যুক্তরাষ্ট্রে আজ শুক্রবার, ২২ মার্চ, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 06:58pm

|   লন্ডন - 12:58pm

|   নিউইয়র্ক - 08:58am

ব্রেকিং নিউজ >>   ইরাকে ফেরি ডুবে নিহত ৭১

  সর্বশেষ :

  ‘আবরার ফুটওভার ব্রিজ’ নির্মাণ কাজ শুরু   হোটেল কক্ষে গোপন ক্যামেরা বসিয়ে ১৬০০ অতিথির অন্তরঙ্গ মুহূর্ত   ইরাকে ফেরি ডুবে নিহত ৭১   নিউ জিল্যান্ডে অ্যাসাল্ট রাইফেল নিষিদ্ধ হচ্ছে   জুমার আজান সম্প্রচার করবে নিউজিল্যান্ডের রেডিও-টিভি   যুক্তরাজ্যে এক রাতে ৫ মসজিদে হামলা   সফল বাইপাস সার্জারির পর ওবায়দুল কাদেরের স্বাস্থ্যের উন্নতি   বিয়ে করছেন তিন টাইগার ক্রিকেটার   বিএনপি সরকারবিরোধী উস্কানি দিচ্ছে : হানিফ   পদ্মা সেতুতে বসছে নবম স্প্যান বৃহস্পতিবার   ২৮ তারিখ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত   আগামী শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের নারীদেরকে স্কার্ফ পরার আহ্বান   সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ বাংলাদেশি নিহত   পুলিশ হেফাজতে জামায়াত কর্মীর মৃত্যু, উত্তাল কাশ্মীর   এবার চাকসু নির্বাচনের সিদ্ধান্ত

>>  বহিঃ বিশ্ব এর সকল সংবাদ

হোটেল কক্ষে গোপন ক্যামেরা বসিয়ে ১৬০০ অতিথির অন্তরঙ্গ মুহূর্ত

দক্ষিণ কোরিয়ায় এক হাজার ৬০০ হোটেল কক্ষে গোপন ক্যামেরা বসিয়ে অতিথিদের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত ভিডিও করে তা অনলাইনে বিক্রির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, হোটেল কক্ষের টিভি, হেয়ার ড্রায়ারের হাতল ও সকেটে এসব মিনি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। পরে ওয়েবসাইট খুলে ওইসব ভিডিও বিক্রি করে ৬ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার আয় করেছিল গ্রেপ্তারকৃতরা।

দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ২৬ হাজার ৫৭১ মার্কিন ডলার জরিমানা হতে পারে।

সম্প্রতি গোপন ক্যামেরায় নগ্ন ছবি ও যৌনতার ভিডিও ধারণ ‘মহামারীর’ রুপ নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভও

বিস্তারিত খবর

ইরাকে ফেরি ডুবে নিহত ৭১

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-২১ ১৩:৫৭:৪৯

ইরাকের মসুল শহরের কাছে টাইগ্রিস নদীতে ফেরি ডুবে ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কুর্দিদের ফার্সি নববর্ষ ‘নওরুজ’ উদযাপন শেষে উম্ম রাবেন দ্বীপ থেকে ফেরার পথে ফেরিটি ডুবে যায়।

দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় বহু নারী ও শিশু আহত হয়েছেন। অনেকেই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল সা’দ মান বার্তাসংস্থা এপিকে বলেছেন, বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনায় ৭১ জন নিহত হয়েছেন। ফেরি ডুবে যাওয়ার পর ১৯ শিশুসহ ৫৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

মসুলের প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, ফেরির যাত্রীদের মধ্যে অন্তত ১০০ জনই সাঁতার জানতে না। দমকল বাহিনী নদীতে নিখোঁজদের সন্ধান করছেন।

দুর্ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। যাতে অনেককে নদীতে ভাসতে দেখা গেছে।

ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে আলজাজিরার প্রতিনিধি নাতাশা গোনেইম জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে।

এতে দেখা যায়, একটি ফেরি ডুবে যাচ্ছে... লোকজন টাইগ্রিস নদীতে ঝাপিয়ে পড়ছেন। অন্যদের উদ্ধার করছে। নদীর তীরে অনেকেই আর্তনাদ করছেন।

উত্তরাঞ্চলের নিভে প্রদেশের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের প্রধান হুসাম খলিল বার্তাসংস্থা এপিকে বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে ফেরিটি ডুবে যায়। সাঁতার না জানায় নারী ও শিশুদের মৃত্যু বেশি হয়েছে।

মসুল থেকে চার কিলোমিটার দূরে পর্যটন এলাকা উম্ম রাবেন দ্বীপে নববর্ষ উদযাপনে গিয়েছিলেন ২ শতাধিক মানুষ।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউ জিল্যান্ডে অ্যাসাল্ট রাইফেল নিষিদ্ধ হচ্ছে

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-২১ ১৩:৫৬:০৪

ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলার পর নিউ জিল্যান্ড সরকার অ্যাসাল্ট ও সেমি-অটোমেটিক রাইফেল নিষিদ্ধ করছে।

নিউ জিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে দেশের সরকার।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন কঠোর নতুন অস্ত্র আইনের অধীনে এসব অস্ত্র নিষিদ্ধ করার কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

গত ১৫ মার্চ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলায় ৫০ জন নিহত এবং ৪০ জন আহত হন।

আগামী ১১ এপ্রিলের মধ্যে নতুন অস্ত্র আইন কার্যকর হবে এবং তাতে নিষিদ্ধ অস্ত্র মালিকদের কাছ থেকে কিনে নেওয়ার একটি ব্যবস্থা রাখা হবে।
 
আরডার্ন বলেন, ‘হামলার ছয় দিন পর, আমরা সবরকমের সেমি-অটোমেটিক (এমএসএসএ) ও অ্যাসাল্ট রাইফেল নিষিদ্ধ ঘোষণা করছি।

আর ঘোষিত সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ব্যাপারে আইন প্রনয়নের আগে অস্ত্রগুলোর তড়িঘড়ি ক্রয় বন্ধ করতে অন্তবর্তী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।।

তিনি আরো বলেন, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গোলাবারুদ ও একই ধরনের অন্যান্য ডিভাইসের বিক্রিও নিষিদ্ধ করা হবে।

এর আগে বুধবার বর্ণবাদী ভাবাদর্শের শিকড় উপড়ে ফেলার জন্য বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ের ডাক দেন নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।
 
বুধবার বিবিসি’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে  তিনি এ আহ্বান জানিয়েছেন। অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে বর্ণবাদ বাড়ছে এমন ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেন আরডার্ন।

উগ্র ডানপন্থি জাতীয়তাবাদের বিস্তৃতি রোধে একসঙ্গে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চ শহরের দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অর্ধশত মানুষকে হত্যা করে বর্ণবাদী অস্ট্রেলীয় যুবক ব্রেন্টন ট্যারান্ট। এতে আহত হন ৪০ জন।

নিহতদের মধ্যে চার বাংলাদেশিও রয়েছেন। অল্পের জন্য ওই হামলা থেকে বেঁচে যান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা।


এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি
 

বিস্তারিত খবর

জুমার আজান সম্প্রচার করবে নিউজিল্যান্ডের রেডিও-টিভি

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-২১ ১৩:৫২:৪৬

শুক্রবার জুমার আজান সম্প্রচার করবে নিউ জিল্যান্ডের একটি সরকারি রেডিও এবং টেলিভিশন চ্যানেল।  বুধবার প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরদার্ন এ ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে নিহত ৫০ জনের স্মরণে শুক্রবার দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। রেডিও এনজেড ও টিভিএনজেডে এই নীরবতা পালনের ঘোষণা দেওয়া হবে। এছাড়া এই দুটি সম্প্রচারমাধ্যমে জুমার আজানও সম্প্রচার করা হবে।

ক্রাইস্টচার্চে নিহতদের দাফন বুধবার শুরু হয়েছে। স্থানীয় মুসলমানদের সমবেদনা জানাতে দ্বিতীয়বারের মতো এ দিন ক্রাইস্টচার্চে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আরদার্ন।

সেখানে তিনি বলেছেন, ‘বিশেষ করে শুক্রবার মুসলমানদের মসজিদে ফিরে যাওয়ার প্রতি সমর্থণ ব্যক্ত করার প্রত্যাশা রাখছি। বিষয়টি মনে করিয়ে দিতে ওই দিনই দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। আমরা জাতীয়ভাবে টিভিএনজেড ও রেডিও এনজেডের মাধ্যমে আজানও সম্প্রচার করব।’

প্রধানমন্ত্রী এসময় নিহতদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণেরও ঘোষণা দিয়েছেন।

গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা চালায় অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারেন্ট। ওই হামলায় নিহত হয় ৫০ জন মুসলিম। এছাড়া আহত হয় আরো অনেকে।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

যুক্তরাজ্যে এক রাতে ৫ মসজিদে হামলা

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-২১ ১৩:৫১:৫৫

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে এক রাতে ৫টি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার গভীর রাত ও বৃহস্পতিবার ভোরে বার্মিংহামের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডে মসজিদগুলোর দরজা-জানাজা দুর্বৃত্তরা হাঁতুড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, অজ্ঞাতদের এ হামলায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে, এ ঘটনায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তারা শুক্রবার জুমার নামাযে নিরাপত্তা জোরদারের আবেদন করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে পুলিশ বলেছে, স্থানীয় সময় বুধবার রাত আড়াইটার দিকে ওই ব্যক্তি ব্রার্চফিল্ড রোডের মসজিদে হাঁতুড়ি দিয়ে জানালা ভাঙতে দেখেছেন।

এর ৪৫ মিনিট পরে পুলিশ একই ধরনের হামলার ঘটনা পেয়েছে এরডিনটং, অ্যাস্টন ও পেরিবারে। আর স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে আলবার্টা রোডের মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ গভীর উদ্বেগ এবং ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা দুঃখজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন। একইসঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ওয়েস্টমিডল্যান্ডের পুলিশ বলেছে, এখন পর্যন্ত তারা মসজিদে এ ধরনের হামলার উদ্দেশ্য জানতে পারেনি। তবে, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন।

অ্যাস্টনের উইটন রোডের উইটন ইসলামিক সেন্টারের মুখপাত্র বলেছেন, তারা সিসিটিভির ফুটেজে রাত দেড়টার দিকে এক ব্যক্তিকে হাঁতুড়ি দিয়ে মসজিদের জানালা ভাঙতে দেখেছেন।

তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি সবমিলে মসজিদের সামনেরটিসহ ৬টি জানালা ভেঙে ফেলেছেন। পরে তিনি সেগুলো মসজিদের দিকেই ছুড়ে মেরে পালিয়ে যান।

লেবার পার্টির কাউন্সেলর মাজিদ মাহমুদও এ ধরনের হামলার একটি ভিডিও টুইটারে দিয়েছেন।

মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও বার্মিংহামের কাউন্সিলর জন কটন বলেছেন, বার্মিংহামে সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাস করছেন।

তিনি হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ওয়েস্ট মিডল্যান্ড পুলিশের প্রধান কনস্টেবল ডেভ থম্পসন বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা গতরাতে মসজিদে হামলার কারণ জানতে পারিনি।’

বার্মিংহাম কাউন্সিল অব মসজিদ এক বিবৃতিতে রাতে মসজিদে হামলা চালিয়ে ভাংচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এতে মসজিদে নিরাপত্তা বাড়ানোরও দাবি জানানো হয়েছে।


এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

আগামী শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের নারীদেরকে স্কার্ফ পরার আহ্বান

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-২০ ১৭:৩৮:১৬

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের দুটি মসজিদে জুমার নামাজরত মুসলিমদের ওপর হামলার পর দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়াতে আগামী শুক্রবার কিউই নারীদেরকে স্কার্ফ পরার আহ্বান জানিয়েছে ‘স্কার্ভস ইন সলিডারিটি’ নামের একটি সংগঠন।

বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে নিউজিল্যান্ডের গণমাধ্যম ‘নিউজহাব’। এতে বলা হয়, দেশব্যাপী এই আয়োজনের অন্যতম সংগঠক হলেন অ্যানা থমাস নামের এক নারী। ইতোমধ্যে অনলাইনে কয়েকশ’ মানুষ এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে কমেন্ট করেছে।

স্থানীয় এক টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত ম্যাজিক টক নামের একটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপক সিয়ান প্লানকেটকে অ্যানা থমাস জানান, তারা বোঝাতে চান যে দেশটির মুসলিমরা একা নয়। তিনি বলেন, নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শুক্রবার আমরা স্কার্ফ পরবো।

তিনি বলেন, যে নারীরা হিজাব পরে নিউজিল্যান্ডের রাস্তায় বের হয়, তারা বর্ণবাদী হামলার আশঙ্কায় থাকে। তাই এদেশের সব নারী হিজাব পরলে তাদের এই আশঙ্কা অনেকাংশে দূর হয়ে যাবে। তারা মনে করবে আমরা সবসময় তাদের পাশেই আছি।

কয়েকজন তার এই আহ্বানকে একটি বিপজ্জনক সাংস্কৃতিক জবরদস্তি বলে সমালোচনা করেছেন। এই বিষয়ে থমাস জানান, তিনি ইসলামিক উইমেন’স কাউন্সিলের সদস্য নাসরিন হানিফের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছেন। নাসরিন হানিফ এই বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।

অ্যানা থমাসকে নাসরিন হানিফ বলেন, এতে মনে হবে নিউজিল্যান্ডের সব মানুষ আমাদের কষ্টে পাশে আছে। আপনার এই চিন্তাভাবনার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। এদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি জানানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হবে এটি।

গত শুক্রবার আল নূর এবং লিনউড মসজিদে পরপর হামলা করে ৫০ জনকে নিহত এবং ৫০ জনকে আহত করেছেন ব্রেনটন ট্যারেন্ট নামের এক ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক। হামলার ৩৬ মিনিট পর তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় স্থানীয় পুলিশ।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন এটাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে উল্লেখ করেন। পরে তিনি দেশটির সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশনে বলেন, মসজিদে হামলাকারী সর্বোচ্চ শাস্তি ভোগ করতে হবে। তিনি নিজে অনেক কিছু ভাবতে পারেন কিন্তু কুখ্যাতি ছাড়া আর কিছুই পাননি।

তার এই ঘৃণ্য কাজের জন্য আমি কখনোই তার নাম মুখে নেবো না বলেও উল্লেখ করেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

পুলিশ হেফাজতে জামায়াত কর্মীর মৃত্যু, উত্তাল কাশ্মীর

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-২০ ১৭:৩৩:২৭

ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের অবন্তীপুরায় বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া এক মুসলিম যুবক পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়ার পর সমগ্র কাশ্মির জুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। নিহত যুবকের নাম রিজওয়ান আসাদ পন্ডিত। তিনি ছিলেন স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক এবং সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় কর্মী।

ঠিক কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, পুলিশ সে ব্যাপারে কিছু না জানালেও পুলিশ সূত্রগুলো দাবি করছে, স্বাধীনতাকামী আন্দোলনে জড়িত সন্দেহেই ওই যুবককে আটক করা হয়েছিল। তার পরিবার বা রাজ্যের মানবাধিকার কর্মীরা অবশ্য সে কথা মানছেন না।

গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামাতে জাতীয় সড়কের ওপর যে আত্মঘাতী হামলায় চল্লিশজনের বেশি ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিল, রিজওয়ান আসাদ পন্ডিতদের বাড়ি সেই জাতীয় সড়ক থেকে বেশি দূরে নয়।

নিহত রিজওয়ান আসাদের বাবা আসাদউল্লাহ পন্ডিত কাশ্মীরে জামায়াতে ইসলামীর একজন রোকন, ছেলেও যুক্ত ছিলেন সেই সংগঠনের কাজে। দেরাদুন থেকে কেমিস্ট্রিতে মাস্টার্স করে আসার পর রিজওয়ান ছিলেন স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক, পাশাপাশি ছাত্রদের টিউশনও দিতেন।

পরিবার স্বপ্ন দেখত শিগগিরই সে কাশ্মীর ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করবে। কিন্তু তার বদলে এখন অবন্তীপুরায় তাদের দোতলা বাড়ির সামনে শোকের মাতম।

মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পর থেকেই এলাকার মহিলারা তাদের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে একটানা বিলাপ আর কান্নাকাটি করে চলেছেন।

রিজওয়ানের সবচেয়ে ছোট ভাই জুলকারনাইন জানাচ্ছেন,‘রোববার রাতে স্থানীয় থানার পুলিশ ডিএসপি-র নেতৃত্বে আমাদের এলাকায় হানা দিয়ে দু-তিনটে বাড়ি ঘিরে ফেলে। তারপর মহিলাদেরসহ পরিবারের বাকি সবাইকে বাইরে একটা ঘরে আটকে রেখে ওকে তুলে নিয়ে যায়। তারা হুমকিও দিয়ে যায়, এ খবর যেন আমরা বাইরে কাউকে না-বলি।’

তিনি আরো বলেন,‘পরদিন সোমবার থানায় খোঁজ নিতে গিয়ে শুনি ওকে শ্রীনগরের কার্গো ক্যাম্পে সরিয়ে নেয়া হয়েছে- আর মঙ্গলবার শুনলাম ওকে মেরেই ফেলা হয়েছে।’

রিজওয়ানের ছোটভাই জুলকারনাইন বলেন,‘অথচ ওর সাথে সন্ত্রাসীদের কোনো সম্পর্কই ছিল না, এটা ঠান্ডা মাথায় একটা খুন- আমরা যার তদন্ত চাই।’

শ্রীনগর বিমানবন্দরের কাছে যেখানে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের সদর দফতর, সেটি 'কার্গো ক্যাম্প' নামেই কুখ্যাত- বহু কাশ্মীরি যুবকই সেখানে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ।

সেই কার্গোতে রিজওয়ান আসাদের মৃত্যু হয়েছে, এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় ক্ষুব্ধ তরুণরা রাস্তায় নেমে আসেন। সেই সব বিক্ষোভ আর ভারত-বিরোধী সমাবেশ থেকে স্লোগানও দেয়া হয় এই বলে যে- রিজওয়ানের রক্ত কাশ্মীরে বিপ্লব আর স্বাধীনতা এনে দেবে।

কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হামিদা বানো বলছিলেন,‘বর্বরতাও যে কত স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে এই ঘটনা তার একটা জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। ভারতে বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই যেন তারা মুসলিমদের নির্মূল করার এজেন্ডা নিয়ে চলছে ... কাশ্মীরে সেটা আগেও ছিল, কিন্তু এখন আর কোনো রাখঢাক নেই।’

তিনি আরো বলেন,‘কখনো গুম, কখনো এনকাউন্টার (বন্দুকযুদ্ধ), কখনও কাস্টডিয়াল ডেথ (পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু)- কাশ্মীরে নির্বিচার হত্যা চলছেই। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা একটা গণহত্যাই যেন রুটিনে পরিণত হয়েছে।’

কাশ্মীরে গত মাসে যে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে এখন সন্ত্রাসবাদের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করছেন অধ্যাপক বানো।

তিনি বলছিলেন,‘ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন জামায়াত কাশ্মীরে খুবই প্রভাবশালী - কিন্তু বিগত পনেরো বছরে তারা নিজেদের অনেক পাল্টে নিয়েছে, আক্রমণাত্মক ভাব থেকে একেবারেই সরে এসেছে।’

অধ্যাপক হামিদা বানো বলেন,‘তাদের প্রায় গোটা নেতৃত্ব ক্র্যাকডাউনে খতম হয়ে যাওয়ার পর তারা এখন শুধু ধর্মীয় ও সামাজিক কাজকর্মেই মন দিয়েছে। তারা চরমপন্থা সমর্থন করছে না বলে সৈয়দ আহমেদ শাহ গিলানির মতো নেতাও জামায়াত ছেড়ে নিজের দল তেহরিক-ই-হুরিয়ত গঠন করতে বাধ্য হয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, অথচ জামায়াতের কর্মী রিজওয়ান আসাদ পন্ডিতকে সেই সন্ত্রাসী সন্দেহেই পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলল- তার পরিবার ও মহল্লার লোকজন সেটা কিছুতেই মানতে পারছেন না।


এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সালামে শুরু জেসিন্ডার বক্তব্য, সংসদেই নামায

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-১৯ ১৪:৫০:০১

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে নৃশংসতার পর নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্নের দরদি চেহারা বিশ্ব দেখেছে।

হতাহতের ঘটনায় শোকার্ত মুসলিমদের তিনি বুকে টেনে নিয়েছেন। অভয় দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা তোমাদের শোকের সাথী হয়তো হতে পারব না। কিন্তু, কথা দিচ্ছি, একসঙ্গে আমরা অনেকটা পথ হাঁটব।’

শুরু থেকেই পোশাকেও জেসিন্ডা থেকেছেন নির্মোহ। নিজেদের সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে মুসলিম কমিউনিটিতে হাজির হয়েছেন মাথা ঢেকে।

মঙ্গলবার জেসিন্ডার দরদি মানবতার আরেক চেহারাও দেখল বিশ্ব। গত ১৫ মার্চের নৃশংসতার স্মরণে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে জাসিন্ডা তার বক্তব্য শুরুই করেন আরবিতে, ‘আসসালামু আলাইকুম (অর্থ: আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)’ বলে।

শুধু তাই নয়, এদিন নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী মুসলিম ছাড়াও অন্য বিশ্বাসের অনুসারিদের সংসদে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা নিজ ধর্মের বেশে সংসদে প্রবেশ করেন।

পরে প্রথমে মুসলিমদের জন্য সংসদে নামাযের ব্যবস্থা করে দেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন। এরপর বাকি ধর্মের অনুসারিরাও প্রার্থনা করেন।

আশ্চর্যের বিষয় বক্তব্যের সময় তিনি একটিবারের জন্যও দুটি মসজিদে হামলাকারী বন্দুকধারীর নাম উচ্চারণ করেননি। পষ্ট করেই বলেছেন, ‘সন্ত্রাসীর কোনো নাম নেই, ধর্ম নেই। সে সন্ত্রাসীই। নিউজিল্যান্ডের যে আইনি শক্তি আছে, তার সর্বোচ্চটিরই মুখোমুখি তাকে (হামলাকারী ব্রেনটন টারান্ট) হতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী কিউইদের কাছে ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসিজদে হামলায় নিহত ৫০ ও ৪৮ জন আহতের ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন। একইসঙ্গে হতাহতদের স্বজনদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনাও করেন।

হামলাকারী ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ব্রেনটন টারান্টকে উদ্দেশ্য করে কিউই প্রধানমন্ত্রী সংসদকে বলেন, ‘তিনি (টারান্ট) সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে অনেক কিছু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, তিনি কুখ্যাত। এজন্য আপনারা কখনই আমার মুখে তার নাম শুনবেন না।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানতে চাইতে পারেন, এখানে আমি কেন একবারও তার নাম (হামলাকারী) নিলাম না? তিনি একজন সন্ত্রাসী, অপরাধী এবং উগ্রপন্থী। কিন্তু, আমি যখন তার প্রসঙ্গেই বলছি, সন্ত্রাসীর কোনো নাম হয় না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের অনুরোধ করব, যারা চলে গেছেন আমরা বরং তাদের নাম নেই ওই খুনির নাম নেয়ার চেয়ে। তাকে নিয়ে যখন আমি কথা বলব, তিনি নামবিহীন থাকবেন।’

এ সময় জেসিন্ডা ওই হামলার ভিডিও শেয়ার করা বন্ধ করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও কাজ করার আহ্বান জানান।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের আইন অনুযায়ী হামলাকারী পূর্ণ শাস্তির মুখোমুখি হবেন।’

৩৮ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাপী পরিচিত শোকের কালো পোশাক পরে সংসদে আসেন। তিনি বক্তব্য শেষ করেন, ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু (অর্থ: আপনার উপরও শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)’ বলে।

এরপর প্রধানমন্ত্রী উঠে গিয়ে সংসদে আসা মুসলিমদের সঙ্গে গত ১৫ মার্চ মসজিদে হতাহতের ঘটনায় সমবেদনা প্রকাশ করেন। মুসলিম নারীদের বুকে টেনে নেন।

স্পিকার ট্রেভর মালার্ড বিভিন্ন ধর্মের বিশ্বাসীদের এই বিশেষ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানান। তারা নিজ নিজ ধর্মীয় পোশাকে সংসদে এসে পরে প্রার্থনাও করেন। কিন্তু, সর্বপ্রথম মুসলিমদের নামায আদায় করতে দেয়া হয়। পরে অন্য ধর্মের অনুসারিরা তাদের প্রার্থনা করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ জুমার নামাযের সময় ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর ও লিনউড মসজিদে বন্দুকধারী নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে পাঁচ বাংলাদেশিসহ ৫০ জন নিহত ও ৪৮ জন আহন হন।

হামলাকারী অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ব্রেনটন টারান্ট আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি চালান এবং হামলার ঘটনাটি ফেসবুকে লাইভ করে। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

তুরস্কে হামলা করলে কফিনে ভরে ফেরত পাঠাব: এরদোয়ান

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-১৯ ১৪:৪৪:১১

মুসলিমবিরোধী কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ তুরস্কে গেলে তাদেরকে ‘কফিনে ভরে’ ফেরত পাঠানো হবে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।

তুরস্কের সংবাদ মাধ্যম দ্য হারিয়েট ওয়েবসাইট জানায়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত করে এরদোয়ান বলেছেন কেউ তুর্কি, মুসলিম ও সব নির্যাতিতদের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে তুরস্ক প্রয়োজনে আবারও ‘ইতিহাস লিখবে’।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দু’টি মসজিদে হামলার প্রতিক্রিয়ায় এরদোয়ান প্রথম বিশ্বযুদ্ধের গ্যালিপলি অভিযানের উদ্ধৃতি দেন। ওই যুদ্ধে ব্রিটিশ ও ফরাসীরা তৎকালীন অটোমান সাম্রাজ্যের গ্যালিপলি প্রণালী দখলের চেষ্টায় প্রবল অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হয়। মিত্রবাহিনীতে ব্রিটিশ সৈন্যদলের আওতায় অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সৈন্যরাও ছিল।

গ্যালিপলিতে মিত্রবাহিনী ও অটোমান সাম্রাজ্য দুই পক্ষেরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই সংঘর্ষের পর অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড স্বাধীন দেশ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আগে তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্বের বিষয়ে সচেতন হয়ে ওঠে।

নিউজিল্যান্ড ও পশ্চিমা দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে এরদোয়ান বলেন, ‘আপনাদের দাদারা এসেছিলেন, এবং তাদের কেউ কেউ কফিনে করে ফেরত গেছে। দাদাদের মতোই আপনারা এলে, আপনাদেরকেও একইভাবে ফেরত পাঠানো হবে,’  বলেন তিনি।

তুরস্কে আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন এরদোয়ান। মিত্রবাহিনীকে পরাজিত করার ঘটনার স্মরণে গ্যালিপলির কাছেই আয়োজিত একটি সভায় সোমবার তিনি বলেন, ‘মুসলিমদের শত্রুরা দেখিয়েছে তারা আমাদের ঘৃণার চোখেই দেখে।’

‘ওরা ১৬,৫০০ কিলোমিটার দূরে নিউজিল্যান্ড থেকে বার্তা দিয়ে আমাদের পরীক্ষা করছে। এটা কোনও পৃথক হামলা নয়, এটা সংঘবদ্ধ,’ বলেন এরদোয়ান।

মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্ত অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন টারান্ট হামলার আগে কেন দুই বার তুরস্ক ভ্রমণ করেছিল সে বিষয়ে তিনি তদন্ত শুরু করেছেন।

হামলাকারীর ইশতেহারে তুরস্ক ও এর মুসলিম জনগোষ্ঠীর উল্লেখ থাকায় এরদোয়ান এই হামলাকে তুরস্কের জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

গ্যালিপলির যুদ্ধে অংশ নেয়া অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সৈন্যদের স্মরণে অস্ট্রেলিয়ান অ্যান্ড নিউজিল্যান্ড আর্মড কোর বা আনজাক দিবসে এই দুই দেশের মানুষ গ্যালিপলিতে যান। আর মাত্র মাস খানেক পর ২৫ এপ্রিল আসছে আনজাক দিবস।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে মুসল্লিদের পাহারা দিচ্ছেন অমুসলিমরা

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-১৯ ১৪:৩৮:০৪

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি মসজিদে নামাজের সময় অমুসলিমদের পাহারা দেয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীর হাতে ৫০ জন নিরিহ মুসল্লি নিহত হওয়ার পর উদ্বিগ্নক্যালিফোর্নিয়ার অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা।

উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডে একটি মসজিদে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যম।

নৃশংস ওই হামলার জেরেই তারা নামাজের সময় স্থানীয় মুসল্লিদের পাহারা দিয়েছেন বলে টুইটারে এমনটাই জানিয়েছে স্থানীয়রা।

দেশটির স্থানীয় বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশের পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের এমন উদ্যোগে প্রশংসায় ভেসে ওঠে ফেসবুক, টুইটার।

দিতিয়া ডেন্স নামে এক টুইটার ব্যবহারকারী একটি ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে দেখা গেছে মসজিদকে ঘিরে লাইনে দাঁড়িয়ে কিছু মানুষ।

ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, নিউজিল্যান্ডে দুটি মসজিদে ৫০ জন মুসলমানকে হত্যার পর মুসলমানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এমন পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কিরি বেলডন নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা লেখেন, গত শনিবার নামাজ চলাকালীন ক্যালিফোর্ণিয়ার একটি মসজিদের সামনে একটি মানববন্ধন দেখেছি। মানববন্ধনটির কেউ মুসলমান ছিলেন না। কারণ মুসলমানরা তো মসজিদে প্রার্থনারত। এসব নন-মুসলিমরা এভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন যাতে মুসলমানরা নিরাপদে তাদের প্রার্থনা সারতে পারেন।

ওই ছবিটি পোস্ট করে অন্য একজন লিখেছেন, ‘চলুন শান্তি আর ভালোবাসা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেই।’

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মুসলমান, খ্রিস্টান ও ইহুদিরা সম্প্রীতির সঙ্গে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। তাদের এমন ভাতৃত্ববন্ধনকে ফেইথ ট্রাইও বা বিশ্বাসের ত্রয়ী নাম দেয়া হয়েছে।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউজিল্যান্ডে বন্দুকের লাইসেন্স পাওয়া এতো সহজ!

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-১৯ ১৪:৩৬:৪৪

নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের আল নূর এবং লিনউড মসজিদে স্থানীয় সময় গত শুক্রবার একাধিক সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়ে ৫০ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত করেছেন অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ২৮ বছর বয়সী ব্রেনটন ট্যারেন্ট। এই হামলার ঘটনায় দেশটিতে প্রচলিত বন্দুকের লাইসেন্স প্রদানের শর্ত এবং অস্ত্র আইন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে নিউজিল্যান্ডের বন্দুকের লাইসেন্স প্রদানের শর্ত এবং অস্ত্র আইন সম্পর্কিত বিস্তারিত তুলে ধরেছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম স্টাফ।

দেশটির একজন নাগরিকের বয়স ১৬ বছর হলেই তিনি আবেদনের করে একটি রাইফেল বা শটগান পেতে এবং ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য তাকে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে ফি হিসেবে ১২৬.৫০ ডলার, পাসপোর্ট সাইজের দুটি ছবি এবং পরিচয়ের প্রমাণস্বরূপ তিনটি ডকুমেন্ট জমা দিয়ে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়।

এরপর পুলিশ তার ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে জানতে প্রাথমিক তদন্ত করে তাকে লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। যদি কেউ লাইসেন্স না পায়, তবে তাকে ফায়ারআর্মস সেফটি কোর্সে অংশগ্রহণ করতে হয়। এতে নিউজিল্যান্ড সেফটি কাউন্সিলের নির্দেশকরা বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে থাকে। চলতি মাসের শুরু থেকে এটা শুরু হয়েছে।

এই কোর্সের থিওরি টেস্টে উত্তীর্ণ হলে একটি প্র্যাকটিক্যাল সেশনে অংশগ্রহণ করতে হয়। এরপর অংশগ্রহণকারীর পরিচিত কারও সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। তারা যদি বলেন তিনি কোনও ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন না, তবে তাকে ১০ বছরের জন্য ফায়ারআর্মসের লাইসেন্স দেয়া হয়।

দেশটির অস্ত্র আইন অনুসারে, যে অস্ত্রগুলো থেকে বুলেট বা বিস্ফোরক দ্রব্য ছোড়া যায়, সেগুলোকে ফায়ারআর্মস বলা হয়। এভাবেই ট্যারেন্ট সেনাবাহিনীর সদস্যদের ব্যবহার করা একাধিক সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র কিনতে সক্ষম হন বলে জানিয়েছে নিউজিল্যান্ডে শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমটি।


এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিজের জন্য সংগৃহীত ৪২ হাজার ডলার নিহতদের পরিবারে দান করছেন ‘এগ বয়’

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-১৮ ০৯:২৩:৫২

অভিবাসী মুসলমানদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যকারী অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভেঙে আলোচিত সেই তরুণ এবার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

১৭ বছরের অস্ট্রেলিয়ান ওই সাহসী তরুণ নিজের জন্য সংগৃহীত অর্থ ক্রাইস্টচার্চের নিহত মুসল্লিদের জন্য ব্যয় করবেন। ‌ডিম বালক খ্যাত উইল কনোলি ঘোষণা দিয়েছে, তার জন্য সংগৃহীত অর্থ তিনি নিউজিল্যান্ডের ভয়াবহ হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যাণে খরচ করবেন।

অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভাঙার দায়ে উইল কনোলিকে গ্রেফতার করা হলে তার জন্য একটি তহবিল গঠন করা হয়। সিনেটরের মাথায় ডিম ভাঙার ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে বিশ্বজুরে সাহসী তরুণ হিসেবে প্রশংসিত হন উইল কনোলি।

গ্রেফতারের পর তার মুক্তি ও আইনি সহায়তার জন্য অনলাইনে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মাত্র দুই হাজার ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ইতিমধ্যে তার জন্য জমা পড়েছে প্রায় ৪২ হাজার ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ৩৫ লাখ টাকার মতো। ক্রাউডফান্ডিং সাইট ‘গো ফান্ড মি’র মাধ্যমে এ অর্থ সংগৃহীত হয়।

তবে সবাইকে হতবাক করে দিয়ে উইল কনোলি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোক্তাকে জানিয়ে দিয়েছেন, এই অর্থের বড় অংশটি ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের দিয়ে দেবেন তিনি।

গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ডানপন্থী শেতাঙ্গ সন্ত্রাসী ব্রেন্টন ট্যারেন্টের গুলিতে ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন অন্তত ৪৮ জন।

নৃশংস এ হামলার কারণ হিসেবে দেশটির ইমিগ্রেন্টকে দায়ী করে বিতর্কিত মন্তব্য করেন অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেসার অ্যানিং।

মসজিদে হামলার ঘটনায় মুসলিম অভিবাসীদের দায়ী করা অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেসার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ফাটিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ১৭ বছরের অস্ট্রেলিয়ান তরুণ উইল কনোলি। শনিবার মেলবোর্নের মোরাবিনে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় কট্টর এ অস্ট্রেলিয়ান সিনেটরের মাথায় ডিম ফাটিয়ে প্রতিবাদ জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যানিং কথা বলার সময় তার পেছনে এই তরুণ দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ করেই তার বাঁ-হাতে মোবাইল ধরে ডান হাতে অ্যানিংয়ের মাথায় একটি ডিম ফাটিয়ে দেন। এর একটু আগে সে তার মোবাইলে ভিডিও করা শুরু করে। ডিম ছোড়ার পরও নির্বিকার ভঙ্গিতে ভিডিও করে যাচ্ছিল উইল কনোলি।

হতবাক অ্যানিং পেছনে ঘুরে তরুণের মুখে চড় মারতে শুরু করলে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় পাশে থাকা লোকজন ওই তরুণকে মাটিতে চেপে ধরে, অন্য একজন অ্যানিংকে সরিয়ে নেয়।

উইল কনোলিকে আটক করা হলেও কোনো অভিযোগ না এনেই পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে আরও তদন্তের পরে ঠিক করা হবে, এই ঘটনায় কোনো অভিযোগ গঠন করা হবে কিনা।

মুক্তির পর টুইটারে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় উইল বলেছেন, ‘রাজনীতিকদের ডিম মারবেন না। এতে আপনাকে ৩০ জন নিম্ন শ্রেণির লোককে মোকাবেলা করতে হবে। আমার কঠিন শিক্ষা হয়ে গেছে।’

টুইটারে দেওয়া পোস্টে তার প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন উইল কনোলি।

উইল কনোলি বলেন, একজন মানুষ হিসেবে ওই মুহূর্তটিতে আমি গর্বিত অনুভব করেছি। আপনাদের বলতে চাই, মুসলমানরা সন্ত্রাসী নয় এবং সন্ত্রাসবাদের কোনও ধর্ম নেই। মুসলমানদের যারা সন্ত্রাসী সম্প্রদায় মনে করে, তাদের মাথা অ্যানিংয়ের মতোই শূন্য।

এদিকে বিতর্কিত মন্তব্যকারী অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভেঙে ইন্টারনেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে উঠেছেন ১৭ বছরের তরুণ উইল কনোলি। তাকে এখন 'ডিম বালক' নামেই ডাকা হচ্ছে। টুইটারে #eggboy নামে একটি ট্রেন্ডও চালু হয়ে গেছে। ওই ঘটনার পর ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারে তার ফলোয়ার সংখ্যা হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ার সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে। ‌‌‌‌‌

ডিম বালকের’ পাশে দাঁড়িয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনো। অ্যানিংয়ের মুসলিমবিদ্বেষী মন্তব্যের কঠোর নিন্দা করেছেন তিনি। অ্যানিংয়ের এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন টুইটারে বলেন, তার এ ধরনের বক্তব্য ন্যক্কারজনক। এ ধরনের মতামতের অস্ট্রেলিয়াতে কোনো স্থান নেই। এটা অস্ট্রেলীয় সংসদ। নিজের মন্তব্যের জন্য তার লজ্জিত হওয়া উচিত। আমার সরকার কোনোভাবেই এর সঙ্গে একমত নয়।

শুক্রবারের বিবৃতির জন্য অ্যানিংয়ের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া সরকার পার্লামেন্টে তিরস্কার প্রস্তাব তুলবে বলেও জানান তিনি।

সোমবার গো-ফান্ডমি পেজের একজন বলেন, আমি কিছুক্ষণ আগে ‘ডিম বয়’ উইলির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। তার জন্য গঠিত তহবিলের বেশির ভাগ অর্থ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতদের সহায়তায় পাঠাতে চান উইলি।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

এই বিশ্বে ইসলামবিদ্বেষের কোনো স্থান নেই: কানাডার প্রধানমন্ত্রী

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-১৮ ০৪:২৪:৩৭

এই পৃথিবীতে ঘৃণা ও ইসলামবিদ্বেষের কোনো স্থান নেই বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তিনি বলেছেন, ঘৃণা ও ধর্মবিদ্বেষের প্রভাব খুবই ভয়াবহ হয়ে থাকে।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় কানাডার নিহতদের পরিবারের স্বজনদের দেখা করে সান্তনা জানান ট্রুডো। এরপর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া পোস্টে এমন মন্তব্য করেন ট্রুডো।

তিনি লিখেন, ‘প্রার্থনার সময় মানুষের ওপর হামলা করা অত্যন্ত বেদনার এবং নিউজিল্যান্ডে আজ যে গুলির ঘটনা ঘটেছে তার কঠোর নিন্দা করছে কানাডা। হতাহত এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা। নিউজিল্যান্ড এবং বিশ্ব মুসলিম জনগোষ্ঠীর মতোই আমরা আজ শোকাহত।’

এর আগে রোববার কানাডার অন্টারিওর অটোয়ার দক্ষিণ নিপেন মুসলিম কমিউনিটি মসজিদে তিনি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনের বক্তব্য শোনেন এবং কিভাবে নিরাপদ ও সমন্বিত সমাজ গড়ে তোলা যায় সে বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

এদিকে ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যুর ঘটনায় শোক জানাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করেন জাস্টিন ট্রুডো। আজ সোমবার দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এ ফোনালাপ হয়।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানান। এ ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যদের কোনোরকম ক্ষতি না হওয়ায় জাস্টিন ট্রুডো স্বস্তি প্রকাশ করেন।

এ সময় দুই প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়কে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত ৫০ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের পাঁচজনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা আটজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪৮ জন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকজন। নৃশংস এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় বইছে।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ক্রাইস্টচার্চে সন্তানকে বাঁচাতে বন্দুকের সামনে বুক পাতেন বাবা!

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-১৮ ০৪:১২:৩৬

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার সময় ঘাতকের বন্দুকের সামনে নিজের বুক পেতে দুই বছর বয়সী সন্তানের জীবন বাঁচালেন ইন্দোনেশিযার যুবক জুলফিকার সিয়াহ।

আল নূর মসজিদের পর লিনউড মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার সময় সেখানে দুই বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে নামাজ পড়তে যাওয়া জুলফিকার শিশুটিকে বাঁচাতে নিজের বুক পেতে দেন।

গুলিতে শিশুটি সামান্য আহত হলেও তার বাবা মারাত্মক আহতাবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খবর ডেইলি মেইলের।

আহত জুলফিকার সিয়াহর অবস্থা গুরুতর। নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে রেখে তার চিকিৎসা চলছে। সিয়াহর মার্কিন স্ত্রী আল্টা ম্যারি বলেন, তাদের ছেলে আভেরোস সামান্য আহত, সে সুস্থ হয়ে উঠছে।

মাত্র দুই মাস আগে ইন্দোনেশিয়া থেকে নিউজিল্যান্ডে আসে সিয়াহর পরিবার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি তুলে ধরেছেন সিয়াহর স্ত্রী। তিনি লিখেছেন- লিনউড ইসলামিক সেন্টারে হামলার সময় আমার স্বামী আমাদের ছেলেকে আড়াল করেছিল। এতে হামলাকারীর অধিকাংশ গুলি লাগে স্বামীর গায়ে।

ক্রাইস্টচার্চের আল নূর ও লিনউড মসজিদে গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় খ্রিস্টান জঙ্গির হামলায় নারী ও শিশুসহ নিহত হয়েছেন ৫০ জন।
এদের মধ্যে পাঁচ বাংলাদেশি রয়েছেন। ওই হামলায় আহত আরও ৪৮ জনের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সিনেটরের মাথায় ডিম ভেঙে রাতারাতি হিরো কনোলি

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-১৭ ১৩:৫৪:৩৩

অস্ট্রেলিয়ার চরম ডানপন্থী সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম মারার পর রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে উঠেছেন কিশোর উইল কনোলি।

শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ৪৯ জন মুসলিমকে হত্যার করে অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ব্রেনটন টারান্ট।

অ্যানিং এই হত্যাযজ্ঞের জন্য মুসলিম অভিবাসনকে দায়ী করে বক্তব্য দেন। এরপর মেলবোর্নে এক সংবাদ সম্মেলনে যখন অ্যানিং বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কনোলি হঠাৎ করেই তার মাথায় একটি ডিম ভেঙে ভাঙেন।

এরপর সিনেটর অ্যানিং ওই তরুণকে কয়েকবার মারতে উদ্ধত হন। অ্যানিংয়ের বেশ কয়েকজন সমর্থকও তাকে আঁকড়ে ধরে মাটিতে ফেলে রাখেন।

দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড রোববার জানায়, ‘গো ফান্ড মি’ ওয়েবসাইটে কনোলির জন্য ইতোমধ্যে ২২ হাজার ডলারেরও বেশি চাঁদা তোলা হয়েছে।

চেঞ্জ ডট ওআরজি ওয়েবসাইটে ভিন্ন একটি পিটিশনে সিনেটর অ্যানিংকে পার্লামেন্ট থেকে বহিষ্কারের এক আবেদনে দুই দিনেরও কম সময়ে স্বাক্ষর করেছেন ৭ লাখেরও বেশি মানুষ।

আবেদনের উদ্যোক্তা কেট আহমেদ বলেন, ‘আমাদের গণতান্ত্রিক ও বহুবিচিত্র সংস্কৃতির দেশে সিনেটর অ্যানিংয়ের কোনো জায়গা নেই।’

মেলবোর্নের কিশোর কনোলি টুইটারে একটি ছোট্ট ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে সে নিজের পরিচয় দিয়েছে ‘এগ বয়’ হিসেবে।

‘রাজনীতিকদের ডিম মারবে না, মারলে একসঙ্গে ৩০ জন তোমাকে আঁকড়ে ধরে মাটিতে চেপে রাখবে। আমি খুব কষ্ট করে এই শিক্ষা পেয়েছি’, ভিডিওতে বলেন কনোলি।

কনোলির একাউন্ট অকেজো করে দেয়া হলেও সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে বিভিন্ন রকম পোস্ট ছড়িয়ে পড়ছে।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ক্রাইস্টচার্চে হামলাকারীর মৃত্যুদণ্ড চাইলেন তার বোন

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-১৭ ১৩:৪২:০৫

নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলায় অভিযুক্ত ব্রেনটন ট্যারান্টের চাচাতো বোন ডন্না কক্স জানিয়েছেন, তার আত্মীয়ের প্রাপ্য হলো মৃত্যুদণ্ড। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

কক্স অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে বসবাস করেন। ২৮ বছর বয়সী এই নারী বলেন, ট্যারান্ট ক্রাইস্টচার্চে হামলা চালিয়ে ৫০ জনকে মেরেছে, এটা জানার পর থেকে মনে হচ্ছে তার আত্মীয় হওয়াটা দুর্ভাগ্যের।

কক্স বলেন, ট্যারান্ট খুব ভালো পরিবারের সন্তান। বিশেষ করে তার বাবা-মাকে কমিউনিটির সবাই খুব সম্মান করতো। কিন্তু এই কাজের মাধ্যমে সে তাদের একেবারে নিচে নামিয়ে রেখে গেল।

কক্স আরও বলেন, সে যেভাবে বেড়ে উঠেছে তাতে এমন কাজ করার কথা নয়। অবশ্য আমি তাকে ডিফেন্ড করবো না। তবে জিজ্ঞেস করার সুযোগ থাকলে আমি তাকে জিজ্ঞেস করতাম কেন সে এমনটি করেছে।

ট্যারান্টের মা শেরন একজন স্থানীয় স্কুলশিক্ষক। শুক্রবার হামলার পর ক্লাসের মধ্য থেকেই তাকে তুলে নিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড পুলিশ। বর্তমানে ট্যারান্টের মা এবং বোন পুলিশ হেফাজতে আছে। তাদেরকে ফোন ব্যবহার করতে দেয়া হচ্ছে না।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

এবার অস্ট্রেলিয়ায় মসজিদে গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়লো উগ্রবাদী

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-১৭ ০৪:০৭:৩৮

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় অর্ধশত নিহতের ঘটনায় সারা বিশ্ব শোকে স্তব্ধ। এমন সময়ে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যে এক ব্যক্তি মসজিদে গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়ে।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানায়, গেটের ভিতর গাড়ি উঠিয়ে দিয়ে নামাজরত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে অশালীন মন্তব্য করেছে ২৩ বছর বয়সী এক যুবক। তাকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। শনিবার এ সময় ওই মসজিদের ভিতরে নামাজ আদায় করছিলেন মুসল্লিরা। ওই ব্যক্তি সজোরে গাড়ি প্রবেশ করিয়ে দেয়ায় মসজিদের গেটের বেশ ক্ষতি হয়েছে।

কুইন্সল্যান্ডের বাইতুল মাসরুর মসজিদে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করে ড্রাইভিং সিটে বসে থেকেই ভেতরে থাকা নামাজ আদায়কারীদের উদ্দেশ্যে আক্রমণাত্মক ভাষায় চিৎকার শুরু করে।

কুইন্সল্যান্ড পুলিশের বরাতে জানা যায়, ওই ব্যক্তিকে গাড়ি নিয়ে মসজিদে প্রবেশের অভিযোগে ঘটনার রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশের দেয়া বিবৃতি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে মসজিদে প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় ড্রাইভিং সিটে বসে থেকে আক্রমণাত্মক ভাষায় উগ্রভাবে চিৎকার শুরু করেন।

২৩ বছর বয়সি এই ব্যক্তি কুইন্সল্যান্ডের লোগান শহরের অধিবাসী। এর আগে ওই ব্যক্তিকে পুলিশ ধরে তার ড্রাগ টেস্ট করে। তাতে সে পজেটিভ ধরা পড়ে। তার ড্রাইভিং লাইসেন্স ২৪ ঘন্টার জন্য স্থগিত করে পুলিশ।

পরে ছাড়া পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি আবারো গাড়ি নিয়ে মসজিদের দিকে গেলে পুলিশ পুনরায় তাকে আটক করে।

তবে তার নাম বা ছবি প্রকাশ করা হয় নি। তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত ক্ষতিসাধন, জনমনে বিশৃংখলা এবং লাইসেন্স স্থগিত করার পরও গাড়ি চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

যুক্তরাষ্ট্রে ৯ মিনিটে ৬ সন্তান প্রসব করে রেকর্ড

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-১৬ ১৫:৩৩:১১

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের উইম্যান’স হসপিটালে নয় মিনিটে ছয় সন্তান প্রসব করে রেকর্ড গড়েছেন থেলমা শিয়াকা নামের এক নারী। মা ও তার ছয় সন্তান সুস্থ আছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল চারটা ৫০ মিনিট থেকে চারটা ৫৯ মিনিটের মধ্যে তিনি চার ছেলে এবং দুই মেয়ে সন্তান প্রসব করেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

ইতোমধ্যে সন্তানদের নামকরণ শুরু করে দিয়েছেন মা থেলমা শিয়াকা। দুই শিশুকন্যার নাম যথাক্রমে জিনা ও জুরিয়েল রেখেছেন তিনি। তবে ছেলেদের নাম এখনও নিশ্চিত হয়নি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছয় সন্তানের ওজন এক পাউন্ড ১২ আউন্স থেকে দুই পাউন্ড ১৪ আউন্সের মধ্যে। তাদেরকে আরও কয়েকদিন হাসপাতালে রাখা হবে।

পৃথিবীতে সাড়ে ৪৭০ কোটির মধ্যে মাত্রা একজনের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমটি।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

মসজিদে নৃশংসতার ১০ মিনিট আগে প্রধানমন্ত্রীকে মেইল করেন ব্রেনটন

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-১৬ ১৩:১২:২২

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে নৃশংসতার ঘটনায় গোটা বিশ্বে নিন্দার ঝড় উঠেছে। একইসঙ্গে শোক প্রকাশ করছেন সবাই।

গতকাল শুক্রবার জুমার নামাযরতদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত উগ্রপন্থী ব্রেনটন টারান্ট। এতে দুই বাংলাদেশিসহ ৪৯ জন মুসলিম নিহত ও ৪৮ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক।

অল্পের জন্য এই হামলা থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। তারাও সেখানে জুমার নামায পড়তে গিয়েছিলেন। তবে, মসজিদে প্রবেশের আগেই গুলির ঘটনা নিয়ে এক নারী সতর্ক করলে তারা দৌড়ে প্রাণে রক্ষা পান।

এই হামলার ঘটনায় নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্ডার্নের কার্যালয় নিশ্চিত করেছে, ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল-নূরে হামলার ১০ মিনিট আগে বন্দুকধারী ব্রেনটন টারান্ট তার উদ্দেশ্য একটি ‘ইশতেহার’র মাধ্যমে ই-মেইল করেন।

শুধু প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় নয়, আরও ৭০ জনের কাছে এটি পাঠান ব্রেনটন। এদের মধ্যে বিরোধী প্রধান রাজনীতিক সিমন ব্রিজ, সংসদের স্পিকার ট্রেভর মালার্ডও রয়েছেন বলে খবর দিয়েছে নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড।

প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্ডার্নের মুখপাত্র জানিয়েছেন, রাজনীতিকদের বাইরে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমের কর্তা ব্যক্তিদের একই মেইল পাঠানো হয়েছে। তবে, নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড এই তালিকায় নেয়।

প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, ‘ইশতেহারটি এমনভাবে সাজানো ছিল যে, হামলাটি ইতোমধ্যে ঘটে গেছে। এতে কেন হামলা করছেন, তার বর্ণনা দিয়েছেন ব্রেনটন। কিন্তু, কোথাও তিনি এটা বলেননি, আমি অমুক স্থানে হামলা চালাতে যাচ্ছি। ফলে জানার পরও এই হামলা থামানোর মতো কোনো সুযোগ ছিল না।’

ই-মেইলটি পাঠানো হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ই-মেইল ঠিকানায়, আর্ডার্নের ব্যক্তিগত ঠিকানায় নয়। যিনি প্রধানমন্ত্রীর ই-মেইল দেখাশোনা করেন, তিনি এ বিষয়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পার্লামেন্ট নিরাপত্তাবাহিনীকে অবগত করেন। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানায়।

ভয়াবহ এই হামলার ঘটনায় ব্রেনটনসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। হামলার ঘটনা সরাসরি সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করেন তিনি। পাশাপাশি অনলাইনে প্রকাশ করেন হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে ৭৪ পৃষ্ঠার একটি তথাকথিত ইশতেহার, যেখানে তার সহিংস কট্টর দক্ষিণপন্থী মতাদর্শ তুলে ধরেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের ভাষায়, ব্রেনটন টারান্ট আসলে একজন ‘উগ্র দক্ষিণপন্থী সন্ত্রাসবাদী’।

হামলার ঘটনার যে ১৭ মিনিটের ভিডিও এবং তার আগে যে সুদীর্ঘ ইশতেহার টারান্ট প্রকাশ করেছে, তা থেকে তার চিন্তা ও মতাদর্শ সম্পর্কে কী ধারণা পাওয়া যায়?

বিবিসি বলছে, ব্রেন্টন টারান্ট যখন অস্ত্র বোঝাই গাড়ি নিয়ে আল-নূর মসজিদের দিকে যাচ্ছে, তখন তার গাড়িতে যে গানটি বাজছিল, সেটি একটি সার্বিয়ান জাতীয়তাবাদী রণসঙ্গীত। ‘চেটনিকস’ নামে পরিচিত সার্বিয়ান প্যারামিলিটারি ইউনিট ১৯৯২-৯৫ সালের বসনিয়ান যুদ্ধের সময় এটিকে তাদের কুচকাওয়াজ সঙ্গীত হিসেবে ব্যবহার করতো।

এই সঙ্গীতে বসনিয়ান সার্ব নেতা রাদোভান কারাদযিচের প্রশংসা রয়েছে। গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে রাদোভান কারাদযিচ দোষী সাব্যস্ত হন। মুসলিম ও অভিবাসীদের হত্যার কারণে যেসব লোকের সাজা হয়েছে, তাদের অনেকের নাম লেখা আছে ব্রেনটন টারান্টের আগ্নেয়াস্ত্রগুলিতে।

একটি বন্দুকের গায়ে লেখা ‘ফর রদারহ্যাম’। যুক্তরাজ্যের রদারহ্যামে শিশুদের ওপর এশিয়ান মুসলিম পুরুষদের যৌন নিপীড়নের যে কেলেঙ্কারির ঘটনা আলোড়ন তুলেছিল, সেই ঘটনাকেই এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া অটোম্যান সাম্রাজ্যের সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলোর ঐতিহাসিক অনেক লড়াইয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে বিভিন্ন শব্দ লেখা ছিল তার অস্ত্রশস্ত্রে।

অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ব্রেনটন টারান্ট সিডনি থেকে প্রায় ৬শ’ কিলোমিটার উত্তরের একটি শহর গ্রাফটনের লোক। তার সাবেক বস ট্রেসি গ্রে দাবি করছেন, ব্রেনটনের মধ্যে তিনি কখনো কোনো চরমপন্থী চিন্তা-ভাবনা বা পাগলামি আচরণ দেখেননি।

তবে, দীর্ঘ ইশতেহারে টারান্ট লিখেছে, ২০১৭ সালে ইউরোপ ঘুরে আসার পর সে এই হামলার পরিকল্পনা শুরু করে। বিশেষ করে, সে উল্লেখ করেছে সুইডেনে একটি লরি চালিয়ে ইসলামিক স্টেটের সমর্থক এক ব্যক্তির চালানো এক হামলার কথা। এ ছাড়া আছে ফ্রান্সে ইমানুয়েল ম্যাক্রর মতো লোকের প্রেসিডেন্ট হওয়া এবং ফ্রান্সে যে জাতিগত বৈচিত্র, তা নিয়ে ক্ষোভ-হতাশার কথা।

এতে যে ধরনের ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ তুলে ধরা হয়েছে, তা সাম্প্রতিককালে অনলাইনে দ্রুত প্রসার লাভ করছে। এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসীদের একটি ব্যাপক আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীও তৈরি হচ্ছে।

এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বের মূল কথা হলো- ইউরোপীয়রা ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে তাদের তুলনায় নিকৃষ্ট এবং বিপজ্জনক জাতি ও সংস্কৃতির দাপটে। মূলত মুসলিমদের নিয়ে ঘৃণা এবং ভীতি ছড়ানোর সাংকেতিক আলোচনা বলে মনে করা হয় এসব আলোচনাকে।

এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বে আরও বলা হচ্ছে, পশ্চিমা দুনিয়ায় যে অভিবাসীদের আসার হার বেড়েই চলেছে, এর পেছনেও রয়েছে ষড়যন্ত্র। বিশ্ব পুঁজিবাদকে টিকিয়ে রাখতে বড় বড় রাষ্ট্র এবং করপোরেশনগুলো ‘হোয়াইট জেনোসাইড’ বা ‘শ্বেতাঙ্গ গণহত্যায়’ উৎসাহ যোগানোর নীতি নিয়েছে। এই ইশতেহারে এন্টি সেমিটিক (ইহুদি বিদ্বেষী) এবং নব্য নাৎসীবাদী কথাবার্তাও আছে।

পশ্চিমা দুনিয়ায় যে উগ্র ডানপন্থী শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটছে, তার পেছনে এ ধরনের ‘ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্বের’ বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নানা ধরনের গোপন গোষ্ঠী ফেসবুকে এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব প্রচারণা চালাচ্ছে জোরে-শোরে।

বিস্তারিত খবর

মুসলিমদের ওপর দায় চাপানোয় অস্ট্রেলিয়ায় সিনেটরের মাথায় ডিম

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-১৬ ১৩:০৬:২০

অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভেঙে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এক তরুণ। ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে রক্তাক্ত হামলার দায় মুসলিম অভিবাসীদের উপর চাপিয়ে বিতর্ক উসকে দেওয়ার অভিযোগে এ কাণ্ড ঘটান তিনি।

শনিবার মেলবোর্নের মোরাবিনে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন অ্যানিং। ঠিক তার পেছনে দাঁড়িয়ে এক তরুণ মোবাইলে ভিডিও করছিল। হঠাৎ করেই ওই তরুণ বা-হাতে মোবাইল ধরে ডান হাতে অ্যানিংয়ের মাথায় একটি ডিম ভেঙ্গে দেন, খবর নিউজিল্যান্ড হ্যারাল্ডের।

হতবাক অ্যানিং পেছনে ঘুরেই তরুণের মুখে চড় মারতে শুরু করে। দুইজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে লোকজন ওই তারুণকে মাটিতে চেপে ধরে, অন্য একজন অ্যানিংকে সরিয়ে নেয়।

শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় ৪৯ জন নিহত এবং আরও ৪৮ জন গুলিবিদ্ধ হন।

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ওই হামলাকারীর নাম ব্রেন্টন ট্যারেন্ট। যাকে ‘একজন উগ্র ডানপন্থী নৃশংস সন্ত্রাসী’ বলে বর্ণনা করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

ওই দিন বিকালে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে অ্যানিং বলেন, ওই হামলা অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে ‘মুসলমান অভিবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাড়তে থাকা আতঙ্কের’ কথা বলছে।

বিবৃতিতে কুইন্সল্যান্ডের সিনেটর অ্যানিং মসজিদে হত্যাযজ্ঞের জন্য নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন নীতিকেও দায়ী করেন।

তিনি বলেন, বরাবরের মতই, বামপন্থি রাজনীতিবিদ এবং সংবাদমাধ্যম আজ যে হামলা হয়েছে তার পেছনে অস্ত্র আইন অথবা যারা জাতীয়তাবাদী মনোভাব ধারণ করে তাদের দায়ী করতে ব্যস্ত হয়ে যাবে। যদিও এ সবই ফালতু কথা। আজ নিউজিল্যান্ডের সড়ক রক্তে রঞ্জিত হওয়ার আসল কারণ তাদের অভিবাসন নীতি। যে নীতি মুলসমান ধর্মান্ধদের আশ্রয় প্রার্থনা করতে প্রথম পছন্দের দেশ হিসেবে নিউজিল্যান্ডকে বেছে নেওয়ার অনুমতি দেয়।

কড়া ভাষায় অ্যানিংয়ের বিবৃতির নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মরিসন বলেন, অভিবাসী ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে সিনেটর অ্যানিং যে মন্তব্য করেছেন তা আতঙ্কজনক এবং কুৎসিত। অস্ট্রেলিয়ায় এ ধরনের মনোভাবের কোনো স্থান নেই। নিজের মন্তব্যের জন্য তার সত্যিই লজ্জিত হওয়া উচিত। আমার সরকার কোনোভাবেই এর সঙ্গে একমত নয়।

শুক্রবারের বিবৃতির জন্য অ্যানিংয়ের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া সরকার পার্লামেন্টে তিরস্কার প্রস্তাব তুলবে বলেও জানান তিনি।

বিস্তারিত খবর

ক্রাইস্টচার্চের হামলাকারীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে তুরস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-১৬ ১২:৫৯:৪১

নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলাকারী অভিযুক্ত উগ্রপন্থী শেতাঙ্গ ব্রেন্টন ট্যারেন্টের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে তুরস্ক। হামলার আগে বেশ কয়েকবার তুরস্কে সফরে গিয়েছিলেন এই হামলাকারী; এমন অভিযোগ ওঠার পর আঙ্কারা তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।

দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। শুক্রবার জুমআর নামাজের সময় উগ্র ডানপন্থী শেতাঙ্গ সন্ত্রাসী ব্রেন্টন আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালান।

মসজিদের ভেতরে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৪৯ জনকে হত্যা করেন তিনি। এছাড়া আহত হয় আরো ৪৮ জন। অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ২৮ বছর বয়সী এই হামলাকারীকে গ্রেফতারের পর শনিবার নিউজিল্যান্ডের আদালতে তোলা হয়। তার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তুরস্কের এক সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, অস্ট্রেলীয় এই হামলাকারী বেশ কয়েকবার তুরস্ক সফর করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে তিনি আমাদের দেশে অবস্থান করেছিলেন। তবে বেন্টন কখন তুরস্কে এসেছিলেন সেব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি তুর্কি এই কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তুর্কি এই কর্মকর্তা আরো বলেন, আমাদের ধারণা সন্দেহভাজন ওই হামলাকারী তুরস্ক থেকে ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার কোনো দেশে গিয়েছিলেন। আমরা তার চলাফেরা এবং তুরস্কে অবস্থানকালে কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন সেব্যাপারে তদন্ত করছি।

তুরস্কের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামলাকারী ওই বন্দুকধারী তুরস্কের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে ঘুরতে গিয়েছিলেন। ইস্তাম্বুলের হাজিয়া সোফিয়া মসজিদের মিনারেও উঠেছেলেন তিনি। অটোম্যান শাসনামলে খ্রিস্টানদের উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো হাজিয়া সোফিয়া। পরে এটিকে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়।

২০১৮ সালের নভেম্বরে তুরস্ক থেকে হামলাকারী ব্রেন্টন বুলগেরিয়া সফর করেছিলেন। তার ওই সফর নিয়েও তদন্ত করছে তুরস্ক। বুলগেরিয়ার প্রধান প্রসিকিউটর সোতির স্যাসস্যারোভ বলেছেন, বলকান ইতিহাস সম্পর্কে জানতে বুলগেরিয়ায় প্রায় এক সপ্তাহ অবস্থান করে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেছিলেন বেন্টন। তবে তার এই সফরের উদ্দেশ্য সঠিক ছিল না-কি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল সেটি তদন্তে উঠে আসবে।

২০১৬ সালে বাসযোগে বলকান রাষ্ট্র সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, মন্টিনিগ্রো, বসনিয়া ও হারজেগোভিনা সফর করেন অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত এই হামলাকারী।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে প্রাণঘাতী হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এই হামলা ইসলামের প্রতি ক্রমবর্ধমান শত্রুতার প্রতিফলক; যা অলসভাবে দেখছে বিশ্ব। অনেক সময় বিশ্ব এসব হামলাকে উৎসাহিত করছে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়রানির মাত্রা অতিক্রম করে এখন তা গণহত্যায় রূপ নিচ্ছে।

এরদোয়ান বলেন, এটা পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে যে, ঘাতক আমাদের দেশ, দেশের মানুষ ও আমাকেও টার্গেট করেছিল। এটা এখন পশ্চিমা সমাজে ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। পশ্চিমাবিশ্বের ইসলামভীতির সমালোচনা করেন তুরস্কের এই প্রেসিডেন্ট। এ ধরনের হামলা ঠেকাতে পশ্চিমা বিশ্বকে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিস্তারিত খবর

এবার লন্ডনে মসজিদের বাইরে হাতুড়ি নিয়ে হামলা

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-১৬ ১২:৫৮:১২

নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে হামলার কয়েক ঘণ্টা পর লন্ডনেও এক মুসলিমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

পূর্ব লন্ডনের একটি মসজিদের বাইরে হাতুড়ি ও ব্যাটেন নিয়ে এক মুসলিমের ওপর চড়াও হন অজ্ঞাত কয়েক ব্যক্তি।

শনিবার বিট্রেনের দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, পূর্ব লন্ডনের একটি মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় চিৎকার করে ইসলামবিরোধী কথাবার্তা বলছিল তিন ব্যক্তি। তারা শুক্রবারের জুমার নামাজে অংশ নেয়া মুসল্লিদের সন্ত্রাসী বলে চিৎকার করছিল।

এ সময় কয়েকজন ওই গাড়িটি ধাওয়া করলে তারা এক ব্যক্তির ওপর হাতুড়ি নিয়ে হামলা চালায়। এতে ২৭ বছরের এক যুবক মাথায় আঘাত পেয়েছেন।

লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা সেখানে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এর আগে দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই হামলাকারীরা শ্বেতাঙ্গ এবং তাদের বয়স ২০ থেকে ৩০ -এর মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে কি কারণে ওই হামলা চালানো হয়েছে তা  নিশ্চিত নয়।

নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে জুমার নামাজের সময় স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে হামলা চালান টারান্ট নামে অস্ট্রেলিয়ার এক যুবক।

এতে অল্পের জন্য বেঁচে যান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। কাছাকাছি লিনউড মসজিদে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়।

দুই মসজিদে হামলায় নিহত হয় ৪৯ জন। এর মধ্যে আল নুর মসজিদে ৪১ জন ও লিনউড মসজিদে সাতজন নিহত হন। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন ৪০ জন। নিহতদের মধ্যে তিন বাংলাদেশিও রয়েছেন।

নিউ জিল্যান্ডে ওই হামলার পর শুক্রবার ব্রিটেনে মসজিদগুলোর বাইরে সতর্ক অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পুরো দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

বিস্তারিত খবর

বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশিদের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তা

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-১৬ ১২:৪৪:০৪

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলার পর বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শনিবার (১৬ মার্চ) জাতীয় এক দৈনিকের সাথে টেলিফোনে আলাপের মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বিশ্বের যেখানেই বাংলাদেশি আছেন, তাদেরকে আরও সতর্ক থেকে চলাফেরার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, ক্রাইস্টচার্চে নিহত বাংলাদেশিদের পরিবারের সদস্যরা তাদের দেশে আনতে চাইলে অবশ্যই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হবে। যাদের মরদেহ নিয়ে আসার সামর্থ্য থাকে না, তাদের সরকার আর্থিক সহায়তা দেয়। এদের ক্ষেত্রেও একইরকমভাবে সয়াহতা প্রদান করবে সরকার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অস্ট্রেলিয়া দূতাবাস এবং নিউজিল্যান্ডের কনসাল জেনারেলের মাধ্যমে আহতদের চিকিৎসার ব্যাপারে সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছে। যারা এখনও নিখোঁজ, তাদের খুঁজে পেতেও নিউজিল্যান্ডের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, নিউজিল্যান্ডের মত একটা শান্তির দেশে এ ধরনের সন্ত্রাসের ঘটনা, রক্তপাত অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। উগ্র মনমানসিকতার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে একটা গণসচেতনতা সৃষ্টির আন্দোলন শুরু করার এখন সময় এসেছে। একটা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুধু চরমপন্থার ফল নয়, এটা কিছু মানুষের অজ্ঞতা এবং সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির ফল। এই দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধেই সামাজিক আন্দোলন বিশ্ব জুড়েই হওয়া জরুরি।

এর আগে সকালে ঢাকায় কর্মরত কূটনৈতিক প্রতিবেকদের সংগঠন ডিক্যাবের ২১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার ঘটনায় ৭ বাংলাদেশি নাগরিক হতাহত হয়েছেন এবং তিন জন নিখোঁজ রয়েছেন।

তিনি জানান, নিহত হয়েছেন ড. আব্দুস সামাদ ও হোসনে আরা বেগম। প্রাথমমিকভাবে তিন জন নিহত হওয়ার খবর এসেছিল। পরে নিশ্চিত হওয়া গেছে নিহত হয়েছেন দু'জন। গুরুতর আহত দু'জন হচ্ছেন লিপি ও মুমতাসিন। হাসপাতালে আরও চিকিৎসাধীন আছেন শেখ হাসান রুবেল, শাহজাদা আক্তার এবং ওমর ফারুক। নিখোঁজ তিনজন হচ্ছেন মোজাম্মেল, জাকারিয়া ও শাওন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ঘটনার পর পরই নিউজিল্যান্ডের বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলাদেশী কূটনীতিকদের দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছুটা দেরী হয়। বিমান বন্দর খোলার পরপরই তারা নিউজিল্যান্ডে প্রবেশ করেন এবং হতাহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন।

বিস্তারিত খবর

গুলিবিদ্ধ মাসুমের বর্ণনায় ক্রাইস্টচার্চ হত্যাকাণ্ড

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-১৬ ১২:৪৩:৪০

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ এর আল নুর মসজিদে যখন হামলা হয়, তখন বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের ছেলে ওমর জাহিদ মাসুম (৩৩) ওই মসজিদের ভেতরে ছিলেন। একটি গুলি তার বাম কাধের উপরের দিকে এসে লাগে। এর পর মারা যাওয়ার ভঙ্গিতে রক্তাক্ত মানুষের স্তুপে পড়ে থাকেন তিনি। এভাবে দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকার পর কোনরকমে মসজিদ থেকে বেরিয়ে দেয়াল ডিঙিয়ে একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বাঁচেন তিনি।

নিউজিল্যান্ড প্রবাসী ওমর জাহিদ মাসুমের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের ধনকীপাড়া গ্রামে। তিনি কটিয়াদীর সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম হাবিবুর রহমান দয়াল এর ছেলে। চার ভাই এবং তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট মাসুম।

ওমর জাহিদ মাসুম বাংলাদেশে থাকার সময়ে অরেঞ্জ বিডি আইটি ফার্মে কাজ করতেন। মিরপুর বাংলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে তথ্য প্রযুক্তিতে (আইটি) তিন বছরের একটি কোর্স করার জন্য ২০১৫ সালের ২৯শে অক্টোবর তিনি নিউজিল্যান্ডে যান। পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই একটি সুপার শপ এবং একটি পেট্রল পাম্পে ব্যবস্থাপক হয়ে কাজ করছেন তিনি। ক্রাইস্টচার্চ মসজিদ আল নুর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে সস্ত্রীক বসবাস করেন মাসুম।

ক্রাইসচার্চ হামলা থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া মাসুম শনিবার সন্ধ্যায় সেই ভয়াবহ হামলার বিবরণ দিয়েছেন।
মাসুম বলেন, ‘জুমার দিন হওয়ায় ওই দিন কাজ শেষ করেছি সাড়ে ১২টায়। কাজ শেষ করে বাসায় আসি। তারপর নামাজে যাই। আল নুর মসজিদ আমার বাসা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূর হলেও সেন্ট্রাল মসজিদ হওয়ায় জুমার নামাজ ওই মসজিদেই পড়ি। মসজিদে দেড়টায় খুতবা শুরু হয়। খুতবা শোনার জন্য প্রতি শুক্রবার একটু আগেই আমি মসজিদে যাই। ঘটনার দিন ১টার মধ্যে মসজিদে পৌছাই । দুইটায় আমাদের জামায়াত। এর মধ্যে ইমাম সাহেব এলেন। আমি দ্বিতীয় সাড়িতে ইমাম সাহেবের ঠিক সোজাসুজি ছিলাম। পাশে ছিলো বাংলাদেশি বন্ধু মুজাম্মেল। আমি বাংলাদেশে যাবো, ও-ও যাবে, এ নিয়ে নামাজের আগে দুজনে কথা বলছিলাম।

এর মধ্যেই ইমাম সাহেব আরবিতে খুতবা শুরু করলেন। কথা বন্ধ রেখে আমরা খুতবায় মনোনিবেশ করি। হঠাৎ পেছন দিক থেকে আতশবাজির মতো একের পর এক আওয়াজ কানে আসতে লাগলো। প্রথমে কিছু বুঝে উঠতে পারিনি। মানুষ চিল্লাচ্ছে, এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করছে। বুঝতে পারলাম খারাপ কিছু হচ্ছে। আমরা মসজিদের প্রধান কক্ষের সামনের দিকে ছিলাম। গুলি শুরু হয় বাইরে থেকে। এক পর্যায়ে এদিকেও গুলি শুরু হলো। প্রাণ ভয়ে আমি মসজিদের ডান দিকের কোণায় গিয়ে আশ্রয় নিলাম। অস্ত্রধারী একের পর এক গুলি করছে। একটা গুলি আমার বাম কাঁধের দিকে এসে লাগলো। গুলিটা চামড়া ভেদ করে বাইরে চলে যায়। ভেতরে ঢোকেনি। কাধে গুলি লাগার পর দম বন্ধ করে আমি মেঝেতে শুয়ে পড়ি। আমি মরার মতো মসজিদের মেঝের সাথে বুক মিশিয়ে একেবারে শুয়ে পড়েছিলাম। কাধ থেকে রক্ত ঝরছিল।

মাসুম বলেন, আমি বেঁচে গেলেও আমার ডান পাশে আমার পরিচিত একজন বয়স্ক লোকের পিঠে এসে একটি গুলি লাগে। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মারা যান। আমার পিছনে পায়ের দিকে ছিল একটি বাচ্চা সে-ও মারা যায়। বাম পাশে ছিলেন একজন তিনিও মারা গেছেন। আমি নিঃশ্বাস বন্ধ করে মরার মতো শুয়ে আছি। কোনোরকম নড়াচড়া করিনি। গুলির শব্দ থামার ৪-৫ মিনিট পর্যন্ত আমি ওভাবেই শুয়েছিলাম। পরে চোখ মেলে দেখি আমার চারপাশে লাশ আর লাশ। এর মধ্যে বেঁচে যাওয়া দুই ভারতীয় বন্ধু আমাকে টেনে উঠালেন। বললাম, আমার খুব ব্যাথা করছে দেখো ভেতরে গুলি-টুলি আছে কি না। ওরা বললো, চামড়া ছিঁড়ে গেছে, ভিতরে গুলি ঢুকেনি। তখনও আতঙ্ক আমাদের কাটেনি। এরপর মসজিদ থেকে বেরিয়ে দেয়াল ডিঙিয়ে একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিই আমি। আমার ভারতীয় বন্ধুরাও অন্য কোনোখানে আশ্রয় নেয়।’

হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরলেও হামলার ভয়াবহতা ও নৃশংসতায় বার বার আঁতকে ওঠছেন বলে জানান মাসুম। এখনও রীতিমত আতঙ্কে আছেন তিনি।

মাসুম শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের মতো একটি দেশে এ রকম হামলা হবে জীবনেও ভাবিনি। হামলার পর চিকিৎসা নিয়ে এখন আমি বাসায়। তবে ভুলতে পারিছি না এই ভয়বহ দৃশ্য। মূলত লাশের স্তুপ থেকে আমি বেঁচে এসেছি। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়েছেন। খুতবা শুরুর আগে যার সাথে আমি কথা বলছিলাম- আমার সেই বন্ধু মুজাম্মেলও মারা গেছে। ওর বাড়ি চাঁদপুর। আমরা একই বাসায় থাকতাম।’

মাসুম এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও হামলাকারীর শাস্তি দাবি করেন। সেই সাথে নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

বিস্তারিত খবর

গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলা

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৩-১৫ ০৯:৩২:৩২

অবরুদ্ধ গাজায় শুক্রবার ক্ষমতাসীন হামাসের ভবন লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফিলিস্তিন এলাকা থেকে তেল আবিবকে লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই পাল্টা জবাব দেয় ইসরায়েল।

বিমান হামলায় কেউ হতাহত হয়েছে কিনা তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। যে ছয়টি ভবনে হামলা চালানো হয়েছে সেগুলো হামাসের নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করতো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিমান হামলার কারণে শক্তিশালী বিস্ফোরণে গাজার ভবনগুলো কেঁপে উঠেছিল। বিস্ফোরণস্থল থেকে বিচ্ছুরিত আগুনের তীব্রতা এতোই বেশি ছিল যে, ওই এলাকা আলোকিত হয়ে পড়ে। হামাসের সামরিক শাখা ও তাদের মিত্র সংগঠন ইসলামিক জিহাদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে ৩০টি হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা গাজায় ‘সন্ত্রাসীদের এলাকা’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

এর আগে ২০১৪ সালে তেল আবিব লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছিল হামাস। বৃহস্পতিবার রাতে হামলার পরপর গাজা থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তরে তেল আবিবের ওই এলাকায় হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। রকেট ধ্বংস করার জন্য আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইসরায়েল। তবে কোনো রকেট ভূপাতিত হয়নি বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি
 

 

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত