যুক্তরাষ্ট্রে আজ শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 11:47pm

|   লন্ডন - 06:47pm

|   নিউইয়র্ক - 01:47pm

  সর্বশেষ :

  ডিসেম্বর থেকে লন্ডন-ঢাকা রুটে বাড়ছে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট   এরদোগানের প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব   চীনের সেনাবাহিনীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুনঃসংশোধনের দাবি সুজনের   চট্টগ্রামের অস্ত্রধারী সেই ছাত্রলীগ নেতার অস্ত্র উদ্ধার   ইরানে সামরিক কুচকাওয়াজে হামলা, নিহত ২৪   ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যেই জাতীয় ঐক্য : ড. কামাল   মালয়েশিয়ায় ৫৫ অবৈধ বাংলাদেশি আটক   আলোচনায় চেয়ে মোদিকে ইমরানের চিঠি   অন্তর্জ্বালা থেকে মনগড়া ও ভুতুড়ে কথা বলেছেন সিনহা : কাদের   ফিলিপাইনে ভূমিধস, ১২ জনের মৃত্যু   বিশ্বে প্রতি ৫ সেকেন্ডে ১ শিশু মারা যায়   ঢাকায় পুলিশের লাঠিপেটায় বাম জোটের ঘেরাও কর্মসূচি পণ্ড   বাংলাদেশে বছরে একলাখ লোক ক্যান্সারে মারা যায়   রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বব্যাংকের ৪১০ কোটি টাকা সহায়তা

>>  খেলাধুলা এর সকল সংবাদ

বাহরাইনকে ১০ গোল দিল বাংলাদেশের মেয়েরা

বাংলাদেশের মেয়েদের মাঠে নামা আর গোল উৎসব এখন নিয়মিত দৃশ্য। সোমবার আরও একবার সেই দৃশ্যের দেখা মিলল ঢাকায়। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের ‘এফ’ গ্রুপের বাছাইপর্বে বাহরাইনকে ১০-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। তাতে এই বাছাই আসরে উড়ন্ত সূচনা হলো স্বাগতিক মেয়েদের।

কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় মুখোমুখি হয় দুই দল। প্রথমার্ধেই ৫-০ গোলে লিড নেয় লল-সবুজের মেয়েরা। ব্যবধান হতে পারতো আরও বড়। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের ৫টি গোল বাতিল হয়েছে অফসাইডে।

বাংলাদেশের পক্ষে জোড়া গোল করছেন আনুচিং মগিনি, মারিয়া মান্ডা ও

বিস্তারিত খবর

সাফ ফুটবল: টস ভাগ্যে চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-১৫ ১২:৫৩:৫০

ভাগ্যদেবী কী বরটাই না দিল মালদ্বীপকে। যে মালদ্বীপ গ্রুপ পর্বে একটিও জয় পায়নি। দুই ম্যাচ থেকে মাত্র ১ পয়েন্ট সংগ্রহ করে সেমিফাইনালে যেতে পারবে কিনা সেটাও ছিল এক সময় অনিশ্চিত। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সমান পয়েন্ট, সমান গোল গড় ও কার্ড মিলিয়ে ছিল সমানে-সমান। এই সমতা ভাঙতে আয়োজকদের শেষ পর্যন্ত টসের আশ্রয় নিতে হয়। টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় মালদ্বীপ সেমিফাইনালে যাওয়ার টিকিট পায়।

এরপর কী খেলাটাই না খেলল তারা। সেমিফাইনালে সাফের দ্বাদশ আসরের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল নেপালকে ৩-০ গোলে গুড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে ওঠে। আর ফাইনালে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে সফল দল ভারতকে ২-১ গোলে হারিয়ে সাফের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলেছে মালদ্বীপ। অথচ গ্রুপ পর্বে ২-০ ব্যবধানে ভারতের কাছে হেরেছিল দ্বীপরাষ্ট্রটি। ফাইনালে মধুর প্রতিশোধ নিল তারা। পাশাপাশি ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের কাছে ফাইনালে টাইব্রেকারে ৩-১ গোলে হারের প্রতিশোধও নিল পিটার সেগ্রেটের শিষ্যরা।

গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে মালদ্বীপ। এরপর ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে হেরে যায়। দুই ম্যাচ খেলে মাত্র ১ পয়েন্ট সংগ্রহ করায় মালদ্বীপের পত্রিকাগুলো কোচকে এক হাত নেয়। তাতে বেশ ক্ষুব্ধ হন মালদ্বীপের কোচ। সেমিফাইনাল পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তার ক্ষোভ ঝেরে বলেন আমরাই ফাইনাল উঠব। তার এমন উদ্যত ও অতি আত্মবিশ^াসী বক্তব্যে নেপালের সাংবাদিকরা তো বটেই, বাংলাদেশের সাংবাদিকরাও মুখ চেপে খুব হেসেছিলেন। পরিকল্পনা করেছিলেন সেমিফাইনালে হেরে গেলে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ধরবেন। অবশ্য সেগ্রেটের শিষ্যরা তার মুখ রাখেন। বৃষ্টি বিঘিœত ম্যাচে নেপালকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পায় মালদ্বীপ। ম্যাচ শেষে চওড়া হাসি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সিগ্রেট। করমর্দন করেন সকল সাংবাদিকদের সঙ্গে।

ফাইনাল ম্যাচের আগে অবশ্য তিনি অতি আত্মবিশ^াসী কথা বলেননি। ১৩৩ কোটি জনসংখ্যার ভারতকে বেশ সমীহ করেন। ভারতের ট্যালেন্টের প্রশংসা করেন। তবে ইঙ্গিত দিয়ে রাখেন সেরাটা দেওয়ারও। তার শিষ্যরা সেরাটা দিয়েছেও বটে। শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের ম্যাচের ১৯ মিনিটেই লিড নেয় মালদ্বীপ। এ সময় মালদ্বীপের ফরোয়ার্ড নাইজ হাসান ডি বক্সের সামনে বল বল বাড়িয়ে দেন ইব্রাহিম হোসেনকে। তিনি ভারতের গোলরক্ষক বিশাল কাইথকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠান (১-০)। তার গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মালদ্বীপ।

বিরতির পর আবারো ব্যবধান বাড়ায় মালদ্বীপ। এ সময় দুর্দান্ত এক গোল করেন মালদ্বীপের আলী ফাসির। ডি বক্সের সামনে তাকে বল বাড়িয়ে দেন হামজাত মোহাম্মেদ। বল নিয়ে দ্রুততার সঙ্গে ঢুকে পড়েন ফাসির। তার সামনে ছিল কেবল ভারতের গোলরক্ষক। তার ডান পাশ দিয়ে আলতো টোকায় বল পাঠিয়ে দিয়েই উল্লাসে মেতে ওঠেন ফাসির। জার্সি খুলে বুনো উল্লাস করতে থাকেন। অবশ্য তার আলতো টোকার বল রুখতে গিয়েছিলেন ভারতের নিখিল চন্দ্র শেখর। কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারেননি। তিনি বলের কাছে যাওয়ার আগেই বল গোললাইন অতিক্রম করে।

অবশ্য যোগ করা সময়ের শুরুতে একটি গোল করে ভারত আশা জাগিয়ে তুলেছিল। ম্যাচের ৯০+২ মিনিটে সুমিত পাসি গোল করে ব্যবধান কমান। তাকে গোলে সহায়তা করেন নিখিল। তবে তার গোলটি পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে এই ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে সাফের প্রথম শিরোপা জিতেছিল মালদ্বীপ। সেই ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে শনিবার হারিয়ে দ্বিতীয় শিরোপা শোকেসে তুলল তারা।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

১৫ সেপ্টেম্বর শুরু এশিয়া কাপ, দেশ ছাড়ল টাইগাররা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-০৯ ১৪:৩২:৫০

এশিয়া কাপ খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে ভিসা জটিলতায় যেতে পারেননি ওপেনার তামিম ইকবাল ও রুবেল হোসেন। একই কারণে দুবাইগামী বিমানে চড়া হয়নি ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন ও প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর।

টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান হজ থেকে দেশে ফিরে যুক্তরাষ্ট্রে যান। যেখান থেকেই দুবাইয়ে যোগ দেবেন। অন্যদের সবাই এদিন দেশ ছেড়েছেন। এমিরেটস এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইটটি টাইগারদের নিয়ে ঢাকা ছাড়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপের মিশন। যেখানে বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপে খেলবে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের সঙ্গে। ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও হংকং। উদ্বোধনী দিনেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ২০ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে টাইগাররা।

দুই গ্রুপ থেকে সেরা দুটি করে দল যাবে পরের পর্বে। সুপার ফোর পর্বে প্রত্যেকে একবার করে মুখোমুখি হয়ে একে অপরের। পয়েন্ট টেবিলের সেরা দুটি দল খেলবে ফাইনালে।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ: পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমির পথে বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-০৬ ১১:২৮:০৯

শেষ মুহূর্তে তপু বর্মনের গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ। সাফ সুজুকি কাপের ম্যাচে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় তুলে নিল স্বাগতিকরা। এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল জামাল ভূঁইয়া, তপু বর্মনরা। ছয় পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ এখন ‘এ’ গ্রুপে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে রয়েছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর গ্রুপ বাংলাদেশ নিজেদের শেষ ম্যাচে নেপালের মুখোমুখি হবে।

আজকের ম্যাচে জয়ের ফলে বাংলাদেশ সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেল। নেপালের বিপক্ষে জিতলে কিংবা ড্র করলেই বাংলাদেশ শেষ চারে খেলবে। আবার এদি যদি বাংলাদেশ হেরে যায় এবং অন্য ম্যাচে ভুটানের কাছে পাকিস্তান হারে তাহলে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠবে। শনিবার যদি বাংলাদেশ হারে এবং পাকিস্তান জয় পায় তাহলে বাংলাদেশ, নেপাল ও পাকিস্তানের পয়েন্ট সমান হবে। সেক্ষেত্রে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দুইটি দল সেমিফাইনালে খেলবে। আজ হারের মাধ্যমে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে ভুটানের।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ৬০ শতাংশ সময় ধরে বল দখলে রাখে স্বাগতিকরা। ৩৭ শতাংশ সময় ধরে বল নিয়ন্ত্রণে রাখে পাকিস্তান।

ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। বিরতি থেকে ফেরার পর দুই দলই গোল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। অবশেষে ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে সফল হয় বাংলাদেশ। গোলটি করেন তপু বর্মন। গোল উদযাপনের সময় জার্সি খুলে ফেলায় তপু বর্মনকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এর আগে ভুটানের বিপক্ষেও একটি গোল করেছিলেন তপু বর্মন। ম্যাচের বাকি সময়ে কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।  

এবার তৃতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আসর বসছে বাংলাদেশে। এর আগে ২০০৩ ও ২০০৯ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই টুর্নামেন্ট। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আর ২০০৯ সালে সেমিফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই হয়তো বাংলাদেশ আবারও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ: দুর্দান্ত জয়ে শুরু বাংলাদেশের

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-০৪ ১২:৫৪:৫৭

স্বাগতিক দেশ হলেও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সতর্ক শুরুর ঘোষণাই দিয়েছিল বাংলাদেশ। কারণটা হয়তো সাফের সর্বশেষ তিন আসরে বাংলাদেশ দলের পাফরম্যান্স। টুর্নামেন্টের সর্বশেষ তিন আসরের যে গ্রুপ পর্বের বাধাটাই পার হতে পারেনি লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। কিন্তু ১২তম আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মামুনুল-সুফিলদের পারফরম্যান্স যেন নতুন আশার সঞ্চার করেছে দেশের ফুটবলে।

৪ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার প্রথম দিনই মাঠে নামে বাংলাদেশ। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ভুটান। প্রায় দুই বছর আগে এই এশিয়ান কাপের প্রাক বাছাইয়ে ভুটানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরেই তলানিতে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশের ফুটবল দল। কিন্তু সাফ ফুটবলে ভুটানকে পাত্তাই দেয়নি জেমি ডের শিষ্যরা। ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়ে সাফে দুর্দান্ত সূচনা পেয়েছে স্বাগতিকরা।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসে বাংলাদেশি ফুটবলাররা। দর্শকরা নড়েচড়ে বসার আগেই ভুটানের জালে বল জড়ায় বাংলাদেশ। দলের প্রথম গোলটি আসে পেনাল্টি থেকে। প্রথম মিনিটেই কর্নার পায় বাংলাদেশ।

ওয়ালি ফয়সাল কর্নার কিক নেওয়ার সময় ডি বক্সের মধ্যে সাদউদ্দিনকে ফাউল করে বসেন ভুটানের ডিফেন্ডার থেরিং ধিরাজ। আর তাতে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

পেনাল্টি কিক থেকে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তপু বর্মন। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরতেও ধরা পড়ে প্রথমার্ধের অনুরূপ দৃশ্য। প্রথমার্ধের শেষ দিকে একটু ঝিমিয়ে পড়া বাংলাদেশকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দেখা গেল আরও শাণিত রূপে। বিরতি থেকে ফিরে এসে দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। ৪৭ মিনিটে মাহবুবুর রহমান সুফিলের এক চমৎকার ভলি থেকে আসে বাংলাদেশের দ্বিতীয় গোলটি।

ভুটানের রক্ষণভাগকে কোনো সুযোগ না দিয়েই ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুতগতিতে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন সুফিল। এরপরই ডান পায়ের জোরালো ভলিতে ভুটানের জালে বল জড়িয়ে দেন এই বাংলাদেশি ফরোয়ার্ড। ম্যাচের বাকি সময়ে আর গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। আর তাতে ২-০ ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বশেষে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে প্রায় দেড় দশক। কিন্তু ট্রফি ছুঁয়ে দেখা হয়নি লাল-সবুজের জার্সিধারীদের। দেড় দশকের ট্রফিশূন্যতাই নয়, সর্বশেষ তিন আসরের গ্রুপ পর্বই পার হতে পারেনি বাংলাদেশ।

তিন আসরে ৯ ম্যাচ খেলে মাত্র একটিতে জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। ৯ ম্যাচের মধ্যে ছয়টিতেই বাংলাদেশের সঙ্গী হয় পরাজয়। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। কিন্তু এবারের আসরে দুর্দান্ত সূচনা যেন গ্রুপ পর্ব পেরোতে হতে না পারার আক্ষেপটা ঘুচানোর ইঙ্গিতই দিচ্ছে!

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

৬ মাস নিষিদ্ধ সাব্বির

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-০১ ১২:৫২:০৬

একদিন আগেই জানা গিয়েছিল, শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ হচ্ছেন সাব্বির রহমান। শেষ পর্যন্ত সেটাই হতে চলছে। ১ সেপ্টেম্বর, শনিবার শুনানি শেষে সাব্বিরকে জাতীয় দল থেকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডিসিপ্লিনারি কমিটি।

সাব্বিরের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি এখন কেবল বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। তার অনুমোদন পেলেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এ ছাড়া জাতীয় দলের আরেক ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসন সৈকতকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার বিসিবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে এই তথ্য জানান বিসিবির পরিচালক ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক।

‘ডিসিপ্লিনারির দুটি শুনানি ছিলো। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত বলবো না; সুপারিশ বলবো, যা বোর্ড সভাপতির বরাবর দেওয়া হবে। সাব্বিরকে ছয় মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করার জন্য বোর্ড প্রধানকে সুপারিশ করবো। আর মোসাদ্দেককে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাকে সাবধানে চলতে বলা হয়েছে। নাসিরের বিষয়ে কোনো শুনানি হয়নি। ভবিষ্যতে তাকে ডাকা হতে পারে। ইনজুরির কারণে সে এমনিতেই খেলার বাইরে’, বলেন মল্লিক।

সর্বশেষ উইন্ডিজ সিরিজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দুই সমর্থককে হুমকি দিয়ে ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে সমালোচিত হন সাব্বির। সাব্বির অবশ্য দাবি করেন, তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়েছিল। কিন্তু বিসিবি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেয়।

সেই ঘটনার রেশ না কাটতেই সাব্বিরের গাড়িচালক এক মডেলের সঙ্গে ক্রিকেটারের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। অন্যদিকে গেল ২৬ আগস্ট যৌতুক নিরোধ আইনে মোসাদ্দেকের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার স্ত্রী সামিনা শারমিন সামিয়া।

ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ১ নং আমলি আদালত ১০ লাখ টাকার যৌতুকের মামলা করেন মোসাদ্দেক-পত্নী।

মোসাদ্দেক দাবি করেন, মামলার আগেই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এই মামলায় ব্যাপক সমালোচিত হন তিনি। এ জন্য তাকেও ডাকা হয় শুনানির জন্য। শুনানি শেষে তাকে সতর্ক করে দিয়েছে বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটি।

গেল ৩০ আগস্ট, বৃহস্পতিবার সাব্বির-মোসাদ্দেককে ডেকে পাঠায় ডিসিপ্লিনারি কমিটি। সেই অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর বিসিবি কার্যালয়ে হাজির হন জাতীয় দলের এই দুই ক্রিকেটার। কিন্তু বিসিবির সূত্রে জানা যায়, সাব্বিরকে ডেকে পাঠানো কেবলই আনুষ্ঠানিকতা। ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা একরকম চূড়ান্ত হয়ে আছে।

সাব্বিরের নিষেধাজ্ঞা আরও বেশি হতে পারত। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্টের বিশেষ অনুরোধে শেষ পর্যন্ত তা কমিয়ে ছয় মাসে আনা হয়। ২০১৯ বিশ্বকাপে তাকে জাতীয় দলে প্রয়োজন হতে পারে ভেবে শাস্তি কমানোর অনুরোধ করা হয়। শেষবারের মতো তাকে শোধরানোর সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হয় টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে।

নিষেধাজ্ঞার ঘটনা সাব্বিরের জন্য এটাই প্রথম নয়। গেল বছরের ডিসেম্বরে রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ম্যাচ চলাকালে কিশোর ভক্তকে পিটিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ হন সাব্বির।

নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি জরিমানা হিসেবে দেন ২০ লাখ টাকা। বাদ পড়েন বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও। ছয় মাসের সেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে চলতি বছরের জুনে। দুই মাসের ব্যবধানে আবারও নিষেধাজ্ঞায়ে পড়তে যাচ্ছেন সাব্বির।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ৬ মাসের সেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি চলার সময় ড্রেসিংরুমে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান সাব্বির। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শেষ পর্যন্ত গড়ায় মারামারি পর্যন্ত। কিন্তু সেবার অল্পতেই রক্ষা পান সাব্বির। শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে দল থেকেও বাদ পড়েন তিনি।

এই ঘটনার আগেও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ওঠে সাব্বিরের বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালে টিম হোটেলে এক নারী অতিথিকে এনে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ১২ লাখ টাকা জরিমানা দেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সর্বশেষ আসরেও সাব্বিরকে ম্যাচ ফির অর্ধেক জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে জুটে তিনটি ডিমেরিট পয়েন্ট। সে সময় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন আম্পায়ারের সঙ্গে বাজে আচরণ করেন সিলেট সিক্সার্সের হয়ে খেলা এ ব্যাটসম্যান।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ক্রিকেটার মোসাদ্দেকের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-২৬ ১৪:২৭:৪৫

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা একের পর এক নারী নির্যাতনের কেলেঙ্কারিতে জড়াচ্ছেন। রুবেল হোসেন, নাসির হোসেন, আরাফাত সানি, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ শহীদের পর এবার নারী কেলেঙ্কারিতে যোগ হলো আরেক নাম। তিনি হলেন জাতীয় দলের উদীয়মান ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত!

তার বিরুদ্ধে এবার নারী নির্যাতনের মামলা করলেন স্ত্রী সামিয়া শারমিন। ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতে এই মামলাটি করা হয়।

২০১২ সালের ২৮ অক্টোবর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সঙ্গে তার আপন খালাত বোন সামিয়া শারমিন সামিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পূর্বে খালাত বোন সামিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও দুই পরিবারের সম্মতিক্রমে পারিবারিক পরিবেশে কন্যার নিজ বাসায় বরের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

মামলার ১ নম্বর সাক্ষী, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের স্ত্রীর বড় ভাই মোজাম্মেল কবির রবিবার সন্ধ্যার পরে বলেন, ‘সৈকত (মোসাদ্দেক হোসেন) আমার খালাতো ভাই। পারিবারিকভাবে মেলামেশা থেকেই আমার ছোট বোন সামিয়া শারমিনের সঙ্গে পরিচয় এবং যা পরবর্তীতে বিয়েতে গড়ায় এবং আমরা বিষয়টা মেনেও নেই। ছয় বছর আগেই তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কয়েক বছর ভালো কাটলেও যখনই মোসাদ্দেক সৈকত জাতীয় দলে নিয়মিতভাবে সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই তার নৈতিক স্থলন ঘটতে শুরু করে।’

মোজাম্মেল অভিযোগ করে বলেন, ‘সে (মোসাদ্দেক) ঘরে বসে বন্ধুদের নিয়ে মদপান করতে শুরু করে। অন্য নারীতে আকৃষ্ট হওয়া, তথা নানা অসামাজিক কার্যক্রমে লিপ্ত হতে থাকে। আমার বোন তাকে ওইসব অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধের কথা বলতেই সে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে। তা থেকেই শুরু হয় বিবাদ ও দূরত্ব। আমরা বুঝতে পারি তারকা খ্যাতি, নাম-ডাক ও অর্থ তাকে বদলে দিয়েছে।’

সৈকতের স্ত্রী বিষয়টা জাতীয় দলের ম্যানেজার সুজনকে জানিয়েছেন বলেও জানান মোজাম্মেল। তিনি বলেন, ‘দিনকে দিন সৈকতের আচরণে অতিষ্ঠ আমার ছোট বোন বিষয়টি জাতীয় দলের সাবেক ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের কাছে জানান। সুজন সাহেব তার কথা শুনে আশ্বস্ত করে বলেন, ঠিক আছে মোসাদ্দেক সৈকত ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর আমেরিকা সফর শেষে দেশে ফিরে আসুক তারপর কথা বলে একটা আপোষ রফা করে দেবেন। সেই অনুযায়ী ১৫ আগস্ট সুজন সাহেবের সঙ্গে আমার বোন ও সৈকতের দেখা করার কথা ছিল।’

এরপরের ঘটনা সম্পর্কে মোজাম্মেল বলেন, ‘এদিকে সৈকত ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাবার আগে আমি ছোট বোন সামিয়া শারমিনকে আমার বাসায় এনে রাখি। সৈকত সুজন সাহেবের সঙ্গে বসার কথা বলে গত ১৪ আগস্ট আমার বোনকে তার বাসায় নিয়ে যায়। এরপর তার বাসায় নিয়ে বোনের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালায়। তাকে শারীরিকভাবে আঘাতের পাশাপাশি হুমকিও দেয়। সৈকতের নির্মম নির্যাতন ও হুমকিতে আজ আমার ছোট বোন তার বিপক্ষে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা করতে বাধ্য হয়েছে।’

মোসাদ্দেক সৈকতের স্ত্রী সামিয়া শারমিনের স্ত্রীর বড় ভাই মোজাম্মেল কবির আরও জানান, ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এক নম্বর আদালতে আজই মামলা হয়েছে।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ইতিহাস

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-২০ ০৫:৫৩:০৬

চলমান এশিয়ান গেমসে শক্তিশালী কাতারকে ১-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। জাকার্তায় এই জয়ের মধ্যে দিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান ফুটবলের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

ম্যাচটিকে দুটি দিক দিয়ে দেখা যায়। প্রথমত, নাটকীয়; দ্বিতীয়ত সৌভাগ্য। শক্তিশালী কাতার পুরো ম্যাচে বারবার চেষ্টা করেও বাংলাদেশের জালে বল জড়াতে ব্যর্থ হয়। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত একই অবস্থা ছিল বাংলাদেশেরও।

মূল ঘটনা ঘটে ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে। গোল হতে পারত কাতারের পক্ষেই। কিন্তু গোলপোস্টের খুব কাছ থেকে বাংলাদেশের ফুটবলার সেটি বাঁচিয়ে দেয়। সৌভাগ্যটা এখানেই। কাতারের ফুটবলারের পায়ে বল ছিল। সেটি আটকাতে গিয়ে বল গিয়ে লাগে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়ের হাতে। গোলপোস্টের ভেতরের হওয়ায় পেনাল্টি হতে পারত। কিন্তু রেফারি সেটি দেখতে না পেলে পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয় কাতার।

সেই বলই টেনে নিয়ে গোল করে বাংলাদেশ। মাসুক মিয়া জনির পাস থেকে কাতারের জালে বল জড়ান জামাল ভূঁইয়া।

এশিয়ান গেমসে এটা বাংলাদেশের প্রথম নকআউট পর্বে জায়গা করা। এর আগে ১৯৮২ সালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ। ১৯৮৬ সালে জেতে নেপালের বিপক্ষে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে বাংলাদেশ জয় পায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে।

এলএবাংলাটাইমস/এস/এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ফাইনালে পারল না বাংলাদেশি মেয়েরা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-১৮ ১৩:০২:১৪

দুর্দান্ত দাপটেই সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ।

আজ মাঠে নামার আগে ভারতের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী লড়াইটাকে আসল পরীক্ষা বলেছিল বাংলাদেশি মেয়েরা। সেই পরীক্ষায় পাশ করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতা হয়নি তহুরা-আনুচিং-মারিয়াদের।

থিম্পুর চাংলিমিংথা স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ দল। ভারতের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেছেন সুনিতা মুন্দা।

সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। বিদেশের মাটিতে বয়সভিত্তিক দিলে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশ দলের। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে এবার একই ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ।আগের তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ছিঁড়েফুরে ফেলা বাংলাদেশ দলকে আজ কিছুটা অনুজ্জ্বল দেখা গেছে। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত বলেই হয়তো আজ আক্রমণে কিছুটা নিষ্প্রভ দেখা গেছে বাংলাদেশ দলকে। তবে গোলের জন্য বেশ লড়াই করেছে বাংলাদেশি মেয়েরা।

আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে ভরপুর ম্যাচের প্রথমাধে গোল করতে পারেনি কোনো দলই। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে অভিকা সিংয়ের ফ্রি-কিক ক্রসবার লেগে ফিরলে বেঁচে যায় বাংলাদেশ; ফিরতি বলে সিল্কি দেবীর হেডও ফেরান গোলরক্ষক মাহমুদা আক্তার।

বাংলাদেশ প্রথমার্ধে সেরা সুযোগটি পায় ৪২তম মিনিটে। ডিফেন্ডার শামসুন্নাহারের বাড়ানো বল প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে চলে যায় ডি বক্সের বাঁ দিকে ফাঁকায় থাকা সাজেদা খাতুনের কাছে। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে দলকে হতাশ করেন সাজেদা।

দ্বিতীয়ার্ধের ৬৬ মিনিটে কর্ণার থেকে বল পেয়ে ভারতকে এগিয়ে দেন সুনিতা মান্দা। লিন্ডা কম ছোট করে কর্নার নেন। জানভি শেঠির কাছ থেকে ফিরতি বল পেয়ে লিন্ডার নেওয়া শটেই পা ছুঁইয়ে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান সুনিতা মান্দা।

৭৬তম মিনিটে মনিকা চাকমার দূরপাল্লার শট ক্রসবারে লাগায় সমতা ফেরেনি। ৮২তম মিনিটে তহুরা খাতুনের শট ডান দিকের পোস্টে লেগে ফিরলে বাংলাদেশের হতাশা আরও বাড়ে। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করে বাংলাদেশ। রোজিনা আক্তারের বাড়নো বল গোলমুখে পা ছোঁয়াতে পারেননি তহুরা। ফলে শেষ পর্যন্ত হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে গোলাম রব্বানী ছোটনের দলকে।

আগের তিন ম্যাচে মোট ২২ গোল করে হট ফেবারিট হিসেবেই ফাইনালে নাম লিখিয়েছিল বাংলাদেশ দল। এই গোল উৎসবের সঙ্গে নিজেদের গোলপোস্টেও কোনো বল ঢুকতে দেয়নি তারা। বাংলাদেশ দলের গোলরক্ষক মাহমুদা আক্তারও বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে আজ মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত গোলপোস্ট ক্লিন শিট রাখতে পারেননি তিনি। আর এই এক গোল হজমের মধ্য দিয়েই সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট হারাল বাংলাদেশ।

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ভুটানকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-১৬ ১৪:২২:৩২

সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে রাখার শেষ ধাপে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক ভুটানকে সেমি-ফাইনালে হারিয়েছে গোলাম রব্বানী ছোটনের দল।

ভুটানের থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সেমি-ফাইনালে ৫-০ গোলে জিতে বাংলাদেশ। আগামী শনিবার শিরোপা লড়াইয়ে মেয়েরা মুখোমুখি হবে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে আসা ভারতের।

প্রতিযোগিতায় ভুটানের ওপর আধিপত্য ধরে রাখল বাংলাদেশ। গতবার নিজেদের মাঠে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে প্রাথমিক পর্বে ভুটানকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল মেয়েরা।

ম্যাচের অষ্টাদশ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে আনাই মোগিনির দূরপাল্লার শট ঠিকানা খুঁজে পেলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৩৮তম মিনিটে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় বল রুখতে গেলে ডি-বক্সের একটু বাইরে পেয়ে যান আনুচিং মোগিনি; নিখুঁত ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন এই ফরোয়ার্ড।

৪৩তম মিনিটে তহুরা খাতুনের গোলে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। ভুটানের গোলরক্ষকের হাত গলে বল বেরিয়ে যাওয়ার পর তা পেয়ে যান সাজেদা খাতুন। এই মিডফিল্ডারের বাড়ানো ক্রস থেকে লক্ষ্যভেদ করেন ফাঁকায় থাকা তহুরা।

৬৯তম মিনিটে অধিনায়ক মারিয়া মান্ডার দূরপাল্লার গোলে স্কোরলাইন হয় ৪-০। মাঝমাঠের একটু ওপর থেকে বল নিয়ে দৌড়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন এই মিডফিল্ডার।

সাজেদা আক্তার রিপার শেষ দিকে গোলে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। সতীর্থের বাড়ানো বল ধরে ছোট ডি বক্সের ডান দিক থেকে কোনাকুনি গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এই ফরোয়ার্ড।

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

এশিয়া কাপ আসন্ন, বাংলাদেশের প্রাথমিক দল ঘোষণা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-১৪ ১১:০৯:০৬

আসন্ন এশিয়া কাপের জন্য প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষ করে ফিরে আসার পরই নতুন কোচ স্টিভ রোডস খুব দ্রুত বিসিবির কাছে অন্তত ৩০ সদস্যের একটি দল চেয়েছেন। যাদেরকে তিনি একটু যাচাই-বাছাই করে দেখতে চান। কোচের চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড(বিসিবি) নির্বাচকমন্ডলি ৩১ সদস্যের একটি প্রাথমিক দল বাছাই করেছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিষয়টি প্রকাশ করেছে। এশিয়া কাপের জন্য ঘোষিত প্রাথমিক দলে নতুন মুখ হিসেবে এসেছে শরিফুল ইসলাম, সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও ফজলে রাব্বি মাহমুদ। সম্প্রতি ‘এ’ দলের হয়ে ভালো খেলার পুরস্কার পেয়েছেন এই তিন নবাগত।

 ৩০ বছর বয়সী ফজলে রাব্বি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন ১৪ বছরের বেশি সময় ধরে। মূলত টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হলেও ইদানিং সফল মিডল অর্ডারেও। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান কাজ চালানোর লেগ স্পিনও পারেন বেশ। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা ‘এ’ ও আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে বেশ ভালো ছিল পারফরম্যান্স।

‘এ’ দলের হয়ে এই সিরিজের পারফরম্যান্সই দুয়ার খুলে দিয়েছে খালেদ ও শরিফুলের জন্য। ২৫ বছর বয়সী খালেদ শুরুতে এবার ‘এ’ দলে ছিলেন না। শরিফুল অসুস্থ হওয়ার পর তার বদলি হিসেবে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে প্রথম আনঅফিসিয়াল টেস্টে ডাক পান খালেদ। সেই ম্যাচে নেন ৪ উইকেট। টিকে যান দলে। ডানহাতি পেসার এর পর থেকে দুই সিরিজেই ‘এ’ দলের সেরা বোলার।

এই ৩১ জনকে নিয়ে ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি। সেই প্রস্তুতি ক্যাম্প থেকেই শেষ পর্যন্ত বাছাই করা হবে এশিয়া কাপের জন্য ১৪ কিংবা ১৫ সদস্যের মূল স্কোয়াড। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে এশিয়া কাপের এবারের আসর।

৩১ সদস্যের প্রাথমিক দল :

মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, এনামুল হক বিজয়, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, সাইফ উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, লিটন কুমার দাস, আবু হায়দার রনি, নাজমুল ইসলাম অপু, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুমিনুল হক সৌরভ, নুরুল হাসান সোহান, রুবেল হোসেন, আরিফুল হক, আবু জায়েদ রাহী, নাজমুল হোসেন শান্ত, শরিফুল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, কামরুল ইসলাম রাব্বি, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, মোহাম্মদ জাকির হাসান, সানজামুল ইসলাম, মোহাম্মদ মিথুন, ফজলে রাব্বি মাহমুদ।

এশিয়া কাপের সূচি
১৫ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা (দুবাই)
১৬ সেপ্টেম্বর : পাকিস্তান বনাম বাছাইপর্বের দল (দুবাই)
১৭ সেপ্টেম্বর : শ্রীলঙ্কা বনাম আফগানিস্তান (আবুধাবি)
১৮ সেপ্টেম্বর : ভারত বনাম বাছাইপর্বের দল (দুবাই)
১৯ সেপ্টেম্বর : ভারত বনাম পাকিস্তান (দুবাই)
২০ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান (আবুধাবি)

সুপার ফোর
২১ সেপ্টেম্বর : গ্রুপ-এ চ্যাম্পিয়ন বনাম গ্রুপ-বি রানার্স-আপ (দুবাই)
২১ সেপ্টেম্বর : গ্রুপ-বি চ্যাম্পিয়ন বনাম গ্রুপ-এ রানার্স-আপ (আবুধাবি)
২৩ সেপ্টেম্বর : গ্রুপ-এ চ্যাম্পিয়ন বনাম গ্রুপ-এ রানার্স-আপ (দুবাই)
২৩ সেপ্টেম্বর : গ্রুপ-বি চ্যাম্পিয়ন বনাম গ্রুপ-বি রানার্স-আপ (আবুধাবি)
২৫ সেপ্টেম্বর : গ্রুপ-এ চ্যাম্পিয়ন বনাম গ্রুপ-বি চ্যাম্পিয়ন (দুবাই)
২৬ সেপ্টেম্বর : গ্রুপ-এ রানার্স-আপ বনাম গ্রুপ গ্রুপ-বি রানার্স-আপ (আবুধাবি)
২৮ সেপ্টেম্বর : ফাইনাল (দুবাই)

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

পাঁচ বছর পর মুক্ত আশরাফুল, ভবিষ্যৎ কী?

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-১৩ ১৬:২৭:৪১

বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগে ২০১৩ সালের জুন মাস থেকে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হন মোহাম্মদ আশরাফুল। তাকে তিন বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞাসহ মোট ৮ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আপিলের পর সেই শাস্তি কমে হয় ২ বছরের স্থগিতসহ ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা। তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০১৬ সালের আগস্টে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরেন। তবে স্থগিত নিষেধাজ্ঞার সময়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ ছিলেন তিনি। সেই নিষেধাজ্ঞা থেকে আজ মুক্ত হলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবথেকে বড় তারকা। এখন থেকে চাইলেই নির্বাচকরা জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করতে পারবেন তাকে! খেলতে পারবেন বিপিএলেও। আন্তর্জাতিক ও বিপিএলে খেলতে কোনো বাঁধা নেই তার। তবে যে পথ থেকে আশরাফুল পাঁচ বছর আগে ছিটকে গেছেন সেই পথে কি আবার ফিরে আসা সম্ভব? পথটা কি এতোটাই মসৃণ। ক্রিকেট বোদ্ধারা বলছেন, এ পথে রয়েছে অনেক কাঁটা! এ পথে অনেক বাঁধা!


কী চাইছেন আশরাফুল?
‘আবার আমি জাতীয় দলে খেলার জন্য বিবেচিত হওয়ার জায়গায় এলাম। আমার একটাই লক্ষ্য জাতীয় দলে ফেরা। গত পাঁচ বছরে আমার একবারও মনে হয়নি যে আমি ফিরতে পারব না। এমন একটি মুহূর্তও আসেনি, যখন আমি কম আত্মবিশ্বাসে ভুগেছি। সব সময়ই মনে হয়েছে আমি জাতীয় দলে ফিরতে পারব। যেভাবেই হোক আমি চাই জাতীয় দলে খেলতে।  আমার লক্ষ্য ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলা। বিশ্বকাপের বাকি ১১ মাস। ১১ মাস তো অনেক সময়। আগামী অক্টোবর থেকে আমাদের ঘরোয়া মৌসুম শুরু। জাতীয় লীগে যদি ভালো খেলি, জানুয়ারিতে বিপিএলে ভালো খেলতে পারলে, এরপর ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে ভালো পারফর্ম করতে পারলে, কেন সম্ভব নয়? সামনে ঘরোয়া ক্রিকেটের যে টুর্নামেন্টেই খেলি না কেন, ভালো পারফরম্যান্স করতে চাই। তাহলেই নির্বাচকরা বিবেচনা করবেন। আর জাতীয় দলে চার সিনিয়র ছাড়া কোনো ব্যাটসম্যানের জায়গা তো পাকা না। তরুণরা তো ভালো খেলছে না। তাই ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেললে অবশ্যই সুযোগ থাকবে। গত প্রিমিয়ার লীগে ৫টি সেঞ্চুরি করেছি। এবার এর চেয়েও ভালো কিছু করতে চাই।’-বলেছেন আশরাফুল।


শুরুটা ইতিবাচক :
গত দুই মৌসুম ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে বেশ সাড়া ফেলেছেন আশরাফুল। সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে রেকর্ড সর্বোচ্চ পাঁচটি সেঞ্চুরির ইনিংস উপহার দিয়েছেন। টানা তিন ম্যাচে সেঞ্চুরি করার অনন্য রেকর্ড গড়েন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও রয়েছে সেঞ্চুরি। ফেরার পর শুরুটা দারুণ না হলেও ইতিবাচক ছিল। অক্টোবরে শুরু হবে জাতীয় ক্রিকেট লিগ। এরপর প্রিমিয়ার লিগ, বিপিএল, বিসিএল। সামনে ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক ম্যাচ। ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়াতে পারলে হয়তো নির্বাচকদের ভাবনায় আসতেও পারেন আশরাফুল।


নির্বাচকদের ভাবনা :
প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু মনে করেন, এই মুহূর্তে জাতীয় দলে ফেরার কোনো সুযোগ নেই আশরাফুলের। শুধু জাতীয় দল নয় ‘এ’ দল কিংবা বিসিবির অন্য কোনো দলেও কোনো সুযোগ নেই তার। মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে দলে ওর কোনো জায়গা নেই। আমাদের যে ফিটনেস লেভেল আছে…এইচপি থেকে শুরু করে ‘এ’ দল এবং জাতীয় দলের ফিটনেস কার্যক্রমের সঙ্গে ও যুক্ত নয়। এ জায়গায় আসতে হলে ওকে কিছু সময় দিতে হবে। এই লেভেলটা যদি থাকে, তাহলে চিন্তা করা যাবে। সুতরাং এ মুহূর্তে আমরা চিন্তাভাবনা করছি না।’


বয়স কি বাঁধা?
জাতীয় দলে ফেরার ক্ষেত্রে বয়স কি বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে আশরাফুলের। গত জুলাইয়ে ৩৪ এ পা দিয়েছেন আশরাফুল। তাকে লড়াই করতে হবে সৌম্য, লিটন, এনামুল, শান্তদের সঙ্গে! পারবেন কি আশরাফুল। যদি পেরেও থাকেন নির্বাচকরা কি তাকে বিবেচনায় আনবেন? মিনহাজুল আবেদীন বয়সকে কোনো বাধা মানছেন না, ‘একজন ক্রিকেটার যদি ফিট থাকে এবং জাতীয় দলে খেলার যোগ্য হয়, অবশ্যই তাকে বিবেচনা করা হবে। আশরাফুলও ব্যতিক্রম নয়।’


শুরুতেই প্রয়োজন ফিটনেস :
এক তামিম ইকবালকে দেখলেই বোঝা যায় ফিটনেস কতটা জরুরী, কতটা উপকারী।  বাড়তি ফিটনেসের কারণে এখন তামিম উইকেটে দীর্ঘসময় ব্যয় করতে পারছেন। উইকেটে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে পারছেন বলেই রানের ফুলঝুরি ছুটিয়ে রান করছেন। শুধু তামিম না জাতীয় দলের সিনিয়র পাঁচ ক্রিকেটারই নিজেদের ফিটনেস নিয়ে সচেতন। মোহাম্মদ আশরাফুলকে দলে ফিরতে হলে শুরুতেই কাজ করতে হবে ফিটনেস নিয়ে। বিষয়টি নিয়ে সচেতন আশরাফুলও, ‘শেষ দুই বছর ফিটনেস নিয়ে অনেক কাজ করেছি। বিশেষ করে গত দুই মাসে প্রায় ৮/৯ কেজি ওজন কমিয়েছি। ফিটনেস লেভেল এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো। বাংলাদেশ দলে ফেরার জন্যই ফিটনেস নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি।'


ভবিষ্যৎ?
মোহাম্মদ আশরাফুলের ভবিষ্যৎ কি হবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে পূর্বের বাংলাদেশ আর বর্তমান বাংলাদেশের এখন অনেক পার্থক্য। কয়েক বছর আগেও একাধিক ক্রিকেটার পারফর্ম না করেও দিনের পর দিন সুযোগ পেয়ে আসতেন। বর্তমান দলে সেই ধারা নেই। পারফরম্যান্স নেই তো দলে জায়গাও নেই! বড় নাম নিয়েও বাদ পড়তে হয়েছে দল থেকে। যেমনটা হয়েছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ক্ষেত্রে। কলম্বোয় শততম টেস্টের ঠিক আগ মুহুর্তে তাকে দলে রাখেনি টিম ম্যানেজম্যান্ট। অথচ এ মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে পরবর্তীতে কত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তাই আশরাফুল বাংলাদেশের সময়ের সেরা দলে জায়গা করে নিতে পারেন কিনা সেটাই দেখার।

অনুপ্রেরণা আমির:
আশরাফুলের তিন বছর আগে অর্থ্যাৎ ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গড়াপেটার অভিযোগে পাঁচ বছর নিষিদ্ধ হন ১৮ বছর বয়সি মোহাম্মদ আমির। পাকিস্তানের বাঁহাতি এ পেসার পরবর্তীতে পাঁচ বছর শাস্তি ভোগ করে ফিরে আসেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। স্বদর্পে ফিরে এসে আমির এখন পাকিস্তানের সবথেকে বড় ভরসার নাম, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অন্যতম সেরা বোলার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসতে মোহাম্মদ আশরাফুলের অনুপ্রেরণা মোহাম্মদ আমির।


বিসিবির ভাবনা :
দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করলে তার জন্যও জাতীয় দলের দরজা খোলা আছে বলে জানিয়েছেন, বিসিবির পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। তার ভাষ্য, ‘এক কথায় বললে, আশরাফুল একটি নাম। এখানে দশ জন ক্রিকেটার যেভাবে জাতীয় দলে আসে সেভাবেই আশরাফুলকে আসতে হবে। আপনারা জানেন যে পাঁচ বছর সে ক্রিকেটের বাইরে ছিল। ঘরোয়া ক্রিকেটের দুটি আসরে সে খেলেছে। কিন্তু সেটি যথেষ্ট নয়। তার ফিটনেসের ব্যাপার আছে। নির্বাচকরা চাইছে তাকে তিন ফরম্যাটেই ভালো করে দেখতে। তার শারীরিক ফিটনেসটা কেমন সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় তাকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। বিপিএলে খেলার জন্য সে এখন মুক্ত।’

বাংলাদেশ জাতীয় দলে ফিরতে যে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে, তা অজানা নয় আশরাফুলের। অনেক দূর যেতে হবে তাকে। অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। বর্তমান সময়ের লিটন, এনামুল, সৌম্য, শান্ত, মিথুনরা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের মান অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছেন। একটা সময় আশরাফুলও ছিলেন ভয়ডরহীন। ভুল পথে পা বাড়িয়ে নিজের ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছেন! সেই ক্যারিয়ার কি আবার শুরু থেকে শুরু করতে পারবেন আশরাফুল। আরেকবার কি লাল-সবুজের জার্সি গায়ে মাঠে নামতে পারবেন। কিংবা সাদা পোশাকে হতে পারবেন উজ্জ্বল ধ্রুবতারা!

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-১৩ ১৬:০৯:০৬

ভুটানে চলমান সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল দাপুটে। পাকিস্তানকে ১৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল দল। শুরুর ধারাবাহিকতা বজায় থাকল গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচেও।

দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে গোলাম রাব্বানি ছোটনের শিষ্যরা। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছিল বাংলাদেশের কিশোরীদের।

শনিবার গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালের মুখোমুখি হয় পাকিস্তান। সেই ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে হারে পাকিস্তান। নেপালের জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

সোমবার বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল স্বাগতিক নেপালকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। সেই সুযোগটা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে মারিয়া-শামসুন্নাহার-তহুরারা।

দিনের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে স্বাগতিক ভুটানকে পেয়েছে বাংলাদেশ। ১৬ আগস্ট ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভুটানের বিপক্ষে মাঠে নামবেন মারিয়া-তহুরারা। সেমিফাইনালের অন্য ম্যাচে ভারত খেলবে নেপালের বিপক্ষে।

ভুটানের রাজধানী থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। বেশ কয়েকবার সুযোগ তৈরি করে সাফল্যের দেখা না পেলেও বাংলাদেশ এগিয়ে যায় প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে। শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন তহুরা খাতুন।

অধিনায়ক মারিয়া মান্ডার কর্নার থেকে বল পান শামসুন্নাহার। তার পাস থেকে আবারও বল যায় মারিয়ার পায়ে। শেষ পর্যন্ত মারিয়া গোলমুখে ক্রস নিলে হেড দিয়ে নেপালের জালে বল জড়ান তহুরা। ৫১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ।

এবার ডান দিক দিয়ে তহুরার ক্রস প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিলেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার। কিন্তু তার নেওয়া হেড গিয়ে পড়ে মারিয়ার ঠিক সামনে। সুযোগটা হাতছাড়া করেননি মারিয়া। বাম পায়ের শটে নেপালের জালে বল পাঠিয়ে দেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।

১৬ মিনিটের ব্যবধানে আবারও এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। নিজেদের সীমানা থেকে লম্বা পাস নেন সাজেদা। নিজেদের ভুলে বলটি ক্লিয়ার করতে পারেনি নেপালের ডিফেন্ডাররা। সাজেদাকে আটকে গোলরক্ষককে বল ধরতে সুযোগ করে দিতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু ছোঁ মেরে নিয়ে বল কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশের ৩-০ গোলের জয় নিশ্চিত করেন সাজেদা।

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ফ্লোরিডায় টাইগারদের জয়

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-০৫ ০৬:৫৬:৫৪

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ক্রিকেট খেলার প্রথম অভিজ্ঞতা। যে অভিজ্ঞতায় মিশে রইলো বিজয়ের সুবাস। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর উইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ উড়াল বিজয় কেতন। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে রোববার ক্যারিবীয়দের ১২ রানে হারিয়ে দিয়েছে সাকিব আল হাসানের দল।

টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে এটা বাংলাদেশের তৃতীয় জয়। এই জয়ে সিরিজে সমতা আনল বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর এবার সাকিব, তামিম, মুশফিকদের সামনে আরেকটি সিরিজ জয়ের হাতছানি।

তামিম ইকবালের ব্যাটে রান মানেই বাংলাদেশের স্বস্তি। তামিমের রান পাওয়ার ম্যাচে জিততে না পারলেও ভালো সংগ্রহ দাঁড়িয়ে যায়। এই ম্যাচেও তেমন হয়েছে। ৪৪ বলে ছয়টি চার ও চারটি ছয়ে ৭৪ রানের দুর্বার এক ইনিংস খেলেছেন ওয়ানডে সিরিজে দুটি সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া বাংলাদেশের এই ওপেনার। ম্যাচসেরা তামিমের সঙ্গে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের ঝড়ো গতির ৬০ রানে পাঁচ উইকেটে ১৭১ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে ১৫৯ থেমে যায় উইন্ডিজের ইনিংস।

১৭২ রান তুলে বল হাতেও দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গায় সুযোগ পাওয়া আবু হায়দার রনি প্রথম ওভারে দারুণ বোলিং করেন। খরচা করেন মাত্র এক রান। পরের ওভারে একই পথে হাঁটা মুস্তাফিজুর রহমান ফিরিয়ে দেন এভিন লুইসকে। দারুণ শুরুর সুযোগটা কাজে লাগাতে তৃতীয় ওভারে রুবেল হোসেনকে বোলিংয়ে আনেন সাকিব। কিন্তু এই কৌশল কাজে আসেনি। আন্দ্রে রাসেলের তোপে পড়তে হয় বাংলাদেশকে।

তবে এই তোপ বেশি সময় টেকেনি। তাণ্ডব চালানো আন্দ্রে রাসেলকে থামিয়ে স্বস্তি ফেরান মুস্তাফিজ। রাসেলের পথে হাঁটার চেষ্টা করেছেন মারলন স্যামুয়েলস। কিন্তু সেটা হতে দেননি সাকিব। ৩ বলে ১০ রান করা স্যামুয়েলসকে ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। এরপর রভম্যান পাওয়েল অনেকটা সময় চোখ রাঙিয়েছেন। যদিও তার ৪৩ রান যথেষ্ট হয়নি। শেষ ওভারে গিয়ে হার মেনে নিতে হয়েছে টি-টোয়েন্টির বিশ্বচ্যাম্পিয়দের। বাংলাদেশের মুস্তাফিজ ও‍ নাজমুল ইসলাম তিনটি করে উইকেট নেন। সাকিব দুটি ও রুবেল হোসেন নেন একটি করে উইকেট।  

এরআগে টস হেরে ব্যাটিং করা নামা বাংলাদেশ মনের মতো শুরু পায়নি। জায়গা বদলে ওপেনার হিসেবে নামা লিটন কুমার দাস শুরুতেই হতাশ করেছেন। পাঁচ বল খেলা লিটন দ্বিতীয় ওভারেই ফিরে যান। শুরুতেই উইকেট হারানোর ব্যাপারটি হয়তো মাথায় নেননি মুশফিকুর রহিম। উইকেটে গিয়েই অস্থির হয়ে উঠেন তিনি। ফল হিসেবে তাকে বিদায় নিতে হয় মাত্র চার রান করেই।

দীর্ঘদিন ধরে ব্যাট হাতে নিজের ছায়া হয়ে থাকা সৌম্য সরকার এদিন ভালো কিছুরই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যদিও ধীর-স্থির মেজাজের সৌম্য পারেননি ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে। ১৮ বলে ১৪ রান করে বিদায় নেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। দ্রুত তিন উইকেট হারিয়েও বিপাকে পড়তে হয়নি বাংলাদেশকে। উইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে অনেকটা স্থায়ী জুটি গড়ে নেওয়া তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান দলের হাল ধরেন।

এই জুটিতে বড় সংগ্রহ গড়ার পথ খুঁজে পায় বাংলাদেশ। দাপুটে ব্যাটিংয়ে রানচাকা ঘোরাতে থাকেন তামিম ও সাকিব। ৯০ রানের জুটি গড়ার পথে উইন্ডিজ বোলারদের পাত্তাই দেননি এই দুজন। এসময় টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম। হাফ সেঞ্চুরির পর আরও চড়াও হন দেশসেরা এই ওপেনার। ১৬তম ওভারে গিয়ে তামিম শো থামে। এরআগে ৪৪ বলে ছয়টি চার ও চারটি ছয়ে ৭৪ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন তামিম।

তামিম ফেরার পর বাকিটা সময় রাজত্ব করেছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিন বল বাকি থাকতে আউট হওয়া সাকিব খেলেছেন ৩৮ বলে নয়টি চার ও একটি ছয়ে ৬০ রানের দারুণ এক ইনিংস। শেষের দিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাটিং করতে পারেননি। ১০ বলে অপরাজিত ১৩ রান করেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। উইন্ডিজের অ্যাশলে নার্স ও কেসরিক উইলিয়ামস দুটি করে উইকেট নেন।

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তামিমের রেকর্ড

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-২৮ ১৫:১৬:৪২

ব্যাট হাতে দারুণ সময় কাটাচ্ছেন তামিম ইকবাল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্টে ভালো করতে না পারলেও ওয়ানডেতে তামিম পারফর্ম করেছেন চিরচেনা রূপে।

শনিবার শেষ ওয়ানডেতেও তামিমের ব্যাট থেকে এসেছে ১০৩ রান। সিরিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি এবং ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১১তম। ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়িয়ে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি রেকর্ড ভেঙেছেন তামিম।

তিন ম্যাচ সিরিজে তামিমের মোট রান ২৮৭। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে ৩ ম্যাচ সিরিজে এতো বেশি রান করেননি কোনো ক্রিকেটার। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার ড্যারেন লেম্যান ৩ ম্যাচে করেছিলেন ২০৫ রান। মোহাম্মদ হাফিজ ২০১৭ সালে ৩ ম্যাচে করেন ২০১ রান।

দেশের বাইরে  দ্বিপাক্ষিক ৩  ম্যাচ সিরিজে তামিমের রান এখন সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯০ রানের রেকর্ডটি সাকিবের দখলে। চলতি সফরেই সাকিব ৩ ম্যাচে করেছেন ১৯০ রান। এছাড়া দেশ ও দেশের বাইরে মিলিয়ে তামিমের রানই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। দেশে ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচে ৩১২ রান করেছিলেন। এবার ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে করলেন ২৮৭ রান।

জয় পাওয়া প্রথম ওয়ানডেতে ১৩০ রান করেছিলেন তামিম। দ্বিতীয় ম্যাচে ধীর গতিতে হাফ সেঞ্চুরি তুললেও বাজে শটে সাজঘরে ফিরেছিলেন। তৃতীয় ম্যাচে আলো ছড়িয়ে তিন অঙ্কে পৌঁছেন বাঁহাতি ওপেনার। ১২৪ বলে ১০৩ রান করেন তামিম।

পাশাপাশি বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি ভিন্ন সিরিজে একাধিক সেঞ্চুরি হল তামিমের। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে দুটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন বাঁহাতি ওপেনার।

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

রোনালদোর দুই বছরের জেল

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-২৭ ১৫:৩৫:০৯

কারাবাসের শাস্তি মেনে বড় অংকের জরিমানা প্রদানে সম্মত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সাথে কর ফাঁকির অভিযোগের ইতি টানল স্পেনের রাজস্ব বিভাগ। সংস্থাটির উদোগ্যে পরিচালিত কর দেয়ার ক্ষেত্রে দূর্নীতির আশ্রয় নেয়ায় অভিযোগে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদের তারকাকে ২ বছরের কারাদন্ড ও ১৯ মিলিয়ন ইউরো জরিমানার আদেশ দিয়েছে স্প্যানিশ আদালত।

তবে চুড়ান্ত এই রায়ের ভবিষ্যত কি হবে তা আগে থেকেই নির্ধারিত হয়! আদালতের শাস্তি মাথা পেতে নেয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত অংকের জরিমানা পরিশোধেও রোনালদোর সম্মত হন স্পেনের রাজস্ব বিভাগের সংশ্লিষ্ঠ পক্ষের দেয়া প্রস্তাবের বিপরীতে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত স্প্যানিশ ইন্টারনাশন্যাল নিউজ অ্যাজেন্সির (ইএফই) প্রতিবেদনে দাবী করা হয় পর্তুগালের অধিনায়ক মওকুফ পেয়েছেন সর্বমোট জরিমানার পরিমান থেকে ৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ইউরো। এর পরও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ফুটবলারকে জরিমানা, সুদসহ অন্যান্য মাসুল বাবদ ১৯ মিলিয়ন ইউরো পরিশোধ করতে হবে।

২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত চার দফায় ১৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ইউরো কর ফাকির অভিযোগে রোনালদোকে ২ বছরের জেল ও বড় অংকের জমিরানার শাস্তি দিয়েছে স্প্যানিশ আদালত। তবে স্পেনের ফৌজদারি দন্ডবিধি অনুযায়ী জেলের ঘানি টানতে হচ্ছে না পর্তুগালের সুপারস্টারকে। দেশটিতে প্রথমবারের মতো আইনভঙ্গকারির কারাদন্ডের শাস্তি মওকুফের বিধান রয়েছে। কিন্তু শাস্তির মেয়াদের মধ্যে দ্বিতীয়বার আইন অমান্যের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেকের অর্ন্তভুক্তি ঘটে কারাবাসের আওতাধীন আপরাধীর কাতারে।

প্রাথমিকভাবে স্প্যানিশ রাজস্ব বিভাগের কঁর ফাকির অভিযোগ দৃঢ়তার সাথে অস্বীকার করেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। যদিও নিয়মিতই তিনি স্পেনের ট্যাক্স অথোরিটির আহবানে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তার দেয়া সমঝোতার প্রস্তাবও  ফিরিয়ে স্প্যানিশ সংস্থাটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ সমাধানে পৌছাতে সক্ষম হয়েছে। শর্তনুযায়ী আদালতের নিদের্শনা মাথা পেতে নিচ্ছেন রোনালদো।

কারাবাসও করতে হবে না সদ্য স্পেন ছেড়ে ইতালির জুভেন্টাসে যোগ দেয়া সুপারস্টারকে। তবে মাদ্রিদের অভিজাত এলাকা খ্যাত মেট্রোপলিটন কোর্টে অবশ্যই স্বশরীরে উপস্থিতি হয়ে শ্রবন করতে হবে আদালতের চূড়ান্ত শাস্তির বর্ণনা।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আগে বার্সেলোনার সেনসেশন লিওনেল মেসিকেও কর ফাকিঁর দায়ে অভিযুক্ত হন। আর্জেন্টাইন সেনসেশনকেও ওই একই প্রক্রিয়ায় অংমগ্রহনের মাধ্যমে নিস্পত্তি করতে হয়েছে স্পেনের রাজস্ব বিভাগের কর ফাকির অভিযোগের। ৪ দশমিক ১ মিলিয়ন ইউরো কর ফাকিঁর দায়ে বার্সা সুপারস্টার মেসি ও তার পিতা জর্জকে ২১ ও ১৫ মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেয় কাতালুনিয়ার একটি আদালত।


এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

জার্মান থেকে অবসরই নিয়ে ফেললেন ওজিল

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-২৩ ০২:০৭:৩৬

অবশেষে জার্মান জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়াতেই হল মেসুত ওজিলকে। বিশ্বকাপের আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোয়ানের সাথে দেখা করেছিলেন ওজিল। তারপরই এ নিয়ে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। মাঠে ও মাঠের বাইরে নানা সমালোচনার শিকার হতে হয় তাকে। এমনকি এ নিয়ে জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (ডিএফবি) ওজিলের কঠোর সমালোচনা করে। এইসবের জের ধরে জার্মান দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন ২৯ বছর বয়সী এই আর্সেনাল তারকা।

ঘটনাটি বিশ্বকাপের আগে। লন্ডনে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সাথে দেখা করেন তুর্কি বংশোদ্ভূত ওজিল। মূলত নিজের তুর্কি ঐতিহ্যের কারণেই এরদোয়ানের সাথে দেখা করেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি জার্মানরা। কারণ এরদোয়ানের সাথে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের সম্পর্কটা মোটেও ভাল নয়। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কও বেশ উত্তপ্ত। এই পরিস্থিতিতে তুর্কি প্রেসিডেন্টের সাথে ওজিলের সাক্ষাতের বিষয়টি মোটেও ভালোভাবে নেয়নি জার্মানরা। এরপর থেকেই তীব্র সমালোচনার শিকার হতে থাকেন ওজিল। দেশটির রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে এমনকি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তোপের মুখে পড়তে হয় তাকে। পাশাপাশি মাঠে নিজ দেশের দর্শকদের দুয়ো ধ্বনি শুনতে হয়। এ সব মিলিয়ে জার্মানির জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল না খেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

জার্মান দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে দীর্ঘ বার্তায় ওজিল লিখেছেন, ‘মে মাসে আমি একটি দাতব্য ও শিক্ষা বিষয়ক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সাথে লন্ডনে সাক্ষাত করেছিলাম। ২০১০ সালে বার্লিনে মেরকেল ও এরদোয়ান একসাথে জার্মানি ও তুরস্কের ম্যাচ দেখার পর আমি তার সাথে প্রথমবার দেখা করি। তারপর পৃথিবীতে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের ছবি নিয়ে জার্মান মিডিয়ার বাড়াবাড়ি নিয়ে আমি সচেতন আছি। কিছু মানুষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমার সম্পর্কে মিথ্যাচার করছে।’

‘আমি খুবই কষ্টের সাথে ও অনেক চিন্তাভাবনা করে জার্মান দল থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ আমি রেসিজম ও অসম্মানের শিকার হয়েছি। জার্মানির জার্সি আমার জন্য গর্বের ও রোমাঞ্চকর ছিল। কিন্তু এখন আর তা নেই। এই সিদ্ধান্ত নিতে আমার খুবই কষ্ট হয়েছে। কারণ আমার সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও জার্মানির ভালো মানুষদের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি।’

‘কিন্তু যখন ডিএফবি-এর উচ্চপদস্থ কেউ আমাকে আমার তুর্কি ঐতিহ্য নিয়ে হুমকি দেয় এবং স্বার্থপরের মতো রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডায় লিপ্ত হয়, তখন তা মেনে নেওয়া যায় না। যথেষ্ট হয়েছে। এ কারণে আমি ফুটবল খেলি না। রেসিজম কখনোই মেনে নেওয়া যায় না।’

জার্মানির হয়ে ৯৩ ম্যাচে ২৩ গোল করেছেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। এছাড়া ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালের হয়ে ১৪২ ম্যাচে ২৭ গোল করেছেন তিনি।


এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ওয়েস্ট ইন্ডিজে বাংলাদেশের দাপুটে জয়

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-২৩ ০১:৫৪:২৯

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে দারুণ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় দলটিকে ৪৮ রানে হারিয়েছে মাশরাফিরা। এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেছে সফরকারীরা।

গায়ানায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া ২৮০ রানের বিশাল লক্ষ্য টপাতে গিয়ে স্বাগতিকদের ইংনিস থেমে যায় ২৩১ রানে। ব্যাট হাতে তামিম, সাকিব ও মুশফিকের তাণ্ডবের পর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার ধংসাত্মক বলিংয়ে ক্যারিবীয়র বিপক্ষে এই সাফল্য পায় টাইগাররা।

ওপেনার ক্রিস গেইল ও মিডেল অর্ডারে খেলতে নামা শিম্রন হ্যাটমিয়ার দারুণ দুটি ইনিংস খেলেও স্বাগতিক দলটির হার এড়াতে পারেননি। গেইল ৪০ রান করেন এবং শিম্রন ৫২ রান করে সাজঘরে ফিরে যান।

মাশরাফি ১০ ওভার বল করে চার উইকেট তুলে নিয়েই মূলত ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং ধস নামান। মুস্তাফিজুর রহমান ৮ ওভার বল করে ৩৫ রান দিয়ে দুই উইকেট পান। আর একটি করে উইকেট পান মেহেদী হাসান মিরাজ ও রুবেল হোসেন।

ম্যাচে অবশ্য শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১ রানের মাথায় ওপেনার এনামুল হকের উইকেট হারিয়ে বসে। তবে ব্যাট হাতে দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়ে আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল ও ওয়ান ডাউনে খেলতে নামা সাকিব আল হাসান শুরুর এই ধাক্কা সামলান। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দুজনে মিলে এই চাপ সামলে দলকে চ্যালেঞ্জিং স্কোরের পথ দেখান।

ক্যারিবীয়দের দুর্দান্ত পেস আক্রমণের সামনে চমৎকার ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখিয়ে সাকিব ৯৭ রান করে ফিরে গেলেও তামিম শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ১৩০ রানে। এটি তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দশম শতক। অবশ্য সাকিব মাত্র তিন রানের জন্য অষ্টম শতক করতে পারেননি।

তবে এদিন সাকিব-তামিম দুজনের মিলে যে জুটি গড়েছেন তা সত্যিই অসাধারণ। তারা ২০৭ রানের রেকর্ড পার্টনারশিপ গড়েই দলকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন।

মুশফিকুর রহিম শেষ দিকে একটি দারুণ ঝড়ো ইনিংস খেলেন। মাত্র ১১ বলে ৩০ রান করেন তিনি। এ ছাড়া সাব্বির রহমান ৩ ও মাহমুদউল্লাহ ৪ রান করেন।

গায়ানার ভেন্যুটি বাংলাদেশের জন্য পয়মন্তই বটে। এর আগে একটি মাত্র ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ, ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে। সে ম্যাচে জয় পেয়েছিল তারা। একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় জয় পেয়েছে লাল-সবুজের দল।

তা ছাড়া টেস্ট সিরিজে লজ্জাজনক হারের পর ক্যারিবীয়দের মাটিতে ওয়ানডেতে এই সাফল্য ভালোই কাজে আসবে।


এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

প্রাইজমানির ৫ লক্ষ ডলার প্রতিবন্ধী শিশুদের দিয়ে দিচ্ছেন এমবাপে

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৭ ০৩:১৫:৫১

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বজয়। এবার পালা শাসনের। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসিদের হাত থেকে ফুটবল বিশ্বের নেতৃত্ব নিজের হাতে তুলে নেওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। হ্যাঁ, বলা হচ্ছে ফ্রান্সের বিস্ময় বালক কিলিয়ান এমবাপের কথা। বিশ্ব জয় করে নিজের সেই আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন প্রতিবন্ধী শিশুদের সঙ্গে। বিশ্বকাপ থেকে প্রাপ্ত প্রাইজমানির ৫ লক্ষ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ কোটি ২২ লক্ষ টাকার বেশি) তিনি দান করছেন প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করা একটি সংস্থাকে।

‘প্রিমিয়ার্স ডি কার্ডিস’ নামে একটি সংগঠন প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করে। যেখানে তারা ওই শিশুদের খেলাধুলার চর্চায় সহযোগিতা করে। এমবাপে সেইসব শিশুদের প্রতি নিজের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে বিশ্বকাপ থেকে প্রাপ্ত প্রাইজমানির পুরো টাকা দান করবেন সংস্থাটিকে।

সংস্থাটির জেনারেল ম্যানেজার সেবাস্তিয়ান রুফিন বলেছেন, ‘কিলিয়ান অসাধারণ একজন ব্যক্তি। তার এ সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। শিশুদের সাথে তার সম্পর্ক খুবই চমৎকার। সে সবসময় তাদের (শিশুদের) উৎসাহ দেয়।’

বিশ্বের দ্বিতীয় দামি ফুটবলার এমবাপে বিশ্বকাপের প্রতি ম্যাচে ২২ হাজার ৩০০ ডলার করে পেয়েছেন। এছাড়া ফাইনালে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার বোনাস পেয়েছেন। সেই প্রাইজমানির পুরোটাই তিনি দান করছেন প্রতিবন্ধী শিশুদের এই সংগঠনে।

শৈশবে এমবাপে নিজেও প্যারিসের দারিদ্র পীড়িত অঞ্চলে বাস করতেন। তার ছোট্ট বেডরুম ভর্তি ছিল পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদোর ছবিতে। শৈশবে তিনি রোনালদোর মতো হতে চাইতেন। আর মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তিনি দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্বকাপ জয়ের। হয়েছেন রাশিয়ার বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান তারকা। পেলের পর দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসাবে গোল করেছেন বিশ্বকাপের ফাইনালে।

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ঘিঞ্জি মহল্লা থেকে বিশ্বমঞ্চে কিলিয়ান এমবাপ্পে

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৬ ১২:১৯:২২

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উত্তরাংশের একটি অনুন্নত আর দরিদ্র এলাকা- নাম বন্ডি। অনেক নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত এলাকাটির বাসিন্দাদের রয়েছে নানা অভিযোগ। প্যারিসের বিখ্যাত প্রশস্ত সড়ক আর উন্নত জীবনের ছোয়া নেই এখানে। নেই পর্যটক টানার মতো কোন ব্যবস্থা।

প্যারিস বিশ্বের উন্নত নগরীগুলোর একটি হলেও তার একটি অংশে বিরাজ করছে অনুন্নত পরিবেশ, যাকে তুলনা করা যায় ‘প্রদীপের নিচে অন্ধকার’ হিসেবে। এলাকাটির বেশির ভাগ বাসিন্দাই স্বল্প আয়ের। নিজেদের বাড়ি নেই বেশিরভাগেরই। সোস্যাল হাউজিং নামক সরকারি প্রকল্পের অধীনে নির্মিত বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বাস করেন তারা। এলাকাটির বেশিরভাগ বাড়িই সোস্যাল হাউজিংয়ের। বেকারত্বের মাত্রা অনেক বেশি। নাগরিক সুযোগ-সুবিধাও অন্য এলাকাগুলোর চেয়ে অনেক কম।

তবে এত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এই মহল্লাটির মানুষ আজ গর্বের সাথে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন। শুধু ফ্রান্সই নয়, বিশ্বমঞ্চেই আজ পা পড়েছে বন্ডি নামক অনুন্নত মহল্লা থেকে উঠে আসা বীরদের। ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক কিলিয়ান এমবাপে বন্ডি এলাকার সন্তান। আলজেরীয় মুসলিম মা আর ক্যামেরুন থেকে আসা অভিবাসী বাবার সন্তান এমবাপে আজ বিশ্ব মঞ্চের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন। মাত্র উনিশ বছর বয়সেই তিনি করেছেন বিশ্বজয়।

বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্স দলের কনিষ্ঠতম এই সদস্য দেশকে শিরোপা এনে দেয়ার পাশাপাশি নিজেকেও নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। কিশোর সুলভ গড়ন আর সর্বদা হাসিমাখা মুখের এই তরুণই মূহুর্তে চরম নির্মমতায় দুমড়ে মুচড়ে দেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্স। তার গতি আর অসাধারণ ড্রিবলিংয়ের সাথে তাল মেলাতে হিমশিম খায় বাঘা বাঘা ডিফেন্ডাররাও। কিংবদন্তী পেলের পর দ্বিতীয় কিশোর ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার রেকর্ড গড়েছেন।

বন্ডি এলাকার ‘এএস বন্ডি ক্লাবে’ শুরু এমবাপের ফুটবল ক্যারিয়ার। এখান থেকেই প্রতিভার দ্যুতি ছড়িয়ে পৌছে গেছেন বিশ্ব মঞ্চে। আজ তাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি বিশ্বের সেরা ফুটবল ক্লাবগুলোর। এখানে তার সাবেক কোচ অ্যান্তোনিও রিকার্ডি একবার বলেছিলেন, ‘আমি তাকে যখন কোচিং করাতে শুরু করি তখন তার বয়স মাত্র ছয় বছর। সে সময় অন্য সব শিশুর চেয়ে এমবাপে অনেক এগিয়ে ছিলো। তার ড্রিবলিং ও গতি ছিলো অসাধারণ। ওই ক্লাবে ১৫ বছর কোচিং করিয়েছি, তার মতো এমন প্রতিভা আর দেখিনি।’

মহল্লার এই ক্লাব থেকে এমবাপে সরাসরি যোগ দেন পেশাদার লিগের ক্লাব মোনাকোতে। ২০১৫ সালে ফ্রান্সের লিগ-১ এর ম্যাচে তার অভিষেক হয় পেশাদার ফুটবলে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ক্লাবটিকে প্রথমবারের মতো লিগ শিরোপা এনে দেন এমবাপে। এক বছর পর ১৮০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে যোগ দেন ফ্রান্সের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে।

বন্ডির মানুষরা আজ গর্ব করেন এমবাপেকে নিয়ে। তারা বুঝতে শিখেছেন স্বপ্ন থাকলে তা কোন সীমাবদ্ধতাই মানবে না। একদিন ধরা দেবেই হাতে। এমবাপের শৈশবের ক্লাব এএস বন্ডির কিশোর ফুটবলার ১৪ বছর বয়সী ইয়ানিস জ্যাঁ আলজাজিরাকে বলেন, ‘তিনি আমার এই মহল্লা থেকে উঠে এসেছে সেটা ভাবতে গর্ব হয়। আমি একদিন তার মতো হতে চাই।’

এমবাপেও ছিলেন এমন একজন স্বপ্নবাজ তরুণ। শৈশব থেকেই তার বাড়ির দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখতেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পোস্টার। সিআরসেভেনকে আদর্শ মেনে এমবাপে বড় হয়েছেন। রোনালদোর মতোই অসাধারণ গতি আর দক্ষতা নিয়ে বেড়ে উঠেছেন। আজ তিনি রোনালদোরই প্রতিদ্বন্দ্বী, রোনালদোকে বিক্রি করে দিয়ে স্পেনের ক্লাব রিয়ালমাদ্রিদ কিনতে চাইছে এমবাপেকে।

শুধু এমবাপে নয়, ফ্রান্সের এবারের বিশ্বকাপ জয়ী দলের মাতুইদি ও কন্তে এই এএস বন্ডি ক্লাব থেকে উঠে এসেছেন। এলাকাটির শিশু, কিশোর, তরুণরা তাই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে এখান থেকেই বিশ্বমঞ্চে উঠে আসার। ১৭ বছর বয়সী লুতফি বিচারেফ বলেন, ‘কেউ যখন জিজ্ঞেস করে আমি কোন ক্লাবে খেলি- গর্বের সাথে বলি এএস বন্ডির নাম, কারণ এমবাপে এখান থেকেই উঠে এসেছেন। এক নামেই তারা চিনে ফেলে ক্লাবটিকে।

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

টেস্টের র‌্যাঙ্কিংয়েও পেছাল বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৫ ১৪:০১:১৯

সেই ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস জয়। বারবার ৯-১০ র‍্যাংকিংয়ে নিজেদের জায়গা বাঁচাতে হয়েছে। ২০১৮ সালে এসে নিজেদের যোগ্যতা দিয়ে ৮ নম্বরে উঠে এসেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই র‌্যাঙ্কিংয়ের পরের সিরিজেই আবার পতন। উইন্ডিজের বিপক্ষে চলতি আইপে সিরিজের দুটি টেস্ট শেষে ৯ নম্বরেই গিয়েই থামলেন সাকিব আল হাসানরা।

মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে পুরনো অবস্থানে ফিরেছে বাংলাদেশ। যদিও আগে থেকেই বলা হচ্ছিল, উইন্ডিজ সফরে টেস্টে হারলে আবারও র‌্যাঙ্কিংয়ে জায়গা হারাবে বাংলাদেশ। বাস্তবে তাই হলো।

অ্যান্টিগা ও জ্যামাইকাতে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন সাকিব-মুশফিকরা। দুটিই গুটিয়ে গেছে মাত্র তিন দিনে।

অন্যদিকে দুটি টেস্ট জিতে ৮ নম্বরে উঠে এসেছে জেসন হোল্ডারের উইন্ডিজ দল। এই সিরিজের আগে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ছিল ৭৫। উইন্ডিজের ছিল ৭২।

জ্যামাইকা টেস্টের পর এখন স্বাগতিকদের পয়েন্ট হয়েছে ৭৭। অর্থাৎ বেড়েছে ৫ পয়েন্ট। বাংলাদেশের পয়েন্ট ৮ কমেছে। বর্তমান রেটিং পয়েন্ট ৬৭।

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

জিদানের পর এমবাপ্পেদের হাতে আবার বিশ্বকাপ

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৫ ১৩:৪৭:০২

দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্বকাপ ফুটবলের শিরোপা জিতলো ইউরোপীয় জায়ান্ট ফ্রান্স। ১৯৯৮ সালে জিনেদিনে জিদানের হাত ধরে আসা প্রথম সফলতার পর এবার সাফল্যের মুকুটে দ্বিতীয় পালকটি যুক্ত করলেন এমবাপ্পে-গ্রিয়েজম্যান-পগবারা। রোববার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর লুঝিনিকি স্টেডিয়ামে উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে বিশ্বকাপ জিতেছে দিদিয়ের দেশ্যমের শীষ্যরা। আর প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেও তাই উৎসব করা হলো না ক্রোয়েটদের।

ফাইনালের শুরুতেই এদিন দুর্ভাগ্য সঙ্গী হয় ক্রোয়েটদের। একটি আত্মঘাতি গোল ও ডি-বক্সের মধ্যে বল হাতে লেগে হ্যান্ডবল থেকে পেনাল্টিতে গোল হজম করে তারা। পরের দুটি গোল অবশ্য ফ্রান্স দিয়েছে দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে। আর এই বিষয়গুলোই ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন দুই দলের। গোলের খেলা ফুটবলে একের পর এক লক্ষ্যভেদ করে ফ্রান্স ছিনিয়ে নিয়েছে বিশ্বসেরার মুকুট। বল দখলের লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে থাকলেও ফ্রান্স সফল গোলের খাতায়। যেমনটা বলছে, ৪-২ স্কোরলাইনও। গোলের হিসেব দেখে ম্যাচটাকে একপেশে ভাবতে পারেন কেউ; কিন্তু ১৯৬৬ সালের পর প্রথম কোন বিশ্বকাপ ফাইনালে ছয় গোল হওয়া এই ম্যাচে প্রতিমূহুর্তে ছিলো উত্তেজনা।

এমনকি ৬৫ মিনিটে ফ্রান্স যখন ৪-১ গোলে এগিয়ে গেছে, তখনও এতটুকু ভাটা পড়েনি বিশ্বকাপ ফাইনালের আবহে। গোছানো, সুন্দর ফুটবল খেলে একের পর এক আক্রমণ করে ফ্রান্সের ডিফেন্ডারদের পরীক্ষা নিয়েছে ক্রোয়েশিয়া; কিন্তু সেই পরীক্ষায় সফল ছিলো ফরাসিরা। দারুণভাবে রক্ষণভাগ আগলে রেখেছে তারা। শেষ মূহুর্তে গোলরক্ষকের ছেলেমানুষি ভুলে একটি গোল হজম না করলে তো খেলার ফলাফল থাকতো ৪-১, যেটি বিশ্বকাপ ফাইনালের সাথে বেমানানই হতো।

ম্যাচের ১৮ মিনিটে ফরোয়ার্ড মানজুকিচের হেড থেকে আত্মঘাতি গোল হজম করে ক্রোয়েশিয়া। প্রায় ৪৫ গজ দূর থেকে গ্রিয়েজম্যানের নেয়া ফ্রি-কিক ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন মানজুকিচ। উচু হয়ে আসা বল তার মাথায় লেগে চলে যান গোল পোস্টে।

এরপর দারুণ খেলে ঠিক ১০ মিনিট পর ম্যাচে ফেলে মডরিচের দল। ২৮ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণের পর বক্সের মধ্যে জটলায় বল পেয়ে দারুণ বুদ্ধিমত্তায় ফ্রান্সের জালে পাঠান ক্রোয়েশিয়ার ফরোয়ার্ড ইভান পেরিসিচ। কিন্তু সমতা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা। আর এবার ক্রোয়েটদের জন্য দুর্ভাগ্য বয়ে আনেন দলের গোলদাতা পেরিসিচ।

ডান প্রান্তে কর্নার পায় ফ্রান্স। গ্রিয়েজম্যানের কর্নার থেকে উড়ে আসা বল হাতে লাগে পেরিসিচের। পেনাল্টি দাবি করে ফ্রান্স। অনেক নাটকীয়তার পর ভিডিও রেফারির সহায়তা নেন ফিল্ড রেফারি। পেনাল্টি বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোলটি করেন ফরাসি অধিনায়ক গ্রিয়েজম্যান।

পিছিয়ে পড়ে আবারো গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। একের পর এক আক্রমণে তারা দিশেহারা বানায় ফরাসিদের। কিন্তু প্রথমার্ধ শেষ করতে হয়েছে তাদের পিছিয়ে থেকেই। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের পসরা সাজায় মডরিচ, রাকিটিচরা। কিন্তু সফলতা ধরা দেয় ফরাসিদের হাতে। এবার গোলের নায়ক পল পগবা। তার মাধ্যমেই সূচনা হয় আক্রমণের। শেষটাও হয় তার হাতে। ৫৯ মিনিটে পগবার প্রথম শট এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে আসে, ফিরতি শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই বার্সেলোনা তারকা।

এরপর এই ম্যাচে ফল সম্পর্কে অনেকেই হয়তো নিশ্চত হয়ে গিয়েছিলেন। যদিও ক্রোয়েশিয়া গোল শোধে আক্রমণের পর আক্রমণ চালায়। কিন্তু কিছু একটা হয়তো বাকি ছিলো ম্যাচে। গ্রিয়েজম্যান গোল করেছেন, পগবা করেছেন কিন্তু যাকে নিয়ে এত আলোচনা সেই কিলিয়ান এমবাপ্পো গোল পাননি। শেষ পর্যন্ত ৬৫ মিনিটে দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে সেই অপূর্ণতা ঘুচিয়ে দেন ফরাসি তরুণ। আর এর মাধ্যমে ব্রাজিলীয় কিংবদন্তী পেলের পর ১৭ বছর ছয় মাস বয়সী এমবাপ্পে দ্বিতীয় টিনেজার হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড গড়লেন। ক্রোয়েশিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকা হয়ে যায় এমবাপ্পের হাতেই।

শেষ মূহুর্তে ফরাসি গোলরক্ষকের ভুলে একটি গোল শোধ করে ক্রোয়েশিয়া। এর মাধ্যমে ব্যবধান কমলেও ফ্রান্সের শিরোপা জয়ের পথে তা বাধা হতে পারেনি। ৫৯ মিনিটে মানজুকিচ গোলটি করেন। ব্যাকপাস থেকে বল পেয়ে গোলরক্ষক সরাসরি ক্লিয়ার না করে মানজুকিচকে কাটাতে চেয়েছিলেন; কিন্তু মানজুকিচের পেয়ে লেগে জালে জড়ায় বল। এর ফলে অন্যরকম এক রেকর্ডের মালিক হলেন এই ক্রোয়েট ফরোয়ার্ড- বিশ্বকাপ ফাইনালে একই সাথে গোল ও আত্মঘাতি গোলের প্রথম নজির এটি।


এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে তৃতীয় বেলজিয়াম

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৪ ১৩:৫৩:৪৫

দুই দলের দেখা হয়েছিল প্রথম রাউন্ডেও। আগেই দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় সেদিন দুই দলের লড়াইটা ছিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। সেই ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ইংল্যান্ড ‘ইচ্ছা করে হেরেছিল’ বলেও অনেকে আঙুল তুলেছিল।

আজ আরো একবার মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। আগের মতো এই ম্যাচেরও গুরুত্ব খুব একটা ছিল না। দুই দলের শিরোপা-স্বপ্ন গুঁড়িয়ে গিয়েছিল আগেই। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের কি আর গুরুত্ব থাকে! তবে গ্রুপপর্বের মতো দুর্দান্ত খেলে ইংল্যান্ডকে আবারো হারাল বেলজিয়াম।

সেন্ট পিটার্সবার্গে থমাস মুনিয়ের ও এডেন হ্যাজার্ডের একটি করে গোলে ইংল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে তৃতীয় হয়েই বিশ্বকাপ শেষ করেছে বেলজিয়াম। বিশ্বকাপে এটাই বেলজিয়ামের সর্বোচ্চ সাফল্য। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে তারা চতুর্থ হয়েছিল।

সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচ থেকে আজ শুরুর একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন এনেছিলেন ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। আরেক সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হারা বেলজিয়াম দলে পরিবর্তন ছিল দুটি।

নিষেধাজ্ঞার কারণে আগের ম্যাচে খেলতে পারেননি মুনিয়ের। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে সেই মুনিয়েরই এগিয়ে দেন বেলজিয়ামকে। বাঁ দিক থেকে চাদলির নিচু ক্রস থেকে মুনিয়েরের ভলি খুঁজে নেয় ইংল্যান্ডের জাল।

বেলজিয়ামের দশম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করলেন মুনিয়ের। তাতে বেলজিয়াম ছুঁয়েছে ফ্রান্স (১৯৯৮) ও ইতালির (২০০৬) সর্বকালের রেকর্ড।

দ্বাদশ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারত বেলজিয়ামের। তবে কেভিন ডি ব্রুইনের শট ঠেকিয়ে ইংল্যান্ডের ত্রাতা গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।

২৩ মিনিটে প্রথম ভালো একটি সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। রাহিম স্টার্লিং বক্সের ভেতর বল দিয়েছিলেন হ্যারি কেনকে। কিন্তু বল বাইরে দিয়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন টটেনহামের এই ফরোয়ার্ড।

প্রথমার্ধে দুই দলের কেউই আর ভালো কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ৭০ মিনিটে ইংল্যান্ড প্রায় সমতায় ফিরতে যাচ্ছিল। মার্কাশ রাশফোর্ডের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার মাথার ওপর দিয়ে শট নিয়েছিলেন এরিক ডায়ার। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দেন টবি আল্ডারভাইরেল্ড।

৮০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারত বেলজিয়ামের। কিন্তু হ্যাজার্ডের ক্রস থেকে মুনিয়েরের জোরালো ভলি ডান দিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে ঠেকান পিকফোর্ড।

দুই মিনিট পর বেলজিয়ামকে আর রুখতে পারেননি ইংলিশ গোলরক্ষক। পাল্টা আক্রমণে ডি ব্রুইন এগিয়ে গিয়ে বল দেন হ্যাজার্ডকে। সঙ্গে লেগে থাকা জোনসকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে পোস্ট ঘেঁষে বল জালে পাঠান চেলসি ফরোয়ার্ড। তাতেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বেলজিয়ামের।

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৪ ১৩:৫২:৩২

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা। উভয় দল আগেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০১৮ তে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

সেমিফাইনালে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেই শনিবার আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। পুরো বাছাই পর্বে দারুণ দাপট দেখানো সালমা খাতুনরা ফাইনালেও দারুণ জয় পেয়েছে। ২৫ রানে জিতে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ।

নেদারল্যান্ডসের আটরেখটে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় আয়ারল্যান্ড। ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা সুবিধা করতে না পারলেও ৯ উইকেটে ১২২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর করে। তারপর ১৮.৪ ওভারে প্রতিপক্ষকে গুটিয়ে দেয় ৯৭ রানে।

আগে ব্যাট করে মাত্র চার ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে রান করেছেন। শামীমা সুলতানার (১৬) সঙ্গে ২৮ রানের জুটি গড়েন আয়েশা রহমান। তারপর ফারজানা হককে (১৭) নিয়ে ৫৮ রানের সেরা জুটি গড়েন এই ওপেনার।

দলকে ৮৮ রানে রেখে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে আউট হন আয়েশা। এর আগে ৪২ বলে ৫ চার ও ২ ছয়ে ৪৬ রানের সেরা ইনিংস খেলেন তিনি। ১২ রান করে অপরাজিত ছিলেন জাহানারা আলম।

আয়ারল্যান্ডের লুচি ও’রিলে ৪ টি ও সিয়ারা ম্যাটকাফে নেন ২টি উইকেট।

১২৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ষষ্ঠ ও ১২তম ওভারে পান্না ঘোষ ও রুমানা আহমেদের জোড়া আঘাতে ভেঙে পড়ে আইরিশরা। ৫৪ রানে ৬ উইকেট হারায় তারা। নিজের তৃতীয় ওভারে আরেকবার জোড়া আঘাত হানেন পান্না।

শেষ ওভারেও এই ডানহাতি পেসার উইকেট পান। ম্যারি ওয়ালড্রোনকে বোল্ড করে টি-টোয়েন্টিতে তো বটেই, যে কোনও ধরনের ক্রিকেটে প্রথমবার ৫ উইকেট পান পান্না। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে গ্যাবি লিউইস সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন। বাংলাদেশের পান্না ৫টি,  রুমানা ও নাহিদা আক্তার ২টি করে উইকেট তুলে নেন।

আগামী ৯ নভেম্বর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। যেখানে বাছাইয়ের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাংলাদেশ ‘এ’ গ্রুপে লড়বে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। প্রথম দিনই স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে তারা।

 এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

ইতিহাস গড়ে ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া, হৃদয় ভাঙল ইংল্যান্ড

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১২ ০৪:৫৯:৩২

‘ইংল্যান্ডস গোয়িং অল দ্য ওয়ে’
‘ইংল্যান্ডস গোয়িং অল দ্য ওয়ে’
‘ইংল্যান্ডস গোয়িং অল দ্য ওয়ে’
ক্রোয়েশিয়ার জালে সেমিফাইনালের পঞ্চম মিনিটে বল পাঠানোর পর ইংল্যান্ড সমর্থকদের উল্লাস ছিল এমন বাঁধনহারা। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামকে মনে হচ্ছিল এক টুকরো লন্ডন, কার্ডিফ কিংবা ম্যানচেষ্টার। বারবার কানে আসছিল ‘ইংল্যান্ডস গোয়িং অল দ্য ওয়ে’।

এমন সমর্থন আর চিৎকার না করে উপায় আছে!

১৯৬৬ সালে নিজেদের একমাত্র বিশ্বকাপ জেতে ইংল্যান্ড। এরপর থেকেই কেবল অপ্রাপ্তির হাহাকার। বহু বছর বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল বড় কোনো প্রত্যাশা ছাড়া। এবার হ্যারি কেন, ইয়াং, স্টোনস, পিকফোর্ডরা সেই প্রত্যাশা তৈরি করেন। স্বপ্ন দেখান নতুন দিগন্তের। আশা জাগান নতুন ইতিহাস সৃষ্টির। তাইতো রাজপথ আর স্টেডিয়ামে শুধু চলতে থাকে ‘ইংল্যান্ডস গোয়িং অল দ্য ওয়ে’।

আত্মবিশ্বাস, মাঠের পারফরম্যান্স কোনো কিছুতেই কমতি ছিল না ইংল্যান্ডের। সেমিফাইনাল পর্যন্ত তাদের বাধা হতে পারেনি কেউ, পারেনি আটকাতে। অপ্রতিরোধ্য সেই ইংল্যান্ডকেই আজ মাটিতে নামিয়ে আনল ক্রোয়েশিয়া। ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ক্রোয়েশিয়া উঠল বিশ্বকাপের ফাইনালে।
 
ইংল্যান্ড শেষবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল ১৯৯০ সালে। তখনও পরাধীন ক্রোয়েশিয়া। পরের বছরের ২৫ জুন ক্রোয়োশিয়ার মিলল স্বাধীনতা। দেশটির ফুটবল ঐতিহ্য এতোটাই বিস্তৃত যে স্বাধীন ক্রোয়েশিয়া ১৯৯৮ সালে খেলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। দাভর সুকেররা ত্রিবর্ণের পতাকা উড়ায় ফ্রান্সের মাটিতে। সেবার ফাইনাল খেলতে পারেনি সুকেররা। কিন্তু এবার মদ্রিচরা সেই ভুল করলেন না। ফাইনালে উঠে ইতিহাস সৃষ্টির পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল রাকিটিচ, মানজুকিচ ও পেরেসিচরা।

২০ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ চারে ক্রোয়েশিয়া। ২৮ বছর পর উঠেছে ইংল্যান্ডও। ম্যাচটা যে জমজমাট হবে তা আগের থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। কিছু বুঝে উঠার আগেই গোল খেয়ে বসল ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে ডেলে আলিকে ডি বক্সের বাইরে ফাউল করায় ২০ গজ দূর থেকে ফ্রি-কিক পায় ইংল্যান্ড। কিরিন ট্রিপায়ারের ডানপায়ের বাঁকানো শট খুঁজে নেয় ক্রোয়েশিয়ার জাল। জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম গোল করে শুরুতেই লায়ন্সদের ‍উল্লাসে ভাসান ট্রিপায়ার। 
সেট পিচ যে ইংল্যান্ডের শক্তির জায়গায় তা আরেকবার প্রমাণ মিলল। সেমিফাইনালের আগে ১১ গোল দেওয়া ইংল্যান্ড ৮টিই দিয়েছিল সেট পিচ থেকে। ট্রিপায়ার সেই তালিকায় যোগ করেন আরও একটি। তবে একটি জায়গায় ট্রিপায়ারের গোলটি এগিয়ে থাকবে। ২০০৬ বিশ্বকাপে সরাসরি ফ্রি কিকে ইকুয়েডরের বিপক্ষে গোল দিয়েছিলেন ডেভিড বেকহ্যাম। বেকহ্যামের পর ট্রিপায়ার সরাসরি ফ্রি কিক থেকে গোল করার কীর্তি গড়লেন।

মাঠ গোছানোর আগে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে ক্রোয়েশিয়া। দূর্বলতার সুযোগটি নিয়ে একাধিক আক্রমণ শানায় ইংল্যান্ড। ২৯ মিনিটে হ্যারি কেন বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন। মাত্র ৭ বা ৮ গজের দূরের থেকে তার নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন সুবাসিচ। বিশ্বকাপে ৬ গোল পাওয়া হ্যারি কেনের থেকে এমন ভুল অপ্রত্যাশিতই বটে।
 
২ মিনিট পর ক্রোয়েশিয়া প্রথম আক্রমণ করে ইংল্যান্ড শিবিরে। রেবিকের শট ফিরিয়ে দেন ইয়াং। রেবিকের ফিরতি শটটিও ছিল গোলমুখে। গোলরক্ষক পিকফোর্ড ঝাঁপিয়ে বল রক্ষা করেন। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে শেষ হয় দুই দলের প্রথমার্ধের লড়াই।

দ্বিতীয়ার্ধে আসল রূপে ফেরে জ্লাতকো দালিচের শিষ্যরা। প্রথমার্ধে তাদের পাওয়ার ফুটবল পাওয়াই যাচ্ছিল না। লং পাস আর দীর্ঘ ক্রস, সাথে পাওয়ার ফুটবল। তিনের মিশেলে বারবার ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টায় থাকে ক্রোয়াটরা। শেষ পর্যন্ত ৬৮ মিনিটে সমতাসূচক গোলের দেখা পায়।
 
ডানপ্রান্ত থেকে সিমে ভারসালজিকোর ক্রস থেকে ডি বক্সের ভেতরে পা লাগিয়ে গোল করেন পেরিসিচ। জাতীয় দলের হয়ে এটি তার ২৮তম এবং চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় গোল। সমতায় ফেরানোর ২ মিনিট পরই আবারও পেরিচের আক্রমণ। বামপ্রান্ত থেকে বল নিয়ে একাই ভেতরে ঢুকেন । বামপায়ে শট নেন ঠিকই। কিন্তু পোস্টে লেগে বল ফিরে আসে। ওখানেই শেষ হয়ে যেত ম্যাচ। কিন্তু ঈশ্বর চাননি এতটা সহজে জিতুক ক্রোয়েশিয়া!

আগের দুই ম্যাচে টাইব্রেকারে জয় পায় তারা। এবার হলে হ্যাটট্রিক হতো। সেটা হয়নি। ৯০ মিনিটের লড়াই অমীমাংসিত থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও প্রথমার্ধের ১৫ মিনিটের লড়াই ১-১ গোলে সমতা। ১০৭ মিনিটে ইংল্যান্ডকে বাঁচিয়ে দেন পিকফোর্ড। পেরিসিচের ক্রস থেকে ডাইভ দিয়ে বল পায়ে লাগান মানজুকিচ। বল ছিল গোলমুখে। পিকফোর্ড ঝাঁপিয়ে শেষ রক্ষা করেন।
 
কিন্তু দ্বিতীয় অর্ধে আর পারেননি পিকফোর্ড। এবারও মানজুকিচের শট। ১০৯ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে পেরিচিসের স্বাভাবিক হেডে বল পেয়ে যান মানজুকিচ। কোনাকুনি শট নিয়ে এবার ঠিকই লক্ষ্যভেদ করেন জুভেন্টাসের হয়ে খেলা এ স্ট্রাইকার। ওই গোলেই ইংল্যান্ডের সব স্বপ্ন শুকনো পাতার মতো ভেসে যায়।
 
৫২ বছর পর ফের বিশ্বজয়ের বাতাস ছড়িয়ে পরে গোটা ইংল্যান্ডে। সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। বাধা হয়ে দাঁড়াল নবযুগের ক্রোয়েশিয়া। ইংল্যান্ড আগেও উঠেছিল ফাইনালে, চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল। হ্যারি কেনরা এবার ইতিহাস ছুঁতে পারেনি। হৃদয় ভাঙল তারা।
 
‘ইংল্যান্ড ইজ কামিং হোম!’ - সমর্থকদের কন্ঠে এখন বেদনার সুর।


 এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত