যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

|   ঢাকা - 03:03am

|   লন্ডন - 10:03pm

|   নিউইয়র্ক - 05:03pm

  সর্বশেষ :

  নিয়ন্ত্রণে আসছে ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানল 'ববক্যাট ফায়ার'   ক্যালিফোর্নিয়ার ডিজনিল্যান্ড পার্ক খুলতে কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল   যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়ালো   নির্বাচনের আগেই বিচারপতি নিয়োগের ভোট হবে সিনেটে: মিচ ম্যাককনেল   করোনার জন্য জাতিসংঘে চীনকে দায়ী করলেন ট্রাম্প   দেশে করোনায় মৃত্যু ৫ হাজার ছাড়ালো   ভিপি নূরের মামলাকে মিথ্যা বললেন ড. কামাল, দেবেন আইনি সহায়তা   বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে গণস্বাস্থ্যের কিটের অনুমতি দেয়নি সরকার: ডা. জাফরউল্লাহ   একের পর এক দুর্যোগে নাজেহাল ক্যালিফোর্নিয়া   ভূরাজনৈতিক বিরোধ জাতিসংঘকে যেন দুর্বল না করে: প্রধানমন্ত্রী   নূরের বিরুদ্ধে অপহরণ-ধর্ষণ ও ডিজিটাল আইনে আরেক মামলা   চীন-রাশিয়া থেকে অস্ত্র কিনবে ইরান   ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রথমবারের মতো সংক্রমণ ৩ শতাংশেরও নিচে   ডেঙ্গু আক্রান্তরা হতে পারেন করোনা প্রতিরোধে সক্ষম: গবেষণা   আসছে শীতে যুক্তরাষ্ট্রে 'টুইনডেমিক' আতঙ্ক

>>  কলাম এর সকল সংবাদ

মহামারী হেলাফেলা আত্মঘাতী

বাংলাদেশে করোনা আছে; ভয় পালিয়েছে। নমুনা পরীক্ষা কমলেও করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ও আক্রান্তের প্রকৃত চিত্র এখনও ভয়াবহই বলতে হয়। শীত আসছে। ভয়াবহতা শীতে আরও বাড়বে। দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এমনটা বলেছেন। এখন আমরা যেভাবে চলছি, এমন ভয়হীণ চলাচল আমাদের যে মৃত্যুর মুখমোখি করছেতা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মহামারী হেলাফেলা সত্যিই আত্নঘাতী। মানুষের স্বাভাবিক চলা ফেরা,সামাজিক দুরত্ব বজায় না রেখে মাস্ক বিহীণ চলাফোরা ভাবনায় ফেলেছে দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।
ঢিলেঢালা জীবনযাত্রায় করোনা ভাইরাস দেশে যে কোন সময় তান্ডব চালাতে

বিস্তারিত খবর

প্রতি ক্ষণে জেনে শুনে বিষ পান

 প্রকাশিত: ২০২০-০৯-১২ ০২:২৯:০০

ভেজাল নেই কোথায়? ভেজালের রাজ্যে আমরা যেন রাজা। ভেজাল দিচ্ছি; ভেজাল খাচ্ছি, ভেজাল বলছি; ভেজাল করছি। এটাতো দেখছি ভেজালের এক মহারাজত্ব। কেউ কেউ বলেন এদেশে কেবল খাদ্যে নয়; বিষেও নাকি ভেজাল আছে। কথা কিন্তু মিথ্যে নয়। ভেজাল খেয়ে যা হবার তাই হচ্ছে। কিডনি নষ্ট হচ্ছে, হচ্ছে হাই প্রেসার; দুরারোগ্য ক্যান্সার ও হার্টস্ট্রোকে অহরহ মরছে মানুষ। প্রতিটি খাবারে মেশানো হচ্ছে বিষ। আর সেই বিষ খেয়ে আমরা আর বেঁচে নেই। জীবিত থেকেও লাশ
হয়ে গেছি। এ যেন জিন্দা লাশ! রোগে শোকে কয়েকটা দিন বেঁচে থাকা এই আরকি।
প্রতিনিয়তই বিষ খাচ্ছি। সাম্প্রতিক এক লেখায় পড়েছি ‘আমরা প্রতি জনে; প্রতি ক্ষণে; জেনে শুনে করেছি বিষ পান।’ আরেক লেখক লিখেছেন- ‘কত কিছু খাই ভস্ম আর ছাই।’ সেদিন জাতীয় দৈনিকের শিরোনাম ছিল: ‘মাছের বাজারে মাছই নেই!’ প্রতিদিন আমরা যে খাবার খাচ্ছি তাতে কোনো এক মাত্রায় বিষ মেশানো আছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এই বিষই আমাদের তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে গেলেই বোঝা যায় কত প্রকার রোগই না এখন মানব দেহে বাসা বেধেছে। আসলে আমরা জেনে শুনেই বিষ খাচ্ছি। না খেয়ে উপায়ই বা কি? তবে উপায় একটা আছে। না খেয়ে থাকলে এ থেকে যেন নিস্তার মিলবে। কিন্তু তাতো হবার নয়। তাই আমে, মাছে, সবজিতে বিষ মেশানো আছে জেনেও তা আমরা কিনে নিচ্ছি। আর সেই বিষ মেশানো খাবারই সপরিবারে গিলে খাচ্ছি দিন-রাত। ভেজাল দেয়া বা ভেজাল খাদ্য ও পানীয় বিক্রির কারণে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এ আইনের ২৫(গ) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ কোনো খাদ্য বা পানীয়দ্রব্যে ভেজাল দিয়ে তা ভক্ষণ বা পান করার অযোগ্য করে ও তা খাদ্য, পানীয় হিসেবে বিক্রি করতে চায় বা তা খাদ্য বা পানীয় হিসেবে বিক্রি হবে বলে জানা সত্ত্বেও অনুরূপ ভেজাল দেয় অথবা কোনো দ্রব্য নষ্ট হয়েছে বা নষ্ট করা হয়েছে বা খাদ্য, পানীয় হিসেবে অযোগ্য হয়েছে জানা সত্ত্বেও বা তদ্রুপ বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও অনুরূপ কোনো দ্রব্য বিক্রি করে বা বিক্রির জন্য উপস্থিত করে; তবে সে ব্যক্তি মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ড অথবা ১৪ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদন্ডে এবং তদুপরি জরিমানাদন্ডে দন্ডিত হবে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ২০০৫ সালে অর্ধশত
বছরের পুরনো ১৯৫৯ সালের বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশে (পিএফও) বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনে।
মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো দ্রব্য, কোনো খাদ্যপণ্যের সঙ্গে যার মিশ্রণ কোনো আইন বা বিধির অধীনে নিষিদ্ধ, এরূপ দ্রব্য মিশ্রিত কোনো পণ্য বিক্রি করা বা করতে প্রস্তাব করা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ভোক্তা অধিকারবিরোধী কাজ হিসেবে স্বীকৃত। এ জন্য আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। বিএসটিআই অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এবং এর অধীনে প্রণীত বিধিমালায় খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্যের প্রক্রিয়া ও পরীক্ষা পদ্ধতির জাতীয় মান প্রণয়ন এবং প্রণিত মানের ভিত্তিতে পণ্যসামগ্রির গুণগত মান পরীক্ষা ও যাচাই করার বিধান রয়েছে। পালনীয় বিধানাবলী ভঙ্গের জন্য চার বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে। খাদ্যে ভেজাল রোধ ও ভেজালকারীদের শাস্তি দেয়ার বিধান রয়েছে সিটি কর্পোরেশন অধ্যাদেশগুলোয়। দেখা যাচ্ছে, দেশে খাদ্যদ্রব্যে ভেজালবিরোধী আইনের কমতি নেই। শাস্তির বিধানও রয়েছে এসব আইনে। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠতে পারে, শাস্তির বিধানসংবলিত এসব আইন বলবত থাকা সত্ত্বেও খাদ্যদ্রব্যে ভেজালের এত দৌরাত্ম্য কেন? কারাদন্ডের বিধান থাকলেও এ পর্যন্ত তা প্রয়োগের কোনো নজির নেই। এটা আমাদের বাঙালি জাতির জন্য দুর্ভাগ্য।
খাদ্যে ভেজাল রোধে অনেক আইন রয়েছে, কিন্তু এর যথাযথ প্রয়োগ নেই। ভেজাল দেয়া বা ভেজাল খাদ্য ও পানীয় বিক্রির কারণে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এ আইনের ২৫ (গ) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ কোনো খাদ্য বা পানীয়দ্রব্যে ভেজাল দিয়ে তা ভক্ষণ বা পান করার অযোগ্য করে ও তা খাদ্য, পানীয় হিসেবে বিক্রি করতে চায় বা তা খাদ্য বা পানীয় হিসেবে বিক্রি হবে বলে জানা সত্ত্বেও অনুরূপ ভেজাল দেয় অথবা কোনো দ্রব্য নষ্ট হয়েছে বা নষ্ট করা হয়েছে বা খাদ্য, পানীয় হিসেবে অযোগ্য হয়েছে জানা সত্ত্বেও বা তদ্রুপ বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও অনুরূপ কোনো দ্রব্য বিক্রি করে বা বিক্রির জন্য উপস্থিত করে; তবে সে ব্যক্তি মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ড অথবা ১৪ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদ-ে এবং তদুপরি জরিমানাদন্ডে দন্ডনীয় হবে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ২০০৫ সালে অর্ধশত বছরের পুরনো ১৯৫৯ সালের বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশে (পিএফও) বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনে। বিএসটিআই অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এবং এর অধীনে প্রণিত বিধিমালায় খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্যের প্রক্রিয়া ও পরীক্ষা পদ্ধতির জাতীয় মান প্রণয়ন এবং প্রণিত মানের ভিত্তিতে পণ্যসামগ্রির গুণগত মান পরীক্ষা ও যাচাই করার বিধান রয়েছে। পালনীয় বিধানাবলী ভঙ্গের জন্য চার বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে। খাদ্যে ভেজাল রোধ ও ভেজালকারীদের শাস্তি দেয়ার বিধান রয়েছে সিটি কর্পোরেশন অধ্যাদেশগুলোয়। দেখা যাচ্ছে, দেশে খাদ্যদ্রব্যে ভেজালবিরোধী আইনের কমতি নেই। শাস্তির বিধানও রয়েছে এসব আইনে। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠতে পারে, শাস্তির বিধানসংবলিত এসব আইন বলবত থাকা সত্ত্বেও খাদ্যদ্রব্যে ভেজালের এত দৌরাত্ম্য কেন? কারাদন্ডের বিধান থাকলেও এ পর্যন্ত তা প্রয়োগের কোনো নজির নেই। এটা আমাদের বাঙালি জাতির জন্য দুর্ভাগ্য। খাদ্যে ভেজাল রোধে অনেক আইন রয়েছে, কিন্তু এর যথাযথ প্রয়োগ নেই।

মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর কোনো কিছুই খাদ্যে মিশ্রণ করা যাবে না- এটাই বিধান। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা এ আইন মানছে না। এ জন্য চলমান ভেজালবিরোধী আইনকে কঠোর করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের জনবল ও ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এদেশে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে ‘দি পিওর ফুড অর্ডিন্যান্স’ ১৯৫৯ বর্তমান ব্যবস্থায় কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না। এই আইন যখন হয়েছে তখন মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর অনেক রাসায়নিক দ্রব্য সৃষ্টিই হয়নি। আর খাদ্যে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে আশির দশকের পর। ফলে জনস্বার্থে আইন সংশোধন না করে নতুন করে কঠোর আইন তৈরি করতেই হবে। এতে খাদ্যে ভেজালকারীর বিরুদ্ধে সরাসরি ২০২ ধারা অনুসরণ করা দরকার। কারণ খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে মানুষ মারা এবং সরাসরি মানুষ মারাকে এই অপরাধের আওতায় আনা না হলে ভেজাল মেশানো প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না। আর এভাবে খাদ্যে ভেজাল হলে পরবর্তী প্রজন্ম বিকলাঙ্গ হয়ে যাবে। জাতীয় স্বার্থেই সরকারে কঠোর হতে হবে। অপরদিকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এবং আমদানিকৃত খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি শাস্তির দেয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা দরকার। বিএসটিআইর জন্য ‘ইকুইপমেন্ট ক্রয় ও ধারাবাহিকভাবে দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা দরকার। পিওর ফুড অর্ডিন্যান্স ১৯৫৯ সংশোধন করা হয় ২০০৫ সালে।
আইনটি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা ছিল না। এ আইন স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করত। মূল ভূমিকা পালন করত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এসব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজের সমন্বয়হীনতায় ভেজাল রোধ করা সম্ভব হয়নি। এতো আইন রয়েছে তবুও কেন ভেজাল থেমে নেই? খাদ্যে ভেজালের অপরাধে দেশে কঠিন শাস্তিযোগ্য আইন থাকলেও তার কার্যকারিতা নেই। এ অবস্থাই ভেজালকারীদের উৎসাহিত করছে। আর এ থেকে আমাদের
বেরিয়ে আসতে হবে।
প্রশ্ন হলো ভেজালের বিরুদ্দে আমরা জি সোচ্চার? ঘলে কতটা? জীবন বাঁচানোর তাগিদেইতো যুদ্ধে নামা দরকার। ভেজালের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আমজনতা, প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে। জনস্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলা প্রদর্শনের কোনোই সুযোগ নেই। এ অবস্থায় সর্বতোভাবে তৎপর হতে হবে বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এতে গণমাধ্যমেরও ব্যাপক ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। সর্বোপরি ভেজাল প্রতিরোধে জনসচেতনতা একান্ত দরকার। গ্রামেগঞ্জে, শহরে-নগরে এ ব্যাপারে প্রয়োজনে গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এক যোগে আওয়াজ তুলতে হবে- ‘আমরা আর ভেজাল খাবো না; ফরমালিনমুক্ত খাবার চাই।’ মানুষ তো বাঁচার জন্য খায়, মরার জন্য নয়। আর খাদ্য যদি মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তা কতটা দুঃখজনক। বিষয়টি নিশ্চই সরকার এবং সংশ্লিষ্টরা ভাববেন।
লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক

বিস্তারিত খবর

২১ আগস্ট: ১৬ বছর পরও ভুলতে পারি না সেই স্মৃতি

 প্রকাশিত: ২০২০-০৮-২১ ১৩:৪১:১৭

আগস্ট মাস বাঙালি জাতির অত্যন্ত বেদনার মাস। এই মাসেই জাতি হারিয়েছিল তার রাষ্ট্রের পিতাকে। ১৬ বছর আগে ২০০৪, ২১ আগস্ট ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ বিকেল ৫টা ২২ মিনিট বাঙালি জাতির জীবনে নেমে এসেছিল একটি ঘৃণ্য হত্যাকান্ড। প্রকাশ্য দিবালোকে হাজার হাজার জনতার মাঝে মুহু মুহু গ্রেনেড হামলা করা হয়েছিল। হত্যাকান্ডের মূল টার্গেট ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। হত্যাকারীরা অবস্থান নিয়েছিল গণতন্ত্র মানবাধিকার, অসামপ্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, অসামপ্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থা নেয় বলে তাকে বারবার হত্যাকারীদের আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। গ্রেনেড হামলার দিন 'জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধ'ু বলে যখনই বক্তব্য শেষ করছিল তখনই ঘাতকের একের পর এক গ্রেনেড ছুটে আসছিল তার ট্রাকের দিকে। সৃষ্টি কর্তার অশেষ রহমতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মানব বর্ম তৈরি করে রক্ষা করেছিল তাদের প্রিয় নেত্রীকে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী মাহবুব মঞ্চ থেকে গ্রেনেট আর গুলির মধ্যদিয়ে গাড়িতে তুলে দিতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। নেত্রীকে বাঁচিয়ে পালন করে গেছে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব। অসংখ্য মানুষ লাশ হয়ে, আহত হয়ে পড়ে ছিল মঞ্চের চারপাশে।
সেদিনের ঘটনা আমার খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল বলে ভুলতে পারি না সেই সব স্মৃতি। ঢাকা মেডিকেলে কান্নার আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। যে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছিল তা কেউ না দেখলে তাকে বোঝানো যাবে না। গ্রেনেডের আঘাতে মৃত্যু পথযাত্রী তবুও নিজের কথা না বলে প্রিয় নেত্রীর কী অবস্থা জানতে চেয়েছেন। সবার একই কথা নেত্রীর কী অবস্থা? তার কোনো অসুবিধা হয়নি তো? হামলায় আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত, ৩৩৮ জন আহত হয়েছিল। শেখ হাসিনা আহত না হলেও গ্রেনেডের আঘাতে শ্রবণযন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল। গ্রেনেড হামলার পর পিচঢালা পথে পড়ে আছে অসংখ্য নিথর দেহ। অঙ্গ হারিয়ে অনেকে কাতরাচ্ছে। সড়কে বয়ে গেছে রক্ত বন্যা। এসময় সবারই একই প্রশ্ন নেত্রীর কি অবস্থা। আপার কোনো অসুবিধা হয়নি তো? বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারান তার দেহরক্ষীও। এ হামলার কারণ সবারই জানা। এ হামলা কেবল শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করে দেয়ার হামলা।
সেদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। সমাবেশ শেষে সন্ত্রাসবিরোধী মিছিল হওয়ার কথা। তাই আলাদা মঞ্চ তৈরি না করে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি ট্রাককে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে শেখ হাসিনার বক্তৃতা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিকট শব্দে খই ফোটার মতো একের পর এক গ্রেনেড বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণ ঘটানো গ্রেনেড, বোমা আর গুলির শব্দ, বিচ্ছিন্ন হাত, পা ও দেহ, রাজপথে তাজা রক্ত, হাজার হাজার মানুষের ভয়ার্ত ছোটাছুটি সব মিলিয়ে মুহূর্তেই বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পরিণত হয় এক মৃত্যু উপত্যকায়। সেদিন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ৬টি গ্রেনেড। লাশের মিছিলে স্বজনদের আহাজারি আর আহতদের চিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে রাজধানীর পরিবেশ। প্রায় শ্রবন শক্তি হারিয়ে প্রাণে রক্ষা পান গণতন্ত্রের মানস কন্যা শেখ হাসিনা।
সেদিন একটি বিষয় স্পষ্ট ছিল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করে তার দলকে নেতৃত্বশূন্য করার লক্ষ্যে বর্বরতম গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। নির্মম হামলার ঘটনায় শেখ হাসিনা ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেলেও আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিরপরাধ মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। হামলায় শত শত মানুষ মারাত্নক জখম হন, চিরজীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করেন। ঘটনার পর দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেল ৭টি বছর। কিন্তু সেই হামলায় ব্যবহূত আর্জেস গ্রেনেডের উৎস, এর জোগানদাতা, পরিকল্পনাকারী এবং হামলার নেপথ্য কারিগরদের চিহ্নিত করা যায়নি। শেখ হাসিনাকে হত্যা করে কেউ লাভবান হতে চেয়েছিল কিনা কিংবা হামলার পেছনে প্রভাবশালী কাদের হাত ছিল তার কিছুই বের করা সম্ভব হয়নি। গ্রেনেড হামলায় নিহতদের পরিবারের আহাজারি আজো থামেনি। স্বজন হারানোর ব্যথা ভুলতে পারেনি পরিবারগুলো।
গ্রেনেড হামলার এত বছর পেরিয়ে গেলেও তারা কোনো বিচার পাননি। প্রকৃত দোষী এবং প্রত্যক্ষন্ডপরোক্ষ মদদদাতাদের খুঁজে বের করতে হবে। বাংলাদেশ থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে হবে । যাতে তাদের মতো আর কাউকে স্বজন হারাতে না হয়, স্বজন হারানোর ব্যথায় কাঁদতে না হয়, কোনো স্বামীকে স্ত্রী হত্যার, স্ত্রীকে স্বামী হত্যার বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে না হয়, সন্তানের লাশের মতো পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী জিনিস পিতার কাঁধে বহন না করতে হয়।

শেখ হাসিনা বহুবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। শেখ হাসিনাকে এতো আঘাত করেও কেউ তার অবস্থান থেকে একবিন্দুও সরাতে পারেনি । মৃত্যু ভয়ে তিনি পিছিয়ে যাননি। তবে আওয়ামী লীগের কর্মীদের মনে রাখতে হবে শেখ হাসিনার জীবনই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এই মাসেই জাতি হারিয়েছিল তার রাষ্ট্রের পিতাকে। এ মাসেই প্রাণ কেড়ে নিতে চেয়েছিল জাতির জনকের কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি বেঁচে যান। সেইদিনের দুঃসহ স্মৃতি ও শরীরে অসংখ্য স্পিন্টার নিয়ে বেঁচে আছেন আওয়ামী লীগের শত শত নেতাকর্মী। প্রশ্ন হলো ঘটনার ১৬ বছর পরও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতটা নিরাপদ?

সিআইডি'র তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে হত্যা ও আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান গ্রেনেড হামলার প্রথম পরিকল্পনাকারী। তিনি রাজধানীর পশ্চিম বাড্ডায় সংগঠনের নেতা কাজলের বাসায় অন্যদের নিয়ে ২০০৪ সালের ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় বৈঠক করেন। পরদিন সকালে ঐ বাসায় আবার বৈঠক করে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। একই দিন বিকালে কাজল ও জান্দাল বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গিয়ে এলাকা রেকি করে। এরপর সন্ধ্যায় মুফতি হান্নান, মওলানা তাহের, তাজউদ্দিন, কাজল ও জান্দাল তৎকালীন উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর ধানমন্ডির সরকারি বাসায় বৈঠক করেন। পিন্টুর ভাই তাজউদ্দিন হামলা পরে প্রশাসনিক সহায়তার আশ্বাস দিয়ে জান্দাল ও কাজলের কাছে ১৫টি গ্রেনেড দেন। তাজউদ্দিন এই বলে আরো নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন, হামলার ঘটনা ভিন্নখাতে চলে যাবে। আর এ কাজটি বড় ভাই (পিন্টু) করে দিবেন। আবদুস সালাম দিয়েছিলেন ২০ হাজার টাকা। একুশে আগস্ট সকালে বাড্ডায় কাজলের বাসায় আক্রমণের জন্য নির্বাচিত ব্যক্তিরা একত্র হয়। সবাই একসঙ্গে জোহরের নামাজ পড়ে দুপুরের খাবার খায়। তারপর সবার উদ্দেশে মওলানা সাইদ জিহাদ বিষয়ক বয়ান করেন। মুফতি হান্নান হামলার জন্য ১৫টি গ্রেনেড দেন। আছরের নামাজের সময় সবাই যার যার মতো গিয়ে গোলাপ শাহ মাজারের কাছে মসজিদে মিলিত হয়। সেখান থেকে তারা সমাবেশ মঞ্চ হিসাবে ব্যবহৃত ট্রাকটির তিন দিকে অবস্থান নেয়। শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর ট্রাকে তৈরি মঞ্চে গ্রেনেড আক্রমণ করা হয়। এরপর তারা সমাবেশে উপস্থিত লোকদের সঙ্গে মিশে গা ঢাকা দেয়।
আমরা সবাই ভালো করেই বুঝতে পারি, যে হত্যা ও ক্যুর রাজনীতি বঙ্গবন্ধুর ঘাতকরা ও তাদের মদদদাতারা শুরু করেছিল তা এখনো অব্যাহত আছে। তাদের এখন একমাত্র টার্গেট শেখ হাসিনা। হত্যাকারীদের অনুসারীরা এখনোও আমাদের আশপাশে, প্রশাসনযন্ত্রের মধ্যে ঘাপটি মেরে আছে। আওয়ামী লীগকে বুদ্ধিমত্তা ও কৌশল দিয়ে তা প্রতিহত করতে হবে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে অনেক খারাপ মানুষ সম্পৃক্ত ছিল। সেদিন ঘাতকরা আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করতে চেয়েছিল। সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমায় সে যাত্রায় রক্ষা পাওয়া গেছে। এই ঘৃণ্য হামলার সঙ্গে যুক্ত তাদের খুঁজে বের করা প্রয়োজন। এখনো এই ঘাতকরা শেখ হাসিনার দিকে বন্দুক তাক করে আছে। এদের সমূলে উৎপাটনের এখনই সময়।


লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট


বিস্তারিত খবর

জো বাইডেন যেন নির্বাচনের আগেই হেরে গেলেন

 প্রকাশিত: ২০২০-০৮-১২ ০৩:৫১:০৮

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইলেকশনের চাঞ্চল্য শুরু হয়ে গেছে। ভাগ্যই যেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় সহায়ক শক্তি। ট্রাম্পের পুনর্বার নির্বাচনের পথ পরিষ্কার হলো বলেই অনুমেয়। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন যেন ইলেকশনের আগেই হেরে গেলেন। জো বাইডেন ডোনাল্ড হ্যারিসের কন্যাকে নিয়ে(কামালা হ্যারিস) নির্বাচনী বৈতরণি পেরোতে পারবে বলে মনে হয়না। নারী রানিংমেটের ইতিহাস সুখকর নয়।  

নাম ছিলো তারভকমলা দেভি হ্যরিস। ইংরেজী বানান ও এক্সেন্টের (accent) সুবাদে হয়ে গেছেন কামালা ড্যভি হ্যারিস। কমলা দেভি অরিজিনালি ইন্ডিয়ান আফ্রিকান বংশোদ্ভূত আমেরিকান। তার মা শ্যামলা গোপালান ভারতীয় (তামিল) এবং বাবা ডোনাল্ড হ্যারিস ব্লাক জ্যামাইকান (পূর্বপুরুষ আফ্রিকান)। মায়া হ্যারিস নামে তার একটা বোন রয়েছে।

৫৫ বছর বয়সী কমলা দেবী হ্যারিস ২০১৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়ে মার্কিন রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন। এর আগে তিনি দুই মেয়াদে ক্যালিফোর্নিয়ার এটর্নি জেনারেল ছিলেন ৬ বছর। কমলা হ্যারিস প্রথম কোনো ব্লাক ইন্ডিয়ান নারী হিসাবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তিনি বাইডেনের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রানিং মেট ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স' একজন তুখোড় পলিটিশিয়ান। পেন্স ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্য থেকে দুই মেয়াদে ৫ বছর গভর্নর ছিলেন। তিনিও একজন তুখোড় ল'ইয়ার।

রানিং মেট সিলেকশন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইলেকশনে প্রায়শই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, ঔদ্ধত্য স্বভাবের টাম্পের সাথে কুল পলিটিশিয়ান মাইক পেন্স গত ইলেকশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এমন একজন পলিটিশিয়ানের সাথে জো বাইডেন রানিং মেট সিলেকশনে দুরদর্শিতার পরিচয় দিতে পারেননি।তাছাড়া এর আগেও দু’জন নারীকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে রানিংমেট করে জয়ের মুখ দেখেননি।

২০০৮ সালে আলাস্কার তৎকালীন গভর্নর গ্লামারাস গার্ল সারাহ পলিনকে রানিং-মেট করেছিলেন রিপাবলিকান ক্যান্ডিডেট জন ম্যাককেইন, ফলাফল ভরাডুবি। হোয়াইট হাউস দখলে এক কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানের(বারাক ওবামা) সাথে পাত্তা পেলোনা ঐ হোয়াইট জুটি। এর আগে ১৯৮৪ সালে প্রথম কোনো নারী হিসাবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে লরেছিলেন কংগ্রসওমেন জেরাল্ডাইন ফের‍্যারো। তিনি লড়েছিলেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াল্টার মন্ডেলের রানিং-মেট হয়ে। ফের‍্যারো ছিলেন একজন তুখোড় কূটনীতিক। বিল ক্লিনটনের সময়ে তিনি ইউএন এম্বাসাডর ছিলেন।

ঐতিহাসিক বাস্তবতা ভিন্ন কথা বললেও দেখা যাক বাইডেন-হ্যারিস জুটি ইতিহাসের গতি পাল্টাতে সক্ষম হন কিনা।


বিস্তারিত খবর

করোনাকালের মানবিক পুলিশ এবং কিছু কথা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৮-০৬ ০৪:৩২:৩৩

বিরাজমান করোনাকালে সম্মুখযোদ্ধার ভুমিকায় পুলিশ সদস্যরা। বাংলাদেশ পুলিশের অনবদ্য ভূমিকায় সারা দেশে এবার বেশ প্রসংশা পেয়েছে। নানা কারনে নেতিবাচক খবরের বিষয়বস্তু হওয়ায় জনমানসে পুলিশ সম্পর্কিত যে ভীতিপপ্রদ ভাবমূর্তি ছিল মাত্র তিন/চার মাসেই এই দু:সময়ে পুলিশ মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছে তা বলা যায়। এ দুর্যোগে বাংলাদেশ পুলিশের বহুমুখী মানবিক ভূমিকা মুগ্ধতা জাগানিয়া, বিস্ময়কর এবং অনুপ্রেরণাদায়ীও।
একারনে আন্ত:র্জাতিকভবেও বাংলাদেশে পুলিশের প্রশংসা করা হচ্ছে। বিদেশী মিডিয়ায় পুলিশের ভালো কাজগুলো স্থান পাচ্ছে। শত দুর্নাম ঘুচিয়ে জীবন বাজি রেখে, জীবন দিয়ে পুলিশ যে জনগনের বন্ধু তা প্রমান করেছে। আমাদেও প্রধানমন্ত্রীও পুলিশের প্রসংশা করেছেন। সত্যিই করোনাকালে পুলিশ’এর বিচিত্র ও চমৎকার সব কার্যক্রমে পুলিশের সব দুর্নাম যেন ঘুচতে চলেছে।
পুলিশ জনবান্ধব হচ্ছে। আর তা হওয়া খুব জরুরী বটে।

কথা হলো বাংলাদেশ পুলিশের এ সুনাম ধরে রাখা যাবে কিনা? যখন করোনা থাকবে না, তখন কী হবে? পুলিশ কি আগের অবস্থায় ফিরে যাব? পুুলিশের নয়া আইজিপি বলেছেন- পুলিশ যেখানে গিয়েছি সেখান থেকে আর ফিরে আসব না। সেখান থেকে আরও এগিয়ে যাব পুলিশ। মানুষের ভালোবাসা, সম্মান, শ্রদ্ধার যে জায়গা তৈরি হয়েছে  বাংলাদেশ পুলিশতা  ধরে রাখবেই। আইজিপির কথায় আমরা আস্বস্থ্যও হতে পারি। পুলিশ জনবান্ধব না হলে জনগনের জন্য তা কষ্টের, দেশের জন্যতো বটেই। করোনাকালে পুলিশ জনগনের যে বন্ধন তৈরি হয়েছে তা যেন অটুট থাকে এই প্রত্যাশা এখন সবার।

একটু পেছনে ফিরে যাই। পুলিশ দু:সময়ে দেশের জন্য জনগনের জন্য যে কাজ করে তার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধেও পুলিশ তাঁদের দেশ প্রেমের প্রমাণ দিয়েছে। পাকিস্তাানি বাহিনীকে প্রতিহত করতে প্রথম জীবন দিয়ে ছিল এই পুলিশবাহিনীর সদস্যরা। কতক দুর্নীতিবাজের কারনে ভাল কাজগুলো ম্লান হয় সব সময়। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ পুলিশে সৎ, নিষ্ঠাবান এবং দেশপ্রেমী সদস্য রয়েছেন। উর্দ্ধতন পুলিশে এখন পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তারা স্থান পাচ্ছেন। যার সুফল মিলতে শুরু করেছে। আমার জানা মতে একজন ডিআইজি মর্যাদার কর্মকর্তা নিজের জন্য একটি ভালো বাড়ি পর্যন্ত করতে পারেননি। তিনি সততার সাথে পুলিশ বিভাগের দুর্নাম ঘুচাতে এবং পুলিশকে জনবান্ধব করতে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশে এখন এমন অনেক কর্মকর্তা খুঁজে পাওয়া যায়। যার কারনে পুলিশ জনবান্ধব হচ্ছে। দেশের স্বার্থে যে কোন মূল্যে পুলিশকে আস্থার জায়গায় ফিরে আসতেই হবে।
বলছিলাম পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা। হলিআর্টিজানে জঙ্গি হামলাকে পরাস্ত করতে একাধিক পুলিশ অফিসারকে জীবন দিতে হয়েছিল। বাংলাদেশের জঙ্গি দমনে পুলিশের ভূমিকা সারা বিশ্বে নন্দিত। বাংলাভাই থেকে শুরু কওে সকল জঙ্গি দমনে সফলতা দেখিয়েছে পুলিশ। ৫ মে হেফাজতের তান্ডবকে প্রতিহত করে  ঢাকা মহানগরীর শান্তি বজায় রাখতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে। তারপরও কিছু অপেশাদার অসৎ পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকায় গৌরব প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তবে এবার করোনাযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা সারা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশকে এই জায়গাটা ধরে রাখতেই হবে।
২০২০ এর পুলিশ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য বিষয়টা আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। তা ছিল 'মুজিববর্ষে অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার'। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আসলে পুলিশকে জনতারই হতে হবে। জনগণ যেন আস্থা পায়, বিশ্বাস পায়, পুলিশের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে পারে। সেই কাজটি করতে হবে। বর্তমানে করোনাভাইরাসের সংকটকালে বাংলাদেশ পুলিশ এখন জনতার পুলিশের ভূমিকায় কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশ বিভাগ যেভাবে কাজ করে  যাচ্ছে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয় জয় করতে সক্ষম হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই পুলিশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম, সরকার ঘোষিত লকডাউন নিশ্চিতকরণ, লাশ দাফনসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা প্রদানে বাংলাদেশ পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। যাই বলিনা কেন, এদেশে চাইলেও সব কিছু পুরোপুরি সঠিকভাবে করা যায়না। লকডাউনের প্রথম দিকে পুলিশ এবং জনপ্রশাসন ছিলো হার্ড লাইনে। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পুলিশের হার্ডনেসকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে পুলিশ তথা প্রশাসনের ভাবমূতি নষ্টের পায়তারায় নামে কতক মানুষ। মানুষকে ঘরে রাখার জোরপূর্বক বা নিবর্তনমূলক পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে সমালোচনা হলে বাংলাদেশ পুলিশ সেই স্ট্যাটেজি থেকে সরে আসে। এতে দেশের বেশ ক্ষতিও হয়েছে। ঐ সময় লগডাউনটা সঠিকভাবে পালন করা গেলে করোনা পরিস্থিতি অনেক আগেই হয়তো নিয়ন্ত্রণে চলে আসতো। এটা বলতেই হয় করোনাকালে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে যথেষ্ট সচেষ্ট ছিলো। আর তা করে তারা প্রসংশিতও হয়েছে। আগে বলা হতো পুলিশ জনগণের বন্ধু। অনেক ক্ষেত্রেই প্রচলিত কথাটির প্রমাণ মিলতো না। পুলিশ কখনো কখনো জনআতংকের কারণ ছিলো।বর্তমান সময়ে তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে। পুলিশ জনগনের বন্ধু হতে শুরু করেছে। কেবল এই ধারাবাহিকতাটা ধরে রাখা গেলেই পুলিশ জনগনের বন্ধু হয়েই থাকবে সব সময়।
পুুলিশ কিভাবে এলো। ব্রিটিশরা তাদের উপনিবেশ এলাকায় পুলিশি ব্যবস্থা চালু করে, তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল এ দেশীয় মানুষকে দমন করা। তাদের শাসন ব্যবস্থাকে মজবুত করা। দুইশ বছরের ব্রিটিশ শাসন, চব্বিশ বছরের পাকিস্তানি শাসন, স্বাধীন বাংলাদেশে জিয়া, এরশাদ, খালেদা এমনকি বর্তমান সরকারও যেভাবে পুলিশকে দলীয় লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ভিন্নমতকে প্রতিহত করতে অপব্যবহার করেছে। সেই ট্র্যাডিশন থেকে বের হতে একটু সময়তো লাগবেই বটে।
তবে আশার কথা বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশকে মানবিক পুলিশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নিস্বার্থভাবে তা অব্যহত রাখতে পারলে দেশের জন্য মঙ্গল হবে বৈকি!
আধুনিক নগরায়িত পুলিশের আঁতুরঘর হিসেবে ইংল্যান্ডকে বিবেচনা করা হয়। পুলিশের উৎপত্তি যেখানেই হোক না কেন, আইনিকাঠামো অনুযায়ী পুলিশ হল এমন একটা সরকারি আইনপ্রয়োগকারী বাহিনী যারা জনগণের স্বাস্থ্য, সম্পদ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ এবং সমাজিক বিচ্যুতি প্রতিরোধ করে। অপরাধ বিশ্লেষণ, গ্রেফতার এবং টহলের বাইরেও পুলিশ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে থাকে যেমন জাতিসংঘে। বাংলাদেশ পুলিশের আরেকটু ভিন্নতা আছে।  তারা অপরাধ ব্যবস্থাপনার বাইরেও আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সামাজিক দায়িত্ব পালন করে থাকে যা বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে অনেক বেশি দৃশ্যমান আছে। আইনের বাইরে থেকে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ রোধ, ছেটখাটো বিষয়গুলো যা আদালতে গড়ালে হয়তো বড় আকার ধারন করবে সেসব বিষয়ের সমাধান অন্তরালে থেকে পুলিশকেই দিতে হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের সবার কাছে পুলিশের নানাবিধ কর্মকান্ড চোখে পড়ে। অনেকে পুলিশের এই কর্মকান্ডের জন্য ‘মানবিক পুলিশ’ শব্দটিও ব্যবহার করছে যা জনগণের কাছে পুলিশকে প্রশংসিত করেছে। আবার এর উল্টোটাও কিন্তু আছে। কতক অমানবিক পুলিস সদস্যের কারনে পুলিশের ভাবমূতি নষ্ট হওয়াতো মামুলি বিষয়। তারপরও বলব প্রচলিত ধারণার বিপরীতে করোনাকালে পুলিশের সকলক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ও বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অগ্রণী ভূমিকা পুলিশের ভাবমূর্তি সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে।
পুরো বিশ্বেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে মানুষের ধারণা সুখকর নয়। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা রকম ধারণা, ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। সম্প্রতিকালের দু’টি বিষয় সামনে আনছি। করোনাকালে আমাদের দেশের পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা কয়েক মাসে পুলিশ সম্পর্কে ধারনাই বদলে দিয়েছে। বিশ্বের প্রচার মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে তা। অতিত নিকটে তার ঠিক উল্টোটা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ কর্তৃক। একজন কৃষাঙ্গ নাগরিক হত্যার পর শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, একই সঙ্গে পুরো বিশ্বকে চরম ভাবে নাড়া দিয়েছিল। প্রশ্নবিদ্ধ করেছে পুলিশবাহিনীর ভুমিকা নিয়ে। এমন সময় আমাদের পুলিশ মানবিক হয়ে মানুষের পাশে থেকে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে তা কখনই ভুলার নয়।
করোনাকালের শুরুতে যখন হাসপাতালে ডাক্তার মিলছিলোনা; দাফন করার মানুষ পাওয়া যাচ্ছিলো না। ছেলে বাবা-মার, বাবা-মা ছেলের কাছে যেতে ভয় পেতো পুলিশ তখন মানুষের পাশে ছিলো। তাই এসময় পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাই বেশি আক্রান্ত হন। বিশেষ করে করোনাকালে আমাদের পুলিশের মানবিক এই ভূমিকায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তাান হিসেবে পুলিশ বাহিনী বীর সদস্যদের স্যালুট জানাই। এটাও আশা করি তাঁরা যেন তাদের এই সাফল্য, এই সুনাম ধরে রাখে। পুলিশের ওপর যে দ্বায়িত্ব অর্পিত হয়েছে তা পালনে যেন আগামী দিনে মানুষের সুখে-দুখে পাশে থাকবেন এই প্রত্যাশা করছি আমরা। এই চাওয়াটা কিন্তু  দেশের আপামর জনতারও।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক।

বিস্তারিত খবর

হাফ ডজন বিশ্ববিচিত্রা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৮-০৬ ০৪:২৫:৩৯


নগ্ন গ্রাম

অদ্ভুত একটা গ্রাম। যেখানে কেউই কোনও জামাকাপড় পরে না। জামাকাপড় তো দূরের কথা, এক চিলতে কাপড় কিংবা আদিম কালের মতো লতাগুল্মের ডালপাতা দিয়েও শরীরের কোনও গোপন অংশও ঢাকে না।
না, আমি দক্ষিণ‌ আমেরিকার ঘনজঙ্গলে ঘেরা আদিবাসীদের ‌ডেরা কিংবা আফ্রিকার মাদাগাস্কারের মতো কোনও জায়গার কথা, যেখানে এখনও সভ্যতার কোনও আলো গিয়ে পৌঁছয়নি, সে রকম কোনও জায়গার কথা বলছি না।
বলছি, যুক্তরাজ্যের হার্টফোর্ডশায়ারের স্পিলপ্লাজ গ্রামটির‌ কথা। ওই গ্রামে কেউই জামাকাপড়ই পরেন না। তাই গ্রামের বাইরে থেকে কেউ সেখানে এসে থাকতে চাইলে, তাঁরা যে রকম ভাবে থাকেন, ঠিক সে রকম ভাবেই তাঁদের থাকতে হয়।
শরীরে কোনও জামাকাপড় না চাপালেও ওই গ্রামের মানুষ জন কিন্তু বেশ সচেতন এবং যথেষ্ট সৌখিন। কড়া রোদ থেকে চোখকে বাঁচানোর জন্য তাঁরা সানগ্লাস পরেন। অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য গলায় নকশাদার রকমারি সোনার চেন পরেন। এক-এক আঙুলে পরেন রত্নখচিত নানা রঙের এক-একটি আংটি।
শুধু তাইই নয়, মদ্যপান করার জন্য গ্রামের ভেতরে কিছু দূরে দূরেই রয়েছে একেবারে শহরের মতোই ঝাঁ-চকচকে বারও। ব্যবহার করে নামি-দামি গাড়িও।
সব দিক থেকে বিচার-বিবেচনা করলে, কোনও বর্ধিষ্ণু গ্রামের থেকেই এটাকে আলাদা করা যাবে না। তফাৎ শুধু এক জায়গাতেই। ‌এরা কেউ পোশাক পরে না। কেউ যদি ভুল করে পরেও, তা হলেই সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে সমাজচ্যুত করা হয়।
একমাত্র নগ্ন হয়ে থাকতে রাজি হলেই, ছবির মতো সুন্দর, বেশ সাজানো-গোছানো, পরিপাটি এই গ্রামে যে কেউই জমি কিনতে পারেন। অন্যথায় জমি তো মিলবেই না, যদি কেউ তলে-তলে কিনেও নেন, মিলবে না বাড়ি-ঘর করার অনুমতি কিংবা বসবাস করার কোনও সুযোগ। সে আপনি যত টাকা অফারই করুন না কেন কিংবা যতই লোভ দেখান না কেন। ওরা ও সবে ভোলার পাত্র নন।
যাঁরা ওই গ্রামের মধ্যে থাকেন, তাঁরা কিন্তু ওই নগ্নতার মধ্যে অসভ্যতার কিছু দেখেন না। উলটে বড় মুখ করে তাঁদের গ্রামটিকে যুক্তরাজ্যের সব চেয়ে পুরনো নগ্নতাবাদী অঞ্চল বলে তাঁরা দাবি করেন। পঁচাশি বছরের এক বাসিন্দা, ইছিয়ুট রিচার্ডসন তো নিজেই বললেন, আমি বুঝি না এটা নিয়ে এত হইচই করার কী আছে। আমি তো অন্য গ্রামের সঙ্গে এই গ্রামের কোনও পার্থক্যই দেখি না। অন্য গ্রামগুলো যে ভাবে জীবন ধারণ করে, আমরাও সেই ভাবেই করি। সকালে ঘুম থেকে উঠি। সারা দিন কাজকর্ম করি। বাজারে যাই। পানশালায় যাই। দুধওয়ালা থেকে পোস্টম্যান, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী আমারা একে অন্যের বাড়িতে যাই। সবই তো স্বাভাবিক। আমি তো অস্বাভাবিক কিছু দেখি না। আমরা শুধু জামাকাপড় পরি না, এইটুকুই যা তফাত। আর একটা তফাৎ অবশ্য আছে, সেটা হল, আমাদের এই গ্রামে আজ পর্যন্ত কোনও মেয়ে কখনও ধর্ষিত হয়নি। হ্যাঁ, এই একটি ব্যাপারে আমরা অন্য সব জায়গা থেকে ভীষণ ভীষণ ভীষণ ভাবে পিছিয়ে আছি।


পঁয়ষট্টি কোটি চড়াই পাখি!

'মশা, মাছি, ইঁদুর আর চড়াই পাখি, বিশেষ করে ইউরেশিয়ান গেছো চড়াই নাকি গোটা দেশের বেশির ভাগ ফসলই খেয়ে শেষ করে দিচ্ছে। তাই জনগণের খাবারে টান পড়ছে।'
দেশে খাদ্যশস্যে কেন টান পড়ছে সমীক্ষা করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই রিপোর্টই এসে পৌঁছেছিল চিন সরকারের হাতে। তাই ১৯৫৮ সালে‌ এই সমস্যার সমাধান‌ করার জন্য মশা, মাছি, ইঁদুরের সঙ্গে সঙ্গে গোটা দেশের সমস্ত চড়াই পাখিকে মেরে ফেলার নির্দেশে দেন চিনের চেয়ারম্যান‌ স্বয়ং মাও সে তুং। ঘোষণা করা হয়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই দেশ থেকে চড়াই পাখি নির্মূল করতে হবে। এই অপারেশনের নাম দেওয়া হয়--- দ্য গ্রেট স্প্যারো ক্যাম্পেইন।
কিন্তু কথা হল, প্রায় ৯৬ লক্ষ বর্গ কিলোমিটারের এই দেশটি থেকে কোটি কোটি চড়াই পাখিকে রাতারাতি মেরে ফেলা যাবে কী করে! সেটা তো আর চাট্টিখানি কথা নয়। তাই দেশের তাবড় তাবড় বিদগ্ধ পণ্ডিতদের নিয়ে রীতিমত গবেষণা শুরু হল, কী ভাবে চড়াই পাখি নিধন করা যায়।
তখন কয়েক জন পশু চিকিৎসক একটা পথ বাতলে দিলেন। আর সেই নিদান পাওয়ার পর থেকেই থালা, বাটি, গ্লাস, হাতা, খুন্তি নিয়ে দেশের জনগণ বেরিয়ে পড়লেন রাস্তায়। সামনে কোনও চড়াই পাখি দেখলেই তাঁরা সেগুলো জোরে জোরে বাজাতে লাগলেন।
আর সেই বিকট শব্দে ভয় পেয়ে চড়াই পাখিগুলো দিকভ্রষ্ট হয়ে ছুটোছুটি করতে লাগল এদিক ওদিক। কিন্তু ওরা পালাবে কোথায়!
চড়াই পাখি মারার জন্য যে তখন গোটা দেশে জারি হয়েছে এক অঘোষিত যুদ্ধ। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মচারী, কারখানার শ্রমিক, কৃষক থেকে দিন আনা দিন খাওয়া মজুর, এমনকী‌ পিপল’স লিবারেশন আর্মি--- সকলেই নেমে পড়েছে চড়াই নিধনযজ্ঞে।
মূলত কম বয়সি ছেলেমেয়েরা জাল ফেলে, খাঁচা পেতে, টোপ দিয়ে ধরার চেষ্টা করছে ঝাঁক ঝাঁক চড়ুই পাখি। কেউ কেউ গুলতি ছুড়ে মারছে। কেউ  ব্যবহার করছে খেলনা বন্দুকের গুলি। কেউ খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে বিষ। উদ্দেশ্য একটাই, যেনতেন প্রকারে চড়াই পাখি মারতেই হবে।
বৃদ্ধ এবং শিশুরা পাহারা দিতে শুরু করল ক্ষেত। ‌যাতে একটা চড়াই পাখিও মুখে কোনও দানা তুলতে না পারে।
কিছু লোক নেমে পড়ল চড়ুই পাখির বাসা নষ্ট করার জন্য। ডিম ভেঙে ফেলার জন্য। 
বাড়ির মেয়ে-বউরা ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ল থালা, বাটি নিয়ে। চড়াই পাখির দেখলেই তাঁরা বাজাতে লাগল সেগুলো। যাতে সেই আওয়াজে ওই ছোট্ট ছোট্ট পাখিগুলোর হৃদপিণ্ড স্তব্ধ হয়ে যায়।
এই ঘটনার পরের দিন, মানে ১৯৫৮ সালের ১৩ ডিসেম্বর চিনের সমস্ত দৈনিক পত্রপত্রিকার প্রথম পাতায় এই নিধনযজ্ঞের খবর ফলাও করে ছাপা হয়েছিল। তখনই জানা গিয়েছিল, এই নিধনযজ্ঞে খতম হয়েছে প্রায় ৬৫ কোটি চড়াই পাখি।
শোনা যায়, সে দিন আক্রমণাত্মক লোকেদের‌ ভয়ে প্রাণ বাঁচানোর জন্য প্রচুর চড়ুই পাখি নাকি‌ বেইজিংয়ের পোলিশ দূতাবাসের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিল।
কিন্তু চিন সরকারের অনুরোধ সত্ত্বেও শুধুমাত্র মানবিকতার খাতিরে পোলিশ কর্তৃপক্ষ নাকি তাদের দূতাবাসের ভেতরে একজন চড়ুই নিধনকারীকেও ঢুকতে দেয়নি।
তাতে প্রচণ্ড রেগে গিয়ে ওখানকার হাজার হাজার লোকেরা একসঙ্গে জড়ো হয়ে ওই দূতাবাস ঘিরে রাতদিন থালা-বাটি, কাঁসর-ঘণ্টা, এমনকী ড্রামও বাজাতে শুরু করেন। সেই কান বিদীর্ণ করা শব্দে হার্টফেল করে মারা যায় প্রচুর চড়াই পখি।
এই ভাবে একটানা দু'দিন ধরে পালা করে ওই সব বাজানোর পরে এক সময় ক্লান্ত হয়ে ওরা চলে যায়।
এত আওয়াজ হচ্ছিল যে, কান ঝালাপালা হওয়ার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য দূতাবাসের কর্মীরা দরজায় খিল দিয়ে, কানে তুলো গুঁজে ভিতরের ঘরে কাটাচ্ছিলেন। সেই‌ আওয়াজ থামার পর তাঁরা বেরিয়ে দেখেন, দূতাবাসের সর্বত্র গাদা গাদা চড়াই পাখি মরে পড়ে আছে। উঠানে এত চড়াই পাখি মরে আছে যে, সেগুলো সরানোর জন্য ওই দূতাবাসের কর্মীদের বেলচা ব্যবহার করতে হয়েছিল।
এই নির্মম ও হঠকারী সিদ্ধান্তের জন্য অবশ্য চিনাদের পরে খেসারতও দিতে‌ হয়েছিল।
কারণ, শস্য দানার পাশাপাশি চড়াই পাখি তো নানা ধরনের পোকামাকড়ও খেত। দেশ থেকে চড়াই পাখি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় ফলে খুব স্বাভাবিক ভাবেই বাড়তে থাকে সেই সব পোকামাকড়। ধেয়ে আসতে থাকে লক্ষ লক্ষ পঙ্গপাল। তারা ক্ষেতের সমস্ত শস্য খেয়ে সাবাড় করে দিতে থাকে।
যে শস্য বাঁচানোর জন্য মাত্র দু'দিনে প্রায় পঁয়ষট্টি কোটি চড়াই পাখিকে হত্যা করা হল, তার চেয়েও বেশি শস্য চলে‌ গেল কিনা পোকামাকড়ের পেটে!
এত শস্য খেয়ে তারা সাবাড় করে দিয়েছিল যে, দেশের বাৎসরিক খাদ্যশস্য মজুতের ন্যূনতম লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করা গেল না।‌ ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চিনের শস্যভাণ্ডার খালি হয়ে গেল। খাদ্য সংকটের মুখে পড়ল কোটি কোটি মানুষ। শুরু হল দুর্ভিক্ষ।
‘দ্য‌ গ্রেট চাইনিজ ফ্যামিন’ নামের এই দুর্ভিক্ষে মারা‌‌ যান প্রায় দেড় কোটি মানুষ। চড়াই নিধন করে কত বড় ভুল যে তাঁরা করেছেন, বুঝতে পেরে, অবশেষে 'পোকামাকড়ের ফসল খাওয়ার সমস্যা' সামাল দেওয়ার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে প্রায় কয়েক লাখ চড়াই পাখি আমদানি করতে বাধ্য হয় চিনা সরকার। সেই চড়াই পাখি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘোষণা করা হয়, এ বার থেকে চড়াই পাখিকে আমাদের রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। ‌একটা চড়াইও যাতে না মারা না যায়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এই 'দ্য গ্রেট স্প্যারো ক্যাম্পেইন' যেমন চিনের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে আছে, ঠিক তেমনি‌ আছে, বিদেশ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যাক চড়াই পাখি আমদানি করার এক অদ্ভুত রেকর্ডও।


সোনার হোটেল

পঁচিশ তলা হোটেল। পুরোটাই সোনার।
হোটেলের ঘরগুলো যেমন সোনা দিয়ে তৈরি, তেমনই বাথরুম থেকে সুইমিংপুল--- সবই সোনার পাত দিয়ে মোড়া। চা থেকে শুরু করে খাবার-দাবার, সব কিছু সোনার পাত্রেই পরিবেশন করা হবে। তার থেকেও বড় কথা হল, হোটেলের চেয়ার-টেবিল, খাট, আলমারি থেকে শুরু করে সমস্ত আসবাবপত্রও সোনার তৈরি।
এমনকী, হোটেলের টয়লেট থেকে শুরু করে লবি, ইনফিনিটি পুল, বাথরুমের শাওয়ারের মাথাটিও সোনা দিয়ে বানানো। হোটেলে থাকা কাস্টমারের কোনও গেস্ট দেখা করতে আসামাত্রই তাঁকেও সোনার কাপ-প্লেটে করেই কফি দেওয়া হবে।
হোটেলটির ভেতর এবং বাইরে যে পাঁচ হাজার বর্গমিটার জুড়ে সেরামিক টাইলস বসানো হয়েছে, সেই টাইলসগুলোও সম্পূর্ণ সোনা দিয়েই তৈরি। সোনায় মোড়া এই হোটেলটি মোট পঁচিশ তলার। আর ইমিউনিটি পুলটি রয়েছে একেবারে রুফটপে।
না, এটা শুধু পাঁচতারা হোটেলই নয়, এটা তার থেকেও বেশি কিছু। অর্থাৎ, এটাকে ছয় তারকাও বলা যায়। চব্বিশ ক্যারেটের চকচকে সোনার এই হোটেলটি তৈরি করা হয়েছে ভিয়েতনামের রাজধানী হানোইতে। আরও নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে বলতে হয়, হোটেলটি হানোইয়ের বা দিন জেলার গিয়াং ভো লেকের এক্কেবারে ধারেই তৈরি করা হয়েছে।
হোটেলটির নাম--- ডলস হানোই গোল্ডেন লেক। এই হোটেলটিকেই বিশ্বের প্রথম সোনার হোটেল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।
২০০৯ সালে হোটেলটির কাজ শুরু হয়। বিশ্বজুড়ে করোনার থাবায় সমস্ত কাজ আটকে গেলেও, আশা করা যাচ্ছে চলতি বছরের শেষের দিকেই জনসাধারণের জন্য এই হোটেলটি খুলে দেওয়া যাবে। তবে না, এই একটি সোনার হোটেল নির্মাণ করেই তারা ক্ষান্ত হচ্ছেন না। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই এই রকম আরও ছ'-ছ'টি সোনার হোটেল বানানোর পরিকল্পনা নিয়েছে তারা।
এটি তৈরি করতে খরচ হচ্ছে প্রায়‌ ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার সমান।
এই হোটেলটি নির্মাণ করছে ভিয়েতনামের হোয়া বিন গ্রুপ। হোটেল-সহ আরও অন্যান্য ব্যবসার পাশাপাশি এই গ্রুপের এমন একটি কারখানা রয়েছে, যেখানে তারা খুব সস্তায় নানান ধরনের সোনার জিনিসপত্র বানিয়ে দেয়।
হোটেলটির ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব থাকবে আমেরিকান সংস্থা উইনধাম হোটেল গ্রুপ।
না, এই হোটেলে থাকার ভাড়া কিন্তু সোনার হোটেল হিসেবে খুব একটা বেশি নয়। এই হোটেলের ঘর ভাড়া শুরু হচ্ছে দৈনিক ২৫০ মার্কিন ডলার থেকে। যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় কুড়ি হাজার টাকা। আর অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া? না, সেটাও এমন আহামরি কিছু নয়। মাত্র ৬৫০০ মার্কিন ডলার। মানে ওই পাঁচ লাখ টাকার কাছাকাছি। একটা সোনার হোটেলে রাত কাটানোর জন্য এটুকু খরচ তো করাই যায়, নাকি?


মাছ-বৃষ্টি

আকাশে প্রচুর কালো মেঘ জমলে, তুমুল হাওয়া বইতে শুরু করলে, আকাশ বিদীর্ণ করে মেঘ ডাকলে, তার সঙ্গে ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকালে এবং মুষলধারে বৃষ্টি--- এই সব ক'টা একসঙ্গে শুরু হলেই মধ্য আমেরিকার হন্ডুরাসের লোকেরা বুঝতে পারেন, এ বার মাছ বৃষ্টি হবে। বুঝবেন নাইবা কেন, একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে যে এটা হচ্ছে!
প্রতি বছর মে থেকে জুলাই মাসের মাঝামাঝি এই বৃষ্টির সঙ্গে মাটিতে আছড়ে পড়ে লক্ষ লক্ষ জীবন্ত মাছ। তাও একবার নয়, বছরে অন্তত দু'বার। তবে না, এই মাছগুলো সাধারণত ছ'ইঞ্চির বেশি হয় না।
এটা হয় মূলত হন্ডুরাসের ইউরো শহরে। এই শহরের লোকজন এই মাছ কুড়িয়ে নিয়ে গিয়ে রান্না করে খান। এটা তাঁদের কাছে এতটাই আনন্দদায়ক ঘটনা যে, ১৯৯৮ সাল থেকে এই ঘটনাকে ঘিরে প্রতি বছর উৎসবের আয়োজন করা হয়।
স্থানীয়রা এই ঘটনাটাকে বলেন, ‘জুভিয়া দে পেতেস’ (Lluvia de Peces)। এই স্প্যানিশ শব্দটির অর্থ হল--- মাছের বৃষ্টি। আকাশ থেকে অঝোরে ঝরে পড়তে থাকে মাছ, স্কুইড, ব্যাঙ ও আরও কত কী! স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সময় রীতিমত লোক নামিয়ে রাস্তাঘাট পরিষ্কার করাতে হয়।
একটা সময় পর্যন্ত এ অঞ্চলের বহু মানুষ বিশ্বাস করতেন যে, উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি, মানে ১৮৫৬ থেকে ১৮৬৪ সালের মধ্যে হন্ডুরাসে আসা ক্যাথলিক ধর্মযাজক হোসে সুবিরানার আশীর্বাদেই এই মাছ-বৃষ্টি হয়।
উনি যখন হন্ডুরাসে আসেন, তখন এই অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষই অত্যন্ত অভাব, অনটন আর দারিদ্রের মধ্যে দিন কাটাতেন। দু'বেলা খাওয়া পর্যন্ত জুটত না। তাঁদের সেই দুর্দশা দূর করার জন্যই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থণা করেন তিনি। তাঁর প্রার্থণার পর থেকেই নাকি স্বয়ং ঈশ্বর আকাশ থেকে এই ‘মাছের বৃষ্টি’।
যে এলাকায় প্রতি বছর একেবারে নিয়ম করে এই মাছের বৃষ্টি হয়, আটলান্টিক মহাসাগর থেকে সেটা প্রায় দুশো মাইল দূরে। তাই অনেকে মনে করেন, আটলান্টিক মহাসাগরের টর্নেডো বা সামুদ্রিক ঝড়ই আটলান্টিক মহাসাগর থেকে এই মাছগুলোকে উড়িয়ে এনে এ অঞ্চলে ফেলে। কিন্তু এ রকম ঘটনা প্রতি বছর কী করে সম্ভব, তা নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে।‌ এর পাশাপাশি এই মাছ-বৃষ্টি নিয়ে অনেক লোককথাও প্রচলিত আছে।
শোনা যায়, ১৯৭০ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ দলকে পাঠানো হয়েছিল হন্ডুরাসে। তাঁরা জানান, এই অঞ্চলে আকাশ থেকে যে সব মাছের বৃষ্টি হয়, তা কোনও সমুদ্রিক মাছ নয়। সেগুলো মিষ্টি জলের মাছ। অর্থাৎ, আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো ঝরে পড়া মাছগুলো কোনও নদী, পুকুর বা হ্রদের মতো মিষ্টি জলাশয়ের মাছ। শুধু তাই-ই নয়, বেশির ভাগ মাছই প্রায় একই প্রজাতির।
বেশ কিছু বিজ্ঞানী অবশ্য এই সব মাছ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেছেন, এই মাছগুলো দৃষ্টিহীন। মানে এই মাছগুলো সমুদ্রের অনেক গভীরে থাকে। যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছয় না। ডাঙায় যে টর্নেডো হয়, তার গতিবেগ থাকে ঘণ্টায় তিনশো কিলোমিটার। জলে সেটা একশো কিলোমিটার। তাতেই সমুদ্রের তলদেশ থেকে এই মাছগুলোকে তুলে এনে এখানে ছুড়ে ফেলে।
শুধু হন্ডুরাসেই নয়, এই রকম মাছের বৃষ্টির কথা শোনা গেছে আরও বহু জায়গাতেই। ১৮৬১ সালে সিঙ্গাপুরেও হয়েছিল মাছ-বৃষ্টি। ১৯৪৭ সালের ২৩ অক্টোবরে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায়। ২০১০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারিতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলের রাজামারুতে। তবে জীবিত নয়, ছোট ছোট সাদা মাছগুলোকে দেখে মনে হয়েছিল, ফ্রিজে রাখা মাছ। এই একই রকম মাছ-বৃষ্টি হয়েছিল থাইল্যান্ডেও।
হঠাৎই একদিন শ্রীলঙ্কার চিলাও গ্রামে শুরু হয় মাছ-বৃষ্টি। ওখানকার লোকেরা দেখেন, বৃষ্টির সঙ্গে অবাধে ঝরছে বেশ ছোট ছোট মাছ। মাছগুলো একদম তরতাজা। কোনও কোনওটা দিব্যি লাফাচ্ছে। তাঁরা কুড়োতে‌ শুরু করেন। মাছ ভর্তি পাত্রে জল ঢালতেই দেখা যায়, লাফিয়ে উঠছে সেই সব মাছ।
শ্রীলঙ্কার এই মাছ-বৃষ্টির খবর ফলাও করে জানিয়েছে বিবিসি-সহ বহু আন্তর্জাতিক মিডিয়াও।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, ঘরের চালে আকাশ থেকে ভারী কিছু পড়ার শব্দে তাঁরা বাইরে বেরিয়ে আসেন। এসে দেখেন, ঘরের চালে, বাড়ির উঠোনে, মাঠে ঘাটে, এমনকী রাস্তাতেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে তিন থেকে পাঁচ ইঞ্চি লম্বা এই মাছগুলো।
খাওয়ার উপযোগী এই মাছ প্রায় পঞ্চাশ কিলোর মতো ওই গ্রামের বাসিন্দারা সে দিন কুড়িয়েছিলেন বলে জানায় বিবিসি।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, 'মাছ-বৃষ্টি' অস্বাভাবিক হলেও প্রকৃতিতে এটা ঘটে থাকে। মাছ ভর্তি কোনও কম গভীরতার জলাশয়ের ওপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেলে এমন জলঘূর্ণি হতে পারে। তখন জলে থাকা মাছ, ব্যাঙ-সহ সব কিছুই ঘূর্ণিবায়ুর সঙ্গে আকাশে উঠে যায়। আকাশে উঠে যাওয়ার পর ঝড়ের সঙ্গে অনেক দূরে চলে যেতে পারে এ সব জলজ প্রাণী। এমনকী, এই জলঘূর্ণি থেমে যাওয়ার পরও মেঘের স্তরের কারণে এরা সাময়িক ভাবে আটকে থাকতে পারে ওপরেই। আর তুমুল ঝড়-জলের সঙ্গে মেঘের ভেতর থেকে ঝরে পড়তে শুরু করে ওই সব জলজ প্রাণী।
শ্রীলঙ্কায় এই মাছ-বৃষ্টি অবশ্য সে বারই প্রথম নয়। ২০১২ সালে দেশটির দক্ষিণা লে-তে 'চিংড়ি-বৃষ্টি' হওয়ার কথাও জানা গেছে।
সেই একই বছরে লাল ও হলুদ রঙের শিলাখণ্ডের অস্বাভাবিক শিলাবৃষ্টিও হয়েছিল শ্রীলঙ্কায়। ওই শিলাগুলো মহাকাশ থেকে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন বেশ কিছু বিজ্ঞানী।
অনেকে এটাকে অলৌকিক ঘটনা মনে করলেও, মার্কিন এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা মহাকাশের এই শিলাবৃষ্টি এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের এই মাছ-বৃষ্টি নিয়ে ইতিমধ্যেই গবেষণা শুরু করে দিয়েছেন।


ডাইনি কুয়ো

তুহালা গ্রামটা ভারী সুন্দর। চারিদিকে এত ঘন গাছগাছালিতে ভরা যে, এটাকে ঠিক গ্রাম নয়, জঙ্গল বলাই ভাল। সেই জঙ্গলের মধ্যেই আছে মানুষের তৈরি করা একটা কুয়ো। এই কুয়োটাকে সবাই বলে--- ডাইনি কুয়ো।
এই কুয়োর জন্য শুধু তুহালা গ্রামটাই নয়, এই গ্রামটি যেই দেশে, সেই  উত্তর-পূর্ব ইউরোপের বাল্টিক সাগরের এস্তোনিয়ার দেশটির নাম এখন সবার মুখে মুখে।
প্রায় তিন হাজার বছর আগে, যখন এই গ্রামে জলের জন্য সবাই হাহাকার করছিল, তখন গ্রামের লোকেরা জলের খোঁজ করতে করতে সন্ধান পায় এই জায়গাটির। মাটি ছুঁয়েই তাঁরা বুঝতে পারেন, এখানে জল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে।
মাত্র আড়াই মিটার খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে বিশুদ্ধ জল। গ্রামবাসীরা হাফ ছেড়ে বাঁচেন। কুয়োর চারপাশটা কোমর সমান পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। যাতে কোনও বাচ্চাকাচ্চা হুমড়ি খেয়ে ভিতরে পড়ে না যায়। উপরে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয় একটি কাঠের বালতি। যার যখন যতটা জল দরকার, এখান থেকে তুলে নিয়ে যাবেন।
প্রথম প্রথম সব ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু একদিন এক গ্রামবাসী জল নিতে এসে দেখেন, যে জল অনেকটা নীচে থাকার কথা, সেই জল কুয়ো থেকে আপনা-আপনিই উপরে উঠে উপচে পড়ছে।
অবিশ্বাস্য এই দৃশ্য দেখে সে দৌড়ে চলে গিয়েছিল গ্রামের সবাইকে জানাতে। সঙ্গে সঙ্গে সবাই ছুটে এসেছিল ব্যাপারটা কী, দেখার জন্য। গ্রামের সবাই কুয়োর কাছে এসে একদম অবাক।
এই বিচিত্র দৃশ্য দেখে কারও মনে জন্ম নিল ভয়, কারও মনে আতঙ্ক। আবার কারও কারও মনে হল, এটা নিশ্চয়ই ঈশ্বরের অসীম কৃপা।
তখন ওই গ্রামেরই এক খুনখুনে বুড়ি শোনালেন, তাঁর স্বপ্নে দেখা এক অদ্ভুত গল্প। যেটা পরে লোকগাঁথায় পরিণত হয়।
তিনি বললেন, চাঁদের জ্যোৎস্না মাখা এক অদ্ভুত অলৌকিক রাতে একদল ডাইনি বেরিয়েছিল ঘুরতে। আকাশের বুক দিয়ে যেতে যেতে এ জায়গাটি দেখে তাদের খুব পছন্দ হয়। তাই সঙ্গে সঙ্গে তারা নেমে আসে এই জঙ্গলে। কিছুটা ঘুরতেই তাদের চোখে পড়ে এই কুয়োটি। কুয়োটির মধ্যে আয়নার মতো স্বচ্ছ ঝকঝকে জল দেখে তারা সেই কুয়োর ভিতরে নেমে পড়ে। একেবারে তলদেশে পৌঁছে যায়। তুমুল আনন্দে তারা জলের নীচে হাত-পা ছুড়ে হইহই করে স্নান করতে থাকে।
ঠিক তখনই, আনন্দের চোটে কারও হাত বা পা বুঝি কারও গায়ে দুম করে লেগে গিয়েছিল, সেই নিয়ে শুরু হয়ে যায় তুমুল ঝগড়া। মারপিট। আর তাদের সেই লাফালাফি-ঝাপাঝাপি, মারামারির দাপটেই কুয়োর জল ছিটকে উপরে এসে উপচে পড়তে লাগল। চারপাশ ভরে যেতে লাগল বাধ না মানা জলের স্রোতে। তৈরি হয়ে গেল একটা বিশাল পুকুর। তবু ডাইনিদের সেই তাণ্ডব যেন কিছুতেই বন্ধ হতে চায় না!
এই গল্প শুনে অনেকেই ভিড়মি খেল। এই কুয়োর ভেতরে ডাইনি আছে! ব্যস, লোকের মুখে মুখে এই কুয়োর নাম হয়ে গেল--- ডাইনি কুয়ো।
অল্প কিছু দিনের মধ্যেই এস্তোনিয়ার এই কুয়োর খবর ছড়িয়ে পড়ল চারিদিকে। ফলে এই অদ্ভুত কুয়োর অবারিত জলের ধারা দেখার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকেরা এসে ভিড় করতে লাগলেন।
কিন্তু না, বছরের বারো মাসই যে এই কুয়োর জল এই ভাবে উপচে পড়ে, তা কিন্তু নয়। মূলত শীতকাল আর বর্ষাকালেই পড়ে।
হিসেব করে দেখা গেছে, এই কুয়ো থেকে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় পাঁচ হাজার লিটারের উপর জল উপচে পড়ে। টানা এক থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত। আর একটা কথা, কুয়োর উপরে যখনই কোনও কাঠের বালতি রাখা হয়, কিছুক্ষণের মধ্যেই কী করে যেন সেটা ডাইনিদের মতো দেখতে হয়ে যায়।
এই কুয়োকে ঘিরে আরও অনেক গল্প প্রচলিত আছে। অনেকে বলেন, তাঁরা নাকি রাত্রিবেলায় এই কুয়োর উপর দিয়ে আগুনের গোলক উড়ে যেতে দেখেছেন। যেটা অশুভ।
কেউ কেউ আবার মনে করেন, এই কুয়ো সৃষ্টিকর্তার এক অলৌকিক নিদর্শন, যা গ্রামের মধ্যে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
নানান জন নানান কথা বললেও, এই কুয়োটি কিন্তু নজর কাড়েছে অনেক বিজ্ঞানীরাও। অনেক প্রত্নতত্ত্ববিদও আসেন এই কুয়োটি সরজমিনে পরীক্ষা করতে। অনেক খোঁড়াখুঁড়িও করা হয়েছে এই জলের উৎসের খোঁজে।
তাদের মতে, কুয়োর মূল রহস্য লুকিয়ে আছে এর ভৌগোলিক গঠনে। বাল্টিক সাগরের উত্তরে অবস্থিত হওয়ায় এস্তোনিয়ার চার পাশে ছড়িয়ে রয়েছে অনেকগুলো নদী। তেমনি তুহালা অঞ্চলের ভূগর্ভেও লুকিয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট নদী এবং শাখা নদী।
শীতকালে এ সব অঞ্চলে প্রচুর তুষারপাত হয়। দিনের বেলায় রোদের তাপে সেই বরফ গলতে শুরু করে। সেই বরফ গলা জল ভূগর্ভস্থ নদীগুলোর মধ্যে প্রবল বেগে বইতে থাকে। ফলে ভূগর্ভস্থ এই সব নদীর জল অনেক বেড়ে যায়। আর এই কুয়ো যখন খোঁড়া হয়, তখন হয়তো কোনও নদী বা শাখা নদীর সঙ্গে কুয়োটির তলাটা মিশে গেছে। ফলে নদীতে যখন জলের স্রোত বাড়ে, তখন কুয়োর মুখ থেকে সেই জল হু হু করে বেরিয়ে আসে। আর বর্ষাকালেও এই একই জিনিস হয়।
তবে কাকতালীয় ভাবেই হোক কিংবা পরিকল্পনা মাফিকই হোক, কোনও অলৌকিক কারণে যে এই জল মাটির ভূগর্ভ থেকে উপরে উঠে আসছে না, তা এখন রীতিমত পরীক্ষিত।
তবু ২০১২ সালে এস্তোনিয়ানরা এই কুয়োটাকে দেশের শ্রেষ্ঠ বিস্ময় বলে দাবি করেছেন। ফলে এই কুয়োর প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বেড়ে গেছে। তাই দেশ ও দেশের বাইরে থেকেও বহু মানুষ এখন দেখতে আসছেন প্রকৃতির এই বিস্ময়--- ডাইনি কুয়ো।


১৪৪৬ বছরের কারাদণ্ড

অপরাধ করলে এবং সেই অপরাধের জন্য ধরা পড়লে আইন তাঁকে সর্বোচ্চ কত বছরের জন্য শাস্তি দিতে পারে?
সম্প্রতি একটি আদালত একই অন্যায়ের জন্য দুই অপরাধীর প্রত্যেককে ১৪৪৬ বছরের শাস্তি ঘোষণা করেছে।
কিন্তু কী সেই অপরাধ?
বেশ কিছু দিন ধরেই তাঁরা অন‌ লাইনের মাধ্যমে তৈরি করা খাবার বিক্রি করছিলেন। গ্রাহকদের কাছ থেকে অনলাইনে খাবারের অর্ডার নিয়ে ক্রেতাদের ঠকানোর অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে।
না, তাঁদের খাবার খেয়ে কেউ অসুস্থ হননি। পঁচা মাংস দেওয়ারও অভিযোগ ওঠেনি তাঁদের বিরুদ্ধে। পরিমাণেও এতটুকু কম দিতেন না তাঁরা। বরং তাঁদের খাবার এতটাই সুস্বাদু ছিল যে, লম্বা লাইন পড়ে যেত। তাই ভিড় সামাল দেওয়ার জন্যই তাঁরা অনলাইনের পথ বেছে নেন।
তবু তাঁদের বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ জমা পড়তে লাগল। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ওই রেস্তোরাঁর দুই মালিককে প্রায় দেড় হাজার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে‌ থাইল্যান্ডের একটি আদালত।
এ রকম অবিশ্বাস্য এবং অকল্পনীয় কারাদণ্ডের সাজা পাওয়া থাইল্যান্ডের ওই দু'জন আসলে লেইমগেইট সি-ফুড অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক।
তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা গ্রাহকদের কাছ থেকে আগাম অর্থ নিয়ে খাবার তো সরবরাহ করেনইনি, উল্টে তাঁদের অর্থ ফেরত দিতেও তাঁরা অস্বীকার করেন।
দু'-দশ জন বা এক-দেড়শো নয়, অন্তত ২০ হাজার ক্রেতার কাছ থেকে প্রায় ৫০ মিলিয়ন বাথের (থাইল্যান্ডের মুদ্রা) খাবারের অর্ডার নেন তাঁরা। এবং পুরো অর্থটাই আগাম নিয়ে।
কিন্তু খাবার সরবরাহ করার সময় রেস্তোরাঁর ওই  দুই মালিক ঘোষণা করেন যে, গ্রাহকদের চাহিদা মেটানো তাঁদের পক্ষে সক্ষম নয়। যে অর্থ তাঁরা অগ্রিম নিয়েছিলেন, সেটা তাঁদের রেস্তোরাঁর ধারবাকি এবং কর্মচারীদের পাওনা মাইনে মেটাতেই শেষ হয়ে গেছে। ‌
শেষে অনেক টালবাহানার পরে এক সময় ক্রেতাদের অর্থ ফেরত না দিয়েই ওই রেস্তোরাঁটি বন্ধ করে দেন ওই মালিকেরা।
এই ঘটনার পরে রেস্তোরাঁটির মালিকদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন কয়েকশো লোক। তখন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী রেস্তোরাঁর ওই দুই মালিককে গ্রেফতার করে।
এর পর তাঁদের কোর্টে তোলা হয়। এবং জনগণের চাপে দু'দিনের মধ্যেই তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের শুনানি তড়িঘড়ি শুরু হয়। এবং কেস-হিস্ট্রি শুনে বিচারক মশাই মাত্র ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ওই দুই রেস্তোরাঁ মালিকের প্রত্যেককে ১৪৪৬ বছর করে কারাদণ্ড দেন।
প্রতারণার অভিযোগে থাইল্যান্ডে এ রকম  অকল্পনীয় সাজা দেওয়ার ঘটনা কিন্তু নতুন নয়। এ রকম অদ্ভুত অদ্ভুত কারাদণ্ডের বিধান আকছার ঘটে।
২০১৭ সালে থাইল্যান্ডের এক আদালত প্রতারণার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ১৩ হাজার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল।
যদিও দেশটির আইনে কিন্তু প্রতারণার অভিযোগে এই রকম অনন্ত বছরের সাজা দেওয়ার কোনও বিধান নেই। সেখানে বলা আছে, খুব বেশি হলে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে। তবুও...


বিস্তারিত খবর

দোষ কি শুধুই পশ্চিমা সভ্যতার?

 প্রকাশিত: ২০২০-০৭-১৬ ১৫:০০:৪২

আমরা পশ্চিমাদের বর্ণবাদ তাদের কালচার নিয়ে ক্রিটিসাইজ করি অথচ আমরা কি জানি যে আমরা নিজেরা ঠিক কতটা হিপোক্রেট?
বাংলাদেশে শ্যামলা হলে সমস্যা খাটো হলে সমস্যা মোটা হলে সমস্যা চিকন হলে সমস্যা চুল কোকরা হলে সমস্যা চুল না থাকলে সমস্যা চোখ ছোটো হলে সমস্যা মুখে দাগ থাকলে সমস্যা নতুন জামা কাপড় না পড়তে পারলে সমস্যা ম্যাথ বা ইংলিশে দুর্বল হলে সমস্যা আর্টস নিয়ে পড়লে সমস্যা অসুস্থ থাকলে সমস্যা সত্য কথা বললে মানসিক সমস্যা আবার গরীব মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করা মানে এই দেশে আপনি জন্ম থেকেই মহাপাপী আর কথায় কথায় মানুষকে পাগল বলে হেয় প্রতিপন্ন করা নিত্যদিনের কাজ আমাদের এবং আপনি যদি কালো হন তাহলে আপনার সাথে সমাজ সহপাঠীরা এমন আচরণ করে তামাশা করে যে প্রতিনিয়ত মরে যাইতে ইচ্ছা করবে । মানে এক কথায় বাংলাদেশে জন্মালে আপনাকে রাজপুত্র রাজকন্যা হয়ে সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাতে হবে তাহলে আপনাকে মানুষের কাতারে গন্য করা হবে । বাংলা ভাষার জন্য এদেশে জান দেয়ার ইতিহাস আছে অথচ স্মার্ট ভাবে ইংলিশ বলতে না পারলে আপনি খ্যাত আপনি চাকরির যোগ্য না আশ্চর্য্য তাই না ? আপনি রাশিয়া জার্মানি জাপান চীন দক্ষিণ কোরিয়া তুরস্ক ইরান যান তাদের সাথে ইংলিশে কথা বলার চেষ্টা করেন তারা আপনার কথার উত্তর দিবে না । না তারা ইংলিশ জানে খুব ভালো ভাবে কিন্তু নিজেদের মাতৃভাষার প্রতি এসব জাতি এতটাই শ্রদ্ধাশীল যে আপনাকে তাদের সাথে কথা বলতে হলে শুধুমাত্র তাদের ভাষাতেই কথা বলতে হবে । অথচ তাদের তাদের কিন্তু নিজ ভাষার জন্য জান দেয়ার ইতিহাস নাই । আর এই আমরা ঠিক ভাবে ইংলিশ না জানলে অশিক্ষিত খ্যাত আনকালচার বলে ঠাট্টা উপহাস করি এমনকি দেশীয় চাকরির জন্যেও এক্সট্রা ভাবে ইংলিশের কোর্স করতে হয় তাহলে আমরা কি হিপোক্রেট না ? আমরা সারা বছরে একদিনের জন্য শহিদ মিনার স্মৃতিসৌধ বুদ্ধি জীবিদের বদ্ধভূমি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করি অথচ সারা বছর এইসব শ্রদ্ধা নিবেদনের স্থানে প্রেমিক প্রেমিকারা রগরগে অবস্থায় জড়াজরি করে স্যান্ডেল পড়ে উঠে লাফালাফি করে পাবলিক ময়লা আবর্জনা ফেলে এমনকি প্রশ্রাবের বিকট গন্ধে এসব স্থানের পাশ দিয়ে হাটা পর্যন্ত যায় না । অথচ পশ্চিমাদের শহিদ মিনার স্মৃতিসৌধ বদ্ধভূমিতে যেয়ে দেখেন সারা বছর একটা কাগজের টুকরা পর্যন্ত পড়ে থাকতে দেখবেন না । আমরা আমাদের পহেলা বৈশাখ নিয়ে চরম গর্ববোধ করি জাকজমক ভাবে উৎসব পালন করে সারা পৃথিবীকে জানাই কারণ এইটা আমাদের বাঙালী জাতির কালচার ঐতিহ্য । এছাড়া আমরা বাঙ্গালী নারীদের ইজ্জত মান মর্যাদা নিয়ে বড়ো বড়ো লেকচার দেই সভা সেমিনার সোশ্যাল সাইটে । অথচ আমরাই অয়েব সিরিজের নামে সেক্স কনটেন্ট বানিয়ে বাঙালি নারীদের কাপড় খুলে ফেলি বহি:বিশ্বের সামনে নিজেদের এমন কালচার উপস্থাপন করি যাতে বাঙালি নারীদের দেখে বিদেশীরা এসে " মাশাল্লাহ তুমি তো অনেক সুন্দর " না বলে বলবে যে " ইউ আর ফাকিং সো হট বেবি " তাই তো চাইছেন ? কারণ আপনি আপনার দেশকে কালচার কে সারা বিশ্বের সামনে যেভাবে উপস্থাপন করবেন ঠিক সেই ভাবে আমাদের কে তারা ট্রিট করবে তারা । তুরস্ক তাদের সুলতান সুলেমান দিরিলিস আরতুগ্রুল সিরিজ বানিয়ে সারা বিশ্বের সহ হলিউডের সব রেকর্ড ইতিহাস ভেঙে দিয়ে বিশ্ব সেরা খেতাব অর্জন করেছে সো তার জন্য কি তাদের কাপড় খুলতে হয়েছে ? তুরস্কের নারীদের মান মর্যাদা ইজ্জত নিয়ে বিশ্বের মানুষ কি প্রশ্ন করেছে ? সেক্স কি তাদের নাই ? আসলে আমরা নগ্নতা দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছি তাছাড়া অন্য কিছুই না । কপি পেস্ট গল্প দেখে দেখে দর্শক যখন অতিষ্ঠ কন্টেন্ট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে তখন সস্তা সেক্স সিন অশ্লীলতা দিয়ে তাদের আকর্ষণ করার বৃথা চেষ্টা করছি আফসোস । এই সস্তা অশ্লীলতার কারণেই বাংলা সিনেমা দর্শক হারিয়েছে ধবংস হয়েছে । এখন বাংলাদেশের টিভি ইন্ডাস্ট্রি ধবংস করার ষড়যন্ত্র করছে সবাই । কাপড় খুলেই যদি বিশ্ব জয় করা যেতো তাহলে 236 + দেশের 100 + সমৃদ্ধ শোবিজ ইন্ডাস্ট্রি তাদের কাপড় খুলে খুলে সবাই এতদিনে বিশ্ব সেরা হয়ে যাইতো । বিশ্ব সেরা হতে শক্তিশালী প্লট গল্প আর মেকিংএর দরকার হয় সস্তা সেক্স না । আবার পশ্চিমাদের নববর্ষ উৎসব উপলক্ষে মদ খেয়ে পার্টি করে রাস্তায় নারীদের যৌন হয়রানি করে বড়ো বড়ো হোটেলে রাত্রিযাপন করে আমরা বলি যে পশ্চিমারা খারাপ দুনিয়াটা নষ্ট করে দিলো হাস্যকর ঠিক না ? আপনি নিজ দেশ নিজ জাতি নিজ সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে সেটার সঠিক মূল্যায়ন না করতে জানলে পৃথিবীর কোনো দেশ কোনো জাতি আপনাকে সম্মান জানাবে না দাম দিবে না । কারণ বিশ্বের প্রতিটা জাতি প্রতিটা দেশের আলাদা আলাদা নিজস্ব কৃষ্টি কালচারের বৈচিত্রের জন্য তারা সমৃদ্ধশালী এবং বিখ্যাত । এদিকে আবার আমরা নেটফ্লিক্সের এক্সট্রাকশান মুভি নিয়ে সমালোচনার ঝড় তুলে দেই কারণ সেখানে সারা বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের কালচার সিস্টেম কে নষ্ট দুর্নীতিগ্রস্থ অপরাধ প্রবন জাতি হিসাবে দেখানো হয় । অথচ এই আমরাই আজ করোনার মতন বিশ্ব মহামারীতে একের পর এক দুর্নীতি করে সারা বিশ্বের বড়ো বড়ো সংবাদ সংস্থার হেডলাইন হই এবং দিনশেষে বাংলাদেশীদের জন্য ইউরোপের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় । বাংলাদেশের পাসপোর্টের ডিমোশন হয় । মানে এক্সট্রাকশান মুভিতে সারা বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশ সম্পর্কে যা কিছু দেখেছে জেনেছে সেটাতে আমরা পারমানেন্ট ভাবে একটা সিলমোহর লাগিয়ে দিয়েছি এখন সো আপনি বাঙালি হিসাবে কেমন প্রাউড ফিল করছেন ? আমরা পর্ণ সাইট বন্ধ করতে পারি কিন্তু দুর্নীতি বন্ধ করতে পারি না । আমরা অস্ট্রিয়ার এক বদ্ধ উন্মাদ যে দেশ নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাকে সাপোর্ট দিয়ে দিয়ে সেলিব্রেটি বানায় ফেলি অথচ দেশের আনাচে কানাচে থেকে যখন কেউ কিছু আবিষ্কার করে তখন সেটা হাইলাইটস করে তাকে ইনভেস্ট করে সাপোর্ট দিয়ে দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারি না অসাধারণ । তাহলে দোষ কি শুধুই পশ্চিমা সভ্যতার নাকি আমাদের অসভ্যতা বলেও কিছু আছে ?
আপনারা বলতে পারবেন বাংলাদেশে ঠিক কতজন মানুষ আরেকজন মানুষের সঠিক নাম ধরে ডাকে ? কেউ একটু খাটো কালো টাক চুল কম মোটা চিকন বা দেখতে অসুন্দর কিংবা স্টাডিতে দুর্বল হলেই তাকে নিয়ে উপহাস করার জন্য ঠাট্টা তামাশা করার আলাদা করে একটা বিদ্রুপাত্বক নাম দিয়ে ডাকাডাকি করি তাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করি সবসময়ই । তাহলে আমরা জাতি হিসাবে ঠিক কতটা বর্ণবাদী ? পশ্চিমারা তো অন্তত মানুষকে মানুষ হিসাবে সম্মান দিতে যানে প্রতিভার মূল্যায়ন করতে যানে । আমরা আমাদের জন্মদিন বিয়েতে পর্যন্ত পরিচিত মানুষ কিংবা বন্ধু বান্ধবদের দাওয়াত দেয়ার সময় ভাবি যে কে কোন স্টাটাসের কার কত টাকা আছে কে দামি গিফট দিতে পারবে তারপর ঠিক করি যে কাকে কাকে ইনভাইট করবো । এসব তো কিছুই না । যার টাকা আছে যে সুন্দরী যে একটু ক্ষমতাবান তাদের জন্মদিনে বা বিশেষ বিশেষ দিনে বিশেষ উপহার সহ শুভেচ্ছা জানাই অথচ যে পরিচিত মানুষ কিংবা বন্ধু বান্ধবীটা একটু গরীব অসুন্দর যার ক্ষমতা নাই তার জন্মদিনে উপহার তো দূরে থাক সামান্য শুভেচ্ছা পর্যন্ত জানাই না । এখানেই শেষ না । সমাজে ধনী ঘরের ছেলে মেয়েরা নেশা করে মদ খেয়ে অসুস্থ হলে এলাকার মানুষ আফসোস করে বলে বেচারা না খেয়ে খেয়ে এমন হয়ে গেছে । কিন্তু একটা মধ্যবিত্ত গরীব ঘরের ছেলে মেয়ে অসুস্থ হলে বলে যে নেশাটেশা করে রোগে ধরেছে । অথচ এরা এসব বলার সময় ভাবে না যে বাংলাদেশে একটা মধ্যবিত্ত গরীব ঘরের সন্তানের নেশা করতে যে টাকা লাগে ধনীদের মতন সেই টাকা তাদের থাকে না এবং সেই নেশার টাকায় তাদের একমাসের গোটা পরিবারের সংসার খরচ চালানো সম্ভব । হ্যা আমরা জাতি হিসাবে মন মানসিকতার দিক থেকে ঠিক এতটাই নিচে নেমে গেছি আজ । পশ্চিমারা এত নিচ মন মানসিকতার না । তারা মানুষ কে শুধুমাত্র মানুষ হিসাবে সম্মান করতে জানে । বাংলাদেশের সমাজ থেকে এখনো পর্যন্ত শ্রেণী বৈষম্য দূর হয় নাই সেখানে বর্ণবাদ দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে । আমাদের দেশের সরকারের সিস্টেম পর্যন্ত এদেশের গরীব এবং মধ্যবিত্তদের মানুষের কাতারে ফেলে না । আমরা আমাদের মৌলিক অধিকার হতে বঞ্চিত । করোনার মতন বিশ্ব মহামারীর সময়ে যে দেশে এক তৃতীয়াংশ মানুষ মধ্যবিত্ত এবং গরীব শ্রেণীর মাঝে বসবাস করে ও ভাইরাস বিপর্যয়ের দরুন সবার আয় রোজগার বন্ধ হয়ে পড়েছে সে দেশে 200 - 500 টাকা করে অনৈতিক ভাবে জোরপূর্বক টেস্টের জন্য জনগণের কাছে আদায় করছি যা সারা পৃথিবীতে এক বিরল হয়ে লিখা থাকবে । এতে হয়ত বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড মিটারে আক্রান্তের সংখ্যা কম দেখাতে পারবে কিন্তু বিনা চিকিৎসা ও সঠিক মেডিক্যাল গাইড লাইনের অভাবে মানুষের মৃত্যু থেমে থাকবে না কারণ মানুষ টাকার অভাবে টেস্ট না করিয়ে অসচেতন ভাবে সমাজে একে অপর কে নিজের অজান্তে সংক্রমিত করতে থাকবে । আসলে এদেশে বাচার অধিকার শুধুমাত্র ধনীদের জন্য । টাকা না থাকলে তুমি সব অধিকার থেকে বঞ্চিত সিম্পল কথা । মনোবিদ্যাতে Crab Mentality নামের একটা টার্ম আছে । আক্ষরিক অনুবাদে এটার মানে হচ্ছে কাঁকড়ার মানসিকতা এবং আমাদের দেশের সিংহভাগ মানুষের সাইক্লোজি ঠিক এমন । আপনি অনেক গুলা কাঁকড়াকে একটা ঝুড়িতে রেখে খেয়াল করলে দেখবেন যে একজন উপরে উঠার চেষ্টা করলে হঠাৎ আরেকজন তাকে পেছন থেকে টেনে কামড়ে ধরে আবার নিচে ফেলে দিচ্ছে । এই জিনিসটা দেশের মানুষের পার্সোনালিটিতে প্রচন্ডভাবে দেখা যায় । আসলে Crab Mentality ওয়ালা মানুষের জীবনের আসল থিম হয় " আমার যেহেতু এটা হয়নি তোমারো না হোক বা কেনো হবে " অথবা " আমি যেহেতু এটা পারিনা সো তুমিও এটা পারবানা বা কেনো পারবা " এইরকম । এই জিনিসটা ঠিক হিংসা না । মনোবিজ্ঞানীরা বলেন যে এটা একধরণের নিকৃষ্ট মানসিকতা । এ ধরনের Crab Mentality এর মানুষদের illusory Superiority নামের আরেকটা মানসিক সমস্যা থাকে । এটা হল সবসময় " আমিই সেরা " বা " আমিই ঠিক " অথবা " আমিই আদর্শ " এরকম ভেবে নেয়ার প্রবণতা । অথচ উন্নত বিশ্বের জাতি হওয়ার প্রধান শর্ত হচ্ছে " আমরাই সেরা " বা " আমরাই ঠিক " অথবা " আমরাই আদর্শ " । সোজা কথা হচ্ছে আমাদের " আমিত্ব " ব্যক্তিত্ব মনোভাব অপসারণ করে " ঐক্যবদ্ধ " ভাবে দেশের জন্য কাজ করতে হবে । কিন্তু আমরা সমাজ থেকে যখন কেউ প্রতিভাবান বড়ো হতে চায় বিখ্যাত হতে চায় তখন তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হই তাকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে দেই তাকে শারিরীক ভাবে আঘাত করার চেষ্টা করি আর যখন এসব করেও বাধা দিতে না পারি তখন ব্লাক ম্যাজিক বা কুফরি কালাম করে তাকে শেষ করে দেই । আর পশ্চিমা বিশ্বে কেউ কিছু করতে চাইলে তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা এবং সম্মান মর্যাদা প্রদান করা হয় । এছাড়া আপনি খুব সুক্ষ ভাবে খেয়াল করলে দেখবেন আমাদের সবার আশেপাশে সবসময় কিছু চরম হতাশ আর হিংসুটে টাইপ মানুষ থাকে । এই মানুষগুলাকে আপনি কখনো আগে থেকে চিনতে পারবেন না । এরা অনেকটা লুকিয়ে থেকে আপনি ফেসবুক টুইটার ইন্সটাগ্রামে কখন কোন ছবি বা লিখা পোস্ট করছেন সবকিছু চুপচাপ দেখবে কিন্তু কোনো রিয়েক্ট করবে না । ভালো-খারাপ কিচ্ছু বলবে না । আপনি কখনো টেরও পাবেন না যে এরা আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে আছে । আপনি কোথায় যাচ্ছেন অথবা কার সাথে কী খাচ্ছেন বা কী ড্রেস পরছেন কিংবা কার সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন এরা সব জানে । এমনকি আপনার পোস্টে কে কোন রিয়েক্ট করছে সেটাও এদের মুখস্থ থাকবে । ক্রিমিনাল সাইক্লোজির গুপ্তচর হয়ে আপনার সবকিছু দেখবে আর মনে মনে জ্বলবে । এমনকি একসময় বলবেও । আপনাকে একটু বেকায়দা অবস্থায় পেলেই বলবে জ্বলে উঠবে আপন শক্তিতে । মনে করেন আপনার কোনো লিখা পোস্টে অথবা ড্রেসআপ স্টাইল নিয়ে কেউ সমালোচনা করছে ঠিক তখনি সুযোগ বুঝে এইসব চুপচাপ লুকিয়ে থাকা বন্ধুত্বের মুখোশ পড়া মানুষগুলা তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আপনার উপর চরম আক্রোশে হামলে পড়বে আপনাকে ছিড়ে খাওয়ার জন্য তাদের লালিত বিষদাঁত বসিয়ে দিবে আপনার উপর স্বযত্নে । আপনাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে তারা আপনার সফলতা মেনে নিতে পারছে না । আপনার সম্মান মান মর্যাদা মাটির সাথে মিশিয়ে ফেলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে । এরা আপনার ছবি কিংবা পোস্টে রিয়েক্ট না দিলেও আপনাকে যদি কোনো বিখ্যাত ব্যক্তি ক্ষমতাসীন মানুষ কোনো কিছু ট্যাগ করে তাহলে সেইখানে এসে ঠিকই আপনাকে টপকে লাইক কমেন্ট করে সেই মানুষটার সংস্পর্শে যাবার চেষ্টা করবে । এদের এসব কাজকর্ম দেখে আপনি অবাক হতভম্ব হয়ে যাবেন । আপনার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে । মনে মনে ভাববেন এই মানুষটাকে আপনি কত না ভালোবাসতেন বিশ্বাস করতেন অথচ সে আপনার ফ্রেন্ডলিস্টেই ছিল । এদেরকে ভালো ভাবে চিহ্নিত করে রাখুন কারণ এরাই আপনার ভবিষ্যত সফলতার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াবে । ব্যাপারটা এমন না যে এইসব মানুষদের সাথে আপনার কোনো শত্রুতা আছে । না কিছু নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব আছে । কিন্তু তারপরেও এরা এমন করবে । কারণ একটাই হচ্ছে এরা আপনার লাইফটাকে হিংসে করে । আপনার লাইফস্টাইল সফলতা অর্জন দেখে এরা জ্বলে পুড়ে যায় । অথচ এরা আপনার ক্ষতি সাধন করা ছাড়া নিজেকে ডেভেলপ করা চিন্তা মাথাতেই আনবে না । যারা এইসব মানুষের আক্রমণের স্বীকার হয়েছে তারাই জানে এরা ঠিক কতটা ভয়ংকর । এই চরম হতাশ ডিপ্রেসড হিংসুটে মানুষদের কিছু বলার নাই । এরা আজীবনের একে অন্যের দোষ ত্রুটি নিয়ে তামাশা করবে সমালোচনা করবে আর নিজেরা যেখানে ছিলো ঠিক সেখানেই সারাজীবন পড়ে থাকবে । এইসব মানুষের জন্য কখনো থেমে থাকবেন না । গভীর ভাবনায় আটকে যাবেন না জাস্ট আগাছা পরজীবী পরগাছা ভেবে ইগনোর করে যান নিজের টার্গেটে পৌছানো পর্যন্ত । আপনাদের সোস্যাল সাইটের উদাহরণ দিলাম কারণ বাংলাদেশের মানুষের জীবন এখন সোস্যাল সাইট নির্ভর হয়ে গেছে । তারা তাদের বেডরুম বাথরুম থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনের সবকিছুই সোস্যাল সাইটে পাবলিকের কাছে এক্সপোজ করে দেয় আর বলে যে পশ্চিমা সভ্যতা দেশটাকে ধবংস করলো হাস্যকর । পশ্চিমারা কখনো তাদের ব্যক্তিগত জীবন পাবলিকের সামনে এভাবে এক্সপোজ করে না বোকার মতন । তারা জানে ভার্চুয়াল জগত সম্পূর্ণ ফেক এবং সময় নষ্ট করার জায়গা । তারা শুধুমাত্র অবসর সময়ে ভার্চুয়াল জগতে বসবাস করে । আর আমাদের কাছে ভার্চুয়াল লাইফটাই জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে । এমনকি আমরা কোনো ব্যক্তি বিশেষের প্রতিভা দক্ষতা তার সোস্যাল সাইটের লাইক কমেন্ট আর ভিউ এর উপর নির্ভর করে মূল্যায়ন করি যেটা আসলে একটা সমাজ দেশ এবং জাতির উন্নত মেধা বিকাশের মস্তিষ্ক বিকৃতির প্রধান মাধ্যম হয়ে দাড়িয়েছে । যাইহোক জীবনে যেটাই করেন না কেনো সবকিছুর একটা নির্দিষ্ট লিমিট রেখে কাজ করুন । দেখবেন ঠেকবেন না কখনো । আর আপনি গরীব মধ্যবিত্ত মোটা কালো খাটো অসুন্দর টাক বলে অযথা নিজেকে দোষারোপ করবেন না এদের মতন কিছু অসামাজিক জীবের জন্য । আপনি একজন মানুষ আর এইটাই আপনার সবচাইতে বড়ো পরিচয় ।

বিস্তারিত খবর

কেমন আছে আমেরিকান বাংলাদেশিরা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৬-০৮ ০৯:১০:০৫


সাড়া বিশ্ব জুড়ে চলছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। আর ভয়াবহ এই ঢেউ পড়েছে বাংলাদেশের উপর। কিন্তু এখনো পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে উপরের অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে অবস্থা একটু স্থিতিশীল হলেও বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছে, যে কোন মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তাদের ধারণা চলমান কৃষ্ণাঙ্গ আন্দোলনের কারণে যে কোন মুহূর্তে করোনায় আবার নতুন করে ভেঙে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ট্রাম্প প্রশাসনের উচিত খুব দ্রুত একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে আসা। এটাই নাগরিকদের জন্য মঙ্গলজনক হবে। 


যাই হোক, এবার মূল প্রসঙ্গে আসি। বাংলা, বাঙালি আর বাংলাদেশি প্রসঙ্গে আসি। প্রতি বৎসর পড়াশোনা থেকে শুরু করে নানা কারণে অজস্র বাংলাদেশি যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটা বড় অংশই হল উচ্চ শিক্ষিত। অনেক বড় একটা অংশই হল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদি নানা পেশাজীবী। অনেকেই উন্নত জীবনযাপনের আশায় সেখানে পাড়ি দিয়েছে। আবার অনেকেই গেছেন মান অভিমান থেকে। তবে যে যেভাবে, যে কারণেই গিয়ে থাকুক না কেন? দেশের জন্য কিন্তু তাদের প্রাণ সবসময়ই কাঁদে। সবসময়ই তারা নানাভাবে দেশের জন্য কাজ করতে চায়। করোনা সংকটের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি চিকিৎসক সংগঠনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জন্য সুরক্ষা সামগ্রী পাঠানো হয়। আমেরিকান প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি বাংলাদেশে করোনা সংকটের শুরু থেকে সহায়তা করে আছে। কিন্তু এখন কেমন আছে আমাদের আমেরিকা প্রবাসী ভাই বোনেরা।

গণমাধ্যমের কল্যাণে জানতে পারলাম ইতিমধ্যে অনেক বাংলাদেশি বর্ণবাদ বিরোধী এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। আমেরিকান বাংলাদেশি চিকিৎসকরাও এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। একইসাথে কৃষ্ণাঙ্গদের চলমান এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন। একজন বাংলাদেশি হিসেবে বাংলাদেশি আমেরিকানদের এমন কার্যক্রমে সত্যিই আমাদের গর্ব হয়। কিন্তু কেমন আছে বাংলাদেশি আমেরিকানরা? প্রাণঘাতী করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত ও মৃত বাংলাদেশির সংখ্যা কম নয় বলে জানতে পারছি গণমাধ্যম সূত্রে। কমিউনিটি অনলাইন পোর্টাল কিংবা কমিউনিটি সংগঠনগুলোর বরাত দিয়ে এমন সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। কূটনীতিক মিশনের সূত্র খুব কমই থাকে। করোনা সংক্রমণের মধ্যেই শুরু হয়েছে কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আদায়ের বিক্ষোভ। আর এতে করে নতুন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই সময়ে কেমন আছে নিউইয়র্ক, ডেট্রয়েট, লস এঞ্জেলেস কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আমেরিকান বাংলাদেশিরা।              

বিস্তারিত খবর

যেভাবে করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখবেন

 প্রকাশিত: ২০২০-০৬-০৪ ১০:২৪:৫২

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকরী লকডাউন প্রত্যাহার করা হচ্ছে । ইতিহাসের পাতায় একদিন লিখা থাকবে যে বিশ্ব নেতাদের কাছে সামান্য কাগজের টাকার সামনে মানুষের অমূল্য জীবন মূল্যহীন বস্তুতে রূপান্তরিত হয়েছিলো । তবে আপনি যদি সমাজতন্ত্রের আদর্শে বিশ্বাসী দেশগুলার দিকে একবার তাকান তাহলে তারা কিন্তু অধিকাংশই ভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে শতভাগ সফলতা অর্জন করে আবার অনান্য দেশকেও তাদের দেশের মেডিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছে । যেমন তাইওয়ান হংকং কিউবা ভিয়েতনাম সহ আরো অনেকেই আছে । এদিক থেকে ক্যাপিটালিজমে বিশ্বাসী দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলের স্বর্গরাজ্য নিউজল্যান্ড কিন্তু সফলতা অর্জন করে সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছে কারণ তারা মানুষের জীবনের মূল্যায়ন করতে জানে ।

এইটা একটা ফ্যাক্ট যে আপনি আপনার দেশের নাগরিকদের কিভাবে দেখছেন বা তাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা কিভাবে নিশ্চিত করতে পারছেন । তাই যেহেতু আমরা এখন এতটা সৌভাগ্যবান না সেহেতু আমাদের নিজ নিজ জীবন এবং পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নিজেদেরই দায়িত্ব নিতে হবে । কারণ মনে রাখবেন আপনি মারা গেলে সেটা সরকারি হিসাবে একটা সংখ্যা মাত্র কিন্তু নিজ পরিবার এবং প্রিয়জনের কাছে একটা পৃথিবীর সমান । এদিকে বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের ভাইরোলজিস্ট ডা. জামালউদ্দিন জানিয়েছেন যে করোনা ভাইরাস তার জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে শক্তি বাড়াচ্ছে ।

এখানে উল্লেখ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জন হপকিন্স ভার্সিটির গবেষণা মোতাবেক ভাইরাসটিতে এই পর্যন্ত 5 টা জিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে যেখানে আগের চেয়ে ওআরএফ 1 এবি জিনের আধিক্য লক্ষণীয় বলে তিনি জানিয়েছেন যেটা হচ্ছে সবচেয়ে ভয়াবহ । তাই আমাদের এখন থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে । কিন্তু আমরা অধিকাংশ সবাই একটা বিশেষ ভুল বারবার করে যাচ্ছি । আর সেটা হচ্ছে আমরা মাস্ক তো পড়ছি নাক এবং মুখ সুরক্ষিত রাখতে কিন্তু আপনার চোখ ? আপনারা কি জানেন না যে বিশ্বের সব গবেষকরা বারবার বলে যাচ্ছেন যে প্রতিনিয়ত ক্ষার জাতীয় সাবান দিয়ে হাত ধৌত করার পাশাপাশি আপনার নাক মুখ আর চোখ কে সুরক্ষিত রাখতে হবে ? কারণ করোনা ভাইরাস মানব দেহে শুধুমাত্র নাক মুখ ও চোখ দিয়েই প্রবেশ করার ক্ষমতা রাখে । তাই বাইরে বের হলে আপনার চোখ কে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দিতে ছবি সংবলিত গগলস কিংবা ফেস শিল্ড ব্যবহার করুন । যারা চোখের সমস্যার জন্য পাওয়ার গ্লাস ব্যবহার করেন তারা গগলস না নিয়ে ফেস শিল্ড ব্যবহার করবেন । আর বাকিরা ফেস মাস্কের সাথে গগলস ব্যবহার করবেন । এইসব গগলস কিংবা ফেস শিল্ড বাইরে থেকে এসে ক্ষার জাতীয় ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করে নিবেন না হয় বাসার বারান্দায় রোদ্রে ঘন্টাখানেক রেখে দিলে সূর্য রশ্মিতে অটোমেটিক জীবাণু মুক্ত হয়ে যাবে । এইসব ফেস শিল্ড ও গগলস আপনারা অনলাইনে অর্ডার করে সংগ্রহ করতে পারেন অথবা বিভিন্ন মেডিক্যাল বা সার্জিক্যাল স্টোরে খোজ করলেই পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ । তবে যারা আর্থিক সমস্যার কারণে কিনতে পারবেন না তারা চোখের সাথে টাইট ভাবে ফিট থাকে ধূলাবালি ময়লা প্রবেশ করতে পারে না এমন সানগ্লাস ব্যবহার করতে পারেন । তাছাড়া আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখবেন যে আপনি যদি সাধারণ কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করেন তাহলে কিন্তু করোনা ভাইরাসের জীবাণু প্রতিহত করা সম্ভব না । এর জন্য আপনাকে একমাত্র সার্জিক্যাল মাস্ক বা এন95 ব্যবহার করতে হবে ।

যাইহোক ফেস শিল্ড গগলস মাস্ক এইসব পড়ে বাইরে চলাফেরা করলে আপনাকে অদ্ভুত দেখাবে হয়তো মানুষ আপনাকে নিয়ে হাসাহাসিও করতে পারে কারণ আমাদের সমাজের একটাই কাজ যে মানুষ নিয়ে তামাশা করা । কিন্তু আপনারা এসব মানুষদের কেয়ার করবেন না । আপনার অসাবধানতার কারণে যদি আপনার বা আপনার পরিবারের সদস্যদের কিছু হয়ে যায় মনে রাখবেন এদের একজন মানুষকেও আপনার পাশে পাবেন না । এবার আপনাদের সবার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জন হপকিন্স ভার্সিটির বিশ্ব সেরা গবেষকদের সমস্ত দিক নির্দেশনার লিস্ট করে দিচ্ছি যেটা অনুসরণ করলে ইনশাআল্লাহ আপনারা পরিবার পরিজন নিয়ে ভাইরাস হতে সুরক্ষিত থাকতে পারবেন।
# মাস্ক গ্লাভস এবং গগলস বা ফেস শিল্ড দিয়ে চোখ পরিপূর্ণ কাভার করে এমন চশমা বা সানগ্লাস পড়ে বাজার করতে যান ৷ মহিলারা মাথায় ওড়না বা স্কার্ফ ব্যবহার করবেন আর পুরুষরা পারলে মাথায় টুপি পড়তে পারেন ৷ কারণ চুল থেকেও ভাইরাস সংক্রমিত হয় । যেমন ধরুন মেয়েদের চুল তো স্বাভাবিক ভাবেই বড় লম্বা হয়ে থাকে আর অনেক ছেলে আছে যারা চুল বড় রাখতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন । এখন বাইরে বের হলে আপনাদের খোলা চুলের উপর বাতাসে ভেসে থাকা ভাইরাস এসে যদি পড়ে যায় এবং সেই চুল খোলা থাকলে নিশ্চয়ই আপনার চোখে মুখে নাকের সংস্পর্শে আসবেই আসবে । তখনই ভাইরাস আপনার নাক মুখ চোখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে । তাই চুল বেধে বা ঢেকে বাইরে চলাফেরা করতে হবে সবাইকে

# আপনার ব্যবহৃত জুতা বা স্যান্ডেল অবশ্যই দরজার বাইরে খুলে বাসায় ঢুকবেন ।।

# বাসায় এসে বাজারের ব্যাগ বা প্যাকেট অন্য কাউকে ধরতে দেবেন না ৷ যিনি আনবেন তিনিই সাবধানে সব কিছু ঠিকঠাক সংরক্ষণের কাজ করবেন ৷।

# ডিম এবং ফলমূল ক্ষার জাতীয় সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুতে হবে ৷ যেসব ফল বা শাক সবজি সাবান দিয়ে ধোয়া সম্ভব না সেগুলো হালকা গরম পানিতে ভিনেগার অথবা লবন দিয়ে আধা ঘন্টা ডুবিয়ে রাখতে হবে ৷।

# যেসব প্যাকেটের ভেতর ফয়েল প্যাকেট থাকে যেমন গুড়াদুধ চা কফি বা বিস্কুট ইত্যাদির বাইরের কাগজ প্লাস্টিকের প্যাকেট ফেলে দেবেন ৷।

# কিছু শাকসব্জি যেসব সাবান দিয়ে ধোয়া সম্ভব না সেসব বারান্দা বা অন্য কোন জায়গায় ২৪ ঘন্টা রেখে দেবেন ৷ রোদে রাখতে পারলে আরো বেশি ভালো কারণ সূর্য রশ্মি জীবাণু ধবংস করে । আর যেসব জিনিস সাথে সাথে ব্যবহার করতে হবে সেসব ভিনেগার বা লবন মিশ্রিত কুসুম গরম পানিতে আধা ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে তারপর ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে ৷।

# মাছ মাংশ উপরোক্ত একই নিয়মে ভালো মতন ধুয়ে ডিপ ফ্রিজে রেখে দেবেন ৷।

# এসব ধোয়ার সময়ও গ্লাভস পরাই থাকবে ৷ সেসময় যদি চোখ চুলকায় বা মাথা চুলকায় তাহলে অন্য কারো সাহায্য নেবেন কিন্তু নিজের হাত বা কনুই ব্যবহার করবেন না ৷ সাহায্যকারীও এরপর হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন ।।

# খাবার-দাবার ছাড়া অন্যান্য সকল প্রয়োজনীয় জিনিষ যেমন সাবান শ্যাম্পু রেজর ওয়াশিং পাউডার ইত্যাদি এক থেকে দুইদিন আলাদা জায়গায় প্যাকেট সহই রেখে দিন ।৷

# সবকিছু হয়ে গেলে পরিহিত Dress বা জামা কাপড় খুলে তারপর গ্লাভস খুলে সেসব খুলে ফেলা ড্রেস সাবান বা খার জাতীয় ডিটারজেন্ট পানিতে চুবিয়ে তারপর হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিবেন ৷ কিন্তু বেটার অপশন হচ্ছে সাথে সাথে ভালো ভাবে গোসল করে নিতে হবে ৷ তারপর নতুন পোশাক পরবেন ৷ এর জন্য বাইরে যাওয়ার পূর্বে আগে থেকেই বাথরুমে এইসব কিছু রেডি করে রাখবেন ।।

# সমস্ত রকম রান্নাই যেন বেশী সময় ধরে উচ্চ তাপে ভালোভাবে রান্না করা হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন ৷ কারণ উচ্চ তাপে জীবাণু মরতে সাহায্য করে ।।

# হাতের নখ ছোট রাখবেন Specially মেয়েরা । কারণ ভাইরাস নখের ভেতর থেকে যায় যা সাবানে যায়না ।।

# মানিব্যাগ চশমা মোবাইল বাইরে থেকে এসে Antiseptic Solution বা Sanitizer দিয়ে ভালো ভাবে মুছে নিবেন ৷ কারণ বাজারের পাশাপাশি টাকা এবং মোবাইলে সবচাইতে বেশি ভাইরাস সংক্রমণ ঘটাচ্ছে তাই সাবধান সবাই । আর মাস্ক সংকট থাকলে ব্যবহার করা মাস্ক রোদে রেখে দিন যাতে জীবাণু মরতে পারে ।।

# ঘর মুছতে 20 লিটার পানিতে 1 টেবিল চামচ ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করুন । তবে বাসায় যদি মুরব্বী মানুষ ছোটো বাচ্চা বা এজমা সহ এলার্জির রোগী থাকে তাহলে এই ব্লিচিং পাউডার মিশ্রিত উপাদান ব্যবহার করবেন না । কারণ এই পাউডার এমন কিছু ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে যা Respiratory Syndrome সরাসরি ইফেক্ট করে মানুষের জীবন হুমকির সম্মুখীন করতে পারে । এইজন্য বেটার অপশন হিসাবে বাজারে যেসব ক্লিনার রয়েছে সেসব ব্যবহার করলেই হবে ।।

# প্রতিদিন আধা ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা জিম বা ইয়োগা করবেন নিয়মিত । কারণ বাসায় বসে থাকলে আপনার শরীরের সমস্ত অর্গানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হয়ে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করতে পারে । তাই জিম ইয়োগা করে শরীরের অর্গান স্বাভাবিক রাখুন সুস্থতার জন্য ।।

# প্রতিদিন কমপক্ষে আট ঘন্টা ঘুমাবেন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ফ্রেশ ওয়াটার খাবেন । বেটার দেশে ভাইরাস অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাসায় পানি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ছাকনী দিয়ে ছেকে জল পান করুন । ডাক্তার এবং গবেষকদের মতে এইটা এখন সর্বোচ্চ নিরাপদ পন্থা জল পান করার । কারণ এই মুহূর্তে বাইরের যেকোনো পানিই নিরাপদ না মানুষের জন্য । তবে মিনারেল ওয়াটারে সমস্যা নাই ।।

# আপাতত ভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মার্কেট থেকে নতুন জামা কাপড় কসমেটিকস কেনা হতে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন । এবং বিয়ে শাদি জন্মদিন পার্টি করা সহ যেকোনো জনসমাগম অনুষ্ঠান বর্জন করুন ।।

# অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করবেন সবসময় । কারন আপনি জানেন না যে আপনার পাশের মানুষটা ভাইরাসের আক্রান্ত কিনা সো বোকার মতন রিস্ক নিবেন না । বাইরে একে অন্যের থেকে কমপক্ষে ছয় ফিট দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করবেন । এইসব ভুল করেও অবহেলা করবেন না । আপনার সামান্য অবহেলা সারাজীবনের কান্নার কারণ হতে পারে এই মূহুর্তে।
পরিশেষে কিছু কথা বলে শেষ করতে চাই । বিশ্বখ্যাত শীর্ষ ধনীদের মাঝে অন্যতম আলীবাবা'র প্রতিষ্ঠান জ্যাক মা বলেছেন যে " আপনি যদি বানরের সামনে একটি কলা এবং কিছু টাকা রাখেন তাহলে বানর নি:সন্দেহে কলাটাই বেছে নেবে কারণ বানর জানেনা যে টাকা দিয়ে অনেক কলা কেনা সম্ভব । বাস্তবিক অর্থে আপনি যদি টাকা এবং স্বাস্থ্য এ দুইটা'কে মানুষের সামনে রাখেন তাহলে মানুষ টাকা'কেই বেচে নেবে কারণ মানুষ জানেনা যে স্বাস্থ্য অনেক টাকা এবং সুখ বয়ে নিয়ে আসতে পারে ।। " তাই সিদ্ধান্তটা আপনাদের । জীবিত থাকলে বহু অর্থ সম্পদ উপার্জন করতে পারবেন । কিন্তু জীবনের ঝুকি নিয়ে অর্থ উপার্জন করতে যেয়ে জান হারালে পৃথিবী থেকে শূন্য হাতে প্রস্থান করতে হবে । আমি বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিশেষ একটা অনুরোধ রাখতে চাই । দয়াকরে আপনারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল কলেজ ভার্সিটি মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের জীবন হুমকির মুখে ফেলে অপেন করে দিবেন না পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত । কারণ সম্প্রতি ফ্রান্স এই বোকামি করতে যেয়ে একদিনে 70 জন শিশু আক্রান্ত হওয়ার পর আবার সাথে সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব বন্ধ করে দিয়েছে । এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে সর্বোচ্চ শিক্ষার্থীদের পড়ালেখাতে ব্রেক হবে সেসন লস হবে যেটা পরিবর্তিতে রিকভার করা সম্ভব কিন্তু একবার কারোর জীবন চলে গেলে সেটা আর রিকভার করা সম্ভব না । আজ যে চীন বিশ্ব অর্থনীতিতে রাজ করছে তারা আশির দশকের পূর্বে বাংলাদেশের চাইতে ভঙ্গুর অবস্থার মাঝে ছিলো । আশির দশকের পর সে দেশের সমাজতান্ত্রীক সরকার অর্থনৈতিক বিস্ফোরণ সৃষ্টি করলেন । কিভাবে জানেন ? একটা দেশের জনসংখ্যা সে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তির চাবিকাঠি যদি আপনি সঠিক ভাবে তার ব্যবহার করতে জানেন । চীন সরকার আশির দশক থেকে দীর্ঘ বারো বছর সে দেশের সকল অনার্স মাস্টার্স মানে স্নাতক স্তরের পড়ালেখা বন্ধ করে দিয়েছিলো । কারণ চীন সরকার তার জনগনকে বলেছিলো যে তারা এত ডিগ্রি অর্জন করে কি করবে ? দেশে তো কর্মসংস্থান নাই যে তারা এই পড়ালেখাতে তাদের শ্রম মেধা সময় আর অর্থ ইনভেস্ট করে অর্থ উপার্জন করতে পারবে তাই না ? এইজন্য তিনি শিক্ষার্থীদের সমস্ত শ্রম মেধা সময় এবং অর্থ ইনভেস্ট করে পারিবারিক ভাবে নিজ নিজ বাসায় যে যার মেধা অনুযায়ী শিল্প অথবা প্রডাক্ট উৎপাদন করতে বললেন যেটা চীন সরকার নিজ দায়িত্বে বিশ্ব বাজারে বিক্রি করার ব্যবস্থা করবেন । তারপর বাকিটা এখন ইতিহাস । চীনের অর্থনীতি এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতার দিকে সারা বিশ্বের সব রাষ্ট্ররা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে । মাত্র এক যুগ তারা স্নাতক পড়াশোনা বন্ধ রেখে নিজের দেশের চেহারা পাল্টে দিয়েছিলো । সেখানে আমাদের বর্তমান অবস্থা নিশ্চয়ই তাদের আশির দশকের চাইতে কম না । আমরাও অর্থনৈতিক ভাবে ব্যাপক একটা বিস্ফোরণ ঘটানোর পজিশনে আছি এখন । কিছুদিন কেনো বছর খানেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখলেও তেমন কিছুই যায় আসবে না বর্তমান পরিস্থিতিতে । এমনিতেই কয়েক কোটি বেকার জনগোষ্ঠী রয়েছে আমাদের দেশে এবং করোনা মহামারীতে আরো 23 শতাংশ মানুষ তাদের কর্ম হারিয়েছে ।

এমন অবস্থায় কেউ তাদের জীবন হুমকির সম্মুখীন করে ডিগ্রি অর্জন করে দেশের কোথায় কি করতে পারবে ? আমার কথা হচ্ছে এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে দেশের অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না । কিন্তু দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের এসব মেধাবী শিক্ষার্থীদের কিছু হয়ে গেলে সেটা নিশ্চিত ভবিষ্যত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে । এদিকে বিশ্ব অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে করোনা মহামারীর কারণে সারা পৃথিবীতে প্রায় 200 কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে যাবে । তাই এখন থেকেই সব দেশের উচিত তাদের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে কিভাবে ভবিষ্যত অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগানো যায় তার বিশেষ ভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা । করোনা পরিবর্তি পৃথিবীতে আপনাদের টিকে থাকতে হলে কাজ নিয়ে লজ্জা করা যাবে না । আর অভিভাবকদের বলবো যে আপনার সন্তানের জীবন হুমকির সম্মুখীন করে এই মূহুর্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে কি অর্জন করতে পারবেন ? একটা সার্টিফিকেট ? কি কাজে আসবে এই সার্টিফিকেট বর্তমান পরিস্থিতিতে ? কিছুই না নিশ্চয়ই । তবে আপনার সন্তান সুরক্ষিত থাকলে বেচে থাকলে কিন্তু কিছুদিন পরে এই একই সার্টিফিকেট অর্জন করে অনেক কিছুই করতে পারবে ইনশাআল্লাহ । জীবন বিপন্ন করে শিক্ষা অর্জন করতে যাবেন না । জীবনের মূল্যায়ন করতে শিখুন সবাই । আর করোনা ভাইরাসকে ভয় করে সতর্কতা অবলম্বন করুন সবাই । কারণ যার চিকিৎসা নাই সেটাকে ভয় করাই বুদ্ধিমানের কাজ । চিকিৎসা আজ অথবা কাল অবশ্যই আবিষ্কার হবে । কারণ পবিত্র আল কোরআনে আল্লাহ পাক বলেছেন যে তিনি পৃথিবীতে এমন কোনো রোগ দেন নাই যার চিকিৎসা দেন নাই । তাই আপনারা সবাই যার যার বিশ্বাসের স্থান হতে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করুন সমাধানের জন্য । এবং প্রকৃতিকে সময় দিন নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে । কারণ প্রকৃতি না বাচলে মানুষ বাচবে না । পরিবেশ বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে এই করোনা ভাইরাসই পৃথিবীর জন্য শেষ বিপর্যয় নয় । এখনই যদি বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন না করা যায় তাহলে পরিবেশ আরো অনেক জীবাণু উগলানো শুরু করবে পৃথিবীর জন্য যেটার পরিনতি আরো ভয়াবহ হতে পারে । পরিবেশ প্রকৃতি গাছপালার কাজ হচ্ছে পৃথিবীর সব জীবাণু শোষন করে মানুষের বেচে থাকার জন্য ফ্রেশ অক্সিজেন সরবরাহ করা । অথচ আমরা এই মানবজাতি আজ এতটাই বোকা এবং নির্বোধ অধম হয়ে গেছি যে সামান্য কিছু টাকার লোভে গাছপালা বন জঙ্গল উজার করে কেটে বিক্রি করে নিজেদের জীবন নিজেরাই ধবংস করে দিচ্ছি । যার কারণে ফ্রেশ অক্সিজেন সরবরাহ কমে যাচ্ছে আর প্রকৃতি বিষাক্ত জীবাণু শোষন করতে পারছে না এবং আমরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে নিজেদের চিকিৎসার পেছনে লাখ লাখ টাকা খরচ করে দিচ্ছি বাচার জন্য আশ্চর্য্য ফিলোসফি আমাদের তাই না ? আমার পক্ষে সম্ভব হলে বাংলাদেশ সহ সারা পৃথিবীতে গাছ কাটার জন্য মৃত্যুদন্ডের বিধান করতাম । কারণ শুধুমাত্র প্রকৃতি ধবংস করার জন্য কোটি কোটি মানুষের জীবন হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত । আপনি কিউবা'তে যান সেখানে সরকারি পারমিশন ছাড়া গাছ কাটলে জেল জরিমানা সহ উভয়  শাস্তির বিধান রয়েছে । যার কারণে তাদের দেশের মানুষের অসুস্থতা কম ও দীর্ঘজীবী হয় সবাই । শুধু ল্যাটিন আমেরিকার কিউবা না বিশ্বের বহু দেশেই গাছ কাটার জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে । আমি চাই বিশ্বের সব দেশেই পৃথিবী রক্ষার জন্য গাছ কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার আইন প্রণয়ন করা হোক কঠোর শাস্তির বিধান বাস্তবায়ন করে । সবাই “গাছ লাগান - মানুষ বাচান”।

বিস্তারিত খবর

দুঃসময়ের ঈদ

 প্রকাশিত: ২০২০-০৫-২৩ ১১:৪৮:৪৬

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা রইলো। ঈদ আরবী শব্দ যার অর্থ হচ্ছে খুশি। আজ হয়তো আমাদের অনেকেরই মন ভীষন খারাপ কারণ এবারের ঈদে নতুন জামা কাপড় কসমেটিকস পাঞ্জাবী কিনে বন্ধু বান্ধবী আত্মীয় স্বজন মিলে আনন্দ করতে পারবো না এইজন্য নিশ্চয়ই । অথচ আমরা যদি বিষয়টা বাস্তবিক অর্থে বর্তমান পরিস্থিতির সাথে তুলনা করি তাহলে এই মুহূর্তে আপনি যদি সুস্থ থাকেন কিংবা ঠিকভাবে নিশ্বাস নিতে পারছেন বা আপনার পেটে একবেলা অন্তত খাবার দিতে পারছেন অথবা আপনার পরিবার আপনার সাথে আছে এবং সবাই জীবিত রয়েছেন তাহলে আপনাদের সবার আল্লাহর দরবারে আলহামদূলিল্লহ পড়ে বিশেষ ভাবে শুকরিয়া আদায় করা উচিত। কারণ আপনি এই পৃথিবীর সৌভাগ্যবান মানুষের মাঝে একজন।এখন আপনি যদি আল্লাহ সুবহানাতাআলার এত রহমত অস্বীকার করে এই সামান্য নতুন জামা কাপড় বা ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার জন্য আফসোস করেন তাহলে হয়তো আল্লাহ পাক আপনার প্রতি নারাজ হওয়াটা অসম্ভব কিছুই না।

আমরা হচ্ছি সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল মোহাম্মদ (সা.) এর  উম্মাত। যারা যারা এই মূহুর্তে জীবনের পরোয়া না করে ঈদের না‌মে শপিং করছেন তারা কি বল‌তে পারবেন আমাদের রাসূলে পাক হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.) কয়টা ঈদের নতুন পোষাক প‌রে‌ছেন? ঈদে নতুন জামা পড়াটা কি ফরজ কাজের মাঝে পড়ে ইসলামে ? তাহলে কেনো এত হতাশা আজ আপনাদের মাঝে? আপনারা কি জানেন যে, সারা বিশ্বে প্রায় তিনশো কোটি মানুষের দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে পৃথিবীতে যারা তাদের লজ্জা ঢাকার মতন কাপড় পায় না এবং তিন বেলা খাবার পাওয়াটা যেনো আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতন তাদের কাছে? এছাড়া এই একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে জাতিসংঘ এবং ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে সারা বিশ্বে প্রায় আট হাজার শিশু মারা যায় শুধুমাত্র ক্ষুধা নামক ভাইরাসের কারণে! না, জানেন না। কারণ ক্ষুধা নামক ভাইরাস ধনীদের কখনো হত্যা করে না। তাছাড়া প্রতিদিন পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ কবরে চিরনিন্দ্রায় শায়িত হচ্ছে আর বহু মানুষ হসপিটালে তাদের শেষ নিশ্বাসের প্রহর গুনছে আবার অনেকেই অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছে কিন্তু এতকিছু বাদেও আপনি যদি ভালো থাকেন তাহলে বোকার মতন নিজের জীবন নিয়ে এত আফসোস কেনো করছেন? যারা ভালো আছেন সুস্থ স্বাভাবিক আছেন পরিজন পরিজন নিয়ে ভালো আছেন তাদের প্রতিটা দিন আল্লাহর অশেষ রহমতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা উচিত। জীবন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আল্লাহর বিশেষ রহমত থেকে বঞ্চিত হবেন না দয়া করে।

এই ভাইরাসের একটা ভালো দিক কি জানেন আপনারা? এই যে আমরা হিন্দু মুসলিম খ্রিস্টান শিখ ইহুদী বৌদ্ধ আস্তিক নাস্তিক সাদা কালো ধনী গরিব সবাইকে এক কাতারে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে এইটা বোঝানোর জন্য যে দিনশেষে আমরা সবাই কিন্তু মানুষ। আমাদের রক্ত শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সবকিছু অভিন্ন শুধুমাত্র বিশ্বাস ছাড়া।এই বিশ্বাসকে মানুষের জন্য ঐক্যবদ্ধ করতে হবে আমাদের। সবাইকে মানুষ হিসাবে ভালোবাসতে হবে অন্যথায় এই সুন্দর পৃথিবী নষ্ট হয়ে যাবে।
সর্বপ্রথম মানুষকে মানুষ হিসাবে প্রাধান্য দিন, দেখবেন পৃথিবীটা আসলেই অনেক সুন্দর। ভাইরাস কিন্তু সবাইকে মানুষ হিসাবেই আক্রমণ করছে। তবে আমি বিশ্ব নেতাদের কাছে একটা প্রশ্ন রাখতে চাই যে, আপনাদের অর্থনীতি কি আসলেই মানুষের জীবনের চাইতে মূল্যবান? অন্যথায় ভবিষ্যতে পৃথিবীর ইতিহাসে লিখা থাকবে যে পৃথিবীর সংকটময় মূহুর্তে বিশ্ব নেতাদের কাছে তথাকথিত অর্থনীতির সামনে মানুষের জীবন মূল্যহীন বস্তুতে রূপান্তরিত হয়েছিলো। তাই দয়াকরে আপনারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লক ডাউন শিথিল করে বিশ্ব অর্থনীতির দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিবেন না । এইসব সাধারণ জনতা সারা জীবন রাষ্ট্রকে রাজস্ব ট্যাক্স প্রদান করে। এখন প্রতিটা রাষ্ট্রের এইটা দায়িত্ব এবং কর্তব্য যে তারা নিজ নিজ দেশের জনগণের সেই ঋণ শোধ করবে তাদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা প্রদান করে। আর আপনারা সাধারণ মানুষ নিজ নিজ বিশ্বাসের স্থান থেকে ধৈর্য্য ধরে পজিটিভ মাইন্ডেড থাকার চেষ্টা করবেন। এই যুদ্ধটা হচ্ছে আমাদের বেচে থাকার যুদ্ধ । তাই হার মানা যাবে না হতাশ হওয়া যাবে না ।

এদিক থেকে আমি আমার জীবন নিয়ে শত কষ্টের মাঝেও হতাশা খুব একটা প্রকাশ করি না কারণ আমার কাছে লাইফের ফিলোসফি হচ্ছে আল্লাহ কখনো আমাদের দুর্বল করে দেন অধিক শক্তিশালী হবার জন্য । কখনো আল্লাহ হৃদয় ভেঙে চূর্ণ করে দেন আমাদের পরিপূর্ণ করার জন্য । কখনো আল্লাহ আমাদের দুঃখ সইতে দেন অধিক সহনশীল হবার জন্য । কখনো আল্লাহ আমাদের ব্যর্থতা দেন জীবন সংগ্রামে জয়ী হবার জন্য । কখনো আল্লাহ আমাদের একাকিত্ব দেন অধিক সচেতন হবার জন্য । কখনো আল্লাহ আমাদের সর্বস্ব ছিনিয়ে নেন আল্লাহর রহমতের মূল্য বোঝানোর জন্য। তাই সর্বদা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা'র শুকরিয়া আদায় করুন। সবাই সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন ও একে অপরকে সাহায্য করুন আর মানুষ হয়ে মানুষকে ভালোবাসুন। কারণ একমাত্র মানুষের জন্য মানবতাই এখন এই পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারবে । সবাইকে আবারো ঈদের শুভেচ্ছা রইলো । ঈদ মোবারক।

লেখক: অভিনেতা ও সমাজকর্মী

বিস্তারিত খবর

জন্মদিন আমার কাছে একটা মন খারাপের দিন!

 প্রকাশিত: ২০২০-০৫-১২ ১৬:১৯:৫১

জন্মদিন আমার কাছে বিশেষ কিছু না একটা মন খারাপের দিন ছাড়া। কারণ জন্মদিন হচ্ছে জীবন মৃত্যুর মাঝামাঝি আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সময়। বললে হয়তো বিশ্বাস করবেন না যে, আমি আজ পর্যন্ত কখনো জন্মদিনে কেক কাটি নাই। তবে আশ্চর্য্য হলেও এটাই সত্যি। মম বাতি জ্বালিয়ে জীবনের হারিয়ে যাওয়া দিনগুলা নিয়ে আনন্দিত হওয়ার কিছু খুঁজে পাই না। প্রতিবার জন্মদিনের আমার বিশেষ কাজ হচ্ছে দরগাতে যেয়ে জিয়ারত করে সেখানকার মাসজিদে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই এই পৃথিবীতে এখনো বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছি এই সৌভাগ্যের জন্য। তারপর সেখানে অবস্থানরত সব গরীব দুঃখী মানুষ ফকির আর এতিম বাচ্চাদের মাঝে 200 / 500 / 1000 / 2000 টাকা মানে যেটা আমার পকেটে থাকে সব সমান ভাবে ভাগ করে দান করে দেই । এমনও জন্মদিন গেছে যেদিন মাত্র একশো টাকা দান করতে পারছি কারণ আমার কাছে তখন সেটাই সামর্থ্য ছিলো। এছাড়া ক্ষুধার্ত মানুষ বিশেষ করে রাস্তার এতিম বাচ্চাদের খোজার চেষ্টা করি এবং তাদের খাবারের ব্যবস্থা করে দেই। কারণ তাদের দুই চোখের তৃপ্তি আর মুখের নিষ্পাপ হাসিটাকে জীবনের সবচাইতে বড়ো অর্জন মনে করি আমি। প্রচন্ড মানসিক শান্তি পাই যেটা আর কোনো কিছুতেই আমি খুঁজে পাই না। আমাদের নবীজি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা [সা:] এর একটা কথা সবসময়ই হৃদয়ের মাঝে স্পন্দিত হতে থাকে, তিনি বলেছিলেন "যে এতিম বাচ্চাদের মাথায় হাত রাখে সে যেনো আমার মাথাতেই হাত রাখলো কারণ আমিও একজন এতিম।" আর আমাদের ধর্মে ছোটো ছোটো বাচ্চাদের আল্লাহ পাক ফেরেশতাদের সমান মর্যাদা দিয়েছেন। তিনি সেটাকে কোনো ধর্মের শিশুদের নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। তিনি মানব শিশুর কথা বলেছেন। মানুষের মাঝে ভেদাভেদ মানুষের সৃষ্টি। সৃষ্টিকর্তা তো সবাইকে ভালোবাসেন। যাইহোক এবারের জন্মদিনেও এমন কিছু করার ইচ্ছা ছিলো কিন্তু হঠাৎ এই করোনাভাইরাসের মহামারী সারা পৃথিবীকে বিপর্যস্ত করে দেয়ার কারণে সেই ইচ্ছাটা আপাতত পূরণ হচ্ছে না।


এদিকে বহু বছর পর পবিত্র রমজান মাসে নিজের জন্মদিন আসাতে পরম সৌভাগ্যবান মনে করছি নিজেকে। ইচ্ছা ছিলো এতিম বাচ্চা পথশিশুসহ গরীব মানুষদেরকে ইফতার করাবো এবং ঈদের নতুন জামা উপহার দিবো যেমনটা আমি সবসময়ই করে আসছি কয়েক বছর ধরে। শুধু ঈদ উৎসব বলে না বরং বৈশাখ ভালোবাসা দিবস বা নতুন বছর এবং শীতের সময় এভাবে প্রতিনিয়ত প্রতিবছর নিজের টাকা জমিয়ে এইসব পথশিশু আর এতিম বাচ্চাদের জন্য নতুন জামা কাপড় উপহার দিয়ে আসছি কারণ আমার ভালো লাগে তাদের জন্য কিছু করতে যাদের দেখার কেউ নাই। আমি যদি দশ টাকা ইনকাম করি তাহলে এদের জন্য সেখান থেকে দুই টাকা বরাদ্দ থাকবেই থাকবে। ছয় সাত বছর আগে যখন এইসব কাজ শুরু করেছিলাম তখন পরিচিত মানুষদের কাছে বা বিত্তশালীদের কাছে ডোনেশান চাইতাম এইসব কাজ করার জন্য। কিন্তু তারা হাসাহাসি করতো সাহায্য করা বাদ দিয়ে। তাই পরবর্তীতে আর কারোর কাছে সাহায্য চাই না। নিজে যা পারি সেটা দিয়েই এইসব কাজ করি এখন। মাঝে মাঝে ভাবি যে, একজন মানুষের এক বেলার চা সিগারেটের খরচে একজন মানুষের দুই বেলার খাবার দেয়া সম্ভব অথচ কেউ কারোর জন্য কিছু করতে চায় না । আমি এইসব ভেবে হাসি কারণ আমি জানি কাফনের কাপড়ের পকেট হয় না দুনিয়ার ধন সম্পদ টাকা পয়সা সাথে করে নিয়ে যাবার জন্য। পরকালে অন্ধকার কবরে মানুষের সাথে একমাত্র যাবে তার ভালো কাজ বা সৎকর্ম এবং পরকালের একমাত্র সম্পদ হচ্ছে এই দুনিয়ার মানুষের মুখের হাসি দোয়া এবং ভালোবাসা । আমি তাই পরকালের সম্পদ আহরণ করতে ভালোবাসি আজীবন । তবে হ্যা আমি কখনো যাকাত ফেতরার মতন রাস্তা থেকে উপহারের জামা কাপড় ক্রয় করি না । সরাসরি মার্কেট থেকে ভালো জামা কাপড় ক্রয় করি পথশিশু আর এতিম বাচ্চাদের জন্য । কারণ আমি নিজে যেটা পড়তে পারি না যা খাইতে পারি না সেটা কিভাবে আরেকজনকে খাইতে বা পড়তে দিতে পারি? সমাজের মতন এতটা বিবেকহীন মানুষে এখনো রূপান্তরিত হতে পারি নাই। হাদিসে আছে আল্লাহ তো আপনাদের দান সদকার শুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন করবেন যে তুমি যেটা নিজে খেতে পারো না তুমি যা নিজে পড়তে পারো না সেটা কিভাবে আরেকজনকে দান করতে পারো? তখন মানুষের পূণ্যের কাজ তার পাপে রূপান্তরিত হবে। সমাজে আমরা বহু মানুষ আছি যারা বাসায় তিন বেলা পেট ভরে খেয়ে আবার রেস্ট্রুরেন্টে যেয়ে এক্সট্রাভাবে আরো কিছু খাই ।

অথচ ঠিক সেই রেস্টুরেন্টের নিচেই অনেক ক্ষুধার্ত অসহায় মানুষ বসে থাকে একবেলা সামান্য কিছু আহার করার আশায়। কতজন আজ পর্যন্ত আপনারা সেই রাস্তা থেকে তাদের তুলে এনে দামি রেস্ট্রুরেন্টে বসিয়ে একবেলার জন্য ভালো খাবার খাইয়েছেন? না করলে একবার অন্তত করে দেখেন অকৃত্রিম মানসিক প্রশান্তি পাবেন যা বন্ধু বান্ধবীদের সাথে পার্টি করে পাবেন না। আমি এমন কাজ প্রায়ই করি কারণ ভালো লাগে করতে মানুষের জন্য । আমি গত কয়েক বছর ধরে ঈদের সময় নতুন জামা কাপড় আর কিনি না নিজের জন্য। সেই টাকা দিয়ে দশ বিশটা মানে যতটা সম্ভব হয় আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সেই কয়টা এতিম বাচ্চা আর পথশিশুদের ঈদের জন্য নতুন জামা কাপড় কিনে দেই । কারণ আমার তো সারা বছর ধরে প্রতি মাসে নতুন জামা কাপড় কেনা হয়ই কিন্তু এরা তো সামান্য তাদের লজ্জা স্থান ঢাকার জন্যেও এক টুকরা কাপড় পায় না। এই অপরাধ বোধটা আমার মাঝে কাজ করে আর তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিলাসিতা করতে ইচ্ছা করে না । আমি এসব ভালো কাজ করতে সবসময়ই পবিত্র দরগা শরীফ কে বেছে নেই । যার মাঝে অন্যতম হচ্ছে আমার নিজস্ব দুই ঐতিহ্যবাহী শহর রাজশাহীর হযরত শাহ মাখদূম রূপোশ [র:] এর দারগা এবং খুলনার হযরত খান জাহান আলী [র:] এর দারগা শারীফ। কারণ একমাত্র দারগা শারীফ হচ্ছে এমন এক স্থান যেখানে সব ধর্মের মানুষ আসা যাওয়া করতে পারে এবং আমি যখন মানুষের জন্য কাজ করি তখন শুধুমাত্র সেই মানুষটাকে দেখি তার পরিচয় দেখি না । পরিচয় দেখে মানবসেবা হয় না । আমার ধর্ম আমাকে সেই শিক্ষা প্রদান করে না । আমার ধর্ম মানুষের মাঝে ভেদাভেদ সৃষ্টির শিক্ষা দেয় না । মানুষকে মানুষ হিসাবে ভালোবাসতে শিক্ষা দিয়েছেন আমার রব আল্লাহ পাক এবং আমার প্রিয় রাসূল হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা [সা:] । তাই এখানকার প্রায় সবাই আমাকে চেনে জানে এবং আমার কাজে সাহায্য করেন। আমার ছেলেবেলা থেকে এসব কিছুর জন্য একমাত্র প্রেরণা হচ্ছেন বিশ্ব মানবতার মা মাদার তেরেসা। তার জন্যই মানুষের জন্য বেচে থাকতে শিখেছিলাম । তাছাড়া নিজের জীবনেরও ইতিহাস আছে। আজ থাক এসব কথা। এই মুহূর্তে বিশ্ব মহামারী করোনা ভাইরাসের বিপর্যয়ের বৈশ্বিক ভাবে সম্মুখীন আমরাও। নিজ দেশ এবং দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব বিবেকের জায়গা থেকে যা যা করা সম্ভব সব কিছু করেছি ইতিমধ্যে।


যখন প্রথম প্রথম করোনার প্রকোপ শুরু হয় তখন দেশের বাজারে মাস্ক আর হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যাপকভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়। এই সময়ে নিজ অর্থে মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনে নিজ এলাকার গরীব মানুষ এবং বন্ধু বান্ধব সহ পরিচিত সব মানুষদের গিফট করেছিলাম। তারপর কাজ কর্ম বন্ধ হয়ে যাবার কারণে আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হতে হয় কিন্তু এরপরও থেমে থাকিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা + জন হপকিন্স ভার্সিটির গবেষক + বিশ্বখ্যাত হেলথ জার্নাল নেচার মেডিসিনের সব তথ্য উপাত্ত স্টাডি করে করে নিজস্ব ভাবে আর্টিকেল লিখে দেশে এবং বিদেশের সমস্ত পরিচিত মানুষদের মাঝে শেয়ার করে করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করেছি সবার সুরক্ষার জন্য । আমার পরিচিত এবং পরিচিতদের পরিচিত অনেক গরীব এবং মধ্যবিত্ত সম্ভ্রান্ত মর্যাদাশীল পরিবার রয়েছেন যারা এই কঠিন পরিস্থিতিতে পরে অসহায় হয়ে গেছেন । তারা না পারে নিজেদের খারাপ অবস্থার কথা কাউকে বলতে না পারে লজ্জা ভেঙ্গে মানুষের কাছে কিছু চাইতে । এইসব মানুষের জন্য আমাদের মেয়র এবং এমপি সাহেবদের মাধ্যমে গোপনে খাদ্যশস্যের ব্যবস্থা করে দিয়ে সাহায্য করেছি । এদিকে উন্নত বিশ্বের সব দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ রূপে ভেঙে পড়েছে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারণে । সেখানে আমাদের দেশটা অনেক ছোটো একটা উন্নয়নশীল রাষ্ট্র । আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা হুমকির সম্মুখীন স্বাভাবিক ভাবেই । এমন করোনা পরিস্থিতির মাঝে মানুষ তাদের অনান্য রোগের জরুরী স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । শিশুরাও এর বাইরে নয় । আমি রাজশাহী ঢাকা আর খুলনার জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তাদের নাম্বার কালেক্ট করে যেসব বাড়িতে বা পরিবারের মাঝে সরবরাহ করেছি যাদের যাদের বাড়িতে অসুস্থ মানুষ রয়েছে । পাশাপাশি সারা দেশের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের নাম্বার কালেক্ট করে সেইসব পরিবার এবং পরিচিতদের মাঝে সরবরাহ করেছি যাদের বাসায় নবজাতক শিশু রয়েছে আর প্রেগন্যান্সি প্রিয়ড সাফার করছেন । এতে করে তারা জরুরী স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন না এবং অকাল মৃত্যুর হতে সুরক্ষিত থাকতে পারবেন । বর্তমানে মানুষ খাদ্য এবং চিকিৎসার অভাবে কারণে জীবন মৃত্যুর সম্মুখীন হচ্ছে । কার্যত লকডাউন বা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বহু মানুষ খাদ্য সংকটে পড়েছে । এইসব মানুষদের জন্য রাজশাহী ঢাকা খুলনা এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক পুলিশ প্রশাসন সিটি কর্পোরেশন সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা যারা খাদ্যশস্য সরবরাহের কাজ করছেন তাদের নাম্বার কালেক্ট করে এইসব শহরের পরিচিত বিপদগ্রস্থ মানুষদের দিয়েছি এবং বলেছি তাদের পরিচিত অনান্য বিপদগ্রস্থ মানুষদেরকে দিতে যাতে সবাই বাচতে পারেন। উপরোক্ত কাজগুলা সঠিক ভাবে এক্সিকিউট করতে অনেক ধৈর্য্য পরিশ্রম এবং স্ট্রং স্ট্রাটেজির প্রয়োজন হয় যেটা করতে যেয়ে অনেক সময় আমাকে অনেকের কাছে ছোটো হতে হয়েছে আবার বহু মানুষ প্রশংসা করেছে। আমি আসলে মানুষের সমালোচনার দাম দেই না এখনো । কারণ যারা সমালোচনা করে তারা কিছুই করতে পারে না এবং সেইখানেই পড়ে থাকে যেখানে তারা ছিলো। অন্যের নেগেটিভ কথার দাম দিবেন তো আপনি জীবনে শূন্যতা ছাড়া আর কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। আমার ইচ্ছা ছিলো দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য আরো বেশি কিছু করার কিন্তু অর্থের কাছে তো আমি নিরুপায়। মামা চাচা ফুফুরা আমার মা বাবার অধিকার তাদের প্রাপ্য সম্পদ আত্মসাৎ করার কারণে আমরা নিজেদের মিডল ক্লাস পরিচয় দিতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করি আজীবন । বংশের পরিচয় দিয়ে চরম অপছন্দ করি মানে এক কথায় কখনো দেই না। আমার কাছে মানুষ তার কর্মের সমান বড়ো এবং স্বপ্নের সমান বিশাল । বংশীয় বা আভিজাত্যের পরিচয় তারাই দেয় যারা সমাজে অস্তিত্বহীন বা নিজের বলে কোনো পরিচয় নাই যাদের । আপনি ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখতে পারেন মানুষ তার বংশীয় বা আভিজাত্যের পরিচয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারে নাই । যারা ইতিহাস সৃষ্টি করে অমরত্ব লাভ করেছেন পৃথিবীতে তারা সবাই তাদের কর্ম এবং স্বপ্নের বিশালতার জন্যই তা অর্জন করেছেন । তাই সবাই নিজ কর্মে বিশ্বাসী হন আর স্বপ্ন দেখুন প্রতিনিয়ত । আপনি যত বড়ো স্বপ্ন দেখতে পারবেন আপনি ঠিক তত বড়ই ব্যক্তিত্ব হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। তবে মনে রাখবেন দিনশেষে আমাদের সবাইকে কিন্তু একই মাটির অন্ধকার কবরে যেতে হবে। তাই অহংকার করবেন না নিজেকে নিয়ে বা অহংকারী হয়ে যাবেন না । এবং যা কিছুই অর্জন করবেন জীবনে তার জন্য সৃষ্টিকর্তার দরবারে শুকরিয়া আদায় করবেন । অন্যথায় আপনার সমস্ত অর্জন বৃথা হয়ে যাবে । কারণ মহান আল্লাহ পাক অহংকারীদের ঘৃণা করেন। অহংকার করা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য মানায় কারণ তিনিই এর একমাত্র দাবিদার। যাইহোক অনেক কথা বলে ফেললাম। এবার দেশ নিয়ে কিছু কথা শেয়ার করবো ।

আমাদের বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের করোনা মহামারী দুর্যোগ মোকাবেলা করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু শুধুমাত্র একজন মানুষ ভালো হলে তো দেশ পরিবর্তন করা সম্ভব না। তার জন্য আমাদের সবাইকে সৎ হতে হবে। তিনি নির্দেশ দিলেন ডাক্তারদের মাস্ক পিপিই নিয়ে যেনো অভিযোগ না আসে। অথচ তার কথা অমান্য করে নিম্ন মানের মাস্ক পিপিই বিভিন্ন হসপিটালে সরবরাহ করার অভিযোগ উঠলো। এরপর সেই যারা যারা অভিযোগ দিয়েছেন তাদেরকে ওএসডি না হয় ট্রান্সফার করা হলো। আর নিম্ন মানের মাস্ক ব্যবহার করে ডাক্তার পুলিশ প্রশাসন একের পর এক আক্রান্ত হতেই আছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত হাজার হাজার কোটি টাকার খাদ্যশস্য এমনকি নগদ অর্থ পর্যন্ত বরাদ্দ করে দিচ্ছেন দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের গরীব অসহায় অভাবী মানুষদের জন্য । অথচ চারিদিকে পত্র পত্রিকায় বিভিন্ন নিউজ দেখা যাচ্ছে যে বহু মানুষের বাসায় খাদ্য নাই। অনেকে নাই খেয়ে দিন পার করছে । মায়েরা ঠিক ভাবে খাবার পাচ্ছে না তাই বুকে দুধ আসছে না যে কারণে দুধের শিশু দুধ পাচ্ছে না এমন সংবাদ পর্যন্ত দেখলাম । অথচ সেদিন সরকার থেকে শিশুদের দুগ্ধজাত খাদ্য কেনার জন্যেও বরাদ্দ দিয়ে দিয়েছেন। একদিন তো প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংসদে বললেন যে তার কাছেও নাকি এসএমএস আসে যে আপা আমার বাসায় খাবার নাই। অথচ তিনি তার সর্বোচ্চ দিয়ে এই দুর্যোগ মোকাবেলা করার ব্যবস্থা করে যাচ্ছেন। আমার জানামতে দেশে যে পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে তাতে সরকার অন্তত ছয় মাস দেশের মানুষকে বাড়িতে বসে খাওয়াতে পারবে কিন্তু শুধুমাত্র অনিয়মের কারণে সেটা হয়তো সম্ভব হবে না । আমার বাড়িতে প্রতিটা দিন আট দশ জন করে ফকির আসছে। তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে বলে যে তারা কোনো ত্রাণ বা অর্থ সাহায্য পাই নাই । প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ভাবছে সরকার হয়তো তাদের জন্য কিছুই করছে না । সরকার ত্রাণ লুটপাটকারীদের ধরার চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং ইতিমধ্যেই অনেককে বরখাস্ত করেছেন জেলেও দিয়েছেন । কিন্তু এভাবে হয়তো সবাইকে চিহ্নিত করা সম্ভব না যাদের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এর জন্য প্রয়োজন প্রতিটা গ্রাম মহল্লায় সেখানকার পৌর মেয়র বা মেম্বার অথবা কাউন্সিলরদের কর্মকান্ড গোপনে পর্যবেক্ষণ করার জন্য কিছু কর্মী নিয়োগ দেয়া যাদের কাজ হবে সবকিছু শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রিপোর্ট করা। কারণ এখনকার মেম্বার কাউন্সিলর'রা তাদের শপথ বাক্য ভুলে গেছেন । এমন ভয়াবহ ভাইরাস পরিস্থিতিতেও সামান্য জীবাণু নাশক স্প্রে করার জন্যেও কাউকে খুজে পাওয়া যায় না। সবাই দায়িত্বহীন ভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করছেন কারণ কারোর জবাবদিহিতা নাই। আরেকটা বিশেষ কথা হচ্ছে এভাবে লকডাউনের সময় বাড়ি বাড়ি ফকির যাতায়াত করলে আমাদের লকডাউন থেকে তো কোনো লাভ হবে না । কারণ এইসব গরীব মানুষ ফকির তো শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ঘোরাফেরা করে এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে যাচ্ছে মানে তারা বিভিন্ন মানুষের সংস্পর্শে আসছে। এখন আমরা তো আর জানতে পারছি না যে কার শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু রয়েছে। তাহলে এরাই তো মানুষের বাড়িতে বাড়িতে লকডাউনে থাকা অবস্থায় ভাইরাস সংক্রমণের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে তাই না। এইসবের একটাই কারণ সেটা হচ্ছে দুর্নীতি আর অনিয়ম। আজ যদি এমন দুর্নীতিবাজ কিছু মানুষের কারণে বাংলাদেশ ভাইরাস মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে যায় তাহলে বিশ্ব হয়তো বাংলাদেশকে একঘরে করে দিতে পারে।

কারণ অনান্য দেশ সফলতা অর্জন করলে নিশ্চয়ই চাইবে না যে দেশে ভাইরাস রয়েছে তাদের সাথে আপাতত সম্পর্ক রাখতে। যার প্রভাব সরাসরি আমাদের দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্থ করে দিবে । এমনিতেই সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে ধ্বস নেমেছে এখন। গ্লোবাল ইকোনমির বিভিন্ন গবেষকরা জানিয়েছেন প্রায় দেরশো কোটি মানুষ তাদের জব হারাতে পারে । ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ছয় লাখ + নর্থ আমেরিকাতে প্রায় দশ লাখ + চীনে আট কোটি নব্বই লাখ + ভারতে প্রায় তেরো কোটি মানুষ তাদের জব হারিয়ে বেকার হয়ে গেছে । সামনে পৃথিবীর সব দেশেই আরো এমন হতে যাচ্ছে । বিশেষ করে বিভিন্ন দেশে কর্মরত বিদেশী শ্রমিকদের জীবন জব হারিয়ে দুর্বিষহ হয়ে যাচ্ছে । যার মাঝে মিডল ইস্ট গল্ফ জোনের আরব রাষ্ট্র হতে প্রায় দশ লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক জব হারিয়ে দেশে ফিরছেন । এভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের দেশের বিদেশী শ্রমিকদের ফেরত পাঠানো শুরু করে দিয়েছে । কারণ ভাইরাস পরিস্থিতি পরবর্তী নতুন যে বিশ্বের জন্ম হতে যাচ্ছে সেখানে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বহু থাকবে । তখন এইসব কর্মহীন জনগোষ্ঠিদের নিজ নিজ দেশের সরকার তাদের দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য কাজে লাগাবে । এখানে বিদেশী শ্রমিকদের রাখলে তাদের দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে না । এতকিছু চিন্তা করে হয়তো দেশের অর্থনীতি বাচানোর জন্য সরকার লকডাউন শিথিল করছেন । ভরসা একটাই মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা । কিন্তু আফসোস বাংলাদেশের জলবায়ু ধবংস হয়ে গেছে বহু আগে । পৃথিবীর সবচাইতে বিষাক্ত জলবায়ুর দেশ হচ্ছে বর্তমান বাংলাদেশ । এই জলবায়ু ধবংসের কারণে আর ভেজাল খাদ্য গ্রহণ করে করে আজ দেশের প্রতিটা ঘরে ঘরে দুই তিন জন করে এজমা হার্ট ডিজিজ ডাইবেটিকস ব্লাড প্রেসার কিডনি বা পেটের সমস্যার রোগী রয়েছেন । তাই আপনার ইমুউনিটি সিস্টেম খুব স্ট্রং ভালো কথা মানলাম । তবে আপনি আক্রান্ত হয়ে বেচে গেলেও আপনার পরিবারের অনান্য সদস্যদের বাচাতে পারবেন তো? সহ্য করতে পারবেন কি আপনার চোখের সামনে আপনার বৃদ্ধ বা অসুস্থ মা বাবা বৌ বাচ্চা ভাই বোনের মৃত্যু? ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মরলে আপনি সরকারি হিসাবে একটা সংখ্যা হবেন মাত্র কিন্তু পরিবার প্রিয়জনদের কাছে এই সংখ্যাটা একটা পৃথিবী সমান মনে রাখবেন কথাটা । এইজন্য সাবধান আমাদের হতে হবে বাচার জন্য যতদিন ভ্যাকসিন না আসছে । ভ্যাকসিন অবশ্যই আসবে আজ অথবা কাল। কারণ সবকিছুর একটা শেষ আছে । তবে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন এই করোনা ভাইরাসই শেষ বিপর্যয় না পৃথিবীর মানুষের জন্য । জলবায়ু ধবংস করে ফেলার জন্য পরিবেশ বাতাস আগের মতন আর রোগ জীবাণু শোষন করতে পারছে না । যার কারণে তারা বিভিন্ন রোগের জীবাণু এখন উগলানো শুরু করেছে যার পরিমাণ হবে আরো ভয়াবহ মানবজাতির জন্য । এইজন্য আমি গত ছয় সাত বছর ধরে বারবার বলে আসছি যে " গাছ লাগান মানুষ বাচান " । আল্লাহ পাক কোরআনে একটা কথা বলেছেন যে " তোমরা প্রকৃতি ধবংস করো না - প্রকৃতি তার প্রতিশোধ নিবে " । এখন কিন্তু ঠিক সেটাই হচ্ছে । প্রকৃতি তার প্রতিশোধ নিচ্ছে মানবজাতির প্রকৃতির সাথে অমানবিক পাশবিকতার জন্য । তাই এখন আমাদেরকে বাচতে হলে এই প্রকৃতিকে আগে বাচাতে হবে । প্রয়োজনে গাছ কাটার অপরাধে মৃত্যুদন্ডের আইন প্রণয়ন করতে হবে ।

যাইহোক আপনাদের সবার কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ আসেন আমরা সবাই নিজ নিজ বাসায় সরকারের নির্দেশ মেনে অবস্থান করি। এই যুদ্ধটা বাসায় থেকে দেশ বাচানোর যুদ্ধ দেশের মানুষ বাচানোর যুদ্ধ । আপনার আমার সামান্য একটা ভুলের জন্য একটা এলাকা একটা শহর এমনকি একটা দেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে । অথচ চারিদিকে আপনারা এমন ভাবে চলাফেরা করছেন যেনো ভাইরাস দিনের বেলা ঘুমিয়ে থাকে। এবারের ঈদে না হয় মার্কেট নাই বা করলেন বেচে থাকার জন্য। আপনাদের আশেপাশে যেসব গরীব মানুষ রয়েছে বা অভাবী মানুষ রয়েছে যারা দুর্নীতির শিকার হয়ে সরকারের খাদ্যশস্য সাহায্য হতে বঞ্চিত হচ্ছে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে তাদেরকে আপনার ঈদের খরচের টাকাটা দিয়ে বাচতে সাহায্য করুন। এতে মহান আল্লাহ সুবহানাতাআলা অনেক খুশি হবেন । আপনার আর আপনার পরিবারের উপর তার রহমত বর্ষণ করবেন । এরপরও যদি মার্কেটে যেতে ইচ্ছা করে তাহলে খেয়াল রাখবেন আপনার ঈদ আনন্দের রঙিন কাপড় যেনো সাদা কাপড়ে রূপান্তরিত না হয়ে যায় । তবে একটা কথা কি জানেন যে আমাদের দেশে ধনীরা যদি তাদের সম্পদের সঠিক হিসাব অনুযায়ী যাকাত প্রদান করতো তাহলে দেশে গরীব বলে আর কেউ থাকতো না এবং আত্মীয় স্বজনরা যদি কারোর সম্পদ আত্মসাৎ না করতো তাহলে মধ্যবিত্ত বলে কারোর অস্তিত্ব থাকতো না। আমি আমাদের দেশকে কখনো গরীব ভাবি না। এদেশের সব টাকা এক শ্রেণীর মানুষের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে যার কারণে দেশটা অসম অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সম্মুখীন হয়ে আছে যেখানে ধনীরা আরো ধনী হয়ে যাচ্ছে আর মধ্যবিত্ত এবং গরীব শ্রেণীর মানুষ দিন দিন রাস্তার ভিখারী হয়ে পড়ছে। হয়তো একদিন দুর্নীতি বন্ধ হবে এবং দেশটা প্রকৃত অর্থে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত হবে ইনশাআল্লাহ। কিন্তু তার জন্য আমাদের সবাই সবাইকে সাহায্য করতে হবে ভালো কাজ করতে এবং সবাইকে ভালোবাসতে হবে। যাইহোক সবাই ভালো থাকবেন এবং সবাইকে ভালো রাখবেন এই কামনা রইলো। আসেন সবাই এবার আমরা মানবিক হয়ে যাই।

লেখক: অভিনেতা

বিস্তারিত খবর

করোনা: প্রকৃতির প্রতিশোধ না কি মানবজাতির জন্য শিক্ষা?-২

 প্রকাশিত: ২০২০-০৫-০২ ১২:২৮:১১

ইসলামে মানবজাতির জন্য কেবলমাত্র সৎকাজগুলোই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং শান্তি ও সম্প্রীতির বিষয়গুলোই প্রচারিত হয়েছে। ইসলামের মূল বিষয় হচ্ছে ‘একমাত্র আল্লাহর উপাসনা করা’ আর অহংকার, হিংসা, সমকামিতা, অবৈধ যৌনমিলন, ভণ্ডামি, অসত্যতা, দুর্নীতি, নৈরাজ্য, খুন, নিপীড়ন, অত্যাচার ও অবিচার সহ মানবজাতির জন্যে ক্ষতিকারক সকল বিষয়কে নিষিদ্ধ করা।

পবিত্র কুরআন শরীফ কেবলমাত্র মুসলমানদের জন্য নয় সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহতায়ালা কর্তৃক সর্বশেষ ধর্মগ্রন্থ হিসাবে প্রেরিত হয়েছে। সহজ, সরল ও সৎ ভাবে জীবন-যাপনের বিষয়গুলো এখানে নির্দেশিত হয়েছে, আল্লাহর একত্ববাদ প্রচার করা হয়েছে, এবং বিশ্বাসীদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে উত্তম প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যে উপরোক্ত বিষয়গুলির সাথে কি কেউ বিরোধিতা করতে পারে বা কোনো বিতর্ক করতে পারে? তাহলে, মুসলমানদেরকে কেন নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে? নিরীহ মুসলিম মহিলাদেরকে কেন ধর্ষণ করা হয়েছে? ‘গুচ্ছ বোমা’ দ্বারা মুসলিম শিশুদের কেন হত্যা করা হয়েছে? গুয়ানতানামো উপসাগরে কেন পবিত্র কোরআনকে অপমান করা হয়েছে? কোথায় ছিল তখন মানব সভ্যতা ও মানবতাবাদী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়? সভ্য বিশ্বের নেতারা কোথায় ছিল? আল্লাহ সর্বশক্তিমান, তিনি সবকিছুই পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তিনিই বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। কুৎসিত, ও বর্বর বিশ্ব নেতারা সম্ভবত: ইসলাম, ইসলামী একেশ্বরবাদ, মুসলমান এবং পবিত্র কুরআনকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল।

বিশ্বকে অবশ্যই জানতে হবে যে, মহান আল্লাহতায়ালাই পবিত্র কুরআন ও ইসলামকে রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ কুরআনে ইরশাদ করেছেন, “আল্লাহতা’আলা তার আলোকে তিনিই রক্ষা করবেন যদিও অবিস্বাসীগণ তা নিভিয়ে দিতে চায় এবং অপছন্দ করে।” সুতরাং, মহামারী করোনা হচ্ছে প্রকৃতির প্রতিশোধ আর সীমালংঘনকারীদের জন্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ শিক্ষা। আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কোনো বিপদাপদই পৃথিবীতে আসে না এবং যে আল্লাহকে বিশ্বাস করে আল্লাহ তাকে সৎ পথে পরিচালিত করেন এবং আল্লাহতায়ালা সর্বজ্ঞাত (সূরা তাগাবুন: আয়াত -১১) পবিত্র কুরআনের এই বাক্যে চারটি (চার) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে: ১) আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোন বিপদ/বিপর্যয় নেই, ২) আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি সম্পূর্ণ বিশ্বাস ৩) সঠিক পথে পরিচালিত হওয়া, এবং ৪) আল্লাহ সর্বজ্ঞাত।

সুরা তাওবার ৫১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “আল্লাহ আমাদের জন্য যা আদেশ করেছেন তা ব্যতীত আমাদের কিছুই কখনও ঘটবে না। তিনিই আমাদের রক্ষাকারী এবংআল্লাহর প্রতি অবশ্যই মুমিনদের ভরসা করা উচিত।” সুরা আল হাদিদের ২২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না; তা জগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।” সুতরাং, আমার কোনও সন্দেহ নেই যে করোনা মানবজাতির জন্য আল্লাহ প্রদত্ত এক ভয়ানক শাস্তি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা সীমালংঘনকারীদের জন্যে ভয়াবহ শাস্তির কথা বার বার উল্লেখ করেছেন। অতীতে মানবজাতিকে সৎ পথে ফিরিয়ে আনতেও তিনি অভিন্ন শাস্তি দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদেরকে ধ্বংস করে অতীতের বিভিন্ন সময়ের মতো ‘নতুন’ জাতি তৈরি করতে পারেন বা পুনরুত্থানের দিনটিও সৃষ্টি করতে পারেন। আমি মনে করি যে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির সেরা মানবজাতিকে মহামারী করোনার মাধ্যমে শিক্ষা দিতে চান। আল্লাহ চান যে অতীতের শিক্ষা নিয়ে আমরা পাপের জন্য অনুশোচনা করি, ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আল্লাহর নির্দেশিত পথে ফিরে আসি। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে যথাক্রমে ১০০ এবং ২০০ বার ‘ক্ষমা’ এবং ‘রহমত’ শব্দের উল্লেখ করেছেন। তিনি মানবজাতিকে অনুশোচনা করার এবং তাঁর নিকট থেকে ক্ষমা ও করুণা লাভের নির্দেশ দিয়েছেন। সুরা আয যুমারের ৩৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, “হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেরাই সীমা লঙ্ঘন করেছ (মন্দ কাজ ও পাপ করে)! আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না: নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
সুতরাং করোনা আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত অতীতের মতোই ভয়াবহ এক শাস্তি যা-তে আমরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিতে পারি। বিশ্ব নেতাদের (বিশেষতঃ পশ্চিমা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ) আগ্রাসন, অন্যায়, ও বর্বরতার মাধ্যমে মানবজাতি ও মানবসভ্যতা ধ্বংস করার জন্যে আল্লাহর কাছে অনুশোচনা করার এটাই সর্বোত্তম সময়। আমাদেরকে অবশ্যই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, একমাত্র আল্লাহতায়ালার উপাসনা করতে হবে, পবিত্র কুরআনে বর্ণিত নির্ধারিত পথ অনুসরণ করতে হবে এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ন্যায়বিচার করতে হবে। মহান আল্লাহ যদি আমাদের প্রতিশ্রুতি ও কার্যোপ্রনালীতে সন্তুষ্ট হন তবে অবশ্যই তিনি মানবজাতিকে ক্ষমা করবেন এবং করোনা থেকে আমাদেরকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ, পরম করুণাময় ও সেরা বিচারক!

বিস্তারিত খবর

করোনা মোকাবিলায় চাই সঠিক পরিকল্পনা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৫-০১ ১৪:৩৩:৪৬

যেকোনো সমস্যার সমাধান ও মহামারি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেকে না বুঝে গুরুতর বিষয়ে নানা কথাই প্রায়ই বলে থাকি। বর্তমানে চলমান করোনাভাইরাসে সৃষ্ট মহামারি, মহামারি নিয়ন্ত্রণ এবং তা কতদিন অব্যাহত থাকবে, এসব বিষয়ে কেবল এক্সপার্টরাই বলতে পারবেন। তবে আমি নিশ্চিত যে, খুব তাড়াতাড়ি কিংবা সহসাই এই কোভিড-১৯ সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ কোভিড-১৯ এর টিকা আবিষ্কারের প্রচেষ্টা চলছে। তবে তা বাজারে আসতে অনেক সময় লেগে যাবে। কাজেই এই সময়টুকু আমাদেরকে কোভিড-১৯ এর সাথেই থাকতে হবে। কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ কমবে-বাড়বে, মৃত্যুহারও কমবেশি হবে এ রকম অবস্থা চলতেই থাকবে।
২.
আমি ব্যবস্থাপনার শিক্ষার্থী হিসেবে করোনাভাইরাসের সৃষ্ট পরিস্থিতির ব্যবস্থাপনার ওপর বেশি জোর দিতে চাই। করোনাভাইরাস মোকাবিলা নিয়ে আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সরকারের বিভিন্ন মহল এবং প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের নিকট থেকে শুরুতেই বিভিন্ন মতামত, বক্তব্য এবং মন্তব্য গণমাধ্যমে এসেছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই তা মোকাবিলার প্রস্তুতি সম্পর্কে আমরা অনেক কিছুই শুনেছি। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, কোভিড-১৯ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং বাস্তবতার মাঝে ব্যাপক ব্যবধান। অর্থাৎ প্রস্তুতির সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে প্রস্তুতির কোনো শেষ নেই। আমাদের চেয়ে শতগুণ ভালো ব্যবস্থাপনার দেশ ইউরোপ-আমেরিকা। তারাও বলছে যে, তাদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি রয়েছে। করোনা প্রতিরোধে আমাদের যেসব সুরক্ষা সামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে, আমেরিকা এবং ইউরোপের দেশগুলোরও একই ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। বাংলাদেশের কিছু সংখ্যক লোক করোনা প্রতিরোধ নিয়ে বেশি কিছু আশা করেছিল। তারা ধরেই নিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং প্রশাসন ব্যাপক কিছু করে ফেলবে। কিন্তু সে রকম কিছু আশা করা মোটেই উচিত হয়নি। করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশেও সময় যথেষ্ট ছিল না। করোনা প্রতিরোধে মাত্র এক-দুই মাসের মধ্যে আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার খুব বেশি উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। কারণ বাংলাদেশে গত ৫০ বছর ধরে স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় ভঙ্গুর। মোট জিডিপির এক শতাংশের কম স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ হয়েছে।

বর্তমানে চলমান কোভিড-১৯ পুরোটাই অপরিচিত সংক্রামক রোগ। এটি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি, সুরক্ষা সামগ্রী এবং সরকারের টেকনিক্যাল ব্যবস্থার যথেষ্ট ঘাটতি ছিল। করোনার সর্বশেষ পর্যায়ে এসে শ্বাসকষ্ট হয়। এর জন্য প্রয়োজন ভেন্টিলেটর। কিন্তু বাংলাদেশে পুরো জাতির জন্য রয়েছে মোট দুই হাজার ভেন্টিলেটর। এর মধ্যে ১৫০০ ভেন্টিলেটর গত আট-দশ বছরে তৈরি করা হয়েছে। এর আগে গত ৪০ বছরে বিগত সরকার, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রশাসন এত ভেন্টিলেটর তৈরি করেনি। অর্থাৎ গত ৪০ বছরে আমাদের মোট ভেন্টিলেটরের সংখ্যা ছিল ৫০০। কাজেই করোনার আবির্ভাবের পর গত কয়েক দিনে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অনেক কিছুই করা সম্ভব, এমন ভাবনা অকল্পনীয়। কাজেই সরকার কম চেষ্টা করেছে কিংবা আগে থেকে করলে আরও ভালো হত- এসব আবেগী কথা। অনেকে না বুঝেই কথাগুলো ব্যক্ত করছেন।

৩.
বর্তমানে করোনাভাইরাস পরীক্ষা কেন্দ্রের বিস্তার হয়েছে। আগে মাত্র একটি কেন্দ্রে পরীক্ষা করা হতো। এখন পর্যন্ত ২৫টির মতো কেন্দ্রে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ নেই। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার যে অবস্থা, তাতে যদি ইউরোপ আমেরিকার মতো ব্যাপক সংক্রমণ হয়, তাহলে দ্রুত তো নয়ই, অনেক সময় নিয়েও মোকাবিলা করতে পারব না। হোম কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন এবং লকডাউন শব্দগুলো পশ্চিমা বিশ্ব থেকে এসেছে। সেখানে এসব বিষয় যত সহজে করা যায়, বাংলাদেশে বিষয়গুলো ভাবা অসম্ভব। কারণ আমাদের বাসাবাড়ির যে অবস্থা, সেখানে হোম কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন এবং লকডাউনের বিষয়গুলো সম্ভব নয়। বিশেষ করে পুরান ঢাকার বাসাবাড়ির যা অবস্থা, সেখানে লোকজন এমনিতেই বাড়ির বাইরে থাকে। রাতের বেলা কেবল বাসায় ঘুমাতে যায়। বস্তিগুলোতে ঘরে থাকার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই।

এসব দিক বিবেচনায় করোনা মোকাবিলা বাংলাদেশে জন্য অত্যন্ত কঠিন কাজ। ইতোমধ্যে সে শিক্ষা আমরা পেয়েছি। দেশের মোবাইল কোম্পানি বিগ ডাটা বিশ্লেষণ থেকে তারা একটি হিসাব দিয়েছে, আমাদের দেশে ঘরে থাকার বিষয়টি ৭০ থেকে ৮২ শতাংশ পর্যন্ত সফল। যা শহরের হিসাব। তবে গ্রামে এখনও ব্যাপকভাবে করোনার বিস্তার ঘটেনি। কাজেই আমাদের বেঁচে থাকতে হলে ঘলে থাকা, সামাজিক দূরত্ব, স্যানিটাইজার এসব বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর নির্ভর হওয়ার সুযোগ খুব বেশি নেই। করোনা প্রতিরোধে আমরা যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি, তা দিয়ে আমরা কতদূর পর্যন্ত যেতে পারতাম? এত অল্প সময়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। যেসব হাসপাতাল করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোও মাত্র কয়েক বছর আগে তৈরি করা হয়েছে। মুগদা হাসপাতাল, কুর্মিটোলা হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল এগুলো ৮/১০ বছর আগে নির্মিত। কাজেই এখন রাজনীতি করার সময় নয়। আমরা যতই প্রস্তুতি গ্রহণ করি না কেন, ইউরোপ আমেরিকার মতো হতে পারব না। হোয়াইট হাউজের সামনে গিয়েও নার্সরা পিপিইর জন্য আন্দোলন করেছে। এগুলো গণমাধ্যমে এসেছে। কাজেই করোনা প্রতিরোধে প্রস্তুতির কোনো শেষ নেই। করোনায় আক্রান্ত হলে বাংলাদেশের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হবো- এমন বিশ্বাসে আশ্বস্ত হওয়া যাবে না। এখন আমাদের উচিত হবে মহামারি বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পরামর্শ নেয়া।

৪.
রাজনীতিবিদরা বলেছিলেন, করোনা মোকাবিলায় আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে রাজনীতিবিদরা রাজনৈতিক কারণে জনগণকে আশ্বস্ত করতে চান। আমাদেরকে তাদের কথায় আশ্বস্ত হলে চলবে না। যারা রাজনীতিবিদদের কথায় আশ্বস্ত হয়েছিলেন আমি তাদেরকে বোকা মনে করি। দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে জীবন ও জীবিকার ওপর প্রভাব পড়বে। তবে জীবন আগে বাঁচাতে হবে।

করোনা মোকাবিলায় ব্যবস্থাপনার ঘাটতি হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদেরকে কিছু শিল্পকারখানা স্বল্প পরিসরে চালু করতে হবে। দেশের পোশাকশিল্পের কয়েকটা ক্যাটাগরি আছে। বিশ্বমানের কতকগুলো কারখানা রয়েছে। শ্রমিকরা যদি কারখানায় না থাকে, তাহলে থাকবে কোথায়? তারা থাকবে বস্তিতে, খুপরি ঘরে। সেখানে সামাজিক দূরত্বের কোনো ব্যবস্থাই নেই। কাজেই তারা যদি কারখানায় শিফটভিত্তিক কাজ করে এবং সেখানে স্যানিটাইজার থেকে শুরু করে মাস্ক পরাসহ অন্যান্য সুবিধা থাকে, তাহলে কারখানা খুলে দিতে সমস্যা নেই। করোনা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন শারীরিক সক্ষমতা। শারীরিক সক্ষমতার জন্য পুষ্টি দরকার। আমি জানি, ৩০ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিককে দিনে নাস্তা হিসেবে একটি করে ডিম এবং কলা দেয়া হয়। শ্রমিকরা যে আট ঘণ্টা ডিউটি করবে, অন্তত সে সময় ভালো জায়গায় থাকবে। সে কারখানায় না আসলে বস্তিতে খুপরি ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে থাকত। করোনা পরিস্থিতি আমাদের জন্য নতুন। এর জন্য কেউ তৈরি ছিল না। কাজেই কী ধরনের সমস্যা হবে, সেটাও আমরা জানি না। কিছু কিছু মালিক শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থাও করতে পারেন। ঘিঞ্জি ঘরের মধ্যে ২৪ ঘণ্টা থাকার চেয়ে কারখানায় কাজ করা উত্তম।

এদিকে মুরগির খামার শেষ হয়ে যাচ্ছে। ডিম নষ্ট হচ্ছে। কৃষক কলার দাম পাচ্ছে না। কাজেই শ্রমিকরা কারখানায় এলে দৈনিক ২৫ লক্ষ ডিম এবং কলা বিক্রি হবে। কৃষি ও কৃষককে বাঁচাতে হবে। যা বাজার অর্থনীতির সাথে সম্পৃক্ত। গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আমার অত্যন্ত পছন্দের ব্যক্তিত্ব। আমি মনে করি কিট নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। আশা করছি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে। রক্ত দিয়ে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। রক্তের মাধ্যমে কোভিড-১৯ পরীক্ষা হলে ভালো হতো। ড. বিজন শীলের উচিত ছিল সংশ্লিষ্ট সবার কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করা। তবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে দ্রুত কোন সিদ্ধান্তে আসা যাবে না। বরং তা মোকাবিলায় সঠিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা অবশ্যক।


লেখক: উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়



বিস্তারিত খবর

করোনা: প্রকৃতির প্রতিশোধ না কি মানবজাতির জন্য শিক্ষা?

 প্রকাশিত: ২০২০-০৫-০১ ১৩:৫৯:০০

করোনাভাইরাস (COVID-19) সংক্রমণ চীন এর উহান প্রদেশে ২০১৯ সালের ২৭ ডিসেম্বরে শুরু হয় এবং প্রথম রোগী ২০২০ এর জানুয়ারীতে মারা যায়। তখন থেকে COVID-19 সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। ২৮ শে এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মোট ৩,০৮১,৩৬৫ জন সংক্রামিত হয়েছে এবং ২১২,৩৭৭ মানুষ মারা গেছে। প্রতি মুহূর্তে চিত্রটি বাড়ছে। কোনও ওষুধ এবং অ্যান্টিবডি উদ্ভাবিত হয়নি এবং মানুষ আজ পুরোপুরি বিপর্যস্ত। মানবজাতির মেধা ও সকল প্রকার শক্তি কার্যত: ব্যর্থ হয়েছে। এভাবে যদি আরো কয়েক মাস চলতে থাকে তাহলে পুরো সভ্যতাই হয়তো ধ্বসে পড়তে পারে।

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে কম আয়ের এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলির তুলনায় বিজ্ঞান নিয়ন্ত্রিত, উচ্চ-আয় এবং সামরিক দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলোতেই করোনার ‘সর্বনাশা’ বহুগুণ বেশি। আর বিশ্বের ‘সেরা’ শক্তি আমেরিকা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। আমেরিকার পরেই আছে তার নিকটতম মিত্র দেশগুলো। কেবল আমেরিকাতেই ১,০১০,৫০৭ জন COVID-19 এ আক্রান্ত হয়েছে, যা বিশ্বের ৩২.৭৯%। ২৮ শে এপ্রিল পর্যন্ত আমেরিকাতে মারা গেছে ৫৬,৮০৩, যা বিশ্বের ২৬.৭৫%, তারপরে ইতালি (২৬,৯৭৭), স্পেন (২৩,৮২২), ফ্রান্স (২৩,২৯৩), যুক্তরাজ্য (২১,০৯২), বেলজিয়াম (৭,৩৩১), এবং জার্মানি (৬,১২৬)। ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত COVID-19 এ আক্রান্ত হয়ে NATO ভুক্ত দেশগুলোর মোট মৃত্যু ১৮০,০০০ এর বেশি, যা বিশ্বের ৮৪.৭৭%।

অন্যদিকে, একই সময়ে সিরিয়ায় COVID-19 এ আক্রান্ত হয়েছে মাত্র ৪৩ জন আর মারা গেছে মাত্র ৩ জন, লিবিয়ায় ৬১ জন সংক্রামিত এবং ২ জন মারা গেছে, ইয়েমেনে কেবল ১ জন আক্রান্ত আর সেরেও উঠেছে সে। আফগানিস্তানে ১,৮২৮ জন আক্রান্ত হয়েছে আর মারা গেছে ৫৮ জন। রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের SHITHOLE দেশগুলিতে COVID-19 এ খুব সামান্যই ক্ষতি হয়েছে: হাইতি’তে সংক্রামিত – ৭৬ ও মৃত্যু – ৬, এল সালভাদোর: আক্রান্ত – ৩৪৫ ও মৃত্যু – ৮, এবং আফ্রিকা: ৩৪,১৯৭ এবং মৃত্যু ১,৪৭৫। আমি কখনোই অস্বাভাবিক মৃত্যু সমর্থন করি না এবং মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি যে Every Live Matters; সে মুসলিম, খ্রিস্টান বা অন্য যে কোনো বর্ণ বা ধর্ম হতে পারে। তবুও, সত্যবাদী হয়ে বলতে হবে যে সাম্প্রতিক দশকগুলিতে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা সবচেয়ে বেশি ‘ভুক্তভোগী’ ছিল। মুসলমানদের বিরুদ্ধে সব ধরণের হত্যাকান্ডকে “মৌলবাদ” বা “সন্ত্রাসবাদের” নির্লজ্জ সংজ্ঞার আবরণে পশ্চিমা অভিযানের জন্যে ‘বৈধ’ করা হয়েছিল। এমনকি শিশু, বালক, বৃদ্ধ, রোগী এবং মহিলারাও পশ্চিমা সামরিক বাহিনীর ‘বর্বর’ হত্যাকাণ্ড থেকে মুক্তি পাননি। মুসলিম বিশ্বের ‘Class Less’ নেতারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্যে ‘কথা’ বলতেও ‘ভয়’ পেয়েছেন।

লিবিয়া, ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, কাশ্মীর, ইয়েমেন এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ‘ধ্বংসলীলা’ আসলে ‘মানবতা’ এবং মানবসভ্যতাকে ‘সম্পূর্ণ’ ধ্বংস করে ফেলেছে। কেউ কাঁদেনি সেদিন – এক ফোঁটা অশ্রু বর্ষণও করেনি, কোনো মানবতাবাদী সংস্থা ‘দুঃখ’ প্রকাশও করেনি – মুসলমানদের বিরুদ্ধে ‘সবকিছু’ই যেন ‘বৈধ’ ছিল। সাদা ঐশ্বর্যে’র জনক রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প চলতি অভাবনীয় এবং অসহনীয় মৃত্যু ও আমেরিকানদের অকল্পনীয় দুর্ভোগের জন্য নিশ্চয়ই মুসলমানদেরকে মোটেই দায়ী করতে পারবেন না। যদিও তিনি মুসলিমদেরকে আমেরিকার একমাত্র ‘সমস্যা’ হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন। মসজিদগুলি নিরীক্ষণের জন্য ডাটাবেস করেছেন, মুসলমানদের surveille করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমেরিকাতে মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের অভিবাসনতো প্রায় অসম্ভব। তিনি জেরুজালেমকে ইস্রায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে কোটি কোটি মুসলমানকে হতাশ করে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরিত করেছেন। মুসলমানদের কী দোষ ছিল? মুসলিম শিশু ও নারীরা কেন এই সভ্য বিশ্বে ভুগেছেন? কিছু মুসলিম দেশকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রাখার ‘ভুয়া’ অভিযোগের আওতায় কেন ধ্বংস করা হয়েছে? আসলে তথাকথিত সভ্য ও আধুনিক রাষ্ট্রগুলোর কাছে মুসলমানদের সমস্যাগুলি ছিল: ১) ইসলামের শিক্ষাকে অনুসরণ করে মুসলিমরা একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উপাসনা করে না ২) মুসলমানরা সমকামী বিবাহ বা সমকামিতা গ্রহণ করতে পারে না কারণ আল্লাহ মানবজাতিকে এ জাতীয় আচরণের বিরুদ্ধে ‘সতর্ক’ করে দিয়েছেন। অথচ আধুনিক সভ্যতার নামে সমকামী বিবাহকে বিভিন্ন দেশে বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। সমকামিতার কারণেই আল্লাহতায়ালা লূত (আ:) এর সময়ে পুরো জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন (সূরা আল-আরাফ ৩: ৫) এবং ৩) মুসলমানরা পবিত্র কোরআনের শিক্ষাকে অনুসরণ করে, যা শেষ ও একমাত্র অবিকৃত ধর্মগ্রন্থ।

বিস্তারিত খবর

আমি একসময় শ্রমিক ছিলাম

 প্রকাশিত: ২০২০-০৫-০১ ১৩:৫১:৩৮

আমি একসময় শ্রমিক ছিলাম। সাসেক্স ইউনিভার্সিটিতে এম.এস.সি করার সময় ট্যুইশন ফিসের জন্যে পেট্রোল পাম্পে কাজ করতাম ভোর ৬টা থেকে, পাশাপাশি একটা গুদামে শ্রমিকের কাজ করতাম, আবার উইকএন্ডে রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করতাম। রাতে বাসায় ফিরতে ১ টা বেজে যেতো। শ্রমিক হিসেবে ২০/২৫ কেজি ওজনের চালের বস্তা, পেঁয়াজের বস্তা বইতে হতো, দূরে কোথাও কোনো রেস্টুরেন্টে পৌঁছে দিতে হতো। আবার রাতে ঐ জায়গাগুলো থেকে পেমেন্টের টাকা আনতে হতো। ভীষণ সাইনোসাইটিসের সমস্যা নিয়েও প্রচন্ড ঠান্ডা ফ্রিজরুমে কাজ করতে হতো। বিলেতে কাউন্টারে যখন সেলসম্যানের কাজ করেছি তখন সেরা সেলসম্যান হতে চেয়েছি। রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজে যে অনেকটা মেধা কাজে লাগাতে হয় তা নিজে ওয়েটার না হলে জানাই হতোনা। মন খারাপের সন্ধ্যা বেলায় হাসিমুখে কাস্টমারের অর্ডার আনা চাট্টিখানি কথা না। পড়ালেখার পাশাপাশি এতো কাজ করেও আমার কখনো নিজেকে ছোটো মনে হতোনা। কাজ যেমনই হোক, আমি করতাম সর্বোচ্চ সততা নিয়ে। ট্যুইশন ফিসের টাকা দেশে চেয়ে মা-বাবাকে বিপদে ফেলবার চাইতে নিজে কাজ করে উপার্জন করাই আমার কাছে ভালো মনে হতো। আমার নানা-নানী, মামা-মামীদের সবাই ওখানে। আমার নানাভাই ছিলেন বটগাছের মতো। আর আমার তিন মামা এবং তিন মামী, তাদের কোনো তুলনাই হয়না। রমজান মাসে ইফতারের সময় পেট্রোল পাম্পে ছুটি ছিলোনা। আমার ছোটমামী বাইরে থেকে শক্ত আর মনটা একদম নরম। ছোটমামী নিজে ইফতার না করে অনেকটা পথ হেঁটে এসে আমায় ইফতার পৌঁছে দিতেন- এই ঋণ কেমন করে শোধ করি? এক কাজ থেকে অন্য কাজে যাওয়ার ফাঁকে সময় থাকতো কম। বড়মামী আমার সময় বাঁচানোর জন্যে গোসলের পানি গরম করে দরোজায় দাঁড়িয়ে রইতেন। গোসল করে বের হলে প্রায়ই নতুন জামা টেবিলে গুছিয়ে রাখতেন। আর আমার নানু, পৃথিবীর সেরা নানু। আমি তাকে দিদি বলে ডাকি। দিদি প্রতিদিন একলা ঘরে শুধু আমার জন্যে মজার মজার রান্না করে পথের দিকে চেয়ে রইতেন। আমার সব রাগ-অভিমান চলতো এই দিদির উপর তবু দিদি কখনো বিরক্ত হতেননা। দিদি বিলেতে না থাকলে আমার কখনো মাস্টার্স করা সম্ভবই হতোনা। তাদের সাথেই থেকেছি, অনেক অনেক আদর-যতন আর সাহায্য পেয়েছি। তবে যখনই তারা আমার ট্যুইশন ফিস দিতে চেয়েছেন, আমি বিনয়ের সাথে না করেছি। এই টাকাটা আমি নিজের শ্রম দিয়ে কাজ করেই আয় করেছি।

২০০৫ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ইংল্যান্ডে ছিলাম। তখন মানুষ লন্ডন থাকতে চাইতো যেকোনো মূল্যে, কিন্তু সেই সময় আমি দেশে চলে এসেছিলাম, স্বেচ্ছায়। ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী ছিলো, ভালো চাকুরি ছিলো, অনেক টাকার হাতছানি ছিলো, বৃটিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিলো কিন্তু এসব কিছুই আমায় টানেনি, যতোটা টেনেছিলো আমায় আমার দেশ। সীমিত সামর্থ্যের মাঝেই দেশের কাজ করতে চেয়েছি। আমার ছাত্র-ছাত্রীকে কম্পিউটার সায়েন্স কিংবা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কঠিন বিষয়গুলো সহজ করে বুঝানোর চেষ্টা করেছি। ক্লাসে হাসিখুশি থেকে পরীক্ষার হলে কড়া হয়েছি। পড়ার ফাঁকে সময় যখনই পেয়েছি- সহজ ভাষায় দেশকে ভালোবাসা শিখিয়েছি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শিখিয়েছি, মা-বাবাকে সম্মান করতে বলেছি আর সকল রকম শ্রম এবং শ্রমজীবী মানুষকে মর্যাদা করা শিখিয়েছি। বন্ধুদের কাছ থেকে টাকা উঠিয়ে কর্মহীন মানুষকে পরিশ্রম করে কর্মসংস্থানের পথ দেখানোর চেষ্টা করেছি। নিজের শ্রম দিয়ে কি করে স্বাবলম্বী হওয়া যায়- সেই পথ বাতলে দেওয়ার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছি।

আজ ১লা মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে উপযুক্ত মজুরি আর দৈনিক সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে ওই শহরের হে’ মার্কেটের শ্রমিকরা। মিছিলে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় পুলিশ। এতে ১১ শ্রমিক নিহত হন। আহত ও গ্রেফতার হন আরও বহু শ্রমিক। পরে প্রহসনমূলক বিচারে ৬ জন শ্রমিককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এতে বিক্ষোভ আরও প্রকট আকার ধারণ করে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাবিশ্বে। পরবর্তীতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ১৮৮৯ সালের ১৪ই জুলাই ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৮৯০ সাল থেকে দিনটি ‘মে দিবস’ বা ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। সবাইকে অনুরোধ, প্রতিটা শ্রমিকের প্রতি ফোঁটা ঘামের মর্যাদা দিতে শিখুন। রিকশাচালক, দিনমজুর, চা-য়ের দোকানের পিচ্চি ছেলেটা, বাসার কাজের মেয়েটা, ড্রাইভার, দোকানের সেলসম্যান, অফিসের পিয়ন, রেস্টুরেন্টের ওয়েটার কিংবা এমন পেশার মানুষদেরকে ছোটো করে না দেখে তাদের দীর্ঘশ্বাস শুনুন। তাদের সাথে জবরদস্তুি না করে আবেগ নিয়ে কাজ করুন। কঠিন করে শক্ত কথা না বলে ভালোবেসে হাসিমুখে কথা বলুন। ভদ্র পোশাকের আমাদের চাইতে ময়লা কাপড়ের ওরাই হয়তো বেশি সৎ। হয়তো আমাদের আয়ের চাইতে তাদের আয়টুকু সৃষ্টিকর্তার কাছে বেশি পছন্দের। হয়তো তাদের সাথে উত্তম ব্যবহারের কারণে হাশরের মাঠে শেষ বিচারের দিন আপনি-আমি হবো সৌভাগ্যবান। সকল শ্রমজীবী ভাই-বোনদের জন্যে অনেক শ্রদ্ধা...


লেখক: সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, লিডিং ইউনিভার্সিটি, সিলেট, বাংলাদেশ

বিস্তারিত খবর

করোনা পরবর্তী পৃথিবীতে যে ৯টি পরিবর্তন নিয়ে আসবে!

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-২১ ১০:০২:৪৩

মানব সভ্যতা এখন এক বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলা করছে। সম্ভবত আমাদের এই প্রজন্মের সবচেয়ে বড় সংকট। বিভিন্ন দেশের সরকার এবং জনগণ আগামী কয়েক সপ্তাহে যে সিদ্ধান্তগুলো নেবে তা আমাদের ভবিষ্যত পৃথিবীর গতিপথ, চরিত্র বদলে দেবে। এই বদলে যাওয়াটা যে শুধু আমাদের স্বাস্থ্য পরিষেবা পদ্ধতিতে হবে, ব্যাপারটা তেমন নয়। বদলে যাবে আমাদের অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সংস্কৃতির গতিপথ।
কেমন হতে পারে করোনা পরবর্তী পৃথিবী? কী কী পরিবর্তন আসতে পারে ‘বিশৃঙ্খলা তত্ত্ব’ দিয়ে সেটা বুঝিয়েছেন একদল গবেষক। তারা বলছেন, করোনাভাইরাস ভূমিকম্পের মতো আফটার শক দিয়ে বিশ্বকে স্থায়ীভাবে পুনর্নির্মাণ করবে। এক্ষেত্রে নয়টি বড় পরিবর্তনের কথা বলেছেন তারা।

১. দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়বে

নানা ধরনের স্বল্পমেয়াদী জরুরি অবস্থা তখন আমাদের জীবনে হয়ে যাবে ডাল-ভাতের মতো। খুব বড়সড় বিপর্যয় বা জরুরি অবস্থার চরিত্রই এরকম। ঐতিহাসিক সমস্ত প্রক্রিয়াকে খুব দ্রুত ঘটিয়ে ফেলে। সাধারণ সময়ে আমাদের যে সিদ্ধান্ত নিতে এবং বাস্তবায়নে লেগে যেত বছরের পর বছর, বড়সড় বিপর্যয়ে তা হয় অসম্ভব দ্রুত।

২. পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাড়বে

একটা দেশ তখন কিন্তু বেশ বড় মাপে একটা সামাজিক নিরীক্ষার জায়গা হয়ে যায়। যেমন সবাই বাড়িতে থেকে কাজ করলে এবং দূরত্ব মেনে যোগাযোগ বজায় রাখলে কী হয়? সমস্ত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে চলে গেলে কি ঘটনা ঘটবে? স্বাভাবিক সময় কোন দেশের সরকারই এ ধরনের কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় রাজি হতো না।

৩. অভ্যাস থেকে যাবে

এক ক্রান্তিকাল পার করছি আমরা। করোনার সংক্রমণ এড়াতে আমরা বর্তমানে হোম কোয়েরেন্টিন পালন করছি, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছি। করোনা ঝড় থামলেও এই অভ্যাস থেকে যাবে। প্রযুক্তিভিত্তিক যোগাযোগ বেড়ে যাবে। তবে দরিদ্র এবং ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলি বিশেষত অপ্রস্তুত এবং দুর্বল থাকবে।

৪. প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকিতে পড়বে

সরকার ও কর্পোরেট ব্যবস্থা বড় ধাক্কা খাবে। অনেক বড় বড় সংস্থাগুলি ধসে পড়বে। বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেট থেকে শুরু করে বিমান শিল্প, অফিস ভবন, শপিংমল, এয়ারলাইনস এবং বিমানবন্দরগুলি প্রচুর ঝুঁকিতে পড়বে। অর্থনৈতিক পতনের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের অনেক দেশের সরকার পড়ে যেতে পারে।

৫. পেট্রো-রাজ্যগুলো ধসে পড়বে

ইকুয়েডর থেকে ইরান পর্যন্ত পেট্রো-রাজ্যগুলোতে রাষ্ট্র ব্যবস্থার পতন কোনও অবাস্তব দৃশ্য নয়। তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় ভেনিজুয়েলার সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অতি মুদ্রাস্ফিতি এবং অনাহার আরও বেড়ে যাবে। এছাড়া তেলের দাম পড়ে যাওয়া ও হজ বাতিলের ফলে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। দেশটির বৃহত্তম আয়ের উৎস এই দুটি খাত। ভাইরাসের সংক্রমণ এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় এমনিতেই ইরানের অবস্থা খারাপ। করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক দুরাবস্থা ইরানের সরকারকে ফেলে দেবে এমন সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।

৬. অভিবাসী সংকট দেখা দেবে

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়ায় ব্যর্থ রাষ্ট্রগুলো থেকে নিশ্চিত জীবনের আশায় লোকেরা ইউরোপ-আমেরিকার মতো উন্নত দেশে পাড়ি জমাতে মরিয়া চেষ্টা করবে। আন্তর্জাতিক বাঁধা-নিষেধ উপেক্ষা করে তারা শরণার্থী হিসেবে বিভিন্ন দেশে প্রবেশ করবে। এরই মধ্যে তুরস্ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা চিরকালীনভাবে ৪ কোটি সিরিয়ান শরণার্থীর চাপ সহ্য করতে পারবে না। প্রয়োজনে তারা ইউরোপীয় সীমান্ত খুলে দেবে। মিশর, সুদানের, মেক্সিকোর মতো দেশগুলো থেকে লোকেরা দলে দলে ইউরোপে ঢুকবে। ফলে অভিবাসী সংকট বাড়বে।

৭. জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটবে

অনেক দেশ অভিবাসীদের ঢল বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটবে। খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহ, শস্য রফতানি ইত্যাদি কারণে জাতীয়তাবাদ মাথা চাড়া দেবে। অভিবাসীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে স্থানীয়রা। ইউরোপের অসংখ্য দেশে রক্তক্ষয়ী সংঘাতও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

৮. প্রযুক্তি ব্যয় হ্রাস পাবে

করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব কমাতে এবং আরও স্থিতিশীল ও টেকসই দিকনির্দেশে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা আজ কোন বড় বিনিয়োগের কথা চিন্তা করতে পারি না। বর্তমানে জৈব প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে বৃহত্তম বিনিয়োগ শুরু করার সুস্পষ্ট জায়গা। তবে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে প্রযুক্তিগত দিকে বড় বিনিয়োগ কমে যাবে।

৯. সভ্যতার সংকট সৃষ্টি হবে

করোনাভাইরাস মানব সভ্যতার জন্য ১/১১ এর চেয়েও বড় পরীক্ষা এবং একই সঙ্গে আর্থিক সংকট হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে। এটি একটি বিস্ময়কর ধাক্কা যা বিশ্বব্যবস্থাকে ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে। জৈবিক ও সভ্যতা উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক বিবর্তন আসবে। সরকারী-বেসরকারী খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং স্বল্পমেয়াদি ত্যাগের লক্ষ্যে যোগাযোগ অর্জনের মতো দীর্ঘমেয়াদী অগ্রাধিকারগুলি থমকে যাবে। অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকটের কারণে যুদ্ধ-বিগ্রহ বেড়ে যাবে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সন্ত্রাসবাদ বৃদ্ধি পাবে।

বিস্তারিত খবর

করোনা মোকাবেলায় জার্মান অভিজ্ঞতা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৩ ০৮:১৩:৫৩

করোনাভাইরাসের ভয়াবহ ছোবলে গোটা বিশ্ব আজ উদ্বিগ্ন ও বিপর্যস্ত। দেশে দেশে মৃত্যুর মিছিল দেখে বিশ্ববাসী এখন দিশেহারা। এ দুঃসময়ে বিশ্বের প্রতিথযশা বিজ্ঞানী, চিকিৎসক থেকে শুরু করে প্রভাবশীল রাজনীতিক ও নীতিনির্ধারকরা কেমন জানি থমকে গেছেন।

ইউরোপের কয়েকটি দেশ যেমন-ইতালি, স্পেন, ফ্রান্সে এখন লকডাউন অবস্থা বিরাজ করছে। ইউরোপসহ বিশ্বের এ মহামারী অবস্থায় অন্যসব দেশকে অনুসরণ না করে জার্মানি অনুসরণ করছে তাদের নিজস্ব পন্থা। জার্মানির অভিজ্ঞতার আলোকে আমার কিছু ব্যক্তিগত শিক্ষণীয় তথ্য এখানে আলোকপাত করছি।

জার্মানির ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৫ হাজার লোকের কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে। দেশটিতে এ ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে ১ হাজার ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ইউরোপের অন্য কয়েকটি দেশের তুলনায় অতি নগণ্য।

জার্মানিতে আক্রান্তের হারের চেয়ে মৃত্যুর হার অনেক কম কেন এমন প্রশ্নের জবাবে জার্মানির ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিয়ান ড্রসটেন বলেন, মৃত্যুহার এত কম হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে জার্মানিতে প্রচুর পরিমাণে করোনার ল্যাব টেস্ট করানো হচ্ছে।

উদাহরণস্বরূপ তিনি উল্লে­খ করেন, গত এক সপ্তাহে জার্মানিতে অর্ধ মিলিয়ন অর্থাৎ ৫ লাখ করোনা টেস্ট করানো হয়েছে। এজন্য এখানে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলে মৃত্যুর সংখ্যা খুবই কম।

এ প্রসঙ্গে আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমি জার্মানির বন শহরের যে এলাকায় বাস করি সেখানকার একটি স্কুলের একজন শিক্ষকের করানো টেস্ট পজিটিভ পাওয়া গিয়েছিল বিধায় ওই স্কুলের ১৮৫ শিক্ষার্থী তাদের পুরো পরিবার এবং স্কুলের সব স্টাফের পরিবারসহ টেস্ট করানো হয়েছিল এবং সব ক’টি পরিবারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত লকডাউন অবস্থায় রাখা হয়েছিল। এরপর পর্যায়ক্রমে শহরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যায়ামাগার, নাইট ক্লাব ও রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এ অবস্থায় দেশটির প্রায় অর্ধেকের বেশি মানুষ বাসায় বসে অফিসের কাজ করেছে। গণপরিবহনগুলো স্বাভাবিক হলে লোকজন কমে গেছে প্রায় ৫০ শতাংশ।

ড্রাইভারের নিরাপত্তার স্বার্থে বাসগুলোর সামনের দরজা লক করে দেয়া হয়েছে। সব ধরনের সভা-সমাবেশ, সামাজিক প্রোগ্রামগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ৫০ জনের বেশি লোক এক জায়গায় সমবেত হওয়া নিষিদ্ধ, দুজন লোকের বেশি একসঙ্গে চলাফেরা করা যাবে না এবং একজন মানুষ থেকে আরেকজনের দূরত্ব কমপক্ষে ১.৫ মিটারের বেশি বজায় রেখে কথোপকথন ও চলাফেরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সুপারশপগুলোতে কেনাকাটার জন্য সবাইকে নির্দিষ্ট ট্রলি ব্যবহার এবং একসঙ্গে দু’জনের বেশি প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। এখানে বিধিনিষেধগুলো খুব কঠোরভাবে আরোপ না করা হলেও সবাই নিজের দায়িত্ববোধ থেকে অধিক সতর্কতার সঙ্গে দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লে­খ্য, এখন পর্যন্ত আমি কোনো জার্মানকে মুখে মাস্ক আর হাতে গ্লাভস পরতে দেখিনি। এদের ধারণা অনুযায়ী, ভাইরাস কখনও বাতাসে ছড়ায় না, তারপর করোনাভাইরাসটি ওজনে একটু ভারি হওয়ায় এক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার খুব ফলপ্রসূ নয়। যেহেতু ভাইরাসটি আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির সিক্রেশন ড্রপলেটের মাধ্যমে অন্য কাউকে সংক্রমণ করতে পারে, সেহেতু এখানে সামাজিক দূরত্ব তথা একজন মানুষ থেকে আরেকজনের কমপক্ষে ১.৫ মিটার দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করে দেয়া হয়েছে।

প্রায় সব অফিস খোলা রাখা হয়েছে; কিন্তু কাজের ঘণ্টা নমনীয়। অফিসের প্রায় সব কাজ ই-মেইলে বা ফোনের মাধ্যমে করা যাচ্ছে। কিন্তু জরুরি কোনো কাজ অ্যাপয়নমেন্ট নিয়ে করতে হচ্ছে। বিভিন্ন অফিস, সুপারশপ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারের প্রধান দরজাগুলোর ওপর নোটিশে সবকিছুর নির্দেশনা দেয়া আছে। আর হাত ধোয়ার জন্য ওয়াশরুমগুলোতে রাখা হয়েছে বিশেষ স্যানিটাইজার।

করোনা প্রতিরোধে জার্মানি মূলত তিনটি পন্থা অবলম্বন করেছে, তা হচ্ছে-অনুসন্ধান, আইসোলেশন আর রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা প্রদান। কোভিড-১৯ আক্রান্তে কোনো উপসর্গ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক টেস্ট করানো, টেস্ট পজিটিভ হলে সেই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা সম্ভাব্য সবার টেস্ট করানো হচ্ছে।

যাদের টেস্ট পজিটিভ হচ্ছে তাদের সম্পূর্ণরূপে আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাদের অবস্থা খুব ক্রিটিকাল তাদের হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। মৃদু উপসর্গ, এমনকি সম্পূর্ণ সুস্থ ব্যক্তিরা প্রচুর পরিমাণ শারীরিক ব্যায়ামের দ্বারা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার মাধ্যমে এ ভাইরাস প্রতিরোধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। যেহেতেু ভাইরাসটির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি, তাই জার্মানরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সচেতনতাকেই এ মহামারীর হাত থেকে রক্ষার একমাত্র কৌশল হিসেবে অবলম্বন করেছে।

পরিশেষে জার্মানির অভিজ্ঞতা থেকে আমি যে বার্তাটি বাংলাদেশের সবাইকে দিতে চাই, সেটি হচ্ছে যেহেতু উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের বেশি বেশি টেস্ট করানোর সক্ষমতা নেই, তাই পুরোপুরি লকডাউন হতে পারে আমাদের সর্বোত্তম পন্থা।

সর্দি, জ্বর আর কাশি এ তিনটি উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে না গিয়ে সম্পর্ণরূপে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত। অন্যান্য প্রয়োজনীয় সতকর্তা অবলম্বনের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের প্রতিদিনের শারীরিক ব্যায়াম আর ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবারের কোনো বিকল্প নেই।

মনে রাখবেন, করোনা মানেই মৃত্যু নয়, তাই গুজবে কান দিয়ে আতঙ্কিত হবেন না। সচেতনতাই এর একমাত্র সমাধান।

লেখক: মো. নূর-ই-আলম সিদ্দিকী

পিএইচডি ফেলো, ইউনিভিার্সিটি অব বন, জার্মানি; সহকারী অধ্যাপক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর



এলএবাংলাটাইমস/এম/এইচ/টি

বিস্তারিত খবর

করোনা ভাইরাস: কিছু তথ্য এবং আমাদের দেশে করণীয়

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৩ ০৭:১৫:৪০

আমি ডাক্তারি পেশার সঙ্গে জড়িত কেউ নই। তার পরও সারা বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাসের বর্তমান মহামারির সময় আমার সাধারণ জ্ঞানলব্ধ কিছু কথা এখানে তুলে ধরতে চাই। আশাকরি দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কথাগুলো অপ্রাসঙ্গিক হবে না।

১) আমি বেশ কিছুদিন আগে থেকে লক্ষ করছি—পৃথিবীর বিষুবরেখা থেকে উত্তরের কর্কটক্রান্তি এবং দক্ষিণে মকরক্রান্তির মাঝে থাকা গ্রীষ্ম প্রধান দেশগুলোতে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব দেখা গেলেও সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশর, আলজেরিয়া, মরক্কো, মেক্সিকো, কিউবাসহ উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বিষুবরেখা সংলগ্ন স্থানগুলোতে এ ভাইরাস এখনো তেমনভাবে মহামারি আকারে দেখা দেয়নি এবং কোভিড-১৯ জনিত কারণে মৃত্যুর হারও কম। এ বিষয়টির যথার্থতা বিবেচনায় আনার ব্যাপারে বেশ কিছু স্বনামধন্য ডাক্তার এবং বিজ্ঞানীরাও সহমত পোষণ করা শুরু করেছেন। বিষয়টি সত্য হলে আমাদের মতো স্বল্প উন্নত বা গরিব দেশগুলোর জন্য সেটা হবে বিরাট একটি আশীর্বাদ।

২) ডাক্তার, বিজ্ঞানীদের মতে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের ৮০-৮৫ শতাংশ রোগী এমনিতে ভালো হয়ে যায়। বাকি ১৫-২০ শতাংশ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন পড়ে। এসব রোগীদের ‘ফাইব্রাসিস’ জনিত কারণে ফুসফুসের কার্যক্রম বন্ধ বা আংশিক বন্ধ হয়ে গেলে তাদের চিকিত্সার জন্য ‘ভেন্টিলেটরের’ (VENTILATOR) প্রয়োজন হয়। ভেন্টিলেটরের সাহায্যে কৃত্তিমভাবে এসব রোগীকে অক্সিজেন সরবরাহ করে ১-২-৩ সপ্তাহ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হলে, এসব রোগীদের ২-১ শতাংশ ছাড়া বেশির ভাগ রোগী আরোগ্য লাভ করেন। তা না হলে, ভেন্টিলেটরের সাহায্য ছাড়া, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এই ১৫-২০ শতাংশ রোগীর প্রায় সকলেই মারা যাবেন।

৩) আমরা প্রায়শই ‘আইসিইউ’ (ICU) কথাটি শুনে আসছি। এসব আইসিউর প্রধান যন্ত্র ভেন্টিলেটর। এ যন্ত্রটি চালনা করার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘এনেস্থিওলজিস্ট’ (ANESTHESIOLOGIST), নার্স ও সহকারীদের প্রয়োজন হয়। এখন প্রশ্ন উঠবে এ বিষয়ে আমাদের সক্ষমতা কতটুকু? আমার জানা মতে, ‘কোভিড-১৯’ মোকাবিলা করার মতো পর্যাপ্ত আইসিইউ বেড আমাদের দেশে নাই এবং শীত প্রধান দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও যদি এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে সেক্ষেত্রে অসংখ্য আইসিইউ বেড তৈরি করে এসব রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা একটি দুরূহ বা অসম্ভব কাজ হবে বলেই আমার নিজস্ব ধারণা।

আমার জানামতে, দেশে ১ হাজারের বেশি এনেস্থিওলজিস্ট ডাক্তার আছেন। নার্স এবং সহযোগীদের সংখ্যাও কম নাই। এদের মধ্য থেকে এসব আইসিউগুলো পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার-নার্স-সহযোগীদের বেছে নিয়ে, এই আপত্কালীন সময়ের জন্য তাদের সবার বেতন বাড়িয়ে এবং গ্রুপ বিমার আওতায় আনা গেলে, আমার বিশ্বাস, তারা এ কাজে অংশ নিতে রাজি হবেন। ১৫ দিনের একটি ‘ক্রাশ প্রোগ্রামের’ মাধ্যমে তাদেরকে প্রশিক্ষিত করে তোলা সম্ভব।

৪) আমাদেরকে সঠিক মানের মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও ভাবতে হবে। ২-৩ দিন আগে বিদেশি একটি খবরে দেখলাম, ইতালির স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ‘এস্পেসিফিকেশন’ (SPECIFICATION ) সঠিক না থাকার জন্য, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ৬০ লাখ মাস্কের একটি চালান ব্যবহার অযোগ্য ঘোষণা করেছেন ! আমি জানি না আমাদের দেশে ব্যবহারকৃত মাস্কগুলো N৯৫ মানের কি না। তবে এ ধরনের মাস্কগুলো খুবই ব্যয়বহুল। সেক্ষেত্রে সরকার চাইলে পর্যাপ্ত সংখ্যক ‘সার্জিক্যাল মাস্ক’ আমদানি করার ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। বর্তমানে ব্যবহারকৃত মাস্কগুলোর বেশির ভাগই সম্ভবত মানসম্পন্ন নয়।

৫) আমাদের মতো জনবহুল একটি দেশে সকল নাগরিকের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করানো একটি কঠিন কাজ। তার পরও যেসব মানুষ তাদের কোভিড-১৯ হয়েছে এমন ধারণা থেকে ‘আইডিসিআর’ (IEDCR) প্রদত্ত টেলিফোন নম্বরে ফোন করেন, তাদের সকলকে পরীক্ষা করানোর সুযোগ করে দেওয়া উচিত হবে । এসব সন্দেহজনক মানুষের ভেতরে যদি গুরুতরভাবে আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়, তাদেরকে সত্তর এ্যাম্বুলেন্সে করে আইসিইউ সমৃদ্ধ বিশেষায়িত স্থায়ী/অস্থায়ী হাসপাতালে এনে চিকিত্সা করানোর ব্যবস্থা করাতে হবে।

৬) দুই দিন আগে বেশকয়জন তরুণ ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার মিলে একটি ভেন্টিলেটর যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন এমন একটি খবর কাগজে পড়েছি। বিষয়টি আশা জাগানিয়া। ঘটনাটি সত্য হলে আমাদের প্রশাসনের উচিত হবে অতি সত্তর বিষয়টি যাচাই করে দেখা এবং যন্ত্রটি ব্যবহারযোগ্য হলে সেটিকে ব্যবহারে নিয়ে আসা, প্রয়োজনে, তাদেরকে আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা করা। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনেক দেশপ্রেমিক নাগরিক, ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থাও হয়তো এসব কাজে এগিয়ে আসবেন। সেক্ষেত্রে, সরকারের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, এ ধরনের বিষয়গুলো জানার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসন যেন তাদের কাছে পৌঁছে গিয়ে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

পরিশেষে, লন্ডনের ‘রয়েল লন্ডন হাসপাতালের’ এক জন বাঙালি ডাক্তারের কিছু কথা দিয়ে লেখাটি শেষ করব।

‘COVID 19’ মহামারির এই দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন তিনি যেন এই মুহূর্ত থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে নিজের হাতে তুলে নেন। বিলেতের এনএইচএস NHS এ কাজ করার সুবাদে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমি এই রোগের ভয়াবহতা দেখেছি। পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্বাস্থ্যব্যবস্থা হওয়া সত্ত্বেও এদেশে পরিস্থিতি যে কতখানি মারাত্মক তা বলে বা লিখে বোঝানো সম্ভব নয়। আমি এই ভেবে শিউরে উঠছি যে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভয়ংকর এই পরিস্থিতিকে কীভাবে মোকাবিলা করবে। আপাতত ‘মেইক শিফট ব্যবস্থার’ মাধ্যমেও যদি অন্তত আরো ২-১ হাজার আইসিইউর ব্যবস্থা করা যায় তাহলেও অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।

এই যুদ্ধের সম্মুখযোদ্ধাদের (চিকিত্সক, নার্স- সহযোগী) অনেককেই করুন পরিণতি বহন করতে হবে। সারা বিশ্বের মানুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের বাহবা দিন, তাদের উদ্দীপ্ত করুন। বিশ্বাস করুন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা তাদের সর্বস্ব দিয়ে আপনাদের বাঁচানোর চেষ্টা করবে।’

লেখক :মাস্টার মেরিনার (আয়ারল্যান্ড) এএফএনআই (লন্ডন) ও শিপিং কনসালটেন্ট


এলএবাংলাটাইমস/এম/এইচ/টি

বিস্তারিত খবর

ক্ষমতা দখলের তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ‌‌‌‘করোনা’!

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৩ ০৬:৫৫:০৬

বিশ্ব অর্থনীতি বা ক্ষমতা দখল নিয়ে বহু বছর ধরে একটা স্নায়ূযুদ্ধ চলছিল যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে। যেটা পৃথিবীর সকলের কাছে ছিল ওপেন সিক্রেট। সবাই জানতেন বিশ্ববাজারে নিজেদের সেরা প্রমাণের জন্য সমাজতান্ত্রিক চীন ও পুঁজিবাদী আমেরিকার লড়াই শুরু হয় ৯০ এর দশক থেকেই। যা ২০০০ সাল থেকে প্রকট হতে থাকে। তবে সবকিছুকে এখন ছাপিয়ে বিশ্বে আলোচনার বিষয় করোনাভাইরাস। যার জন্ম হয়েছে, চীনের উহান শহরে। যে শহরেই রয়েছে ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ভাইরাসবিদ্যার অন্যতম বড় গবেষণাগার। যেটিকে পৃথিবীর অন্যতম সেরা ভাইরাসবিদ্যার গবেষণাগার হিসেবেও ধরা হয়। তাই প্রথম থেকেই নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা চলতে থাকে।

নভেম্বরে চীনে প্রথম করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়। তার আগে থেকেই কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা বিভাগগুলোতে। দক্ষিণ চীন সাগরে বেশ কিছু আমেরিকান চালকবিহীন ছোট ছোট সাবমেরিন পায় জেলেরা। যেগুলো যদিও অকেজো অবস্থাতেই উদ্ধার করা হয়। কিন্তু সেই সময়ই চীন দাবি করে, সাবমেরিনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের। যেগুলো দিয়ে হয় তারা চীনের উপর নজরদারি করছে অথবা চীন সাগরে বিশেষ কোনও প্রজেক্টে কাজ করছে। এরপর যখন করোনাভাইরাস চীনে ছড়াতে শুরু করলো তখন চাইনিজ আর্মির পক্ষ থেকে বলা হলো, সাবমেরিনগুলো মূলত ভাইরাস ছড়ানোর কাজ করেছে। তাই মাছের বাজার থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে। এছাড়াও চাইনিজ গোয়েন্দারা কিছু ভিডিও ছাড়ে যাতে দাবি করা হয়, আমেরিকার এজেন্টরা ভাইরাস কাশি দিয়ে চীনের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ছড়াচ্ছে।
চীনের দাবিতে ঘি ঢালতে শুরু করেন রাশিয়ান গবেষকরা। তারা দাবি করেন, ভাইরাসটি অ্যাকটিভ করা হয় নিউইয়র্কের একটা গবেষণাগারে। ফলে আলোচনা শুরু হয়ে, যুদ্ধটা শুরু করেছে আমেরিকা, চীনকে ধ্বংস করার জন্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে। দোষ চাপায় চীনের উপরই। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প তো এটাকে ‘চীনের ভাইরাস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে কয়েকদিনের ভেতর ঘুরে যায় দৃশ্যপট। চীন ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে উঠলো। আর ছড়িয়ে পড়লো চীনের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোতে। আর সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত চীনের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপের দেশগুলো।

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন এই বায়োলজিক্যাল অস্ত্র ব্যবহার করে অর্থনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি পৃথিবীর নেতৃত্বও নিয়ে নিলো চীন। আর এর পেছনের অন্যতম চালক হচ্ছে ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়া। তাই তো অনেকেই বলছেন, কোনও গুলি না চালিয়েই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধটা জিতে নিলো চীন! আর তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে, সৈনিকের চেয়ে অনেক বেশি সম্মান বেড়ে গেল যুদ্ধের ময়দানে ডাক্তার পেশার। আর গতানুগতিক অস্ত্রের দাম কমে বেড়ে গেল স্বাস্থ্য সূরক্ষা ইকুইপমেন্টের।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/সি

বিস্তারিত খবর

এই নিউইয়র্ক আমি চাই না

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২৭ ১৯:৩৬:৪৩

আসছে গ্রীষ্মে আমার নিউইয়র্কে বাসের এক যুগ পূর্ণ হবে। বেশি দিন ধরে নিউইয়র্কে বাস করছেন এমন কেউ হয়তো বলবেন, এক যুগ তথা ১২ বছর এমনকি সময়? যা নিয়ে ঘটা করে কিছু বলতে বা লিখতে হবে। তা আমারও জানা। তবুও নিউইয়র্ক ঘিরে আমার ব্যক্তিগত ভালোবাসা ও উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা নিয়ে নিজ অভিব্যক্তি লেখা উচিত বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে।
আমেরিকাতে আসা অভিবাসীদের নিয়ে একটি কথা প্রচলিত আছে। তা হলো—অভিবাসীদের বয়ে নিয়ে আনা বিমানটি যে শহরে অবতরণ করবে, অধিকাংশ প্রবাসীদের জীবনগল্পের শুরু এবং শেষ এই শহরকে নিয়েই। নিজ জীবন নাটকের চিত্রনাট্য লেখা ও মঞ্চস্থ হয় সেই প্রথম আসা শহরে। সে ক্ষেত্রে আমার চিত্রনাট্য বেশ ব্যতিক্রম। ২০০৬ সালে আমেরিকা এসে উঠলাম ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে ভাইয়ের বাসায়। নিজের চাকরিসহ সন্তানদের লেখাপড়ার শুরু হলো বেশ ভালোভাবে। তবে এমনতর পরিবেশ আমার প্রথমে মোটেই ভালো লাগেনি। একঘেঁয়ে যাপিত জীবন। মনে শান্তি নাই। গতানুগতিক জীবন বাস। সকালে উঠে কাজে যাও। বিকেলে কাজ থেকে নিজ বাসায় টিভির সামনে বসে সময় কাটানো অথবা কোন স্বজন অথবা ভাই–ভাবিদের নিয়ে স্বল্প সময়ের নিরামিষ আড্ডা। প্রতিদিন ভাই–ভাবির একই চেহারা দেখে দেখে অনেকটা অসহায় হয়ে একদিন ভাবিকে বললাম, ভাবি আগামীকাল যদি পারো একটি মুখোশ পরে আস। তখন হয়তো আমার মনে হবে নতুন একটি চেহারা দেখতে পেলাম।
পাঠকেরা হয় তো ভাবছেন, আমি একজন বোহিমিয়ান টাইপের কেউ। আসলে তা নয়। দেশে থাকতে আমি প্রায় প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক সমাবেশ ও খেলাধুলায় সংযুক্ত থাকতে ভালোবাসতাম। যা এখানে এসে পুরোপুরি পাওয়া ছিল দুষ্কর। তবে বর্তমানে আমেরিকার সর্বত্র অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক উৎসবের কমতি নেই। অনেক স্থানে তা বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ বটে। নিউইয়র্কের বন্ধু–বান্ধব, অনেক চেনা স্বজনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত ফোনে যোগাযোগ থাকাতে নিউইয়র্কের সব সামাজিক অনুষ্ঠানের হালনাগাদ খবর বরাবর পেতাম। বছরব্যাপী আয়োজিত সব উৎসবসহ আঞ্চলিক নির্বাচন আয়োজনের খবর শুনে মন খুবই খারাপ হতো। ভাবতাম যদি নিউইয়র্কে অভিবাসী জীবন শুরু করতাম, সবাইকে এভাবে এক সঙ্গে পেতাম।
নিউইয়র্কে ফিরে আসার ইচ্ছে ও আকুলতা একেবার চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে আসায় কোন পূর্বপরিকল্পনা না করেই হট করে চলে এলাম ভালোবাসা আর স্বপ্নের নিউইয়র্ক শহরে। কুইন্সের উডসাইডে তিন রুমের বাসা ভাড়া নিলাম একটু আয়েশে থাকার অভিপ্রায়ে। নিউইয়র্ক বাসের প্রথম দিন বাসার পাশে বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা উডসাইডে নিউইয়র্কের বৃহত্তম আঞ্চলিক সংগঠন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। নগরজুড়ে তিনটি ভোট কেন্দ্রের একটি উডসাইড। সেখানে উপস্থিত হয়ে একেবারে হতবাক। কেন্দ্রের চারপাশে সিলেটী অভিবাসী ছাড়াও নিউইয়র্কে বসবাসরত অন্যান্য জেলার নেতৃবৃন্দ সদলবলে উপস্থিত। পুরো এলাকা দেশীয় স্টাইলে ভোট প্রদানের পরিবেশে উৎসবমুখর। সেই আনন্দঘন পরিবেশে হঠাৎ দেখা আমার একজন আত্মীয়ের সঙ্গে, যিনি আমাকে ম্যারিল্যান্ডেও দেখেছিলেন। তিনি আমাকে দেখেই বলে উঠলেন, আজ দেখি আপনি ভীষণ খোশমেজাজে আছেন! আপনি পুরোই বদলে গেছেন। উত্তরে বললাম, সুবোধ বালকেরা নীরব বনে সুন্দর, আড্ডাবাজরা রাস্তার মোড়ে। হেসে উত্তর দিলেন, দারুণ বললেন ভাইজান।
প্রথমে মাসখানিক গেল আত্মীয়স্বজনের বাসায় দাওয়াত নিমন্ত্রণের আবদার রক্ষা করতে করতে। চাকরি নিয়ে সবার নানা পরামর্শ আর উপদেশের কমতি নেই। তবে আমি একটু বেশি নিশ্চিত হয়ে বসে রইলাম। ধারণা ছিল, নিউইয়র্কের তুলনায় অনেক ক্ষুদ্র রাজ্য ম্যারিল্যান্ডে চাকরি পেলাম অল্প কয়দিনে। আর নিউইয়র্কের মত শহর যেখানে হাজার হাজার সেবা প্রতিষ্ঠান আর বাণিজ্যিক স্থাপনায় চারদিক ঘেরা, সেখানে সামান্য উদ্যোগে আমার চাকরি হওয়ার কথা। কিন্তু ২০০৯ সালের বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। সারা দেশে তখন চলছে স্মরণকালের ভয়াবহ মন্দা। শত শত প্রতিষ্ঠানে চলছে লে অফ। কোথাও কর্মচারী ছাঁটাই প্রক্রিয়া। যেখানেই যাই, সবাই বলে দুঃখিত ‘নো হায়ারিং’।
বেশ কয়েক দিন এখানে–সেখানে নানাজনের রেফারেন্স নিয়ে ঘোরাফেরা করে কোন লাভ হল না। এদিকে জমানো ডলারে চলছে লাল সিগন্যাল। বাধ্য হয়ে দেশে রাখা ভালো পরিমাণের টাকাকে ডলার বানিয়ে আনা হল নিউইয়র্কে। এভাবে বছরের কিছু কম সময় চলার পর পাওয়া গেল মোটামুটি মধ্যম আয়ের চাকরি। সন্তানেরা কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেরা শুরু করল খণ্ডকালীন কাজ। দ্রুত আমরা পরিবারের সবাই নিউইয়র্কের ‘লাইফ লিভ নাইসলি’ ট্র্যাকে চড়ে বসলাম, যা চলতে লাগল তার নির্দিষ্ট গতিতে। জীবন ক্রমে সুন্দর আর আনন্দ অনুভবে চলমান হলো নানা আয়োজনে আর উৎসবে।
দিন–রাত নির্ঘুম শহর নিউইয়র্কের উৎসব আর আনন্দে সময় কাটানোর নানা রূপ ধীরে ধীরে নিজেই দেখতে পেলাম। দিন রাত ২৪ ঘণ্টা সপ্তাহে সাত আর বছরে ৩৬৫ দিন পুরো সময় নিউইয়র্কবাসী ছুটছে। আমেরিকার মেডিকেল জার্নালে খবর বেরোল, আমেরিকার সব রাজ্যের অধিবাসীদের মধ্যে নিউইয়র্কবাসীর গড় আয়ু বেশি। কারণ লোকজন পায়ে হেঁটে বেশি চলাচল করে, শারীরিক ব্যায়াম করতে জিমে সময় কাটায়। তা ছাড়া বছরব্যাপী নানা ধরনের ছোট–বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মনোরঞ্জনের শতভাগ পূর্ণ করতে পারে, যা অন্যান্য রাজ্য কিছুটা হলেও সীমিত।
নিউইয়র্ক আসতে না আসতেই শুরু গ্রীষ্মকালীন নানা উৎসব, মেলা আর বনভোজন। বয়স ভেদে সব অভিবাসী, জাতি–ধর্ম নির্বিশেষে সবাই ছুটছেন রাজ্যের নানা অবকাশযাপন কেন্দ্রে। বাঙালিরা দল বেঁধে বাস ভাড়া করে গান গাইতে গাইতে চলছেন সাগর তীরের নির্ধারিত পিকনিক স্পটে। ছোট বড় সবার কী যে আনন্দ, তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। এত সবের পাশাপাশি স্থানীয় ও জেলাভিত্তিক সামাজিক সমিতির আয়োজনে ঈদ ও পূজা পুনর্মিলনী, ইফতার পার্টিসহ দেশ থেকে আগতদের ঘটা করে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সব জায়গায় প্রবাসীদের মিলন মেলা। যেখানে একে অপরের সঙ্গে দেখা–সাক্ষাৎসহ মনের ভাব বিনিময়ে সবাই যেন উন্মুখ হয়ে থাকেন প্রবাসীরা।
সেই চিরযৌবনা আর ভালোবাসার ফুলেল সৌরভ নিয়ে যে, নিউইয়র্ক শহর সারাক্ষণ মেতে থাকতম, কলকল আওয়াজে আনন্দের জলস্রোতে পরিপূর্ণ থাকত দুপুরে, বিকেলে আর সন্ধ্যায় কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকার হিলসাইড আর ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টারের কালো পিচঢালা জনপদে, আজ কিনা সেই মুখরিত জনপদ আর শত শত কবি সমাজসেবক আর রাজনীতিবিদদের চায়ের কাঁপে ঝড় তোলা আড্ডার দেখা মিলে না। জ্যাকসন হাইটের ১৫/২০টি ব্যস্ত খরিদ্দারের পরিপূর্ণ খাবার দোকানের সব চেয়ার উল্টিয়ে রাখা। এক কাপ চা নিতে যেখানে লাইনে দাঁড়াতে হতো, আজ সেই লাইন উধাও। সব ধর্ম–বর্ণসহ নানা গোষ্ঠী আর গোত্রের মিলন স্থল বলে দুনিয়া জোড়া ইতিমধ্যে সুখ্যাতি পাওয়া জ্যাকসন হাইটের ডাইভারসিটি প্লাজা আজ নীরব, নিস্তব্ধ। শূন্য চত্বরে অভিবাসীরা হিমশীতল ঠান্ডায় ধূমায়িত চায়ের কাপ নিয়ে বন্ধুদের জন্য অপেক্ষা করে না। সবাই আজ নিজ গৃহে স্বেচ্ছাবন্দী।
যে নিউইয়র্কের রাস্তায় রোড রেইজ (পথ বিবাদ) ছিল নিয়মিত আর স্বাভাবিক দৃশ্য, আজ সেই ব্যস্ত বি কিউ হাইওয়ে, হিলসাইড অ্যাভিনিউসহ নগরের অধিকাংশ রাজপথ সুনসান নীরব, ভীষণ ফাঁকা। যা আমার এক যুগের নিউইয়র্ক বাসে কখনো চোখে পড়েনি, যাই দেখি তাই মনে হয় অবিশ্বাস্য। যা ভুলেও কখনো নিজ ভাবনায় আসেনি। চারদিকে আতঙ্কের চাহনি, আগামীর অনিশ্চিত দিন–রাত, কত দিন থাকবে করোনার এই তাণ্ডব। প্রাণ সংহারের এই অজেয় দৈত্যের কবলে কার হবে জীবননাশ, সেই রূপ হাজারো ভাবনা আর উৎকণ্ঠায় নিউইয়র্ক নগরে আনন্দহীন নগরীতে রূপান্তরিত হতে চলছে। ভালোবাসার নিউইয়র্কে আজ শুধু ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি। কী হবে আজ অথবা আগামীকাল? সে জিজ্ঞাসার ভার নগরবাসীর নিকট বড্ড ভারী লাগছে। সেই ভার সইতে হবে কত দিন কে জানে? ভালোবাসার আর কর্মচঞ্চল নিউইয়র্ক নগর ফিরে আসুক আগের সেই রূপে, এই মুহূর্তে ৬০ লাখ নিউইয়র্কবাসীর একমাত্র কামনা সেটি বলেই আমার বিশ্বাস।
-প্রথম আলোর সৌজন্যে

বিস্তারিত খবর

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে আপনার/আমার যত করণীয়

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২৬ ০৬:৪৯:৪৮



প্রাণঘাতী কভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) আজ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বের ১৯৮টি দেশে। পুরো বিশ্ব, পুরো গ্রহে আজ ছড়িয়ে পড়েছে মরণব্যাধী এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। এতো দ্রুত গতিতে এতো বিশাল সংখ্যক মানুষকে আর কেউ ঘায়েল করতে পেরেছে কিনা তা খতিয়ে দেখার কাজ ঐতিহাসিকদের। কিন্তু নতুন এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় যে, এই গ্রহে বসবাসকারী আমরা কেউ বিচ্ছিন্ন প্রাণী নই। আমরা সবাই এক। 

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটির সংক্রমণ বা প্রাদুর্ভাব কমাতে কিছু করণীয় কাজের কথা বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্বের প্রতিটি দেশের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার দেওয়া এই ম্যানুয়ালটি মেনে চলার কথা বলছে। 

যেহেতু সর্বনাশা এই ভাইরাসটির এখনো কোন প্রতিষেধক নেই। তাই আমাদের এ সকল করণীয় মেনে চলা শুধু আবশ্যক বা বাঞ্ছনীয় নয়, বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত। তাই চলুন আপনি, আমি, আমরা সবাই মিলে এই গ্রহের স্বার্থে; বিশ্বমানবতার স্বার্থে নিচের করণীয় কাজগুলো মেনে চলি। প্রাণঘাতী করোনা থেকে নিজে নিরাপদ থাকি। সেইসাথে অন্যকে নিরাপদ রাখি। নিরাপদ রাখি আমাদের প্রিয় পরিবেশ ও প্রিয় পৃথিবীকে।   

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে সবাইকে নিরাপদ রাখতে আপনার যত করণীয়

সামাজিক দূরত্বঃ 
চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করার কথা। জানতে চান সামাজিক দূরত্ব কী? এই সামাজিক দূরত্ব বলতে বোঝায় ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ না করা। সম্মানজনক দূরত্ব বজায় রাখা। কারো সাথে দেখা করা বা কথাবার্তা বলার সময় কমপক্ষে ২-৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা। যাতে করে ভাইরাসটি দ্রুত সংক্রমিত বা ছড়িয়ে পড়তে না পারে। সেইসাথে একত্রে অনেকে জড়ো না হওয়া, হৈ চৈ বা আড্ডাবাজি না করাই হল সামাজিক দূরত্ব। 
যা পরিহার করবেন 
কোন একটি গ্রুপে একত্রে জড়ো হওয়া। অতিরিক্ত ঘুমানোর অভ্যাস। থিয়েটারে যাওয়া। সকল প্রকার খেলাধুলা ও খেলার মাঠ থেকে বিরত থাকা। প্রেমিকার সাথে বাইরে ডেটিং এ যাওয়া। বাইরে ঘুরতে যাওয়া। অ্যাথলেটিক ইভেন্ট। জনবহুল স্থানে গমন। শপিং মল, বার, রেস্টুরেন্ট বা অপ্রয়োজনীয় কাজে ভ্রমণ। এমনকি আপনার বাসায় অতিথি আগমনও বন্ধ করতে হবে আপনাকে। 
ভাবছেন, এসব কেন পরিহার করবেন? এসব পরিহার করবেন কারণ প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি যাতে কোনভাবেই একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে না পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)’, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটির নিয়ে গবেষণা করেন। 

তাদের করা গবেষণা ফলাফলে দেখা যায়, নতুন এই ভাইরাসটি বাতাসে সর্বোচ্চ ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। কাঠের উপর এই টিকে থাকার সময় হল ২৪ ঘণ্টা। আর প্লাস্টিক বা স্টেইনলেস স্টিলের উপর এই সময় ২-৩ দিন। এবার ভাবুন। 
সুতরাং আপনার করোনা নাই। এসব বিধি আপনার জন্য নয়। যতদ্রুত সম্ভব এই মানসিকতা পরিহার করুন। কেন? কারণ গত বৎসরের ডিসেম্বরে এই ভাইরাসটি শুধু উহানেই ছিল। আপনার, আমার এই বীরত্বপূর্ণ মানসিকতার জন্যই এটা আজ বিশ্বের ১৯৮টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।        
যা করা নিরাপদ 
বাসায় বসে এখন যা করা নিরাপদ। হাঁটা চলা করেন। বাসায় কাজ করেন। নিজ আঙিনায় খেলাধুলা করেন। ভাল বই পড়েন। রান্নাবান্না করেন। গান শুনেন। গ্রুপে ভিডিও চ্যাট করেন। সিনিয়র প্রতিবেশীদের কল বা টেক্সট করেন। বন্ধুকে টেক্সট বা কল করেন। পরিবারকে সময় দেন। আর বারবার সাবান পানি দিয়ে নিজের হাত ধুয়ে পরিষ্কার করে। ভাবছেন বারবার মানে আবার কতবার? কমপক্ষে ১৫-১৬ বার। 
এর বাইরে ভাল থাকার জন্য আপনি করতে পারেন আরও নানা সৃজনশীল কাজ। নিজে নিরাপদ থাকুন। অন্যকে নিরাপদ রাখুন। আর এই দায়িত্ব আপনার, আমার সকলের।   

আর্টিকেলটি লিখতে গিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা ও ক্যালিফোর্নিয়া স্বাস্থ্যবিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত বিভিন্ন লিফলেট ও ম্যানুয়ালের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। 

 

বিস্তারিত খবর

সন্দেহ ক্রমেই দানা বাঁধছে! বিশ্বটাকে হাতে নিয়ে নাচাচ্ছে নাতো চীন?

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২৪ ০২:১৯:৪৩

বিশ্বটাকে হাতে নিয়ে নাচাচ্ছে নাতো চীন? এখনই উচিত গোটা বিশ্বের এক হওয়া, চীনকে বিশ্ব জুড়ে বয়কট করা..বিশ্বের সমস্ত দেশের আর্থিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ উসুল করা | যে সব তৃতীয় বিশ্বের দেশ এই মারাত্মক ভাইরাস এ আক্রান্ত হবে তার সকল দায়ভার চীনের উপর চাপানো..দরকারে বিদেশে থাকা চীনের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণ মেটানো উচিত | বিশ্ব জুড়ে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য শুধু মাত্র চীন দায়ী.. জবাবদিহি চীনকে করতেই হবে.. শুধু ভয় একটাই বিশ্বের মেরুদন্ডটা যেন ততদিনে ভেঙ্গে না যায় l
 
চীন খুব দ্রুত করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পাচ্ছে | একের পর এক অস্থায়ী হাসপাতাল বন্ধ করছে উহানে নতুন করে মাত্র একজনের সংক্রমণ ঘটেছে..গোটা চিনে মাত্র 13 জন | বেশ অবাক লাগছে না ভাবতে?? মনে হচ্ছে না এটা কি ভাবে সম্ভব?? আর একটু অবাক হবেন এটা জানলে একের পর এক বিদেশী মিডিয়া ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান আরো অনেক দেশের মিডিয়া কে দেশ থেকে বার করে দিচ্ছে যাতে তারা চীনের কোনো খবরই না করতে পারে..

ইতালি, ব্রিটেন, ফ্রান্স, আমেরিকা, ইরান ক্রমশঃ ভয়াবহ স্টেজ এ পৌঁছাচ্ছে..আমেরিকার, ইউরোপের স্টক মার্কেট ও ক্র্যাশ করে গেছে..বিশ্ব জুড়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি | অথচ একটু চাইনিজ মিডিয়া দেখবেন কি দারুন দৃশ্য | সবাই মাস্ক খুলে ফেলছে, একে অপরকে জড়িয়ে ধরছে, হিরো দের মতো ওয়েলকাম হচ্ছে সবার.. বেশ অবাক লাগছে না দেখে??

এত বড়ো ক্রাইসিস অথচ এত ফাস্ট রিকভারি?? শেয়ার মার্কেট থেকে কার্রেনসি ড্রপ কোনো কিছুতেই আঘাত লাগলো না..এতোই উন্নত ষোলো খানা হাসপাতাল রাতারাতি তৈরী হয়ে গেলো,আপনি বিশ্বাস করেন এসবের জন্য কোনো প্রিপারেশন ছিলো না তাদের কাছে?? 2,00, 000 করোনা ভাইরাস ইনফেক্টেড থেকে 0 ইনফেক্টেড সব হাসপাতাল রাতারাতি উবে গেলো সবাই আনন্দে মাতোয়ারা প্রেসিডেন্ট কি সুন্দর মৌনব্রত পালন করলো দারুন লাগছে না শুনতে??

যেন সিনেমার মতো সাজানো সন্দেহ জাগে সবটা সত্যি সাজানো নয় তো?? নিজের ঘর কিছুটা পুড়িয়ে বিশ্ব কে জ্বালিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত নয় তো?? বিশ্বকে ভয়ানক বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে নিজে অধীশ্বর হবার চক্রান্ত নয় তো??

শুনেছিলাম লংকা পড়াতে গিয়ে হনুমান নিজের ল্যাজে আগুন লাগিয়ে ছিলো | উহান হনুমানের ল্যাজের মতো ব্যবহার হলো না তো?? চীনা দের লাইফ স্টাইল বা খাদ্যাভ্যাস দেখা যায় তাহলে বোঝা যায় খুব সহজেই যে তারা কতটা নিষ্ঠুর, কতটা হিংস্র, তারা পারে না এমন কোনো কাজ নেই যদি সত্যিই বিশ্বের অধীশ্বর হবার জন্য এই ভাইরাসকে চীন হাতিয়ার করে থাকে তাহলে অবাক হবার কিছু থাকবে না সত্যিটা হয়তো খুব তাড়াতাড়ি বেরোবে,কিন্তু তখন বিশ্বের মেরুদন্ড থাকবে তো চীনের সামনে দাঁড়ানোর জন্য ?

বিস্তারিত খবর

করোনার ভয় পেলে চলবেনা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-১৪ ০২:৫৬:৪৯

করোনার মতো কঠিন সময়ে খুব বড় একটা অসুস্থতা কাটিয়ে উঠলাম। যদিও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। ফেব্রুয়ারীর ২৪ তারিখ থেকে প্রচন্ড হাঁচি, নাক মুখ দিয়ে  অনবরত পানি পড়েছে, গায়ে ১০১ এর বেশি তাপমাত্রা বুকে ব্যাথা,  শ্বাস কষ্ট, সমস্ত শরীরে প্রচন্ড ব্যাথা। ডাষ্ট এলার্জি আছে তাই ওটাতেই আক্রান্ত হয়েছি ভাবলাম। কাজ ফেলে ছুটি নিয়ে বাসায় বসে থাকতে ভালো লাগেনা।পরদিন অফিসে গেলাম কিন্তু বসে কোনো কাজ করতে পারলামনা। তারপর নানান ওষুধে কদিন গেল। কিন্তু জ্বর বা অন্য কোনো কষ্ট কমলোনা। শ্বাস কষ্ট বেড়ে গেল, কোনো কথা উচ্চারণেও কষ্ট হচ্ছিল। এমন কষ্ট কোনোদিন হয়নি। নিজের বুক ফেড়ে নিজেই পরিস্কার করতে মন চাচ্ছিলো। ফেব্রুয়ারীর ২৯ তারিখে বক্ষ ব্যাধি বিশেষজ্ঞের কাছে গেলাম। আমার এক ভাই জোর করে নিয়ে গেলেন। ডাক্তার কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। এক্সরে রিপোর্ট দেখিয়ে বললেন বুকের ডানপাশের ফুসফুসে অনেকটা পানি জমেছে। এছাড়াও আরো কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। ডাক্তার বললেন তিনমাস ওষুধ খেতে হবে।

 আমার মনের জোর খুব বেশি কিন্তু শ্বাস কষ্টের কাছে হেরে যাচ্ছিলাম বারবার। তবুও ঘড়ির কাটা ধরে ওষুধ খেতে লাগলাম। ১০ দিন ওষুধ খাওয়ার পরে সামান্য কষ্ট কমলো। গতকাল থেকে কিছুটা ভালো আছি। ১৭ দিন প্রায় তেমন কোথাও যাইনি। ঘরে বসে আছি। এর মধ্যে বাসার অন্যান্য সদস্যদেরও জ্বর সর্দি কাশি হলো। নেবুলাইজার মেশিন কিনেছি। ইনজেকশন ওষুধ সব চলেছে এক সাথে। গত দশ বছরে এতোটা অসুস্থ হইনি। আশা করছি আগামী রবিবার থেকে  কাজ করতে পারবো। যদিও আরও আড়াই মাস ওষুধ খেতে হবে। পৃথিবীতে নিঃশ্বাস নিতে পারার সুখের তুলনা নেই।

বিস্তারিত খবর

বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করতে হবে

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-১০ ০৪:২৬:০৬

আসলে মার্চ মাসটাই আমাদের কাছে এক অনন্য মাস হিসাবে পরিনত । বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষন, ১৭ মার্চ জাতির জনকের জন্মদিন , ২৫ মার্চের কালোরাত ও ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষনা । আবার এই বাংলাদেশে সেই মহামানবটিই  ( বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান )  এই মার্চেই পৃথিবীতে আসেন । এবার তার জন্মের ১০০ তম বার্ষিকী । সহজভাবে তা চিত্রায়নের সুযোগ নাই । আবার অতি রন্জিত করাও ঠিক হবে না । অতি মুজিব প্রেমীদের ও অনু প্রবেশকারীদের কারনে তা বিতকিৃত করার আলামতে খোদ প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেছেন ।

মুজিব বর্ষে অনেক কিছু করার সুযোগ ছিল । দেশে বিদেশে তা পালন হবে নানান ভাবে র‌্যালিী, আলোচনা সভা, চিত্রাংকন ও নানান প্রকাশনার মাধ্যমে । কিন্তু তার চেয়ে বেশী করার মাধ্যম গুলো করতে পারত দুতাবাস গুলো । বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দেড়শত এর মত দুতাবাস ছিল আছে আরও বাড়ছে , তারা জাতির পিতাকে বহি:বিশ্বে বহুজাতির কাছে মুলধারায় উপস্থাপন করতে পারত । বিভিন্ন ভাষায় জাতির জনকের জীবনি প্রকাশ করে বুক আকারে । পৃথিবীর অনেকেই জানে না জাতির জনক শেখ মুজিব ১৯২০ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বেচেছিলেন তাও আবার তাকে মেরে ফেলা হয়েছে । তিনি ৩৫৭৯ দিন জেল জীবন কাটিয়েছেন যা ১০ বছরের সমান ‘ যা বিশ্বে নেলসন মেন্ডেলার সমকক্ষ । মাত্র ৪৫ বছর তিনি আলো বাতাসে ছিলেন। তাকে সপরিবারে মেরে ফেলা হয়েছে । পৃথিবীতে দ্বিতীয় ব্যাক্তি কেউ নেই যার এই বর্নাট্য করুন জীবনি । অথচ আমরা যারা আওয়ামী মনোভাবের বা বাংলাদেশী তারা তার কথা জানি প্রতিবছর বলে ও বেড়াচিছ ।  কিন্তু বিশ্ব ইতিহাসে তার অবদান সামগ্রিক প্রচার কে করবে ।  তিনি বিশ্বের একজন আইডল নেতা হবার সুযোগ ছিল । মহাত্বা গান্ধি কে যদি বিশ্ব জানতে পারে , নেলসন মেন্ডেলাকে যদি বিশ্ব জানতে পারে তাহলে শেখ মুজিব কে কেন জানবে না বিশ্ব । এ্ই কাজটা কে করবে । কেন বিশ্বের বিভিন্ন লাইব্রেরীতে জাতিন জনকের উপর কোন বই থাকবে না । কেন তার জীবনি ছোট বড় আকারে বিশ্বের নামি দামি প্রকাশনি কেন তৈরী করবে না । আমাদের তো টাকার কোন অভাব্ নেই । আমাদের সরকারের উচিত বিশ্বের নামি দামি লেখকদের দিয়ে তার জীবনি প্রকাশ করা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় । শত শত কোটি টাকা খরচ করে জন্ম শত বার্ষিকী আমরা পালন করব , দেশের সেরা সেরা লেখকরা গল্প কবিতা গান রচনা করছেন । কিন্তু তাতো সবই ঢাকা কেন্দ্রিক তোষামোদর জন্য । ইংরেজীতে কি করতে পারছি , কেন আমরা ফরাসি ভাষায় ,স্পেনিশ ভাষায় , হিন্দি ভাষায় , চায়নিজ ভাষায় , আরবি ভাষায় তার জীবনি নিজেদের খরচে প্রকাশ করছি না । কাজের কাজ তো সেটাই ।  সারা বিশ্বে জন্ম শত বার্ষিকী পালিত হবে কিন্তু বিশ্বের নতুন প্রজন্মকে আমরা কিভাবে তাকে চেনাব । আমরা যদি বাংলাদেশে নেলসন মেন্ডেলাকে চিনি , আমাদের বাচচারা যদি নেলসন মেন্ডেলাকে চিনে , আমাদের বাচচার যদি মার্টিন লুথার কিং ( সাদা কালোর মুভমেন্টের আইকন ) কে চিনে তাহলে আমেরিকান নতুন প্রজন্ম কেন জাতির জনককে চিনবে না । আমাদের আইকনিক নেতা জাতির জনকে তাদের কারও চেয়ে কম নন । তিনি অনেক উর্ধে ,তিনি তার জীবন উ্যসর্গ করেছেন মানুষের মুক্তির জন্য । আমাদের উচিত বিশ্বের সেরা সেরা লাইব্রেরীতে শেখ মুজিবের উপর বই প্রেরন করা । তা কিভাবে সম্ভব তা খুজে বের করতে হবে । বিশ্বের সেরা সেরা প্রকাশনিকে বলতে হবে তারা যেন তা প্রকাশ করে । তাহলে ই তাকে বিশ্বের আইকন হিসাবে পরিগনিত করা যাবে ।

বিশ্বের শত শত দেশে আমাদের দুতাবাস রয়েছে , তাদের উচিত তাদের মাধ্যমে সে দেশের মুলধারায় জাতির জনকের জীবনি বিভিন্ন স্কুল কলেজের লাইব্রেরীতে স্পন্সর শিপের মাধ্যমে তা প্রকাশ করে বিতরন করা ।  বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে  আমাদের অনেক আইকনিক ব্যবসায়ী রা রয়েছেন দুতাবাস তাদের বিশেষ মর্যাদা দিয়ে থাকে , দুতাবাসের কর্মকর্তারা তাদের সাথে যৌথভাবে ইংরেজী বই প্রকাশ করে বা সে দেশের ভাষায় জাতির জনকের জীবনি ছোট  আকারে বা বড় আকারে প্রকাশের উদ্যেগ নিতে পারে । ব্যাবয়ায়ীদের অনুরোধ করতে পারে জন্ম শতাবার্ষিকী বা তার পরেও যে বহি:বিশ্বে তা ছড়িযে দেয়া । অনেক ভাল কাজ করার সুযোগ রযেছে । আসলে বিদেশী কোন গবেষক যদি সঠিক ভাবে জানতে পারে কে ছিলেন শেখ মুজিব, কি ছিল তার জীবনের লক্ষ্য , কেমন ছিল তার ব্যবহার, তিনি কেমন কাটিয়েছেন তার ৫৫ বছর , কতটা সফল নায়ক ছিলেন তাহলে তারাই লিখতে বা গবেষনা করতে শুরু করবে । তার জীবনি নিয়ে  পিএইচ ডি হবে । আসলে আমরা বাংলাদেশের মধ্যই তাকে আটকে রেখেছি । তার সঠিক বিশ্ব মুল্যায়ন হয়নি , হচেছও না । যে শত  শত  মিলিয়ন ডলার খরছ হবে দেশ বিদেশে এ্ই মার্চ মাস জুড়ে তার আপ  কামিং কোন রেজাল্ট আসবে না । তার জন্য গান রচনা হচেছ, কনসার্ট হবে, শত শত সুভেনির, বই , গল্প , উপন্যাস রচিত হচেছ হবে । কিন্তু তার পরিথি সীমাদ্বই । আমরা তাকে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের মধ্যই আটকে রেখেছি মাত্র । নিউ ইযর্কে তিনটি বাংলাদেশে শত শত , আমেকিরার বিভিন্ন ষ্টেটে অর্ধশত অনুষ্টান হছেছ,বিশ্বের প্রায় দু শত শহরে বাংলাদেশী প্রবাসীরা তার জন্ম শতবার্ষিকী  পালন করবেন পুরো মার্চ মাস জুড়ে  তাকে তুলে  ধরার জন্য ।  কিন্তু আমাদের বিভিন্ন ভাষার পাবলিকেশন না হলে তাকে আমারা বাংলা ভাষার দুটো দেশের কিছু মানুষের কাছেই রেখেদিলাম । আমাদের বিশ্ব দরবারে তাকে ‍তুলে ধরতে হবে ।

অসাধারন এক অনন্য মানব শেখ মুজিব। অসাধারন ছিল তার চিন্তা । লোভ লালসাহীন, এক প্রানবন্ত হ্যামিলনের বাশিওয়ালা । সাত কোটি  মানুষের স্ব্প্ন পুরুষ ছিলেন । তাকে নিযে গবেষনার বিস্তর মাধ্যম পড়ে আছে । আমরা তাকে নিয়ে অহেতুক বাড়াবাড়ি করে তাকে ক্ষুদ্রতায় আবদ্ব করেছি । তার অনন্য পোষাকটাও আজ অবমুল্যায়ন হচেছ  । তিনি তার একটি পোষাককে তার নামে সমাদ্রিত করতে পেরেছেন । মুজিব কোট বলতে একটি বিশেষ পোষাক কে বোঝায় । এ নিয়েও গবেষনার সুযোগ আছে । এক শত বছর আগে তিনি জন্মেছিলেন মাত্র ৫৫ বছরের বর্নাট্য জীবন কজনের আছে । তার উদাসিনতার জন্য তার আত্ব বিশ্বাসের জন্য তার সাথে আরও সতের জন প্রান হারান । পৃথিবীতে কোন গোষ্টিকে এমন ভাবে মেরে ফেলার ইতিহাস নেই । কালের আবর্তে আজ তার মৃত্যু শক্তিতে রুপান্তরিত হয়েছে ।  সব মানুষকে মৃত্যু বরন করতে হয় , তার এ্ই আত্ব ত্যাগ তাকে আল্লাহ এক অনন্য মর্যাদার আসনে বসাবেন এই প্রত্যাশা কোটি কোটি মুক্তিকামি বাংলাদেশীদের । আমরা এ্ই ক্ষনজন্মা বিরপুরুষের বিদেহী আত্বার শান্তি কামনা করি । আর সবার কাছে অনুরোধ “যে যেভাবে পারেন তার জীবনি দেশে বিদেশে নানান ভাষায় প্রকাশ করুন“ । বাংলাদেশের ইংরেজী মাধ্যমের স্কুল গুলোতেও তার জীবনি প্রকাশ জরুরী পার্ঠ্যসুচিতে । আর আমরা যারা লেখক সংগঠক মুজিব আদর্শের  আছি তাকে ভালবাসি তার জীবনি প্রকাশে ও ছড়িযে দিতে সর্বাত্বক নিবেদিত হই নানান ভাষায় । নানান মাধ্যমে তাকে নেলসন মেন্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং এর সম পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে । জাতির জনক তাদের চেয়ে ও উর্ধে । “আমাদের উদাসীনতায় তিনি ক্ষুদ্র একটি গোষ্টির মাঝে ঘুরপাক খাচেছন”।

 
লেখক: সাংবাদিক-কলামিস্ট

বিস্তারিত খবর

করোনা' মানেই 'মৃত্যু' নয়, বাঁচতে হলে জানতে হয়

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-০৭ ০৬:১১:৩২

দেশি-বিদেশি মিডিয়া হাউজগুলোকে গত মাস দেড়েক ধরে খুব সুক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছি। দেশীয় মিডিয়া হাউজের কথা অবশ্য ধর্তব্যের বাইরে, কারণ এদের নিউজগুলোর মাঝে কোন সৃজনশীলতা নেই। নেই নিজস্ব রিসার্চ, ডাটা। এরা যেখানে যা পায় তা-ই অনুবাদ করে ছেড়ে দেয়। তাই, গ্লোবাল সিরিয়াস ইস্যুতে সচেতন ব্যক্তিমাত্রই বিদেশি মিডিয়া হাউজগুলোর ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন, এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু, 'করোনা' ইস্যুতে এই বিদেশি মিডিয়া, বিশেষ করে আমেরিকান মিডিয়াগুলোকে বেশ ইন্টারেস্টিং লাগছে আমার কাছে। তারা সারাদিন 'করোনা' কে তাদের লিড নিউজ হিশেবে দেখাচ্ছে, খবরের পাতা থেকে জিনিসটা সরাচ্ছেই না একদম। বিশ্বের কোন প্রান্ত থেকে যদি করোনাতে কোন একটা মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়, সাথে সাথে সেটা তুলে দিচ্ছে লিড নিউজে৷

মিডিয়াগুলো করোনায় মৃতের সংখ্যা হাইলাইট করছে বলে আমি বিরোধিতা করছিনা। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, করোনায় আক্রান্ত হাজার হাজার লোক প্রতিদিন সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরছে, এই নিউজটা লিড নিউজ হিশেবে দেখাচ্ছেনা আমেরিকান মিডিয়াগুলো, বিশেষ করে সি এন এন, ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস। এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুহার ২% এর কাছাকাছি। এই ২% এর পাশে আমি ইচ্ছে করলে 'মাত্র' শব্দ যোগ করতে পারতাম, কিন্তু করিনি। আমার কাছে একটা প্রাণের মূল্যও অনেক। কিন্তু ব্যাপার হলো, এই যে হাজার হাজার মানুষ করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরছে, এটা কেনো মানুষকে জানানো হচ্ছেনা?

আরেকটা ইন্টারেস্টিং ডাটা শেয়ার করি। করোনা নিয়ে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হইচই করছে আমেরিকান মিডিয়া হাউজগুলোই। মুহুর্তে মুহুর্মুহু সংবাদ ছাপাচ্ছে তারা করোনা নিয়ে৷ এতে করে সারা পৃথিবীতে একটা প্যানিক ছড়িয়ে পড়েছে ভালোভাবে যে, করোনা ধরলে আর বুঝি রক্ষে নেই৷ অথচ, করোনায় মৃতের সংখ্যার পাশাপাশি আমাদের যদি সুস্থ হয়ে উঠার ডাটাও মিডিয়া জানাতো, তাহলে বোধকরি মানুষ এভাবে প্যানিকড হয়ে পড়তো না। মানুষ এখন ভাবছে, করোনা মানেই মৃত্যু।

কিন্তু, এই বছর খোদ আমেরিকাতেই নর্মাল ফ্লু'তে মারা গেছে বিশ হাজারের মতো মানুষ৷ একেবারে টাটকা খবর কিন্তু। নর্মাল ফ্লু মানে বুঝেছেন তো? এই যে জ্বর, সর্দি-কাশি ইত্যাদিতে। দেখুন, এই নর্মাল ফ্লুয়ের জন্য দুনিয়ায় হাজার রকমের প্রতিষেধক মজুদ আছে। আছে বাহারি রকমের চিকিৎসা৷ এতোকিছু থাকা সত্ত্বেও, আমেরিকার মতোন দেশে এই ফ্লুতেই মারা গেছে বিশ হাজারেরও অধিক মানুষ। পুরো বিশ্বের হিশেব যে কি, তা তো বলার বাইরে। অথচ, যে করোনাকে নিয়ে এতো হইচই মিডিয়া করছে, সেই করোনায় এখন পর্যন্ত মারা গেছে তিন হাজারের কিছু বেশি মানুষ। এই করোনার কিন্তু কোন প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। কোন প্রতিষেধক না থেকেও এতে মারা গেছে তিন হাজার, আর হাজার রকমের প্রতিষেধক মজুদ থাকার পরেও নর্মাল ফ্লুতে আমেরিকায় নাই হয়ে গেছে বিশ হাজার। তাহলে, কোনটাকে বেশি ডেঞ্জারাস মনে হচ্ছে ডাটানুসারে? কিন্তু দেখুন, আমেরিকার মিডিয়া এটা নিয়ে কোন বাতচিত করছেনা। তারা সারাদিন ওই এক করোনা নিয়েই আছে। এখানে কি তাহলে কোন 'গেম' চলছে? আমি জানিনা।

'করোনা আর মৃত্যু' শব্দ দুটো শুনতে শুনতে আপনি নিশ্চয় ভয়ে কুঁকড়ে আছেন, না? তাহলে আপনাকে কয়েকটা আশার কথা শুনাই৷ হয়তো আপনার ভয়টা চলে যাবে। স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।

(১) এখন পর্যন্ত করোনাতে কোন শিশুর মৃত্যু সংবাদ পাওয়া যায়নি। শিশু মানে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে ০-৯ বছরের কোন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা দুনিয়ার কোথাও ঘটেনি। তাই, আপনার বাচ্চার ব্যাপারে বেশি ভয় পাওয়ার দরকার নেই। তবে, সতর্ক থাকতে হবে অবশ্যই।

(২) ১০-১৯ বছরের একজনের মৃত্যু সংবাদ পাওয়া গেছে এখন পর্যন্ত, তবে অনেকের মতে, সেটাও রহস্যজনক। আদৌ করোনায় কিনা, তা পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত না।

(৩) করোনা আক্রান্ত ৭০,০০০ মানুষের ওপরে একটা স্ট্যাডি হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে ৮১% মানুষের সর্দি-কাশি হচ্ছে করোনার ফলে, আবার সেরেও যাচ্ছে। সুতরাং, বিশ্বাস রাখুন, আপনার-আমার যদি করোনা হয়েও থাকে, সাধারণ জ্বর-সর্দির মতো তা আবার সেরেও যাবে, ইন শা আল্লাহ৷ আশা নিয়ে বাঁচুন, ভালো থাকবেন।

(৪) ডাটা অনুসারে, করোনায় যারা মারা গিয়েছে, তাদের ৫০ ভাগের বয়স ৭০ বছরের উর্ধ্বে। আর ৩০% এর বয়স ৬০-৬৯ এর মধ্যে। মানে, ৮০% লোক যারা মারা গেলো বা যাচ্ছে, তাদের গড় বয়স ৬০-৭০ এর উর্ধ্বে। আরো স্পষ্টভাবে, এই করোনায় বুড়োরাই মারা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

না, ভয় পাওয়ার কারণ নেই। বুড়ো হলেই যে করোনায় ধপাস করে মারা পড়ছে, তা কিন্তু নয়। রিসার্চে দেখা গেছে, বুড়োদের মধ্যে করোনায় যারা মারা যাচ্ছে, তারা প্রায় সবাই আগে থেকেই কোন না কোন রোগে আক্রান্ত, যেমন- ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ, অ্যাজমা, লিভার ইত্যাদি।

সব ডাটাকে একত্র করলে যা সারমর্ম দাঁড়ায় তা হলো, সুস্থ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাদের বেশি, তাদের ক্ষেত্রে করোনায় মারা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তাই, আশাহত হবেন না। মনে জোর রাখুন।

গত দু'দিন ধরে আমার নিজেরও হালকা হালকা গা গরম। মাঝে মাঝে মনে হলো, আমাকে বুঝি করোনাই পেয়ে গেলো। তো, আমি যদি এই ফ্যাক্টরগুলো সম্পর্কে না জানতাম, আমি কি ভাবতাম জানেন? আমি ভাবতাম, আমার যদি সত্যিই সত্যিই করোনা ধরা পড়ে, তাহলে সেদিন আমি আর বাসায় ফিরবো না। আমার মাধ্যমে আমার মা, স্ত্রী, সন্তান আক্রান্ত হবে, আমি এটা ভাবতেই পারিনা। তো, কি করবো তাহলে? কক্সবাজারের দিকে চলে যাবো, কিংবা কোন নির্জন পাহাড়ি অঞ্চলে। বাসায় কোনোভাবে ব্যাংকের কার্ডটা পাঠিয়ে বলবো, 'বেঁচে থাকলে দেখা হবে'।

তো, বাঁচলে তো ফিরবো। যদি না বাঁচি? সম্ভবত আমার লাশটাও খুঁজে পাবেনা আমার পরিবার৷ এই ভাবনাগুলো কোত্থেকে আসতো জানেন? প্যানিক থেকে। প্যানিক এতো ভয়ানক জিনিস। তাই, ভাইয়েরা, প্যানিক হবেন না। স্বাভাবিক জীবনযাপন করুন, কিন্তু অতি অবশ্যই সতর্কতার সাথে৷

এই যে বিশাল একটা লেখা পড়লেন, এই লেখার সারমর্ম কি? আমি কি করোনা নিয়ে হাসি তামাশা করছি? পাত্তা না দিতে বলছি?

না, মোটেও তা নয়। করোনাকে অবশ্যই পাত্তা দিতে হবে। সতর্ক হতে হবে৷ বাইরে বেরুলে মাস্ক পড়তে হবে, বারেবারে হাত ধুতে হবে, লোকারণ্য এলাকা এড়িয়ে চলতে হবে। সবই করতে হবে, কিন্তু প্যানিক হওয়া যাবেনা। প্যানিক হলে স্বাভাবিক জীবনযাপন বিপর্যস্ত হবে ভীষণভাবে। তখন করোনায় আপনার মৃত্যুর সম্ভাবনা না থাকলেও, প্যানিক থেকে তৈরি ডিপ্রেশানে আপনার মৃত্যুর সম্ভাবনা কিন্তু হুড়মুড় করে বেড়ে যাবে।

চলুন, সকাল-সন্ধ্যার যিকিরগুলো নিয়মিত করি। বেশি বেশি ইস্তিগফার করি। ভয় না পেয়ে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করি।

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত