যুক্তরাষ্ট্রে আজ বুধবার, ২১ অগাস্ট, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 01:06am

|   লন্ডন - 08:06pm

|   নিউইয়র্ক - 03:06pm

  সর্বশেষ :

  ‘মৃত’ চিতাবাঘের ছবি তুলতে গিয়ে!   সিটি করপোরেশনের ওষুধ মশা সন্তান উৎপাদন করছে: রিজভী   গ্রেনেড হামলার দায় খালেদা জিয়া এড়াতে পারেন না : তথ্যমন্ত্রী   ইহুদিরা অত্যন্ত আনুগত্যহীন: ট্রাম্প   কাশ্মীরে খুলে দেওয়া হয়েছে স্কুল, শিক্ষার্থী নেই   ঢাকায় ডেঙ্গু রোগী কমেছে ২ শতাংশ   মর্মে মর্ম ধ্বনি’-নিয়ে সুজিত মোস্তফা আসছেন সিডনীতে   মিয়ানমারে প্রচণ্ড সংঘর্ষ, নিহত ১৯ জন   বাংলাদেশ বুদ্ধিষ্ট সোসাইটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন কমিটি গঠিত   ওষুধে লাভ হয় না, আল্লাহ আমাদের বাঁচাচ্ছে: হাইকোর্ট   প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোদির   বুধবার ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষির্কী   হিন্দুদের নিয়ে মন্তব্য করে মালয়েশিয়ায় তোপের মুখে জাকির নায়েক   আমি একজন ভারতীয় হিসেবে গর্বিত নই, সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন   ইটালির প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

>>  বহিঃ বিশ্ব এর সকল সংবাদ

‘মৃত’ চিতাবাঘের ছবি তুলতে গিয়ে!

রাস্তার ধারে একটি চিতাবাঘ শুয়ে। অনেকেই বাঘটির ছবি ক্যামেরাবন্দি করছিলেন মোবাইল ফোনে। ‘মৃত’ ভেবে মোবাইল হাতে একদম চিতাবাঘটির কাছে চলে যান এক যুবক। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যুবকের ওপর হামলা চালায় বাঘটি।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের আলিপুরদুয়ারের দলগাঁও চা বাগানে। আহত ওই যুবক এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সোমবার সকাল থেকে আলিপুরদুয়ারের দলগাঁও চা বাগানে পড়ে ছিল একটি আহত চিতাবাঘ। সেই সময়ে এক ব্যক্তি চিতাবাঘটিকে মৃত মনে করে কাছে গিয়ে মোবাইলের ক্যামেরায় ছবি তোলার চেষ্টা করেন। তখন হঠাৎ চিতাবাঘটি দাঁড়িয়ে হামলা করে ওই ব্যক্তির ওপর। তবে অসুস্থ হওয়ার কারণে তেড়ে গেলেও

বিস্তারিত খবর

ইহুদিরা অত্যন্ত আনুগত্যহীন: ট্রাম্প

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-২১ ১০:৫৭:১০

রাজনীতিতে নতুন করে ধর্ম ও জাতি টেনে আনার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, যেসব ইহুদি ডেমোক্রেটদের ভোট দিয়েছে হয় তাদের জ্ঞান কম নতুবা তারা অত্যন্ত আনুগত্যহীন।

ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য দুই মুসলিম নারী ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিবকে কেন্দ্র করেই ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছেন। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইলহান ও সোমালিয়া বংশোদ্ভূত রাশিদা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি আচরণের কড়া সমালোচক। সম্প্রতি ট্রাম্পের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই দুজনকে ইসরায়েলে প্রবেশ করতে দেয়নি তেল আবিব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, ‘ডেমোক্রেটিক পার্টি কোথায় গেল? তারা যখন ইসরায়েল রাষ্ট্রকে প্রতিহত করছে তখন তারা (ডেমোক্রেট) কোথায় গেল? আমি মনে করি কোনো ইহুদি একজন ডেমোক্রেটের পক্ষেও ভোট দিলে এটা তার অজ্ঞানতাকে অথবা অত্যন্ত আনুগত্যহীনতাকে প্রকাশ করবে।’

জিউশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিল অব আমেরিকা ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেছে, ‘ইহুদিবাদ বিরোধিতাকে ট্রাম্প আবার রাজনীতিকরণ ও অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করছেন এটা তারই আরেকটি উদহারণ।’

বিস্তারিত খবর

কাশ্মীরে খুলে দেওয়া হয়েছে স্কুল, শিক্ষার্থী নেই

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-২১ ১০:৫৫:৫১

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর স্কুল খুলে দেওয়া হলেও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল না।

সোমবার সরকারি এবং বেসরকারি স্কুল খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো স্কুলেই ছাত্রছাত্রী দেখা যায়নি। খবর বিবিসির

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের এখনও কাশ্মীরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

কাশ্মীরের সবচেয়ে বড় শহর শ্রীনগরে প্রায় দুই শতাধিক স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অনেক স্কুলে গিয়েও শিক্ষার্থীদের পাননি।

অভিভাবকেরা বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না মোবাইল নেটওয়ার্ক ঠিক হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের সন্তানকে ঘরেই রাখতে চান।

একজন স্কুল শিক্ষক এই প্রতিকূল অবস্থায় স্কুল চালু নিয়ে বলেন, এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিথিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশা করা যায় না।

ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ে খবরে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র সরকারি বিদ্যালয়গুলো খোলা হয়েছে। বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো এখনও বন্ধ রয়েছে।

বিস্তারিত খবর

হিন্দুদের নিয়ে মন্তব্য করে মালয়েশিয়ায় তোপের মুখে জাকির নায়েক

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-২০ ১৫:০০:০৯

ইসলাম প্রচারক জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় হিন্দু এবং চীনা সম্প্রদায় সম্পর্কে তাঁর স্পর্শকাতর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

তিনি বলেছেন, কোন ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে আহত করার উদ্দেশ্যে তিনি কোন মন্তব্য করেননি এবং তার বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। খবর বিবিসির

জাকির নায়েককে ইতোমধ্যেই মালয়েশিয়া থেকে বহিস্কারের দাবি উঠেছে।

জাকির নায়েক এর আগেও বহুবার তার কথাবার্তার জন্য বিতর্কিত হয়েছেন। টেলিভিশনে ইসলাম ধর্ম বিষয়ক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ১১ ই সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলাকে তিনি 'নিজেদের কাজ' (ইনসাইডার জব) বলে বর্ণনা করেছিলেন।

২০১৬ সালে ভারতে তার বিরুদ্ধে জঙ্গীবাদে উস্কানি দেয়া এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠলে তিনি মালয়েশিয়ায় গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে তাকে স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

কী বলেছিলেন তিনি

মি. নায়েক তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যে বলেছিলেন, মালয়েশিয়ার হিন্দুরা ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের চেয়েও একশো গুন বেশি অধিকার ভোগ করে।

তার এই মন্তব্য ঘিরে মালয়েশিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়।

তাকে মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেয়ার আগে সেখান থেকে চীনাদের বের করে দেয়া উচিৎ বলেও তিনি মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

বিতর্কিত এই মন্তব্যের পর পুলিশ এবিষয়ে তাকে গত সোমবার দশ ঘন্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

তবে মঙ্গলবার দেয়া এক বিবৃতিতে জাকির নায়েক বলেন, তার কথাকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে উদ্ধৃত করা হচ্ছে এবং বিকৃত করা হচ্ছে। তিনি দাবি করছেন, কোন ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে বিক্ষুব্ধ করা তার লক্ষ্য ছিল না।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, জাকির নায়েক তার সীমা লঙ্ঘন করেছেন। কয়েকজন মন্ত্রী তাকে মালয়েশিয়া থেকে বহিস্কার করার দাবি তুলেছেন।

মালয়েশিয়ার সরকারী বার্তা সংস্থা বার্নামা জানাচ্ছে, মালয়েশিয়ায় কোন প্রকাশ্য সভায় তার বক্তৃতা দেয়া নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ মুসলিম। সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ভারতীয় এবং চীনা বংশোদ্ভূত মানুষও রয়েছে।

বিস্তারিত খবর

আমি একজন ভারতীয় হিসেবে গর্বিত নই, সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-২০ ১৪:৫৫:৫৪

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর বিষয়ে কথা বলেছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তার মতে, গণতন্ত্র ছাড়া কোনোভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এছাড়াও, একজন ভারতীয় হিসেবে গর্বিত নন বলেও মন্তব্য করেছেন বিশ্বখ্যাত এই অর্থনীতিবিদ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

অমর্ত্য সেনের কাছে প্রশ্ন ছিলো, আপনি এমন এক সময়ে ভারতে এলেন যখন দেশটি কঠিন সময় পার করছে। কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আপনি সারাজীবন সাম্যের কথা বলেছেন, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সাম্যের কথা। কিন্তু, সাম্য বলতে আমরা সবক্ষেত্রেই সাম্যকে বুঝে থাকি। আপনি কি মনে করেন- কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা সেই অঞ্চলে শান্তি এবং সেখানকার মানুষদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারবে?

উত্তরে অমর্ত্য বলেন, “না, আমি তা মনে করি না। আমি মনে করি, কাশ্মীর একটি বিশেষ সমস্যাপ্রবণ অঞ্চল। কাশ্মীরের কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আমি মনে করি না যে, কাশ্মীরের জননেতাদের কথা না শুনেই আপনি সেখানে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। সেখানে হাজার হাজার জননেতাকে আটকে রাখা হয়েছে। এমনকী, বড় বড় নেতারাও কারাগারে রয়েছেন।”

তিনি আরো বলেন, “কাশ্মীরে যেভাবে যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এর মাধ্যমে গণতন্ত্রের সাফল্য আসতে পারে না। গণতান্ত্রিক সরকার সবসময়ই আলোচনার মাধ্যমে এগোয়। এখন সরকার যখন বলে তারা শুধু পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা করবে তখন আমি মনে করি না যে সরকার সত্যিই গণতন্ত্রের জন্যে কোনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে চায়। আমি মনে করি না যে, গণতন্ত্র ছাড়া কাশ্মীর সমস্যার কোনো সমাধান হতে পারে। এ নিয়ে তো অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করা হচ্ছে।”

সরকার বলছে তারা কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যে অভিযান চালাচ্ছে। আপনি কী মনে করেন?

অমর্ত্য সেন বলেন, “এটি হচ্ছে পুরনো উপনিবেশিক মানসিকতার অজুহাতমূলক বক্তব্য। ব্রিটিশরা যখন এখানে শাসন করেছে… আমি আমার শৈশবের কথা বলছি, আমি মাঝে মাঝেই আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যেতাম। তিনি কারাবন্দি হয়েছিলেন। তখন ব্রিটিশরা বলতো তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যে তাকে কারাগারে রেখেছে। এসব ধরপাকড়ের মাধ্যমে সেই উপনিবেশিক যুগে ফিরে যাওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ আমলে আমার অনেক আত্মীয়স্বজনকে জেলে পোড়া হয়েছিলো।”

“এটি বলা সহজ যে আমরা এই মানুষগুলোকে কারাবন্দি করেছি, কারণ তারা সমস্যা তৈরি করছে। এই যে সেদিন মানুষের অধিকার আন্দোলন নিয়ে কাজ করা কানাইয়া কুমারকে জেলে পাঠানো হলো। যুক্তি কী ছিলো? যুক্তি ছিলো যে সে রাষ্ট্রদ্রোহী। সরকারের সঙ্গে মতের বিরোধিতা হলেই তা হয়ে যায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা।”

সরকার বলছে সাধারণ কাশ্মীরিরা ৩৭০ ধারা থেকে কোনো উপকার পাচ্ছিলো না।… আর দিল্লিতে একটি গণতান্ত্রিক সরকার বিপুল ভোটের মাধ্যমে সেই ধারাটি বিলোপ করেছে। এ বিষয়টি নিয়ে আপনি কী বলবেন?

এমন প্রশ্নের উত্তরে অমর্ত্য সেনের বক্তব্য, “ব্রিটিশরা যখন ভারত শাসন করছিলো তখন আমি মনে করি, বিষয়টি ব্রিটেনে অনেক জনপ্রিয় ছিলো। একই বিষয় ভারতের ক্ষেত্রেও হতে পারে। তারা কাশ্মীরে কতোটুকু জনপ্রিয়? বলা হচ্ছে কাশ্মীর ভারতের অংশ। কিন্তু, এ বিষয়ে কাশ্মীরের জনগণ কী ভাবছেন? এ বিষয়ে কাশ্মীরের জনগণের মত নিতে হবে তো। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও সংখ্যাগরিষ্ঠরা সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার করে যাচ্ছে। এই সে বিপুল জনসমর্থন আসলে তা কী, আমাদের ভাবতে হবে। এই জনসমর্থন এবং মানুষের অধিকারের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে।”

সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন কাশ্মীর নিয়ে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি যে শুধুমাত্র সব মানুষের অধিকার বজায় রাখার বিরোধিতা করেছে তা নয়, এই পদক্ষেপে সংখ্যাগরিষ্ঠের কথাও ভাবা হয়নি।”

৮৫ বছর বয়সী নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, “গোটা বিশ্বে গণতান্ত্রিক আদর্শ অর্জনের জন্য এতো কিছু করেছে ভারত। তবে এখন আর আমি একজন ভারতীয় হিসেবে এই সত্য নিয়ে গর্বিত নই যে ভারতই গণতন্ত্রের পক্ষে প্রথম প্রাচ্যের দেশ ছিলো। কাশ্মীরের ক্ষেত্রে যা করা হচ্ছে, তাতে আমরা সেই খ্যাতি হারিয়ে ফেলেছি।”



বিস্তারিত খবর

ইটালির প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-২০ ১৪:৫৪:৩২

জোটসঙ্গী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তিও সালভানির তীব্র সমালোচনা ও অনাস্থার পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী গুইসেপে কন্টে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তিও সালভিনি প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপারে আস্থা ভোটের কথা বলেছিলেন আরও অন্তত ১২ দিন আগে। অবশেষে আজ মঙ্গলবার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন
পদত্যাগের আগে গুইসেপে কন্টে বলেন, সালভানির সিদ্ধান্তের জেরে এই দেশের এবং দেশের অর্থনীতির বড় বিপর্যয় ঘটবে। তিনি আরও বলেন, এই সরকার এখানেই কার্যক্রম শেষ করছে।

যদিও তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। এটা এখন নির্ভর করবে প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেল্লার সিদ্ধান্তের ওপর।

সালভানির দল থেকে নতুনভাবে নির্বাচনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইতালির ডানপন্থী দলগুলোও নতুনভাবে নির্বাচনের কথা বলছে। তবে জোট গঠন করে পার্লামেন্টে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলে নতুনভাবে সরকার গঠনের অনুমতি দিতে পারেন মাত্তারেল্লা। এমনকি তত্ত্বাবধায় সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়েও নতুন নির্বাচন করতে পারবেন তিনি।


বিস্তারিত খবর

সীমান্তে পাকবাহিনীর গুলিতে ৬ ভারতীয় সেনা নিহত

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-২০ ১২:৪৪:৫৪

সীমান্তের টাট্টাপানি এলাকার নিয়ন্ত্রণ রেখায় পাকবাহিনীর গুলিতে ৬ ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন সেনা কর্মকর্তাও রয়েছেন। এ ছাড়া অনেকে আহত হয়েছে।

ভারত যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে হামলা করলে এর জবাবে এ হামলা চালানো হয় বলে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়। খবর পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডনের।

মঙ্গলবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আসিফ গফুর এ তথ্য জানান।

জেনারেল আসিফ গফুরের টুইট বার্তা থেকে জানা যায়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুলিতে পাকিস্তানের তিন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। এর মধ্যে একজন সাত বছরের শিশু রয়েছে।

টুইট বার্তায় আসিফ গফুর বলেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ভারতীয় পোস্ট লক্ষ্য করে হামলা করে। এতে এক সেনা কর্মকর্তাসহ ৬ ভারতীয় সেনা সদস্য নিহত হয়। এ সময় অনেকে আহত হয়েছে।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর হামলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর দুটি বাঙ্কার ধ্বংস হয়।

বিস্তারিত খবর

খুলনা থেকে সিলেট পর্যন্ত জমি ভারতকে ছেড়ে দিতে হবে বাংলাদেশকে!

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৯ ১৫:৫৪:০৫

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শীর্ষ নেতা সুব্রামানিয়ান স্বামী ক্ষমতায় আসতেই বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড দাবি করেছেন।

হিন্দু জাতীয়তাবাদী এই নেতা বলেন, ‘খুলনা থেকে সিলেট পর্যন্ত সমান্তরাল রেখা টেনে এই জমি ভারতের হাতে ছেড়ে দিতে হবে বাংলাদেশকে।’

গতকাল শনিবার আসামের শিলচর থেকে প্রকাশিত বাংলা দৈনিক ‘সাময়িক প্রসঙ্গ’ নামে একটি পত্রিকার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।পত্রিকাটি জানিয়েছে, গত শুক্রবার গোহাটীতে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন সুব্রামানিয়ান স্বামী।

তিনি বলেন, ‘ভারত বিভক্ত হয়েছিল ধর্মে‌র ভিত্তিতে। তাই বাংলাদেশ থেকে যে এক তৃতীয়াংশ মুসলমান ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে তা ফিরিয়ে নিতে হবে ঢাকাকে।

নইলে এসব মুসলিম নাগরিকের বসবাসের জন্য বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ জমি ছাড়তে হবে বাংলাদেশকে।’বিজেপির এ নেতা জানান, এ বিষয়ে নরেন্দ্র মোদী কিংবা অন্য নেতাদের সঙ্গে তার কথা না হলেও সঠিক সময়ে তা পার্লামেন্টে উত্থাপন করবেন তিনি।

বিস্তারিত খবর

৩০ বছরে তলিয়ে যেতে পারে জাকার্তা

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৯ ০৬:৩৫:৪৪

বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা ক্রমে বাড়ছে। এতে ব্যাপক হারে পরিবর্তন হচ্ছে জলবায়ুর।  যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে দেশে দেশে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে দ্রুত হারে গলছে দুই মেরুর বরফ। সমুদ্রের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বরফ ও হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে৷

এর ফলে অদূর ভবিষ্যতে তলিয়ে যেতে পারে সমুদ্র তীরবর্তী অনেক দেশ বা শহর। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জলবায়ু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের সংকটে পড়তে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের উচ্চতা বাড়লে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলও ডুবে যাবার ঝুঁকিতে রয়েছে।

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কায় রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। তলিয়ে যেতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে তলিয়ে যেতে পারে জাকার্তা শহর। অর্থাৎ আগামী ৩০ বছরের মধ্যেই ডুবে যেতে পারে জাকার্তার এক-তৃতীয়াংশ। সমুদ্র উপকূলবর্তী ওই অংশে বাস প্রায় এক কোটি মানুষের বসবাস।

ইন্দোনেশিয়ার অত্যন্ত ব্যস্ত শহর জাকার্তা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক সংবাদ হলো এটি বিশ্বের অন্যান্য নিম্নভূমির শহরের মতো ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে সমুদ্রের জলে। শহরটি মূলত জলাভূমির ওপর অবস্থিত। তাছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অধিক নগরায়ন ও শিল্পায়ন, তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং অপরিকল্পিতভাবে জমি ব্যবহার করার ফলে প্রতি বছরই একটু একটু করে শহরটি সমুদ্রতলে চলে যাচ্ছে। এছাড়া শহরের বাসিন্দারা যে হারে পাম্পের মাধ্যমে ভূগর্ভ থেকে পানি তুলছে তা পরিস্থিতিকে আরও খারাপের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এছাড়া জাকার্তায় বন্যার প্রাদুর্ভাব রয়েছে। ২০১৩ সালে অধিক বন্যার ফলে কয়েকটি স্থানের কিছু অংশ একবারে দুই মিটার নিচে ডুবে যায়। জাকার্তার উত্তর দিক বিগত ১০ বছরে প্রায় ২ দশমিক ৫ মিটার ভূমি সমুদ্রে তলিয়ে যায়। এছাড়া গড়ে প্রতি বছর ২৫ সেন্টিমিটার ভূমি পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।

জাকার্তার এই অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ফর ক্রিস্টিয়ান এইড’ এর গ্লোবাল লিডার ড. ক্যাথেরিন ক্রেমার বলেন, এই পরিস্থিতির পেছনে মূলত দুটি সমস্যা দায়ী। একটি হলো প্রাকৃতিক এবং অপরটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ।

ক্রেমার জানান, জাকার্তা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন- বন্যা, ঝড়-বৃষ্টির কারণে দিন দিন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। আর এর পেছনে জলবায়ুর পরিবর্তনকেই দায়ী করেন তিনি। তাছাড়া তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বরফ গলে যাচ্ছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে জাকার্তা ও এধরনের আরো নিচু শহরগুলো ব্যাপক হুমকির মুখে রয়েছে।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী সরিয়ে নেয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে দেশের কর্তৃপক্ষ। ইউরো নিউজ ও ফাস্র্ট পোস্ট জানিয়েছে, সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো ঘোষণা করেন, রাজধানী জাকার্তা থেকে বোর্নিও দ্বীপে স্থানান্তর করা হবে। গত এপ্রিলে রাজধানী শহর সরিয়ে নেয়ার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তখন কোথায় স্থানান্তর করা হবে সে সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি।

এর আগে জাকার্তার পরিকাঠামোগত পরিবর্তন এনে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। শহরের রাস্তাঘাট উঁচু করার চেষ্টা করা হয়েছে। উপকূল বরাবর  তৈরি করা হয়েছে বিশাল বাঁধও। কিন্তু, সব প্রচেষ্টাই মাটি। সাফ বিজ্ঞানীরা জানিয়ে দিয়েছেন জাকার্তাকে বাঁচানোর কোনও উপায় নেই।

এ অবস্থায় রাজধানী স্থানান্তর করাই একমাত্র উপায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর তাদের কথা মেনে দ্রুত রাজধানী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সরকার।

বিস্তারিত খবর

গ্রীনল্যান্ড বিক্রির প্রস্তাব হাস্যকর : ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৯ ০৬:৩৪:৫৩

অর্থের বিনিময়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড কেনার যে বাসনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ করেছেন তা এবার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেন দ্বীপটির মালিক দেশ ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন। তিনি বলেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড বিক্রি হবে না এবং এটিকে আমেরিকার কাছে বিক্রির করার প্রস্তাব ‘হাস্যকর’।

আমেরিকা বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপটি কিনতে চায় বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একজন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা নিশ্চিত করার পর ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী এ বক্তব্য দিলেন। তিনি রোববার গ্রিনল্যান্ড সফরে গিয়ে এক সাক্ষাৎকারে বলেন,‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রি হবে না। এটি ডেনমার্কের কোনো জিনিস নয়। গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা সেখানকার অধিবাসীদের। আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করতে চাই যে, ঠাট্টার ছলে এটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।’

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার নিজে সাংবাদিকদের কাছে একথার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি তার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্প্রতি বিষয়টির সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

আগামী মাসের গোড়ার দিকে ডেনমার্ক সফরে যাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে তিনি ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেনের পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী কিম কিয়েলসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে কথা রয়েছে।

হোয়াইট হাউজের অর্থনেতিক উপদেষ্টা ল্যারি কুডলো রোববার একথার সত্যতা নিশ্চিত করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে কথা বলেছেন।

উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক সাগরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড দ্বীপের অর্থনীতি ডেনমার্কের সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপটির প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির নিয়ন্ত্রণ ডেনমার্কের হাতে থাকলেও বাকি বিষয়গুলো পরিচালনায় স্থানীয় সরকার স্বাধীনতা ভোগ করে।

বিস্তারিত খবর

গভীর চক্রান্তে হজ্জ, মুসলিম সেজে বোরকা পরে মদিনায় মহিলা সেকশনে পুরুষ ই’হুদী চর

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৯ ০৬:২৭:১৮

ঘটনা জেনে গা শি’উরে উঠছে, কি হচ্ছে এসব পবিত্র হজ্জে! হজ্জ নিয়ে গভীর কোন ষ’ড়য’ন্ত্র হচ্ছে-নাতো?! এরকম প্রশ্নেরই উদয় হচ্ছে মনে।

মসজিদে নববীতে আজ সকালে মহিলা সেকশনে মহিলাদের বোরকা পরে এক পুরুষ প্রবেশ করে! সেখানে সে অনেক সময় অবস্থান করে, নামাজে ম’গ্ন মহিলা হাজীদের ফলো করছিলো।

এই ছবিগুলি আল-মদীনা হজ্জ কাফেলার মহিলা হাজী সিস্টার ফাতিমা তুলেছেন। ছবি তুলতে দেখে লোকটি পালিয়ে যায়। সি’কিউ’রিটি মহিলারা ঐ সময় দূরে ছিলেন, তাই তারা আসার আগেই লোকটি কোথাও কোনভাবে লুকিয়ে পড়ে।

ইসলামের সবচেয়ে বড় শ’ত্রু হচ্ছে ই’হুদীরা যা পবিত্র দ্বীন ইসলামের সূচনা থেকেই। আর আল কুরআনের সূরাহ মায়েদা শরীফের ৮২ নং আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তা পরিস্কার করেই বলে দিয়েছেন যেঃ মুসলমানগণ তোমরা শ’ত্রু হিসেবে প্রথমে পাবে ই’হুদীদের।

এই ঘটনায় স’ন্দেহ করা হচ্ছে যে, দেড় হাজার বছর থেকে চলে আসা এই পবিত্র হজ্জে একত্রে লাখ লাখ মানুষ পবিত্র হজ্জ পালন করেন কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন মা/বোনের কোন সমস্যা হয়নি।

এই বিষয়টাই ইউরোপ আমেরিকার অনেক মেয়েদের পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহনে উৎসাহিত করছে যা দেখে ই’হুদীদের মাথায় বাজ পড়েছে, তাই তারা পবিত্র মক্কা ও মদিনা শরীফে এমন কোন একটি অ’প্রীতিকর কাজ করানোর চেষ্টা করছে যেনো তারা পবিত্র এই ব্যপারটাকে অ’পবিত্র করে যাতে মুসলিম মহিলারা নিজেদের হজ্জ থেকে আর অ’মুসলিম মেয়েরা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম এর থেকে নিজেদের দূরে রাখে।

সৌদি সরকারের উচিৎ এই ব্যপারে আরো বেশী নি’রাপত্তা জো’রদার করা। নাহলে পবিত্র এই হজ্জের উপর কু’ৎসা র’টানো অত্যন্ত সহজ হয়ে যাবে ই’হুদী ও মু’শরিকদের জন্য।
সূত্র: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক

বিস্তারিত খবর

আসামের এনআরসি ও কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল: নেপথ্যে মোদির মুসলিমবিদ্বেষ

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৮ ১৩:০৯:২৭

চল্লিশ লাখের বেশি ভারতীয়, যাদের বেশিরভাগই মুসলমান; ভারত সরকার বিদেশি অবৈধ অভিবাসী হিসেবে ঘোষণা করতে পারে। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার কট্টর হিন্দু জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এমন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দরিদ্র আসাম রাজ্যে অভিবাসীদের চিহ্নিত করার মধ্য দিয়ে এই এজেন্ডা বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। যেসব বাসিন্দাদের নাগরিকত্ব যাচাই করা হচ্ছে তাদের অনেকেরই জন্ম ভারতে এবং এতোদিন ধরে নির্বাচনের ভোটসহ সব ধরনের অধিকার ভোগ করে আসছিলেন। নাগরিক তালিকা নিয়ে বিরোধ মীমাংসা করতে রাজ্য সরকার ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বৃদ্ধি ও নতুন বন্দি শিবির গড়ে তোলার পরিকল্পনার করছে। বিদেশি অভিবাসী সন্দেহে কয়েক হাজার মানুষকে ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক এক মুসলমান সদস্য। স্থানীয় অ্যাক্টিভিস্ট ও আইনজীবীরা বলছেন, নাগরিক তালিকায় স্থান না পাওয়ার মনোকষ্টে এবং কারাগারে যাওয়ার আতঙ্কে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন অনেকেই। তবে মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার এই প্রক্রিয়া থেকে পিছু হটছে না।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশটির অন্যান্য রাজ্যেও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণের অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে নিরঙ্কুশ জয়ের ফলে মোদির সরকার হিন্দু জাতীয়তাবাদী কর্মসূচি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে। ভারত সরকারের এসব পদক্ষেপের ফলে দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। আসামে এই নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে উৎকণ্ঠার অবসান এখনও হয়নি। এক বছর আগে শুরু হওয়া নাগরিকত্ব যাচাই শেষ হয় ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর। আসামের মুসলমানদের জন্য এটাকে বড় ধরনের পরাজয় মনে করা হচ্ছে।

মাত্র দুই সপ্তাহ আগে আসাম থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে মুসমিল অধ্যুষিত জম্মু-কাশ্মিরের রাজ্য মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নিয়েছে মোদি সরকার। জম্মু-কাশ্মিরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়েছে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই। এসব নেতাদের অনেকেই আছেন কারাগারে।

মোদির সমালোচকরা বলছেন, আসাম ও কাশ্মিরের ঘটনা প্রমাণ করে বিজেপি সরকার কট্টর হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নে শক্তি প্রয়োগের নীতি অবলম্বন করছে এবং ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। রাজনীতির পক্ষে-বিপক্ষের লোকেরা বলছেন, আসাম ও কাশ্মির ইঙ্গিত দেয় আগামী দিনে ১.৩ বিলিয়ন ভারতীয় জনগণকে কোন পথে নিয়ে যেতে চাইছেন মোদি।

মোদি বিরোধিরা বলছেন, তিনি একটি বিপজ্জনক খেলা শুরু করছেন। তিনি ভারতের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য ভেঙে ও সামাজিক বিচ্ছেদ তৈরি করছেন। মোদির রাজনৈতিক শেকড় কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের গাঁথা। আরএসএস সবকিছুর ঊর্ধ্বে হিন্দু ধর্মকে স্থান দেয়। তাদের এই বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির ফলে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ও মুসলিম সংখ্যালঘুর ভারতে বেশ কয়েকটি ধর্মীয় দাঙ্গার সূত্রপাত হয়েছে।

এক সময়ের সরকারি কর্মকর্তা থেকে মানবাধিকার কর্মীতে পরিণত হওয়া হার্শ মান্দার বলেন, আসাম ও কাশ্মিরে যা ঘটছে তা ভারত, স্বাধীনতারযুদ্ধ ও সংবিধানের উপর হামলা। দেশের সবাই সমান- ধারণার ওপর আঘাত। মুসলমানরা এখন শত্রু। এটা ভারতীয় সংবিধানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশিয়া কর্মসূচির প্রধান আশুতোষ ভার্সনি মনে করেন, যদি ঠেকানো না হয় তাহলে ভারত একটি হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছে। বিরোধী দল বিশৃঙ্খল ও নখদন্তহীন এবং আমলা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো মোদির নিয়ন্ত্রণে থাকায় ভারতের সেক্যুলার গণতন্ত্র এখন আদালতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তিনি সতর্ক করে বলছেন, বিচার ব্যবস্থাও নতি স্বীকার করতে পারে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে উৎকণ্ঠিত হওয়ার মতো খবর পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে। গাড়ি খাতে বড় ধরনের ছাঁটাই, দেশজেুড়ে বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে হিন্দুদের গণ সহিংসতার খবরেও মোদির জনপ্রিয়তায় একটু চিড় ধরায়নি।

বহিরাগতরা প্রশ্ন তুলতে পারেন কীভাবে কোনও রাজনৈতিক দল ভারতের সমাজে মুসলমানদের অবদানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। ভারত বহু সংস্কৃতির হিসেবে পরিচিত, কয়েক শতাব্দী ধরে মুসলমানদের অবদান রয়েছে ভারতীয় সমাজে। এমনকি দেশটি শাসন করেছেন এক সময়। মুসলমান সম্রাটরা ভারতের সাংস্কৃতিক সম্পদের অনেকগুলোই নির্মাণ করেছেন। তাজমহল সেগুলোর একটি। কিন্তু ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতা গ্রহণের পর তার সরকার ইতিহাসের বইগুলো পুনরায় লিখেছে, মুসলমানদের শাসকদের কথা মুছে ফেলা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গার মুসলমান নাম পাল্টে হিন্দুকরণ করা হয়েছে। হিন্দুদের হাতে গণপিটুনিতে অনেক মুসলমান নিহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া হিন্দুদের খুব কমক্ষেত্রেই সাজা হয়েছে।

মোদি ও বিজেপির মিত্ররা মুসলিমবিরোধী অবস্থানের কথা অস্বীকার করেছে। আসামের নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে ওঠা সমালোচনাকেও অস্বীকার করেছে। আসামের রাজ্য পর্যায়ের কর্মকর্তারা বরছেন এটা শুধু প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রয়োগ যাতে করে ভারতের বসবাসের অধিকার নেই এমন মানুষদের খুঁজে বের করা।

চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশের পর বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আসাম সরকার কয়েক শ ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পুরো প্রক্রিয়া মুসলমানদের জন্য বৈষম্যমূলক। এখানেই থেমে নেই আসামের বিজেপি। আসামের নাগরিক তালিকায় ৩৫ লাখ মানুষ বাদ পড়েছেন। বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার পরিকল্পনা করছে ১০ টি বন্দি শিবির গড়ে তোলার জন্য। যেসব বন্দি শিবিরে কয়েক হাজার মানুষকে আটক রাখা যাবে। ভারত আসামের অবৈধ অভিবাসীদের বাংলাদেশি উল্লেখ করলেও ঢাকা তাদের গ্রহণে রাজি নয়। ফলে এসব মানুষ রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়তে যাচ্ছেন।

সমালোচকরা বলছেন, আসাম ও কাশ্মিরে যা ঘটছে তা উভয় অঞ্চলকে হিন্দুদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার পরিকল্পনা। কাশ্মিরিরা আশঙ্কা করছেন, রাজ্যের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের প্রধান কারণ হচ্ছে সেখানে হিন্দুদের বসতি স্থাপন  এবং ভারতে একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যের পরিচয় নির্মূল করা।

ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের ফলে কাশ্মিরিরা তাদের ভূমির বিশেষ অধিকার হারাবে। এই অধিকারের ফলেই রাজ্যটিতে ভারতের অন্য রাজ্যের কেউ ভূমি কিনতে পারতেন না। মোদি বলছেন, নতুন ব্যবস্থার ফলে কাশ্মিরে বাইরের বিনিয়োগ আসবে, ভালো শাসনব্যবস্থা জারি হবে এবং আসবে নতুন প্রভাত। কিন্তু ভারতের আরও কয়েকটি রাজ্যে এমন সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু মোদির সরকার সেখানে এমন পরিবর্তনের কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না।

সমালোচকরা পার্থক্য তুলে ধরে বলছেন: ওই রাজ্যগুলো মুসলমান নয়।

বিস্তারিত খবর

কাশ্মীর ইস্যুতে আরব দেশগুলোর নীরবতার নেপথ্য কারণ কী?

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৮ ১৩:০৮:৫২

ভারত অধিকৃত কাশ্মীর ইস্যুতে আরব দেশগুলো যথাযথভাবে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করছে না। বরং অনেক আরব দেশ সরাসরি ভারতের পক্ষাবলম্বন করে বিবৃতি দিয়েছে। এ নিয়ে মুসলিম বিশ্বে এক ধরনের আক্ষেপ রয়েছে।

কাশ্মীরি মুসলমানদের অধিকার কেড়ে নিতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তের বিষয়ে সৌদি আরব উভয়পক্ষকে সহনশীলতার উপদেশ দিয়েছে। আর কুয়েত, কাতার,বাহরাইন এবং ওমান এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেয়ারও সাহস করেনি।

অধিকন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত বিষয়টিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মোদি সরকারকে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছে।

কেন এই নীরবতা?

ভারতের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে অধিকাংশ আরব দেশ কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ও সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিলের বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে।

মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির তথ্যমতে, ভারতের সঙ্গে আরব দেশগুলোর বার্ষিক ব্যবসায়িক লেনদেন ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি, গুরুত্বপূর্ণ এ ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণেই সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশ কাশ্মীর ইস্যুতে মুখে কুলুপ এঁটেছে।

ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করায় কাশ্মীর নিয়ে সৌদি আরবের অবস্থানও স্পষ্ট নয়।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যদিও বিষয়টি নিয়ে সৌদি যুবরাজ ও বাহরাইনের শাসকের সঙ্গে কথা বলেছেন, কিন্তু কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে জাতিসংঘের বৈঠকে তারা কোনো সহায়তা করবেন কি না তা জানাননি।

ফলশ্রুতিতে দেখা যায়, গত শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে আরব দেশগুলো কাশ্মীরি মুসলমানদের পক্ষে কোনো প্রকারের সমর্থন বা সহযোগিতা করেনি।

কাশ্মীর বিষয়ে সৌদি আরব জানিয়েছে, উপত্যকাটির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাছাড়া বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে তারা।

ভারতের সঙ্গে আরব দেশগুলোর ব্যবসায়িক সম্পর্ক

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ৭০ লাখের বেশি ভারতীয় প্রবাসী বসবাস করেন। ভারতীয় এ নাগরিকদের মধ্যে ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, গাড়িচালক ছাড়াও বিশালসংখ্যক শ্রমিক রয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারতের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সম্পর্ক রাখে। দেশটিতে ভারতীয় প্রবাসীর সংখ্যা প্রচুর। বলা হয়ে থাকে, প্রতি তিনজন আমিরাতির মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক।

গত বছর ভারতের সঙ্গে আরব আমিরাতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ হাজার বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই মুহূর্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিতীয় বাণিজ্যিক অংশীদার দেশ ভারত।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া তথ্য মতে, এ বছর আরব আমিরাতে ভারতীয় বিনিয়োগের পরিমাণ ৫৫ বিলিয়ন ডলার। তাছাড়া দুবাইয়ের রিয়েল স্টেট ব্যবসায়ও ব্যাপক ভারতীয় বিনিয়োগকারী রয়েছেন।

এ কারণে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর ভারতে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ড. আহমেদ আল বান্না বলেন, রাজ্যের পুনর্গঠন স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। তিনি বলেন, আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করে উন্নতির লক্ষ্যে মূলত এটি করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী এটি একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়।

ভারত সরকারের দেয়া তথ্যমতে, সৌদি আরবে ২৭ লাখ ভারতীয় নাগরিক বসবাস করেন। ইরাকের পর ভারতকে সবচেয়ে বেশি তেল সরবরাহ করে সৌদি আরব।

গত বছর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের আওতায় সৌদি আরব ভারতকে ২৭ বিলিয়ন ৫০ কোটি ডলার সমমূল্যের তেল রফতানি করেছে।

এমনকি অবরুদ্ধ অবস্থায় কাশ্মীরি জনগণ ‘খাঁচাবন্দি’ জীবনযাপন করছেন,ঠিক সেই মুহূর্তে গত ১২ আগস্ট সৌদি আরবের বড় বিনিয়োগ পাওয়ার কথা জানালো ভারত। এ দিন ভারতের রিল্যায়ান্স গ্রুপের ‘অয়েল টু কেমিক্যালস’ (ওটিসি) বিভাগের ২০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয়ার ঘোষণা দেয় সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো।

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়ে রাজ্য বিলোপ ও অঞ্চলটিকে দ্বিখণ্ডিত করে কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি উপমহাদেশের ইতিহাসে এটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এর তাৎক্ষণিক ও সুদূরপ্রসারী গুরুত্বও বিশাল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত সরকারের এই পদক্ষেপ কাশ্মীরসহ এই অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে। এবং দীর্ঘমেয়াদে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি মুসলিমপ্রধান এই এলাকাটির মানচিত্রের বৈশিষ্ট্য বদলে দেবে।

কাশ্মীর নিয়ে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের এমন সুপরিকল্পিত কৌশলের বিষয়ে আরব দেশগুলোর মুখে কুলুপ আঁটার বিষয়টি বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিমকে ক্ষুব্ধ করেছে। বিশেষত মুসলিমবিশ্বের অঘোষিত মোড়ল সৌদি আরব এ বিষয়ে কোনো নিন্দা, প্রতিবাদ বা উদ্বেগ প্রকাশ না করায় কাশ্মীরি জনগণের পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহও মর্মাহত হয়েছে।

বিস্তারিত খবর

কাবুলে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা, নিহত ৬৩

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৮ ১৩:০৫:০০

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৬৩ জন নিহত হয়েছে।

স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে নগরীর পশ্চিমে শিয়া মুসলমান অধ্যুষিত এলাকায় একটি কমিউনিটি হলে ওই হামলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বিবিসি ও সিএনএন জানায়, হামলায় আহত হয়েছেন ১৮০ জন। হামলার কয়েক ঘণ্টা পর সে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলা ও হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে কমিউনিটি হলের চারপাশে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

বিয়ের অনুষ্ঠানে আসা মোহাম্মদ ফারহাজ নামের এক অতিথি বিবিসিকে বলেন, কমিউনিটি হলে তিনি নারী অতিথিদের বসার জায়গায় ছিলেন। ওই সময় হঠাৎ করেই পুরুষ অতিথিদের বসার স্থানে প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ হয়।

লোকজন চিৎকার করে ছোটাছুটি করতে থাকে। বিস্ফোরণের ২০ মিনিট পরও পুরো হল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়েছিল। ওই সময় পুরুষদের বসার স্থানে যারা ছিলেন তাদের সবাই নিহত কিংবা আহত হয়েছেন।

জঙ্গীগোষ্ঠী তালেবান এ হামলার দায় অস্বীকার করেছে এবং হামরার নিন্দা জানিয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

বিস্তারিত খবর

ভারতের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার এখন ফ্যাসিস্ট মোদির হাতে : ইমরান খানের হুঁশিয়ারি

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৮ ১৩:০১:১০

ভারতের পরমাণু অস্ত্রসম্ভারের দায়িত্ব এখন ফ্যাসিস্ট, হিন্দু আধিপত্যবাদী নরেন্দ্র মোদি সরকারের হাতে। এ মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক দুনিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার টুইটে বলেছেন, “ভারতের পরমাণু অস্ত্রসম্ভারের নিরাপত্তার দায়িত্ব এখন ফ্যাসিস্ট, বর্ণবাদী, হিন্দু আধিপত্যবাদী নরেন্দ্র মোদি সরকারের হাতে। এ ব্যাপারে সারা পৃথিবীর নজর দেয়া উচিত। এ এমন একটা বিষয় যার অভিঘাত শুধু এ অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়, এর অভিঘাত দুনিয়া জোড়া।”

এক দিন আগেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান বলেছেন, কাশ্মীর থেকে নজর হঠাতে পাকিস্তানের উপর আক্রমণ করতে পারে ভারত। গত ৫ অগাস্ট কাশ্মীরে সংযোগমাধ্যম বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর এই নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার ভারত প্রসঙ্গে পৃ্থিবীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ইমরান খান।

এর আগে ইমরান বলেছিলেন, “জার্মানিকে যেমন নাৎসিরা অধিকার করে নিয়েছিল, তেমনভাবেই ভারত এখন ফ্যাসিস্ট, বর্ণবাদী, হিন্দু আধিপত্যবাদী আদর্শ ও তার নেতৃত্বের দখলে চলে গেছে। এর ফলে দু সপ্তাহ ধরে ৯০ লক্ষ কাশ্মীরি কার্যত আটক রয়েছেন। এ ঘটনা সারা দুনিয়ায় বিপদঘণ্টি বাজানো উচিত, একই সঙ্গে জাতিসঙ্ঘের উচিত এখানে পরিদর্শক পাঠানো।”

আর এস এস নিয়ে বলতে গিয়ে ইমরান খান বলেন, “যে কেউ গুগল করে দেখে নিতে পারেন বিজেপি-আরএসএসের আদর্শের সঙ্গে নাৎসিদের মিল কোথায়।”

তিনি বলেন, “ইতিমধ্যেই ৪০ লাখ ভারতীয় মুসলিমকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। দুনিয়ার জানা উচিত দৈত্য এখন বোতলের বাইরে বেরিয়ে পড়েছে, যদি আন্তর্জাতিক দুনিয়া এ অবস্থা বন্ধ করতে পদক্ষেপ না করে তাহলে আরএসএসের গুণ্ডারা ঘৃণা ও গণহত্যার মতবাদ ছড়িয়ে দেবে ।”

বিস্তারিত খবর

কাশ্মীরে বিধি-নিষেধ দ্রুত তুলে দেওয়ার আহ্বান ওআইসির

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৭ ১২:৪০:০৭

জম্মু-কাশ্মীর উপত্যকা থেকে দ্রুত কারফিউ তুলে দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান করেছে মুসলমান রাষ্ট্রভুক্ত সংগঠন ওআইসি।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরাইশী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করেন। কাশ্মীর ইস্যুতে ওআইসির দাবিকে পাকিস্তানের ‘কূটনৈতিক বিজয়’ হিসেবে মন্তব্য করেন।

ভারতের সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়। ফলে কাশ্মীর অতীতের ‘বিশেষ মর্যাদা’র সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। এখন থেকে ভারতের অন্যান্য প্রদেশের মতো কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে কাশ্মীর পরিচালিত হবে। এ ঘটনায় পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সম্প্রতি শাহ মাহমুদ কোরাইশী জেদ্দায় ওআইসি ভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কাশ্মীর বিষয়ে আলোচনা করেন। তারপর ওআইসি বিবৃতি প্রকাশ করে বলে মনে করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,‘কাশ্মীর থেকে কারফিউ তুলে নেয়ার দাবি পাকিস্তানের পাশাপাশি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের। সেখানকার জনগণ খাদ্য সংকটে রয়েছে। কারফিউ থাকার কারণে তারা হাসপাতালে যেতে পারছেন না।’

ওআইসিসহ জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিল কাশ্মীর ইস্যুতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কাশ্মীর ইস্যুতে নিজ দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। কাশ্মীর ইস্যুতে মোদি সরকারের সকল অপকৌশল নষ্ট হবে বলে তিনি এক টুইটার বার্তায় জানান।

ইতিমধ্যে, কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান সমস্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাতিল করেছে।

বিস্তারিত খবর

পাইলট যেভাবে বিমানটিকে ভুট্টা ক্ষেতে নামালেন

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৭ ১২:২৭:১৪

রাশিয়ার যে পাইলট কয়েকদিন আগে একটি বিমানকে শস্যক্ষেতে জরুরি অবতরণ করিয়েছেন, তিনি এখন অনেকের কাছেই নায়ক হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছেন।

বিমানটি জরুরি অবরতণ করানোর সময় সেটিতে জ্বালানী পরিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। কিন্তু তারপরেও বিমানের ২৩৩ জন যাত্রীর বড় ধরনের কোন ক্ষতি হয়নি।
রাশিয়ার মানুষ এ ঘটনাটিকে ২০০৯ সালে নিউ ইয়র্কের হাডসন নদীতে একটি বিমানের জরুরি অবতরণের সঙ্গে তুলনা করছেন।

নিউইয়র্কের সে ঘটনায় বিমানটি উড্ডয়নের সময় ইঞ্জিনে পাখির আঘাত লাগে। এরপর পাইলট হাডসন নদীতে বিমানটিকে জরুরি অবরতণ করিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার ইউরাল এয়ারলাইন্সের ৩২১ এয়ারবাসটি রাশিয়ার ক্রাইমিয়ার সিমফেরোপলে যাচ্ছিল।

বিমানটি ওড়ার অল্পক্ষণের মধ্যেই এক ঝাঁক চিলের সাথে ধাক্কা খায় এবং ফলে বিমানের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়।

বিমানটিতে কী ঘটেছিল?
ইউরাল এয়ারলাইন্সের বিমানটির ওজন ছিল ৭৭ টনের মতো। পাইলট দামির ইউসুপভ সাংবাদিকদের বলেন, বিমানের যাত্রী এবং ক্রুরা কিভাবে অল্পের জন্য বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে।

বিমানটি যখন দ্রুত গতিতে আকাশে উঠছিল, তখন প্রথম একটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়। এরপর দ্বিতীয় ইঞ্জিনটিও আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

পাইলট ইউসুপভ বলেন, যখন একটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় তখন তিনি ভাবছিলেন যে বিমানটিকে হয়তো বিমানবন্দরে ফিরিয়ে নিতে পারবেন।

"যখন আমি দেখলাম, বিমানের দ্বিতীয় ইঞ্জিনটিও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন বিমানটি মাটিতে পড়ে যাচ্ছিল," বলছিলেন পাইলট।

"আমি কয়েকবার আমার মত পরিবর্তন করেছি। কারণ, আমি বিমানটিকে উপরে তোলার চেষ্টা করছিলাম"

কিন্তু ফ্লাইট রাডারে দেখা যাচ্ছিল যে বিমানটি মাত্র ৭৯৭ ফুট উপরে আছে।

"আমি বিমানটিকে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় নিয়ে যাবার পরিকল্পনা করলাম। ততক্ষণ বিমানটিকে সে উচ্চতায় ধরে রাখতে চেষ্টা করছিলাম। তখন ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাবার বিষয়টি দেখলাম। চেষ্টা করছিলাম একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে। কিন্তু হাতে একেবারেই সময় ছিল না।"

তখন বিমানের পাইলট এবং কো-পাইলট ইঞ্জিনে তেলের সরবরাহ বন্ধ করতে সক্ষম হন।

এরপর বিমানটি ধীরে-ধীরে শস্য ক্ষেতে নামিয়ে আনেন। তখন বিমানটির চাকাও খোলা যায়নি।

পাইলট জানান, কিভাবে জরুরি অবতরণ করতে হয়, সে বিষয়টি তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছে ইউরাল এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সিমুলেটরে।

"নিজেকে আমার নায়ক মনে হচ্ছে না। আমরা যেটা করণীয় ছিল, আমি সেটাই করেছি।"

রাশিয়ার একজন শীর্ষ পাইলট ইউরি সাইতনিক বলেন, বিমানের ক্রুরা সবকিছু বইয়ের নিয়ম অনুসারে করেছেন।

প্রথমে ইঞ্জিন বন্ধ করেছেন, এরপর বিমানটিকে ধীরে-ধীরে মাটিকে নামিয়ে এনেছেন। জরুরি নির্গমণ পথ দিয়ে যাত্রীদের দ্রুত নামিয়ে আনা হয়।

১১ বছর বয়সী এক বিমানযাত্রী বলেন, একজন বিমানবালা বললেন, বিমান থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। তখন আমরা সঙ্গে-সঙ্গে আতঙ্কিত হয়ে গেলাম।

বিমানের অবতরণ মোটেও স্বাভাবিক ছিল না। প্রায় ৭০ জন যাত্রীকে চিকিৎসা দেয় হয়েছে। সৌভাগ্যবশত ভুট্টা ক্ষেতটি নরম আবরণের মতো কাজ করেছে।

বৃষ্টিতে ভিজে ভুট্টা ক্ষেতটি কিছু স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় ছিল। ফলে ঘর্ষণের কারণে আগুন ধরেনি।

মস্কো শহরের অন্য কোন জায়গায় হলে বিমানটি রাস্তা কিংবা বিল্ডিং-এর উপর আঁছড়ে পড়তো।

পাখির আঘাত কতটা গুরুতর?
রাশিয়ার একটি দৈনিক বলেছে, ২০১৫ সালে রাশিয়ায় পাখির সঙ্গে বিমানের ধাক্কা খাওয়ার ৪১১টি ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১০২১টি।

বিশ্বজুড়ে বিমান উড্ডয়নের ক্ষেত্রে এটি নিত্যদিনের ঝামেলা। সিভিল এভিয়েশনের তথ্য বলছে, ২০১৬ সালে ব্রিটেনে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে ১৮৩৫টি। রাশিয়াতে এ সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে।

জুকোভস্কি বিমানবন্দর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে একটি ময়লার ভাগাড় আছে। এর ফলে সেখানে বিভিন্ন ধরনের পাখির আনাগোনা বেশি হয়।

তবে মস্কোর কর্মকর্তারা বলেছেন, বিমানবন্দর থেকে সবচেয়ে কাছে ময়লার স্তূপটি ১৪ কিলোমিটার দূরে।

রাশিয়ার একজন সামরিক পাইলট ভ্লাদিমির পপভ বলেন, রাশিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে পাখি পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষজ্ঞ আছে। কিন্তু কোন পদক্ষেপই পুরোপুরি কাজে লাগছে না।

তিনি বলেন, বিমানের ইঞ্জিনের সামনে কোন খাঁচা তৈরি করা যাবে না। কারণ, তাতে বাতাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে। এর ফলে বিমানের গতি কমে যাবে।

জেনারেল পপভ বলেন, অগাস্ট মাসটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এ সময় নতুন পাখিদের ডানা বড় হতে থাকে। তখন তারা বেশি ওড়ার চেষ্টা করে।

আরেকটি উপায় হচ্ছে বিমানবন্দরে রানওয়ের পাশের জমিতে ঘাসগুলো একেবারে ছোট করে দেয়া। যাতে এটি পাখিদের চারণভূমি হতে না পারে।

বিস্তারিত খবর

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ঘোষণা এলেও নেই প্রস্তুতি

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৭ ১২:০৭:৪৩

আগামী ২২ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত যাবে তিন হাজার ৫৪০ জন রোহিঙ্গার একটি দল এমন খবর জানাচ্ছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স৷ অথচ বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। শনিবার পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে তেমন কোনো প্রস্তুতিও দেখা যায়নি৷ এর মাধ্যমে মিয়ানমার আবার নতুন ছলচাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে কি না সেটা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

প্রত্যাবাসনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কালাম বার্তা সংস্থা ডয়চে ভেলেকে বলেন,  আমিও আপনার মতো পত্রিকায় খবর পড়ে জেনেছি। কক্সবাজারে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম বলেন, ‘আসলে গত ৯ আগস্ট থেকে সরকারি অফিস আদালত বন্ধ রয়েছে৷ ঈদ, শোক দিবস আর সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এই লম্বা সময় ধরে বন্ধ৷ মধ্যে একদিন খোলা থাকলেও কোনো কাজ হয়নি৷ ফলে আমরা ছুটির মধ্যেই আছি৷ রবিবার অফিস খুললে বিষয়টি বুঝতে ও জানতে পারব।’

আবুল কালাম যোগ করেন, ‘রয়টার্সের খবর পড়ে যেটা জানলাম, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তিন হাজার ৫৪০ জনের ব্যাপারে ছাড়পত্র দিয়েছে৷ এখন শুধু ছাড়পত্র দিলেই তো হবে না, প্রত্যাবাসনের সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত৷ যাদের ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে, তারা আসলে যেতে চায় কি-না, সেখানে যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে কি-না? এমন অনেক প্রশ্ন আছে৷ রবিবার অফিস খোলার পর পরিস্থিতি বোঝা যাবে।’

এদিকে, হঠাৎ করে প্রত্যাবাসনের খবরে উদ্বিগ্ন রোহিঙ্গারাও৷ তারা বলছেন, কীভাবে কী হচ্ছে তারা বুঝতে পারছেন না৷

টেকনাফে রোহিঙ্গাদের ২৪ নম্বর ক্যাম্পের প্রধান মো. আলম বলেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘আমরা তো কিছুই জানি না৷ আমাদের এখনো কেউ কিছুই বলেনি। আমরা অবশ্যই নিজের দেশে ফিরে যেতে চাই৷ তার আগে আমাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে৷ সেখানে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে৷ আমরা যে জমি-বাড়িঘর ফেলে এসেছি, সেগুলো আমাদের বুঝিয়ে দিতে হবে৷ সেসব নিশ্চিত না করে আমাদের পাঠালেই আমরা যাব না।’

গত বছরের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা ছিল৷ অভিযোগ আছে, তখনও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এ রকম তড়িঘড়ি করে দিন নির্ধারণ করেছিল৷ কিন্তু মিয়ানমারে ফেরার পরিবেশ না থাকায় রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে রাজি হয়নি৷ এ কারণে প্রত্যাবাসন শুরু করার উদ্যোগ ভেস্তে যায়৷

এবারও কি তাহলে ভেস্তে যাওয়ার জন্যই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে? এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেক রোহিঙ্গা৷ তারা বলছেন যে, সামনে ২৫ আগস্ট, রোহিঙ্গাদের ঢল নামার বার্ষিকী এবং আগামী মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে শীর্ষ সম্মেলন৷ এ অবস্থায় তড়িঘড়ি করে মিয়ানমার প্রত্যাবাসনে আগ্রহী হয়ে উঠেছে৷ অথচ রোহিঙ্গাদের ফেরার পরিবেশ সৃষ্টিতে তাদের আগ্রহ নেই৷

আবুল কালাম বলেন, ‘আমরা তাদের যে দ্বিতীয় তালিকাটি দিয়েছিলাম, সেটি থেকে তারা তিন হাজার ৫৪০ জনের ছাড়পত্র দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে৷ তালিকাটি পেলে বিষয়টি বুঝতে পারব৷ এখন লোকগুলোকে আলাদা করতে হবে৷ তাদের মতামত নিতে হবে৷ এই কাজে একটু সময় লাগবে৷ তবে ২২ আগস্ট তারা যেতে চাইলে আমরা তাদের পাঠাতে প্রস্তুত আছি।’

রোহিঙ্গারা বলছেন, ‘মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সবেমাত্র রোহিঙ্গা শিবির ঘুরে গেছেন৷ সে সময় মিয়ানমারের সঙ্গে আরও আলোচনার প্রস্তাব দেয়া হলে তারা (মিয়ানমার প্রতিনিধিদল) রাজি হয়৷ কিন্তু সেই আলোচনার আগেই হঠাৎ প্রত্যাবাসনের দিন-তারিখ ঘোষণা করার অর্থ হলো- মিয়ানমারের উদ্দেশ্য ভালো নয়৷ এমন খারাপ উদ্দেশ্যের মধ্যে রোহিঙ্গারা আবারও অত্যাচারিত হতে ফিরে যেতে চায় না।’

বিস্তারিত খবর

মেহবুবা মুফতির মেয়েকে হুমকি : 'মুখ খুললে খারাপ হবে'

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৬ ১১:৩৭:১৭

ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা মুফতি জাভেদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে তার আটক সম্পর্কে স্বচ্ছতা দাবি করেছেন। স্বাধীনতা দিবসে লেখা এই চিঠিতে তিনি নিজের মা ও শত শত রাজনৈতিক আটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত ৫ অগাস্ট থেকে এঁদের আটক রাখা হয়েছে।

ইলতিজার অভিযোগ, তাকে হুমকি দেয়া হয়েছে, তিনি যদি ফের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তাহলে অবস্থা খারাপ হবে।

ইলতিজার প্রশ্ন, “কাশ্মীরিদের হয়ে কথা বললেন আমাকে কেন শাস্তির মুখে পড়তে হবে সে কথা আমি বুঝতে পারছি না। যে যন্ত্রণা, কষ্ট এবং অসম্মানের মুখে আমরা পড়েছি, তার কথা বলা কি অপরাধ? আমাদের কষ্টের বর্ণনা দিলে কি আটক হতে হবে?”

তিনি লেখেন, ‘‘সারা দেশ যখন স্বাধীনতা দিবস পালন করছে৷ কিন্তু কাশ্মীরিদের অবস্থা খাঁচায় বন্দি জন্তুর মতো। তাদের মানবাধিকারও লঙ্ঘিত হচ্ছে প্রতিনিয়তই৷ আমাদের কাউকে কারা সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না৷ বাড়ির বাইরেও বেরোতে পারছি না৷ আমাকে এভাবে আটকে রাখার মানে কী? আমি কি অপরাধী? নিরাপত্তারক্ষীদের থেকে জানতে পারলাম সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছিলাম বলেই আমার এমন পরিণতি৷ আমি নিজের প্রাণহানির ভয় পাচ্ছি৷ কাশ্মীরিদের জীবন নিয়েও ভয় লাগছে আমার৷’’

তার বক্তব্য, “নিরাপত্তাকর্মীরা আমাকে জানিয়েছেন বিভিন্ন পোর্টাল ও সংবাদপত্রে দেয়া আমার সাক্ষাৎকারই আমার গ্রেফতারির কারণ। আমাকে ভয় দেখানো হয়েছে যদি আমি ফের কথা বলি তাহলে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে।”

ইলতিজা জানিয়েছেন, তিনি নিজে কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন এবং সর্বদাই শৃঙ্খলাপরায়ণ নাগরিক হিসেবে জীবন কাটিয়েছেন। সেক্ষেত্রে তাকে বাইরে বেরোতে না দেয়া “অদ্ভুত” বলে মন্তব্য করেছেন মেহবুবাকন্যা।

কোন আইনে তাকে আটক করা হয়েছে তা জানতে চেয়ে ইলতিজার প্রশ্ন, তার কি আইনি সহায়তা নেয়া উচিত?

নিজের রাজ্য সম্পর্কেও চিঠিতে লিখেছেন ইলতিজা। তিনি বলেছেন “কাশ্মীর এখন অন্ধকার মেঘাচ্ছন্ন এবং এখানকার মানুষ ও যারা মুখ খুলেছেন তাদের নিয়ে আমার আশঙ্কা হচ্ছে।”

তিনি আরো লিখেছেন, “কাশ্মীরিদের পশুর মত আটকে রাখা হচ্ছে এবং তারা ন্যূনতম মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।”

বিস্তারিত খবর

মাত্র আট মিনিটের জন্য কারফিউ তুলে দেখুন না কী হয়, কাশ্মিরী তরুণদের হুশিয়ারি

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৬ ১১:৩৩:৩১

বিগত প্রায় সত্তর বছর ধরে যা চলে আসছিল, এক ঝটকায় ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের সেই বিশেষ মর্যাদা ছিনিয়ে নিয়ে দিল্লির নরেন্দ্র মোদী সরকার যে বিরাট এক ফাটকা খেলেছে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে এই পদক্ষেপের পরিণাম যে কী হতে চলেছে, তা এখনও অনেকটাই অনুমানসাপেক্ষ।

কাশ্মিরের বেশির ভাগ মানুষ এই সিদ্ধান্তে যে প্রবল ক্ষুব্ধ তা আর গোপন নেই, এবং এর ফলে উপত্যকায় সশস্ত্র বিক্ষোভ নতুন করে প্রসার পাবে কি না সে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।

আবদুল্লা বা মুফতি পরিবারের মতো কাশ্মিরের ‘ভারতপন্থী'’ রাজনীতিকদের কিংবা হুরিয়ত কনফারেন্সের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের প্রাসঙ্গিকতা কতটা বজায় থাকবে সেটাও বেশ অস্পষ্ট। তবে সবচেয়ে বড় কথা, লক্ষ লক্ষ ফৌজ মোতায়েন করে কাশ্মিরকে বাকি ভারতের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিশিয়ে দেয়ার যে উদ্যোগ দিল্লি নিয়েছে তা আদৌ সফল হবে কি না, মূলত সেটাই এখন দেখার বিষয়।

মোদী সরকারের নাটকীয় সিদ্ধান্ত কাশ্মিরে ঠিক কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে গত কয়েকদিনে শ্রীনগর, দিল্লি বা মুম্বাইতে কথা বলেছি অনেকের সাথেই।

প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রির মাধ্যমে ভারত সরকার কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ার ঠিক দুদিনের মাথায় যখন সেই অবরুদ্ধ ভূখন্ডে পা রাখলাম, কাশ্মিরের তরুণরা যেভাবে প্রায় ছেঁকে ধরে তাদের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন সে দৃশ্য ভোলার নয়।

তারা নিশ্চিত ছিলেন, কারফিউ একবার উঠলেই কাশ্মির গর্জে উঠবে এবং দিল্লির এই পদক্ষেপ আসলে মুসলিমদের শাস্তি দেয়ারই ছল।

বাডগামের বাসিন্দা আশরাফ-মুদাসসরারা বলছিলেন, ‘মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কাশ্মিরের প্রতিটা জেলায় মুসলিমদের হেনস্থা করা হচ্ছে।’

‘গর্ভবতী মহিলারা পর্যন্ত হাসপাতালে যেতে পারছেন না। তল্লাসি-চৌকি আর ফৌজি ব্যারিকেডে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে।’

স্থানীয় যুবক বিলাল আহমেদ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে দ্বিধা করলেন না, ‘অমিত শাহ-র কথামতো কাশ্মিরের আশি শতাংশ মানুষের যদি এই সিদ্ধান্তে সমর্থন থাকে, তাহলে মাত্র আট মিনিটের জন্য তিনি কারফিউ তুলেই দেখুন না কী হয়!’

কাশ্মিরী তরুণরা কোন্ পথে যেতে পারে?
কাশ্মিরের জনপ্রিয় লোকগীতি ‘মাই চানি রাওয়াম রাত দো’ যেমনটা বলে, প্রিয় জন্মভূমির জন্য এই মুলুকের যুবকরা জীবনের বহু দিন, বহু রাত উৎসর্গ করেছেন।

এখন ৩৭০ ধারা বিলোপের সবশেষ আঘাত কি তাদের আরও একবার অস্ত্র হাতে তুলে নিতে উৎসাহিত করবে?

কাশ্মিরের প্রবীণ শিক্ষাবিদ হামিদা নাঈম বানো তার হায়দারপোরার বাড়িতে বসে বলছিলেন, ‘গত দুতিন বছরে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী কাশ্মিরে হাজারের ওপর কিশোর-যুবককে খতম করেছে। আর এখন তারা কী নতুন বার্তা দিল?’

‘এটা তো বুঝতে হবে যে এই দুর্বিষহ জীবনে হতাশ হয়েই কাশ্মিরীরা বন্দুক হাতে তুলে নিচ্ছে।’

‘নইলে কেন শিক্ষিত, প্রতিভাবান তরুণরা এমনি এমনি নিজেদের জীবন শেষ করে দিতে যাবে?’, প্রশ্ন অধ্যাপক বানোর।

বছরতিনেক আগে বিদ্রোহী নেতা বুরহান ওয়ানির মৃত্যু যেভাবে কাশ্মিরী তরুণদের দলে দলে সশস্ত্র পথে আসতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, এখন রাতারাতি ৩৭০ ধারা মুছে দেয়ার সিদ্ধান্তও একই ধরণের ট্রিগারের কাজ করবে বলে অনেকেই মনে করছেন।

শ্রীনগরের রাজপুরায় গওহর বাট যেমন বলছিলেন, ‘তরুণদের যদি সরকার পাশে চায় তাহলে তাদের স্বপ্নটা কী, তা তো বুঝতে হবে!’

‘তা না-করে আপনি দুম করে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিলেন, এর লাভক্ষতি কী হবে সেটা তরুণদের বোঝানোর কোনও চেষ্টাই করলেন না। তা ওরা তো বিগড়ে যাবেই।’

তার বন্ধু মাজিদ পাশ থেকে যোগ করেন, ‘নিতান্ত বাধ্য হয়েই কিন্তু এই ছেলেপিলেরা পাথর ছোঁড়ে।’

‘বৃহস্পতিবার দেখলাম দুই শিক্ষিত যুবকের বাইক আটকে পুলিশ অযথা তাদের হেনস্থা করছে, মামলা দেয়ার ভয় দেখাচ্ছে।’

‘পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট একবার লাগলে তাদের চাকরি-বাকরির পথও বন্ধ, তো এই ছেলেগুলো কী করবে বলুন?’

কাশ্মিরী তরুণদের সশস্ত্র পথের দিকে ঝোঁকার আর একটা বড় কারণ হল বহু বছর ধরে সেখানে যারা রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন, তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।

ভারতপন্থী কাশ্মিরীদের অবস্থান
বাদামিবাগ এলাকার ব্যবসায়ী ইরফান জাভিদ যেমন বলছিলেন, ‘এই ফারুক আবদুল্লার পরিবারকেই দেখুন না! যাদের ভরসায় গত সত্তর বছর ধরে দিল্লি এখানে রাজত্ব করল, তাদেরকেও আজ প্রমাণ দিতে হচ্ছে তারা ভারতীয় কি না।’

‘আবদুল্লা পরিবারের এই হাল হলে সাধারণ কাশ্মিরীদের কী অবস্থা বুঝতেই পারছেন।’

মুম্বাই আইআইটি-র সাবেক অধ্যাপক ও লেখক-গবেষক রাম পুনিয়ানি আবার মেহবুবা মুফতির দৃষ্টান্ত দিয়ে বলছিলেন, ‘একবার উগ্রপন্থীদের দিকে ঝুঁকে, একবার বিজেপির সাথে গিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি নিজেই বিভ্রান্ত।’

‘কাশ্মির প্রশ্নে তিনি সংলাপ চেয়েছিলেন, কিন্তু নিশ্চিত করতে পারেননি সেটাও।’ অন্যদিকে মিরওয়াইজ ওমর ফারুক বা সৈয়দ আলি শাহ গিলানির মতো বিচ্ছিন্নতাবাদী হুরিয়ত নেতাদের টানা গৃহবন্দী রেখে সরকার তাদের অনেকটাই নিষ্ক্রিয় করে দিতে পেরেছে।

দিল্লির নিরাপত্তা থিঙ্কট্যাঙ্ক বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো শ্রীরাধা দত্ত মনে করছেন এই পটভূমিতে এখন ভারত সরকারের প্রচ্ছন্ন মদতে কাশ্মিরে নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে উঠিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। তার কথায়, ‘যেটা মনে হচ্ছে মেহবুবার দল পিডিপি-র সমর্থনে ভাঁটা পড়েছে।’

‘তবে ন্যাশনাল কনফারেন্স বহু পুরনো দল, তাদের এখনও জনভিত্তি রয়েছে। আর হুরিয়ত নেতারাও বেশির ভাগই নিশ্চিহ্ন।’

‘এখন আমার ধারণা কেন্দ্র যেটা করতে চাইবে, নবীন প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের তুলে এনে তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে কাশ্মীরে কেন্দ্র-রাজ্য সমঝাতার মডেলে একটা আঞ্চলিক শক্তিকে গড়ে তুলতে চাইবে।’

‘নতুন পলিটিক্যাল ডিসপেনসেশান কাশ্মিরে আমরা বহুদিন দেখিনি, তার একটা স্পেস বোধহয় ওখানে আছে’, বিবিসিকে বলছিলেন ড: দত্ত।

কাশ্মিরে নতুন রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠা কি প্রভাব ফেলতে পারে

কিন্তু কাশ্মিরে দিল্লির সমর্থনপুষ্ট কোনও নতুন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হলেই কি বাকি ভারতের সাথে কাশ্মিরের আত্মিক যোগাযোগ সম্ভব?

কাশ্মিরের নবীন রাজনীতিবিদ ও জেএনইউ-র সাবেক ছাত্র-নেত্রী শেহলা রশিদ কিন্তু মনে করেন, ‘এই তথাকথিত ইন্টিগ্রেশনের তত্ত্বটা একেবারে অবাস্তব।’

তার প্রশ্ন, ‘যেখানে অমরনাথ তীর্থযাত্রীদের ভ্যালি থেকে এয়ারলিফট করে কিংবা ভারতীয় পর্যটকদের বিদেশিদের ডিপোর্ট করার মতো করে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ করতে হয়, সেখানে কীভাবে ইন্টিগ্রেশন সম্ভব?’

‘আমি তো বলব মোদীজি স্রেফ লোকের চোখে ধুলো দিচ্ছেন!’

কাশ্মির গবেষক রাম পুনিয়ানও বলছিলেন, ‘একটা ভূখন্ডকে নিজের দেশে যুক্ত করার দুটো রাস্তা আছে। একটা হল সেই সমাজের গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে, ভরসার সেতু গড়ে এবং তাদের হৃদয় বা মন জিতে নিয়ে।’

‘আর দ্বিতীয় পথটা হল সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে, ঠিক যেটা এখন ভারত করছে।’

লক্ষ লক্ষ ফৌজ ও আধাসেনা পাঠিয়ে পুরো কাশ্মিরকে হয়তো কিছুদিন গ্যারিসন বানিয়ে রাখা সম্ভব, তবে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য একটা কার্যকরী রাজনৈতিক রোডম্যাপ অপরিহার্য।

তিনি বলছিলেন, ‘আমরা সব সময় কাশ্মীরকে ভূস্বর্গ বলি, এত সুন্দর জায়গা - অথচ সেখানে প্রবৃদ্ধি বা উন্নয়ন কিন্তু তেমন হয়নি কখনওই। শিক্ষা-শিল্পসহ নানা খাতে বাকি ভারতে যে ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে, কাশ্মীরে সেটা কোথায়?’

‘অথচ দিল্লি-চেন্নাই-ব্যাঙ্গালোরে তরুণরা যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে, সেই একই ধরনের অ্যাকসেস যদি আমরা কাশ্মীরকেও দিতে পারি তাহলে সেখানেও আমরা ইতিবাচক সাড়া পেতে পারি বলেই আমার বিশ্বাস।’

দিল্লির জেএনইউ-তে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সঞ্জয় ভরদ্বাজও বলছিলেন, ‘প্রায় দুদশক আগে প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী কাশ্মিরের মন জেতার জন্য বলেছিলেন জমহুরিয়ত, কাশ্মিরিয়ত আর ইনসানিয়তের কথা - যার অর্থ হল যথাক্রমে গুড গভর্ন্যান্স বা সুশাসন, কাশ্মীরি জাতিসত্ত্বা আর মানবিকতা।’

প্রফেসর ভরদ্বাজের বক্তব্য, ‘অন্য সব মডেল তো সত্তর বছর সময় পেল, এখন এটাকেও একটু সময় দিয়ে দেখাই যাক না - কাশ্মিরের মানুষ তা গ্রহণ করেন কি না!’

কাশ্মিরের বহুত্ববাদ রক্ষার প্রয়োজন

কাশ্মিরের একটা খুব পুরনো গান ‘হুক্কুস বুক্কুস’ এখন পুরো ভারত শুনছে। বলিউড ফিল্মে যেমন ব্যবহার হচ্ছে, তেমনি গাইছেন কাশ্মিরী পন্ডিত সমাজের সঙ্গীতিশিল্পী আভা হানজুরা, যিনি থাকেন ব্যাঙ্গালোরে।

মিলিট্যান্সি আর মিলিটারির হাতে বুলেটবিধ্বস্ত কাশ্মিরের যে অন্য একটা চেহারাও আছে, তার সাথে বাকি ভারতের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার নানা ধরনের চেষ্টা চলছে।

ইতিহাসবিদ মহুয়া সরকারের কথায়, ‘কাশ্মিরের মধ্যে চিরকালই কিন্তু একটা প্লুরালিজম ছিল, এবং সেটা এখনও আছে।’

‘কলহনের রাজতরঙ্গিণী যেখানে লেখা, তার ইতিহাস আবহমানকাল ধরে বহুত্ববাদকে সম্মান করে এসেছে। ভারতের কাছে এবং আন্তর্জাতিকভাবেও, সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

‘এখন আমার বিশ্বাস, যতটা সম্ভব আলোচনার মাধ্যমে ও ডেমোক্র্যাটিক পন্থায় সেটা রক্ষা করা যায় ততই ভাল!’

অর্থাৎ তিনিও কাশ্মিরের সেই বহুত্ববাদকে রক্ষা করার কথাই বলছেন - তবে যতটা সম্ভব গণতান্ত্রিক পথে।

সমস্যা হল, ৩৭০ ধারা বিলোপের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কাশ্মিরের ওপর আচমকাই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভারতে সেখানে কাশ্মিরের মতামত নেয়ার কোনও প্রয়োজন বোধ করেনি।

কাশ্মিরের গরিষ্ঠসংখ্যাক মানুষ প্রাণপণে তা রুখতে চাইছেন, ফলে সেই সংঘাতের পরিণতি উপত্যকায় শান্তি ও সমৃদ্ধি ডেকে আনবে তা এখন বিশ্বাস করা রীতিমতো অসম্ভবই মনে হচ্ছে!

বিস্তারিত খবর

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে প্রথমবারের মতো জাতীয় শোক দিবস পালন

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৬ ১১:১৬:১৬

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের আয়োজনে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে প্রথমবারের মতো যথাযোগ্য মর্যাদায় ও অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় জাতিসংঘে কনফারেন্স রুম-৪ (চার) এ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সদস্যদেশসমূহের স্থায়ী প্রতিনিধি, কূটনীতিক, জাতিসংঘের কর্মকর্তা, নিউইয়র্কস্থ যুক্তরাষ্ট্রের মূল ধারার মানবাধিকার কর্মী, লেখক, চলচিত্র শিল্পী, টিভি উপস্থাপক, ফটোগ্রাফার এবং প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজনেরা অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে সকাল ৯ টায় স্থায়ী মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মাধ্যমে জাতির পিতার ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালনের কর্মসূচি শুরু করা হয়।

এসময় ১৫ আগস্টের শহীদদের উদ্দেশ্যে মিশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি একমিনিট নিরবতা পালন করেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ এবং ১৫ আগস্টের শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

বিকেলে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আয়োজিত শোক দিবসের মূল অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

এসময় দেশী-বিদেশী অতিথিরা জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে একমিনিট নিরবতা পালন করেন। এরপর জাতির পিতার জীবন ও কর্ম এবং বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা তুলে ধরে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানটিতে ‘বঙ্গবন্ধু ও বহুপাক্ষিকতাবাদ’ বিষয়ে কী-নোট স্পীচ প্রদান করেন জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল করিম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে ভারত, সার্বিয়া ও কিউবার স্থায়ী প্রতিনিধি এবং প্যালেস্টাইনের স্থায়ী পর্যবেক্ষকরা বক্তব্য রাখেন। প্রবাসী বাঙালি সম্প্রদায়ের পক্ষে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। সাংস্কৃতিক পর্বে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা ও গান পরিবেশন করা হয়।

সবশেষে জাতির পিতা, বঙ্গমাতা এবং ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের সেই কালরাত্রিতে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির হাতে নৃশংসভাবে নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য এবং জাতীয় চার নেতাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

রাষ্ট্রদূত মাসুদ জনগণের ক্ষমতায়ন, মানবাধিকারের সুরক্ষা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি, গণতন্ত্র, শান্তি ও সহবস্থানের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া আদর্শ তুলে ধরেন।

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে প্রথমবারের মতো জাতির পিতার শাহাদাৎ বার্ষিকীর এই অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “আমরা আগামী বছর বিশ্বব্যাপী জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছি। সে উপলক্ষে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি ২০২১ সালে উদযাপন করা হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী”। এসকল অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান স্থায়ী প্রতিনিধি।

জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে তুলে ধরা, বহুপাক্ষিকতাবাদকে এগিয়ে নেওয়াসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্বনেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু যে সকল অবদান রাখেন তা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল করিম চৌধুরী বলেন, “বঙ্গবন্ধু প্রদর্শিত পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’ ধারণ করেই বাংলাদেশ বহুপাক্ষিকতাবাদের অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে বিশ্বসভায় ভূমিকা রেখে চলেছে”।

ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরউদ্দিন বাংলাদেশের সাথে ভারতের গভীর বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের উল্লেখ করে বলেন, “১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যখন ভারতবাসী তাদের অকৃত্রিম বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা জানতে পারে তখন ভারতের স্বাধীনতা দিবসের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয়”। বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শই আজ জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মকান্ডে প্রতিফলিত হচ্ছে মর্মে উল্লেখ করেন তিনি। ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি বাংলাদেশকে উন্নয়নের বিস্ময় হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “এটি সম্ভব হয়েছে কারণ বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন”।

সার্বিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি মিলান মিলানোভিচ্ দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভিকা দাচিচ এর বাণী পড়ে শোনান। এই বাণীতে সার্বিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সাথে সাবেক যুগোশ্লোভিয়ার রাষ্ট্রনায়ক জোসেফ ব্রোজো টিটোর যে বন্ধুত্ব ও গভীর সম্পর্ক তা তুলে ধরেন এবং বঙ্গবন্ধুর বিখ্যাত উক্তি “বাংলার মানুষের প্রতি ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি, আর আমার সবচেয়ে বড় দূর্বলতাও এটা যে আমি তাদেরকে অনেক বেশি ভালোবাসি” উল্লেখ করেন।

কিউবার রাষ্ট্রদূত আনা সিলভিয়া রদ্রিগেজ আবাসকাল তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে কিউবার দেওয়া অকুন্ঠ কূটনৈতিক সমর্থনের কথা তুলে ধরেন। নির্যাতিতের পক্ষে ও মানবাধিকারের প্রশ্নে বঙ্গবন্ধুর অনন্য সাধারণ নেতৃত্ব, প্রচেষ্টা ও সাহসের কথা বলতে গিয়ে তিনি ১৯৭৩ সালে কিউবার মহান নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর সেই বিখ্যাত উদ্বৃতি “আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি, তাই হিমালয় দেখার সাধ আর আমার নেই” উল্লেখ করেন।

প্যালেস্টাইনের স্থায়ী প্রতিনিধি রিয়াদ এইচ মনসুর ফিলিস্তিনী নেতা ইয়াসির আরাফাতের সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গভীর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, আজ ৪৪ বছর পর এই জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী পালন করা হচ্ছে যা এই বিশ্বনেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি অনন্য উদ্যোগ”।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান মুজিব শতবর্ষ উদযাপনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ সকলকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এদিকে ১৪ আগস্ট স্থানীয় এলম্হার্স্ট হাসপাতালে পচাঁত্তরের ১৫ আগস্ট স্মরণে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল মিজ্ সাদিয়া ফয়জুনেচ্ছা ও স্থায়ী মিশনের কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।

জাতিসংঘে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল মিজ্ সাদিয়া ফয়জুনেচ্ছা এবং স্থায়ী মিশন, কনস্যুলেট ও জাতিসংঘ সদরদপ্তরে কর্মরত বাংলাদেশের সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ।

অন্যান্যদের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যুক্তরাষ্ট্র এর কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মুকিত চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

বিস্তারিত খবর

দুটি সেদ্ধ ডিমের দাম ২০০০ টাকা

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১২ ১২:২৬:৩২




পরিবেশ ও স্থানভেদে পণ্যের দাম কিছু কমবেশি হতেই পারে। সেটারও একটা সীমা আছে। কিন্তু দুটি সেদ্ধ ডিমের দাম যদি হয় ২০০০ টাকা, তাহলে সেটাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন? হয়তো ভুল শুনেছেন বা দেখেছেন মনে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো সেটিই সত্যি। এবং ডিমও ভিনগ্রহের কোনো প্রাণীর নয়, এই জগতেরই হাঁস-মুরগি কিংবা কচ্ছপের। এমনই একটি মূল্য রসিদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে কদিন ধরে।

ঘটনা ভারতের মুম্বাই শহরের পাঁচ তারকা হোটেল ফোর সিক্স সিজনের। গত শনিবার সকালে সেখানে সকালের নাশতা খেয়েছেন কার্তিক ধর নামের এক লেখক। বিল দেখে তাজ্জব তিনি। তখনই বিলের কপির ছবি তোলে তা তিনি টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন।

তাতে দেখা যায়,দুটি সিদ্ধ ডিমের মূল্য এক হাজার ৭০০ রুপি যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০০০ টাকা! দুটি ওমলেটের দাম একই- ২০০০ টাকা।

এরপরই তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের এনডিটিভিসহ বেশ কিছু ভারতীয় গণমাধ্যম এ নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে।

কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ ওই মূল্য রসিদ কিংবা সেদ্ধ ডিমের মূল্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তাতে ধরে নেওয়া যায়, লেখক কার্তিক ধর কোনো ভুল তথ্য দেননি।

এর আগে গত ২২ জুলাই ভারতের চণ্ডীগড়ের পাঁচ তারকা হোটেল জে ডব্লিউ ম্যারিয়ট দুটি কলার দাম ৪৪২ রুপি রাখায় তাদের ২৫ হাজার রুপি জরিমানা করেছিল দেশটির আয়কর বিভাগ। সেবার কলাসহ ও মূল্য রসিদের ছবি টুইটারে পোস্ট করেছিলেন অভিনেতা রাহুল বোস।

বিস্তারিত খবর

কাশ্মীরে নৃশংসতা ভারতের বড় কলঙ্ক: অমর্ত্য সেন

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১২ ১২:২৩:১০


জম্মু-কাশ্মীরে নয়াদিল্লি নৃশংসতা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নোবেলজয়ী প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তিনি বলেছেন, কাশ্মীরিদের ওপর যা হচ্ছে তা ভারতের গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় কলঙ্ক। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

সপ্তাহখানেক আগে ভারতের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদে কাশ্মীরকে দেয়া বিশেষ মর্যাদা রদ করে নরেন্দ্র মোদি সরকার। এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় তুমুল বিক্ষোভের শঙ্কায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কার্যত গোটা কাশ্মীর অঞ্চলজুড়ে অবস্থান নিয়ে আছে। তাদের সতর্ক পাহারা আর মোড়ে মোড়ে কাঁটাতারের ঘেরাটোপে সোমবার ঈদের দিনও রাজধানী শ্রীনগরের রাস্তাগুলো নিষ্প্রাণ, জনশূন্য।

শনিবার ইন্ডিয়া টুডেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন বলেন, ‘কাশ্মীরের জনগণ তাকিয়ে আছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ।’

‘বিক্ষোভ দমন করতে ভয়ংকর ও সহিংস ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। এতে কাশ্মীরিরা আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।’

কাশ্মীরিদের সঙ্গে এগুলো করে যেভাবে শাস্তি দেয়া হচ্ছে তাতে তাদের ভারতকে আপন ভাবার কোনো কারণ নেই বলেও অভিমত হিন্দুত্ববাদভিত্তিক রাজনীতির কট্টর সমালোচক অমর্ত্য সেনের।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ অধ্যাপক আরও বলেন, ‘কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর নৃশংসতার ওপর সিএনএনের দীর্ঘ প্রতিবেদন দেখেছি। ভারতের বাকি অংশের সঙ্গে কাশ্মীরিদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।’

সপ্তাহখানেক ধরেই কাশ্মীরের সংবাদমাধ্যমের ওপর খড়গ বসিয়েছে নয়াদিল্লি। গোটা অঞ্চলটিতে ফোন, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও সেখানকার প্রকৃত চিত্র কী- তার সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে না। ভারতের বুদ্ধিজীবী মহলও এই ইস্যুতে প্রায় চুপ। তার মধ্যেই অমর্ত্য সেন এই সাক্ষাৎকার দিলেন।

বিস্তারিত খবর

মিয়ানমারে ভূমিধস, নিহত ৫২

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১২ ১২:০৯:২৭


মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলে এক ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫২। স্থানীয় কর্মকর্তারা এ খবর জানিয়েছেন। এখনো অনেক লোক নিখোঁজ রয়েছে।
উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো মন রাজ্যের পাঙ টাউনশিপের কাছে পার্বত্য এলাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার সকালে সেখানে বড় ধরনের ভূমিধস হয়।
পাঙ টাউনশিপের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইউ জাও মো আঙ বলেন, এখনো ১১ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ৫২টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
ভূমিধসে ২৫টি বাড়ি ও ৫টি গাড়ি চাপা পড়ে।

বিস্তারিত খবর

নরওয়ের মসজিদে বন্দুকধারীর হামলা

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১২ ১২:০১:৪১

নরওয়ের রাজধানী অসলোর একটি মসজিদে হামলা চালিয়েছে এক বন্দুকধারী। গতকাল শনিবার এই হামলায় একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

ব্রিটিশ দৈনিক ‘ডেইলি মিরর’ তাদের অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশ করা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অসলোতে যে মসজিদে হামলা হয়েছে সেটির নাম আল-নূর ইসলামিক সেন্টার। বন্দুকধারীর হামলায় যে ব্যক্তি আহত হয়েছেন তার অবস্থা কতটা আশঙ্কাজনক তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বন্দুকধারী ব্যক্তিটি একজন শেতাঙ্গ। তার মাথায় ছিল হেলমেট এবং শরীরের ছিল বিশেষ এক ধরনের পোশাক।

নরওয়ের স্থানীয় দৈনিক বুদসটিক্কাকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ওই শ্বেতাঙ্গ বন্দুকধারী হেলমেট এবং ইউনিফর্ম পরিহিত ছিলেন। তার হামলায় এক মুসল্লী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

রাজধানী অসলোর পুলিশ কর্তৃপক্ষ তাদের টুইটার পেজে এক বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছেন, সেখানে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে মসজিদে বন্দুক হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা।

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত