দুর করতেই এই পদক্ষেপ। এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী মনে করেন, পুরানো পদ্ধতিতে চেষ্টা করে আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় এই পদক্ষেপের কথা ভাবতে হচ্ছে। এটা এখন এমন গুরত্বপুর্ন সমস্যা যে, জীবন সম্পর্কে তাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী বদলাতে এর বিকল্প নেই। পারিবারিক বন্ধনের শিথিলতার বিকল্প হিসেবে এটা কার্যকর হবে বলে মনে করছেন তারা। 

এ শিক্ষা পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য জীবন চলার পথে নানা রকম সমস্যার সমাধানে আত্নবিশ্বাস বাড়ানো। পরিণত বয়সে এসেও যেন সম্পর্ক টিকে থাকে কিংবা আনন্দময় উপায়ে যাপন করা যায় তার জন্য ছোট থেকেই শিক্ষা দেয়া দরকার বলে শিক্ষাবোর্ডএই সিধান্ত নিতে যাচ্ছে। তাই ক্লাস থ্রি এবং ফোরের শিক্ষা কারিকুলামেই তাদের শেখানো হবে জীবনের উত্থানপতন স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেয়ার এবং জীবন সংগ্রামে বিশ্বাস ও আশাবাদী থেকে পরিপূর্ণভাবে যাপন করার উপায়। উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে খোলাখুলি মত প্রকাশের সুযোগ করা হলে তারা তাদের অনুভুতিগুলো অন্যদের সাথে ভাগ করে নিতে পারবে। পারিবারিক কিংবা সামাজিক বন্ধন বাড়াতে ও এ ধরণের পদক্ষেপ নেয়া এখনি খুব জরুরী।

ক্লাস সেভেন ও এইটের শিক্ষার্থীদের শেখানো হবে প্রিয়জন চলে যাওয়া কি করে সয়ে নিতে হয়।পাশাপাশি ভুল ধারণা কিভাবে মানুষের মনোজগতে ক্ষতি করে সে ব্যাপারেও তাদের সচেতন করা হবে।ক্লাস নাইন ও টেনের শিক্ষার্থীদের ধারণা দেয়া হবে ডমেস্টিক ভায়োলেন্স ও ড্রাগের ক্ষতিকর দিকগুলো। এব্যাপারে কয়েক জন অবিভাবকদের মতামত নেয়া হলে তারা জানান, দুঃখ রাগ ঘৃণা হাতাশা বিষণ্ণতা যে জীবনের অংশ সেটা শেখানো আমাদের দ্বায়িত্ব। এ বিষয় গুলো যদি স্কুল থেকেই শেখানো শুরু করা হয় তাহলে তারা জীবনের নানা বিপর্যয় খুব স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করতে পারবে। এতে করে তাদের সৃজনশীলতা বাড়বে সর্বোপরি সমাজে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। জীবনবোধ এভাবেই জাগাতে হবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
 
বস্তুত, জীবনবোধ সম্পর্কে ইতিবাচক ধরনা ও সচেতনতা বাড়াতে সময় অনুযায়ী সিধান্ত নেয়া সত্যিকার অর্থেই জরুরী। প্রসঙ্গক্রমে ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং এর সাম্প্রতিক একটি ভবিষ্যৎবানী এখানে উল্লেখ করতে ইচ্ছে হলো।কিছুদিন আগে,লিসবনে ৬০ হাজার দর্শকের সামনে তিনি বলেছিলেন: কিছু দিনের মধ্যেই এই পৃথিবীর বাইরে কোথাও বিকল্প উপনিবেশ গড়তে না পারলে ধ্বংস হয়ে যাবে মানুষ। ধ্বংসের কারণ হিসেবে বলেছেন, যন্ত্রের কৃত্রিম বুদ্ধি তথা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে।

সম্প্রতি বেইজিং অনুষ্ঠিত টেনসেন্ট ওয়েব সামিটে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি আবারো বলেন,আগামী ৬০০ বছরের মধ্যে পৃথিবীতে নাকি মানুষের বিলুপ্তি ঘটবে।।মানুষের বিলুপ্তি ঠেকাতে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, মানুষকে এই গ্রহ ত্যাগ করে অন্য কোন গ্রহে স্থানান্তরের বিষয়ে চিন্তা করা দরকার। এই মহাবিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে মানুষের বসবাসের জন্য পরবর্তি সবচেয়ে ভালো জায়গা হিসেবে তিনি আলফা সেন্টোরির কথা বলেছেন।স্মর্তব্য যে,আলফা সেন্টোরির দূরত্ব পৃথিবী থেকে ২৫ ট্রিলিয়ন মাইল বা ৪.৩৭ আলোকবর্ষ। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে দ্রুতগামী মহাকাশযান দিয়ে সেখানে যেতে সময় লাগবে ৩০ হাজার বছর।এসময় কমাতে হকিং একটি স্টারশট প্রোজেক্টে-‘ন্যানোক্রাফট’ নামক একটি যান তৈরীর কথা বলেন। এই ন্যানোক্রাফট দিয়ে আলফা সেন্টোরিতে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ২০ বছর এবং মজার বিষয় হল এই ন্যানোক্রাফট দিয়ে মঙ্গল গ্রহে পৌঁছাতে সময় লাগবে এক ঘন্টারও কম। আরমাত্র একদিন সময় লাগবেপ্লেটোতে পৌঁছাতে।
বিষয়টাএকারণে উল্লেখ করেছি যে, নতুন প্রজন্মকে এখন থেকে জীবনবোধ ও পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে অনুপ্রেরণামূলক বিষয়ে আগ্রহী না করতে পারলে নিজেদের ধ্বংসের পাশাপাশি সভ্যতা ধ্বংস হওয়ার পথ অদূরে নয়। জন্মের পরপরই যদি মৃত্যু পরবর্তী জীবনের প্রতিআগ্রহী করাকেই বেশী গুরত্বপুর্ন মনে করা হয় তাহলে বিষণ্ণতা ও হতাশা সামাল দিতে না পারলে তারাএকসময় সুইসাইডের প্রতিই বেশী আগ্রহী হবে। বর্তমানে বহুল পরিমাণে প্রযুক্তি নির্ভর প্রবণতা ওযন্ত্রের কৃত্রিম বুদ্ধি তথা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি ও হয়তো হতে পারে সে বিপর্যয়ের কারণ। তারচে আলফা সেন্টোরিতে পৌঁছাতে কি করা দরকার তার অনুপ্রেরণা দেয়াটাই বোধহয় সমীচীন। এতে অন্তত ইতিবাচক জীবনবোধে,জন্মাতে পারে মানবতার প্রতিপারস্পরিকসহানুভূতি।


এলএবাংলাটাইমস/সি/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

আসাম যেন আরেক রাখাইন না হয়

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-০৪ ১২:৩৩:০০

আসামে নাগরিক যাচাইয়ের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নিবন্ধন তালিকায় ৭০ শতাংশ বাঙালি বাদ পড়েছেন। অন্য দিকে বাদ পড়েছেন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, এমপি, সাবেক মন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি। অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের প্রধান ও লোকসভার সদস্য বদরুদ্দিন আজমল তালিকায় স্থান পাননি। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ সীমান্তের ডুবরির প্রভাবশালী কমিউনিটি লিডার তিনি। তার ভাই লোকসভার সদস্য সিরাজউদ্দিনের নামও তালিকায় ওঠেনি। তার দুই সন্তানও জায়গা পায়নি। একই দলের নেতা হাফিজ বশির আহমেদ কাসেমি ও তার পরিবারের সদস্যরা নাগরিক হিসেবে নিবন্ধন পাননি। বিরোধী দল কংগ্রেসের কয়েকজন সিটিং এমপি ও সাবেক মন্ত্রীও তালিকায় স্থান পাননি।
বিজেপি ঘরানার সাম্প্রদায়িক দলগুলোর আশীর্বাদপুষ্ট আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। ১৯৮৫ সালে নাগরিকত্ব প্রশ্নে আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে ‘আসাম চুক্তি’ স্বাক্ষর হয়। ওই চুক্তির আওতায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০০৫ সালে আসামের নাগরিকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন। আদালতকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সর্বোচ্চ দেবতা বানালেও সবাই জানে এর ওপরেও দেবতা রয়েছে। সেটি হচ্ছে ক্ষমতাসীন সরকার। বিজেপি সরকার আসামে ক্ষমতায় এলে এটি কার্যকর করার প্রক্রিয়া আরম্ভ হয়। বিজেপির স্থানীয় নেতারা এ সময় নতুন করে জোর আওয়াজ তুলেছেনÑ আসাম প্রদেশের মুসলমানেরা বাংলাদেশ থেকে এসেছে। তাদের ভাষ্য হচ্ছে, অনুপ্রবেশকারী মুসলিমরা হিন্দুদের কর্মসংস্থান নষ্ট করেছে। নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার শপথ নেয়। তাদের সেই শপথের প্রাথমিক বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে কেউ যাতে কোনো ধরনের প্রতিবাদ করতে না পারে, সে জন্য রাজ্যে ৬০ হাজার সেনা নিয়োগ করা হয়েছে।
নতুন এই নাগরিকত্ব নিবন্ধনের মানদণ্ড হচ্ছে ১৯৭১ সাল। ওই বছরের ২৫ মার্চের পরে যারা আসামে গেছেন, তাদের বিতাড়িত করা হবে। যে বিপুল নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তারা মূলত সংখ্যালঘু মুসলিম। তাদের কাছে এমন কাগজপত্র ও দলিল চাওয়া হচ্ছে, যা হয়তো তারা দাখিল করতে পারবেন না। রোহিঙ্গাদের কাছে যেমনটি মিয়ানমার সরকার চেয়েছে। আসাম রাজ্যসরকার জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি তাদের পরিবারের সদস্যদের ১৯৫১ সালের আগে এই রাজ্যে আসার তথ্য দিতে পারবে অথবা ভারতের নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী সদস্যরা যদি প্রমাণ করতে পারে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে তারা ও তাদের পরিবার আসামে এসেছিল, তাহলে তারা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে। রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন করার প্রক্রিয়া শুরু করে মিয়ানমার ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন দিয়ে। ওই আইনে বলা হয়, যারা ১৮২৪ সালের আগে থেকে দেশটিতে বসবাস করছে তারা মিয়ানমারের পূর্ণ নাগরিক। জাতিসঙ্ঘ ঘোষিত সার্বজনীন মানবাধিকারের পরিপন্থী হলেও মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে এই অমানবিক আইনটিকে কাজে লাগিয়ে যচ্ছে। এবার ভারতের বাংলাদেশসংলগ্ন আসামে নাগরিকত্ব যাচাই কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে। ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনের (এনআরসি) প্রথম দফা খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
রোহিঙ্গারা দেশ ছাড়া হয়ে বাংলাদেশে আসবে, এমনটি মোটামুটি নিশ্চিত ছিল। মিয়ানমার সেই প্রক্রিয়া নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। বাংলাদেশ সময়মতো সচেতনতা দেখায়নি। দেশটিতে যে অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, সে ব্যাপারে কোনো ধরনের প্রতিবাদও করেনি। এমনকি মানবাধিকার নিয়ে জাতিসঙ্ঘে যখন প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে, মিয়ানমারের নাগরিকদের মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ পক্ষে অবস্থান নেয়নি। শেষে বাংলাদেশকেই তার চূড়ান্ত ভুক্তভোগী হতে হয়েছে। আসামে বিশাল একটি অংশ ভারতের নাগরিক নয় বলে যে আওয়াজ উঠতে যাচ্ছে, বাংলাভাষী এই মুসলমানেরা তাহলে কোন দেশের নাগরিক? তারা কি প্রতিবেশী মিয়ানমারের নাগরিক, যে দেশটি নিজের দেশের নাগরিকদের মুসলিম ও বাঙালি বলে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে? আসামে যে ষড়যন্ত্র ঘনীভূত হচ্ছে, আরেকটি বিশাল জনগোষ্ঠীর ভাগ্যেও কি রোহিঙ্গাদের পরিণতি অপেক্ষা করছে? তাহলে এই বিশাল রাষ্ট্রহীন মানুষের গন্তব্য কোন দেশ? এ প্রশ্নগুলো এখন ভাবতে হবে বাংলাদেশকে।
এখন ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের ঘাড়ের ওপর উঠেছে। একটি সভ্য জাতি হিসেবে কোনোভাবে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফেলে দিতে পারে না, কিন্তু সময়মতো সচেতনতার পরিচয় দিলে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। জাতিসঙ্গের সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ১৯৪৮ সালের সার্বজনীন মানবাধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী। রোহিঙ্গা সন্তানেরা জন্মগতভাবে মিয়ানমারের নাগরিক। নাগরিকত্ব বিষয়ক আইন করে তাদের যখন রাষ্ট্রহীন করা হচ্ছিল, তখন বাংলাদেশ কোনো কথা বলেনি। নিষ্ঠুরভাবে তাদের যখন মৌলিক নানাবিধ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, তখনো কিছু বলেনি।
অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে টুঁ-শব্দটি না করে বাংলাদেশ আসলে কী অর্জন করেছে। আমরা কি মিয়ানমারের বন্ধুরাষ্ট্র্র হতে পেরেছি? বিগত তিন দশকে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব এক চুলও এগোয়নি, বরং আমাদের বন্ধুরাষ্ট্রগুলো মিয়ানমারের সাথে তাদের সম্পর্কের উন্নতি করছিল, আমরা চুপচাপ থেকে সেটা দেখেছি। রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমার তার নাগরিকদের ওপর যে অন্যায় করেছে, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামে সেগুলো উত্থাপনের যথেষ্ট সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। মানবাধিকার সনদ লঙ্ঘনের বিষয়টি বাংলাদেশ জোরালোভাবে উত্থাপন করতে পারত। বাংলাদেশ তা করেনি, বরং যখন মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে, বাংলাদেশ চুপ থাকার নীতি গ্রহণ করেছে। অন্যায়কে এভাবে নীরবে সমর্থন করা কোনোভাবেই সঠিক হয়নি। তার দায় এখন বাংলাদেশকে বহন করতে হচ্ছে।
সাগরের বুকে জেগে ওঠা নতুন ভূমি বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বদ্বীপ। এই দেশে মানুষের বসবাসের ইতিহাস খুব পুরনো নয়। ক্রমে দক্ষিণে যখন স্থলভাগ বিস্তৃত হয়েছে, উর্বর ভূমিতে এসে উত্তরের মানুষ বসতি গড়েছে। চূড়ান্ত বিচারে এখানকার মানুষ অভিবাসী। এখন যারা আগে বসতি গেড়েছে, তারা যদি পরে আসা লোকদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে, বিষয়টি কেমন দাঁড়াবে। মূলত ভারতের অধিবাসীরা এ অঞ্চলের (বাংলাদেশের) নবীন বাসিন্দা। পৃথিবীতে মানুষের আসার শুরু থেকে অভিবাসন চলছে। এটিকে অস্বীকার করার কারণে পৃথিবীতে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ছে।
ভারতে ধর্মের ভিত্তিতে যে মেরুকরণ চলছে, সেটা ভালো পরিণাম বয়ে আনবে না। ধর্ম পরিবর্তনও অভিবাসনের মতো একটি বিষয়। মানুষ বরাবরই পুরনোকে ত্যাগ করেছে। নতুন ও টেকসই ব্যবস্থাকে গ্রহণ করেছে। এ ধরনের বিবর্তন পৃথিবীর এক অনিবার্য প্রক্রিয়া। এটিকে অস্বীকার করা হচ্ছে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িকতা। ভারতের হিন্দুরা যেমন দেশটির নাগরিক, একইভাবে অন্য ধর্মাবলম্বীরাও। এরা বাইরে থেকে এসেছেন কোনোভাবেই কথাটি সত্য নয়। মধ্যযুগের শুরুতে আরবেরা যেমন এসেছে, আধুনিক যুগের শুরুতে তেমনি ইউরোপীয়রা এসেছে। জাতপাতে বিভক্ত সনাতন ধর্মের মানুষকে মুক্তির স্বাদ দিয়েছিল তৎকালীন আরবেরা। পরে ইউরোপীয়রা দিয়েছিল আধুনিকতার ছোঁয়া। আরব ও ইউরোপীয় কেউ এ ভূখণ্ডে থেকে যায়নি। ভারতীয় রক্তের সাথে তাদের মিশ্রণ হয়েছে খুব সামান্য।
উপমহাদেশে অভ্যন্তরীণ অভিবাসন হয়েছে বিভিন্ন সময়। এখন অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হলেও পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা আরো বাড়বে। আসামে চাকরি ও সরকারি সুযোগ সুবিধা কেড়ে নেয়ার যে অভিযোগ ওঠানো হচ্ছে, সে হিসাব করা যুক্তিযুক্ত হবে না। বাংলাদেশে চাকরি ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয়রা এক নম্বরে রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স নিয়ে যায় ভারত। যেখানে বাংলাদেশে উচ্চ বেকারত্ব বিরাজ করছে। এ ভারতীয়দের বেশির ভাগই বৈধভাবে বাংলাদেশে চাকরি করে না। বাংলাদেশে এর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিবাদ দেখা যায় না। বাংলাদেশের মানুষ এ ব্যাপারে উদারতার পরিচয় দেয়। আসামের উর্বর ভূমি একসময় আশপাশের কৃষিজীবীদের আকৃষ্ট করেছে। বাংলাদেশ থেকেও কৃষকেরা একসময় সেখানে গেছে। যেমন ভারতীয় উপমহাদেশের অপেক্ষাকৃত নতুন ভূমি বাংলাদেশে বসবাস করছে উপমহাদেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা মানুষ।
আসামের মোট জনসংখ্যা তিন কোটি ৩০ লাখ। রাজ্যের জনসংখ্যার ৩৪ শতাংশের বেশি মুসলিম। অর্থাৎ তাদের মোট সংখ্যা এক কোটির বেশি মুসলিম। ৯টি জেলায় মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। নাগরিক সনদ প্রদানের প্রথম দফায় ৬০ শতাংশকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাদ পড়েছে ৪০ শতাংশ। বাদ পড়া অংশটি মূলত মুসলিম ও বাঙালি। রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন করা ছিল একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ। এ জন্য তারা প্রথমে একটি নাগরিকত্ব আইন প্রণয়ন করে। যখন এই আইনটি রচিত হয়, তখন রোহিঙ্গারা একটি জাতিগোষ্ঠী হিসেবে দেশটিতে প্রতিষ্ঠিত ছিল। তাদের সদস্যরা জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিল। তাদের মধ্যে মন্ত্রীও হয়েছিলেন। অং সান সু চি এবং তার বাবার উপদেষ্টা পরিষদে রোহিঙ্গা সদস্যরা ছিলেন। ধূর্ত সেনাবাহিনী যখন এই পরিকল্পনার সূচনা করে কেউ সেটাতে নেতিবাচক কিছু দেখেননি।
নাগরিকত্ব আইন করার একপর্যায়ে যাচাই-বাছাই করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মূলত সামরিক নেতাদের টার্গেট ছিল সাম্প্রদায়িক উসকানি দেয়া। এখন যেটা স্পষ্ট বোঝা যায়। স্থানীয় বৌদ্ধদের মধ্যে রোহিঙ্গাদের মুসলিম পরিচিতির বিষয়টি উসকে দেয়া হয়। যখন দুই কমিউনিটির মধ্যে ধর্মীয় বিভাজন ছড়িয়ে দেয়া হলো, তখন এমন কিছু ঘটনা ঘটানো হলো উভয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হলো। বিগত ৩০ বছরের এমন অসংখ্য ঘটনা দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাদ চরম পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। এরপর বৌদ্ধদের নিয়ে স্থানীয় মুসলিমদের ওপর নৃশংস অভিযান চালানো হয়। এক একটি অভিযান আগের অভিযানের চেয়ে ছিল নিষ্ঠুর। এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে দেয়া।
অভিযান শেষ হলে মুসলিম জনপদগুলোকে অবরোধ আরোপ করা হয়। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ, চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। মাঝে মধ্যে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার উৎসবে মেতে ওঠা চলতেই থাকে। তাদের কাছে থাকা নাগরিক সনদের জন্য উপযুক্ত দলিল কেড়ে নেয়া হয়, যাতে করে পরে এগুলো প্রদর্শন করে নাগরিকত্বের দাবি না করতে পারে। এর ওপর কোনো উসিলা ধরে চূড়ান্ত গণহত্যা চালানো হয়। পুরো জনপদের মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়। তারা মানসিকভাবে ধরেই নেয় যে, মিয়ানমারে তাদের থাকা আর সম্ভব নয়। এ জন্য কোনো একটি এলাকা নতুন করে আক্রমণ হলে দলবেঁধে সবাই দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নেয়। দেশ থেকে বিতাড়নের জন্য এটা ছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একটি চক্রান্ত। তারা এটা দারুণভাবে সফল করেছে। রোহিঙ্গাদের প্রায় সবাই নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
আসামে অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজে মুসলমানেরা অন্যান্য গোষ্ঠীর মতো প্রতিষ্ঠিত। যেমনটি মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা প্রতিষ্ঠিত ছিল। আসামে ধর্মীয় উত্তেজনা ও রায়টের কয়েকটি পর্ব ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। নাগরিক নিবন্ধনের চরিত্র বিশ্লেষণ করলে এখনে রোহিঙ্গা লক্ষণ প্রকাশ পায়। আসামের উপজাতিরা সবাই নাগরিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর আগে সেখানে উপজাতিদের সাথে মুসলমানদের দাঙ্গা বাধিয়ে দেয়ার ইতিহাস আছে। এখন তালিকা থেকে মুসলমানেরা যখন বাদ পড়ছে, তাদের জন্য এটি একটি মানসিক প্রস্তুতির সময়কাল। সংবাদমাধ্যম এর মধ্যে খবর দিয়েছে, অনেকে আসাম ছাড়ছে। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে যে সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করেছে, তার বিভিন্ন ধাপ সামনে কি আসামেও দেখা যেতে পারে?


এলএবাংলাটাইমস/সিএলআরটি 

বিস্তারিত খবর

চাই নয়া নেতৃত্ব

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২৬ ১১:১০:৩৩

তারেক জিয়া, সজীব ওয়াজেদ জয়, মাহি বি চৌধুরী, ব্যারিষ্টার তাপস, ব্যারিষ্টার আন্দালিব পার্থ, গোলাম মাওলা রনি, সাঈদ খোকন এবং অন্যান্য সকল যুবনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলছি, আপনারাই এ দেশের ভবিষ্যত নেতা। অনুকরণীয় এক মহান নেতা ডঃ মাহাথির মোহাম্মদের ন্যায় আপনারাই পারেন ইতিহাস সৃষ্টি করে গরীব এ দেশকে উন্নত একটি দেশে পরিণত করতে।  কিন্তু একটি পশ্চাদপদ দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেয়া মোটেই সহজ কোন কাজ নয়। ইচ্ছা হলেই যে কেউ সত্যিকার অর্থে নেতা বা নেত্রী হতে পারে না। তার জন্য দেশপ্রেম, প্রচুর পড়াশুনা, গবেষণা, ত্যাগ ও তিতিক্ষার প্রয়োজন। সদিচ্ছা থাকলে আপনারা নিজেদের মধ্যে থাকা সব বাধা পেড়িয়ে, সব বিভেদ ভুলে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।আমাদের অতীত ইতিহাস হতে আপনাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। যে যত কথাই বলুন না কেন আমাদের অতীত ইতিহাস খুব গৌরবের নয়। কদর্য্য এ ইতিহাস সামনে না আনতে পারলে আমার এ লেখার কোন মূল্য থাকবে বলে আমার মনে হয় না। তাই সবার অবগতির জন্য অতীতের কিছু বিষয় উল্লেখ করতে বাধ্য হচ্ছি।

বৃটিশ শাসনের কথা আমরা সবাই কম বা বেশী জানি। যে যার মত বিশ্লষণ না করে আমরা যদি নিরপেক্ষভাবে বিচার করতে পারি তবে আমরা অতীত ইতিহাস ব্যাখ্যা করে এর ভাল এবং মন্দ দিকগুলো চিহ্নিত করতে পারবো। যাক বৃটিশ শাসনের পর অর্থাৎ ১৯৪৭ সাল হতেই একটি সদ্য ভুমিষ্ট দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার মত সুযোগ্য নেতা আমাদের দেশে খুব একটা তৈরী হয়নি। সৎ নেতৃত্ব সংকটের ফলে অযোগ্যদের হাতে নেতৃত্ব চলে যায়। পরবর্তিকালে এরা সক্রিয় হয় এবং সুকৌশলে দেশের রাজনীতির শূণ্য ময়দান দখলে নিয়ে দখলদার বৃটিশ শাসকদের মতই দেশ শাসন শুরু করলো। শুধু তাই নয়, স্বার্থপর এ রাজনীতিবিদদের হীন চক্রান্তে অল্প হলেও যে ক'জন দেশপ্রেমিক নেতা ছিলেন তাদের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হলো অথবা গভীর ষড়যন্ত্রের কারণে তাদের পিছু হঠতে বাধ্য করা হলো। শুরু হলো ফাঁকা ময়দানে রসালো বক্তৃতা দিয়ে বাহবা বা হাততালি পাওয়ার রাজনীতির চর্চা। গোঁদের উপর বিষফোড়ার মত ছিল পূর্ব বাংলার সহজ সরল জনগণকে শাসনের নামে বিভিন্ন কায়দায় পশ্চিম পাকিস্তানীদের শোষন। এ দেশের বেশ কিছু হীন চরিত্রের রাজনৈতিক নেতা জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বিশ্বাসঘাতকের মত পশ্চিমাদের সাথে হাত মিলিয়েছিল। কিছুদিনের মধ্যেই দুই অংশের দৃশ্যমান বৈষম্যের কারণে পূর্বাংশের জনগণ আবার স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখা শুরু করলো। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য পশ্চিমাদের সাথে যারা হাত মিলিয়েছিলো তারাই আবার নেতৃত্বে চলে এলো। তাদের মতে যে যত বেশী আবেগঘন বক্তৃতা দিতে পারবে সেই তত বড় নেতা। দেশে চালু হলো নূতন রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেখানে আবেগ দিয়ে কথা বলতে পারা কিংবা রসালো বক্তব্য দিতে পারাটাই নেতৃত্বের মাপকাঠি হয়ে গেলো। এ কারণেই প্রকৃত নেতা হওয়ার মত নুন্যতম যোগ্যতা না থাকা সত্বেও দুর্ভাগ্যবশত এরাই দেশের নেতা বা নেত্রী বনে গেলো। সুদীর্ঘ তেইশ বছর বিভিন্ন গণ আন্দোলন শেষে দেশের জনগণ সুসংগঠিত হলে ১৯৭১ সালের নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের ফসল হিসেবে আমাদের সকলের প্রিয় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের যাত্রা শুরু হলো।

স্বাধীন দেশে যারা নেতা বা নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন তাদের মধ্যেও যোগ্যতার প্রকট অভাব ছিল। মুখে মুখে 'জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস' বললেও এখানে জনগণের ভূমিকা ছিল সম্পূর্ণ গৌন। হয়তো বা ঐ সকল নেতাদের মতে দেশের রাজনীতিতে জনগণের কোন ভূমিকা থাকারই প্রয়োজন নেই। বলাই বাহুল্য যে, এ দেশের সহজ সরল জনগণ তৎকালীন শাসকদের অপশাসন, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈষম্য, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, সামাজিক অবক্ষয় ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সচেতন হতে পারেননি কিংবা অন্যভাবে বলা যায়, এদের সচেতন করার জন্য ফলপ্রসু কোন উদ্যোগ সেই বৃটিশ আমল হতে কোন সরকার গ্রহণ করেনি। এর কারণ, জনগণ সচেতন হলে অযোগ্য যে কেউ যখন তখন তাদের শাসন করতে পারে না। হলোও তাই, তারা জানতো যে বৃটিশদের মত DIVIDE & RULE সূত্র কাজে লাগিয়ে অসচেতন জনগণকে শাসন ও শোষণ করা খুবই সহজ। এরই ফলশ্রুতিতে এবং কালক্রমে দেশপ্রেমিক নয় এমন ব্যক্তিরাই রাজনীতিতে সক্রিয় হলো। তাদের সাথে মিলিত হলো সন্ত্রাসী, খুনী, কালোবাজারী, ঘুষখোর, ধর্ষক, মদখোর এবং নৈতিকভাবে অধঃপতিত কিছু অসামাজিক ব্যক্তি। বর্তমানে এদের হাতেই দেশ ও জাতির সার্বিক নেতৃত্ব কুক্ষিগত।

দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এই বাংলাদেশ আজব এক দেশ। এ দেশের ৬০% মানুষ দেশ বা দেশের ভবিষ্যত নিয়ে খুব একটা ভাবেন না আর তারা ভাবতেও চান না। এরা খুব অল্পতেই তুষ্ট। কোনক্রমে বেঁচে থাকতে পারলেই এরা খুশী। এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে ঐ সব  স্বার্থপর, ধুরন্ধর ও সুযোগসন্ধানী রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং অন্যান্য দলের নেতা আর কর্মীদের ভাষা শুনলে মনে হয়, শিশুকালে এরা কোন সুশিক্ষা পায়নি। এদের বাবা-মারাও তাদের সুশিক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। জানি না হয়তো বা তারা নিজেরাই অশিক্ষিত ছিলেন। কারণ একমাত্র শিশুকালটাই হলো আদব কায়দা শেখার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে  আমাদের দেশের রাজনীতিবিদগণ ভাল মানুষ হওয়ার মত উপযুক্ত কোন শিক্ষা পাননি। বড় বড় ডিগ্রী বা সার্টিফিকেট তারা হয়তো পেয়েছেন কিন্তু এদের কেউ সুশিক্ষিত হতে পারেননি। তাই তারা যে ভাষায় কথা বলেন তা শুধু শিষ্টাচার বহির্ভূত নয় বরং অভদ্রজনিতও বটে।

বর্তমানে সংখ্যায় কম হলেও জনগণের একটা অংশ যারা রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও শান্তিপ্রিয় তারা চায় নেতৃত্বের আশু পরিবর্তন। তারা চায় সঠিক এবং গতিশীল নয়া নেতৃত্ব। দেশকে ভালবেসে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে যদি সুনেতৃত্ব গড়ে তোলা না যায় তবে দেশের সত্যিকার উন্নয়ন কোন দিনই সম্ভব নয়। এ সত্য উপলব্ধি করে এবং সুন্দর, সুখী এবং সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে চাইলে অতি সত্তর নেতৃত্ব পরিবর্তন অত্যাবশ্যক। এক্ষেত্রে নবীনদের নেতা হিসেবে বরন করাই সর্বোত্তম।

আগামী দিনের নেতা তারাই হবেন যারা দেশকে নিয়ে যাবেন উন্নতির শিখরে। সুন্দর একটি ভবিষ্যতের দিকে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে আগামী দিনের নেতারা সর্বাগ্রে নিজেদের তৈরী করে নিতে হবে। দেশকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে হলে আবেগপ্রবণ বক্তৃতা দেওয়ার প্রবণতা পরিহার করে আত্মত্যাগের দীক্ষায় নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

বিস্তারিত খবর

নৈতিক শিক্ষার গুরত্ব

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২২ ১১:৪৬:৫০

ক্যানবেরার হাই কমিশন অফিসে মান্যবর রাষ্ট্রদুতের উদ্যোগে একবার একটি মত-বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিলো। মত-বিনিময় সভাটির আলোচনার বিষয় বস্তু ছিলো-“সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলাঃ আমাদের করণীয় ও প্রবাসী ভাবনা”। সভায় বক্তারা নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। কেউ বা জঙ্গি কি বা কারা, ধর্ম ও তার অপবাখ্যার কুফল, নানা অরাজকতার ইতিহাস ও সাম্প্রদিকতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন। কিন্তু মূল বিষয় বস্তু ছিল আমরা কি করতে পারি বা এ বিষয়ে প্রবাসীদের ভাবনা কি। এ বিষয়টিতে নৈতিক শিক্ষা যে একটি গুরত্বপুর্ন ইস্যু তা তেমন একটা আলোচনায় আসেনি।

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্ত্য বিশ্বে বড়ো হয়ে উঠা মানুষের আচরণের মধ্যে একটি বিষয়ে বড়ো ধরণের পার্থক্য আছে। প্রসঙ্গক্রমে বাংলাদেশের কথাই বলি। এই সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠা মানসিকতায় আবেগ বেশী, বলা চলে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশী। কিন্তু পাশ্চাত্ত্য বিশ্বে আবেগের চেয়ে সহনশীলতা ও নীতিবোধ বেশী। আবেগ থাকা অবশ্যই দরকার কিন্তু নীতি বিবর্জিত হয়ে নয়। এসব দেশে দেখা যায় কোন ব্যাপারে একই বিষয়ে প্রতিদ্ধদ্বিতা করেও পরস্পর পরস্পরের শত্রু হয়ে উঠেনা।যে কোন প্রতিদ্ধদ্বিতা ও প্রতিযোগিতা হয় মার্জিত ও শুদ্ধ-ধারায়। সরকারী দল বা বিরোধী দল একে অপরের সমালোচনা করে পরিশীলিত ভাষায় বা সংযত শব্দ ব্যাবহার করে। এসব আচরণে অভ্যস্ত হতে প্রয়োজন সহনশীলতা ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা।

নীতিবোধ ও সহনশীলতা মানবিক গুণাবলীর একটি জরুরী দিক।বলা প্রসঙ্গিক যে, ধর্ম শিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষা এক বিষয় নয়। ধর্ম-শিক্ষা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে অপার্থিব বিষয়ের উপর গুরত্ব আরোপ করে। নৈতিক-শিক্ষা নীতি ও মানবতার প্রতি গুরত্ব আরোপ করে। এ প্রসঙ্গে মাদার তেরেসার একটি উক্তি খুব যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে-“তুমি যদি দৃশ্যমান মানুষকেই ভালবাসতে না পারো, তাহলে অদৃশ্যমান ঈশ্বরকে কি করে ভালবাসবে?”।আসলে মানুষ ও মানবতার জন্য নৈতিক শিক্ষার গুরত্ব অপরিসীম।উচ্চশিক্ষায় দর্শনের অন্তর্গত 'নীতিবিদ্যা' নামক একটি কোর্স পড়ানো হয়ে থাকে।একাডেমিক পড়াশোনা দর্শন ও নীতিবিদ্যা হওয়ায়তার গুরত্বটা উপলব্ধি করছি।কেবলমাত্র উচ্চশিক্ষা ছাড়াও আমার মনে হয় নীতিবিদ্যা পড়ানো দরকার প্রাইমারী স্কুল থেকেইএবং তা বাধ্যতামূলক করা উচিৎ প্রতিটি শিক্ষা-কার্যক্রমে। তাতে করে মানুষ নৈতিক শিক্ষা ও সহনশীলতায় অভ্যস্ত হতে পারবে ছোটবেলা থেকেই। নানা কারণে মানুষ আজ বিভ্রান্ত। কেননা মানবতাবোধ তৈরি হতে পারে এমন কিছু শিক্ষা ও চর্চা থেকেমানুষ আজ বিচ্ছিন্ন। গভীর অন্তর্দৃষ্টি ওসহনশীলতা সৃষ্টিতে নৈতিক শিক্ষা অত্যাবশ্যকীয়।

মানুষে মানুষে সুন্দর সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগীতাই মূলত মানবতা। মানবতার প্রয়োজনেই গঠিত হয় সমাজ ও রাষ্ট্র। মানুষ ও মানবতার জন্যই বলা চলে সভ্যতার যতো আয়োজন। বর্তমানে বিশ্ব পরিস্থিতিতে মানব সম্পর্কের যে সঙ্কট চলছে, বিবাদ-সংঘাতের যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা যে সঠিক জ্ঞানের অনুপস্থিতির কারণে ঘটছে তা কিন্তু নয়। তার মুল কারণ যে মানবতা বোধের অভাব তাতে কোন সন্দেহ নেই। আর মানবতা বোধের যে অবক্ষয় তার কারণ সঠিক জীবনদর্শনের অভাব। সে কারণেই মানুষের জীবন আজ নানাক্ষেত্রে হয়ে উঠেছে নীতিহীন ও মূল্যবোধহীন।

আমাদের দেশের বর্তমান স্কুল পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমে নৈতিক শিক্ষার কোনো পাঠ নেই।কিন্তু ধর্মীয় শিক্ষার পাঠ আছে। যদিও সব ধর্মের মূল শিক্ষা কল্যাণকর। তারপরও নৈতিক শিক্ষা আর ধর্মশিক্ষাকে এক করে ফেলা ঠিক নয়। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে স্কুল শিক্ষা কার্যক্রমের এমনকি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কোথাও আজ নৈতিক শিক্ষার কোনো সুযোগ নেই। তবে সম্প্রতি পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো করে ব্যবসায় নীতিবিদ্যাসহ প্রায়োগিক নীতিবিদ্যার কিছু দিক বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করা শুরু হয়েছে। এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ভালো। তবে নীতিশিক্ষার এ পাঠ শিশু-কিশোর পর্যায়ে পেলে সেই শিক্ষা আরো বেশি কার্যকর হবে বলে মনে হয়।

গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস মনে করতেন: 'জ্ঞানই পুণ্য'। সত্যিকার অর্থে সঠিক জ্ঞান অর্জন মানুষে মানুষে মমতা বাড়ায়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু আবার অনেক ক্ষেত্রে করে তুলছে সঙ্কটাপন্ন। তাই সহজ জিবনের পাশাপাশি একটি নৈতিক জিবন ও অত্যাবশ্যক। আর নৈতিক জিবন যে কেবল ধর্মীয় অনুশাসনেই সীমাবদ্ধ তা কিন্তু নয়। মানুষের জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করার ক্ষেত্রেনৈতিকদর্শন চর্চার ও প্রয়োজন। সার্বজনীননৈতিক দর্শন কোন বিশেষ ধর্মের আওতাভুক্ত নয়। মানবতা চর্চায় এর বিকল্প নেই।সঠিক নীতিশিক্ষাই পারে প্রযুক্তি সমূহের অগ্রগতিকে মানবিক প্রয়োজনে যথার্থভাবে কাজে লাগানোর নীতিনির্ধারণকরতে।

সভ্যতার নানা বিবর্তন ও অগ্রগতি সত্ত্বেও মানুষ আসলে সুখে নেই। প্রযুক্তির অভাবনীয় উৎকর্ষতার পরও মানবসমাজে ঘটছে নানা অবাঞ্ছিত ঘটনা। অভূতপূর্ব সব সুবিধা থাকা স্বতেওমানুষ কাঙ্ক্ষিত শান্তি লাভ করতে পারছে না। এর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দায়ী নৈতিক অবক্ষয়। সহনশীলতাও আত্নসমালচনা’র মানসিকতার অভাব। নীতি ও নৈতিকতার সঠিক অনুশীলন না থাকায় মানুষ হয়ে পরছে দুর্নীতিগ্রস্ত। সঠিক নীতিমালা ও নীতিবোধ না থাকায় বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিও মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলছে। মানুষ নীতিহীন হলে কোনো আইন-কানুন-ই তাকে সঠিক পথে পরি চালিত করতে পারেনা। রাষ্ট্রীয় নিয়ম-নীতি থাকলেও যে মানুষগুলো তা পরিচালনা করেন তাদের যদি নীতি-নৈতিকতার অভাব থাকে তাহলে সেসব প্রতিষ্ঠান দ্বারা মানুষ ভালো কোনো কিছু আশা করতে পারে না। তাই চরিত্র গঠন বা চারিত্রিক উন্নয়নের দিকে নজর দেয়া উচিত সর্বাগ্রে। এ ক্ষেত্রে নীতিবিদ্যা ও নৈতিক শিক্ষা অত্যাবশ্যক।

আজকের এই অস্থির জীবন আর চাওয়া পাওয়ার পিছনে ছুটে চলা কিংবা মানুষ প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বোধের অভাব সম্ভবত মানবতা বোধের অভাব থেকেই। ছোটকাল থেকেই মানুষের নৈতিক জীবন গড়ে ওঠে। বলা চলে ছোট বেলার শিক্ষা ও অভ্যাসই মানুষের সমগ্র জীবনে প্রভাব ফেলে। এ জন্য শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমে নৈতিক শিক্ষারবিশেষপাঠথাকাজরুরি।শিশুরা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয় তাদের শিক্ষকদের দ্বারা এবং পাঠ্যপুস্তক দ্বারা। পাঠ্য বইয়ে লিখিত বিষয়কে তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকে এবং শিক্ষকের নির্দেশনাকে তারা পিতামাতার নির্দেশনার চেয়েও বেশি অনুসরণযোগ্য বলে মনে করে। তাই নৈতিক শিক্ষাকে স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে আবশ্যিক করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বলা চলে শিক্ষার প্রতিটা ধাপেএটা করা দরকার। এতে সব শিক্ষার্থীকে সর্বজনীন কিছু চারিত্রিক শিক্ষা দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। কেবল প্রযুক্তি ও উন্নত জীবনই মানবতা বোধ তৈরি করতে পারেনা।এ বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে।

বিস্তারিত খবর

গ্রামেও এখন মোবাইলে গেম খেলা নেশায় আসক্ত

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-১৩ ১১:১৬:৩৮

গ্রামাঞ্চলে তরুণ প্রজন্মের ছেলেরা এখন খুব মজা করছে। তবে এ মজা শুধু যে গ্রামেই হচ্ছে তা কিন্তু নয়, শহরেও হচ্ছে। বলা যায় এই মজার আনন্দ গ্রামের চেয়ে শহরেই অনেক বেশী। তবে গ্রামের ছেলেরা অন্ধকার পরিবেশেই জটলা হয়ে পাশাপাশি বসে তাদের নিজস্ব মোবাইলে গেম খেলে আনন্দ করছে।

গ্রামীণ জনপাদে এমন পরিবেশ কি করে শুরু হয়েছে তা জানতে চাইলে সোহাগ আহম্মেদ বলেন, এই তো বেশ কিছু দিন আগের কথা, রাখাল যুবকরা বট গাছের ছায়ায় বা প্রিয় অন্য কোন ছায়া শিতল গাছের তলে ভর দুপুরে কচি কাঁচা সবুজ ঘাসে গরুর পাল ছেড়ে দিয়ে ইঁটের খোয়া বা অন্য কোন শক্ত বস্তু নিয়ে,অথবা মাটির ছোট ঢেলা দিয়ে চমৎকার কয়েকটি গুটি বানিয়ে মশ্রীণ মাটিতে কয়েকটি রেখা টেনে খোপ খোপ ঘর বানিয়ে বাগ বরকি'র মহা লড়াইয়ে জয়-পরাজয়ের আনন্দে মসগুল ছিল। তা তো বিলুপ্তির পথে, এই খেলা গুলো আর গ্রামের ছেলেরা খেলে না। তারা মোবাইল আসায় এই খেলাগুলো দলগত ভাবে মোবাইলেই খেলছে। অসচ্ছ এ বিষয় তিনি আরও সচ্ছ করেই বলেন, মোবাইলে এ গেম খেলার আনন্দ আসলে জয়-পরাজয়ের আনন্দ। তাশ খেলার মত টাকা পয়সা দিয়েও খেলছে। আধুনিক যুগে মোবাইলে এই গেম খেলা আসলেই যুব সমাজকে অনেকাংশ ধ্বংস করছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এই গেম শহরের ছেলে মেয়েরা খুব বেশী খেললেও গ্রামের ছেলেরাই শুধু খেলছে। গ্রামাঞ্চলের তরুণ প্রজন্ম নাকি আধুনিক এই প্রযুক্তি থেকে পিছিয়ে থাকতে কখনো চান না।

গ্রামাঞ্চলে এখন দেখা যায় প্রত্যেকটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে, সেহেতু মোবাইলে চার্জের কোনই সমস্যা তাদের হয় না। মোবাইল বা ট্যাবের কারণে তরুণ প্রজন্মের ছেলেরা অকারণেই গেম নেশায় আসক্ত হচ্ছে। আধুনিক যুগের এই ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রের বদৌলতে রাত ভর তারা মজার ধরনের গেম বেছে নিয়ে পড়া শুনা না করে গেম খেলে জীবনকে ধ্বংস করছে। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া স্বপ্ন গুলোকে বাদ দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা তারা যে গেম খেলছে। এদের এমন ভাবে চলা উচিৎ নয়, আবার তারা এই গেম খেলার পাশাপাশি অতিরিক্ত আনন্দ জন্যই মরন নেশা গাঁজাও সেবন করছে।

তরুণ প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা তাদের মোবাইলে গেমের পাশাপাশি ইন্টারনেটেও অনেক বেশি সময় কাটাচ্ছে সেহেতু তাদের মস্তিষ্কে নাকি রাসায়নিক পরিবর্তনও ঘটছে। এমন আসক্তিতে তাদের মধ্যে হতাশা এবং উদ্বেগ সৃষ্টি হচ্ছে। এই বিষয়ের প্রতি অবজ্ঞা না করে তাদের প্রতি কঠিন দৃষ্ট দিতে হবে।সুতরাং গ্রাম হোক আর শহরই হোক না কেন, বাবা মা এবং তাদের বড়দের উচিৎ ঘরে-বাহিরে তারা কি করছে দেখা। রাত্রি বেলা না ঘুমিয়ে গেম খেলছে কিনা। গবেষকদের গবেষণায় জানা যায় যে, ঘুমের আগে মোবাইলের ডিসপ্লের আলোক রশ্মি ঘুমের হরমোনকে নাকি অনেক বাধা সৃষ্টি করে৷ তাই বাবা মাদের প্রতি গবেষকদের পরামর্শ, ঘুমের আগে যদি সন্তানকে প্রযুক্তির সংস্পর্শে আসতে দেওয়া হয় তা হলে অনেক ক্ষতি হবে। তাদেরকে অবশ্য অকারণে অহেতুক এসব ইলেকট্রোনিক্স যন্ত্র ব্যবহারে বাধা সৃষ্টির প্রয়োজন রয়েছে। ঘুম না হলে অসুস্থ ভাবেই বেড়ে ওঠা এইসব কমলমতি তরুণ তরুণীদের খুব ক্ষতি হবে। পরিপূর্ণ ঘুম না হলে যে তাদের অমূল্য সম্পদ স্মৃতিশক্তির স্বাভাবিকতা বিনষ্ট হবে। তাই সময়ের যথাযত ব্যবহারের ক্ষেত্রে এসব মুঠোফোন বা ইলেকট্রোনিক্স যন্ত্রের মতো এমন বদঅভ্যাসকে পরিহার করতে হবে।


বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত