যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭ ইং

|   ঢাকা - 04:45am

|   লন্ডন - 10:45pm

|   নিউইয়র্ক - 05:45pm

  সর্বশেষ :

  ধর্ম অবমাননা নিয়ে রংপুরে সহিংসতা, আদালতে টিটু রায়ের স্বীকারোক্তি   টিকাতেই নিরাময় হবে ক্যান্সার   মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা ‘জাতিগত বৈষম্যের’ শিকার : অ্যামনেস্টি   ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র জালিয়াতি, আটক ৮   নাইজেরিয়ায় মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৫০   রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চলতি সপ্তাহে সমঝোতার আশা সু চি’র   জানুয়ারি থেকে সব বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ ভাতা: প্রধানমন্ত্রী   আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে সেরা হলেন যারা   পদত্যাগ নয়, জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন মুগাবে   কেন সৌদি আরব এমন করছে?   মরক্কোয় ত্রাণ নেওয়ার সময় পদদলিত হয়ে নিহত ১৫   ৭ মার্চকে ঐতিহাসিক দিবস ঘোষণা চেয়ে হাইকোর্টে রিট   শাহজালালের মাজারের কুপের পানিকে জমজমের পানি বলে প্রতারণা : তদন্তের নির্দেশ আদালতের   এলপিজি আমদানির জাহাজ কিনলো বেক্সিমকো পেট্রোলিয়াম   রোহঙ্গিা সঙ্কট নিরসনে চীনের ৩ ধাপের প্রস্তাব

>>  স্বদেশ এর সকল সংবাদ

ধর্ম অবমাননা নিয়ে রংপুরে সহিংসতা, আদালতে টিটু রায়ের স্বীকারোক্তি

মহানবীকে (সাঃ) নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি ও অবমাননাকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন টিটু রায়।

 রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার টিটু রায়কে আদালতে হাজির করা হয় । 

 জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টিুটু রায়কে কারাগারে পাঠানো হয় বলেও

বিস্তারিত খবর

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র জালিয়াতি, আটক ৮

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-২১ ১০:০১:৫২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র জালিয়াতির অভিযোগে আটজনকে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাদের মধ্যে সাতজনই ঢাবির ছাত্র।

সোমবার (২০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) সিআইডির গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো মোবাইল ফোনের খুদে বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।

খুদে বার্তায় বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন প্রশ্নপত্র জালিয়াতি চক্রের হোতা। অন্য ছয়জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তাঁরাও প্রশ্নপত্র জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডির মালিবাগের প্রধান কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নাম-পরিচয়ও জানানো হয়নি।

এর আগে ২০ অক্টোবর ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও ঢাবির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মহিউদ্দিন রানাসহ ১৫ জনকে আটক করে পুলিশ।

রানাসহ তিনজনের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। পরে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জালিয়াতিতে জড়িত অন্য সদস্যদের নাম জানায়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েই এই আটজনকে আটক করে সিআইডি।

 এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

জানুয়ারি থেকে সব বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ ভাতা: প্রধানমন্ত্রী

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-২১ ০৯:৫৭:১০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী জানুয়ারি থেকে সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ ভাতা প্রদান করা হবে। এসময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ কখনও পিছিয়ে যেতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে উন্নীত করতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।
মঙ্গলবার ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১৭ উপলক্ষে আয়োজিত বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকার এবং খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর নির্বাচিত সদস্যদের পদক প্রদান করেন তিনি।
এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১০ জন, নৌবাহিনীর একজন এবং বিমানবাহিনীর একজন সদস্যকে ২০১৬-১৭ সালের শান্তিকালীন পদক এবং সেনাবাহিনীর ১০ জন,  নৌবাহিনীর দুজন এবং বিমানবাহিনীর দুজন সদস্যকে ২০১৬-১৭ সালের অসামান্য সেবা পদকে ভূষিত করা হয়।
এর আগে সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণে (শিখা চিরন্তন) পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণের পর মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী গঠিত হয়। এর পর দেশপ্রেমিক জনতা ও মুক্তিবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণের সূচনা করে।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ঐতিহাসিক দিবসটি প্রতিবছর সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার দেশের সব সেনানিবাস, নৌঘাঁটি ও বিমানবাহিনীর ঘাঁটির মসজিদে ফজরের নামাজ শেষে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

 এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

৭ মার্চকে ঐতিহাসিক দিবস ঘোষণা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-২০ ১১:০৯:৩৫

৭ মার্চের ভাষণের স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন, জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ সোমবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল দেন। একই সঙ্গে সাতই মার্চ তর্জনি উঁচিয়ে স্বাধীনতায় উদ্বুদ্ধকরণে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ভাস্কর্য ওই মঞ্চে কেন করা হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।

৭ মার্চের ভাষণের স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও দিনটিকে ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে ঘোষণা চেয়ে হাইকোর্টে রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বশিরুল্লাহ। সোমবার সকালে তিনি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট করেন।

দুপুর ২টার পর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে বিষয়টি নিয়ে শুনানির কথা রয়েছে।

আদালত মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থসচিবসহ বিবাদীদের তিন সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলে আগামী ১২ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন রেখেছেন। এই সময়ের মধ্যে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানিয়ে ১২ ডিসেম্বর অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে ওই দুই সচিবকে বলা হয়েছে।

এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। ৩০ অক্টোবর প্যারিসে অবস্থিত ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে সংস্থাটির মহাপরিচালক (ডিজি) ইরিনা বোকোভা এই ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণার পর গেল শনিবার নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

এলপিজি আমদানির জাহাজ কিনলো বেক্সিমকো পেট্রোলিয়াম

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-২০ ১১:০৬:১৯

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এলপিজি আমদানির জন্য জাহাজ কিনেছে বেক্সিমকো গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো পেট্রোলিয়াম লিমিটেড। আন্তর্জাতিক পানিপথে বাংলাদেশের পতাকা বহন করবে জাহাজটি।

জাহাজটির নামকরণ করা হয়েছে বেক্সপেট্রো-১।

২৭০০ মেট্রিক টন এলপিজি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এই জাহাজটি আমদানিকৃত এলপিজি সরাসরি বেক্সিমকো পেট্রোলিয়ামের কারখানায় সরবরাহ করবে। এটা দেশের এলপিজি খাতে একটা মাইলফলক এবং এর মাধ্যমে নতুন যুগের শুরু হলো। নিজস্ব জাহাজে পণ্য আমদানির কারনে খরচ কমবে এবং আরো কার্যকরী একটি সরবরাহ চ্যানেল তৈরি হবে।

ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে বেক্সপেট্রো-১ এবং এর ক্যাপ্টেন আলেক্সান্ডার ফাজারদো প্রথম এলপিজি’র চালানটি নিয়ে বাংলাদেশে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

একই ধরণের আরো দুটি জাহাজ ক্রয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বেক্সিমকো পেট্রোলিয়ামকে প্রিমিয়ার অপারেটর হিসেবে অবস্থান তৈরিতে এই উদ্যোগ যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

বেক্সিমকো পেট্রোলিয়াম ইতিমধ্যে ইনডেক্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির সহযোগিতায় মংলায় ৩০০০ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন সর্বাধুনিক প্রযুক্তির একটি এলপিজি প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে। আইএসও ৯০০১ সনদপ্রাপ্ত এই প্ল্যান্টটির ধারণ ক্ষমতা আরও ৩০০০ মেট্রিক টন বৃদ্ধির কাজ চলছে। এর পাশাপাশি নারায়নগঞ্জে ৫০০০ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন আরও একটি এলপিজি প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। দেশজুড়ে বিস্তৃত বিক্রয় ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে দ্রুতবর্ধনশীল এলপিজি’র চাহিদা পূরণে এখন পুরোপুরি তৈরি বেক্সিমকো পেট্রোলিয়াম।

 এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে মার্কিন সিনেটররা, রাখাইনে নৃশংসতা মানবাধিকারের মৌলিক লঙ্ঘন

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-১৯ ০৯:২৪:০৪

বাংলাদেশে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন সিনেটরদের প্রতিনিধি দল মনে করে, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর নৃশংসতা যুদ্ধাপরাধের শামিল এবং মানবাধিকারের মৌলিক লঙ্ঘন।

জেফ ম্যার্কলি’র নেতৃত্বে সফররত এই সিনেটর দল রবিবার (১৯ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাতকালে এ মত প্রকাশ করেছেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

প্রেস সচিব বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

মার্কিন সিনেটররা বলেছেন, প্রত্যেক দেশের এই অপরাধ ও জাতিগত নিধনের নিন্দা জানানো উচিত। এই সংকটের সমাধান ও উদ্বাস্তুদের তাদের নিজ দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো সোচ্চার হতে হবে।

তারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদার সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। উদ্বাস্তুরা তাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি খুবই সন্তুষ্ট।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ভয়ঙ্কর নিপীড়নের বর্ণনা দিয়ে জেফ ম্যার্কলি জানিয়েছেন, তারা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে নির্যাতিতদের কাছ থেকে সরাসরি নিপীড়নের তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে নির্মম নিপীড়ণের শিকার হয়ে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের ভারতে আশ্রয় নেওয়ার কথা স্মরণ করে মানবিক কারণে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতার শিকার নাগরিকদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী তার ও তার বোন শেখ রেহেনার ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ভারতে আশ্রয় নেওয়ার স্মৃতিও স্মরণ করেন।

তিনি বলেছেন, মিয়ানমার আমাদের নিকট প্রতিবেশী। আমরা চাই তারা তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেবে।

তিনি আরো বলেছেন, শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী তাদের পরিচয়পত্র দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের প্রচেষ্টায় পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ওই সমস্যায় ৬০ হাজারেরও বেশি নাগরিক ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল এবং বাংলাদেশ তার নাগরিকদের ফিরিয়ে এনে তাদেরকে পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে।

ইহসানুল করিম বলেছেন, মার্কিন সিনেট প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করে বলেন, এটা হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের কঠোর পরিশ্রমের স্বাক্ষর। তারা নারীর ক্ষমতায়নেরও প্রশংসা করেন।

সিনেটরগণ জলবায়ু ইস্যু নিয়েও আলোচনা করেন এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করেন।

মার্কিন সিনেটর রিচার্ড ডারবিন, কংগ্রেসওম্যান বেট্টি ম্যাক কল্লাম ও জন সেহকোশি এবং কংগ্রেসম্যান ডেভিড সিসিল্লিন অন্যান্যের মধ্যে এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ও মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

যারা স্বাধীনতার ইতিহাস মুছে ফেলতে চেয়েছিল তাদের কি লজ্জা হয় না : শেখ হাসিনা

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-১৮ ১০:৪৩:৪৮

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা ৭৫ পর অবৈধভাবে ক্ষমতায় ছিল, যাদের জন্ম বাংলাদেশে না, তারাই বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিল। তারাই ৭ মার্চের ভাষণ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করেছিল। সেই ভাষণ আজ ইউনেস্কো স্বীকৃতি পেয়েছে। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস মুছে ফেলতে চেয়েছিল তাদের কি লজ্জা হয় না? রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার দুপুরে নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

প্রায় ২৫ মিনিটে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইতিহাসও প্রতিশোধ নেয়। ইতিহাসও সত্যকে তুলে ধরে। আজকে সেই স্বীকৃতি বাংলাদেশ পেয়েছে।

৪টা ২৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শুরু করে বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিলেন, স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি করেছিলেন তারা কারা? তারা তো চাটুকার, পাকিস্তানের প্রেতাত্মা। তাদের লজ্জা হয় না। আমি জানি তাদের কোনো লজ্জা নেই।

এসময় তিনি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সবার কাছে আমার একটা অনুরোধ আর যেন কখনো ওই পাকিস্তানি প্রেতাত্মা, তোষামোদী চাটুকারি দল যেন আর বাংলার মাটিতে ফিরে আসতে না পারে। আর যেন তারা ইতিহাস বিকৃতি করার সুযোগ না পাই। এজন্য বাংলাদেশের সকল মানুষকে জাগ্রত থাকতে হবে।

৪টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষ করেন। এর মধ্যদিয়ে সমাবেশ শেষ হয়।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় এই সমাবেশের আয়োজন করেছে নাগরিক কমিটি।

এর আগে শনিবার দুপুর আড়াইটার পরে প্রধানমন্ত্রী সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। এসময় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের অংশ বিশেষ মাইকে বাজানো হয়। প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে উপস্থিত হয়ে হাত নেড়ে সকলকে অভিবাদন জানান।

জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাবেশ। তারপর বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়। ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ শেষে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ।

নাগরিক কমিটির আহবায়ক ইমিরেটস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এতে সভাপতিত্ব করছেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এছাড়া সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল প্রমুখ।

বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে পরিবেশিত হয় গান ও কবিতা। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা পাঠ করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

এছাড়া পরিবেশিত হয় রবীন্দ্র, নজরুল আর মরমী কবি লালন শাহের গান।

নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও শহীদ বুদ্ধিজীবী আবদুল আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী সঞ্চালনা করেছেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কৃত্রিম লেকে শোভা পাচ্ছে পাট বোজাই পাল তোলা নৌকা। আর নৌকার পালে আছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের বিভিন্ন অংশ। এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ, তোমাদের হাতে যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে ইত্যাদি।

নাগরিক সমাবেশ ঘিরে সকাল থেকে আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে শুরু করেন। তারা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও ৭ মার্চের ভাষণের ছবি সম্বলিত প্লা-কার্ড বহন করেন।

সমাবেশ ঘিরে আগেই শাহবাগ এলাকার যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এরপরও এর প্রভাবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও অন্য এলাকায় গাড়ির বাড়তি চাপ দেখা গেছে।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে মূল মঞ্চ সাজানোসহ সমাবেশস্থলের আশপাশ এলাকা সাজানো হয় হয়েছে বর্ণিল সাজে। ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের পাশের গেইট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা প্রবেশ করেন। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে তিন নেতার মাজার পর্যন্ত পাঁচটি গেইট দিয়ে সাধারণ জনগণ প্রবেশ করেন।

নাগরিক সমাবেশে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতৃবৃন্দসহ প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক দলসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

প্যারাডাইস পেপারসে রয়েছে বাংলাদেশির নামও

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-১৮ ১০:৪১:১৩

‘পানামা পেপারসের’ পর বারমুডায় অবস্থিত অ্যাপলবাই নামের এক আইনি সহযোগী সংগঠনের ফাঁস হওয়া গোপন নথি ‘প্যারাডাইস পেপারসে’ বাংলাদেশিদের নাম এসেছে।

১৭ নভেম্বর শুক্রবার নতুন করে প্রায় ২৫ হাজার নথি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নাম জানা গেছে।

প্যারাডাইস পেপারসে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ তার পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে।

তালিকায় মিন্টুর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তার স্ত্রী নাসরিন ফাতিমা আউয়াল, তিন ছেলে তাবিথ আউয়াল, তাফসির আউয়াল ও তাজওয়ার মোহাম্মদ আউয়ালের নাম রয়েছে। মিন্টু মাল্টিমোড গ্রুপের চেয়ারম্যান, তার স্ত্রী এই প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারপারসন আর তাদের তিন ছেলে এই গ্রুপের পরিচালক।

তালিকায় আরও রয়েছেন, ফরিদা মুঘল, শহীদ উল্লাহ, গ্লোবেলেক এশিয়া লিমিটেড ও গ্লোবেলেক এশিয়া হোল্ডিংস লিমিটেডের চৌধুরী ফয়সাল ও ড্রাগন ক্যাপিটেল ক্লিন ডেভেলপমেন্ট ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের সামির আহমেদের নাম।

প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে, ইউনোকল বাংলাদেশ এক্সপ্লোরেশন লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লক সেভেন লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লক ফাইভ লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লক টেন লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লকস থার্টিন অ্যান্ড ফোর্টিন লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লক টুয়েলভ লিমিটেড, বার্লিংটন রিসোর্সেস বাংলাদেশ লিমিটেড, ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ-বারমুডা লিমিটেড, টেরা বাংলাদেশ ফান্ড লিমিটেড, আনিসুর রহমান অ্যান্ড কোং ও ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট (বাংলাদেশ) লিমিটেড।

 এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনকে কী পাশে পাবে বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-১৭ ২৩:৫৪:২৪

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য চীন ,জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা আগামীকাল শনিবার বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশ কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এর সমাধান কীভাবে হতে পারে সে বিষয়টি তাদের কাছে তুলে ধরা হবে।

বিশেষ করে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফরকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বাংলাদেশ। চীনের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও রোহিঙ্গা সংকটে চীন প্রকাশ্যে আন্তর্জাতিক ফোরামে মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

চীনের সর্বশেষ অবস্থান দেখেও মনে হচ্ছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের মনোভাবে দৃশ্যত কোন পরিবর্তন হয়নি। রোহিঙ্গাদের উপর সহিংসতায় উদ্বেগ জানিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার কমিটি যে প্রস্তাব পাশ করেছে সেটির পক্ষে ১৩৫ টি দেশ ভোট দিলেও চীন ও রাশিয়া তার বিরোধীতা করেছে।

বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক কোন মন্তব্য করছে না। তবে কেউ-কেউ মনে করেন, এটি চীনের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে গবেষণা করে সরকার প্রতিষ্ঠিত সংস্থা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান এবং চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের গভীরতা চীন যে অনুভব করছে না তা নয়। কিন্তু তাদের চিন্তাধারা হয়তো অন্যদের চেয়ে আলাদা।

মি: আহমেদ বলেন, "জাতিসংঘ নিরপত্তা পরিষদের যে দুটো বিবৃতি গৃহীত হয়েছে সেগুলো সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। সুতরাং সেখান থেকে প্রকাশ পায় যে চীনও এ বিষয়ে চিন্তিত। কীভাবে এটা বন্ধ করতে হবে সেটার ব্যাপারে হয়তো আমাদের অনেকের সাথে তাদের মতপার্থক্য আছে।"

প্রকাশ্যে কোন অবস্থান না নিয়েও সংকট নিরসনের জন্য চীন যদি ভেতর থেকে চাপ প্রয়োগ করে বা প্রভাব খাটিয়ে কোন ভূমিকা রাখে তাতে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক ফল দিতে পারে।

বাংলাদেশের সাথে দীর্ঘদিন ধরেই চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। বাংলাদেশের বহু বড় ধরনের অবকাঠামো র্নিমানের সাথে চীন জড়িত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জতিক সম্পর্কের অধ্যাপক এম শাহিদুজ্জামান মনে করেন, চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের চেয়ে ব্যবসায়িক সম্পর্কেই বেশি প্রাধান্য দেয়।

সেক্ষেত্রে মিয়ানমারের সরাসরি প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের তুলনায় মিয়ানমারের সাথেই চীনের সম্পর্ক জোরালো। ঘটনা প্রবাহ বিশ্লেষণ করে চীনের কাছ থেকে আশাবাদী হবার মতো আপাতত কিছু দেখছেন না অধ্যাপক শাহিদুজ্জামান।

রোহিঙ্গা সংকটে চীনের ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে মি: শাহিদুজ্জামান বলেন,"সম্পর্কে গভীর কোন উষ্ণতা আছে বলে আমার মনে হয় না।"
কয়েকদিন আগেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেছেন, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে নজিরবিহীন সংকটে রয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বাবরবারই দাবী করছে, এ সংকট নিরসনের জন্য বিশ্বের বড় দেশগুলোকে বাংলাদেশ পাশে পেয়েছে বা পাবে। চীনের মনোভাবও ইতিবাচক বলে মনে করেন কর্মকর্তারা। তাদের কেউ-কেউ মনে করেন আন্তর্জাতিক ফোরামে মিয়ানমানমারকে প্রকাশ্যে নিন্দা করতে চায় না চীন।

পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক বলছেন, কূটনৈতিক তৎপরতায় অগ্রগতি হচ্ছে বলেই রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা বলতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আসছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বর্তমান অবস্থায় চীন এবং রাশিয়ার জোরালো সমর্থন না থাকলে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো রীতিমতো অসম্ভব বিষয়। তাদের সমর্থন না থাকলে শুধু বিবৃতি, এাণ তৎপরতা এবং সহানুভূতির মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে বলে বিশ্লেষকদের ধারনা।

 এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে না ২০ দল: জোটের বৈঠকে সিদ্ধান্ত

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-১৫ ২৩:৪৪:৫২

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি না মানলে আন্দোলনে যাওয়ার বিষয়েও একমত হয়েছেন জোটের শীর্ষ নেতারা।
নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জনমত গড়তে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৮ বিভাগে জনসভা করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে।
 
বুধবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হেয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রটি জানায়, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস আগে সংসদ ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়া দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তুলবে ২০ দলীয় জোট।
এর মধ্যে যদি সরকার দাবি না মানে তাহলে রাজপথে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ারও আহবান জানান খালেদা জিয়া।
জানা গেছে, রংপুরসহ ৬ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও যাবে বিএনপি জোট। রংপুরে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জোটের নেতারাও সফর করবেন।
এ ছাড়া ডিসেম্বরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২০ দলীয় জোট সমর্থিত আইনজীবীদের মহাসমাবেশে খালেদা জিয়া যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই কর্মসূচি ডাকা হবে।
দেড়ঘণ্টাব্যাপী জোটের এ বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সমস্যা ও নির্বাচনের বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)  মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) আন্দালিব রহমান পার্থ, লিবারেল  ডেমোক্রেটিক পার্টির ডা. রেদোয়ান আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এম এ রকীব, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)  খোন্দকার  গোলাম মূর্তজা, ন্যাশনাল পিপলস পাটির্র ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খাঁন, ন্যাপ-ভাসানী আজহারুল ইসলাম, ইসলামিক পার্টির আবু তাহের চৌধুরী, জমিয়তে উলামা ইসলামের মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ,  ডেমোক্রেটিক লীগ  (ডিএল) সাইফুদ্দিন মনি উপস্থিত ছিলেন।

 এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ১৬১০ মার্কিন ডলার, বেড়েছে প্রবৃদ্ধি

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-১৪ ০৯:০৬:২৬

প্রাক্কলিত সাময়িক হিসাব থেকে ৮ ডলার বেড়ে দেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় এখন ১৬১০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুারোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাবে এমন চিত্র ফুটে উঠেছে।এর আগে বিবিএস’র সাময়িক হিসাবে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মাথাপিছু জাতীয় আয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১৬০২ ডলার।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন। পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে সভাটি হয়।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, ‘২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে মাথাপিছু জাতীয় আয়ও বেড়েছে। মোট জিডিপির আকারও বেড়েছে।’

বিবিএসের চূড়ান্ত হিসাবে গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জাতীয় মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ছিল ১৪৬৫ ডলার।

এদিকে. বিবিস’র চূড়ান্ত হিসাব অনুসারে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)-র প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ।এর আগে বিবিএসের সাময়িক হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ হয়েছিল।

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, ‘বর্তমানে জিডিপির আকার ২৪ হাজার ৯৬৮ কোটি ডলার। তবে এর আকার ১০ হাজার কোটি ডলার ছাড়াতে স্বাধীনতার পর ৩৪ বছর লেগেছে। বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া ও কম্বোডিয়া- কেবল এই তিনটি দেশেই পরপর দুবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাত শতাংশের বেশি হলো।’

মন্ত্রী মনে করেন, জিডিপির প্রবৃদ্ধি সাত শতাংশ ছাড়ানোর পেছনে দেশের কৃষক, শ্রমিক, বেসরকারি খাতসহ সবার অবদান আছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, ‘জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে আমরা ৬ এর বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসেছি। তিনি বলেন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২০ সালে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে পৌঁছানোর কথা। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ২০১৯ সালে এটাকে আমরা ৮ শতাংশে নিয়ে যেতে পারবো।’

তিনি জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য হলো-২০৩০ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধিকে ৯ শতাংশে নিয়ে যাওয়া। তাহলে ২০৪১ সাল নাগাদ দেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিয়ে যায়ওা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেছেন, ‘এবারই প্রথমবারের মতো দেশে জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগ ৩০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। গত অর্থবছরে জিডিপির ৩০ দশমিক ৫১ শতাংশ বিনিয়োগ হয়েছে। এর আগের বছর এই হার ছিল ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ।’

বিবিএসের হিসাবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৯৭ শতাংশ, শিল্পখাতে ১০ দশমিক ২২ শতাংশ এবং সেবাখাতে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিবিএসের চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ১১ শতাংশ।

 এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বরিশালে নির্মিত হবে শেখ হাসিনা সেনানিবাস

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-১৪ ০৯:০৫:০৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নামকরণ করে বরিশালে নির্মিত হতে যাচ্ছে ‘শেখ হাসিনা সেনানিবাস’।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই প্রকল্পের  অনুমোদন দেওয়া হয়।

একনেক সভা শেষে প্রকল্পগুলো নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, এটি হবে দেশের ৩১তম সেনানিবাস। দেড় হাজারের বেশি একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া সেনানিবাসটি হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে সেনানিবাসের নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে সেনা সদর ও পূর্ত পরিদপ্তর।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি সেনানিবাস স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি জেলায় বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটলে ২০০ কিলোমিটার দূরের যশোর সেনানিবাসের সহায়তা নিতে হয়। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে সরকারের বেশকিছু মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি সেসব প্রকল্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বরিশালে একটি সেনানিবাস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সেনানিবাসটি মূলত বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার মধ্যে পায়রা নদীসংলগ্ন এলাকায় লেবুখালীতে পড়ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯টি ডিভিশনের আওতায় দেশে এখন ৩০টি সেনানিবাস রয়েছে। তবে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ উপকূলীয় এলাকা বরিশাল ও পটুয়াখালীতে সেনানিবাস নেই। জাতীয় নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষিণে একটি সেনানিবাস গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।

এর মাধ্যমে সরকার ঘোষিত ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর আওতায় আন্তর্জাতিক মানের সেনাবাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রকল্প এলাকাটি চরাঞ্চল হওয়ায় সেখানে জনবসতি গড়ে ওঠেনি। ফলে ঘরবাড়ি কিংবা স্থাপনার জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের প্রয়োজন পড়বে না। প্রস্তাবিত সেনানিবাসে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে প্রায় ১৭ হাজার। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হবে ১ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। পুরো টাকাই সরকারি অর্থায়নে ব্যায় করা হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, এছাড়া তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে পায়রায়। সেখানে দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কাজও চলছে। একই সঙ্গে একটি বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে সরকারের নেওয়া এসব মেগা প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনানিবাসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলা বরিশাল, বরগুনা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ভোলা উপকূলবর্তী জনপদ। এই সেনানিবাসের কাজ শেষ হলে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করা সহজ হবে।

 এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নির্বাচনে নিরপেক্ষ সরকার ও সেনা মোতায়েন চান খালেদা

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-১২ ০৯:৫৩:০৯

শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখে দেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হবে না জানিয়ে একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি পুনর্ব‌্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েন করার এবং বিতর্কিত ইভিএম পদ্ধতি প্রয়োগ না করার জন্য তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।

‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে রোববার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ‌্যানে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজ ঘরে ঘরে কান্না ও আহাজারি। এই সরকারের হাত থেকে মানুষ মুক্তি চায়, এই সরকারের পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন হতে হবে ভোটের মাধ্যমে। সেজন্য মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। এজন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে। যে নির্বাচনে মানুষ নির্দ্বিধায় ভোট দিতে যাবে এবং তাদের ভোট তারা যাকে পছন্দ তাকে দেবে। সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে তারা কি ধরনের চুরি করেছে তা সবাই দেখেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, পেশাজীবীদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক, শিক্ষক সংগঠনগুলোর ভোটেও তারা একই কাজ করেছে। চুরি করে জনগণকে পাশ কাটিয়ে নির্বাচনে জয়লাভে কোনো আনন্দ নেই। এরপরও তারা নিজেদেরকে বিজয়ী দাবি করে। কারণ, তারা জনগণকে ভয় পায়।

আপনারা যদি জনগণের পালস বোঝেন যে তারা কি চাচ্ছে, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব‌্যবস্থা করুন। জনগণ চাচ্ছে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে না। নির্বাচন দিয়ে আপনাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন।’

ক্ষমতাসীনদের প্রতি জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘মাঠে আপনারাও যাবেন, আমরাও যাবো। চ্যালেঞ্জ করছি একটি জায়গায় আপনারা সভা করেন, আমরাও করছি, দেখি কাদের কতো লোক আছে। জনগণই আমাদের শক্তি। তাদের নিয়ে আমাদের পথচলা।’

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশের এতো ক্ষতি করেছেন। সম্পদ লুট করেছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাঝে মাঝে সত্য কথা বলেন। পিঠ বাঁচানোর জন্য ক্ষমতায় থাকতে হবে বলে যা ভাবছেন তা হবে না। আমরা সহিংসতার রাজনীতি করি না। তবে আপনাদের শুদ্ধ করবো। যে খারাপ কাজ করেছেন তা বাদ দিয়ে আপনাদের সত্যিকার অর্থে মানুষ বানাবো।’

বিএনপি জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চায় জানিয়ে প্রাক্তন এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই যাতে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পারে সে জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনের সংষ্কারের জন্য আমাদের কিছু কথা ইসিকে বলে এসেছি। বলেছি, যদি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে হয় তাহলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। আজকে নির্বাচন কমিশনকে বলি, সেনা মোতায়েন করতে হবে, ইভিএম হবে না। শুধু মেতায়েন করলে হবে না। সেনা টহল যাতে হয়, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’

নির্বাচন কমিশনারদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনারা সরকারের অন্যায় আদেশ মানতে পারেন না। নির্বাচন কমিশনারদের বলতে চাই, অবাধ নির্বাচন করার দায়িত্ব আপনাদের। ইভিএম বন্ধ করতে হবে। সেনা মোতায়েন করতে হবে। নির্দলীয় সরকারের ব্যবস্থা করতে হবে। পুলিশ বাহিনীও থাকতে পারে এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’

মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে পরিবর্তনের জন্য ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেখিয়ে দেবে বলে মন্তব‌্য করেন বিএনপি নেত্রী।

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ছিলো আওয়ামী লীগ ও  জামায়াতের। তার জন্য তারা ১৭৩ দিন হরতাল করেছে, রাস্তাঘাট বন্ধ রেখেছে, হরতালের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। এমনকি ইট দিয়ে পুলিশের মাথা থেতলে দিয়েছে, অফিসগামী বয়স্ক লোককে তারা দিগম্বর করেছে, সমুদ্রবন্দর দিনের পর দিন বন্ধ রেখেছে, যাত্রীবাহী বাসে গান পাউডার দিয়ে আগুন দিয়ে মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছে।’

নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে দেশের মানুষ কি চায় সেটা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়ে প্রাক্তন এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৪ সালে কোনো নির্বাচন হয় নাই। তাহলে কি করে এই সরকার বৈধ সরকার। এই সরকার ও সংসদ অবৈধ। এই সংসদে কোনো বিরোধী দল নেই। যে বিরোধী দল তাদের মন্ত্রীরা সরকারেরও আছে বিরোধী দলেও আছে। সুতরাং কোনো বিরোধী দল নাই।’

প্রধান বিচারপতিকে জোর করে পদত‌্যাগ করানো হয়েছে
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজকে দেশে বিচার বলে কিছু নেই। বিচারবিভাগ বলতে কিছু নাই। প্রধান বিচারপতিকে পর্যন্ত জোর করে অসুস্থ বানিয়ে জোর করে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন বিদেশে সরকারের এজেন্সির লোক পাঠিয়ে তাকে চাপ দিয়ে পদত‌্যাগপত্র নিয়ে আসা হয়। তিনি চেয়েছেলেন দেশে ফিরে আসতে। কিন্তু তাদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি কিছু সত্য কথা বলেছেন।’

বিএনপি জবাবদিহিতামুলক সংসদ চায়
একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জবাবদিহিতামুলক সংসদ সম্ভব মন্তব‌্য করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘একটা নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ‌্যমে তা হতে পারে। আামি আপনাদের কাছে জিজ্ঞেসা করতে চাই হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে? আপনারা ভোট দিতে পারবেন।?  পারবেন না।’

রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন চায় বিএনপি
বিএনপি সাংঘার্ষিক রাজনীতির পরিবর্তে ঐকর রাজনীতি চায় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের জন্য কিছু কাজ করতে চাই। সংঘর্ষের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। তারা এই জনসভাকে ভন্ডুল করতে চেয়েছে। এরপরও আজ নীরবে আমরা এই সভাতে উপস্থিত হয়েছে। আমরা রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন আনতে চাই। জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি করতে চাই। কিন্তু আলাপ আলোচনা ছাড়া তা সম্ভব নয়। আমরা জবাবদিহিতামুলক সংসদ দেখতে চাই, যেখানে সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে আলোচনা করে কোনো সমস্যা হলে সমাধান করবে।’

সরকারি চাকুরিজীবীদের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই সরকার হয়তো আপনাদের বলে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আপনাদের চাকরি যাবে, মামলায় হয়রানি শিকার হতে হবে। কিন্তু তা হবে না। আমরা আগেই বলেছি আমরা হিংসাত্মক রাজনীতি করি না।’

“সরকারি আদেশ নিষেধ মেনে চলাই আপনাদের দায়িত্ব। দলীয় পরিচয় নয়, আমরা দেখবো সরকারি চাকরিতে কে কতটা যোগ্য। সেখানে বিএনপি বা আওয়ামী লীগ বলতে কিছু নেই। যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতের তাদের চাকরির পদোন্নতি হবে। আপনারা নির্ধিদ্বায় কাজ করতে পারেন।”

কথা রাখে নি সরকার
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা রক্ষা করে নি দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এই সরকার দেশকে শেষ করে দিয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে কথা দিয়েছিলো, ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে। আজ ৭০ টাকা মানুষ চাল খাচ্ছে। কেন, জনগণ জবাব চায়, জানতে চায়। ক্ষমতায় গেলে ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু চাকরি দেয় নাই। চাকরি না দিয়ে ঘরে ঘরে বেকার সৃষ্টি করেছে।’

নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মুল্যাবৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি বলেন, ‘প্রতিটি সবজি তরি-তরকারির দাম ৭০-৮০ টাকার নিচে নয়। পিয়াজ একশ টাকা। প্রতিটি জিনিসপত্রের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এই অবস্থায় আবার বারবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের জীবন আজ দুর্বিসহ। তারা কথা দিয়েছিলো, বিনামুল্যে সার দেবে। বিনামুল্যে সার তো দেয়-ই না বিএনপির আমলের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। কৃষকরা আজ মহাদুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তারা কৃষি উপকরণ পাচ্ছে না। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে চাল-ধান কিনছে না। ক্ষমতাসীনদের টাউট-বাটপাররা কৃষকদের কাছ থেকে ধান চাল কিনছে। শ্রমিকদেরও একই অবস্থা তাদের ওপরও নির্যাতন হচ্ছে। বেতন ভাতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন কিন্তু তারা করছে না।’

এ সময় শেয়ার বাজারে ধস, ব্যাংক লুটপাট, অর্থ আত্মসাতের ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন। সরকারের মন্ত্রী এমপিরা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলেও দাবি তার।

দুদকের সমালোচনায় খালেদা জিয়া
খালেদা জিয়া বলেন, ‘সাড়ে চার লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিদেশে পাচার হয়েছে। এটা আমাদের হিসাব নয় ,আমেরিকা ভিত্তিক একটি কোম্পানির হিসাব। এই টাকা পাচার করেছে তারা যারা ক্ষমতায় আছে। প্রতি পদে পদে দুর্নীতি। পাচার করা বিপুল অংকের টাকার খবর পানামা পেপারসে এসেছে। কেউ এই কেলেংকারী নিয়ে দুদক কিন্তু কোনো মামলা বা কোনো তদন্ত করেনি। অথচ দুদক পড়ে আছে আমাদের পেছনে। যার সঙ্গে আমাদের কোনো সংশিষ্টতা নেই তার পেছনে লেগে আছে।’

তিনি বলেন, ‘একটি বেসরকারি সংস্থার হিসাব মতে, গত সাত বছরে ব্যাংক থেকে চুরি হয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকা। এ খাতের দুর্নীতির সঙ্গে কারা জড়িত মানুষ তা জানে। বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা ৮’শ কোটি টাকা কারসাজি করে পাচার করা হয়েছে। কিন্তু এগুলো নিয়ে কোনো তদন্ত হয় না। কাউকে ধরা হয়নি। এগুলো তো আ’লীগের টাকা নয় জনগণের টাকা। জনগণের টাকা এভাবে পাচার হচ্ছে অথচ তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

প্রতিশ্রুতি
বেশ কিছু প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন খালেদা জিয়া বলেন ক্ষমতায় গেলে তারা এসব বাস্তবায়ন করবেন। এর আগে ‘ভিশন ২০৩০’ ঘোষনায় এসব প্রতিশ্রুতির কথা বলেছিলেন তিনি।

‘যারা একবছরের বেশি বেকার থাকবে তাদের জন্য বেকার ভাতা চালু করা হবে। সব ছাত্রছাত্রীর জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামুল্যে পড়ালেখার সুযোগ, মেয়েদের উপবৃত্তি দেওয়া হবে, বিনামুল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। সবার জন্য পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য বীমা চালু করা হবে। সব শিক্ষিত ছেলেদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির ব্যবস্থা করবো। কৃষকদের কৃষি উপকরণ কম দামে দেবো ভর্তুকি দেবো। কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহিত করবো। গ্রামে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে যাতে গ্রামের মানুষ শহরমুখী না হয়।’

বাংলাদেশ আমার ঠিকানা
এক এগারোর সময়ে নির্যাতনের কথা স্মরণ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘তারা চেয়েছিলো আমাকে স্বপিরবারে দেশে পাঠিয়ে দিতে। আমি বলেছি বিদেশে আমার কোনো ঠিকানা নেই। এদেশের মানুষই আমার ঠিকানা। এরপর আমার ছেলেদের নির্যাতন করেছে। এক ছেলেকে পঙ্গু করেছে। আরেক ছেলে মারা গেলো (এ সময় কিছুটা আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন এবং নিজেকে সামলে আবারও বক্তব্য রাখা শুরু করেন বিএনপি প্রধান)।  তারা বলেছে, আমি নাকি বাংলাদেশে ফিরে আসবো না। আমার ঠিকানা বাংলাদেশ। এখানের মানুষের কাছেই আমি থাকবো। আমাদের শক্তি গুলি নয় এদেশের মাটি ও মানুষ।’

সরকার সমাবেশে আসতে নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে বাধা দিয়েছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘জনসভা যাতে সফল না হয় জনগণ যাতে আসতে না পারে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষকে অনেক কষ্ট করে আসতে হয়েছে। বাড়ি বাড়ি ও হোটলেগুলোতে তল্লাশী করা হয়েছে। পাবলিক যানবাহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু কী তাই, এমনকি আমিও যাতে আপনাদের সামনে এসে পৌঁছাতে না পারি আমার বাসা থেকে বের হয়ে গুলশান পার হতে বাস দিয়ে রাস্তা আটকে রাখা হয়েছে। এরা যে কত ছোট মনের তা আবার প্রমান করলো। এতো ছোট মন নিয়ে রাজনীতি করা যায় না।’

এ সময় ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরেন প্রাক্তন এই প্রধানমন্ত্রী।

খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে  রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা রোহিঙ্গা সমস্যা। একসাথে বসে এই সমস্যা র সমাধান করতে হবে। আমেরিকা, ব্রিটেন, ইন্ডিয়া, চীনের মতো বড় দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি আহ্বান, যাতে রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে নির্ভয়ে সেখানে থাকতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ তারা সে দেশের নাগরিক। বাংলাদেশের নাগরিক নয়। আমরা মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু দীর্ঘদিন রাখা সম্ভব নয়।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন,ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে.জেনারেল (অব.)মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস,গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, বরকতউল্লাহ বুলু, মো. শাজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন, শওকত মাহমুদ, আমান উল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুনুর রশিদ,হাবিব উন নবী খান সোহেল প্রমুখ।

এর আগে বেলা পৌনে ২টায় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খানের কোরআন তেলোয়াতের মধ্যদিয়ে এই জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। বেলা ২টায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে জনসভা শুরুর এক ঘণ্টা পর খালেদা জিয়া সমাবেশস্থলে পৌঁছান। বিকেল সোয়া ৪টায় বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন খালেদা জিয়া।
এদিকে উক্ত সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সাথে সংযুক্ত মহাসড়ক ও রাজধানীর আভ্যন্তরীণ গণপরিবহণ বন্ধ করে দেয় সরকার ও প্রশাসন। এতে চরম বিড়ম্বনায় পড়েন সাধারণ মানুষ।


 এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল অংশের নির্মাণ শুরু শিগগিরই

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-১১ ১০:৫০:৩০

একটা সময় যা ছিল অধরা স্বপ্ন, তাই যেন আজ দৃশ্যমান বাস্তবতা। বর্তমানে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দ্রুতগতিতে পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে।

দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প’ নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা থাকলেও, সফলভাবে শেষ হয়েছে প্রথম ধাপের কাজ। চলতি মাসের যেকোনো দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূল অংশের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করবেন বলে নিশ্চিত করেছে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে ঘিরে পাবনা জেলার রূপপুর পদ্মার পাড়ে চলছে রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশনের নেতৃত্বে কর্মযজ্ঞ। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সার্বিক কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয়েছে ৫০৮৭ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় বা শেষ পর্যায়ের কাজও। এরই অংশ হিসেবে নভেম্বরে উদ্বোধন হতে পারে বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল স্থাপনার ‘রিঅ্যাক্টর বিল্ডিং (উৎপাদন কেন্দ্র)’ নির্মাণ কাজ। এ লক্ষ্যে পুরোদমে চলছে স্থাপনাটির ফাউন্ডেশনের (‘ফার্স্ট কংক্রিট পোরিং ডেট বা এফসিডি) সার্বিক কার্যক্রম।

দুই পর্যায় মিলে ১ লাখ ১৮ হাজার ১৮০ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের  কাজ ২০১৩ সালে শুরু হয়েছে। প্রকল্প সমাপ্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। দুই ইউনিটের এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশিষ্টরা।

এই বিষয়ে প্রকল্পের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ইউরিক মিখাউল খোসলেভ জানান, ২০১৭ সাল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখন রিঅ্যাক্টর বিল্ডিং তৈরির প্রস্তুতি হিসেবে সাব বেইজ তৈরি করা হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে মূল প্রকল্পের ভিত্তি। অবকাঠামো ছাড়াও অনেক কাজ চলছে। যেমন রড, ল্যাবরেটরি, ওয়ার্কশপ ইত্যাদি।  সব কাজই হচ্ছে পরিকল্পিতভাবেই। মূল স্থাপনার কাজ শুরু হলে তার পরের ৬৮ মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ‘‘প্রতিদিন রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশি কর্মী মিলে এক হাজারের বেশি লোক দিন-রাত কাজ করছেন। এ প্রকল্পের জন্য থ্রি প্লাস রিঅ্যাক্টর বসবে। যেটি বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তির। যা শুধু রাশিয়ার একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রয়েছে। আর বাংলাদেশের রূপপুরেই হবে দ্বিতীয় ব্যবহার। এখানে মালিক (সরকার), সাব-কন্ট্রাক্টর ও আমরা সবাই এক কমান্ডেই কাজ করছি। কোনো সমস্যা নেই। নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা নেই। ২০২০ সালের মধ্যে রিঅ্যাক্টর ভেসেলসহ সব যন্ত্রপাতিই রাশিয়া থেকে চলে আসবে। তারপর এখানে অ্যাসেম্বলিং করা হবে।’’

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে মূল স্থাপনার জন্য সয়েল স্টাবলিস্টমেন্টের কাজ পুরোদমে চলছে। বাংলাদেশের মাটি তুলনামূলক নরম হওয়ায় যন্ত্রের সাহায্যে মাটির অনেক গভীর পর্যন্ত সিমেন্ট মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে ১৭ হাজার ৪৫০ কিউবিক মিটার কংক্রিটিংয়ের কাজ চলছে নিরবচ্ছিন্নভাবে। প্রথম পর্যায়ে চার হাজার কিউবিক মিটারের কাজ শেষ হয়েছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পুরোটা শেষ হবে। মূল স্থাপনার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ হবে ৭০ মিটার করে, আর ফাউন্ডেশনের থিকনেস হবে তিন মিটার। আনুষঙ্গিক অনেক কাজই দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চলছে প্রটেকশন ড্যাম (বাঁধ) তৈরির কাজ। ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার লম্বা এবং ১৩ মিটার প্রস্ত এই বাঁধের কাজও এগিয়েছে অনেকদূর। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রথম পর্যায়ে ২৬০ একর জমি অধিগ্রহণ করা ছিল। কিন্তু সেটি পর্যাপ্ত না হওয়ায় ইতিমধ্যে ৮০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। আরও ২১৯ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। নতুনভাবে অধিগ্রহণ করা পদ্মার বিশাল চরে চলছে মাটি ভরাটের কাজ।

মূল প্রকল্প এলাকার বাইরে গ্রিনসিটি আবাসন পল্লী নির্মাণের কাজ অনেকটাই শেষ পর্যায়ে। পাবনা গণপূর্ত অধিদপ্তর এগুলো বাস্তবায়ন করছে। ইতিমধ্যে তিনটি সুউচ্চ বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এই এলাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০ তলার ১১টি বিল্ডিং এবং ১৬ তলার ৮টি বিল্ডিংয়ের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ২২টি সুউচ্চ বিল্ডিং তৈরি হবে এ চত্বরে। থাকবে মাল্টিপারপাস হল, মসজিদ ও স্কুলসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ওয়েব সাইট থেকে জানা যায়, দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ব্যয়ের প্রকল্প হচ্ছে এই রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। মোট ব্যয়ের মধ্যে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে রাশিয়া দিচ্ছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

আসলেই কি সম্পূর্ণ নিরাপদ এই বিদ্যুৎ প্রকল্প?- এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর বলেন, রূপপুর প্রকল্পে রিঅ্যাক্টর ঘিরে রয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয়। এর পাশাপাশি রাশিয়ান ফেডারেশনের নির্মিত প্রযুক্তির অ্যাকটিভ ও প্যাসিভ সেফটি সিস্টেমের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় কোনো ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি নেই বললেই চলে। এরপরও যদি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেও, এর তেজস্ক্রীয়তা জনগণের নাগালের মধ্যে যাবে না। কাজেই বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্তই বলা যায়।

নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে এসে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ড. ইয়াফেস ওসমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে ১৯৬০ সালে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য ১৯৬০, ১৯৭৭-৭৮ এবং ১৯৮৮-৮৯ সালে কারিগরি ও অর্থনৈতিক ও আর্থিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে এটি নির্মাণ সম্ভব হয়নি। সরকারের বিদ্যুৎ খাতের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহের ১০ শতাংশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ থেকে পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আমরা আশা করি চলতি মাসের শেষের দিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের মূল কাজ উদ্বোধন করবেন।’’

ড. ইয়াফেস আরো জানান, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং গাইডলাইন অনুযায়ী পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। গত জুলাই মাসে এই প্রকল্প সরেজমিন পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন সংস্থাটির মহাপরিচালক ইউকিয়া আমানো।

 এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

প্রধান বিচারপ‌তি‌কে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে: মওদুদ

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-১১ ১০:৪৭:৩২

‌ষোড়শ সং‌শোধনীর রায় সরকা‌রের বিপ‌ক্ষে যাওয়ায় সরকার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে  বলে দাবি করেছেন বিএন‌পির স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহ‌মদ।

শ‌নিবার জাতীয় প্রেসক্লা‌বে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহ‌তি দিবস’ উপল‌ক্ষে  বাংলা‌দেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃ‌তিক দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

মওদুদ বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নাকি পদত্যাগ করেছেন! বিচার বিভাগ ও আদালতের স্বাধীনতার জন্য আজ একটি কলঙ্কের দিন। তাকে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে। বিচার বিভাগের যে সামান্য স্বাধীনতা ছিল, এই সরকার তা নস্যাৎ করে দিয়েছে।’

ষোড়শ সংশোধনীর রায় সরকারের বিপক্ষে গেছে বলেই প্রধান বিচারপতি সিনহার পদত্যাগের  ঘটনা ঘটল দাবি করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া রায়ের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে তারা (সরকার) এটা করল। অথচ সরকার রিভিউ আবেদন করতে পারত। সরকার সমন্বিতভাবে সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি করল।’

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পদত্যাগে গোটা জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন দেশের মওদুদ আহমদ। এই বিশিষ্ট আইনজ্ঞ বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ঐতিহ্য নিয়ে আমরা যে গর্ব করতাম, তা আর থাকল না। সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সরকারের কোনো লাভ হলো কি না জানি না, তবে গোটা জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হলো। বিচার বিভাগের মান আমরা উদ্ধার করতে পারব কি না সন্দেহ আছে।’

আদালত সরকারের নিয়ন্তণে চলছে বলে এ সময় অভিযোগ করেন ব্যারিস্টর মওদুদ। এ প্রসঙ্গে তিনি খালেদা জিয়ার মামলার উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেলেন, কিন্তু তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলো। আবার দেশে ফিরে তিনি আদালতে হাজিরা দিয়ে সাপ্তাহিক জামিন পেলেন। বিষয়টি কেমন হলো!’

মওদুদ বলেন, ‘আমার ৫০ বছরের আইন পেশায় আমি এ ধরনের ঘটনা শুনিনি। এটা করে নেত্রীকে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, আদালত সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলছে। সাপ্তাহিক জামিন দেওয়ার বিষয়টি অশোভনীয় আচরণ। আসলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই বলেই এমনটি হচ্ছে।’

বিএনপির সমাবেশের অনুমতি প্রসঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ বলেন, ‘অনুম‌তি নি‌য়ে বি‌রোধী দল‌কে সমা‌বেশ কর‌তে হয়  এতেই প্রমাণ ক‌রে যে বাংলা‌দে‌শে গণতন্ত্র নেই।  দে‌শে ঘ‌রোয়া একটা সমা‌বেশে কর‌তেও যদি সরকা‌রের অনুম‌তি নি‌তে হয় তাহ‌লে আর কী কর‌বে সাধারণ মানুষ।’ ‌আগামীকা‌লে বিএনপির সমা‌বেশ জনসমুদ্রে প‌রিণত হবে ব‌লেও মন্তব্য ক‌রেন মওদ‌ুদ।

 এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

এসকে সিনহার পদত্যাগ, ওয়াহ্হাব মিঞা প্রধান বিচারপতি

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-১১ ১০:৪৬:২২

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী আপিল বিভাগের প্রবীণতম বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পরও যতক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নতুন একজনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ না দিচ্ছেন ততক্ষণ পর্যন্ত বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করে যাবেন। সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদবলে ততক্ষণ পর্যন্ত  ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি থাকবেন মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা।

সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে প্রধান বিচারপতি তাঁহার দায়িত্বপালনে অসমর্থ বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে ক্ষেত্রমতে অন্য কোনো ব্যক্তি অনুরূপ পদে যোগদান না করা পর্যন্ত কিংবা প্রধান বিচারপতি স্বীয় কার্যভার পুনরায় গ্রহণ না করা পর্যন্ত আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারকের মধ্যে যিনি কর্মে প্রবীণতম, তিনি অনুরূপ কার্যভার পালন করিবেন।’

আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা যতক্ষণ পর্যন্ত না প্রয়োগ করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কাজ হবে, কোনো শূন্যতার সৃষ্টি হবে না।

প্রসঙ্গত, দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। তা রাষ্ট্রপতির কাছে এসে পৌঁছেছে।

 এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সিঙ্গাপুর থেকে কানাডায় প্রধান বিচারপতি

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-১০ ১৩:৫৬:১৬

ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আজ শুক্রবার সিঙ্গাপুর থেকে কানাডা গেছেন। প্রধান বিচারপতির ঘনিষ্ঠ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে গত সোমবার রাতে সিঙ্গাপুরে পৌঁছান। আজ সিঙ্গাপুর থেকে তিনি কানাডার উদ্দেশে রওনা হন। কানাডায় প্রধান বিচারপতির ছোট মেয়ে আশা সিনহা রয়েছেন।

প্রধান বিচারপতির ছুটির মেয়াদের শেষ দিন ছিল আজ ১০ নভেম্বর। কোনো কোনো গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়, প্রধান বিচারপতি ১৩ নভেম্বর দেশে ফিরছেন। এ জন্য প্রধান বিচারপতির প্রয়োজনীয় প্রটোকল প্রস্তুতের জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে বিষয়টি তিনি জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে জানতে সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জেনারেলের সঙ্গে আজ মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ১৩ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। অস্ট্রেলিয়ায় তিনি বড় মেয়ে সূচনা সিনহার বাসায় ওঠেন।

এর আগে গত ২ অক্টোবর এক মাস ছুটির কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর চিঠি পাঠান প্রধান বিচারপতি, যার মেয়াদ ছিল ১ নভেম্বর পর্যন্ত। ছুটিতে থাকা অবস্থায় প্রধান বিচারপতির ১৩ অক্টোবর বা কাছাকাছি সময়ে বিদেশে যাওয়ার এবং ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশে থাকার ইচ্ছা পোষণের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করতে ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। গত ১০ অক্টোবর বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে পাঠানো ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় ১২ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এ হিসাবে আজ শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ছুটির মেয়াদ শেষ হয়। তবে তিনি তাঁর ছুটির মেয়াদ বাড়িয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ছুটি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে গত বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এ সম্বন্ধে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।

বিস্তারিত খবর

এতিম রোহিঙ্গা শিশুর সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়াতে পারে

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-১০ ১৩:৫৫:২৪

মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে জরীপ চালিয়ে এই পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩৭৩ জন এতিম শিশু শনাক্ত করা হয়েছে।

এরমধ্যে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুইদিনেই শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৮১৫ জন।

সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এখনও যেভাবে এতিম শিশু শনাক্ত হচ্ছে, তাতে করে এ সংখ্যা কয়েকদিনের মধ্যে ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘মিয়ানমার ন্যাশনাল অরফান চাইল্ড’ কার্যক্রমের আওতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এদিকে এখনও রোহিঙ্গারা আসছে। গত ৮-১০ দিন ধরে গড়ে এক হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) রিপোর্ট অনুযায়ী ২৫ আগস্টের পর থেকে এই পর্যন্ত বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৬ লাখ ২৬ হাজার।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (কার্যক্রম) ও ‘মিয়ানমার ন্যাশনাল অরফান চাইল্ড’প্রকল্পের সমন্বয়কারী সৈয়দা ফেরদাউস আখতার বলেছেন, ‘আমরা ভাবছি এ মাসের মধ্যে এতিম রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করার কাজ শেষ করতে পারবো।’

তবে রোহিঙ্গারা এখনও আসছে, এই স্রোত আরও বাড়লে প্রকল্পের কাজ কিছুটা দীর্ঘায়িত হতে পারে। এতিমদের সংখ্যাও ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানালেন ফেরদৌস আক্তার।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের ৮০ জন কর্মী ক্যাম্পগুলোতে গিয়ে খুঁজে খুঁজে অনাথ শিশু শনাক্তকরণের দায়িত্ব পালন করছেন। তারা বিভিন্ন ক্যাম্পে গিয়ে শিশুর অভিভাবক ও মাঝিদের মাধ্যমে সঠিক তথ্য-উপাত্ত নিয়ে শনাক্তকরণের কাজটি করছেন। যারা বাবা-মা দুজনকেই হারিয়েছে, যারা শুধু বাবা হারিয়েছে, যারা প্রতিবন্ধী, আর যারা মা-বাবার খোঁজ পাচ্ছে না- এমন চারটি শ্রেণিতে এদের ভাগ করা হচ্ছে।

শিশু আইন অনুযায়ী ১৮ বছর পর্যন্ত বয়সীদের শিশু হিসেবে গণনা করে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক প্রীতম কুমার চৌধুরী বলেছেন, ‘ইতোমধ্যে টেকনাফের ৫টি ক্যাম্পে সনাক্তকরণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে বড় দুইটি ক্যাম্প-কুতুপালং এবং বালুখালীতে। শনাক্ত হওয়া সকল এতিম শিশুকে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরে পক্ষ থেকে স্মার্ট কার্ড দেয়া হবে।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘এতিম রোহিঙ্গা শিশুদের শনাক্ত হওয়ার হার কিছুটা কমলেও এখনও প্রতিদিন ৮-৯শ এতিম শিশুর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে। এ সংখ্যা ৪০ হাজার ক্রস করতে পারে।’

এদিকে এতিম রোহিঙ্গা শিশুদেরের সুরক্ষার জন্য আবাসস্থল ‘শিশুপল্লী’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে উখিয়ার নিবন্ধিত কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধুছড়া এলাকায় ২শ একর জমিও নির্ধারণ করা হয়েছে। অনাথ রোহিঙ্গা শিশুদের শনাক্ত করার কার্যক্রম শেষ হলে আগামী মাসে শিশুপল্লীর কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতায় খুন হয়েছে অসংখ্য রোহিঙ্গা দম্পতি। তাদের বেঁচে যাওয়া সন্তানরা আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে পালিয়ে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে। এসব পিতৃ-মাতৃহীন শিশুদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি বিশেষ সুরক্ষা অঞ্চল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওই বিশেষ অঞ্চলে বিশেষ যত্নে দেখভাল করা হবে এসব শিশুদের।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

মহানবীকে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট, রংপুরে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে যুবক নিহত, অগ্নিসংযোগ

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-১০ ১৩:৫৪:০৩

রংপুরের সদর উপজেলায় পুলিশ-জনতার সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছে। এতে পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছে।

উপজেলার পাগলাপীর এলাকার এক যুবকের ইসলাম ধর্ম অবমাননাকর একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে মুসল্লি-জনতা রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এ সময় সংঘর্ষ হয়। তখন হিন্দু সম্প্রদায়ের ছয়টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে পাগলাপীর সলেয়াসা এলাকার টিটু রায় নামে এক যুবক তার ফেসবুক আইডি থেকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে অবমাননাকর ছবি পোস্ট দেন। এতে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা ওই যুবকের শাস্তির দাবিতে শুক্রবার বাদ জুম্মা সলেয়াসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়। জুম্মার নামাজের পর শত শত মানুষ সলেয়াসা বাজার এলাকায় জমায়েত হয় এবং মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে।

এ সময় সড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে অবরোধকারীদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানায়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের কথাকাটাকাটি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩৫ রাউন্ড টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হয়।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আলমি, মাহবুল, জামিলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে পুলিশের পাঁচ সদস্য রয়েছে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত  হাবিব মিয়াকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি গঙ্গাচড়া উপজেলার বাসিন্দা।

বিক্ষুদ্ধ জনতা ধীরেন চন্দ্র, হিরেন চন্দ্রসহ কমপক্ষে ছয়জনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।

এলাকাবাসী শাহ মোহাম্মদ মাসুদ রানা, আলিফ মিয়া ও রায়হান কবির বলেন, ‘‘আমরা নবীজী সম্পর্কে কটূক্তিকারীর শাস্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করছিলাম। পুলিশ আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।’’

গত রোববার উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের লালচাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তারের ছেলে ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে টিটু রায়ের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গঙ্গাচড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কিবরিয়া এক যুবকের নিহতের খবর  নিশ্চিত করে জানান, লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) আজিজুল ইসলাম জানান, মহাসড়ক অবরোধ থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানালে জনতা পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

 এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

হাবিবুল আলম বীরপ্রতীককে তুলে নিয়েছে র‌্যাব

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-০৯ ১১:৩৮:৪৩

একটি প্রতারক চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের সন্দেহে বীরপ্রতীক হাবিবুল আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুলে নিয়েছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার বাংলামোটরে আইএসএন কার্যালয় থেকে মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুলকে নিয়ে যায় র‌্যাব।

তিনি ইনফরমেশন সার্ভিস নেটওয়ার্ক লিমিটেড (আইএসএন) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

হাবিবুল আলমের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে,  “বেলা দেড়টার দিকে কয়েকজন র‌্যাব সদস্য গিয়ে তাকে অফিস থেকে তুলে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় আমাদের লোকজনকে তাদের গাড়ি অনুসরণ করতে বলে।” হাবিবুলকে বহনকারী গাড়িটি উত্তরায় র‌্যাব-১ কার্যালয়ে ঢোকে বলে জানা যায়।

র্যাব সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে অবস্থানরত অফ্রিকার একটি প্রতারক চক্রকে নিয়ে র্যাব তদন্ত করছে। এই প্রতারক চক্র বিভিন্নভাবে টাকা হাতিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়।

“কোনো না কোনোভাবে এই চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে হাবিবুল আলমের। তিনি নিজেও প্রতারণার শিকার হতে পারেন। এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তাকে নেয়া হয়েছে।”

খেতাবধারী এই মুক্তিযোদ্ধাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে র‌্যাব দাবি করেছে। হাবিবুল আলম একাত্তরে ঢাকায় অভিযান পরিচালনাকারী গেরিলা দল ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য ছিলেন।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

৪৮ ঘণ্টায়ও সন্ধান মেলেনি নর্থ-সাউথের শিক্ষক মুবাশ্বারের

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-০৯ ১১:৩১:৪৯

নিখোঁজ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পরও সন্ধান মেলেনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ-সাউথের সহকারী অধ্যাপক মুবাশ্বার হাসান সিজারের। তার ফিরে আসার  অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও স্বজনেরা। তারা যে কোনও মূল্যে মুবাশ্বারকে ফেরত চান। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, তারা মুবাশ্বারের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবকটি সংস্থা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) মুবাশ্বারের বাবা ও চাচার সঙ্গে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা কথা বলেছেন।

খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, ‘আমরা তার সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কী কারণে বা কারা তাকে তুলে নিয়ে যেতে পারে, তা জানার চেষ্টা চলছে। তার ব্যক্তিগত বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

গত মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) সকালে দক্ষিণ বনশ্রীর বাসা থেকে বের হয়ে তিনি নিজের কর্মস্থল নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটিতে যান। সেখান থেকে বিকালে আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের একটি মিটিংয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বের হওয়ার পরপরই নিখোঁজ হন তিনি। ওই দিন সর্বশেষ ৬ টা ৪১ মিনিটেও আগারগাঁও এলাকাতেই ছিল তার অবস্থান।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মুবাশ্বারকে উদ্ধারের বিষয়ে তারা জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস, ইউএনডিপিসহ আন্তর্জাতিক একাধিক সংস্থা থেকেও তার সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাওয়া হয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেও বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটগুলো আলাদা আলাদা করে মুবাশ্বারকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে।

মুবাশ্বারকে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করতে পারে বলে মনে করছেন না পরিবারের সদস্যরা। তারা জানান, অপহরণ করা হলে সাধারণত অপহরণকারীরা পরিবারের সদস্যদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে থাকে। কিন্তু বৃহস্পতিবারও মুবাশ্বারের পরিবারের কাউকে ফোন করে কোনও মুক্তিপণ চাওয়া হয়নি। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনও ইউনিট হয়তো অজ্ঞাত কোনও কারণে তাকে আটক করে থাকতে পারে। তবে কী কারণে তাকে আটক করা হতে পারে, সে বিষয়ে কোনও ধারণা দিতে পারেননি কেউ।

পরিবারের সদস্যরা জানান, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সোসিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি মুবাশ্বার ইউএনডিপিতেও কাজ করতেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একসেস টু ইনফরমেশন- এটুআই প্রকল্পের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এছাড়া, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার এবং রাজনীতিতে ধর্মীয় সম্পৃক্ততার বিষয় নিয়ে গবেষণা করতেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করা মুবাশ্বার বছরতিনেক সাংবাদিকতাও করেছেন। পরে বৃটেন ও অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন।

মুবাশ্বারের এক স্বজন জানান, জঙ্গিবাদ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কোনও পক্ষের সঙ্গে তার কোনও মতবিরোধ হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি। একারণে কোনও পক্ষ তাকে তুলে নিতে পারে। তবে ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তিনি অ্যান্টি টেরোরিজম নিয়ে কাজ করেন। ফলে মতবিরোধ হওয়ার কোনও কারণ তারা খুঁজে পাচ্ছেন না।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, আমরা মুবাশ্বারকে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা করছি। তাকে উদ্ধার করতে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেও চাপ রয়েছে। তাকে উদ্ধারে একাধিক টিম বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করছে।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

খালেদা জিয়ার ‘গণজোয়ার’ চমক, দেশের রাজনীতিতে নতুন হিসাব-নিকাশ

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-০৯ ১১:২৫:৫৪

লন্ডনে চিকিৎসা শেষে প্রায় তিন মাস পর খালেদা জিয়া দেশে ফিরেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার এবারের বিদেশ সফর নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা ছিল আগে থেকেই। তিনি কী পরিকল্পনা নিয়ে দেশে ফিরেন সেই হিসাব-নিকাশও চলছিল। বলা হচ্ছিল, দেশে ফিরেই সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। আন্দোলনের কর্মসূচিও দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছিল।
কিন্তু না, তিনি রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়ার যে সাধারণ কর্মসূচি দিলেন সেটিই অবশেষে বিএনপির জন্য অসাধারণ হয়ে দেখা দিলো। এ কর্মসূচিটির মাধ্যমে সারাদেশে যে সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছেন তাতে গোটা রাজনীতির হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে বলা যায়। এই সফরকর্মসূচি সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরকারের কাছে যে তথ্য দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রায় পঞ্চাশ লাখ লোককে রাস্তায় নামতে সক্ষম হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। এটা একটা বিশাল সাফল্য, যা কল্পনাতীত। টেলিভিশনের পর্দায় লাইভ দেখা গেছে, তাকে এক নজর দেখার জন্য রাস্তায় যেন হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মানুষ। এও দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ রাস্তায় রাস্তায় বাধা দিয়েছে, রাস্তার উপর বড় বড় গাছ ফেলে ব্যারিকেড দিয়েছে, যাতে খালেদা জিয়ার কাছে মানুষ ভীড় করতে না পারে। উল্টো এতে হিতে বিপরীত হয়েছে। এতো কিছুর পরও রাস্তায় মানুষের ঢল দেখে অনেকে হতভম্ব হয়ে গেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা, একে খালেদা জিয়ার ‘গণজোয়ার’ চমক বলে আখ্যায়িত করছেন। সরকারি দল আওয়ামী লীগও নড়েচড়ে বসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নতুন হিসাব-নিকাশ করতে শুরু করেছেন। বিএনপি ছাড়া একতরফা ‘নির্বাচন’র সম্ভাবনা আর দেখছেন না কেউ। অন্য কোনো অঘটন না ঘটলে বিএনপির ক্ষমতায় আরোহনের পথও পরিষ্কার হয়ে উঠছে।
দীর্ঘদিন মনমরা ও হতাশ থাকা বিএনপি নেতা-কর্মীদেরকে এ মুহূর্তে বেশ উজ্জীবিত বলে দেখা যাচ্ছে। মানুষ হুমড়ি খেয়ে রাস্তায় নামার লক্ষণ দেখে তারা বেশ আশাবাদী। এমন আশাবাদী যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যেতেও এখন তাদের ভয় নেই, যদিও তা তারা করবে না। এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তেই তারা অটল আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে। তবে যে কোনও ধরনের নির্বাচনে এখন তাদের বিজয় আর কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক পরিবেশও তাদের বেশ অনুকূলে। তাই সরকারি দল আওয়ামী লীগও তাদেরকে এখন সমীহ করতে বাধ্য হচ্ছে।
বস্তুত এবার বিদেশ থেকে ফিরেই খালেদা জিয়া একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন। বিদেশ থাকাকালে তার বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। সেগুলোকে উপেক্ষা করেই দেশে ফিরেছেন। অনেকে আশংকা করছিলেন, দেশে ফিরলেই তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালসহ মন্ত্রীরা এমনই ‘ব্যবস্থা’ নেয়ার কথা বলছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়া দেশে ফেরার সময় লন্ডনে বিমান বন্দরে এ প্রসঙ্গে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, পারলে গ্রেফতার করুক। দেখা গেলো, তিনি দেশের পথে থাকাকালেই পুলিশের আইজিপি শহীদুল হক প্রকাশ্যে বক্তৃতায় এই মর্মে আশ্বস্ত করেছেন যে, খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হবে না। এমনকি আইজিপি এও বলেছেন, খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সম্মানিত ও বিজ্ঞ ব্যক্তি। তাকে আদালতে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
বেগম খালেদা জিয়া বিদেশ থেকে ফেরার দিনও বিমান বন্দরে প্রচুর লোক সমাগম হয়েছিল। বিমান বন্দর থেকে বাসা পর্যন্ত মানুষ তাকে সম্বর্ধনা জানিয়েছিল। তবে তার ঢাকা-কক্সবাজার সফরকে ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে। শত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও যেভাবে রাস্তায় মানুষের ঢল নেমেছে এতে সবাই অবাক হয়েছে।
বিএনপির সঙ্গে সুষমা স্বরাজের বৈঠকটিকে বেশ নিষ্প্রাণ ও সাদামাটাভাবে দেখা হচ্ছিল। বলা হচ্ছিল, বিএনপি যা চেয়েছিল সেটি হয়নি। কিন্তু, ডিপ্লোমেসি সব সময় ভিন্ন একটি বিষয়। ডিপ্লোমেসিতে ভেতরের এবং বাইরের অবস্থা কখনও এক হয় না। যতটা জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এ বৈঠকটি ছিল নিছক ‘আইওয়াশ’ সাক্ষাত। গুরুত্বপূর্ণ সব আলোচনা লন্ডন বসেই বেগম জিয়া শেষ করে এসেছেন। কখন কী করবেন, রাজনীতির ছকও তিনি লন্ডনে বসে সাজিয়ে এসেছেন। তারই একটি ‘চমক’ ঢাকা-কক্সবাজার সফর। এরপর পর্যায়ক্রমে ঢাকার বাইরে আরও সফরে বের হবেন এবং সেইসব সফরও প্রত্যেকটি তুরুপের তাস হিসেবে আবির্ভুত হবে। ধীরেস্থিরে বেশ পরিকল্পিত পদক্ষেপে তিনি এগুচ্ছেন।
তবে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলো এখন বেশ দ্রুত গতিতে এগুচ্ছে। কিন্তু খালেদা জিয়াকে এখন আর এ ব্যাপারে চিন্তিত মনে হচ্ছে না। মামলায় বিলম্ব বা গড়িমসিও এখন তেমন একটা করছেন না তিনি। নিয়মিত আদালতে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে সাফাই স্বাক্ষীতে নিজের বক্তব্যও পেশ করেছেন। সাফাই স্বাক্ষী দিতে গিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্যও উপস্থাপন করছেন। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, মামলার রায় যা-ই আসুক, সাজা হোক বা না হোক উভয়টিই তাদের জন্য মঙ্গলজনক ফলাফল বয়ে আনবে।
যদিও বেগম জিয়ার ঢাকার বাইরের সফরে হামলা হয়েছে কিন্তু এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে আখ্যায়িত করছেন কেউ কেউ। কারণ, বিএনপির উপর এর আগেও অনেক হামলা-মামলা হয়েছে কখনও এতটা সমীহ করতে দেখা যায়নি। সরকার এখন কেন সমীহ করছে, এরও নিশ্চয়ই কোনও হেতু আছে। সংবাদ মাধ্যমগুলো একে নমনীয়তার আভাস বলে বিবেচনা করছেন। সরকার রাজনীতির নার্ভ বুঝতে পেরেছে। নানান ইস্যুতে এমনিতেই সরকার কোনঠাসা। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদলের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় না রাখলে বিপদ বাড়তে পারে সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন।
মনে করা হচ্ছে, আগামী ১২ নভেম্বর রোববারের সমাবেশ স্মরণকালের বৃহত্তম মহাসমাবেশে রূপান্তরিত হতে পারে। বেগম খালেদা জিয়া এই সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। ইতিমধ্যেই এই সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পুলিশের আইজিপি শহীদুল হক বুধবার এক বক্তৃতায় বলেছেন, বিএনপির মিছিল-সমাবেশে কোনও বাধা নেই। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে। বিএনপি এই সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে।
এদিকে বৃহস্প্রতিবার আদালতে সাফাই স্বাক্ষীর বক্তব্য রাখতে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, তিনি তার উপর সকল অন্যায় আচরণের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে শেখ হাসিনার উপর এসব আচরণের প্রতিশোধ নেবেন না। বেগম খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যের ধরন এবং তার দৃঢতা দেখে অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, তাহলে কি খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার নিশ্চয়তা পেয়ে গেছেন ইতিমধ্যে?

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যে নাটকীয় ২৪ ঘণ্টা

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-০৬ ১০:০৮:৪৪

সৌদি আরবের ৩২ বছর বয়সি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দুই বছর আগে যখন ক্ষমতায় বসেন, তখন অনেকে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তার হাত ধরে শিগগিরই আরো পরিবর্তন আসছে। ৪ নভেম্বরের ঘটনা শুধু দ্রুত পরিবর্তনেরই নয়, এ যেন ভূমিকম্পের মতো সব নাড়িয়ে দিল, সৌদি সীমান্ত ছাড়িয়ে যা মধ্যপ্রাচ্যেও অনুভূত হয়েছে।

২৪ ঘণ্টার এই নাটকীয় ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি শুরু হয় শনিবার দুপুরে, যখন হত্যার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় ও নিজ দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য ইরানকে দায়ী করে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পদত্যাগের ঘোষণা দেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি।

এর কয়েক ঘণ্টা পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, ইয়েমেন থেকে ছোঁড়া একটি বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদে বিমানবন্দরের কাছে আকাশে ধ্বংস করেছে সৌদি বাহিনী। ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের সময়ের বিস্ফোরণের ছবি যেমন মধ্যপ্রাচ্যের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে, তেমনি আসতে থাকে একের পর নাটকীয় খবর। খবর হলো- যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী কমিটি সৌদি আরবের প্রভাবশালী কয়েকজন রাজপুত্র, বর্তমান- প্রাক্তন মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীদের আটক করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটাপন্ন ইতিহাসে নতুন এক সাংঘর্ষিক সময়ের জন্ম দিল। যার উৎপত্তি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কয়েক বছর ধরে চলা বেনামি যুদ্ধ থেকে। দুই দেশের সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক শক্তি জোট আবির্ভাবের হুমকি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে কাতারকে একঘরে করে ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন শুরু করেছে সৌদি আরব ও তার ঘনিষ্ট মিত্ররা।

গত শুক্রবার ইরাক ও সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সবশেষ ঘাঁটির পতন হয় এবং আইএসের খিলাফত ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত বিষয়টিকে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের চূড়ান্ত বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইএসের এই পরাজয়ের পরদিনই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজ নিজ অ্যাজেন্ডা সামনে আনলো।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক ফাওয়াজ জার্জেস বলেছেন, আমি মনে করি, ‘তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পতন মানে সত্যিই তা ভূকৌশলগত সংঘাতের সমাপ্তি নয়।’ তিনি আরো বলেন, অন্যদিকে, তথাকথিত খিলাফতের অবসানের ফরে প্রকৃতপক্ষে ওই অঞ্চলে ইরানের নেতৃত্বাধীন ইরানপন্থি সিরিয়া ও হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যদের মধ্যে ভূকৌশলগত সংঘর্ষ নিয়ে উত্তেজনা আরো বেড়ে যাবে।’

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন ভিসা চালুর সিদ্ধান্ত

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-০৬ ১০:০৬:৪১

কমনওয়েলথভুক্ত সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন ভিসা পদ্ধতি চালুর বিষয়ে সুপারিশ গৃহীত হয়েছে।  ৬৩তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশন (সিপিএ) সম্মেলনের আজ ৬ষ্ঠ দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ‘বাণিজ্য, ভিসা সমস্যা, ভ্রমণ ও ট্যারিফ বিধিনিষেধ : কমনওয়েলথ দেশসমুহের সংসদ সদস্যদের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় সংসদ সদস্যরা এ সুপারিশ গ্রহণ করেন।

কর্মশালার মডারেটর ছিলেন, কানাডার সংসদ সদস্য আলেকজান্দ্রা মেন্ডেজ। মূল আলোচক ছিলেন, নাইজেরিয়ার সিনেটর ইকে ই বেরেমাদু, যুক্তরাজ্যের লর্ড ডেভিস, গায়ানার এমপি জোসেফ এফ হারমান। 

কর্মশালা শেষে বিআইসিসি মিডিয়া সেন্টারে মিডিয়া কমিটির সদস্য সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, সাগুফতা ইয়াসমীন এমিলি, পঙ্কজ দেবনাথ, তানভীর ইমাম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। এ সময় মালয়েশিয়ার এমপি ও কমনওয়েলথ ওমেন পার্লামেন্টারিয়ানদের চেয়ারপার্সন ড. নোরায়নী ও হেলেনা দীপপুঞ্জের এমএলসি ডেরেক থমাস উপস্থিত ছিলেন। 

ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি জানান, কর্মশালায় সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছে যে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ন্যায় কমনওয়েলথভূক্ত দেশসমূহে অভিন্ন ভিসা পদ্ধতি, বাণিজ্য উন্নয়ন, আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক বিধিনিষেধ সহজীকরণ ও একই অভিন্ন ইন্টারেস্টে সকল সদস্যদেশ গুলোকে একত্রিত হয়ে কাজ করা।

‘জেন্ডার সমতা আনয়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সিপিএ সদস্যভূক্ত দেশের সংসদ সদস্যদের ভূমিকা’ শীর্ষক আরেকটি কর্মশালা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

এ বিষয় সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি বলেন, কর্মশালায় দু’টি সুপারিশ গৃহীত হয়েছে। এগুলো হলো-অর্থপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে জনসংখ্যার ভিত্তিতে নারীদের বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি সিপিএভুক্ত সদস্য দেশসমূহকে নিশ্চিত করতে হবে। কারণ তারা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) নিয়ে কাজ করে এবং সিপিএ কর্তৃক স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে নারী সংসদীয় দলকে ক্ষমতায়িত করার মাধ্যমে জেন্ডার সংবেদনশীল বিল প্রণয়ন এবং জেন্ডার টেকসই বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সংসদে উপস্থাপন করতে হবে।
 
তিনি বলেন, ‘বিশ্বেও অর্ধেকের বেশি নারী হলেও তারা নানাভাবে বঞ্চিত। এদের সমতা আনা বিশেষ জরুরি। কেননা, অর্ধেক অংশ বাদ দিয়ে কোন ভাবেই উন্নয়ন সম্ভভ নয়। সে কারণে সমাজে বঞ্চিত, অবহেলিত, দরিদ্র নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য সিপিএ সদস্যদেশগুলো সংসদে আরো বেশি করে প্রকল্প গ্রহণ করা, নারীদের রাজনীতি ও সংসদে আসার জন্য অনুপ্রেবণা সৃষ্টি ও পরিবেশ নিশ্চিত করা, সংসদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারীদের জন্য অধিক অর্থ বরাদ্দ ও নারী বান্ধব বাজেট প্রণয়ন, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে নারীদের আরো বেশী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সুপারিশ এসেছে।

মালয়েশিয়ার এমপি ও কমনওয়েলথ ওমেন পার্লামেন্টারিয়ানদের (সিডাব্লিউপি) চেয়ারপার্সন ড. নোরায়নী বলেন, নারীরা জম্মগতভাবেই বঞ্চিত হয়ে আসে। অথচ বিশ্বের অর্ধেকের বেশি নারী। কিন্তু তারা বিভিন্নভাবে বঞ্চিত। এদের উন্নয়ন ছাড়া বিশ্বের উন্নয়ন অবাস্তব। নারীদের যদি সমান মর্যাদা ও কর্মক্ষেত্রে উপযুক্ত সুযোগ সৃষ্টি হয়, তাহলে জিডিপি ১ শতাংশ বেড়ে যাবে।

এ ছাড়া সিপিএ চেয়ারপার্সন ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ইয়ুথ পার্লামেন্ট-এর কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাজনীতি ও আইন সভা বা সংসদে নারী ও যুবাদের আরো বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। যেহেতু কমনওয়েলথ ভুক্ত দেশগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ ৩০ বছরের নিচে। তাই তাদেরকে অধিক সংখ্যায় আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেয়ার বিষয়ে সুপারিশ এসেছে ইয়ুথ পার্লামেন্ট বিষয়ক কর্মশালায়।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা অস্ট্রেলিয়ার, নাগরিকদের ভ্রমণ বাতিলের পরামর্শ

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-০৩ ১২:১৮:৪৭

বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বৈদেশিক সম্পর্ক এবং বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়। নিজ দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

সংস্থাটির ওয়েবসাইটে আজ এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়, যদি একান্ত প্রয়োজনে বাংলাদেশ সফরে যেতেই হয়, তাহলে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। চোখ-কান খোলা রেখে বিকল্প প্রস্তুতি ভেবে রাখতে হবে। সরকারি ওই সংস্থাটি আরো বলেছে, বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা। বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে জানা গেছে যে, আততায়ীরা পশ্চিমা দেশের নাগরিকদের টার্গেট করতে পারে। অতএব, একান্ত যদি বাংলাদেশে যেতেই হয়, তবে আপনার অবস্থানকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। সম্ভব হলে ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করুন।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত