যুক্তরাষ্ট্রে আজ সোমবার, ১৯ অগাস্ট, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 01:24am

|   লন্ডন - 08:24pm

|   নিউইয়র্ক - 03:24pm

  সর্বশেষ :

  পদ্মা সেতু নির্মাণের মেয়াদ ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে   ডেঙ্গুতে আরো ৫ জনের মৃত্যু   ৩০ বছরে তলিয়ে যেতে পারে জাকার্তা   গ্রীনল্যান্ড বিক্রির প্রস্তাব হাস্যকর : ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী   গ্রীনল্যান্ড বিক্রির প্রস্তাব হাস্যকর : ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী   ভার্জিনিয়াতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা   গভীর চক্রান্তে হজ্জ, মুসলিম সেজে বোরকা পরে মদিনায় মহিলা সেকশনে পুরুষ ই’হুদী চর   পুড়ে যাওয়া বস্তি যেন দর্শনীয় স্থান!   ডেঙ্গু: চব্বিশ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৭০৬   আসামের এনআরসি ও কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল: নেপথ্যে মোদির মুসলিমবিদ্বেষ   কাশ্মীর ইস্যুতে আরব দেশগুলোর নীরবতার নেপথ্য কারণ কী?   কাবুলে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা, নিহত ৬৩   মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর সোহেল’র ইন্তেকাল   ভারতের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার এখন ফ্যাসিস্ট মোদির হাতে : ইমরান খানের হুঁশিয়ারি   রাঙ্গামাটিতে সন্ত্রাসীদের সাথে গুলি বিনিময়ে এক সেনাসদস্য নিহত

মূল পাতা   >>   কলাম

অবিচার ও হাহাকারের গতি প্রকৃতি

মঈনুল আহসান, নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৯-০১-০৪ ১০:৫২:৫২

মঈনুল আহসান: মানবতার হাহাকার আজ চারিদিকে। কোথাও যেন কেউ নেই তাদেরকে পক্ষে দাঁড়ানোর। সবখানেই ক্ষমতা এখন দুর্বৃত্তদের হাতে। মানবতার দুশমনদের দখলে যেন চলে গেছে সব। তাদের অবস্থা এখন রমরমা। মানবতা এখন চলে তাদেরই মর্জিতে ও ইচ্ছায়। জগতের সব বিত্ত-বৈভব এখন তাদের হাতে।দেশের আমলা-কামলা, আলেম, বুদ্ধিজীবী- শিক্ষাবিদরাও সবাই যেন তাদের তাবেদার। সব এখন তাদেরই দলে ও দখলে। সবাইযেনএখন ক্ষমতাসীনদুর্বৃত্তদেরদালাল ও লাঠিয়াল। এমনকি কবি-সাহিত্যিকদের মত মুক্ত চিন্তার কাণ্ডারিদেরঅনবদ্য শব্দাবলীও এখননিথর এদের অতি অনাচারের কালচারে।

দুঃসহ এই অবস্থার মাঝে কেউ যদিওবা মুখ খোলেন সাহস করে কিম্বা ভুল করে, পরক্ষণেই তিনি হারিয়ে যান অজানায়। তারা নিজে থেকেই হারিয়ে যান নাকি তাদেরকে হারিয়ে যেতে বাধ্য করা হয় তা পরিষ্কার না হলেও সার্বিক অবস্থার প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় সম্ভাবনাই বেশী বলে ধারণা করা যায়। হঠাৎ মুখ হা করা তেমনি এক কবির উচ্চারণে কিছুটা হলেও উঠে এসেছে আজকের জটিল অবস্থার ভয়াবহ চিত্র। অসহায় সেই কবি অকপটেই বলেছেন ‘দেখেশুনেমনেহয়বিধাতাযেনদুনিয়াটাকেবেঁচেদিয়েছেনশয়তানেরকাছে’।দারুণএকউচ্চারণ, কিন্তু ঐ পর্যন্তই। সেই কবিও এখন নীরব, চলে গেছেন যেন অজ্ঞাতবাসে।

পরিস্থিতির শেষ বুঝাতে এমন বাক্য বিন্যাস অতি যথার্থ। চরম অসহায়ত্বের মুখে বিধাতাকে এভাবে একতরফা দায়ী করাও নতুন কিছু নয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে পরম বিধাতার কোন কাজ এমন সস্তা কেনা-বেচার বিষয় নয় বরং তাঁর সব কাজের পেছনেই রয়েছে সুনির্দিষ্ট কোন না কোন উদ্দেশ্য। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ পাকের অনাদি কালের কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণ ও উদ্দেশ্যও।

উল্লেখ্য যে মহান আল্লাহ পাক শুধু বিশ্বাসীদেরই স্রষ্টা নন, তিনি একই ভাবে চরম নাস্তিকদেরও স্রষ্টা। তিনি বিশ্বাসীদের চাহিদা যেমন ভাবে পূরণ করে থাকেন ঠিক একই ভাবে পূরণ করে থাকেন অবিশ্বাসীদের চাহিদাও। তিনি জানেন মানুষের মনের সুপ্ত আকাঙ্ক্ষাও, সেজন্যেই তিনি সর্বজ্ঞ। তাই অবিশ্বাসীরা কি চায় তা তাঁর মোটেই অজানা নয়। আল্লাহ পাক তার পবিত্র কালামে ওয়াদা করেছেন অবিশ্বাসীদের চাহিদা পূরণ করার। অবিশ্বাসীদের কাজের ফল তিনি তাদের চেষ্টা অনুপাতেই দিয়ে থাকেনকিন্তু শর্ত হচ্ছে পরকালে তাদের প্রাপ্য হবে শূন্য যেহেতু তারা তাতে বিশ্বাসই করে না(সূরা৩:আয়াত১৪৫; ৪২:২০ দ্রষ্টব্য)। তাই আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসহীন ভালো কাজগুলোও বস্তুত:পক্ষে একেবারেই মূল্যহীন।
আল্লাহ পাক ভালো করেই জানেন যে ফেরাউনের করুণ পরিণতি জানা থাকা সত্ত্বেও দুনিয়াতে এমন বহু মানুষ থাকবে যারা মনে প্রাণে চাইবে ফেরাউনের মত রাজত্ব, হতে চাইবে তার চেয়েও বেশী ক্ষমতাবান। দেশে-দেশান্তরের অনেকেই যে যেনতেন উপায়ে সে লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা ও তদবিরে ব্যস্ত থাকেন তা আমরা জানি সবাই। সেই তালিকায় আছে মুসলিম নামধারীরাও। বলাই বাহুল্য যে শুধুমাত্র মুসলিম নামের কারণে কেউ বিশ্বাসী হয় না। বরং অনেক সময় ভয়ংকর অবিশ্বাসীরাও লুকিয়ে থাকে নিরীহ মুসলিম নামের আড়ালে। সে ভাবেই বরং পাপাচার করা যায় নির্বিঘ্নে কারণ তাতে ধরা পড়ার ভয় থাকে কম। কিন্তু তারপরও ধরা তাদের পড়তেই হয়। মাটি ফুঁড়ে চারা গাছ বের হওয়ার মতই তাদের পাপাচারও এক সময় বেরিয়ে পড়ে তাদের কথিত মুসলিম পরিচয়ের খোলস ফুঁড়ে। অতঃপর সেই পাপিষ্ঠকে আল্লাহ পাক উৎখাত করে থাকেন ফেরাউনের মতই সমূলে। ফেরাউন হওয়ার স্বাদ মিটিয়ে দেন চিরতরে ফেরেউনের মতই লোমহর্ষক পতনের মধ্য দিয়ে। সেটাই ঘটেছে সাদ্দাম ও গাদ্দাফির ক্ষেত্রে, সে পথেই চলছে আজকের সিসি ও সালমানেরা। হাসিনার অবস্থাও তাদের চেয়ে ভালো কিছু নয়, তেমনই দেখা যাচ্ছে তার আমলের কথিত বহুবিধ উন্নয়ন প্রকল্পআর তথাকথিত সব ইলেকশানগুলোর মত অতি সাম্প্রতিক ইলেকশানের কারিগরিতে। এহেন শত ভাগ, আশিভাগভোট খেকোদের পথ সাধারণত একমুখীই হয়ে থাকে, ফেরার রাস্তা এরা হারিয়ে ফেলে চিরতরে।
আল্লাহ পাক বস্তুত এভাবেই এদের মনোবাঞ্ছাগুলো পূরণ করে থাকেন যতটুকুতিনিচান,যেমনকরেছিলেন ফেরাউনের ক্ষেত্রে। অতঃপর চোরের দশ দিনের পর আসবে সেই একটি দিন যখন এক লহমায় ক্ষান্ত হবে দলবল সহ সব অনাচারী এবং তাদের সমস্ত অনাচার। এটা মহান আল্লাহ পাকের এমনই এক সর্বময় কর্ম পদ্ধতি যার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকেন পাপিষ্ঠ স্বৈরাচারদের পাপকে(৩৫:৩৯ দ্রষ্টব্য)। তারা পাপ কামায় সম্পদ ও ক্ষমতা থেকে, সেই পাপ বাড়তে থাকে মজলুমের নিত্য আর্তনাদ আর অভিশাপের অব্যাহত ধারা থেকে। অতঃপর সেটাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে আল্লাহ পাক উৎপীড়িতের পাপগুলোকেও চাপিয়ে থাকেন ঐ সব স্বৈর-পাপিষ্ঠদের উপর। সবশেষে তাদের ভালো কাজের সওয়াবগুলোকেও কেড়ে নিয়ে বিলিয়ে দেন তাদের হাতে নির্যাতিতদের মাঝে। এভাবেই সর্বস্বান্ত ও সর্বব্যাপী ধিক্কৃত হয়ে বিদায় নেয় স্বৈরশাসকেরা। সর্বশক্তিমানের এই অনবদ্য মহান বিচার ব্যবস্থাই বস্তুত ইতিহাসের পরম শিক্ষা যা থেকে দুর্ভাগ্যবশত কেউই কখনও শিক্ষা নেয় না। এই শিক্ষার উপসংহারে নির্যাতিত প্রজাদেরকেই সব সময় দেখা যায় টিকে থাকতে আর জমিদারদের রাজকীয়প্রাসাদগুলোকে পড়ে থাকতে দেখা যায়ভূতুড়ে বাড়ি হিসেবে। এমনই দুরবস্থা হয় অত্যাচারিদেরপ্রাসাদগুলোর যে অতি গরীব প্রজারাও থাকতে চায় না সেখানে। সেখানে বাসা বাঁধে সাপ-খোক, পাখী আর পশুদের দল। একালের প্রজাদেরও মুক্তির সেই দিন খুব বেশী দূরে নয়ইনশাআল্লাহ। 

লেখকের বই পেতে: Search ‘Mainul Ahsan’ at ‘amazon.com’

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৭০২ বার

আপনার মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত