যুক্তরাষ্ট্রে আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 09:49pm

|   লন্ডন - 03:49pm

|   নিউইয়র্ক - 10:49am

  সর্বশেষ :

  পাকিস্তানে চীনের পরমাণু সাবমেরিন ঘাঁটি, চিন্তায় ভারত   উড়তে থাকা বার্সার অপরাজেয় যাত্রা থামলো   রাশিয়ায় তাপমাত্রা মাইনাস ৬৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস!   অলিম্পিকে দুই কোরিয়ার ‘অভিন্ন পতাকা’   মৌলভীবাজার ডিষ্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের মতবিনিময়   রাখাইনে বিক্ষোভে পুলিশের গুলি, নিহত ৭   বিশ্বের প্রথম ‘পানিহীন’ শহর!   মুসলিম শিশুদের মসজিদে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা চীনের   ইউএনএইচসিআর ছাড়াই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন উদ্বেগের : জাতিসঙ্ঘ   মুক্তিযোদ্ধা বিবেচনার ন্যূনতম বয়স সাড়ে ১২ বছর পুনঃনির্ধারণ   ডিএনসিসি’র মেয়র পদে উপনির্বাচন স্থগিত   এবার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে 'বিশ্ব সিলেট সম্মেলন'   জালালাবাদ এসোসিয়েশনের কালচারাল সেক্রেটারি লায়েক আহমেদের বোনের মৃত্যুতে শোক   বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৭টি নদীর বেশির ভাগই নাব্যতাহীন   ভোলার ভেদুরিয়ায় নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান

>>  ইসলামী জীবন এর সকল সংবাদ

চুক্তি সম্পন্ন : কোটা বাড়েনি, হজে যেতে পারবেন সোয়া লাখ বাংলাদেশী

এ বছর হজযাত্রী কোটা বাড়েনি। গত বছরের মতো ২০১৮ সালের হজেও বাংলাদেশ থেকে মোট এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে যেতে পারবেন। এর মধ্যে সাত হাজার সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং বাকি এক লাখ ২০ হাজার ১৯৮ জন যাবেন বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে।

ধর্মমন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন নয়াদিগন্তকে জানান, গত ১৪ জানুয়ারি সৌদি আরবে সে দেশের হজ ও ওমরা বিষয়ক মন্ত্রী ড. সালেহ তাহের বিন বানতেন এবং বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের উপস্থিতিতে হজ চুক্তি সম্পন্ন হয়। এ সময় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আনিছুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন

বিস্তারিত খবর

ইসলামে ব্যক্তিপূজা হারাম

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২৪ ১২:১৭:১১

গতকাল বিজয় দিবসের এক অনুষ্ঠানে থাকার সৌভাগ্য হয়েছিলো। সেখানে প্রবাসের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করছিলেন। বেশ কয়েক জন মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিতও ছিলেন। আপনাদের সদয় অবগতির জন্য বলছি যে ঐ সময় আমি দাউদকান্দি ও হোমনা এই দুই থানায় প্রধানতঃ মুক্তিযুদ্ধের সংঘটক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলাম। কানাইনগরের মতিন মাষ্টার, মহিষমারির নজরুলসহ অনেকেই ঐ সময় মুক্তির সংগ্রামে বিভিন্নভাবে সক্রিয় ছিলেন। পরে অবশ্য আমিও সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিলাম এবং পাক বাহিনীর সাথে সামনা সামনি যুদ্ধও করেছিলাম। কিন্তু সার্টিফিকেট নেইনি বলে আমি তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হতে পারিনি। অবশ্য আমি হতেও চাইনি। কারণ মুক্তিযুদ্ধ করার জন্য কারো কোন স্বীকৃতি থাকা প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।

সংখ্যা কম হলেও বাংলাদেশে আমার মত বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধা ভাই আছেন। বলাই বাহুল্য যে মুক্তিযুদ্ধ করেছি বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে তৃপ্ত এবং গর্বিত। শুধু তাই নয়, আমি কোনদিনই একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেকে অন্যের কাছে তুলে ধরতে আগ্রহী ছিলাম না। তবে সবাই না জানলেও ঐ সময়কার অনেক মুক্তিযোদ্ধা এবং সংগঠক আমাকে চিনেন এবং জানেন।

যাক বিজয় অনুষ্ঠান উপভোগ করছিলাম। বেশ ভালই লাগছিলো। এক পর্য্যায়ে প্রবাসী এক অধ্যাপিকা বক্তব্য দিতে মঞ্চে উঠলেন। আমরা সবাই করতালি দিয়ে তাকে স্বাগতঃ জানালাম। তিনি  মুক্তযুদ্ধের বর্ণনা দিলেন। ভালই বললেন। উক্ত অধ্যাপিকা তার বক্তব্যের এক পর্য্যায়ে বললেন যে তিনি টিভিতে দেখেছেন যে কোলকাতার কোন এক হিন্দু ব্যক্তি দুই বেলা মোমবাতি জ্বালিয়ে শেখ মুজিবের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অন্যভাবে বলা যায় তাঁর পূজা করেন। অতএব তার মতে আমরা অর্থাৎ বাংলাদেশের সবারই তা করা উচিত। আমরাও যেন হিন্দুদের মত ব্যক্তি পূজা শুরু করি। হিন্দুরা যখন যাকে ইচ্ছা দেবতা বানিয়ে পূজা করতে পারে। তাদের ধর্মে হয়তো এ নিয়ে কোন বাধ্য বাধকতা নেই। অধ্যাপিকা নামে মুসলমান হলেও তিনি নিজে ইচ্ছা করলে ব্যক্তি পূজা করতে পারেন। কেউ তাকে বাধা দিতে পারবে না।

বর্তমান আমেরিকার সংবিধান অনুযায়ী তার সে অধিকার আছে। কিন্তু তিনি অন্য কাউকে ব্যক্তি পূজা করার জন্য  আহ্বান জানাতে পারেন না। অামরা যারা আমেরিকান মুসলমান তারা তার এ বক্তব্যের জন্য তার প্রতি তীব্র ঘৃণা, ক্ষোভ এবং নিন্দা জানাই। তার উচিৎ সবার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া।

ইসলাম ধর্মে ব্যক্তি পূজা  হারাম এবং আমরা যারা এক আল্লাহ্ বিশ্বাস করি তারা এর ঘোর বিরোধী। শুধু তাই নয়, যে সব মুসলমান ব্যক্তি পূজা করেন বা ব্যক্তি পূজা সমর্থন করেন তারা সবাই ইসলামের শত্রু। আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন এবং হেদায়েৎ নসীব করুন। আমরা যেন সব সময় উত্তম কাজের জন্য আদেশ এবং মন্দ কাজের জন্য নিষেধ করে যেতে পারি। আমীন।

বিস্তারিত খবর

উপার্জন কখন হালাল, কখন হারাম

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-১৮ ০০:৫২:৪৯

উপার্জন করা কখনো ফরজ হয়ে যায়। তা হলোÑ নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, ঋণ পরিশোধের জন্য এবং যার খরচ দেয়া ব্যক্তির ওপর আবশ্যক তার খরচের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ উপার্জন করা। রাসূল যা বলেছেন, ‘ব্যক্তির পাপের জন্য এটাই যথেষ্ট, যাদের খোরপোশ প্রদান তার কর্তব্য তাদের খোরপোশ যে বন্ধ রাখবে।’
এ পরিমাণ উপার্জনের পর যদি উপার্জন করা ছেড়ে দেয়, তাহলে তার সেটা করার অধিকার আছে। আর যদি নিজের ও পরিবারের জন্য মজুদ করার মতো কিছু উপার্জন করে তাহলে সেটারও সুযোগ আছে।
কখনো উপার্জন করা মুস্তাহাব। তা হলো ন্যূনতম প্রয়োজনের অধিক উপার্জন করা, যেন তা দ্বারা দরিদ্রকে সহযোগিতা বা নিকটাত্মীয়ের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করা যায়।
দ্বীন, ইজ্জত, ব্যক্তিত্ব ও দায়মুক্তিকে নিরাপদ রাখার সাথে সম্পদ ও সম্মান বাড়ানোর জন্য, সচ্ছলতা অর্জন এবং উন্নত জীবনযাপনের জন্য এবং পরিবারকে প্রাচুর্যময় রাখার জন্য হালাল সম্পদ উপার্জন বৈধ। কেননা এ শর্তগুলো থাকলে উপার্জনে কোনো ক্ষতি নেই।
গর্ব-অহঙ্কার ও বড়াই করার জন্য উপার্জন করা, যদি হালাল সম্পদের উপার্জন করা হয় তবুও হানাফিদের মতে তা মাকরূহ। হাম্বলিরা স্পষ্ট ভাষায় এটাকে হারাম বলেছেন, যেহেতু তাতে রয়েছে বড়াই ও গর্ব, যা ব্যক্তিকে পার্থিব ও পরকালীন বিচারে ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
আবুল লাইচ সমরকান্দী র: বলেন, যে চায় উপার্জন হালাল হোক তার পাঁচটি বিষয় অনুসরণ করা আবশ্যক : ১. উপার্জনের প্রয়োজনে আল্লাহর কোনো ফরজ বিধান পালনে বিলম্ব না করা এবং তাতে ত্রুটি না করা; ২. উপার্জনের প্রয়োজনে আল্লাহর কোনো সৃষ্টিকে কষ্ট না দেয়া; ৩. উপার্জন দিয়ে নিজের ও পরিবারের চাহিদা পূরণ এবং দ্বীন ও সম্মান বাঁচানোই কাম্য হওয়া। সম্পদ জমা করা ও বাড়ানোর লক্ষ্যে উপার্জন না করা; ৪. উপার্জনে নিজেকে অতিকান্ত না করে ফেলা; ৫. উপার্জনেই রিজিক অর্জিত হয়, এ কথা মনে না করা। বরং এ কথা মনে রাখতে হবে, রিজিক আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত হয়, উপার্জন হচ্ছে তার একটি মাধ্যম।
প্রত্যেক উপার্জনক্ষম মুসলমানের ওপর উপার্জন সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক। এ জ্ঞান অর্জন করতে হবে চুক্তির সে বিধানগুলো জানার জন্য, যেগুলো থেকে উপার্জনপন্থা কখনো মুক্ত হয় না। সেগুলো হলো : ক্রয়-বিক্রয়, সুদ, সালাম বা দাদন চুক্তি, ইজারা প্রদান, সারিকা এবং মুদারাবা। এসব চুক্তির বিধানবলির জ্ঞান যত অর্জিত হবে উপার্জনকারী লেনদেনের ক্ষতিকর বিষয়াদি সম্পর্কে তত জানতে পারবে। ফলে সেগুলো থেকেও বেঁচে থাকতে সক্ষম হবে।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

মানবজাতির জন্য অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব মুহাম্মাদ (সা.)

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-৩০ ১৪:২৭:৩১

সমসাময়িক বিশ্ব ঘটনাবলির দিকে যিনিই তাকাবেন তিনিই লক্ষ করবেন, পেশিশক্তির ওপরে যুক্তির প্রাধান্য বিরাজ করছে না, আমাদের মূল্যবোধ ইতোমধ্যে ক্ষয় পেতে শুরু করেছে, আর আমাদের এমন কোনো নেতা নেই যার ওপর আমরা ভরসা করতে পারি। আমরা সঙ্কটের মধ্যে আছি। বর্তমান পরিস্থিতি একজন লোকের কথা মনে করিয়ে দেয়, যিনি এই গানটি লিখেছিলেন ‘Where are all the flowers gone, in an English country garden? ’ এই লোকটি যদি আজ বেঁচে থাকতেন তাহলে উনি আর একটি গান গাইতেন, ‘Where have all the values and valor gone? ’ ইতিহাসে এর আগে কখনো একজন আদর্শ নেতার সঙ্কট এত প্রকটভাবে অনুভূত হয়নি। যেমনটি আজ দেখা দিয়েছে। এ যুগের চাহিদা একজন নেতার যিনি সমগ্র মানব সম্প্রদায়ের জন্য অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হতে পারেন। যেকোনো শিক্ষাব্যবস্থার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এ ধরনের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বকে চিহ্নিত করা এবং ছাত্রছাত্রীদের এসব ব্যক্তিত্বের জীবন ও শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করা। মানবজাতি সবসময় এমন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বের সন্ধানে রয়েছে এবং বিভিন্ন সমাজ এ উদ্দেশ্যে তাদের চিহ্নিত করেছে। এখন প্রশ্ন হলো- এই ব্যক্তিরা কি সত্যিই সময়ের বিচারে উত্তীর্ণ হয়েছেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে হলে ওই সব ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা যায়, যাদের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উচ্চমর্যাদা দেয়া হয়েছে। যেমন- জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, মাও সেতুং, মহাত্মা গান্ধী এবং তাদের মতো অন্যান্য। তাদের চরিত্রের বিস্ময়কর গুণাবলির জন্য মানুষ তাদের স্মরণ করে, কিন্তু যদি কেউ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, গতিশীল নেতৃত্ব, চরিত্রের সাহসিকতা, সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা এবং স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য, কৃতজ্ঞতা প্রভৃতি দিক বিবেচনা করে তাহলে বলা যাবে না যে, এসব মহৎ লোক যুগের সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তারা কেবল একটি বিশেষ সময়ের জন্য অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ স্যার উইনস্টন চার্চিলের কথা বলা যায়। মানুষ আজো শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে কী করে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ব্রিটিশ দ্বীপগুলোর অধিবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং তাদের মনোবল চাঙ্গা করে রেখেছিলেন। এর পরও যখন একই ব্যক্তি চার্চিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পরেই নির্বাচনে প্রার্থী হলেন, তিনি তাতে হেরে গেলেন! জনগণ ব্যাপারটি এভাবে বিচার করল : চার্চিল হলেন যুদ্ধকালীন নেতা, শান্তিকালীন নেতা নন। এভাবে ব্রিটিশদের কাছে চার্চিল একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন একটা বিশেষ সময়ের জন্য, সব সময়ের জন্য নয়। এবার ধরা যাক, মাও সেতুংয়ের কথা। কে না জানে তিনি চীনের মূল ভূখণ্ডে কত বড় সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন? কিন্তু ইতিহাসের কী পরিহাস! মাও সে তুংয়ের মৃত্যুর পর ‘দ্য গ্যাং অব ফোর’, যারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে জননন্দিত হয়েছিলেন, তাদেরকে গা-ঢাকা দিতে হয়েছিল। এমনকি মাও সে তুংয়ের স্ত্রীর জীবনেও নেমে এসেছিল বিপর্যয়। আবারো আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আগের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বদের নেতৃত্ব পরবর্তী সময়ে বিনা প্রশ্নে গ্রহণ করা হলো না।
বর্ণবৈষম্য দূরীকরণে বিশেষ অবদানের জন্য নেলসন ম্যান্ডেলাকে একজন অবিস্মরণীয় নেতা মনে করা হয়। কিন্তু তার জীবনের কিছু দিক, যা একান্তই তার ব্যক্তিগত, তার সময়ের অনেক লোকের পছন্দ নয়। তাই এ কথা সুস্পষ্ট যে এমন কোনো নেতা পাওয়া মুশকিল, যিনি সর্বযুগে সব মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন। যুগে যুগে অনেক ধার্মিক ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন দেশে এসেছেন। তাদের চরিত্র ছিল বিতর্কের ঊর্ধ্বে, তাদের সততা ছিল দৃষ্টান্তমূলক। কিন্তু তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেননি। মানুষ চায় এমন আদর্শ ব্যক্তিত্ব, যিনি রক্তমাংসে গড়া, যিনি সত্য কথা বলেন, যিনি হিংসাবিদ্বেষের ঊর্ধ্বে, যিনি মানুষকে বর্ণ, ধর্ম ও বিশ্বাস নির্বিশেষে ভালোবাসেন এবং যিনি মানুষকে রাষ্ট্র পরিচালনাসহ সব কাজে নেতৃত্ব দিতে পারেন।
এ ধরনের আদর্শ ব্যক্তিত্ব কি পৃথিবীতে এসেছিলেন? হ্যাঁ, এসেছিলেন এবং তাঁর নাম হজরত মুহাম্মাদ সা:। পবিত্র কুরআনের ২১ নম্বর সূরার ১২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, তাঁকে সমগ্র সৃষ্টির জন্য পাঠানো হয়েছে, কোনো বিশেষ মানবগোত্রের জন্য নয়। তাঁর কাছে যে মহাগ্রন্থ অবতীর্ণ করা হয়েছে তা-ও সর্বজনীন এবং সমগ্র মানবসম্প্রদায়ের জন্য। পবিত্র কুরআনে ৩৩ নম্বর সূরার ২১ নম্বর আয়াতে আরো বলা হয়েছে, আল্লাহ ও আখেরাতের ওপর যার বিশ্বাস রয়েছে এবং যে আল্লাহর প্রশংসায় মশগুল থাকে, সে রাসূলুল্লাহ সা:-এর মধ্যে জীবন পরিচালনার একটি সুন্দর আদর্শ খুঁজে পাবে। রাসূলুল্লাহ সা:-কে যে সমগ্র মানবজাতির অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে, তা তাঁর সব কথায় ও কাজে সুস্পষ্ট। শুধু তা-ই নয়, এ কথা ও কাজগুলোকে যদি ছাত্রদের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়, তা তাদের চরিত্র গঠনে বিশেষ অবদান রাখবে। হজরত মুহাম্মদ সা: ছিলেন একাধারে একজন আদর্শ পিতা, একজন আদর্শ স্বামী, একজন আদর্শ যোদ্ধা, একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক ও একজন আদর্শ ধর্মপ্রচারক। তাঁর জীবন ও চরিত্র ইতিহাসে এত স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে যে, তাঁর কথা ও কাজের বিবরণ সম্পর্কে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
পবিত্র কুরআনের আদর্শের তিনি ছিলেন জীবন্ত নিদর্শন এবং তাঁকে অনুসরণ করে যে কেউ সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়ে মানবতার সেবা করতে পারে। নবীজির একটি বড় আদর্শ, যা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান নির্বিশেষে সব ছাত্রকে জানানো উচিত, তা হলো অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে তাঁর ব্যবহার। যদিও পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ইসলামই একমাত্র জীবনবিধান (দ্বীন)। মুসলমানদের বলা হয়েছে অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে খারাপ ভাষা ব্যবহার না করতে, যাতে তারা আল্লাহ সম্পর্কে কুমন্তব্য করার সুযোগ না পায়। অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি মুসলমানদের আচরণবিধি কী হবে, তা হজরত মুহাম্মাদ সা: তাঁর নিজের জীবনে দেখিয়ে গেছেন। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর যে রাষ্ট্র তিনি গঠন করেছিলেন তার ভিত্তি কী ছিল? এটাই ঐতিহাসিক ‘মদিনা সনদ’, পৃথিবীর সর্বপ্রথম লিখিত গঠনতন্ত্র, সংবিধান। এই গঠনতন্ত্রের একটি ধারা ছিল- বিভিন্ন ধর্মের লোক নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবে এবং কেউ অন্যের ধর্ম পালনের বিষয়ে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। এটা শুধুই একটা ‘ধারা’ ছিল না, এই ধারাটি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। পবিত্র কুরআনে এত সুস্পষ্ট উদাহরণ থাকার পরও কোনো মুসলমানকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে চিহ্নিত করা যায় কি? এ ছাড়া পবিত্র কুরআনে বারবার জোর দিয়ে বলা হয়েছে, মানবসম্প্রদায় এক ও অভিন্ন জাতি। তাই যদি কোনো মুসলমানকে সাম্প্রদায়িক বলা হয়, তাহলে তার এটা গ্রহণ করা উচিত এবং বলা উচিত যে তার সম্প্রদায় সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে নিয়ে গঠিত। ধ্যানধারণা ও কাজে গোষ্ঠী-মানসিকতার প্রতিফলন ঘটানো কোনো মুসলমানের পক্ষে অসম্ভব। বস্তুত যে কেউ পবিত্র কুরআন পাঠ করেছেন এবং হজরত মুহাম্মাদ সা:-এর জীবনী পাঠ করেছেন, তিনি অবিলম্বে এই উপসংহারে পৌঁছবেন যে ইসলাম ও সাম্প্রদায়িকতা পাশাপাশি থাকতে পারে না। একমাত্র সেই সমাজেই সাম্প্রদায়িকতা বিরাজ করতে পারে যেখানে ইসলাম যথাযথভাবে পালিত হয় না, যেখানে সামাজিক ন্যায়বিচার নেই, যেখানে স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা নেই। ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটির বর্তমান সময়ের অর্থে একজন মুসলমান কী করে সাম্প্রদায়িক হতে পারে, যখন সমগ্র মানবজাতিকেই ইসলামে এক জাতি আখ্যায়িত করা হয়েছে?
এ কথাটি ছাত্রদের বোঝাতে হবে যে, বর্তমান সময়ে যদি কেউ একজন আদর্শ শিক্ষক, একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক, একজন আদর্শ ধর্মপ্রচারক, একজন আদর্শ সমাজসংস্কারক এবং একজন মানবতাবাদীকে খুঁজতে চায় তাহলে তার অনুসন্ধান তাকে নিয়ে যাবে হজরত মুহাম্মাদ সা:-এর কাছে। তিনি বুঝতে পারবেন যেসব মানুষের জন্য এবং মানুষের সব কর্মের জন্য নবীজি মানবজাতির আদর্শ- সর্বকালের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। এরূপ চিহ্নিতকরণ শুধু মুসলমানই করবে না, বরং যেকোনো ধর্মের যেকোনো বিবেকবান লোকই এটা করবেন।
জর্জ বার্নার্ড শ থেকে একটি উদ্ধৃতি দিয়ে শেষ করছি : ‘আমি সবসময় মুহাম্মাদের ধর্মকে উচ্চমর্যাদা দিয়েছি এর আশ্চর্য জীবনীশক্তির জন্য। এটিই একমাত্র ধর্ম, যার পরিবর্তনশীল দুনিয়ার সাথে খাপ খাওয়ানোর মতা আছে বলে আমার মনে হয়। আর এ ধর্ম সর্বযুগেই সমাদৃত হতে পারে। আমি এ বিস্ময়কর লোকটিকে বুঝতে চেষ্টা করেছি এবং আমার মতে, তিনি অ্যান্টি-ক্রাইস্ট তো ননই বরং তাঁকে মানবজাতির ত্রাণকর্তা বলা উচিত। আমার বিশ্বাস, তাঁর মতো একজন মানুষ যদি বর্তমান বিশ্বের একনায়ক হতেন তাহলে তিনি এ সমস্যাগুলোর এমন সমাধান দিতে সক্ষম হতেন, যা পৃথিবীতে শান্তি ও সুখ এনে দিত। মুহাম্মাদের ধর্মের ব্যাপারে আমি এরূপ ভবিষ্যদ্বাণী করছি যে, এটি যেমন বর্তমান ইউরোপে গ্রহণযোগ্য হতে শুরু করেছে তেমনি আগামী দিনের ইউরোপেও তা গ্রহণযোগ্য হবে’ (জর্জ বার্নার্ড শ, দ্য জেনুইন ইসলাম, সিঙ্গাপুর, ভলিউম ১, ১৯৩৬)।
এখন যখন মানবসম্প্রদায় নানা যুদ্ধবিগ্রহে জড়িয়ে পড়ছে এবং ‘শক্তিশালী’ ও ‘উগ্র’ এই দুই শক্তির দ্বন্দ্বে ছিন্নভিন্ন এবং নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠরা চরম ভয়ভীতি ও অস্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছে, তখন এমন লোকের আবির্ভাব, যিনি মানবজাতির ত্রাণকর্তার অনুসারী, সবার কাছেই একটি স্বাগত সংবাদ হবে। মানবজাতির অনুকরণীয় আদর্শ নবীজি হজরত মুহাম্মাদ সা:-এর শুভ জন্মদিনে মহান আল্লাহর কাছে আমাদের প্রার্থনা হোক মানবজাতির পরিত্রাণ।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

হজ ও ওমরায় সেলফি নিষিদ্ধ

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-২৫ ১০:২৪:২২

মক্কায় মসজিদুল হারাম ও মদিনায় মসজিদে নববীতে সেলফি তোলা নিষিদ্ধ করেছে সৌদি সরকার। তুরস্কের সংবাদপত্র ডেইলি সাবাহ এ তথ্য জানিয়েছে।

পত্রিকাটি জানিয়েছে, গত ১২ নভেম্বর এই দুটি মসজিদে এবং ধর্মীয় পবিত্র স্থানগুলোতে সেলফি তোলায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পবিত্র স্থানগুলো রক্ষায়, প্রার্থণাকারীদের বিরক্ত করা এড়াতে এবং প্রার্থণার সময় প্রশান্তি নিশ্চিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা পোস্ট জানিয়েছে, সৌদি আরবে যেসব দূতাবাস রয়েছে তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এ বিষয়টি অবহিত করেছে রিয়াদ। ১৫ নভেম্বর ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাস এ সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হজ ও ওমরা করতে যেয়ে অনেকে কাবা শরীফ ও মসজিদে নববীতে সেলফি তুলে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে পোস্ট করেছে। অনেকে আবার গ্রুপ ছবি তুলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছে। সমালোচকদের মতে, এটা এই দুই পবিত্র স্থানে এসে প্রার্থণার পরিবর্তে পর্যটকের মতো আচরণ করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ নিষেধাজ্ঞার কোনো লংঘন ঘটলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ছবি এমনকি প্রয়োজন পড়লে ক্যামেরা জব্দেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

প্রত্যেক হজ ও ওমরা পরিচালনাকারী সংস্থাকে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের পক্ষ থেকে এই নির্দেশনা জানিয়ে দেওয়ার বিষয়েও বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

আজ ঐতিহাসিক আশুরা : মুসলমানদের জীবনে এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৯-৩০ ১৮:০৫:৪৬

আজ ১০ মহররম। হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর নিকট ‘আশুরা’ হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। সৃষ্টির শুরু থেকেই  বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাসহ কারবালার শোকাবহ ঘটনার জন্য এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে ধর্মীয়ভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মুসলমানরা দিনটি যথাযথ মর্যাদায় ইবাদাত-বন্দেগি ও সিয়াম পালনের মাধ্যমে অতিবাহিত করেন।

আশুরার একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা হচ্ছে, ৬৮০ খ্রিস্টাব্দের ১০ মহররম ইমাম হোসাইন (রা.) সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য, হক ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে আত্মত্যাগে এবং আত্মোৎসর্গের যে অপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, তা পৃথিবীর মানুষকে যুগ যুগ ধরে ন্যায়ের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেরণা জুগিয়ে আসছে।
বিখ্যাত হাদিসগ্রন্থ বুখারি থেকে জানা যায়, রাসুল (সা.) বলেনÑ “এই দিনে বনি ইসরাইলের জন্য সমুদ্রে রাস্তা বের করে দিয়েছেন এবং তাদেরকে নিরাপদে পার করে দিয়েছেন। আর একই রাস্তা দিয়ে ফেরাউন ও তার অনুসারীদেরকে ডুবিয়ে মেরেছেন।”-(সহিহ বুখারি : ১/৪৮১)।

বিভিন্ন তথ্যমতে এই দিনে আসমান ও যমিন সৃষ্টি করা হয়, পৃথিবীর প্রথম মানুষ হযরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়, নুহ (আ.) এর কিশতী জুদী পাহাড়ে অবতরণ করে, হযরত ইউনুস (আ.) তাওবা কবুল করা হয়, আল্লাহ পাক স্বীয় আরশে আজীমে অধিষ্টিত হন, পৃথিবীতে সর্বপ্রথম বৃষ্টি বর্ষণ হয়, ইবরাহিম (আ.) অগ্নিকু- হতে মুক্তি পান, ৪০ দিন মাছের পেটে থাকার পর এদিনে হযরত ইউনুস (আ.) মুক্তি লাভ করেন,  দাউদ (আ.) এর দুয়া কবুল হয়Ñ তবে হাদিস বিশারদরা এসব ঘটনা সম্বলিত হাদিসগুলোকে দুর্বল বলেছেন।

তবে আশুরার দিনে সিয়াম পালনের ব্যাপারে বিশুদ্ধ হাদিসের নির্দেশনা পাওয়া যায়। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুলল্লাহ (সা.) বলেন, “রমজানের পর সব সিয়ামের (নফল) মধ্যে আশুরার সিয়াম সর্বশ্রেষ্ঠ”। (জামে তিরমিযি ১/১৫৬)। আশুরার দিন সিয়াম রাখার ফযিলত সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, “আমি আশা করি যে ব্যক্তি ‘আশুরা’ দিবসে সিয়াম রাখবে তার এক বছরের বছরের গুনাহের কাফ্ফারা (ক্ষমা) হয়ে যাবে”। (মুসলিম, ১/৩৬৭)। আশুরার দিন সিয়াম রাখলে ইহুদীদের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যায় বিধায় রাসূলুল্লাহ (সা.) তার আগের দিন বা পরের দিন আরেকটি সিয়াম রাখার পরামর্শ দেন (মুসনাদ আহমদ)।

মুসলিম পণ্ডিতরা বলেন, “আশুরায় সিয়াম পালন করা যেমন ভালো কাজ, তেমনি দরিদ্রজনকে খাওয়ানোটাও সওয়াবের কাজ। এ দিন পরিবার-পরিজনকে খাওয়ানোর জন্য উত্তম খাবার ব্যবস্থা করায়ও কল্যাণ রয়েছে।”
মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র আশুরা পালিত হবে। আজ সরকারি ছুটির দিন। এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

এ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক আজ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।সংবাদপত্র অফিসগুলোতে ছুটি পালিত হবে। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও-টিভি চ্যানেলেও এই দিনের তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে।


এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

১ অক্টোবর পবিত্র আশুরা

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৯-২১ ১৫:৩৪:০০

বাংলাদেশের আকাশে ১৪৩৯ হিজরি সনের পবিত্র মুহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে ২২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার থেকে পবিত্র মুহররম মাস গণনা করা হবে। এ হিসেবে পয়লা অক্টোবর রোববার সারা দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান।


বিস্তারিত খবর

পবিত্র কাবা শরীফের নামে টুইটার একাউন্ট

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৯-০২ ১২:১৭:৫৪

ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবা শরীফের নামে একটি টুইটার একাউন্ট খোলা হয়েছে। সেটি থেকে শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে টুইট করা হচ্ছে। এর নিজস্ব 'ইমোজি'ও তৈরি করা হয়েছে। খবর- বিবিসির।

ইতোমধ্যে এই টুইটার একাউন্টটি ফলো করছে হাজার হাজার মানুষ।

মক্কার মসজিদের কেন্দ্রস্থলে কাবা-মুখী হয়েই সারা বিশ্বের মুসলিমরা নামাজ পড়েন।

বৃহস্পতিবার হতে এট দ্যা রেট (@) হোলিকাবা টুইটার একাউন্ট থেকে টুইট করা শুরু হয়। সেদিন মক্কায় হজ্জ্ব পালনের জন্য জড়ো হয়েছিলেন প্রায় বিশ লাখ মুসলিম।

হজ্বের আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে সব হাজীকে সাতবার এই কাবা প্রদক্ষিণ করতে হয়।
এই টুইটার একাউন্ট থেকে বৃহস্পতিবার লাইভ পেরিস্কোপ ভিডিওতে কাবা শরীফের 'কিসওয়া', অর্থাৎ যে কালো এবং সোনালি পর্দায় কাবা শরীফ ঢাকা থাকে, সেটি বদলানোর দৃশ্য দেখানো হয়।

হাজার হাজার মানুষ এই ভিডিও দেখেন এবং এটি রি-টুইট করেন।

কাবা শরীফের নামে টুইটার একাউন্টটি খোলা হয় গত মার্চে। কিন্তু এটি আসলে সচল হয় গত বৃহস্পতিবার।

এই একাউন্ট থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৮টি টুইট করা হয়। তখন পর্যন্ত এই একাউন্টের ফলোয়ার ছিল ২৭ হাজারের কিছু বেশি।

বিবিসি আরবী সার্ভিসের সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞ ফয়সাল ইরশাইদ জানিয়েছেন, সৌদি সরকারের সংস্কৃতি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের কোন একাউন্টের সঙ্গে এই টুইটার একাউন্টের কোন সম্পর্ক দেখা যাচ্ছে না।

বিস্তারিত খবর

আজ পালিত হচ্ছে পবিত্র হজ

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-৩১ ০৩:৫৩:৫১

আজ বৃহস্পতিবার পবিত্র হজ। ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক।’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নেয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার)।

লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি আজ এই তালবিয়া পাঠ করে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে পাপমুক্তির আকুল বাসনায় সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে থাকবেন। মূলত ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান হজ পালনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। হজ পালন করতে এসে যারা অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদেরও অ্যাম্বুলেন্সে করে আরাফাতের ময়দানে স্বল্প সময়ের জন্য আনা হবে।

হজের দিন সারাক্ষণ আরাফাতে অবস্থান করা ফরজ। আজ মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের খুতবা দেবেন গ্র্যান্ড মুফতি। আরাফাতের খুতবার পর হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। এরপর তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে মুজদালিফায় যাবেন এবং সেখানে একসঙ্গে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। রাতে সেখানে তারা অবস্থান করবেন খোলা মাঠে। সেখান থেকে শয়তানের প্রতিকৃতিতে নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করবেন। এর আগে পবিত্র হজ পালন করতে মঙ্গলবার রাতে হাজিরা মক্কা থেকে মিনায় পৌঁছান।

১০ জিলহজ মুজদালিফায় মুসল্লিরা ফজরের নামাজ আদায় করে কেউ ট্রেনে, কেউ গাড়িতে, কেউ হেঁটে মিনায় যাবেন এবং নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরবেন। মিনায় বড় শয়তানকে সাতটি পাথর মারার পর পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছেঁটে (ন্যাড়া করে) গোসল করবেন এবং সেলাইবিহীন দুই টুকরো কাপড় বদল করবেন। এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন। কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় সাঈ (সাতবার দৌড়াবেন) করবেন। সেখান থেকে তারা আবার মিনায় যাবেন।

মিনায় যত দিন থাকবেন, তত দিন তিনটি (বড়, মধ্যম, ছোট) শয়তানকে ২১টি পাথর মারবেন। এরপর আবার মক্কায় বিদায়ী তাওয়াফ করার পর নিজ নিজ দেশে ফিরবেন। যারা হজের আগে মদিনায় যাননি, তারা মদিনায় যাবেন। এভাবে সম্পন্ন হবে হজের পুরো আনুষ্ঠানিকতা।

কাবা শরিফে নতুন গিলাফ পরানো হবে :
আজ কাবা শরিফের গায়ে পরানো হবে নতুন গিলাফ। নতুন গিলাফ পরানোর সময় পুরোনো গিলাফ সরিয়ে ফেলা হয়। কাবা শরিফের দরজার ও বাইরের গিলাফ দুটিই মজবুত রেশমি কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়। গিলাফের মোট পাঁচটি টুকরা বানানো হয়। চারটি টুকরা চারদিকে এবং পঞ্চম টুকরাটি দরজায় লাগানো হয়। টুকরাগুলো পরস্পর সেলাইযুক্ত।

হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ পুলিশ, আধা সামরিক ও সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। হাজিদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে মিনায় কিছুদূর পর পর রয়েছে হাসপাতাল। রয়েছে মোয়াচ্ছাসা, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশের সদস্য। হাজিরা পথ হারিয়ে ফেললে স্বেচ্ছাসেবক, স্কাউট ও কর্মীরা তাদের নির্দিষ্ট (তাবু) গন্তব্যে পৌঁছে দেন।

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হচ্ছে হজ পালন। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করতে হয়। এবার বিশ্বের প্রায় ১৭১ দেশের ২০-২৫ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবার হজ পালনে সৌদি আরব পৌঁছেছেন। বাংলাদেশ থেকে এবার ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৫৮ জন হজ পালন করছেন।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

মুমিনজীবনে পরকালের প্রস্তুতিই মুখ্য

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-৩০ ০২:৩৯:৫৪

একজন মুমিনের অকাট্য বিশ্বাস হলো এই জীবনই শেষ নয়, মৃত্যুর পর আরো একটি জীবন রয়েছে। পার্থিব এই জীবন ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু এরপর যে জীবন রয়েছে এর কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। এজন্য একজন বিশ্বাসী মানুষের কাছে দুনিয়ার চেয়ে পরকালের প্রস্তুতিই মুখ্য। পবিত্র কোরানের ভাষায় এই দুনিয়া হলো একটি খেলাঘরের মতো। দুনিয়ার জীবনটা আখেরাতের তুলনায় কিছুই নয়। বলা হয়, আটলান্টিক মহাসাগরে আঙ্গুল ডুবালে এর মাথায় যে এক দুই ফোঁটা পানি উঠে আসে সেটা হলো দুনিয়ার জীবন। আটলান্টিক মহাসাগরের পানির সঙ্গে যেমনিভাবে আঙ্গুলে ওঠে আসা এক দুই ফোঁটা পানির তুলনা হতে পারে না তেমনি দুনিয়ার জীবনের সঙ্গে আখেরাতের জীবনের কোনো তুলনা করা যায় না। এজন্য রাসুল (সা.) আমাদের আখেরাতমুখী জীবন, আখেরাতমুখী টার্গেট বানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

একজন মুমিনের টার্গেট হওয়া উচিত আখেরাত। আমরা সবাই আখেরাতের যাত্রী। দুনিয়ার জাহাজে করে আল্লাহর পথে চলতে শুরু করেছি। আমরা এগিয়ে চলছি আল্লাহর দিকে। জান্নাত কিংবা জাহান্নামের দিকে। নবীজি বলেছেন, তোমরা দুনিয়াতে থাকো কিন্তু দুনিয়াকে অন্তর দিও না। দুনিয়াকে তোমরা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার কর। দুনিয়াকে টার্গেট বানিও না।

আজরাইল (আ.) যখন আমাদের সামনে হাজির হয়ে যাবে তখন আর কিছু করার থাকবে না। আমাদের দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে। এজন্য আল্লাহতাআলা আমাদের যে ফর্মুলা দিয়েছেন সে অনুযায়ী চললে দুনিয়ার জীবন সুন্দর হবে। দুনিয়ার জীবনে কোনো অন্যায় থাকবে না, কোনো অবিচার থাকবে না। দুনিয়ায় কেউ কারো ওপর জুলুম করলে কেয়ামতের দিন তার মাথায় জুলুমের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হবে। আল্লাহতাআলা সেদিন সমস্ত জুলুমের বদলা দেবেন। কেয়ামতের ভয় ছাড়া, গোনাহের ভয় ছাড়া, আখেরাতের জীবনের ভয় ছাড়া দুনিয়ার জীবনে কখনো শান্তি আসবে না।

এজন্য পার্থিব জীবন সুন্দর করতে সবার আগে দরকার পরকালের ভয়। কারো মধ্যে পরকালের ভয় থাকলে সে কোনো অন্যায় কাজে জড়াতে পারে না। অল্প কিছুদিনের এই দুনিয়া যেভাবেই কাটুক তা মেনে নিয়ে অনন্ত অসীম কালের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণই হলো একজন মুমিনের প্রধান দায়িত্ব। যারা এই পার্থিব জীবনকে কাজে লাগাতে পারবেন তাদের জন্যই রয়েছে পরকালের মুক্তি ও পুরস্কার।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর মিনা

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-৩০ ০২:৩৮:০১

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সম্মেলন হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। বুধবার থেকে শুরু হয় হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২৫ লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাতেই হাজিরা মিনায় তাঁবুতে গিয়ে অবস্থান নেন। লাখ লাখ মুসল্লির ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে পবিত্র মিনা।

তাঁবুর শহর খ্যাত মিনায় আজকের রাত অবস্থান করবেন হজযাত্রীরা। বৃহস্পতিবার ফজরসহ এখানে মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় শেষে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে তারা ছুটে যাবেন আরাফাতের ময়দানে। সেখানে হজের খুতবা শুনবেন এবং এক আজানে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। সন্ধ্যায় মুজদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করবেন। মুজদালিফায় পৌঁছে আবারো এক আজানে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন।

রাতে মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন। সেখান থেকে তারা মিনার জামারায় (প্রতীকী) শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন। শুক্রবার সকালে ফজরের নামাজ শেষে আবার ফিরে আসবেন মিনায়।

পরদিন সকালে জামারাতে পাথর নিক্ষেপ ও পশু কোরবানির পর পুরুষরা মাথা মুণ্ডনের মধ্য দিয়ে ইহরাম ত্যাগের মাধ্যমে হজের মূল কার্যক্রম শেষ করবেন। এরপর পবিত্র কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করে হজের পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন।

এদিকে, হজে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তায় সৌদি আরবে নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি এক লাখের বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। দুই বছর আগে মিনায় পদদলিত হওয়ার যে অনাহুত ঘটনা ঘটেছিল এর যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

বিস্তারিত খবর

৩১ আগস্ট পবিত্র হজ

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-২৩ ১৪:৩৬:১৯

সৌদি আরবের আকাশে মঙ্গলবার পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। তাই আগামী ৩১ আগস্ট বৃহস্পতিবার পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সেখানে ঈদুল আজহা পালন করা হবে।

সৌদি আরবের সর্বোচ্চ বিচারিক আদালত চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করে এই তারিখ ঘোষণা করেছে। ২৩ আগস্ট বুধবার থেকে সৌদি আরবে জিলহজ মাস শুরু হয়েছে।

৯ জিলহজ (৩১ আগস্ট) ফজরের নামাজের পর থেকে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হতে থাকবেন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখা ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা সৌদি আরব এসে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৭ শত ৫৯ জন হাজি এসে পৌঁছালেও, নির্ধারীত সময়ের আগে আরো হাজির আগমণ ঘটবে বলে আশা করছে সৌদি সরকার।

সৌদি পাসপোর্ট অফিসের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে: গত বছরের তুলনায় এবছর দুই লাখ উনসত্তর হাজার একশত চৌদ্দজন বেশি হাজী হজ সম্পন্ন করবেন। যা গত বছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি।

সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান ও মালয়েশিয়ায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর আগে পাকিস্তান গত শনিবার ঘোষণা দেয়, ২ সেপ্টেম্বর ঈদুল আজহা হতে পারে।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সৌদি আরবে ৩১ হাজির মৃত্যু

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-১৫ ১৭:১৬:১৩

সৌদি আরবে হজ পালন করতে যাওয়া ৩১ ব্যক্তি মারা গেছেন। রোববার রাতে এসব ব্যক্তি মারা যান বলে সোমবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)জানিয়েছে।

সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব ব্যক্তিরা বিদেশি। তবে কীভাবে তারা মারা গেছেন এবং তাদের জাতীয়তা কী, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এসপিএ জানিয়েছে, ১২ আগস্ট পর্যন্ত ৬ লাখ ২০ হাজার ব্যক্তি হজ পালনের জন্য সৌদি আরব পৌঁছেছেন। হজের আগে আরো ২০ লাখ লোক এসে পৌঁছবেন বলে আশা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

২০১৫ সালে দুটি মর্মান্তিক ঘটনায় ২ হাজার ২৯৭ জন হাজি মারা যায়। এ ঘটনার পর মক্কা ও মদিনায় হাজিদের নিরাপত্তা জোরদার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।


এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

চীন-ভারত দ্বন্দ্ব যে কারণে

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৭-০৫ ১১:১১:২৮

চার সপ্তাহ যাবত ভারত ও চীনের মধ্যেকার সীমান্তে দুদেশের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা চলছে। উভয় দেশের মাঝে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।

সীমান্ত বিরোধী নিয়ে ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধও হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও বিভিন্ন জায়গায় বিরোধ এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে এবং মাঝে-মধ্যেই সেটি মাথা চাড়া দেয়।  চীন, ভুটান আর ভারতের সিকিম প্রদেশের সংযোগস্থলে একটি উপত্যকার ভেতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করাকে কেন্দ্র করে নতুন বিরোধের সূচনা।

চীন চায় সেখানে একটি রাস্তা তৈরি করতে। কিন্তু যে জায়গাটিতে চীন রাস্তা তৈরি করতে চাইছে সেটি ভুটান ও চীনের মধ্যকার একটি বিরোধপূর্ণ এলাকা। সে উপত্যকাকে চীন এবং ভুটান-উভয় দেশই দাবি করে। এক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান ভুটানের পক্ষে। ভারত মনে করে, চীন যদি এ রাস্তাটি তৈরি করে তাহলে কৌশলগতভাবে ভারত পিছিয়ে পড়বে।

এ রাস্তাটির মাধ্যমে চীন এমন একটি জায়গায় পৌঁছে যাবে যেটি ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। চীন এমন জায়গায় সড়ক নির্মাণ করতে চাইছে যার পাশেই ভারতের ২০ কিলোমিটার চওড়া একটি করিডোর আছে।

এ করিডোরের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলো মূল ভারতের সাথে সংযোগ রক্ষা করে। উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উভয় দেশ সীমান্তে তাদের সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে এবং একটি মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে সড়ক নির্মাণ না করার জন্য ভুটানের তরফ থেকে চীনকে আহবান জানানো হয়েছে। ভারত মনে করে সিকিম রাজ্যটি তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সিকিম অঞ্চলের মধ্য দিয়ে ভারত চীনের যে কোন আগ্রাসনের জবাব দিতে পারে।

চীন এ বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে বলেই সেখানে তাদের কৌশলগত অবস্থান জোরদারের চেষ্টা চালাচ্ছে। ১৯৬২ সালের যুদ্ধে চীনের কাছে ভারত পরাজিত হয়েছিল। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ জেটলি সম্প্রতি বলেছেন, ১৯৬২ সালের ভারত এবং ২০১৭ সালের ভারত এক নয়। নিজের ভূখণ্ড রক্ষার জন্য ভারত এখন যথেষ্ট শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেছেন জেটলি।

অন্যদিকে চীন মনে করে যে জায়গাটিতে তারা সড়ক নির্মাণ করতে চাইছে সেটি তাদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড। ভারতে সেখানে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে মনে করে চীন। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের কথা ভারতকে মনে করিয়ে দিচ্ছে চীন। দেশটি বলছে চীন আগের তুলনায় এখন আরো বেশি শক্তিশালী।

চীনের সাথে ভারতের উত্তেজনার আরেকটি কারণ রয়েছে। তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাইলামা ভারতে বসবাস করছেন, যেটি চীন মোটেও পছন্দ করছে না।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

২৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৭-০৫ ১১:০৯:২৯

চলতি বছরের হজ ফ্লাইট আগামী ২৪ জুলাই শুরু হবে।

মঙ্গলবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল জলিল এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বিমান মন্ত্রণালয় থেকে হজ ফ্লাইটের সময়সূচি ধর্ম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে যাত্রীদের আসন পুনর্বিন্যাস করে চূড়ান্ত সময়সূচি আগামী দু-একদিনের মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা করা হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৪ জুলাই দুটি ফ্লাইটে প্রায় ১ হাজার যাত্রী সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন।

আগামী ১২ জুলাই থেকে হজ যাত্রীদেরকে সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকাদানের সনদ নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, এ বছর ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি হজ করতে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি 

বিস্তারিত খবর

ইরাকের নুরী মসজিদ উড়িয়ে দিয়েছে আইএস

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-২২ ০১:৪৮:২৪

ইরাকের মসুল শহরের নুরী মসজিদ উড়িয়ে দিয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। ইরাকি বাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০১৪ সালে আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদি ওই অঞ্চলে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু আমাক নিউজের এক খবরে জানানো হয়েছে, আইএস না বরং মার্কিন বিমান থেকে বোমা মেরে ওই মসজিদটি ধ্বংস করা হয়েছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি বলেছেন, বোমা মেরে মসজিদ উড়িয়ে দেয়াটা অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে আইএসের দ্বারা পরাজিত হওয়ার ঘোষণাকেই বোঝায়।

বিভিন্ন ছবি থেকে দেখা গেছে ওই মসজিদ এবং মিনার দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরাকি কমান্ডার ইন চার্জ জানিয়েছেন, আইএসের আরো একটি অপরাধের এই ঘটনার সময় মসজিদ থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরেই ছিল সেনারা।

মার্কিন এক ঊর্ধ্বতন কমান্ডার বলেছেন, আইএস ইরাক এবং মসুলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ধ্বংস করল।

এটা মসুল শহর এবং পুরো ইরাকিবাসীর বিরুদ্ধে একটি অপরাধ। এই ঘৃণ্য অপরাধের জন্যই তাদের ধ্বংস করা উচিত।


এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

জাকাতে আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও ঈমান বৃদ্ধি করে

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-২২ ০১:৪৫:২৭

ইসলামের পাঁচ ভিত্তির একটি হচ্ছে জাকাত। কালিমা শাহাদাত ও সালাতের পর জাকাতের স্থান। এর অর্থ শুচিতা ও পবিত্রতা, শুদ্ধি ও বৃদ্ধি। জাকাত ছাড়া দ্বীন পরিপূর্ণতা লাভ করে না। সালাত অর্থাৎ নামাজ এবং রোজার সম্পর্ক মানুষের দৈহিক পরিশ্রম ও মনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, পক্ষান্তরে জাকাত ও হজ্বের সম্পর্ক অর্থের সাথে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, ‘আর তোমরা নামাজ কায়েম কর, জাকাত আদায় করো এবং রুকু কর রুকুকারীদের সঙ্গে।’ (সূরা বাকারা : ৪৩)

আর জাকাতের ব্যাপারে যে কৃপণতা করল অথবা কম আদায় করল সে জালেমদের অন্তর্ভুক্ত ও আল্লাহর শাস্তির উপযুক্ত। আল্লাহ জাল্লাশানুহু বলেন- ‘আর আল্লাহ যাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ থেকে যা দান করেছেন তা নিয়ে যারা কৃপণতা করে তারা যেন ধারণা না করে যে, তা তাদের জন্য কল্যাণকর। বরং তা তাদের জন্য অকল্যাণকর। যা নিয়ে তারা কৃপণতা করেছিল, কিয়ামত দিবসে তা দিয়ে তাদের বেড়ি পরানো হবে। আর আসমানসমূহ ও জমিনের উত্তরাধিকার আল্লাহরই জন্য। আর তোমরা যা আমল কর সে ব্যাপারে আল্লাহ সম্যক জ্ঞাত।’ (সূরা আল-ইমরান :১৮০)

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন- ‘আল্লাহ যাকে সম্পদ দান করেছেন, অতঃপর সে তার জাকাত প্রদান করল না, কিয়ামতের দিন তার জন্য বিষধর সাপ সৃষ্টি করা হবে, যার দুটি চোঁয়াল থাকবে, যা দ্বারা সে তাকে কিয়ামতের দিন পেঁচিয়ে ধরবে, অতঃপর তার দুচোয়াল পাকড়ে বলবে- আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চিত ধন।’ (বোখারি)

ইসলাম সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের ধর্ম। একজনের হাতে বিপুল অর্থ-সম্পদ জমা হওয়াকে ইসলাম পছন্দ করে না। ইসলাম চায় ধনী-গরিব সবাই স্বচ্ছন্দে জীবন যাপন করুক। তাই দরিদ্রের প্রতি লক্ষ্য করে জাকাতের বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে রাব্বুল আলামিন বলেন- ‘এবং যারা সোনা ও রূপা পুঞ্জীভূত করে রাখে, আর তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, তুমি তাদের বেদনাদায়ক আজাবের সুসংবাদ দাও। যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা গরম করা হবে, অতঃপর তা দ্বারা তাদের কপালে, পার্শ্বে এবং পিঠে সেঁক দেয়া হবে। (আর বলা হবে) ‘এটা তা-ই যা তোমরা নিজদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করেছিলে তার স্বাদ উপভোগ কর।’ (সূরা আত-তওবা : ৩৪-৩৫)

জাকাতের দ্বীনি, চারিত্রিক ও সামাজিক বহুবিধ উপকার রয়েছে। জাকাত ইসলামের এক বিশেষ রোকন, যার ওপর বান্দার দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ নির্ভর করে। অন্যান্য ইবাদতের ন্যায় জাকাত বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্য প্রদান করে ও তার ঈমান বৃদ্ধি করে। জাকাত আদায়ের ফলে প্রভূত কল্যাণ লাভ হয়।

কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘আর তোমরা যে সূদ দিয়ে থাক, মানুষের সম্পদে বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য তা মূলতঃ আল্লাহর কাছে বৃদ্ধি পায় না। আর তোমরা যে জাকাত দিয়ে থাক আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে (তাই বৃদ্ধি পায়) এবং তারাই বহুগুণ সম্পদ প্রাপ্ত।’ (সূরা রূম :৩৯)

জাকাতের সামাজিক উপকারিতা : জাকাত ব্যক্তিকে দানশীল ও বদান্যদের কাতারে শামিল করে। জাকাতের ফলে অভাবীদের অভাব দূর হয়, দুনিয়ার অধিকাংশ জায়গায় যাদের সংখ্যাই বেশী। জাকাত গরীবদের অন্তর থেকে ধনীদের প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষ দূর করে দেয়। কারণ গরীবরা যখন দেখে ধনীরা তাদের সম্পদ দ্বারা যাবতীয় প্রয়োজন পুরো করে, কিন্তু তাদের সম্পদ থেকে তারা কোনভাবে উপকৃত হয় না, এ কারণে অনেক সময় ধনীদের প্রতি তাদের অন্তরে হিংসা ও বিদ্বেষের জন্ম নেয়। কিন্তু ধনীরা যদি বছর শেষে গরীবদের জাকাত দেয়, তাহলে তাদের অন্তর থেকে এসব দূরীভূত হয় এবং উভয় শ্রেণির মধ্যে মহব্বত ও ভালবাসার সৃষ্টি হয়।

জাকাত নির্দিষ্ট সম্পদের ওপর ওয়াজিব হয়। যেমন স্বর্ণ ও রূপা। শর্ত হচ্ছে এর নিসাব পূর্ণ হতে হবে। স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ, আর রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা তার সমপরিমাণ অর্থের মালিক হলে জাকাত ওয়াজিব হবে। স্বর্ণ ও রূপা অলংকার বা যে অবস্থাতে থাক, তাতে জাকাত ওয়াজিব হবে। অতএব নারীর পরিধেয় অলংকারের ওপর জাকাত ওয়াজিব যদি তা নিসাব পরিমাণ হয়, সে নিজে পরিধান করুক বা অন্যকে পরিধান করতে দিক।

আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রা.) বর্ণিত, এক নারী রাসূল (সা.) নিকট আগমন করে, তার হাতে ছিল স্বর্ণের দুটি চুড়ি, তিনি বললেন- ‘তুমি এগুলোর যাকাত দাও?’। সে বলল- না। তিনি বললেন- ‘তুমি কি পছন্দ কর আল্লাহ এগুলোর পরিবর্তে তোমাকে জাহান্নামের দুটি চুড়ি পরিধান করান?। সে তা নিক্ষেপ করে বলল: এগুলো আল্লাহ ও তার রাসূলের জন্য। (আবু দাউদ, তিরমিযি ও নাসায়ি)

আরো যেসব জিনিসের উপর জাকাত ওয়াজিব তন্মধ্যে রয়েছে- ব্যবসায়ী সম্পদ, অর্থাৎ ব্যবসার জন্য রক্ষিত সম্পদ যেমন জমিন, গাড়ি, চতুষ্পদ জন্তু ও অন্যান্য সম্পদ। এগুলোতে এক-দশমাংশের চার ভাগের এক ভাগ যাকাত ওয়াজিব, অর্থাৎ চল্লিশ ভাগের একভাগ। বছর শেষে হিসাব কষে তা বের করতে হবে, তখন তার মূল্য কেনার দামের চেয়ে কম হোক অথবা বেশি হোক কিংবা সমান সমান।

কিন্তু যেসব সম্পদ সে নিজের প্রয়োজন অথবা ভাড়া দেওয়ার জন্য রেখেছে, তাতে জাকাত ওয়াজিব হবে না, কারণ রাসূল (সা.) বলেছেন- ‘মুসলিমের উপর তার গোলাম ও ঘোড়ার সদকা নেই।’ (বোখারি ও মুসলিম)। তবে ভাড়ার উপার্জনে জাকাত আসবে, যদি বছর পূর্ণ হয়। অনুরূপভাবে স্বর্ণ বা রৌপ্যের অলঙ্কারেও যাকাত আসবে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

জাকাত গরিবের প্রতি কোন করুণা নয় বরং তার হক- যা ধনী ব্যক্তিকে অবশ্যই আদায় করতে হবে। এ কারণে আবু বকর (রা.) বলেছেন- ‘যারা রাসূল (সা.)-এর যুগে একটি উটের রশিও জাকাত হিসেবে আদায় করত আর এখন তারা যদি জাকাত দিতে অস্বীকার করে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম।’ (বোখারি)

তার এ ভাষণের মর্মার্থই ছিল, মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা যাতে কেউ কাউকে তার অধিকার হতে বঞ্চিত করতে না পারে। সম্পদ উপার্জনের যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে অনেক তারতম্য রয়েছে। আর এ তারতম্য কমিয়ে ধনী-গরিবের মাঝে ভারসাম্য আনার জন্য মহান আল্লাহ জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।

দেখা যায় কিছু মানুষ সম্পদের পাহাড় গড়ছে, অর্থ-কড়ি ও ভোগ-বিলাসে মত্ত আছে এবং প্রাচুর্যের চূড়ান্ত শিখরে অবস্থান করছে আর কিছু লোক দারিদ্র সীমার একেবারে নীচে অবস্থান করছে। মানবেতর জীবন যাপন করছে। আল্লাহ এ ব্যবধান দূর করার জন্যই তাদের সম্পত্তিতে জাকাত ফরজ করেছেন। যাতে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান কমে যায় এবং ধনী দরিদ্রের বৈষম্য দূর হয়। অন্যথায় দেশে বা সমাজে হিংসা- বিদ্বেষ, ফিতনা-ফাসাদ ও হত্যা-লুণ্ঠন ছড়িয়ে পড়বে। বিঘ্নিত হবে সামাজিক শৃংখলা ও স্থিতি ।

জাকাত আদায় করার দায়িত্ব সরকার বা রাষ্ট্রের। কিন্তু সমকালীন দুনিয়ায় ইসলামী অনুশাসন না থাকায় কোথাও জাকাত ভিত্তিক অর্থনীতি চালু নেই। যার কারণে রাষ্ট্রীয়ভাবে তো বটেই ব্যক্তি পর্যায়েও জাকাত আদায়ের ব্যাপারে উদাসীনতা দেয়া যায়। কিয়ামতের কঠিন বিপদের দিনে আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচতে হলে জাকাত আদায় করতে হবে অবশ্যই। এ ক্ষেত্রে কোনো অজুহাত আল্লাহ তাআলার কাছে গৃহীত হবে না।

রোজ হাশরে মহাপরাক্রমশালী বিচারকের সামনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই জাকাত আদায় করতে হবে। যেভাবে হোক না কেন জাকাত দিতেই হবে- রাষ্ট্র বা সরকার জাকাত আদায় করতে আসুক বা না আসুক। ব্যক্তিগত উদ্যোগে হলেও জাকাত দিতে হবে। অন্যথায় জাকাত অনাদায়ের যে শাস্তি নির্ধারিত আছে তার অবধারিত কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় নেই। রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে বোঝার এবং তদনুযায়ী আমল করবার তাওফিক দান করুন। -আমিন।


এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-২২ ০১:৪৩:২৪

আজ বৃহস্পতিবার (২২ জুন) দিবাগত রাত পবিত্র লাইলাতুল কদর। ‘লাইলাতুল’ আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো রাত আর ‘কদর’ অর্থ সম্মান। লাইলাতুল কদর- এর অর্থ সম্মানিত বা মহিমান্বিত রাত।

পবিত্র কোরআনে লাইলাতুল কদরকে মহিমান্বিত রাত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ আল কোরআন লাইলাতুল কদরে নাযিল হয়। এই রাতের গুরুত্ব তুলে ধরে সূরা কদরে বলা হয়েছে, এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।

মুসলমানদের কাছে এই রাত অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত রাত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সারা রাত নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকিরে মগ্ন থাকেন।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

মুসলিম দেশগুলোতে ঈদ নির্ধারিত হয় যেভাবে

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-২০ ১৬:৪৬:০৯

রোজা শেষে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত হয়।কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ উৎসবের তারিখটি যেভাবে নির্ধারণ করা হয়, তা অনেকের কাছে খুব জটিল বলে মনে হতে পারে।
 
বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে ঈদ হয় কেন? এর প্রধান কারণ, ঈদের তারিখ নির্ধারিত হয় নতুন চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে।
 
বিশ্বের ১৮০ কোটি মুসলিম ধর্মীয় উৎসব, রীতিনীতি, অনুশাসনের জন্য অনুসরণ করেন ইসলামিক চন্দ্র-বর্ষপঞ্জী।এই চন্দ্র-বর্ষপঞ্জীর নয় নম্বর মাস হচ্ছে রমজান।রমজান মাস যখন শেষ হয়ে আসে, তখন সবাই পরিস্কার আকাশে এক নতুন চাঁদের অপেক্ষায় থাকেন।
 
চাঁদের সাড়ে ২৯ দিনে একমাস হয় তাই প্রতি বছর রমজান মাস গ্রেগরীয়ন ক্যালেন্ডারের তুলনায় ১১ দিন এগিয়ে আসে।এর ফলে প্রতি বছর রমজান মাসের অভিজ্ঞতা হয় আগের বছরের তুলনায় কিছুটা ভিন্নতর। কারণ বছরের বিভিন্ন সময় দিন দীর্ঘ কিংবা ছোট হয়।
 
রমজান মাসে মুসলিমদের সূর্যোদয়ের আগে থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থেকে রোজা রাখতে হয়।
 
যদি মুসলিমরা সৌর বর্ষপঞ্জী অনুসরণ করতো, তাহলে রমজানের সময় প্রতি বছর ঠিক একই মৌসুমে হতো। এর মানে বিশ্বের কোন কোন অংশের মুসলিমদের সব সময় গ্রীস্মের সময় রোজা রাখতে হতো, যখন কিনা দিন সবচেয়ে লম্বা। আর কোন দেশে হয়তো শীতের সময় রোজা রাখতে হতো, যখন দিন ফুরিয়ে যায় দ্রুত।
 
কিন্তু চন্দ্র বর্ষপঞ্জী অনুসরণের সুবিধা হচ্ছে, এটি বিশ্বের সব মুসলিমকে বিভিন্ন মৌসুমে রোজা রাখার অভিজ্ঞতার সুযোগ করে দেয়। প্রতি তেত্রিশ বছরে রমজান মাস ঘুরে ফিরে আবার সৌর বর্ষপঞ্জীর একই সময়ে ফিরে আসে।
 
ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত হয় রমজানের পরের মাস শওয়ালের এক তারিখে।বেশিরভাগ মুসলিম দেশে ঈদের তারিখ সরকারিভাবে নির্ধারিত হয়।
 
অনেক দেশে চন্দ্র বর্ষপঞ্জী আগে থেকে নির্ধারিত করা থাকে। ফলে ঈদের তারিখটি আগে থেকেই জানা যায়।কিন্তু অনেক দেশে আকাশে চাঁদ দেখে তারপর ঈদের ঘোষণা দেয়া হয়।এ কারণেই বিভিন্ন দেশে ঈদ হয় ভিন্ন ভিন্ন তারিখে।
 
যেমন সৌদি আরবের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ঈদের তারিখ ঠিক করে খালি চোখে ঈদের চাঁদ দেখেছেন এমন মানুষদের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে।
 
অনেক মুসলিম দেশও একই পদ্ধতিতে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করে। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইরানে সরকারই নির্ধারণ করে ঈদের তারিখ।ইরাকে শিয়া এবং সুন্নীরা ভিন্ন ভিন্ন পন্থায় ঈদের তারিখ ঠিক করে।ইরাকে শিয়াদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় নেতা হচ্ছেন গ্রান্ড আয়াতুল্লাহ-আলি-আল-সিসতানি। তিনি সাধারণত ঈদের ঘোষণা দেন।
 
অন্যদিকে সুন্নিরা নির্ভর করে তাদের ধর্মীয় নেতাদের ঘোষণার উপর। গত বছর অবশ্য বহু বছর পর একই দিনে ঈদ পালন করে ইরাকের শিয়া এবং সুন্নিরা।
 
তুরস্ক সরকারিভাবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। সেখানে অ্যাস্ট্রনমিক্যাল বা জ্যোর্তিবিজ্ঞানের হিসেব-নিকেষের ভিত্তিতে ঈদের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
 
ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা তাদের স্ব স্ব সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ঈদ পালন করে। সাধারণত তারা যেসব দেশ থেকে অভিবাসী হয়ে ইউরোপে এসেছে, সেসব দেশের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করে।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

পবিত্র রমজানে যে ৫টি অ্যাপ সাহায্য করবে আপনাকে

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-০৯ ০৪:৪০:৪১

মুসলমানদের পবিত্র মাস রমজান। বরকতময় এই মাসে ধর্মপ্রিয় মুসল্লিরা দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি ইবাদত বন্দেগীর মধ্য দিয়ে দিনগুলো অতিবাহিত করতে অত্যন্ত সচেষ্ট থাকেন। কিন্তু সময়ের সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পেরে উঠেন না অনেকেই। আর এ জন্য আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনটি আপনাকে এই রমজানে সাহায্য করতে পারে। পবিত্র রমজানে যে ৫টি অ্যাপ সাহায্য করবে আপনাকে, সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
কোরআন মাজিদ (Quran Majeed): আপনি যদি আরবি পড়তে পারেন, তবে এই অ্যাপটি আপনার জন্য। কারণ আপনার চলাফেরার মাঝে অবসর সময়ে এই অ্যাপটির মাধ্যমে পাঠ করে নিতে পারেন পবিত্র কোরআন মাজিদ। শুধুমাত্র আরবি হরফে নয়, এই অ্যাপটিতে ৪৫ ভাষায় অনুবাদ করা রয়েছে কোরআনের আয়াতগুলো।
ইন্সেতা দ্বীন লাইট (InstaDeen Lite): যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোরআন শরীফের আয়াতগুলো বা ইসলামের উক্তিগুলো শেয়ার করতে চান তারা এই অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারেন।
শেয়ার দ্য মিল (ShareTheMeal): আপনি এই অ্যাপটির মাধ্যমে আপনার অতিরিক্ত খাবারগুলো অভুক্তদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন।
মুসলিম দোয়া নাউ (Muslim Dua Now): এই অ্যাপে প্রয়োজনীয় সব দোয়াগুলো খুঁজে পাবেন।
মুসলিম প্রো (Muslim Pro): এই অ্যাপটি আপনার অবস্থান নির্ণয় করে ইফতারের সময়, নামাজের সময়, সেহেরির সময় জানিয়ে দেবে। আপনি চাইলে অ্যাপগুলো অ্যান্ড্রয়েডের গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপলের আইওএস প্ল্যাটফর্ম থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।   

বিস্তারিত খবর

নামাজের ১১ স্বাস্থ্যগত উপকারিতা

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-০৭ ০৮:৩৬:৪৬

নামাজ হল ইসলাম ধর্মের প্রধান উপাসনাকর্ম। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। কিন্তু অনেকেই জানেন না নামাজ স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। নামাজ পড়ার মাধ্যমে আমাদের শরীরের বেশকিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নাড়াচাড়া হয় যা এক প্রকার ব্যায়াম। এই ব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। চলুন জেনে নেই নামাজ পড়ার ১১টি স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে:
১. নামাজে যখন সিজদা করা হয় তখন আমাদের মস্তিষ্কে রক্ত দ্রুত প্রবাহিত হয়। ফলে আমাদের স্মৃতিশক্তি অনেক বৃদ্ধি পায়।

২. নামাজের যখন আমরা দাঁড়াই তখন আমাদের চোখ জায়নামাজের সামনের ঠিক একটি কেন্দ্রে স্থির অবস্থানে থাকে ফলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।

৩. নামাজের মাধ্যমের আমাদের শরীরের একটি ব্যায়াম সাধিত হয়। এটি এমন একটি ব্যায়াম যা ছোট বড় সবাই করতে পারে।

৪. নামাজের মাধ্যমে আমাদের মনের অসাধারণ পরিবর্তন আসে।

৫. নামাজ সকল মানুষের দেহের কাঠামো বজায় রাখে। ফলে শারীরিক বিকলঙ্গতা লোপ পায়।

৬. নামাজ মানুষের ত্বক পরিষ্কার রাখে যেমন ওজুর সময় আমাদের দেহের মূল্যবান অংশগুলো পরিষ্কার করা হয় এর ফলে বিভিন্ন প্রকার জীবাণু হতে আমরা সুরক্ষিত থাকি।

৭. নামাজে ওজুর সময় মুখমণ্ডল তিন বার ধৌত করার ফলে আমাদের মুখের ত্বক উজ্জল হয় এবং মুখের দাগ কম দেখা যায়।

৮. ওজুর সময় মুখমণ্ডল যেভাবে পরিষ্কার করা হয় তাতে আমাদের মুখে একপ্রকার মেসেস তৈরি হয় ফলে আমাদের মুখের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং বলিরেখা কমে যায়।

৯. কিশোর বয়সে নামাজ আদায় করলে মন পবিত্র থাকে। এর ফলে নানা প্রকার অসামাজিক কাজ থেকে সে বিরত থাকে।

১০. নামাজ আদায় করলে মানুষের জীবনীশক্তি বাড়ে।

১১. কেবলমাত্র নামাজের মাধ্যমেই চোখের নিয়ম মত যত্ন নেয়া হয়। ফলে অধিকাংশ নামাজ আদায়কারী মানুষের দৃষ্টিশক্তি বজায় থাকে।  

বিস্তারিত খবর

মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র মাস রমজান

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৫-৩০ ১৫:২৬:৫৮

বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের জন্য সবচেয়ে পবিত্র মাস রমজান৷ এই মাসে ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী আত্মশুদ্ধির আশায় রোজা রাখেন অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান৷ চলুন মাসটি পালন করার কিছু প্রথা এবং আচার সম্পর্কে জেনে নেই৷

প্রতি বছর রমজান মাসে লাখ লাখ মুসলমান সারাদিন উপাস থেকে রোজা রাখেন, প্রার্থণা করেন এবং যাকাত প্রদান করেন৷ মুসলমানের এই পবিত্র মাসটি শুরু হয় চাঁদ দেখার মাধ্যমে৷

চাঁদ দেখা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজার মাস ঘোষণা করেন৷ কিছু পর্যবেক্ষক চাঁদ খুঁজে পেতে টেলিস্কোপ ব্যবহার করলেও অনেকেই খোলা চোখে চাঁদ খুঁজতে পছন্দ করেন৷ আর এভাবে রোজার মাস শুরু হয় বলে দেশভেদে রোজা শুরুর দিন ভিন্ন হতে পারে৷

প্রার্থনা

রমজান মাসে শুধু উপবাসই নয়, নিয়মিত প্রার্থনাকেও এর মূল ভিত্তি বিবেচনা করা হয়৷ রোজার মাসে এশার জামাতের সময় বিশেষ তারাবিহ নামাজ পরার নিয়ম রয়েছে৷ মুসলিম দেশগুলোতে মুসলমানরা রোজার মাসে সাধারণত স্থানীয় মসজিদে সমবেত হয়ে বিশেষ প্রার্থনা আদায় করেন৷

কোরআন তেলওয়াত

রোজার মাসে আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যে সারাদিন উপবাস করা হয়৷ তবে এ সময় অনেকে পবিত্র কোরআন তেলওয়াতও করেন৷ রমজান মাসে মহানবি মোহাম্মদের উপর কোরআন নাজিল হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়৷

স্থানীয় প্রথা

রমজান মাসে রোজা রাখা এবং অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রমের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে আরো উদ্যোগ নেয়া হয়৷ যেমন, সারায়েভোতে ইফতারের সময় হয়েছে বোঝাতে প্রতিদিন কামান দাগা হয়৷ মিশরে সাজানো লণ্ঠন প্রদর্শন রমজানের ঐতিহ্যের অংশ৷

ইফতার

পানি এবং কোনো প্রকার খাদ্য ছাড়া সারাদিন কাটানোর পর সূর্যাস্তের পর মাগরিবের সময় অনেক মুসলমান খেজুর দিয়ে ইফতার করেন৷ এটা বিশ্বাস করা হয় যে, মহানবি মোহাম্মদও এভাবে ইফতার করতেন৷ ইফতারের সময় দেশভেদে আরো অনেক খাবার খাওয়া হয়৷ বাংলাদেশে অনেক মসজিদেও ইফতারের বিশেষ আয়োজন করা হয়৷

ঈদ উল ফিতর

রমজানের মাসের শেষে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদ উল ফিতর উদযাপন করা হয়৷ ঈদের আগে প্রিয়জনকে উপহার দেয়ার প্রথা রয়েছে, তেমনি ঈদের দিনেও মুসলমানরা তাদের বন্ধু-বান্ধবদের নিজেদের বাড়িতে দাওয়াত করেন৷ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দু’টি ধর্মীয় উৎসবের একটি ঈদ উল ফিতর৷


এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

মৃত্যুর পর মানুষের শরীরে যা ঘটে? জানলে অবাক হবেন !

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৫-১৫ ০৯:০২:১৪

মৃত্যু এক চিরন্তন সত্য। মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই তো জীবন শেষ। মৃত্যু নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক শঙ্কা কাজ করে স্বাভাবিকভাবেই; কিন্তু মৃত্যু ঘটবেই, একে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায়ও তাই নেই। মৃত্যুর পর নশ্বর দেহতে কিছু পরিবর্তন ঘটে প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গেই।
জানলে অবাক হবেন, মানুষ মারা যাওয়ার পরও তার কিছুদিন পর্যন্ত হাতের নখ ও চুল বৃদ্ধি পায় বলে মনে হয়! এ তো গেল অন্য কথা, তবে আজীবন বয়ে বেড়ানো শরীর মৃত্যুর পর প্রকৃতির সঙ্গেই মিশে যায় ধীরে ধীরে। মেন্টাল ফ্লস নামের একটি ওয়েবসাইটে মৃত্যুর পর নশ্বর মানবদেহের পর্যায়ভিত্তিক পরিণতির বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
১. মৃত্যুর পর মস্তিষ্কের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এটি ঘটবে সেকেন্ডের ব্যবধানে।
২. শরীরের তাপমাত্রা শীতল হয়ে যাবে।
৩. অক্সিজেনের অভাবে কোষগুলোর মৃত্যু ঘটতে আরম্ভ করবে। সে সঙ্গে কোষগুলোয় ভাঙন ধরবে, যা পচন প্রক্রিয়ার আগ পর্যন্ত চলবে। এটি ঘটবে মিনিটের ব্যবধানে।
৪. শরীর প্রসারিত হওয়ার কারণে পেশির মধ্যে ক্যালসিয়াম তৈরি হতে থাকে। এটি ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়। এটি ঘটবে ঘণ্টার ব্যবধানে।
৫. পেশিগুলো শিথিল হয়ে যায়।
৬. ত্বক শুষ্ক, সংকুচিত দেখায়। এর কারণে চুল ও নখ বড় হয়ে যাবে বলে মনে হবে।
৭. মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে রক্তে টান পড়বে। এতে করে শরীরের চামড়ায় কালশিটে পড়া বা অনেকটা দাগের মতো দেখা যাবে।
৮. শরীরের এনজাইমগুলো নিজেদের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো হজম করতে শুরু করে, প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি। এটি ঘটবে দিনের ব্যবধানে।
৯. পচনশীল দেহের থেকে পিউট্রিসিন বা ক্যাডাভেরিন নামের রাসায়নিক উপাদান নির্গত হওয়ার কারণে দুর্গন্ধ তৈরি হবে।
১০. এক সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ শরীর খেয়ে ফেলতে থাকবে। সপ্তাহের ব্যবধানে এটি ঘটতে শুরু করবে।
১১. শরীর বেগুনি থেকে কালো হয়ে যাবে, কারণ ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে শরীরের বিয়োজন অব্যাহত থাকবে।
১২. চুল ঝরতে শুরু করে।
১৩. চার মাসের মধ্যে বাকি রইবে শুধু কঙ্কাল, বাকি সবটাই মিশে যাবে মাটির সাথে ।  

বিস্তারিত খবর

পবিত্র শবে বরাত আজ

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৫-১১ ১৩:২৮:৪৩

মুসলমানদের পবিত্র শবে বরাত আজ বৃহস্পতিবার। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে এই রাত অতিবাহিত করবেন।

মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশ্বের মুসলমানরা বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করবেন।

সৌভাগ্যের এ রজনীতে রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুসলমানরা নামাজ ছাড়াও নফল রোজা রাখেন। বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে মসজিদে সারা রাত চলে ইবাদত-বন্দেগি। মুসলমানরা এই রাতে বাড়তি ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।


এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

কিমের সঙ্গে দেখা করতে চান ট্রাম্প

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৫-০২ ০৮:০৭:০২

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিমের সঙ্গে দেখা হলে নিজেকে সম্মানিত বোধ করবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার বিবিসির অনলাইন ভার্সনে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।
স্থানীয় সময় সোমবার সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গকে ট্রাম্প বলেন, ‘তার সঙ্গে (কিম জং-উন) দেখা করার ব্যাপারটি যদি আমার জন্য যৌক্তিক হয়, তাহলে অবশ্যই আমি দেখা করব। এটা আমার জন্য সম্মানেরও হবে।’
ট্রাম্প যখন এসব কথা বলছেন, কোরিয়া উপদ্বীপে তখন উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া, উভয় দেশই সামরিক মহড়া শুরু করেছে। আর যেকোনো সময় পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর ঘোষণা দিয়ে রেখেছে উত্তর কোরিয়া। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ায় তারা যে ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে, তা এখন পুরোপুরি কার্যক্ষম হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। সেখানে বলা হয়, দুই নেতার মুখোমুখি কোনো সাক্ষাৎ করতে হলে, উত্তর কোরিয়াকে অনেকগুলো শর্ত পূরণ করতে হবে। এখনো সে রকম পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে বলছে হোয়াইট হাউস। 
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শেন স্পাইসার বলেন, বিশেষভাবে তারা দেখতে চান যে, অতিসত্ত্বর উত্তর কোরিয়া তাদের উস্কানিমুলক আচরণ বন্ধ করেছে। এর আগে, রবিবার সিবিএস টেলিভিশনে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে কিম জং-উনকে ‘যথেষ্ট চালাক ব্যক্তি’ বলে বর্ণনা করেছিলেন ট্রাম্প।
কিমের বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘অনেকে বলে, তিনি কি একটি শয়তান? সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। তবে যখন তার বাবা মারা যায়, তখন তিনি ২৬/২৭ বছরের একজন তরুণ। অবশ্যই অনেক কঠিন মানুষজনের সাথে তার কাজ করতে হয়, বিশেষ করে জেনারেলদের সঙ্গে। যাদের অনেকেই হয়তো ক্ষমতায়ও ভাগ বসাতে চায়। যাদের মধ্যে হয়তো তার ফুফা বা অন্য কেউ থাকতে পারে। এসবের মধ্যেও তিনি ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। সুতরাং, তিনি অবশ্যই বেশ চালাক একজন ব্যক্তি।’ 
সূত্র: বিবিসি  

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত