যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭ ইং

|   ঢাকা - 04:55am

|   লন্ডন - 10:55pm

|   নিউইয়র্ক - 05:55pm

  সর্বশেষ :

  ধর্ম অবমাননা নিয়ে রংপুরে সহিংসতা, আদালতে টিটু রায়ের স্বীকারোক্তি   টিকাতেই নিরাময় হবে ক্যান্সার   মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা ‘জাতিগত বৈষম্যের’ শিকার : অ্যামনেস্টি   ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র জালিয়াতি, আটক ৮   নাইজেরিয়ায় মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৫০   রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চলতি সপ্তাহে সমঝোতার আশা সু চি’র   জানুয়ারি থেকে সব বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ ভাতা: প্রধানমন্ত্রী   আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে সেরা হলেন যারা   পদত্যাগ নয়, জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন মুগাবে   কেন সৌদি আরব এমন করছে?   মরক্কোয় ত্রাণ নেওয়ার সময় পদদলিত হয়ে নিহত ১৫   ৭ মার্চকে ঐতিহাসিক দিবস ঘোষণা চেয়ে হাইকোর্টে রিট   শাহজালালের মাজারের কুপের পানিকে জমজমের পানি বলে প্রতারণা : তদন্তের নির্দেশ আদালতের   এলপিজি আমদানির জাহাজ কিনলো বেক্সিমকো পেট্রোলিয়াম   রোহঙ্গিা সঙ্কট নিরসনে চীনের ৩ ধাপের প্রস্তাব

>>  ইসলামী জীবন এর সকল সংবাদ

আজ ঐতিহাসিক আশুরা : মুসলমানদের জীবনে এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন

আজ ১০ মহররম। হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর নিকট ‘আশুরা’ হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। সৃষ্টির শুরু থেকেই  বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাসহ কারবালার শোকাবহ ঘটনার জন্য এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে ধর্মীয়ভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মুসলমানরা দিনটি যথাযথ মর্যাদায় ইবাদাত-বন্দেগি ও সিয়াম পালনের মাধ্যমে অতিবাহিত করেন।

আশুরার একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা হচ্ছে, ৬৮০ খ্রিস্টাব্দের ১০ মহররম ইমাম হোসাইন (রা.) সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য, হক ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে আত্মত্যাগে এবং আত্মোৎসর্গের যে অপূর্ব দৃষ্টান্ত

বিস্তারিত খবর

১ অক্টোবর পবিত্র আশুরা

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৯-২১ ১৫:৩৪:০০

বাংলাদেশের আকাশে ১৪৩৯ হিজরি সনের পবিত্র মুহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে ২২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার থেকে পবিত্র মুহররম মাস গণনা করা হবে। এ হিসেবে পয়লা অক্টোবর রোববার সারা দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান।


বিস্তারিত খবর

পবিত্র কাবা শরীফের নামে টুইটার একাউন্ট

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৯-০২ ১২:১৭:৫৪

ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবা শরীফের নামে একটি টুইটার একাউন্ট খোলা হয়েছে। সেটি থেকে শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে টুইট করা হচ্ছে। এর নিজস্ব 'ইমোজি'ও তৈরি করা হয়েছে। খবর- বিবিসির।

ইতোমধ্যে এই টুইটার একাউন্টটি ফলো করছে হাজার হাজার মানুষ।

মক্কার মসজিদের কেন্দ্রস্থলে কাবা-মুখী হয়েই সারা বিশ্বের মুসলিমরা নামাজ পড়েন।

বৃহস্পতিবার হতে এট দ্যা রেট (@) হোলিকাবা টুইটার একাউন্ট থেকে টুইট করা শুরু হয়। সেদিন মক্কায় হজ্জ্ব পালনের জন্য জড়ো হয়েছিলেন প্রায় বিশ লাখ মুসলিম।

হজ্বের আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে সব হাজীকে সাতবার এই কাবা প্রদক্ষিণ করতে হয়।
এই টুইটার একাউন্ট থেকে বৃহস্পতিবার লাইভ পেরিস্কোপ ভিডিওতে কাবা শরীফের 'কিসওয়া', অর্থাৎ যে কালো এবং সোনালি পর্দায় কাবা শরীফ ঢাকা থাকে, সেটি বদলানোর দৃশ্য দেখানো হয়।

হাজার হাজার মানুষ এই ভিডিও দেখেন এবং এটি রি-টুইট করেন।

কাবা শরীফের নামে টুইটার একাউন্টটি খোলা হয় গত মার্চে। কিন্তু এটি আসলে সচল হয় গত বৃহস্পতিবার।

এই একাউন্ট থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৮টি টুইট করা হয়। তখন পর্যন্ত এই একাউন্টের ফলোয়ার ছিল ২৭ হাজারের কিছু বেশি।

বিবিসি আরবী সার্ভিসের সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞ ফয়সাল ইরশাইদ জানিয়েছেন, সৌদি সরকারের সংস্কৃতি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের কোন একাউন্টের সঙ্গে এই টুইটার একাউন্টের কোন সম্পর্ক দেখা যাচ্ছে না।

বিস্তারিত খবর

আজ পালিত হচ্ছে পবিত্র হজ

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-৩১ ০৩:৫৩:৫১

আজ বৃহস্পতিবার পবিত্র হজ। ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক।’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নেয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার)।

লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি আজ এই তালবিয়া পাঠ করে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে পাপমুক্তির আকুল বাসনায় সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে থাকবেন। মূলত ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান হজ পালনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। হজ পালন করতে এসে যারা অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদেরও অ্যাম্বুলেন্সে করে আরাফাতের ময়দানে স্বল্প সময়ের জন্য আনা হবে।

হজের দিন সারাক্ষণ আরাফাতে অবস্থান করা ফরজ। আজ মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের খুতবা দেবেন গ্র্যান্ড মুফতি। আরাফাতের খুতবার পর হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। এরপর তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে মুজদালিফায় যাবেন এবং সেখানে একসঙ্গে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। রাতে সেখানে তারা অবস্থান করবেন খোলা মাঠে। সেখান থেকে শয়তানের প্রতিকৃতিতে নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করবেন। এর আগে পবিত্র হজ পালন করতে মঙ্গলবার রাতে হাজিরা মক্কা থেকে মিনায় পৌঁছান।

১০ জিলহজ মুজদালিফায় মুসল্লিরা ফজরের নামাজ আদায় করে কেউ ট্রেনে, কেউ গাড়িতে, কেউ হেঁটে মিনায় যাবেন এবং নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরবেন। মিনায় বড় শয়তানকে সাতটি পাথর মারার পর পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছেঁটে (ন্যাড়া করে) গোসল করবেন এবং সেলাইবিহীন দুই টুকরো কাপড় বদল করবেন। এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন। কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় সাঈ (সাতবার দৌড়াবেন) করবেন। সেখান থেকে তারা আবার মিনায় যাবেন।

মিনায় যত দিন থাকবেন, তত দিন তিনটি (বড়, মধ্যম, ছোট) শয়তানকে ২১টি পাথর মারবেন। এরপর আবার মক্কায় বিদায়ী তাওয়াফ করার পর নিজ নিজ দেশে ফিরবেন। যারা হজের আগে মদিনায় যাননি, তারা মদিনায় যাবেন। এভাবে সম্পন্ন হবে হজের পুরো আনুষ্ঠানিকতা।

কাবা শরিফে নতুন গিলাফ পরানো হবে :
আজ কাবা শরিফের গায়ে পরানো হবে নতুন গিলাফ। নতুন গিলাফ পরানোর সময় পুরোনো গিলাফ সরিয়ে ফেলা হয়। কাবা শরিফের দরজার ও বাইরের গিলাফ দুটিই মজবুত রেশমি কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়। গিলাফের মোট পাঁচটি টুকরা বানানো হয়। চারটি টুকরা চারদিকে এবং পঞ্চম টুকরাটি দরজায় লাগানো হয়। টুকরাগুলো পরস্পর সেলাইযুক্ত।

হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ পুলিশ, আধা সামরিক ও সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। হাজিদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে মিনায় কিছুদূর পর পর রয়েছে হাসপাতাল। রয়েছে মোয়াচ্ছাসা, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশের সদস্য। হাজিরা পথ হারিয়ে ফেললে স্বেচ্ছাসেবক, স্কাউট ও কর্মীরা তাদের নির্দিষ্ট (তাবু) গন্তব্যে পৌঁছে দেন।

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হচ্ছে হজ পালন। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করতে হয়। এবার বিশ্বের প্রায় ১৭১ দেশের ২০-২৫ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবার হজ পালনে সৌদি আরব পৌঁছেছেন। বাংলাদেশ থেকে এবার ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৫৮ জন হজ পালন করছেন।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

মুমিনজীবনে পরকালের প্রস্তুতিই মুখ্য

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-৩০ ০২:৩৯:৫৪

একজন মুমিনের অকাট্য বিশ্বাস হলো এই জীবনই শেষ নয়, মৃত্যুর পর আরো একটি জীবন রয়েছে। পার্থিব এই জীবন ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু এরপর যে জীবন রয়েছে এর কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। এজন্য একজন বিশ্বাসী মানুষের কাছে দুনিয়ার চেয়ে পরকালের প্রস্তুতিই মুখ্য। পবিত্র কোরানের ভাষায় এই দুনিয়া হলো একটি খেলাঘরের মতো। দুনিয়ার জীবনটা আখেরাতের তুলনায় কিছুই নয়। বলা হয়, আটলান্টিক মহাসাগরে আঙ্গুল ডুবালে এর মাথায় যে এক দুই ফোঁটা পানি উঠে আসে সেটা হলো দুনিয়ার জীবন। আটলান্টিক মহাসাগরের পানির সঙ্গে যেমনিভাবে আঙ্গুলে ওঠে আসা এক দুই ফোঁটা পানির তুলনা হতে পারে না তেমনি দুনিয়ার জীবনের সঙ্গে আখেরাতের জীবনের কোনো তুলনা করা যায় না। এজন্য রাসুল (সা.) আমাদের আখেরাতমুখী জীবন, আখেরাতমুখী টার্গেট বানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

একজন মুমিনের টার্গেট হওয়া উচিত আখেরাত। আমরা সবাই আখেরাতের যাত্রী। দুনিয়ার জাহাজে করে আল্লাহর পথে চলতে শুরু করেছি। আমরা এগিয়ে চলছি আল্লাহর দিকে। জান্নাত কিংবা জাহান্নামের দিকে। নবীজি বলেছেন, তোমরা দুনিয়াতে থাকো কিন্তু দুনিয়াকে অন্তর দিও না। দুনিয়াকে তোমরা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার কর। দুনিয়াকে টার্গেট বানিও না।

আজরাইল (আ.) যখন আমাদের সামনে হাজির হয়ে যাবে তখন আর কিছু করার থাকবে না। আমাদের দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে। এজন্য আল্লাহতাআলা আমাদের যে ফর্মুলা দিয়েছেন সে অনুযায়ী চললে দুনিয়ার জীবন সুন্দর হবে। দুনিয়ার জীবনে কোনো অন্যায় থাকবে না, কোনো অবিচার থাকবে না। দুনিয়ায় কেউ কারো ওপর জুলুম করলে কেয়ামতের দিন তার মাথায় জুলুমের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হবে। আল্লাহতাআলা সেদিন সমস্ত জুলুমের বদলা দেবেন। কেয়ামতের ভয় ছাড়া, গোনাহের ভয় ছাড়া, আখেরাতের জীবনের ভয় ছাড়া দুনিয়ার জীবনে কখনো শান্তি আসবে না।

এজন্য পার্থিব জীবন সুন্দর করতে সবার আগে দরকার পরকালের ভয়। কারো মধ্যে পরকালের ভয় থাকলে সে কোনো অন্যায় কাজে জড়াতে পারে না। অল্প কিছুদিনের এই দুনিয়া যেভাবেই কাটুক তা মেনে নিয়ে অনন্ত অসীম কালের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণই হলো একজন মুমিনের প্রধান দায়িত্ব। যারা এই পার্থিব জীবনকে কাজে লাগাতে পারবেন তাদের জন্যই রয়েছে পরকালের মুক্তি ও পুরস্কার।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর মিনা

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-৩০ ০২:৩৮:০১

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সম্মেলন হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। বুধবার থেকে শুরু হয় হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২৫ লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাতেই হাজিরা মিনায় তাঁবুতে গিয়ে অবস্থান নেন। লাখ লাখ মুসল্লির ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে পবিত্র মিনা।

তাঁবুর শহর খ্যাত মিনায় আজকের রাত অবস্থান করবেন হজযাত্রীরা। বৃহস্পতিবার ফজরসহ এখানে মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় শেষে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে তারা ছুটে যাবেন আরাফাতের ময়দানে। সেখানে হজের খুতবা শুনবেন এবং এক আজানে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। সন্ধ্যায় মুজদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করবেন। মুজদালিফায় পৌঁছে আবারো এক আজানে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন।

রাতে মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন। সেখান থেকে তারা মিনার জামারায় (প্রতীকী) শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন। শুক্রবার সকালে ফজরের নামাজ শেষে আবার ফিরে আসবেন মিনায়।

পরদিন সকালে জামারাতে পাথর নিক্ষেপ ও পশু কোরবানির পর পুরুষরা মাথা মুণ্ডনের মধ্য দিয়ে ইহরাম ত্যাগের মাধ্যমে হজের মূল কার্যক্রম শেষ করবেন। এরপর পবিত্র কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করে হজের পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন।

এদিকে, হজে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তায় সৌদি আরবে নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি এক লাখের বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। দুই বছর আগে মিনায় পদদলিত হওয়ার যে অনাহুত ঘটনা ঘটেছিল এর যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

বিস্তারিত খবর

৩১ আগস্ট পবিত্র হজ

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-২৩ ১৪:৩৬:১৯

সৌদি আরবের আকাশে মঙ্গলবার পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। তাই আগামী ৩১ আগস্ট বৃহস্পতিবার পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সেখানে ঈদুল আজহা পালন করা হবে।

সৌদি আরবের সর্বোচ্চ বিচারিক আদালত চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করে এই তারিখ ঘোষণা করেছে। ২৩ আগস্ট বুধবার থেকে সৌদি আরবে জিলহজ মাস শুরু হয়েছে।

৯ জিলহজ (৩১ আগস্ট) ফজরের নামাজের পর থেকে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হতে থাকবেন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখা ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা সৌদি আরব এসে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৭ শত ৫৯ জন হাজি এসে পৌঁছালেও, নির্ধারীত সময়ের আগে আরো হাজির আগমণ ঘটবে বলে আশা করছে সৌদি সরকার।

সৌদি পাসপোর্ট অফিসের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে: গত বছরের তুলনায় এবছর দুই লাখ উনসত্তর হাজার একশত চৌদ্দজন বেশি হাজী হজ সম্পন্ন করবেন। যা গত বছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি।

সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান ও মালয়েশিয়ায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর আগে পাকিস্তান গত শনিবার ঘোষণা দেয়, ২ সেপ্টেম্বর ঈদুল আজহা হতে পারে।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সৌদি আরবে ৩১ হাজির মৃত্যু

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-১৫ ১৭:১৬:১৩

সৌদি আরবে হজ পালন করতে যাওয়া ৩১ ব্যক্তি মারা গেছেন। রোববার রাতে এসব ব্যক্তি মারা যান বলে সোমবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)জানিয়েছে।

সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব ব্যক্তিরা বিদেশি। তবে কীভাবে তারা মারা গেছেন এবং তাদের জাতীয়তা কী, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এসপিএ জানিয়েছে, ১২ আগস্ট পর্যন্ত ৬ লাখ ২০ হাজার ব্যক্তি হজ পালনের জন্য সৌদি আরব পৌঁছেছেন। হজের আগে আরো ২০ লাখ লোক এসে পৌঁছবেন বলে আশা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

২০১৫ সালে দুটি মর্মান্তিক ঘটনায় ২ হাজার ২৯৭ জন হাজি মারা যায়। এ ঘটনার পর মক্কা ও মদিনায় হাজিদের নিরাপত্তা জোরদার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।


এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

চীন-ভারত দ্বন্দ্ব যে কারণে

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৭-০৫ ১১:১১:২৮

চার সপ্তাহ যাবত ভারত ও চীনের মধ্যেকার সীমান্তে দুদেশের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা চলছে। উভয় দেশের মাঝে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।

সীমান্ত বিরোধী নিয়ে ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধও হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও বিভিন্ন জায়গায় বিরোধ এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে এবং মাঝে-মধ্যেই সেটি মাথা চাড়া দেয়।  চীন, ভুটান আর ভারতের সিকিম প্রদেশের সংযোগস্থলে একটি উপত্যকার ভেতর দিয়ে রাস্তা তৈরি করাকে কেন্দ্র করে নতুন বিরোধের সূচনা।

চীন চায় সেখানে একটি রাস্তা তৈরি করতে। কিন্তু যে জায়গাটিতে চীন রাস্তা তৈরি করতে চাইছে সেটি ভুটান ও চীনের মধ্যকার একটি বিরোধপূর্ণ এলাকা। সে উপত্যকাকে চীন এবং ভুটান-উভয় দেশই দাবি করে। এক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান ভুটানের পক্ষে। ভারত মনে করে, চীন যদি এ রাস্তাটি তৈরি করে তাহলে কৌশলগতভাবে ভারত পিছিয়ে পড়বে।

এ রাস্তাটির মাধ্যমে চীন এমন একটি জায়গায় পৌঁছে যাবে যেটি ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। চীন এমন জায়গায় সড়ক নির্মাণ করতে চাইছে যার পাশেই ভারতের ২০ কিলোমিটার চওড়া একটি করিডোর আছে।

এ করিডোরের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলো মূল ভারতের সাথে সংযোগ রক্ষা করে। উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উভয় দেশ সীমান্তে তাদের সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে এবং একটি মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে সড়ক নির্মাণ না করার জন্য ভুটানের তরফ থেকে চীনকে আহবান জানানো হয়েছে। ভারত মনে করে সিকিম রাজ্যটি তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সিকিম অঞ্চলের মধ্য দিয়ে ভারত চীনের যে কোন আগ্রাসনের জবাব দিতে পারে।

চীন এ বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে বলেই সেখানে তাদের কৌশলগত অবস্থান জোরদারের চেষ্টা চালাচ্ছে। ১৯৬২ সালের যুদ্ধে চীনের কাছে ভারত পরাজিত হয়েছিল। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ জেটলি সম্প্রতি বলেছেন, ১৯৬২ সালের ভারত এবং ২০১৭ সালের ভারত এক নয়। নিজের ভূখণ্ড রক্ষার জন্য ভারত এখন যথেষ্ট শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেছেন জেটলি।

অন্যদিকে চীন মনে করে যে জায়গাটিতে তারা সড়ক নির্মাণ করতে চাইছে সেটি তাদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড। ভারতে সেখানে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে মনে করে চীন। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের কথা ভারতকে মনে করিয়ে দিচ্ছে চীন। দেশটি বলছে চীন আগের তুলনায় এখন আরো বেশি শক্তিশালী।

চীনের সাথে ভারতের উত্তেজনার আরেকটি কারণ রয়েছে। তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাইলামা ভারতে বসবাস করছেন, যেটি চীন মোটেও পছন্দ করছে না।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

২৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৭-০৫ ১১:০৯:২৯

চলতি বছরের হজ ফ্লাইট আগামী ২৪ জুলাই শুরু হবে।

মঙ্গলবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল জলিল এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বিমান মন্ত্রণালয় থেকে হজ ফ্লাইটের সময়সূচি ধর্ম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে যাত্রীদের আসন পুনর্বিন্যাস করে চূড়ান্ত সময়সূচি আগামী দু-একদিনের মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা করা হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৪ জুলাই দুটি ফ্লাইটে প্রায় ১ হাজার যাত্রী সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন।

আগামী ১২ জুলাই থেকে হজ যাত্রীদেরকে সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকাদানের সনদ নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, এ বছর ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি হজ করতে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি 

বিস্তারিত খবর

ইরাকের নুরী মসজিদ উড়িয়ে দিয়েছে আইএস

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-২২ ০১:৪৮:২৪

ইরাকের মসুল শহরের নুরী মসজিদ উড়িয়ে দিয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। ইরাকি বাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০১৪ সালে আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদি ওই অঞ্চলে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু আমাক নিউজের এক খবরে জানানো হয়েছে, আইএস না বরং মার্কিন বিমান থেকে বোমা মেরে ওই মসজিদটি ধ্বংস করা হয়েছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি বলেছেন, বোমা মেরে মসজিদ উড়িয়ে দেয়াটা অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে আইএসের দ্বারা পরাজিত হওয়ার ঘোষণাকেই বোঝায়।

বিভিন্ন ছবি থেকে দেখা গেছে ওই মসজিদ এবং মিনার দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরাকি কমান্ডার ইন চার্জ জানিয়েছেন, আইএসের আরো একটি অপরাধের এই ঘটনার সময় মসজিদ থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরেই ছিল সেনারা।

মার্কিন এক ঊর্ধ্বতন কমান্ডার বলেছেন, আইএস ইরাক এবং মসুলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ধ্বংস করল।

এটা মসুল শহর এবং পুরো ইরাকিবাসীর বিরুদ্ধে একটি অপরাধ। এই ঘৃণ্য অপরাধের জন্যই তাদের ধ্বংস করা উচিত।


এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

জাকাতে আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও ঈমান বৃদ্ধি করে

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-২২ ০১:৪৫:২৭

ইসলামের পাঁচ ভিত্তির একটি হচ্ছে জাকাত। কালিমা শাহাদাত ও সালাতের পর জাকাতের স্থান। এর অর্থ শুচিতা ও পবিত্রতা, শুদ্ধি ও বৃদ্ধি। জাকাত ছাড়া দ্বীন পরিপূর্ণতা লাভ করে না। সালাত অর্থাৎ নামাজ এবং রোজার সম্পর্ক মানুষের দৈহিক পরিশ্রম ও মনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, পক্ষান্তরে জাকাত ও হজ্বের সম্পর্ক অর্থের সাথে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, ‘আর তোমরা নামাজ কায়েম কর, জাকাত আদায় করো এবং রুকু কর রুকুকারীদের সঙ্গে।’ (সূরা বাকারা : ৪৩)

আর জাকাতের ব্যাপারে যে কৃপণতা করল অথবা কম আদায় করল সে জালেমদের অন্তর্ভুক্ত ও আল্লাহর শাস্তির উপযুক্ত। আল্লাহ জাল্লাশানুহু বলেন- ‘আর আল্লাহ যাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ থেকে যা দান করেছেন তা নিয়ে যারা কৃপণতা করে তারা যেন ধারণা না করে যে, তা তাদের জন্য কল্যাণকর। বরং তা তাদের জন্য অকল্যাণকর। যা নিয়ে তারা কৃপণতা করেছিল, কিয়ামত দিবসে তা দিয়ে তাদের বেড়ি পরানো হবে। আর আসমানসমূহ ও জমিনের উত্তরাধিকার আল্লাহরই জন্য। আর তোমরা যা আমল কর সে ব্যাপারে আল্লাহ সম্যক জ্ঞাত।’ (সূরা আল-ইমরান :১৮০)

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন- ‘আল্লাহ যাকে সম্পদ দান করেছেন, অতঃপর সে তার জাকাত প্রদান করল না, কিয়ামতের দিন তার জন্য বিষধর সাপ সৃষ্টি করা হবে, যার দুটি চোঁয়াল থাকবে, যা দ্বারা সে তাকে কিয়ামতের দিন পেঁচিয়ে ধরবে, অতঃপর তার দুচোয়াল পাকড়ে বলবে- আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চিত ধন।’ (বোখারি)

ইসলাম সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের ধর্ম। একজনের হাতে বিপুল অর্থ-সম্পদ জমা হওয়াকে ইসলাম পছন্দ করে না। ইসলাম চায় ধনী-গরিব সবাই স্বচ্ছন্দে জীবন যাপন করুক। তাই দরিদ্রের প্রতি লক্ষ্য করে জাকাতের বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে রাব্বুল আলামিন বলেন- ‘এবং যারা সোনা ও রূপা পুঞ্জীভূত করে রাখে, আর তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, তুমি তাদের বেদনাদায়ক আজাবের সুসংবাদ দাও। যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা গরম করা হবে, অতঃপর তা দ্বারা তাদের কপালে, পার্শ্বে এবং পিঠে সেঁক দেয়া হবে। (আর বলা হবে) ‘এটা তা-ই যা তোমরা নিজদের জন্য জমা করে রেখেছিলে, সুতরাং তোমরা যা জমা করেছিলে তার স্বাদ উপভোগ কর।’ (সূরা আত-তওবা : ৩৪-৩৫)

জাকাতের দ্বীনি, চারিত্রিক ও সামাজিক বহুবিধ উপকার রয়েছে। জাকাত ইসলামের এক বিশেষ রোকন, যার ওপর বান্দার দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ নির্ভর করে। অন্যান্য ইবাদতের ন্যায় জাকাত বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্য প্রদান করে ও তার ঈমান বৃদ্ধি করে। জাকাত আদায়ের ফলে প্রভূত কল্যাণ লাভ হয়।

কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘আর তোমরা যে সূদ দিয়ে থাক, মানুষের সম্পদে বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য তা মূলতঃ আল্লাহর কাছে বৃদ্ধি পায় না। আর তোমরা যে জাকাত দিয়ে থাক আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে (তাই বৃদ্ধি পায়) এবং তারাই বহুগুণ সম্পদ প্রাপ্ত।’ (সূরা রূম :৩৯)

জাকাতের সামাজিক উপকারিতা : জাকাত ব্যক্তিকে দানশীল ও বদান্যদের কাতারে শামিল করে। জাকাতের ফলে অভাবীদের অভাব দূর হয়, দুনিয়ার অধিকাংশ জায়গায় যাদের সংখ্যাই বেশী। জাকাত গরীবদের অন্তর থেকে ধনীদের প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষ দূর করে দেয়। কারণ গরীবরা যখন দেখে ধনীরা তাদের সম্পদ দ্বারা যাবতীয় প্রয়োজন পুরো করে, কিন্তু তাদের সম্পদ থেকে তারা কোনভাবে উপকৃত হয় না, এ কারণে অনেক সময় ধনীদের প্রতি তাদের অন্তরে হিংসা ও বিদ্বেষের জন্ম নেয়। কিন্তু ধনীরা যদি বছর শেষে গরীবদের জাকাত দেয়, তাহলে তাদের অন্তর থেকে এসব দূরীভূত হয় এবং উভয় শ্রেণির মধ্যে মহব্বত ও ভালবাসার সৃষ্টি হয়।

জাকাত নির্দিষ্ট সম্পদের ওপর ওয়াজিব হয়। যেমন স্বর্ণ ও রূপা। শর্ত হচ্ছে এর নিসাব পূর্ণ হতে হবে। স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ, আর রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা তার সমপরিমাণ অর্থের মালিক হলে জাকাত ওয়াজিব হবে। স্বর্ণ ও রূপা অলংকার বা যে অবস্থাতে থাক, তাতে জাকাত ওয়াজিব হবে। অতএব নারীর পরিধেয় অলংকারের ওপর জাকাত ওয়াজিব যদি তা নিসাব পরিমাণ হয়, সে নিজে পরিধান করুক বা অন্যকে পরিধান করতে দিক।

আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রা.) বর্ণিত, এক নারী রাসূল (সা.) নিকট আগমন করে, তার হাতে ছিল স্বর্ণের দুটি চুড়ি, তিনি বললেন- ‘তুমি এগুলোর যাকাত দাও?’। সে বলল- না। তিনি বললেন- ‘তুমি কি পছন্দ কর আল্লাহ এগুলোর পরিবর্তে তোমাকে জাহান্নামের দুটি চুড়ি পরিধান করান?। সে তা নিক্ষেপ করে বলল: এগুলো আল্লাহ ও তার রাসূলের জন্য। (আবু দাউদ, তিরমিযি ও নাসায়ি)

আরো যেসব জিনিসের উপর জাকাত ওয়াজিব তন্মধ্যে রয়েছে- ব্যবসায়ী সম্পদ, অর্থাৎ ব্যবসার জন্য রক্ষিত সম্পদ যেমন জমিন, গাড়ি, চতুষ্পদ জন্তু ও অন্যান্য সম্পদ। এগুলোতে এক-দশমাংশের চার ভাগের এক ভাগ যাকাত ওয়াজিব, অর্থাৎ চল্লিশ ভাগের একভাগ। বছর শেষে হিসাব কষে তা বের করতে হবে, তখন তার মূল্য কেনার দামের চেয়ে কম হোক অথবা বেশি হোক কিংবা সমান সমান।

কিন্তু যেসব সম্পদ সে নিজের প্রয়োজন অথবা ভাড়া দেওয়ার জন্য রেখেছে, তাতে জাকাত ওয়াজিব হবে না, কারণ রাসূল (সা.) বলেছেন- ‘মুসলিমের উপর তার গোলাম ও ঘোড়ার সদকা নেই।’ (বোখারি ও মুসলিম)। তবে ভাড়ার উপার্জনে জাকাত আসবে, যদি বছর পূর্ণ হয়। অনুরূপভাবে স্বর্ণ বা রৌপ্যের অলঙ্কারেও যাকাত আসবে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

জাকাত গরিবের প্রতি কোন করুণা নয় বরং তার হক- যা ধনী ব্যক্তিকে অবশ্যই আদায় করতে হবে। এ কারণে আবু বকর (রা.) বলেছেন- ‘যারা রাসূল (সা.)-এর যুগে একটি উটের রশিও জাকাত হিসেবে আদায় করত আর এখন তারা যদি জাকাত দিতে অস্বীকার করে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম।’ (বোখারি)

তার এ ভাষণের মর্মার্থই ছিল, মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা যাতে কেউ কাউকে তার অধিকার হতে বঞ্চিত করতে না পারে। সম্পদ উপার্জনের যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে অনেক তারতম্য রয়েছে। আর এ তারতম্য কমিয়ে ধনী-গরিবের মাঝে ভারসাম্য আনার জন্য মহান আল্লাহ জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।

দেখা যায় কিছু মানুষ সম্পদের পাহাড় গড়ছে, অর্থ-কড়ি ও ভোগ-বিলাসে মত্ত আছে এবং প্রাচুর্যের চূড়ান্ত শিখরে অবস্থান করছে আর কিছু লোক দারিদ্র সীমার একেবারে নীচে অবস্থান করছে। মানবেতর জীবন যাপন করছে। আল্লাহ এ ব্যবধান দূর করার জন্যই তাদের সম্পত্তিতে জাকাত ফরজ করেছেন। যাতে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান কমে যায় এবং ধনী দরিদ্রের বৈষম্য দূর হয়। অন্যথায় দেশে বা সমাজে হিংসা- বিদ্বেষ, ফিতনা-ফাসাদ ও হত্যা-লুণ্ঠন ছড়িয়ে পড়বে। বিঘ্নিত হবে সামাজিক শৃংখলা ও স্থিতি ।

জাকাত আদায় করার দায়িত্ব সরকার বা রাষ্ট্রের। কিন্তু সমকালীন দুনিয়ায় ইসলামী অনুশাসন না থাকায় কোথাও জাকাত ভিত্তিক অর্থনীতি চালু নেই। যার কারণে রাষ্ট্রীয়ভাবে তো বটেই ব্যক্তি পর্যায়েও জাকাত আদায়ের ব্যাপারে উদাসীনতা দেয়া যায়। কিয়ামতের কঠিন বিপদের দিনে আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচতে হলে জাকাত আদায় করতে হবে অবশ্যই। এ ক্ষেত্রে কোনো অজুহাত আল্লাহ তাআলার কাছে গৃহীত হবে না।

রোজ হাশরে মহাপরাক্রমশালী বিচারকের সামনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই জাকাত আদায় করতে হবে। যেভাবে হোক না কেন জাকাত দিতেই হবে- রাষ্ট্র বা সরকার জাকাত আদায় করতে আসুক বা না আসুক। ব্যক্তিগত উদ্যোগে হলেও জাকাত দিতে হবে। অন্যথায় জাকাত অনাদায়ের যে শাস্তি নির্ধারিত আছে তার অবধারিত কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় নেই। রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে বোঝার এবং তদনুযায়ী আমল করবার তাওফিক দান করুন। -আমিন।


এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-২২ ০১:৪৩:২৪

আজ বৃহস্পতিবার (২২ জুন) দিবাগত রাত পবিত্র লাইলাতুল কদর। ‘লাইলাতুল’ আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো রাত আর ‘কদর’ অর্থ সম্মান। লাইলাতুল কদর- এর অর্থ সম্মানিত বা মহিমান্বিত রাত।

পবিত্র কোরআনে লাইলাতুল কদরকে মহিমান্বিত রাত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ আল কোরআন লাইলাতুল কদরে নাযিল হয়। এই রাতের গুরুত্ব তুলে ধরে সূরা কদরে বলা হয়েছে, এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।

মুসলমানদের কাছে এই রাত অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত রাত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সারা রাত নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকিরে মগ্ন থাকেন।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

মুসলিম দেশগুলোতে ঈদ নির্ধারিত হয় যেভাবে

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-২০ ১৬:৪৬:০৯

রোজা শেষে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত হয়।কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ উৎসবের তারিখটি যেভাবে নির্ধারণ করা হয়, তা অনেকের কাছে খুব জটিল বলে মনে হতে পারে।
 
বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে ঈদ হয় কেন? এর প্রধান কারণ, ঈদের তারিখ নির্ধারিত হয় নতুন চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে।
 
বিশ্বের ১৮০ কোটি মুসলিম ধর্মীয় উৎসব, রীতিনীতি, অনুশাসনের জন্য অনুসরণ করেন ইসলামিক চন্দ্র-বর্ষপঞ্জী।এই চন্দ্র-বর্ষপঞ্জীর নয় নম্বর মাস হচ্ছে রমজান।রমজান মাস যখন শেষ হয়ে আসে, তখন সবাই পরিস্কার আকাশে এক নতুন চাঁদের অপেক্ষায় থাকেন।
 
চাঁদের সাড়ে ২৯ দিনে একমাস হয় তাই প্রতি বছর রমজান মাস গ্রেগরীয়ন ক্যালেন্ডারের তুলনায় ১১ দিন এগিয়ে আসে।এর ফলে প্রতি বছর রমজান মাসের অভিজ্ঞতা হয় আগের বছরের তুলনায় কিছুটা ভিন্নতর। কারণ বছরের বিভিন্ন সময় দিন দীর্ঘ কিংবা ছোট হয়।
 
রমজান মাসে মুসলিমদের সূর্যোদয়ের আগে থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থেকে রোজা রাখতে হয়।
 
যদি মুসলিমরা সৌর বর্ষপঞ্জী অনুসরণ করতো, তাহলে রমজানের সময় প্রতি বছর ঠিক একই মৌসুমে হতো। এর মানে বিশ্বের কোন কোন অংশের মুসলিমদের সব সময় গ্রীস্মের সময় রোজা রাখতে হতো, যখন কিনা দিন সবচেয়ে লম্বা। আর কোন দেশে হয়তো শীতের সময় রোজা রাখতে হতো, যখন দিন ফুরিয়ে যায় দ্রুত।
 
কিন্তু চন্দ্র বর্ষপঞ্জী অনুসরণের সুবিধা হচ্ছে, এটি বিশ্বের সব মুসলিমকে বিভিন্ন মৌসুমে রোজা রাখার অভিজ্ঞতার সুযোগ করে দেয়। প্রতি তেত্রিশ বছরে রমজান মাস ঘুরে ফিরে আবার সৌর বর্ষপঞ্জীর একই সময়ে ফিরে আসে।
 
ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত হয় রমজানের পরের মাস শওয়ালের এক তারিখে।বেশিরভাগ মুসলিম দেশে ঈদের তারিখ সরকারিভাবে নির্ধারিত হয়।
 
অনেক দেশে চন্দ্র বর্ষপঞ্জী আগে থেকে নির্ধারিত করা থাকে। ফলে ঈদের তারিখটি আগে থেকেই জানা যায়।কিন্তু অনেক দেশে আকাশে চাঁদ দেখে তারপর ঈদের ঘোষণা দেয়া হয়।এ কারণেই বিভিন্ন দেশে ঈদ হয় ভিন্ন ভিন্ন তারিখে।
 
যেমন সৌদি আরবের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ঈদের তারিখ ঠিক করে খালি চোখে ঈদের চাঁদ দেখেছেন এমন মানুষদের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে।
 
অনেক মুসলিম দেশও একই পদ্ধতিতে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করে। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইরানে সরকারই নির্ধারণ করে ঈদের তারিখ।ইরাকে শিয়া এবং সুন্নীরা ভিন্ন ভিন্ন পন্থায় ঈদের তারিখ ঠিক করে।ইরাকে শিয়াদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় নেতা হচ্ছেন গ্রান্ড আয়াতুল্লাহ-আলি-আল-সিসতানি। তিনি সাধারণত ঈদের ঘোষণা দেন।
 
অন্যদিকে সুন্নিরা নির্ভর করে তাদের ধর্মীয় নেতাদের ঘোষণার উপর। গত বছর অবশ্য বহু বছর পর একই দিনে ঈদ পালন করে ইরাকের শিয়া এবং সুন্নিরা।
 
তুরস্ক সরকারিভাবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। সেখানে অ্যাস্ট্রনমিক্যাল বা জ্যোর্তিবিজ্ঞানের হিসেব-নিকেষের ভিত্তিতে ঈদের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
 
ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা তাদের স্ব স্ব সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ঈদ পালন করে। সাধারণত তারা যেসব দেশ থেকে অভিবাসী হয়ে ইউরোপে এসেছে, সেসব দেশের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করে।

এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

পবিত্র রমজানে যে ৫টি অ্যাপ সাহায্য করবে আপনাকে

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-০৯ ০৪:৪০:৪১

মুসলমানদের পবিত্র মাস রমজান। বরকতময় এই মাসে ধর্মপ্রিয় মুসল্লিরা দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি ইবাদত বন্দেগীর মধ্য দিয়ে দিনগুলো অতিবাহিত করতে অত্যন্ত সচেষ্ট থাকেন। কিন্তু সময়ের সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পেরে উঠেন না অনেকেই। আর এ জন্য আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনটি আপনাকে এই রমজানে সাহায্য করতে পারে। পবিত্র রমজানে যে ৫টি অ্যাপ সাহায্য করবে আপনাকে, সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
কোরআন মাজিদ (Quran Majeed): আপনি যদি আরবি পড়তে পারেন, তবে এই অ্যাপটি আপনার জন্য। কারণ আপনার চলাফেরার মাঝে অবসর সময়ে এই অ্যাপটির মাধ্যমে পাঠ করে নিতে পারেন পবিত্র কোরআন মাজিদ। শুধুমাত্র আরবি হরফে নয়, এই অ্যাপটিতে ৪৫ ভাষায় অনুবাদ করা রয়েছে কোরআনের আয়াতগুলো।
ইন্সেতা দ্বীন লাইট (InstaDeen Lite): যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোরআন শরীফের আয়াতগুলো বা ইসলামের উক্তিগুলো শেয়ার করতে চান তারা এই অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারেন।
শেয়ার দ্য মিল (ShareTheMeal): আপনি এই অ্যাপটির মাধ্যমে আপনার অতিরিক্ত খাবারগুলো অভুক্তদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন।
মুসলিম দোয়া নাউ (Muslim Dua Now): এই অ্যাপে প্রয়োজনীয় সব দোয়াগুলো খুঁজে পাবেন।
মুসলিম প্রো (Muslim Pro): এই অ্যাপটি আপনার অবস্থান নির্ণয় করে ইফতারের সময়, নামাজের সময়, সেহেরির সময় জানিয়ে দেবে। আপনি চাইলে অ্যাপগুলো অ্যান্ড্রয়েডের গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপলের আইওএস প্ল্যাটফর্ম থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।   

বিস্তারিত খবর

নামাজের ১১ স্বাস্থ্যগত উপকারিতা

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-০৭ ০৮:৩৬:৪৬

নামাজ হল ইসলাম ধর্মের প্রধান উপাসনাকর্ম। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। কিন্তু অনেকেই জানেন না নামাজ স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। নামাজ পড়ার মাধ্যমে আমাদের শরীরের বেশকিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নাড়াচাড়া হয় যা এক প্রকার ব্যায়াম। এই ব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। চলুন জেনে নেই নামাজ পড়ার ১১টি স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে:
১. নামাজে যখন সিজদা করা হয় তখন আমাদের মস্তিষ্কে রক্ত দ্রুত প্রবাহিত হয়। ফলে আমাদের স্মৃতিশক্তি অনেক বৃদ্ধি পায়।

২. নামাজের যখন আমরা দাঁড়াই তখন আমাদের চোখ জায়নামাজের সামনের ঠিক একটি কেন্দ্রে স্থির অবস্থানে থাকে ফলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।

৩. নামাজের মাধ্যমের আমাদের শরীরের একটি ব্যায়াম সাধিত হয়। এটি এমন একটি ব্যায়াম যা ছোট বড় সবাই করতে পারে।

৪. নামাজের মাধ্যমে আমাদের মনের অসাধারণ পরিবর্তন আসে।

৫. নামাজ সকল মানুষের দেহের কাঠামো বজায় রাখে। ফলে শারীরিক বিকলঙ্গতা লোপ পায়।

৬. নামাজ মানুষের ত্বক পরিষ্কার রাখে যেমন ওজুর সময় আমাদের দেহের মূল্যবান অংশগুলো পরিষ্কার করা হয় এর ফলে বিভিন্ন প্রকার জীবাণু হতে আমরা সুরক্ষিত থাকি।

৭. নামাজে ওজুর সময় মুখমণ্ডল তিন বার ধৌত করার ফলে আমাদের মুখের ত্বক উজ্জল হয় এবং মুখের দাগ কম দেখা যায়।

৮. ওজুর সময় মুখমণ্ডল যেভাবে পরিষ্কার করা হয় তাতে আমাদের মুখে একপ্রকার মেসেস তৈরি হয় ফলে আমাদের মুখের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং বলিরেখা কমে যায়।

৯. কিশোর বয়সে নামাজ আদায় করলে মন পবিত্র থাকে। এর ফলে নানা প্রকার অসামাজিক কাজ থেকে সে বিরত থাকে।

১০. নামাজ আদায় করলে মানুষের জীবনীশক্তি বাড়ে।

১১. কেবলমাত্র নামাজের মাধ্যমেই চোখের নিয়ম মত যত্ন নেয়া হয়। ফলে অধিকাংশ নামাজ আদায়কারী মানুষের দৃষ্টিশক্তি বজায় থাকে।  

বিস্তারিত খবর

মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র মাস রমজান

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৫-৩০ ১৫:২৬:৫৮

বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের জন্য সবচেয়ে পবিত্র মাস রমজান৷ এই মাসে ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী আত্মশুদ্ধির আশায় রোজা রাখেন অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান৷ চলুন মাসটি পালন করার কিছু প্রথা এবং আচার সম্পর্কে জেনে নেই৷

প্রতি বছর রমজান মাসে লাখ লাখ মুসলমান সারাদিন উপাস থেকে রোজা রাখেন, প্রার্থণা করেন এবং যাকাত প্রদান করেন৷ মুসলমানের এই পবিত্র মাসটি শুরু হয় চাঁদ দেখার মাধ্যমে৷

চাঁদ দেখা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজার মাস ঘোষণা করেন৷ কিছু পর্যবেক্ষক চাঁদ খুঁজে পেতে টেলিস্কোপ ব্যবহার করলেও অনেকেই খোলা চোখে চাঁদ খুঁজতে পছন্দ করেন৷ আর এভাবে রোজার মাস শুরু হয় বলে দেশভেদে রোজা শুরুর দিন ভিন্ন হতে পারে৷

প্রার্থনা

রমজান মাসে শুধু উপবাসই নয়, নিয়মিত প্রার্থনাকেও এর মূল ভিত্তি বিবেচনা করা হয়৷ রোজার মাসে এশার জামাতের সময় বিশেষ তারাবিহ নামাজ পরার নিয়ম রয়েছে৷ মুসলিম দেশগুলোতে মুসলমানরা রোজার মাসে সাধারণত স্থানীয় মসজিদে সমবেত হয়ে বিশেষ প্রার্থনা আদায় করেন৷

কোরআন তেলওয়াত

রোজার মাসে আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যে সারাদিন উপবাস করা হয়৷ তবে এ সময় অনেকে পবিত্র কোরআন তেলওয়াতও করেন৷ রমজান মাসে মহানবি মোহাম্মদের উপর কোরআন নাজিল হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়৷

স্থানীয় প্রথা

রমজান মাসে রোজা রাখা এবং অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রমের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে আরো উদ্যোগ নেয়া হয়৷ যেমন, সারায়েভোতে ইফতারের সময় হয়েছে বোঝাতে প্রতিদিন কামান দাগা হয়৷ মিশরে সাজানো লণ্ঠন প্রদর্শন রমজানের ঐতিহ্যের অংশ৷

ইফতার

পানি এবং কোনো প্রকার খাদ্য ছাড়া সারাদিন কাটানোর পর সূর্যাস্তের পর মাগরিবের সময় অনেক মুসলমান খেজুর দিয়ে ইফতার করেন৷ এটা বিশ্বাস করা হয় যে, মহানবি মোহাম্মদও এভাবে ইফতার করতেন৷ ইফতারের সময় দেশভেদে আরো অনেক খাবার খাওয়া হয়৷ বাংলাদেশে অনেক মসজিদেও ইফতারের বিশেষ আয়োজন করা হয়৷

ঈদ উল ফিতর

রমজানের মাসের শেষে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদ উল ফিতর উদযাপন করা হয়৷ ঈদের আগে প্রিয়জনকে উপহার দেয়ার প্রথা রয়েছে, তেমনি ঈদের দিনেও মুসলমানরা তাদের বন্ধু-বান্ধবদের নিজেদের বাড়িতে দাওয়াত করেন৷ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দু’টি ধর্মীয় উৎসবের একটি ঈদ উল ফিতর৷


এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

মৃত্যুর পর মানুষের শরীরে যা ঘটে? জানলে অবাক হবেন !

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৫-১৫ ০৯:০২:১৪

মৃত্যু এক চিরন্তন সত্য। মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই তো জীবন শেষ। মৃত্যু নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক শঙ্কা কাজ করে স্বাভাবিকভাবেই; কিন্তু মৃত্যু ঘটবেই, একে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায়ও তাই নেই। মৃত্যুর পর নশ্বর দেহতে কিছু পরিবর্তন ঘটে প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গেই।
জানলে অবাক হবেন, মানুষ মারা যাওয়ার পরও তার কিছুদিন পর্যন্ত হাতের নখ ও চুল বৃদ্ধি পায় বলে মনে হয়! এ তো গেল অন্য কথা, তবে আজীবন বয়ে বেড়ানো শরীর মৃত্যুর পর প্রকৃতির সঙ্গেই মিশে যায় ধীরে ধীরে। মেন্টাল ফ্লস নামের একটি ওয়েবসাইটে মৃত্যুর পর নশ্বর মানবদেহের পর্যায়ভিত্তিক পরিণতির বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
১. মৃত্যুর পর মস্তিষ্কের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এটি ঘটবে সেকেন্ডের ব্যবধানে।
২. শরীরের তাপমাত্রা শীতল হয়ে যাবে।
৩. অক্সিজেনের অভাবে কোষগুলোর মৃত্যু ঘটতে আরম্ভ করবে। সে সঙ্গে কোষগুলোয় ভাঙন ধরবে, যা পচন প্রক্রিয়ার আগ পর্যন্ত চলবে। এটি ঘটবে মিনিটের ব্যবধানে।
৪. শরীর প্রসারিত হওয়ার কারণে পেশির মধ্যে ক্যালসিয়াম তৈরি হতে থাকে। এটি ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়। এটি ঘটবে ঘণ্টার ব্যবধানে।
৫. পেশিগুলো শিথিল হয়ে যায়।
৬. ত্বক শুষ্ক, সংকুচিত দেখায়। এর কারণে চুল ও নখ বড় হয়ে যাবে বলে মনে হবে।
৭. মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে রক্তে টান পড়বে। এতে করে শরীরের চামড়ায় কালশিটে পড়া বা অনেকটা দাগের মতো দেখা যাবে।
৮. শরীরের এনজাইমগুলো নিজেদের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো হজম করতে শুরু করে, প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি। এটি ঘটবে দিনের ব্যবধানে।
৯. পচনশীল দেহের থেকে পিউট্রিসিন বা ক্যাডাভেরিন নামের রাসায়নিক উপাদান নির্গত হওয়ার কারণে দুর্গন্ধ তৈরি হবে।
১০. এক সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ শরীর খেয়ে ফেলতে থাকবে। সপ্তাহের ব্যবধানে এটি ঘটতে শুরু করবে।
১১. শরীর বেগুনি থেকে কালো হয়ে যাবে, কারণ ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে শরীরের বিয়োজন অব্যাহত থাকবে।
১২. চুল ঝরতে শুরু করে।
১৩. চার মাসের মধ্যে বাকি রইবে শুধু কঙ্কাল, বাকি সবটাই মিশে যাবে মাটির সাথে ।  

বিস্তারিত খবর

পবিত্র শবে বরাত আজ

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৫-১১ ১৩:২৮:৪৩

মুসলমানদের পবিত্র শবে বরাত আজ বৃহস্পতিবার। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে এই রাত অতিবাহিত করবেন।

মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশ্বের মুসলমানরা বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করবেন।

সৌভাগ্যের এ রজনীতে রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুসলমানরা নামাজ ছাড়াও নফল রোজা রাখেন। বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে মসজিদে সারা রাত চলে ইবাদত-বন্দেগি। মুসলমানরা এই রাতে বাড়তি ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।


এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

কিমের সঙ্গে দেখা করতে চান ট্রাম্প

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৫-০২ ০৮:০৭:০২

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিমের সঙ্গে দেখা হলে নিজেকে সম্মানিত বোধ করবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার বিবিসির অনলাইন ভার্সনে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।
স্থানীয় সময় সোমবার সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গকে ট্রাম্প বলেন, ‘তার সঙ্গে (কিম জং-উন) দেখা করার ব্যাপারটি যদি আমার জন্য যৌক্তিক হয়, তাহলে অবশ্যই আমি দেখা করব। এটা আমার জন্য সম্মানেরও হবে।’
ট্রাম্প যখন এসব কথা বলছেন, কোরিয়া উপদ্বীপে তখন উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া, উভয় দেশই সামরিক মহড়া শুরু করেছে। আর যেকোনো সময় পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর ঘোষণা দিয়ে রেখেছে উত্তর কোরিয়া। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ায় তারা যে ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে, তা এখন পুরোপুরি কার্যক্ষম হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। সেখানে বলা হয়, দুই নেতার মুখোমুখি কোনো সাক্ষাৎ করতে হলে, উত্তর কোরিয়াকে অনেকগুলো শর্ত পূরণ করতে হবে। এখনো সে রকম পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে বলছে হোয়াইট হাউস। 
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শেন স্পাইসার বলেন, বিশেষভাবে তারা দেখতে চান যে, অতিসত্ত্বর উত্তর কোরিয়া তাদের উস্কানিমুলক আচরণ বন্ধ করেছে। এর আগে, রবিবার সিবিএস টেলিভিশনে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে কিম জং-উনকে ‘যথেষ্ট চালাক ব্যক্তি’ বলে বর্ণনা করেছিলেন ট্রাম্প।
কিমের বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘অনেকে বলে, তিনি কি একটি শয়তান? সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। তবে যখন তার বাবা মারা যায়, তখন তিনি ২৬/২৭ বছরের একজন তরুণ। অবশ্যই অনেক কঠিন মানুষজনের সাথে তার কাজ করতে হয়, বিশেষ করে জেনারেলদের সঙ্গে। যাদের অনেকেই হয়তো ক্ষমতায়ও ভাগ বসাতে চায়। যাদের মধ্যে হয়তো তার ফুফা বা অন্য কেউ থাকতে পারে। এসবের মধ্যেও তিনি ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। সুতরাং, তিনি অবশ্যই বেশ চালাক একজন ব্যক্তি।’ 
সূত্র: বিবিসি  

বিস্তারিত খবর

হযরত আবু বক্কর (রাঃ) এর ক্ষুধার কাহিনী

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৫-০২ ০৮:০২:২৭

প্রচন্ড রোদের মধ্যে হযরত আবু বকর (রাঃ) তাঁর ঘর থেকে বের হয়ে আসলেন। মসজিদ-ই-নববীর দিকে হাঁটতে শুরু করলেন আবু বকর (রাঃ)। পথেই দেখা হয়ে গেল উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর সাথে।
আবু বকরকে জিজ্ঞেস করলেনঃ
– “এই গরমের মধ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসলেন যে!”
– “কি করবো? দুঃসহ ক্ষুধা তাড়িয়ে নিয়ে এসেছে আমাকে বাড়ি থেকে।”
– “হে আবু বকর, আমি নিজেও যে একই কারণে ঘর থেকে বের হয়ে এসেছি।”
দুজনে কথা বলতে বলতে এগিয়ে গেলেন। হঠাৎ দেখলেন রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগিয়ে আসছেন তাঁদের দিকে। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই কথা তুললেন,
– “কি ব্যাপার? এই অসময়ে কোথায় যাচ্ছ তোমরা?”
– “ইয়া রাসুলুল্লাহ! ক্ষুধার কষ্টই আমাদের বাড়ি থেকে বের করে এনেছে।’
– “সেই পবিত্র স্বত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমিও যে একই কারণে বের হয়ে এসেছি ঘর থেকে। চলো সামনে এগিয়ে যাই।
তিনজন মিলে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছলেন আবু আইয়ুব আল-আনসারী (রাঃ) এর বাড়িতে। আবু আইয়ুব (রাঃ) এর স্বভাব ছিল প্রতিদিন রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য খাবার তৈরী করে অপেক্ষা করা। তিনি সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম না এলে বাড়ির সবার সাথে সেই খাবার ভাগাভাগি করে খেতেন আবু আইয়ুব।
সেদিনও অপেক্ষা করছিলেন তিনি। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবারের সময় না আসায় তিনি সবাইকে নিয়ে খাওয়া শেষ করে ফেলে বাহিরে গিয়েছিলেন। খাবার শেষ হয়ে গেছে। আর রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর দুই সঙ্গীকে নিয়ে এলেন। তিনি হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ) এর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন,
“আবু আইয়ুব কোথায় গিয়েছে?”
– স্ত্রী জবাব দিলেন, “বাহিরে গিয়েছে। এখুনি এসে পড়বে।”
এই অবস্থায় আবু আইয়ুব আল-আনসারী (রাঃ) এসে একছড়া কাঁচা-পাকা-আধাকাঁচা খেজুর নিয়ে এলেন। রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ
 “এতো খেঁজুর আনলে কেন? শুধু পাঁকা খেঁজুর আনলেই পারতে।” -তিনি বললেনঃ “সব ধরণের খেঁজুর পেশ করেছি যেটা ভালো লাগে গ্রহন করবেন। অনেক সময় পাঁকা খেজুরের থেকে আধাপাঁকা খেঁজুর মজা লাগে।”
তিনি তাড়াতাড়ি একটি বকরী জবাই করে তা কিছু গোশত আগুনে ঝলসালেন আর বাকিটুকু ভুনা করার ব্যবস্থা করলেন। তাঁর স্ত্রী রুটি বানিয়ে ফেললেন ইতিমধ্যে। মেহমানদের সামনে খাবার পরিবেশন করা হলো এক সময়ে। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেতে নিয়ে থেমে গেলেন হঠাৎ। তারপর একটি রুটির উপরে কিছু ভুনা গোশত রেখে সেটি আবু আইয়ুব আনসারী’র হাতে দিয়ে বললেন, “একটু আমার মেয়ে ফাতিমার কাছে দিয়ে এসো এই খাবার। অনেক দিন হয় আমার মেয়ে এমন খাবার খেয়েছে।”
আবু আইয়ুব আনসারী ফাতিমা (রাঃ) খাবার দিয়ে ফিরে এলেন। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুই প্রিয় সাথীকে নিয়ে খাবার খেলেন। খাবার শেষে খাবারের দিকে তাকিয়ে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “রুটি, গোশত, খুরমা, পাকা ও আধ-পাকা খেজুর!” এইটুকু বলতেই গলা ধরে এলো তাঁর। দু’চোখ ভর্তি পানি নিয়ে আবার কথা বললেন রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম,
“মহিমান্বিত আল্লাহ পাকের শপথ, এইসবই হচ্ছে সেই নিয়ামত – যার বিষয়ে তোমাদেরকে কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে।” অতঃপর তিনি পড়লেনঃ ثُمَّ لَتُسـَٔلُنَّ يَومَئِذٍ عَنِ النَّعيمِ★
“এরপর অবশ্যই সেদিন তোমরা নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।” [সুরা তাকাসুরঃ ৮]
এত কষ্টের পর খাবার খেয়ে হিসেবের কথা শুনে সাহাবীগণ অবাক হয়ে বললেনঃ “এই খাবারেরও হিসেব দেয়া লাগবে?” রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “তোমরা যখন কোন নিয়ামত গ্রহণ করার জন্য হাত বাড়াবে, তখন ‘বিসমিল্লাহ’ ( ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ) বলবে। তারপর তৃপ্তি নিয়ে খাবার শেষ করার পরে
বলবে – আল’হামদুলিল্লাহিল্লাযি হুয়া আশবা’আনা ওয়া আন’আমা ‘আলাইনা ওয়া আফদ্বালা’
( ﺍﻟﺤﻤﺪ ﻟﻠﻪ ﺍﻟﺬﻱ ﻫﻮ ﺃﺷﺒﻌﻨﺎ ﻭﺃﻧﻌﻢﻋﻠﻴﻨﺎﻭﺃﻓﻀﻞ ) অর্থঃ “সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাকের যিনি আমাদেরকে পরিতৃপ্ত করেছেন এবং আমাদেরকে নিয়ামত দান করেছেন যা অনেক উত্তম।”
তাহলে এই দুয়া আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের জন্য যতেষ্ট হবে। — আল্লাহ রহম করুন — আমিন–আলহামদুলিল্লাহ
[#সুত্রঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদীস থেকে। হায়াতুস সাহাবাঃ খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৫১৫ – ৫১৮ আত তারগীব ওয়াত তারহীব, জাকিউদ্দিন আব্দুল আযীম আল-মুনযিরি (রহিমাহুল্লাহ) সুওয়ারুম মিন হায়াতিস সাহাবাঃ খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১২৪ – ১৩০]  

বিস্তারিত খবর

কোরআনের অনুবাদ পড়ে নামাজ আদায় করা শুদ্ধ কিনা?

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৪-২৪ ১০:১৭:২৬

আরবী ব্যতীত অন্য ভাষায় আল কুরআনের তরজমা পড়ে নামাজ আদায় করলে শুদ্ধ হবে কি না, এ নিয়ে দুটি মত রয়েছে। এক. সাধারণভাবে তা শুদ্ধ হবে অথবা আরবী উচ্চারণ করতে অক্ষম হলে শুদ্ধ হবে। দুই. শুদ্ধ হবে না।
প্রথম মতটি ইমাম আবু হানিফা (রহ.)- এর প্রাচীন মত। তিনি ফারসি ভাষায় অনূদিত কুরআন পড়ে নামাজ পড়া জায়েজ মনে করতেন। অর্থাৎ তিনি মনে করতেন যে কুরআন মূলত অর্থের নাম। আর একই অর্থ বিভিন্ন ভাষার শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা যায়। অবশ্য ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এ মত থেকে ফিরে এসেছেন বলে প্রসিদ্ধ রয়েছে।
ইমাম আবু ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদ বলেছেন যে, যে ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে শুধু সে ক্ষেত্রেই তা শুদ্ধ হবে। অতএব আরবীতে কুরআন পড়তে যে একেবারেই অপারগ তার জন্য অনুবাদ পড়েই নামাজ আদায় শুদ্ধ হবে। তবে যে ব্যক্তি আরবীতে কুরআন পড়তে পারে, তার জন্য শুদ্ধ হবে না। মিরাজুদ্-দেরায়াতে বলা হয়েছে- আমরা অপারগ ব্যক্তির জন্য, অর্থে কোনোরূপ বিকৃতিসাধন না করার শর্তে, কুরআনের অনুবাদ পড়া জায়েজ করেছি; কেননা অনুবাদ কুরআনের অর্থকে শামিল করে বলে তা এক হিসেবে কুরআন। অতএব তা পড়া একেবারে না পড়ার চেয়ে উত্তম। কারণ মানুষের সাধ্যের নিরিখে দায়িত্ব আরোপিত হয়েছে।’ (উদ্ধৃতিটি আল কাত্তান থেকে নেয়া, পৃ: ৩১২) 
দ্বিতীয় মতটি হলো জমহুর বা অধিকাংশ ফকীহদের। সে হিসেবে ইমাম মালেক, ইমাম শাফেঈ ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল আল কুরআনের অনুবাদ দিয়ে নামাজ পড়া অবৈধ বলেছেন। আরাবীতে কুরআন পড়তে মুসল্লী সক্ষম কি অক্ষম তা কোনো বিবেচনার বিষয় হবে না; কেননা অনুবাদ কুরআন নয়। কুরআন হলো, ইজাযবিশিষ্ট বাক্যমালা, যা আল্লাহর কালাম। দলিল হিসেবে তারা নিম্নবর্ণিত আয়াত পেশ করেন,  وَلَوْ جَعَلْنَاهُ قُرْآَنًا أَعْجَمِيًّا لَقَالُوا لَوْلَا فُصِّلَتْ آَيَاتُهُ أَأَعْجَمِيٌّ وَعَرَبِيٌّ আমি যদি একে (কুরআনকে) অনারব ভাষায় কোরআন করতাম, তবে অবশ্যই তারা বলত, এর আয়াতসমূহ পরিস্কার ভাষায় বিবৃত হয়নি কেন? কি আশ্চর্য যে, কিতাব অনারব ভাষায় আর রসূল আরবী ভাষী! বলুন, এটা বিশ্বাসীদের জন্য হেদায়েত ও রোগের প্রতিকার। যারা মুমিন নয়, তাদের কানে আছে ছিপি, আর কোরআন তাদের জন্যে অন্ধত্ব। তাদেরকে যেন দূরবর্তী স্থান থেকে আহবান করা হয়। (সূরা ফুসসিলাত:৪৪)
আল কুরআন আবরিতে বোঝার জন্য সকল মুসলমানকেই সচেষ্ট থাকতে হবে। এমনকি ফকীহদের কেউ কেউ আরবী ভাষা শেখা মুসলমানদের ওপর ফরজ বলেছেন। ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ ‘ইক্তিযাউস সিরাতিল মুস্তাকীম’ গ্রন্থে বলেন,‘ আর খোদ আরবী ভাষা শিক্ষা করা দ্বীনের একটি অংশ এবং তা জানা ফরজ; কেননা আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নত বোঝা ফরজ। আর তা আরবী ভাষা বোঝা ব্যতীত বোঝা সম্ভব নয়। আর যা না হলে ওয়াজিব আদায় হয় না তাও ওয়াজিব। (উদ্ধিৃতিটি আল কাত্তান থেকে নেয়া হয়েছে: পৃ:৩১৩)  

বিস্তারিত খবর

শবে মিরাজ বা লাইলাতুল মিরাজ,করণীয়-বর্জনীয়

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৪-২৪ ১০:০৮:৪৮

‘শবে মিরাজ’ বা ‘লাইলাতুল মিরাজ’- ফারসি শব্দ। যার অর্থ হলো রাত, রাত্রি বা রজনী। আবার ‘লাইলাতুন’ আরবি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে রাত বা রজনী। আর ‘মিরাজ’ আরবি শব্দ। এর অর্থ উর্ধ্বগমন বা উর্ধ্ব গমনের বড় মাধ্যম। ‘শবে মিরাজ’ শব্দ দুটির সম্মিলিত শাব্দিক অর্থ হলো- উর্ধ্বগমনের রাত বা রজনী। ইসলামী পরিভাষায় রাসূল (সা.) যে রাতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছায় তার ডাকে সাড়া দিয়ে উর্ধ্ব আকাশে গমন করেছিলেন সেই রাত ও সেই শুভ ও পবিত্র যাত্রাকে ‘শবে মিরাজ’ বা ‘লাইলাতুল মিরাজ’ বলা হয়। [আল-মুয়জামুল ওসিত]
কখন হয়েছিল শবে মিরাজ: মিরাজের এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি কোন তারিখে সংঘটিত হয়েছে এ ব্যাপারে বিভিন্ন মতপার্থক্য লক্ষ করা যায়। কোনো কোনো ঐতিহাসিকদের মতে, রাসূলের (সা.) নবুয়তের ৫ম বছর এই ঘটনাটি সংঘঠিত হয়েছে। আবার কারো কারো মতে, নবুয়তের ৬ষ্ঠ বর্ষে। এভাবে দ্বাদশ বর্ষে সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে মতামত পাওয়া যায়। তবে হাদিসের নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ও অধিকাংশ ঐতিহাসিকদের প্রসিদ্ধ মতামত হলো- পবিত্র এই ঘটনা রাসূলের (সা.) নবুয়তের ৫ম বছর ২৭ রজব রাতে সংঘঠিত হয়েছে।
মিরাজ সংঘঠিত হয়েছিল কেন:  মিরাজের ঘটনা রাসূলের (সা.) জীবনের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্যমন্ডিত বিষয়। রাসূলের (সা.) আগে অন্য কোনো নবী-রাসূলের জীবনে এমন ঘটনা ঘটেনি। আল্লাহ মহান এই রাতে তার সংস্পর্শ শুভ্রতার উপহার হিসেবে উম্মতে মুহাম্মাদীকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান দান করেছেন। তাই রাসূল (সা.) নামাজের ব্যাপারে বলেছেন, ‘নামাজ হলো মুমিনের মিরাজ।’
শবে মিরাজ ও নফল নামাজ:  আবার অনেক মুসলিম ভাই ও বোনরা শবে মিরাজ উপলক্ষে কেউ ১২ রাকাত, কেউ ২০ রাকাত নামাজ আদায় করে থাকেন। ইসলামী শরীয়তেও শবে মিরাজের নামাজ বলে কিছু নেই। নফল নামাজ পড়া সাওয়াবের কাজ কিন্তু শবে মিরাজ উপলক্ষে নফল নামাজ আদায় করার কোনো ভিত্তি ও প্রমাণ ইসলামে নেই। কাজেই শবে মিরাজের নামে নফল নামাজ আদায় করা এবং এর ব্যবস্থা প্রণয়ন করা মানে ইসলামী শরীয়তে নিজের পক্ষ থেকে কিছু সংযোজন করা। আর এ ব্যাপারে রাসূল (সা.) বলেছেন, যে আমাদের ধর্মে এমন কিছু সংযুক্ত বা উদ্ভাবন করবে, যা তার (শরীয়তের) অংশ নয়- তা প্রত্যাখ্যাত হবে। [বোখারী, ১/৩৭১]   
শবে মিরাজ ও নফল রোজা:  আমাদের অনেক মুসলিম ভাই ও বোনেরা- শবে বরাত ও শবে কদরের সাথে মিলিয়ে শবে মিরাজেও নফল রোজা রেখে থাকেন। একটি কথা বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য- নফল রোজা যখন ইচ্ছা তখন রাখা যায় কিন্তু কোনো উপলক্ষে নফল রোজা রাখতে হলে অবশ্যই আগে জেনে নিতে হবে যে আমি বা আমরা যে উপলক্ষে নফল রোজা রাখছি শরীয়ত সেটাকে অনুমতি দিয়েছে কিনা। শবে মিরাজ উপলক্ষে নফল রোজা রাখার কোনো বর্ণনা কোরআন-হাদিসের কোথাও বর্ণিত নেই। আল্লাহর রাসূল (সা.) ও তার অনুসারীরা এই দিনে বিশেষভাবে কোনো রোজা রেখেছেন এমনে কোনো বর্ণনা ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই এই দিনে শবে মিরাজ উপলক্ষে রোজা রাখা কোনো ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে না।
করণীয়-বর্জনীয়: রজব মাসের শেষ দিকে শবে মিরাজ রয়েছে। রজব মাসের ব্যাপারে বলা হয়ছে এই মাসে রমজানের প্রস্তুতি নেওয়া এবং বেশি বেশি এই দোআ করা- ‘হে আল্লাহ আমাদের রজব ও শাবান মাসে বরকত দাও এবং আমাদের হায়াত রমজান পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করো।’ এই মাসে শবে মিরাজকে উপলক্ষ না করে নফল রোজা রাখা। রজবের ২৯ ও ৩০ তারিখে শাবানের চাঁদ দেখার চেষ্টা করা। এছাড়া ইসলামী শরীয়ত পরিপন্থী যে কোনো ধরনের আমল-ইবাদত ও বিদআত থেকে বিরত থাকা। এই রাতকে কেন্দ্র করে প্রচলিত সব ধরনের প্রথা ও বিদআত বর্জন করা। শবে মিরাজের নামাজ বলে কোনো নফল নামাজ আদায় না করা এবং শবে মিরাজের রোজা নামে কোনো নফল রোজা না রাখা। মসজিদ আলোকসজ্জা, তবারক বিতরণ ও মিলাদ-কিয়াম না করা।  
পরিশিষ্ট:  কোনো কোনো এলাকায় খুব ধুমধামের সাথে শবে মিরাজ পালন করা হয়। শবে মিরাজকে শবে বরাত ও শবে কদরের মতো বরকতময় রাত মনে করা হয় এবং এই রাতে বিশেষভাবে  শবে মিরাজের নামাজ আদায় করা হয় আর পরেরদিন শবে মিরাজের রোজা রাখা হয়। ইসলামী শরীয়তে এসব আমলের কোনো ভিত্তি নেই। কোরআন-হাদিসে এর কোনো সমর্থন পাওয়া যায় না। সুতরাং শবে মিরাজকে শবে বরাত বা শবে কদরের মতো মনে করা এবং উদযাপন করা সম্পূর্ণ বিদআত।
[মুফতি তাকি উসমানী ও মুফতি মুহাম্মাদ আলী রচিত ‘ফজিলতের রাত: ফাজায়েল ও মাসায়েল’ অনুবাদ: মুফতি আব্দুল মালেক]  

বিস্তারিত খবর

সোমবার মাহিমান্বিত লাইলাতুল মেরাজ

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৪-২৩ ১৫:১৫:০৭

আজ দিন পেরিয়ে রাতের আঁধার নামলেই আবির্ভাব ঘটবে এক অলৌকিক অসামান্য মহাপুণ্যে ঘেরা রজনী। এ রজনী মহাপবিত্র মহিমান্বিত লাইলাতুল মেরাজের। এ রাতে আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হযরত জিব্রাঈল আলাহিস্সালামের সাথে পবিত্র কাবা হতে ভূ-মধ্যসাগরের পূর্বতীর ফিলিস্তিনে অবস্থিত পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস হয়ে সপ্তাকাশের উপর সিদরাতুল মুনতাহা হয়ে সত্তুর হাজার নূরের পর্দা পেরিয়ে আরশে আজিমে মহান আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি অবলোকন করেন সৃষ্টি জগতের সমস্ত কিছুর অপার রহস্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম-এর জীবনের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা ‘মেরাজ’।
 
মেরাজ ইসলামের ইতিহাসে এমনকি পুরা নবুওয়াতের ইতিহাসেও এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। কারণ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্যকোনো নবী এই পরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি। এ মেরাজ রজনীতেই মানবজাতির শ্রেষ্ঠ ইবাদত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় মুসলিম জাহানের সঙ্গে এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও আজ কোরআনখানি, নফল সালাত, জিকির-আসকার, ওয়াজ মাহফিল, দোয়া-দরুদ পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে পবিত্র শবে মেরাজ পালন করবেন।
 
মেরাজ শব্দটি আরবী, অর্থ ঊর্ধ্বারোহণ। এ মেরাজের বড়দাগে অর্থ দাঁড়ায়-সপ্তম আসমান, সিদরাতুল মুনতাহা, জান্নাত-জাহান্নাম পরিদর্শন ও ধনুক কিংবা তার চেয়ে কম দূরত্বে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য পর্যন্ত ভ্রমণ। এ ছিল আল্লাহ তাআলার মহান কুদরত, অলৌকিক নিদর্শন, নবুয়তের সত্যতার পক্ষে এক বিরাট আলামত। জ্ঞানীদের জন্য উপদেশ, মোমিনদের জন্য প্রমাণ, হেদায়েত, নেয়ামত, রহমত, মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্যে হাজির হওয়া, ঊর্ধ্বলোক সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন, অদৃশ্য ভাগ্য সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান লাভ, ইহকাল ও পরকাল সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, স্বচক্ষে জান্নাত-জাহান্নাম অবলোকন, নভোমন্ডল পরিভ্রমণ এবং সর্বোপরি এটিকে একটি অনন্য মুজিযা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা।
 
পারিভাষিক অর্থে নবুয়তের একাদশ সালের ২৭ রজবের বিশেষ রাতের শেষ প্রহরে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম জিব্রাঈলের (আ.)সাথে আল্লাহর নির্দেশে বায়তুল্লাহ হতে বায়তুল মুক্বাদ্দাস পর্যন্ত ‘বোরাক্বে’ ভ্রমণ, অতঃপর সেখান থেকে অলৌকিক সিঁড়ির মাধ্যমে সপ্ত আসমান পেরিয়ে আরশে আল্লাহর সান্নিধ্যে গমন পুনরায় বায়তুল মুক্বাদ্দাস হয়ে বোরাক্বে আরোহণ করে প্রভাতের আগেই মক্কায় নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তনের ঘটনাকে ‘মেরাজ’ বলা হয়। মেরাজ সম্পর্কে আল্লাহ পবিত্র কুরআন শরীফে বলেন-“পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্ত্বা তিনি, যিনি তাঁর স্বীয় বান্দাকে রাতের বেলায় মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত ভ্রমণ করালেন, যার চতুর্দিকে আমার রহমত ঘিরে রেখেছেন-যেন আমি কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই।
 
এই রাত্রিতে উম্মতে মুহাম্মাদীর প্রতি ৫ ওয়াক্তের নামাজ ফরজ হয়। ফলে এটা খুবই ফজিলতের রাত্রি। অতএব এই রাত্রিতে যতদূর সম্ভব জেগে নফল নামাজ, জিকির-আসকার, কুরআন তিলওয়াত ও দরুদ শরীফ ইত্যাদি পাঠ করা এবং নফল নিয়তে দিবাভাগে রোজা রাখা ভাল, এগুলো ব্যতীত এই রাত্রে অন্যকোনো প্রকার শরীয়তবিরোধী রুসম-রেওয়াজে লিপ্ত হওয়া যাবে না। এ রাতকে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করা, আতশবাজি, আলোকসজ্জা ইত্যাদি সবই বিদআতের পর্যায়ভুক্ত বলে মত দেন মুহাক্কিক আলেমরা।


এলএবাংলাটাইমস/আইএল/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ইবাদত কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত হালাল রুজি

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৪-২১ ১৪:৫৬:২২

মহান আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তার ইবাদত করার জন্য। অর্থাৎ রবের হুকুম আহকাম, বিধিনিষেধ মেনে জীবন পরিচালনার জন্য।তাই আমরা প্রভু নির্দেশিত পন্থায় দৈনিক পাঁচবার নামাজ আদায় করি, সেই সঙ্গে রোজা, হজ, জাকাত, দান-সদকা, কোরআন তেলাওয়াতসহ বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগী করে থাকি।

কেননা দুনিয়ায় শান্তি ও আখেরাতের পাথেয় অর্জন এসব ইবাদতেই নিহিত। কিন্তু ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হালাল রুজি উপার্জন। অবৈধ পন্থায় উপার্জন করে যত ইবাদতই করা হোক না কেন, তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

হালাল রুজি সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, “হে মানব জাতি, পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু ত থেকে তোমরা আহার করো এবং শয়তানের পথ থেকে দূরে থাকো। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। (সূরা বাকারা) হালাল রুজি অন্বেষণ সম্পর্কে কোরআনে বিধৃত হয়েছে-নামাজ শেষে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) সন্ধান করবে(সূরা জুম’আ)

হাদিসে বর্ণিত আছে- একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত সকলকে উদ্দেশ করে বলেন, হে মানবজাতি! আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্রতা ব্যতীত অন্য কিছু কবুল করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনগণকে তাই আদেশ করেছেন, যা তিনি নবী-রাসূলগণকে আদেশ করেছেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন যে দীর্ঘ সফর করে ধুলোমলিন চেহারা ও পোশাক নিয়ে আকাশের দিকে দুই হাত তুলে ইয়া রব, ইয়া রব বলে দোয়া করে। অথচ তার খাদ্য, পানীয়, পোশাক হারাম এবং জীবিকাও হারাম। তাহলে তার দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে?

মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআনে কারিমে বলেছেন, হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু হতে খাও এবং নেক আমল করো। নিশ্চয় আমি তোমাদের কর্ম সম্বন্ধে অধিক অবগত। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে কারিমের অন্য স্থানে বলেন, তোমরা পবিত্র বস্তু হতে খাও, যা আমি তোমাদের জীবিকাস্বরূপ দান করেছি।

বৈধকে অবৈধের সঙ্গে গুলিয়ে না ফেলে সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা রাখা প্রত্যেক মুসলমানের একান্ত ধর্মীয় কর্তব্য। আল্লাহর নিকট ইবাদত ও দোয়া কবুল হওয়ার জন্য হালাল উপার্জন আবশ্যক। তাই প্রত্যেকের উচিত উপার্জনের ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধিনিষেধ মেনে চলা। আল্লাহ তায়ালা যেমন বান্দাদের জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন, তেমনি হারাম পন্থায় উপার্জনকারীদের কঠিন শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করেছেন।

হাদিসে বর্ণিত আছে- হারাম খাদ্যে গঠিত শরীর জাহান্নামের ইন্ধন হবে। এ জন্য হারাম ভক্ষণ থেকে বিরত থাকা দরকার। একটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো যে, হারাম ভক্ষণকারীর অন্যান্য কাজও অহিতকর হয়। কেননা খাদ্যের প্রতিক্রিয়া মানুষের কর্মের ওপর পড়ে। তাই হালাল রুজি ও হালাল খাবারের মাধ্যমে আমরা যেন জীবন অতিবাহিত করতে পারি সেজন্য প্রয়োজন ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তার।

আমরা সকলে ‍যেন নশ্বর জগতে প্রভু নির্দেশিত পন্থায় ইবাদত করে পরকালের পাথেয় অর্জন করতে পারি। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে তওফিক দান করুন।


এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত