যুক্তরাষ্ট্রে আজ সোমবার, ১৫ Jul, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 02:58am

|   লন্ডন - 09:58pm

|   নিউইয়র্ক - 04:58pm

  সর্বশেষ :

  রক্তের বিনিময়ে হলেও এরশাদের লাশ পল্লী নিবাসেই দাফন করা হবে : রংপুর মেয়র   সব মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একই ডিজাইনের কবর হবে   কংগ্রেসের ভিন্ন বর্ণের নারীদের ‘দেশে ফিরতে’বললেন ট্রাম্প   নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত এরশাদ   ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আসামের মুসলমানরা   ঢাবি ক্যাম্পাসকে প্লাস্টিকমুক্ত ঘোষণা   মর্মান্তিক: মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কায় বর-কনেসহ নিহত ৯   কুমিল্লায় আদালতের ভেতর আসামির ছুরিকাঘাতে আসামির মৃত্যু   দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে বাংলাদেশের তিন চুক্তি স্বাক্ষর   সুইডেনে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৯   ইংল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপ জয়   এরশাদের মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানাতে সময় লাগবে বিএনপির   এরশাদের সন্তানরা কে কী করেন?   বৃহস্পতিবার সোহেল তাজের ‘আনুষ্ঠানিক ঘোষণা’   আফগানিস্তান সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে তোলপাড়

>>  স্বদেশ এর সকল সংবাদ

রক্তের বিনিময়ে হলেও এরশাদের লাশ পল্লী নিবাসেই দাফন করা হবে : রংপুর মেয়র

তাঁজা রক্তের বিনিময়ে হলেও সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের লাশ পল্লী নিবাসেই দাফন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর সিটি মেয়র ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তাফিজার রহমান। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রংপুরে প্রিয়নেতা এরশাদের লাশ দেখতে লাখো মানুষের ঢল নামবে রংপুরে। প্রধানমন্ত্রী এবং তিন বাহিনীর প্রধানের কাছে অনুরোধ এখান থেকে যেন লাশ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করা হয়।

সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিরোধী দলীয় নেতা এরশাদের জন্য রংপুরে তার বাসভবন পল্লীনিবাসে খোড়া কবর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মেয়র মোস্তফা। এর

বিস্তারিত খবর

সব মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একই ডিজাইনের কবর হবে

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১৫ ১৫:০০:৫৭

দেশের সব মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একই ডিজাইনে কবর নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে একটি নির্দিষ্ট স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কবরস্থান নির্মাণ করা হবে। এ বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সোমবার বেলা ১১টায় মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে আলোচনাকালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এসব তথ্য জানান।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কবরস্থান নির্মাণের প্রস্তাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানান, সব মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একই ডিজাইনের কবর তৈরির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন থাকলেও কবরস্থান নির্মাণের কোনো কার্যক্রম বর্তমানে চলমান নেই। তবে প্রস্তাবটি বিবেচনা করা হবে।

এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের কৃতি সন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য ‘ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে সারা দেশে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২৯৬২টি বাসস্থান নির্মাণ ও বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। অসহায় এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন সুবিধা দিতে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও প্রায় ১৫ হাজার বাসস্থান নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

বাসস্থানের ডিজাইন সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তা চূড়ান্ত অনুমোদন পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ২০২০ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার হিসেবে এসব বাড়ি প্রদান করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চিকিৎসা সুবিধার জন্য জেলা প্রশাসকের অধীনে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ প্রদান সংক্রান্ত মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলামের প্রস্তাবে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তাৎক্ষণিক বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে সব উপজেলা সরকারি হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল, সরকারি মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত মুক্তিযোদ্ধারা বিশেষায়িত হাসপাতালগুলো থেকেও চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান, মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের নিদর্শন হিসেবে চট্টগ্রাম জেলার কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রটিতে স্বাধীনতা জাদুঘর প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মার্ট কার্ড বা পরিচয়পত্র দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মার্ট কার্ড বা পরিচয়পত্র দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনির এক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান, মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে উন্নতীকরণের লক্ষ্যে ‘মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। নকশা প্রণয়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান-স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমানের প্রস্তাবে মোজাম্মেল হক জানান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের মাধ্যমে ২টি প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে।

‘মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংক্ষণ ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ৩৬০টি ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে জুন ২০১৯ পর্যন্ত ২৮টি ঐতিহাসিক স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ১১৩টি স্থানে কাজ চলমান আছে, ১১টি দরপত্র প্রক্রিয়াকরণের বিভিন্ন পর্যায়ে আছে, ২টির ডিজাইন/প্রাক্কলন করা হচ্ছে, ৩৪টির জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ করা যাচ্ছে না এবং ১৭২টি উপজেলায় এখনো জমি পাওয়া যায়নি।

মন্ত্রী আরও জানান, 'মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ ও পুনঃনির্মাণ' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পূর্বে নির্মাণ করা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ৩৪২টি স্থাপনা সংরক্ষণ ও পুনঃনির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে চলতি বছরের জুনে ২২০টি স্মৃতি স্থাপনা সংরক্ষণ ও পুনঃনির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ৪০টি স্মৃতি স্থাপনার কাজ চলমান রয়েছে, ১০টির দরপত্র কার্যক্রম চলমান আছে, দ্বৈততা-স্থান সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ৭৬টি স্কিমের মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। চলমান প্রকল্প দুইটির বাইরেও যদি কোনো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতিস্থাপনা থেকে থাকে তাহলে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাওয়া গেলে পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে তা সংরক্ষণ ও মেরামত করা হবে।

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন সময়ে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অথবা যাচাই-বাছাই ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলমান আছে- যা অচিরেই সম্পন্ন হবে।

বিস্তারিত খবর

নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত এরশাদ

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১৫ ১৪:৫২:৩২

দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় পার্টির কাকরাইল কার্যালয়ে আসেন দলটির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। দুর্দান্ত প্রতাপশালী এই সামরিক শাসক নিজ দলের কার্যালয়ে এলেও ঢুকতে পারেননি ভেতরে। ঢুকবেন কি করে কাকরাইলে যে এরশাদ এসেছিলেন তার শরীরে যে প্রাণ নেই।

তাই তো সাবেক এই রাষ্ট্রপতির নিথর দেহটির গন্তব্য থেমে গেল কার্যালয়ের গেটের সামনের রাস্তায়। যেখানে একটি লাশবাহী ফ্রিজার ভ্যানের মধ্যে আটকে থাকলো তার দেহটি। সেখানে শত শত নেতাকর্মী ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান আশির দশকের প্রতাপশালী এই সামরিক শাসককে। প্রিয় নেতার নিথর দেহটি দেখে কেউ কাঁদলেন, কেউ শোকে স্তব্ধ।

তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দলের চেয়ারম্যানকে একে একে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ও বিদায় জানান ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা।

এরশাদকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে খুলনা থেকে আসেন মো. সবুর মিয়া। তিনি বলেন, এরশাদকে অনেকে স্বৈরশাসক বলেন, তার বিভিন্ন সমালোচনা করেন। কিন্তু আমি বলি দেশের জন্য এরশাদ যা করেছেন, তা আর কেউ করেননি। তিনি স্বৈরশাসক হোক আর যাই হোক দেশের উন্নয়নের জন্য এমন নেতাই দরকার।

তিনি বলেন, আজ আমরা শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি কাটাচ্ছি। এটা এরশাদেরই অবদান। বিশ্বের অন্যান্য দেশে রোববার, সোমবার সাপ্তাহিক ছুটি। এরশাদ স্যার, অনেক লড়াই করে শুক্রবার আমাদের সাপ্তাহিক ছুটির রীতি চালু করেছেন। বায়তুল মোকাররম মসজিদকে জাতীয় মসজিদও করেছেন এই এরশাদ। তার পুরো কাজই ছিল দেশের ভালোর জন্য।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা কাজী আলম বলেন, এরশাদ দেশের জন্য যে উন্নয়ন করেছেন তা আর কোনো সরকার করেনি। তার উন্নয়নের কারণেই তিনি পল্লীবন্ধুর উপাধি পেয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শত শত সেতু, রাস্তা করে দিয়েছেন তিনি। এমন নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ছুটে এসেছি।

পুরান ঢাকা থেকে আসা ফারুক বলেন, স্যারের মৃত্যুর সংবাদ শুনে গতকাল দুপুরে বনানীর কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে স্যারের মরদেহ নেয়া হয়নি। পরে জানতে পারি আজ এখানে নিয়ে আসা হবে। স্যারকে শ্রদ্ধা জানাতে দুপুর ১২টার আগেই এখানে ছুটে আসি। কাফনের কাপড়ে মোড়ানো স্যারের নিথর দেহটি দেখে হৃদয়টা দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছিল।

দুপুর ১২টার দিকে লাশবাহী ফ্রিজার ভ্যানে এরশাদের মরদেহ কাকরাইলে আনা হলে তাকে শেষ দেখা দেখতে অসংখ্য ভক্ত, নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি ভিড় করেন।

লাশবাহী ফ্রিজার ভ্যানের সঙ্গে দলীয় কার্যালয়ে আসেন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার প্রমুখ।

শ্রদ্ধা শেষে তার মরদেহ জাতীয় বায়তুল মোকাররম মসজিদে নেয়া হচ্ছে। সেখানে বাদ আসর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে আজ সকাল সোয়া ১০টার দিকে এরশাদের মরদেহ দ্বিতীয় জানাজার জন্য জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নেয়া হয়। সেখানে তার দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়।

রোববার (১৪ জুলাই) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন টানা আট বছর (১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত) স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির ভূমিকায় থাকা এরশাদ।। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

৯০ বছর বয়সী এরশাদ রক্তে সংক্রমণসহ লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২২ জুন সিএমএইচে ভর্তি করা হয় তাকে। এর আগেও তিনি একাধিকবার দেশ-বিদেশে চিকিৎসা নেন। রোববার মৃত্যুর পর সেনা কেন্দ্রীয় মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বিস্তারিত খবর

ঢাবি ক্যাম্পাসকে প্লাস্টিকমুক্ত ঘোষণা

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১৫ ১৪:৩৮:২৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে প্লাস্টিকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

সোমবার কার্জন হল চত্বরে আয়োজিত প্লাস্টিকমুক্ত সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার সুইডেন দূতাবাস এবং সুইডিশ ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় সুইডেন অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক ইন বাংলাদেশ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ‘শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে প্লাস্টিকমুক্ত রাখুন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে প্লাস্টিকমুক্ত সপ্তাহের আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত সার্লোটা স্লাইটার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সুইডেন অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক ইন বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাবেদ হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

বিস্তারিত খবর

মর্মান্তিক: মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কায় বর-কনেসহ নিহত ৯

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১৫ ১২:৪৩:৪১

সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার সলপে ট্রেন ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে বর-কনেসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ সোমবার সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর গ্রাম থেকে একটি মাইক্রোবাস বরযত্রী নিয়ে উল্লাপাড়ার চর ঘাটিনা গ্রামে গিয়েছিল। বিয়ে শেষ করে কনে নিয়ে বাড়ী ফেরার পথে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে মাইক্রোবাসটি উল্লাপাড়া-ঢাকা রেলপথের সলপ অরক্ষিত রেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের সাথে সংঘর্ষ হয়।

এতে মাইক্রবাসটি ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে আটকে প্রায় দুইশ গজ দূরে গিয়ে পড়ে। এসময় ট্রেনের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়।

এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই বর-কনেসহ মাইক্রোবাসের ৯ যাত্রীর সকলেই নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে বর রাজন (২৫) ও কনে সুমাইয়া খাতুন (২০)-এর পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি। নিহতদের মধ্যে বর-কনে ছাড়া একজন শিশু এবং ৬ জন পুরুষ যাত্রী। পরে দমকল বাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের উদ্ধার করে।

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান কওশিক আহমেদ ও সলপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, নিহতদের ময়না তদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যায়।

বিস্তারিত খবর

কুমিল্লায় আদালতের ভেতর আসামির ছুরিকাঘাতে আসামির মৃত্যু

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১৫ ০৭:১০:১০

কুমিল্লা আদালতে বিচারকের সামনে আসামির ছুরিকাঘাতে অপর আসামির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে কুমিল্লার অতিঃ জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আসামি ফারুক কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার অহিদুল্লাহর ছেলে। সে রাজমিস্ত্রি ছিলেন। ঘাতক হাসান লাকসাম উপজেলার শহীদুল্লাহর ছেলে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতে এজলাস চলাকালীন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় সংঘটিত হত্যা মামলায় স্বাক্ষী প্রদানকালে ওই মামলার আসামী হাসান অন্য আসামী ফারুককে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলে আসামি ফারুক মারা যায়। ঘাতক হাসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিস্তারিত খবর

দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে বাংলাদেশের তিন চুক্তি স্বাক্ষর

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১৪ ১৫:৪৪:১১

বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ, কূটনীতি ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা ও সিউলের মধ্যে তিনটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রোববার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দক্ষিন কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লী নাক ইয়োনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে ইনিস্ট্রুমেন্টগুলো স্বাক্ষর হয়। দুই প্রধানমন্ত্রী ইনিস্ট্রুমেন্ট স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন।

ইনিস্ট্রুমেন্টগুলো হচ্ছে- (এক) কোরিয়ার পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের ন্যাশনাল ডিপ্লোমেটিক একাডেমি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের ফরেন সাভির্স একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। (দুই) বাংলাদেশ এবং দক্ষিন কোরিয়া মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষে কোরীয় ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সি এবং বালাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভলোপসেন্ট অথরিটির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। (তিন) বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পযর্ন্ত সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির সংক্রান্ত বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লী তায়েহো এবং বাংলাদেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির প্রিন্সিপাল সৈয়দ মাসুদ মাহমুদ খন্দোকার প্রথম এমওইউতে স্ব স্ব পক্ষে স্বাক্ষর করেন। কোরিয়ার বাণিজ্য বিনিয়োগ প্রমোশন এজেন্সির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়ং ওহ এবং বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল হক দ্বিতীয় এমওইউতে স্ব স্ব পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লী তায়েহো এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল স্ব স্ব পক্ষে তৃতীয় এমওইউতে স্বাক্ষর করেন।

বিস্তারিত খবর

এরশাদের মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানাতে সময় লাগবে বিএনপির

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১৪ ১৪:৫০:৩৩

দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ব্যস্ত থাকায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে ‘এই মুহূর্তে’ কোনো প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে না বিএনপি।

রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে এমন কথাই জানান তিনি। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

রিজভী বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, আমাদের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিভাগীয় সমাবেশগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৮ তারিখ বরিশাল, ২০ তারিখ চট্টগ্রাম- এসব নিয়ে আমরা ব্যস্ত। কয়েকদিন পরে জানাবো।’

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময়ে রিজভী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি এবং কিছুদিন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতিও ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময়ে ঢাকা মহানগরী ছাত্র দলের সভাপতি বর্তমানে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও ওই সময়ে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতা ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে দলের যুগ্ম খায়রুল কবির খোকনও উপস্থিত ছিলেন।

রিজভী বলেন, ‘স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ওই সময়ে আমাদের ওপরই সবচেয়ে বেশি নিপীড়ন-নির্যাতনের মাত্রাটা বহন করতে হয়েছিল। সে সময়ের দিনগুলো স্মরণ করলে এখন শিউরে হয়ে উঠতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন আমাদের নেত্রীর মুক্তি দিয়ে ব্যস্ত। অন্য কিছু নিয়ে ভাবনার সময় এখন নেই।’

সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সাহেব বলেছেন, প্রধান বিচারপতি থাকার পরেও বিচার পাইনি আর এখন তো ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। একজন প্রধান বিচারপতিকে তার স্বাধীন বিচারকর্মের কারণে প্রাণভয়ে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। কীভাবে চলে যেতে হয়েছে, কারা চলে যেতে তাকে বাধ্য করেছেন এটা নিশ্চয়ই আপনারা জানেন। কী ভয়ংকর পরিস্থিতিতে সরকারের লোকেরা মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তাকে দেশছাড়া করেছে।’

তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতন্ত্রের পক্ষে কথার বলার কারণেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ কারাগারে। সরকারের কুকীর্তি-অপকীর্তি এবং অনাচারের প্রতিবাদ করার জন্যই তিনি কারাগারে। ক্ষমতার নেশায় মজে শেখ হাসিনা অন্যায়কে ন্যায় এবং ন্যায়কে অন্যায় হিসেবে প্রতিপন্ন করছেন।

রিজভী আরো বলেন, ‘দেশের কৃষক-শ্রমিক-শিক্ষক-চিকিৎসক-প্রকৌশলী-সাংবাদিক সকলেই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সোচ্চার। দেশের সকল জনগোষ্ঠী তার মুক্তি চায়।

‘গ্রেফতার বাণিজ্য চলছে’ অভিযোগ করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘বর্তমানে মধ্যরাতের সরকারের কৃপাধন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকারের পক্ষভুক্ত হওয়ার কারণে এরা এখন মানুষের নাগরিক স্বাধীনতার প্রতিপক্ষ। গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তিসহ রিমান্ড পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে দর কষাকষি করা হয়। টাকা দিতে না পারলে জটিল মামলা দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হওয়ার পরে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়ার পর সৃষ্টি হয় এক বিষাদ ঘনঘোর পরিস্থিতি। পুলিশ স্টেশনগুলো যেন এখন দাসবাজারে পরিণত হয়েছে। আর এই দাসরা হচ্ছেন বিএনপিসহ সাধারণ জনগণ।”

বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আহ্বানও জানান রিজভী।

বিস্তারিত খবর

এরশাদের সন্তানরা কে কী করেন?

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১৪ ১৪:৪৭:৩৯

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দুই সন্তানের জনক। পাশাপাশি তার দুটি দত্তক সন্তানও রয়েছে।

তার সন্তানরা হলেন- রাহগির আল মাহি এরশাদ ওরফে শাদ এরশাদ, এরিক এরশাদ। আরমান এরশাদ ও জেবিনকে দত্তক নিয়ে লালন পালন করেন এরশাদ।

‘আমার কর্ম আমার জীবন’ শীর্ষক এরশাদ তার আত্মজীবনী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এই তিন ছেলে ও এক মেয়ের কথা।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান মারা যাওয়ায় এই সন্তানরাই এখন তার উত্তরাধিকার।

এরশাদের প্রথম স্ত্রী রওশন এরশাদ। এরশাদ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক থাকার সময় ১৯৮৩ সালে রওশন এরশাদের কোলে আসে ছেলে সন্তান। সেই ছেলের নাম রাখা হয় রাহগির আল মাহি এরশাদ (শাদ এরশাদ)।

মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে শাদ এখন ঢাকাতেই থাকেন। এখন ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত শাদ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-২ ( ফুলবাড়ি-সদর-রাজারহাট) এলাকা থেকে তাকে প্রার্থী করার গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল।

ছেলে শাদ এরশাদকে নিয়ে গত ২৮ জুন সিএমএইচে গিয়ে এরশাদের শয্যাপাশে যান রওশন এরশাদ।

এরশাদের আরেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদ। এই দম্পতির ঘর আলো করে আসে পুত্রসন্তান। নাম এরিক এরশাদ। তার বয়স এখন ১৮ বছর। এরিক বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে বাবা এরশাদের সঙ্গে থাকতেন। সঙ্গীতে বিশেষ পারদর্শিতা রয়েছে তার। এরশাদ এরিককে নিয়ে চ্যানেল আইয়ের তৃতীয় মাত্রায় একটি টকশোও করেন। সেখানে এরিক একটি গান গেয়ে শোনান। যা শুনে এরশাদ খুশিতে চোখের পানি ফেলেন।

২০০৫ সালে বিদিশার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায় এরশাদের। পরে আদালতের আদেশে এরিকের দায়িত্ব পান এরশাদ। এরশাদের ঘনিষ্ঠরা জানান, তার সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন সন্তান এরিক, তাকে ঘিরেই এরশাদের যত ভাবনা ছিল।

এক অনুষ্ঠানে এরশাদ বলেছিলেন, রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে এরিককে আমি সময় দিতে পারিনি। এরিক যখন আমার জীবনে আসে, তখন সে মাত্র দুই বছরের শিশু। সে স্নেহবঞ্চিত সন্তান। ছেলেবেলা থেকে মাতৃস্নেহ পায়নি। আমিও আমার অপর সন্তান জাতীয় পার্টি নিয়ে ব্যস্ত থেকেছি সব সময়। ওকে স্নেহ-ভালবাসা দিতে পারিনি, বঞ্চনা করেছি।

এরশাদের পালক পুত্র ২৫ বছর বয়সী আরমান এরশাদ থাকেন এরশাদের বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে।

তার একমাত্র পালিত কন্যা জেবিনের বিয়ে হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী জেবিন এখন লন্ডনে থাকেন।

প্রসঙ্গত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ রোববার সকাল পৌনে ৮টায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। ২৬ জুন থেকে তিনি রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় মসজিদে। এর পর পর্যায়ক্রমে সংসদের দক্ষিণ প্লাজা, বায়তুল মোকাররম মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর পর হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ রংপুরে নেয়া হবে। সেখানে চতুর্থ জানাজা শেষে এরশাদকে ঢাকায় এনে সেনাবাহিনী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

৯ বছরের সফল শাসক এরশাদের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।

মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তাকে দেখতে হাসপাতালে ভিড় করেন জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এ সময় অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। বার্ধক্যজনিত রোগসহ নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। এ কারণে গত প্রায় ছয় মাস ধরে রাজনীতি থেকে অনেকটা দূরে ছিলেন তিনি। দলের বিশেষ কর্মসূচিগুলোতে তাকে হুইলচেয়ারে করে আসতে দেখা গেছে।

এমনকি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও শপথ অনুষ্ঠানে যাননি এরশাদ। পরে তিনি হুইলচেয়ারে করে সংসদ ভবনে গিয়ে স্পিকারের কাছে শপথ নেন। অসুস্থতার কারণে বিরোধীদলীয় নেতা হয়েও একাদশ সংসদের বাজেট অধিবেশনে যেতে পারেননি সাবেক এ রাষ্ট্রপতি।

২৬ জুন অসুস্থতা বেড়ে গেলে এরশাদ নিজেই ব্যক্তিগত সহকারীদের নিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে যান। প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

দলীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ দীর্ঘদিন ধরে রক্তের রোগ মাইলোডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন। ৮৯ বছর বয়স্ক এরশাদের অস্থিমজ্জা পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন উৎপাদন করতে পারছিল না।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের অবস্থার অবনতি ঘটলে লাইফ সাপোর্টে (কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র) নেয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, এরশাদের অধিকাংশ অঙ্গপ্রত্যঙ্গই কাজ করছে না।

তার অবস্থার অবনতি ঘটলে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে পাঠাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করাসহ এ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু করেন। কিন্তু চিকিৎসকরা জানান, বিদেশ নেয়ার মতো অবস্থায় নেই এরশাদ। এ কারণে সিএমএইচ হাসপাতালেই তার চিকিৎসা দেয়া হয়।

১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত ভারতের কোচবিহার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৯৮৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনি দেশে উপজেলা পদ্ধতি চালুসহ ৯ বছরের শাসনামলে ব্যাপক উন্নয়ন করেন। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা থেকে বিদায় নেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এর পর গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারারুদ্ধ থাকেন।

কারাগারে থেকেই রংপুরের পাঁচটি আসনে নির্বাচন করে জয়ী হন তিনি। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে রংপুর থেকে কোনো নির্বাচনেই হারেননি পল্লীবন্ধু এরশাদ।

বিস্তারিত খবর

বৃহস্পতিবার সোহেল তাজের ‘আনুষ্ঠানিক ঘোষণা’

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১৪ ১৪:৪৩:০৫

কিছুদিন আগে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ ফেসবুকে একটি টিজার ছেড়েছিলেন। তাতে দেখা যায় সাধারণ মানুষের দরজায় কড়া নাড়ছেন তিনি।

ওই টিচারে বলা হয়েছিল, সোহেল তাজ আসছেন, আপনি রেডি তো? এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। আসলে কী হতে যাচ্ছে? কী বোঝাতে চেয়েছেন সোহেল তাজ?

রোববার সে বিষয় নিয়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি ।

‘টিজার তো দেখেছেন, অনেক অপেক্ষাও করেছেন, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ১৮ জুলাই’ এমন শিরোনামে সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী লিখেছেন: আজ আপনাদের সামনে আমি একটি সুখবর নিয়ে এসেছি। আমি প্রস্তুত আপনাদেরকে জানানোর জন্য। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ১৮ জুলাই আমি আপনাদের সামনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়বস্তু সবকিছু তুলে ধরবো।

‘আমি জানি আপনাদের অনেক কৌতুহল এবং আপনারা জানতে চাচ্ছেন বিষয়বন্তু কী? আমি শুধু এতটুকুই আপনাদের বলবো যে উদ্যোগই নেই না কেনো তা হবে সমাজ ও মানুষের কল্যাণের জন্য। আমি সোনার বাংলা গড়ার জন্য সোনার মানুষ তৈরী করার জন্য কাজ করে যাবো।’

বিস্তারিত খবর

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ আর নেই

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১৪ ০২:৩৬:০১

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাজধানীর সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার সকাল পৌনে আটটার দিকে তিনি মারা যান।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

গত ২৬ জুন থেকে তিনি রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের সিএমএইচে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। গত প্রায় আট মাস ধরে টানা অসুস্থ ছিলেন এরশাদ। গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অসুস্থ হওয়ায় নির্বাচনী প্রচারণায়ও তিনি অংশ নিতে পারেননি।

এরশাদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক শোকবার্তায় বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সংসদে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের গঠনমূলক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

সাবেক সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কুচবিহার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।দেশ ভাগের পর তাঁর বাবা মোহাম্মদ মকবুল হোসেন কুচবিহারের দিনহাটা থেকে রংপুর শহরের সেনপাড়ায় এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।কুচবিহার ও রংপুরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৫২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে অফিসার পদে যোগদান করেন। ১৯৬০ থেকে ৬২ সালে তিনি চট্টগ্রামে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে অ্যাডজুট্যান্ট ছিলেন। এরশাদ ১৯৬৬ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের কোয়েটায় অবস্থিত স্টাফ কলেজে স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। ১৯৬৮ সালে শিয়ালকোটে ৫৪তম ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি লাভের পর ১৯৬৯-৭০ সালে তৃতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে এবং ১৯৭১-৭২ সালে সপ্তম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তনের পর ১৯৭৩ সালে এরশাদকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল নিয়োগ করা হয়। তিনি ১৯৭৩ সালের ১২ ডিসেম্বর কর্নেল পদে এবং ১৯৭৫ সালের জুন মাসে ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি লাভ করেন। একই বছর তিনি ভারতের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে প্রতিরক্ষা কোর্সে অংশগ্রহণ করেন। ওই বছরই আগস্ট মাসে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে তাকে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এরশাদকে সেনাবাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ১৯৭৯ সালে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের অব্যবহিত পর থেকেই সংবাদপত্রে বিবৃতির মাধ্যমে রাজনীতিতে এরশাদের আগ্রহ প্রকাশ পেতে থাকে। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে জেনারেল এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। তিনি দেশের সংবিধানকে রহিত করেন, জাতীয় সংসদ বাতিল করেন এবং সাত্তারের মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করেন।

তিনি নিজেকে দেশের সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করে বলেন যে, সাংবিধানিক পদটি একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানেরই প্রাপ্য ছিল। তিনি ঘোষণা করেন যে, ভবিষ্যতে সামরিক আইনের অধীনে জারিকৃত বিধিবিধান ও আদেশই হবে দেশের সর্বোচ্চ আইন এবং এর সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সকল আইন অকার্যকর হবে।

এরপর এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৭ মার্চ বিচারপতি আবুল ফজল মোহাম্মদ আহসানউদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে অধিষ্ঠিত করেন। ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (সিএমএলএ) হিসেবে দেশ শাসন করেন। এরপর তিনি রাষ্ট্রপতি আহসানউদ্দিন চৌধুরীকে অপসারণ করে ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এরশাদ ১৯৮৪ সালে দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় উপজেলা পদ্ধতির প্রচলন করেন। উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের মে মাসে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন বর্জনের মধ্যে ১৯৮৬ সালের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরশাদ তার জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাঁচ বছর মেয়াদকালের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এর আগে একই বছর মে মাসে কারচুপির মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে। রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হয়ে এরশাদ ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর তৃতীয় জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন আহ্বান করেন। সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী আইন পাশ করে সেদিন জাতীয় সংসদ সংবিধান পুনর্বহাল করে। এর মাধ্যমে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ ক্ষমতা দখলসহ সামরিক আইন ও বিধিবিধান দ্বারা সম্পাদিত সকল কাজ ও পদক্ষেপকে বৈধতা দেওয়া হয়। তবে বিরোধী দলের প্রবল আন্দোলনের মুখে ১৯৮৭ সালের ৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি এরশাদ তৃতীয় জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হন। প্রধান বিরোধী দলগুলো ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনও বর্জন করে। এরশাদের অপশাসনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর অবিরাম আন্দোলন চলতে থাকে এবং প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এরপর ১৯৯১ সালে জেনারেল এরশাদ গ্রেপ্তার হন এবং তাকে কারাবন্দি করে রাখা হয়। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে জেলে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় এরশাদ রংপুরের পাঁচটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। বিএনপি সরকার তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি দুর্নীতি মামলা দায়ের করে এবং কোনো কোনোটিতে দোষী প্রমাণিত হয়ে তিনি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। ১৯৯৬-এর সাধারণ নির্বাচনেও এরশাদ সংসদে পাঁচটি আসনে বিজয়ী হন। ছয় বছর জেলে থাকার পর ১৯৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্ত হন। তবে আদালতের রায়ে দণ্ডিত হওয়ার কারণে সংসদে তার আসন বাতিল হয়ে যায়। ২০০০ সালে জাতীয় পার্টি তিনটি উপদলে বিভক্ত হয়। আমৃত্যু তিনি মূল অংশের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি ১৪টি আসনে জয়ী হয়। এরপর তিনি ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সাথে মহাজোট গঠন করেন।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল ২৭টি আসনে বিজয়ী হয়। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২টি আসন পায় তার দল জাতীয় পার্টি। তিনি বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন।

বিস্তারিত খবর

শপথ নিলেন দুই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১৩ ১২:৪৩:৪৬

মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য হিসেবে একজন মন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ।

নতুন করে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া ইমরান আহমেদ বর্তমান মন্ত্রিসভায় আগে থেকেই প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এখন থেকে তিনি একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আর আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে তাকে এখনো কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

শনিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি এ দুজনকে শপথ বাক্য পাঠ করান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, মন্ত্রিসভার সদস্য, সামরিক ও বেসারমরিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের সুযোগ পায়। গত ৭ জানুয়ারি চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা

ওই দিনই ৪৭ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। এদের মধ্যে মন্ত্রী ২৪ জন, প্রতিমন্ত্রী ১৯ ও উপ-মন্ত্রী তিনজন।

নতুন মন্ত্রি পরিষদ গঠনের ৫ মাসের মাথায় গত ১৯ মে প্রথমবারের মতো তাতে পরিবর্তন আনা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তাজুল ইসলামকে শুধু স্থানীয় সরকারের মন্ত্রী করা হয়, স্বপ্ন ভট্টাচার্য্য হন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারকে শুধু ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়। আর জুনাইদ আহমেদ পলককে রাখা হয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে। এছাড়াও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়।

বিস্তারিত খবর

দেশে বজ্রপাতে ৯ জনের প্রাণহানি

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১৩ ১২:৪০:৫৩

দেশের কয়েকটি স্থানে শনিবার বজ্রপাতে নয় জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে একই পরিবারের তিন জন।

পাবনা
পাবনার বেড়া উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের পাচুরিয়া গ্রামে বিকেলে বজ্রপাত হয়। এতে চার মারা গেছে। এর মধ্যে বাবা ও তার দুই রয়েছে।

নিহতরা হলেন- পাচুরিয়া গ্রামের মুতালেব সরদার (৫৫), তার দুই ছেলে ফরিদ সরদার (২২) ও শরিফ সরদার (১৮) এবং একই গ্রামের রহম আলী (৫৫)।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রামের ডোবায় পাট জাগ দিচ্ছিলেন ওই চারজন। এ সময় মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে তাদের ওপর বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলে তারা মারা গেছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ময়মনসিংহ :
ময়মনসিংহের তারাকান্দা, ফুলপুর ও ফুলবাড়িয়া উপজেলায় বজ্রপাতে চার জনের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতরা হলেন, তারাদান্দা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধলীরকান্দা গ্রামের চাঁন মিয়া, ফুলপুর উপজেলার রামসোনা গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে সোহাগ মিয়া (২৫), পয়ারী গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে জামাল উদ্দিন (৪০) ও ফুলবাড়িয়া উপজেলার হাতিলেইট গ্রামের মলিন বর্মনের ছেলে চৈতন বর্মণ (২২)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোহাগ মিয়া দুপুরে বাড়ির পাশে পতিত জমিতে হাঁস চড়ানোর সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে মারা গেছে। কৃষক জামালউদ্দিন দুপুরে বাড়ির পাশে জমিতে আমন ধানের বীজতলা তৈরির সময় বজ্রপাতে মারা গেছে।

ফুলবাড়িয়ায় উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বড়বিলা বিলে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে চৈতন বর্মণ নিহত হয়। তারাদান্দা উপজেলার গ্রামের বিলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন ​চাঁন মিয়া। সেখানে তার ওপর বজ্রপাত হয় এবং ঘটনাস্থলে মারা  গেছে।  

ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরাত হোসেন গাজী ও ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ তালুকদার নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

রাজশাহী
রাজশাহীতে গোদাগাড়ী উপজেলার মাছমারা বেনীপুর গ্রামে বিকেলে বজ্রপাতে কৃষক দুরুল হুদা (৪০) মারা গেছে। নিহত দুরুল হুদা মাছমারা বেনীপুর গ্রামেরই বাসিন্দা। জমিতে কাজ করার সময় হালকা বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাত ঘটলে তিনি ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান।

গোদাগাড়ীর মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আযম তৌহিদ বজ্রপাতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

বিস্তারিত খবর

ছড়িয়ে পড়ছে বন্যা, আক্রান্ত হতে পারে দেশের মধ্যাঞ্চলও

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১৩ ১২:৩৯:৪৩

দেশের মধ্যে অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নামা ঢল অব্যাহত থাকায় দেশের নদ-নদীগুলোর পানি ক্রমেই বেড়ে চলছে। পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহ জুড়ে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে, একই সঙ্গে বন্যা মধ্যাঞ্চলেও (ঢাকার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল) ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের শনিবারের তথ্য অনুযায়ী, সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই, খোয়াই, সোমেশ্বরী, কংস, হালদা, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, ধরলা, তিস্তা, ঘাঘট, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা নদীর পানি ২৩টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

একদিন আগে শুক্রবার সাতটি নদীর পানি ১২টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবানে ১২১ সেন্টিমিটার ও দোহাজারীতে বিপৎসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলেও জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া শনিবার বলেন, ‘আগামী ৩/৪ দিন পানি ভালোই বাড়বে, উত্তরবঙ্গ থেকে বন্যাটা আস্তে আস্তে মধ্যাঞ্চলের দিকে আসবে। বন্যা যমুনা হয়ে পদ্মাতে আসবে। ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর পানি বাড়তে পারে বলে মনে করছি, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর পানি কোনো কোনো পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতেও পারে।’

আগামী বুধ বা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হতে থাকবে জানিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘এরপর থেকে পানি কমতে শুরু করতে পারে। এরপরই বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাবে।’

নতুন করে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর অঞ্চলে বন্যা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও জানান আরিফুজ্জামান।

দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি পাচ্ছে জানিয়ে শনিবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর ও ভারত আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং কাছাকাছি ভারতের সিকিম, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশের বিস্তৃত এলাকায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় মাঝারি হতে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল সংলগ্ন ভারতের বিহার এবং নেপালে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামী ৭২ ঘণ্টায় সকল প্রধান নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদী সারিয়াকান্দি এবং কাজিপুর পয়েন্ট বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।

এতে আরও বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর বিভাগের সুরমা, কুশিয়ারা, কংস, সোমেশ্বরী, ফেনী, হালদা, মাতামুহুরী, সাঙ্গু, ধরলাসহ প্রধান নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।

শনিবার ‘ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা’য় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বাংলাদেশে মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় শনিবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মি.মি.) থেকে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টি হতে পারে।

বিস্তারিত খবর

পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৫

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১২ ১৪:৩৮:২০

‘পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে’ সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন গুজব ছড়ানোর দায়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

শুক্রবার র‌্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, র‌্যাব-১ এর সাইবার মনিটরিং সেল কিছুদিন আগে Newseye24.Com নামে একটি নিউজ পোর্টাল শনাক্ত করে। নিউজ পোর্টালটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেখা যায় যে, নিউজ পোর্টালটি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে গুজব সৃষ্টি করে জনমানুষের মধ্যে ভীতি ছড়ানোসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

অতি সম্প্রতি পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে মানুষের মাথা লাগবে যা সংগ্রহে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিষাক্ত স্প্রে পার্টির ৪১টি দল বের হয়েছে। যারা স্প্রের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষের মাথা কেটে নিয়ে যাচ্ছে বলে নিউজ পোর্টাল থেকে একটি ভিত্তিহীন গুজব পোস্ট করা হয়। নিউজটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয় এবং জনমনে ভীতি সঞ্চার করে।

এ ঘটনায় র‌্যাব-১ গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তি জানতে পারে যে, আকরাম হোসেনকে (৩৩) আশুলিয়ার ইপিজেড রোড সংলগ্ন টঙ্গা বাড়ি এলাকা থেকে মোবাইল ও কম্পিউটারসহ গ্রেফতার করা হয়।

আকরাম হোসেন জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সে ২০০৫ সালে পাবনার একটি স্থানীয় মাদরাসা থেকে ফাজিল পাস করে। বর্তমানে আশুলিয়ার ইপিজেড এলাকায় একটি হেভি ইকুপমেন্ট মেশিনারিজের দোকানে কর্মরত।

এএসপি মিজানুর রহমান বলেন, একইভাবে ‘পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা ও রক্ত লাগবে’ সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন গুজব ছড়ানোর দায়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও কয়েকজনকে আটক করেছে র‌্যাব।

এদের মধ্যে নড়াইল থেকে মো. শহীদুল ইসলাম (২৫), চট্টগ্রাম থেকে আরমান হোসেন (২০), মৌলভীবাজার থেকে মো. ফারুক এবং কুমিল্লা থেকে হায়াতুন্নবীকে গ্রেফতার করা হয়। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা হয়েছে।

বিস্তারিত খবর

দেশের ১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১২ ১৪:৩০:৪২

আগামী কয়েকদিন অব্যাহত ভারী বর্ষণের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদফতর। এতে ১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। বন্যায় আক্রান্ত হতে পারও আরও নতুন নতুন জেলাও। যেকোনও মূল্যে এই বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। কোনও অবস্থাতেই যেন বন্যায় কোনও লোক মারা না যান, খাদ্যে কষ্ট না পান বা কোনও দুর্ঘটনা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজর রাখতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে বন্যাকবলিত এলাকায় প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দফতর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দেশের লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার ও নীলফামারীতে বন্যা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অবনতি হয়েছে। কারণ হিসেবে সূত্র জানিয়েছে, ভারতের ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বাড়লে যমুনা নদীতে পানি বাড়বে। বিহারে গঙ্গায় পানি বাড়ায় পদ্মার অববাহিকায় বন্যা দেখা দিতে পারে। একইসঙ্গে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা ঢলে দেশের ১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান।

ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ মনিটরিং সেল কাজ শুরু করেছে। সেখান থেকে সব জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গেছে, বন্যকবলিত অঞ্চলের জেলা প্রশাসকদের কাছে সরকারের জরুরি বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি বরাদ্দ রয়েছে। এরপরও প্রয়োজন হলে ডিও দেওয়া মাত্র তা পৌঁছে যাবে বলেও ডিসিদের আশ্বস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সাইক্লোন শেল্টারসহ উঁচু ভবনের স্কুল-কলেজের কক্ষগুলোতে যেন লোকজনকে আশ্রয় দেওয়া যায়, সেদিকটি বিচেনায় রেখে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চাবি সংরক্ষণে রাখার বিষয়েও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বন্যার পানি বিপদসীমার ওপরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলেই মানুষজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। এ সময় গৃহপালিত পশুপাখি যেন নিরাপদ স্থানে রাখা হয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার (১২ জুলাই) সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট খোলা রাখা হয়েছে। কাল শনিবার (১৩ জুলাই) এ মন্ত্রণালয়সহ অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো খোলা থাকবে। শুক্রবার সকালে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আন্তমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ভবিষ্যতে বন্যা আক্রান্ত হতে পারে এমন জেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলার নদীতে ৬২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে, তারমধ্যে ২৬টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলোকে ঠিক করার জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এরমধ্যে ৫৫১টি পয়েন্টকে ঝুঁকিমুক্ত করতে কাজ করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জামালপুরে নদীভাঙনের প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। লালমনিহাটে তিস্তা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল বলেন, ‘পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ শুরু হয়েছে। যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সব বিভাগ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। আশা করছি কোনও ধরনের দুঃসংবাদ জাতি শুনবে না। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সর্বদা প্রস্তুত। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আরও সহায়তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চাহিদা জানানো মাত্রই তা পৌঁছে দেওয়া হবে। ডিসি, টিএনও ও জনপ্রতিনিধিরা খোঁজ-খবর রাখছেন।’
শুক্রবার (১২ জুলাই) সচিবালয়ে আন্তমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যা আক্রান্ত জেলাগুলোতে ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, সাড়ে ১৭ হাজার টন চাল এবং ৫০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে এসব জেলায় ৫০০ তাঁবু পাঠানো হবে। ইতোমধ্যেই বন্যার সময় পানিবাহিত রোগসহ যেকোনও পরিস্থিতি সামলে নিতে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। জেলাগুলোর সিভিল সার্জনকে এ বিষয়ে তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয় নেতকর্মীদের একযোগে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতীতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে একযোগে কাজ করার রেকর্ড রয়েছে। এবারও এর ব্যত্যয় হবে না। দলের পক্ষ থেকে সেভাবেই নির্দেশনা রয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যেই তিনি বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন, বন্যাকবলিত জেলাগুলোর সঙ্গে তিনি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। অতিবৃষ্টির কারণে দেশের যেসব অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, সেসব জেলায় বন্যা মোকাবিলায় পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে মাঠ পর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনাও তিনি দিয়েছেন।’

এদিকে, সুনামগঞ্জের ডিসির দায়িত্বে থাকা এডিসি (জেনারেল) শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা প্রশাসক ডিসি সম্মেলনে যোগ দিতে এই মুহূর্তে ঢাকায় অবস্থান করছেন।’ তিনি বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই। হাওর অঞ্চল বলে এখানে এই সিজনে এমনিতেই পানির প্রবাহ বাড়ে। গত বছর এবারের চেয়ে বেশি পানি ছিল। এখানের ৫টি উপজেলায় বন্যার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। টিএনওরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। পানিবন্দি মানুষদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় জিআর চাল ও নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে।’

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা এডিসি (রেভিনিউ) আহসান হাবীব বলেন, ‘জেলার ৪টি উপজেলায় পানি বেড়েছে, তবে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার মতো নয়। টিএনওরা কাজ করছেন। ইতোমধ্যেই ১১০ মেট্রিক টন জিআর চাল ও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।’ পাটগ্রাম উপজেলায় পানির প্রবাহ কম বলেও জানান তিনি।

বিস্তারিত খবর

নতুন ইমরান মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১২ ১৪:২৭:৩৯

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদকে পূর্ণ মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরাকে নতুন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাদের নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই, ২০১৯) সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, নতুন মন্ত্রীদের শপথ শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বঙ্গভবনে তাদেরকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।

বিস্তারিত খবর

সারাদিনের ভারী বর্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১২ ১৪:২৫:৫১

সারাদিনের ভারী বর্ষণের কারণে রাজধানী ঢাকার অনেক এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ায় নগরবাসীকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুসারে, ঢাকায় শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ৭৫ মি.মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী এক বা দুইদিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত কমে আসতে পারে।

রাজধানীর তেজতুরিবাজার, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, কাজিপাড়া, শেওরাপাড়া, মনিপুরি পাড়া, ধানমন্ডি বেগম রোকেয়া সরণীসহ রাজধানীর কয়েকটি এলাকার নিম্নাঞ্চল নিমজ্জিত হয়েছে।

এদিকে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনাসহ বেশিরভাগ দেশের এলাকায় হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। শুক্রবার নদ-নদীর পরিস্থিতি সম্পর্কে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পানি পরিস্থিতি একটি পয়েন্টে অপরিবর্তিত রয়েছে এবং একটি পয়েন্টের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। দেশের সকল প্রধান নদ-নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর বাহাদুরাবাদ পয়েন্ট, চিলমারি ও গাইবান্ধার ফুলছড়ি পয়েন্ট, ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্ট এবং তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্ট বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।

এছাড়া আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের সুরমা, কুশিয়ারা, কংস, সোমেশ্বরী, ফেনী, হালদা, মাতামুহুরী ও সাঙ্গুসহ প্রধান নদীসমূহের পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও লালমনিরহাট জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯ পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ ও রাঙ্গামাটি স্টেশন এলাকায় ১৬৫ মিলিমিটার, জাফলংয়ে ১৫৫ মিলিমিটার, টাঙ্গাইলে ১৩৫ মিলিমিটার, শেওলায় ১৩০ মিলিমিটার, দক্ষিণবাগে ১২০ মিলিমিটার, পঞ্চগড়ে ১০২ মিলিমিটার, ছাতকে ১০০ মিলিমিটার এবং রামগড়ে ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বিস্তারিত খবর

১০ বছরে বিএসএফের হাতে ২৯৪ বাংলাদেশি নিহত

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১১ ১৫:০৮:৪২

গত ১০ বছরে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে ২৯৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ২০০৯ সালে অন্তত ৬৬ জন, ২০১০ সালে ৫৫, ২০১১ ও ২০১২ সালে ২৪ জন করে মোট ৪৮ জন, ২০১৩ সালে ১৮ জন, ২০১৪ সালে ২৪ জন, ২০১৫ সালে ৩৮ জন, ২০১৬ সালে ২৫ জন, ২০১৭ সালে ১৭ জন ও ২০১৮ সালে ৩ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য এম হারুনুর রশিদের প্রশ্নের জবাবে আজ সংসদে এই তথ্য উপস্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিএসএফের হাতে বাংলাদেশিদের নিহত হওয়া ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ চেষ্টা জারি রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

লিখিত জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সরকার। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যে নামিয়ে আনতে বিএসএফ সম্মত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

বিস্তারিত খবর

এমপি হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপির সিরাজ

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১১ ১৫:০৪:১৫

এমপি হিসেবে শপথ নিলেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনে জয়ী বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ শপথ বাক্য পরিচালনা করেন সংসদের সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ খান। এ সময় বিএনপির এমপিদের মধ্যে হারুনুর রশিদ, জাহিদুর রহমান, মোশাররফ হোসন ও সংরক্ষিত নারী আসনের রুমিন ফারহানা উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সিরাজ পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৭৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী টি জামান নিকেতা নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ২৯৭ ভোট। এছাড়া জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রার্থী পেয়েছেন ৭ হাজার ২৭১ ভোট।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ৭ হাজার ২৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মহাজোট সমর্থিত জাতীয় পার্টি মনোনীত নুরুল ইসলাম ওমর পেয়েছিলেন ৪০ হাজার ৩৬২ ভোট। তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্ধারিত সময়ে শপথ গ্রহণ না করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে উপ-নির্বাচন দেওয়া হয়।

বিস্তারিত খবর

বিভিন্ন দেশের কারাগারে ৮৮৪৮ বাংলাদেশি, এর মধ্যে ২০৪৯ জন ভারতে

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১১ ১৫:০২:৩০

বিভিন্ন দেশের কারাগারে ৮ হাজার ৮৪৮ জন বাংলাদেশি বন্দী রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি বন্দী রয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে ভারত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও বাহরাইন রয়েছে।

সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এই তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

কোন দেশে কতজন বাংলাদেশি বন্দী রয়েছেন তারও একটি তালিকা সরবরাহ করেন মন্ত্রী। এই তালিকা অনুযায়ী বিদেশের মাটিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি বন্দী রয়েছেন ভারতে। দেশটিতে সব মিলিয়ে বন্দী রয়েছেন ২০৪৯ জন।

হাজারের বেশি বাংলাদেশি বন্দী রয়েছেন এমন দেশের সংখ্যা তিনটি। আর শতাধিক বাংলাদেশি বন্দী থাকা দেশ ১৩টি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তালিকা অনুযায়ী সৌদি আরবে ১২৮৯ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১১৫৬ জন, বাহরাইনে ৬৯৩ জন, মালয়েশিয়ায় ৫৭২ জন, ওমানে ৪৪২ জন, কুয়েতে ৩১৬ জন, তুরস্কে ২৮০ জন, ইরাকে ২৭৫ জন, ইরানে ২৪৩ জন, যুক্তরাজ্যে ১২৬ জন, লিবিয়ায় ১২২ জন, গ্রীসে ১০৬ জন বাংলাদেশি বন্দী রয়েছেন।

বাকি বাংলাদেশি বন্দীরা রয়েছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে।

বিস্তারিত খবর

সরকারি খরচে হজে যাচ্ছেন হেফাজত নেতাসহ ৫৫ আলেম

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১১ ০৪:৪২:২৬

বাংলাদেশি মুসলিমদের হজ পালন ও ধর্মীয় পরামর্শ দিতে ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট ওলামা মাশায়েখ টিম গঠন করেছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট ওলামা মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরব যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। এটি রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। তাদের ভ্রমণ ব্যয়, এ বছর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশের বাহিরে হজ বাবদ ব্যয়’ খাতে বরাদ্দ রাখা অর্থ থেকে বহন করা হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ৫৫ সদস্যবিশিষ্ট ওলামা মাশায়েখ টিমে রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর ছেলে মাওলানা আনাস মাদানীসহ একাধিক হেফাজত নেতা।

টিমের তালিকায় থাকা আলেমরা হলেন, ৫৫ সদস্যবিশিষ্ট ওলামা মাশায়েখ টিমের তালিকায় প্রথমেই আছেন হেফাজত নেতা ও  আল হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যা’র  কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলী, পটিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল হালিম বোখারী, গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা রুহুল আমীন ও তার ছেলে মাওলানা ওসামা আমিন, ঢাকার গেন্ডারিয়ার মাদ্রাসা বায়তুল উলুমের প্রিন্সিপাল মাওলানা জাফর আহমাদ, কিশোরগঞ্জের চকমপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা ইয়াকুব আলী খন্দকার, চট্টগ্রামের জিরি মাদ্রাসার মাওলানা শাহ মো. তৈয়্যব, আহমদ শফীর ছেলে চট্টগ্রাম হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আনাস মাদানী, হেফাজত নেতা ও  বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ, মাওলানা সালাহউদ্দীন নানুপুরী, চরমোনাই পিরের ভাই ও চরমোনাই কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুসাদ্দিক বিল্লাহ মাদানী, পিরোজপুরের শার্ষিনা দারুস সুন্নাত আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ শরাফত আলী, হেফাজত নেতা ও আকবর কমপ্লেক্সের প্রধান মুফতি মাওলানা দিলাওয়ার হুসাইন, শায়াখ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্স সেন্টার কুড়িলের মুহতামিম মুফতি মীযানুর রহমান সাঈদ, বনশ্রীর দারুল উলুম রামপুরা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ইয়াহইয়া, মুফতি মোহাম্মদ আলী, জামিয়া কুরআনিয়া লালবাগ মাদ্রাসার মুফতি মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, মাওলানা নিয়ামত উল্লাহ ফরিদী, মাওলানা শামছুল হুদা খান, হেফাজত নেতা ও বড় কাটারা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি সাইফুল ইসলাম, সিলেটের গওহরপুর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মোসলেউদ্দীন রাজু, ইকরা বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন, মাওলানা আবদুর রাজ্জাক, মাওলানা ওসমান গনি,  পটিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা রেজাউল করীম, মাওলানা আবুল কাশেম ফজলুল হক প্রমুখ।


বিস্তারিত খবর

অধ্যক্ষ সিরাজকে দেখে আদালতে অজ্ঞান নুসরাতের মা

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১০ ১৪:১১:৩৩

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য ও জেরা চলাকালে আসামি অধ্যক্ষ সিরাজউদদৌলাকে দেখে জ্ঞান হারিয়েছেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার।

বুধবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ও আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু ফেনী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করান।

দুপুর ১২টা থেকে আদালতে শিরিন আক্তারের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছিল। এ সময় বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। আদালতের এজলাসে মাদ্রাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজসহ অপর আসামিদের দেখে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে বেলা আড়াইটার দিকে জ্ঞান হারান তিনি।

এ দিকে বিকেলে ফেনী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের ডাক্তার শাহনেওয়াজ সিরাজ মামুন জানান, শিরিন আক্তার সুস্থ রয়েছেন।

মামলায় হাজিরার জন্য সকাল ১১টার দিকে ১৬ আসামিকে ফেনী কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। চাঞ্চল্যকর এ মামলার শুনানি উপলক্ষে  আদালত ঘিরে ছিল কঠোর নিরাপত্তা। আদালত ভবন এবং বিচারকক্ষে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

গত ২৭ জুন থেকে মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরে নুসরাতের বান্ধবী নিশাত সুলতানা ও সহপাঠী নাসরিন সুলতানা, মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিন, নৈশপ্রহরী মো. মোস্তফা, কেরোসিন বিক্রেতা লোকমান হোসেন লিটন, বোরকা দোকানদার জসিম উদ্দিন ও দোকানের কর্মচারী হেলাল উদ্দিন ফরহাদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিনই এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম চলছে।

গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে সিরাজউদদৌলার সহযোগীরা নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যায় নুসরাত।

পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ফেনীর পরিদর্শক মো. শাহ আলম আদালতে ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন।

বিস্তারিত খবর

টানা ২২ ঘণ্টা ফ্লাইট, বাংলাদেশ বিমানের পাইলটে জরিমানা

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১০ ১৪:০৮:১৪

নিয়ম না মেনে একটানা ২২ ঘণ্টা ফ্লাইটে থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন নাসের নামের এক পাইলটকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সম্প্রতি বিমানের এই জ্যেষ্ঠ পাইলটকে জরিমানা করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ(বেবিচক)।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বেবিচকের ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশন বিভাগের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন চৌধুরী এম জিয়াউল কবির।

সূত্র জানায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সিনিয়র পাইলট ক্যাপ্টেন নাসের বোয়িং ৭৭৭ নিয়ে ২০১৮ সালের ১০ জুন চট্টগ্রাম হয়ে জেদ্দা যান।

এদিন সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে উড়াল দেওয়ার পর রাত সাড়ে ৮টায় চট্টগ্রামে ল্যান্ড করে বিমানটি। পরবর্তী সময়ে বৈরী আবহাওয়ায় সেখান থেকে আর জেদ্দার উদ্দেশে রওনা দিতে পারেননি ওই পাইলট। ইতিমধ্যে রাত ১২টা পেরিয়ে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী এ সময়ে বন্ধ হয়ে যায় রানওয়ে। এ অবস্থায় অন-বোর্ড যাত্রী নিয়ে পাইলট রাতের জন্য আটকা পড়েন সেখানে। হোটেলে গিয়ে নির্ধারিত কক্ষে বিশ্রাম না নিয়ে বরং বিমানেই রাত পার করে দেন তিনি। সকালে চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দার উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার আগেই ডিউটি টাইম শেষ হয়ে যায় তার। তিনি ফ্লাইট অপারেশনের পরিচালক ও চিফ অব ফ্লাইট সেফটির কাছে কোনো ধরনের সহযোগিতা চাননি।

সারা রাত বিমানে অবস্থান করে নিজের ইচ্ছাতেই যাত্রীদের ঝুঁকির মুখে ফেলে বিমান নিয়ে জেদ্দা রওনা দেন তিনি। টানা ১৫ ঘণ্টার বেশি বিমান চালানোর নিয়ম না থাকলেও তিনি ক্লান্ত শরীর নিয়ে ২২ ঘণ্টা টানা বিমান চালান।

অবশেষে দীর্ঘ তদন্ত শেষে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (আইকাও) নির্দেশনা মতো ক্যাপ্টেন নাসেরকে এই জরিমানা করা হয়েছে। কিছুদিন আগে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এই অনিয়মের কথা মাথায় রেখে তাকে আর চুক্তির আওতায় আনা হয়নি।

চৌধুরী এম জিয়াউল কবির বলেন, ‘এটি নিয়মের বড় ধরনের লঙ্ঘন। পূর্ণ বিশ্রাম ছাড়া একজন পাইলটের ফ্লাইট পরিচালনার নিয়ম নেই। কারণ, ককপিট ক্রুদের ওপরই নির্ভর করে ফ্লাইটের নিরাপত্তা।’

বিস্তারিত খবর

পদ্মা সেতুতে মাথা কাটা গুজবের বিরুদ্ধে মাঠে নামছে পুলিশ

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১০ ১৪:০৪:৫৯

‘পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ পরিচালনায় মানুষের কাটা মাথা লাগবে’ বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা গুজব ছড়িয়েছেন তাদের ধরতে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, এই পোস্টটির উৎপত্তি ও যারা ছড়িয়ে এটি নিয়ে ইস্যু তৈরি করেছে তাদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।

সোমবার রাত থেকেই গুজব রটনাকারীদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি টিম।

দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করে ভাইরাল করেছেন এমন ১২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপ থেকে তাদের সন্ধান চেয়ে পোস্ট দেয়া হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ইউনিট এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। তাদের প্রোফাইল, টাইমলাইন, ব্যাকগ্রাউন্ড এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পোস্ট শেয়ারকারীদের মধ্যে কয়েকজন তরুণীও রয়েছেন।

এ ছাড়া কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেলেও তাদের নিয়ে ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। সেগুলোও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) মো. সোহেল রানা বলেন, ‘পদ্মা সেতু দেশের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প। এ প্রকল্পের সাথে বাংলাদেশের ইমেজ জড়িত। একটি মহল এই উন্নয়ন ব্যাহত করার জন্য এ ধরনের গুজব রটিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, যা একটি গুরুতর অপরাধ। অনেকে না বুঝেই এটি শেয়ার করে অপরাধের অংশীদার হয়েছেন। তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। শনাক্তের পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ইউনিট টিমও অপরাধীদের শনাক্তে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতারে অভিযানও চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ১৫টি ফেসবুক গ্রুপ শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ১০ লাখের বেশি মেম্বার রয়েছেন। সেসব গ্রুপে যারা গুজবের পোস্টটি শেয়ার করেছেন তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। এ ছাড়া অনেকে কাটা মাথার ছবি শেয়ার করেছেন, সেগুলোর সোর্স জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। ইতোমধ্যে মিয়ানমারের রাখাইনের নানা ছবি শেয়ার করার প্রমাণ পেয়েছেন তারা। এ ছাড়া পদ্মা নদী ও সেতুর নির্মাণকাজের ছবিকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে ফটোশপের মাধ্যমে মানুষের কাটা মাথার ছবি টেবিলের ওপর বসানোর প্রমাণ পেয়েছেন তারা।

র‍্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. এমরানুল হাসান বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে যেকোনো গুজব রটনাকারীদের শনাক্তে কাজ করে র‍্যাব। যারা এসব রটিয়েছেন তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এদিকে গুজবের বিষয়ে মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে দেয়া একটি চিঠিতে পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লিখেছেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ পরিচালনায় মানুষের মাথা লাগবে বলে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালাচ্ছে তা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এটি একটি গুজব। এর কোনো সত্যতা নেই। এমন অপপ্রচার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি জানান, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। মূল সেতুর ২৯৪টি পাইলের মধ্যে ২৯২টি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩০টি পিয়ারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৪টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে, যা এখন দৃশ্যমান। ৩০ জুন পর্যন্ত মূল সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি ৮১ শতাংশ, নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ৫৯ শতাংশ এবং প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭১ শতাংশ।

বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে সেতুটি তৈরির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের আওতাধীন চায়না মেজর ব্রিজ নামক একটি কোম্পানি। কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর। প্রাথমিকভাবে এতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ৫০৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। তবে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি নকশা পরিবর্তন, অবকাঠামো উন্নয়ন, ভূমির পরিমাণ ও পরামর্শকের সংখ্যা বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণ দেখিয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় আরও ৮ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে।

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত