যুক্তরাষ্ট্রে আজ সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 02:08pm

|   লন্ডন - 08:08am

|   নিউইয়র্ক - 03:08am

  সর্বশেষ :

  নজরদারিতে ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি জোটের নেতারা   হাত-পাবিহীন একজন ‍আলোকচিত্রীর স্বপ্ন ছোঁয়ার গল্প   এত কিছু করেও শেষ রক্ষা পাচ্ছেন না নাজমুল হুদা!   সাভারে আগুনে অর্ধশতাধিক ঘর পুড়ে ছাই   আমাকে উৎখাত করলে ব্রেক্সিট সহজ হবে না : থেরেসা মে   কোমর ব্যথায় করণীয়   ‘বেগম খালেদা জিয়া : হার লাইফ, হার স্টোরি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন   আলোচনায় ইলিয়াস আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আবরার   ড. কামালের কাছে মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন রেজা কিবরিয়া   ভিডিও কনফারেন্সে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন তারেক, আ.লীগের অভিযোগ   দেশ ছাড়ছেন ভেনেজুয়েলার সুন্দরীরা   জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, নিহত ১   খাশোগি হত্যার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই: ট্রাম্প   ‘একজনের কারণে তিস্তা চুক্তি হলো না’   চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালাস চেয়ে খালেদা জিয়ার আপিল

মূল পাতা   >>   স্বাস্থ্য

খাদ্যের ভেজাল নির্ণয়ের ১১ টি উপায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক , নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৭-০৬-১৪ ০৯:০০:২৩

সহজ কিছু কৌশলে শনাক্ত করা যায় কিছু নিত্য ব্যবহার্য খাদ্যের ভেজাল। ছবি: সংগৃহীত।

স্বাস্থ্য ডেস্ক : খাদ্যের ভেজাল এখন একটি সাধারণ বিষয়। আর এ কারণেই নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। খাদ্যের ভেজাল শনাক্ত করা গেলে ভেজাল খাদ্য খাওয়া থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।  সহজ কিছু কৌশলে শনাক্ত করা যায় খাদ্যের ভেজাল। চলুন তাহলে জেনে নিই বিভিন্ন খাবারের ভেজাল শনাক্ত করার কিছু সহজ উপায়।
১। দুধদুধে সাধারণত যে ভেজাল মেশানো হয় তা হল – অপরিশোধিত পানি, চকের গুঁড়া, সাবানের গুঁড়া বা গুঁড়া সাবান, স্টার্চ, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ও ইউরিয়া। ভেজাল মেশানো দুধ খাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব হচ্ছে – ফুড পয়জনিং, হৃদপিণ্ডের সমস্যা, ক্যান্সার, বমি ও বমি বমিভাব হওয়া। দুধের ভেজাল নির্ণয়ের জন্য যা করতে পারেন -  একটি খাড়া/ঢালু স্থানে ১ ফোঁটা দুধ ফেলুন। যদি দুধের ফোঁটা সোজা গড়িয়ে পড়ে তাহলে এটি বিশুদ্ধ দুধ। আর যদি সোজা হয়ে না পড়ে তাহলে তাতে ভেজাল আছে বুঝতে হবে। তাপ দেয়ার পড়ে যদি দুধ হলুদ হয়ে যায় তাহলে এবং এর স্বাদ যদি তেতো বা সাবানের মত মনে হয় তাহলে বুঝতে হবে যে এর মধ্যে কৃত্রিম উপাদান মেশানো আছে।
২। কফির গুঁড়ো কফির গুঁড়োয় যে ভেজাল মেশানো হয় তা হচ্ছে – তেঁতুলের বীজ ও চিকোরি গুঁড়ো। এগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব হচ্ছে- ডায়রিয়া, পাকস্থলীর সমস্যা, মাথা ঘোরা এবং জয়েন্টে ব্যথা ইত্যাদি। কফিতে মিশ্রিত ভেজাল শনাক্ত করার জন্য ১ গ্লাস পানির উপরে সামান্য কফির গুঁড়ো ছিটিয়ে দিন। কফি পানির উপরে ভাসতে থাকলেও চিকোরি পানির নীচে চলে যাবে এবং রঙের সারি দেখা যাবে।
৩। মরিচের গুঁড়ো সাধারণত মরিচের গুঁড়োর সাথে ইটের গুঁড়ো বা কাঠের গুঁড়ো মেশানো হয়। এই ভেজাল মিশ্রিত মরিচ খেলে পাকস্থলীর সমস্যা ও ক্যান্সার হতে পারে। মরিচের গুঁড়োর ভেজাল শনাক্ত করার জন্য ১ গ্লাস পানিতে ১ চামচ মরিচের গুঁড়ো মেশান। যদি পানির রঙ পরিবর্তিত হয়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে যে এই মরিচে ভেজাল আছে।
৪। হলুদের গুঁড়ো হলুদের গুঁড়োয় হলুদ অ্যানালিন ডাই এর মেটানিল ইয়েলো মেশানো হয়। এগুলো কার্সিনোজেনিক এবং পাকস্থলীর সমস্যা তৈরি করে। ভেজাল নির্ণয়ের জন্য একটি টেস্ট টিউবে হলুদের গুঁড়ো নিয়ে এর মধ্যে কয়েক ফোঁটা গাড় হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিন। যদি হলুদের রঙ গোলাপি, রক্তবর্ণ বা বেগুনী হয় তাহলে নিশ্চিতভাবেই বোঝা যায় যে এতে ভেজাল আছে।
৫। সরিষা বীজ এবং তেল সরিষায় মেশানো হয় আর্গেমন বীজ। এর প্রভাবে এপিডেমিক ড্রপ্সি (যে রোগে জলীয় পদার্থ জমে শরীরের কোন অংশ ফুলে ওঠে) এবং তীব্র গ্লুকোমা হয়। সরিষার ভেজাল নির্ণয়ের জন্য কয়েকটি সরিষা বীজ নিয়ে চূর্ণ করুন। আরগেমন বীজ চূর্ণ করলে এর ভেতরে সাদা গঠন দেখা যাবে। অন্যদিকে সরিষার বীজের ভেতরে হলুদ অংশ দেখা যাবে।
৬। আইসক্রিম আইসক্রিমের মধ্যে ওয়াশিং পাউডার মেশানো হয়। এই আইসক্রিম খেলে লিভার ড্যামেজ ও পাকস্থলীর সমস্যা হয়। আইসক্রিমের ভেজাল নির্ণয়ের জন্য এর উপর কয়েকফোটা লেবুর রস ফেলুন। যদি ফেঁপে ওঠে তাহলে এতে ওয়াশিং পাউডার থাকাকে নির্দেশ করে।
৭। সবুজ মরিচ কৃত্রিম রঙ মেলাসাইট গ্রিন মেশানো হয় সবুজ মরিচে। এটি এক ধরনের কার্সিনোজেনিক উপাদান। ভেজাল নির্ণয়ের জন্য প্যারাফিনের মধ্যে সামান্য তুলা ভিজিয়ে রাখুন। তারপর এই তুলা দিয়ে মরিচের একটি অংশ অথবা যেকোন সবুজ সবজির এক অংশে লাগিয়ে ঘষুন। তুলাটি সবুজ হয়ে গেলে বুঝতে আর বাকী থাকেনা যে এর মধ্যে কৃত্রিম সবুজ রঙ মেশানো ছিল।
৮। ঘি ঘি এর মধ্যে ভেজিটেবল অয়েল এবং প্রাণীজ চর্বি মেশানো থাকে। এই ঘি খেলে অ্যানেমিয়া ও হার্ট বড় হয়ে যাওয়ার মত সমস্যা হয়। একটি টেস্ট টিউবে ১ মিলিলিটার পানি নিয়ে এর মধ্যে ০.৫ গ্রাম ঘি মেশান এবং মিশ্রণটিতে তাপ দিন। ঠান্ডা হওয়ার পরে এর মধ্যে ১ ফোঁটা আয়োডিন যোগ করুন। যদি এর রঙ নীল হয়ে যায় তাহলে বোঝা যায় যে, এর মধ্যে ভেজাল আছে।
৯। চিনি চিনিতে চকের গুঁড়া মেশানো হয়। এই চিনি খেলে পাকস্থলীর সমস্যা হয়। চিনির ভেজাল নির্ণয়ের জন্য ১ গ্লাস পানিতে চিনি মেশালে যদি সরাসরি নীচে চলে যায় তাহলে তা বিশুদ্ধ চিনি, আর যদি এর মধ্যে ভেজাল থাকে তাহলে এটি পানির উপরে ভাসতে থাকবে।
১০। গোলমরিচ পেঁপের বীজ মেশানো হয় গোলমরিচে। এর ক্ষতিকর প্রভাব হচ্ছে যকৃতের সমস্যা এবং পাকস্থলীর সমস্যা হয়। কয়েকটি গোল মরিচ যদি অ্যালকোহলের মধ্যে দেয়া হয় তাহলে বিশুদ্ধ গোল মরিচ ভাসতে থাকবে এবং ভেজালযুক্ত থাকলে তা নীচে চলে যাবে।
১১। চা রঙিন ও প্রক্রিয়াজাত চায়ের পাতা মেশানো থাকলে তা ভেজাল চা। এর ক্ষতিকর প্রভাব হচ্ছে যকৃতের সমস্যা হওয়া। একটি নষ্ট ব্লটিং পেপারের উপরে কিছু চায়ের গুঁড়ো ছিটিয়ে দিন। যদি ব্লটিং পেপারের রঙ হলুদ, কমলা বা লাল হয়ে যায় তাহলে বোঝা যায় যে, এর মধ্যে কৃত্রিম রঙ মেশানো আছে।  

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ১২৩০ বার

আপনার মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত