যুক্তরাষ্ট্রে আজ সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 09:34am

|   লন্ডন - 03:34am

|   নিউইয়র্ক - 10:34pm

  সর্বশেষ :

  মুশফিকের অনবদ্য ডাবল সেঞ্চুরি   প্রথম দিনে বিএনপির ১ হাজার ৩২৬টি মনোনয়নপত্র বিক্রি   ৪ হাজার ৩৬৭টি মনোনয়ন বিক্রি করেছে আ.লীগ, আয় ১৩ কোটি টাকা   সিডনিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক ‘লিভ মি অ্যালন’ মঞ্চায়িত   ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলের ভয়াবহতা বাড়ছেই, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১   নির্বাচন এক সপ্তাহ পেছাল, ৩০ ডিসেম্বর ভোট   বিশ্বের সবচেয়ে সেক্সি পুরুষ ইদ্রিস এলবা   একটা গোলাপি হিরার দাম ৪১৮ কোটি!   ৩ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনলেন খালেদা জিয়া   ইসরায়েলিদের গুলিতে হামাস কমান্ডারসহ নিহত ৭   প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির শতবর্ষ পূর্তিতে স্মরণানুষ্ঠান   ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবে বিএনপিসহ ৮ দল   ঢাবির হলে ছাত্রদের বের করে কক্ষ দখল করল ছাত্রলীগ   ইতালিতে আইয়ুব বাচ্চু’র স্মরনে “রূপালী গিটার”   পেটারসনে ‘বাংলাদেশ বুলেবার্ড’ নামে সড়ক হচ্ছে

>>  খেলাধুলা এর সকল সংবাদ

মুশফিকের অনবদ্য ডাবল সেঞ্চুরি

বড় ইনিংস খেলার অপেক্ষায় ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছিলেন ইনিংস লম্বা করার কথা। ব্যাটে-বলে হচ্ছিল না। অনেক কাছে গিয়েও ব্যর্থ হচ্ছিলেন। তবুও দমে যাননি। নতুন করে আবার লড়াই শুরু। সেই লড়াইয়ে অবশেষে আসল সফলতা। অপেক্ষা ফুরাল মিরপুর শের-ই-বাংলায়।যে মাঠে ছিল না কোনো সেঞ্চুরি সেই মাঠেই গড়লেন ইতিহাস। পড়লেন রেকর্ড মালা। মহাকাব্যিক ইনিংস উপহার দিলেন মুশফিকুর রহিম।

বিশে^র একমাত্র উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি এখন মুশফিকুর রহিমের নামের পাশে। জ¦লজ¦ল করছে আরও কিছু অর্জন। বাংলাদেশের হয়ে বল ও মিনিটের হিসেবে দীর্ঘতম ইনিংস এখন তার দখলে। সেই সুবাদে

বিস্তারিত খবর

বিপিএলের প্রস্তুতি : ড্রাফট থেকে দলে ৮৭ খেলোয়াড়

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-২৮ ১৩:৪৫:২৮

একমাত্র দল হিসেবে বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের খেলোয়াড় কোটা পূরণ করেছে সিলেট সিক্সার্স।

প্রতি আসরে বিপিএল মানেই নতুন নিয়ম, নতুন কৌশল, নতুন করে ঢেলে সাজানোর প্রয়াস। টি-টোয়েন্টি এ ফরম্যাটের পাঁচ আসর শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কাগজে কলমে স্থায়ী কোনো নিয়ম নেই! নেই কোনো রূপরেখা! তাইতো সময়ের চাহিদামতো পাল্টায় বিপিএলের নিয়ম!

গত আসরে পাঁচ বিদেশি খেলোয়াড় খেলানোর সিদ্ধান্তে কি ঝড়টাই না বয়ে গিয়েছিল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের ওপর। তাইতো এবার চার বিদেশি খেলোয়াড় খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আয়োজকরা। সাথে শর্তও জুড়ে দিয়েছে। এবার চাইলেই বিদেশি ক্রিকেটার উড়িয়ে আনা যাবে না।

সরাসরি সাইন করাতে পারবে ২ জন বিদেশি, দেশি-বিদেশি মিলিয়ে রিটেইন করাতে পারবে ৪ জন আর সব মিলিয়ে দেশি খেলোয়াড় সর্বোচ্চ ১২ জন, সর্বনিম্ন ১০ জন, বিদেশি খেলোয়াড় সর্বোচ্চ ৯ জন। সর্বোচ্চ খেলোয়াড় হিসেব করে স্কোয়াডে মোট খেলোয়াড় সংখ্যা দাড়ায় ২১ জন। নতুন নিয়মের ড্রাফট অনুষ্ঠিত হলো রোববার। ড্রাফট থেকে মোট ৮৭ খেলোয়াড়কে দলে নিয়েছে সাত ফ্রাঞ্চাইজি। আর রিটেইন ও সরাসরি সাইনে আছেন ৪২ খেলোয়াড়।

রোববার ষষ্ঠ আসরের ড্রাফটে ১৫ খেলোয়াড়কে দলভুক্ত করে ২১ জনের কোটা পূরণ করেছে সিলেট সিক্সার্স। বাকি ছয় দলের কারো ২১ জনের কোটা পূরণ হয়নি। তবে সর্বনিম্ন ১৯ জনের কোটা পূরণ করেছে খুলনা টাইটান্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

খুলনা দেশি খেলোয়াড় নিয়েছে ১১ জন, বিদেশি ৮ জন। বিপিএল শুরুর আগে কিংবা চলাকালিন সময়ে ড্রাফট থেকে একজন করে দেশি-বিদেশি খেলোয়াড় দলভুক্ত করতে পারবে দলটি। তবে ড্রাফটে চমক দেখিয়েছে তারা। লটারিতে সবার আগে খেলোয়াড় তোলার সুযোগ পায় খুলনা। ‘এ’ ক্যাটাগরির সৌম্য, বিজয়, মোসাদ্দেক কিংবা রনির দিকে না তাকিয়ে তারা দলে নেয় ‘বি’ ক্যাটাগরির জহুরুল ইসলাম অমিকে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় রাউন্ডেও তারা দলে নেয় ‘ই’ ক্যাটাগরির পেসার শরীফুল ইসলামকে। শুরুর মতো তাদের শেষটাও ছিল দারুণ। তিন ইনফর্ম লাসিথ মালিঙ্গা, ইয়াসির শাহ ও ব্রেন্ডন টেলরকে দলভুক্ত করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। রিটেইন হিসেবে আছেন আরিফুল, শান্ত ও ব্রাফেট।

সিলেট ড্রাফট থেকে তুলেছে মোট ১৫ জন খেলোয়াড়। দেশি তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি নজর ছিল সিলেটের। শুরুটা তাদের আফিফ হোসেনকে দিয়ে। এরপর তৌহিদ হৃদয়, জাকের আলী এবং মেহেদী হাসান রানাকে দলে নেয়। মাঝে অভিজ্ঞ তাসকিন, আল-আমিন, অলোক, ইবাদতকেও দলভুক্ত করে সিলেট। দলটিতে আইকন হিসেবে আছেন লিটন। রিটেইন আছেন সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন। বিদেশি কোটা তারা পেয়েছে ডেভিড ওয়ার্নার, আন্দ্রে ফ্লেচার, মোহাম্মদ ইরফানের মতো খেলোয়াড়দের।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স শক্তিশালী দল গড়েছে। তামিমের দল ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে আবু হায়দার রনিকে দলে নিয়েছে। বিপিএলের চতুর্থ আসরের চ্যাম্পিয়ন দলে ছিলেন রনি। এবার তাকে দলে ফিরিয়ে আবার শিরোপার স্বপ্ন দেখছে ফ্রাঞ্চাইজিটি। এছাড়া এনামুল হক বিজয়, অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান, জিয়াউর রহমান, মোশাররফ হোসেন রুবেল, শহীদকে দলে পেয়েছে। বিদেশি শোয়েব মালিককে রিটেইন করার পাশাপাশি ড্রাফট থেকে শহীদ আফ্রিদি, এভিন লুইসকে নিয়েছে। এছাড়া ইমরুল আর সাইফউদ্দিন তো আছেনই।

ঢাকা ও রাজশাহী ১১ জন করে এবং রংপুর ও চিটাগং ১২ জন করে করে খেলোয়াড় এখন পর্যন্ত দলভুক্ত করেছে। সাকিবের ঢাকা ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে ভরসা রেখেছে পেসার রুবেলের হোসেনের ওপর। এছাড়া কাজী নুরুল হাসান সোহান, রনি তালুকদার, শুভাগত হোম, কাজী অনিক, শাহাদাত হোসেন ও মিজানুর রহমানকে দলে নিয়েছে। ঢাকার ভরসা বিদেশি ক্রিকেটার। রিটেইন ও সরাসরি সাইনের মাধ্যমে ঢাকা ডায়নামাইটসে খেলবেন সুনীল নারিন, রভম্যান পাওয়েল, কাইরন পোলার্ড ও আন্দ্রে রাসেল। ড্রাফট থেকে তাদের বিদেশি সংগ্রহ আন্দ্রে ব্রিচ ও ইয়ান বেল।

বিপিএলের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স মাশরাফিকে রিটেইন করার পাশাপাশি ক্রিস গেইল, নাজমুল ইসলাম অপু ও মিথুনকে পেয়েছে। এবার তাদের বিদেশি রিক্রুট এবি ডি ভিলিয়ার্স। তাকে প্রথমবারের মতো উড়িয়ে আনছে রংপুর। সাথে আসছেন অ্যালেক্স হেলস। ড্রাফট থেকে তারা প্রথমে দলে নেয় শফিউল ইসলামকে। ভরসা রেখেছে সোহাগ গাজী ও নাহিদুলের ওপর। গতবার দুজনই খেলেছিলেন রংপুরের হয়ে। এছাড়া ফরহাদ রেজা, মেহেদী মারুফ ও আবুল হাসান রাজু রয়েছেন এ দলে। বিদেশি রবি বোপারা, বেনি হাওয়েলকেও নিয়েছে রংপুর।

রাজশাহী কিংস দিনের শুরুতেই নেয় সৌম্য সরকারকে। এরপর ফজলে রাব্বীকে দলে ভেড়ায়। জাতীয় দলের তিন ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান ও মুমিনুল হককে তারা রেখে দিয়েছে আগেই। বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে আছেন ইসরু উদানা, রায়ান টেন ডয়েসকাট ও গত দুই আসরে খেলা মোহাম্মদ সামি।

চিটাগং ভাইকিংস খেলোয়াড় ড্রাফটের আগেই মুশফিকুর রহিমকে তুলে নেয়। আইকন হিসেবে তাদের দলে খেলবেন মুশফিক। ড্রাফট থেকে মোসাদ্দেক হোসেন, রাহী, খালেদ আহমেদ, নাঈম হাসানকে দলে নেয় তারা। দলের মেন্টর সুযোগ করে দেন মোহাম্মদ আশরাফুলকে। ফিক্সিংয়ের শাস্তি ভোগের পর এবারই প্রথম বিপিএল খেলতে যাচ্ছেন আশরাফুল। এছাড়া তাদের বিদেশি খেলোয়াড় মোহাম্মদ শাহজাদ, রবার্ট ফ্রাইলিঙ্ক, ক্যামেরন ডেলপোর্ট ও দাসুন শানাকা।

ড্রাফট থেকে ৮৭ ও আগের থেকে ৪২ খেলোয়াড় বিপিএলে এখন পর্যন্ত দলভুক্ত হয়েছে। সিলেট বাদে প্রত্যেকেরই দলে শক্তি বাড়ানোর সুযোগ আছে। তবে সেটা হতে হবে ড্রাফটের অবশিষ্ট খেলোয়াড়দের থেকেই।


এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

জোড়া সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইট ওয়াশ করল টাইগাররা

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-২৬ ১৩:৪৭:১৪

 অসাধারণ, অনন্য, অনবদ্য পারফরম্যান্স বাংলাদেশের। ব্যাট কিংবা বল দুই বিভাগেই বাংলাদেশ যেন দুর্দান্ত, দূরন্ত, উড়ন্ত।

‘পুচকে’ জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে বাংলাদেশ পেল দ্বাদশ ধবল-ধোলাইয়ের স্বাদ। ৭ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ মাশরাফির দল জিতল ৩-০ ব্যবধানে। আগে ব্যাটিং করতে নেমে শন উইলিয়ামসের ১২৭ রানের ইনিংসে ৫ উইকেটে ২৮৬ রান তুলে জিম্বাবুয়ে। জবাবে ইমরুল কায়েসের ১১৫ ও সৌম্য সরকারের ১১৭ রানে ৪৭ বল আগে জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে বাংলাদেশ।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ড ২৭৮ রান করে হারিয়েছিল বাংলাদেশকে। পাশাপাশি ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর এক ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরির স্বাদ পেল বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ হাঁকিয়েছিলেন সেঞ্চুরি। ২০১৫ সালে এ কীর্তি গড়েছিলেন তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। দ্বিতীয় উইকেটে ২২০ রানের জুটি গড়েন ইমরুল ও সৌম্য। দ্বিতীয় উইকেটে যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ।

বোলিংয়ে বাংলাদেশ ছিল নড়বড়ে। নিয়মিত পারফর্মার মুস্তাফিজ-মিরাজকে ছাড়া সুযোগটি বেশ ভালোমতোই কাজে লাগায় জিম্বাবুয়ে। পাহাড় সমান রান পায় সফরকারীরা। বাংলাদেশকে ছুঁড়ে দেয় রেকর্ড রানের লক্ষ্য। তাতেও মনোবল হারায়নি। অনিন্দ্যসুন্দর ব্যাটিংয়ে কাজের কাজটা হয়ে যায় সহজে। হেসেখেলে বাংলাদেশ পায় জয়ের স্বাদ। আগের দিন মাশরাফি ড্রেসিং রুমের শক্তির কথা শোনাচ্ছিলেন। সেই শক্তির স্থিরচিত্র গোটা সিরিজে বেশ ভালোভাবেই ফুটে উঠল।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট। জারভিসের প্রথম বলে এলবিডব্লিউ লিটন। শুরুর আঘাতে দমে যায়নি বাংলাদেশ। বরং সৌম্যকে সঙ্গে নিয়ে ইমরুল চালালেন পাল্টা আক্রমণ। তাতে ছড়াল বিস্ময়, মুগ্ধতা।

যদিও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ছিল ঝুঁকি, ছিল আউট হওয়ার শঙ্কা। তবুও ২২ গজে চলল ঝড়ো ব্যাটিং। ভাগ্যদেবী আজ পাশে ছিল। তাইতো লিটন আউট হওয়ার পরও শুরুর ঝড়ে কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের রান ৮০, বাউন্ডারি ১৩টি।

প্রথম ৫ ওভারে রয়েশয়ে খেলেছিলেন ইমরুল, সৌম্য। ৪ বাউন্ডারিসহ রান মাত্র ২৪। খোলস থেকে বেরিয়ে আসেন ষষ্ঠ ওভারে। ৬ থেকে ১০ ওভার পর্যন্ত বাংলাদেশের রান ৫৬, যার ৩৬ রানই আসে বাউন্ডারিতে।

১৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে এক রান নিয়ে ৪১ বলে হাফ সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ইমরুল। পরের ওভারে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ দিয়ে ইনিংসের প্রথম ছক্কা হাঁকিয়ে দলের রান ১০৩ এ নিয়ে যান। থেমে থাকেননি সৌম্য। ২০তম ওভারে শন উইলিয়ামসকে উড়িয়ে ষষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরির স্বাদ পান। দুজনের ব্যাটিংয়ে ছড়াতে থাকে মুগ্ধতা, বাড়তে থাকে রানের চাকা। লক্ষ্য চলে আসে নাগালেই।

কিন্তু হাফ সেঞ্চুরির পর নিজের সহজাত আক্রমণত্মক পথ বেছে নেন সৌম্য। ৫৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি ছোঁয়া এ ব্যাটসম্যান পরের ২৭ বলে পৌঁছে যান শতরানে। ৪ চার ও ৩ ছক্কা হাঁকান এ সময়ে। সেঞ্চুরি ছুঁয়েও ক্লান্ত হননি। জিম্বাবুয়ের বোলারদের কড়া শাসন করেছেন। কিন্তও বিপদ ডেকে আসেন সেখানেই। মাসাকাদজাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দেন ১১৭ রানে। ৯২ বলে ৯ চার ও ৬ ছক্কার ঝড় থামে ওখানে। ২২০ রানের রেকর্ড জুটি থাকে সেখানে।

সঙ্গী হারানোর পর ধীরে ধীরে সেঞ্চুরির পথে এগুতে থাকেন ইমরুল। এবার আর ভুল করেননি। দেখেশুনে খেলে ৯৯ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি। ইমরুলের সেঞ্চুরির পর সবার নজর ছিল ভিন্ন জায়গায়।

৩ ম্যাচ দ্বিপাক্ষিক সিরিজে সবথেকে বেশি রান পাকিস্তানের বাবর আজমের। ৩৬০ রান করেছিলেন বাবর। প্রথম ম্যাচে ১৪৪, দ্বিতীয় ম্যাচে ৯০ রান করা ইমরুলের সুযোগ ছিল বিশ্বরেকর্ড গড়ার। রেকর্ড গড়তে হলে ১২৭ রান করতে হতো তাকে। সুযোগটিও ছিল। কিন্তু ১১৫ রানের বেশি করতে পারেননি এ ওপেনার।

দ্বিতীয় ওয়ানডের মতো আউট হয়েছে অফস্পিনারের বলে লং অফে ক্যাচ দিয়ে। ১১২ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। বিশ্ব রেকর্ড গড়তে না পারলে সতীর্থর রেকর্ড ভেঙেছেন ইমরুল। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে তামিমের রান ছিল সর্বোচ্চ ৩১২ রান। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ সেঞ্চুরি আর এক হাফ সেঞ্চুরিতে তামিম করেছিলেন ৩১২ রান। ইমরুলের এ সিরিজে রান ৩৪৯।

জয়ের থেকে ১৪ রান দূরে থেকে ইমরুল সাজঘরে ফিরেন। বাকি কাজটুকু সারেন মুশফিক ও মিথুন। আগের দিন মিথুনের ছক্কায় নিশ্চিত হয়েছিল সিরিজ। এবার মুশফিকের ছক্কায় নিশ্চিত হয়েছে ধবলধোলাই।

এর আগে উলিয়ামসের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে বিশাল সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে। ৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে দল যখন বিপদে তখন ব্রেন্ডন টেলরকে সঙ্গ দিতে মাঠে নামেন উইলিয়ামস। ১৩২ রানের জুটি গড়ে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান রানের চাকা সচল রাখেন। চেপে ধরেন বাংলাদেশের বোলারদের। টেলর ৭৫ রানে সাজঘরের পথ দেখেন। কিন্তু উইলিয়ামস পথ ভুলেননি।

৭৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করা উইলিয়ামস পরের ৫১ বলে পৌঁছান তিন অঙ্কে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এর আগে করেছিলেন ১০২ রান। সেটাও তিন বছর আগে ২০১৫ সালে। আজ সেই রান ছাড়িয়ে যান ১২৯ রানের ইনিংস উপহার দিয়ে। ১০ চার ও ১ ছক্কায় সাজান ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।

উইলিয়ামস বাদে ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়িয়েছেন ব্রেন্ডন টেলর। উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান ৭২ বলে করেছেন ৭৫ রান। ৮ চার ও ৩ ছক্কায় মাঠ মাতিয়ে রাখেন টেলর। এছাড়া সিকান্দার রাজা ৫১ বলে ৪০, পিটার মুর ২১ বলে ২৮ রান তুলে স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

বল হাতে নাজমুল ইসলাম ৫৮ রানে পেয়েছেন ২ উইকেট। ১টি করে উইকেট পকেটে পুরেন আবু হায়দার, সাইফউদ্দিন।

ব্যাট-বলের দাপটে বাংলাদেশ নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে হেসেখেলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর, এশিয়া কাপের পর পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। মাশরাফির হাত ধরে উড়ছে লাল-সবুজের পতাকা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এ সিরিজের আগে টানা দশ ম্যাচ অপরাজিত ছিল বাংলাদেশ। এবার সেই অঙ্কটা ১৩তে গিয়ে পৌঁছাল। আর জিম্বাবুয়েকে টানা তৃতীয়বার হোয়াইটওয়াশ করল, সব মিলিয়ে চতুর্থ।


এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ফুটবল ট‌ুর্না‌মে‌ন্টে রয়েল ক্লাব বাতিস্তিনি কর্নেলিয়ার অংশগ্রহণ

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-২৫ ১৬:০২:৩৭

ফুটবল প্রিয় দেশ ইতা‌লি‌তে বাংলা‌দে‌শের অবস্থান করার প্রত্যাশায় বাংলা‌দেশ জাতীয় ক্রীড়‌া সংস্থা আয়ো‌জিত শ্রী পরান কৃষ্ণ সাহা স্মৃ‌তি ফুটবল টুর্না‌মে‌ন্টে ১মবা‌রের মত র‌য়েল ক্লাব বা‌তি‌স্তি‌নি ক‌র্ণে‌লিয়া অংশগ্রহন ক‌রে‌ছে।

‌রো‌মের যুব সমাজ‌কে স‌ঠিক প‌থে প‌রিচা‌লনায় ক্লা‌বের ভূ‌মিকা রাখ‌তে অক্লান্ত প‌রিশ্রম ক‌রে‌ছেন প‌রিচালক শেখ মামুন ও সহ প‌রিচালক শাহ শওকত। এছাড়াও সহ‌যো‌গিতায় র‌য়ে‌ছেন সারোয়ার হো‌সেন, সোলায়মান, লোকমান ভূইয়া, মোজা‌হিদ খা‌দেম, জিকু রহমান বাচ্চু, মাসুদুর রহমান ও বা‌তি‌স্তি‌নি-ক‌র্নে‌লিয়ার নেতৃবৃন্দ। স্পন্সর হি‌সে‌বে এগি‌য়ে এসে‌ছে সো‌হেল চৌধুরী, মো: আমিন, প্রচা‌রে মো: মিঠু।

ক্লা‌বের প‌রিচালক শেখ মামুন সহ অন্যান্যরা ম‌নে ক‌রেন, সমাজ‌কে এগি‌য়ে নি‌য়ে বি‌ভিন্ন কর্মকা‌ন্ডের পাশপা‌শি খেলাধূলা অ‌তি প্র‌য়োজনীয়। টুর্না‌মে‌ন্টে আমরা শ‌ক্তিশালী দল না হ‌লেও আমা‌দের ম‌নোবল অ‌নেক শক্ত। এবছর না হ‌লেও আগামী‌তে কৃতী‌ত্বের স্বাক্ষর রাখ‌তে সক্ষম হ‌বো।

এসময় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা সাধারন সম্পাদক আব্দুর র‌শিদ, সিনিয়র সহ সভাপতি আবু তাহের, খেলা প‌রিচালক মু‌হিব হাসান, সহ সভাপতি আল আমিন ভূঁইয়া, মাহবুবুল আলম প্রধান, আবুল বাসার, প্রচার সম্পাদক মিজানুল হক মিজু ও ১নং সদস্য ইমাম হাসান লিখন উপ‌স্থিত ছি‌লেন।

‌খেলায় টুর্না‌মে‌ন্টের অন্যতম শ‌ক্তিশালী দল ইন্টার বাংলার মু‌খোমু‌খি হয় নবাগত দল রয়েল ক্লাব বাতিস্তিনি কর্নেলিয়া। সং‌শ্লিষ্টরা ম‌নে ক‌রেন খেলায় ৫-১ গো‌লে পরা‌জিত হ‌লেও র‌য়েল ক্লাব বা‌তি‌স্তি‌নি ক‌র্নে‌লিয়ার অ‌ভিজ্ঞতা অর্জন হ‌য়ে‌ছে।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দশমবারের মতো সিরজ জয়

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-২৪ ১৪:৫৮:৩২

তামিম ইকবালকে ছাড়া উদ্বোধনী জুটিতে ১৪৮ রান। চোটে পড়ে দলের বাইরে থাকা বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যানের অভাব এই ম্যাচে ক’জনই বা অনুভব করেছে! লিটন দাস আর ইমরুল কায়েসের জুটি যেটা করে দেখালো তাতে লোকাল হিরো তামিমের অভাব অনুভব করারও কথা না।

৭৭ বলে লিটনের ৮৩ রান। ১০৭.৭৯ স্ট্রাইক রেটের এই ইনিংসে ছিল ১২ চার আর একটি ছয়। এতটা নিখুঁত ব্যাটিং করছিলেন তাতে শতক বঞ্চিত হওয়াটা দুঃখজনকই বটে।

গত রোববার প্রথম ওয়ানডেতে ফজলে মাহমুদ নিজের অভিষেক ম্যাচে করেছিলেন চার বলে শূন্য। আজ অবশ্য একটা বল বেশি খেলেছিলেন, তাতেও ফিরলেন রানের খাতা না খুলেই। সিকান্দার রাজাকে ডাউন দ্যা উইকেটে মারতে গিয়ে হলেন স্ট্যাম্পিং। শঙ্কা জাগারই কথা তার ক্যারিয়ার নিয়ে। 

‘ইমরুল কায়েসের শতকে সিরিজ বাংলাদেশের’ এমন শিরোনাম লেখাই যেতো কিন্তু বিপত্তি বাঁধায় সেই সিকান্দার রাজার বলেই। নার্ভাস নাইন্টির কোটায় ক্যাচ তুলে দিলেন এল্টন চিগুম্বুরার হাতে। ১১১ বলে ৯০ রান করে ফিরলেন সাজঘরে।

মুশফিকের সঙ্গে ইমরুলের জুটিটা ৫৯ রানের। ইমরুল বিদায় নিলেও মুশফিককে আউট করতে পারেনি সিকান্দার রাজারা। টাইগার ব্যাটিং লাইন আপের মিডল অর্ডারে ভরসার নাম হয়ে উঠা মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়লেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল।

৭ উইকেটের বড় জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ।

এর আগে দুপুরে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ অধিনায়ক।

হ্যামিল্টন মাসাকাদজা আর কেফাস ঝুওয়াওয়ের উদ্বোধনী জুটি ১৮ রানের মাথায় ভাঙ্গলেও ব্রেন্ডন টেইলরের ৭৫, শেন উইলিয়ামসনের ৪৭ আর সিকান্দার রাজার ৪৯ রানে ভর করে বাংলাদেশকে লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিল ২৪৭ রানের।

বাংলাদেশের হয়ে সাইফুদ্দিন নিয়েছিলেন ১০ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট। এই ম্যাচ জয়ে সিরিজসহ জিম্বাবুয়েকে ১০ বার সিরিজ হারালো বাংলাদেশ।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে হবে আগামী ২৬ অক্টোবর একই ভেন্যুতে।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

দারুণ জয় দিয়ে সিরিজ শুরু টাইগারদের

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-২১ ১৪:৫৫:০৯

‘ঘরের মাঠে আমরাই ফেভারিট’, বাংলাদেশ অধিনায়কের মুখে এমনটা শোনা না গেলেও জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক বলেছিলেন এই সিরিজে তারাই ফেভারিট। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের এখনও বাকি আছে আরও দুই ম্যাচ। তবে প্রথম ম্যাচ জিতে যে বাংলাদেশ ১-০ তে এগিয়ে গেছে এটাই এখন সত্য।

আজ রোববার শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। এই মাঠে ২৫০ রান করলে যে কোনও দলই যে জিততে পারে সেটা গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

এই লক্ষ্যেই টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত অধিনায়কের। কিন্তু ব্যাটিংয়ে নেমে যেভাবে উইকেট দিয়ে আসার মিছিল শুরু করেছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা তাতে ২০০ রান পার হতো কি না তা নিয়েই ছিল সন্দেহ।

দলীয় ১৬ রানের মাথায় ১৪ বলে চার রান করে বিদায় নেন লিটন দাস। এরপর অভিষিক্ত ফজলে রাব্বিও ফেরেন রানের খাতা খোলার আগে।

ইমরুল-মুশফিক জুটি কিছুটা আশা দেখালেও এগোতে পারেনি বেশিদূর। ব্রেন্ডন মাভুতার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নিলেন ১৫ রান করে।

এরপর মোহাম্মদ মিঠুন এসে রান তুলছিলেন দ্রুত। কিন্তু ৪০ বলে ৩৭ রান করে কাইল জার্ভিসের বলে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন ডান-হাতি এই ব্যাটসম্যান। মাহমুদুল্লাহ শূন্য রানে আর মেহেদী হাসান মিরাজ ১ রানে আউট হয়ে কপালে পড়ে চিন্তার ভাজ।

এত কিছু ঘটে গেলেও ইমরুল কায়েস একটুও নড়েননি তার কক্ষপথ থেকে। শেষ পর্যন্ত টেনে নিলেন দলকে। সঙ্গী হিসেবে পেলেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনকে।

ইমরুল কায়েস তুলে নেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতক। টেন্ডাই চাতারার বলে ক্যাচ দিয়ে যখন প্যাভিলিয়নে ফিরছেন এই ওপেনার তখন তার নামের পাশে ১৪০ বলে ১৪৪ রানের এক ঝলমলে ইনিংস। তার এই লম্বা ইনিংসে ছিল ৬টি ওভার বাউন্ডারি আর ১৩টি বাউন্ডারি।

এদিন সাইফুদ্দিনও আস্থার প্রতিদান দেন। ক্যারিয়ারে প্রথম অর্ধশত রান করে দলকে এনে দেন শক্ত ভিত।
৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭১ রান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ফেভারিটের মতোই শুরু করেছিলেন জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা আর কেফাস ঝুওয়াও। এই দুইয়ের জুটি থেকে আসে ৪৮ রান।

কিন্তু জুটি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠার আগে মুস্তাফিজু রহমান ফেরান ঝুওয়াওকে। ২৪ বলে ৩৫ রান করে মাঠ ছাড়েন এই ওপেনার। এর পরপরই প্রতিপক্ষের সেরা ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেইলরকে সাজঘরে ফেরান নাজমুল অপু।

উইকেটে থিতু হতে পারেননি আরেক ওপেনার মাসাকাদজাও। ৩৪ বলে ২১ করে পড়েন রান আউটের ফাঁদে। এরপর ক্রেগ আরভিন আর সিকান্দার রাজা মিলে প্রতিরোধ গড়ার প্রচেষ্টাও সফল হতে পারেননি। ২ বলে ৭ রান করে বিদায় নেন সিকান্দার রাজা। অন্যদিকে ব্যক্তিগত ২৪ রানের মাথায় বোল্ড হয়ে ফেরেন আরবিন।

এর পর কাণ্ডারি হয়ে দাঁড়ান শেন উইলিয়ামস। ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। যদিও পথে ডোনাল্ড তিরিপানো, ব্রান্ডন মাভুতা ছিটকে যান। সেসময় বড় রানে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল টাইগাররা।

তবে কাইল জারভিসকে নিয়ে নবম উইকেটে ৬৭ রানের বড় পার্টনারশিপ গড়েন উইলিয়ামস। ৪৯তম ওভারের চতুর্থ বলে আউট হন জারভিস। শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ারের ২৯তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন উইলিয়ামস। তবে ২৮ রানের হারের লজ্জা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

মেসিকে ছাড়াই কোপার পরিকল্পনা আর্জেন্টিনার!

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-১৯ ১৪:৫৬:৩০

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে ‘সাময়িক অবসর’ নিয়েছেন লিওনেল মেসি। বিশ্রামের নাম করে নেওয়া এই স্বেচ্ছা অবসর থেকে কবে ফিরবেন তারও কোনো ইঙ্গিত নেই। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি আর জাতীয় দলে ফিরবেন না মেসি? এই প্রশ্নের উত্তর দেবে সময়। তবে আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেঢারেশনের (এএফএ) হাবভাবে স্পষ্ট, মেসিকে ছাড়াই আসন্ন কোপা আমেরিকার প্রস্তুতি-পরিকল্পনা করছে তারা!

শুধু মেসি নয়, অন্য যে সিনিয়ররা আপাতত দলের বাইরে, তাদেরকেও ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নাকি নেই এএফএ’র। এমনকি কোপার আগে স্থায়ী কোচ নিয়োগের পরিকল্পনাও নেই। মানেটা স্পষ্ট, মেসি এবং স্থায়ী  কোচ ছাড়াই ২০১৯ সালের কোপা আমেরিকায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা!

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার দায় চাপিয়ে কোচ হোর্হে সাম্পাওলিকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ করা হয়েছে লিওনেল স্কালোনিকে। প্রথমে শোনা গিয়েছিল ২০১৮ সালের বাকি সময়টুকুর জন্যই অস্থায়ীভাবে কোচ করা হয়েছে ৪০ বছর বয়সী স্কালোনিকে। সামনেই যেহেতু কোপা আমেরিকার কঠিন চ্যালেঞ্জ। তাই ২০১৯ সালের শুরুতেই দেখে-শুনে বিশ্বমানের একজনকে স্থায়ী কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে, যিনি বিশ্বসেরা মেসিকে কোচিং করানো এবং নিয়ন্ত্রণ করার যোগ্য হবেন।

সেই যোগ্যতার নিরীখে বেশ কয়েকজনের নামও ভাসছে বাতাসে। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমিওনে, টটেনহামের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো এবং আর্জেন্টাইন ক্লাব রিভার প্লেটের কোচ মার্সেলো গ্যালার্দোর কথাই শোনা যাচ্ছে বেশি। গুঞ্জন আছে হোসে সাবেক কোচ হোসে পেকারম্যানকে আবার ফিরিয়ে আনার বিষয়েও। কিন্তু আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমের খবর, স্থায়ী কোচ নিয়োগের পরিকল্পনা নাকি আপাতত এএফএর নেই।

২০১৯ সালের কোপা আমেরিকার আসর বসবে ব্রাজিলে। জুন-জুলাইয়ের এই মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্ট নিয়েই নাকি এএফএর সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই! তবে স্থায়ী কোচ নিয়োগ বা গঞ্জালো হিগুয়েইন, সার্জিও আগুয়েরো, অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়াসহ অন্য সিনিয়র খেলোয়াড়দের দলে ফেরানোর বিষয় নিয়ে ততটা আলোচনা হচ্ছে না। মেসির ফেরা না ফেরা নিয়েই আলোচনাটা হচ্ছে বেশি!

নতুন করে পথ চলার শপথ নিয়ে অন্তর্বর্তী কোচ স্কালোনি এক দল তরুণকে নিয়ে দল গঠন করেছেন। তারকাবিহীন দলটি এরই মধ্যে খেলে ফেলেছে ৪টি ম্যাচ। তাতে দুটিতে জয়, একটিতে ড্র, একটিতে হার। একমাত্র সেই হারটা গতকাল মঙ্গলবার চিরশত্রু ব্রাজিলের বিপক্ষে।

এমনিতে ব্রাজিলের কাছে হার হজম করা আর্জেন্টাইনদের জন্য কঠিন। কিন্তু এবারের হারটাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে আর্জেন্টাইনরা। অনভিজ্ঞ তরুণরাও তারকাখচিত ব্রাজিলের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে, এতেই খুশি তারা। আর্জেন্টাইন ফুটবলবোদ্ধাদের মনে এই বিশ্বাসও জন্ম নিয়েছে, এই তরুণদের সময় দিলে এবং যত্ন নিয়ে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে ভালো একটা দলই পাওয়া যাবে।

দলের খেলা দেখে এএফএ কর্তাদের মনেও এই বিশ্বাসটাই জন্মেছে। তাই মেসিসহ অন্য সিনিয়রদের ফিরিয়ে না এনে এই তরুণদের গড়ে তোলার পরিকল্পনাই নাকি করছে! তবে পরিকল্পনা এখনো পাকা নয়। এএফএস আসলে দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে আছে। দ্বিধাদ্বন্দ্বটা কেটে গেলেই জানা যাবে মেসিসহ অন্যদের ক্যারিয়ারের ভবিষ্যত। তবে অস্থায়ী কোচ স্কালোনির ভাষ্য, মেসি যখনই ফিরবেন, তাকে স্বাগত জানানো হবে। তার জন্য ’১০ নম্বর’ জার্সিটাও তুলে রেখেছেন স্কালোনি।

কিন্তু আর্জেন্টিনার অনেক সাবেক ফুটবলারই চান না মেসিকে আবার ফিরিয়ে আনা হোক। তারা বরং নতুন করে পথ চলারই পক্ষে। আর সেই দলে আছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর স্বয়ং ম্যারাডোনাও। আর্জেন্টিনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী নায়ক তো সরাসরিই মেসিকে আহ্বান জানিয়েছেন, জাতীয় দলে আর না ফিরতে।

দেখা যাক জল কোন দিকে গড়ায়।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

৩৭ বছর পর ফুটবল মাঠে ইরানের মেয়েরা

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-১৭ ১৪:২০:১০

৩৭ বছর পর এমন কিছু দেখা গেল ইরানের কোনো স্টেডিয়ামে। ছবি:এএফসিইরানের স্টেডিয়ামগুলো ভুলেই গিয়েছিল এমন দৃশ্যের কথা। গ্যালারির এক প্রান্ত থেকে নারী দর্শকের কণ্ঠ ভেসে আসা, দলের গোলে আনন্দে চিৎকার করা, পতাকা নাড়িয়ে উল্লাস করা। ফুটবল মাঠে যে এমন কিছু হতে পারে, সেটা হয়তো জানা নেই ইরানের নতুন অনেক স্টেডিয়ামেরই। কীভাবে জানবে, ১৯৮১ সাল থেকেই যে ফুটবল স্টেডিয়ামে নিষিদ্ধ ছিলেন নারীরা। গত মঙ্গলবার বলিভিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইরান জাতীয় দল। নারী দর্শকের উপস্থিতিকে জয় দিয়ে উদ্‌যাপন করেছে ফুটবল দল।

গতকাল বলিভিয়ার বিপক্ষে তেহরান স্টেডিয়ামে খেলতে নেমেছিল ইরান। আলিরেজা জাহানবখশ ও মেহদি তোরাবির গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে স্বাগতিকেরা। তবে এ জয়ের চেয়েও গুরুত্ব পেয়েছে গ্যালারিতে থাকা ১০০ নারীর উপস্থিতি। সত্তরের দশকের শেষ দিকে ইসলামিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই স্টেডিয়ামে নারীদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ হতে থাকে। ১৯৮১ সালের পর থেকে তো কোনো নারী স্টেডিয়ামেও ঢুকতে পারেননি। এরপর যে নারীরা মাঠে গিয়ে খেলার স্বাদ নিয়েছেন, তারা সবাই পুরুষ সেজে সেখানে গিয়েছেন, শাস্তির ঝুঁকি মাথায় নিয়েই। অথচ দেশের বাইরে দলের খেলাতে উপস্থিত থাকেন অনেক নারী দর্শক। রাশিয়া বিশ্বকাপেও গ্যালারিতে উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল ইরানি মেয়েদের।

রাষ্ট্রীয় সংস্থা আইএলএনএ জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের পরিবারের লোকজনই মাঠে ঢোকার এ দুর্লভ সৌভাগ্যের স্বাদ পেয়েছে এবার। অনেকের ধারণা, এ ম্যাচ দিয়েই ধীরে ধীরে নারীর সম অধিকারের পথে হাটতে শুরু করবে দেশটি। কিছুদিন আগে স্থানীয় ভলিবল ও বাস্কেটবল ম্যাচেও নারী দর্শকেরা প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন। কিন্তু সবাই এতে সন্তুষ্ঠ নন। ব্রাসেলসে অবস্থান নেওয়া নারী অধিকারকর্মী দারিয়া সাফানি দাবি করেছেন ‘এসব ধোঁকাবাজি’, মানুষের সঙ্গে প্রহসন করছে ইরানি কর্তৃপক্ষ, ‘যত দিন মেয়েরা টিকিট কিনতে পারবে না, স্টেডিয়ামের নিষেধাজ্ঞা আসলে তত দিনই থাকবে। ভলিবলেও তারা এটা করেছে। অধিকারকর্মীদের চাপে পড়ে তারা কিছু নারী বেছে নেয় খেলা দেখার জন্য। এটা একটা চাল মাত্র।’

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিন

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-১২ ১৩:৫২:৫০

ফাইনাল খেলা ফাইনালের মতোই হয়েছে বলা যায়। নির্দিষ্ট সময়ে হয়নি কোনও গোল। এরপর অতিরিক্ত ৩০ মিনিট মিলে ১২০ মিনিটে খেলা গড়ালেও কোনও গোল পায়নি কোনও দল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

৬ জাতির টুর্নামেন্টে তিন ভেন্যুতে ১২ দিনের বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ-২০১৮ এর মহাযজ্ঞ শেষ হলো আজ শুক্রবার তাজিকিস্তান আর ফিলিস্তিনের মধ্যকার জমজমাট এক ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে।

এই ম্যাচে জয়টা ফিলিস্তিনের হলেও কৃতিত্ব দিতে হবে ১০ জনের দল নিয়ে খেলা তাজিকিস্তানকে। ম্যাচের ৩৪ মিনিটের সময় তাজিকিস্তান দলের অধিনায়ক ফাতখুল্লুক বিবাদ বাঁধান ফিলিস্তিনের মারাবাহকের সঙ্গে। তখনই ফাতখুল্লুককে লালা কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়।

এরপরও ১০ জনের দল নিয়েও দমে যায়নি তাজিকরা। একের পর এক পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমিয়ে তোলে দুই দল।

শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে খেলা গড়ালে ফিলিস্তিনের গোলকিপার শেষ দুই শট ঠেকিয়ে জয় এনে দেয় যুদ্ধবিদ্ধস্থ দেশটিকে।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

মাঠে নেমেই জোড়া গোল উসাইন বোল্টের

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-১২ ১৩:৫২:০১

স্প্রিন্ট ট্র্যাক থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়ার পর পেশাদার ফুটবলার হবার জন্য চেষ্টার কমতি নেই স্প্রিন্টের রাজা উসাইন বোল্টের। ১০০ মিটার স্প্রিন্টের দ্রুততম এই মানব ট্র্যাক ছেড়ে দেবার পর পেশাদার ফুটবলার হবার প্রচেষ্টায় ঘুরে বেড়িয়েছেন বিশ্বের নানান প্রান্তে। বিভিন্ন ক্লাবে অনুশীলনও করেছেন। তবে কোথাও থিতু হবার সুযোগ পাননি।

এই অতি আগ্রহের কারণে বোল্টের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে অস্ট্রেলীয় ‘এ’ লীগের ক্লাব সেন্ট্রাল কোস্ট মেরিনার্স। অনন্ত কাল ট্রায়ালের সুযোগ করে দিয়েছে জ্যামাইকান এই গতি দানবকে। কিন্তু দৌঁড়ানো আর ফুটবল খেলা যে এক নয় সেটি হারে হারে টের পেয়েছেন বোল্ট। দলের হয়ে প্রথম মাঠে নামার সুযোগ পেয়ে মাত্র ২০ মিনিটেই ক্লান্তি ভর করেছিল তার। এগুতে পরেননি সেই দফায়।

তবে নিজের স্বপ্ন পুরণের অদম্য আগ্রহ দমাতে পারেনি বোল্টকে। লড়াই চালিয়ে গেছেন, সফলও হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রথম মাইলফলকে পৌছেছেন বোল্ট। মাঠে নেমেছেন পেশাদার ফুটবলে জার্সি  পরে। দেখা পেয়েছেন গোলেরও। তাও আবার এক ম্যাচেই দুটি গোল করেছেন অলিম্পিকের আট স্বর্ণপদক জয়ী এই স্প্রিন্টার। গোল উদযাপনটা অবশ্য তার জন্য হয়ে গেছে কস্টদায়কও। কারণ দুই গোল করা ম্যাচে কুচকির ইনজুরিতেও আক্রন্ত হয়েছে তিনি।

শুক্রবার মৌসুম পূর্ব প্রীতি ম্যাচে সেন্ট্রাল কোস্টের হয়ে ফরোয়ার্ড হিসেবে নেমে এই অসাধ্য সাধন করেছেন বোল্ট। শুক্রবার সিডনিতে ম্যাকার্থার সাউথ ওয়েস্ট ইউনাইটেডের বিপক্ষে অনুষ্টিত ম্যাচে দুই দুটি গোল করেছেন ১০০ মিটার স্প্রিন্টের এই বিশ্ব রেকর্ডধারী।ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে গোল করেই উদযাপনে নেমে পড়েন বোল্ট। তার সেই বিখ্যাত ট্রেডমার্ক আদলে কাল্পনিক তীর ছুড়ে উদযাপন করেন পেশাদার ফুটবলের প্রথম গোলটি। ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান ৩২ বছর বয়সি এই বিশ্বখ্যাত তারকা। ম্যাচে ৪-০ গোলে জয়লাভ করে তার দল।

গত আগস্টে অনির্ধারিত সময়ের জন্য ‘এ’ লীগের এই ক্লাবে ট্রায়ালে অংশগ্রহনের চুক্তিবদ্ধ হওয়া বোল্টের এটি ছিল প্রথম কোন ম্যাচ। এর আগে অবশ্য কয়েকটি ‘অ্যামেচার’ ফুটবল ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন বোল্ট।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কে টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট উদ্বোধন, ক্রীড়াঙ্গণে কমিউনিটিতে নতুন দিগন্ত

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-১০ ১৪:৪৬:৩৮

নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে উৎসব গ্রুপ বাংলাদেশী প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) ইউএসএ-২০১৮ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় শনিবার এই টুর্নামেন্ট শুরু হয়। যৌথভাবে এই টুর্নামেন্টের আয়োজক হচ্ছে নর্থ আমেরিকান ক্রিকেট প্লেয়ার্স এসোসিয়েশন ও এনওয়াইবিসিএল। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগের নামে ১৬টি দল অংশগ্রহণ করছে। এই টুর্নামেন্টের গ্র্যান্ড স্পন্সর হচ্ছে ‘উৎসব গ্রুপ’ আর মিডিয়া পার্টনার হচ্ছে ‘টাইম টেলিভিশন ও বাংলা পত্রিকা’। আর এই টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশী কমিউনিটিতে নতুন দিগন্তের শুভ সূচনা হলো। দেশ-বিদেশের বিপুল সংখ্যক ক্রিকেট ভক্ত টাইম টেলিভিশনের মাধ্যমে উদ্বোধনী ম্যাচ সরাসরি উপভোগ করেন। এজন্য অনেক ক্রিকেটামোদী মেইলে বিপিএল ইউএসএ টি-২০ টুর্নামেন্ট আয়োজক, পৃষ্ঠপোষক উৎসব গ্রুপ এবং মিডিয়া পার্টনার বাংলা পত্রিকা ও টাইম টেলিভিশন-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। টুর্নামেন্টর উদ্বোধনী ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করায় বিশ্বব্যাপী ক্রিড়ামোদীরা টাইম টেলিভিশন-এর উদ্যোগের ভূয়শী প্রশংসা করেছেন। 

শনিবার (৬ অক্টোবর) মেঘলা সকাল আর মৃদুমন্দ বাতাসে নিউইয়র্কের রুজডেলে প্রতিষ্ঠিত গাছ-গাছালী ঘেরা আইডলউল্ড ক্রিকেট মাঠে লাল-সবুজের একগুচ্ছু বেলুল উড়িয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন গ্র্যান্ড স্পন্সর উৎসব গ্রুপ-এর চেয়ারম্যান রায়হান জামান। উদ্বোধনী ম্যাচে টুর্নামেন্টের এ গ্রুপে ঢাকা স্কোরপিওন্স সহজেই ৮ উইকেটে সিলেট জালালিয়ান্স-কে পরাজিত করে শুভ সূচনা করে। খেলায় টসে হেরে সিলেট জালালিয়ান্স নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলায় ৫ উকেটের বিনিময়ে ১২৭ রান সংগ্রহ করে। অপরদিকে ঢাকা স্কোরপিওন্স দুই উকেটের বিনিময়ে ১৫ দশমিক ১ ওভারে ১৩১ রান সংগ্রহ করে জয়ী হয়। উদ্বোধনী খেলা শেষে এই ম্যাচের সেরা খেলোয়ার ঢাকা স্কোরপিওন্স-এর নাজমুল সিদ্দিকের হাতে ট্রফি তুলে দেন টাইম টেলিভিশন-এর সিইও এবং বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক আবু তাহের। খেলায় নাজমুল সিদ্দিক ৬১ রান সংগ্রহ করে। উদ্বোধনী ম্যাচ টাইম টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির সভাপতি সুমন খান এবং সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জনি। এসময় টাইম টেলিভিশন-এর অন্যতম পরিচালক সৈয়দ ইলিয়াস খসরু, উৎসব গ্রুপের মার্কেটিং ডিরেক্টর সৈয়দ এ আল আমীন ও বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিলের কর্মকর্তা তৈয়বুর রহমান টনি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির সহ সভাপতি মাসুম রহমান। উদ্বোধনী দিনে নিউইয়র্কের বিভিন্ন মাঠে আরো ৭টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে রায়হান জামান প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের উদ্যোগে টি-২০ টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, আমেরিকার ক্রিকেট ইতিহাসে আজকের দিনটি একটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে। সেই সাথে আমরা উৎসব গ্রুপ আর মিডিয়া পার্টনার টাইম টেলিভিশন ও বাংলা পত্রিকা সহ সংশ্লিস্ট সবাই এই মাইল ফলকের অংশীদার। সবার সহযোগিতায় এই টুর্নামেন্ট সফল ও সার্তক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উদ্বোধনী ম্যাচ শেষে অতিথি হিসেবে বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশন-এর সিইও আবু তাহের তার বক্তব্যে টি-২০ টুর্নামেন্টের সাফল্য কামনা করে বলেন, সবার সহযোগিতায় এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টেকে আরো এগিয়ে নিতে হবে। ক্রিকেট-কে আমেরিকানদের কাছে জনপ্রিয় করতে এমন টুর্নামেন্ট ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, আজ আমেরিকাতে আমাদের কমিউনিটির সবার জন্য নতুন অভিজ্ঞতার দিন। নতুন টুর্নামেন্টের পাশপাশি টাইম টেলিভিশন এই প্রথমবারের মতো কোন খেলা সরাসরি মাঠ থেকে সম্প্রচার করছে। এই পথ চলা আগামী দিনে সবার পাথেয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, এটি টুর্নামেন্ট বাংলাদেশী সহ যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটারদের জন্য একটি প্রেরণা, এটি তাদেরকে আরও ভাল খেলতে উৎসাহিত করবে।     
বিপিএল টি-২০ ২০১৮’র দলসমূহ হলো (দলগুলোর স্বত্তাধিকারী সহ): সিলেট সুলতান  (সারোয়ার চৌধুরী মওলুদ), সিলেট জালালিয়ান (ইফতেখার বিপ্লব), সিলেট ঈগলস (নাবিলা রহমান), বিয়ানীবাজার ইয়াং স্টার (শাহানুল করিম), সিলেট স্ট্রাইকার ও ওয়ারিয়র (ইরফান খান, লিসান চৌধুরী, লিসান চৌধুরী, রাজু আহমেদ, সালেহ আহমেদ), ঢাকা স্করপিওন (তানভীর এইচ চৌধুরী বাবু) বাবু, ঢাকা গ্লাডিয়েটর (মারজান আলম), মুন্সিগঞ্জ বিক্রমপুর (আরিফুল ভূঁইয়া জিয়া), কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স নিউইয়র্ক (মেহেদী হাসান সোহাগ), কুমিল্লা আইডিয়াল (রাশেদুল ইসলাম), সাতক্ষীরা টাইগার্স (রুমেল খান, সাদমান খান), নোয়াখালী ডায়নামাইটস (আরমান চৌধুরী), নোয়াখালী নেমেসিস (জাহিদুল ইসলাম, মাহাদি হাসান), বরিশাল রয়েলস (ফয়সাল আহমেদ, আসমা খান, তানভীর ভূঁইয়া), সন্দ্বীপ চিতাজ (সজীব জামান) এবং চিটাগাং লায়ন্স (আশরাফ খালিদ নেওয়াজ, ফরহাদ মাহমুদ, সজীব জামান)।
টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির সভাপতি সুমন খান ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জনি জানান, বাংলাদেশীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট, নিউইয়র্কে প্রতিবছর প্রায় ৪০টির বেশি দল নিয়ে এনওয়াইবিসিএল ক্রিকেট লীগ হয়, যেখানে ১০০০ এর বেশি বাংলাদেশী খেলোয়ার আছেন। নিউইয়র্কে স্কুল ক্রিকেট, এনওয়াইপিডি ইয়্যুথ লীগসহ অন্যান্য লীগ হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় কমবেশী সবাই এখানে ক্রিকেটপ্রেমী হলেও অনেকেই জানেন না স্থানীয় ক্রিকেট লীগের কথা। তাই প্রবাসে যেসব স্থানীয় ক্রিকেট খেলোয়াড় আছেন তাদের মধ্যে থেকে ভবিষ্যতের সাকিব, মাশরাফি, তামিমদের খুঁজে বের করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই, আমাদের তরুণ, উদীয়মান ক্রিকেট খেলোয়াড়রা বের হয়ে আসুক এবং নিউইয়র্কের এই টুর্নামেন্টে খেলে বাংলাদেশ জাতীয় দলে জায়গা করে নিক। আর এই কাজে প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা সাহায্যের হাত বাড়ালে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কমিউনিটিও লাভবান হবে।

টুর্নামেন্ট কমিটির কর্মকর্তারা তাদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট পরিচালনা ও সফল করতে সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। 

প্রতিযোগিতামূলক এই টুর্নামেন্টে মোট ১৬টি দল অংশগ্রহণ করবে। প্রতিটি দলে একজন আইকন ও তিনজন হোম টাউন খেলোয়াড়, সাতজন এ ক্যাটাগরি, তিনজন বি ক্যাটাগরিসহ মোট ১৪জন খেলোয়াড় থাকবে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে ২টি দল কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে, এরপর সেমি এবং ফাইনাল খেলা হবে। সর্বমোট ১০,০০০ ডলার নগদ অর্থ পুরস্কার থাকবে। যেখানে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে নগদ ৫,৫০০ ডলার এবং রানার্সআপ ২,০০০ ডলার। এছাড়াও থাকবে প্রতি খেলায় সেরা খেলোয়ারের পুরস্কারসহ চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ।
এছাড়াও গ্র্যান্ড স্পন্সর হিসেবে থাকছে ১০ বছর ধরে ক্রিকেটের সাথে জড়িত রেন্ডী বি সিগেল, গোল্ড এনওয়াই ইন্সুরেন্স, জেরিন বুটিক, আরমান চৌধুরী (সিপিএ), কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও মূলধারার রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ী গিয়াস আহমদ।
উল্লেখ্য, বাকানা আয়োজিত ক্রিকেট লীগের পথ ধরেই চারর বছর ‘এনওয়াইবিসিএল’ টুর্নামেন্ট চলার পর আমরাই প্রথম বিপিএল টি-২০ ২০১৮ আয়োজন করা হয়েছে। বিপিএল যুক্তরাষ্ট্রের রেজিষ্টার্ড করা। তাই এই নাম নিয়ে কোন সমস্যা বা বিভ্রান্তি হবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস। আর প্রতিটি দলের এন্টি ফি থাকবে সবমিলিয়ে ১৬,০০ ডলার। বাংলাদেশের সাবেক ক্যাপ্টেন খালেদ মাসুদ পাইলট ছাড়াও সাবেক খেলোয়ারগণ অংশ নেবেন এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। এছাড়াও নিউইয়র্ক সহ নিউজার্সী, মিশিগান, টেক্সাস প্রভৃতি অঙ্গরাজ্য থেকে প্রবাসের ক্রিকেট খেলোয়ার অংশ নেবেন। সপ্তাহের প্রতি শনিবার নিউইয়র্কের কুইন্স বরোর বিভিন্ন ক্রিকেট মাঠে একাধিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। টাইম টেলিভিশন পরবর্তীতে টুর্নামেন্টের সেমি ফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে।


এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সেই ভুটানেই জয়োৎসব করল বাংলাদেশের মেয়েরা

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-০৭ ১৪:২৬:৪১

দুই মাস আগে ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে কেঁদেছিল মারিয়া মান্ডা-শামসুন্নাহাররা। সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেও হেরে গিয়েছিল ১-০ ব্যবধানে।

সেই চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামেই আজ জয়োৎসব করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। তাদের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বাংলাদেশে। এবার অনূর্ধ্ব-১৫ তে নয়, অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে। এই টুর্নামেন্টের প্রথম আসরের ফাইনালে আজ রোববার নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। অবশ্য অনূর্ধ্ব-১৫ দলের ১৩ জন ফুটবলার ছিলেন অনূর্ধ্ব-১৮ এর এই স্কোয়াডে। তাই তাদের উচ্ছ্বাসটা একটু বেশিই ছিল। আগস্টে ভারতের কাছে হারের ক্ষতটায় তারা এবার প্রলেপ দিয়েছে সোনালী রঙের ট্রফিতে চুমু খেয়ে। আর সেই ভারত এবার বিদায় নিয়েছে সেমিফাইনাল থেকেই।

আজ রোববার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে নেপাল। অবশ্য গ্রুপপর্বে নেপালকে অনায়াসে ২-১ গোলে হারালেও আজ হিমালয়ের কন্যারা বাংলাদেশকে বেশ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। সেই চ্যালেঞ্জের মুখে প্রথমার্ধে কোনো গোলের দেখা পায়নি তারা। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল পায় বাংলাদেশ। এ সময় (৪৮ মিনিটে) মনিকা চাকমার নেওয়া ফ্রি কিকে মাথা লাগিয়ে বল জালে পাঠান মাসুরা পারভীন। পুরো টুর্নামেন্টে মাসুরা কোনো গোল না পেলেও আজ তার করা একমাত্র গোলেই সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরের শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের মেয়েরা।

সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ১৭-০ গোলে উড়িয়ে দেয়। পরের ম্যাচে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠে। এরপর সেমিফাইনালে স্বাগতিক ভুটানকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পায়। অন্যদিকে নেপাল তাদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ১২-০ গোলে উড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হারলেও সেমিফাইনালে ওঠে। আর সেমিফাইনালে ভারতের মতো শক্তিশালী দলকে টাইব্রেকাওে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালের টিকিট পায় তারা।

এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দলের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে ক্রীড়াবান্ধব প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপ।

সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ ছিল ‘বি’ গ্রুপে। যেখানে মৌসুমী-মারিয়াদের প্রতিপক্ষ ছিল নেপাল ও পাকিস্তান। ‘এ’ গ্রুপে ছিল ভারত, স্বাগতিক ভুটান ও মালদ্বীপ।

২৩ সদস্যের বাংলাদেশ দল : মাহমুদা আক্তার, রূপনা চাকমা, রুকসানা বেগম, মাসুরা পারভীন, শিউলি আজিম, মোসাম্মদ আঁখি খাতুন, সাজেদা খাতুন, শামসুন্নাহার, আনাই মোগিনি, নাজমা, রিতু পর্না চাকমা, নিলুফা ইয়াসমিন নীলা, মারিয়া মান্ডা, মোসাম্মদ মিসরাত জাহান মৌসুমি (অধিনায়ক), মোসাম্মদ ইসরাত জাহান রত্না, মনিকা চাকমা, মার্জিয়া, সানজিদা আক্তার, তহুরা খাতুন, মোসাম্মদ সিরাত জাহান স্বপ্না, শ্রীমতি কৃষ্ণারাণী সরকার, মোসাম্মদ রাজিয়া খাতুন ও অনুচিং মোগিনি।


এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ক্যাপ্টেন-লিডার-লিজেন্ড মাশরাফিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালো আইসিসি

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-০৫ ১৬:১৩:১৮

মাশরাফি বিন মুর্তজা—বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক। কিন্তু ২২ গজের এই গণ্ডি ছাড়িয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন ১৬ কোটি বাঙালির হৃদয়ে। ক্রিকেটপ্রেমীদের থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে মাশরাফি নামটি একজন ক্রিকেটার কিংবা অধিনায়কের চেয়েও অনেক বড় কিছু। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) ৩৫ বছরে পা দিয়েছেন নড়াইল এক্সপ্রেস। জন্মদিনে দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্ত-সমর্থকের পাশাপাশি তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় দলের সতীর্থরা।

জন্মদিনে মাশরাফিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক ও টুইটারে নিজেদের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশ অধিনায়ককে শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিশ্ব-ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এ ছাড়া ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো এবং আইসিসি বিশ্বকাপের ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে মাশরাফিকে ৩৫তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছে। শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে ডানহাতি এই পেসারকে অধিনায়ক, নেতা ও

২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ২০ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট তুলে নেন মাশরাফি। যা ওই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ে দুর্দান্ত ভূমিকা রাখে। আফগানদের বিপক্ষে মাশরাফির বোলিংয়ের সেই ভিডিও ক্লিপ আইসিসি বিশ্বকাপের ভেরিফাইড পেজ থেকে পোস্ট করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে কিংবদন্তি উপাধি দিয়ে ৩৫তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।


আইসিসি বিশ্বকাপ পেজ থেকে জানানো শুভেচ্ছা বার্তায় লেখা হয়, ‘অধিনায়ক, নেতা, কিংবদন্তি। শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।’

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ এই উইকেট শিকারিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজেদের ফেসবুক পেজ থেকে আইসিসি লিখেছে, ‘সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে সর্বপ্রথম ২৫০ উইকেট নিয়েছেন। তিনিই বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক। শুভ জন্মদিন মাশরাফি বিন মুর্তজা।’

ফেসবুকের পাশাপাশি আইসিসির অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকেও মাশরাফির জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। সেখানে তারা লিখেছে, ‘বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক এবং এই ফরম্যাটেই ২৫১ উইকেট নিয়ে তাদের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। শুভ জন্মদিন মাশরাফি বিন মুর্তজা।’

ইএসপিএন ক্রিকইনফো তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে মাশরাফিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে লিখেছে, ১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর নড়াইলে জন্মগ্রহণ করেন মাশরাফি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাশরাফির অভিষেক ২০০১ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে। একই বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক হয় ডানহাতি এই পেসারের। টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক ২০০৬ সালে। কিন্তু ইনজুরির কবলে পড়ে ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অনেকটা সময়ই মাঠের বাইরে কাটিয়েছেন তিনি। সাত বার যেতে হয়েছে অপারেশন টেবিলে। তবুও দমে যাননি!

২০১৪ সালে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অধিনায়কের দায়িত্ব পান মাশরাফি বিন মুর্তজা। তার হাত ধরেই ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ দল। ঘরের মাটিতে হয়ে ওঠে অদম্য এক প্রতিপক্ষ। শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও মাশরাফির হাত ধরে এসেছে সফলতা। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল এবং এশিয়া কাপে সর্বশেষ আসরে ফাইনাল পর্যন্ত খেলেছে বাংলাদেশ। এর সবই সম্ভব হয়েছে একজন মাশরাফির কারণে।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্কে বিপিএল ইউএসএ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু ৬ অক্টোবর

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-০৩ ১৪:৪৯:২৬

নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশী প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) ইউএসএ-২০১৮ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে। টুর্নামেন্টের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। এতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগের নামে অংশগ্রহণ করবে ১৬টি দল। এই টুর্নামেন্টের গ্র্যান্ড স্পন্সর হচ্ছে ‘উৎসব গ্রুপ’ আর মিডিয়া পার্টনার হচ্ছে ‘টাইম টেলিভিশন ও বাংলা পত্রিকা’। আগামী ৬ অক্টোবর শনিবার থেকে টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে। টুর্নামেন্টের খেলাগুলো হবে কুইন্সের বিভিন্ন মাঠে। টাইম টেলিভিশন উদ্বোধনী আর ফাইনাল খেলা সহ চারটি খেলা সরাসরি সম্প্রচার করবে। যৌথভাবে এই টুর্নামেন্টের আয়োজক হচ্ছে নর্থ আমেরিকান ক্রিকেট প্লেয়ার্স এসোসিয়েশন ও এনওয়াইবিসিএল।
বিপিএল টি-২০ ২০১৮’র দলসমূহ হলো (দলগুলোর স্বত্তাধিকারী সহ): সিলেট সুলতান  (সারোয়ার চৌধুরী মওলুদ), সিলেট জালালিয়ান (ইফতেখার বিপ্লব), সিলেট ঈগলস (নাবিলা রহমান), বিয়ানীবাজার ইয়াং স্টার (শাহানুল করিম), সিলেট স্ট্রাইকার ও ওয়ারিয়র (ইরফান খান, লিসান চৌধুরী, লিসান চৌধুরী, রাজু আহমেদ, সালেহ আহমেদ), ঢাকা স্করপিওন (তানভীর এইচ চৌধুরী বাবু) বাবু, ঢাকা গ্লাডিয়েটর (মারজান আলম), মুন্সিগঞ্জ বিক্রমপুর (আরিফুল ভূঁইয়া জিয়া), কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স নিউইয়র্ক (মেহেদী হাসান সোহাগ), কুমিল্লা আইডিয়াল (রাশেদুল ইসলাম), সাতক্ষীরা টাইগার্স (রুমেল খান, সাদমান খান), নোয়াখালী ডায়নামাইটস (আরমান চৌধুরী), নোয়াখালী নেমেসিস (জাহিদুল ইসলাম, মাহাদি হাসান), বরিশাল রয়েলস (ফয়সাল আহমেদ, আসমা খান, তানভীর ভূঁইয়া), সন্দ্বীপ চিতাজ (সজীব জামান) এবং চিটাগাং লায়ন্স (আশরাফ খালিদ নেওয়াজ, ফরহাদ মাহমুদ, সজীব জামান)।
টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির সভাপতি সুমন খান ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জনি ইউএনএ প্রতিনিধি-কে জানান, বাংলাদেশীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট, নিউইয়র্কে প্রতিবছর প্রায় ৪০টির বেশি দল নিয়ে এনওয়াইবিসিএল ক্রিকেট লীগ হয়, যেখানে ১০০০ এর বেশি বাংলাদেশী খেলোয়ার আছেন। নিউইয়র্কে স্কুল ক্রিকেট, এনওয়াইপিডি ইয়্যুথ লীগসহ অন্যান্য লীগ হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় কমবেশী সবাই এখানে ক্রিকেটপ্রেমী হলেও অনেকেই জানেন না স্থানীয় ক্রিকেট লীগের কথা। তাই প্রবাসে যেসব স্থানীয় ক্রিকেট খেলোয়াড় আছেন তাদের মধ্যে থেকে ভবিষ্যতের সাকিব, মাশরাফি, তামিমদের খুঁজে বের করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই, আমাদের তরুণ, উদীয়মান ক্রিকেট খেলোয়াড়রা বের হয়ে আসুক এবং নিউইয়র্কের এই টুর্নামেন্টে খেলে বাংলাদেশ জাতীয় দলে জায়গা করে নিক। আর এই কাজে প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা সাহায্যের হাত বাড়ালে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কমিউনিটিও লাভবান হবে।
বিপিএল ইউএসএ-২০১৮ এর কর্মকর্তারা জানান, প্রতিযোগিতামূলক এই টুর্নামেন্টে মোট ১৬টি দল অংশগ্রহণ করবে। প্রতিটি দলে একজন আইকন ও তিনজন হোম টাউন খেলোয়াড়, সাতজন এ ক্যাটাগরি, তিনজন বি ক্যাটাগরিসহ মোট ১৪জন খেলোয়াড় থাকবে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে ২টি দল কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে, এরপর সেমি এবং ফাইনাল খেলা হবে। সর্বমোট ১০,০০০ ডলার নগদ অর্থ পুরস্কার থাকবে। যেখানে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে নগদ ৫,৫০০ ডলার এবং রানার্সআপ ২,০০০ ডলার। এছাড়াও থাকবে প্রতি খেলায় সেরা খেলোয়ারের পুরস্কারসহ চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ।
এছাড়াও গ্র্যান্ড স্পন্সর হিসেবে থাকবে ১০ বছর ধরে ক্রিকেটের সাথে জড়িত রেন্ডী বি সিগেল, গোল্ড এনওয়াই ইন্সুরেন্স, জেরিন বুটিক, আরমান চৌধুরী (সিপিএ), কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও মূলধারার রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ী গিয়াস আহমদ।
তারা বলেন, আমরা শুরু করেছি মাত্র। আমাদের নির্দিষ্ট কোন বাজেট নেই। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাকানা আয়োজিত ক্রিকেট লীগের পথ ধরেই চারর বছর ‘এনওয়াইবিসিএল’ টুর্নামেন্ট চলার পর আমরাই প্রথম বিপিএল টি-২০ ২০১৮ আয়োজন করছি।

তিনি জানান, বিপিএল যুক্তরাষ্ট্রের রেজিষ্টার্ড করা। তাই এই নাম নিয়ে কোন সমস্যা বা বিভ্রান্তি হবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস। আর প্রতিটি দলের এন্টি ফি থাকবে সবমিলিয়ে ১৬,০০ ডলার। লীগের খেলায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়ারদের এক সপ্তাহ আগে তাদের নাম রেজিষ্টার্ড করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাবেক ক্যাপ্টেন খালেদ মাসুদ পাইলট ছাড়াও সাবেক খেলোয়ারগণ অংশ নেবেন এই টুর্নামেন্টে। এছাড়াও নিউইয়র্ক সহ নিউজার্সী, মিশিগান, টেক্সাস প্রভৃতি অঙ্গরাজ্য থেকে প্রবাসের ক্রিকেট খেলোয়ার অংশ নেবেন।


বিস্তারিত খবর

সেমিফাইনালে টাইগাররা

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-০২ ১৫:০২:২৪

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল হংকংকে হারিয়ে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করে রেখেছিল। কিন্তু জয় উল্লাস ঠিক সেভাবে করতে পারেনি তৌহিদ-মাহমুদুল হাসানরা। তবে সেটা নিশ্চয় পাকিস্তানের হারের পর পুষিয়ে নিয়েছে। শ্রীলংকার বিপক্ষে পাকিস্তান জিতলে ঘরের মাঠে এশিয়া কাপ থেকে বিদায় নিতে হতো বাংলাদেশের যুবাদের। কিন্তু শ্রীলংকা ২৩ রানে পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেছে।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ যুবাদের শুরুটা ভালো হয়নি। শ্রীলংকার বিপক্ষে হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে তারা। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ। হংকংয়ের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে পাকিস্তানের হারের অপেক্ষায় ছিল অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। শ্রীলংকার দেওয়া ২০০ রানের লক্ষ্যে পাকিস্তান যেতে পারেনি। হেরে গেছে ২৩ রানে। লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তান ৯৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে। আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি সেখান থেকে।

অন্য ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে হংকংকে ব্যাটে পাঠায় বাংলাদেশ যুবারা। এরপর বোলাররা যেন হংকং ব্যাটসম্যানদের দিকে এক একটি মারণ গোলা ছুড়তে থাকে। হংকং কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৪৬.৫ ওভারে মাত্র ৯১ রানে শেষ হয়ে যায় তাদের ইনিংস। হংকংয়ের করা ওই রান ৬ ওভারের মধ্যে টপকাতে পারলে সরাসরি সেমিফাইনালে যেতো বাংলাদেশ। কিন্তু তারা তা পারেননি। জিততে নিয়েছে ১১.২ ওভারে। তাও আবার ৫ উইকেট হারিয়ে।

ব্যাটে নেমে বাংলাদেশের শুরুটাও অবশ্য ভালো হয়নি। দলের মাত্র ২২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে তৌহিদরা। পরে আকবর আলী (২৫) আর মাহমুদুল হাসানের (৩২) ব্যাটে জয় পায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের হয়ে ১১ রানে ৩ উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। এছাড়া রাকিবুল হাসান ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ২টি করে উইকেট নেন।

বাংলাদেশ যুবারা 'বি' গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় সেরা দল হিসেবে সেমিতে গেছে। তিন ম্যাচেই জিতে গ্রুপ সেরা হয়েছে শ্রীলংকা। তাই বাংলাদেশকে 'এ' গ্রুপের সেরা দলের মুখোমুখি হতে হবে। এশিয়া কাপ অনূর্ধ্ব-১৯ এর 'এ' গ্রুপের সেরা দল হয়েছে ভারত। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে তারা। বাংলাদেশ-ভারত আগামী ৪ অক্টোবর সেমিফাইনালের ম্যাচে মুখোমুখি হবে। অন্য ম্যাচে পরদিন শ্রীলংকা খেলবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ম্যাচ দুটি শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সকাল ৯টায় শুরু হবে।


এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

পাকিস্তানকে ১৭ গোল দিলো বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-৩০ ১১:৫৪:১৪

১৭ গোল দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। এতো গোল হজম করার পর দেশটির গোলরক্ষক তোবা ইদ্রিস কেবল তাকিয়ে রইলেন। একের পর এক গোল করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। আর পোস্টের মধ্যে থেকে বল কুড়িয়ে এনে সতীর্থদের হাতে তুলে দিয়ে যেন বলছেন, ‘কী আর করা যাবে! নে আবার খেলা শুরু কর।’ গোলরক্ষক হিসেবে ১৭ বার বল কুড়িয়ে আনার কষ্টটা তো আর বলে বোঝানোর নয়!

গত মাসে ভুটানের এই চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামেই অনূর্ধ্ব ১৬ সাফে পাকিস্তানকে ১৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। এক মাসের ব্যবধানে অনূর্ধ্ব ১৮ সাফে বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তান হজম করল ১৭ গোল। বয়সের সঙ্গে বেড়েছে গোলও। মেয়েদের ফুটবলে বাংলাদেশের এটাই সবচেয়ে বড় জয়। ‘নবীন’ পাকিস্তানকে একেবারেই নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে মার্জিয়া, সিরাত জাহান স্বপ্নারা। স্ট্রাইকার স্বপ্নার সাত গোলের ম্যাচে চার গোল করেছেন উইঙ্গার মার্জিয়া, ডিফেন্ডার শিউলি আজম করেছেন দু গোল। একটি করে গোল করেছেন মৌসুমি, আঁখি খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার ও তহুরা খাতুন।

বিস্তারিত খবর

তৃতীয়বার স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের: হেরেও দুঃখ নেই টাইগারদের, কথা রেখেছেন মাশরাফি!

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২৮ ১৭:১৪:০৭

এ নিয়ে তৃতীয়বার স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশের। এর আগে ২০১২ সালে ওয়ানডে ফরম্যাটে এবং ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলে টাইগাররা। প্রথমবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ রানের হারে বেদনাদায়ক চিত্রনাট্য রচিত হয়। আর সবশেষ টি-টোয়েন্টি সংষ্করণে ভারতের কাছে ৮ উইকেটে হেরে দ্বিতীয়বার স্বপ্নভঙ্গ হয়। এবারো তার ব্যত্যয় ঘটল না।

এর চেয়ে আর উত্তেজনা ছড়াতে পারে না কোনো ম্যাচ! পরতে পরতে ছড়িয়ে থাকল নাটক আর রোমাঞ্চ। কে হবে এবারের এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন, বাংলাদেশ না ভারত? অপেক্ষা করতে হলো চিত্রনাট্যের শেষ পর্যন্ত। অবশেষে শেষ হাসি হাসল টিম ইন্ডিয়া। চূড়ান্ত মহারণে টাইগারদের ৩ উইকেটে হারিয়ে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের মুকুট পরল রোহিত বাহিনী। এ নিয়ে সব মিলিয়ে ৭বার এশিয়ার রাজা হওয়ার গৌরব অর্জন করল তারা।
এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশের দেয়া ২২৩ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে চড়াও হয়ে খেলেন শিখর ধাওয়ান। স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছোটাতে থাকেন তিনি। তবে তার এ ঝড় বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দলীয় ৩৫ রানে তাকে ফিরিয়ে টাইগারদের প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন নাজমুল ইসলাম অপু। সৌম্যর ক্যাচ বানিয়ে তাকে ফেরান তিনি। কিছুক্ষণ পর মুশফিকের গ্লাভসবন্দি করে আম্বাতি রাইডুকে ফেরান মাশরাফি। তাতে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে আসে।

ধাওয়ানের পর খানিক ব্যবধানে ফিরে গিয়েছিলেন রাইডু। তবে থেকে গিয়েছিলেন রোহিত। দারুণ খেলছিলেন তিনি। বাজে বল পেলেই তা সীমানাছাড়া করছিলেন। এতে দুরন্ত গতিতে ছুটছিল ভারত। তবে তাতে বাদ সাধেন রুবেল হোসেন। দলীয় ৮৩ রানে অসাধারণ এক ডেলিভেরিতে নাজমুল অপুর তালুবন্দি করে দুর্দান্ত খেলতে থাকা রোহিতকে (৪৮) ফেরান তিনি। এতে খেলায় ফেরে বাংলাদেশ।

৮৩ রানে টপঅর্ডারের ইনফর্ম ৩ ব্যাটসম্যান হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। সেখান থেকে মাহেন্দ্র সিং ধোনিকে নিয়ে দলকে টেনে তোলেন দিনেশ কার্তিক। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন ধোনি। হঠাৎই থামতে বাধ্য হন কার্তিক (৩৭)। এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে তাকে ফেরান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এতে ফের চাপে পড়ে ভারত। সেই চাপের মধ্যেও বুক চিতিয়ে লড়েন ধোনি। এক পর্যায়ে সেই বিষদাঁতও ভেঙে দেয় টাইগাররা। দুর্দান্ত অফকাটারে তাকে ফিরিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর আরো চাপ বাড়ান মোস্তাফিজুর রহমান। এর পরই পায়ের পেশিতে টান পেয়ে (রিটায়ার্ড হার্ট) মাঠ ছাড়েন কেদার যাদব।

পরে সেই চাপটা ভালোভাবে অব্যাহত রাখতে পারেননি বাংলাদেশি বোলাররা। দ্রুত ভুবনেশ্বর কুমার ও রবীন্দ্র জাদেজার জুটি ভাঙতে পারেননি তারা। শেষদিকে জাদেজাকে ফিরিয়ে একটু উত্তেজনা বাড়ান রুবেল। দুর্দান্ত খেলতে থাকা ভুবনেশ্বরকে ফিরিয়ে তাতে বাড়তি পারদ জোগান মোস্তাফিজ। টাইগারদের দৌড় ছিল সেই পর্যন্তই। শেষ অবধি ৩ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে নোঙর করে ভারত। বাংলােদশের হয়ে মোস্তাফিজ ও রুবেল নেন ২টি করে উইকেট।

ফাইনালি লড়াইয়ে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা। গোটা টুর্নামেন্টে ওপেনিং সমস্যায় ভুগছিল টাইগাররা। তা কাটিয়ে উঠতে মেহেদী হাসান মিরাজকে ওপেনিংয়ে নামিয়ে চমক দেয় টিম ম্যানেজমেন্ট। এতে যেন সমাধানের পথ খুঁজে পায় বাংলাদেশ। লিটন দাস-মিরাজ মিলে এনে দেন উড়ন্ত সূচনা। উদ্বোধনী জুটিতে তারা তোলেন ১২০ রান।

মিরাজ শুধু সাপোর্ট দিয়ে যান। অন্য প্রান্তে ঝড়ো গতিতে রান তোলেন লিটন। তাদের জুটি ভাঙেন পার্টটাইমার কেদার যাদব। তাকে তুলে মারতে গিয়ে পয়েন্টে ধরা পড়েন মিরাজ (৩২)। এরপরই পথ হারায় বাংলাদেশ। যুজবেন্দ্র চাহালের বল ইমরুল কায়েসের প্যাডে লাগলে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। পরে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তাতে দেখা যায়, বল বাইরে পিচ করে স্ট্যাম্পে আঘাত হানছে। তবে আম্পায়ার কল হওয়ায় সাজঘরে ফিরতে হয় বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে।

খানিক পরই কেদারের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে জাসপ্রিত বুমরাহর তালুবন্দি হয়ে ফেরেন ব্যাটিং স্তম্ভ মুশফিকুর রহিম। এরপর দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউটের শিকার হয়ে ফেরেন ইনফর্ম মোহাম্মদ মিঠুন। এতে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। সেই বিপর্যয়ের মুখে দৃঢ়তার পরিচয় দিতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কুলদ্বীপ যাদবের বলে অযাচিত বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে বুমরাহর হাতে ধরা পড়েন তিনি।

সতীর্থদের যাওয়া-আসার মাঝে একপ্রান্ত আগলে রাখেন লিটন। শুরু থেকেই স্বভঙ্গিমায় খেলে যান তিনি। চরম বিপর্যয়ের মধ্যেই ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন এ ডানহাতি ওপেনার। মাত্র ৮৭ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান। করুণ পরিস্থিতিতে লড়ে যাচ্ছিলেন লিটন। শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত আউট থামিয়ে দেয় তাকে।

সেঞ্চুরির পর হাত খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন লিটন। ঠিক সেই মুহূর্তে কুলদ্বীপের বলে মাহেন্দ্র সিং ধোনির স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন তিনি। ফাঁদে পড়েন বললে ভুল হবে, তাকে ট্র্যাপে ফেলা হয়। চায়নাম্যান বোলারের বলটি মিস করলেও পা দাগের মধ্যেই ছিল লিটনের। তবু রিপ্লে দেখেন আম্পায়ার। কয়েকবার জুম করে দেখার পর তাকে আউট দিয়ে দেন তৃতীয় আম্পায়ার রড টাকার। এতে থামে তার লড়াই। এর আগে ১১৭ বলে ১২ চার ও ২ ছক্কায় ১২১ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস খেলেন প্রতিশ্রুতিশীল ও সম্ভাবনাময়ী এ ওপেনার।

এতে বাংলাদেশের বড় স্কোর গড়ার স্বপ্ন কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে যায়। পরক্ষণেই কুলদ্বীপের বলে স্টাম্পিং হয়ে ফেরেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। শেষদিকে লড়াইয়ের চেষ্টা করেন সৌম্য সরকার। আম্বাতি রাইডু ও ধোনির যৌথ প্রচেষ্টায় রানআউটে কাটা পড়লে তার লড়াইও থামে। ৪৫ বলে ১টি করে চার-ছক্কায় ৩৩ রান করে ফেরেন নিজেকে হারিয়ে খুঁজে ফেরার এ ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত দেড় ওভার বাকি থাকতেই ২২২ রানে গুটিয়ে যায় মাশরাফি বাহিনী। ভারতের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন কুলদ্বীপ। ৪৫ রান খরচায় তিনি নেন ৩ উইকেট। ২ উইকেট ঝুলিতে ভরেন কেদার।
হেরেও দু:খ নেই:
কিন্তু মাশরাফি যে আগেই কথা দিয়েছিলেন শেষ বল পর্যন্ত লড়াই যাবেন। কিন্তু এত মামুলি সংগ্রহ নিয়ে ব্যাটিং তারকায় ঠাসা ভারতের বিরুদ্ধে শেষ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করার চিন্তা কার মাথায় থাকে?

দল হেরেছে, হারুক। এতে খুব একটা আফসোস নেই মাশরাফি ভক্তদের। বরং এত স্বল্প পুঁজি নিয়েও ভারতের মতো দলের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় তাই দেখিয়ে দিয়েছে মাশরাফিরা।

৫০ ওভারের শেষ বলটি পর্যন্ত খেলতে হয়েছে ওয়ানডে ক্রিকেট র‌্যাংকিংয়ের দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতকে। যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। বাংলাদেশের বিপক্ষে জিততে কেন এত ঘাম ঝরাতে হলো এ নিয়ে এখন চলছে চুলছেঁড়া বিশ্লেষণ।

আজকের ম্যাচে সতীর্থদের কাছ থেকে সেরাটি আদায় করে নেয়ার পাশাপাশি নিজের ১০ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ৩৫ রান। এরই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তুলে নিয়েছেন ভারতের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান রাইডুকে। টিভিতে দেখা যাচ্ছিল, গ্যালারিতে বসা নীল জার্সি পরিহিত ভারতীয় সমর্থকদের চোখে ছিল বেদনার রঙ! যেন শরীর ও মন দুটোই একাকার হয়ে গিয়েছিল নীলের ছটায়।

টাইগার বোলারদের দাপটে প্রতিটি ডট বল যেন তাদের হৃদয় ছিঁড়ে দিয়েছে, আর উইকেট পতনের পর গ্যালারিতে তাদের কান্নার দৃশ্যও দেখা গেছে। বিশেষ করে ভারতীয় সমর্থক শিশুদের কান্না দেখে সহানুভূতিও জেগেছে অনেকের মাঝে।

এর আগে এমন নাকানিচুবানি খায়নি কোনো দলের কাছে। দাপটেই উঠেছিল কপিল দেবের উত্তরসূরীরা।

ইনিংসের শেষ ওভারে জেতা শ্বাসরুদ্ধকর এ ম্যাচ শেষে ভারতের সাবেক অধিনায়ক রবি শাস্ত্রীও বাংলাদেশের বিপক্ষে ২২৩ রানের টার্গেটটা অনেক চ্যালেঞ্জ হিসেবেই তুলে ধরলেন। তিনি বাংলাদেশি বোলারদের কৃতিত্ব না দিয়ে বরং রোহিতের অধিনায়কত্বের সাফাই গাইলেন। তার কথায় মনে হলো-বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে ২২৩ রান করাই এখন বিশেষ চ্যালেঞ্জ। সে চ্যালেঞ্জে রোহিতের ‘ব্রিলিয়ান্ট’ ক্যাপ্টেন্সিতেই দল জিততে পেরেছে।

খেলা শুরুর আগে যা বলেছিলেন মাশরাফি:
ভারতের বিপক্ষে জেতার জন্য শেষ বল পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা দিয়েছিলেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

খেলা শুরুর আগ মুহূর্তে ইএসপিএনকে দেয়া সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে মাশরাফি বলেন, ‘ফাইনালে উঠার জন্য সব অবদান আমাদের খেলোয়াড়দের। শেষ ম্যাচগুলোতে আমাদের খেলোয়াড়রা দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন। আজ আমরা কঠিন ম্যাচের মুখোমুখি হয়েছি। জেতার জন্য আমরা শেষ বল পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাবো।’

নাজমুল হোসেন অপুকে নেয়ার বিষয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আমাদের দলে একজন স্পিনারের ঘাটতি ছিল। তা পূরণ করার জন্য মুমিনুলের পরিবর্তে অপুকে দলে নেয়া হয়েছে। আজ আমাদের বড় সুযোগ এসেছে। বিশ্বের সেরা দল হিসেবে তারা (ভারত) আমাদের চেয়ে বেশি চাপে থাকবে। আমরা যদি চাপ সামলে নিয়ে নিজেদের সেরাটা দিয়ে এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই। ’

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

এক ইনিংসে ২৩ ছক্কায় বিশ্বরেকর্ড

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২৮ ১২:৫৭:৩৬

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এক ইনিংসে ২৩টি ছক্কা মারলেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান ডি আর্চি শর্ট। শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া আসর জেএলটি ওয়ানডে কাপের ১২তম ম্যাচে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫টি চার ও ২৩ ছক্কায় ১৪৮ বলে ২৫৭ রান করেন ওয়ের্স্টান অস্ট্রেলিয়ার শর্ট। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ২৩টি ছক্কার নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন শর্ট। এর আগে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৭ ছক্কা হাকিয়েছিলেন নামিবিয়ার গ্যারি স্লোইমেন।

এ ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ওয়ের্স্টান অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই ব্যাট হাতে নামেন শর্ট। এরপর কুইন্সল্যান্ডের বোলারদের উপর ঝড় বইয়ে দেন তিনি। চার-ছক্কার ফুলঝুড়ি ফুটান শর্ট। ৫৭ বলে হাফ-সেঞ্চুরির পর ৮৩ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।
তিন অংকে পা দিয়ে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেন শর্ট। ১২৮ বলে ডাবল-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শর্ট। শেষ পর্যন্ত ৪৬তম ওভারে আউট হন এই মারমুখী ব্যাটসম্যান। ইনিংসে ২৩টি ছক্কা মারেন তিনি। এই ইনিংসের মাধ্যমে ২০০৭ সালে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের এক ইনিংসে ১৯৬ রান করার পথে ১৭টি ছক্কা হাঁকানো নামিবিয়ার গ্যারি স্নাইমেন কীর্তি ভেঙে নতুন রেকর্ডের জন্ম দেন শর্ট।

এ ছাড়াও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হিসেবে তৃতীয় স্থানে নিজের নাম তুলেন শর্ট। সবার উপরে আছেন আলি ব্রাউন। ২০০২ সালে ওভালে গ্লামারগনের বিপক্ষে ১৬০ বলে ২৬৮ রান করেছিলেন সারের ব্রাউন।
এই তালিকায় দ্বিতীয়স্থানে রয়েছেন ভারতের রোহিত শর্মা। ২০১৪ সালে কলকাতায় শ্রীলংকার বিপক্ষে ১৭৩ বলে ২৬৪ রান করেছিলেন রোহিত।
শর্টের এমন রেকর্ডের দিনে ১৮ বল বাকী থাকতে অর্থাৎ ৪৭ ওভারে ৩৮৭ রান অলআউট হয় ওয়ের্স্টান অস্ট্রেলিয়ার। এর মানে দলীয় স্কোরের ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশ রান একাই করেন শর্ট। ব্যাট হাতে তার স্ট্রাইক রেট ছিলো ১৭৩ দশমিক ৬৪।
জয়ের জন্য ৩৮৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ২৭১ রানে গুটিয়ে যায় কুইন্সল্যান্ড। ১১৬ রানে জয় পায় ওয়ের্স্টান অস্ট্রেলিয়া।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২৬ ১৬:১৮:৫৮

এশিয়া কাপে সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে বুধবার পাকিস্তানকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো বাংলাদেশ। অলিখিত এই সেমিফাইনাল ম্যাচে সরফরাজ আহমেদের দলকে ৩৭ রানে হারিয়েছে মাশরাফি এন্ড কোং। ২৮ সেপ্টেম্বর ফাইনালে তারা মোকাবেলা করবে ভারতে।

বুধবার আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের করা ২৩৯ রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান থেমেছে ৯ উইকেটে ২০২ রানে। বাংলাদেশী বোলারদের মোকাবেলায় শুরু থেকেই একের পর এক বিপর্যয়ে পড়া পাকিস্তান ব্যাটিং লাইন শেষ পর্যন্ত হুমড়ি খেয়ে পড়েছে মরুর মাঠে।

মাত্র ১৮ রানের মধ্যে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে তুলে নেন মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ফখর জামান(০), বাবার আজম(১) ও অধিনায় সরফরাজ আহমেদ(১০) ফিরেছেন চার ওভারের মধ্যেই। এরপর শোয়েব মালিক ও ইমাম উল হকের ব্যাটে ম্যাচে ফিরেছিলো পাকিস্তান; কিন্তু শেষ সময়ে একের পর পর এক উইকেট হারিয়ে আবার বিপর্যয়ে পড়েছে দলটি।

প্রাথমিক বিপর্যয়ের পর চতুর্থ উইকেটে ওপেনার ইমাম উল হকের সাথে সাথে অভিজ্ঞ শোয়েব মালিকের জুটি বাংলাদেশের জন্য ভয়ের কারণ হয়ে দাড়ায়। এই জুটি ৬৭ রান করে, তবে ২১তম ওভারে রুবেল হোসেনের প্রথম বলে শর্ট মিড উইকেটে মাশরাফির দুর্দান্ত এক ফ্লাইং ক্যাচ মালিককে সাজঘরে পাঠায়। পাকিস্তানের স্কোর তখন ৮৫।

এরপর দলীয় ৯৪ রানে ফিরে যান লেগ স্পিনার শাদাব খান। ওপেনার ইমাম উল হক তখনো এক প্রান্তে অটল। ষষ্ঠ উইকেটে ইমামের সাথে আসিফ আলীর ৭৩ রানের জুটিতে আবার ঘুড়ে দাড়ায় পাকিস্তান। বলের সাথে পাল্লা দিয়ে সমান তালে রান তুলতে থাকেন ইমাম ও আসিফ। দারুণ ধৈর্য্য আর দক্ষতায় দুজনে ছুটতে থাকেন লক্ষ্যপাণে। তবে ম্যাচে ফিরতে খুব বেশি সময় লাগেনি টাইগারদের।

মাত্র ৩ রানের ব্যবধানে এই দুই ব্যাটসম্যানের আউটে জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে বাংলাদেশ। ধীর স্থির হয়ে খেলতে থাকা দুজনেই যথাক্রমে ৩৯ ও ৪২তম ওভারে উইকেট ছেড়ে বেড়িয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন। দলীয় ১৬১ রানে ৩১ রান করা আসিফ আলীকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বলে ৮৩ রান করা ইমাম উল হক যখন আউট হন পাকিস্তানের স্কোর বোর্ডে তখন ১৬৭ রান।

এই দুই ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর বাংলাদেশের জয় ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। পরের ব্যাটসম্যানরা শুধু ব্যবধানটাই কমিয়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষে মোস্তাফিজুর রহমান ৩৪ রানে ৪টি ও মিরাজ ২৮ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে মুশফিকুর রহীম আর মোহাম্মাদ মিথুদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ২৩৯ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। মুশফিক ব্যক্তিগত ৯৯ রানে আউট হয়েছে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে। মিথুন করেছেন ৬০ রান। ১২ রানে ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে আবারও পথে ফেরানোর দায়িত্ব বর্তাল যেন মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিথুনের ওপর। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এ দুজন চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১৩১ রান যোগ করে দলকে বাঁচিয়েছিলেন। আজ জুটিটা হলো ১৪৪ রানের। দলকে নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন, মিথুন একটা ধন্যবাদ পাবেন। কিন্তু পরক্ষণে তাঁকে কাঠগড়ায় উঠবে হবে দৃষ্টিকটু আউটের জন্য।

হাসান আলীর বলটা ওভাবে না চালালে সুন্দর ইনিংসটার সমাপ্তি ৬০ রানে শেষ হয় না। বাউন্ডারি মেরেছেন মাত্র ৪টি, মিঠুন এই তীব্র গরমে রানিং বিটুইন দ্য উইকেটে ভীষণ তৎপর থেকে ৪৪ রান নিয়েছেন দৌড়ে। মিঠুন আত্মহুতি দিলেও মুশফিক তবুও ছিলেন। কিছুতেই হার মানব না—এ পণে যেন লড়ে গেছেন। চোট, কন্ডিশন সব উপেক্ষা করে পাকিস্তানকে চোখ রাঙিয়ে গেছেন। ৯ চারে ৯৯ রান, মুশফিকের সেঞ্চুরি পাওনাই ছিল। অথচ হলো না। শাহিন বলটা ভালো করেছেন, থিতু হয়ে মুশফিক আরেকটু সতর্ক হতে পারতেন

৪১.৪ ওভারে মুশফিক যখন ফিরলেন, দলের স্কোর ৬ উইকেটে ১৯৭। চ্যালেঞ্জিং স্কোর পাওয়ার সম্ভাবনা তখনও শেষ হয়ে যায়নি। মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে আজ বিদ্যুৎ চমকায়নি, মেহেদী মিরাজ ছোট কাঁধে বড় দায়িত্ব নিতে পারেননি। মাশরাফি বিন মুর্তজা ব্যাটসম্যান হতে পারেননি। শেষ ৫০ বলে বাকি ৪ উইকেটে তাই ৪২ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ ।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ফ্রান্সে পাকিস্তানি ক্রিকেট ক্লাবকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হল বাংলাদেশ ক্রিকেট ক্লাব প্যারিস

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২৫ ১৬:৪৯:৩৫

ফ্রান্সের জাতীয় তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লীগের চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট ক্লাব প্যারিস। এ অসাধারণ বিজয়ের মাধ্যমে আগামী ২০১৯ ক্রিকেট লীগে দ্বিতীর বিভাগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল বাংলাদেশ ক্রিকেট ক্লাব।

প্যারিসের গ্রিনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে পাকিস্তানি ক্রিকেট ক্লাব মন্তলা জুলি ক্লাবকে হারিয়ে তৃতীয় বারের মত চ্যাম্পিয়ন হয় প্রবাসের বুকে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি তরুন টাইগাররা। এর আগে ২০১৪ সালে রয়েল নাইন্টিফোর ক্রিকেট ক্লাব ও ২০১৫ সালে আর্জেন্টাইল ক্রিকেট ক্লাবকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল প্রবাসী এ অপ্রতিরোধ্য টাইগাররা।

প্রবাসী ক্রিকেটারদের এ বিজয় রীতিমত ফ্রান্সের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে  আনন্দের বন্যা এনে দিয়েছে। কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ক্রিকেটারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। ১২ টি শক্তিশালী ক্লাবের এ সমরে বাংলাদেশের যুককরা টানা ১০টি ম্যাচে বিজয়ী হয়ে সরাসরি চ্যাম্পিয়ন হয়ে উজ্জ্বল করেছে ফ্রান্সে বাংলার মুখ ।

প্রবাসে কর্মময় জীবন ও শত ব্যস্ততার মধ্যে টাইগারদের এ বিজয়ে আনন্দে উদ্বেলিত ফ্রান্সের বাংলাদেশি কমিউনিটি, বিভিন্ন সংঘঠন ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের ভালোবাসায় শিক্ত বিজয়ী ক্লাব ও  খেলোয়াড়রা ।

বিসিসিপি এর অধিনায়ক নাজিবুল্লাহ পিয়াস ও কৌশিক রাব্বানীর নিয়ন্ত্রিত বোলিং এ টসে জিতে প্রথমে  ব্যাট করতে নেমে মন্তে লা জুলিয়ে ক্লাব ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে বিসিসিপি মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রান সংগ্রহ করে। বোলিং এবং ব্যাটিংয়ে- দারুণ অলরাউন্ড নৈপুণ্য প্রদর্শণ করে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন বিসিসিপি’র অধিনায়ক নাজিব উল্লাহ পিয়াস।

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর প্যারিসের লা দি ফ্রান্স স্টেডিয়ামে ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট ঘোষণাসহ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিবেন ফ্রান্স ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি। খেলায় অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোর কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ সেখানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

ফাইনাল এ ম্যাচে মাঠে থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহ প্রদান করেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের হেড অফ চ্যান্সারি হযরত আলী খান ,বাংলাদেশ ইয়ুথ ক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক টি এম রেজা,বিসিসিপি ক্লাবের সভাপতি আজিজুল হক সুমন, সাধারণ সম্পাদক ওহিদুজ্জামান টিপু সহ অন্যান্য কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে টাইগারদের জয়

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২৩ ১৬:৫৮:৪০

পরাজয়ের শঙ্কা ছিল। দর্শকদের চোখে-মুখে ছিল আতঙ্ক। কিন্তু শেষটা নিজের পক্ষে নিয়ে নিলেন তরুণ তুর্কি মুস্তাফিজ। তার অসাধারণ বোলিংয়ে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ৩ রানের জয় পেল বাংলাদেশ; বেঁচে রইল এশিয়া কাপের ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন।

বাংলাদেশের সাত উইকেটে করা ২৪৯ রানের জবাবে আফগানিস্তান ৫০ ওভার খেলে করল ৭ উইকেটে ২৪৬ রান।

আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করা বাংলাদেশ ২৫০ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় আফগানিস্তানকে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় আফগানিস্তান। দলীয় ২৬ রানেই আফগানদের দুই উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ।

ব্যক্তিগত ৮ রানে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ বানিয়ে ইহসানউল্লাহ জান্নাতকে সাজঘরে ফেরত পাঠান মুস্তাফিজুর রহমান। আর ব্যক্তিগত ১ রানে সাকিবের হাতে রানআউটে কাটা পড়েন রহমত শাহ।

শুরুর ধাক্কা সামলে আফগানদের টেনে তুলার দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ শাহজাদ এবং হাসমতউল্লাহ শাহিদি। বাংলাদেশের বোলারদের দেখে-শুনে ব্যাট চালিয়ে যান তারা। তবে ব্যক্তিগত ৫৩ রানে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শাহজাদকে আউট করে বাংলাদেশকে ব্যাক থ্রু এনে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু তার আগেই হাসমতউল্লাহর সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৬৩ রানের জুটি উপহার দিয়ে যান শাহজাদ।

ম্যাচের পরের সময়গুলোতে ধীরে ধীরে আফগানরা ব্যবধান কমিয়ে আনতে থাকে। খেলার নাটকীয়তা গড়ায় শেষ ওভারে। জয়ের জন্য তাদের দরকার ছিল আট রান।

টানটান উত্তেজনার সেই ওভারে বল করতে আসেন মুস্তাফিজ। দুর্দান্ত স্লোয়ারে তিনি ফিরিয়ে দেন রশিদ খানকে। এতে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। পরে বাকি কাজটাও সম্পন্ন করেন। পুরো ওভারে মাত্র চার রান দিয়ে খাদের কিনারা থেকে দলকে ভেড়ান জয়ের বন্দরে।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা। তবে শুরুটা ভালো করতে পারেনি টাইগাররা। টিকে থাকার লড়াইয়ে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় তারা।

দলীয় ১৮ রানেই সাজঘরে ফিরে যান বাংলাদেশের দুই ব্যাটসম্যান। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে আফতাব আলমের শেষ বলটি উড়িয়ে মারতে গিয়ে পয়েন্টে রহমত শাহর তালুবন্দী হন নাজমুল হোসেন শান্ত। ব্যক্তিগত ৬ রানে সাজঘরে ফেরেন বাঁহাতি এই ওপেনার।

তিন নম্বরে নেমে এদিনও দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের হতাশ করেন মোহাম্মদ মিথুন। মাত্র দুই বল খেলেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। ষষ্ঠ ওভারে মুজিব উর রহমানের ভেতরে ঢোকা বল ডিফেন্স করতে গিয়ে এলবিউডব্লির ফাঁদে পড়েন মিথুন। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ৬৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস উপহার দেওয়া মিথুনের ব্যাট থেকে এদিন আসে মাত্র ২ রান।

এরপর ক্রিজে আসেন মুশফিকুর রহিম। নেমেই স্পর্শ করেন ওয়ানডেতে ৫ হাজার রানের মাইলফলক। ইনিংসের ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে গুলবাদিন নাইবকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তামিম-সাকিবের পর তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, তৃতীয় উইকেটে লিটন দাসের সঙ্গে গড়েন ৬৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ এক জুটি।

এই জুটি ভাঙেন রশিদ খান। তার প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফেরেন লিটন। ১৯তম ওভারে আফগান লেগ স্পিনারকে সুইপ করতে গিয়ে স্লিপে ইহসানউল্লাহর ক্যাচে পরিণত হন ডানহাতি এই ওপেনার। আগের দুই ম্যাচে ব্যর্থ  লিটন এদিন ৪৩ বলে করেন ৪১ রান।

দুই বলের ব্যবধানে রান আউটের শিকার হন সাকিব আল হাসান। রশিদ খানের বলে মিড উইকেটে ঠেলে দিয়েই রানের জন্য দৌড় দেন সাকিব। রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন বাংলাদেশের বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

রশিদের পরের ওভারেও ছন্দপতন। এবারও রান আউটের শিকার হন মুশফিক। ইমরুল কায়েসের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটের ফাঁদে পড়েন তিনি। মোহাম্মদ নবির থ্রোতে বল ধরে রশিদ স্টাম্প ভেঙে দিলে ৩৩ রানে সাজঘরে ফেরেন মুশফিক।

৮৭ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশের হাল ধরেন ইমরুল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। থিতু হতে খানিকটা সময় নিলেও ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে দুজন মিলে গড়েন ১২৮ রানের রেকর্ড জুটি। ষষ্ঠ উইকেটে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। তাদের আগে ১৯৯৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ষষ্ঠ উইকেটে ১২৩ রানের অবিচ্ছিন জুটি গড়েছিলেন আল শাহরিয়ার ও খালেদ মাসুদ।

মাহমুদউল্লাহ-ইমরুলের জুটিতেই ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। জুটি গড়ার পথে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন দুজনই। ৫৯ বলে মাহমুদউল্লাহ তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২০তম হাফ সেঞ্চুরি। এরপর ৭৭ বলে ইমরুল পূর্ণ করেছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৫তম অর্ধ-শতক।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথমবার ছয় নম্বরে নেমেই হাফ সেঞ্চুরির দেখা পান ইমরুল। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ইমরুলের জুটি ভাঙেন আফতাব আলম। তার বলে রশিদ খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৭৪ রান করা মাহমুদউল্লাহ। এরপর সময়ের দাবি মেটাতে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। কিন্তু আফতাবের পরের ওভারে ফিরে যান তিনিও। ৯ বলে ১০ রান করে ফেরেন।

ম্যাচের পরের সময়টাতে মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে নিরাপদে কাটান ইমরুল। শেষ পর্যন্ত ৮৯ বলে ৬ চারে ৭২ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৫ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন মিরাজও।

আফগানিস্তানের সফল বোলার আফতাব আলম। ৫৪ রানে বাংলাদেশের ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি। এ ছাড়া মুজিব উর রহমান ও রশিদ খান উভয়েই বাংলাদেশের একটি করে উইকেট লাভ করেন।

বিস্তারিত খবর

বাহরাইনকে ১০ গোল দিল বাংলাদেশের মেয়েরা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-১৭ ১৪:২৬:৪৪

বাংলাদেশের মেয়েদের মাঠে নামা আর গোল উৎসব এখন নিয়মিত দৃশ্য। সোমবার আরও একবার সেই দৃশ্যের দেখা মিলল ঢাকায়। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের ‘এফ’ গ্রুপের বাছাইপর্বে বাহরাইনকে ১০-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। তাতে এই বাছাই আসরে উড়ন্ত সূচনা হলো স্বাগতিক মেয়েদের।

কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় মুখোমুখি হয় দুই দল। প্রথমার্ধেই ৫-০ গোলে লিড নেয় লল-সবুজের মেয়েরা। ব্যবধান হতে পারতো আরও বড়। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের ৫টি গোল বাতিল হয়েছে অফসাইডে।

বাংলাদেশের পক্ষে জোড়া গোল করছেন আনুচিং মগিনি, মারিয়া মান্ডা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র। ১টি করে গোল করেন আনাই মগিনি, সাজেদা, শামসুন্নাহার সিনিয়র ও তহুরা।

২০১৬ সালে এই আসরের বাছাই পর্বে কিরগিজস্তানকে ১০-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে বয়সভিত্তিক ফুটবলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয় ১৬-০ গোলের। ২০১৪ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে ভুটানকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ এই ব্যবধানে।

প্রথমার্ধে পুরোটা সময় বাংলাদেশ খেলেছে বাহরাইনের অর্ধে। বাংলাদেশ গোলরক্ষক রুপনা ছিলেন দর্শক হয়ে। ম্যাচের ৮ মিনিটে বড় বোন আনাইয়ের বাড়ানো বল আনুচিং বার পোস্টের উপর দিয়ে না মারলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায় তখনই। তবে ১২ মিনিটে আনাই লিড এনে দিতে ভুল করেনি। ডান প্রান্তে ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার ক্রস সরাসরি বাহরাইনের জালে ঢুকে।

১৬ মিনিটে মারিয়া মান্ডার প্রায় মধ্যমাঠ থেকে নেয়া শট জালে জড়ালে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ১৮ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের পাস থেকে গোল করেন আনুচিং মগিনি। তাতে ৩-০ গোলের লিড স্বগতিকদের।

২৬ মিনিটে পর পর দুই গোল বাতিল হয় বাংলাদেশের। ডি বক্সের বাইরে থেকে ঋতুপন্না ঘোষ বল জালে জড়ালেও সেটি অফসাইডে বাতিল করেন রেফিরি। একই মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের গোলও বাতিল হয় অফসাইডে।

৩৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন আনুচিং। ঋতুপন্নার শট গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি শটে বল জালে জড়ান এই ফরোয়ার্ড।

৪০ মিনিটে মনিকা-আনুচিংয়ের কম্বিনেশন ফ্রিক থেকে আবার বল জালে জড়ান শামসুন্নাহার জুনিয়র। এই গোলটিও রেফারি বাতিল করেন অফ সাইডে।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আর হতাশ হতে হয়নি শামসুন্নাহারকে। আনুচিংয়ের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়ান শামসুন্নাহার জুনিয়র।

প্রথমার্ধজুড়ে দুর্দান্ত খেলেছেন জমজ দুই বোন আনাই ও আনুচিং। ডিফেন্ডার হলেও বারবার ওভারল্যাপ করে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছেন আনাই। বাংলাদেশকে প্রথম লিডটাও এনে দেন তিনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ছোট বোন অনুচিংয়ের পরিবর্তে সাজেদাকে মাঠে নামান বাংলাদেশ কোচ।

৫২ মিনিটে ঋতুপন্নার দূরপাল্লার শট কর্নারের বিনিময়ে বাচান বাহরাইন গোলকিপার। ৫৫ মিনিটি বদলি নানা সাজেদা গোল করলে ৬-০ গোলের লিড পায় বাংলাদেশ। আঁখির বাড়ানো বল অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে জালে জড়ান এই ফরোয়ার্ড। দুই মিনিট পরই শামসুন্নাহার জুনিয়র নিজের দ্বিতীয় গোল করেন। ফলে ব্যবধান হয় ৭-০।

৫৮ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রকে ডি-বক্সে ফেলে দিয়ে লাল কার্ড দেখেন বাহরাইন খেলোয়াড়। পেনাল্টি থেকে শামসুন্নাহার সিনিয়র গোল করে ব্যবধান ৮-০ করেন।

৭১ মিনিটে মারিয়া মান্ডা গোল করল ৯-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৮০ মিনিটে তহুরা গোল করে দলকে ১০-০ গোলের লিড এনে দেন।

পরের ১০ মিনিটে আর গোল পায়নি বাংলাদেশ। শেষদিকে রোজিনা গোল করলেও সেটা বাতিল হয় অফসাইডে। তবে ১০-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মারিয়ারা।

২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আসরের বাছাই পর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে থাইল্যান্ডে মূল পর্বে খেলে বাংলাদেশ। এবারও একই লক্ষ্য গোলাম রব্বানী ছোটনের শীর্ষদের।

তবে দল বাড়ায় এবার টুর্নামেন্টের ফরম্যাটে বদল এসেছে। আগে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেই মিলতো মূল পর্বের টিকিট। এবার ছয় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও দুই সেরা রানার্স-আপ নিয়ে হবে দ্বিতীয় পর্ব। আট দলের আসর শেষে চার দল পাবে চূড়ান্ত পর্বের টিকিট। ২০১৯ সালে যারা খেলবে আগের আসরের তিন সেরা ও স্বাগতিক থাইল্যান্ডের সঙ্গে।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সাফ ফুটবল: টস ভাগ্যে চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-১৫ ১২:৫৩:৫০

ভাগ্যদেবী কী বরটাই না দিল মালদ্বীপকে। যে মালদ্বীপ গ্রুপ পর্বে একটিও জয় পায়নি। দুই ম্যাচ থেকে মাত্র ১ পয়েন্ট সংগ্রহ করে সেমিফাইনালে যেতে পারবে কিনা সেটাও ছিল এক সময় অনিশ্চিত। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সমান পয়েন্ট, সমান গোল গড় ও কার্ড মিলিয়ে ছিল সমানে-সমান। এই সমতা ভাঙতে আয়োজকদের শেষ পর্যন্ত টসের আশ্রয় নিতে হয়। টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় মালদ্বীপ সেমিফাইনালে যাওয়ার টিকিট পায়।

এরপর কী খেলাটাই না খেলল তারা। সেমিফাইনালে সাফের দ্বাদশ আসরের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল নেপালকে ৩-০ গোলে গুড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে ওঠে। আর ফাইনালে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে সফল দল ভারতকে ২-১ গোলে হারিয়ে সাফের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলেছে মালদ্বীপ। অথচ গ্রুপ পর্বে ২-০ ব্যবধানে ভারতের কাছে হেরেছিল দ্বীপরাষ্ট্রটি। ফাইনালে মধুর প্রতিশোধ নিল তারা। পাশাপাশি ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের কাছে ফাইনালে টাইব্রেকারে ৩-১ গোলে হারের প্রতিশোধও নিল পিটার সেগ্রেটের শিষ্যরা।

গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে মালদ্বীপ। এরপর ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে হেরে যায়। দুই ম্যাচ খেলে মাত্র ১ পয়েন্ট সংগ্রহ করায় মালদ্বীপের পত্রিকাগুলো কোচকে এক হাত নেয়। তাতে বেশ ক্ষুব্ধ হন মালদ্বীপের কোচ। সেমিফাইনাল পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তার ক্ষোভ ঝেরে বলেন আমরাই ফাইনাল উঠব। তার এমন উদ্যত ও অতি আত্মবিশ^াসী বক্তব্যে নেপালের সাংবাদিকরা তো বটেই, বাংলাদেশের সাংবাদিকরাও মুখ চেপে খুব হেসেছিলেন। পরিকল্পনা করেছিলেন সেমিফাইনালে হেরে গেলে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ধরবেন। অবশ্য সেগ্রেটের শিষ্যরা তার মুখ রাখেন। বৃষ্টি বিঘিœত ম্যাচে নেপালকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পায় মালদ্বীপ। ম্যাচ শেষে চওড়া হাসি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সিগ্রেট। করমর্দন করেন সকল সাংবাদিকদের সঙ্গে।

ফাইনাল ম্যাচের আগে অবশ্য তিনি অতি আত্মবিশ^াসী কথা বলেননি। ১৩৩ কোটি জনসংখ্যার ভারতকে বেশ সমীহ করেন। ভারতের ট্যালেন্টের প্রশংসা করেন। তবে ইঙ্গিত দিয়ে রাখেন সেরাটা দেওয়ারও। তার শিষ্যরা সেরাটা দিয়েছেও বটে। শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের ম্যাচের ১৯ মিনিটেই লিড নেয় মালদ্বীপ। এ সময় মালদ্বীপের ফরোয়ার্ড নাইজ হাসান ডি বক্সের সামনে বল বল বাড়িয়ে দেন ইব্রাহিম হোসেনকে। তিনি ভারতের গোলরক্ষক বিশাল কাইথকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠান (১-০)। তার গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মালদ্বীপ।

বিরতির পর আবারো ব্যবধান বাড়ায় মালদ্বীপ। এ সময় দুর্দান্ত এক গোল করেন মালদ্বীপের আলী ফাসির। ডি বক্সের সামনে তাকে বল বাড়িয়ে দেন হামজাত মোহাম্মেদ। বল নিয়ে দ্রুততার সঙ্গে ঢুকে পড়েন ফাসির। তার সামনে ছিল কেবল ভারতের গোলরক্ষক। তার ডান পাশ দিয়ে আলতো টোকায় বল পাঠিয়ে দিয়েই উল্লাসে মেতে ওঠেন ফাসির। জার্সি খুলে বুনো উল্লাস করতে থাকেন। অবশ্য তার আলতো টোকার বল রুখতে গিয়েছিলেন ভারতের নিখিল চন্দ্র শেখর। কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারেননি। তিনি বলের কাছে যাওয়ার আগেই বল গোললাইন অতিক্রম করে।

অবশ্য যোগ করা সময়ের শুরুতে একটি গোল করে ভারত আশা জাগিয়ে তুলেছিল। ম্যাচের ৯০+২ মিনিটে সুমিত পাসি গোল করে ব্যবধান কমান। তাকে গোলে সহায়তা করেন নিখিল। তবে তার গোলটি পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে এই ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে সাফের প্রথম শিরোপা জিতেছিল মালদ্বীপ। সেই ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে শনিবার হারিয়ে দ্বিতীয় শিরোপা শোকেসে তুলল তারা।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

১৫ সেপ্টেম্বর শুরু এশিয়া কাপ, দেশ ছাড়ল টাইগাররা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-০৯ ১৪:৩২:৫০

এশিয়া কাপ খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে ভিসা জটিলতায় যেতে পারেননি ওপেনার তামিম ইকবাল ও রুবেল হোসেন। একই কারণে দুবাইগামী বিমানে চড়া হয়নি ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন ও প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর।

টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান হজ থেকে দেশে ফিরে যুক্তরাষ্ট্রে যান। যেখান থেকেই দুবাইয়ে যোগ দেবেন। অন্যদের সবাই এদিন দেশ ছেড়েছেন। এমিরেটস এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইটটি টাইগারদের নিয়ে ঢাকা ছাড়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপের মিশন। যেখানে বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপে খেলবে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের সঙ্গে। ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও হংকং। উদ্বোধনী দিনেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ২০ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে টাইগাররা।

দুই গ্রুপ থেকে সেরা দুটি করে দল যাবে পরের পর্বে। সুপার ফোর পর্বে প্রত্যেকে একবার করে মুখোমুখি হয়ে একে অপরের। পয়েন্ট টেবিলের সেরা দুটি দল খেলবে ফাইনালে।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ: পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমির পথে বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-০৬ ১১:২৮:০৯

শেষ মুহূর্তে তপু বর্মনের গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ। সাফ সুজুকি কাপের ম্যাচে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় তুলে নিল স্বাগতিকরা। এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল জামাল ভূঁইয়া, তপু বর্মনরা। ছয় পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ এখন ‘এ’ গ্রুপে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে রয়েছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর গ্রুপ বাংলাদেশ নিজেদের শেষ ম্যাচে নেপালের মুখোমুখি হবে।

আজকের ম্যাচে জয়ের ফলে বাংলাদেশ সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেল। নেপালের বিপক্ষে জিতলে কিংবা ড্র করলেই বাংলাদেশ শেষ চারে খেলবে। আবার এদি যদি বাংলাদেশ হেরে যায় এবং অন্য ম্যাচে ভুটানের কাছে পাকিস্তান হারে তাহলে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠবে। শনিবার যদি বাংলাদেশ হারে এবং পাকিস্তান জয় পায় তাহলে বাংলাদেশ, নেপাল ও পাকিস্তানের পয়েন্ট সমান হবে। সেক্ষেত্রে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দুইটি দল সেমিফাইনালে খেলবে। আজ হারের মাধ্যমে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে ভুটানের।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ৬০ শতাংশ সময় ধরে বল দখলে রাখে স্বাগতিকরা। ৩৭ শতাংশ সময় ধরে বল নিয়ন্ত্রণে রাখে পাকিস্তান।

ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। বিরতি থেকে ফেরার পর দুই দলই গোল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। অবশেষে ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে সফল হয় বাংলাদেশ। গোলটি করেন তপু বর্মন। গোল উদযাপনের সময় জার্সি খুলে ফেলায় তপু বর্মনকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এর আগে ভুটানের বিপক্ষেও একটি গোল করেছিলেন তপু বর্মন। ম্যাচের বাকি সময়ে কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।  

এবার তৃতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আসর বসছে বাংলাদেশে। এর আগে ২০০৩ ও ২০০৯ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই টুর্নামেন্ট। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আর ২০০৯ সালে সেমিফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই হয়তো বাংলাদেশ আবারও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত