যুক্তরাষ্ট্রে আজ বুধবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 09:21am

|   লন্ডন - 03:21am

|   নিউইয়র্ক - 10:21pm

  সর্বশেষ :

  নিউইয়র্কে নববর্ষ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের শুভেচ্ছা বিনিময়   প্যারেডের থ্রিডি প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাফলার ফান্ডরাইজিং অনুষ্ঠিত   নিউ ইয়র্কে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, গ্রেপ্তার ৪   আরব আমিরাতে অবৈধ অভিবাসীকে আশ্রয় দিলে এক লাখ দিরহাম জরিমানা   টয়লেট টিস্যুতে ‘আল্লাহ’, বিক্ষুব্ধ যুক্তরাজ্যের মুসলিমরা   ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন   বিশ্বের শীর্ষ ১০০ চিন্তাবিদের তালিকায় শেখ হাসিনা   শান্তি ও মানবাধিকারের অনন্য আশ্রয়ভূমি ফ্রান্স   কারাগারে ‘মারা গেছেন’ মসজিদে নববীর এক ইমাম   ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলাদেশি খুদে শিক্ষার্থীর চমক, ৯ বছরেই কলেজে   আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে মোস্তাফিজ   সালমান খানকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি   কৃষ্ণ সাগরে দুই জাহাজে আগুন, নিহত ১০   প্যাটারসন সিটির পাবলিক স্কুলে হালাল ফুড   আর্জেন্টাইন ফুটবলারসহ দুজনকে নিয়ে বিমান নিখোঁজ

মূল পাতা   >>   প্রবাসী কমিউনিটি

`খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে'

ভয়েস অব গ্লোবাল সিটিজেন’র সেমিনার

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২৭ ১৩:২৬:১৩

নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কে ভয়েস অব গ্লোবাল সিটিজেন আয়োজিত ‘স্বাধীনতার চেতনা ও বিপর্যস্ত গণতন্ত্র’ শীর্ষক এক সভায় কেন্দ্রীয় বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ বলেছেন, বাংলাদেশ, দেশের মানুষ ভালো নেই। সত্যিকারই দেশ বিপর্যস্ত। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের শোষণ, জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন, গুম, খুন ৯০ দশকের স্বৈরাচারী এরশাদের শাসনকেও হার মানিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্রকে হত্যা করে শেখ মুজিবের মতো একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার যোগ্য উত্তরসূরী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই আবার বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে।

একই সভায় বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি ও চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া বলেন, জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন, গুম, খুন করে গণতন্ত্র হত্যা করেও শেখ হাসিনা সরকার পাড় পাবে না। দেশে সুষ্ঠ নির্বাচন হলে বিএনপিকে ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। নানা অপরাধের কারণে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পালানোর সুযোগ পাবে না। তিনি বলেন, বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা ভয় পায় না। সময় আসছে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব সবাই জেগে উঠবে। তিনি বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের মতো ক্ষমতায় যাওয়ার শর্ত হিসেবে নির্বাচন চাই না। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই, মানুষের অধিকার চাই।
সিটির জ্যাকসন হাইটসের নিউ মেজবান রেষ্টুরেষ্টে গত ২২ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় আয়োজিত ব্যতিক্রমী এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ভয়েস অব গ্লোবাল সিটিজেন-এর প্রধান উপদেষ্টা ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা হারুনুর রশীদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন এডভোকেট সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া। সেমিনারের শুরুতে অতিথিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। খবর ইউএনএ’র।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কামাল সাঈদ মোহন এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি গিয়াস আহমেদ, ভয়েস অব গ্লোবাল সিটিজেন-এর আহবায়ক ও নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির সিনিয়র সাইন্টিষ্ট ড. জাহিদ দেওয়ান শামীম প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সহ সভাপতি ও ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শামসুল ইসলাম মজনু।

সেমিনারে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বেগম খালেদা জিয়া আর বিএনপি-কে নিয়ে চিন্তা করছে। কারণ খালেদা জিয়া আর বিএনপি মানুষের কথা বলে, মানুষের অধিকারের কথা বলে, গণতন্ত্রের কথা বলে, বাক স্বাধীনতার কথা বলে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলে। কেননা, শহীদ জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বলেন, বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীততে বিশ্বাসী নয় বলেই খালেদা জিয়া সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আওয়ামী লীগ সরকারের সকল জুলুম-নির্যাতন ভুলে যাওয়ার কথা বলেছেন।

হারুনুর রশীদ বলেন, বাংলাদেশ বাঁচাতে হলে আইনের শাসন দরকার। সরকারের কর্মকান্ডে দেশের মানুষ আতংকিত। সদ্য অনুষ্ঠিত রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনই প্রমাণ করে জনগণ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখান করেছে। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া বলেন, বাংলাদেশের অবস্থা কি তা দেশের প্রধান বিচারপতির অবস্থার দিকে তাকালেই বুঝা যায়। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশের প্রধান বিচারপতি আজ কানাডায় কেনো? কেনো তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না? ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না। দিন আসছে, শেখ হাসিনাকে নৌকায় চড়ে ভারতে পাড়ি জমাতে হবে।

কামাল সাঈদ মোহন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে জাগদল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছি। জিয়া ছিলেন সাচ্চা দেশ প্রেমিক। তিনি বলেন, ভারতীয় পরামর্শে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা হচ্ছে, সত্যিকারের ইতিহাস মুছে ফেলা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগে দলের মধ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে এই রাজনীতিই আমরা শিখেছি। প্রসঙ্গত তিনি বলেন, কাউন্সিল করে সবার মতামত নিয়ে নিজেরাই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

সেমিনারে মুক্তিযোদ্ধা মীর মশিউর রহমান, গিয়াস মজুমদার ও মোহাম্মদ সুরুজ্জামান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি এডভোকেট জামাল আহম্মদ জনি, বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, আব্বাস উদ্দিন দুলাল, মার্শাল মুরাদ, সাখাওয়াত হোসেন আজম, সায়েদুল হক, আক্তারুজ্জামান খান মিশু, আব্দুল বাসিত, পারভেজ সাজ্জাদ, কেন্দ্রীয় জাসাস-এর আন্তর্জাতিক সম্পাদক গোলাম ফারুক শাহিন, নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্র জিসাস সভাপতি আবুল বসার, ডা. সফিক, ডা. লিপন, ডা. ফরহাদ, ডা. মামুন, ডা. কবীর, ডা. রাহুল, ডা. জাকির, চট্টগ্রাম জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউএসএ’র সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম  প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৮০/৯০ দশকের সাবেক নেতৃবৃন্দের সংগঠন বাংলাদেশী-আমেরিকান জতীয়তাবাদী ফোরাম ইউএসএ ইনক’র তথা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতৃবৃন্দের মধ্যে ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়াররুল ইসলাম, বর্তমান সভাপতি নিয়াজ আহমেদ জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক বাকির আজাদ, ফোরামের সিনিয়র সদস্য ছৈয়দুল হক, মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম খান, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, ড. তারেক জামান ইমন, ডা. শামীম দেওয়ান, মোহাম্মদ ফারুক হোসেন মজুমদার ও শাহাদৎ হোসেন রাজু, জাতীয়তাবাদী ফোরামের সিনিয়ার সদস্য, বদরুল হক আজাদ, শাহাদৎ হোসেন রাজু এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম যুক্তরাষ্ট্র সাবেক সভাপতি রাফায়েল তালুকদার, রফিকুল ইসলাম ডালিম নাসির উদ্দিন ও সিনিয়র যুগম সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রমুখ সহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিত ছিলেন। তাদেরকে অতিথিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, সেমিনার আয়োজকদের পূর্ব সিদ্ধান্ত মোতাবেক শুধুমাত্র আতিথীদ্বয় মূল বক্তব্য রাখেন এবং মাত্র তিনজন বক্তা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। যা সচরাচর কমিউনিটির সভা-সভাবেশ বা সেমিনারে দেখা যায় না। সেমিনারে বক্তার সংখ্যা কম থাকায় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান এবং এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। অতিথিবৃন্দও এমন সুন্দর সেমিনারের প্রশংসা করেন।


এলএবাংলাটাইমস/এএল/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ১০৯৪ বার

আপনার মন্তব্য

সাম্প্রতিক খবর