যুক্তরাষ্ট্রে আজ বুধবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২০ ইং

|   ঢাকা - 02:12pm

|   লন্ডন - 09:12am

|   নিউইয়র্ক - 04:12am

  সর্বশেষ :

  ১১ সপ্তাহ লকডাউনের পর উন্মুক্ত উহান   যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১৯৭০ জনের প্রাণহানি   ‘ওয়াইএমসিএ’র ছাঁটাইকৃত কর্মীদের চাকরির ঘোষণা দিলেন লস এঞ্জেলেস মেয়র   করোনা ঠেকাতে বাধ্যতামূলক মাস্ক পড়ার নিয়ম করল সান বার্নার্ডিনো কাউন্টি   করোনায় কমেছে লস এঞ্জেলেসের সকল প্রকার অপরাধঃ এলএ পুলিশ চীফ   কভিড-১৯; লস এঞ্জেলেসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৯; আক্রান্ত ৬ হাজার ৯১০   গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা লকডাউন   বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের নাতি ছাত্রলীগের সেক্রেটারি   পুলিশের মহাপরিদর্শক হচ্ছেন বেনজীর, র‌্যাব মহাপরিচালক মামুন   করোনাভাইরাস: বিশ্বব্যাপী সুস্থ হয়ে উঠেছে ৩ লাখ মানুষ   ফ্রান্সে করোনায় মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়ালো   নিউইয়র্কে মর্গে জায়গা নেই, ফ্রিজে লাশ রাখার সিদ্ধান্ত   সিঙ্গাপুরে একদিনে ৪৭ বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত   বিশ্বনবীর মিম্বর থেকে করোনা নিয়ে যা বললেন শাইখ সুদাইস   এখন থেকে লস এঞ্জেলেসের যে কোন বাসিন্দা করোনা টেস্ট করাতে পারবে

>>  ইসলামী জীবন এর সকল সংবাদ

বিশ্বনবীর মিম্বর থেকে করোনা নিয়ে যা বললেন শাইখ সুদাইস

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে শুরু থেকেই মুসলমানদের প্রধান দুই মসজিদ মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীতে (সা.) মুসল্লিদের অংশগ্রহণ সীমিত করা হয়েছে।

গত রবিবার মক্কা ও মদিনা বিষয়ক অধিদফতরের প্রেসিডেন্ট এবং মসজিদুল হারামের খতিব শাইখ ড. আব্দুর রহমান সুদাইস মসজিদে নববীতে এশার নামাজের ইমামতি করেন।

নামাজের পর মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাহে ওয়া সাল্লামের মিম্বর থেকে করোনা বিষয়ে তিনি বিশ্বের পরিস্থিতিতে করনীয় সম্পর্কে খুতবা প্রদান করেন।

শাইখ সুদাইস বলেন, সারা বিশ্ব আজ ধেয়ে আসা একটি মহাবিপদে আপতিত হয়েছে।

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশে মসজিদে জামাতে অংশ নেয়া নিষিদ্ধ

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৬ ০৬:৫২:৫৫

মসজিদে না গিয়ে মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সোমবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাখাওয়াৎ হোসেন সাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুধু মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমরা মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করবেন। কোনো মুসল্লি মসজিদে গিয়ে জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।

এতে বলা হয়, ভয়ানক করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদের ক্ষেত্রে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম ছাড়া অন্য সব মুসল্লিকে সরকারের পক্ষ থেকে নিজ নিজ বাসায় নামাজ আদায় করতে নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। জুমার জামাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজনে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ অনধিক পাঁচ জন এবং জুমার জামাতে অনধিক ১০ জন শরিক হতে পারবেন। বাইরের মুসল্লি মসজিদে জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।

অন্য ধর্মের অনুসারীদেরও উপাসনালয়ে জমায়েত না হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে প্রার্থনার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক আচার  অনুষ্ঠানেও সমবেত না হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সারাদেশে ওয়াজ মাহফিল, তাফসির মাহফিল, তাবলীগি তালীম বা মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা যাবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আইএল

বিস্তারিত খবর

বিনয় কল্যাণ বয়ে আনে

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৪ ০৪:৩৩:৪৯

বিনয় ও নম্রতা মহান আল্লাহ প্রদত্ত অসংখ্য নিয়ামতের মধ্যে অন্যতম। মানবীয় যতগুলো মহৎ গুণ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম মহৎ গুণ। এ গুণে গুণান্বিত ব্যক্তি ইহকালে সর্বসাধারণের মধ্যে হয় সম্মানিত, গ্রহণযোগ্য, স্মরণীয় ও বরণীয়। আর পরকালে হয় জাহান্নামের লেলিহান অগ্নিশিখা হতে মুক্ত ও আল্লাহর রহমতে ধন্য।

আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ: বলেছেন, ‘বিনয় ও নম্রতার মূল হলো, তুমি তোমার দুনিয়ার নিয়ামতের ক্ষেত্রে নিজেকে তোমার নিচের স্তরের লোকদের সাথে রাখ, যাতে তুমি তাকে বোঝাতে পার যে, তোমার দুনিয়া নিয়ে তুমি তার চেয়ে মর্যাদাবান নও। আর নিজেকে উঁচু করে দেখাবে তোমার চেয়ে দুনিয়াবি নিয়ামত নিয়ে উঁচু ব্যক্তির কাছে, যাতে তুমি তাকে বোঝাতে পার যে, দুনিয়া নিয়ে সে তোমার ওপর মর্যাদাবান নয়’।

সুফিয়ান ছাওরি রহ: তার শিষ্যদের বলেন, ‘তোমরা কি জান নম্রতা কী? তারা বলল, আপনি বলুন, হে আবু মুহাম্মাদ! তিনি বললেন, প্রত্যেক বিষয়কে যথাস্থানে রাখা। কঠোরতাকে স্বস্থানে, নম্রতাকে তার স্থানে, তরবারিকে যথাস্থানে, চাবুককে তার স্থানে রাখা’।

বিনয় ও নম্রতার ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশনা : কুরআনুল কারিমে বলা হয়েছে, ‘রহমানের বান্দা তো হচ্ছে তারা, যারা জমিনে নেহায়েত বিনম্রভাবে চলাফেরা করে এবং জাহেল লোকেরা যখন তাদের সম্বোধন করে, তখন তারা নেহায়েত প্রশান্তভাবে জবাব দেয়।’ [সূরা ফোরকান : ৬৩]

আল্লাহ তা’আলা বিনয় ও নম্রতার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘হে মুহাম্মদ! আপনি আপনার অনুসারী মোমিনদের প্রতি বিনয়ী হোন।’ [সূরা আশ-শুয়ারা : ২১৫]

মহান আল্লাহ তাঁর বিনয়ের পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর বিশেষ দয়ায় আপনি তাদের প্রতি বিনয়ী হয়েছেন। যদি আপনি বদমেজাজি ও কঠিন হৃদয়ের অধিকারী হতেন, তাহলে লোকেরা আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যেত।’ [সূরা আলে ইমরান : ১৫৯]

আল্লাহ তা’আলা মানুষকে একে অপরের সাথে নম্র ব্যবহার করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎ কাজকর্ম ও সীমালঙ্ঘনজনিত সব কাজ থেকে নিষেধ করেন, তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, যাতে করে তোমরা এ থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতে পারো।’ [সূরা নাহল : ৯০]

কুরআনে আরো বলা হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহ পাকের ইবাদত করো, কোনো কিছুকেই তাঁর সাথে অংশীদার বানিও না এবং মাতা-পিতার সাথে ভালো ব্যবহার করো, যারা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, এতিম, মিসকিন, আত্মীয় প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পথচারী, সঙ্গী ও তোমার অধিকারভুক্ত দাস-দাসী, অবশ্যই আল্লাহ পাক এমন মানুষকে কখনো পছন্দ করেন না, যে অহঙ্কারী ও দাম্ভিক।’ [সূরা নিসা : ৩৬]

নবীদের বিনয় ও নম্রতা :

পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য পাপাচারী ছিল ফেরাউন, যে নিজেকে সবচেয়ে বড় প্রভু বলে দাবি করেছিল। আল্লাহ তা’আলা মূসা আলাইহিস সালামকে সে পাপিষ্ঠ ফেরাউনের নিকট কোমল ভাষায় ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘তোমরা উভয়ে ফেরাউনের কাছে যাও, সে খুব উদ্ধত হয়ে গেছে। অতঃপর তোমরা তার সাথে নম্র ভাষায় কথা বলো, হয়ত বা সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভীত হবে।’ [সূরা ত্বা-হা : ৪৩-৪৪]

নূহ আলাইহিস সালাম তাঁর সম্প্রদায়কে অত্যন্ত নম্রতার সাথে দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছিলেন, যাতে করে তারা তা গ্রহণ করে। ফলে তিনি তাদের স্বজাতি বলে সম্বোধন করেছেন। এখানে ‘ক্বউম’ বলে তিনি তাদেরকে বুঝিয়েছেন যে, তিনি তাদের মধ্য হতে একজন। আর সম্প্রদায়ের লোকজন পরস্পর-পরস্পরের কল্যাণকামী হয়ে থাকে। এছাড়া তিনি তাদের বংশগত ভাই হিসেবে তাদের কাছ থেকে বংশীয় কোমলতা, মায়া-মমতার আকাক্সক্ষী ছিলেন, যাতে করে সম্প্রদায়ের লোকজন তাঁকে তাদের দূরবর্তী ও অমঙ্গলকামী হিসেবে আখ্যায়িত না করে। পবিত্র কুরআনে এসেছে, ‘স্মরণ করো সে সময়ের কথা যখন (নূহের সম্প্রদায়কে) তাদের ভাই নূহ আলাইহিস সালাম বলল, তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না?’ [ সূরা আশ শুয়ারা : ১০৬] এখানে ‘আখি’ বলে বংশীয় ভাই বুঝানো হয়েছে এবং এর দ্বারা পরস্পরের মঙ্গল কামনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। সম্প্রদায়ের সর্দার ও মোড়লগণ তাঁর দা’ওয়াতের জবাবে বলল : আমরা মনে করি যে, আপনি প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে রয়েছেন। এহেন পীড়াদায়ক ও মর্মন্তুদ কথার জবাবে নূহ আলাইহিস সালাম উত্তেজিত ও ক্রোধান্বিত হওয়ার পরিবর্তে সাদাসিধে ভাষায় তাদের সন্দেহ নিরসনে প্রবৃত্ত হলেন এবং নিজের পরিচয় তুলে ধরলেন, ‘হে আমার সম্প্রদায় আমার মধ্যে কোনো পথভ্রষ্টতা নেই। বরং আমি বিশ্ব পালনকর্তার পক্ষ থেকে পয়গম্বর। আমি যা কিছু বলি পালনকর্তার নির্দেশেই বলি এবং আল্লাহ তা’আলার পয়গামই তোমাদের কাছে পৌঁছাই।’ [সূরা আল আ’রাফ : ৬১-৬২]

অনুরূপভাবে তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত করলে তিনি বিনীত সুরে বলেন, ‘হে আমার কওম! একটু ভেবে দেখ। যদি আমি আমার রবের পক্ষ হতে স্পষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকি, আর তিনি যদি তাঁর পক্ষ হতে আমাকে রহমত দান করে থাকেন। তারপরেও যদি তা তোমাদের চোখে না পড়ে তাহলে, আমি কি ইহা তোমাদের ওপর তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপিয়ে দিতে পারি?’ [সূরা হুদ : ২৭-২৮] এমনিভাবে তিনি বিরুদ্ধবাদীদের যাবতীয় সন্দেহের নিরসন করেছেন।

বিনয় ও নম্রতার ব্যাপারে রাসূলের নির্দেশনা :  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে নম্রতা থেকে বঞ্চিত, সে তো কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত।’ [মুসলিম : ৬৭৬৩]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “দান করার ফলে সম্পদ কমে না। ক্ষমার মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা ব্যক্তির সম্মানই বৃদ্ধি করে থাকেন। আল্লাহর জন্য যদি কেউ বিনয় প্রকাশ করে তবে আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই তার মর্যাদা সুউচ্চ করেন।” [তিরমিজি : ২০২৯, মুসলিম : ২৫৯০]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহ তা’আলা আমার কাছে ওহি পাঠালেন যে, তোমরা পরস্পর নম্রতা অবলম্বন করো। যাতে কেউ যেন কারো ওপর গর্ব না করে এবং কেউ যেন কারো ওপর অত্যাচার না করে।’ [মুসলিম : ৭৩৮৯]

রাসূলের জীবনে বিনয় ও নম্রতা :  নবীজী যেমন আল্লাহর প্রেরিত নবী ছিলেন তেমনি ছিলেন শাসক। তবে নবীজী ছিলেন বিনয়ী শাসক। অন্যান্য শাসকের মতো তার ভয়ে সবাই কাঁপতে থাকুক- তিনি তা পছন্দ করতেন না। আবু মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, ‘এক লোক নবীজীর সাথে কথা বলতে এলো। তখন ভয়ে সে কাঁপছিল। নবীজী বললেন, শান্ত হও। আমি কোনো রাজা-বাদশা নই। আমি একজন সাধারণ নারীর সন্তান।’ [সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৩১২]

অনেক সময় কোনো কোনো বেদুঈন এসে নবীজীর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বসত। নবীজী সেগুলো হাসিমুখেই সহ্য করতেন। আনাস রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, ‘একদিন আমি নবীজীর সাথে হাঁটছিলাম। তাঁর গায়ে ছিল মোটা পাড়ের নাজরানী চাদর। হঠাৎ এক বেদুঈন এসে প্রচণ্ড জোরে চাদর টান দিলো। আমি দেখলাম, জোরে টান দেয়ার কারণে নবীজীর কাঁধে চাদরের পাড়ের দাগ বসে গেছে। এরপর বেদুঈন লোকটি বলল, তোমার কাছে আল্লাহর যে সম্পদ রয়েছে তা থেকে আমায় দিতে বলো। তিনি বেদুঈনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলেন এবং বাইতুল মাল থেকে তাকে কিছু দিয়ে দিতে বললেন।’ [সহিহ বুখারি : ৩১৪৯]

আনাস রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, ‘এক মহিলা মানসিকভাবে একটু বিকারগ্রস্ত ছিল। সে নবীজীকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছে আমার কিছু প্রয়োজন ছিল। নবীজী তখন বললেন, হে অমুকের মা! বলো, তোমার প্রয়োজন পূরণের জন্য কোথায় যেতে হবে? নবীজী তখন মহিলার প্রয়োজন পূরণ করে দেন।’ [সহিহ মুসলিম : ২৩২৬]

আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, ইহুদীরা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, ‘আসসামু আলাইকা’ ‘আপনার মৃত্যু হোক’। উত্তরে তিনি বললেন, ওয়ালাইকুম। তখন আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহু বললেন, তোমাদের মৃত্যু হোক, আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি অভিশম্পাত বর্ষণ করুন এবং তোমাদের ওপর রুষ্ট হোন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আয়েশা! থাম, নম্রতা অবলম্বন করো, কঠোরতা ও অশালীনতা পরিহার করো’। [বুখারি, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৪৩২]

সাহাবিদের জীবনে বিনয় ও নম্রতা : দুই বিখ্যাত সাহাবি আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু ও ওমর রাদিআল্লাহু আনহু কথা বলছিলেন। হঠাৎ আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহুর কথায় ওমর রাদিআল্লাহু আনহু মারাত্মক রেগে গেলেন। এমনকি ওই স্থান ছেড়ে চলে গেলেন। আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু খুবই লজ্জিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে ওমরের পেছনে পেছনে ছুটতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন, ‘ভাই ওমর, আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।’ ওমর রাদিআল্লাহু আনহু ফিরেও তাকাচ্ছেন না! এক পর্যায়ে তিনি বাড়ি চলে গেলেন, পেছনে পেছনে আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহুও তার ঘরের দরজায় পা রাখলেন। কিন্তু ওমর রাদিআল্লাহু আনহু আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু এর মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেন।

উদ্বিগ্ন আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু ছুটে গেলেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে। একটু পর ওমর রাদিআল্লাহু আনহুও সেখানে হাজির। আসলে দু’জনই অনুতপ্ত, লজ্জিত। ওমর রাদিআল্লাহু আনহু নিজের দোষ স্বীকার করে সব বর্ণনা দিলেন, কিভাবে আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহুর মুখের ওপর দরজা লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। সব শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওমর রাদিআল্লাহু আনহুর ওপর খুবই অসন্তুষ্ট হলেন। আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু আর সহ্য করতে পারলেন না। তিনি বলতে লাগলেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! ভুল আমারই হয়েছে, তার কোনো ভুল নেই।’ তিনি ওমর রাদিআল্লাহু আনহুকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলেন।’ [সহিহ বুখারি : ৪২৭৪]

সুবহানাল্লাহ। কী চরিত্র, কী বিনয়, কী আচরণ! সোনার মানুষ ছিলেন তাঁরা, সত্যিই সোনার মানুষ।

বিনয়ী ও নম্র ব্যক্তিদের সম্মান

কুরআনুল কারিমে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে এবং বিনীত হয়েছে তাদের রবের প্রতি, তারাই জান্নাতবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে।’ [সূরা হুদ : ২৩]

বিনয়ী ব্যক্তি হাশরের মাঠেও পাবেন বিশেষ মর্যাদা। হাদিসের ভাষায়, ‘সার্মথ্য থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে বিনয়ের পোশাকে যে নিজেকে আবৃত করবে, আল্লাহ তা‘আলা কেয়ামতের ময়দানে তাকে ডেকে সব সৃষ্টির সামনে নিয়ে আসবেন এবং তাকে তার পছন্দমতো একজোড়া ঈমানের পোশাকে সুসজ্জিত করে সাজাবেন।’ [তিরমিজি : ২৪৮১]

আয়েশা সিদ্দিকা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘হে আয়েশা, আল্লাহ তা‘আলা অতি নম্র ব্যবহারকারী। সুতরাং তিনি নম্রতা ভালোবাসেন। তিনি নম্রতার জন্য এমন কিছু দান করেন যা কঠোরতার জন্য দান করেন না; এমনকি অন্য কিছুর জন্যও তা দান করেন না।’ [মুসলিম : ৬৩৬৫]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো ইরশাদ করেছেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে জানাব না যে, কারা জাহান্নামের জন্য হারাম বা কার জন্য জাহান্নাম হারাম করা হয়েছে? জাহান্নাম হারাম আল্লাহর নৈকট্য লাভকারী প্রত্যেক বিনয়ী ও নম্র লোকের জন্য’। [তিরমিজি : ২৪৮৮]

বিনয় মানুষকে উচ্চাসনে সমাসীন ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করতে সহায়তা করে। বিনয়ীকে মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। যে যত বেশি বিনয়ী ও নম্র হয় সে তত বেশি উন্নতি লাভ করতে পারে। এ পৃথিবীতে যারা আজীবন স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় আসন লাভ করে আছেন তাদের প্রত্যেকেই বিনয়ী ও নম্র ছিলেন।

আমাদেরও হতে হবে বিনয়ী ও নম্র। নিজের কোনো সাফল্য দেখে কিংবা পার্থিব প্রাচুর্য লাভ করে গর্ব-অহঙ্কারে ফুলে ওঠা যাবে না। বরং মাটির মানুষকে সবসময় থাকতে হবে মাটির মতো বিনয়ী। নম্র ও বিনয়ী হলে কিন্তু আমাদেরই লাভ। মানুষ আমাদের ভালোবাসবে। বুকে টেনে নেবে। বিনয়ী ও নম্র মানুষকে সবাই ভালোবাসে। আল্লাহ তা’আলাও ভালোবাসেন।

বিস্তারিত খবর

২২২ বছর পর ফের হজ বাতিলের শঙ্কা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-০৩ ০৩:৪৮:২৫

করোনা ভাইরাসের কারণে সৌদি আরবের পবিত্র দুই নগরী মক্কা-মদিনায় চলছে কারফিউ, পুরো দেশ লকডাউন। এ পরিস্থিতিতে চলতি বছর মুসলমানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় জমায়েত পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে কি-না সেটা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে এর আগে ১৭৯৮ সালে একবার হজ স্থগিত করা হয়েছিল। ২২২ বছর আগের সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হওয়ার শঙ্কা দেখা যাচ্ছে এবার।

এদিকে সৌদি কর্মকর্তাদের বরাতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে এ বছর হজ বাতিল হতে পারে। ইসলামের ইতিহাসে অবশ্য হজ বাতিলের ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে আধুনিক ইতিহাসে এটা বিরল ঘটনা। সর্বশেষ প্রায় ২০০ বছর আগে ১৭৯৮ সালে হজ বাতিল করা হয়েছিল।

এছাড়া, করোনা ভাইরাসের কারণে হজ অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা জানতে মুসলিম সম্প্রদায়কে অপেক্ষা করতে বলেছে সৌদি আরব। দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী মোহাম্মদ বাতেন মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ কথা বলেছেন।

এদিকে, করোনা পরিস্থিতিতে এখনই হজের পরিকল্পনা না করতে মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। মুঠোফোনে সময় সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাবের সভাপতি শাহাদাত হোসাইন তসলিম।

তিনি জানান, হজ চলাকালীন সৌদি আরবে হাজীদের আবাসনের আগাম বুকিং, ক্যাটারিং সার্ভিস ও বিমান টিকিট কাটার কার্যক্রম স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির হজ ও ওমরাহমন্ত্রী ড. সালেহ বিন তাহের বিন তাজ।

মার্চের প্রথম দিকে করোনাভাইরাসের কারণে ওমরাহ স্থগিত করেছিল সৌদি। সেই স্থাগিতাদেশ এখনও বহাল আছে।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আইএল

বিস্তারিত খবর

আসুন, কোয়ারেন্টাইনকে ‘কোরআন টাইম’ বানিয়ে নেই: তুহিন মালিক

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২৮ ০৩:১৪:৫১

বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ যখন করোনা মহামারীতে আক্রান্ত। তখন আমরা যারা সুস্থ আছি। নিরাপদে আছি। এটা নিঃসন্দেহে আল্লাহতায়ালার অনেক বড় এক নিয়ামত। সবাই এখন হোম কোয়ারেনটাইনে। এই যে অখন্ড অবসর। এই যে সুস্থতা। এটাও আল্লাহর এক অপার নিয়ামত। অথচ, অনেককেই দেখছি হা হুতাশ করছে। তাদের নাকি সময় কাটে না। বোরিং লাগছে।

রাসূল (সাঃ) বলেছেন- দুটি নিয়ামতের বিষয়ে অনেক মানুষ ধোঁকার মধ্যে রয়েছে- ১. সুস্থতা ২. অবসর (সহীহ বুখারি- ৬৪২২)।
 
অনেকেই এ দুই নেয়ামত একসঙ্গে পায় না। একদিকে কারো একফোঁটা অবসর নেই। অন্যদিকে কেউ আবার সারাক্ষন অবসরে আছেন সত্য, তবে তিনি হয়ত ভীষন অসুস্থ। তাই, আমরা আজ এ দুটো নেয়ামতকে একসঙ্গে পেয়েও যেন এর সুযোগ থেকে নিজেদেরকে বঞ্চিত না করি।

এতদিন আমরা যারা ব্যাস্ততার কারনে পরিবারকে সময় দিতে পারিনি। বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরতে পারিনি। সন্তানকে আদর-ভালোবাসা বা সময় দিতে পারিনি। ভাই-বোন আত্মীয়স্বজনের খোঁজ খবর নিতে পারিনি। নিজে উচ্চ শিক্ষিত হয়েও সন্তানকে কোচিং এর পেছনে ছেড়ে দিয়েছি। ঘরের কাজে কখনও সহায়তা করিনি। বাবা-মা, ভাই-বোন, সন্তানরা একসাথে জামাতে নামাজ পড়ার সুযোগ হয়নি। এই সুস্থতা, এই অবসর, এই নেয়ামতকে আজকে সঠিকভাবে ব্যবহারের সময় চলে এসেছে।

আমরা যারা আল্লাহর কিতাব পবিত্র কোরআন শিক্ষা নেয়ার সময় পাইনি। এই কোয়ারেনটাইন আমাদের জন্য অভাবনীয় এক মহা সুযোগ। আসুন, কোয়ারেনটাইনকে ‘কোরআন টাইম’ বানিয়ে নেই।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আইএল

বিস্তারিত খবর

৯ এপ্রিল শবে বরাত

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২৫ ১১:১০:০৩

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও ১৪৪১ হিজরি সালের শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।  ফলে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং শুক্রবার (২৭ মার্চ) থেকে পহেলা শাবান মাসের গণনা শুরু হবে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাতে শবেবরাত পালিত হবে।

বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশন সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ড. আনিস মাহমুদ।

বৈঠক শেষে আনিস মাহমুদ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সব জেলায় আমরা খোঁজ খবর নিয়েছি, কিন্তু বাংলাদেশের আকাশে কোথাও শাবান মাসের চাঁদ দেখার খবর পাওয়া যায়নি।  ফলে শুক্রবার শাবান মাসের গণনা শুরু হবে। এ হিসেবে ৯ এপ্রিল দিবাগত রাতে শবেবরাত অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের জ্যেষ্ঠ ইমাম মুফতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ আলেমে দ্বীন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতই শবেবরাত। মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এ রাতটি ‘লাইলাতুল বরাত’ কিংবা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পরিচিত।

বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে রাত অতিবাহিত করবেন।  মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশ্বের মুসলমানরা বিশেষ মোনাজাত করবেন।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/আইএল

বিস্তারিত খবর

সর্বপ্রথম কোয়ারেন্টাইন উদ্ভাবন করেন মোহাম্মদ (সা.): মার্কিন গবেষক

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২৪ ১৪:১১:০৮


করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে কোয়ারেন্টাইন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এটি যেকোনো উপায়ে মানতেই হবে।

কিন্তু এই কোয়ারেন্টাইনের কথা সর্বপ্রথম যিনি বলেছিলেন তিনি হলেন মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)। এমনটিই বলছেন মার্কিন এক গবেষক।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা ও সংবাদভিত্তিক ম্যাগাজিন নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। প্রতিবেদনটি লিখেন মার্কিন গবেষক ড. ক্রেইগ কন্সিডাইন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত রাইস ইউনিভার্সিটির একজন গবেষক। এছাড়া তিনি একজন আন্তর্জাতিক বক্তা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইমিউনোলজিস্ট ডা. অ্যান্থনি ফসি এবং মেডিকেল রিপোর্টার ডা. সঞ্জয় গুপ্তের মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন, সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সুন্দর ব্যবস্থাপনায় হোম কোয়ারেন্টাইন থাকতে। একই সঙ্গে সুস্থ লোকদের জনসমাগম এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, এসব উপায়ই করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) থেকে বেঁচে থাকার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

মার্কিন গবেষক ড. ক্রেইগ কন্সিডাইন তার রিপোর্টে লিখেন, আপনারা কি জানেন মহামারির সময়ে সর্বপ্রথম কে এই সবচেয়ে ভালো কোয়ারেন্টাইনের উদ্ভাবন করেছেন?

আজ থেকে প্রায় ১৩শ বছর আগে ইসলাম ধর্মের নবী হজরত মোহাম্মাদ (সা.) পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম কোয়ারেন্টাইনের ধারণা দেন। যদিও তার সময়ে সংক্রামণ রোগের মতো কোনো বিশেষজ্ঞ ছিলেন না। তারপরেও তিনি এসব রোগব্যাধিতে তার অনুসারীদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা ছিল কভিড-১৯ এর মতো প্রাণঘাতী রোগ মোকাবেলায় দুর্দান্ত পরামর্শ। তার সেই পরামর্শ মানলেই করোনার মতো যেকোনো মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

এর উদাহরণ হিসেবে মার্কিন গবেষক মোহাম্মাদ (সা.)-এর একটি বাণী উল্লেখ করেন। তিনি লিখেন- ‘মোহাম্মাদ বলেছেন, যখন তুমি কোনো ভূখণ্ডে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ার খবর শুনতে পাও তখন সেখানে প্রবেশ করো না। পক্ষান্তরে প্লেগ যদি তোমার অবস্থানস্থল পর্যন্ত পৌঁছে যায় তাহলে ওই জায়গা ত্যাগ কোরো না।’

তিনি আরও বলেছেন, যারা সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়েছে তাদের সুস্থ মানুষ থেকে দূরে থাকতে হবে।’

এভাবে বিভিন্ন সময়ে মানব জাতিকে সংক্রামণ থেকে রক্ষা করতে মোহাম্মাদ (সা.) রোগব্যাধিতে আক্রান্ত লোকদের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারেও উদ্বুদ্ধ করতেন।

এ ব্যাপারে তার অমূল্য বাণীগুলো হচ্ছে- ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।’

‘ঘুম থেকে ওঠার পরে হাত ধৌত করো। কেননা ঘুমের সময় তোমার হাত কোথায় স্পর্শ করেছে তা তুমি জান না।’

‘খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে।’ ইত্যাদি।

সবচেয়ে বড় কথা, মোহাম্মাদ (সা.) এটা বলেননি যে, শুধু তুমি প্রার্থনা করে বসে থাকবে। বরং তুমি প্রার্থনার পাশাপাশি চিকিৎসা নেবে। সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা পেতে মৌলিক নিয়মগুলি মেনে চলবে।

এর উদাহরণ হিসেবে মোহাম্মাদ (সা.)-এর সময়ের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন মার্কিন গবেষক। তিনি তিরমিজি শরিফের বরাত দিয়ে লিখেন, ‘একদিন, মোহাম্মাদ এক বেদুইনকে লক্ষ্য করলেন যে, সে তার উটটি না বেঁধে চলে যাচ্ছে। তখন তিনি বেদুইনকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি তোমার উটটি বেঁধে রাখছো না কেন?’

জবাব বেদুইন বললো, ‘আমি ইশ্বরের (আল্লাহ) উপর ভরসা রেখেছি।’ তখন নবী বললেন, ‘তোমার উটটি আগে বেঁধে রাখ, তারপর আল্লাহ উপর আস্থা রাখ।’

মোটকথা, মোহাম্মাদ (সা.) ধর্মীয় ক্ষেত্রে যেমন অবদান রেখে অমর হয়ে আছেন। ঠিক তেমনই মানুষের জীবনযাপন বিষয়ক মহামূল্যবান যে পরামর্শ তিনি দিয়ে গেছেন তা আজও অনুকরণীয়।

বিস্তারিত খবর

ইসলামী দৃষ্টিতে করোনা হতে মুক্তির আমল

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২২ ১৩:০৯:২০

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস বর্তমানে নানান দেশে মহামারী আকার ধারণ করেছে। শুরুটা চীন হতে; যা এখন ভয়ঙ্কর রুপে তাণ্ডব চালাচ্ছে ইতালিতে।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইরানে প্রতি দশ মিনিটে একজন করে মারা যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর বাহিরে নয়। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন আক্রান্ত-সহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। কিছুকিছু অঞ্চল করা হয়েছে লকডাউন।আতঙ্কিত সারা দেশ। দিশেহারা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। নানান বিজ্ঞ ব্যক্তিরা দিচ্ছেন প্রতিকারমূলক মতামত। বিভিন্ন সভা সেমিনারে চলছে সচেতেনতামূলক প্রচারণা। এত কিছুর পরেও থেমে নেই করোনার বিস্তার। এ পর্যন্ত ১৮৮টি দেশ ও অঞ্চলের মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এতে।আমেরিকাসহ পৃথিবীর পরাশক্তি রাষ্ট্রগুলোও করোনার ছোবলের বাইরে নয়। এতোকিছুর পরেও এখনো মানুষ বুঝতে পারতেছে না। আসলে এই করোনার ধ্বংসলীলার শক্তির উৎসটা কোথায়। সল্পসংখ্যক বাদে অধিকাংশই শুধু সায়েন্টিফিক সমাধানে ব্যস্ত। এই ক্ষেত্রে ইসলাম কি বলে। করোনা হলো আসমানি বালা-মুসিবত। এরকম গজব যা বান্দাদের জন্য শাস্তিস্বরুপ আসে। আবার কখনোবা বান্দাকে সঠিক পথে ফিরে আসার সুযোগ হিসেবেও আসে।যেসব রোগের শুরুতেই কোনো প্রতিষেধক নেই, সেসব রোগে মানুষ আক্রান্ত হবার ভয়ে, খাটি মুমিন বাদে অনেকেই এলামেলো বকতে শুরু করে। এতে বান্দা/বান্দিদের ঈমানী শক্তি লোপ পাবার সঙ্গে সঙ্গে, কখনো কখনো ঈমানহারা হয়ে যায়। ধৈর্য হারা হলেই শেষ। খাঁটি মুমিন কখনো আজাবে ধৈর্য হারা কিংবা আতঙ্কিত হয় না। বরং তারা আরো বেশি আল্লাহর পথে নিজেকে রুজু করে।বান্দাদের কৃতকর্মের কারণে যখন আজাব/গজব আসে, তখন পরহেজগার ব্যক্তিসহ শিশু-বৃদ্ধ কেউই রেহাই পায় না। বরং অন্যদের আহ্বান না জানিয়ে, নিজের আমল ভারী করা বজুর্গরা, অনেক সময় আগেভাগে গজবের শিকার হন। এই দেখে কম আমল বা গাফেল ব্যক্তিদের মনে বিশ্বাস সৃষ্টি হয়, এবাদত বন্দেগী করে লাভ কি। গজবের শিকার হয়ে অনেক সময় পরহেজগার হয়ে যান গাফেল, আর গাফেল হয়ে উঠেন পরহেজগার।করোনার মতো আজাব যখন বিধর্মী রাষ্ট্রে আগে শুরু হয়, তখন মুসলিম রাষ্ট্রের নাগরিকরা তাদের নানান অত্যাচারের ডালি মেলে ধরে। মূলত এরকম পরিস্থিতিতে ধর্ম না টেনে, মুসলিমদের কর্তব্য তাদেরকে সহায়তা করা। কারণ মৃত্যুর আগ মূহুর্ত পর্যন্ত বলা যাবে না, কার মৃত্যু কী ভাবে হবে। জগতেরে সব ধর্মের মানুষই এক আল্লাহর সৃষ্টি।কোনো অবস্থাতেই ভিন্নধর্মাবলম্বীর কাউকে নিজের চাইতে অধম ভাবা যাবে না। করোনাভাইরাসের মতো কঠিণ রোগবালাইর সময় চিকিৎসক, সরকার ও ধর্মীয় নিয়মাবলীগুলো অনুসরণ করা কর্তব্য। ধর্মীয় গোড়ামি হতে চিকিৎসকের পরামর্শ ও সরকারের আইন অমান্য করাটাও ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গর্হিত হিসেবে বিবেচ্য। মুমিন বান্দাদের এই সময়ে ধৈর্যের সঙ্গে আরো বেশি বেশি আমল বাড়িয়ে দিতে হবে। সেই সঙ্গে আমলের বরকত সম্পর্কে অন্যদের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে হবে।প্রত্যেক আসমানি রোগবালাইর সময়েই কতিপয় হক্কানী আলেম সমাজ হতে প্রতিকারের বিশেষ আমল আসে। যা তারা অবস্থার ওপরে বলে থাকেন। কখনওবা স্বপ্নযোগেও পেয়ে থাকেন। এবারের মহামারী করোনায় বিখ্যাত আলেম সুপরিচিত ইসলামী ব্যক্তিত্ব হজরত মুফতি তাকী ওসমানী (দাঃমাঃ) করোনা হতে রক্ষা পাবার জন্য আমল দিয়েছেন। যথাক্রমে ১/সূরা ফাতিহা তিনবার ২/ সূরা এখলাস তিনবার ও হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল ৩১৩ বার পাঠ করতে হবে।এই আমল প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে করোনা মহামারীর প্রেক্ষিতে স্বপ্নযোগে পাওয়া। মুমনিদেরকে সর্বাস্থায় খেয়াল রাখতে হবে, আমার আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট। সুতরাং হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। হতাশাগ্রস্থরা বিপথগামী। আসুন দেশের এই ক্রান্তীলগ্নে বাড়িতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার মজুদ না করে, স্বাস্থ্য কর্মীদের পরামর্শ পালনের পাশাপাশি বেশি বেশি এস্তেগফার পড়ায় অভ্যস্ত হই। সেই সঙ্গে ওলামায়ে দেওবন্দ ইসলামী সব মহলে গ্রহণযোগ্য আলেমে দ্বীন হজরত মুফতি তাকী ওসমানী (দাঃ) কর্তৃক জানিয়ে দেয়া করোনা হতে বাঁচার বিশেষ আমলে, নিজেরাসহ অন্যদেরকেও ব্রত করার চেষ্টা করি।

বিস্তারিত খবর

বঙ্গবন্ধু ছিলেন খাঁটি মুসলিম নেতা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-১৪ ০৩:১০:৫৫


ইংরেজদের নির্মম অত্যাচার-নির্যাতনে উপমহাদেশের মুসলমানরা যখন কোণঠাসা জীবনযাপন করছিল, তখন আল্লামা ইকবাল স্বপ্ন দেখালেন আলাদা ভূখণ্ড না হলে একদিন উপমহাদেশে ইসলাম এবং মুসলমানদের নাম গন্ধও থাকবে না। তখন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং একে ফজলুল হক উপমহাদেশের মুসলমানদের দুর্দিন কাটিয়ে ওঠার জন্য মাঠপর্যায়ে কাজ করছিলেন।

১৯৩৮ সালে গোপালগঞ্জে এক সভায় তারা দু’জন বক্তৃতা করেন। বক্তৃতায় মুসলমানদের মনে আলাদা ভূখণ্ডের স্বপ্নের বীজ বুনে দেন। ওই সভার স্বেচ্ছাসেবীদের নেতা ছিলেন স্কুলছাত্র মুজিব। অল্প সময়ের জন্য কথা হয় সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে। পরে সোহরাওয়ার্দী কলকাতা ফিরে গিয়ে মুজিবের নামে চিঠি পাঠায়। তখনও গোপালগঞ্জে মুসলিম ছাত্রলীগ কমিটি গঠন হয়নি। সোহরাওয়ার্দীর আদেশ পেয়েই মুসলিম ছাত্রলীগ কমিটি গঠন করে জজবা নিয়ে কাজ শুরু করে দেন মুজিব।

মুজিব নিজেই লেখেন, ‘তখন রাজনীতি শুরু করেছি ভীষণভাবে। সভা করি, বক্তৃতা করি। খেলার দিকে আর নজর নেই। শুধু মুসলিম লীগ আর ছাত্রলীগ। পাকিস্তান আনতেই হবে, নতুবা মুসলমানদের বাঁচার উপায় নেই।’

শুরু হয়ে গেল মুসলমানদের বাঁচানোর জেহাদ। বঙ্গবন্ধু লেখেন, ইংরেজদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে হাজার হাজার বাঙালি মুজাহিদ কীভাবে জিহাদে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সিপাহী বিদ্রোহ, ওহাবি আন্দোলন, শরিয়ত উল্লাহ ও তিতুমীরের জেহাদের ইতিহাস আমার জানা ছিল। ওইসব ঘটনা বলেই বাংলার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতাম। এখানে বলে রাখা দরকার, ভারতবর্ষে তখন হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছিল।

মুসলমানরা ইসলামের শত্রু মনে করে ইংরেজদের থেকে দূরে থাকার মতো মারাত্মক ভুল করে বসে। এ সুযোগে ইংরেজ সরকারের পা-চাটা গোলাম সেজে শিক্ষিত হিন্দুরা কারণে অকারণে মুসলমানদের পিঠের চামড়া তুলে নিত। বঙ্গবন্ধু বলেন, বিষয়টি আমার খুবই খারাপ লাগত। তখনও তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েননি।

স্কুলের হিন্দু সহপাঠীদের ছুঁতমার্গ আচরণ দেখে বেজায় কষ্ট পেতেন। এক মুসলিম ছাত্রকে মারার প্রতিবাদে হিন্দু সহাপাঠীদের মেরে জেলও খেটেছিলেন স্কুল জীবনেই। তবে ধর্মীয় গোঁড়ামি যাকে বলে তা বঙ্গবন্ধুর মাঝে কখনই ছিল না।

তিনি বলেন, ওই সময় হিন্দুরা যেমন মুসলমানদের দেখতে পারত না, মুসলমানরাও বক্তৃতা শুরুই করত হিন্দুদের গালিগালাজ করে। এসব আমার মোটেই ভালো লাগত না। হাশিম নামে এক মুরব্বি বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, ‘আমাদের লেখাপড়া করতে হবে। শুধু গালিগালাজ করে পাকিস্তান আসবে না।’

পাকিস্তান আনার স্বপ্নে বঙ্গবন্ধু এতই বিভোর ছিলেন যে অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু লেখেন, তখন আমি ইসলামিয়া কলেজের ল’র ছাত্র। ‘রাতে পড়তাম। দিনে পাকিস্তানের জন্য কাজ করতাম। পাকিস্তানই যদি না আনতে পারি তাহলে পড়ালেখা করে আর কী করব!’

বঙ্গবন্ধু তার বন্ধুদের বলতেন, ‘তোমরা পড়ালেখা করে মহাপণ্ডিত হয়ে যাও। আমাকে পাকিস্তান আনতে দাও।’ নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে পাকিস্তান এলো। ততদিনে বঙ্গবন্ধু তুখোড় নেতা হয়ে উঠলেন। বড় আফসোসের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু দেখলেন, পাকিস্তান এসেছে ঠিক, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগে অত্যাচার করত হিন্দু জমিদাররা। এখন অত্যচার করছে খোদ মুসলমান নেতারাই। সে সময়ই মহাকবি ইকবালের মতোই বঙ্গবন্ধুর মনে এমন ধারণা জন্মালো সে বাঙালির জন্য একটি আলাদ ভূখণ্ড না হলে একদিন দুনিয়ার বুকে বাঙালি আর তাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের নাম গন্ধও থাকবে না।

তিনি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখলেন। মাওলানা মহিউদ্দিন খান বড় সুন্দর করে বলেছেন, ‘গদি পেয়ে মুসলমান নেতারা মদিরার নেশায় এমনই ডুবে ছিলেন যে, পাকিস্তানের বড় বড় অংশ পর্যন্ত হাতছাড়া হয়ে গেল, এ নিয়ে কেউ টুঁ শব্দটিও করেনি।’

এবার পাকিস্তান সরকারই বঙ্গবন্ধু-মওলানা ভাসানীদের জেলে পুরে রাখলেন। বঙ্গবন্ধুর জীবনী পড়লে বিস্তারিত জানা যাবে। যে কথাটি আজ জোর দিয়ে বলা দরকার তা হল, বঙ্গবন্ধু ছিলেন নিরেট একজন খাঁটি মুসলিম নেতা। ছিলেন খোলাফায়ে রাশেদার ছায়াতুল্য। জীবনের প্রতটি মুহূর্ত আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা এবং বিশ্বাসের জোরে পাহাড় সমান বাধাকে জয় করেছেন।

তিনি যাদের সাহচর্যে ছিলেন, সহকর্মী হিসেবে যাদের পেয়েছেন, অনেকেই ছিলেন মাওলানা, সবাই ছিলেন কঠোর ধর্মভিরু, আউলিয়াভক্ত। ধর্মবিরোধীদের দু’চোখে দেখতে পারতেন না। অন্যায়ের সঙ্গে আপসহীন জীবনের সবক বোধহয় সবচেয়ে বেশি পেয়েছিলেন মর্দে মোমিন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী থেকে। বঙ্গবন্ধুর জীবনী পড়ে বারবার এ কথাই মনে হয়েছে।

ইতিহাস বুঝি এভাবেই বিগড়ে যায়। আগাগোড়া কট্টর ইসলাম মানা মানুষটিকে নিয়ে আজ কী সব কাণ্ডকারখানাই না হচ্ছে। টয়লেট পেপারেও বঙ্গবন্ধু, বদনাতেও বঙ্গবন্ধু, চাঁদাবাজের মুখেও বঙ্গবন্ধু। যেন বঙ্গবন্ধু জীবন-যৌবন পানি করে চোর-বাটপাড়দের জন্য সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর আমৃত্যু স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা সোনার মদিনার মতো সুখী হবে।

যোগ্য বাবার যোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মদিনার সনদে দেশ চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আজ যারা কথায় কথায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা বলে মুখে ফেনা তুলছেন, তাদের মনে রাখতে হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল ইসলাম, শান্তি, সম্প্রীতি। যারা জীবন থেকে, রাষ্ট্র থেকে ইসলাম মুছে ফেলতে চায়, তারা যেন বঙ্গবন্ধুর নামটিও মুখে না আনে। এতে বঙ্গবন্ধুর আত্মা কষ্ট পাবে।

বিস্তারিত খবর

মহামারী বা দূরারোগ্য ব্যধি থেকে পরিত্রাণের দোয়া

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-১২ ১১:৫৯:৪১


বিভিন্ন প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দূরারোগ্য ব্যধি কিংবা মহামারী থেকে একমাত্র আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়াটাই সর্বোত্তম পন্থা।

এমন পরিস্থিতিতে সব সময় এ দোয়াটি পড়ার অভ্যাস করা সমীচীন, যা রাসুল (সা) শিখিয়ে দিয়েছেন:

 
اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَ الْجُنُوْنِ وَ الْجُذَامِ وَمِنْ سَىِّءِ الْاَسْقَامِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি ওয়াল জুনুন
ওয়াল ঝুজাম ওয়া মিন সায়্যিল আসক্বাম।’
-সূনানে আবু দাউদ, সূনানে তিরমিজি

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনার কাছে আমি শ্বেত রোগ থেকে আশ্রয় চাই। মাতাল হয়ে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই। কুষ্ঠু রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে আশ্রয় চাই। আর দূরারোগ্য ব্যাধি (যেগুলোর নাম জানিনা) থেকে আপনার আশ্রয় চাই।’

 
তিরমিজিতে এসেছে, আরও একটি দোয়া পড়তে বলেছেন রাসুলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ وَ الْاَدْوَاءِ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি, ওয়াল আদওয়ায়ি।’

অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ (নষ্ট-বাজে) চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা এবং বাজে অসুস্থতা ও নতুন সৃষ্ট রোগ বালাই থেকে আশ্রয় চাই।’

বিস্তারিত খবর

ওমরাহ ও মসজিদে নববী জিয়ারত সাময়িক বন্ধ

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-০৪ ০৯:৪৯:০৬


প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় এবার নিজ দেশের নাগরিকদের ওমরাহ পালন ও মসজিদে নববী পরিদর্শন সাময়িক বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি সরকার।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর আল আরাবিয়া ও আরব নিউজের।

নির্দেশনায় বলা হয়, ওমরার কার্যক্রম অভ্যন্তরীণভাবেও সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হল। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মক্কা মোকাররমা ও মদিনার সব প্রবেশ পথে কড়া পাহারা বসানো হবে। তবে ওই নোটিশে মসজিদ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য কোনো নির্দেশনা জানা যায়নি।

গত সোমবার সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেশটিতে কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত করে।

আক্রান্ত ওই ব্যক্তি ইরান থেকে বাহরাইন হয়ে সৌদিতে প্রবেশ করেন। তবে তিনি সৌদি নাগরিক।

সৌদি কর্তৃপক্ষ এটা নিশ্চিত করেছে যে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ওই ব্যক্তি বাহরাইন হয়ে সৌদিতে প্রবেশের সময় ইরান যাওয়ার ব্যাপারে তথ্য গোপন করেছে।

তার মধ্যে করোনাভাইরাস পাওয়ার পর তাকে কোয়ারেন্টাইন করা সহ যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাস ঠেকাতে গত সপ্তাহে সৌদি আরব বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এর অংশ হিসেবে ওমরাহ ও টুরিস্ট ভিসা স্থগিত করে দেশটি।

সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘সৌদি আরবে করোনাভাইরাসের প্রবেশ এবং ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক এবং আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে যথাযথ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ওমরাহ ও ট্যুরিস্ট ভিসা সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে।’

এছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থানরত সৌদি নাগরিকদের দেশটির জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে আসা-যাওয়া স্থগিত করেছে সৌদি আরব। তবে আগে থেকে যাদের কাছে এই পরিচয়পত্র আছে তারা ইচ্ছে করলে দেশে ফিরতে পারবে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর নাগরিকরাও সৌদি ছাড়তে পারবে।

বিস্তারিত খবর

১০ হাজার বাংলাদেশির ওমরাহ অনিশ্চিত, ক্ষতি ৫০ কোটি টাকা

 প্রকাশিত: ২০২০-০২-২৮ ১১:৩৭:৫১

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ঠেকাতে ওমরাহ যাত্রী ও দেশটিতে ভ্রমণকারীদের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সৌদি সরকার। সৌদি সরকারের আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন দেশের প্রায় ১০ হাজার ওমরাহ যাত্রী। এতে ভিসা ফি, হোটেল ও বিমান ভাড়া বাবদ প্রায় ৫০ কোটি টাকা ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছেন এজেন্সি মালিকরা।

কোন আগাম ঘোষণা ছাড়াই বুধবার রাতে এক বিবৃতির মাধ্যমে হুট করেই এই সিদ্ধান্ত নেয় সৌদি সরকার। প্রতিবেশি অন্তত চারটি দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সৌদি আরবে করোনা ভাইরাসের প্রবেশ এবং ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক এবং আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে যথাযথ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ওমরাহ ও ট্যুরিস্ট ভিসা সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিলভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোতে বসবাসরত সৌদি নাগরিকরা এতদিন জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করেই নিজেদের দেশে যাওয়া-আসা করার সুযোগ পেতেন। তাদের সেই সুযোগও আপাতত স্থগিত থাকবে।’

বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো ওমরাহ যাত্রীদের


এদিকে সৌদি সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাংলাদেশের কোনো ওমরাহ যাত্রী সে দেশের উদ্দেশে যেতে পারেননি। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয় তাদের। এহরাম পরা অবস্থায় প্রায় এক হাজার ওমরাহ যাত্রী দিনভর ভোগান্তির পর বিমানবন্দর থেকে কান্না ভারাক্রান্ত হয়ে ভগ্ন মনে বাড়িতে ফেরেন। ঢাকার বিমানবন্দরে প্রায় ৫ শতাধিক ওমরাহ যাত্রী ছিলেন। যে উড়োজাহাজগুলো তাদেরকে সৌদি আরবে নিয়ে যেতে এসেছিলো সেগুলোও প্রায় খালি অবস্থায় ফিরে যায় সৌদি আরব। বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম থেকে মদিনায় ফ্লাইট থাকলেও সেই ফ্লাইটগুলোও ওমরাহ যাত্রীদের না নিয়েই চলে যায়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-ইমিগ্রেশন) বলেন, বিভিন্ন এয়ারলাইন্স থেকে আমাদের ওমরাহ ভিসাপ্রাপ্ত যাত্রীদের ইমিগ্রেশন না করানোর মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম জানান, করোনা ভাইরাসের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণে ভিসা হওয়ার পরও বাংলাদেশের প্রায় ১০ হাজার ওমরাহ যাত্রী আটকে গেলেন। ওমরাহ ভিসা সাধারণত ১৫ দিনের জন্য দেওয়া হয়। আপাতত মনে হচ্ছে, ভিসা তো নতুন করে ইস্যু হবেই না। আর যাদের ভিসা করা আছে, তারাও যেতে পারবে না। এটা যদি হয়, আমাদের কাছে একটা হিসাব আছে। এখন প্রায় ১০ হাজার ওমরাহ ভিসা করা আছে। সব মিলে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা ইনস্ট্যান্ট ব্যয় হয়েছে, যে টাকা আর ফেরত পাওয়া যাবে না। এটা এখন এজেন্সি ও ওমরাহ যাত্রীদের ক্ষতি হবে। তিনি আরও বলেন, ‘বিমানের টিকিট নিয়ে অফিসিয়ালি তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে, যাতে এই টাকাটা ফেরত দেওয়া হয়। কূটনৈতিক চ্যানেলেও আমরা চেষ্টা করব।’

বিস্তারিত খবর

করোনা আতঙ্কে ওমরাহ যাত্রীদের প্রবেশ স্থগিত করল সৌদি আরব

 প্রকাশিত: ২০২০-০২-২৭ ০১:৩৪:৪৮


করোনাভাইরাসের বিস্তারের আশঙ্কায় ওমরাহ যাত্রী ও মসজিদে নববি সফর করতে আগ্রহীদের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানা গেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরবে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় যারা ওমরাহ করতে চাচ্ছেন বা মদিনায় মসজিদে নববিতে যেতে চাচ্ছেন তাদের প্রবেশাধিকার অস্থায়ীভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

যেসব দেশে করোনাভাইরাস বিপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে, ওইসব দেশের পর্যটকদের জন্য ভিসা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় আইডি কার্ড ব্যবহার করে সৌদি আরব থেকে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) দেশগুলোতে যাতায়াতও স্থগিত করা হয়েছে।

প্রতি বছর ওমরাহ করতে সৌদি আরবে যান প্রায় ৭০ লাখ লোক। তাদের বেশির ভাগই অবতরণ করেন জেদ্দা ও মদিনায়।

চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম ধরা পড়ে করোনাভাইরাস। এখন পর্যন্ত এটি বিশ্বের অন্তত ৪৩টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যেই করোনার উপস্থিতি দেখা গেছে। বিভিন্ন দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৮০ হাজার ৯৬৭ জন এবং মারা গেছে দুই হাজার ৭৬৩ জন।

বিস্তারিত খবর

পবিত্র শবে মেরাজ ২২ মার্চ

 প্রকাশিত: ২০২০-০২-২৪ ১০:০৩:১৮

রজব মাসের চাঁদ আজ সোমবার দেখা যায়নি।বাংলাদেশে আগামী ২২ মার্চ দিবাগত রাতে শবে মেরাজ পালন করবেন মুসলমানরা। এরপরদিন ২৩ মার্চ থাকবে ঐচ্ছিক ছুটি।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, আজ (সোমবার) বাংলাদেশের আকাশে রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে বুধবার থেকে রজব মাস গণনা শুরু হবে। তাই ২৬ রজব বা ২২ মার্চ দিবাগত রাতে সারা দেশে সরে মেরাজ পালিত হবে।”

ইসলাম ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নবুওয়াত লাভের একাদশ বর্ষের রজব মাসের ২৬ তারিখ দিনগত রাতে আল্লাহর বিশেষ মেহমান হিসেবে আরশে আজিমে আরোহণ করেন। তিনি আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে দুনিয়ায় প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি অবলোকন করেন সৃষ্টিজগতের সমস্ত কিছুর অপার রহস্য। মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা ‘মিরাজ’। হযরত মুহাম্মদ ছাড়া অন্য কোনো নবী এই পরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি। এ মেরাজ রজনীতেই মানবজাতির শ্রেষ্ঠ ইবাদত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়। এজন্য মুসলিম ধর্মালম্বীদের কাছে মিরাজের তাৎপর্য অনেক গুরুত্ব বহন করে।

সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও এই রাতটি ইবাদতের মধ্য দিয়ে পালন করে থাকে। কুরআন তিলাওয়াত, নামাজ, জিকির, দোয়া-দরুদ, মিলাদ মাহফিলের মধ্য দিয়ে রাতটি কাটান মুসলমানরা।

বিস্তারিত খবর

মাতৃভাষায় ভাব প্রকাশ আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত

 প্রকাশিত: ২০২০-০২-২৩ ০৮:১৪:১৬


আমরা বাঙালি। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। আজ আমরা বুক ফুলিয়ে বলতে পারি যে, আমরাই একমাত্র জাতি, যারা মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজপথে রক্ত দিয়েছি। মাতৃভাষার জন্য রক্ত এবং জীবন দেয়ার ইতিহাস পৃথিবীতে সত্যিই বিরল!

ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে,বর্তমান বিশ্বে ভাষার সংখ্যা ২৭৯৬ টি। তার মধ্যে বাংলা অন্যতম। বিশ্বের সর্বাধিক প্রচলিত ভাষার মধ্যে বাংলার স্থান চতুর্থ। কারো কারো মতে সপ্তম। ১২০৩ সালে তুর্কিবীর ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির বাংলা বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অগ্রযাত্রা শুরু হয়।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, রোজ- বৃহস্পতিবার। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য অনেকেই শহীদ হয়েছিল। সেই ভাষা শহীদদের স্মৃতিকে অমর রাখতে প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদানের জন্য প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করে কানাডায় বসবাসরত দু’জন বাঙালি - আব্দুস সালাম ও রফিকুল ইসলাম। তারাই ১৯৯৮ সালে ৯ই জানুয়ারি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের কাছে একটি আবেদন পত্র পাঠান।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপিত হয়। অতঃপর ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কোর ৩১তম প্যারিস অধিবেশনে ২৮ টি দেশের সমর্থনে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয় ২০০০ সালে। আর জাতিসংঘ ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেয় ৫ ডিসেম্বর ২০০৮ সালে। বর্তমান বিশ্বের প্রায় ১৮৮ টি দেশে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে পালন করা হয়।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এর তাৎপর্য উপলব্ধি করে ভাষা বিজ্ঞানী ড. হুমায়ুন আজাদ বলেন, ‘আমি মুগ্ধ,আমি প্রীত,আমাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমার প্রাণের কথা আমার ভাষায় জানাতে পারব বলে! আমার হৃদয়ে স্পন্দন বেড়েছে। সত্যিই আমি গর্বিত। ’

সত্যিই আজ আমরা গর্বিত আমাদের মাতৃভাষার জন্য। মাতৃভাষা আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য-অগণিত নিয়ামতরাজির মধ্যে অন্যতম। মানুষ যে ভাষায় কথা বলে সেটাই তার মাতৃভাষা। পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর ভাব প্রকাশের জন্যে রয়েছে স্বতন্ত্র্য ভাষা। এ যেন সৃষ্টি জীবের প্রতি মহান আল্লাহ তায়ালার এক অসীম করুণা! মহান নেয়ামত!

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে- করুণাময় আল্লাহ! শিক্ষা দিয়েছেন আল কোরআন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে। আর তিনিই তাকে ভাব প্রকাশ করতে শিখিয়েছেন (সূরা আর- রাহমান :১-৪)।

মানুষের মুক্তি ও হেদায়াতের লক্ষ্যে আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে সব নবী-রাসূলকে স্বজাতির ভাষা ভাষী করে পাঠিয়েছেন। তারা তাদের জাতিকে মাতৃভাষার মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াত প্রদান করেছেন।

এ প্রসঙ্গে রাসূল (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালা কোনো নবী-রাসূলকে তার মাতৃভাষা ছাড়া পাঠাননি (মুসনাদে আহমদ হাদিস নং:২০৪৪)।

আল্লামা জালালুদ্দীন সূয়ুতী(র) তার ইতকান ফি উলুমিল কুরআন গ্রন্থে বলেন- আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক নবীকে যেমন তাদের স্বজাতির ভাষা ভাষী করে প্রেরণ করেছেন। তেমনি ভাবে সংশ্লিষ্ট জাতির মাতৃভাষায় কিতাব ও প্রদান করেছেন।

একুশের মহান চেতনা আমাদের জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটিয়েছে। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূলে রয়েছে একুশের চেতনা।

ভাষা আন্দোলনের সূত্র ধরেই মূলত স্বাধীনতার আন্দোলনের শুরু। একুশের চেতনার যে বীজ সেদিন বপন করা হয়েছিল, তার বিশাল মহীরুহ পরবর্তীতে স্বাধীনতার স্নিগ্ধ ছায়ায় বেড়ে উঠেছিল। যার ফলে আজ আমরা স্বাধীন।

বিস্তারিত খবর

কাউকে ক্ষমা করলে আল্লাহ সম্মান বাড়িয়ে দেন

 প্রকাশিত: ২০২০-০২-০৪ ০৪:৫৮:১৭


ভুল-ত্রুটি ও ভালো-মন্দের মিশেলে মানুষের জীবন। কেউ ভুল-ত্রুটির উর্ধে নয়। কিন্তু কারো ভুলে তার প্রতি ক্রোধ দেখানো, রাগ ঝাড়া, জেদ-উত্তেজনা কিংবা উগ্র-কাতর হওয়া ভীষণ নিন্দনীয়। এসব মানুষকে ছোট করে। আমলনামা থেকে সওয়াব মুছে দেয়। অথচ বিপরীতে ক্ষমা মানুষের মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করে। কাউকে ক্ষমা করে একজন সাধারণ মানুষও হয়ে উঠতে পারে অসাধারণ মানুষে।

করে পরস্পরের মধ্যে সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।আল্লাহ তাআলা মানুষকে আদেশ দিয়েছেন, যেন একে-অপরকে ক্ষমা করে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যদি তোমরা ভালো কিছু প্রকাশ করো কিংবা গোপন করো অথবা মন্দ ক্ষমা করে দাও, তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, ক্ষমতাবান।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১৪৯)

ক্ষমাকারীকে আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে পুরস্কার দেবেন। পরস্পরের মধ্যে বিরোধ নিষ্পন্নকারীও আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্কার পাবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর মন্দের প্রতিফল মন্দ। অতঃপর যে ক্ষমা করে দেয় এবং আপস নিষ্পত্তি করে, তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে।

নিশ্চয় আল্লাহ জালিমদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা শুরা, আয়াত: ৪০) ক্ষমা করলে কারও মর্যাদা কমে না। বরং বহু গুণে ক্ষমাশীল ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন করেছেন, সদকা করলে সম্পদের ঘাটতি হয় না। যে ব্যক্তি ক্ষমা করে, আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।

আর কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনীত হলে, তিনি তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। (মুসলিম, হাদিস: ২৫৮৮) উদারতা ও সহিষ্ণুতা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। কোমলতা ও হৃদয়ার্দ্রতা মুমিনদের বিশেষ একটি গুণ। আল্লাহর রাসুল (সা.) যখন সাহাবি মুয়াজ (রা.) ও মুসা (রা.) কে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন ও আদেশ দেন, ‘লোকদের প্রতি কোমলতা করবে, কঠোরতা করবে না, তাদের সুখবর দেবে, ঘৃণা সৃষ্টি করবে না। পরস্পর একমত হবে, মতভেদ করবে না।’ (বুখারি, হাদিস: ৩০৩৮)

পরিবারিক, সামাজিক ও জীবনের অন্যান্য পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ দেখা যাওয়া স্বাভাবিক। তবে এমন হলে, মুসলমান হিসেবে প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো অন্যকে ক্ষমা করে দেওয়া। পারস্পরিক ভুল-ত্রুটিগুলোকে শুধরে দেওয়া। এতে সম্পর্ক ও বন্ধন আরো মজবুত ও অটুট হয়। আল্লাহ সবাইকে ক্ষমাশীল হওয়ার তাওফিক দান করুক। আমিন।

বিস্তারিত খবর

হারাম উপার্জন সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলে

 প্রকাশিত: ২০২০-০১-২৩ ১১:১০:০৬

ইসলাম ধর্মমতে সব ধরনের ইবাদত-বন্দেগি কবুল হওয়ার জন্য রিজিক হালাল হওয়া জরুরি। হালাল রিজিকের প্রভাব শুধু নিজের দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্যের জন্যই যে জরুরি তা নয়, নিজের সন্তানের ওপরও এর প্রভাব থাকে। রুজি-রোজগারে খুব সামান্য, এমনকি বিন্দু পরিমাণ হারামের প্রভাব সন্তানের মাঝে প্রকাশ পায়। মানুষ হিসেবে আমরা ভুল-ক্রুটির ঊর্ধ্বে নই। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, জেনে না জেনে আমাদের থেকে ভুল আচরণ প্রকাশ পেতেই পারে।

আমাদের জীবনে যদি এ জাতীয় ঘটনা ঘটে থাকে। অর্থাৎ আমরা যদি অন্যের কোনো কিছু ভোগ করে থাকি বিনা অনুমতিতে এবং এ জন্য পরে মালিকের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা না করি- তাহলে অবিলম্বে ক্ষমা বা তার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। যদি মালিক মারা গিয়ে থাকেন তাহলে তার সন্তানদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আর যদি তাদের কাউকেই পাওয়া সম্ভব না হয় তাহলে ওই পরিমাণ সম্পদ তাদের নামে সদকা দেয়া উচিত। সেই সঙ্গে তওবাও করতে হবে, ভবিষ্যতে এ কাজ আর না করার।

বস্তুত আল্লাহর প্রতি দৃঢ়-বিশ্বাস ও ভরসা করাই হচ্ছে খাঁটি মুমিনের বৈশিষ্ট্য। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে, ‘তোমরা মন-ভাঙ্গা হয়ো না, হীনবল হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও।’ আল্লাহতায়ালা সূরা ইবরাহিমে আরও বলেছেন, ‘যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তবে তোমাদেরকে আরও দেব এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর।’

তাই সর্বাগ্রে আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। আমাদের প্রচেষ্টা যদি আন্তরিক হয়, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়- তাহলে আশা করা যায়, আল্লাহতায়ালা আমাদের সমস্ত বৈধ বাসনা পূরণ করবেন, আমাদের দোয়াসমূহ কবুল করবেন। আল্লাহতায়ালা আমাদের সব সমস্যার সমাধান দিতে পারেন এই দৃঢ়-বিশ্বাস আমাদের রাখা উচিত। আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে পথ-নির্দেশনা কামনা করলে, আল্লাহ অবশ্যই তা কবুল করবেন।

আল্লাহর মর্জি হলে, যা ঘটা আপাতদৃষ্টিতে অসাধ্য বলে মনে হয় তাও সাধন সম্ভব। অনেক খোদাভীরু ব্যক্তির কথা জানা যায়, যারা ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে নদীর পানির ওপর দিয়ে এমনভাবে হেঁটে নদী পার হয়েছেন যেভাবে আমরা পার হই মাটির রাস্তা। আল্লাহর প্রিয়পাত্রদের জন্য এসব খুবই সাধারণ ঘটনা। তার মানে এটা নয় যে, সবাইকে পানির ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে হবে। বিষয়টি শুধু শিক্ষা অর্জনের জন্য উল্লেখ করা হলো।

আমাদের সন্তানরা ভালো থাকুক, এটা সবারই কাম্য। কিন্তু তাদের ভালো রাখতে যেয়ে, শান্তি নিশ্চিত করতে তাদের মুখে হারাম খাবার, গায়ে হারাম পোষাক দেওয়া ঠিক হবে না। এটা তাদের ভবিষ্যতকে ধ্বংস করারই নামান্তর। তথ্যসূত্র: অনলাইন থেকে সংগৃহীত।

বিস্তারিত খবর

নামাজ পড়লে মানুষ সুস্থ থাকবে: মার্কিন গবেষণা

 প্রকাশিত: ২০১৯-১১-২৬ ০০:৫৩:৪৫

একটি হাদিসে এসেছে, নামাজ হচ্ছে মুমিনের মেরাজ। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, তারপর তোমরা নামাজ শেষ করার পর দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে সব অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকো। আর মানসিক প্রশান্তি লাভ করার পর পুরো নামাজ পড়ে নাও।

আসলে নামাজ নির্ধারিত সময়ে পড়ার জন্য মুমিনদের ওপর ফরয করা হয়েছে। (সুরা নিসা: ১০৩) নামাজের এই বিধানটি মু’সলমানদের জন্য অনেকভাবেই উপকারী। বিশেষভাবে নামাজ মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দেয়। যেই মানুষিক চাপগুলো আমাদের দৈনন্দিনের জীবনে তৈরি হয়।
 
নামাজ বিশেষভাবে মহান আল্লাহর সাথে বান্দার স’ম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। কেননা নামাজের মাধ্যমেই আল্লাহর সাথে বান্দার স’ম্পর্ক বৃদ্ধি পায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিংহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা এটা প্রমাণ করেছে যে, দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার মাধ্যমে মানুষ স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও উপকৃত হতে পারে এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে পারে।

গবেষকরা বলেছেন, নামাজের সময় শারীরিক যে ক্রিয়া হয়ে থাকে এটা যদি নিয়মিতভাবে ও নির্ধারিত সময়ে হয় তবে অন্য সকল চিকিৎসা থেকে পিঠের ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে বেশি ভূমিকা পালন করবে এই নামাজ। শারীরিক এই উপকার ছাড়াও নামাজ আল্লাহর সাথে মানুষের সম্পর্ক বৃদ্ধি করে। আর এই সম্পর্ক মানুষের আত্মাকে প্রশান্ত করে।

নিয়মিত নামাজ শরীরের উপর এই ঝিম প্রভাব, রক্তচাপ এবং হৃদস্পন্দন কমাতে পারে, পরিণামে পেশী শিথিল করতে সাহায্য করে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, তারাই এ ধরনের লোক যারা রাসূল (স.)-এর দাওয়াত গ্রহণ করেছে এবং আল্লাহর স্ম’রণে তাদের চিত্ত প্রশান্ত হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিংহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখিয়েছেন, যদি কেউ ঠিক মতো রুকু করতে পারে তাহলে তার পিঠে কোন ব্যাথা থাকবে না। কেননা রুকুর সময়ই পিঠ সময় হয়ে থাকে।

এই গবেষণায় মূলত নামাজ পড়লে শারীরিক যে উপকারগুলো হবে সেই বিষয়গুলোকেই বড় করে তুলে ধ’রা হয়েছে। রুকুর দ্বারা নীচের পিঠ, উরু এবং ঘাড়ের পেশীগু’লি সম্পূর্ণভাবে প্রসারিত হয়। রক্ত শরীরের ওপরের অংশে প্রবাহিত হয়। সিজদার দ্বারা হাড়ের জোড়ার নমনীয়তা বাড়ে।

মাথা নামানোর সময় মস্তিকে রক্ত সঞ্চালন হলে রক্তচাপও কমে, এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। সিজদার পুনরাবৃত্তি শরীরে ভারসাম্য এনে দেয়। এটা সত্য যে নামাজ শারীরিক উপকারের জন্য পড়তে হয় না। নামাজ পড়তে হয় মহান আল্লাহর আদেশ পালন করার জন্য। বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত নামাজ পড়ে থাকেন তারা শারীরিক অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকেন।

বিস্তারিত খবর

হারাম উপার্জন সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলে

 প্রকাশিত: ২০১৯-১১-১৭ ০৭:৩৬:২৪

ইসলাম ধর্মমতে সব ধরনের ইবাদত-বন্দেগি কবুল হওয়ার জন্য রিজিক হালাল হওয়া জরুরি। হালাল রিজিকের প্রভাব শুধু নিজের দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্যের জন্যই যে জরুরি তা নয়, নিজের সন্তানের ওপরও এর প্রভাব থাকে। রুজি-রোজগারে খুব সামান্য, এমনকি বিন্দু পরিমাণ হারামের প্রভাব সন্তানের মাঝে প্রকাশ পায়। মানুষ হিসেবে আমরা ভুল-ক্রুটির ঊর্ধ্বে নই। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, জেনে না জেনে আমাদের থেকে ভুল আচরণ প্রকাশ পেতেই পারে।

আমাদের জীবনে যদি এ জাতীয় ঘটনা ঘটে থাকে। অর্থাৎ আমরা যদি অন্যের কোনো কিছু ভোগ করে থাকি বিনা অনুমতিতে এবং এ জন্য পরে মালিকের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা না করি- তাহলে অবিলম্বে ক্ষমা বা তার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। যদি মালিক মারা গিয়ে থাকেন তাহলে তার সন্তানদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আর যদি তাদের কাউকেই পাওয়া সম্ভব না হয় তাহলে ওই পরিমাণ সম্পদ তাদের নামে সদকা দেয়া উচিত। সেই সঙ্গে তওবাও করতে হবে, ভবিষ্যতে এ কাজ আর না করার।

বস্তুত আল্লাহর প্রতি দৃঢ়-বিশ্বাস ও ভরসা করাই হচ্ছে খাঁটি মুমিনের বৈশিষ্ট্য। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে, ‘তোমরা মন-ভাঙ্গা হয়ো না, হীনবল হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও।’ আল্লাহতায়ালা সূরা ইবরাহিমে আরও বলেছেন, ‘যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তবে তোমাদেরকে আরও দেব এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর।’

তাই সর্বাগ্রে আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। আমাদের প্রচেষ্টা যদি আন্তরিক হয়, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়- তাহলে আশা করা যায়, আল্লাহতায়ালা আমাদের সমস্ত বৈধ বাসনা পূরণ করবেন, আমাদের দোয়াসমূহ কবুল করবেন। আল্লাহতায়ালা আমাদের সব সমস্যার সমাধান দিতে পারেন এই দৃঢ়-বিশ্বাস আমাদের রাখা উচিত। আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে পথ-নির্দেশনা কামনা করলে, আল্লাহ অবশ্যই তা কবুল করবেন।

আল্লাহর মর্জি হলে, যা ঘটা আপাতদৃষ্টিতে অসাধ্য বলে মনে হয় তাও সাধন সম্ভব। অনেক খোদাভীরু ব্যক্তির কথা জানা যায়, যারা ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে নদীর পানির ওপর দিয়ে এমনভাবে হেঁটে নদী পার হয়েছেন যেভাবে আমরা পার হই মাটির রাস্তা। আল্লাহর প্রিয়পাত্রদের জন্য এসব খুবই সাধারণ ঘটনা। তার মানে এটা নয় যে, সবাইকে পানির ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে হবে। বিষয়টি শুধু শিক্ষা অর্জনের জন্য উল্লেখ করা হলো।

আমাদের সন্তানরা ভালো থাকুক, এটা সবারই কাম্য। কিন্তু তাদের ভালো রাখতে যেয়ে, শান্তি নিশ্চিত করতে তাদের মুখে হারাম খাবার, গায়ে হারাম পোষাক দেওয়া ঠিক হবে না। এটা তাদের ভবিষ্যতকে ধ্বংস করারই নামান্তর।

বিস্তারিত খবর

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ৫ গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১৪ ১১:৪৭:৩৯


মিশকাত শরিফে বর্ণিত এক হাদিসে জনৈক ব্যক্তিকে উপদেশ দিতে গিয়ে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৫টি বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে বলেছেন:
(১) বার্ধক্য আসার পূর্বে যৌবনের।
(২) রোগ হওয়ার পূর্বে স্বাস্হ্যের।
(৩) দরিদ্র আসার পূর্বে স্বচ্ছলতার।
(৪) ব্যস্ত হওয়ার পর্বে অবসরের।
(৫) মৃত্যু আসার পূর্বে জীবনের।

হাদিস শরিফে আরো আছে, প্রজ্ঞা মুমিনের হারানো সম্পদ। (তিরমিজি, ৫/৫১; ইবনে মাজা, ২/১৩৯৫)। সময় বা আয়ু মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার দেয়া শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। রোজ কেয়ামতে কঠিন হাশরের ময়দানে আল্লাহর আদালতে বিচারের সময় প্রতিটি নেয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে।


এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে বলেন,

ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ

‘অতঃপর সেদিন তোমাদের প্রতিটি নেয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে।’ (সূরা: তাকাসুর, আয়াত: ৮)।

বিস্তারিত খবর

স্বামীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ ঈমানদার স্ত্রী

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-০৯ ০৩:২২:৪৩

যে কারণে স্বামীর জন্য ঈমানদার স্ত্রী শ্রেষ্ঠ সম্পদ; হাদিসে সে বিষয়গুলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুস্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করেছেন। তিনি পুরুষের জন্য চারটি বিষয়কে শুভলক্ষণ বলেছেন। আর তা হলো- নেককার নারী, প্রশস্ত ঘর, সৎ প্রতিবেশী এবং সহজ প্রকৃতির আনুগত্যশীল-পোষ্য বাহন। পক্ষান্তরে চারটি জিনিসকে কুলক্ষণা বলেছেন। তার মধ্যে একটি হলো বদকার নারী। (হাকেম, সহিহ আল জামে)

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন ঈমানদার স্ত্রীকে তার স্বামীর জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হাদিসটি তুলে ধরা হলো-

হজরত ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘যখন এ আয়াত নাজিল হলো- ‘আর যারা সোনা-রূপা সঞ্চয় করে (আয়াতের শেষ পর্যন্ত); তখন আমরা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে কোনো এক সফরে ছিলাম।

তখন তাঁর এক সাহাবি বললেন, ‘এটাতো (আয়াত) সোনা-রূপা সর্ম্পকে নাজিল হলো। আমরা যদি জানতে পারতাম কোন সম্পদ উত্তম, তবে তা সঞ্চয় করতাম।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তোমাদের কারো শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো-
>> আল্লাহর জিকিরকারী রসনা (জিহ্বা);
>> কৃতজ্ঞ অন্তর; এবং
>> ঈমানদার স্ত্রী, যে তার ঈমানের (দ্বীনের) ব্যাপারে তাকে (স্বামীকে) সহযোগিতা করে। (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মিশকাত)

হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘মাজাহেরে হক’ এ হাদিসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা বর্ণনা করেছেন। এ হাদিসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈমানদার স্ত্রীর ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন। একজন ঈমানদার স্ত্রী তার স্বামীর জন্য সর্বোত্তম সম্পদও বটে।

দ্বীনের ব্যাপারে স্বামীকে সহযোগিতার মর্মার্থ হলো- ঈমানদার স্ত্রী ধর্মীয় কার্যক্রম ও দ্বীনি দায়িত্বসমূহ পালনের ক্ষেত্রে তার স্বামীকে সহযোগিতা করবে। যেমন-

নামাজের সময় হলে তার স্বামীকে নামাজের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে; রমজান মাসের রোজা রাখার ব্যাপারে স্বামীকে সহযোগিতা করবে।

অনুরূপভাবে একজন ঈমানদার স্ত্রী তার স্বামীকে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি, পরিবারের আনুসাঙ্গিক কাজকর্মসহ অন্যান্য সব ইবাদত-বন্দেগিতেও স্বামীকে বুদ্ধি পরামর্শ ও উপদেশ দিয়ে যথাসাধ্য সহযোগিতা করবে।

ঈমানদার স্ত্রী বাড়িতে এমন পরিবেশ এবং আবহ সৃষ্টি করবে, যাতে স্বামী সারাক্ষণ পূণ্যকর্মে লিপ্ত থাকেন। অপকর্ম, অবৈধ উপার্জন এবং হারাম পেশা থেকে বিরত থাকেন।

এমনকি স্বামী যদি কোনো মন্দ কাজে লিপ্ত হন তবে ঈমানদার স্ত্রী তাকে সেই মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে আনবে। অবাধ্য স্বামীকে মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে আনতে তার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈমানদার নেক্কার স্ত্রীকে স্বামীর জন্য সর্বোত্তম সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহ সব নারীকে দ্বীনদার ও ঈমানদার হিসেবে কবুল করুন। পৃথিবীর সব মুমিন নারীকে নেককার সন্তান, নেককার স্ত্রী ও নেককার মা হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বিস্তারিত খবর

মহররম ও আশুরার শিক্ষা

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-০৭ ০৬:৪০:৪২

হজরত মুহাম্মদ সা:-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের দিন অর্থাৎ ৬২২ খ্রিষ্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে হিজরি সন গণনা করা হয়। মহান আল্লাহ তায়ালা হিজরি সনের যে চারটি মাসকে সম্মানিত করেছেন তা হলো জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও সফর। এ চারটি মাসের মধ্যে মহররম অন্যতম ফজিলতপূর্ণ, বরকতময় মাস। হিজরি বছরের পয়লা মাস এবং বর্ষপঞ্জি খলিফা আমিরুল মুমিনিন হজরত ওমর রা:-এর শাসনামলে ১৭ হিজরি বা রাসূলের ইন্তেকালের সাত বছর পর প্রচলন করা হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী বিশ্বমুসলিমকে নতুন প্রেরণায় উদ্দীপ্ত করে আসছে হিজরি সন।

ইসলামের ইতিহাসে মহররম মাসটি বিশেষ তাৎপর্যমণ্ডিত। আকাশ-জমিন সৃষ্টিসহ অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা এ মাসের ১০ তারিখে অর্থাৎ আশুরার দিনেই সংঘটিত হয়েছিল। পৃথিবীতে অনেক স্মরণীয় ও যুগান্তকারী ঘটনা এ দিন ঘটেছিল। মহররম সংগ্রামী শিক্ষার এবং আত্মসচেতনতার মাস। মুসলমানদের ঐতিহ্যবাহী চেতনা খুঁজে পাওয়ার মাস। মহররম আসে দায়িত্ব পালনে সাহসিকতার পথপ্রদর্শক হিসেবে। আসে নির্ভীকভাবে পথ চলার কল্যাণময় শুভ বার্তা নিয়ে। মহররম আসে পুরনো বছরের জরাজীর্ণতাকে ধুয়ে মুছে নতুন সাজে সজ্জিত করতে। এ মাস আসে আমাদের নতুন শপথ ও প্রত্যয় গ্রহণের অঙ্গীকার নিয়ে। মহররম মাস এলে মুসলিম বিশ্বে জেগে ওঠে ইসলামী সংস্কৃতি।

এ মাসে বহু উল্লেখযোগ্য ও ইতিহাসপ্রসিদ্ধ ঘটনা সঙ্ঘটিত হওয়ায় বিভিন্ন দিক দিয়ে এ গুরুত্ব অপরিসীম। মহররমের দশম দিবসে অর্থাৎ আশুরার দিনে সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনাবলির মধ্যে- (১) পৃথিবীর সৃষ্টি ও ধ্বংস (২) প্রথম মানব হজরত আদম আ:-কে সৃষ্টি করা এবং একই দিনে তাঁর জান্নাতে প্রবেশ (৩) হজরত আদম আ:-কে জান্নাত থেকে দুনিয়ায় প্রেরণ এবং গুনাহ মার্জনার পর তার সাথে বিবি হাওয়াকে আরাফাতের ময়দানে জাবালে রহমতে পুনঃসাক্ষাৎ লাভ (৪) ১৮ বছর রোগ ভোগের পর হজরত আইউব আ:-কে সুস্থতাদান (৫) হজরত ইদ্রিস আ:-কে আকাশে উত্তোলন (৬) হজরত নূহ আ:-কে তুফান ও প্লাবন থেকে পরিত্রাণ প্রদান (৭) হজরত ইব্রাহিম আ:-কে অগ্নিকুণ্ড থেকে নিষ্কৃতি দেয়া (৮) হজরত দাউদ আ:-কে বিশেষ ক্ষমা প্রদান (৯) হজরত সোলায়মান আ:-কে হারানো বাদশাহী ফিরিয়ে দেয়া (১০) হজরত ইউনূস আ:-কে ৪০ দিন পর মাছের উদর থেকে উদ্ধার (১১) হজরত ইয়াকুব আ: কর্তৃক হারানো পুত্র হজরত ইউসুফ আ:-এর সাথে সাক্ষাৎ লাভ (১২) হজরত মুসা আ:-এর ফিরাউনের কবল থেকে মুক্তি লাভ (১৩) হজরত ঈসা আ:-কে জীবিতাবস্থায় আকাশে উত্তোলন (১৪) সর্বশ্রেষ্ঠ ও প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ সা: মক্কা শরিফ থেকে হিজরত করে মদিনা শরিফে আগমন (১৫) হজরত ইমাম হুসাইন রা: এবং তার ৭৭ ঘনিষ্ঠজন স্বৈরশাসক ইয়াজিদের সৈন্য কর্তৃক কারবালা প্রান্তরে নির্মমভাবে শহাদতবরণ প্রভৃতি প্রণিধানযোগ্য। মহররম মাসেই ফেরেশতাদের দিয়ে প্রথম সৃষ্ট মুসলমানদের পুণ্যভূমি কাবাগৃহ তৈরি করা হয়। এ দিনেই তুর পাহাড়ের পাদদেশে হজরত মুসা আ:-এর আল্লাহ পাকের সাথে কথা বলার সৌভাগ্য অর্জন এবং মুসা আ: নবুওয়াত ও তাওরাত কিতাব লাভ করেছিলেন।

আরবি চান্দ্রবর্ষ তথা হিজরি সালের মর্যাদাপূর্ণ পবিত্র আশুরা ঐতিহাসিক ঘটনাবহুল ও ব্যাপক তাৎপর্যময় দিবস। অন্যায়ের প্রতিবাদ, ন্যায় ও সত্য আদর্শের জন্য আত্মত্যাগের মহিমান্বিত স্মৃতিবিজড়িত কারবালার শোকাবহ মর্মস্পর্শী হৃদয়বিদারক ও বিষাদময় ঘটনা সংঘটিত হয় এ দিন। ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ, অর্থাৎ ৬১ হিজরি সালে ১০ মহররম আশুরার দিনে ইরাকের কুফা নগরীর অদূরে, ফোরাত নদীর তীরবর্তী কারবালা প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হুসাইন রা: বিশ্বাসঘাতক ও অত্যাচারী শাসক ইয়াজিদের নিষ্ঠুর সেনাবাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ হয়ে পরিবার পরিজনসহ ৭২ জন সঙ্গীসমেত নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করেন। ১০ মহররম আশুরার দিনে বিষাদ সিন্ধুসংবলিত কারবালার এ নির্মম ঘটনা ইসলামের জন্য আত্মত্যাগের দীক্ষা এবং জিহাদের শিক্ষা। অন্যায়কে প্রতিরোধ করে সত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার আদর্শ আমরা এ ঘটনা থেকে গ্রহণ করতে পারি। জীবন উৎসর্গের মাধ্যমে কারবালার শহীদরা ন্যায়, সত্য ও আদর্শকে চিরভাস্বর করে রেখে গেছেন। সেই হৃদয়ভাঙা বেদনাকে স্মরণ করে ১০ মহররম মুসলিম বিশ্ব এই শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা এবং ইবাদত বন্দেগি করে থাকে।

হজরত মুহাম্মদ সা: ইরশাদ করেছেন, মহররম মাসের আশুরার দিনে রোজা রাখলে আগের এক বছরের গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেন। এ মাসে হজরত রাসূল্লাহ সা:-এর প্রতি অধিকসংখ্যক দরুদ ও সালাম পেশ, নফল নামাজ আদায়, কুরআন মজিদ তিলাওয়াত, আশুরার দিনে এবং অন্য দিনেও রোজা পালন, হাদিস শরিফ অধ্যয়ন, দান-সাদকাহ প্রভৃতির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য- বিশেষভাবে ইসলামের কল্যাণে জীবনকে নিবেদিত করা উচিত। আশুরার রজনী এক মহিমান্বিত, সম্মানিত, বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, পুণ্যময়, বরকতময় ও মহাপবিত্র রাত্রি। এ রজনীতে উম্মতে মুহাম্মদির মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করা হয়। এ রজনীর শ্রেষ্ঠত্ব ও মাহাত্ম্য বিপুল ও সুদূরপ্রসারী। ইসলামে বিরাট গুরুত্ব মূল্যবোধ ও নৈতিকতার। ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা না থাকলে সমাজে কেউ নিরাপদ থাকে না। মহররম সব অন্যায়, পাপাচার, অনাচার ও সহিংসতাকে বিসর্জন দিয়ে আমাদের মানসিক, দৈহিক ও আত্মিকভাবে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার শাশ্বত শিক্ষা দেয়।

বিস্তারিত খবর

আকীকার ফজিলত ও আহকাম

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-০৫ ০৪:১৯:১৪

আকীকা শব্দটি আরবী। এর শাব্দিক অর্থ হল, নবজাতকের মাথার জন্মলগ্নের চুল। যেমন বলা হয়, নবজাতকের আকীকা করা হয়েছে, এর অর্থ হলো তার মাথার চুল কামিয়ে দেয়া হয়েছে। আর ইসলামী শরীয়তে আকীকা বলতে বোঝায়, নবজাতকের জন্মের পর তার পক্ষ থেকে আল্লাহর নামে নির্দিষ্ট জন্তু যবেহ করা।

এটাকেই মানুষ আকীকা বলে জানে। কেউ এই বিষয়ে মতবিরোধ করেছেন বলে আমার জানা নেই। আকীকার ফজিলত : হাদীস শরীফে আকীকার অনেক গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। সহীহ বুখারীর হাদীসে আছে, ‘হযরত সালমান ইবনে আমের রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, প্রত্যেক সন্তানের সাথে একটি আকীকা নিবন্ধিত রয়েছে। সুতরাং তার পক্ষ হতে রক্ত প্রবাহিত কর এবং আপদ-বিপদ দুরীভূত কর। (সহীহ বুখারী : ৫৪৭১; ২/৮২২)।

হাদীস শরীফে আরও বলা হয়েছে, ‘হযরত সামুরাহ ইবনে জুন্দুর রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, প্রত্যেক সন্তান তার আকীকার সাথে বন্ধনকৃত। তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে জন্তু যবেহ করবে এবং তার মাথার চুল মুন্ডন করে নাম রাখবে। সুনানে নাসায়ী : ৪২২০; ২/১৬৭)।

আকীকার মাসআলা: উপরোক্ত হাদীসসমূহের আলোকে একথা প্রমাণিত হয় যে, আকীকা করা ওয়াজিব নয়; বরং সুন্নাত বা মুস্তাহাব। ছেলে অথবা মেয়ে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর সপ্তম দিবসে তার নাম রাখা এবং আকীকা করা সুন্নাত। যদি কেউ সপ্তম দিবসে আকীকা করতে অপারগ হয়, তবে ১৪ অথবা ২১তম দিবসে বা এরূপ সাতদিন অন্তর যে কোনো দিন আকীকা করা উত্তম। তবে এতে প্রথম সাত দিনে করার যে সওয়াব রয়েছে, তা থেকে বঞ্চিত হতে হবে।

আকীকার নিয়ম হল, ভ‚মিষ্ঠ সন্তান ছেলে হলে তার আকীকা দু’টি ছাগল অথবা দু’টি ভেড়া, আর মেয়ে হলে একটি ছাগল বা একটি ভেড়া যবেহ করবে। আর কেউ যদি কোরবানির সাথে আকীকা সেরে নিতে চায়, তবে তা বৈধ হবে। যেহেতু কোরবানিতে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিই উদ্দেশ্য থাকে, তেমনি আকীকাতেও একই উদ্দেশ্য থাকে।
তাই আকীকার কারণে কোরবানিতে কোনো সমস্যা হবে না। এটাই অধিকাংশ আলেমদের অভিমত। এখানে ছেলের জন্য দুই শরীক এবং মেয়ের জন্য এক শরীক রাখবে। কেউ অপারগ হলে ছেলের পক্ষ হতে একটি ছাগল বা ভেড়া অথবা গরুর এক অংশ দ্বারা আকীকা করা জায়েজ হবে। (সুনানে নাসায়ী : ৪৫৩১)।

একটি গরুর মধ্যে যেমন কোরবানির সাত অংশ থাকে, তেমনি আকীকাতেও সাত অংশ হতে পারে। (কিফায়াতুল মুফতী : ৮ নং খন্ড)। যে জন্তু দ্বারা কোরবানি জায়েজ, সেসব জন্তু দ্বারা আকীকাও জায়েজ। আর যে জন্তু দ্বারা কোরবানি হয় না, তা দ্বারা আকীকাও সহীহ হবে না। (বেহেশতি জেওড় : ৩ নং খন্ড)। আকীকার গোস্ত সন্তানের পিতা-মাতা, দাদা-দাদী ও নানা-নানী, ভাই-বোনসহ সকলে খেতে পারবে।

এমনকি কেউ বড় হয়ে আকীকা করলে সে নিজেও আকীকার গোস্ত খেতে পারবে। তবে আকীকার গোস্তের এক-তৃতীয়াংশ গোস্ত গরিব-মিসকীনদের মাঝে বণ্টন করে দেয়া উত্তম। অবশিষ্ট দুই-তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের খাওয়াতে পারবে। (কিফয়াতুল মুফতি : ৮ নং খন্ড)।

বিস্তারিত খবর

ঘরে দরিদ্রতা প্রবেশ করে যে সাত কারণে

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-০৩ ০১:৪৭:৪৬

দারিদ্র্য হল এমন একটি অর্থনৈতিক অবস্থা, যখন একজন মানুষের জীবনযাত্রার ন্যূনতম মান অর্জন এবং সামান্য আয়ের ফলে জীবনধারণের অপরিহার্য দ্রব্যাদি ক্রয় করার সক্ষমতা হারায়।

ইসলামের দৃষ্টিতে দারিদ্র্য হচ্ছে এমন এক অবস্থা, যা মানব জীবনের অব্যাহত প্রয়োজনীয় পণ্য বা মাধ্যম উভয়েরই অপর্যাপ্ততা বুঝায়।

দরিদ্রতা আসে সাত জিনিসের কারণেঃ
১। তাড়াহুরা করে নামায পড়ার কারণে!
২। দাঁড়িয়ে পেশাব করার কারণে!
৩। পেশাবের জায়গায় অজু করার কারণে!
৪। দাঁড়িয়ে পানি পান করার কারণে!
৫। ফুঁ দিয়ে বাতি নিভানোর কারণে!
৬। দাঁত দিয়ে নখ কাটার কারণে!
৭। পরিধেয় বস্ত্র দ্বারা মুখ সাফ করার কারণে!


সচ্ছলতা আসে সাত জিনিসের কারণেঃ
১। কুরআন তেলাওয়াত করার কারণে।
২।পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার কারণে।
৩। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার কারণে।
৪। দরিদ্র ও অক্ষমদের সাহায্য করার কারণে।
৫। গোনাহের ক্ষমা প্রার্থনা করার কারণে।
৬। পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সদাচরণ করার কারণে।
৭। সকালে সূরা ইয়াসিন এবং সন্ধ্যায় সূরা ওয়াকিয়া তেলাওয়াত করার কারণে।

বিস্তারিত খবর

ঈদ এলো সাম্যের বারতা নিয়ে

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৬-০৪ ০৫:৩৮:৩০

বছর ঘুরে মুসলিম বিশ্বে আবার এসেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সাম্য, ন্যায় আর ভ্রাতেৃত্বের মহান বারতা নিয়ে মুসলমানদের ঘরে ঘরে আজ উৎসবের আমেজ।

কবির ভাষায়,
‘আমির ফকির এক হয়ে যায় যে ঈদেআয় না সবাই যাই ছুটে যাই সে ঈদে,এমনি করে থাকি সবাই জীবনভরযাই ভুলে যাই উঁচু-নিচু, আপন-পর।

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। বছরে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় খুশির দিন। রাত পোহালেই ঈদের আনন্দ উৎসবে মেতে উঠবে সবাই। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং আমেরিকায় ঈদ উদযাপন হবে মঙ্গলবার। আর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ঈদ পালিত তবে বুধবার।

ঈদ নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী উচ্চারণ-
‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদতুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানি  তাগিদতোর সোনা দানা বালাখানা সব রাহে লিল্লাহদে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ।’
কবি ভাষায় ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। হিংসা-বিদ্বেষ ভেদাভেদ ভুলে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মিলিত হই ঈদের এই সীমাহিন আনন্দ উৎসবে।

ঈদুল ফিতর বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। দিনটি মুসলমানদের জন্য বরকতময়ও। হিজরী দ্বিতীয় সন থেকে মুসলমানেরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করে আসছেন। হাদিসে আছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক জাতিরই উৎসবের দিন আছে। আর আমাদের উৎসব হলো ঈদ।’

ঈদের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা গোসল শেষে পবিত্র হয়ে মিষ্টি মুখ করে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন পোশাক পড়ে ঈদের জামায়াতে শরীক হন। নামাজের পর পরিচিত অপরিচিত সবার সঙ্গেই কোলাকুলি, শুভেচ্ছা বিনিময়ের পালা। এরপর সময়-সুযোগ করে আত্মীয়-বন্ধুদের বাড়িতে যাওয়ার ব্যাপার তো রয়েছেই। ঈদে উপহার ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে পরস্পর মিলনমেলার এক আবহ তৈরি হয়। এ সময় ধনী-গরিব ব্যবধান থাকে না। ঈদুল ফিতর ধনী গরিব ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে আপন করে নেয়। সবাইকে নিয়ে আসে এক কাতারে।
দীর্ঘ একমাস তারাবির নামাজ, সাহরি, ইফতার, জাকাত-ফিতরা ইবাদত বন্দেগীসহ সিয়াম সাধনার মধ্যদিয়ে পার করার পর মুসলিম উম্মাহ রোজা ভঙ্গ করে মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য উপহারস্বরূপ এই ঈদুল ফিতর।

একমাস টানা সিয়াম সাধনার পর ঈদের অনাবিল আনন্দ বয়ে আনে এক অপার্থিব অনুভূতি। এ আনন্দ পরকালীন জীবনের জন্য শান্তি ও মুক্তি লাভের এক অনন্য অনুভূতি। তাই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের রমজান শেষে শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখা মাত্রই খুশির জোয়ার বয়ে যায় প্রতিটি রোজাদারের। এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে।
দেশের মতো প্রবাসেও মুসলমানরা সাধ্যমতো উদযাপন করেন ঈদগুলো। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। লস এঞ্জেলেস প্রবাসী কমিউনিটি ইতোমধ্যে ঈদের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছেন। সকালে ঈদের সালাত আদায়ের মাধ্যমে শুরু হবে ঈদের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

সিইও’র শুভেচ্ছা:পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে লস এঞ্জেলেসসহ দেশ-বিদেশের সকল প্রবাসী মুসলমান কমিউনিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এলএ বাংলটাইমসের সিইও আব্দুস সামাদ। এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি সবার সর্বাঙ্গীন কল্যাণ কামনা করে বলেন, সুখে আনন্দে কাটুক সবার ঈদ। ঈদের আলোয় আলোকিত হোক সবার হৃদয়। ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল মানুষ।

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত