যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট, ২০২০ ইং

|   ঢাকা - 04:27am

|   লন্ডন - 11:27pm

|   নিউইয়র্ক - 06:27pm

  সর্বশেষ :

  করোনাভাইরাস: সংক্রমণের নতুন ধাপে প্রবেশ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র   ডিজেলের ফেলে দেয়া কালিই ঘটায় অ্যাপল ফায়ার   মাস্ক নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড ম্যানহাটন বিচে   যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয়ধাপের বেকারভাতা সর্বোচ্চ ১২০০ ডলার   বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, হতাহত শতাধিক   মৃতের সংখ্যা কমলেও অর্থনীতি শিগগিরই চাঙ্গা হচ্ছে না ক্যালিফোর্নিয়ায়   স্বাস্থ্যবিধি তোয়াক্কা না করে পানশালায় পুলিশ অফিসারের পার্টি   দেশে বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৪৫ জনের মৃত্যু   চীনা ভ্যাকসিন পরীক্ষায় সন্তোষজনক হলে বাংলাদেশে ট্রায়াল   পুরো কাশ্মীরকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করল পাকিস্তান   বেভারলি ক্রেস্টে বন্দুক হামলায় নিহত ১, আহত ২   ৩০ বিলিয়ন ডলারে স্প্রিন্ট এবং টি মোবাইল একীভূত   ক্যালিফোর্নিয়ায় করোনা সংক্রমণ হ্রাসেও উদ্বেগ কমছে না   লস এঞ্জেলেসে দু সপ্তাহের মধ্যে খোলছে স্কুল   যুক্তরাষ্ট্রে চীনের সব সফটওয়্যার নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প

মূল পাতা   >>   কলাম

দুঃসময়ের ঈদ

সামীর রূহানী

 প্রকাশিত: ২০২০-০৫-২৩ ১১:৪৮:৪৬

সামীর রূহানী: সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা রইলো। ঈদ আরবী শব্দ যার অর্থ হচ্ছে খুশি। আজ হয়তো আমাদের অনেকেরই মন ভীষন খারাপ কারণ এবারের ঈদে নতুন জামা কাপড় কসমেটিকস পাঞ্জাবী কিনে বন্ধু বান্ধবী আত্মীয় স্বজন মিলে আনন্দ করতে পারবো না এইজন্য নিশ্চয়ই । অথচ আমরা যদি বিষয়টা বাস্তবিক অর্থে বর্তমান পরিস্থিতির সাথে তুলনা করি তাহলে এই মুহূর্তে আপনি যদি সুস্থ থাকেন কিংবা ঠিকভাবে নিশ্বাস নিতে পারছেন বা আপনার পেটে একবেলা অন্তত খাবার দিতে পারছেন অথবা আপনার পরিবার আপনার সাথে আছে এবং সবাই জীবিত রয়েছেন তাহলে আপনাদের সবার আল্লাহর দরবারে আলহামদূলিল্লহ পড়ে বিশেষ ভাবে শুকরিয়া আদায় করা উচিত। কারণ আপনি এই পৃথিবীর সৌভাগ্যবান মানুষের মাঝে একজন।এখন আপনি যদি আল্লাহ সুবহানাতাআলার এত রহমত অস্বীকার করে এই সামান্য নতুন জামা কাপড় বা ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার জন্য আফসোস করেন তাহলে হয়তো আল্লাহ পাক আপনার প্রতি নারাজ হওয়াটা অসম্ভব কিছুই না।

আমরা হচ্ছি সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল মোহাম্মদ (সা.) এর  উম্মাত। যারা যারা এই মূহুর্তে জীবনের পরোয়া না করে ঈদের না‌মে শপিং করছেন তারা কি বল‌তে পারবেন আমাদের রাসূলে পাক হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.) কয়টা ঈদের নতুন পোষাক প‌রে‌ছেন? ঈদে নতুন জামা পড়াটা কি ফরজ কাজের মাঝে পড়ে ইসলামে ? তাহলে কেনো এত হতাশা আজ আপনাদের মাঝে? আপনারা কি জানেন যে, সারা বিশ্বে প্রায় তিনশো কোটি মানুষের দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে পৃথিবীতে যারা তাদের লজ্জা ঢাকার মতন কাপড় পায় না এবং তিন বেলা খাবার পাওয়াটা যেনো আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতন তাদের কাছে? এছাড়া এই একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে জাতিসংঘ এবং ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে সারা বিশ্বে প্রায় আট হাজার শিশু মারা যায় শুধুমাত্র ক্ষুধা নামক ভাইরাসের কারণে! না, জানেন না। কারণ ক্ষুধা নামক ভাইরাস ধনীদের কখনো হত্যা করে না। তাছাড়া প্রতিদিন পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ কবরে চিরনিন্দ্রায় শায়িত হচ্ছে আর বহু মানুষ হসপিটালে তাদের শেষ নিশ্বাসের প্রহর গুনছে আবার অনেকেই অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছে কিন্তু এতকিছু বাদেও আপনি যদি ভালো থাকেন তাহলে বোকার মতন নিজের জীবন নিয়ে এত আফসোস কেনো করছেন? যারা ভালো আছেন সুস্থ স্বাভাবিক আছেন পরিজন পরিজন নিয়ে ভালো আছেন তাদের প্রতিটা দিন আল্লাহর অশেষ রহমতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা উচিত। জীবন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আল্লাহর বিশেষ রহমত থেকে বঞ্চিত হবেন না দয়া করে।

এই ভাইরাসের একটা ভালো দিক কি জানেন আপনারা? এই যে আমরা হিন্দু মুসলিম খ্রিস্টান শিখ ইহুদী বৌদ্ধ আস্তিক নাস্তিক সাদা কালো ধনী গরিব সবাইকে এক কাতারে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে এইটা বোঝানোর জন্য যে দিনশেষে আমরা সবাই কিন্তু মানুষ। আমাদের রক্ত শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সবকিছু অভিন্ন শুধুমাত্র বিশ্বাস ছাড়া।এই বিশ্বাসকে মানুষের জন্য ঐক্যবদ্ধ করতে হবে আমাদের। সবাইকে মানুষ হিসাবে ভালোবাসতে হবে অন্যথায় এই সুন্দর পৃথিবী নষ্ট হয়ে যাবে।
সর্বপ্রথম মানুষকে মানুষ হিসাবে প্রাধান্য দিন, দেখবেন পৃথিবীটা আসলেই অনেক সুন্দর। ভাইরাস কিন্তু সবাইকে মানুষ হিসাবেই আক্রমণ করছে। তবে আমি বিশ্ব নেতাদের কাছে একটা প্রশ্ন রাখতে চাই যে, আপনাদের অর্থনীতি কি আসলেই মানুষের জীবনের চাইতে মূল্যবান? অন্যথায় ভবিষ্যতে পৃথিবীর ইতিহাসে লিখা থাকবে যে পৃথিবীর সংকটময় মূহুর্তে বিশ্ব নেতাদের কাছে তথাকথিত অর্থনীতির সামনে মানুষের জীবন মূল্যহীন বস্তুতে রূপান্তরিত হয়েছিলো। তাই দয়াকরে আপনারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লক ডাউন শিথিল করে বিশ্ব অর্থনীতির দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিবেন না । এইসব সাধারণ জনতা সারা জীবন রাষ্ট্রকে রাজস্ব ট্যাক্স প্রদান করে। এখন প্রতিটা রাষ্ট্রের এইটা দায়িত্ব এবং কর্তব্য যে তারা নিজ নিজ দেশের জনগণের সেই ঋণ শোধ করবে তাদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা প্রদান করে। আর আপনারা সাধারণ মানুষ নিজ নিজ বিশ্বাসের স্থান থেকে ধৈর্য্য ধরে পজিটিভ মাইন্ডেড থাকার চেষ্টা করবেন। এই যুদ্ধটা হচ্ছে আমাদের বেচে থাকার যুদ্ধ । তাই হার মানা যাবে না হতাশ হওয়া যাবে না ।

এদিক থেকে আমি আমার জীবন নিয়ে শত কষ্টের মাঝেও হতাশা খুব একটা প্রকাশ করি না কারণ আমার কাছে লাইফের ফিলোসফি হচ্ছে আল্লাহ কখনো আমাদের দুর্বল করে দেন অধিক শক্তিশালী হবার জন্য । কখনো আল্লাহ হৃদয় ভেঙে চূর্ণ করে দেন আমাদের পরিপূর্ণ করার জন্য । কখনো আল্লাহ আমাদের দুঃখ সইতে দেন অধিক সহনশীল হবার জন্য । কখনো আল্লাহ আমাদের ব্যর্থতা দেন জীবন সংগ্রামে জয়ী হবার জন্য । কখনো আল্লাহ আমাদের একাকিত্ব দেন অধিক সচেতন হবার জন্য । কখনো আল্লাহ আমাদের সর্বস্ব ছিনিয়ে নেন আল্লাহর রহমতের মূল্য বোঝানোর জন্য। তাই সর্বদা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা'র শুকরিয়া আদায় করুন। সবাই সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন ও একে অপরকে সাহায্য করুন আর মানুষ হয়ে মানুষকে ভালোবাসুন। কারণ একমাত্র মানুষের জন্য মানবতাই এখন এই পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারবে । সবাইকে আবারো ঈদের শুভেচ্ছা রইলো । ঈদ মোবারক।

লেখক: অভিনেতা ও সমাজকর্মী

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৩১৭ বার

আপনার মন্তব্য