যুক্তরাষ্ট্রে আজ শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 11:45pm

|   লন্ডন - 06:45pm

|   নিউইয়র্ক - 01:45pm

  সর্বশেষ :

  ডিসেম্বর থেকে লন্ডন-ঢাকা রুটে বাড়ছে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট   এরদোগানের প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব   চীনের সেনাবাহিনীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুনঃসংশোধনের দাবি সুজনের   চট্টগ্রামের অস্ত্রধারী সেই ছাত্রলীগ নেতার অস্ত্র উদ্ধার   ইরানে সামরিক কুচকাওয়াজে হামলা, নিহত ২৪   ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যেই জাতীয় ঐক্য : ড. কামাল   মালয়েশিয়ায় ৫৫ অবৈধ বাংলাদেশি আটক   আলোচনায় চেয়ে মোদিকে ইমরানের চিঠি   অন্তর্জ্বালা থেকে মনগড়া ও ভুতুড়ে কথা বলেছেন সিনহা : কাদের   ফিলিপাইনে ভূমিধস, ১২ জনের মৃত্যু   বিশ্বে প্রতি ৫ সেকেন্ডে ১ শিশু মারা যায়   ঢাকায় পুলিশের লাঠিপেটায় বাম জোটের ঘেরাও কর্মসূচি পণ্ড   বাংলাদেশে বছরে একলাখ লোক ক্যান্সারে মারা যায়   রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বব্যাংকের ৪১০ কোটি টাকা সহায়তা

মূল পাতা   >>   বহিঃ বিশ্ব

থাইল্যান্ডের সেই গুহা থেকে ৪ কিশোর উদ্ধার, অভিযান সাময়িক স্থগিত

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-০৮ ১৪:৪৩:২৪

নিউজ ডেস্ক: থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়ার কিশোর ফুটবল দলের উদ্ধার অভিযান সাময়িক ভাবে স্থগিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। পরর্তী ১০ থেকে ২০ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় এই অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়ছে থাই কর্তৃপক্ষ।

উদ্ধার অভিযান পরিচালনা কমিটির প্রধান নরনগ্যাসক ওসাতানকর্ন বলেন, ‘আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। তবে বাকী কাজটুকু সফলভাবে শেষ করার জন্য কিছু সময়ের প্রয়োজন সে কারনেই বিরতি দেয়ায় হয়েছে।’তিনি বলেন, ‘তবে ঠিক কখন থেকে পরবর্তী উদ্ধার অভিযান শুরু হবে তা এখনই বলতে পারছি না। তবে সেটা ১০ থেকে ২০ ঘণ্টার মধ্যেই হবে বলে আশা করছি।’

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে থাইল্যান্ডের একটি গুহায় ১২জন কিশোর ফুটবালার তাদের ২৫ বছর বয়সী কোচ আটকে থাকার পর ভারী বৃষ্টির পর গুহার ভেতর পানির উচ্চতা আরও বেড়ে যেতে পারে এমন আশংকায় রোববারই এই উদ্ধার অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে অংশ নিয়েছেন মোট ৯০জন ডুবুরি। যাদের মধ্যে ৫০জন বিদেশেী রয়েছেন।

বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা নাগাত থাই কর্তৃপক্ষ ৬জন কিশোরকে উদ্ধার করার দাবি করলেও পরে তা কমিয়ে ৪জন বলা হয়েছে। এই সম্পর্কে থাই নৌ বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা প্রথমে ৬জনকে বের করে আনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার ৪জন কিশোরকেই উদ্ধার করে আনতে পেরেছি।

গুহা থেকে উদ্ধার করার কিশোর ফুটবলারদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে প্রথম কিশোরকে উদ্ধার করা হয়। এর ১০ থেকে ১২ মিনিট পর দ্বিতীয় শিশুকে উদ্ধার কার হয়। তারপর কিছুক্ষন বিরতি দিয়ে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট এবং ৭টা ৫০ মিনিটে তৃতীয় এবং চতুর্থ কিশোরকে উদ্ধার করার হয়। দক্ষ ডুবুরিরা আটকে পড়া কিশোরদের ডুবে যাওয়া সুড়ঙ্গের পানির ভেতর দিয়ে পথ দেখিয়ে গুহার প্রবেশ মুখে নিয়ে আসেন।

গুহার ভেতর যা ঘটছে
যে গুহার ভেতর এই অভিযান চলছে, সেই গুহামুখ ঘিরে গত এক সপ্তাহ ধরে গণমাধ্যম এবং উদ্ধার কর্মীদের বিরাট জটলা তৈরি হয়েছে। রোববার সকালে সাংবাদিকদের সেখান থেকে সরে যেতে বলা হয়। তখনই জল্পনা শুরু হয় যে হয়তো শীঘ্রই উদ্ধার অভিযান শুরু হবে। এরপর উদ্ধার অভিযান দলের প্রধান নারোংসাক ওসেতানাকর্ন ঘোষণা করেন যে কিশোরদের উদ্ধারের জন্য ১৮ জন ডুবুরিকে ভেতরে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানিয়েছিলেন, ডাক্তাররা পরীক্ষা করে সব ছেলেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে এই অভিযানের জন্য প্রস্তুত বলে মত দিয়েছেন। আটকে পড়া ছেলেদের পরিবারের তরফ থেকেও সম্মতি পাওয়া গেছে। উদ্ধার অভিযানের আগে সাংবাদিকদের সেখান থেকে সরে যেতে বলে পুলিশ

যেভাবে এদের বাইরে আনা হয়েছে
গুহার যে জায়গায় এই ছেলেরা আটকে পড়েছে, সেখানে যাওয়া এবং সেখান থেকে আবার গুহামুখ পর্যন্ত ফিরে আসতে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ডুবুরিরও প্রায় এগারো ঘন্টা সময় লাগছে।

এর মধ্যে কিছুটা পথ হাঁটতে হয়, কিছুটা পথ পানির ভেতর দিয়ে হেঁটে আগাতে হয়। অনেক চড়াই-উৎরাই আছে। আর অনেক জায়গা পানিতে ডুবে আছে। সেখানে ডুব সাঁতার ছাড়া উপায় নেই। আর এই পুরো যাত্রাটাই ঘুটঘুটে অন্ধকারে।

প্রত্যেক ছেলেকে পুরো মুখ ঢাকা অক্সিজেন মাস্ক পড়তে হচ্ছে। প্রতিজনের সামনে এবং পেছনে দুজন ডুবুরি থাকছে গাইড হিসেবে। এরা তাদের এয়ার সিলিন্ডারও বহন করছে।

সবচেয়ে কঠিন অংশটা মাঝামাঝি জায়গায়। এটিকে একটা টি-জাংশন বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। এই জায়গাটা এতটাই সরু যে সেখানে ডুবুরিদের তাদের এয়ার ট্যাংক খুলে ফেলতে হচ্ছে।

এরপর ক্ষণিকের যাত্রাবিরতির জন্য গুহার মধ্যে একটা ক্যাম্প মতো করা হয়েছে। সেখান থেকে বাকীটা পথ পায়ে হেঁটে তাদের গুহামুখে আসতে হচ্ছে। বেরিয়ে আসার পর তাদের সরাসরি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালে।

তারা কেন গুহার ভেতরে গিয়েছিল
এখনও পর্যন্ত এই প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। ১২ জন কিশোর ফুটবলার তাদের টিমের কোচসহ গুহার ভেতরে গিয়েছিল শনিবার, ২৩শে জুন। বিবিসির থাই সার্ভিস বলছে, কিশোর ছেলেরা ফুটবল প্র্যাকটিস করতে সকাল দশটার দিকে ন্যাশনাল পার্কে গিয়েছিল। তারপর তাদের সহকারী কোচ একাপোল ফেসবুকে একটি লাইভ ভিডিও পোস্ট করেছিলেন সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে।

থাম লুয়াং-খুনাম নাঙ্গনন ন্যাশনাল পার্কের একজন কর্মী দুপুর তিনটার দিকে লক্ষ্য করেন যে গুহার প্রবেশ-মুখের সামনে ১১টি সাইকেল রাখা আছে। তখন তারা অনুসন্ধান করতে শুরু করেন। তারপর ওই কিশোরদের একজনের পিতামাতাও ন্যাশনাল পার্কের কর্মকর্তাদের জানান যে তারাও তাদের ছেলের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

পরদিন ২৪শে জুন শনিবার পার হয়ে রবিবার সকাল একটা থেকে তাদের খোঁজার কাজ শুরু হয়। শনিবার রাতে সেখানকার পুলিশকে বাচ্চাদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে অবহিত করার পর এই অনুসন্ধান শুরু হয়। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে, প্র্যাকটিস শেষ হয়ে যাওয়ার পর ফুটবলের দলের একজন সদস্যের জন্যে সারপ্রাইজ পার্টির আয়োজন করতে তারা গুহার ভেতরে ঢুকেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই দলের একজন সদস্য যে বাকি বাচ্চাদের সাথে গুহার ভেতরে যায়নি, তিনি জানান যে এর আগেও তারা আরো তিনবার গুহার ভেতরে ঢুকেছিলেন। কিন্তু বৃষ্টির মওসুমে কখনো তারা গুহার ভেতরে যায় নি।

গেইম নামের এই সদস্য বলেন, "আমরা প্রত্যেকবারই প্রস্তুতি নিয়ে ভিতরে গিয়েছি। আমাদের সাথে সবসময় টর্চলাইট ছিল। ঢোকার আগে আমরা নিশ্চিত করেছি যে সবাই শারীরিকভাবে ফিট আছে। খাওয়া দাওয়া করে তারপর আমরা ভেতরে ঢুকেছি।" গেইম বলেন, সেদিন তিনি ওই দলের সাথে গুহার ভেতরে যাননি কারণ তিনি সুস্থ বোধ করছিলেন না। "আমাদের প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেই আমরা গুহার ভেতরে যাই। আমাদের টিমের একজন সদস্যের জন্মদিন ছিল সামনে। আমার মনে হয় তারা ভেতরে একটি পার্টি করতে যাচ্ছিল," বলেন তিনি।

পরে গুহার ভেতর থেকে পাঠানো এক চিঠিতে সহকারী কোচ একাপোল তার আত্মীয়দেরকে দুশ্চিন্তা না করতে অনুরোধ করেছেন, সহযোগিতার জন্যে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, এবং ক্ষমা চেয়েছেন বাচ্চাদের পিতামাতার কাছে।

কীভাবে আটকা পড়লো ভেতরে
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে, ফুটবল দলটি গুহার ভেতরে ঢোকার পর থেকেই প্রচুর বৃষ্টি হতে শুরু করে। সেখানে জমে যাওয়া জঙ্গলের পানিও ঢুকে যায় গুহার ভেতরে। পানি এতো বেড়ে যায় যে এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় গুহায় প্রবেশের মুখও। গুহার ভেতরে পানির উচ্চতা খুব দ্রুত বেড়ে গেলে কোচসহ কিশোর ফুটবলাররা ভেতরে আটকা পড়ে যান। আরো উঁচু জায়গা খুঁজতে খুঁজতে তারা চলে যান গুহার আরো গভীরে।

৭ই জুলাই স্থানীয় একটি সংবাদপত্রের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, উদ্ধারকারী গুহার উপরের পাহাড়ে এমন একটি সুড়ঙ্গ খুঁজে পেয়েছেন যা দিয়ে বাচ্চারা যেখানে আছে সেখানে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। তখন নতুন করে আশার সৃষ্টি হয় যে বাচ্চাদের হয়তো এই সুড়ঙ্গ দিয়ে বের করে আনা সম্ভব হতে পারে।

গুহাটির বিষয়ে কিছু লোক-কাহিনী
এই গুহাটি নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মুখে মুখে অনেক গল্প চালু আছে। একটি গল্পে বলা হয়েছে এর নাম কীভাবে 'থাম লুয়াং- খুন নাম নাং নন' হলো? এর অর্থ হলো - "পাহাড়ের ভেতরে বিশাল এই গুহায় ঘুমিয়ে আছেন একজন নারী। এই পাহাড়েই জন্ম হয়েছে এক নদীর।" গল্পটিতে বলা হয়েছে যে দক্ষিণ চীনের চিয়াং রুং শহরের এক রাজকন্যা একজন অশ্বারোহী পুরুষের সাথে সম্পর্কের পর গর্ভবতী হয়ে পড়েন। তারা তখন সমাজের ভয়ে ভীত হয়ে শহর থেকে পালিয়ে দক্ষিণের দিকে চলে আসেন। যখন তারা এই পাহাড়ি এলাকায় এসে পৌঁছান তখন রাজকন্যার স্বামী তাকে বলেন সেখানে বিশ্রাম নিতে। স্বামী তখন খাবারের সন্ধানে বের হয়ে যান। তখন রাজকন্যার পিতার লোকেরা তাকে দেখতে পায় এবং তাকে হত্যা করে।

রাজকন্যা সেখানে কয়েকদিন অবস্থান করে তার স্বামীর জন্যে অপেক্ষা করতে থাকে। তিনি যখন নিশ্চিত হন যে তার স্বামী আর ফিরে আসবে না তখন তিনি তার চুলের একটি ক্লিপ নিজের পেটের ভেতরে ঢুকিয়ে দেন। তারপর তার মৃতদেহ তখন একটি পর্বতে পরিণত হয় এবং তার শরীর থেকে যে রক্ত ঝরেছিল সেটা প্রবাহিত হয়ে 'নাম মায়ে সাই' নামের এক নদীর জন্ম হয়।

আরো যারা হারিয়েছিল
স্থানীয় থাই সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুসারে, স্থানীয় বান জং গ্রামের একজন নেতা বলেছেন, ১৯৮৬ সালে এই গুহার ভেতরে একজন বিদেশি পর্যটক নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। সাতদিন নিখোঁজ থাকার পর তাকে নিরাপদে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু সেসময় কোন বন্যা ছিল না বলে তিনি জানিয়েছেন।

চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকও ২০১৬ সালের অগাস্ট মাসে ওই গুহার ভেতরে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন বলে বলা হচ্ছে। তিন মাস তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় একটি পত্রিকা লিখেছে, চীনা ওই শিক্ষক ন্যাশনাল পার্কের একটি দোকানে তার সাইকেল জমা রেখে দোকানদারকে বলেছিলেন তিনি মেডিটেশন বা ধ্যান করার জন্যে গুহার ভেতরে যাচ্ছেন। তখন তার খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছিল। গুহার ভেতরে তাকে পাওয়া না গেলেও তিন মাস পর তাকে পাশের একটি অবকাশ কেন্দ্রে পাওয়া যায়।

 এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৯৯৭ বার

আপনার মন্তব্য