যুক্তরাষ্ট্রে আজ শনিবার, ২০ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 10:52am

|   লন্ডন - 04:52am

|   নিউইয়র্ক - 11:52pm

  সর্বশেষ :

  বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকা’র কমিটি ঘোষণা   রোহিঙ্গা সংকট দ্রুতগতিতে বাড়ছে, জরুরি সহায়তা প্রয়োজন : বিশ্বব্যাংক   ভেরিফিকেশনে গিয়ে ফুল-মিষ্টি দিয়ে পুলিশ সুপারের শুভেচ্ছা!   দেশের রেডিওতে শুদ্ধ বাংলা ব্যবহারের নির্দেশ   দ্বিতীয় মেয়াদেও প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হবেন সিসি   ভুয়া খবরের প্রচার ঠেকাতে ‘বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম’র র‍্যাংকিং করবে ফেসবুক   কঙ্গোতে বিদ্রোহীদের হামলায় ২২ সেনা নিহত   যুক্তরাষ্ট্রে সরকার ব্যবস্থায় অচলাবস্থা, নেপথ্য কারণ   টাওয়ার হ্যামলেটসকে ‘ট্রাম্পমুক্ত এলাকা’ ঘোষণা : নেতৃত্বে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলর   সিলেটে অর্থমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় ১০ জন আহত   নাইজেরিয়ায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ১২   জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ   রাজশাহীতে প্রথম ফ্লাইওভার নির্মাণের সিদ্ধান্ত   তহবিল সংকটের কারণে ফের শাটডাউনের শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র   ফিলিস্তিনকে সাড়ে ৪ কোটি ডলার খাদ্য সহায়তা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র

>>  কলাম এর সকল সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর সাথে স্বপ্নে কিছু কথা

০২ জানুয়ারী, ২০১৮। আরবী মাসের ১৪ তারিখ। আইয়্যাম বিজের ২য় রোজা পালনের পর শেষ রোজার জন্য প্রস্তুত। যথারীতি বই পড়তে পড়তে ঘুমে পড়েছি। স্বপ্নে দেখি, গ্রামের পরিবেশে শীতের সকালে মিষ্টি রোদে ঘরের বারান্দায় বসে কোরান পাঠ করছি। তাকিয়ে দেখি, সামনে বঙ্গবন্ধু দাঁড়িয়ে। স্বাভাবিক বেশভূষা। সাদা পাঞ্জাবি, পাজামা ও কালোকোট। ৭ই মার্চে ভাষণদানকালে যে পোশাক ছিল, হুবহু তাই। আমি তো অবাক! ভালো করে নজর করলাম, দিব্যি বঙ্গবন্ধু। আমি অস্থির হয়ে উঠে পড়লাম। তাড়াতাড়ি বারান্দা থেকে নামতে লাগলাম। বঙ্গবন্ধু শান্ত গলায় বললেন,
থাম! এতো অস্থির হবার দরকার নেই।
আমি বারান্দা থেকে নামতেই

বিস্তারিত খবর

হারিয়ে যাচ্ছে জীবন বোধ, ভাবনার এখনই সময়...

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-০৯ ১২:২৮:০৭

অস্ট্রেলিয়াতে এখন সামার। এ সময়ে স্কুল হলিডে থাকে। প্রায় সব বাবা-মা’রাই তাদের ছেলে্মেয়েদের নিয়ে বেড়াতে বের হয়। কেউ কাছে কেউ দুরে। কেউবা আবার দেশের বাইরে। বেড়াতে বের হয়েছি আমরাও। খাবারের দোকানে বসে অপেক্ষা করছি খাবার আসার। এ সময়ে টেবিলে খবরের কাগজটা টেনে নিতেই চোখ পড়লো শিরনাম।পাঁচ বছরের বাচ্চারা কিভাবে হতাশা ও বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি পেতে পারে তার উপর শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। এজন্য প্রাইমারী স্কুলের সিলেবাসে নতুন করে এ বিষয়টা অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা করছে তারা। তাহলে অদুর ভবিষ্যতে তরুণদের সুইসাইড করার প্রবণতা কমতে পারে বলে তারা মনে করছে। ২০২০ সাল থেকে কিন্ডারগার্ডেন থেকে ইয়ার টেন স্কুল কারিকুলামে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে স্বাস্থ্য সচেতনতা, ব্যাক্তি উন্নয়ন সম্পর্কে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মুলতঃ মানসিক অসুস্থতা ও তরুণদের সুইসাইড করার প্রবণতা দুর করতেই এই পদক্ষেপ। এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী মনে করেন, পুরানো পদ্ধতিতে চেষ্টা করে আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় এই পদক্ষেপের কথা ভাবতে হচ্ছে। এটা এখন এমন গুরত্বপুর্ন সমস্যা যে, জীবন সম্পর্কে তাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী বদলাতে এর বিকল্প নেই। পারিবারিক বন্ধনের শিথিলতার বিকল্প হিসেবে এটা কার্যকর হবে বলে মনে করছেন তারা। 

এ শিক্ষা পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য জীবন চলার পথে নানা রকম সমস্যার সমাধানে আত্নবিশ্বাস বাড়ানো। পরিণত বয়সে এসেও যেন সম্পর্ক টিকে থাকে কিংবা আনন্দময় উপায়ে যাপন করা যায় তার জন্য ছোট থেকেই শিক্ষা দেয়া দরকার বলে শিক্ষাবোর্ডএই সিধান্ত নিতে যাচ্ছে। তাই ক্লাস থ্রি এবং ফোরের শিক্ষা কারিকুলামেই তাদের শেখানো হবে জীবনের উত্থানপতন স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেয়ার এবং জীবন সংগ্রামে বিশ্বাস ও আশাবাদী থেকে পরিপূর্ণভাবে যাপন করার উপায়। উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে খোলাখুলি মত প্রকাশের সুযোগ করা হলে তারা তাদের অনুভুতিগুলো অন্যদের সাথে ভাগ করে নিতে পারবে। পারিবারিক কিংবা সামাজিক বন্ধন বাড়াতে ও এ ধরণের পদক্ষেপ নেয়া এখনি খুব জরুরী।

ক্লাস সেভেন ও এইটের শিক্ষার্থীদের শেখানো হবে প্রিয়জন চলে যাওয়া কি করে সয়ে নিতে হয়।পাশাপাশি ভুল ধারণা কিভাবে মানুষের মনোজগতে ক্ষতি করে সে ব্যাপারেও তাদের সচেতন করা হবে।ক্লাস নাইন ও টেনের শিক্ষার্থীদের ধারণা দেয়া হবে ডমেস্টিক ভায়োলেন্স ও ড্রাগের ক্ষতিকর দিকগুলো। এব্যাপারে কয়েক জন অবিভাবকদের মতামত নেয়া হলে তারা জানান, দুঃখ রাগ ঘৃণা হাতাশা বিষণ্ণতা যে জীবনের অংশ সেটা শেখানো আমাদের দ্বায়িত্ব। এ বিষয় গুলো যদি স্কুল থেকেই শেখানো শুরু করা হয় তাহলে তারা জীবনের নানা বিপর্যয় খুব স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করতে পারবে। এতে করে তাদের সৃজনশীলতা বাড়বে সর্বোপরি সমাজে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। জীবনবোধ এভাবেই জাগাতে হবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
 
বস্তুত, জীবনবোধ সম্পর্কে ইতিবাচক ধরনা ও সচেতনতা বাড়াতে সময় অনুযায়ী সিধান্ত নেয়া সত্যিকার অর্থেই জরুরী। প্রসঙ্গক্রমে ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং এর সাম্প্রতিক একটি ভবিষ্যৎবানী এখানে উল্লেখ করতে ইচ্ছে হলো।কিছুদিন আগে,লিসবনে ৬০ হাজার দর্শকের সামনে তিনি বলেছিলেন: কিছু দিনের মধ্যেই এই পৃথিবীর বাইরে কোথাও বিকল্প উপনিবেশ গড়তে না পারলে ধ্বংস হয়ে যাবে মানুষ। ধ্বংসের কারণ হিসেবে বলেছেন, যন্ত্রের কৃত্রিম বুদ্ধি তথা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে।

সম্প্রতি বেইজিং অনুষ্ঠিত টেনসেন্ট ওয়েব সামিটে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি আবারো বলেন,আগামী ৬০০ বছরের মধ্যে পৃথিবীতে নাকি মানুষের বিলুপ্তি ঘটবে।।মানুষের বিলুপ্তি ঠেকাতে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, মানুষকে এই গ্রহ ত্যাগ করে অন্য কোন গ্রহে স্থানান্তরের বিষয়ে চিন্তা করা দরকার। এই মহাবিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে মানুষের বসবাসের জন্য পরবর্তি সবচেয়ে ভালো জায়গা হিসেবে তিনি আলফা সেন্টোরির কথা বলেছেন।স্মর্তব্য যে,আলফা সেন্টোরির দূরত্ব পৃথিবী থেকে ২৫ ট্রিলিয়ন মাইল বা ৪.৩৭ আলোকবর্ষ। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে দ্রুতগামী মহাকাশযান দিয়ে সেখানে যেতে সময় লাগবে ৩০ হাজার বছর।এসময় কমাতে হকিং একটি স্টারশট প্রোজেক্টে-‘ন্যানোক্রাফট’ নামক একটি যান তৈরীর কথা বলেন। এই ন্যানোক্রাফট দিয়ে আলফা সেন্টোরিতে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ২০ বছর এবং মজার বিষয় হল এই ন্যানোক্রাফট দিয়ে মঙ্গল গ্রহে পৌঁছাতে সময় লাগবে এক ঘন্টারও কম। আরমাত্র একদিন সময় লাগবেপ্লেটোতে পৌঁছাতে।
বিষয়টাএকারণে উল্লেখ করেছি যে, নতুন প্রজন্মকে এখন থেকে জীবনবোধ ও পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে অনুপ্রেরণামূলক বিষয়ে আগ্রহী না করতে পারলে নিজেদের ধ্বংসের পাশাপাশি সভ্যতা ধ্বংস হওয়ার পথ অদূরে নয়। জন্মের পরপরই যদি মৃত্যু পরবর্তী জীবনের প্রতিআগ্রহী করাকেই বেশী গুরত্বপুর্ন মনে করা হয় তাহলে বিষণ্ণতা ও হতাশা সামাল দিতে না পারলে তারাএকসময় সুইসাইডের প্রতিই বেশী আগ্রহী হবে। বর্তমানে বহুল পরিমাণে প্রযুক্তি নির্ভর প্রবণতা ওযন্ত্রের কৃত্রিম বুদ্ধি তথা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি ও হয়তো হতে পারে সে বিপর্যয়ের কারণ। তারচে আলফা সেন্টোরিতে পৌঁছাতে কি করা দরকার তার অনুপ্রেরণা দেয়াটাই বোধহয় সমীচীন। এতে অন্তত ইতিবাচক জীবনবোধে,জন্মাতে পারে মানবতার প্রতিপারস্পরিকসহানুভূতি।


এলএবাংলাটাইমস/সি/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

আসাম যেন আরেক রাখাইন না হয়

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-০৪ ১২:৩৩:০০

আসামে নাগরিক যাচাইয়ের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নিবন্ধন তালিকায় ৭০ শতাংশ বাঙালি বাদ পড়েছেন। অন্য দিকে বাদ পড়েছেন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, এমপি, সাবেক মন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি। অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের প্রধান ও লোকসভার সদস্য বদরুদ্দিন আজমল তালিকায় স্থান পাননি। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ সীমান্তের ডুবরির প্রভাবশালী কমিউনিটি লিডার তিনি। তার ভাই লোকসভার সদস্য সিরাজউদ্দিনের নামও তালিকায় ওঠেনি। তার দুই সন্তানও জায়গা পায়নি। একই দলের নেতা হাফিজ বশির আহমেদ কাসেমি ও তার পরিবারের সদস্যরা নাগরিক হিসেবে নিবন্ধন পাননি। বিরোধী দল কংগ্রেসের কয়েকজন সিটিং এমপি ও সাবেক মন্ত্রীও তালিকায় স্থান পাননি।
বিজেপি ঘরানার সাম্প্রদায়িক দলগুলোর আশীর্বাদপুষ্ট আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। ১৯৮৫ সালে নাগরিকত্ব প্রশ্নে আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে ‘আসাম চুক্তি’ স্বাক্ষর হয়। ওই চুক্তির আওতায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০০৫ সালে আসামের নাগরিকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন। আদালতকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সর্বোচ্চ দেবতা বানালেও সবাই জানে এর ওপরেও দেবতা রয়েছে। সেটি হচ্ছে ক্ষমতাসীন সরকার। বিজেপি সরকার আসামে ক্ষমতায় এলে এটি কার্যকর করার প্রক্রিয়া আরম্ভ হয়। বিজেপির স্থানীয় নেতারা এ সময় নতুন করে জোর আওয়াজ তুলেছেনÑ আসাম প্রদেশের মুসলমানেরা বাংলাদেশ থেকে এসেছে। তাদের ভাষ্য হচ্ছে, অনুপ্রবেশকারী মুসলিমরা হিন্দুদের কর্মসংস্থান নষ্ট করেছে। নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার শপথ নেয়। তাদের সেই শপথের প্রাথমিক বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে কেউ যাতে কোনো ধরনের প্রতিবাদ করতে না পারে, সে জন্য রাজ্যে ৬০ হাজার সেনা নিয়োগ করা হয়েছে।
নতুন এই নাগরিকত্ব নিবন্ধনের মানদণ্ড হচ্ছে ১৯৭১ সাল। ওই বছরের ২৫ মার্চের পরে যারা আসামে গেছেন, তাদের বিতাড়িত করা হবে। যে বিপুল নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তারা মূলত সংখ্যালঘু মুসলিম। তাদের কাছে এমন কাগজপত্র ও দলিল চাওয়া হচ্ছে, যা হয়তো তারা দাখিল করতে পারবেন না। রোহিঙ্গাদের কাছে যেমনটি মিয়ানমার সরকার চেয়েছে। আসাম রাজ্যসরকার জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি তাদের পরিবারের সদস্যদের ১৯৫১ সালের আগে এই রাজ্যে আসার তথ্য দিতে পারবে অথবা ভারতের নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী সদস্যরা যদি প্রমাণ করতে পারে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে তারা ও তাদের পরিবার আসামে এসেছিল, তাহলে তারা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে। রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন করার প্রক্রিয়া শুরু করে মিয়ানমার ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন দিয়ে। ওই আইনে বলা হয়, যারা ১৮২৪ সালের আগে থেকে দেশটিতে বসবাস করছে তারা মিয়ানমারের পূর্ণ নাগরিক। জাতিসঙ্ঘ ঘোষিত সার্বজনীন মানবাধিকারের পরিপন্থী হলেও মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে এই অমানবিক আইনটিকে কাজে লাগিয়ে যচ্ছে। এবার ভারতের বাংলাদেশসংলগ্ন আসামে নাগরিকত্ব যাচাই কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে। ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনের (এনআরসি) প্রথম দফা খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
রোহিঙ্গারা দেশ ছাড়া হয়ে বাংলাদেশে আসবে, এমনটি মোটামুটি নিশ্চিত ছিল। মিয়ানমার সেই প্রক্রিয়া নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। বাংলাদেশ সময়মতো সচেতনতা দেখায়নি। দেশটিতে যে অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, সে ব্যাপারে কোনো ধরনের প্রতিবাদও করেনি। এমনকি মানবাধিকার নিয়ে জাতিসঙ্ঘে যখন প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে, মিয়ানমারের নাগরিকদের মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ পক্ষে অবস্থান নেয়নি। শেষে বাংলাদেশকেই তার চূড়ান্ত ভুক্তভোগী হতে হয়েছে। আসামে বিশাল একটি অংশ ভারতের নাগরিক নয় বলে যে আওয়াজ উঠতে যাচ্ছে, বাংলাভাষী এই মুসলমানেরা তাহলে কোন দেশের নাগরিক? তারা কি প্রতিবেশী মিয়ানমারের নাগরিক, যে দেশটি নিজের দেশের নাগরিকদের মুসলিম ও বাঙালি বলে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে? আসামে যে ষড়যন্ত্র ঘনীভূত হচ্ছে, আরেকটি বিশাল জনগোষ্ঠীর ভাগ্যেও কি রোহিঙ্গাদের পরিণতি অপেক্ষা করছে? তাহলে এই বিশাল রাষ্ট্রহীন মানুষের গন্তব্য কোন দেশ? এ প্রশ্নগুলো এখন ভাবতে হবে বাংলাদেশকে।
এখন ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের ঘাড়ের ওপর উঠেছে। একটি সভ্য জাতি হিসেবে কোনোভাবে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফেলে দিতে পারে না, কিন্তু সময়মতো সচেতনতার পরিচয় দিলে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। জাতিসঙ্গের সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ১৯৪৮ সালের সার্বজনীন মানবাধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী। রোহিঙ্গা সন্তানেরা জন্মগতভাবে মিয়ানমারের নাগরিক। নাগরিকত্ব বিষয়ক আইন করে তাদের যখন রাষ্ট্রহীন করা হচ্ছিল, তখন বাংলাদেশ কোনো কথা বলেনি। নিষ্ঠুরভাবে তাদের যখন মৌলিক নানাবিধ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, তখনো কিছু বলেনি।
অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে টুঁ-শব্দটি না করে বাংলাদেশ আসলে কী অর্জন করেছে। আমরা কি মিয়ানমারের বন্ধুরাষ্ট্র্র হতে পেরেছি? বিগত তিন দশকে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব এক চুলও এগোয়নি, বরং আমাদের বন্ধুরাষ্ট্রগুলো মিয়ানমারের সাথে তাদের সম্পর্কের উন্নতি করছিল, আমরা চুপচাপ থেকে সেটা দেখেছি। রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমার তার নাগরিকদের ওপর যে অন্যায় করেছে, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামে সেগুলো উত্থাপনের যথেষ্ট সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। মানবাধিকার সনদ লঙ্ঘনের বিষয়টি বাংলাদেশ জোরালোভাবে উত্থাপন করতে পারত। বাংলাদেশ তা করেনি, বরং যখন মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে, বাংলাদেশ চুপ থাকার নীতি গ্রহণ করেছে। অন্যায়কে এভাবে নীরবে সমর্থন করা কোনোভাবেই সঠিক হয়নি। তার দায় এখন বাংলাদেশকে বহন করতে হচ্ছে।
সাগরের বুকে জেগে ওঠা নতুন ভূমি বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বদ্বীপ। এই দেশে মানুষের বসবাসের ইতিহাস খুব পুরনো নয়। ক্রমে দক্ষিণে যখন স্থলভাগ বিস্তৃত হয়েছে, উর্বর ভূমিতে এসে উত্তরের মানুষ বসতি গড়েছে। চূড়ান্ত বিচারে এখানকার মানুষ অভিবাসী। এখন যারা আগে বসতি গেড়েছে, তারা যদি পরে আসা লোকদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে, বিষয়টি কেমন দাঁড়াবে। মূলত ভারতের অধিবাসীরা এ অঞ্চলের (বাংলাদেশের) নবীন বাসিন্দা। পৃথিবীতে মানুষের আসার শুরু থেকে অভিবাসন চলছে। এটিকে অস্বীকার করার কারণে পৃথিবীতে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ছে।
ভারতে ধর্মের ভিত্তিতে যে মেরুকরণ চলছে, সেটা ভালো পরিণাম বয়ে আনবে না। ধর্ম পরিবর্তনও অভিবাসনের মতো একটি বিষয়। মানুষ বরাবরই পুরনোকে ত্যাগ করেছে। নতুন ও টেকসই ব্যবস্থাকে গ্রহণ করেছে। এ ধরনের বিবর্তন পৃথিবীর এক অনিবার্য প্রক্রিয়া। এটিকে অস্বীকার করা হচ্ছে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িকতা। ভারতের হিন্দুরা যেমন দেশটির নাগরিক, একইভাবে অন্য ধর্মাবলম্বীরাও। এরা বাইরে থেকে এসেছেন কোনোভাবেই কথাটি সত্য নয়। মধ্যযুগের শুরুতে আরবেরা যেমন এসেছে, আধুনিক যুগের শুরুতে তেমনি ইউরোপীয়রা এসেছে। জাতপাতে বিভক্ত সনাতন ধর্মের মানুষকে মুক্তির স্বাদ দিয়েছিল তৎকালীন আরবেরা। পরে ইউরোপীয়রা দিয়েছিল আধুনিকতার ছোঁয়া। আরব ও ইউরোপীয় কেউ এ ভূখণ্ডে থেকে যায়নি। ভারতীয় রক্তের সাথে তাদের মিশ্রণ হয়েছে খুব সামান্য।
উপমহাদেশে অভ্যন্তরীণ অভিবাসন হয়েছে বিভিন্ন সময়। এখন অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হলেও পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা আরো বাড়বে। আসামে চাকরি ও সরকারি সুযোগ সুবিধা কেড়ে নেয়ার যে অভিযোগ ওঠানো হচ্ছে, সে হিসাব করা যুক্তিযুক্ত হবে না। বাংলাদেশে চাকরি ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয়রা এক নম্বরে রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স নিয়ে যায় ভারত। যেখানে বাংলাদেশে উচ্চ বেকারত্ব বিরাজ করছে। এ ভারতীয়দের বেশির ভাগই বৈধভাবে বাংলাদেশে চাকরি করে না। বাংলাদেশে এর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিবাদ দেখা যায় না। বাংলাদেশের মানুষ এ ব্যাপারে উদারতার পরিচয় দেয়। আসামের উর্বর ভূমি একসময় আশপাশের কৃষিজীবীদের আকৃষ্ট করেছে। বাংলাদেশ থেকেও কৃষকেরা একসময় সেখানে গেছে। যেমন ভারতীয় উপমহাদেশের অপেক্ষাকৃত নতুন ভূমি বাংলাদেশে বসবাস করছে উপমহাদেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা মানুষ।
আসামের মোট জনসংখ্যা তিন কোটি ৩০ লাখ। রাজ্যের জনসংখ্যার ৩৪ শতাংশের বেশি মুসলিম। অর্থাৎ তাদের মোট সংখ্যা এক কোটির বেশি মুসলিম। ৯টি জেলায় মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। নাগরিক সনদ প্রদানের প্রথম দফায় ৬০ শতাংশকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাদ পড়েছে ৪০ শতাংশ। বাদ পড়া অংশটি মূলত মুসলিম ও বাঙালি। রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন করা ছিল একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ। এ জন্য তারা প্রথমে একটি নাগরিকত্ব আইন প্রণয়ন করে। যখন এই আইনটি রচিত হয়, তখন রোহিঙ্গারা একটি জাতিগোষ্ঠী হিসেবে দেশটিতে প্রতিষ্ঠিত ছিল। তাদের সদস্যরা জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিল। তাদের মধ্যে মন্ত্রীও হয়েছিলেন। অং সান সু চি এবং তার বাবার উপদেষ্টা পরিষদে রোহিঙ্গা সদস্যরা ছিলেন। ধূর্ত সেনাবাহিনী যখন এই পরিকল্পনার সূচনা করে কেউ সেটাতে নেতিবাচক কিছু দেখেননি।
নাগরিকত্ব আইন করার একপর্যায়ে যাচাই-বাছাই করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মূলত সামরিক নেতাদের টার্গেট ছিল সাম্প্রদায়িক উসকানি দেয়া। এখন যেটা স্পষ্ট বোঝা যায়। স্থানীয় বৌদ্ধদের মধ্যে রোহিঙ্গাদের মুসলিম পরিচিতির বিষয়টি উসকে দেয়া হয়। যখন দুই কমিউনিটির মধ্যে ধর্মীয় বিভাজন ছড়িয়ে দেয়া হলো, তখন এমন কিছু ঘটনা ঘটানো হলো উভয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হলো। বিগত ৩০ বছরের এমন অসংখ্য ঘটনা দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাদ চরম পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। এরপর বৌদ্ধদের নিয়ে স্থানীয় মুসলিমদের ওপর নৃশংস অভিযান চালানো হয়। এক একটি অভিযান আগের অভিযানের চেয়ে ছিল নিষ্ঠুর। এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে দেয়া।
অভিযান শেষ হলে মুসলিম জনপদগুলোকে অবরোধ আরোপ করা হয়। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ, চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। মাঝে মধ্যে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার উৎসবে মেতে ওঠা চলতেই থাকে। তাদের কাছে থাকা নাগরিক সনদের জন্য উপযুক্ত দলিল কেড়ে নেয়া হয়, যাতে করে পরে এগুলো প্রদর্শন করে নাগরিকত্বের দাবি না করতে পারে। এর ওপর কোনো উসিলা ধরে চূড়ান্ত গণহত্যা চালানো হয়। পুরো জনপদের মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়। তারা মানসিকভাবে ধরেই নেয় যে, মিয়ানমারে তাদের থাকা আর সম্ভব নয়। এ জন্য কোনো একটি এলাকা নতুন করে আক্রমণ হলে দলবেঁধে সবাই দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নেয়। দেশ থেকে বিতাড়নের জন্য এটা ছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একটি চক্রান্ত। তারা এটা দারুণভাবে সফল করেছে। রোহিঙ্গাদের প্রায় সবাই নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
আসামে অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজে মুসলমানেরা অন্যান্য গোষ্ঠীর মতো প্রতিষ্ঠিত। যেমনটি মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা প্রতিষ্ঠিত ছিল। আসামে ধর্মীয় উত্তেজনা ও রায়টের কয়েকটি পর্ব ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। নাগরিক নিবন্ধনের চরিত্র বিশ্লেষণ করলে এখনে রোহিঙ্গা লক্ষণ প্রকাশ পায়। আসামের উপজাতিরা সবাই নাগরিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর আগে সেখানে উপজাতিদের সাথে মুসলমানদের দাঙ্গা বাধিয়ে দেয়ার ইতিহাস আছে। এখন তালিকা থেকে মুসলমানেরা যখন বাদ পড়ছে, তাদের জন্য এটি একটি মানসিক প্রস্তুতির সময়কাল। সংবাদমাধ্যম এর মধ্যে খবর দিয়েছে, অনেকে আসাম ছাড়ছে। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে যে সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করেছে, তার বিভিন্ন ধাপ সামনে কি আসামেও দেখা যেতে পারে?


এলএবাংলাটাইমস/সিএলআরটি 

বিস্তারিত খবর

চাই নয়া নেতৃত্ব

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২৬ ১১:১০:৩৩

তারেক জিয়া, সজীব ওয়াজেদ জয়, মাহি বি চৌধুরী, ব্যারিষ্টার তাপস, ব্যারিষ্টার আন্দালিব পার্থ, গোলাম মাওলা রনি, সাঈদ খোকন এবং অন্যান্য সকল যুবনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলছি, আপনারাই এ দেশের ভবিষ্যত নেতা। অনুকরণীয় এক মহান নেতা ডঃ মাহাথির মোহাম্মদের ন্যায় আপনারাই পারেন ইতিহাস সৃষ্টি করে গরীব এ দেশকে উন্নত একটি দেশে পরিণত করতে।  কিন্তু একটি পশ্চাদপদ দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেয়া মোটেই সহজ কোন কাজ নয়। ইচ্ছা হলেই যে কেউ সত্যিকার অর্থে নেতা বা নেত্রী হতে পারে না। তার জন্য দেশপ্রেম, প্রচুর পড়াশুনা, গবেষণা, ত্যাগ ও তিতিক্ষার প্রয়োজন। সদিচ্ছা থাকলে আপনারা নিজেদের মধ্যে থাকা সব বাধা পেড়িয়ে, সব বিভেদ ভুলে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।আমাদের অতীত ইতিহাস হতে আপনাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। যে যত কথাই বলুন না কেন আমাদের অতীত ইতিহাস খুব গৌরবের নয়। কদর্য্য এ ইতিহাস সামনে না আনতে পারলে আমার এ লেখার কোন মূল্য থাকবে বলে আমার মনে হয় না। তাই সবার অবগতির জন্য অতীতের কিছু বিষয় উল্লেখ করতে বাধ্য হচ্ছি।

বৃটিশ শাসনের কথা আমরা সবাই কম বা বেশী জানি। যে যার মত বিশ্লষণ না করে আমরা যদি নিরপেক্ষভাবে বিচার করতে পারি তবে আমরা অতীত ইতিহাস ব্যাখ্যা করে এর ভাল এবং মন্দ দিকগুলো চিহ্নিত করতে পারবো। যাক বৃটিশ শাসনের পর অর্থাৎ ১৯৪৭ সাল হতেই একটি সদ্য ভুমিষ্ট দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার মত সুযোগ্য নেতা আমাদের দেশে খুব একটা তৈরী হয়নি। সৎ নেতৃত্ব সংকটের ফলে অযোগ্যদের হাতে নেতৃত্ব চলে যায়। পরবর্তিকালে এরা সক্রিয় হয় এবং সুকৌশলে দেশের রাজনীতির শূণ্য ময়দান দখলে নিয়ে দখলদার বৃটিশ শাসকদের মতই দেশ শাসন শুরু করলো। শুধু তাই নয়, স্বার্থপর এ রাজনীতিবিদদের হীন চক্রান্তে অল্প হলেও যে ক'জন দেশপ্রেমিক নেতা ছিলেন তাদের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হলো অথবা গভীর ষড়যন্ত্রের কারণে তাদের পিছু হঠতে বাধ্য করা হলো। শুরু হলো ফাঁকা ময়দানে রসালো বক্তৃতা দিয়ে বাহবা বা হাততালি পাওয়ার রাজনীতির চর্চা। গোঁদের উপর বিষফোড়ার মত ছিল পূর্ব বাংলার সহজ সরল জনগণকে শাসনের নামে বিভিন্ন কায়দায় পশ্চিম পাকিস্তানীদের শোষন। এ দেশের বেশ কিছু হীন চরিত্রের রাজনৈতিক নেতা জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বিশ্বাসঘাতকের মত পশ্চিমাদের সাথে হাত মিলিয়েছিল। কিছুদিনের মধ্যেই দুই অংশের দৃশ্যমান বৈষম্যের কারণে পূর্বাংশের জনগণ আবার স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখা শুরু করলো। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য পশ্চিমাদের সাথে যারা হাত মিলিয়েছিলো তারাই আবার নেতৃত্বে চলে এলো। তাদের মতে যে যত বেশী আবেগঘন বক্তৃতা দিতে পারবে সেই তত বড় নেতা। দেশে চালু হলো নূতন রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেখানে আবেগ দিয়ে কথা বলতে পারা কিংবা রসালো বক্তব্য দিতে পারাটাই নেতৃত্বের মাপকাঠি হয়ে গেলো। এ কারণেই প্রকৃত নেতা হওয়ার মত নুন্যতম যোগ্যতা না থাকা সত্বেও দুর্ভাগ্যবশত এরাই দেশের নেতা বা নেত্রী বনে গেলো। সুদীর্ঘ তেইশ বছর বিভিন্ন গণ আন্দোলন শেষে দেশের জনগণ সুসংগঠিত হলে ১৯৭১ সালের নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের ফসল হিসেবে আমাদের সকলের প্রিয় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের যাত্রা শুরু হলো।

স্বাধীন দেশে যারা নেতা বা নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন তাদের মধ্যেও যোগ্যতার প্রকট অভাব ছিল। মুখে মুখে 'জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস' বললেও এখানে জনগণের ভূমিকা ছিল সম্পূর্ণ গৌন। হয়তো বা ঐ সকল নেতাদের মতে দেশের রাজনীতিতে জনগণের কোন ভূমিকা থাকারই প্রয়োজন নেই। বলাই বাহুল্য যে, এ দেশের সহজ সরল জনগণ তৎকালীন শাসকদের অপশাসন, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈষম্য, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, সামাজিক অবক্ষয় ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সচেতন হতে পারেননি কিংবা অন্যভাবে বলা যায়, এদের সচেতন করার জন্য ফলপ্রসু কোন উদ্যোগ সেই বৃটিশ আমল হতে কোন সরকার গ্রহণ করেনি। এর কারণ, জনগণ সচেতন হলে অযোগ্য যে কেউ যখন তখন তাদের শাসন করতে পারে না। হলোও তাই, তারা জানতো যে বৃটিশদের মত DIVIDE & RULE সূত্র কাজে লাগিয়ে অসচেতন জনগণকে শাসন ও শোষণ করা খুবই সহজ। এরই ফলশ্রুতিতে এবং কালক্রমে দেশপ্রেমিক নয় এমন ব্যক্তিরাই রাজনীতিতে সক্রিয় হলো। তাদের সাথে মিলিত হলো সন্ত্রাসী, খুনী, কালোবাজারী, ঘুষখোর, ধর্ষক, মদখোর এবং নৈতিকভাবে অধঃপতিত কিছু অসামাজিক ব্যক্তি। বর্তমানে এদের হাতেই দেশ ও জাতির সার্বিক নেতৃত্ব কুক্ষিগত।

দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এই বাংলাদেশ আজব এক দেশ। এ দেশের ৬০% মানুষ দেশ বা দেশের ভবিষ্যত নিয়ে খুব একটা ভাবেন না আর তারা ভাবতেও চান না। এরা খুব অল্পতেই তুষ্ট। কোনক্রমে বেঁচে থাকতে পারলেই এরা খুশী। এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে ঐ সব  স্বার্থপর, ধুরন্ধর ও সুযোগসন্ধানী রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং অন্যান্য দলের নেতা আর কর্মীদের ভাষা শুনলে মনে হয়, শিশুকালে এরা কোন সুশিক্ষা পায়নি। এদের বাবা-মারাও তাদের সুশিক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। জানি না হয়তো বা তারা নিজেরাই অশিক্ষিত ছিলেন। কারণ একমাত্র শিশুকালটাই হলো আদব কায়দা শেখার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে  আমাদের দেশের রাজনীতিবিদগণ ভাল মানুষ হওয়ার মত উপযুক্ত কোন শিক্ষা পাননি। বড় বড় ডিগ্রী বা সার্টিফিকেট তারা হয়তো পেয়েছেন কিন্তু এদের কেউ সুশিক্ষিত হতে পারেননি। তাই তারা যে ভাষায় কথা বলেন তা শুধু শিষ্টাচার বহির্ভূত নয় বরং অভদ্রজনিতও বটে।

বর্তমানে সংখ্যায় কম হলেও জনগণের একটা অংশ যারা রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও শান্তিপ্রিয় তারা চায় নেতৃত্বের আশু পরিবর্তন। তারা চায় সঠিক এবং গতিশীল নয়া নেতৃত্ব। দেশকে ভালবেসে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে যদি সুনেতৃত্ব গড়ে তোলা না যায় তবে দেশের সত্যিকার উন্নয়ন কোন দিনই সম্ভব নয়। এ সত্য উপলব্ধি করে এবং সুন্দর, সুখী এবং সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে চাইলে অতি সত্তর নেতৃত্ব পরিবর্তন অত্যাবশ্যক। এক্ষেত্রে নবীনদের নেতা হিসেবে বরন করাই সর্বোত্তম।

আগামী দিনের নেতা তারাই হবেন যারা দেশকে নিয়ে যাবেন উন্নতির শিখরে। সুন্দর একটি ভবিষ্যতের দিকে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে আগামী দিনের নেতারা সর্বাগ্রে নিজেদের তৈরী করে নিতে হবে। দেশকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে হলে আবেগপ্রবণ বক্তৃতা দেওয়ার প্রবণতা পরিহার করে আত্মত্যাগের দীক্ষায় নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

বিস্তারিত খবর

নৈতিক শিক্ষার গুরত্ব

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২২ ১১:৪৬:৫০

ক্যানবেরার হাই কমিশন অফিসে মান্যবর রাষ্ট্রদুতের উদ্যোগে একবার একটি মত-বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিলো। মত-বিনিময় সভাটির আলোচনার বিষয় বস্তু ছিলো-“সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলাঃ আমাদের করণীয় ও প্রবাসী ভাবনা”। সভায় বক্তারা নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। কেউ বা জঙ্গি কি বা কারা, ধর্ম ও তার অপবাখ্যার কুফল, নানা অরাজকতার ইতিহাস ও সাম্প্রদিকতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন। কিন্তু মূল বিষয় বস্তু ছিল আমরা কি করতে পারি বা এ বিষয়ে প্রবাসীদের ভাবনা কি। এ বিষয়টিতে নৈতিক শিক্ষা যে একটি গুরত্বপুর্ন ইস্যু তা তেমন একটা আলোচনায় আসেনি।

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্ত্য বিশ্বে বড়ো হয়ে উঠা মানুষের আচরণের মধ্যে একটি বিষয়ে বড়ো ধরণের পার্থক্য আছে। প্রসঙ্গক্রমে বাংলাদেশের কথাই বলি। এই সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠা মানসিকতায় আবেগ বেশী, বলা চলে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশী। কিন্তু পাশ্চাত্ত্য বিশ্বে আবেগের চেয়ে সহনশীলতা ও নীতিবোধ বেশী। আবেগ থাকা অবশ্যই দরকার কিন্তু নীতি বিবর্জিত হয়ে নয়। এসব দেশে দেখা যায় কোন ব্যাপারে একই বিষয়ে প্রতিদ্ধদ্বিতা করেও পরস্পর পরস্পরের শত্রু হয়ে উঠেনা।যে কোন প্রতিদ্ধদ্বিতা ও প্রতিযোগিতা হয় মার্জিত ও শুদ্ধ-ধারায়। সরকারী দল বা বিরোধী দল একে অপরের সমালোচনা করে পরিশীলিত ভাষায় বা সংযত শব্দ ব্যাবহার করে। এসব আচরণে অভ্যস্ত হতে প্রয়োজন সহনশীলতা ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা।

নীতিবোধ ও সহনশীলতা মানবিক গুণাবলীর একটি জরুরী দিক।বলা প্রসঙ্গিক যে, ধর্ম শিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষা এক বিষয় নয়। ধর্ম-শিক্ষা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে অপার্থিব বিষয়ের উপর গুরত্ব আরোপ করে। নৈতিক-শিক্ষা নীতি ও মানবতার প্রতি গুরত্ব আরোপ করে। এ প্রসঙ্গে মাদার তেরেসার একটি উক্তি খুব যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে-“তুমি যদি দৃশ্যমান মানুষকেই ভালবাসতে না পারো, তাহলে অদৃশ্যমান ঈশ্বরকে কি করে ভালবাসবে?”।আসলে মানুষ ও মানবতার জন্য নৈতিক শিক্ষার গুরত্ব অপরিসীম।উচ্চশিক্ষায় দর্শনের অন্তর্গত 'নীতিবিদ্যা' নামক একটি কোর্স পড়ানো হয়ে থাকে।একাডেমিক পড়াশোনা দর্শন ও নীতিবিদ্যা হওয়ায়তার গুরত্বটা উপলব্ধি করছি।কেবলমাত্র উচ্চশিক্ষা ছাড়াও আমার মনে হয় নীতিবিদ্যা পড়ানো দরকার প্রাইমারী স্কুল থেকেইএবং তা বাধ্যতামূলক করা উচিৎ প্রতিটি শিক্ষা-কার্যক্রমে। তাতে করে মানুষ নৈতিক শিক্ষা ও সহনশীলতায় অভ্যস্ত হতে পারবে ছোটবেলা থেকেই। নানা কারণে মানুষ আজ বিভ্রান্ত। কেননা মানবতাবোধ তৈরি হতে পারে এমন কিছু শিক্ষা ও চর্চা থেকেমানুষ আজ বিচ্ছিন্ন। গভীর অন্তর্দৃষ্টি ওসহনশীলতা সৃষ্টিতে নৈতিক শিক্ষা অত্যাবশ্যকীয়।

মানুষে মানুষে সুন্দর সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগীতাই মূলত মানবতা। মানবতার প্রয়োজনেই গঠিত হয় সমাজ ও রাষ্ট্র। মানুষ ও মানবতার জন্যই বলা চলে সভ্যতার যতো আয়োজন। বর্তমানে বিশ্ব পরিস্থিতিতে মানব সম্পর্কের যে সঙ্কট চলছে, বিবাদ-সংঘাতের যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা যে সঠিক জ্ঞানের অনুপস্থিতির কারণে ঘটছে তা কিন্তু নয়। তার মুল কারণ যে মানবতা বোধের অভাব তাতে কোন সন্দেহ নেই। আর মানবতা বোধের যে অবক্ষয় তার কারণ সঠিক জীবনদর্শনের অভাব। সে কারণেই মানুষের জীবন আজ নানাক্ষেত্রে হয়ে উঠেছে নীতিহীন ও মূল্যবোধহীন।

আমাদের দেশের বর্তমান স্কুল পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমে নৈতিক শিক্ষার কোনো পাঠ নেই।কিন্তু ধর্মীয় শিক্ষার পাঠ আছে। যদিও সব ধর্মের মূল শিক্ষা কল্যাণকর। তারপরও নৈতিক শিক্ষা আর ধর্মশিক্ষাকে এক করে ফেলা ঠিক নয়। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে স্কুল শিক্ষা কার্যক্রমের এমনকি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কোথাও আজ নৈতিক শিক্ষার কোনো সুযোগ নেই। তবে সম্প্রতি পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো করে ব্যবসায় নীতিবিদ্যাসহ প্রায়োগিক নীতিবিদ্যার কিছু দিক বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করা শুরু হয়েছে। এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ভালো। তবে নীতিশিক্ষার এ পাঠ শিশু-কিশোর পর্যায়ে পেলে সেই শিক্ষা আরো বেশি কার্যকর হবে বলে মনে হয়।

গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস মনে করতেন: 'জ্ঞানই পুণ্য'। সত্যিকার অর্থে সঠিক জ্ঞান অর্জন মানুষে মানুষে মমতা বাড়ায়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু আবার অনেক ক্ষেত্রে করে তুলছে সঙ্কটাপন্ন। তাই সহজ জিবনের পাশাপাশি একটি নৈতিক জিবন ও অত্যাবশ্যক। আর নৈতিক জিবন যে কেবল ধর্মীয় অনুশাসনেই সীমাবদ্ধ তা কিন্তু নয়। মানুষের জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করার ক্ষেত্রেনৈতিকদর্শন চর্চার ও প্রয়োজন। সার্বজনীননৈতিক দর্শন কোন বিশেষ ধর্মের আওতাভুক্ত নয়। মানবতা চর্চায় এর বিকল্প নেই।সঠিক নীতিশিক্ষাই পারে প্রযুক্তি সমূহের অগ্রগতিকে মানবিক প্রয়োজনে যথার্থভাবে কাজে লাগানোর নীতিনির্ধারণকরতে।

সভ্যতার নানা বিবর্তন ও অগ্রগতি সত্ত্বেও মানুষ আসলে সুখে নেই। প্রযুক্তির অভাবনীয় উৎকর্ষতার পরও মানবসমাজে ঘটছে নানা অবাঞ্ছিত ঘটনা। অভূতপূর্ব সব সুবিধা থাকা স্বতেওমানুষ কাঙ্ক্ষিত শান্তি লাভ করতে পারছে না। এর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দায়ী নৈতিক অবক্ষয়। সহনশীলতাও আত্নসমালচনা’র মানসিকতার অভাব। নীতি ও নৈতিকতার সঠিক অনুশীলন না থাকায় মানুষ হয়ে পরছে দুর্নীতিগ্রস্ত। সঠিক নীতিমালা ও নীতিবোধ না থাকায় বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিও মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলছে। মানুষ নীতিহীন হলে কোনো আইন-কানুন-ই তাকে সঠিক পথে পরি চালিত করতে পারেনা। রাষ্ট্রীয় নিয়ম-নীতি থাকলেও যে মানুষগুলো তা পরিচালনা করেন তাদের যদি নীতি-নৈতিকতার অভাব থাকে তাহলে সেসব প্রতিষ্ঠান দ্বারা মানুষ ভালো কোনো কিছু আশা করতে পারে না। তাই চরিত্র গঠন বা চারিত্রিক উন্নয়নের দিকে নজর দেয়া উচিত সর্বাগ্রে। এ ক্ষেত্রে নীতিবিদ্যা ও নৈতিক শিক্ষা অত্যাবশ্যক।

আজকের এই অস্থির জীবন আর চাওয়া পাওয়ার পিছনে ছুটে চলা কিংবা মানুষ প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বোধের অভাব সম্ভবত মানবতা বোধের অভাব থেকেই। ছোটকাল থেকেই মানুষের নৈতিক জীবন গড়ে ওঠে। বলা চলে ছোট বেলার শিক্ষা ও অভ্যাসই মানুষের সমগ্র জীবনে প্রভাব ফেলে। এ জন্য শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমে নৈতিক শিক্ষারবিশেষপাঠথাকাজরুরি।শিশুরা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয় তাদের শিক্ষকদের দ্বারা এবং পাঠ্যপুস্তক দ্বারা। পাঠ্য বইয়ে লিখিত বিষয়কে তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকে এবং শিক্ষকের নির্দেশনাকে তারা পিতামাতার নির্দেশনার চেয়েও বেশি অনুসরণযোগ্য বলে মনে করে। তাই নৈতিক শিক্ষাকে স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে আবশ্যিক করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বলা চলে শিক্ষার প্রতিটা ধাপেএটা করা দরকার। এতে সব শিক্ষার্থীকে সর্বজনীন কিছু চারিত্রিক শিক্ষা দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। কেবল প্রযুক্তি ও উন্নত জীবনই মানবতা বোধ তৈরি করতে পারেনা।এ বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে।

বিস্তারিত খবর

গ্রামেও এখন মোবাইলে গেম খেলা নেশায় আসক্ত

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-১৩ ১১:১৬:৩৮

গ্রামাঞ্চলে তরুণ প্রজন্মের ছেলেরা এখন খুব মজা করছে। তবে এ মজা শুধু যে গ্রামেই হচ্ছে তা কিন্তু নয়, শহরেও হচ্ছে। বলা যায় এই মজার আনন্দ গ্রামের চেয়ে শহরেই অনেক বেশী। তবে গ্রামের ছেলেরা অন্ধকার পরিবেশেই জটলা হয়ে পাশাপাশি বসে তাদের নিজস্ব মোবাইলে গেম খেলে আনন্দ করছে।

গ্রামীণ জনপাদে এমন পরিবেশ কি করে শুরু হয়েছে তা জানতে চাইলে সোহাগ আহম্মেদ বলেন, এই তো বেশ কিছু দিন আগের কথা, রাখাল যুবকরা বট গাছের ছায়ায় বা প্রিয় অন্য কোন ছায়া শিতল গাছের তলে ভর দুপুরে কচি কাঁচা সবুজ ঘাসে গরুর পাল ছেড়ে দিয়ে ইঁটের খোয়া বা অন্য কোন শক্ত বস্তু নিয়ে,অথবা মাটির ছোট ঢেলা দিয়ে চমৎকার কয়েকটি গুটি বানিয়ে মশ্রীণ মাটিতে কয়েকটি রেখা টেনে খোপ খোপ ঘর বানিয়ে বাগ বরকি'র মহা লড়াইয়ে জয়-পরাজয়ের আনন্দে মসগুল ছিল। তা তো বিলুপ্তির পথে, এই খেলা গুলো আর গ্রামের ছেলেরা খেলে না। তারা মোবাইল আসায় এই খেলাগুলো দলগত ভাবে মোবাইলেই খেলছে। অসচ্ছ এ বিষয় তিনি আরও সচ্ছ করেই বলেন, মোবাইলে এ গেম খেলার আনন্দ আসলে জয়-পরাজয়ের আনন্দ। তাশ খেলার মত টাকা পয়সা দিয়েও খেলছে। আধুনিক যুগে মোবাইলে এই গেম খেলা আসলেই যুব সমাজকে অনেকাংশ ধ্বংস করছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এই গেম শহরের ছেলে মেয়েরা খুব বেশী খেললেও গ্রামের ছেলেরাই শুধু খেলছে। গ্রামাঞ্চলের তরুণ প্রজন্ম নাকি আধুনিক এই প্রযুক্তি থেকে পিছিয়ে থাকতে কখনো চান না।

গ্রামাঞ্চলে এখন দেখা যায় প্রত্যেকটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে, সেহেতু মোবাইলে চার্জের কোনই সমস্যা তাদের হয় না। মোবাইল বা ট্যাবের কারণে তরুণ প্রজন্মের ছেলেরা অকারণেই গেম নেশায় আসক্ত হচ্ছে। আধুনিক যুগের এই ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রের বদৌলতে রাত ভর তারা মজার ধরনের গেম বেছে নিয়ে পড়া শুনা না করে গেম খেলে জীবনকে ধ্বংস করছে। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া স্বপ্ন গুলোকে বাদ দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা তারা যে গেম খেলছে। এদের এমন ভাবে চলা উচিৎ নয়, আবার তারা এই গেম খেলার পাশাপাশি অতিরিক্ত আনন্দ জন্যই মরন নেশা গাঁজাও সেবন করছে।

তরুণ প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা তাদের মোবাইলে গেমের পাশাপাশি ইন্টারনেটেও অনেক বেশি সময় কাটাচ্ছে সেহেতু তাদের মস্তিষ্কে নাকি রাসায়নিক পরিবর্তনও ঘটছে। এমন আসক্তিতে তাদের মধ্যে হতাশা এবং উদ্বেগ সৃষ্টি হচ্ছে। এই বিষয়ের প্রতি অবজ্ঞা না করে তাদের প্রতি কঠিন দৃষ্ট দিতে হবে।সুতরাং গ্রাম হোক আর শহরই হোক না কেন, বাবা মা এবং তাদের বড়দের উচিৎ ঘরে-বাহিরে তারা কি করছে দেখা। রাত্রি বেলা না ঘুমিয়ে গেম খেলছে কিনা। গবেষকদের গবেষণায় জানা যায় যে, ঘুমের আগে মোবাইলের ডিসপ্লের আলোক রশ্মি ঘুমের হরমোনকে নাকি অনেক বাধা সৃষ্টি করে৷ তাই বাবা মাদের প্রতি গবেষকদের পরামর্শ, ঘুমের আগে যদি সন্তানকে প্রযুক্তির সংস্পর্শে আসতে দেওয়া হয় তা হলে অনেক ক্ষতি হবে। তাদেরকে অবশ্য অকারণে অহেতুক এসব ইলেকট্রোনিক্স যন্ত্র ব্যবহারে বাধা সৃষ্টির প্রয়োজন রয়েছে। ঘুম না হলে অসুস্থ ভাবেই বেড়ে ওঠা এইসব কমলমতি তরুণ তরুণীদের খুব ক্ষতি হবে। পরিপূর্ণ ঘুম না হলে যে তাদের অমূল্য সম্পদ স্মৃতিশক্তির স্বাভাবিকতা বিনষ্ট হবে। তাই সময়ের যথাযত ব্যবহারের ক্ষেত্রে এসব মুঠোফোন বা ইলেকট্রোনিক্স যন্ত্রের মতো এমন বদঅভ্যাসকে পরিহার করতে হবে।


বিস্তারিত খবর

মুগাবে : নায়ক না খলনায়ক?

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-২৫ ১০:৪১:৩৯

দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে বিশ্ব জেনে এসেছে জিম্বাবুয়ে মানে মুগাবে, মুগাবে মানে জিম্বাবুয়ে। এবার তার সমাপ্তি হলো। ২১ নভেম্বর পদত্যাগ করেছেন তিনি।

যে জিম্বাবুইয়ানদের জন্য জীবন বাজি রেখে তাদের নয়নের মণি হয়ে নায়কের আসন পেয়েছিলেন, আজ তাদেরই ক্ষোভের বিষে জীবনের পড়ন্ত বেলায় ‘পেছন দরজা দিয়ে’ বিদায় নিতে হলো তাকে। অনেকে তাকে ‘খলনায়ক’ অভিহিত করছেন; বিশেষ করে পশ্চিমা গণমাধ্যম তাকে এই চরিত্রে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আসলেই কি তিনি খলনায়ক?

মুগাবের ভূমিকা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখে নেওয়া যাক একবার। শুরুতেই বলে রাখা ভালো, পশ্চিমা ধাঁচের শাসন ব্যবস্থার বরাবরই কড়া সমালোচক ছিলেন তিনি। আর পশ্চিমা গণমাধ্যমের দৃষ্টিতে তিনি একনায়ক ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী।

কারো কারো কাছে মুগাবে মহানায়ক, যিনি জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতা এনেছিলেন এবং ব্রিটিশ উপনিবেশের শৃঙ্খল ভেঙে সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গদের শাসন থেকে দেশ মুক্ত করেছিলেন। উপরন্তু সবশেষ যারা তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেছেন, তারা এ পরিণতির জন্য স্ত্রী গ্রেস ও তার চারপাশের দুর্নীতিবাজদের দুষেছেন।

গত কয়েক বছর ধরে তার বিরুদ্ধে ক্রমেই সমালোচকের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছিল, যাদের কাছে উচ্চশিক্ষিত ও কূটবুদ্ধির এই রাজনীতিক আফ্রিকার একজন স্বৈরশাসক চরিত্রে রূপায়িত হন। তাদের দাবি, ক্ষমতা ধরে রাখতে গিয়ে তিনি পুরো দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে ঠেকিয়েছেন এবং ভীতির রাজত্ব কায়েম করেছেন।

মুগাবে তার নেতৃত্বের বিষয়ে ছিলেন আত্মরম্ভী ও অহংকারী। একবার তিনি বলেছিলেন, একমাত্র ঈশ্বরই তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারে। কিন্তু তার সেই ধারণা ভুল হলো। মানুষই তাকে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করল। এই পরিস্থিতি তার সমালোচকদের জন্য বিশাল জয়।

আরেকটি বিষয় নিয়ে কথা বলা যাক। ব্রিটেনের কাছ থেকে জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতা আদায়ের লড়াই তখন তুঙ্গে। ১৯৭৬ সালের কথা। দেশটির স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রগামী রাজনৈতিক দল জানু-পিএফ পার্টির অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন রবার্ট মুগাবে। সেই সময় ইউরোপ, আমেরিকায় লড়াকু গেরিলা নেতা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেননি তিনি।

ওই বছর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক অগ্নিঝরা বক্তব্য দিয়ে বিশ্বনেতাদের নজরে আসেন মুগাবে। তিনি বলেছিলেন, ‘ভোট ও বন্দুক একসঙ্গে চলবে। সর্বোপরি আমরা যে ভোটই পাব, তা হবে বন্দুকের অবদান। যে বন্দুক ভোট উৎপাদন করছে, তা থাকবে এর জিম্মাদার নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছেই। জনগণের ভোট এবং জনগণের বন্দুক সব সময়ই অবিচ্ছেদ্য জোড়।’

জিম্বাবুয়ের জাতীয় ভাষা ‘শোনা’ অনুযায়ী, তাত্ত্বিকভাবে মুগাবের ওই আগুনঝরা বক্তব্য তাদের বিপ্লবী সংগ্রামের মূলনীতি। কিন্তু চার দশক পর মুগাবের সেই কথা ভবিষ্যদ্বাণীর ছায়ায় যেন ফিরে এল তাকেই ঘায়েল করতে। বন্দুকের মুখেই সেনাবাহিনী গৃহবন্দি করে মুগাবেকে। ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুগাবের পতন হলো বন্দুকের শক্তিতে। যে বন্দুক এক সময় তার কাছে শক্তির উৎস ছিল, আজ তাতেই তার বিদায় হলো।

জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতা আন্দোলনে নানগাওয়ারও (৭৩) অবদান ছিল কিন্তু তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ১৯৮০ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুগাবের আস্থাভাজন মহলে সব সময়ই তিনি সমাদৃত হয়েছেন। ১৯৮০-১৯৮৭ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৮৭-বর্তমান মুগাবে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি মুগাবের স্ত্রী গ্রেস মুগাবেকে তার উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা নিয়ে ক্ষমতাসীন জানু-পিএফ পার্টির মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও বিভক্তি দেখা দেয়। গত সপ্তাহে নানগাগওয়াকে বহিষ্কার করেন মুগাবে এবং এ পদে গ্রেস মুগাবের অধিষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। মুগাবের এই পরিবারতান্ত্রিক মানসিকতা ও ক্ষমতার লিপ্সার বিরুদ্ধে চলে যায় সেনাবাহিনী এবং বন্দুকের জোরেই নীরব অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুগাবেকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে তারা।

১৯৬০-এর দশকে মুগাবের সঙ্গে জেল খেটেছেন নানগাগওয়া। ১৯৭০-এর দশকে তিনি মুগাবের ব্যক্তিগত সহকারী হন। তবে বার্ধক্যের ভারে ন্যুয়ে পড়া মুগাবে তার শেষ জীবনে স্ত্রী গ্রেসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন এবং তার কথামতোই চলছিলেন। এ নিয়ে জানু-পিএফ পার্টিতে বিভেদ সৃষ্টি হয়। এই বিভেদের জেরেই বন্দুক গর্জে উঠল হারারেতে এবং পতন হলো মুগাবের। এর আগেও কয়েকবার ক্ষমতা নিয়ে সংকটে পড়েছেন মুগাবে কিন্তু টিকে গেছেন। শেষ পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্টকে নানগাগওয়াকে অপসারণ নিয়ে সেনাবাহিনী তার বিরুদ্ধে চলে যায় এবং ক্ষমতা কেড়ে নেয়।

২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট মুগাবে বলেছিলেন, ‘যদি আপনি নির্বাচনে হারেন এবং জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হন, তাহলে রাজনীতি ছেড়ে দিন।’ কিন্তু নির্বাচন গড়ায় দ্বিতীয় দফায়। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মরগান টিএসভাঙ্গারাইয়ের বিজয়ের সম্ভাবনা দেখা দিলে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন মুগাবে। তখন তিনি এক বক্তব্যে বলেছিলেন, একমাত্র ঈশ্বরই তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তিনি সহিংসতার পথ বেছে নেন। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী মরগানের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নেন কিন্তু প্রেসিডেন্ট পদে থাকেন মুগাবে। ২০১৩ সালের নির্বাচনেও বিজয়ী হন মুগাবে।

১৯৭০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় গেরিলা যুদ্ধে নাম করেন মুগাবে। জিম্বাবুয়েকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত একটি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন তিনি। সে দিকে প্রচেষ্টা ছিল কিন্তু সফল হননি। স্বাধীনতার ৩৭ বছর পরও পুঁজিবাদ ও ঔপনিবেশিক শক্তির সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে জিম্বাবুয়েকে। তা হলেও গেরিলা যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা করার সুযোগ নেই সেদেশে। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে বা অবমাননাকর কিছু বললে, তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

মুগাবে দেশের অর্থনৈতিক দুর্গতির জন্য সব সময় যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা দেশগুলোর ষড়যন্ত্রকে দায়ী করেছেন। তিনি বারবার অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমারা তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চায়। তবে সমালোচকরা দাবি করেন, তিনি জানেনই না, আধুনিক অর্থনীতি কীভাবে কাজ করে।

মুগাবেকে প্রায়ই বলতে শোনা যেত, একটি দেশ কখনো দেউলিয়া হয় না। কিন্তু ২০০৮ সালের জুলাই মাসে তার দেশে অকল্পনীয় মূল্যস্ফীতি ছিল- ২৩১০০০০০ শতাংশ। তখনো তিনি তার নিজস্ব তত্ত্বের ওপর অনড় থেকে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা করেন কিন্তু ব্যর্থ হন।

জিম্বাবুয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টনি হকিংনস একবার তার পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, ‘যখনই অর্থনীতি রাজনীতির পথ ধরেছে, তখন প্রতিবারই রাজনীতি জয়ী হয়েছে।’ ২০০০ সালে যখন প্রথমবার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার চাপে পড়েন, তখন মুগাবে বহুমুখী অর্থনৈতিক শক্তির অপব্যবহার করে তার বারোটা বাজিয়ে দেন। শ্বেতাঙ্গদের খামারগুলো ছিনিয়ে নেন মুগাবে, যা ছিল তাদের অর্থনীতির মূল শক্তি। কিন্তু দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে খামারগুলোর সেই অবস্থা আর নেই।

২০০০ সালে গণভোটে মুগাবে পরাজিত হন। এটি ছিল তার জীবনে প্রথম হার। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের গেরিলা যুদ্ধের কৌশল ব্যবহার করেন। নিজস্ব মিলিশিয়া বাহিনী মাঠে নামিয়ে নির্বাচনী সহিসংতা ও হত্যাকাণ্ড চালিয়ে জয় নিশ্চিত করেন। আট বছর পর ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় তার প্রতিদ্বন্দ্বী মরগানের কাছে হারার পরও তিনি গেরিলা যুদ্ধের কায়দায় নিজস্ব মিলিশিয়াদের মাঠে নামিয়ে দেন এবং দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে জয়ী হন। অর্থাৎ তার একমাত্র লক্ষ্য, যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা ধরে রাখা।

জিম্বাবুয়ের সব সরকারি প্রতিষ্ঠান মুগাবের জানু-পিএফ পার্টির দখলে। গণমাধ্যম থেকে সংস্কৃতি- সবাই তাদের নির্দেশিত। তবে ৩৭ বছরে যা-ই হোক না কেন, জিম্বাবুয়েতে শিক্ষার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন মুগাবে। আফ্রিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার হার তাদের- মোট জনসংখ্যার ৮৯ শতাংশ শিক্ষিত। জিম্বাবুয়ের প্রয়াত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মাসিপুলা সিথোলে বলেছিলেন, ‘শিক্ষার সম্প্রসারণ করে প্রেসিডেন্ট তার নিজের কবর খুঁড়ছেন।’ সত্যিই এই শিক্ষিত তরুণ সম্প্রদায় বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতিসহ তাদের দেশের দুর্দশার জন্য মুগাবে সরকারের দুর্নীতিকে দায়ী করে থাকে।

মুগাবে প্রায়ই বলেন, তিনি গরিবের জন্য লড়াই করছেন। কিন্তু তারই অনুসারীদের হাতে দরিদ্র কৃষক ভিটেমাটি, কৃষিজমি হারিয়েছে- এমন নজির ভূরি ভূরি। এসব দেখে নোবেলজয়ী আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু একবার বলেছিলেন, জিম্বাবুয়ের দীর্ঘসময়ের প্রেসিডেন্ট প্রাচীনকালের আফ্রিকান একনায়কদের মতো ‘কার্টুন ফিগার’ হয়ে উঠেছেন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষের নাভিঃশ্বাস উঠলেও মুগাবে তার জন্মদিন পালন করেছেন ঘটা করে। তিনি ৯৩তম জন্মদিনও পালন করেছেন সাড়ম্বরে।

এলএবাংলাটাইমস/সি/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

কেন সৌদি আরব এমন করছে?

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-২০ ১১:১২:৫৪

মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জনমনে এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্নটি হচ্ছে- কেন সৌদি আরব এমনআচরণ করছে? বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে কেন এই আচরণ?

প্রশ্ন উঠছে- কেন প্রতিবেশী কাতার,লেবানন, ইয়েমেন ও সিরিয়ার সঙ্গে এভাবে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে সৌদি সরকার? মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে সৌদি আরব কী সত্যিই কী ইসরাইলের সঙ্গে জোট বাধছে?

বলার অপেক্ষা রাখে না- আরব বিশ্ব তথা গোটা মধ্যপ্রাচ্য চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে সময় পার করছে। এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে সৌদি আরব –সে কথা না বললেও চলে। একদিকে সৌদি রাজতান্ত্রিক সরকার অভ্যন্তরীণ সমস্যা মোকাবেলা করতে গিয়ে দেশের ভেতরে এমনকি রাজপরিবারের সদস্য ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাচ্ছে; তেমনি প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চড়াও হচ্ছে। আর ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে পারলে তো ‘গলাটিপে’ হত্যা করে। বলতে দ্বিধা নেই- সৌদি আরবের এসব আচরণ একটাও তার পক্ষে যাচ্ছে না;সবই যাচ্ছে তার স্বার্থের বিপরীতে। এমনকি, সৌদি রাজতান্ত্রিক সরকারের এসব কর্মকাণ্ডের জন্য রিয়াদ চরম পরিণতির মুখে পড়তে পারে। কিন্তু কে বোঝাবে সে কথা‘দুরন্ত ষাঁড়’কে!

সৌদি আরব এই যে মুসলিম স্বার্থ-বিরোধী আচরণকরছে তার পেছনে বেশকিছু কারণ রয়েছে। আজকের লেখায় সেইসব কারণ তুলে ধরার চেষ্টা করব।

এক-

ইরানে ইসলামি বিপ্লব সফল হওয়া পর দেশটিকে সরাসরি শত্রুর কাতারে ফেলেছে আমেরিকা, ব্রিটেন, ইসরাইলএবং তাদের পশ্চিমা মিত্ররা। ইরানকে সেই একই কাতারে ফেলেছে সৌদি আরবও। অথচ, ইসলামি বিপ্লব সফল হওয়ার আগ পর্যন্ত উপরের প্রত্যেকটি দেশের সঙ্গে তৎকালীন রেজা শাহ সরকারের সুসম্পর্ক ছিল এবং তখন শিয়া মাজহাব কোনা সমস্যা ছিল না। ইরান ছিল মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেশ। সে প্রভাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানই ছিল

নেতৃত্বের আসনে এবং আরবদেশগুলো সবাই ইরানকে সমীহ করে চলত।

রেজা শাহের এক স্ত্রী ছিলেন আরব দেশ মিশরের রাজকুমারি যার নাম ছিল দিলাওয়ার ফাওজিয়া। মজার বিষয় হচ্ছে রেজা শাহ নিজেওছিলেন শিয়া মাজাহাবের লোক। কিন্তু তখন

সৌদি আরব কিংবা অন্য কোনো আরব দেশ ইরানকে শিয়া মাজহাবের অনুসারি বলে শত্রু হিসেবে দেখে নি। আর ইসরাইলের সঙ্গে ছিল অর্থনৈতিকও সামরিক সম্পর্কসহ সব

রকমের সম্পর্ক। আমেরিকার সঙ্গেও সেই একই রকমের রমরমা সম্পর্ক ছিল।

বিপ্লবের আগে আমেরিকাই ইরানের পরমাণু স্থাপনা তৈরি করে দিতে চেয়েছিল।শুধু তাই নয়, বিপ্লব সফল হওয়ার বছর খানেক আগে ইরানকে প্রায় দেড়শ এফ-১৬ জঙ্গি বিমান দেয়ার জন্য চুক্তি করেছিল মার্কিন সরকার। এ বাবদ অর্থও দিয়েছিল রেজা শাহের সরকার।কিন্তু যখন ইসলামি বিপ্লব সফল হলো তখন থেকে সৌদি আরবসহ প্রায় সমস্ত আরব দেশ (সিরিয়া বাদে) শত্রুতা শুরু করল। আর ইসরাইল, আমেরিকা

ও ব্রিটেন ইরানের বিপ্লব নস্যাৎ করে দেয়ার জন্য সব রকমের ষড়যন্ত্র শুরু করে। সেই সময় সৌদি আরবকে দিয়ে ইরানকে মুসলিম বিশ্বে শিয়া প্রধান দেশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে আমেরিকা, ইসরাইল ও তার মিত্ররা। ইরানের বিপ্লবকে তারা ‘শিয়া বিপ্লব’ বলে প্রচার করতে থাকে। এ কাজে সৌদি আরব নেতৃত্ব দেয়।

পবিত্র মক্কা ও মদিনার কর্তৃত্ব তাদের হাতে থাকায় মুসলিম বিশ্বে সহজেই সে প্রভাব কাজে লাগাতে পারে সৌদি আরব। এ কাজে তারা তেল বিক্রির বিপুল অর্থ খরচ করে। ইরানের বিপ্লব সৌদি আরবসহ কোনো মুসলিম দেশের জন্যই ক্ষতির কারণ ছিল না; প্রধান ক্ষতির কারণ ছিল আমেরিকা ও তার পশ্চিমা মিত্র এবং ইসরাইলের জন্য।কিন্তু সৌদি আরবকে নানা ভয় দেখিয়ে কৌশলে সৌদি আরবের মাধ্যমে ইরানভীতি ও শিয়া-বিদ্বেষ ছড়িয়ে আমেরিকা তার স্বার্থ হাসিল করার পথ বেছে নেয় এবং সৌদি আরব সেই ফাঁদে পা দেয়। সেখান থেকেই আধুনিককালে ইরানের সঙ্গে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলো সৌদি আরব যা নিতান্তই আমরিকা ও ইসরাইলের স্বার্থে যাচ্ছে। অথচ নাম দেয়া হয়েছে- শিয়া সুন্নির দ্বন্দ্ব। কিন্তু বাস্তবতা

হচ্ছে- এটা শিয়া-সুন্নির দ্বন্দ্ব নয় বরং এটা মূলত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থের দ্বন্দ্ব; কিছুটা আদর্শের দ্বন্দ্ব।।

কিন্তু সে কথা বুঝতে দিতে চায় না তারা, সেজন্য সৌদি আরবকে সামনে রেখে ব্যবহার করছে। আর সৌদি আরব অন্ধের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে। এই অবস্থা দূর করার জন্য ইরান ইসলামি ঐক্যসপ্তাহ পর্যন্ত ঘোষণা করেছে কিন্তু সেই ঐক্যের দিকে যায় নি সৌদি আরব। বরং দিন দিনে অনৈক্যকে চরম অবস্থায় নেয়া হয়েছে। মূলত এই শত্রুতার পেছনে রয়েছে মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থ। সৌদি আরবকে ব্যবহার করে

তারা সেই স্বার্থ নিশ্চিত রেখেছে বহুদিন ধরে।

দুই-

ইরানে ইসলামি বিপ্লব সফল হওয়ার পর সারা বিশ্বে যে বার্তাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তা হচ্ছে-আমেরিকার মতো পরাশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করেও মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোযায়। বেঁচে থাকা যায় আত্মসম্মান নিয়ে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের তেল সম্পদগুলোর ওপর মার্কিন ও পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী সরকারগুলোর যে একচেটিয়া আধিপত্য এবং দখল দারিত্ব ছিল, ইরানে ইসলামি বিপ্লব সফল হওয়ার পর তা হুমকির মুখে পড়ে। আমেরিকা তখন ঠিকই বুঝতে

পেরেছিল যে, এই বিপ্লব টিকে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে তার তেল-স্বার্থ চরমভাবে বাধার মুখে পড়বে। অতএব, বিপ্লবের প্রাথমিক অবস্থাতে তা শেষ করে দেয়ার জন্য ইরাকের সাবেক স্বৈরশাসক সাদ্দামকে কাজে লাগায় এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লেলিয়ে দেয়। ১৯৮০ সালে সাদ্দাম সাতিল আরবে নিজের

কর্তৃত্বের বাহুল্য দাবি তুলে ইরানের ওপর আগ্রাসন চালায় এবং প্রতিবেশী দুটি মুসলিম দেশ দীর্ঘ আট বছর প্রাণঘাতীযুদ্ধ করে। শেষ পর্যন্ত ইরানের তীব্র প্রতিরোধের মুখে কোনো লক্ষ্য অর্জন ছাড়াই যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য হয় সাদ্দাম।

এই যে ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ -তা চপিয়ে দিয়েও ইরানের বিপ্লবকে নস্যাৎ করা যায় নি বরং দিন দিন ইরান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। একদিন যে ইরাক সরকার প্রতিবেশী ইরানের ওপর আগ্রাসন চালিয়েছিল সেই ইরাক এখন সরাসরি ইরানের প্রভাব-বলয়ে এবং সাদ্দাম করুণ পরিণতি বরণ করেছে। ইরাক ইস্যুতেও আমেরিকা, ইসরাইল ও পশ্চিমা কূটচক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে। স্মরণ করা যেতে পারে, ইরাক-ইরান যুদ্ধে অর্থের বিরাট বড় যোগানদাতা ছিল সৌদি আরব এবং কুয়েত। সেই কুয়েতের ওপরই পরবর্তীকালে সাদ্দাম আগ্রাসন চালায় এবং ইরাকের সঙ্গে দীর্ঘ ২৫ বছর সম্পর্ক ছিল না সৌদি আরবের। এসব ঘটনার ফলাফল ইরানের ইসলামি সরকারের ঝুলিতে গেছে,

অন্যদিকে শুধুই ক্ষিপ্ত হয়েছে আমেরিকা ও তার আঞ্চলিক দোসররা।

তিন-

ইরানে ইসলামি বিপ্লব সফল হওয়ার পর তার ঢেউ লাগার কথা ছিল প্রধানত আরব বিশ্বে। কারণ আরব বিশ্বের প্রায় সব দেশেই রাজতান্ত্রিক অথবা স্বৈরতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় ছিল। এসব দেশের জনগণ মুক্তি চায় কিন্তু সেই পরিবেশ তারা তৈরি করতে পারে নি কিংবা নানাভাবে দমন-পীড়ন চালিয়ে পরিবেশ তৈরি করতে দেয়া হয় নি। আরব দেশগুলোতে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থ বিঘ্নিত হবে এবং যেসব রাজা-বাদশাহ ও তাদের পরিবার যুগ যুগ ধরে দেশের সম্পদ ও জনগণকে শোষণ করে আসছে তাদের সে সুযোগ থাকবে না। ফলে গদি দখলে রাখতে মরিয়া এসব সরকার। সেই সুযোগ নিয়েছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ; তারা রাজতান্ত্রিক সরকারগুলোকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার নিশ্চয়তা দেয়-বিনিময়ে চায় তেল সম্পদ। দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে ক্ষমতায় টিকে আছে আরবরাজ-বাদশাহরা। ইরানে বিপ্লব সফল হওয়ার পর যেহেতু আরব রাজা-বাদশাহদের গদি হুমকির মুখে পড়ে সে কারণে ক্ষমতা ধরে রাখা জন্য মার্কিন মন্ত্রণাতেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে গড়ে তোলা হয় তেল-সমৃদ্ধ দেশগুলোর জোট উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি।কিন্তু এই জোট শুরু থেকে আজ পর্যন্ত বড় কোনো সফলতা অর্জন করতে পারে নি। জোটের পক্ষ থেকে যত কর্মসূচি বা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে তা বরং ইরানকে শক্তিশালী হতে সহায়তা করেছে। শেষ পর্য্ত এ জোট এখন মৃত্যুর মুখে। গত ৫ জুন জিসিসি’র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী দেশ কাতারের ওপর সর্বাত্মক অবরোধ দিয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন কয়েকটি দেশ দোহাকে ইরানের দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং ইরানও সে সুযোগ লুফে নিয়েছে। খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি পণ্য নিয়ে ইরান কাতারের পাশে দাঁড়িয়েছে। ফলে কার্যত ভেঙে গেছে ইরান-বিরোধী উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি। এ কাজে তুরস্ককেও পাশে পেয়েছে ইরান। একইভাবে সৌদি উদ্যোগে যে আরব লীগ গঠন করা হয়েছিল তাও এখন প্রকৃত অর্থে অকার্যকর।

চার-

২০১১ সালে তিউনিশিয়ায় বিপ্লবের মাধ্যমে আরব বিশ্বে পরিবর্তনের যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল তাতে সৌদি আরবসহ পুরো আরব বিশ্বে রাজতন্ত্রের পতনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল যা পশ্চিমা জগতে আরব বসন্ত নামে পরিচিতি পেয়েছে। সে

সময় কৌশলে আমেরিকা আন্দোলনের গতি থামিয়ে দিতে সিরিয়ায় গোলযোগ সৃষ্টি করে এবং ব্রিটেন, ইসরাইল, সৌদি আরব, কাতার,সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্ককে সঙ্গে নিয়ে প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করায়। মুসলিম ব্রাদারহুডকে ক্ষমতায় বসানোর মিথ্যা পরিকল্পনা প্রচার করে। এজন্য আরব ও পশ্চিমা জগত থেকে হাজার হাজার সন্ত্রাসীকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সিরিয়ায় পাঠানো হয়েছে এবং তাদের পেছনে এসব দেশ বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের

আরবদেশগুলো হাজার হাজার কোটি ডলার খরচ করেছে। বিপুল অংকের অর্থের বিনিময়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা এমনকি আমরিকা ও ইসরাইলের সেনারা ছদ্মবেশে সিরিয়ায় যুদ্ধ করেছে।সিরিয়ার আসাদ সরকার হচ্ছে ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র। এছাড়া, আসাদ সরকার হচ্ছে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনের হামাস এবং জিহাদ আন্দোলনের প্রধান আঞ্চলিক সাহায্যকারী। ইসরাইলের দোরগোড়ায় সিরিয়ার অবস্থান। দেশটি সামরিক দিক দিয়ে যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল এবংইসরাইল-বিরোধী প্রতিরোধের প্রথম ফ্রন্ট হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এসব কারণে সিরিয়ায় সেই আরব বসন্তের ঢেউ নিয়ে থামিয়ে দেয়া হয়। যে আরব বসন্ত ছিল জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আন্দোলন, সেই আরব বসন্তকে পরিণত করা হয় কথিত জিহাদের নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে।

পরবর্তীতে সে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ইরাকেও বিস্তার ঘটানো হয়। কিন্তু বিষয়টি ইরান প্রথমেই বুঝতে পেরেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। পরবর্তীতে কৌশলগত কারণে রাশিয়ার সহায়তা নিয়েছে সিরিয়া সরকার। ওদিকে, লেবাননের হিজবুল্লাহ আন্দোলন সিরিয়ার সরকারকে সামরিক সহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এখন সৌদি-মার্কিন-ইসরাইলি মিশন চূড়ান্তভাব ব্যর্থ হতে চলেছে। ইরাক ও সিরিয়া এখন উগ্র আইএএস সন্ত্রাসীদের হাত থেকে প্রায় মুক্ত।

ইরাক এরইমধ্যে ঘোষণা করেছে সিরিয়া সীমান্তবর্তী রাওয়া শহর মুক্ত করার মধ্যদিয়ে ইরাকে আইএস’র কথিত খেলাফতের অবসান হয়েছে।এই যে সিরিয়া ও ইরাকে ব্যর্থতা -এটা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এই পরিকল্পনার আওতায় ছিল বৃহত্তর ইসরাইল প্রতিষ্ঠা এবং আমেরিকার হাতে ছিল ‘নিউ মিডলইস্ট প্ল্যান’। কিন্তু ইরানের প্রতিরোধের কারণে তার সবই ব্যর্থ হয়েছে। মার্কিন-ইসরাইল-সৌদি বলয়ের ব্যর্থতা ঢাকতে তারা সবাই মিলে এখন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে এবং তারই অংশ হিসেবে সৌদি আরবকে দিয়ে নতুন নতুন নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে।

পাশাপাশি সৌদি আরব ও আমেরিকা এ আশংকাও করছে যে, সিরিয়ায় নিয়ে যে আরব বসন্তের ঢেউ থামানো হয়েছিল তা এখন খোদ সৌদি আরবের দিকে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারই কিছু আলামত দেখা যাচ্ছে সৌদি রাজপরিবারের লোকজনকে আটক করার ঘটনায়।

পাঁচ-

আরব বসন্তের ঢেউ লেগেছিল ইয়েমেনেও। তখনকার শাসক আলী আব্দুল্লাহ সালেহ ছিলেন সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ মিত্র। তার ৩২ বছরের শাসনের অবসানের জন্য জনগণ যখন ফুঁসে উঠেছিল তখন সৌদিআরব সালেহকে রক্ষার জন্য সবরকমের পদক্ষেপ নিয়েছে। এমনকি বোমা হামলায় আলী আবদুল্লাহ সালেহ আহত হলে সৌদি আরবে তাকে চিকিৎসা করানো হয়।

মনে রাখা দরকার- আলী আবদুল্লাহসালেহ কিন্তু নিজে মাজহাবগত দিক দিয়ে একজন শিয়া মুসলমান এবং এই শিয়া শাসককে যুগযুগ ধরে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া সৌদি আরবের জন্য কখনই সমস্যা হয় নি। কিন্তু পরবর্তীতে সালেহ দেশে ফিরে ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং পরে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব দেখাদিলে আলী আবদুল্লাহ সালেহ হুথিদের পক্ষ নেন। ইয়েমেনে শুরু হয় মানসুর হাদির পতন আন্দোলন এবং তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। তখনই আলী আবদুল্লাহ সালেহকে শিয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং শুরু হয় শিয়াদের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে হাদির কাছে ফিরিয়ে দেয়ার নামে বেসামরিক মানুষের ওপর সৌদি গণহত্যা। সৌদি আরব অনেকগুলো আরব দেশকে সঙ্গে নিয়ে আমেরিকার মতোই ‘গণতান্ত্রিক যুদ্ধ’ শুরু করে এবং ধারণা করেছিল যে,স্বল্প দিনের মধ্যে সে মিশন শেষ করা যাবে। কিন্তু হুথি যোদ্ধা ও সালেহ অনুগত সেনারা সৌদি পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে। আড়াই বছরের বেশি সময়

পার হলেও ইয়েমেন যুদ্ধে কোনো কূল-কিনারা করতে পারে নি সৌদি আরব। বরং দিন দিন ইয়েমেনের যোদ্ধারা শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এতে সৌদি সম্পদ ও সামরিক শক্তির ক্ষয় হচ্ছে অনেক বেশি। সৌদি আরব সবসময় অভিযোগ করে আসছে ইরান সাহায্য দিচ্ছে হুথি আন্দোলনকে। ফলে সর্বাত্মক অবরোধ দিয়েছে ইয়েমেনের ওপর। তারপরও দুর্বল করা যাচ্ছে না হুথিদের।

এখানেও বলা হচ্ছে- ইয়েমেনের যুদ্ধ চলছে মূলত শিয়া-সুন্নির দ্বন্দ্বের জন্য। কিন্তু আসল সত্য হচ্ছে এটাওশিয়া-সুন্নির কোনো দ্বন্দ্ব নং বরং সৌদি আরব ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জগতের স্বার্থে লড়াই। সে লড়াই চালাচ্ছে প্রধানত ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন। সৌদি আগ্রাসনে মারা যাচ্ছে ইয়েমেনের শিয়া-সুন্নি সবাই। ইয়েমেনের লড়াইয়ের পেছনে মূল যে ইস্যু রয়েছে তা হচ্ছে- এডেন উপসাগরের বাব আল-মান্দেব

প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ। উত্তরে পারস্য উপসাগরে ইরানের হাতে রয়েছে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ। দক্ষিণে এডেন উপসাগরে বাবআল-মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে গেলে আমেরিকা ও তার আঞ্চলিক মিত্রদেরজন্য সমস্যা হবে বলেই তারা মনে করে। ফলে বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ যাতে হুথিদের হাতে না যায় সেজন্য ইয়েমেনে সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে হুথি আন্দোলনকে নির্মূল করতে চায় সৌদি আরব। তবে, পরিস্থিতি দেখে একথা বলা যায়- মার্কিন পরিকল্পনায়

চলমান সৌদি আগ্রাসনও ব্যর্থ হচ্ছে। হুথিদের প্রতি ইরানের নৈতিক সমর্থন রয়েছে। ফলে তারা এখন ইরানকে টার্গেট করেছে।

ছয়-

ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন ও জার্মানির যে পরমাণু চুক্তি হয়েছে ইরানের জন্য তা কূটনৈতিক দিক দিয়ে বিরাট বিজয়। ইসরাইল ও সৌদি আরব চেয়েছিল এ চুক্তি যেন না হয়।তারা মূলত চেয়েছিল ইরানের পরমাণু স্থাপনা চিরদিনের জন্য গুঁড়িয়ে দেয়া হবে এবং পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়ে ইরানের কোনো অধিকার থাকবে না। কিন্তু, পরমাণু চুক্তির মাধ্যমে ইরানের অধিকার মেনে নেয়া হয়েছে এবং ইরান পরমাণু কর্মসূচি

অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তেল বাজারে ইরান তার আগের অবস্থান পুনরুদ্ধার করেছে। এর কোনোটাই সৌদি আরব ও ইসরাইলের পছন্দ নয়। এছাড়া, পরমাণু চুক্তির মাধ্যমে ইরানের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও যোগ্যতার বিরাট প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই রকম নজির স্থাপিত হয়েছে সিরিয়া যুদ্ধে। ইরান নিজে সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়েও এ সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর দেশে পরিণত হয়েছে।

সাত-

মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ঘটনাবলীতে আসলে পরাজয়ের তিলক জুটেছে আমেরিকা, ইসরাইল ও সৌদি আরবের কপালে। কিন্তু তারা দেখাতে চায়- তারা পরাজিত হয় নি।

তা না হলে আমেরিকার পরাশক্তির মর্যাদা থাকে না; ইসরাইলের থাকে না আঞ্চলিক বড় সামরিক শক্তির মর্যাদা আর আরব বিশ্ব ও মুসলিম জাহানে সৌদি আরবের নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব থাকে না। এছাড়া,মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ঘটনাবলীতে সৌদি আরব এখন আগ্রাসী শক্তি হিসেব চিহ্নিত,পক্ষান্তরে মজলুম জনতার ত্রাণকারী হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে ইরান। ফলে ত্রিশক্তির এ চক্র নতুন ফন্দি-ফিকির করে ইরানকে যুদ্ধে জড়িয়ে দিতে চায়। তারা ইরানকে যুদ্ধে জড়িয়ে দিয়ে নিজেদের কাতারে নামাতে চায় এবং ইরানের কূটনৈতিক সফলতাগুলো মুছে ফেলতে চায়। ইরানকে পরিচিত করতে চায় যুদ্ধবাজ দেশ হিসেবে।

ইরানের সমস্ত কার্যক্রম ও প্রতিরোধ আন্দোলন ছিল মূলত নিপীড়িত-শোষিত মানুষের কল্যাণে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সাম্রাজ্যবাদী ও ইহুদিবাদী শক্তির আধিপত্যের অবসান ঘটানো। কিন্তু সৌদি আরবকে ভুল বুঝিয়ে আমেরিকা, ইসরাইল ও পশ্চিমা শক্তিগুলো নিজেদেরকে বন্ধু ও ইরানকে শত্রু হিসেবে তুলে ধরেছে।

গণভিত্তিহীন শাসকগোষ্ঠীর যেহেতু প্রাণবায়ু এসবশক্তির হাতে সে কারণে তারা তাদের কোনো পরিকল্পনা ও কথার বাইরে যেতে পারে না বরং সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিজেরা নিরাপদ বোধ করে। দিনের পর দিন এইসব অপরাধমূলক তৎপরতার কারণে সৌদি আরব ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে।পক্ষান্তরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান দিনে দিনে আঞ্চলিক বড় শক্তি হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। সৌদি আরব ইরাককে দিয়ে কিংবা আইএস সন্ত্রাসীদের সাহায্যে ইরান ও মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেও সাম্প্রতিক ব্যর্থতায় অনেকটা উন্মাদ হয়ে উঠেছে। এ কারণে সৌদি আরব এখন নিজেই মাঠে নেমেছে এবং সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে গেছে। আমার মতে- এটা তার পতনের চূড়ান্ত লক্ষণ।কারণ পাহাড়ের শীর্ষদেশে ওঠার পর শুধুই নিচেই নামার প্রশ্ন থাকে। উপরে ওঠার আর সুযোগ নেই। সৌদি আরব ইয়েমেনে আগ্রাসন চালিয়ে সেই শীর্ষদেশে উঠে গেছে; এখন তার পতনের প্রশ্ন। হিজবুল্লাহকে দমনের নামে লেবাননে যদি সামরিক হস্তক্ষেপ করে তাহলে সৌদি আরবের সেই পতন কেবলই ত্বরান্বিত হবে।#

লেখক:সিনিয়র সাংবাদিক, রেডিও তেহরান।

বিস্তারিত খবর

মুখোমুখি অবস্থানে যাচ্ছে পাকিস্তান-আমেরিকা

 প্রকাশিত: ২০১৭-১০-২৯ ১৩:০৬:১১

ধীরে ধীরে মুখোমুখি অবস্থানে চলে যাচ্ছে আমেরিকা ও পাকিস্তান। পরিস্থিতি যেখানে গিয়ে ঠেকেছে তাতে এখন আর মনে হয় না এ অবস্থান থেকে সরে আসতে পারবে ‘সাবেক মিত্র দুই দেশ’। আমেরিকা পাকিস্তানকে কঠোর বার্তা দিচ্ছে আর পকিস্তান উল্টো সে বার্তার জবাব দিচ্ছে; মাথা নত করে মেনে নিচ্ছে না। উপায়ান্তর না দেখে মার্কিন প্রশাসন শুক্রবার যা বলেছে তার সরল অর্থ হলো- “পাকিস্তান কথা না শুনলে ওয়াশিংটন ভিন্ন পথ বেছে নেবে।” কী সেই পথ এখনই তা বলছে না মার্কিন সরকার। তবে পাকিস্তানও ঠিক আগের অবস্থানে নেই; পাক কর্মকর্তারা এখন আর এসব হুমকি ধমকিতে টলছেন না।

গত ২৪ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্র রেক্স টিলারসন পাকিস্তান সফর করেছেন। সেখান থেকে তিনি ভারতেও যান। এ সফরে তার সঙ্গে ছিলেন দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস। এখানে একটু উল্লেখ করে রাখি যে, গত ২১ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগান নীতি ঘোষণার সময় পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়ার জন্য অভিযুক্ত করেন এবং পাকিস্তান সন্ত্রাসীদের জন্য অভয়ারণ্য হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। বিপরীতে ট্রাম্প সন্ত্রাস-বিরোধী লড়াইয়ের জন্য ভারতের ব্যাপক প্রশংসা করেন। এর পরপরই এলিস ওয়েলসের পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়া সফর করার কথা ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্যে পাকিস্তান ক্ষুব্ধ হয়ে এলিস ওয়েলসের সে সফর স্থগিত করে দেয়।

একই সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে দ্রুত সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যেগ নেয় পাকিস্তান। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার আফগান নীতি ঘোষণার মাধ্যমে পাক সরকারকে নতুন মিত্র বেছে নিতে বাধ্য করেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর খুব দ্রুত পাকিস্তানের পাশে ছুটে এসেছে পুতিনের রাশিয়া। ট্রাম্পের আফগান নীতির বিষয়েও মস্কো নিজের রিজার্ভশনের কথা জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ার করে মস্কো বলেছে, পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে মারাত্মক আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে যা আফগানিস্তানের জন্য নেতিবাচক পরিণতি বয়ে আনবে। মূলত এরপরই পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতিতে রাশিয়া মুখী অবস্থান পরিস্কার হতে শুরু করে। এরপরই আমেরিকার বিষয়ে মাথা না নোয়ানোর নীতি গ্রহণে সাহসী হয়ে ওঠে পাক সরকার।

গত কয়েক বছর ধরে ইসলামাবাদ ও মস্কোর মধ্যে ধীরে ধীরে সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে দুই দেশ শীতল যুদ্ধের সময়কার মতপার্থক্যের কবরদিয়েছে এবং পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে নিজেদের ভুলত্রুটি সংশোধন করে এক কাতারে ঠাঁই করে নিচ্ছে।এমন সময় এ সেতুবন্ধন তৈরি হচ্ছে যখন আঞ্চলিক রাজনীতিতে পাকিস্তান অনেকটা কোণঠাসা এবং আমেরিকা ও ন্যাটো জোটের দ্বারা সমালোচিত। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন চাপ মোকাবেলার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে এমন উষ্ণ সম্পর্ক তৈরিরচেষ্টা করে আসছিল। সে কারণে মার্কিন চাপ সত্ত্বেও সিরিয়া যুদ্ধে কথিত আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দেয় নি ইসলামাবাদ; সৌদি চাপে যোগ দেয় নি ইয়েমেন যুদ্ধে।

এ বিষয়ে গত ৪ অক্টোবর দ্য রিপোর্টে ‘ কীভাবে এবং কেন পাকিস্তানের সাহায্যে এগিয়ে এল রাশিয়া?’ শিরোনামে কলাম লিখেছিলাম।

রেক্স টিলারসন ২৪ অক্টোবর পাকিস্তান সফরে যাওয়ার আগে তিনি আফগানিস্তানে যান এবং সেখানে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, তিনি পাকিস্তানের জন্য কঠোর বার্তা নিয়ে যাচ্ছেন। ওই সফরে টিলারসন রাজধানী ইসলামাবাদে না নেমে বরং তিনি গ্যারিসন শহর রাওয়ালপিন্ডির একটি বিমানঘাঁটিতে নামেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনেকটা নিচু পর্যায়ে স্বাগত জানানো হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডিতে তাকে স্বাগত জানান পাক পররাষ্ট্র দপ্তরের মধ্যম পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা। মার্কিন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য পাকিস্তান সাধারণত যে ধরনের অভ্যর্থনার ব্যবস্থা করে থাকে এটা তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না।

রাওয়ালপিন্ডি থেকে টিলারসনকে গাড়িতে করে ইসলামবাদের মার্কিন দূতাবাসে নেওয়া হয়। পরে তিনি পাক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহীদ খাকান আব্বাসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মুহাম্মাদ আসিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়াসহ দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

ওই বৈঠকে টিলারসন বলেছেন, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই ও পাকিস্তানের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তোলা উগ্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসলামাবাদকে সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে। জবাবে পাক প্রধানমন্ত্রী আব্বাসি বলেছেন, “সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লড়াইয়ে আমরা ফলাফল দিয়েছি এবং আমেরিকার সঙ্গে আমরা সুসম্পর্ক চাই। আমেরিকা এ বিষয়ে ইসলামাবাদের ওপর আস্থা রাখতে পারে।"

পরে টিলারসনের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে পাকিস্তান সিনেটকে ব্রিফ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি সিনেটকে জানান, টিলারসনের সঙ্গে বৈঠকে পাক প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বলেছেন, “আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে ১৬ বছরের যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী পরাজিত হয়েছে এবং এ পরাজয় মেনে নেওয়া উচিত। কিন্তু তারা তা মেনে নিতে নারাজ। অথচ আফগান যুদ্ধে পরাজয় মেনে নিলেই কেবল দেশটির সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব।” এখানে খেয়াল করার বিষয় হলো- ড্রোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর আফগান পরিস্থিতির উন্নতির জন্য আরো কয়েক হাজার সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার ঠিক বিপরীত উচ্চারণ হচ্ছে পাক প্রধানমন্ত্রী আব্বাসির বক্তব্য।

টিলারসনের সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তান প্রতিনিধিদলের সদস্যরা পরিষ্কার করে আরো বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে ইসলামাবাদ নিজের সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রেখেই ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করবে। আফগানিস্তানে যেহেতু সামরিক সমাধান ব্যর্থ হয়েছে সে কারণে রাজনৈতিক সমাধানের জন্য মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা নয় বরং রাজনৈতিক নীতি নির্ধারকদেরকে এখন নীতি ঠিক করতে হবে। পাকিস্তান বলছে, আফগানিস্তানে মার্কিনদের ১৬ বছরের ব্যর্থতা তাদের সামনেই রয়েছে। আফগান পরিস্থিতি উন্নয়নের এখন একটাই পথ আর তা হলো আফগানিস্তানে আমেরিকার পরাজয় মেনে নেওয়া।

টিলারসনের সঙ্গে বৈঠকে পাক প্রতিনিধিদল মার্কিন সরকারকে সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে যে, চাইলেই ইসলামাবাদ এখন আর আমেরিকার ডাকে সাড়া দেবে না এবং কারো বিরুদ্ধে প্রক্সি যুদ্ধ করবে না। এ বিষয়ে খাজা আসিফ সিনেটকে বলেছেন, “আমেরিকা থেকে পাকিস্তান সামান্য পরিমাণ অর্থনৈতিক সহযোগিতা পায় কিন্তু কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা পায় না। অতীতে আমেরিকার হয়ে প্রক্সি যুদ্ধ করেছি তবে আমরা আর এখন তেমনটা নেই। পাকিস্তান কখনোই আমেরিকার আধিপত্যকামী মনোভাবের সামনে নতজানু হবে না এবং ওয়াশিংটনের হয়ে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না।”

পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা আফগানিস্তানে হামলা চালাচ্ছে বলে আমেরিকা যে অভিযোগ করছে- তারও কাটকাট জবাব দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটি বলেছে, “পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য নেই। তালেবানের পাকিস্তানের ভুখণ্ড ব্যবহারের দরকার নেই কারণ তাদের সরাসরি দখলে রয়েছে আফগানিস্তানের শতকরা ৪০ ভাগ এলাকা। সেই ভূখণ্ড ব্যবহার করে তালেবান তাদের তৎপরতা চালাতে পারছে স্বাভাবিকভাবেই। শুধু তাই নয়, আফগান সহিংসতার অবসান না ঘটানোর জন্য পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফ আমেরিকা ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীকে অভিযুক্ত করেছেন।

এ বিষয়ে বিবিসি’র কাছে খাজা আসিফ খোলসা করে বলেছেন, “আফগান পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান ও আমেরিকার মধ্যে আস্থার বিশাল ঘাটতি রয়েছে।”

টিলারসনের পাকিস্তান সফরটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ধারণা করা হচ্ছে- এ সফরের ভেতর দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের মনোভাব ও অবস্থান বোঝার চেষ্টা করেছেন। দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস দেশে ফিরে বলেছেন, পাকিস্তানসন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে আমেরিকা সঙ্গে কাজ করবে কিনা সে বিষয়ে ইসলামাবাদকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি আরো বলেছেন, আমেরিকা দেখতে চায় আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বক্তব্যের পর আমেরিকার অবস্থান পরিষ্কার হয়েছে। ওয়াশিংটন খুব কঠোর অবস্থান নিয়েছে তা আর বলা অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু পাকিস্তানও নরম হচ্ছে না। টিলারসনের সঙ্গে বৈঠকে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে ইসলামাবাদ নিজের সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রেখেই ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করবে। তবে আফগানিস্তানে মার্কিনিদের ১৬ বছরের ব্যর্থতা তাদের সামনেই রয়েছে। আফগান পরিস্থিতি উন্নয়নের এখন একটাই পথ আর তা হলো আফগানিস্তানে আমেরিকার পরাজয় মেনে নেওয়া।”

টিলারসনকে পাক কর্মকর্তারা আরো বলেছেন, আমেরিকার কাছ থেকে পাকিস্তান কোনো রকমের সামরিক সরঞ্জাম, অর্থনৈতিক সহায়তা কিংবা অন্য বস্তুগত সুবিধা চায় না। পাকিস্তান শুধু পারস্পরিক সমতা ও সম্মানের ভিত্তিতে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক চায়। এ কথার সুস্পষ্ট অর্থ হচ্ছে- মার্কিন সরকার তার মিত্রদের সঙ্গে বিশেষ করে কথিত তৃতীয় বিশ্বের মিত্রদের সঙ্গে যে প্রভুর মতো আচরণ করে পাকিস্তান তা আর মানবে না। পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের এইসব কথাবার্তা থেকে এটাও পরিষ্কার হয়ে উঠছে যে, আমেরিকার সঙ্গে খুব বেশি দিন আর পাকিস্তানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে না। এর ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। ভারতকে আমেরিকা ড্রোন সরবরাহ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না- সেসব ড্রোন পাকিস্তান সীমান্তে এমনকী পাকিস্তানের আকাশেও ওড়াবে; পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরিতে ব্যবহার করবে ভারত যা পাকিস্তানের জন্য অস্বস্তির কারণ। এরইমধ্যে পাকিস্তান বলেছে, দিল্লিকে ড্রোন দিলে দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্য বিনষ্ট হবে।

ইসলামাবাদ সফরের সময় টিলারসন পাকিস্তান সরকারের কাছে ৭৫ জন ‘ওয়ান্টেড’ ব্যক্তির তালিকা দিয়েছে। জবাবে ইসলামাবাদ দিয়েছে ১০০ অপরাধীর তালিকা যারা আমেরিকায় আশ্রয় নিয়েছে।

এসব ঘটনার পর পাকিস্তানের সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসাদ দুররানি সম্প্রতি ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, মার্কিন সরকার আফগানিস্তানে সেনা মোতায়েন করার জন্য পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, মার্কিন সরকার দক্ষিণ এশিয়ায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে আফগানিস্তানে নিজের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে চায়। জেনারেল দুররানি বলেন,“আমেরিকা পাকিস্তানকে শত শত কোটি ডলার অর্থ সাহায্য দেয় বলে যে কথা প্রচলিত রয়েছে তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং আমেরিকার প্রতি পাকিস্তানের নির্ভরশীলতার যুগ শেষ হয়ে গেছে।”

পাকিস্তানের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের এসব শক্ত কথার পরও জনমনে যে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে তা হচ্ছে- শেষ পর্যন্ত এমন শক্ত অবস্থান টিকে থাকতে পারবে তো পাকিস্তান? আমেরিকা যদি পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাহলে কী করবে দেশটি? এর জবাব জেনারেল আসাদ দুররানির কথাতেই রয়েছে। যদিও তিনি তা বিস্তারিত বলেন নি তবে ধারণা করা যায়- পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে গেলে পাকিস্তানও আমেরিকা ও ন্যাটো সেনাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। আর সেটা হচ্ছে আফগানিস্তানে মোতায়েন মার্কিন ও ন্যাটো সেনাদের জন্য পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার নিষিদ্ধ করে দেবে ইসলামাবাদ। এ ব্যবস্থা নিলে আফগানিস্তানে থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করা কঠিন হবে আমেরিকা জন্য।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় কথিত সন্ত্রাসী হামলা দোহাই দিয়ে আফগানিস্তানে যে আগ্রাসন চালিয়েছিল আমেরিকা তাতে কৌশলে ও চাপ প্রয়োগ করে পাকিস্তানকে জড়িয়ে নানা রকম সুবিধা নিয়েছে আমেরিকা। বিপরীতে পাকিস্তানের আর্থিক ক্ষতি তো বটেই; আফগান সংকটের পর নানা সন্ত্রাসী ও মার্কিন ড্রোন হামলায় পাকিস্তানের ৬৫ হাজারের বেশি সামরিক ও বেসামরিক মানুষ মারা গেছে। উল্টো এখন সেই পাকিস্তানকে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য দোষারোপ করা হচ্ছে; পাশাপাশি পাকিস্তান সন্ত্রাসীদের জন্য নিরাপদ স্বর্গ হয়ে উঠেছে বলে আমেরিকা অভিযোগ করে আসছে। আমেরিকার পক্ষ থেকে বাড়তি চাপ প্রয়োগের কারণে পাকিস্তান দিনে দিনে এই শক্ত অবস্থানে চলে গেছে। এছাড়া, সারা বিশ্বে যে অন্যায় ও বর্বর যুদ্ধ এবং সাম্রাজ্যবাদী নীতি চাপিয়ে দেয় আমেরিকা তা থেকে হয়ত পাকিস্তান দূরে সরে যেতে চাইছে। এই অবস্থান যদি পাকিস্তান ধরে রাখতে পারে এবং মার্কিন বলয় থেকে বেরিয়ে আসে তাহলে তা যেমন নিজের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে তেমনি দক্ষিণ এশিয়া ও ইরানসহ অনেক মুসলিম দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে। মার্কিন বলয় থেকে বের হতে পারলেই মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের বড় রকমের উন্নতি বে বলে আশা করা যায়। এ অঞ্চলে মার্কিন বিরোধী প্রধান দেশ ও শক্তি হচ্ছে ইরান। পাকিস্তান যদি সেই শিবিরে যোগ দেয় তাহলে এ অঞ্চলে মার্কিন বিরোধী শক্তি অনেক বেশি জোরদার হবে।

মার্কিন যুদ্ধবাজ নেতা ও রিপাবলিকান দলের সিনেটর জন ম্যাককেইন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকাকে বের করে দেবে ইরান। পাকিস্তান ও ইরানের সম্ভাব্য ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিনিদের ক্ষয়িষ্ণু প্রভাবের এই বিষয়টা আঁচ করে কী তিনি এমন মন্তব্য করেছেন?

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, রেডিও তেহরান।

বিস্তারিত খবর

আইনস্টাইনের ‘সুখী জীবনের তত্ত্ব’

 প্রকাশিত: ২০১৭-১০-২৩ ১২:৫৭:৫৭

নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের জগতবিখ্যাত তত্ত্বের আড়াল থেকে এবার বেরিয়ে এল তার জীবন দর্শনের এক অনন্য তত্ত্ব।

পদার্থবিদ্যার গবেষণায় নিজেকে সমর্পণকারী এই মহান বিজ্ঞানী সাদামাটা জীবনে বিশ্বাস করতেন বলে মনে হয়। অস্থির, অশান্ত জীবন তার পছন্দ নয়। সফলতার খাতিরেও তিনি অশান্তিকে প্রশ্রয় দিতে রাজি নন। এক টুকরো কাগজে লেখা এক বাক্যের কয়েকটি শব্দে তিনি সেই প্রয়াস ব্যক্ত করে গেছেন।

এখন থেকে প্রায় ৯৫ বছর আগে ১৯২২ সালে টোকিওর একটি ঘটনা। পদার্থবিজ্ঞানের ওপর লেকচার দিতে টোকিও সফরে ছিলেন আইনস্টাইন। উঠেছিলেন ইমপেরিয়াল হোটেলে। তখন তার খ্যাতি ছিল জগতজোড়া। এর আগের বছর পদার্থে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন জার্মানিতে জন্ম নেওয়া আইনস্টাইন। 

জাপানের ঐতিহ্যবাহী হোটেল ইমপেরিয়াল হোটেল। সেখানে থাকার সময় একদিন একজন বার্তাবাহক এলেন। আইনস্টাইনের জন্য একটি চিঠি এনেছেন। প্রেরক কে ছিলেন, জানা যায়নি। আইনস্টাইন চিঠিটি গ্রহণ করলেন। এরপর কিছু মুর্হূতের নাটকীয়তা।

চিঠি পৌঁছে দেওয়া বাবদ আইনস্টাইনের কাছ থেকে টিপস নিতে চাইলেন না বার্তাবহক। জাপানিদের সাধারণ সৌজন্য এমন- কাজের পারিশ্রমিক ছাড়া অতিরিক্ত কিছু নিতে চান না তারা। অথবা এমনও হতে পারে, ওই সময় আইনস্টাইনের হাতের কাছে ছোটখাটো এমন কিছু ছিল না, যা তাকে দেওয়া যায়। কিন্তু বার্তাবাহককে খালি হাতে ছাড়তে ছাইছিলেন না তিনি।

আইনস্টাইন তাকে একটি চিরকুট দেন। সেই চিরকুটেই রয়েছে আইনস্টাইনের ‘সুখী জীবনের তত্ত্ব’। তাতে জার্মান ভাষায় তিনি লিখেছেন : ‘নিরন্তর অশান্তির মধ্য দিয়ে সফল জীবনের সাধনার চেয়ে শান্ত ও ভদ্র জীবন বেশি আনন্দ বয়ে আনে।’ একেই তত্ত্ব বলা হচ্ছে। এই তত্ত্ব এই প্রথমবার সামনে এল।

তত্ত্ব না বলে একে তার একান্ত জীবনদর্শন বলা যায়। নিজের জীবনের খ্যাতির বিষয়ে তিনি এমনটি বলেছেন কিনা, তা বলার সুযোগ নেই- এমনটি মনে করেন জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনস্টাইনের ওপর গড়ে ওঠা সবচেয়ে বড় সংগ্রহশালার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংগ্রহবিদ রনি গ্রোজ। তবে সেই সময় খ্যাতির শিখরে ছিলেন তিনি। বিজ্ঞানীদের বাইরে বিশ্বের সাধারণ মানুষের মধ্যে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

সেই বার্তাবাহক এখন বেঁচে নেই। ঘটনা সম্পর্কে জানা গেছে তার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে। তিনি হাম্বুর্গে থাকেন। তার পরিচয় জানা যায়নি। বার্তাবাহককে আইনস্টাইন যে চিরকুটটি দিয়েছিলেন, তা এখন ওই আত্মীয়ের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি এটি নিলামে বিক্রি করতে চলেছেন। নিলামকারী প্রতিষ্ঠান উইনার মঙ্গলবার জেরুজালেমে এটি নিলামে তুলবে।

ওই আত্মীয়ের ভাষ্যমতে চিরকুটটি দেওয়ার সময় আইনস্টাইন বার্তাবাহককে বলেছিলেন, ‘আপনি যদি সৌভাগ্যবান হন, তাহলে সাধারণ টিপসের চেয়ে এই চিরকুট হয়তো অনেক বেশি মূল্যবান হবে।’ চিরকুটে  সময় ও স্থানের উল্লেখ করে স্বাক্ষর করেন আইনস্টাইন। সেটি টোকিওর ইমপেরিয়াল হোটেলে প্রদর্শন করা হয়।

মহান এই বিজ্ঞানীর ‘সুখী জীবনের তত্ত্ব’ হোক আর অন্য কিছু হোক, বিজ্ঞানের বাইরে আইনস্টাইনকে মূল্যায়ন করতে চান না রনি গ্রোজ। তার মতে, বিজ্ঞানপ্রতিভার অপর নাম আইনস্টাইন। তবে চিরকুটটি তার ব্যক্তিগত জীবনের ভাবনা হতে পারে বলে মনে করেন গ্রোজ।

এলএবাংলাটাইমস/সি/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

মরনঘাতি ‘ব্লু হোয়েল’! সাবধান!!

 প্রকাশিত: ২০১৭-১০-০৯ ১২:১৩:৫৭

গেমটি খেললেই মৃত্যুকে আপন মনে হবে, সুইসাইড করতে সহায়ক মনবৃত্তি তৈরী করে এই ব্লাক গেইমটি! অ্যাপ স্টোর, প্লে স্টোর, ইন্টারনেট বা গুগল কোথাও খুঁজে পাবেন না এই গেম, কারণ এটি ভার্চূয়ালি অবৈধ।

একমাত্র একজন গেমার যদি আপনাকে ইনবক্সে বা মেইল আমন্ত্রণ করে, তবেই খুঁজে পেতে পারেন গেমটি। কারো পাঠানো কোনো গোপন লিংকের মাধ্যমে চলে এই হ্যাকারদের কার্যাদি।

এটি একটি সুইসাইড গেইম অর্থাৎ গেম খেললে মৃত্যু অনিবার্য। এ গেম খেললে কীভাবে মৃত্যু হবে? কী বলেন মনোবিদ?

সাইকোলজিক্যাল বিশ্লেষণ এবং পরামর্শ :
Blue whale এর অর্থ নীল তিমি। নীল তিমিরা মৃত্যুর আগে সাগরের তীরে উঠে আসে– তারা আত্মহত্যা করে বলে অনেকের ধারণা! এ কারণেই গেমের নাম রাখা হয়েছে ‘Blue whale’ বা নীল তিমি। মনে রাখবেন– গেমটি বাধ্য করে তার ইনস্টলকারীকে সবগুলো স্তর খেলার জন্য। ‘ব্লু হোয়েল’ গেমটি ৫০টি লেভেলে বিভক্ত। F57 নামক রাশিয়ান হ্যাকার টিম গেমটি তৈরি করে। ২০১৩ সালে তৈরি হয়েছিল গেমটি, কিন্তু ২০১৫ সালে VK.com নামক সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচুর ডাউনলোড হয় গেমটি।

ফিলিপ বুদেকিন নামক রুশ হ্যাকার যে কিনা সাইকোলজির ছাত্র ছিলো এবং ভার্সিটি থেকে বহিষ্কার হয়েছিলো–তার মাথার বুদ্ধি থেকেই জন্ম নেয় এই গেমটি। রাশিয়ান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তারের পর সে জানায় হতাশাগ্রস্থদের পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেবার জন্যই সে গেমটি বানিয়েছে। হতাশাগ্রস্থদের পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। রাশিয়ায় এ গেম খেলে মৃতের সংখ্যা ১৫১ জন, এবং রাশিয়ার বাইরে মারা গেছে ৫০ জন।

জুলিয়া ওভা ও ভের্নিকা ওভা নামক দুই বোন প্রথম এই গেইমের শিকার। গেমটির ৫০ তম লেভেলে গিয়ে ছাদ থেকে লাফিয়ে ওরা সুইসাইড করেছিলো। জুলিয়া ওভা মৃত্যুর ঠিক আগে সোশাল নেটওয়ার্কে নীল তিমির ছবি আপলোড দিয়ে লিখেছিলো– ‘The end!’

গেমটি মূলত একটি ডার্ক ওয়েভের গেম। ডার্ক ওয়েভ হলো ইন্টারনেটের অন্ধকার জগৎ।

মনে রাখবে- গেমটি একবার ডাউনলোড করলে আর কখনোই আনইনস্টল করতে পারবেন না। গেমটি আপনার ফোনের সিস্টেমে ঢুকে আপনার আইপি এড্রেস, মেইলের পাসওয়ার্ড, ফেসবুক পাসওয়ার্ড কনট্যাক্ট লিস্ট, গ্যালারি ফটো এমনকি আপনার ব্যাংক ইনফর্মেশন, আপনার লোকেশান ও তারা জেনে নিচ্ছে! ‘ব্লু হোয়েল’ গেম ওপেন করা মাত্র আপনাকে একজন অ্যাডমিন পরিচালনা শুরু করবে।

আপনাকে জিজ্ঞেস করবে– ‘গেমটি খেলা শুরু করলে আপনি কোনোভাবেই এর থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন না, আপনি সর্বশেষে মৃত্যু বরণও করতে পারেন, আপনি কি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে আগ্রহী?’

আপনি ইয়েস বা নো অপশনের মধ্যে ‘ইয়েস’ অপশন ক্লিক করা মাত্রই পা দিয়ে দেবেন মৃত্যু ফাঁদে। গেমটির প্রথম দশটা লেভেল খুবই আকর্ষণীয়। ইউজার এডমিন কিছু মজার মজার নির্দেশনা দেন– যেমন রাত তিনটায় ঘুম থেকে উঠে হরর ছবি দেখা, চিল্লাচিল্লি করা, উঁচু ছাদের কিনারায় হাঁটাহাঁটি করা, পছন্দের খাবার খাওয়া ইত্যাদি নির্দেশনা দিতে দিতে এডমিন হাতিয়ে নেবেন আপনার পার্সোনাল ইনফরমেশন। প্রথম দশটা লেভেল পার করার পর আপনাকে তৈরি করা হবে পরবর্তী দশটি লেভেলের জন্য।

পনেরো লেভেল পর্যন্ত চলবে আপনার ইনফরমেশান হাতানোর কাজ! পনেরো লেভেলের পর আপনাকে কঠিন মিশন দেয়া শুরু হবে! যেমন অ্যাডমিন আপনাকে বলতে পারে আপনার হাতে ব্লেড দিয়ে নীল তিমির ছবি আঁকুন! প্রথম বিশটা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করার পর অ্যাডমিন তার কৌশল পরিবর্তন করতে শুরু করে। আপনি টেরই পাবেন না প্রথম বিশ ধাপে সংগ্রহ করে ফেলা আপনার তথ্যের উপর ভিত্তি করে আপনাকে মোহাক্রান্ত বা হিপনোসিস পদ্ধতি প্রয়োগ শুরু করা হবে। আপনি তখন ভাববেন এই গেম ছাড়া আপনার বেঁচে থাকা অসম্ভব। আপনাকে শীতের দিনে খালি গায়ে ঘুরতে বলা হবে, বাবার পকেট থেকে টাকা চুরি করা, বন্ধুর মোবাইল চুরি করা, আপনার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুটার সাথে দুর্ব্যবহারের মিশন দেয়া হবে আপনাকে। আবার এসবের প্রমাণের ছবি বা ফটো এডমিনকে পাঠাতে হবে আপনার। এভাবেই কৌশলে বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের থেকে কৌশলে আলাদা করে ফেলা হবে আপনাকে এবং আপনি পৌঁছে যাবেন পঁচিশ লেভেলে।

পঁচিশ লেভেলের পর নির্দেশনা আসবে মাদক বা ড্রাগ নেবার। এভাবেই সম্মোহিত করে করে আপনাকে তিরিশ লেভেল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। তিরিশ তম লেভেল আপনি অতিক্রম করার পর গেম এডমিন হঠাৎ আপনার সঙ্গে একটু চিট শুরু করবে। ৩১ তম লেভেল আনলক করবে না, এদিকে আপনি হয়ে উঠবেন ক্রেজী। তারপর কিছুদিন আপনাকে সারপ্রাইজ দিয়ে হঠাৎ এডমিন– বলবে একত্রিশ তম লেভেল আনলকড! আপনার নগ্ন ছবি চাওয়া হবে এই স্তরে। আপনি হিপনোসিস ও মাদকের কারণে নিজের নগ্ন ছবি পাঠাতেও চিন্তা করবেন না, ড্রাগ নেবার মাত্রা বাড়াতে থাকবেন আপনি।

এরপর নির্দেশনা আসবে আপনার ভালোবাসার মানুষের সাথে সেক্স করে গোপনে ছবি তুলে আপলোড করতে বা নিজের শরীরে একাধারে শ খানেক সুঁই ফোটাতে এবং ফটো আপলোড করে পাঠাতে। এভাবেই চলে যাবেন আপনি চল্লিশ তম লেভেলে। এবার আপনি ভীত হয়ে গেমার টিমকে অনুরোধ করবেন আপনাকে মুক্তি দেবার জন্য। আপনি কাঁদবেন, হাতজোর করবেন, চাইবেন গেমটি আনইনস্টল করার জন্য। তখন শুরু হবে ব্ল্যাকমেইলিং।

গেমার টিম বা এডমিন তখন আপনারই পাঠানো সকল তথ্য ফাঁস করে দেবার হুমকি দেবে, আপনি বাধ্য হয়ে প্রবেশ করবেন একচল্লিশ তম স্তরে। একচল্লিশ থেকে ঊনপঞ্চাশ তম লেভেলে আপনি প্রচণ্ড হতাশ আর মাদকাসক্ত হবেন…পঞ্চাশতম স্তরে আপনাকে মুক্তির শর্ত দেয়া হবে। বলা হবে আপনাকে নিজের শরীরে অ্যানাসথেসিয়ার ড্রাগ ক্যাটামিন পুশ করে তাদের ছবি পাঠাতে এবং নিশ্চিত দশ তলার চেয়েও উঁচু কোনো ছাদের একেবারে কিনারায় দাঁড়িয়ে যদি সেলফি আপলোড দিতে পারেন তবে আপনি মুক্ত।

আপনি সেটা পারবেন না কারণ শরীরে পুশ করা ক্যাটামিন আপনার মস্তিষ্কে চলে যাবে ততোক্ষণে। আপনার মোবাইলের স্ক্রিনে তখন নির্দেশ আসবে– ‘নিচের দিকে তাকাও। লাফ দাও, মুক্তি পাও!’ আপনি মুক্তি পেতে গিয়ে আত্মহত্যা করবেন।

এই ব্লু হোয়েল গেমটিতে ব্যবহার করা হয়েছে চমৎকার গ্রাফিক্স, ব্যাক গ্রাউন্ড মিউজিক যা ভীষণ করুণ! All i want ও Ranway গানের মিউজিক ব্যবহার করা হয়েছে। দুটো মিউজিক শুনলেই শরীরের রক্ত হিম হয়ে যাবে।

সবশেষে বলব– এসব আজেবাজে গেম কেউ আপলোড করবেন না। নিজেকে ভালোবাসুন, পরিবারকে সময় দিন, জীবনকে ভালোবাসুন।


এলএবাংলাটাইমস/সি/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

আজ শরতে কাশের বনে হাওয়ার লুটোপুটি

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৯-২৪ ০১:৪৫:০২

এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি,

কবি কি অতিরিক্ত আবেগ থেকে এ কথা লিখেছেন, আমরা কি কট্টর জাতীয়তাবাদী ভাবনা থেকে এ গান গাই; নাকি সত্যি সত্যি আমাদের জন্মভূমি সকল দেশের রানী? এটা ঠিক সবার কাছেই তার জন্মভূমিকে সকল দেশের রানী মনে হতে পারে। নিছক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, জন্মভূমির সাথে মিশে থাকে মানুষের আবেগ। আমার হৃদয়ে বৃষ্টি নিয়ে যত আবেগ, একজন ভিনদেশির কাছে হয়তো বৃষ্টি মানেই জল কাদা মাখা নোংরা দেদার। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কাছে তুষারপাত, জাপানের মানুষের কাছে চেরি ফোটার দিন, কানাডার মানুষের কাছে পাতা ঝরার কাল যতটা আবেগ নিয়ে আসে; কৃষ্ণচূড়াও বাঙালির মনে ততটাই আবেগ সঞ্চার করে। আবেগ দূরে রেখেও আমি ভেবে দেখেছি, বাংলাদেশ কি নিছক জন্মভূমি বলেই আমার এত প্রিয়, নাকি সত্যিই বাংলাদেশ সুন্দর? আমি মন থেকে বলছি, বাংলাদেশ সত্যি অনেক সুন্দর। কোনো নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিবেচনায় হয়তো অন্য কোনো দেশ এগিয়ে থাকবে। কিন্তু বৈচিত্র্যে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। এই যে আমরা বলি ষড়ঋতুর বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের অনন্যতা হলো ছয়টি আলাদা ঋতুর আলাদা বৈশিষ্ট্যে। বাংলাদেশের ছয় ঋতুর আলাদা রং আছে, রূপ আছে, গন্ধ আছে। আপনি যদি ক্যালেন্ডারের পাতার দিকে নাও তাকান, প্রকৃতির দিকে তাকালেই বলে দিতে পারবেন এখন কোন ঋতু। কৃষ্ণচূড়া গাছে যখন আগুন লাগে, আপনি বুঝে যাবেন গ্রীষ্মের দাপট; গন্ধরাজ-বেলি বা দোলনচাঁপার সৌরভ বা কদমের সৌন্দর্য আপনাকে বর্ষার গান মনে করিয়ে দেবে। শিউলি, কাশের ঢেউ আর নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা জানিয়ে দেবে শরৎ এসেছে। হেমন্তে ধানের খেতে বাতাসের ঢেউ আপনাকে উদাস করবে। শীত এসে প্রকৃতিকে কিছুটা জবুথবু করে দেয় বটে, তবে শীতের ফুলের রং রাঙিয়ে দেবে আপনার মন। পলাশ-শিমুল আপনার মনে বসন্তের হাওয়ার দোলা এনে দেবে। কিন্তু এত সুস্পষ্ট আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকার পরও আমরা কি সবাই শীত, গ্রীষ্ম আর বর্ষার বাইরে অন্য ঋতুগুলো অনুভব করতে পারি?

বসন্তকে বলা হয় ঋতুরাজ। কিন্তু আমার প্রিয় বর্ষা। অবশ্য এবার বর্ষা নগরবাসীর জন্য এমন ভোগান্তি নিয়ে এসেছিল যে, জোর গলায় সে ভালোবাসার কথা বলতে পারিনি। বসন্ত যদি ঋতুর রাজা হয়, তাহলে ঋতুর রানী শরৎ। বাংলাদেশের ঋতু বৈচিত্র্য যতটা দেখার, তারচেয়ে বেশি অনুভবের। তবে ইটকাঠের নাগরিক জঙ্গলে থেকে আপনি ঋতুর মজাটা অনুভব করতে পারবেন না। আপনাকে একটু আশপাশে যেতে হবে। কাশের সমুদ্রের ঢেউ আপনাকে জানিয়ে দেবে শরৎ এসেছে। আর শরৎ মানেই বাতাসে উৎসবের গন্ধ, ঢোলের আওয়াজ। শরৎ নিয়ে গান-কবিতার কমতি নেই। শরৎ নিয়ে মান্না দের একটা গান আছে, ‘আজ শরতে কাশের বনে হাওয়ার লুটোপুটি, মন রয় না, রয় না এই বিদেশে, চায় যে এবার ছুটি।’ কবি এখানে বিদেশ বলতে শহর বুঝিয়েছেন আর ছুটি মানে পূজার ছুটি। কাশের মজাটা হলো, এর বীজ লুকিয়ে থাকে বালুর গভীরে। শরৎ এলেই ফোটে কাশ। মনে আছে ১৯৯২ বা ’৯৩ সালে বাংলাবাজার পত্রিকায় কাজ করার সময় একবার শাহবাগ থেকে কাশফুলের ছবি তুলিয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর পাশের খালি জায়গা, এখন যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্কিং, সেখানে বাতাস ঢেউ খেলে যেত কাশের সমুদ্রে। হয়তো কোনো নদীর চর থেকে বালু এনে ভরাট করা হয়েছিল জায়গাটি। এখন আর শহরের এমন প্রাণকেন্দ্রে কাশ খুঁজে লাভ নেই। তবে এই ঢাকায় এখনো কাশের সমারোহ আছে। উত্তরার দিয়াবাড়ি, আফতাবনগর, আশুলিয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় গেলেই কাশের সমুদ্রে হারিয়ে যেতে পারবেন। তবে ইদানীং নগরবাসীর কাশ বিলাসিতার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়কের পাশের খালি জায়গা। শুক্রবার বিকালে সেদিকে গেলেই চমকে যাবেন আপনি। শত শত মানুষ ছুটে যায় সেখানে। তবে আমার শঙ্কা, শাহবাগের কাশ যেমন হারিয়ে গেছে বছর দশেক পর হয়তো দিয়াবাড়ি, আফতাবনগর বা পূর্বাচলের কাশের সমুদ্র দখল করে নেবে জনসমুদ্র। তখন কাশের খোঁজে হয়তো আপনাকে আরো দূরে মেঘনা, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী বা পদ্মার চরে যেতে হবে।

শুধু কাশ নয়; ছাতিম, জারুল, মধুমঞ্জুরি, শ্বেতকাঞ্চন, কামিনী, রঙ্গন, টগর, রাধাচূড়া, নয়নতারা, কল্কেসহ নানা ফুলে ফুলে সাজে শরতের প্রকৃতি। তবে কাশের মতোই শরতের আরেকটি পরিচিতি হলো শিউলি। ভোরবেলা হালকা কুয়াশায় শিউলিতলায় সাদা চাদর বিছিয়ে রাখা ফুল অন্যরকম এক আবেশ তৈরি করে। এখনো ঢাকার অনেক বাড়িতে শিউলি গাছ আছে। তবে আমি সবচেয়ে বড় শিউলি গাছ দেখেছি নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে। একটি নয়, একাধিক আকাশছোঁয়া শিউলি গাছ আছে সেখানে। এছাড়া শিশু একাডেমি, বাংলা একাডেমি, রমনা পার্কসহ আরো অনেক জায়গায় মিলবে শিউলির দেখা। তবে শিউলির দেখা পেতে আপনাকে যেতে হবে ভোরবেলায়। কারণ শিউলির সাথে সূর্যের আড়ি আছে। গল্প আছে, এক নাগরাজার অপরূপ সুন্দরী রাজকন্যা পারিজাতিকা সূর্যের প্রেমে পড়েন। কিন্তু শত চেষ্টা করেও সূর্যকে না পেয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। তার চিতাভস্ম থেকে জন্ম নেয় যে গাছ, তাতেই ফোটে শিউলি ফুল। কিন্তু সূর্যের দেখা পেলেই বেদনায় ঝরে পড়ে বিরহী শিউলি। শিউলি নিয়ে হাহাকার কবির কণ্ঠেও। কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন:

শিউলি ফুলের মালা দোলে শারদ-রাতের বুকে ঐ
এমন রাতে একলা জাগি সাথে জাগার সাথী কই...।

কবি-সাহিত্যিকদের আদিখ্যেতা সবচেয়ে বেশি সম্ভবত বসন্ত নিয়ে। এরপর হয়তো বৃষ্টি নিয়ে। তবে বাংলা সাহিত্যে শরৎ বন্দনারও কমতি নেই। চর্যাপদ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত শরৎ বন্দনায় ব্যয় হয় অনেক কালি। মহাকবি কালিদাস শরতে এনেছেন ভিন্ন ব্যঞ্জনা, ‘কাশফুলের মতো যার পরিধান, প্রফুল্ল পদ্মের মতো যার মুখ, উন্মত্ত হাঁসের ডাকের মতো রমণীয় যার নূপুরের শব্দ, পাকা শালিধানের মতো সুন্দর যার ক্ষীণ দেহলতা, অপরূপ যার আকৃতি সেই নববধূর মতো শরৎকাল আসে।’ বাঙালির সব আবেগ মূর্ত হয় যার কলমে, শরৎ নিয়ে সেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখাই বোধহয় সবচেয়ে বেশি:

শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি
ছড়িয়ে গেল ছাড়িয়ে মোহন অঙ্গুলি।
শরৎ, তোমার শিশির-ধোওয়া কুন্তলে-
বনের পথে লুটিয়ে পড়া অঞ্চলে
আজ প্রভাতের হৃদয় ওঠে চঞ্চলি।
শরৎ নিয়ে সব লেখা উদ্ধৃত করলে লেখার আকার ভদ্রতা ছাড়িয়ে যাবে। তবু কাজী নজরুল ইসলামের একটা গানের কথা বলার লোভ সামলাতে পারছি না:
এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো শিউলি বিছানো পথে
এসো ধুইয়া চরণ শিশিরে এসো অরুণ-কিরণ রথে।
দলি শাপলা শালুক শতদল এসো রাঙায়ে তোমার পদতল
নীল লাল ঝরায়ে ঢল ঢল এসো অরণ্য পর্বতে।

আমরা সাধারণ মানুষ। অত কাব্য বুঝি না। প্রকৃতি ভালোবাসি। প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে ভালো লাগে। অমল ধবল পালে যে মন্দ মধুর হাওয়া লাগে আমরা তাতে ভেসে যাই। তাই মন্দ মধুর শীতল হাওয়ার ছোঁয়া পেতে ভোরেই বেরিয়ে পড়–ন শিউলির খোঁজে। নরম আলোর বিকালটা কাশের সাথে কাটাতে চাইলে ঘুরে আসুন আপনার বাড়ির পাশের কোনো নদীর চর থেকে। আর ঢাকায় থাকলে চলে যান দিয়াবাড়ি, আফতাবনগর বা পূর্বাচলে। একটাই অনুরোধ ক্যামেরার চোখে, ফেসবুকের ওয়ালে বা ট্যাবের পর্দায় নয়; প্রকৃতি দেখুন নিজের চোখে, অনুভব করুন হৃদয় দিয়ে।


এলএবাংলাটাইমস/সি/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ফিদেল কাস্ত্রো : এক অটল মানব

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-১৩ ০৩:৪১:১৬

ফিদেল আলেসান্দ্রো কাস্ত্রো রুজ, যিনি ফিদেল কাস্ত্রো বা শুধু কাস্ত্রো নামেই পরিচিত। কিউবান রাজনৈতিক নেতা ও সমাজতন্ত্রী বিপ্লবী।

ফিদেল ১৯২৬ সালের ১৩ আগস্ট কিউবার পূর্বাঞ্চলীয় ‍ওরিয়েন্তে প্রদেশে বিরান শহরের কাছে জন্মগ্রহণ করেন।মহান বিপ্লবীর জন্মদিনে অকৃত্রিম শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ফিদেল কাস্ত্রোর জীবন ইতিহাসে ফিরে তাকালে দেখা যায়,  ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। বাবার নাম অ্যাঞ্জেল কাস্ত্রো। বাবা ছিলেন চিনিকল মালিক।  মায়ের নাম লিনা রুজ গনজালেস। ভাই রাউল ও র‌্যামন ছাড়াও ফিদেল বড় হয়েছেন বোন অ্যাঞ্জেলা, এমা ও অগাস্টিনার সাহচর্যে।

ফিদেলের পড়াশোনা শুরু হয় প্রাইভেট জেসুইট বোর্ডিং স্কুলে। এরপর সান্তিয়াগোর ডলোরস কলেজ ও হাভানার বেলেন কলেজ পেরিয়ে কাস্ত্রো ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব হাভানার ল’ স্কুলে। স্বচ্ছল পরিবারের ছেলে হিসেবে আইনজীবী হয়ে সহজ-সরল দিন কাটাতে পারতেন ফিদেল।কিন্তু ফিদেল বেছে নেন বন্ধুর পথ। হাভানার ল স্কুলে এসে জড়িয়ে পড়েন ছাত্র আন্দোলনে। ওই সময়েই তার মনে কিউবান জাতীয়তাবোধ, সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা ও সমাজতন্ত্রের প্রতি পক্ষপাতের ছাপ পড়ে।

১৯৪৭ সালে ডমিনিকান রিপাবলিকে তখনকার স্বৈরশাসক রাফায়েল ত্রুজিলোকে উৎখাতে এক বিদ্রোহে অংশ নেন ফিদেল। তাতে ব্যর্থ হলেও দমে যাননি তিনি। পরের বছর চলে যান কলম্বিয়ার বোগোতায়। সেখানে তিনি সরকারবিরোধী দাঙ্গায় অংশ নেন।

একই বছর কাস্ত্রো যোগদেন সংস্কারপন্থি দল ‘পার্টি দো অর্তোদক্সোতে (অর্থোডক্স পার্টি)’। কমিউনিস্টবিরোধী ওই দলের প্রার্থী এদুয়ার্দো চিবা ১৯৪৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়।

এ সময় মার্কসবাদে আকৃষ্ট হন ফিদেল; একইসঙ্গে কিউবান কংগ্রেস নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ১৯৫২ সালে মার্কিন মদতপুষ্ট স্বৈরশাসনের অবসান ঘটাতে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেন তিনি। এজন্য  ‘দ্য মুভমেন্ট’ নামে একটি গ্রুপ গঠন করেন। ১৯৫৩-র ২৬ জুলাই দ্য ‍মুভমেন্টের ১৫০ সদস্য কিউবার সান্তিয়াগোতে থাকা মানকাদা মিলিটারি ব্যারাকে আক্রমণ করে। ওই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে কাস্ত্রোকে বন্দি করা হয়। এরপর তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জেলে থাকার সময় ফিদেল তার দলের নাম বদলে রাখেন ‘টুয়েন্টি সিক্সথ অব জুলাই ‍মুভমেন্ট’। দুই বছর পর এক ‍চুক্তির মাধ্যমে মুক্তি পেয়ে সহযোগীদের নিয়ে মেক্সিকোয় পাড়ি জমান ফিদেল। সেখানেই দেখা হয় আর্জেন্টাইন চে গুয়েভারার সঙ্গে।

মেক্সিকোতেই ফিদেল, রাউল ও চে পরিকল্পনা করেন কিউবায় পুনরায় ফিরে গিয়ে বাতিস্তা সরকার উৎখাত করবেন। ১৯৫৬ সালের ২ ডিসেম্বর ফিদেল আর তার ৮১ জন সহযোগী অস্ত্রশস্ত্রসহ ছোট্ট নৌকায় চেপে কিউবার উত্তরাঞ্চলের মানজানিলোতে নামার পরিকল্পনা করেন।

তাদের আসার খবর পেয়ে বাতিস্তা সেখানে বাহিনী পাঠায়। ফিদেলরা নামার সময় গুলি চালালে বেশ কয়েকজন নিহত হয়। চে আর রাউলসহ বাকিদের নিয়ে জঙ্গলে আশ্রয় নেন ফিদেল। সরকারি বাহিনীর সঙ্গে গেরিলা যুদ্ধ শুরুর পর জনগণের সমর্থন নিয়ে ১৯৫৮ সালের শেষ দিক থেকে ফিদেল বাহিনী একের পর এক শহর দখল করতে থাকে। ১৯৫৯ সালের জানুয়ারিতে কিউবা দখলে নেয় ‘টুয়েন্টি সিক্সথ অব জুলাই ‍মুভমেন্ট’।

ফিদেল কাস্ত্রোর সমর্থন নিয়ে ওই বছরই প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ম্যানুয়েল উরুতিয়া, হোসে মিরো কর্দোনা হন প্রধানমন্ত্রী। ফিদেলকে দেওয়া হয় সেনাপ্রধানের দায়িত্ব। পরের মাসেই মিরো পদত্যাগ করলে প্রধানমন্ত্রী হন ফিদেল। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কারখানা এবং খামারগুলোকে জাতীয়করণ করেন তিনি, করেন ভূমি সংস্কার। এই সময় ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়া হয় এবং একইসঙ্গে কিউবায় বিদেশি কোম্পানির সম্পদ জাতীয়করণ করেন। ১৯৬০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং তেল কেনার চুক্তি করেন ফিদেল।

যুক্তরাষ্ট্র মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো ওই তেল পরিশোধনে আপত্তি জানালে ফিদেল তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করেন। ক্ষমতা নেওয়ার পর ১৯৬১ সালই ছিল ফিদেল কাস্ত্রোর জন্য সবচেয়ে সঙ্কটকালীন বছর। বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সঙ্গে তাদের আনুষ্ঠানিক সম্পর্কে ছেদ টানে। ওই বছরের এপ্রিল ফিদেল কাস্ত্রো কিউবাকে ‘সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র’ ঘোষণা করেন। এ সময় সিআইয়ের প্রশিক্ষণে ওই বছরই কিউবা থেকে পালিয়ে যাওয়া ১৪০০ দেশত্যাগী কিউবার ‘বে অফ পিগে’ ফিরে ফিদেলকে উৎখাতের চেষ্টা চালায়।

১৯৬৫ সালে কাস্ত্রো কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে নিজের দলকে একীভূত করেন, নিজে হন দলের প্রধান। কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি আবির্ভূত হন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির একনিষ্ঠ সমালোচক হিসেবে।

১৯৬৬ সালে কাস্ত্রো এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশে দেশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত করতে গড়ে তোলেন নানা সহায়ক প্রতিষ্ঠান। পরের বছর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন লাতিন আমেরিকান সলিডারিটি অর্গানাইজেশন, যার হাত ধরে এর পরের কয়েক দশকে ওই অঞ্চলের অনেকগুলো দেশেই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়।

১৯৭০ এর দশকে কাস্ত্রো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সোভিয়েত বিপ্লব এগিয়ে নিয়ে যেতে সামরিক সহায়তাও পাঠান। তার পাঠানো সেনাবাহিনী যুদ্ধ করে অ্যাঙ্গোলা, ইথিওপিয়া ও ইয়েমেনে।

১৯৭৩ সালে আলজিয়ার্সে জোট নিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলোর সম্মেলনে যোগ দেন কাস্ত্রো। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা হয় তার। দুই নেতাই একে অপরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় সামরিক আগ্রাসন না চালালেও ফিদেলকে হত্যা করতে একের পর এক চেষ্টা চালিয়ে যায়।কিউবার গোয়েন্দাদের দাবি, কেবল  কাস্ত্রোকে হত্যার জন্য ৬৩৮টি চেষ্টা চালিয়েছে সিআইএ।

ফিদেল কাস্ত্রোর শাসনামলে কিউবাজুড়ে ১০ হাজার নতুন স্কুল খোলা হয়। শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া হয় পাহাড়ি, দুর্গম প্রত্যন্ত সব অঞ্চলে। এর ফলও মেলে হাতেনাতে, অল্প সময়ের মধ্যে কিউবার স্বাক্ষরতার হার হয়ে দাঁড়ায় ৯৮ শতাংশ।

তবে কাস্ত্রোর সমালোচনাও কম নয়। পশ্চিমারা তাকে ‘অধিকার হত্যাকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। তার আমলে বন্ধ হয়েছে পেশাজীবী আন্দোলন, শ্রমিক ইউনিয়নের ধর্মঘট করার অধিকার। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বেসরকারি গণমাধ্যম, বিপাকে পড়েছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। বিরোধী দলগুলোকে দমন-পীড়ন ও সেসব দলের নেতা-কর্মীদের নির্যাতন এবং জোরপূর্বক দেশত্যাগ করানোরও অভিযোগ আছে ফিদেলের ‍বিরুদ্ধে।

১৯৯১ সালে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কিউবার অর্থনীতি বড় ধাক্কা খায়। ধস ঠেকাতে নতুন পন্থা নেন ফিদেল কাস্ত্রো। ডলারের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সঙ্গে স্বল্প আকারে পর্যটনও চালু করেন ফিদেল। প্রায় চার দশক পর ১৯৯৬ সালে আবারো যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান ফিদেল।

২০০১ সালে হারিকেন মিশেলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত কিউবায় যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য পাঠাতে চাইলেও তা ফিরিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নগদ টাকায় খাদ্য কেনার প্রস্তাব দেন ফিদেল। এ সময় তিনি ১১৮টি কারখানা বন্ধের আদেশ দেন।

নব্বই দশকের শেষদিক থেকে কাস্ত্রো অসুস্থতায় ভুগতে থাকেন। আর ২০০৬ সালের  ৩১ জুলাই আচমকা এক ঘোষণায় ছোটভাই ও সরকারের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা রাউলের হাতে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেন ফিদেল।

২০০৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি কাস্ত্রো আনুষ্ঠানিকভাবে কিউবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। ২০০৮ সালে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর প্রকাশ্যে খুব একটা আসতেন না ফিদেল। অবসরে নিজের অভিজ্ঞতা ও মত পত্রিকায় প্রকাশ করতে ‘রিফ্লেকশন অব ফিদেল’ নামে কলাম লেখা শুরু করেন ফিদেল। ২০০৭ সালে তার আত্মজীবনী ‘মাই লাইফ’ প্রকাশিত হয়।

১৯৫৯ সালে ক্ষমতা দখলের পর কম লোকই ভেবেছিল ফিদেল কিছু করতে পারবেন।কিন্তু তিনি দেশের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ, হত্যার ষড়যন্ত্র পেরিয়ে একটি কমিউনিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। যা টিকে আছে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরও।

২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর তিনি মারা যান। আদর্শ ভিন্ন হলেও মৃত্যুর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ফিদেল কাস্ত্রোকে বিশ্বের অনেক নেতা বিংশ শতকের প্রতীক বলে অভিহিত করেন।


এলএবাংলাটাইমস/সি/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন উদ্যোগের অভাব

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-১২ ০৮:২৪:৩০

গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পর থেকে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে রুটিন বা দৈনন্দিন কার্যক্রম ছাড়া আর কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। এশিয়ার অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ দেশেই এখনও নিয়োগ দেওয়া হয়নি মার্কিন রাষ্ট্রদূত। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও বেশিরভাগ কর্মকর্তাও এখনও নিয়োগ পাননি। জনবলের এই সংকটের কারণেই মূলত রুটিন কাজের বাইরে নতুন কোনও উদ্যোগ নিতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন এখনও তাদের এশিয়া নীতি তৈরি করেনি। চীন বা ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশে এখনও দেশটির রাষ্ট্র্রদূত নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও এখনও অনেক পদে নিয়োগ না দেওয়ায় শূন্যতা তৈরি হয়েছে।’
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ট্রাম্পের এশিয়া নীতি কী হবে এবং সেই নীতি পরিচালনার জন্য কাদের নিয়োগ দেওয়া হবে সে বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ দক্ষিণ এশিয়া নীতির একটি অংশ বাংলাদেশ। যতক্ষণ পর্যন্ত না সেই নীতি সবার কাছে পরিষ্কার হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে নতুন উদ্যোগের জন্য।’
এ বিষয়ে আরেক সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক মোহাম্মাদ জমির বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিকল্পনা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প কিছুদিন আগে সৌদি আরব সফর করেছেন এবং তার মধ্যপ্রাচ্য নীতির বিষয়ে লোকজন এখন অনেক কিছু জানে।’ জমির বলেন, ‘আগামী কিছুদিনের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা আছে। এই সফর হলে ওয়াশিংটন হয়তো তার বৃহৎ দক্ষিণ এশিয়া নীতি তৈরি ও বাস্তবায়ন শুরু করবে।’
বর্ষীয়ান এই কূটনীতিকের মতে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা কোনও দেশ নয়। এ কারণে মার্কিন নীতি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত কয়েক মাসে রুটিন কাজের বাইরে দুই দেশ টিকফা বৈঠক করেছে। সেখানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সম্পর্কের নতুন উদ্যোগ নেওয়াটা কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি।  

বিস্তারিত খবর

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশও

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-০৮ ১০:৫৯:১৯

হাসান মাহামুদ
মানুষের তৎপরতার কারণে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমনের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এই গ্যাসের নির্গমন মাত্রা কমিয়ে আনার বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয় জলবায়ু সম্মেলন। চূড়ান্ত চুক্তির খসড়ার বিষয়ে সমঝোতা হয় বিশ্বের ১৯০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণে ওই সম্মেলনে। চুক্তিটিকেই বলা হয় ‘প্যারিস জলবায়ু চুক্তি’। এটি বর্তমান বিশ্বে সর্বাধিক দেশের সম্মতিতে তৈরি হওয়া একটি চুক্তি। এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে বিশ্বের ১৭৫টি দেশ। ২০১৬ সালের এপ্রিলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। আন্তর্জাতিক কোনো চুক্তিতে একদিনে এত বেশিসংখ্যক রাষ্ট্রের স্বাক্ষর করার এটি নতুন একটি রেকর্ড।
চুক্তি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হয়, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি এমন পর্যায়ে বেঁধে রাখার উদ্যোগে নেওয়া হবে, যাতে তা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না হয়। বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবেলার এই চুক্তিকে জাতিসংঘের মহাসচিব অভিহিত করেছিলেন ‘ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি’ হিসেবে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দুটি দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। বিষয়টি বর্তমানে সারাবিশ্বেই স্বীকৃত। এই দুটো দেশও চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করে।  আমরা জানি, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগের নাম এবং কারণ। আগামী সব প্রজন্মের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে। সমর্থনকারী সব দেশসহ নীতিনির্ধারকরাও আশা করেছিলেন, প্যারিস চুক্তি সবার ভবিষ্যতকে সুন্দরভাবে গড়ে দেবে। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় নতুন করে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে।
জলবায়ু চুক্তিটি নিয়ে প্যারিসে অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি ছিল ২১তম কপ সম্মেলন বা ‘কনফারেন্স অব পার্টি’। এতে উপস্থিত থাকা বাংলাদেশের একটি গবেষণা সংস্থার নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে একবার সম্মেলনটি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন- ‘সম্মেলনের সময়ও রিপাবলিকান সিনেটরদের এ বিষয়ে অনীহার বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।’ প্রসঙ্গত, তখন দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডেমোক্রেট পার্টির প্রার্থী বারাক ওবামা। সম্মেলনে চুক্তিটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক দিক থেকে বলা হয়েছে, কমপক্ষে ১০০ বিলিয়ন ডলার হবে। যদিও অনেকেই এই ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তিনি আরো বললেন- ‘তখন আমেরিকার প্রতিনিধিরা বলেছিলেন, তাদের ইচ্ছা থাকলেও অনেক কিছু করতে পারে না। তাদের রিপাবলিকান সিনেটরদের বোঝাতে হয়। আবার, চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন কিছু তারা করবে না।’ অবশ্য ডোনাল্ট ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার কথা বলেছিলেন। ‍২ জুন তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই চুক্তি থেকে বের করে আনেন।
কার্বন ব্রিফের তথ্য অনুযায়ী, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের জন্য দায়ী। এছাড়া ৫৫ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ করে থাকে ৫৫টি দেশ। এই দেশগুলো চুক্তিতে অনুসমর্থন দিলেই কার্যকর হবে প্যারিস চুক্তি। বাকি দেশগুলোও এতে অনুসমর্থন জানালে বিশ্বব্যাপী গ্রিন হাউজ গ্যাসের নিঃসরণের পরিমাণ কমতে শুরু করবে কার্যকরীভাবে। সবকিছু প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোচ্ছিল। কিন্তু এখানে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! ট্রাম্পের ঘোষণার মাধ্যমে কার্বন নির্গমনকারী সবচেয়ে বড় দেশটিই সরে গেল।
যদিও এর আগে গত ২৮ মার্চ ট্রাম্প আগের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জলবায়ু নীতির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ‘ক্লিন পাওয়ার প্ল্যান’সহ অন্তত ছয়টি পদক্ষেপ বাতিল করে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ-বিরোধীসহ ছয়টির বেশি পদক্ষেপ বাতিল হয়ে গেল। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র কার্বণ নিঃসরণের অঙ্গীকার করেছিল। ওবামার ক্লিন পাওয়ার প্ল্যানের (সিপিপি) গ্রিন রুল কার্বন নিঃসরণে সহায়ক ছিল। ওই নীতি অনুযায়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নিরুত্সাহিত করার কথা বলা ছিল। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। এমনকি সরকারি জমিতে কয়লা উত্পাদন এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুকেন্দ্র নির্মাণে অনুমতি না দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। এই পদক্ষেপকে ওবামার ‘কয়লাবিরোধী যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। ওবামার নীতি রিপাবলিকান পরিচালিত রাজ্যে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিল। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
এখন ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন নীতিতে কাজের ক্ষেত্র যেমন বাড়বে, তেমনি জ্বালানি আমদানিও কমে যাবে। ব্যবসায়ীরা তার পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও পরিবেশবাদীরা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, এই পদক্ষেপ দেশে এবং বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র যে অঙ্গীকার করেছিল তা নতুন আদেশে ভঙ্গ হবে। পরিবেশবাদীরা আইনের আশ্রয় নেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেছে এই ধরনের নির্বাহী আদেশে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পর বিশ্বব্যাপী হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নতুন নির্বাহী আদেশকে প্যারিস চুক্তি ভঙ্গের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে চীন। এই প্রেক্ষাপটে বেইজিং আশঙ্কা করছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম রাখার ঐতিহাসিক অঙ্গীকার থেকে সরে আসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তারা জানিয়েছে, তেমন ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রের ওই অঙ্গীকারের দায় চীন নেবে না। চীনের এই প্রতিক্রিয়ার পর আরো সংশয়ের মধ্যে পড়েছে জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের প্যারিস অঙ্গীকার।
এরই মধ্যে অনেকেই বলছেন, ট্রাম্পের আদেশের ফলে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নে বিঘ্ন ঘটবে। যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ২৬ থেকে ২৮ শতাংশ কমানোর যে অঙ্গীকার করেছিল, ট্রাম্প কয়লাভিত্তিক বিদ্যুকেন্দ্র চালু করলে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কঠিন হবে। জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণে রেখে এই গ্রহকে পরবর্তী  প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য রাখা সত্যিই এক কঠিন চ্যালেঞ্জের  মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট এবং ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভালুয়েশন-এর ২০১৭ সালের এক যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, বাতাসে ক্ষতিকর কণার কারণে বিশ্বে প্রতি বছর ৪২ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। যার মধ্যে চীনে ১১ লাখ ৬ হাজার, ভারতে ১০ লাখ ৯০ হাজার এবং বাংলাদেশে ১ লাখ ২২ হাজার জন ২০১৫ সালে মারা গেছেন। এর থেকে প্রতিবেদনের জন্য জমা রাখার বিধানটি ছিল।
শিল্পোন্নত দেশগুলো পরিবেশ রক্ষায় কোনো বিধি-বিধান না মানায় বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে। একদিকে সাগর জলের উচ্চতা বৃদ্ধি, আবার অন্যদিকে অসময়ের খরা, বৃষ্টি, ঝড়, জলোচ্ছাসের বৃদ্ধি ঘটছে মাত্রাতিরিক্তভাবে। এর আর্থিকসহ বিভিন্ন ক্ষতির পরিমাণও বিশাল। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী না হয়েও বাংলাদেশ শুরুর দিকের কয়েকটি দেশের সঙ্গেই ওই চুক্তিতে অনুসমর্থন দেয়। বর্তমান সরকারেরও এ বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু আমরা সাধারণ জনগণের অনেকেই এখনো এই চুক্তিতে কি রয়েছে, তাই জানি না। সরকারের উচিত, চুক্তিটির সব বিষয় প্রকাশ করা।
তবে, সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে- চুক্তিটি বাস্তবায়ন না হলে আমরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবো। সেক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে আ্যান্টার্কটিকার বরফ পিণ্ড যেভাবে তার অবস্থান থেকে সরে আসছে, তেমনি মানবজাতির স্বার্থে পৃথিবী নামক এই গ্রহকে রক্ষার স্বার্থেই বিশ্বের সর্বাপেক্ষা শক্তিধর দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে না গিয়ে, এর সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবেন।
লেখক : সাংবাদিক।  

বিস্তারিত খবর

ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনঃ

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৫-১৭ ১৬:১১:৪৭

শুধু শাহবাগে নয়, প্রতিটি পরিবারে, পাড়ায়, মহল্লায় প্রতিরোধ গড়ে তুলুন ধর্ষণ বিরোধী। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে জলাশয়- কোথায় হচ্ছে না ধর্ষণ? পাঁচ বছরের শিশু থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, কেউই এসব জানোয়ারদের ছোবল থেকে বাঁচতে পারছে না। কিছু দিন আগে মেয়ের ধর্ষণের বিচার না পেয়ে মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন একজন বাবা। আর বাকিরা যারা বেঁচে আছে, তারা না মরে বেঁচে আছে ঠিক যেমনটি বেঁচে আছে তনুর মতো কন্যাদের বাবারা ।
আমাদের অন্যায্য পুরুষ শাষিত সমাজে ধর্ষকরা নন্দিত, ধর্ষিতারা নিন্দিত। ধর্ষনের সমস্ত দায়ভার, সমস্ত লজ্জ্বা, সমস্ত অপমান আর উপহাসের ভারী পাহাড় সমাজ তুলে দেয় নারীর উপর, আর পশুর ন্যায় ধর্ষক পুরুষরা পৈশাচিক অত্যাচার করেও তাদের ক্ষমতা, উপর তালার মানুষদের সহযোগিতা আর অর্থের বলে পার পেয়ে যায় তাদের অপরাধ থেকে। সমাজে লজ্জিত, লাঞ্ছিত হয় ধর্ষিতা নারী, অত্যাচারিত হয়েও মুখ ঢেকে চলতে হয় সমাজের উপহাস এড়াতে- কারণ কলঙ্ক শুধু নারীর জন্য, পুরুষের জন্য নয়। সমাজের এই কলঙ্কজনক পরিস্থিতির মোকাবেলা সম্মিলিতভাবে না করা পর্যন্ত সমাজে, দেশে এসব অত্যাচার চলতে থাকবেই। সামাজিক অবহেলায় তিল তিল করে মরে যাওয়া ধর্ষিতা্দের অভিশাপগ্রস্ত দেশটির নাম বাংলাদেশ। মাঝে মাঝে ভয় হয়, ধর্ষকের অভয়ারণ্য কি হয়ে যাচ্ছে আমার আপনার প্রিয় বাংলাদেশ !
যারা আমাদের চারপাশের সমাজকে নারীর বসবাসের অযোগ্য করে যাচ্ছে, মানুষ নামের সেই সব হিংস্র পশুদের আর ছাড় দেবেন না- এই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞ। প্রতিটি মানুষ মেরুদন্ড সোজা করে এদের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, যারা ভাবে ধর্ষণ করার লাইসেন্স তাদেরকে বিত্তবান পিতা বা বিচারহীন সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্র তাদেরকে দিয়েছে। যেহেতু রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা চোখে ঠুলি আর মুখে কুলুপ দিয়ে বসে আছে তাই আমাদের সন্তানের দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে ।
ধর্ষণ প্রতিটি নারীর মেধা, বল, আশা, স্বপ্ন, লক্ষ্য, ও সম্ভ্রমকে ধূলায় মিশিয়ে দেয়। ধর্ষিতা মায়ের সন্তানের বেদনা, ধর্ষিতা বোনের ভাইয়ের কষ্ট, ধর্ষিতা কন্যার পিতার শোক, নারীর সর্বস্ব হারানো অপরিমেয় মরম-জ্বালা উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন । বর্বর ধর্ষকদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলাতেই হবে।
গত ২৮ মার্চ জন্মদিনের পার্টিতে নিয়ে দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের এই মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ দেশের শীর্ষস্থানীয় অলঙ্কারের ব্র্যান্ড ‘আপন জুয়েলার্স’র মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে। নারীর সম্মানে যারা হাত দিয়েছে তাদের প্রতি ঘৃণা জানিয়ে আসুন প্রতিজ্ঞা করি কোনো নারী আর নিজেকে সাজাবে না “আপন জুয়েলার্স' অলঙ্কারে”- যদি সেই অলংকার বিনামূল্যেও হয় , তবুও না।ঠিক তেমনি ভাবে ধর্ষক ও ধর্ষক পরিবারকেও সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যান করুন| পৃথিবীর যেই প্রান্তেই তারা পালাক না কেন তাঁদেরকে ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করুন|
আমরা যদি একটু পিছনের দিকে দেখি একটা সময় নারীর প্রতি “এসিড সন্ত্রাস” একটা মারাত্মক সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছিল| তথ্য উপাত্ত অনুসারে বাংলাদেশে প্রথম এসিড সন্ত্রাস ঘটনা ঘটে ১৯৬৭ সালে। এর পর আবার এসিড সন্ত্রাস আলোচনায় আসে ১৯৯৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বরে শামিমার নামক এক ১৪ বছর বয়সীর প্রতি এসিড নিক্ষেপ করায়। এসিড সারভাইভাল ফাউন্ডেশনের হিসাবে ১৯৯৯ সাল থেকে বাংলাদেশে ৩ হাজারেরও বেশি এসিড হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ২০০২ সাল। ওই বছর ৫০০টি এসিড হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই হামলার ঘটনা কমতে থাকে। ২০১১ সালে ৯১টি ও ২০১২ সালে ৭১টি হামলা হয়েছে। ২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকার এসিড সন্ত্রাস দমনে কঠোর আইন প্রণয়ন করে। অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের পাশাপাশি এসিডের ব্যবহার, মজুত ও বিক্রির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এসিড নিক্ষেপকারীর জামিন নামঞ্জুর ও এক বছরের মধ্যে তাদের বিচার শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়, আগে যেখানে বছরের পর বছর লেগে যেত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি দেয়ায় বিধান করা হয়েছে। বাংলাদেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী এসিড ছোড়ার শাস্তি হিসেবে রয়েছে সর্বনিন্ম ৭-১২বছরের জেল বা সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
এই পরিসংখ্যানে দেখলে বুঝা যায় বাংলাদেশের এসিড নিক্ষেপের ঘটনা যেভাবে কঠোর হাতে দমন করা হয়েছ দেরিতে হলেও, তাহলে ধর্ষনের ক্ষেত্রে কেন হচ্ছে না ? নাকি আরো কিছু নারীর অভিশাপে অভিশপ্ত হতে হবে আমাদের? আমি এটাও স্বীকার করছি, আইন বিদ্যমান থাকলেও অনেক সময় আইনের অপর্যাপ্ত প্রয়োগ না করার কারনে এসিড নিক্ষেপকারী দিব্যি ঘুরে বেড়ায়। তার পরেও এসিড সন্ত্রাস শূন্যের কোঠাতে না নামলে ও অনেক মাত্রায় নিবারণ করা হয়েছে । যে হারে ধর্ষনের মাত্রা বাড়ছে এটা একটা সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়ে গিয়েছে । নারীকে ঘরে বসিয়ে রাখলে বা ছালার বস্তা পড়িয়ে রাখলেও যারা শকুন তাদের চোখ ঠিক খুঁজে বের করবেই। এদের প্রতিহত করতে পারে শুধু মাত্র মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে । এই সব ধর্ষিতারা আমার আপনার সন্তান নয়, কিন্তু তাতে কি? কাল যে এই বিষাক্ত সাপের ছোবল থেকে আপনার সন্তানকে বাঁচাতে পারবেন তার কি কোন নিশ্চয়তা আছে? এবার যদি এই বিত্তশালী পিতার কুপুত্ররা রেহাই পেয়ে যায়, তবে বলবো সামনের দিন আরো ভয়াভয়! তাই আর দেরি নয়, আসুন আমাদের সমাজের নারীদের সম্মান, তাদের স্বপ্নের সূর্য্য স্নাত দিন আর চন্দ্রিমার আলোয় স্নাত নিরাপদ রাত আমরা ফিরিয়ে আনবোই।
ধন্যবাদ সমস্ত সংবাদ মাধ্যম কে/সংবাদ কর্মীকে যারা ধর্ষিতার ছবি প্রকাশ করেননি ।

ভার্জিনিয়া

বিস্তারিত খবর

আমেরিকা থেকে এ্যাথলেটে বাংলাদেশি তরুণী

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৫-১৪ ০২:৫৯:৪৮

বাংলাদেশে এ্যাথলেটিকস এমন একটি খেলা যার মান বছরের পর বছর ধরে ক্রমান্বয়ে শুধু নেমেছে।  কথাটা নির্মম শোনালেও প্রায় দুই যুগ ক্রীড়া সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতার আলোকে এটা আমার ব্যাক্তিগত মুল্যায়ন। যে বাংলাদেশের এ্যাথলেটরা এক সময় অলিম্পিকে পদক জয়ের স্বপ্ন দেখতো, তাদের এখন প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য বাড়ীর পাশে পশ্চিমবঙ্গের এ্যাথলেটদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে ইন্দো বাংলা বাংলাদেশ গেমসে পদক জেতা। বলাবাহুল্য সেখানেও তারা পিছিয়ে একটি রাজ্য দলের কাছে।

দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক খ্যাত সাফ গেমসে একসময় দ্রুততম মানব হত শাহআলম-বিমল চন্দ্র তরফদাররা, সেখানে এখানে এই ইভেন্ট থেকে খালি হাতে ফেরে বাংলাদেশ। কর্মকর্তাদের অর্থ কেলেংকারি, নারী কেলেংকারি, এ্যাথলেটদের মানের অবনমন, স্পন্সর ও মিডিয়ার অবহেলা- এসবই এতদিন পত্রিকার শিরোনাম হত এ্যাথলেটিকসকে ঘিরে। হতাশার এই মিছিলে বেশ চটকদার এক ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশ এ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন সাধারণ সম্পাদক। বাংলাদেশী বংশোৎভূত আমেরিকান এ্যাথলেটদের খেলার সুযোগ দেয়া হবে লাল-সবুজ পতাকার পদতলে। খোদ নিউইয়র্কে বসেই এমন ঘোষণা ফেডারেশনের নতুন সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টুর।

ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে একটি নাম। সে হল- আলিদা সিকদার। বয়স উনিশ বছর। বাবা মোমেন সিকদার পুরো পরিবার নিয়ে লসএ্যাঞ্জেলসের সান্তিয়াগোতে থাকেন বহু বছর। আলিদার মায়ের নাম নাসরিন আহমেদ। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যালিফোর্নিয়ায় লং জাম্প ও হাইজাম্পে চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড় হলেন আলিদা।

মাস খানেক আগে আলোচ্য খেলোয়াড় ও তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য লসএ্যাঞ্জেলসে গিয়েছিলেন আব্দুর রকিব মন্টু। তারা সম্মতি দিয়েছে ১৩ মে থেকে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে শুরু হওয়া ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে বাংলাদেশের এ্যাথলেটিকস দলের হয়ে খেলবেন আলিদা। রবিবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা আয়োজিত এক মত বিনিময় সভায় এই তথ্য দেন বাংলাদেশ এ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন সাধারণ সম্পাদক। তিনি আরো জানান, শুধু আলিদা নন, এভাবে ভালো খেলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরো এ্যাথলেট নেবার ইচ্ছা আছে তাঁর।

আব্দুর রকিব মিন্টু আমেরিকান গ্রিনকার্ডধারী। ওনার বাবা, বড় ভাই ও বোনেরা সবাই খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে পরিবারের বেশীরভাগ সদস্য নিউইয়র্কে থাকেন। আব্দুর রকিব ঢাকা ও নিউইয়র্ক আসা যাওয়ার মধ্যে থাকেন বলে জানালেন। বর্তমানে উনি বাংলাদেশে সহকারী এ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন। কিছুদিন আগে বাংলাদেশ এ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের এডহক কমিটিতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তির পরে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছেন, পিছিয়ে পড়া এ্যাথলেটিকসকে নতুন করে সাজানোর। উপজেলা, জেলা, বিভাগ পর্যায় থেকে শুরু করে এ্যাথলেটিকসের একটি অবকাঠামো নির্মাণ, আন্ত:স্কুল প্রতিযোগিতা, খেলোয়াড় উন্নত প্রশিক্ষণ, প্রকৃত কোচদের মূল্যায়ন, বর্ষপঞ্জী তৈরীসহ ট্র্যাক এ্যান্ড ফিল্ডের গৌরবোজ্জ্বল অতীত ফিরিয়ে আনার আকাঙ্খা আব্দুর রকিব মন্টুর।

তবে সময়ই বলে দেবে নতুন সাধারণ সম্পাদকের কথা ও কাজের মিল কতখানি? আসন্ন ইসলামিক সলিডারিটি গেমস হতে যাচ্ছে তাঁর নেতৃত্বে ফেডারেশনের নতুন চ্যালেঞ্জ! এই গেমসে খেলছে আলিদা। এভাবে আরো খেলোয়াড়দের সুযোগ দেবার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু যে আমেরিকায় এসে এ্যাথলেটরা গেমস ভিলেজ থেকে পালিয়ে যায়, সেই দেশ থেকে যাবে বাংলাদেশে খেলতে? প্রশ্নবিদ্ধ হবে নাতো তাদের দেশপ্রেম? এই প্রশ্ন উপস্থিত অনেকের মুখে।

শুনলে অবাক লাগে যে বাংলাদেশের চারজন দ্রুততম মানব এই নিউইয়র্কে থাকেন। চারজনের মধ্যে সাইদুর রহমান ডন ও শাহানউদ্দিন ব্যাক্তিগত ব্যস্ততার কারনে স্পোর্টস কাউন্সিলের সর্বশেষ এই অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি। তবে ছিলেন দুইজন, তারা হলেন-শাহজালাল মোবিন ও বিমল চন্দ্র তরফদার।

শাহজালাল মোবিন বর্তমানে এক হাইস্কুলের ট্র্যাক এ্যান্ড ফিল্ডের কোচ। ব্রংকসের রিভারডেইলে ফিল্ডস্টোন স্কুলে এই দায়িত্বে আছেন তিনি। ১৯৮৫, ৮৬ ও ৯০ সালে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব মোবিন বলেন, আমেরিকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা খেলোয়াড়দের সুযোগ দেবার বিষয়টি আমি স্বাগত জানাই। এখানকার কোচিং অনেক উন্নত। কারন প্রতিদ্বন্দ্বীতা অনেক বেশী। সেই তুলনায় সাফ কিংবা এশিয়ান পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা কম হওয়াতে, সেখানে আমেরিকায় বসবাসকারী বাংলাদেশী এ্যাথলেটদের ভালো করার সুযোগ অনেক বেশী।’

শাহজালাল মোবিনের দুই ছেলেও এ্যাথলেট। ‘মবিন ভাইয়ের ছেলেরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারে!’ এই অভিমত বিমলের। বিমল চন্দ্র তরফদার। সে অনেকদিন আগের কথা। বিকেএসপির এক অসম্ভব প্রতিভাবান এ্যাথলেটের পায়ের মাংসপেশী দেখে একসময় সবাই তার মাঝে কার্ল লুইসের ছায়া খুঁজে পেতো। বহুদিন আগে  প্রচন্ড আক্ষেপ নিয়ে সেই কথা বলেছিলেন  বিকেএসপির তৎকালীন পরিচালক ফারুকুল ইসলাম। কিন্তু, বাস্তবে কার্ল লুইসের দেশে এসে বিমল হয়ে গেলেন ফেরারী।

১৯৯৬ সালে আটলান্টা অলিম্পিক গেমসে খেলতে এসে মূল কন্টিনজেন্টের সঙ্গে আর দেশে ফিরে যাননি বিমল। থেকে গেছেন এখানে। সম্মানের জীবন ছেড়ে বেছে নিলেন অজ্ঞাতবাস। ওই ঘটনার ২১ বছর পরে কোন খেদ নেই বিমলের। বলেন, ‘দ্রুততম মানব হিসেবে আমার রেকর্ড এখনও ভাঙ্গতে পারেনি কেউ। ১৯৯৩ সালে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুততম মানব হয়েছি। কিন্তু তাতে কি হয়েছে? কোন আর্থিক প্রাপ্তি মেলেনি। পরিবারের কাছে হাত পেতে চলতে হয়েছে। কোন আর্থিক নিশ্চয়তা ছিল না। কিসের টানে তবে পড়ে থাকবো দেশে? যে কারনে মনে হয় না আটলান্টা অলিম্পিক গেমস থেকে এখানে থেকে গিয়ে কোন ভুল করেছি!’


এলএবাংলাটাইমস/সি/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা সামগ্রিকভাবে পূরণ হয় নি

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৪-২২ ০১:৩৭:১২

আকরামুল হাসান মিন্টু
মুক্তিযুদ্ধ মুক্তির নিমিত্তে যুদ্ধ। এই মুক্তি যে কারোরই অধিকার বা তার সত্তার মুক্তি। কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধ বলতে বোঝায় পশ্চিম পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের শোষণের হাত থেকে মুক্তি লাভ। মূলত এটা ছিল আমাদের ভৌগোলিক স্বাধীনতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাধ্যমে আমরা পাকিস্তানীদের বৈষম্যের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ এখনো অব্যাহত আছে। এই প্রত্যয় আমাদের পাথেয়।
মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা মূলত তিনটি- সাম্য,মানবিক মর্যাদা, আর্থনীতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার। যা আমরা পাকিস্তানী শাসকদের কাছ থেকে পাই নি। যা আমরা উপনিবেশিক শাসনকালে বঞ্চিত হয়েছি। এখানে সাম্য বলতে সামাজিক চুক্তি- রাষ্ট্র বনাম জনগণের মধ্যে চুক্তি। রাষ্ট্র জনগণের অধিকার প্রদানে এবং জনগণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে বাঁধিত হবে। এই ভিত্তিতে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে যে বৈষম্য তা দূরীভূত করা। মানবিক মর্যাদা- মানুষ হিসেবে মানুষের মূল্যায়ন অর্থে বিবেচনা। সামাজিক ন্যায়বিচার হল- সমাজে বিদ্যমান সকল বৈষম্যের উর্ধে উঠে সত্যের ভিত্তিতে বিচার করা বোঝায়। এককথায়- সাম্য,মানবিকতা এবং ন্যায়বিচার ইত্যাদি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম চাওয়া-পাওয়া।
সত্যি কথা বলতে গেলে মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা সামগ্রিকভাবে পূরণ হয় নি। সকল ক্ষেত্রে আংশিক সফলতা অর্জন করতে পেরেছে। মূলত আমরা প্রথম হোঁচট খেয়েছি স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম চার বছর। আমার দৃষ্টিতে এই চার বছর ছিল হাহাকারের সময়। যা রফিক আজাদ তার কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন-  ভাত দে হারামজাদা নইলে,মানচিত্র চিবিয়ে খাব। কবি ’৭৪ এর মন্বন্তরের কথা বলেছেন। আসলে, সময়টা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ যা, জাতি রাষ্ট্র গঠনের জন্য যথেষ্ট ছিল বলে আমি মনে করি। আমরা এখানে হোঁচট খেয়েছি। জাতি রাষ্ট্র গঠনে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। পারিবারিক শাসনের উর্ধে উঠতে পারি নি। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যক্তিকরণ করা হল। চলল একনায়কতন্ত্র।
পরবর্তী ১৯৭৬-৮১ ছিল বাংলাদেশের স্বর্ণযুগ। বাংলাদেশের ইতিহাস রচনার সূত্রপাত এই সময়েই। আবির্ভূত হল জাতীয়তাবাদের দামাল স্লোগান নিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জিয়াউর রহমান। আর এই জাতীয়বাদই হয় বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের মুখ্য প্রতীক। আমরা বাঙ্গালি থেকে বাংলাদেশী হলাম। বাংলাদেশের নিজস্ব সত্তার জন্ম হল। তাজউদ্দীন (সমাজতন্ত্রী), মোশতাক(পুঁজিবাদী),ভাসানী(পিকিংবাদী) ইত্যাদি আদর্শের মৃত্যু হল। বাংলাদেশী জাতীয়বাদের আদর্শিক নেতা হলেন জিয়া। সামাজিক,সামরিক ও অর্থনৈতিক শিল্পের উন্নয়ন হল। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বিরাজ করল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। এই ছিল স্বাধীনতার পর আমাদের প্রাপ্তি।
মুক্তিযুদ্ধ এক শ্রেণীর নিকট পৈতৃক সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। তারা মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যা আদৌ কামনা ছিল না। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে এটা কখনো কামনা করি নাই। মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করে এক শ্রেণীর শাসক মহল ব্যক্তি স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে। ফলে, আমাদের নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধকে হেঁয়ালি মনে করে এবং মুক্তিযোদ্ধাকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। আমাদেরকে এই প্রবণতা থেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত আদর্শকে উদ্ধার করতে হবে।
স্বাধীনতার এই দীর্ঘদিন পর- আমার প্রত্যাশা হল মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত আদর্শকে বর্তমান প্রজন্মের নিকট উপস্থাপন করা। আর তা করার জন্য জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। এই সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য আবার আমাদের জাতীয় স্বার্থে জাতীয়তাবাদকে সামনে রেখে সম্মুখ দিকে এগিয়ে যেতে হবে।


লেখক,আকরামুল হাসান মিন্টু,সেক্রেটারি,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।  

বিস্তারিত খবর

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা গড়ার

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৪-২০ ০৯:০৩:০২

 দারুস সালাম শাকিল

১৭৫৭ সালে যখন পলাশীর আম্রকাননে আমাদের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত যায়। সেই স্বাধীনতার পর থেকে আমরা পরাধীন। তারপরে তিতুমীর, হাজী শরিয়তুল্লা, সূর্যসেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বিভিন্ন সময়ে আমাদের দেশের স্বাধীনতাকামীরা আমাদের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে। কিন্তু তাদের এই আন্দোলনগুলো অনেকটা সফলতার মুখ দেখে নি।ফলে, তাদের চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও আমরা স্বাধীনতা পাই নি। পরবর্তীতে হোসেন শহীদ সরোয়ারদী ও আরও কিছু লোকজনের সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অবিভক্ত বাংলা দাবি করে।
পাকিস্তান আলাদা হবে, ভারত আলাদা ও দুই বাংলা একসাথে থাকবে।  সেই আন্দোলন ভেস্তে যাওয়ার পরে। সেই আন্দোলন ফলপ্রসূ হচ্ছিল না। তারপরে আবার পাকিস্তান রাষ্ট্রের পক্ষে আন্দোলন শুরু করে। তখন বঙ্গবন্ধু কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে পড়াশোনা করে। ১৯৩৯ সালে জিন্নার দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত পাকিস্তান বিভক্ত হলে বঙ্গবন্ধু দেখলেন যেই লাউ, সেই কদু। ১৯৪৮ বঙ্গবন্ধুকে ইসলামিয়া কলেজের হোস্টেলে তার ভগ্নিপতি দেখতে যাওয়ার সময় তিনি বলেন। যেই আশা করে আমরা পাকিস্তান করলাম, দেশকে স্বাধীন করলাম। সেই আশা মিথ্যা। আমরা শিয়ালের কাছ থেকে নেকড়ের কাছে এসে পরলাম। পাকিস্তান দিয়ে আমাদের দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব না। ইংরেজদের আমলে আমাদের উপর যেই দুঃশাসন ছিল, পাকিস্তানী আমলে তা কোনভাবেই কমে নি।
১৯৪৮ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় এসে উর্দুকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করার ঘোষণা দেন। তারা আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির উপরও আঘাত করে। অথচ, দুই পাকিস্তান মিলিয়ে ৬০ শতাংশ মানুষ তখন বাংলা ভাষায় কথা বলত। সত্যিকারে পাকিস্তান জন্মের মাধ্যমে দেশ ভাগ হয়েছিল। কিন্তু আমাদের মুক্তি আসে নি। তাই আমার কাছে স্বাধীনতার অর্থ হলো আমরা শোষণ ও বঞ্ছনা থেকে মুক্তি পেয়েছি। আমরা একটি সার্বভৌম দেশ পেয়েছি।
কেননা পাকিস্তানী আমলে অর্থনৈতিক শোষণ তো ছিলই সেই সাথে সরকারি চাকরিতেও বাঙালিদের নিয়োগের হার ছিল যৎসামান্য। তখনকার বাংলাদেশে ধনী বা কোটিপতি বাঙ্গালির সংখ্যা ছিল না বললেই চলে। যেই কয়েকজন ছিল তারাও বলতে গেলে ছিল পাকিস্তানের দালাল। এমনকি তখনকার পাকিস্তান ক্রিকেট টিমেও বাঙালিদের রাখা হত না। যা ও দুই একজনকে রাখা হত তাদের খেলায় সুযোগ দেওয়া হত না। তাছাড়া, বাঙালি কোন সামরিক কর্মকর্তাকে মেজরের উপর পদোন্নতি দেওয়া হত না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে আমাদের স্বাধীনতা আসে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা গড়ার। বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে বাংলাদেশকে দাড় করাবার। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু সত্যি করে বলতে গেলে দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৬ বছর পরও আমাদের স্বাধীনতা প্রত্যাশা পূরণ হয় নি। এর কারণও আছে কিছু। 
১৯৪৭-১৯৭১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৪ বছরের বেশিরভাগ সময় জুড়েই পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সামরিক বাহিনীর প্রভাব ছিল। যার ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পরও থেকে গিয়েছিল ১৯৯০ সাল পর্যন্ত। ১৯৭৫ সালের পর থেকে বলতে গেলে জিয়াউর রহমান ও এরশাদ ই সামরিক শাসক হিসেবে সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতা দখল করে রাখে। এরপরের কয়েকটি বছর বাংলাদেশকে কাটাতে হল বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন শিরোপা নিয়ে।
তাই বলা যায় এক ধরণের ডিক্টেটরশিপ, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে আমাদের স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন বা প্রত্যাশা পূরণ হয় নি। তবে ১৯৭১-৭৫ সাল পর্যন্ত মাত্র চার বছরে বাংলাদেশে অনেক কিছু পেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে। বৈদেশিক সম্পর্কের উন্নয়ন, ওআইসি ও ইউএনও’র সদস্য পদ লাভ করা থেকে শুরু করে দ্রুততম সময়ে সংবিধান প্রণয়ন। এমনকি গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় একটি সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে নির্বাচনও দিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর ৪ বছরের শাসনামল ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার সোনালি অর্জন।
আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি আজ যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন। তাহলে বাংলাদেশের সমসাময়িক সময়ে স্বাধীনতা লাভ করা দেশগুলোর চেয়ে ভাল থাকত বাংলাদেশের অবস্থান। বঙ্গবন্ধুই জাগিয়ে তুলেছিলেন শিশু বাংলাদেশকে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের পর অনেকটা সময় কেটে যায় জিয়াউর রহমান ও এরশাদ সামরিক শাসনের মাধ্যমে। আবার ১৯৯১ থেকে শুরু হয় খালেদা জিয়ার লুটতরাজের রাজনীতি। সত্যিকার অর্থে তাদের কেওই বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ধারণ করতে পারে নি। তাই, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রত্যাশা সেইভাবে পূরণ হয় নি।
কিন্তু আশার কথা হল সাম্প্রতিক সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ স্বাধীনতার প্রত্যাশা পূরণে সমর্থ হচ্ছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো বাংলাদেশের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে স্থান দিয়েছে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায়। দেশে এখন মেগা প্রকল্পগুলোর যাত্রা শুরু হয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলের কাজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে দেশ ও বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। বাংলাদেশের ঝুলিতে যুক্ত হচ্ছে আন্তর্জাতিক পুরস্কার। সারা বিশ্বের দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের দিকে। ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলাধুলায়ও বাংলাদেশের অবস্থান এখন অন্য উচ্চতায়।
বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সবাই যে স্বাধীনতার পক্ষে ছিল বা আছে ব্যাপারটা কিন্তু এই রকম না। আগে ইংরেজ, বর্গী, পাকিস্তানী ইত্যাদি ছিল। এখন কিন্তু সেটা না। তবুও এখনো অনেকে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করুক তা চায় না। এখনো পাকিস্তানী দালাল দোসররা বাংলাদেশের অগ্রগতিকে দমিয়ে রাখতে চায়, এবং তারা এ জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নতিকে ব্যাহত করতে জ্বালাও পোড়াও, হরতাল দিয়ে এখনো একটা শক্তি কাজ করে যাচ্ছে।বর্তমান সরকারের অগ্রগতি যদি অব্যাহত থাকে তবে অচিরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রত্যাশা পূর্ণ হবে। তাই স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর আমার প্রত্যাশা হল সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। যেই বাংলাদেশ নিয়ে আমরা বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব। 
       
লেখকঃ সাংগঠনিক সম্পাদক,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।   

বিস্তারিত খবর

রুয়েটের দুই মেধাবী বন্ধু প্রাণীজগতকে ক্যামেরায় বন্দির অদ্ভুত কাণ্ডকীর্তির রহস্য

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৩-২৮ ১৬:১৭:০২

বৈচিত্র্যময় জগতে ভালোবাসার রুপরেখা, আকর্ষণীয় বস্তু বা বিষয় নিয়ে যুগে যুগে মানব জাতি কতোই না আগ্রহ, উৎসাহ, উদ্দীপনা দেখিয়ে আসছে। কারো কারো অদ্ভুত ধরণের মোহ বা ভালোবাসার জাগ্রত হয়, তা অবশ্যই সচরাচর সবার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠেনা। ভালোবাসার গভীরতা কারো প্রতি কারো অনেক অংশে বেশিই ধরা দেয়। এই ভালোবাসার গভীরতা ঈশ্বরের অবদান বললে ভুল হবেনা বৈকি। প্রাণীজগতের বৈচিত্র্যের স্বরূপ তুলে ধরার প্রতি এমন ভালোবাসা কারো কারো একেবারে নেই বললেই চলে। কিন্তু এমনও কিছু মানুষ আছে দিবানিশিদির প্রতিটি ক্ষণে পশু-পাখির পেছনে সময় কাটান, পশুপাখি তাদের মন ছুঁয়ে সদাসর্বদা ছুটে নিয়ে বেড়ায় মনুষ্য জগতের আড়ালে কিছু অপ্রয়োজনীয় স্হানে। সেসব স্হানে উন্নত প্রযুক্তির ক্যামেরা দিয়ে পশু পাখির জীবনকে নান্দনিক রূপে তুলে ধরেন। বলা যায় তারা পশু পাখি প্রেমী সমাজে দৃষ্টান্ত মূলক আদর্শ মানুষ।

হঠাৎ করেই নজরুল ইসলাম তোফার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় রাজশাহী শহরের পাশ ঘেঁষে পদ্মা নদীর মাঝ বরাবর ঠান্ডা, শীতল অল্প স্বল্প পানির নিকট শুকনো বালুচরে। অবাক করার মতোই দু'বন্ধু গভীর পানিতে নেমে ক্যামেরার লেন্স রাইফেলের মতো তাক করে মৃদু পায়ে উড়ন্ত পাখিকে টার্গেট করে। কখন পাখি মাছ ধরে বালিচরে পানি সংলগ্ন কুল ঘেঁষে দু'দন্ড অবস্থান করবে। আবার এদেশের যুদ্ধ সৈনিকে মতো হামাগুড়ি দিয়ে অসম্ভব ঠান্ডা বালুচরে ঘন্টা পর ঘন্টা শুয়ে থেকে পাখিকে ক্যামেরা বন্দি করে সৌখিন মনের মানুষের মনোরঞ্জনের জন্য, অবশ্যই তারা সমাজে ও দেশের কাছে উপহার স্বরূপ হয়ে রবে। এমন কাজে কৃতিত্বপূর্ণ দু'বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের এক মুহূর্তে জানা গেলো তাদের কর্ম ও পরিবারের আদ্যোপান্ত।

একজনের নাম মোঃ রিফাত ইকবাল অপর জনের নাম শ্রী দিপু দত্ত। তারা রুয়েট ফাইনাল ইয়ারের মেধাবী ছাত্র। রাজশাহীর তালাইমারীতে দু'বন্ধু একই সঙ্গে থাকে। চমৎকার মাথায় ক্যাপ পরিহিত রিফাত ইকবালের জন্ম ঢাকায় অপর বন্ধুর খোঁচা খোঁচা সুন্দর দাড়ি দিপু দত্তের জন্ম খুলনা। তারা উন্নত প্রযুক্তির নিজস্ব ক্যামেরায় সাড়ে চার বছর ধরে ফ্রেমে বন্দী করে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখির জীবন যাত্রার নান্দনিক ছবি। প্রাণীজগতের বিচিত্র রূপ, পরিচয় নাম সংগ্রহের নেশা ছড়িয়ে দিতে চান শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সের সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে। সবাই পছন্দ করে বলেই দিনে দিনে এমন নেশা  আরো গভীরে প্রবেশ করে। পশু-পাখি ছবি তোলা এমন কৌশলী আচরণ না দেখলে সত্যিই বিশ্বাস হবে না বৈকি। তারা লেখাপড়ার পাশা পাশি পশু-পাখির অদ্ভুত কাণ্ডকীর্তি নিয়ে ছবি তোলে ব্যস্ত সময় পার করে। জানা গেল তাদের নাকি এমন আগ্রহের কারণ এক ধরনের মানসিক তৃপ্তি এবং চরম বিনোদন।

পশু-পাখির প্রতি ভালোবাসার এমন ধরন জাগ্রত হয় তাদের এক বড় ভাই মোঃ কুদরাতী খুদার নিকট থেকে। তারা বলেন, পশু-পাখির প্রতি মমত্ব বোধ থাকাটা খুবই জরুরী। যারা ফুল-পাখি পশুর প্রতি ভালোবাসার নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করে তাদের মানসিক বিকাশ সুন্দর হয়। আচরণে অনাবশ্যক রূঢ়তা প্রকাশ পায় না। কিন্তু নাগরিক জীবনে প্রাকৃতিক পরিবেশ, একটু সবুজের ছোঁয়া ক্রমশ দুর্লভ হয়ে উঠছে। কাক ছাড়া অন্য কোন পাখি চোখে পড়ার মতো খোঁজে পাওয়া দুর্লভ। আসলে তারা দেশ, মাটি, মানুষ ও প্রকৃতিকে ভালোবাসে। আর প্রকৃতির মাঝে উঠাবসা করতে গিয়ে পাখির প্রতি ভালোবাসা নিবিড় ভাবে জাগ্রত হয়।

দিপু দত্ত বলেন, বাংলাদেশের অপরূপ প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার পশু-পাখি। এ দেশের মানুষ পশু-পাখির ডাকে ঘুমিয়ে পড়ে আবার পশু-পাখির কলকাকলিতে জাগে। পশু-পাখি সংরক্ষণে গনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে, পশু-পাখি নিয়ে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা তৈরি করতে এবং বাংলাদেশের পশু-পাখি সম্পর্কে জানতে ও জানাতে আমি সহ আমার বন্ধু রিফাত ইকবাল কাজ করে যাচ্ছি।

জানা গেল, ছোট বেলা থেকেই তারা পশু-পাখি প্রেমী মেধাবী ছাত্র। এ দেশের সবুজ বৃক্ষের মাঝে হাজারো পশু-পাখির প্রতি তাদের আলাদা ভালোলাগা অজান্তেই জন্ম নেয়। তবে বর্তমানে গাছপালার সংখ্যা অনেকটা কমে এসেছে। সেহেতু সঙ্গে সঙ্গে কমে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের পাখি। শহুরে জীবনে তো এগুলোর দেখা পাওয়া যায় না। এমন কথা জানান দিলেন মোঃ রিফাত ইকবাল। তিনি আরও জানান,  একটি ভাল ছবির পেছনে থাকে অনেক অনেক হতাশা, অপেক্ষা, ভাগ্য, চেষ্টা আর সফলতা। অধিকাংশ  মানুষ  শুধু ছবিটাই দেখে Behind the scene ভাবার চেষ্টা  করে না।

অনেকেই তাকে জিজ্ঞেশ করে কোন লেন্সে, কোন ক্যামেরায় উঠানো হয়েছে ছবি,  কিন্তু খুব কম মানুষই জানার চেষ্টা করে ছবিটা কিভাবে তোলা হয়েছে। আসলে সবাই ভাল ছবি তুলতে চায় কিন্তু সময় দিতে চায় না এবং সঠিক স্থান নির্ধারণ করতে চায় না। ক্যামেরার গিয়ার এর বাইরেও যে কিছু থাকে অধিকাংশই তা আয়ত্ত করতে চায় না।

পশু-পাখি নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ এবং নান্দনিকতার বিভিন্ন সাইটের দায়িত্ববোধ নিয়ে এ দেশের মন্ত্রিসভায় একটি যুগোপযোগী আইনের খসড়া অনুমোদন হয়েছে। নীতিগতভাবে এই আইনটি ‘প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৬’। আসলে বলতে গেলে,  বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক আগেই এই আইন হয়েছে, এ দেশে অনেক দেরিতে হলেও বাস্তবায়িত হবে কতটুকু তা ভাববার বিষয়। যেহেতু আইনটি করেছে সরকার, সেহেতু  আমাদের দায়িত্ববোধ থেকে হলেও পশু-পাখির অনুমোদিত আইন যথাযথ ভাবে মেনে চলা উচিত।

বিস্তারিত খবর

ছাত্রের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় প্রথম বর্ষটি

 প্রকাশিত: ২০১৭-০২-০৪ ০৯:৪১:০৮

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্তিম সময়ে এসে আমার অভিজ্ঞতা আমাকে বলছে যে একজন ছাত্রের জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো প্রথম বর্ষটি। গ্রাম-গ্রামান্তর থেকে একটি ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে তার মেধার সাক্ষর রেখে। 

বিশেষ কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে ক্লাসের সেরা মেধাবীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় আবাস গড়ার সুযোগ পায়। আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাদের অধিকাংশই আসে মধ্যবিত্ত কিংবা নিন্মমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আসার প্রথম দিনটি থেকে প্রত্যেকটি ছেলের নতুন আশা আর বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয় এক নতুন পথ চলার। 

প্রথম বর্ষের প্রতিটি ছাত্র কাঁদা মাটির মতো নরম। এদের যেভাবে গড়া হবে এরা ঠিক সেভাবেই গড়ে উঠবে। কিছুদিন আগে ডাসের সামনে কয়েকজন প্রথম বর্ষের জুনিয়রদের কফি খেতে দেখলাম। কফি খাওয়ার পরে টাকা না দিয়েই চলে যাচ্ছিল দেখে ডাক দিয়ে পরিচয় জিজ্ঞেস করলাম। ওরা পরিচয় দিল। বললাম টাকা না দিয়ে কেন যাচ্ছো। উত্তরে বললো ওদের নাকি কে বলেছে যে ডাসে ফ্রী কফি খেলে সমস্যা নেই। আমি ওদের বুঝিয়ে বলে ভুলটা ভাঙিয়ে দিলাম। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ছেলেটে এসেছে তার নিজস্ব বিচার বিবেচনা নিশ্চয়ই রয়েছে। ওদেরকে বুঝিয়ে বললে ওরা অবশ্যই বুঝবে। সিনিয়র হিসেবে দায়িত্বটা আমাদেরই বেশি। ওদের বোঝানো উচিৎ যে ক্যাম্পাসে কি কিরা উচিৎ আর কি করা উচিৎ নয়। 

আমরা ওদের যা শিখাবো ওদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ভিত্তি কিন্তু ঠিক সে ভাবেই গড়ে উঠবে। পারিবারিক বদ্ধ পরিবেশ থেকে মুক্ত পরিবেশে এসে প্রথম বর্ষের অনেক ছেলে নিজেদের ধরে রাখতে পারে না। সাময়িক উত্তেজনায় অনেক সময় বিচার বিবেচনা ওদের লোপ পায়। বিপত্তিটা ঠিক তখনই ঘটে। 

ওদের খামখেয়ালী এবং উদাসীন চলাফেরা যদি সিনিয়র হিসেবে আপনি আমি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি তাহলে একদিন এই খামখেয়ালী কাজ গুলোই নিজের অজান্তেই প্রত্যহ অপরাধে পরিণত হবে। তখন এই দায় কে নিবে ???? প্রথম বর্ষের ছেলেটি যা শিখে দ্বিতীয় বর্ষে উঠবে তখন তার প্রথম বর্ষের ছোট ভাইটি সে যা শিখেছে তাই ই শিখবে। 

এরপর দেখবেন আস্তে আস্তে প্রথম বর্ষ থেকে শেষ বর্ষ পর্যন্ত সবাই ই নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করবে। অন্যায় এবং অপরাধ যদি নিয়ন্ত্রণ করতে হয় তাহলে তার মূলে হাত না দিয়ে যতোই উপরে ঠিক করার চেষ্টা করুন না কেন আপনার চেষ্টা ফলপ্রসূ হবে না। 

আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুম থেকে ব্যক্তিগত রূম, হলের ক্যান্টিন থেকে ক্যাম্পাস ক্যান্টিন প্রত্যেকটি যায়গা থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যেটি প্রয়োজন তা হলো আমরা যারা সিনিয়র তাদের আন্তরিকতা এবং যারা জুনিয়র তাদের আগ্রহ।
আসিফ তালুকদারসাধারণ সম্পাদক, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 

বিস্তারিত খবর

মুক্তিবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধার ফারাক

 প্রকাশিত: ২০১৭-০১-২২ ১০:৪০:২৩

আজ বিজয়ের এই ক্ষনে আপনি কি আপনার মুক্তিযোদ্ধা বাবা , মা , ভাই বা বোনটিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ? বা কৃতজ্ঞতা ? শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কি আপনার পাড়ার সেই রিক্সা চালক বা আপনার গ্রামের সেই খ্যাতমার্কা কৃষকটিকে অথবা গায়ে মাছের আঁশটে গন্ধযুক্ত জেলেকে,বা আপনাদের স্টেশনের লাল জামা পড়া সেই কুলিকে অথবা আপনার গ্রামের সেই মালুপল্লীর কামারকে যারা নিজের জীবন উৎসর্গ করতেই যুদ্ধে গিয়েছিলো যার বিনিময় আজ আপনি স্বাধীন দেশের নাগরিক । তারা যদি শহীদ হয়ে যেতেন তবে আপনারা  সেই শহীদ কে সামনে রেখে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে কিছুটা হলেও কিছু সুযোগ সুবিধা পেতেন যা আজ তারা জীবিত ফিরে আসার জন্য হয়তো পাচ্ছেন না । আসোলেই  যারা ফিরে এসেছিলেন তারা সত্যিই দুর্ভাগ্যবান , কারণ তাদের কথা কয়জনই বা ভাবে ? তারা বেঁচে থেকে যে অবহেলা পেয়েছেন  মরে গেলে  অন্ততপক্ষে “শহীদ ” নামক খেতাবটি তো  পেতেন ।

যে পেশীশক্তি দিয়ে,ধমনীর টগবগে রক্তের ধারায় বলীয়ান হয়ে ,বঙ্গবন্ধুর ডাকে,জয় বাংলা স্লোগানের হুঙ্কারে যারা  আমাদেরকে পাকিস্তানী বর্বর সেনা বাহিনী ও তাদের দোসর কিছু  নির্লজ্জ বাঙালী রাজাকার,আলবদর ,শান্তি বাহিনী, মুসলিম লীগ ,জামাতে ইসলাম ,নামক কিছু হিংস্র পশুদের হাত থেকে  রক্ষা করে ছিলেন,যারা উপহার দিয়েছেন আমাদের একটা নিদৃষ্ট  মানচিত্র ,লাল সবুজের পতাকা, আজ তাদের পেশী শক্তি কমে বার্ধ্যকে এসে দাঁড়িয়েছে ।যারা  জীবন সময়ের  প্রায় শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছেন,আর কয়েকটা বছরের মধ্যেই এক এক করে যারা এই মাটি থেকে ঝরে পড়বেন,যাদের পেশিশক্তি ও রক্তের ধারার উপর দাঁড়িয়ে আপনারা  যারা লাল সবুজের দেশে উন্নয়নের জোয়ার আনবার কাজে আজ নিবেদিত প্রাণ  তারা এই মানুষগুলোকে কি নামে ডাকবেন ? জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ?নাকি শুধুই মুক্তিযোদ্ধা । তাদের প্রতি আমাদের  কি কোনো  কৃতজ্ঞতা বা দায়িত্ববোধ নেই ?
সুইডেনের স্টোকহোল্মে একবার ওয়াটার ফেষ্টিভেল দেখতে গিয়েছি, হঠাৎ খেয়াল করলাম এক জায়গায় একদল যন্ত্রী তাদের অর্কেস্ট্রা প্লে করছেন, সেখানে অনেক বৃদ্ধমানুষ এক নিদৃষ্ট ধরণের স্যুট ও মাথায় হ্যাট পরে খুবই গর্বের সাথে বসে রয়েছেন ,তাদের সারা শরীর আর হ্যাট জুড়েই রয়েছে বিভিন্ন রকম ব্যাজ যা প্রায় তাদের স্যুট আর হ্যাটের রঙকেই ঢেকে ফেলেছে,সেই সময়ের ছবিটা আমার মাথায় গেথে গেলো, শুধুই বিস্ময় নিয়ে দেখলাম কিন্তু তখন সুইডেনে একদম নতুন যাওয়াতে আর ভাষার উপর কোনো রকমই কব্জা না থাকাতে  এবং বাঙালী স্বভাবসুলভ অযথা লজ্জাবোধ থাকার কারণে কাউকেই কিছু জিজ্ঞেস করা হলোনা । কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেই বৃদ্ধদেৱ একজনকে আবিষ্কার করলাম এক লাইব্রেরিতে তখন আমি কিছুটা সুইডিশ ভাষা রপ্ত করেছি । আমি আজ তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “সেদিন তোমরা ওখানে কি করছিলে?” তিনি উত্তর দিলেন, তারা সবাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের যোদ্ধা বা ভলান্টিয়ার ছিলেন তাই তাদের কে সেদিন অর্কেস্ট্রা বাজিয়ে সম্মানিত করা হচ্ছিলো শুধু তাই নয় তাদেরকে দেশের যেকোনো উৎসবের সময়ই বিভিন্নভাবে সম্মানিত করা হয় যে কারণে বিভিন্ন ব্যাজে তাদের স্যুট ও হ্যাট ঢেকে গিয়েছে ।কিন্তু এবার আরো অবাক হলাম যখন শুনলাম তার বয়স ৭২এবং তিনি ওই লাব্রেরিতে কাজ করেন । আমি বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন করলাম ,”সুইডেনের নিয়ম অনুযায়ী একজন মানুষ তো খুব বেশিও যদি হয় তবে তাকে ৬৫ বছরেই অবসরে যেতে হয় তবে তুমি কি করে কাজ করছো ? ” তিনি জানালেন একজন মুক্তিযোদ্ধা সরকারের সব ধরণের সুযোগ সুবিধা পাবার পরও তিনি যতদিন চাইবেন ততদিন কাজ করতে পারবেন ,এটাও তাদের জন্য দেশের দেয়া সন্মান ।”

দুঃখে কষ্টে বুকের মধ্যে মোচোড়  দিয়ে উঠলো ,হায়রে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্য  সম্মানটুকু দূরেই থাকে, যে সব মুক্তিযোদ্ধারা চাকুরীজীবি ছিলেন তাদের সাথেও হয়েছে প্রহসন ,তাদের চাকরির বয়স ৬০ থেকে ২ বছর বাড়িয়ে ৬২ করা হলো তার কিছুদিন পরই সরকারের অনেক আমলা আর কর্মজীবীদের চাকরির বয়স ও ৬২ করে দেয়া হলো । এই কি জাতির  শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পুরস্কার ? জামাত ঘারানার  আমলার দুৰ্ব্যেবহার সহ্য করতে না পেরে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান চিঠি লিখে আত্মহত্যা করলেন, তার কি কোনো বিচার হোলো ? জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানকে পাড়ার মাস্তানরা পিটিয়ে মেরে ফেললো , তার কি কোনো বিচার হলো ? ঘরের মধ্যে ঢুকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানকে কুপিয়ে মেরে ফেলা হলো ,তার কি কোনো বিচার হলো ? জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা পথে ঘটে বেওয়ারিশ লাশ হয়ে যাচ্ছে , না খেয়ে না চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে  আমরা কি তার খবর রাখি ? অথচ ১৬ই ডিসেম্বরে আমরা আনন্দ উৎসব করি ,  ২৬শে মার্চ আমরা  সংসদ ভবনের সামনে বিশাল আয়জনে বিশাল অংকের অর্থের বাজেটে আলোকসজ্জা করি, বিভিন্ন শোভা সেমিনারে  শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নামে বক্তৃতার তুবড়ী ছুটাই । কেন এই অসংগতি ? আজ স্বাধীনতার পক্ষের সরকার থাকার পরও কেন এই অসঙ্গতি দূর হচ্ছেনা ? এর কারণ কি ? যেখানে আমাদের বঙ্গবন্ধুর কন্যা তাদের ব্যাপারে খুবই সংবেদনশীল ।

চলুন অসংগতি গুলো খুঁজি ! ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পক্ষের প্রত্যেকটি বাঙ্গালীরই মুক্তিযুদ্ধে প্রতক্ষ বা পরোক্ষভাবে অবদান রয়েছে !একজন দরিদ্র বৃদ্ধাও তার ক্ষেতের শেষ মুলো আর বেগুন তুলে এনে মুক্তিযোদ্ধাদের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন । একজন ভিক্ষুক তার ভিক্ষা করা থলের ভিতর থেকে শেষ মুঠো চালটুকুও  মুক্তিদের খাবারের জন্য বের করে দিতে দ্বিধা করেননি ।এক গৃহস্থ স্বপরিবারে হত্যা হয়েছে শুধু মাত্র কজন  মুক্তি বাহিনীকে এক রাত আশ্রয় দেবার কারণে । এ ধরণের ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে ।কারণ তখন কিছু কুলাঙ্গার যুদ্ধপরাধী ছাড়া গোটা জাতিই ছিল এক মরণপণ যুদ্ধের মধ্যে । তাই এরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা । তাহলে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা কারা ?

বঙ্গবন্ধুর  ৭ই মার্চের ভাষণে একটা অঘোষিত  গেরিলা যুদ্ধের স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল । তিনি বলেছিলেন , “আমরা ওদের ভাতে মারবো , পানিতে মারবো ” এটি ছিল শত্রুপক্ষের খাদ্য পানি বা রসদ সরবরাহ বন্ধের একটা গেরিলা যুদ্ধের কৌশল । তিনি বলেছিলেন , তোমাদের যার যাকিছু আছে তাই দিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে ,প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো ” এটা শত্রুপক্ষের উপর চারিদিক থেকে হিট এন্ড রান নামক গেরিলা যুদ্ধের কৌশল অর্থাৎ শত্রুকে চারিদিক থেকে গোপন আক্রমণের মাধ্যমে দিকবিদিকজ্ঞানশূন্য করে ফেলা বা শত্রুর মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা । অতঃপর তিনি এই যুদ্ধকে একটা জনযুদ্ধে পরিণত করতে সক্ষম হলেন যখন তিনি বললেন ,”রক্ত যখন দিতে শিখেছি তখন রক্ত আরো দেবো তবুও এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ !” এখানে ইনশাল্লাহ শব্দের ব্যবহারের মাদ্ধমে বঙ্গবন্ধু ধর্মপ্রাণ মানুষদের বোঝাতে সক্ষম হলেন যে তিনি এই যুদ্ধে সৃষ্টিকর্তার কাছেও সাহায্য চেয়েছেন অর্থাৎ তিনি ধর্মনিরপেক্ষ বটে তবে নাস্তিক নন যা ওই সময়ে পাকিস্তান শক্তি প্রচার করছিলেন বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে ।পরিশেষে তিনি বললেন “আওয়ামীলীগের প্রত্যেকটা কমিটির মাধ্যমে যুদ্ধের ট্রেনিং শুরু করতে অর্থাৎ যুদ্ধ অবশ্যভাম্বি তার জন্য উপযুক্ত দক্ষতা অর্জন করা । এই উপযুক্ত দক্ষতা অর্জনে  সেদিন যারা  ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তারাই ছিল মুক্তিবাহিনী ।

পাঠক, আমি বোধহয় এখানে মুক্তিবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধার মাঝের পার্থক্যটি একটু পরিষ্কার করতে পেরেছি । সেদিন এই মুক্তিবাহিনীতে যুক্ত হয়েছিল; ছাত্র ,শিক্ষক ,চাষী ,জেলে কামার ,কুমার ,রিক্সাওয়ালা, কুলি মজুর তথা বাংলার সর্বশ্রেণীর জনগণ যারা সরাসরি রণাঙ্গণে যুদ্ধ করেছেন স্বল্পমাত্রার ট্রেনিং নিয়েই তারা মরণপণ করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন । এদের মধ্যে যারা রণাঙ্গণে মারা গেছেন তারাই আমাদের শহীদ আর যারা ফিরে এসেছিলেন তারা গাজী যাদেরকে আমি “বিজয়ী বীর ” বলে আখ্যায়িত করতে চাই । স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বা দেশের ভিতর বিভিন্নভাবে যে সব কণ্ঠশিল্পী তাদের সংগীত দিয়ে যুদ্ধ করেছেন তারাও মুক্তিযোদ্ধা বা কণ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা , যে সব বুদ্ধিজীবীরা দেশের ভিতর থেকে কলমের বা বুদ্ধির যুদ্ধ করেছেন তারাও অবশই মুক্তিযোদ্ধা ,বুদ্ধিজীবী মুক্তিযোদ্ধা , দেশে ও প্রবাসে যে যেখানে তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন তারা সবাই তার নিজ নিজ ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা । যদিও মুক্তির গান এর কণ্ঠ শিল্পীদের আমি একটু বেশি সম্মানের চোখেই দেখি কারণ তারা শুধু কলকাতার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রেই নিজেদের  সীমাবদ্ধ না  রেখে সরাসরি  রণাঙ্গণে তাদের গানের দল নিয়ে ছুটে  বেরিয়েছিলেন,  সেটাই তাদের স্বকীয়তা ।

মোটকথা সেদিন যারা বেঙ্গল রেজিমেন্ট ,ই পি আর ,পুলিশ ,আনসার বাহিনী ছিলেন যারা পাকিস্তান বাহিনী থেকে বের হয়ে এসে দেশের জনতার এক কাতারে দাঁড়ালেন এবং বঙ্গবন্ধুর আহব্বান যারা যুদ্ধের জন্য ট্রেনিং নিয়ে রণাঙ্গণে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন তারাই মুক্তি বাহিনী তারাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান । অথচ আমরা বা নতুন প্রজন্ম তাদের কয়জনকে চেনে ? যখনি মুক্তিযুদ্ধের কথা আসে আমরা বিভিন্ন মিডিয়াতে ঘুরে ফিরে অল্পকিছু চেনামুখ ই দেখতে পাই । তবে বাকি শ্রেষ্ঠ সন্তানরা কোথায় গেলো ? যুদ্ধক্ষেত্রে জাতির হিরোদের নাম যখন আসে তখন আমরা মাত্র ৭ জনের ছবি দেখতে পাই যারা সবাই ছিলেন রেগুলার আর্মির সদস্য । অথচ সরকারি হিসাবে ১লক্ষ্য ৭৫ হাজার (এফ এফ ) মুক্তিবাহিনীর মধ্যে ৭৫ হাজার ছিলেন রেগুলার আর্মি যারা জনতার কাতারে এসে দাঁড়ান এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন  বাংলাদেশ সরকারের অনুগত সেনা বাহিনী হিসাবে প্রকাশ পায় যার সর্বাধিনায়ক ছিলেন জেনারেল ওসমানী যারা  বিভিন্ন  সেক্টরে বিভক্ত হয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করেন কিন্তু এর বাইরে ১ লক্ষ্য ছিলেন মুক্তিফৌজ যারা বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার আর্মির হাতে স্বল্পকালীন ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধের রণাঙ্গণে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বা ট্রেনিং নিচ্ছিলেন , মোটকথা এরা সবাই বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়েই রণাঙ্গণে মৃত্যুর জন্যই তৈরী হচ্ছিলেন । এরাই মুক্তিবাহিনি , এরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, এরাই বিজয়ী বীর অর্থাৎ ১৯৭১ এ রণাঙ্গণের ১ লক্ষ্য ৭৫ হাজার জন মুক্তিবাহিনীই আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান । এর বাইরে যারা তারা মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু মুক্তিবাহিনী নয় ।

তাই আমাদের উচিত সেই মুক্তিবাহিনীকে তাদের সঠিক মূল্যায়ন করে তাদের ঋণ শোধ করা । দেশের ওই ১ লক্ষ্য ৭৫ হাজার জন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রত্যেকের নাম একটা নামফলক থাকা উচিত যা শতবছর পর প্রজন্ম তাদের পূর্বপুরুষদের বীরগাথা জেনে এ দেশকে ভালোবাসতে উদ্বুদ্ধ হবে,নিজেদের আত্মসম্মান বাড়াবে যা তাদের পৃথিবীর বুকে সম্মানিত জাতি হিসাবে মাথা উঁচু করে চলতে শিখাবে । আজ দুঃখের সাথেই বলছি প্রায় ১২ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ১ লক্ষ্য ৭৫ হাজার জনকে সঠিক মূল্যায়ন করা কি যায়না ?  তাদের মধ্যে আজ কজনই বা বেঁচে রয়েছেন ? আর যারা বেঁচে আছেন তারাই বা আর কটা বছর বেঁচে থাকবেন ?যারা আপনাকে দেশ দিলো,জাতির পরিচয়ের স্থায়ীত্ব দিলো,বর্বর পাকিস্তানী মৌলবাদী বাহিনী ও তাদের এদেশের কুলাঙ্গার দোসরদের  হাত থেকে মুক্ত করলো তাদের দায়িত্ব নিতে কি এই জাতি অক্ষম ? কেন মুক্তিবাহিনীর যোদ্ধারা ,জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা তাদের নিশ্চিত নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারবেন না তাদেরই অর্জন করা এই দেশে ? কেন মুক্তিবাহিনীকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে তাদের উপযুক্ত সন্মান নিয়ে প্রহসন চলবে ? উত্তর গুলো আপনারাই খুজুন । আমি শুধুই স্পষ্ট করেই বলতে চাই ১৯৭১ এর বঙ্গবন্ধুর ডাকে ঝাঁপিয়ে পরা ওই ১লক্ষ্য ৭৫ হাজার জন মুক্তিবাহিনীই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান তার বাইরে কেউ নয়।
জয় বাংলা , জয় বঙ্গবন্ধু , জয় শেখ হাসিনা ,জয় হোক আমাদের সব বিজয়ী বীরদের !


এলএবাংলাটাইমস/সি/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ঢাকা থেকে প্রকাশিত হলো ‘শঙ্খচিল’ এর শহীদ কাদরী সংখ্যা

 প্রকাশিত: ২০১৭-০১-২০ ০১:১৭:৩২

ঢাকা থেকে প্রকাশিত হলো শিল্প সাহিত্যের পত্রিকা ‘শঙ্খচিল’ -এর শহীদ কাদরী সংখ্যা। প্রায় শতাধিক কবি, লেখক ও শিল্পীর লেখায় সমৃদ্ধ সংখ্যাটি পাওয়া যাবে আসছে একুশে বইমেলার লিটলম্যাগ চত্বরে।

মাহফুজ পাঠক ও ইকবাল মাহফুজ সম্পাদকদ্বয় জানিয়েছেনÑ ‘আমরা শহীদ কাদরীর উপরে সংখ্যা প্রকাশের কাজ শুরু করি তাঁর মৃত্যুর প্রায় তিন মাস পূর্বে। সংখ্যা প্রকাশের মতামত জানিয়ে তাঁকে চিঠি লিখি। কবিপতœী নীরা কাদরী সেই চিঠি কবিকে পড়ে শুনিয়েছিলেন। সংখ্যাটিতে দেশ ও বিদেশ থেকে যারা বিভিন্ন তথ্য, ছবি ও বই সরবরাহ করে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা।’

সংখ্যাটিকে একটি বৈচিত্রপূর্ণ সংখ্যা করার লক্ষেÑ স্মৃতিমেঘ, জলছায়া, আড্ডা, নিবেদিত কবিতা, দীর্ঘ কবিতা, সনেট, অনুগল্প এমন কিছু বিষয়ে কাদরীর কবি জীবনকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিকৃতি বিভাগে রয়েছে কাইয়ুম চৌধুরী ও মুর্তজা বশীরসহ আরো ৬ শিল্পীর আঁকা শহীদ কাদরীর প্রতিকৃতি। রয়েছে ৬টি কবিতার অনুবাদ। সংগীত বিভাগে কবীর সুমন, মুয়ীয মাহফুজ ও তাজুল ইমামের লেখাগুলো সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে।
সাক্ষাৎকার বিভাগে রয়েছে আদনান সৈয়দের নেয়া শহীদ কাদরীকে নিয়ে মাহমুদুল হকের স্মৃতিচারণ। এছাড়া তমিজ উদ্দীন লোদী, শামস আল মমীন ও শিখা আহমেদের নেয়া শহীদ কাদরীর দীর্ঘ সাক্ষাৎকার।

চিত্রকথা বিভাগে নাসির আলী মামুনের লেখায় উঠে এসেছে আটলান্টিকের পাড়ে সমুদ্রের বিশালতা আর কাদরীর স্বেচ্ছানির্বাসনের ক্ষুদ্রতা। আল মাহমুদ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছেনÑ ‘শহীদ কাদরী সাহেব সুখী হতে চেয়েছিলেন।’ জার্মানি থেকে শঙ্খচিলের জন্য হাতে লিখে অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন শহীদ কাদরীর সাথে তাঁর প্রথম ও শেষ দেখার স্মৃতিকথা।

এছাড়া কবির ৮টি কবিতা নিয়ে এঁকেছেন ৮ জন শিল্পী। কবিকে চিঠি লিখেছেনÑ হাফিজুর রহমান, আজাদ আলাউদ্দীন ও তরুণ কবি শ্বেতা শতাব্দী এষ। সংখ্যাটি গবেষণার ক্ষেত্রে সহযোগী হতে পারে। ৩৫২ পৃষ্ঠার (পেপারব্যাক) সংখ্যাটির মূল্য রাখা হয়েছে ১৫০ টাকা। বিপ্লব সরকারের আঁকা তরুণ শহীদ কাদরীর প্রতিকৃতি অবলম্বনে প্রচ্ছদ করেছেন সব্যসাচী হাজরা। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।   


এলএবাংলাটাইমস/এল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ভাল থাকুক আমেরিকান প্রবাসী বাংলাদেশীরা

 প্রকাশিত: ২০১৬-১২-১১ ০৮:২০:১০


মানব সভ্যতার ইতিহাসে অভিবাসন নতুন কিছু নয়। নিরাপদ আশ্রয়, জীবিকা ইত্যাদি নানা কারণে মানুষ দেশান্তরী হয় এবং হচ্ছে। আবার অনেকেই প্রবাসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে যাকে বলা হয় ডায়াস্পোরা। ডায়াস্পোরার দিক থেকে বাংলাদেশ নবীন। কিন্তু আকার ও জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশী ডায়াস্পোরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

নিউইয়র্কের জ্যাকসনহাইটস, ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলেস কিংবা লন্ডনের ব্রিকলেনের দিকে তাকালেই বাংলাদেশী ডায়াস্পোরার গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। তাছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে লন্ডনে কয়েকজন বাঙালির এমপি নির্বাচিত হওয়া তো উল্লেখ করার মত। প্রবাসে বাংলাদেশীদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ায় আশা করা যায় বাংলাদেশী ডায়াস্পোরা এগিয়ে যাবে আরও বহুদূর। 
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সদ্য সমাপ্ত মার্কিন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উৎকণ্ঠা দেখা দেয় আমেরিকান অভিবাসী ও মুসলিমদের মধ্যে। বাংলাদেশী অভিবাসীরাও এই উৎকণ্ঠার বাইরে নয় তা অনুমান করা যায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের মাধ্যমে। আমেরিকায় কমিউনিটি সাংবাদিকতা খুব শক্তিশালী হওয়ার কারণে বিভিন্ন স্টেটে অভিবাসীদের ছোট ছোট প্রতিবাদ র‍্যালিও ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে কমিউনিটি পত্রিকাগুলোতে। যা দেখে নির্বাচনী প্রচারণার সময় নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনালড ট্রাম্পের অভিবাসন নিয়ে করা বেফাঁস মন্তব্যের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সহজেই উপলব্ধি করা যায়।       এ সকল প্রতিবাদে সাড়া দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস এঞ্জেলেস শিক্ষা বোর্ড থেকে শুরু করে মেয়র ও পুলিশ প্রধানকেও দেখা যায় অভিবাসীদের পক্ষে অবস্থান নিতে। অবৈধ অভিবাসীদের দুশ্চিন্তার কথা ভেবে তারা প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগতভাবে অভিবাসীদের নিরাপত্তার জন্য বিবৃতি দিচ্ছে। কিছু দিন আগে লস এঞ্জেলেস বাংলাটাইমসের(LABaglatimes) প্রকাশিত এক খবরের শিরোনাম ছিল   “অভিবাসীদের তাড়াতে সাহায্য করবে না পুলিশঃ বললেন পুলিশ প্রধান চার্লি বেক”। 
তাছাড়া, লস এঞ্জেলেস মেয়রও লস এঞ্জেলেসের সাউথল্যান্ডকে অভিবাসীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ঘোষণা করলেন। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা বোর্ডও ঘোষণা করল আদালতের অনুমতি ছাড়া তারা কোন শিক্ষার্থী বা স্টাফদের তথ্য দিবে না যুক্তরাষ্ট্রীয় অভিবাসন বিভাগকে। ফলে ট্রাম্পও অনেকটা নড়েচড়ে বসেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় অবৈধ অভিবাসী তাড়াতে প্রতিজ্ঞা করলেও, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর এই বিষয়ে আর কোন মন্তব্য করে নি। ট্রাম্পের এখনকার মৌনতা দেখে মনে হচ্ছে উনি রক্ষণশীলদের বা কট্টরপন্থীদের সমর্থন আদায় করার জন্যই অনেকটা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে এমন মন্তব্য করেছিলেন। ভারতের নির্বাচনের সময় যেমনটি করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। 
বাংলাদেশী অভিবাসীদের নিয়ে তেমন কোন গবেষণা হয় নি বললেই চলে। তাই আমেরিকায় কি সংখ্যক বাংলাদেশী বাস করে এর সঠিক সংখ্যা বলা দুরহ। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে ৫,০০,০০০ লক্ষ বাংলাদেশী বসবাস করে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, মিশিগান, টেক্সাস ইত্যাদি বিভিন্ন স্টেটে। আমেরিকার মত দেশে এতো সংখ্যক বাংলাদেশীদের বসবাস সত্যিই গর্ব করার মত। তাই, একটি কথাই বলব সকল দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠা কাটিয়ে আমেরিকার মাটিতে ভাল থাকুক সকল প্রবাসী বাংলাদেশীরা। ভাল থাকুক লস এঞ্জেলেসের “লিটল বাংলাদেশ”।  
লেখক, মোস্তাকিম ভুঁইয়াশিক্ষার্থী,  গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।          

বিস্তারিত খবর

আনুগত্য ও আত্মত্যাগের চূড়ান্ত নজির কুরবানি

 প্রকাশিত: ২০১৬-০৯-০৯ ১৮:২৮:১০

মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিমের (আ.) পবিত্র স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক একটি ঘটনা হচ্ছে বর্তমান মুসলিম সমাজে প্রচলিত কুরবানির পূর্বইতিহাস। মহান আল্লাহর প্রিয় বন্ধু নবী ইবরাহিম (আ.) আল্লাহ প্রদত্ত অনেকগুলো পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন এবং তার ঈমানি বলে প্রতিটি পরীক্ষাতেই তিনি কৃতকার্য হন। যার একটি হচ্ছে কুরবানির ঘটনা।

ঘটনাটি এমন; ইবরাহিম (আ.) দীর্ঘ দিন সন্তানহীন ছিলেন। আল্লাহর কাছে অনেক চাওয়ার পর জীবনের শেষ লগ্নে একটি ছেলে সন্তান লাভ করেন। যার নাম রাখেন ইসমাইল। অতি আদরের পুত্র ইসমাঈল শৈশব পেরোনোর আগেই একদিন স্বপ্নে ইবরাহিমকে (আ.) প্রিয় বস্তু কোরবানি করার নির্দেশ এলো। অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্বের পর তিনি ১০০ উট কুরবানি করলেন। পরের রাতে একই স্বপ্ন দেখলেন, তিনি বুঝতে পারলেন এ স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে দেখানো হচ্ছে। আবার ১০০ উট কোরবানি করলেন। আবারো স্বপ্ন দেখলেন সবচেয়ে প্রিয় জিনিসের কোরবানি করো। এবার তিনি স্পষ্ট হলেন ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করার নির্দেশ পেয়েছেন। সেদিনই তিনি পুত্রের কাছে স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করলেন। যেমন পিতা তেমন পুত্র, সাথে সাথে ইসমাইলও (আ.) রাজি হয়ে গেলেন। তাঁকে কুরবানি করতে নিয়ে গেলে আল্লাহ বেহেশত থেকে পশু পাঠিয়ে ইসমঈলের বদলা কুরবানি করালেন। কঠিন এই ঈমানি পরীক্ষায় খলিলুল্লাহ ইবরাহিম (আ.) সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হলেন।

এরই ধাবরাহিকতায় আজকের কুরবানি ওয়াজিব হয় মুসলানদের উপর। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কাছ থেকে কিছু ঈমানি পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। ইবরাহিমের (আ.) এই কুরবানি থেকে আমাদের জন্য শিক্ষা হলো, প্রভূর সন্তুষ্টির জন্য আমরা যেকোনো সময় যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে বাধ্য, তা যত কঠিই হোক না কেন। এটাই ঈমানের দাবি। কারণ আল্লাহর আনুগত্য আমাদের উপর ফরয। কুরবানিতে আমরা যদিও বাহ্যিকভাবে শুধু একটি পশু জবাই করি। কিন্তু বাস্তবে এর মাধ্যমে মনে ইবরাহিমের সেই চেতনা জাগ্রত হতে হবে। মহান আল্লাহ এটাই শুধু চান স্বীয় বান্দার কাছে। মহাগ্রন্থ আল-কুরাআনে তিনি বলেন, “আল্লাহ তোমাদের কুরবানির পশুর রক্ত বা মাংস কিছুই দেখেন না। তিনি শুধু তোমাদের অন্তরের তাকওয়াটাই (আল্লাহর ভয়) দেখে থাকেন।” [সুরা হজ : ৩৬]

আমাদের জীবনের সবকিছুই যে শুধু আল্লাহর জন্য হতে হবে। তাঁর প্রদত্ত বিধান মতে, একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টি লাভের জন্য জীবনের সব কাজ পরিচালিত হবেÑ এরও একটি নজির এই কুরবানি। যেমন আল্লাহ বলেন, “বলো! নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মৃত্যু সব কিছু একমাত্র আল্লাহর জন্য।” [সুরা আনআম : ১৬২]

এজন্যে মহান এই সত্তার আনুগত্য ও তাঁর জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগই শাশ্বত এই কুরবানির বিধান। তাই এই পশু কুরবানির সাথে নিজের পাশবিক সত্ত্বাকেও কুরবানি করে আল্লাহর একজন অনুগত বান্দা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সমস্ত অপকর্ম থেকে মহান মুবিবের দরবারে ক্ষমা চেয়ে নিজেকে একজন খাঁটি মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।  


এলএবাংলাটাইমস/সি/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত