যুক্তরাষ্ট্রে আজ রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 11:35pm

|   লন্ডন - 06:35pm

|   নিউইয়র্ক - 01:35pm

  সর্বশেষ :

  মঙ্গলবার চীনে উদ্বোধন হচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সেতু   ওয়াশিংটনে শেখ রাসেলের জন্মদিন পালিত   ঢাকায় সরকারি চাকরিতে বয়স বৃদ্ধির দাবির সমাবেশে পুলিশের লাঠিচার্জ   এরদোগানকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে যাচ্ছেন সালমান?   মানুষ ভোট দিলে আবার আসবো না দিলে আফসোস নেই : প্রধানমন্ত্রী   কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ১৫   মায়ের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত আইয়ুব বাচ্চু   বেলজিয়ামে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশি শায়লা   দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে ৫ বাংলাদেশির মৃত্যু   প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক, অন্তর্দ্বন্দ্বে নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ আদালতের   তুরস্কে চলছে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট কুরআন প্রদর্শনী   যেসব খাবারের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে   মেসিকে ছাড়াই কোপার পরিকল্পনা আর্জেন্টিনার!   বিন সালমানের অপসারণ চাইলেন সৌদির ওলামা পরিষদ   ‘যত বার ওর অফিসে গিয়েছি, তত বারই চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেছেন’

মূল পাতা   >>   কলাম

চাই নয়া নেতৃত্ব

রুহুল আমীন, নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২৬ ১১:১০:৩৩

রুহুল আমীন: তারেক জিয়া, সজীব ওয়াজেদ জয়, মাহি বি চৌধুরী, ব্যারিষ্টার তাপস, ব্যারিষ্টার আন্দালিব পার্থ, গোলাম মাওলা রনি, সাঈদ খোকন এবং অন্যান্য সকল যুবনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলছি, আপনারাই এ দেশের ভবিষ্যত নেতা। অনুকরণীয় এক মহান নেতা ডঃ মাহাথির মোহাম্মদের ন্যায় আপনারাই পারেন ইতিহাস সৃষ্টি করে গরীব এ দেশকে উন্নত একটি দেশে পরিণত করতে।  কিন্তু একটি পশ্চাদপদ দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেয়া মোটেই সহজ কোন কাজ নয়। ইচ্ছা হলেই যে কেউ সত্যিকার অর্থে নেতা বা নেত্রী হতে পারে না। তার জন্য দেশপ্রেম, প্রচুর পড়াশুনা, গবেষণা, ত্যাগ ও তিতিক্ষার প্রয়োজন। সদিচ্ছা থাকলে আপনারা নিজেদের মধ্যে থাকা সব বাধা পেড়িয়ে, সব বিভেদ ভুলে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।আমাদের অতীত ইতিহাস হতে আপনাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। যে যত কথাই বলুন না কেন আমাদের অতীত ইতিহাস খুব গৌরবের নয়। কদর্য্য এ ইতিহাস সামনে না আনতে পারলে আমার এ লেখার কোন মূল্য থাকবে বলে আমার মনে হয় না। তাই সবার অবগতির জন্য অতীতের কিছু বিষয় উল্লেখ করতে বাধ্য হচ্ছি।

বৃটিশ শাসনের কথা আমরা সবাই কম বা বেশী জানি। যে যার মত বিশ্লষণ না করে আমরা যদি নিরপেক্ষভাবে বিচার করতে পারি তবে আমরা অতীত ইতিহাস ব্যাখ্যা করে এর ভাল এবং মন্দ দিকগুলো চিহ্নিত করতে পারবো। যাক বৃটিশ শাসনের পর অর্থাৎ ১৯৪৭ সাল হতেই একটি সদ্য ভুমিষ্ট দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার মত সুযোগ্য নেতা আমাদের দেশে খুব একটা তৈরী হয়নি। সৎ নেতৃত্ব সংকটের ফলে অযোগ্যদের হাতে নেতৃত্ব চলে যায়। পরবর্তিকালে এরা সক্রিয় হয় এবং সুকৌশলে দেশের রাজনীতির শূণ্য ময়দান দখলে নিয়ে দখলদার বৃটিশ শাসকদের মতই দেশ শাসন শুরু করলো। শুধু তাই নয়, স্বার্থপর এ রাজনীতিবিদদের হীন চক্রান্তে অল্প হলেও যে ক'জন দেশপ্রেমিক নেতা ছিলেন তাদের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হলো অথবা গভীর ষড়যন্ত্রের কারণে তাদের পিছু হঠতে বাধ্য করা হলো। শুরু হলো ফাঁকা ময়দানে রসালো বক্তৃতা দিয়ে বাহবা বা হাততালি পাওয়ার রাজনীতির চর্চা। গোঁদের উপর বিষফোড়ার মত ছিল পূর্ব বাংলার সহজ সরল জনগণকে শাসনের নামে বিভিন্ন কায়দায় পশ্চিম পাকিস্তানীদের শোষন। এ দেশের বেশ কিছু হীন চরিত্রের রাজনৈতিক নেতা জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বিশ্বাসঘাতকের মত পশ্চিমাদের সাথে হাত মিলিয়েছিল। কিছুদিনের মধ্যেই দুই অংশের দৃশ্যমান বৈষম্যের কারণে পূর্বাংশের জনগণ আবার স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখা শুরু করলো। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য পশ্চিমাদের সাথে যারা হাত মিলিয়েছিলো তারাই আবার নেতৃত্বে চলে এলো। তাদের মতে যে যত বেশী আবেগঘন বক্তৃতা দিতে পারবে সেই তত বড় নেতা। দেশে চালু হলো নূতন রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেখানে আবেগ দিয়ে কথা বলতে পারা কিংবা রসালো বক্তব্য দিতে পারাটাই নেতৃত্বের মাপকাঠি হয়ে গেলো। এ কারণেই প্রকৃত নেতা হওয়ার মত নুন্যতম যোগ্যতা না থাকা সত্বেও দুর্ভাগ্যবশত এরাই দেশের নেতা বা নেত্রী বনে গেলো। সুদীর্ঘ তেইশ বছর বিভিন্ন গণ আন্দোলন শেষে দেশের জনগণ সুসংগঠিত হলে ১৯৭১ সালের নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের ফসল হিসেবে আমাদের সকলের প্রিয় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের যাত্রা শুরু হলো।

স্বাধীন দেশে যারা নেতা বা নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন তাদের মধ্যেও যোগ্যতার প্রকট অভাব ছিল। মুখে মুখে 'জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস' বললেও এখানে জনগণের ভূমিকা ছিল সম্পূর্ণ গৌন। হয়তো বা ঐ সকল নেতাদের মতে দেশের রাজনীতিতে জনগণের কোন ভূমিকা থাকারই প্রয়োজন নেই। বলাই বাহুল্য যে, এ দেশের সহজ সরল জনগণ তৎকালীন শাসকদের অপশাসন, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈষম্য, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, সামাজিক অবক্ষয় ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সচেতন হতে পারেননি কিংবা অন্যভাবে বলা যায়, এদের সচেতন করার জন্য ফলপ্রসু কোন উদ্যোগ সেই বৃটিশ আমল হতে কোন সরকার গ্রহণ করেনি। এর কারণ, জনগণ সচেতন হলে অযোগ্য যে কেউ যখন তখন তাদের শাসন করতে পারে না। হলোও তাই, তারা জানতো যে বৃটিশদের মত DIVIDE & RULE সূত্র কাজে লাগিয়ে অসচেতন জনগণকে শাসন ও শোষণ করা খুবই সহজ। এরই ফলশ্রুতিতে এবং কালক্রমে দেশপ্রেমিক নয় এমন ব্যক্তিরাই রাজনীতিতে সক্রিয় হলো। তাদের সাথে মিলিত হলো সন্ত্রাসী, খুনী, কালোবাজারী, ঘুষখোর, ধর্ষক, মদখোর এবং নৈতিকভাবে অধঃপতিত কিছু অসামাজিক ব্যক্তি। বর্তমানে এদের হাতেই দেশ ও জাতির সার্বিক নেতৃত্ব কুক্ষিগত।

দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এই বাংলাদেশ আজব এক দেশ। এ দেশের ৬০% মানুষ দেশ বা দেশের ভবিষ্যত নিয়ে খুব একটা ভাবেন না আর তারা ভাবতেও চান না। এরা খুব অল্পতেই তুষ্ট। কোনক্রমে বেঁচে থাকতে পারলেই এরা খুশী। এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে ঐ সব  স্বার্থপর, ধুরন্ধর ও সুযোগসন্ধানী রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং অন্যান্য দলের নেতা আর কর্মীদের ভাষা শুনলে মনে হয়, শিশুকালে এরা কোন সুশিক্ষা পায়নি। এদের বাবা-মারাও তাদের সুশিক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। জানি না হয়তো বা তারা নিজেরাই অশিক্ষিত ছিলেন। কারণ একমাত্র শিশুকালটাই হলো আদব কায়দা শেখার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে  আমাদের দেশের রাজনীতিবিদগণ ভাল মানুষ হওয়ার মত উপযুক্ত কোন শিক্ষা পাননি। বড় বড় ডিগ্রী বা সার্টিফিকেট তারা হয়তো পেয়েছেন কিন্তু এদের কেউ সুশিক্ষিত হতে পারেননি। তাই তারা যে ভাষায় কথা বলেন তা শুধু শিষ্টাচার বহির্ভূত নয় বরং অভদ্রজনিতও বটে।

বর্তমানে সংখ্যায় কম হলেও জনগণের একটা অংশ যারা রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও শান্তিপ্রিয় তারা চায় নেতৃত্বের আশু পরিবর্তন। তারা চায় সঠিক এবং গতিশীল নয়া নেতৃত্ব। দেশকে ভালবেসে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে যদি সুনেতৃত্ব গড়ে তোলা না যায় তবে দেশের সত্যিকার উন্নয়ন কোন দিনই সম্ভব নয়। এ সত্য উপলব্ধি করে এবং সুন্দর, সুখী এবং সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে চাইলে অতি সত্তর নেতৃত্ব পরিবর্তন অত্যাবশ্যক। এক্ষেত্রে নবীনদের নেতা হিসেবে বরন করাই সর্বোত্তম।

আগামী দিনের নেতা তারাই হবেন যারা দেশকে নিয়ে যাবেন উন্নতির শিখরে। সুন্দর একটি ভবিষ্যতের দিকে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে আগামী দিনের নেতারা সর্বাগ্রে নিজেদের তৈরী করে নিতে হবে। দেশকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে হলে আবেগপ্রবণ বক্তৃতা দেওয়ার প্রবণতা পরিহার করে আত্মত্যাগের দীক্ষায় নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ১৪৯৬ বার

আপনার মন্তব্য