যুক্তরাষ্ট্রে আজ শনিবার, ২১ Jul, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 11:42am

|   লন্ডন - 06:42am

|   নিউইয়র্ক - 01:42am

  সর্বশেষ :

  বিশ্ব সিলেট সম্মেলন ২০১৮-এর পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী পরিষদ ঘোষণা   মিতালী মুখার্জী গাইবেন সিডনীতে   বরিশাল বিভাগ সমিতির আয়োজনে বনভোজন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত   বিশ্বের ৪ কোটি মানুষ ‘আধুনিক দাসত্বে’র কবলে, যুক্তরাষ্ট্রে ৪ লক্ষাধিক   গাড়িতে চড়েন গৃহকর্মী, পরেন ২৫ লাখের গয়না!   দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের সাজা বেড়ে ৩২ বছর   এইচএসসিতে ফেল করায় ৩ ছাত্রীর আত্মহত্যা   বিএনপির বিশাল সমাবেশ : নির্বাচনে যেতে তিন শর্ত   ‘সরকার বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করছে’   সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত   ‘সালাম’ ভালোবাসার নির্মল সেতুবন্ধন   ‘ইহুদি জাতীয় রাষ্ট্র’ বিল পাস করেছে ইসরাইলি পার্লামেন্ট   সাইপ্রাসে নৌকাডুবিতে ১৯ অভিবাসীর মৃত্যু   কক্সবাজারে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ২ জন নিহত   দুই বছর জারি থাকা জরুরি অবস্থা তুলে নিল তুরস্ক

>>  খেলাধুলা এর সকল সংবাদ

প্রাইজমানির ৫ লক্ষ ডলার প্রতিবন্ধী শিশুদের দিয়ে দিচ্ছেন এমবাপে

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বজয়। এবার পালা শাসনের। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসিদের হাত থেকে ফুটবল বিশ্বের নেতৃত্ব নিজের হাতে তুলে নেওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। হ্যাঁ, বলা হচ্ছে ফ্রান্সের বিস্ময় বালক কিলিয়ান এমবাপের কথা। বিশ্ব জয় করে নিজের সেই আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন প্রতিবন্ধী শিশুদের সঙ্গে। বিশ্বকাপ থেকে প্রাপ্ত প্রাইজমানির ৫ লক্ষ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ কোটি ২২ লক্ষ টাকার বেশি) তিনি দান করছেন প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করা একটি সংস্থাকে।

‘প্রিমিয়ার্স ডি কার্ডিস’ নামে একটি সংগঠন প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করে। যেখানে তারা ওই শিশুদের

বিস্তারিত খবর

ঘিঞ্জি মহল্লা থেকে বিশ্বমঞ্চে কিলিয়ান এমবাপ্পে

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৬ ১২:১৯:২২

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উত্তরাংশের একটি অনুন্নত আর দরিদ্র এলাকা- নাম বন্ডি। অনেক নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত এলাকাটির বাসিন্দাদের রয়েছে নানা অভিযোগ। প্যারিসের বিখ্যাত প্রশস্ত সড়ক আর উন্নত জীবনের ছোয়া নেই এখানে। নেই পর্যটক টানার মতো কোন ব্যবস্থা।

প্যারিস বিশ্বের উন্নত নগরীগুলোর একটি হলেও তার একটি অংশে বিরাজ করছে অনুন্নত পরিবেশ, যাকে তুলনা করা যায় ‘প্রদীপের নিচে অন্ধকার’ হিসেবে। এলাকাটির বেশির ভাগ বাসিন্দাই স্বল্প আয়ের। নিজেদের বাড়ি নেই বেশিরভাগেরই। সোস্যাল হাউজিং নামক সরকারি প্রকল্পের অধীনে নির্মিত বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বাস করেন তারা। এলাকাটির বেশিরভাগ বাড়িই সোস্যাল হাউজিংয়ের। বেকারত্বের মাত্রা অনেক বেশি। নাগরিক সুযোগ-সুবিধাও অন্য এলাকাগুলোর চেয়ে অনেক কম।

তবে এত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এই মহল্লাটির মানুষ আজ গর্বের সাথে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন। শুধু ফ্রান্সই নয়, বিশ্বমঞ্চেই আজ পা পড়েছে বন্ডি নামক অনুন্নত মহল্লা থেকে উঠে আসা বীরদের। ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক কিলিয়ান এমবাপে বন্ডি এলাকার সন্তান। আলজেরীয় মুসলিম মা আর ক্যামেরুন থেকে আসা অভিবাসী বাবার সন্তান এমবাপে আজ বিশ্ব মঞ্চের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন। মাত্র উনিশ বছর বয়সেই তিনি করেছেন বিশ্বজয়।

বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্স দলের কনিষ্ঠতম এই সদস্য দেশকে শিরোপা এনে দেয়ার পাশাপাশি নিজেকেও নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। কিশোর সুলভ গড়ন আর সর্বদা হাসিমাখা মুখের এই তরুণই মূহুর্তে চরম নির্মমতায় দুমড়ে মুচড়ে দেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্স। তার গতি আর অসাধারণ ড্রিবলিংয়ের সাথে তাল মেলাতে হিমশিম খায় বাঘা বাঘা ডিফেন্ডাররাও। কিংবদন্তী পেলের পর দ্বিতীয় কিশোর ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার রেকর্ড গড়েছেন।

বন্ডি এলাকার ‘এএস বন্ডি ক্লাবে’ শুরু এমবাপের ফুটবল ক্যারিয়ার। এখান থেকেই প্রতিভার দ্যুতি ছড়িয়ে পৌছে গেছেন বিশ্ব মঞ্চে। আজ তাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি বিশ্বের সেরা ফুটবল ক্লাবগুলোর। এখানে তার সাবেক কোচ অ্যান্তোনিও রিকার্ডি একবার বলেছিলেন, ‘আমি তাকে যখন কোচিং করাতে শুরু করি তখন তার বয়স মাত্র ছয় বছর। সে সময় অন্য সব শিশুর চেয়ে এমবাপে অনেক এগিয়ে ছিলো। তার ড্রিবলিং ও গতি ছিলো অসাধারণ। ওই ক্লাবে ১৫ বছর কোচিং করিয়েছি, তার মতো এমন প্রতিভা আর দেখিনি।’

মহল্লার এই ক্লাব থেকে এমবাপে সরাসরি যোগ দেন পেশাদার লিগের ক্লাব মোনাকোতে। ২০১৫ সালে ফ্রান্সের লিগ-১ এর ম্যাচে তার অভিষেক হয় পেশাদার ফুটবলে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ক্লাবটিকে প্রথমবারের মতো লিগ শিরোপা এনে দেন এমবাপে। এক বছর পর ১৮০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে যোগ দেন ফ্রান্সের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে।

বন্ডির মানুষরা আজ গর্ব করেন এমবাপেকে নিয়ে। তারা বুঝতে শিখেছেন স্বপ্ন থাকলে তা কোন সীমাবদ্ধতাই মানবে না। একদিন ধরা দেবেই হাতে। এমবাপের শৈশবের ক্লাব এএস বন্ডির কিশোর ফুটবলার ১৪ বছর বয়সী ইয়ানিস জ্যাঁ আলজাজিরাকে বলেন, ‘তিনি আমার এই মহল্লা থেকে উঠে এসেছে সেটা ভাবতে গর্ব হয়। আমি একদিন তার মতো হতে চাই।’

এমবাপেও ছিলেন এমন একজন স্বপ্নবাজ তরুণ। শৈশব থেকেই তার বাড়ির দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখতেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পোস্টার। সিআরসেভেনকে আদর্শ মেনে এমবাপে বড় হয়েছেন। রোনালদোর মতোই অসাধারণ গতি আর দক্ষতা নিয়ে বেড়ে উঠেছেন। আজ তিনি রোনালদোরই প্রতিদ্বন্দ্বী, রোনালদোকে বিক্রি করে দিয়ে স্পেনের ক্লাব রিয়ালমাদ্রিদ কিনতে চাইছে এমবাপেকে।

শুধু এমবাপে নয়, ফ্রান্সের এবারের বিশ্বকাপ জয়ী দলের মাতুইদি ও কন্তে এই এএস বন্ডি ক্লাব থেকে উঠে এসেছেন। এলাকাটির শিশু, কিশোর, তরুণরা তাই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে এখান থেকেই বিশ্বমঞ্চে উঠে আসার। ১৭ বছর বয়সী লুতফি বিচারেফ বলেন, ‘কেউ যখন জিজ্ঞেস করে আমি কোন ক্লাবে খেলি- গর্বের সাথে বলি এএস বন্ডির নাম, কারণ এমবাপে এখান থেকেই উঠে এসেছেন। এক নামেই তারা চিনে ফেলে ক্লাবটিকে।

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

টেস্টের র‌্যাঙ্কিংয়েও পেছাল বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৫ ১৪:০১:১৯

সেই ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস জয়। বারবার ৯-১০ র‍্যাংকিংয়ে নিজেদের জায়গা বাঁচাতে হয়েছে। ২০১৮ সালে এসে নিজেদের যোগ্যতা দিয়ে ৮ নম্বরে উঠে এসেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই র‌্যাঙ্কিংয়ের পরের সিরিজেই আবার পতন। উইন্ডিজের বিপক্ষে চলতি আইপে সিরিজের দুটি টেস্ট শেষে ৯ নম্বরেই গিয়েই থামলেন সাকিব আল হাসানরা।

মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে পুরনো অবস্থানে ফিরেছে বাংলাদেশ। যদিও আগে থেকেই বলা হচ্ছিল, উইন্ডিজ সফরে টেস্টে হারলে আবারও র‌্যাঙ্কিংয়ে জায়গা হারাবে বাংলাদেশ। বাস্তবে তাই হলো।

অ্যান্টিগা ও জ্যামাইকাতে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন সাকিব-মুশফিকরা। দুটিই গুটিয়ে গেছে মাত্র তিন দিনে।

অন্যদিকে দুটি টেস্ট জিতে ৮ নম্বরে উঠে এসেছে জেসন হোল্ডারের উইন্ডিজ দল। এই সিরিজের আগে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ছিল ৭৫। উইন্ডিজের ছিল ৭২।

জ্যামাইকা টেস্টের পর এখন স্বাগতিকদের পয়েন্ট হয়েছে ৭৭। অর্থাৎ বেড়েছে ৫ পয়েন্ট। বাংলাদেশের পয়েন্ট ৮ কমেছে। বর্তমান রেটিং পয়েন্ট ৬৭।

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

জিদানের পর এমবাপ্পেদের হাতে আবার বিশ্বকাপ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৫ ১৩:৪৭:০২

দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্বকাপ ফুটবলের শিরোপা জিতলো ইউরোপীয় জায়ান্ট ফ্রান্স। ১৯৯৮ সালে জিনেদিনে জিদানের হাত ধরে আসা প্রথম সফলতার পর এবার সাফল্যের মুকুটে দ্বিতীয় পালকটি যুক্ত করলেন এমবাপ্পে-গ্রিয়েজম্যান-পগবারা। রোববার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর লুঝিনিকি স্টেডিয়ামে উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে বিশ্বকাপ জিতেছে দিদিয়ের দেশ্যমের শীষ্যরা। আর প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেও তাই উৎসব করা হলো না ক্রোয়েটদের।

ফাইনালের শুরুতেই এদিন দুর্ভাগ্য সঙ্গী হয় ক্রোয়েটদের। একটি আত্মঘাতি গোল ও ডি-বক্সের মধ্যে বল হাতে লেগে হ্যান্ডবল থেকে পেনাল্টিতে গোল হজম করে তারা। পরের দুটি গোল অবশ্য ফ্রান্স দিয়েছে দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে। আর এই বিষয়গুলোই ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন দুই দলের। গোলের খেলা ফুটবলে একের পর এক লক্ষ্যভেদ করে ফ্রান্স ছিনিয়ে নিয়েছে বিশ্বসেরার মুকুট। বল দখলের লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে থাকলেও ফ্রান্স সফল গোলের খাতায়। যেমনটা বলছে, ৪-২ স্কোরলাইনও। গোলের হিসেব দেখে ম্যাচটাকে একপেশে ভাবতে পারেন কেউ; কিন্তু ১৯৬৬ সালের পর প্রথম কোন বিশ্বকাপ ফাইনালে ছয় গোল হওয়া এই ম্যাচে প্রতিমূহুর্তে ছিলো উত্তেজনা।

এমনকি ৬৫ মিনিটে ফ্রান্স যখন ৪-১ গোলে এগিয়ে গেছে, তখনও এতটুকু ভাটা পড়েনি বিশ্বকাপ ফাইনালের আবহে। গোছানো, সুন্দর ফুটবল খেলে একের পর এক আক্রমণ করে ফ্রান্সের ডিফেন্ডারদের পরীক্ষা নিয়েছে ক্রোয়েশিয়া; কিন্তু সেই পরীক্ষায় সফল ছিলো ফরাসিরা। দারুণভাবে রক্ষণভাগ আগলে রেখেছে তারা। শেষ মূহুর্তে গোলরক্ষকের ছেলেমানুষি ভুলে একটি গোল হজম না করলে তো খেলার ফলাফল থাকতো ৪-১, যেটি বিশ্বকাপ ফাইনালের সাথে বেমানানই হতো।

ম্যাচের ১৮ মিনিটে ফরোয়ার্ড মানজুকিচের হেড থেকে আত্মঘাতি গোল হজম করে ক্রোয়েশিয়া। প্রায় ৪৫ গজ দূর থেকে গ্রিয়েজম্যানের নেয়া ফ্রি-কিক ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন মানজুকিচ। উচু হয়ে আসা বল তার মাথায় লেগে চলে যান গোল পোস্টে।

এরপর দারুণ খেলে ঠিক ১০ মিনিট পর ম্যাচে ফেলে মডরিচের দল। ২৮ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণের পর বক্সের মধ্যে জটলায় বল পেয়ে দারুণ বুদ্ধিমত্তায় ফ্রান্সের জালে পাঠান ক্রোয়েশিয়ার ফরোয়ার্ড ইভান পেরিসিচ। কিন্তু সমতা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা। আর এবার ক্রোয়েটদের জন্য দুর্ভাগ্য বয়ে আনেন দলের গোলদাতা পেরিসিচ।

ডান প্রান্তে কর্নার পায় ফ্রান্স। গ্রিয়েজম্যানের কর্নার থেকে উড়ে আসা বল হাতে লাগে পেরিসিচের। পেনাল্টি দাবি করে ফ্রান্স। অনেক নাটকীয়তার পর ভিডিও রেফারির সহায়তা নেন ফিল্ড রেফারি। পেনাল্টি বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোলটি করেন ফরাসি অধিনায়ক গ্রিয়েজম্যান।

পিছিয়ে পড়ে আবারো গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। একের পর এক আক্রমণে তারা দিশেহারা বানায় ফরাসিদের। কিন্তু প্রথমার্ধ শেষ করতে হয়েছে তাদের পিছিয়ে থেকেই। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের পসরা সাজায় মডরিচ, রাকিটিচরা। কিন্তু সফলতা ধরা দেয় ফরাসিদের হাতে। এবার গোলের নায়ক পল পগবা। তার মাধ্যমেই সূচনা হয় আক্রমণের। শেষটাও হয় তার হাতে। ৫৯ মিনিটে পগবার প্রথম শট এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে আসে, ফিরতি শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই বার্সেলোনা তারকা।

এরপর এই ম্যাচে ফল সম্পর্কে অনেকেই হয়তো নিশ্চত হয়ে গিয়েছিলেন। যদিও ক্রোয়েশিয়া গোল শোধে আক্রমণের পর আক্রমণ চালায়। কিন্তু কিছু একটা হয়তো বাকি ছিলো ম্যাচে। গ্রিয়েজম্যান গোল করেছেন, পগবা করেছেন কিন্তু যাকে নিয়ে এত আলোচনা সেই কিলিয়ান এমবাপ্পো গোল পাননি। শেষ পর্যন্ত ৬৫ মিনিটে দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে সেই অপূর্ণতা ঘুচিয়ে দেন ফরাসি তরুণ। আর এর মাধ্যমে ব্রাজিলীয় কিংবদন্তী পেলের পর ১৭ বছর ছয় মাস বয়সী এমবাপ্পে দ্বিতীয় টিনেজার হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড গড়লেন। ক্রোয়েশিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকা হয়ে যায় এমবাপ্পের হাতেই।

শেষ মূহুর্তে ফরাসি গোলরক্ষকের ভুলে একটি গোল শোধ করে ক্রোয়েশিয়া। এর মাধ্যমে ব্যবধান কমলেও ফ্রান্সের শিরোপা জয়ের পথে তা বাধা হতে পারেনি। ৫৯ মিনিটে মানজুকিচ গোলটি করেন। ব্যাকপাস থেকে বল পেয়ে গোলরক্ষক সরাসরি ক্লিয়ার না করে মানজুকিচকে কাটাতে চেয়েছিলেন; কিন্তু মানজুকিচের পেয়ে লেগে জালে জড়ায় বল। এর ফলে অন্যরকম এক রেকর্ডের মালিক হলেন এই ক্রোয়েট ফরোয়ার্ড- বিশ্বকাপ ফাইনালে একই সাথে গোল ও আত্মঘাতি গোলের প্রথম নজির এটি।


এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে তৃতীয় বেলজিয়াম

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৪ ১৩:৫৩:৪৫

দুই দলের দেখা হয়েছিল প্রথম রাউন্ডেও। আগেই দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় সেদিন দুই দলের লড়াইটা ছিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। সেই ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ইংল্যান্ড ‘ইচ্ছা করে হেরেছিল’ বলেও অনেকে আঙুল তুলেছিল।

আজ আরো একবার মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। আগের মতো এই ম্যাচেরও গুরুত্ব খুব একটা ছিল না। দুই দলের শিরোপা-স্বপ্ন গুঁড়িয়ে গিয়েছিল আগেই। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের কি আর গুরুত্ব থাকে! তবে গ্রুপপর্বের মতো দুর্দান্ত খেলে ইংল্যান্ডকে আবারো হারাল বেলজিয়াম।

সেন্ট পিটার্সবার্গে থমাস মুনিয়ের ও এডেন হ্যাজার্ডের একটি করে গোলে ইংল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে তৃতীয় হয়েই বিশ্বকাপ শেষ করেছে বেলজিয়াম। বিশ্বকাপে এটাই বেলজিয়ামের সর্বোচ্চ সাফল্য। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে তারা চতুর্থ হয়েছিল।

সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচ থেকে আজ শুরুর একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন এনেছিলেন ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। আরেক সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হারা বেলজিয়াম দলে পরিবর্তন ছিল দুটি।

নিষেধাজ্ঞার কারণে আগের ম্যাচে খেলতে পারেননি মুনিয়ের। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে সেই মুনিয়েরই এগিয়ে দেন বেলজিয়ামকে। বাঁ দিক থেকে চাদলির নিচু ক্রস থেকে মুনিয়েরের ভলি খুঁজে নেয় ইংল্যান্ডের জাল।

বেলজিয়ামের দশম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করলেন মুনিয়ের। তাতে বেলজিয়াম ছুঁয়েছে ফ্রান্স (১৯৯৮) ও ইতালির (২০০৬) সর্বকালের রেকর্ড।

দ্বাদশ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারত বেলজিয়ামের। তবে কেভিন ডি ব্রুইনের শট ঠেকিয়ে ইংল্যান্ডের ত্রাতা গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।

২৩ মিনিটে প্রথম ভালো একটি সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। রাহিম স্টার্লিং বক্সের ভেতর বল দিয়েছিলেন হ্যারি কেনকে। কিন্তু বল বাইরে দিয়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন টটেনহামের এই ফরোয়ার্ড।

প্রথমার্ধে দুই দলের কেউই আর ভালো কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ৭০ মিনিটে ইংল্যান্ড প্রায় সমতায় ফিরতে যাচ্ছিল। মার্কাশ রাশফোর্ডের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার মাথার ওপর দিয়ে শট নিয়েছিলেন এরিক ডায়ার। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দেন টবি আল্ডারভাইরেল্ড।

৮০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারত বেলজিয়ামের। কিন্তু হ্যাজার্ডের ক্রস থেকে মুনিয়েরের জোরালো ভলি ডান দিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে ঠেকান পিকফোর্ড।

দুই মিনিট পর বেলজিয়ামকে আর রুখতে পারেননি ইংলিশ গোলরক্ষক। পাল্টা আক্রমণে ডি ব্রুইন এগিয়ে গিয়ে বল দেন হ্যাজার্ডকে। সঙ্গে লেগে থাকা জোনসকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে পোস্ট ঘেঁষে বল জালে পাঠান চেলসি ফরোয়ার্ড। তাতেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বেলজিয়ামের।

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৪ ১৩:৫২:৩২

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা। উভয় দল আগেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০১৮ তে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

সেমিফাইনালে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেই শনিবার আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। পুরো বাছাই পর্বে দারুণ দাপট দেখানো সালমা খাতুনরা ফাইনালেও দারুণ জয় পেয়েছে। ২৫ রানে জিতে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ।

নেদারল্যান্ডসের আটরেখটে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় আয়ারল্যান্ড। ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা সুবিধা করতে না পারলেও ৯ উইকেটে ১২২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর করে। তারপর ১৮.৪ ওভারে প্রতিপক্ষকে গুটিয়ে দেয় ৯৭ রানে।

আগে ব্যাট করে মাত্র চার ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে রান করেছেন। শামীমা সুলতানার (১৬) সঙ্গে ২৮ রানের জুটি গড়েন আয়েশা রহমান। তারপর ফারজানা হককে (১৭) নিয়ে ৫৮ রানের সেরা জুটি গড়েন এই ওপেনার।

দলকে ৮৮ রানে রেখে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে আউট হন আয়েশা। এর আগে ৪২ বলে ৫ চার ও ২ ছয়ে ৪৬ রানের সেরা ইনিংস খেলেন তিনি। ১২ রান করে অপরাজিত ছিলেন জাহানারা আলম।

আয়ারল্যান্ডের লুচি ও’রিলে ৪ টি ও সিয়ারা ম্যাটকাফে নেন ২টি উইকেট।

১২৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ষষ্ঠ ও ১২তম ওভারে পান্না ঘোষ ও রুমানা আহমেদের জোড়া আঘাতে ভেঙে পড়ে আইরিশরা। ৫৪ রানে ৬ উইকেট হারায় তারা। নিজের তৃতীয় ওভারে আরেকবার জোড়া আঘাত হানেন পান্না।

শেষ ওভারেও এই ডানহাতি পেসার উইকেট পান। ম্যারি ওয়ালড্রোনকে বোল্ড করে টি-টোয়েন্টিতে তো বটেই, যে কোনও ধরনের ক্রিকেটে প্রথমবার ৫ উইকেট পান পান্না। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে গ্যাবি লিউইস সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন। বাংলাদেশের পান্না ৫টি,  রুমানা ও নাহিদা আক্তার ২টি করে উইকেট তুলে নেন।

আগামী ৯ নভেম্বর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। যেখানে বাছাইয়ের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাংলাদেশ ‘এ’ গ্রুপে লড়বে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। প্রথম দিনই স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে তারা।

 এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ইতিহাস গড়ে ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া, হৃদয় ভাঙল ইংল্যান্ড

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১২ ০৪:৫৯:৩২

‘ইংল্যান্ডস গোয়িং অল দ্য ওয়ে’
‘ইংল্যান্ডস গোয়িং অল দ্য ওয়ে’
‘ইংল্যান্ডস গোয়িং অল দ্য ওয়ে’
ক্রোয়েশিয়ার জালে সেমিফাইনালের পঞ্চম মিনিটে বল পাঠানোর পর ইংল্যান্ড সমর্থকদের উল্লাস ছিল এমন বাঁধনহারা। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামকে মনে হচ্ছিল এক টুকরো লন্ডন, কার্ডিফ কিংবা ম্যানচেষ্টার। বারবার কানে আসছিল ‘ইংল্যান্ডস গোয়িং অল দ্য ওয়ে’।

এমন সমর্থন আর চিৎকার না করে উপায় আছে!

১৯৬৬ সালে নিজেদের একমাত্র বিশ্বকাপ জেতে ইংল্যান্ড। এরপর থেকেই কেবল অপ্রাপ্তির হাহাকার। বহু বছর বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল বড় কোনো প্রত্যাশা ছাড়া। এবার হ্যারি কেন, ইয়াং, স্টোনস, পিকফোর্ডরা সেই প্রত্যাশা তৈরি করেন। স্বপ্ন দেখান নতুন দিগন্তের। আশা জাগান নতুন ইতিহাস সৃষ্টির। তাইতো রাজপথ আর স্টেডিয়ামে শুধু চলতে থাকে ‘ইংল্যান্ডস গোয়িং অল দ্য ওয়ে’।

আত্মবিশ্বাস, মাঠের পারফরম্যান্স কোনো কিছুতেই কমতি ছিল না ইংল্যান্ডের। সেমিফাইনাল পর্যন্ত তাদের বাধা হতে পারেনি কেউ, পারেনি আটকাতে। অপ্রতিরোধ্য সেই ইংল্যান্ডকেই আজ মাটিতে নামিয়ে আনল ক্রোয়েশিয়া। ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ক্রোয়েশিয়া উঠল বিশ্বকাপের ফাইনালে।
 
ইংল্যান্ড শেষবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল ১৯৯০ সালে। তখনও পরাধীন ক্রোয়েশিয়া। পরের বছরের ২৫ জুন ক্রোয়োশিয়ার মিলল স্বাধীনতা। দেশটির ফুটবল ঐতিহ্য এতোটাই বিস্তৃত যে স্বাধীন ক্রোয়েশিয়া ১৯৯৮ সালে খেলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। দাভর সুকেররা ত্রিবর্ণের পতাকা উড়ায় ফ্রান্সের মাটিতে। সেবার ফাইনাল খেলতে পারেনি সুকেররা। কিন্তু এবার মদ্রিচরা সেই ভুল করলেন না। ফাইনালে উঠে ইতিহাস সৃষ্টির পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল রাকিটিচ, মানজুকিচ ও পেরেসিচরা।

২০ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ চারে ক্রোয়েশিয়া। ২৮ বছর পর উঠেছে ইংল্যান্ডও। ম্যাচটা যে জমজমাট হবে তা আগের থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। কিছু বুঝে উঠার আগেই গোল খেয়ে বসল ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে ডেলে আলিকে ডি বক্সের বাইরে ফাউল করায় ২০ গজ দূর থেকে ফ্রি-কিক পায় ইংল্যান্ড। কিরিন ট্রিপায়ারের ডানপায়ের বাঁকানো শট খুঁজে নেয় ক্রোয়েশিয়ার জাল। জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম গোল করে শুরুতেই লায়ন্সদের ‍উল্লাসে ভাসান ট্রিপায়ার। 
সেট পিচ যে ইংল্যান্ডের শক্তির জায়গায় তা আরেকবার প্রমাণ মিলল। সেমিফাইনালের আগে ১১ গোল দেওয়া ইংল্যান্ড ৮টিই দিয়েছিল সেট পিচ থেকে। ট্রিপায়ার সেই তালিকায় যোগ করেন আরও একটি। তবে একটি জায়গায় ট্রিপায়ারের গোলটি এগিয়ে থাকবে। ২০০৬ বিশ্বকাপে সরাসরি ফ্রি কিকে ইকুয়েডরের বিপক্ষে গোল দিয়েছিলেন ডেভিড বেকহ্যাম। বেকহ্যামের পর ট্রিপায়ার সরাসরি ফ্রি কিক থেকে গোল করার কীর্তি গড়লেন।

মাঠ গোছানোর আগে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে ক্রোয়েশিয়া। দূর্বলতার সুযোগটি নিয়ে একাধিক আক্রমণ শানায় ইংল্যান্ড। ২৯ মিনিটে হ্যারি কেন বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন। মাত্র ৭ বা ৮ গজের দূরের থেকে তার নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন সুবাসিচ। বিশ্বকাপে ৬ গোল পাওয়া হ্যারি কেনের থেকে এমন ভুল অপ্রত্যাশিতই বটে।
 
২ মিনিট পর ক্রোয়েশিয়া প্রথম আক্রমণ করে ইংল্যান্ড শিবিরে। রেবিকের শট ফিরিয়ে দেন ইয়াং। রেবিকের ফিরতি শটটিও ছিল গোলমুখে। গোলরক্ষক পিকফোর্ড ঝাঁপিয়ে বল রক্ষা করেন। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে শেষ হয় দুই দলের প্রথমার্ধের লড়াই।

দ্বিতীয়ার্ধে আসল রূপে ফেরে জ্লাতকো দালিচের শিষ্যরা। প্রথমার্ধে তাদের পাওয়ার ফুটবল পাওয়াই যাচ্ছিল না। লং পাস আর দীর্ঘ ক্রস, সাথে পাওয়ার ফুটবল। তিনের মিশেলে বারবার ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টায় থাকে ক্রোয়াটরা। শেষ পর্যন্ত ৬৮ মিনিটে সমতাসূচক গোলের দেখা পায়।
 
ডানপ্রান্ত থেকে সিমে ভারসালজিকোর ক্রস থেকে ডি বক্সের ভেতরে পা লাগিয়ে গোল করেন পেরিসিচ। জাতীয় দলের হয়ে এটি তার ২৮তম এবং চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় গোল। সমতায় ফেরানোর ২ মিনিট পরই আবারও পেরিচের আক্রমণ। বামপ্রান্ত থেকে বল নিয়ে একাই ভেতরে ঢুকেন । বামপায়ে শট নেন ঠিকই। কিন্তু পোস্টে লেগে বল ফিরে আসে। ওখানেই শেষ হয়ে যেত ম্যাচ। কিন্তু ঈশ্বর চাননি এতটা সহজে জিতুক ক্রোয়েশিয়া!

আগের দুই ম্যাচে টাইব্রেকারে জয় পায় তারা। এবার হলে হ্যাটট্রিক হতো। সেটা হয়নি। ৯০ মিনিটের লড়াই অমীমাংসিত থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও প্রথমার্ধের ১৫ মিনিটের লড়াই ১-১ গোলে সমতা। ১০৭ মিনিটে ইংল্যান্ডকে বাঁচিয়ে দেন পিকফোর্ড। পেরিসিচের ক্রস থেকে ডাইভ দিয়ে বল পায়ে লাগান মানজুকিচ। বল ছিল গোলমুখে। পিকফোর্ড ঝাঁপিয়ে শেষ রক্ষা করেন।
 
কিন্তু দ্বিতীয় অর্ধে আর পারেননি পিকফোর্ড। এবারও মানজুকিচের শট। ১০৯ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে পেরিচিসের স্বাভাবিক হেডে বল পেয়ে যান মানজুকিচ। কোনাকুনি শট নিয়ে এবার ঠিকই লক্ষ্যভেদ করেন জুভেন্টাসের হয়ে খেলা এ স্ট্রাইকার। ওই গোলেই ইংল্যান্ডের সব স্বপ্ন শুকনো পাতার মতো ভেসে যায়।
 
৫২ বছর পর ফের বিশ্বজয়ের বাতাস ছড়িয়ে পরে গোটা ইংল্যান্ডে। সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। বাধা হয়ে দাঁড়াল নবযুগের ক্রোয়েশিয়া। ইংল্যান্ড আগেও উঠেছিল ফাইনালে, চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল। হ্যারি কেনরা এবার ইতিহাস ছুঁতে পারেনি। হৃদয় ভাঙল তারা।
 
‘ইংল্যান্ড ইজ কামিং হোম!’ - সমর্থকদের কন্ঠে এখন বেদনার সুর।


 এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

১২ বছর পর ফাইনালে ফ্রান্স

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১০ ১৬:১৫:০৩

বেলজিয়ামের দুর্দান্ত যাত্রা থেমে গেল ফ্রান্সের কাছে। সব ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে খেলতে নামা বেলজিয়ানদের ১-০ গোলে হারাল ফরাসিরা। তাতে বিশ্বকাপ ইতিহাসে তৃতীয়বার ফাইনালে উঠল তারা।

ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা পায়ে বল রাখতে না পারায় ১৫ মিনিটে সুযোগ তৈরি করেন কেভিন ডি ব্রুইন। তিনি পাস দেন ইডেন হ্যাজার্ডকে। বেলজিয়ান অধিনায়কের নিচু শট গোলবারের পাশ দিয়ে চলে যায়।

১৮ মিনিটে ফ্রান্স প্রথমবার গোলমুখে শট নেয়। ব্লেইস মাতুইদির শক্তিশালী শট কোর্তোয়াকে পরাস্ত করতে পারেনি। পরের মিনিটে বাঁপ্রান্ত দিয়ে শক্তিশালী শট নেন গোলে, কিন্তু রাফায়েল ভারানের গায়ে লেগে গোলবারের উপর দিয়ে মাঠের বাইরে যায়। ২১ মিনিটে নাসের চ্যাডলির কর্নার থেকে অ্যাল্ডারওয়েইরেল্ড পরীক্ষা নেন লরিসের। টটেনহ্যাম সতীর্থের শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিহত করেন ফরাসি গোলরক্ষক।

৩১ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে বল নিয়ে পাভার্দ বক্সের মধ্যে ক্রস দেন। অলিভিয়ের জিরুদের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তিন মিনিট পর আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানের নিখুঁত ফ্রি কিক বেলজিয়ান রক্ষণদেয়াল ভেদ করে বক্সে জায়গা করে নেয়। কিলিয়ান এমবাপে পাস দেন জিরুদকে। চেলসি ফরোয়ার্ডের দুর্বল ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ায়নি।

বিরতির ৬ মিনিট আগে দারুণ এক সুযোগ পায় ফ্রান্স। ৩৯ মিনিটে এমবাপের পাস থেকে বেঞ্জামিন পাভার্দ লক্ষ্যে শট নিয়েছিলেন, কিন্তু কোর্তোয়ার বাড়িয়ে দেওয়া পা ব্যর্থ করে দেয় তাকে।

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনের দুর্দান্ত ক্রস থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন রোমেলু লুকাকু। গোলমুখের সামনে দাঁড়ানো এ স্ট্রাইকারের গায়ে বল লাগায় লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি।

বিরতির পর অ্যাক্সেল উইটসেলের ক্রস থেকে ভারানের চ্যালেঞ্জে ঠিকমতো হেড নিতে পারেননি লুকাকু। গোলবারের উপর দিয়ে মাঠের বাইরে চলে যায় বল।

৫০ মিনিটে জিরুদের শট ব্লক করে কর্নার বানান কোম্পানি। পরের মিনিটে গ্রিয়েজমানের ওই কর্নার থেকে কাছের পোস্টে ফেলাইনির চেয়ে উঁচুতে লাফিয়ে হেড করে বল জালে জড়ান উমতিতি।

এমবাপের ৫৬ মিনিটের ব্যাকহিল থেকে বল পেয়েছিলেন জিরুদ। কিন্তু কোর্তোয়া তাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে দেননি ফরাসিদের।

৬৫ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে দ্রিয়েস মের্টেন্সের লম্বা ক্রস গোলমুখে হেড করেছিলেন ফেলাইনি। গোলপোস্টের কয়েক ইঞ্চি পাশ দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় বেলজিয়াম মিডফিল্ডারের এ চেষ্টা। দুই মিনিট পর এমবাপের আবারও সুযোগ তৈরি করে দেন জিরুদকে। কিন্তু চেলসি ফরোয়ার্ড গোলবারের ওপর দিয়ে বল মেরে আবার সুযোগ নষ্ট করেন।

সমতা ফেরাতে মরিয়া বেলজিয়াম বক্সের মধ্যে জায়গা খুঁজছিল হন্যে হয়ে। ৭৩ মিনিটে ডি ব্রুইনের ক্রস বক্সের মধ্যে বিপদ ডাকার আগেই পল পগবা হেড করে মুক্ত করেন।

৮১ মিনিটে ট্যাকল করে হ্যাজার্ডের পা থেকে বল মুক্ত করেন ভারানে। কিন্তু বল চলে যায় উইটসেলের পায়ে। তার বুলেট গতির শট পাঞ্চ করে প্রতিহত করেন লরিস।

 এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ফাহিমার হ্যাটট্রিকে সেমিতে বাংলাদেশের মেয়েরা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১০ ১২:৩৭:৩৮

আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচে মঙ্গলবার হ্যাটট্রিক করেছেন বাংলাদেশের লেগস্পিনার ফাহিমা খাতুন। চার ওভার বল করে আট রান দিয়ে চারটি উইকেট শিকার করেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম নারী বোলার হিসাবে টি-টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিক করলেন ফাহিমা খাতুন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে এই ম্যাচটিতে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে আট উইকেটে। এই জয়ের ফলে ‘এ’ গ্রুপ থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ খেলে তিনটিতেই জয় পেয়েছে সালমা খাতুনের দল। সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড।

মঙ্গলবার নেদারল্যান্ডসের স্পোর্টপার্ক মারশাকেরওয়ের্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ১৬.২ ওভারে ৩৯ রানে অলআউট হয়ে যায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৮ রান করেন ওপেনার এশা রোহিত। বাকিদের কেউই দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি। শূন্য রানে আউট হয়েছেন পাঁচজন।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে হ্যাটট্রিক করেন ফাহিমা খাতুন। তিনি মোট চারটি উইকেট শিকার করেন। ১৩তম ওভারের চতুর্থ বলে উদেনি দোনা, পঞ্চম বলে এশা রোহিত ও ষষ্ঠ বলে কাভিশা এগোদাগেকে সাজঘরে ফেরান তিনি। এছাড়া রুমানা আহমেদ দুই ওভার বল করে চার রান দিয়ে দুইটি উইকেট শিকার করেন। ২.২ ওভার বল করে দুই রান দিয়ে দুইটি উইকেট শিকার করেন নাহিদা আক্তার।

পরে বাংলাদেশ ব্যাট করতে নেমে ৬.৫ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয়। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন নিগার সুলতানা। ১৫ রান করেন সানজিদা ইসলাম। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বোলারদের মধ্যে সুভা শ্রীনিভাসন ১টি ও নিশা আলী ১টি করে উইকেট শিকার করেন। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন ফাহিমা খাতুন।

আগামী নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত হবে আইসিসি নারী বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসর। টুর্নামেন্টে মোট দশটি দল অংশ নিবে। বিশ্বকাপের জন্য আগে থেকেই আটটি দল নির্ধারিত হয়ে আছে। এই বাছাইপর্ব থেকে সেরা দুইটি দল বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
সংযুক্ত আরব আমিরাত নারী দল: ৩৯ (১৬.২ ওভার)
বাংলাদেশ নারী দল: ৪০/২ (৬.৫ ওভার)

 এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বাছাই পর্বে টানা দ্বিতীয় জয় বাংলাদেশি মেয়েদের

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০৮ ১৫:০৪:৩৪

নেদারল্যান্ডসে চলছে মেয়েদের ২০১৯ বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব। দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে অংশ নিয়েছে মোট ৮ দল। স্বাগতিক নেদারল্যান্ডসের গ্রুপে বাংলাদেশের সাথে আছে পাপুয়া নিউগিনি আর সংযুক্ত আরব আমিরাত।

এরইমধ্যে দুই ম্যাচ খেলে ফেলেছে বাংলাদেশ। যার দুই ম্যাচের দুটিতেই জয়। বাকি এক ম্যাচ জিতলেই আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিবে বাংলাদেশ নারী দল।

গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে স্পোর্টসপার্কে স্বাগতিক নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় টাইগ্রেস অধিনায়ক সালমা খাতুন।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নেদারল্যান্ডসের দশে মিলে করল মাত্র ৪২ রান। এই কটা রান নিতে যদিও খেলেছে ১৮ ওভার।

দলের হয়ে স্টেরে ক্যালিস করেন সর্বোচ্চ ১৫ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ রান এসে ডেনিস হ্যানিমার ব্যাটে।

বাংলাদেশের হয়ে ৩ উইকেট করে নেন রুমানা আহমেদ আর ফাহিমা খাতুন। ২ উইকেট নেন পান্না ঘোষ আর ১ উইকেট করে পান সালমা খাতুন আর নাহিদা আক্তার।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ওপেনার শামিমা খাতুন করেন ১৪ রান। আরেক ওপেনার আয়শা রহমান করেন ৬ রান। ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে আসা ফারজানা হক করেন ১১ রান।

নিগার সুলতানার ৪ রান আর রুমানা আহমেদের ৪ রানে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ৭ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ।

এ নিয়ে বাছাইপর্বে নিজেদের দ্বিতীয় জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। এ জয়ে অবদান রাখায় ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠে ফাহিমা খাতুনের হাতে।

 এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

স্বাগতিক রাশিয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ, সেমিতে ক্রোয়েশিয়া

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০৮ ০০:৫৩:২৯

মারিও ফিগুয়েরা ফার্নান্দেজ নিজেকে নায়ক ভাববেন নাকি খলনায়ক? তার গোলেই ১১৫তম মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সময়তায় ফেরে রাশিয়া। মিনিট দশেকের ব্যবধানে পথ হারিয়ে বসেন ফার্নান্দেজ।

টাইব্রেকারে তার শটে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ঘন্টা বেজে যায় রাশিয়ার। দৌড়ে এসে তার পাগলাটে শট বেরিয়ে যায় বারপোস্টের কাছ ঘেঁষে! সেখানেই বিশ্বকাপ শেষ রাশিয়ার। টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে রাশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো শেষ চারে উঠল ক্রোয়েশিয়া।

সোচি স্টেডিয়ামে দুই দলের নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে ড্র ছিল। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের লড়াইয়ের প্রথম অর্ধের দশম মিনিটে (১০০তম মিনিটে) গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে নেন ডমাভোজ ভিডা। লুকা মড্রিচের কর্ণার কিক হেড দিয়ে বল রাশিয়ার জালে পাঠান ভিডা।

দ্বিতীয় অর্ধের ১১৫ মিনিটে রাশিয়াকে ম্যাচে ফেরান মারিও ফিগুয়েরা ফার্নান্দেজ। ডি বক্সের খানিকটা বাইরে হাত দিয়ে বল ঠেকিয়ে রাশিয়াকে ফ্রি কিক উপহার দেন জোসিফ পিভারিক। দ্রোয়েজগোয়েভের ফ্রি কিক থেকে অসাধারণ এক হেড নেন ফিগুয়েরা ফার্নান্দেজ। গোল রক্ষক চেরিশেভের ওই আক্রমণ ফেরাতে পারেননি।

২-২ গোলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে শেষ হাসিটা হাসে ক্রোয়েশিয়া।

শুরুতেই রাশিয়ার ফেদর স্মলভের শট ঠেকিয়ে দেন সুবাসিচ। ক্রোশিয়ার হয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ব্রজোভিচ। দ্বিতীয় শটে রাশিয়ার খাতা খুলেন অ্যালন দ্রোয়েজগোয়েভ। রাশিয়াকে এরপর ম্যাচে ফেরান আকিনফিভ। বামদিকে ঝাঁপিয়ে কোভাসিচের শট রুখে দেন রাশিয়ার অধিনায়ক।

রাশিয়ার তৃতীয় শটে সব এলোমেলো করে দেন মারিও ফিগুয়েরা ফার্নান্দেজ। নায়ক থেকে বনে যান খলনায়ক! পিছিয়ে পড়ে রাশিয়া আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। লুকা মড্রিচ, ডমাভোজ ভিডা ও ইভান রাকিতিচ সফল শট নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার জয় নিশ্চিত করেন। রাকিতিচ শেষ ম্যাচে সাডেন ডেথে গোল করে ক্রোয়েশিয়ার জয় নিশ্চিত করেন। এবার তাই। স্নায়ু পরীক্ষায় শতভাগ সফল বার্সেলোনার হয়ে খেলা এ মিড ফিল্ডার। রাশিয়ার শেষ দুটি শটে গোল করেন সের্গেই ইগনাশেভিচ ও কুজিয়ায়েভ। কিন্তু তাদের সফল স্পটকিক পরাজয়ের ব্যবধান কমায় মাত্র।

সোভিয়াত ইউনিয়নের থেকে আলাদা হওয়ার পর এবারই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল খেলল রাশিয়া। বলার অপেক্ষা রাখে না বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এটাই তাদের সবথেকে বড় প্রাপ্তি। বিশ্বকাপের শেষ পাঁচ আসরে স্বাগতিক দল যারা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল প্রত্যেকেই গিয়েছিল সেমিফাইনালে। ১৯৯০ সালে ইতালি, ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স, ২০০২ সালে সাউথ কোরিয়া, ২০০৬ সালে জার্মানি এবং ২০১৪ সালে ব্রাজিল সেমিফাইনাল খেলেছিল। পাঁচ আসর পর রাশিয়া সেই পথ থেকে ছিটকে গেল। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকো শেষ স্বাগতিক দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়েছিল। রাশিয়া অনুসরণ করল তাদের পথ। তবুও ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট রাশানরা।

সোচিতে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে দুই দল। দুই দলের মাঝমাঠ ছিল গোছানো। সম্মিলিত আক্রমণে প্রতিপক্ষ শিবিরে কাঁপন ধরাচ্ছিলেন বারবার। কিন্তু লক্ষ্যভেদ করতে পারছিল না কোনো দল।

২০ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার তিনটি এবং রাশিয়ার দুটি আক্রমণ ছিল অন টার্গেটে। ১১ মিনিট পর রাশিয়া লিড পায় অসাধারণ এক গোলে। ডেনিস চেরিশেভের ডি বক্সের বাইরে থেকে বাম পায়ের বাঁকানো শট হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে খুঁজে পায় ক্রোয়েশিয়ার জাল। বিশ্বকাপে এটি চেরিশেভের চতুর্থ গোল। ক্রোয়েশিয়ার গোল রক্ষক ডেনিস সুবাসিচের দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না ওই মুহূর্তে।

পিছিয়ে পড়ে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় ক্রোয়েশিয়া। ৮ মিনিট পর ফলও পেয়ে যায় তারা। মাঝ মাঠ থেকে কাট ব্যক পাসে বল পান মারিও মানজুকিচ। বাম প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকেন এ স্ট্রাইকার। ততক্ষণে ডি বক্সের ভেতরে আন্দ্রেজ ক্রামারিক। তাকে ঘিরে চার রাশান। কিন্তু মানজুকিচের নিখুঁত ক্রস ঠিকই খুঁজে নেয় ক্রামারিককে। তার হেডে বল যায় রাশিয়ার জালে। 

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমিয়ে তুলে দুই দল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে গোল পায়নি কেউ। অতিরিক্ত সময়ের দুই গোলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। শেষ হাসিটা হাসে মড্রিচ, মানজুকিচ ও রাকিতিচরা। ক্রোয়েশিয়া দ্বিতীয় দল হিসেবে এক আসরে পরপর দুবার টাইব্রেকারে ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব দেখাল। প্রথম দল হিসেবে এমন কীর্তি গড়েছিল আর্জেন্টিনা।  

 এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ফুটবল বিশ্বকাপ কেন চার বছর পর পর?

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০৭ ১৪:২৭:৪৭

বিশ্বকাপ ফুটবলই শুধু নয়, আন্তর্জাতিক বড় সব প্রতিযোগিতাই চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। কিন্তু ৩, ৫ বা ৭ নয়, ৪ কেন? উত্তর পেতে হলে আমাদের যেতে হবে ঠিক দু’হাজার সাতশো চুরানব্বই বছর পেছনে। প্রাচীন গ্রিসের অলিম্পিয়াতে তখনই প্রথম বসেছিল অলিম্পিক গেমসের আসর। যা জারি ছিল ৩৯৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।

প্রতি চার বছর অন্তর বসত অলিম্পিক গেমসের আসর। আর মাঝখানের এই চার বছর সময়কে বলা হত অলিম্পিয়াড। যা ছিল সময়কে মাপার একটি একক। বছর বলতে যেমন ৩৬৫ দিন বোঝানো হয়, অলিম্পিয়াড বলতে সেরকম বোঝানো হয় দু’টি অলিম্পিক গেমসের মাঝের চার বছর সময়কে।
১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার সময় মাথায় রাখা হয়েছিল অলিম্পিক গেমসের এই চার বছরের ঐতিহ্যকে। তবে আরও বেশ কিছু সময়োপযোগী বাস্তবিক কারণ জড়িয়ে আছে এই চার বছরের সঙ্গে। তার মধ্যে অন্যতম হল বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনকারী ম্যাচগুলির জন্য প্রয়োজনীয় সময় বের করে নেওয়া। এ ছাড়া অন্যান্য বড় প্রতিযোগিতার সঙ্গে যাতে বিশ্বকাপ ফুটবল একই সঙ্গে না পড়ে, সেটাও মাথায় রাখতে হয় ক্রীড়াজগতের সর্বোচ্চ সংগঠনগুলিকে। বিশ্বকাপের মতো বড় মাপের প্রতিযোগিতার পরিকাঠামো তৈরিতেও পর্যাপ্ত সময় দরকার। সে জন্যও নূন্যতম চার বছর সময় দরকার বলে মনে করেন ক্রীড়া সংগঠকেরা।
সর্বোপরি, এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগানের বিষয়টিও। সে জন্যও অন্তত চার বছর সময় দরকার। এমনটাই মত ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের।


এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

টাইগারদের আরেকটি লজ্জার হার

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০৭ ১৪:০১:০৪

দুই ইনিংসেই বিবর্ণ ব্যাটিংয়ে অ্যান্টিগা টেস্ট আড়াই দিনেই হেরেছে বাংলাদেশ। সফরকারীদের ইনিংস ও ২১৯ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচ সিরিজে এগিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

প্রথম দিন লাঞ্চের আগে মাত্র ৪৩ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। শুক্রবার তৃতীয় দিনের লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয়েছে ১৪৪ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে করেছিল ৪০৬ রান।

দ্বিতীয় দিনে ৬২ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ ১৫ ও নুরুল হাসান সোহান ৭ রান নিয়ে শুক্রবার তৃতীয় দিন শুরু করেন। তবে মাহমুদউল্লাহ ফেরেন দিনের দ্বিতীয় বলেই। জেসন হোল্ডারের বলে রোস্টন চেজকে ক্যাচ দেন মাহমুদউল্লাহ।

এরপর কামরুল ইসলাম রাব্বীও ফেরেন দ্রুতই। তাকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। ৮৮ রানেই ৮ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে তখন দ্বিতীয় ইনিংসেও একশর আগে অলআউট হওয়া চোখ রাঙাচ্ছিল। রুবেল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে সেই লজ্জা এড়িয়েছেন সোহান।

দুজন নবম উইকেটে ম্যাচে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৫৫ রানের জুটি গড়েন। নুরুল তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটি। মিগুয়েল কামিন্সের দারুণ এক ফিরতি ক্যাচে ফেরার আগে ৭৪ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৬৪ রান করেন সোহান।

নিজের পরের ওভারে রুবেলকেও (১৬) ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেন কামিন্স। প্রথম ইনিংসে ১৮.৪ ওভার ব্যাট করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে টিকেছে ৪০.২ ওভার।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন গ্যাব্রিয়েল। হোল্ডার ৩টি ও কামিন্স নিয়েছেন ২টি উইকেট। তবে প্রথম ইনিংসে ৮ রানে ৫ উইকেট নেওয়ায় ম্যাচসেরা হয়েছেন কেমার রোচ।

চোট পাওয়ায় রোচ দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং করেননি। তবে এবার বাংলাদেশকে ভোগালেন আরেক পেসার গ্যাব্রিয়েল।

প্রথম টেস্টের হতাশা ভুলে দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বাংলাদেশ? আগামী বৃহস্পতিবার থেকে জ্যামাইকায় শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট।

 এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

দীর্ঘ ২৮ বছর পর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০৭ ১৩:৫১:২৬

ম্যাচ চলাকালীন ইংলিশ কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারের টুইট, ‘জর্ডান পিকফোর্ড যেন অমূল্য। ভালো ছেলে।’ আসলেই আজ অমূল্য ছিলেন এই ইংলিশ গোলরক্ষক!

শেষ ষোলোর টাইব্রেকারে তার দুর্দান্ত সেভ ইংল্যান্ডকে তুলেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। পিকফোর্ড আজ সেমিফাইনালে তিন-তিনটি দুর্দান্ত সেভ করলেন। অসাধারণ গোলকিপিং আর হ্যারি মাগুইয়ার ও ডেলে আলীর একটি করে গোল ২৮ বছর পর ইংল্যান্ডকে নিয়ে গেল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে।

সামারা অ্যারেনায় তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডেনকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলবে ‘থ্রি লায়নস’রা। প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া অথবা রাশিয়া। যেটি নির্ধারণ হবে কয়েক ঘণ্টা পরই।

বিশ্বকাপে দুই দলের অাগের দুবারের দেখায় দুটিই ড্র হয়েছিল। অবশ্য দুটিই ছিল গ্রুপপর্বে, ২০০২ সালে ১-১ গোলে, ২০০৬ সালে ২-২ গোলে। নকআউট পর্বে আজই ছিল ইংল্যান্ড-সুইডেন প্রথম সাক্ষাৎ।

আজ ম্যাচের শুরু থেকে বলের দখল রাখলেও ১৯ মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। মাঝমাঠের কাছে বল পেয়েছিলেন রাহিম স্টার্লিং। বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে সুইডেনের এক খেলোয়াড়কে কাটান তিনি। বক্সের সামনে বল পেয়ে পোস্টের বাইরে দিয়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন হ্যারি কেন।

২৩ মিনিটে স্টার্লিংয়ের ক্রস বক্সের ভেতর সুইডেনের ফর্সবার্গের হাতে লেগেছিল। পেনাল্টির আবেদন করেছিলেন ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা। তবে রেফারি সে আবেদনে সাড়া দেননি।

৩০ মিনিটে প্রথম কর্নার পেয়েই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। অ্যাশলে ইয়াংয়ের কর্নার থেকে আসা বল বক্সের মধ্যে জটলা থেকে হেডে সুইডেনের জালে পাঠান মাগুইয়ার। ইংল্যান্ডের হয়ে এটাই তার প্রথম গোল। প্রথম গোলের জন্য এর চেয়ে বড় মঞ্চ আর পেতেন না! এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ১০ গোলের ৮টিই হলো সেট পিস থেকে।

৪৪ মিনিটে একটি সুযোগ পেয়েছিলেন রাহিম স্টার্লিং। যদিও শেষ পর্যন্ত অফ সাইডের ফাঁদে পড়েন। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে আরেকটি বড় সুযোগ আসে স্টার্লিংয়ের সামনে। নিজেদের অর্ধ থেকে ত্রিপিয়ার লম্বা ক্রস খুঁজে পায় স্টার্লিংকে। অফ সাইডের ফাঁদ গলে স্টার্লিং বল নিয়ে ঢুকে পড়েন বক্সে। এরপর গোলরক্ষককে কাটাতে গিয়েছিলেন। তবে বাঁ দিকে হাত বাড়িয়ে বল আটকান গোলরক্ষক ওলসেন। আবার বল পেয়ে শট নিয়েছিলেন স্টার্লিং। কিন্তু সেটি ব্লক করেন গ্রানকভিস্ট।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফিরতে পারত সুইডেন। কিন্তু দারুণ এক সেভ করে ইংল্যান্ডকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক পিকফোর্ড। ক্রস থেকে আসা বলে বক্সের ভেতর থেকে জোরালো হেড করেছিলেন মার্কাস বার্গ। কিন্তু বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক হাতে বল ফিরিয়ে দেন পিকফোর্ড।

কই সুইডেন শোধ দেবে, উল্টো ৫৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে ইংল্যান্ড। এই গোলটাও হেডে। হেসে লিনগার্ডের দারুণ ক্রস থেকে ডেলে আলীর হেড খুঁজে নেয় সুইডেনের জাল। 

৬২ মিনিটে আরেকটি দারুণ সেভ করে আবারো ইংল্যান্ডের ত্রাতা গোলরক্ষক পিকফোর্ড। বক্সের ভেতর থেকে ভিক্টর ক্লায়েসনের শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকান ২৪ বছর বয়সি এই গোলরক্ষক। ১০ মিনিট পর বার্গের শটও তিনি লাফিয়ে ওঠে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান।

শেষ দিকে সুযোগ পেলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ইংল্যান্ড। তবে সেমিফাইনালে উঠতে দুটি গোলই যথেষ্ট ছিল। 


এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ব্রাজিলকে বিদায় করে সেমিতে বেলজিয়াম

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০৭ ১৩:৪৯:৩৯

অঘটন বলা যাবে না। প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে বেলজিয়াম। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলে আসছিল দলটি। সেই পারফরম্যান্স অব্যাহত রেখেছে কোয়ার্টার ফাইনালেও। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে বেলজিয়াম।

কাজান এরিনায় বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় ম্যাচটি শুরু হয়।

স্কোর: ব্রাজিল ১ : ২ বেলজিয়াম

সেমিফাইনালে বেলজিয়াম: ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ৫ মিনিটের লড়াইও হলো। কিন্তু সমতা ফেরাতে পারল না ব্রাজিল। উৎসব বেলজিয়াম শিবিরে। দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে উঠল তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে শেষ ব্রাজিলের হেক্সা মিশন। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জেতার প্রত্যয় নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেও ব্রাজিল আটকে গেল শেষ আটেই। নেইমার, ‍কুতিনহো, মার্সেলোরা চেষ্টা করলেও পারেননি বেলজিয়ামের দেয়ার ভাঙতে। অসাধারণ রক্ষণ আর গোল রক্ষক কৌতরিসের দুর্দান্ত কিপিং। দুইয়ের মিশেলে বেলজিয়াম অসাধারণ, অনন্য।

ব্যবধান কমাল ব্রাজিল: একের পর এক আক্রমণ করেও ফল পাচ্ছিল না ব্রাজিল। কোচ তিতের একাধিক পরিবর্তনগুলোও কাজে আসছিল না। কিন্তু ৭৬ মিনিটে হিসেব পাল্টে দিলেন ওই বদলি হিসেবে নামা রেনাতো আগুস্তো। ৭৫ মিনিটে পাউলিনিয়োর বদলি হিসেবে নামেন আগুস্তো। ১ মিনিট পর তার হেডেই প্রথম গোলের স্বাদ পায় ব্রাজিল। কুতিনহোর ক্রস থেকে হেড দিয়ে বেলজিয়ামের রক্ষণ ভাঙেন ৩০ বছর বয়সি আগুস্তো।  

স্বস্তিতে বেলজিয়াম: ২-০ গোলের লিড নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করল বেলজিয়াম। বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করল ব্রাজিল। ম্যাচের শুরুতে নেইমার, কুতিনহো, মার্সেলো এবং পাউলিনিয়ো দাপট দেখালেও প্রথম গোল হজমের পর তাদেরকে আর ফিরে পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় গোল হজমের পর ব্রাজিল নিজেদের পথ হারিয়ে বসে। স্বাভাবিক আক্রমণগুলোও ভুল করছিল সেলেসাওরা। বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে দ্বিতীয়ার্ধে চমক দেখাতেই হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

কাউন্টার অ্যাটাকে বেলজিয়ামের গোল: নেইমারের কর্ণার কিক বৃথা যায়। বেলজিয়ামের ডিফেন্ডারের থেকে বল পান লুকাকু। বল নিয়ে দৌড়। তার পিছনে পিছনে সেলেসাওরা। বল বাড়িয়ে দেন কেভিন ডি ব্রুইনকে। একটু এগিয়ে ডানপায়ে শট নিয়ে ব্রাজিলের জালে বল পাঠান ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলা ব্রুইন। ম্যাচের ৩১ মিনিটে দুই গোলে পিছিয়ে ব্রাজিল।

আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে ব্রাজিল: প্রথমার্ধের দশ মিনিটে বেলজিয়াম শিবিরে একের পর এক আক্রমণ করলেও গোলের দেখা পায়নি ব্রাজিল। ১৩ মিনিটে ভাগ্য খুলল বেলজিয়ামের। সেটাও আত্মঘাতী গোলের সুবাদে। ব্রাজিলের ডিফেন্ডার ফার্নানদিনহোর হাত ছুঁয়ে বল ব্রাজিলের জালে জড়ায়। ভিনসেন্ট কোম্পানির নেওয়া কর্ণার কিক ফার্নানদিনহোর হাতে লেগে জালে যায়। কাসিমিরোর পরিবর্তে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছেন ফার্নানদিনহো।

ফিরেছেন মার্সেলো: মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রি-কোয়ার্টার রাউন্ডের ম্যাচ খেলতে পারেননি মার্সেলো। পিঠের ব্যথায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাত্র দশ মিনিট মাঠে ছিলেন। বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে শুরু থেকেই পাচ্ছে ব্রাজিল।

মুখোমুখি পরিসংখ্যান: চার মুখোমুখিতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তিন জয় ব্রাজিলের। বেলজিয়ামের জয় অপর একটিতে। কাগজে কলমে দুই দলই শক্তিশালী। তাই পরিসংখ্যান নিয়ে মাথা ব্যথা নেই কারো। র‌্যাঙ্কিংয়েও বড় কোনো ব্যবধান নেই। ব্রাজিলের অবস্থান দুইয়ে, বেলজিয়ামের তিনে।

হ্যাটট্রিক করলেই রাশিয়ায় জমি পাবেন নেইমার: বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলারকে একখন্ড জমি উপহার দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন কাজান অ্যারেনার মেয়র আইলাসার ম্যাস্টিন। রাশিয়ার নিউজ এজেন্সি তাসকে আইলাসার ম্যাস্টিন বলেছেন, ‘নেইমার যদি একটি হ্যাটট্রিক করতে পারেন তাহলে আমরা তার জন্য স্পনসর খুঁজব। তাকে একখন্ড জমি আমরা উপহার দেব। আপনারা বুঝতে পারছেন নেইমারের দরজায় কত বড় উপহার অপেক্ষা করছে?’

অদ্ভুত লড়াই দুই দলের: রাশিয়া টুর্নামেন্টে ব্রাজিল এখন পর্যন্ত মাত্র এক গোল খেয়েছে। সবচেয়ে কম। আর বেলজিয়াম টুর্নামেন্টে সবথেকে বেশি গোল দিয়েছে। ১২টি। টুর্নামেন্টের সবথেকে কম গোল খাওয়া দল ও সবথেকে বেশি গোল দেওয়া দলের লড়াই। একটু অদ্ভুত লড়াই তো অবশ্যই।

‘অভিশপ্ত’ কাজান এরিনা: কাজান এরিনা ফুটবল পরাশক্তিদের জন্য ‘অভিশপ্ত’স্টেডিয়াম। এ মাঠেই কোরিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে জার্মানি। ফ্রান্সের কাছে ৪-৩ গোলে হেরে আর্জেন্টিনা এ মাঠ থেকেই বিদায় নিয়েছে। এবার কি নেইমারদের পালা? উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে কয়েকটা ঘন্টা।

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

দ্বিতীয় ইনিংসেও চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০৬ ১৩:১১:১৫

প্রথম ইনিংসে মাত্র ৪৩ রানে অলআউট হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসেও চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। তাই অ্যান্টিগুা টেস্টে ইনিংস হারের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে পঞ্চাশের নিচে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ এখন একশর নিচে অলআউট হওয়ার শঙ্কায়। সেই অর্থে প্রথম ইনিংসের চেয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে উন্নতিই হয়ে বলা যায়! দ্বিতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৬২ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। ইনিংস পরাজয় এড়াতে এখনো দরকার ৩০১ রান।

প্রথম ইনিংসের চরম ব্যর্থতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসেরও প্যাভিলিয়নে ফিরে গেছেন ওপেনার তামিম ইকবাল, লিটন দাস, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহীম, অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। যেভাবে মুড়িমুড়কির মতো উইকেট পতন শুরু হয়েছিল, দ্বিতীয় দিনের খেলা আর কিছু সময় থাকলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসও হয়তো ঘুটিয়ে যেতে পারত। ভাগ্য ভালো, টেস্টের দুই আম্পায়ার তার আগেই দ্বিতীয় দিনের সমাপ্তি টেনেছেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে কেমার রোচ বোলিং করেননি। হোল্ডার ১৫ রানে ২টি ও গ্যাব্রিয়েল ৩৬ রানে ৪টি উইকেট নিয়েছেন। আর তাই বাংলাদেশের পরাজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সুতরাং তৃতীয় দিনের শুরুতেই ম্যাচ নিজেদের করে নিতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।


এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

উরুগুয়ের বিদায়, সেমিতে ফ্রান্স

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০৬ ১২:১০:১৯

বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়েকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স।

দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল ও বেলজিয়ামের মধ্যকার জয়ী দলের বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলবে ফ্রান্স।

নোভগোরদে ম্যাচটি শুরু হয় আজ রাত ৮টায়।

উরুগুয়ের গোলরক্ষকের মারাত্মক ভুলে ফ্রান্সের ব্যবধান দ্বিগুণ
দ্বিতীয়ার্ধে ৬১ মিনিটে উরুগুয়ের গোলরক্ষক মুসলেরার মারাত্মক এক ভুলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। ২৫ গজ দূর থেকে শট নিয়েছিলেন গ্রিজমান। সোজা আসা বলটা মুসলেরা ধরতে নাকি পাঞ্চ করতে চাইলেন, সেটা তিনিই ভালো জানবেন! বল তার হাত ফসকে জালে জড়িয়ে যায়।

প্রথমার্ধ শেষে: উরুগুয়ে ০-১ ফ্রান্স।​

লরিসের দুর্দান্ত সেভ
গোল হজমের তিন মিনিট পরই শোধ দিতে পারত উরুগুয়ে। ৪৩ মিনিটে তোরেয়েরার ফ্রি-কিকে বক্সের ভেতর থেকে হেড করেছিলেন ক্যাসারেস। কিন্তু ডান দিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে বল ফিরিয়ে দেন ফরাসি গোলরক্ষক লরিস। খুব কাছ থেকে দিয়েগো গডিনের ফিরতি শট অনেক ওপর দিয়ে যায়।

ভারানের গোলে এগিয়ে ফ্রান্স
৪০ মিনিটে রাফায়েল ভারানের গোলে ১-০ ব্যবধান এগিয়ে গেছে ফ্রান্স। গ্রিজমানের ফ্রি-কিক থেকে ভারানের হেড খুঁজে নেয় উরুগুয়ের জাল। 

শেষ ষোলোয় পর্তুগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে উরুগুয়েকে জেতানো এডিনসন কাভানি আজ শুরুর একাদশে নেই। পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন পিএসজির এই স্ট্রাইকার। আজ তার জায়গায় খেলবেন ক্রিস্টিয়ান স্টুয়ানি। উরুগুয়ে একাদশে পরিবর্তন এই একটিই।

শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনাকে হারানো একাদশ থেকে একটি পরিবর্তন এসেছে ফ্রান্স দলেও। দুই হলুদ কার্ডের খাঁড়ায় নিষিদ্ধ ব্লেইস মাতুইদির জায়গায় খেলবেন করেন্টিন তোলিসো।

উরুগুয়ে একাদশ
মুসলেরা, ক্যাসারেস, জিমেনেজ, গডিন, লাক্সাত, নান্দেজ, তোরেয়েরা, ভেসিনো, বেন্টাকুর, সুয়ারেজ, স্টুয়ানি।

ফ্রান্স একাদশ
লরিস, পাভার্দ, ভারানে, উমতিতি, হার্নান্দেজ, কান্তে, তোলিসো, পগবা, গ্রিজমান, জিরুদ, এমবাপে।

উরুগুয়ে বিশ্বকাপে তাদের শেষ চার ম্যাচেই জিতেছে। সবশেষ তারা টানা পাঁচ ম্যাচ জিতেছিল ১৯৫০ থেকে ১৯৫৪ সালের টুর্নামেন্টে। তারা একক টুর্নামেন্টে কখনো টানা পাঁচ ম্যাচ জিততে পারেনি। এবার সেই সুযোগ তাদের সামনে।

বিশ্বকাপে দক্ষিণ আমেরিকান দলগুলোর বিপক্ষে ফ্রান্স তাদের শেষ ৯ ম্যাচে অপরাজেয় (৫ জয়, ৪ ড্র)। এর মধ্যে ৭ ম্যাচে ফরাসিরা কোনো গোল খায়নি।

বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে উরুগুয়ে কখনো হারেনি (১ জয়, ২ ড্র)। ১৯৬৬ সালের টুর্নামেন্টে উরুগুয়ে জিতেছিল ২-১ গোলে, আর ২০০২ ও ২০১০ বিশ্বকাপে গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। তবে নকআউট পর্বে এই প্রথম মুখোমুখি দুই দল।

উরুগুয়ের বিপক্ষে আটবারের দেখায় ফ্রান্সের একমাত্র জয় ১৯৮৫ সালে, প্যারিসে প্রীতি ম্যাচে ২-০ গোলে। দুই দলের সবশেষ দেখায় ২০১৩ সালে উরুগুয়ে জিতেছিল ১-০ গোলে, মন্টেভিডিওতে প্রীতি ম্যাচে একমাত্র গোলটি করেছিলেন লুইস সুয়ারেজ।

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ক্রিকেটে বাংলাদেশের মেয়েরা জিতেই চলছে

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০৫ ১৪:১৯:১৮

এখনও শুরু হয়নি ২০১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের মূল আসর। তার আগে চলছে গা গরমের ম্যাচ। বাংলাদেশ নারী দল আজ মুখোমুখি হয়েছিল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।
কিন্তু গা গরমের ম্যাচে খেলতে নেমে যেন শরীরই ঠাণ্ডা হয়ে গেল। এত দ্রুত ম্যাচ শেষ হয়ে গেলে তো সেটাই হবার কথা।

আজ বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডের হ্যাজেলার্গে টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমেছিল স্কটল্যান্ড।

স্কটিশ নারীরা প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের বোলারদের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে। প্রথম চার ওভারে আসে মাত্র ১৪ রান। ৪.৩ ওভারের সময় স্কটিশ শিবিরে প্রথম আঘাত হানে পান্না ঘোষ। ক্যাথরিন ব্রেসকে ৩ রানে ক্যাচ আউট করেন পান্না।

আরেক ওপেনার লরান জ্যাক করেন ২০ বলে ১১ রান। দুই নম্বরে ব্যাট করতে আসা রাচেল স্কুলসের ব্যাটে আসে সর্বোচ্চ ১৬ রান। এরপরের ব্যাটসম্যানদের রানের অংকগুলো নিশ্চিত কোন ফোন নম্বরের সাথে মিলে যাবে। স্কটিশ ব্যাটিং লাইন-আপে এতটাই দৈন্যদশা যে পাঁচ রানের কোঠাও পার করতে পারেনি কেউ।

১৮.৫ ওভার ব্যাট করে শেষ পর্যন্ত ৪৭ রান করে স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন ফাহিমা খাতুন। ২ উইকেট করে নেন রুমানা আহমেদ আর লিলি রানী। ১ উইকেট করে নেন পান্না ঘোষ ও খাদিজাতুল কোবরা।

মাত্র ৪৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই শূন্য রানে ক্যাচ আউট হন শামিমা সুলতানা। এরপর আর কোন উইকেট দিতে হয়নি স্কটল্যান্ডের বোলারদের।
আয়শা রহমানের ২৩ রান শারমিন সুলতানার ১৮ রানের সাথে স্কটিশ বোলারদের কল্যাণে যোগ হয় অতিরিক্ত আরও ১০ রান।

মাত্র ১০ ওভারে ৯ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ নারী দল।

বিস্তারিত খবর

ইতালির মিলান বাঙলা স্কুলের চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০৪ ১৪:১৮:০২

ইতালির মিলান বাঙলা স্কুলের চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত মিলান বাঙলা স্কুল এন্ড কালচারাল এসোসিয়েশন মিলান ইতালির চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশনেয়  স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গভর্নিং বোর্ডের সদস্য ও উপদেষ্টা মন্ডলী সহ সাধারণ প্রবাসীরা । অনুষ্ঠান থেকে নতুন সেশনের জন্যে পাঠ্যপুস্তক শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং আগামী ৭,জুলাই থেকে যথারীতি স্কুলের ক্লাস শুরুর কথা জানান স্কুল কর্তৃপক্ষ।

সমবেত কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে  শুভ সুচনা হয়  মিলান বাঙলা স্কুল এন্ড কালচারাল এসোসিয়েশন মিলান ইতালির চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠান। আয়োজনে ছিলো আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মিলানোস্থ বাঙলা স্কুল প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠানের শুরু হয় শিক্ষার্থী খালেক মাহমুদ ইফতির কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে।

গত রবিবার বিকালে আগত সবাইকে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে সভাপতির বক্তব্য রাখেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সেলিনা আক্তার। শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষায় মনোযোগী হবার আহবান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সুলতানা খান। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মিলান বাঙলা স্কুলের প্রধান উপদেষ্টা সাংবাদিক রিয়াজুল ইসলাম কাওছার সবার সহযোগিতা নিয়ে ইউরোপে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলার সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এছাড়া অন্যান্নের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপদেষ্টা সাংবাদিক তুহিন মাহমুদ, সাংবাদিক নাজমুল আহসান শামীম,মামুন হাওলাদার, সিনিয়র শিক্ষক জামাল আহমেদ, প্রধান শিক্ষক শারমীন আক্তার, নূর জাহান বেগম, শিউলী আক্তার, সুখী আক্তার, জালাল হাওলাদার, আহসান হাবিব শিমুল সহ আরো অনেকে। স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গভর্নিং বোর্ডের সদস্য ও উপদেষ্টা মন্ডলী সহ সাধারণ প্রবাসীরা এতে অংশনেয়। শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাউল সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট অভিনেতা ও কন্ঠ শিল্পী নাজমুল আহসান শামীম। মিলান বাঙলা স্কুল এর মাধ্যমে ইতালিতে বসবাসরত নতুন প্রজন্মের কোমলমতি শিশুরা শিখবে বাঙলার কৃষ্টি এই প্রত্যাশা সবার।

বিস্তারিত খবর

৪৩ রানেই অল আউট বাংলাদেশ, লজ্জার রেকর্ড

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০৪ ১৪:১০:৩৪

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৪৩ রানে অল আউট হয়েছে বাংলাদেশ দল। আজ বুধবার অ্যান্টিগায় টস জিতে সফরকারীদের ব্যাট করতে পাঠান স্বাগতিক অধিনায়ক জেসন হোল্ডার।

ঘাসযুক্ত পিচে ব্যাট করতে নেমে সতর্কভাবে শুরু করেন ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন কুমার দাস। পেস তাণ্ডবের সঙ্গে নিজেদের শক্তি দেখাতে থাকেন কেমার রোচ ও শেনন গ্যাব্রিয়েল।

চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে দলের হয়ে প্রথম উইকেটটি নেন রোচ। ১৩ বলে ৪ রান করে বাম-হাতি ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল উইকেট কিপার শেন ডরউইচের তালুবন্দি হন।

বাংলাদেশের দলীয় ১৮ রানের মাথায় মাত্র ব্যক্তিগত ৬ রান খরচ করে তুলে নেন পাঁচটি উইকেট। ফিরিয়ে দেন মুমিনুল হক (৩ বলে ১ রান), মুশফিকুর রহিম (২ বলে ০ রান), সাকিব আল হাসান (২ বলে ০ রান), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে ( (১ বলে ০ রান)।

উইকেট নেয়ার মিছিলে যোগ দেন আরেক পেসার মিগুয়েল কমিংসও। ড্রেসিংরুমে পাঠান ১০ বলে ৪ রান করা নুরুল হাসান সোহান ও ৮ বলে ১ রান করা মেহেদী হাসান মিরাজকে।

২৭ বছর বয়সী এই বোলার ফিরিয়ে দেন প্রথম থেকে লড়াই করতে থাকা লিটনকেও। ৫৩ বল খেলে ২ চারের মাধ্যমে ২৫ রান করেন এই ওপেনার।

এদিকে ৩ বল খেলে কোনো রান করতে না পারা টেলএন্ডার কামরুল হাসান রাব্বির উইকেট তুলে নেন হোল্ডার। এছাড়া ৭ বলে ২ রান করা অভিষিক্ত আবু জায়েদকেও আউট করেন ক্যারাবিয়ান দলপতি।

এতে মাত্র ১৮ ওভার ৪ বল খেলে মাত্র ৪৩ রানে সবকটি উইকেট হারিয়ে ফিরে যায় সাকিব আল হাসান নেতৃত্বাধীন দলটি।

টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ৬২ রান। ২০০৭ সালে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২ৈ৫ ওভার ২ বলে অল আউট হতে হয় মোহাম্মদ আশরাফুল নেতৃত্বাধীন দলকে।


এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সুইসদের বিদায় করে কোয়ার্টারে সুইডেন

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০৩ ১৪:৫৬:৪৮

১২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে আসা সুইডেন রাশিয়া বিশ্বকাপে এগিয়ে গেছে আরেক ধাপ। এমিল ফর্সবার্গের একমাত্র গোলে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে ১৯৫৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপরা।

গত তিন বিশ্বকাপে সুইডেন প্রথমার্ধ ড্র করলে সেই ম্যাচ জিতে যায়- এমন পরিসংখ্যানই দিল ফিফার ওয়েবসাইট। এমনকি গত তিন দেখায় স্ইুজারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় সুইডেনেরই। ব্যাতিক্রম ছিল না মঙ্গলবারও। সামর্থ এবং পরিসংখ্যান অনুযায়িই সুইডেন ১-০ গোলে হারালো সুইজারল্যান্ডকে। ২৪ বছর পর সুইডেন নিশ্চিত করল কোয়ার্টার ফাইনাল।

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে সুইডেনের শেষ ষোলর ম্যাচটিতে প্রথমার্ধে কোন গোলই হলো না। সুইডিশরা অপেক্ষাকৃত বেশি সুযোগ তৈরির পাশাপাশি সহজ গোলের সুযোগও নস্ট করেছে। বল দখলে এগিয়ে ছিল সুইডিসরা। শুরুর মাত্র ৮ মিনিটে প্রথম চাপটা সুইস ডিফেন্সে দিলেন সুইডিশরা। মার্কাস বার্গেও শটটা ছিল লক্ষ্যহীন। তার ঠিক আগেই সুইজারল্যান্ডের স্টিভেন জুবের বলটি তুলে দিলেন সুইডেনের গোলকিপারের হাতে। সেন্ট পিটার্সবার্গের গ্যালারিতে ছিল হলুদের আধিক্য। আর সুইডেন ১০ মিনিটে বার্গের শট ডিফেন্সে ঠেকালেন ম্যানুয়েল আকানজি। ফিরে আসা বল বারের উপর দিয়ে পাঠালেন আলবিন ইকডাল। সুইজারল্যান্ড ও সুইডিশদের আক্রমণগুলো ছিল পাল্টাপাল্টি। সুইস গোলকিপার ইয়ান সমার নিশ্চিত একটি গোল বাঁচিয়ে দিলেন ২৭ মিনিটে। মার্কাস বার্গের শট বাঁয়ে ঝাঁপিয়ে হাতের তালু দিয়ে রক্ষা করেন সমার।

৩৮ ও ৪০ মিনিটে ঘটল দুটি ঘটনা গোল করা উচিৎ ছিল বেরিম ডিজমেইলির। পেনাল্টি এরিয়ার খুব কাছ থেকে বলটাকে মারলেন বারের উপর দিয়ে। তীব্র হতাশা সুইসদের। দুই মিনিট পর সুইডিশ মিডফিল্ডার আলবিন ইকডাল কিভাবে ওই গোল মিস করলেন। তা এক কথায় দু:স্বপ্ন। গোল পোস্টের ৬ গজ দুর থেকে গোলকিপারকে একা পেয়েও বারের উপর দিয়ে বল পাঠিয়ে হতবিহ্বল করে দিলেন দলকে। গোলশুন্য থেকেই বিরতিতে যায় উভয় দল।

বিরতি থেকে ফিরে আরো ধারালো আক্রমনে যায় সুইস ও সুইডিসরা। সুইসরা টানা কয়েকটি আক্রমণ করেও ফিনিশিং দিতে পারল না। সুইডেনও কাঁপিয়ে দিয়ে আসছিল প্রতিপক্ষকে। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে সুইডেনকে ১-০ লিড এনে দেন এমিল ফোর্সবার্গ। পরিকল্পিত ও গোছানো আক্রমণে বাঁ পাশ থেকে আক্রমণ সুইডিশদের। বড় ডি এর ঠিক উপরটায় বল পেয়ে সামান্য সরে জায়গা বের করেই প্রবল গতির শট নিলেন তারকা এমিল ফোর্সবার্গ স্ইুস রক্ষনের প্লেয়ার আকানজির পায়ে লেগে গোল। সুইস গোলকিপার ইয়ান সমারের দর্শক হয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না (১-০)।

বাকি সময়টা সুইসরা জান প্রান বাজি রেখে খেলতে থাকে। ৭০, ৭৮, ৮৪ মিনিটে পাওয়া সুযোগগুলি কাজে লাাগতে পারেননি শাকিরি ও বদলি খেলোয়াড় সেফেরোভিক। ইনজুরি সময়ে (৯০+৪) মাইকেল ল্যাং ডি সিমানার কাছাকাছি অবৈধভাবে ধাক্কা দেন সুইডেনের একদালকে। লাল কার্ড দেখে ফিরে গেলন ল্যাং। রেফারির পেনাল্টির বাঁশি। কিন্তু ভিএআরে সেটি ফ্রি কিকের নির্দেশ। সুইস কিপার দক্ষতার সাথে ফ্রিকিক ঠেকিয়ে দেয়ার সাথে সাথেই খেলা শেষের বাঁশি। এরপরই জয়ের আনন্দে মাঠ সুইডিসরা।

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

রেকর্ড গড়ে কোয়ারর্টার ফাইনালে ব্রাজিল

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০২ ১৩:৪৭:৪২

দারুণ খেলেছেন, পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কারও। কারণ মেক্সিকোর বিপক্ষে চোখের পলকে গোলকিপার ওচোয়াকে সুযোগ না দিয়ে বল জালে জড়িয়ে ১-০ গোলের লিড এনে দেন নেইমার। তাতে ব্রাজিলের ইতিহাসের অংশ হলেন নেইমার। ঢুকলেন রেকর্ডের পাতায়। এটি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ২২৭তম গোল। এতদিন ২২৬ গোল নিয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের মালিক ছিল জার্মানি।

জার্মানি, আর্জেন্টিনা, স্পেনের বিদায়ে কিছুটা শঙ্কিত ছিল ব্রাজিল। একে একে সতীর্থ চ্যাম্পিয়নদের বিদায়ে খটকা তো ছিলই। বিশেষ করে বাংলাদেশে ¤্রয়িমান হয়ে যাবে বিশ্বকাপের আমেজ। অবশেষে সব শঙ্কা কাটিয়ে নির্ধারিত সময়েই ব্রাজিল ২-০ গোলে মেক্সিকোকে হারিয়ে টিকিট পেল রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের। কোয়ার্টারে তাদের সঙ্গী হবে বেলজিয়াম ও জাপানের মধ্যকার জয়ী দল।

এখন পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপুর্ন যেসব ম্যাচে নেইমার গোল করেছেন তার কোনোটি হারেনি ব্রাজিল। আবার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে কখনো জেতেনি মেক্সিকো। শুধু তাই নয়, এই আসরের জায়ান্ট কিলার এবং প্রতিভাবান দলটি কোনো বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে পিছিয়ে পড়ে কখনো জিততে পারেনি। গত ৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোল থেকেই বাদ পড়েছে মেক্সিকো। এবারও তাই হলো। ‘কুফা’ শব্দটি থেকে বেরো পারেনি মেক্সিকো। ভলগা নদীর কাছের শহর সামারায় প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে। হয়েছে গতির খেলা। প্রথমার্ধে প্রবল গতিতে ঝড়ের মতো আক্রমণে গিয়েই ক্লান্তির মুখে পড়ে মেক্সিকানরা। তাদের ক্লান্ত করেই গোছানো আক্রমণে গেছে ৫বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

দুই দল যথেষ্ট আক্রমণ করলেও গোল পায়নি। তবে প্রথম দশ মিনিট মেক্সিকো যে খেলাটা খেলেছে তাতে অনেকেই মনে করেছেন রাশিয়া বিশ্বকাপে ফেবারিটরা বিদায় নিবে একে একে। নিজেদের কিছুটা গুছিয়ে নিতে ব্রাজিলের সময় লাগে ১৫ মিনিট। এরপর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় হাড্ডাহাড্ডি। যাকে বলে আক্রমন ও পাল্টা আক্রমন। ফরোয়ার্ডদের কিছুটা স্বার্থপরতায় বারবার প্রতিপক্ষের রক্ষনভাগে গিয়ে গোল দিতে ব্যার্থ। অন্তিম মুহুর্তে সতীর্থদের বল না দিয়ে নিজেই গোল করার প্রবনতায় ব্যার্থ। প্রথমার্ধ গোলশুন্য থেকেই বিরতিতে যায় ব্রাজিল-মেক্সিকো।

বিরতির পর অবশ্য বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে হয়নি ব্রাজিলকে। ৪৮ মিনিটে নেইমার চমৎকার একটি সুযোগ তৈরি করে কুতিনহোকে। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। এরপর ৫১ মিনিটেই ব্রাজিলের পক্ষে ইতিহাস সৃষ্টি করে গোল আদায় করে নেন নেইমার। তবে পুরো কৃতিত্ব উইলিয়ানের। সারা মাঠ চষে বেড়ানো উইলিয়ান বল নিয়ে একাই ঢুকে পড়েন মেক্সিকোর রক্ষনভাগে। কুতিনহোকে দিলে তিনি ব্যাক পাসে ফের উইলিয়ানকে দিলে তিনি ডি সীমানার বাম প্রান্ত দিয়ে ঢুকে ক্রশ করেন পেনাল্টি সীমানায়। বলে ছোয়া লাগিয়ে চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় বারের মতো বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি নেইমার (১-০)।

৬৭ মিনিটে উইলিয়ান একাই বল কাটিয়ে মাইনাস করেন নেইমারকে। তার প্রচন্ড গতির শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন মেক্সিকো কিপার ওচোয়া। ৭৪ মিনিটে উইলিয়ানের শট রুখে দেন ওচোয়া। ৮৮ মিনিটে কুতিনহোর বদলি হিসেবে নামা রবার্তো ফিরমিনো গোল করে ব্রাজিলের ব্যাবধান বাড়িয়ে শঙ্কামুক্ত করেন। নেইমার উইলিয়ানের মতো বাম প্রান্ত দিয়ে একই কায়দায় বলসহ ঢুকে পড়েন মেক্সিকোর ডি বক্সে।

একটু সময় নিয়ে দেখেশুনে বলটি মাইনাস করেন ফিরমিনিকে উদ্দেশ্য করে। মাত্র দুই মিনিট আগেই মাঠে নামা ফিরমিনো ডান পা ছুইয়ে গোল করেন। কিপার ওচোয়ার চেয়ে দেখা ছাড়া কোন উপায় ছিল না (২-০)। ছয় মিনিট ইনজুরি সময় দিলেও মেক্সিকো ব্যার্থ হয় গোল করতে। ফলে দাপট দেখিয়েই রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার নিশ্চিত করলো পাচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় অবসরে যাচ্ছেন মেসি

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০১ ১৪:৪৭:৫২

ফ্রান্সের বিপক্ষে রাশিয়া বিশ্বকাপের এলিমিনেটর রাউন্ডে ৪-৩ গোলে পরাজিত হয়েছে আর্জেন্টিনা। গেল আসরের ফাইনালিস্টরা এবার বিদায় নিল শেষ ১৬ থেকেই। ব্যর্থতার চাপ কাঁধে নিয়ে এরই মধ্যে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন হাভিয়ের মাসচেরানো ও লুকাস বিগলিয়া।  এবার সেই তালিকায় যোগ হছে যাচ্ছে দলের সবচেয়ে বড় তারকা ও অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য মিররের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। পরিসংখ্যান বলছে, আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার যিনি বিশ্বকাপ খেলেছেন। ২০০৬ সাল থেকে শুরু, পার হয়ে গেল ২০১৮ আসর। এ নিয়ে চারবার বিশ্বকাপ খেললেন মেসি। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার, বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে ৭৫৬ মিনিট খেলে কোনো গোল করতে পারেননি। রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের খেলায় কেবল নাইজেরিয়ার বিপক্ষে গোল পেয়েছিলেন তিনি। এবারের আসরে ওটাই মেসির একমাত্র সম্বল।

এর আগে ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনাল হারের পর অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। সেবার তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। জাতীয় দলের জন্য শিরোপা জেতার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমি সেটা পারিনি। আমার তাই মনে মনে হয়, এটাই বিদায় বলার সেরা সময়।  আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি।’

যদিও পরে কোচ-সতীর্থ-পরিবার আর সমর্থকদের চাপে অবসর ভাঙতে হয় তাকে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে শিরোপা জেতে দিয়াগো ম্যারাডোনার হাত দিয়ে। তারপর থেকেই চলছে শিরোপা-খরা, যে কারণে সবার চোখ ছিল মেসির দিকে। কিন্তু তিনিও ব্যর্থ হলেন। সর্বোচ্চ অর্জন বলতে গেলে আসরে মেসির অধীনে ফাইনাল খেলে আর্জেন্টিনা।

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

স্পেনের স্বপ্ন ভঙ্গ, কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক রাশিয়া

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০১ ১৪:৪০:১৬

অঘটনের শিকার হলো ২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। স্বাগতিক রাশিয়ার কাছে পেনাল্টি শ্যুট আউটে ৪-৩ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে নক আউট থেকেই ছিটকে পড়লো স্পেন। আগের রাতে আর্জেন্টিনা, পর্তুগালের বিদায়ের পর আজ আরেক ফেবারিট স্পেনের বিদায় হলো। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ১-১ গোলে সমতা। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১২০ মিনিটের খেলা সমতায় থাকার পর টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো ২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা।

এ জয়ের জন্য অবশ্যই নায়ক রাশিয়ার অধিনায়ক ও গোলরক্ষক আকিনফিভ। স্পেনের কোকে ও  ইয়াগো আসপাসের শট ঠেকিয়ে দলকে কোয়ার্টারে উন্নীত করেন তিনি।

মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে নক আউট পর্বের তৃতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় স্পেন-রাশিয়া। হট ফেবারিটের তকমা সেঁটে খেলতে নামে স্প্যানিশরা। আর বাড়তি শক্তি হিসেবে রুশরা পায় ৮০ হাজার দর্শকের সমর্থন। ফলে শুরু থেকেই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে জমে উঠে খেলা।

অবশ্য ম্যাচের শুরুতেই ১১ মিনিটের মাথায় আত্মঘাতি গোলে এগিয়ে যায় স্পেন।  ডি-বক্সের কাছাকাছি জায়গায় ফ্রি-কিক পায় স্পেন। ফ্রি-কিকটি নেন ইসকো। গোলপোস্টের সামনে তখন সার্জিও রামোসকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন ইগনাশেভিচ। এক পর্যায়ে ইগনাশেভিচ-রামোস দুইজনই পড়ে যান। এমন সময় বল এসে ইগানাশেভিচের পায়ের গোঁড়ালিতে লেগে জালে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

এরপর বিরতির ঠিক পাঁচ মিনিট আগে অর্থাৎ ৪০তম মিনিটে ডি-বক্সে জেরার্ড পিকের হ্যান্ডবলের কল্যাণে পেনাল্টি পায় রাশিয়া। রেফারি ভিএআর না দেখেই পেনাল্টি দেন। যদিও পেনাল্টি নিয়ে কথা থাকতে পারে। পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান রাশিয়ার আর্তেম জুবা।

বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে দ্বিতীয়ার্ধ। ৭৫তম মিনিটে স্পেন এগিয়ে যেতে পারতো। কিন্তু ইনিয়েস্তার বুলেট গতির শট ঝাঁপ দিয়ে ঠেকিয়ে দেন রাশিয়ার গোলরক্ষক। এরপরও স্পেন বারবার আক্রমণে গিয়েছে। কিন্তু রাশিয়ার গোলরক্ষক আকিনফিভ দুর্দান্তভাবে সব আক্রমণ রুখে দেন। ১০৮তম মিনিটে দুর্দান্ত আক্রমণ সেভ করেন আকিনফিভ।

অতিরিক্ত সময়েও ফলাফল নিষ্পত্তি না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। আর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় রাশিয়া। টাইব্রেকারে প্রথম শট নিতে আসেন স্পেনের ইনিয়েস্তা। গোল করেন তিনি ১-০। রাশিয়ার ফেদর সমোলভ নেন প্রথম শট। এটাও গোল ১-১। পরের শট নিতে আসেন স্পেনের জেরার্ড পিকে। এটাও গোল ২-১। রাশিয়ার হয়ে দ্বিতীয় শট নেন সার্জেই ইগনাশেভিক। এটাও গোল ২-২।

স্পেনের হয়ে তৃতীয় শট নিতে আসেন কোকে। বাম পাশে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার শট ঠেকিয়ে দেন আকিনফিভ ২-২। রাশিয়ার হয়ে তৃতীয় শট নেন আলেকজান্ডার গলোভিন ২-৩। এটাও গোল। স্পেনের হয়ে চতুর্থ শট নেন সার্জিও রামোস। গোল ৩-৩। রাশিয়ার হয়ে চতুর্থ শট নেন ডেনিস চেরিশেভ। গোল ৩-৪। স্পেনের হয়ে পঞ্চম শট নিতে আসেন ইয়াগো আসপাস। এই শটটি ঠেকাতে ঝাঁপিয়ে পড়লেও পেছনের পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন রাশিয়ার গোলরক্ষক আকিনফিভ।  আর এতেই ৪-৩ ব্যবধানে জিতে স্পেনকে বিদায় করে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেলো স্বাগতিক রাশিয়া।

রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম টাইব্রেকার ম্যাচ এটি। অবশ্য নকআউট পর্ব সবে শুরু হয়েছেই গতকাল। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে সবদিক দিয়ে এগিয়ে ছিল স্পেন। কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না। রুশ গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় বারবার আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি স্পেন।

 এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

টি-টোয়েন্টিতে ভারতের সবথেকে বড় জয়

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৬-৩০ ১২:১৫:৫৪

আয়ারল্যান্ডকে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে হারিয়েছে ভারত। এ জয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে ভারত।

টি-টোয়েন্টিতে ভারত সবথেকে বড় জয়ের স্বাদ পেয়েছে শুক্রবার। আয়ারল্যান্ডকে ১৪৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বিরাট কোহলির দল। আগে ব্যাটিং করে ভারত ৪ উইকেটে ২১৩ রান তুলে। জবাবে আইরিশরা আটকে যায় মাত্র ৭০ রানে।

এর আগে ভারতের সবথেকে বড় জয় ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯৩ রানের। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে যৌথভাবে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।  পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল হারিয়েছিল ১৪৩ রানে। টি-টোয়েন্টিতে সবথেকে বড় জয় শ্রীলঙ্কার। ২০০৭ বিশ্বকাপে কেনিয়াকে ১৭২ রানে হারিয়েছিল লঙ্কানরা।

ম্যাচটা শুরুতেই হেরে বসে আয়ারল্যান্ড। ইনফর্ম লোকেশ রাহুল ৩৬ বলে ৭০ রানের যে ঝড় তুলেন তাতেই পথ হারায় আয়ারল্যান্ড। তাকে সঙ্গ দেন সুরেশ রায়নাও। ৪৫ বলে ৬০ রান করেন তিনে নামা রায়না। আর শেষটা রাঙান হার্দিক পান্ডিয়া। মাত্র ৯ বলে ৩২ রান করেন পান্ডিয়া। তাতেই ২১৩ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ভারত। অধিনায়ক বিরাট কোহলি আজও ভালো করতে পারেননি। ৯ রান করে আউট হন রস্টন চেসের বলে।

ভারতের দুই স্পিনারকে সামলানোর জবাব জানা ছিল না আয়ারল্যান্ডের। কুলদ্বীপ যাদব ও যুজুবেন্দ্র চাহাল মিলে নেন ৬ উইকেট। তাদের দুজনের দ্যুতিতে ১২.৩ ওভার টেকে আয়ারল্যান্ডের ইনিংস। ২টি উইকেট নেন পেসার উমেশ যাদব। আয়ারল্যান্ডের হয়ে অধিনায়ক গ্যারি উইলসন সর্বোচ্চ ১৫ রান করেন। প্রাক্তন অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টফিল্ড করেন ১৪ রান।

লোকেশ রাহুল ম্যাচ অব দ্যা ম্যাচ এবং যুজুবেন্দ্র চাহাল সিরিজ সেরা নির্বাচিত হন।

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত