যুক্তরাষ্ট্রে আজ শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 03:02pm

|   লন্ডন - 09:02am

|   নিউইয়র্ক - 04:02am

  সর্বশেষ :

  হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্বকে বিশ্বজিৎ দে বাবলুর অভিনন্দন   ফ্লোরিডায় পিঠা মেলা অনুষ্ঠিত   ‘সেক্সিয়েস্ট এশিয়ান ওম্যান’ আলিয়া ভাট   ইতালীতে মহিলা সংস্থার বিজয় ফুল উৎসব   সেনাদের বিচারে মিয়ানমারের আশ্বাসে আস্থা নেই: গাম্বিয়া   বালিশকাণ্ড: মাসুদুলসহ ১৩ প্রকৌশলী গ্রেপ্তার   বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হয়নি   গাজীপুরে ডায়রিয়ার প্রকোপ, পাঁচজনের মৃত্যু   যুক্তরাজ্যে আজ ভোট   নাইজারে সেনা ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৭১   নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে আসামে কারফিউ ভেঙে রাস্তায় জনতা, গুলিতে নিহত ৩   বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের দৃষ্টান্ত নেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী   সেনাপ্রধানসহ মিয়ানমারের ৪ কর্মকর্তার ওপর ফের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা   দিল্লির দূষণ নিয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির অবাক করা বক্তব্য   নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে উত্তাল ত্রিপুরা, মোবাইল-ইন্টারনেট সেবা বন্ধ

>>  বহিঃ বিশ্ব এর সকল সংবাদ

সেনাদের বিচারে মিয়ানমারের আশ্বাসে আস্থা নেই: গাম্বিয়া


মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর নৃশংস নির্যাতনের জন্য দায়ী সেনাদের বিচার ও সহিংসতা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের উপর আস্থা রাখা যায় না বলে শুনানিতে দাবি করেছে গাম্বিয়া।

বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলায় গাম্বিয়া ও মিয়ানমারের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক শুরু করেছে। শুনানি চলবে ৯০ মিনিট। আদালতের প্রেসিডেন্ট ইউসুফের নেতৃত্বে শুনানি শুরু হয়েছে।

গাম্বিয়ার পক্ষে অধ্যাপক ফিলিপ স্যান্ডস বলেন, গণহত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে মিয়ানমারের আইনজীবী অধ্যাপক সাবাস একটি নতুন আইনগত মান নির্ধারণ করার

বিস্তারিত খবর

যুক্তরাজ্যে আজ ভোট

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-১২ ১২:২৪:০৩

যুক্তরাজ্যে আজ সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটি দেশটিতে তৃতীয় দফা সাধারণ নির্বাচন। ব্রেক্সিট অর্থাৎ ব্রিটেনের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ত্যাগের প্রশ্নে প্রায় তিন বছর ধরে পার্লামেন্টে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে তা থেকে উত্তরণের জন্যই গত দু'বছরের মধ্যে দেশটিতে এ নিয়ে তৃতীয় দফা ভোট হতে চলেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কনজারভেটিভ পার্টি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করবে। একই আশা করছে জেরেমি করবিনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি। আর ব্রেক্সিটের পরিবর্তে তাদের নানা ধরনেরর রাষ্ট্রীয় কল্যাণমূলক কর্মসূচিকেই তাদের প্রচারণায় প্রাধান্য দিয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানায়, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা) থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ। নির্ধারিত সময়েই খুলে দেয়া হবে ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও নর্থ আয়ারল্যান্ডের ৬৫০টি ভোটকেন্দ্র খুলে দেয়া হবে। একটানা ভোট চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত।

শুক্রবার সকাল নাগাদ ফলাফল ঘোষণা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনে মোট বৈধ ভোটার হচ্ছেন সাড়ে ৪ কোটি। আর তাদের ভোটেই নির্বাচিত হবেন হাউস অব কমন্সের সাড়ে ৬শ এমপি।

তবে এই নির্বাচনের পরই নির্বিঘ্নে ব্রেক্সিট সম্পন্ন হবে কিনা তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। কেননা ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করে ব্রিটেনের রাজনৈতিক দল ও নেতাদের মধ্যে নজিরবিহীন তিক্ততা, বৈরিতা এবং বিভক্তি তৈরি হয়েছে। এই বিভেদ দূর করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে শান্তিপূর্ণভাবে বেরিয়ে আসাটাই এখন দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ব্রেক্সিট ব্রিটেনের সমাজ ও অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে ব্রেক্সিটের বিরোধিতাকারীরা বলছেন, এর পরিণতিতে যুক্তরাজ্য ভেঙে যেতে পারে। কেননা স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে জোর জনমত আছে।

অন্য দিকে ব্রেক্সিটের প্রতিক্রিয়া পড়বে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ওপরও। অনেকের মতে ইইউর ঐক্যও হুমকির মুখে পড়তে পারে। এক কথায় এটি গোটা ইউরোপেই অনেক সুদূর প্রসারী পরিবর্তন আসতে পারে। আর এগুলো সবই ঘটতে পারে ব্রেক্সিটের কারণে।

বিস্তারিত খবর

নাইজারে সেনা ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৭১

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-১২ ১২:১৯:০৭

আফ্রিকার দেশ নাইজারের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইনাতিস অঞ্চলের এক সামিরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলায় কমপক্ষে ৭১ সেনা নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ১২ সেনা। হামলায় এখনও নিখোঁজ রয়েছে আরো বহু মানুষ। স্থানীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা।

এই হামলাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে উল্লেখ করেছে নাইজার সরকার। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

টেলিভিশনে দেয়া এক বিবৃতিতে সামরিক মুখপাত্র বলেন, মঙ্গলবার রাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সন্ত্রাসী এই হামলা চালায়। এতে ১২ সেনা আহত এবং আরো বহু নিখোঁজ রয়েছে।

ওই বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে যে, শতাধিক ভারী অস্ত্রধারী জঙ্গিরা ওই হামলা চালিয়েছে। তবে সেনাদের ওপর হামলা চালানোর পর জঙ্গিদের পাল্টা জবাব দেয়া হয়েছে। এতে জঙ্গিদের অনেকেই প্রাণ হারিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নিহত জঙ্গিদের সংখ্যা কত বিবৃতিতে তা বলা হয়নি।

দু'পক্ষের মধ্যে টানা তিন ঘণ্টা লড়াই হয়। একটি সূত্র জানিয়েছে, জঙ্গিরা ওই ক্যাম্পে কামান ও গোলাবর্ষণ করেছে। গোলাবারুদ আর বোমা বিস্ফোরণ থেকেই বহু সেনা নিহত হয়েছেন।

তবে ওই হামলার জন্য কারা দায়ী তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি গোষ্ঠী বোকো হারামের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে নাইজারের সেনাবাহিনী।

এদিকে মঙ্গলবারের ওই হামলার সময় শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক একটি সম্মেলনে অংশ নিতে মিসরে সফরে ছিলেন নাইজারের প্রেসিডেন্ট ইসুফু মাহামাদু। তিনি তার ওই সফর সংক্ষিপ্ত করে রাজধানী নিয়ামিতে ফিরে আসবেন বলে জানানো হয়েছে।

২০১৫ সাল থেকেই জঙ্গিরা নাইজারে সক্রিয় হতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত নাইজারের সেনাবাহিনীর ওপর এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা। পশ্চিমাঞ্চলীয় তিলাবেরি এলাকায় ওই হামলা চালানো হয়েছে।

বিস্তারিত খবর

নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে আসামে কারফিউ ভেঙে রাস্তায় জনতা, গুলিতে নিহত ৩

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-১২ ১২:১৭:৩৮


বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে ভারতের আসামে কারফিউ উপেক্ষা করে হাজার হাজার জনতা রাস্তায় বিক্ষোভ করছে। ইতিমধ্যে পুলিশের গুলিতে তিন আন্দোলনকারী নিহত হয়েছে। আর আহত হয়েছে পাঁচজন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের অনলাইন প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামের রাজধানী গুয়াহাটির লালুঙ গাঁও-তে বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় পুলিশের। পরে উত্তেজিত জনতাকে থামাতে গিয়ে গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। পাঁচজন গুলিবদ্ধ হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনজন মারা যায়।

বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিল সংশোধনীর প্রতিবাদে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের রাজধানী গুয়াহাটিতে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু কারফিউ অমান্য করে রাস্তায় নেমেছে হাজার হাজার জনতা।

বৃহস্পতিবার সকালে গুয়াহাটিতে কারফিউ ভেঙে রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার জনতা। আসামের ছাত্র সংগঠন এএএসইউ ও কেএমএসএস রাস্তায় নেমে আসার জন্য লোকজনকে আহ্বান জানায়।

গত সোমবার দেশটির লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি পাস হয়। তারপর বুধবার বিলটি রাজ্যসভায়ও পাশ হয়। বিলে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করা অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিল পাস হওয়ার পর পুরো রাজ্যে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে যায়। প্রতিবাদ চলতে থাকায় আসাম ও প্রতিবেশী ত্রিপুরায় সব ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। গুয়াহাটি ও ডিব্রুগড়গামী বহু ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

আসামজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে বৃহস্পতিবার সকালে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে আসামের জনগণকে আশ্বস্ত করে টুইট করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

“আপনাদের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না,” টুইটে বলেন তিনি।

পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘ডিব্রুগড়ের লাহোওয়ালে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তারা পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে সহায়তা করবে। শান্তি বজায় রাখতে বাহিনী এলাকায় ফ্ল্যাগ মার্চ করবে।’

এদিকে আন্দোলনকারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি উত্তর-পূর্বের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বুঝিয়েছেন, এই বিল প্রায় গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রযোজ্য হবে না।

মঙ্গলবার ত্রিপুরা সরকার ৪৮ ঘণ্টার জন্য রাজ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ও এসএমএস পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। সেপাহিজালায় এক দু'মাসের অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তা অবরোধ হলে শিশুটি মারা যায়।

আগরতলায় বহু বিক্ষোভকারীকে স্রোগান দিতে দেখা যায়। তারা দাবি জানায়, বিলকে তাদের রাজ্যে প্রযোজ্য করলে হবে না।

আসমের গুয়াহাটি সহ উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন জায়গার জনজীবন থমকে যায়, বিলের প্রতিবাদে উত্তর-পূর্বের ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে বনধ ডাকা হয়। মূল রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদে সামিল হন বিক্ষোভকারীরা, উত্তর-পূর্ব ফ্রন্টিয়ার রেলের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অবরোধ করার কারণে, বহু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাঙ্ক, বাজার ইত্যাদি।

বিস্তারিত খবর

সেনাপ্রধানসহ মিয়ানমারের ৪ কর্মকর্তার ওপর ফের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-১১ ০০:৫৬:৫৭


সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ চার সামরিক কর্মকর্তার ওপর আরেক দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

রোহিঙ্গাসহ সংখ্যালঘু নিপীড়নের জন্য নতুন করে এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর রয়টার্সের।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়া মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং ছাড়াও আছেন- সেনাবাহিনীর উপপ্রধান ভাইস সিনিয়র জেনারেল সোয়ে উইন, ৩৩ লাইট ইনফানট্রি ডিভিশনের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অং অং এবং ৯৯ লাইট ইনফানট্রি ডিভিশনের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থানও।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট মঙ্গলবার মিয়ানমারের ওই সেনা কর্মকর্তাদের কালো তালিকাভুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে মিয়ানমারের ওই সব সামরিক কর্মকর্তার কোনো সম্পদ থাকলে তা জব্দ করা হবে। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখতে পারবেন না কোনো মার্কিন নাগরিক।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর চালানো গণহত্যার দায়ে দেশটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দায়েরকৃত মামলার শুনানি শুরু হয়েছে মঙ্গলবার।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টার দিকে শুরু হওয়া ওই শুনানিতে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্বিচারে গণহত্যা বন্ধে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গাম্বিয়ার আইন ও বিচারমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদো।

আজ বুধবার আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেবে বিবাদী মিয়ানমার। এর পর বৃহস্পতিবার হবে যুক্তিতর্ক।

গাম্বিয়ার পক্ষে মামলা লড়ছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল এবং আইন ও বিচারমন্ত্রী আবুবকর তামবাদো। তিনি ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডায় গণহত্যার মামলায় এক দশকের বেশি সময় লড়াই করেছেন।

অন্যদিকে মিয়ানমারের পক্ষে আদালতে বক্তব্য দেবেন ও যুক্তি খণ্ডন করবেন দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি। সু চির সঙ্গে থাকবেন দেশটির আইনজীবীরাও।

গত ১১ নভেম্বর রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এনে মিয়ানমারের নামে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে মামলা করেছিল গাম্বিয়া।

ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পক্ষে গাম্বিয়া এ মামলা করে। জাতিগত নির্মূল অভিযান চালানোর প্রায় আড়াই বছর পর প্রথমবারের মতো কোনো দেশ এমন পদক্ষেপ নেয়।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত, যা বিশ্ব আদালত হিসেবেও পরিচিত তাতে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে- রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের অভিযানের মধ্যে ছিল হত্যা, ধর্ষণ, গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি সাধন, ভৌত বিনাশ বয়ে আনার মতো পরিস্থিতি তৈরি, জন্ম রোধের ব্যবস্থা চাপিয়ে দেয়া ও জোরপূর্বক স্থানান্তর।

এগুলো গণহত্যার বৈশিষ্ট্য। কারণ এসবের উদ্দেশ্য ছিল রোহিঙ্গা গোষ্ঠীকে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধ্বংস করে দেয়া।

রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি নিরাপত্তাচৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলার জবাবে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট আগস্টে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এক কঠোর বিদ্রোহ দমন অভিযান শুরু করে।

এ সময় গণধর্ষণ, হত্যা ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়াসহ জাতিগত নির্মূল অভিযান থেকে বাঁচতে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

বিস্তারিত খবর

দিল্লির দূষণ নিয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির অবাক করা বক্তব্য

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-১১ ০০:৫৬:৪১

ভারতের নির্ভয়াকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি অক্ষয়কুমার দিল্লির দূষণ নিয়ে অবাক করা বক্তব্য দিয়েছে। এতে হতবাক হয়েছেন আইনজীবী মহলের একটা বড় অংশ।

ধর্ষক অক্ষয়কুমার ক্ষমাভিক্ষা নয়, নতুন করে রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছে। তার যুক্তি, দিল্লির দূষণে তো এমনিতেই তার আয়ু কমছে। তা-হলে ফাঁসি দিয়ে লাভ কী! তার আইনজীবী এ পি সিংহ দাবি করেন, ধর্ষণ ঘটনার দিন তার মক্কেল দিল্লিতেই ছিল না। আদালত চাইলে সাক্ষ্যপ্রমাণ দিতে পারেন।

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে গণধর্ষণের পরে চলন্ত বাস থেকে দিল্লির রাস্তায় ছুড়ে ফেলা হয়েছিল নির্ভয়াকে। অক্ষয়সহ চারজনকে ফাঁসি দিতে কাজ চলছে বিহারের বক্সার ও নয় দিল্লির তিহাড় জেলে।

বিস্তারিত খবর

নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে উত্তাল ত্রিপুরা, মোবাইল-ইন্টারনেট সেবা বন্ধ

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-১১ ০০:১৪:১৩


নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে উত্তাল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল-ইন্টারনেট এবং এসএমএস পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উত্তর-পূর্বের প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠনের ডাকা ১১ ঘণ্টার বনধকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ত্রিপুরা। তাদের অভিযোগ, এই বিল জাতিগত পরিচয় হরণ করবে।

বিক্ষোভকারীরা আগরতলায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন, এরপরই যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সরকারের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু গুজব ছড়িয়ে অশান্তির চেষ্টার খবর পুলিশ পাওয়ার পরেই, পরিষেবা বন্ধ করা হয়।

এছাড়া গতকাল আসামের গুয়াহাটি সহ উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন জায়গার জনজীবন থমকে যায়, বিলের প্রতিবাদে উত্তর-পূর্বের ছাত্র সংগঠনের তরফে বনধ্ ডাকা হয়। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদে সামিল হন বিক্ষোভকারীরা, উত্তর-পূর্ব ফ্রন্টিয়ার রেলের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অবরোধ করার কারণে, বহু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।

আসামের বিভিন্ন অংশেও ব্যাপক প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে, স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি বিধানসভা ও রাজ্যের সচিবালয় সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। ডিব্রুগড় জেলায় সিআইএসএফ কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায় বিক্ষোভকারীদের, দুলিয়াজানে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন আহত হন।

সোমবার লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হয়। এর প্রতিবাদে আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, মিজোরাম এবং ত্রিপুরা, এই ছয় রাজ্যে মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত, টানা ১১ঘণ্টা একজোটে বনধের ডাক দেয় নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (নেসো)।

বিস্তারিত খবর

নিউ জার্সিতে বন্দুকধারীর গুলিতে পুলিশসহ ৬ জন নিহত

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-১১ ০০:০০:৩২

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির একটি মুদিদোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে পুলিশসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুরে হাডসন নদীর পারে ওই গোলাগুলির ঘটনায় পুলিশ এলাকার স্কুল ও অফিসগুলো দ্রুত বন্ধ করে দেয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, গোলাগুলিতে একজন পুলিশ কর্মকর্তা, দুজন সন্দেহভাজন বন্দুকধারীসহ কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছে।

পুলিশপ্রধান মাইকেল কেলি বলেছেন, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন সাধারণ মানুষ ও দুজন সন্দেহভাজন দোকানের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হন। বন্দুকযুদ্ধের সময় পুলিশের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা মারা যান। এ সময় শত শত রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়েছে। চার ঘণ্টা ধরে গোলাগুলির ঘটনা চলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সাধারণ মানুষকে দোকানের ভেতর জিম্মি করেছিল বন্দুকধারীরা।

পুলিশ অবশ্য এখনই এ ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে উল্লেখ করেনি।

হাডসন কাউন্টি কৌঁসুলির অফিস থেকে জানানো হয়েছে, গোলাগুলির ঘটনায় আরও দুজন পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

ঘটনা জানার পর স্থানীয় সোয়াট টিমের সদস্য ও ফেডারেল এজেন্টরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগ থেকে দ্রুত জরুরি সেবা চালু করা হয়।

জার্সি সিটির সব স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে অবশ্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটে বলেন, নিউ জার্সির জার্সি সিটিতে ঘটা গোলাগুলির খবর তিনি জেনেছেন। এই বেদনাদায়ক দুঃসময়ে তিনি হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। পরিস্থিতি টানা পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে তিনি জানান। ট্রাম্প বলেন, স্থানীয় কর্মকর্তাদের এ কাজে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বিস্তারিত খবর

প্রথম দিনের শুনানিতে আদালতে চুপচাপ সু চি

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-১০ ১১:১৬:১৮


নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রথম দিনের শুনানি শেষ হয়েছে।

মামলায় মিয়ানমারের পক্ষে লড়তে এদিন আদালতে আসেন দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি। ২০১৬ সালে সু চি যখন পশ্চিম ইউরোপ সফরে যান, তখন তাকে বরণ করা হয়েছিল 'গণতন্ত্রের মানসকন্যা' ও 'আশা-ভরসার প্রতীক' হিসেবে। আর এখন তিনি নিন্দিত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুকে হত্যার জন্য। শান্তিতে নোবেল পাওয়া এই নেত্রীর যেখানে গণহত্যার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার কথা, সেখানে তার ভূমিকা বিপরীত।

মঙ্গলবার শুনানি শুরুর আগে সু চি আদালতে আসেন মিয়ানমারের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে। আদালতে ঢোকার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি তিনি। গণহত্যার অভিযোগ মাথায় নিয়ে তিনি বেশ স্বাভাবিক ভাবেই আদালতে প্রবেশ করেন। শুনানিতে গাম্বিয়ার আইনজীবীরা যখন রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর  নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরে তখন সেখানে চুপচাপ বসে ছিলেন সু চি।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার দায়ের করা ওই মামলায় শুনানি চলবে তিন দিন। মামলায় গণহত্যার আন্তর্জাতিক সনদ লঙ্ঘন করে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সমর্থনে গাম্বিয়া আইসিজেতে ওই মামলা করে। রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা প্রদান ও রাখাইনে গণহত্যার আলামত নষ্টের বিভিন্ন অভিযোগের ওপর এই শুনানি হচ্ছে।

মঙ্গলবার আদালতে গাম্বিয়ার বক্তব্য উপস্থাপনের পর বুধবার মিয়ানমার তাদের অবস্থান তুলে ধরবে। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে গাম্বিয়া এবং বিকেলে মিয়ানমার প্রতিপক্ষের যুক্তি খণ্ডন ও চূড়ান্ত বক্তব্য পেশের সুযোগ পাবে।

দ্য হেগের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রোহিঙ্গা এবং মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়। গাম্বিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সে দেশের আইন ও বিচারমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু। মিয়ানমারের নেতৃত্বে থাকছেন দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি।

শুনানিতে গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী বলেন, আধুনিক যুগে এই গণহত্যা কোনোভাবেই গ্রহণ করা যায় না। রোহিঙ্গারাও মানুষ। খাদ্য বস্ত্র বাসস্থানসহ বাঁচার অধিকার তাদের রয়েছে। রোহিঙ্গা শিশুদের অধিকার রয়েছে শিক্ষা লাভ করে ডাক্তার হওয়ার।

শুনানিতে গ্যাম্বিয়ার নিযুক্ত কৌঁসুলি অ্যান্ড্রু লোয়েনস্টিন রাখাইনের মংডু শহরে বেশ কয়েকটি খুনের বিবরণ পেশ করেন। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ওই শহরের শত শত রোহিঙ্গা পুরুষকে হত্যা ও নারীদের ধর্ষণ করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শুনানিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যখন একের পর এক অভিযোগ তুলে ধরা হয়, তখন সু চির বিশেষ কোন অভিব্যক্তি লক্ষ্য করা যায়নি। কখনও সামনে আবার কখনও নিচের দিকে তাকিয়ে ছিলেন তিনি।

বিস্তারিত খবর

ভারতে ভিসার অতিরিক্ত সময় থাকলে বাংলাদেশি মুসলিমদের জরিমানা ২১০০০, হিন্দুদের ১০০

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-১০ ১১:১২:১৮

‘লিটন দাস একদিন বেশি থাকলে তাকে দিতে হবে ১০০ রুপি। অপরদিকে সাইফ হাসান একদিন বেশি থাকলে দিতে হবে ২১ হাজার রুপি’

বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের জন্য সম্প্রতি এক বৈষম্যমূলক ভিসা নীতি প্রণয়ন করেছে ভারত। ওই নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশের কোনো মুসলিম নাগরিক ভারত ভ্রমণের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময় থাকলে তাকে গুনতে হবে অন্য ধর্মের অনুসারীদের চেয়ে কমপক্ষে ২০০ গুণ বেশি জরিমানা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশে ও ভারতের মধ্যকার টেস্ট সিরিজ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কলকাতা গেলে ভিসার এই নতুন নিয়মটি সামনে আসে। সেখানে অবস্থানের বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার সাইফ হাসানের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এর জের ধরে তিনি কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনে যোগাযোগ করেন। যেখান থেকে বিষয়টি চলে যায় ভারতের ফরেনার রিজওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসে (এফআরআরও)।

এফআরআরও'র ওয়েবসাইটে তাদের প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য ভারতে ভিসার মেয়াদের পর দুই বছরের বেশি থাকলে জরিমানা দিতে হবে ৫০০ রুপি। মেয়াদের পর ৯১ দিন থেকে দুই বছর পর্যন্ত বেশি থাকলে জরিমানা হবে ২০০ রুপি, আর ৯০ দিন পর্যন্ত বেশি থাকলে জরিমানা গুনতে হবে ১০০ রুপি।

অপরদিকে, বিদেশি কোনো নাগরিক যদি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের না হয়, তবে ভিসার দুই বছরের বেশি অবস্থানের ক্ষেত্রে জরিমানা হবে ৫০০ মার্কিন ডলার (৩৫ হাজার রুপি), ৯১ থেকে দুই বছর পর্যন্ত থাকলে জরিমানা হবে ৪০০ ডলার (২৮ হাজার রুপি) এবং ৯০ দিন পর্যন্ত বেশি থাকলে জরিমানা হবে ৩০০ ডলার (২১ হাজার রুপি)।  

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিষয়টিকে "ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য" বলে উল্লেখ করেছেন। আগামীতে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিষয়টি তোলা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের একজন সরকারি কর্মকর্তা দ্য হিন্দুকে বলেন, "এর অর্থ লিটন দাস (হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাংলাদেশি ক্রিকেটার) মেয়াদের একদিন বেশি থাকলে তাকে দিতে হবে ১০০ রুপি। অপরদিকে যদি লোকটির নাম হয় সাইফ হাসান, তাকে দিতে হবে ২১ হাজার রুপি। যেটা তিনি পরিশোধ করেছেন।"

সম্প্রতি এই ভিসা নীতির ভুক্তভোগী হয়েছেন বাংলাদেশের এক দুস্থ মুসলিম নারীও। ভিসার মেয়াদের বেশি সময় ভারতে থাকার কারণে তাকে দেশে পাঠাতে বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনকে ২১ হাজার রুপি চাঁদা তুলতে হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক দ্য হিন্দুকে বলেন, "ওই নারী একদিন বেশি ছিলেন। তাকে ২১ হাজার রুপি পরিশোধ করতে বলা হয়। তার কাছে ওই পরিমাণ অর্থ ছিল না এবং আমাদের তা দিতে হয়। ধর্মের ভিত্তিতে কেন এমন বৈষম্য থাকবে?" 

ভারতের এই নিয়ম বাংলাদেশকে "আহত" করেছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, "ঐতিহাসিক ও নৈতিকভাবে কীভাবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে একই নিয়মের মধ্যে ফেলতে পারে ভারত?"

বিস্তারিত খবর

নো এনআরসি, নো ডিভাইড অ্যান্ড রুল: মমতা

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-১০ ০১:১৬:২২


এনআরসির বিরুদ্ধে আবারও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খড়্গপুরের সভা থেকে এনআরসি-র বিরুদ্ধে জোট বাঁধার আহ্বান জানালেন।

রেলশহরে বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষকে ‘ভারতমাতার সন্তান’ বলে উল্লেখ করে আহ্বান জানালেন, ‘‘আসুন জোট বাঁধি। একজনকেও দেশ থেকে তাড়ানো চলবে না। নো এনআরসি, নো ডিভাইড অ্যান্ড রুল। মনে রাখবেন, দেশের থেকে বড় কিছুই নয়।”

সোমবার খড়্গপুরে বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়ের পর রাবণপোড়া ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

শহরবাসীকে ধন্যবাদ জানানোর পর আগাগোড়া মমতার বক্তব্য জুড়ে ছিল জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) ও নাগরিকত্ব বিল (সিএবি)-এর বিরোধিতা।

নাগরিকত্ব বিলের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভয় পাবেন না। ফেট্টি পড়ে যারা এসে বলবে দেশকে ভাগ করতে, তাদের বলুন, বাংলার সংস্কৃতি ফেট্টিবাজদের জায়গা নয়। আমরা থাকাকালীন কারও ক্ষমতা নেই, আপনাদের ওপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দেবে।”

মতা বলেন, “সিএবি আর এনআরসি কয়েনের এপিঠ-ওপিঠ। আমরা সবাই নাগরিক, ভোট দিই, সবার রেশন কার্ড রয়েছে। কারও স্কুল প্রশংসাপত্র, কাজ করার প্রশংসাপত্র, জমির পাট্টা কিছু না কিছু রয়েছে। এর পরে নাগরিকত্ব নিয়ে কী প্রশ্ন রয়েছে?”

কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “আমরা ৭০ বছর, ১০০ বছর ধরে এখানে রয়েছি। দেশের স্বাধীনতার সময় থেকে রয়েছি। আজ আপনারা ঠিক করবেন কে নাগরিকত্ব পাবে, কে পাবে না!”

নাগরিকত্ব বিল ও জনগণনা যে এক নয়, তা-ও বুঝিয়ে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আবেদন, “১০ বছর অন্তর যে সমীক্ষা হয়, তাতে নামটা লিখিয়ে নেবেন। আর রেশন কার্ডের একটি কপি দিয়ে দেবেন।”

‘চাচা’ জ্ঞানসিংহ সোহনপালের শহর খড়্গপুরে পদ্ম ফুটেছিল বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত ধরে। তবে উপনির্বাচনে খড়্গপুর সদরের বিধায়ক হয়েছেন পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার। জয়ের অন্যতম কারিগর মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিধায়ক প্রদীপ ছিলেন এ দিনের সভায়। এ দিন বিজেপির নাম না করেই কেন্দ্রের ‘জনবিরোধী’ নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মমতা। রেলমন্ত্রী থাকাকালীন যে কাজ করেছেন তা মনে করিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আজ তো আপনাদের ভবিষ্যৎ বিপদের মুখে। রেলকে বিক্রির চেষ্টা চলছে। যদি এমন দিন আসে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ব।’

বিস্তারিত খবর

৩৮ আরোহী নিয়ে চিলির বিমান নিখোঁজ

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-১০ ০১:১৪:৩৭


৩৮ আরোহী নিয়ে চিলির একটি বিমান নিখোঁজ হয়েছে। সোমবার চিলির বিমান বাহিনী এই তথ্য জানিয়েছে।

রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হারকিউলিস সি১৩০ মডেলের বিমানটি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর পুন্তা এরিনাস থেকে দেশটির স্থানীয় সময় বিকেল ৪ তা ৫৫ মিনিটে উড্ডয়নের পর ৬ টা দিকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

চিলির বিমান বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানটিতে মোট ৩৮ জন আরোহী ছিলেন। এদের মধ্যে ১৭ জন ক্রু এবং ২১ জন যাত্রী। বিমানটি এন্টার্কটিকার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিচ্ছিল।

চিলি সরকার ইতিমধ্যে সতর্কতা ঘোষণা করেছে এবং অনুসন্ধান এবং উদ্ধারকারী দল সক্রিয় রয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে।

বিস্তারিত খবর

নায়ক থেকে খলনায়ক সু চি

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-১০ ০১:১১:০৪


একসময় তাকে সর্বজনীন মানবাধিকারের আলোকবর্তিকা রূপে দেখা গিয়েছিল। তিনি এমন একজন যিনি কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের সামরিক শাসক জেনারেলদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজের স্বাধীনতা ত্যাগ করেছিলেন।

১৯৯১ সালে "দ্য লেডি" খ্যাত সেই অং সান সু চিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান তাকে "শক্তিহীনদের শক্তির অসামান্য উদাহরণ" বলে অভিহিত করেছিলেন।

তবে মিয়ানমারে ২০১৬ সাথে গণতন্ত্রের পথ সুগম হওয়ার পর তিনি কার্যত দেশটির শাসন ক্ষমতা নিজের হাতে তোলে নেন। এসময় আন্তর্জাতিক নেতাকর্মীরা তাকে সমর্থন করেছিলেন।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীর সাথে আরকান অঞ্চলের রোহিঙ্গা মুসলমানদের দ্বন্দ্বে মিয়ানমার থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে জীবন নিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে হয়। এসশয় সু চির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে তিনি সামরিক অভিযানের নিন্দা বা নৃশংসতার অভিযোগ অস্বীকার করে ধর্ষণ, হত্যা ও গণহত্যা বন্ধে কিছুই করেনি।

বহিঃর্বিশ্বের যারা সু চির সমর্থক তারা বলেছেন, সু চি বহু-জাতিক একটি দেশ পরিচালনা করছেন, যেখানে বৌদ্ধরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেখানে তিনি রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতিশীল না বলেলেই চলে।

তারা আরও উল্লেখ করেছেন, সেনাবাহিনী এখনও বেশিরভাগ রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণও তারা ছেড়ে দেয়নি।

তবে সমালোচকরা বলছেন যে তিনি নৈতিক অবস্থান হারিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও মানবাধিকারের পক্ষে তার দাঁড়ানো উচিত ছিল।

তৎকালীন সামরিক শাসিত মিয়ানমারে (বার্মা) গণতন্ত্র আনার প্রচেষ্টার কারণে ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে সু চি তার বেশিরভাগ সময় তাকে বন্দী অবস্থায় কাটিয়েছেন। এটা সত্য যে এই বন্দীত্ব তাকে আন্তর্জাতিকভাবে শান্তি প্রতীক করে তুলেছে। তিনি নিপীড়নের মুখে প্রতিরোধক হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন।

তিনি ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যা ২০১৫ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারের প্রথম প্রকাশ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। ১৫ বছরের গৃহবন্দি থেকে মুক্তি পাওয়ার পাঁচ বছর পরে এই বিজয় এসেছিল।

সু চির প্রয়াত স্বামী ও সন্তানেরা বিদেশি নাগরিক হওয়ায় সংবিধান অনুসারে তিনি রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না; তাই তিনি নবপ্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা পদটি গ্রহণ করেন যা কিনা প্রধানমন্ত্রী বা সরকারপ্রধানের সমান।

আধুনিক মায়ানমারের জাতির জনক অং সান এবং খিন চির কন্যা সু চির জন্ম হয় ব্রিটিশ বার্মার রেঙ্গুনে। ১৯৬৪ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১৯৬৮-তে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক অর্জন করার পর তিনি জাতিসংঘে তিন বছর কাজ করেন।

১৯৭২ সালে মাইকেল অ্যারিসকে বিয়ে করেন এবং তাদের দুই ছেলে হয়। ১৯৮৮-র গণআন্দোলনের সময় সু চি সবার নজর কাড়েন এবং ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) সাধারণ সম্পাদক হন।

সেসময় সদ্যগঠিত দলটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সামরিক জান্তার বিরোধী অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা। ১৯৯০ সালের নির্বাচনে এনএলডি সংসদের ৮১ শতাংশ আসন পেলেও সেনাবাহিনী ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায় যা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে হৈ চৈ ফেলে দেয়।

এদিকে নির্বাচনের আগে থেকেই সু চিকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ২১ বছরের মধ্যে ১৫ বছরই তাকে গৃহবন্দী অবস্থায় কাটাতে হয়; ততদিনে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে প্রখ্যাত রাজবন্দীদের একজন হয়ে উঠেছেন।

একসময় যারা সু চিকে বন্দী জীবনে পাঠিয়েছিলেন আজ তাদের রক্ষা করতেই তিনি বিদেশে দৌড় ঝাঁপ শুরু করেছেন।

রোহিঙ্গা মুসলিম ও শরণার্থীদের সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া
কিছু অ্যাকটিভিস্ট ২০১২ সালে রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রসঙ্গে অং সান সু চির নীরবতার সমালোচনা করেন। (২০১৫ সালের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের ক্ষেত্রেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটে), এবং মায়ানমারের নিপীড়িত সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের পলায়নও সু চি ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করেন।

২০১২ সালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমারের নাগরিক বলে ভাবা যাবে কি না তা তিনি জানেন না। ২০১৩ সালে বিবিসির মিশাল হুসাইনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে সু চি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার নিন্দা করেননি এবং মায়ানমারে মুসলিমদের জাতিগত নির্মূল হতে থাকার কথা অস্বীকার করেন, বরং জোর দিয়ে বলেন যে "বৈশ্বিক মুসলিম শক্তি অনেক গ্রেট - এই বিশ্বব্যাপী কল্পিত ধারণা"র কারণে সৃষ্ট "আতঙ্কের আবহে"ই সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

পিটার পপহ্যামের মতে, সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী মুসলমান ছিলেন বলে সাক্ষাৎকারের পরে সু চি রাগ প্রকাশ করেন। সু চি দাবি করেছিলেন যে দুপক্ষেই সহিংসতা হচ্ছে, তখন হুসাইন তাকে চ্যালেঞ্জ করেন যে সহিংসতার প্রায় সব প্রভাব কেন শুধু রোহিঙ্গাদের ওপরই পড়ছে। পিটার পপহ্যাম সু চির এরূপ অবস্থানকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দ্ব্যর্থবোধক অবস্থান বলে মন্তব্য করেন।

২০১৩ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সাথে আলাপকালে তিনি রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি হিসেবে অভিহিত করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে যা ২০১৯ সালে ডেভিড ক্যামেরনের ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার বিভিন্ন ঘটনা ও স্মৃতি নিয়ে ২০১৯ সালে প্রকাশিত একটি বইয়ে তিনি উল্লেখ করেন।

সু চি বলেন, তিনি সমঝোতার জন্য কাজ করতে ইচ্ছুক কিন্তু তিনি কোনো পক্ষে যাবেন না, কারণ দুপক্ষই সহিংসতায় জড়িত।

দ্য ইকোনোমিস্ট পত্রিকার মতানুসারে, তিনি "রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের পক্ষে তিনি স্পষ্ট অবস্থান নিতে ব্যর্থ হওয়ায় তার জ্যোতির্ময় মহিমা বিদেশি মানবাধিকার কর্মীদের সামনে পদস্খলিত হয়েছে।"

২০১৫ সালে একটি বিবিসি নিউজ আর্টিকেলে রিপোর্টার জোনাহ ফিশার মনে করেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে অং সান সু চির নীরবতা আসলে আসন্ন ২০১৫ সালের জতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগুরু বামারদের সমর্থন পাবার আশায়।

২০১৫ সালের মে মাসে চতুর্দশ দালাই লামা রোহিঙ্গাদের সাহায্য করার জন্য সু চির প্রতি আহ্বান জানান এবং দাবি করেন, তিনি এর আগে দুবার ব্যক্তিগত সাক্ষাতে সু চিকে রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে ভাবার জন্য বললেও সু চি তা কানে তোলেননি।

২০১৬ সারের মে মাসে সু চি মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত স্কট মার্সিয়েলকে বলেন, রোহিঙ্গাদের "রোহিঙ্গা" নামে উল্লেখ করা যাবে না, তারা 'মুসলিম সংখ্যালঘু'। বার্মারা তখন "রোহিঙ্গা" শব্দ ব্যবহারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে।

২০১৬-১৭ সালের নির্যাতনের সময় রোহিঙ্গা মুসলিমদের রক্ষা করতে ব্যর্থতা হওয়ায় সু চি অভিযুক্ত হন। লন্ডনের কুইন মেরী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট ক্রাইম এক্সপার্টরা সতর্কবার্তা দিয়েছেন, সু চি মায়ানমারের "গণহত্যাকে আইনসম্মত" হিসেবে দেখাচ্ছেন।

২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চলতে থাকলেও, "সেনাবাহিনীর প্রমাণিত ধর্ষণ, খুন ও রোহিঙ্গা গ্রাম ধ্বংসের অভিযান বন্ধ করা তো দূরের কথা, সু চি সেসব স্বীকারই করছেন না।"

৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে মায়ানমারে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংঘি লি রাখাইনের "বাস্তবিকই মারাত্মক" পরিস্থিতি নিয়ে সু চির প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, "আইনের আওতায় সবাইকে সুরক্ষা দিতে এই ডি ফ্যাক্টো নেত্রীর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন - যেটা আমরা যেকোনো সরকারের কাছেই আশা করি।"

বিবিসি রিপোর্ট করেছে, "তার মন্তব্য এমন সময়ে এলো যখন বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা জাতিসংঘের হিসাবে ৮৭ হাজারে পৌঁছেছে।"

এছাড়াও, শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই বলেছিলেন, তিনি মিস সু চির মুখ খোলার অপেক্ষায় আছেন যিনি কিনা এই সংকট সৃস্টির পর কোনো মন্তব্য করেননি।"

পরদিন জর্জ মনবিও দ্যা গার্ডিয়ানে তার লেখায় সু চির নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নেয়ার জন্য চেঞ্জ ডট অর্গে একটি পিটিশনে সই করতে পাঠকদেরকে আহবান জানান ও বলেন, "পক্ষপাতিত্বই হোক বা ভয়েই হোক, সু চি অন্যদের স্বাধীনতার অধিকার অস্বীকার করছেন, যে স্বাধীনতা তিনি একসময় নিজের জন্যে চেয়েছিলেন। তার সরকার বাধা দিচ্ছে এবং কখনো বা নীরব থাকছে সেই অ্যাকটিভিস্টদের ব্যাপারে যারা তার নিজের অধিকার আদায় করতে সাহায্য করেছিলেন।

শান্তিতে আরেক নোবেলজয়ী আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটুও সু চির নীরবতার সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে তিনি বলেন, "হে আমার বোন, মায়ানমারের রাজনৈতিক ক্ষমতার শিখরে পৌঁছানোই যদি তোমার নীরবতার কারণ হয়ে থাকে, তার জন্য সত্যিই বড় বেশি দাম দিতে হচ্ছে ... ন্যায়পরায়ণতার প্রতীক হয়ে ওঠা একজনের জন্য এমন একটি দেশের নেতৃত্ব দেওয়া বেমানান।"

ঐ বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর জানা যায়, পরের সপ্তাহে এই মানবিক সংকট নিয়ে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিতর্কে অং সান সু চি অংশ নেবেন না। মায়ানমার সরকারের এক মুখপাত্র বলেন "হতে পারে তার আরো জরুরি কোনো কাজ আছে।"

যাই সেই তথাকথিত গণতন্ত্রের নেত্রী সু চি এখন নেদারল্যান্ডের হেগ-এর আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে)। রোহিঙ্গাদের বিপক্ষে জাতিগত নিধনের দায়ে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে নিতে প্রথম দেশ হিসেবে এগিয়ে আসে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। তারা মিয়ানমারকে দায়ী করে মামলা করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে)।

মঙ্গলবার নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আদালতে এ মামলার শুনানি শুরু হবে। চলবে আগামী ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।

বিস্তারিত খবর

আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান, ২৫ জঙ্গি নিহত

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-১০ ০১:০১:০৫

সামরিক অভিযানে কমপক্ষে ২৫ জঙ্গি নিহতের দাবি জানিয়েছে আফগানিস্তান সরকার। সোমবার (৯ ডিসেম্বর) দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ওয়ার্দাক প্রদেশে ওই অভিযান চালানো হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসরাত রাহিমি জানান, ওই অভিযানে বিদ্রোহীদের একটি ঘাঁটিও ধ্বংস করা হয়।

নাসরাত রাহিমি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল খোশাল সাদাতের তত্ত্বাবধানে সশস্ত্র জঙ্গিদের নির্মূল না করা পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবশ্য এ অভিযানকালে নিরাপত্তা বাহিনীর কেউ হতাহত হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে কিছু বলেননি তিনি।

ওয়ার্দাক প্রদেশ কার্যত দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবানদের নিয়ন্ত্রণে। তবে তালেবানদের পক্ষ থেকে সরকারি বাহিনীর অভিযান সম্পর্কে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত খবর

পুরুষদের ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়ার আহ্বান জানালেন প্রিয়াঙ্কা

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-০৮ ১৩:৪০:১৪

ভারতের লোকসভার বিরোধী দল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভারতীয় নারীদের আত্মরক্ষার জন্য পুরুষদের কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভারতের উত্তরপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অপরাধ যেভাবে বাড়ছে তা নিয়ে রাজ্যেরে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘উন্নাওতে দেখা গেছে যে গত ১১ মাসে প্রায় ৯০ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।’

প্রিয়াঙ্কা বলেন, আমি বলব যে মহিলাদের সমাজে ক্ষমতা পাওয়া উচিত। আমি আমার বোনেদের বলব পঞ্চায়েত ও বিধানসভা নির্বাচন লড়ুন এবং রাজনীতিতে এগিয়ে আসুন, আপনি ক্ষমতা হাতে নিন এবং নিজেই নিজের আত্মরক্ষা করুন।

বিস্তারিত খবর

দিল্লিতে কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪৩

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-০৮ ১৩:৩৯:০৮

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একটি জুতার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৪৩ জন নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় আরো অন্তত ১১ জন আহত হয়েছে।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) সকালে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিক আগুন লাগার কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, উত্তর দিল্লির রানি ঝাঁসি রোডের আনাজ মান্ডির একটি বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দিল্লি ফায়ার সার্ভিস সূত্রে তারা আরও জানায়, ভোরবেলায় ছ’তলা ওই বাড়িটিতে আগুন লাগে। বিল্ডিংটি আসলে কারখানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেই সময় কারখানার ভিতরই ঘুমাচ্ছিলেন শ্রমিকরা। আচমকা আগুনের স্ফুলিঙ্গে ঘুম ভাঙে তাদের। চোখ খুলেই দেখেন দাউদাউ করে জ্বলছে সেখানে মজুত রাখা জিনিসপত্র।

জরুরী সেবার ফোন পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট। কিন্তু ধোঁয়া আর কুয়াশায় জনবহুল এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। পরে আরও ১২টি ইউনিট এসে পৌঁছায় সেখানে। ফায়ার সার্ভিসের মোট ২৭টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন অনেকখানি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রায় ৫০ জন বাসিন্দাকে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে আহত ১১ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ত্রিশটি অগ্নিনির্বাপণকারী ট্রাক পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

বিস্তারিত খবর

ইরাকে বিক্ষোভে নিহত ১৯

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-০৮ ১৩:৩৭:০৬

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে বিক্ষোভের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবারের ওই হামলায় কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশই বিক্ষোভকারী।

নিহতদের মধ্যে তিন পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন। বাগদাদের তাহরির স্কয়ারে বিক্ষোভে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা ওই হামলা চালায়। ছুরি দিয়েও তারা আক্রমণ করে। এতে আরও ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছে।

অক্টোবর থেকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করে যাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। প্রথমদিকে বিক্ষোভ স্বাভাবিক থাকলেও পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ফলে সহিংসতা শুরু হয়। বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ৪ শতাধিক নিহত হন।

বিস্তারিত খবর

বিশ্বে ধর্ষণের রাজধানী ভারত : রাহুল গান্ধী

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-০৭ ১২:০৪:৫৭

বিশ্বে ধর্ষণের রাজধানী ভারত বলে উল্লেখ করেছেন কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী। আজ শনিবার দুপুরে কেরালার ওয়ানাডে আয়োজিত এক জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজ’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ধর্ষণ মামলার শুনানিতে অংশ নিতে যাওয়ার পথে অভিযুক্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে আহত হওয়ার দুই দিন পর মারা গেছেন ভারতের উত্তর প্রদেশের উন্নাও জেলার এক তরুণী। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন রাহুল গান্ধি। জনসভায় তিনি বলেন, ‘বিশ্বের কাছে ধর্ষণের রাজধানী ভারত। বিদেশি রাষ্ট্রগুলির প্রশ্ন, কেন ভারত নিজের মেয়ে-বোনেদের নিরাপত্তা দিতে পারে না। উত্তরপ্রদেশের একজন বিজেপি বিধায়ক ধর্ষণের অভিযুক্ত এবং প্রধানমন্ত্রী একটা শব্দও বললেন না।’

ওই তরুণীর মৃত্যু নিয়ে এক টুইট বার্তায় রাহুল বলেন, ‘ন্যায় ও নিরাপত্তার জন্য লড়াই করতে করতে আরও এক মেয়ের মৃত্যু হলো।’

এদিকে, ওই তরুণীর মৃত্যু ঘিরে আজ সকাল থেকেই উত্তপ্ত উত্তর প্রদেশসহ ভারতের জাতীয় রাজনীতি। উত্তর প্রদেশের বিজেপি শাসিত সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন বিরোধীরা। সরব হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। সকালেই ওই তরুণীর বাড়িতে পৌঁছে যান তিনি।

আজ সকালে ওই তরুণীর বাড়িতে যান প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

ওই তরুণীর বাড়িতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘বিজেপির সঙ্গে জড়িত তাই অভিযুক্তদের আড়াল করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, “রাজ্যে অপরাধীদের জন্য কোনো জায়গা নেই।” তবে উনি নিজেই রাজ্যের এ কী হাল বানিয়েছেন? আমার মনে হয়, এখানে নারীদের জন্য কোনো স্থান নেই। এ রাজ্য অপরাধীরা আইনকেও ভয় পায় না।’

পাশাপাশি ওই তরুণীর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন করেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি বলেন, ‘কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা গেল না?’

গত এক বছর ধরে ওই তরুণী ও তার পরিবারকে ভয়-হুমকির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। রাজ্য প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘রোজ এই ধরনের ঘটনা হচ্ছে। প্রশাসনের কিছু করা উচিত।’

প্রসঙ্গত, ধর্ষণের মামলার শুনানির জন্য আদালতে যাওয়ার পথে আক্রান্ত হন উন্নাওয়ের ২৩ বছর বয়সী ওই তরুণী। মৃত্যুর আগে পুলিশকে তিনি জানিয়েছিলেন, পরিচিত শিবম, শুভম ত্রিবেদীসহ পাঁচজন তাকে বাধা দেয়।

তবে ওই হুমকি পাত্তা না দেওয়ায় মারধর করা হয় নির্যাতিতাকে। ছুরি আঘাতের পাশাপাশি গায়ে কেরোসিন ঢেলে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। কোনো মতে পালিয়ে পুলিশকে ফোন করেন ওই তরুণী। এরপর এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। গতকাল রাতে তার মৃত্যু হয়।

বিস্তারিত খবর

রোহিঙ্গা সঙ্কটের আশু সমাধান নেই : কানাডিয়ান হাইকমিশনার

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-০৭ ১২:০২:১৮


চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কটের আশু কোনো সমাধান নেই উল্লেখ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার বেনোই প্রেফনটেইন বলেছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে মিয়ানমারের নেতৃবৃন্দ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ নিজেদের এখতিয়ারে থাকা সব ধরনের কৌশল ব্যবহারের পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কানাডা। আগামী বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ লক্ষ্যে সমন্বিত ও টেকসই তৎপরতা চালাতে হবে।

বাংলাদেশ-কানাডা সম্পর্কের ওপর শনিবার রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত সংলাপে হাইকমিশনার এ সব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক।

বাংলাদেশ-কানাডা সম্পর্ককে ‘ঝামেলামুক্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এ সম্পর্ক সব ক্ষেত্রে বিকাশ লাভ করছে। পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থাতে কানাডার কাছ থেকে ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা আশা করেন শহীদুল হক।

হাইকমিশনার প্রেফনটেইন বলেন, উদ্বাস্তুদের সাহায্য প্রদান এবং স্বাগত জানানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে কানাডার। আমাদের নাগরিকরা রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা কোন পরিস্থিতিতে রয়েছেন সে বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার যে অপরিসীম উদারতা দেখিয়েছে তাকে সাধুবাদ জানায় কানাডা। তিনি বলেন, এ সঙ্কটে সাড়া দেয়া প্রথম দেশগুলোর একটি কানাডা। মানবিক সহায়তাকারী হিসেবে কানাডা বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় একটি দেশ।

কানাডা দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে চায় বলে জানান হাইকমিশনার।

কসমস ফাউন্ডেশনের ‘অ্যাম্বাসেডর লেকচার সিরিজ’-এর আওতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্ট্যাডিজের প্রিন্সিপাল রিসার্চ ফেলো ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কসমস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এনায়েতুল্লাহ খান।

বিস্তারিত খবর

ইউরোপের প্রথম পরিবেশ বান্ধব মসজিদ উদ্বোধন করলেন এরদোগান

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-০৬ ১৩:১৪:৪৮


তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের কেমব্রিজের কেন্দ্রীয় মসজিদ উদ্বোধন করেন। এটি ইউরোপের প্রথম পরিবেশ বান্ধব মসজিদ।

দু'দিনের ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি মসজিদটির উদ্বোধন করতে যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন এরদোগান।

ইউরোপের প্রথম পরিবেশ বান্ধব মসজিদ নির্মাণের কাজটি ২০০৮ সালে শুরু হয়েছিল। স্থানীয় মুসলমানদের নামাজের স্থান না থাকায় শহরের মুসলিম শিক্ষার্থীরা ব্রিটেনের প্রভাবশালী মুসলিমদের সাথে যোগাযোগ করে।

কেমব্রিজ মুসলিম কলেজের ডিন শেখ আবদাল হাকিম মুরাদ মসজিদের জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

১০ হাজারের অধিক মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠন জমি কেনার জন্য অর্থ অনুদান দিয়েছিল। যাদের মধ্যে তুর্কি সংগঠনগুলো এগিয়ে এসেছিল। এছাড়া কাতারের জাতীয় তহবিল থেকেও আর্থিক সহায়তা করা হয়েছিল।

আবদুল হাকিম মুরাদ ও সংগীতশিল্পী ইউসুফ ইসলাম (ক্যাট স্টিভেনস নামেও পরিচিত) একসাথে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এরদোগানের কাছ থেকে এই প্রকল্পের জন্য সহায়তা চেয়েছিলেন।

এই মসজিদে ইসলামী নন্দনতত্ব, চারুকলা এবং মুহাম্মদ সা. জীবন ও প্রকৃতি রক্ষায় যে গুরুত্ব রেখেছিলেন তা অনুপ্রেরণা হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

এই মসজিদে যেখানে প্রায় এক হাজার মানুষ একই সাথে নামাজ পড়তে পারেন। কাঠ এবং মার্বেল জাতীয় প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করায় এটি অন্যতম স্থান লাভ করে নিয়েছে।

বিস্তারিত খবর

ভারতে ধর্ষণের পর হত্যা, চার ধর্ষকই পুলিশের গুলিতে নিহত

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-০৬ ১২:৫৯:৫৬

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দারাবাদে গণধর্ষণের পর তরুণী পশু-চিকিৎসক হত্যায় অভিযুক্ত চারজনই পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায়। পুলিশ হেফাজত থেকে পালাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত এই চারজনের।

তদন্তের জন্য আসামিদের ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। সেখান থেকেই পালানোর চেষ্টা করে তারা। তারপরই পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন হায়দরাবাদের পুলিশ কমিনশনার।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ভারতের হায়দরাবাদে এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পুরো ভারত প্রতিবাদে উত্তাল। গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। সেখানে পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর পরও লরির কেবিনে নিয়ে গিয়ে ২৭ বছরের ওই তরুণীকে চার জনই একে একে ধর্ষণ করে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, মোহাম্মদ আলিয়াস আরিফ, জল্লু শিবা, জল্লু নবীন ও চেন্নাকেশাভুলু; এই চার অভিযুক্ত জোর করে টেনে হিঁচড়ে তাকে কেবিনের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোর করে নরম পানীয়ের মধ্যে হুইস্কি মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। তারপর মাথায় জোরে আঘাত করে গণধর্ষণ করে দেহ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। গোটা ঘটনাটি ১ ঘণ্টার মধ্যে ঘটিয়েছে ওই চারজন।

আরও জানিয়েছে, তরুণীকে খুন করার পরো লরির কেবিনে নিয়ে এসে ফের গণধর্ষণ করে একে একে। কেবিনে তারা সিদ্ধান্ত নেয় একজন গাড়ি আনতে যাবে ও নির্যাতিতার জামাকাপড় আনবে। এরপর তারা গাড়ি করে সাধনগরের কাছে জাতীয় সড়কে চলে আসে অন্ধকার জায়গায় খোঁজার জন্য। সাধনগরের ছাটানপল্লির একটি কালভার্টের তলায় দেহটিকে কম্বলে জড়িয়ে পেট্রল ছড়িয়ে দেয়। তারপর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তরুণীকে যাতে চিহ্ণিত করতে না পারে, তার জন্যই পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

বিস্তারিত খবর

কাশ্মীরে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-০৬ ১২:৫৫:১১

ভারত নিয়ন্ত্রিণ জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের ওপর থেকে বিশেষ মর্যাদা সম্পন্ন ৩৭০ ধারা তুলে নেয়ার পর থেকেই ওই রাজ্যে বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট সেবা। ফলে এবার বন্ধ হচ্ছে কাশ্মীরি গ্রাহকদের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট-ও।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার জানায়, হোয়াটসঅ্যাপের নীতি অনুযায়ী, ১২০ দিন ধরে ওই সোশ্যাল মিডিয়ায় কারও অ্যাকাউন্টে কোনো বার্তা আদানপ্রদান না হলে সেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়। সেই রীতি অনুযায়ীই এবার বন্ধ হচ্ছে কাশ্মীরিদের এই সামাজিক মাধ্যমটি।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার অনেকে টুইটারে বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে নেওয়া ‘স্ক্রিনশট’পোস্ট করেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন গ্রুপ থেকে কাশ্মীরি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রাহকেরা বেরিয়ে যাচ্ছেন।

এ সম্পর্কে দেহরাদূন প্রবাসী কাশ্মীরি পড়ুয়া সুহেল লাইসার বলেন, ‘দেখলাম কাশ্মীর নিয়ে খবর ও ছবি শেয়ার হয় এমন এক গ্রুপ থেকে অনেক কাশ্মীরি বেরিয়ে গেলেন।’

ব্রিটেনপ্রবাসী কাশ্মীরি চিকিৎসক মুদাসির ফিরদোসি বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম কাশ্মীরে ইন্টারনেট চালু হয়েছে। গ্রাহকেরাই গ্রুপ ছাড়ছেন। পরে বুঝলাম বিষয়টি তা নয়।’

এ নিয়ে টুইট করে হোয়াটসঅ্যাপকে ট্যাগ করেছেন কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতা শেহলা রশিদ।

আর হোয়াটসঅ্যাপের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেসবুকের মুখপাত্র মানছেন, ১২০ দিন নিষ্ক্রিয় থাকলে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়। নিরাপত্তা ও তথ্য মজুত রাখার উপরে নিয়ন্ত্রণ রাখতেই তাদের এই পদক্ষেপ।

আর অনেকেই এটা স্বীকার করেন যে, কাশ্মীরে ভারতীয় আগ্রাসনের কারণে সেখানকার বাসিন্দাদের ডিজিটাল উপস্থিতির বড় অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে‌। কিন্তু নেট না থাকার কারণে তারা সেটা জানতেও পারছেন না।

প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের ওপর থেকে বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয় ভারতের মোদি সরকার। এর আগের রাতেই রাজ্যের সাবেক তিন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রধান ফারুক আবদুল্লা ও তার পুত্র ওমর আবদুল্লাহসহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকে আটক করা হয়। এখনও তাদের বন্দি দশা কাটেনি। এ সময় রাজ্যের টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগও বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে সীমিত আকারে টেলিফোন সেবা চালু হলেও ৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট সেবা। ফলে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে কাশ্মীরের বাসিন্দারা। তাদের এই অবরুদ্ধ অবস্থা কবে কাটবে কিংবা আদৌ কাটবে কিনা তা অনিশ্চিত।

বিস্তারিত খবর

৬২৯ পাকিস্তানী তরুণীকে কনে হিসেবে চীনে বিক্রি

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-০৫ ১০:২৩:১০

গত ১৮ মাসে ৬২৯ পাকিস্তানী নারী ও তরুণীকে জোর করে কনে হিসেবে চীনে বিক্রির ঘটনা ঘটেছে! পাকিস্তান থেকে অন্য কোন দেশে নারী পাচার সংক্রান্ত এক অনুসন্ধান কমিটির প্রকাশিত একটি তালিকা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ ব্যাপারে কার্যত চুপ রয়েছে পাক সরকার। সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় পাচারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সংবাদ সংস্থা এপি’র অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০১৮ সাল থেকে ২০১৯ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ৬২৯ জন নারীকে কনে হিসেবে চীনে বিক্রি করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসকল নারীর সবাইকেই তাদের পরিবারের সদস্যরাই টাকার লোভে বিক্রি করেছে। আইন অনুযায়ী যা সম্পূর্ণ অবৈধ।

গত জুনে অনুসন্ধানের রিপোর্ট হাতে আসলেও এখন পর্যন্ত পাকিস্তান কার্যত নিরব রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে পাক সরকারের বাণিজ্য সুসম্পর্ক রয়েছে। সম্পর্ক খারাপ হওয়ার ভয়ে সরকারের উপর মহল বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ না নিতে চাপ দিয়ে আসছে।

চলতি বছর পাচারের কাজে যুক্ত ৩১ জন চীনা নাগরিককে আটক করে মামলা দায়ের করে আদালতে তোলা হয়। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে ফয়সালাবাদের একটি আদালত থেকে তারা খালাস পেয়ে যায়।

পাচারকারী দলের ৩১ সদস্যকে আটক করা হলেও পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে সবাই ছাড়া পেয়ে যায়।

মামলার সঙ্গে জড়িত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে যে সকল নারী পুলিশের কাছে মুখ খুলেন তারা পরবর্তীতে আর আদালতে সাক্ষ্য দিতে রাজি হন না। তাদের মধ্যে কেউ পরিবারের চাপে অথবা পাচারকারীদের হুমকিতে নিরব থাকেন। ফলে অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যায়।

পাচার থেকে উদ্ধার হওয়া নারীদের নিয়ে কাজ করা কর্মী সালিম ইকবাল অভিযোগ করেন, সীমান্তে পাচারসহ নানা অপরাধ নিয়ে কাজ করা ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফডিআই) এর পাচার সংক্রান্ত তদন্ত বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়। এফডিআই কর্মকর্তাদের বদলির ঘটনাও ঘটেছে। পাচার বিষয়ে শাসকগোষ্ঠীর কাছে অভিযোগ করলেও তারা সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন না বলে জানান ইকবাল।

এবিষয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এপি’র পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোন মন্তব্য করেন নি।

পাচারের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এপিকে বলেন, সরকারের চাপের কারণে তদন্তকাজ ধীর গতিতে চলছে, ফলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। মানব পাচারের রিপোর্ট থেকে বিরত থাকতে পাকিস্তানি গণমাধ্যমগুলোকেও চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পাচার হওয়া মেয়েগুলোকে সাহায্য করতে কেউ এগিয়ে আসছে না। কোন পদক্ষেপের অভাবে পাচারের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।’

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় পাচার হওয়া নারীর তালিকা বিষয়ে অবগত নয় বলে জানিয়েছে। এপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন ও পাকিস্তান সরকার আইন ও বিধি মেনে স্বেচ্ছায় তাদের জনগণের মধ্যে সুখী পরিবার গঠনে সমর্থন করে পাশাপাশি অবৈধভাবে প্রবেশ করে বিয়ের ব্যাপারেও জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলে।

বিস্তারিত খবর

সুদানে গ্যাস ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণ, আগুনে ১৮ ভারতীয়সহ নিহত ২৩

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-০৪ ১৩:০৬:২০


সুদানের একটি সিরামিক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৮ ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণে মোট মৃতের সংখ্যা ২৩। আহত অন্তত ১৩০ জন। এ ছাড়া এই ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ বেশ কয়েকজন ভারতীয়। তবে লাশগুলো কার্যত ভস্মীভূত হয়ে যাওয়ায় চিহ্নিত করা যায়নি। সুদানে ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্যাস ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণের জেরে আগুন লেগেছিল।

সুদানের রাজধানী খার্তুমের বাহরি এলাকায় সিলা সিরামিক কারখানায় একটি গ্যাস ট্যাঙ্কার ফেটে যায়। ভারতীয় দূতাবাস সূত্রে খবর, অল্প কিছু ক্ষণের মধ্যেই আগুন গোটা কারখানা গ্রাস করে। কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের অধিকাংশই বাইরে বেরোতে পারেননি। কার্যত সেখানে আটকে পুড়ে মৃত্যু হয় তাঁদের।
Ad by Valueimpression

বুধবার ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, রিপোর্ট অনুযায়ী ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও তা সরকারিভাবে এখনই জানানো সম্ভব নয়। কারণ লাশগুলো চিহ্নিত করা যায়নি। দুর্ঘটনার পর থেকেই কারখানায় কাজ করতেন এমন অন্তত ১৬ জন ভারতীয় নিখোঁজ। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃতদের মধ্যেও নিখোঁজরা থাকতে পারেন।

তবে দুর্ঘটনার কবলে পড়েও বেঁচে যাওয়া ও নিখোঁজ শ্রমিকদের একটি তালিকাও প্রকাশ করেছে ভারতীয় দূতাবাস। সেই তথ্য অনুযায়ী ৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বেঁচে যাওয়া ৩৪ জনকে ওই কারখানার লাগোয়া সালুমি সিরামিক কারখানার আবাসনে থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে।

খার্তুম প্রশাসন জানিয়েছে, কারখানায় যত্রতত্র প্রচুর দাহ্য পদার্থ মজুত করে রাখা ছিল। অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থাও ঠিকঠাক ছিল না। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

বিস্তারিত খবর

ছুটি না পেয়ে পাঁচ সহকর্মীকে হত্যা করে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-০৪ ১২:৪৮:৩৫

ভারতের ছত্তিশগড়ের ইন্দো-টিবেটান বর্ডার সীমান্তে পুলিশের (আইটিবিপি) ৪৫ ব্যাটালিয়নে এক কনস্টেবল গুলি করে হত্যা করেছেন তার পাঁচ সহকর্মীকে। পর মুহূর্তে একই অস্ত্রে মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনার আরো তিন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে ছত্তিগড়ের নারায়ণপুর জেলায় আইটিবিপির ৪৫ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় ঐ রেঞ্জের পুলিশের মহাপরিদর্শক সুন্দর রাজ পি , আইটিবিপি কনস্টেবল বুধবার সকালে দায়িত্ব পালনকালে নিজের আগ্নেয়াস্ত্র বের করে সহকর্মী পুলিশ সদস্যদের ওপর গুলি করতে শুরু করেন। এতে ঘটাস্থলেই নিহত হন পাঁচ পুলিশ। পরে একই বন্দুকের গুলি দিয়ে নিজেও আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো তিনজন। আহত তিন পুলিশ সদস্যকে হেলিকপ্টারে করে রায়পুর হাসপাতালে ভর্তির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পুলিশের অনুমান, মানসিক অবসাদের কারণেই সহকর্মীদের গুলি করে নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই জওয়ান। দীর্ঘদিন ধরে ছুটির আবেদন মঞ্জুর না হওয়ায় তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। গুলির আওয়াজ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন আইটিবিপি কর্মকর্তারা। কিন্তু ততক্ষণে নিজেকেও গুলি করে দেন ওই জওয়ান।

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত