যুক্তরাষ্ট্রে আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 09:50pm

|   লন্ডন - 03:50pm

|   নিউইয়র্ক - 10:50am

  সর্বশেষ :

  পাকিস্তানে চীনের পরমাণু সাবমেরিন ঘাঁটি, চিন্তায় ভারত   উড়তে থাকা বার্সার অপরাজেয় যাত্রা থামলো   রাশিয়ায় তাপমাত্রা মাইনাস ৬৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস!   অলিম্পিকে দুই কোরিয়ার ‘অভিন্ন পতাকা’   মৌলভীবাজার ডিষ্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের মতবিনিময়   রাখাইনে বিক্ষোভে পুলিশের গুলি, নিহত ৭   বিশ্বের প্রথম ‘পানিহীন’ শহর!   মুসলিম শিশুদের মসজিদে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা চীনের   ইউএনএইচসিআর ছাড়াই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন উদ্বেগের : জাতিসঙ্ঘ   মুক্তিযোদ্ধা বিবেচনার ন্যূনতম বয়স সাড়ে ১২ বছর পুনঃনির্ধারণ   ডিএনসিসি’র মেয়র পদে উপনির্বাচন স্থগিত   এবার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে 'বিশ্ব সিলেট সম্মেলন'   জালালাবাদ এসোসিয়েশনের কালচারাল সেক্রেটারি লায়েক আহমেদের বোনের মৃত্যুতে শোক   বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৭টি নদীর বেশির ভাগই নাব্যতাহীন   ভোলার ভেদুরিয়ায় নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান

মূল পাতা   >>   ইউরোপের খবর

ইউরোপীয় পরিচয়ে বিতৃষ্ণা, কট্টর হচ্ছে জাতীয়তাবোধ

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৬-০৬-২৯ ১৬:১২:৫৩

নিউজ ডেস্ক: ২৪ জুন শুক্রবার ভোরে যখন পরিষ্কার হলো বৃটেনে এক গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে অধিকাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে, প্রথম অভিনন্দন বার্তা আসে ফরাসী কট্টর দক্ষিণ-পন্থি রাজনীতিক ন্যাশনাল ফ্রন্টের নেত্রী মারিন লো পেনের কাছ থেকে।

পরপরই টুইটারে ব্রিটিশ জনগণকে অভিনন্দন জানান নেদারল্যান্ডসের মুসলিম বিদ্বেষী রাজনীতিক গির্ট উইল্ডারস।

এক দশক আগেও এদের মত কট্টর জাতীয়তাবাদী, অভিবাসন বিরোধী রাজনীতিকদের কথা কেউ পাত্তাই দিতনা। মনে করা হতো এরা মূলধারার বাইরে বসে বকবক করেন। কিন্তু এখন তারা ক্ষমতার দরজায় ধাক্কা দিচ্ছেন।

ফ্রান্সের ২০১৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবেন মারিন ল পেন। এটা নিয়ে বিচলিত এবং আতঙ্কিত দেশের প্রধান দুই দল।

২০১৭ সালের মার্চে নেদারল্যান্ডসেও সাধারণ নির্বাচন। বলছে গির্ট উইল্ডারসের ফ্রিডম পার্টি জনমত জরিপে এগিয়ে। মে মাসে অস্ট্রিয়ার কট্টর দক্ষিণ-পন্থি রাজনীতিক নরবার্ট হোফার খুব অল্পের জন্য প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কট্টর বিরোধী এই রাজনীতিকদের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।

ব্রেক্সিটের ফলাফলের দিনই মারিন ল পেন ভিয়েনাতে গিয়ে বলেন, “ইংরেজদের চাইতে ফরাসিদের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার এক হাজার বেশি কারণ রয়েছে...চোরাচালানি, সন্ত্রাসী এবং অর্থনৈতিক অভিবাসীদের ঠেকাতে ইইউ ব্যর্থ।”

ব্রেক্সিটের পক্ষে প্রচারণায় বৃটেনে যেসব স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছে, এক বিবৃতিতে নেদারল্যান্ডসের গির্ট উইল্ডারসও একই ধরণের শব্দ ব্যবহার করেছেন: “আমরা আমাদের দেশের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নিতে চাই। আমাদের সীমান্ত, অর্থ-সম্পদ এবং অভিবাসনের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে চাই।”

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন বৃটেনের পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ নিয়ে অন্য কোনো দেশে যদি গণভোট হয়, তা হবে নেদারল্যান্ডসে। জাতীয়তাবাদী দলগুলোর জনপ্রিয়তা হুহু করে বাড়ছে সুইডেন, ডেনমার্ক, জার্মানিতেও।

ইটালির শীর্ষ দৈনিক লা রিপাবলিকা এক সম্পাদকীয়তে লিখেছে – ব্রেক্সিটের পর সস্তা জনপ্রিয়তার ওপর ভর করা রাজনীতিকরা আরো শক্তি পাবেন, তারা মানুষজনকে জোর গলায় এখন বলবেন ‘আমরাও পারি।’

এই সম্পাদকীয় ছাপার পরপরই ইটালির কট্টর ডানপন্থী নর্দার্ন লীগের নেতা মাতিও সালভিনি টুইট করেন—“অভিনন্দন ইউকে, এখন আমাদের পালা।”

বিবিসির ইউরোপ বিষয়ক সম্পাদক কাটিয়া আডলার বলছেন, ৭০ বছর ধরে গড়ে তোলা ইউরোপীয় ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইইউ নেতৃত্বের মধ্যে ভয় ঢুকেছে। “ইউরোপ নিয়ে মানুষের মধ্যে যে তিক্ততা আমি এখন দেখছি, আগে কখনো তা দেখিনি।”

মিস আডলার বলছেন, বৃটেনের গণভোটের ফলাফলে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশনের সদর দফতরে পরিবেশ অত্যন্ত গুমোট। “সবাই যেন বিপদের ঘন্টা শুনতে পাচ্ছেন।”

কেন ইউরোপের দেশে দেশে ইউরোপীয় পরিচয়, ইউরোপীয় ঐক্য আবেদন হারাচ্ছে?

স্পেনের দৈনিক এল পাইস এক বিশ্লেষণে লিখছে -- মুক্ত অর্থনীতির খামখেয়ালীতে ইউরোপে কোটি কোটি মানুষ যে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়েছে, তার জন্য এক শ্রেণীর রাজনীতিক ইউরোপীয় ইউনিয়নকে দায়ী করছেন। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে, অভিবাসন, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সাম্প্রতিক সময়ে লাখ লাখ রাজনৈতিক শরনার্থীর স্রোত।

অনেক বিশ্লেষক বলছেন, বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার চেয়ে অভিবাসন ইউরোপের মানুষকে বেশি আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮টি দেশে বসবাসকারী সাড়ে তিন কোটি মানুষের জন্ম ইউরোপের বাইরে। জার্মানি, ফ্রান্স, বৃটেন, সুইডেন বেশ কয়েকটি দেশে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা এমনকী সাত-আট-নয় শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

লন্ডনে গবেষণা সংস্থা চ্যাটাম হাউজের সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে- মানুষ অভিবাসীদের নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে তার কারণ শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরঞ্চ তারা মনে করছে অভিবাসন তাদের জাতীয় সাংস্কৃতিকে হুমকিতে ফেলছে। ইউরোপের অনেক চরমপন্থি রাজনীতিক মানুষের এই শঙ্কা এবং উদ্বেগকে কাজে লাগাচ্ছেন, এবং সামনের দিনগুলোতে তাদের কথা শোনার মানুষের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।

জার্মানির ডের স্পিগেল পত্রিকার এক বিশ্লেষণে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে – “সস্তা জনপ্রিয় রাজনীতিকরা শুধু ব্রিটেনে নয়, সর্বত্র সক্রিয় হচ্ছেন এবং পুরো পশ্চিম ইউরোপকে পতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।”

চ্যাটাম হাউজের গবেষক ম্যাথিউস গডউইন বলছেন, কট্টর ধারার রাজনীতির উত্থান মোকাবেলা সহজ হবেনা। “মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোকে তৃণমূলের মানুষের সাথে সক্রিয় হতে হবে, তাদের উদ্বেগের কথা শুনতে হবে এবং তাদের সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।”


এলএবাংলাটাইমস/ইউ/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৮০৯ বার

আপনার মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত