যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 04:26pm

|   লন্ডন - 11:26am

|   নিউইয়র্ক - 06:26am

  সর্বশেষ :

  চাকরি করেন স্ত্রী, ৩ বছর ধরে অফিস করেন স্বামী   দারিদ্র্য বিমোচনের গবেষণায় অর্থনীতির নোবেল   রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ৫ গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ   জেরুসালেমের গভর্নরকে ধরে নিয়ে গেছে ইসরাইলি পুলিশ   সীমান্তে স্থলমাইন স্থাপনের তথ্য অস্বীকার করেছে মিয়ানমার   দেশ থেকে ৯ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে : মেনন   ভারতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ১২ জন নিহত   প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করল আবরারের পরিবার   ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে পরোয়ানা হাইকোর্টে স্থগিত   রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড পেল ন্যাশনাল ও নেক মানি এক্সচেঞ্জ   র‍্যাব পরিচয় দেয়ার পরও নির্যাতন চালায় ভারতীয় বিএসএফ!   আল-আকসায় ইহুদিদের প্রার্থনার অনুমতি দিতে যাচ্ছে ইসরাইল   ভাইরাল আবরারের সেই ফেসবুক স্ট্যাটাস   কারাগারে অনিককে পেঠালো কয়েদিরা   সৌদি-ইরান মধ্যস্থতায় ছুটছেন ইমরান খান

>>  স্বদেশ এর সকল সংবাদ

চাকরি করেন স্ত্রী, ৩ বছর ধরে অফিস করেন স্বামী


পিআইও অফিসে চাকরি পেয়েছিলেন ঝুমুর রাণী। কিন্তু কর্মস্থলে যোগদানের পর একদিনের জন্যও অফিসে দেখা যায়নি তাকে। এরপর পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ তিন বছর। এই দীর্ঘ তিন বছর ধরেই ঝুমুর রাণীর স্বামী শুভ সিকদার স্ত্রীর কর্মস্থলে স্ত্রীর চেয়ারে বসেই প্রক্সি দিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার পিআইও অফিসে। এদিকে অফিসে কেবল স্ত্রীর প্রক্সি নয়, রাঙ্গাবালী পিআইও অফিসের ঘুষের লেনদেনও হয় ঝুমুর রাণীর স্বামী অভিযুক্ত শুভ সিকদারের মাধ্যমে।

বিষয়টি নিয়ে অনেকের ক্ষোভ থাকলেও পিআইও’র স্নেহধন্য হওয়ায় অভিযুক্ত শুভ বা তার স্ত্রী ঝুমুর রাণীর বিরুদ্ধে

বিস্তারিত খবর

সীমান্তে স্থলমাইন স্থাপনের তথ্য অস্বীকার করেছে মিয়ানমার

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১৪ ১১:৩০:৪৫

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের মিয়ানমার অংশে স্থলমাইন পুঁতে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিয়ানমার। সোমবার (১৪ অক্টোবর) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)-এর রিজিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের পর এই তথ্য জানা গেছে।

বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় বিজিবি’র কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজেদুর রহমান বলেন, ‘সীমান্তে স্থলমাইন ও আইডি স্থাপনের বিষয়টি মিয়ানমার অস্বীকার করেছে। কিন্তু সেগুলো সরিয়ে নিতে বিজিবি’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তবে দেশে ফিরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করেছেন তারা (বিজিপি)।’

সোমবার টেকনাফ সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন ‘সেন্ট্রাল রির্সোট’ এর সম্মেলন কক্ষে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে দিনব্যাপী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক প্রসঙ্গে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজেদুর রহমান বলেন, ‘উভয় দেশের মধ্যে সু-সম্পর্ক বজায় রাখা, ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদক, মানব পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে দুই দেশ ঐক্যমত পোষণ করেছে। এছাড়া সীমান্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার ঠেকাতে তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। জবাবে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। তারা জানিয়েছে- বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইয়াবা পাচারে জড়িত, তাই মিয়ানমার সরকার তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।’

বিজিবি প্রতিনিধিদলের প্রধান আরও বলেন, ‘সীমান্তে গুলি বর্ষণের বিষয়ে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতাসহ সীমান্তে সশস্ত্র গ্রুপের কার্যক্রম বন্ধে এক সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।’ 

উল্লেখ্য, বৈঠকে অংশ নিতে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী ১ নম্বর বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)-এর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিং টুই এর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের প্রতিনিধিদল সকাল সাড়ে ৯টায় টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট ঘাটে এসে পৌঁছে। সেখানে থেকে সেন্ট্রাল রির্সোট সম্মেলন কক্ষের বৈঠকে যোগ দের তারা। বৈঠকে বিজিবি’র পক্ষে নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজেদুর রহমান।

বিস্তারিত খবর

দেশ থেকে ৯ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে : মেনন

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১৪ ১১:২৮:৪১

দেশ থেকে এ পর্যন্ত নয় লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে সোমবার দাবি করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে এ পর্যন্ত নয় লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। গত অর্থমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন যে পাঁচ লাখ পঁচিশ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, যা দিয়ে দেশের একটি বাজেট তৈরি করা যায়।’

দুপুরে গাজীপুরে বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে ওয়াকার্স পার্টির গাজীপুর জেলা শাখার সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ বলেন।

ক্যাসিনো পরিচালনাকারীরা ক্ষমতার মধু চাটার জন্য দলে অনুপ্রবেশ করে জানিয়ে মেনন বলেন, ‘ক্যাসিনো চালকরা শত শত কোটি টাকা কামাই করে ও খেলাপি ঋণের টাকা বিদেশে পাঠিয়ে সেকেন্ড হোম বানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। এদের ছাড়বেন না, এদের শিকড় অনেক গভীরে, এরা অনুপ্রবেশকারী হয়েও ক্ষমতা পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।’

তার মতে, প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। কিন্তু তার উন্নয়নের সুফল গুটিকয়েক লোকের হাতে চলে যাচ্ছে। শতকরা মাত্র পাঁচজন লোক উন্নয়নের সুবিধা পাচ্ছে।

‘স্বাধীন বাংলাদেশে কেউ খাবে তো কেউ খাবে না তা হতে দেয়া যাবে না। আমাদের মধ্যকার বৈষম্য কমাতে হবে। নারী পুরুষের ও শোষক-শোষিতের বৈষম্য কমিয়ে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক সমতা বিধান করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন, আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

রাজনীতিকে দুর্বৃত্তায়ন করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীরা রাজনীতিতে ঢুকে পড়ছে। সংসদ ে বড়লোক ও ব্যবসায়ী-মিল মালিকদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ওঠে দাঁড়িয়েছে, আরও দাঁড়াতে হবে। আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে।’

তরুণ সমাজের উদ্দেশে মেনন বলেন, ‘আমাদের জেগে উঠতে হবে নীতি-আদর্শ ও আন্তরিকতার ওপর ভর করে। আমাদের গৌরবের ইতিহাস আছে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে আন্তরিকতার সাথে সব ধরনের শোষণ-বৈষম্য সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। মেহনতি মানুষের অধিকার আদায় করতে হবে।’

পার্টির জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন পলিট ব্যুরোর সদস্য মাহমুদুল হাসান মানিক, শ্রমিকলীগ মহানগর শাখার সভাপতি আব্দুর রশিদ, জাসদ মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রানা, গণতান্ত্রিক পার্টির জেলার সভাপতি মনোজ কুমার গোস্বামী প্রমুখ।

বিস্তারিত খবর

প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করল আবরারের পরিবার

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১৪ ১১:১৬:৪৪


বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উপায় খুঁজতে আইনমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিহত আবরারের পরিবার সোমবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি বলেন, ‘মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির উপায় খোঁজার জন্য আমি ইতিমধ্যে আইনমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছি।’

সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

তিনি জানান, একজন মায়ের অবস্থান থেকে বিষয়টি দেখায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ও মা রোকেয়া খাতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তারা সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য প্রশাসন, পুলিশ ও দেশের সাধারণ মানুষের প্রতিও কৃতজ্ঞা জানান।

শেখ হাসিনা আবরারের বাবা-মাকে বলেন, ঘটনা ঘটার পর কে কোন দলের তা দেখা হয়নি। ‘তারা কোন দলের তা আমি জানতে চাই না। আমার কাছে হত্যাকারী একজন হত্যাকারীই, সন্ত্রাসী কেবল সন্ত্রাসীই।’

‘আপনারা যা হারিয়েছেন, তাতে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা আমার কাছে নেই। আমার দিকে দেখুন, এক রাতে আমি সবকিছু হারিয়েছি। নিকট আত্মীয় হারানোর ব্যথা আমি বুঝি,’ বলেন তিনি।

হত্যাকারীরা মানুষ নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা কীভাবে তাকে হত্যা করতে পারে, যার সাথে তারা পড়াশোনা করছিল?

ঘটনার পর পরই পুলিশকে সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তবে বুয়েটের কিছু শিক্ষার্থী ফুটেজ সংগ্রহে কেন বাধা দিচ্ছিল তা আমার কাছে পরিষ্কার নয়।’

প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, বৈঠক কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনের পরই তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পরেন আবরারের মা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও তাকে জড়িয়ে ধরে নির্ধারিত আসনে বসার পরিবর্তে সেখানেই বসে যান।

এ সময় অন্যদের মধ্যে আবরারের ভাই আবরার ফায়েজ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আতউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ছাত্রলীগের নৃশংস নির্যাতনের শিকার হয়ে গত ৭ অক্টোবর বুয়েটের ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ (২১) নিহত হন।

এ ঘটনায় তার বাবা ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি পরে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়।

মামলায় এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত ১৫ জনসহ ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বিস্তারিত খবর

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে পরোয়ানা হাইকোর্টে স্থগিত

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১৪ ১১:১৪:৫৫

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের তিন শ্রমিককে চাকরিচ্যুতির ঘটনায় করা তিন মামলায় নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ও গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি মামলা তিনটির কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে।

বিচারপতি মোহাম্মাদ আব্দুল হাফিজ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন। আদালতে ড. ইউনূসের পক্ষে করা আবেদনের ওপর শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সে কয়েকজন শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়ন করার উদ্যোগে বাধা দিয়ে তিনজন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়। পরে এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত তিন শ্রমিক ড. ইউনূসসহ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজনীন সুলতানা ও উপ-মহাব্যবস্থাপক খন্দকার আবু আবেদীনকে বিবাদী করে শ্রম আদালতে মামলা করেন।

মামলার বাদীরা হলেন- চাকরিচ্যুত তিন শ্রমিক প্রস্তাবিত গ্রামীণ কমিউনিকেশন্স শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, প্রচার সম্পাদক শাহ আলম ও সদস্য এমরানুল হক।

গত ৩ সেপ্টেম্বর ড. ইউনূসহ এ মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধে সমন নোটিশ জারি করেন শ্রম আদালত। আসামিদের আদালতে উপস্থিতির ধার্য দিন গত ৯ অক্টোবর ড. ইউনূস অনুপস্থিত ছিলেন। বিদেশে অবস্থানরত তার পক্ষে আদালতে কোনো ওকালতনামাও দাখিল করা হয়নি। পরে ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান রহিবুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেন।

সোমবার ড. ইউনূস তার বিরুদ্ধে তিন মামলা বাতিল ও শ্রম আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন।

বিস্তারিত খবর

ভাইরাল আবরারের সেই ফেসবুক স্ট্যাটাস

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১৩ ১২:৪৬:৩৮


বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনার পর আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে তার ফেইসবুক স্ট্যাটাস।

অভিযোগ রয়েছে, মূলত ফেসবুকে লেখালেখির কারণে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

গত ৫ অক্টোবর ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন আবরার ফাহাদ। আবরারের সেই স্ট্যাটাসটি রাইজিংবিডির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

১. ৪৭ এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোন সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ছয় মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিছিলো। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।

২.কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েকবছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চাই না সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড়লাখ কিউবিক মিটার পানি দিব।

৩.কয়েকবছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তরভারত কয়লা-পাথর রপ্তানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব।

হয়তো এসুখের খোঁজেই কবি লিখেছেন-
"পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি

এ জীবন মন সকলি দাও,

তার মত সুখ কোথাও কি আছে

আপনার কথা ভুলিয়া যাও।"

প্রসঙ্গত, রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলের দ্বিতীয়তলা থেকে আবরার ফাহাদদের মরদেহ উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। নিহত আবরার ফাহাদ ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল।

বিস্তারিত খবর

কারাগারে অনিককে পেঠালো কয়েদিরা

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১৩ ১২:৪৫:৩১


বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি অনিক কারাগারে তোপের মুখে আছেন। সাধারণ হাজতি এবং কয়েদিরা আবরারকে নিদর্য়ভাবে হত্যা মেনে নিতে নিতে পারেননি। তারা অনিককে পিটিয়েছে বলে জানা গেছে।

রোববার দুপুরে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুর ইসলামের এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ভেতরে তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। অনিককে আনার পর তাকে সাধারণ একটি সেলে রাখা হয়েছে।

কারা  সূত্র বলছে, আবরার হত্যা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। ফলে কারাগারের ভেতর হাজতি এবং কয়েদিরাও এ ঘটনা জানতে পারেন।

তারা মেধাবী এই ছাত্রকে এভাবে নির্মম নির্দয়ভাবে পিটিয়ে হত্যা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। শনিবার সন্ধ্যায় অনিককে যখন কারাগারের প্রধান ফটকে নেওয়া হয় তখন সাধারণ হাজতি এবং কয়েদিরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।

তারা অনিককে মারতে তেড়ে আসেন। তাকে চড়-থাপ্পর মারেন। এরপর কারা অভ্যন্তরে আইন-শৃঙ্খলায় নিয়োজিত সদস‌্যরা তাকে উদ্ধার করে।

বুয়েটের ২০১১ নম্বর রুমে আবরারকে অনেকেই পিটিয়ে হত্যা করলেও অনিক ছিল অগ্রণী ভূমিকায়। তিনি অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় স্টাম্প দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছেন আবরারকে। অনিক ইতোমধ্যে এ হত্যায় তার সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে আবরারকে পিটিয়ে হত্যার লোমহষর্ক বণর্না দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগ বুয়েট শাখার নেতাকর্মীরা আবরারকে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করেন। পরে এ ঘটনায় আবরারের বাবা ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় অনিক অন্যতম অভিযুক্ত।

বিস্তারিত খবর

আবরারের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রিট

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১৩ ১২:৪২:৪১

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনায় তার পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

ক্ষতিপূরণের সঙ্গে বিচার বিভাগীয় তদন্ত (জুডিশিয়াল ইনকয়ারি) এবং আবরারের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহিন বাবুর পক্ষে অপর আইনজীবী এ কে এম ফায়েজ জনস্বার্থে রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

এ বিষয়ে একেএম ফয়েজ পরে বলেন, ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া, ওই ঘটনা বিচারিক কমিটি দিয়ে তদন্ত ও আবরার ফাহাদের পরিবারের নিরপাত্তা নিশ্চিতে নির্দেশনা জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর হাতে নির্দয় পিটুনির শিকার হয়ে মারা যান তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ ব্যাচ) ছাত্র আবরার ফাহাদ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত করতে ডিবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিস্তারিত খবর

মদ পানেই মারা গেলেন মাদক কর্মকর্তা মনোজিৎ কুমার!

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১৩ ১২:৪১:৪১

মদ পানেই মারা গেলেন খুলনার সেই মাদক কর্মকর্তা মনোজিৎ কুমার বিশ্বাস। দুর্গাপূজায় বিজয় দশমীর রাতে খুলনায় মদপানে নিহত নয়জনের মধ্যে রয়েছেন তিনিও।

২০১৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নিজেরা মদ খেয়ে গাঁজাসহ গ্রেফতার দুই সন্দেহভাজনকে নিয়ে খুলনার বটিয়াঘাটা থানায় গিয়েছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তা (এসআই) মনোজিৎ কুমার বিশ্বাস।
তার সঙ্গে ছিলেন গোয়েন্দা শাখার সেপাই মো. সেলিম ও সোর্স (তথ্যদাতা) সুশীল। থানায় তাদের মাতলামিতে সন্দেহ হয় পুলিশের। পরে পুলিশ তাদের আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের খবর দেয়। কর্মকর্তারা তাদের সহকর্মীদের মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনলেও ওই সোর্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ।

এ ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয় মনোজিৎকে। পরবর্তীতে বিভাগীয় মামলায় ডিমোশন দিয়ে এসআই থেকে এএসআই করা হয়। আগস্টে যোগ দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ে। খুলনার সেই মাদক কর্মকর্তা মনোজিৎ কুমার বিশ্বাস সর্বশেষ মদ পানেই মারা গেলেন।

ঘটনার বিষয়ে ওই সময় বটিয়াঘাটা থানার তৎকালীন ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, ১৫০ গ্রাম গাঁজাসহ দুইজন আসামি নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে মাদক নিয়ন্ত্রণের এসআই মনোজিৎ কুমার থানায় আসেন মামলা করতে। মামলা নেয়ার সময় বাংলা মদের গন্ধ পাই।

ওসি আরো বলেন, মদের গন্ধ পেয়ে আমি এসআই মনোজিৎকে বললাম, ধরছেন গাঁজা আর বাংলা মদের গন্ধ বের হচ্ছে। বাংলা মদ আবার খাইল কে? তখন এসআই মনোজিৎ ‘সরি স্যার, সরি স্যার’ বলা শুরু করেন। আমি বললাম, আপনি যদি (মদ) খেয়ে থাকেন, তবে আপনি এখানে আসছেন কেন? পরে বাইরে গিয়ে দেখলাম তাদের সঙ্গে আসা একজন সেপাই দাঁড়ানো। তার মুখ থেকেও মদের গন্ধ আসছে। এরপর দেখি আমার পুলিশের সঙ্গে একজন তর্কাতর্কি করছে, মাতলামি করছেন। জানতে পারলাম, তিনি তাদের সোর্স সুশীল বিশ্বাস। পরে তিনজনকে বসিয়ে রেখে তাদের কর্তৃপক্ষকে জানাই। পরে এসআই মনোজিৎ, সেপাই সেলিম ও তাদের সোর্স সুশীলকে হাসপাতালে নিয়ে ‘স্টমাক ওয়াশ’ করানো হয়। হাসপাতালের দেয়া সনদের ভিত্তিতে সোর্সের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

খবর পেয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের জেলা কর্মকর্তারা থানায় যান। তারা তাদের দুই সহকর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে পুলিশকে জানান। এরপর আটক এসআই ও সেপাইয়ের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের জিম্মায় দেয়া হয়। মুচলেকায় তারা উল্লেখ করেন, ‘তারা মদ খেয়েছিলেন, এরপরে আর কোনোদিন এমন করবেন না’।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর খুলনার উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, গাঁজাসহ আসামিদের নিয়ে থানায় মামলা দিতে গিয়েছিলেন তারা। মাদক সেবন করে থানায় গিয়ে তারা অস্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন। পরে আমাদের পরিদর্শক আহসান হাবিব মুচলেকা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। ডাক্তারি পরীক্ষায় অ্যালকোহল জাতীয় কোনো কিছু পান করার সত্যতা পাওয়া যায়। আমরা সেই ডাক্তারি প্রতিবেদনসহ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে সুপারিশ পাঠাই। পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় মামলায় ডিমোশন দিয়ে মনোজিৎ কুমার বিশ্বাসকে এসআই থেকে এএসআই করেন।

এএসআই মনোজিৎ কুমার বিশ্বাস খুলনা মহানগরীর হাজী মহসিন রোডস্থ আর্জেন আলী বাইলেন এলাকার ধীরাজ বিশ্বাসের ছেলে। তার তাপষ কুমার বিশ্বাস ও শ্রাবন্তি বিশ্বাস তিথি নামে দুটি সন্তান রয়েছে। শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে তার মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ি নিয়ে সৎকার করেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (এডি) বিপ্লব মোদক  বলেন, এএসআই মনোজিৎ কুমার বিশ্বাস চলতি বছরের আগস্টের শেষের দিকে নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ে যোগদান করেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৩ অক্টোবর তিনি ছুটিতে যান। পরে বিজয় দশমীর রাতে তার স্ত্রী ফোনে জানান, তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার তিনি মারা গেছেন বলে জানতে পারেন। তবে, মাদক সেবনে তার মৃত্যু হয়েছে কিনা-সেটি নিশ্চিত না হলেও তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করতে হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

তবে মনোজিৎ কুমার বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যরা খুলনায় না থাকায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। 

এদিকে, খুলনায় মাদক সেবনে নয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কর্তৃক গঠিত ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটির বিতর্কিত সদস্য এসআই নিরঞ্জন কুমারকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জণ চলছে। কারণ তার বিরুদ্ধেই রয়েছে মামলার আলামত তছরূপ, অভিযানে গিয়ে অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের মত গুরুতর নানা অভিযোগ। এছাড়া ওয়্যার হাউজে কর্মরত থাকার সুবাদে পারমিটধারী মাদক সেবনকারীদের বাইরেও অবৈধ মাদকের সরবরাহ ও মাদকে ভেজালের বিষয় থেকেও তিনি দায় এড়াতে পারেন না বলেও সূত্র দাবি করেছে। মামলার আলামত তছরূপের দায়ে কর্তৃপক্ষ তার ইনক্রিমেন্ট কর্তন করেন বলেও জানা গেছে।

বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনে কমিটি থেকে তাকে বাদ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর খুলনার উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান।

বিস্তারিত খবর

বুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের রুম সিলগালা

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১২ ১৪:৪৩:১৮


হলে অবৈধভাবে থাকা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামার প্রথম দিনেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের রুমে সিলগালা করে দিলো বুয়েট প্রশাসন। এছাড়া বুয়েট ছাত্রলীগের অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত আহসান উল্লাহ হলের ১২১ নাম্বার রুমও সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পরদিন এই পদক্ষেপ নেয়া হয়।

শনিবার বুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি জামি উস সানির কক্ষ সিলগালা করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বুয়েটের আহসান উল্লাহ হলের ৩২১ নম্বর কক্ষে থাকতেন ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র জামি উস সানি।

বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা (ডিএসডব্লিউ) অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান রুমটি সিলগালা করে দেন।

অন্যদিকে আবরার হত্যার প্রধান আসামি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের রুমও সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। তিনি শেরেবাংলা হলের ৩০১২ নম্বর রুমে থাকতেন। আবরার হত্যায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন রাসেল।

এর আগে বুয়েটের হলগুলো থেকে সিট দখলদারিত্ব উচ্ছেদ ও সাংগঠনিক ছাত্র সংগঠনগুলোর অফিস সিলগালা করার নির্দেশনা জারি করে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. সাইদুর রহমানের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেন।

এতে বলা হয়, অবৈধভাবে যারা হলের সিট দখল করে আছে, তাদেরকে হলের সিট খালি করা, সাংগঠনিক ছাত্র সংগঠনগুলোর অফিস কক্ষ বন্ধ করে তা সিলগালা করার জন্য ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ব্যবস্থা নেবেন।

বিস্তারিত খবর

আতঙ্কে দিন কাটছে আবরার ফাহাদের পরিবারের

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১২ ১৪:৪০:৩৪


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন আবরারের বাবা-মা ও একমাত্র ভাইসহ স্বজনরা। অজানা আতঙ্ক গ্রাস করে ফেলছে গোটা পরিবারটিকে। ঘটনার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও পরিবারটি এখন শোকে আচ্ছাদন।

ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাথর আবরারের মা রোকেয়া বেগম সাংবাদিকদের জানান, আবরার নিহত হওয়ার পর থেকেই আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি। এক ছেলেকে হারিয়েছি আর কোনো ছেলেকে হারাতে চাই না। আমি আমার ছোট ছেলের নিরাপত্তা চাই।

এদিকে আবরার নিহত হওয়ার পর থেকে এই পরিবারে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ। ভয়ে ও আতঙ্কে তিনি গণমাধ্যমের সাথে আর কোনো কথা বলতে চাচ্ছেন না। ফাহাদের মত সাহসী ও উদ্যোমী ফাইয়াজ একেবারেই কথা কমিয়ে দিয়েছে। আতংক ও ভয় তার পিছু ছাড়ছে না। আবরারের বাবা বরকতুল্লাহ জানান, ছোট ছেলে ঢাকা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে (বিজ্ঞান বিভাগ) পড়ে। এখন সে ঢাকায় পড়তে যেতে ভয় পাচ্ছে। সে ঢাকায় পড়তে যেতে চাচ্ছে না। ফাইয়াজ জানান-আমার স্বপ্ন ছিল আমার ভাইয়া, আজ ভাইয়া নেই আমার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। আমি কার অনুপ্রেরণা নিয়ে এগিয়ে যাবো, কে আমাকে সহযোগিতা করবে? আমি ভাইয়াকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতাম ভাইয়া লেখাপড়া শেষে অনেক বড় হবে।

ভাইয়ার স্বপ্ন যেমন গুড়িয়ে গেল, ঠিক আমার স্বপ্ন আর কোন অবশিষ্ট থাকলো না। কলেজের উদ্দেশ্যে ঢাকায় কবে রওনা দেবে এমন প্রশ্নের জবাবে আইয়াজের মুখ থেকে কোন কথা বের হয়নি।

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বুয়েট ক্যাম্পাসে স্থায়ীভাবে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ও আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িত ১৯ আসামিকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বুয়েট ক্যাম্পাসে ভিসির সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আবরার ফাহাদের বাবা বরকতুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, এই বহিষ্কার যেন স্থায়ী বহিষ্কার হয়। স্থায়ী বহিস্কার হলে আমার পরিবার খুশি।

তিনি বলেন, আবরার হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে দ্রুত শেষ করে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমার গোটা পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় মধ্যে রয়েছে।

বিস্তারিত খবর

পল্টনে সমাবেশমুখী বিএনপির অর্ধশত নেতাকর্মী আটক

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১২ ১৪:৩৬:০০

পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়া বিএনপির ৫০ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে শনিবার দুপুরে তাদের আটক করে নিয়ে গেছে রমনা ও পল্টন থানা পুলিশ।

দলের নেতাকর্মীদের আটকের বিষয়টি জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর বিএনপির (দক্ষিণ) সভাপতি হাবীব-উন-নবী খান সোহেল। আটককৃতদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ভারতের সঙ্গে ‘দেশবিরোধী চুক্তি’ বাতিল ও বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে শনিবার দুপুর থেকে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির সমাবেশ চলছে। সেই সমাবেশমুখী মিছিল থেকে তাদের আটক করা হয়।

পূর্বঘোষিত হলেও সমাবেশের জন্য পুলিশের অনুমতি পায়নি বিএনপি। কিন্তু শনিবার দুপুর থেকে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ শুরু করে দলটি।

সকাল থেকে সমাবেশে যোগ দিতে নয়াপল্টনে জড়ো হতে থাকেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এর আগে সকাল থেকেই নয়াপল্টনে কঠোর অবস্থান নেয় পুলিশ। দুপুর ১২টার দিকে দুই দফায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়াপাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

বিস্তারিত খবর

‘ভারতের দাসত্ব করার জন্য বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি’

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১২ ১৪:৩৪:১৫


ভারতের দাসত্ব বরণ করার জন্য বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহবায়ক অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের বন্ধু। তবে তা কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। ভারতের সাথে কি চুক্তি হয়েছে তা অবিলম্বে দেশের মানুষের সামনে প্রকাশ করুন। নইলে ধরে নিব, মানুষ যা বলছে তাই সত্য ‘ভারতের সাথে দেশের স্বার্থ বিরোধী চুক্তি হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার জন্য আবরার ফাহাদ খুন হয়েছে। ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা এভাবে শত শত মায়ের বুক খালি করেছে। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছাত্রলীগ টর্চারসেলে পরিণত করেছে।

শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপি আয়েজিত ভারতের সাথে অসমচুক্তি ও আববার ফাহাদ খুনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কোনো অঙ্গীকার করে জেল থেকে মুক্ত হবেন না। রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারের পতন নিশ্চিত করে তাঁকে মুক্ত করা হবে। অবৈধ সরকার ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বিএনপি নেতা-কর্মীদের নির্মম নির্যাতন করেছেন। অনেক র্ধৈয ধরেছি, আর না। গণবিস্ফোরণের মাধ্যমে সরকারের পতন নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ নির্বাচন দেয়ার আহবান জানান তিনি।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়ারেজ আলী মামুন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ, নগর বিএনপির সাধারণ সমবপাদক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কাজী রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর মাহমুদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম মাহবুবুল আলম মাহবুব ও রতন আকন্দ, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ হান্নান খান, যুবদলের জেলা সভাপতি রোকনুজ্জামান সরকার রুকন, মহানগর সভাপতি মোজাম্মেল হক টুটু, ছাত্রদলের জেলা সভাপতি মাহবুবুল আলম রানা, মহানগর সভাপতি নাইমুল করিম লুইন, শ্রমিকদলের সভাপতি আবু সাঈদ ও সেক্রেটারি মফিদুল ইসলাম মোহন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শহীদুল আলম খসরু ও সাধারন সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম টুটুল, মহানগর সভাপতি আতাহারুল আলম তালুকদার রিপন ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ফয়সাল প্রমুখ। এর আগে আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করে দোয়া মোনাজাত করা হয়।

বিস্তারিত খবর

বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা যথাসময়েই : আন্দোলন শিথিল

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১২ ১৪:৩২:২৭

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ১৩ ও ১৪ অক্টোবর দুদিন আন্দোলন শিথিলের ঘোষণা দিয়েছেন বুয়েটের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। শনিবার দুপুর আড়াইটায় বুয়েট শহীদ মিনার চত্বরে সাংবাদিকদের সামনে তারা এ ঘোষণা দেন।

আন্দোলনকারীরা বলেন, আমাদের ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন চলছে, তবে সারাদেশ থেকে আগত বুয়েটে ভর্তিপ্রত্যাশী ১২ হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের কথা চিন্তা করে আমরা দুদিন আন্দোলন শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তারা বলেন, ইতোমধ্যে বুয়েট প্রশাসন আমাদের পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এবং সেসব বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করেছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে আমরা আগামী দুদিন আন্দোলন শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই দুদিন আন্দোলন স্থগিত রেখে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করছি।

শিক্ষার্থীরা বলেন, এর আগেও বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের দাবি দেওয়া বাস্তবায়নে তিন দফায় আশ্বাস দিলেও সেগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি। আমরা এবার শিক্ষকদের প্রতি যে আস্থা রাখছি তারা আমাদের সে আস্থা রাখবেন বলে আশা করি। আমাদের এই আস্থা নষ্ট করলে সহজেই আর তা স্থাপন হবে না।

তারা বলেন, আমাদের ১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আগামী দুদিন প্রশাসনের ভূমিকা কি হয় আমরা তা পর্যবেক্ষণ করবো। তার ওপর ভিত্তি করে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তবে আমাদের আন্দোলন শেষ হয়নি। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও ধন্যবাদ জানান বুয়েট শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী আমাদের পাশে ছিলেন। তিনি পাশে না থাকলে এত দ্রুত সময়ের মধ্যে বুয়েট প্রশাসন আমাদের দাবিগুলো মেনে নিত না।

শিক্ষার্থীরা দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেফতার করায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকেও ধন্যবাদ জানান।

বিস্তারিত খবর

দুই দফায় স্টাম্প দিয়ে আবরারকে শতাধিক আঘাত করে অনিক

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১২ ১৪:৩১:১৫

 বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে দুই দফায় স্টাম্প দিয়ে শতাধিক আঘাতে হত্যা করেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক (বহিষ্কৃত) অনিক সরকার অপু।

আবরার হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততা ও অন্য আসামিদের নাম প্রকাশ করে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অনিক। এছাড়া ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

শনিবার অনিক সরকারকে ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণপূর্বক কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসব কথা উল্লেখ করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার আসামি ইফতি মোশাররফ সকাল ও মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অনিক সরকার অপুর নাম প্রকাশ করেন। পুলিশ রিমান্ডে অনিক সরকার অপু স্বীকার করেন যে, সে ঘটনার সময় দুই দফায় স্টাম্প দিয়ে আবরার ফাহাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক আঘাত করেন।

এর আগে মঙ্গলবার অনিক সরকারকে পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড চলাকালে আজ তাকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে রোববার (৬ অক্টোবর) রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত তিনটার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গত সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ মরদেহের ময়নাতদন্ত করেন। তিনি বলেন, ‘ছেলেটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’ নিহত আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরদিন সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্।

বিস্তারিত খবর

এরপরও প্রধানমন্ত্রী কীভাবে বলেন দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেননি?

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১১ ১১:৫০:০৯


বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যার দিনটিকে ‘শহীদ আবরার দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।

তিনি বলেছেন, ‘শহীদ আবরার হত্যার ন্যায়বিচার, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং দেশের জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনার একমাত্র পথ হচ্ছে রাজপথ। সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমেই এই সরকারের পতন ঘটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আবরার হত্যার প্রতিবাদ এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগের তাণ্ডবলীলা দেখলে মনে হয় যে বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে কোনো সরকার নাই। গত ১০ বছরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের তাণ্ডবলীলা চরম একটা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগ অন্যায়ভাবে শত শত কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। ৮৬ কোটি টাকা টেন্ডারবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অপসারণ করা হয়েছে। এই দুই নেতার টেন্ডারবাজির রেশ কাটতে না কাটতেই আমরা দেখতে পেলাম ক্যাসিনো বাণিজ্য আর যুবলীগের অবিশ্বাস্য লুটপাটের চিত্র। এরপর দেখতে পেলাম বুয়েট ছাত্রলীগের রোমহর্ষক টর্চার সেলের ঘটনা।

মওদুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন ভারত সফরে গেলেন আমরা অত্যন্ত আশাবাদী ছিলাম।আমরা ভেবেছিলাম অন্তত তিনি তিস্তা নদীর পানির ব্যাপারে একটি সমঝোতার খবর নিয়ে আসবেন। কিন্তু ফিরে আসার পর অত্যন্ত হতাশ হয়েছি। দশ বছরের বেশি সময় ধরে এই সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আছে। এরপরও আমাদের তিস্তা নদীর ন্যায্য হিস্যার পানি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অর্জন করতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী ভারতকে ফেনী নদীর পানি দিয়ে এলেন। অথচ কোনো জাতীয় স্বার্থ পূরণ করেননি।

তিনি বলেন, আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি এরপরও প্রধানমন্ত্রী কীভাবে বলেন যে, ‘আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিই নাই।’

তিনি বলেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে বেগম জিয়াকে কারান্তরীণ করা হল। এক বছর দুই মাস দাবি করার পর তাকে পিজি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। অথচ যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা সম্রাট কারাগারে যাওয়ার দুদিন পরই তাকে ভিআইপি মর্যাদায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বেগম জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ, তারপরও তাকে সঠিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। এতেই বোঝা যায়, দেশে দ্বৈতনীতি চলছে।বাংলাদেশের মানুষ এই সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না।

বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত মানবন্ধনে আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও পেশাজীবী নেতা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কুদ্দুস, সাংবাদিক নেতা এম আবদুল্লাহ, কাদের গনি চৌধুরী, বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, কৃষকদল নেতা মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার প্রমুখ।

বিস্তারিত খবর

এবার আদালতে আবরার হত্যার কথা স্বীকার করল জিয়ন

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১১ ১১:৪৩:৩৯


বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন। শুক্রবার আদালতে জবানবন্দি দেয়ার সময় হত্যার কথা স্বীকার করে এই আসামি। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত মেফতাহুলের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

আবরার হত্যা মামলার দ্বিতীয় আসামি হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিলেন মেফতাহুল। এর আগে আবরার হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বৃহস্পতিবার আদালতে জবানবন্দি দেন আসামি ইফতি মোশাররফ।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে মেফতাহুলকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান মেফতাহুলের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন।

আদালতের কাছে দেয়া প্রতিবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, আবরার হত্যা মামলার দায় স্বীকার করে এর আগে ইফতি মোশাররফ নামের এক আসামি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামি মেফতাহুল ইসলামও আবরার হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত, এটি ইফতিই আদালতকে বলেছেন। মেফতাহুল নিজেও এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতের কাছে জবানবন্দি দিতে চান। পরে আদালতের কাছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন মেফতাহুল। প্রতিবেদনে পুলিশ আরও জানিয়েছে, হলের ভিডিও ফুটেজ এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আসামি মেফতাহুল ইসলাম আবরার হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।

মেফতাহুল বুয়েটের মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। শেরেবাংলা হলের ৫০৬ নম্বর কক্ষে থাকতেন তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার আসামি ইফতি মোশাররফ আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে বলেন, আবরার ফাহাদকে ক্রিকেটের স্টাম্প আর প্লাস্টিকের মোটা দড়ি (স্কিপিং রোপ) দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে মাটিতে শুয়ে পড়েন আবরার। তাকে মাটি থেকে তুলে আবারও পেটানো হয়। কয়েক ঘণ্টা পর বমি করতে শুরু করেন আবরার। তিনবার বমি করার পর নিস্তেজ হয়ে যান তিনি।

এর আগে আবরার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি অমিত সাহা ও হোসেন মোহাম্মদ তোহাকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এই আদেশ দেন।

এদিকে আবরার হত্যার এজাহারভুক্ত ১৯ আসামিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম শুক্রবার বিকেলে এ কথা জানিয়েছেন।

আবরার ফাহাদ বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) ছাত্র ছিলেন। শেরেবাংলা হলের নিচতলায় ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন তিনি। গত রোববার রাতে তাকে নিজ কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। এখন পর্যন্ত আবরার হত্যায় ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনের নাম মামলার এজাহারে রয়েছে।

বিস্তারিত খবর

ঢাকা সিটি কাউন্সিলরের বাসায় কোটি কোটি টাকার চেক-এফডিআর

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১১ ১১:৪১:১৬


র‌্যাবের অভিযানে আটক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বরের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানের বাসা থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের ছয় কোটি ৭৭ লাখ টাকা সমমূল্যের চেক উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া এক কোটি টাকার এফডিআরের কাগজ পেয়েছে র‌্যাব।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আওরঙ্গজেব রোডের বাসায় মিজানকে নিয়ে ঢুকে সংস্থাটি। তল্লাশি অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।

এর আগে গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে থাকা হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানকে শুক্রবার ভোরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা, একটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

সারওয়ার আলম ঢাকাটাইমসকে বলেন, 'আমরা তার বাসা তল্লাশি করেছি। মিজান খুব চালাক প্রকৃতির লোক, তাই কোনো তথ্য তিনি সহজে দিচ্ছেন না। আমরা তার অবৈধভাবে উপার্জিত আরও অর্থের সন্ধান চালাচ্ছি।’

মিজানকে ধরতে বুধবার রাতে মোহাম্মদপুরের আওরঙ্গজেব রোডের বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। তবে তখন তাকে পাওয়া যায়নি। মিজানের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, মোহাম্মদপুর বিহারি ক্যাম্পে মাদক ও চোরাই গ্যাস-বিদ্যুতের ব্যবসার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

বিস্তারিত খবর

উপরের অর্ডার না মেনে উপায় নাই: অমিত সাহা

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১১ ১১:৩৮:৩৩


বুয়েটের ট্র্যাডিশনই হচ্ছে উপরের (সিনিয়রদের) অর্ডার আসলে তা মানা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না বলে জানিয়েছেন আসামি বুয়েট ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা।

শুক্রবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. সারাফুজ্জামান আনছারীর আদালত অমিত সাহার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিন দুপুর ২টা ৫২ মিনিটের দিকে আসামি অমিত সাহা ও হোসেন মোহাম্মদ তোহাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। হাতে হাতকড়া পরিয়ে তাদের এজলাসের ডকে (আসামি রাখার নির্ধারিত স্থান) রাখা হয়। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

এর এক ফাঁকে অমিত সাহার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। আসামি অমিত সাহা বলেন, বুয়েটের ট্র্যাডিশনই এটা যে, অর্ডার উপরের (সিনিয়র) থেকে আসে। সিনিয়র ব্যাচ অর্ডার দিলে জুনিয়র ব্যাচ তা করতে বাধ্য। এটা করার ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।

এদিকে বিকাল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে এজলাসে বিচারক আসলে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষে হেমায়েত উদ্দিন খানসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী আসামিদের রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, আসামি তোহা ২০১১ নম্বর রুমে থাকতেন। যা ছিল টর্চার সেল। আর উপরের নির্দেশে আবরারকে ডেকে নিয়ে যায় তোহা। ৭ অক্টোবর রাত আড়াইটা পর্যন্ত ওই হলের ২০১১ ও ২০০৫ নম্বর রুমের ভেতর নিয়ে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ক্রিকেট স্ট্যাম্প ও লাঠি-সোটা এবং রশি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রচণ্ড মারধর করে। এতে ঘটনাস্থলেই আবরার মারা যায়।

অত্যন্ত মেধাবী একটি ছেলে (আবরার) বুয়েটে গিয়েছিল ইঞ্জিনিয়ার হবে বলে। কিন্তু তার সহপাঠীরাই তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক।

পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তোহার জামিন নাকচ করে ওই দুই আসামির প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বুয়েট ছাত্রলীগের উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে ওই দুই (অমিত ও তোহা) আসামির নাম প্রকাশ করে।

বিস্তারিত খবর

বুয়েটে রাজনীতি নিষিদ্ধ, আবরার হত্যার ১৯ আসামি বহিষ্কার

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১১ ১১:৩৫:৩৩


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যায়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার এজাহারভুক্ত ১৯ আসামিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম এ কথা জানিয়েছেন।

শুক্রবার বুয়েট অডিটোরিয়ামে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা কালে বুয়েটের উপাচার্য এ কথা জানান। তিনি বলেন, বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি থাকবে না। আবরারের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং মামলার খরচ বুয়েট কর্তৃপক্ষ বহন করবে। বিচারকাজ দ্রুত শেষ করতে সরকারকে চিঠি দেওয়া হবে। বুয়েটে র‌্যাগিং বন্ধ হবে।

উপাচার্য জানান, সরকার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে আশ্বস্ত করেছে।

আবরার ফাহাদ হত্যার পর বুয়েটের আন্দোলনকারীরা ১০ দফা দাবি পেশ করে। এ নিয়ে আজ শুক্রবার বিকেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপাচার্য কথা বলেন। সেখানে তিনি এসব দাবি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে নিজের অবস্থান জানান।

বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা আলটিমেটাম দিয়েছিলেন, উপাচার্য যদি আজ শুক্রবার বেলা ২টার মধ্যে তাঁদের সঙ্গে দেখা না করেন, তাহলে বুয়েটের সব ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেবেন। এমন পরিস্থিতিতে গতকালই উপাচার্যের পক্ষ থেকে আলোচনায় বসার কথা জানানো হয়।

আবরার হত্যার প্রতিবাদে পঞ্চম দিনের মতো সকাল থেকেই বুয়েট ক্যাম্পাসে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। আজও সকালে তাঁরা মিছিল ও পথনাটকসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।

আবরার ফাহাদ বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) ছাত্র ছিলেন। তিনি থাকতেন বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলায় ১০১১ নম্বর কক্ষে। গত রোববার রাত আটটার দিকে তাঁকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় একই হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে। ওই কক্ষে তাঁকে নির্যাতন করে বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। রাত ৩টার দিকে হল থেকেই তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পর থেকে শিক্ষার্থীরা আবরার হত্যার ঘটনায় খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি, বুয়েট ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করাসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

বিস্তারিত খবর

আবরার হত্যা : অবশেষে গ্রেফতার ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১০ ০৭:৩৬:৪৮

বাংলাদেশ প্রকেৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ও মামলার বহুল আলোচিত আসামি ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহাকে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত অমিত সাহা বুয়েট ছাত্রলীগের উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত আবরার হত্যার ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করলো পুলিশ।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহাকে গ্রেফতারের কথা নিশ্চিত করেছে ডিএমপি’র গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য বিভাগ। গ্রেফতারকৃত অমিত বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ১৬তম ব্যাচের ছাত্র।

উল্লেখ্য, আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যার পর আলোচনার শীর্ষে উঠে আসেন অভিযুক্ত অমিত সাহা। তিনি বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক। আবরার হত্যাকারণ্ডর পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি। ঘটনার দিন বুয়েটের শের-ই বাংলা হলে তার কক্ষেই ডেকে নিয়ে প্রথমে পেটানো হয় আবরার ফাহাদকে।

এদিকে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে অমিত সাহা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত অভিযোগ করে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা জানান, আবরার ফাহাদ হলে আছেন কিনা সে বিষয়ে প্রথম খোঁজ নিয়েছিলেন শাখা ছাত্রলীগের উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক অমিত সাহা। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অমিত সাহা আবরারের এক বন্ধুকে ইংরেজি অক্ষরে ‘আবরার ফাহাদ হলে আছে কিনা তা জানতে চেয়ে মেসেজ দেন।

মেসেজের এক ঘণ্টার মধ্যেই শের-ই বাংলা হলের ছাত্রলীগ নেতারা আবরারকে ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে এনে লাঠি, চাপাতি ও স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।

বিস্তারিত খবর

দ্রুততম সময়ে আবরার হত্যার চার্জশিট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১০ ০৭:৩৪:৫৭

দ্রুততম সময়ের মধ্যে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চার্জশিট নিখুঁত ও নির্ভুল করতে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করছে। নিখুঁত চার্জশিট দিয়ে বিচারের কাজটি দ্রুততার সঙ্গে শেষ হবে বলে আশা করছি।

শিবির সন্দেহে গত রবিবার রাতে আবরারকে হলের কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার কয়েকজন সদস্য। কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্যাতনের পর রাত আড়াইটার দিকে তাকে হলের সিঁড়ির পাশে ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে ডাক্তার গিয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে বুয়েট ক্যাম্পাস। ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আবরার হত্যার ঘটনায় ইতোমধ্যে ১৫ জনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বুয়েটে আপনারা নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেখেছেন। এটা কারও কাম্য নয়। কেন এই হত্যাকাণ্ড, কী উদ্দেশ্য ছিল সবকিছু এখন তদন্ত করা হচ্ছে। আপনারা ইতোমধ্যে শুনেছেন যারা যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল কিংবা যারা যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করেছি। আমরা ১৪ জনকে ইতোমধ্যে ধরেছি। তারপর আরও যদি কেউ জড়িত থাকেন। সবাইকে আমরা ধরব।’

আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘আমরা আশা করি খুব শিগগিরই, খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই মামলার পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট প্রদান করতে পারব। আমাদের পুলিশ সেই কাজটি করছে। চার্জশিট যাতে নিখুঁত হয়, সবকিছু যাতে নির্ভুল হয়; সেজন্য পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করছে। আমরা আশা করি একটা নিখুঁত চার্জশিট দিয়ে বিচারের কাজটি দ্রুততার সাথে শেষ হয়, আমরা সেই কাজটি সহজতর করব। আমরা সেটাই করছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে হলগুলোতে তল্লাশি চালানো হবে। একই সঙ্গে শুধু শুদ্ধি অভিযান নয়, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে সরকার।

আবরায় হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে আটক বুয়েট ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে অমিত জড়িত কি না তদন্তের পর বলা যাবে।

বিস্তারিত খবর

ছাত্রলীগের কলুষিত রূপ সারাবিশ্ব দেখেছে : ভিপি নুর

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১০ ০৭:৩৩:০৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরু বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের পাশাপাশি কোনো শিক্ষাঙ্গনে আর কোন ছাত্রকে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের টর্চার সেলে নির্যাতনের শিকার হতে না হয় তা নিশ্চিত করতেই আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে আমাদের আন্দোলন অব্যহত রাখতে হবে। আজকে ছাত্রসমাজ ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা করা, আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচার ও দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিলের দাবিগুলোতে আজকে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আমরা চাই এই প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে শিক্ষাঙ্গনগুলো এগিয়ে যাক।

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পূর্বে আবরার হত্যার প্রতিবাদে ডাকসু'র ভিপি নুরুল হক নূরুর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর শাহবাগ চত্বর, মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট মোড়, দোয়েল চত্বর হয়ে আবারো রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে বাংলাদেশ ছাত্রফেডারেশনসহ বাম ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডাকসু'র ভিপি বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী চেতনাকে ধারণ করে ছাত্রলীগ করেছি। কিন্তু আমি যখন দেখেছি ছাত্রলীগ করলে সাধারণ ছাত্রদের স্বার্থবিরোধী কাজ করতে হয় তখন আমি ছাত্রলীগ থেকে সরে গেছি। আমাকে বহিষ্কার করা হয়নি। আজকে যে ছাত্রলীগের কলুষিত রূপ বেরিয়ে এসেছে, সেটা সমগ্র জাতি দেখেছে, সারাবিশ্ব দেখেছে।

নূরু বলেন, ইতোমধ্যে আপনারা দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ একটি ঘোষণা দিয়েছে যে মাস্টার্স শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে হল ছাড়তে হবে। এটি একটি ভালো উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রসমাজ এই দাবি জানিয়ে আসছিল। সুতরাং নিপীড়নের বিরুদ্ধে, নির্যাতনের বিরুদ্ধে, হত্যার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ রুখে দাঁড়িয়েছে আবরার হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তত সেই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আপনারা কষ্ট করে হলেও আমাদের প্রতিটা কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন। আমরা সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি জানিয়ে দিবো।

তিনি আরো বলেন, আজকে যখন ছাত্র সমাজ জেগে উঠেছে তখন এই ছাত্রসমাজকে থামানোর জন্য লোক দেখানো অনেকে অনেক প্রকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শোক মিছিল করেছে। কিন্তু তাদের চেতনা তো এটি নয়। আমরা বলেছি, ভবিষ্যতে যেন সাধারণ কোনো শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের এই ধরনের নির্যাতনের শিকার না হয় সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে ঘোষণা দিতে হবে।

নুরু বলেন, আজকে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা হলে সারা বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্র কায়েম হবে। কোটা সংস্কার আন্দোলন, আবরার হত্যা আন্দোলন, নুসরাত হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলন এগুলো রাজনৈতিক সচেতনতামূলক আন্দোলন। সুতরাং ছাত্র রাজনীতি যদি বন্ধ করা হয় তবে সেটি আমাদের জন্য ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে। দেশকে স্বৈরতন্ত্রের দিকে ধাবিত করবে। তাই সন্ত্রাসী ছাত্ররাজনীতি বন্ধ চাই আমরা।

বিস্তারিত খবর

ভারতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে লেখায় দলীয় পদ থেকে বহিষ্কৃত আ.লীগ নেতা যা বললেন

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১০ ০৭:৩১:৪১

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক চুক্তিগুলো নিয়ে ফেসবুকে লেখা পোস্ট করায় খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে ডা. শেখ বাহারুল আলমকে। প্রতিক্রিয়ায় তিনি  বলেছেন, ‘সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিকভাবে আমার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমার ফেসবুক পোস্টে সরকার বা দলীয় প্রধানের নাম আমি উল্লেখ করিনি। আমি কেবল জনদাবির কথাগুলো বলার চেষ্টা করছি।’

বুধবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ডা. শেখ বাহারুল আলমকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে ফেসবুকে সরকার প্রধান ও দলীয় প্রধান এবং রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য প্রকাশের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ করা হবে না, আগামী সাত দিনের মধ্যে সেই কারণ দর্শানোর জন্য সভা থেকে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শেখ বাহারুল আলম বলেন, ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনতে হলে অবশ্যই অভিযুক্ত সদস্য বা নেতাকে নোটিশ দিতে হয়। কী বক্তব্যে গঠনতন্ত্রের কোনও ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে, তা তাকে জানাতে হয়। তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হয়। প্রয়োজন হলে তার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হয়। এর কোনোটাই জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করেননি। নির্ধারিত কোনও সভা ছিল না। ওইদিন যে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সে সভা পূর্বনির্ধারিত কোনও সভাও ছিল না। সভায় আমার বিষয়টি নিয়ে কোনও এজেন্ডাও ছিল না। অন্য একটি বিষয়ে সভা চলছিল। সেখানে থেকে নেতাকর্মীদের ডেকে এনে অগঠনতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুরোটাই ওনার (সভাপতির) একতরফা কাজ। এক ধরনের স্বৈরাচারী প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই তিনি এ কাজ করেছেন। অভিযোগ আনতে হলে ওনার (সভাপতি) বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনতে হয়। কারণ উনি (সভাপতি) দলের গঠনতন্ত্র নিয়মনীতি কিছুই মানেন না।’

ডা. বাহারুল আলম বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের একজন সদস্য তার দেশের স্বার্থ, তার দেশের বিষয় নিয়ে পররাষ্ট্র বা দেশের ভূমিকা নিয়ে কিছু কথা বলতেই পারেন। সে বিষয়ে ভিন্নমতও থাকতে পারে। ভারতের বিষয় নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন কথা বলার চেষ্টা করেছি। আমাদেরও কিছু স্বার্থ আছে। আমাদের জনগণের কিছু দাবি-দাওয়াও আছে, যা উপেক্ষিত হওয়া ঠিক না। এ বিষয় নিয়ে আমার ফেসবুক পোস্টে তিনি কোথায় আওয়ামী লীগের শৃঙ্খলা ভঙ্গ পেলেন? আমার কোনও মতামতও তিনি নেননি। আমি কোনও চিঠিও পাইনি। তবে শুনেছি। বিষয়টি সত্য নয়। ফলে মোকাবিলা করার কিছু নেই। চিঠিও পাইনি এখনও। চিঠি পেলে প্রতিটি লাইন ধরে ধরে জবাব দেওয়া হবে।’
ডা. শেখ বাহারুল আলমের ফেসবুক স্ট্যাটাস

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা ডা. বাহারুল আলম তার ফেসবুক পোস্টে যা লিখেছেন, সেখানে সরকার এবং দলের প্রধান বিরোধী বক্তব্য আসছে। আমাদের জানা মতে দলীয় প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা যা করেছেন তার সবই দেশের স্বার্থে, বাংলাদেশে স্বার্থেই করেছেন। এখানে দেশের স্বার্থ উপেক্ষিত হওয়ার বিষয়ে ডা. বাহারুল আলম যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সঠিক নয়। জাতির জনক বাংলাদেশের জন্য আন্দোলন করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। তার বাংলাদেশে কখনো স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা থাকবে না−এমন কোনও চুক্তি জননেত্রী শেখ শেখ হাসিনা করতে পারেন না। যার অনেক নজির আছে। বিগত দিনে দেশের কোনও সরকার বা দলীয় প্রধানের এ ধরনের নজির নেই। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাই দেশের প্রথম, যিনি দেশের স্বার্থ একচুলও ছাড় দেন না। তার বিষয় নিয়ে ডা. বাহারুল আলম যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নিন্দনীয় এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণেই দলীয় জরুরি সভা করে আমরা তাকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজকের মধ্যে তিনি চিঠিও পেয়ে যাবেন। সদুত্তর না পেলে আমরা তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠাবো।’

উল্লেখ্য, ডা. বাহারুল আলম তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো−

“ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বলা হলেও বাস্তবে একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত–বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ ও অধিকার চরম উপেক্ষিত

...........................

দুর্বল অবস্থানে থেকে বন্ধুপ্রতিম শক্তিধর প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে বৈঠকে-ফলাফল শক্তিধরের পক্ষেই আসে। বাংলাদেশ-ভারত উভয়-পক্ষীয় সমঝোতা স্মারক নাম দেওয়া হলেও বাস্তবে একপক্ষীয় সিদ্ধান্তই মেনে নিতে হয় দুর্বল রাষ্ট্রকে।

ভারত বাংলাদেশ থেকে তার সকল স্বার্থই আদায় করে নিয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে এখনও ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে পারেনি।

১) দীর্ঘদিনের আলোচিত তিস্তা নদীর পানি বণ্টন এবারের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় স্থান পায়নি।

২) ভারতের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে কিছু না বললেও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্‌ হুংকার দিয়েছে নাগরিকপঞ্জিতে বাদ পড়া জনগণকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হবে। তারপরেও এবারের সমঝোতা চুক্তিতে ‘অভ্যন্তরীণ’ অজুহাতে বিষয়টি স্থান পায়নি।

৩) বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে ভারত কিছু বলেনি।

৪) তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে চুপ থাকলেও বাংলাদেশ অংশের ফেনী নদীর পানি ত্রিপুরা রাজ্যের পানীয় জল হিসাবে প্রতিদিন ১.৮২ কিউসেক টেনে নেবে ভারত। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে।

৫) বাংলাদেশের জনগণের তরল গ্যাসের চাহিদা পূরণের ঘাটতি থাকলেও ভারতে তরল গ্যাস রফতানির সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং যৌথভাবে সে প্রকল্প উদ্বোধনও হয়েছে।

৬) চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ভারত কীভাবে ব্যবহার করবে, তা নির্ধারিত হলেও বাংলাদেশের জন্য ব্যবহারযোগ্য ভারতের কোনও বন্দর সেই তালিকায় ছিল না।

অমানবিক আচরণের শিকার হয়েও বাংলাদেশ পানি ও গ্যাস সরবরাহ দিয়ে মানবিকতার প্রদর্শন করেছে। বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ ও অধিকার উপেক্ষিত রেখে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষ হয়েছে।

শক্তিধর প্রতিবেশীর আধিপত্যের চাপ এতোই তীব্র যে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বজায় থাকবে কিনা আশংকা হয়। কারণ ভারতের চাপিয়ে দেওয়া সকল সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে মেনে নিতে হচ্ছে।”

বিস্তারিত খবর

দেশের স্বার্থবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি বিএনপি'র

 প্রকাশিত: ২০১৯-১০-১০ ০৭:২৮:১১

সম্প্রতি ভারত সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বার্থবিরোধী চুক্তি করেছে জানিয়ে বিএনপি বলেছে, আমরা প্রতিবেশী ভারতের সাথে সমতাভিত্তিক সুসস্পর্ক চাই। কিন্তু এই সরকার যা করছে- তাতে দেয়া নেয়ার বিষয় নেই- আছে শুধু দেয়ার। এমনকি ভারতকে গ্যাস-পানি দেয়ার বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন ‘ঠাকুর‘ পুরস্কার। দেশের স্বার্থবিরোধী এমন অসম চুক্তির অধিকার জনগণ সরকারকে দেয়নি। কাজেই আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরের সময় স্বাক্ষরিত সকল চুক্তি ও সমঝোতার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাই এবং দেশের স্বার্থ হানিকর সকল চুক্তি বাতিল চাই।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ার কারণে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয়- এমন একটি শক্তি যখন কৌশলে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে তখন তার পরিণতি দেশ ও দেশের জনগণের জন্য কতটা ভয়াবহ ও ক্ষতিকারক হয় তার সাম্প্রতিক প্রমাণ প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের ফলাফল। সফরকালে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে সরকার বাংলাদেশের ফেনী নদী থেকে ১.৮২ কিউসেক পানি ত্রিপুরার সাব্রুম শহরের জনগণের ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর নির্বিঘ্নে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে যৌথ পর্যবেক্ষণের জন্য রাডার বসানোর অনুমতি দিয়েছে। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশ থেকে এলপিজি গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা দিয়েছে। অথচ বহু বছর ধরে তিস্তা এবং ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার ব্যাপারে শুধুই আলোচনা করে চলেছে। এবারো শুধু আশ্বাসই পেয়েছে- কোনো স্পষ্ট নিশ্চয়তা পায়নি। আসামের নাগরিক পঞ্জির প্রেক্ষিতে কয়েক লক্ষ আসামবাসীকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আসাম রাজ্য ও কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স্পষ্ট হুমকির মুখে দুই প্রধানমন্ত্রীর যৌথ বিবৃতিতে এ ব্যাপারে ইতিবাচক কোনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতির উল্লেখ নেই।

তিনি বলেন, ভারতে পাটজাত দ্রব্যসহ অন্যান্যে পণ্য রফতানির উপর আরোপিত অন্যায় বাধা অপসারণে নিশ্চয়তা আদায় করতেও বাংলাদেশ সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এতে বোঝা যায় যে, রাষ্ট্রীয় সফরের আগে সরকার যথাযথ প্রস্তুতি নেয়নি, দেশের জনগণকে কিছু জানতেও দেয়নি। এসব নিজ দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে শক্তিমান প্রতিবেশীকে খুশি করে ক্ষমতার মসনদ টিকিয়ে রাখার সাময়িক ও ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র। ইতোমধ্যেই দেশ ও দেশের জনগণের স্বার্থবিরোধী এসব চুক্তির প্রতিবাদে দেশবাসী ফুঁসে উঠেছে। সচেতন ছাত্র সমাজ আন্দোলনে সোচ্চার হয়েছে।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, সমালোচনায় ভীত সরকার তার দলীয় লাঠিয়ালদের দিয়ে ফেসবুকে প্রতিবাদী পোস্ট দেওয়ার জন্য বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরারকে খুন করেছে। কিন্তু এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড আন্দোলনের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে মাত্র- কাউকে ভীত করতে পারেনি। আজ গোটা দেশের জনগণ এই সরকারকে দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিসর্জনকারী এক ক্ষমতালিপ্সু শাসক বলে মনে করে। জনগণ মহান মুক্তিযুদ্ধের সোনালী ফসল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এই দূরাচারী শাসকের পতন চায়।

তিনি বলেন, ফেনী নদী আগে বাংলাদেশেরই নদী ছিলো- যৌথ নদী ছিল না। কিন্তু বর্তমান সরকার আরো ৬টি যৌথ নদীর সাথে ফেনী নদীর নাম সংযুক্ত করে একসাথে এসব নদীর পানি বন্টন দিয়ে আলোচনায় রাজি হয়। এবার ফেনী নদীকে আলাদাভাবে বিবেচনা করে তার পানি ভারতীয় একটি শহরের প্রয়োজনে দেয়ার চুক্তি হলো। আমাদের পররাষ্ট্র সচিব বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এই পানি না দিলে সাব্রুম শহর কারবালা হয়ে যেতো বলে মন্তব্য করেছেন। কারবালা কারোরই কাম্য নয়। কিন্তু বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের তো প্রথমে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ দেখার কথা। ফারাক্কার কারণে বাংলাদেশ বিস্তীর্ণ অঞ্চল খরাক্রান্ত হওয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষের আহাজারি তাকে স্পর্শ করেনি। তিস্তার পানি ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের মরুকরণ ও লাখো মানুষের আর্তনাদ তার কানে পৌঁছে না। ফেনী নদীতে শুকনা মওসুমে পানির অভাবে চাষাবাদের ক্ষতি, মুহুরী প্রকল্প অকার্যকর হওয়ার নিশ্চিত সম্ভাবনা দেখেও তিনি ও তার সরকার সাব্রুমকে কারবালা হতে না দিতে যতটা উদ্যোগী-নিজের দেশের জনগণের আহাজারী, আর্তনাদ ও সর্বনাশ তাদের কাছে ততই মূল্যহীন। এটা কোনো দেশপ্রেমিক ব্যক্তি কিংবা সরকারের অবস্থান হতে পারে না। দেশের স্বার্থে যা কিছু দরকার তার সবকিছুই অনিশ্চয়তায় ঝুলিয়ে রেখে অন্যের স্বার্থ পূরণ করা সরকারের নতজানুর নীতির প্রমাণ।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ এলপিজি আমদানিকারক দেশ হয়ে প্রতিবেশীর প্রয়োজনে তা রফতানির জন্য ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত ওমেরা পেট্টোলিয়াম লি: এবং বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১’কে লাভবান করার উদ্যোগ ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিশেষকে লাভবান করবে-দেশকে নয়। দেড় হাজার কিলোমিটার পথের স্থলে এখন মাত্র ২০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এলপিজি গ্যাস ভারত পৌছবে। তাদের এই সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে ‘ঠাকুর শান্তি পুরস্কার’ ছাড়া আমরা কি পেলাম? এর আগেরবার ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে, আমরা যা দিয়েছি তা ভারত চিরদিন মনে রাখবে। তাহলে এবার আরো এতো কিছু দেওয়ার কি প্রয়োজন ছিলো? তিনি বলেছিলেন, দেশের স্বার্থে বিদেশীদের গ্যাস দিতে রাজি হননি বলে ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারেননি। এবার আমদানি করা ডিউটি ফ্রি এলপিজি দেওয়ার উদ্দেশ্য তাহলে কি?

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরকে নির্বিঘ্নে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় আমাদের দেশের অবকাঠামো, নাগরিক পরিবহণ, চলাচল এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে ক্ষয়ক্ষতির নিশ্চিত সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্র উপকূলে যৌথ নজরদারীর ফলে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেশবাসীর কাছে গোপন করা হয়েছে- যা জানার অধিকার তাদের রয়েছে।

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত