যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 04:28pm

|   লন্ডন - 11:28am

|   নিউইয়র্ক - 06:28am

  সর্বশেষ :

  চাকরি করেন স্ত্রী, ৩ বছর ধরে অফিস করেন স্বামী   দারিদ্র্য বিমোচনের গবেষণায় অর্থনীতির নোবেল   রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ৫ গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ   জেরুসালেমের গভর্নরকে ধরে নিয়ে গেছে ইসরাইলি পুলিশ   সীমান্তে স্থলমাইন স্থাপনের তথ্য অস্বীকার করেছে মিয়ানমার   দেশ থেকে ৯ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে : মেনন   ভারতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ১২ জন নিহত   প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করল আবরারের পরিবার   ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে পরোয়ানা হাইকোর্টে স্থগিত   রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড পেল ন্যাশনাল ও নেক মানি এক্সচেঞ্জ   র‍্যাব পরিচয় দেয়ার পরও নির্যাতন চালায় ভারতীয় বিএসএফ!   আল-আকসায় ইহুদিদের প্রার্থনার অনুমতি দিতে যাচ্ছে ইসরাইল   ভাইরাল আবরারের সেই ফেসবুক স্ট্যাটাস   কারাগারে অনিককে পেঠালো কয়েদিরা   সৌদি-ইরান মধ্যস্থতায় ছুটছেন ইমরান খান

>>  খেলাধুলা এর সকল সংবাদ

নিউইয়র্কে বিয়ানীবাজার এডুকেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্টের ক্রিকেট টুনার্মেন্ট সম্পন্ন

নিউইয়র্কে বসবাসরত বিয়ানীবাজার উপজেলার কিছু সংখ্যক উদ্যমী শিক্ষিত তরুণ সমাজের উদ্যোগে গঠিত "বিয়ানীবাজার এডুকেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট ইউএসএ।যা সমাজের হত দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ভাবে কাজ করে যাচ্ছে ।এবার নিউইয়র্কে তারা আয়োজন করে স্থানীয় ভাবে একটি টুনার্মেন্টের।এতে ১২টি দল খেলায় অংশ নেয়।ফাইনাল খেলায় ৬৭রানে চ্যাম্পিয়ন হন সিলেট সিক্সার্স। এ কেএ নাইট্রিডার্স হন রানার্সআপ।ম্যান অব দ্য টুনার্মেন্ট হন ইমরান টিপু।এছাড়াও টুনামেন্টে সর্বাধিক উইকেট কেড়ে নেন তিনি।

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্ট প্রথমবারের মতো

বিস্তারিত খবর

এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশি রোমান সানার স্বর্ণ জয়

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-১৩ ১৪:০০:০৫

এশিয়া কাপ-ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টের (স্টেজ-৩) পুরুষ এককে স্বর্ণ জিতেছেন বাংলাদেশের আর্চার রোমান সানা।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ফিলিপাইনের ক্লার্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতাটির ফাইনালে চীনের শি ঝেনকিকে হারিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন রোমান।

প্রথম সেটে ২৮-২৮ ড্র করা রোমান দ্বিতীয় সেটে ২৯-২৬ ব্যবধানে হেরে পিছিয়ে পড়েন। তবে আত্মিবশ্বাস হারাননি। তৃতীয় সেটে ২৭-২৫ ব্যবধানে জিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান। চতুর্থ সেটে ২৮-২৫ ব্যবধানে জিতে এগিয়ে শেষ সেটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ২৮-২৭ পয়েন্টে জিতে স্বর্ণ নিশ্চিত করেন রোমান।

চলতি বছর জুনে নেদারল্যান্ডসে হুন্দাই বিশ্ব আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে ছেলেদের ব্যক্তিগত রিকার্ভে ব্রোঞ্জ জয় করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন রোমান। একই সঙ্গে ২০২০ অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। তিন মাস পেরোতেই আর্চারিতে দেশকে আরও একটি সাফল্য এনে দিলেন তারকা এই তিরন্দাজ।

বিস্তারিত খবর

এবারের বিপিএল হবে বঙ্গবন্ধুর নামে, থাকবে না ফ্রাঞ্চাইজি

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-১১ ১৪:৩৫:৪২

২০১৮ সালের বিপিএল বিভিন্ন কারণে আয়োজন করতে হয়েছে চলতি বছরের শুরুতে। আবার এ বছরই আরেকটা বিপিএল আয়োজন নিয়ে কয়েকটা ফ্রাঞ্চাইজি আপত্তি তুলেছিল। একই সঙ্গে বিসিবিও জানিয়েছে, পুরনো চুক্তি শেষ। নতুন করে মালিকানা চুক্তি করতে হবে ফ্রাঞ্চাইজিগুলোকে।

এসব নিয়েই তৈরি হয়েছে নানা জটিলতা। শেষ পর্যন্ত আজ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়েই বিপিএল আয়োজন করা হবে। কিন্তু আগের ছয় আসরের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক নয়, এবারের বিপিএল পরিচালনা করবে বিসিবিই। সেই সঙ্গে এবারের বিপিএল আয়োজন করা হবে বঙ্গবন্ধুর নামে।

‘একই বছর দুটি বিপিএল’- এ নিয়ে নানা গুঞ্জন আর প্রশ্ন উঠেছিল। কয়েক দিন ধরেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, এ বছর বিপিএল অনুষ্ঠিত হবে কি না। কিন্তু বিসিবি সভাপতি আজ দুপুরে মিডিয়ার সামনে উপস্থিত হয়ে জানিয়েছেন, এ বছর বিপিএল নির্ধারিত সময়েই হবে। তবে টুর্নামেন্টটি ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক হচ্ছে না। টুর্নামেন্টের নাম হবে, ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’।

বিসিবির ঘোষণা অনুযায়ী মালিকানা সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে ফ্রাঞ্চাইজিদের সঙ্গে ধাপে ধাপে বৈঠক করেছিল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। সেখানে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো বিপিএল নিয়ে নিজেদের মতামত জানিয়েছে বিসিবিকে। সেই মতামত জানার পরই বিসিবি মনে করছে, অন্তত এ বছর বিপিএল ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক আয়োজন করা সম্ভব হবে না।

এ কারণেই মিডিয়ার সামনে উপস্থিত হয়ে বিসিবি সভাপতি আজ দুপুরে বলেন, ‘বিপিএলের প্রথম পর্ব শেষ। নতুন চুক্তি করতে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে বসেছিলাম। কয়েকটা ফ্র্যাঞ্চাইজির বেশকিছু দাবি-দাওয়া আছে। ওই দাবিগুলো আমাদের মূল কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি দাবি করছে, এক বছরে দুটি বিপিএল তারা চায় না। খেলবে না সেটি অবশ্য বলেনি। ওদের ওপর চাপ বেশি পড়ে যাবে । সবকিছু চিন্তা করে ঠিক করেছি এবারের বিপিএল আমরাই (বিসিবি) চালাব। টুর্নামেন্টটা আমরা ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক করছি না।’

পুরো টুর্নামেন্ট এবং ফ্রাঞ্চাইজির মালিক যদি বিসিবিই হয়, তাহলে দল এবং টুর্নামেন্ট ব্যবস্থাপনা কীভাবে হবে? সে ব্যাপারগুলোও খোলাসা করে দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘এবারের বিপিএলটা আমরা বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করব। টুর্নামেন্ট তার নামেই হবে। সব দলই ঠিক থাকবে, শুধু ম্যানেজমেন্টের অংশ বিসিবি দেখবে। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত সবই বিসিবি তত্ত্বাবধান করবে। এতে আশা করি সবাই খুশি হবে। অনেকটা বিগ ব্যাশের মতো।’

বোঝা গেলো, পুরনো নামগুলোই থাকছে এবারের বিপিএলে। শুধু পেছনের মালিকানায় কোনো পক্ষ থাকবে না। একপক্ষ তথা বিসিবিই হবে সব দলের মালিক। তবে কেউ যদি কোনো দলকে স্পন্সর করতে চায়, সে সুযোগ থাকবে। আগের মতোই খেলোয়াড় নিলাম হবে। টুর্নামেন্ট শুরু হবে নির্ধারিত সময়ে। কোচিং স্টাফসহ সব কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে বিসিবি। যদি কোনো দলকে কেউ স্পন্সর করে এবং তারা নিজেদের পছন্দমতো বিদেশি খেলোয়াড় আনতে চায়, তাতে বাধা থাকবে না।

বিসিবি সভাপতির সাফ কথা, বিপিএল ফ্রাঞ্চাইজিগুলো যে শর্ত দিয়েছে, তাতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে সেগুলো পূরণ করা সম্ভব নয়। যে কারণে কারো সঙ্গেই বিসিবি চুক্তি করবে না এবং ঝুঁকি সত্ত্বেও নিজেদের টাকা খরচ করেই এবার বিপিএল আয়োজন করতে চায় তারা। নিজেদের আয়োজন এবং মালিকানায় অনুষ্ঠিতব্য টুর্নামেন্টটির নামকরণ করা হচ্ছে, ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’।

বিস্তারিত খবর

লস এঞ্জেলেসে শেখ কামাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ৩য় আসর সমাপ্ত

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-০৫ ১৭:১৯:১৯

ক্রিকেটকে বলা হয় ভদ্রলোকের খেলা। ইউরোপে জন্ম হলেও পাশ্চাত্যে এর চর্চা খুব একটা ছিল না। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ক্রিকেট। এর ঢেউ লেগেছে প্রবাসীদের মধ্যেও। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বাংলাদেশের আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনের স্বপ্নদ্রষ্টা, তরুণ মেধাবী ক্রীড়া সংগঠক শহীদ শেখ কামাল স্মরণে লস এঞ্জেলেসে শুরু হয়েছে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। ৩ বছর ধরে টুর্নামেন্টটি আয়োজন করছে সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ক্রিকেট এসোসিয়েশন। এতে পৃষ্ঠপোষকতা করছেন ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ড. রবি আলম।

‘শেখ কামাল ইউএসএ ওয়েস্ট রিজিনাল টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট  টুর্নামেন্ট’ নামে তৃতীয়বারের মতো টুর্নামেন্টটি সমাপ্ত হলো। ক্যালিফোর্নিয়ার ভেন নাইস সিটির উডলি পার্কের  ক্রিকেট গাউন্ডে  লেবার ডে উেইক এনডে ৩ ‍দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটের আটটি দল। বাছাইকৃত এই আট দলে ছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের খেলওয়াড়রাও।


তিনদিন ব্যাপী জমকালো এই আসরের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় সোমবার। এতে নর্দার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ক্রিকেট এসোসিয়েশনকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ক্রিকেট এসোসিয়েশন।

ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বাংলাদেশী আম্পায়ার নাদের শাহ।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষক ও  ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ড. রবি আলম। তিনি অনুষ্ঠানের সকল অতিথি, প্রবাসী দর্শক, অংশগ্রহণকারী দলসমূহ, সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ক্রিকেট এসোসিয়েশন,স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ এবং টুর্নামেন্টের সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, সকলের সহযোগিতায় আজ এই বিশাল আয়োজন সমাপ্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া অতিথিবৃন্দ অনেক দূর থেকে এখানে এসে আমাদের সময় দিয়েছেন, এজন্য আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে জাতিসংঘে আমাদের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, অন্যান্য অতিথিবৃন্দ এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। আমি আবারও সবাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।


টুর্নামেন্ট আয়োজনের পটভূমি তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রিকেট আমাদের একটি বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছে । আমরা ক্রিকেট প্রিয় জাতি ! জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর পুত্র শেখ কামাল ছিলেন একজন সুদক্ষ ক্রীড়া সংগঠক । বাংলাদেশের ফুটবল ক্রিকেট সহ ক্রীড়াজগতের সার্বিক উন্নয়নে শেখ কামালের বিশেষ অবদান রয়েছে। তাই আমেরিকায় ক্রিকেটকে জনপ্রিয় ও শেখ কামালের ক্রীড়া সংগঠনিক অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমাদের এই আয়োজন। সুস্থ বিনোদন ও ক্রীড়া চর্চাকে উৎসাহিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলগুলো হলো, এরিজোনা ক্রিকেট এসোসিয়েশন, বে এরিয়া ক্রিকেট এ্যালাইয়েনস, কলোরাডো ক্রিকেট লীগ, নেভাদা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ, নর্থ ওয়েস্ট ক্রিকেট লীগ, ইউটাহ ক্রিকেট এসোসিয়েশন।

গত শনিবার সকালে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন ।

লিগ পদ্ধতিতে অংশগ্রহণকারী ৮ দল পরস্পরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সোমবার অনুষ্ঠিত হয় ফাইনাল ম্যাচ।

ফাইনালে সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ক্রিকেট এসোসিয়েশন প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৩০ করে। ১৩১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১৯ অভার ১ বলে ১২৬ রান করে অলআউট হয়ে যায় নর্দার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ক্রিকেট এসোসিয়েশন। চ্যাম্পিয়ন হয় সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া।

প্রতিদ্বন্দীতাপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচটি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করেন প্রচুর সংখ্যক প্রবাসীসহ ভিনদেশী দর্শক। লেবার ডে ছুটি থাকায় প্রবাসীরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে মাঠে আসেন খেলা দেখতে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিলো পিকনিকের। মাঠে বসে খেলা দেখা সেই সাথে দেশীয় খাবারের বিশাল সমারোহ দর্শকদের মাঝে অতিমাত্রায় উৎসাহ উদ্দীপনার যোগান দেয়।

খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, লস এঞ্জেলেসে নিযুক্ত বাংলাদেশী কনসাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহা, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও আইসিসির ডেভলাপমেন্ট ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম বুলবুল, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক সাজ্জাদুল আলম ববি, যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ড. অতুল রায় ও সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ক্রিকেট এসোসিয়েশনের সভাপতি মেহের গান্ধী।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মুস্তাইন দারা বিল্লাহ, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিকুর রহমান, শেখ কামালের বন্ধু মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান পাটেল, সাবেক ক্রিকেটার নাজিম সিরাজী, আওয়ামী লীগ নেতা টি জাহান কাজল, আলী আহমেদ ফারিস, শামীম হোসেন ,দিদার আহমেদ, ফিরোজ আলম, কাজল হোসাইন, ফরহাদ হোসেন, কামরুল হাসান, আজিজ মোহম্মদ হাই, সোহেল ইসলাম, সারোয়ার হোসেন, নাহিদ হাসান রুবেল, আফরোজ আলম জয়, ওস্তাদ কাজী হাসিব, হেলাল উদ্দীন,মাহাতাব উদ্দিন টীপু এবং কনসুলেট অফিসের কর্মকর্তা, সাংবাদিকবৃন্দ ও স্থানীয়  রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু একটি সমৃদ্ধ সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। আজ তার স্বপ্ন বাস্ততার পথে। অর্থনীতি, খেলাধুলা সবদিকে দেশ আজ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ হয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন বিশ্বের একটি সেরা দলে পরিণত হয়েছে। তারা বিশ্বব্যাপী দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে।

মাসুদ বিন মোমেন আরও বলেন, আজ আমি এখানে এসে অত্যন্ত আনন্দিত এজন্য যে, প্রবাসে থেকেও আপনারা যেভাবে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চা করছেন তা দেখে আমার মনটা ভরে গেছে। বিশেষ করে শেখ কামালের মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ ক্রীড়া সংগঠককে স্মরণ করে আপনারা  এই আয়োজন করছেন, এটি আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের বাচ্চারাও ক্রীড়া-সংস্কৃতি চর্চায় মনযোগী হবে এবং শেখ কামালের মতো একজন তরুণ রাজনীতিবীদ ও ক্রীড়াবিদকে জানতে পারবে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও আইসিসির ডেভলাপমেন্ট ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম বুলবুল  তার বক্তব্যে বলেন, এখানে এসে আমি আবেগাল্পুত। প্রবাসে থেকেও আপনারা যে দেশকে স্মরণ করে এমন সুন্দর সুন্দর আয়োজন করছেন তা দেখে আমাদের মুগ্ধ হওয়া ছাড়া উপায় নেই। আমি আশা করি, এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের আমেরিকানরা ক্রিকেট চর্চায় অনেক উৎসাহিত হবে।


শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ড. রবি আলমের সহধর্মিনী মাহমুদ আলম। তিনি উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আগামীতে এই টুর্নামেন্ট আরও সুন্দর করে আয়োজন করতে  সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

টুর্নামেন্টে সহযোগিতা করে ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগ, ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট যুবলীগ, ক্যালিফোর্ণিয়া ষ্টেট মহিলা লীগ ও লস এঞ্জেলেস সিটি আওয়ামী লীগ।

বিস্তারিত খবর

তৃতীয় বাংলাদেশী হিসেবে তাইজুলের সেঞ্চুরি

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-০৫ ০৩:২৭:১৩

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। টসে জিতে ব্যাটিংয়ের নামার পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে এদিন বাংলাদেশের হয়ে ওপেনিং বোলিং করেন তাইজুল ইসলাম। বাম-হাতি এই স্পিনার ম্যাচের ১৩তম ও নিজের ৭ম ওভারেই প্রথম উইকেটটি তুলে নেন। ওভারের দ্বিতীয় বলে ওপেনার ইহসানউল্লাহ জানাতকে বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে ফেরান তিনি। ৩৬ বলে ৯ রান করে মাঠ ছাড়েন জানাত।

এই উইকেটটি শিকার করে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে তৃতীয় বোলার হিসেবে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তাইজুল। এর আগে টাইগারদের হয়ে মোহাম্মদ রফিক ও সাকিব আল হাসান ১০০ উইকেট সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। রফিকের ক্যারিয়ারের মোট উইকেট সংখ্যা ১০০টি। অন্যদিকে এই পর্যন্ত ৫৬ ম্যাচে ২০৫টি উইকেট শিকার করেছেন সাকিব।

বৃহস্পতিবার প্রথম ও নিজের ক্যারিয়ারের ১০০তম উইকেট শিকার করে তাইজুল ইসলাম দুই হাত ওপরে তুলে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শুধুমাত্র এই উইকেটের জন্য যেন বাড়তি উন্মাদনা বাঁহাতি স্পিনারের। কেন-ই বা হবে না। বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে দ্রুততম একশ উইকেট নেয়ার কীর্তিও গড়েছেন তাইজুল। নিজের ২৫তম টেস্টে তাইজুল পেলেন একশ উইকেট। আগের রেকর্ডধারী সাকিব আল হাসান উইকেটের তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন ২৮ তম টেস্টে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১৪ সালে টেস্ট অভিষেক হয় বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের। সেসময় প্রথম ইনিংসেই পেয়েছিলেন ৫ উইকেট। পারফরম্যান্সের সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। দেশের মাটিতে সাদা পোশাকে ধারাবাহিক সাফল্য পাচ্ছেন। ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৮ উইকেট, পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬ উইকেট তার সেরা পারফরম্যান্স। ঢাকায় ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন এই স্পিনার।

৩০.৭৯ গড়ে, ৩.১৮ ইকোনমি রেটে ২৫ টেস্টে তাইজুলের শিকার ১০০ উইকেট। মোহাম্মদ রফিক ও সাকিব আল হাসানের পর বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে তাইজুল পেলেন একশ উইকেটের স্বাদ। মোহাম্মদ রফিকের ক্যারিয়ার থেমে গিয়েছিল একশ উইকেটের ল্যান্ডমার্কে। সাকিবের টেস্ট উইকেট ২০৫টি। যেন বাঁহাতি স্পিনারদের দাপট চলছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে।

বিস্তারিত খবর

রোমে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৯-০৩ ০২:৩৪:০৩

নব গঠিত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা ইতালি একটি বর্ণাঢ্য  পরিচিতি সভার আয়োজন করে রাজধানী রোমের একটি রেস্টুরেন্টের হল রুমে।         

আয়োজনের প্রধান অতিথি ছিলেন ইতালীস্থ  দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত আব্দুস সোবহান সিকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। সংগঠনের সভাপতি হাজী মোঃ জসিমউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন যৌথ ভাবে সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ ও পরিচালক সাজ্জাদুল কবির।

বিশেষ অতিথি এই প্রবাসের যুব সমাজের মেধাকে খেলাঘুলাতে কাজে লাগিয়ে সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের নাম বহিঃবিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষে  দল মত নির্বিশেষে সকল প্রবাসী সংগঠনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দরা এই ক্রীড়া সংস্থার কাজ কে আরো সামনে এগিয়ে নেয়া এবং অনুশীলনের জন্য একটি খেলার মাঠ দাবী করেন। পাশাপাশি দূতাবাস কে সহযোগিতা করার জন্যে ও অনুরোধ জানালে রাষ্ট্রদূত তাতে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কে এম লোকমান হোসেন, নুরে আলম সিদ্দিকী, হাসান ইকবাল, আমিনুর রহমান সালাম, মোঃ জহিরুল আলম, লায়লা শাহ  সহ অনেকে।

শেষে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষে থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

বিস্তারিত খবর

নিউইয়র্ক ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ১ সেপ্টেম্বর

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-২৮ ০৯:৫০:৪৪

বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকা আয়োজিত চলতি বছরের নিউইয়র্ক ফুটবল টুর্নামেন্টেযুব সংঘ (বি) আর সোনার বাংলা ফাইনালে উঠেছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর দল দু’টি ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখী হবে। এদিকে নিউইয়র্কে ফুটবল লীগের খেলায় পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকে যুব সংঘ (বি) অপরাজিত লীগ চ্যাম্পিয়ন এবং ব্রঙ্কস ইউনাইটেড লীগে রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। লীগে যুব সংঘ (বি) ২১ আর ব্রঙ্কস ইউনাইটেড ১৫ পয়েন্ট অর্জন করে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শেষে লীগ ও টুর্নামেন্টের পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে। সিটির এলমহার্স্টের নিউটাউন অ্যাথলেটিক মাঠে ১ আগষ্ট রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার অয়োজন করা হয়েছে। খবর ইউএনএ’র।
এদিকে গত ২৫ আগষ্ট রোববার একই মাঠে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল দু’টি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সোনার বাংলা ২-১ গোলে ব্রঙ্কস ইউনাইটেড-কে হারিয়ে ফাইনালে উঠে। অপরদিকে যুব সংঘ (বি) ২-০ গোলে ব্রাদার্স অ্যালায়েন্স-কে পরাজিত করে ফাইনালে উঠে।
দিনের প্রথম সেমিফাইনালে সোনার বাংলা ও ব্রঙ্কস ইউনাইটেড অংশ নেয়। আকর্ষণীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই খেলার প্রথমার্ধ গোল শূন্য ড্র ছিলো (০-০)। খেলার দ্বিতীয়ার্ধের ৪১ মিনিটের সময় সোনার বাংলার অনিক প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এরপর ব্রাদার্স অ্যালায়েন্সের রাজু খেলার ৪৫ মিনিটের সময় গোল করে খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনেন (১-১)। শেষ পর্যন্ত খেলার নির্ধারিত সময়ে আর কোন গোল হয়নি। পরবর্তীতে খেলার অতিরিক্ত সময়ে সোনার বাংলা’র অনিক গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
দিনের দ্বিতীয় সেমি ফাইনালে যুব সংঘ (বি) ও ব্রাদার্স অ্যায়েন্সের মধ্যকার খেলায় যুব সংঘ সহজেই ২-০ গোলে জয়লাভ করে। খেলায় উভয় দল একাধিক গোলের সুযোগ নষ্ট করে। এই সেমি ফাইনালের খেলাটিও ছিলো উপভোগ্য। খেলার প্রথমার্ধে যুব সংঘের পক্ষে বাবলু ৩৩ মিনিটের সময় প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান (১-০)। এই  অর্ধে আর গোল গোল হয়নি। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে অর্থাৎ ৬১ মিনিটের সময় বাবলু আরো একটি গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন (২-০)।   
স্পোর্টস কাউন্সিলে সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রশিদ রানার নেতৃত্বে সংগঠনের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপদেষ্টা মনজুর আহেমেদ চৌধৃুরী, সহ সভাপতি ওয়াহিদ কাজী এলিন ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমদ সহ অন্যান্যের মধ্যে আব্দুল কাদির লিপু, আব্দুল বাসিত খান বুলবুল, সৈয়দ এনায়েত আলী, তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, আবু তাহের আসাদ, ইয়াকুত রহমান প্রমুখ মাঠে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে চলতি বছরের নিউইয়র্ক ফুটবল লীগ ও টুর্নামেন্ট-এর ফাইনাল খেলা সহ অন্যান্য বিষয়ে স্পোর্টস কাউন্সিলের কার্যকরী পরিষদ গত ২৬ আগষ্ট সোমবার রাতে জ্যাকসন হাইটসে এক সভায় মিলিত হয়। সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্নে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে সংশ্লিস্টরা ইউএনএ প্রতিনিধিকে জানান।

বিস্তারিত খবর

৭০০০ উইকেট নিয়ে ৮৫ বছর বয়সে অবসর ঘোষণা!

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৮-২৭ ১২:১৬:১২

সেসিল রাইট। বয়স ৮৫ বছর। তার নাম হয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস কিংবা গ্যারি সোবার্সের নামের পাশে লেখা থাকবে না। কিন্তু ক্যারিয়ারের স্থায়ীত্বের দিক দিয়ে তিনি তাদের মতো কিংবদন্তিদেরও পেছনে ফেলেছেন।

৮৫ বছর বয়স পর্যন্ত ক্রিকেট খেলে এবার তিনি অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই এই পেস বোলার অবসরে যাবেন। তার ৬০ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ৭০০০ উইকেট নিয়েছেন। দাবি করা হচ্ছে এই লম্বা সময়ে তিনি ২০ লাখের উপরে ম্যাচ খেলেছেন!

একটা সময় পাঁচ মৌসুমে তিনি ৫৩৮ উইকেট নিয়েছিলেন। গড়ে প্রতি ২৭ বলে ১টি করে উইকেট!

তার স্ট্যামিনার প্রশংসা করে ক্রিকেট বাইবেল উইজডেন লিখেছিল, ‘প্রিটি গুড গোয়িং।’ তবে অবশেষে তিনি থামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ‘আমি আসলে আমার ক্যারিয়ারের স্থায়ীত্বের রহস্য জানি। তবে আমি সেটা আপনাদের বলতে যাচ্ছি না।’

তার খাদ্যাভাষ নিয়ে একবার তিনি বলেছিলেন, ‘সত্যি বলতে কী আমি যা পাই তাই খাই। তবে আমি বেশি পান করি না। কেবল উদ্ভট বিয়ার পান করি। আমি নিজেকে ফিট রাখি। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বয়সটাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করে অনুশীলন মিস করি। আসলে সক্রিয় থাকলে দীর্ঘস্থায়ী ও স্বল্পস্থায়ী ব্যাথা দূরিভূত হয়ে যায়। আমি স্থির হয়ে বসে টিভি দেখা পছন্দ করি না। তার চেয়ে বরং আমি হাঁটি অথবা গ্যারেজে ছোট-খাটো কাজ করি।’

রাইট জ্যামাইকার হয়ে বার্বাডোজের বিপক্ষে খেলেছিলেন। সেই সময়ে বার্বাডোজের হয়ে খেলেছিলেন সোবার্স-ওয়েস্ট হলরা। ১৯৫৯ সালে তিনি ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। সেখানে সেন্ট্রাল ল্যাঙ্কাশায়ার লিগে ক্রম্পটনের হয়ে তার পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেন।

এর তিন বছর পর তিনি ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এক সময় গাটছড়া বাঁধেন স্ত্রী এনিডের সঙ্গে। এই দম্পত্তির একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। ১৯৭০ সালের শেষ দিকে ও ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে তিনি রিচার্ডস ও জোয়েল গার্নারদের সঙ্গে খেলেছিলেন।

আগামী ৭ সেপ্টেম্বর তিনি তার ৬০ বছরের লম্বা ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন। সেদিন ওল্ডহ্যামে পেনিনি লিগের দল স্প্রিংহেডের বিপক্ষে খেলবেন।

বিস্তারিত খবর

রোনালদো না খেলায় মামলা!

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-৩১ ০৬:৩৩:৪৯

প্রাক মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে জুভেন্টাস গিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ায়। সেখানে কে লিগের অল স্টার্সের বিপক্ষে ২৬ জুলাই একটি ম্যাচ খেলে তুরিনের ওল্ড লেডিরা। এই ম্যাচকে সামনে রেখে আয়োজক দ্য ফাস্টা ইন. প্রচারণা চালায় যে ম্যাচে কমপক্ষে ৪৫ মিনিট খেলবেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং ম্যাচ শেষে একজন দর্শককে অটোগ্রাফ দিবেন। তাইতো ম্যাচের দিন সেউল বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামে ছিল উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু তারা হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়ে। কারণ, রোনালদোর মাঠে নামার কথা থাকলেও পুরোটা সময় তিনি সাইড বেঞ্চে বসা ছিলেন।

সে কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলপ্রেমীরা আয়োজক প্রতিষ্ঠানের বিপক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। তারা মনে করছে আয়োজক দ্য ফাস্টা ইন. তাদের সঙ্গে মাইন্ড গেম খেলেছে। তাদের ধোকা দিয়েছে। সে কারণে তারা তাদের টিকিটের অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য আইনের সহায়তা নিচ্ছে।

সে লক্ষ্যে একটা অনলাইন কমিউনিটিও গঠন করা হয়েছে। সেটার পক্ষ থেকে আইনজীবী কিম মিন কি এর সঙ্গে দেখা করে ম্যাচ আয়োজকদের বিরুদ্ধে মামলার করেছে তারা।

এ বিষয়ে কিম বলেছেন, ‘রোনালদোকে এক নজর দেখার জন্য অনেকেই টিকিট কিনেছিল। ফাস্টা প্রচারণা চালিয়েছিল যে জুভেন্টাসের সঙ্গে তাদের একটি চুক্তি হয়েছে। সেটা অনুযায়ী রোনালদো ম্যাচের যেকোনো অর্ধে ৪৫ মিনিট খেলবেন এবং ম্যাচ শেষে একজন দর্শক সুযোগ পাবেন রোনালদোর কাছ থেকে অটোগ্রাফ নেওয়ার। সে কারণে মাঠ কাণায় কাণায় পূর্ণ হয়েছিল। রোনালদোর ভক্তরা অনেক আশা নিয়ে বসেছিল ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত।’

মামলায় প্রতিটি টিকিটের জন্য ৭০ হাজার দক্ষিণ কোরিয়ান ওন (৫৯ ডলার), ১ হাজার ওন টিকিট কমিশন ও ১০ লাখ ওন (৮৪৭ ডলার) মেন্টাল গেম খেলার জন্য আয়োজকদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।

অবশ শনিবার ফাস্টা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে জুভেন্টাস তাদের চুক্তি মানেনি। দক্ষিণ কোরিয়ার পেশাদার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও কে লিগ কমিটি মঙ্গলবার জানিয়েছে চুক্তি ভঙ্গ করায় তারা ইতিমধ্যে জুভেন্টাসের কাছে একটি প্রতিবাদ লিপি পাঠিয়েছে।

বিস্তারিত খবর

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক শামীম কবিরের ইন্তেকাল

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-২৯ ০৪:৫৭:২৬

স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ সালে প্রথম খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ডের মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব বা এমসিসি। ঐতিহাসিক সেই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় ক্রিকেট দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ওপেনিং ব্যাটসম্যান শামীম কবির। সোমবার সকালে না ফেরার দেশে চলে গেছেন দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সাক্ষী শামীম কবির। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। দীর্ঘদিন ক্যান্সার রোগে ভুগে ৭৫ বছর বয়সে ধানমন্ডির ইডেন ক্লিনিকে সোমবার সকালে মারা যান তিনি। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্রীড়াঙ্গনে।

এমসিসির বিপক্ষে ওই ম্যাচটি মূলতঃ বাংলাদেশের সামর্থ্য যাচাইয়ের জন্য আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ অংশগ্রহণের যোগ্য কি-না, সেটাই পরীক্ষা করার জন্য অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওই ম্যাচ।

সেই ঐতেহাসিক ম্যাচের অধিনায়ক ছিলেন শামীম কবির। শামীম কবির নামে পরিচিতি পেলেও তার মূল নাম আনোয়ারুল কবির। জন্ম ১৯৪৫ সালে, নরসিংদীতে। পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার ১৯৬১ সালে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম ফিফটি (৬৪) করেন ১৯৬৪ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে পিআইএর বিপক্ষে।

পাকিস্তান আমলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে খেলেছেন ১৫টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ। মিডল অর্ডারে ব্যাটিং আর অকেশনাল উইকেটকিপার হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে শামীম কবিরের সর্বোচ্চ ইনিংস হচ্ছে ৮৯ রান। পূর্ব পাকিস্তান সবুজ দলের হয়ে পূর্ব পাকিস্তান রেলওয়ের বিপক্ষে তিনি এই ইনিংসটি খেলেছিলেন।

ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে শামীম কবির খেলেছিলেন আজাদ বয়েজ ক্লাবের হয়ে। শুধু খেলোয়াড় হিসেবেই তার ক্রিকেট জীবন সীমাবদ্ধ ছিল না। খেলোয়াড়ি জীবন ছাড়ার পর তিনি ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে সম্পৃক্ত হন বিসিবিতে। ১৯৮২ ও ১৯৮৬ সালের আইসিসি ট্রফিতে পালন করেন বাংলাদেশ দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব। ক্রীড়াঙ্গনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৯ সালে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারও লাভ করেন।

শামীম কবিরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ডের মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, ‘জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক শামীম কবিরের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যা যা করা প্রয়োজন সব করা হবে।’

দুদিন আগেই জাতীয় ক্রিকেট দলের অসুস্থ সাবেক এ অধিনায়কের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের ঘোষণা দিয়েছিল বিসিবি। সেই সাহায্য হাতে না নিয়েই চলে গেলেন সাবেক এ ক্রিকেটার।

বিস্তারিত খবর

ইংল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপ জয়

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১৪ ১৫:২৮:০৪

দৌড়ালেন মার্ক উড! দৌড় উসাইন বোল্টকে হার মানানোর মতোই ছিলো। কিন্তু নিউজল্যান্ডের কাছে তার রেস হেরে গেছে। জেমস নিশামের থ্রো ঠিকভাবেই বোলার বোল্ট ধরে স্ট্যাম্প স্পর্শ করে দলকেও টিকিয়ে রাখলেন। ইনিংসের শেষ ওভারে ২ রান দরকার ছিলো ইংল্যান্ডের। স্টোকস মিড অনে ঠুকে দিয়ে দুই রান নিতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। দৌড়ে পারেননি নন স্ট্রাইকে থাকা আরেক ব্যাটসম্যান মার্ক উড। এক রান বৈধ হলে খেলা হয়ে যায় ড্র। তাতে খেলা গড়ায় সুপার ওভারে।

সুপার ওভার
আাগে ব্যাট করতে নামে ইংল্যান্ড। ব্যাট হাতে নামেন দুই বিধ্বংসী জস বাটলার ও বেন স্টোকস। অপরদিকে বল হাতে আসেন নিউজিল্যান্ডের অন্যতম পেসার ট্রেন্ট বোল্ট। দুই ইংলিশ ব্যাটসম্যান তাকে মোকাবেলা করে সুপার ওভারে তোলেন ১৫ রান। আর তাতে নিউজিল্যান্ডর জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬ রান।

লক্ষ্য পাড়ি দিতে ব্যাট হাতে নামেন দুই কিউই ব্যাটসম্যান মর্টিন গাপটিল ও জেমস নিশাম। আর বল হাতে আসেন ইংলিশ পেসার জোফরা আর্চার। বল হাতে ওয়াইড দিয়ে শুরু করেন। প্রথম বলে বলে দুই রান নিলেন নিশাম। তৃতীয় বলে ছক্কা। পরের বলে আবার দুই। চতুর্থ বলে দুই রান নিতে গিয়ে রান ! লাস্ট দুই বলে দরকার ৩ রান। কিন্তু পঞ্চম বলে এক রান নিতে পারেন কিউই ব্যাটসম্যানরা। হিসেব দাঁড়ায় শেষ বলে ২ রান। গাপটিল শেষ বলে কাউ কর্নারের দিকে ঠেলে দিয়েছেন কিন্তু  দুই রান নিতে পারেননি। রয়ের থ্রোতে উইকেটরক্ষক বাটলার স্ট্যাম্পে বল লাগাতে ভুল করেননি। এক রান নিতে সক্ষম হয় কিউই ব্যাটসম্যানরা। আউট হন গাপটিল। খেলা ড্র হয়ে যায় এক রান নেয়ার সুবাধে।

কিন্তু মূল খেলায় বাউন্ডারি গণণায় ইংল্যান্ড ছিলো কিউইদের থেকে এগিয়ে। ম্যাচে আগে ব্যাট করা নিউজিল্যান্ড ১৪টি চার ও ২টি ছক্কায় মোট বাউন্ডারি পায় ১৬টি। অন্য দিকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২২টি চারের সঙ্গে ২টি ছক্কায় মারে ইংল্যান্ড। যে কারণে সুপার ওভারের নিয়ম অনুযায়ী চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড।

আর তাতে টান টান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে বাউন্ডারি কাউন্টে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলে নিলো ইংল্যান্ড।

প্রথমবার! বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলল ইংল্যান্ড। ‘ক্রিকেট’ যাদের হাত ধরে আজ বৈশ্বিক বিনোদনের অন্যতম একটি মাধ্যম, যে দেশে ক্রিকেটের জন্ম, সেদেশেই ক্রিকেট ব্যর্থ ছিলো! ব্যর্থ নয়তো কি? ক্রিকেটের দেড়শ বছরের ইতিহাস ব্রিটিশদের; কিন্তু খেলা জন্ম দিলেতো আর পিতৃত্ব অর্জন করা যায় না। যদি না ভালো খেলে একটি শিরোপাও ঘরে না তোলা যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার ক্ষণ ফুরিয়ে অবশেষে সেই স্বপ্ন শিরোপাও ছুঁলো ইংলিশরা। আর তাতে সর্থকও হলো তাদের রোপিত ‘ক্রিকেট’, যা আজ ডানা ছড়িয়ে বৈশ্বিকে রূপান্তরিত হয়েছে।

বিশ্বকাপে এমন একটি রোমাঞ্চকর ফাইনাল কে-না আশা করে। লর্ডসের ২৮ হাজার দর্শক আর বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে এবারের ফাইনাল ম্যাচটি ছিল ভিন্ন মাত্রার। কারণ, দীর্ঘ ২৩ বছর পর নতুন কোনো চ্যাম্পিয়ন দেখার অপেক্ষায় ছিলো তারা। কি টান টান উত্তেজনা। পুরো বিশ্বকাপের সকল রোমাঞ্চ যেন এই ম্যাচকে ঘিরে অপেক্ষা করছিলো।

দ্বাদশ বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের মিশনে টস জিতে আগে ব্যাট করে ইংল্যান্ডকে ২৪২ রানের লক্ষ্য দেয় নিউজিল্যান্ড।

লক্ষ্য পাড়ি দিতে নেমে ট্রেন্ট বোল্টের করা ইনিংসের প্রথম বলে জেসন রয়ের বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন করে নিউজিল্যান্ড। আম্পায়ার আউট না দিলে রিভিউ নেন কিউই অধিনায়ক উইলিয়ামসন। কিন্তু থার্ড আম্পায়র রড টাকার আউট হয়নি বলে সিদ্ধান্ত দেন।

সেমিফাইনালে ব্যাট হাতে জয়ের নয়ক রয় প্রথমবার বাঁচলেও ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে ম্যাট হেনরির বল খুঁচিয়ে দিয়ে টম লাথামের তালুবন্দী হলে, এবার আর আউট থেকে রেহায় পাননি তিনি। ২০ বলে ১৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার।

৫৯ রানের মাথায় ভরসার পাত্র জো রুটকে, ৭১ রানে বায়েরস্টো ও ৮৬ রানের মাথায় ইয়ন মরগানের উইকেট হারালে চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড।

জো রুট ৭, জনি বায়েরস্টো ৩৬ ও ইয়ন মরগানের ব্যাট থেকৈ আসে ৯ রান।

পঞ্চম উইকেট জুটিতে জস বাটলার ও বেন স্টোকস ১১০ রানের জুটি গড়লে ম্যাচ অনেকটা ইংলিশদের নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু ১৯৬ রানের মাথায় বাটলার ব্যক্তিগত ৫৯ রান করে আউট হলে ফের চাপে পড়ে ইংলিশরা।

নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে লকি ফার্গুসন ও জেমস নিশাম ৩টি, ম্যাট হেনরি ও কলিন ডি গ্রান্ডহাম একটি করে উইকেট শিকার করেন।

এর আগে টস জিতে প্রথমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪১ রানের পুঁজি সংগ্রহ করে কিউইরা। দলের হয়ে হেনরি নিকোলাস (৫৫) ও টম লাথাম (৪৭) রান করেন।

লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন টস জিতে ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগানকে ফিল্ডিং করার আমন্ত্রণ জানান।

ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের সপ্তম ওভারে দলীয় ২৯ রানের মাথায় মার্টিন গাপটিলের উইকেট হারায়  তারা। বিশ্বকাপের শুরু থেকে যার ব্যাট রান খরায় ধুঁকছে, ফাই্নালে হয়তো তার দল-ভক্তরা ভালো কিছু আশা করলেও ব্যাট হাতে ব্যর্থতার প্রমাণ ফাইনালে এসও দিলেন তিনি। ১৯ রান করে ক্রিস ওকসের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফেরেন তিনি।

এরপর ওপেনার হেনরি নিকোলাস ও কেন উইলিয়ামসন দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব পালন করেন। দুজনে জুটিতে তোলেন ৭২ রান।

কিন্তু পুরো বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে নিউজিল্যান্ডের ত্রাতা হয়ে দলকে ফাইনালে আনার গুরু দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কিন্তু ফাইনালে ৩০ রান করে লিযাম প্লাঙ্কেটের বলে জস বাটলারের তালুবন্দী হয়ে সাজঘরে ফিরে যান তিনি।

উইলিয়ামসন ফিরে গেলে দেখে-শুনে খেলতে থাকা ওপেনার নিকোলাসও বেশিদূর আর এগোতে পারেননি। দলীয় ১১৮ রানের মাথায় ইনিংসের ২৭তম ওভারে প্লাঙ্কেটের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। ৭৭ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৫৫ রান করনে নিকোলাস।

দলের ১৪১ রানের মাথায় ৩১ বলে ১৫ রান করে মার্ক উডের এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে ফেরেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান রস টেলর। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার শেষ ম্যাচ। শেষটা বেশ ভালো হয়নি এই কিউইর। তবে এই ব্যাটসম্যানের আউটটি আম্পায়র দিলেও টিভি রিপ্লেতে সেটি নট আউট দেখা যায়। আম্পায়ারের হেলার শিকার হলেন তিনি।

প্রথম সারির চার ব্যাটম্যানকে হারিয়ে চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। সেখান থেকে টম লাথাম-জেমস নিশাম ইংলিশ বোলারদের বিরুদ্ধে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ১৭৩ রানের মাথায় মিড অনে ফিল্ডিং করা জো রুটকে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নিশাম। ১৯ রান করে প্লাঙ্কেটের তৃতীয় শিকার হন তিনি।

ষষ্ঠ উইকেটে লাথাম-গ্রান্ডহাম জুটি দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিলেও বেশদূর যেতে পরেননি তারা। জুটিতে ৪৬ রান করার পর ক্রিস ওকসের বলে জেমস ভিন্সকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কলিন ডি গ্রান্ডহাম। ১৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

শেষ পর্যন্ত টম লাথামের ৫৬ বলে ৪৭ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪১ রান সংগ্রহ করে উইলিয়ামসন বাহিনী।

ইংলিশ বোলারদের মধ্যে ক্রিস ওকস ও লিয়াম প্লাঙ্কেট ৩টি, জোফরা আর্চার ও মার্ক উড একটি করে উইকেট শিকার করেন।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : ব্যাট হাতে ৮৪ রান করে অপরাজিত থেকে, একাই দলকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে ফাইনালে ম্যাচ সেরা হন ইংলিশ অলরাউন্ডার বেন স্টোকস।

প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট : ১০ ম্যাচে ৫৭৮ রান করে এবং দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট নির্বাচিত হন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।

বিস্তারিত খবর

নববধূ ঘরে তুললেন মুস্তাফিজ

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১৩ ১২:৩৮:৪৭

বিয়ে অনেকটা চুপিসারে হলেও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করে বউ ঘরে তুলে নিলেন জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান। আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার তিন হাজার অতিথির আগমনে মুখর ছিল বৌভাত অনুষ্ঠান।

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে উপজেলার গ্রামের বাড়িতে শনিবার দুপুরের বৌভাত অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলেও অতিথিরা আসতে শুরু করেন সকাল থেকে। তবে বিয়ের আনন্দ অনুষ্ঠানেও বরাবরের মতো মিডিয়ার সামনে চুপ ছিলেন মোস্তাফিজ। সুসজ্জিত আসরে বধূ সুমাইয়া পারভীন শিমুকে নিয়ে বসেছিলেন তিনি। তবে কোনো কথা বলেননি। মোস্তাফিজুর রহমানের বাবা আবুল কাশেম গাজী ছেলে ও পুত্রবধূর জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

তেঁতুলিয়া গ্রামে বৌভাতের অনুষ্ঠানে আসেন তিন হাজারের বেশি মেহমান। খাবার টেবিলে ছিল খাসির বিরিয়ানি, গরুর মাংস, দধি ও কোমল পানীয়। সনাতন ধর্মাবলম্বী অতিথিদের জন্য অন্য ব্যবস্থা ছিল।

অনুষ্ঠানে যোগ দেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বর্তমান সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আ ফ ম রুহুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনসুর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

গত ২২ মার্চ সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার হাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা সুমাইয়া পারভীন শিমুকে বিয়ে করেন মোস্তাফিজুর রহমান। শিমু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। শিমুর বাবা রওনাকুল ইসলাম বাবু মোস্তাফিজুর রহমানের মেজো মামা। মায়ের ইচ্ছায় পারিবারিকভাবে মামাত বোন শিমুকে বিয়ে করেন মোস্তাফিজ।

বিস্তারিত খবর

ভারতকে হটিয়ে ফাইনালে নিউজিল্যান্ড

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১০ ১৩:৫৯:৪৬

একেই বলে প্রকৃত সেমিফাইনাল। সত্যিকারের ব্যাট-বলের লড়াই। যার পরতে পরতে জড়িয়ে উত্তেজনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বলা যাচ্ছিল না, নিউজিল্যান্ড না ভারত- কে জিতবে? ১০৪ বলে ধোনি-জাদেজার ১১৬ রানের জুটিতে নিশ্চিত জয়ের পথে চলে এসেছিল ভারত। কিন্তু ট্রেন্ট বোল্টের বলে হঠাৎ ক্যাচ দিয়ে জাদেজা আউট হয়ে যাওয়ার পর আবারও ম্যাচটা ঝুলে যায় পেন্ডুলামের মত।

জয়ের জন্য শেষ দিকে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১৪ বলে ৩২ রান। খেলার এমন অবস্থায় উইকেটে হারান দুর্দান্ত খেলতে থাকা জাদেজা। তার বিদায়ে জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় ভারতের।

শেষ ১২ বলে প্রয়োজন ছিল ৩১ রান। ৪৯তম ওভারে ফাগুর্নসননের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে আবারও স্বপ্ন দেখান মহেন্দ্র সিং ধোনি। কিন্তু ওভারের তৃতীয় বলে মার্টিন গাপটিলের থ্রোতে স্ট্যাম্প ভেঙ্গে গেলে জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় ভারতের।

নিশ্চিত পরাজয়ের ম্যাচেও অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন রবিন্দ্র জাদেজা। হেরে যাওয়া ম্যাচ জেতার স্বপ্ন দেখছে ভারত। এছাড়া বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাটিং দৃঢ়তায় বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়েছে। দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে হাল ধরেন তারা। তাদের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখে ভারত।

বুধবার ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৪০ রানের মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে মাত্র ৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই বিপদে পড়ে ভারত।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে দলীয় ৪ রানে ম্যাট হেনরির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেন রোহিত শর্মা। আগের তিন ম্যাচে টানা সেঞ্চুরি করা রোহিত এদিন ফেরেন চার বলে মাত্র ১ রান করে।

রোহিত শর্মার বিদায়ের পর উইকেটে নেমে ৬ বল খেলার সুযোগ পান বিরাট কোহলি। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান ট্রেন্ট বোল্টের গতির বলে এলবিডব্লিউ হন। রিভিউ নিয়েও উইকেট বাঁচাতে পারেননি তিনি। কোহলি ফেরেন মাত্র ১ রান করে।

চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে ম্যাট হেনরির বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন অন্য ওপেনার লোকেশ রাহুল। তিনিও ফেরেন মাত্র এক রানে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম তিন ব্যাটসম্যান এভাবে ১ রান করে আউট হওয়ার রেকর্ড এবারই প্রথম।

মাত্র ৫ রানে ৩ ব্যাটসম্যানের উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে কোহলিরা।

দলের এমন কঠিন বিপর্যয়ের ম্যাচে হাল ধরবেন বলে দিনেশ কার্তিকের প্রতি ভরসা করেছিলেন ভারতীয় সমর্থকরা। দলের এই দুঃসময়ে তিনিও নিজে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেননি।

ম্যাট হেনরির বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে জেমস নিশামের বাঁ-হাতের অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হন কার্তিক। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ১০ ওভারে মাত্র ২৪ রানে প্রথম সারির ৪ ব্যাটসম্যানের উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে যায় ভারত।

পঞ্চম উইকেটে হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে ৪৭ রানের জুটি গড়ে দলকে খেলায় ফেরাতে চেষ্টা করেন রিশব প্যান্ট। আগের ১২ বলে মাত্র ১ রান নেয় ভারত। পরপর ডটবল খেলার কারণে বাউন্ডারি হাঁকাতে চেষ্টা করেছিলেন প্যান্ট। কিন্তু মিচেল স্যান্টনারের বল তুলে মারতে গিয়ে কলিন ডি গ্রান্ডহোমের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন তিনি। তার আগে ৫৬ বলে মাত্র ৩২ রান করেন রিশব প্যান্ট।

এরপর ২১ রানের ব্যবধানে মিচেল স্যান্টনারের দ্বিতীয় শিকার হন হার্দিক পান্ডিয়া। তার আগে ৬২ বলে ৩২ রান করেন তিনি। পান্ডিয়ার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ৩০.৩ ওভারে ৯২ রানে ৬ উইকেট হারায় ভারত।

সপ্তম উইকেটে রবিন্দ্র জাদেজাকে সঙ্গে নিয়ে১১৬ রানের অনবদ্য জুটি গড়েন মহেন্দ্র সিং ধোনি। শেষ দিকে জাদেজা ও ধোনি আউট হলে তীরে গিয়ে তরী ডুবে ভারতের।

বিস্তারিত খবর

হারের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ বাংলাদেশের

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-০৫ ১৫:০১:১৮

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ২১ রানে জয় পেয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু টাইগারদের শেষটা হলো বড় হার দিয়ে। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে শুক্রবার লিগ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৯৪ রানে হেরেছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।

৯ ম্যাচ খেলে ৭ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম অবস্থানে থেকে বিশ্বকাপ মিশন শেষ হলো মাশরাফি-সাকিবদের। এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ তিন ম্যাচে জয় পেয়েছে। টাইগাররা হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানকে। আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছিল। অন্যদিকে, পাকিস্তানেরও এটি ছিল শেষ ম্যাচ। ৯ ম্যাচ খেলে ১১ পয়েন্ট নিয়ে তারা পঞ্চম অবস্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করল। এবার সেমিফাইনালে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। লিগ পর্ব থেকেই বাদ পড়েছে আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট েইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।

এদিন লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে পাকিস্তানের দেয়া ৩১৬ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৪৪.১ ওভারে ২২১ রান করে অলআউট হয় বাংলাদেশ। এবারের বিশ্বকাপে এটি বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেন সাকিব আল হাসান। পাকিস্তানের তরুণ পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি ৯.১ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ৬টি উইকেট শিকার করেছেন। এছাড়া শাদব খান ২টি, ওয়াহাব রিয়াজ ১টি ও মোহাম্মদ আমির ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন। 

ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ২৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে মোহাম্মদ আমিরের বলে পয়েন্টে ফখর জামানের হাতে ক্যাচ হন সৌম্য সরকার। ২২ বল খেলে ২২ রান করেন তিনি। ১১তম ওভারে শাহীন আফ্রিদির বলে বোল্ড হন তামিম ইকবাল। ২১ বলে তিনি করেন ৮ রান। দলীয় ৭৮ রানে ফিরে যান মুশফিকুর রহিম। ১৮তম ওভারে ওয়াহাব রিয়াজের বলে বোল্ড হন তিনি। ১৯ বলে তার সংগ্রহ ১৬ রান।

এরপর সাকিব-লিটন মিলে ৫৮ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ১৩৬ রানে শাহীন আফ্রিদির বলে হারিস সোহেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন লিটন। ৪০ বল খেলে তিনি করেন ৩২ রান। দলীয় ১৫৪ রানে শাহীনের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান দলের অন্যতম ভরসা সাকিব আল হাসান। ফেরার আগে তিনি করেন ৬৪ রান। এবারের বিশ্বকাপে এটি সাকিবের পঞ্চম হাফ সেঞ্চুরি। শ্রীলঙ্কা ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় সাকিব মোট ৮ ম্যাচ ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে তিনি পাঁচ ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি ও দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন। এবারের বিশ্বকাপে বর্তমানে তিনিই সেরা রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যান।

সাকিব ফেরার পর দলের জয়ের আশা একেবারে ক্ষীণ হয়ে যায়। সাকিব ফেরার পর মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক মিলে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিলেন। তারা ৪৩ রানের জুটি গড়তে সক্ষম হন। ৪০তম ওভারে মোসাদ্দেক ফিরে গেলে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ২২১ রানে অলআউট হয় টাইগাররা।

এদিন প্রথমে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩১৫ রান সংগ্রহ করে সরফরাজ আহমেদের দল। পাকিস্তানি ওপেনার ইমাম-উল-হক সেঞ্চুরি করেন। ১০০ রান করে আউট হন তিনি। বিশ্বকাপে এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি। আর ওয়ানডেতে সপ্তম। ৯৬ রান করে আউট হন বাবর আজম। ২৬ বলে ৪৩ রান করেন ইমাদ ওয়াসিম। টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ১০ ওভারে ৭৫ রান দিয়ে ৫টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৩টি, ও মেহেদী হাসান মিরাজ ১টি করে উইকেট শিকার করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: ৯৪ রানে জয়ী পাকিস্তান।

পাকিস্তান ইনিংস: ৩১৫/৯ (৫০ ওভার)

(ফখর জামান ১৩, ইমাম-উল-হক ১০০, বাবর আজম ৯৬, মোহাম্মদ হাফিজ ২৭, হারিস সোহেল ৬, ইমাদ ওয়াসিম ৪৩, সরফরাজ আহমেদ ৩*, ওয়াহাব রিয়াজ ২, শাদব খান ১, মোহাম্মদ আমির ৮, শাহীন শাহ আফ্রিদি ০*; মেহেদী হাসান মিরাজ ১/৩০, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৩/৭৭, মোস্তাফিজুর রহমান ৫/৭৫, মাশরাফি বিন মর্তুজা ০/৪৬, সাকিব আল হাসান ০/৫৭, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ০/২৭)।

বাংলাদেশ ইনিংস: ২২১ (৪৪.১ ওভার)

(তামিম ইকবাল ৮, সৌম্য সরকার ২২, সাকিব আল হাসান ৬৪, মুশফিকুর রহিম ১৬, লিটন দাস ৩২, মাহমুদউল্লাহ ২৯, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ১৬, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ০, মেহেদী হাসান মিরাজ ৭*, মাশরাফি বিন মর্তুজা ১৫, মোস্তাফিজুর রহমান ১; মোহাম্মদ হাফিজ ০/৩২, মোহাম্মদ আমির ১/৩১, শাহীন শাহ আফ্রিদি ৬/৩৫, ওয়াহাব রিয়াজ ১/৩৩, ইমাদ ওয়াসিম ০/২৬, শাদব খান ২/৫৯)।

ম্যাচ সেরা: শাহীন শাহ আফ্রিদি (পাকিস্তান)।

বিস্তারিত খবর

আফগানিস্তানকে হারিয়ে টাইগারদের জয়

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৬-২৪ ১৪:২৮:১০

বিশ্বকাপের ৩১তম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৬২ রানে হারিয়ে আসরে তৃতীয় জয় তুলে নিলো বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের দেয়া ২৬৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪৭ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২০০ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় আফগানরা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ অপরাজিত (৪৯) রান করেন সানাউল্লাহ সিনওয়ারি।

এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৬২ রান সংগ্রহ করে টাইগররা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ (৮৩) রান করেন মুশফিকুর রহিম। সাকিব আল হাসানের ব্যাট থেকে আসে (৫১) রান।

ভাগ্যের উপর নির্ভর করছে বাংলদেশের সেমিফাইনালে ওঠা। তবুও শেষ পর্যন্ত কতদূর যায়, এ আশায় আফগানদের বিপক্ষে জয়ের মিশনে মাঠে নামে বাংলাদেশে।

এদিকে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত জয়হীন তকমা সেঁটে আছে আফগানদের গায়ে। এই বিস্ময়কর তকমা নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে চায় না নবী-রশিদরাও। তারাও চায় জয়ের ক্ষুধা মেটাতে।

এমন জয়ের নেশায় সাউদম্পটনের দ্য রোজ বোলে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ-আফগানিস্তান। বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় ম্যাচটি শুরু হয়। টস জিতে আফগান অধিনায়ক গুলবাদিন নায়েব আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশকে।

এই ম্যাচে বাংলাদেশ দল এনেছে দুটি পরিবর্তন। রুবেল হোসেনকে বাদ দিয়ে দলে ফেরানো হয়েছে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। সাব্বির রহমানের জায়গায় ফিরলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ওপেনিংয়ে নিয়মিত ওপেনার সৌম্য সরকারের জায়গায় ব্যাট  করতে নামেন লিটন দাস।

এবারের বিশ্বকাপে এটি তৃতীয় ম্যাচ লিটন দাসের। আগের দুই ম্যাচে তিনি খেলেছেন মিডল অর্ডারে। ব্যাট করতে নেমেছেন ৫ নম্বরে। তবে আজ কী কারণে তাকে ওপেনিংয়ে নামানো হয়েছে তার কোন ব্যাখা টিম ম্যানেমেন্টের কাছ থেকে না পাওয়া গেলেও ধারণা করা হচ্ছে আফগান বোলিং অ্যাটাকের বৈচিত্রতার কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল।

আফগানিস্তানের হয়ে বোলিং ওপেন করেন তরুণ ডানহাতি অফ স্পিনার মুজিব উর রহমান। আর বামহাতি ব্যাটসম্যানদের জন্য ডানহাতি অফ স্পিনারদের খেলা কঠিন। আফগানদের আরেক ডানহাতি অফ স্পিনার মোহাম্মাদ নবীও বোলিং করেন শুরুর দিকে। বাংলাদেশ তাই একজন বামহাতি ওপেনারকে বদলে ডান হাতি লিটন দাসকে নামিয়েছে ওপেন করতে।

আবার মিডল অর্ডারে লেগ স্পিনার রশিদ খানকে মোকাবেলা করা ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন। বামহাতি ব্যাটসম্যনাদের জন্য কিছুটা সহজ। তাই সৌম্য সরকার সেখানে নামলে কিছুটা সমস্যায় পরবেন রশিদ খান। এই দুই বোলারকে টার্গেট করেই হয়তো ব্যাটিং অর্ডারে এমন পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ।

এমন কৌশলি অবলম্বন করেও  যে মুজিবকে টার্গেট করে লিটনকে ওপেনিংয়ে নামানো হয়েছে তার বলেই আউট হয়ে ফেরেন তিনি। ইনিংসের পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে শর্ট কাভার অঞ্চলে ক্যাট দেন লিটন দাস। দলীয় ২৩ এবং ব্যক্গিত ১৬ রান করে আউট হন লিটন। সৌম্য সরকারকে ৩ রানে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দিলেন আফগান লেগ স্পিনার মুজিবুর রহমান। ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নামেন সাকিব আল হাসান।  দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তামিম-সাকিব দেখে-শুনে খেলে দলকে এগিয়ে নিতে চাইলেও দলীয় স্কোর ৮২ রান হলে তামিম ইকবাল বোল্ডে হয়ে যান মোহাম্মদ নবীর বলে। ৫৩ বলে ৩৬ রান করেন তামিম। চারে ব্যাট করতে নামে মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে ফের দলকে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন সাকিব। এই জুটি  থেকে আসে ৬১ রান। এই ম্যাচে ৬৯ বলে ৫১ রান করে বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে এক হাজার রান পূর্ণ করেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও সাকিব। তার পিছনেই এ তালিকায় রয়েছেন দুই সতীর্থ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম। এক হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করে, ২০১৯ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায়ও শীর্ষে উঠে এলেন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার। শীর্ষন্থানে উঠা-নামার প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারকে পিছনে ফেলে শীর্ষে ওঠেন তিনি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সাকিবরে সংগ্রহ ছিলো ৪২৫ রান। কিন্তু আফগানাদের বিপক্ষে ৫১ রান করায় এই অলরাউন্ডারের ঝুলিতে জমা হয় ৪৭৬ রান। যা তার নিকটতম প্রতিযোগীর চেয়ে ২৫ রান বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ওয়ার্নারের সংগ্রহ ৪৪৭ রান। ৫১ রান করে দলীয় ১৪৩ রানের মাথায় মুজিবের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফেরেন সাকিব। মাঠে নেমে সৌম্য সরকার ৩ রান করে ফেরেন মুজিবের তৃতীয় শিকার হয়ে। ১৫১ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে ছয় নাম্বারে ব্যাট করতে নামা মাহমুদুল্লাকে নিয়ে চাপ সামলিয়ে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা কারেন মুশফিক। কিন্তু আফগান বোলারদের ভালো বোলিংয়ের কাছে দ্রত রান উঠাতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা। ৩৮ বলে ২৭ রান করে গুলবাদিন নায়েবের বলে মোহাম্মদ নবীর তালুবন্দী হয়ে ফেরেন মাহমুদুল্লাহ। মাহমুদুল্লাহর পর ২৫১ রানের মাথায় দৌলত জাদরানের শিকার হয়ে ফেরেন মুশফিক। ৮৭ বলে ৪ চার ও এক ছয়ে ৮৩ রান করেন মুশফিক। শেষ দিকে মোসাদ্দেকের ২৪ বলে ৩৫ রানের কল্যাণে ৫০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ২৬২ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

আফগান বোলারদের মধ্যে মুজিবুর রহমান ৩টি, গুলবাদিন নায়েব ২টি, দৌলত জাদরান ও মোহাম্মদ নবী একটি করে উইকেট শিকার করেন।২৬৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তানকে ভালো সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার রহমাত শাহ ও গুলবাদিন নায়েব। ১০.৫ ওভারে দুজনে তোলেন ৪৯ রান। ইনিংসরে ১১তম ও নিজের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে রহমত শাহকে ২৪ রানে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রো এনে দেন সাকিব আল হাসান। ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নামা হাসমাতউল্লাহকে দলীয় ৭৯ রানের মাথায় স্টাম্পিং করে টাইগারদের ম্যাচে ফেরান মুশফিক। এরপর ১০৪ রানের মাথায় গুলবাদিন নায়েবকে (৪৭) ও মোহাম্মদ নবীকে শূন্য রানে নিজের পঞ্ম ওভারে পর পর ফিরিয়ে আফগানিস্তানকে চাপে ফেলে দেন সাকিব । ১০৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটা দূরে সরে যায় আফগানিস্তান। ষষ্ঠ ওভার করতে এসে প্রথম বলেই আসগর আফগানকে (২০) রানে ফিরিয়ে সামিব তুলে নেন নিজের চতুর্থ উইকেট। ১১৭ রানের মাথায় আফগান আসগ আউট হলে সাত নাম্বারে ব্যাট করতে নামেন ইকরাম আলি খিল। কিন্তু দলীয় ১৩২ রানের মাথায় ইকরাম ১১ রান করে লিটন দাসের থ্রোতে রান আউটের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলে, তখন শুধু জয়ের অপেক্ষায় থাকতে হয়ে বাংলাদেশকে। তবে সপ্তম উইকেট সামিউল্লাহ সিনওয়ারী ও নাজিবুল্লাহ জাদরান ব্যাট হাতে ফের বাংলাদেশী বোলারদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান। দু’জনে জুটতে তোলেন ৫৬ রান। শেষ দশ ওভারে আফগানদের প্রয়োজন পড়ে ৯৩ রান। এমনবস্থায় বড় শর্ট খেলা ছাড়া উপায় ছিলো না আফগান ব্যাটসম্যানদের সামনে। বক্সের বাইরে এসে বড় শর্ট খেলতে গিয়েই সাকিব আল হাসানের কৌশলের ফাঁদে পড়ে মুশফিকের স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হয়ে ২৩ বলে ২৩ রান করে ফেরেন নাজিবুল্লাহ। ব্যটে করতে এসে ২ রান করে মোস্তাফিজের বলে মাশরাফির তালুবন্দী হয়ে ফেরেন রশিদ খান। ১৯১ রানের ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় আফগানরা। দৌলত জাদরানকে মোস্তাফিজ ও মুজিবুর রহমানকে সাইফউদ্দিন শূন্য রানে তুলে নিলে ৪৭ ওভারে অলআউট হয়ে যায় আফগানিস্তান। শেষ পর্যন্ত ৫১ বলে ৩ চার ও এক ছয়ে দলের হয়ে সর্বোচ্চ (৪৯) রান করে অপরাজিত থাকেন সানাউল্লাহ সিনওয়ারি। ২০০ রানে থেমে যায় আফগানদের ইনিংস। আর তাতে বাংলাদেশ পায় ৬২ রানের দুর্দন্তদ জয়। এই জয়ে সেমিফাইনালের পথে টিকে রইলো বাংলাদেশ। যদি নাটকীয় কিছু ঘটে থাকে।

বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে সাকিব আল হাসান ৫টি, মোস্তাফিজুর রহমান ২টি, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মোসাদ্দেক হোসেন একটি উইকেট শিকার করেন।

ব্যাট হাতে ৫১ রান এবং বল হাতে ১০ ওভারে এক মেডেন ওভারসহ ২৯ রানে ৫ উইকেট নিয়ে, ব্যাটে-বলে সেরা নৈপুণ্য দেখিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

বিস্তারিত খবর

উইন্ডিজের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে টাইগারদের জয়

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৬-১৭ ১৪:৩৭:২৩

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে জয় পেল টাইগাররা। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এই প্রথম ৩২২ রানের পাহাড় ডিঙিয়ে জয় পেল বাংলাদেশ। এর আগে গত বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১৯ রানের রেকর্ড তাড়া করে জয় পেয়েছিল মাশরাফিরা।

সোমবার ইংল্যান্ডের টনটনে শাই হোপ, এভিন লুইস ও সিমরন হিতমারের ঝড়ো ফিফটিতে ৮ উইকেটে ৩২১ রানের পাহাড় গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৫১ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের দাপুটে জয় পায় বাংলাদেশ। দলের জয়ে সর্বোচ্চ ৯৯ বলে ১৬টি চারের সাহায্যে অপরাজিত ১২৪ রান করেন সাকিব আল হাসান। এছাড়া ৬৯ বলে ৮টি চার ও চারটি ছক্কায় অপরাজিত ৯৪ রানের ইনিংস খেলেন লিটন কুমার দাস। তার আগে ৫৩ বলে ৪৮ রান করেন তামিম ইকবাল।

উইন্ডিজের বিপক্ষে ৩২২ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। উদ্বোধনী জুটিতে ৮.২ ওভারে ৫২ রান করেন তারা। ২৩ বলে ২৯ রান করে ফেরেন সৌম্য।

এরপর দ্বিতীয় উইকেটে সাকিব আল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ৬৯ রানের জুটি গড়েন তামিম। ৫৩ বলে ৪৮ রান করে রান আউট হয়ে ফেরেন তামিম। তার বিদায়ের পর রানের খাতা খুলতে না খুলতেই আউট হন মুশফিকুর রহিম। দলীয় ১৩৩ রানে সৌম্য সরকার, তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের বিদায়ের পর লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন সাকিব।

চতুর্থ উইকেটে সাকিব-লিটনের অবিচ্ছিন্ন ১৮৯ রানের জুটিতে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। আর এই জুটিতেই বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি গড়ার পাশাপাশি ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৬ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে রানের পাহাড় গড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শাই হোপ (৯৬) ও এভিন লুইসের (৭০) অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেটে ৩২১ রানের পাহাড় গড়েছে ক্যারিবীয়রা। এছাড়া ২৬ বলে ৫০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন সিমরন হিতমার।

বিশ্বকাপে টাইগারদের বিপক্ষে উইন্ডিজের এটা সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এর আগে ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে খালেদ মাসুদ পাইলটের নেতৃত্বাধীন দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২৪৪/৯ রান করেছিল কার্ল হুপারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দল।

সোমবার টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৬ রানে ক্রিস গেইলের উইকেট হারিয়ে শুরুতেই বিপদে পড়ে যায় উইন্ডিজ। ব্যাটিং দানব গেইলকে দ্রুত আউট করে টাইগার শিবিরে খানিকটা স্বস্তির পরশ এনে দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। কিন্তু সেই বিপর্যয় কাটিয়ে তুলেন শাই হোপ ও এভিন লুইস জুটি। দ্বিতীয় উইকেটে তারা অনবদ্য ১১৬ রানের জুটি গড়েন।

উইকেটে থিতু হওয়ার পর থেকেই একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে যান এভিন লুইস। ৫৮ বলে ফিফটি গড়ার পর বল আর মাটিতে ফেলতে দেননি। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা ক্যারিবীয় এই ওপেনারকে সাজঘরে ফেরান সাকিব আল হাসান। তার আগে ৬৭ বলে ৬টি চার ও দুই ছক্কায় ৭০ রান করেন লুইস।

সাকিবের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন নিকোলাস পুরান। বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন পুরান। তার আগে ৩০ বলে ২৫ রান করেন তিনি।

পাঁচ নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে রীতিমতো তাণ্ডব চালান সিমরন হিতমার। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মাত্র ২৫ বলে ৫০ রান পূর্ণ করেন তিনি। ফিফটি করার পরের বলে মোস্তাফিজুর রহমানের কাটারে তামিম ইকবালের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন হিতমার।

এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি আন্দ্রে রাসেল। কাটার মাস্টারের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন রাসেল। ব্যাটিংয়ে ঝড় তুলেও বেশি দূর যেতে পারেননি ক্যারিবীয় অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। সাইফউদ্দিনের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হওয়ার আগে মাত্র ১৫ বলে চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ৩৩ রান করেন হোল্ডার।

ব্যাটসম্যানদের এই আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম ছিলেন শাই হোপ। ওয়ান ডাউনে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন তিনি। ৭৭ বলে ফিফটি করার পর একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে যান তিনি। মোস্তাফিজুর রহমানের তৃতীয় শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ১২১ বলে ৪টি চার ও এক ছক্কায় ৯৬ রান করেন হোপ। ইনিংসের শেষ দিকে ১৫ বলে ১৯ রান করে সাইফউদ্দিনের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন ড্যারেন ব্রাভো।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৫০ ওভারে ৩২১/৮ (শাই হোপ ৯৬, এভিন লুইস ৭০, হিতমার ৫০, হোল্ডার ৩৩, নিকোলাস ২৫, ড্যারেন ব্রাভো ১৯; মোস্তাফিজ ৩/৫৯, সাইফউদ্দিন ৩/৭২, সাকিব ২/৫৪)।

বাংলাদেশ: ৪১.৩ ওভারে ৩২২/৩ (সাকিব ১২৪*, লিটন ৯৪*, তামিম ৪৯, সৌম্য ২৯, মুশফিক ১)।

ফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা: সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)।

বিস্তারিত খবর

জয় দিয়ে শুরু টাইগারদের বিশ্বকাপ যাত্রা

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৬-০২ ১৭:৪১:০২

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপ স্বপ্ন যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ। টাইগারদের দেয়া ৩৩১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩০৯ রান করতে সক্ষম হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রানের ইনিংস খেলেন ডু প্লেসিস।

আগে ব্যাট করে মুশফিকুর রহিমের (৭৮) ও সাকিব আল হাসানের (৭৫) অর্ধশতক এবং শেষ দিকে মাহমুদুল্লাহ-মোসাদ্দেকের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩৩০ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা।

রোববার লন্ডনের কেনিংটন দ্য ওভাল স্টেডিয়ামকে লাল-সবুজ পতাকা রঙে রঙিন করেছে বাংলাদেশী দর্শকরা। খেলার শুরু থেকে দর্শকদের মুখে ‘বাংলাদেশ জিন্দবাদ’ শব্দে মুখোরিতে হয় পুরো স্টেডিয়াম। রোববার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় ম্যাচটি শুরু হয়। দ্য ওভাল স্টেডিয়ামে টসে জিতে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশকে।

ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। ৭ ওভারেই স্কোর বোর্ডে ৫০ রান তোলেন দুই ওপেনার। দলীয় ৬০ রানের মাথায় আন্দিল পেহলিকায়োর বলে ব্যক্তিগত ১৬ রান করে ফেরেন তামিম ইকবাল । তামিম ফিরে গেলে স্থায়ী হতে পারেননি সৌম্য সরকারও। দলের ৭৫ রানের মাথায় ক্রিস মরিসের শিকার হন তিান। ৩০ বলে ৯ চারে ৪২ রান করেন সৌম্য। তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের ১৪২ রানের জুটতে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন দলকে। ৭৫ রানে বাংলাদেশ যখন ২ উইকেট হারায় সেখান থেকে দলকে দুজনে মিলে টেনে নিয়ে যান ২১৭ রানে। ইমরান তাহিরের শিকার হয়ে ৮৪ বলে ৮ চার ও এক ছয়ে ৭৫ রানে ফিরে যান সাকিব। সাকিব আউট হলে, ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ মিথুন করেন ২১ রান। দলকে এগিয়ে নেয়া মুশফিক ৮০ বলে ৮ চারে ৭৮ রান করে দলীয় ২৫০ রানের মাথায় পেহলুকায়োর দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। রান। শেষ দিকে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মোসাদ্দেক হোসেন মিলে ছয় ওভারে তোলেন ৬৬ রান। মোসাদ্দেক ২০ বলে ২৬ রান মরিসের শিকার হন। রিয়াদের ব্যাট থেকে আসে ৩৩ বলে ৩ চা্র ও এক ছয়ে ৪৬ রান। ৪ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন মেহেদি হাসান মিরাজ। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৩০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

আফ্রিকান বোলারদের মধ্যে আন্দিল পেহলুকায়ো, ইমরান তাহির ও ক্রিস মরিস ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

৩৩১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হলেও দলীয় ৪৯ রানের মাথায় মুশফিকের হাতে রান আউটের শিকার হয়ে ২৩ রান করে ফেরেন ডি কক। ওয়ানডাউনে নেমে ডু প্লেসিস ওপেনার মাকরামকে নিয়ে বড় জুটির ইঙ্গিত দিলেও তা বড় করতে দেননি সাকিব। জুটিতে ৫৩ রান আসলে দলীয় ১০২ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৪৫ রানে মার্করামকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন সাকিব। ১৪৭ রানের মাথায় ৩৩তম হাফসেঞ্চুরি (৬২) করে মিরাজের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ডু প্লেসিস। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ডেভিড মিলার  ও ভ্যান ডার দুসেন মিলে করেন ৫৩ রান। দলীয় স্কোর ২০২ রানের মাথায় মিলারকে ৩২ রানে ফিরিয়ে বেক থ্রো এনে দেন মোস্তাফিজ। ৪১ রান করা ভ্যান ডার দুসেনকে ফেরান সাইফউদ্দিন। দুসেনের উইকেট ছিল বিশ্বকাপের সাইফের প্রথম উইকেট। নিজের পঞ্চম ওভারে ফের আঘাত হানেন সাইফ। আন্দিল পেহলুকায়োকে ফেরান ৮ রানে। দলের বিপর্যয়ের মুহূর্তে ব্যাট করতে নেমে ক্রিস মরিস ১০ রান করে মোস্তাফিজের শিকার হয়ে দলকে আরো বিপদে ঠেলে দেন। শেষ দিকে দলের যখন ১৭ বলে ৪৪ রান প্রয়োজন তখন ছয় নাম্বর পজিশনে ব্যাট করতে নামা জেপি ডুমিনি ছিল একমাত্র ভরসা। মোস্তাফিজের অষ্টম ওভারে ৩৭ বলে ৪৫ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন ডুমিনি। শেষ দুই ওভারে আফ্রিকার প্রয়োজন পড়ে ৪০ রান। কিন্তু বোলারদের দ্বারা তা অসম্ভবই ছিলো। শেষদিকে রাবাদার ১৩ ও ইমরান তাহিরের ১০ রানের সুবাধে ৫০ ওভারে  ৮্উইকেট হারিয়ে ৩০৯ রানে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস থেমে যায়। আর তাতে বাংলাদেশ ২১ রানে পায় এই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ঐতিহাসিক জয়।

বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ৩টি, সাইফউদ্দিন ২টি, সাকিব আল হাসান ও মেহেদি হাসান মিরাজ একটি করে উইকেট শিকার করেন।

ব্যাট হাতে ৭৫ রান ও বল হাতে এক উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

বিস্তারিত খবর

অনুর্ধ-১৯ জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলতে তালহা যাচ্ছে বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৫-৩১ ১৪:২২:০৬

বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা সমাজহিতৈষী এবং লেখক শামস চৌধুরী। তার সহধর্মিনী নাজনীন, দু'ছেলে শিহাব ও তালহা আর পুত্রবধূ অধরাকে নিয়ে পরিবার। তালহা সবার ছোট। সে আমেরিকার ভার্জিনিয়া রাজ্যের 'জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ে' ২য় বর্ষে আর শিহাব 'ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ড' এ শেষ বর্ষের ছাত্র। তালহা পড়ছে প্রি-মেড এ। লক্ষ্য: ডাক্তার হয়ে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের পাশে দাঁড়াবে।

লিখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও তালহা চৌকষ। ও এখন ১৮। এবছর ওয়াশিংটন ডিসি ক্রিকেট লীগে ১২টি ম্যাচে ৪৩টি উইকেট আর ৮ শতাধিক রান করে তালহা Most Valuable Crickter of the Year and Best Wicket Taker হিসেবে মনোনীত/পুরস্কৃত হয়েছে।

অফস্পিন আর ব্যাটসম্যান হিসেবে সে ভালো একজন অলরাউন্ডার। আমেরিকার জাতীয় ক্রিকেট দলে ডাক পেয়েছে বেশ আগেই। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কয়েকজন সফল ক্রিকেটার ও নির্বাচক খুব পছন্দ করে তালহাকে। তারা মনে করে তালহার মধ্যে বাংলাদেশকে দেবার মতো অনেক প্রতিভা লুকিয়ে আছে। তাই জানুয়ারী ২০২০-এ অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় অংশ নেবার জন্যে বাংলাদেশে অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দেবার জন্যে ডাক দিয়েছে জাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচকমন্ডলী। প্রাথমিকভাবে দ্বিধা-দ্বন্দে থাকলেও এখন ক্রিকেট জগতে তালহার জন্যে শুভকামনা করছে তার বাবা ।তিনি ছেলের জন্য দোয়া চেয়েছেন সবার কাছে।

বিস্তারিত খবর

বিশ্বকাপ ক্রিকেট শুরু, প্রথম জয় ইংল্যান্ডের

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৫-৩০ ১৫:২৬:২৫

২০১৯ বিশ্বকাপের সবচেয়ে ফেভারিট দল ধরা হয়েছে যাদের তারাই আজ দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে আসরের শুরুটা করল ফেভারিটের মতো করে। দক্ষিণ আফ্রিকা পাত্তাই পেল না স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে।

লন্ডনের ওভালে টস টা জেতা হয়নি ইংল্যান্ডের। টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পায় প্রোটিয়া অধিনায়কের ফাফ ডূ পিএসির কাছ থেকে। নিজেদের মাঠে ইংল্যান্ড কতটা ভয়ানক সেটির প্রমাণ বিশ্বকাপের আগেই দিয়েছে। যদিও আজ তেমনটা খেলতে পারেনি ব্যাট হাতে।

প্রোটিয়া লেগ স্পিনার ইমরান তাহিরের করা ইনিংসের প্রথম ওভারেই শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন জনি বেয়ারেস্ট্রো। এরপর দ্বিতীয় জুটিতে আসে জোড়া অর্ধশতক। দুই নম্বর জুটিতে জেসন রয় ও জো রুটের ব্যাট থেকে আসে ১০৭ রান। রয় করেন ৫৪ আর রুট করেন ৫১ রান।

এই দুইজনের বিদায়ের পর আবারও জোড়া অর্ধশতক আসে এউইন মরগ্যান আর বেন স্টোকসের ব্যাটে। মরগ্যানকে ৫৭ রানে থামান ইমরান তাহির। এরপর বেন স্টোকসের ৮৯ রানে ভর করে ৫০ ওভারে ৩১১ পর্যন্ত তুলতে পারে ইংলিশরা।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩ উইকেট নেন নিগিদি। ২টি করে উইকেট নেন ইমরান তাহির ও কাগিসো রাবাদা আর ১ উইকেট নেন অ্যান্ডিল ফেহলুকায়ো।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ব্যক্তিগত ৫ রানের মাথায় জোফরা আর্চারের বাউন্সে মাথায় আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন ওপেনার হাশিম আমলা। এরপরেই যেন দিক ভুলে যান প্রোটিয়ারা।

ইংলিশ পেসার জোফরা আর্চারের কাছে ভেঙে পড়ে প্রোটিয়াদের টপ অর্ডার। এইডন মার্কারামকে ১১ আর ফাফ ডু প্লেসিকে ৫ রানে ফেরান বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে।

এরপর ভেন ডার ডুসেন ও ওপেনার কুইন্টন ডি ককের ৮৫ রানের জুটিও বিপদ মুক্ত করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকাকে।

ডি কককে ৬৮ রানে ফেরান লিয়াম প্লাঙ্কেট আর ডুসেনকে ৫০ রানের মাথায় ফেরান সেই আর্চার।

অ্যান্ডিল ফেহলুকায়ো যখন প্রোটিয়াদের আশা দেখাচ্ছিলেন তখন আবারও ব্যাট করতে আসেন হাশিম আমলা। আর্চারকে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে যেই ছয় হাঁকাতে গেলেন ফেহলুকায়ো, ঠিক সেই জায়গায় যে ক্যাচটা ধরলেন বেন স্টোকস সেটা হয়তো টুর্নামেন্টের সেরা ক্যাচ হয়েই থাকবে।

অ্যান্ডিল ফেহলুকায়ো ২৪ রানে ফেরার ৪ ওভার পরেই আমলাকে ১৩ রানে ফেরান প্লাঙ্কেট।

এরপরই স্বপ্ন ভঙ্গের শুরু দক্ষিণ আফ্রিকার। ৩১২ রানের লক্ষ্য টপকাতে নেমে ২০৭ রানেই থামতে হলো ৩৯.৪ ওভারে।

স্বাগতিক ইংল্যান্ড মাঠ ছাড়ে ১০৪ রানের রাজকীয় জয় নিয়ে। আর্চার নেন ৩টি, ২টি করে উইকেট নেন লিয়াম প্লাঙ্কেট ও বেন স্টোকস আর ১টি করে উইকেট নেন আদিল রশীদ ও মঈন আলী।

বিস্তারিত খবর

এবার ক্রিকেট বিশ্বকাপে যোগ হচ্ছে ‘লাল কার্ড’

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৫-২৯ ১৩:২২:১১

বৃহস্পতিবার (৩০মে) ওভালে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে দ্বাদশতম ক্রিকেট বিশ্বকাপের আসর। টানা ৪৬ দিনে ৪৮ ম্যাচের এ বিশ্বকাপের পর্দা নামবে ১৪ জুলাই, লর্ডসে।

আসরটিকে ঘিরে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। এদিকে শুরু হওয়া এই বিশ্বকাপে থাকছে লাল কার্ড দেখানোর নিয়ম। মাঠে ক্রিকেটারদের খারাপ ব্যবহার বন্ধ করার জন্য 'লাল কার্ড' অর্থাৎ খেলোয়াড়কে মাঠ থেকে বের করে দেয়া এবং বিপক্ষকে পাঁচ রান বোনাস দেয়ার আইন চালুর পর এবারই প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপ হচ্ছে।

এই নিয়ম চালুর পর ক্রিকেটারের সম্ভাব্য অসদাচরণকে চার স্তরে ভাগ করা করা হয়েছে।

লেভেল ওয়ান: অতিরিক্ত আপিল করা বা আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত না মানার ভাব দেখানো। শাস্তি হচ্ছে সতর্কবাণী, আর দ্বিতীয়বার একই কাজ করলে শাস্তি হিসেবে বিপক্ষকে পাঁচ রান দেয়া হবে।

লেভেল টু: কোন খেলোয়াড়ের দিকে বল ছোঁড়া বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে গায়ে গা লাগানো। শাস্তি : বিপক্ষের জন্য পাঁচটি পেনাল্টি রান।

লেভেল থ্রি: আম্পায়ারকে ভীতি প্রদর্শন, অন্য কোন খেলোয়াড় কর্মকর্তা বা দর্শককে আক্রমণের হুমকি দেয়া। শাস্তি : বিপক্ষকে পাঁচটি পেনাল্টি রান, এবং দোষী খেলোয়াড়কে নির্দিষ্ট সংখ্যক ওভারের জন্য মাঠ থেকে বের করে দেয়া।

লেভেল ফোর: আম্পায়ারকে হুমকি বা মাঠে কোন ধরনের সহিংস আচরণ। শাস্তি : বিপক্ষকে পাঁচটি পেনাল্টি রান এবং দোষী ক্রিকেটারকে ম্যাচের বাকি সময়টুকুর জন্য মাঠ থেকে বের করে দেয়া।

এর আগে ২০০৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচে অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড। দুই দলই ম্যাচটিকে খুবই হালকা ভাবে নিয়েছিল। জার্সিও পরেছিল আশির দশকের জার্সির মতো। অস্ট্রেলিয়া একপেশে ভাবেই জিতে নিয়েছিল ম্যাচটি। আর ফল নিশ্চিত দেখে ম্যাচের শেষ বলটিতে ম্যাকগ্রা আন্ডারআর্ম ডেলিভারি দিয়েছিলেন। মানে হাত না ঘুরিয়ে বল গড়িয়ে দেন।

কম যান না আম্পায়ার বিলি বাউডেনও। আন্ডারআর্ম বল করার পর বিলি পকেট থেকে একটা লাল কার্ড বের করে ম্যাকগ্রাকে দেখিয়ে দিলেন! যদিও পুরো ঘটনাটিই মজা ছিল। ওই ঘটনাটি মজার হলেও এবার ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য ক্রিকেট বিশ্বকাপে চালু হল লাল কার্ডে প্রচলন।

বিস্তারিত খবর

ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতল টাইগাররা

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৫-১৭ ১৬:১০:১০

প্রথমে সৌম্য সরকারের ঝড়, এরপর শেষ দিকে এসে ঝড় তুললেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সৌম্যর ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরির পর মোসাদ্দেকের ২০ বল হাফ সেঞ্চুরি। এই দুই ঝড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে এই প্রথম নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে কোনো টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে ফাইনাল জিতল বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের এ কাব্যিক জয়ের মূল কারিগর সৌম্য সরকার আর মোসাদ্দেক হোসেন।

ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ২৪ ওভারে ২১০ রানের বিশাল লক্ষ্য পাড়ি দিতে নেমে মোসাদ্দেকে ঝড়ের সামনে ৭ বল হাতে রেখেই চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। ২৪ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ২১০ রান। কঠিন সমীকরণ মেলাতে গিয়ে ১৫.৪ ওভারেই ১৪৩ রানে ৫ উইকেট হারাল বাংলাদেশ। ৪৮ বলে দরকার ৬৫ রান। জয়ের স্বপ্ন কি এবারও অধরা থাকবে? ঠিক এই সময়ই আবির্ভাব মোসাদ্দেকের।

১৮ বলে যখন দরকার ২৭ রান, ম্যাচটা চকিতে নিজেদের হাতের মুঠোয় আনলেন মোসাদ্দেক। অ্যালেনের করা ২২তম ওভারে ৬, ৬, ৪, ৬, ২, ১—২৫ রান তুলে এক ঝটকায় সমীকরণ করে ফেললেন একেবারে সহজ। এরই ফাঁকে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডও গড়লেন মোসাদ্দেক।

এর আগে ওপেনার সৌম্য সরকারের ব্যাটে জয়ের স্বপ্নটা চওড়া হচ্ছিল খুব। ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে সেটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ৪১ বলে ৬৬ রান করার পর সৌম্য বিদায় নিতেই জয়ের কাজটা ধীরে ধীরে কঠিন হতে শুরু করে।

মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুনরাও চেষ্টা করেন রানের চাকা সমানতালে এগিয়ে নিতে। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় সেটা হয়েছে আরো কঠিন। দলীয় ১০৯ রানের মাথায় রেমন রেইফারের স্পিন ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অনে সেলডন কটরেলের হাতে ধরা পড়েন সৌম্য। মুশফিকুর রহিম করেন ২২ বলে ৩৬ রান। মিঠুনের ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে ১৭ রান।

এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথমে ব্যাট করে ২৪ ওভারে করে ১৫২ রান। আর ফাইনাল জিততে ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২১০ রান। জয়ের জন্য ২১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনাই করে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকারের উড়ন্ত সূচনার পর ৫.৩ ওভারেই তারা গড়ে ফেলে ৫৯ রানের জুটি। এরপর ১৩ বলে ১৮ রান করে আউট হয়ে যান তামিম ইকবাল।

তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন সাব্বির রহমান। কিন্তু যে কারণে তাকে আগে নামানো হলো, সেটা মোটেও কাজে লাগলো না। শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে কোনো রান না করেই ফিরে গেলেন সাব্বির রহমান। সাকিব আল হাসান না থাকার অভাবটা ভালোই টের পাওয়া গেলো। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু মুশফিককে বিদায় করে দিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দেন রেইফার। মুশফিক বিদায় নেন ২২ বলে ৩৬ রান করে। সেই বিপদ আরও বেড়ে যায় মোহাম্মদ মিঠুন দারুণ কিছু শট খেলে ১৭ রানে ফিরলে। তাকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ফাবিয়ান অ্যালেন। এরপর অবশ্য আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সৌম্যর গড়ে দেয়া মঞ্চে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে প্রথমবার কোনও টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন করিয়ে মাঠ ছাড়েন মোসাদ্দেক হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ।

মোসাদ্দেকের হাতে সমাপ্তি, কিন্তু শুরুটা করেছিলেন সৌম্য সরকার। বাঁহাতি ওপেনারের ৪১ বলে ৬৬ রানের দুর্দান্ত ওই ইনিংসটা গড়ে দিয়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের ভিত্তি। বৃষ্টিবাধায় ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে আসায় কঠিন লক্ষ্য, আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন—সব বাধা উতরে বাংলাদেশ দূর করেছে অতীতের ৬টি ফাইনাল হারের দুঃখ। লিখেছে নতুন ইতিহাস।

বিস্তারিত খবর

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগারদের জয়

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৫-১৫ ১৬:০৬:৪৭

ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে আগেই। ফলে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচটি ছিল নিছক আনুষ্ঠানিকতার। সেই আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচটিও সহজেই জিতে নিল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার আয়ারল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা।

আজকের ম্যাচে একাদশ নিয়ে কিছুটা পরীক্ষা নিরীক্ষার চালিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। কয়েকটি পরিবর্তন এনেছিল বাংলাদেশ। ধারাবাহিক সৌম্য সরকারকে বিশ্রামে দিয়ে বাজিয়ে দেখেছে লিটন দাসকে। আর সুযোগ পেয়েই তা কাজে লাগিয়েছেন এই ওপেনার। তামিম ইকবালের সাথে গড়েছেন শতরানের জুটি। সেই সাথে নিজে খেলেছেন ৭৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। এছাড়া সাকিব আল হাসান ব্যাট হাতে আজও ছিলেন উজ্বল। আহত হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে করেছেন ৫০ রান।

হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন তামিম ইকবালও। বাঁ-হাতি এই ওপেনার ৫৩ বলে করেছেন ৫৭ রান। টপ অর্ডারের এমন সাফল্যে সহজেই আইরিশদের দেওয়া বড় রানের চ্যালেঞ্জ টপকে গেছে বাংলাদেশ।

এদিন প্রথমে ব্যাট করে পল স্টার্লিং ও উইলিয়ামস পোর্টারফিল্ডের ব্যাটে ভর দিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৯২ রান সংগ্রহ করে আয়ারল্যান্ড। দুইজন মিলে গড়েছেন ১৭৪ রানের জুটি। মাশরাফি-সাকিবদের হতাশায় পুড়িয়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন স্টার্লিং। ৪টি ছক্কা ও ৮টি চারে সাজিয়ে ১৪১ বলে ১৩০ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন এই ওপেনার। পোর্টারফিল্ড করেছেন ৯৪ রান।

গত ম্যাচে অভিষিক্ত আবু জায়েদ রাহী ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচে ছিলেন উইকেট শূন্য। তবে দ্বিতীয়বার সুযোগ পেয়েই কাজে লাগিয়েছেন তা। তুলে নিয়েছেন ৫ উইকেট। রুবেল হোসেন নিয়েছেন ১ উইকেট। তবে বল হাতে আজ বাজে দিন গিয়েছে সাকিব আল হাসানের। গত দুই ম্যাচের সবচেয়ে কৃপণ বোলারটির আজ ইকোনোমি ছিল সাতের ওপরে।

এদিকে জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪২ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। টপ অর্ডারের সাফল্যকে দারুণ ফিনিশিং দেন মাহমুদউল্লাহ। ৪৩ রানে অপরাজিত থেকে ৪৩ ওভারে বাংলাদেশকে পৌঁছে দেন ২৮৯ রানে। আজই প্রথম ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছেন সাব্বির রহমান। তবে একেবারে শেষ দিকে। ফলে সাত বলে অপরাজিত ২ রান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাকে। মুশফিকুর রহীম করেছেন ৩৫ রান। আজকের ম্যাচে প্রথম সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন আউট হয়েছেন ব্যক্তিগত ১৪ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

আয়ারল্যান্ড : ২৯২/৮ (৫০ ওভার) (স্টার্লিং ১৩০, পোর্টারফিল্ড ৯৪, উইলসন ১২; রাহী ৫/৫৮, সাইফুদ্দিন ২/৪৩, রুবেল ১/৪১)।

বাংলাদেশ : ২৯৪/৪, (৪৩ ওভার) (লিটন ৭৬, তামিম ৫৭, সাকিব ৫০, মুশফিক ৩৫, মাহমুদউল্লাহ ৩৫*, মোসাদ্দেক ১৪, সাব্বির ৭*; রানকিন ২/৪৮)।

ফলাফল : বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : আবু জায়েদ রাহী।

বিস্তারিত খবর

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৫-১৩ ১৭:২৭:৩৯

ত্রিদেশীয় সিরিজে যেমনটা আশা করা হয়েছিল, ঠিক তেমনটাই হয়েছে। ফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়েই ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আয়ারল্যান্ড গিয়েছিল বাংলাদেশ। যদিও স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ঘরের মাঠে কম শক্তিশালী না। তার উপর সিরিজের প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে ১৯৬ রানে হারিয়ে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

টাইগাররা সেই ভয় জয় করেছিল সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথম ম্যাচে হারিয়ে যখন স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডকে হারানোর ভাবনা, তখনই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বৃষ্টি। একটা ম্যাচ পণ্ড। সমান দুই পয়েন্ট পায় দুই দল।

আজ সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে বাংলাদেশ নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় ডাবলিনে।

টস জিতে ক্যারিবিয় অধিনায়ক সিদ্ধান্ত নেন প্রথমে ব্যাট করার। প্রতিপক্ষের দুই উদ্বোধনী শাই হোপ আর সুনীল অ্যামব্রিস জুটি এগোতে পারেনি বেশিদূর। অ্যামব্রিসকে ২৩ রানে থামিয়ে দেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

এরপর টানা ৩ উইকেট পড়ে যায় খুব দ্রুতই। ডোয়াইন ব্রাভোকে ৬ রানে মেহেদী মিরাজ, রোস্টন চেজকে ১৯ ও জনাথন কার্টারকে মাত্র ৩ রানে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান।

এর ভেতর শাই হোপ আর জেসন হোল্ডার গড়ে ফেলেন শতরানের জুটি। এই জুটি ভাঙেন মাশরাফি। হোপকে আজ আর শতক হাঁকাতে দেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। দলকে আশাহত করে হোপ ফেরেন ৮৭ রানে। এরপর হোল্ডারকেও ফেরান তিনি ব্যক্তিগত ৬২ রানের মাথায়।

৫০ ওভার শেষ উইন্ডিজদের দলীয় রান হয় ৯ উইকেটে ২৪৭। নিজের অভিষেক ম্যাচে ৯ ওভার বোলিং করলেও কোনও উইকেট পাননি তিনি, দিয়েছেন ৫৬ রান। মাশরাফি নেন ৬০ রানে ৩ উইকেট। মিরাজ নেন ১টি, সাকিবের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১০ ওভারে দেন মাত্র ২৭ রান, নেন ১টি উইকেট।

মুস্তাফিজ আজ গত ম্যাচের মতো খরুচে ছিলেন না। ১০ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেয়া ২৪৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে গত ম্যাচে অর্ধশত রানের ইনিংস খেলা দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল আর সৌম্য সরকার আজও শুরু করেন সাবধানী ব্যাটিংয়ে।

কিন্তু আগে থামতে হলো তামিমকে। দলীয় ৫৪ রানের মাথায় ২১ রানে তামিমকে ফেরান অ্যাশলে নার্স।

সৌম্য-সাকিবের জুটিটা বড় হচ্ছিল কিন্তু এতেও বাধ সাধে নার্স। সাকিবকে ২৯ রানে ফেরান এই স্পিনার। সৌম্য তুলে নেন সিরিজে টানা দ্বিতীয় অর্ধশতক।

সৌম্য ফিরে গেলেন ৫৪ রান করে সেই নার্সের বলেই। এরপর মুশফিক-মিথুনের জুটিতে জয়ের আভাস। দুজনেই খেলছিলেন সমানতালে। এখানে বাধা দিলেন জেসন হোল্ডার। মিথুনকে ৪৩ রানের মাথায় বোল্ড করেন ক্যারিবিয় অধিনায়ক।

মিথুনের ফেরাতেও থেমে যাননি মুশফিক, বরং তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৩৩ তম অর্ধশতক। মাহমুদুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় শেষের পথেই। তখনই খেই হারান দলীয় ২৪০ রানের মাথায় কেমার রোচের বলে ৬৩ রানে।

শেষ পর্যন্ত মাহমুদুল্লাহ আর সাব্বির মিলে শেষ করে আসেন ম্যাচ। ১৫ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে সিরিজে দ্বিতীয়বার পরাজয়ের স্বাদ দেন ক্যারিবিয়দের। মাহমুদুল্লাহ করেন অপরাজিত ৩০ রান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৩ উইকেট নেন অ্যাশলে নার্স। এছাড়া ১টি করে উইকেট নেন কেমার রোচ ও জেসন হোল্ডার।

বিস্তারিত খবর

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে টাইগারদের দুর্দান্ত শুরু

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৫-০৭ ১৭:০৩:৪২

নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাই হয়ে ফিরেছিল বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডে আবার উলভসের কাছে প্রস্তুতি ম্যাচে হার। ডাবলিনে মঙ্গলবার ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তাই চাপে ছিল মাশরাফিরা। তবে শুরুর ম্যাচে দারুণ ফর্মে থাকা উইন্ডিজকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছে টাইগাররা। ত্রিদেশীয় সিরিজ বলেন কিংবা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি, টাইগাররা শুরু করেছে দুর্দান্ত।

বাংলাদেশ দলের হয়ে দারুণ ব্যাট করেছেন টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ২৬২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে তাই বেগ পেতে হয়নি স্টিভ রোডসের শিষ্যদের। দুই ওপেনার তামিম এবং সৌম্য সরকার গড়েন ১৪৪ রানের দারুণ এক জুটি। ওই জুটিতেই ম্যাচ টাইগারদের পক্ষে চলে আসে। পরে সৌম্য-তামিম বড়-সড় ফিফটি করে ফেরেন। তবে ম্যাচ নিয়ে কোন শঙ্কা তৈরি হতে দেননি সাকিব এবং মুশফিক।

দেশের মাটিতে ঘরোয়া ক্রিকেটে টানা দুই সেঞ্চুরি করে উড়ন্ত আত্মবিশ্বাস নিয়ে আয়ারল্যান্ডে গেছেন সৌম্য। জাতীয় লিগে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে গড়েছেন ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড। সেই ফর্ম জেসন হোল্ডারদের বিপক্ষেও দেখান তিনি। নয় চার এবং এক ছয়ে ৬৮ বলে খেলেন ৭৩ রানের ইনিংস। ফেরেন ড্যারেন ব্রাভোর হাতে দারুণ এক ক্যাচ হয়ে। ধীরে খেলা তামিম সেঞ্চুরির আশা জাগাচ্ছিলেন। কিন্তু তিনিও ১১৬ বলে ৮০ রান করে ফেরেন।

বাকি ধাপটা পাড়ি দেন সাকিব আল হাসান এবং মুশফিকুর রহিম। প্রস্তুতি ম্যাচে উলভসের বিপক্ষে ফিফটি পাওয়া সাকিব এ ম্যাচে ৬১ বলে ৬১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তিনটি চারের পাশাপাশি দুটি ছক্কা হাঁকান তিনি। সঙ্গে মুশফিক দুই চার ও দুই ছয়ে ২৫ বলে ৩২ রানের হার না মানা ঝকঝকে এক ইনিংস খেলেন। বাংলাদেশ দল হাতে ৩০ বল রেখে সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

এর আগে টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভয় ধরানোর মতো ব্যাটিং শুরু করে। আগের ম্যাচে তারা ডাবলিনে রেকর্ড রান তুলেছে। মাশরাফিদের বিপক্ষেও শাই হোপ এবং সুনীল আমব্রিস বিনা উইকেটে ৮৯ রান তুলে ফেলেন। তবে তাদের ইনিংসের মাঝপথে মাশরাফি এবং সাইফউদ্দিন লেজ টেনে ধরেন। মাশরাফি ১০ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। সাইফউদ্দিন ১০ ওভারে ৪৭ রান খরচায় নেন ২ উইকেট। মুস্তাফিজ দুটি উইকেট নিলেও দিয়ে বসেন ১০ ওভারে ৮৪ রান। এছাড়া মেহেদি মিরাজ এবং সাকিব আল হাসান একটি করে উইকেট নেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করা শাই হোপ এ ম্যাচেও শত রানের ইনিংস খেলেন। তিনি ১০৯ রানে মাশরাফির বলে আউট হন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এছাড়া উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্রুত দুই হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।রোস্টন চেজ করেন ৫১ রান। তিনিও মাশরাফির শিকারে পরিণত হন।

বিস্তারিত খবর

বিশ্বকাপের ফটোসেশনে ছিলেন না সাকিব, অসন্তুষ্ট বোর্ড সভাপতি

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৪-২৯ ১৫:৫৪:৩৯

বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচন হয়েছে। সে উপলক্ষ্যে ফটোসেশন করেছে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের সদস্যরা। তবে সেখানে ছিলেন না দলের অন্যতম সদস্য সাকিব আল হাসান। সাকিব না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

আগেই জানা গিয়েছিল, বিশ্বকাপ জার্সির উন্মোচন হবে সোমবার। তার আগে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। আয়ারল্যান্ড সফরের আগে সংবাদ সম্মেলন হলেও আলোচনা হয় মূলত বিশ্বকাপের বিষয় নিয়েই।

সংবাদ সম্মেলন শেষে খেলোয়াড়দের নিয়ে বসেছেন বোর্ড প্রধান। তারপর সবাইকে নিয়ে মধ্যাহ্ণভোজে বসেন তিনি। ফলে ফটোসেশন শুরু হতে হতে বিকেল চারটা। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জার্সি পরেই ফটোসেশন বলেই এত কৌতুহল ছিল।

ফটোসেশনে কৌতুহল তো মিটল, কিন্তু জন্ম নিল নতুন এক প্রশ্ন! ফটোসেশনে বিশ্বকাপ দলের অন্যসব সদস্য থাকলেও ছিলেন না সাকিব। বিশ্বকাপে যিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাণভোমরা। অথচ আইপিএলল শেষে গতকালই দেশে ফিরেছেন তিনি।

স্বভাবতই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আজ দলের অনুশীলণেও ছিলেন তিনি। কিন্তু তারপরই কাউকে কিছু না জানিয়ে চলে যান এই অল রাউন্ডার। এমতন অনুষ্ঠানে কেন নেই সাকিব- এই প্রশ্নের জবাবে অনেকটা অসন্তোষের স্বরে বোর্ড সভাপতি বলেছেন, “দুঃখজনক। আর কি বলব। এটা দলের ফটোসেশন ছিল। আমি এসেই যখন ঢুকছি তখন ফোন করেছিলাম সাকিবকে। কোথায় তুমি, বলল ‘আমি তো চলে এসেছি। আপনার বাসায় আসব রাত্রে। আমি বললাম ‘এখনি তো দেখা হওয়ার কথা’। সে বলল ‘আমি তো বেরিয়ে গিয়েছি’। আমি এসে জিজ্ঞেস করে জানলাম যে ওকে আগেই জানানো হয়েছিল যে আজ ফটোসেশন। জাতীয় দল যাচ্ছে, একসঙ্গে ফটোসেশন। সবাই থাকবে। আশা করেছিলাম সে থাকবে, কিন্তু সে নাই।”

সাকিবের এমন অনুপস্থিতি দলের ইউনিটিতে কোন প্রভাব ফেলবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে পাপন জানালেন, সাকিবের এমন আচরণে দলের অন্যরা অভ্যস্ত হয়ে গেছে। বিষয়টাকে তিনি সাকিবের জন্যই দুর্ভাগ্য মনে করছেন, ‘আমি মনে করে এটা ওর জন্যই দুর্ভাগ্য। ও যে আমাদের বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে থাকতে পারল না ফটোসেশনে, আমি মনে করি ওরই কপাল খারাপ।’

তবে যেহেতু বুধবারই দল দেশ ছাড়ছে তাই বিষয়টা নিয়ে আপাতত চুপ থাকছে বোর্ড। সেই সাথে এই বার্তাও দিয়ে রাখলেন বিষয়টা মেনে নেবে না বোর্ড, ‘ ‘প্রশ্নই উঠে না। (সাকিবের মেজাজ বুঝে চলা)। যেহেতু পরশু দিন দল চলে যাচ্ছে এটা নিয়ে তাই বেশি কিছু বলতে চাইছি না। তবে আমি মনে করি এটা দুঃখজনক।’

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত