যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭ ইং

|   ঢাকা - 04:45am

|   লন্ডন - 10:45pm

|   নিউইয়র্ক - 05:45pm

  সর্বশেষ :

  ধর্ম অবমাননা নিয়ে রংপুরে সহিংসতা, আদালতে টিটু রায়ের স্বীকারোক্তি   টিকাতেই নিরাময় হবে ক্যান্সার   মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা ‘জাতিগত বৈষম্যের’ শিকার : অ্যামনেস্টি   ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র জালিয়াতি, আটক ৮   নাইজেরিয়ায় মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৫০   রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চলতি সপ্তাহে সমঝোতার আশা সু চি’র   জানুয়ারি থেকে সব বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ ভাতা: প্রধানমন্ত্রী   আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে সেরা হলেন যারা   পদত্যাগ নয়, জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন মুগাবে   কেন সৌদি আরব এমন করছে?   মরক্কোয় ত্রাণ নেওয়ার সময় পদদলিত হয়ে নিহত ১৫   ৭ মার্চকে ঐতিহাসিক দিবস ঘোষণা চেয়ে হাইকোর্টে রিট   শাহজালালের মাজারের কুপের পানিকে জমজমের পানি বলে প্রতারণা : তদন্তের নির্দেশ আদালতের   এলপিজি আমদানির জাহাজ কিনলো বেক্সিমকো পেট্রোলিয়াম   রোহঙ্গিা সঙ্কট নিরসনে চীনের ৩ ধাপের প্রস্তাব

>>  খেলাধুলা এর সকল সংবাদ

বিপিএল ঘিরে জুয়া : ১০ ভারতীয়সহ ৭৭ জন আটক

বিপিএল নিয়ে জুয়া খেলার অভিযোগে ৭৭ জুয়াড়িকে স্টেডিয়াম থেকে আটক করা হয়েছে। বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগ শুক্রুবার ম্যাচ চলাকালীন সময় স্টেডিয়াম এলাকা থেকে তাদের আটক করে।

এই ৭৭ জন জুয়ারিদের মধ্যে ১২ জন বিদেশিদের মধ্যে ১০ ভারতীয় ও ২ জন অন্য দেশের ও বাকি ৬৫ জন বাংলাদেশি। খেলা চলাকালীন সময়ে গ্যালারিতে বসেই এরা জুয়ায় সহযোগিতা করছিল।

গত বছরেও প্রায় শতাধিক জুয়ারিকে আটক করেছিল বিসিবি। বিসিবির বিশেষ দল অনুসন্ধান করে তাদের সনাক্ত করার পরেই পুলিশে ধরিয়ে দেয়। তবে গত বছর ভারতীয়দের সংখ্যা বেশি থাকলেও এবার দেশিদের সংখ্যাই বেশি।

সংবাদ সম্মেলন করে বিসিবির পক্ষে

বিস্তারিত খবর

শারজার টি-টেন টুর্নামেন্টে দল পেয়েছেন সাকিব-তামিম-মোস্তাফিজ

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-০৬ ১০:১৫:১৮

ডিসেম্বরে মাসে নতুন ফরম্যাটে ১০ ওভারের ক্রিকেট দেখতে যাচ্ছে বিশ্ব। প্রথমবার আয়োজিত টি-টেন টুর্নামেন্টে দল পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মোস্তাফিজুর রহমান। রোববার দুবাইতে অনুষ্ঠিত হয়েছে খেলোয়াড়দের নিলাম। ছয় দলের এই টুর্নামেন্ট চলবে ডিসেম্বরের ১৪ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত। শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলো।

টি-১০ ক্রিকেটের প্রথম আসরে সাকিব আল হাসান খেলবেন কেরালা কিংসের হয়ে। দলটিতে কোচ হিসেবে আছেন কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা। আরও আছেন কাইরন পোলার্ড, ওয়াহাব রিয়াজ ও সোহেল তানভীরের মত খেলোয়াড়। দলটির আইকন ক্রিকেটার ওয়েন মরগ্যান।

অন্যদিকে তামিম ইকবালকে কিনে নিয়েছেন পাখতুনস। তামিমের এখানে খেলবেন শহিদ আফ্রিদি, ফখর জামান, আহমেদ শেহজাদদের সাথে। আফ্রিদি আবার সেখানে আইকনও।

তামিম ও সাকিব পারিশ্রমিক পাবেন শীর্ষ ক্যাটাগরিতে, ৩০ হাজার ডলার। আর কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ খেলবেন বেঙ্গল টাইগার্স দলের হয়ে। সেখানে তার সতীর্থ ড্যারেন সামি, আন্দ্রে ফ্লেচার, সুনিল নারাইনের মত ক্রিকেটাররা। এখানে আইকন পাকিস্তানি সরফরাজ আহমেদ।

টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচ দশ ওভারের হবে। ইনিংসপ্রতি সময় ধরা হয়েছে ৪৫ মিনিট। প্রথম আয়োজনে সবচেয়ে বেশি ২৬ জন ক্রিকেটার খেলছেন পাকিস্তান থেকে।

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

আবারও বিসিবি সভাপতি পাপন

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-০১ ১২:০১:৫১

টানা তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নাজমুল হাসান পাপন।

বুধবার বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

অবশ্য নতুন মেয়াদে পাপনের দায়িত্বে আসা নিশ্চিতই ছিল; বাকি ছিল স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা। বুধবার সেই আনুষ্ঠানিকতাই সারা হলো।

২০১২ সালে প্রথমবারের মতো বিসিবি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন নাজমুল হাসান পাপন।আগের বিসিবি প্রধান আ হ ম মুস্তফা কামাল আইসিসির সহ-সভাপতির দায়িত্ব নিলে সরকারের মনোনয়নে দায়িত্ব পান পাপন। এরপর ২০১৩ সালের অক্টোবরে তিনি দায়িত্ব নেন বিসিবির প্রথম নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে।

২০১৩ সালের নির্বাচনের আগে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আগেই সরে দাঁড়ায় নাজমুলের সম্ভাব্য বিরোধীপক্ষ সাবের হোসেন চৌধুরীর প্যানেল। নাজমুল তাই নির্বাচিত হয়েছিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এবারের নির্বাচনে কোনো বিরোধী পক্ষই ছিল না। পাপন আবারও নির্বাচিত হলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

সভাপতি নির্বাচনের মতো এবার বিসিবির পরিচালক নির্বাচনেও ছিল না তেমন কোনো উত্তাপ। ২৫ পরিচালকের ২০ জনই আগেই নির্বাচিত হয়ে যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনয়নে সরাসরি পরিচালক হয়েছেন দুজন। বাকি তিনটি পদে নির্বাচন হয় মঙ্গলবার।

নির্বাচনে কৌতুহল ছিল স্রেফ আগের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও দেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাঈমুর রহমানকে নিয়ে। নাঈমুরসহ আরও দুজন পরিচালক হয়েছেন ভোটে জিতে।

বিস্তারিত খবর

ইসিতে বিএনপির প্রস্তাব জনস্বার্থবিরোধী: কাদের

 প্রকাশিত: ২০১৭-১০-১৯ ১৪:৪৬:৩২

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাথে অনুষ্ঠিত সংলাপে বিএনপি যে সকল প্রস্তাব দিয়েছে তা জনস্বার্থবিরোধী।

আজ বৃহস্পতিবার বনানীস্থ সেতু ভবনের সভাকক্ষে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বাস র্যা পিড ট্রানজিট-বিআরটি প্রকল্পের উত্তরা হাউজ বিল্ডিং হতে চেরাগআলী মার্কেট পর্যন্ত ফ্লাইওভার এবং টঙ্গী ব্রিজ নির্মাণের লক্ষ্যে এই চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ জনস্বার্থ মাথায় রেখে প্রস্তাব দিয়েছে, বিএনপি দলীয় স্বার্থে প্রস্তাব দিয়েছে। এই দলটি সব সময়ে নিজেদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে।

ইসির সাথে সংলাপে জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়নের বিষয়ে আওয়ামী লীগ বিরোধিতা করেনি জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ চেয়েছি। নির্বাচন সুষ্ঠ করতে যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার আমরা তাই নিতে বলেছি।

বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে দেয়া জবানবন্দির বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আদালত নিয়ে দ্বিচারিতা করছে বিএনপি, রায় পক্ষে গেলে বলে বিচার বিভাগ স্বাধীন, আর বিপক্ষে গেলে বিচারকদের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ। বিএনপি নেতাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ১৫০ বারের বেশি শুনানীর তারিখ পেছানো কি আদালতের প্রতি আস্থা প্রমাণ করে?

খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে উত্তরা-বনানী সড়কের দুইপাশে অবস্থান নেওয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের সমালোচনা করে তিনি বলন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেও তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। তারা রাস্তায় দাঁড়ায়নি। কিন্তু বিএনপি তান্ডব চালিয়েছে। তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য রাস্তায় সৃষ্ট যানজটের কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।



বিস্তারিত খবর

চীনকে হারিয়ে লক্ষ্য পূরণ বাংলাদেশের

 প্রকাশিত: ২০১৭-১০-১৯ ১৪:৪২:৪৭

শেষ শ্যুটআউট নিতে রাসেল মাহমুদ জিমি যখন এগিয়ে গেলেন স্পটের দিকে তখন মাঠের মাঝখানে মাহবুব হারুন তাকিয়ে অন্য পোস্টের দিকে। টেনশনটা নিতে পারছিলেন না বাংলাদেশ হকি দলের প্রধান কোচ। মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে তখন পিনপতন নীরবতা। মাঠের মাঝে পরস্পরের কাঁধে হাত রেখে রুদ্ধশাস অপেক্ষা খেলোয়াড়রদের। চীনের গোলরক্ষককে কাটিয়ে জিমি যখন বলটি জালে ঠেলে দিলেন তখন মওলানা ভাসানী স্টেডিয়াম হয়ে গেল এক টুকরো বাংলাদেশ। রোমাঞ্চকর এক জয়ে জিমিরা ভুলিয়ে দিলেন আগের সব ব্যর্থতা।

গোল করেই জার্সি খুলে প্যাভেলিয়নের দিকে দৌড় দিলেন লাল-সবুজ জার্সিধারীদের অধিনায়ক। বেশি দূর যেতে পারেননি জিমি, মুহূর্তেই জিমির ওপর তৈরি হলো লাল-সবুজের এক মানব পিরামিড। শ্যুটআউটে চীনকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বাংলাদেশের। যে ৬ নম্বর হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ ছিল টুর্নামেন্টের আগে, সেটা নিশ্চিত হলো। এখন জাপানের সঙ্গে শুক্রবার লড়বে পঞ্চম স্থানের জন্য। পঞ্চম হতে না পারলেও এ জয়ে নিশ্চিত হলো পরের এশিয়া কাপে বাংলাদেশের সরাসরি খেলা। এবার আর বাছাই পর্ব খেলতে হবে না লাল-সবুজ জার্সিধারীদের।

১৭ মিনিটে পর পর দুটি পিসিতে গোল করে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় চীন। দুটি গোলই করেন দু তালাকে। ২৫ মিনিটে বাংলাদেশ পেনাল্টি স্ট্রোক পেলে গোল করে ব্যবধান কমান আশরাফুল ইসলাম। ২৮ মিনিটে দু তালাকে হ্যাটট্রিক পূরণ করা গোলে চীন ব্যবধান বাড়িয়ে করে ৩-১।

৫০ থেকে ৫৪-এই চার মিনিটে চীনের ওপর দিয়ে ঝড় বইয়ে দেয় লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ওই সময়ের মধ্যে চার-চারটি পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নেয় বাংলাদেশ। চতুর্থটিতে খোরশেদ গোল করে ম্যাচে সমতা আনেন। তার আগে খোরশেদের পাস থেকে মিলন গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেছিলেন।

শ্যুটআউটের চারটি হিটের মধ্যে বাংলাদেশের গোল করেছেন ফরহাদ শিটুল, নাইম উদ্দিন, মিমো ও জিমি। সোহানুর রহমান সবুজ ব্যর্থ হয়েছেন বল বাইরে পাঠিয়ে। এ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান গোলরক্ষক আবু নিপ্পনের। বাংলাদেশের এ গোলরক্ষক রুখে দেন চীনের তৃতীয় শ্যুটআউট।

বিস্তারিত খবর

বর্ষসেরার লড়াইয়ে মেসি-রোনালদো-নেইমার

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৯-২২ ১৫:৩৪:২৮

২০১৭ সালের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও নেইমার।

২০১৭ সালের ‘দ্য বেস্ট ফিফা মেনস প্লেয়ার’ পুরস্কারের জন্য গত আগস্টে ২৪ জনের তালিকা প্রকাশ করেছিল ফিফা। শুক্রবার সেটা তিনজনে নামিয়ে এনেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

গত বছর তিনজনের তালিকায় মেসি ও রোনালদোর সঙ্গে ছিলেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের স্ট্রাইকার আঁতোয়ান গ্রিজমান। পুরস্কার জিতেছিলেন রোনালদো। মেসি হয়েছিলেন দ্বিতীয়, আর গ্রিজমান তৃতীয়।

গত ৯ বছর ধরেই বর্ষসেরার পুরস্কারটি ভাগাভাগি করছেন মেসি ও রোনালদো। সর্বোচ্চ পাঁচবার বর্ষসেরার পুরস্কার জিতেছেন বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড মেসি। রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড রোনালদো গতবারেরটিসহ জিতেছেন চারবার।

এ বছরও পুরস্কারটির জন্য ফেবারিট রোনালদো। ২০১৬-১৭ মৌসুমে তিনি রিয়ালের লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন লিগ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। আর মেসি ৩৫ গোল করে লিগ শেষ করেছিলেন। ট্রান্সফার ফির বিশ্ব রেকর্ড গড়ে বার্সেলোনা থেকে পিএসজিতে যাওয়া ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমার সম্প্রতি মাঠের বাইরেই আলোচনায় ছিলেন বেশি।

এ বছর জিতলেই মেসির রেকর্ড স্পর্শ করবেন রোনালদো। আগামী ২৩ অক্টোবর লন্ডনে ঘোষণা করা হবে বিজয়ীর নাম।

২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পুরস্কারটি দেওয়া হতো ফিফা ব্যালন ডি’অর নামে। ২০১৬ সাল থেকে এটির নতুন নাম হয়েছে দ্য বেস্ট ফিফা মেনস প্লেয়ার।

মেয়েদের বর্ষসেরার তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ভেনেজুয়েলার ডেইনা কাস্তেলানোস, যুক্তরাস্ট্রের কার্লি লয়েড ও নেদারল্যান্ডসের লিয়েক মার্টেনস।

বর্ষসেরা কোচের লড়াইয়ে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের জিনেদিন জিদান, চেলসির আন্তোনিও কন্তে ও জুভেন্টাসের মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি।

এলএবাংলাটাইমস/এ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

চার বছর পর আশরাফুলের সেঞ্চুরি

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৯-১৫ ১৪:১৭:২৩

ওয়ালটন ১৯তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের উদ্বোধনী দিনে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ঘরোয়া ক্রিকেট মৌসুমের প্রথম সেঞ্চুরিটিও এল আশরাফুলের ব্যাট থেকে।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে স্বাগতিক চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে ঢাকা মেট্রোর হয়ে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছে জাতীয় দলের প্রাক্তন এ অধিনায়ক। চার বছর পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন আশরাফুল।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আশরাফুলের সবশেষ সেঞ্চুরিটি এসেছিল ২০১৩ সালে। বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফরে গল টেস্টে ১৯০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এর কিছুদিন আগেই বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনের হয়ে বগুড়ায় বিসিবি নর্থ জোনের বিপক্ষে করেন ১৩৩ রান।  জাতীয় ক্রিকেট লিগে ছয় বছর পর পেলেন প্রথম সেঞ্চুরি। ২০১১ সালে ঢাকা মেট্রোর হয়ে সিলেটে চট্টগ্রামে করেছিলেন ১১৯ রান।

সব মিলিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৯তম সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকে সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরি করার রেকর্ড অধিকারী আশরাফুল।

১১৬ বলে হাফ সেঞ্চুরির দেখা পান আশরাফুল। তিন অঙ্কের ঘর ছুঁয়েছেন ১৭৮ বলে। নাঈম হাসানের বলে ইনসাইড আউট শট খেলে বাউন্ডারি তুলে ৯৬ থেকে ১০০ এ পৌঁছান আশরাফুল। মাইলফলকে পৌঁছে বড় কোনো উদযাপন করেননি। ড্রেসিং রুমে ব্যাট দেখিয়ে সতীর্থদের অভিনন্দনের জবাব দেন।

সেঞ্চুরির পর অভিনন্দনের জবাব দিচ্ছেন আশরাফুল। (ছবি: জনি সোম)

সেঞ্চুরির পর  ইনিংসটিকে বড় করতে পারেননি আশরাফুল। স্কোরবোর্ডে আরও ৪ রান যোগ করেন তরুণ মেহেদী হাসান রানার আউট সুইং ডেলিভারীতে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দেন।  ১৯৪ বলে ১২ চার ও ২ ছক্কায় ১০৪ রানের ইনিংসটি সাজান আশরাফুল।

চট্টগ্রামে ঢাকা মেট্রোকে আতিথ্য দেয় চট্টগ্রাম বিভাগ। টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা মেট্রো। শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। ৭৪ রানে হারায় টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানের উইকেট। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন আশরাফুল। মেহরাব হোসেন জুনিয়রকে সঙ্গে নিয়ে ১৭৪ রানের জুটি গড়েন।

বিপিএলে ফিক্সিং কান্ডে জড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিষিদ্ধ হয়েছিলেন আশরাফুল। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গত বছর জাতীয় ক্রিকেট লিগ দিয়ে মাঠে ফিরেন তিনি। ঢাকা মেট্রোর হয়ে ভালো করতে পারেননি গত লিগে।৫ ম্যাচে ৬ ইনিংসে ২০.৫০ গড়ে মোট ১২৩ রান করেছিলেন। তবে এবার ১৯তম আসরের শুরুতেই সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে নিজের ফর্ম জানান দিলেন।

এবার শুরুটা দুর্দান্ত হল আশরাফুলের। মাঠে সেই পুরনো আশরাফুলকেই যেন দেখতে পেলেন সমর্থকরা। দেখা যাক জাতীয় লিগের শুরুর ফর্ম শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখতে পারেন কি না।

বিস্তারিত খবর

এল.এ বাংলা ইউনিক ক্লাবের সামার ক্রিকেট টূর্নামেন্ট সম্পন্ন

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৯-০৭ ০২:০৪:৩৪

বিপুল উৎসাহ-উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো এল.এ বাংলা ইউনিক ক্লাব আয়োজিত দুই মাসব্যাপী সামার ক্রিকেট টূর্নামেন্ট ২০১৭। গত ৪ সেপ্টেম্বর সোমবার লস এঞ্জেলেসের উডলি পার্কে জমজমাট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টুর্নামেন্টটি সমাপ্ত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন। তিনি খেলা শেষে বিজয়ী দলের সত্ত্বাধিকারী ও এল.এ বাংলা ইউনিক ক্লাবের প্রেসিডেন্ট আজিজ মোহাম্মদ হাই ও ক্লাব ক্যাপ্টেন আরিফের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন। এসময় তিনি প্রবাসের জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও দেশীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্য এই খেলাধুলা চর্চার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

ফাইনাল খেলায় লস এঞ্জেলেস টাইগার্স ক্লাব ভ্যালি ইউনিক ক্লাবকে ৪৮ রানে পরাজিত করে। সীমিত ওভারের (টি-২০) এই খেলায় ৩ উইকেট ও ১৮ রান নিয়ে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হন বিজয়ী দলের অলরাউন্ডার শোয়েব। ১১ উইকেট ও ৭০ রান করে ম্যান অফ দ্যা সিরিজ হন রানার্স আপ দল ও ভ্যালী ইউনিক ক্লাবের ক্যাপ্টেন জনি। রানার্স আপ দলের পুরস্কার গ্রহণ করেন ভ্যালী ইউনিক ক্লাবের সত্ত্বাধিকারী শেখ সালাম ও ক্যাপ্টেন জনি।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহা, বিশিষ্ট কমিউনিটি লিডার মোমিনুল হক বাচ্চু, কমিশনার (এল.এ.পি.ডি) মারুফ ইসলাম, কোরিয়া টাউন নেইবারহুড কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট জেরীন ইসলাম, কমিউনিটি লিডার মাসুদুর রব চৌধুরী, কামরুল হাসান, আলী আহমেদ ফারিস, সোহেল ইসলাম, শেখ শহীদুল ইসলাম, আনিসুর রহমান, নেইবারহুড কাউন্সিল মেম্বার ফয়সাল আহমেদ তুহীন প্রমুখ।

অতিথিবৃন্দ এলএ বাংলা ইউনিক ক্লাবের উদ্যমী যুবকদের ক্রীড়ানুরাগী মনোভাবের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্হিত অতিথিবৃন্দ, সকল দর্শককে, খেলোয়াড়, সাংবাদিক ও টুর্নামেন্টের পৃষ্টপোষকদের কৃতজ্ঞতা জানান এল.এ বাংলা ইউনিক ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, তিন বছর আগে উদীয়মান কিছু তরুনদের সমন্বয়ে  এই ক্লাবটি গঠিত হয়েছে। যারা প্রতিবছর উডলি পার্কে বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করে থাকে। আর প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন ক্রিকেট খেলার ব্যবস্হা করে। প্রতি গ্রীস্মের (সামার ভ্যাকেশন ) ছুটিতে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলেদেরকে নিয়ে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করে থাকে। আগামী দিনে আরও বড় ধরনের টুর্নামেন্টের আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্লাব নেতৃবৃন্দ।


এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সাকিব বর্তমান সময়ের সেরা অল রাউন্ডার

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-৩১ ০৩:৫৭:৫৭

বাংলাদেশের ক্রিকেট সব সময় কিছু অসাধারণ খেলোয়াড় পেয়েছে। এদের মধ্যে প্রকৃতি প্রদত্ত মেধায় ভরপুর ছিলেন মো.আশরাফুল বা আফতাব আহমেদের মত তারকারা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুর্বল নৈতিকতার কারণে তারা নিজেদের মেধার প্রতি সুবিচার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি নিজেদের।

তবে এদের মধ্যে থেকে একজন খেলোয়াড় ঠিকই সঠিক পথটি খুঁজে নিয়েছেন। তিনি বর্তমান ক্রিকেট বিশে^র সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বা এ যাবৎ কালে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ক্রিকেটার। কঠোর পরিশ্রমের কারণে অর্জিত যোগ্যতার কারণে তিনি এখন তরুণ ক্রিকেটারদের কাছে অনুকরণীয়।

কিন্তু প্রশ্ন হলো সাকিব কিভাবে ক্রিকেটের তিন ফর্মেটেই বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার হয়ে উঠলেন। নিশ্চয়ই তার ‘বি্শ্ব সেরা’ হওয়ার পিছনে কিছু কারণ আছে। এবার আমরা বিশ্লেষণ করবো এ কারণগুলো।

ব্যাটিং প্রতিভা: একজন স্পিন অলরাউন্ডার সব সময় ভাল মারমুখি ব্যাটসম্যান হয়ে উঠতে পারেনা। বিশেষ করে স্লো-বাঁহাতি। কিন্তু গতানুগতিক প্রথা ভেঙ্গে তিনি হয়ে ওঠেছেন বিশ্বের শীর্ষ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। যে কোন পরিস্থিতিতে ব্যাট করার সামর্থের কারণে তিনি হয়ে উঠেছেন প্রতিপক্ষের জন্য হুমকির কারণ। তিনি যেমন দারুন দক্ষতার সঙ্গে বোলিং করতে পারেন তেমনি ব্যাট হাতে দলকে পৌঁছে দিতে পারেন বড় ইনিংসে। যে কারণে সাকিবের রয়েছে আলাদা ভক্তকুল । বাংলাদেশে ক্রিকেট ভক্তদের একটা ধারণাহলো-সাকিব যতক্ষণ ক্রিজে আছে, ততক্ষণ আশা আছে।

বোলিংয়ের চেয়ে ব্যাটিংয়ের প্রতি সাকিবের ভালবাসা কিছুটা বেশী। সাকিব নিজেই বলেছেন, বোলিংয়ের চেয়ে ব্যাটিং নিয়ে তিনি বেশি পরিশ্রম করেন।

এ পর্যন্ত ৫০ টেস্টে ৯৪ ইনিংস থেকে ৫ সেঞ্চুরি ও ২২ হাফ সেঞ্চুরিসহ ৩৫৬৮ রানের পাশাপাশি ১৬৭ ওয়ানডে ইনিংস থেকে ৪৯৮৩ রান সংগ্রহে রয়েছে সাকিবের। টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে তার বর্তমান ব্যাটিং গড় দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৩৭,৯৫ ও ৩৪.৮৪। যে কারণে দলে তিনি সেরা ব্যাটসম্যানের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

বোলিং পারফর্মেন্স: সাকিব হচ্ছেন একজন বুদ্ধিমান বোলার। তার বোলিং দেখেই বুঝা যায়, বোলিংয়ে প্রকৃতি প্রদত্ত মেধা লুকিয়ে আছে। তিনি দলের মধ্যেও সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন। নিজের জন্য এতকিছু করা সম্ভব হবার কারণ হচ্ছে তার কঠোর পরিশ্রম। যার মাধ্যমে নিজের প্রতিভাকেও ছাড়িয়ে গেছেন। সাকিবের বোলিং হচ্ছে একটি প্রকৃতিগত প্রতিভা।

রবিন্দ্র জাদেজার পর নি:সন্দেহে সাকিব হচ্ছেন বিশ্বের সেরা স্লো -বাঁহাতি বোলার। যখন প্রতিপক্ষের উইকেট ফেলে দেয়ার প্রয়োজন হয়, কিংবা তাদের রান তোলার গতি কমানোর প্রয়োজন পড়ে তখনই সাকিবের হাতে বল তুলে দেয়া হয়। যেখানে তিনি কখনো হতাশ করেননি।

টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে সাকিব ক্রিকেট বিশ্বের সেরা বোলারদের একজন হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

ধারাবাহিকতা: বাংলাদেশ দলের জন্য প্রত্যাশার চেয়ে বেশী কিছু দিয়েছেন সাকিব। ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশে সব সময় প্রতিভাবান খেলোয়াড় বের হচ্ছে। তবে তাদের বেশীরভাগই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেননা। তাদের মধ্যে কেউ হয়তোবা একবার/দুবার ভাল করে ভক্তদের বাহবা কুড়িয়েছেন।

কিন্তু সাকিব বাংলাদেশের একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি সব সময় ধারাবহিকতা রক্ষা করে চলেছেন। তার আগে এমন ধারাবাহিক খেলোয়াড় বাংলাদেশ কখনো দেখেনি। ২০০৬ সালে সবার নজরে আসার পর থেকে ৩০ বছর বয়সি এই তারকা একই ধারাবহিকতা প্রদর্শন করে আসছেন। যা এর আগে কেউ দেখাতে পারেনি। যে কারণে তিন ফর্মেটের ক্রিকেটেই দীর্ঘ সময় ধরে তিনি শীর্ষ র্যাং কটি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। মাঝপথে রবিন্দ্র জাদেজা টেস্টের একনম্বর অল রাউন্ডারের জায়াগাটি দখল করেছিল। কিন্তু সাকিব ফের দীর্ঘ ভার্সনের ক্রিকেটের এক নম্বর র্যাং কটি পুনরুদ্ধার করেন। বর্তমানে টি২০, ওডিআই এবং টেস্ট এই তিন ফর্মেটেরই এক নম্বর অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

ম্যাচ জয়ের সামর্থ্য: আইসসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব যা করে দেখিয়েছেন বাংলাদেশ দলের আর কোন ক্রিকেটার এরকম ম্যাচ জয়ের দক্ষতা দেখাতে পারেনি। ওই ম্যাচে আপাতদৃস্টিতে কিউইদের বিপক্ষে বাংলাদেশ হারতে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে সঙ্গী হিসেবে নিয়ে সাকিব হারিয়ে দেন ব্ল্যাক ক্যাপসদের। যে কোন পরিস্থিতে ম্যাচ জয়ের সামর্থ্য আছে সাকিবের।

নিউজিল্যান্ডের ছুড়ে দেয়া ২৬৬ রানের টার্গেট টপকাতে গিয়ে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশের টপ অর্ডার। ১১.৪ ওভারে ৩৩ রান তুলতেই হারায় ৪ উইকেট। এরপর সাকিব এবং রিয়াদ বাংলাদেশকে জয় এনে দিয়েছেন। সাকিবের ওই নায়কোচিত পারফর্মেন্সের কারণেই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌছাতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ম্যাচে সাকিব ১১৫ বল মোকাবেলায় ১১৪ রান করেন। এটি হচ্ছে তার করা অনেক কীর্তির একটি। ব্যাটে হোক কিংবা বোলিংয়ে, তিনি বাংলাদেশকে বহুবার সংকটাপন্ন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করেছেন।

অধ্যাবসায়: দলের মধ্যে জয়ের মানসিকতা যুক্ত করেছেন সাকিব। এটি একক মেধা দিয়ে হয়না। আশরাফুর বা আফতাবের মধ্যেও প্রকৃতি প্রদত্ত মেধা ছিল। কিন্তু অধ্যাবসায় ও আত্মবিশ্বাসে ঘটতির কারণে তারা সফলতা পায়নি, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য অপরিহার্য্য।

যদি শুধুমাত্র পূর্বসুরি মেধাবীদের মত প্রকৃতিপ্রদত্ত মেধার ওপর নির্ভরশীল থাকতেন, তাহলে হয়তো সাকিবও হারিয়ে যেতেন। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তি তাকে আজ বিশ্ব সেরার আসনে বসিয়েছে। সাকিব থাকা মানে দলে দু’জন খেলোয়াড় থাকা। ১১জন খেলোয়াড় নিয়ে দল গঠিত হলেও একাদশে সাকিব থাকা মানে ১২জন খেলোয়াড় দলে থাকা।

তিনি বিশ্ব সেরার আসনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত এবং বাংলাদেশে সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের আসন অলংকৃত করলেও সব সময় সচেতন থাকেন। তিনি কোন কিছুর ওপর নির্ভর করে থাকেন না। সব সময় কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে নিয়োজিত থেকে সেরার আসনটি ধরে রেখেছেন।

সাকিবের নায়কোচিত নৈপুন্য সর্বশেষ দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক ছিলেন সাকিব। প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে করেছেন ৮৪ রান। কিন্তু বল হাতে পাঁচ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে সাফল্য না পেলেও বল হাতে আবারো ৫ উইকেট শিকার করে হয়েছেন ম্যাচ সেরা। তার চেয়েও বড় কথা এ ম্যাচ দিয়ে ক্রিকেট রেকর্ডর অনেক পাতায়ই নাম লিখিয়েছেন তিনি।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সাকিবের অসাধারণ রেকর্ড

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-২৮ ১৫:০৫:৫২

জশ হ্যাজেলউডকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট পেলেন সাকিব আল হাসান। আর এতে আবারও ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন সাকিব।

টেস্ট খেলুড়ে সবগুলো দেশের বিপক্ষে (আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড বাদে) ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড বুকে নাম তুললেন সাকিব। বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডারের আগে সবকটি দেশের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব ছিল তিনজনের। সবার আগে এ রেকর্ড গড়েছিলেন মুত্তিয়া মুরালিধরন। এরপর ডেল স্টেইন এবং রঙ্গনা হেরাথ। চতুর্থ বোলার হিসেবে সাকিব বিরল রেকর্ড বুকে ঠাঁই পেলেন।

২০০৭ সালে টেস্ট অভিষেক সাকিবের। কিন্তু এবারই প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলার সুযোগ মিলল তার। অসিদের বিপক্ষে সাদা পোশাকে আগে মাঠে নামলে নিশ্চিতভাবেই এ রেকর্ড আরো আগে হয়ে যেত। তবে ৫০তম ম্যাচ খেলার মঞ্চে বিরল এ রেকর্ড দ্বিগুণ উৎসবের আনন্দ দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে সাকিবের ইনিংসে ৫ উইকেট হলো ১৬ বার। সর্বোচ্চ ৩ বার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২ বার করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও সবশেষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একবার করে।

এলএবাংলাটাইমস/এ/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

যে ৯টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-২৭ ০৬:২৫:০৪

সেই ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০০টি টেস্ট ম্যাচ খেলল টাইগাররা। তার মধ্যে প্রথম ১০০ টেস্টে জয় এসেছে ৯টি।

জানুয়ারি ৬-১০, ২০০৫, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ ২২৬ রানে জয়ী
টাইগাররা প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় চট্টগ্রামে৷ ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৪৮৮ রান তোলে স্বাগতিকরা৷ আর দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ৯ উইকেটে ২০৪ রান করে৷ প্রথম ইনিংসে জিম্বাবোয়ের স্কোর ছিল ৩১২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৪ রান৷

জুলাই ৯-১৩, ২০০৯, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ: বাংলাদেশ ৯৫ রানে জয়ী
দেশের বাইরে বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট জয়ের দেখা পায় ২০০৯ সালের ১৩ জুলাই৷ কিংসটাউনে সেই টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৯৫ রানে হারায় টাইগাররা৷

জুলাই ১৭-২০, ২০০৯, প্রতিপক্ষ ওয়েস্টইন্ডিজ: বাংলাদেশ চার উইকেটে জয়ী
সেবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর ছিল সাফল্যে ঠাসা৷ দ্বিতীয় টেস্টে সেন্ট জর্জেসে স্বাগতিকদের হারায় টাইগাররা, সেবার জিতেছিল চার উইকেটে৷

এপ্রিল ২৫-২৯, ২০১৩, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ ১৪৩ রানে জয়ী
জিম্বাবোয়ের হারারেতে স্বাগতিকদের আবার ‘বধ’ করে টাইগাররা৷ প্রথম ইনিংসে ৩৯১ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৯১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ৷ জবাবে প্রথম ইনিংসে ২৮২ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫৭ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবোয়ে

অক্টোবর ২৫-২৭, ২০১৪, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ তিন উইকেটে জয়ী
ঢাকায় বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়৷ তিন দিনে শেষ হওয়া সেই টেস্টে শুরুতে ব্যাট করতে গিয়ে প্রথম ইনিংসে ২৪০ রান করে জিম্বাবোয়ে৷ আর দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ছিল ১১৪৷ অন্যদিকে, প্রথম ইনিংসে ২৫৪ আর দ্বিতীয় ইনংসে ৭ উইকেটে ১০৭ রান তুলে জিতে যায় স্বাগতিকরা৷

নভেম্বর ৩-৭, ২০১৪, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ ১৬২ রানে জয়ী
খুলনায় জিম্বাবোয়েকে হারায় বাংলাদেশ৷ সেই টেস্ট পাঁচ দিন পর্যন্ত গড়ালেও শেষমেশ তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি জিম্বাবোয়ে৷ ফলাফল স্বাগতিকদের ১৬২ রানের জয়৷

নভেম্বর ১২-১৬, ২০১৪, প্রতিপক্ষ জিম্বাবোয়ে: বাংলাদেশ ১৮৬ রানে জয়ী
আবারো চট্টগ্রামে জিম্বাবোয়েকে হারায় টাইগাররা৷ সেবার ব্যবধান ছিল ১৮৬ রানের৷

অক্টোবর ২৮-৩০, ২০১৬, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড: বাংলাদেশ ১০৮ রানে জয়ী
এখন পর্যন্ত বড় কোনো ক্রিকেট শক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট জয় এটি৷ ঢাকায় ইংল্যান্ডকে নাস্তানাবুদ করে টাইগাররা৷

মার্চ ১৫-১৯, ২০১৭, প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী
একদিকে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের শততম ম্যাচে জয়, অন্যদিকে প্রথমবারের মত শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জয়-দুই দিক দিয়েই ঐতিহাসিক বাংলাদেশের এই টেস্ট ম্যাচটি৷ পঞ্চম দিনে ৪ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা৷ ম্যাচ সেরা হয়েছেন তামিম ইকবাল৷ দ্রষ্টব্য: ইএসপিএন ক্রিকইনফো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ছবিঘরটি তৈরি করা হয়েছে৷


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

হেরে গেলেন বোল্ট

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৮-০৬ ০২:১৫:২০

পারলেন না ইউসেইন বোল্ট। জীবনের শেষ একশো মিটার দৌড়ে তাঁর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাস্টিন গ্যাটলিনের কাছে হেরে গেলেন কিংবন্তি এই অ্যাথলিট। জীবনের শেষ একশো মিটার দৌড়ে পরাজয় সঙ্গী হয়ে থাকল বোল্টের। তৃতীয় হয়ে ট্র্যাক ছাড়তে হল তাকে।

লন্ডনে একশো মিটারের ট্র্যাকে শেষ বারের মতো দৌড়তে দেখা গেল তাঁকে। শনিবার রাতের পরে সেই কথাটা এখন বাস্তব। ইউসেইন বোল্ট আর একশো মিটারে দৌড়বেন না। ট্র্যাকে আর একবার তাঁকে অবশ্য দেখা যাবে। যখন একশো মিটার রিলেতে দৌড়বেন তিনি।

সেমিফাইনাল বা ফাইনালে মোটেই নিজের সেরা ফর্মের কাছেধারে ছিলেন না বোল্ট। সেমিফাইনালে দ্বিতীয় হলেন। তার আগে হিটেও নিজের ফর্ম নিয়ে খুশি ছিলেন না বোল্ট। হবেনই বা কী করে! কেরিয়ারের শেষ মিটে তার লক্ষ্য একটাই বরাবরের মতো সোনা জিতে শেষ করা। কিন্তু ১০০ মিটারের হিটে শুরুটা এতটাই খারাপ হল তাঁর, যে ৫০ মিটার পর্যন্ত তিনি পাঁচ নম্বরে ছিলেন। শেষ ৫০ মিটারে সবাইকে ছাপিয়ে ১০.০৭ সেকেন্ডে হিট জিতলেও সন্তুষ্ট হওয়ার জায়গা নেই।

কেন ক্ষুব্ধ সেটা কিছুক্ষণ পরে বোঝা গেল। লন্ডন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে যে রকম ‘স্টার্টিং ব্লক’ ব্যাবহার করা হচ্ছে সেটা নিয়েই অসন্তুষ্ট জামাইকান মহাতারকা। বোল্ট পরে বলেন, ‘‘ব্লক থেকে বেরনোর সময় কিছুটা হড়কে গিয়েছিলাম। এ রকম স্টার্টিং ব্লকের অভিজ্ঞতা আমার আগে হয়নি।’’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘আমায় এই স্টার্টিং ব্লকের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। যখন দৌড়নোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম তখনও একই রকম সমস্যা হচ্ছিল।’’ বোল্টের প্রতিদ্বন্দ্বী জাস্টিন গ্যাটলিন আবার হিটে নামার পরে দর্শকদের ব্যঙ্গের শিকার হন। শেষ পর্যন্ত তিনি হিট জেতেন ১০.০৫ সেকেন্ডে।

লন্ডন বিশ্বমিট অভিযান দুরন্ত ভাবে শুরু করলেন আর এক কিংবদন্তি মো ফারা। ১০ হাজার মিটারে সোনা জিতে। সময় নিলেন ২৬:৪৯.৫৩। ২০১২ অলিম্পিক্সে যেখানে সোনা জিতেছিলেন সেই লন্ডন স্টেডিয়ামেই তিনি ফের সোনা জিতলেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে। উগান্ডার জোশুয়া চেপটগেই রুপো জেতেন আর ব্রোঞ্জ পান কেনিয়ার পল তানুই।

৩৪ বছরের ব্রিটিশ অ্যাথলিট ফারা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন বোল্টের মতোই লন্ডন মিটের পরই তিনি অবসর নেবেন। ফারা ৫০০০ মিটারেও যদি সোনা জিততে পারেন তা হলে টানা তৃতীয় বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ডাবল করার কৃতিত্ব দেখাবেন।
তবে একটা সময় কিন্তু ফারা প্রবল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গিয়েছিলেন। শেষ ল্যাপে তিনি দু’বার হোঁচট খান। সামলে নেন কোনও রকমে। সোনা জেতার পরে পরিবারের সঙ্গে ট্র্যাকে নেমে দর্শকদের অভিবাদন নেওয়ার পরে ফারা বলেন, ‘‘ব্রিটিশ হিসেবে গর্ব হচ্ছে। অনেক দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছি কেরিয়ারে। দুরন্ত কাটল। খুব কঠিন ছিল লড়াইটা। তবে মানসিক ভাবে শক্তপোক্ত থাকায় সব সামলাতে পেরেছি।’’ ফারা-র শেষ মিটের উৎসব নষ্ট করার কোনও আয়োজনের ত্রুটি ছিল না ফারা-র প্রতিদ্বন্দ্বীদের। বিশেষ করে উগান্ডা এবং কেনিয়ার অ্যাথলিটদের।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সেরা বাঙালির পুরস্কার পেলেন মাশরাফি

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৭-৩০ ০৩:২০:৪১

ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের জন্য মাশরাফি বিন মর্তুজাকে ‘আনন্দবাজার সেরা বাঙালি পুরস্কার- ২০১৭’ এর জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। কলকাতায় শনিবার রাতে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাশরাফির হাতে এর পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

ভারত নারী ক্রিকেট দলের বোলার ঝুলন গোস্বামী বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

মাশরাফি বিন মর্তুজা বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় নাম। ক্রিকেট যেমন বাঙালির আবেগে মিলে যাওয়া একটি খেলা, ঠিক তেমনি মাশরাফিও বাঙালির আবেগের নাম। বারবার বাঁধা ডিঙিয়ে যুদ্ধের ময়দানে বিজয়ীর রূপে ফেরায় যিনি সবার আদর্শ।

ক্যারিয়ার জুড়ে ইনজুরির সঙ্গে লড়েও একটুও দমে না গিয়ে ক্রিকেটে নিজ দেশকে উজাড় করে দিয় চলেছেন মাশরাফি। সেরা বাঙালির পুরস্কার অনুষ্ঠানে শনিবার মাশরাফির উপর যে ভিডিও চিত্র দেখানো হয়, সেখানে সৌরভ গাঙ্গুলির পর নড়াইল এক্সপ্রেসকে ‘সেরা বাঙালি অধিনায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

মাশরাফি ৩ ফরমেটের ক্রিকেট মিলিয়ে অধিনায়ক হিসেবে ৩৮টি ম্যাচ জিতেছেন। নড়াইল এক্সপ্রেসের হাত ধরেই ওয়ানডে বিশ্বকাপের শেষ আটে খেলেছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমি ফাইনালে খেলা বাংলাদেশ দলের অধিনায়কও মাশরাফি। এছাড়া ঘরের মাঠে পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় করে বাংলাদেশ।

২০১৪ সালে একের পর এক হারে যখন ছন্নছাড়া বাংলাদেশের ক্রিকেট, তখন মাশরাফির উপর রঙিন পোশাকের নেতৃত্বভার উঠে। এবং অনেকটা জাদুর কাঠির ছোঁয়ার মতোই বদলে দিয়েছেন তিনি বাংলাদেশ দলের চেহারা।

দেশের হয়ে ৩৬টি টেস্ট, ১৭৯টি ওয়ানডে ও ৫৪টি টি-টুয়েন্টি খেলেছেন মাশরাফি। ২০০৯ সালে ইনজুরিতে পড়ার পর আর টেস্টে ফেরা হয়নি। তবে ওয়ানডে এবং টি-টুয়েন্টি খেলে গেছেন। কদিন আগে শ্রীলঙ্কা সফরে অবশ্য টি-টুয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন মাশরাফি।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

২০২১ সাল পর্যন্ত বার্সাতেই মেসি

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৭-০৫ ১১:০৭:৩৮

২০২১ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনাতেই থাকছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল সুপার স্টার লিওনেল মেসি। মেসির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে বুধবার ঘোষণা দিয়েছে কাতালান ক্লাবটি। বাল্যবান্ধবীকে বিয়ের কয়েকদিনের মধ্যেই এই চুক্তিতে সম্মত হলেন মেসি।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বার্সেলোনা জানায়, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মৌসুম পুর্ব অনুশীলনে মেসি যোগ দিলেই নতুন চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হবে।’ এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি ক্লাবটি। এর ফলে ৩৪ বছর বয়স পর্যন্ত ক্যাম্প ন্যুতেই কাটাবেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর খেতাব জয়ী আর্জেন্টাইন মেগাস্টার। ক্লাবের সঙ্গে বর্তমান চুক্তিটি ২০১৮ সালের জুনে শেষ হবার কথা ছিল।

২০০০ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনার ইয়ুথ ট্রেনিং সেন্টারে যোগ দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। বর্তমানে ৩০ বছরে পৌছে যাওয়া এই আর্জেন্টাইন তারকা প্রসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘মেসির বয়স যখন ১৬ বছর তখন প্রথমবারের মত মুল দলে তার অভিষেক ঘটে, এফসি পোর্তোর বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই সিনিয়র দলে গোলের দেখা পান তিনি। ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত আলবাসেতের বিপক্ষে ম্যাচে লক্ষ্য ভেদ করেছিলেন তিনি।’

সেটি এখন জমতে জমতে পৌছে গেছে ৫০৭টিতে। এ পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে তিনি ৫৮৩টি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে তিনিই ক্লাবটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলতাদার তালিকায় আসন করে নিয়েছেন। মেসিকে বর্তমানে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিস্তারিত খবর

আইসিসি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৭-০২ ১২:০৪:৩২

পরবর্তী আইসিসি বিশ্বকাপে টেস্ট ১০টি পূর্ণ সদস্য দলের শীর্ষ আট দল সরাসরি খেলবে, বাকি দুটিকে বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসতে হবে। এমন সিদ্ধান্ত আগেই ছিল। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ আট দল বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে। বর্তমান অবস্থান বিবেচনায় বাংলাদেশ থাকছে সরাসরি খেলা আট দলের মধ্যে। এমনটি অনেকটা নিশ্চিত করেই জানালেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হাসান বলেছেন, ‘আগেও বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে বাছাইপর্ব খেলতে হবে না। এখন পর্যন্ত যে হিসাব, কারও মনে হচ্ছে না বাংলাদেশকে সেটা খেলতে হবে। সেদিক থেকে বলতে পারি বাংলাদেশ এবার সরাসরি খেলবে। এ ব্যাপারে আইসিসি যেভাবে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে, আমরাও তাই করছি। কারণ, পয়েন্টের ব্যবধান এত বেশি যে অন্য কিছু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।’

২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সরাসরি খেলবে কি না, এ নিয়ে প্রায় দুই বছর ধরেই হিসাব-নিকাশ চলছিল। তবে এ নিয়ে সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন নাজমুল হাসান। বিসিবি সভাপতির দাবি, ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটেই থাকবে বাংলাদেশ। এর মানে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ খেলতে কোনো রকম বাছাইপর্বের মধ্য দিয়ে যেতে হবে না বাংলাদেশকে।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ যে প্রায় নিশ্চিত, সেটা বোঝা গিয়েছিল চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেই। নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে র‍্যাঙ্কিংয়ে ছয়ে চলে আসে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গেও পয়েন্ট ব্যবধান বাড়িয়ে ১৪ করে ফেলেন মাশরাফিরা।

৩০ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ড ও র‍্যাঙ্কিংয়ের বাকি শীর্ষ সাত দল বিশ্বকাপে নিশ্চিতভাবে খেলবে। বাকি দুটি দলকে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করতে হলে পেরোতে হলে বাছাইপর্ব। এ সময়ে বাংলাদেশের কোনো ম্যাচ না থাকলেও শ্রীলঙ্কা খেলছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ওয়েস্ট ইন্ডিজও ভারতের পর খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে, দুই দল সব ম্যাচ জিতলেও বাংলাদেশকে আটের বাইরে পাঠাতে পারবে না। ফলে বাছাইপর্ব নিয়ে ভাবনাচিন্তা এখন শ্রীলঙ্কা কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজের। আর বাংলাদেশ রয়েছে নিরাপদ অবস্থানেই।


এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ভারতে কোচের পদ ছাড়লেন অনিল কুম্বলে

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-২০ ১৬:৩৯:১৪

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে বাজেভাবে হেরে যায় ভারত। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের কাছে শিরোপা হাতছাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যাচ্ছে কোহলি-ধাওয়ানরা। এমন সময়ে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কোচ অনিল কুম্বলে।

তিনি জানিয়েছেন ভারতের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যাচ্ছেন না তিনি। ইতিমধ্যে পদত্যাগ পত্র তিনি ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

২৩ জুন থেকে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে ও এক ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে। কিন্তু ভারত দলের সঙ্গে কুম্বলে এই সফরে যাচ্ছেন না। তিনি আইসিসির সভায় যোগ দিতে লন্ডনেই থেকে যাচ্ছেন। ভারতের কোচের পাশাপাশি তিনি আইসিসির ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান।

ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী মূলত বিরাট কোহলির সঙ্গে কুম্বলের সম্পর্কের অবণতির কারণেই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সবশেষ দুই ম্যাচে কুম্বলে ও কোহলির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। কিছু কিছু সংবাদ মাধ্যম এও প্রকাশ করেছে যে কুম্বলের কোচিং পদ্ধতি পছন্দ নয় কোহলির। তাদের দুজনের দ্বন্দ্বের কারণেই কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন কুম্বলে।

২০১৬ সালের জুন মাসে কুম্বলেকে ১ বছরের মেয়াদে ভারত দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় বিসিসিআই। স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব নিয়েও বেশ সফল ছিলেন ভারতের প্রাক্তন এই ক্রিকেটার। তার তত্ত্বাবধানে ভারত দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতে। পাশাপাশি আইসিসি টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠে ভারত।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর পরই ভারতের সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। মাঝে গুঞ্জন ওঠে চুক্তির মেয়াদ বাড়ছে অনিল কুম্বলের। তার আগেই বিসিসিআই নতুন কোচ খুঁজতে শুরু করে। ভারত দলের কোচ হওয়ার জন্য বীরেন্দর শেবাগ এক লাইনের জীবন বৃত্তান্ত পাঠান। এ সময় বিসিসিআইয়ের কর্মকর্তারা জানান নতুন কোচ খোঁজার বিষয়টি কেবলই আনুষ্ঠানিকতা।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শেষ করে দেশে ফিরলে চুক্তির মেয়াদ হয়তো বাড়ত কুম্বলের। কিন্তু তার আগেই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন নিজের পদ থেকে। ভারতের সম্ভাব্য নতুন কোচ বীরেন্দর শেবাগ।


এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

টাইগারদের অবিস্মরণীয় জয়

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-০৯ ১৫:০৫:০৫

কার্ডিফে ২০০৫ সালে ওয়েলসের এই মাঠেই সে সময়ের অজেয় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল লাল-সবুজের দল। এক যুগ পর আবার সেই মাঠে খেলতে গিয়ে বাংলাদেশ লিখল আরেকটি মহাকাব্য। সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর অসাধারণ দুটি শতকে ভর করে ৫ উইকেটে হারাল নিউজিল্যান্ডকে। টিকে থাকল চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে।

হারলেই বিদায়- এমন সমীকরণ সামনে রেখে বাঁচামরার এই ম্যাচে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। শুরুতে বল হাতে ভালো নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন মাশরাফিরা। নিউজিল্যান্ডকে বেঁধে ফেলেছিলেন ২৬৫ রানে। কিন্তু ২৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই পড়েছিল ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে। ৩৩ রানেই সাজঘরে ফিরেছিলেন প্রথম সারির চার ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান ও মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের জয়ের আশা হয়তো ছেড়েই দিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু তখনও কারো কোনো ধারনাই ছিল না যে, অসাধারণ এক প্রতিরোধগাথা লিখবেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ।

অনেক চাপের বোঝা মাথায় নিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন অভিজ্ঞ এই দুই ব্যাটসম্যান। পঞ্চম উইকেটে গড়েছেন ২২৪ রানের রেকর্ডগড়া জুটি। বাংলাদেশের পক্ষে যে কোনো উইকেটে এটাই এখন সর্বোচ্চ রানের জুটির নতুন রেকর্ড। ৪৭তম ওভারে ১১৫ বলে ১১৪ রান করে সাকিব যখন সাজঘরে ফিরেছেন, তখন জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন মাত্র ৯ রান। বাকি কাজটুকু অনায়াসেই সেরেছেন মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। মাহমুদউল্লাহ খেলেছেন ১০৭ বলে ১০২ রানের নজরকাড়া ইনিংস। ১৬ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ।

ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই সাউদি সাজঘরে ফিরিয়েছিলেন দারুণ ফর্মে থাকা তামিম ইকবালকে। রানের খাতা না খুলেই ফিরে যেতে হয়েছে বাঁহাতি এই ওপেনারকে। নিজের পরের ওভারে সাউদি আউট করেছেন সাব্বির রহমানকে। আর তার পরের ওভারে সাউদির শিকার হয়েছেন সৌম্য। তিনজনের কেউই পেরোতে পারেননি দুই অঙ্কের কোটা। দ্বাদশ ওভারে ১৪ রান করে মুশফিকও ধরেছেন সাজঘরের পথ। অ্যাডাম মিলনের দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফিরে গেছেন বাংলাদেশের অন্যতম ব্যাটিং ভরসা।

এর আগে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। রস টেলর ও কেইন উইলিয়ামসন নিউজিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখালেও ইনিংসের শেষপর্যায়ে দারুণ বোলিং করেছেন রুবেল- মাশরাফি-সৈকতরা। নিউজিল্যান্ডকে আটকে দিয়েছেন ২৬৫ রানে। মাত্র ১৩ রানের বিনিময়ে তিন উইকেট নিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা তাসকিন আহমেদ নিয়েছেন দুই উইকেট। একটি করে উইকেট গেছে মুস্তাফিজ ও রুবেলের ঝুলিতে।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৩ রানের ইনিংস খেলেছেন টেলর। অধিনায়ক উইলিয়ামসনের ব্যাট থেকে এসেছে ৫৭ রান। ৩৬ ও ৩৩ রানের ছোট দুটি ইনিংস খেলেছেন নেইল ব্রুম ও ওপেনার মার্টিন গাপটিল।

আজকের এই হারের ফলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল নিউজিল্যান্ডের। আর বাংলাদেশের আশা টিকে থাকল বেশ ভালোমতোই। আগামীকাল শনিবার অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের ম্যাচে ইংল্যান্ড জিতলে বা ম্যাচটি পরিত্যক্ত হলে সেমিফাইনালে চলে যাবে বাংলাদেশ।   


এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ইতিহাসের দুয়ারে ৯৫ রানে তামিমের ‘অভিশপ্ত’ শট!

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-০৫ ১৫:৫৬:১৮

মিচেল স্টার্কের লাফিয়ে ওঠা বল তামিম ইকবালের ব্যাট ছোঁয়ার পরপরই যেন থমকে গেল পুরো ওভাল! উড়তে থাকা লাল-সবুজের পতাকাগুলো উড়ছিল না কয়েক সেকেন্ডের জন্য।

হেলমেটের ফাঁকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল তামিম কতটা হতাশ, কতটা মনক্ষুন্ন নিজের ওপর, অভিশপ্ত ওই শটের ওপর। লং লেগে বল তালুবন্দি করতেই অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের উল্লাস। ততক্ষণে তামিম আউট ৯৫ রানে! আবার সেই ৯৫?

ভুল পড়ছেন না। ওয়ানডে ক্রিকেটে এর আগে আরো দুবার ৯৫ রানে আউট হয়েছিলেন বাঁহাতি ওপেনার। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৫ ও ২০১৫ বিশ্বকাপে নেলসনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একই রানে। আজ সেই সংখ্যাটা তিনে নিয়ে গেলেন তামিম! শুধু ওয়ানডে না, টেস্টেও তামিম আউট হয়েছেন ৯৫ রানে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে ১২৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা তামিমের সোমবার আবারও সুযোগ ছিল তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছানোর। সুযোগ ছিল ক্রিকেটের গ্রেটদের পাশে বসার। কিন্তু ৫ রানের আক্ষেপে পুড়তে হলো তাকে।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সাত ব্যাটসম্যান টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন সাঈদ আনোয়ার, সৌরভ গাঙ্গুলি ও হার্শাল গিবসরা। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের মালিক তামিম ইকবাল আজ তাদের পাশে নিজের নাম লেখাতে পারতেন। কিন্তু স্টার্কের ‘অভিশপ্ত’ ওই বলে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় তামিম গৌরবগাঁথা ইনিংস! ১১৪ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৯৫ রানের ইনিংসটি সাজান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

পাকিস্তানের সাঈদ আনোয়ার ২০০০ সালের ৮ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০৫ রানের পর ১১ অক্টোবর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৪ রান করেন। একই আসরের ফাইনালে সৌরভ গাঙ্গুলি সেঞ্চুরি করেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ফাইনালের আগে সেমিফাইনালে গাঙ্গুলির ব্যাটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায় ভারত। অধিনায়ক গাঙ্গুলি করেছিলেন ১৪১ রান।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন ওপেনার হার্শেল গিবস ২০০২ সালে কলম্বোয় কেনিয়ার বিপক্ষে ১১৬ রানের পর ভারতের বিপক্ষেও করেন ১১৬ রান। ২০০৬ সালে কোয়ালিফাইং রাউন্ডে পরপর দুই ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি হাঁকান উপুল থারাঙ্গা। বাংলাদেশের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ১০৫ রানের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১১০ রান করেন শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি ওপেনার।

ক্রিস গেইল ২০০৬ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তিনটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে কোয়ালিফাইং রাউন্ডে করেছিলেন ১০৪ রান। এরপর তিন ইনিংসে রান ছিল ০, ২৪ ও ৩৪। পরবর্তীতে ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গেইলের রান ১০১ ও ১৩৩।

অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়াটসন ২০০৯ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩৬ রান করেছিলেন। পরের ম্যাচেই তার ব্যাট থেকে আসে ১০৫ রান, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০১৩ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের শিখর ধাওয়ান দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১১৪ রানের ইনিংস খেলার পর ওভালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০২ রান করেন।

অভিজাত এই ক্লাবে নিজের নাম লেখাতে পারতেন তামিমও। বীরত্বের ইনিংসে একটি ভুল ইতিহাসের দুয়ার থেকে ফিরিয়ে দিল দেশসেরা ওপেনারকে।

বিস্তারিত খবর

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ একাদশে মিরাজকে চান আগারকার

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-০৫ ০৬:২৮:৩৯

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে পাঁচ জুন সোমবার দ্য ওভালে নামবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। দুদলই চাইছে তাদের সেরা একাদশ নিয়ে মাঠে নামতে। দুদলই আভাস দিয়েছে দলে পরিবর্তনের ব্যাপারে। ইএসপিএন ক্রিকইনফো’র ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ অজিত আগারকর ম্যাচের আগে এক প্রিভিউতে বলেছেন আজকের উইকেট দেখে তিনি ভাবছেন বাংলাদেশ দলে মেহেদি হাসান মিরাজকে নিলে ভালো ফল পাবে মাশরাফি বিন মুর্তজারা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে আট জন ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলেছিল বাংলাদেশ। তবে আগারকার চান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একজন ব্যাটসম্যান কম নিয়ে মিরাজের মতো একজন অলরাউন্ডার নিয়ে খেলুক দলটি। এই প্রসঙ্গে ভারতের সাবেক এই ক্রিকেটার বলেন, ‘বাংলাদেশ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আট ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলেছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে তাদের কম্বিনেশন নতুন করে সাজানো উচিত। দলে একজন বাড়তি বোলার যোগ করা উচিত।’
ব্যাটিং নয় বাংলাদেশের ভাবনার কারণ বোলিং এমনটা মনে করে আগারকর বলেন, ‘বাংলাদেশের টপ অর্ডাররা দুর্দান্ত ফর্মে আছে সেটা আমরা প্রথম ম্যাচেই দেখেছি। আমি মনে করি, ব্যাটিং তাদের জন্য ভাবনার কারণ হবে না। কিন্তু বোলিং নিয়ে তাদের ভাবা উচিত। আমি দলে মেহেদী হাসান মিরাজের মতো কাউকে চাই। কেননা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্পিনাররা ভালো করবে। যদি না উইকেট পুরা সবুজ হয় তাহলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার পেসার খেলানোর কোনো যৌক্তিকতাই নেই।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০৫ রান করেও বোলাররা আটকাতে পারেনি। খুব সহজেই ম্যাচ হেরে যায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও এমন পরিস্থিতি এড়াতেই আগারকরের প্রস্তাব, বোলিং শক্তি বাড়াক বাংলাদেশ।
সূত্র: ইএসপিএন ক্রিকইনফো

বিস্তারিত খবর

হামলার শহরেও স্বস্তিতে অস্ট্রেলিয়া

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-০৫ ০৬:২৪:৪৩

জাহাজে করে আগেই অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের লাগেজ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। তা আবার সোনারগাঁ হোটেলেও পৌঁছে দেওয়া হয়। কিন্তু শেষপর্যন্ত দলই আসেনি। ২০১৫ সালে নিরাপত্তার অজুহাতে শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ সফর বাতিল করে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল। অথচ দুই বছর পর ইংল্যান্ডে যখন পরপর দুইবার হামলার ঘটনা ঘটলো, তখনও স্বস্তিতে অস্ট্রেলিয়ার সেই স্টিভেন স্মিথ-গ্লেন ম্যাক্সওয়েলরা।
বাংলাদেশে গেলে ক্রিকেটাদের উপর জঙ্গী হামলা হবে। অস্ট্রেলিয়ান নিরাপত্তা পরিদর্শক কমিটি থেকে শুরু করে, বাংলাদেশে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন থেকেও বাজানো হয়েছে ‘ভাঙা রেকর্ড’। শেষপর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া সরকারও ক্রিকেটারদের বাংলাদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা দেয়। আসেনি অজিরা, প্রাপ্য দুই টেস্ট কয়েক দফা আলোচনার পর তা গড়াতে যাচ্ছে চলতি বছরের আগস্টে। সেখানেও পুরনো দুঃস্মৃতি। এবারও নাকি অস্ট্রেলিয়া দলের উপর হামলা হতে পারে। এমন প্রতিবেদন ঢালাওভাবে প্রকাশ করে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম। বাংলাদেশ সফরে সেবার রাষ্ট্রপতি সমমর্যাদার নিরাপত্তা দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাতেও মন গলেনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ)। এমনকি বাংলাদেশে গেল বছর অনুষ্ঠিত হওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে যেখানে সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠভাবে গড়ালো পুরো টুর্মামেন্ট, সেখানে পুরনো জুজুর ভয়ে থরথর ‘ক্যাংগারু’বাহিনী। দলই পাঠালো না তারা! ভয়, বাংলাদেশে গেলেই জঙ্গী হামলার মুখে পড়তে হবে।
গত বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ও দুটি টেস্ট খেলে গেছে ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল। আসার আগে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডও (ইসিবি) পাঠিয়েছিলো তাদের নিরাপত্তা পরিদর্শক কমিটি। সন্তুষ্ট হয়ে দল পাঠিয়েছিলো তারা। অবশ্য ‘জীবনের ঝুঁকি’ থাকায় বাংলাদেশ সফরে আসেনি অধিনায়ক ইয়ন মরগানসহ আরো কয়েকজন ক্রিকেটার। সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়েছিল পুরো সিরিজ। ক্রিকেটারদের মুখেই ফুটেছিলো নিরাপত্তা নিয়ে প্রশংসার ফুলঝুরি। ঠিক তার পরের বছরই ইংল্যান্ডের মাটিতে গড়াচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসর। পশ্চিমা দেশ হলেও, একমাসের মধ্যে পরপর দুইবার বড় ধরণের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে সেখানকার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে। টুর্নামেন্টের আগে ম্যানচেস্টারের কনসার্টে বোমা হামলায় ২২ জন নিহত হন এবং আহত হন ৫০ জনেরও বেশি। এরপর টুর্নামেন্টের চার নম্বর ম্যাচের আগে শনিবার লন্ডন ব্রিজে হামলায় নিহত হন আরও সাতজন, আহত প্রায় ২২ জনের মতো।
নিঃসন্দেহে অবস্থানটা বাংলাদেশ হলে এতোক্ষণে তল্পিতল্পা গুটিয়ে দেশের বিমান ধরতো অস্ট্রেলিয়া দল। হয়তো বাংলাদেশ নয়, অস্ট্রেলিয়া সরকারের পাঠানো জরুরী বিমানেই ঘরের পথ ধরতো তারা। হয়তো আজীবন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনে নিষিদ্ধ হতে পারতো বাংলাদেশ। অবস্থাটা হতে পারতো পাকিস্তানের মতো! কিন্তু ইংল্যান্ডে এমন বড় ধরণের দুটি হামলার পরও স্বস্তিতে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। ইংলিশ নিরাপত্তাবাহিনীর উপরও রয়েছে তাদের ভরসা। হামলার পরপরই এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বলেছে, ‘আইসিসি ও ইসিবির নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে আমাদের নিরাপত্তা পরিদর্শকরাও কাজ করছে। ক্রিকেটার ও কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট রয়েছে। এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট।’
অথচ বাংলাদেশ সফরে এরচেয়েও বেশি নিরাপত্তাব্যবস্থা দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিলো। অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব নিরাপত্তা কমিটিকে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগও দেওয়া হয়েছিলো। তারপরও আসেনি অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের ‘সন্দেহ’ ইংল্যান্ডে ‘বাস্তব’ হয়েছে। তাতেও খুশি বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মাঝখান দিয়ে মুশফিক-সাকিবদের বিপক্ষে সিরিজটা স্থগিত করেছে অজিরা।  

বিস্তারিত খবর

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা!

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-০৪ ০২:৫৭:১৭

 ম্যানচেস্টারে হামলার রেশ না কাটতেই আবারও সন্ত্রাসী হামলায় রক্তাক্ত হল যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন। ৩ জুন শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির রাতে লন্ডন ব্রিজে পথচারীদের মধ্যে গাড়ি চালিয়ে হামলা করা হয়। ছয়জন নিহত এবং কমপক্ষে ২০ জন আহতে হয়েছে বলে জানা গেছে। এই হামলার পর পুরো ইংল্যান্ড জুড়েই নেওয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিভাগ জানাচ্ছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচেও নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে।
লন্ডন থেকে দু’ ঘণ্টার দূরত্বে এজবাস্টন। সেখানেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান। তবে তার আগেই রাজধানী লন্ডনের বুকে এমন জঙ্গী হামলায় হাই প্রোফাইল ম্যাচের নিরাপত্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ব্রিটিশ প্রশাসন। ইতোমধ্যে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে আশংকার কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ গোয়েন্দা দফতর। সেই সঙ্গে এও আশ্বস্ত করেছে যে, নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারে ভারত-পাকিস্তান।
এর আগে গত মাসের ২৩ তারিখ ম্যানচেস্টারে একটি কনসার্টে অংশ নিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পপ তারকা আরিয়ানা গ্রান্ডে। কনসার্ট চলাকালীন সেখানে বোমা হামলা হয়। প্রাথমিকভাবে ইংল্যান্ডের পুলিশ এটাকে আত্মঘাতী হামলা বলে জানায়। ওই বোমা হামলায় ২২ জন প্রাণ হারান। আহত হন অর্ধ শতাধিক। এরপরই ইংল্যান্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলও (আইসিসি)
পরবর্তীতে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দল ও দর্শকদের নিরাপত্তার সর্বোচ্চ আশ্বাস দেয় ইংল্যান্ড সরকার ও আইসিসি। এরই মাঝে আবারও এমন হামলা। স্বভাবতই দু’দলের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তবে ব্রিটিশ গোয়েন্দা দফতর জানিয়েছে, দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে এজবাস্টনকে।
সূত্র: এনডিটিভি  

বিস্তারিত খবর

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের অর্জন

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-০১ ১৫:৪১:২০

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ২০০৯ ও ২০১৩ আসরে যোগ্যতা না থাকায় খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে দিন পাল্টেছে, গত দু’বছর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেই এবার ২০১৭ আসরে জায়গা করে নিয়েছে টাইগাররা। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ শীর্ষ ছয় ওয়ানডে দল হিসেবে খেলবে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশ। যাকে গ্রুপ অব ডেথ বললেও ভুল বলা হবে না। বাংলাদেশের সঙ্গে এই গ্রুপে আছে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মতো দল। তবে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অতীত ইতিহাস ভুলে এবার টাইগারদের প্রথম লক্ষ্য সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করা।

আজ বাংলাদেশ-ইংল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অষ্টম আসরের। এরপর ৫ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবে টাইগাররা। লাল-সবুজের জার্সিধারীদের তৃতীয় ম্যাচ আগামী ৯ জুন, প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে টাইগাররা খেলেছে ৮টি ম্যাচ। যার সাতটিতেই হেরেছে। একমাত্র জয়টি ২০০৬ সালে ভারতের মটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। বাংলাদেশ আর দলের ক্রিকেটারদের অর্জনগুলো দেখে নেওয়া যাক।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে বাংলাদেশ:
* ২০০০-প্রি কোয়ার্টার ফাইনাল
* ২০০২-গ্রুপ পর্ব
* ২০০৪-গ্রুপ পর্ব
* ২০০৬-বাছাই পর্ব

সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরি: শাহরিয়ার নাফিস, ৩ ম্যাচে করেছেন ১৬৬ রান। টাইগারদের একমাত্র সেঞ্চুরিটির মালিকও নাফিস। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জেতা ম্যাচে জয়পুরে তিনি খেলেছিলেন অপরাজিত ১২৩ রানের দারুণ এক ইনিংস।

দলীয় সর্বোচ্চ: ২০০৬ সালে মোহালিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলেছিল ২৬৫ রান।

দলীয় সর্বনিম্ন: ২০০২ সালে কলম্বোতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৭৭ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

সবচেয়ে বেশি উইকেট: মোহাম্মদ রফিক। ৬৬ ওভার বল করে নিয়েছেন ৬টি উইকেট।

সেরা বোলিং: সাকিব আল হাসান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় পাওয়া ম্যাচে ১৮ রানের বিনিময়ে সাকিব নেন তিনটি উইকেট।


এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের কার কত বেতন?

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৫-০২ ১৫:১৪:৫২

জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ডের একটি চুক্তি প্রতি মৌসুমে হয়। এবার চুক্তির আগে মুশফিক-সাকিবদের চাওয়া ছিল যাতে বেতন বাড়ানো হয়। তাদের সেই চাওয়ার প্রতি সম্মান দেখিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তারা আগে যা বেতন পেত তার দেড়গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে নতুন চুক্তিতে। শুধু বেতন নয়, ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিও বাড়িয়েছে বোর্ড। ক্রিকেটারদের নতুন বেতনকাঠামো চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার এক ই-মেইল বার্তায় ক্রিকেটারদের বেতনের কাঠামোর তালিকা পাঠিয়েছে বিসিবি। তাদের সেই তালিকা অনুযায়ী চলুন দেখে নেওয়া যাক মুশফিক, সাকিব, মাশরাফি ও তামিমদের কার কত বেতন।



চুক্তি অনুযায়ী ‘এ+’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়রা ৪ লাখ, ‘এ’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়রা ৩ লাখ, ‘বি’ ক্যাটাগরি ২ লাখ, ‘সি’ ক্যাটাগরি দেড় লাখ ও ‘ডি’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়রা ১ লাখ টাকা করে প্রতি মাসে বেতন পাবেন।

সে অনুযায়ী ‘এ+’ ক্যাটাগরির মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাশারফি বিন মুর্তজা ও তামিম ইকবাল ৪ লাখ টাকা করে বেতন পাবেন। তার সঙ্গে তিন সংস্করণের তিন অধিনায়ক মুশফিক, সাকিব ও মাশরাফি ২০ হাজার টাকা করে ইনসেনটিভ পাবেন। টেস্টের সহ-অধিনায়ক তামিম ইনসেনটিভ পাবেন ১০ হাজার টাকা। সেক্ষেত্রে মুশফিক, সাকিব ও মাশরাফির মাসিক বেতন হয়েছে মাসে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর তামিমের ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।

‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকা একমাত্র খেলোয়াড় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ পাবেন ৩ লাখ টাকা। ‘বি’ ক্যাটাগরির ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, সাব্বির রহমান ও সৌম্য সরকার প্রত্যেকে পাবেন ২ লাখ টাকা করে।

‘সি’ ক্যাটাগরিতে থাকা রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতরা পাবেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে। আর ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে থাকা তাইজুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও মেহেদী হাসান মিরাজরা প্রত্যেকে পাবেন মাসিক ১ লাখ টাকা করে।


এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বন্ধু সৈয়দ রাসেললের ইনঞ্জুরি সারাতে ৪ লাখ টাকা দিলেন মাশরাফি

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৪-১৭ ১৫:০৬:১২

ক্রিকেটার-অধিনায়ক মাশরাফির পাশাপাশি মানুষ মাশরাফিও অনেকেরই প্রিয়। অতি সাধারণ জীবন-যাপন, প্রাণখোলা মাশরাফি ক্রিকেটার, কোচ, কর্মকর্তা ছাপিয়ে আম জনতার কাছেও অনেক ভালো মানুষ হিসেবে সমাদৃত। সবার জানা, মাশরাফি মানেই সাহস আর উদ্যম। মাশরাফি মানেই ভয়-ডর না পাওয়া সাহসী এক নাবিক। মাশরাফি মানেই মাঠে সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে দেয়া। মাশরাফি মানেই ড্রেসিংরুম চাঙা করা এক ব্যক্তিত্ব।

তাই তো নড়াইলের চিত্রা নদীর পাড়ের ৩৩ বছরের যুবা এখনও বাংলাদেশের ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে এক নম্বর। জানেন কি, মানুষ মাশরাফি যে এসব ধারণার চেয়ে আরও অনেক বড়!

তার মন আকাশের মতো উদার। কারও দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণা, অভাব-অনটনে পাশে দাঁড়াতে যার জুুড়ি মেলাভার। অপরের দুঃখ-যন্ত্রণায় মাশরাফির মন যে কতটা কাঁদে, কারও দুঃসময়ে সাহায্য করতে তার মন কতটা উদার- তার একটা জ্বলন্ত উদাহরণ শুনুন।

এটা মাশরাফির মুখ থেকে হয়ত কোনোদিনই বের হবে না। কারণ সত্যিকার অর্থে মানবসেবা ও পরোপকারি যারা-তারা কাজ করেন নীরবে-নিভৃতে। ঢোল না পিটিয়ে। তেমনি এক গল্প বলি শুনুন। যে গল্পের নায়ক মাশরাফি। বন্ধু সৈয়দ রাসেলের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করছেন নড়াইল এক্সপ্রেস।

কিন্তু কাউকে ঘুণাক্ষরেও জানতে দেননি সে কথা। আজ পড়ন্ত বিকেলে লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জ আর শেখ জামালের খেলা শেষে এ প্রতিবেদকের কাছে যেচেই এ কথা জানালেন মাশরাফির সঙ্গে জাতীয় লিগে খুলনার হয়ে এবং জাতীয় দলের জার্সি গায়ে বেশ কয়েক বছর খেলা বাঁ-হাতি পেসার সৈয়দ রাসেল।

বলার অপেক্ষা রাখে না, একসময় জাতীয় দলের অপরিহার্য সদস্য ছিলেন সৈয়দ রাসেল। গতির ওপর নির্ভর না করে নিখুঁত মাপা লাইন ও লেন্থে বল ফেলা এবং উইকেটের দু’দিকে সুইং করানোতে ওস্তাদ সৈয়দ রাসেল মাঝে কয়েক বছর বাংলাদেশের অন্যতম বোলিং নির্ভরতাও ছিলেন।

বন্ধু মাশরাফির মতো তাকেও ইনজুরির ভয়াল থাবা গ্রাস করেছিল। বাহুর ইনজুরিতে বেশ কিছুদিন ধরেই মাঠের বাইরে রাসেল। নিজেকে খানিক দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন। ৬ টেস্টে ১২ আর ৫২ ওয়ানডেতে ৬১ উইকেট শিকারি সৈয়দ রাসেল অনেক ম্যাচেই রানের গতি নিয়ন্ত্রণে রেখে বাংলাদেশের জয়ের বড় ভূমিকা পালন করেছেন।

কিন্তু ইনজুরিতে পড়ে গিয়ে সে অর্থে বোর্ড ও পৃষ্ঠপোষক কারও সাহায্যই মেলেনি। অনেকের চিকিৎসার পেছনে অকাতরে অর্থ বরাদ্দ হলেও ক্যারিয়ারের স্বর্ণসময়কে পেছনে ফেলে আসা সৈয়দ রাসেলের পছনে সে অর্থে আর অর্থ খরচ করেনি ক্রিকেট বোর্ড।

এদিকে ক্রিকেট শুধু ধ্যান-জ্ঞানই নয়। রুটি-রুজিও। কী করবেন, ভেবে পাচ্ছিলেন না রাসেল। সেই ২০১০ সালের জুলাই থেকে জাতীয় দলের বাইরে। এর মধ্যে ইনজুরি বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় ক্লাব ক্রিকেটে অংশগ্রহণও প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল।

মাঝে কোমরের কঠিন ইনজুরি সারতে না সারতেই পড়লেন বাম কাঁধের ইনজুরিতে। যে বাম হাতে বোলিং করেন, সেই কাঁধের ইনজুরি। ধরে নিয়েছিলেন অস্ত্রোপচার করা লাগবে; কিন্তু চিকিৎসার জন্য দরকার মোটা টাকা। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অপারেশন করালে অন্তত আট লাখ টাকা দরকার। আর ভারতের মুম্বাইতে করলেও চার লাখের কমে হবে না।

কোথায় পাবেন এ অর্থ? বিপাকে পড়ে খেলার সাথী ও বন্ধু মাশরাফির কাছে ধার চাইলেন সৈয়দ রাসেল। ‘দোস্ত, আমি তো মাঠের বাইরে আছি বেশ কিছু দিন। হাতে টাকা পয়সাও নেই তেমন। আমাকে লাখ চারেক টাকা ধার দিবি? চিকিৎসা করাবো।’

মাশরাফির জবাব, ‘হ্যাঁ দেব। তবে ধার নয়। বন্ধুকে ভালোবেসে। এ অর্থ শোধ করতে হবে না।’ এভাবে বন্ধুকে ভালোবেসে চার লাখ টাকা সৈয়দ রাসেলকে দিয়ে দিয়েছেন মাশরাফি।

এদিকে মুম্বাইতে চিকিৎসা করাতে গিয়ে তত টাকা খরচ হয়নি রাসেলের। ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়ে দিয়েছেন, অস্ত্রোপ্রচার লাগবে না। এমনি ওষুধে সেরে যাবে। দেশে ফিরে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সৈয়দ রাসেল; কিন্তু ইনজুুরি পেছনে ছাড়ছে না। প্রথমে ক্যাম্প আর এখন গ্রোয়েন ইনজুরি ভোগাচ্ছে। তবে বোলিংয়ে সমস্যা হচ্ছে না।

রাসেলের আশা, ‘গ্রোয়েন ইনজুরি কেটে গেলে ঠিক মাঠে নামতে পারবেন।’ এদিকে লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জ থেকে পাওয়া পারিশ্রমিক দিয়ে বন্ধুর ধার শোধ করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছেন রাসেল। মাশরাফি কিছুতেই আর সে অর্থ ফিরিয়ে নিতে চান না।


এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

মাশরাফির বিদায় বেলায় জয় উপহার টাইগারদের

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৪-০৬ ১৭:৩৭:৩৩

ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচ খেলে ফেললেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ক্রিকেটের এই ক্ষুদ্রতম সংস্করণ থেকে তার বিদায়টা জয় দিয়েই হলো। বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি২০ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৪৫ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে জয় দিয়েই আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচ বিদায় জানালেন মাশরাফি। অন্যদিকে, তাকে বিদায়ী উপহার দেওয়ার পাশাপাশি এই জয়ে ২ ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করলো বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কলম্বোর রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছিল ম্যাচটি।

টস জিতে আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৭৬ রান সংগ্রহ করে তারা। জবাবে বাংলাদেশের বোলারদের দুরন্ত পারফরম্যান্সে সামনে পড়ে ১৮ ওভারে ১৩১ রান তুলে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের পক্ষে এদিন মুস্তাফিজুর রহমান ৪টি ও সাকিব আল হাসান ৩টি উইকেট নিয়েছেন। বিদায়ী ম্যাচে মাশরাফিও নিয়েছেন একটি উইকেট। বাকি দুটি উইকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও তরুণ পেসার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহমেদ।

বাংলাদেশের দেওয়া টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়েছে শ্রীলঙ্কা।ইনিংসের শুরুতেই লঙ্কান শিবিরে আঘাত হেনেছেন সাকিব আল হাসান। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই লঙ্কান ওপেনার ও আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান কুশাল পেরেরাকে আউট করেছেন তিনি। এরপর নিজের দ্বিতীয় ও ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আরেক লঙ্কান ওপেনার দিলশান মুনাবিরাকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ক্যাচ বানিয়েছেন তিনি।

এই ধাক্কা সামলানোর আগেই আরো ৩ উইকেট হারিয়েছে শ্রীল্কানরা। স্বাগতিকদের অধিনায়ক উপল থারাঙ্গাকে আউট করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এরপর জোড়া আঘাত হেনেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। গুনারত্নে ও শ্রীলবর্ধনাকে।

৫.২ ওভার শেষে মাত্র ৪০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে শ্রীলঙ্কা! অবশ্য কাপুগেদারা ও থিসারা পেরেরা বিপদ সামলানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাকিব ও মুস্তাফিজের পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্য বোলার ও ফিল্ডারদের নৈপুণ্যে সফল হতে পারেননি তারা। বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে নিয়েছে ৪৫ রানে।

ইনজুরির কারণে এই ম্যাচে ছিলেন না বাংলাদেশের নিয়মিত ওপেনার তামিম ইকবাল। তার জায়গায় একাদশে সুযোগ পেয়েছেন ইমরুল কায়েস।

টস জিতে আগে ব্যাটিং বেছে নেন মাশরাফি। দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার দলকে দুরন্ত সূচনা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছেন তারা। দলীয় ৭১ রানে (৬.৩ ওভারে) গুনারত্নের বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন সৌম্য, ব্যক্তিগত ৩৪ রানে (১৭ বলে)। সৌম্য আউট হওয়ার কিছু পরে ব্যক্তিগত ৩৬ রানে (২৫ বলে) রান আউট হয়েছেন ইমরুল। এরপর দলের হাল ধরেছেন সাকিব আল হাসান ও সাব্বির রহমান।

এ জুটিতে ৪৬ রান পেয়েছে বাংলাদেশ। দলীয় ১২৪ রানে সাঞ্জায়ার বলে বোল্ড হন সাব্বির; ব্যক্তিগত ১৯ রানে। সাকিব বিদায় নেন দলীয় ১৩৯ রানে; ১৬ ওভারে। এরপর ১৭.১ ওভারে বিদায় নেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এরপর কিছু সময়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাটিং নড়বড়ে হয়ে যায়। এর মধ্যে ইনিংসের ১৯তম ওভারে হ্যাটট্রিক আদায় করে নেন লঙ্কান পেসার লাসিথ মালিঙ্গা। একে একে আউট করেছেন মুশফিক, মাশরাফি ও মিরাজকে। শেষ পর্যন্ত স্নেই বিপদ সামলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রান করে বাংলাদেশ। দলীয় সংগ্রহের বিবেচনায় আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচে এটি বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ সেরা সংগ্রহ (সর্বোচ্চ সংগ্রহ ১৯০ রানের, আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে)।

মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের জন্য এটি ছিল সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচ। কারণ, প্রথম টি২০ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। তাই এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল মাশরাফি বাহিনীর জন্য। তবে অধিনায়ককে বিদায়ী উপহার দিতেও এই ম্যাচে মরিয়া ছিলেন বাংলাদেশের বোলারার।

এই ম্যাচ দিয়েই এবারের শ্রীলঙ্কা সফর শেষ করছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। সিরিজে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে টাইগাররা। এরপর দুই দলের মধ্যকার ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজও ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে; দ্বিতীয় ওয়ানডে বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল।

একাদশে দুটি পরিবর্তন এনে বৃহস্পতিবার মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। ইনজুরির কারণে ওপেনার তামিম ইকবাল ম্যাচ খেলননি। তার পরিবর্তে নেওয়া হয় ইমরুল কায়েসকে। অন্যদিকে, পেসার তাসকিন আহমেদের পরিবর্তে একাদশে নেওয়া হয় স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজকে। এই ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচে মিরাজের অভিষেক হয়েছে।

শ্রীলঙ্কান একাদশে কোনো পরিবর্তন নেই; প্রথম টি২০ ম্যাচের একাদশ নিয়েই খেলতে নেমেছিল স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশ টি২০ একাদশ :ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল-হাসান (সহ-অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মুস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কা টি২০একাদশ:কুশাল পেরেরা, উপুল থারাঙ্গা (অধিনায়ক), দিলশান মুনাবিরা, আসিলা গুনারত্নে, সিকুগে প্রসন্না, থিসারা পেরেরা, চামারা কাপুগেদারা, মিলিন্দা সিরিবর্দানা, নুয়ান কুলাসেকারা, লাথিস মালিঙ্গা, ভিকাম সঞ্জয়া।


এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত