যুক্তরাষ্ট্রে আজ শনিবার, ২৬ মে, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 09:30pm

|   লন্ডন - 04:30pm

|   নিউইয়র্ক - 11:30am

  সর্বশেষ :

  একসাথে দুই প্রেমিকাকে বিয়ে করবেন রোনালদিনহো!   কঙ্গোতে নৌকা ডুবে ৪৯ জনের মৃত্যু   ট্রাম্প-কিম সম্মেলন বাতিলে উত্তেজনা-অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা   যুক্তরাজ্যে ফের মেয়র নির্বাচিত হলেন সিলেটের মুজিবুর   কানাডায় রেঁস্তোরায় বিস্ফোরণে আহত ১৫   ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হাসিনা-মোদির ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন   নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানালেন বি চৌধুরী   ইতালীতে আ.লীগ নেতার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল   বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী আজ   প্রফেসর ইউনূসকে অভ্যর্থনা জানালেন ইতালীয় পার্লামেন্ট স্পীকার   জালালাবাদ এসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত   নোয়াখালী সমিতি’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল   ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টকে শেখ হাসিনার ফোন   শিক্ষা ছাড়া হারিয়ে যাওয়া একটি প্রজন্মে পরিণত হবে রোহিঙ্গা শিশুরা : প্রিয়াঙ্কা চোপড়া   কিমের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করলেন ট্রাম্প

>>  স্বদেশ এর সকল সংবাদ

নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানালেন বি চৌধুরী

নির্বাচনের আগেই সংসদ ভেঙে দিয়ে একটি নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

শুক্রবার রাজধানীর আবদুল্লাহপুরে পলওয়েল কনভেনশন সেন্টারে ঢাকা মহানগর উত্তর বিকল্পধারা আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।

বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট বি. চৌধুরী বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সব বাধা দূর করার জন্য প্রথমে প্রয়োজন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমতল ক্ষেত্রভূমি। এই জায়গায় যদি বিভিন্ন ধরনের বাধা থাকে

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী আজ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২৫ ০৫:৪৯:৩৬

আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৫ মে) বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী। দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

দ্রোহ, প্রেম, সাম্য, মানবতা ও শোষিত বঞ্চিত মানুষের মুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মূলত তিনি বিদ্রোহী। কবির প্রেমিক রূপটিও প্রবাদপ্রতিম।

বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে কবি কাজী নজরুল ইসলাম জন্মেছিলেন। তাঁর ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন।

বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিণী সৃষ্টি করে বাংলা সংগীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তার কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল।

কাজী নজরুল ইসলাম অসাম্প্রদায়িক ও শোষণমুক্ত দেশ ও সমাজ গড়ার মানসে সাহিত্যে বিভিন্ন শাখায় লেখালেখি করেন। এসব ক্ষেত্রে তিনি সংগ্রামী ও পথিকৃৎ লেখক। তাঁর লেখনী জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তাঁর কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করেন। ধানমন্ডিতে কবির বসবাসের জন্য একটি বাড়ি প্রদান করেন তিনি। সেই বাড়িটিই এখন নজরুল ইনস্টিটিউট।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টকে শেখ হাসিনার ফোন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২৪ ১৪:০৩:২৭

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি হাসপাতালে ভর্তি নেতার স্বাস্থ্যের খবর নেয়ার পাশাপাশি তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর পেস উইংয়ের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল সোয়া পাঁচটার দিকে ফিলিস্তিনী প্রেসিডেন্টকে কল করেন শেখ হাসিনা। এ সময় বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন দুই নেতা।

গত ২০ মে মাহমুদ আব্বাসকে হাসপাতালে ভর্তির খবর আসে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে। ২২ মে ‘জেরুজালের পোস্ট’ জানায় পরদিন আব্বাসকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হতে পারে। তবে তিনি ছাড়া পাননি। একই গণমাধ্যমের আজকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এখনও তার স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছে।

আব্বাসের ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছিল বলে জানিয়েছে আল ইশতিহারি আরব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে তিন বার হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো ফিলিস্তিনী নেতাকে।

জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে ৬০ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যুর মতো সংকটময় পরিস্থিতিতে মাহমুদ আব্বাসের হঠাৎ হাসপাতালে ভর্তি এবং অসুস্থতা নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উদ্বেগ আছে।

প্যালেস্টানিয়ান লিবারেশন অরগানাইজেশন-পিএলওর ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আল আলওয়াল গণমাধ্যমকর্মীদেরকে জানান, তাদের নেতার শারীরিক অবস্থান উন্নতি হচ্ছে।

‘তার ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছিল এবং এ কারণে তার শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়েছিল’-বলেন আলওয়াল।

‘কিন্তু আল ইশতিহারি হাসপাতাল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে এবং তার শরীর এখন স্বাভাবিক আচরণ করছে।’

২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তিন দিনের সফরে বাংলাদেশ সফর করেন মাহমুদ আব্বাস। এই সফরে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় মাহমুদ আব্বাসের। ৩ ফেব্রুয়ারি ফিলিস্তিনী প্রেসিডেন্টকে বিমানবন্দরে বিদায় জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

শিক্ষা ছাড়া হারিয়ে যাওয়া একটি প্রজন্মে পরিণত হবে রোহিঙ্গা শিশুরা : প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২৪ ১৩:৪৩:২৯

রোহিঙ্গা বাবা-মায়েদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের একটি হচ্ছে সন্তানদের পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনা। শিক্ষা ও শেখার সুযোগ না পেলে রোহিঙ্গা শিশুরা হারিয়ে যাওয়া একটি প্রজন্মে পরিণত হবে। শিক্ষা কোনো পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করতে পারে না। বললেন ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত এবং বলিউড তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির ঘুরে এসে বৃহস্পতিবার ঢাকার লা মেরিডিয়ান হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান তিনি।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলেন, রোহিঙ্গা শিশুরা একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দাবিদার। আমার কাছে মনে হয় পৃথিবীর প্রতিটি শিশুরই একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রাপ্য। যাতে তারা মানবতার যাত্রায় কন্ট্রিবিউট করতে পারে।

তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুর প্রতি বিশ্বের একটি দায়িত্ব আছে। ভবিষ্যৎ কিন্তু আমরা তাদের (শিশু) চোখ দিয়েই দেখি।

তিনি আরোও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কিছু সমস্যা আছে, এগুলো কমানোর জন্য দিন রাত ইউনিসেফ কাজ করছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি আশ্রয়, কেননা বৃষ্টির দিন অনেকটা কাছাকাছি চলে এসেছে। তাদের নিরাপদ পানি দরকার যাতে ডায়রিয়া কিংবা কলেরার মতো রোগ না ছড়ায়। তারা যেন অপুষ্টিতে না ভোগে সেজন্য পুষ্টিকর খাবারেরও প্রয়োজন আছে।

এই অভিনেত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আমাকে অনেক ভালবাসা দিয়েছে। আমি চাই তারা এই শিশুদেরকেও ভালবাসুক।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলেন, মানবিকতার কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছে বাংলাদেশ। এই মানবিকতা সারা বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

সাবেক বিশ্ব সুন্দরী বলেন, আমি রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে মিশেছি। তাদের সঙ্গে খেলেছি। ৫-৬ বছরের শিশুদের চিত্রকর্ম দেখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তারা দেখেছে মাথার উপরে রকেট লঞ্চার, পায়ের তলায় মাইন। তারা সেটা মনে রেখেছে এবং এঁকেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি এডুয়ার্ড বেগবেদার, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি সীমা সেন গুপ্ত, ইউনিসেফ বাংলাদেশের কমিউনিকেশনস চিফ জ্যঁ জ্যাক সিমনসহ অনেকে।

জাতিসংঘ সংস্থা ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে সোমবার বাংলাদেশে আসেন প্রিয়াঙ্কা। গত ৪ দিন তিনি উখিয়া ও টেকনাফের ১০টি শরণার্থী শিবির এবং সীমান্তের কাছের রোহিঙ্গা আগমনের ট্রানজিট পয়েন্ট ঘুরে দেখেন। রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন তাদের বাস্তবতা ও সঙ্কট।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

যে যাই বলুক, অভিযান চলবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২৪ ০৬:২১:৪৪

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ব্যাপক প্রাণহানিতে সমালোচনা হলেও এই অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বরং অভিযান আরও প্রত্যন্ত এলাকায় ছড়িয়ে দেয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

অভিযানের ২০তম দিন বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে ছিলেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াও।

অনুষ্ঠানে পুলিশের পক্ষ মাদকবিরোধী প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়। এতে লেখা ছিল, ‘মাদক পরিহার করুন, নিজে বাঁচুন, আগামী প্রজন্মকে বাঁচান।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে মাদকের আগ্রাসন থেকে জনগণকে মুক্ত করাই এ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

‘মাদক নিয়ে যারা ব্যবসা করে তাদের এই ঢাকা মহানগরীতে কোনো স্থান নাই। তাদের বলতে চাই, মাদক নিয়ে কারো কোনো কথা শোনা হবে না।’

গত ৪ মে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সাঁড়াশি অভিযানে নিহত হয়েছে ৫০ জনেরও বেশি। গত চার দিনেই এই সংখ্যাটি ৪০ ছুঁয়েছে।

সন্ত্রাস দমনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সাল থেকেই বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের কথা শোনা যাচ্ছে। এর প্রতিটি ঘটনায়ই বর্ণনা মোটামুটি একই রকম।

সন্দেহভাজনকে নিয়ে পুলিশ বা র‌্যাব অভিযানে গেলে বা কোনো আস্তানায় অভিযানে গেলে সন্দেহভাজন বা তার সহযোগীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গুলি করে। আর পাল্টা গুলির এক পর্যায়ে নিহত হন সন্দেভাজন।

এই বর্ণনা নিয়ে শুরু থেকেই সন্দেহ সংশয় ছিল। এবার মাদকবিরোধী অভিযানে প্রাণহানির ঘটনায়ও একই ধরনের বর্ণনা দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, নিরাপত্তা বাহিনী আক্রান্ত হওয়ার পর বাধ্য হয়েই গুলি করে।

মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল অবিলম্বে অভিযানে বন্দুকের ব্যবহার থামানোর দাবি জানিয়েছেন। আর অভিযান নিয়ে প্রতিদিন সমালোচনা করে আসছে বিএনপি। তাদের দাবি, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য তাদের কর্মীদেরকে হত্যা করা।

তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে, তাদের নাম সতর্কতার সঙ্গে যাচাই বাছাই করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা কয়েক মাস ধরে পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বয়ে একটি তালিকা করেছি। সেই তালিকা অনুযায়ী একে একে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।’

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস ও দুর্নীতি নির্মূল করার পর এবার মাদক নির্মূলের ঘোষণা দিয়েছেন। তার এ ঘোষণা বাস্তবায়নে সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।’

মাদকের বিরুদ্ধে রাজনীতিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করারও আহ্বান জানান মন্ত্রী।

মাদকের ভয়াবহতার বিষয়টিও তুলে ধরেন কামাল। বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন মাদকের নেশায় জড়িয়ে ঐশী কীভাবে তার মা-বাবাকে হত্যা করেছে। একটি পরিবারে যদি একটি মাদকসেবী থাকে তাহলে সে পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়।’

সন্তান বা স্বজনদের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতনতার ওপরও জোর দেন মন্ত্রী। বলেন, ‘খোঁজ রাখুন, আপনার সন্তানরা কোথায় কী করছে।’

অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও, ঢাকার পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বিভিন্ন বাসে মাদকবিরোধী স্টিকার সেঁটে দেন।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ক্রসফায়ার নিয়ে বিএনপির গভীর সংশয়

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২৩ ০৬:০৯:০৮

চলমান মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। এ অভিযান নিয়ে দলটি গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে। বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সংশয় প্রকাশ করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ভোটারবিহীন আওয়ামী সরকার বেআইনী অপরাধ করতে কুণ্ঠিত হচ্ছে না। দেশব্যাপী মাদকনির্মূলের অভিযানে মানুষ হত্যার আতিশয্যে এক বিকারগ্রস্ত পন্থা চারদিকে দৃশ্যমান হচ্ছে।

রিজভী বলেন, গত ৯ দিনে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ৪৩ জন, নিহত ব্যক্তিদের মাদক ব্যবসায়ী বলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে প্রকৃত বড়-বড় মাদক ডিলাররা অন্তরালে থেকে যাচ্ছে কিভাবে? প্রভাবশালী মন্ত্রীদের বাড়িতে তারা দেখা-সাক্ষাৎ করছে। চারদিকে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে, সরকারি এই মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে। সন্দেহভাজনদেরও হত্যা করা হচ্ছে কোন উদ্দেশ্যে? যতবড় অপরাধী হোক তা বিচারবর্হিভূত হত্যার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আমি গতকালও বলেছিলাম এই মাদকবিরোধী অভিযানের নামে মানুষ হত্যার উৎসবে এরা বেছে-বেছে সরকারবিরেধী নির্দোষ তরুণদেরও অপরাধী সাজিয়ে হত্যা করবে। তার-দৃষ্টান্ত আমরা গতকাল তুলে ধরেছি ক্রসফায়ারে নিহত নেত্রকোনার ছাত্রদল নেতা আমজাদ হোসেনের ঘটনায়।

বিএনপি এই নেতা বলেন, বিচারবর্হিভূতভাবে নির্বিচারে বন্দুকযুদ্ধে মানুষ হত্যায় পৃথিবীর কোথাও সামাজিক অপরাধ দমন করা যায়নি। এই বিচারবর্হিভূত হত্যার যাত্রাপথে ক্রমাগতভাবে সরকারবিরোধী লোকজনদের নির্মূলে ব্যস্ত থাকার আশঙ্কা করছে অনেকেই।

তিনি বলেন, মাদকের পশ্চাদভূমি বন্ধ না করে, গডফাদারদের না ধরে শুধু ক্রসফায়ারের হিড়িক অব্যাহত রাখলেই মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। সারাদেশে মাদকের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে এই ক্ষমতাসীনদের আমলে, ক্ষমতাবানদের পৃষ্টপোষকতায়। এই সকল ঘটনার মধ্যদিয়ে তারা দেশকে রক্তাক্ত নির্বাচনের দিকে নিয়ে যায় কিনা সেটি নিয়েও এখন মানুষ ভাবছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহদফতর সম্পাদক মো্ মনির হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

অস্ত্রসহ সুন্দরবনের ৫৭ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২৩ ০৬:০৭:০৮

বুধবার (২৩ মে) সুন্দরবনের দস্যু বাহিনীর ৫৭ সদস্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলা-বারুদসহ র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। দুপুরে র‌্যাব-৬ খুলনার সদরদপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তারা।

অনুষ্ঠানে দাদা ভাই বাহিনীর ১৫ জন, হান্নান বাহিনীর ৯ জন, আমির আলী বাহিনীর ৭ জন, সুর্য্য বাহিনীর ১০ জন, ছোট শামসু বাহিনীর ৯ জন এবং মুন্না বাহিনীর ৭ জন দস্যু আত্মসমর্পণ করেন।

এসময় তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ৫৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক হাজার ২৮৪ রাউন্ড গুলি জমা দেন। আত্মসমর্পণকারী ৫৮ দস্যুর প্রত্যককে পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া আর্থিক অনুদানের এক লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

তামিলনাড়ুতে দূষণ বিরুধী বিক্ষোভে গুলি, নিহত ৯

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২৩ ০২:১৯:৩৮

ভারতের তামিলনাড়ুর বন্দরনগরী তুতিকোরিনে স্টারলাইট কোম্পানির কপার গলানোর কারখানা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলিতে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হন আরও কয়েক ডজন।

ভূগভর্স্থ পানিদূষণ ও স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকা ঝুঁকিতে পড়ায় গত তিন মাস ধরে তুতিকোরিনের হাজার হাজার মানুষ স্টারলাইট কপার স্মেল্টিং প্ল্যান্ট বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে।

রাজ্যসরকার তাদের এ দাবিতে ভ্রুক্ষেপ করছে না বলে বিক্ষোভকারীরা মঙ্গলবার স্টারলাইট কারখানা অভিমুখে মিছিলের ডাক দেন। কিন্তু প্রশাসন থেকে তাদের বিক্ষোভের অনুমতি দেয়া হয়নি। ফলে প্রায় ২০ হাজার বিক্ষোভকারী প্রথমে স্থানীয় একটি গির্জায় জড়ো হন।

সেখান থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে।

একপর্যায়ে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।

স্থানীয় এক মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, রাজ্যসরকার পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, কিন্তু এদিন যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে পুলিশের সামনে গুলি চালানো ছাড়া অন্য পথ খোলা ছিল না। পুলিশ বসে বসে সরকারি সম্পদের ক্ষতি দেখতে পারে না।

এ ঘটনার পর ক্ষমতাসীন এআইএডিএসকে সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জনগণকে শান্ত থাকার অনুরোধ করে কপার প্ল্যান্টের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

তবে ওই বিবৃতিতে পুলিশের গুলিতে কতজন হতাহত হয়েছেন সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

দেশটির জনপ্রিয় অভিনেতা কমল হাসান বলেন, নাগরিকরা অপরাধী নয়; অথচ তাদেরই মরতে হচ্ছে। তিনি নিজেও কপার প্ল্যান্টের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ‍অংশ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, এটি সরকারের অবহেলার ফল। সরকার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ভাষা অবজ্ঞা করেছে।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

কথিত বন্দুকযুদ্ধ অব্যাহত, এবার নিহত ৭

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২৩ ০২:০৯:৩৩

এবার চলমান মাদকবিরোধী অভিযানকালে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, ফেনী, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও গাইবান্ধায় সাতজন নিহত হয়েছেন।

র‌্যাব ও পুলিশের দাবি, নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। তাদের নামে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।

মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।

আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কুষ্টিয়া : কুমারখালী ও ভেড়ামারায় পুলিশের সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই যুবক নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- ফটিক ওরফে গাফফার (৩৭) ও লিটন শেখ (৪০)।

পুলিশের দাবি, নিহতরা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। নিহত ফটিক ওরফে গাফফার উপজলার এলেঙ্গীপাড়া গ্রামের মৃত ওসমান গনির ছেলে ও লিটন শেখ উপজেলার নওদাপাড়া এলাকার মৃত গোলবার শেখের ছেলে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়া গড়াই নদীসংলগ্ন ব্রিজের নিচে ও ভেড়ামারা উপজেলার হাওখালী মাঠে এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

কুমারখালী থানার ওসি আবদুল খা‌লেক জানান, একদল মাদক ব্যবসায়ী মাদক কেনাবেচার উদ্দেশ্যে লাহিনীপাড়ার গড়াই নদীর পাড়সংলগ্ন ব্রিজের নিচে অবস্থান করছে, এমন গোপন সংবাদ পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন। ওই যুবককে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পরে পুলিশ জানতে পারে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যক্তি শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী ফটিক ওরফে গাফফার। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে পুলিশের দাবি।

ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, ৭০০ পিস ইয়াবা ও ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে ভেড়ামারা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার হাওখালী মাঠে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী লিটন শেখ (৪৫) নিহত হয়েছেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি, তিন রাউন্ড গুলি, ৫০০ পিস ইয়াবা ও ২ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করেছে। তবে পরিবারের দাবি সোমবার রাত থেকে লিটন নিখোঁজ ছিল।

কুমিল্লা : জেলায় গ্রেফতারের পর ডিবি ও থানা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইসহাক ওরফে ইছা নামে ১১ মামলার এক আসামি নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সালাহউদ্দিন, এসআই মারুফ ও কনস্টেবল মিজানসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার চাঁনপুর ব্রিজসংলগ্ন সামারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৪০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ইসহাক একই উপজেলার গাজীপুর গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলাকালে মঙ্গলবার বিকালে ইসহাককে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সদর উপজেলার সামারচর এলাকা থেকে ফেনসিডিল উদ্ধার শেষে ফেরার পথে ইছার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে ইছার সহযোগীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফেনী : সদরের দাউদপুল এলাকায় র‌্যাব ৭-এর সদস্যদের সঙ্গে ‘গোলাগুলিতে’ মো. ফারুক (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টার দিকে ফেনী সদরের দাউদপুল এলাকায় র‌্যাব ৭-এর সদস্যদের সঙ্গে ‘গোলাগুলিতে’ তার মৃত্যু হয়।

জেলা সিনিয়র এএসপি মিমতানুর রহমান জানান, র‌্যাবের টহল দল চেকপোস্টে একটি প্রাইভেটকারকে থামার সংকেত দেয়। তখন গাড়ি না থামিয়ে ভেতর থেকে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে গুলিবিদ্ধ একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি প্রাইভেটকার, একটি ওয়ান শুটারগান, ৫ রাউন্ড গুলি ও পাঁচটি খালি খোসা এবং ২২ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে অনেকগুলো মামলা রয়েছে বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা মিমতানুর।

ঠাকুরগাঁও : সদর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আলতাফুর নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

বুধবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার ভাতারমাড়ী ফার্ম নামক স্থানে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে টেলিফোনে জানানো হয়, পীরগঞ্জ ও বালিয়াডাঙ্গী দুই থানার পুলিশের এক যৌথ অভিযানের সময় মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি চালালে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই আলতাফুরের মৃত্যু হয়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীদের গুলিতে আহত হয়ে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি সাজেদুর রহমানসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

গাইবান্ধা : পলাশবাড়ী উপজেলায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রাজু মিয়া নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন র‌্যাবের দুই সদস্য।

বুধবার সকালে র‌্যাব-১৩ গাইবান্ধার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। রাজু পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের রাইগ্রামের মৃত আবদুল জোব্বারের ছেলে।

জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোরে উপজেলার বিশ্রামগাছি গ্রামে মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি চালান রাজু। এ সময় র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এতে 'বন্দুকযুদ্ধে' রাজু নিহত হন। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি ও গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। রাজুর বিরুদ্ধে পলাশবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

রংপুর : রংপুরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শাহিন মিয়া (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

পুলিশের দাবি, নিহত শাহিন মিয়া তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী।

বুধবার ভোরে সদর উপজেলার হাজিরহাট এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে এক বস্তা ফেনসিডিল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে জানান রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান সাইফ।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

চলে গেল মুক্তামনি

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২৩ ০১:৫৮:৫৮

সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন রক্তনালীর টিউমারে আক্রান্ত সাতক্ষীরার মেয়ে মুক্তামনি। মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ কামারবায়সা গ্রামে বাবা-মায়ের সামনেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় ১৩ বছর বয়সী শিশুটি। (ইন্না ইলাইহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘বুধবার সকাল পৌনে আটটার দিকে মুক্তামনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।’ বাদ জোহর পারিবারিক কবরস্থানে মুক্তামনিকে দাফন করা হবে বলে জানান তার বাবা।

বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তামণিকে নিয়ে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তামণির চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন। এরপর গত বছরের ১২ জুলাই মুক্তামনিকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

প্রথমে রোগটিকে বিরল রোগ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরে বায়োপসি করে জানা যায়, তার রক্তনালীতে টিউমার হয়েছে। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে যোগাযোগ করেন বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা। সব রিপোর্ট দেখে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা মুক্তামনির চিকিৎসা করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর ঢামেকের চিকিৎসকরাই তার অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন।

গত বছরের ৫ আগস্ট মুক্তামনির হাতে প্রথম অস্ত্রোপচার হয়। প্রথমে তার হাতের ফোলা অংশে অস্ত্রোপচার করে তা ফেলে দেন চিকিৎসকরা। পরে দুই পায়ের চামড়া নিয়ে দুই দফায় তার হাতে লাগানো হয়। ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালামের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল মুক্তামনির স্কিন গ্রাফটিং (চামড়া লাগানো) অপারেশনে অংশ নেন। পরে মুক্তামনির হাত আবারও ফুলে যাওয়ায়, ফোলা কমানোর জন্য হাতে প্রেসার ব্যান্ডেজ বেঁধে দেওয়া হয়। এর প্রায় পাঁচ মাস পর গত ২২ ডিসেম্বর বাবা-মার সঙ্গে মুক্তামনি নিজ বাড়িতে ফিরে যান।

বেশ কিছুদিন ধরে মুক্তামনির শরীর খারাপ হতে থাকে। ব্যথা আর যন্ত্রণায় প্রতিনিয়ত কান্না-কাটি করে সে। ডান হাতটি ফুলে যায়। দুর্গন্ধসহ হাতের ফোলা অংশ থেকে মাঝে-মধ্যে রক্ত ও সাদা পোকা বের হতে থাকে।

ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসক ডা. সামন্ত লাল সেনের সঙ্গে ফোনে কথা বললে মুক্তার শারীরিক অবস্থার কথা জানান তার বাবা ইব্রাহিম। চিকিৎসক তাকে মুক্তামনির দুইটি ছবি পাঠাতে বলেন। পরে ডাক্তার শারমিন সুমির ইমোতে দুইটি ছবিও পাঠান ইব্রাহিম। ছবি দেখে তার হাতের অবস্থা খারাপ বলে জানান ডা. শারমিন সুমি।

গত বুধবার সামন্ত লাল ফোন করে মুক্তামনির খোঁজ-খবর নিয়ে রোজার পরে আবারও মুক্তামনিকে ঢাকায় নিয়ে আরো কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা জানান। কিন্তু ঢাকায় আসার আগেই কষ্টের জীবন ছেড়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় মুক্তামনি।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এবার ৯ জেলায় নিহত ১২

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২২ ০৬:৪০:১৮

সারা দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কুমিল্লা, নীলফামারী, চট্টগ্রাম, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, দিনাজপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। র‌্যাব ও পুলিশের দাবি- নিহতরা সবাই মাদককারবারির সঙ্গে জড়িত। কারও কারও বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে মামলাও রয়েছে। এর আগে রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানে যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, নরসিংদী, টাঙ্গাইলে ও গাজীপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নয়জন নিহত হয়েছিল। তারাও মাদককারবারি বলে দাবি করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযানকালে সোমবার রাতে কুমিল্লা ও নীলফামারীতে দুজন করে এবং নীলফামারী, চট্টগ্রাম, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, দিনাজপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গায় একজন করে নিহত হয়েছেন। কুমিল্লা : বন্দুকযুদ্ধে কুমিল্লায় শরীফ ও পিয়ার আলী নামে দুজন নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১টায় জেলা সদরের অদূরে বিবিরবাজার অরণ্যপুর (বাজগড্ডা) এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকা থেকে মাদকের একটি বড় চালান আসার খবরে পুলিশের একাধিক টিম ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত পৌনে ১টার দিকে মাদক বিক্রেতারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। অভিযানে অংশ নেয়া ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম জানান, ঘটনাস্থলে শরীফ (২৬), পিয়ার আলী (২৮) ও সেলিম গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার মাদক ব্যবসায়ী শরীফ ও পিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে মো. শরীফ জেলা সদর দক্ষিণ উপজেলার মহেষপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে। অন্যদিকে নিহত পিয়ার আলী আদর্শ সদর উপজেলার শুভপুর গ্রামের আলী মিয়ার ছেলে। চুয়াডাঙ্গা : আলমডাঙ্গায় বন্দুকযুদ্ধে কামরুজ্জামান সাধু নামে একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার দিবাগত রাতে আলমডাঙ্গা স্টেশনের অদূরে পুলিশের সঙ্গে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত কামরুজ্জামান আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের মৃত ইমদাদুল হকের ছেলে। এ নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বন্দুকযুদ্ধে পর পর দুদিনে দুজন নিহত হলেন। আলমডাঙ্গা থানা সূত্রে জানা গেছে, রাত ১টার দিকে আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে পুলিশ অভিযান শুরু করে। মাদকপাচারকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। বেশ কিছুক্ষণ গুলির লড়াইয়ের একপর্যায়ে পাচারকারীরা পিছু হটে। ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন। চুয়াডাঙ্গার সহকারী পুলিশ সুপার আহসান হাবীব বলেন, নিহত কামরুজ্জামান সাধুর (৪৫) বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে। তিন বছরের সাজাও হয়েছে তার। সম্প্রতি সাজা খেটে বাড়ি ফিরে আবারও মাদকপাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এর আগে রোববার রাতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলীর মাদক ব্যবসায়ী জনাব আলী পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। এ দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় দুজন নিহত হলেন। নীলফামারী : ডিমলা ও সৈয়দপুর প্রতিনিধি জানান, পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নীলফামারীর সৈয়দপুরে দুই মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সৈয়দপুর উপজেলার বাইপাস মহাসড়কের গোলাহাট বধ্যভূমি এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- সৈয়দপুর পৌর শহরের ইসলামবাগ মহল্লার আব্দুল হান্নানের ছেলে মো. জনি হোসেন (২৭) ও নিচু কলোনি মহল্লার ইউসুফ হোসেনের ছেলে শাহিন আহমেদ (৩০)। সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল বলেন, নিহতরা এলাকার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সৈয়দপুর থানায় আটটি করে মামলা রয়েছে। চট্টগ্রাম : নগরীর বায়েজিদ থানাধীন ডেবারপাড় এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শুক্কুর আলী (৪৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। র‌্যাব ৭-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিমতানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া : জেলার বাঞ্ছারামপুরে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ধন মিয়া (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। র‌্যাব-১০ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, র‌্যাব সদস্যরা মঙ্গলবার ভোররাতে বাঞ্ছারামপুরে উপজেলার সোনারামপুর এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় নারায়ণগঞ্জ থেকে একটি মাদকের চালানসহ ধন মিয়া সেখানে পৌঁছলে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলিবর্ষণ করলে র‌্যাবও পাল্টা গুলি করে। এ সময় বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন। নিহত ধন মিয়া উপজেলার মরিচাকান্দি গ্রামের হোসেন মিয়ার ছেলে। তার স্ত্রী আরজিনা বেগমকে আটক করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ : জেলার আড়াইহাজারে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বাচ্চু খান নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিমুলতলীতে মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। রাজধানীর উত্তরখান এলাকার বাসিন্দা আশরাফ খানের ছেলে নিহত বাচ্চু। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি জিপ গাড়িও আটক করা হয়েছে। র‌্যাব ১-এর কোম্পানি কমান্ডার আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে লাশ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছে। আড়াইহাজার থানার ওসি এমএ হক জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ফেনী : জেলার লেমুয়ায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মঞ্জুরুল আলম (৪৯) নামে একজন নিহত হয়েছেন। তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার হাজী আবদুল করিমের ছেলে। র‌্যাব জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর লেমুয়া নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

মাদকের আন্ডারওয়ার্ল্ডে ১৪১ গডফাদার

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২২ ০৩:১৮:০৭

মাদকের আন্ডারওয়ার্ল্ডে তারা ডন হিসেবে পরিচিত। কেউ কেউ বলেন গডফাদার। তাদের হাতেই দেশের মাদক সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ। অনেকে সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতা। ওয়ার্ড, থানা বা মহানগর নেতা থেকে খোদ সংসদ সদস্য পর্যন্ত। আছেন সিআইপি খেতাব পাওয়া ধনাঢ্য ব্যবসায়ী থেকে সরকারি কর্মকর্তারাও।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সম্প্রতি দেশের মাদক গডফাদারদের একটি তালিকা প্রণয়ন করে। দেশজুড়ে যার সংখ্যা ১৪১ জন। এতে ক্ষমতাধর অনেক রাজনীতিকের ভয়ংকর কুৎসিত চেহারা বেরিয়ে আসে। ৩১ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তালিকাভুক্ত মাদক গডফাদারদের নাগাল পেতে ব্যর্থ হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এখন দুদকের দ্বারস্থ হয়েছে। দুদক চেয়ারম্যানের কাছে তালিকা পাঠিয়ে বলা হয়, অন্তত এদের অবৈধ আয়ের পথ ও বিশাল অর্থবিত্তের খোঁজ পেতে সক্ষম হবে দুদক।

সম্প্রতি দুদক সূত্রে গোপনীয় এ তালিকার একটি কপি যুগান্তরের হাতেও আসে। তালিকার দ্বিতীয় পৃষ্ঠার একটি প্যারায় চোখ আটকে যায়। কারণ সেখানে বলা হয়েছে, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি দেশের ইয়াবা জগতের অন্যতম নিয়ন্ত্রণকারী। তার ইশারার বাইরে কিছুই হয় না। দেশের ইয়াবা আগ্রাসন বন্ধের জন্য তার ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট।’

তালিকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমেদ রোববার যুগান্তরকে বলেন, দুদক থেকে মাদক গডফাদারদের নামধাম আমাদের কাছে চাওয়া হয়েছিল। আমরা সেই তালিকা প্রণয়ন করেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ হাতেনাতে মাদক উদ্ধার ছাড়া আমরা কাউকে গ্রেফতার করতে পারি না। এক্ষেত্রে দুদক আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে।

সর্বনাশা বদি ও তার ৫ ভাই :
তালিকায় সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে মাদক সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি বলা হয়েছে। এতে বদির সঙ্গে তার পাঁচ ভাইয়ের নামও উঠে এসেছে। তারা হলেন- মৌলভী মুজিবুর রহমান, আবদুস শুক্কুর, মো. সফিক, আবদুল আমিন ও মো. ফয়সাল। তাদের মধ্যে সরকারের প্রায় সব সংস্থার তালিকায় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি ছাড়া তার ৫ ভাইয়ের নাম রয়েছে। তবে আপন ভাই ছাড়াও তালিকায় বদির পিএস মং মং সেন ও ভাগ্নে সাহেদুর রহমান নিপুসহ আরও বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠভাজনের নাম রয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকা সংক্রান্ত গোপনীয় প্রতিবেদনের ভূমিকা অংশে বলা হয়েছে, ‘সরকারদলীয় এমপি হওয়ার সুবাদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অনুসারী/সহযোগী নিয়ে তিনি ইচ্ছেমাফিক ইয়াবা ব্যবসাসহ অন্যান্য উৎস হতে অবৈধ আয়ে জড়িত আছেন। শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা তার অনিচ্ছার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসা করার সাহস রাখে না। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জেলার অন্য শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বা টেকনাফের যে কোনো চাঁদাবাজ এলাকায় প্রভাব বিস্তারে সক্ষম নয়। বিশেষত মিয়ানমার থেকে চোরাচালান হওয়া ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ করার জন্য তার ইচ্ছাশক্তি সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, মিয়ানমার হয়ে ভিআইপি প্রটেকশনে ইয়াবার বড় বড় চালান টেকনাফে নিয়ে আসার কাজটি করেন বদির ৫ ভাই। আর সেগুলো দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাইকারি ডিলারদের কাছে পৌঁছে দেন পিএস মং মং সেনসহ তার নিজস্ব অনুসারীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কক্সবাজার জেলার একজন পুলিশ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য নিজেই মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার কারণে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের দর্শকের ভূমিকায় হাত গুটিয়ে বসে থাকার আর কোনো উপায় থাকে না। সবাই সবকিছু জানলেও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল বেছে নিতে বাধ্য হন।

এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার রিং করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। বক্তব্য চেয়ে রোববার বিকাল ৪টা ৫৩ মিনিটে ক্ষুদেবার্তা পাঠানোর পর থেকেই তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সাইফুলের হাত কতটা লম্বা :
কেউ কেউ বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ী সাইফুল করিম ওরফে হাজী সাইফুল ইয়াবার আন্তর্জাতিক চোরাকারবারি। মাদক ব্যবসা করে তিনি এখন শত কোটি টাকার মালিক। তবে অন্য ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার পার্থক্য আছে। কারণ সাইফুল অনেক উপরতলার মানুষ। তার হাতও অনেক লম্বা।

সাইফুলের ক্ষমতার সামান্য ধারণা পাওয়া যায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের এক কর্মকর্তার কথায়। তিনি বলেন, সাইফুলের ঘনিষ্ঠ এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে কয়েক মাস আগে আটক করা হয়েছিল। এরপর পুলিশ প্রশাসনের এমন উচ্চপর্যায় থেকে ফোন আসে, যা কল্পনাও করা যায় না। এরপর থেকেই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা সাইফুলকে অনেকটাই সমীহ করে চলেন। এ সুযোগে সাইফুলের ইয়াবা ব্যবসা রমরমা।

সূত্র বলছে, হাজী সাইফুল বিএনপির নেতা গোছের লোক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাতারাতি তার ভোল পাল্টে যায়। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা চোখে পড়ার মতো।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকায় বলা হয়েছে, সাইফুল করিম একজন সিআইপি (বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি)। স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে তিনি জড়িত। তবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ায় তিনি অর্থ দিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামে অবস্থান করে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।

স্থানীয় প্রশানের কয়েকটি সূত্র জানায়, সাইফুল নিজেকে আমদানি-রফতানিকারক বলে পরিচয় দেন। তার বৈধ ব্যবসার সাইনবোর্ডের নাম এসকে ইন্টারন্যাশনাল। কিন্তু গত কয়েক বছরে তার সম্পদ যেন ফুলেফেঁপে উঠেছে, যা অনেক প্রশ্নের দাবি রাখে। কাজীর দেউড়ি ভিআইপি টাওয়ারে একাধিক অভিজাত অ্যাপার্টমেন্ট, কক্সবাজার কলাতলী পয়েন্টে হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয়রা বলছেন, সাইফুলের হঠাৎ আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়ার নেপথ্যে আছে মূলত ইয়াবার চোরাচালান।

উপজেলা চেয়ারম্যানও কম যান না :
টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ ওরফে জাফর চেয়ারম্যানও কম যাননি। ছেলে মোস্তাককে সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী ইয়াবা সিন্ডিকেট। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকায় তাদের অবস্থান যথাক্রমে ২ ও ৩ নম্বরে। এতে বলা হয়েছে, ‘পিতা-পুত্র একত্রে রাজনীতি ও ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে তৎপর। জাফর চেয়ারম্যান বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও ৫-৬ বছর আগে তিনি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।’

ইয়াবা গডফাদার হিসেবে নাম তালিকাভুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে যুগান্তরের কক্সবাজার অফিস থেকে টেকনাফ উপজেলা পরিষদে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে জানানো হয়, চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ বিদেশে রয়েছেন। তার ছেলে মোস্তাক দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ। তাকে গুম করা হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।

তালিকার ৪ নম্বরে আছেন সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিএ) মং মং সেন। তার বাবার নাম অং সেন। টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়ায় তার বাড়ি। টেকনাফ থানা সূত্র জানায়, মং মং সেন ঢাকায় একাধিকবার ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন। কিছুদিন আগে তিনি একটি মাদক মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়ে এখন কক্সবাজারে ফিরেছেন। এছাড়া এমপি বদির ফুফাতো ভাই কামরুল হাসান রাসেলের নামও আছে তালিকায়।

তালিকার ৭ নম্বরে থাকা জাফর ওরফে টিটি জাফরের ইয়াবা নেটওয়ার্ক দেশজুড়ে। আগে তিনি হুন্ডি ব্যবসা করতেন। হুন্ডি জগতেও তিনি মাফিয়া হিসেবে পরিচিতি পেলে তার নাম হয় টিটি জাফর। পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা সিআইডির তালিকায়ও টিটি জাফরের নাম রয়েছে। তবে সেখানে তার পরিচয় আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালানি হিসেবে।

বিস্ময়কর ব্যাপার হল, স্থানীয়ভাবে ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক নেতা হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকজন নেতার নামও ইয়াবা গডফাদারদের আশ্রয়দাতা হিসেবে তালিকায় উঠে এসেছে। যেমন বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর ছেলে রাশেদ ও মাহবুব মোরশেদের নাম আছে যথাক্রমে তালিকার ১১ এবং ৪৭ নম্বরে।

তালিকার ১৬ নম্বরে থাকা মাদক গডফাদার মীর কাশেম ওরফে কাশেম মেম্বারের পরিচয়- তিনি সরাসরি জাহাজে করে ইয়াবার চালান পাচার করেন। ১৭ নম্বরে থাকা সৈয়দ হোসেন সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর হোসেনের ভাই। তালিকার ২০ নম্বরে আছে আক্তার কামাল ও শহীদ কামাল দুই ভাইয়ের নাম। এরা স্থানীয় এমপি বদির আত্মীয়।

তালিকায় বলা হয়েছে, এরা বদির বোনজামাই পুলিশের সাবেক ওসি আবদুর রহমানের খালতো ভাই। স্থানীয়ভাবে এরা বদির বেয়াই হিসেবে পরিচিত। তালিকার ৩২ নম্বরে থাকা মৌলভী আজিজের নামটি খুবই উল্লেখযোগ্য। কারণ তিনি স্থানীয়ভাবে একজন দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, দানশীলতার আড়ালে তার আসল পরিচয় ইয়াবা গডফাদার।

মৌলভী আজিজের সঙ্গে রোহিঙ্গা কানেকশন অনেক শক্তিশালী উল্লেখ করে স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আজিজ মূলত রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের জন্য বিদেশ থেকে অনুদান আনেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তিনি মোটা অঙ্কের অনুদান পেয়ে থাকেন। এখন তার ইয়াবা নেটওয়ার্ক দেশের বাইরেও আছে কিনা, তা ক্ষতিয়ে দেখতে হবে। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি বেশ প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত।

তালিকার ৮৪ নম্বরে আছে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রেহানা আক্তারের ভাতিজা ইসমাইল হোসেনের নাম। তার বাড়ি ফেনী সদরের কাজীরবাগ এলাকায়। ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় মাদক গডফাদারদের মধ্যে আছে বিহারি ক্যাম্পের ইশতিয়াক, রামপুর থানা যুবলীগ নেতা তানিম ও মেরুল বাড্ডার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জয়নালসহ মোট ৩২ জন।

এছাড়া তালিকায় রাজশাহী বিভাগের মোট ২১ জন হেরোইন গডফাদারের নাম রয়েছে। এরা সীমান্তের ওপার থেকে বড় বড় হেরোইনের চালান এনে রাজশাহীর গোদাগাড়ি, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় বিক্রি করেন।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

রাজীবের দুই ভাইকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ স্থগিত

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২২ ০১:২৯:০৫

দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া রাজীবের দুই ভাইকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।

একইসঙ্গে রাজীবের দুর্ঘটনার জন্য কারা দায়ী এবং তার দুই ভাইকে কতটা ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায় তা নির্ধারণে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এই কমিটিকে আগামী ৩১ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হাসানের নেতৃত্বধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে গত ১৭ মে রায় ঘোষণার জন্য গতকাল দিন ধার্য করেন আদালত। গতকাল আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।

আদালতে বিআরটিসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু। রাজীবের পরিবারের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

গত ৮ মে রাজীবের দুই ভাইকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের মালিককে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশটি দিয়েছিলেন। এরপর এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।

গত ৩ এপ্রিল দুই বাস চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানো শিকার হন রাজীব। দুই বাসের চাপে হাত কাটা পড়ে রাজীবের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ৪ এপ্রিল রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

হাইকোর্ট অন্তবর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রুল জারি করেন। রাজীবের চিকিৎসার খরচ স্বজন পরিবহন মালিক এবং বিআরটিসিকে বহনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক কোটি টাকা দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে কার্যকর করতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আইন সংশোধন বা নতুন করে বিধিমালা প্রণয়নের কেন নির্দেশ দেওয়া হবেনা তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। রাজীব ১৬ এপ্রিল সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে মারা যান। এরপর ৬ মে এ তথ্য আদালতকে অবহিত করেন আইনজীবী।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বান্দরবানে পাহাড় ধসে ৪ শ্রমিক নিহত

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২১ ১২:৪৩:০৪

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুনধুম ইউনিয়নের মনজয়পাড়া এলাকায় পাহাড়ের একটি নালা কাটতে গিয়ে মাটি চাপা পড়ে ১ নারীসহ ৪ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ১ জন। আজ সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিজিবি, পুলিশ ও স্থানিয়রা সেখানে উদ্ধারে কাজ চালায়। নিহতদের লাশ ২০ ফুট মাটির নীচে চাপা পড়েছে বলে স্থানিয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আজিজ ও ইউপি সদস্য ক্যরাউ মারমা জানান, মনজয় পাড়া এলাকায় সুবায়ন বড়ুয়া প্রকাশ পুতুইন্না নামের জনৈক ব্যবসায়ী তার মাছের খামারে পাহাড় ঘেষে নালার তৈরী করতে ৫ শ্রমিক মাটি কাটছিল। দুপুর ১২ টার দিকে পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ শ্রমিকদের উপর ধসে পড়ে। এ সময় এক নারী শ্রমিকসহ ৪ জন মাটির নিচে চাপা পড়ে।
এরা হলো স্থানিয় সুলতান আহম্মদের ছেলে আবু আহম্মদ (৩০), মোঃ শাহাজাহানের ছেলে মোঃ জসিম (২৫), মৃত আবদু শুক্কুরের ছেলে নুরুল হাকিম (২৫) ও নারী শ্রমিক সোনা মেহের (৩৫)। সেখান থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় নুর মোহাম্মদকে (২৬)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান শ্রমিকরা পাহাড়ের নীচে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় কাজ করছিল। হঠাৎ তাদের উপর পাহাড় ধসে পড়লে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে মাটি চাপা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে কাজ করছে স্থানিয়রা। তাদের সাথে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা সহায়তা করছে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে কক্সবাজার থেকে দমকল বাহিনীর সদস্যরা সেখানে গেয়েছেন।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

অ্যান্ড্রয়েড ফোন কিনতে মন্ত্রী-সচিবরা পাচ্ছেন ৭৫ হাজার টাকা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২১ ১২:১৫:০৬

সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সচিব ও ভারপ্রাপ্ত সচিবেরা এখন থেকে মোবাইল ফোন কেনার জন্য ৭৫ হাজার টাকা করে পাবেন। এত দিন মোবাইল ফোন কেনার জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে তাঁরা ১৫ হাজার টাকা পেতেন। এ ছাড়া তাঁদের ফোন ব্যবহারের কোনো নির্ধারিত সীমা রাখা হচ্ছে না। যত খরচ হবে, তত টাকা সরকার থেকে দেওয়া হবে। এই সুবিধা রেখে সরকারি টেলিফোন, সেলুলার, সেট ও ইন্টারনেট নীতিমালা-২০১৮-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

আজ সোমবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সভার সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিবসহ যেসব সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সার্বক্ষণিকভাবে মোবাইলের সুবিধা পান না, তাঁরা মোবাইল ফোন ব্যবহার ভাতা হিসেবে মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। এত দিন তাঁরা ৬০০ টাকা করে পেতেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ২০০৪ সাল থেকেই এই নীতিমালাটা কার্যকর ছিল। এখন নীতিমালাটাকে যুগোপযোগী করা হলো। তবে মন্ত্রিসভায় কয়েকটি অনুশাসন দিয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের বিষয়টিও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার-প্রধানকে রোমিং সুবিধাসহ এখানে অন্তর্ভুক্ত করার অনুশাসন দিয়েছে।

মন্ত্রি পরিষদ সভায় হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট আইনের খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই আইনটি ১৯৭৭ সালে অধ্যাদেশ আকারে করা হয়েছিল। মূলত ১৯৭৭ সালের অধ্যাদেশকে আইন আকারে করা হচ্ছে।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

কেনো এই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড : এরশাদ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২১ ১২:০১:০২

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, গত ৩-৪ মাসে দেশে ৭২টি বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। অথচ প্রতিটি মানুষের ছিলো বিচার পাওয়ার অধিকার। জাতি আজ জানতে চায় কেনো এই বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড। তিনি বলেন, ব্যাংকে টাকা নেই। এর হিসেবও নেই। টাকাগুলো গেলো কই? কে দেবে এর হিসেব!
সোমাবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাপা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত ইফতার মাহফিলের পূর্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপির সভাপতিত্বে জহিরুল আলম রুবেলের পরিচালনায় আলোচনা সভায় দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এরশাদ বলেন, রমজান মাস আসলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মুল্য বৃদ্ধি হয়। অতি মুনাফার জন্য ব্যবসায়ীরা মানুষের রক্ত শোষণ করে। অথচ পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রেই পবিত্র এ রমজান মাসে সরকারসহ সকল ব্যবসায়ীরা ভূর্তকি দিয়ে থাকেন। শুধু আমরাই ব্যতিক্রম। তিনি বলেন, আমাদের নো ম্যানস ল্যান্ডে এখনও সাড়ে ৪লাখ মিয়ানমানের রোহিঙ্গারা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তারা ইফতার ও সেহেরি ঠিকমত করেছে কিনা তার খোজ কেউ রাখে না। তিনি তাদেরকেও বাংলাদেশে নিয়ে আশার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।
সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, ব্যাংকে টাকা নেই। এর হিসেবও নেই। টাকাগুলো গেলো কোথায়? কে দেবে এর হিসেব! অনেকেরই বিদেশে ৪-৫ বাড়ি। অথচ দেশের মানুষ ঠিকমত খেতে পারছে না। দেশের সর্বত্রই এ বৈষম্য। এ বৈষম্য দুরকরন করতে হলে দেশবাসিকে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় বসাতে হবে। আর জাতীয় পার্টি ক্ষমতা নিতে প্রস্তুত।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশে ৭০ লাখ মাদকসেবী

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২১ ১১:৫৪:২৭

বাংলাদেশে মাদক ব্যবসা এবং এর ব্যবহার এখন এক 'ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে' এবং 'রক্ষণশীল অনুমান অনুযায়ী' এখন দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৭০ লক্ষ এবং এর অধিকাংশই ইয়াবাসেবী - বলছেন একজন বিশেষজ্ঞ।

এটা ফিলিপিনের চাইতেও অনেক বেশি, কারণ ২০১৬ সালেও সেদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ছিল ১৮ লক্ষ" - বলছেন নর্থসা্‌উথ বিশ্বিবদ্যালয়ের অধ্যাপক এমদাদুল হক, যিনি উপমহাদেশে মাদকাসক্তির ইতিহাস নিয়ে একাধিক বই লিখেছেন।

ফিলিপিনে রডরিগো দুতার্তের সরকার গত বছর মাদকের বিরুদ্ধে যে সশস্ত্র অভিযান শুরু করে তাতে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৮শ'-রও বেশি মাদকাসেবী, বিক্রেতা বা পাচারকারী নিহত হয়েছে - যাকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো 'বিচার-বহির্ভূত হত্যা' বলে আখ্যায়িত করেছে।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক এমদাদুল হক বলেন, বাংলাদেশে এখন যে পরিস্থিতি তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ভয়াবহ।

বাংলাদেশেও মে মাসের শুরু থেকেই এক মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছে পুলিশ ও র‍্যাব, এবং সোমবার পর্যন্ত ১৭ দিনে পুলিশের ভাষায় 'বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ২৩ জন মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারী' নিহত হয়েছে।

এরা বিভিন্ন ধরণের মাদক বিশেষ করে ইয়াবা বিক্রি ও পাচারের সাথে জড়িত বলে বলা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলছেন, মাদকব্যবসার সাথে সন্ত্রাসী-অস্ত্রবাজরা জড়িত হয়ে পড়েছে এবং এ ব্যাপারে সরকার 'জিরো টলারেন্স' নীতি নিয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশে মাদক ব্যবসা এবং ব্যবহারের ব্যাপকতা আসলে ঠিক কতটা?

অধ্যাপক এমদাদুল হক বলছেন, বাংলাদেশে মাদকাসক্তদের একটা বড় অংশই হচ্ছে ইয়াবা সেবী। তা ছাড়া আছে ফেন্সিডিল, হেরোইন এবং অন্যান্য মাদক।

তিনি বলেন, এতদিন এ বিষয়টা খোলামেলা ভাবে আলোচিত হয় নি, কিন্তু পরিস্থিতি সত্যি ভয়াবহ।

"বিভিন্ন নিরাময় কেন্দ্রে গিয়ে আমি মাদকাসক্তদের সাথে কথা বলে আমি যে তথ্য পেয়েছি তা সরকারি পরিসংখ্যানের চাইতে বেশী। সব মিলিয়ে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৭ থেকে ১০ মিলিয়নের মধ্যে হবে।"

কিন্তু বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ এখন মাদকব্যবসা এবং পাচার ঠেকাতে যে কঠোর কর্মর্সূচি শুরু করেছে - তা কি এই সমস্যা মোকাবিলার সঠিক পন্থা?

বিবিসি বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেনের এ প্রশ্নের জবাবে মি. হক বলেন, এটা একটা বৈশ্বিক সমস্যা এবং এটা মোকাবিলার পন্থা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে, এ নিয়ে 'রাজনৈতিক হিপোক্রিসিও' কাজ করে।

"বাংলাদেশে এ সমস্যার মোকাবিলা করতে গেলে এর চাহিদা, সরবরাহ, চিকিৎসা - এরকম অনেকগুলো দিক দেখতে হবে। একক কোন পন্থা নিয়ে এরকম একটা বিরাট সমস্যার মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব। এর জন্য একটা সামগ্রিক কৌশলগত পরিকল্পনা এবং কার্যকর পদক্ষেপ লাগবে" - বলেন তিনি।

অধ্যাপক হক বলেন, মাদক পাচারের দুটো দিক আছে। একটি হলো পেডলার বা খুচরো বিক্রেতা, আরেকটা হচ্ছে যারা এই ব্যবসার মূল নিয়ন্তা - যারা গডফাদার।

বাংলাদেশে এ সরকারি অভিযানে যারা টার্গেট হচ্ছে তারা প্রধানত পেডলার লেভেলের। এখানে গডফাদারদের যে বিষয়টা তারা অনেক সময়ই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকে। তাদের হাতে কোন মাদক থাকে না, তাই এটা একটা আইনী সমস্যা যে কর্তৃপক্ষ তাদের পেছনে লাগলেও তাদের হাতে কিছু পায় না।

এই ব্যবসার সাথে জড়িত যারা তারা যদি রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশালী হয়, তাহলে যে অভিযান এখন চলছে - তাতে আসলে কতটা কাজ হবে?

এ প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক হক বলেন, "বাংলাদেশে এটা নির্বাচনের বছর। তাই সরকারের প্রতি আমার অনুরোধ - এই যে যারা গডফাদার আছে যাদের কথা সরকার নিশ্চয়ই জানে - তাদেরকে হয় শাস্তি দিতে হবে অথবা কঠোরভাবে সতর্ক করতে হবে, যাতে তারা এ থেকে বিরত হয়। এরকম একটা প্রভাব বিস্তারের পদক্ষেপ নেয়া যায় কিনা তা সরকার ভেবে দেখতে পারে।"


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

৭ জেলায় ‘ক্রসফায়ারে’ ৯ জন নিহত

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২১ ১১:৫১:৫৮

যশোর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, রাজশাহী ও গাজীপুরে পুলিশ ও র‌্যাবের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দিবাগত রাতে এসব ঘটনা ঘটে।

যশোর
আমাদের যশোর অফিস জানিয়েছে, যশোরে মাদক ব্যবসায়ীদের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনজন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। রোববার দিবাগত রাতে যশোরে শহরতলীতে এ ঘটনা ঘটে। সবাই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য, মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে গোলাগুলিতে এই তিনজন নিহত হন। ঘটনাস্থল সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা ও মণ্ডলগাতির মাঝামাঝি স্থান এবং তরফনওয়াপাড়া।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমল হুদা জানান, গভীর রাতে সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা ও মণ্ডলগাতির মাঝামাঝি ফাঁকা জায়গায় দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স গেলে অস্ত্রধারীরা পালিয়ে যায়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ আর দুটি শুটারগান ও দুই রাউন্ড গুলির খোসা।

অন্যদিকে, একই ধরনের ঘটনা ঘটে সদর উপজেলার তরফনওয়াপাড়া গ্রামের জনৈক নওয়াব আলীর মেহগনি বাগানে। সেখানে হাজির হয়ে পুলিশ দুটি লাশ, দুটি পিস্তল, দুই রাউন্ড তাজা গুলি, গুলির খোসা এবং ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। লাশ তিনটি আজ সোমবার ভোর চারটা থেকে সাড়ে চারটার মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ডাক্তার কল্লোলকুমার সাহা বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তিনজনেরই মৃত্যু হয়েছে। তাদের সবার মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়।

হাসপাতালের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, গুলিতে নিহত তিন ব্যক্তির বয়সই ৩৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। এদের একজনের গায়ে লাল স্যান্ডো গেঞ্জি ও চেক লুঙ্গি, একজনের গায়ে জাম রঙের হাফ হাতা গেঞ্জি ও সাদা থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট এবং অন্যজনের খালি গা ও পরনে চেক লুঙ্গি রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগরে রোববার রাতে পুলিশের গুলিতে মাদক বিক্রেতা জনাব আলি নিহত হয়েছে। মৃত জনাব আলি জীবননগর উপজেলার উথলি মালোপাড়ার মহাসিন ওরফে জামাত আলির ছেলে।

জীবননগর থানার ওসি মাহামুদুর রহমান বাসসকে জানান, রোববার রাতে জীবননগর থানা পুলিশের একটি টহল দল উপজেলার উথলি সন্যাসিপাড়া নামক স্থানের পাকা রাস্তার পাশে অবস্থান করছিল। ৩-৪ জন মাদক বিক্রেতা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছোড়ে। এসময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে মাদক বিক্রেতারা পিছু হটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি করে মাদক বিক্রেতা জনাব আলিকে গুলিবৃদ্ধ অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে। তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মশিউর রহমান মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান, দুই রাউন্ড গুলি, দেশীয় অস্ত্র ও এক বস্তা ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করে। নিহতের লাশ সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মৃত জনাব আলির বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় ৮-১০ মামলা রয়েছে।

টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা জানিয়েছেন, টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ (৪২) নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় দু’জন র‌্যাব সদস্যও আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

রোববার দিবাগত রাতে ঘাটাইল উপজেলার দেওলাবাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গোলাবারুদ এবং ফেন্সিডিল ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। নিহত আবুল কালাম আজাদ ঘাটাইলের পূর্ব পাকুটিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান খানের ছেলে।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-১২ জানায়, রোববার দিবাগত রাত ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে যে, ঘাটাইল উপজেলার দেওলাবাড়ী গ্রামস্থ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব আলীর ইটভাটায় ৫/৬ জন কুখ্যাত অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ী মাদক ব্যবসায়ের জন্য একত্র হয়েছে। ওই রাত পৌনে ১২টার দিকে র‌্যাব-১২ এর একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ শুরু করে। এ সময় র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টাগুলি ছুঁড়ে। এভাবে ১০/১৫ মিনিট ধরে চলে গুলি বিনিময়। একপর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে ইটভাটার চিমনির পশ্চিম পাশ থেকে আবুল কালাম আজাদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই গোলাগুলির ঘটনায় র‌্যাবের এএসআই (এবি) ছামিদুল ইসলাম ও ল্যা. নায়েক আনিছুর রহমান আঘাতপ্রাপ্ত হলে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, তিন রাউন্ড তাজা গুলি, একটি ম্যাগজিন, ১০০ বোতল ফেন্সিডিল, দেড় হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

নিহত আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন থানার অন্তত ছয়টি মাদকের মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানায় র‌্যাব। এ ঘটনায় অন্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহ সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ নরেন্দ্রপুর এলাকার র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সব্দুল মন্ডল (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছব্দুল মন্ডল উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি নাইন এমএম পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন, ১০০ বোতল ফেনসিডিল, ১৫০ পিস ইয়াবা, একটি হেলমেট ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে র‌্যাব।

ঝিনাইদহ র‌্যাব-৬ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক এএসপি গোলাম মোর্শেদ জানান, রোববার রাত আনুমানিক ২টার দিকে নরেন্দ্রপুর নামক স্থানে তাদের একটি টহল টিম চেকপোস্ট বসিয়ে দায়িত্ব পালন করছিল। সেসময় ওই স্থান দিয়ে একটি মোটরসাইকেলে ২-৩ জন লোক ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় র‌্যাব তাদের গতিরোধ করে। এসময় তারা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় সব্দুল। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত বলে ঘোষণা দেন। সে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

নরসিংদী
অপরদিকে নরসিংদীর পলাশে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইমান আলী (২৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার ঘোড়াশাল খালিশারটেক এলাকায় এ কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ সময় র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়। ইমান আলীর বাড়ি নরসিংদী সদর উপজেলার নাগরিয়াকান্দি গ্রামে।

র‌্যাবের দাবি, নিহত ইমান আলী নরসিংদীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও নিয়ন্ত্রক। বন্দুকযুদ্ধের পর ইমান আলীর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব ১১ কোম্পানি কমান্ডার মো: জসিম উদ্দিন বলেন, ইমান আলী শুধু মাদক ব্যবসায়ী নন, তিনি জেলার মাদক নিয়ন্ত্রক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, বিস্ফোরক, অস্ত্র ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ডজন মামলা রয়েছে। তার পুরো পরিবারই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

রাজশাহী
রাজশাহী ব্যুরো জানিয়েছে, রাজশাহীতে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জেলার পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। র‌্যাব-৫ রাজশাহীর উপ-অধিনায়ক মেজর এএম আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির নাম লিয়াকত আলী বলে তারা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন। তার বাড়ি পুঠিয়ায়। লিয়াকত পুঠিয়ার একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন।

তিনি আরো জানান, তারা থানায় খোঁজ নিয়ে জেনেছেন- লিয়াকতের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে। বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, এক রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি গুলির খোসা জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, রাতে পুঠিয়ার বেলপুকুর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়েন। আত্মরক্ষায় র‌্যাবও তখন পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। গোলাগুলি থেমে গেলে ঘটনাস্থলে লিয়াকত আলীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসময় লিয়াকতকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার লাশ রামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও র‌্যাব জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাজশাহী নগরীর নবগঙ্গা এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আবুল হাসান ওরফে হাসান ঘাটিয়াল নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। পবা উপজেলার সোনাইকান্দী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকের ১৬টি মামলা ছিল।

গাজীপুর
গাজীপুর সংবাদদাতা জানান, গাজীপুরের টঙ্গীতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হন পুলিশের দুই সহকারি উপপরিদর্শক। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত মাদক ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম ওরফে বেসতি রনি টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ১৪-১৫টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

টঙ্গী মডেল থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গেল রাত তিনটার দিকে পুলিশের একটি দল টঙ্গীর নিমতলী এলাকায় মাদক উদ্ধারের অভিযানে যায়। এসময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুঁড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুঁড়লে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ রনির মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এসময় সেখান থেকে কয়েক পুঁড়িয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গুলাগুলিতে পুলিশের সহকারি উপপরিদর্শক ওমর ফারুক ও আনোয়ার হোসেন আহত হন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নিহত রনির বিরুদ্ধে থানায় মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৪-১৫টি মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

দেশে যানজটে বছরে ক্ষতি ৩৭ হাজার কোটি টাকা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২০ ১৫:৫৪:৫৯

ঢাকায় প্রতিবছর যানজটের কারণে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। আর এ ক্ষতির পরিমাণ জাতীয় বাজেটের ১১ ভাগের এক ভাগ।

সাম্প্রতি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরই) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

১৯ মে, শনিবার বুয়েটের এক গোলটেবিল বৈঠকে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন এ তথ্য তুলে ধরেন। বৈঠকের আয়োজন করে দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট ও রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

প্রতিবেদনে যানজটের কারণে সময় নষ্ট এবং আর্থিক ক্ষতির হিসাব তুলে ধরা হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, যদি যানজট ৬০ শতাংশ কমানো যায় তাহলে বছরে ২২ হাজার ২০০ কোটি টাকা বাঁচানো যাবে। আর কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে এ যানজট ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কমানো সম্ভব। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা শহরের মোট দুর্ঘটনার ৭৪ শতাংশ ঘটে পথচারী পারাপারের সময়।

ড. মোয়াজ্জেম হোসেন ঢাকার গণপরিবহনগুলো প্রতিদিন ৩৬ লাখ ট্রিপে ৩৫ শতাংশ যাত্রীকে কর্মক্ষেত্রে নিয়ে যায় উল্লেখ করে বলেন, ‘যানজটের কারণে পিক আওয়ারে গণপরিবহনগুলোর গতিবেগ ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। যেখানে হেঁটে চলার গড় গতিও পাঁচ কিলোমিটার। ফলে প্রতিদিন ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। যানজটে প্রতি বছর ৩৭ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। নগরের যানজট যদি ৬০ শতাংশ কমানো যায়, তবে ২২ হাজার কোটি টাকা বাঁচানো যাবে।’

যানজটের কারণে মানব চরিত্রের নয়টি দিক নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে অধ্যাপক মোয়াজ্জেম বলেন, ‘মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের সামাজিক যোগাযোগে প্রভাব পড়ছে। গণপরিবহনে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের নানাভাবে নিগৃহীত হওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে আসে।’

নগরের যানবাহন পরিচালনায় শৃঙ্খলা আনতে বেসরকারি বাস কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘এখন ঢাকায় ১৫০ থেকে ২০০ বাস সার্ভিস চলছে। এটাকে প্রতিটি রুটে একটি করে কোম্পানিকে দায়িত্ব দিলে ভালো হয়। এতে করে সড়কে প্রতিযোগিতা কমবে।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি নগরে অপরিকল্পিত ফ্লাইওভার নির্মাণের সমালোচনা করেন। ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদে রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সভাপতি এআই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

এতো সুষ্ঠু নির্বাচন বাংলাদেশে কবে হয়েছে? খুলনা সিটি নির্বাচন নিয়ে শেখ হাসিনা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২০ ১৫:৪৬:০৬

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু হয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এতো সুষ্ঠু নির্বাচন বাংলাদেশে কবে হয়েছে? বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে সিলমারা, ভোটের বাক্স চুরি করাসহ যত অপকর্ম হয়েছে তা শুরু করে গেছেন জিয়াউর রহমান। রোববার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তার সঙ্গে খুলনা সিটির নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

জিয়াউর রহমানের হ্যাঁ-না ভোট থেকে শুরু করে খালেদা জিয়ার ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচন, মাগুরা, মিরপুর এবং ঢাকা-১০ নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণার মাধ্যমে দেশে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির সূচনা করেন।

খুলনা সিটি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় নবনির্বাচিত মেয়র এবং খুলনাবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দলের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে যে কোনো নির্বাচনে জয়লাভ আওয়ামী লীগের জন্য কোনো কঠিন কাজ নয়, তা আবার প্রমাণিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের ওপর জনগণের আস্থা থাকার কথা দাবি করে তিনি বলেন, যতগুলো আন্তর্জাতিক সংস্থা সার্ভে করেছে, তারা দেখেছে- গণমানুষের আস্থার জায়গায় আওয়ামী লীগের অবস্থান অনেক ওপরে।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন পুরোপুরে স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। তারা দলীয় মন্ত্রীদের নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ করতে দেয়নি। নির্বাচন কমিশনের যে রকম নিয়ম, তাতে আমাদের হাত-পা বাঁধা।

তিনি বলেন, ভারত এবং যুক্তরাজ্যে এ ধরনের নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত অংশগ্রহণ করে থাকে।

দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি আওয়ামী লীগের বিজয়ে দলের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুলের তৈরি নৌকা দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এসময় অন্যদের মধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শেখ হেলাল এমপি এবং দলের কেন্দ্রীয় ও খুলনার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

রাজধানী থেকে ২ কোটি ২০ লাখ টাকার মোবাইল ফোন জব্দ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-১৯ ১২:০৮:১৯

রাজধানীর উত্তরা, মহাখালী ও বসুন্ধরা সিটিতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন শোরুম থেকে ২ কোটি ২০ লাখ টাকার অননুমোদিত ২৭৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। তার মধ্যে আইফোন ১৩৩টি, এইচটিসি ১২৫টি, এলজি ১৫টি, অ্যাপলওয়াচ একটি ও আইপ্যাড একটি। অভিযানকালে নকল আইফোন তৈরির কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

মহাখালীস্থ টিজে গ্রুপের শোরুম থেকে সাত জন এবং উত্তরা নর্থ টাওয়ারের তালুকদার মোবাইল লিংক থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। আটকরা হলেন- কাজী ইশতিয়াক উদ্দিন, সারোয়ার হোসেন, মো. আফতাব উদ্দিন, মো. মাহবুব হাসান, মো. মহসিন আলী, মো. মাসুদুর রহমান, মো. নূর আলম, মো. রিয়াজ ও মো. নাজিমুল ইসলাম হৃদয়।

শনিবার দিনব্যাপী রাজধানীতে শুল্ক গোয়েন্দার একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে আইফোনগুলো জব্দ ও এই ৯ জনকে আটক করা হয় বলে আরটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালক ড. মো. সহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, রাজধানীতে অবৈধ আইফোন বিক্রি হচ্ছে এমন অভিযোগ অনেকদিনের। এরপর থেকে অবৈধ আইফোন জব্দ করতে রাজধানীজুড়ে অভিযান চালানো হয়। এসব আইফোন আমদানিকারকদের থেকে না কিনে চোরাইভাবে নিয়ে আসা হয়। ফলে তারা শুল্ক ফাঁকি দিচ্ছে। আমরা যেসব আইফোন জব্দ করেছি সেগুলোর কোনো বৈধ কাগজ নেই। আর এ কারণেই আমরা এসব জব্দ করেছি।

এদিকে সকালে পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি মার্কেট থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করে বের হয়ে আসার পথে ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীদের রোষানলে পড়েন এডিজি জিয়া উদ্দিনসহ শুল্ক গোয়েন্দার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের নিরাপত্তায় শপিং কমপ্লেক্সের সামনে জড়ো হয় র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। এসময় বসুন্ধরা সিটির সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ব্যবসায়ীরা। এতে পুরো এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি প্রায় কয়েক ঘণ্টাজুড়ে বসুন্ধরা সিটিতে থাকা ক্রেতাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় আতঙ্ক। পরে জব্দ আইফোনগুলো ফেরত নিতে বসুন্ধরা গ্রুপের অ্যাডমিন অফিসার মোহাম্মদ আলী, বসুন্ধরা মোবাইল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বোরহান উদ্দিন ও এডিজি জিয়া উদ্দিনসহ শুল্ক গোয়েন্দারা কয়েকঘণ্টা বৈঠক করেন।

এসময় মোবাইল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বোরহান উদ্দিন বলেন, বিনা নোটিশে শুল্ক গোয়েন্দারা আমাদের মোবাইল মার্কেটে অভিযান চালিয়ে কোটি টাকার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। তারা স্থানীয় পুলিশকে কিছু না জানিয়েই এ অভিযান চালায়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় তারা কোনো কাগজপত্র দেখাননি। ক্রেতা ও বিদেশ থেকে আসা মানুষদের কাছ থেকে ফোনগুলো কেনেন, তাদের কাছে সেই কাগজও আছে। কিন্তু আমদানিকারকের মাধ্যমে তারা কেনেননি।

শুল্ক গোয়েন্দার এডিজি জিয়া উদ্দিন বলেন, বৈধভাবে অপারেশন পরিচালনা করা হয়েছে। দোকানিরা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি তাই তাদের ফোন জব্দ করা হয়েছে। বৈধ কাগজ দেখাতে পারলে জব্দ মোবাইল ফোন ফেরত দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালক ড. মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, চোরাচালানের মাধ্যমে যারা মোবাইল ফোন নিয়ে আসছেন অথবা যারা নকল মোবাইল ফোন বাজারজাত করছেন তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের আওতায় আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে। এ চক্র যতই শক্তিশালী হোক না কেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। কারণ নকল ও চোরাচালানের মাধ্যমে আনীত মোবাইল ফোনের কারণে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। তাই এখন থেকে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান চলবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

উল্লেখ্য, অভিযানে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, রাজস্ব কর্মকর্তা, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন। র‌্যাব, পুলিশ ও আনসারবাহিনী অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করেন।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

কারাগারে খালেদার জন্য সাড়ে ৩৯ টাকার ইফতার

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-১৮ ১২:২৩:২৭

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে তার গৃহপরিচারিকা ফাতেমা বেগমের সঙ্গে প্রথম রোজার ইফতার করেছেন।

১৮ মে, শুক্রবার নাজিমুদ্দিন রোডের ওই কারাগারে প্রচলিত ইফতারি সামগ্রী গ্রহণ করেন খালেদা জিয়া।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারিভাবে সাধারণ একজন বন্দীর জন্য ইফতারে ২৭ টাকা ২০ পয়সা এবং প্রথম শ্রেণির একজন ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দীর জন্য ৩৯ টাকা ৫০ পয়সা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তাই ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে সরকারিভাবে খালেদা জিয়ার জন্যও একই টাকা ইফতারের বরাদ্দ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউএনবি  জানায়, খালেদা জিয়ার ইফতারের মেন্যুতে ছোলা, পিঁয়াজু, মুড়ি, খেজুর, জুস এবং ফলমূল ছিল।

চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত সহকারী এবিএম আব্দুস সাত্তার বলেন, প্রথম রোজার ইফতারি নিয়ে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। অবশ্য কারা কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়নি।

পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ তার পার্টির সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে ইফতারি দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ সেগুলো গ্রহণ করেনি।

প্রত্যেক বছরের প্রথম রোজায় খালেদা জিয়া এতিম শিক্ষার্থী এবং আলেম-ওলামাদের সঙ্গে ইফতার করতে অভ্যস্ত। এবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড হওয়ায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন বিএনপিপ্রধান। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তার গৃহপরিচারিকাও কারাগারে রয়েছেন।

দলের চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে রাজধানীর লেডিস ক্লাবে এতিম শিক্ষার্থী এবং আলেম-ওলামাদের জন্য ইফতারের আয়োজন করে বিএনপি। অবশ্য খালেদা জিয়া না থাকায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির চেয়ারটি ফাঁকা ছিল।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ছাত্রলীগ নেত্রী এশাকে হেনস্তায় ২৫ ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-১৮ ১২:১৮:৩৫

কোটা সংস্কারের আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া হলে ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে হেনস্তার ঘটনায় ওই হলের ২৫ ছাত্রীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ১০ এপ্রিলের সেই ঘটনার পরে গঠিত তদন্ত কমিটি যাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে তাদেরকে এই নোটিশ দেয়া হয়েছে।

প্রক্টরের সই করা এই নোটিশে দুই সপ্তাহের মধ্যে ছাত্রীদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো জবাব না পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এতে বলা হয়েছে, বিগত ১০ এপ্রিল মঙ্গলবার মধ্যরাতে আপনি কবি সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অসত্য রটনা ও গুজব ছড়িয়েছেন যে, উক্ত হলের আবাসিক ছাত্রী ইফফাত জাহান ইশা, মোর্শেদা আক্তার নামক একজন আবাসিক ছাত্রীর রগ কেটে দিয়েছে এবং তাকে মারধর করেছে। তার আলোকচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

নোটিশে ওই ছাত্রীদের বলা হয়, আপনার এ ধরনের পূর্বপরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র ও প্রচারণা হলের ছাত্রীদের ভীষণভাবে উত্তেজিত ও আতঙ্কিত করে। তাছাড়া আপনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে সংঘবদ্ধ হয়ে ইফফাত জাহান ইশাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন এবং জোরপূর্বক ইফফাত জাহান ইশার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেন এবং তার বস্ত্র হরণ করেন।

এ ঘটানর প্রেক্ষিতে ঘটিত তদন্ত কমিটি ঘটনার সঙ্গে আপনার জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যকলাপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে ভীষণভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও আইনের সুস্পষ্ট পরিপন্থি।

গেল ১৮ এপ্রিল শৃঙ্খলা পরিষদের সুপারিশ ও ৩০ এপ্রিলের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ নোটিশ দেয়া হয়।

এ ঘটনার কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না তার কারণ চিঠি পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রক্টরের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। জবার না দিলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একতরফাভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিতা রেজওয়ানা রহমান জানিয়েছেন, কারণ দর্শানোর এই নোটিশ ছাত্রীদের হলের ঠিকানা, বিভাগের ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কারের আন্দোলনের সময় ১০ এপ্রিল রাতে ছাত্রলীগের হল শাখার সভাপতি ইফফাত জাহার ইশার বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে রগ কাটার অভিযোগ ওঠে।। শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ইশাকে জুতার মালা পরায়। 

এঘটনায় ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এশাকে বহিষ্কার করে। পরে জানা যায় রগ কাটানোর তথ্যটি সঠিক ছিল না। পরবর্তীতে এশার বহিষ্কার আদেশ তুলে নেয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত ছাত্রীদের বিরুদ্ধে শুরু হয় তদন্ত।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চাচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-১৮ ১২:১২:৫০

বিএনপি আগামী নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার পথ খুঁজছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। খুলনা সিটি করপোরেশন ও বার কাউন্সিল নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে কাদের বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে জিতবে, বিএনপি এ আশা হারিয়ে ফেলেছে। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে নানান ছলছুতায় নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার পথ খুঁজছে।’

শুক্রবার (১৮ মে) দুপুরে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা নির্বাচনে আসবে কি আসবে না। এর জন্য আওয়ামী লীগকে দোষ দিয়ে কোনও লাভ নেই।’

বিএনপির হেরে যাওয়ার ট্রেন্ড শুরু হয়ে গেছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনে বিএনপির হেরে যাওয়ার ট্রেন্ড শুরু হয়ে গেছে। পর্যবেক্ষকরাও বলছেন খুলনায় দু’তিনটা অনিয়ম ছাড়া প্রত্যেকটাতেই নির্বাচন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার হয়েছে। শুধু বিএনপি এই নির্বাচন মেনে নিতে পারেনি। এক লাখ দশ হাজার ভোট পেয়েছে। নির্বাচন ফেয়ার না হলে বিএনপি এত ভোট পেত? নেতিবাচক রাজনীতির কারণে তাদের ভোট কমে যাচ্ছে।’

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি বা জামিনের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জামিন হয়েছে আইনি প্রক্রিয়ায়। জামিন এবং মুক্তি দিতে পারে আদালত। এটা সরকারের কোনও বিষয় না। এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই।’

এ সময় তিনি বিএনপিকে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আইনি লড়াইয়ে যান, আইনি লড়াইয়ে আপনারা এক মামলায় জামিন হয়েছে, আরও মামলা আছে। আরও লড়াই করুন, আদালতই জামিন দিতে পারে।’

খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে জামিনের পরও সরকার তাকে মুক্তি দিচ্ছে না বিএনপির এমন অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘মামলা কয়টা, জামিন কয়টার হবে? আর এটা আমাদের বিষয় নয়। আওয়ামী লীগ তো মামলাও দেয়নি, জামিনও দেয়নি। এই মামলা করেছে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার। অবিরাম মিথ্যাচার করছে, মনে হচ্ছে এই মামলা যেন আওয়ামী লীগ দিয়েছে। মামলার দণ্ড দিয়েছে আদালত, তাকে মুক্তিও দিতে পারে আদালত, জামিনও দিতে পারে আদালত। আওয়ামী লীগ সরকার জামিন দিতে পারে না।’

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশিরা কি আমাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে। মি. হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, তার দেশ কি আমাদের ক্ষমতায় বসাবে? আমাদের ক্ষমতায় বসাবে বাংলাদেশের জনগণ, তারা আমাদের বন্ধু। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আমরা সুদৃঢ় করতে চাই। আমরা আমাদের নিজেদের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই।’

দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যালঘু না ভেবে মাথা উচু করে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনারা নিজেদের মাইনরিটি ভাবেন কেন। আপনাদের ভোটের মূল্য কম আর মুসলমানদের ভোটের মূল্য বেশি এটা কি সংবিধানে আছে। ভোটের অধিকার সবার সমান। নিজেদের দুর্বল ভাববেন না। মাথা উঁচু করে, শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়ান।’

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ফ্লুরিডায় গৌরবের সাক্ষী হতে গিয়ে দেশের বদনাম কুড়ালেন এমপি

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-১৮ ১২:০২:১১

নন-স্মোকিং হোটেলে ধুমপান করে কার্পেট আগুনে পুড়ানোর অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ-২ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে।  

গত ১১ মে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট মহাশূন্যে উৎক্ষেপনের দৃশ্য কাছে থেকে অবলোকন করতে সরকারি প্রতিনিধিদলের সদস্য হয়ে এমপি শরীফ ওয়াশিংটন যান।

বাংলাদেশ দূতাবাসের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে প্রতি রাত ২৫৯ ডলার হারে ৯ মে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ককোয়া বিচ সিটির কোর্টিয়ার্ড বাই ম্যারিয়ট হোটেলের ৭২০ নম্বর স্যুইট ভাড়া করা হয়। 

১০ মে রাত ১০টায় হোটেল কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। 

হোটেলের ডিউটি ম্যানেজার ক্রিস স্মিথ জানান, ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে ৯ মে ওই স্যুইট ভাড়া করা হয় প্রতি রাত ২৫৯ ডলার হারে। কক্ষটি হচ্ছে নন-স্মোকিং অর্থাৎ ধূমপান একেবারেই নিষিদ্ধ। কিন্তু তারপরেও ওই কক্ষের গেস্ট শরীফ আহমেদ ধুমপান করেন। এরপর তার আগুন ধরা সিগারেট প্লাস্টিক ট্র্যাশে নিক্ষেপ করেন। সেই ট্যাশ পুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে কক্ষের কার্পেটে। আগুনের গন্ধ পেয়ে হাউজকিপার হন্যে হয়ে খোঁজ করেন কোন কক্ষ থেকে গন্ধ আসছে।

তিনি বলেন, হাউজকিপার তারাতারি বিষয়টি শনাক্ত করতে পারায় বড় ধরনের একটি দুঘর্টনা থেকে পুরো হোটেল রক্ষা পেয়েছে।

হোটেল ম্যানেজার জানান, বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাসহ দূতাবাসকে অবহিত করা হয়েছে।

কার্পেট পুড়ে ফেলাসহ অন্যান্য ক্ষতির জন্য মোট ৪৫০ ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এ অর্থ আদায় করা হবে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে।

এ ব্যাপারে বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ কোন মন্তব্য না করে বলেন, এমন পরিস্থিতি সত্যি বিব্রতকর ও লজ্জাজনক।

এমপি শরীফের এই ধরনের কার্যক্রমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।  তিনি বলেছেন, মহাশূন্য বিজয়ের গৌরবময় অধ্যায়ে এমন কাণ্ড খুবই দুঃখজনক। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদলের সদস্য হয়ে দূতাবাসের নামে নেয়া কক্ষে এমন কাণ্ড মেনে নেয়া যায় না।

এ ব্যাপারে এমপি শরীফ বলেন, আমার বিরুদ্ধে এটি একটি সাজানো অভিযোগ। কোথায় ধুমপান করা যাবে আর কোথায় যাবে না সেটি একজন সদস্য সদস্য কি বুঝেন না। যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা কাল্পনিক। আমি নিজেও জরিমানার বিষয়ে দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না বলে জানিয়েছে।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত