যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 09:40am

|   লন্ডন - 04:40am

|   নিউইয়র্ক - 11:40pm

  সর্বশেষ :

  অথৈ জলরাশির বুকে মনকাড়া মনপুরা দ্বীপ   শেখ রেহানার সাথে ইতালী মহিলা আ.লীগ নেত্রীর সৌজন্য সাক্ষাত   বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের তথ্য চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চিঠি   সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে আমরা উদ্বিগ্ন : ড. কামাল   মিয়ানমারের পাঁচ সেনা কর্মকর্তার ওপর অস্ট্রেলিয়ার কঠোর নিষেধাজ্ঞা   খাসোগির মৃতদেহ কোথায়, জানতে চান এরদোয়ান   জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার আইন নেই : ইসি সচিব   কারাগারের সাধারণ ওয়ার্ডে ব্যারিস্টার মইনুল   বলিউডের ছবিতে বাংলাদেশি সিয়াম-পূজা   বিশ্বের সবচেয়ে দামি গাড়ি   বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম এরদোগান   ইয়াবা-হেরোইন কেনাবেচায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড   খাসোগি হত্যাকাণ্ড : মঙ্গলবার সব সত্য প্রকাশ করবেন এরদোগানে   খাশোগি হত্যা : কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সৌদি ‘টাইগার স্কোয়াড’র অজানা কথা   ২৬ অক্টোবর শুরু হচ্ছে কানেক্ট বাংলাদেশ’র রোম সম্মেলন

>>  লাইফ স্টাইল এর সকল সংবাদ

শিশুদের সাথে বড়দের কেমন আচরণ করা উচিত

‘গড়তে শিশুর ভবিষ্যৎ স্কুল হবে নিরাপ’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০১৮ এর দ্বিতীয় দিনে সোমবার ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিশুদের নিয়ে সেশন ‘আমার কথা শোন’। সোমবারের বিষয় ছিল মাদককে না বলি।

শিশু প্রতিনিধি উম্মে মোবাসশিরার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব মাহমুদা শারমীন বেনু ও বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চাইল্ড প্রটেকশন স্পেশালিষ্ট জনাব শাবনাজ জেহেরীন। আলোচনা পর্বটিতে মডারেটর হিসাবে ছিলেন মহিলা

বিস্তারিত খবর

কোন খাবার কতদিন ফ্রিজে রাখবেন?

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-০২ ১২:০৫:০৪

ব্যস্ত জীবনে তিনবেলা রান্না করে টাটকা খাবার খাওয়ানোর সময়ই বা কোথায়? তাই ফ্রিজই ভরসা। তবে, ফ্রিজে কোন খাবার কতোদিন রাখতে হয় সে ব্যাপারে জানতে হবে। কিছু কিছু জীবাণু আছে যেগুলো শুধুমাত্র ঠাণ্ডায় জন্মায়। তাই ডিপফ্রিজে খাবার রাখলেই যে নিরাপদ- এটারও কোনও ভিত্তি নেই। খাবার স্বাস্থ্যসম্মত থাকে কীনা সেটা দেখা সবার আগে জরুরি। চলুন পুষ্টিবিদদের পরামর্শমতো জেনে নেই কোন খাবার ফ্রিজে কতদিন রাখতে হবে।

১) ফ্রিজে কাঁচা খাবার সংরক্ষণের পদ্ধতি এক রকম আবার রান্না করা খাবার সংরক্ষণের পদ্ধতি আরেক রকম। এ দুই ধরনের খাবার ফ্রিজে আলাদা করে রাখা উচিত।

২) খুব বেশি খাবার একসঙ্গে না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে রাখতে পারেন। একসঙ্গে যদি বেশি খাবার রেখে দেন, তাহলে বের করে রান্নার আগে কাঁচা মাছ বা মাংস পুরোটাই আপনাকে ভিজিয়ে রাখতে হবে। আবার রান্না করা খাবার পুরোটাই জ্বাল দিতে হবে। এতে করে খাবারের পুষ্টি ও স্বাদ দুটোই নষ্ট হয়।

৩) অবশ্যই ফ্রিজের তাপমাত্রার দিকে খেয়াল রাখবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী কমাবেন এবং বাড়িয়ে দেবেন।

৪) ফ্রিজে খাবার যদি আপনি বাক্সে করে রাখতে অভ্যস্ত হন, তাহলে বাক্সগুলোর মাঝে কিছুটা জায়গা ফাঁকা রাখবেন। তাহলে ভেতরে বাতাস চলাচল করতে পারবে।

৫) অনেকে মাসের পর মাস ডিপ ফ্রিজে মৌসুমি ফলমূল রেখে দেন। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই সংরক্ষণের নিয়মাবলী মেনে তারপর রাখতে হবে। তবে বেশি দিন রাখার ফলে ফলের স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়।

৬) মাংস দুই থেকে সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করাই যৌক্তিক। আর মাছ রাখা যেতে পারে সর্বোচ্চ ১৫ দিন। তবে মাছের মাথাগুলো আরও দ্রুত রান্না করে ফেলা ভালো।

স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখলে যেমন কিছু খাবারে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়, তেমনি কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয় ঠাণ্ডা জায়গায়। আবার কোনও খাবার যদি আপনি জীবাণুসহ ফ্রিজে রাখেন, তাহলে ওই জীবাণুও খাবারে থেকেই যায়। তাই ফ্রিজে রাখার আগেই দেখে নেবেন খাবারটা ঠিক আছে কি না। তা ছাড়া ফ্রিজে রাখার পর যদি কখনো কোনও খাবারের বর্ণ, গন্ধ ও স্বাদ পরিবর্তন হয়ে যায়, তাহলে সেটা আর না খাওয়াই ভালো।

এলএবাংলাটাইমস/এলএস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

যে ১০টি জিনিস কখনোই রাখবেন না বাথরুমে

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-১৫ ০৯:৪০:১৭

ঘরের মাঝে থেকেও বাথরুমের পরিবেশটা আলাদা। একটু বেশি আর্দ্র এবং একটু বেশি জীবাণু থাকে বাথরুমে, যতবারই পরিষ্কার করা হোক না কেন। বাথরুমে এমন অনেক কিছুই রাখা হয় যা গোসলের জন্য বা সৌন্দর্যচর্চায় দরকারি হলেও আসলে বাথরুমের বাইরে রাখা দরকার।  বাথরুমে রাখা হলে এসব জিনিসের কার্যকারিতা কমে যায় এমনকি দ্রুত নষ্টও হয়ে যায়।  এ জিনিসগুলো আপনার বাথরুমে থাকলে অতি সত্ত্বর বের করে ফেলুন-

১) ওষুধ
ওষুধ সবসময় ঠাণ্ডা জায়গায় রাখতে হয়। ঘরের কোনো অন্ধকার এবং শুকনো ড্রয়ারে বা আলমারিতে তা রাখতে পারেন। কিন্তু বাথরুমে নয়। বাথরুমে তাপ এবং আর্দ্রতা দুটোই বেশি হয় যার ফলে ওষুধ দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

২) তোয়ালে
বাথরুমে আর্দ্রতা বেশি থাকায় সেখানে খুব বেশি জীবাণু ছড়ায়। এ কারণে তোয়ালেতেও ফাঙ্গাস বংশবিস্তার করতে পারে।  গোসলের পর তোয়ালে বারান্দায় বা ফ্যানের নিচে মেলে শুকিয়ে নিন। অতিরিক্ত তোয়ালে আলমারিতে রাখুন।

৩) বই
টয়লেটে সময় বেশি লাগে বলে অনেকেই এই সময়টায় বই পড়েন এবং টয়লেটে দিয়েকটা পেপারব্যাক রাখেন। কিন্তু তা করলে বইগুলো নষ্ট হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি।
অনেকেই গোসলের সময়ে ইয়ারিং, আংটি বা চেইন বাথরুমে খুলে রাখেন। ছবি: সংগৃহীত

৪) গহনা
বাইরে থেকে ফিরে অনেকেই গোসলের সময়ে ইয়ারিং, আংটি বা চেইন বাথরুমে খুলে রাখেন।  কিন্তু বাথরুমের বাইরে জুয়েলারি বক্সে গহনা রাখাই ভালো। কারণ বাথরুমে পানি ও আর্দ্রতার সংস্পর্শে খুব দ্রুত গহনায় মরিচা ধরে যেতে পারে।

৫) টুথব্রাশ
আরে, টুথব্রাশ বাথরুমে থাকবে না তো কোথায় থাকবে? সমস্যা হলো, টয়লেট ফ্লাশ করার সময়ে বাতাসে অনেক জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে এবং এর অনেকটাই আটকে যায় টুথব্রাশে।  সমস্যাটি এড়াতে ব্যবহারের পর টুথব্রাশ বাইরে রাখুন। অনেকের বাড়িতেই ডাইনিং রুম বা কিচেন লাগোয়া একটা বেসিন থাকে। সেখানে টুথব্রাশ রাখতে পারেন।

৬) মেকআপ

মেকআপের পেছনে প্রচুর খরচ করেন অনেকে। এই মেকআপ বাথরুমে রাখা মানে টাকাগুলো একেবারে পানিতে ফেলা। বাথরুমে রাখলে দ্রুত মেকআপ নষ্ট হয়। এমনকি মেকআপে ছাতা পড়ার কারণে ত্বকেরও ক্ষতি হতে পারে। টুথব্রাশের মতো একইভাবে নোংরা হতে পারে মেকআপ ব্রাশ। এ কারণে মেকআপ কখনোই বাথরুমে রাখবেন না।

৭) পারফিউম
গোসলের পর পারফিউম ব্যবহার করে তারপরেই বাথরুম থেকে বের হন অনেকে। কিন্তু বাথরুমে রাখলে পারফিউমের সুগন্ধ নষ্ট হয়ে যেতে পারে দ্রুত। উত্তাপ এবং সূর্যের আলো থেকে দূরে রাখুন পারফিউম।
বাথরুমের গরম ও আর্দ্রতার কারণে নেইলপলিশ খুব কম সময়ে নষ্ট হয়ে যায়। ছবি: সংগৃহীত

৮) নেইলপলিশ
নেইল পলিশ প্রায় দুই বছর পর্যন্ত ভালো থাকে। কিন্তু বাথরুমের গরম ও আর্দ্রতার কারণে এর আগেই নেইলপলিশ নষ্ট হয়ে যায়, খুব ঘন ও চটচটে হয়ে যায়, সমানভাবে দেওয়া যায় না বা সহজেই ভেঙে চলটা উঠে যায়।

৯) রেজর এবং রেজরের ব্লেড
বাথরুমে রেজর রাখলে আর্দ্রতার কারণে তা ভোঁতা হয়ে যেতে পারে এমনকি মরিচাও পড়তে পারে। রেজর ব্যবহারের পর ভালো করে শুকিয়ে রাখুন। এতে এর আয়ু বাড়বে।

১০) ইলেকট্রনিকস
ওয়াটারপ্রুফ নয় এমন ইলেকট্রনিকস বাথরুমে নেওয়া যাবে না। এমনকি আপনার স্মার্টফোনটিও না।  দামি জিনিসটা খুব সহজেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

বিস্তারিত খবর

শিশুদের মনোযোগ বাড়াতে যেসব খাবার প্রয়োজন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-১১ ০৯:৩১:৫৪

সুস্থ থাকার জন্য সুষম খাদ্যের বিকল্প নেই। শিশুদের ক্ষেত্রে এটা আরও জরুরি। তাদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হলে শারীরিক দুর্বলতার সঙ্গে সঙ্গে মনোযোগেরও অভাব দেখা দেয়। শিশুদের মনোযোগ বাড়ানোর বেশ কিছু উপায় রয়েছে। যেমন-

১. শরীরে শর্করার ঘাটতি হলে শিশুরা অমনোযোগী হয়। এ কারণে তাদের সকালের নাস্তায় পর্যাপ্ত শর্করা যোগ করা উচিত। এজন্য পূর্ণ শস্য জাতীয় খাবার যেমন- রুটি, ওটস, যব জাতীয় খাবার এদের খাদ্য তালিকায় যোগ করা উচিত।

২. শিশুর চিনি খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিন। যদি সে এক গ্লাস দুধে ২ চামচ চিনি খায় তাহলে তা ধীরে ধীরে কমিয়ে এক চামচ করুন। শিশুরা যত কম চিনি খাবে তাদের মনোযোগী হওয়ার প্রবণতা তত বাড়বে।

৩. সাধারণ আলুর চেয়ে শিশুদের মিষ্টি আলু দিয়ে চিপস করে দিতে পারেন। এতে তার মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়বে।

৪. প্রতিদিন সকালে শিশুর ডিম খাওয়ার অভ্যাস করুন।এতে তার মস্তিষ্কের উর্বরতা বাড়বে।

৫. প্রোটিন এবং ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার শিশুদের মস্তিষ্কের গঠনের জন্য দারুন উপকারী। এজন্য তাদের নিয়মিত দুধ এবং দই খেতে দিন। এতে তাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়বে।

৬. এছাড়া বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ব্লুবেরী –এগুলো শিশুদের মনোযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।


এলএবাংলাটাইমস/এলএস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বায়ু দূষণে বুদ্ধি কমে!

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-২৮ ১৫:৪৬:৪৭

তীব্র বায়ু দূষণের সাথে মানুষের বুদ্ধি কমে যাবার সম্পর্ক থাকতে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটি ও আমেরিকার ইয়েল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা নতুন এ তথ্য জানিয়েছেন। 

বিবিসির খবরে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে ২০১৪ পর্যন্ত গত চার বছরে দশ বছর বয়স থেকে এরচেয়ে বেশি ২০ হাজার মানুষের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়েছে। গবেষকরা মনে করছেন এই ফলাফল বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে যুক্তিসঙ্গত। কারণ বিশ্বজুড়ে শহরাঞ্চলের ৮০ শতাংশ মানুষই অনিরাপদ বায়ু দূষণের মধ্যে বসবাস করছে।

গবেষকরা বলছেন, বায়ু দূষণের শিকার ব্যক্তিদের গণিত এবং মৌখিক কিছু পরীক্ষা দেয়া হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল তাদের বুদ্ধিমত্তা যাচাই করা। কিন্তু দেখা যায় যেসব দেশ বেশি বায়ু দূষণের শিকার সেসব দেশের পরীক্ষার্থীরা ভালো করতে পারেনি।

ইয়েল স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষক শি চেন বলেন, গবেষণায় আমরা যেসব নমুনা সংগ্রহ করেছি তার মাধ্যমে আমরা বোঝার চেষ্টা করেছি যে কোন বয়সের মানুষের উপর বায়ু দূষণ কতটা প্রভাব ফেলে।

তিনি বলেন, তাদের বুদ্ধিমত্তা যাচাই করার জন্য ২৪টি গণিত এবং ৩৪টি শব্দ চিহ্নিত করার প্রশ্ন দেয়া হয়েছিল। এর আগের গবেষণায় দেখা যায় যে বায়ু দূষণের কারণে শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিমত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যা আগের গবেষণার ফলাফলের সাথে এই গবেষণার ফলাফল মিলে গেছে। যারা বায়ু দূষণের শিকার হচ্ছেন তাদের মগজ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বায়ুতে যেসব দূষণ কণিকা থাকে সেগুলো ছোট রাস্তা দিয়ে সরাসরি মগজে গিয়ে পৌঁছে। দূষণের শিকার অনেকের মাঝে মানসিক সমস্যাও তৈরি করতে পারে। এদের মধ্যে অনেকে মানসিক চাপে ভুগতে থাকে।

এলএবাংলাটাইমস/এলএস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

এসি ছাড়াই ঘর ঠাণ্ডা রাখুন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-২৩ ১৩:২১:২১

এসি ছাড়াই সহজ ও বিজ্ঞানসম্মত কিছু কৌশলে ঘর ঠাণ্ডা রাখতে পারেন আপনিও। দেখে নিন তেমনই কিছু কৌশল-

১) পর্দা টেনে রাখুন
বাইরের রোদ থেকে ঘরকে বাঁচাতে দিনের বেলায় পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখুন দরজা এবং জানালা। পর্দা যত ভারী হবে তত ভালোভাবে গরম আটকানো যাবে। লাল, কমলা এবং হলুদ পর্দা ঘরকে বেশি ঠাণ্ডা রাখে।

২) ঘরের ভেতরে দরজা খুলে রাখুন
ঘরের বাইরের দরজা বন্ধ রাখলেও ভেতরের দরজাগুলো খুলে রাখুন যাতে বিভিন্ন ঘরে বাতাস চলাচল করে। তবে অবশ্যই রান্নাঘরের দরজা খোলা রাখবেন না, এতে চুলার গরম ঘরের ভেতরে এসে পড়বে। রান্নাঘরে এক্সহস্ট ফ্যান থাকলে তা চালিয়ে দিন এবং দরজা বন্ধ রাখুন।

৩) ফ্যানের সামনে বরফ রাখুন
ছোট আকারের ফ্যান বা স্ট্যান্ড ফ্যান যদি বাসায় থাকে, তা চালিয়ে এর সামনে এক বোল বরফ বা ঠাণ্ডা পানি রাখুন। এতে সারা ঘরে ঠাণ্ডা বাতাস ছড়িয়ে পড়বে।

৪) মাথা খাটিয়ে ফ্যান ব্যবহার করুন
ঘর থেকে গরম বাতাস বের করার জন্য জানালার সামনে একটা ফ্যান রাখতে পারেন, আবার দরজা থেকে ঘরের ভেতরে ঠাণ্ডা বাতাস প্রবাহিত করার জন্য আরেকটা ফ্যান রাখতে পারেন।

৫) গ্যাজেট বন্ধ রাখুন
কম্পিউটার বন্ধ করে দিন, দরকারের বেশি আলো জ্বালাবেন না, ওয়াশিং মেশিন বন্ধ রাখুন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো যন্ত্রই চালাবেন না। আপনি নিজেও যথাসম্ভব পরিশ্রম কম করুন।

৬) জানালা খুলে দিন
রাতের বেলায় পরিবেশ ঠাণ্ডা হয়ে আসে। এ সময়ে জানালা খোলা রাখুন, ঘরে আটকানো গরম বাতাস বের হতে দিন। সকালে কিছু সময়ের জন্য হলেও জানালা বন্ধ রাখুন যাতে ঠাণ্ডা বাতাসটা ঘরে থাকে। সারাদিন অবশ্য বন্ধ রাখতে পারবেন না।

৭) বিছানার চাদর পাল্টান
পাতলা সুতি এবং সিল্কের বিছানার চাদর ঠাণ্ডা থাকে এবং তাতে ঘুমাতে আরাম পাবেন আপনি। এছাড়া বিছানার চাদর একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে করে ফ্রিজে রাখুন। ঘুমানোর আগে বের করে বিছানায় পেতে নিন। এতে অনেক শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন।

৮) পানি ব্যবহার করুন
গরমকালে বেশি পানি পান করতে হবে, এটা সবাই জানে। এ ছাড়াও কিছু কাজ করতে পারেন। একটি স্প্রে বোতলে পানি ভরে ফ্রিজে রাখতে পারেন। খুব গরম লাগলে তা মুখে স্প্রে করতে পারেন। একটি রুমাল পানিতে ভিজিয়ে ফ্রিজে রাখুন। ঠাণ্ডা হলে বের করে ঘাড়, হাত ও পায় মুছে নিন।

৯) ঘরে গাছ রাখুন
ঘরে কিছু গাছ, যেমন পাতাবাহার বা ক্যাকটাস রাখলে তা বাতাসকে ঠাণ্ডা রাখবে। 


এলএবাংলাটাইমস/এলএস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বেশি খরচের বিয়েতে বিচ্ছেদের শঙ্কা বেশি

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১০ ০৯:০৩:৪৯

বিয়ের অনুষ্ঠানের নাম শুনলেই খরচের ভয়ে অনেকের মুখ শুকিয়ে যায়। কারণ ইদানিং বিয়ের অনুষ্ঠান মানেই কয়েক লাখ টাকার ধাক্কা। ব্রাইডাল শো, ম্যাগাজিন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোর কথা শুনে মনে হয় বিয়ের অনুষ্ঠানে জাঁকজমক যত বেশি, সেই দম্পতি সুখিও হবেন তত বেশি। তবে একটি গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে বিয়ের অনুষ্ঠানে খরচ কম হলেই বিচ্ছেদের ঝুঁকি কম হয়। খবর দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

এ গবেষণার জন্য ৩,০০০ বিবাহিত ব্যক্তির ওপর জরিপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের এমোরি ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক অ্যান্ড্রু ফ্রান্সিস-ট্যান এবং হিউগো এম মিয়ালন। তারা দেখেন, কিছু কিছু কাজে বাড়ে বিবাহবিচ্ছেদের সম্ভাবনা। গবেষণার ফলাফল বলছে, এনগেজমেন্ট রিং এবং বিয়ের অনুষ্ঠানে খরচ যত বেশি হয়, দাম্পত্য ততই সংক্ষিপ্ত হয়।
এনগেজমেন্ট রিংয়ের খরচ বেশি হওয়া যাবে না।

দেখা যায়, এনগেজমেন্ট রিংয়ের খরচ ২ হাজার মার্কিন ডলার বা তার বেশি হলেই বিচ্ছেদের ঝুঁকি হয় বেশি। আরও পরিষ্কার করে বললে, যেসব পুরুষ ২ থেকে ৪ হাজার ডলারের মাঝে এনগেজমেন্ট রিং কেনেন, তাদের বিচ্ছেদের ঝুঁকি ১.৩ গুণ বেশি হয় তাদের তুলনায় যারা ৫০০ ডলার থেকে ২ হাজার ডলারের ভেতরেই রিং কেনেন।

বিয়ের অনুষ্ঠানের খরচের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ১ হাজার ডলারের মাঝেই বিয়ের অনুষ্ঠান সেরে ফেললে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে বিচ্ছেদের শঙ্কা। এই খরচ ২০ হাজার ডলারের বেশি হলেও ১.৬ গুণ বাড়ে বিচ্ছেদের সম্ভাব্যতা।আরও একটি বিষয় বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। একজন আরেকজনকে সুন্দর চেহারার কারণে বিয়ে করলে বিচ্ছেদের ঝুঁকি থাকে বেশি। অবশ্য এনগেজমেন্ট রিং এবং বিয়ের অনুষ্ঠানে একেবারেই খরচ না করাটাও বিচ্ছেদের ঝুঁকি বাড়ায়। বিয়ের পর হানিমুনে গেলে কম হয় এ ঝুঁকি। গবেষকরা বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে বেশি খরচ না করে বরং হানিমুনে খরচ করাটাই শ্রেয়।

বিস্তারিত খবর

ঘরেই তৈরি করুন টুথপেস্ট!

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০৯ ০২:০৮:২৯

ঘুম থেকে ওঠার পর একজন ব্যক্তির প্রধান কাজ হলো দাঁত পরিস্কার করা। কেননা মুখের দুর্গন্ধ সাধারণতই একটা মানুষকে আড়ষ্ট করে ফেলে। মুখ ও দাঁতের সুস্থতায় সকালে ঘুমিয়ে ওঠার পর ও রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে দুবার ব্রাশ করা উচিৎ। বাজারে বিভিন্ন দামের ও মানের টুথপেস্ট পাওয়া যায়। তবে কোনটা মুখের ও দাঁতের জন্য ভালো, কোনটায় ক্ষতিকারক রাসায়নিক আছে তা জানা মুশকিল। সেসব মুশকিলকে আসান করে দিতে এসে গেছে ঘরে বসে টুথপেস্ট তৈরির উপায়।

আসুন জেনে নেওয়া যাক ঘরে বসে কি উপায়ে তৈরি করবেন টুথপেস্ট :

টুথপেস্ট তৈরিতে দরকারে হবে
১. বেকিং সোডা আধা কাপ। ২. সামুদ্রিক লবণ ১ চামচ। ৩. পিপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েলের ১০ থেকে ১৫ ড্রপ বা লবঙ্গের তেল। ৪. বিশুদ্ধ ফোটানো পানি।

কিভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে উপরের উপরণগুলো যোগাড় করে একটি পাত্রে বেকিং সোডা নিয়ে তার সঙ্গে লবন, পিপারমিন্ট অয়েল বা লবঙ্গের তেল মিশিয়ে নিন। সবগুলো একসঙ্গে মেশানোর পর এতে ধীরে ধীরে পানি মেশান। মিশ্রনটি যখন ঘন কিংবা থকথকে হয়ে যাকে তখন মেশানো বন্ধ করে দিন। লক্ষ্য রাখবেন পেস্টটিতে যেন বুঁদবুঁদ না থাকে।

ব্যাস হয়ে গেল ঘরে তৈরি টুথপেস্ট। এবার এটিকে বাষ্পীভূত একটি পাত্রে সংরক্ষণ করুন।

মনে রাখবেন আপনার ঘরে তৈরি এই টুথপেস্ট আপনি একনাগাড়ে ৭ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন। এর চেয়ে বেশি সময় ব্যবহার করা যায়, তবে না করাই শ্রেয়।

এলএবাংলাটাইমস/এলএস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি খেলে যে সমস্যা হতে পারে

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৪-২৭ ১১:১৬:০৭

গরমের সময় অনেকেই ফ্রিজের একদম ঠাণ্ডা পানি ছাড়া খেতে পারেন না। কিন্তু, গরমে এভাবে ঠাণ্ডা পানি খেলে শরীরে যেসব মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, সে বিষয়ে সবারই সচেতন থাকা উচিত।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি দাঁতের ভেগাস নার্ভ বা স্নায়ুকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ভেগাস স্নায়ু আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি খেলে ভেগাস স্নায়ু উদ্দীপিত হয়ে ওঠে। এর ফলে হৃদস্পন্দনের গতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে।

ওয়ার্কআউট বা ব্যায়াম করার পর ঠাণ্ডা পানি খাওয়া মোটেও উচিত নয়। কারণ, শরীরচর্চার পর দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকে। এই সময় ঠাণ্ডা পানি খেলে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রার সঙ্গে বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রা ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হয় না। এ কারণে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি খাওয়ার কারণে রক্তনালীও সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, হজমের সময় যে সমস্ত পুষ্টিগুণ শরীরের কোষে মিশতে থাকে, তা বাধাপ্রাপ্ত হয়।  এ থেকেও হজমের মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার ঠিক পর পর ঠাণ্ডা পানি খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। কারণ, এর ফলে শ্বাসনালীতে শ্লেষ্মার অতিরিক্ত আস্তরণ তৈরি হয়, যা থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।


এলএবাংলাটাইমস/এলএস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

শ্যাম্পু নিয়ে যত ভুল ধারণা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৪-১৫ ১২:০৩:৩২

আমাদের মাঝে শ্যাম্পু এবং এর ব্যবহার নিয়ে নানা ধরনের মতবাদ ও ভুল ধারণা শোনা যায়। সোশ্যাল মিডিয়াতে নানা ধরনের ভিডিও প্রকাশ করে বলা হয়, কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল?

আমরাও প্রতিনিয়ত দেখতে দেখতে এক সময় ওই কথাগুলোকে বিশ্বাস করতে শুরু করি। তবে যে যাই বলুক আপনি আপনার চুলের ভালোর জন্য সেটাই করবেন যেটা আপনার উপযোগী। আর এটা জানার জন্য আপনাকে একজনের কথা বিশ্বাস না করে সবার কথা যাচাই করে তারপর যেটা ভালো ও সঠিক মনে হবে, সেটাই করুন। তাই আজ আপনি শ্যাম্পু সম্পর্কে আমাদের কাছ থেকেও কিছু জেনে নিন।

বলা হয়ে থাকে, ড্রাই বা শুষ্ক শ্যাম্পু চুলের গ্রন্থিকোষ উঠিয়ে ফেলে। ফলে চুল পড়ে যায়। ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যালাজোর কাইসার পারমানেনটির ডারমাটোলোজিস্ট পারাদি মিরমিরানি বলেন, ড্রাই শ্যাম্পুতে তেল শুষে নেওয়ার জন্য পাউডার, স্ট্রাস এবং ট্যাল্ক ব্যবহার করা হয় এবং এর মধ্যে কোনো উপাদান সরাসরি চুলের গ্রন্থিকোষে প্রভাব ফেলে না।

কসমেটিক কেমিস্ট জোসেফ বলেন, ড্রাই শ্যাম্পু চুলের গোড়ায় ব্যবহার না করে বরং চুলের আগায় ব্যবহার করা ভালো। তাই শ্যাম্পুতে ‘পিএইচ-ভারসাম্যপূর্ণ’ রয়েছে কিনা তা দেখে কিনতে হবে।

শ্যাম্পুতে পিএইচ’র সুষম উপাদান থাকাটা খুবই দরকার। তবে প্রতি ৭ জনের মধ্যে ৫ জনের কাছে তা ক্ষতিকর বলে মনে হয়নি।

কসমেটিক কেমিস্ট র‌্যান্ডি বলেন, চুলে পিএইচ ১০ মাত্রার থেকে বেশি হয়ে গেলে তখন চুলের ফাইবার ভাঙতে শুরু করে এবং চুলের অস্বাভাবিক ক্ষতি হয়। চুলের কালারিং এবং পারমিং পদ্ধতিতে উচ্চ মাত্রা পিএইচ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু, শ্যাম্পুতে ৪০ দশকের পর থেকে আর ব্যবহার করা হয় না।

‘ভিটামিন, হাইলুরোনিক অ্যাসিড চামড়ার যত্নে ব্যবহার করা হয়। এগুলো শ্যাম্পুতে আছে এটা শুনতে বেশ ভালো লাগে। কিন্তু, এর কোনো প্রমাণ নেই যে, এগুলো চুলের জন্য ভালো’, যোগ করেন র‌্যান্ডি।

জোসেফ বলেন, সর্বোপরি আপনি আলতোভাবে আপনার চুল ধুয়ে ফেলেন শ্যাম্পু করার পর এবং তারপর আর কোনো সক্রিয় উপাদান আপনার চুলে অবশিষ্ট থাকে না। চুলের যত্ন নেওয়ার জন্য বরং সব উপাদান ধুয়ে ড্রেনে চলে যায়।

শ্যাম্পু চুল থেকে বের হওয়া স্বাভাবিক তেলকে ধুয়ে দেয়। এই তেলগুলো চুলে ময়েশ্চারাইজার জোগায় এবং চুল স্মুথ করে তোলে। তাই বলে এই তেলগুলো দিনের বেলা থাকা ঠিক না। তা না হলে এতে বাইরের ধুলাবালি জমতে থাকে এবং এই ধুলাবালি মাথায় নিয়ে যদি আপনি বেশ কিছুদিন থাকেন তাহলে নানা ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে, বলেন জোসেফ।

তাই প্রতিদিন চুল ধুয়ে ফেলা ভালো আর শ্যাম্পু সপ্তাহে একবারই যথেষ্ট। আপনি যদি আপনার চুলে রঙ করান তাহলে বলা হয়ে থাকে, আপনাকে সালফেটবিহীন শ্যাম্পু ব্যবহার করতে বলা হবে। কিন্তু, সালফেট দিয়ে অনেক চুলের রঙ পরীক্ষা করে দেখা গেছে চুলের ক্ষতি করার মতো কিছু নেই।

চুল থেকে রঙ ফেইড হয়ে যাওয়ার মূল কারণ চুল ভেজানো। শ্যাম্পুতে সালফেট না থাকলেও আপনি যখনি চুল ভেজান সঙ্গে সঙ্গে আপনার চুল থেকে বেশ কিছু রঙ ফেইড হয়ে যেতে থাকে। এজন্য সালফেট দায়ী নয়।

এলএবাংলাটাইমস/এলএস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সবসময় খুশি থাকার সহজ ১০ টিপস

 প্রকাশিত: ২০১৮-০২-১৮ ১২:৩৬:২২

আমরা খুশি হতে চাই। কিন্তু হবো কীভাবে, তার উত্তর কারো কাছেই নেই। তাই তো আমরা সবাই অন্ধের মতো এদিক সেদিকে ঘুরে বেরাই এক মুহূর্ত খুশির সন্ধানে। তবে আর নয়! এবার আমাদের জানতেই হবে খুশির সেই শতাব্দী প্রাচীন ফর্মুলা সম্পর্কে, যা মেনে চললে নাকি দুঃখের পাহাড় পেরতে কোনও কষ্টই হয় না।

সত্যিই কি এমন কোনো ফর্মুলা আছে, যা মেনে চললে খুশির সন্ধান মেলে? একেবারেই! আর সেই ফর্মুলারই তো সন্ধান দেয়া হরো এই প্রবন্ধে। তবে একটাই অনুরোধ। জীবনের পরিধি কতটা, তা আমরা কেউই জানি না। তাই আর সময় নষ্ট নয়, এখন, এই মুহূর্ত থেকেই খুশি থাকার চেষ্টায় লেগে পরুন। না হলে সুযোগ হয়তো নাও পেতে পারেন।

যত দিন বাঁচবেন, তত দিন যদি মনকে দুঃখের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে চান, তাহলে মেনে চলতে হবে এই নিয়মগুলো।

১. যে জিনিস খুশি দেয় না তা থেকে দূরে থাকুন :
খেয়াল করে দেখুন, সারা দিনে আমরা এমন অনেক কাজ করে থাকি, যা কোনোভাবেই আমাদের খুশি দেয় না। তবু নানা কারণে আমরা তা করে থাকি। কিন্তু এবার থেকে এমনটা করা বন্ধু করুন। সহজ কথায় যে কাজ খুশি দেয় না, সেই কাজের পিছনে সময় নষ্ট করা চলবে না। সেই সঙ্গে যেকোনো বিষয়ে সময় নষ্ট করার আগে নিজেকে একটাই প্রশ্ন করতে হবে, "এই কাজটি কি আমায় আনন্দ দেবে?"

২. দুঃখের দিনে খুশির কথা ভাবুন : বাচ্চারা যখন খুব কাঁদে তখন কী করেন? হাতে একটা লজেন্স ধরিয়ে দেন, আর আমনি কান্না হাসিতে বদলে যায়। তাই না! তেমনি মন যখনই দুঃখে থাকবে তখনই ভালো সময়ের কথা ভাববেন। দেখবেন নিমেষে মন ভালো হয়ে যাবে। একবার একজন সংবাদিককে সৌরভ গাঙ্গুলি বলেছিল, "যখন আমার ব্যাটিং ভালো যেত না, তখন আমি সেঞ্চুরি করা ম্যাচগুলোর ভিডিও দেখতাম। তাতে ব্যাটিং-এ উন্নতি না ঘটলেও পারফরমেন্স ভালো করার জন্য মনের জোর খুব বেড়ে যেতে।" কী বুঝলেন। মনও একটা বাচ্চারই মতো, তাকে যদি ভুলিয়ে রাখতে পারেন তাহলেই কেল্লা ফতে!


৩. মন খারাপকে এতটাই চেপে ধরুন যাতে সে পালাতে বাধ্য হয় :
শুনতে হয়তে একটু আজব লাগছে। কিন্তু বিশ্বাস করুন এটা দুঃখকে দূরে রাখার একটা অসাধারণ উপায়। সাইকোলজিস্টরা বলেন, যেটায় ভয় হয় সেটা থেকে পালাবেন না। বরং তার সামনাসামনি হন, তাহলে দেখবেন ভয় পালিয়ে যাবে। একইভাবে যে কারণেই মন খারাপ হোক না কেন, সেই মন খারাপের মুহূর্তটাকে ভালো করে অনুভব করুন। এমনটা করলে দেখবেন নিমেষে মন ভালো হয়ে যাবে।

৪. নিজের হাজারো প্রতিবন্ধকতাকে দূর করুন : "এই চাকরিটা পেলেই আমি খুশি হয়ে যাব।" "যেদিন এই বাড়িটা কিনতে পারবে, সেদিন আমার থেকে খুশি আর কেউ হবে না।" এমনভাবে কি আপনিও খুশির সন্ধান করে থাকেন নাকি? তাহলে আজ থেকেই এই অভ্যাস ছাড়ুন। কারণ এইভাবে নিজের সামনে স্বপ্নের মুলা ঝুলিয়ে কোনো দিনই আপনি খুশির সন্ধান পাবেন না। কারণ খুশি কোনো টার্গেট নয়, এটা একটা অনুভূতি। তাই নিজেকে টার্গেটের চক্করে বেঁধে ফেলবেন না। একবার ভাবুন তো আপনি যদি এই টার্গেটগুলো পূরণ করতে না পারেন, তাহলে কী করবেন? তাহলে কী কোনো দিনই খুশি হবেন না। তাই রোজকার জিনিসের মধ্যে খুশির সন্ধান করা শুরু করুন, দেখবেন দুঃখ আপনার ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না।

৫. যে সম্পর্ক খুশি দেয় না তা থেকে বেরিয়ে আসুন : এই কথাটা বলাটা যতটা সহজ, করাটা ততটাই কটিন। কিন্তু খুশি থাকতে গেলে যে করতেই হবে বন্ধুরা! আর যে কোনো উপায় নেই। কারণ যে সব মানুষেরা সারা দিন তাদের জীবনকে পিষে চলেছেন তাদের সঙ্গে থাকলে আপনার মনও খারাপ হয়ে যাবে। আর মন খারাপ নিয়ে বাঁচাটা যে বড়ই কঠিন। আর যদি একান্তই এমন মানুষদের সঙ্গে ছাড়া সম্ভব না হয়, তাহলে যতটা কম সময় পারবেন এমন মন খারাপ করা মানুষদের থেকে দূরে থাকবেন। কারণ ভুলে যাবেন না খুশি যেমন সংক্রমক, তেমনি দুঃখও কিন্তু!

৬. সংখ্যালঘু হয়ে বাঁচার চেষ্টা করুন :
বিশেষজ্ঞদের মতে অফুরন্ত আনন্দের সন্ধান যদি পেতে চান, তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যে নিয়ম মেনে চলছেন না, সেই নিয়মকে সঙ্গী বানিয়ে জীবনকে এমন দিশা দেখাতে হবে। আর সেই নিয়মটি আর কিছুই নয়, একটা সহজ কথা। কী কথা? মানব জীবন একদিন না একদিন শেষ হবেই। তাই তো যতদিন বেঁচে আছেন তত দিন চেটেপুটে উপভোগ করুন জীবনকে। দুঃখকে ঝাল খাবার আর খুশিকে মিষ্টি ভেবে খেয়ে ফেলুন। সেই সঙ্গে প্রতিদিনকে বিভিন্ন স্বাদের আইসক্রিম ভেবে উপভোগ করুন। এমনটা করলে দেখবেন একটা সময় আসবে, যখন দেখবেন দুঃখ বলে আপনার জীবনে কিছুই থাকবে না। কারণ আপনি দুঃখেও যে খুশির মতোই উপভোগ করতে শুরু করেছেন!

৭.গোমড়া মুখোদের সঙ্গ ছাড়ুন : সৎ সঙ্গে থাকলে যেমন স্বর্গবাস সম্ভব হয়, তেমনি হাসিখুশি মানুষের সঙ্গে থাকলে খুশির সন্ধান পেতেও কষ্ট হয় না। আসলে খুশি থাকাটা অনেকটা সংক্রমণের মতো। তাই দেখবেন কাউকে হাসতে দেখলে আপনা থেকেই আমাদের মনও খুশি হয়ে যায়। আর এই যুক্তিটিকে আধুনিক বিজ্ঞানও এর স্বীকৃতি দিয়েছে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে আমরা কী পরিবেশে দিনের বেশিটা সময় কাটাচ্ছি, তার উপর আমাদের সুখ-দুঃখ অনেকাংশেই নির্ভর করে। তাই দুঃখি মানুষদের সঙ্গে ছেড়ে আজ থেকেই জীবনের বাকি পথটা যতটা সম্ভব "হাসিমুখ" লোকেদের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করুন। দেখবেন দুঃখ এলেও তার আঁচ আপনার গায়ে লাগবে না।

৮. দয়াবান হতে শিখুন :
তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মগুরু দালাই লামা বলেন, "অন্যকে ক্ষমা করতে পারলেই আনন্দের সন্ধান পাবেন।" কথাটা ঠিক। কিন্তু করাটা বাস্তবিকই খুব কঠিন। যে মানুষগুলোর জন্য আমি আজ এতটা কষ্টে আছি, তাদের ক্ষমা করা কি সম্ভব? হয়তো নয়। কিন্তু করতে যে হবে বন্ধুরা। কারণ মনে বিষের পরিমাণ বাড়লে যে খুশির পরিমাণ কমে যায়।

৯. "না" বলাটা খুব জরুরি : ছোট থেকে আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো এই কথাটা শুনে আসছেন। কিন্তু করতে পারছেন কজন বলুন। আমরা প্রায় সবাই আমাদের আশপাশের লোকেদের খুশি করতে গিয়ে নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে এমন অনেক কাজ করে থাকি, যা হয়তে বাকিদের আনন্দ দেয়, কিন্তু দিনের শেষে আমরা নিজেরাই অখুশি হয়ে পরি। যেমন ধরুন, আমাদের মাঝে মধ্যেই সামাজিকতার খাতিরে এমন আত্মীয়ের বাড়ি যেতে হয় যারা আমদের পছন্দ করেন না। তবু তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে হয়। এতে পরিবারের বাকিরা খুশি হয় ঠিকই। কিন্তু আমাদের মনের খোঁজ কি কেউ রাখে? তাই না বলতে শিখুন। সহজ কথায়, যেখানে খুশি নেই সেখানে যেতে নেই।


১০. খুশি থাকার অভ্যাস করাটা জরুরি : মানে! ঠিক বুঝলাম না। একেবারেই ঠিক শুনেছেন। খুশি থাকতে গেলে তার প্রাকটিস করতে হবে। আর এই কাজটা করবেন কীভাবে? খুব সহজ! অর্থবান লোকেরা যেমন সব সময় টাকার কথা বলেন। স্বাস্থ্যবান যেমন শরীরের, তেমনি খুশি মনের মানুষের সব সময় এমন কথা বলেন যাতে বাকি সবাই খুশি হন। আর যেমনটা আগেও বলেছি আশেপাশের লোকেরা খুশি হবে তো আপনা থেকে আপনার মনও খুশি হয়ে যাবে।
আরেকভাবেও খুশি থাকার প্র্যাকটিস করতে পারেন। ধরুন আপনার গিটার বাজাতে ভালো লাগে। তাহলে যখনই সুযোগ পাবেন গিটার বাজান। কারো ধরুন বই পড়তে অথবা পার্কে হাঁটতে ভালো লাগে, তাহলে সেই কাজটাই করুন। এমনটা করতে থাকলে দেখবেন এক সময়ে গিয়ে খুশি থাকাটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে।


এলএবাংলাটাইমস/এলএস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাথরুমকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখার কিছু টিপস

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-২৭ ২৩:০৪:৪৭

আপনার বাড়ি যতই সুন্দর হোক, সেটা মাটি করে দেয়ার জন্য আপনার বাথরুমের দুর্গন্ধই যথেষ্ট। বাথরুম পরিষ্কার ঝকঝকে দেখা গেলেই হবে না। সাথে হতে হবে দুর্গন্ধ ও জীবাণু মুক্ত। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় বাথরুম খুব পরিষ্কার করে রাখলেও মাঝে মাঝে কেমন একটা বিদঘুটে গন্ধ বের হতেই থাকে। তাই আজ এমন কিছু টেকনিক জেনে নিন জেটা দিয়ে আপনি আপনার বাথরুমকে রাখতে পারেন দুর্গন্ধ মুক্ত।

ভেজা টাওয়াল: অনেকেই আছেন যারা বাথরুমে তোয়ালে রেখে থাকেন। তোয়ালে ভেজা হলে সেটি সাথে সাথে পরিবর্তন করে ফেলুন। বাথরুমে ভেজা তোয়ালে রাখবেন না, এটি বাথরুমে ব্যাক্টেরিয়া উৎপাদন করে দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে থাকে।

বাথরুমকে শুকনো:
ভেজা স্যাঁতস্যাঁত বাথরুম থেকে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। তাই বাথরুমের মেঝে শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। বাথরুম পরিষ্কারের পরে দরজাটা খোলা রাখুন। দেখবেন কিছুক্ষণ পর মেঝে শুকিয়ে গেছে।

সুগন্ধি মোমবাতি: সুগন্ধি মোমবাতি বাথরুমে রাখতে পারেন। এটি আপনার বাথরুমের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি বাথরুমকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখবে। তবে খুব কড়া গন্ধের মোমবাতি ব্যবহার না করাই ভালো।

জানলাটা খোলা রাখুন: বাথরুমের জানলাটা সবসময় খোলা রাখার চেষ্টা করুন। সারাক্ষণ না হোক দিনের কিছু সময় জানলাটা খোলা রাখুন। এটি বাথরুমের গন্ধটা দূর করে দিয়ে বাথরুমে বাতাস চলাচল বাজায় রাখবে।

রুম ফ্রেশনার ব্যবহার করুন: খুব সহজে বাথরুমের গন্ধ দূর করার যায় রুম ফ্রেশনার ব্যবহার করে। আপনি রুমের যে ফ্রেশনারটা ব্যবহার করেন সেটি বাথরুমেও ব্যবহার করতে পারেন। হালকা করে রুম ফ্রেশনার দিয়ে বাথরুমে স্প্রে করে ফেলুন। দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যে দুর্গন্ধ গায়েব হয়ে যাবে।

বেকিং পাউডার: আপনার কমোডের দুর্গন্ধ দূর করার পাশাপাশি কমেডকে নতুনের মতো সাদা করে দেবে বেকিং পাউডার। প্রথমে কমোডটি ফ্ল্যাশ করে নিন। এরপর কিছুটা বেকিং পাউডার ছিটিয়ে দিন। ১ ঘণ্টা পর ফ্ল্যাশ করে ফেলুন। আপনার কমোডের দাগ দূর হওয়ার সাথে সাথে কমডের দুর্গন্ধও হাওয়া হয়ে যাবে।

ভিনেগার: অনেকেই বাথরুমে ধূমপান করার অভ্যাস রয়েছে। বাথরুম একটি বদ্ধ জায়গা ফলে এখানে সিগারেটের ধোঁয়ার গন্ধটা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়ে থাকে। একটি তোয়ালেতে ভিনেগার মিশিয়ে বাথরুমে ঝুলিয়ে রেখে দিন। ভিনেগার বাথরুমের দুর্গন্ধকে আস্তে আস্তে শুষে নেয়। আর বাথরুমকে দুর্গন্ধ মুক্ত রাখবে।

কিছু টিপস:

. সুগন্ধি মোমবাতির জন্য সাধারণ মোমবাতির গায়ে দারুচিনি, লেবুর খোসা ইত্যাদি পেঁচিয়ে দিলে সুগন্ধীর কাজ করবে।

. বাড়িতে এয়ার ফ্রেশনার না থাকলে, একটি টিস্যু বা তুলার বলে পারফিউম বা বডি স্প্রে নিয়ে বাথরুমের কোথাও রেখে দিন ফ্রেশনারের কাজ করবে।

. যখন বাথরুমের জানালা খুলে রাখবেন তখন রুমের ভিতর ফুলস্প্রিডে ফ্যান ছেড়ে দিয়ে বাথরুমে দরজাও খুলে দিন। তাহলে দ্রুত এয়ার ভ্যান্টিলেশনের কাজ করবে।

. ভিনেগার ব্যবহারে জন্য তোয়ালের বদলে টেবিল ন্যাপকিনও ব্যাবহার করতে পারেন।

এলএবাংলাটাইমস/এলএস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নতুন বছরের ৮ অঙ্গীকার

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-০৯ ০১:১৫:৩৮

নতুন বছরের শুরুতে উৎসাহ-উদ্দীপনা-উদ্যম টগবগিয়ে ফুটতে থাকে। একটা সজীব সূচনার জন্য অনেকেই তাই বছরের প্রথম দিনটাকে বেছে নেন।

কিন্তু দেখা যায়, নতুন নতুন নানা প্রতিজ্ঞা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। জীবনটাকে সুন্দরভাবে সাজাতে তাই সহজ কিছু অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা, যা সারাবছর মেনে চলা সহজ হবে।

টাকা সঞ্চয়
ওয়াশিংটন পোস্ট অনুসারে, শতকরা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ভাগ মানুষ বছরের শুরুতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই তিন মাসের বেশি তা টিকিয়ে রাখতে পারে না। শতকরা প্রায় ১৯ ভাগ মানুষ সারা বছর তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করে থাকে। মানসিকতা ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞ এবং ‘মোটিসিজ’ নামক ওয়েলনেস প্রোগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া সাত্রা বলেন, ‘জমানোর জন্য একটি মাসিক নির্ধারিত টাকা আলাদা করে রাখা দরকার। যদি মনে হয় নিজের কাছে রাখা সম্ভব নয় তাহলে ডিপোজিট করতে পারেন।’

হাসিখুশি থাকা
পাওয়ার অব পজিটিভিটি অনুসারে, হাসিখুশি থাকার চ্যালেঞ্জের জন্য একটি খালি নিন। যখনই আপনার সঙ্গে ভালো কিছু ঘটবে, তা কাগজে লিখে জারে ভরে রাখুন। এরপর সপ্তাহ বা মাস শেষে জার খালি করে ঘটনাগুলো পড়ে দেখুন। এতে মন ভালো হয়ে যাবে।

ওজন কমানো
মাইন্ড এবং ফিটনেস বিশেষজ্ঞ সোনিয়া বিশ্বাস করেন, নতুন বছরে ওজন কমানোর চ্যালেঞ্জটি পূর্ণ করা সম্ভব। তিনি উপদেশ দেন, ঘরে দুইটি বোর্ড রাখার জন্য। একটিতে আপনি যেমন শারীরিক গঠন চান সেরকম ছবি বা আপনার পছন্দের পোশাক যেটি ওজন বৃদ্ধির কারণে পরতে পারছেন না এবং অপর বোর্ডে আপনার বর্তমান ছবি যাতে আপনি খুশি নন এবং আপনার সঙ্গে তুলনা করা যায় এমন ফ্যাটি মানুষের ছবি লাগান। বোর্ড দুইটি এমন জায়গায় রাখবেন যাতে আপনি সব সময়, প্রতিদিন দেখতে পান। এই বোর্ড দুইটি আপনাকে মনে করিয়ে দেবে, আপনাকে আসলে কি করতে হবে।

ব্যায়াম করা
নিউট্রিশন এবং শারীরিক শক্তি বিষয়ক কোচ অ্যাডাম বলেন, ‘প্রতিদিন ব্যায়াম করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। আপনি প্রথম দিন মাত্র ৫ মিনিট ব্যায়াম করতে পারেন। পরের দিন আরো পাঁচ মিনিট যোগ করুন অর্থাৎ ১০ মিনিট ব্যায়াম করুন। এভাবে ৫ মিনিট করে বাড়াতে থাকুন আপনার ব্যায়ামের সময়। মাস শেষে দেখবেন আপনি অনায়াসে ২০ মিনিট ব্যায়াম করতে পারছেন। নিজেকে এই নিয়মে অভ্যস্ত করে তুলুন।’

অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলা
ঘর থেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলার ধারণাটি আসে রোনাল্ড এবং গ্যালিনার কাছ থেকে। যারা ‘ইট ওয়েল, মুভ ওয়েল, লিভ ওয়েল : ৫২ ওয়েস টু ফিল বেটার ইন অ্যা উইক’ এর সহ-লেখক। তাদের মতে, প্রতি মাসে ঘরের একটি অংশ বা রুমের দিকে মনোনিবেশ করা দরকার। মাসের প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিন ঠিক করে ঘর পরিষ্কার ও অপ্রয়োজনীয় জিনিস ফেলে দেওয়া উচিত। আসবাবপত্রগুলোর জায়গা পরিবর্তন করে দেওয়া উচিত। এটি অনেকাংশে আমাদের মেজাজের ওপর প্রভাব ফেলে। এই ধরনের কাজের মাধ্যমে সব কিছুতে নতুন উদ্যম তৈরি হয়।

স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ
নতুন বছর জুড়ে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করার চ্যালেঞ্জটি রক্ষা করা আবশ্যক। অ্যাডামের মতে, আপনি কি কি খাচ্ছেন তা লিখে রাখতে পারেন। তাহলে পরবর্তীতে বুঝতে পারবেন যে, কোন খাবারটি তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে এবং কোনটি খেতে হবে। অবশ্যই অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা
হোম ইকোনোমিস্ট ব্রেট গ্রাফ মনে করেন, কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা এমন একটি ব্যাপার যেটিকে এই নতুন বছরে আমাদের সবাইকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া উচিত। সব কিছুর জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা উচিত। যেমন প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা উচিত। সেই একই ভাবে যা কিছু ভালো ঘটে এবং যার মাধ্যমে ঘটে তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকা এবং তা প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ।

সদয় হওয়া
ব্রেট মনে করেন, নতুন বছরে নিজের এবং অন্যের প্রতি সদয় হওয়া উচিত। নিজের ভুলক্রটিতে গভীর শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করুন। এভাবে এক সপ্তাহ নিজেকে প্রস্তুত করে পরবর্তীতে অন্যের প্রতিও সদয় থাকার চেষ্টা করুন। আপনার ব্যস্ত প্রতিবেশীর সঙ্গে ডিনার করতে পারেন কিংবা ঘরে ফেরা ক্লান্ত সঙ্গীকে স্বেচ্ছায় কফি বানিয়ে দিতে পারেন। আপনি যদি কারো প্রতি সদয় ভাব পোষণ করেন তাহলে সেও আপনার প্রতি সদয় হবে। অর্থাৎ কারো জন্য স্বেচ্ছায় কিছু করা যাতে সে খুশি হয়। তবে মনে রাখবেন আপনি এমন কিছু করলেন যার বিনিময় আশা করেন, তাহলে সেটা সদয় হওয়ার লক্ষণ নয়।


এলএবাংলাটাইমস/এলআ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

অতি সাধারণ এই ছবিটি বলে দেবে আপনার ব্যক্তিত্বের গোপন কথা

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২২ ১২:৪০:৩১

পৃথিবীটাকে আমরা একেক জন একেক দৃষ্টিতে দেখি। আপনি পৃথিবীকে যেভাবে দেখছেন, তা কিন্তু আপনার ব্যক্তিত্বের কিছু মূল বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে। গ্রাফিক্স ডিজাইনার ইগর মরস্কির এই ছবিটি হলো এমন একটি পরীক্ষা। আপনার মনোযোগ সবার আগে যেদিকে যাবে, সেটাই বলে দেবে আপনার ব্যক্তিত্ব কেমন।

এই পরীক্ষাটি খুবই সহজ। ছবিটির মূল ৩টি বৈশিষ্ট্য আছে এবং এর মাধ্যমে ৩ ধরণের ব্যক্তিত্বের মানুষ শনাক্ত করা সম্ভব হয়।  ছবিটি দেখার সময়ে বেশী চিন্তা করবেন না। আপনার চোখে প্রথম কী পড়ে, সেটাই ভাবুন।

১) একটি মুখাবয়ব
এই ছবিতে থাকা মুখটর মতোই, আপনি নিজেকে একটা পাজলের মত ভাবতে ভালোবাসেন। নিজের সত্ত্বাকে খুঁজে আপনি সময় ব্যয় করতে রাজি নন। বরং নিজের পছন্দমত নিজেকে এবং নিজের জীবনকে গড়ে নিতেই আপনি আগ্রহী। এছাড়া আপনি পৃথিবীর সামনে নিজেকে তুলে ধরতেও পছন্দ করেন। আপনি যে কাজই করেন না কেন, তাতে সফল এবং শীর্ষে থাকার চেষ্টা করেন। এসব কাজের মাধ্যমে নিজের একটি উজ্জ্বল ইমেজ তৈরির চেষ্টা করেন অন্যের চোখে। 

আপনি নিজেকে নিখুঁত করার চেষ্টা করেন, এটার কিছু খারাপ দিক আছে। কারণ কেউই আসলে নিখুঁত হতে পারেন না। বাইরে সফল এবং সুখী হলেও আসলেই কি আপনি যা চান, তা পেয়েছেন জীবন থেকে? নাকি অন্যের থেকে বাহবা পাবার আশাতেই জীবন পার করে দিচ্ছেন?

২) মস্তিষ্ক বা গাছ
এই ছবিতে থাকা গাছটির মতোই আপনি সবসময় নিজের জ্ঞানের বৃদ্ধি করতে চান। আপনি কৌতূহলী। আপনি সবকিছু বোঝার চেষ্টা করেন। আপনি যাই করেন না কেন, তার পেছনে থাকে জ্ঞান অর্জনের প্রয়াস। নতুন কিছু শিখতে আপনি ভালোবাসেন। সম্ভবত আপনি পরাবাস্তব, আলৌকিক এবং অশরীরী রহস্যের বিষয়ে আগ্রহী হতে পারেন।

অন্যেরা আপনার ব্যাপারে বলে, আপনি অনেক বিষয়েই জ্ঞান রাখেন।

মনস্তত্ত্ব এবং এ ধরণের বিষয়গুলো আপনি ভালো বোঝেন। কয়েকশ বছর আগে জন্ম নিলে আপনি নিঃসন্দেহে একজন দার্শনিক হিসেবে পরিচিতি পেতেন। আপনি শুধু জানতে হবে বলেই জানেন, এমন নয়। আপনি জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে পৃথিবী এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ব্যাপারে বুঝতে চান।

অন্যরা আপনার ব্যাপারে কী ভাবে, আপনাকে কী চোখে দেখে এটা আপনার কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। আপনি কে, আপনি কেন পৃথিবীতে এসেছেন, এটাই আপনার কাছে বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

এতে কোন সমসয়া দেখা যায় না বটে। কিন্তু এসব প্রশ্নের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলা চলবেন না। এই সব প্রশ্নের উত্তর জানার মাঝে জীবনের অর্থ নিহিত নয়।

৩) পাখি এবং প্রকৃতি
ছবির এই পাখির মতই আপনি মুক্ত থাকতে চান। সামাজিক শত বিধিনিষেধ, ছলচাতুরির খেলার মাঝে আপনি থাকতে চান না। আপনি নিজেকে তৈরি করতে চান না, নিজেকে খুঁজেও ফেরেন না। আপনি মুক্ত থাকতে চান, পৃথিবী যেমন আছে সেভাবেই উপভোগ করতে চান।

আপনি এখন যেখানে আছেন, সেখানে কেমন হাঁসফাঁস লাগছে জীবনটা। আপনি বের হয়ে পরতে চান, দেখতে চান পৃথিবীর আনাচকানাচ। একই জায়গায় বেশিদিন থাকাটা মোটেই স্বস্তি দেয় না আপনাকে।

আপনি সবকিছুকে একটা হালকাভাবে নিতেই পছন্দ করেন। বন্ধুবান্ধবের সাথে মিলে মজা করে সময় কাটাতে ভালোবাসেন। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতেও চান সব সময়। পৃথিবীতে কত নতুন নতুন জায়গা দেখার আছে, তা ভাবলেই খুশিতে মনটা ভরে ওঠে আপনার, তাই না?

যে কোন রকম জ্ঞানের চাইতে অভিজ্ঞতা অর্জন করাটাই আপনার প্রিয়। আপনি অনেক কিছুই শেখেন, কিন্তু বেশিদিন তাতে মনোযোগ দিতে পছন্দ করেন না। সবসময় সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন আপনি। পেছনের দিকে তাকানো মানেই সময় নষ্ট মনে হয় আপনার কাছে।

অন্যরা আপনার ব্যাপারে কী ভাবছে, পৃথিবী এমন কেন বা পৃথিবীতে আপনি কেন এসেছেন, এসব নিজে মোটেই চিন্তিত নন আপনি। আপনার মনে হয়, পৃথিবীতে আপনি আছেনই বিভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য। সব সময় তারই জন্য উন্মুখ আপনি।

তবে এই স্রোতে একেবারে গা ভাসিয়ে চলাটাও খুব উপকারী নয় আপনার জন্য। আপনার সাথে অন্যদের সম্পর্ককে মূল্য দিতে শিখুন। পৃথিবীতে কোন কিছুই হয়ত চিরস্থায়ী নয়। কিন্তু ভালোবাসার মানুষগুলোর যত্ন নিলেই কেবল অস্থায়ী এ পৃথিবীতে ভালো একটি জীবন কাটাতে পারবেন আপনি।


এলএবাংলাটাইমস/এলআ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

আপনার অসুস্থতার কারণ ডিপ্রেশন না তো?

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-১৮ ০০:৫৭:১৩

ডিপ্রেশন হলো ইমোশনাল ইলনেস এবং এ রোগে ব্যক্তির মন-মেজাজ বা মুডের অবনতি ঘটে দারুণভাবে। মানসিক রোগের মধ্যে সর্বাধিক কমন রোগ ডিপ্রেশন। এটি এমন এক রোগ যার সাথে জড়িয়ে থাকতে পারে উদ্বিগ্নতা এবং বাধ্যতাধর্মী গোলযোগ। তবে উদ্বিগ্নতা এবং বাধ্যতাধর্মী গোলযোগ আলাদাভাবেও রোগের মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে। যারা উদ্বিগ্নতায় সচরাচরভাবে ভুগতে থাকে তাদের মধ্যেও ডিপ্রেশন অনেক সময় দেখা দেয়। ডিপ্রেশন দেখা দিতে পারে বিভিন্ন মাত্রায়, গভীরতায় ও পরিসরে। এ রোগটি প্রায়ই দীর্ঘমেয়াদি হয়ে থাকে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি জীবন দুর্বিষহ ও অর্থহীন করে ফেলে। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ভেঙে পড়েন, অসল হয়ে যান, হয়ে যান অকর্মঠ, নিস্তেজ, শক্তিহীন, এনার্জিহীন।

* আমেরিকায় প্রতি ২০ জনে ১ জন মারাত্মক ধরনের ডিপ্রেশনে আক্রান্ত।
* প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন তাদের জীবনে কখনো না কখনো ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হন।
* ডিপ্রেশন বিভিন্ন ফর্মে আবির্ভূত হয়ে থাকে। যেমন- অনিদ্রা ব্যক্তির মধ্যে দিনের পর দিন সঙ্ঘটিত হতে থাকে। কারো কারো ডিপ্রেশনের অন্যান্য লক্ষণ বা উপসর্গ নাও থাকতে পারে। ঘুমের সমস্যার মধ্যে দিয়ে তার মধ্যে ডিপ্রেশনের প্রকাশ ঘটতে পারে। আবার কোনো ব্যক্তি হয়তো ক্লান্তিতে ভুগে থাকতে পারেন। কেউবা হয়তো উদ্বিগ্নতায় চরমভাবে ভুগতে পারেন; কিন্তু তিনি হয়তো বুঝতেও পারেন না যে তার ভোগান্তির পেছনে কাজ করছে মারাত্মক রকমের ডিপ্রেশন নামক মানসিক ব্যাধি। অনেকে অহরহভাবে স্ট্রেসে ভুগে থাকেন। এই স্ট্রেস ব্যক্তির জীবনকে করে তোলে সমস্যাপূর্ণ, কঠিন।

স্ট্রেসে আক্রান্ত ব্যক্তি হয়তো কল্পনাও করতে পারেন না যে, তার স্ট্রেস বা মনোদৈহিক চাপকে পরিচালনা করছে ডিপ্রেশন। অনেক নারী-পুরুষেরই ভোঁতা প্রকৃতির শারীরিক ব্যথা-বেদনার সমস্যা থাকতে পারে- যার অনেক সময় শারীরিক কোনো কারণ হয়তো খুঁজে পাওয়া যায় না। আসলে এ ধরনের ব্যথা- বেদনা অনেক সময় ডিপ্রেশনজনিত কারণে প্রকাশ পেতে থাকে। ডাক্তারের কাছে ব্যক্তি এমন নানা ধরনের রোগের উপসর্গ বা কষ্টের কথা বলতে পারেন যা অনেক সময় মূল রোগ ডিপ্রেশনকে ঢেকে রাখে। আর এই ঢাকা ব্যাপারটাকে খোলার দায়িত্ব ডাক্তারের। ডাক্তাররা সে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

• শিশুদের মধ্যে শতকরা ২ ভাগ এবং তরুণ-তরুণীদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৫ ভাগ ডিপ্রেশনে ভুগে থাকে।
• ৬৫ বছরের অধিক বয়সের ব্যক্তিরা বলা যায় এ বয়সের বৃদ্ধ ও বৃদ্ধারা জনসাধারণের অন্যদের চেয়ে ৪ গুণ বেশি ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হয় বা ভুগে থাকেন।
• মৃদু বা মাঝারি মাত্রার চেয়েও লক্ষণীয়ভাবে ডিপ্রেশন গভীররূপ নিতে পারে এবং একটি মানুষের মানসিক ও শারীরিক উৎকর্ষতার মাত্রা ও কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিতে পিছপা হয় না।
• ডিপ্রেশন এমন এক মেন্টাল ডিসঅর্ডার যার অশুভ থাবায় মানুষের জীবন হয়ে পড়তে পারে ক্ষত-বিক্ষত।
• বাংলাদশের মতো দরিদ্র দেশেও এ রোগ অবিশ্বাস্যভাবে বেড়েই চলছে, যা কিনা গোটা জনসমাজকে ভাবিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট।

আমাদের দেশ কুশিক্ষা ও কুংস্কারে ভরপুর। এ দেশে মানসিক রোগ যেন অবহেলার বস্তু। এ দেশে মানসিক রোগী মানে তথাকথিত ‘পাগল’। মানসিক রোগকে এ দেশের মানুষ যেন শিকারই করতে চায় না। মনোব্যাধি হলে লোকে মনে করেন জ্বিনে ধরেছে, নয়তো পরী ধরেছে অথবা কোনো খারাপ আত্মা বা ভূত-প্রেত আসর করেছে। এ ধরনের অবৈজ্ঞানিক ও অযৌক্তিক ভাবনা ও চিন্তাধারা রোগীকে করে তোলে অসহায় আর রোগীর অসহায়ত্বকে আরো মানসিকভাবে করে তোলে বিপর্যস্ত। তবে এখন দিন কিছুটা হলেও পাল্টাতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও মানসিক রোগের কথা জানতে পারছে এবং কিছুটা হলেও সচেতন হচ্ছে। আমাদের দেশে দরিদ্র হলেও অন্যান্য রোগ-ব্যাধির চিকিৎসার মতো মানসিক রোগের চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে এবং ডিপ্রেশনেরও চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে।

বর্তমানে পুরুষদের চেয়ে দ্বিগুণ মহিলারা ডিপ্রেশনের চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে এর সঠিক কারণ জানা যাচ্ছে না।

এলএবাংলাটাইমস/এলআ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

উচ্চারণ করে পড়তে শেখান সন্তানকে

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-১৩ ১৪:১২:৫০

আপনার সন্তান কি পড়া মনে রাখতে পারে না? আপনিও কি ছোটবেলা এই সমস্যায় ভুগতেন? অথচ ছোটবেলায় দাদী-নানীর মুখে শোনা গল্পগুলো কেমন সব মনে আছেন বলুন তো? কেন এমনটা হয়? আচ্ছা, আপনার সন্তানও কি আপনার মতোই মনে মনে পড়তে অভ্যস্ত? তা হলে ওকে জোরে পড়তে বলুন। সদ্য প্রকাশিত এক গবেষণার রিপোর্ট অনুযায়ী বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, মনে মনে পড়ার থেকে জোরে উচ্চারণ করে পড়লে মনে থাকে বেশি।

গবেষণার জন্য ৭৫ জন পড়ুয়াকে বেছে নেন গবেষকরা। তাদের ১৬০টি শব্দ জোরে উচ্চারণ করে পড়তে বলা হয় এবং তা রেকর্ড করা হয়। এরপর মনে মনে পড়তে বলা হয়।

পড়ার পর পড়ুয়াদের কিছু শব্দ জিজ্ঞেস করে দেখা হয় তারা কতটা মনে রাখতে পেরেছে। দেখা যায়, ৭৭ শতাংশ ক্ষেত্রেই পড়ুয়ারা সেই শব্দগুলোই মনে রাখতে পেরেছে যেগুলো তারা উচ্চারণ করে পড়েছে।

গবেষকদের দাবি, জোরে পড়লে এবং নিজের কানে তা শুনলে আমাদের মস্তিষ্ক সহজে সেই বিষয় মনে রাখতে পারে। তাই পরীক্ষার সময় মনে মনে হয়, উচ্চারণ করে পড়ারই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।


এলএবাংলাটাইমস/এলআ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

অবিবাহিতদের তুলনায় বিবাহিতরা বেশি সুস্থ থাকে

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-১১ ০৯:৪২:০৭

সংসারের বেড়ি পায়ে পড়লে নাকি জীবন যায় আটকে! তবে উল্টো ব্যাপারও আছে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ আর জরিপে দেখা গেছে বিবাহিত জীবনে যারা সুখী তাদের রোগশোকে ভোগার পরিমাণ কম। মানসিক প্রশান্তি বেশি আর বাঁচেও বেশিদিন। সম্পর্কবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই ধরনের গবেষণার ভিত্তিতে করা প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে জানা যায়, সুখী বিবাহিত জীবন মানে সুস্বাস্থ্য।

মানসিক চাপ কম:
সাইকোনিউরোএন্ডোক্রিনোলজিতে প্রকাশিত কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা থেকে জানা যায়, অবিবাহিতদের তুলনায় বিবাহিতদের মধ্যে 'স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোল'য়ের মাত্রা কম। কর্টিসোলের মাত্রা বেশি থাকলে তা জীবনধারণের নানা রকমের রোগের সৃষ্টি করে। বিবাহিত ব্যক্তিদের মধ্যে ধীরে ধীরে কর্টিসোলের মাত্রা কমে যায়।

ক্যান্সার থেকে নিরাময়:
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া’র এক গবেষণায় দেখা যায়, অবিবাহিতদের তুলনায় ক্যান্সার আক্রান্ত বিবাহিত মানুষ অনেক বেশি বাঁচে। এটা স্বাস্থ্যবীমা, আর্থিক স্বচ্ছলতা এবং সামাজিক সহযোগিতার কারণেও হতে পারে।

হৃদরোগ থেকে রক্ষা:
ফিনল্যান্ডের টার্কু ইউনিভার্সিটি’র গবেষকদের পরিচালিত পর্যবেক্ষণ থেকে জানা যায়, বিবাহিত নারীদের মধ্যে ‘হার্ট অ্যাটাক’ হওয়ার ঝুঁকি ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত কম থাকে। বিবাহের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবন মানসিক অবসাদ কমাতে সাহায্য করে।
তবে উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল হৃদরোগ এবং অন্যান্য রোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

মানসিক অসুস্থতা কম হয়:
১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক মনোবিজ্ঞানী লি রবিন্স এবং ডারেল রিজিয়ার এক গবেষণায় জানান, বিবাহিতদের নানা ধরনের মানসিক রোগ যেমন- দুশিন্তার প্রবণতা, হতাশা ইত্যাদির ঝুঁকি কমে যায়।

দীর্ঘায়ু:
বিয়ে মানুষের আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে, অন্তত ১০ বছর। ডিউক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টার’য়ের আইলিন সিয়েগলারের গবেষণা থেকে জানা যায়, মধ্য বয়সে বা শেষ বয়সের বিয়ে আগাম মৃত্যুর হাত থেকে সুরক্ষা দেয় করে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ইন্সটিটিউট অব এডুকেশন ৯ হাজার ব্যক্তির উপর একটি গবেষণা চালায়। যেখানে দেখা যায়, অবিবাহিতদের তুলনায় বিবাহিত দম্পতিরা বেশি সুস্থ থাকে এবং দীর্ঘদিন বাঁচে।

 
এলএবাংলাটাইমস/এলএস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পোশাক

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-৩০ ১৪:৪০:২৮

আধুনিকতা আর ঐতিহ্যের মিশেলে বাংলাদেশে খাদি কাপড়ের পোশাকের একটি প্রদর্শনী হয়ে গেল ঢাকাতে।

চিরায়ত বাংলার খাদি কাপড়কে অবলুপ্তির হাত থেকে ফিরিয়ে আনতেই এমন প্রদর্শনীর আয়োজন।
এফ ডি সি বির প্রেসিডেন্ট মাহিন খান জানালেন, নতুন আঙ্গিকে খাদিকে জনপ্রিয় করে তোলাই তাদের আয়োজনের উদ্দেশ্য।

নতুন প্রজন্মের কাছে খাদি এখনও খুব বেশি পরিচিত নয়। তবে খাদির রয়েছে নিজস্ব সৌন্দর্য ও বিশেষ স্টাইল।

এ প্রজন্মের ফ্যাশনে খাদি কতটা জনপ্রিয় হতে পারে - তা জানালেন বাংলাদেশি ডিজাইনার শাহরুখ আমিন।

হাতে কাটা সুতা থেকে তাঁতে বুনে প্রস্তুত করা হয় খদ্দর। প্রচলিত বিভিন্ন তাঁতে-বোনা কাপড়ের সাথে এখানেই এর বড় পার্থক্য।

বর্তমান সময়ে মেশিনে তৈরি সুতার কাপড়ের ভিড়ে তাই খাদি এক রকম বিলুপ্তির মুখেই পড়েছিল । বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফ্যাশন ডিজাইনাররা মনে করছেন, পরিবেশবান্ধব এ ধরনের পোশাক কে জনপ্রিয় করার সময় এসেছে।

এই ফ্যাশন শো তে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের মোট ২৬ জন ডিজাইনার অংশ নিয়েছিলেন।

ভুটানের ফ্যাশন ডিজাইনার চিম্মি চদেন বললেন, তিনি মনে করেন খাদির অনেক সম্ভাবনা আছে । খাদির প্রতি ফ্যাশন সচেতন দর্শকদের আগ্রহের মাঝেই মুলত খাদির সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে
দর্শক এবং আয়োজকদের বিশ্বাস একটি পরিবেশ বান্ধব এবং সচেতন ফ্যাশন শিল্প গড়ে তুলতে খাদি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

আর সেটি খাদির ঐতিহ্য নিয়ে যাবে নতুন প্রজন্মের কাছে।

অতীত আর ভবিষ্যতের মেলবন্ধনে একটি পরিবেশ বান্ধব এবং সচেতন ফ্যাশন শিল্প গড়ে তুলতে খাদি অন্যতম ভুমিকা রাখতে পারে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে পোষাকের ক্ষেত্রে খাদির মাধ্যমে নিজেদের শেকড়ের কাছে ফিরে যেতে পারে ডিজাইনার দের তেমনটিই প্রত্যাশা।

এলএবাংলাটাইমস/এলআ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

কোন কাপড় ধোয়ার পর কতদিন পরা উচিত

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-২৬ ১০:৩৭:০১

কাপড় দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্‌্য জিনিস। প্রতিদিন নানা ধরনের কাপড় ব্যবহার করতে হয়। কাপড়ের সঙ্গে স্বাস্থ্যেরও একটা সম্পর্ক আছে। কাপড়চোপড় থেকেও জীবাণু ছড়িয়ে পরে মানবদেহে। তাই আমরা ময়লা হলেই ব্যবহৃত কাপড় ধুয়ে পরি। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না, ধোয়ার আগে কোন কাপড় কতদিন পরা যেতে পারে।

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হল-
তোয়ালে বা গামছা টানা ৫দিন ব্যবহার করার পর ধোয়া উচিত। তবে রোগীর তোয়ালে প্রতিদিনই ধুতে হবে। এছাড়া রুমালও প্রতিদিন ধোয়া উচিত। বালিশের কভার ও বিছানার চাদর চার-পাঁচদিন পর পর ধোয়াই উত্তম।

দৈনন্দিন ব্যবহৃত ট্রাউজার গরমের দিনে একটানা দু’দিনের বেশি পরা উচিত নয়। আর স্কার্ট ৪/৫বার পরা যেতে পারে।

টি-শার্টের ক্ষেত্রে যাদের অতিরিক্ত ঘাম ঝরে এবং প্রচণ্ড গরমে প্রতিবার পরার পর  ধোয়া উচিত। শীতে টানা দুদিন পরা যেতে পারে।

সেবচেয়ে বেশি পরা হয় জিন্স। অনেকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ না ধুয়েই জিন্সের প্যান্ট পরে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জিন্স না ধুয়ে টানা ৫দিনের বেশি পরা উচিত নয়। কেননা এতে ঘামের জীবাণু থেকে শরীরে চুলকানি হতে পারে।

অন্তর্বাস প্রচণ্ড গরম হলে প্রতিদিন ধোয়া উচিত। ঠাণ্ডা হলে তিন-চারদিন পর পর অন্তর্বাস ধোয়া উচিত। পরিষ্কার এবং রোগমুক্ত রাখার জন্য অন্তর্বাস নিয়মিত ধোয়া উচিত।

তিনবার পরার পর টুপি অবশ্যই ধুতে হবে কারণ মাথার ঘাম আর চুলের ধুলা ও খুশকি এতে লেগে থাকে। তাই চুল ও মাথার ত্বক ভালো রাখতে টুপি ধুতে হবে।

নতুন কাপড় চোপড়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই ধুয়ে পরা উচিত। কাপড়ের রংয়ে রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ থাকে। তাই ধোয়ার পর পরাই নিরাপদ।

এলএবাংলাটাইমস/এলএস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

চোখের পানি না ঝরিয়ে পেঁয়াজ কাটার উপায়

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-২০ ০২:৫০:২৬

পেঁয়াজ কাটার অভিজ্ঞতা যাদের আছে তাদের সবারই কান্নার অভিজ্ঞতা আছে! এ কান্না আসলে পেঁয়াজের ঝাঁঝের কারণে চোখে পানি আসা। পেঁয়াজ কাটার সময় চোখ জ্বালা করে, চোখে পানি চলে আসে। তবে এ লেখাটির মাধ্যমে বলা হচ্ছে, কিছু উপায় অবলম্বন করলে চোখের পানি আর ঝরবে না। এজন্য ধন্যবাদ জানাতে পারেন যুক্তরাজ্যের গুড হাউসকিপিং নামক প্রতিষ্ঠানটিকে। তারা এর ৫টি কৌশল জানিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুসারে, পেঁয়াজ কাটার আগে ৩০ মিনিট রেফ্রিজারেটরে কিংবা ১০-১৫ মিনিট ফ্রিজারে রেখে দিন। ফলে ঠাণ্ডা তাপমাত্রায় পেঁয়াজে থাকা গ্যাস অর্থাৎ চোখের জন্য যন্ত্রণাদায়ক ঝাঁঝালো গ্যাস তৈরি প্রতিরোধ হবে। তবে পেঁয়াজ সবসময়ের জন্য রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করবেন না, এতে পেঁয়াজের স্বাদ নষ্ট হয়ে যাবে।

পেঁয়াজ কাটার সময় আমরা আসলে অসংখ্য কোষ কাটি। ফলে কোষের ভেতরে থাকা পদার্থগুলো মুক্ত হয়ে যায়। কোষে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড সালফোক্সাইড মিলে তৈরি করে সালফেনিক অ্যাসিড। কোষের ভেতরে থাকা বিভিন্ন এনজাইম সালফেনিক অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তৈরি করে প্রোপেনিয়াল এস-অক্সাইড নামক সালফারের একটি উদ্বায়ী যৌগ। এই যৌগ বাতাসে ভেসে চলে আসে আমাদের চোখে। পরে তা চোখের জলীয় অংশের সঙ্গে বিক্রিয়ায় তৈরি করে সালফিউরিক অ্যাসিড। আর এই অ্যাসিডের কারণেই আমাদের চোখে জ্বালাপোড়া হয়। তখন চোখের ভেতরে ঢুকে পড়া অ্যাসিড দূর করে দিতেই মূলত চোখ থেকে পানি বের হয়।

পেঁয়াজের এই ঝাঁঝ প্রতিরোধের আরেকটি উপায় হচ্ছে, কাটার আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখা। তবে এতে পেঁয়াজের স্বাদের সঙ্গে কিছুটা আপোষ করতে হবে। গুড হাউজকিপিং-এর পরামর্শ হচ্ছে, ‘পেঁয়াজের খোসা ছাড়িয়ে পানির পাত্রে ভিজিয়ে রাখুন। এতে পেঁয়াজের অ্যাসিড কমে যাওয়ায় কাটার সময় আর চোখের পানি ফেলতে হবে না।’

পেঁয়াজের মূল অর্থাৎ মাথার অংশটিতে সবচেয়ে বেশি ঝাঁঝালো গ্যাস থাকে। এই অংশটি বাদ দিয়ে পেঁয়াজ কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। প্রথমে পেঁয়াজ মাঝ বরাবর কেটে নিন। এরপর উভয় অংশ স্লাইস করে কাটুন, কেবল মূল অর্থাৎ মাথার অংশটি না কেটে ফেলে দিন।

আপনার চোখের ওপর পেঁয়াজের গ্যাসের প্রভাব কমাতে আরেকটি উপায় হচ্ছে, বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে যেমন জানালার পাশে অথবা পাখার নিচে পেঁয়াজ কাটুন। এতে বাতাসে পেঁয়াজের ঝাঁঝালো গ্যাস উড়ে যাওয়ায় চোখের সংস্পর্শে আসবে না।

অন্যতম আরেকটি উপায় হচ্ছে, পেঁয়াজ কাটায় ধারালো ছুরি ব্যবহার করুন। ধারালো ছুরি পেঁয়াজের কোষ কম ভাঙবে। ফলে কম গ্যাস উৎপন্ন হবে। 


এলএবাংলাটাইমস/এলস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

আজ বন্ধুত্বের দিন

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-০৬ ০১:৫৯:৩০

ছোট একটি শব্দ বন্ধু কিন্তু এর গভীরতা অনেক বেশি। একে অন্যের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা, মুখ দেখেই মনের কথা বুঝতে পারাটাই হচ্ছে বন্ধুত্ব। একজন ভালো বন্ধু শুধু বন্ধুই নয়, ভালো অভিভাবকও।  বন্ধু আর বন্ধন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। বন্ধুর জন্য বন্ধু জীবন পর্যন্ত বাজি রাখতে পারে।

বন্ধুত্বের কোনো বয়স নেই। কখন কীভাবে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে যায় তা বলা মুশকিল। ছেলেবেলা থেকে শুরু করে সব বয়সেই কোনো না কোনোভাবে আমরা কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব করছি। ব্যস্ততার কারণে কিংবা অন্য কারণে হয়তো অনেকেই হারিয়ে যায় কিংবা যোগাযোগ করা হয় না। তার মাঝেও কিছু বন্ধু থাকে, যারা কখনো হারিয়ে যায় না। তবে হ্যাঁ, বয়সের ব্যবধানের কারণে ছোটদের প্রতি স্নেহ আর বড়দের প্রতি সম্মান থাকা জরুরি। বন্ধুত্বের মধ্যে যেটি থাকা প্রয়োজন তা হল ‘ভালোবাসা’।

মানুষ যুগ যুগ ধরে এই বন্ধুত্বকে উদ্‌যাপন করছে। যে কথা বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা স্বামী-স্ত্রীকে বলা যায় না, সে কথা অনায়াসে বন্ধুকে বলা যায়। অনেক সময় কষ্টের কথা বন্ধুর কাছে বলে হালকা হওয়া যায়। ভালো পরামর্শ নেওয়া যায় বন্ধুর কাছ থেকে। অবশ্য জীবনে ভালো বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। ভালো বন্ধু পাওয়া যেমন কঠিন, এর চেয়েও বেশি কঠিন এ সম্পর্ককে রক্ষা করা।

রোববার বিশ্ব বন্ধু দিবস। প্রতি বছর আগস্টের প্রথম রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এ দিবস। বন্ধুত্বের জন্য যদিও আলাদা কোনো দিনের প্রয়োজন হয় না, তবুও এই একটি দিন কাছের কিংবা দূরের সব বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দিতে পারেন। তাদের ফেসবুকে কিংবা মুঠোফোনে অথবা কার্ডে শুভেচ্ছা পাঠাতে পারেন।

কিন্তু আগস্টের প্রথম রোববার যে বন্ধু দিবস সেটি এলো কী করে? যতদূর জানা যায়, ১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এ দিবস পালনের প্রথা চালু হয়। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র সরকার এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। সে দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে পরদিন ওই ব্যক্তির এক বন্ধু আত্মহত্যা করেন। সে সময় বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এর পর থেকে বন্ধুত্বের অবদান আর তাদের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস ১৯৩৫ সালে আগস্ট মাসের প্রথম রোববারকে বন্ধু দিবস ঘোষণা করে। সেই থেকে আগস্ট মাসের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

আর এক মতে সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এর প্রচলন শুরু হয়েছিল। ১৯৩০ সালে এই কাজ করেছিলেন বিশ্বখ্যাত উপহারসামগ্রী ও কার্ড বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান হলমার্কের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জয়েস হল। তিনি প্রতিবছর ২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে বন্ধুত্ব দিবস উদ্‌যাপনের বিষয়টি সামনে আনেন। এদিন কার্ড আদান-প্রদানের মাধ্যমে বন্ধু দিবস পালন করার চল শুরু হয়। তবে তার সে প্রচেষ্টা সফল হয়নি। মানুষ বুঝতে পারে, এটা কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নয়, বরং হলমার্কের কার্ড ব্যবসা বাড়ানোর ফন্দি। ফলে বছর দশেক পরে এটি একরকম বন্ধ হয়ে যায়।

অবশ্য সে সময় ইউরোপ-এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে বন্ধু দিবস উদ্‌যাপনের রেওয়াজ। তবে এই দিবস উদ্‌যাপনের ক্ষেত্রে মোড় ঘুরিয়ে দেন প্যারাগুয়ের চিকিৎসক ড. আর্টেমিও ব্রাকো। তিনি ১৯৫৮ সালের ২০ জুলাই বিশ্বব্যাপী বন্ধু দিবস পালনের প্রস্তাব দেন। প্যারাগুয়ের রাজধানী থেকে ২০০ মাইল দূরের পূয়ের্তো পিনাস্কো শহরে বন্ধুদের নিয়ে আয়োজিত সাদামাটা এক ডিনার পার্টিতে বিশেষ এই প্রস্তাব রেখেছিলেন ড. ব্রাকো। এরপর বিশ্বব্যাপী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বন্ধুত্ব, ঐক্য ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে গঠন করা হয় ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেডের।

তবে ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেডের দাবির প্রায় পাঁচ যুগ পর ২০১১ সালের ২৭ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৩০ জুলাইকে বিশ্ব বন্ধু দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। জাতিসংঘের প্রাক্তন মহাসচিব কোফি আনান ৩০ জুলাইকে বন্ধু দিবস ঘোষণা করেন। তবে এখনো বাংলাদেশ-ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আগস্টের প্রথম রোববারই বন্ধু দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

আধুনিক যুগে বন্ধুত্ব ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে দূর দূরান্তরে। প্রযুক্তির কল্যাণে এখন গোটা বিশ্ব বলতে গেলে হাতের মুঠোয়। ফলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা যোগাযোগ করতে পারছি বন্ধুর সঙ্গে। মুঠোফোন, ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামসহ নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে অন্যকে শুভেচ্ছা জানাবে।

এলএবাংলাটাইমস/এলএস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ফ্রিজ ব্যবহারের সাত-সতেরো

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৭-২৮ ১০:৫৭:৩১

ব্যস্ত জীবনে রেফ্রিজারেটর ছাড়া গতি নেই। কিন্তু ফ্রিজে রাখা খাবার আদৌ খাওয়া উচিত কি না, তা নিয়েও রয়েছে নানা দ্বিধাদ্বন্দ্ব। ক্লিনিক্যাল ডায়টেশিয়ান অর্পিতা দেব ঘোষ জানাচ্ছেন, এখনকার ফ্রিজে যেভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তাতে স্বচ্ছন্দে দিন সাতেক খাবার রাখতে পারেন। কিন্তু রোজকার খাবার রাখার সময় আমরা না জেনেই ছোটখাট কিছু ভুল করে থাকি। যা থেকে হতে পারে নানা সমস্যা।

❏ বাজারে রোজ যাওয়া সম্ভব হয় না, তাই অনেকটা মাছ-মাংস একবারে কিনে ডিপ ফ্রিজে চালান করে দেয়া হয়। রান্না করার আগে সেই মাছ বা মাংসের প্যাকেট বের করে সেখান থেকেই রোজেরটা সরিয়ে নিয়ে আবার বাকিটা তুলে রাখা হয়। একটা প্যাকেট বা কন্টেইনারে সব মাছ-মাংস রাখলে এ ক্ষেত্রে একটি সমস্যা হতে পারে।

❏ জমাট বরফ না গলা পর্যন্ত মাছ বা মাংস আলাদা করা যায় না। এভাবে অনেকক্ষণ বাইরে রাখার পরে যে অংশ কাঁচা অবস্থায় আবার তুলে দেয়া হয়, তাতে ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধতে পারে। তাপমাত্রার হেরফেরের জন্য এমনটা হয়। তাই এক বারে বেশ কিছু দিনের জন্য রাখতে হলে আলাদা আলাদা কন্টেইনার বা প্যাকেট করে রাখতে হবে। যাতে নির্দিষ্ট কোনও দিনের জন্য যেটুকু দরকার, সেটাই বাইরে বের করা হয়।

❏ রান্না করা খাবারের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। বার বার খাবার বের করে গরম করে আবার ফ্রিজে যেন ঢোকাতে না হয়। বরং আলাদা পাত্রে খাবার রাখবেন।

❏ অনেকের ধারণা গরম অবস্থায় খাবার ফ্রিজে রাখলে সেটি পচে যায়। তা নয়। খাবার ঠাণ্ডা করে তোলা হয়, যাতে কম্প্রেসারের ওপর চাপ কম পড়ে। বরং অল্প গরম অবস্থাতেই খাবার ফ্রিজে রাখবেন।

❏ বার বার ফ্রিজ খুলবেন আর বন্ধ করবেন না।

❏ তবে শাকসব্জি বা ফলে ফ্রিজে বেশ কিছু দিন রেখে খেলে তার থেকে খানিকটা ভিটামিন-মিনারেল কমে যায়।

❏ মাছ-মাংস ডিপ ফ্রিজে রাখতে হবে। তবে ৩-৪ দিনের বেশি রাখা উচিত নয়।

❏ ফ্রিজের খাবার সব সময় ঢাকা দিয়ে রাখবেন। নইলে বিভিন্ন খাবারের গন্ধ মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে।

❏ কাঁচা সব্জি প্যাকেটে মুড়ে না রাখলে তার থেকে আর্দ্রতা চলে যায়।

❏ অনেকের ধারণা, ঠাণ্ডা জল খেলে মোটা হয়ে যায়। কিন্তু ঠাণ্ডা জলে কোনও ক্যালোরি নেই। তাই মোটা হওয়ার ভয় নেই।

বিস্তারিত খবর

‘দূরত্ব’ সম্পর্ক ভালো রাখে!

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৭-২৮ ১০:৫৫:০১

প্রেমের সম্পর্কে ভালোবাসা, জোরজবরদস্তিও সবকিছুই থাকতে পারে। আপনি আপনার সঙ্গীকে ভালোবাসবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি যতই ভালোবাসুন না কেন, আপনাকে আপনার সঙ্গীর সঙ্গে আপনার ন্যূনতম দূরত্ব বজায় রাখা দরকার।

আর এর কারণ হলো সঙ্গীর সঙ্গে খুব বেশি জড়িয়ে গেলে সেখানে আপনি তার সঙ্গে অনধিকারচর্চা শুরু করে দিতে পারেন। কাজেই আপনাকে অবশ্যই বুঝে নিতে হবে সঙ্গীর সঙ্গে আপনার ন্যূনতম দূরত্ব আছে কি না। আর সেটা বোঝার জন্যই আজকের এই আলোচনা-

> আপনি যখন কাউকে ভালোবাসবেন তখন সেই মানুষটির প্রতি আপনার শুধু ইতিবাচক অনুভূতি থাকবে। কিন্তু খেয়াল রাখবেন ব্যক্তি স্বাতন্ত্রে যেন ফাঁক থাকে। যদি না থাকে তাহলে সেখানে শঙ্কা, রাগ ও নিরাপত্তাহীনতা কাজ করবে।

> ভালোবাসা নিঃস্বার্থ হয়, অন্যদিকে ঘনিষ্ঠতা বেশি থাকলে সঙ্গীকে জোর করে নিজের কাছে ধরে রাখার ইচ্ছে হবে আপনার।

> ভালোবাসা ক্ষমাশীল হয় এবং একে অন্যকে সাহায্য করার প্রবল ইচ্ছে থাকে। কিন্তু আপনি যদি সঙ্গীর অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ হন তাহলে আপনি চাইবেন সঙ্গী যেন সবসময় আপনার দেয়া সীমারেখার এক ইঞ্চিও বাইরে না যায়।

> ভালোবাসা স্বাধীনতা দেয় আর অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা মানে অতিরিক্ত অধিকার খাটানোর চেষ্টা। এমনকি আপনার সঙ্গী যদি বন্ধুদের সঙ্গেও সময় কাটাতে চায় সেখানেও আপনার আপত্তি তৈরি হয়। এর মানে সঙ্গী আপনার কাছে পরাধীন।

> ভালোবাসার কারণে মানুষ তার সঙ্গীর জন্য সবকিছু করতে পারে। আর যেখানে সম্পর্কে ফাঁক থাকে না, সঙ্গী উপস্থিত থাকলেই শুধু আপনার অস্থিরতা কাজ করবে। তবে সবচেয়ে বড় কথা সম্পর্কে একটু ছাড় না থাকলে সে সম্পর্ক দমবন্ধকর মনে হয়।

বিস্তারিত খবর

শাপলার মুখোরোচক দুইটি রেসিপি

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৭-২৮ ১০:৫৩:৩৩

চলছে বর্ষা ঋতু। রীতি অনুযায়ী বর্ষাও হচ্ছে বেশ। আর তাই খালে-বিলে পানি থৈ থৈ। ফরে এ সময় প্রচুর শাপলা ফুল ফুটছে। তবে শাপলা, ফুল হলেও এটার লতা দিয়ে মজার সবজি তৈরি করা যায়। এই মৌসুমে বাজারে কিনতেও পাওয়া যাচ্ছে শাপলা। ইলিশ মাছ আর চিংড়ির সঙ্গে এই সবজির মেল বন্ধনে চমৎকার দুটি ভিন্নপদ তৈরি করা যায়। তাহলে চলুন শাপলা দিয়ে মুখোরোচক দুইটি তরকারি রান্না দেখে নেয়া যাক-

শাপলা-ইলিশ
উপকরণ
ইলিশ মাছ ৬ টুকরা,
শাপলা ১ আঁটি,
পেঁয়াজ ১টি, কুচি করা,
হলুদগুঁড়া প্রয়োজন মতো,
মরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ,
জিরাগুঁড়া ১ চা-চামচ,
কাঁচামরিচ ৫ থেকে ৬টি,
লবণ স্বাদ মতো,
তেল প্রয়োজন মতো।

প্রস্তুত প্রণালী
প্রথমেই শাপলার আঁশ ফেলে আড়াই ইঞ্চি করে কেটে নিন। এরপর একটি পাত্রে বেশি করে পানি নিয়ে চুলায় দিয়ে ফুটান। পানি ফুটে উঠলে হলুদগুঁড়া-সহ শাপলা দিয়ে দুই থেকে তিন মিনিট রেখে চুলা থেকে নামিয়ে নিন। পানি ভালোভাবে ঝরিয়ে ফেলবেন।

এবার প্যানে তেল গরম করে আগেই হলুদ আর লবণ দিয়ে মাখিয়ে রাখা ইলিশের টুকরাগুলো ছেড়ে দিয়ে হালকা করে ভেজে তুলুন। এই তেলেই পেঁয়াজকুচি সোনালি করে ভেজে প্রথমে মরিচগুঁড়া তারপর একে একে হলুদ ও জিরা গুঁড়া এবং লবণ দিয়ে একটু কষিয়ে তাতে শাপলা দিয়ে দিন।

আধা মিনিট কষিয়ে গরম পানি ঢালুন পরিমাণ করে। এরপর ভাজা ইলিশগুলো দিয়ে, উল্টেপালটে কিছুক্ষণ রান্না করে কাঁচামরিচ ফালি করে কেটে ছেড়ে দিন। তিন চার মিনিট অল্প আঁচে রেখে নামিয়ে ফেলুন। এই তরকারির ঝোল কিন্তু পাতলাই রাখবেন।

শাপলা-চিংড়ি
উপকরণ
শাপলা ২ আঁটি,
ছোট চিংড়ি ২ মুঠ,
পাঁচফোঁড়ন আধা চা-চামচ,
পেঁয়াজ ১টি কুচি করা,
কাঁচামরিচ ৫ থেকে ৬টি,
হলুদ আধা চা-চামচ,
লবণ স্বাদ মতো,
তেল ২ টেবিল-চামচ।

প্রস্তুত প্রণালী
প্রথমেই শাপলার আঁশ ফেলে আধা ইঞ্চি করে কেটে ফেলুন। এরপর একটি পাত্রে বেশি করে পানি নিয়ে চুলায় ফুটতে দিন। পানি ফুটে উঠলে হলুদগুঁড়া দিয়ে শাপলা দুতিন মিনিট সিদ্ধ করে চুলা থেকে নামিয়ে পানি ঝরিয়ে ফেলবেন।

এবার প্যানে তেল গরম করে তাতে পাঁচফোঁড়ন দিন। ফুটে উঠলে পেঁয়াজকুচি দিয়ে হালকা ভেজে, আগেই লবণ আর হলুদ দিয়ে মাখিয়ে রাখা চিংড়িগুলো ভেজে ফেলুন।

ভাজা ভাজা হলে, শাপলা আর অল্প হলুদ দিয়ে হালকা হাতে নেড়ে মিশিয়ে নিন। চুলার আঁচ বাড়িয়ে দিন। পানি শুকিয়ে গেলে, লবণ, কাঁচামরিচের ফালি আর ধনেপাতা ছড়িয়ে দিন। কিছুক্ষণ পর নামিয়ে পরিবেশন করুন।

বিস্তারিত খবর

কাঁচা হলুদ ন্যাচারাল কসমেটিকস

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৭-২৮ ১০:৫১:২৩

হলুদ একটি মসলাজাতীয় দ্রব্য। এটি শত শত বছর আগে থেকে রান্নায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে এখন মানুষ বাটা হলুদের পরিবর্তে বাজারে পাওয়া যায় এমন প্যাকেটজাত গুঁড়া হলুদ রান্নার কাজে ব্যবহার করছে। এই মশলার উপকরণটি আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতি, ধারা, অনুষ্ঠানপর্বের সাথে আত্মিকভাবে জড়িত। আমাদের বিবাহিক অনুষ্ঠান ‘গায়ে হলুদ’ শুরু হয় বরকনের গায়ে হলুদ ছোঁয়ানোর মধ্য দিয়ে।

হলুদ বলতে গেলে একটি ন্যাচারাল কসমেটিকস। এটি গায়ের রঙ যেমন উজ্জ্বল করে, তার সাথে বিভিন্ন চর্ম রোগের সমস্যা যেমন অ্যালার্জি, ব্রণ, র‌্যাশ দূর করে। তাছাড়া বয়সগত রোগ আলজেইমার, ডায়বেটিস, আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি রোগ থেকে উপশম পেতে সাহায্য করে। এটি যেহেতু দক্ষিণ এশিয়াতে সর্বাধিক পাওয়া যায় তাই একে ‘ইন্ডিয়ান জাফরান’ বলা হয়। হলুদের গুণ সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক:

❏ ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে: প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে দুধের সাথে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে খেলে, ধীরে ধীরে ত্বকের রঙ ফর্সা হয়। তাছাড়া রক্ত পরিষ্কার করে, ত্বককে ভেতর থেকে সুন্দর করে। তাছাড়া সকালে ঘুম থেকে উঠে কাঁচা হলুদের রস খেলেও সমান উপকারিতা পাওয়া যায়। যারা কাঁচা হলুদ শুধু খেতে পারবেন না, তারা চিনি অথবা গুড় মিশিয়ে নিতে পারেন।

❏ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ফেস প্যাক: হলুদ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অনেক ভালো। আগেই বলেছি লোমকূপের তেল কমাতে হলুদ অনেক ভালো কাজ করে। তাছাড়া চন্দন গুঁড়া এস্ট্রিঞ্জেন্ট এর কাজ করে এবং কমলার রস ত্বকের দাগ দূর করে, ত্বক কে পরিষ্কার রাখে। ৩/৪ চিমটি হলুদের গুঁড়া, ১ চামচ চন্দন গুঁড়া এবং ৪/৫ চামচ কমলার রস মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে মুখে লাগান। তৈলাক্ত ত্বকের যেকোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

❏ শুষ্ক ত্বকের জন্য: যদি আপনার ত্বক শুষ্ক থাকে, ত্বক কে উজ্জ্বল এবং লাবণ্যময়ী করতে চান, তাহলে কাঁচা হলুদ বাটা সামান্য, ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, ২/৩ ফোঁটা লেবুর রস, একটা ডিমের সাদা অংশ, গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে মুখে লাগান। নিজেই লক্ষ্য করবেন ত্বকের পজিটিভ পরিবর্তন। তাছাড়া শরীরে যেসব জায়গা শুষ্ক সেসব জায়গায়ও লাগাতে পারেন।

❏ বলিরেখা দূর করতে: হলুদ ত্বকের বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। ২/৩ চিমটি হলুদ গুঁড়া, চালের গুঁড়া, টমেটো রস, কাঁচা দুধের সাথে মিশিয়ে মুখে মাস্ক হিসেবে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের ফাইন লাইন্স এবং ঝুলে পড়া ত্বক কে স্বাভাবিক করতে, ত্বক কে ফর্সা করতে অত্যন্ত কার্যকরী।

❏ চোখের নীচে কালো দাগ দূর করতে: ২/৩ চিমটি হলুদ গুঁড়ার সাথে মাখন মিশিয়ে চোখের নীচে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলুন। এটি চোখের নীচে বলিরেখা সহ কালো দাগও দূর করবে।

❏ ব্রণ দূর করতে: হলুদের মধ্যে এন্টিসেপ্টিক এবং এন্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান থাকে যেটি ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। এটি শুধু ব্রণই দূর করে না, তার সাথে ব্রণের দাগ এবং লোমকূপ থেকে তেল বের হওয়ার পরিমাণও কমিয়ে দেয়। কাঁচা হলুদ বাটা, চন্দন গুঁড়া, লেবুর রস মিশিয়ে একটি মাস্ক বানিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। তাছাড়া ব্রণের উপর কাঁচা হলুদ বাটা এবং পানি মিশিয়ে দিয়ে ১৫ মিনিটের জন্য রাখুন। ব্রণ তাড়াতাড়ি চলে যাবে।

❏ স্ট্রেচ মার্ক দূর করতে: ত্বকের মোটা হয়ে যাওয়ার ফাটা দাগ, প্রেগ্নেন্সির স্ট্রেচ মার্ক দূর করতে বেসন, কাঁচা হলুদ মিশিয়ে ঐ নির্দিষ্টও জায়গায় লাগালে ধীরে ধীরে দাগ কমতে শুরু করে।

❏ পোড়া ও কাটা জায়গায় হলুদের ব্যবহার: কাঁচা হলুদ একটি এন্টিসেপ্টিক। তাই কাঁটা এবং পোড়া জায়গায় হলুদ বাটার সাথে এলোভেরা মিশিয়ে দিলে অনেক উপকার পাওয়া যায় । তাড়াতাড়ি ব্যথা এবং দাগের উপশম ঘটে।

❏ ত্বকের রোদে পোড়া দাগ দূর করতে: সারাদিন বাইরে থাকে যারা, তাদের ত্বকের পোড়া ভাব এবং পিগ্মেন্টেশন কমাতে হলুদ বাটা, শশার রস, মুলতানি মাটি, লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে মুখে মাস্ক হিসাবে লাগিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। ত্বকের পোড়া ভাব কমে যাবে।

❏ ত্বকের মরা কোষ দূর করতে হলুদ: ২/৩ চিমটি হলুদ, চিনি এবং চালের গুঁড়া মিশিয়ে মুখ স্ক্রাব করলে মুখের সব মরা কোষ দূর হবে। তাছাড়া শুষ্ক এবং কালো ঠোঁট এর জন্য হলুদ গুঁড়া এবং কাঁচা দুধ মিশিয়ে স্ক্রাব করলে অনেক ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। ঠোঁটের মরা কোষ থাকবে না এবং ঠোঁটের কালচে ভাব দূর হবে।

❏ পায়ের গোড়ালির ফাটা দাগ তাড়াতে: গোসলের যাওয়ার আগে কাঁচা হলুদের সাথে, নারিকেল তেল অথবা ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলে পায়ের ফাটা দাগ কমবে, পায়ের ত্বক সুন্দর এবং নরম থাকবে।

❏ চর্মরোগ থেকে মুক্তি: যেকোনো চর্ম রোগের জন্য হলুদ অনেক উপকারী। কাঁচা হলুদের সাথে কাঁচা দুধ মিশিয়ে শরীরে মাখলে একজিমা, অ্যালার্জি, র‌্যাশ, চুলকানি ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

❏ ত্বকের অবাঞ্ছিত লোম তাড়াতে: প্রতিদিন ময়দা এবং কাঁচা হলুদ বাটা মিশিয়ে স্ক্রাব করলে, ত্বকের অবাঞ্ছিত লোম ধীরে ধীরে কমে আসবে।

❏ বয়স ধরে রাখতে: ১ দিন পর পর বেসন, কাঁচা হলুদ বাটা, টক দই মিশিয়ে মুখ সহ সারা শরীরে লাগিয়ে রাখুন শুকানো না পর্যন্ত। শুকিয়ে গেলে ঘড়ির কাটার উলটো দিকে স্ক্রাব করে মাসাজ করুন। এটি ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করার সাথে সাথে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে ।

❏ অবশ্যই মনে রাখতে হবে ত্বকে কখনও সরাসরি হলুদ দেয়া যাবে না। কিছুর সাথে যেমন চন্দন গুঁড়া, চালের গুঁড়া, বেসন ইত্যাদির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। প্রত্যেক মানুষের ত্বক ভিন্ন। তাই আগে মুখে না দিয়ে, হাতে অথবা ঘাড়ে অ্যালার্জি টেস্ট করে নিতে পারেন। এতে বুঝতে পারবেন প্যাকটি আপনাকে সুট করছে কিনা।

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত