যুক্তরাষ্ট্রে আজ শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 11:20pm

|   লন্ডন - 06:20pm

|   নিউইয়র্ক - 01:20pm

  সর্বশেষ :

  জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন   আমেরিকারপ্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের প্রমাণ মিলেছে   খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া শপথ নেয়ার প্রশ্নই আসে না: মওদুদ   তারেক-জোবাইদার ব্রিটেনের ৩ ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিল ঢাকার আদালত   ভারতের নির্বাচনে বাংলাদেশে যে প্রভাব পড়তে পারে   নুসরাত হত্যা : আ.লীগ নেতা রুহুল আমিন আটক   দেশের গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী   গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ   আল্লাহর রহমতে আ.লীগের জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে : প্রধানমন্ত্রী   নতুন চমক নিয়ে আসছেন এআর রহমান   ইতালিতে বারবিকিউয়ের আগুন থেকে দাবানল, দুই শিক্ষার্থীকে ২৭ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা   দেশেই উৎপাদন হবে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ গাড়ি   বিমানবন্দরে অস্ত্র গুলিসহ উপজেলা চেয়ারম্যান আটক   নুসরাতকে নিয়ে ছোট ভাই রায়হানের আবেগঘন স্ট্যাটাস   কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

মূল পাতা   >>   বিনোদন

২ দিনের জন্য বেড়াতে গিয়ে ২২ বছরের বসতি!

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-০৯ ১৪:৪৫:১৬

নিউজ ডেস্ক: ঢাকাই ছবির আশির দশকের ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ খ্যাত নায়িকা অঞ্জু ঘোষ গত শতকের শেষভাগে দেশ ছেড়ে ভারতের কলকাতায় পাড়ি জমান। পরে সেখানেই স্থায়ী হন। এতদিন নিজেকে অনেকটা আড়াল করেই রেখেছিলেন তিনি। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আমন্ত্রণে দীর্ঘ ২২ বছর পর বৃহস্পতিবার দেশে এসেছেন তিনি।

এরপর আজ ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে এফডিসিতে শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে এই জনপ্রিয় চিত্রনায়িকাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অঞ্জু ঘোষ বলেন, ‘এতো বছর পরও বাংলাদেশের সবাই আমাকে মনে রেখেছে ভাবতেই অবাক লাগছে। আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ সবার প্রতি। যদিও আমাদের সময়ের যারা শিল্পী ছিলেন আমি তাদের অনেককেই আজ এখানে দেখতে পাচ্ছি না। আজ আমি যে মাতৃভূমিতে পা রাখতে পেরেছি, তা আমার জন্য সৌভাগ্যের। এখানে আসার পর মনে হলো আমি তীর্থে পা রাখলাম।’

এফডিসির শিল্পী সমিতিতে এ অনুষ্ঠান দুপুর তিনটার পরে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তার অনেকটা পরে শুরু হয়।

সে সময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমি আজ এখানে একটু দেরী করে এসেছি। সেটা কিন্তু ইচ্ছে করেই। কারণ আমি চেয়েছি জোসনা আমার অপেক্ষায় থাকুক। আর আমি এখানে আসার আগে ওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। তখন কিন্তু ২২ বছর পর অঞ্জুর কণ্ঠ শোনার পরও চিনতে পেরেছি। তবে একটা কথা, শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা আমরা আসলে করতে জানি না।

কাজ করতে গিয়ে কোথায় যেন একটা ফিনিশিং থাকে না। আমরা কী রকম যেন। আমি সব সময় একটা কথা বলি-চলচ্চিত্র টিকে থাকলে আমরাও টিকে থাকব। চলচ্চিত্রে টিকে না থাকলে আমরা মরে যাব। যদিও অনেকেই বিষয়টা মাথায় রাখে না।’

তোজাম্মেল হক বকুল ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ ছবিটি পরিচালনা করেন। এতে একসঙ্গে অভিনয় করেন ইলিয়াস কাঞ্চন ও অঞ্জু ঘোষ। ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮৯ সালে। সে সময় ছবিটি বেশ ব্যবসা সফল হয়।

বাংলাদেশে আর কোনো চলচ্চিত্র এখন পর্যন্ত সেই রেকর্ড ভাঙতে পারেনি বলা হয়ে থাকে। অঞ্জু ঘোষ তার সময় ইন্ডাস্ট্রি আর এখনকার ইন্ডাস্ট্রির তুলনা করতে গিয়ে বলেন, ‘আমাদের সময়ে কী সুন্দর একটা ইন্ডাস্ট্রি ছিল। এখানে আসার পর এখানকার অবস্থা শুনে খুব খারাপ লাগছে। একটা সময় ছিল এফডিসিতে মোটামুটি ঘর-সংসার করার মতো অবস্থা ছিল। কারণ সারাদিন শুটিংয়ের জন্য এফডিসিতে থাকতে হতো।’

সংর্বধনা অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের উত্তরে অঞ্জু ঘোষ বলেন, ‘কোনোদিন কারও ওপর কোনো ক্ষোভ ছিল না। আর এ কারণে বাংলাদেশও ছাড়ি নাই। আমি ওখানে দুই দিনের জন্য বেড়াতে গিয়েছিলাম। পরে আমি আমার মায়ের কাছে ফেঁসে গিয়েছি। এরপর তো ২২টি বছর কেটে গেল। আমার দেশ তো বাংলাদেশ, এখান থেকে নি:শ্বাস নিয়ে ওখানে গিয়ে এতোদিন বেঁচে আছি।’

অঞ্জুকে আজীবন সদস্যপদ দেওয়া প্রসঙ্গে মিশা সওদাগর বলেন,‘আমার সৌভাগ্য আজ আমরা জীবন্ত এক কিংবন্দীকে সামনে পেয়েছি। ভৌগলিক অবস্থান কোনো বিষয় নয়। শিল্পী যেখানে থাকবে সেখানেই তার দেশ।

শিল্পীদের ডাকে শিল্পী অবশ্যই ছুটে আসবে। যতটুকু পারছি আমরা শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে তাকে সম্মান জানানোর চেষ্টা করছি। শিল্পী সমিতির প্রধান কাজ হলো শিল্পীদেরকে নির্ণয় করা। তাদের পাশে সব সময় থাকা।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে অঞ্জুর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয় এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়। অঞ্জু ঘোষকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আহমেদ শরীফ, অঞ্জনা, সুব্রত, নাদের খান প্রমুখ।

এরপর অনুষ্ঠানে অঞ্জু ঘোষের হাতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সদস্যপদের চিঠি তুলে দেন সংগঠনটির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে অঞ্জু ঘোষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভোলানাথ অপেরার হয়ে যাত্রায় নৃত্য পরিবেশন করতেন ও গান গাইতেন। ১৯৮২ সালে এফ কবীর চৌধুরী পরিচালিত ‘সওদাগর’ সিনেমার মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে।


এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ১৬৩৭ বার

আপনার মন্তব্য