যুক্তরাষ্ট্রে আজ সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 10:22pm

|   লন্ডন - 05:22pm

|   নিউইয়র্ক - 12:22pm

  সর্বশেষ :

  যেভাবে সুরক্ষিত রাখবেন আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট   আর ডিজেলচালিত গাড়ি বানাবে না পোরশে   মালদ্বীপে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী সোলিহর জয়লাভ   নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীকে আ’লীগের সম্বর্ধনা : সরকার পতনে দুর্নীতিবাজরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে   মিয়ানমারের ওপর হস্তক্ষেপের অধিকার নেই জাতিসংঘের: সেনাপ্রধান   বাংলাদেশ সম্পর্কে অমিত শাহর বক্তব্যটি অবাঞ্ছিত : তথ্যমন্ত্রী   গিনেজ বুকের স্বীকৃতি পেল ‘স্বচ্ছ ঢাকা অভিযান’   কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করায় চবি শিক্ষক কারাগারে   শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে টাইগারদের জয়   বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আরও ৫ লাখ রোহিঙ্গা   ট্রাম প্রশাসনের নতুন প্রস্তাবনা, কঠিন হয়ে পড়তে পারে গ্রিন কার্ড   নাইজেরিয়ায় কলেরা মহামারি, ৯৭ জনের মৃত্যু   মংলা-বুড়িমারী বন্দরে বছরে অবৈধ লেনদেন হয় ৩১ কোটি টাকা   অস্কারে যাচ্ছে বাংলাদেশের ‘ডুব’   উন্নত বিশ্বে দ্রুত বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা

>>  স্বদেশ এর সকল সংবাদ

বাংলাদেশ সম্পর্কে অমিত শাহর বক্তব্যটি অবাঞ্ছিত : তথ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি অমিত শাহ’র একটি বক্তব্য অবাঞ্ছিত এবং বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক নিয়ে তিনি কথা বলার জন্য যোগ্য নন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভারতের গণমাধ্যম দ্য হিন্দু ও এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এ মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

গেলো শনিবার রাজস্থানের সাওয়াই মাধোপুর জেলার গঙ্গাপুরে এক জনসভায় বিজেপি সভাপতি বলেছেন, বাংলাদেশি অভিবাসীরা ‘উইপোকার’মতো এবং ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হবে।

ওই জনসভায় বিজেপি সভাপতির এই মন্তব্যকেই  অবাঞ্ছিত বলেও

বিস্তারিত খবর

গিনেজ বুকের স্বীকৃতি পেল ‘স্বচ্ছ ঢাকা অভিযান’

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২৪ ০৭:৫৮:২২

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘স্বচ্ছ ঢাকা পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান পেয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল ১৫ হাজার ৩১৩ জন কর্মী অংশ নেয় এই অভিযানে। তবে রেকর্ড গড়তে দরকার ছিল পাঁচ হাজার ৫৮ জনের অংশগ্রহণ।

এই অভিযান রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে, সেটি তখনই স্পষ্ট হয়। তবে বাকি ছিল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। আর সাড়ে পাঁচ মাস পর সোমবার এ সংক্রান্ত একটি সনদ মেয়র সাঈদ খোকনের হাতে তুলে দিয়েছে গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএসসিসির প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা জাকির হোসেন। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছ ঢাকা পরিচ্ছন্নতা অভিযান গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান পেয়েছে। এটি জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষই।’

আগে ভারতের এই রেকর্ড ভারতের দখলে ছিল। ২০১৭ সালের ২৮ মে ভারতের আহমেদাবাদের কাছের শহর বদোধারায় পাঁচ হাজার ৫৮ জন কর্মী নিয়ে এক কিলোমিটার রাস্তা পরিষ্কার করে গিনেজ বুকে নাম লিখিয়েছিল সে দেশের নগর কর্তৃপক্ষ।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন এবং পরিচ্ছন্নতা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গত এপ্রিলে ‘স্বচ্ছ ঢাকা’ কর্মসূচি হাতে নেয়। বহুজাতিক কোম্পানি রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ একে সহযোগিতা করে।

কর্মসূচিতে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করলেও নিবন্ধন করেছিলেন এর অর্ধেক। আর কর্মসূচি পালনকালে উপস্থিতির সংখ্যা পাঁচ হাজার ৫৮ জন অতিক্রম করার পরপরই সাঈদ খোকন বলেছিলেন, ‘ঢাকাবাসী, আমরা রেকর্ড ভেঙেছি। এই রেকর্ড জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করলাম। এই রেকর্ডের মধ্য দিয়ে বিশ্বের কাছে প্রমাণ করেছি, ঢাকাবাসী পরিষ্কার নাগরিক।’

‘মন সুন্দর যার সে রাখে দেশ পরিষ্কার’এমন স্লোগানে গিনেজ বুকে নতুন রেকর্ড গড়তে সকাল নয়টায় কর্মসূচি শুরু হয়। গিনেজ বুকে রেকর্ড করার শর্ত অনুযায়ী কর্মসূচিতে অংশ নেয়া লোকজনকে প্রথমে মঞ্চ থেকে অনুশীলন করানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা জিরো পয়েন্ট থেকে গোলাপ শাহের মাজার পর্যন্ত নির্ধারিত জায়গায় দাড়িয়ে অনুশীলনে অংশ নেন।

কর্মসূচিতে ডিএসসিসির নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা সংস্থা, স্কুল-কলেজ, সরকারি, বেসরকারি, আধাসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন, রাজনৈতিক দলের কর্মীসহ সাধারণ নগরবাসী অংশগ্রহণ করেছেন। রেজিস্ট্রেশনকালে পরিচ্ছন্নতা কাজে অংশ নেওয়ার জন্য সবার হাতে একটি করে ঝাড়ু, মাথায় ক্যাপ ও মুখে মাস্ক দেওয়া হয়। ঝাড়ুর সঙ্গে একটি বারকোড ও হাতে নির্দিষ্ট যন্ত্রবিশেষ দেওয়া হয়।

গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষ ড্রোন, স্যাটেলাইট ও লাইভ ভিডিওসহ তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে উপস্থিতি গণনা করে। ওইদিন সকাল ৯টায় এ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন মেয়র খোকন।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করায় চবি শিক্ষক কারাগারে

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২৪ ০৭:৪৯:১৪

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করার অভিযোগে দায়ের হওয়া আইসিটি মামলায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

উচ্চ আদালতের আট সপ্তাহের জামিন শেষে সোমবার চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন শিক্ষক মাইদুল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মাইদুল ইসলামের আইনজীবী দুলাল লাল ভৌমিক জানান, গেল ছয় আগস্ট বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ ফেইসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারার একটি মামলায় শিক্ষক মাইদুল ইসলামকে আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন। এ সময়ের মধ্যে তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলেন উচ্চ আদালত।

তিনি আরও বলেন, আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সোমবার সকালে মাইদুল নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পক্ষ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগে গেল ২৩ জুলাই শিক্ষক মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে হাটহাজারি থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইফতেখারুল ইসলাম।

সেইসময় কোটা আন্দোলনকারীদের পক্ষে ফেইসবুকে পোস্ট দেয়ায় মাইদুল ইসলামসহ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক খ. আলী আর রাজীকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ছাত্রলীগ।

তাকে চাকরিচ্যুত করার দাবি জানিয়ে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপু।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হুমকির কারণে ক্যাম্পাস ছেড়ে নিরাপত্তা চেয়ে প্রক্টরের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন শিক্ষক মাইদুল ইসলাম।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আরও ৫ লাখ রোহিঙ্গা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২৩ ০৯:৪৫:৪৫

সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ এখনও থামেনি। সদ্য প্রবেশকারীদের দাবি, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সে দেশের সেনারা এখনও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। যারা এখনও সেখানে আছে তাদের ‘ক্রীতদাস’ বানিয়ে রাখা হয়েছে। নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার অপেক্ষায় আছে রাখাইনের বাকি রোহিঙ্গা সদস্যরা।
রোহিঙ্গাদের প্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের একাধিক ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতারা।
তারা জানিয়েছেন,‘নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে আরও প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার অপেক্ষায় আছে। প্রায় প্রতি রাতে কেউ না কেউ ওপার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। তাদের অধিকাংশই নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসছেন। তিনশ’ রোহিঙ্গা ওপারের সীমান্তের বন-জঙ্গলে প্রবেশ করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার অপেক্ষা করছে বলে খবর পেয়েছেন তারা।’
টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান আবদুল মতলব জানান, ‘রাখাইনের যেসব রোহিঙ্গা এখনও বাংলাদেশে আসতে পারেনি, তাদের আসলে আটকে রাখা হয়েছে। সেনারা তাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে; স্থানীয় হাটবাজারেও তাদের যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে খাবারের সঙ্কটে রয়েছে রোহিঙ্গা সদস্যরা। মানবেতর জীবনযাপনে তাদের বাধ্য করা হচ্ছে। এ কারণে সুযোগ পেলেই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি সদ্য প্রবেশকারীদের বরাত দিয়ে আরও বলেন, ‘সেখানে সেনারা বড় আকারে জুলুম না করলেও ভেতরে ভেতরে কৌশলগত জুলুম চালিয়ে যাচ্ছে। রাখাইনের রাজধানী শিত্তুই বা আকিয়াব, রাথিডং, মংডুসহ পুরো রাজ্যের ১৭টি ‘টাউনশিপে’ পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা আছে। সেখানকার রোহিঙ্গা সদস্যরা যে-হারে খণ্ডখণ্ডভাবে অনুপ্রবেশ করছে, তাতে একদিন সবাই এপারে চলে আসবে।’
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) দেওয়া তথ্য মতে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৭৬৪ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনে নাফনদী পেরিয়ে ৫৩১ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। এর মধ্যে আগস্টে এসেছেন ২৫৬ জন এবং জুলাইয়ে ৪১৩ জন। এরআগে ২০ মে থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন আসা তিন হাজার রোহিঙ্গার সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব প্রবেশকারীরা বেশির ভাগই টেকনাফের সাবরাং ও এর আশপাশের এলাকা থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
তবে রোহিঙ্গা প্রবেশ ঠেকাতে জিরো টলারেন্সে রয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গারা এখনও নৌকা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৩ আগস্ট একটি নৌকায় করে ১২ জন রোহিঙ্গা সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এসময় বিজিবি টহল দলের সদস্যরা তাদের বাধা দেয়। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসের গত শুক্রবার নাফনদী পেরিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের সময় সাত রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা ‘পুশব্যাক’ করা হয়েছে।’তবে ‘একই দিন আরও দুটি নৌকায় করে প্রায় ১২ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে’ বলে দাবি করেছে সীমান্তের বসবাসকারীরা।
এ প্রসঙ্গে বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) টেকনাফ-২ ব্যাটেলিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার বলেন,‘রোহিঙ্গারা এখনও প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সীমান্তে প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনও অবৈধ প্রবেশকারীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’
গত সপ্তাহে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন খাদিজাতুল কোবরা (২৬)। তার বাড়ি মিয়ানমারের বুশিডং (বুথিডং) এলাকার বড়িয়ং গ্রামে। বর্তমানে তিনি কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। খাদিজা বলেন, ‘‘মিয়ানমার সেনারা নারীদের মারধর করে, স্বামীদের ধরে নিয়ে তাদের ‘ক্রীতদাস’র মতো ব্যবহার করছে। রাতে সেনাদের প্রহরী এবং দিনে গৃহকর্মীর কাজ করাচ্ছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরিবার নিয়ে এপারে পালিয়ে এসেছি।’’
গত পাঁচ দিন আগে মেয়ের কানের দুল বিক্রির পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে বাংলাদেশে পাড়ি দেন আবুল হাইর। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সেনারা যাতে না দেখে, সে জন্য ঘর থেকে চুরি করে বের হয়ে সীমান্তে পৌঁছি। সেখানে দেখে মেলে আমাদের মতো অভাগা আরও দুই পরিবারের। তিন পরিবারের মোট ১২ জন উনচিপ্রাংয়ের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করি।’
তিনি জানান, তার গ্রামে আটশ’র উপরে ঘর ছিল। তারা চলে আসার পর বর্তমানে সেখানে পাঁচ ঘর রোহিঙ্গা বসবাস করছে। সেখানে যেসব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যরা রয়েছেন তাদের ওপর সেনারা সুকৌশলে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি হুমকি-ধমকি দিয়ে রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষদের দিয়ে তাদের বিভিন্ন কাজ করিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া সেনারা রোহিঙ্গা সদস্যদের ঠিকমতো ঘর থেকে বের হতে দেয় না, এক প্রকার জিম্মি করে রেখেছে। ফলে সেখানকার রোহিঙ্গা পরিবারগুলো সুযোগ পেলেই বাংলাদেশে চলে আসছে।’
এসব প্রবেশের বিষয়ে টেকনাফ পৌরসভার (ভারপ্রাপ্ত) মেয়র আবদুল্লাহ মনির বলেন, ‘এপারে চলে আসা অনেক রোহিঙ্গা সদস্যরা ওপারের আত্মীয়-স্বজনদের খবর পাঠাচ্ছে যে, আমরা ভাল আছি, তোমরাও চলে আসো। এ কারণেও প্রবেশের চেষ্টা চলছে।’
রোহিঙ্গাদের প্রবেশ চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিউল হাসানও। তবে তিনি বলেন, ‘নতুন করে কোনও রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সীমান্তে কড়া নজরদারি রয়েছে, কেউ প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে ফেরত পাঠানো হবে।’

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

মংলা-বুড়িমারী বন্দরে বছরে অবৈধ লেনদেন হয় ৩১ কোটি টাকা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২৩ ০৯:০৮:২৪

মংলা ও বুড়িমারী বন্দরে সেবা দিতে বছরে প্রায় ৩১ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয় বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মোংলা বন্দর ও বুড়িমারী স্থল বন্দরে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে বলেও দাবি করে সংস্থাটি।

রোববার টিআইবি’র প্রধান কার্যালয়ে মংলা বন্দর ও কাস্টম হাউজ এবং বুড়িমারী স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশন: আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

সম্মেলনে এ দুটি বন্দর ও কাস্টমসের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির করা গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নেই যেখানে দুর্নীতি বন্ধ হয়েছে কিন্তু দুর্নীতিবাজরা শাস্তি পায়। আমাদের দেশেও এমন নজির দরকার।

তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের কার্যক্রম আরও জোরদার করা দরকার। তবে যদি রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তাহলে দুর্নীতি কমবে না।’

টিআইবির গবেষণায় বলা হয়, এ দুটি বন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে সবগুলো ধাপেই  নিয়ম বহির্ভূতভাবে আর্থিক লেনদেন হয়। গত এক বছরে মোংলা বন্দর ও কাস্টমসে অবৈধ লেনদেন হয় প্রায় ২০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে কাস্টমসে লেনদেন হয় প্রায় ১৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। মোংলা বন্দরে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা। আর বুড়িমারী স্থল বন্দরে অবৈধ লেনদেন হয় ১০ কোটি টাকার বেশি।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

৩ লাখ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৪ হাজার ‘কাল্পনিক’ মামলা: তদন্তে কমিশন চেয়ে রিট

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২৩ ০৮:৪৪:৩৭

সারাদেশে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী, আইনজীবীসহ ৩ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রায় ৪ হাজার মামলার তদন্ত করতে উচ্চ পর্যায়ের কমিশন চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। ‘গায়েবী ও কাল্পনিক’ এইসব মামলা দায়েরের সঙ্গে জড়িতদের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।

আজ রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রাক্তন সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, প্রাক্তন মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া এ রিট দায়ের করেন।

আগামীকাল বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।

সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন, মওদুদ আহমদসহ সিনিয়র আইনজীবীরা এই রিটের ওপর শুনানি করবেন বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

এ বিষয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আইনজীবীরা যাতে খালেদা জিয়ার মামলা না করতে পারে এবং আগামী নির্বাচনের সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা যাতে ঘরে না থাকতে পারে সে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য এসব মামলা করা হয়।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্যান্য দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত যত গায়েবি মামলা দেয়া হয়েছে সেগুলোর তদন্ত বন্ধ এবং এ গায়েবি মামলাগুলোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করে ঘটনার তদন্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে যেন এ ধরণের মামলা দেয়া না হয়, তার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অগুণিত নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশি ক্ষমতা অপব্যবহার করে গায়েবি বা আজগুবি মামলাকে দায়ের করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, রিটে সে বিষয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, পুলিশের আইজি, ডিএমপি কমিশনার, ডিএমপি রমনা জোনের ডেপুটি ও অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার, রমনা, পল্টন ও শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ মোট নয়জনকে এই রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট দায়েরের পর খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে ঢালাওভাবে এ ধরণের কাল্পনিক মামলা করার উদ্দেশ্যে হচ্ছে বিরোধী দলকে চাপে রেখে বিরোধী নেতাকর্মীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করা।

তিনি বলেন, এ ধরণের মামলা সঠিক হয়েছে কিনা তা তদন্ত করতে একটি উচ্চ পর‌্যায়ের কমিশন গঠন করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরণের কাল্পনিক মামলা করে যেন হয়রানি না করা হয় তার নির্দেশনা জারির আবেদন করা হয়েছে। যারা এ ধরণের মামলা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়েও আবেদন করা হয়েছে।

রিট আবেদনে, সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন পত্রিয়কায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে আবেদনকারী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অগণিত মানুষের বিরুদ্ধে ‘কাল্পনিক’ মামলা করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এই ধরণের ‘কাল্পনিক’ মামলাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এ মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

এ রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় আবেদনকারীসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে এ ধরণের মামলা দায়ের থেকে বিরত থাকতে এবং এ ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি (যার মধ্যে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের প্রতিনিধি রাখা) গঠনের নির্দেশনা জারির আবেদন করা হয়েছে।

এছাড়াও রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে করা এসব মামলার তদন্ত থেকে বিরত থাকে নির্দেশনা জারির আর্জি জানানো হয়েছে আবেদনে।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২৩ ০৮:৩০:১৩

গাজীপুর মহানগরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ডেকেরচালা এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে নিট অ্যান্ড নিটেক্স গার্মেন্টের বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে। ফলে টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন আটকা পরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।

পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানায়, গত কোরবানির ঈদের সময় তাদের আগস্ট মাসের অর্ধেক বেতন পরিশোধ করা হয়। বাকি অর্ধেক বেতন সেপ্টেম্বরের শুরুতে পরিশোধের কথা থাকলেও এখনো দেয়া হয়নি। মালিক পক্ষ কয়েক দফা তারিখ দিয়েও বেতন পরিশোধ করেনি। তা ছাড়া শনিবার কারখানার পানি খেয়ে ১০-১২ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার রাতে কারখানা ভাঙচুর ও বিক্ষোভ করে। এরই জেরে আজ রোববার সকালে কারখানায় এসে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে সকাল ১০টার দিকে কারখানার পার্শ্ববর্তী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, ওই কারখানায় এক হাজারের বেশি শ্রমিক রয়েছে। তাদের সমর্থনে আশপাশের কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক রাস্তায় নেমে এসেছে। পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ডিসেম্বর থেকে লন্ডন-ঢাকা রুটে বাড়ছে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২২ ১১:৫৩:০০

আগামী ডিসেম্বর মাস থেকে ঢাকা-লন্ডন রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

এই রুটে বর্তমানে সপ্তাহে চারটি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। এটি বেড়ে ফ্লাইট সংখ্যা হবে ছয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানে নতুন সংযোজিত হওয়া ড্রিমলাইনারও চলবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গণমাধ্যম শাখার মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ফ্লাইট বৃদ্ধির বিষয়ে ব্রিটেন প্রবাসীদের দাবি দীর্ঘ দিনের। ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-লন্ডন রুটে সপ্তাহে চারটির স্থলে ছয়টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ছয় দিনই এই রুটে ফ্লাইট চালাবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী একমাত্র এয়ারলাইন্স বিমান বাংলাদেশ।

শাকিল মেরাজ জানিয়েছেন, অতিরিক্ত আরও দুটি ফ্লাইট চালাতে বিমানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ লন্ডনের হিথ্রো এয়ারপোর্ট অথরিটির কাছে আবেদন করে। সম্প্রতি তারা বিমানকে আরও দুটি ফ্লাইট চালানোর অনুমতি দিয়েছে।

ঢাকা-লন্ডন রুটে ড্রিমলাইনারেরও অভিষেক ঘটবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বর্তমানে সর্বাধুনিক ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে ঢাকা-সিঙ্গাপুর ও ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। গত আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে বিমানের নিজস্ব বহরে যুক্ত হয় চতুর্থ প্রজন্মের উড়োজাহাজ বোয়িং ড্রিমলাইনার। নভেম্বরে যুক্ত হবে দ্বিতীয় ড্রিমলাইনারটি। আগামী বছর আরও দুটি আসবে।

শাকিল মেরাজ আরো বলেন, ভবিষ্যতে আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ বেশকিছু রুটেও ফ্লাইট বৃদ্ধি করা হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানের বহরে ড্রিমলাইনার ছাড়াও রয়েছে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০। ভাড়ায় নেয়া দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর, দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, একটি এয়ারবাস এ৩৩০, দুটি ড্যাশ-৮সহ মোট ১৬টি উড়োজাহাজ।

এসব দিয়ে বিমান বাংলাদেশ ১৫টি আন্তর্জাতিক ও ৭টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

বিস্তারিত খবর

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুনঃসংশোধনের দাবি সুজনের

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২২ ১১:৪৭:২৬

জাতীয় সংসদে সদ্য পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বেশ কয়েকটি ধারা ‘নিবর্তনমূলক’ উল্লেখ করে আইনটি পুনঃসংশোধনের দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

২২ সেপ্টেম্বর, শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ দাবি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুজন মনে করে গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর অনেকগুলো ধারা (৮, ২৮, ২৯, ৩১) নিবর্তনমূলক, যে ধারাগুলোর ব্যাপক অপব্যবহার হতে পারে। বিশেষ করে নাগরিকদের হয়রানি ও কণ্ঠরোধ করা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ব্যাহত করার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

সুজনের সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সুজন মনে করে, যেকোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে মত-বিমত থাকতেই পারে। আমাদের আইন ও সংবিধান যেখানে নাগরিকের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুনঃসংশোধনের দাবি সুজনেরতা তথা বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে, এই ধরনের নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন হওয়া সত্যিই দুঃখজনক।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইনটি মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। এটি দেশে গণতান্ত্রিক পরিসরকে সংকুচিত করবে, নাগরিকদের বাক-স্বাধীনতা হরণ করবে ও নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি করবে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘এই আইনে পরোয়ানা বা অনুমোদন ছাড়াই পুলিশের হাতে যে কাউকে তল্লাশি, জব্দ এবং গ্রেফতার করার ক্ষমতা রয়েছে। তাই এই আইনকে অপব্যবহার করে পুলিশ সাধারণ নাগরিকদের হেনস্তা করতে পারে। তা ছাড়া এই আইনের ৩২ ধারায় ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক আমলের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-১৯২৩ অন্তর্ভুক্ত করায় দুর্নীতি-সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।’

সুজন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা দেখেছি, এর আগে তথ্যপ্রযুক্তি আইন ব্যবহার করে বিগত ছয় বছরে শত শত লোককে জবরদস্তিমূলকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং সে আইনটি দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল। এই কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পাস হওয়ার আগে বিভিন্ন মহল থেকে নানান পরামর্শ ও দাবি তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু সরকার সেগুলো পুরোপুরি আমলে নেয়নি; বরং বাতিল হওয়া তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কয়েকটি (২৫, ২৮, ২৯ ও ৩১) ধারায় ভাগ করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

‘অর্থাৎ ৫৭ ধারাকে ভেঙে ভেঙে, কিছুটা নতুন শব্দ চয়ন করে, ক্ষেত্রবিশেষে কিছুটা শাস্তি কমিয়ে, প্রায় অবিকলভাবে নতুন আইনে রাখা হয়েছে।’

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

চট্টগ্রামের অস্ত্রধারী সেই ছাত্রলীগ নেতার অস্ত্র উদ্ধার

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২২ ১১:৪৬:০৩

চট্টগ্রাম কলেজে সদ্য ঘোষিত ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলের দাবিতে অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার ঘটনায় এক অস্ত্রধারীকে গ্রেফতারের পর এবার তার অস্ত্রটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার ভোরে নগরের কোতোয়ালি থানার সিআরবি এলাকা থেকে দেশি একটি বন্দুক ও দুটি কার্তুজ উদ্ধার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এটি গত বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম কলেজের সামনে মহড়ায় ছাত্রলীগের মহানগর সহ-সম্পাদক সাব্বির সাদিক ব্যবহার করেছেন বলে দাবি তাদের।

বৃহস্পতিবার রাতে সাব্বির সাদিককে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। অস্ত্রের মহড়ায় অংশ নেওয়া আরেক যুবক আবু মোরশেদকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি।

এ দিকে, শনিবার কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কলেজ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। বাড়ানো হয়েছে নজরদারিও।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) কামরুজ্জামান সমকালকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে সাব্বির সাদিককে গ্রেফতারের পর তাকে নিয়ে অভিযান চালানো হয়। শুক্রবার ভোরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সিআরবি এলাকা থেকে একটি বন্দুক ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে, যা বুধবার মিছিলে তার হাতে দেখা গিয়েছিল।

মিছিল থেকে সাদা শার্ট পরা রাইফেল উঁচিয়ে গুলি করা আরেক যুবকের নাম আবু মোরশেদ। তিনি যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। তার বাসা নগরের বাকলিয়া থানার মাস্টারপুল এলাকায়। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানায় পুলিশ।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (চট্টগ্রাম অঞ্চল) নোবেল চাকমা সমকালকে বলেন, বুধবার মিছিলে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় তিন যুবককে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ইমরান নামের এক যুবককে বুধবার রাতে গ্রেফতার করেছে সদরঘাট থানা পুলিশ। সাব্বির সাদিক নামের আরেকজনকে গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। বাকি একজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এ দিকে, শনিবার সকালে চট্টগ্রাম কলেজ প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের তিনটি গ্রুপ। এর মধ্যে পদবঞ্চিতদের সঙ্গে অপর দুই গ্রুপের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তিনটি গ্রুপই মারমুখী অবস্থান নেয়। পরে পুলিশ এসে মাঝখানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এ প্রসঙ্গে চকবাজার থানার উপ-পরিদর্শক কামাল সমকালকে বলেন, তিন গ্রুপ ক্যাম্পাসে অবস্থান করলে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় তাদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

১৭ সেপ্টেম্বর রাতে প্রয়াত নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত মাহমুদুল করিমকে সভাপতি এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির অনুসারী সুভাষ মল্লিক সবুজকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৫ সদস্যের কমিটির অনুমোদন দেয় নগর ছাত্রলীগ। টাকার বিনিময়ে এ কমিটিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কর্মীদের পদ দেওয়া হয়েছে দাবি করে কমিটি প্রত্যাখ্যান করে সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীরা। কমিটি গঠনের পরদিন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে পদবঞ্চিত কর্মীরা। বুধবার তাদের মিছিল থেকে ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে।

বিস্তারিত খবর

ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যেই জাতীয় ঐক্য : ড. কামাল

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২২ ১১:৪২:৩৯

গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে বৃহত্তম জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কথা বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। শনিবার আনুষ্ঠানিক এক ঘোষণার মাধ্যমে সেই ঐক্য প্রক্রিয়া জনসম্মুখে এসেছে। যেখানে এক সারিতে বসে ছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশারফ হোসেন, ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ, ড. মঈন খান, বাংলাদশের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদের) এর নেতা আ.স.ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন ড. কামাল হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে একাধিকবার দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ্য হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।  নয়া দিগন্তের পাঠকদের জন্য এখানে ড. কামাল হোসেনের লিখিত ভাষণ হুবুহু তুলে ধরা হলো।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আস্সালামু আলাইকুম

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আজকের এ সমাবেশে আপনাদের স্বাগত জানাই। আজকের এ সমাবেশ থেকে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদদের, শ্রদ্ধা জানাচ্ছি সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। আমি সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করছি শের-ই-বাংরা এ, কে ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মৌলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সকল শহীদদের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।

বন্ধুগণ
আজ এ সমাবেশে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আপনারা এসেছেন। আপনারা এসেছেন একটি আকাঙ্খা নিয়ে, তা হচ্ছে : হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। আপনারা এসেছেন একটি প্রতিজ্ঞা নিয়ে, আর তা হচ্ছে লুণ্ঠিত ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা। আপনারা এসেছেন একটি স্বপ্ন নিয়ে, তা হচ্ছে আমাদের এ দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের সবার প্রত্যাশা, সুখী সমৃদ্ধ, উদার গণতান্ত্রিক ও বহুমতের বাংলাদেশ। দেশের পরিস্থিতি আপনারা সকলে জানেন। এখন দেশে অপশাসন ও দুঃশাসন চলছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রতিনিয়ত হয়রানি ও অপদস্থ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য অনেক সংগ্রাম করে জয়ী হয়েছে, আবার হোচট খেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধু বলতেন মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে কেউ তাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না। তিনি জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করতেন। কিন্তু আজ জনগণ সেই ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত।

আজ এ সমাবেশ থেকে আমি প্রিয় দেশবাসীকে জানাতে চাই- আমরা শুধু ক্ষমতার রাজনীতি করি না। আমরা জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি। জনগণের ক্ষমতা জনগণের নিকট ফিরিয়ে দেয়াই আমাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য। আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। আমরা জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চাই। আপনারা জানেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্টার সংগ্রামের ইতিহাস যেমন আছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করার ইতিহাসও আছে।

আজ বাংলাদেশে উন্নয়নের নামে অবাধে লুটপাট চলছে। ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন করা হচ্ছে। মেগা প্রকল্পের নামে জনগণের টাকা অপচয় করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা ও স্বর্ণ গচ্ছিত রাখাও নিরাপদ নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধনীর সংখ্যা বাড়ার যে প্রবণতা তাতে বাংলাদেরশর নাম সবার আগে, এটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়।

এ থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বৈষম্যের একটা ভয়াবহ চিত্র পুটে উঠেছে। এখানে ধনী আরও হচ্ছে, গরীব আরও গরীব হচ্ছে, মধ্যবিত্তরা টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। বহির্বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রতিনিয়ত খারাপ হচ্ছ্ তাই জনশক্তি রপ্তানিতে ধস নেমেছে। প্রবাসীরা দেশের বিনিয়োগে ভরসা পাচ্ছে না। উপরোন্ত কতিপয় ধনীক শ্রেণী দেশের সম্পদ লুট করে বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড হোম গড়ে তুলছে।

সমবেত ভাই ও বোনেরা
কেউ কেউ আমাদের এ জতীয় ঐক্যের প্রচেষ্টা ক্ষমতায় যাওয়ার ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে, আমরা প্রকাশ্য সভা করছি। কোন গোপন বৈঠক করছি না। যারা জনগণের শক্তিকে ভয় পায়, তারা জনগণের সংগটিত হওয়ার প্রচেষ্টাকে ষড়যন্ত্র বলে জনগণকেই অপমান করছে। আমি বঙ্গবন্ধুর সানিধ্য পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু আমাকে সদ্য স্বাধীন দেশের সংবিধান রচনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এটা আমার সবচেয়ে বড় পাওনা। ব্যক্তিগতভাবে আমার চাওয়া-পাওয়ার আর কিছুই নেই। সংবিধান অনুযায়ী জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে আমার পবিত্র কর্তব্য।

আমরা জনগণের ভোটাধিকারসহ মৌলিক অধিকার মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকারসমূহ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কার্যকর গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষে- বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। জনগণ তাতে ব্যাপক সাড়া দিয়েছে। মৌলিক বিষয়ে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আছে। এখন সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার সময় এসেছে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের প্রচেষ্টা সফল হবে, ইনশাল্লাহ।

আপনারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলুন, মুক্তির বার্তা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান। মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করুণ। অতীতে জনগণের বিজয়কে কেউ ঠেকাতে পারে নাই; ভবিষ্যতেও পারবে না, ইনশাল্লাহ্।
আপনাদের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। আল্লাহ হাফেজ।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

অন্তর্জ্বালা থেকে মনগড়া ও ভুতুড়ে কথা বলেছেন সিনহা : কাদের

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২০ ০৯:১২:৪০

সাবেক হওয়ার অন্তর্জ্বালা থেকেই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা মনগড়া বই লিখেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক পূর্ব সময়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বুধবার প্রকাশিত হয়েছে সাবেক এ প্রধান বিচারপতির বই ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি।’

বইটি কাদের বলেন, ‘তিনি সাবেক হয়ে গেছেন। সাবেক হওয়ার অন্তর্জ্বালা আছে। কী পরিস্থিতিতে সাবেক হয়েছেন তা সবাই জানে। বই লিখে মনগড়া কথা বলবেন বিদেশে বসে, সেটা নিয়ে কথা বলার কোনো প্রয়োজন আছে? ক্ষমতা যখন থাকে না তখন অনেক অন্তর্জ্বালা গড়ে উঠে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি থাকা অবস্থায় এখন বইতে যা লিখেছেন, তখন বলার সৎ সাহস একজন বিচারপতির কেন ছিলো না? এখন বিদায় নিয়ে কেন পুরানো কথা নতুন করে বলছেন, যা খুশি তাই বলছেন। এটা হয়, এটা হতেই পারে। এ নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তিনি যদি সত্যই বলতেন, তাহলে যখন প্রধান বিচারপতি ছিলেন তখন বললেন না কেন? সত্য কথা দেশের জনগণের মাঝে এসে বললেন না কেন? এখন বিদেশে বসে আপন মনে ভুতুড়ে কথা চাপছেন। এটা আমাদের ও দেশের মানুষের বিশ্বাস করতে হবে? এর যৌক্তিকতা নাই।’

বইটির চুম্বক অংশ
৬১০ পৃষ্ঠার এই বইটি অ্যামাজনের কিন্ডেল সংস্করণে বিক্রি হচ্ছে। বইয়ের চুম্বক অংশ অ্যামাজনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে এসকে সিনহা দাবি করেন, ‘২০১৭ সালে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের কারণে বর্তমান সরকার তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে। ওই রায়ের মাধ্যমে তিনি বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে যাওয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন।’

তিনি লিখেছেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য পূর্বশর্ত। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে দেশটির সংবিধানে গণতন্ত্রকে এর অন্যতম রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করাও এ সংবিধান নিশ্চিয়তা বিধান করে।’

সাবেক এই প্রধান বিচারপতি অভিযোগ করে বলেন, ‘২০১৭ সালের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দেয়ার পর বর্তমান সরকার কর্তৃক আমাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় এবং জোরপূর্বক দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়।’

এসকে সিনহা আরো বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রবণতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সর্বসম্মত ওই রায় ও পর্যবেক্ষণ দেশের নাগরিক, সুশীল সমাজের কাছে ভালোভাবে গৃহীত হয় এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্ব পায়।’

সাবেক এই বিচারপতি লেখেন, ‘কিন্তু এই রায় বিরুদ্ধে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের অন্যান্য মন্ত্রীরা বিষোদগার করতে থাকেন। আইনমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে আমার সমালোচনা শুরু করেন’।

উল্লেখ্য, প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করা এস কে সিনহার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি। কিন্তু কার্যকাল শেষ হওয়ার ৮১ দিন আগেই তাকে পদত্যাগ করতে হয়।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ঢাকায় পুলিশের লাঠিপেটায় বাম জোটের ঘেরাও কর্মসূচি পণ্ড

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২০ ০৯:০৩:৪৯

পুলিশের লাঠিপেটায় পণ্ড হয়ে গেছে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘেরাওয়ের কর্মসূচি।

বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনার সময় পুলিশ ও মিছিলকালীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের পর দুপুরে বাম গণতান্ত্রিক জোটের একটি মিছিল আগারগাঁওয়ের ইসি কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা করে।

‘জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে’ ইসি ঘেরাওয়ের জন্য নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে ইসির দিকে যাওয়ার পথে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের সার্ক ফোয়ারা এলাকায় পুলিশ তাদের বাধা দেয়।

পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে জোটের মিছিলটি সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন আহত হন।

ঘটনাস্থলে গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, কোনো বাধা মানা হবে না। দাবি আদায়ে আগামী ১১ অক্টোবর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের সহকারী কমিশনার সাত্যকি কবিরাজ সাংবাদিকদে বলেন, পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনকারীদের থামানো চেষ্টা করেছে। তবে মিছিল থেকেই পুলিশের ওপর চড়াও হয় লোকজন।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশে বছরে একলাখ লোক ক্যান্সারে মারা যায়

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২০ ০৯:০২:৩৪

দেশে বছরে তিন লাখ লোক ক্যান্সার আক্রান্ত হচ্ছে এবং একলাখ লোক মারা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এম এ লতিফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, তামাক, দূষণ ও অনিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের কারণে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই রোগের চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল কলেজগুলোতে পুরনো রেডিওথেরাপি মেশিন সরিয়ে নতুন মেশিন প্রতিস্থাপনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য দক্ষ চিকিৎসক বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

সংসদ সদস্য নাভানা আক্তারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে মা ও শিশুর মৃত্যু হার কমিয়ে আনতে ২০২২ সালের মধ্যে সরকার দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ‘এভরি মাদার এভরি নিউবর্ন সার্ভিস’ চালু করবে।

কাজী নাবিল আহমেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের  প্রতিটি জেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস ও নিউরোসার্জারিসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।’

আবদুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘গত বছর ৪৪৭ জন চিকিৎসককে প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে।’

ফরিদুল হক খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে প্রতি একলাখ জীবিত শিশু জন্ম দিতে গিয়ে ১৭৬ জন মা মারা যান। ২০২২ সালের মধ্যে এই হার ১০৫ জনে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা আছে।’

মাহজাবিন খালেদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওষুধে অনিয়মের প্রতিরোধে বিদ্যমান ওষুধ আইনকে আরও  যুগোপযোগী ও কঠোর শাস্তির বিধান করতে প্রস্তাবিত ওষুধ আইন  মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে।’

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বৈঠকে প্রশ্নোত্তর টেবিলে ‍উত্থাপিত হয়।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বব্যাংকের ৪১০ কোটি টাকা সহায়তা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২০ ০৯:০০:০১

রোহিঙ্গাদের জন্য ৫ কোটি ডলার বা ৪১০ কোটি টাকা সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এ সহায়তার মধ্যে রয়েছে ৪ কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার অনুদান এবং ৮৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার ঋণ।

বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সম্মেলনকক্ষে এ ঋণ ও অনুদান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইআরডি সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান। এ সময় দুই সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কক্সবাজার জেলার স্থানীয় জনগণসহ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের এইচএনপিসহ অন্যান্য সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এ সহায়তা দেয়া হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার-কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার-কল্যাণ বিভাগের অধীনে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

৮৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার ঋণ দেয়া হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের আইডিএ শাখা থেকে। এই অর্থ দিচ্ছে কানাডা সরকার। কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এই ঋণের অর্থ পরে অনুদানে পরিণত হবে বলে ইআরডি থেকে জানানো হয়েছে।

ইআরডি সচিব কাজী সফিকুল আযম বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগই হল নারী ও শিশু। তাদের এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বাস্থ্যসেবার।

বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান বলেন, কুতুপালং ক্যাম্পসহ প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি মোকাবেলা করছে। বিশ্বব্যাংকের এই অনুদান সরকারের পরিকল্পনা ও রোহিঙ্গাদের জন্য স্বাস্থ্য, পুষ্টিসেবা প্রকল্পে সহায়তা করবে।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

অনুপস্থিতিতেই বিচার চলবে খালেদা জিয়ার

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২০ ০৮:৫৮:৫০

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ চলবে বলে জানিয়েছেন আদালত।

এ মামলার শুনানির জন্য পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বসানো বিশেষ এজলাসে এ আদেশ দেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো: আখতারুজ্জামান।

এ কারাগারেই বন্দী খালেদা জিয়া অসুস্থতার কারণে আদালতে হাজির হতে না চাওয়ায় বিচারক এ আদেশ দেন।

আজ বৃহস্পতিবার প্রথমে সকাল সাড়ে ১১টায় শুনানি শুরু হয়ে দুপুর ২টা পর্যন্ত শুনানি শেষে আদালত বলেন, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে এ আদেশ দেয়া হলো।

ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪০ ধারায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেয়া হয়।

এ সময় আদালত আরো বলেন, খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা চাইলে খালেদা জিয়ার পক্ষে হাজিরা দিতে পারবেন।

দুপুর ২.১০ মিনিট থেকে দ্বিতীয় বার আদালতে শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত এ মামলার শুনানির জন্য আগামী ২৪, ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন এবং সে পর্যন্ত সব আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।

এছাড়া বিশেষায়িত হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন।

এদিকে, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচারের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার জন্য সময় প্রার্থনা করেন তার আইনজীবীরা। এ বিষয়ে আদালত কোনো আদেশ দেননি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।

অসুস্থতার কারণে তাকে গত সাত মাসে একবারও আদালতে হাজির করতে না পারায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ করতে সরকারের নির্দেশে আদালত স্থানান্তর করা হয় কারাগারের ভেতরে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর বিশেষ জজ আদালতের এই অস্থায়ী এজলাসে শুনানির প্রথম দিন খালেদা জিয়া নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়ে বিচারককে বলেছিলেন, তিনি বার বার আদালতে আসতে পারবেন না, বিচারক তাকে ‘যতদিন খুশি’ সাজা দিতে পারেন।

এরপর ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর শুনানির নির্ধারিত দিনে কারা কর্তৃপক্ষ খালেদাকে আদালত কক্ষে আনতে ব্যর্থ হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪০(এ) ধারা অনুযায়ী তার অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ চালানোর আর্জি জানান দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

কওমির দাওরায়ে হাদিস সনদকে মাস্টার্সের সমমান প্রদান

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-১৯ ১৪:১৬:৫৯

কওমি মাদরাসাসমুহের দাওরায়ে হাদিসের (তাকমিল) সনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান দেওয়ার বিধান রেখে ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কাওমিয়া বাংলাদেশ-২০১৮’ বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের ২২তম অধিবেশনে বুধবারের বৈঠকে বিলটি পাস হয়। ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কাওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীন কওমি মাদরাসাসমুহের দাওরায়ে হাদিসের (তাকমীল) সনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ) সমমান প্রদান বিল ২০১৮ পাস করার প্রস্তাব করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

বিলে দাওরায়ে হাদিসের (তাকমীল) সনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ) সমমান প্রদানের জন্য ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কাওমিয়া বাংলাদেশ’ নামে দেশে বিদ্যমান ৬টি কওমি মাদরাসার বোর্ডের ওপর একটি সুপিরিয়র বোর্ড গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। ৬টি কওমি মাদরাসার বোর্ডর সভাপতি ও মহাসচিবসহ সরকার মনোনীত সদস্যরা এই বোর্ডের সদস্য হবেন। এই বোর্ডের অধীনে কওমি মাদরাসাসমুহের তাকমীলের বোর্ডকে সিলেবাস প্রণয়ন, পরীক্ষা গ্রহণ ও মূল্যায়নের ক্ষমতা প্রদান করা হয়।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের (তাকমিল) সনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ) সমমান আইন ২০১৮ বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা হল।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

৩২ ধারা বহাল রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-১৯ ১৪:১৩:৪৫

আইনের আটটি ধারার বিষয়ে সম্পাদক পরিষদের আপত্তি আমলে না নিয়ে এবং আইন প্রয়োগে কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি দেয়ার বিধান বাতিলে আনা বিরোধী দলের সংশোধনী প্রস্তাব উপেক্ষা করেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংসদে পাস হয়েছে।

আইনের ৩২নং ধারায় অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট প্রয়োগ করে সরকারি কোনো কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে সংগ্রহীত তথ্যকে (তথ্য পাচার) অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই অপরাধ সংঘটন ও সংঘটনে সহায়তা দায়ে ১৪ বছর কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে বিধান রাখা হয়েছে। যদি কেউ একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

আইনে পুলিশকে বিনা ওয়ারেন্টে তল্লাশি ও গ্রেফতারের পাশাপাশি ক্ষতিকর তথ্য-উপাত্ত ব্লক বা অপসারণের বিধানও রাখা হয়েছে। এছাড়া এই আইনের অধীনে কৃত সব কাজকে দায় মুক্তি দেয়া হয়েছে।

এমনকি জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিলের মহাপরিচালককে প্রয়োজনবোধে নিজ ক্ষমতা এজেন্সির কোনো কর্মচারী এবং অন্য কোনো ব্যক্তি বা পুলিশ অফিসারকে অর্পণ করারও ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনটিকে ‘স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে তা পাস না করতে এক সপ্তাহ আগেও আহ্বান জানিয়েছিল সম্পাদক পরিষদ। আইনের আটটি ধারা নিয়ে তাদের আপত্তির বিষয়টি আমলে নেয়া হয়নি।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিতে সংসদের ২২তম অধিবেশনে বুধবার ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল-২০১৮ পাস করা হয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বিলটি পাস করার প্রস্তাব করেন।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, সাইবার তথা ডিজিটাল অপরাধের কবল থেকে রাষ্ট্র এবং জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান এ আইনের অন্যতম লক্ষ্য।

এরআগে বিলের ওপর আনীত একটি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের অনুমোদন ছাড়াই পুলিশ যে কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি করতে পারবে এবং বাধাপ্রাপ্ত হলে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। অন্যান্য সংশোধনীসহ জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণেরপ্রস্তাবগুলো কন্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

বিলে ২১নং ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সঙ্গীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রপাগান্ডা ও প্রচারণা চালান বা তাতে মদদ দেন, তাহলে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই অপরাধ যদি দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা তিন কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

আইনের ২৫নং ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে (ক) ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে এমন কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ করেন, যা আক্রমণাত্মক বা ভীতি প্রদর্শক অথবা মিথ্যা বলে জানা থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তিকে বিরক্ত, অপমান, অপদস্ত বা হেয় প্রতিপন্ন করার অভিপ্রায়ে কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচার করেন বা (খ) রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুন্ন করার বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর বা তদুদ্দেশ্যে অপপ্রচার বা মিথ্যা বলে জানা থাকা সত্ত্বেও কোনো তথ্য সম্পূর্ণ বা আংশিক বিকৃত আকারে প্রকাশ বা প্রচার করেন বা করতে সহায়তা করেন, তাহলে তিনি তিন বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৩ লাখ টাকা অর্থ দণ্ড বা উভয়দন্ডে দণ্ডিত হবেন। একই অপরাধ যদি দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

২৮নং ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করার বা উস্কানি প্রদানের অভিপ্রায়ে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু কিছু প্রকাশ বা প্রচার করেন, যা ধর্মীয় অনুভূতি বা মূল্যবোধে আঘাত করে, তাহলে তিনি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই অপরাধ যদি দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

আইনের ৪৩নং ধারায় পুলিশকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ব্যতিরেকে তল্লাশি, মালামাল জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের অনুমোদন ছাড়াই পুলিশ যে কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি করতে পারবে এবং বাধাপ্রাপ্ত হলে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম ও নেটওয়ার্কসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ও দলিলাদি জব্দ ও উক্ত ব্যক্তি গ্রেফতার করতে পারবে। তবে তল্লাশি সম্পন্ন করার পর এ বিষয়ে ট্রাইবুনালকে প্রতিবেদন দিতে হবে।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

আমাকে এখনো কেন হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে না: খালেদা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-১৯ ১২:০৬:৪৬

আমাকে এখনো কেন হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে না এমন প্রশ্ন রেখে দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিজের চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডের বিশেষ কারাগারে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার দেখা করতে গেলে তাদের কাছে একথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

এর আগে, বিকেল ৪ টা ১০ মিনিটে ওই দুই আইনজীবী খালেদার সঙ্গে দেখা করতে কারা অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। পরে বিকেল ৫ টা ৫ মিনিটে সেখান থেকে বের হন তারা।

সাক্ষাৎ শেষে বের হয়ে সাংবাদিকদের মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘আদালতে থেকে বিচার কাজ শ্রবণ করার মতো সুস্থ নন বেগম খালেদা জিয়া। আদালতের উপর তার আস্থা আছে। কিন্তু আদালতে হাজির হবার মতো শারীরিক সুস্থতা তার নেই।’ ‘খালেদা জিয়া দুদিন আগেও কারাকক্ষের বাথরুমে পড়ে গিয়েছেন। সুস্থ না হয়ে আদালতে কী করে যাবেন বলে তিনি প্রশ্ন রেখেছেন।’

আগামীকাল বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানির তারিখ আছে। এই শুনানিতে বিএনপি নেত্রী আসবেন কি না, এমন প্রশ্নে তার আইনজীবী মাসুদ জানান, খালেদা জিয়া বলেছেন, তিনি সুস্থ হলে আদালতে আসবেন।

৫ সেপ্টেম্বর কারাগারে আদালত বসানোর পর বিএনপি খালেদা জিয়াকে গুরুতর অসুস্থ দাবি করে বেসরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি তোলে। তবে তার চিকিৎসায় গঠিত সরকারি মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে এসে বলেছেন, তার শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তির সুপারিশ করেন তারা।

খালেদা জিয়া অবশ্য দেশের অন্যতম সেরা এই হাসপাতালে আসতে রাজি নন। এমনকি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেও তিনি তা ফিরিয়ে দেন। শুরু থেকেই বিএনপি ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়ার দাবি করে আসলেও সম্প্রতি এর পাশাপাশি ইউনাইটেডে সম্ভব না হলে অ্যাপোলো হাসপাতালে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, বিএনপি নেত্রীর বাম হাতের আঙ্গুলগুলো বেঁকে গিয়েছে। হাত অবশ হয়ে যাওয়ায় নাড়াচাড়া করতে পারছেন না।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই খালেদা জিয়া নানা রকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। আমি আবারও বলছি তার সুচিকিৎসা দরকার। তিনি সুস্থ না হলে আদালতে যেতে পারবেন না।’

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে খালেদা জিয়া ‘অনিচ্ছুক’ এর আগে আদালতের কাছে এমন বক্তব্য পেশ করে কারা কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে সানাউল্লাহ মিয়া জানান, খালেদা জিয়া তাদের জানিয়েছেন ‘আদালতে যেতে ‘অনিচ্ছুক’এমন শব্দ তিনি বলেন নি।

এছাড়া তার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের কোনো রিপোর্টও তাকে জানানো হয়নি বলে আইনজীবীদের জানান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)চিকিৎসা করাবেন কি না এমন প্রশ্নে খালেদার এ দুই আইনজীবী বলেন, যাওয়া না যাওয়া পরের ব্যাপার, আগে সুচিকিৎসা দরকার।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই কারাগারে বন্দী খালেদা জিয়ার অন্য একটি মামলার বিচারে ৫ সেপ্টেম্বর আদালত বসে কারাগারেই। সেদিন শুনানিতে এসে খালেদা জিয়া বলেন, তার শরীর বেশ খারাপ এবং তিনি আর আসতে পারবেন না। পরে ১২ সেপ্টেম্বর পরের শুনানিতে তিনি আর আদালতে আসেননি। আর পরেরদিন তার অনুপস্থিতিতেই বিচারের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

বিস্তারিত খবর

সরকারের হুমকিতে দেশ ছেড়েছি: বই লিখে মুখ খুললেন এসকে সিনহা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-১৯ ১১:১৭:৩৩

বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা একটি আত্মজীবনীমূলক বই প্রকাশ করেছেন যেখানে তিনি দাবি করছেন তাকে সরকারের চাপ এবং হুমকির মুখে দেশত্যাগ করতে হয়েছে।

বিচারপতি সিনহার বই 'এ ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস এন্ড ডেমোক্রেসি" মাত্রই প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি এখন আমাজনে কিনতে পাওয়া যাচ্ছে।

এই বইতে বিচারপতি সিনহা সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন কোন পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল, এবং কিভাবে তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়, এবং তারপর কেন তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য হন।

তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের মুখে তিনি দেশে ছেড়েছেন।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এ নিয়ে বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাতকারও দিয়েছেন। গত বছরের নানা নাটকীয় ঘটনাবলীর পর কোন গণমাধ্যমে এটিই ছিল তার প্রথম সাক্ষাৎকার।

বিচারপতি সিনহা দাবী করছেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়টি যেন সরকারের পক্ষ যায়, সেজন্যে তার ওপর 'সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে চাপ তৈরি করা হয়েছিল।'

বিচারপতি সিনহার বই-এর একটি মুখবন্ধ রয়েছে যাতে তিনি সংক্ষেপে "বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের দ্বন্দ্ব" বর্ণনা করেছেন এবং তার ভাষায় কী পরিস্থিতিতে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ ত্যাগ করে বিদেশে গিয়েছিলেন তা লিখেছেন।

২০১৭ সালে মি. সিনহার পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছিল সংবিধানের ১৬শ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত একটি মামলার আপীলের রায়কে কেন্দ্র করে। রায় নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং সরকারের কাছ থেকে প্রচণ্ড চাপের মুখে বিচারপতি সিনহা দেশ ছেড়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

আমাজনে প্রকাশ করা বইটিতে "বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের দ্বন্দ্বের বিস্তারিত বর্ণনা এবং আমাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করার" পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ আছে বলে বিচারপতি সিনহা ভুমিকায় উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের পার্লামেন্টে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে সংবিধান সংশোধন করে বিচারপতিদের ইমপিচ করার ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের পরিবর্তে পার্লামেন্টের সদস্যদের দেবার পর ২০১৬ সালের ৫ই মে হাইকোর্ট ডিভিশনের একটি বিশেষ বেঞ্চ ওই সংশোধনীকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। সরকার এর বিরুদ্ধে আপীল করে, এবং সাত সদস্যের একটি বেঞ্চে আপীলের শুনানী হয়।

বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার বইতে লেখেন, "জুলাইয়ের ৩ তারিখ প্রধানবিচারপতি হিসেবে তার সভাপতিত্বে সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ আপীল খারিজ করে হাইকোর্ট ডিভিশনের রায় বহাল রাখে। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের ১ তারিখ সর্বসম্মত রায়ের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশিত হয়।"

সেখানে তিনি লেখেন, "ওই সিদ্ধান্তের পর সেপ্টেম্বরের ১৩ তারিখে পার্লামেন্ট একটি প্রস্তাব পাস করে - যাতে সেই রায়কে বাতিল করার জন্য আইনী পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়।" এখানে বইটির মুখবন্ধের কিছু অংশের অনুবাদ দেয়া হলো।

মি. সিনহা লেখেন, "প্রধানমন্ত্রী এবং তার দলের অন্যান্য সদস্য ও মন্ত্রীরা পার্লামেন্টের বিরুদ্ধে যাবার জন্য আমার কঠোর নিন্দা করেন। প্রধানমন্ত্রী সহ ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা আমার বিরুদ্ধে অসদাচরণ এবং দুর্নীতির অভিযোগ এনে বদনাম করতে শুরু করেন।"

"আমি যখন আমার সরকারি বাসভবনে আবদ্ধ, আইনজীবী এবং বিচারকদের আমার সাথে দেখা করতে দেয়া হচ্ছিল না, তখন সংবাদমাধ্যমকে বলা হয় - আমি অসুস্থ. আমি চিকিৎসার জন্য ছুটি চেয়েছি।"

"একাধিক মন্ত্রী বলেন, আমি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবো।"

"অক্টোবরের ১৪ তারিখ, যখন আমি দেশ ছাড়তে বাধ্য হই - তখন একটি প্রকাশ্য বিবৃতিতে আমি পরিস্থিতি স্পষ্ট করার চেষ্টায় একটি বিবৃতি দেই যে আমি অসুস্থ নই এবং আমি চিরকালের জন্য দেশ ছেড়ে যাচ্ছি না।"

"আমি আশা করছিলাম যে আমার প্রত্যক্ষ অনুপস্থিতি এবং আদালতের নিয়মিত ছুটি - এ দুটো মিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সহায়ক হবে, এবং শুভবুদ্ধির উদয় হবে, সরকার ওই রায়ের যে মর্মবস্তু - অর্থাৎ বিচারবিভাগের স্বাধীনতা যে জাতি ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর - তা বুঝতে পারবে।"

"শেষ পর্যন্ত দেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা - যার নাম ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স - তাদের ভীতি প্রদর্শন এবং আমার পরিবারের প্রতি হুমকির সম্মুখীন হয়ে আমি বিদেশ থেকে আমার পদত্যাগপত্র জমা দেই।"

মি. সিনহা লেখেন, তার এ বইতে তার ব্যক্তিগত ও বিচার বিভাগে কর্মজীবনের কথা, বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রতি চ্যালেঞ্জসমূহ, বিচারবিভাগ ও রাজনীতিবিদদের মূল্যবোধের অবক্ষয়, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, পুলিশে বাড়াবাড়ি, জরুরি অবস্থার প্রভাব, এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের অর্থ আদায়ের বিবরণ আছে।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় বেড়েছে

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-১৮ ১১:২৩:০৪

দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় গত অর্থবছরের তুলনায় ১১ হাজার ৫৭৯ টাকা বেড়েছে। বর্তমান (২০১৭-১৮) অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৯ টাকা।

১৮ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

মুস্তফা কামাল জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৯ টাকা। যা গত অর্থবছরের তুলনায় বেড়েছে ১১ হাজার ৫৭৯ টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ লাখ ৩২ হাজার ২১০ টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ লাখ ২০ হাজার ৩০৩ টাকা এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ১ লাখ ৮ হাজার ৬৭ টাকা।

হাউজহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচার সার্ভে অনুযায়ী, ২০১০ ও ২০১৬ সালের দারিদ্র ও হতদারিদ্রের কমার হার বিবেচনা করে এবং জিডিপির প্রবৃদ্ধির হারের ওপর ভিত্তি করে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে দারিদ্র ও ২০১৮ সালে দারিদ্র ও হতদারিদ্রের হার প্রাক্কলন করা হয়েছে।

জরিপের তথ্য তুলে ধরে মুস্তফা কামাল জানান, দারিদ্রের হার ২০১৮ সালে কমে হয়েছে ২১ দশমিক ৮ শতাংশ, যা ২০১৭ সালে ছিল ২৩ দশমিক ১ শতাংশ আর ২০১৬ সালে ছিল ২৪ দশমিক ৩। ২০১০ সালে বাংলাদেশে দারিদ্রের হার ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশে হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যাও কমেছে। ২০১৮ সালে দেশে হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা ১১ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ২০১৭ সালে ছিল ১২ দশমিক ১ শতাংশ, ২০১৬ সালে ১২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং আট বছরে আগে (২০১০ সালে) ছিল ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব তুলে ধরে মুস্তফা কামাল জানান, ডিজিপির আকার ২২ হাজার ৫০৫ বিলিয়ন টাকা। জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭.৮৬ শতাংশ, যা সাময়িক হিসাবে এ হার ছিল ৭.৬৫ শতাংশ। মাথপিছু আয় ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৯ টাকা। কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের অবদান যথাক্রমে ১৩ দশমিক ৮২ শতাংশ, ৩০ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ৫৬ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি কৃষি খাতে ৪ দশমিক ১৯, শিল্প খাতে ১২ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

মন্ত্রী আরও জানান, জিডিপির বিপরীতে বিনিয়োগের শতকরা অনুপাত ৩১ দশমিক ২৩ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং বেসরকারি ২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ। জিডিপির বিপরীতে জাতীয় সঞ্চয়ের শতকরা অনুপাত ২৭ দশমিক ৪২ শতাংশ।

বিস্তারিত খবর

সৈয়দ আশরাফ গুরুতর অসুস্থ, সংসদ থেকে ছুটি

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-১৮ ১১:১৮:১৬

গুরুতর অসুস্থ হয়ে ব্যাংককের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জনপ্রশাসনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জাতীয় সংসদ থেকে ৯০ কার্যদিবস ছুটি নিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার থেকে এই ছুটি কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে তার পক্ষে ছুটির আবেদনটি উত্থাপন করেন প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী ছুটির আবেদনটি পড়ে শুনানোর পর তা হ্যাঁ/না ভোটে দিলে হ্যাঁ ভোট জয়ী হয়।

স্পিকার বলেন, সংসদ কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৯ এর ২ বিধি অনুসারে কোনো সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতির ছুটি মঞ্জুরের আবেদন পাস করে শুনানিসহ বিতর্ক ব্যতিরেকে ভোটে দেয়ার বিধান রয়েছে। তিনি বলেন, অতীতের রেওয়াজ পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, প্রথম জাতীয় সংসদের ২১.১.১৯৭৪, ১৩.৬.১৯৭৪, ২৬.৬.১৯৭৫ এবং নবম জাতীয় সংসদের ১৮.৩.২০১২ ও ৫.৬.২০১৩ তারিখে সংসদের বৈঠকে কয়েকজন সদস্যের অনুরুপ ছুটির নজির রয়েছে।


এমপিদের উদ্দেশ্য করে স্পিকার বলেন, আপনারা সংসদ সদস্য জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছুটি মঞ্জুরের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করতে পারেন। আমি এখন বিধি অনুযায়ী মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পক্ষে চিফ হুইপের আনীত পত্রটি পড়ে শুনাচ্ছি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, তিনি বর্তমানে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। জানা গেছে, গতকালও তার একটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। তার চিকিৎসায় আরও অনেক দিন লাগবে। তার ছুটির আবেদনটি পড়ে শোননোর পর স্পিকার তা হ্যাঁ/না ভোটে দিলে হ্যাঁ ভোটে তা মঞ্জুর হয়।

বিস্তারিত খবর

বিএনপি নেতা সোহেল গ্রেফতার

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-১৮ ১১:১৭:০১

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে রাজধানীর গুলশান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান সমকালকে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে হাবিব উন নবী খান সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে অভিযোগের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু জানান, গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বর সিগনালে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সোহেলের গাড়ি থামায় পুলিশ। এ সময় তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি জানান, প্রথমে হাবিব-উন নবী সোহেলকে গুলশান থানায় এবং পরে মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে চার শতাধিক মামলা রয়েছে।

বিস্তারিত খবর

ফ্রেন্ডশিপ পাইপ লাইন নির্মাণকাজ উদ্বোধন করলেন হাসিনা-মোদি

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-১৮ ১১:১৬:১৫

ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপ লাইন নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

মঙ্গলবার বিকালে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর নয়াদিল্লি থেকে নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যৌথভাবে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

স্বল্পসময়ে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল ডিজেল সরবরাহের জন্য প্রস্তাবিত পাইপ লাইনের পাঁচ কিলোমিটার ভারত ও অবশিষ্ট ১২৫ কিলোমিটার বাংলাদেশ অংশে নির্মাণ করা হবে। ভারতের আসাম রাজ্যের নুমালীগড় রিফাইনারী থেকে বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর রেলহেড ওয়েল ডিপো পর্যন্ত ১৩০ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ এ পাইপ লাইন হবে।

পাইপ লাইন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রান্ট ইন এইড প্রোগ্রামের আওতায় ভারত ৩০৩ কোটি রুপি ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় করবে। ১০ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের পাইপ লাইনের তেল পরিবহন ক্ষমতা বার্ষিক ১০ লাখ মেট্রিক টন। আড়াই বছরের মধ্য প্রস্তাবিত ১৩০ কিমোমিটার দীর্ঘ এ পাইপ লাইন নির্মাণ করা হবে।

গত ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ রেল ওয়াগনের মাধ্যমে নুমালী রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ডিজেলের প্রথম চালান পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে আনা হয়। ইতোপূর্বে সড়ক ও রেলপথে জ্বালানি তেল আমদানিতে অধিক সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হতো। তেল পাইপ লাইনটির নির্মাণকাজ শেষ হলে জ্বালানি তেল আমদানিতে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে বলে পেট্রো বাংলার কর্মকর্তারা জানান।

এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে ৩য় ও ৪র্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশন ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)” প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।

বিস্তারিত খবর

কোটা বাতিলের সুপারিশ সরকারের একটি প্রতারণা : মওদুদ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-১৮ ১১:১৪:২৮

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের যে সুপারিশ করা হয়েছে সেটা সরকারের প্রতারণা। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘বর্তমান বাংলাদেশে ভোটাধিকার, ন্যায়ি বিচার ও মানবাধিকার’  শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মওদুদ বলেন, ‘এটাও একটি প্রতারণা। এটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এটি পরিবর্তন দরকার। কারণ, ছাত্ররা চেয়েছে সব ধরনের সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার। এমন সংস্কার তো শিক্ষার্থীরা চায়নি। আন্দোলনকারীদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন আছে।’ তিনি বলেন, ‘ছাত্ররা কোটা সংস্কার চেয়েছে, যাতে সরকারি চাকরির সর্ব অবস্থায় মেধার মূল্যায়ন হয়। কিন্তু প্রস্তাব করা হলো প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা থাকবে না। কিন্তু মেধার তো দরকার যারা প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে সেখানে। যারা সেক্রেটারি থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ে থাকে, সেখানে মেধার মূল্যায়ন চায়। যারা সবকিছু পরিচালনা করে। আমরা বলব, সরকার কোটা সংস্কারের যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাও একটি প্রতারণা বলে আমি মনে করি। এটি তাদের সঙ্গে সরকারের বিশ্বাসঘাতকতা। তাই এটির পরিবর্তন দরকার।’

কোটা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন বিষয়ে মওদুদ বলেন, ‘দেশের তরুণ প্রজন্ম জানত না আওয়ামী লীগ কী জিনিস। কোটা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কী আচরণ করেছে, সেটা তারা বুঝতে পেরেছে। সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাই আমাদের তরুণ প্রজন্ম আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে না।’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক বোর্ডে সরকারি এবং খালেদা জিয়ার পছন্দের চিকিৎসকরা থাকবেন বলে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। কিন্তু ওই মেডিকেল বোর্ডে অনভিজ্ঞ ও সরকারের চিকিৎসকরাই ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্যারিস্টার মওদুদ। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট একটি প্রতারণা। সরকার খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে ছলচাতুরী করছে। যে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে, সেখানে একজনকে মোটামুটি বিশেষজ্ঞ বলা যেতে পারে। বাকিরা মাত্র পাস করে বের হয়েছে। খালেদা জিয়ার শারীরিক যেসব সমস্যা, সে বিষয়ে এদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। আমি বলব, এটাও একটা সরকারের প্রতারণা।’

মওদুদ আরো বলেন, ‘সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ড রিপোর্ট দিয়েছে, খালেদা জিয়া স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নাই। আবার তাঁরাই বলছে, খালেদা জিয়াকে পিজি হাসপাতালে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে। এটাতে তাদের নিজেদের স্ব-বিরোধিতা। আমরা খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি বলেছেন, যাঁরা খালেদা জিয়ার সব সময় চিকিৎসা করেছেন, তাঁদের ও সরকারের গঠিত চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে। কিন্তু তিনি সেটি করেননি।’

সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি জানিয়ে মওদুদ বলেন, ‘আর সময় নাই, সময় ফুরিয়ে আসছে, আমাদের একটি সংকটময় সময় পার করতে হবে। আমরা বিচার বিভাগ, গণতন্ত্রের, মানবাধিকারের স্বাধীনতা ফিরে পাব কি না, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তাই সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তাই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। কারণ, ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলার প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় অবধারিত ছিল, তারপরও তারা ওই সময়ের কোনো বিরোধী নেতাকে বিজয়ী হতে দেয়নি।’ নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে আর এক মাস সময় আছে। এই এক মাসে দেশের অনেক কিছু পরিবর্তন হবে। সরকার একটা নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে চায়। সে সরকারে তাঁরাই থাকবেন, যাঁরা বর্তমান সংসদে আছেন। নির্বাচনকালীন সরকার বলতে কোনো কিছু সংবিধানে নাই। এটা তাঁরা নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। এখন যাঁরা মন্ত্রী আছেন, তাঁরাই মন্ত্রী থাকবেন। তাঁদের অধীনে নির্বাচন করে আবারও ক্ষমতায় থাকতে চায়। নির্বাচনকালীন সরকার বলতে কিছুই নাই, সরকার যদি তা করতে চায় তাহলে সব দলের মতামতের ভিত্তিতে করতে হবে। আর যদি অবৈধভাবে সরকার ক্ষমতায় থাকতে চায়, তাহলে দেশের জনগণ তা করতে দেবে না।’

এ সময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘জনগণের কল্যাণের জন্য সংবিধান কখনো বাধা হতে পারে না। সংবিধান পরিবর্তন করা যেতে পারে, তবে তা জনগণের কল্যাণের জন্য হতে হবে। সংবিধান কখনো বাধা নয়, সংবিধান মানুষের জন্য, সংবিধানের জন্য মানুষ নয়। তাই সংবিধানে নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করুন। সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটা নিরপেক্ষ সরকার গঠন হতে পারে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে। যাদের অধীনে নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সব দলের অংশগ্রহণে।’

অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অধ্যাপক আ স ম মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় এ সময় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আজম খান।

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত