যুক্তরাষ্ট্রে আজ রবিবার, ১৯ অগাস্ট, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 05:59pm

|   লন্ডন - 12:59pm

|   নিউইয়র্ক - 07:59am

  সর্বশেষ :

  স্তন্যপান করিয়ে বিপন্ন শিশুকে বাঁচালেন আর্জেন্টিনার পুলিশ কর্মকর্তা   হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু   সরকার কোনো আন্দোলনকে দানা বেঁধে উঠতে দেবে না : এরশাদ   বিয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন প্রিয়াঙ্কা-নিক   ফিলিস্তিনিদের ঘরে ফেরার আন্দোলনে নিহত ১৬৬   প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ইমরান খান   ফাইনালে পারল না বাংলাদেশি মেয়েরা   মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে : নাসিম   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান আর নেই   সবচেয়ে বেশি আয় স্কারলেট জোহানসনের   শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার দাবি ড. কামালের   ছাত্র আন্দোলনে ‘গুজব’ ছড়ানোর অভিযোগে কফিশপের মালিক ফারিয়া রিমান্ডে   এবার ট্রাম্পের পুত্রবধূর বিরুদ্ধে অভিযোগ   যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন!   হ্যান্ডশেক না করা সেই সুইডিশ তরুণী মামলায় জিতলেন

মূল পাতা   >>   কলাম

হারিয়ে যাচ্ছে জীবন বোধ, ভাবনার এখনই সময়...

কাজী সুলতানা শিমি, নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-০৯ ১২:২৮:০৭

কাজী সুলতানা শিমি: অস্ট্রেলিয়াতে এখন সামার। এ সময়ে স্কুল হলিডে থাকে। প্রায় সব বাবা-মা’রাই তাদের ছেলে্মেয়েদের নিয়ে বেড়াতে বের হয়। কেউ কাছে কেউ দুরে। কেউবা আবার দেশের বাইরে। বেড়াতে বের হয়েছি আমরাও। খাবারের দোকানে বসে অপেক্ষা করছি খাবার আসার। এ সময়ে টেবিলে খবরের কাগজটা টেনে নিতেই চোখ পড়লো শিরনাম।পাঁচ বছরের বাচ্চারা কিভাবে হতাশা ও বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি পেতে পারে তার উপর শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। এজন্য প্রাইমারী স্কুলের সিলেবাসে নতুন করে এ বিষয়টা অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা করছে তারা। তাহলে অদুর ভবিষ্যতে তরুণদের সুইসাইড করার প্রবণতা কমতে পারে বলে তারা মনে করছে। ২০২০ সাল থেকে কিন্ডারগার্ডেন থেকে ইয়ার টেন স্কুল কারিকুলামে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে স্বাস্থ্য সচেতনতা, ব্যাক্তি উন্নয়ন সম্পর্কে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মুলতঃ মানসিক অসুস্থতা ও তরুণদের সুইসাইড করার প্রবণতা দুর করতেই এই পদক্ষেপ। এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী মনে করেন, পুরানো পদ্ধতিতে চেষ্টা করে আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় এই পদক্ষেপের কথা ভাবতে হচ্ছে। এটা এখন এমন গুরত্বপুর্ন সমস্যা যে, জীবন সম্পর্কে তাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী বদলাতে এর বিকল্প নেই। পারিবারিক বন্ধনের শিথিলতার বিকল্প হিসেবে এটা কার্যকর হবে বলে মনে করছেন তারা। 

এ শিক্ষা পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য জীবন চলার পথে নানা রকম সমস্যার সমাধানে আত্নবিশ্বাস বাড়ানো। পরিণত বয়সে এসেও যেন সম্পর্ক টিকে থাকে কিংবা আনন্দময় উপায়ে যাপন করা যায় তার জন্য ছোট থেকেই শিক্ষা দেয়া দরকার বলে শিক্ষাবোর্ডএই সিধান্ত নিতে যাচ্ছে। তাই ক্লাস থ্রি এবং ফোরের শিক্ষা কারিকুলামেই তাদের শেখানো হবে জীবনের উত্থানপতন স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেয়ার এবং জীবন সংগ্রামে বিশ্বাস ও আশাবাদী থেকে পরিপূর্ণভাবে যাপন করার উপায়। উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে খোলাখুলি মত প্রকাশের সুযোগ করা হলে তারা তাদের অনুভুতিগুলো অন্যদের সাথে ভাগ করে নিতে পারবে। পারিবারিক কিংবা সামাজিক বন্ধন বাড়াতে ও এ ধরণের পদক্ষেপ নেয়া এখনি খুব জরুরী।

ক্লাস সেভেন ও এইটের শিক্ষার্থীদের শেখানো হবে প্রিয়জন চলে যাওয়া কি করে সয়ে নিতে হয়।পাশাপাশি ভুল ধারণা কিভাবে মানুষের মনোজগতে ক্ষতি করে সে ব্যাপারেও তাদের সচেতন করা হবে।ক্লাস নাইন ও টেনের শিক্ষার্থীদের ধারণা দেয়া হবে ডমেস্টিক ভায়োলেন্স ও ড্রাগের ক্ষতিকর দিকগুলো। এব্যাপারে কয়েক জন অবিভাবকদের মতামত নেয়া হলে তারা জানান, দুঃখ রাগ ঘৃণা হাতাশা বিষণ্ণতা যে জীবনের অংশ সেটা শেখানো আমাদের দ্বায়িত্ব। এ বিষয় গুলো যদি স্কুল থেকেই শেখানো শুরু করা হয় তাহলে তারা জীবনের নানা বিপর্যয় খুব স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করতে পারবে। এতে করে তাদের সৃজনশীলতা বাড়বে সর্বোপরি সমাজে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। জীবনবোধ এভাবেই জাগাতে হবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
 
বস্তুত, জীবনবোধ সম্পর্কে ইতিবাচক ধরনা ও সচেতনতা বাড়াতে সময় অনুযায়ী সিধান্ত নেয়া সত্যিকার অর্থেই জরুরী। প্রসঙ্গক্রমে ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং এর সাম্প্রতিক একটি ভবিষ্যৎবানী এখানে উল্লেখ করতে ইচ্ছে হলো।কিছুদিন আগে,লিসবনে ৬০ হাজার দর্শকের সামনে তিনি বলেছিলেন: কিছু দিনের মধ্যেই এই পৃথিবীর বাইরে কোথাও বিকল্প উপনিবেশ গড়তে না পারলে ধ্বংস হয়ে যাবে মানুষ। ধ্বংসের কারণ হিসেবে বলেছেন, যন্ত্রের কৃত্রিম বুদ্ধি তথা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে।

সম্প্রতি বেইজিং অনুষ্ঠিত টেনসেন্ট ওয়েব সামিটে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি আবারো বলেন,আগামী ৬০০ বছরের মধ্যে পৃথিবীতে নাকি মানুষের বিলুপ্তি ঘটবে।।মানুষের বিলুপ্তি ঠেকাতে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, মানুষকে এই গ্রহ ত্যাগ করে অন্য কোন গ্রহে স্থানান্তরের বিষয়ে চিন্তা করা দরকার। এই মহাবিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে মানুষের বসবাসের জন্য পরবর্তি সবচেয়ে ভালো জায়গা হিসেবে তিনি আলফা সেন্টোরির কথা বলেছেন।স্মর্তব্য যে,আলফা সেন্টোরির দূরত্ব পৃথিবী থেকে ২৫ ট্রিলিয়ন মাইল বা ৪.৩৭ আলোকবর্ষ। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে দ্রুতগামী মহাকাশযান দিয়ে সেখানে যেতে সময় লাগবে ৩০ হাজার বছর।এসময় কমাতে হকিং একটি স্টারশট প্রোজেক্টে-‘ন্যানোক্রাফট’ নামক একটি যান তৈরীর কথা বলেন। এই ন্যানোক্রাফট দিয়ে আলফা সেন্টোরিতে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ২০ বছর এবং মজার বিষয় হল এই ন্যানোক্রাফট দিয়ে মঙ্গল গ্রহে পৌঁছাতে সময় লাগবে এক ঘন্টারও কম। আরমাত্র একদিন সময় লাগবেপ্লেটোতে পৌঁছাতে।
বিষয়টাএকারণে উল্লেখ করেছি যে, নতুন প্রজন্মকে এখন থেকে জীবনবোধ ও পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে অনুপ্রেরণামূলক বিষয়ে আগ্রহী না করতে পারলে নিজেদের ধ্বংসের পাশাপাশি সভ্যতা ধ্বংস হওয়ার পথ অদূরে নয়। জন্মের পরপরই যদি মৃত্যু পরবর্তী জীবনের প্রতিআগ্রহী করাকেই বেশী গুরত্বপুর্ন মনে করা হয় তাহলে বিষণ্ণতা ও হতাশা সামাল দিতে না পারলে তারাএকসময় সুইসাইডের প্রতিই বেশী আগ্রহী হবে। বর্তমানে বহুল পরিমাণে প্রযুক্তি নির্ভর প্রবণতা ওযন্ত্রের কৃত্রিম বুদ্ধি তথা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি ও হয়তো হতে পারে সে বিপর্যয়ের কারণ। তারচে আলফা সেন্টোরিতে পৌঁছাতে কি করা দরকার তার অনুপ্রেরণা দেয়াটাই বোধহয় সমীচীন। এতে অন্তত ইতিবাচক জীবনবোধে,জন্মাতে পারে মানবতার প্রতিপারস্পরিকসহানুভূতি।


এলএবাংলাটাইমস/সি/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ১০০৪ বার

আপনার মন্তব্য