যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার, ১৭ Jul, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 01:33pm

|   লন্ডন - 08:33am

|   নিউইয়র্ক - 03:33am

  সর্বশেষ :

  পুলিশবাহী মাইক্রো বাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৩   মানবতাবিরোধী অপরাধ : মৌলভীবাজারের ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড   প্রাইজমানির ৫ লক্ষ ডলার প্রতিবন্ধী শিশুদের দিয়ে দিচ্ছেন এমবাপে   বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা সোনা হয়ে গেল মিশ্র ধাতু!   লং বিচ কাইট ফেস্টিভ্যাল-এর ৫ম আসর ১২ আগস্ট   ওসমানী মেডিকেলে রোগীর নাতনিকে ধর্ষণ, ইন্টার্ন চিকিৎসক আটক   ছাত্রলীগকে ‘আবার মানুষ হওয়ার’ পরামর্শ ঢাবি শিক্ষকের   ফিনল্যান্ডে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক   শিরোপা উদযাপন করতে গিয়ে প্যারিসে সহিংসতা, নিহত ২   ঘিঞ্জি মহল্লা থেকে বিশ্বমঞ্চে কিলিয়ান এমবাপ্পে   ভারতে মোদির জনসভায় শামিয়ানা ভেঙে আহত ৬৭   লিবিয়ায় কনটেইনার লরি থেকে বাংলাদেশিসহ ৯০ অভিবাসী উদ্ধার   কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পূর্ণ সমর্থন দিলো বিএনপি   যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে ইরানের মামলা   কোটার রায় কি বৈধ ছিল?

>>  স্বদেশ এর সকল সংবাদ

পুলিশবাহী মাইক্রো বাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৩

টাঙ্গাইলে একটি পুলিশবাহী মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শহরের কুমুদিনী কলেজ মোড়ে।

টাঙ্গাইল সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান এবং ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক ঢাকাটাইমসকে জানান, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার পুলিশ অপহরণকারী ধরতে রাজশাহী যায়। অভিযান শেষে রাজশাহী থেকে ফেরার পথে টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড সিএনজি পাম্প থেকে গ্যাস

বিস্তারিত খবর

মানবতাবিরোধী অপরাধ : মৌলভীবাজারের ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৭ ০৩:২০:০১

একাত্ত‌রে মু‌ক্তিযুদ্ধকালীন  মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার আকমল আলী তালুকদারসহ চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে।

এই মামলার অন্য তিন আসামি হলেন আব্দুন নুর তালুকদার ওরফে লাল মিয়া (৬২), মো. আনিছ মিয়া (৭৬) ও মো. আব্দুল মোছাব্বির মিয়া (৬৪)। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন আকমল আলী তালুকদার। বাকি তিনজন পলাতক।

আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, মরদেহ গুম, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি অভিযোগ আনা হয়। একটি অভিযোগে তাদের চারজনকেই মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। অপর অভিযোগে তাদেরকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে রায়ে।

একাত্তরের ৭ মে থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ও পশ্চিমভাগ গ্রামে এসব মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়। ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর ওই চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ওই দিনই রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রাম থেকে আকমল আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। তিনি মৌলভীবাজার টাউন সিনিয়র কামিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ।

২০১৬ সালের ২৩ মার্চ এ চারজনের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এর ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) তৈরি করে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত ২৭ মার্চ মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। গতকাল সোমবার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা সোনা হয়ে গেল মিশ্র ধাতু!

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৭ ০৩:১৩:২৪

‘ছিল রুমাল, হয়ে গেল একটা বেড়াল’। সুকুমার রায়ের হ-য-ব-র-ল-এর সেই ভুতুড়ে কাণ্ড বাস্তবেও ঘটে। আর তা ঘটেছে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকেই। ছিল সোনা, হয়ে গেছে মাটি। জমা রাখা হয়েছিল ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের সোনার চাকতি ও আংটি, তা হয়ে আছে মিশ্র বা সংকর ধাতু। ছিল ২২ ক্যারেট সোনা, হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এ ভয়ংকর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। দৈবচয়ন ভিত্তিতে নির্বাচন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত ৯৬৩ কেজি সোনা পরীক্ষা করে বেশির ভাগের ক্ষেত্রে এ অনিয়ম ধরা পড়ে। প্রতিবেদনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড হয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।

২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। গত জানুয়ারিতে কমিটি শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর প্রতিবেদন জমা দেয়। গত ২৫ জানুয়ারি প্রতিবেদনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়। পরিদর্শন দল ভল্টে রাখা সোনার যাচাই-বাছাই শেষে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। তার মধ্যে প্রথম পর্যবেক্ষণ ছিল একটি সোনার চাকতি ও আংটি নিয়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট কাস্টম হাউসের গুদাম কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ গোলাকার কালো প্রলেপযুক্ত একটি সোনার চাকতি এবং একটি কালো প্রলেপযুক্ত সোনার রিং বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ওই চাকতি এবং আংটি যথাযথ ব্যক্তি দিয়ে পরীক্ষা করে ৮০ শতাংশ (১৯ দশমিক ২ ক্যারেট) বিশুদ্ধ সোনা হিসেবে গ্রহণ করে প্রত্যয়নপত্র দেয়। কিন্তু দুই বছর পর পরিদর্শন দল ওই চাকতি ও আংটি পরীক্ষা করে তাতে ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ (১১ দশমিক ২ ক্যারেট) সোনা পায়। আংটিতে পায় ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ সোনা (৩ দশমিক ৬৩ ক্যারেট)। ধারণা করা হচ্ছে ভল্টে রাখার পর এগুলো পাল্টে ফেলা হয়েছে। প্রতিবেদন বলছে, ভল্টে থাকা সোনার চাকতি এবং আংটি পরীক্ষার পর দেখা গেল এগুলো সোনার নয়, অন্য ধাতুর মিশ্রনে তৈরি। এতে সরকারের ১ কোটি ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিদর্শন দল প্রতিটি রসিদের অনুকূলে জমা হওয়া সোনা যাচাই করেছে। তাতে দেখা গেছে, সোনার অলংকার এবং সোনার বারে ক্যারেটের তারতম্য করা হয়েছে। ২৪ থেকে ২০ ক্যারেটের ৯৬০ কেজি সোনার বেশির ভাগের ক্ষেত্রে ভল্টে ১৮ ক্যারেট হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। কম ক্যারেটে নথিভুক্ত থাকায় নিলাম বা অন্য উপায়ে বিক্রির সময় অতিরিক্ত ক্যারেটের বিপরীতে প্রাপ্য টাকা থেকে সরকার বঞ্চিত হবে। সোনার ক্যারেটের তারতম্য ঘটানোর কারণে সরকারের ১ কোটি ৯০ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪৬ টাকা ৬৭ পয়সা ক্ষতির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

ক্যারেটের তারতম্য হলে সোনার দামের কী পার্থক্য হয় সে বিষয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) নির্বাহী কমিটির সদস্য দেওয়ান আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, ক্যারেটের মাধ্যমে সোনার মান নির্ধারিত হয়। আর মান অনুসারে সোনার দাম কমবেশি হয়। ২২ ক্যারেট বা ২১ ক্যারেটের সোনা এবং ১৮ ক্যারেটের সোনার দামে বড় অঙ্কের পার্থক্য আছে।

শুল্ক গোয়েন্দা, কাস্টমসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক সোনা নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করা হয়। কাস্টম হাউসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে যখন সোনা জমা রাখা হয়, তখন ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্বর্ণকার দিয়ে পরীক্ষা করে সোনার মান নির্ধারণ করা হয়। ব্যাংক, এনবিআর এবং সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ওই সব সোনা মান নির্ধারণপূর্বক ব্যাংক গ্রহণ করে রসিদ দেয় সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে এ-সম্পর্কিত প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বিষয়টি জেনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এটি অকল্পনীয়। যারা কাস্টডিয়ান, তাদের হাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বিস্মিতই হতে হয়। ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘ব্যাংকে কাজ করার সূত্রে আমি জানি, এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকেন হাতে গোনা কয়েকজন। পরিদর্শন প্রতিবেদনে যে তথ্য এসেছে, সে তথ্য থেকে ঘটনার সময় যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব বের হয়ে আসবে। ঘটনাটিকে ছোট ভাবার কারণ নেই। ভল্টের মতো উচ্চ গুরুত্বের জায়গায় এমন অনিয়মকে গুরুত্ব না দিলে আরও বড় ঘটনা ঘটতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে আধা-সরকারি পত্র পাঠিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সামনাসামনি অনানুষ্ঠানিক আলোচনায়ও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র দেবাশীষ চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁর মেইলে লিখিত প্রশ্ন পাঠালে নয় দিনেও তিনি জবাব দেননি। পরে তাঁর সঙ্গে আবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনই অবহিত করার মতো সুস্পষ্ট কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।’

দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আশা করি বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি তদন্ত করবে এবং সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেবে। কী কী প্রক্রিয়ায় এটা করা হয়েছে, কারা সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে, সেটা বের করা তাদের দায়িত্ব। বাংলাদেশ ব্যাংক এটা করতে না পারলে তাদের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হবে, তাদের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ছাত্রলীগকে ‘আবার মানুষ হওয়ার’ পরামর্শ ঢাবি শিক্ষকের

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৬ ১২:৩৮:২৯

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নানা কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় সমালোচিত ছাত্রলীগকে নতুন করে ‘মানুষ হওয়ার’ পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে এক মানববন্ধনে এ কথা বলেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল মান্নান।

আগের দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন খানসহ শিক্ষকদের লাঞ্ছনার প্রতিবাদ ও লাঞ্ছনাকারীদের শাস্তির দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন লেখা সংবলিত প্লাকার্ড দেখা যায়। এসব প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘শিক্ষকের মর্যাদা আজ কোথায়?’

‘এবার তোরা ছাত্র হ’, ‘শিক্ষক আজ লাঞ্ছিত কেন’

‘আমার ক্যাম্পাস কার দখলে’, ‘মূল্যবোধ আজ কোথা’ ইত্যাদি।

গত ২৭ জুন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করা সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন ফেসবুক লাইভে এসে বক্তব্য দেয়ার পর থেকে ছাত্রলীগ এই সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরকে কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছে না।

‘রক্ত গরম হয়ে যাওয়া’ রাশেদ গত এপ্রিলের মতো আবার আন্দোলনে নামতে ছাত্রদের আহ্বান জানাচ্ছিলেন। তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে অভিযোগ করে এমনও বলেন, ‘মনে হয় তার বাপের দেশ’।

এই কটূক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে করা হয়েছে অভিযোগ তুলে রাশেদের বিরুদ্ধে মামলা করেন এক ছাত্রলীগ নেতা। পাশাপাশি ৩০ জুন রাশেদের সহপাঠীদের দেয়া হয় পিটুনি। এরপর ২ জুলাই এবং সবশেষ ১৫ জুলাই পেটানো হয় ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে।

একই দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কয়েকজন শিক্ষকের জমায়েতকে ঘিরে রাখে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় শিক্ষক তানজীম উদ্দিন খানসহ কয়েকজনের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয় তাদের।

আন্তর্জাতিক  সম্পর্ক বিভাগের  সহযোগী অধ্যাপক আবদুল মান্নান ছাত্রলীগের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আবার তোরা মানুষ হ’।

এই শিক্ষক বলেন, ‘গতকাল শহীদ মিনারে যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজক। যারা শিক্ষকদের উপর আাঙ্গুল তুলে শাসায় তারা মানুষ নয়। এ জন্য তাদের, আবার নতুন করে মানুষ হওয়া দরকার।’

একই বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মাদ আলী সিদ্দিকী বলেন, ‘শিক্ষকদের উপর আঙ্গুল তুলেছে সরকার দলীয় একটি বিশেষ সংগঠন (ছাত্রলীগ)। তারা ছাত্র কি না বা তারা তাদের সংগঠনের নীতি-আদর্শ মানে কিনা তা আমার জানা নেই। আর যারা শিক্ষকদের উপর আঙ্গুল তুলেছে তারা যে গর্হিত কাজ করেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। তারা ছাত্র নামের কলঙ্ক।’

একই বিভাগের শিক্ষার্থী সৌমি বলেন, ‘তানজীম স্যার আমাদের কাছে বাবার মতো। একটি ন্যায্য দাবিতে দাঁড়ানোর কারণে তাকে লাঞ্চিত করা হয়েছে। ‍শুধু তার উপরে নয়; অন্যান্য যে সকল শিক্ষকরা ছিলেন তারাও লাঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তাদের উপর আঙ্গুল তোলার সাহস ছাত্রলীগ কোথা থেকে পায়?’

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল মধুর ক্যান্টিন হয়ে ডাকসু, কলা ভবন, অপরাজেয় বাংলা প্রদক্ষিণ করে আবার সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সায়েমা আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক শেখ সামস মোরসালিন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবাদী মিছিলের পেছনে ছাত্রলীগ
ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এই মিছিলের পেছনেই আবার সংগঠনটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দিদার মোহাম্মদ নিজামুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবুর নেতৃত্বে প্রায় ১০-১২জন নেতাকর্মীকে যেতে দেখা যায়।

তারা এখানে কেন জানতে চাইলে প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব আমাদের। আমরা তাদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য এখানে এসেছি।’

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

লিবিয়ায় কনটেইনার লরি থেকে বাংলাদেশিসহ ৯০ অভিবাসী উদ্ধার

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৬ ১২:০৯:৩৩

লিবিয়ায় একটি কন্টেইনার লরি থেকে বাংলাদেশিসহ ৯০ অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার লিবিয়া কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

লিবিয়ার উপকূলীয় শহর জুয়ারার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার একটি কনটেইনার লরি থেকে ৯৮ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। গাদাগাদি করে থাকা ওই লরিতে পেট্রোলের গ্যাসে আটজন দমবন্ধ হয়ে মারা গেছে। এদের মধ্যে ছয় শিশু রয়েছে। বাকী ৯০ জনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, এসব অভিবাসী আফ্রিকার সাহারা অঞ্চল, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা। মাংস অথবা মাছ পরিবহনের জন্য শীতলীকরণ ব্যবস্থা সম্বলিত কন্টেইনারের ভেতরে তারা আটকা ছিল। জুওয়ারার বাইরে মেল্লিতাহ তেল ও গ্যাস কমপ্লেক্সের কাছ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

নিরাপত্তা পরিচালক বলেছেন, ‘দীর্ঘ সময় কনটেইনারে থাকায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। আটজনের মধ্যে ছয়জন শিশু, একজন নারী ও একজন যুবক।’ কনটেইনারের ভেতর থেকে কয়েক গ্যালন পেট্রল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জুওয়ারা মানবপাচারকারীদের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখান থেকে পরে নৌকায় করে সাগরপথে অবৈধভাবে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পাচার করা হয়।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পূর্ণ সমর্থন দিলো বিএনপি

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৬ ১২:০৮:৪১

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্রতি বিএনপির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। এই আন্দোলনে যারা গ্রেফতার হয়েছেন, অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে শিক্ষক-ছাত্রদের ওপর যারা আক্রমণ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

১৬ জুলাই সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সদর ও রুহিয়া উপজেলা বিএনপির যৌথ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের আজকের যে অবস্থা, এটা তো  গণতন্ত্র নেই বলেই। একদলীয় সরকার প্রবর্তন করার জন্য এ সরকার ভিন্নমত সহ্য করছে না। ছেলেরা যেটা চাইল, যে কোটা সংস্কার। আর আপনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) পার্লামেন্টে রেগে-মেগে বললেন সংস্কার কী, আমি কোটা প্রথাই রাখব না। ছেলেরা তো আপনার কাছে কোটা প্রথা না রাখার কথা বলেনি, তারা সংস্কার চেয়েছে। আপনি বললেন কোটা প্রথা তুলে দিলাম। কোটা সংস্কার তুলে দিলেন, ভালো কথা; ব্যবস্থা নিন। বললেন, প্রজ্ঞাপন হবে, প্রজ্ঞাপন হয় না। ছেলেরা যখন প্রজ্ঞাপনের দাবি জানাল, তখন আপনারা ছেলেদের পেটান। আপনাদের দলের ছেলেদের লেলিয়ে দিয়েছেন। তারা শিক্ষকদেরসহ পেটাচ্ছে। এই হলো অবস্থা, কেউ রক্ষা পায় না।’

জাতীয় ঐক্যে প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে যে সংকট, তা দূর হতে পারে একমাত্র একটি ইস্যুতে যদি সব রাজনৈতিক দল এক হয়। আর সে ইস্যুটা হচ্ছে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় একটা নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। এ জন্য সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। আমরা জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছি। আমরা আশা করি, যথাসময়ে রাজনৈতিক দলগুলো এ আহ্বানে সাড়া দেবে।’

আওয়ামী লীগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘আপনারা আওয়ামী লীগ হয়ে ফিরে আসুন। আপনারা তো এখন আওয়ামী লীগ নেই। আপনাদের দল কে চালায়, তা আমরা জানি না। আপনাদের সরকার কে চালায়, তা-ও আমরা জানি না, বুঝি না।...আমাদের মনে হয় রাজনীতির বাইরের কোনো শক্তি, বাংলাদেশের বাইরের কোনো শক্তি দেশ পরিচালনা করছে।’


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

কোটা সংস্কার নিয়ে স্ট্যাটাস দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র বহিষ্কার

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৫ ১৩:৫৫:২৬

কোটা সংস্কার নিয়ে ফেসবুকে ‘উসকানিমূলক’ স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সাইয়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মীর মোহাম্মদ জুনায়েদকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। ২০১৩-২০১৪ সেশনে সিভাসুতে ভর্তি হয়েছিলেন মীর মোহাম্মদ জুনায়েদ। 

রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মীর্জা ফারুক ইমাম ওই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বরখাস্ত করে আদেশ জারি করেন।

সেখানে বলা হয়েছে, গেল ১৩ জুলাই মীর মোহাম্মদ জুনায়েদ (ফেসবুকে মীর সাব্বির) ফেসবুকে কোটা সংস্কার নিয়ে উসকানিমূলক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিপন্থি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যা সিভাসু’র রুলস রিগার্ডিং জেনারেল ডিসিপ্লিনের ১৬ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি ও অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় মীর মোহাম্মদ জুনায়েদকে বহিষ্কার করার কথা বলা হয়েছে ওই আদেশে।

জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার মীর্জা ফারুক ইমাম বলেন, ফেসবুকে কোটা সংস্কার নিয়ে উসকানিমূলক কথাবার্তা লেখা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এই কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের পরিপন্থি হওয়ায় আমরা সাময়িক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছি। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি জানান, তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি প্রক্টর আশরাফুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি সাত কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

বরখাস্ত আদেশে উল্লেখ করা ১৩ জুলাই মীর সাব্বিরের দেওয়া স্ট্যাটাসটি তার টাইমলাইনে পাওয়া যায়নি। তবে গত ৯ জুলাই ফেসবুকে মীর সাব্বির লেখেন, সরকারি চাকরি কোটাধারীদের দখলে, আর বেসরকারি চাকরি ভারতীয়দের দখলে আমজনতা কই যাবে।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৫ ০৯:৪৩:০৮

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি অংশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ১৫ জুলাই, রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুন নেভাতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিষয়টি জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান। তিনি জানান, সন্ধ্যায় বিমানবন্দরের ডিপার্চার টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট। ঘটনাস্থলে প্রচুর পরিমাণে ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে।

আতাউর আরও জানান, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের ওপর ফের ছাত্রলীগের হামলা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৫ ০৯:৪১:১৬

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিপীড়ন-নির্যাতন-গ্রেফতারের প্রতিবাদে শহিদ মিনারে পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

১৫ জুলাই, রবিবার দুপুরে শহিদ মিনার এলাকার শিববাড়ি মোড়ে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দুপুর ১২টায় শহিদ মিনারে অবস্থান নেয় নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তখন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও আশেপাশে অবস্থান নেন। তারাও নানা রকমের শ্লোগান দিয়ে এই কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। পরে ওই কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে শিববাড়ি মোড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ঘিরে ধরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এবং শিক্ষার্থীদের মারধর করে।

এ সময় সামনের সারিতে থাকা শিক্ষকরাও লাঞ্ছিত হন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খানসহ অন্যান্য শিক্ষকদের ধাক্কা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

এই ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফাহমিদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ শহীদ মিনারে আমাদের পূর্ব নির্ধারিত নিপীড়নবিরোধী কর্মসূচি ছিল। আমাদের মাইক চালু হওয়ার পর ছাত্রলীগও দাঁড়িয়ে যায় পাশে। তারাও মাইক ব্যবহার করে। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করার চেষ্টাও চলে। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করে ফেরার পথে আমাদের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর হামলা হয়, শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়।’

ফাহমিদুল হক আরও বলেন, ‘আজকের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। নিপীড়নের শিকার শিক্ষার্থীদের পক্ষে শিক্ষক হিসেবে পাশে দাঁড়ানো আমার নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এমন কর্মসূচি যদি আমরা করতে না পারি, তবে জাতি হিসেবে সেটা আমাদের জন্য লজ্জার।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এই শিক্ষক ফেসবুকে লিখেছেন, ‘প্রক্টরিয়াল টিমের কেউ আশেপাশে ছিলেন না, একজন পুলিশও ছিলেন না। শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ যেন হামলা করতে পারে, তার জন্য উন্মুক্ত করে রাখা হয় সবকিছু। আমরা থাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা একটু কম হয়েছে।’

আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এ সময় তারা উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের “জামায়াত-শিবির” বলে গালাগালি দিয়েছে। আর মানববন্ধন শেষে যাওয়ার সময় হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।’

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

'আমার রাশেদকে আর কোনোদিন আন্দোলন করতে দেব না'

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৫ ০৯:৩৭:৩০

কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খানের মা সালেহা বেগম ছেলেকে ফিরে পেতে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

রোববার (১৫ জুলাই) দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কোটা আন্দোলনের নেতাদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তিনি এ আবেদন জানান। মানববন্ধনে নিরাপদ ক্যাম্পাস চেয়ে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড বহন করে শিক্ষার্থীরা।

এ মানববন্ধনে উপস্থিত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রাশেদ খানের মা সালেহা বেগম। তিনি ক্রন্দনরত অবস্থায় বলেন, আমার মানিক (রাশেদ) সাধারণ ছাত্র। সে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো সময় জড়িত ছিল না। রাজনৈতিক কোনো দল বা দেশের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্রে জড়িত নয়। আমার মানিক এমনকি আমরা কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত না।

আমার মানিক শুধু চাকরির জন্য দাবি করেছিল, কোটা কমানোর জন্য আন্দোলন করছিল। ও তো কোনো অপরাধ করেনি। তারপরও ওকে এমনভাবে হয়রানি করা হচ্ছে কেন? তিনি বলেন, আমার আর চাকরি দরকার নেই। আমার মানিককে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা করে দিলে আমি ওকে বাড়ি নিয়ে যাব। ওকে আর কোনোদিন আন্দোলন করতে দেব না।

তিনি বলেন, আমি পরের বাড়িতে কাজ করে আমার মানিককে লেখাপড়া শিখাইছি। ওর আব্বা লোকের জমিতে কামলা দিয়ে বহু কষ্টে সংসার চালিয়েছে। ওর আব্বার পেটে পাথর জমেছে।

রাশেদের মা সালেহা বেগমের বক্তব্যের সময় বিপরীত মুখে অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগের জহুরুল হক হল শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বুলবুল নানা কটূক্তিমূলক কথা বলেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বয়োজ্যেষ্ঠ ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫ বছরের ভিসা দেবে ভারত

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৫ ০৯:৩৬:৪৭

দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক ও মুক্তিযোদ্ধারা এখন থেকে পাঁচ বছরের জন্য ভারতীয় ভিসা পাবেন। তাদের জন্য ভিসা সহজ করতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে প্রতিবেশি দেশটি।

রবিরার (১৫ জুলাই) সকালে ঢাকায় সচিবালয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটির নাম ‘রিভাইস ট্র্যাভেল অ্যাগ্রিমেন্ট-২০১৮’।

চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ৬৫ বছর ও এর বেশি বয়সী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের পাঁচ বছরের জন্য ভিসা দেবে ভারত।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী এবং ভারতের পক্ষে সে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল সেক্রেটারি বিরাজ রাজ শর্মা স্বাক্ষর করেন। এ সময় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ উপস্থিত ছিলেন। পরে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিনিধিদল বৈঠকে মিলিত হন।

বৈঠক শেষে আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের ভিসা সহজ করার জন্য আজ একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যারা বয়স্ক, যাদের বয়স ৬৫ বছর এবং এর ঊর্ধ্বে তারা ভিসা চাইলে পাঁচ বছরের মাল্টিপল ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমাদের বয়স্ক সিটিজেনরা যারা ভিসা চান তারা (ভারত) তাদের এই ভিসা দেবেন।

তিনি বলেন, বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সঙ্গে তারাও পাঁচ বছরের জন্য ভারতীয় ভিসা পাবেন যারা দেশমাতৃকার জন্য যুদ্ধ করেছেন। সেই মুক্তিযোদ্ধারদের জন্য একই ধরনের ভিসা সুবিধা তারা প্রদান করেছেন। সে অনুযায়ী কাজ শুরু করেছেন, যেটার চুক্তি আজ স্বাক্ষর করা হয়েছে।

রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভারত ও বাংলাদেশের ষষ্ঠ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠক শুরু হয়। এর আগে সকাল ১০টা ২২ মিনিটে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয়ে উপস্থিত হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাঙ্গণে অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একটি দলের সালাম গ্রহণ করেন রাজনাথ সিং। বৈঠকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেন।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং তিন দিনের সফরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকায় এসেছেন।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

আহমাদ বিন ইউছুফকে বাংলাদেশের প্রধান ক্বারীর স্বীকৃতি

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৫ ০৯:৩৪:৫৮

বিশ্বখ্যাত ক্বারী শাইখ আহমাদ বিন ইউসুফ আল-আযহারীকে বাংলাদেশের প্রধান ক্বারীর স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্বের কারীদের সংগঠন ‘ইত্তেহাদুল কুররা আল আলামিয়া’।

আরব বিশ্বের সংগঠন আরব লীগ কর্তৃক পরিচালিত এই সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মিসরের ড. আহমাদ নাঈনা ও ড. আব্দুল আযীয আব্দুল্লাহ হামাদ বাংলাদেশের এই কৃতি সন্তানকে সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধান ক্বারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

এর আগে (স্বাধীনতার পর থেকে) ২০১৮ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন ক্বারী আহমাদের পিতা মাওলানা ক্বারী মুহাম্মাদ ইউসুফ (রহ.)। বাংলাদেশে বিশুদ্ধ কোরআন তিলাওয়াত করতেন তিনি। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের প্রধান ক্বারী ছিলেনও। গত ১৮ এপ্রিল তিনি ইন্তেকাল করলে এই পদ শূন্য হয়। সর্বশেষ পিতার পদেই বাংলাদেশের প্রধান কারী হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হলেন ক্বারী আহমাদ।

শাইখ আহমাদ বিন ইউসুফ আল আযহারী ২০০১ সালে বাংলাদেশে দাওরায়ে হাদিস পাশ করেন। পরবর্তীতে মিসরের আল-আযহারের মা'হাদুল ক্বিরাত থেকে দীর্ঘ আট বছর পড়াশুনা করে ১০ ক্বিরাতের ওপর প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে সর্বোচ্চ সনদ অর্জন করেন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাজপ্রাসাদ ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কোরআন তিলাওয়াত এবং বিশ্বের বড় বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় একমাত্র বাংলাদেশী বিচারক হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকাকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি।

ইত্তেহাদুল কুররা আল আলামিয়ার প্রেসিডেন্ট ড. আহমাদ নাঈনা জানান, শাইখ আহমাদ বিন ইউসুফের এ স্বীকৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে বহির্বিশ্বের জোরালো সম্পর্ক সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশে বিশুদ্ধ কোরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্র আরো সমৃদ্ধ করবে।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২য় ইউনিটের নির্মাণকাজ উদ্বোধন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৪ ১৪:০৮:৫২

পাবনায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের কংক্রিট ঢালাই কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ হাতে ঢালাই কাজ শুরু করে এই ইউনিটের মূল কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ইউরি ইভানোভিচ বোরিচভ। এছাড়া ছিলেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালক দোহি হ্যান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান।

উদ্বোধনের সময় আরও ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ,  পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ প্রমুখ।

রাশিয়ার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, আর্থিক সহায়তা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংস্থা আণবিক শক্তি কর্পোরেশনের (রোসাটম) অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এএসই গ্রুপ অব কোম্পানিজ এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের রিয়েক্টর ভবনের প্রথম কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে ইউনিটটির মূল নির্মাণ কাজ শুরু হলো।

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর ইউনিয়নে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ১২০০ একর জমির উপর নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেটি স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সবচেয়ে বৃহৎ ও ব্যয়বহুল প্রকল্প।

এর আগে গত বছরের ৩০ নভেম্বর শেখ হাসিনা রূপপুরে পরমাণু চুল্লির জন্য কংক্রিটের মূল স্থাপনা নির্মাণ উদ্বোধন করেছিলেন; যার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নির্মাণ পর্বের কাজ।

ওই সময় থেকে ৬৮ মাসের মধ্যে মূল স্থাপনা নির্মাণের কথা রয়েছে এ কাজের দায়িত্ব পাওয়া রাশিয়ার কোম্পানি অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের।

সরকার আশা করছে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে রূপপুরের ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ যোগ হবে জাতীয় গ্রিডে। পরের বছর চালু হবে সমান ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে নগদ টাকার সংকট, তিন কারণ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৪ ১৩:৫৭:২০

চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে তিন কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতে আমানতের তুলনায় ঋণের প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে। আমদানি নির্ভর দ্রুত ঋণ প্রবৃদ্ধির সাথে রফতানি ও রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধির পার্থক্য বেশি হয়েছে। এতে স্থানীয় বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও যোগানের মধ্যে অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি নতুন প্রজম্মের ফারমার্স ব্যাংকের আর্থিক অনিয়নের জন্য ব্যাংকিং খাতে একটি অস্তিতিকর পরিস্থিতি উদ্ভুদ হয়েছে। সবমিলে ব্যাংকিং খাতে তারল্য ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তারল্য ব্যবস্থাপনায় এ চাপ সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংকেরও বেগ পেতে হয়েছে। ব্যাংকগুলো যাতে সহজেই টাকার সংকট মেটাতে পারে এজন্য রেপোর সুদহার শূণ্য দশমিক ৭৫ শতাংশ কমাতে হয়েছে। ব্যাংকারদের চাপে কমানোর হয়েছে সিআরআর হার। শীতিল করা হয়েছে কিছু নির্দেশনা। বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ২৩১ কোটি ডলার ছাড়তে হয়েছে। আর ফারমার্স ব্যাংকের অনিয়মের দায় চাপিয়ে দেয়া হয়েছে সরকারি ৫ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর। এসব প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করা হয়েছে আর্থিক অনিয়মের কারণে সংকটে পড়া ফারমার্স ব্যাংকের মুলধন যোগান দিতে।

জানা গেছে, দীর্ঘ দিন যাবত বিনিয়োগ স্থবিরতায় ব্যাংকগুলোর হাতে উদ্বৃত্ত টাকা ছিল। গত বছরের শুরুতেও ব্যাংকের হাতে প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত তারল্য ছিল। বিনিয়োগ করতে না পারায় ব্যাংকগুলো আমানতের সুদহার কমিয়ে দেয়। এদিকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আমানতের মুনাফা অপেক্ষা বেশি থাকায় বেশি মুনাফার আশায় ব্যাংকমুখী না হয়ে সাধারণ গ্রাহক সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এতে ব্যাংকের আমানত কমতে থাকে। এরই মধ্যে ফারমার্স ব্যাংকের আর্থিক অনিয়ম জানাজানি হওয়ার পর ব্যাংকিং খাতে বিশেষ করে নতুন প্রজম্মের ব্যাংকগুলোর ওপর অনেকটা আস্থা হারিয়ে ফেলেন আমানতকারীরা। এমনকি, সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো বিধিবহিভর্’তভাবে নতুন ব্যাংকসহ বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে যে পরিমাণ আমানত রেখেছিল তা প্রত্যাহার করতে থাকে। ফলে চলতি বছরের শুরুতেই ব্যাংকিং খাতে এ নগদ টাকার সংকট হতে দেখা যায়। বিনিয়োগ্যযোগ্য তহবিলের টান পরায় ব্যাংকগুলো ঋণের সুদহার বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি এ সংকট মেটাতে ব্যাংকগুলো আমানত সংগ্রহে মরিয়া হয়ে উঠে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবিবেচনামূলক আগ্রাসী ব্যাংকিংয়ের কারণে অর্থবছরের দ্বিতায়ার্ধে কিছু তফসিলি ব্যাংকের তারল্য চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। এ তারল্য চাপ কমাতে ঋণ আমানতের সর্বোচ্চ সীমা অর্থাৎ এডিআর সাড়ে ৮৩ শতাংশে নামিয়ে আনার সময়সীমা এক বছর বাড়িয়ে আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। এদিকে, নতুন প্রজম্মের ব্যাংক ফারমার্সের আর্থিক অনিয়মের ফলে ওই ব্যাংকে উদ্ভুত তারল্য সংকট সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতের আমানতকারীদের মধ্যে অস্ব¯িÍ সৃষ্টি করেছিল। এ অস্ব¯িÍকর অবস্থা থেকে স্ব¯িÍকর অবস্থায় ফিরে আনতে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে ব্যাংকটিতে নতুন করে মূলধন যোগান দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এভাবে ব্যাংকিং খাতের ওপর আমানতকারীদের আস্থা ফিরে আনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে ব্যাংকগুলো তহবিলের ব্যবস্থা না করেই দেদারছে পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলেছে। এতে ব্যাপক ভিত্তিতে বৈদেশেক মুদ্রার দায় সৃষ্টি হয়েছে। যেমন, গত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) আমদানির প্রবৃদ্ধি হয় ২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ। অর্থাৎ ১০ মাসে ৪ হাজার ৯০১ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। বিপরীতে গত অর্থবছরে (জুলাই-জুন) রফতানি প্রবৃদ্ধি হয় ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ, অর্থাৎ এক বছরে রফতানির মাধ্যমে আয় হয় ৩ হাজার ৩৭৩ কোটি ডলার এবং রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয় ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ৪৯৮ কোটি মার্কিন ডলার। এতে দেখা যায় রফতানি ও রেমিট্যান্স মিলে এক বছরে যে পরিমাণ অর্থ দেশে আসে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ ব্যয় হয় ১০ মাসের আমদানিতে। বাকি ২ মাসের হিসেব এখন হালনাগাদ করা হয়নি বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সমন্বয় করতে পারেনি।

বৈদেশিক মুদ্রার এ চাহিদা ও যোগানের মধ্যে যে বিরাট ফারাক সৃষ্টি হয় এটা পূরণ করা হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরে ২৩১ কোটি ১০ লাখ ডলার রিজার্ভ থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এর বিপরীতে বাজার থেকে তুলে নেয়া হয়েছে ১৯ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা। এর ফলে বাজারে সমপরিমাণ স্থানীয় মুদ্রা হ্রাস পেলেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের বছরের চেয়ে কমে যায়। তবে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর ঐকান্তিক চেষ্টা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানিতেলসহ অন্যান্য পণ্যের মূল্য ও দেশে এসব পণ্যের আমদানির পরিমাণে বড় ধরনের বৃদ্ধি না ঘটলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমে আসবে বলে প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংক আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশির প্রথম স্বর্ণপদক জয়

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৩ ১৪:৪৮:৫৩

রোমানিয়ায় অনুষ্ঠিত ৫৯তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে আহমেদ জাওয়াদ চৌধুরী দেশের জন্য প্রথম স্বর্ণপদক জয় করেছে। আহমেদ জাওয়াদ চৌধুরী চট্টগ্রামের ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। জাওয়াদ মোট ৪২ নম্বরের পরীক্ষায় ৩২ নম্বর পেয়ে স্বর্ণপদক জয় করেছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ দল তিনটি ব্রোঞ্জপদক ও দুটি অনারেবল মেনশন পেয়েছে। দলের সদস্য রাহুল সাহা (ঢাকা কলেজ) অনারেবল মেনশন, জয়দীপ সাহা (নটর ডেম কলেজ) ব্রোঞ্জ, তামজিদ মোর্শেদ রুবাব (নটর ডেম কলেজ) ব্রোঞ্জ, তাহনিক নূর সামিন (নটর ডেম কলেজ) ব্রোঞ্জ ও সৌমিত্র দাস (পুলিশ লাইনস হাইস্কুল, ফরিদপুর) অনারেবল মেনশন পেয়েছে।

এই ছয় প্রতিযোগীর সঙ্গে দলে আছেন দলনেতা বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড দলের কোচ মাহবুব মজুমদার এবং উপদলনেতা বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান।

৭ জুলাই উদ্বোধনী পর্বের মাধ্যমে শুরু হয় ৫৯তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড ২০১৮। এ বছরের অলিম্পিয়াডে ১১৬টি দেশের ৬১৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। দলগতভাবে ১১৪ নম্বর পেয়ে ১০৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪১তম।

ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায় ৫৯তম আইএমওর জন্য ছয়জনের বাংলাদেশ গণিত দল নির্বাচন এবং এর আনুষঙ্গিক আয়োজন করেছে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ঢাকায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৩ ১৪:৪৫:১৬

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে এসেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। শুক্রবার বিকেলে বিশেষ এয়ারক্রাফটে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। তার সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) শীর্ষ কর্মকর্তারা।

পৌঁছানোর পর তিনি সরাসরি হোটেল প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁওয়ে হোটেলে ওঠেন।

সফরসূচি অনুসারে, ভারতীয় স্বারষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় যমুনা ফিউচার পার্কে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার উদ্বোধন করবেন। ওইদিন বেলা আড়াইটা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিকেল সোয়া ৪টা থেকে পৌনে ৫টা পর্যন্ত ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে অবস্থান করবেন।

সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় তিনি বিজিবি সদর দপ্তরে যাবেন। সেখানে নৈশভোজে অংশ নেবেন। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করবেন।

রাজনাথ সিং রোববার সকাল পৌনে ৯টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ঢাকেশ্বরী মন্দিরে অবস্থান করবেন। এদিন একটি বিশেষ এয়ারক্রাফটে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে তিনি রাজশাহী পৌঁছাবেন। সকাল সাড়ে ১০টার পর তিনি রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে আইটি এবং ফরেনসিক ল্যাব উদ্বোধন করবেন। বেলা দেড়টায় রাজশাহী বিমানবন্দর থেকে বিশেষ এয়ারক্রাফটে নয়াদিল্লির উদ্দেশে তিনি রওনা হবেন।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বগুড়ার সেই মতিন-তুফানের ভাই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৩ ১৪:৪১:৫৮

বগুড়ায় কথিত এক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় পুতু সরকার (৪৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। তিনি ধর্ষণের পর কিশোরী ও তার মায়ের মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার ঘটনায় আলোচিত দুই ভাই তুফান সরকার ও মতিন সরকারের ছোট ভাই।

পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে শহরের ভাটকান্দি ব্রিজের পূর্ব মাথায় দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর বন্দুকযুদ্ধে পুতু সরকারের মৃত্যু হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ওয়ান শুটার গান, আট রাউন্ড গুলি ও পাঁচশ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

শুক্রবার জেলার মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সনাতন চক্রবর্তী জানান, ভাটকান্দী ব্রিজের পূর্ব মাথায় দুই দল মাদক বিক্রেতা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। এমন খবর পেয়ে শহরের বনানী ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর তারিকুলের নেতৃত্বে সদর থানার একদল পুলিশ সেখানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক বিক্রেতারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়তে থাকলে তারা পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থলে থেকে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, নিহত পুতুর বিরুদ্ধে বগুড়া সদর ও শিবগঞ্জ থানায় পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে। তিনি জেলার তালিকাভুক্ত একজন শীর্ষ মাদক বিক্রেতা।

এর আগে একটি মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে কারাগার থেকে বের হন।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

অবশেষে সেই পরিবারকে পুনর্বাসন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৩ ১৪:৩৭:৫৫

অবশেষে ঢাকার কলাবাগানে ওভার ব্রিজের নিচে আশ্রয় নেওয়া ফরিদা বেগম, তার স্বামী ও তিন সন্তানের পরিবারকে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নে পুর্নবাসন করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টায় পরিবারটিকে সদর ইউএনও আমিন আল পারভেজ পাঁচগাছীতে নিয়ে যান। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতের কোচে ঢাকা থেকে তাদের কুড়িগ্রামে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন ঢাকাস্থ কুড়িগ্রাম সমিতির মহাসচিব সাদুল আবেদীন ডলার।

সকাল সাড়ে ৭টায় পরিবারটি কুড়িগ্রাম শহরে পৌঁছলে তাদের কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে নিয়ে আসা হয়। এখানে নিজেদের জীবনের অসহায়ত্বের কথা বলেন ফরিদা বেগম (৪০) ও তার স্বামী আনছার আলী (৬০)।

ফরিদা ও তার স্বামী জানান, জেলার উলিপুর উপজেলার প্রত্যন্ত বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর মৌজার মরাকাটি গ্রামে বাড়ি ছিল তাদের। ছিল আবাদী জমি। দুধের ব্যবসা করে ভালো চলছিল পরিবারটি। চরের মধ্যে প্রতিদিন দুই মণ করে দুধ সংগ্রহ করে ১৫ কিলোমিটার সাইকেল মাড়িয়ে কুড়িগ্রাম শহরে হোটেলে সরবরাহ করতেন আনছার আলী। এভাবে চলছিল তাদের সংসার। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে ২০১৬ সালে এক মাসের মধ্যে বাড়িঘর, আবাদী জমি সব নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। গৃহহীন হয়ে পড়ে পরিবারটি। তাদের সঙ্গে দেড়শ পরিবারের ভিটেমাটি নদের গর্ভে চলে যায়। শেষে আশ্রয় মেলে ইসলামপুরে চাচাত ভাইয়ের গোয়ালঘরে। সেখানে একমাস থাকার পর বেঁচে থাকার তাগিদে ঢাকায় চলে যান তারা।

ফরিদা বেগম জানান, ‘‘জন্মের পর থেকে অনেক কষ্টের জীবন আমার। জন্মের আগে বাবা ও জন্মের সাত দিনের মাথায় মা মারা যায়। তারপর আশ্রয় মেলে চিন্নমুকুল নামে একটি এনজিওতে। সেখানে সাত বছর থাকার পর এনজিওটি বন্ধ হয়ে যায়। তারপর আবার নানার বাড়িতে আশ্রয় নেই। কিছু দিন সেখানে থাকার পর বিয়ে হয়। কিন্তু তিন মাসের মাথায় ছাড়াছাড়ি হয়। এর দুই বছর পর আনছার আলীর সঙ্গে বিয়ে হয়। তারও ডায়রিয়ায় বউ মারা যাওয়ায় আমার সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে।’’

আনছার আলী আর ফরিদা বেগম দম্পতির সংসারে অভাব-অনটন আর মাথা গোজার ঠাঁই না পেয়ে তারা গত বছরের নভেম্বর মাসে ঢাকায় পাড়ি জমান। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে শেষে আশ্রয় নেন কলাবাগান ওভার ব্রিজের নিচে। এখানে ধানমণ্ডি ক্লাবের দরোয়ান জামালের সহযোগিতায় মাঠের পাতা কুড়ানো কাজ করে দিনে আয় হয় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। সেই অর্থেই চলছিল মানবেতর জীবন যাপন। মাঝখানে কাজটাও বন্ধ হযে যায়। এ সময় প্রায় না খেয়ে থাকতে হচ্ছিল তাদের। সন্তানদের দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ শরীর নিয়ে নিজে ভিক্ষাবৃত্তি করতে বেরিয়ে পড়েন ফরিদা বেগম। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে আকলিমা (১১) প্রতিবন্ধী, দ্বিতীয় কন্যা সন্তান আখিতারাকে (৭) গ্রামের বাড়িতে চাচির কাছে রেখে যান। একমাত্র ছেলে ফরিদুল (সাড়ে ৩ বছর) তাদের কাছে থাকে।

ফরিদা বেগম জানান, ঘটনার দিন দুই সন্তানকে নিয়ে কলাবাগান থেকে ল্যাব এইডের দিকে ভিক্ষা করতে বের হন। অসুস্থ শরীর নিয়ে বের হওয়ার ফলে ল্যাব এইডের কাছে অসুস্থ হয়ে ফুটপাতে পড়ে যান তিনি।

সেই স্মৃতি মনে করে ফরিদা বেগম জানান, বাচ্চা দুটা না খেয়ে ছিল। মা হয়ে কেমন করে বসে থাকা যায়। অসুস্থ শরীর নিয়ে ভিক্ষা করার জন্যে বের হয়েছিলেন। হাঁটতে হাঁটতে এক সময় চোখে অন্ধকার দেখতে থাকলে সেখানেই পড়ে যান। মনে হচ্ছিল সেদিনই শেষ দিন ছিল। বড় মেয়ে তাকে ধরে থাকে। আর ছোট ছেলে মাথায় পানি ঢালে। তারপর কী হয়েছিল তা আর জানা নেই। পরের দিন লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া কুড়িগ্রামের এই পরিবারের ছবি নজরে আসলে তাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেন জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন। সন্তানসহ পুরো পরিবারটি কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে আসলে তাদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেন সিভিল সার্জন ডা. এস এম আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে মেডিকেল টিম। এ সময় প্রাথমিকভাবে পরিবারটির খাবারের জন্য প্রয়োজনীয় চাল, ডাল, তেল, লবণসহ সমস্ত উপকরণ সরবরাহ করেন কুড়িগ্রাম গণকমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন আল পারভেজ জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন এ পরিবারের জন্য অস্থায়ীভাবে আবাসনের ব্যবস্থা করেছে। নিশ্চিত করা হয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা। তাদের তিন সন্তানকে স্কুলে ভর্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন জানান, অসহায় ফরিদার পরিবারকে জমিসহ স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

পুলিশ ইন্সপেক্টর খুনের লোমহর্ষক কাহিনী

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১২ ০৫:২৫:৩৯

রাজধানীর বনানীর একটি ফ্ল্যাটে জন্মদিনের দাওয়াতে গিয়ে খুন হন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কর্মকর্তা মামুন ইমরান খান। গুম করতে লাশ গাড়িতে করে নেওয়া হয় গাজীপুরের কালীগঞ্জের একটি জঙ্গলে। সেখানে লাশে পেট্রল ঢেলে আগুনে ঝলসিয়ে দেওয়া হয় চেহারা। কিন্তু এরপরও শেষ রক্ষা হয়নি।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি পুরো ঘটনাই ফাঁস হয়ে গেছে। ধরা পড়েছে খুনি দলের অন্যতম সদস্য রহমতউল্লাহ। পুলিশ তার কাছ থেকে খুনের আদ্যপান্ত জানতে পেরেছে। খুনি দলের অপর আট সদস্যদের মধ্যে তিন নারীও রয়েছেন। পরিদর্শক মামুন ইমরান খান ছিলেন পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ট্রেনিং স্কুলের কর্মকর্তা। নিখোঁজের দুদিন পর গাজীপুরের কালীগঞ্জের একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় পুলিশ কর্মকর্তার লাশ।

গত রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন পরিদর্শক ইমরান। এ ঘটনার পরদিন সবুজবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার ভাই। এরপর তদন্তে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করে। এদের মধ্যে রহমতউল্লাহ রয়েছেন। গতকাল বনানী থানায় মামলা করেন ইমরানের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম খান।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, ইমরানের বাড়ি ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জের রাজরামপুর গ্রামে। বাবা মৃত আজহার আলী খান। ইমরান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নেন। ২০০৫ সালে এসআই হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। তার সর্বশেষ কর্মস্থল ছিল ঢাকার শান্তিনগরে পুলিশের বিশেষ শাখার ট্রেনিং স্কুল। তিনি শান্তিরক্ষা মিশনেও কাজ করেছেন। অবিবাহিত ইমরান বড় ভাইয়ের সঙ্গে সবুজবাগে বসবাস করতেন। চাকরির পাশাপাশি নাটকেও অভিনয় করতেন তিনি।

পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানায়, পূর্বপরিচিত নারীর জন্মদিনের পার্টির কথা বলে গত রবিবার ইমরানকে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার একটি বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানেই খুন হয় তাকে। পূর্বপরিচিত নারীর উপস্থিতিতে তার সহযোগীরা তর্কাতর্কির একপর্যায়ে ইমরানকে হত্যা করে। হত্যার পর গাড়িতে করে ইমরানের মরদেহ নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে লাশ গুম করার চেষ্টা চালায় তারা। এতে ব্যর্থ হয়ে তারা গাজীপুরের কালীগঞ্জের একটি জঙ্গলে লাশের হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দি করে ফেলে আসে।

পুলিশ সূত্র জানায়, এর আগে পেট্রল দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে লাশের চেহারা বিকৃত করা হয়। তিন দিন পর মঙ্গলবার দুপুরে ইমরানের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে এই ঘটনায় জড়িত এক নারীকে যশোর সীমান্ত হয়ে দেশের বাইরে পালানোর সময় আটক করা হয়েছে বলে জানা যায়। সন্দেহভাজন আটক ওই নারীকে রাতে যশোর থেকে ঢাকায় আনার কথা রয়েছে। তবে এ বিষয়টি পুলিশ স্বীকার করেনি। তদন্তের এ পর্যায়ে অভিযুক্ত ওই নারীর নাম কিংবা হত্যার কারণ স্পষ্ট করেনি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। প্রেমঘটিত, না কি অন্য কোনো বিরোধে এ হত্যা করা হয়েছে, তাও পরিষ্কার করে জানাচ্ছেন না তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু হত্যার কেন্দ্রে একজন নারী রয়েছেন বলে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে সূত্রটির দাবি। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

 এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ডিবি পরিচয়ে কোটা আন্দোলনের আরেক নেতাকে ধরে নেওয়ার অভিযোগ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১২ ০৫:২১:০৮

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এ বি এম সুহেলকে ডিবি পরিচয়ে কিছু লোক ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকি আক্তার এ বিষয়ে তার ফেসবুক পাতায় একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

লাকি আক্তার বলেন, ‘আমার বাসা শান্তিনগর। ভোরে বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে আট-১০ জনের একটি দল নিয়ে গেছে। কিন্তু ডিবির কোন বিভাগ, সেটা জানায়নি। বলে গেছে সকালে ডিবি কার্যালয়ে যোগাযোগ করবেন। কিন্তু আমরা যোগাযোগের চেষ্টা করে সফল হইনি।’ সুহেল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। গত এপ্রিলে কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নামার পর তিনি হামলার শিকার হয়েছিলেন।

লাকি ফেসবুকে লেখেন, ‘ক্যাম্পাসে আমার ডিপার্টমেন্টের ছোটভাই এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠক সুহেল আমার বাসায় ছিল। তারা তাকে তুলে নিয়ে গেছে।’
ভোর সোয়া চারটা নাগাদ তার বাসায় ডিবি অভিযান চালায়। শুরুতে তারা বেশ উত্তেজিত ছিলেন বলেও জানান ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী। এত রাতে কোন অভিযোগে আমার বাসায় তল্লাশি করবেন-এমন প্রশ্নও করেন লাকি। আর তর্কা-তর্কির এক পর্যায়ে তারা দরজা ভেঙে ফেলার হুমকি দেয়। ‘আমি বললাম আপনারা সকালে আসেন। অনেকক্ষণ বাক-বিতণ্ডার পর অবশেষে তারা বাড়িওয়ালা আংকেলকে নিয়ে আসলে সাড়ে চারটার দিকে আমি দরজা খুলি’-লেখেন লাকি।

‘যাওয়ার আগে বাসার কম্পিউটারের হিস্ট্রি চেক করেন। এছাড়া সুহেল যে রুমে ছিল সেখানে তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালান। সুহেলের ব্যবহৃত একটি ফোন ছাড়া আর কিছুই তারা পাননি।’ ‘প্রায় দেড় ঘণ্টা তারা আমার বাসায় অবস্থানকালে সুহেলকে আলাদারুমে হাতকড়া পরিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময় আমাদের সব ফোনগুলো তারা জব্দ করে রাখেন। আমার ফোনও তারা চেক করেন। যদিও ঘরে প্রবেশ করার পর আমাদের কারও সাথে উত্তেজিত আচরণ করেননি তারা।’

‘সুহেলকে নিয়ে যাওয়ার আগে আমি জানতে চাইলাম ওর বিরুদ্ধে অভিযোগ কী। তারা বললেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যুতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। আমার বাসায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের লিফলেট-পোস্টার আছে কি না জানতে চান। বাসায় সেরকম কোনো কিছু না থাকায় আমি তাদের দেখাতে পারিনি। তবে সেজন্য তারা বাড়তি কোনো তল্লাশিও করেননি।’

লাকি জানান, যাওয়ার আগে সুহেল তার মাকে কিছু না জানাতে অনুরোধ করেছেন। কিছুদিন আগে তার বাবা মারা গেছেন। তাই এই ঘটনা জানতে পারলে তারা মা আরও ভেঙে পড়তে পারেন।

লাকি গোয়েন্দাদের এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ‘যখন তখন সাদা পোশাকে নাগরিকদের ঘরে হানা দেওয়ার এই সংস্কৃতি একজন নাগরিক হিসেবে আমাকে শঙ্কিত করে। তবে কি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে যুক্ত থাকলে মানুষকে এভাবে আতঙ্ক নিয়ে রাত কাটাতে হবে?’

গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, ‘আটকের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি বলতে পারছি না। আমি খোঁজ নিছি এই রকম কেউ বলতে পারছে না। আমাদের পক্ষ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।’

এ নিয়ে কোটা আন্দোলনের অন্তত ‍তিন জন নেতা এখন নিরাপত্তা হেফাজতে। এদের মধ্যে রাশেদ খাঁন দুই দফায় ১৫ দিনের রিমান্ড পার করছেন। আর ফারুক হাসান আছেন কারাগারে। তবে সুহেলের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ সেটা স্পষ্ট নয়।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

খালেদার আইনজীবী কার্লাইলকে ঢুকতে দেয়নি ভারত

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১২ ০৫:০৯:৫৯

দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইলকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠিয়েছে ভারত সরকার। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আইনি পরামর্শদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

উপযুক্ত ভিসা না দেখাতে পারায় লর্ড আলেকজান্ডার কার্লাইলকে আটকাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১২জুলাই) দিল্লিতে একটি সাংবাদিক বৈঠক করার কথা কার্লাইয়ের। বুধবার দিল্লি বিমানবন্দরে কার্লাইলকে আটকে রাখে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেন, ‘তাঁর (লর্ড কার্লাইল) ভিসার আবেদনে উল্লিখিত সফরের উদ্দেশ্যের সঙ্গে তাঁর অভীষ্ট তৎপরতার অসংগতি রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সে কারণে পৌঁছানোর পর তাঁকে ভারতে প্রবেশে নাকচ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

এনডিটিভি জানায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার লর্ড কার্লাইলকে ভিসার অনুমতি দেয়নি। সে কারণে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ঢাকায় যাওয়ার অনুমতি না পাওয়ায় নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি খালেদা জিয়ার মামলার জটিলতা তুলে ধরতে চান।

গত ২০ মার্চ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, তাঁর দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আইনি পরামর্শ দেবেন ব্রিটেনের আইনজীবী লর্ড কার্লাইল। এসব মামলার বিচার কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড মেনে চলা হচ্ছে কি না, সেদিকে লক্ষ রাখবেন তিনি।

বিএনপির মহাসচিব জানান, খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলে যুক্ত হওয়ার সম্মতি জানিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন লর্ড কার্লাইল। সেইসঙ্গে মামলার সব বিষয় গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করার কথাও জানিয়েছেন এই আইনজীবী।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মামলায় আইনি পরামর্শ দেওয়ার জন্যই ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী লর্ড কার্লাইলকে অনুরোধ করা হলে তিনি আমাদের আইনজীবী প্যনেলের সঙ্গে যোগ দিতে সম্মতি জানান। তিনি এখন থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে মামলায় পরামর্শ দেবেন। তিনি দীর্ঘ অনেক বছর ধরে আইনি পেশা ও রাজনীতির সঙ্গে নিয়োজিত আছেন। প্রখ্যাত এ আইনজীবী হাউস অব লর্ডসের সদস্য।’

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিশেষ আদালত। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। তাঁদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যানের ৬ বছরের জেল

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১২ ০৫:০৭:৫২

মিথ্যা তথ্য ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানাকে ৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার সাত নম্বর বিশেষ জজ মো. শহিদুল ইসলাম আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ৬ বছর দণ্ডের মধ্যে দুর্নীতি দমন আইন ২০০৪ সালের ২৬ (২) ধারায় তিন বছর ও ২৭ (১) ধারায় তিন বছরের ওই কারাদণ্ড দেন আদালত।

এছাড়া রায়ে দণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরো তিন মাস করে কারাভোগ করতে হবে। তবে উভয় সাজা একত্রে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর জ্ঞাত আয় বহিভূতভাবে অর্জিত ১ কোটি ৭৮ হাজার ১৩৫ টাকা ৮৪ পয়সা সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দিয়েছেন বলে জানান দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ।

আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

২০১০ সালের ২০ জুলাই দুদকের সহকারী পরিচালক সৈয়দ আহমদের দায়ের করা মামলার এজাহারে আসামির বিরুদ্ধে ৫৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৩৫ টাকা ৮৪ পয়সা সম্পদের বিষয়ে ভিত্তিহীন হিসাব প্রদান এবং ৪৫ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ করেন।

মামলাটিতে ওই বছরের ২৫ জুলাই চার্জশিট দাখিল করে দুদক। এরপর ২০১১ সালের ৯ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। মামলাটির বিচারকাজ চলাকালে ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন ফের পেছাল

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১২ ০৫:০৪:৫৩

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) তদন্ত প্রতিবেদনের দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ঢাকা মহানগর হাকিম এ কে এম মঈন উদ্দিন সিদ্দিকী এ দিন ধার্য করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার আনিসুর রহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়ে যায়। পরে ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা।

২০১৬ সালের ১৬ মার্চ মামলাটি তদন্ত করে সিআইডিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি


বিস্তারিত খবর

শুক্রবার বাংলাদেশে আসছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১১ ১৩:৫০:০৬

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং আগামী ১৩ জুলাই শুক্রবার তিনদিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসছেন।

এ সময় তার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে। ঢাকার বাইরে রাজশাহীতেও যাবেন তিনি।

কর্মকর্তারা বলছেন, সেখানে তিনি দু'দেশের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করবেন।

ধারণা করা হচ্ছে, রাজনাথ সিং-এর এই সফরকালে সীমান্ত এলাকায় মাদক ও নারী শিশু পাচারের মতো অপরাধ, হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তা হতে পারে।

ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন এক সময়ে বাংলাদেশে যাচ্ছেন যখন বিএসএফের সৈন্যদের হাতে বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যার ঘটনা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় কমে গেছে।

বাংলাদেশে শীর্ষস্থানীয় একটি মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্র বলছে, এবছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত গত ছয় মাসে সীমান্তে বিএসএফের হাতে শারীরিক নির্যাতনে তিনজন নিহত হয়েছে এবং গুলিতে কেউ নিহত হয়নি।

কিন্তু ২০১৭ সালে সীমান্তে নিহত হয়েছিল ২৫ জন। তাদের মধ্যে ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল বিএসএফের জওয়ানদের গুলিতে। ২০১৬ সালে নিহত হয়েছে ৩০ জন এবং ২০১৫ সালে ৪৬ জন।

তবে এবছর যে তিনজন নিহত হয়েছে তারা ঠিক কী ধরনের নির্যাতনে মারা গেছে সেসব কারণের কথা উল্লেখ করা হয়নি। বলা প্রয়োজন যে সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব পরিসংখ্যান তৈরি করে।

বাংলাদেশের অন্য আরেকটি মানবাধিকার সংগঠন অধিকারও বলছে, এবছর সীমান্তে বিএসএফের হাতে তিনজন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে। কিন্তু গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৯২। ২০১৬ সালে ৮৭ এবং ২০১৫ সালে নিহত হয়েছিল ১৩২ জন।

বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সীমান্ত-হত্যা বন্ধের ব্যাপারে বাংলাদেশ ও ভারত দুটো দেশের ইতিবাচক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য রকমের উন্নতি ঘটেছে।

আইন ও শালিস কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, এব্যাপারে ভারত সরকারের মনোভাবেরও বড়ো রকমের পরিবর্তন ঘটেছে।

এ বিষয়ে একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়েছেন তিনি- মাস দুয়েক আগে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়িতে ২০ বছরের এক তরুণ বিএসএফের ছররা গুলিতে আহত হয়েছিলেন। এর প্রতিবাদ জানিয়ে আইন ও শালিস কেন্দ্র বিভিন্ন পক্ষের সাথে যোগাযোগ করে। তখন ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন থেকে তাদেরকে বলা হয়েছে যে ভারত সরকার ওই তরুণের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে।

শীপা হাফিজা বলেন,"আহত যুবককে ভারতে নিয়ে গিয়ে তাদের নিজেদের খরচে চিকিৎসা দিতে রাজি হয়েছে ভারত সরকার। এখন তার পাসপোর্ট তৈরির কাজ চলছে।"

সীমান্ত পরিস্থিতির এই উন্নতির পেছনে কী কাজ করেছে জানতে চাইলে শীপা হাফিজা বলেন, বিএসএফের সৈন্যদের হাতে নিরস্ত্র বাংলাদেশী নাগরিকদের নিহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো খুবই সোচ্চার।

তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ সরকার এসব সংগঠনের কথায় কান দিয়ে বিষয়টি ভারত সরকারের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।

"তবে এই বিষয়টি যাতে শুধু দুই দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। এটার প্রতিফলন ঘটতে হবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের নীতিমালাতেও। তা নাহলে ভারত কিম্বা বাংলাদেশ - যে কোন দেশে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিস্থিতি আবারও আগের পর্যায়ে চলে যেতে পারে," বলেন শীপা হাফিজা।

বাংলাদেশ সরকারও বলছে, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর গুলিতে এখন আর কোন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ. টি. ইমাম সম্প্রতি দিল্লি সফরে গিয়ে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় কমিয়ে আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, "বিএনপির আমলে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকট আকার ধারণা করেছিল। কিন্তু এর পরে আমাদের সরকারের আমলে আমরা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দু'দেশের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছি।"

ভারত সরকারও বলছে যে তাদের বাহিনীর সৈন্যদের হাতে সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে না।

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিএসএফের মহাপরিচালক কে. কে. শর্মা কয়েক মাস আগে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ভারতীয় সৈন্যরা এখন আর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছে না।

"প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার কারণে আমাদের জওয়ানদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। চোরাকারবারিরা জানে যে বিএসএফের সৈন্যরা গুলি করবে না, তাই তারা আমাদের উপর আক্রমণ করছে। কিন্তু তারপরেও বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছে না। কারণ এই অস্ত্র আর ব্যবহার করা হবে না এটা আমাদের সরকারে সিদ্ধান্ত।"

বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমান্ত প্রায় ২৫০০ মাইল লম্বা। এই সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম আর ভারতের অংশে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম।

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের তথ্য মতে, ভারত সরকার সীমান্তে ২০০০ মাইলেরও বেশি লম্বা কাঁটাতারের বেড়া তৈরি করেছে। এই বেড়ার উচ্চতা প্রায় তিন মিটারের মতো।

অধিকার বলছে, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিএসএফের হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বহুদিনের। তার মধ্যে রয়েছে নিরস্ত্র বাংলাদেশীদের গুলি করে হত্যা, নির্যাতন এবং অপহরণ। এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক চুক্তিরও লঙ্ঘন।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তকে বিশ্বের রক্তাক্ত সীমান্তগুলোর একটি উল্লেখ করে অধিকারের মানবাধিকার কর্মীরা এও বলছেন, শুধু তাই নয়, বিএসএফের জওয়ানরা অনেক সময় অবৈধভাবে বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকেও বাংলাদেশী নাগরিকদের উপর হামলা চালায় ও তাদেরকে অপহরণ করে থাকে।

অধিকারের হিসেবে অনুসারে ২০০০ সালের পর থেকে গত ১৮ বছরে বিএসএফ সৈন্যদের হাতে ১,১৩৬ জন নিহত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছে ২০০৬ সালে, ১৫৫ জন।

অধিকার বলছে, বিএসএফের হাতে গত ১৮ বছরে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ১,৩৬০ আর সবচেয়ে বেশি অপহরণ হয়েছে ওই একই বছরে (২০০৬), ১৬০টি। তারপরে ২০১৩ সালে, ১২৭টি।


 এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

হলমার্কের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামের ৩ বছর জেল

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১১ ১৩:৪৮:৫৩

সম্পদের বিবরণী দাখিল না করায় হলমার্কের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামের তিন বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

কারাদণ্ডের পাশাপাশি জেসমিন ইসলামকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে জরিমানার টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণাকালে জেসমিন ইসলামকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

দণ্ডিত জেসমিন ইসলাম হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর মাহমুদের স্ত্রী। তারা উভয়ই হলমার্ক ঋণ কেলেঙ্কারির মামলার আসামি।

এদিকে, রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী শফিকুল ইসলাম। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি। তবে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দুদক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর।

সম্পদের বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর দুদক কমিশনের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন রমনা থানায় নন-সাবমিশন মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জেসমিন ইসলামের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য-উপাত্ত পায় দুদক। এর পর দুদক তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয়। নির্দেশ অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী জমা না দিয়ে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। তবে সময় বাড়ানোর পরও সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলাটি তদন্ত করে ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর দুদকের উপ-পরিচালক মনজুর মোরশেদ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে ২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আদালত চার্জ গঠন করে আসামির বিচার শুরু করেন। মামলাটির বিচারকাজ চলাকালে সাত সাক্ষীর মধ্যে ছয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। আত্মপক্ষ শুনানিতে জেসমিন ইসলাম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এর পর তার পক্ষে একজনের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

  এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত