যুক্তরাষ্ট্রে আজ রবিবার, ০৫ Jul, ২০২০ ইং

|   ঢাকা - 10:14pm

|   লন্ডন - 05:14pm

|   নিউইয়র্ক - 12:14pm

  সর্বশেষ :

  করোনার মধ্যেও শত শত মানুষের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন   রক্ত দান ও ফ্লাইওভারে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নিক্সন লাইব্রেরি   সাউথ লস এঞ্জেলেসে এ্যাম্বুলেন্স চুরির ঘটনায় আটক ১   করোনায় মারা গেলেন লস এঞ্জেলেস পুলিশ কর্মকর্তা   ভিন্নরকম আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস   বর্ষসেরা চিকিৎসক হয়ে যুক্তরাজ্যের বিলবোর্ডে বাংলাদেশি ফারজানা   দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ২৯, শনাক্ত ৩২৮৮   অরেঞ্জ সিটির আন্তর্জাতিক স্ট্রিট ফেয়ার হচ্ছে না   ক্যালিফোর্নিয়া পালন করবে ব্যতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস   ক্যালিফোর্নিয়ার নাগরিকদের করোনা ভীতি কমছে   ভাবুন সকলেই করোনায় আক্রান্ত’, বললেন মেয়র   সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলো মায়ের গর্ভের আট মাসের শিশু   আগুনে পুড়লো সান বার্নারদিনো ন্যাশেনাল ফরেস্টের ১০০ একর   যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে বিশিষ্টজনদের ভাস্কর্য রক্ষায় ট্রাম্পের উদ্যোগ   স্বাধীনতা দিবসের জমায়েতে যুক্তরাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা

>>  ইসলামী জীবন এর সকল সংবাদ

এবার হজযাত্রা বাতিল করল মালয়েশিয়া

কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে এবার হজযাত্রা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া। বৃহস্পতিবার পুত্রাজায়াতে সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী জুলকিফল মোহাম্মদ আল বাকরি এ ঘোষণা দেন। খবর আনাদোলুর।

মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রা বাতিলের পাশাপাশি পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণের বিষয়টি আরও জোরদার করা হবে এবং শিগগিরই কোরবানিবিষয়ক নির্দেশনাও জারি করা হবে।

এর আগে কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে চলতি বছর হজে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইন্দোনেশীয় মুসলমানরা। সৌদি কর্তৃপক্ষ হজের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে ব্যর্থ

বিস্তারিত খবর

২০৩০ সালে মুসলিমদের রাখতে হবে ৩৬ রোজা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৫-০৬ ১৪:১৪:৫৯

আগামী ২০৩০ সালে মুসমানদের ৩৬ দিন রোজা রাখতে হবে। এমনটি জানিয়েছেন সৌদি আরবের আল-কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল-মুসনাদ।

এক টুইট বার্তায় তিনি বলেছেন এমন ঘটনা যা বারবার পুনরাবৃত্তি হয় না, মুসলমানরা ২০৩০ সালে ৩৬ দিন রোজা রাখবে।কারণ ২০৩০ সালের শুরুতে এবং শেষে অর্থাৎ দুইবার পবিত্র রমজান মাস আসবে। ১৪৫১ হিজরির রমজান শুরু হবে ২০৩০ সালের ৫ম জানুয়ারিতে এবং আশা করা হচ্ছে, এই পবিত্র মাসটি ৩০ দিনে পূর্ণ হবে।

এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আল-কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আল মুসনাদ বলেছেন, এর কারণ হচ্ছে চন্দ্র বছর সৌরবর্ষের তুলনায় ১১ দিন কম হয়। অর্থাৎ সৌরবর্ষ ৩৬৫ দিন এবং চন্দ্র বছর ৩৫৪ দিন।


এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আইএল

বিস্তারিত খবর

প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে মাইকে আজান

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-২৭ ০৭:৫৪:৪৩

প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে মাইকে আজান দেওয়ার অনুমতি পাওয়া গেছে। জানা যায়, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে রাজ্যের সেডার রিভারসাইড শহরের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য দার আল হিজরাহ মসজিদ মাইকে আজান দিবে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মুসলিমদের বাড়িতে রাখতেই এই ব্যবস্থা নিয়েছেন জ্যাকব ফ্রে। মসজিদের বাইরে রাখা চারটি স্পিকার দিয়ে আজান দেয়া হবে।

ফ্রে ভয়েস বলেন, ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সবাইকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাচল করতে হবে। মসজিদে যাতে বেশি মানুষের উপস্থিতি না হয় সেই লক্ষ্যে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন (সিএআইআর) আমার কাছে একটি আবেদন করে।

তাদের আবেদন ছিল ঘরে বসেই যেন তারা আজানের বাণী শুনতে পান। নগর কর্তৃপক্ষ তাদের এই অনুরোধ মেনে নিয়েছে। এর ফলে ওই এলাকার মুসলিমরা ঘরে বসেই নামাজ আদায় করতে পারবেন।

তিনি আরো বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে গোটা সমাজ লাভবান হবে। প্রতিদিনের আজান আমাদের এই বার্তা দিবে যে, এ শহর মুসলিমদের প্রতি অনেক যত্নশীল।

দার আল হিজরাহ মসজিদের ইমাম শেখ আব্দির রহমান শরীফ মেয়রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি মেয়রকে এ জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এর আগে মাইকে আজান দেয়া হয়নি। আমাদের মসজিদই এই ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছে।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আইএল

বিস্তারিত খবর

চাঁদ দেখা গেছে, বাংলাদেশে শনিবার রোজা শুরু

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-২৪ ১০:১৪:৩২

দেশের আকাশে ১৪৪১ হিজরির পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল শনিবার থেকে শুরু হবে রোজা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ শনিবার থেকে রোজা শুরুর ঘোষণা দেন।

চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ রাত থেকেই শুরু হচ্ছে রোজার আনুষ্ঠানিকতা। এশার সঙ্গে পড়তে হবে তারাবির নামাজ। ভোররাতে খেতে হবে সেহেরি।

তবে মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবার ভিন্ন চেহারায় পালিত হচ্ছে রোজা। সরকারের পক্ষ থেকে সবাইকে নিজ নিজ বাসায় তারাবির নামাজ আদায়ের অনুরোধ করা হয়েছে। মসজিদে তারাবি হলেও সেখানে দুই হাফেজসহ ১২ জনের বেশি মুসল্লি যোগ দিতে পারবে না বলে বিধিনিষেধ রয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

এবার ইফতারের পসরা সাজিয়ে বসবেন না দোকানিরা। সবধরনের ইফতার মাহফিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়েই এক ভিন্ন চেহারায় এবার রোজা এসেছে। আজ শুক্রবার থেকেই মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে রোজা শুরু হয়েছে। প্রায় সব দেশেই জনসাধারণের জন্য বন্ধ রয়েছে তারাবি ও জামাতে নামাজের সুযোগ। পবিত্র মক্কা ও মদিনায় তারাবির নামাজ হচ্ছে সীমিত আকারে।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আইএল

বিস্তারিত খবর

সৌদিআরবে রোজা শুরু শুক্রবার

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-২৩ ১৩:০২:২২

শুক্রবার থেকে পবিত্র মাহে রমজান শুরু হচ্ছে সৌদি আরবে। বৃহস্পতিবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এ ঘোষণা দিয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে এবার সৌদি আরবসহ মুসলিম বিশ্বে ভিন্নভাবে পালিত হতে যাচ্ছে রমজান মাস। ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় মসজিদগুলোতে তারাবিহর নামাজে সাধারণ মসুল্লিদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মক্কায় মসজিদুল হারাম ও মদিনায় মসজিদে নববিতে রমজানে তারাবিহ নামাজের রাকাত সংখ্যা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে দুটি মসজিদের প্রেসিডেন্সি। একই সঙ্গে সাধারণ মসুল্লিদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

প্রতি বছর মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববিতে রমজানের শেষ দশকে লক্ষাধিক মানুষ ইতিকাফে অংশ নেয়। এছাড়া থাকে ইফতারির ব্যবস্থা। এবার ইতিকাফ ও ইফতারি বাতিল করা হয়েছে।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আইএল

বিস্তারিত খবর

তারাবিহর রাকাত কমানো হলো মক্কা-মদিনায়

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-২১ ১০:১৯:৪৮

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে মক্কায় মসজিদুল হারাম ও মদিনায় মসজিদে নববিতে রমজানে তারাবিহ নামাজের রাকাত সংখ্যা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। সোমবার দুই পবিত্র মসজিদের জেনারেল প্রেসিডেন্সির টুইটার পেজে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

জেনারেল প্রেসিডেন্সির প্রধান শেইখ আব্দুর রহমান আল সুদাইস জানিয়েছেন, মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববিতে তারাবিহ’র নামাজ আদায় করা হবে। তবে এতে সাধারণ মসুল্লি থাকতে পারবেন না। কেবল প্রেসিডেন্সির সদস্য ও মসজিদের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নামাজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

এছাড়া দুই পবিত্র মসজিদেই এবার তারাবিহর নামাজ ২০ রাকাতের পরিবর্তে ১০ রাকাত আদায় করা হবে।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আইএল

বিস্তারিত খবর

রমজানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-১৯ ১১:৫৭:২৩

পবিত্র রমজান মাসকে ঘিরে করোনা মোকাবিলায় কিছু নির্দেশনা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির মতে- ধর্মীয় ও সামাজিক জমায়েত বাতিল করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে- জনসমাগমকে সীমাবদ্ধ, সংশোধন, স্থগিতকরণ, বাতিল করা বা এগিয়ে যাওয়ার যে কোনো সিদ্ধান্ত ঝুঁকি মূল্যায়ন করার পরিস্থিতির উপর বিবেচনা করে নেয়া উচিত। এ সিদ্ধান্তগুলো করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি কি হবে সে হিসেবে নেয়া উচিত। যদিও ধর্মীয় ও সামাজিক সমাবেশ বাতিল করা হয় সেক্ষেত্রে বিকল্প ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।

রমজানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ:

১. মসজিদে নামাজ আদায় করার সময় কমপক্ষে ১ মিটার বা ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

২. কোলাকুলি করা, গায়ের উপর হাত দিয়ে ডাকা, শরীরের উপর হাত রাখা- এসব অভ্যাস ত্যাগ করুন।

৩. রমজানে দোকানে বা বাজারে একসঙ্গে অনেক মানুষ জমায়েত বন্ধ করুন।

৪. অসুস্থ মানুষ এবং করোনার সামান্যতম লক্ষণ আছে তাদের বাসায় থাকতে বলুন। সেইসঙ্গে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন।

৫. প্রবীণ এবং অসুস্থদের সমাবেশে অংশ নিতে নিষেধ করুন।

রমজানে যে কোনো প্রকার সমাবেশের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ:

১. বাইরের যেকোনো সমাবেশ পরিত্যাগ করতে হবে এবং একান্ত প্রয়োজন হলে বাড়ির ভিতর খোলামেলা জায়গায় ব্যবস্থা করতে হবে।

২. সমাবেশের সময়সীমা যতটা সম্ভব কম করুন।

৩. বড় বড় সমাবেশে যোগ দেয়ার চেয়ে কম অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ছোট সমাবেশের আয়োজন করুন।

৪. দাঁড়িয়ে থাকার সময়, নামাজ পড়ার সময়, ওযু করার সময় এবং জুতা সংরক্ষণের স্থানেও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন।

৫. মসজিদে প্রবেশ এবং বের হওয়ার মুহূর্তে সব সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

৬. সমাবেশের মধ্যে যদি কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায় তবে তার ঠিকানায় যোগাযোগ করতে হবে।

৭. মসজিদের প্রবেশদ্বারে এবং ভিতরে হ্যান্ড ওয়াশ ও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। সেইসঙ্গে অ্যালকোহল সমৃদ্ধ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৮. পর্যাপ্ত পরিমাণে টিস্যু থাকতে হবে ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

৯. মসজিদে কার্পেটের উপরে ব্যবহারে জন্য ব্যক্তিগত জায়নামাজ ব্যবহারের বিষয়ে সবাইকে উৎসাহিত করতে হবে।

১০. জীবাণুনাশক এবং ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে নামাজের আগে পরে মসজিদ পরিষ্কার রাখতে হবে।

১১. মসজিদের প্রাঙ্গণ, ওযুখানা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সেইসঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

বিস্তারিত খবর

হাদিসের আলোকে শবেবরাত

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৯ ০২:৫১:৪৩

আজ পবিত্র শবেবরাত। হাদিসের ভাষায় এ রাতকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ তথা পনেরো শাবানের রাত বলা হয়। ‘শবেবরাত’ শব্দটি ফার্সি শব্দ। ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত, ‘বরাত’ অর্থ নাজাত বা মুক্তি। এই দুই শব্দ মিলে অর্থ হয় মুক্তির রজনী। এ রাতের ফজিলত সম্পর্কে কোরআন মাজিদে সরাসরি নির্দেশনা না থাকলেও হাদিস শরিফে নির্ভরযোগ্য সনদ বা বর্ণনাসূত্রে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। বিখ্যাত সাহাবি মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে তাঁর সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৫৬৬৫)

মুহাদ্দিসিনে কেরামের ভাষ্যমতে, হাদিসটির মান সহিহ তথা বিশুদ্ধ। এ জন্যই ইমাম ইবনে হিব্বান (রহ.) তাঁর প্রসিদ্ধ হাদিসের রচিত কিতাব ‘কিতাবুস সহিহ’-এ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।

তাই এই রাত আসার আগেই শিরক ও হিংসা থেকে মুক্ত থেকে মহান আল্লাহর রহমতের আশায় থাকা মুমিনের কর্তব্য।

বিভিন্ন হাদিস থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়, এই রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) রাত্রি জাগরণ করেছেন এবং দীর্ঘ আমলে মশগুল ছিলেন। তবে এই রাতে বিশেষ পদ্ধতির কোনো ইবাদত তিনি আদায় করেননি এবং  সাহাবায়ে কেরামদেরও তা করার নির্দেশ দেননি। সুতরাং আমাদের সমাজে প্রচলিত শবেবরাতের বিশেষ পদ্ধতির যে নামাজের কথা বলা হয় তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন-বানোয়াট। এগুলো বিশ্বাস করা এবং এগুলোর ওপর আমল করা কোনোভাবেই জায়েজ নেই। বরং ফজিলতপূর্ণ এই রাতের আমলের ব্যাপারে হাদিসের যেসব নির্দেশনা-ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তা সবই ব্যক্তিগত নফল ইবাদত। তাই আমাদের উচিত মনগড়া ইবাদত-আমল পরিহার করে যথাসম্ভব রাত্রি জাগরণের মাধ্যমে বেশি বেশি নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, তাওবা-ইস্তিগফার ও জিকির-আজকারে মশগুল থাকা।

নফল নামাজ পড়া

অধিক নফল নামাজ ও দীর্ঘ ইবাদত প্রসঙ্গে আম্মাজান আয়েশা (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে নামাজে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সিজদা করেন যে আমার ধারণা হলো তিনি হয়তো মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সিজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করলেন তখন আমাকে লক্ষ করে বললেন, হে আয়েশা, তোমার কি এই আশঙ্কা হয়েছে যে আল্লাহর রাসুল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার দীর্ঘ সিজদা থেকে আমার এই আশঙ্কা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না। নবীজি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জানো এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন ইরশাদ করলেন, ‘এটা হলো অর্ধ শাবানের রাত (শাবানের ১৪ তারিখের দিবাগত রাত)। আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে তাঁর বান্দার প্রতি মনোযোগ দেন এবং ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহপ্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।’ (শুআবুল ঈমান, হাদিস : ৩৫৫৪)

এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে নফল নামাজে দীর্ঘ কিরাত পড়া এবং লম্বা সিজদা করা এ রাতের বিশেষ একটি আমল।

তাওবা-ইস্তিগফার

এই রাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে বেশি বেশি তাওবা-ইস্তিগফার করা। কারণ বরকতময় এই রাতে আল্লাহ তাআলা প্রথম আকাশে নেমে বান্দাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন। তাদের গুনাহ মাফ করেন। এই মর্মে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন অর্ধ শাবানের রাত আগমন করে তখন আল্লাহ তাআলা প্রথম আকাশে অবস্থান করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া অন্যদের ক্ষমা করে দেন। (মুসনাদে বাযযার, হাদিস : ৮০)

তাই সংকটময় পরিস্থিতিতে এই রাতে আমাদের আল্লাহর দিকে মনোযোগী হওয়া, আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং করোনাভাইরাস থেকে হেফাজতের দোয়া করা উচিত। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের প্রতিপালক বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা অহংকারে আমার উপাসনায় বিমুখ, ওরা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা : গাফির, আয়াত : ৬০)

কোরআন তিলাওয়াত

নফল নামাজ, দোয়া ও ইস্তিগফারের পাশাপাশি এই রাতে আমরা কোরআন তিলাওয়াতের আমলটি গুরুত্বের সঙ্গে করতে পারি। সাহাবি আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, পৃথিবীতে আল্লাহ তাআলার কিছু পরিবারবর্গ আছে। উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন হে আল্লাহর রাসুল! তারা কারা? উত্তরে তিনি বললেন, যারা কোরআন বেশি বেশি তিলাওয়াত করে তারা হচ্ছে পৃথিবীতে আল্লাহ তাআলার পরিবারবর্গ। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২১৫)

পরের দিন রোজা রাখা

এ প্রসঙ্গে আলী (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ১৫ শাবানের রাত (১৪ তারিখ দিবাগত রাত) যখন আসে তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাও এবং দিনের বেলা রোজা রাখো। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৩৮৮)

এই বর্ণনাটির সনদ দুর্বল হলেও তা গ্রহণযোগ্য। হাদিস বিশারদগণের মতে, ফাজায়েলের ক্ষেত্রে জয়িফ হাদিস আমলযোগ্য। তা ছাড়া শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখার কথা সহিহ হাদিসে এসেছে এবং আইয়ামে বিজ অর্থাৎ প্রতি চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখার বিষয়টিও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

তাই আসুন! বিশুদ্ধ আমলের মাধ্যমে এ রাতের ফজিলত, বরকত ও মাগফিরাত অর্জনে সচেষ্ট হই। সকল প্রকার বিদআত বর্জন করি। ঘরে ইবাদত করি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের এ রাতের সব ধরনের কল্যাণ দান করুন। আমিন।

বিস্তারিত খবর

প্রথমবারের মতো নামাজ সম্প্রচার করবে বিবিসি রেডিও

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৮ ১৪:২০:৪৯

প্রথমবারের মতো রেডিওতে নামাজ সম্প্রচারের কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (বিবিসি) রেডিও । এখন থেকে যুক্তরাজ্যের মুসলিমরা প্রতি শুক্রবারের জুমার নামাজ বিবিসি( ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন) রেডিওতে শুনতে পারবেন। এমনটি জানিয়েছে আরব নিউজ।

আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের স্থানীয় ১৪ টি রেডিও স্টেশন থেকে বিভিন্ন ইমামরা খুতবার আগে কুরআনের আয়াত, হাদিস পাঠ করবেন। প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার ভোর ৫টা ৫০মিনিটে এই নামাজ সম্প্রচার করা হবে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাজ্যের লিডস, শেফিল্ড, ল্যাঙ্কাশায়ার, ম্যানচেস্টার, ওয়েস্ট মিডল্যান্ড, লিচেস্টার, স্টোক, ডার্বি, নটিংহাম, কভেন্টি, ওয়ারউইকশায়ার, মার্সেসাইড, বার্কশায়ার এবং লন্ডনের বৃহৎ মুসলমান সম্প্রদায়ের কথা মাথায় রেখে সেখানকার রেডিও স্টেশনগুলো থেকে এই নামাজ সম্প্রচারিত হবে বলে আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিবিসি লোকাল রেডিও'র প্রধান ক্রিস বার্নস বলেন, লোকাল রেডিও হচ্ছে সকল সম্প্রদায়কে সংযুক্ত করার জন্য। আমরা আশা করছি প্রতি সপ্তাহে এমন কর্মকাণ্ডের মধ্যে মুসলিমরা নিজেদের এই সম্প্রদায়ের অংশ মনে করবে।

বিবিসির পক্ষ থেকে আরো বলা হয়েছে, যতদিন না পর্যন্ত মুসলমানরা মসজিদে গিয়ে নামাজ শুরু করতে পারছেন ততদিন পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ থেকে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে যুক্তরাজ্যে সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনা বন্ধ রাখা হয়েছে।


এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আইএল

বিস্তারিত খবর

বিশ্বনবীর মিম্বর থেকে করোনা নিয়ে যা বললেন শাইখ সুদাইস

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৭ ১২:৩৩:১০

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে শুরু থেকেই মুসলমানদের প্রধান দুই মসজিদ মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীতে (সা.) মুসল্লিদের অংশগ্রহণ সীমিত করা হয়েছে।

গত রবিবার মক্কা ও মদিনা বিষয়ক অধিদফতরের প্রেসিডেন্ট এবং মসজিদুল হারামের খতিব শাইখ ড. আব্দুর রহমান সুদাইস মসজিদে নববীতে এশার নামাজের ইমামতি করেন।

নামাজের পর মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাহে ওয়া সাল্লামের মিম্বর থেকে করোনা বিষয়ে তিনি বিশ্বের পরিস্থিতিতে করনীয় সম্পর্কে খুতবা প্রদান করেন।

শাইখ সুদাইস বলেন, সারা বিশ্ব আজ ধেয়ে আসা একটি মহাবিপদে আপতিত হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য এক মহাপরীক্ষা।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, আর অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করবো কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল, জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। (সূরা বাকারা-১৫৫)

শাইখ সুদাইসি বলেন, ‘দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমাদের হারামাইনের এই পবিত্র ভূমিও আজ এ মুসিবতের অনুপ্রবেশ ও বিস্তার থেকে মুক্ত নয়। এই মুহূর্তে আমাদের সবাইকে আল্লাহর ফায়সালা ও সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকাই বাঞ্ছনীয়।’

আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, আমি প্রত্যেক বস্তুকে পরিমিতরূপে সৃষ্টি করেছি। (সূরা আল ক্বামার- ৪৯)

যে কোনো মুসিবত আল্লাহর নির্দেশে আপতিত হয়। যেগুলো তার মহিমান্বিত বাণীতে সুবিদিত হয়েছে,

আল্লাহ্ ইরশাদ করেন, পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না; কিন্তু তা জগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। (সূরা হাদীদ- ২২)

শুনে রেখ! তারই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক। (সূরা আরাফ- ৫৪)।

পবিত্র কোরআনের এসব আয়াত পড়ে শাইখ সুদাইসি বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সবার উচিত আল্লাহর প্রতি ঈমানকে দৃঢ় করা এবং তার ওপর ইতিবাচক ধারণা পোষণ করা। আল্লাহ আমাদের বরকতদাতা, তিনিই মহান। সঙ্গে এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করা উচিত যে, আল্লাহর দিকে একনিষ্ঠ রূপে ফিরে যাওয়া ব্যতীত আমাদের আর কোন গত্যন্তর নেই।

তিনি বলেন, ‘সমগ্র মুসলিম জাতির কর্তব্য হল এ ভাইরাস থেকে রেহাই পেতে সুরক্ষার যাবতীয় উপায় অবলম্বন করা এবং এটিকে প্রতিরোধে যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া। হারমাইনের পবিত্র এই দেশটিও শরীয়তের মূলনীতি বিবেচনায় নানা ব্যবস্থা অবলম্বন করেছে। মনে রাখতে হবে, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরক্ষাই উত্তম। সবমিলিয়ে নিজেদের সুস্থতার প্রতি সচেতন হতে হবে। কেননা আমরা আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে প্রত্যেকই যার যার স্থানে দায়িত্বশীল।

শাইখ সুদাইস আরো বলেন, ‘নিজেদের অধীনস্থদের বিষয়ে আমরা নিজেরা প্রশ্নের সম্মুখীন হবো। তাই প্রত্যেক ব্যক্তির নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করা উচিত। এটিই শরীয়তের দাবি। কোয়ারেন্টিনের এই উদ্ভাবন শরীয়তের আলোকেই সাব্যস্ত।’

আল্লাহ বলেন, আর তোমরা তোমাদের নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না। (সূরা বাকারা-১৯৫)।

অন্যত্র আল্লাহ বলেন, তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের প্রতি দয়ালু। (সূরা নিসা- ২৯)।

শাইখ সুদাইস বলেন, ‘আর আমরা কোনো ধরণের গুজব ও অপপ্রচারে কান না দিয়ে নিজেদের মাঝে আশাবাদের জাগরণ সৃষ্টি করব। ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই এই শঙ্কা কেটে যাবে। তাই আমাদের জন্য উচিত হলো অধিক পরিমাণে দোয়ায় মনযোগী হওয়া। কেননা এটি মুমীনের হাতিয়ার।’

আল্লাহ বলেন, তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তাতে সাড়া দেবো। (সূরা মুমিন-৬০)।

আল্লাহর ইরশাদ, আর আমি আপনার পূর্ববর্তী উম্মতদের প্রতিও পয়গাম্বর প্রেরণ করেছিলাম। অতঃপর আমি তাদেরকে অভাব-অনটন ও রোগ-ব্যাধি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম; যাতে তারা কাকুতি-মিনতি করে। এরপর তাদের কাছে যখন আমার আজাব আসলো, তখন কেন কাকুতি-মিনতি করলো না? (সূরা আনআ'ম- ৪২-৪৩)।

আর এটি সুবিদিত এবং পৃথিবীর চিরাচরিত নিয়ম যে, মুসিবতে আল্লাহমুখী হলে তা তিনি দূরীভূত করে দেন। আর আমরা এখন মহিমান্বিত রমজানের একেবারে দ্বারপ্রান্তে। তাওবা ও ইস্তেগফারের মধ্য দিয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া এবং আগত মাসকে বরণ করে নেওয়া এখন আমাদের প্রধান কাজ।

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশে মসজিদে জামাতে অংশ নেয়া নিষিদ্ধ

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৬ ০৬:৫২:৫৫

মসজিদে না গিয়ে মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সোমবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাখাওয়াৎ হোসেন সাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুধু মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমরা মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করবেন। কোনো মুসল্লি মসজিদে গিয়ে জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।

এতে বলা হয়, ভয়ানক করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদের ক্ষেত্রে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম ছাড়া অন্য সব মুসল্লিকে সরকারের পক্ষ থেকে নিজ নিজ বাসায় নামাজ আদায় করতে নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। জুমার জামাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজনে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ অনধিক পাঁচ জন এবং জুমার জামাতে অনধিক ১০ জন শরিক হতে পারবেন। বাইরের মুসল্লি মসজিদে জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।

অন্য ধর্মের অনুসারীদেরও উপাসনালয়ে জমায়েত না হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে প্রার্থনার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক আচার  অনুষ্ঠানেও সমবেত না হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সারাদেশে ওয়াজ মাহফিল, তাফসির মাহফিল, তাবলীগি তালীম বা মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা যাবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আইএল

বিস্তারিত খবর

বিনয় কল্যাণ বয়ে আনে

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৪ ০৪:৩৩:৪৯

বিনয় ও নম্রতা মহান আল্লাহ প্রদত্ত অসংখ্য নিয়ামতের মধ্যে অন্যতম। মানবীয় যতগুলো মহৎ গুণ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম মহৎ গুণ। এ গুণে গুণান্বিত ব্যক্তি ইহকালে সর্বসাধারণের মধ্যে হয় সম্মানিত, গ্রহণযোগ্য, স্মরণীয় ও বরণীয়। আর পরকালে হয় জাহান্নামের লেলিহান অগ্নিশিখা হতে মুক্ত ও আল্লাহর রহমতে ধন্য।

আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ: বলেছেন, ‘বিনয় ও নম্রতার মূল হলো, তুমি তোমার দুনিয়ার নিয়ামতের ক্ষেত্রে নিজেকে তোমার নিচের স্তরের লোকদের সাথে রাখ, যাতে তুমি তাকে বোঝাতে পার যে, তোমার দুনিয়া নিয়ে তুমি তার চেয়ে মর্যাদাবান নও। আর নিজেকে উঁচু করে দেখাবে তোমার চেয়ে দুনিয়াবি নিয়ামত নিয়ে উঁচু ব্যক্তির কাছে, যাতে তুমি তাকে বোঝাতে পার যে, দুনিয়া নিয়ে সে তোমার ওপর মর্যাদাবান নয়’।

সুফিয়ান ছাওরি রহ: তার শিষ্যদের বলেন, ‘তোমরা কি জান নম্রতা কী? তারা বলল, আপনি বলুন, হে আবু মুহাম্মাদ! তিনি বললেন, প্রত্যেক বিষয়কে যথাস্থানে রাখা। কঠোরতাকে স্বস্থানে, নম্রতাকে তার স্থানে, তরবারিকে যথাস্থানে, চাবুককে তার স্থানে রাখা’।

বিনয় ও নম্রতার ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশনা : কুরআনুল কারিমে বলা হয়েছে, ‘রহমানের বান্দা তো হচ্ছে তারা, যারা জমিনে নেহায়েত বিনম্রভাবে চলাফেরা করে এবং জাহেল লোকেরা যখন তাদের সম্বোধন করে, তখন তারা নেহায়েত প্রশান্তভাবে জবাব দেয়।’ [সূরা ফোরকান : ৬৩]

আল্লাহ তা’আলা বিনয় ও নম্রতার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘হে মুহাম্মদ! আপনি আপনার অনুসারী মোমিনদের প্রতি বিনয়ী হোন।’ [সূরা আশ-শুয়ারা : ২১৫]

মহান আল্লাহ তাঁর বিনয়ের পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর বিশেষ দয়ায় আপনি তাদের প্রতি বিনয়ী হয়েছেন। যদি আপনি বদমেজাজি ও কঠিন হৃদয়ের অধিকারী হতেন, তাহলে লোকেরা আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যেত।’ [সূরা আলে ইমরান : ১৫৯]

আল্লাহ তা’আলা মানুষকে একে অপরের সাথে নম্র ব্যবহার করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎ কাজকর্ম ও সীমালঙ্ঘনজনিত সব কাজ থেকে নিষেধ করেন, তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, যাতে করে তোমরা এ থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতে পারো।’ [সূরা নাহল : ৯০]

কুরআনে আরো বলা হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহ পাকের ইবাদত করো, কোনো কিছুকেই তাঁর সাথে অংশীদার বানিও না এবং মাতা-পিতার সাথে ভালো ব্যবহার করো, যারা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, এতিম, মিসকিন, আত্মীয় প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পথচারী, সঙ্গী ও তোমার অধিকারভুক্ত দাস-দাসী, অবশ্যই আল্লাহ পাক এমন মানুষকে কখনো পছন্দ করেন না, যে অহঙ্কারী ও দাম্ভিক।’ [সূরা নিসা : ৩৬]

নবীদের বিনয় ও নম্রতা :

পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য পাপাচারী ছিল ফেরাউন, যে নিজেকে সবচেয়ে বড় প্রভু বলে দাবি করেছিল। আল্লাহ তা’আলা মূসা আলাইহিস সালামকে সে পাপিষ্ঠ ফেরাউনের নিকট কোমল ভাষায় ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘তোমরা উভয়ে ফেরাউনের কাছে যাও, সে খুব উদ্ধত হয়ে গেছে। অতঃপর তোমরা তার সাথে নম্র ভাষায় কথা বলো, হয়ত বা সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভীত হবে।’ [সূরা ত্বা-হা : ৪৩-৪৪]

নূহ আলাইহিস সালাম তাঁর সম্প্রদায়কে অত্যন্ত নম্রতার সাথে দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছিলেন, যাতে করে তারা তা গ্রহণ করে। ফলে তিনি তাদের স্বজাতি বলে সম্বোধন করেছেন। এখানে ‘ক্বউম’ বলে তিনি তাদেরকে বুঝিয়েছেন যে, তিনি তাদের মধ্য হতে একজন। আর সম্প্রদায়ের লোকজন পরস্পর-পরস্পরের কল্যাণকামী হয়ে থাকে। এছাড়া তিনি তাদের বংশগত ভাই হিসেবে তাদের কাছ থেকে বংশীয় কোমলতা, মায়া-মমতার আকাক্সক্ষী ছিলেন, যাতে করে সম্প্রদায়ের লোকজন তাঁকে তাদের দূরবর্তী ও অমঙ্গলকামী হিসেবে আখ্যায়িত না করে। পবিত্র কুরআনে এসেছে, ‘স্মরণ করো সে সময়ের কথা যখন (নূহের সম্প্রদায়কে) তাদের ভাই নূহ আলাইহিস সালাম বলল, তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না?’ [ সূরা আশ শুয়ারা : ১০৬] এখানে ‘আখি’ বলে বংশীয় ভাই বুঝানো হয়েছে এবং এর দ্বারা পরস্পরের মঙ্গল কামনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। সম্প্রদায়ের সর্দার ও মোড়লগণ তাঁর দা’ওয়াতের জবাবে বলল : আমরা মনে করি যে, আপনি প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে রয়েছেন। এহেন পীড়াদায়ক ও মর্মন্তুদ কথার জবাবে নূহ আলাইহিস সালাম উত্তেজিত ও ক্রোধান্বিত হওয়ার পরিবর্তে সাদাসিধে ভাষায় তাদের সন্দেহ নিরসনে প্রবৃত্ত হলেন এবং নিজের পরিচয় তুলে ধরলেন, ‘হে আমার সম্প্রদায় আমার মধ্যে কোনো পথভ্রষ্টতা নেই। বরং আমি বিশ্ব পালনকর্তার পক্ষ থেকে পয়গম্বর। আমি যা কিছু বলি পালনকর্তার নির্দেশেই বলি এবং আল্লাহ তা’আলার পয়গামই তোমাদের কাছে পৌঁছাই।’ [সূরা আল আ’রাফ : ৬১-৬২]

অনুরূপভাবে তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত করলে তিনি বিনীত সুরে বলেন, ‘হে আমার কওম! একটু ভেবে দেখ। যদি আমি আমার রবের পক্ষ হতে স্পষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকি, আর তিনি যদি তাঁর পক্ষ হতে আমাকে রহমত দান করে থাকেন। তারপরেও যদি তা তোমাদের চোখে না পড়ে তাহলে, আমি কি ইহা তোমাদের ওপর তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপিয়ে দিতে পারি?’ [সূরা হুদ : ২৭-২৮] এমনিভাবে তিনি বিরুদ্ধবাদীদের যাবতীয় সন্দেহের নিরসন করেছেন।

বিনয় ও নম্রতার ব্যাপারে রাসূলের নির্দেশনা :  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে নম্রতা থেকে বঞ্চিত, সে তো কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত।’ [মুসলিম : ৬৭৬৩]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “দান করার ফলে সম্পদ কমে না। ক্ষমার মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা ব্যক্তির সম্মানই বৃদ্ধি করে থাকেন। আল্লাহর জন্য যদি কেউ বিনয় প্রকাশ করে তবে আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই তার মর্যাদা সুউচ্চ করেন।” [তিরমিজি : ২০২৯, মুসলিম : ২৫৯০]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহ তা’আলা আমার কাছে ওহি পাঠালেন যে, তোমরা পরস্পর নম্রতা অবলম্বন করো। যাতে কেউ যেন কারো ওপর গর্ব না করে এবং কেউ যেন কারো ওপর অত্যাচার না করে।’ [মুসলিম : ৭৩৮৯]

রাসূলের জীবনে বিনয় ও নম্রতা :  নবীজী যেমন আল্লাহর প্রেরিত নবী ছিলেন তেমনি ছিলেন শাসক। তবে নবীজী ছিলেন বিনয়ী শাসক। অন্যান্য শাসকের মতো তার ভয়ে সবাই কাঁপতে থাকুক- তিনি তা পছন্দ করতেন না। আবু মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, ‘এক লোক নবীজীর সাথে কথা বলতে এলো। তখন ভয়ে সে কাঁপছিল। নবীজী বললেন, শান্ত হও। আমি কোনো রাজা-বাদশা নই। আমি একজন সাধারণ নারীর সন্তান।’ [সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৩১২]

অনেক সময় কোনো কোনো বেদুঈন এসে নবীজীর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বসত। নবীজী সেগুলো হাসিমুখেই সহ্য করতেন। আনাস রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, ‘একদিন আমি নবীজীর সাথে হাঁটছিলাম। তাঁর গায়ে ছিল মোটা পাড়ের নাজরানী চাদর। হঠাৎ এক বেদুঈন এসে প্রচণ্ড জোরে চাদর টান দিলো। আমি দেখলাম, জোরে টান দেয়ার কারণে নবীজীর কাঁধে চাদরের পাড়ের দাগ বসে গেছে। এরপর বেদুঈন লোকটি বলল, তোমার কাছে আল্লাহর যে সম্পদ রয়েছে তা থেকে আমায় দিতে বলো। তিনি বেদুঈনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলেন এবং বাইতুল মাল থেকে তাকে কিছু দিয়ে দিতে বললেন।’ [সহিহ বুখারি : ৩১৪৯]

আনাস রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, ‘এক মহিলা মানসিকভাবে একটু বিকারগ্রস্ত ছিল। সে নবীজীকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছে আমার কিছু প্রয়োজন ছিল। নবীজী তখন বললেন, হে অমুকের মা! বলো, তোমার প্রয়োজন পূরণের জন্য কোথায় যেতে হবে? নবীজী তখন মহিলার প্রয়োজন পূরণ করে দেন।’ [সহিহ মুসলিম : ২৩২৬]

আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, ইহুদীরা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, ‘আসসামু আলাইকা’ ‘আপনার মৃত্যু হোক’। উত্তরে তিনি বললেন, ওয়ালাইকুম। তখন আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহু বললেন, তোমাদের মৃত্যু হোক, আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি অভিশম্পাত বর্ষণ করুন এবং তোমাদের ওপর রুষ্ট হোন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আয়েশা! থাম, নম্রতা অবলম্বন করো, কঠোরতা ও অশালীনতা পরিহার করো’। [বুখারি, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৪৩২]

সাহাবিদের জীবনে বিনয় ও নম্রতা : দুই বিখ্যাত সাহাবি আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু ও ওমর রাদিআল্লাহু আনহু কথা বলছিলেন। হঠাৎ আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহুর কথায় ওমর রাদিআল্লাহু আনহু মারাত্মক রেগে গেলেন। এমনকি ওই স্থান ছেড়ে চলে গেলেন। আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু খুবই লজ্জিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে ওমরের পেছনে পেছনে ছুটতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন, ‘ভাই ওমর, আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।’ ওমর রাদিআল্লাহু আনহু ফিরেও তাকাচ্ছেন না! এক পর্যায়ে তিনি বাড়ি চলে গেলেন, পেছনে পেছনে আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহুও তার ঘরের দরজায় পা রাখলেন। কিন্তু ওমর রাদিআল্লাহু আনহু আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু এর মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেন।

উদ্বিগ্ন আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু ছুটে গেলেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে। একটু পর ওমর রাদিআল্লাহু আনহুও সেখানে হাজির। আসলে দু’জনই অনুতপ্ত, লজ্জিত। ওমর রাদিআল্লাহু আনহু নিজের দোষ স্বীকার করে সব বর্ণনা দিলেন, কিভাবে আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহুর মুখের ওপর দরজা লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। সব শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওমর রাদিআল্লাহু আনহুর ওপর খুবই অসন্তুষ্ট হলেন। আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু আর সহ্য করতে পারলেন না। তিনি বলতে লাগলেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! ভুল আমারই হয়েছে, তার কোনো ভুল নেই।’ তিনি ওমর রাদিআল্লাহু আনহুকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলেন।’ [সহিহ বুখারি : ৪২৭৪]

সুবহানাল্লাহ। কী চরিত্র, কী বিনয়, কী আচরণ! সোনার মানুষ ছিলেন তাঁরা, সত্যিই সোনার মানুষ।

বিনয়ী ও নম্র ব্যক্তিদের সম্মান

কুরআনুল কারিমে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে এবং বিনীত হয়েছে তাদের রবের প্রতি, তারাই জান্নাতবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে।’ [সূরা হুদ : ২৩]

বিনয়ী ব্যক্তি হাশরের মাঠেও পাবেন বিশেষ মর্যাদা। হাদিসের ভাষায়, ‘সার্মথ্য থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে বিনয়ের পোশাকে যে নিজেকে আবৃত করবে, আল্লাহ তা‘আলা কেয়ামতের ময়দানে তাকে ডেকে সব সৃষ্টির সামনে নিয়ে আসবেন এবং তাকে তার পছন্দমতো একজোড়া ঈমানের পোশাকে সুসজ্জিত করে সাজাবেন।’ [তিরমিজি : ২৪৮১]

আয়েশা সিদ্দিকা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘হে আয়েশা, আল্লাহ তা‘আলা অতি নম্র ব্যবহারকারী। সুতরাং তিনি নম্রতা ভালোবাসেন। তিনি নম্রতার জন্য এমন কিছু দান করেন যা কঠোরতার জন্য দান করেন না; এমনকি অন্য কিছুর জন্যও তা দান করেন না।’ [মুসলিম : ৬৩৬৫]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো ইরশাদ করেছেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে জানাব না যে, কারা জাহান্নামের জন্য হারাম বা কার জন্য জাহান্নাম হারাম করা হয়েছে? জাহান্নাম হারাম আল্লাহর নৈকট্য লাভকারী প্রত্যেক বিনয়ী ও নম্র লোকের জন্য’। [তিরমিজি : ২৪৮৮]

বিনয় মানুষকে উচ্চাসনে সমাসীন ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করতে সহায়তা করে। বিনয়ীকে মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। যে যত বেশি বিনয়ী ও নম্র হয় সে তত বেশি উন্নতি লাভ করতে পারে। এ পৃথিবীতে যারা আজীবন স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় আসন লাভ করে আছেন তাদের প্রত্যেকেই বিনয়ী ও নম্র ছিলেন।

আমাদেরও হতে হবে বিনয়ী ও নম্র। নিজের কোনো সাফল্য দেখে কিংবা পার্থিব প্রাচুর্য লাভ করে গর্ব-অহঙ্কারে ফুলে ওঠা যাবে না। বরং মাটির মানুষকে সবসময় থাকতে হবে মাটির মতো বিনয়ী। নম্র ও বিনয়ী হলে কিন্তু আমাদেরই লাভ। মানুষ আমাদের ভালোবাসবে। বুকে টেনে নেবে। বিনয়ী ও নম্র মানুষকে সবাই ভালোবাসে। আল্লাহ তা’আলাও ভালোবাসেন।

বিস্তারিত খবর

২২২ বছর পর ফের হজ বাতিলের শঙ্কা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৩ ০৩:৪৮:২৫

করোনা ভাইরাসের কারণে সৌদি আরবের পবিত্র দুই নগরী মক্কা-মদিনায় চলছে কারফিউ, পুরো দেশ লকডাউন। এ পরিস্থিতিতে চলতি বছর মুসলমানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় জমায়েত পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে কি-না সেটা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে এর আগে ১৭৯৮ সালে একবার হজ স্থগিত করা হয়েছিল। ২২২ বছর আগের সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হওয়ার শঙ্কা দেখা যাচ্ছে এবার।

এদিকে সৌদি কর্মকর্তাদের বরাতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে এ বছর হজ বাতিল হতে পারে। ইসলামের ইতিহাসে অবশ্য হজ বাতিলের ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে আধুনিক ইতিহাসে এটা বিরল ঘটনা। সর্বশেষ প্রায় ২০০ বছর আগে ১৭৯৮ সালে হজ বাতিল করা হয়েছিল।

এছাড়া, করোনা ভাইরাসের কারণে হজ অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা জানতে মুসলিম সম্প্রদায়কে অপেক্ষা করতে বলেছে সৌদি আরব। দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী মোহাম্মদ বাতেন মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ কথা বলেছেন।

এদিকে, করোনা পরিস্থিতিতে এখনই হজের পরিকল্পনা না করতে মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। মুঠোফোনে সময় সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাবের সভাপতি শাহাদাত হোসাইন তসলিম।

তিনি জানান, হজ চলাকালীন সৌদি আরবে হাজীদের আবাসনের আগাম বুকিং, ক্যাটারিং সার্ভিস ও বিমান টিকিট কাটার কার্যক্রম স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির হজ ও ওমরাহমন্ত্রী ড. সালেহ বিন তাহের বিন তাজ।

মার্চের প্রথম দিকে করোনাভাইরাসের কারণে ওমরাহ স্থগিত করেছিল সৌদি। সেই স্থাগিতাদেশ এখনও বহাল আছে।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আইএল

বিস্তারিত খবর

আসুন, কোয়ারেন্টাইনকে ‘কোরআন টাইম’ বানিয়ে নেই: তুহিন মালিক

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২৮ ০৩:১৪:৫১

বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ যখন করোনা মহামারীতে আক্রান্ত। তখন আমরা যারা সুস্থ আছি। নিরাপদে আছি। এটা নিঃসন্দেহে আল্লাহতায়ালার অনেক বড় এক নিয়ামত। সবাই এখন হোম কোয়ারেনটাইনে। এই যে অখন্ড অবসর। এই যে সুস্থতা। এটাও আল্লাহর এক অপার নিয়ামত। অথচ, অনেককেই দেখছি হা হুতাশ করছে। তাদের নাকি সময় কাটে না। বোরিং লাগছে।

রাসূল (সাঃ) বলেছেন- দুটি নিয়ামতের বিষয়ে অনেক মানুষ ধোঁকার মধ্যে রয়েছে- ১. সুস্থতা ২. অবসর (সহীহ বুখারি- ৬৪২২)।
 
অনেকেই এ দুই নেয়ামত একসঙ্গে পায় না। একদিকে কারো একফোঁটা অবসর নেই। অন্যদিকে কেউ আবার সারাক্ষন অবসরে আছেন সত্য, তবে তিনি হয়ত ভীষন অসুস্থ। তাই, আমরা আজ এ দুটো নেয়ামতকে একসঙ্গে পেয়েও যেন এর সুযোগ থেকে নিজেদেরকে বঞ্চিত না করি।

এতদিন আমরা যারা ব্যাস্ততার কারনে পরিবারকে সময় দিতে পারিনি। বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরতে পারিনি। সন্তানকে আদর-ভালোবাসা বা সময় দিতে পারিনি। ভাই-বোন আত্মীয়স্বজনের খোঁজ খবর নিতে পারিনি। নিজে উচ্চ শিক্ষিত হয়েও সন্তানকে কোচিং এর পেছনে ছেড়ে দিয়েছি। ঘরের কাজে কখনও সহায়তা করিনি। বাবা-মা, ভাই-বোন, সন্তানরা একসাথে জামাতে নামাজ পড়ার সুযোগ হয়নি। এই সুস্থতা, এই অবসর, এই নেয়ামতকে আজকে সঠিকভাবে ব্যবহারের সময় চলে এসেছে।

আমরা যারা আল্লাহর কিতাব পবিত্র কোরআন শিক্ষা নেয়ার সময় পাইনি। এই কোয়ারেনটাইন আমাদের জন্য অভাবনীয় এক মহা সুযোগ। আসুন, কোয়ারেনটাইনকে ‘কোরআন টাইম’ বানিয়ে নেই।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আইএল

বিস্তারিত খবর

৯ এপ্রিল শবে বরাত

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২৫ ১১:১০:০৩

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও ১৪৪১ হিজরি সালের শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।  ফলে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং শুক্রবার (২৭ মার্চ) থেকে পহেলা শাবান মাসের গণনা শুরু হবে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাতে শবেবরাত পালিত হবে।

বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশন সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ড. আনিস মাহমুদ।

বৈঠক শেষে আনিস মাহমুদ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সব জেলায় আমরা খোঁজ খবর নিয়েছি, কিন্তু বাংলাদেশের আকাশে কোথাও শাবান মাসের চাঁদ দেখার খবর পাওয়া যায়নি।  ফলে শুক্রবার শাবান মাসের গণনা শুরু হবে। এ হিসেবে ৯ এপ্রিল দিবাগত রাতে শবেবরাত অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের জ্যেষ্ঠ ইমাম মুফতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ আলেমে দ্বীন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতই শবেবরাত। মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এ রাতটি ‘লাইলাতুল বরাত’ কিংবা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পরিচিত।

বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে রাত অতিবাহিত করবেন।  মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশ্বের মুসলমানরা বিশেষ মোনাজাত করবেন।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আইএল

বিস্তারিত খবর

সর্বপ্রথম কোয়ারেন্টাইন উদ্ভাবন করেন মোহাম্মদ (সা.): মার্কিন গবেষক

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২৪ ১৪:১১:০৮


করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে কোয়ারেন্টাইন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এটি যেকোনো উপায়ে মানতেই হবে।

কিন্তু এই কোয়ারেন্টাইনের কথা সর্বপ্রথম যিনি বলেছিলেন তিনি হলেন মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)। এমনটিই বলছেন মার্কিন এক গবেষক।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা ও সংবাদভিত্তিক ম্যাগাজিন নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। প্রতিবেদনটি লিখেন মার্কিন গবেষক ড. ক্রেইগ কন্সিডাইন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত রাইস ইউনিভার্সিটির একজন গবেষক। এছাড়া তিনি একজন আন্তর্জাতিক বক্তা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইমিউনোলজিস্ট ডা. অ্যান্থনি ফসি এবং মেডিকেল রিপোর্টার ডা. সঞ্জয় গুপ্তের মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন, সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সুন্দর ব্যবস্থাপনায় হোম কোয়ারেন্টাইন থাকতে। একই সঙ্গে সুস্থ লোকদের জনসমাগম এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, এসব উপায়ই করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) থেকে বেঁচে থাকার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

মার্কিন গবেষক ড. ক্রেইগ কন্সিডাইন তার রিপোর্টে লিখেন, আপনারা কি জানেন মহামারির সময়ে সর্বপ্রথম কে এই সবচেয়ে ভালো কোয়ারেন্টাইনের উদ্ভাবন করেছেন?

আজ থেকে প্রায় ১৩শ বছর আগে ইসলাম ধর্মের নবী হজরত মোহাম্মাদ (সা.) পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম কোয়ারেন্টাইনের ধারণা দেন। যদিও তার সময়ে সংক্রামণ রোগের মতো কোনো বিশেষজ্ঞ ছিলেন না। তারপরেও তিনি এসব রোগব্যাধিতে তার অনুসারীদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা ছিল কভিড-১৯ এর মতো প্রাণঘাতী রোগ মোকাবেলায় দুর্দান্ত পরামর্শ। তার সেই পরামর্শ মানলেই করোনার মতো যেকোনো মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

এর উদাহরণ হিসেবে মার্কিন গবেষক মোহাম্মাদ (সা.)-এর একটি বাণী উল্লেখ করেন। তিনি লিখেন- ‘মোহাম্মাদ বলেছেন, যখন তুমি কোনো ভূখণ্ডে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ার খবর শুনতে পাও তখন সেখানে প্রবেশ করো না। পক্ষান্তরে প্লেগ যদি তোমার অবস্থানস্থল পর্যন্ত পৌঁছে যায় তাহলে ওই জায়গা ত্যাগ কোরো না।’

তিনি আরও বলেছেন, যারা সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়েছে তাদের সুস্থ মানুষ থেকে দূরে থাকতে হবে।’

এভাবে বিভিন্ন সময়ে মানব জাতিকে সংক্রামণ থেকে রক্ষা করতে মোহাম্মাদ (সা.) রোগব্যাধিতে আক্রান্ত লোকদের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারেও উদ্বুদ্ধ করতেন।

এ ব্যাপারে তার অমূল্য বাণীগুলো হচ্ছে- ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।’

‘ঘুম থেকে ওঠার পরে হাত ধৌত করো। কেননা ঘুমের সময় তোমার হাত কোথায় স্পর্শ করেছে তা তুমি জান না।’

‘খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে।’ ইত্যাদি।

সবচেয়ে বড় কথা, মোহাম্মাদ (সা.) এটা বলেননি যে, শুধু তুমি প্রার্থনা করে বসে থাকবে। বরং তুমি প্রার্থনার পাশাপাশি চিকিৎসা নেবে। সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা পেতে মৌলিক নিয়মগুলি মেনে চলবে।

এর উদাহরণ হিসেবে মোহাম্মাদ (সা.)-এর সময়ের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন মার্কিন গবেষক। তিনি তিরমিজি শরিফের বরাত দিয়ে লিখেন, ‘একদিন, মোহাম্মাদ এক বেদুইনকে লক্ষ্য করলেন যে, সে তার উটটি না বেঁধে চলে যাচ্ছে। তখন তিনি বেদুইনকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি তোমার উটটি বেঁধে রাখছো না কেন?’

জবাব বেদুইন বললো, ‘আমি ইশ্বরের (আল্লাহ) উপর ভরসা রেখেছি।’ তখন নবী বললেন, ‘তোমার উটটি আগে বেঁধে রাখ, তারপর আল্লাহ উপর আস্থা রাখ।’

মোটকথা, মোহাম্মাদ (সা.) ধর্মীয় ক্ষেত্রে যেমন অবদান রেখে অমর হয়ে আছেন। ঠিক তেমনই মানুষের জীবনযাপন বিষয়ক মহামূল্যবান যে পরামর্শ তিনি দিয়ে গেছেন তা আজও অনুকরণীয়।

বিস্তারিত খবর

ইসলামী দৃষ্টিতে করোনা হতে মুক্তির আমল

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২২ ১৩:০৯:২০

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস বর্তমানে নানান দেশে মহামারী আকার ধারণ করেছে। শুরুটা চীন হতে; যা এখন ভয়ঙ্কর রুপে তাণ্ডব চালাচ্ছে ইতালিতে।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইরানে প্রতি দশ মিনিটে একজন করে মারা যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর বাহিরে নয়। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন আক্রান্ত-সহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। কিছুকিছু অঞ্চল করা হয়েছে লকডাউন।আতঙ্কিত সারা দেশ। দিশেহারা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। নানান বিজ্ঞ ব্যক্তিরা দিচ্ছেন প্রতিকারমূলক মতামত। বিভিন্ন সভা সেমিনারে চলছে সচেতেনতামূলক প্রচারণা। এত কিছুর পরেও থেমে নেই করোনার বিস্তার। এ পর্যন্ত ১৮৮টি দেশ ও অঞ্চলের মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এতে।আমেরিকাসহ পৃথিবীর পরাশক্তি রাষ্ট্রগুলোও করোনার ছোবলের বাইরে নয়। এতোকিছুর পরেও এখনো মানুষ বুঝতে পারতেছে না। আসলে এই করোনার ধ্বংসলীলার শক্তির উৎসটা কোথায়। সল্পসংখ্যক বাদে অধিকাংশই শুধু সায়েন্টিফিক সমাধানে ব্যস্ত। এই ক্ষেত্রে ইসলাম কি বলে। করোনা হলো আসমানি বালা-মুসিবত। এরকম গজব যা বান্দাদের জন্য শাস্তিস্বরুপ আসে। আবার কখনোবা বান্দাকে সঠিক পথে ফিরে আসার সুযোগ হিসেবেও আসে।যেসব রোগের শুরুতেই কোনো প্রতিষেধক নেই, সেসব রোগে মানুষ আক্রান্ত হবার ভয়ে, খাটি মুমিন বাদে অনেকেই এলামেলো বকতে শুরু করে। এতে বান্দা/বান্দিদের ঈমানী শক্তি লোপ পাবার সঙ্গে সঙ্গে, কখনো কখনো ঈমানহারা হয়ে যায়। ধৈর্য হারা হলেই শেষ। খাঁটি মুমিন কখনো আজাবে ধৈর্য হারা কিংবা আতঙ্কিত হয় না। বরং তারা আরো বেশি আল্লাহর পথে নিজেকে রুজু করে।বান্দাদের কৃতকর্মের কারণে যখন আজাব/গজব আসে, তখন পরহেজগার ব্যক্তিসহ শিশু-বৃদ্ধ কেউই রেহাই পায় না। বরং অন্যদের আহ্বান না জানিয়ে, নিজের আমল ভারী করা বজুর্গরা, অনেক সময় আগেভাগে গজবের শিকার হন। এই দেখে কম আমল বা গাফেল ব্যক্তিদের মনে বিশ্বাস সৃষ্টি হয়, এবাদত বন্দেগী করে লাভ কি। গজবের শিকার হয়ে অনেক সময় পরহেজগার হয়ে যান গাফেল, আর গাফেল হয়ে উঠেন পরহেজগার।করোনার মতো আজাব যখন বিধর্মী রাষ্ট্রে আগে শুরু হয়, তখন মুসলিম রাষ্ট্রের নাগরিকরা তাদের নানান অত্যাচারের ডালি মেলে ধরে। মূলত এরকম পরিস্থিতিতে ধর্ম না টেনে, মুসলিমদের কর্তব্য তাদেরকে সহায়তা করা। কারণ মৃত্যুর আগ মূহুর্ত পর্যন্ত বলা যাবে না, কার মৃত্যু কী ভাবে হবে। জগতেরে সব ধর্মের মানুষই এক আল্লাহর সৃষ্টি।কোনো অবস্থাতেই ভিন্নধর্মাবলম্বীর কাউকে নিজের চাইতে অধম ভাবা যাবে না। করোনাভাইরাসের মতো কঠিণ রোগবালাইর সময় চিকিৎসক, সরকার ও ধর্মীয় নিয়মাবলীগুলো অনুসরণ করা কর্তব্য। ধর্মীয় গোড়ামি হতে চিকিৎসকের পরামর্শ ও সরকারের আইন অমান্য করাটাও ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গর্হিত হিসেবে বিবেচ্য। মুমিন বান্দাদের এই সময়ে ধৈর্যের সঙ্গে আরো বেশি বেশি আমল বাড়িয়ে দিতে হবে। সেই সঙ্গে আমলের বরকত সম্পর্কে অন্যদের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে হবে।প্রত্যেক আসমানি রোগবালাইর সময়েই কতিপয় হক্কানী আলেম সমাজ হতে প্রতিকারের বিশেষ আমল আসে। যা তারা অবস্থার ওপরে বলে থাকেন। কখনওবা স্বপ্নযোগেও পেয়ে থাকেন। এবারের মহামারী করোনায় বিখ্যাত আলেম সুপরিচিত ইসলামী ব্যক্তিত্ব হজরত মুফতি তাকী ওসমানী (দাঃমাঃ) করোনা হতে রক্ষা পাবার জন্য আমল দিয়েছেন। যথাক্রমে ১/সূরা ফাতিহা তিনবার ২/ সূরা এখলাস তিনবার ও হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল ৩১৩ বার পাঠ করতে হবে।এই আমল প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে করোনা মহামারীর প্রেক্ষিতে স্বপ্নযোগে পাওয়া। মুমনিদেরকে সর্বাস্থায় খেয়াল রাখতে হবে, আমার আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট। সুতরাং হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। হতাশাগ্রস্থরা বিপথগামী। আসুন দেশের এই ক্রান্তীলগ্নে বাড়িতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার মজুদ না করে, স্বাস্থ্য কর্মীদের পরামর্শ পালনের পাশাপাশি বেশি বেশি এস্তেগফার পড়ায় অভ্যস্ত হই। সেই সঙ্গে ওলামায়ে দেওবন্দ ইসলামী সব মহলে গ্রহণযোগ্য আলেমে দ্বীন হজরত মুফতি তাকী ওসমানী (দাঃ) কর্তৃক জানিয়ে দেয়া করোনা হতে বাঁচার বিশেষ আমলে, নিজেরাসহ অন্যদেরকেও ব্রত করার চেষ্টা করি।

বিস্তারিত খবর

বঙ্গবন্ধু ছিলেন খাঁটি মুসলিম নেতা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-১৪ ০৩:১০:৫৫


ইংরেজদের নির্মম অত্যাচার-নির্যাতনে উপমহাদেশের মুসলমানরা যখন কোণঠাসা জীবনযাপন করছিল, তখন আল্লামা ইকবাল স্বপ্ন দেখালেন আলাদা ভূখণ্ড না হলে একদিন উপমহাদেশে ইসলাম এবং মুসলমানদের নাম গন্ধও থাকবে না। তখন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং একে ফজলুল হক উপমহাদেশের মুসলমানদের দুর্দিন কাটিয়ে ওঠার জন্য মাঠপর্যায়ে কাজ করছিলেন।

১৯৩৮ সালে গোপালগঞ্জে এক সভায় তারা দু’জন বক্তৃতা করেন। বক্তৃতায় মুসলমানদের মনে আলাদা ভূখণ্ডের স্বপ্নের বীজ বুনে দেন। ওই সভার স্বেচ্ছাসেবীদের নেতা ছিলেন স্কুলছাত্র মুজিব। অল্প সময়ের জন্য কথা হয় সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে। পরে সোহরাওয়ার্দী কলকাতা ফিরে গিয়ে মুজিবের নামে চিঠি পাঠায়। তখনও গোপালগঞ্জে মুসলিম ছাত্রলীগ কমিটি গঠন হয়নি। সোহরাওয়ার্দীর আদেশ পেয়েই মুসলিম ছাত্রলীগ কমিটি গঠন করে জজবা নিয়ে কাজ শুরু করে দেন মুজিব।

মুজিব নিজেই লেখেন, ‘তখন রাজনীতি শুরু করেছি ভীষণভাবে। সভা করি, বক্তৃতা করি। খেলার দিকে আর নজর নেই। শুধু মুসলিম লীগ আর ছাত্রলীগ। পাকিস্তান আনতেই হবে, নতুবা মুসলমানদের বাঁচার উপায় নেই।’

শুরু হয়ে গেল মুসলমানদের বাঁচানোর জেহাদ। বঙ্গবন্ধু লেখেন, ইংরেজদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে হাজার হাজার বাঙালি মুজাহিদ কীভাবে জিহাদে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সিপাহী বিদ্রোহ, ওহাবি আন্দোলন, শরিয়ত উল্লাহ ও তিতুমীরের জেহাদের ইতিহাস আমার জানা ছিল। ওইসব ঘটনা বলেই বাংলার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতাম। এখানে বলে রাখা দরকার, ভারতবর্ষে তখন হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছিল।

মুসলমানরা ইসলামের শত্রু মনে করে ইংরেজদের থেকে দূরে থাকার মতো মারাত্মক ভুল করে বসে। এ সুযোগে ইংরেজ সরকারের পা-চাটা গোলাম সেজে শিক্ষিত হিন্দুরা কারণে অকারণে মুসলমানদের পিঠের চামড়া তুলে নিত। বঙ্গবন্ধু বলেন, বিষয়টি আমার খুবই খারাপ লাগত। তখনও তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েননি।

স্কুলের হিন্দু সহপাঠীদের ছুঁতমার্গ আচরণ দেখে বেজায় কষ্ট পেতেন। এক মুসলিম ছাত্রকে মারার প্রতিবাদে হিন্দু সহাপাঠীদের মেরে জেলও খেটেছিলেন স্কুল জীবনেই। তবে ধর্মীয় গোঁড়ামি যাকে বলে তা বঙ্গবন্ধুর মাঝে কখনই ছিল না।

তিনি বলেন, ওই সময় হিন্দুরা যেমন মুসলমানদের দেখতে পারত না, মুসলমানরাও বক্তৃতা শুরুই করত হিন্দুদের গালিগালাজ করে। এসব আমার মোটেই ভালো লাগত না। হাশিম নামে এক মুরব্বি বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, ‘আমাদের লেখাপড়া করতে হবে। শুধু গালিগালাজ করে পাকিস্তান আসবে না।’

পাকিস্তান আনার স্বপ্নে বঙ্গবন্ধু এতই বিভোর ছিলেন যে অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু লেখেন, তখন আমি ইসলামিয়া কলেজের ল’র ছাত্র। ‘রাতে পড়তাম। দিনে পাকিস্তানের জন্য কাজ করতাম। পাকিস্তানই যদি না আনতে পারি তাহলে পড়ালেখা করে আর কী করব!’

বঙ্গবন্ধু তার বন্ধুদের বলতেন, ‘তোমরা পড়ালেখা করে মহাপণ্ডিত হয়ে যাও। আমাকে পাকিস্তান আনতে দাও।’ নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে পাকিস্তান এলো। ততদিনে বঙ্গবন্ধু তুখোড় নেতা হয়ে উঠলেন। বড় আফসোসের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু দেখলেন, পাকিস্তান এসেছে ঠিক, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগে অত্যাচার করত হিন্দু জমিদাররা। এখন অত্যচার করছে খোদ মুসলমান নেতারাই। সে সময়ই মহাকবি ইকবালের মতোই বঙ্গবন্ধুর মনে এমন ধারণা জন্মালো সে বাঙালির জন্য একটি আলাদ ভূখণ্ড না হলে একদিন দুনিয়ার বুকে বাঙালি আর তাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের নাম গন্ধও থাকবে না।

তিনি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখলেন। মাওলানা মহিউদ্দিন খান বড় সুন্দর করে বলেছেন, ‘গদি পেয়ে মুসলমান নেতারা মদিরার নেশায় এমনই ডুবে ছিলেন যে, পাকিস্তানের বড় বড় অংশ পর্যন্ত হাতছাড়া হয়ে গেল, এ নিয়ে কেউ টুঁ শব্দটিও করেনি।’

এবার পাকিস্তান সরকারই বঙ্গবন্ধু-মওলানা ভাসানীদের জেলে পুরে রাখলেন। বঙ্গবন্ধুর জীবনী পড়লে বিস্তারিত জানা যাবে। যে কথাটি আজ জোর দিয়ে বলা দরকার তা হল, বঙ্গবন্ধু ছিলেন নিরেট একজন খাঁটি মুসলিম নেতা। ছিলেন খোলাফায়ে রাশেদার ছায়াতুল্য। জীবনের প্রতটি মুহূর্ত আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা এবং বিশ্বাসের জোরে পাহাড় সমান বাধাকে জয় করেছেন।

তিনি যাদের সাহচর্যে ছিলেন, সহকর্মী হিসেবে যাদের পেয়েছেন, অনেকেই ছিলেন মাওলানা, সবাই ছিলেন কঠোর ধর্মভিরু, আউলিয়াভক্ত। ধর্মবিরোধীদের দু’চোখে দেখতে পারতেন না। অন্যায়ের সঙ্গে আপসহীন জীবনের সবক বোধহয় সবচেয়ে বেশি পেয়েছিলেন মর্দে মোমিন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী থেকে। বঙ্গবন্ধুর জীবনী পড়ে বারবার এ কথাই মনে হয়েছে।

ইতিহাস বুঝি এভাবেই বিগড়ে যায়। আগাগোড়া কট্টর ইসলাম মানা মানুষটিকে নিয়ে আজ কী সব কাণ্ডকারখানাই না হচ্ছে। টয়লেট পেপারেও বঙ্গবন্ধু, বদনাতেও বঙ্গবন্ধু, চাঁদাবাজের মুখেও বঙ্গবন্ধু। যেন বঙ্গবন্ধু জীবন-যৌবন পানি করে চোর-বাটপাড়দের জন্য সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর আমৃত্যু স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা সোনার মদিনার মতো সুখী হবে।

যোগ্য বাবার যোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মদিনার সনদে দেশ চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আজ যারা কথায় কথায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা বলে মুখে ফেনা তুলছেন, তাদের মনে রাখতে হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল ইসলাম, শান্তি, সম্প্রীতি। যারা জীবন থেকে, রাষ্ট্র থেকে ইসলাম মুছে ফেলতে চায়, তারা যেন বঙ্গবন্ধুর নামটিও মুখে না আনে। এতে বঙ্গবন্ধুর আত্মা কষ্ট পাবে।

বিস্তারিত খবর

মহামারী বা দূরারোগ্য ব্যধি থেকে পরিত্রাণের দোয়া

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-১২ ১১:৫৯:৪১


বিভিন্ন প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দূরারোগ্য ব্যধি কিংবা মহামারী থেকে একমাত্র আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়াটাই সর্বোত্তম পন্থা।

এমন পরিস্থিতিতে সব সময় এ দোয়াটি পড়ার অভ্যাস করা সমীচীন, যা রাসুল (সা) শিখিয়ে দিয়েছেন:

 
اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَ الْجُنُوْنِ وَ الْجُذَامِ وَمِنْ سَىِّءِ الْاَسْقَامِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি ওয়াল জুনুন
ওয়াল ঝুজাম ওয়া মিন সায়্যিল আসক্বাম।’
-সূনানে আবু দাউদ, সূনানে তিরমিজি

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনার কাছে আমি শ্বেত রোগ থেকে আশ্রয় চাই। মাতাল হয়ে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই। কুষ্ঠু রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে আশ্রয় চাই। আর দূরারোগ্য ব্যাধি (যেগুলোর নাম জানিনা) থেকে আপনার আশ্রয় চাই।’

 
তিরমিজিতে এসেছে, আরও একটি দোয়া পড়তে বলেছেন রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ وَ الْاَدْوَاءِ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি, ওয়াল আদওয়ায়ি।’

অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ (নষ্ট-বাজে) চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা এবং বাজে অসুস্থতা ও নতুন সৃষ্ট রোগ বালাই থেকে আশ্রয় চাই।’

বিস্তারিত খবর

ওমরাহ ও মসজিদে নববী জিয়ারত সাময়িক বন্ধ

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-০৪ ০৯:৪৯:০৬


প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় এবার নিজ দেশের নাগরিকদের ওমরাহ পালন ও মসজিদে নববী পরিদর্শন সাময়িক বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি সরকার।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর আল আরাবিয়া ও আরব নিউজের।

নির্দেশনায় বলা হয়, ওমরার কার্যক্রম অভ্যন্তরীণভাবেও সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হল। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মক্কা মোকাররমা ও মদিনার সব প্রবেশ পথে কড়া পাহারা বসানো হবে। তবে ওই নোটিশে মসজিদ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য কোনো নির্দেশনা জানা যায়নি।

গত সোমবার সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেশটিতে কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত করে।

আক্রান্ত ওই ব্যক্তি ইরান থেকে বাহরাইন হয়ে সৌদিতে প্রবেশ করেন। তবে তিনি সৌদি নাগরিক।

সৌদি কর্তৃপক্ষ এটা নিশ্চিত করেছে যে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ওই ব্যক্তি বাহরাইন হয়ে সৌদিতে প্রবেশের সময় ইরান যাওয়ার ব্যাপারে তথ্য গোপন করেছে।

তার মধ্যে করোনাভাইরাস পাওয়ার পর তাকে কোয়ারেন্টাইন করা সহ যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাস ঠেকাতে গত সপ্তাহে সৌদি আরব বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এর অংশ হিসেবে ওমরাহ ও টুরিস্ট ভিসা স্থগিত করে দেশটি।

সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘সৌদি আরবে করোনাভাইরাসের প্রবেশ এবং ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক এবং আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে যথাযথ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ওমরাহ ও ট্যুরিস্ট ভিসা সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে।’

এছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থানরত সৌদি নাগরিকদের দেশটির জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে আসা-যাওয়া স্থগিত করেছে সৌদি আরব। তবে আগে থেকে যাদের কাছে এই পরিচয়পত্র আছে তারা ইচ্ছে করলে দেশে ফিরতে পারবে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর নাগরিকরাও সৌদি ছাড়তে পারবে।

বিস্তারিত খবর

১০ হাজার বাংলাদেশির ওমরাহ অনিশ্চিত, ক্ষতি ৫০ কোটি টাকা

 প্রকাশিত: ২০২০-০২-২৮ ১১:৩৭:৫১

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ঠেকাতে ওমরাহ যাত্রী ও দেশটিতে ভ্রমণকারীদের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সৌদি সরকার। সৌদি সরকারের আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন দেশের প্রায় ১০ হাজার ওমরাহ যাত্রী। এতে ভিসা ফি, হোটেল ও বিমান ভাড়া বাবদ প্রায় ৫০ কোটি টাকা ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছেন এজেন্সি মালিকরা।

কোন আগাম ঘোষণা ছাড়াই বুধবার রাতে এক বিবৃতির মাধ্যমে হুট করেই এই সিদ্ধান্ত নেয় সৌদি সরকার। প্রতিবেশি অন্তত চারটি দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সৌদি আরবে করোনা ভাইরাসের প্রবেশ এবং ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক এবং আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে যথাযথ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ওমরাহ ও ট্যুরিস্ট ভিসা সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিলভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোতে বসবাসরত সৌদি নাগরিকরা এতদিন জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করেই নিজেদের দেশে যাওয়া-আসা করার সুযোগ পেতেন। তাদের সেই সুযোগও আপাতত স্থগিত থাকবে।’

বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো ওমরাহ যাত্রীদের


এদিকে সৌদি সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাংলাদেশের কোনো ওমরাহ যাত্রী সে দেশের উদ্দেশে যেতে পারেননি। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয় তাদের। এহরাম পরা অবস্থায় প্রায় এক হাজার ওমরাহ যাত্রী দিনভর ভোগান্তির পর বিমানবন্দর থেকে কান্না ভারাক্রান্ত হয়ে ভগ্ন মনে বাড়িতে ফেরেন। ঢাকার বিমানবন্দরে প্রায় ৫ শতাধিক ওমরাহ যাত্রী ছিলেন। যে উড়োজাহাজগুলো তাদেরকে সৌদি আরবে নিয়ে যেতে এসেছিলো সেগুলোও প্রায় খালি অবস্থায় ফিরে যায় সৌদি আরব। বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম থেকে মদিনায় ফ্লাইট থাকলেও সেই ফ্লাইটগুলোও ওমরাহ যাত্রীদের না নিয়েই চলে যায়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-ইমিগ্রেশন) বলেন, বিভিন্ন এয়ারলাইন্স থেকে আমাদের ওমরাহ ভিসাপ্রাপ্ত যাত্রীদের ইমিগ্রেশন না করানোর মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম জানান, করোনা ভাইরাসের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণে ভিসা হওয়ার পরও বাংলাদেশের প্রায় ১০ হাজার ওমরাহ যাত্রী আটকে গেলেন। ওমরাহ ভিসা সাধারণত ১৫ দিনের জন্য দেওয়া হয়। আপাতত মনে হচ্ছে, ভিসা তো নতুন করে ইস্যু হবেই না। আর যাদের ভিসা করা আছে, তারাও যেতে পারবে না। এটা যদি হয়, আমাদের কাছে একটা হিসাব আছে। এখন প্রায় ১০ হাজার ওমরাহ ভিসা করা আছে। সব মিলে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা ইনস্ট্যান্ট ব্যয় হয়েছে, যে টাকা আর ফেরত পাওয়া যাবে না। এটা এখন এজেন্সি ও ওমরাহ যাত্রীদের ক্ষতি হবে। তিনি আরও বলেন, ‘বিমানের টিকিট নিয়ে অফিসিয়ালি তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে, যাতে এই টাকাটা ফেরত দেওয়া হয়। কূটনৈতিক চ্যানেলেও আমরা চেষ্টা করব।’

বিস্তারিত খবর

করোনা আতঙ্কে ওমরাহ যাত্রীদের প্রবেশ স্থগিত করল সৌদি আরব

 প্রকাশিত: ২০২০-০২-২৭ ০১:৩৪:৪৮


করোনাভাইরাসের বিস্তারের আশঙ্কায় ওমরাহ যাত্রী ও মসজিদে নববি সফর করতে আগ্রহীদের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানা গেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরবে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় যারা ওমরাহ করতে চাচ্ছেন বা মদিনায় মসজিদে নববিতে যেতে চাচ্ছেন তাদের প্রবেশাধিকার অস্থায়ীভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

যেসব দেশে করোনাভাইরাস বিপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে, ওইসব দেশের পর্যটকদের জন্য ভিসা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় আইডি কার্ড ব্যবহার করে সৌদি আরব থেকে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) দেশগুলোতে যাতায়াতও স্থগিত করা হয়েছে।

প্রতি বছর ওমরাহ করতে সৌদি আরবে যান প্রায় ৭০ লাখ লোক। তাদের বেশির ভাগই অবতরণ করেন জেদ্দা ও মদিনায়।

চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম ধরা পড়ে করোনাভাইরাস। এখন পর্যন্ত এটি বিশ্বের অন্তত ৪৩টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যেই করোনার উপস্থিতি দেখা গেছে। বিভিন্ন দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৮০ হাজার ৯৬৭ জন এবং মারা গেছে দুই হাজার ৭৬৩ জন।

বিস্তারিত খবর

পবিত্র শবে মেরাজ ২২ মার্চ

 প্রকাশিত: ২০২০-০২-২৪ ১০:০৩:১৮

রজব মাসের চাঁদ আজ সোমবার দেখা যায়নি।বাংলাদেশে আগামী ২২ মার্চ দিবাগত রাতে শবে মেরাজ পালন করবেন মুসলমানরা। এরপরদিন ২৩ মার্চ থাকবে ঐচ্ছিক ছুটি।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, আজ (সোমবার) বাংলাদেশের আকাশে রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে বুধবার থেকে রজব মাস গণনা শুরু হবে। তাই ২৬ রজব বা ২২ মার্চ দিবাগত রাতে সারা দেশে সরে মেরাজ পালিত হবে।”

ইসলাম ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নবুওয়াত লাভের একাদশ বর্ষের রজব মাসের ২৬ তারিখ দিনগত রাতে আল্লাহর বিশেষ মেহমান হিসেবে আরশে আজিমে আরোহণ করেন। তিনি আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে দুনিয়ায় প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি অবলোকন করেন সৃষ্টিজগতের সমস্ত কিছুর অপার রহস্য। মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা ‘মিরাজ’। হযরত মুহাম্মদ ছাড়া অন্য কোনো নবী এই পরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি। এ মেরাজ রজনীতেই মানবজাতির শ্রেষ্ঠ ইবাদত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়। এজন্য মুসলিম ধর্মালম্বীদের কাছে মিরাজের তাৎপর্য অনেক গুরুত্ব বহন করে।

সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও এই রাতটি ইবাদতের মধ্য দিয়ে পালন করে থাকে। কুরআন তিলাওয়াত, নামাজ, জিকির, দোয়া-দরুদ, মিলাদ মাহফিলের মধ্য দিয়ে রাতটি কাটান মুসলমানরা।

বিস্তারিত খবর

মাতৃভাষায় ভাব প্রকাশ আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত

 প্রকাশিত: ২০২০-০২-২৩ ০৮:১৪:১৬


আমরা বাঙালি। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। আজ আমরা বুক ফুলিয়ে বলতে পারি যে, আমরাই একমাত্র জাতি, যারা মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজপথে রক্ত দিয়েছি। মাতৃভাষার জন্য রক্ত এবং জীবন দেয়ার ইতিহাস পৃথিবীতে সত্যিই বিরল!

ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে,বর্তমান বিশ্বে ভাষার সংখ্যা ২৭৯৬ টি। তার মধ্যে বাংলা অন্যতম। বিশ্বের সর্বাধিক প্রচলিত ভাষার মধ্যে বাংলার স্থান চতুর্থ। কারো কারো মতে সপ্তম। ১২০৩ সালে তুর্কিবীর ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির বাংলা বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অগ্রযাত্রা শুরু হয়।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, রোজ- বৃহস্পতিবার। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য অনেকেই শহীদ হয়েছিল। সেই ভাষা শহীদদের স্মৃতিকে অমর রাখতে প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদানের জন্য প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করে কানাডায় বসবাসরত দু’জন বাঙালি - আব্দুস সালাম ও রফিকুল ইসলাম। তারাই ১৯৯৮ সালে ৯ই জানুয়ারি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের কাছে একটি আবেদন পত্র পাঠান।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপিত হয়। অতঃপর ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কোর ৩১তম প্যারিস অধিবেশনে ২৮ টি দেশের সমর্থনে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয় ২০০০ সালে। আর জাতিসংঘ ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেয় ৫ ডিসেম্বর ২০০৮ সালে। বর্তমান বিশ্বের প্রায় ১৮৮ টি দেশে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে পালন করা হয়।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এর তাৎপর্য উপলব্ধি করে ভাষা বিজ্ঞানী ড. হুমায়ুন আজাদ বলেন, ‘আমি মুগ্ধ,আমি প্রীত,আমাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমার প্রাণের কথা আমার ভাষায় জানাতে পারব বলে! আমার হৃদয়ে স্পন্দন বেড়েছে। সত্যিই আমি গর্বিত। ’

সত্যিই আজ আমরা গর্বিত আমাদের মাতৃভাষার জন্য। মাতৃভাষা আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য-অগণিত নিয়ামতরাজির মধ্যে অন্যতম। মানুষ যে ভাষায় কথা বলে সেটাই তার মাতৃভাষা। পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর ভাব প্রকাশের জন্যে রয়েছে স্বতন্ত্র্য ভাষা। এ যেন সৃষ্টি জীবের প্রতি মহান আল্লাহ তায়ালার এক অসীম করুণা! মহান নেয়ামত!

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে- করুণাময় আল্লাহ! শিক্ষা দিয়েছেন আল কোরআন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে। আর তিনিই তাকে ভাব প্রকাশ করতে শিখিয়েছেন (সূরা আর- রাহমান :১-৪)।

মানুষের মুক্তি ও হেদায়াতের লক্ষ্যে আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে সব নবী-রাসূলকে স্বজাতির ভাষা ভাষী করে পাঠিয়েছেন। তারা তাদের জাতিকে মাতৃভাষার মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াত প্রদান করেছেন।

এ প্রসঙ্গে রাসূল (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালা কোনো নবী-রাসূলকে তার মাতৃভাষা ছাড়া পাঠাননি (মুসনাদে আহমদ হাদিস নং:২০৪৪)।

আল্লামা জালালুদ্দীন সূয়ুতী(র) তার ইতকান ফি উলুমিল কুরআন গ্রন্থে বলেন- আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক নবীকে যেমন তাদের স্বজাতির ভাষা ভাষী করে প্রেরণ করেছেন। তেমনি ভাবে সংশ্লিষ্ট জাতির মাতৃভাষায় কিতাব ও প্রদান করেছেন।

একুশের মহান চেতনা আমাদের জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটিয়েছে। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূলে রয়েছে একুশের চেতনা।

ভাষা আন্দোলনের সূত্র ধরেই মূলত স্বাধীনতার আন্দোলনের শুরু। একুশের চেতনার যে বীজ সেদিন বপন করা হয়েছিল, তার বিশাল মহীরুহ পরবর্তীতে স্বাধীনতার স্নিগ্ধ ছায়ায় বেড়ে উঠেছিল। যার ফলে আজ আমরা স্বাধীন।

বিস্তারিত খবর

কাউকে ক্ষমা করলে আল্লাহ সম্মান বাড়িয়ে দেন

 প্রকাশিত: ২০২০-০২-০৪ ০৪:৫৮:১৭


ভুল-ত্রুটি ও ভালো-মন্দের মিশেলে মানুষের জীবন। কেউ ভুল-ত্রুটির উর্ধে নয়। কিন্তু কারো ভুলে তার প্রতি ক্রোধ দেখানো, রাগ ঝাড়া, জেদ-উত্তেজনা কিংবা উগ্র-কাতর হওয়া ভীষণ নিন্দনীয়। এসব মানুষকে ছোট করে। আমলনামা থেকে সওয়াব মুছে দেয়। অথচ বিপরীতে ক্ষমা মানুষের মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করে। কাউকে ক্ষমা করে একজন সাধারণ মানুষও হয়ে উঠতে পারে অসাধারণ মানুষে।

করে পরস্পরের মধ্যে সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।আল্লাহ তাআলা মানুষকে আদেশ দিয়েছেন, যেন একে-অপরকে ক্ষমা করে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যদি তোমরা ভালো কিছু প্রকাশ করো কিংবা গোপন করো অথবা মন্দ ক্ষমা করে দাও, তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, ক্ষমতাবান।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১৪৯)

ক্ষমাকারীকে আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে পুরস্কার দেবেন। পরস্পরের মধ্যে বিরোধ নিষ্পন্নকারীও আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্কার পাবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর মন্দের প্রতিফল মন্দ। অতঃপর যে ক্ষমা করে দেয় এবং আপস নিষ্পত্তি করে, তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে।

নিশ্চয় আল্লাহ জালিমদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা শুরা, আয়াত: ৪০) ক্ষমা করলে কারও মর্যাদা কমে না। বরং বহু গুণে ক্ষমাশীল ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন করেছেন, সদকা করলে সম্পদের ঘাটতি হয় না। যে ব্যক্তি ক্ষমা করে, আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।

আর কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনীত হলে, তিনি তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। (মুসলিম, হাদিস: ২৫৮৮) উদারতা ও সহিষ্ণুতা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। কোমলতা ও হৃদয়ার্দ্রতা মুমিনদের বিশেষ একটি গুণ। আল্লাহর রাসুল (সা.) যখন সাহাবি মুয়াজ (রা.) ও মুসা (রা.) কে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন ও আদেশ দেন, ‘লোকদের প্রতি কোমলতা করবে, কঠোরতা করবে না, তাদের সুখবর দেবে, ঘৃণা সৃষ্টি করবে না। পরস্পর একমত হবে, মতভেদ করবে না।’ (বুখারি, হাদিস: ৩০৩৮)

পরিবারিক, সামাজিক ও জীবনের অন্যান্য পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ দেখা যাওয়া স্বাভাবিক। তবে এমন হলে, মুসলমান হিসেবে প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো অন্যকে ক্ষমা করে দেওয়া। পারস্পরিক ভুল-ত্রুটিগুলোকে শুধরে দেওয়া। এতে সম্পর্ক ও বন্ধন আরো মজবুত ও অটুট হয়। আল্লাহ সবাইকে ক্ষমাশীল হওয়ার তাওফিক দান করুক। আমিন।

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত