যুক্তরাষ্ট্রে আজ শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 06:15am

|   লন্ডন - 12:15am

|   নিউইয়র্ক - 07:15pm

  সর্বশেষ :

  ইসরাইলের অবৈধ বসতির মার্কিন নীতি মানবে না মালয়েশিয়া   ঢাকায় চালু হচ্ছে গাড়িমুক্ত সড়ক   এবার গোটা ভারতেই এনআরসি চাইছে বিজেপি সরকার   উন্নত দেশ গড়তে একযোগে কাজ করার আহবান প্রধানমন্ত্রীর   ছোট ভাই প্রেসিডেন্ট হয়েই বড়ভাইকে করলেন প্রধানমন্ত্রী   সিরিয়ায় সরকারি বাহিনীর হামলায় শিশুসহ নিহত ১৮   মোদির কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলেন পাকিস্তানি রাজনীতিক   সৌদি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী   মুনার পক্ষ থেকে মরহুম শামীম মানসুরের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান   ডিজিটাল হচ্ছে সিলেট বিভাগ, অনলাইনেই সকল সেবা   ফ্লাইট এসেছে, পেঁয়াজ আসেনি   শ্রমিক ধর্মঘটে বিভিন্ন জেলায় বাস বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে মানুষ   গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপিকে কুক্ষিগত করে রাখতে চান ওয়াশিংটনের নেতারা   খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ওয়াশিংটনে বিএনপির বিক্ষোভ   ককপিটে কেবিন ক্রুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ বাংলাদেশ বিমানের পাইলটের বিরুদ্ধে

>>  ইসলামী জীবন এর সকল সংবাদ

হারাম উপার্জন সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলে

ইসলাম ধর্মমতে সব ধরনের ইবাদত-বন্দেগি কবুল হওয়ার জন্য রিজিক হালাল হওয়া জরুরি। হালাল রিজিকের প্রভাব শুধু নিজের দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্যের জন্যই যে জরুরি তা নয়, নিজের সন্তানের ওপরও এর প্রভাব থাকে। রুজি-রোজগারে খুব সামান্য, এমনকি বিন্দু পরিমাণ হারামের প্রভাব সন্তানের মাঝে প্রকাশ পায়। মানুষ হিসেবে আমরা ভুল-ক্রুটির ঊর্ধ্বে নই। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, জেনে না জেনে আমাদের থেকে ভুল আচরণ প্রকাশ পেতেই পারে।

আমাদের জীবনে যদি এ জাতীয় ঘটনা ঘটে থাকে। অর্থাৎ আমরা যদি অন্যের কোনো কিছু ভোগ করে থাকি বিনা অনুমতিতে এবং এ জন্য পরে মালিকের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা না করি- তাহলে

বিস্তারিত খবর

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ৫ গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১৪ ১১:৪৭:৩৯


মিশকাত শরিফে বর্ণিত এক হাদিসে জনৈক ব্যক্তিকে উপদেশ দিতে গিয়ে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৫টি বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে বলেছেন:
(১) বার্ধক্য আসার পূর্বে যৌবনের।
(২) রোগ হওয়ার পূর্বে স্বাস্হ্যের।
(৩) দরিদ্র আসার পূর্বে স্বচ্ছলতার।
(৪) ব্যস্ত হওয়ার পর্বে অবসরের।
(৫) মৃত্যু আসার পূর্বে জীবনের।

হাদিস শরিফে আরো আছে, প্রজ্ঞা মুমিনের হারানো সম্পদ। (তিরমিজি, ৫/৫১; ইবনে মাজা, ২/১৩৯৫)। সময় বা আয়ু মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার দেয়া শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। রোজ কেয়ামতে কঠিন হাশরের ময়দানে আল্লাহর আদালতে বিচারের সময় প্রতিটি নেয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে।


এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে বলেন,

ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ

‘অতঃপর সেদিন তোমাদের প্রতিটি নেয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে।’ (সূরা: তাকাসুর, আয়াত: ৮)।

বিস্তারিত খবর

স্বামীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ ঈমানদার স্ত্রী

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-০৯ ০৩:২২:৪৩

যে কারণে স্বামীর জন্য ঈমানদার স্ত্রী শ্রেষ্ঠ সম্পদ; হাদিসে সে বিষয়গুলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুস্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করেছেন। তিনি পুরুষের জন্য চারটি বিষয়কে শুভলক্ষণ বলেছেন। আর তা হলো- নেককার নারী, প্রশস্ত ঘর, সৎ প্রতিবেশী এবং সহজ প্রকৃতির আনুগত্যশীল-পোষ্য বাহন। পক্ষান্তরে চারটি জিনিসকে কুলক্ষণা বলেছেন। তার মধ্যে একটি হলো বদকার নারী। (হাকেম, সহিহ আল জামে)

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন ঈমানদার স্ত্রীকে তার স্বামীর জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হাদিসটি তুলে ধরা হলো-

হজরত ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘যখন এ আয়াত নাজিল হলো- ‘আর যারা সোনা-রূপা সঞ্চয় করে (আয়াতের শেষ পর্যন্ত); তখন আমরা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে কোনো এক সফরে ছিলাম।

তখন তাঁর এক সাহাবি বললেন, ‘এটাতো (আয়াত) সোনা-রূপা সর্ম্পকে নাজিল হলো। আমরা যদি জানতে পারতাম কোন সম্পদ উত্তম, তবে তা সঞ্চয় করতাম।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তোমাদের কারো শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো-
>> আল্লাহর জিকিরকারী রসনা (জিহ্বা);
>> কৃতজ্ঞ অন্তর; এবং
>> ঈমানদার স্ত্রী, যে তার ঈমানের (দ্বীনের) ব্যাপারে তাকে (স্বামীকে) সহযোগিতা করে। (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মিশকাত)

হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘মাজাহেরে হক’ এ হাদিসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা বর্ণনা করেছেন। এ হাদিসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈমানদার স্ত্রীর ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন। একজন ঈমানদার স্ত্রী তার স্বামীর জন্য সর্বোত্তম সম্পদও বটে।

দ্বীনের ব্যাপারে স্বামীকে সহযোগিতার মর্মার্থ হলো- ঈমানদার স্ত্রী ধর্মীয় কার্যক্রম ও দ্বীনি দায়িত্বসমূহ পালনের ক্ষেত্রে তার স্বামীকে সহযোগিতা করবে। যেমন-

নামাজের সময় হলে তার স্বামীকে নামাজের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে; রমজান মাসের রোজা রাখার ব্যাপারে স্বামীকে সহযোগিতা করবে।

অনুরূপভাবে একজন ঈমানদার স্ত্রী তার স্বামীকে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি, পরিবারের আনুসাঙ্গিক কাজকর্মসহ অন্যান্য সব ইবাদত-বন্দেগিতেও স্বামীকে বুদ্ধি পরামর্শ ও উপদেশ দিয়ে যথাসাধ্য সহযোগিতা করবে।

ঈমানদার স্ত্রী বাড়িতে এমন পরিবেশ এবং আবহ সৃষ্টি করবে, যাতে স্বামী সারাক্ষণ পূণ্যকর্মে লিপ্ত থাকেন। অপকর্ম, অবৈধ উপার্জন এবং হারাম পেশা থেকে বিরত থাকেন।

এমনকি স্বামী যদি কোনো মন্দ কাজে লিপ্ত হন তবে ঈমানদার স্ত্রী তাকে সেই মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে আনবে। অবাধ্য স্বামীকে মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে আনতে তার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈমানদার নেক্কার স্ত্রীকে স্বামীর জন্য সর্বোত্তম সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহ সব নারীকে দ্বীনদার ও ঈমানদার হিসেবে কবুল করুন। পৃথিবীর সব মুমিন নারীকে নেককার সন্তান, নেককার স্ত্রী ও নেককার মা হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বিস্তারিত খবর

মহররম ও আশুরার শিক্ষা

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-০৭ ০৬:৪০:৪২

হজরত মুহাম্মদ সা:-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের দিন অর্থাৎ ৬২২ খ্রিষ্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে হিজরি সন গণনা করা হয়। মহান আল্লাহ তায়ালা হিজরি সনের যে চারটি মাসকে সম্মানিত করেছেন তা হলো জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও সফর। এ চারটি মাসের মধ্যে মহররম অন্যতম ফজিলতপূর্ণ, বরকতময় মাস। হিজরি বছরের পয়লা মাস এবং বর্ষপঞ্জি খলিফা আমিরুল মুমিনিন হজরত ওমর রা:-এর শাসনামলে ১৭ হিজরি বা রাসূলের ইন্তেকালের সাত বছর পর প্রচলন করা হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী বিশ্বমুসলিমকে নতুন প্রেরণায় উদ্দীপ্ত করে আসছে হিজরি সন।

ইসলামের ইতিহাসে মহররম মাসটি বিশেষ তাৎপর্যমণ্ডিত। আকাশ-জমিন সৃষ্টিসহ অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা এ মাসের ১০ তারিখে অর্থাৎ আশুরার দিনেই সংঘটিত হয়েছিল। পৃথিবীতে অনেক স্মরণীয় ও যুগান্তকারী ঘটনা এ দিন ঘটেছিল। মহররম সংগ্রামী শিক্ষার এবং আত্মসচেতনতার মাস। মুসলমানদের ঐতিহ্যবাহী চেতনা খুঁজে পাওয়ার মাস। মহররম আসে দায়িত্ব পালনে সাহসিকতার পথপ্রদর্শক হিসেবে। আসে নির্ভীকভাবে পথ চলার কল্যাণময় শুভ বার্তা নিয়ে। মহররম আসে পুরনো বছরের জরাজীর্ণতাকে ধুয়ে মুছে নতুন সাজে সজ্জিত করতে। এ মাস আসে আমাদের নতুন শপথ ও প্রত্যয় গ্রহণের অঙ্গীকার নিয়ে। মহররম মাস এলে মুসলিম বিশ্বে জেগে ওঠে ইসলামী সংস্কৃতি।

এ মাসে বহু উল্লেখযোগ্য ও ইতিহাসপ্রসিদ্ধ ঘটনা সঙ্ঘটিত হওয়ায় বিভিন্ন দিক দিয়ে এ গুরুত্ব অপরিসীম। মহররমের দশম দিবসে অর্থাৎ আশুরার দিনে সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনাবলির মধ্যে- (১) পৃথিবীর সৃষ্টি ও ধ্বংস (২) প্রথম মানব হজরত আদম আ:-কে সৃষ্টি করা এবং একই দিনে তাঁর জান্নাতে প্রবেশ (৩) হজরত আদম আ:-কে জান্নাত থেকে দুনিয়ায় প্রেরণ এবং গুনাহ মার্জনার পর তার সাথে বিবি হাওয়াকে আরাফাতের ময়দানে জাবালে রহমতে পুনঃসাক্ষাৎ লাভ (৪) ১৮ বছর রোগ ভোগের পর হজরত আইউব আ:-কে সুস্থতাদান (৫) হজরত ইদ্রিস আ:-কে আকাশে উত্তোলন (৬) হজরত নূহ আ:-কে তুফান ও প্লাবন থেকে পরিত্রাণ প্রদান (৭) হজরত ইব্রাহিম আ:-কে অগ্নিকুণ্ড থেকে নিষ্কৃতি দেয়া (৮) হজরত দাউদ আ:-কে বিশেষ ক্ষমা প্রদান (৯) হজরত সোলায়মান আ:-কে হারানো বাদশাহী ফিরিয়ে দেয়া (১০) হজরত ইউনূস আ:-কে ৪০ দিন পর মাছের উদর থেকে উদ্ধার (১১) হজরত ইয়াকুব আ: কর্তৃক হারানো পুত্র হজরত ইউসুফ আ:-এর সাথে সাক্ষাৎ লাভ (১২) হজরত মুসা আ:-এর ফিরাউনের কবল থেকে মুক্তি লাভ (১৩) হজরত ঈসা আ:-কে জীবিতাবস্থায় আকাশে উত্তোলন (১৪) সর্বশ্রেষ্ঠ ও প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ সা: মক্কা শরিফ থেকে হিজরত করে মদিনা শরিফে আগমন (১৫) হজরত ইমাম হুসাইন রা: এবং তার ৭৭ ঘনিষ্ঠজন স্বৈরশাসক ইয়াজিদের সৈন্য কর্তৃক কারবালা প্রান্তরে নির্মমভাবে শহাদতবরণ প্রভৃতি প্রণিধানযোগ্য। মহররম মাসেই ফেরেশতাদের দিয়ে প্রথম সৃষ্ট মুসলমানদের পুণ্যভূমি কাবাগৃহ তৈরি করা হয়। এ দিনেই তুর পাহাড়ের পাদদেশে হজরত মুসা আ:-এর আল্লাহ পাকের সাথে কথা বলার সৌভাগ্য অর্জন এবং মুসা আ: নবুওয়াত ও তাওরাত কিতাব লাভ করেছিলেন।

আরবি চান্দ্রবর্ষ তথা হিজরি সালের মর্যাদাপূর্ণ পবিত্র আশুরা ঐতিহাসিক ঘটনাবহুল ও ব্যাপক তাৎপর্যময় দিবস। অন্যায়ের প্রতিবাদ, ন্যায় ও সত্য আদর্শের জন্য আত্মত্যাগের মহিমান্বিত স্মৃতিবিজড়িত কারবালার শোকাবহ মর্মস্পর্শী হৃদয়বিদারক ও বিষাদময় ঘটনা সংঘটিত হয় এ দিন। ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ, অর্থাৎ ৬১ হিজরি সালে ১০ মহররম আশুরার দিনে ইরাকের কুফা নগরীর অদূরে, ফোরাত নদীর তীরবর্তী কারবালা প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হুসাইন রা: বিশ্বাসঘাতক ও অত্যাচারী শাসক ইয়াজিদের নিষ্ঠুর সেনাবাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ হয়ে পরিবার পরিজনসহ ৭২ জন সঙ্গীসমেত নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করেন। ১০ মহররম আশুরার দিনে বিষাদ সিন্ধুসংবলিত কারবালার এ নির্মম ঘটনা ইসলামের জন্য আত্মত্যাগের দীক্ষা এবং জিহাদের শিক্ষা। অন্যায়কে প্রতিরোধ করে সত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার আদর্শ আমরা এ ঘটনা থেকে গ্রহণ করতে পারি। জীবন উৎসর্গের মাধ্যমে কারবালার শহীদরা ন্যায়, সত্য ও আদর্শকে চিরভাস্বর করে রেখে গেছেন। সেই হৃদয়ভাঙা বেদনাকে স্মরণ করে ১০ মহররম মুসলিম বিশ্ব এই শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা এবং ইবাদত বন্দেগি করে থাকে।

হজরত মুহাম্মদ সা: ইরশাদ করেছেন, মহররম মাসের আশুরার দিনে রোজা রাখলে আগের এক বছরের গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেন। এ মাসে হজরত রাসূল্লাহ সা:-এর প্রতি অধিকসংখ্যক দরুদ ও সালাম পেশ, নফল নামাজ আদায়, কুরআন মজিদ তিলাওয়াত, আশুরার দিনে এবং অন্য দিনেও রোজা পালন, হাদিস শরিফ অধ্যয়ন, দান-সাদকাহ প্রভৃতির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য- বিশেষভাবে ইসলামের কল্যাণে জীবনকে নিবেদিত করা উচিত। আশুরার রজনী এক মহিমান্বিত, সম্মানিত, বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, পুণ্যময়, বরকতময় ও মহাপবিত্র রাত্রি। এ রজনীতে উম্মতে মুহাম্মদির মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করা হয়। এ রজনীর শ্রেষ্ঠত্ব ও মাহাত্ম্য বিপুল ও সুদূরপ্রসারী। ইসলামে বিরাট গুরুত্ব মূল্যবোধ ও নৈতিকতার। ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা না থাকলে সমাজে কেউ নিরাপদ থাকে না। মহররম সব অন্যায়, পাপাচার, অনাচার ও সহিংসতাকে বিসর্জন দিয়ে আমাদের মানসিক, দৈহিক ও আত্মিকভাবে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার শাশ্বত শিক্ষা দেয়।

বিস্তারিত খবর

আকীকার ফজিলত ও আহকাম

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-০৫ ০৪:১৯:১৪

আকীকা শব্দটি আরবী। এর শাব্দিক অর্থ হল, নবজাতকের মাথার জন্মলগ্নের চুল। যেমন বলা হয়, নবজাতকের আকীকা করা হয়েছে, এর অর্থ হলো তার মাথার চুল কামিয়ে দেয়া হয়েছে। আর ইসলামী শরীয়তে আকীকা বলতে বোঝায়, নবজাতকের জন্মের পর তার পক্ষ থেকে আল্লাহর নামে নির্দিষ্ট জন্তু যবেহ করা।

এটাকেই মানুষ আকীকা বলে জানে। কেউ এই বিষয়ে মতবিরোধ করেছেন বলে আমার জানা নেই। আকীকার ফজিলত : হাদীস শরীফে আকীকার অনেক গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। সহীহ বুখারীর হাদীসে আছে, ‘হযরত সালমান ইবনে আমের রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, প্রত্যেক সন্তানের সাথে একটি আকীকা নিবন্ধিত রয়েছে। সুতরাং তার পক্ষ হতে রক্ত প্রবাহিত কর এবং আপদ-বিপদ দুরীভূত কর। (সহীহ বুখারী : ৫৪৭১; ২/৮২২)।

হাদীস শরীফে আরও বলা হয়েছে, ‘হযরত সামুরাহ ইবনে জুন্দুর রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, প্রত্যেক সন্তান তার আকীকার সাথে বন্ধনকৃত। তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে জন্তু যবেহ করবে এবং তার মাথার চুল মুন্ডন করে নাম রাখবে। সুনানে নাসায়ী : ৪২২০; ২/১৬৭)।

আকীকার মাসআলা: উপরোক্ত হাদীসসমূহের আলোকে একথা প্রমাণিত হয় যে, আকীকা করা ওয়াজিব নয়; বরং সুন্নাত বা মুস্তাহাব। ছেলে অথবা মেয়ে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর সপ্তম দিবসে তার নাম রাখা এবং আকীকা করা সুন্নাত। যদি কেউ সপ্তম দিবসে আকীকা করতে অপারগ হয়, তবে ১৪ অথবা ২১তম দিবসে বা এরূপ সাতদিন অন্তর যে কোনো দিন আকীকা করা উত্তম। তবে এতে প্রথম সাত দিনে করার যে সওয়াব রয়েছে, তা থেকে বঞ্চিত হতে হবে।

আকীকার নিয়ম হল, ভ‚মিষ্ঠ সন্তান ছেলে হলে তার আকীকা দু’টি ছাগল অথবা দু’টি ভেড়া, আর মেয়ে হলে একটি ছাগল বা একটি ভেড়া যবেহ করবে। আর কেউ যদি কোরবানির সাথে আকীকা সেরে নিতে চায়, তবে তা বৈধ হবে। যেহেতু কোরবানিতে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিই উদ্দেশ্য থাকে, তেমনি আকীকাতেও একই উদ্দেশ্য থাকে।
তাই আকীকার কারণে কোরবানিতে কোনো সমস্যা হবে না। এটাই অধিকাংশ আলেমদের অভিমত। এখানে ছেলের জন্য দুই শরীক এবং মেয়ের জন্য এক শরীক রাখবে। কেউ অপারগ হলে ছেলের পক্ষ হতে একটি ছাগল বা ভেড়া অথবা গরুর এক অংশ দ্বারা আকীকা করা জায়েজ হবে। (সুনানে নাসায়ী : ৪৫৩১)।

একটি গরুর মধ্যে যেমন কোরবানির সাত অংশ থাকে, তেমনি আকীকাতেও সাত অংশ হতে পারে। (কিফায়াতুল মুফতী : ৮ নং খন্ড)। যে জন্তু দ্বারা কোরবানি জায়েজ, সেসব জন্তু দ্বারা আকীকাও জায়েজ। আর যে জন্তু দ্বারা কোরবানি হয় না, তা দ্বারা আকীকাও সহীহ হবে না। (বেহেশতি জেওড় : ৩ নং খন্ড)। আকীকার গোস্ত সন্তানের পিতা-মাতা, দাদা-দাদী ও নানা-নানী, ভাই-বোনসহ সকলে খেতে পারবে।

এমনকি কেউ বড় হয়ে আকীকা করলে সে নিজেও আকীকার গোস্ত খেতে পারবে। তবে আকীকার গোস্তের এক-তৃতীয়াংশ গোস্ত গরিব-মিসকীনদের মাঝে বণ্টন করে দেয়া উত্তম। অবশিষ্ট দুই-তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের খাওয়াতে পারবে। (কিফয়াতুল মুফতি : ৮ নং খন্ড)।

বিস্তারিত খবর

ঘরে দরিদ্রতা প্রবেশ করে যে সাত কারণে

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-০৩ ০১:৪৭:৪৬

দারিদ্র্য হল এমন একটি অর্থনৈতিক অবস্থা, যখন একজন মানুষের জীবনযাত্রার ন্যূনতম মান অর্জন এবং সামান্য আয়ের ফলে জীবনধারণের অপরিহার্য দ্রব্যাদি ক্রয় করার সক্ষমতা হারায়।

ইসলামের দৃষ্টিতে দারিদ্র্য হচ্ছে এমন এক অবস্থা, যা মানব জীবনের অব্যাহত প্রয়োজনীয় পণ্য বা মাধ্যম উভয়েরই অপর্যাপ্ততা বুঝায়।

দরিদ্রতা আসে সাত জিনিসের কারণেঃ
১। তাড়াহুরা করে নামায পড়ার কারণে!
২। দাঁড়িয়ে পেশাব করার কারণে!
৩। পেশাবের জায়গায় অজু করার কারণে!
৪। দাঁড়িয়ে পানি পান করার কারণে!
৫। ফুঁ দিয়ে বাতি নিভানোর কারণে!
৬। দাঁত দিয়ে নখ কাটার কারণে!
৭। পরিধেয় বস্ত্র দ্বারা মুখ সাফ করার কারণে!


সচ্ছলতা আসে সাত জিনিসের কারণেঃ
১। কুরআন তেলাওয়াত করার কারণে।
২।পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার কারণে।
৩। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার কারণে।
৪। দরিদ্র ও অক্ষমদের সাহায্য করার কারণে।
৫। গোনাহের ক্ষমা প্রার্থনা করার কারণে।
৬। পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সদাচরণ করার কারণে।
৭। সকালে সূরা ইয়াসিন এবং সন্ধ্যায় সূরা ওয়াকিয়া তেলাওয়াত করার কারণে।

বিস্তারিত খবর

ঈদ এলো সাম্যের বারতা নিয়ে

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৬-০৪ ০৫:৩৮:৩০

বছর ঘুরে মুসলিম বিশ্বে আবার এসেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সাম্য, ন্যায় আর ভ্রাতেৃত্বের মহান বারতা নিয়ে মুসলমানদের ঘরে ঘরে আজ উৎসবের আমেজ।

কবির ভাষায়,
‘আমির ফকির এক হয়ে যায় যে ঈদেআয় না সবাই যাই ছুটে যাই সে ঈদে,এমনি করে থাকি সবাই জীবনভরযাই ভুলে যাই উঁচু-নিচু, আপন-পর।

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। বছরে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় খুশির দিন। রাত পোহালেই ঈদের আনন্দ উৎসবে মেতে উঠবে সবাই। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং আমেরিকায় ঈদ উদযাপন হবে মঙ্গলবার। আর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ঈদ পালিত তবে বুধবার।

ঈদ নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী উচ্চারণ-
‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদতুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানি  তাগিদতোর সোনা দানা বালাখানা সব রাহে লিল্লাহদে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ।’
কবি ভাষায় ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। হিংসা-বিদ্বেষ ভেদাভেদ ভুলে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মিলিত হই ঈদের এই সীমাহিন আনন্দ উৎসবে।

ঈদুল ফিতর বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। দিনটি মুসলমানদের জন্য বরকতময়ও। হিজরী দ্বিতীয় সন থেকে মুসলমানেরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করে আসছেন। হাদিসে আছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক জাতিরই উৎসবের দিন আছে। আর আমাদের উৎসব হলো ঈদ।’

ঈদের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা গোসল শেষে পবিত্র হয়ে মিষ্টি মুখ করে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন পোশাক পড়ে ঈদের জামায়াতে শরীক হন। নামাজের পর পরিচিত অপরিচিত সবার সঙ্গেই কোলাকুলি, শুভেচ্ছা বিনিময়ের পালা। এরপর সময়-সুযোগ করে আত্মীয়-বন্ধুদের বাড়িতে যাওয়ার ব্যাপার তো রয়েছেই। ঈদে উপহার ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে পরস্পর মিলনমেলার এক আবহ তৈরি হয়। এ সময় ধনী-গরিব ব্যবধান থাকে না। ঈদুল ফিতর ধনী গরিব ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে আপন করে নেয়। সবাইকে নিয়ে আসে এক কাতারে।
দীর্ঘ একমাস তারাবির নামাজ, সাহরি, ইফতার, জাকাত-ফিতরা ইবাদত বন্দেগীসহ সিয়াম সাধনার মধ্যদিয়ে পার করার পর মুসলিম উম্মাহ রোজা ভঙ্গ করে মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য উপহারস্বরূপ এই ঈদুল ফিতর।

একমাস টানা সিয়াম সাধনার পর ঈদের অনাবিল আনন্দ বয়ে আনে এক অপার্থিব অনুভূতি। এ আনন্দ পরকালীন জীবনের জন্য শান্তি ও মুক্তি লাভের এক অনন্য অনুভূতি। তাই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের রমজান শেষে শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখা মাত্রই খুশির জোয়ার বয়ে যায় প্রতিটি রোজাদারের। এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে।
দেশের মতো প্রবাসেও মুসলমানরা সাধ্যমতো উদযাপন করেন ঈদগুলো। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। লস এঞ্জেলেস প্রবাসী কমিউনিটি ইতোমধ্যে ঈদের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছেন। সকালে ঈদের সালাত আদায়ের মাধ্যমে শুরু হবে ঈদের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

সিইও’র শুভেচ্ছা:পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে লস এঞ্জেলেসসহ দেশ-বিদেশের সকল প্রবাসী মুসলমান কমিউনিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এলএ বাংলটাইমসের সিইও আব্দুস সামাদ। এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি সবার সর্বাঙ্গীন কল্যাণ কামনা করে বলেন, সুখে আনন্দে কাটুক সবার ঈদ। ঈদের আলোয় আলোকিত হোক সবার হৃদয়। ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল মানুষ।

বিস্তারিত খবর

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে আঘাত করলে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠে

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৪-০৮ ০৯:৩৮:৩২

ইসলাম সকল শ্রেণীর মানুষের অধিকারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। সমাজের যারা প্রতিবন্ধীদের অবহেলা ও অবজ্ঞার চোখে দেখে, তাদের মনে রাখা দরকার, (আল্লাহ না করুন) বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও অসুস্থতার কারণে একজন সুস্থ-সবল মানুষও যে কোনো সময় শারীরিক সক্ষমতা হারিয়ে প্রতিবন্ধী হয়ে যেতে পারে।

তাই প্রত্যেক সুস্থ মানুষের উচিত, শারীরিক সুস্থতার জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহমর্মিতার হাত বাড়ানো। কারণ তাদেরও অধিকার রয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাপনের।

ইসলাম প্রতিবন্ধীদের প্রতি সচেতন হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের (বিত্তশালী) ধনসম্পদে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।’ –সূরা জারিয়াত : ১৯। প্রতিবন্ধী, পাগল, অবলা বা নারীদের শরীরে আঘাত করলে আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) সমাজের সব শ্রেণীর মানুষকে সমান চোখে দেখতেন।

মৃদু বাকপ্রতিবন্ধী সাহাবি হজরত বেলালকে (রা.) মসজিদে প্রথম মোয়াজ্জিন নিয়োগ দিয়েছিলেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুমকে (রা.) নবী করিম (সা.) দু’দু’বার মদিনার অস্থায়ী শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।

এমনকি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) যখনই তাকে (আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম) দেখতেন, তখনই বলতেন, ‘স্বাগতম জানাই তাকে, যার সম্পর্কে আমার আল্লাহ আমাকে ভর্ৎসনা করেছেন।’

উল্লেখ্য যে, নবী করিম (সা.) সাহাবি আবদুল্লাহ উম্মে মাকতুমকে (রা.) কোনো এক বিষয়ে অগ্রাধিকার না দেয়ায় আল্লাহতায়ালার সতর্কীকরণের মুখে পড়েন।

ঘটনাটি হলো- একদা নবী করিম (সা.) কোরাইশ নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনারত ছিলেন। এমতাবস্থায় অন্ধ সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.) সেখানে উপস্থিত হয়ে নবী করিমকে (সা.) দ্বীন সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এতে আলোচনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হলে নবী করিম (সা.) কিঞ্চিৎ বিরক্তি প্রকাশ করেন।

নবী করিম (সা.) মক্কার জাত্যভিমানী কোরাইশদের মন রক্ষার্থে অন্ধ সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুমের প্রতি তখন ভ্রুক্ষেপ করলেন না। কিন্তু আল্লাহর কাছে এ বিষয়টি পছন্দনীয় হলো না।

সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবন্ধীদের অধিকারবিষয়ক পবিত্র কোরআনে কারিমের আয়াত নাজিল হয়; যাতে তাদের প্রতি ইসলামের কোমল মনোভাবের প্রকাশ পেয়েছে।

ওই আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘সে ভ্রুকুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল, কারণ তার কাছে অন্ধ লোকটি এল। তুমি কেমন করে জানবে, সে হয়তো পরিশুদ্ধ হতো অথবা উপদেশ গ্রহণ করত।

ফলে উপদেশ তার উপকারে আসত।’ -সূরা আবাসা : ১-৪ এরপর থেকে নবী করিম (সা.) প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে সতর্ক হয়ে যান। তাদের প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে তাদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে থাকেন।

প্রতিবন্ধীদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন নবী করিমের (সা.) সুন্নতও বটে। যেখানে নবীকে (সা.) আল্লাহ সতর্ক করেছেন, সেখানে সাধারণ মানুষ প্রতিবন্ধীদের প্রতি উদাসীনতা দেখালে নিশ্চয়ই আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন, এটা বলাবাহুল্য।

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। সমাজে সেই মানুষেরই একটা অংশ প্রতিবন্ধী। তারা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাছাড়া প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহমর্মিতা পরকালে মুক্তির উসিলা।

মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার ন্যূনতম মৌলিক অধিকারগুলো তাদেরও ন্যায্যপ্রাপ্য। তাই প্রতিবন্ধীদের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা প্রদর্শন ও সহানুভূতিশীল হওয়া অত্যাবশ্যক।

যেমননি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, অসুস্থ (প্রতিবন্ধী) ব্যক্তির খোঁজখবর নাও এবং বন্দীকে মুক্ত করে দাও।’ –সহিহ বোখারি।

বিস্তারিত খবর

২১ এপ্রিল শবে বরাত

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৪-০৬ ১৫:৪৪:৩৮

শনিবার সন্ধ্যায় দেশের আকাশে কোথাও শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এজন্য রোববার রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। আগামী সোমবার থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে। সেই হিসাবে আগামী ২১ এপ্রিল রোববার দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।

সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

শাবান মাসের ১৫তম রাতে (১৪ শাবান দিবাগত রাত) শবে বরাত পালিত হয়। সেই হিসাবে আগামী ২১ এপ্রিল দিবাগত রাতই শবে বরাতের রাত। শবে বরাতের পরের দিন বাংলাদেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি।

শাবান মাস শেষেই মুসলমানদের সবেচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদের আনন্দ বার্তা নিয়ে শুরু হয় সিয়াম সাধনার মাস রমজান। সভায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শনিবার বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪০ হিজরির শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।

লাইলাতুল বরাতের পুণ্যময় রাতটি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াতসহ ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে কাটিয়ে থাকেন।

এলএবাংলাটাইমস/ইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ঋণ থেকে মুক্তি পেতে যে দোয়া পড়তে হয়

 প্রকাশিত: ২০১৮-১২-০৭ ১২:০৮:৪৪

অর্থিক সংকট বা দুরবস্থায় পড়লেই মানুষ অন্য থেকে ঋণ নেয়। সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে ইসলামে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ঋণ কখনও কখনও কারো জীবনে অভিশাপ বয়ে আনে। ঋণদাতাকে যেমন ঋণ আদায় করতে না পারার হাতাশায় ভুগতে হয় তেমনি ঋণগ্রহীতাকেও ঋণদাতার বাক্যবাণে নাজেহাল হতে হয়।

কখনো কখনো ঋণগ্রহীতাকে অসম্মানজনক আচরণের শিকার হতে হয়। তাই ঋণগ্রহীতা সবসময় চান দ্রুত ঋণ পরিশোধ করে অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে।

দ্রুত ঋণমুক্ত হতে সক্ষম হওয়ার জন্য রাসুল (সা.) কিছু আমল ও দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি ঋণ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে অত্যধিক আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।

একবার ঋণ থেকে রক্ষা পেতে প্রার্থনারত অবস্থায় এক ব্যক্তি বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনি ঋণ থেকে খুব বেশি বেশি আশ্রয় প্রার্থনা করে থাকেন!’ নবী কারিম (সা.) বলেন- ‘মানুষ ঋণী হলে, কথা বলতে গিয়ে মিথ্যা বলে এবং অঙ্গীকার করলে, রক্ষা করে না।’ (বোখারি, হাদিস নং : ২৩৯৭)

ঋণগ্রস্ত থাকার সময় রাসুল (সা.) সব সময় বেশি বেশি এই দোয়া পড়তেন- ‘আল্লাহুম্মা! ইন্নি আউযুবিকা মিনাল কাসালি, ওয়াল হারামি, ওয়াল মা’ছামি, ওয়াল মাদরামি।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে অলসতা, অধিক বার্ধক্য, গুনাহ এবং ঋণ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (বোখারি, হাদিস নং ৬০০৭)

রাসুল (সা.) এই দোয়াটিও পড়তেন- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুযনি, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসলি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া গালাবাতিদ দাইনি, ওয়া কাহরির রিজাল।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুশ্চিন্তা, অপারগতা-অলসতা, কৃপণতা এবং কাপুরুষতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। অধিক ঋণ থেকে ও খারাপ লোকের জবরদস্তি থেকেও আশ্রয় চাচ্ছি।’ (নাসাঈ, হাদিস নং : ৫৪৭৮)

এ দোয়াগুলো নিয়মিত পড়লে আল্লাহ তাআলা শিগগির ঋণ থেকে মুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন। আর্থিকভাবে সচ্ছলতা ও স্বাচ্ছন্দ্য দান করবেন।

এলএবাংলাটাইমস/ইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

যুক্তরাষ্ট্রের তিন অধ্যাপকের ইসলামগ্রহণ

 প্রকাশিত: ২০১৮-১২-০২ ১৪:৩০:৩৬

আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব নাইজেরিয়ার (এইউএন) তিন মার্কিন অধ্যাপক ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তারা হলেন, অবসরপ্রাপ্ত আমেরিকান মেরিন অফিসার এবং এইউএন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রধান লিয়নেল রলিনস, এইউএন ইউনিভার্সিটির প্রিন্টিং প্রেসের ডিরেক্টর এবং পরভিস বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেকচারার গ্যাব্রিয়েল ফস্টার এবং ট্রিসন পরভিস।

নাইজেরিয়ার আদামাওয়ার প্রদেশের রাজধানী ইয়োলাতে বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত। ইসলাম গ্রহণকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ইমাম উস্তাজ দাউদা বেলো তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন নতুন এই তিন মুসলিমকে স্বাগত জানান এবং একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন।
তাদের মধ্য রলিনস হচ্ছেন ।

ইসলাম গ্রহণকারী ওই তিনজন বলেন, ধর্মের ওপর ভালভাবে গবেষণা করার পর ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইসলামই জীবনের সেরা পথ বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বিস্তারিত খবর

২১ নভেম্বর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

 প্রকাশিত: ২০১৮-১১-০৯ ০৯:৫১:৪৪

বাংলাদেশের আকাশে আজ ১৪৪০ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। তাই আগামীকাল ১০ নভেম্বর শনিবার থেকে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে।

সে হিসেবে আগামী ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরি, ২১ নভেম্বর ২০১৮ সারাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররমস্থ সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান।

সভায় ১৪৪০ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) হতে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে কমিটি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. খলিলুর রহমান, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দার, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী, ঢাকা জেলার এডিসি (সাধারন) মো. শহিদুজ্জামান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নুরুল ইসলাম, স্পারসো’র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাহ মো. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

হারাম উপার্জন সব বরকত ছিনিয়ে নেয়

 প্রকাশিত: ২০১৮-১১-০৬ ১৩:১৭:০২

মানব জীবনে হারাম উপার্জনের প্রভাব অত্যন্ত মারাত্মক এবং এর পরিণতি সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে বহুবার সতর্ক করা হয়েছে।হারাম উপার্জনের ফলে আল্লাহতায়ালা মানবজীবন থেকে সব ধরনের বরকত ছিনিয়ে নেন। রোগ-ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। আর্থিক অভাব অনটন ও সংকট নেমে আসে।

আধ্যাত্মিকতার জন্য হালাল খাবার হচ্ছে সর্ব প্রথম ধাপ। সুতরাং মানুষকে আধ্যাত্মিকতা অর্জন করতে হলে অবশ্যই হালাল রুজি-রোজগার করার পাশাপাশি তাকে অবশ্যই পবিত্র ও হালাল খাদ্য খেতে হবে।

পবিত্র কুরআন-হাদিস এবং নবী-রাসুল ও ইসলামি স্কলাররা সর্বদা হালাল উপার্জন ও হালাল খাদ্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

তাদের অভিমত হলো- সর্বদা হালাল রুজি অর্জন করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। কেননা তা মানুষকে ধার্মিক হিসেবে বাঁচতে সাহায্য করে।

কুরআনে সুরা মায়েদার ৮৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা ওই সব সুস্বাদু বস্তু হারাম করো না, যেগুলো আল্লাহ তোমাদের জন্যে হালাল করেছেন এবং সীমা অতিক্রম করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমা অতিক্রমকারীদেরকে পছন্দ করেন না।

এই আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে এসেছে, একদিন হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশ্যে কিয়ামতের বর্ণনা প্রসঙ্গে বক্তব্য দিয়েছিলেন। সাহাবিরা রাসুলে খোদার বর্ণনা শুনে এতো বেশি আলোড়িত হলেন এবং কান্নাকাটি করলেন যে, সিদ্ধান্তই নিয়ে নিলেন ভালো খাবার দাবার ছেড়ে দেবেন। আরাম-আয়েশ, নিজের সুখ শান্তিকে হারাম করে ফেলবেন। রাতগুলো ইবাদত-বন্দেগিতে কাটিয়ে দেবেন। দিনের বেলা রোজা রাখবেন, দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী সঙ্গ ত্যাগ করবেন এমনকি এই সিদ্ধান্তের ওপর তারা স্থির অবিচল থাকবেন বলে শপথও নিয়েছিলেন। 

নবী করিম (সা.) এই খবর শুনতে পেয়ে লোকজনকে মসজিদে সমবেত করে বললেন, আমাদের দ্বীন ইসলাম সংসারত্যাগী বৈরাগ্যদের দ্বীন নয়। আমি আল্লাহর রাসুল হওয়ার পরও ঘর এবং পরিবারের কাছ থেকে পৃথক হইনি। তাদের সঙ্গে খাবার খাই, আমার স্ত্রীদের সঙ্গে দাম্পত্য জীবনযাপন করি। জেনে রেখো, যে আমার পদ্ধতির বাইরে যাবে সে মুসলমান নয়।

সুরা মায়েদার ৮৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহতায়ালা যেসব বস্তু তোমাদেরকে দিয়েছেন, তন্মধ্য থেকে হালাল ও পবিত্র বস্তু খাও এবং আল্লাহকে ভয় করো, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাসী।

বর্ণিত আয়াতে পার্থিব জগতের হালাল ভোগ্যবস্তু থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে নিষেধ করার পাশাপাশি হালাল এবং পবিত্র বিষয়গুলো ব্যবহার করার আদেশ দিয়ে বলা হচ্ছে- ভেবো না পার্থিব জগতের কল্যাণগুলোকে কাজে লাগানো অপছন্দনীয় কিংবা নিন্দনীয় কোনো কাজ। বরং পার্থিব জগতের সব নিয়ামতই আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্যে দেওয়া রিজিক। তিনিই এগুলো তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। অতএব তোমরা এসব সুযোগ-সুবিধাকে নিজেদের কল্যাণে ব্যবহার করবে- এটাই সঙ্গত।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ইসলাম গ্রহণ করলেন বিখ্যাত আইরিশ গায়িকা

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-২৬ ০৯:০৪:৩৫

সুপরিচিত আইরিশ গায়িকা সিনিড ও'কনর ঘোষণা করেছেন যে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন নাম পরিবর্তন করে তিনি নিজের নাম রেখেছেন শুহাদা।

উনিশশো নব্বই সালে রিলিজ করা 'নাথিং কমপেয়ার্স টু ইউ' গানটির জন্যে তিনি সবচেয়ে সুপরিচিত। ওই বছরের সবচেয়ে হিট গানের তালিকায় ছিল এই গানটি।

টুইটারে দেয়া বার্তায় তিনি তাকে সাহায্য করার জন্য অন্য মুসলমানদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর এই সিদ্ধান্ত "যেকোনো বুদ্ধিমান ধর্মতত্ববিদের সফরের স্বাভাবিক পরিণতি"।

তিনি নিজের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যাতে দেখা যাচ্ছে যে তিনি আজান দিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার শেখ ড. উমর আল-কাদরী নামের একজন আইরিশ ইমাম একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ওই ভিডিওতে দেখা যায় যে গায়িকা সিনিড ও'কনর ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস স্থাপনের জন্য কলেমা পাঠ করছেন। টুইটার বার্তায় আইরিশ গায়িকা আরও বলেন, সব ধর্মশাস্ত্রের অধ্যয়ন শেষ পর্যন্ত ইসলামের দিকেই ধাবিত হয়।

তিনি বলেন যে তিনি একজন মুসলমান হতে পেরে গর্বিত।

তবে ধর্ম নিয়ে ও'কনর এই প্রথমবারের মত কথা বলেছেন, তা নয়। ১৯৯২ সালে তিনি একটি মার্কিন টেলিভিশনের এক লাইভ অনুষ্ঠানে পোপের ছবি ছিঁড়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন।

সাত বছর পর মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া একটি চার্চ তাকে যাজক হিসেবে ঘোষণা করে। তবে যেহেতু ক্যাথলিক চার্চ নারীদের যাজক হওয়া অনুমোদন করে না, তাই তার ওই অনুষ্ঠানটিও তারা অনুমোদন করেনি।

গত বছর অবশ্য সিনিড ও'কনর আইনগতভাবে নিজের নাম পরিবর্তন করেন এবং নতুন নাম রাখেন মাগদা ড্যাভিট।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি
 

বিস্তারিত খবর

পবিত্র আশুরা ২১ সেপ্টেম্বর

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-১০ ১৫:০৫:১৬

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও আজ (সোমবার) ১৪৪০ হিজরি সনের পবিত্র মুহাররম মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই মঙ্গলবার জিলহজ মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ হবে। সে হিসাবে বাংলাদেশে বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে পবিত্র মুহাররম মাসের প্রথম দিন গণনা শুরু হবে। আর ২১ সেপ্টেম্বর পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

আজ (সোমবার) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের আকাশে আজ (সোমবার) কোথাও ১৪৪০ হিজরি সনের পবিত্র মুহাররম মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ না পাওয়ায় আগামিকাল ১১ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার পবিত্র জিলহজ্জ মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে।

আগামী বুধবার থেকে পবিত্র মুহাররম মাস গণনা শুরু হবে বিধায় আগামি ২১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সারাদেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

আজ সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মুকাররমস্থ সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান।

পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মাহর জন্য তাৎপর্যময় ও শোকাবহ দিন।৬১ হিজরি সালের এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হুসাইন (রা.) ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ইয়াজিদের সেনাদের হাতে কারবালার ময়দানে শহিদ হন। দিনটি মুসলমানদের কাছে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার দিন।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

কুরবানির পশু জবাই করার সঠিক নিয়ম

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-২১ ০৫:১৩:৫২

আগামীকাল বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা। যাকে কুরবানির ঈদও বলা হয়। মুসলিম নর-নারীগণ আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য কুরবানি করবেন। তাই কুরবানির পশু জবাই করার সঠিক নিয়ম জানা দরকার।

১. পশুর প্রতি দয়া করা ও অনুগ্রহ প্রদর্শন করা। এমন ব্যবস্থা নিয়ে জবাই করা, যাতে পশুর অধিক কষ্ট না হয় এবং সহজেই প্রাণ ত্যাগ করতে পারে। জবাই যেন খুব তীক্ষ্ম ধারালো ছুরি দ্বারা করা হয়।

সাহাবি শাদ্দাদ ইবনে আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা.) বলেছেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সকল বিষয়ে সকলের সাথে সুন্দর ও কল্যাণকর আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব, তোমরা যখন পশু জবেহ করবে তখন তা সুন্দর ভাবে করবে। তোমাদের একজন যেন ছুরি ধারালো করে নেয় এবং যা জবেহ করা হবে তাকে যেন প্রশান্তি দেয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৯৫৫)

২. কুরবানির পশু যদি উট হয় (অথবা এমন কোন পশু হয় যাকে আয়ত্ব করা সম্ভব নয়) তাহলে তাকে বাম পা বাধা অবস্থায় দাঁড় করিয়ে নহর করা হবে। কেননা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন,  সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান অবস্থায় তাদের উপর তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর। (সূরা হজ্জ (২২):৩৬)

 ৩. জবাই করার সময় পশুকে কিবলামুখী করে শয়ন করাতে হবে। (আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ, ২/১০৪৩; তবে এ হাদিসটির সনদ নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে)।

৪. জবাই করার সময় বিসমিল্লাহ বলতে হবে। কারণ, এটা বলা ওয়াজিব। কারণ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন- যার উপর আল্লাহর নাম (বিসমিল্লাহ) উচ্চারণ করা হয়েছে তা থেকে তোমরা আহার কর। ( ‍সুরা আনআম (৬): ১১৮)।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

আত্মত্যাগের উৎসব ঈদ-উল-আযহা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-২১ ০৫:০৬:৩২

মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহৎ উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। মহান আল্লাহর আনুগত্য ও দ্বীনের পথে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের এই উৎসবটি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে আজ মঙ্গলবার এবং আগামীকাল বুধবার  বাংলাদেশে পালিত হবে। আমাদের দেশে এই উৎসবটি কোরবানির ঈদ নামেও পরিচিত। এদিন মুসলমানরা মহান আল্লাহর নির্দেশে পশু জবাই করে ঈদ-উল-আযহার আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত করেন। তাই ইতোমধ্যে সারা দেশের মতো সিলেটের হাট-বাজারেও পশু বেচাকেনার মহাধুম পড়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও রয়েছে সতর্ক অবস্থানে।

দেশ-বিদেশে নানা প্রস্তুতি আয়োজনের মধ্য দিয়ে মুসলমানরা এই উদযাপন করছেন।  মূলত এই ঈদ আন্নদঘন ঈদুল ফিতরের পরিশিষ্ট বা সমাপনী ঈদ। নগরের শাহী ঈদগাহসহ নামাজের স্থানসমূহের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পন্ন করা হয়েছে। সিলেটের বিভিন্ন মসজিদ, ঈদগাহ ও মাঠে অনুষ্ঠিত হবে ঈদ জামায়াত। পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে নিরাপদে পালনে পুলিশের পক্ষ থেকে তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার থেকে ৩দিন সরকারী ছুটি।

ঈদ-উল-আযহার মূল উদ্দেশ্য মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। একদিন নবী হযরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহ কর্তৃক স্বপ্নাদৃষ্ট হয়ে তাঁর প্রাণপ্রিয় কিশোর পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) কে কোরবানি করতে উদ্যত হন। পবিত্র মক্কার কাছে মিনা নামক স্থানে প্রায় ৩ হাজার ৮ শত (সৌর) বছর আগে এই ঘটনা ঘটে। এর মধ্য দিয়ে মহান রাব্বুল আ’লামীন সন্তুষ্ট হয়ে হযরত ইবরাহিম (আ.) কে ছেলের পরিবর্তে একটি সুন্দর পশু কোরবানির আদেশ দেন। এই ঘটনাকে স্মরণ করে সারা বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করে থাকে। হিজরি বর্ষপঞ্জি হিসাবে জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখ থেকে ১২ তারিখ এই ৩ দিন পশু কোরবানি হয়।

গরু, ছাগল, মহিষ, উট, দুম্বা প্রভৃতি পশু কোরবানি করে ঈদ-উল-আযহা উৎসব পালন করা হয়। কোরবানি প্রত্যক মুসলিম সচ্ছল ব্যক্তির জন্য ওয়াজিব। পবিত্র মক্কা, মদিনা শরীফে হজ্ব করতে যাওয়া হাজীদেরও কোরবানি দিতে হয়। উট, গরু, মহিষ অনধিক সাত জনের পক্ষে এবং মেষ, ছাগল, দুম্বা একজনের নামে কোরবানি দেওয়া হয়। কোরবানির পশুর মাংস তিন ভাগ করা হয়। এরমধ্যে এক ভাগ কোরবানিদাতা, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজন এবং এক ভাগ দু:স্থ-গরিব যারা কোরবানি দিতে সক্ষম নয় তাদের মাঝে বন্টন করে দেয়া উত্তম। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির অর্থ ভোগ করা যায় না। চামড়া বিক্রিলব্ধ অর্থ দরিদ্র মানুষ এবং এতিমখানায় দান করতে হয়।

ঈদ-উল-আযহার সাথে পবিত্র হজের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। হজ্ব শব্দের আভিধানিক অর্থ–সংকল্পবদ্ধ হওয়া কিংবা ইচ্ছে পোষণ করা। গত শনিবার  থেকে শুরু হয়েছে হজের আনুষ্ঠানিকতা। এছাড়া ইসলামের পবিত্র স্থান মক্কায় অবস্থিত পবিত্র কাবা শরীফ প্রদক্ষিণ করে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

এই ঈদের আনুষাঙ্গিক আরও কিছু ইবাদতের মধ্যে রয়েছে। ৯ জিলহজ ফজরের নামাজ থেকে ১৩ জিলহজ আসরের নামাজ পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবির উচ্চারণ করা জরুরি। ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’ ঈদ-উল-আযহার দুই রাকাত নামাজ জামাতে আদায় করা ওয়াজিব।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

‘সালাম’ ভালোবাসার নির্মল সেতুবন্ধন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-২০ ০৮:৪৯:০১

মানুষের মাঝে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি সৃষ্টি এবং পারস্পরিক ঝগড়া বিবাদ নিরসনে সালামের গুরুত্ব অপরিসীম। ঝগড়া ফাসাদ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য গতিকে চরমভাবে ব্যাহত করে।

কিন্তু মুহাব্বত ও প্রীতি ভালোবাসা মানুষের জীবনকে করে সুখ ও আনন্দে ভরপুর। পৃথিবীর যত জ্ঞানী-গুণী, সবার সর্বসম্মত বক্তব্য, সেই সুখ-স্বাচ্ছন্দ লাভের একমাত্র উপায় হল পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসা। এই সৌহার্য্য ও সম্প্রীতি কীভাবে সৃষ্টি হবে?

এর সমাধান নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়ে গেছেন। তিনি সাহাবিদেরকে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি আমল শিক্ষা দিব, যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালোবাসতে শিখবে?  তোমরা সালামের প্রসার ঘটাবে।’

নবীজীর এই কথার পরে পৃথিবীর মানুষ লাভ করল বিশ্ব শান্তির এক অনন্য সাধারণ অমোঘ ব্যবস্থা। কেননা সালাম মানুষকে পরস্পর বন্ধনে আবদ্ধ করে। সালাম মানুষের হৃদয় ও আত্মার গভীরে শান্তির শীতল স্পর্শ দান করে। সমাজবদ্ধ জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধির মূল শক্তিই তো হল এই বন্ধন, আত্মার সাথে আত্মার প্রগাঢ় সম্মিলন।

নবীজী ঘোষণা দিলেন, তোমরা সালামের প্রসার ঘটাও, আর তাতেই সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে শুরু হয়ে গেল প্রতিযোগিতা, কে কার আগে সালাম দিতে পারে। সালামের প্রসারে কে কার চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে।

নবীজীর এই বাণী সাহাবায়ে কেরামের জীবনে আপন মহিমায় মূর্ত হয়ে উঠেছিল। তাই তাঁদের জীবনে ঘটেছিল সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বিস্ময়কর অনেক ঘটনা। তারা মানুষকে ভালোবাসতে পেরেছিলেন হৃদয় ও মনের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে। তাঁরা সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন ভাইয়ের জন্য ভাইয়ের স্বার্থত্যাগ ও আত্মত্যাগের বিরল ও বিস্ময়কর ইতিহাস।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

১০ সহস্রধিক বাংলাদেশীর অংশগ্রহণে ফিলাডেলফিয়ায় মুনা কনভেনশন সম্পন্ন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১১ ১৫:০০:০৯

বিশ্বব্যাপী বিরাজমান আর্থ-সমাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অস্থিরতা কাটিয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্ব মানবতার নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) আর  ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠার আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো মুসলিম উম্মাহ অব আমেরিকা (মুনা)-এর জাতীয় কনভেনশন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মাঝে শান্তির ধর্ম ইসলামের দাওয়াত পৌছে দেয়াই মূলত: এই কনভেনশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এবারের কনভেনশনের মূল প্রতিবাদ্য বিষয় ছিলো ‘মুহাম্মদ (সা:) শান্তি ও রহমতের পয়গম্বর’। আর তাই কনভেনশনে যোগদানকারী দেশী-বিদেশী স্কলারদের বক্তব্যে ফুটে উঠে মুহাম্মদ (সা:)-এর সর্বজনীনতা। বক্তারা বলেন, মুহাম্মদ (সা:) শুধুমাত্র  মুসলিম জাতির জন্য বিশ্বে আসেননি। তিনি এসেছিলেন সমগ্র মানবজাতির নেতা হিসেবে। একজন সর্বজনীন আদর্শ নেতা হিসেবে। আর তাই মুহাম্মদ (সা:) এর আদর্শ সবার কাছে পৌছে দেয়া আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। বক্তরা বলেন, ইসলামকে মুসলমানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। ইসলামের শান্তি বার্তা সবার মাঝে পৌঁছৈ দিতে হবে। তবে কনভেনশনে মুসলিম নতুন প্রজন্মদের জন্য দিক নির্দেশনামূলক আলোচনা থাকলেও বাংলাদেশ বিষয়ে ছিলো না কোন সেমিনার সিম্পোজিয়াম।

ফিলাডেলফিয়ার পেনসেলভেনিয়া কনভেনশন সেন্টারে গত ৭-৮ জুলাই যথাক্রমে শনিবার ও রোববার দু’দিনব্যাপী আয়োজিত কনভেনশনের যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে ১০ হাজারের মতো নর-নারী যোগ দেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে। এদের মধ্যে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ ছিলো চোখে পড়ার মতো। ফলে ব্যতিক্রমী এই কনভেনশন ঘিরে ফিলাডেলফিয়া শহরের কনভেনশন সেন্টার ও তার আশপাশের এলাকা বাংলাদেশী কমিউনিটির পাশাপাশি এক খন্ড মুসলিম কমিউনিটিতে পরিণত হয়। বিশেষ করে এবারের কনভেনশন আয়োজক কমিটির চমৎকার আয়োজন, ব্যবস্থাপনা, সুশৃংখল পরিবেশ সহ নানা আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের মুগ্ধ করে।

মুনা কনভেনশন ঘিরে মূলত: ৬ জুলাই শুক্রবার থেকেই জমে উঠতে থাকে পেনসেলভেনিয়া কনভেনশন সেন্টার সহ আশপাশের এলাকা আর হোটেল। নিউইয়র্ক থেকে বাস ছাড়াও প্রাইভেট কার যোগে সর্বোচ্চ সংখ্যক অংশগ্রহনকারী সপরিবারে এবারের কনভেনশনে অংশ নেন। এছাড়াও বিভিন্ন  অঙ্গরাজ্য থেকে শত শত প্রবাসী বাংলাদেশী মুসলিম নরনারী প্রাইভেট কারযোগে পরিবার-পরিজন নিয়ে অংশ নেন। 

মুনা কনভেনশনে অংশগ্রহণকারীরা শুক্রবার দুপুর থেকেই ফিলাডেলফিয়ায় সমবেত হতে থাকেন এবং আগে থেকে বুকিং দেয়া স্থানীয় ম্যারিট, শেরাটন প্রভৃতি হোটেলে রুম নেয়ার পর কনভেনশন সেন্টারে এসে রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করেন বা পূর্বে রেজিষ্ট্রেশন করা তথ্যাদি কনফার্ম করেন। এদিন সন্ধ্যায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে সবাইকে স্বাগত জানানো হয়। এর আগে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। ফলে পেনসেলভেনিয়া কনভেনশন বিশাল হল রুম সহ পুরো ভবন জনার্কীণ হয়ে উঠে। সেই সাথে সাজানো-গোছানো সেন্টারে তত্য কেন্দ্র থেকে শুরু করে অংশগ্রহনকারীদের সুবিধার্থে সকল কেন্দ্র এবং নানা রকম স্টোরের দোকান বসানা হয়। আর ক্রমেই জমে উঠে সবকিছু।

শনিবার সকাল ১০টায় মূল মিলনায়তনে শুরু হয় আলোচনা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম। ‘প্রফেট মুহাম্মদ (সা:) : দ্যা বেস্ট রোল মডেল’ শীর্ষক আলোচনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া কনভেশন অনুষ্ঠানের প্রথমে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ নজরুল ইসলাম। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবারের কনভেনশন কমিটির চেয়ারম্যান আবু আহমেদ নূরুজ্জামান। দলগত সঙ্গীত পরিবেশন করেন উম্মাহ শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্যরা। এই পর্বে আলোচক ছিলেন মুনা’র ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ইমাম দেলোয়ার হোসেন, ইমাম শাদিদ মোহাম্মদ, ড. মাজিন মুক্তার, ইমাম আব্দুল্লাহ জাবের ও ড. মোহাম্ম, রুহুল আমীন। মডারেটর ছিলেন হারুন অর রশীদ। এরপর ‘মানবতার পধ প্রদর্শক : মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ (সা:)’ শীর্ষক আলোচনা। এই আলোচনায় ‘আল-কুরআন : হৃদয় উন্মোচনের চাবিকাঠি’ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন ইসাম মোহাম্মদ জাকারিয়া, ‘সৃষ্টির সেবায় আল্লাহর সন্তুষ্টি’ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন ব্যারিষ্টার হামিদ এইচ. আজাদ, ‘কোরআনের আলোকে দাওয়াতি দ্বীনের পদ্ধতি’ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন শেখ মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন এবং ‘বহু মাত্রিক সমাজে মুসলমাদের করনীয়’ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন শেখ মুহাম্মদ হাসান। এই পর্বে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল্লাহ আল আরীফ।

এরপর ‘প্রফেটিক ইন্টারেকশন : ওভারকামিং দ্য এডভারসিটি’ শীর্খ আলোচনায় অংশ নেন ড. মির্জা গালিব, উসামা জামাল, নাইম বেগ ও শেখ ইয়াসির বীরজাস। এই পর্বে মডারেটর ছিলেন আনিসুর রহমান। পরবর্তীতে ‘ইবাদাহ : আন্ড্রাস্টুড এন্ড প্র্যাক্টিসিড বাই আর্লি মুসলিমস’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন ইমাম ফায়েক উদ্দীন, জাভেদ সিদ্দিকী, ইমাম হাসান আকবর ও ইমাম আসিফ হাইরামী। মডারেটর ছিলেন আহমেদ আবু ওবায়েদ। এরপর অনুষ্ঠিত ‘প্রফেট মুহাম্মদ (সা:) দ্যা ম্যাসেজ অব পিস এন্ড মার্সি’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন আজহার আজিজ, ইমাম দেলোয়ার হোসেন, ড. আলতাফ হোসাইন, ইমাম সুহাব ওয়েব ও ইমাম সিরাজ ওহাজ। মডারেটর ছিলেন আবু সামীহা সিরাজুল ইসলাম।

এছাড়াও সন্ধ্যায় ছিলো মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে উম্মাহ শিল্পী গোষ্ঠী ছাড়াও ইসলামিক গানের জনপ্রিয় শিল্পী ইকবাল সহ অতুল ওসমানী ও মুনার শিশু শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবশেন করেন। এছাড়াও সঙ্গীত পরিবেশন করেন যুক্তরাজ্যের লাব্বায়েক নাসিদ গ্রুপের শিল্পী এহসান তাহমিদ। এই পর্ব পরিচালনা করেন ড. আতাউল ওসমানী। 
 
শনিবার মূল পর্বের আলোচনা ছাড়াও ইয়্যুথ কনফারেন্সের পাশাপাশি অন্যান্য কনফারেন্স রুমে বিষয় ভিত্তিক আলোচনা ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ‘দ্যা এসেন্স অব ইসলাম : আন্ডাস্টান্ডিং প্রফেটিক ল্যাগাসী’ শীর্ষক আলোচনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুনা’র ইয়্যুথ গ্রুপের আহমেদ খালিদ এবং ইয়্যুথ সিস্টার্সদের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাসুমা সুলতানা মিলি। আলোচনায় অংশ নেন ইমাম সিরাজ ওহাজ, শেখ ওয়াসী বিরজাস ও ড. সুজি ইসমাইল। মডারেটর ছিলেন মশিউর রহমান ও তামজিদুল ইসলাম। ‘ব্যাটলিং দ্যা উইশপার্স ফ্রম উইদিন (ব্রাদার্স এন্ড সিস্টার্স) শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন শেখ মাজেদ মোহাম্মদ, শেখ ইয়াসির বিরজাস ও শেখ হাসান আকবর। মডারেটর ছিলেন পয়সাল আজাদ ও শহীদ আহমেদ। ‘ক্রাইং দ্যা লেগাসী অব ইসলাম’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন হাফেজ জাকির আহমেদ, ড. আলতাফ হোসাইন ও ড. মিজান মুক্তার। মডারেটর ছিলেন মশিউর রহমান ও শহীদ আহমেদ। ‘পিউড়িফিকশন অব হার্ট : ইলেভেটিং দ্যা ফেইথ’ শীর্ষক আলোনাং অংশ নেন  শেখ মাজেদ মাহমুদ, ইমাম আসিফ হাইরামী ও ইয়াসমীন মুজাহেদ। মডারেটর ছিলেন শামীমা সিরাজুল ইসলাৈম ও মালিহা গুল। শুধুমাত্র নারীদের জন্য নির্ধারিত ‘ইন পারস্যুইট অব প্রটেক্টটিং দ্যা ডিগনিটি’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন দানিয়া সুয়েব, ড. সুজু ইসলাম ও ইয়াসমীন মুজাহেদ। মডারেটর ছিলেন রোকেয়া বেগম রিনা। ‘প্রফেট মুহাম্মদ (সা:) : দ্যা লিভিং কোরআন’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন ইমাম আসিফ হাইরামী, আবু সামিহা সিরাজুল ইসলাম, দানিয়া সুয়েব ও ড. জাহিদ বুখারী। ‘সার্ভিস অব হিউম্যানিটি : দ্যা প্রফেটিক ট্রেডিশন’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন মাকসুদ আহমেদ, মুহাম্মদ হাসান, ড. শরিফুল ইসলাম ও এস এম রাশেদুজ্জামান। ‘ইন পারস্যুইট অব ফ্রিডম : জাস্টিস এন্ড ডিগনিটি’ শীর্ষক আলোচনাং অংশ নেন ড. জাহিদ বুখারী, নিহাদ আওয়াদ, খলিল মিক ও উসামা জামিল। মডারেটর ছিলেন ড. নকিবুর রহমান।

রোববার মূল হলে অনুষ্ঠিত ‘এম্পাওয়ারিং ফ্যামিলিস থ্রো ডিভাইন গাইডেন্স’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন ইমাম রফিক আহসেদ, মুফতি ইসমাইল, শেখ মুহাম্মদ হাসান, ড. মোহাম্মদ ইউস্যুফ আলী ও ড. সুজি ইসমাইল। মডারেটর ছিলেন মোহাম্মদ জয়নুল ইসলাম। ‘প্রফেটিক মেথডস, অব ওভারকামিং দ্যা চ্যালেঞ্জস’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন ইমাম হাসান আকবর, ড. মির্জা গালিব ও ড. আলতাফ হোসেন। মডারেটর ছিলেন ফাতেমা সিদ্দিকা স্বর্নালী ও কাওলা রহমান। ‘ফেইথ এন্ড অ্যাকশন : দ্যা রোড টু সাকসেস’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন হাফেজ জাকের আহমেদ, ড. নকিবুর রহমান, হামিদ হোসেন আজাদ, আবু সামিহা সিরাজুল ইসলাম ও শেখ মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন। মডারেটর ছিলেন নাসির উদ্দিন। ‘টুডে’স ইয়্যুথ : টুমোরো’স লীডার্স’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন ইমাম আব্দুল্লাহ জাবের, ইমাম সুহিব ওয়েব, ইমাম সিরাজ ওহাজ  ও ড. সায়েদুর রহমান চৌধুরী। মডারেটর ছিলেন শহীদ আহমেদ ও তামজিদুর ইসলাম। ‘ইনক্রেজিং লাভ এন্ড গেটিং ক্লোজার টু আল্লাহ’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন  ইমাম আবু ফয়জুল্লাহ, ড. আলতাফ হোসেন, ইমাম সিরাজ ওহাজ। এই পর্বে মাডারেটর ছিলেন আরমান চৌধুরী। কনভেনশনের শেষ দিনের শেষ আলাচনার বিষয় ছিলো ‘টু ডে ইয্যুথ : টুমোরো’স লীডার’ শীখ আলোচনায় অংশ নেন এটর্নী আহমেদ মোস্তফা, এটর্নী এ আজিজ ও এটর্নী সুমাইয়া খালিক। মডারেটর ছিলেন এটর্নী মোহাম্মদ মোস্তফা।

মুনা কনভেনশন উপলক্ষ্যে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। স্মরণিকা-টি সম্পাদনা করেন হারুন ও. রশীদ। প্রকাশনায় ছিলেন নিয়াজ মাখদুম ও মমিন মজুমদার। মিডিয়ার জন্য বিশেষ সহযোগিতায় ছিলেন  মাহবুবুর রহমান ও রশীদ আহমদ।

নর্থ ক্যালোলিনা অঙ্গরাজ্য থেকে মুনা কনভেশনে যোগাদনকারী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ইউএনএ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে বলেন, এমন কনভেনশন থেকে শিক্ষার অনেক কিছুই রয়েছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের জন্য। তাদের সঠিক পথ দেখানোর এখনই সময়। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে এই কনভেনশনে যোগ দিয়েছি। তিনি বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে  শুক্রবার এসেছি আর রোববার ফিরে যাবো। তিনি মুনা কনভেনশনের সকল আয়োজন ও অনুষ্ঠানের প্রশংসা করেন।

এদিকে মুনা কনভেনশন সফল করতে নতুন প্রজন্মের স্বেচ্ছাসেবদের বিশেষ ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। মূল সেন্টারের বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে তারা অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানাচ্ছেন, পথ দেখিয়ে সাহায্য করছে।


এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

রোমে ইসলামিক ট্যালেন্ট শো ২০১৮ গ্রান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০৩ ১৫:১৩:১০

মাল্টিমিডিয়া ইভেন্টস কর্তৃক আয়োজিত এবং ওলামা কাউন্সিল ইতালী’র প্রধান পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত রোম ইসলামিক ট্যালেন্টশো আয়োজনের গ্রান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল রোমের নামকরা থিয়েটার সানলিয়নে বিকেল ৩টায় বিশ্বকাপের খেলা দেখা উপেক্ষা করে প্রবাসীগন স্বপরিবারে হাজির হয়েছিলেন এই আয়োজনে। চারঘন্টাব্যাপী টান টান উত্তেজনায় প্রতিটি বিভাগ উপভোগ করেন আগত প্রবাসীগন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইতালীয়ান এবং আরাবীয়ান কমিউনিটি আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য ১ লা মে ২০১৮ থেকে মাসব্যাপী রোমের এগারোটি স্কুল-মসজিদ এ অনুষ্ঠিত সিলেকশন রাউন্ডে নির্বাচিত ইয়েসকার্ড বিজয়ী ১৮৫জন প্রতিযোগী নিয়ে গত ১০জুন রোমে নতুন হল লাকুইল্লাতে অনুষ্ঠিত হয় সেমি ফাইনাল অনুষ্ঠান। তুমুল প্রতিযোগীতার মাধ্যমে সেমিফাইনালে বিজয়ী ৫৫ জন প্রতিযোগী গ্রান্ড ফাইনাল তথা চুড়ান্তপর্বে অংশগ্রহনের সুযোগ লাভ করেন। বয়স এবং বিষয়ভিত্তিক মোট ১১টি ক্যাটাগরীতে ৩৩জনকে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বিজয়ী ঘোষনা করা হয়। বিভাগ হিসেবে ছিলো কোরআন তেলওয়াত, হিফজুল কোরআন, ইসলামী গান এবং ইসলামী বক্তব্য।
কোরআন তেলোয়াতের চার বিভাগে যথাক্রমে মারওয়ান আলম, জেসিয়া আক্তার, হাসনাইন বিন মনির এবং ফয়সুল, হিফজুল কোরআনের দুইবিভাগে মাহমুদুর রহমান এবং আশরাফুল হক সরকার, ইসলামী গানের তিন বিভাগে যথাক্রমে জেসিয়া আক্তার, মাহদিন ইসলাম এবং অলিজা সিরাজ, ইসলামী বক্তব্যের দুই বিভাগে মাহমুদুর রহমান এবং উমায়ের ইসলাম এগারো বিভাগের প্রথম স্থান অধিকার করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত করে শুভ সূচনা করেন আয়োজনের কো-অডিনেটর হাফেজ মাওলানা মিকাইল হোসাইন।
দর্শকদের আমন্ত্রন জানিয়ে সুচনা করেন ২য় প্রজন্মের রিয়াত আরপিন এবং জেসমীন।
বিভিন্ন বিভাগে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ওলামা কাউন্সিল ইতালী’র সভাপতি হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান, ওলামা কাউন্সিল ইতালী’র সাধারন সম্পাদক মাওলানা রহমতউল্লাহ মাসুদ আলকাসেমী, মসজিদে হুদার সভাপতি মোহাম্মদ বিন মোহাম্মদ, আবু ওমর, ওত্তাভিয়ানো বায়তুল নূর মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা হাফিজ উদ্দীন, মসজিদে তাওহিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা নাসির উদ্দিন, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ল’এর প্রধান নির্বাহী ড. এমএইচ মুক্তার হোসাইন, মাদানী ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এ্যান্ড কলেজের চেয়্যারম্যান ইকরাম ফরাজী আলমগীর এবং মাদ্রাসাতুর রোমের হাফেজ আব্দুল্লাহ আল ফারুক।
আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাস রোমের কাউন্সিলর রফিক আলম।  তিনি এধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজনকে সাবগত জানান।অনুষ্ঠানে রোমের বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামিক ট্যালেন্টশোর সাতটি ক্যাটাগরীতে প্রথম পুরস্কার ল্যাপটপ ষ্পন্সর করে সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন ইতালী আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাসান ইকবাল, বাংলাদেশ সমিতির সাবেক সভাপতি তথা ধুমকেতুর প্রধান নূরে আলম সিদ্দিকী বাচ্ছু, তরপিনাতারাস্থ ভরতা রেষ্টুরেন্ট এর পরিচালক হাজী আমিনুল ইসলাম বুলবুল, যুব উন্নয়ন ব্যবসায়ী সমিতি, বাংলাটিভি ইউরোপের প্রধান শাওন আহমেদ, অত্তাভিয়ানো বায়তুন নূর জামে মসজিদের সভাপতি আলমগীর হোসেন মিন্টু এবং কটোন লিফ এর স্বত্তাধিকারী নাদিম খান, হাসান আলিমেন্টারি সত্বধিকারী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ইতালী শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাসান। এছাড়া বিভিন্ন সমাজিক সংগঠন এবং ব্যক্তিগতভাবে ষ্পন্সর এর মাধ্যমে ট্যাব, মোবাইলফোন এবং ডিজিটাল উপহার সামগ্রী পুরষ্কার হিসেবে প্রদান করা হয়।
সকল বিজয়ীদের মাল্টিমিডিয়া ইভেন্টস এর পক্ষ থেকে অফিসিয়াল সার্টিফিকেট, মেডেল এবং বিশেষ ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়।   ইসলামিক ট্যালেন্টশো ২০১৮ আয়োজনের টাইটেল ষ্পন্সর ওলামা কাউন্সিল ইতালীর পাশপাশি গোল্ড ষ্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা দিয়েছেন মাদ্রাসাতুর রোম, মাদানী স্বুল এ্যান্ড কলেজ, নেক মানি ট্রানস্ফার, কুইকবিডি এ্যাপস এবং  চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ডল। সিলভার ষ্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেছেন বুলবুল ভাইয়ের ভরতা রেষ্টুরেন্ট, টাটা ম্যাক্স, স্মার্ট পয়েন্ট, কুইক সার্ভিস এবং নাদিম ষ্টোর।
অনুষ্ঠানটি ইতালীয়ান প্রতিষ্ঠান ভিএমএস গ্রুপের মাধ্যমে লাইভ ধারন করা হয় এবং অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ সহযোগী ‘’আমরা ইতালী প্রবাসী’’ এর মাধ্যমে দেখানো হয়। জোভান্নী মুসলমানী রোম আয়োজনে সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।জন্মভূমি পত্রিকা আয়োজনের লোকাল মিডিয়া সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। টিভি মিডিয়া এটিএন বাংলা, চ্যানেল আই এবং বাংলাটিভি অফিসিয়াল টিভি মিডিয়া হিসেবে সহযোগীতা দিয়েছে।  অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মিডিয়া কর্মীগন উপস্থিত ছিলেন। মিডিয়াকর্মীদের পক্ষে অল ইউরোপিয়ান বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এনটিভি ইউরোপ ব্যুরো প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান মাল্টিমিডিয়া ইভেন্টস এর এ কে জামান আয়োজনে সহযোগীতার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান। প্রধান নিবার্হী আগামীতে ইসলামিক ট্যালেন্টশো সমগ্র ইতালীব্যাপী আয়োজনের বিষয়ে ইচ্ছে প্রকাশ করেন।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

দেশে এবার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা, সর্বোচ্চ ২৩১০ টাকা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-৩০ ১৬:০৯:২৫

রমজানে এবার সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ৭০ টাকা। আর সর্বোচ্চ দুই হাজার ৩১০ টাকা। আজ বুধবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত বছর সর্বনিম্ন ফিতরা ছিল ৬৫ ও সর্বোচ্চ এক হাজার ৯৮০ টাকা।

এক কেজি ৬৫০ গ্রাম গম বা আটা অথবা খেজুর, কিসমিস, পনির বা যবের মধ্যে সামর্থ্য অনুযায়ী যে কোনো একটি পণ্যের তিন কেজি ৩০০ গ্রামের বাজার মূল্য ফিতরা হিসেবে আদায় করতে হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আটার ক্ষেত্রে ফিতরা এক কেজি ৬৫০ গ্রামের বাজার মূল্য ৭০ টাকা। যবের ক্ষেত্রে তিন কেজি তিন শ' গ্রাম বা এর বাজার মূল্য পাঁচ শ' টাকা ফিতরা দিতে হবে। এছাড়া তিন কেজি তিন শ' গ্রাম কিসমিস বা এর বাজার মূল্য এক হাজার ৩২০ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে। খেজুরের ক্ষেত্রে তিন কেজি তিন শ' গ্রাম বা এর বাজার মূল্য এক হাজার ৯৮০ টাকা ও পনিরের ক্ষেত্রে তিন কেজি তিন শ' গ্রাম বা এর বাজার মূল্য দুই হাজার ৩১০ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ফিতরার পণ্যের স্থানীয় খুচরা বাজার মূল্যের তারতম্য রয়েছে। সে অনুযায়ী স্থানীয় মূল্য পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ইবাদতের মৌসুম মাহে রমজান

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২১ ১২:৪০:৫৩

পবিত্র রমজান মাস বছরের বাকি এগারো মাস অপেক্ষা অধিক মর্যাদাশীল ও বরকতময়। এ মাসের বিশেষত্ব অনেক।

নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমজান মাসে যে ব্যক্তি একটি নফল আদায় করল সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল। আর যে এ মাসে একটি ফরজ আদায় করল সে যেন অন্য মাসে  সত্তরটি ফরজ আদায় করল। (শুআবুল ঈমান, ৩/৩০৫-৩০৬)

উল্লেখিত হাদিস দ্বারা এ কথাই বুঝা যায় যে, এ মাসে নফল আদায় করলে অন্য মাসের ফরজের ন্যায় ছওয়াব হয়। আর এ মাসের একটি ফরজ অন্য মাসের সত্তরটি ফরজের সওয়াব পাওয়া যায়। অন্য এক হাদিসে আছে, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমজানের ওমরা হজ সমতুল্য। (তিরমিজি শরীফ, ৯৩৯ ও আবু-দাউদ শরীফ, ১৯৮৬)

রোজার ছওয়াব সর্ম্পকে আল্লাহ তাআলা নিজেই বলেন, নিশ্চয়ই রোজা আমার জন্য আর এর প্রতিদান স্বয়ং আমিই দেব। (মুসলিম শরীফ, ১১৫১/১৬৫)

এ সওয়াবের পরিমাণ যে কত তা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। পবিত্র রমজান মাস হলো, রহমত, বরকত, মাগফিরাত, জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত লাভের মাস। তাই এমন মাস পেয়েও যে ব্যক্তি স্বীয় গুনাহ মাফ করাতে পারল না তার জন্য  স্বয়ং জিবরাইল (আ.) বদদোয়া করেছেন এবং নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমীন বলে সমর্থন জানিয়েছেন।

হাদিস শরীফে এসেছে , নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে উঠে আমিন, আমিন, আমিন বললেন। সাহাবিরা বললেন হে আল্লাহর রাসুল, আপনি তো এরূপ কখনো করেননি। তখন নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঐ ব্যক্তি ধ্বংস হোক যে পিতা-মাতা উভয়কে অথবা একজনকে পেয়েও (তাদের খেদমত করে) জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না। তখন আমি বললাম আমিন।

অতপর তিনি বললেন, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক যে রমজান পেয়েও নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারল না। আমি বললাম আমিন। হজরত জিবরাইল (আ.) আবারও বলেন, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক যার নিকট আমার নাম আলোচিত হলো অথচ সে আমার উপর দরূদ পড়ল না। আমি বললাম আমিন। (সহী ইবনে হিব্বান,৯০৮; আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস-৬৪৬)

জিবরাইল (আ.) এর আমিনের বদদোয়াই যথেষ্ট ছিল, তারপরও নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমিন বলে সত্যায়ন করেছেন। তাহলে বুঝা গেল অবশ্যই দোয়া কবুল হয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে পবিত্র রমজানের হক আদায় করার তাওফিক দান করুন।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

পবিত্র দিন-রজনী ও শবে বরাত

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৪-২৪ ১৩:৪৭:৫৪

সবসময় সব ফসল ফলে না। সব কাজও সবসময় করা যায় না। এমনকি একই কাজ থেকে সময়ভেদে ফলও পাওয়া যায় ভিন্নভিন্ন। তাই সবকিছুর জন্যেই চাই যথাযথ সময়। ইবাদতের জন্যেও দরকার ঠিক তা-ই। সেই সময়গুলো হিসেব কষে বের করার মত বিষয় নয় তাই জানা সম্ভব ছিল না কোন মানুষের পক্ষে যদি না আল্লাহ পাক দয়া করে তা না জানাতেন। ইবাদতের তেমন বিশেষ সময় রয়েছে প্রতিটি দিনের মধ্যে, রয়েছে সপ্তাহের মধ্যেও। একই ভাবে আছে ইবাদতের বিশেষ মাস, প্রতি মাসের মধ্যে রয়েছে বিশেষ বিশেষ দিনও। এই সময়গুলো কমবেশী সবারই জানা, সবাই পরিচিত এগুলোর সাথে কোন না কোনভাবে।
এমন দিন-রজনী ভিত্তিক বিশেষ ইবাদতগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো পবিত্র লাইলাতুল কদরের ইবাদত। এটা উম্মতে মুহম্মদির জন্যে স্পেশাল। আগের কোন উম্মতের জন্যে ছিল না এই সুযোগ। এই রাতের গুরুত্ব এতই বেশী যে এজন্যে আল্লাহ পাক নাযিল করেছেন আল- কোরআনের পুরো একটা সূরা এবং নবীজি সা: স্বয়ং এর নির্দিষ্ট সময় খুঁজে বের করে দিয়ে গেছেন তাঁর প্রিয় উম্মতের জন্যে। রমজানের শেষ দশ দিনের মধ্য থেকে খুঁজে নিতে বলা হয়েছে মহা মহিমান্বিত এই রাতকে। দীর্ঘ দশ দিনের মধ্যে একে লুকিয়ে রেখে আল্লাহ পাক বস্তুত তাঁর প্রকৃত বান্দাদের জন্যনিশ্চিত করেছেন সর্বোচ্চ রহমত ও বরকত লাভের ব্যবস্থা। তবে এত গুরুত্বের পরও লায়লাতুল কদরের ইবাদতকে ফরজ করাহয়নি। বস্তুত আল্লাহ পাক তাঁর কোন বিশেষ ইবাদতকেই মানুষের জন্য আবশ্যক করেননি বরং ছেড়ে দিয়েছেনতাদের ইচ্ছার উপর। ফলে এই ইবাদতগুলো থেকে লাভবান হতে পারে শুধুই আল্লাহ পাকের ঘনিষ্ঠও একনিষ্ঠ বান্দারা।
দিবস ও রজনী ভিত্তিক বিশেষ ইবাদতগুলোর মধ্যে আরো আছে আশুরা, আরাফার দিন ও পবিত্র শবে বরাতের ইবাদত। তবে সবচেয়ে বিতর্কিত হলো শবে বরাত। আয়েশা রা:-এর সূত্রে বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ ইবনে মা’জাহ শরিফে এর বিবরণী থাকার পরও এ নিয়ে বিতর্ক বড়ই দুর্ভাগ্যজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। প্রথমত এমন প্রতিষ্ঠিত হাদিস গ্রন্থের সামান্য একটা বাক্যও যেখানে চ্যালেঞ্জ করার যোগ্যতা রাখে না এ যুগের কেউই, সেখানে পুরো একটা হাদিসকে বাতিল গণ্য করা চরম ধৃষ্টতা বটে। তদুপরি হযরত আয়েশা রা: ছাড়াও এর স্বপক্ষে আরও প্রায় দশজন সাহাবির বর্ণনা রয়েছে অন্যান্য হাদিস গ্রন্থে এবং রয়েছে অনেক পরোক্ষ নির্দেশনাও। তাইএরগুরুত্ব অস্বীকার করা দুরূহ।
উল্লেখ্য পনেরোই শাবান হলো আইয়ামে বীজের একটি দিন, প্রতি মাসের এই দিনগুলোতে নিয়মিত রোজা রেখেছেন নবীজি সা:। উপরন্তু এটা শাবান মাসের আইয়ামে বীজ হওয়ায় তা বাড়তি গুরুত্বের দাবি রাখে। কারণ এই মাসেই রমজানের বাহিরে সবচেয়ে বেশী রোজা রাখতেন নবীজি সা: রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে। প্রস্তুতির এই কাজটা তিনি তাঁর উম্মতকেও করতে বলেছেন। একই সাথে শাবানের শেষ পনেরো দিন রোজা না রাখতে বলেছেন রমজানের জন্যে শক্তি সংরক্ষণের প্রয়োজনে। এসব সবই নবীজির অতি প্রসিদ্ধ নির্দেশনা যা শ্রদ্ধার সাথে অনুশীলন করে থাকে বিশ্ব মুসলিম। বিষয়গুলো এক সাথে বিবেচনা করলে পনেরো তারিখের বিশেষত্ব আঁচ করা যায় সহজেই এবং এ সংক্রান্ত হাদিসগুলোকে তখন মোটেই ভিত্তিহীন বলে মনে হয় না। বরং শাবানে রোজা রেখে রমজানের অনুশীলন করতে হলে লাইলাতুল কদরের মত বিশাল রজনীর জন্যেও শাবান মাসে ছোটখাটো অনুশীলনের ব্যবস্থা থাকাটা মোটেই অযৌক্তিক নয়। তাই শবেবরাতের ইবাদতকে রুখে দেয়ার চেষ্টা কোন ভাবেই সমর্থন যোগ্য নয় বরং সেটা একটা গুরুতর অপরাধ বটে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে ইবাদত কেন্দ্রিক এইসব ডামাডোলের মধ্যে সম্প্রতি এক শবে বরাতের রাতে হঠাৎ-ই আমি, আলহামদুলিল্লাহ, স্বপ্নে দেখেছি নবীজি সা: মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আলাপ করছেন হযরত ওমর রা:-এর সাথে। স্বপ্নটা ছিল আমার প্রতি আল্লাহ পাকের বিশেষ দয়া। অর্থ ছিল পরিষ্কার তথা লায়লাতুল বরাতের সত্যায়ন (Approval)। এমন স্বপ্ন দেখার মত পুণ্য আমি স্মরণ করতে পারি না। হয়তো অতিরিক্ত ইবাদত করারবিবিধ সুযোগগুলোর প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ আল্লাহ পাক পছন্দ করে থাকবেন। তবে ঘটনাটা একান্তই ব্যক্তিগত, ঘটেছে ওয়ান-টু ওয়ান।বিষয়টা আমার জন্যে পরিষ্কার হলেও অন্যদের জন্য দৃঢ় ভিত্তিক নয়।ধারণা করা যায় যে এমন ব্যক্তিগত দলিলঅবশ্যই আছে আল্লাহ পাকের আরও অনেক বান্দার কাছেএবং সেগুলোসব একত্র করতে পারলে লাইলাতুল বরাতের প্রমাণ আরওশক্তিশালীই হবে বলা যায়।
এই দিনের হালুয়া-রুটি কেন্দ্রিক হৈ-হুল্লোড় বস্তুত একটা লোকাল কালচার তথা আঞ্চলিক সংস্কৃতিবিশেষ। এরসাথে শবে বরাতের কোন সম্পর্ক নেই। আল্লাহর ওয়াস্তে মানুষকে খাওয়ানো ইসলামিক কালচারেরই একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। যে কোন সময়ই কাজটা করা যায় এবং সেটা খুবই সওয়াবের কাজ। তবে তা হালুয়া-রুটি দিয়েই করতে হবে তেমন কোন কথা নেই আবার কেউ তাকরতে চাইলে তাতে বাধা দেয়ারও কিছু নেই কারণ সেটা পুরোপুরিই দাতার সক্ষমতা ও নিয়তের বিষয়। অঞ্চলভেদে মিষ্টি, খিচুড়ি, খেজুর তথা সুবিধা মত যেকোন খাবারই মানুষকে দান করা যায়। বস্তুত নিজের সুবিধা মত দান-খয়রাত করাই ইসলামের নীতি। তাই শবে বরাতের হালুয়া-রুটি নিয়ে বাড়াবাড়ি নিতান্তই অপ্রাসঙ্গিক। এমনবাড়াবাড়ি আসলে ইবাদতের পথে বাধাবিশেষ এবং তা অবশ্যই শয়তানের কাজ। শুধুমাত্র ইবাদতের দৃঢ় নিয়তই পারে এসব বিচূত্যি থেকে আমাদেরকে রক্ষা করতে।


Mainul Ahsan, PHD
Clinical Assistant Professor, School of Dentistry, University of Southern California.

বিস্তারিত খবর

নবীদের আমল ভিত্তিক বিশেষ ইবাদতের সুযোগ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০২-০৬ ১৩:০৮:৩৮

আল্লাহর ইবাদতের ভিত্তি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। তারপরই রয়েছে রোজা, যাকাত ও হজ্জ। যথাযথ নিয়ম মেনে এই ইবাদতগুলোর অনুশীলনে আমরা বাধ্য। তবে নির্ধারিত পরিমাণের বাহিরেও এই ইবাদতগুলো করা যায় এবং তা করেও থাকেন অনেকেই। ইবাদতগুলোর অতিরিক্ত অনুশীলন অনেকটাই সেই আদর্শ ছাত্রের মত যে কিনা ক্লাসে নিয়মিত হওয়ার পরও বাড়িতে বসেও পড়াশোনা করে সময় নিয়ে, একাগ্রতার সাথে। শুধু পরীক্ষায় পাশ করাই এদের লক্ষ্য থাকে না বরং তাদের ভাবনায় থাকে আরও ব্যাপক সফলতা। এদের মেধাকে শানিত করতে শিক্ষকরা ইচ্ছা   করেই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জিং পরীক্ষা ও প্রশ্নের সৃষ্টি করে থাকেন। এগুলোই বিশেষায়িত পরীক্ষা, স্পেশালাইজড প্রশ্নপত্র। আল্লাহ পাকের বিশিষ্ট বান্দাদেরকে নিয়মিত উত্তীর্ণ হতে হয়েছে এ রকম বিশেষ পরীক্ষায়। এজন্যে রয়েছে বিশেষ উত্তরপত্রও তথা বিশেষ আমল ও ইবাদত।

হযরত আদম আ:-কে বিশেষ ইবাদত করতে হয়েছিল নিষিদ্ধ ফলের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় পর। এজন্যে তাঁকে পাঠ করতে হয়েছিল ‘রাব্বানা জালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওতারহা’মনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন (সূরা ৭: আয়াত ২৩ দ্রষ্টব্য)। এটা ছিল আদম আ:-এর জন্যে নিয়মিত সব ইবাদতের বাহিরে বিশেষায়িত বাড়তি ইবাদত তথা বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষিতে বিশেষ আমল।

বিশেষ পরীক্ষা দিয়েছিলেন হযরত ইউনুস আ:-ও। সেই পরীক্ষায় পাশ করতে তাকে মাছের পেটে আটক অবস্থায় পড়তে হয়েছিল ‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জালিমিন (২১: ৮৭ দ্রষ্টব্য)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক বলেন, ইউনুস আ: যদি ঐ আমলে ব্যর্থ হতেন তাহলে তাকে কিয়ামত পর্যন্ত থাকতে হতো সেই মাছের পেটে (৩৭: ১৪৩~১৪৪ দ্রষ্টব্য)।
উল্লেখ্য যে হযরত আদম আ: ও ইউনুস আ:-কে ঐ দোয়াগুলো যে কত লক্ষ বার পড়তে হয়েছিল তা জানা না গেলেও এটা সুনিশ্চিত যে নিজেদের ভুল থেকে মাফ পেতে দোয়া দুটো অতিশয় কার্যকর। বস্তুত সেটাই ছিল বিশেষ ঐ ইবাদতগুলোর মূল শিক্ষা। ধারণা করতে অসুবিধা হয় না যে তাঁদের দোয়া পাঠের সংখ্যা উহ্য রেখে দয়াময় আল্লাহ পাক বস্তুত সবিশেষ দয়া করেছেন আমাদের প্রতি নচেৎ ঐ নির্দিষ্ট সংখ্যা পর্যন্ত পাঠ করা আমাদের জন্যেও হয়তো শর্ত হয়ে যেত।
এরকম বাড়তি ইবাদত সম্মিলিত ভাবেও করা সম্ভব। ব্যাপক মানুষ অংশ নেয়ায় সেক্ষেত্রে প্রার্থনা কবুলের সম্ভাবনাও থাকে বেশী। এমন সম্মিলিত ইবাদতের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে পবিত্র আল কোরআনে বর্ণিত হয়েছে হযরত ইউনুস আ:-এর সম্প্রদায়ের ক্ষমা প্রার্থনার ঘটনা (৩৭: ১৪৭~১৪৮ দ্রষ্টব্য)। আল্লাহ পাকের আযাবের নমুনা দেখা মাত্রই তারা বুঝতে পেরেছিল তাদের অপরাধ, অনুতপ্ত হয়েছিল সাথে সাথেই। সবাই মিলে জান বাজি রেখে কান্নাকাটি শুরু করেছিল আল্লাহ পাকের দরবারে। মহান আল্লাহ পাক কবুল করেছিলেন তাদের সেই আন্তরিক প্রার্থনা।

এটাই বস্তুত অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টির মত ব্যাপক দুর্যোগে সবাই মিলে একত্রে নামাজ পড়া ও দোয়া করার ফর্মুলা। হজ্জের সময় আরাফাতের সম্মিলিত দোয়া এবং বিভিন্ন মজলিস ও ইজতেমা শেষের মুনাজাতও এই সূত্রের মধ্যেই পড়ে, তাই নিঃসন্দেহে মূল্যবান। উল্লেখ্য যে দুনিয়াতে হযরত ইউনুস আ:-এর সম্প্রদায়ই ছিল একমাত্র পূর্ণ জাতি যারা সবাই ঈমান এনে মুসলমান জাতি ভুক্ত হয়েছিল। পবিত্র কোরআনে এই সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা এক লাখের কিছু বেশী বলে উল্লেখ করা হয়েছে (৩৭: ১৪৭ দ্রষ্টব্য)। উল্লেখ্য যে আল্লাহ পাকের নবীদের সংখ্যা এবং নবীজি সা:-এর সাহাবির সংখ্যাও ছিল এক লাখের অধিক, অধিকাংশ বর্ণনা মতে তা ছিল এক লাখ চব্বিশ হাজার।

এই সংখ্যার বার বার এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারে কারণেই একে আল্লাহ পাকে অন্যতম হেকমত পূর্ণ একটা বিশেষ সংখ্যা হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এখান থেকেই এসেছে এক লাখ চব্বিশ হাজার বারে এক খতম হওয়ার সূত্র যা কিনা কালেমা শরিফ বা দোয়া ইউনুসে মত ছোট ছোট দোয়া-কালাম খতমের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে থাকে ব্যাপক ভাবে। এমন খতমের অনন্য গুরুত্ব ও অসামান্য কার্যকারিতা প্রত্যক্ষ ভাবে প্রমাণিত।
সম্মিলিত ইবাদতের উদাহরণ হিসেবে পবিত্র কোরআনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে হযরত ঈসা আ: ও তাঁর সাহাবিদের ইবাদত। উল্লেখ্য হযরত ঈসা আ:-এর সহযোগী হাওয়ারিরা এক পর্যায়ে জান্নাতি খাবারের আবদার করেছিল। ঈসা আ: তাদেরকে বলেছিলেন কিছু বাড়তি ইবাদত করে তারপর আল্লাহর কাছে নিজেদের মনোবাঞ্ছা জানাতে। এজন্যে তারা রোজা করেছিলেন পুরো এক মাস। অতঃপর ঈসা আ: দোয়া করেছিলেন আল্লাহর দরবারে জান্নাতি খাদ্যের জন্য এবং আল্লাহ পাক নাযিল করেছিলেন বেহেশতি খাবার (৫: ১১২~১১৫ ও সংশ্লিষ্ট তফসির দ্রষ্টব্য)।

এটাও সম্মিলিত ও সমন্বিত ইবাদতের আরেকটি অনন্য নমুনা যেখানে নিজেদের পবিত্র চাওয়া পূরণের উপায় ও পদ্ধতি শিক্ষা দেয়া হয়েছে সাধারণ গণ-মানুষকে। এতে এটাও প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে যে আল্লাহর কাছে কিছু চাইতে হলে তার আগে কিছু আমল ও ইবাদত করে নেয়া জরুরী। এটা দোয়া কবুলের একটা প্রমাণিত সূত্র। এই সূত্রের ভিত্তিতেই বোধকরি যে কোন দোয়ার আগে কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং দরূদ পড়ার বিধান প্রচলিত হয়েছে যা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করে থাকেন আলেম-ওলামা, ইমাম-বুজুর্গ থেকে শুরু করে সাধারণ মুসল্লি পর্যন্ত সবাই। 

আল্লাহর কাছ থেকে বিশেষ কিছুর চাওয়া ও পাওয়ার ক্ষেত্রে এই যে বিশেষ ইবাদতের ধারা তার মধ্যে হযরত জাকারিয়া আ: ও হযরত মুসা আ:-এর ইবাদতও বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। জাকারিয়া আ:- এর ইবাদত ছিল বৃদ্ধ বয়সে পুত্র সন্তান লাভের অভাবিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে। আল্লাহ পাকের বিশেষ ঐ দয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সন্তান লাভের স্মারক হিসেবে হযরত জাকারিয়া আ: আদিষ্ট হয়েছিলেন তিন দিন কারো সাথে কোন কথা না বলে একাধারে ইবাদত করার জন্য। খুব দরকারি কাজে ইশারা-ইঙ্গিতের অনুমতি থাকলেও মুখ খোলার অনুমতি ছিল না ঐ তিন দিন (৩: ৪০~৪১ দ্রষ্টব্য)। আল-কোরআনে গুরুত্বের সাথে এই ইবাদতের উল্লেখ করে আল্লাহ পাক মূলত এমন ইবাদতে উৎসাহিত করেছেন সাধারণ মানুষকে যাতে তারা নিজেদের জীবনে তা প্রয়োগ করে উপকৃত হতে পারে এবং লাভ করতে পারে আল্লাহ পাকের বিশেষ রহমত।

হযরত মুসা আ:-এর ইবাদতের ব্যাপ্তি ছিল দীর্ঘ চল্লিশ  দিন। ইবাদতটা তাঁকে করতে হয়েছিল তুর পাহাড়ের একান্ত পরিবেশে আল্লাহর কিতাব লাভের জন্য অপেক্ষমাণ অবস্থায়। উল্লেখ্য নবুওয়ত প্রাপ্তির সময় নবীজি সা:-ও একই রকম নিরবচ্ছিন্ন ইবাদতের অবস্থায় ছিলেন মক্কার হেরা গুহায়। মুসা আ:-কে প্রথমে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল ত্রিশ দিন রোজা করার, পরে আরও দশ দিন বাড়িয়ে তা করা হয়েছিল পুরোপুরি চল্লিশ দিন (৭: ১৪২ দ্রষ্টব্য)। এটা চল্লিশ দিনের বিশেষায়িত বা স্পেশালাইজড ইবাদতের ফর্মুলা ও তার ব্যবহারিক উদাহরণ।

উল্লেখ্য করা আবশ্যক যে চল্লিশ সংখ্যাটা আল্লাহ পাকের অতি হেকমত পূর্ণ একটা সংখ্যা। সৃষ্টির প্রায় সব ক্ষেত্রেই এই চল্লিশ বা চল্লিশের গুণিতক সংখ্যার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তাই একনাগাড়ে চল্লিশটি দিন যদি কাটানো যায় টানা নামাজ, রোজা ও দোয়া-দরূদে তাহলে তা যে কারো জন্যেই একটা ‘মাইল ফলক’ ইবাদত হতে বাধ্য, তা সেই ইবাদতকে চিল্লা বা চল্লিশা যে নামেই ডাকা হোক না কেন। এ রকম নিরবচ্ছিন্ন ‘প্যাকেজ ইবাদত’ দ্বারা মানুষের পবিত্র মনোবাঞ্ছা যে কিভাবে পূরণ হতে পারে তারই প্রত্যক্ষ প্রমাণ পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত মুসা আ:-এর ঐ চল্লিশ দিনের বিশেষ ইবাদত।
দেখা যাচ্ছে যে তিন দিন, ত্রিশ দিন বা চল্লিশ দিনের ইবাদতগুলো বস্তুতপক্ষে আল-কোরআনেরই বিশেষ নির্দেশনা (Recommendations), তবে ফরজ বা সুন্নাহ ভুক্ত ইবাদত নয়। একই ভাবে বিভিন্ন দোয়া-কালেমা পাঠে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার বার এবং ফাতেহার মত সূরা পাঠে চল্লিশ সংখ্যা ভিত্তিক লক্ষ্য স্থির করাও পবিত্র কোরআনেরই দর্শন ভুক্ত তাই অবশ্যই তা মানুষের কল্যাণে প্রয়োগযোগ্য। ইবাদতের এই বিশাল পরিসীমা ঠিক ঠিক বুঝেছিলেন আল্লাহ-ওয়ালা বুজুর্গগণ। তাই তাঁরা জীবন জুড়ে এসব আমল করে গেছেন নিষ্ঠার সাথে। বস্তুতপক্ষে এমন এক্সক্লুসিভ ইবাদত ছাড়া বুজুর্গি লাভ করাও বোধকরি সম্ভব নয়। তাঁরা সাধারণ মানুষকেও অবশ্যই লাভবান করতে চেয়েছেন একই ভাবে। তাই হয়তো  কুলখানি-চল্লিশার মত আঞ্চলিক নাম দিয়ে স্বজন হারানোর একান্ত সময়ে আমলগুলো করার উপদেশ দিয়ে থাকবেন। এভাবে নফল ইবাদতের সুযোগ খুঁজে নেয়াও বস্তুর আল্লাহ পাকেরই নির্দেশনা (৫: ৩৫ দ্রষ্টব্য)। তবে সে সব এখন পরিণত হয়েছে শুধুই যেন মৃত্যুকালীন আনুষ্ঠানিকতায়, আমল সেখানে হয়ে পড়েছে গৌণ।

বস্তুত আপন জনের মৃত্যুই পারে মানুষকে তার জীবদ্দশায় চাক্ষুষ ভাবে পরকালকে দেখাতে। এমনকি চরম নাস্তিকও তখন ঠিকই দেখতে পায় পরোপারকে এবং মানুষ তাৎক্ষণিক ভাবে উপলব্ধি করতে পারে পরম শক্তিমান আল্লাহ তা’য়ালার উপস্থিতিকে। মনের ঐ অবস্থায় যে ভাবে হৃদয় উজাড় করা কান্নার সাথে আল্লাহ পাকের ইবাদত করা সম্ভব তা অন্য সময় সম্ভব নয় কোন ভাবেই। এ রকম ইবাদত কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অত্যধিক এবং এমন সার্থক ইবাদতই দরকার আমাদের জীবনে। কারণ যে ইবাদতে আন্তরিকতা নেই তা কবুলের সম্ভাবনা খুবই কম বরং অনেক ক্ষেত্রে সেটা ক্ষতির কারণও হতে পারে (১০৭: ৪~৬ দ্রষ্টব্য)। তাই ওটাই মোক্ষম সময় সমাজ ও সংসার ভুলে একাগ্র ভাবে আল্লাহকে ডাকার, সেরা সুযোগ জাকারিয়া আ:-এর তিন দিনের ইবাদতের সূত্রকে নিজের জীবনে কার্যকর ভাবে প্রয়োগ করার। মৃতের জন্যে তিন দিনের বেশী শোক না করার যে বাধ্যবাধকতা আছে তা ঠিক রেখেই করা যায় বিধায় এটা একটা নিখাদ ইবাদত হতে পারে নিঃসন্দেহে। তবে চল্লিশ দিন ধরে শোক পালন করা সুন্নতের খেলাফ। চল্লিশ দিনের ইবাদত করতে হলে তা করতে হবে জীবনের স্বাভাবিক কাজকর্মের সাথে একত্রে। এমন নফল ইবাদত নিজের সুযোগ মত করার স্বাধীনতা মানুষের আছে (৫: ৩৫ দ্রষ্টব্য)। কিন্তু ফরজ বা সুন্নাহর ক্ষেত্রে এ রকম সুযোগের কোন অবকাশ নেই, কারণ সেগুলো যথা সময়ে, যথা নিয়মে পালন করতে আমরা বাধ্য।

শুধুমাত্র আঞ্চলিক নামকরণের কারণে কুলখানি, চিল্লা বা চল্লিশার মত একনিষ্ঠ ইবাদতগুলো বাতিল বা বিদআত হতে পারে না। তেমন হলে সালাতকে নামাজ আর সিয়ামকে রোজা বলার কারণে নষ্ট হয়ে যেত আমাদের সব রোজা-নামাজ। আবার এগুলোকে বিধর্মীদের শ্রাদ্ধের সাথে তুলনা করে মুসলমানদের জন্য বাতিল বলাও বাস্তব সম্মত নয় কারণ মুসলমানদের ইবাদতের সাথে ভিন্ন ধর্মীদের কিছু কিছু উপাসনা ও ভঙ্গিমার মিল থাকলেও তার সঙ্গত কারণও আছে। কারণটা আল্লাহ পাক স্বয়ং উল্লেখ করে বলেছেন, শুরু থেকেই ধর্ম ছিল একটাই, শুধুই ইসলাম; পরবর্তীতে তা বিভক্ত হয়েছে বিবিধ স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও পারস্পরিক শত্রুতার কারণে (৩:১৯ দ্রষ্টব্য)। তাই মুসলমানরা কখনোই বিধর্মীদের অনুসরণ করে না বরং অন্য ধর্মগুলোই ইসলামকে বিকৃত করে তৈরি, তাই সেগুলো বাতিল বলে গণ্য। এছাড়াও মুসলমানদের ইবাদত কোন ভাবেই অন্যদের উপাসনার সাথে তুলনীয় হবার নয় কারণ মুসলমানদের ইবাদতে সরাসরি যুক্ত থাকে পবিত্র কোরআন যা অন্যদের কোন উপাসনাতেই থাকে না কখনো।
আবার কোরআনে সরাসরি উল্লেখ থাকার কারণে হাদিসে না পাওয়া গেলেও ইবাদত গুলোকে বাতিলের সুযোগ নেই কেননা তাতে হাদিস দিয়ে কোরআনকে চ্যালেঞ্জ করার মত ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। অথচ হাদিস সব সময়ই কোরআনের সহযোগী, কোন ভাবেই সাংঘর্ষিক হবার নয়। প্রকৃতপক্ষে আল-কোরআনে বর্ণিত বাড়তি ইবাদতগুলো নবীজি সা: ও তাঁর সাহাবিরা এমন ভাবেই করেছেন যে সেগুলোও নিয়মিতই হয়ে গিয়েছিল তাঁদের জীবনে। শুধুমাত্র জেহাদ থেকেই এমন কত শত তিন দিন বা চল্লিশ দিনের ইবাদতময় সময় যে যুক্ত হয়েছে তাঁদের জীবনে তা গুণে শেষ করা যাবে না। তাই আজকের আরামের জীবনে বসে আমাদের পক্ষে একথা বলা শোভনীয় নয় যে তাঁরা ইবাদতগুলো করেননি। আমরা যেহেতু ফরজ ইবাদতকেই বোঝা মনে করি তাই বস্তুত আদা-পানি খেয়ে খুঁজতে থাকি অতিরিক্ত যে কোন ইবাদতকে বিদআত বানানোর ফতোয়া। বড়ই আত্মঘাতী আমাদের এইসব ছল-চাতুরী।

আরও উল্লেখ্য যে নবীজির সময়টা ছিল মৃত্যুময়। এমন দিন খুব কমই ছিল যেদিন মৃত্যু হানা দেয়নি তাঁদের দুয়ারে। এতে তাঁরা পরলোককে দেখেছেন চাক্ষুষ ভাবে একেবারে চোখের সামনে এবং যথার্থ বাস্তবতার সাথে আক্ষরিক অর্থেই উপলব্ধি করেছেন যে আল্লাহ ছাড়া আদতেই মানুষের কোন বন্ধু নেই, কোন সাহায্যকারীও নেই। এরকম বোধ সম্পন্ন অন্তর আল্লাহকে একান্তে পেতে উদগ্রীব থাকে সব সময়। তাই আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে উনাদের কোন রাত-দিন ছিল না, কোন ক্লান্তি ছিল না। সে সব ইবাদতে নিজেদের নিহত সাথীদের জন্যে কিভাবে যে বুক ভাঙ্গা ক্রন্দনে সময় কেটেছে তাঁদের তা বুঝতে কারোরই কষ্ট হওয়ার কথা নয়। জীবদ্দশায় যাদের সাথে তাঁরা নিজেদের সর্বস্ব ভাগ করে নিয়েছিলেন সেই সাথী ভাইদের মৃত্যু তাঁদেরকে যে কিভাবে নাড়া দিয়ে গেছে তা বলে বুঝানো সম্ভব নয়। তেমন মমত্ব ও আন্তরিকতা দিয়ে যদি প্রতিদিন মৃত সঙ্গী-সাথী ও আত্মীয়-পরিজনের জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা যায় তাহলে আয়োজন করে বিশেষ প্রার্থনা করার আর দরকার হয় না।

নবীজিও স্বয়ং প্রতি রাতে যিয়ারত করেছেন মুসলমানদের কবর, দোয়া করেছেন প্রত্যেক বিদেহী আত্মার জন্যে। উনার রাত জাগা সুদীর্ঘ নামাজগুলোও যে ছিল নিহত প্রিয় সতীর্থদের জন্য ফরিয়াদে পূর্ণ তাও বলার অপেক্ষা রাখে না, কারণ ঈমানদারদের প্রতি নবীজির ভালোবাসা ছিল কিংবদন্তি তুল্য যা কিনা আল্লাহ পাক স্বয়ং সাক্ষ্য দিয়েছেন পবিত্র কোরআনে, বলেছেন, তোমাদের মধ্যে রয়েছেন এমন নবী যিনি কষ্ট পান তোমাদের জন্য ক্ষতিকর বিষয়গুলোতে। তিনি তোমাদের কল্যাণকামী। তিনি মু’মিনদের প্রতি অত্যধিক স্নেহশীল ও দয়াবান (৯: ১২৮ দ্রষ্টব্য)। নবীজির মমতা থেকে বস্তুত বাদ ছিলেন না কেউই। এমনকি নিষেধাজ্ঞা না আসা পর্যন্ত তিনি দোয়া করা অব্যাহত রেখেছিলেন তাঁর পরলোকগত মুশরিক চাচার জন্যেও (৯: ১১৩ ও সংশ্লিষ্ট তফসির দ্রষ্টব্য)। তাঁর সেই সব দোয়-কালাম ও মোনাজাতগুলো সবই ছিল শুধুই পবিত্র কোরআন-ময়। কারণ তিনি অন্য কোন কালাম জানতেন না। কোরআন ছাড়া তিনি অন্য কোন বই পড়েন নি, কোন কিছু রচনাও করেননি (২৯: ৪৮ দ্রষ্টব্য)।
আসলে কোরআনে বর্ণিত দোয়া-কালাম ও ইবাদতগুলো এমন ভাবে একীভূত (Integrated) ছিল নবীজি সা: ও সাহাবিদের দৈনন্দিন ইবাদতের মধ্যে যেমন সাগরের পানিতে মিশে থাকে অন্তহীন দ্রব্যাদি। তাই সেগুলো দৃশ্যমান নয় আলাদা আলাদা ভাবে। এরকম একীভূত বিষয়ের ভেতরে একাকার হয়ে মিশে থাকা অন্যান্য বিষয়গুলোকে সাধারণত খোঁজ করে বের করতে হয়। বিষয়টা শরবতে মিশে থাকা চিনির মত যা কিনা পান করে বুঝতে হয় অথবা পানিতে একীভূত হয়ে থাকা হাইড্রোজেন-অক্সিজেনের মত যা চোখে দেখা যায় না, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বের করতে হয়। হাদিসে না থাকা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয় এভাবেই। কারণ নবীজি কখনো কাঁঠাল খেয়েছেন কিনা তা হাদিস ঘেঁটে প্রমাণ করা সম্ভব নয়। তাই কাঁঠাল যে হারাম ফল না সেটা বুঝতে বিবেচনা করতে হবে হালাল-হারামের পুরো পরিসীমা। আল্লাহ পাক বস্তুত মানুষের প্রতি অতীব দয়ালু, তাই তিনি তাঁর বিশেষ ইবাদতগুলোকে অত্যন্ত সহজ ভাবে তুলে ধরেছেন পবিত্র কোরআনে। নতুবা এত সহজে এগুলো খুঁজে পাওয়া সম্ভব হতো না আমাদের পক্ষে।

সুতরাং আল-কোরআনের সুস্পষ্ট উপমা ও উদাহরণ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত তিন দিন, ত্রিশ দিন বা চল্লিশ দিনের ইবাদতের বিষয়ে বিভ্রান্তির কোন সুযোগ নেই। এসব সবই মানুষের লাভবান হওয়ার জন্য অতিরিক্ত সুযোগ ও সুবিধা বিশেষ। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ইবাদতগুলো খুব সহজে ও অত্যন্ত কার্যকর ভাবে করা যায় বিধায় সময়টা সদ্ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। এমন ইবাদত থেকে উপকৃত হয়েছেন আমাদের পূর্বসূরি ঈমানদারেরা। তারা আমাদের জন্যে অনুকরণীয় কারণ মুসলমানদের পরবর্তী কোন দলই তাদের পূর্ববর্তীদের চেয়ে উত্তম নয়। তাই কুলখানি বা চল্লিশা অথবা অন্য যে নামেই ডাকা হোক না কেন, এসব আসলে আল্লাহর ইবাদতেরই সুবর্ণ সুযোগ বৈ  অন্য কিছু নয়। এজন্যেই এই ‘প্যাকেজ ইবাদতের’ সুযোগগুলোকে বিদআতের নামে বিদায়ের চেষ্টা না করে সেখানে হযরত জাকারিয়া আ: ও মুসা আ:-এর আমলের অদলে সুন্নাহ ভিত্তিক ইবাদতের চর্চা নিশ্চিত করা গেলে সেটাই হবে প্রকৃত যথার্থ কাজ। কারণ মাথার ব্যথায় মাথা কেটে ফেলার কোন সুযোগ নেই, তেমন অনাচার আল্লাহ পাকের সহ্য করার কথা নয়। 


Mainul Ahsan, PHD
Clinical Assistant Professor, School of Dentistry, University of Southern California.
লেখকের বই পেতে: Search ‘Mainul Ahsan’ at ‘amazon.com’

বিস্তারিত খবর

চুক্তি সম্পন্ন : কোটা বাড়েনি, হজে যেতে পারবেন সোয়া লাখ বাংলাদেশী

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-১৬ ১২:৪৮:০৮

এ বছর হজযাত্রী কোটা বাড়েনি। গত বছরের মতো ২০১৮ সালের হজেও বাংলাদেশ থেকে মোট এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে যেতে পারবেন। এর মধ্যে সাত হাজার সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং বাকি এক লাখ ২০ হাজার ১৯৮ জন যাবেন বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে।

ধর্মমন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন নয়াদিগন্তকে জানান, গত ১৪ জানুয়ারি সৌদি আরবে সে দেশের হজ ও ওমরা বিষয়ক মন্ত্রী ড. সালেহ তাহের বিন বানতেন এবং বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের উপস্থিতিতে হজ চুক্তি সম্পন্ন হয়। এ সময় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আনিছুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটক সচিব, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত ও কাউন্সিলর হজ উপস্থিত ছিলেন।

আনোয়ার হোসাইন বলেন, হজযাত্রী বাড়ানোর জন্য আমাদের আবেদন ছিল। তবে এ বছর কোনো দেশেরই হজযাত্রী কোটা বাড়েনি। সেজন্য আমাদেরও বাড়েনি। গত বছরের সংখ্যাই বহাল রয়েছে।

হজ চুক্তি করতে ধর্মমন্ত্রীসহ কর্মকর্তারা গত ১২ জানুয়ারি সৌদি আরবে যান। তারা দেশে ফিরে হজ চুক্তির বিস্তারিত জানাবেন বলে উল্লেখ করেন ধর্মমন্ত্রণালয়ের এ সিনিয়র তথ্য অফিসার।


এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত