যুক্তরাষ্ট্রে আজ সোমবার, ১৯ অগাস্ট, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 01:21am

|   লন্ডন - 08:21pm

|   নিউইয়র্ক - 03:21pm

  সর্বশেষ :

  পদ্মা সেতু নির্মাণের মেয়াদ ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে   ডেঙ্গুতে আরো ৫ জনের মৃত্যু   ৩০ বছরে তলিয়ে যেতে পারে জাকার্তা   গ্রীনল্যান্ড বিক্রির প্রস্তাব হাস্যকর : ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী   গ্রীনল্যান্ড বিক্রির প্রস্তাব হাস্যকর : ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী   ভার্জিনিয়াতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা   গভীর চক্রান্তে হজ্জ, মুসলিম সেজে বোরকা পরে মদিনায় মহিলা সেকশনে পুরুষ ই’হুদী চর   পুড়ে যাওয়া বস্তি যেন দর্শনীয় স্থান!   ডেঙ্গু: চব্বিশ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৭০৬   আসামের এনআরসি ও কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল: নেপথ্যে মোদির মুসলিমবিদ্বেষ   কাশ্মীর ইস্যুতে আরব দেশগুলোর নীরবতার নেপথ্য কারণ কী?   কাবুলে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা, নিহত ৬৩   মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর সোহেল’র ইন্তেকাল   ভারতের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার এখন ফ্যাসিস্ট মোদির হাতে : ইমরান খানের হুঁশিয়ারি   রাঙ্গামাটিতে সন্ত্রাসীদের সাথে গুলি বিনিময়ে এক সেনাসদস্য নিহত

>>  স্বদেশ এর সকল সংবাদ

পদ্মা সেতু নির্মাণের মেয়াদ ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে

পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় আবারও বাড়ছে। এ দফায় ব্যয় বাড়তে পারে ১ হাজার কোটি টাকা। আর মেয়াদ বাড়ানো হবে এক না দুই বছর, তা পর্যালোচনা করছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। মূল সেতুর কাজের গতি ভালো। তবে নদীশাসনের কাজের গতি খুবই মন্থর। তাই ঠিকাদারেরা প্রকল্পের মেয়াদ আরও অন্তত দুই বছর বাড়ানোর পক্ষে। সরকার অবশ্য একবারে এক বছরের বেশি বাড়াতে চায় না।

সেতু বিভাগের হিসাবে, জুন পর্যন্ত পদ্মা সেতুর কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৭১ শতাংশ। এর মধ্যে মূল সেতুর কাজ হয়েছে ৮১ শতাংশ। নদীশাসনের কাজ এগিয়েছে ৫৯ শতাংশ। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এই

বিস্তারিত খবর

ডেঙ্গুতে আরো ৫ জনের মৃত্যু

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৯ ০৬:৩৮:০৫

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, খুলনা ও জামালপুরে আরো পাঁচজনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। রোববার বিকেল ও আজ সোমবার সকালে মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো প্রতিবেদন :

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে একজনের মৃত্যু
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম রাসেল মিয়া (৩৫)।

রোববার বিকেল পৌনে তিনটায় কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি ভর্তি হন এবং সন্ধ্যা ৬টার দিকে মারা যান। নিহত রাসেল কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার মঞ্জু মিয়ার ছেলে।

এর আগে গত শনিবার কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর ইটনা ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ফরহাদ হোসেনের মৃত্যু হয়। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা: এ বি মো: শামসুজ্জামান খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ঈদের পর থেকে কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩৫ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৬২ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৮৯ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছে দুই জন।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক লক্ষী নারায়ণ মজুমদার জানান, গত ২১ জুলাই থেকে রোববার পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩৪ জন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৪৪ জন।

ফরিদপুরে মসজিদের খাদেমের মৃত্যু
ফরিদপুর সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেখ মো: দেলোয়ার হোসেন (৩৫) নামে মসজিদের এক খাদেমের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

দেলোয়ার হোসেন ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলডাঙ্গীচর এলাকার শেখ শফিউদ্দিনের ছেলে। তিনি শহরের পূর্বখাবাসপুর মসজিদের খাদেম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহত দেলোয়ারের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত চার দিন আগে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেলোয়ার ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। গতকাল রোববার তাকে সদর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিলে সন্ধ্যার দিকে তিনি পূর্ব খাবাসপুরস্থ বাসায় যান। সেখানে রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কামদা প্রসাদ সাহা বলেন, দেলোয়ার শেখ গত ১৮ আগস্ট ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতাল থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন।

এদিকে, দেলোয়ার শেখকে দিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছয় রোগীর মৃত্যু হলো। গত ২৪ ঘন্টায় ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৫৭ জন ভর্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ফরিদপুরের এ রোগে ভর্তি রয়েছে ৩৪৬ জন রোগী।

খুলনায় ডেঙ্গুতে পঞ্চম মৃত্যু
খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনায় ডেঙ্গুতে মিজানুর রহমান (৪০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ৭টায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

মিজানুরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুমেক হাসপাতালের আবাসিক ফিজিসিয়ান (আরপি) ডা: শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

এ নিয়ে খুলনায় ডেঙ্গুতে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হলো।

মিজানুর রহমান ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে গত বৃহস্পতিবার খুমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

মৃত মিজানুর পেশায় সবজিবিক্রেতা ছিলেন। তার বাড়ি রূপসা উপজেলার খাঁজাডাঙ্গা গ্রামে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা.এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খুলনায় সোমবার পর্যন্ত ৫৭৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৮৯ জন এবং সোমবার ভর্তি হয়েছে ২০ জন। বাকিরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

জামালপুরে ২ জনের মৃত্যুর দাবি পরিবারের
জামালপুর সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে জামালপুর শহরের হাটচন্দ্র এলাকার হামিদুল ইসলাম রাজু (৩৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং একই হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পর জেলার দেওয়ানগঞ্জের বৃষ্টি আক্তার (২৫) নামে এক গার্মেন্টসকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার ভোরে ও দুপুরে এ মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। ডেঙ্গু রোগে হামিদুল ইসলাম রাজু ও বৃষ্টি আক্তার মারা গেছেন বলে দাবি করেছেন উভয় পরিবারের স্বজনরা। তবে কোনো চিকিৎসক তা নিশ্চিত করেননি।

হামিদুল ইসলাম রাজু জামালপুর শহরের হাটচন্দ্রা উত্তরপাড়া এলাকার ইকবাল হোসেনের ছেলে এবং রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। অন্যদিকে বৃষ্টি আক্তার জেলার দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার চিকাজানী আকন্দপাড়া গ্রামের লাল মিয়ার মেয়ে এবং ঢাকায় একটি গার্মেন্টে কাজ করতেন।

মৃত হামিদুল ইসলাম রাজুর খালাতো ভাই সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, রাজু জ্বরে আক্রান্ত হলে শনিবার তাকে স্থানীয় নকিব উদ্দিন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলে ওই দিনই তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে ওই রাতে রাজুকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো হয়। রোববার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

মৃত গার্মেন্টসকর্মী বৃষ্টি আক্তারের মা ছমিনা বেগম জানিয়েছেন, বৃষ্টি ঢাকায় জ্বরে আক্রান্ত হলে ১০ আগস্ট তাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরদিন দেওয়ানগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বৃষ্টির ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওইদিনই তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসা শেষে গত শনিবার রাতে তাকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। রোববার ভোর ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাক্তার প্রফুল্ল কুমার সাহা বলেন, ‘শহরের চন্দ্রার হামিদুল শনিবার রাতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন কিনা তা জানা নেই। রোগীর অবস্থা খারাপ হলে অনেক সময় জরুরি বিভাগ থেকেই রোগীর স্বজনরা ময়মনসিংহে নেন।’

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার গৌতম রায় বলেন, ‘বৃষ্টি নামে এক নারীর ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত হয়েছিল। স্বজনরা তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি না করিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তার মৃত্যুর পর স্বজনরা সেখানকার ছাড়পত্র দেখাতে পারেননি। হয়তো সেখান থেকে না বলে চলে এসেছেন।’

বিস্তারিত খবর

পুড়ে যাওয়া বস্তি যেন দর্শনীয় স্থান!

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৮ ১৩:১৪:৪১

আগুনে সব ঘর পুড়ে গেছে। ঠাঁই হারিয়ে পাশের বঙ্গবন্ধু বিদ্যানিকেতনে আশ্রয় নিয়েছেন মিরপুরের রূপনগরের চলন্তিকা মোড়ের বস্তির বাসিন্দারা। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কাপড়-খাবারে অর্ধাহারে দিন পার করছেন তারা।

অথচ, এই বিদ্যালয়ের পেছনে বস্তিতেই চলছে অদ্ভুত কাণ্ড। পরিবার, বন্ধু কিংবা স্বজনদের নিয়ে অনেকে দেখতে আসছেন চলন্তিকায় পুড়ে যাওয়া ভগ্নস্তুপ, যেন মানুষের ঢল। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, সংঘবদ্ধ হয়ে সেলফি তুলছেন। আবার অনেক অতি উৎসাহী ব্যক্তি করছেন ফেসবুক লাইভও। যেন এটি দর্শনীয় জায়গা।

রোববার বিকেলে সরেজমিনে ওই বস্তিতে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেল।

সরেজমিনে বস্তিতে দেখা গেছে, পুড়ে যাওয়া বস্তির সব প্রবেশ মুখেই মানুষের জটলা। সবাই ভেতরে প্রবেশ করছেন। প্রায় ঠেলাঠেলি করে ভেরতে ঢুকছেন সবাই। বস্তির পোড়া গন্ধে কারো কারো অস্বস্থিবোধ হলেও ঢুকছেনই। সবার মধ্যে কৌতুহল-আলোচনা, কীভাবে এটি পুড়লো? ভেতরে থাকা এতো মানুষ বেঁচে ফিরলেন কীভাবে? কেউ কী ইচ্ছা করে এত বড় বস্তি পুড়িয়ে দিয়েছে?

ঘুরতে আসাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রূপনগর এলাকার আশপাশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা এখানে ঘুরতে এসেছেন। এদের মধ্যে পরিবারের সব সদস্যদের নিয়ে অনেকে এসেছেন। আগতদের মাঝে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন।

ঘুরতে আসা একজন জানান, তিনি মিরপুর-১২ নম্বর এলাকা থেকে পুড়ে যাওয়া বস্তি দেখতে এসেছেন। সঙ্গে তার বন্ধুরাও এসেছেন।

তিনি বলেন, ‘শুধু মাত্র কৌতুহল ও দেখার ইচ্ছা থেকে এখানে এসেছি। দেখতে চেয়েছি, পুড়ে যাওয়া বস্তির এখন কী অবস্থা। ক্ষতিগ্রস্থরা কোথায় কী করছে, এসব দেখছি।’

পরিবার নিয়ে আরো একজন পল্লবী থেকে এসেছেন। তিনি বলেন, স্ত্রী আর ছেলের দেখার ইচ্ছা ছিল। তাই তাদের নিয়ে আসলাম।

এছাড়া, পুড়ে যাওয়া বস্তির আশপাশের বাসাগুলোতে থেকেও অনেকে দেখতে এসেছেন।

অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধু বিদ্যানিকেতনে গিয়ে দেখা গেছে, ট্রাকে করে একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান আগুনে ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে পোষাক ও রান্না করা খিচুড়ি বিতরণ করছে। বিশৃঙ্খল অবস্থায় যে যেভাবে পারছে, খাবার নিচ্ছে। বড় হাড়ি থেকে পলিথিনের ব্যাগে খিচুড়ি ভরে দেওয়া হচ্ছে। যার হাত সবার সামনে যাচ্ছে, সেই খাবার পাচ্ছে। পোষাক বিতরণেও একই অবস্থা দেখা গেছে।

আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়া শারমিন নামে এক নারী বলেন, ‘সব শ্যাষ হইয়া গেল। এখন মাইনষের পাতে চাওন ছাড়া উপায় নাই। ’

আরেক ভূক্তভোগী নাজমুল হক নামে এক রিকশা চালক জানান, আগুনে বস্তি পুড়ে যাওয়ার পর সিটি করপোরেশনসহ অনেকে সাহায্য করতে এসেছেন। তবে শৃঙ্খলা না থাকায় কেউ বেশি পাচ্ছেন, কেউ কম পাচ্ছেন, আবার কেউ কিছু পাচ্ছেনই না। বিশেষ করে নারীরা পুরুষের মতো সামনে গিয়ে কিছু আনতে পারছেন না।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটের দিকে মিরপুর ৭ নম্বর সেকশনের রূপনগর আবাসিক এলাকার চলন্তিকা মোড় বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রাত পৌনে ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ২৪ টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে প্রায় পুরো বস্তিই আগুনে পুড়ে যায়।

বিস্তারিত খবর

ডেঙ্গু: চব্বিশ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৭০৬

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৮ ১৩:১১:২৬

ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে আবার। আক্রান্ত হয়ে গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৭০৬ জন।

এর আগের দিন শনিবার কিছুটা কমে এসেছিল রোগীর সংখ্যা। সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সাত হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোববার পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৩৮ জনের। তবে সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত ৪০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সারাদেশে ডেঙ্গুতে নতুন করে এক হাজার ৭০৬ জন আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। তাদের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৩৪ এবং বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে ৯৭২ জন ভর্তি হন।

এ নিয়ে চলতি বছর আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩ হাজার ১৮২ জন। তাদের মধ্যে ৪৫ হাজার ৯৭৪ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এখনও সাত হাজার ১৬৮ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে তিন হাজার ৬৬৮ এবং অন্যান্য বিভাগের হাসপাতালে তিন হাজার ৫০০ জন।

ঢাকা বিভাগ: ঢাকা বিভাগের ঢাকা জেলায় ৬৫, গাজীপুরে ৩২, মুন্সীগঞ্জে ৩১, কিশোরগঞ্জে ১৩২, নারায়ণগঞ্জে ৩৯, গোপালগঞ্জে ৩১, মাদারীপুরে ৫৭, মানিকগঞ্জে ১২৮, নরসিংদীতে ৪৭, রাজবাড়ীতে ৩৪, শরীয়তপুরে ৫১, টাঙ্গাইলে ৭৪, ফরিদপুরে ৪১ জনসহ মোট ৭৬২ জন ভর্তি আছেন। এ বিভাগে পাঁচ হাজার ১৮১ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে চার হাজার ৪১৯ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগ: চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম জেলায় ১৮৩, ফেনীতে ৯৫, কুমিল্লায় ১৩০ জন, চাঁদপুরে ৮৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫২, নোয়াখালীতে ৬৫, কপবাজারে ৩১, লক্ষ্মীপুরে ৫৯, খাগড়াছড়িতে ২৫, রাঙামাটিতে ৭, বান্দরবানে ৭ জনসহ মোট ৭৩৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মোট তিন হাজার ৯৮১ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এ বিভাগে। তাদের মধ্যে তিন হাজার ২৪৩ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরেছেন।

খুলনা বিভাগ: খুলনা জেলায় ১৬৫, কুষ্টিয়ায় ৬৫, মাগুরায় ২৫, নড়াইলে ২৮, যশোরে ১৯৭, ঝিনাইদহে ৩১, বাগেরহাটে ১৪, সাতক্ষীরায় ৪৬, চুয়াডাঙ্গায় ৯, মেহেরপুরে ১৩ জনসহ মোট ৫৮৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ বিভাগে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন দুই হাজার ৯৫১ জন। তাদের মধ্যে দুই হাজার ৩৬৭ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরেছেন।

রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহী জেলায় ৫৩, বগুড়ায় ১৩৩, পাবনায় ৬২, সিরাজগঞ্জে ৬৮, নওগাঁয় ১৯, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৫, নাটোরে ১৪, জয়পুরহাটে ৪ জনসহ মোট ৩৮৮ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ বিভাগে দুই হাজার ৩২১ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাদের মধ্যে এক হাজার ৯৩৩ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরেছেন।

রংপুর বিভাগ: রংপুর জেলায় ৯০, লালমনিরহাটে ১১, কুড়িগ্রামে ১৪, গাইবান্ধায় ১৬, নীলফামারীতে ১২, দিনাজপুরে ৫৯, পঞ্চগড়ে ৫, ঠাকুরগাঁওয়ে ২৩ জনসহ মোট ২৩০ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ বিভাগে এক হাজার ৩৫৭ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাদের মধ্যে এক হাজার ১২৭ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরেছেন।

বরিশাল বিভাগ: বরিশাল জেলায় ৩১৬, পটুয়াখালীতে ৪৫, ভোলায় ৩৪, পিরোজপুরে ৬৬, ঝালকাঠিতে ১১, বরগুনায় ২৬ জনসহ মোট ৪৯৮ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ বিভাগে দুই হাজার ৫৬৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে দুই হাজার ৬৯ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরেছেন।

সিলেট বিভাগ: সিলেট জেলায় ৪৫, সুনামগঞ্জ ২, হবিগঞ্জে ৫, মৌলভীবাজারে ১০ জনসহ মোট ৬২ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ বিভাগে ৬০৪ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৫৩৬ জন ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

ময়মনসিংহ বিভাগ: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ১৯০, জামালপুরে ৪০, শেরপুরে ২১, নেত্রকোনায় ৯ জনসহ মোট ২৬০ জন ভর্তি আছেন। এ বিভাগে এক হাজার ৪৫৩ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে এক হাজার ১৯৩ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরেছেন।

বিস্তারিত খবর

রাঙ্গামাটিতে সন্ত্রাসীদের সাথে গুলি বিনিময়ে এক সেনাসদস্য নিহত

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৮ ১২:৫৯:৩৬

রাঙ্গামাটিতে সন্ত্রাসীদের সাথে গুলি বিনিময়ে এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছে। আইএসপিআরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে রাঙ্গামাটি রিজিয়নের রাজস্থলী আর্মি ক্যাম্প থেকে চার কিলোমিটার দক্ষিণে পোয়াইতুখুম নামক এলাকায় আনুমানিক ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি নিয়ামিত টহল দলের উপর সস্ত্রাসীরা অতর্কিতভাবে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে সৈনিক নাসিম (১৯) নামে একজন সেনাসদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। আহত সেনাসদস্যকে তৎক্ষণাৎ হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বর্তমানে উক্ত স্থানে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন আছে।

বিস্তারিত খবর

ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২২৪

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৮ ১২:৫১:২৭

এবারের ঈদুল আজহায় যাতায়াতে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ২০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২২৪ জন নিহত ও ৮৬৬ জন আহত হয়েছে। অপরদিকে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সম্মিলিতভাবে ২৪৪টি দুর্ঘটনায় ২৫৩ জন নিহত ও ৯০৮ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন ২০১৯ প্রকাশকালে এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল প্রতিবছরের মতো এবারও এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়- প্রতিবছর ঈদকেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সংগঠনটি ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌ-পথে দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির বিষয়টি বিগত ২০১৬ সাল থেকে পর্যবেক্ষণ করে আসছে।

মোজাম্মেল হক বলেন, বিগত ঈদের চেয়ে এবার রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভাল, নৌ-পথে বেশকিছু নতুন লঞ্চ যুক্ত হয়েছে। রেলপথেও বেশ কয়েক জোড়া নতুন বগি সংযুক্ত হলেও এবারের ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে নৈরাজ্য, যানজটের ভোগান্তি, রেলপথে সিডিউল বিপর্যয় ও টিকিট কালোবাজারি, ফেরি পারাপারে ভোগান্তিসহ নানা কারণে যাত্রী হয়রানি বেড়েছে।

তিনি বলেন, যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন, পণ্যবাহী যানবাহন বন্ধের নিষেধাজ্ঞা অমান্য, অদক্ষ চালক ও হেলপার দ্বারা যানবাহন চালানো, বিরামহীন ও বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো, মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, নসিমন-করিমন ও মোটরসাইকেল অবাধে চলাচল, সড়ক মহাসড়কে ফুটপাথ না থাকা, ঈদফেরত যাতায়াতে মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকা বা মনিটরিং শিথিলতা, মোটরসাইকেলে দূরপথে ঈদযাত্রা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

মোজাম্মেল হক দুর্ঘটনারোধে বেশকিছু সুপারিশ পেশ করেছেন। এগুলো হলো- চালক প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স ইস্যু পদ্ধতি আধুনিকায়ন, যানবাহনের ফিটনেস দেওয়া পদ্ধতি আধুনিকায়ন, রাস্তায় ফুটপাথ-আন্ডারপাস-ওভারপাস নির্মাণ, জেব্রাক্রসিং অঙ্কন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও গবেষণা, ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থা প্রবর্তন সড়ক নিরাপত্তায় ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা, চালক প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ, ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধ, মহাসড়কে গতি নিরাপদ করা, ধীরগতি ও দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা, যানবাহনে যাত্রার আগে ত্রুটি পরীক্ষা, ঈদের আগের মতো ঈদের পরে মনিটরিং চালু রাখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের উপদেষ্টা বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান, সহ-সভাপতি তাওহিদুল হক লিটন, যাত্রী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক কেফায়েত শাকিল ও কনসাস কনজুমার্স সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহবুব উপস্থিত ছিলেন।

বিস্তারিত খবর

টাকায় মানব মলের ব্যাকটেরিয়া: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৭ ১২:১৫:১৭

একই টাকা একেকজনের হাত ঘুরে আরেকজনের হাতে যাচ্ছে। ময়লা আর্বজনায় পড়ে যাওয়া টাকা আবার ফিরে আসছে হাতে হাতে। কিছু টাকায় এতো বেশি ময়লা থাকে, যা হাতে ধরতেও সংকোচ কাজ করে। এসব টাকায় রয়েছে ‘ই-কোলাই’ ও ‘ফেকাল কলিফর্ম’ জাতীয় ব্যাকটেরিয়া, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অনার্সের শেষ বর্ষের ছাত্রী নিশাত তাসনিমের এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে আসে। গবেষণার শিরোনাম ছিল ‘স্টাডি অন দ্যা ব্যাকটেরিয়াল কন্টামিনেশন অন পেপার মানি অ্যান্ড কয়েনস অব খুলনা সিটি এরিয়া’। ছয় মাস ধরে নগরীর ১৫টি উৎস থেকে টাকা ও কয়েন সংগ্রহ করে তা ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় মাংস, মাছ ও মুরগি বিক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া টাকায় সবচেয়ে বেশি ব্যাকটেরিয়া ও মলের জীবাণু পাওয়া যায়। অন্য ১২টি উৎস থেকে নেওয়া টাকার নোট এবং কয়েনেও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের গবেষণা সুপারভাইজার অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘টাকা ছাড়া প্রাত্যহিক জীবন অচল। অথচ সেই টাকাই আমাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। টাকা ধরে হাত না ধুয়ে খাবার খেয়ে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’ শিগগিরই এ বিষয়ে আরও বড় পরিসরে এক বছর ধরে আরেকটি গবেষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এই গবেষণার ব্যাপারে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এসএম কামাল বলেন, ‘টাকায় বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু থাকে। মাঝেমধ্যে দেখা যায় টাকা মাটিতে, ময়লার মধ্যে কিংবা ড্রেনে পড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সেই টাকা শুকিয়ে আবার তা ব্যবহার করেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় টাকার নোট ও কয়েনে যে ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে, তা মলের মধ্যে থাকে। টাকায় যে ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, তা পেটে গেলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া প্রস্রাবের ইনফেকশনও হতে পারে।’

গবেষণায় দেখা গেছে, মাংসের দোকান থেকে সংগ্রহ করা টাকার নোটে সর্বাধিক ২৬৭০টি ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া, মাছ বিক্রেতার টাকায় ২৬০০, মুরগি বিক্রেতার টাকায় ২৩০০ ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া এবং মাছ ও মুরগি বিক্রেতার টাকায় ২৮০০ এবং মাংসের দোকানের টাকায় ২৬০০ ফেকাল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা টাকায়ও এ দুটি ব্যাকটেরিয়া মিলেছে, তবে সেগুলো ১০০০-এর নিচে রয়েছে।

এছাড়া মাছ বিক্রেতার দোকান থেকে সংগ্রহ করা কয়েনে ২৬০০ ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া, মুরগির দোকানের কয়েনে ২৪৮০, জুস বিক্রেতার কয়েনে ২৬০০, মাংসের দোকানের কয়েনে ২১৩০, পথ খাবারের দোকানের কয়েনে ১৭৯০ ও ফুচকার দোকানের কয়েনে ১২৫০ ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। মুরগির দোকানের কয়েনে ২৯০০, মাছ বিক্রেতার কয়েনে ২৮০০, মাংস বিক্রেতার কয়েনে ২৬৬০, ফল বিক্রেতার কয়েনে ২০৬০, পথ খাবারের দোকানের কয়েনে ১৫৭০, ফুচকা বিক্রেতার কয়েনে ১৪৬০, সাধারণ মানুষের কয়েনে ১২০০, ভিক্ষুকের কয়েনে ১০৮০ ফেকাল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়।

অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা কয়েনেও এ দুটি ব্যাকটেরিয়া মিলেছে, তবে সেগুলো ১০০০ এর নিচে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. পার্থ প্রতীম দেবনাথ জানান, এক হাজারের বেশি পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ঝুঁকিপূর্ণ।

বিস্তারিত খবর

বিএনপি এখন ‘কাঁদায় আটকা’ গরুর গাড়ি: ওবায়দুল কাদের

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৭ ১২:১২:১৬

প্রায় এক যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপিকে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের শিল্পকর্ম কাঁদায় আটকে যাওয়া গরুর গাড়ির সঙ্গে তুলনা করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিএনপিকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের পথ থেকে ফিরে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশের ৬৩টি জেলায় সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ যৌথভাবে এই সমাবেশের আয়োজন করে।

‘সরকার বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করতে চায়’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নিজে নির্বাচিত হয়ে আসন ছেড়ে দিয়েছেন, শূন্য করেছেন। তাহলে বোঝেন আপনি কতটা শূন্য। আপনার অবস্থা কোথায়? আপনারাতো নিজেই নিজেদের শূন্য করছেন।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল বিএনপি। তারা ক্ষমতায় থাকার সময়ে গুম, খুন, বোমা হামলা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল। তৎকালীন বিএনপি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সারাদেশের ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা হয়েছিল। এগুলো ভুলে গেলে চলবে না ফখরুল সাহেব।’

‘অনেক কিছু ভুলে গিয়েছিলাম আমরা। ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্টের কথা ভুলে সেদিন সন্তানহারা মাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সান্ত্বনা জানাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু আপনারা ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। গণভবনে প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, কিন্তু কী ভাষায় কথা বলা হয়েছিল। এসবে জবাব দিতে পারবেন না ফখরুল সাহেব।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভুলের রাজনীতি, নেতিবাচক রাজনীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে আপনারা নিজেদের রাজনীতি নিজেরাই শূন্য করে দিয়েছেন। ফখরুল সাহেব বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন করতে পারেন না। আপনারা কত দেউলিয়া হয়ে গেছেন যে আন্দোলন করতে পারেননি। আপনাদের দেখলে মনে হয় জয়নুল আবেদীনের ছবির কাঁদার মধ্যে আটকে যাওয়া গরুর গাড়ির মতো। এখান থেকে উদ্ধার পেতে হলে আপনাদের জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষকতা, দুর্নীতির রাজনীতি পরিহার করতে হবে।’

‘নেতিবাচক ধ্বংসাত্মক রাজনীতি করতে করতে আপনারা ভুলের চোরাবালিতে এসে নিজেরাই নিজেদের শূন্য করে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগ আপনাদের শূন্য করতে চায়নি। খুনের রাজনীতি, হত্যার রাজনীতি, সন্ত্রাসের রাজনীতি জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি আপনারাই শুরু করেছিলেন।’

‘আজ কোন সাহসে সন্ত্রাসের রাজনীতির কথা বলেন। বাংলাদেশের মানুষ কি ভুলে গেছে, সেই হাওয়া ভবনের লুটপাট, দুর্নীতিতে পাঁচ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা। আজকে বলেন দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষক আপনারা।’

বিএনপি-জামায়ত চক্রের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে কাদের বলেন, ‘এখনো ওদের ষড়যন্ত্র চলছে। এখনো বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ আসছে। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের অস্তিত্বের জন্য শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই তাহলে কোনো চক্রান্তই আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমরা যেকোনো অবস্থা মোকাবেলা করতে পারবো।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, কেন্দ্রীয় নেতা কামরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বিস্তারিত খবর

‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প দেশের দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৭ ১২:১১:২০

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প দেশের দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ। আর এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যারা দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করছেন তারা হলেন দ্বিতীয় প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা।’ 

শনিবার সকালে ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে অনুষ্ঠিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে
এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় প্রকল্পে কর্মরতদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শোক দিবসের আলোচনার এটাই প্রকৃত স্থান। রূপপুরের এই মহাকর্মযজ্ঞকে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ ভেবে কাজ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই আছেন, যারা একাত্তর দেখেননি এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের মধ্যে ছিল রূপপুর প্রকল্প। প্রকল্পের কাজ নতুন প্রজন্মকে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। কারণ এখানে স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হচ্ছে।’

প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো মহাপ্রাণের জন্ম না হলে এ দেশের জন্ম হতো না। মানব দরদী মহান নেতা বঙ্গবন্ধু ছিলেন রাজনীতির কবি। রাজনীতির এই কবিকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেছেন আরেকজন মহাপ্রাণ-তারই স্ত্রী বঙ্গমাতা বেগম ফজিতুলন্নেছা মুজিব। যিনি নিরবে, নিভৃতে পেছনে থেকে বঙ্গবন্ধুকে অনুপ্রেরণা ও সাহস যুগিয়েছেন। তাই বঙ্গবন্ধুর সাথে সাথে বঙ্গমাতাকেও প্রতিদিন স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত বলেন, রূপপুর প্রকল্প বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা সংগ্রামের স্লোগানে নিহিত ছিল। রূপপুরের এই প্রকল্প নিউক্লিয়ার টেকনোলজি উন্নয়নের মাধ্যমে বিজ্ঞান ভিত্তিক রাষ্ট্রে প্রবেশের পাসপোর্ট। আর এই পাসপোর্ট নিয়েই বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে প্রবেশ করছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও প্রকল্পের কনসালটেন্স ড. এম শফিউল্লাহ, রাশিয়ান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের পরিচালক ইটুপিলভ, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যললয়ের অধ্যাপক সৈযদ আব্দুল মফিজ।

প্রকল্পের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা অলোক চক্রবর্তির সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সাইট ডিরেক্টর প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম ও প্রকৌশলী হাসান বশির।

বিস্তারিত খবর

আল্লাহ আপনাদের সহ্য করার শক্তি দিন: মিরপুরে পোড়া বস্তিতে গিয়ে ড. কামাল

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৭ ১২:১০:২৮

মিরপুরে আগুনে পোড়া বস্তি দেখতে গিয়ে সেখানকার অধিবাসীদের সান্ত্বনা দিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বস্তিবাসীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি অত্যন্ত মর্মাহত, মহান আল্লাহ আপনাদের সহ্য করার তৌফিক দিন। একটার পর একটা অগ্নিকাণ্ড আমাকে আর কতবার দেখতে হবে! মানুষ কবে পাবে নিরাপদে জীবন-যাপনের অধিকার?’

শনিবার দুপুরে কামাল হোসেন তার দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে মিরপুর-৭ এর ঝিলপাড়ে পুড়ে যাওয়া বস্তি পরিদর্শনে যান। সেখানে তারা পরিস্থিতি দেখেন এবং বস্তিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন অবিলম্বে সরকারসহ সকল সামাজিক সংগঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, লাখ লাখ মানুষ খোলা আকাশের নিচে অর্ধাহারে, অনাহারে, বস্ত্রহীন, আশ্রয়হীন অশ্রুসিক্ত নয়নে, ডেঙ্গু আক্রান্ত শহরে দিন পার করছে।

ঘটনাস্থলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সভাপতি পরিষদ সদস্য মোকাব্বির খান এমপি, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

বিস্তারিত খবর

গত বছর গরু ছিনতাই করেছিলেন ছাত্রলীগ নেতা তান্না, এবার ছাগল ছিনতাই

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৭ ১১:৫৯:১০

গত বছরের কোরবানির আগে গরু ছিনতাই করেছিলেন ছাত্রলীগ নেতা তান্না। এবারো অভিযোগ উঠেছে ছাগল ছিনতাইয়ের। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, পরের সম্পত্তি দখল, মাদক কারবারসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যার সাথে মোহাম্মদপুর ছাত্রলীগ সভাপতি মুজাহিদ আজমী তান্নার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নেই। স্থানীয় সূত্র জানায়, তান্নার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকার পরও স্থানীয় এক নেতার মধ্যস্থতায় তাকে ছাত্রলীগের সভাপতি করা হয়। বিনিময়ে ওই মধ্যস্থতাকারী ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তান্নার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের কারণে ওই কমিটির সহ-সভাপতি তিন নেতা পদত্যাগ করেছিলেন বলেও জানা যায়।
মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগ সভাপতি মুজাহিদ আজমী তান্না, ইয়াসির আরাফাত, জাহিদুল ইসলাম, মো: রায়হানসহ অজ্ঞাত আরো সাত-আট জনের বিরুদ্ধে এবার ছাগল ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হওয়ায় তাদের ছিনতাইকর্ম ব্যর্থ হয়।

ছাগল ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য গত ১১ আগস্ট একদল ব্যবসায়ী যশোরের বারোবাজার পশুর হাট ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে ২১২টি ছোট বড় ছাগল ট্রাকযোগে ঢাকায় নিয়ে আসেন। ছাগলসহ ট্রাকটি ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের জহুরি মহল্লা এলাকায় এলে তাদের আটক করে চাঁদা দাবি করেন স্থানীয় ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী। একপর্যায়ে ছাগলগুলোকে ট্রাক থেকে নামিয়ে একটি ক্লাবঘরে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম ও তার চার সহযোগীকে আটকে রাখেন অভিযুক্তরা। এ সময় র্যাব-২ এর একটি টহল দল ওই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছিল। তারা স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ব্যবসায়ীদের উদ্ধার করেন।
 
স্থানীয় সূত্র জানায়, এবার ছাগল ছিনতাই করতে গিয়ে তান্নার সহযোগীরা হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছেন। গত বছর এই গ্রুপের সদস্যরা গরু ছিনিয়ে নিয়ে গেছে মানুষের। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গত বছর কোরবানির আগে গাবতলী থেকে অনেক মানুষ গরু কিনে ওই বেড়িবাঁধ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় ওই গরু ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আবার অনেক ব্যবসায়ীর ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেয়ায় অনেক ব্যবসায়ীর গরু ছিনিয়ে নেয়া হয়। মোহাম্মদপুর টাউন হলের পাশে ওই গরুগুলো নিয়ে রাখে পরবর্তীতে তা বিক্রি করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, তান্নার গ্রুপে যারা রয়েছেন তাদের অনেকের হাতে রয়েছে ওয়াকিটকি। প্রয়োজন হলে তারা নিজেদেরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বলেও পরিচয় দেন। স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর তান্নার এই অপরাধের প্রশ্রয় দেন বলে অভিযোগ আছে। ওই নেতার হাত ধরেই তান্না ছাত্রলীগ সভাপতি হন। তাকে সভাপতি করার বিপক্ষে অনেক ছাত্রনেতা থাকলেও তান্নার টাকার কাছে সবাই হার মানেন। সভাপতি হওয়ার জন্য তান্না ২০ লাখ টাকা খরচ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার আগেই তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের কারণে ওই কমিটির সহ-সভাপতি শাকিল ইসলাম রাব্বিসহ তিনজন নেতা পদত্যাগ করেছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এই তান্নার আয়ের মূল উৎস হলো মাদক কারবার। মোহাম্মদপুর বিহারি ক্যাম্পভিত্তিক যে মাদক কারবারিরা রয়েছে তাদের সাথে তান্নার লেনদেন আছে বলে জানা যায়। চিহ্নিত মাদক কারবারি পাচুর ভাতিজা রাহির ছেলে পলুর সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তা ছাড়া জসিম ও তন্ময়ের সাথেও তান্নার ভালো সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা যায়।

এ দিকে, তান্নার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের হলেও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তিনি প্রকাশ্যেই ঘুরছেন বলে জানা যায়। তার ফেসবুক আইডিও সক্রিয় রয়েছে। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তিনি তার নেটওয়ার্ক সক্রিয় রেখেছেন বলে জানা যায়।
স্থানীয় পুলিশ বলছে, তান্নার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ছাগল ছিনতাইয়ের সময় যারা হাতে-নাতে গ্রেফতার হয়েছে তারাই তান্নার নাম প্রকাশ করেছে। সে অনুযায়ী মামলায় তাকে আসামি করা হয়। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


 

বিস্তারিত খবর

ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫০ হাজার

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৬ ১১:২৪:৩৭

চলতি বছর বাংলাদেশে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশ হাজার ছুঁয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে ১ হাজার ৭১৯ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশনস অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ১৬ অগাস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৪৯ হাজার ৯৯৯ জন।

এর মধ্যে চলতি অগাস্ট মাসের ১৫ দিনেই এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৩১ হাজার ৫৩৮ জন। যারা বাসায় থেকে ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়েছেন, তাদের সংখ্যা এই হিসাবে আসেনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টারের সহকারী পরিচালক আয়শা আক্তার বলেন, বাংলাদেশে সেপ্টেম্বরেও বৃষ্টি থাকে। ডেঙ্গুর প্রকোপ তখন কিছুটা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে না কমবে তা আগামী এক সপ্তাহ ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জানাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসা নতুন রোগীর সংখ্যা কমেছে।

এই সময়ে ১ হাজার ৭১৯ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৫৯ জন নতুন রোগী, ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছেন ৯৬০ জন।

তার আগের ২৪ ঘণ্টায় মোট ১ হাজার ৯২৯ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৮১১ জন এবং কার বাইরে ১ হাজার ১১৮ জন ছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭ হাজার ৭১৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৪ হাজার ১৫ জন, ঢাকার বাইরে ৩ হাজার ৭০১ জন।

হাসপাতালে নতুন রোগীর সংখ্যা বৃহস্পতিবারের চেয়ে কমলেও সারা দেশে ভর্তি থাকা মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১৪৬ জন বেড়েছে।

সরকার চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হলেও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল ও জেলার চিকিৎসকদের কাছ থেকে অন্তত ১৩৫ জনের তথ্য পেয়েছে।

সরকারি হিসেবে চলতি বছর এপ্রিলে ৫৮ জন, মে মাসে ১৯৩ জন, জুনে ১৮৮৪ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। জুলাই মাসে তা এক লাফে ১৬ হাজার ২৫৩ জনে পৌঁছায়। আর অগাস্টের ১৫ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১ হাজার ৫৩৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বাইরে ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতেই সবচেয়ে বেশি- ২২৯ জন নতুন রোগী ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এছাড়া চট্টগ্রামে ১৯২ জন, খুলনা বিভাগে ১৫১ জন, রংপুর বিভাগে ৭২ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩২ জন, বরিশাল বিভাগে ১০৫ জন, সিলেট বিভাগে ১৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৪ জন ভর্তি হয়েছেন ডেঙ্গু নিয়ে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার হাসপাতালগুলো থেকে ৬৫৪ জন এবং ঢাকার বাইরে হাসপাতালগুলো থেকে ৯১৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

বিস্তারিত খবর

ঢাকার চন্দ্রিকা বস্তিতে আগুন

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৬ ১১:১৯:৩৮

রাজধানীর মিরপুরে একটি বস্তিতে আগুন লেগেছে। তাৎক্ষণিকভাবে এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মিরপুর-৭ নম্বরে রূপনগর থানার পেছনে চন্দ্রিকা বস্তিতে আগুন লাগে বলে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত কর্মকর্তা এরশাদ হোসেন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। আগুনের ব্যাপকতা দেখে পরে আরও ইউনিট বাড়ানো হয়। এখন মোট ১৯টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করছে।

তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ এবং এতে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে জানাতে পারেননি তিনি।
আরো সংবাদ

বিস্তারিত খবর

নীলফামারীতে থানা হাজতে যুবকের মৃত্যু, এলাকায় উত্তেজনা

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৫ ১০:৫২:৪৯

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে গরু চুরির অভিযোগে আটক মামুন (২৩) নামে এক যুবকের থানা হাজতে মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর শনিবার সন্ধ্যায় ওই যুবকের স্বজনরা থানার সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। নিহত ওই যুবক সদর ইউনিয়নের যদুমনি গ্রামের হুজুর আলীর ছেলে।

জানা যায়, এলাকাবাসী গরু চুরির অভিযোগে মামুনকে আটক করে শনিবার বিকেলে কেশবা গ্রামের মহিলা ইউপি সদস্য নারগিছ বেগমের বাড়িতে বন্দি করে রাখে।

খবর পেয়ে পুলিশ সেখান থেকে তাকে নিয়ে এসে থানা হাজতে রাখেন। পরে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মাদ আশরাফ হোসেন ও এডিশনাল এসপি সৈয়দপুর সার্কেল অশোক কুমার পাল থানায় আসার পর সন্ধ্যায় ঘটনা প্রকাশ পায়।

বিষয়টি জানতে পেরে নিহত মামুনের পরিবার, স্বজন ও তার এলাকার লোকজন থানা চত্ত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করেন।

এক পর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে থানার সামনের রাস্তায় অবরোধ করেন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশ তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।

এব্যাপারে নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মাদ আশরাফ হোসেন জানান, থানা হাজতের কাঁথা ছিড়ে রশির মত করে ভেন্টিলেটারের রডের সঙ্গে বেধে গলায় ফাঁস দিয়ে সে আত্মহত্যা করেছে।

বিস্তারিত খবর

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১৫ ১০:৪৭:১২


রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে মহান এই নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আজ সকালে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির বেদীতে পুষ্পাঞ্জলী অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এই মহান নেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকষ দল এ সময় রাষ্ট্রীয় সালাম জানায় এবং বিউগেলে করুণ সুর বেজে ওঠে।
১৫ আগস্টের শহীদদের রূহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে এ সময় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার সহধর্মিনী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তাদের তিন সন্তান শেখ কামাল শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এবং কামাল ও জামালের নবপরিণীতা স্ত্রীসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের অধিকাংশ সদস্য ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের কালরাতে কিছু বিপথগামী ক্ষমতালিপ্সু সেনা সদস্যদের বুলেটের নির্মম শিকার হয়ে প্রাণ হারান।

বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।

প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন, স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, তিনবাহিনী প্রধানগণ, জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, ১৪ দলীয় নেতৃবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পরে, প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং নেতা-কর্মীদের নিয়ে দলের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির বেদীতে পৃথক শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেনকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সে সময়কার বাসভবন, যেটি পরবর্তীতে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়েছে, তা ঘুরে দেখেন। তারা সেখানে কিছু সময় অতিবাহিত করেন। আজ থেকে ৪৪ বছর আগে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের এই বাড়িটিতেই ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

ধানমন্ডি থেকে প্রধানমন্ত্রী বনানী কবরস্থানে যান। সেখানে তার মা এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ভাই শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

প্রধানমন্ত্রী তাদের কবরে পুষ্পাঞ্জলী অর্পণ করেন এবং কবরে ফুলের পাঁপড়ি ছড়িয়ে দেন।

তিনি এ সময় ফাতেহা পাঠ করেন এবং ১৫ আগস্টের শহীদদের রূহের শান্তি কামনায় দোয়া করেন।

বিস্তারিত খবর

দুই নাতনিকে বুকে জড়িয়ে আদর করলেন খালেদা জিয়া

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১২ ১২:১২:৫০


বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেছেন তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য। দুই নাতনিকে নিয়ে বাসার রান্না করা খাবার খেয়েছেন খালেদা জিয়া। দুই নাতনি জাহিয়া ও জাফিয়া হচ্ছেন তার ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর কন্যা। দু‘জনই তাদের মা শর্মিলা রহমান সিঁথির সাথে কারাবন্দী দাদী খালেদা জিয়াকে দেখতে এসেছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। স্বজনদের নিকটজনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়া দুই নাতনিকে দেখে খুশি হয়েছেন। দাদীকে পায়ে ধরে সালাম করার পর দুই নাতনিকে বুকে জড়িয়ে আদর করেন খালেদা জিয়া।

পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তিনি কারো সাহায্য ছাড়া একা হাটতে পারেন না, হুইল চেয়ারে করে তাকে চলাচল করতে হয়। ডায়াবেটিক থাকায় প্রতিদিনই তাকে ইনস্যুলিন নিতে হবে। রয়েছে দাঁত ও চোখের সমস্যা। হাত-পায়ে আর্থারাইটিসের ব্যাথাও রয়েছে তার।
গত ১ এপ্রিল থেকে অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ৬২১ নম্বর কেবিন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ঈদের দিন কারা কর্তৃপক্ষ সীমিত পরিসরে ৬ জন দেখার অনুমতি দেয়। কোকোর স্ত্রী ও দুই মেয়ে ছাড়া ছিলেন- খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ও ছেলে অভিক এস্কান্দার।
বেলা দেড়টার দিকে খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত করতে হাসপাতালের কেবিন ব্লকে আসেন তারা। ছোট ছেলের বউ শ্বাশুড়ির (খালেদা জিয়া) জন্য বাসা থেকে খাবার রান্না করা নিয়ে আসেন।

প্রায় দুই ঘন্টা নাতনি, ছোট ছেলে বউসহ ছোট ভাইয়ের পরিবারের সাথে সময় সময় কাটিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

বেলা দেড়টায় খালেদা জিয়ার স্বজনদের বিএসএমএমইউর ছয়তলার কেবিনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কারাগারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তারা খালেদা জিয়ার কেবিন কক্ষে প্রবেশ করেন।
সেবা শুশ্রূষার জন্য গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমও খালেদা জিয়ার সাথে বন্দি রয়েছেন। সেও স্বজনদের সাথে খাবার খেয়েছেন।
মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, সাবিনা ইয়াসমীনসহ ১৫/১৬ নেতা-কর্মীও কেবিন ব্লকের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের নেত্রীকে স্মরণ করে। ছাত্রদলের ৫/৬ জন নেতা-কর্মীকেও কেবিন ব্লকের কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

গত ১ এপ্রিল থেকে খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি হন। কারাগারে খালেদা জিয়া এ নিয়ে ঈদ করেছেন ৬ বার।

 

বিস্তারিত খবর

মিজানুর রহমান শেলী মারা গেছেন

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১২ ১২:০৮:০০


এরশাদ সরকারের সাবেক তথ্যমন্ত্রী রাজনীতি বিশ্লেষক ড. মিজানুর রহমান শেলী আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। 

হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জানা যায়, মিজানুর রহমান শেলী কিডনি, হার্ট, লাং ও ম‌স্তি‌ষ্কের বি‌ভিন্ন জ‌টিল রো‌গে ভুগ‌ছি‌লেন। সম্প্র‌তি তি‌নি অসুস্থ হ‌লে স্কয়ার হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি করা হয়। গত শ‌নিবার তা‌কে স্কয়ার হাসপাতাল থে‌কে বিএসএমএমইউ‌ আই‌সিইউ‌তে নিয়ে আসা হয়। আজ দুপুর সোয়া‌ ২টায় রেস‌পি‌রেট‌রি ফেই‌লিউর হ‌য়ে তি‌নি মারা যান।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাবেক মন্ত্রী শেলীর লাশ রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালের মর্গে রাখা হবে। বিদেশে অবস্থানরত তার ছেলে দেশে ফেরার পর আজিমপুর কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।

ড. মিজানুর রহমান শেলী বাংলাদেশের অন্যতম সৃজনশীল চিন্তাবিদ, গবেষক, নেতৃস্থানীয় সমাজকর্মী ও সাহিত্যিক ছিলেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্বতন্ত্র, বেসরকারি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স-এর সম্পাদক ছিলেন তিনি।

ড. মিজানুর রহমান শেলী বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান উভয় সরকারের আমলা হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ বিভাগের পরিচালক ছিলেন।

তিনি ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯০ সালে তিনি এরশাদ সরকারের টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্বপালন করেন।

বিস্তারিত খবর

ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গু, ঈদের দিনে প্রাণ গেল তিনজনের

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১২ ১২:০০:৫৯


ভয়াবহ আকার ধারণ করা ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল থেমে নেই। পবিত্র ঈদুল আজহার দিনেও মারা গেছেন তিনজন। ঢাকা, রংপুর ও রাজশাহীতে সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে নাজমা আক্তার, গেন্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতালে অভিজিৎ সাহা এবং রাজশাহী মেডিকেলে আবদুল মালেক নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে রবিবার রাতে মারা গেছেন মনিরুল ইসলাম নামে লালমনিরহাটের এক ব্যবসায়ী। রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীসহ মারা গেছেন আরও তিনজন। 

রবিবার বিকালে কুমিল্লার চান্দিনা থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হন নাজমা আক্তার। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, স্বজনরা লাশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এদিকে সোমবার ভোরে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে চিৎিসাধীন অবস্থায় অভিজিৎ সাহা নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়।

অভিজিৎ সাহা নারায়ণগঞ্জের আমলাপাড়ার মন্টু সাহার ছেলে। সে চাষাঢ়ায় মাউন্টেন স্কুলের শিক্ষার্থী।

অভিজিতের মামাতো ভাই অজয় সাহা জানান, অভিজিৎ গত সোমবার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। বমির সঙ্গে রক্ত যেত তার। শুরুতে তাকে নারায়ণগঞ্জে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে গেন্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে তার মৃত্যু হয়।

নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, এ জেলায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল মালেক নামের এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালটিতে এই প্রথম কোনো ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হলো।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন আবদুল মালেক। ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরে সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

আবদুল মালেক চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার বহরম হাউসনগর মহল্লার গোলাম নবীর ছেলে। তিনি ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।

বিস্তারিত খবর

ঢাকার ৫৬ ভাগ বাড়িতেই ডেঙ্গুর মশা!

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১০ ১৩:৪৪:৪১

রাজধানীর ৫৬ ভাগ বাড়িতেই ডেঙ্গুর বাহক এডিশ মশার লার্ভা রয়েছে। সম্প্রতি স্কাউট পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিষয়টি জানিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, বাংলাদেশ স্কাউটের সদস্যরা গত ১ জুলাই থেকে শনিবার পর্যন্ত এক লাখ ১০ হাজার ৭৬৫টি ভবন পরিদর্শন করে। এর মধ্যে ৬২ হাজার ২৩৭ টি বাড়িতেই এডিশ মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এছাড়া সিটি করপোরেশন নিজেরা ২৫ হাজার ৯৯৭টি বাড়ি পরিদর্শন করে ৮২৩টি বাড়িতে মশার লার্ভা পেয়েছে জানিয়ে মেয়র বলেন, এসব লার্ভা ধ্বংস এবং নির্মাণাধীন ৯৫ বাড়ি মালিককে জরিমানা করা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণের এক লাখ ৬৩ হাজার বাড়ি মালিকের মধ্যে বিনামূল্যে অ্যারোসল স্প্রে বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র এ কথা বলেন। আজ দুপুরে নগর ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর জাহিদ হোসেন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শরীফ আহমেদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার, সচিব মোস্তফা কামাল মজুমদার প্রমুখ।

মেয়র খোকন বলেন, এডিস মশার প্রাদুর্ভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইনসহ ১২৬টি দেশে রয়েছে। এডিসের বিরুদ্ধে আমরা মার্চ মাস থেকে কাজ শুরু করেছি, যা এখনও চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করেছি, সে অনুযায়ী কাজ চলছে। এডিস মশা বাইরে থেকে আসে না; এটা বাসার ভেতরে, ফুলের টবে, খাটের ভেতরে বাসা বাঁধে, জমে থাকা পানিতে ডিম দেয়। এজন্য আমরা চেষ্টা করছি বাসাগুলোতে কাজ করার। আমরা এক লাখ ৬৩ হাজার করদাতাকে বিনামূল্যে অ্যারোসল স্প্রে বিতরণ করবো। তাছাড়া আপনারা (বাড়ির মালিক) যদি অনুমতি দেন, তাহলে বাসায় গিয়ে স্প্রে করে আসবো। দুর্যোগপূর্ণ সময়ে আমরা সবার সহযোগিতা চাই। সবার প্রচেষ্টায় আমরা এ শহরকে ডেঙ্গুমুক্ত করতে চাই।

নগরবাসীর উদ্দেশে মেয়র বলেন, ঈদুল আজহায় আপনারা নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই করবেন, আপনাদের বিনামূল্যে বস্তা, ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হবে। আপনাদের সহযোগিতা পেলে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই একটি ডেঙ্গুমুক্ত নগর উপহার দিতে পারবো।

বিস্তারিত খবর

ফরিদপুরে আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে, ২ জন নিহত

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১০ ১৩:৩৯:২০

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার বিকালে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় দুই জন নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নিহতরা হলেন-রওশন মিয়া (৫২) ও তুহিন মিয়া (২২)। এ দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদপুর

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল সাড়ে ৬টায় তাদের মৃত্যু হয়।

আহতদের মধ্যে যাদের অবস্থা গুরুতর তারা হলেন, গোলাম মওলা (৩০), গোলাম রসুল বিপ্লব (২৫), আনিস মিয়া (২৪) ও রায়হান মিয়াকে (৬৫)।

আহতদের ৬ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ৪ জনকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, গত ৪ থেকে ৫ বছর ধরে এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কাইচাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঠান্ডু মিয়ার সঙ্গে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য হানিফ মিয়া হৃদয়ের বিরোধ চলে আসছিল।

আগে একটি হত্যা মামলার কারণে হানিফ মিয়া এলাকা ছাড়া হয়ে ছিলেন। আসন্ন ঈদে তিনি এলাকায় ফিরতে চাইলে প্রতিপক্ষের লোকজন বাধা প্রদান করে। এসময় প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে হানিফ মিয়া ও তার গ্রুপের।

এক পর্যায়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গোলাগুলিতে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

হামলার খবর পেয়ে পুলিশ সুপারসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে ছুটে যান। ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে রাখা হয়েছে।

নগরকান্দা থানার ওসি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, হামলার পর আসামীরা যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে।

বিস্তারিত খবর

ঘরে ফিরছে মানুষ, বাস-ট্রেন-লঞ্চে তিল ধারণের ঠাঁই নেই

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১০ ১৩:৩৭:৫৯

বাস-ট্রেন-লঞ্চে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্খিত বাসের দেখা মিলছে না। রাস্তায় ধীরগতি। সব মিলিয়ে নানা ঝক্কি ঝামেলা। তারপরও নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। শনিবারও রাজধানীর টার্মিনালগুলোতে ছিলো উপচে পড়া ভিড়। একদিকে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ, রাজধানী ফাঁকা হচ্ছে; অপরদিকে সড়ক মহাসড়কে বাড়ছে ভিড়।

শনিবার রাজধানীর বাস টার্মিনাল, লঞ্চ স্টেশন এবং রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় ঘরমুখো মানুষের তৃতীয় দিনের মতো উপচে পড়া ভিড়। ভেতরে জায়গা না হওয়ায় অনেকে চড়েছেন গাড়ীর ছাদে। বিশেষ করে লঞ্চ এবং ট্রেনের ছাদে তীর ধারণেরও কোন ঠাঁই ছিলো না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব যাত্রীদের ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে। রোববার সকালেও এমন ভীড় হবে রাজধানীর টার্মিনালগুলোতে।

রাজধানী ফাঁকা
গত তিনদিনে রাজধানী বেশ ফাঁকা হয়ে গেছে। গত বৃহষ্পতিবার থেকেই শুরু হয় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা। শনিবার রাজধানীর অধিকাংশ এলাকা বেশ ফাঁকা লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত; গরুর হাঁট ও বিপনীবিতানগুলো কেন্দ্রীক কিছুটা ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

মহাসড়কে ধীরগতি, ফেরীঘাটে দীর্ঘ জট
একদিকে ফাঁকা হচ্ছে রাজধানী, অপরদিকে মহাসড়ক ও ফেরীঘাটে মহা বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সকাল থেকেই দেখা যায় রাজধানীর বের হওয়ার পথগুলোতে তীব্র যানজট। গাবতলী এবং যাত্রাবাড়ি এলাকায় তীব্র জট ছিলো সকাল থেকেই। এছাড়া ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের বেশকিছু এলাকায় যানজট ছিলো। কোন কোন রাস্তায় যানবাহনের ধীর গতির কারণে যাত্রীরা ভোগান্তির মধ্যে পড়েন।

শনিবার সকাল থেকে শত শত যানবাহন জড়ো হয় শিমুলিয়া ও পাটুরিয়া ফেরীঘাটে। সূত্র জানায়, গতকাল দিনভর ফেরীঘাটগুলোতে তীব্র জট ছিলো। ফেরীঘাটগুলোতে সিরিয়াল ভেঙ্গে যানবাহন পারাপারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘাট নিয়ন্ত্রকরা টাকার বিনিময়ে যানবাহন ফেরীতে তুলছে বলে অভিযোগ।

এদিকে, ঘাটগুলোতে বাড়তি ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ উঠেছে। ভূক্তভোগি একজন জানিয়েছেন, টাকা না দিলে গাড়ীর সিরিয়াল পাওয়া যাচ্ছে না ঘাটে।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় অব্যাহত রয়েছে। এমন কোন পরিবহন নেই যে পরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় হচ্ছে না। কোন কোন পরিবহনে দ্বিগুনেরও বেশী ভাড়া আদায় হচ্ছে বলে অভিযোগ মিলেছে। এমনকি বিমানেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ মিলেছে।

লঞ্চ ও ট্রেনে উপচে পড়া ভীড়
লঞ্চ এবং ট্রেনে গতকাল উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী এবং ছাদে চড়া যাত্রীদের সংখ্যাই বেশী। কোন রকমে মানুষ ট্রেনে উঠছেন। নারী এবং শিশুদেরকে নিয়ে ট্রেনে উঠতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আগেভাগে যারা টিকেট কেটেছেন তাদের অনেকেই সীটে বসতে পারেননি বলেও অভিযোগ মিলেছে। ভেতরে জায়গা না পেয়ে হাজার হাজার যাত্রী ট্রেনের ছাদে চড়ে ছুটছেন বাড়িতে। ছাদে উঠতে গিয়ে অনেক যাত্রীকে আহত হতেও দেখা গেছে। এমনকি নারী যাত্রীদেরকেও ট্রেনের ছাদে চড়তে দেখা যায়। লালমনিরহাটগামী এক যাত্রী বলেন, টিকেট নেই কোথাও। বাধ্য হয়ে তারা ট্রেনের ছাদে চড়ছেন।

লঞ্চেও ছিলো উপচে পড়া ভিড়। অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া নিষেধ থাকলেও প্রতিটি লঞ্চেই দেখা গেছে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে। লঞ্চগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনেই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে সদরঘাট টার্মিনাল ছেড়ে যাচ্ছে।
অনেকে ছুটছেন বিকল্প পথে
লঞ্চ, বাস এবং ট্রেনে জায়গা না পেয়ে অনেকেই ছুটছেন বিকল্প পথে। কেউ খোলা ট্রাকে, আবার কেউ কেউ মাইক্রোবাস বা মিনিবাস ভাড়া করে। এভাবে যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও অনেকেই বলেছেন তাদের কোন উপায় নেই। মালবাহী ট্রাকের উপরে অনেকে সওয়ার হচ্ছেন। যেসব ট্রাক দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু নিয়ে ঢাকায় এসেছে; সেসব ট্রাকে এখন মানুষ বাড়ি ফিরছে। অনেকে ছোট ছোট পিকআপ ভাড়া করে বাড়ি যাচ্ছেন।

রাজধানীর বাসগুলো মহাসড়কে
রাজধানীর অনেক ছোট ছোট বাস এখন মহাসড়কে যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর অধিকাংশ বাসই মহাসড়কে চলাচলের উপযুক্ত নয়। এই বাসগুলোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

বিস্তারিত খবর

রাজধানীতে ড্যান্ডি সেবনরত ‘কিশোর গ্যাং’র ২৪ সদস্য আটক

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-১০ ১৩:৩৫:২৮

রাজধানীর মিরপুর থেকে ড্যান্ডি সেবনরত অবস্থায় কিশোর গ্যাং-এর ২৪ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব-৪। শনিবার দুপুরে মিরপুর-১, শাহআলী মাজার রোডসহ বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকদের মধ্যে ১৯ জনকে ছয় মাসের জন্য কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আর অপর ৫ জনের প্রত্যেককে ছয় মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ম্যাজিস্ট্রেট নিজাম উদ্দীন আহমেদ।

ম্যাজিস্ট্রেট যুগান্তরকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল কিশোর গ্যাং-এর ওই সদস্যদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পেয়ে আমরা নজরদারিতে রেখেছিলাম। শনিবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে ড্যান্ডি সেবনরত অবস্থায় কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছোট ছোট ব্লেড পাওয়া যায়। ব্লেড দিয়ে তারা রাতে নির্ঝন স্থানে পথচারী ও যাত্রীদের কাছ থেকে চুরি, ছিনতাই করে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।

তিনি আরও জানান, আটকদের মধ্যে কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্ক। তারা ড্যান্ডি ছাড়াও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকসেবন করত। এ ছাড়া আটকরা সবাই সংঘবদ্ধ হয়ে চুরি, ছিনতাই করে আসছিল। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটকদের মধ্যে ১৯ জনকে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয় ও পাঁচজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

বিস্তারিত খবর

দেশের বর্তমান-ভবিষ্যৎ বিপদ ও বিপন্নতার দিকে : জাতীয় কমিটি

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-০৯ ১৫:১২:৫৯

সরকার যে নীতি দ্বারা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত পরিচালনা করছে তাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের দামবৃদ্ধির পর্ব শেষ হবে না, বার বার বাড়াতেই হবে। একইসাথে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে ঋণনির্ভর প্রাণপ্রকৃতি বিনাশী বিপজ্জনক সব প্রকল্প গ্রহণ করা হতেই থাকবে। দেশবিরোধী নীতি ও দুর্নীতির রাস্তা তাই কেবল গ্যাস বিদ্যুতের দামই বাড়াচ্ছে না, দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ঠেলে দিচ্ছে ভয়াবহ অনিশ্চয়তা, বিপদ ও বিপন্নতার দিকে।

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ শুক্রবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা দিবসের মূল দর্শন অনুযায়ী কাজ করতে হলে সর্বজনের সম্পদে শতভাগ জাতীয় মালিকানা ও শতভাগ সম্পদ দেশের কাজে ব্যবহার, দুর্নীতি করবার দায়মুক্তি আইন বাতিল করতে হবে। ‘খনিজসম্পদ রফতানি নিষিদ্ধকরণ আইন’ প্রণয়ন, পিএসসি প্রক্রিয়া বাতিল করে স্থলভাগে ও সমুদ্রে নতুন নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানে জাতীয় সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সুযোগ, ক্ষমতা ও বরাদ্দ প্রদান করতে হবে। তারা বলেন, উন্মুক্ত খনন পদ্ধতি নিষিদ্ধসহ ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, জাতীয় সক্ষমতার বিকাশ, নবায়নযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য জ্বালানী সম্পদের সর্বোত্তম মিশ্রণ ঘটিয়ে একটি জ্বালানী নীতি প্রণয়ন, দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানী মূলধারায় নিয়ে আসা ইত্যাদি গ্রহণই যথাযথ পথ। এই পথে গেলে কদিন পরপর গ্যাস আর বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে না; রামপাল, পায়রা, মাতারবাড়ী আর রূপপুরের মতো প্রকল্প দিয়ে বাংলাদেশকে বিপদগ্রস্ত করতে হবে না। বরং জাতীয় সক্ষমতা বিকাশের মাধ্যমে সুলভে পরিবেশবান্ধব উপায়ে দেশের শতভাগ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। তাই ‘জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস’ নিয়ে কপটতা ও প্রতারণা বাদ দিলে সরকারকে ব্যয়বহুল, ঝুঁকিপূর্ণ, বন-পানি-মানুষ-পরিবেশবিধ্বংসী এবং ঋণনির্ভর পথ থেকে সরে জাতীয় কমিটি প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে হাত দিতে হবে।

বিবৃতিতে তারা বলেন, বস্তুত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে ক্রমে দেশি-বিদেশি বৃহৎ কোম্পানির ব্যবসার বা মুনাফাভিত্তিক ব্যক্তি মালিকানার খাতে পরিণত করবার নীতি বাস্তবায়নের কাজ চলছে গত তিন দশক ধরে। বর্তমান সরকারের সময় তা সর্বোচ্চ গতি পেয়েছে। কোনো অর্থনৈতিক যুক্তিতে নয়, দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়, টেকসই উন্নয়নের জন্যও নয় কিছু গোষ্ঠীস্বার্থ রক্ষায় সরকার ‘আমাদের সক্ষমতা নাই’ বলে বলে ভারত, চীন, রাশিয়া, মার্কিন সহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি কোম্পানির হাতে এই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত ছেড়ে দিয়েছে। স্থলভাগে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স বহু বছর ধরে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে সাফল্য দেখালেও গত কয়েকবছরে গ্যাসকূপ খননের কাজ করানো হচ্ছে রাশিয়ার গাজপ্রম, আজারবাইজানের সোকারের মতো বিদেশি কোম্পানিকে দিয়ে। বঙ্গোপসাগরে বিপুল পরিমাণ গ্যাস থাকা সত্ত্বেও তার অনুসন্ধানে নিজেদের জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ না নিয়ে সরকার একদিকে সাগরের গ্যাস রপ্তানির বিধান রেখে মার্কিন, ভারত, কোরীয়সহ বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে, অন্যদিকে গ্যাস সঙ্কটের অজুহাতে সুন্দরবন বিনাশী প্রকল্প, ভয়ংকর ঝুঁকি ও বিপুল ঋণের রূপপুর প্রকল্পের কাজ করছে। একই অজুহাতে আন্তর্জাতিক বাজার দরের চাইতে বেশি দামে বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে।

বিস্তারিত খবর

কাশ্মিরিদের অধিকার রক্ষার দাবিতে ওয়াশিংটনে বিক্ষোভ

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-০৮ ০১:০১:০০

জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও রাজ্যটিকে কেন্দ্রশাসিত দুইটি অঞ্চলে পরিণত করার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ হয়েছে। রাজধানী ওয়াশিংটনে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন মুসলিম মানবাধিকার কর্মীরা।

সোমবার (৫ আগস্ট) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এদিকে জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা। গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার শতাধিক স্থানীয় নেতাকে। মিডিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। জারি করা হয়েছে কারফিউ। বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা। বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।

কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)’র জাতীয় নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ বিক্ষোভ সমাবেশে বলেন, ‘কাশ্মিরের জনগণ স্বাধীনতা-ন্যায়বিচার ও অধিকারের সুরক্ষার দাবিদার। কাশ্মির উপত্যকায় একটি মানবিক সংকট তৈরি করা হয়েছে’।

নিহাদ আওয়াদ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত, জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়ে এবং কাশ্মিরিদের সাথে আলোচনায় বসতে ও অবরোধ প্রত্যাহার করতে ভারত সরকারকে অনুরোধ জানানো।

বিস্তারিত খবর

থানা হাজতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: হুমকি দেওয়া হচ্ছে ভিকটিমের পরিবারকে

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-০৮ ০০:৫৯:২৮

খুলনা জিআরপি থানা হাজতে নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ তোলা গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, তাদের অব্যাহত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বুধবার তারা এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। একইসঙ্গে পুলিশের দেওয়া মাদকের মামলায় কারাগারে থাকা ওই নারীর জামিন আবেদনের প্রস্তুতি নিয়েছেন আইনজীবীরা। এদিকে ফরেনসিক প্রতিবেদনের বিলম্বেও কারণে মানবাধিকারকর্মীরা গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ এনে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার পরিকল্পনা করেছেন।

বুধবার দুপুরে জিআরপি থানায় দেখা যায়, তদন্ত কমিটি থানার পুলিশ সদস্যদের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এ সময় পুলিশ সুপার (পাকশি-রেলওয়ে জেলা) মো. নজরুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানার হাজতখানাসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের পর থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেকেন্ড অফিসার এস আই অসীম কুমার দাসকে।

নির্যাতনের শিকার ওই নারীর বড় বোন বলেন, মোবাইল ফোনে তাদেরকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত কমিটির সঙ্গে দেখা করে তারা বিষয়টি তাদের জানিয়েছেন। এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তি হবে বলে তদন্ত কমিটি তাদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে যখন আমার বোনের মেডিক্যাল পরীক্ষা হয় সেখানেও ওই ওসি (উসমান) উপস্থিত ছিল। আমার বোনের বিরুদ্ধে সাজানো মাদক মামলার দারোগা গৌতম কুমারের সঙ্গে তার সারাক্ষণ যোগাযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় আমরা সুবিচার কীভাবে পাবো জানি না।’

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার ফরেনসিক প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ধর্ষণের বিষয়ে আইনগত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না, এ কারণে আমরা মাদকের মিথ্যা মামলায় নির্যাতিতা ওই নারীর জামিনের আবেদন করছি। পাশাপাশি দোষী পুলিশের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মামলার আবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হবে।’
খুলনা জিআরপি থানার হাজতখানা

ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘আমরা বুধবার ভিকটিমের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। তবে আজ বৃহস্পতিবার আরও বিস্তারিত কথা বলবো। ইতোমধ্যে আমরা ওসি ও এক এসআইকে ক্লোজ করেছি। এখন কারা হুমকি দিচ্ছে, তারা পুলিশের লোক নাকি বাইরের তা জানার চেষ্টা করবো।’ 

উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ওই গৃবধূকে মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক করে। পরদিন শনিবার তাকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ফুলতলায় পাঠানো হয়। ৪ আগস্ট আদালতে জামিন শুনানিকালে বিচারককে ওই নারী জানান, জিআরপি থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিনি। থানা হাজতে ওসি উছমান গণি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য তাকে ধর্ষণ করে। এরপর আদালতের নির্দেশে সোমবার (৫ আগস্ট) তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ এবং সদস্যরা হলেন- কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ. ম. কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি পাঠান ও এসআই নাজমুল হককে ক্লোজড করা হয়েছে। বুধবার (৭ আগস্ট) তাদের পাকশি জেলা রেলওয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ জানান, মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) দুপুর থেকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা খুলনা জিআরপি থানার ওসি উছমান গণি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন। তদন্তকালে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের কারণে পুলিশ বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত