যুক্তরাষ্ট্রে আজ শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 01:39pm

|   লন্ডন - 08:39am

|   নিউইয়র্ক - 03:39am

  সর্বশেষ :

  প্যাটারসনে বাংলাদেশ কমিউনিটি অব নিউজার্সির শোকসভা ও দোয়া মাহফিল   সিলেটের বিশিষ্ট আলেম প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমানের ইন্তেকাল   ইস্তাম্বুলের জঙ্গলে জামাল খাসোগির লাশ!   নিরাপত্তারক্ষীর গুলিতে কান্দাহারের গভর্নর-পুলিশপ্রধান-গোয়েন্দাপ্রধান নিহত   যুক্তরাজ্যসহ তিন দেশের সৌদি সম্মেলন বয়কট   কূটনীতিকদের কাছে দাবি ও লক্ষ্য তুলে ধরল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট   সালামানের সঙ্গে হাসিনার বৈঠক   বাংলাদেশের একাদশ সংসদ নির্বাচনেও পর্যবেক্ষক পাঠাবে না ইইউ   আইয়ুব বাচ্চু আর নেই, শুক্রবার শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা শেষে চট্টগ্রামে দাফন   সক্ষমতা সূচকে একধাপ পেছালো বাংলাদেশ   পাকিস্তানে শিশু ধর্ষণকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর   মেলানিয়াকে বহনকারী বিমানে ধোঁয়া, জরুরি অবতরণ   সৌদি বাদশাহর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ   ৩৭ বছর পর ফুটবল মাঠে ইরানের মেয়েরা   যুক্তরাষ্ট্রকে ১০০ মিলিয়ন ডলার দিল সৌদি আরব

মূল পাতা   >>   বহিঃ বিশ্ব

রুশ গুপ্তচরের ওপর হামলা: এবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-০৯ ০৭:০৮:১৩

নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সাবেক রুশ দ্বৈত গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপালের ওপর নার্ভ এজেন্ট দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

শুরু থেকেই এ ঘটনায় রাশিয়াকে অভিযুক্ত করে সেদেশের ২৩ জন কূটনীতিককে ব্রিটেন থেকে বহিষ্কার করার ঘোষণা দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। যুক্তরাজ্য ও তার মিত্র দেশগুলো এ পর্যন্ত ১৩০ জন রুশ কূটনীতিককে তাদের দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে। জবাবে রাশিয়াও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সমসংখ্যক কূটনীতিককে তাদের দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে।

চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাজ্যের সলসবারিতে সাবেক রুশ দ্বৈত গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়ার ওপর শক্তিশালী নোভিচক নার্ভ এজেন্ট দিয়ে হামলা চালানো হয়। যুক্তরাজ্য প্রথম থেকে এ ঘটনায় রাশিয়াকে অভিযুক্ত করে আসছে। রাশিয়াও প্রথম থেকেই এ ঘটনার পেছনে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করে আসছে।

নার্ভ এজেন্ট এক ধরনের ক্ষতিকর গ্যাস বা রাসায়নিক উপাদান, যা শরীরের স্নায়ু বিকল করে দেয়। নোভিচক এমনই এক ধরনের নার্ভ এজেন্ট। গত শতাব্দির ৮০’র দশকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজ্ঞানীরা এটি তৈরী করেছিল। ধারণা করা হয় সব ধরনের নার্ভ এজেন্টের মধ্যে নোভিচকই সবচেয়ে বেশি মারাত্মক।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবরোধ আরোপের ঘোষণাকে ‘নির্মম’ বলে আখ্যায়িত করেছে রাশিয়া। ৮ আগস্ট বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন অবরোধের কথা নিশ্চিত করে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হেথার নুয়ার্ট বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে রাশিয়াই তাদের নিজেদের নাগরিক স্ক্রিপালের ওপর নার্ভ এজেন্ট হামলা চালিয়েছে। এটি অান্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।’

যুক্তরাষ্ট্রের এ অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।

নতুন অবরোধগুলো কী
আগামী ২২ আগস্ট থেকে নতুন এ অবরোধটি কার্যকর হবে। এ অবরোধের আওতায় ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন প্রযুক্তি রফতানি করতে বাধা পাবে রাশিয়া।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে রাশিয়া যদি অঙ্গীকার না করে যে তারা ভবিষ্যতে আর এমন কাজ করবে না এবং জাতিসংঘকে তাদের সাইট পরিদর্শন করতে না দেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হিসেবে নিজস্ব নাগরিকের ওপর নার্ভ এজেন্ট হামলাকারী তৃতীয় দেশ হচ্ছে রাশিয়া। এর আগে সিরিয়া ও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র একই অভিযোগ এনেছিল।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সৎভাই কিম জং-ন্যামকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের একটি বিমানবন্দরে শক্তিশালী ভিএক্স নার্ভ এজেন্ট দিয়ে হত্যা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে এ ঘটনার পেছনে কিম জং-উনের হাত রয়েছে।

রাশিয়া কেন স্ক্রিপালকে হত্যা করতে চায়?
স্ক্রিপালের ওপর রাশিয়াই হত্যাচেষ্টা চালিয়েছে, সেটি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এটা রাশিয়ার কাজ। যে নোভিচক নার্ভ এজেন্ট দিয়ে স্ক্রিপালের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, সেটি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরী। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর এ নার্ভ এজেন্টটি রাশিয়া করায়ত্ব করে। এরপর পৃথিবীর অন্য কোনো দেশ এ নার্ভ এজেন্টটি তৈরী করেছে, এমনটি জানা যায়নি। অবশ্য জানা না গেলেও যে অন্য কোনো দেশের হাতে এ নার্ভ এজেন্টটি নেই, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

স্ক্রিপাল এক সময় রুশ সামরিক বাহিনীর ইন্টিলিজেন্স ডিরেক্টরেট গ্লাভনোয়ে রাজভেদিতেলনোয়ে উপ্রাভলেনিয়ের (জিআরইউ) বড় কর্মকর্তা ছিলেন। জিআরইউতে কর্মরত অবস্থায় ১৯৯৫ সালে স্পেনে স্ক্রিপালের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৬ এর সঙ্গে যোগাযোগ ঘটে। এমআই-৬ কে তিনি রাশিয়ার গোয়েন্দাবৃত্তি ও রুশ গোয়েন্দাদের সম্পর্কে অনেক গোপন তথ্য দেন। টানা ৯ বছর ধরে তিনি এ দ্বৈত গুপ্তচরবৃত্তির কাজ করেছেন। ২০০৪ সালে মস্কো ফেরার পর রাশিয়া তাকে গ্রেফতার করে। ২০০৬ সালে সামরিক আদালতে বিচারে দোষি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার বন্দী বিনিময় চুক্তি হয়। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশে গ্রেফতার হওয়া ১০ জন রুশ গোয়েন্দাকে মুক্তি দেয় এবং বিনিময়ে যুক্তরাজ্যের এমআই-৬ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিআরআই’র হয়ে কাজ করা তিন জনকে মুক্তি দেয় রাশিয়া, যাদের মধ্যে সের্গেই স্ক্রিপালও ছিলেন। রাশিয়া থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকেই তিনি যুক্তরাজ্যের সলসবারিতে বসবাস করে আসছিলেন।

এলএবাংলাটাইমস/এএল/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৬৫৬ বার

আপনার মন্তব্য