যুক্তরাষ্ট্রে আজ রবিবার, ২০ জানুয়ারী, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 10:09pm

|   লন্ডন - 04:09pm

|   নিউইয়র্ক - 11:09am

  সর্বশেষ :

  হাসপাতাল থেকে ‘বিতাড়িত’, গাছ তলায় সন্তান প্রসব   একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট সুনামগঞ্জের নিলাদ্রী লেক   যুক্তরাজ্যে ধর্ষণের দায়ে বাংলাদেশির ১০ বছরের জেল   ইসরাইলি বিমান হামলা ব্যর্থ করল সিরিয়া   সিলেটের রেল উন্নয়নে ডিও লেটার দিলেন মোমেন   আলিয়ার ‘কলঙ্ক’ ফাঁস   সিডনিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে 'গানে গানে জোছনা'   ইতালিতে রহস্যজনক ভাবে এক বাংলাদেশীর মৃত্যু   ধনী মানুষ বৃদ্ধির হারে বিশ্বে তৃতীয় বাংলাদেশ   খাশোগি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা   প্যারিসে জড়ো হচ্ছে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনকারীরা   নির্বাচনের কলঙ্ক ঢাকতে বিজয় সমাবেশ করছে আ.লীগ : ফখরুল   ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্র সচিব, যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক অঞ্চলে সুবিধার প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ   এরশাদ গুরুতর অসুস্থ, রোববার সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন   জীবন দিয়ে হলেও জনগণের ভোটের মর্যাদা রক্ষা করব : প্রধানমন্ত্রী

>>  কলাম এর সকল সংবাদ

জ্ঞান অন্বেষণে বই বিতরণ উৎসবের কোনো বিকল্প নেই

বই হলো জ্ঞান অর্জন ১ম মাধ্যম। বই উৎসবটিই হচ্ছে 'আলোর উৎসব'। নতুন বছরের শুরুতে বাংলাদেশের মানুষ বিজয়ের নতুন সূর্য দেখেছে। কোমলমতী শিশু, কিশোররা অন্তহীন আনন্দের মধ্য দিয়ে জ্ঞান অর্জনের এমন এ উৎসব আগামী দিনের স্বপ্ন দেখতে প্রস্তুত হচ্ছে। সুনগারিক গড়ে তুলতে শিশু কিশোরসহ এই দেশের জনগণের হাতে বই তুলে দেওয়া প্রয়োজন। আসলেই বইয়ের মাধ্যমে নানা ভাবনার সংমিশ্রনে ব্যক্তিগত ধারনা ও বিশ্বাস দৃঢ় হয়। যে সকল নাগরিক নিজস্ব সু-চিন্তিত মতবাদের ওপর আস্থাবান তারাই গণতন্ত্রের সম্পদ। আর এমন রকম নাগরিক পেতে হলেই দেশের শিশু থেকে শুরু করে সকল শ্রেণী, পেশার মানুষের হাতে বই তুলে

বিস্তারিত খবর

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

 প্রকাশিত: ২০১৯-০১-১১ ০৬:২৭:০৩

৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশের মাটিতে পা রাখেন দুই দিন পরে ১০ জানুয়ারী। উপস্থিত জনতার ঢলে ভেসে যাচ্ছিল বিমানবন্দর। বিশাল জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বঙ্গবন্ধু, নাতিদীর্ঘ ভাষনে জাতিকে দেন দিক নির্দেশনা। নিচে পুরো ভাষণটি তুলে ধরা হলো-

আমি প্রথমে স্মরণ করি আমার বাংলাদেশের ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, বুদ্ধিজীবি জনগণকে, হিন্দু মুসলমানকে যাদের হত্যা করা হয়েছে আমি তাদের আত্মার মঙ্গল কামনা করি।

আমি আপনাদের কাছে দু-এক কথা বলতে চাই। আমার বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে, আমার জীবনের সাধ আজ পূর্ণ হয়েছে, আমার বাংলার মানুষ আজ মুক্ত হয়েছে। আমি আজ বক্তৃতা করতে পারবো না। বাংলার ছেলেরা, বাংলার মায়েরা, বাংলার কৃষক, বাংলার শ্রমিক, বাংলার বুদ্ধিজীবি যে ভাবে সংগ্রাম করেছে আমি কারাগারে বন্দী ছিলাম, ফাঁসি কাষ্ঠে যাবার জন্য প্রস্তুত ছিলাম কিন্তু আমি জানতাম আমার বাঙালি কে দাবায় রাখতে পারবে না। আমি আমার সেই যেই ভাইয়েরা জীবন দিয়েছে তাদের আমি শ্রদ্ধা নিবেদন করি তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

আজ প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ কে মেরে ফেলা হয়ে হয়েছে ২য় বিশ্ব যুদ্ধে ১ম বিশ্ব যুদ্ধেও এত মানুষ এত সাধারন জনগণকে মৃত্যু বরণ করে নাই শহীদ হয় নাই যা আমার ৭ কোটির বাংলায় করা হয়েছে। আমি জানতাম না আমি আপনাদের কাছে ফিরে আসবো আমি খালি একটা কথা বলেছিলাম, তোমরা যদি আমাকে মেরে ফেলে দাও কোন আপত্তি নাই মৃত্যুর পরে তোমরা আমার লাশটা আমার বাঙ্গালির কাছে দিয়ে দিও এই একটা অনুরোধ তোমাদের কাছে।

আমি মোবারকবাদ জানাই ভারত বর্ষের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী কে,আমি মোবারকবাদ জানাই ভারতবর্ষের জনগণকে আমি মোবারকবাদ জানাই ভারতবর্ষের সামরিক বাহিনীকে,আমি মোবারকবাদ জানাই রাশিয়াকে জনগণকে,আমি মোবারকবাদ জানাই জার্মানি, ব্রিটিশ, ফ্রান্স সব জায়গার জনগণকে তাদের আমি মোবারকবাদ জানাই যারা আমাকে সমর্থন করেছে।

আমি মোবারকবাদ জানাই আমেরিকার জনসাধারণ কে, মোবারকবাদ জানাই সারা বিশ্বের মজলুম জনগণকে যারা আমার এই মুক্ত সংগ্রাম কে সাহায্য করেছে। আমার বলতে হয় ১ কোটি লোক এই বাংলাদেশ থেকে ঘর বাড়ি ছেড়ে ভারতবর্ষে আশ্রয় নিয়েছিলো ভারতের জনসাধারণ মিসেস ইন্দিরা গান্ধী তাদের আশ্রয় দিয়েছেন তাদের আমি মোবারকবাদ না দিয়ে পারি না। যারা অন্যরা সাহায্য করেছেন তাদেরামার মোবারকবাদ দিতে হয়।

তবে মনে রাখা উচিত বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র।বাংলাদেশ স্বাধীন থাকবে বাংলাদেশকে কেউ দমাতে পারবে না। বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে লাভ নাই। আমি যাবার আগে বলেছিলাম ও বাঙালি এবার তোমাদের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম আমি বলেছিলাম ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল তোমরা ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলে সংগ্রাম করছো আমি আমার সহকর্মীদের মোবারক বাদ জানাই। আমার বহু ভাই বহু কর্মী আমার বহু মা-বোন আজ দুনিয়ায় নাই তাদের আমি দেখবো না।

আমি আজ বাংলার মানুষ কে দেখলাম, বাংলার মাটি কে দেখলাম, বাংলার আকাশ কে দেখলাম বাংলার আবহাওয়া কে অনুভব করলাম। বাংলাকে আমি সালাম জানাই আমার সোনার বাংলা তোমায় আমি বড় ভালোবাসি বোধহয় তার জন্যই আমায় ডেকে নিয়ে এসেছে।

আমি আশা করি দুনিয়ার সব রাষ্ট্রের কাছে আমার আবেদন আমার রাস্তা নাই আমার ঘাট নাই আমার খাবার নাই আমার জনগণ গৃহহারা সর্বহারা,আমার মানুষ পথের ভিখারী। তোমরা আমার মানুষ কে সাহায্য করো মানবতার খাতিরে তোমাদের কাছে আমি সাহায্য চাই। দুনিয়ার সকল রাষ্ট্র এর কাছে আমি সাহায্য চাই। তোমরা আমার বাংলাদেশকে তোমরা রিকোগনাইজ করো। জাতিসংঘের ত্রাণ দাও দিতে হবে, উপায় নাই দিতে হবে। আমি আমরা হার মানবো না আমরা হার মানতে জানি না। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন-

"সাত কোটি বাঙ্গালির হে মুগ্ধ জননী রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করো নাই"

কবিগুরু আজ মিথ্যা কথা প্রমান হয়ে গিয়েছে। আমার বাঙালি আজ মানুষ।আমার বাঙালি আজ দেখিয়ে দিয়েছে দুনিয়ার ইতিহাসে এত লোক আত্মাহুতি, এত লোক জান দেয় নাই। তাই আমি বলি আমায় দাবায় রাখতে পারবা না।

আজ থেকে আমার অনুরোধ আজ থেকে আমার আদেশ আজ থেকে আমার হুকুম ভাই হিসেবে, নেতা হিসেবে নয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে নয়। আমি তোমাদের ভাই তোমরা আমার ভাই। এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না পায়, এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়, এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি এদেশের যুবক যারা আছে তারা চাকরি না পায়। মুক্তিবাহিনী, ছাত্র সমাজ তোমাদের মোবারকবাদ জানাই তোমরা গেরিলা হয়েছো তোমরা রক্ত দিয়েছো, রক্ত বৃথা যাবে না, রক্ত বৃথা যায় নাই।

একটা কথা একটা কথা আজ থেকে বাংলায় যেন আর চুরি ডাকাতি না হয়। বাংলায় যেন আর লুটতরাজ না হয়। বাংলায় যারা অন্য লোক আছে অন্য দেশের লোক, পশ্চিম পাকিস্তানের লোক বাংলায় কথা বলে না তাদের বলছি তোমরা বাঙালি হয়ে যাও। আর আমি আমার ভাইদের বলছি তাদের উপর হাত তুলো না আমরা মানুষ ,মানুষ ভালোবাসি।

তবে যারা দালালি করছে যারা আমার লোকদের ঘরে ঢুকে হত্যা করছে তাদের বিচার হবে এবং শাস্তি হবে। তাদের বাংলার স্বাধীন সরকারের হাতে ছেড়ে দেন, একজনকেও ক্ষমা করা হবে না। তবে আমি চাই স্বাধীন দেশে স্বাধীন আদালতে বিচার হয়ে এদের শাস্তি হবে। আমি দেখিয়ে দিতে চাই দুনিয়ার কাছে শান্তিপূর্ণ বাঙালি রক্ত দিতে জানে শান্তিপূর্ণ বাঙালি শান্তি বজায় রাখতেও জানে।

আমায় আপনারা পেয়েছেন আমি আসছি। জানতাম না আমার ফাসির হুকুম হয়ে গেছে আমার সেলের পাশে আমার জন্য কবর খোড়া হয়েছিলো। আমি প্রস্তুত হয়েছিলাম, বলেছিলাম আমি বাঙালি আমি মানুষ, আমি মুসলমান একবার মরে ২ বার মরে না। আমি বলেছিলাম আমার মৃত্যু আসে যদি আমি হাসতে হাসতে যাবো আমার বাঙালি জাত কে অপমান করে যাবো না তোমাদের কাছে ক্ষমা চাইবো না।

এবং যাবার সময় বলে যাবো জয় বাংলা, স্বাধীন বাংলা, বাঙ্গালি আমার জাতি, বাংলা আমার ভাষা, বাংলার মাটি আমার স্থান।

ভাইয়েরা আমার যথেষ্ট কাজ পরে রয়েছে আমার সকল জনগণকে দরকার যেখানে রাস্তা ভেঙে গিয়েছে নিজেরা রাস্তা করতে শুরু করে দাও। আমি চাই জমিতে যাও ধান বুনো, কর্মচারীদের বলি একজন ও ঘুষ খাবেন না। মনে রাখবেন তখন সুযোগ ছিলো না,আমি অপরাধ ক্ষমা করবো না।

ভাইয়েরা আমার যাওয়ার সময় আমাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তাজউদ্দীন, নজরুলেরা আমাকে ছেড়ে যায়,আমি বলেছিলাম ৭ কোটি বাঙালির সাথে মরতে আমার ডেকো না।আমি আশীর্বাদ করছি ওরা কাঁদছিল আমি বলি তোরা চলে যা আমার আস্তা রইলো আমি এই বাড়িতে মরতে চাই।এটাই হবে বাংলায় জায়গা এখানেই আমি মরতে চাই ওদের কাছে মাথানত করে আমি পারবো না।

ডাঃ কামাল কে নিয়ে ৩ মাস জেরা করছে আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দাও কয়েকজন বাঙালি আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়েছে তাদের আমরা জানি চিনি এবং তাদের বিচার ও হবে। আপনারা বুঝতে পারেন-

"নম নম নম সুন্দরী মম জননী জন্মভুমি গঙ্গার তীর সিন্ধ সুমীর জীবনও জুড়ালে তুমি"

আজ আমি যখন এখানে নামছি আমি আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারি নাই। যে মাটিকে আমি এত ভালোবাসি, যে মানুষ কে আমি এত ভালোবাসি, যে জাত কে আমি এত ভালোবাসি, আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি যেতে পারবো কিনা। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি বাংলার ভাইয়েদের কাছে, মায়েদের কাছে, বোনদের কাছে। বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।

পশ্চিম পাকিস্তানের ভাইদের বলি তোমরা সুখে থাকো। তোমার সামরিক বাহিনীর লোকেরা যা করেছে আমার মা বোনদের রেপ করেছে, আমার ৩০ লক্ষ লোককে মেরে ফেলে দিয়েছে, যাও সুখে থাকো। তোমাদের সাথে আর না শেষ হয়ে গেছে তোমরা স্বাধীন থাকো, আমিও স্বাধীন থাকি।

তোমাদের সাথে স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে বন্ধু হতে পারে তাছাড়া বন্ধু হতে পারেনা। তবে যারা অন্যায় ভাবে অন্যায় করেছে তাদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা করা হবে। আপনাদের কাছে আমি ক্ষমা চাই আমি আরেকদিন বক্তৃতা করবো একটু সুস্থ হয়ে লই। আপনারা চেয়ে দেখেন আমি সেই মুজিবর রহমান আর নাই। আমার বাংলার দিকে চেয়ে দেখেন সমান হয়ে গেছে জায়গা, গ্রাম এর পর গ্রাম পুড়ে গেছে এমন কোন পরিবার নাই যার মধ্যে আমার লোককে হত্যা করা হয় নাই।

কতবড় কাপুরুষ যে নিরপরাধ লোক কে এভাবে হত্যা করে এভাবে সামরিক বাহিনীর লোকেরা, আর তারা বলে কি আমরা পাকিস্তানের মুসলমান সামরিক বাহিনী ঘৃণা করা উচিত জানানো উচিত দুনিয়ার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার পরে বাংলাদেশই ২য় মুসলিম দেশ,ভারত ৩য়, পাকিস্তান ৪র্থ।


আমরা মুসলমান, মুসলমান মা বোনদের রেপ করে। আমার রাষ্ট্রে হবে সমাজতন্ত্র ব্যবস্থা। এই বাংলাদেশে হবে গণতন্ত্র এই বাংলাদেশে হবে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। যারা জানতে চান আমি বলে দিবার চাই আসার সময় দিল্লিতে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর সাথে কথা হয়েছে আমি আপনাদের বলতে পারি তাকে জানি আমি তাকে আমি শ্রদ্ধা করি সে পন্ডিত নেহেরুর কন্যা সে মতিলাল নেহেরুর ছেলের মেয়ে। তারা রাজনীতি করেছে ত্যাগ করেছে তারা আজকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছে যেদিন আমি বলবো সেদিন ভারতের সৈন্য বাংলার মাটি ছেড়ে চলে যাবে এবং তিনি আস্তে আস্তে কিছু সরিয়ে নিচ্ছেন।

যে সাহায্য তিনি করেছেন আমি আমার ৭ কোটি বাঙালির পক্ষ থেকে তাকে, তার সরকার কে ভারতের জনগণকে শ্রদ্ধা অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে মোবারকবাদ জানাই।

ব্যক্তিগতভাবে এমন কোন রাষ্ট্র প্রধান নাই যার কাছে তিনি আপিল করেন নাই শেখ মুজিব কে ছেড়ে দিতে। তিনি নিজে ব্যক্তিগত ভাবে দুনিয়ার সকল রাষ্ট্রে কাছে বলেছেন তোমরা ইয়াইয়া খান কে বল শেখ মুজিব কে ছেড়ে দিতে একটা রাজনৈতিক সমাধান করতে। ১কোটি লোক নিজের মাতৃভূমি ছেড়ে অন্য দেশে চলে গেছে? এমন অনেক দেশ আছে যেখানে লোক সংখ্যা ১০ লাখ, ১৫ লাখ, ২০ লাখ, ৩০ লাখ, ৪০ লাখ, ৫০ লাখ। শতকরা ৬০ ভাগ দেশে লোকসংখ্যা ১ কোটির কম আর আমার বাংলা থেকে ১ কোটি লোক মাতৃভূমির মায়া ত্যাগ করে ভারতে স্থান নিয়েছিলো কত অসুস্থ হয়ে মারা গেছে, কত না খেয়ে কষ্ট পেয়েছে, কত ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে এই পাষাণদের দল।

ক্ষমা করো আমার ভাইয়েরা ক্ষমা করো আজ আমার কারো বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা নাই একটা মানুষকে তোমরা কিছু বলো না অন্যায় যে করেছে তাকে সাজা দিবো আইন নিজের হাতে তুলে নিও না। মুক্তিবাহিনীর ছেলেরা তোমরা আমার সালাম গ্রহন করো, ছাত্রসমাজ তোমরা আমার সালাম গ্রহন করো, শ্রমিকসমাজ তোমরা আমার সালাম গ্রহন করো, বাংলার হতভাগ্য হিন্দু-মুসলমান আমার সালাম গ্রহন করো।

আর আমার কর্মচারী পুলিশ, ইপিআর যাদের উপর মেশিনগান চালিয়ে দেয়া হয়েছে, যারা মা বোন ত্যাগ করে পালিয়ে গিয়েছে তার স্ত্রীদের ধরে কুর্মিটোলা নিয়ে যাওয়া হয়েছে তোমাদের আমি সালাম জানাই, তোমাদেরকে আমি শ্রদ্ধা জানাই।

নতুন করে গড়ে উঠবে এই বাংলা,বাংলার মানুষ হাসবে বাংলার মানুষ খেলবে বাংলার মানুষ মুক্ত হয়ে বাস করবে বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত খাবে এই আমার সাধনা এই আমার জীবনের কাম্য আমি যেন এই কথা চিন্তা করেই মরতে পারি এই আশীর্বাদ এই দোয়া আপনার আমাকে করবেন। এই কথা বলে আপনাদের কাছে থেকে বিদায় নিবার চাই। আমার সহকর্মী দের আমি ধন্যবাদ জানাই যাদের আমি যে কথা বলে গিয়েছিলাম তারা সকলে একজন একজন করে প্রমাণ করে দিয়ে গেছে মুজিব ভাই বলে গিয়েছে তোমরা সংগ্রাম করো, তোমরা স্বাধীন করো, তোমরা জান দাও বাংলার মানুষ কে মুক্ত করো।

আমার কথা চিন্তা করো না আমি চললাম যদি ফিরে আসি আমি জানি আমি ফিরে আসতে পারবো না আজ আল্লাহ আছে তাইআজ আমি আপনাদের কাছে ফিরে এসেছি। তোমাদের আমি মোবারকবাদ জানাই আমি জানি কি কষ্ট তোমরা করছো। আমি কারাগারে ছিলাম ৯ মাস আমাকে কাগজ দেয়া হয় নাই। এ কথা সত্য আসার সময় ভুট্টো আমায় বললেন শেখ সাব দেখেন ২ অংশের কোন একটা বাঁধন রাখা যায় নাকি আমি বললাম আমি বলতে পারি না আমি বলতে পারবো না আমি কোথায় আছি বলেত পারি না আমি বাংলায় গিয়ে বলবো আজ বলছি ভুট্টো সাহেব সুখে থাকো বাঁধন ছিঁড়ে গেছে আর না। তুমি যদি কোন বিশেষ শক্তির সাথে গোপন করে আমার বাংলার স্বাধীনতা হরণ করতে চাও মনে রেখ দলের নেতৃত্ব দিবে শেখ মুজিবুর রহমান মরে যাব স্বাধীনতা হারাতে দিবো না।

ভাইয়েরা আমার, আমার ৪ লক্ষ বাঙালি আছে পাকিস্তানে আমি অনুরোধ করবো তবে একটা জিনিস আমি বলতে চাই ইন্টারন্যাশনাল ফোরামে জাতিসংঘের মাধ্যমে অথবা ওয়ার্ল্ড জুরির পক্ষ থেকে ১টা ইনকোয়ারি হতে হবে কি পাশবিক অত্যাচার কিভাবে হত্যা করা হয়েছে আমার লোকেদের এ সত্য দুনিয়ার মানুষকে জানতে হবে। আমি দাবী করবো বাংলাদেশ জাতিসংঘ কে বাংলাদেশ কে আসন দাও এবং ইনকোয়ারি করো। ভাইয়েরা আমার যদি কেউ চেষ্টা করেন ভুল করবেন আমি জানি ষড়যন্ত্র শেষ হয় নাই সাবধান বাঙালিরা ষড়যন্ত্র শেষ হয় নাই।

একদিন বলেছিলাম ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলো,একদিন বলেছিলাম যার যা কিছু আছে তা নিয়ে যুদ্ধ করো,বলেছিলাম এ সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম এ জায়গায় ৭ মার্চ। আজ বলছি তোমরা ঠিক থাকো একতাবদ্ধ থাকো,কারো কথা শুনো না।

ইনশাল্লাহ স্বাধীন যখন হয়েছি স্বাধীন থাকবো একজন মানুষ এই বাংলাদেশে বেঁচে থাকতে এই সংগ্রাম চলবে। আজ আমি আর বক্তৃতা করতে পারছি না একটু সুস্থ হলে আবার বক্তৃতা করবো। আপনারা আমাকে মাফ করে দেন আপনারা আমাকে দোয়া করেন আপনারা আমার সাথে সকলে একটা মুনাজাত করেন।

সমস্ত মাঠ জুড়ে মানুষ মুনাজাত করছেন। অসংখ্য সাংবাদিক দেশি বিদেশি সাংবাদিক তাদের ক্যামেরা নিয়ে ব্যস্ত।

বিস্তারিত খবর

মাদকের চেয়ে ধর্ষণ নিকৃষ্ট

 প্রকাশিত: ২০১৯-০১-০৬ ১৩:১৪:৫৯

মাদক কারবার ও ধর্ষণ দুটোই নিকৃষ্ট অপরাধকর্ম। মাদকে ব্যক্তি নিজেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ধর্ষণে শুধু ধর্ষিতা নয়; নারী, সমাজ ও দেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মাদকে কতিপয় রোগের প্রতিষেধক রয়েছে, ধর্ষণে তা নেই। ধর্ষণ শুধুই অপরাধকর্ম। সুতরাং মাদকের চেয়ে ধর্ষণ নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্য।
সম্প্রতি বাংলাদেশে মাদক বিরোধী অভিযানে অসংখ্য নাগরিক ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরাম হত্যাকান্ড ভাইরাল হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলায় কামারখন্দে আসান আলীকে তারাবীহ নামাজ শেষে তুলে নিয়ে ক্রসফায়ার দেয়া হয়েছে। ক্রসফায়ারের ২বছর আগেই সে মাদক কারবারি ছেড়ে দিয়েছিল। এভাবে পূর্বে কখনো মাদক মামলায় সংল্লিষ্ট থাকায়, বহু ব্যক্তি নির্মম ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছে। হত্যাকান্ডের শিকার পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের কষ্ট দেখে পাষন্ড হৃদয়ও বিগলিত হয়। মাদক বিরোধী অভিযানের নামে এ নির্মমতা দেখে জাতি হতবাক।
মাদকের চেয়ে ধর্ষণ নিকৃষ্ট। মাদকে পরিণতি ক্রসফায়ার হলে, ধর্ষণে প্রকাশ্যে ফাঁসি বা আরো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রযোজ্য। ধর্ষণের শাস্তি অবৈধ যৌনকর্ম তথা যেনার চেয়ে গুরুতর। পবিত্র কোরআনে যেনা একটি নিকৃষ্ট কর্ম হিসেবে, এতে কঠিন শাস্তি বর্ণিত হয়েছে। বিবাহিত নারী বা পুরুষ যেনায় লিপ্ত হলে শাস্তি- পাথর মেরে হত্যা করা। অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে একশ চাবুক মারা। ধর্ষণের শাস্তি আরো কড়া। সম্প্রতি নোয়াখালী জেলায় সুবর্ণচরে ধানের শীষে ভোট দেয়ার অভিযোগে দুর্বৃত্তরা ৪সন্তানের এক মাকে ধর্ষণ করেছে। এ জঘন্য কর্মকান্ড বিবেকে নাড়া দিয়েছে। সরকার মাদক বিরোধী অভিযানে নির্বিচার ক্রসফায়ার দিলেও চিহ্নিত ধর্ষকদের এখনো জীবিত রেখেছে এবং অনেককে আটক করেনি। এর চেয়ে লজ্জা ও ব্যর্থতা আর নেই।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নির্বাচন পরবর্তী নির্লজ্জ ধর্ষণের ঘটনাটি দেশ-বিদেশে ভাইরাল হয়েছে। জনগণ ক্রমে প্রতিবাদমূখর হচ্ছে। সরকার ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে, এ প্রতিবাদ আরো তীব্র হবে। কান টানলে মাথা আসার মতো, নির্বাচনও বাতিল হতে পারে। বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। কিছুদিন আগে একজন নারী সাংবাদিককে শুধু মুখে চরিত্রহীন বলাতেই ব্যরিষ্টার মঈনুল মামলা, আটক, আদালতে হেনস্থার শিকার ও চরমভাবে লান্থিত হয়েছেন। (অথচ চরিত্রহীন শব্দটি পুংলিঙ্গবাচক। এটি মাসুদা ভাট্টির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তার ক্ষেত্রে চরিত্রহীনা শব্দ প্রযোজ্য)। এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। ধর্ষণের ঘটনা ভাইরাল হওয়ার পরও সরকার অপরাধীদের শাস্তি না দিয়ে শুধু মুখে বলছে- অপরাধী যেই হোক, ছাড় পাবেনা। জনগণ এ প্রহসন মানেনা। জনগণ ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করে প্রমাণ করবে- মাদকের চেয়ে ধর্ষণ নিকৃষ্ট।

বিস্তারিত খবর

অবিচার ও হাহাকারের গতি প্রকৃতি

 প্রকাশিত: ২০১৯-০১-০৪ ১০:৫২:৫২

মানবতার হাহাকার আজ চারিদিকে। কোথাও যেন কেউ নেই তাদেরকে পক্ষে দাঁড়ানোর। সবখানেই ক্ষমতা এখন দুর্বৃত্তদের হাতে। মানবতার দুশমনদের দখলে যেন চলে গেছে সব। তাদের অবস্থা এখন রমরমা। মানবতা এখন চলে তাদেরই মর্জিতে ও ইচ্ছায়। জগতের সব বিত্ত-বৈভব এখন তাদের হাতে।দেশের আমলা-কামলা, আলেম, বুদ্ধিজীবী- শিক্ষাবিদরাও সবাই যেন তাদের তাবেদার। সব এখন তাদেরই দলে ও দখলে। সবাইযেনএখন ক্ষমতাসীনদুর্বৃত্তদেরদালাল ও লাঠিয়াল। এমনকি কবি-সাহিত্যিকদের মত মুক্ত চিন্তার কাণ্ডারিদেরঅনবদ্য শব্দাবলীও এখননিথর এদের অতি অনাচারের কালচারে।

দুঃসহ এই অবস্থার মাঝে কেউ যদিওবা মুখ খোলেন সাহস করে কিম্বা ভুল করে, পরক্ষণেই তিনি হারিয়ে যান অজানায়। তারা নিজে থেকেই হারিয়ে যান নাকি তাদেরকে হারিয়ে যেতে বাধ্য করা হয় তা পরিষ্কার না হলেও সার্বিক অবস্থার প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় সম্ভাবনাই বেশী বলে ধারণা করা যায়। হঠাৎ মুখ হা করা তেমনি এক কবির উচ্চারণে কিছুটা হলেও উঠে এসেছে আজকের জটিল অবস্থার ভয়াবহ চিত্র। অসহায় সেই কবি অকপটেই বলেছেন ‘দেখেশুনেমনেহয়বিধাতাযেনদুনিয়াটাকেবেঁচেদিয়েছেনশয়তানেরকাছে’।দারুণএকউচ্চারণ, কিন্তু ঐ পর্যন্তই। সেই কবিও এখন নীরব, চলে গেছেন যেন অজ্ঞাতবাসে।

পরিস্থিতির শেষ বুঝাতে এমন বাক্য বিন্যাস অতি যথার্থ। চরম অসহায়ত্বের মুখে বিধাতাকে এভাবে একতরফা দায়ী করাও নতুন কিছু নয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে পরম বিধাতার কোন কাজ এমন সস্তা কেনা-বেচার বিষয় নয় বরং তাঁর সব কাজের পেছনেই রয়েছে সুনির্দিষ্ট কোন না কোন উদ্দেশ্য। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ পাকের অনাদি কালের কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণ ও উদ্দেশ্যও।

উল্লেখ্য যে মহান আল্লাহ পাক শুধু বিশ্বাসীদেরই স্রষ্টা নন, তিনি একই ভাবে চরম নাস্তিকদেরও স্রষ্টা। তিনি বিশ্বাসীদের চাহিদা যেমন ভাবে পূরণ করে থাকেন ঠিক একই ভাবে পূরণ করে থাকেন অবিশ্বাসীদের চাহিদাও। তিনি জানেন মানুষের মনের সুপ্ত আকাঙ্ক্ষাও, সেজন্যেই তিনি সর্বজ্ঞ। তাই অবিশ্বাসীরা কি চায় তা তাঁর মোটেই অজানা নয়। আল্লাহ পাক তার পবিত্র কালামে ওয়াদা করেছেন অবিশ্বাসীদের চাহিদা পূরণ করার। অবিশ্বাসীদের কাজের ফল তিনি তাদের চেষ্টা অনুপাতেই দিয়ে থাকেনকিন্তু শর্ত হচ্ছে পরকালে তাদের প্রাপ্য হবে শূন্য যেহেতু তারা তাতে বিশ্বাসই করে না(সূরা৩:আয়াত১৪৫; ৪২:২০ দ্রষ্টব্য)। তাই আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসহীন ভালো কাজগুলোও বস্তুত:পক্ষে একেবারেই মূল্যহীন।
আল্লাহ পাক ভালো করেই জানেন যে ফেরাউনের করুণ পরিণতি জানা থাকা সত্ত্বেও দুনিয়াতে এমন বহু মানুষ থাকবে যারা মনে প্রাণে চাইবে ফেরাউনের মত রাজত্ব, হতে চাইবে তার চেয়েও বেশী ক্ষমতাবান। দেশে-দেশান্তরের অনেকেই যে যেনতেন উপায়ে সে লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা ও তদবিরে ব্যস্ত থাকেন তা আমরা জানি সবাই। সেই তালিকায় আছে মুসলিম নামধারীরাও। বলাই বাহুল্য যে শুধুমাত্র মুসলিম নামের কারণে কেউ বিশ্বাসী হয় না। বরং অনেক সময় ভয়ংকর অবিশ্বাসীরাও লুকিয়ে থাকে নিরীহ মুসলিম নামের আড়ালে। সে ভাবেই বরং পাপাচার করা যায় নির্বিঘ্নে কারণ তাতে ধরা পড়ার ভয় থাকে কম। কিন্তু তারপরও ধরা তাদের পড়তেই হয়। মাটি ফুঁড়ে চারা গাছ বের হওয়ার মতই তাদের পাপাচারও এক সময় বেরিয়ে পড়ে তাদের কথিত মুসলিম পরিচয়ের খোলস ফুঁড়ে। অতঃপর সেই পাপিষ্ঠকে আল্লাহ পাক উৎখাত করে থাকেন ফেরাউনের মতই সমূলে। ফেরাউন হওয়ার স্বাদ মিটিয়ে দেন চিরতরে ফেরেউনের মতই লোমহর্ষক পতনের মধ্য দিয়ে। সেটাই ঘটেছে সাদ্দাম ও গাদ্দাফির ক্ষেত্রে, সে পথেই চলছে আজকের সিসি ও সালমানেরা। হাসিনার অবস্থাও তাদের চেয়ে ভালো কিছু নয়, তেমনই দেখা যাচ্ছে তার আমলের কথিত বহুবিধ উন্নয়ন প্রকল্পআর তথাকথিত সব ইলেকশানগুলোর মত অতি সাম্প্রতিক ইলেকশানের কারিগরিতে। এহেন শত ভাগ, আশিভাগভোট খেকোদের পথ সাধারণত একমুখীই হয়ে থাকে, ফেরার রাস্তা এরা হারিয়ে ফেলে চিরতরে।
আল্লাহ পাক বস্তুত এভাবেই এদের মনোবাঞ্ছাগুলো পূরণ করে থাকেন যতটুকুতিনিচান,যেমনকরেছিলেন ফেরাউনের ক্ষেত্রে। অতঃপর চোরের দশ দিনের পর আসবে সেই একটি দিন যখন এক লহমায় ক্ষান্ত হবে দলবল সহ সব অনাচারী এবং তাদের সমস্ত অনাচার। এটা মহান আল্লাহ পাকের এমনই এক সর্বময় কর্ম পদ্ধতি যার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকেন পাপিষ্ঠ স্বৈরাচারদের পাপকে(৩৫:৩৯ দ্রষ্টব্য)। তারা পাপ কামায় সম্পদ ও ক্ষমতা থেকে, সেই পাপ বাড়তে থাকে মজলুমের নিত্য আর্তনাদ আর অভিশাপের অব্যাহত ধারা থেকে। অতঃপর সেটাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে আল্লাহ পাক উৎপীড়িতের পাপগুলোকেও চাপিয়ে থাকেন ঐ সব স্বৈর-পাপিষ্ঠদের উপর। সবশেষে তাদের ভালো কাজের সওয়াবগুলোকেও কেড়ে নিয়ে বিলিয়ে দেন তাদের হাতে নির্যাতিতদের মাঝে। এভাবেই সর্বস্বান্ত ও সর্বব্যাপী ধিক্কৃত হয়ে বিদায় নেয় স্বৈরশাসকেরা। সর্বশক্তিমানের এই অনবদ্য মহান বিচার ব্যবস্থাই বস্তুত ইতিহাসের পরম শিক্ষা যা থেকে দুর্ভাগ্যবশত কেউই কখনও শিক্ষা নেয় না। এই শিক্ষার উপসংহারে নির্যাতিত প্রজাদেরকেই সব সময় দেখা যায় টিকে থাকতে আর জমিদারদের রাজকীয়প্রাসাদগুলোকে পড়ে থাকতে দেখা যায়ভূতুড়ে বাড়ি হিসেবে। এমনই দুরবস্থা হয় অত্যাচারিদেরপ্রাসাদগুলোর যে অতি গরীব প্রজারাও থাকতে চায় না সেখানে। সেখানে বাসা বাঁধে সাপ-খোক, পাখী আর পশুদের দল। একালের প্রজাদেরও মুক্তির সেই দিন খুব বেশী দূরে নয়ইনশাআল্লাহ। 

লেখকের বই পেতে: Search ‘Mainul Ahsan’ at ‘amazon.com’

বিস্তারিত খবর

প্রশাসনের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ শীঘ্রই

 প্রকাশিত: ২০১৯-০১-০২ ০৫:৪০:৫৭

এবার গণবিক্ষোভ আওয়ামীলীগের বিরূদ্ধে নয়; নীতিবিবর্জিত ও স্বার্থান্ধ প্রশাসনের বিরূদ্ধে। জনগণ যেকোন সময় প্রশাসনের বিরূদ্ধে গণবিক্ষোভে ফেটে পড়তে পারে। প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ আওয়ামীলীগ সরকারের কাছ থেকে বেপরোয়া সুযোগ-সুবিধা পেয়ে স্বার্থান্ধ ও তাবেদারে পরিণত হয়েছে। তারা ইতিহাসের নিকৃষ্টতম প্রশাসক বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরের স্বার্থান্ধ ও তাবেদারি চরিত্রকেও হার মানিয়েছে। মীরজাফর স্বার্থের মোহে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার স্বাধীনতা ইংরেজদের কাছে বিকিয়েছে। বর্তমান প্রশাসন স্বার্থের বশে একাদশ নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে অন্যায়ভাবে আওয়ামীলীগকে বিজয়ী করেছে। অথচ তাদের স্বার্থ জনগণের করের পয়সা থেকেই আসে। তারা তাদের মেধা, মনন ও নৈতিকতার গৌরবোজ্জ্বল অবস্থান থেকে কলঙ্কের আস্তাকুড়েঁ পতিত হয়েছে। এর মূল নায়ক সাবেক প্রশাসক ও বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। পুলিশ, সেনা, বিজিবি ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাও নিকৃষ্ট ভূমিকা পালন করেছে। নির্বাচনের পূর্বমুহুর্তে বিরোধী নেতাকর্মীদের বেআইনী আটক করে ইতিহাসে কালো অধ্যায় সূচণা করেছে। জনগণ তাদের করের পয়সায় এমন অন্ধ ও তাবেদার প্রশাসন পুষবেনা। দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে তাবেদার প্রশাসনকে সরিয়ে তদস্থলে যোগ্যদের নিযুক্ত করবে।
একাদশ নির্বাচনের পর জনগণ আওয়ামীলীগকে গ্রহণ করেছে ইংরেজ শাসক হিসেবে আর বর্তমান প্রশাসনকে গ্রহণ করেছে বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর হিসেবে। বাংলার জনগণ ইংরেজদের চেয়ে বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরকে অধিক ঘৃণা করে। একাদশ নির্বাচনের পর বর্তমান প্রশাসনও তেমনি ঘৃণিত হয়েছে। এখন গণআন্দোলনের পালা। জনগণ তাবেদার প্রশাসনের বিরূদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলবে।
১৯৭১ সালে এদেশের অসংখ্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা পাক হানাদার বাহিনীর তাবেদারি করেছে। তাদের মধ্যে বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জামাতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী প্রয়াত ড, ওয়াজেদ মিয়া পরমাণু কমিশনের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া ম, খা, আলমগীর ও আশিকুর রহমান গং মহকুমা প্রশাসক ছিলেন। তারা পাক হানাদারদের তাবেদারি করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন বাধাগ্রস্থ করেছে। দেশের জনগণ তাদের ক্ষমা করেনি। অধিকাংশই করুণ পরিণতি ভোগ করেছে। বাঙ্গালি জাতির পিতা নিজের জামাতার প্রতি দয়াপরবশ হয়ে কতিপয়কে দায়মুক্ত করেছেন। নইলে তাদের পরিণতিও একই হতো। বর্তমান প্রশাসন তাদের চেয়েও নিকৃষ্ট। তারা জনগণের মৌলিক অধিকার ও ভোটাধিকার কেড়ে বেপরোয়া গুম, খুন ও অবিচারে মেতেছে। একটি অনুমিত সুত্র থেকে জানা গেছে, আওয়ামীলীগ সরকার বেশ কয়েকজন জেলা প্রশাসককে দু’একটি করে আসন ঐক্যফ্রন্টকে ছাড়তে বলেছিল। কিন্তু প্রশাসনের কর্মকর্তারা অতি উৎসাহী হয়ে নিজেদের পদোন্নতির আশায় একচেটিয়া আওয়ামীলীগকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে। এতে নির্বাচন শতভাগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগও অতি উৎসাহী কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছে। তারাও প্রশাসনের বিরূদ্ধে গণবিক্ষোভে অংশ নিতে পারে। মূলত দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় বর্তমান মীরজাফর প্রশাসনকে হটানো জরুরী।

বিস্তারিত খবর

এবারের নির্বাচন সাঈদী মুক্তির নির্বাচন

 প্রকাশিত: ২০১৮-১২-২৫ ১৪:১৬:৩৯

মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী প্রতিহিংসার শিকার। এ ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক হলেও, এর বিচারক ও অপরাধী সবাই বাঙ্গালী। আওয়ামীলীগের বিচারকগণ এ ট্রাইব্যুনালে বসে পাকবাহিনীর পরিবর্তে শুধু নিজের দেশের নাগরিকদের অভিযুক্ত করেছেন। তারা প্রমাণ করেছেন, ১৯৭১ সালে সকল অপরাধকর্ম বাঙ্গালিরাই করেছে। পাকবাহিনী অপরাধী নয়। বাঙ্গালিরাই ৩০লাখ শহীদের ঘাতক। দেলোয়ার হোসেন সাঈদী তেমনি একজন বাঙ্গালী ঘাতক। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালে দেশেই ছিলেন। পাকবাহিনী থেকে বাঁচতে ভারতে যাননি। তিনি বঙ্গবন্ধু জামাতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী প্রয়াত ড. ওয়াজেদ মিয়াসহ যুদ্ধকালে মহকুমা প্রশাসক ম.খা. আলমগীর ও অন্যান্যদের মতো পাকিস্তান সরকারের বেতনভুক্ত আমলা বা ভাতাপ্রাপ্ত রাজাকার ছিলেন না। তিনি বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে কোলাবরেটরস্ বা দালাল আইনে পরিচালিত মামলার আসামীও ছিলেননা। তিনি ছিলেন যুদ্ধাক্রান্ত, ভুক্তভোগী ও একজন সাধারণ বাঙ্গালী। তিনি বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দানকারী সাড়ে সাত কোটি বীর বাঙ্গালির অন্তর্ভুক্ত। অথচ স্বাধীনতার ৪০ বছর পর, তিনি বাংলাদেশের আওয়ামী আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত।
মাওলানা সাঈদী যে ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত হয়েছেন, এটি বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরদের ট্রাইব্যুনাল। মীরজাফর যেভাবে নিজ দেশের স্বাধীনতা ইংরেজদের কাছে বিকিয়েছিল, তেমনি আওয়ামী বিচারকগণ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে পাকবাহিনীর পরিবর্তে বাঙ্গালীদের অভিযুক্ত করে নিজ দেশকে কলঙ্কিত করেছে। তারা পাকবাহিনীর অপরাধ খুঁজে পায়নি। তারা পাকবাহিনীর অপরাধে সাঈদীকে অভিযুক্ত করেছে। এ বিচারে পাকিস্তানিরা কলঙ্কিত হয়নি, বাঙ্গালীরাই কলঙ্কিত হয়েছে। এখন বাংলাদেশের নাগরিকগণ বিদেশে গেলে ঘাতক, যুদ্ধাপরাধী ও তাদের প্রজন্ম হিসেবে লান্থিত হয়। পাকিস্তানিরা লান্থিত হয়না। আওয়ামী বিচারকগণ তাদের নিজস্ব আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে সাঈদীকে অভিযুক্ত করে এভাবেই বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করেছে।
দেশের জনগণ বাংলাদেশকে যেভাবে চেনে, সাঈদীকেও তেমনি চেনে। সাঈদী বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী প্রতিহিংসার শিকার, জনগণ তা ভালোভাবেই জানে। জনগণ সাঈদীর জন্য প্রাণ দিতেও জানে। সাঈদীকে চাঁদে দেখার গুজবে শত শত মানুষ গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে মাত্র একদিনে। সাঈদীভক্ত এ বিশাল জনতা সাঈদীকে মুক্ত করতে জীবন দিয়ে হলেও ভূমিকা রাখবে, একাদশ নির্বাচনে। তারা আওয়ামীলীগকে হটাবে, মূলত দুটি কারণে। তাহলো- সাঈদীর মুক্তি ও বাংলাদেশ থেকে যুদ্ধাপরাধের কলঙ্ক মোচনে। তাই এবারের শ্লোগান- একাদশ নির্বাচন সাঈদী মুক্তির নির্বাচন। একাদশ নির্বাচন কলঙ্ক মুক্তির নির্বাচন।
এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পরাজয় হলে, সাঈদী মুক্ত হবে। আর সাঈদী মুক্ত হলে, বাংলাদেশ যুদ্ধাপরাধের কলঙ্কমুক্ত হবে। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা বাস্তবায়ন হবে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দানকারী ১৯৭১ এর সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালী মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃত হবে। প্রাণ বিসর্জনকারী ৩০লাখ শহীদও মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃত হবে। প্রচলিত ২লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা, প্রদত্ত ভাতা ও মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আর বাঙ্গালী নয়, পাকবাহিনী অভিযুক্ত হবে।

বিস্তারিত খবর

সিলেটের প্রকৃতি ও প্রিয় মানুষগুলো

 প্রকাশিত: ২০১৮-১২-০৩ ১৩:৪৯:০৯

আজ সকালে ফেসবুক সিলেট নিয়ে একটা মেমরি মনে করিয়ে দিল। অনেকবার ভেবেছি সিলেট নিয়ে কিছু লিখি। কিন্তু চেষ্টা করেও পারিনি। কি লিখব এই প্রিয় শহরটা নিয়ে? সিলেটের রূপের বর্ণনা করার মত সাহিত্যিক উপমা আমার স্টকে নেই। আর প্রথম আলোর সুবাদে সিলেটের ব্রিদটেকিং বিউটি নিয়ে সবাই কম বেশি জানে।আমি চিন্তা করতে লাগলাম সিলেটের সব চেয়ে কি বেশি ভালো লেগেছে আমার কাছে। সিলেটের চমৎকার আবহাওয়া, ঝরঝরে পাতলা বাতাস, ওখানকার ঘন সবুজ চা বাগান, টিলা, গভীর রাতের বৃষ্টি, সিলেটের মেঘ সব কিছু ছাপিয়ে আমার বোধহয় সবচেয়ে ভালো লেগেছে সিলেটের মানুষগুলো।

মানুষ ভালো লাগার মত কিছু কিনা এই প্রশ্নটা এসেছে আমার মনে। চিন্তা করে দেখলাম সিলেটের মেয়েরা খুব ভালো। বিশেষ করে বউ হিসেবে। অধিকাংশ সিলেটি ছেলেদের বাজার করার মত পেইনফুল কাজটা করতে তীব্র অনীহা দেখেছি। বাড়ির বউয়েরাই বাচ্চাকে স্কুল থেকে আনার পথে কিম্বা কোচিংয়ে দিয়ে আসার সময়, নিদেনপক্ষে বাইরে না বেরুলে ওই ভ্যানওয়ালাদের কাছ থেকেই টুকটাক সবজী, মাছ কিনে নেয়। চাল ডাল তেল নুন মাসে একবার কিম্বা পাশের মুদী দোকান থেকে ঐ মেয়েরাই করে নেয়। বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল দিতে হবে, বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করাতে হবে, ঈদের শপিং, রোজায়-ঈদে ননদের শ্বশুরবাড়ি ইফতার বা মাংস পাঠানো এই দায়িত্বগুলাও দেখি মেয়েরা ছেলেদের কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান না করে অবলীলায় নিষ্ঠার সাথে পালন করে যায়।

আমি সিলেটি মেয়েদের শ্বশুর শাশুড়িকে অসম্ভব ভক্তি শ্রদ্ধা করতে দেখেছি। কি হিন্দু, কি মুসলিম এখোনো জয়েন্ট ফ্যামিলি টিকে আছে সিলেটে। আর জয়েন্ট না টিকলেও চাচা চাচি ফুফু ফুফা মিলে এমন বন্ডিং আসলে অন্যান্য অনেক এলাকাতেই দেখা যায়না।

সিলেটি ছেলেরা তুলনামূলক অলস প্রকৃতির। আমি আমার ছোটবেলা থেকে দেখেছি ‘লাইফ ইজ এ রেস, ইফ ইউ ডোন্ট রান ফাস্ট ইউ আর লাইক ব্রোকেন আন্ডা’ টাইপ রেস সব জায়গায়। কিন্তু সিলেটি ছেলেরা কেমন একটা বিন্দাস, মানমৌজি ধরণের পরিবেশ পায়। লেখাপড়া করতে হয় বলেই করা। চাকরি তো কোন সিলেটি ছেলের দুঃস্বপ্নেও আসে না মনে হয়। সিলেটের বাইরে যেতে হবে শুনলে গায়ে জ্বর আসে তাদের। সিলেটের বাইরে একটাই জায়গা আছে যাওয়ার মত তা হল লন্ডন। ইন্টার চলা অবস্থায় অথবা পাশের পর লন্ডনে থাকা চাচা, মামা কিম্বা ফুফুর ঘরের ভাই বা খালার ঘরের ভাইকে ফোন দিয়ে বলবে, “দ্যাশো বালা লাগের না বা, নৌক্কাগি তুমার টাইন” তো বাস এসে গেলো তোমার লন্ডনের টিকেট। এরপর পাঁচ/দশ বছর বিদেশে বসে কষ্ট করবে এরপর দেশে এসে কোন একটা মার্কেটে ভালো একটা দোকান নিয়ে বা রেস্টুরেন্ট খুলে বসে পড়বে।

সিলেটি মানুষজন ব্যবসা করতে বা স্বাধীন পেশা বেছে নিতে পছন্দ করে। সিলেটে এমন বহু গ্রাজুয়েট আছে যারা জীবনে একটিবারের জন্যেও কোন পাবলিক পরিক্ষায় বসেনি। পারবে না এজন্য নয়, বরং ঢাকা গিয়ে পরিক্ষা দিতে হবে, কোথায় না কোথায় গিয়ে চাকরি করা লাগবে, সেখানকার পরিবেশ, খাবার স্যুট করবে কিনা এইজন্য। সিলেটিদের ঢাকা প্রীতি কম, ভীতি বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে আমি এমন বহু এলাকার মানুষ দেখেছি যারা ঢাকায় আসার পর ঢাকার বাইরে নিজেদের জীবন কল্পনা করতে পারেনা। ঈদে, পূজায় বাড়িতে গিয়েও এরা বেশিদিন থাকতে পারেনা। অথচ আমি এমন একটা সিলেটি ছেলের গল্প জানি যে ঢাকা মেডিকেলে চান্স পেয়ে পরে ওসমানীতে মাইগ্রেট করার বহু চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শেষপর্যন্ত সাস্টে ইকনোমিক্স নিয়ে পড়েছে।

তবে একটা জিনিস কি এই মনমৌজে চলা টেনশান ফ্রি মানুষগুলোর টাকা আমার কাছে খুব হালাল, খুব পবিত্র মনে হয়। ভালো একটা চাকরির জন্য সেই শিশুকাল থেকে করা ইঁদুর দৌড় আর নানা রকম রাজনীতি দূর্নীতির কঠিন ভয়াবহ পরিনতির পেরোনোর চেয়ে বেলা এগারোটায় ঘুম থেকে উঠে বারোটার সময় নাস্তাপানি সেরে মজাসে একটা পান চিবুতে চিবুতে ছোট্ট একটা দোকান খুলে বসা সিলেটি মানুষগুলোকে আমার ভীষন ভালো লেগেছে।

লেখক : সাবেক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিলেট জজ কোর্ট।
[লেখাটি লেখকের ফেইসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া]

বিস্তারিত খবর

সেনা অফিসারদের সফরের নামে বিশেষ বিমানে কি পাঠানো হয়েছে ভারতে?

 প্রকাশিত: ২০১৮-১২-০২ ১৪:৩২:০২

ভারতীয় বিশেষ প্লেনে ২৫ জন সেনা অফিসার ভারতে যাওয়ার খবর মিডিয়ায় ছাড়া হয়েছে! কিন্তু সূত্র বলছে, ওখানে ঘটে গেছে অন্য কোনো সাংঘাতিক ঘটনা!

প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশী জুনিয়র সেনা অফিসারদের নেয়ার জন্য ভারতের দু’টি বিশেষ বিমান পাঠাবে কেনো???

তারা কি টিএ/ডিএ নিবে না???

একেকটি বিমানের ক্যাপাসিটি ছিল ১৪৭ আসন! মাত্র 25 জনের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্খা কেনো??? নাকি সেনা অফিসারদের আড়ালে ঐ বিমানে বিশেষ কোনো ব্যক্তিরা গেলো কি??? তাদের পরিচয় কি??? ইমিগ্রেশনে এ সংক্রান্ত তালিকা এবং জিও থাকার কথা- আছে কি???

তাহলে কে কে বাংলাদেশ ছাড়লো???

উনারা কি প্রতিবেশীদের গোয়েন্দা সংস্থা বা স্পেশাল সিকিউরিটির লোকজন???

সেনা সূত্রের খবর, ঐ প্লেনে রাতভর লাগেজ ও বড় বড় বাক্স লোড হয়েছে, গণভবন থেকেও নাকি বড় বড় মেটালিক বক্স এবং লাগেজ গেছে! কোনো হার্ড ক্যাশ পাচার হয়নি তো??? রিজার্ভ ঠিক আছে তো??? সেনা নেয়ার আড়ালে অাসলে কি ঘটেছিল????????

নির্বাচনে সব কিছু উল্টে যেতে পারে তার জন্য সতর্কতা হিসাবে অাপৎকালীণ এ ব্যবস্থা???

যত গোপনই যা কিছু হোক না কেনো, সবকিছু তথ্য বের হবে।

ইনশাআল্লাহ!!!

বিস্তারিত খবর

স্মরণ : সমাজসেবী ও শিক্ষাবিদ হালিমা খাতুন

 প্রকাশিত: ২০১৮-১১-২৮ ১২:৫০:৪৩

অপরূপ শ্যামলিমায় শীতলক্ষ্যার তীরে অবস্হিত 'প্রাচ্যের ড্যান্ডি' বন্দরনগরী নারায়ণগঞ্জ। যুগযুগান্তরের ঐতিহাসিক পটভূমিতে শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সাংবাদিকতায় নারায়ণগঞ্জের রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য ও গৌবরগাঁথা। সেসব গৌরবজ্জ্বল ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক এই জেলার স্মরণীয় বরণীয় ব্যক্তিবর্গের অন্যতম হলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও শিক্ষাবিদ হালিমা খাতুন।

অনন্য সাধারণ গুণাবলী সম্পন্ন ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী ছিলেন শিক্ষাবিদ হালিমা খাতুন। তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের 'মানুষ গড়ার কারিগর'; ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিভিন্ন জনহিতকর, নারী শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বহুমাত্রিক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানকালে শিক্ষা ব্যবস্হার ব্যাপক প্রসার ঘটলেও স্বাধীনতাপূর্ব কিংবা তারও আগের পরিস্হিতি এমনটা ছিলো না, বিশেষকরে জেলা পর্যায়ে নারী শিক্ষার ঘাটতি কাটিয়ে তোলার জন্য হালিমা খাতুনের অবদান অবিস্মরণীয়। নারায়ণগঞ্জের শিক্ষা প্রসারে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজে নারীদের অধিকার ও সুশিক্ষা, কর্মক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ, শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। পদে পদে এসেছে বাধা-বিপত্তি, তবুও দমে যাননি; আত্মবিশ্বাস আর বিজয়ের প্রেরণা নিয়ে লড়াই করে গেছেন আজীবন।  তিনি ধার্মিক, দয়ালু, সৎ, কর্মঠ, সজ্জন ও স্পষ্টভাষী মানুষ হিসেবে সমাজে পরিচিত ছিলেন।  কোন প্রকার অন্যায় ও দুর্নীতিকে তিনি কখনও প্রশ্রয় দেননি।

শিক্ষাবিদ হালিমা খাতুন প্রকৃতিপ্রেমী ছিলেন, গাছপালা ভালোবাসতেন, রন্ধন শিল্পেও তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। তার বাড়ীতে নিজ হাতে গড়া বাগানে তিনি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে প্রতি শীতে বনভোজনের আয়োজন করতেন। তিনি কর্মজীবনে সুদীর্ঘকাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিষ্ঠা, সুনাম ও সাফল্যের সাথে শিক্ষকতা করেছেন। সর্বশেষ তিনি চাষাঢ়া আদর্শ সরঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে(আইন কলেজ সংলগ্ন) কর্মরত অবস্হায় অবসর গ্রহণ করেন। বদলির চাকুরীর সুবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাদান করেছেন জনপ্রিয় এ শিক্ষাবিদ। আর এজন্যই তার ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ব্যাপক, যারা ছড়িয়ে আছেন জেলা ও দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে ও স্তরে। একজন সমাজসেবী ও সমাজসংস্কারক হিসেবে তিনি দেশে বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ জেলার মানুষের মনে চির অম্লান হয়ে থাকবেন। সমগ্র পৃথিবীতে আজ ছড়িয়ে আছে তার মহান জ্ঞানের উত্তরসূ্রিরা। তার ছাত্রদের মধ্য দিয়ে চিরদিন বয়ে যাবে তার জ্ঞানের ধ্বজা। শিক্ষকের মৃ্ত্যু রয়েছে, কিন্তু শিক্ষার মৃ্ত্যু নেই।

১৯৪৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন বরেণ্য শিক্ষাবিদ হালিমা খাতুন। তার পিতা মরহুম মাওলা বক্স মিয়া সাহেব ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার তৎকালীন সময়ের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী ও দানশীল ব্যাক্তি। হালিমা খাতুনের মাতার নাম ছিল আলিমুন্নিসা। জনাব মাওলা বক্স মিয়া ছিলেন দূরদর্শী ও দক্ষ ব্যবসায়ী, তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জের তেলের পাইকার আমদানিকারকদের একজন, এছাড়াও ঢাকার কেরাণীগঞ্জের পানগাঁও এলাকার বৃহৎ ৫টি ইট খোলা'সহ নানাবিধ ব্যবসাবাণিজ্য এবং নারায়ণগঞ্জ শহরের নিউ মেট্রো সিনেমা হলের মালিক ছিলেন মাওলা বক্স মিয়া। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে নিজের একাধিক দালানকোঠা থাকলেও মাওলা বক্স মিয়া পরিবারসহ বসবাস করতেন নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়ার কেবি সাহা রোডের 'মাওলা নিবাস' নামক বাড়িটিতে। মূলত: তাকে কেন্দ্র করেই সেসময় এ এলাকায় গড়ে উঠেছিলো 'মোল্লা বাড়ি'র ব্যপ্তি। ছোটবেলায় পরিবারেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন হালিমা খাতুন। পরে নারায়াণগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মর্গ্যান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক স্তরের লেখাপড়া শেষ করে হালিমা খাতুন নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে আই.এ. পাশ করেন। পরে নারায়ণগঞ্জ সরকারী তোলারাম কলেজের অধীনে বি.এ.(সম্মান) ডিগ্রী লাভ করেন।

সমাজসেবী ও শিক্ষাবিদ হালিমা খাতুনেরা ছিলেন ছয় ভাইবোন। হালিমা খাতুন ছিলেন পিতামাতার তৃতীয় সন্তান। বড় বোন মরহুমা হাসনা বানু তুলা ছিলেন একজন শিক্ষাণুরাগী ও আধুনিক মানুষ। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্যতম অগ্রগণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, নারী মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠক ছিলেন। কর্মময় জীবনে তিনি পুরান ঢাকার জুবিলী স্কুল ও বদরুননেসা কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। হালিমা খাতুনের বড় ভাই মরহুম সাংবাদিক মুজিবুর রহমান বাদল ছিলেন নারায়নগঞ্জ জেলার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সিনিয়র বুদ্ধিজীবী। তিনি নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে 'দৈনিক সংবাদ' পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন এছাড়াও তিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত সর্বপ্রথম দৈনিক পত্রিকা 'সকাল বার্তা'র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। শিক্ষাবিদ হালিমা খাতুনের ছোট ভাই আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান ছাত্রজীবনে যেমন মেধাবী ছাত্র ছিলেন, তেমনি পিতার মতো তিনিও একজন সফল ব্যবসায়ী। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি ছিলেন একাধিকবার, এছাড়াও রপ্তানিকারক বস্ত্র ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএ (BKMEA)-এর সহসভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। হালিমা খাতুনের আরেক ছোট ভাই আলহাজ্ব ফয়েজুর রহমান ছিলেন নারায়ণগঞ্জের তুখোঁড় ছাত্রনেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংগঠক ও ব্যবসায়ী। তিনি দু'বার ছাত্রলীগের প্যানেলে সরকারি তোলারাম কলেজের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। হালিমা খাতুনের সর্বকনিষ্ঠ বোনের নাম মরহুমা নাসিমা খাতুন।

শিক্ষাবিদ হালিমা খাতুনের পারিবারিক জীবন ছিল নান্দনিক; ১৯৬৯ সালে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়ার প্রখ্যাত 'খান বাড়ি'র মুরুব্বী বড় মুন্সী এবারত আলী খাঁ সাহেবের পুত্রের সাথে তার বিবাহ হয়। তার স্বামী মরহুম আলহাজ্ব সামসুর রহমান খান ছিলেন রূপালী ব্যাংকের (Rupali Bank Ltd.) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। শিক্ষাবিদ হালিমা খাতুন তিন সন্তানের জননী; বড় কণ্যা ফাহমিদা রহমান মুনমুন ছাত্রজীবনে সুগায়িকা ও শিল্পী হিসাবে সুনাম করলেও পরবর্তীতে শিক্ষাজীবন শেষে মায়ের আদর্শ লালন করে শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন, তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের এবিসি ইন্টা: স্কুলে (ABC Int. School) কর্মরত রয়েছেন। বড় পুত্র হাছিবুর রহমান খান সজীব যিনি ৯০'র দশকে নারায়ণগঞ্জের ব্যান্ড মিউজিকতারকা হিসাবে সুখ্যাতি পেয়েছিলেন। তিনি 'পার্লস্‌' (Pearls) ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও লিড ভোকালিস্ট ছিলেন, এছাড়াও তিনি 'স্টেপস্‌' (Steps) ও 'রক বার্ডস্‌' (Rock Birds) ব্যান্ডের সাথে অসংখ্য মিউজিক কম্পোজ করেছেন। বর্তমানে তিনি রপ্তানিমূলক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে কর্মরত। সর্বকনিষ্ঠ পুত্র মারুফ খান তন্ময় ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। বিশিষ্ট সমাজসংস্কারক ও শিক্ষাবিদ হালিমা খাতুন ডায়বেটিকস ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে ইন্তেকালের আগে নারায়ণগঞ্জের তোলারাম কলেজ সংলগ্ন আল্লামা ইকবাল রোডে তার স্বামীর বাড়ি 'খান মঞ্জিলে'ই বসবাস করতেন। ১৯৯৯ সালের ৩ ডিসেম্বর, মহান এই শিক্ষক আমাদের সবাইকে কাঁদিয়ে পাড়ি জমান 'না ফেরার দেশে'।

বিস্তারিত খবর

ওরা বাংলাভাষার অবমাননা করেছে

 প্রকাশিত: ২০১৮-১১-০৭ ১৪:৪২:৫২

একজন নারীকে চরিত্রহীন বলায় ব্যারিষ্টার মঈনুলকে আটক করা, বাংলাভাষার সুস্পষ্ট অবমাননা। ব্যারিষ্টার মঈনুল টকশোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির বিব্রতকর প্রশ্নে তাকে চরিত্রহীন বলতে চেয়েছেন। তাকে চরিত্রহীনা বলেননি। চরিত্রহীন শব্দটি পুংলিঙ্গবাচক আর মাসুদা ভাট্টি স্ত্রীবাচক এবং বাস্তবেও একজন ভদ্র মহিলা। চরিত্রহীন শব্দটি সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে বেপরোয়া আচরণ ও সাংবাদিকতা পেশা বুঝাতে তাঁর ক্ষেত্রেও পুংলিঙ্গবাচক (চরিত্রহীন) শব্দ ব্যবহার করা যায়। ব্যারিষ্টার মঈনুল তাই করেছেন। তিনি বাংলা ভাষায় মোটেও অজ্ঞ নন। তিনি মাসুদা ভাট্টির নারীত্ব বুঝালে, অবশ্যই চরিত্রহীনা বলতেন। টকশোর ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি ব্যারিষ্টার মঈনুলকে আপত্তিকর প্রশ্নে বিব্রত করার চেষ্টা করেন। প্রত্যুত্তরে ব্যারিষ্টার মঈনুল বলেন, ‘দুঃসাহসের জন্য আমি আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আপনি চরিত্রহীন বলে আমি মনে করতে চাই।’ টকশোর শেষ পর্যায়ে সাংবাদিক মাসুদা উক্ত শব্দ নিয়ে আপত্তি করলে ব্যারিষ্টার মঈনুল বিস্মিত হন এবং জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কাকে চরিত্রহীন বলছেন? অর্থাৎ ব্যারিষ্টার মঈনুল চরিত্রহীন শব্দ দ্বারা সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি বা তাঁর নারীত্ব বুঝাননি। তিনি নারীত্ব বুঝালে, অবশ্যই চরিত্রহীনা বলতেন।

অনেকে বলেন, বাংলা ভাষায় লিঙ্গান্তর আবশ্যক নয়। তাই সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহীন বলায়, তাতে নারী জাতির অবমাননা হয়েছে। এবিষয়টি শুধুমাত্র বিশেষ্য ও পদবিবাচক শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন- প্রধানমন্ত্রী, সচিব, অধ্যক্ষ ইত্যাদি। এসমস্ত শব্দে স্ত্রীলিঙ্গ আবশ্যক নয়। এছাড়া বিশেষণ বা গুণবাচক শব্দে লিঙ্গান্তর একান্তই আবশ্যক। যেমন, যদি বলা হতো ব্যারিষ্টার মঈনুল অসতী বা চরিত্রহীনা পুরুষ। এটি কি সঠিক হতো? এতে কি পুরুষ জাতির অবমাননা হত? কখনোই নয়। ঠিক এভাবে মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহীন বলায় তাঁর নারীত্ব বুঝায়না। এতে নারী জাতির অবমাননা হয়না। মূলত আমাদের দেশের রাজনীতিবিদ ও নারীসমাজ বাংলাভাষা তেমন বোঝেননা। তারা সম্পুর্ণ অজ্ঞতাবশত ব্যারিষ্টার মঈনুলের বিরূদ্ধে মামলা করেছেন। তাদের এ অজ্ঞতায় বাংলাভাষার অবমাননা হয়েছে। আরো কলঙ্ক বেড়েছে, এদেশের বিচারকদের ভাষাগত অজ্ঞতার ফলে। বিচারকদের উচিত ছিল, বিষয়টি ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা। তারা কিভাবে চরিত্রহীন শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বিবেচনা করলেন এবং ব্যারিষ্টার মঈনুলকে আটকের আদেশ দিলেন? হয়তো উক্ত বিচারকগণ বিশেষ কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন। এটি দেশ ও জাতির জন্য চরম লজ্জার।

টকশোতে মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহীন বলায় যে নারীগণ ব্যারিষ্টার মঈনুলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তারা আদৌ জানেননা, চরিত্রহীন শব্দটি কোন লিঙ্গের? তবু তাদের আঁতে ঘা লাগল কেন? টকশোর মতো কথার বাজারে একটিমাত্র (চরিত্রহীন) শব্দের জন্য তারা এতো ক্ষুব্ধ কেন? এ একটি শব্দের জন্য ব্যারিষ্টার মঈনুল আটক আছেন এবং বহু মামলা মোকাবেলা করছেন। অথচ প্রবাসী লেখিকা তসলিমা নাসরিন সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির বিরূদ্ধে আরো জঘন্য ভাষায় লিখেছেন। তবু তাঁর বিরূদ্ধে মামলা হয়নি কেন? বিষয়টি সংশয়ের। প্রকৃতপক্ষে যে সকল নারী চরিত্রহীন শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বিবেচনা করেছেন, ওরা নারী জাতির কলঙ্ক। ওরা ওদের কলঙ্ক বাংলাভাষাতেও লেপন করতে চায়।

বাংলাদেশে বাংলাভাষার এমন পন্ডিত নেই, যারা আলোচ্য অবমাননার প্রতিবাদ করবে। তাই বাংলা ভাষাভাষী সকল নাগরিকের কাছে আবেদন- আপনারাই বিবেচনা করুন, সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির ক্ষেত্রে চরিত্রহীন শব্দটি প্রযোজ্য কিনা? চরিত্রহীন শব্দের দ্বারা নারী জাতির অবমাননা হয় কিনা? চরিত্রহীন শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ হলে, এর পুংলিঙ্গ কি হবে? এবিষয়ে ব্যারিষ্টার মঈনুলকে আটক করা বৈধ কিনা? এ জঘন্য ঘটনা বাংলা ভাষার অবমাননা কিনা? যারা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষা বাংলার অবমাননা করেছে, তাদের শাস্তি কি? ওদেরকে শাস্তি না দিলে, ওরা বাংলাভাষার অবমাননা করতেই থাকবে। ফলে, আমরা আমাদের মাতৃভাষার ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সবই হারাবো।

বিস্তারিত খবর

ওয়াশিংটনে ঠাকুর দর্শন

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-২৫ ১৬:০৫:৩৫

শিরোনামটি এমনও হতে পারতো ঠাকুর বাড়ির ঠাকুর দর্শন! কিন্তু করা সম্ভব হয়নি, কারণ পূজামন্ডপগুলো করা হচ্ছে স্কুলে কিংবা মন্দিরে।গত সপ্তাহে ভার্জিনিয়ার সম্পা বণিক দিদির বাসায় পূজার আয়োজন দেখলাম। ঘরোয়া পরিবেশে বণিক বাড়ির পূজা মণ্ডপে অনেক অতিথি দেখে মনে পরে গেলো ফেলে আসা পুজোর স্মৃতিময় দিনগুলির কথা। সম্পা দি গত বছর দাওয়াত দিয়েছিলেন, কিন্তু কাজ থাকতে যেতে পারিনি। তাই দেশীয় আমেজটা উপভোগ করতে পারিনি।

গত সপ্তাহে মেট্রো ওয়াশিংটনে নীলাচল আয়োজন করেন শারদীয় পূজা উৎসবের। স্থানীয় একটি অডিটোরিয়ামে নির্মিত পূজামণ্ডপে প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছিল। আয়োজনে ছিল, দেশীয় খাবার, প্রসাদ, উলুধ্বনি, ডাকের তাল ও নাচ। সম্প্রীতির বন্ধনে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অনেক মানুষ ছুটে গিয়েছিলো।

গত শনিবার ছিল গ্রেটার ওয়াশিংটন হিন্দু সোসাইটির পূজা আয়োজন। তপন দত্ত দা, পঙ্কজ চৌধুরী দা ও উত্তম দাদার সাথে পরিচয় বহুদিনের। সেই সুবাদে পূজা উৎসবে যোগদানের আগ্রহের মাত্রাটা ছিল বেশি।

বিপুল-জিনিয়া ও আমি সকালের পূজা অর্চনা পর্বে অংশ নিতে না পারলেও সন্ধ্যায় গিয়ে খানিক স্বাদ মেটালাম। ভার্জিনিয়ার একটি স্কুলে এই আয়োজন দেখে মনে হয়নি প্রবাসের বুকে পূজামণ্ডপে আছি। দেশীয় আমেজে মা দুর্গার প্রতিমা, প্রসাদ, খাবার, আশীর্বাদ, ধুনচি নাচ কোন কিছুর কমতি ছিল না।

ছোট বেলায় পাশের বাড়ির ভিওয়াবাড়ি,কালীবাড়ি ও কৈবত পাড়ায় তিনদিনের পূজোৎসবে সারারাত কাটিয়ে দিয়েছি বন্ধুরা দল বেঁধে। সারাদিনের ডাকের বাজনা ও মাইকে সিনেমার গান এবং ক্ষণে ক্ষণে 'দূর্গা মা কি? জয় বলে মহাধ্বনি এখন কাজে বাজে। তখন বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখে শুনতাম ঠাকুর দেখতে যাচ্ছি। সেই থেকেই চলছে ঠাকুর দর্শন। গ্রামের দৃশ্যপট পেড়িয়ে ঢাকার মণিপুরীপাড়াতে আয়োজন ছিল আরো বিশাল। সন্ধ্যা হলে চলে যেতাম পূজামণ্ডপে।

গ্রেটার ওয়াশিংটন হিন্দু সোসাইটির পূজামণ্ডপে ঢুকেই শুনতে পেলাম সেই পরিচিত ঢাকের আওয়াজ, উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি এবং সেই ধুনচি নাচ। প্রধান ফটকে ঢুকতেই মা দূর্গা ও অসুরের প্রতিমা। ভিতরে উৎসবমুখর পরিবেশ। ভুলে গেলাম প্রবাস জীবনে ব্যস্তদিনের কথা।

ঢাকের তালে নেচে যাচ্ছে সুমা দি, দিনার ভাবি, রুমা দি সহ আরো অনেকে। অন্যদিকে ছবি তোলার ব্যস্ত সুদীপ দা, রাজীব দা ও বিপ্লব দত্ত। রুমি ভাই ব্যস্ত ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার নিয়ে । কে কোন ধর্মের সেটা বড় কথা নয়, মুখে সিঁদুর মেখে এক কাতারে সবাই মা দুর্গার আশীর্বাদে আনন্দে মেতে উঠছে।

ক্ষণিকের এই জীবনে আনন্দ করতে পারাটাই বড় সার্থকতা। এবং তাই প্রমানিত প্রবাসে শারদীয় দূর্গা উৎসবের আয়জন।

বিস্তারিত খবর

গ্রামের একটি তৃণমূল বীরের বাদ্যযন্ত্র নিয়ে কাহিনী

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-১৫ ১৪:২২:৪৩

এ পৃথিবীতে যুগে পর যুগে কিছু মানুষের সৃষ্টি হয়, তারা অনেকেই কোটি কোটি টাকায় করে ভোগ-বিলাস। আবার গড়েও তুলে ধন-সম্পদ এবং বাড়ি-গাড়ি। কিন্তু এমনও কিছু বিকল্প চিন্তা চেতনার মানুষকে খোঁজে পাওয়া যায়, জীবনে তার তেমন কোনকিছুর মোহ নেই, নেই তার নূন্যতম মনের ইচ্ছা পূরণের বৃহৎ উচ্চাকাঙ্খা। জীবন সঠিক পথে পরিচালনার উদ্দেশ্যে নেই চিন্তা। অতীব ক্ষিন চিন্তার এই মানুষটির অর্থের কোনো ধরনের লোভ না থাকলেও প্রয়োজন আছে তার পেটে ভাতে বেঁচে থাকার অধিকার। কিন্তু উপার্জনের আদৌ কোনোই পরিকল্পনা নেই, এমন এক প্রতিভাবান, সরল-সরল, কোমল মনের ছোট্ট মানুষ, শুধুই দেখে রঙিন রঙিন স্বপ্ন, চরম আশা আশঙ্কার অনেক ধরনের মিউজিক নিয়ে। মিউজিক জগতের বহু গুনে কিংবা প্রতিভার অধিরকারী ছেলেটি সবাইকে অবাক করে দেওয়ার মতোই। তার মিউজিকের নেশা নিত্য দিনের জীবন সঙ্গী। এমন ব্যক্তির নাম তার মো: আব্দুল বারী।

নওগাঁ জেলার মান্দা থানায় ১৩ নং কশর ইউনিয়ন এর পাঁজর ভাঙা গ্রামে নিজ পিতা-মাতা, সহধর্মিণী রাজিয়া সহ এক পুত্র সন্তান রনককে নিয়ে বসবাস করে। গ্রামের সহজ সরল মানুষের কাছে গান এবং মিউজিক বাজানোটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। ছেলে মেয়েরা তার কাছে মিউজিকের সহিত কিভাবে গান করতে হয় তা শিখে নিয়েই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিনোদন দিয়ে থাকে। এ মিউজিক প্রেমী আব্দুল বারী তাদের সহযোগী হয়েই সকল অনুষ্ঠানে মিউজিক বাজায়।
আব্দুর বারী যেন অনেক মিউজিক বাজাতে পারে। যেমন: হারমোনিয়াম, ড্রামস, কঙ্গো, জুড়ি, ফুলোট ও আঁড় বাঁশি। এর মধ্যে ড্রামস মিউজিকই উপস্থিত দর্শকের মাঝে বাজিয়ে বেশ আনন্দ পায়। জনপ্রিয় মিউজিক সহ অন্যান্য মিউজিক গুলো নিয়ে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বায়না যায়। এমন তরুণ প্রজন্মের প্রতিভাবান তারুণ্যের প্রতিক, স্বল্প ভাষী, মিউজিক ম্যান আব্দুল বারী অল্প বয়সেই অসংখ্য শ্রোতা এবং দর্শকের হৃদয় জয় করেছে । এখন তার বয়স ২৭/২৮ হয়তো হবে। ছাত্র জীবনের শুরুতেই নেমে আসে জীবনের এক অমানিশার ঘোর আঁধার, পড়া শোনা হয়নি বললেই চলে। সঙ্গীত, নৃত্যের সঙ্গে বিভিন্ন মিউজিকের সখ্যতায় ছোটবেলা কাটে তার। নিজস্ব স্টাইল বজায় রেখেই মিউজিক বা বাদ্যযন্ত্রে আত্মবিশ্বাসের সাথেই কাজ করে। এমন ছেলেটির মজার কাহিনীর আদ্যোপান্ত জেনেই, শ্রোতা কিংবা পাঠকের হৃদয় হয়তো সংস্কৃতি চর্চায় প্রসারিত হবে। সাংস্কৃতিক পরি মণ্ডলেই তার বেড়ে ওঠা নয়। বাবার নাম মো: কমর উদ্দিন শাহানা তিনি একজন গুণী মৌলবী। তার মাতা, মোছা: মনোয়ার বেগম একজন পর্দাশীল গৃহিণী মহিলা।

বাবা মিউজিক অনুরাগী না হলেও বংশে কিন্তু তার দাদা ছিল, একজন "কবি" গানের সরদার বা ছন্দের গায়ক। ক্লাস সেভেন পর্যন্ত এই গুনী মিউজিক ম্যান আব্দুল বারীকে তার বাবা ধরে বেঁধেই জোর পূর্বক লেখাপড়া শেখাতে পেরেছে। পরিবারের কেউ ভাবে নি সে প্রফেশনালি ড্রামস বাদক হয়েই লেখা পড়ার পাঠ চুকে দিবে। ইচ্ছে ছিল ছেলে বড় হয়ে সমাজের আর দশটা ছেলের মতো উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে চাকরি করবে। কিন্তু হায়! কি অদ্ভুত, বাল্য বয়সেই মস্তিষ্কের কোষে কোষে গেঁথে গেল যাত্রা দলের গান, যাত্রার নৃত্য আর প্রিয় সেই যাত্রার মিউজিক। সকল কিছু ছাপিয়ে দিনে দিনেই হাতের নাগালে নিয়ে নিল যাত্রার সেই 'ড্রামস মিউজিক'। তাকেই বাজিয়ে যেন মাতিয়ে তোলে আজ অবধি দর্শকদের মন। মন্ত্রমুগ্ধ বাদ্যের ঢংঙে অনেকেই বায়না করে।

তরুণ বয়সের দিকের কথা, নিজ গ্রামের স্কুলে প্রতি বছর যাত্রা নাটকে নারী চরিত্রের পাঠ গাওয়া এবং নাচনেওয়ালী মেয়ে নিয়ে আসতো। সেখানেই মোঃ আব্দুল বারী শৈশবেই তাদের সহিত একই তালে বা ভঙ্গিতে নাচনেওয়ালী সঙ্গে নাচতো। সুুুধী দর্শক গণ নারী-পুরুষের নৃত্যে বেশ মজা নিতো। তাছাড়া তার গায়ক হিসেবে পরিচিতি যতটুকুই ছিল তার চেয়েও নাচ ও মিউজিক বাজানোর পরিচিতি অনেকাংশেই যেন উর্ধে ছিল। মিউজিক বাজানো অভিজ্ঞতা তার দেখে দেখেই শেখা। তেমন কোন উস্তাদ গুরু ছিলো না, বলতে গেলে নিজস্ব প্রতিভা। তবে বাড়ির পাশে একজন দক্ষ, খুব প্রবীণ ব্যক্তি উত্তর অনেক সুন্দর হারমোনিয়াম এবং অর্গান বাজাতো। মোঃ আব্দুল বারী তার সঙ্গে উঠা বসা করতো। এই উত্তম নামের ব্যক্তি অব্দুল বারীর এমন প্রতিভা দেখে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেত। বলা যায়, অল্প বয়সে কচি মেধার ছেলেটিকে এমন ভাবে সঙ্গে না নিয়ে ঘুরলে হয়তো জীবনে শিক্ষা-দিক্ষার দ্বার প্রান্তে পৌঁছাতে পারতো। "আব্দুল বারী" কাঁচা বুদ্ধিতে উত্তমের সঙ্গী সাথী হয়ে দূর-দূরান্তের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচতো ও বিভিন্ন মিউজিক বাজিয়ে দর্শকদের আনন্দ দিত। আর এই সব কারণেই শ্রী উত্তম কুমার প্রয়োজনের তাগিদে মো: আব্দুল বারীকে ব্যবহার করতো। এমন ব্যতিক্রম চিন্তা ধারার ছোট্ট ছেলেটি উত্তমের ডাকে স্কুল ফাঁকি দিয়েই বিয়ে-বাদি, কিচ্ছা-কাহিনী, যাত্রা-পাটি এবং স্কুল-কলেজের অনুষ্ঠানে নৃত্য করা এবং মিউজিক বাজানোর কাজে দূরদূরান্তে চলে যেতো। তার বাবা মার হাজারো বাধা উপেক্ষা করে। লেখা-পড়ায় ক্ষতি হতে লাগল মুটেও সে গুণধর তরুণের টের পাওয়ার কোনই মানসিকতা ছিলোনা। শিক্ষক তার বাবাকে জানালেন আপনার ছেলে স্কুলে আসে না। স্কুল কর্তৃপক্ষ এই অনিয়মিত ছাত্র আর চায় না। বাবা নিরুপায় এখন এই ছেলেকে নিয়ে কি করবে? পরে ভাবনা চিন্তা করেই স্থির করলেন চার ছেলে ও দুই মেয়ে মধ্যে একটিকে হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হলে মন্দা হয়না। যথারীতি সেখানে আব্দুল বারীকে ভর্তি করিয়েও মিউজিক বাজানোর এ পোকা থেকে সরাতে পারেননি। আসলে তার মনে ভর করে থাকা ড্রামস মিউজিক। তাই তো মাদ্রাসার ছাঁদেই বানিয়ে ফেলতো "ড্রামস মিউজিক", তাদেরই অনেক ওজুর বদনা, পানির কলস ও খাবার প্লেট-বাটি। ছাত্রদের কাছে বাজিয়ে আনন্দ করতো এবং নাচতো।

সুতরাং প্রতিদিনের এমন আচরণে তার উস্তাদ চরম বেত্রাঘাত করলে সেখান থেকে পালিয়ে আসে নিজ বাড়ি। দু’তিন বার পাঠিয়েও তাকে মন স্থির করাতে পারেনি। তবে বলতেই হয় এই অল্প সময়ের মধ্যেই ৩ পারা কোরআন শরীফ মুখস্থও করেছে। তার এত সুন্দর শুদ্ধ উচ্চারণ, শ্রুতি মধুর গলা শুনলে সত্যিই অবাক হতে হয়। প্রতিভাবান এই ছেলে লেখাপড়ায় অনুগত নাহলে আবারও চরম মারধর করে। জেদী এই ছেলে "আব্দুল বারী" পালিয়ে যায় বাড়ি থেকে এবং ৬ মাস নাটরের এক যাত্রা ক্লাবে উঠে। সে অল্প সময়ের মধ্যেই যাত্রা দলের মেয়েদের নৃত্য গুরু হয়ে উঠে। সেখানে থাকতে থাকতেই যাত্রার সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র বাজনো পুঙ্খানুপুংখ শিখে ফেলে। বিশেষ করে যাত্রা দলের বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে ড্রামস বাজানোর পারদর্শীকতায় অতুলনীয় ছিল। যেখানেই যাত্রা দল ভাড়া যেতো সেখানেই মেয়েদের সঙ্গে চলে যেতো। কারণ তাদের গুরু ড্রামস না বাজালে মেয়েরা নাকি নাচতে পারতো না। এমন প্রতিভাবান ছেলের সন্ধান অনেক খোঁজা খুঁজি পর মিলে। বাড়িতে জোর করে ধরে এনেও এ জগৎ থেকে সরিয়ে রাখতে পারেননি তার বাবা। কি করবে ছেলেকে? পড়াশুনায় নারাজ, স্থির করলেন তাকে বিয়ে দিলে হয়তোবা ঠিক হবে।যথারীতি বিয়ে হয় সংসার একটি পুত্র সন্তান আসে কিন্তু এই মিউজিক জগৎ থেকে দুরে রাখতে পারেন নি। স্ত্রীর রাজিয়া দেখল তাকেই লেখা পড়া করতে হবে। না হলে সংসার চলবে কি করে। তাই তার স্ত্রী বিএ পাশ করেই এখন আশা ব্যাংক এর ক্যারিয়ার। কিন্তু তার আজও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে অনেক পরিকল্পনা, মনের ইচ্ছা পুরনের আকাঙ্খা। তার চাওয়া একটাই "মিকচার মেশিন" অর্থাৎ সেই যন্ত্রের মাধ্যমেই নাকি সব ধরনের মিউজিক মিশ্রণ করে শ্রুতি মধুর বাদ্যে শ্রোতা, দর্শনের মন জয় করে। তাছাড়া কোন সুহৃদ ব্যক্তির সান্নিধ্য পেলে তার ড্রামস মিউজিক বাদ্যটি কাজে লাগাতে আশা পোষণ করে।

লেখক : টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

বিস্তারিত খবর

তারেক রহমানকে দেশে ফেরাতে ‘বাংলাপোল থেকে ইন্টারপোল’

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-১৪ ০২:৫১:৩৮

তারেক রহমান ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। তাকে চাইলেও ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে পারবে না।

ব্রিটিশ সরকার যদি বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ অনুযায়ী ইন্টারপোলের কাছে হস্তান্তর করতে চায়, তাহলে ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ আইনের আর্টিকেল ২, ৩ ও ৬ ধারা পরিবর্তন করতে হবে, যা কখনোই সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে যেসব দেশের বন্দিবিনিময় চুক্তি, বহিঃসমর্পণ চুক্তি বা অপরাধী বিনিময় চুক্তি রয়েছে শুধু সেসব দেশ থেকেই অপরাধীকে ফেরত পাঠান যায়। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের এ ধরনের কোন চুক্তি নেই। ফলে তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনারও কোন ধরনের সুযোগ নেই। বরং উল্টো ব্রিটিশ সরকারের দায়িত্ব তার জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করা।

১৯৪৮ সালের সার্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণাপত্রের ১৪নং অনুচ্ছেদ মতে বিশ্বের সব মানুষের নিজ দেশের সরকারের নির্যাতন বা নিগ্রহ থেকে বাঁচতে অন্য কোন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের অধিকার রয়েছে। বাংলাদেশ ও ব্রিটেনসহ বিশ্বের সব দেশই এই আইনে স্বাক্ষরদাতা। তাছাড়া কাস্টমারি ইন্টারন্যাশনাল ল এবং ১৯৫১ সনের শরণার্থী কনভেনশন মতে এরূপ নিগৃহীত ভীত কোন ব্যক্তিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেশে ফেরত পাঠান যাবে না। সেই সঙ্গে যদি কোন ব্যক্তির তার দেশের বিচারে মৃত্যুদণ্ড শাস্তির সম্মুখীন হওয়ার আশংকা থাকে, ব্রিটেন সেই আশ্রয়প্রাপ্তকে ফেরত পাঠাতে পারবে না। তাই তারেক রহমানকে ব্রিটেন থেকে ফেরত দেয়াটা অনেকটাই অসম্ভব।

আসলে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনের কৌশল হিসেবেই ইন্টারপোলের ভয় দেখাচ্ছে সরকার। যদিও এপর্যন্ত বাংলাদেশী ৫৭ নাগরিকের বিরুদ্ধে মোস্ট ওয়ান্টেড হিসেবে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি থাকলেও তাদের কাউকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারেনি সরকার। অথচ আদালত দ্বারা এখনও সাজাপ্রাপ্ত না হওয়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন আমাদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। সরকারের আসল উদ্দেশ্য ফিরিয়ে আনা নয়। বরং তারেক রহমানের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে আন্তর্জাতিক বিশ্বে তাকে কলংকিত হিসেবে দেখান। সরকার আমাদের পুলিশ বাহিনীকে যেভাবে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, এবার ইন্টারপোলকেও একইভাবে ব্যবহার করে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। যদিও এটা করা কখনোই সম্ভবপর নয়।

আমরা আমাদের নেতাদের সব অপকর্ম ও দুর্নীতির বিচার চাই। রাষ্ট্রের কোষাগার লুট করে আর গরিব মানুষের টাকা ছিনতাই করে রাজনীতির এই ভয়াবহ রাজনৈতিক-অর্থনীতির ধ্বংস চাই। এদেশে সরকারি কমিটি করে রাজনৈতিক বিবেচনায় হাজার হাজার মামলা প্রত্যাহার করা হয়, এমনকি ফাঁসি হলেও রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে মাফ পাওয়া যায়। এরূপ অপসংস্কৃতির অবসান আমাদের কাম্য হলেও এ থেকে সহসা মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। যেসব দুর্নীতির মামলায় তারেক জিয়ার বিচার হচ্ছে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধেও একই রকমের হাজার হাজার মামলা ছিল। কিন্তু তারা ক্ষমতায় এসেই নিজেদের বিরুদ্ধে করা সাড়ে সাত হাজারের বেশি এরকম মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বিরোধী দলের কারও মামলা প্রত্যাহার করা তো দূরের কথা উল্টা নতুন নতুন মামলা দিয়ে তাদের জুলুম-নির্যাতন করা হচ্ছে। তাই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এসব মামলা পরিচালনার কোন নৈতিক অধিকার এই সরকারের থাকা সঙ্গত নয়। বাংলা পুলিশ দিয়ে বিরোধী দলকে নির্যাতন করা সম্ভব হলেও ইন্টারপোলকে দিয়ে সেই কাজ করান কখনই সম্ভব নয়। এটা হয়তো সরকারও জানে।

লেখক : সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ।।

বিস্তারিত খবর

নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে জন্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুরুত্ব অদ্বিতীয়

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-১০ ১৪:৫২:৪৩

নারী সম্ভবত মহাজগতের সবচেয়ে আলোচিত এক প্রাণী, এ কথা বলেছিলেন ভার্জিনিয়া উলফে, তিনি নিজে এবং নারী সমাজের জন্যেই একটি নিজস্ব কক্ষ চেয়েছিল, কিন্তু তা পান নি। এমন এ ধারার আলোচনাতেই তাঁর পতিপক্ষের সবাই অংশ নিলেও শুধু যার সম্পর্কে অনেক গভীর আলোচনা, সেই নারীই বিশেষ সুযোগ পায় নি অংশ নেয়ার। বলতেই হয় এমন পতিপক্ষটির নাম পুরুষ, নিজের বানানো অলীক বিধাতার পার্থিব প্রতিনিধি, আর পুরুষমাত্রই যেন খুুুব প্রতিভাবান, আবার কেউ কেউ তাঁর বিধাতার চেয়েও নাকি প্রতিভাদীপ্ত;- অন্ধ ও বধির, লম্পট ও ঋষি, কবি ও কামুক, দালাল ও দার্শনিক, বালক ও বৈজ্ঞানিক, পাপী কিংবা প্রেরিত পুরুষ, অর্থাৎ এমন এ পুরুষ প্রজাতির সবাই অংশ নিয়েছিল নারী সম্পর্কেই অন্তত একটি নেতিবাচক শ্লোক রচনায়। কিন্তু ঐ শ্লোক আসলেই যেন অশ্লীল আবর্জনার মতো। এমন প্রতিপক্ষ কিংবা এই পুরুষ জাতিরা কখনো কারো মূল্য বা অধিকারকে স্বীকার করে না। এমনকি নারীদের অস্তিত্বই স্বীকার করে না অনেক সময়। সুতরাং পুরুষরা নারী সমাজ সম্পর্কে বেশ কয়েক হাজার বছর ধরে যেগুলো শ্লোক রচনা করেছে আবার তার অনেক বিধিবিধান সবটাই যেন সন্দেহজনক এবং আপত্তিকর। বলতেই হচ্ছে পুরুষ নারীকে দেখে দাসীরূপে, করেও রেখেছে দাসী; তবে স্বার্থে এবং ভয়েই কখনো সখনও মহিমাকীর্তন করে দেবী রূপে। এমন চোতুর পুরুষ এই প্রাণী, নারীদের নিন্দায় সামান্য সত্য কিংবা সামাজিক ভাবে তাদের মূল্যায়ন করলেও পর্বতীতে যেন মহিমাকীর্তন ছেড়ে তারা সুপরিকল্পিত ভাবে প্রতারণা করে। যুগে যুগেই পুরুষরা সাধারণত প্রতারণা ক'রে এসেছে নারীকে। তবে আশান্বিত কথা গুলো হচ্ছে উনিশশতক থেকে একগোত্র পুরুষ লড়াই করছে নারী সমাজের পক্ষে।তাছাড়াও বর্তমানে আবার গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এক চৌকশ মেধাবী সুদক্ষ নারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যেই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই কাজ করছে।
নারীর ভাগ্য উন্নয়নের জন্য বিশ্ব প্রেক্ষাপটের সহিত বাংলাদেশও আজ অনেকাংশেই সক্রিয়। এই জন্যে বাংলাদেশ সরকারের রয়েছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কর্মসূচি। বলতেই হয় আওয়ামী লীগ সরকার এমন উদ্যোগকে বাস্তবায়িত করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে নারীদের কল্যাণেই কাজ করছে তাঁর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় স্বতন্ত্র ভাবে বা স্বতঃস্ফূর্ততা সহিত। এমন এই মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলি তা হচ্ছে, মহিলা ও শিশু বিষয় সম্পর্কিত জাতীয় নীতি, উন্নয়ন মূলক অনেক কর্ম সূচি গ্রহণ, মহিলাদের আইন ও সামাজিক অধিকার বিষয়াদি, মহিলাদের কর্মের সুযোগ সৃষ্টি ইত্যাদি। এ আওয়ামী লীগ সরকার নারীদের আর্থসামাজিক অবস্থানকেই মজবুতের জন্যেই চাকরিজীবী নারীদের ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করেছে, তাদের সন্তানের পরিচয়ের ক্ষেত্রেও বাবার পাশাপাশি মায়ের নামটি সংযুক্ত করেছে। এই দেশের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুুুষদে সমান অধিকার। এই অধিকারকে সরকার নিশ্চিত ভাবেই প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে কাজ করছে।
গ্রামীণ নারী সমাজের আর্থ-সামাজিক অবস্থানকেই মজবুত করার জন্যে বিভিন্ন রকম ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের জীবনযাপনের মানোন্নয়ন, কাজকর্মে সম্পৃক্ত করবার জন্যেই গ্রামে "একটি বাড়ি, একটি খামার" প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তাদের তাঁত শিল্প, হস্ত শিল্প এবং কুটির শিল্প বিকাশের জন্যে এ সরকার থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। গ্রামীণ নারী সমাজের যখন সহায়তা দেওয়া হয়, দেখা যায় তারা তাদের প্রদেয় সহায়তা কখনো নয় ছয় হয় না। এই সহায়তাকেই পুরোপুরি ব্যবহার করে নারীরা পরিবারকে আর্থিক সচ্ছলতা দিতে পারছে।
জানা দরকার যে, জাতীয় সংসদে নারীদের জন্যেই ৩০টি সংরক্ষিত আসনসহ পুরুষের পাশাপাশি তাঁরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারে। তা ছাড়াও তাঁরা সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের মহিলাদের জন্যেই আছে সংরক্ষিত আসন। আবার চাকরিতেও মহিলাদের জন্য রয়েছে বিশেষ ধরনের এক পদ্ধতি। সেই পদ্ধতিতেই চাকরি পেতে সহায়ক হয়। বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠলেও এ দেশের সংসদ বা সরকারি চাকরিতে নারীর জন্য সংরক্ষিত আসন ও কোটা সংখ্যা বৃদ্ধি এক অর্থেই নারী সমাজকে এসব গুরুত্ব পূর্ণ পদে আনতে আগ্রহী করেছে এ সরকার।শহুরে নারীদের পাশাপাশি গ্রামীণ নারীর অবস্থানের দিকে যদি তাকাই, তাহলে সেখানেও নারীদের প্রতি বর্তমান সরকার বহু পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশে নারী ক্ষমতায়ন এমন সরকারের একটি গুরুত্ব পূর্ণ লক্ষ্য। নারীদের জন্যেই বিনিয়োগের একটি বিশেষ ব্যবস্থা বিদ্যমান রেখেছে সরকার। এমন নারীদের হাতে যখন অর্থ আসে, তখন তাঁদের দরিদ্র পরিবার জানে এখন দুঃখের দিন গুলোর পরিসমাপ্তি হয়তো সামনেই। গ্রামীণ নারী সমাজকেই আর্থিক সহায়তা দিয়ে তাঁদের পায়ের তলার মাটিকে শুধু যে সরকার মজবুত করছে তা না, সে নারীদের স্বাস্থ্যের দিকেও যেন সরকারের বহু দৃষ্টি রয়েছে। যার ফলেই আজ, গ্রামীণ নারীর সুবিধার্থে গড়ে উঠেছে বহু কমিউনিটি ক্লিনিক। সুতরাং মাতৃমৃত্যু হ্রাস এমন এ বাংলাদেশে অনেকখানিই সফলতার দ্বারপ্রান্তে।
বাংলাদেশের নারীসমাজ রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বলা যায়, একেবারেই অনেক আগে পিছিয়ে ছিল। এখন নারীদের দিকে বর্তমান এই আওয়ামী লীগ সরকার চৌকশ সু দৃষ্টির জন্যেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং চাকরিতেও অনেকাংশে গুরুত্ব পূর্ণ ভাবে অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে। উন্নয়নের দেশ, এ বাংলাদেশ। নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্যে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের একটি রোল মডেলে অবস্থান করছে বলেই মন্তব্য করেছে, জাতীয় সংসদের স্পিকার- "শিরীন শারমিন চৌধুরী"। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে স্পিকার, সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী, সংসদ উপনেতা সহ বিরোধী দলের নেতাও- "নারী"।জাতীয় সংসদে মোট- '৭৩ জন' নারীর প্রতিনিধিত্বও রয়েছে। উচ্চ কিংবা নিম্ন আদালতেও আসীন আছে উল্লেখ যোগ্য সংখ্যক নারী বিচারক। আবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়েও রয়়েছে নারী সচিব। দিনে দিনে বাড়ছে নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা। এ দেশের নারীরা পুলিশ, সেনা বাহিনী বা জাতি সংঘের শান্তি বাহিনীর মতো চ্যালেঞ্জিং কাজে উচ্চ পদে সু-দক্ষতার সঙ্গেই কাজ করছে। নারী বিজ্ঞানী, নভোচারী, গবেষক, উদ্ভাবক, রাষ্ট্র নায়ক, যোদ্ধা থেকে শুরু করেই যেন সমাজের সর্বস্তরে তাঁদের প্রতিভা, মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে। সমাজে এ নারীদের ব্যাপক অংশ আজও যে পশ্চাদপদ অবস্থায় পড়ে রয়েছে তা এই পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণেই হয়তোবা কিছুটা। এ অসম্ভব কাজ গুলোকেই সম্ভবনাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দিয়েছে গণমানুষের জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সুুতরাং নারী সমাজের গতানুগতিক ভাবেই শিক্ষকতায়, ডাক্তারি পেশায় এবং মিডিয়া লাইনেও নারীর আধিপত্য এবং তাদের দাপট রয়েছে।
সুতরাং ঐতিহ্যগত ভাবেই কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতির পাশাপাশি এমন এই বাংলাদেশ এখন শিল্প ভিত্তিক অর্থনীতিতেই গড়ে উঠছে। এ দেশীয় তৈরি পোশাক ও ব্যবহৃত বিভিন্ন ঔষধ শিল্পের সহিত তথ্য প্রযুক্তি খাতও বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে চলছে। একটু জানা দরকার, এ দেশের পল্লী অঞ্চলে নারী সমাজ তেমন অগ্রগতি না হলেও অপর দিকেই যেন নারীরা ধর্ষণ, যৌননির্যাতন, এসিডনিক্ষেপ, নারীহত্যা, নারীপাচার,
নারী অপহরণ, নারী বৈষম্য ও নারীকে বিভিন্ন ভাবে শোষণের সঙ্গে নানা ধরনের অন্যায় অবিচার থেকে অনেকাংশেই যেন মুক্তি দিতে পারছে সরকার। তবে এমন এই সরকারের ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে যা কিছু চোখে পড়ছে তাকেও যথাযথ ব্যবস্থাও নিয়েই খুব দ্রুতগতিতেই বিচারের আওতায় নিয়ে আসছে।বাংলাদেশের নারীদের সুরক্ষায় অসাম্প্রতিক সময়ে হয়েছে বিভিন্ন আইন। প্রিভেনশন অ্যান্ড রেসট্রেইন অব হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যাক্ট, পর্নোগ্রাফি কন্ট্রোল আইন সঙ্গেই পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ আইন ইত্যাদি। নির্যাতিতা নারীদের আইনগত সুবিধা এবং অভিযোগ নেওয়ার জন্যেই এ দেশে প্রতিটি জেলায় খোলাও আছে স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার। তাই ধর্ষিতা নারীদের অনেক হেল্প করার জন্যেই যেন কয়েকটি সরকারি হাসপাতালেও সরকারের উদ্যোগে জরুরি পরীক্ষার জন্যেই ডিএনএ ল্যাব খোলা হয়েছে।
নারী সমাজের পায়ের তলা সৃদৃঢ় ভিত্তি তৈরি করতে অবশ্য প্রয়োজন রয়েছে নারী শিক্ষা। এখন এ দেশে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সব ছাত্রীদের বিনামূল্যে অধ্যয়ন করতেই সহায়তা প্রদান করছে। প্রবেশিকা পরীক্ষা থেকে শুরু করেই যদি এমন নারী সমাজের বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফলের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হয়, তবে ভালো ফলাফলধারী হিসেবে দেখা যাবে নারীই এগিয়ে রয়েছে। শুধু শহরে নয়, গ্রামেও যে মেয়েটি প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাচ্ছে তার মধ্যেও ব্যক্তি সচেতনতা দিনে দিনেই গড়ে উঠছে। বর্তমানে বাংলাদেশের নারী শিক্ষায়, স্বাস্থ্যে, আইনগত ভাবে, আর্থিকভাবে, মানসিক সাপোর্টে প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রকে সঙ্গে পাচ্ছে। সেই সঙ্গে নারীর অগ্রগতির পথে পাশে রয়েছে তাঁর পরিবার।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী "শেখ হাসিনা" গ্রামীণ নারীদের অবস্থানকে চৌকশ ভাবে তুলে ধরে বলেন, তাদের জীবন যাপন এবং অবস্থাকে সঠিক সময়েই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের প্রচ্ছন্ন ভূমিকার প্রতি এই সরকার ও জনগণের অনুভূতিকে জাগ্রত করার সঙ্গে নারীর বহুমুখী কার্যক্রমের সমর্থন দিতে হবে। তাদের বহু ধরনের বাস্তবতাকে তুলে ধরে এই নারীদের অর্থনৈতিক কিংবা সামাজিক মর্যাদাকেই সমুন্নত রাখতে হবে। পরিবেশ ও প্রাণ বৈচিত্র্য এবং তাদের কৃষিকর্ম রক্ষায় গ্রামিণ নারীদের যে ভূমিকা রয়েছে, তাঁর উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট ভাবে নিশ্চিত করেই সহযোগিতা প্রদান প্রয়োজন। এ দেশের গ্রামাঞ্চলে পরিশ্রমী নারীর পাশা পাশি সকল নারী সমাজকেই প্রচ্ছন্ন ভাবে ব্যাপক অবদানে রাখলে নারী সমাজ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়নে আর অবহেলিত থাকবে না। তাঁদের ঘর-সংসারের যাবতীয় কাজকর্মের পাশাপাশি সামান্য আয়ে তাঁরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করবে বলেই জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বাস। তিনি বলেছেন, পারিবারিক ভাবেই নারীরা বিশেষ করে গ্রামীণ নারী সমাজ প্রচন্ড চাপের মুখে থাকে। আবার দেখা যায়, তাঁরা কোনো কাজ করেও শ্রমমুল্য এবং সম্মান ঠিক মতো পায় না। অত্যাচার, নির্যাতন আর বৈষম্যের মূল শিকারে অবস্থান করে গ্রামীণ নারী সমাজ। আবার স্বীকার করে নিতে হবে যে, গ্রামীণ নারীসমাজ ঐতিহ্যগত ভাবে যেন গ্রামীণ কৃষি ও বীজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও প্রাণ বৈচিত্র্য এবং পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। কৃষি ব্যবস্থার কাঠামো গড়ে উঠেছে এক কথাতেই বলা যায় নারী সমাজের বহুবিধ জ্ঞান, পরিশ্রম এবং দীর্ঘ অনুশীলনের মাধ্যমে। বাংলাদেশের নারীসমাজ পরিশ্রম করেই ঘরে ঘরে বিভিন্ন প্রকারের কৃষি বীজ উৎপাদনের মধ্য দিয়েই পুরুষদের চাষাবাদের জন্য সহযোগিতা করে থাকে। পাশাপাশি পরিবার কিংবা সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেই তাঁদের ভূমিকাও সারা বাংলাদেশ জুড়ে এক ধরনের ঐতিহ্যপূর্ণ সংস্কৃতিতে পরিনত হয়েছে। আর এ দেশের গোল্ডেন গার্লরা যে আমাদের চরম শক্তি। গোল্ডেন গার্ল তথা আমাদের গার্মেন্টস-নারীরা তো বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অনেক সাফল্য এনেছে। তাঁদের এ সরকার অনেক সুযোগ সুবিধা দিয়েছে এবং তাঁরা অবিরাম পরিশ্রম করেই এ দেশের সুনাম বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।
প্রত্যন্ত গ্রামে কিংবাা শহরে গরিব-অসহায় মেয়েদের বাল্যবিবাহের শিকার হয়, আবার অনেক নারীরাও যেন নেশায় আসক্ত হয়়ে যাাচ্ছে। এই সন্তানদের তো মানুষ করতে হবে। এমন সন্তানকেই মানুষের মতো মানুষ হওয়ার দোষ বা দ্বায় সরকারের নয়। তবুও এ আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিবন্ধী নারী সহিত সকল নারীসমাজের আত্মমর্যাদা, বাল্যবিবাহ এবং নেশায় আসক্ত থেকে পরিত্রাণের ব্যবস্থা নিয়েছে। সুুতরাং পরিশেষেই একটি কথা বলি, নারীরা কখনই কোনো দুর্বল মানুষ নয়। কেউ নারী হয়ে জন্মায় না। সমাজ একটি মানব শিশুকে ধীরে ধীরে নারী'তেই পরিণত করে। শৈশব থেকে হাজারো নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে হতেই হয় "নারী"। পারিবারিক এবং সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে নারীরা নিজেই নিজেকেই অবলা ভাবতে শিখে। নারীর মন ও মননের বিকাশের জন্য শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। নারীদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হতে হবে, তাদের কারো উপর নির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকার মতো সে দুর্বিসহ এবং অসহায় জীবন আর নেই। তাই নারীকে ভাঙতে হবে তার শৃঙ্খল। মানুষ হিসেবেই মূল্যায়ন কিংবা একটি সম্মানজনক জীবন নারী পেতেই পারে। তাই "শেখ হাসিনা" যোগ্য মানুষ হিসেবেই বাঁচার অধিকার যেন নারী সমাজকে নিশ্চিত করছে। তিনি বলেন, সমাজ তখনই পরিবর্তন হবে, যখন এই সমাজের সর্বস্তরের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে। সুতরাং দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য সকল পুরুষদের প্রতি আহ্বানসহ প্রত্যেকে নারীদের উন্নততর জীবনচর্চারও নির্দেশনা দিয়েছে।
লেখক : কলামিস্ট ও প্রভাষক।

বিস্তারিত খবর

কোটা বাতিলের ঘোষণা নাকি প্রতারণা?

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-০৪ ১৪:৩৫:১০

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে একই স্থানে একই বিষয়ে একই মুখে দু’রকম ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছেন। তা হলো কোটা বাতিলের ঘোষণা। আজ ০৩ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে মন্ত্রীসভার বৈঠকে তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে কোটা বাতিলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছেন। এর আগে মাননীয় মন্ত্রীপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকুরিতে কোটা বাতিলের প্রস্তাব করেছেন। ঠিক তখনি ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটির অধীনে সরকারি ব্যাংকসমুহে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে অনেকগুলো পদে শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হয়েছে। (বিজ্ঞপ্তি নম্বর- ১৫১/২০১৮, তারিখ- ১আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ)। ৪০তম বিসিএসেও মুক্তিযোদ্ধা কোটাসুবিধা ও তাদের ৩২বছর বয়সের সুযোগ রয়েছে। যেসব পদে কোটা বাতিলের ঘোষণা হয়েছে, ঠিক তাতেই শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বহু নিয়োগ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে চলমান রয়েছে। অর্থাৎ একদিকে মাত্র কয়েকটি পদে কোটা বাতিলের ঘোষণা অন্যদিকে উক্ত পদেই শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি কেমন হল? এটি কি আদৌ কোটা বাতিলের ঘোষণা, নাকি আগের মতোই প্রতারণা?
কোটা অর্থ, অন্যায় বৈষম্য বা অন্যায় সুবিধাদান। এতে একপক্ষ বৈষম্যের শিকার হয় এবং অন্যপক্ষ অন্যায় সুবিধা পায়। জনগোষ্ঠির মাঝে ভারসাম্য রক্ষা বা সমতা বিধানে কোটার প্রচলন হয়। বাংলাদেশে ৫৬ভাগ কোটা প্রচলিত। এতে ১০ভাগ করে জেলা ও নারী কোটা, ০৫ভাগ উপজাতি কোটা, ০১ভাগ প্রতিবন্ধী কোটা এবং সর্বাধিক ৩০ভাগ রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাকোটা। জেলা, নারী ও উপজাতি কোটায় দেশের প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠি বিশেষ সুবিধা পায়। প্রকৃতপক্ষে বিভাগীয় ও প্রত্যন্ত জেলার জীবনমান সমান নয়। পুরুষ ও নারীর যোগ্যতা ও জীবনমান সমান নয়। একইভাবে পাহাড়ি ও সমতল এলাকার জীবনমানও সমান নয়। এসব ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষায় অন্তত ০৩ভাগ করে কোটা বিবেচনা করা যায়। আর একান্ত মানবিক কারণে ০১ভাগ প্রতিবন্ধী কোটা বাতিল করা উচিত নয়। এ ১০ভাগ কোটা বহাল রাখা, একান্ত মানবিক বিষয়।

৩০ভাগ মুক্তিযোদ্ধাকোটা তেমন গুরুত্বপুর্ণ নয়। এটি সম্পুর্ণ ঐতিহাসিক ও চেতনার বিষয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পর্যালোচনায় কোথায়ও এ কোটার অস্তিত্ব নেই। বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, ভাতা ও কোটা ছিলনা। তখন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ছিলনা। যারা বঙ্গবন্ধুর প্রতি কোটা বৈষম্যের অপবাদ দেন, তারা তাঁর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বিকৃত করেন। কেউ যদি বলেন, বঙ্গবন্ধু মুক্তিযোদ্ধা কোটা চালু করেছেন বা মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দিয়েছেন; সম্পুর্ণ মিথ্যা কথা। বঙ্গবন্ধু ২লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা, তাদের জন্য ভাতা ও কোটা চালু করলে, কখনোই ৩০লাখ শহীদের ঘোষণা দিতেননা। বঙ্গবন্ধু তাঁর সকল ভাষণ ও কর্মকান্ডে তৎকালিন সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালিকে একীভূত করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য শুধু ৬৭৬ যোদ্ধাকে বিশেষ খেতাব প্রদান করেছেন। ঘোষিত ৩০লাখ শহীদের পক্ষ থেকে ৭জনকে বীরশ্রেষ্ঠ এবং অবশিষ্ট সকল যোদ্ধা, বন্দী, আত্মত্যাগী ও সহযোগী বীর বাঙ্গালির পক্ষ থেকে ৬৬৯ জনকে (বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতিক) খেতাব প্রদান করেছেন। তিনি দেশের সবাইকে মুক্তিযোদ্ধা ও লাখো শহীদের পরিবারভুক্ত করেছেন। তিনি ৩০লাখ শহীদ ও অগণিত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, তাদের জন্য ভাতা ও তাদের সন্তান-সন্ততির জন্য কোটা চালুর কথা কখনো ভাবেননি।  এজন্যই তিনি বাঙ্গালি জাতির পিতা স্বীকৃত হয়েছেন।
বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতের পর স্বার্থান্বেষী রাজনীতিবিদগণ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অযথা বাড়াবাড়ি করেছেন। তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বর্জন করে সাড়ে সাত কোটি বীর বাঙ্গালির পরিবর্তে নিজেদের পছন্দমত ২লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা করেছেন। তালিকাভুক্তদের জন্য ভাতা ও তাদের সন্তান-সন্ততির জন্য কোটা চালু করেছেন। জাতীয় সংসদ থেকে বাজেট বরাদ্দ দিয়ে অবৈধ স্বার্থের বিনিময়ে কোটাভোগীদের রাজনৈতিক হাতিয়ারে ব্যবহার করেছেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের অধীনে কমপক্ষে ৪/৫টি পরিবারকে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসুবিধা প্রদান করে তাদের দ্বারা ভোটকেন্দ্র দখলের পায়তারা করেছেন। এভাবে মুক্তিযোদ্ধা কোটাভোগীরা সরকারের কাছে গুরুত্বপুর্ণ বিবেচিত হয়েছেন। সরকার তাদের স্বার্থ রক্ষায় একটি পুর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় চালু করেছেন। এতে হাজার হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দিচ্ছেন। দেশের সকল চাকুরি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে ৩০ভাগ মুক্তিযোদ্ধাকোটা পুরোপুরি পরিপালন করেছেন। স্বাধীনতার পর এযাবত দেশে যত নিয়োগ হয়েছে এবং তাতে ৩০ভাগ মুক্তিযোদ্ধাকোটা পরিপালনে যেটুকু ব্যাত্যয় ঘটেছে, তা পুরণ করেছেন। যেমন ধরুন, কোনো প্রতিষ্ঠানে এযাবত ১০০০ নিয়োগ হয়েছে। তাতে ৩০ভাগ মুক্তিযোদ্ধাকোটায় ৩০০জন নিয়োগের কথা। হয়তো ১০০পদে ব্যাত্যয় ঘটেছে। বর্তমানে উক্ত প্রতিষ্ঠানে আরো ১০০পদ খালি হয়েছে। তাতে মুক্তিযোদ্ধাকোটায় ৩০পদ ও ব্যাত্যয়ঘটিত ১০০পদ মিলে সম্পুর্ণ নিয়োগপ্রক্রিয়া শুধু মুক্তিযোদ্ধাকোটায় সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি বিসিএস, বিভিন্ন ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধাকোটায় নিয়োগ হয়েছে। এভাবে দেশের সকল প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা কোটাভোগীগণ প্রাধান্য লাভ করেছেন। ২লাখ তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার থেকে কোটাভোগীরা সংখ্যায় প্রায় ২০লাখে উন্নীত হয়েছেন। এমতাবস্থায় সরকার কোটা বাতিলের ঘোষণা দিলেও তা মুক্তিযোদ্ধা কোটার ক্ষেত্রে কখনো প্রযোজ্য হবেনা। ষঢ়যন্ত্রের মাধ্যমে কোটা বাতিলের ছলনায় কোটাভোগীদের অপশক্তি প্রদর্শনে সরকার তাদেরকে আন্দোলনে নামিয়ে শোডাউনের পায়তারা করেছেন। অর্থাৎ সরকার ছলেবলে কৌশলে মুক্তিযোদ্ধাকোটা বহাল রাখবেন।
মূলত সরকারের উচিত, কোটার যৌক্তিক সংস্কার করা। উল্লেখিত ১০ভাগ মানবিক কোটা বহাল রেখে মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল কোটা বাতিল করা। বাঙ্গালি জাতির পিতার মহান আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা রক্ষা করা। এপ্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা কোটাভোগীদের অসার দাবি যৌক্তিকভাবে খন্ডন করা। তা হলো- দেশের কোটাবঞ্চিত কোটি কোটি ছাত্রজনতা, তারাও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম। তারাও বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম। তারাও লাখো শহীদ প্রজন্ম। তারা অমুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম নয়। শুধুমাত্র ২লাখ তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা দেশ স্বাধীন করেনি। প্রচলিত ২লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ও কোটার ফলে ৩০লাখ শহীদের আত্মত্যাগ অস্বীকার করা হয়েছে। লাখো শহীদ প্রজন্মের প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে। বাঙ্গালি জাতির পিতার মুখশ্রিত ’১৯৭১ এর সকল বাঙ্গালিই মুক্তিযোদ্ধা’ ঘোষণাটি শাস্বত ও চিরন্তন সত্য। যারা এ সত্য অস্বীকার করবে, তারা বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম নয়। সুতরাং শুধুমাত্র প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকুরিতে নয়, সকল চাকুরিতে কোটা বাতিলের ঘোষণাটি  দ্রুত গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা উচিত। এছাড়া সরকারের এ ঘোষণা, সাব্যস্ত হবে নিছক প্রতারণা।


বিস্তারিত খবর

বিশ্বের ১'শ ব্যক্তির মধ্যেই পলককে রাজনীতিবিদ ক্যাটাগরিতে মূল্যায়ন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-২৬ ১৩:৫৮:৫৩

বাংলাদেশের সাংবিধানিক নামের এইদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। এমন এই দেশ সুুুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা, মাছে-ভাতের নদী মাতৃক দেশ। এমন দেশের সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। সুতরাং এমন এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার উঠে পড়েই লেগেছে। বলতে বাধা নেই এই দেশ, একটি উন্নয়নশীল দেশ। এইদেশে শিক্ষার হার উন্নত দেশের তুলনায় কম বলা চলে। দেখা যায় স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষার মানের উন্নয়ন ঘটেনি সেই হারে। আবার মানুষের জীবন যাপনের ব্যাপক পরিবর্তনও ঘটেছে। সাথে সাথে রুচিবোধের পাশা পাশি সামাজিক রীতিনীতি, কৃষ্টি কালচারের চর্চাটাও অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এই দেশের সরকার বৃহৎ একটি স্বপ্ন কিংবা আশা আকাঙ্ক্ষার আলোকে সমাজ পরিচালিত করছে। বাংলাদেশকে নিয়ে সুচিন্তিত পরিকল্পনায় আওয়ামী লীগ সরকার বিরাট এক পরিবর্তন আর ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ নামক একটি প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
বর্তমান সরকার ডিজিটাল কার্যক্রমের মাধ্যমে সারা বিশ্বে তথ্য প্রযুক্তির সুফল পাওয়ার লক্ষ্যেই নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগ সরকার মহাকাশে খুব গুরুত্বপূর্ণ এক সফল নির্মাণ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। তবে জানা দরকার মহাকাশে বিভিন্ন প্রকার স্যাটেলাইট রয়েছে। এই গুলোর মধ্যে- 'আবহাওয়া স্যাটেলাইট,' 'পর্যবেক্ষক স্যাটেলাইট,' 'ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট'। তাছাড়া বিএস-ওয়ান স্যাটেলাইট হচ্ছে যোগাযোগ ও সম্প্রচার স্যাটেলাইট।
"বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট" এর কাজ মুলত টিভি চ্যানেল গুলোর স্যাটেলাইট সেবা নিশ্চিত করা। এমন এই স্যাটেলাইটের সাহায্যে চালু করা যাবে ডিটিএইচ বা ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস। তাছাড়াও এই 'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট' যেসব জায়গায় অপটিক কেবল কিংবা সাবমেরিন কেবল পৌঁছায়নি সে সব জায়গায় এমন স্যাটেলাইটের সাহায্যে নিশ্চিত ভাবেই তা পৌঁছাবে।আরও পারে ইন্টারনেট সংযোগ। সুতরাং আওয়ামী লীগ সরকার স্যাটেলাইটের সুফল পৌঁছে দিতে যেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের দোরগোড়ায় অনেকে কাজ করছে। তাদেরই মধ্যে ‘'সবচেয়ে প্রভাবশালী'’ ও "কর্মদক্ষ" ১০০ জন ব্যক্তির নামের এক তালিকা "আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক অ্যাপলিটিক্যাল" প্রকাশ করেছে। এমন এই তালিকায় উল্লেখ যোগ্য ব্যক্তির মধ্যেই 'অস্ট্রেলিয়ার প্রধান মন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল,' 'ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা-আকুফো আদো' ও 'ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের প্রতিষ্ঠাতা টিম বারনার্সলি'র সঙ্গে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রতিমন্ত্রী 'জুনাইদ আহমেদ পলক' এর নামও স্থান পেয়েছে।একুশ শতকে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই শেখ হাসিনা ছয় জানুয়ারি ২০০৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় বারের মতো শপথ নিয়েছিলেন। সুতরাং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের বছরে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ ও তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণই ছিল সরকারের মূল নির্বাচনী ইশতেহার। তাই সরকার চ্যালেঞ্জ নিয়েই যেন দিনে দিনে তথ্য প্রযুক্তির অনেক ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনে সক্ষম।
অ্যাপলিটিক্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা "রবিন স্কট" বলেছেন, 'বিশ্বের নানা প্রান্তে যারা ডিজিটাল গভার্নেন্স প্রতিষ্ঠায় রত তারা নিরলস ভাবেই কাজ করছে, তাদের খুঁজে পেরেছি এটা অনেক আনন্দের বিষয়। এমন এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিগণ স্ব স্ব ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়ন। তাঁরা জ্ঞানের আলোকে সারাবিশ্ব সহ বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছায়ে দিচ্ছে এবং বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির কাজ করছে। এই প্রযুক্তির ঝুঁকি কমানোর অনেক চেষ্টাও করছেন।' বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমন এই উদ্যোগের আলোকে বলা যায়, ১২ ডিসেম্বর, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ এর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা ছিল ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে এদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত হবে। একটি উন্নত দেশ হবে, সমৃদ্ধশালী ডিজিটাল সমাজ হবে, এমন ডিজিটাল যুগের জন সাধারণ অনেকাংশেই যেন সফলতার দ্বার প্রান্তেই পৌঁছাবে, রূপান্তরিত অনেক উৎপাদন ব্যবস্থা চালু হবে, নতুন নতুন জ্ঞানভিত্তিক সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সমন্বয়ে একটি জ্ঞান ভিত্তিক সমাজের স্বপ্নেই বিভর ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১মবারের মতো ‘'ওয়ার্ল্ডস হান্ড্রেড মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল পিপল ইন ডিজিটাল গভার্নমেন্ট’'- শীর্ষক তালিকায় প্রতিমন্ত্রী পলকের নাম এসেছে ‘রাজনীতিবিদ’ ক্যাটাগরিতে।সুতরাং তাঁদের প্রধান এই বিষয়ের কাজও ত্বরান্বিত হচ্ছে।
আসলেই এমন এই উদ্যোগের ডিজিটাল বাংলাদেশ সত্যিই বিশ্বের জ্ঞানভিত্তিক সমাজের সঙ্গে মিলিয়েই বাংলার জনগোষ্ঠীকে উপহার দেওয়া খুব প্রয়োজন বৈকি। আমাদের দামাল ছেলেরা অনেক রক্ত দিয়ে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আজকের এই বাংলাদেশ পেয়েছে। আজ আমরা তিল তিল করেই দাঁড়াতে শিখছি। তাই বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের সোনার ছেলেরা হাতের নাগালে পেয়ে যাবে অনেক আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ। তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর উন্নয়নশীল দেশ ও সমৃদ্ধশালী নতুন জীবন।
‘বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি’ ২০০৯ সালের ১৭ থেকে ১২ নভেম্বরে “ডিজিটাল বাংলাদেশ সামিট” নামক এ বিষয়ে প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল, যাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো আলোচিত হয়। প্রচলিত শিক্ষা ও সংস্কৃতিতেও আমূল পরিবর্তন এনেই তথ্য প্রযুক্তির সমন্বয় করতে হবে। আর না পারলেই যেন ভবিষ্যতে তরুণ প্রজন্মের কর্ম সংস্থান নিয়ে খুব বড় ধরনের জটিলতায় পড়তে হবে। এমন একথা গুলো বলেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তির মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ডিজিটাল বাংলার এই তথ্য প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা থেকে মন্ত্রিত্ব পাওয়া এমন মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার আরও বলেন, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় বেকার তৈরির কারখানা। আসলেইতো এই প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রকৃত পক্ষে সামনের দিন গুলোতে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা অসম্ভব হবে। কারণ, বর্তমানে দেখা যায় যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা পাঠ্যক্রম, পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষক সহ শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। সুুতরাং এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অভিযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘সঠিক সময়েই’ মোস্তাফা জব্বারকে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন।
এদিকে আবার "তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ" থেকে পাঠানো একটি বিবৃতিতে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং তাঁর সুযোগ্য সন্তান মাননীয় আইসিটি উপদেষ্টা জনাব, সজীব ওয়াজেদ জয় এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে দেশীয় "ডিজিটাল বাংলাদেশ" নির্মাণের অভিযাত্রায় ডিজিটাল সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তনে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই এক অনবদ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে এটি তার বৈশ্বিক স্বীকৃতি।”
ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তাঁর অবদান আসলেই অনেক উল্লেখযোগ্য।বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে তিনি বয়সের বিবেচনায় সবচেয়ে তরুণ। পলক আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছে ২০১৪ সাল থেকে। ২০১৬ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘ইয়াং গ্লোবাল লিডার্স’ তালিকাতেও পলকের নাম আসে। হয়তো বা তাঁর চৌকস ও সুদক্ষ কর্মদক্ষতায় তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞানের আলোকেই গড়ে উঠবে "ডিজিটাল সোনার বাংলাদেশ।"

বিস্তারিত খবর

কোটার রায় কি বৈধ ছিল?

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৫ ১৪:৩৩:৩৩

রায় নিয়ে মন্তব্য করলে যদি আদালত অবমাননা হয়, ইতিহাস বিকৃত করলে কি অবমাননা হয়না? মুক্তিযুদ্ধের সুপ্রতিষ্ঠিত ইতিহাস অবমাননা এবং বাংলাদেশের ১৬কোটি জনতার বঞ্চণা সত্তেও হাইকোর্টের আপীল বিভাগে মাত্র ২লাখ তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার জন্য শতকরা ৩০ভাগ কোটা পরিপালনে যে রায় হয়েছে, তা বৈধ কিনা সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করছি।
১২ জুলাই, ২০১৮ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিষয়ে হাইকোর্টের রায় আছে। এজন্য ৩০ভাগ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হস্তক্ষেপ করা যাবেনা। মাননীয় নেত্রীর বক্তব্যের অনলাইন ভিডিওসুত্র দ্রষ্টব্য- https://www.youtube.com/watch?v=ZfLjJxUsWmY&t=161s| তিনি হাইকোর্টের রায় ও মামলার রেফারেন্স হিসেবে মাননীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর প্রেসব্রিফিংয়ের কথা উল্লেখ করেন। লেখার কলেবর কমাতে উক্ত প্রেসব্রিফিংয়ের অনলাইন ভিডিওসুত্র প্রদত্ত হল- https://www.youtube.com/watch?v=va38Y5u6jbA&feature=share|
১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে লড়াকু বীর ও শহীদের সংখ্যা প্রসঙ্গে স্বাধীনতার স্থপতি বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুস্পষ্ট বক্তব্য ও তাদের প্রতি গৃহীত কর্মপন্থা বিদ্যমান। যারা এর বিরোধীতা করে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ও কোটা প্রণয়ন করেছে, তারা নিঃসন্দেহে স্বাধীনতা বিরোধী। আর স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষে রায় প্রদান কি বৈধ?
বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ এর ১০ জানুয়ারী দেশে ফিরে প্রথম ভাষণেই মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ হারানো ৩০ লাখ শহীদ ও লাখো সম্ভ্রমহারা মা-বোনের সংখ্যা সুস্পষ্ট ঘোষণা করেন। তিনি লাখ লাখ জনতার উদ্দেশ্যে বলেন-আপনারাই লড়াই করে এদেশ স্বাধীন করেছেন। আপনাদেরই ৩০লাখ প্রাণ হারিয়েছেন এবং লাখ লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন। আপনাদের জানাই স্যালুট। আজ এ স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব আপনাদেরই। ভাষণটি অনলাইন দ্রষ্টব্য-https://www.youtube.com/watch?v=__CHdKMmQfo| (এ প্রসঙ্গে আরো অসংখ্য উদ্ধৃতি ও প্রমাণ বিদ্যমান)। বঙ্গবন্ধু মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের সংখ্যাটি ভাষণেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। লাখ লাখ শহীদ থেকে ০৭(সাত) জনকে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি তথা বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব প্রদান করেছেন। আর অগণিত মুক্তিযোদ্ধা থেকে ৬৬৯ জনকে তিন স্তরে (বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক) খেতাব প্রদান করেছেন। প্রদত্ত খেতাব অনুসারে, মুক্তিযোদ্ধার চেয়ে শহীদের সংখ্যা অনেক কম। শহীদগণ মুক্তিযোদ্ধাদের অংশ মাত্র। যুদ্ধে আহত, নিহত, গাজী, বন্দী, শরণার্থী ও সহায়তাকারী সবাই মুক্তিযোদ্ধা। অর্থাৎ শহীদগণ সবাই মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাগণ সবাই শহীদ নন। শহীদগণ প্রাণপণ যুদ্ধ না করলে, বাংলাদেশ স্বাধীন হতনা। যেমন, ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ কালো রাতের ঘটনা। সে রাতে বঙ্গবন্ধু ও বীর শহীদগণ ব্যতিত প্রায় সবাই আত্মরক্ষা ও দেশত্যাগে ব্যস্ত ছিলেন। তখন বহু বীর জীবনের মায়া ত্যাগ করে পাকবাহিনীর বিরূদ্ধে অস্ত্র ধরেছিলেন। তারা যুদ্ধ করতে করতে প্রাণ হারিয়েছেন। এ শহীদদের চেয়ে বড় মুক্তিযোদ্ধা কে? বঙ্গবন্ধু শ্রদ্ধাভরে বারবার তাদের স্মরণ করেছেন। তাদের বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব দিয়েছেন। অর্থাৎ ৩০লাখ শহীদ সবাই উচ্চ মানের মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়া অন্যরা সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা। তাদের সংখ্যা ব্যাপক। বঙ্গবন্ধু তাদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেননি। তিনি ৩০লাখ শহীদেরও পুর্ণাঙ্গ তালিকা করেননি।
বলা হয়েছে, ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটা চালু হয়েছে। ২৭ জুন, ২০১৮ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে এ দাবি করেন। অনলাইন ভিডিও দ্রষ্টব্য-https://www.youtube.com/watch?v=cq5QU7YjpmQ| বঙ্গবন্ধুর সকল ভাষণ, কর্মকান্ড, শাসনপ্রণালী, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের খেতাবপ্রদান ও জীবনচরিত বিশ্লেষণে সুস্পষ্ট হয়, তিনি সারাজীবন বৈষম্যমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গড়তে সংগ্রাম করেছেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ ভেদাভেদ করেননি। বঙ্গবন্ধু মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করলে, তা ছিল ব্যাপক। ০৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ ও ৬৬৯ জন খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া আপামর জনতাকেই তিনি সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা করেছেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের সন্তান-সন্ততি নির্বিশেষে কারো জন্যই কোটা চালু করেননি। তিনি তালিকা প্রণয়ন বা কোটা চালু করলে, সবার আগে ৩০ লাখ শহীদ ও সম্ভ্রমহারা মা-বোনের তালিকা করতেন এবং তাদের অসহায় সন্তানদের কোটা দিতেন। তখন অগণিত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করা সম্ভব ছিলনা। তাই কেউ যদি দাবি করেন- তিনি ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেয়েছেন, তা জঘন্য মিথ্যাচারিতা।
বঙ্গবন্ধু শহীদ হবার পর তাঁর আদর্শ ও নীতি বর্জন করে স্বার্থান্বেষী মহল প্রায় ২লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা করে। তাদের জন্য ভাতা ও তাদের সন্তান-সন্ততিকে দেশের ১৬ কোটির জনতার তুলনায় শতকরা ৩০ভাগ কোটাসুবিধা প্রদান করে। এতে ৩০লাখ বীর শহীদ ও লাখ লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনের সংখ্যা ও স্বীকৃতি মুছে যায়। অগণিত লড়াকু বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বঞ্চিত হয়। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা, এম এ জি ওসমানী, খন্দকার মোশতাকসহ বহু ত্যাগী নেতা মুক্তিযোদ্ধা তালিকা বঞ্চিত হন। প্রতিষ্ঠিত হয় যে, শুধু তালিকাভুক্ত ২লাখ মুক্তিযোদ্ধাই দেশ স্বাধীন করেছেন। অন্যরা মুক্তিযোদ্ধা নন। ৩০লাখ শহীদ ও লাখো সম্ভ্রমহারা মা-বোনের তালিকা তো দুরের কথা; তাদের সন্তান-সন্ততির স্বীকৃতি প্রশ্নই আসেনা। এভাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর মহান আদর্শ বিলুপ্ত হয়। আর তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান-সন্ততি ও নাতি-নাতনিদের শতকরা ৩০ভাগ কোটাসুবিধার ফলে দেশে বৈষম্যের পাহাড় সৃষ্টি হয়।
মহামান্য আদালত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর চেতনা বিবেচনা ছাড়াই স্বার্থান্বেষী মহলের পক্ষে একপেঁশে রায় দিয়েছে। ২লাখ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য শতকরা ৩০ভাগ কোটা পরিপালনে জোর তাগিদ দিয়েছে। মূলত আদালতের কাজ, আইন বিশ্লেষণ ও বিচার পরিচালনা করা; ইতিহাস গবেষণা নয়। আদালতের উচিত ছিল, প্রচলিত ২লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকার যথার্থতা নির্ণয় করা। যারা মুক্তিযোদ্ধাদের অবৈধ তালিকাটি করেছে, তাদের চিহ্নিত করা। তারা জঘন্য অপরাধী। মামলার এজাহার অনুসারে অপরাধীদের বিচার করা। কোটার প্রকৃত হকদার মুক্তিযোদ্ধারা নাকি বীর শহীদের স্বজনেরা, তা বিবেচনা করা। আদালত তা করেনি। বাচ-বিচার ছাড়াই প্রচলিত ২লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা যথার্থ বিবেচনা করেছে। তাদের পক্ষে বৈষম্যমূলক রায় প্রদান করেছে। প্রকৃতপক্ষে, বিচারবিভাগের কর্মকান্ড বিশ্লেষণ ও তদারকির জন্য বিধিবদ্ধ সংস্থা থাকলে, আদালত কখনই স্বার্থান্বেষী মহলের পক্ষে এমন রায় দিতে পারতনা।
অতএব উচিত, মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে প্রদত্ত রায়টি নিখুঁত বিশ্লেষণ করা। মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের স্বীকৃতি, সংখ্যা ও কোটা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের সমাধান করা। বাঙ্গালি জাতির জনকের প্রকৃত আদর্শ বাস্তবায়ন করা। বীরশহীদ, আত্মতাগী, ভুক্তভোগী ও বীরযোদ্ধা নির্বিশেষে দেশের আপামর জনতাকে মুক্তিযোদ্ধা ও লাখো শহীদের প্রজন্ম ঘোষণা করা। প্রচলিত কোটার কারণে লাখো শহীদের স্বজন ও আপামর জনতা যে বঞ্চণার শিকার হয়েছে, তা নিরসন করা। বঞ্চিতদের দাবি পূরণ করা। চাকুরিতে প্রবেশে বয়স কমপক্ষে ৪৫ বা ৪০ করা।

বিস্তারিত খবর

মাদক নির্মূলে ক্রসফায়ার নয়

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৬-০৫ ১৫:৫১:৫৪

"মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে'', ''মাদক এক ভয়ংকর কীট, জীবনকে কুরে কুরে খায়'', "মাদক পরিহার করুন এবং নিজে বাঁচুন, আগামী প্রজন্মকে বাঁচান", "অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীর ছোবল থেকে বর্তমান ও আগামী নতুন প্রজন্মকে বাঁচান", "আমরাও বাঁচতে চাই, মাদকমুক্ত জীবন চাই" এমন মাদক বিরোধী প্রচারপত্র বিতরণ, উদ্বুদ্ধকারী বহু স্লোগান সংবলিত পোস্টার, ব্যানার, প্লেকার্ড বা আয়োজনে রয়েছে পথসভা কিংবা পথে পথে গণমানুষের কন্ঠস্বরে ধ্বনিত হয় মাদকবিরোধী প্রতিবাদ সহ অনেক র‌্যালি। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগেই আয়োজন হচ্ছে মাদক বিরোধী আলোচনা সভা এবং সেমিনার। মাদকদ্রব্য ব্যবহার এবং এর অবৈধ পাচারের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গড়ে তোলা সহ বিভিন্ন কর্মসূচি হচ্ছে সারা দেশে। বাংলাদেশের এমন এ সমস্যা ক্রমাগতভাবেই দিনে দিনেই যেন বিপুল আকার ধারণ করছে। তাই মাদকদ্রব্য থেকে পরিত্রাণের জন্যই বর্তমান সরকার "জিরো টলারেন্স" নীতি অবলম্বন করছে।
মাদকের অপব্যবহার ও মাদকাসক্তি নিয়ে পৃথিবীর প্রায় সকল দেশ যারপর নাই উদ্বিগ্ন। জনসাধারণের মধ্যেই মাদকাসক্তির বিস্তৃতি দেশের অর্থনীতি এবং সামাজিক আবরণের উপরেই অসুভ প্রভাব ফেলে।এদেশেও আশির দশক থেকে মাদকের ক্রমবর্ধমান অপব্যবহার জাতিকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। সমীক্ষা থেকে ধারনা করা যায় যে, বাংলাদেশের মাদকাসক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বিশ্বের মাদকাসক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি হারের প্রায় দ্বিগুণ। এমন দেশের মাদকাসক্তির অধিকাংশই তরুণ প্রজন্ম এবং তাদের শতকরা ৮০ ভাগ মাদকাসক্তদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ এর মধ্যে।মাদকাসক্তির ক্ষেত্রে এদেশের ভৌগোলিক অবস্থান খুবই নাজুক বৈকি। মাদক উৎপাদন কারী গোল্ডেন ট্রাংগেল ও গোল্ডেন ক্রিসেন্টের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে। তাই বাংলাদেশকে ঘিরেই গোল্ডেন ট্রাংগেল সৃষ্টিকারী তিনটি মাদকদ্রব্য উৎপাদনকারী দেশ হলো: মায়ানমার, থাইল্যান্ড এবং লাওস। আর গোল্ডেন ক্রিসেন্ট সৃষ্টিকারী দেশ গুলো হলো হচ্ছে: পকিস্তান, আফগানিস্তান এবং ইরান। সুতরাং এমন ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেই বাংলাদেশ মাদক পাচারের ট্রানজিট হিসেবে বহু দিন ধরেই ব্যবহার হয়ে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশে এ মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার ও পাচার সংক্রান্ত বিষয়কে নিয়ে যেন সরকার নড়েচড়েই বসেছে। বিগত দশকের শুরুতে বিভিন্ন ভাবে সরকার বন্ধ করার নিয়োম নীতি গ্রহণ করলেও এখন যেন একটু কঠোর ভাবে অর্থাৎ বলা যায় চিরুনি অভিযান। দেখা যায় যে, এখন পর্যন্তই বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্য উদ্ধারসহ অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। আবার কাউকে না কাউকেই মেরে ফেলছে। অতীত ইতিহাস স্মরণেই বলতে পারি এমন ধরনের কর্মসূচি এদেশে কখনোই ছিল না। কিন্তু সরকার হঠাৎ করেই যেন নড়ে চড়ে বসেছে। তারা নাকি দীর্ঘ দিন থেকেই এ বিষয় নিয়ে
অনেক উদ্বিগ্ন। তাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সহ সকল গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়েই গোপন ভাবে একটি বৃহৎ তালিকা তৈরি করেছে।
মাদকমুক্ত একটি সমাজ গঠনের প্রয়াস নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী 'আসাদুজ্জামান খান কামাল' বলেন, মাদককে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত যেন এমন অভিযান চলতেই থাকবে। সমাজের বিভিন্ন স্তরে মাদক গেড়ে বসেছে বলেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে কর্ণপাত করাচ্ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে মাদক চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বাহিনীর অভিযান হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেমন জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছিলেন, সুতরাং তেমনি ভাবে মাদক দ্রব্যের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স ঘোষণায় আগামী নির্বাচন পরিকল্পনা করছেন। সরকারের এ সুন্দর উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য বলেই মনে করি। কিন্তু সারা দেশে চলমান মাদক বিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চলছে তা অবশ্যই যেন ভয়াবহ।বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অনেকেই দেখতে চান না। বন্ধের দাবি জানিয়েও আসছেন, অনেক গুনী জন ব্যক্তি, তম্মধ্যে প্রধান ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি হচ্ছেন: গল্পকার ও কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, নির্মাতা ও অভিনেতা রামেন্দু মজুমদার, আতাউর রহমান, মামুনুর রশীদ, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, কবি নির্মলেন্দু গুণ, মফিদুল হক, গোলাম কুদ্দুছ ও হাসান আরিফ। গণমাধ্যমেই তাঁদের পাঠানো বিবৃতিতে বলেয়েছেন, সমগ্র দেশে মাদক বিরোধী যে ধরনের একটি ভয়ংকর অভিযান চলছে, তার যথাযথ যৌক্তিকতা অনুধাবন করেছে।বাংলাদেশে খুব কম পরিবার রয়েছে যারা মাদকের ভয়াবহতায় নিজ পরিবার রক্ষা করতে পেরেছে। সে দিক থেকে সঙ্গত কারণেই যেন সর্ব স্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনও পাচ্ছে এমন এই মাদকবিরোধী অভিযানে।
আসলে মাদক শুধু বাংলাদেশ নয়, বর্তমান বিশ্ব যে কঠিন সঙ্কটের মুখো মুখি তা হলো মাদকের বিস্তার, যা তারুণ্যের সম্ভাবনাকে অনেকাংশেই নিষ্ক্রিয় করে মরন পথে ধাবিত করছে। প্রয়োজন আছে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান তবে মেরে ফেলা ধারাটি প্রশ্নবিদ্ধ।
মানুষকে উন্নত জীবন দিতে অবশ্যই মাদক পরিহার প্রয়োজন। কিন্তু গভীর উদ্বেগের সঙ্গেই গুনী জনরা অনেক দক্ষতার সহিত লক্ষ্য করেছেন, প্রতি দিনই অসংখ্য মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছে। তাতো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থায় এমন মৃত্যু কখনোই গ্রহণ যোগ্য নয়। বলা যায় সংবিধান প্রদত্ত এমন ভাবে মানব জীবনকে মেরে ফেলার অধিকার কারও নেই। গণ মাধ্যম ও বিভিন্ন স্যোশাল মিডিয়ায় কিছু নিহত ব্যক্তিদের সম্পর্কে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তা অবশ্যই জনগণকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন যা বলেছে তা হলো, মাদক সন্ত্রাসীদের মুল শেকড় উৎপাটনে র‌্যাব প্রধানের ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে কোনো প্রকারের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে দায়িত্ব হলো মূল মাদক অপরাধীকেই খুঁজে বের করা সহ তাদেরকেই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। কিন্তু বিচার আর কোথায় পশুর মতো হত্যা হচ্ছে। এ হত্যারই বা শেষ কোথায়। জনগণের চাওয়া, মাদকের বিরুদ্ধে আইন করে বিচার হোক। এমন বিচার বাংলার মানুষ চায়, কিন্তু এ ক্রসফায়ার তো কোন সমাধান নয়। আবার দেখি ক্রসফায়ারকে যেন নতুন নামে অভিহিত করে বলা হচ্ছে "বন্দুকযুদ্ধ"। বন্দুক যুদ্ধে নিহত করাটাই তো আর মাদক নির্মূলের সমাধান বলে মনে করছে না এদেশের সুশিক্ষিত সুশীল সমাজ। এ ভাবে হত্যা করা গণতান্ত্রিকরাষ্ট্র ও সমাজে অকল্পনীয়। বলতেই পারি, টেকনাফে নিহত পৌর কমিশনার একরামের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পূর্ব অভিযোগের তথ্য গণ মানুষের কাছে আলোচনায় উঠে আসেনি। সুতরাং এই একটি ঘটনা সমগ্র অভিযানকেই প্রশ্নবিদ্ধ এবং জনগণকে আতঙ্কিত করতে যথেষ্টই হবে বলে মনে করি। সামাজিক সুস্থ্যতা অবশ্যই জণসাধারণ চায়। তাই বলে এমন অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেই হয় তো নয়, মাদক দ্রব্যের ছড়াছড়ির পরিবেশে একটা সুস্থ্য পরিবারে কখনোই একজন সুস্থ্য সন্তান গড়ে তোলা উঠতে পারে না। সরকার যদি চেষ্টা করে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূল অল্প সময়ের মধ্যে অবশ্যই করতে পারবে তা সকলেই বিশ্বাস করে। সুতরাং এটাকেও নিয়ে কোনো রাজনীতি করা ঠিক হবে না। অবশ্যই বাংলাদেশের জনগণ খুব চতুরতার সহিত দেখছেন, বুঝছেন এবং সামনে নির্বাচনকেও নিয়ে ভাবছেন।


লেখক: সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

বিস্তারিত খবর

কেন বিপথে কিশোরেরা : আপনার সন্তানের দিকে নজর দিন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৬-০৫ ১৫:৩৬:২১

প্রযুক্তি বদলে দিয়েছে বহুকিছু। গ্রাম থেকে শহর। কিশোর-তরুণদের আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। কমেছে খেলার মাঠ, বিনোদনের জায়গা। যৌথ পরিবার ভেঙে তৈরি হয়েছে একক পরিবার। একই ভবনে বসবাস করা এক পরিবারের কাছে অন্য পরিবার অচেনা।
পারিবারিক বন্ধনের শিথিলতা আর প্রযুক্তির আগ্রাসন তৈরি করেছে নানা সংকটের। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ জড়িয়ে   পড়েছে নানা অপরাধে। মাদকাসক্তি, ইভটিজিং, খুনাখুনিসহ নানা অপকর্মে উঠছে তাদের নাম। পশ্চিমা আদলে গড়ে উঠছে কিশোর গ্যাং।
শিশু-কিশোরদের অপরাধ কার্যক্রম থেকে দূরে রাখতে পারিবারিক বন্ধন জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সমাজ ও মনোবিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, মূলত পরিবারের যতেœর অভাবেই শিশু-কিশোররা বিপথে চলে যাচ্ছে। সমাজও এক্ষেত্রে দায় এড়াতে পারে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, সন্তানের সঠিক পরিচর্যা, তাদের হাত খরচ, নিয়মিত স্কুলে যায় কি না, তারা কোথায় কি করছে এসব বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখতে হবে। এক্ষেত্রে বাবা ব্যস্ত থাকলে মাকে দায়িত্ব নিয়ে সন্তানের সব ভালো মন্দের খোঁজ রাখতে হবে। সমাজে যেসব সন্তান আজ প্রতিষ্ঠিত তাদের প্রত্যেকের পেছনে বাবা মায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। যেসব বাবা মা তাদের সন্তানদের পেছনে নিবিরভাবে লেগে থাকেন তাদের সন্তানরা বিপথে যাওয়ার সুযোগ পায় না। একই সঙ্গে ঢাকা শহরের প্রত্যেকটি অ্যাপার্টমেন্টের মালিকদের প্রত্যেকটি ভবনে বাচ্চাদের খেলার জন্য একটি নির্দিষ্ট প্লে গ্রাউন্ড রাখার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, নিজ সন্তানের প্রতি নজর রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্বের ভেতরে পরে। তাই বাবা মায়ের উদ্দেশ্যে একটাই মেসেজ থাকবে সন্তানের সঙ্গে মিশুন, তার কথা শুনুন এবং আপনার ব্যক্তিগত কিছু সুখ দুঃখের গল্প বা বিষয় বন্ধুসুলভ আচরণ নিয়ে শিক্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করুন। এতে করে বাবা মায়ের প্রতি সন্তানের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়বে। একইসঙ্গে আপনার সন্তানের যদি ব্যক্তিগত কোনো অভাব, আকাক্সক্ষা, না পাওয়ার বেদনা, ক্ষোভ থাকে সেটাও সে অনায়াসে আপনার সঙ্গে শেয়ার করবে। এতে করে সন্তান বিপথে যাবে না। এক কথায় সন্তান ও বাবা মায়ের মধ্যে কোনো গ্যাপ থাকবে না।
সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক রাশেদা ইরশাদ নাসির বলেন, আমার সন্তানের দিকে আমাকেই নজর দিতে হবে। আপনার সন্তানের দিকে আপনার। এটা অনেক আদি সময় থেকেই চলে আসছে। যার যার সন্তান তার তার সম্পদ। কাজেই নিজের ব্যক্তিগত সম্পদকে আমি কিভাবে নিরাপত্তা দেবো সেটা আমার উপর নির্ভর করে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. নাসরীন ওয়াদুদ বলেন, কিশোর সন্তানকে বিপথ থেকে ফিরিয়ে আনতে বাবা মা দু’জনেরই বাচ্চাকে সময় দিতে হবে। তাদের নিয়ে সপ্তাহ অন্তর ঘুরতে যেতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। তারা কি বলতে চায় সেটা মন দিয়ে শুনতে হবে। কোনটা তাদের জন্য ভালো, কোনটা মন্দ সেটা তাদের বুঝাতে হবে, দেখাতে হবে, শিখাতে হবে। কারণ একটা বাচ্চা মানুষ করা সোজা কথা নয়। সত্যি বলতে আমরা নিজেরাই কনফিউজড যে বাচ্চাকে আমরা বুকে জড়িয়ে ধরে মানুষ করবো, নাকি ডে কেয়ার সেন্টারে রেখে। বর্তমান সময়ে আমরা বাবা মায়েরা এতো বেশি আধুনিক আর ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত থাকি যে বাচ্চাকে প্রপার টাইম দেয়ার মতো যথেষ্ট সময়ই থাকে না। প্রত্যেক বাবা মায়েরই উচিত নিজ নিজ বাচ্চার কাছে একজন মডেলে পরিণত হওয়া। যেন তারা বড় হয়ে বাবা মায়ের মতোই হতে চায়। আর বাচ্চারা যদি কোনো মডেল বা আইডলই না পায় তাহলে তারা বড় হবে কিভাবে, আর স্বপ্নই দেখবে কিভাবে।
সমাজ পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইদানিং শিশু কিশোরদের একটা বিশাল অংশ, যারা ছোট্টবেলা থেকেই স্মার্টফোনে আসক্ত। দেড় দুই বছরের বাচ্চা বাবা মায়ের ফোন নিয়ে গেম ডাউনলোড করে খেলছে। বাবা-মা ভীষণ গর্বিত। সেই বাচ্চারা নিজের বাসায় সারাক্ষণ ফোনে মুখ গুঁজে পড়ে থাকে। এমনকি আত্মীয় বন্ধুর বাড়িতে গিয়েও ফোনখানা নিয়ে নিঃশ্বাস বন্ধ করে খেলতে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তার বদলে বাবা মা কী পায়? পায় নিরবচ্ছিন্ন আড্ডার সুযোগ। সন্তান তাদের বিরক্ত করে না। তার বদলে ভবিষ্যতে বাবা মা এমন একটি ছেলে বা মেয়ে পায় যে প্রযুক্তি ও পণ্য আসক্ত, কল্পনাশক্তিহীন এবং বইপাঠে অনিচ্ছুক। আজ যে স্মার্টফোনটা সে ব্যবহার করে, কাল নতুন ফোনের জন্য তার বায়না খুব স্বাভাবিক। আজ যে বাচ্চাটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করার কোনো কারণ নেই, তারই একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকে ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রামে। অথচ যে বয়সে সন্তানের হাতে তুলে দেয়ার কথা রঙবেরঙের বই, রঙিন পেন্সিল, সেই বয়সে তারা তুলে দেন স্মার্টফোন আর ওয়াইফাই কানেকশন। এখানে অসুবিধা একটাই রঙিন বই, খাতা আর রং পেন্সিল দিয়ে বসিয়ে সেগুলো ব্যবহারের সময় সন্তানের পাশে থেকে তাকে সময় দিতে হয়। কিন্তু স্মার্টফোনে তো তা না করলেও চলে। ফলে ফোনটি তার হাতে দিয়ে নিজেদের জগতে চলে যাওয়া খুব সহজ। কিন্তু তারা জানেনও না, কত বড় ক্ষতি তারা সন্তানের করেন।
নাবিল আল নাহিয়ানের বয়স মাত্র চার বছর। পশ্চিম তেজতুড়ি বাজারের এ্যঞ্জেলস হাইস্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী। সকালে ঘুম থেকে উঠে মায়ের হাত ধরে গুটি গুটি পায়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে পথ চলা তার। ছোট্ট নাহিয়ানের পছন্দের খাবার হচ্ছে দুধভাত আর চকোলেট। চকোলেট খাওয়ার আশির্বাদে মুখের দাঁত প্রায় সবগুলোতেই পোকা ধরেছে। বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মা সরকারি কর্মকর্তা। বড় ভাই খুশবু ক্লাস সেভেনে পড়েন। বাবা মা দু’জনেই চাকরিজীবী হওয়াতে প্রায় সময় দুই ভাই খুশবু আর নাহিয়ানকে একা বাসায় থাকতে হয়। খুশবু সবসময়ই একটু লাজুক ও চুপচাপ প্রকৃতির। এদিকে নাহিয়ান পুরোটাই তার বিপরীত মেরুতে অবস্থান। দুষ্টুমি আর চঞ্চলতা যেন তার রক্তে মিশে আছে। সম্প্রতি তার শখ জেগেছে নিজস্ব একটি ফোন ও সিম চাই। সবার ফোন আছে তাদের ফোনে অনেকেই ফোন দেয় কিন্তু নাহিয়ানের ফোনতো নেই এমনকি তাকে কেউ ফোন দেয় না। সরকারি কর্মকর্তা ছোট মামা তুষারকে একদিন কানে কানে বললো মামা আমার একটি ফোন চাই। ভাগনের ছোট্ট এই আবদার রাখতে মামা কিংবা বাবা মা কেউই না করেনি। এখন নাহিয়ানের নিজস্ব একটি ফোন হয়েছে। পরিচিত কেউ কেউ মাঝে মধ্যে তাকে ফোন দিলে সে রিসিভ করে কথা বলে। বাকিটা সময় সে ফোনে গেমস খেলাতেই ব্যস্ত সময় পার করে। ছোট্ট এই বয়সে নাহিয়ানের রয়েছে আলাদা ডেক্সটপ এমনকি ওয়াইফাই সংযোগ। যেটাতে সে মন চাইলেই কার্টুনসহ বিভিন্নভাবে ভার্চুয়াল জগতে ব্যস্ত থাকতে পারে। একটা সময় বিকাল হলেই তার বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গেলেও আজকাল সে প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকেই বেড় হয় না। হয়তো এমন করে একদিন সে ভুলে যাবে তার প্রিয় খেলার মাঠটিকে। বিকালে মা অফিস থেকে ফিরে হয়তো নাহিয়ানকে যে সময় দেয় সেটা তার জন্য পর্যাপ্ত নয়। রাতে বাবা যখন বাসায় ফিরে তখন হয়তো প্রায় রাতেই ঘুমিয়ে থাকে ছোট্ট নাহিয়ান। নাহিয়ানের মতো অনেক শিশু-কিশোরই বড় হচ্ছে অনেকটা সমাজ বিচ্ছিন্ন মানুষ হিসেবে।

বিস্তারিত খবর

মাদক নির্মূল হোক, মানবাধিকার নয়

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৬-০৪ ০৬:০০:১৬

আমাদের দেশে বীভৎস আর পৈশাকি নির্যাতন-হত্যাকা- যেন দিনদিন বাড়ছেই। ঘটনাগুলোর কোনো কোনোটির স্থিরচিত্র, ভিডিও চিত্র কিংবা অডিও ক্লিপ প্রকাশ হওয়ায় নৃসংশতার সাক্ষী হচ্ছি আমরা। এর মধ্যে সাম্প্রতিক উল্লেখযোগ্য দু’তিনটি ঘটনা; শিশু রাজন হত্যার ভিডিও, এমসি কলেজে খাদিজার উপর বদরুলের রাম দা’র কুপ, শিশু রবিউলের পেট ফুলা মৃতদেহের ছবি আমরা দেখেছি এবং সর্বশেষ গত শুক্রবার প্রকাশিত টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হত্যার অডিও ক্লিপ শুনেছি। অমানবিক এসব ঘটনাগুলো দেখতে দেখতে আমরা এতোটাই পাষাণ হয়ে গেছি যে, এসব মৃত্যু বা হত্যাকা- আমাদের মনে আর তেমন একটা নাড়া দেয় না। তবে একরামুলের অডিও ক্লিপটি আমাদের সেই পাষাণ দিলকেও নাড়িয়ে দিয়েছে প্রবলভাবে! ঘুম হারাম করে দিয়েছে কোটি জনতার। সামাজিক মাধ্যমে অডিও ক্লিপটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থেকে তা-ই বুঝা যায়।
“যাচ্ছি মা...” বলে নিজের শেষ পরিণতির দিকে দাবিত হচ্ছিলেন একরামুল। ফোনের অপরপ্রান্তে প্রিয় বাবাকে গুলি করার শব্দ শুনছে মেয়ে, প্রিয়তম স্বামীর বুক ঝাঝরা করা বুলেটের শব্দ শুনছেন স্ত্রী! সেসময় “আব্বু, তুমি কাদতেছো যে!”, “আমার স্বামী কিচ্ছু করে নাই” এরকম বুক ফাটা আর্তনাদ ছাড়া কিছু করার ছিল না তাদের। মৃত্যু সবার জন্য অবধারিত। তাই বলে এতো বীভৎসভাবে, এতো নির্দয়ভাবে প্রিয়জনের মৃত্যুর সাক্ষী হতে হবে আমাদের! কেউ কখনও না ভাবলেও, না কামনা করলেও তা-ই ঘটেছে-ঘটছে। মানবতা-মানবাধিকারের প্রশ্ন এখানে কি অবান্তর?
রাজনকে নির্যাতনের ভিডিও আমরা দেখেছি, কীভাবে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল তা দেখিনি। খাদিজার উপর নৃসংশ হামলার ভিডিও দেখেছি, কিন্তু ভাগ্যগুণে তিনি বেঁচে ফিরেছেন। রবিউলের বায়ু পথে গাড়ির পাম্পার দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়েছে, মৃত্যুর পর তার ফুলা পেটে লাশের ছবি দেখেছি। নির্যাতনের চিত্র দেখিনি। কিন্তু একরামুলকে হত্যার পুরো প্রক্রিয়া আমরা কান দিয়ে শুনেছি।

গত ২৬ মে, শনিবার দিবাগত রাতে মাদকবিরোধী অভিযানে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় নিহত হন টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর ও স্থানীয় যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একরামুলের পরিবার দাবি করছে, একরামুল নির্দোষ, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে রেকর্ডকরা অডিও প্রকাশ হওয়ার পর সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একরামুলের পরিবার বলছে, তাঁকে বাসা থেকে র‌্যাব এবং ডিজিএফআই এর স্থানীয় দু'জন কর্মকর্তা ডেকে নেওয়ার পর হত্যা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সময়কার ফোনকলের এই অডিও সাংবাদিকদের শুনিয়েছে তার পরিবার । সেই অডিওতে শোনা যাচ্ছে যে, একরামুল নিহত হওয়ার ঘটনার সময় এবং তার আগমুহুর্তে ঘটনাস্থলে মোবাইল ফোনে তিনবার কল এসেছিল। শেষ ফোন কলটি রিসিভ হলেও ঘটনাস্থল থেকে ফোনটিতে কেউ উত্তর দিচ্ছে না। যিনি ফোন করেছেন, প্রথমে তার কিছুটা কথা আছে। কিন্তু পরে ঘটনাস্থল বা সেই প্রান্ত থেকে একটা ভয়াবহ পরিবেশের চিত্র পাওয়া যায় এই অডিওতে। একরামুল হকের স্ত্রী আয়শা গণমাধ্যমকে বলেছেন, ঘটনার আগমুহুর্তে তার দুই মেয়ে প্রথমে একরামুলের মোবাইল ফোনে কল করে তার সাথে অল্প সময় কথা বলেছিল। এই কথোপকথনে পরিস্থিতি গুরুতর মনে হওয়ায় সাথে সাথে আয়শা বেগম নিজে ফোন করেন। তার ফোন কলটি রিসিভ করা হয়, কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে কোনো জবাব পাননি। তিনি গুলি এবং ঘটনাস্থলের সব শব্দ শুনতে পেয়েছেন। প্রথমে মেয়ের কল রিসভি করে একরামুল বলেছিলেন, “যাচ্ছি মা...“। কেন জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেন, “জরুরি কাজে”। এসময় তার কণ্ঠ ভারি শুনে মেয়ে প্রশ্ন করে, “আব্বু, তুমি কান্না করতেছো যে!”। তখন একরামুলের স্ত্রী মোবাইল নিয়ে কথা বলেতে চাইলে অপরপ্রান্ত থেকে গুলির শব্দ আর গুঙ্গানির আওয়াজ শুনা যায়। তখন মা-মেয়ে আর্তনাদ করে ওঠেন। চিৎকার করে বলতে থাকেন, “আমার স্বামী কিচ্ছু করে নাই যে। আমার স্বামী নির্দোষ।”চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছে, ৪ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই অভিযানে ১২৭ জন নিহত হয়েছেন। (বৈশাখী টিভি অনলাইন,  ৩১ মে ২০১৮)। তবে এ সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। শুরু থেকেই বিচার বহির্ভূত এই হত্যাকা-গুলো নিয়ে প্রশ্ন ছিলো। আজও রয়ে গেছে। সচেতন সমাজ সবসময় এই হত্যাকা-ের প্রতিবাদ ও এ ধরণের ঘটনা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। সর্বশেষ একরাম হত্যার অডিও প্রকাশের চলমান মাদক বিরোধী অভিযান সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে অবিলম্বে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশের দশজন শীর্ষ বুদ্ধিজীবি। (বিবিসি বাংলা, ২ জুন ২০১৮)। তারা বলেছেন, এই অভিযানে প্রতিদিন অনেক মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছেন। যা পুলিশ বন্দুক যুদ্ধে নিহত বলে বর্ণনা করছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সমাজ ব্যবস্থায় এমন মৃত্যু কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যাবস্থায় এমন মৃত্যু কখনই গ্রহনযোগ্য নয়। সংবিধানে প্রদত্ত জীবনের অধিকার এভাবে কেড়ে নেয়া যায় না।
রাজন, খাদিজা বা রবিউলদের হত্যা-নির্যাতনকারী ছিলো সাধারণ মানুষ। তাদের ঘটনাগুলো প্রকাশের প্রতিবাদ-ক্ষোভ আর সমালোচানার ঝড় উঠেছিল দেশে-বিদেশে। সব ঘটনায়ই অভিযুক্তরা বিচারের মুখোমুখি হয়েছে। যদিও সব ঘটনার বিচার এখনও শেষ হয়নি। এবার একরামুলের ঘটনায় অভিযোগ খোদ রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর। তাই বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই ঘটনাটি দেশের সাধারণ মানুষকে আতঙ্কগ্রস্থ করে তুলেছে। মাবাধিকারকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

মাদকদ্রব্যগুলো মানুষের জীবন বিধ্বংসী বস্তু। আমাদের জাতীয় অগ্রগতির প্রতিবন্ধকও এটি। তাই এটাকে নির্মুল করার বিকল্প নেই। সকার মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। যা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু চলমান অভিযানে বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা এই অভিযানকে শুধু প্রশ্নবিদ্ধ করবে না এর সাফল্যকেও ম্লান করে দিতে পারে। তাই সরকারের উচিৎ, মাদকের সাথে জড়িত সকল শ্রেণির লোকদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা।

লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট।

বিস্তারিত খবর

চিত্রশিল্পী রফিক বইয়ের রাজ্য থেকেই একজন সাদা মনের মানুষ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-১৪ ১৩:৫৬:৪০

সারা বিশ্বের মনীষীদের বইয়ের নেশার প্রতি দৃষ্টি দিয়ে মানব জীবনকে এক দৃষ্টান্ত মূলক উক্তি দিয়েছিলেন টলস্টয়। সেটি ঠিক এমন যে, ”জীবনে মাত্র তিনটি জিনিসের প্রয়োজন বই, বই, এবং বই।” জ্ঞান অর্জনের প্রধান মাধ্যমই হচ্ছে বই। সুতরাং জীবনকে সফলতার আলোকে আলোকিত করার প্রধান উপায় হচ্ছে বই। তাই তো ভালো বই পড়েই জ্ঞান অর্জন করে যথাযথ প্রয়োগ ঘটিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের অনেক পরিবর্তনের চিন্তা করাটাই বাঞ্ছনীয়। পৃথিবীতে যারা পুস্তক পড়ে বড় হয়েছেন এবং জগৎ বিখ্যাত সফল মানুষ হয়েছেন, তারাই তো অনেক বেশী বেশী জ্ঞানার্জনেই পুস্তক পাঠে সময় দিয়েছেন। সারা বিশ্বের বরেণ্য মনীষীর জীবন ইতিহাস ঘাঁটলে এমন কথার সত্যতা চোখে পড়বেই। বইয়ের পাতায় পাতায় ডুবে দিয়েই ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, যুবরাজ ফাতিক, আল রাযী, ইবনেসিনা, ইবনে রুশদ, মাদাম মেরি কুরি, ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং কবি আল মাহমুদসহ বহুসংখ্যক জ্ঞান পিপাসুরাই পুুস্তক পাঠে যেন ইতিহাস সৃষ্টি করে সবার জ্ঞাতার্থেই রেখেছেন। মহৎ জীবনের আলোকে আজও তেমনি ভাবেই বই পড়ুয়া অসংখ্য ব্যক্তির সৃৃষ্টি হচ্ছে এবং আগামীতেও হবে।
বিশ্ব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ আলোকিত ব্যক্তির অধ্যায়ের মাঝে আর না গিয়ে বলতে চাই যে, শৈল্পিক চেতনার অধিকারী সত্য, সুন্দর ও মঙ্গলের দিক বেছে নিয়েই শৈশবের একাকিত্বে যে বলিষ্ঠ পুরুষ, পুস্তক পাঠের মধ্য দিয়ে আজও সহকারী অধ্যাপক পদে অবস্থান করে বইয়ের জগতে যুবরাজ হয়ে রয়েছেন। এমন এই মহৎ জীবনযাত্রার সামান্য খণ্ডচিত্র তুলে ধরারই প্রয়াস মাত্র। তিনিই বইপ্রেমিক, রাজশাহী চারুকলা মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক বা চিত্রশিল্পী মোঃ রফিকুল ইসলাম তালুকদার। ডাক নাম রফিক।
বিস্ময়কর বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী রফিক ছোট কাল থেকেই জ্ঞান পিপাসু ছিলেন। তিনি মানবতার কল্যাণে জ্ঞান সাধনার একটি বৃৃৃহৎ প্লাটফর্ম হিসেবে শিক্ষকতায় নিজেকেই নিয়োজিত রাখতে চান এবং সেখানেই তার চরম আনন্দ। তিনি বলেন, যারা তাঁর সাহচর্যে এসেছে, কিংবা তাঁর খোঁজ রাখেন, তারাই জানেন যে, জ্ঞান আহরণে তাঁর কী আকুল আগ্রহ, কি তীব্র নেশা! কিশোর কালেই যেন সকল কুচিন্তা দূর করে, সময় নষ্ট না করে শুধুমাত্র বইয়ের নেশায় ডুব দিয়েছিলেন, যখনই কোনো নতুন পুস্তক হাতের নিকট পেয়েছেন কিংবা কোনও সৎ, জ্ঞানী ব্যক্তির সন্ধান পেয়েছেন তখনই নিজের অন্যান্য সব কাজ ফেলে দিয়ে আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করে নিবিষ্ট মনে তাঁদের আদর্শে চলার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, জ্ঞান সাধনার জন্য ছোটবেলা থেকে পুস্তক, পত্রিকা সংগ্রহ এবং পড়ার নেশাটি প্রকট ছিল। যখন গ্রামে ডাকঘর ছিল না তিন কিলো দূরেই একটি ডাকঘরে গিয়ে পছন্দের দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা ডাকযোগে টাকা মার্নি অর্ডার করেই সংগ্রহ করতো। কারণ এই যে, সপ্তাহে দু’দিন হাটে যাওয়া হতো বলে তখনকার লোভনীয় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা নেয়া হতো এই ভাবে। তখনকার দিনে প্রতি হাটবারেই ৩/৪টি করে পত্রিকা এক সঙ্গেই পেতেন। ৩/৪ দিন সময় লাগত ঢাকা থেকে ডাকযোগে পত্রিকাগুলো আসতে এবং ঐ খবরই তাঁর কাছে তখন টাটকা মনে হতো। এমন ভাবেই শুরু হয় তাঁর জ্ঞান চর্চার জগৎ। এমন সাদা মনের মানুষের নাম অবশ্যই স্বর্ণাক্ষরে লেখা হোক বা না হোক, বই পড়ে নিজস্ব কর্মকে অনেকাংশেই গুছিয়ে নিয়েছেন।
তিনি তাঁর শৈশবের স্মরণীয় অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি অকপটে বলতে থাকেন। উল্লেখ করার মতো হচ্ছে, রেডিওতে স্বদেশ কিংবা বিদেশের খবর ছোট বেলা থেকেই তিনি শুনতে পছন্দ করতেন। যেমন: বি বি সি, ভয়েস অব আমেরিকা, কায়রো, পিকিং, আকাশ বাণী, টোকিও, তেহরান, জাপান, জার্মান ও রেড়িও মস্কো সহ আরও অনেক যা এখন তাঁর আর মনে পড়ছে না বলেই জানালেন। তিনি প্রত্যেক হাট বারে হাটে গিয়ে পরিচিত বইয়ের দোকানে দোকানে বই পছন্দ করতেন এবং জ্ঞান অর্জনের ভালো বই পেলেই ক্রয় করতেন। ছোটবেলা থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই শিশুদের মন এবং তাদের মেধাকে খুবই গুরুত্বের সহিত দেখতেন। তিনি তাদের বিভিন্ন আদর্শিক দিকটা চিন্তা করেই অজস্র পুস্তক সংগ্রহ করতেন। আজও সংগ্রহ করছেন মুক্তিযুদ্ধের উপর অনেক সচিত্র ইতিহাস।
তিনি জানান শুধুমাত্র বই সংগ্রহেই ব্যস্ত ছিলেন না।বই সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরিও করেছেন। ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রামে রউফাবাদ সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মানসিক প্রতিবন্ধীদের প্রতিষ্ঠানে ইন্সটাকটর হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে অল্প কিছু দিন চাকুরি করার পরপরই ভালো না লাগায় রাজশাহীতে আবার চলে আসেন এবং ১৯৯৮ সালে বগুড়া মেডিকেল কলেজে দুই বছর চাকুরি করেই আবার সেখানেও ভালো না লাগায়, সেই চাকুরিটাও ছেড়ে দিয়ে রাজশাহীর নিজ বাড়িতে চলে আসেন। বলে রাখি, এর আগেও তিনি বগুড়া আর্ট কলেজে ১৯৯৬ সালে যোগদানের পর সেখানেও কেন যে মন বসাতে পারছিলেন না। সে কথা তিনি প্রকাশ করেন নি। তাছাড়াও তিনি ঢাকায় একটি মিনার্ভা অফসেট প্রিন্টিং এ বেশ কিছু দিন চাকুরি করে সেটিও ছেড়ে দেন। এতোগুলো প্রতিষ্ঠানে চাকুরি ছাড়ার পর তাঁর চাকুরি করার ইচ্ছেটা কিন্তু বলবত ছিল। পরে তিনি রাজশাহীর একটি জনপ্রিয় শিল্প ও সংস্কৃতির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ রাজশাহী চারুকলা মহাবিদ্যালয় এ গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের শিক্ষক হন। সেখানেই ২০০১ সালে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করার পর এখনও তিনি পদোন্নতি নিয়েই সহকারী অধ্যাপক হিসেবে আছেন। নজরুল ইসলাম তোফাকে জানান বাঁকি জীবনটা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই থাকতে চান।তিনি আরও জানালেন, শিক্ষকতার পাশা পাশি বহু প্রবন্ধ বইয়ের মাঝেই অনেক আনন্দ পান। প্রবন্ধের চাহিদা তাঁর কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এমন প্রিয় বই ছাড়াও যেমন: বিভিন্ন ভাষার অভিধান, পুরাকীর্তির কোষ, পরিভাষা, লৌকিক জ্ঞান, ভাষা বিজ্ঞাপন ও ভাষা বিষয়ক বই, জীব ও সাহিত্যকর্ম, রবীন্দ্রনাথের রচনা সমগ্র সহ রবীন্দ্র চিত্রাবলীর উপর প্রায় সকল গ্রন্থই তাঁর রয়েছে। জানা যায় সেগুলোর মূল্য ১লক্ষ টাকারও বেশী। নজরুল বিষয়ক বই, বিবিধ প্রবন্ধ সংকলন, সাহিত্য গবেষণা ও সমালোচনা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসের কবিতার উপরে বই, মানব কল্যাণ কাব্য, নাটকের টেকনিক্যালের বই, একুশের উপর কবিতা অন্যান্য বহু বই, ফোকলোর, ইতিহাস,
যোগ ব্যায়াম, খেলা ধুলা, ধর্ম, নাচ, সঙ্গীত, সংস্কৃতি, সমাজ কল্যাণ, সমাজ বিজ্ঞান, রাষ্ট্র বিজ্ঞান, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান, কৃষি বিজ্ঞান, উদ্ভিদ বিজ্ঞান, কাঠ বিজ্ঞান, সাধারণ বিজ্ঞান, পরিবেশ বিজ্ঞান, মৃত্তিকা বিজ্ঞান, ভেষজ বিজ্ঞান, পশু ও মৎস বিজ্ঞান, কীট-পতঙ্গ বিজ্ঞান ও কীটতত্ত্বের বই, হোমিও চিকিৎসা ও ঔষধ বিজ্ঞান, পশু পালন ও পশু চিকিৎসাবিদ্যা,
চিকিৎসার ইতিহাস, দর্শন ও মনোবিদ্যা, ভূপ্রকৌশন ও কারিগরি বিদ্যা, প্রাণী বিদ্যা, পদার্থ বিদ্যা, রসায়ন বিদ্যা, উদ্যান তত্ত্ব, ভূগোল, গণিত, স্হলপথ জলপথ এবং আকাশ পথে উপর বই, সাংবাদিকতা, আইন, লোক প্রশাসন, শিক্ষা, চলচ্চিত্র ও চিত্রকলা, জীবনী গ্রন্থমালা, ভাষা আন্দোলন গ্রন্থামালা সহ বহু অফিস আদালত সম্পর্কিত পুুুস্তক রয়েছে। ষড়ঋতুর উপর ছড়া কবিতা গানের বই, ছবির বই আলাদা আলাদা ভাবে অনেক গুলো পুস্তক রয়েছে। রুবাইয়াত এর উপর প্রায় ৫/৬ টি বই রয়েছে। স্থাপত্য শিল্প, ভেষজ চিকিৎসাও ভেষজ গুনাগুনের বহু পুস্তক। সর্বোপরি বিভিন্ন মসলার গুনাগুন সম্পর্কিত বই, স্কাউট, শ্রবণ প্রতিবন্ধী, শারীরিক প্রতিবন্ধী, মানসিক প্রতিবন্ধীর উপরেও বই রয়েছে। ব্যাংক ও এনজিও উপর তাঁর সংগ্রহে রয়েছে অনেক গুলো বই। ক্ষুদ্র এবং কুটির শিল্পের উপর নানা ধরণের পুস্তকও সংগ্রহে রয়েছে। তাছাড়াও পদবীর উপর বেশ কয়েকটি বই রয়েছে। টেলিভিশনের সাংবাদিকতা, উপস্থাপনা ও কারিগরি দিক নিয়েও বই রয়েছে।
মোঃ রফিকুল ইসলাম তালুকদার নিজ বাসভবনেই কোমলমতী বহু শিশুদের ড্রইং এবং হাতের লেখা শেখান। সব বয়সী মানুষরা সে সুযোগ পেয়ে থাকে। তিনি জানালেন, প্রতেকটি ভাষার ও লেখার একটি ব্যাকরণ রয়েছে, যেটা লোকে জানে না। বিধায় বই দেখে তাঁরা ভালো লেখা লিখতেও পারে না। সুতরাং সংগৃহীত বই দেখিয়েই তিনি তাদেরকে যত্নের সহিত প্যাকটিস করিয়ে থাকেন। তিনি চারুকলার শিক্ষক হওয়ায় চারুকলার সকল বিষয়ের উপরেই আলাদা আলাদা ধরনের অনেক বই রয়েছে। যেমন: পেন্সিল ড্রইং, পেন ড্রইং, পেন্সিল স্কেচ, পেন স্কেচ, মোম রঙ, প্যাস্টেল রঙের ছবির উপরে ওয়াটার কালার ছবি, তেল রঙের ছবির উপর, পোট্রেইটের উপর, বিখ্যাত ব্যক্তিদের পোট্রেট, শিশুদের পোট্রেট এবং বড়দের পোট্রেট। এছাড়াও তাঁর আছে সৌন্দর্য দর্শন অথবা নন্দনতত্ত্বের উপরে কমপক্ষে দু’শো মতো জনপ্রিয় পুস্তক ও ম্যাগাজিন।
তাঁর সুখী জীবনে জন্য ও সৎভাবে চলতে যা জানা প্রয়োজন রয়েছে তার প্রত্যেকটি বিষয়ের উপর বই সংগ্রহটাই আগে। বই সংগ্রহ করে পড়ার অভ্যাসটি বলা যায় নিত্যদিনের সঙ্গী। সেই ছোটবেলা থেকেই আজ অবধি বই সংগ্রহের পাশাপাশি তিনি অনেক আগের দিনের দেশীয় পয়সা সংগ্রহের নেশায় মত্ত ছিলেন। এমন ভালো লাগার অনেক পয়সা একবার তাঁদের ঘরে চুরি হওয়ায় সেই গুলো সংগ্রহে রাখতে পারেন নি। তিনি জানালেন, যখন ভোটের সময় হয় তখন ভোটের কাগজ সহ পোস্টার সংগ্রহ করতেন এবং যত্ন সহকারে সেগুলো রেখে দিতেন। এভাবেই তিনি ছোট থেকেই সংগ্রহের নেশায় ডুব দিয়েছেন। আজও পুরোপুরিভাবে পুস্তক সংগ্রহের নেশায় উঠে পড়ে লাগেন। বলা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার ছাত্র অবস্থা থেকেই আজ অবধি অনেক বেশি পুস্তক সংগ্রহ করেছেন।
১৯৭৩ সাল হতে বই সংগ্রহ এবং পড়ার মধ্য দিয়েই বহু জ্ঞান পিপাসু ব্যক্তির সান্নিধ্য পেয়েছেন। পড়ার ঘরেও নামিদামি ব্যক্তির সান্নিধ্যসহ অনেক উপদেশ গ্রহণ করেছেন। তাঁর কাছে দুনিয়ার সবচেয়ে বেশী ভালো লাগার জায়গা ছিল পুস্তক পড়া শুনার ঘর।তিনি শৈশর থেকে আজঅবধি এমন ঘরে যেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। তিনি জানালেন, তাঁর বাবা: মোঃ বিরাজ উদ্দিন তালুকদার, মাতা: সালমা বেগম ইসলাম ধর্মের আদর্শে পরিপূর্ণ জীবন পরিচালিত করেছেন। এমন এই আদর্শিক বাবা-মার সুসন্তানকে যেন কখনোই বই ক্রয় ও পাড়ায় নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করেনি। শৈশবে শিক্ষা জীবনে তাঁর বাবা মায়ের সৎ এবং আদর্শ জীবন ধারাকে কর্মে প্রতিফলন ঘটিয়ে ধর্মীয় বই পড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই তিনি শৈশবেই ধর্মীয় বই সংগ্রহ পড়তেন এবং আজও পড়ছেন। এ ধারার সংগৃহীত মূল গ্রন্থের মধ্যেই কোরআন শরীফ ও সহীহ হাদিস উন্নতম। তাছাড়াও আরও ইসলামী ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন বই। যেমন: বোখারি, মুসলিম, তিরমিজি, নাসায়ী, ইবনেমাজাহ্, আবুদাউদ, মুয়াত্তা ইমাম মালেক এর সব খন্ডই রয়েছে। তাঁর কাছে সব
ধারার অনেক বই সংগ্রহে রয়েছে। এই গুনী ব্যক্তির শিশু ও কৈশোর কাল কেটেছে গ্রামের বাড়ি হরেক রকম বইয়ের মধ্যে। ছোটবেলায় খুব শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তিনি জীবনে কখনোই খেলা ধুলা বা গান বাজনা করবেন নি। বলা যায় খেলা ধুলায় তাঁর মন বসতো না। ছোট বেলায় তাঁর অনেক বন্ধুই ছিল কিন্তু পরবর্তীতে একটি বইয়ে যখন পড়েছিল- ‘যার বন্ধু যত বেশী তার শত্রুও ততই বেশী’। তাই ঠিক সে সময় সে জ্ঞানের আলোকে নিজেকেই গুটিয়ে নিয়ে একাকিত্বে চলতে চেষ্টা করেছেন। বই সংগ্রহে তিনি যেন অন্য লোকের চেয়ে একটু আলাদা এই কারনে যে, তিনি মনে করতেন, ভালো বই শুধু যে জ্ঞান চর্চা বা গবেষণার জন্য উপযুক্ত হবে তা কিন্তু নয়, চরিত্র গঠনের জন্যেও ব্যতিক্রমী ভালো বইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি জীবনের শুরুতে পড়াশোনা করেছেন, জয়পুর হাট জেলার আঁকলাস, শিবপুর, শ্যামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হাই স্কুল নবম শ্রেণী পর্যন্ত। তার পরেই মর্ত্তুজা পুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপরে রাজশাহী এসে রাজশাহী চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে বি, এফ, এ (প্রাক) ডিগ্রীতে ভর্তি হন। সেখান থেকে বি, এফ, এ এবং এম,এফ,এ (গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগ) হতে সম্মানের সহিত ২য় বিভাগে পাস করেন। তিনি বলেন, শিক্ষাজীবনে সকল ক্লাসে তিনি দ্বিতীয় শ্রেণীতে পাশ করেন। উল্লেখ্য যে, তিনি রাজশাহী চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পরবর্তীতে সেই প্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ এবং অনুষদ হয়েছে। সার্টিফিকেট অনুসারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বই প্রেমী ছাত্র।
তাঁর সংগৃহীত পুস্তক বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রীদেরকে উচ্চ শিক্ষার জন্য পড়তে দিতেন। এমন বইগুলো পড়ে অনেকেই এম ফিল ও পি এইচ ডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এতেই তাঁর নাকি অনেক আনন্দ। তাঁর আরও আনন্দিত হওয়ার অনেক দিক রয়েছে। তিনি বলেছেন, ২০১৩ সালে রমজান মাসে ঈদের পরে যে সোমবার দিন ছিল, সেই দিনে চাঁপাই নবাবগঞ্জের সোনা হাটির সকল প্রাথমিক ও মাধ্যম বিদ্যালয়ের প্রধানদেরকে নিয়ে হাতের লেখার উপর সেমিনার এবং ওয়ার্কশপ এর আয়োজন হয়ে ছিল।তিনি সেখানে অনেকের উপস্থিতির মাঝেই সম্ভবত ছিলেন,সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মজিবুর রহমান, হাইকোর্টের বিচারপতি, জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসার। সেখানে বহু সুনামের সহিত হ্যান্ড রাইটিং এক্সপার্ট হিসেবে এই ব্যাকরণ বিদ্যার অধিকারী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম তালুকদারকে নিযে যান। তিনি বলেন, সেখানেই তাঁকে খুব সম্মান করেছিলেন। তিনি বলেন, এমন এ সম্মান আজীবন মনে রাখার মতো।
তিনি স্বপরিবারকে নিয়ে নিজ পরিকল্পনায় শৈল্পিক চেতনায় নির্মিত বাসা ভাটপাড়ায় থাকেন। রাজশাহী শহরের পশ্চিমে ঐতিহ্য পূর্ণ চিড়িয়াখানার উত্তরেই সুফিয়ানের মোড়ে, বাড়ি নম্বর ৯৬, আরও পরিস্কার ভাবে ঠিকানা বলেছেন, ডাকঘর- রাজশাহী জি, পি, ও, থানা- রাজ পাড়া, রাজশাহী। জানা দরকার তাঁর স্হায়ী জন্মস্হান। গ্রাম- শিবপুর, ডাকঘর- শিবপুর, উপজেলা- ক্ষেতলাল, জেলা- জয়পুরহাট। এস এস সি সার্টিফিকেট অনুসারে তাঁর জন্ম তারিখ ২০ মার্চ ১৯৭১ সাল। প্রকৃত পক্ষে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১১ অক্টোবর ১৯৬৫ সালের সোমবার দিন। ১৯৯৭ সাল ৩ এপ্রিল মুসলিমা খাতুনকে সহধর্মিণী করেছিলেন। তিনিও একজন দক্ষ চিত্রশিল্পী। দীর্ঘদিন পর ২০১০ সালের ২০ জানুয়ারীতে তাঁর এক মাত্র মেয়ে রিসতা ইসলামের জন্ম হয়। তিনি সন্তানকে নিয়ে ৫ ওয়াক্ত নামাজ নিজস্ব বইয়ের ঘরেই পড়েন। শুধু জুম’আর নামাজ মসজিদে গিয়ে পড়েন। অবসরেও মেয়েকে নিয়ে টিভিতে খবর, টক শো, গান এবং শিক্ষা মূলক অনুষ্ঠান দেখে আনন্দ উপভোগ করেন। আর বাঁকি যতটুকু সময় থাকে সেসময় টুকু শুধুই বইয়ের মধ্যে ডুবে থাকেন। সুন্দর জীবন গড়তে পুস্তকের কোনো বিকল্প নেই। সুদক্ষ এমন এ চিত্র শিল্পী ও বই পড়ুয়া কিংবা বইপ্রেমিক মোঃ রফিকুল ইসলাম তালুকদার মনে করেন যে, ‘ভালো পুস্তকেই ভালো জ্ঞান, খারাপ পুস্তকে খারাপ জ্ঞান।’ অভিজ্ঞ লেখকগণের অনেক গুলো পুস্তক পড়ে সর্বজ্ঞানে জ্ঞানানীত হয়ে যথাযথ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, ”পড়, পড় এবং পড়, পড়েই জীবন গড়।”

লেখক: টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা ও একজন আইনজীবীর কান্না

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৪-১৫ ১১:৪৩:৫৪

সেদিন সুপ্রিমকোর্টের একজন নামকরা আইনজীবী আদালত থেকে ফিরে অঝোরে কান্না করছিলেন। খবর পেয়ে অনেকেই তাকে দেখতে গেলেন। কেউ তাঁর কান্না থামাতে পারেনি। কান্নার কারণ শুনে ন্যুনতম দেশপ্রেম আছে, এমন কেউ অশ্রু ধরে রাখতে পারেনি। তাঁর মক্কেলদের জানানো হয়, তিনি আদালতে যাবেন না। তারা হতাশায় ভেঙে পড়েন।
আইনজীবী মহোদয় অনেক বড় মানের। আইনের দিগি¦দিক তাঁর জানা। তিনি কোনো মামলায় হারেননি। আদালতে তাঁর নামডাক সফলদের শীর্ষ সারিতে। বিচারকগণও তাকে একইভাবে চেনেন। কখনো তাঁর বিপক্ষে রায় দেবার সুযোগ পাননি। কিছুদিন আগে মাননীয় প্রধান বিচারপতি একটি মামলায় তাঁর বিপক্ষে গিয়ে সরাসরি স্বীয় অক্ষমতা প্রকাশ করেন। বলেন, “আমাদের কিছু করার নেই। গভর্নমেন্ট গেছে পাগল হয়ে। তারা একটি রায় চায়।” একথা বলেই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের প্রদত্ত যুক্তি সংশোধন করেন এবং বলেন, “এটি সংশোধন করুন, তা না হলে আসামিকে ফাঁসি দেয়া যাবেনা।” এ কর্মকান্ডে আইনজীবী মহোদয় বিস্মিত হন। তাঁর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। অজান্তেই চোখের পানিতে পোশাক ভিজে যায়। ভগ্ন-হৃদে আদালত ত্যাগ করেন। বাসায় ফিরে প্রধান বিচারপতির অক্ষমতার কথা ভেবে অনুশোচনা করেন এবং নিজেকে সান্ত¦না দেন।
সম্প্রতি আরেকটি মামলায় তিনি হেরেছেন। তাঁর মক্কেল প্রধান আসামির চেয়ে দ্বিগুণ সাজা পেয়েছে। সে ছিল সহযোগী আসামি। বিচারশুনানির ৬৩২ পৃষ্ঠা রায় বিবরণীতে সে মূল অপরাধী সাব্যস্ত হয়নি। তাই আইনজীবী মহোদয় ভেবেছিলেন, নিশ্চয়ই তাঁর মক্কেল প্রধান আসামির চেয়ে কম সাজা পাবে। কারণ, পৃথিবীতে প্রধান অপরাধীর চেয়ে সহযোগীর অধিক সাজাদানের নজির নেই। অথচ আদালত প্রধান আসামিকে বিশেষ বিবেচনায় ৫ (পাঁচ) বছর আর সহযোগীদের ১০ (দশ) বছর সাজা দেন। তিনি রায় শুনে অবাক হন। বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “এ রায় কি আইনসম্মত হল?” বিচারক রীতিমতো হুমকি দেন। বলেন, “আপনার সাহস তো কম নয়। আপনি আদালত অবমাননা করছেন। সবসময় আইনের দোহাই দেবেননা। বুঝতে হবে, এটি রাজনৈতিক মামলা।” তিনি নিশ্চুপ হয়ে যান। বুঝে নেন, রাজনৈতিক মামলায় আইনের সঠিক প্রয়োগ প্রযোজ্য নয়। তিনি এতে খুবই কষ্ট পান। আইনি পেশা ছেড়ে দেবার মনস্থির করেন। আদালতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
বাসায় ফিরে ডুকরে কাঁদতে থাকেন। তাঁর স্ত্রী ও সন্তান সান্ত¦না দেন। তারা বলেন, মামলা দুটো নেয়াই ভুল ছিল। একথা শুনে তিনি শক্ত হন এবং বলেন, এ দুটো মামলাতেই আইনের সর্বোচ্চ অপপ্রয়োগ হয়েছে। এটি দেশ ও জাতির জন্য অশনি সংকেত। বিচারবিভাগ যেভাবে কলুষিত হয়েছে, তাতে জাতির ধ্বংস অনিবার্য।
এরপর ব্যর্থ মামলা দুটি বর্ণনা করেন। প্রথম মামলাটি, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে। বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই তা সমাধা করে গেছেন। তাঁর শাসনকালে ১৯৭১ সালে সংঘটিত জঘন্য অপরাধের জন্য ১৯৫ পাকসেনা মূল অপরাধী স্বীকৃত ছিল। এরপরও বিশেষ মহলের চাপে তিনি দালাল আইনে বিচার শুরু করেছিলেন। বহু বাঙ্গালিকে আটক করেছিলেন। বিচারে চিকন আলি নামে একজনের ফাঁসিও কার্যকর হয়েছে। পরবর্তীতে পাকিস্তানে আটক বাঙ্গালিদের ফেরত আনতে উক্ত ১৯৫ যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেন। তখনই দালাল আইনে প্রচলিত বিচার বাতিল করেন এবং বলেন, “প্রধান অপরাধীদের ছেড়ে আমি আমার যুদ্ধবিধ্বস্থ অসহায় নাগরিকদের অপরাধী সাব্যস্ত করা সঠিক মনে করিনা।” একথা বলে বিচারের সকল কাগজপত্র নিশ্চিহ্ন করেন। কোলাবরেটরস বা দালালের সংজ্ঞাও পরিবর্তন করেন। লেখক মঈদুল হাসান ‘মুলধারা ৭১’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা-৪১) উল্লেখ করেন, “দেশ মুক্ত হওয়ার পর বেসামরিক প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন বিষয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে মন্ত্রিসভা এই অভিমত প্রকাশ করেন যে, অধিকৃত অঞ্চলে সরকারী অফিসার ও কর্মচারী যারা দৃশ্যত পাকিস্তানীদের সাথে সহযোগীতা করে চলেছেন, তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই প্রাণের ভয়ে তা করতে বাধ্য হয়েছেন এবং প্রকৃতপক্ষে তারা স্বাধীনতার গোপন সমর্থক।” এভাবে বঙ্গবন্ধু স্বীয় জামাতাসহ মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তান সরকারে কর্মরত সবাইকে দায়মুক্তি প্রদান করেন। বাংলাদেশে দালাল আইনের কার্যকারিতা চিরতরে শেষ হয়।
মুক্তিযুদ্ধকালে এদেশের মানুষ নিতান্তই অসহায় ছিল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা আত্মরক্ষার জন্যই পাকবাহিনীকে সহযোগীতা করেছিল। তাই প্রধান অপরাধী ১৯৫ পাকসেনার বিচার ব্যতিরেকে যুদ্ধবিধ্বস্থ বাংলাদেশিদের বিচার মোটেও আইনসম্মত নয়। এতে পাকিস্তানিদের পরিবর্তে বাংলাদেশিরাই ঘাতক, খুনি, ধর্ষণকারী ও মানবতাবিরোধী অপরাধী সাব্যস্ত হয়। বাংলাদেশে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারে তা সুস্পষ্ট হয়েছে। বিশ্ববাসী এখন পাকিস্তানিদের যুদ্ধাপরাধী মনে করেনা, বাংলাদেশিদেরকেই তা জানে। এতে বাংলাদেশের বিচারবিভাগের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে। অবিচারের বিজয় আর সুবিচারের পতন হয়েছে।
অন্য মামলাটি আরো স্পষ্ট। তাতে প্রধান আসামি বেগম জিয়া। মামলার বিশাল ডকুমেন্টে তা প্রমাণ হয়েছে। অন্যরা সহযোগী। বিচারে প্রধান আসামির চেয়ে সহযোগীর অধিক সাজা অবৈধ। প্রধান আসামির জামিন হলে, সহযোগীরও তা নিশ্চিত। প্রধান আসামি বিশেষ বিবেচনায় যা পায়, সহযোগীরা তার চেয়ে বেশি পায়। এটিই আইনি বিধান। অথচ আদালত বেগম জিয়াকে ৫ (পাঁচ) বছর ও সহযোগীদের ১০ (দশ) বছর সাজা দিলেন। আমার মক্কেল দ্বিগুণ সাজা পেল। এ অবৈধ রায় বিচারবিভাগকে কলঙ্কিত করেছে। এতে আমার ব্যর্থতার কিছু নেই। আমরা আইনজীবীরা নিরূপায়। বাংলাদেশে বিচারক অভিসংশন বা বিচারিক শুদ্ধ-অশুদ্ধতা বিশ্লেষণের প্রকাশ্য মাধ্যম নেই। আফসোস, আমি এ বিচারবিভাগে কেন এতোদিন ছিলাম! একথা বলে আইনজীবী মহোদয় আবার কাঁদতে থাকেন।


লেখক : শিক্ষানবিস আইনজীবী, ঢাকা।

বিস্তারিত খবর

রোহিঙ্গা ও উইঘুর— পার্থক্য শুধু মানচিত্রে

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৩-২২ ১১:৫০:৪০

ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং ঝু বুধবার (২১ মার্চ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে চীন নিরপেক্ষ থাকবে।’ মানে তারা ঘনিষ্ট মিত্রদেশ মিয়ানমারকে এ ব্যাপারে কিচ্ছুটি বলবে না। এর আগেও দেশটির তরফ থেকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে পরিষ্কার কোনো অবস্থান পরিলক্ষিত হয়নি। কিন্তু চীন রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আসলেই কি নিরপেক্ষ ও নির্বিকার? তা হলে কেন, ভাবা দরকার।

বঙ্গোপসাগর বিধৌত উর্বর আরাকানে কেবল চীনের বিপুল অঙ্কের বন্দর-বাণিজ্যিক স্বার্থই জড়িত নেই, এর সঙ্গে যুক্ত কোনো ভিন্নমতাবলম্বী কিংবা ভিন্ন ধর্মাদর্শের জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চীনাদের উদ্ভাবিত ভয়াবহ ‘ঠান্ডা মাথার নিপীড়ন কৌশল’। মিয়ানমার তার বড়ভাই চীনের কাছ থেকে সেটি রপ্ত করে আরাকানে রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যবহারিকভাবে প্রয়োগ করেছে। সংগত কারণে চীন নিরপেক্ষ থাকার আবডালে দেখে নিচ্ছে তাদের কৌশল কতটা সফল হচ্ছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা এবং বেসামরিক সরকারের বিতর্কিত ডি-ফ্যাক্টো অং সান সু কির হাতে।

আমাদের কেউ কেউ তবু রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনকে পাশে পেতে চান। তাদের একটা বিষয় মাথায় রাখা দরকার, আরাকান তথা রাখাইনে যেভাবে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনা-নিপীড়ন চালিয়ে বাংলাদেশে বিতাড়িত করা হয়েছে এবং যা এখনও চলমান, ঠিক একই কাজটা গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে চীনা কর্তৃপক্ষ করছে দেশটির সংখ্যালঘু জাতিগাষ্ঠী উইঘুরদের ওপর।

উইঘুর অধ্যুষিত জিনজিয়াংয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে চীন। সব রকমের মানবাধিকার লঙ্ঘন করে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে উইঘুরদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবন। এমনকি নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে বিয়ে, সন্তানের নামকরণ থেকে শুরু করে নিজ অঞ্চলের বাইরে চলাচলের ওপর। এ ছাড়া প্রায় সময় চীনা পুলিশ ও সেনাদের হাতে মরছে নিরীহ উইঘুররা। নির্যাতিত হচ্ছে অজস্র নারী। সেখানকার ১ লাখ ২০ হাজার উইঘুরকে ‘পুনঃশিক্ষণ’ প্রকল্পের নামে এক ভয়ানক ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে। এর বাইরে স্ব-ভূম ছাড়তে বাধ্য করেছে তিন লাখের বেশি উইঘুরকে, যারা বাধ্য হয়েছে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করতে।

মনে রাখা দরকার, রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সংঘটিত নির্যাতন-নিপীড়নে এসব উপাদানের প্রাবল্য রয়েছে। উপরন্তু রাখাইনে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের জন্য চৈনিক কৌশলে ক্যাম্পও তৈরি সম্পন্ন করেছে প্রায়। ট্রানজিট ক্যাম্পের নামে তৈরি এসব ক্যাম্পেই রাখা হবে ফেরত নেয়া রোহিঙ্গাদের। (বাস্তবে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। নিলেও যাচাই-বাছাইয়ের নামে কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গাকে নেবে তারা)। যদিও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এসব ক্যাম্পে স্বল্পকাল রাখা হবে রোহিঙ্গাদের, কিন্তু আমার ধারণা এসব ক্যাম্পে চীনের উইঘুর দমন-পীড়নের কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি করবে দেশটি।

এ পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে চীনের ‘নিরপেক্ষ’ থাকার ‘ভদ্রবেশ’ আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছু নয়। উইঘুর ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চীন ও মিয়ানমারের পরিকল্পিত দমন-পীড়নের যদ্দুর পাঠ ইতিহাস থেকে নিয়েছি, তাতে আমি মনে করি, এ দুই জাতিগোষ্ঠী একই রকমের দমন-পীড়ন কৌশলের সহজ শিকার।

লেখক: কবি, সাংবাদিক, গবেষক

বিস্তারিত খবর

শিল্পীদের সামাজিক দ্বায়বদ্ধতায় আর্থিক উন্নয়ন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৩-০৭ ০০:০৫:১০

মানব জাতির শিল্প চৈতন্য বোধ ও মনুষ্যত্ব বোধ বা মানুষের মানুষ ছাড়া অন্য কোনো পরিচয় আশা করা যায় না। আপাত দৃষ্টিতে সুচিন্তিত অভিমতের আলোকে দেখা যায় যে, তরুণ প্রজন্ম হতাশার কুয়াশায় উচ্চ আকাঙ্ক্ষার পথ যেন হারিয়ে ফেলছে। প্রত্যেকে নিজস্ব ভাবনার পক্ষে যে কোন যুক্তি উপস্থাপন করুক না কেন, ভাবনার এক বিস্তৃত পর্যালোচনায় উঠে আসে শিল্পীদের জীবিকা অর্জন কঠিন। এমন কঠিন ও অমশ্রিণ পথ রয়েছে বলেই কি শিল্প সাধনা করবে না তরুণ প্রজন্ম?

জানা দরকার, কিছুটা বিশৃঙ্খলা বা অসংগতি রয়েই গেছে দেশীয় শিল্পাঙ্গানে, অশিকার করার যে উপায় নেই। আবার বলা যায় কিছুটা বিশৃঙ্খলা ছাড়া শিল্প সংস্কৃতির বিবর্তনও ঘটে না। জীবিকা অর্জন কঠিন বলেই কি শিল্পীরা গরিব, দরিদ্র মানুষ হবে, তা কিন্তু নয়। মানুষ দরিদ্র হয়, যখন তাদের হৃদয়, কল্পনায়, সৃজনশক্তি কুঞ্চিত হয়ে যায়। এই কথা গুলো জানা গেলো, জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের অমিয় বাণীতে যা শিল্প চৈতন্যবোধের চিন্তায় তরুণ প্রজন্মের কাছে মাইলফলক হয়ে রবে।

শিল্প চর্চায় অর্থ উপার্জনের প্রয়োজন রয়েছে, অর্থ উপার্জন না হলে শিল্পচর্চার গুরুত্ব ও শিল্পের পরিধি বাড়ানো সম্ভব নয়। সেহেতু সৃৃৃজনশীল শিল্পীদেরকে একটু কৌশলী হতেই হবে। তবে ভিন্ন মতাবলম্বীরা হয়তো একে বাঁকা চোখে বা বাঁকা ভাবেই দেখবেন।আসলে অর্থ না পেলে যে শ্রমের স্বার্থকতা হয়ে যায় দুর্বিসহ। শিল্পের তথ্য ও তত্ত্বের ভিতর দিয়ে সযত্নে লালিত চিন্তা-চেতনায় এদেশের শিল্প সামনের দিকে এগুচ্ছে আবার বাধাও পাচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম চলতে গিয়ে যেন আবার সেই অর্থ কষ্টে হোঁচটও খাচ্ছে।তাদের শিল্প বিপ্লবে রয়ে যাচ্ছে সংশয়, তাদের পূর্ব বিশ্বাসের অসাড়তা দ্বারা তারা বাধা প্রাপ্ত হলেও নিত্য নবচিন্তা এবং চেতনায় নবউদ্দ্যমে আপন পথ খুঁজে নিচ্ছেন এবং নেবেও। শিল্পচর্চায় ধৈর্য তাদের যেন দিনে দিনে একটু কম হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ তারা দাঁড় করাচ্ছেন মৌলিক চাহিদা শুধুই “অর্থ”।

ইতিহাসও বলে “অর্থ” উপার্জনের সুগম পথ অথবা প্রক্রিয়া একটু অমশ্রিণ। তাই তো এ পথে একজন শিল্পীকে যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, তা তো মোটেও যেন উপলব্ধি করছে না তরুণ প্রজন্ম। অর্থ উপার্জনের জন্য কষ্ট এবং শ্রম দিতেই হবে। সমাজ যদি সে অর্থ উপার্জনের পথ সুগম না করে বুঝতেই হবে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী শিল্পচর্চা হয়তো হচ্ছে না। ধরা যাক যে, অ্যাবসট্রাক্ট বা বিমূর্ত ধারার ছবি অঙ্কনের পদ্ধতি সমাজের সাধারণ মানুষ কতটুকুই জানে বা বুঝে। অ্যাবসট্রাক্ট কাজে যদি একজন শিল্পী শুরুতেই এমন ধারা শুরু করে, তা হলে শিল্পী খ্যাতি অথবা “অর্থ” চাওয়াটাই বৃথা চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।

এ সম্পর্কে জনপ্রিয় শিল্পী মর্তুজা বশীর বলেছেন, অ্যাবসট্রাক্ট কাজে সমাজের প্রতি শিল্পীদের খুুুব একটা দ্বায়বদ্ধতা প্রকাশ পায়না। এখানে আরেকটা বিষয় উল্লেখ করা অনেকটাই জরুরী মনে করি। তা হলো, শিল্পীর বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সঙ্গে যেন দর্শকের অভিজ্ঞতার বিস্তর পার্থক্য রয়েছে, তাই তরুণ শিল্পী হুবহু যে বার্তা অথবা দর্শনটি জানাতে চান, দর্শক কখনোই তার শতভাগ বুঝতে পারে না। শিল্পীর এই নিজস্ব অবস্থান ও জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করেই এমন পার্থক্য দেখা দেয়। আবার বলছি না যে, বিমূর্ত ছবি আঁকা যাবে না। অবশ্যই আঁকাতে হবে, তবে “অর্থ” উপার্জনের পথ খুঁজে নিয়েই সৃৃৃজন শীল কর্ম করা বাঞ্ছনীয়। সামাজিক চাহিদা অনুযায়ী আজকের এ তরুণ শিল্পীদের জীবন যাত্রার শুরুতেই রিয়ালিষ্টিক বা বাস্তবধর্মী ছবি অঙ্কনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়াটাই যথার্থ।

সাধারণ মানুষের জন্যই সহজবোধ্য রুচিশীল এবং মন ছোঁয়ানো অথবা আবেদনময়ী ছবি অংঙ্কনেই আজকের শিক্ষানুরাগী তরুণ প্রজন্ম যুগোপযোগী শিল্পচর্চায় অগ্রসর হতে হবে। মনে রাখা দরকার যে, প্রত্যেককেরই একটি নিজস্ব স্টাইল বা সৃষ্টিশীলতা রয়েছে। তাই বলে শুরুতেই নয়। সামাজিক চাহিদা অনুযায়ী না এঁকে নাম ধামের জন্যই শুরু থেকে এই বিমূর্ত ধারণায় ছবি আঁকাটা ঠিক হবে না। শুরুতেই খ্যাতির জন্য আঁকা হলে অবশ্যই ধরাও খেতে হবে।এক সময় খ্যাতিটি আপনা আপনিই চলে আসবে। যদি সেই আর্ট বা চিত্রাঙ্কনটি সত্যিকার সামাজিক চাহিদার আর্ট হয়। হাজার বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি জনগোষ্ঠীর এমন এই শিল্প-সংস্কৃতি।

এ অভিজ্ঞতার আলোকে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অর্জন তার শিল্প বোধ, জীবন যাপনের পাশাপাশি নানাবিধ চিন্তা চেতনার মাঝেই রয়েছে রুচিশীলতা। এদেশের নারী-পুরুষের রুচিশীল এবং তাদের নিজস্ব স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইতিবাচক ভাবনার সংমিশ্রণ ঘটিয়েই শিল্প চর্চায় অগ্রসর হতে হবে। ফলে তা হতে পারে দুর্বল, অসুস্থ; হতে পারে পরিশীলিত, রুচিশীল। এটি নির্ভর করে, সেই জনগোষ্ঠীরা কীভাবে, কেমন করে গড়ে উঠছে তার মৌল সত্যের ওপর। মানুষ যদি আপন জীবনাচরণের মৌলিক যেসব গুণাবলি তাকে নির্ণয় করতে না পারে, তাহলে সেই খণ্ডিত বোধ তীব্রভাবে আঘাত করবে শিল্প, সংস্কৃতিকে। যদি পার্থক্য নির্ণয় করা না যায় ত্যাগ ও সহিষ্ণুতার, সাহস ও সন্ত্রাসের, শক্তি ও ক্ষমতার, বিনয় ও দম্ভের, সত্য ও মিথ্যার এবং রুচি ও অরুচির- তাহলেই তো বলা যায়, মূল্য বোধে ও আর্থিক দৈন্যতার ভিত নড়ে যাওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। মূল্যবোধ ও আর্থিক চাহিদায় শিল্প সংস্কৃতির অনেক সহায়ক উপাদান। সুতরাং মূল্য বোধের অবক্ষয় দুর্বল করে শিল্প সংস্কৃতিক চেতনা। দুর্বল সাংস্কৃতিক চেতনায় পীড়িত করে জনগোষ্ঠীর মানবিক বোধ। তাই বিচক্ষণতার আলোকেই তরুণ প্রজন্মকে তাদের শিল্প সাধনায় অগ্রসর হয়েই অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজতে হবে।

শিল্প সংস্কৃতি গ্রহণ-বর্জনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়।মানুষ ক্রমাগত নিজের বিকাশ ঘটাতেও পারছেন। দৈনন্দিন চারপার্শ্বে যা কিছু ঘটে যাচ্ছে, এগুলোকে দ্বায়িত্বে নেওয়াই শিল্পীর কাজ। শিল্পীর শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন শৈল্পিক চেতনার মধ্য দিয়েই মানুষের মনের খোরাক পুরনে এবং তাদেরকে শিল্পের পরিপূর্ণতা দিয়েই অর্থ উপার্জনের কথা ভাবতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়, শিল্প থেকে আর্থিক উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম শিল্পী এবং দর্শকদের জানাশোনার পরিধির ওপর নির্ভর করেই শিল্প সৃষ্টি করতে হবে।কোন আঙ্গিক থেকে শিল্পটি উপস্থাপন করা হয়েছে তার উপরেই শিল্পের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক চাহিদা রয়েছে বলে মনে করেন নজরুল ইসলাম তোফা। শিল্পী যত বিচক্ষণতার অধিকারী হবে ততই তার শিল্পকর্ম অর্থবহুল এবং অর্থ উপার্জনের পথ সুগম হবে। শিল্পী যদি সেই বিচক্ষণতার অধিকারী না হোন, তাহলে নিছক চিত্র এঁকে আর্থিক দৈন্যতায় থাকতে হবে। সুতরাং সেখানে অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজে পাওয়া যাবে না বৈকি। শিল্পীর যদি দৃষ্টি এবং মননে সেই আবরণ বা পর্দাটা দিনে দিনে দূরীভূত হয়ে যায়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে তরুণ শিল্পীদের অন্তর দৃষ্টি এবং ভাবনার গভীরতা অনেক কম। তাই ধরেই নিতে হবে তরুণপ্রজন্মের শিল্পীদের অর্থ উপার্জনের পথ অমশ্রিণ।

নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

বিস্তারিত খবর

অপসংস্কৃতরি ধারক যখন সুশীল সমাজ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০২-১২ ১৫:০৯:০০

শোকে অথবা দুঃখ, বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় এবং প্রতবিাদরে সমাবশেে ইদানীং ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘প্রদীপ প্রজ্বলন’ আর ‘আলোর মছিলি’। প্রদীপ জ্বালানো হচ্ছে অনুষ্ঠান-উৎসবরে উদ্বোধনওে। একে বলা হচ্ছে ‘মঙ্গল প্রদীপ’। এই প্রদীপ ঘাড়ে করে হচ্ছে শোভা যাত্রাও। রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে দনি মান নচে-েগয়ে,ে মছিলি করে আলোয় আলোয় ভুবন ভরয়িে ফলোর আশাও করা হচ্ছ।ে শোভা সখোনে  অবশ্যই দখো যায় কন্তিু তাতে কারো কোন মঙ্গল কখনো হয়ছেে এমন শোনা যায় ন।ি বরং সখোনে নয়িমতি লাঞ্ছতি হচ্ছে শত শত নারী যা কনিা একবোরে ‘ওপনে সক্রিটে’। তারপরও সটোই নাম ‘মঙ্গল শোভা যাত্রা’। ওদকিে প্রজ্বলতি অগ্নি শখিার সামনে দাঁড়য়িে নয়ো হচ্ছে ‘বজ্র কঠনি শপথ’। সইে শখিাকে আবার প্রায়শই মহমিান্বতিও করা হয় পুষ্পস্তবক র্অপণরে মাধ্যম।ে এসবরে বশেীর ভাগই হচ্ছে দশেরে র্সবোচ্চ শক্ষিা প্রতষ্ঠিানগুলোত।ে এতে অংশ নচ্ছিনে ভসি,ি প্রভোস্ট, অধ্যাপক, সমর নায়কসহ দশেরে সব বশিষ্টিজনরো তথা সমাজরে র্সবোচ্চ শক্ষিতি সুশীল শ্রণেী। আমাদরে মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রীও আছনে ঐ দল,ে তাদরেকওে প্রদীপ জ্বালাতে দখো গছেে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান।ে

বাত,ি মোমবাতি আর অগ্নশিখিা কন্দ্রেকি এসব আয়োজন আমাদরে দশে ও সমাজে অনকেটা নতুন মনে হলওে বশ্বিব্যাপী এর প্রসার এবং প্রয়োগরে ইতহিাস সুর্দীঘ। এক্ষত্রেে সবচয়েে উল্লখেযোগ্য বোধকরি ‘অলম্পিকি মশাল’। এই মশাল এতটাই সম্মানতি যে এটা রীতমিত প্রদক্ষণি করে সারা বশ্বি। ঘুরে ফরেে দশেে দশে।ে প্রতটিি দশে একে দয়িে থাকে রাষ্ট্রীয় র্মযাদা এবং অর্ভ্যথনা। রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান, মন্ত্রী, শাস্ত্রী সবাইকে সব কাজ ফলেে ছুটতে হয় এই একখণ্ড আগুনরে পছেন।ে
অগ্নশিখিার এই অভ্রভদেী মাহাত্ম্যরে কারণ বোধকরি আঁধাররে উপরে এর সুস্পষ্ট আধপিত্য। আলোর ধাওয়াতইে তো পালায় আঁধার। শক্তি হসিবেওে এর গুরুত্ব র্সব স্বীকৃত। তাই আমাদরে র্শৌয-র্বীয তথা ‘স্পরিটি’-এর তুল্য হতে পারে যনে একমাত্র এই আগুনই। বোধকরি সজেন্যইে অলম্পিকিসহ সব গমেসে এর র্সবোচ্চ  অবস্থান ও র্মযাদা নশ্চিতি করা হয়ছেে শক্ত আইন- কানুনরে মাধ্যম।ে অথচ মজার ব্যাপার হচ্ছে মশালরে ক্ষমতা নইে নজিে থকেে জ্বলবার। মানুষ জ্বালালে তবইে জ্বল।ে যে প্রদীপ বা মোমরে আলোতে আঁধার হয় দূর তার সাধ্য নইে সামান্যতম বাতাসরে মুখে টকিে থাকার যদি না মানুষ দয়া করে সটোকে রক্ষা করে নজি হাতরে তালুর আড়াল।ে যে জ্যোতি ও শখিার জন্ম এবং স্থায়ত্বি মানুষরে হাতরে মুঠোয়, মানুষরে করুণা নর্ভির, সটো কভিাবে পতেে পারে মানুষরে ভক্ত,ি সম্মান আর শ্রদ্ধা তা বুঝে আসে না কছিুতইে। বুদ্ধতিে ধরে না। ববিকেওে মানে না।
   
কোন জ্যোতি বা আলোকে যদি সক্ষমতার প্রতীক ধরতইে হয় তবে তার অনবর্িায দাবীদার হলো ‘র্সূয’। বাতি বা প্রদীপরে মত র্সূযরে দরকার হয় না মানুষরে কোন দয়া, করুণা বা সহায়তা। বরং মানুষকইে তার নত্যিদনিরে জীবনরে র্স্বাথে নর্ভির করতে হয় র্সূযরে উপর। এই র্সূযরে দাপট এতটাই র্সবব্যাপী যে পৃথবিীর নভিৃততম গুহা-কোণও বাধ্য তার আলোকে প্রবশোধকিার দতি।ে এহনে ক্ষমতাধর র্সূযও নয়িত দশিা হারায় ভাসমান মঘেমালার কাছ।ে রাহুর গ্রাসরে কাছ।ে অসহায় আত্মসর্মপণে বাধ্য হয় রাতরে কালো আঁধাররে কাছ।ে চাঁদরে গায়ে আলো ফলেে যদওি সে চষ্টো করে রাতরে সাথে লড়তে কন্তিু তাতওে নয়িমতি বাঁধ সাধে পৃথবিী, অমাবস্যার রাতে ঘটে তার চূড়ান্ত পরাজয়। তাই আঁধারকে জয় করা আর হয়ে ওঠে না র্সূযরে। এসব তথ্য বজ্ঞৈানকি সত্য। বশ্বিরে তাবৎ শক্ষিতি জনগোষ্ঠী এই সত্যরে ব্যাপারে বজ্ঞি। তারপরও তারা প্রদীপ আর মোমবাতরি ঠুনকো আলোর ধারার মধ্যে দখেতে পায় মানুষরে ‘মঙ্গল’। নজি হাতে জ্বালায় আর নভিায় যে শখিাকে তাকইে কনিা বলে ‘অনর্বিাণ’ আর ‘চরিন্তন’। কি ভয়ানক বভ্রিম, কি ভীষণ র্মূখতা। এহনে আগুনরে শখিাতইে যখন পশে করা হয় ‘পুর্ষ্পাঘ্য’, তাকে সাক্ষী রখেে যখন নয়ো হয় ‘বজ্রকঠনি’ শপথ। তখন তাকে কি বলা যায়? বহুমাত্রকি র্মূখতা নাকি জ্ঞানরে র্দুভক্ষি?
   
অনকে শ্রদ্ধার যে পুর্ষ্পাঘ্য, সটো আগুনরে বদেি ছাড়াও র্অপণ করা হয় শহীদরে কবরে এবং স্মৃতরি মনিার সমূহ।ে কন্তিু আমরা কউে জানি না যে এই র্অঘ্য বদিহেী আত্মারা দখেে কনিা, গ্রহণ করে ক।ি কম্বিা এগুলো আদৌ তাদরে কোন কাজে আসে কনিা। নর্দিষ্টি কোন প্রমাণপঞ্জি ছাড়াই আমরা জীবতিরা এটাকে বানয়িে নয়িছেি মৃতকে সম্মান জানানোর উপায়। জীবদ্দশায় আমরা অন্যরে কাছ থকেে ফুল পতেে ভালবাস,ি ফুল পলেে খুশী হই। ফুলরে প্রতি র্সাবজনীন এই ভাল লাগাই সম্ভবত: মৃতকে পুর্ষ্পাঘ্য র্অপণরে পছেনে প্রধান যুক্ত।ি কন্তিু সইে ফুল কচ্ছিুক্ষণ পর ডাস্টবনিে ছুড়ে ফলেতে হলে কি মূল্য থাকলো সইে র্অঘ্যরে? এটা বস্তুত সম্মানরে নামে মৃতরে সাথে অসম্মানজনক প্রতারণা বশিষে। এমন কাজ শুধুমাত্র জাত প্রতারকদরে পক্ষইে করা সম্ভব।

অথচ দহেত্যাগী অবনিশ্বর মানবাত্মাকে লাভবান করতে পারে এমন সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর প্রমাণতি পদ্ধতইি রয়ে গছেে আমাদরে হাত।ে নশ্বর এবং অবনিশ্বর জগতরে মাঝে র্কাযকর যোগ সূত্ররে তমেন পথ দখেয়িে গছেনে চরি সত্যবাদী হসিবেে বশ্বি স্বীকৃত হযরত মুহম্মদ সা:। মহা জগতরে মহান স্রষ্টার কাছে একান্ত র্প্রাথনাই সইে একমাত্র উপায়। তবে সইে র্প্রাথনাও হতে হবে স্রষ্টাই ভাষায়, স্রষ্টারই দয়ো ফরমটে অনুযায়ী। অন্য কোন ভাবে নয় অথবা ভাষাহীন কোন নীরবতার মাধ্যমওে নয়। বষিয়টা যে অফসিে কাজ করি সইে অফসিরে ফরমটে মনেে বসরে কাছে দরখাস্ত করার মত। নজিরে মন মত ফরমটে ব্যবহার করে বসরে কাছ র্পযন্ত পৌঁছানোর আশা করা নতিান্তই বোকামি মাত্র। তাই মানবাত্মাকে সম্মানতি করার সইে প্রমাণতি পথ ছড়েে আমাদরে অতি প্রয়ি র্সবজন শ্রদ্ধয়ে আত্ম ত্যাগীদরে জন্য সাক্ষ্য-প্রমাণ বহিীন মনগড়া পদ্ধতরি প্রয়োগ কি কখনো যুক্তগ্রিাহ্য হতে পার?ে
   
বস্তুত কোন যুক্তি দয়িইে ‘মঙ্গল প্রদীপ’, ‘শোভা যাত্রা’ আর ‘পুর্ষ্পাঘ্য’কে মানব সমাজে প্রতষ্ঠিা করা সম্ভব নয়। প্রমাণ করা সম্ভব নয় যে বশৈাখ মাস আদৌ কারো আবাহনরে পরোয়া করে কনিা। সৃষ্টরি আদতিওে বশৈাখ যভোবে এসছেে প্রতি বছর সে ভাবইে আসে এবং আসতে থাকবে আগামীতওে। কোন মানুষরে অনুমতি নয়িে বশৈাখ আসে না, কারো গানা-বাজনার অপক্ষোয় সে বসওে থাকে না। ঐ দনিরে ‘রৌদ্র-স্নান’ কোন বশিষে ক্ষমতা নয়িে আসে না, তাই তার সাধ্য নইে ‘ধরাকে শুচ’ি করার। রোদ যদি এ দনি না-ই ওঠে তাহলে দুনয়িার অশুচি দূর হবে না এটা মনে করারও কোন কারণ নইে। বস্তুত মানুষরে সৃষ্ট অশুচি দূর করার দায়-দায়ত্বিও মানুষরেই, চন্দ্র-র্সূয এসে সগেুলো দূর করে দবেে তমেন আশা করা নতিান্তই গণ্ড র্মূখতা ছাড়া আর কছিু না।

এসব সবই জানে আমাদরে র্ধূত শক্ষিতি জনরো, সম্ভবত এ কারণইে এর দায় চাপয়িে থাকনে আমাদরে র্পূব পুরুষদরে উপর। বলে থাকনে এগুলোই নাকি আমাদরে ভূখণ্ডরে সহস্র বছররে পুরানো আচার। এগুলোই আমাদরে মূল সংস্কৃতি ও কালচার। কন্তিু এমন অযথা কাজ আমাদরে র্পূব পুরুষরা কখনো করছেনে বলে জানা যায় না। তারা ছলিনে বাস্তববাদী, সস্তা আবগেরে গা ভাসয়িে দয়োর মানুষ তারা ছলিনে না। তাই বশৈাখরে সময়টাকে তারা বুদ্ধমিত্তার সাথে ব্যবহার করছেনে বাৎসরকি পণ্য বপিণন এবং ব্যবসায়কি হসিাব-নকিাশ ঠকি রাখার কাজ।ে বশৈাখরে তমেন ব্যবহার এখনো যর্থাথ।
তারপরও গায়রে জোড়ে বলা হচ্ছে এসবে পুণঃ প্রত্যার্বতন এবং এগুলোর পুনরুজ্জীবনই নাকি চপেে বসা সব অপসংস্কৃতকিে দূর করে নজিস্ব সংস্কৃততিে ফরিে যাওয়ার একমাত্র উপায়। তাহলে কি এখন আমরা আবার পাঠ্য পুস্তকে লখিবো যে ‘পৃথবিী স্থরি, র্সূয ঘুরছে তার চারদিকি’ে? জ্বর হলে এখন রোগীর গায়ে পানি ঢালা হয় অথচ কছিুদনি আগওে এসব রোগীকে কাঁথা-কাপড় দয়িে মুড়ে রাখা হতো। র্পূব পুরুষদরে অনুসরণরে আবদার অনুযায়ী আমরা কি এখন থকেে আবার জ্বররে রোগীকে কাঁথা-কাপড় দয়িে মুড়ে রাখা শুরু করবো? শক্ষিা-দীক্ষার র্বতমান বই-পত্র, কম্পউিটার-ইন্টারনটে ছড়েে আমরা কি আবার ফরিে যাবো গাছরে বাকলরে উপর লখিন আর পুঁথি পাঠ?ে র্পূব পুরুষদরে আচার-কালচার রক্ষাই যদি হয় মানব জন্মরে উদ্দশ্যে তা হলে আমাদরে তাই করা উচতি নয় কি?

একটা সময় ছলি যখন সমাজরে মাতব্বর এবং মোড়লরো নতুন যে কোন তত্ত্ব-তথ্যরে কথা শুনলইে ভয় পতেনে। ক্ষপেে যতেনে। মানুষকে ছল-েবল-েকৌশলে হলওে বরিূপ করে রাখতনে ঐসব নতুনত্বরে ব্যাপার।ে সত্যরে উদ্ভাবন ও আগমনে সমাজরে উপর তাদরে একচ্ছত্র আধপিত্য হারানোর ভয়ই ছলি সইে পছিুটানরে মূল কারণ। র্বতমান সমাজরে কথতি শক্ষিতি অধপিতরিাও কি সইে একই শঙ্কায় আতংকতি? তা না হলে কনে তারা সমাজ ও সভ্যতাকে পছেনে নতিে চাইছনে বজ্ঞৈানকি সত্যসমূহ প্রমাণসহ প্রকাশতি হওয়ার পরও? বশিুদ্ধ জ্ঞানরে অনুসন্ধানে রত বশ্বি পণ্ডতিরো যখন কোরআনকি সত্যকইে মনেে নতিে বাধ্য হচ্ছনে জগতরে প্রতটিা বষিয়ে তখন সমাজকে মোমবাতরি আলো আর প্রদীপরে পছেনে দাঁড় করানোর চষ্টো র্অবাচীনরে মূঢ়তা ছাড়া আর কি হতে পার।ে
   
মানুষরে সার্মথ্য, র্মযাদা ও সম্মান যে কত ব্যাপক বস্তিৃত তা উপলব্ধি করার জন্য এইসব ‘মূঢ় শক্ষিতি’দরে বশেী করে কোরআন শরফি পড়া উচতি। কারণ একমাত্র এই কোরআনইে ঐতহিাসকি সব প্রমাণপঞ্জি আর নর্দিশনসহ পরম মমতায় তুলে ধরা হয়ছেে মানুষরে সার্মথ্য ও সম্মানরে ব্যাপ্ত।ি এই কোরআন থকেইে আমরা জানতে পারি য,ে মানুষরে আঙ্গুলরে ইশারায় দ্বখিণ্ডতি হতে পারে চাঁদ (সূরা ক্বামার: আয়াত ১ এবং সংশ্লষ্টি হাদসি সমূহ দ্রষ্টব্য)। উন্মাতাল সাগরও বাধ্য হয় নজিরে বুক চরিে মানুষকে চলার পথ করে দতিে (মুসা আ:-এর ঘটনাবলী দ্রষ্টব্য)। মানুষরে পক্ষইে সম্ভব পরম স্রষ্টার সংরক্ষতি এলাকায় প্রবশে করা যখোনে যতেে পারনে না স্বয়ং জবিরাইল ফরেশেতাও (সূরা নজম: আয়াত ৭ূ১১ এবং ম’েরাজরে হাদসি সমূহ দ্রষ্টব্য)। মানুষরে এইসব অনন্য গুণাবলীর কারণইে সৃষ্টর্কিতা আল্লাহ পাক স্বয়ং তাঁর এই বশিষে সৃষ্টরি সাথে প্রভুত্ব নয়, করছেনে বন্ধুত্ব। তনিি রসুলুল্লাহ সা:-কে করছেনে তাঁর ‘হাববি’, ইব্রাহীম আ:-কে করছেনে ‘খললি’।  আর মানুষকে করতে চয়েছেনে তাঁর ‘খলফিা’ তথা ‘প্রতনিধি’ি।
   
এসব কোন মধ্যযুগীয় কথা-র্বাতা নয়। এগুলো পাক-সৌদি বা জামাতদিরে আবষ্কিৃত কোন দাওয়াইও নয়। এগুলো মহা এই জগতরে র্সব যুগরে র্সবকালীন কথামালা। অতি সরল সত্য ও পরম র্দশন। পরপর্িূণ এই র্দশনই এ জগতরে মূল সংস্কৃত,ি এর উপরইে আর্বততি হয়ে চলছেে এই মহাবশ্বি। পরম এই র্দশনরে বাহরিে কোন সংস্কৃতি থাকতে পারে না, হতওে পারে না। দুনয়িার সব জাত,ি র্ধম, র্বণ, সমাজ নর্বিশিষেে সমগ্র মানব গোষ্ঠীর জন্যই র্সবাবস্থায় প্রয়োজন এবং প্রযোজ্য এই একক সাংস্কৃতকি র্দশন। অঞ্চল ভত্তিকি সামাজকি ও সাংস্কৃতকি আচারগুলোও হতে হবে মূল এই সংস্কৃতরি আলোকইে। কারণ একমাত্র এই সংস্কৃততিইে রয়ছেে বশ্বি মানবরে সমস্ত মঙ্গলামঙ্গলরে নশ্চিয়তা, অন্য কোথাও নয়। এখন র্পযন্ত কউে পারনেি পরম এই সত্যকে চ্যালঞ্জে করত,ে পারবে না ভবষ্যিতওে। যারা সত্যকে ভয় পায় এবং সত্যরে সাথে যাদরে রয়ছেে নয়িত র্স্বাথরে সংঘাত তারাই বস্তুত একে ঠকোতে চায় সন্ত্রাসীদরে নামে কালার করে অথবা কাল্পনকি সব ক্রয়িা-প্রতক্রিয়িার দোহাই দয়ি।

অথচ এটাই সইে সংস্কৃতি যখোনে স্পষ্ট করা হয়ছেে য,ে এই মহাবশ্বিে র্সব স্রষ্টা আল্লাহ পাকরে পরই মানুষরে স্থান। আল্লাহ আর মানুষরে মাঝামাঝি আর কছিু নইে। কোন মাধ্যম নইে। কোন  অবলম্বনও নইে। আর সইে মানুষই কনিা প্রদীপ জ্বালায় মঙ্গলরে আশায়। অগ্নপিণ্ডি মাথায় তুলে দৌড়ায় রাস্তা-ঘাট।ে ফুল দয়ে আগুনরে শখিায়। আর বশৈাখকে বলে ‘আয় আয় আয়’। কি ভয়ানক অবচিার। কি নদিারুণ আত্ম প্রতারণা।

লখেকরে বই পতে: Search ‘Mainul Ahsan’ at ‘amazon.com’


               

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত