যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং

|   ঢাকা - 02:46am

|   লন্ডন - 09:46pm

|   নিউইয়র্ক - 04:46pm

  সর্বশেষ :

  নিয়ন্ত্রণে আসছে ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানল 'ববক্যাট ফায়ার'   ক্যালিফোর্নিয়ার ডিজনিল্যান্ড পার্ক খুলতে কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল   যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়ালো   নির্বাচনের আগেই বিচারপতি নিয়োগের ভোট হবে সিনেটে: মিচ ম্যাককনেল   করোনার জন্য জাতিসংঘে চীনকে দায়ী করলেন ট্রাম্প   দেশে করোনায় মৃত্যু ৫ হাজার ছাড়ালো   ভিপি নূরের মামলাকে মিথ্যা বললেন ড. কামাল, দেবেন আইনি সহায়তা   বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে গণস্বাস্থ্যের কিটের অনুমতি দেয়নি সরকার: ডা. জাফরউল্লাহ   একের পর এক দুর্যোগে নাজেহাল ক্যালিফোর্নিয়া   ভূরাজনৈতিক বিরোধ জাতিসংঘকে যেন দুর্বল না করে: প্রধানমন্ত্রী   নূরের বিরুদ্ধে অপহরণ-ধর্ষণ ও ডিজিটাল আইনে আরেক মামলা   চীন-রাশিয়া থেকে অস্ত্র কিনবে ইরান   ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রথমবারের মতো সংক্রমণ ৩ শতাংশেরও নিচে   ডেঙ্গু আক্রান্তরা হতে পারেন করোনা প্রতিরোধে সক্ষম: গবেষণা   আসছে শীতে যুক্তরাষ্ট্রে 'টুইনডেমিক' আতঙ্ক

>>  টুকিটাকি এর সকল সংবাদ

কবিতা



কবি হতে আসিনিপারভীন আকতার


আমি কবি হতে আসিনি,
আমি শুধু আমার জীবনবোধের কথা
শব্দের আঁকরে লিপিবদ্ধ করেতে এসেছি।
আমি সভ্যতার এক ছোট কোণে জন্মেছি,
অবহেলার চাদরে মুড়িয়ে ফেলে রেখেছে কেউ যেন অহর্নিশ।

আমি রংধনুর প্রতিফলন দেখতে এসেছি,
এই পৃথিবীর মায়া কুঞ্জ নিভৃত পথচারীর বেশে।
সমাজ,দেশ তথা বিশ্বের অচলায়তনে
ঘুরপাক খাওয়া নব্য আর্যগোষ্ঠীর উপাস্য দেখবো বলে।

ওরা কারা? কী চায় ওরা?
ভাবনার ঊষা সনে প্রতিসরণের বাঁকানো পথ ধরে।
জানতে চাই প্রক্ষেপণ বেগ কতটা ওজোনস্তর ভেদ করে।
উন্মাদ কিশলয় অর্ণব মুখর হিমালয় অভিযানে চলে।

আমি তাই মনের কথা বলতে

বিস্তারিত খবর

বানরের অধিকার নিশ্চিতে সুইজারল্যান্ডে গণভোট

 প্রকাশিত: ২০২০-০৯-১৮ ১৩:৫৩:১২

বানরের অধিকার নিশ্চিতে সুইজারল্যান্ডে হতে যাচ্ছে গণভোট। বন্যপ্রাণি ধ্বংস ঠেকানো এবং বানরের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্যই সুইজারল্যান্ড সরকার এ গণভোটের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। দেশটিতে বানরসহ অন্যান্য প্রাণীর মৌলিক অধিকার রক্ষায় আঞ্চলিক সংবিধান সংশোধন করার জন্য হবে এ গণভোট।

গণভোটের জন্য সুইজারল্যান্ডের বাসেল শহরের উত্তর ক্যান্টন এলাকায় প্রায় এক লাখ মানুষের কাছ থেকে স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে প্রাণীদের মৌলিক অধিকার দেশে বৈধতা পায়। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরের শুরুতেই এ গণভোট হবে। সুইজারল্যান্ডের সর্বোচ্চ আদালতে গণভোটের বৈধতা দেয়ার বিরুদ্ধে একটি আবেদন জমা পড়েছিল।

বুধবার দেশটির সর্বোচ্চ আদালত তা নাকচ করে দেন। পরদিনই জেনেভার শহরে চারটি সভা অনুষ্ঠিত হয় বন্যপ্রাণী ও বানরের অস্তিত্ব রক্ষা প্রসঙ্গে।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/টি

বিস্তারিত খবর

কবিতা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৯-১৬ ০৫:২০:০৭



আগুন
রাজীব কুমার ব্যানার্জি


আমি আছি দেয়াশলাই কাঠিতে, ছোট্ট একটি বারুদ কাঠিতে।
আমি আছি তোমাদের পুজোয়, কখনো বা ঘর জ্বালানোয়।।
আমি আছি তোমাদের দ্বীপাগ্নিতে, আমি আছি মুখাগ্নিতে ।
আমি ধুপকাঠি জ্বালাই , আমি তোমাদের বাজী পোড়াই।।
আমি আছি সিগারেটের আগুনে, আছি কিছু দেহ দহনে।
আমি আছি তোমাদের রান্নায়, আমি আছি কিছু কান্নায়।।
আমি আছি তোমাদের বিয়েতে, আমি আছি কিছু মৃত্যুতে ।
আমি আছি তোমাদের সোহাগে, আমি আছি কিছু বিয়োগে ।।
আমি আছি গাড়ির মেশিনে, আমি আছি তোমার কিচেনে ।
আমি দূর করি তোমার ঘরের কালো, জ্বালায়ে দ্বীপের আলো ।।
আমি আছি কয়েক হাজার আলোকবর্ষ দূরের কিছু গ্রহতে ।
আমি আছি ভিসুভিয়াস ও বিভিন্ন কিছু আগ্নেয়গিরিতে ।।
আমি যে বেদে অগ্নি দেবতা , আছি ইন্দ্রের সাথে বায়ু ও আসমানে ।
বিপদে আমি যে আলোতে রক্ষা করি, তা লেখা আছে তা কোরানে।।
বাইবেলে লেখা আছে অবিশ্বাসীদের শেষ বিচার হয় নরকের আগুনে ।
অগ্নি মানুষকে শুদ্ধ করে, ঊজ্জ্বলতা নিয়ে আসে জীবনে ।।
অগ্নি, বায়ু ও সূর্য – শুরুতে এই তিন দেবতার ব্যাখ্যা আছে ঋকবেদে ।
অগ্নি সব অন্ধকার, প্রতিকূল ও অশুদ্ধতাকে দগ্ধ করে তার ঊজ্জ্বলতাতে ।।
যেহেতু অগ্নি প্রতিদিন প্রজ্জ্বলিত হন – ইনি তরুণ, ঊজ্জ্বল ও দীপ্তিমান ।
ইনি অমরত্ব এবং জীবনের প্রতিক – তাই সোনা এর এক সন্তান।।

বিস্তারিত খবর

ছড়া-কবিতা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৯-১৫ ০৮:১১:৫৫



শরতের জন্ম শরতে
অঞ্জলি দে নন্দী

প্রকৃতির সন্তান
বাংলার তুমি সম্মান
অশেষ তোমার দান
বাঙালীর তুমি প্রাণ।
সৃষ্টিতে তুমি চির মহান
শ্রী শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
আজ তোমার জন্মদিন।
হুগলীর দেবানন্দপুর।
হয়েছিল ধন্য সেদিন
তুমি প্ৰথম কেঁদেছিল সেথায় যেদিন।
তোমার লেখনির টান,
তা তো অফুরান,
সেদিক পানে
মম অন্তর আজ ধায়।
মম মনে নব সৃষ্টি চেতনা আনে।
তুমিই তো হৃদয়ের বাধাহীন উড়ান।
তোমার সৃষ্ট সাহিত্য ডাকে
সদাই আমাকে,
আয় আয় আয়!

বিস্তারিত খবর

চার দশকে বণ্যপ্রাণীর সংখ্যা কমেছে দুই-তৃতীয়াংশ!

 প্রকাশিত: ২০২০-০৯-১০ ০৯:৩৮:৪৬

গত চার দশকে পৃথিবীজুড়ে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা গড়ে ৬৮% হ্রাস পেয়েছে, যা মোট বণ্যপ্রাণীর প্রায় দুই তৃতীয়াংশ। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বণ্যপ্রাণীর সংখ্যা কমেছে ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে, যার পরিমাণ প্রায় ৯৪ %। সম্প্রতি 'ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড' এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। 

'দ্য লিভিং প্ল্যানেট রিপোর্ট- ২০২০' শিরোনামের এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৯৭০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪,৩৯২ প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ, পাখি, উদ্ভিদ, জলজ মাছ ও উভচর প্রাণী। গত কয়েক মিলিয়ন বছরের মধ্যে বণ্যপ্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ার হার এবারই সর্বোচ্চ।  
গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে, মানুষের মাত্রাতিরিক্ত ভোগবাদী আচরণ, তৃণভূমির রূপান্তর এবং বন ও জলজ এলাকার পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীতে বণ্যপ্রাণীর সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ পৃথিবীর ৭৫ শতাংশ বরফ-মুক্ত অঞ্চলকে ভোগবাদী আচরণের মাধ্যমে বিনষ্ট করে ফেলেছে। ফলে ভবিষ্যৎ শতকগুলোতে পৃথিবী থেকে পাঁচ লাখ প্রাণী ও উদ্ভিদ এবং পাঁচ লাখ কীটপতঙ্গ সম্পূর্ন বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। তবে মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও ভোগবাদী আচরণ পরিবর্তনের মাধ্যমে এই বিলুপ্তি রোধ করা সম্ভব হবে। 

গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সবচেয়ে দ্রুত কমছে মিঠাপানির জলজ প্রাণীর সংখ্যা। ১৯৭০ সালের পর থেকে প্রতিবছর মিঠাপানিতে বসবাস করা স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ এবং জলজ মাছের সংখ্যা চার শতাংশ করে কমছে। 

ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের প্রধান বিজ্ঞানী রেবেকা শো জানান, সবচেয়ে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে মিঠাপানির প্রাণীর সংখ্যা। পাশাপাশি জলজ প্রাণীগুলোর ইকোসিস্টমের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। এটি খুবই উদ্বেগের বিষয়। 


'বণ্যপ্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পিছনে সবচেয়ে বেশি দায়ী মানুষ' উল্লেখ করে রেবেকা শো বলেন, একুশ শতাব্দীর মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও ভোগবাদী আচরণের কারণে বণ্যপ্রাণীর সংখ্যা হুমকির মুখে পড়েছে। মানুষ খাদ্যের জন্য রেইনফরেস্ট বিনষ্ট করে কৃষিজমি তৈরি করছে। তাছাড়া মানুষ পৃথিবীর বায়োক্যাপাসিটির ৫৬ শতাংশের বেশি পুনঃব্যবহার করছে। 

তিনি আরো বলেন, সাধারণত যেসব প্রাণী সম্পূর্ণ বিলুপ্তির পথে, সেসব নিয়েই সাধারণত মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করে থাকে। কিন্তু ক্রমাগত  প্রাণীর সংখ্যা কমে যেতে থাকলে ইকোসিস্টেমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে প্রাণী থেকে মানুষে রোগ ছড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা আরো বাড়বে। 



এলএবাংলাটাইমস/ওএম 

বিস্তারিত খবর

কাজে ফাঁকি দিতে অলস ঘোড়ার কীর্তি!

 প্রকাশিত: ২০২০-০৯-০৯ ০৭:৩৯:৫১

শুধু মানুষের না, কাজ করতে আলসেমি লাগে পশুদেরও। কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠে পশুরাও একসময় ভাবে 'যথেষ্ট হয়েছে, আর পারছিনা বাপু'। এরপর কাজে ফাঁকি দিতে অভিনয়ের পথ বেছে নিতেও পিছপা হয় না তারা!

এমনই প্রমাণ পাওয়া গেলো জিনগ্যাং নামের এক আলসে কোরিয়ান ঘোড়ার কাছ থেকে। অনেকেই হয়তো ভাবছেন, পরিশ্রমী প্রাণী হিসেবে পরিচিত ঘোড়া আবার আলসে হয় নাকি?! অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, কাজ ফাঁকি দিতে আলসে জিনগ্যাং বেছে নিয়েছে অভিনব পন্থা। 

কি সেই পন্থা? জিনগ্যাং নামের ঘোড়াটির মালিক জানালেন, কাজ ফাঁকি দিতে তার ঘোড়াটি নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছে। যখনই ঘোড়াটির পিঠে চড়তে কেউ আসে, ওমনি মরে যাওয়ার ভান করে সে। পটু অভিনেতার মতো চার পা তুলে মাটিতে শুয়ে পড়ে। সঙ্গে চোখ উল্টে বের করে রাখে জিহবা। ব্যাস! যে কেউ ভাববে, ঘোড়াটি বুঝি মারাই গেছে, আর চড়া যাবে না ওর পিঠে! 

কিন্তু খানিকবাদেই নড়েচড়ে বসে জিনগ্যাং। দিব্যি খেয়ে-দেয়ে নিজের মতো ঘুরে বেড়ায়। আবার যখন কেউ চড়তে আসে, আবার মরে যাওয়ার ভান করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। 

কাজে ফাঁকি দেওয়ার এই অভিনব কৌশল আবিষ্কার করে মানুষকেও বেশ মজা দিয়ে যাচ্ছে জিনগ্যাং। ঘোড়াটির সাথে মজা করতে মানুষেরাও তার পিঠে চড়ে বসার ভান করে, ঠিক তখন জিনগ্যাংও মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। 

জিনগ্যাং এর মালিক তার ঘোড়াটির এমন মজার কান্ড করার পিছনে কারণ হিসেবে বলেন, বড্ড আলসে তার এই ঘোড়াটি। মোটেও কাজ করতে চায় না সে। তাই বেছে নিয়ে অভিনয়ের পথ। সে খুবই দুষ্ট কিন্তু আদুরে। 

জিনগ্যাং এর মজার এই কীর্তির ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ইউটিউব ও সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। ঘোড়ার এহেন কীর্তি দেখে মজা পাচ্ছেন দূর-দূরান্তের নেটিজেনরা। লক্ষ-লক্ষ ভিউ হচ্ছে জিনগ্যাং এর অভিনব অভিনয়ের ভিডিওতে। সেই সঙ্গে জুটে গেছে তার অসংখ্য ভক্তও। নেটিজেনদের কেউ কেউ তারিফ করছেন ঘোড়াটির বুদ্ধির। কেউ কেউ করছেন মজার কমেন্ট। 

এক ইউটিউব ব্যবহারকারী ভিডিওটির নিচে লিখেন, 'ঘোড়াটি জিনিয়াস। ইশ! আমিও যদি অপছন্দের মানুষদের দেখলে এমন ভাব নিতে পারতাম!' 

আরেকজন লিখেছেন, 'ঘোড়াটি পুরোপুরি আমার মতো। যখনই আমার বোন স্কুলে যাওয়ার জন্য আমার ঘুম ভাঙ্গাতে আসতো, আমি মরার মতো বিছানায় পড়ে থাকতাম ঠিক এভাবেই'। 

এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি তকমা জুটে গেছে জিনগ্যাং এর কপালে। পৃথিবীতে সবচেয়ে আলসে ঘোড়া এখন জিনগ্যাং-ই।  


এলএবাংলাটাইমস/ওএম 

বিস্তারিত খবর

আবারো মা হলো সেই 'মমতাময়ী' তিমি

 প্রকাশিত: ২০২০-০৯-০৭ ১৯:৫৭:২৩

আবারো বাচ্চা প্রসব করেছে কিলার হোয়েল প্রজাতির 'তাহলেকুয়াহ' নামের মা তিমিটি। ২০১৮ সালে তাহলেকুয়াহ নামের এই তিমিটি 'মায়ের মমতা' দেখিয়ে বিশ্ববাসীর নজরে আসে। 

তাহলেকুয়াহ ২০১৮ সালে প্রথম বাচ্চা প্রসব করে। কিন্তু কয়েকঘন্টা পরই বাচ্চাটি মারা যায়। কিন্তু বাচ্চার মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলোনা তিমিটি।  মৃত বাচ্চাকে সাগরে ডুবে যেতে না দিয়ে টানা ১৭ দিন পিঠে করে বাচ্চাটিকে নিয়ে ১০০০ মাইল পানিতে ভেসে বেড়ায় সে। এই ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে রাতারাতি বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত হয়ে উঠে তাহলেকুয়াহ। 

ইউএস হোয়েল রিসার্চ সেন্টার জানিয়েছে, গবেষকদের কাছে জে-৩৫ নামের পরিচিত তিমিটি আবারো গত সপ্তাহে একটি বাচ্চা প্রসব করেছে। প্রায় ১৮০০ মাস পর আবারো মা হয়েছে তাহলেকুয়াহ। ধারণা করা হচ্ছে, সেপ্টেম্বরের ৪ তারিখ বাচ্চাটির জন্ম হয়। 

সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্ট ও ভ্যানকুভার আইসল্যান্ডের মাঝামাঝি জলসীমায় বাচ্চাসহ সাঁতরে বেড়াতে দেখা গেছে জে-৩৫ কে। বাচ্চাটির নাম দেওয়া হয়েছে জে-৫৭। দুইটি তিমির স্বাস্থ্যই ভালো আছে বলে জানিয়েছে ইউএস হোয়েল রিসার্চ সেন্টার। 

আঠারো মাস পর দীর্ঘ শোক সয়ে আবারো বাচ্চা প্রসব করায় খুবই খুশি ও অবাক হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ নিয়ে অঞ্চলটিতে তিমির সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৩ এ। 

এলএবাংলাটাইমস/ওএম 

বিস্তারিত খবর

সাড়ে তিন লাখ ডলারে বিক্রি হল মহাত্মা গান্ধীর চশমা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৮-২২ ১৩:১৫:১৬

ভারতের স্বাধীনতার জনক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর একজোড়া চশমা যুক্তরাজ্যের একটি নিলাম ঘরে তিন লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলারে (প্রায় দুই কোটি ৮৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা) বিক্রি হয়েছে।

শুক্রবার রাতে ইনস্টাগ্রামে ইস্ট ব্রিস্টল অকশনসের পক্ষ থেকে লেখা হয়, ‘মাত্র চার সপ্তাহ আগেই চশমাটি আমরা আমাদের ডাকবাক্সে পেয়েছিলাম। এক ভদ্রলোক সেটি ওখানে রেখে গিয়েছিলেন; চশমাটি গান্ধী নিজে ওই ভদ্রলোকের এক আঙ্কেলকে দিয়েছিলেন।’

‘আর সেই অবিশ্বাস্য উপহারটি নিলামে তুলে অবিশ্বাস্য ফল পেয়েছি আমরা!’ অহিংস আন্দোলনের পুরোধা মহাত্মা গান্ধী ওই চশমা ১৯২০ কিংবা ১৯৩০-এর দশকে, দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামে চাকরিকালে পরতেন বলে জানিয়েছে ‘অকশন হাউস’।

ধারণা করা হয়েছিল, নিলামে চশমাটির দাম ১৯ হাজার ৬৩৪ ডলারের (১৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকার) মতো উঠবে।

এ মাসের শুরুতে নিলামকারী অ্যান্ড্র– স্টো বলেছিলেন, যে ভদ্রলোক চশমাটি তাদের দিয়ে গেছেন তিনি বলেছিলেন, ‘কাজে না লাগলে ফেলে দিয়েন!’ যারা এটির দাম ১৯ হাজার ৬৩৪ ডলারের মতো উঠবে বলে আশা করেছিলেন, তিন লাখ ৪০ হাজার ডলারে বিক্রি হওয়ার খবরে তাদের চোখ নিশ্চয়ই কপালে উঠে গেছে!

জানা গেছে, এই চশমাটি ইংল্যান্ডের এক বয়স্ক ব্যক্তির কাছ থেকে মিলেছে। তার বাবা জানিয়েছিলেন, এই চশমাটি তার কাকা ১৯১০ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের হয়ে কাজ করার সময় উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন।

‘এই ব্যক্তি নিশ্চয়ই ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় কাজ করতেন। সেখানেই তিনি এই চশমাটি উপহার পান। তবে আমার মনে এই চশমাটি তার প্রথম জীবনেরই চশমা।’

কিন্তু কীভাবে গান্ধীর ব্যবহৃত চশমা অন্য একজনের কাছে এলো?

আসলে গান্ধীজি প্রায়ই তার পুরনো বা অপ্রয়োজনীয় চশমা সেই সব মানুষকে দান করতেন যাদের সেটির প্রয়োজন আছে অথবা কোনো না কোনো সময়ে গান্ধীকে সাহায্য করেছেন। সেভাবেই হয়তো ওই ব্যক্তিকেও তিনি চশমাটি দান করেছেন।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/টি

বিস্তারিত খবর

রয়া চৌধুরীর কবিতা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৮-০৫ ০৪:৫৮:০৪


ভালোবাসার স্বর্গ
রয়া চৌধুরী

শুধু তোমাকেই চাই
তোমার কামাতুর চোখের দংশনে
হাত দুটো ধরতে যে চাই প্রাণের আলিঙ্গনে
জড়িয়ে থাকতে চাই 
তোমার আঙুলে আঙ্গুলে আমার সরু কটি।
তোমার তপ্ত ওষ্ঠের চুম্বনে
উষ্ণ হতে চায় আমার শীতল প্রাণ,
মন্দ কি তাতে যদিও থাকে নিকোটিনের ঘ্রাণ?
হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসায়
সিক্ত করতে চাই তোমায়।
ভালোবাসি, ভালোবাসি
শুধু তোমাকেই ভালোবাসি
জানুক এই দুনিয়াবাসি।
তুমিহীনা আমি নিঃস্ব, আমার গোটা বিশ্ব
অন্তরের গভীরতম ধ্যানে
সারাক্ষণ থাকো যে আমার প্রাণে,
ভালোবাসার অবিরাম ঝর্ণাধারা
বর্ষিত হয় অবিরত হৃদয় পাতে।
তোমার এ ঋণ কি করে শোধবো হে প্রিয়?
কোন অর্থ ব্যয়ে বা দিবস রজনী অপচয়ে
হবে না যে শোধ,
তোমার কারণেই বুঝেছি আমি
ভালোবাসার কী অর্থ!
চলো দুজনে মিলে গড়ি
ভালোবাসার অমর স্বর্গ।

বিস্তারিত খবর

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম তুললো জিরাফ!

 প্রকাশিত: ২০২০-০৮-০১ ১৩:৪১:৩৮

পৃথিবীর সবচাইতে লম্বা প্রাণী হিসেবে পরিচিত জিরাফ। উচ্চতর প্রাণীদের ক্ষেত্রে জিরাফের অবস্থান প্রথম সারিতে তা অনেকেই জানেন। কিন্তু লম্বাদের মধ্যে সবাইকে ছাড়িয়ে রেকর্ড করেছে অস্ট্রেলিয়ার একটি জিরাফ।

উচ্চতায় পৃথিবীতে অস্ট্রেলিয়ার ‘ফরেস্ট’ নামের ওই জিরাফটিই এখন সব থেকে লম্বা। সম্প্রতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের পক্ষ থেকে ফরেস্টকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় কুইন্সল্যান্ডে বিরওয়া চিড়িয়াখানার বাসিন্দা ফরেস্টের উচ্চতা দোতলা বাড়ির সমান। ১৮ ফুট আট ইঞ্চির ফরেস্টই এখন জীবিত জিরাফদের মধ্যে সব থেকে লম্বা।

গত বছর ৪ ডিসেম্বর ফরেস্টের উচ্চতা মাপা হয়। তারপর তা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখেন। সম্প্রতি তাদের সাইটে রেকর্ডের স্বীকৃতি ঘোষণা করা হয় এবং ফরেস্টের বাসস্থানে রেকর্ডপত্রটি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

ফেসবুকে ফরেস্টের কয়েকটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে। পোস্ট করেছেন বিন্ডি আরউইন, যিনি ক্রোকোডাইল হান্টার নামে পরিচিতি স্টিভ আরউইনের মেয়ে। সেই ছবিতে তার ভাই বব আরউইনকেও দেখা যাচ্ছে। বিন্ডির পোস্ট করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কী ভাবে সেই জিরাফের উচ্চতা মাপা হচ্ছে। আর গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের পত্র পাওয়ার পর সেটির সঙ্গে ফরেস্টের ছবিও পোস্ট করা হয়েছে।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এন

বিস্তারিত খবর

ছড়া-কবিতা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৭-২১ ১০:০৯:৪৭


নদীর পানি
এম আর তানভীর


অথৈ গাঙ্গের পানি
কোন সুখে তুই ছুটে চলিস
কূলহারা কোন পথে?

তোর দু-কূল জুড়ে জেগে আছে
শতগ্রাম,হাজারো ঘড়বাড়ি
মাঝে মাঝে কেন তোর লুকোচুরি?
ভাঙ্গিস হাজার বসতবাড়ি।

তোর বুকে চলে কতো
রঙ বেরঙের তরী
দিবস-রাতি ছুটিস কোথায়?
কোন গন্তব্যহীন দেশে।

ঢেউয়ের পরে ঢেউ তুলে
করিস কতো সর্বহারা
কত স্বপ্ন বিলীন হয়
নেই কী একটু দয়ামায়া?

শহর বন্দর পথ পেরিয়ে
ছুটে যাওরে কোন সুদূরে?
কোন অজানা কোন সে পথে?
কী সুখ তুই পেলি খুজে?

বিস্তারিত খবর

গল্প: ঝাড়খণ্ড থেকে শালীমার গার্ডেন

 প্রকাশিত: ২০২০-০৭-১১ ০৩:০৭:৩৫

এখানে একটি মাল্টিস্টোরি বিল্ডিং-এর ফ্রন্ট সাইডের টপ ফ্লোরের একটি টু বি. এইচ. কে. ফ্ল্যাটে কুমার ফ্যামিলি থাকে। ওরা ঝাড়খণ্ড থেকে উত্তর ভারতে এসেছিল। কর্মসূত্রেই তো বেশিরভাগ মানুষ জন্মস্থান ছেড়ে অন্যত্র বাস করে। এরাও তাই। এদের ব্যাক সাইডে, টপ ফ্লোরের একটি টু বি. এইচ. কে. ফ্ল্যাট ক্রয় করে দে ফ্যামিলি থাকে। দেয়েদের রুফ রাইট সমেত কেনা। তাই ওরা ছাদে নিজেরাই একটি মন্দির বানিয়ে নিয়ে সেখানে বাঙালীর পূজ্য দেবদেবীর মাটির মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা নিজেরা ও বিল্ডিং-এর সবাই ওখানে এসে পুজো করে। এই বিল্ডিং-এর এক পরিবার ঋষিকেশ থেকে এসেছে। আর এক পরিবার কাশ্মীর থেকে এসেছে। অন্য আরেক পরিবার বিহার থেকে এসেছে। অপর এক পরিবার পাঞ্জাব থেকে এসেছে। এক পরিবার রাজস্থান থেকে আসা। এক পরিবার আগ্রা থেকে আসা।

তো ঝাড়খণ্ড থেকে যে ফ্যামিলি এসে এখানে আছে তাদের জয়েন্ট ফ্যামিলি। বড় ছেলে এক টেষ্ট ল্যাবে জব করে। বাড়ি বাড়ি বাড়ি গিয়ে শ্যাম্পেল কালেক্ট করে এনে 'লাল প্যাথলজি'তে দেয়। ব্লাড শ্যাম্পেলই বেশি কালেক্ট করে। অন্য কিছুও করে। এর জন্য সে ল্যাব থেকে কমিশন পায়। মিষ্টার কুমারের স্ত্রী টিপ সই। আনপার। আর স্বামী ঝাড়খণ্ডের তার গ্রামের স্কুল থেকে এইট পাস করে এক ডাক্তারের ডিস্পেন্সারিতে কাজ করত। এরপর এখানে জব পেয়েছে, সে এক মন্ত্রীর সোর্সে। এই মন্ত্রীর সঙ্গে তাদের গ্রাম থেকেই যোগাযোগ ছিল। মন্ত্রীর কোনো এক আত্মীয় ওই গ্রামে আছে। তাই যাওয়া আসা করত। আর সেই সূত্রেই এদের সঙ্গে আলাপ পরিচয়। আর দিল্লীতে চাকরী পাওয়া ও আসা। তা যা হোক, অঙ্গুঠা ছাপ হলেও মিসেস কুমারের ব্রেন যে কোনও উচ্চ শিক্ষিত বা শিক্ষতাকে ঘোল খাইয়ে দেয়। এরকম স্যাম্পল ক্যারেক্টার তো সমাজ সংসারে অনেকেই পাওয়া যায়। এখন এ হাউস ওয়াইফ তবে যখন ওরা দিল্লীতে থাকতো তখন ঐ মন্ত্রীর বাড়িতে ও রাঁধুনীর কাজ করত। মন্ত্রীর ওখানেই থাকতো ওরা সবাই। আর তাই এদের পলিটিক্স বুদ্ধি খুব প্রখর। মিসেস দে এই পরিবারের একেবারে হৃদয়ে স্থান পেয়েছে। ক্যানো? তা দে নিজেও বোঝে না। যাক, পাওয়াটাই বড় ব্যাপার। তো এরা সবাই দে-কে "বহিনজি" বলে ডাকে। মেজো কুমারকে বড়দা দিল্লীরই একটি ফার্মেসীতে কাজে ঢুকিয়ে দিয়েছে। সেও গ্রাম থেকে টেন পাস করে এসেছিল। এর বউ গ্রাম থেকে বারো ক্লাস পাস করে, বিয়ের পর, একে ওখানেই পতিরূপে পেয়ে, এখন এখানের বাসিন্দা। আর ছোট ছেলেটি গ্রাম থেকে বারো ক্লাস পাস করে, এখন দিল্লীতে একটি প্রাইভেট নার্সিং হোমের ওয়ার্ড বয়। সে আবার তার ক্যান্টিন থেকে রোজ বাড়ি ফেরার সময় অনেক ভালো ভালো ভালো খাবার ফ্রীতে নিয়ে আসে। তাই এদের খাওয়া খরচ খানিকটা বেঁচে যায়। এর বউও গ্রাম থেকে বারো ক্লাস পাসের পর, বিয়ের সূত্রে বরের সঙ্গে এখানে আসে। এসে করস্পন্ডেন্স কোর্সে ভর্তি হয়ে সে বি. এ. পাস করে। এই ছোট ভাইটিকেও বড়দা সোর্স কাজে লাগিয়ে নার্সিং হোমে ঢুকিয়ে দেয়। বড়র প্রথম ছেলে ও ছোট মেয়ে। মেজোর প্রথম মেয়ে ও ছোট ছেলে। ছোটর এক মেয়ে। মেজোর মেয়েটি বিকলাঙ্গ। মেজো বউটি যখন ছাদে মেয়েকে কোলে  নিয়ে ঘোরে, তখন সাথীরূপী দে-কে মনের কথা বলে, "  সপ্তাহ কাটে। মাস কাটে। বছর কাটে.... আমি ভাবি এই বুঝি আমার মেয়ে দাঁড়াবে? হাঁটবে! ... কিন্তু হায়! বছরের পর বছর কেটে গেল। কত মানত করলুম। কত চিকিৎসা করলুম। মেয়ে আর হাঁটলো না তবুও। এটা কী ভাগ্য নয়? বলো তো? " দে কিছুই জবাব দিতে পারে না। সে বলে, " ভাবী! তুমি ওকে ওদের জন্য যে স্পেশাল স্কুল আছে সেখানে ভর্তি করে দাও! দেখো তাহলে ওর ভবিষ্যত ভালো হয়ে যাবে। " ও বলে, " আমাদের পরিবারের কেউই তা আমাকে করতে দিচ্ছে না। তুমি তো আগেও আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছিলে। তো ওরা তো তোমাকে বলল যে, না না এরকমই বেশ আছে। আমি আর কী করতে পারি বল? " দে চুপ হয়ে যায়। এবার এই ব্যাপারে মেজো বউটি সংসারে প্রতিবাদ করে। ফল? হ্যাঁ, এই পায় সে....ওর বর মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করার নাম করে মা ও মেয়েকে নিয়ে অটোরিক্সা করে বের হয়। তারপর বাসে করে যায়। বহু দূরে নিয়ে গিয়ে - অন্য এক জায়গায়। সেখানে থাকে। একটি পাহাড়ী ধর্মশালায়। বলে স্কুলটি এখানেই। এরপর ও ওদের নিয়ে একটি জঙ্গলে যায়। বলে যে আজই ভর্তি হবে। এই বলে ধর্মশালা থেকে বের হয়। জঙ্গলে অনেক সময় ঘোরে। যখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে তখন বউটি জিজ্ঞেস করে, " কি গো, স্কুলের কি হল? " এরপর ও বলে, " এই তো আর একটু পরই স্কুলের বোডিং পৌঁছে যাব। " রাত বাড়ে। হঠাৎ পতিদেব মহাশয় বলে, " তোমরা এখানে একটু অপেক্ষা করো! আমি পায়খানা করে আসছি। " এই বলে সে অন্ধকারে ওদের দাঁড় করিয়ে রেখে সেই যে গ্যালো আর ফিরলো না। বউটি সকালে ধর্মশালায় এলো। শুনলো তার স্বামী সেখানে আসে নি। ও এবার নিজের ফ্ল্যাটে মেয়েকে নিয়ে ফিরল। এরপর ও আর কোনদিন মেয়ের নিয়ে কাউকে কোনও কথা বলত না। ছাদে ঘোরার সময় মেজো বউটি বলে, " আমার বর ও আমার বড় জা এক বিছানায় শুতো। " সত্যি কথা। সব সময়ই মেজোকাকু তার ভাইঝি ও ভাইপোকে আদর করে। নিজের সন্তানদের প্রতি কোনও ভ্রুক্ষেপ করে না। এরপর কয়েকমাস কেটে গেছে। মেজো বউটি একটি প্রাইভেট স্কুলে আয়ার চাকরী জোগাড় করল। হ্যাঁ, ঐ স্কুলেই ওর জায়ের ছেলেমেয়ে ও ওর ছেলে পড়ে। ছোট দেওরের বাচ্চা তো এখন একদম ছোট তাই স্কুলে ভর্তি হয় নি এখনও। তা হল কি? যেদিন ও স্কুলে আয়ার কাজ করতে প্রথম বের হবে, সেদিন, বর জা ও ওর বর দুজনে মিলে ওকে চেপে ধরে প্রচুর ট্যাবলেট গেলালো। ও ওদের জোরের সঙ্গে পেরে উঠলো না।  এরপর যখন ও বেহুঁশ হয়ে পড়ে আছে, এমন সময় মিসেস দে ওদের ফ্ল্যাটে আড্ডা দিতে গ্যালো। প্রায়ই এরকম যায়। ওরাও আসে দেয়ের ফ্ল্যাটে। বিল্ডিং-এর সবাই সবার কাছে আসে। তো দে দেখলো যে ও মেঝেতে পড়ে আছে। তা বড় ভাবীকে জিগ্যেস করল। ও বলল যে এমনিই শুয়ে আছে। কিন্তু দে তার কথা বিশ্বাস না করে কাছে গিয়ে ডাকল, " মেজো ভাবী! ও ভাবি! ওঠো! " অনেকবার ডাকলো... কোনও সারা শব্দ নেই। এবার দে বেরিয়ে গিয়ে বিল্ডিং-এর অন্যদের ডেকে আনলো। তো ওরা সবাই মিলে ওকে ধরাধরি করে কাছের এক ডাক্তারখানায় নিয়ে গ্যালো। ডক্টর বললেন, " এর পেটের মধ্যে প্রচুর ঘুমের ওষুধ গেছে। আমি দেখছি, কি করতে পারি! " পরে সে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরলো। এরপর থেকে ও আর চাকরী করার চেষ্টা করে না। নিজের মনে বেশিরভাগ সময়ই বিড়বিড় করে। কারোর সঙ্গে কথা বলে না। মেশে না। শুধু সন্তানদের খুবই ভালো করে লালন পালন করে। নিজের শরীরের প্রতি কোনও যত্ন নেয় না। এরপর ওকে ছেলেমেয়ে সমেত গ্রামের বাড়িতে রেখে এলো, ওর বর। আর কোনদিন আনলো না। দরকার নেই যে। ওর তো উপপত্নী ও তার সন্তানরাই আপনজন। আসলে মেজো বউয়ের বাবা গ্রামের ওই স্কুলের শিক্ষক ছিল, যে স্কুল থেকে এরা সবাই পাস করেছে। তাই তার মেয়েকে বিয়ে করেছিল। বেশ টাকাও তো পেয়েছে। মেজো বউটি বলত দেয়ের কাছে, অনেক আগে অবশ্য। তখন তো ও সুস্থ মস্তিষ্কের ছিল। হ্যাঁ বলতো যে তার বর টাকার লোভে তাকে বিয়ে করেছে। সে বলত, " বলো তো দে বহিনজি! ক্যানো ও আমাকে সাদি করলো? ওর তো বউ, সন্তান সবই বিয়ের আগে থেকেই হয়ে গিয়েছিল। কি দরকার ছিল আমাদের জীবনগুলো বরবাদ করার? " দে নিরুত্তর থাকতো। এর যে কোনও উত্তর দেয়ের জানা নেই। তবে হ্যাঁ বড় বউটি কিন্তু দে-এর খুব সেবা করেছিল। একবার মিষ্টার দে কর্মসূত্রে মধ্যপ্ৰদেশে বেশ কয়েকমাস ছিল। তো সে প্রতি মাসেই এখানে ওখানে গিয়ে থাকে। পনেরো দিন বাড়ীতে আর পনেরো দিন অন্য রাজ্যে। এবারে টানা বেশ কয়েকটি মাস বাইরে। তো দেয়ের ব্লাড ইনফেকশন হল। বেঙ্গল থেকে তার মা এলো। সেবা করে মেয়েকে সুস্থ করে তুলল। আসার আগে বড় কুমার ভাবি দিনরাত ওর মাথার কাছে জেগে বসে থাকতো। সেবা করত। আর ওর মা যখন খবর পেলো তখন তার ডায়েরিয়ার চিকিৎসা চলছিল। নিজের বাড়িতে সেলাইন চলছিল। ডাক্তার তার খুড়তুতো দেওর। সে বলল, " বৌদী তুমি এখন অতো দূরে যেও না! পথে বিপদ হতে পারে। " সে বলল, " আমার মেয়েকে বাঁচাতে হবে আগে। তারপর অন্য কিছু। " এইবলে মা সেলাইন খুলিয়ে ভি. আই. পি. কোটায় টিকিট করিয়ে চলে এলো। মায়ের দেওর যে রেলের রিজার্ভেশনের টিকিট কাউন্টারে জব করত। তাই এই সুবিধা পেলো। এসে মেয়ের সঙ্গে কুমার মহিলাকে দেখে একটু স্বস্তি পেলো। হ্যাঁ তার মেয়েকে দেখছে কেউ। পরে মা তাকে একটি রুপোর লাড্ডু গোপাল উপহার হিসেবে দেয়। জন্মাষ্টমীর রাতে। মা তো তখন মেয়ের সেবার জন্য ওখানেই ছিল। জামাই তখনও বাইরেই। খবর পেয়েও এলো না। সম্ভব নয়। অফিসের কাজ। আর এই কুমার ভাবি দে'র ছাদের মন্দির, হয়ে অব্ধি রোজই সাফ করত। আর পুজোও করত। অন্যেরাও বিল্ডিং-এর পুজো করতো। তবে কেউই কোনোদিন মন্দির ধোওয়ামোছা করত না। ও করত রোজ। এই মন্দিরে কুমার ভাবি ছোলেবটুরে করে ভোগ দিত প্রায়ই। আসলে দে ভাবি এগুলো খেতে ভালোবাসে তো তাই .......অন্তরের ভালোবাসা হয় তো একেই বলে.......

মাঝে মধ্যে কুমারের গ্রাম থেকে অনেকেই আসতো। ওরাও দে ভাবীকে আপন করে নিয়েছিল। তারা জুতোহীন, খালী পায়ে, ছোট্ট একটি ধুতি পড়ে, খালি গায়ে, মাথায় গামছা বেঁধে হেঁটে হেঁটে হেঁটে ঝাড়খণ্ড থেকে শালীমার গার্ডেনে আসতো। ওরা গ্রামে জলেতে পোলো দিয়ে মাছ ধরে ও তা বিক্রি করে। পুরুষরা আসতো। মহিলাদের কেউ কখনও আসে নি। কুমার ভাবীর শশুর লেখাপড়া জানে না কিন্তু খুব আধ্যাত্মিক জ্ঞানী। দে-এর সঙ্গে তার খুব জমতো। দু জনেই তো একই লাইনের। দে তো আধ্যাত্মিক আলোচনা পেলে নিজের নাওয়া খাওয়া ভুলে যায়। তাই একজন মনের মতো মানুষ পেয়ে সে খুব আনন্দে আছে। যখনই কুমারের বাবা আসতো, দে নিমন্ত্রণ করে নিজের হাতে রেঁধে তাকে খাওয়াতো। বস্ত্র উপহারও দিত। সিলভার কয়েনও দিত। ...

তা যাক- এবার মেয়ে সুস্থ হয়ে গেল। এবার জামাই এলো। মা বেঙ্গলে ফিরে আসবে। তো দে ওর হাসব্যান্ডকে বলল, " দ্যাখো তুমি ব্যবস্থা কর! আমরা একবার সবাই মিলে হরিদ্বার গিয়ে গঙ্গা স্নান করে আসি। দেয়ের ছেলে তখন প্রাইমারী স্টুডেন্ট। তো মিষ্টার দে চারজনে মিলে যাবে বলে ব্যবস্থা করল। বের হল। যেখান থেকে বাস ছাড়বে সেই টার্মিনালে গিয়ে ওরা তিনজন, দিদিমা, মা ও ছেলে কেউই হঠাৎ করে আর মিষ্টার দেকে খুঁজে পেলো না। মাইকে এনাউন্স করল। তাও সে এলো না। যখন বাস ছেড়ে চলে গেছে, টাইম ওভার হয়ে গেছে, তথন মিষ্টার দে হাঁফাতে হাঁফাতে এসে বলল, " তোমরা কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলে? আমি তো খুঁজে খুঁজে হয়রান। চলো বাড়ি ফিরে যাই। আর হরিদ্বার যেতে হবে না। " কারোর আর বুঝতে বাকি রইল না। তখন মিসেস দে বলল, " এসো আমার সঙ্গে! " এই বলে সে সবাইকে নিয়ে এক ঘন্টা পর যে বাস ছাড়বে তার চারটে টিকিট কেটে নিয়ে, বাসে উঠে বসল। এতো গাদাগাদি যে সে জানলা দিয়ে টোপকে সবার আগে ঢুকে বাসের ভিতররে নিজে একটি সিটে বসে অন্য তিনটি সিট ধরে রাখলো। পরে ওরা ঢুকে তাতে বসল। সে যাত্রায় গঙ্গা স্নান হল। ফিরে এসে মা বেঙ্গল চলে গ্যালো। এর কয়েকমাস পর মিসেস দে-এর বাবা ক্যান্সার হয়ে মারা গ্যালো। মেয়েটি তাকে শেষ দ্যাখাও দেখতে গ্যালো না। সে যে অসহায়। গেলে যে আর তার স্বামী তাকে ঘরে ঢুকতে দেবে না। এরপর কয়েক মাস কেটে গেছে। মেয়েটি এবার এনিমিয়ায় কাবু। জামাই মুম্বাইয়ে। মা আবার এলো। সারিয়ে তুলল। এসে বলল, " আমি তোর জন্য আসিনি। আমার নাতীর অসুবিধা হবে বলে তাই এলুম। " মেয়ে খুব হাসলো। .... মায়ের সিঁদুর কৌটোটা এখনও ড্রেসিং টেবিলের ওপর রাখা আছে। মেয়ে তো সিঁদুর পড়ে না। মা আগের বারে এসে রেখে গিয়েছিল। এবার মা আর ওটার দিকে ফিরেও তাকালো না। তার বাবা যে স্বর্গে। মেয়ে তখন ওটিকে কুমার ভাবীকে উপহার দিয়ে দিল। সিঁদুর সমেত চাঁদির সিঁদুর কৌটোটি। মা ওটি বেঙ্গল থেকে আগের বার এনে এখানে রেখে গিয়েছিল। তখনও ওরা কেউই জানতো না যে মা আর এর থেকে সিঁদুর পড়বে না। ভবিষ্যত কে জানতে পারে? এটিই তো চির বিশ্বয়। কেউই কারোর আগামী জানতে পারে না। হায়!...

পরে দে ওই ফ্ল্যাটটি তালা দিয়ে রাখে। আর দিল্লীতে একটি থ্রী বি. এইচ. কে. কিনে শিফট করে। আর মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ বড় কুমার ভাবীই করে।

বিস্তারিত খবর

ছড়া-কবিতা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৭-১১ ০২:৫২:৫০


মনোবলমওদুদর রহমান তানভীর


জীবন নদী পাড়ি দাও তুমি
ছেড়ো না কভু হাল।
সম্মুখ পাণে এগিয়ে চলো
ছেড়ে দাও তোমার পাল।

বাধা বিপত্তি আসবে কতশত
ভয় পেলে হবে ক্ষত বিক্ষত।
ঝড় ঝাপ্টা আসুক যত
বিজয় আসবে কাছে ততো।

তুমি তারিক তুমি মুসা
তোমার নেই কোন শঙ্কা।
তমিস্রা শর্বরী  নির্জন পথে
ছোটে চলো দেহে বল রেখে।

তটিনী পাথার লহরী মাড়িয়ে
জলযান তীরে লও ভিড়িয়ে।
কলেবরে রাখো হিম্মত
তবে ফিরে পাবে মনোবল।

বিস্তারিত খবর

জয়প্রকাশ মণ্ডল-এর কবিতা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৭-১১ ০২:৪৮:৫৭


কত রাত জল হয়ে যায়
জয়প্রকাশ মণ্ডল

এসো জল মাপি;
কোভিড-১৯ তো কি হয়েছে, সবাই তো আর
মরবে না। সহিস হয়ে বসে থাকি চলো
আড়াই চালের ঘোড়ার ।

বন্ধকী কারবারে
অনেক হয়েছে উন্নয়ন
বিশ্বায়নের কারা যেন টাইগার; কত
হাতি ঘোড়া গেল তল বাঘ বলে কত জল
নোটে শাকের পাতার লাল নাকি সবুজ, কার
স্বাদ ভালো, সভ্যতা গড়ার মায়া কি সহজে কাটে না

এত গল্প কারা গিলে, লুডোর দানে বুঁদ থাকে
এ বিশ্বে তো বাঘের গল্প বুঝলাম
ও পারে টাইগারটি কে, কোথাও
তো লিখলো না; এ আবার
কেমন কথা । সব কি বুঝে ওঠা
যায় নাকি বুঝে নেওয়া যায়।

এক জনের মন পেতে এই
বিশ বছর তো চলে গেল, তা
গোটা একটি রাষ্ট্র বুঝি কি করে ।
তাই বলে তো হাল ছেড়ে দেব না।

আর জল মাপতেও মতি
নেই, জল মেপে কি কোনো মেয়ের
ভালোবাসা পাওয়া যায়? স্মল আইল্যান্ডের
চারদিকে তো জল। কত রাত
জল হয়ে যায়
সচারাচর

মাপ তুমি, যত খুশি মাপ
বাণিজ্য শেষ হলে খবর দিও
কিন্তু, একবারটি দেখে আসবঃ স্বাস্থ্য কেমন আছে

বিস্তারিত খবর

সেলিনা মানিকের কবিতা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৭-০৭ ০২:০২:৪৬


তুমি  পারবে
সেলিনা মানিক
বাংলাদেশ-তুমি হেরে যেতে শেখোনি ,
তুমি যুদ্ধ করেছো ভাষার জন্য,
এনে  দিয়েছো  মাতৃভাষা ।
তুমি  যুদ্ধ  করেছো দেশকে বাঁচাতে ,
তুমিই  এনে  দিয়েছো  সাসাধীন   দেশ ।
পারবে —তুমিই  পারবে ,
এই  মহামারিকে  রোধ  করতে ।।
তাই— এবার  তুমি  দেখিয়ে  দাও,
বিশ্বকে  জয়  করে  দেখিয়ে  দাও  ।।
আমরা  অপেক্ষা করছি  সেই  দিনটির,
যেদিন  তুমি ভ্যাকসিন আবিষ্কার  করবে।
তুমিই  করতে  পারবে—
জানি  তুমি  হারতে  শেখোনি ।
হাঁটিহাঁটি  পা পা করে
আজ  তুমি  হাঁটতে  শিখেছো ।
সেই  তুমিই  আজ  —
মাথা  উঁচু করে দাঁড়াতে শিখেছো ।
কতো যে রক্ত  ঝড়িয়েছো ,
তোমার  শরীর  থেকে-
তারপরও  তুমি  হেরে  যাওনি ।
তাইতো  তুমি  আমার  দেশ,
এগিয়ে  যাও  বাংলাদেশ ।।

বিস্তারিত খবর

রয়া চৌধুরীর কবিতা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৭-০৬ ০২:২৭:২৯

যদি হতো মতিভ্রম

রয়া চৌধুরী

শূন্য চাইলেই হতে পারতোসামনের মানুষটির একে অন্যের
মন বুঝে নেওয়ার
ঠিক আলোর মতো কিংবা আলো নয়;
আলো-আঁধারির নিস্পাপ হাত
হাতের মতো।

বিস্মিত  নিষ্পাপ বালক দিনের আলোয়
বলেছিল, সব দেখা যায় !
আমরাও কি সব দেখতে পেতাম?
মানব হৃদয়ের সত্য সুন্দর, ভালবাসা
আর ঈর্ষা, হিংস্র কুটিল নির্মমতা !

দিনের আলোতে
আমরা গাইতাম না তাদের জয়গান
অথবা গুন কীর্তন ;
যারা বলেছেন হাজার হাজার বছর ধরে
সত্য আর মানবতার কথা
জীবন আর যৌবনের নিখুঁত উপকথা,
আর চুপটি করে দেখেছেন
রোম, জাঞ্জিবার, বাগদাদ, কঙ্গো, আটলান্টায়
মানুষ বিকিকিনির বিভৎস  উল্লাস
শুনতে হতো না জ্ঞানের লিপিবদ্ধকৃত অহংবোধ,
অভিশপ্ত আর দ্বিচারিতার জয়দ্ধনি ।

মহাত্মা পাঠিয়েছেন যুদ্ধে
একান্ত অনুগত হিত্তিপুত্রকে,
মারতে নয়, মরতে;
সত্যের কুটিল ছোবলে হতো  দ্রোনা
অহিংস ভিক্ষু করেছে মরণের কারবার
কুফা বাসীরা দিয়েছে কারবালা উপহার ।
শূন্যের মতিভ্রম হলে হয়তো হতো না আর
৭১, মাইলাই, নাগাসাকি, শিনজার ।

দিনের আলোয়,
পৃথিবীর প্রথম মৃত্যুটি হতো  স্বাভাবিক
দেসদিমনা বেঁচে থাকত আরো বহুবার
কিন্ত শূন্য কখনো ভুল করেন না
কোনোদিনই হয়নি মতিভ্রম !
মানব হৃদয়ে তাই একাকার
সত্য সুন্দর আর কৃষ্ণ শকুনি,
নিরন্তর চলমান সহস্র আরব্য রজনী।

বিস্তারিত খবর

বিশ্বখ্যাতদের এক ডজন বিচিত্র ঘটনা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৭-০৬ ০২:১৯:৩৭

যে কবির ঘরবাড়ি ছিল না

'হোম সুইট হোম' নামের একটি মাত্র কবিতা লিখেই পৃথিবীর সর্বত্র 'জন হাওয়ার্ড পেইন'-এর নাম কবি হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সে সময় সমস্ত কবিতা প্রেমিকের মুখে মুখেই এই কবিতার লাইনগুলো অনবরত শোনা যেত। কবিতাটা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই অনুবাদ হয়ে যায় নানান ভাষায়। ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। কবিতাটির প্রতি শব্দের ভাঁজে ভাঁজে সুরকারেরা খুঁজে দেন সুর। শুধুমাত্র একটি কবিতার জন্য এত জনপ্রিয়তা সম্ভবত অন্য আর কোনও কবির ভাগ্যে জোটেনি।
কবিতাটি লেখা হয়েছিল ছবির রাজধানী প্যারিসে। যেখানে অঢেল শ্যাম্পেন, কফি আর প্রাচুর্য। যে সময়ে কবিতাটি কবি লিখেছিলেন, ঠিক সেই সময় তাঁর দুটি পকেটই ছিল একদম খালি। প্রাচুর্যের মালভূমিতে দাঁড়িয়ে সম্পূর্ন কপর্দকহীন কবি লিখে ফেললেন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কবিতা--- হোম সুইট হোম। পরে যার বাংলা অনুবাদ হয়, 'ঘর সুন্দর ঘর'। কবির শুধু এই কবিতাতেই নয়, তাঁর অন্যান্য কবিতাতেও ধরা পড়েছে ছোট্ট একটি ঘরের স্বপ্ন। সারাটা জীবন ধরে ঘরের স্বপ্ন দেখে গেছেন কবি। ঘরই ছিল তাঁর আশা। ঘরই ছিল তাঁর একমাত্র চাওয়া। ঘরই ছিল তাঁর কাছে সব কিছু। কিন্তু ঘর তো দূরের কথা, একটা বারান্দাও ছিল না তাঁর। তিনি থাকতেন একটি পরিত্যক্ত পার্কের পাপে বড় একটি গাছের তলায়। ছোট্ট মতন একটি ঝুপড়ি বানিয়ে।
একদিন সন্ধ্যায় হঠাৎ করে এত প্রবল‌ জোরে তুষারপাত শুরু হল যে, তাঁর কোনও রকমে জোড়াতাপ্পি দিয়ে বানানো অস্থায়ী ঝুপড়ির ছাউনিটা এক ঝটকায় উড়িয়ে নিয়ে গেল দমকা বাতাস। কোথায় মাথা গুঁজবেন তিনি! দিশেহারা হয়ে ছুটে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন সামনের একটা বাড়ির ঝুল-বারান্দায় নীচে। কিন্তু তাতেও তুষার ঝাপটার হাত থেকে নিজেকে কিছুতেই বাঁচাতে পারছিলেন না। বেশ খানিকটা ভিজেও গিয়েছিলেন। শীতে ঠকঠক করে কাঁপছিলেন। এমন সময় তাঁর কানে ভেসে এল একটা পরিচিত গানের সুর। কান পেতে শুনলেন, সমবেত ভাবে কারা যেন তাঁর 'হোম সুইট হোম' গানটা গাইছে। কারা? দরজার ঘুলঘুলিতে চোখ রাখলেন কবি। দেখলেন, কিছু তরুণ ছেলেমেয়ে আগুন পোয়াচ্ছে আর হাততালি দিয়ে দিয়ে গানটি গাইছে।
তিনি মনে মনে‌ ভাবলেন, গানটি আমার লেখা, এই পরিচয় দিলে হয়তো এখানে একটু আশ্রয় পাওয়া যেতে পারে। মিলতে পারে ফায়ার প্লেসের আগুন পোয়ানোর সুযোগ। এই আশা নিয়েই তিনি দরজা ধাক্কালেন।‌ একটি মেয়ে এসে দরজা খুলতেই তিনি তাঁর পরিচয় দিলেন। কিন্তু তাঁর ভিখিরির মতো পোশাক-আশাক আর তাঁর চেহারা দেখে তাঁর কথা সে বিশ্বাস করল না।
এই দুর্যোগের রাতে কে এল? দেখার জন্য যারা ওই মেয়েটির সঙ্গে দল বেঁধে গান গাইছিল, ততক্ষণে গান থামিয়ে তারাও বেশ কয়েক জন মেয়েটির পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে। লোকটির কথা শুনে তারা ভাবল লোকটা নিশ্চয়ই একটা পাগল।‌ তাই আর কথা না বাড়িয়ে মুখের সামনে দড়াম করে দরজা বন্ধ করে দিল।
ছেলেমেয়েগুলোর এই ব্যবহারে তিনি এতটাই মর্মাহত হলেন যে, তখনই তিনি ওই তুষার-ঝড়ের মধ্যেই বারান্দা থেকে রাস্তায় নেমে এলেন।
'হোম সুইট হোম' লেখার এক বছর পরেই গৃহহীন এই কবি সে দিনের সেই তুষারপাতে ভিজে মারাত্মক টিউনিস রোগে আক্রান্ত হন এবং ক'দিন পরেই ঢলে পড়েন মৃত্যুর কোলে।
আমরা জানি না, মারা যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে সেই কাঙ্খিত ছোট্ট বাড়িটির স্বপ্ন তাঁর‌ চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল কি না।


প্রতি সংস্করণে সংযোজন

এখন এই মুহূর্তে আমরা যদি 'লিভস্ অব গ্রাস' কাব্যগ্রন্থটির সূচিপত্র সামনে তুলে ধরি, তা হলে দেখতে পাব প্রায় সাড়ে চারশোর মতো কবিতা রয়েছে সেখানে। অথচ এই বইটি আঠেরটশো পঞ্চান্ন সালে যখন প্রথম প্রকাশিত হয়, তখন এই বইটিতে কবিতার সংখ্যা ছিল মাত্র বারোটি। এই অল্প সংখ্যক কবিতার পাতলা চটি বইটিই পরবর্তিকালে একটি অসামান্য সাহিত্যকীর্তি হিসেবে গোটা বিশ্বের সর্বত্র স্বীকৃতি পায়।
বইটির কবিতাগুলি লিখেছিলেন আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ওয়াল্ট হুইটম্যান। সারা জীবন ধরে তিনি এই একটিই মাত্র কবিতার বই লিখে গেছেন।‌ তাঁর বয়স যখন বছর ছত্রিশ, তখন এই সংকলনটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
তা হলে আজ 'লিভস অব গ্রাস'-এ কবিতার সংখ্যা এত হল কী করে! আসলে এই বইটি বেরোবার পরেও আরও অনেক কবিতা লিখেছেন এই কবি এবং সেগুলিকে নিয়ে আর আলাদা কোনও বই না করে, প্রকাশিত ওই বইয়েরই পরবর্তী সংস্করণগুলোতে কিছু কিছু করে জুড়ে দিয়েছেন।‌যখন যে ক'টা লেখা হয়েছে, সে ভাবেই অন্তর্ভুক্তি হয়েছে। এই ভাবে প্রত্যেক সংস্করণে নতুন কবিতা যোগ করতে করতে কবির বয়স যখন তিয়াত্তর বছর, অর্থাৎ যে বছরে কবি মারা যান, আঠারোশো বিরানব্বই সালে এই বইটির নবম সংস্করণ প্রকাশিত হয়। বইটিতে কবিতার সংখ্যা তখন চারশো তেইশ।
মাত্র একটি বইতে এই ভাবে প্রত্যেক সংস্করণে পরবর্তী লেখাগুলো যোগ করে করে, জীবনের সমস্ত কবিতা একই গ্রন্থে বন্দি করার প্রথম নজির‌ সৃষ্টি করেন ওয়াল্ট হুইটম্যান।


উপেক্ষিত লেখিকা

নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই পুরস্কার প্রাপকের বিভিন্ন বই নানান ভাষায় অনুবাদ হতে দেখা যায়। দেখা যায়, বড় কোনও পুরস্কার তো নয়ই, এমনকী ছোটখাটো‌ দেশীয় পুরস্কার না পেলেও কিংবা তেমন জনপ্রিয়তা না জুটলেও, মোটামুটি লিখতে পারলেই বহু লেখকের বই, অন্য ভাষায় না হলেও অন্তত ইংরেজিতে অনুবাদ হয়। কিন্তু এর একমাত্র ব্যতিক্রম--- গ্যাব্রিয়েলা মিস্তাল।
বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সাহিত্য সম্মান পাওয়ার প্রায় এগারো বছর পরেও কেবল একটি ছোট্ট সংকলন ছাড়া তাঁর আর কোনও বইই ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়নি। শুধু তাই-ই নয়, তাঁর নিজের দেশীয় স্প্যানিস কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ সংকলনগুলোতেও, যেখানে সদ্য লিখতে আসা একদম তরুণ কবিদের কবিতাও ঠাঁই পায়, সেই সব সংকলনগুলিতেও তাঁর কোনও কবিতা খুঁজে পাওয়া যায় না। আরও বিস্ময়ের কথা, বাস্ক ও আমেরিন্ডিয়ান বংশোদ্ভূত এই কবির অনেক লেখাই আজও বিভিন্ন কাগজে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। গ্রন্থিত হয়নি। প্রামাণ্য রচনাবলি তো দূরের কথা। অথচ ১৯১৪ সালে তাঁর Sonetos de la Muerte বা মৃত্যুর সনেট নামক কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সাহিত্যজগতে হইচই পড়ে যায়। তখনই তিনি যথেষ্ট খ্যাতিলাভ করেন।
১৯৫৭ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি যখন দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগে মারা যান, তখনও তাঁর মৃত্যু সংবাদ প্রথম শ্রেণির দৈনিকগুলোতে তো নয়ই, অনেক সাহিত্য পত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়নি। হয়নি কোনও শোকসভাও।
১৯৪৫ সালে প্রথম লাতিন আমেরিকান হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরেও, নিজের দেশে এবং বিদেশে আর কোনও কবি বা লেখককে তাঁর মতো এমন ভাবে উপেক্ষিত হতে দেখা যায়নি।
তাঁর পুরো নাম ছিল---  লুসিলা দে মারিয়া দেল পেরপেতুও সোকোরো গোদোয় আলকায়াগা। কিন্তু
গ্যাব্রিয়েলা মিস্তাল নামেই তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন। না, তিনি শুধু একজন কবিই ছিলেন না, ছিলেন কূটনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ এবং প্রথম সারির একজন নারীবাদী কর্মীও।
তবু ১৮৮৯ সালের ৭ এপ্রিলে জন্মগ্রহণ করা এই কবি কিন্তু নিজের নামে কবিতা প্রকাশ করতে রাজি হননি। কারণ তিনি প্রথম কবিতা লিখেছিলেন, তাঁর প্রেমিকের হঠাৎ আত্মহত্যার বেদনাতে কেন্দ্র করে।
এই সময় একটি কবিতা প্রতিযোগিতায় এই বিষয়ের ওপরেই তিনটি সনেট লিখে পাঠিয়ে দেন তিনি। তাঁর ভয় ছিল, এই রকম বিষয় নিয়ে কবিতা লেখার জন্য তাঁর অবৈতনিক বিদ্যালয়ের শিক্ষয়িত্রীর চাকরিটি খোয়া যেতে পারে। তাই তিনি ছদ্মনাম গ্রহন করার সিদ্ধান্ত নেন।
কিন্তু কী নাম নেবেন তিনি? অনেক ভেবেও তেমন কোনও নাম ঠিক করতে না পেরে, অবশেষে তিনি তাঁর দুই প্রিয় লেখকের নাম থেকে বেছে নেন একটি করে শব্দ। একজনের নাম আর একজনের পদবি--- এই নিয়ে তৈরি করে ফেললেন তাঁর নিজের নাম। ছদ্মনাম।
এ দু'জনের একজন হলেন ইতালির বিখ্যাত কবি, নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক গ্যাব্রিয়েল দান্নুনৎসিও আর অন্য জন হলেন ফ্রান্সের নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ফেডেরিক মিস্তাল। ফলে তিনি পরিচিত হলেন--- গ্যাব্রিয়েল মিস্তাল নামে।
বলতে বাধা নেই, দক্ষিণ আমেরিকার কবিতায় আধুনিকতার সূচনা যাঁদের হাতে, তাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে অন্যতম তিনি। কত কবি লেখক‌ যে তাঁর কবিতায় অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, তার হিসেব নেই।‌ স্বয়ং পাবলো নেরুদা পর্যন্ত অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন এই মহিলা কবির কবিতা থেকে। অথচ তার মতো উপেক্ষিত আর কাউকে হতে দেখা যায়নি।


এক সুটকেস পাণ্ডুলিপি

জার্মানির লুবেক শহরের বিখ্যাত মান পরিবারের টমাস যখন রোম থেকে মিউনিখে ফিরে এলেন, তখন মাঝারি সাইজের একটি সুটকেস নিয়ে প্রায় সব সময়ই তাঁকে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেল। এতে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন, আরও অবাক হলেন যখন সবাই জানতে পারলেন যে, ওই স্যুটকেসে কোনও জামা কাপড় নয়, রয়েছে কাগজের বিশাল একটা বান্ডিল। সেটা‌ এতটাই মোটা যে, স্যুটকেসটা আটকাতে গেলে বেশ‌ বেগ পেতে হয়। পরে জানা গেল ওটা আসলে একটি পাণ্ডুলিপি।
এত মোটা পাণ্ডুলিপি? আয়তন নিয়ে যখনই কেউ কিছু বলতে শুরু করতেন, তখনই আত্মরক্ষার জন্য টমাস বেশ একটু তৈরি হয়েই বলতেন, 'খুব বেশি মনে হচ্ছে কি? কাগজের এক পিঠে লেখা তো! তাও বড় বড় অক্ষরে। মাত্র আঠেরোশো‌ সত্তরখানা স্লিপ।' তারও পরে টমাস একটু ইনিয়ে-বিনিয়ে বোঝাতে চাইতেন যে, তাঁর লেখা প্রথম বই 'লিটলহার ফ্রিডেমান' বেশ জনপ্রিয় হওয়ায় বার্লিনের যে প্রকাশক তাঁকে লেখার জন্য বারবার করে তাগাদা দিচ্ছিলেন, তাঁদের জন্যই তিনি এটা লিখেছেন।
কিন্তু লেখা তৈরি হলেও, ক্ষুদে ক্ষুদে হস্তাক্ষরে লেখা ওই বিশাল‌ পাণ্ডুলিপিটা ছাপা হলে যে বিপুল পৃষ্ঠা সংখ্যা দাঁড়াবে, তার কথা ভেবেই প্রকাশক নড়েচড়ে বসলেন। লেখককে বললেন, পাণ্ডুলিপিটার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দিতে হবে।‌ না হলে আমার পক্ষে এই বই করা সম্ভব নয়।
লেখক বেঁকে বসলেন। প্রকাশকও। অবশেষে এই নিয়ে লেখক আর প্রকাশকের মধ্যে অনেক বাগবিতণ্ডার পর শেষ পর্যন্ত একটা ছাত্রও বাদ না দিয়ে, পুরো অ্যান্টিক কাগজে মোটা মোটা দুটো খণ্ডে প্রকাশক বের করলেন লেখকের দ্বিতীয় উপন্যাস--- 'বাডেন ব্রুকস'।
এটা বেরোবার সঙ্গে সঙ্গে সমালোচকেরা বইয়ের আয়তন দেখেই ভীষণ চটে গেলেন। এত বড় বইয়ের পুরোটা পড়ে তার পর সমালোচনা করতে হবে! ক্রেতারাও চটে গেলেন‌ দাম শুনে। কারণ, নেহাত অনিচ্ছায় ছাপা এই বইয়ের একটাও কপি বিক্রি হবে কি না আশঙ্কা প্রকাশ করে, প্রকাশক এমন দাম করেছিলেন, যাতে কোনও রকমে একটা বই বিক্রি হলেই অন্তত তিনটে বইয়ের খরচ উঠে আসে। লাভের আশা তো দূরের কথা, পনেরো কি বিশ বছরেও এই খরচটা আদৌ উঠবে কি না তা নিয়ে প্রকাশকের যথেষ্ট সংশয় ছিল।
কিন্তু দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ দুঁদে প্রকাশকের সমস্ত হিসেব-নিকেশ ভুল প্রমাণিত করে, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই‌ তিন হাজার কপির প্রথম মুদ্রণ নিঃশেষিত হয়ে গেল।
তার পরে সেই বইটির কতগুলো সংস্করণ যে বেরিয়েছে এবং কতগুলো ভাষায় যে অনূদিত হয়েছে, তার আর কোনও হিসেব নেই।
এই হচ্ছেন ১৮৭৫ সালের ৬ জুন জন্মগ্রহণ করা দুনিয়া কাঁপানো লেখক--- টমাস মান। যিনি ১৮৫৫ সালের ১২ই আগস্ট সুইজারল্যান্ডের জুরিখ‌ থেকে এই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চিরদিনের জন্য চলে যান। যিনি শুধু লেখালিখির জন্যই ১৯২৯ সালে পেয়েছিলেন সাহিত্যের সেরা পুরস্কার নোবেল প্রাইজ।


স্ত্রীর কফিনে সমস্ত রচনা

ছবি আঁকা এবং লেখালেখির জন্য যিনি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, পি-রাফেলাইট কবি গোষ্ঠীর যিনি ছিলেন পুরোধা, সেই দান্তে গ্যাব্রিয়েল‌ রসেটি-র কোনও লেখাই হয়তো পরবর্তী কালের কোনও পাঠকই আর পড়তে পারতেন না। দেখার সুযোগ পেতেন না তাঁর আঁকা সুন্দর সুন্দর ছবিগুলিও।
নানান মৌলিক সৃষ্টির জন্য যখন তিনি সবার নজর কাড়ছেন, ঠিক তখনই একটি মেয়ের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। নাম--- এলিজাবেথ সি ডল। কয়েক দিনের মধ্যেই সেই আলাপ থেকে তাঁদের গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। বন্ধুত্ব থেকে একেবারে প্রেম। পরে সেই প্রেম বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়। প্রাণের থেকেও তিনি তাঁকে বেশি ভালবাসতেন। মেয়েটিও তাঁকে ভালবাসত একই রকম ভাবে। দারুণ সুখে জীবন কাটছিল তাঁদের।
এই সময়ে নিশ্চিন্ত মনে রসেটি লিখছিলেন আরও ব্যাপক হারে। কিন্তু মাত্র দু'বছর। অপরূপ সুন্দরী স্ত্রী মাত্র কয়েক দিনের জোরেই এই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে হঠাৎই চলে গেলেন। এলিজাবেথের শোকে পাথর হয়ে গেলেন তিনি। যে সৃষ্টির উপাসনা তিনি এত দিন ধরে করেছেন, বাকিটা কেমন হবে কল্পনা করে রেখেছেন, তা যেন এক লহমায় তাঁর চোখের সামনে আচমকাই খানখান হয়ে ভেঙে পড়ল।
যে কোনও সৃষ্টিকর্তাই হাজারও প্রতিকূলতার মধ্যেও‌ তাঁর সৃষ্টিকে চিরকাল বাঁচিয়ে রাখতে চান। কিন্তু ব্যতিক্রম ঘটল রসেটির বেলায়। তিনি বললেন, আমি সারা জীবন ধরে যা করেছি, তার কোনও মূল্য নেই। তবু এগুলোই আমি আমার বউকে উৎসর্গ করতে চাই। করলেনও তাই। নিজের সমস্ত রচনা এবং‌ আঁকা ছবিগুলো‌ স্ত্রীর কফিনের ভেতরে দিয়ে স্ত্রীকে সমাধিস্থ করে দিলেন।
তাঁর অগণিত পাঠকেরা ভেঙে পড়লেন। বন্ধুরা হতভম্ব। তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা চলল কত। আসতে লাগল অনুরোধের পর অনুরোধ। উপরোধ। তবু তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে অনড়।
তাই তাঁকে লুকিয়েই তাঁর বন্ধুরা এবং তাঁর অনুরাগীরা একদিন চুপিসাড়ে ওই কবর খুঁড়ে উদ্ধার করে আনলেন তাঁর সমস্ত রচনা এবং ছবি। যা থেকে প্রমাণ হয়, তাঁর থেকেও চিন্তাশীল এবং শক্তিমান কবি ও চিত্রকর এই পৃথিবীতে হয়তো থাকলেও থাকতে পারেন, কিন্তু তিনি তাঁর নিজের জায়গায় একদম অনন্য।
সৌন্দর্য পিপাসুদের জন্য তিনি রেখে গেছেন অপরূপ মহিমান্বিত শিল্পবৈভব, জীবনরস‌ আর কাঙ্খিতদের জন্য সংসারের কামনা-বাসনার কাহিনি। চিত্রপ্রিয়দের জন্য তন্ময় করা সুন্দর সুন্দর রেখা, রং।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, বউকে ভালবাসার নজির সৃষ্টি করেছেন অনেকেই, কিন্তু এ রকম উজাড় করা স্বতন্ত্রতা নিঃসন্দেহে বিরল এবং বিরলতম।


লেখকের পদবি রহস্য

নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন এমন লেখক আর আছেন কি না বলা মুশকিল, যাঁর পদবি নিয়ে এ রকম এক কৌতুকময় বেদনা জড়িয়ে আছে। নাট (কনুট) হ্যামসূনের পদবিটাকে 'হ্যামসূন' না বলে 'পেডারসেন' বলাই ঠিক। কারণ নাট হ্যামসূন নামে গোটা পৃথিবীর কাছে তিনি পরিচিত হলেও, তাঁর আসল পদবি কিন্তু হ্যামসূন‌ নয়, পেডারসেন। পুরুষাণুক্রমে চলে আসা এই পেডারসেন পদবিটা  কী করে যে হ্যামসূন হয়ে গেল সেটাই কৌতুকের, আবার বেদনারও।
নরওয়ের এক পুরনো কৃষক পরিবারে নাট জন্মগ্রহণ করেন। খুব অল্প বয়সেই বাবাকে হারিয়ে কাকার কাছে গিয়েছিলেন মানুষ হতে। কাকা ছিলেন ভীষণ গরিব। নিজেরই সংসার চলত না। কোনও রকমে খেটেখাওয়া এই কাকা নাট-কে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন এক মুচির কাছে। যাতে মুচির কাজ শিখে বাকি জীবনটা খেয়েপড়ে কোনও রকমে কাটিয়ে দিতে পারে তাঁর ভাইপো।
সেই মুচির কাছে থাকার জায়গা হিসেবে পাওয়া গেল খামারের একটা কোণ। কারও কাছে নাট কখনও ভালবাসা পাননি। তাই যেখানে তিনি রাত কাটাতেন, মাত্র কয়েক দিনেই সেটাকে খুব ভালবেসে ফেললেন তিনি। তখন ওই খামার ছাড়া তাঁর কাছে আর কেউই অতটা আপন নয়। কেউ তাঁকে কখনও কিছু দেয়নি। না বাবা-মা, না কাকা-কাকি, না অন্য কোনও আত্মীয়-স্বজন। অথচ এই খামারটি তাঁকে অনেক কিছু দেয়। দেয় নিশ্চিন্ত ঘুম। দেয় দু'চোখ ভরা স্বপ্ন। উপহার দেয় প্রত্যেক দিন নতুন একটা সকাল।
খামারটার নাম ছিল--- হ্যামসূন। তাই বংশগত পদবিটাকে বাদ দিয়ে তার জায়গায় নিজের নামের পাশে তিনি বসিয়ে দিলেন খামারটার নাম। তখন কেউ তাঁর নাম জিজ্ঞেস করলেই তিনি বলতেন, আমার নাম--- নাট হ্যামসূন।
এ ভাবেই শুরু। সে সময় সবাই এটাকে কিশোর বালকের খেয়ালখুশি মনে করে তেমন কোনও গুরুত্ব দেননি। আর তিনিও কারও কাছে কোনও বাধা না পেয়ে ওই নাম আর ওই পদবিতেই পরিচিত হয়েছেন সবার কাছে।
তিনি যা লেখাজোখা করতেন, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় যেগুলো পাঠাতেন, সেই লেখাগুলোতেই লেখকের নাম হিসেবে ব্যবহার করতেন ওই--- নাট হ্যামসূন। ফলে পরবর্তিকালে ওই খামারের নামটাই তাঁর পদবি হয়ে দাঁড়াল। নাট পেডারসেনকে যে দু'-চার জন চিনতেন, তাঁদের কাছেও ফিকে হয়ে এল সেই নাম। আর আস্তে আস্তে স্পষ্ট হয়ে উঠল নতুন ভাবে গড়ে ওঠা নতুন নাম--- নাট হ্যামসূন। উনিশশো কুড়ি সালে নরওয়ে থেকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়া নাট হ্যামসূন।


চোর-ডাকাতের লেখক

যাঁর লেখার প্রধান চরিত্রগুলোই চোর, ডাকাত, বাটপার, ভবঘুরে, মিথ্যেবাদী, ভাগ্যহীন এবং প্রতারক, যাদের নিয়ে উনিশশো থেকে উনিশশো পাঁচ সালের মধ্যে, মানে ছ'বছরের মধ্যেই ‌যিনি লিখে ফেলেছিলেন তিনশোরও বেশি গল্প এবং‌ সেই গল্প লিখে পাঠকমহলে বেশ‌ সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন, তিনি কিন্তু কখনও চাননি তাঁর এই গল্পগুলো তাঁর নিজের নামে ছাপা হোক। এমনকী, যে সব পত্রপত্রিকায় এ সব গল্প তিনি ছাপতে দিতেন, সেই সব পত্রিকার সম্পাদকদেরও তিনি বলে দিয়েছিলেন, তাঁর আসল পরিচয় যেন কেউ না জানে। তার কারণ, তাঁর নামের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল অনেক কলঙ্ক, অনেক অপবাদ এবং অবশ্যই পাহাড় প্রমাণ অপমান।
প্রথম জীবনে তিনি যে ব্যাঙ্কে চাকরি করতেন, সেখানে একবার এক হাজার ডলারের হিসেব মেলাতে না পারার জন্য তাঁর চাকরি চলে যায়। এক সপ্তাহের মধ্যে সেই টাকা দিতে না পারলে তাঁকে এরেস্ট করা হবে জানতে পারা মাত্রই তিনি টেক্সাস থেকে পালাতে যান হাউস্টনে। সেখানেও তাঁর নামে গ্রেফতারি সমন জারি হওয়ায় তাঁকে চলে যেতে হয় অরলিনসে। তারও পরে ট্রজিনোতে।
এত বার জায়গা বদল করে, গা ঢাকা দিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হল না। অবশেষে তিনি পুলিশের জালে‌ ধরা পড়েন এবং বিচারে‌ তাঁর জেল হয়ে গেল তিন বছর তিন মাস।
তাই তিনি চাননি তাঁর আসল পরিচয় কেউ জানুক। ফলে প্রকাশকেরা তাঁর কাছে জানতে চাইলেন, আপনার নামে যদি বই না ছাপি, তা হলে কার নামে ছাপব? যে কোনও একটা নাম দিন। অন্তত একটা ছদ্মনাম।
তখন, যে অহিয়ো জেলে‌ তিনি বন্দি ছিলেন, মনে পড়ে গেল সেই জেলখানার কথা। মনে পড়ে গেল সেই জেলখানার প্রহরীদের যিনি সর্দার ছিলেন, তাঁর কথা। তাঁর নাম ছিল--- ওবিন হেনরি। সংক্ষেপে 'ও হেনরি'। সেই সর্দারটি ছিলেন খুব ভাল। এই লেখকের সঙ্গে তার খুব মিষ্টি একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তাই সেই নামটিই তাঁর লেখক জীবনের নাম হিসেবে বেছে নিলেন তিনি। এবং 'ও হেনরি' নামেই প্রকাশ পেতে লাগল তাঁর একটার পর একটা বই।
তাই তাঁর প্রকৃত নাম উইলিয়াম সিডনি পোর্টার হলেও, সে নাম একদিন সবাই ভুলে গেল। আর উনি পরিচিত হয়ে উঠলেন ওহিয়ো জেলখানার প্রহরীদের সর্দারের সংক্ষিপ্ত নাম 'ও হেনরি' নামে।


ভিখারির সঙ্গে কবির সমাধি

যাঁর মতো লেখক ইংরেজি সাহিত্যে পাওয়া সত্যিই দুর্লভ এবং পশ্চিমের প্রথম সারির চিত্রকরদের মধ্যে যিনি‌ নিঃসন্দেহে অন্যতম, সেই 'উইলিয়াম ব্লেক' কিন্তু আদতে ছিলেন একজন অর্ধোন্মাদ।
এক গরিব কারিগরের ঘরে তাঁর জন্ম। কিন্তু বাবার সেই কাজের প্রতি তাঁর কখনও আগ্রহ‌ ছিল না। তাই বাবাও তাঁর এই অপ্রকৃতিস্থ ছেলেকে হাতে হাতে কাজ তুলে দেবার জন্য‌ কোনও দিন জোর করতেন না। ফলে ছেলে‌ তাঁর নিজের মতো থাকতেন। যখন যা মন চাইত তাই করতেন। কখনও মাটি ছেনে ছেনে পুতুল বানাতেন। কখনও বা রং তুলি কাগজ নিয়ে ছেলেখেলা করতেন। খেলার ছলেই আঁকতেন ছবি। কখনও আবার খাতা কলম নিয়ে বসে পড়তেন। যা মনে হতো তাই লিখতেন। তার পর সেগুলো ঢুকিয়ে রাখতেন একটা কাঠের বাক্সে। তিনি যেমন‌ কারও‌ কোনও খোঁজখবর রাখতেন না।‌ তাঁরও কোনও খোঁজখবর রাখতেন না কেউ‌।
তিনি নিজের খেয়ালখুশি মতো‌ চলতেন। কোনও কাজকর্ম করতেন না। রোজগারপাতি তো নয়ই। তাই জীবদ্দশায় তিনি ছিলেন ভীষণ গরিব। এতটাই গরিব যে, কোনও কোনও দিন তাঁর‌ খাওয়াও জুটত না। অথচ খাবার জন্য কারও কাছে হাত পাততেও তাঁর লজ্জা করত। এতটাই সম্মানবোধ ছিল‌ তাঁর।
অথচ তাঁকে দেখলে লোকে ভাবত এ নিশ্চয়ই একটা ভিখারি। তাই তিনি যখন মারা‌ যান, তখন আরও তিন জন বেওয়ারিশ ভিখারির সঙ্গে তাঁকেও সমাধিস্থ করা হয়।
এ রকম ঘটনা তো আকছাড়ই ঘটে।‌ ফলে কেউ মনেও রাখেন না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে‌ হল ব্যতিক্রম। কারণ তাঁর নাম--- উইলিয়াম ব্লেক।
তাঁর মৃত্যুর‌ কয়েক দিন‌ পরেই এক বিদগ্ধ শিল্পরসিক মানুষ তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন কাঠের কাজ করাবেন বলে। কিন্তু ঘরে ঢুকেই তিনি একেবারে অবাক হয়ে গেলেন। বুড়োর ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছবিগুলো দেখে। ঘুরে ঘুরে‌ সব ক'টা ছবি খুব ভাল‌ করে‌ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলেন। তিনি ছিলেন সত্যিকারের ‌ছবির সমাজদার। তাই নিজে থেকেই যেচে প্রচুর দাম দিয়ে কিনে নিয়ে গেলেন‌ বেশ‌ কয়েকখানা ছবি। যে ছবিগুলো এত দিন অবহেলায় অনাদরে এ দিকে-সে দিকে পড়ে ছিল, তার দাম এত! বাড়ির লোকজন তো একেবারে থ'।
সেই ‌ছবিগুলো নিয়ে এক টানা সাত দিন ধরে তিনি একটি চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করলেন। আমন্ত্রণ করে নিয়ে এলেন বিদগ্ধ সব শিল্পরসিকদের। নিয়ে এলেন শিল্প সমালোচকদের। হাজির করালেন বিভিন্ন পত্র পত্রিকার সম্পাদকদের। করলেন সাংবাদিক সম্মেলনও।
প্রথম সারির প্রায় সমস্ত‌ দৈনিক কাগজগুলোতে ফলাও করে ছাপা হল সেই খবর। প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন তাবড় তাবড় সব শিল্পীরা। অনেক উন্নাসিক চিত্রসমালোচকরাও প্রাণ খুলে প্রশংসা করলেন সেই ছবিগুলোর।‌
অল্প কিছু দিনের মধ্যেই মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ল তাঁর খ্যাতি। সাংবাদিক সম্মেলনে সেই বিদগ্ধ শিল্পরসিক বলেছিলেন, তাঁর বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে থাকা লেখাজোখার কথা। যিনি এত ভাল ছবি আঁকেন, তিনি‌ যখন‌ লিখেছেন, সে কি আর ফেলনা হবে! তাই এক প্রকাশক তড়িঘড়ি গিয়ে হাজির হলেন উইলিয়াম ব্লেকের বাড়ি। প্রকাশ করলেন একের পর এক তাঁর বই। আর সেগুলো বেরোতে না বেরোতেই হয়ে গেল বেস্ট সেলার।
ছবির সঙ্গে সঙ্গে তাঁর লেখাজোখার‌ খবরও ছড়িয়ে পড়ল দেশবাসীর কাছে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সেই সব বই বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ হয়ে পৌঁছে গেল গোটা বিশ্বে। তাঁর ছবি দেখে যেমন মুগ্ধ হয়েছিলেন চিত্রপ্রেমিকেরা, ঠিক তেমনি তাঁর লেখা পড়ে মুগ্ধ হয়ে গেলেন পাঠকেরা।
তাঁরাই দল বেঁধে ঠিক করলেন, তাঁদের প্রিয়‌ এই শিল্পী-লেখককে তাঁরা শ্রদ্ধা জানাবেন। ঘটা করে পালন করবেন তাঁর জন্মদিন। কিন্তু তাঁর জন্মদিনটা কবে?
অনেক খোঁজাটোজ করেও উদ্ধার করা গেল না কবে তাঁর জন্মদিন। কেউ ঠিক ভাবে বলতেও পারল না কোথায় তাঁর সমাধিক্ষেত্র। ফলে আজও অজ্ঞাত রয়ে গেছে সেই সব।
তা বলে এই নয় যে, তিনি খুব কষ্টে ছিলেন। হ্যাঁ, চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে থাকলেও, এই আলাভোলা উইলিয়াম ব্লেক কিন্তু তাঁর জীবদ্দশায় খুব সুখী ছিলেন।‌ কারণ, তাঁর স্ত্রী ক্যাথরিন সোফিয়া বুচার তাঁকে দিয়েছিলেন প্রাণ ভরা ভালবাসা আর‌ প্রচণ্ড প্রশ্রয়। তাই দ্বিধাদ্বন্দ্বহীন এই কবি নিজের মতো করে একটা জগত তৈরি করে নিতে পেরেছিলেন। হাজার অভাব অনটনের মধ্যে থাকলেও তিনি ছিলেন সদা হাস্যময়। আনন্দময়।


ব্রন্টিত্রয়

বোনের একটা খাতা হঠাৎ এসে পড়ল বড়দির হাতে। খাতা খুলে পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে বড়দি দেখলেন, তাতে অনেকগুলো কবিতা লেখা। সেগুলো পড়ে তিনি চমকে উঠলেন। তাঁর বোন এত ভাল কবিতা লেখে! তাঁকে ডেকে এনে প্রচুর প্রশংসা করলেন তিনি।
ইতিমধ্যে তাঁদের অগোচরে পিছনে এসে দাঁড়িয়েছেন তাঁদের আর এক বোন। তিনি চুপটি করে সব শুনছিলেন। কবিতা লেখা যে খুব একটা খারাপ কাজ নয়, এটা জেনে তিনি তাঁর দিদিকে এত দিন যেটা বলতে পারেননি, সেটাই খুব ধীরে ধীরে নির্ভয়ে বললেন, আমিও কবিতা লিখি।
দিদি ঘাড় ঘুরিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে বললেন, তুইও?
--- পরে দেখবি?
বড়দি উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন, যা, নিয়ে আয়।
সেই বোন তখন এক দৌড়ে ভেতরঘর‌ থেকে পড়ার বইয়ের মধ্যে লুকিয়ে রাখা তাঁর লেখা কবিতার খাতাটা‌ নিয়ে এলেন।
সেগুলো পড়ে দিদি‌ তো‌ একেবারে মুগ্ধ। দু'জনের প্রশংসায় একেবারে পঞ্চমুখ হয়ে গেলেন তিনি। অবশেষে দুই বোনের কাছে লজ্জা মিশ্রিত গলায় সেই দিদিও স্বীকার করলেন, আমিও মাঝেমধ্যে একটা-দুটো কবিতা লিখি জানিস তো...
--- তাই নাকি? তা হলে এত দিন বলোনি কেন?‌ দুই বোনই একসঙ্গে জিজ্ঞেস করে বসল।
দিদি বললেন, যে কারণে তোরা বলিসনি, সেই একই কারণে।
দু'বোনকেই তিনি সে দিন পাঠ করে শোনালেন তাঁর একে পর এক কবিতা। বোনেরা তাঁদের দিদির কবিতা শুনে একদম স্তম্ভিত।
আগেই ক্ষয় রোগে মারা গিয়েছিলেন তাঁদের বড় ভাই আর‌ এক বোন। মা-হারা বাকি তিন বোনই বাবার কঠিন শাসনে বড় হচ্ছিলেন তাঁদের মাসির কাছে। নির্জন প্রকৃতি আর ঢালাও বইপত্র ছাড়া তাঁদের আর কোনও সঙ্গী ছিল না।
মেয়েরা কবিতা লিখছে শুনলে বাবা যদি ক্ষেপে যান! তাই বাবার কাছে এটা গোপন রাখার‌ জন্য তিন বোনই বেছে নিলেন তিন-তিনটি ছদ্মনাম। অবশেষে তিন বোনের কবিতা এক মলাটে বন্দি করে জমানো কিছু টাকা দিয়ে বড়দি প্রকাশ করলেন একটি যৌথ কবিতার বই--- 'পোয়েমস বাই কারার, এলিস অ্যান্ড অ্যাকটন বেল'।
শুধু কবিতাতেই নয়, উপন্যাসেও তাঁরা ছিলেন সিদ্ধহস্ত। লিখতেন ছোট গল্প, মুক্তগদ্য এবং প্রবন্ধও।
পি-রেফেলাইট যুগের অন্যতম প্রধান মহিলা কবি ও গদ্যশিল্পী শার্লট ব্রন্টি, এমিলি ব্রন্টি এবং অ্যান ব্রন্টি--- এই তিন বোনই পরবর্তিকালে বিশ্বসাহিত্যে 'ব্রন্টিত্রয়' নামে খ্যাত হন।
সাহিত্যের ইতিহাসে এমন আর একটিও পরিবার খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে-পরিবারের তিন বোনের, তিন জনই কবিতা ও‌ গদ্যে এমন যশস্বিনী।


রাউলে পেপারস্

'রাউলে পেপারস্' প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই হইচই পড়ে গেল সারা দেশে।‌ রাতারাতি ছড়িয়ে পড়ল কবি রাউলের খ্যাতি।
কিন্তু রাউলে কে? সবাই যখন জানতে চাইছে, ঠিক তখনই মুখ খুলল এক ছোট্ট কিশোর। সে বলল, রাউলে হলেন মধ্যযুগের এক ধর্মযাজক। বহু বছর আগে তিনি এগুলো লিখে একটা সিন্দুকে ভরে লুকিয়ে রেখে গিয়েছিলেন পুরনো গির্জার একটা গোপন কুঠুরিতে। একদিন বন্ধুদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলার সময় ওখানে লুকোতে গিয়ে সেটা আমার নজরে পড়ে। পরে গিয়ে আমি সেগুলো উদ্ধার করে আনি। শুধু এটাই নয়, তাঁর এ রকম আরও আরও আরও অজস্র লেখা আমার কাছে আছে।‌
ব্যস। এর থেকে আর বেশি কিছু জানা যায়নি। যে কিশোর ছেলেটি এ সব কথা বলেছিল, এর মাত্র কয়েক দিন পরেই, নিদারুন দারিদ্র্যের সঙ্গে যুঝে উঠতে না পেরে, একদিন নিরুপায় হয়ে মাত্র আঠেরো বছর বয়সেই সে বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ।
আবিষ্কারক মারা যেতে পারে, কিন্তু সে তো বলেছিল, তার কাছে আরও অজস্র লেখা আছে। তা হলে তাঁর আবিষ্কৃত সেই লেখাগুলো কোথায়?
তন্নতন্ন করে খোঁজা শুরু হল কবি রাউলের বাকি লেখাগুলো। সে যেখানে থাকত, সেই ছোট্ট ঝুপড়িতে গিয়ে সব কিছু ওলট-পালট করে তল্লাশি করা হল। কিন্তু কিচ্ছু পাওয়া গেল না। তা হলে কি সেগুলো সে কাউকে দিয়ে গেছে! কোনও প্রকাশককে! বা নিকট কোনও আত্মীয়কে!
সন্ধান করতে গিয়ে এক সময় চমকে উঠলেন সবাই। ফাঁস হয়ে গেল যাবতীয় রহস্য। আসলে রাউলে নামে কেউ কোনও দিন কখনও কোথাও জস্মিনকালেও ছিল না। উন্মেচিত হল প্রকৃত সত্য।
ওই বালক পুরনো গির্জার একটা গোপন কুঠুরিতে কয়েকটি পুঁথির সন্ধান পেয়েছিল ঠিকই, তবে সেগুলো কিন্তু এগুলো নয়। পেয়েছিল অন্য কয়েকটা পুরনো পুঁথি। সেগুলো পাঠ করে সে মোহগ্রস্থ হয়ে পড়ে। পৌঁছে যায় সেই পুরনো পৃথিবীতে। যে সময়ে লেখা হয়েছিল এই কবিতাগুলো, ঠিক সেই সময়ে।
অবসর সময়ে সে এই লেখাগুলো পড়ত। দেখে দেখে টুকত। নকল করতে করতে শুধু প্রাচীন ভাষা বা ছন্দই‌ নয়, নিখুঁত ভাবে আয়ত্ত করে ফেলেছিল পুঁথির সেই অবিকল হস্তাক্ষরও। এক সময় তার প্রভাবে সেই ভাষা এবং বিষয় নিয়ে নিজেই লিখতে শুরু করে দেয় একটার পর একটা কবিতা। কিন্তু তার মতো একটা হতদরিদ্র বালক কবিতা লিখেছে শুনলে কেউ কি সেটা আগ্রহ নিয়ে পড়বে! ফলে সে নিজেই মনে‌ মনে ধর্মযাজকের একটি কাল্পনিক চরিত্র বানিয়ে প্রচার করতে‌ লাগল মিথ্যে এক রাউলের অস্তিত্ব।
পাঠকদের কাছে পৌঁছল নতুন তথ্য। বিস্মিত হল সাহিত্য জগৎ। পণ্ডিতমহল। তাই পরবর্তিকালে আর রাউলে নয়, 'রাউলে পেপারস্' গ্রন্থটির জন্য কবি হিসেবে স্বীকৃতি পেল স্বল্পায়ুর‌ সেই বালক--- টমাস চ্যাটারটন।
মাত্র আঠারো বছর‌ বয়সেই মারা যায় সে। তার মধ্যেই এ রকম মর্মস্পর্শী লেখা! মানুষের মনের মনিকোঠায় জায়গা করে নেওয়া! এত খ্যাতি! অথচ জীবিতকালে কিছুই পেল না সে! তাকে বেছে নিতে হল এমন নির্মম পরিণতি!
অনেকেই এটা মেনে নিতে পারেননি। তাই তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অনেক বিখ্যাত কবি‌ও। উৎসর্গ করেছেন তাঁদের গ্রন্থ। যেমন প্রবাদপ্রতিম কবি কিটস উৎসর্গ করেছেন তাঁর 'এনডিমিয়ন' কাব্যগ্রন্থ। শেলী উৎসর্গ করেছেন তাঁর‌ অত্যন্ত জনপ্রিয় বই--- অ্যাডোনেইস। আরও কত কবি-সাহিত্যিক যে তাঁদের বই তার নামে উৎসর্গ করেছেন, তার কোনও হিসাব নেই।


নির্বোধ পড়ুয়াই অমর স্রষ্টা

প্যারিস থেকে একটু দূরে ভেনদোমের একটি স্কুলে ভীষণ কড়াকড়ি নিয়ম ছিল। স্কুলটির প্রত্যেক ক্লাসের দরজার পাশে একটি করে বেঞ্চ রাখা হত। সেটার নাম দেওয়া হয়েছিল--- গাধার বেঞ্চ। যারা হোমটাস্ক করে আনত না বা ক্লাসে পড়া পারত না, তাদের গিয়ে‌ বসতে হত ওই বেঞ্চে। ওখানে বসাটা ছিল বার্ষিক পরীক্ষায় ফেল করার চেয়েও লজ্জাজনক। একবার ওই বেঞ্চে কেউ বসলে ক্লাসের আর কেউ পারতপক্ষে তার সঙ্গে মিশত না।
সেই বেঞ্চে অলস, নির্বোধ, একগুঁয়ে এবং একদম অপদার্থ একটি ছেলেকে প্রায়ই বসতে দেখা যেত। সে এত‌ বার ওই বেঞ্চে বসেছিল যে, ধরেই নেওয়া হয়েছিল স্কুলের মধ্যে সে-ই সব চেয়ে অযোগ্য বা পাতি বাংলায় যাকে বলা হয়--- একেবারে মাথামোটা। যার ফলে কঠোর শাস্তি হিসেবে দু'বছরের মধ্যে স্কুল‌ কর্তৃপক্ষ‌ তাঁকে মাত্র দু'দিন ছুটি দিয়েছিল।
সে ভবিষ্যতে কী করবে, তা নিয়ে কটুক্তি এবং নঞর্থক মন্তব্যের ছড়াছড়ি ছিল আত্মীয়স্বজন এবং চেনাজানা পরিমণ্ডলের মধ্যে। এমনকী, হাজার চেষ্টা করেও, স্পেশাল ক্লাস নিয়েও যখন তাকে কিছুতেই মানুষ করা যাচ্ছে না, তখন তিতিবিরক্ত হয়ে স্কুলের স্বয়ং হেডমাস্টার তাকে বাড়িতে ফেরত‌ পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। সঙ্গে তার বাবা-মাকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলেন, এর আর কিচ্ছু হবে না। এ একটা নষ্ট বালক। আমরা হাল ছেড়ে দিয়েছি। একে আর স্কুলে পাঠাবেন না।
শুধু মাস্টার বা হেডমাস্টারই নয়, তার‌ বাবা-মাও তার সম্পর্কে খুবই হতাশা বোধ করতেন। এবং এই রকম একটা অপদার্থ ছেলেকে জন্ম দেওয়ার জন্য তার বাবা-মা একে অপরকে দোষারোপ করতেন। আফসোস করতেন। মরমে মরে থাকতেন। এমনকী, ওরা যে তার বাবা-মা, সেই পরিচয়টুকু পর্যন্ত কাউকে দিতে চাইতেন না। সে জন্য সর্বদা ছেলের কাছ থেকে তাঁরা দূরে দূরে থাকতেন। কে কী বলবেন, সেই ভয়ে ক্রিসমাসের ছুটি পড়লেই, সব বাচ্চাদের যখন তাদের অভিভাবকেরা বাড়িতে নিয়ে যেতেন, তখনও, উৎসবের মরসুমেও ছেলেকে স্কুল থেকে তাঁরা বাড়িতে নিয়ে আসতেন না।
অথচ এই ছেলেটির নাকি লেখাজোঁকা করতে চায়। এটা শুনে তার বাবা-মা তো একেবারে আকাশ থেকে পড়লেন। এ ছেলে বলে কী! এটা নিশ্চয়ই তার ফাঁকি দেওয়ার আর একটা নতুন অজুহাত মাত্র।
একে বোঝাতে যাওয়া মানে উলুবনে মুক্ত ছড়ানো। তাই প্রথমে বকাঝকা করে, পরে ছেলেকে কঠিন নির্দেশ দেওয়া হল--- লেখালেখি করতে পারো। তবে দু'বছরের মধ্যে বই লিখে টাকা রোজগার করতে হবে। যদি পারো তো ঠিক আছে। আর‌ তা‌ যদি না পারো‌, তা হলে সব ছেড়েছুড়ে, মাথা থেকে এই লেখালিখির ভূত নামিয়ে, তোমাকে আবার পড়াশোনার জন্য ফিরে যেতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ে।
এ কী সম্ভব? তবু কী আর করা! পিতৃদেবের নির্দেশ বলে কথা! তাই মাস চারেক অক্লান্ত পরিশ্রম করে তিনি লিখে ফেললেন একটি কাব্যনাটক।
কিন্তু কেমন হয়েছে সেটা! মতামত জানার জন্য একদিন বেশ‌ কিছু কবি, লেখক, সমালোচক, শিক্ষক এবং বন্ধু-বান্ধবদের নেমন্তন্ন করে বাড়িতে ডেকে আনলেন তার বাবা-মা। সেই ঘরোয়া আড্ডায় সবার সামনে সে পাঠ করে শোনাল সেই কাব্যনাটকটি। শুনে সবাই খুব হতাশ বোধ করলেন। কেউ কেউ তার মুখের ওপরেই বলে দিলেন, এটা কিচ্ছু হয়নি। একজন স্কুল মাস্টার তো বলেই ফেললেন, এটা রেখে আর কী করবে!‌ হয় কাগজওয়ালার কাছে কিলো দরে বেঁচে দাও, নয়তো পুড়িয়ে ফেলো।
কিন্তু নিজের লেখা তো নিজের সন্তানের মতোই। তাই হাল ছাড়লেন না তিনি। এ দিকে সময় ক্রমশ ফুরিয়ে আসতে লাগল। যখন বাবার বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হতে আর মাত্র মাস দেড়েক‌ বাকি,‌ তখন রাতদিন এক করে তিনি লিখে ফেললেন, না কোনও কাব্যনাটক নয়, একটি উপন্যাস। জীবনের প্রথম উপন্যাস।
এবং অবাক কাণ্ড! নতুন লেখকের ভাগ্যে একটি প্রকাশকও জুটে গেল। এইবার আর কোনও বাধা রইল না। তাকে ফিরে যেতে হল না বাঁধা-ধরা শিক্ষার গণ্ডির ভেতরে। তিনি একের পর এক শেষ করতে লাগলেন তার নতুন নতুন সাহিত্যকীর্তি।
এবং খুব অল্প কিছু দিনের মধ্যেই সবার অনুমান আর আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত করে, রিয়ালিজমের প্রবর্তক, ফরাসি সাহিত্যের অন্যতম এই দিকপাল, কেবলমাত্র লেখাজোঁকা করেই কেড়ে নিলেন বিশ্বসাহিত্যের একটি স্থায়ী আসন।
অলস, নির্বোধ এবং একগুঁয়ে এই পড়ুয়ার নাম থেকে 'এইচ ডিই' বাদ দিলেও, শুধু 'বালজাক' বললেই সবাই তাঁকে অনায়াসে চিনে নিতে পারেন। আর শুধুমাত্র বালজাক হিসেবেই তিনি আজও সবার মনের মণিকোঠায় অনেকখানি জায়গা জুড়ে আছেন।


লেখার সেই বিশাল পরিকল্পনাটি

এত দিনের সাহিত্য সৃষ্টির ইতিহাসে ফরাসি সাহিত্যের একমাত্র বালজাক ছাড়া আর কোনও লেখক আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে আসেননি, যিনি সমগ্র দেশের বাস্তব জীবনযাত্রার ছবিটাকে সর্বাঙ্গ সুন্দর করে লেখনীতে ফুটিয়ে তোলার জন্য এতখানি দুঃসাহসিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন।
পরে যেগুলোর আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি, প্রথম দিকে উল্টোপাল্টা ভাবে অশ্লীল সেই সব বাজারি কাটতি লেখা বেনামে লিখে, গদ্যে দক্ষতা আনার পরে; আঠারোশো তেত্রিশ সালে বালজাক  প্রথম সিদ্ধান্ত নেন, তাঁর উপন্যাসে বাস্তব ছবিটাকে তুলে ধরার। এর মাত্র ন'বছর পরেই, মানে আঠারোশো বিয়াল্লিশ সালে এই সিদ্ধান্তের ওপরেই একটা বিরাট প্রস্তাব পরিকল্পনা প্রকাশ করেন তিনি। 'নামকরণ'-এর জন্য খুব বেশি সময় হাতে পাননি, ফলে দান্তের 'ডিভাইন কমেডি'র অনুকরণ করেই তাঁর নিজস্ব নতুন ভাবনাচিন্তার উপন্যাস-পদ্ধতির নাম রাখেন 'হিউম্যান কমেডি সিরিজ'। তবে এখানে তিনি দান্তের মতো দেবতা বা ঈশ্বর ও তাঁর অলৌকিকত্বকে না এনে, এনেছেন কেবল মানুষ।
ভাল কথা, কিন্তু সেই সিরিজ বিভক্ত হবে ক'টা সংখ্যায়? সাধারণত লেখকেরা তাঁদের সিরিজের যে আয়তন বা সংখ্যা একটু ভেবেচিন্তে ঠিক করে থাকেন, বালজাকের ক্ষেত্রে তা করতে গিয়ে বেড়ে অনেক দাঁড়িয়ে গেল। আনুমানিক প্রায় একশো আটত্রিশটি বই। হয়তো ভেবে রাখা লেখার কোটা তিনি শেষ করে যেতে পারতেন, তবু পারলেন না, একমাত্র উচ্চশ্রেণীর লোকেদের মতো সচ্ছলতায় জীবন কাটাতে গিয়ে।
আচমকা হাতে কিছু টাকা পাবার জন্য উনি কি না করেছেন... বইয়ের দোকান থেকে প্রেস, এমনকী সার্ভিনিয়ার পরিত্যক্ত রুপোর খনির কথা শুনে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে ছুটে গিয়েছেন সেখানে। লোকজন লাগিয়ে চালিয়েছেন খোঁড়াখুঁড়ি। এ ছাড়াও টুকিটাকি ব্যবসা তো আছেই--- এ সব করতে গিয়ে যেমন তাঁর সময় গেছে, তেমনি সময় গেছে প্রেমে মজেও।

ফলে শেষ পর্যন্ত সময়ের অভাবে তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক লেখা আর লিখে যেতে পারেননি। তবুও বলব, এমন পরিবেশ ও সর্বক্ষণ দোটানার মধ্যে থেকেও শ'খানেক 'হিউম্যান কমেডি' লিখে রেখে যেতে পেরেছেন, সঙ্গে কিছু নাটক, গল্প, প্রবন্ধও, সেটাই আমাদের কাছে অনেক। যদিও লেখার গুণে সেগুলির বেশির ভাগই আর কমেডি থাকেনি, পরিণত হয়েছে ট্রাজেডিতে।
এই ঘটনার পরে সিরিজ লেখার এ রকম কোনও বিশাল পরিকল্পনা আর কোনও লেখক কোনও দিন কখনও ভাববেন কি না যথেষ্ট সন্দেহ আছে।


বিস্তারিত খবর

অন্ত মিলন-এর কবিতা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৫-১৭ ১১:৩৫:৪৭

তোমাকে আমি খনন করতে চাইঅন্ত মিলন

তোমার প্রহেলিকা খনন করে তোমাকে আমি আবিষ্কার করতে চাই।
এই নিশি রাতে তোমাকে আমি খনন করতে চাই।
পরিশেষে আমি তোমার লজ্জায় নত হতে চাই।

এভাবেই চলুক আমাদের প্রণয় যাত্রা
আরো কিছুদিন।
আরো কিছুদিন চলুক তোমার আমার ছেলেখেলা।
হতাহত জোছনা'রা দেখুক আহত সুখ।

ভালোবাসা কখনও বৈধ-অবৈধ বোঝে না,
ভালোবাসা শুধু ভালোবাসা বোঝে।
ভালোবাসার কোনো সমাজ-ধর্ম থাকতে নেই,
থাকতে নেই ভয় !
আমি তোমার ভয়কে খনন করে আমি তোমাকে আবিস্কার করতে চাই।
এই নিশি রাতে আমি তোমার তোমাকে খনন করতে চাই।
পরিশেষে আমি তোমার মাতৃত্বের কাছে নত
হতে চাই;
আমি তোমার কাছে নত হতে চাই !

বিস্তারিত খবর

রয়া চৌধুরীর কবিতা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৫-১৭ ১১:৩৪:১২

এক অনন্ত মায়াবী ঘুম
রয়া চৌধুরী

আমি দেখেছি এনাকোন্ডা,দেখেছি মেডুসা,
আমি পালাচ্ছি, দৌড়াচ্ছি -
তেড়ে আসছে বিভৎস হুংকার,
আমি অবসন্ন, আমি শ্রান্ত,
আচমকা একটি অন্ধকার মুখ,
আমি হারিয়ে গেলাম,
হেরে গেলাম আমি,
পৃথিবীর রুপ হিংস্র আঁধার,
হয়তো বেঁচে গেলাম আমি,
কিছুটা ভয় তবুও,
কিছুটা সংশয়,
তবুও তো বেঁচে গেলাম আমি,
আমি জিতে গেলাম।
আমার চোখে এখন শান্তির তমসা নদী,
পৃথিবীর ক্লান্ত রাত নেই এখন আমার চোখে আর,
এনাকোন্ডার সেই অমানিশা পাকস্থলী আমার অনন্ত প্রশান্তি,
পৃথিবীর ভয়ংকর দুর্ধর্ষ রুপ,
মানুষের অবলুপ্ত মূল্যবোধ,
মানুষের মিথ্যা কপট অবয়ব,
আমার স্মৃতির পান্ডুলিপি কোথায় যেন হারিয়ে যায়!
তবুও তো এনাকোন্ডার পাকস্থলীতে তিমির রাত্রি ক্লান্তিহীন শান্তির নিঃশ্বাস;
আমার ঘুম,
অসীম অন্ধকারে এক অনন্ত মায়াবী ঘুম!


বিস্তারিত খবর

রয়া চৌধুরী’র ৩টি কবিতা

 প্রকাশিত: ২০২০-০৫-১২ ১৬:৩৬:৩৪

ছায়া এবং ফাঁসি
ছায়া এবং বিশ্বাস,
বুকে আগলে ধরে রাখা মায়াবী
অন্ধকার !
ভুলে গিয়েছিলাম
নির্মম এক চিরন্তন সত্য।
ছায়া সবসময় শ্যামই হয়।
আমার ঠোঁটে দেখো,
অট্টহাসির বিদগ্ধ নগরী!
কিন্ত একটু ভালো করে
চেয়ে দেখো আমার পানে,
দেখবে আমার তপনেও আছে
হারিয়ে ফেলার অম্বু।
আজও সেই নিহত ছায়া,
আমার পাশেই শৃঙ্খলাবদ্ধ,
আমি তাকে দেখতে পাই,
অনুভব করতে পারি,
আমি আজও তাকে ভালোবাসি।
তাহলে কেন তোমরা আমায়
নিয়ে যেতে চাচ্ছো ফাঁসিকাষ্ঠে?
কেন আমার ফাঁসি হবে?
সেই মিথ্যে,প্রতারক, অবিশ্বাসী
ছায়াকে আজও ভালোবাসি,তাই?
চুপ করে আছো কেন?
ভালোবাসি বলেই তো আঁকড়ে
ধরে রাখতে চেয়েছিলাম-
আঁধারের রুপ।
আমি না হয় নক্ষত্রের চোখে  তাকিয়ে থাকবো
সেই অমানিশা, বিভৎস, আর
অবিশ্বাসী ঐ ছায়ার অভিমুখে।

-----
আত্মবিলাপ
আমি আজ ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত
বিবেকের কারাগারে বন্দী।
কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকা,
ফেলানী আমাকে প্রশ্ন করে।
সমুদ্র সৈকতে ঘুমিয়ে থাকা ,
আলিয়ান কুর্দি আমায় প্রশ্ন করে,
কি ছিল তাদের অপরাধ?
আমি কিছুই বলতে পারি না
উত্তর দিতে পারি না।
নুসরাত, নাদিয়া,তনু,খাদিজারা
আর্তনাদ করে জানতে চায়,
কি ছিল তাদের অপরাধ?
আমার চোখ জলে সিক্ত হয়,
আমি বিবেকের দংশনে বারবার
দগ্ধ হতে থাকি,সন্তপ্ত হতে থাকি।
কিছুই করতে পারি না,পারি না।
বাসে ধর্ষিতা মাজেদা ,
ফুপাতো ভাইয়ের হাতে
কেরোসিনে মৃত ফুলন,
ভাইয়ের সামনে ধর্ষিতা বোন ,
ছেলের সামনে বলাৎকৃতা মা,
পাঁচ মাসের ধর্ষিতা শিশু,
জন্মের আগেই সন্ত্রাসীদের হাতে
যে শিশু মৃত্যুকে করে আলিঙ্গন ,
সবাই ,সবাই আমাকে প্রশ্ন করে।
আমি উদ্বিগ্ন হই,অবসাদগ্রস্ত হই।
সায়মার বুক ফাটা আর্তনাদ ,
আমাকে সর্বক্ষণ প্রশ্ন করে,
প্রশ্ন করে আর কত সায়মাকে
বাংলার সোনার ছেলেদের
হিংস্রতার আর বর্বরতার
শিকার হতে  হবে?
আর কত সায়মা আত্মাহুতি দিলে
এসব সোনার ছেলেরা,
তাদের অসুস্থ মানসিকতা থেকে
বের হয়ে আসবে?
পতিতালয় কাদের জন্য
কারো কি জানা আছে?
না ,তারা পতিতালয়ে কেন যাবে?
একজন অসহায় শিশু, বালিকা
আর বৃদ্ধার উপর জোর খাটিয়ে ,
যে অসুস্থ তৃপ্তির ঢেকুর তোলে তারা
যে  অসভ্য পুরুষত্বের শক্তিকে
জাহির করতে পারে,
তাতে করে তারা যে, অসুস্থ আনন্দের
আস্বাদ গ্রহণ করে,
তা কি পতিতালয়ে পাওয়া যাবে?
আমি কি জবাব দিব?
আমি যেন আজ বিবেকের
কারাগারে বন্দী এক পাখি।
শুধু ছটফট করি,ছটফট করি।
আমি তমসার শ্রীঘরে
নিমজ্জিত অসহায় এক মানবী।

-----
ভালোবাসা এবং একটি খুন
একটি আপেল মহীরূহ,
তাতে ছিল বিস্তর আপেল।
হাতে ফলাযুক্ত চকচকে ছুরি,
বৃক্ষটির নীচে দাঁড়িয়ে ছিলাম বেশ কিছুক্ষণ,
ঝরে পড়লো একটি লাল আপেল,
হাতে তুলে নিলাম আপেলটি;
ভাবছি কি করবো?
হাতে আমার চকচকে ছুরি,
বাড়ি আসলাম ,দেখছি আর ভাবছি;
আপেলটি যেন আমার দিকে তাকিয়ে আছে,
আমিও অপলক দৃষ্টিতে দেখছি;
আমি কি কাটবো আপেলটি?
তাকিয়ে আছি আর ভাবছি।
কেটে ফেললাম, রক্তাক্ত করলাম আমার হাত !
রক্ত ঝড়ছে আমার অন্তঃকরণ থেকে।
একি করলাম আমি?
ঘোরের মধ্যে ডুবে আছি যেন!
এক টুকরো,দুই টুকরো
এভাবে টুকরোর পর টুকরো।
আমার হাত কাঁপছে,
আমার সমস্ত শরীর কাঁপছে।
আমি খুন করে ফেললাম?
আমি খুনী,আমি খুনী!
এ কি করলাম আমি?

বিস্তারিত খবর

হবিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এঁটেল মাটির তৈরি সুস্বাদু খাবার ‘ছিকর’!

 প্রকাশিত: ২০২০-০৫-০৫ ০৬:০১:২০

ছিকর হচ্ছে একধরণের পোড়া মাটি। ছিকর হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন গ্রামে নিম্নবিত্ত সমাজে প্রচলিত এক বিশেষ আহার্য। ক্ষুধা নিবারণের জন্য নয়, বরং এক ধরণের অভ্যাসের বশে লোকজন তা খায় বলে জানা যায়।

পাহাড়ি টিলায় গর্ত খুড়ে লম্বা বাঁশের সাহায্যে গভীর থেকে তুলা হয় একধরণের মিহি মাটি। তারপর তা মাখিয়ে খাই বানিয়ে ছাঁচে ফেলে প্রথমে তৈরি করা হয় মন্ড। তারপর তা পছন্দ মত কেটে টুকরো করা হয়। পরে বিশেষ এক পদ্ধতিতে সেই টুকরো পুড়ানো হয় আগুনে। এইভাবে তৈরি হয় ছিকর। ছিকর বিভিন্ন আকৃতির হয়ে থাকে। কোনটি দেখতে বিস্কুটের মত কোন কোন ছিকর আছে ললিপপের মত লম্বা আবার কোন ছিকর ছোট লজেন্সের মতো।
বিভিন্ন এলাকার ছিকর বিভিন্ন স্বাদের হয়ে থাকে। কোন এলাকার ছিকরে খাই মাখানোর সময় গোলাপজল, আদার রস ইত্যাদি মেশানো হয়। যা মাটির সাথে পুড়ানোর পর ভিন্ন এক স্বাদের জন্ম দেয়। স্থানীয় কুমার সম্প্রদায় বা মৃৎ শিল্পীদের কেউ কেউ ছিকর তৈরি করে বাজারজাত করে থাকে। দিনে দিনে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় ছিকর এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।


নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুরে পাহাড়ি টিলা থেকে একসময় বিভন্ন এলাকার কুমাররা এসে মিহি মাটি সংগ্রহ করত। কিন্তু আজকাল কেউ আর মাটি সংগ্রহ করতে যায় না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। উক্ত টিলা ছাড়াও বানিয়াচং, বাহুবল ও মাধবপুরের বিভিন্ন জায়গায় ছিকরের উপযোগি মাটি আহরণের ক্ষেত্র আছে। হবিগঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন গ্রাম্য বাজারে ঘুরে ছিকরের সন্ধান মিলেনি।
বিশিষ্ট লেখক দেওয়ান মাসুদুর রহমান চৌধুরী জানান, ‘মাটিকে ভিজিয়ে নরম করে রুটির মত করে ছোট ছোট টুকরোর মাধ্যমে বিশেষ প্রক্রিয়ায় শুধু মাত্র আগুনের ধোয়া দিয়ে পুড়িয়ে তৈরী করা হত। যা এ অঞ্চলের গ্রামগুলোতে ছিকর নামে পরিচিত।
৭০/৮০ দশকে হবিগঞ্জে প্রচুর পরিমাণে এই ছিকর পাওয়া যেত। গর্ভবতী মহিলাদের কাছে ইহা একটি পছন্দনীয় সুস্বাদু খাদ্য ছিল। তাদের ধারণা ছিল এটা খেলে বিভিন্ন রোগ বালাই থেকে বেঁচে থাকা যাবে’। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর বাজার ও মাধবপুর উপজেলার নারায়ণপুর ও ঘোমটিয়া গ্রামের কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তির সাথে কথা বলে সবার কাছ থেকে প্রায় একই রকম বক্তব্য পাওয়া গেছে। দুষ্প্রাপ হওয়ায় ছিকর খাওয়া এখন ভুলে গেছেন তারা।

তবে সদর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের লস্করপুর ইউনিয়নের কটিয়াদি বাজারে মোঃ হুসাইন উল্লা নামক এক ছিকর বিক্রেতার খোঁজ মিললে তার সাথে কথা বলে জানা যায় ছোট বেলা থেকে তিনি ছিকর বিক্রি করে আসছেন। আগে মানুষ ছিকর কিনত এখন খুব কম লোকই কিনে। মূলত আধুনিক শিক্ষিত মানুষরা ছিকর খাওয়াকে অস্বাস্থ্যকর ও রুচি বিরুদ্ধ বিবেচনা করার কারণে ছিকর এখন বিলুপ্তির পথে।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/টি

বিস্তারিত খবর

ভিক্ষা করে জমানো টাকা কর্মহীন মানুষদের খাদ্য সহায়তায় দান করলেন বৃদ্ধ

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-২১ ১৯:৪১:১৭

দুই বছর ধরে ভিক্ষা করে জমানো ১০ হাজার টাকা করোনায় কর্মহীন মানুষদের খাদ্য সহায়তায় দান করেছেন নাজিমুদ্দিন নামের এক বৃদ্ধ।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের বাতিয়াগাঁও গ্রামে ঝিনাইগাতী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদের হাতে টাকা তুলে দেন নাজিমুদ্দিন।

৮০ বছর বয়সী নাজিমুদ্দিন কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও গ্রামের ইয়ার আলীর ছেলে।

পরে নজিমুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভিক্ষা করে খাইয়ে-খুইচরে (খরচ করে) গত দুই বছরে এ টেহা (টাকা) জড়ো করছি। আমার ঘরডা ভাঙে গেছে গা। এহন আর ঘর-দরজা দিলাম না। দশে এহন কষ্ট করতাছে। আমি এ টেহ্যা ইউএনও সাবের হাতে দিলাম। দশেরে দিয়ে দিক, লোকে খাইয়ে বাঁচুক।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯ এপ্রিল ইউএনও রুবেল মাহমুদের নির্দেশে খাদ্য সহায়তার জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দি প্যাসিফিক ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্যদের যৌথ দল কর্মহীন অসহায় দরিদ্র মানুষদের তালিকা প্রণয়নে গান্ধীগাঁও গ্রামে যান। এ সময় ভিক্ষুক নজিমুদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তাকে ইউএনওর’র পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। পরে তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে চান তারা। ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন ওই তালিকায় তার নাম না ওঠানোর জন্য অনুরোধ করেন। তিনি জানান, নিজের বসত ঘর মেরামত করার জন্য গত দুই বছরে ভিক্ষা করে ১০ হাজার টাকা জমিয়েছেন। এ টাকা অসহায়দের খাদ্য সহায়তার জন্য ত্রাণ তহবিলে দান করতে চান তিনি। পরে ২১ এপ্রিল ওই ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে ইউএনওর হাতে ১০ হাজার টাকা তুলে দেন নজিমুদ্দিন।

ইউএনও রুবেল মাহমুদ বলেন, ‘ভিক্ষুক নজিমুদ্দিনের দান মহানুভবতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি মানবতার বরপুত্র।’

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/টি

বিস্তারিত খবর

উহানের ল্যাবে হাজার হাজার ভয়ংকর ভাইরাস!

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-১৯ ১১:২৮:০৩

উহানের নামটার সঙ্গে অনেকেই হয়ত পরিচিত ছিলেন না। কিন্তু মহামারী করোনাভাইরাসের উৎস হিসেবে এখন এই শহরের না প্রায় সবারই জানা। এ মুহূর্তে উহানের আরেকটি আলোচিত বিষয় হচ্ছে একটি ল্যাবরেটরি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, উহানের ওই ল্যাবরেটরি থেকেই মূলত ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। উহানের মাছের বাজারের সঙ্গে ভাইরাসের কোনও সম্পর্ক নেই বলেই মনে করছে বহু বিশেষজ্ঞ। রীতিমতো এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে আমেরিকা। মার্কিন সচিব মাইক পম্পেও জানিয়েছেন, কীভাবে গোটা বিশ্বে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ল তার নিখুঁত তদন্ত করবে তারা।

কী এই ‘ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি’?

মূলত চিনের ভাইরাস কালচার কালেকশনের কেন্দ্র এই গবেষণাগার। বলা যায় এটাই এশিয়ার বৃহত্তম ভাইরাস ব্যাংক। যেখানে ১৫০০০ ধরনের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরিক্ষা চলছে। ইবোলার মত ভাইরাস নিয়েও গবেষণা করে এরা। যেসব ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে, সেরকম ভাইরাসও রয়েছে এই গবেষণাগারে।
 
৪২ মিলিয়ন ডলারে তৈরি করা হয় এই ল্যাবরেটরি। ২০১৫ সালে ল্যাব তৈরির কাজ শেষ হয়। ২০১৮ থেকে এখানে গবেষণার কাজ শুরু হয়। এখানে অবশ্য একটি ল্যাবরেটরি রয়েছে, যা ২০১২ থেকে কাজ শুরু করেছে।

এই গবেষণাগার অবস্থিত জঙ্গলে ঘেরা একটি পাহাড়ের তলায়। পাশেই রয়েছে জলাশয়। লোকালয় থেকে দূরে এই গবেষণাগার ৩২০০০ স্কোয়্যার ফুট জায়গা জুড়ে রয়েছে। বিল্ডিং-এর বাইরে একটি সতর্কবার্তা লেখা রয়েছে। সেখানে লেখা আছে, “Strong Prevention and Control, Don’t Panic, Listen to Official Announcements, Believe in Science, Don’t Spread Rumours”.

করোনাভাইরাস উহানের ল্যাব থেকেই ছড়িয়েছিল কিনা শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের উত্তরে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, আমরা নজর রেখেছি, আরও অনেকেই এর দিকে নজর রেখেছে। চিন একটি নির্দিষ্ট ধরণের বাদুড়ের কথা বলেছেন, কিন্তু ওই বাদুড় ওই এলাকায় ছিলই না। ওই এলাকায় বাদুড় বিক্রি হয়নি, সেটা বিক্রি হয়েছিল ৪০ মাইল দূরে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফক্স নিউজ জানিয়েছে, ভাইরাসটি উহানের ল্যাব থেকে ছড়িয়েছে কিনা সে সম্পর্কে আমেরিকা জোর দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি পরীক্ষাগারগুলিও রোগের প্রকোপ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে।

ভাইরাসের উৎস প্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, অনেক অদ্ভুত জিনিস ঘটছে। তদন্তের কাজও চলছে। আমরা এটা খুঁজে বার করছি। আমি শুধু এটুকু বলতে পারি, এটা যেখান থেকেই যে রূপেই আসুক না কেন, তা চিন থেকে এসেছে। বিশ্বের ১৮৪ টি দেশ এর ফল ভুগছে।
 
ট্রাম্প আরো বলেন, উহানে অনুদান দেওয়া বন্ধ করবে আমেরিকা। ওবামা সরকার তাঁদেরকে ৩.৭ মিলিয়ন ডলার অর্থ অনুদান দিয়েছিল। আমরা সেটা খুব শিগগিরি বন্ধ করে দেব।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/টি

বিস্তারিত খবর

লকডাউনে সড়কেই ঘুমাচ্ছে সিংহ

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-১৭ ০৭:০৯:৪০

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এখন চলছে লকডাউন। তাই রাস্তাঘাট, পর্যটন কেন্দ্র সবই এখন প্রায় ফাঁকা। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কও পর্যটক  বা দর্শনার্থী শূন্য। মানুষজনের দেখা না পেয়ে তাই পার্কের কয়েকটি সিংহকে সড়কেই সুখনিদ্রায় যেতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার পার্কের রেঞ্জার রিচার্ড সোরি এই ছবিটি তুলেছেন। এতে অন্তত ৮টি সিংহকে পার্কের বাইরে একটি বিশ্রামাগারের কাছে সড়কের ওপর ঘুমাতে দেখা গেছে।

ন্যাশনাল পার্কের মিডিয়া কর্মকর্তা আইজাক ফালা বিবিসিকে বলেছেন, সিংহ সাধারণত ঝোপঝাড়ে বিশ্রাম নেয়। তবে ‘ওরা এখন অনেক স্মার্ট হয়েছে এবং আমরা না থাকায় তারা এখন স্বাধীনতা ভোগ করছে।’ শুকনো হওয়ায় সিংহগুলোর কাছে রাস্তাটি পছন্দ হয়েছিল বলে জানান তিনি।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/টি

বিস্তারিত খবর

যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হচ্ছে প্রাণীর জন্য প্রথম কোয়ারেন্টাইন সেন্টার

 প্রকাশিত: ২০২০-০৪-১৩ ১৩:৪২:০০

যুক্তরাষ্ট্রে একটি মালয়ান বাঘের কোভিড-১৯ ধরা পড়ার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তা বেশ আলোচিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন গবেষণায় ওঠে আসে, যেসব পরিবারে বিড়াল রয়েছে। সেসব পরিবারের কেউ করোনা আক্রান্ত হলে বিড়ালও আক্রান্ত হতে পারে।

এ ব্যাপারে সমাধান খুঁজে ভারতের উত্তরাখন্ডের পৌরি ঘারওয়াল এলাকার পুরনো ন্যাশনাল পার্ক জিম কর্বেটকে পশুদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে পশুর জন্য ১০টি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) ওই ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে দি নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

এছাড়া, ন্যাশনাল টাইগার কনসারভেশন অথোরিটি (এনটিসিএ) বাঘের মধ্যে যাতে মানুষ থেকে করোনা সংক্রমিত হতে না পারে সেজন্য সম্প্রতি একটি নির্দেশনা জারি করেছে।

তাতে বলা হয়েছে, যেসব কর্মীরা বাঘ ও হাতির জন্য কাজ করবেন তাদের অবশ্যই নভেল করোনাভাইরাস পরীক্ষা করতে হবে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ব্রনক্স চিড়িয়াখানায় এ সপ্তাহে আরো একটি বাঘ করোনাভাইরাসের কারণে মারা গেছে।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/টি

বিস্তারিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত