যুক্তরাষ্ট্রে আজ রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 03:14pm

|   লন্ডন - 09:14am

|   নিউইয়র্ক - 04:14am

  সর্বশেষ :

  কক্সবাজারে বিএনপি প্রার্থীর গাড়িতে গুলি, শতাধিক আহত   বিএনপি নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন গুলিবিদ্ধ   ১০ মিনিটেই ক্যান্সার শনাক্তের প্রযুক্তি আবিস্কার বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর   নির্বাচনে ভোট কক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচার নয়: সিইসি   যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে হিজাব পরায় মুসলিম ছাত্রী বহিষ্কার   ড. কামালের গাড়িতে হামলার তদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   সার্কের সভা থেকে ভারতীয় কূটনীতিকের ওয়াকআউট   হোয়াইট হাউজের ভারপ্রাপ্ত চিফ অব স্টাফ মুলভানে   ১৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ চেয়ে ঐক্যফ্রন্টের চিঠি   জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি অস্ট্রেলিয়ার   স্বপ্নের সিনেমায় বাংলাদেশকে দেখবে   রোমে সিলেটী নাগরী বর্ণমালার আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন   সুষ্ঠু ভোটের জন্য সরকারকে চাপ দেওয়া উচিত : এইচআরডাব্লিউ   বেআইনি আদেশ মানবেন না: পুলিশকে ড. কামাল   জীবননগরে বিএনপির থানা কার্যালয়সহ ২০টি নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ!

মূল পাতা   >>   বহিঃ বিশ্ব

২০১৮ সালে নোবেল পেলেন যাঁরা, যা থাকে নোবেল প্রাইজে

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-০৮ ১৪:৪৪:১৭

নিউজ ডেস্ক: এ বছর ১ অক্টোবর থেকে এবারের নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। প্রথম দিন চিকিৎসাবিজ্ঞানে মার্কিন বিজ্ঞানী জেমস পি অ্যালিসন ও জাপানি বিজ্ঞানী তাসুকু হোনজো যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ২ অক্টোবর পদার্থবিদ্যায় নোবেল বিজয়ী হিসেবে মার্কিন বিজ্ঞানী আর্থার আশকিন, ফরাসি বিজ্ঞানী জেরার্ড মাওরো ও কানাডার বিজ্ঞানী ডোনা স্ট্রিকল্যান্ডের নাম ঘোষণা করা হয়। রসায়ন শাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয় ৩ অক্টোবর। রসায়নে নোবেল পান মার্কিন বিজ্ঞানী ফ্রান্সেস এইচ আরনল্ড ও জর্জ পি স্মিথ এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্যার গ্রেগরি পি উইন্টার। ৫ অক্টোবর ঘোষিত শান্তিতে নোবেল পান ইরাকের কুর্দি মানবাধিকারকর্মী নাদিয়া মুরাদ ও কঙ্গোর চিকিৎসক ডেনিস মুকওয়েজি। এরপর (০৮অক্টোবর) অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হলো। এর মধ্য দিয়ে এবারের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শেষ হলো।

ক্যান্সারের গবেষণায় চিকিৎসার নোবেল পেলেন অ্যালিসন-হোনজো
২০১৮ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল জয় করেছেন জেমস. পি. অ্যালিসন ও তাসুকু হোনজো। নেতিবাচক ইমিউন নিয়ন্ত্রণে বাধাদানের মাধ্যমে ক্যানসার থেরাপি আবিষ্কারের জন্য এই দুই চিকিৎসা বিজ্ঞানী যৌথভাবে নোবেল পেয়েছেন। সুইডেনের স্টকহোমের কারোলিনস্কা অ্যাকাডেমিতে এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের নোবেল জয়ী নাম ঘোষণা করা হয়। তবে আমেরিকান ও জাপানিজ দুই বিজ্ঞানী জেমস. পি. অ্যালিসন এবং তাসুকু হোনজো যৌথভাবে ৯ মিলিয়ন সুইডিশ অর্থ পাবেন। টি-সেলের প্রোটিন নিয়ে সক্রিয়ভাবে টিউমার কোষকে আক্রমণ থেকে শরীর ও শীরের প্রধান ইমিউন কোষকে রক্ষা করে ক্যানসার থেরাপির জন্যই দুইজন বিজ্ঞানীকে এ বছর নোবেল দেয়া হয়েছে।

পদার্থে নোবেল জিতলেন ৩ বিজ্ঞানী
২০১৮ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল বিজয়ীরা হলেন-আর্থার আসকিন, জেরার্ড মুউরো ও ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড। পদার্থবিদ্যায় লেজার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য তারা চলতি বছর নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন। ০২ অক্টোবর নোবেল কমিটির টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

২০১৮ সালে রসায়নে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী

এ বছর রসায়নের নোবেল জিতে নিয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন- ফ্রান্সেস এইচ আর্নল্ড, জর্জ পি. স্মিথ ও স্যার গ্রেগরি পি. উইন্টার। এর মধ্যে এনজাইমের বিবর্তনের পরিচালনার জন্য নোবেলের ৫০ শতাংশ পেয়েছেন এইচ আর্নল্ড আর বাকি ৫০ শতাংশের মধ্যে অর্ধেক করে পেয়েছেন জর্জ পি. স্মিথ ও স্যার গ্রেগরি পি. উইন্টার। ২৫ শতাংশ করে দুইজন পেয়েছেন পেপটাইড এবং অ্যান্টিবডির ফেজ প্রদর্শন করার জন্য। প্রাণিদেহের রসায়নে একেবারে আণবিক পর্যায়ে আসলে কী ঘটে, সেই ছবি ধারণ করতে ক্রায়ো-ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপির উন্নয়ন ঘটিয়ে গত বছর রসায়নের নোবেল পান সুইজারল্যান্ডের জাক দুবোশে, জার্মান বংশোদ্ভূত আমেরিকান ইওয়াখিম ফ্রাঙ্ক এবং স্কটিশ রিচার্ড হেন্ডারসন।

শান্তিতে নোবেল পেলেন মুকওয়েগে ও নাদিয়া মুরাদ
এ বছর যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পেলেন কঙ্গোর ড্যানিশ মুকওয়েগা ও ইরাকের নাদিয়া মুরাদ। যুদ্ধক্ষেত্রে নারীর প্রতি যৌন সহিংসতাকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তারা দু’জন বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজন এই পুরস্কারে ভূষিত হলেন। নোবেল কমিটি তাদেরকে পুরস্কারজয়ী ঘোষণা করতে গিয়ে বলেন, ‘তারা দুইজনই সাহসীভাবে যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে ও যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া মানুষদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন।’ নাদিয়া মুরাদের বয়স ২৫। মালালা ইউসুফজায়ীর পর তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ। ২০১৪ সালে ইয়াজিদি নারীদের অপহরণের সেই ঘটনায় অপহৃতদের একজন ছিলেন নাদিয়া মুরাদ। আইসিস জঙ্গিরা তাদের উত্তর ইরাকের সিনজার অঞ্জলের কোচো এলাকার বাড়িতে হামলা চালিয়েছিলো। নাদিয়া মুরাদের সঙ্গে আরও অপহৃত হয়েছিলেন তার বোনেরা। ওই হামলায় তারা তাদের মাকে হারিয়েছিলেন, হত্যা করা হয়েছিলো তাদের ছয় ভাইকে। এর আগে ২০১৬ সালে যুগ্মভাবে ইইউ’র মর্যাদাকর সাখারভ হিউম্যান রাইটস পুরস্কার জয়ী হন নাদিয়া মুরাদ। এছাড়াও সেবছরই তিনি ভূষিত হন কাউন্সিল অব ইউরোপের ভ্যাকলাভ হ্যাভেল হিউম্যান রাইটস পুরস্কারে। কঙ্গোর গায়নোকোলজিস্ট ডেনিস মুকওয়েগার নামটি বছরের পর বছর ধরেই শোনা যাচ্ছিলো এই নোবেল পুরস্কারের তালিকায়। প্রায় ১০ বছর ধরেই তার নাম আসছে সংক্ষিপ্ত তালিকায়। তবে এবার আর বাদ পড়েননি।

অর্থনীতিতে নোবেল জিতলেন দুই মার্কিন
অর্থনীতিতে চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদ উইলিয়াম ডি নর্ডহাউস এবং পল এম রোমার। জলবায়ু অর্থনীতির জন্য নর্ডহাউস এবং এন্ডোজেনাস গ্রোথ থিওরির জন্য রোমারকে এ পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনকে দীর্ঘমেয়াদী ম্যাক্রোইকোনমিক বিশ্লেষণের সঙ্গে যুক্ত করার সম্মাননা হিসেবে এবার অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন উইলিয়াম নর্ডহাউস। তিনি গবেষণায় দেখিয়েছেন, গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের ফলে সৃষ্ট জলবায়ুগত সমস্যার সবচেয়ে সুবিধাজনক সমাধান হলো পৃথিবীর সব দেশের ওপর সুশৃঙ্খলভাবে কার্বন ট্যাক্স বসানোর বৈশ্বিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। অন্যদিকে, পল রোমার নোবেল পেয়েছেন প্রাযুক্তিক উদ্ভাবনকে দীর্ঘমেয়াদী ম্যাক্রোইকোনমিক বিশ্লেষণে সংযোজনের সফলতার বিনিময়ে। বর্তমানে যা এন্ডোজেনাস গ্রোথ থিওরি হিসেবে পরিচিত, তার ভিত্তিই রোমারের গবেষণা। তার এই তত্ত্বের সূত্র ধরে অসংখ্য নতুন নতুন গবেষণা পরিচালনা সম্ভব হয়েছে যা দীর্ঘস্থায়ী স্বচ্ছলতা আনতে সক্ষম এমন নতুন নতুন কলাকৌশল বের করে আনতে সহায়তা করছে।

যেভাবে আসলো নোবেল পুরস্কার
আলফ্রেড নোবেল ২১ অক্টোবর ১৮৩৩ সালে সুইডেনের স্টকহোমে একটি প্রকৌশল পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি একাধারে রসায়নবিদ, প্রকৌশলী ও একজন উদ্ভাবক ছিলেন। ১৮৯৪ সালে তিনি একটি বফর লোহা ও ইস্পাত কারখানা ক্রয় করেন, যা পরবর্তীতে একটি অন্যতম অস্ত্র তৈরির কারখানায পরিনত করেন। তিনি ব্যালিস্টিক উদ্ভাবন করেন, যা সারা বিশ্বব্যাপী ধোঁয়াবিহীন সামরিক বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাঁর ৩৫৫ টি উদ্ভাবনের মাধ্যমে তিনি জীবদ্দশায় প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হন যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ডিনামাইট। ১৮৮৮ সালে তিনি মৃতদের তালিকা দেখে বিস্মত হন, যা একটি ফরাসি পত্রিকায় এ মার্চেন্ট অব ডেথ হু ডেড প্রকাশিত হয়। যেহেতু নোবেলের ভাই লুডভিগ মারা যায়, এই নিবন্ধটি তাকে ভাবিয়ে তোলে এবং খুব সহজেই বুঝতে পারেন যে ইতিহাসে তিনি কিভাবে স্মরণীয় হতে চান। যা তাকে তার উইলটি পরিবর্তন করতে অনুপ্রাণিত করে। ১০ ডিসেম্বর ১৮৯৬ সালে আলফ্রেড নোবেল তার নিজ গ্রাম স্যান রিমো, ইতালিতে মৃত্যুবরণ করেন। সেই সময় তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। নোবেল তার জীবদ্দশায অনেক গুলো উইল লিখে গিযেছিলেন। সর্বশেষটা লেখা হযেছিল তার মৃত্যুর মাত্র এক বছর আগে ২৭ নভেম্বর ১৮৯৫ সালে প্যারিসে অবস্থিত সুইডিশ-নরওয়ে ক্লাবে। বিস্ময় ছড়িযে দিতে, নোবেল তার সর্বশেষ উইলে উল্লেখ করেন যে তার সকল সম্পদ পুরস্কার আকারে দেয়া হবে যারা পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, শান্তি ও সাহিত্যে বৃহত্তর মানবতার স্বার্থে কাজ করবেন। নোবেল তার মোট সম্পদের (৩১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা) ৯৪ শতাংশ এই পাঁচটি পুরস্কারের জন্য উইল করেন। ২৬ এপ্রিল ১৮৯৭ এর আগ পর্যন্ত সন্দেহ প্রবনতার জন্য নরওয়ে থেকে এই উইল অনুমোদন করা হয় নি। নোবেলের উইলের সমন্বয়কারী রগনার সোলম্যান ও রুডলফ লিলজেকুইস্ট নোবেল ফাউন্ডেশন তৈরি করেন। যার কাজ তার সম্পদের রক্ষনাবেক্ষন ও নোবেল পুরস্কার অনুষ্ঠানের অয়োজন করা।১৮৯৭ সালে নোবেলের উইল অনুমোদন হবার সাথে সাথেই নোবেল পুরস্কার প্রদানের জন্য নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি নামক একটি সংস্থা তৈরি করা হয়। অতি শীঘ্রই নোবেল পুরস্কার দেবার অন্যান্য সংস্থাগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তাদের মধ্যে ৭ জুন ক্যারোলিংস্কা ইনিস্টিটিউট, ৯ জুন সুইডিশ একাডেমী এবং ১১ জুন রাজকীয় সুয়েডীয় বিজ্ঞান একাডেমি। নোবেল ফাউন্ডেশন কিভাবে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় তার একটি নীতিমালায পৌছায় এবং ১৯০০ সালে নোবেল ফাউন্ডেশন নতুনভাবে একটি বিধি তৈরি করে যা রাজা অস্কার কর্তৃক জারি করা হয়। ১৯০৫ সালে সুইডেন ও নরওয়ের মধ্যে বন্ধন বিলুপ্ত হয়। তার পর থেকে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি শুধু মাত্র শান্তিতে নোবেল পুরস্কার এবং সুইডেনের প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যান্য পুরস্কার গুলো প্রদানের দায়িত্ব পায়।১৯০১ খ্রিস্টাব্দে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তিত হয়। ঐ বৎসর থেকে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সফল এবং অনন্য সাধারণ গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং মানবকল্যাণমূলক তুলনারহিত কর্মকান্ডের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। মোট ছয়টি বিষয়ে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিষয় গুলো হল: পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা শাস্ত্র, অর্থনীতি, সাহিত্য এবং শান্তি। নোবেল পুরস্কারকে এ সকল ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তদেরকে ইংরেজিতে নোবেল লরিয়েট বলা হয়। শুধুমাত্র শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয় অসলো, নরওয়ে থেকে। বাকি ক্ষেত্রে স্টকহোম, সুইডেনে এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অর্থনীতি ছাড়া অন্য বিষয়গুলোতে ১৯০১ সাল থেকে পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে, কিন্তু অর্থনীতিতে পুরস্কার প্রদান শুরু হয়েছে ১৯৬৯ সালে। আলফ্রেড নোবেল তার উইলে অর্থনীতির কথা উলেখ করেননি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য ১৯৪০ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত পুরস্কার প্রদান বন্ধ ছিল। প্রত্যেক বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রত্যেক একটি স্বর্ণপদক, একটি সনদ ও নোবেল ফাউন্ডেশন কর্তৃক কিছু পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকেন। ২০১২ খ্রিস্টাব্দে এই অর্থের পরিমাণ ছিল ৮০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনা। নোবেল পুরস্কার মৃত কাউকে দেয়া হয় না। লরিয়েটকে অবশ্যই পুরস্কার প্রদানের সময় জীবিত থাকতে হবে। কিন্তু এর কিছু ব্যতিক্রম আছে। খুব বেশি অবদান এর জন্য মরনত্তোর পুরস্কার দেয়া হয়।

যে উইলে নোবেল হয়
সুইডেনের রসায়নবিদ ও শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুসারে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। নোবেল ডিনামাইট আবিষ্কার করেছিলেন, যার মাধ্যমে তার প্রচুর আয় হয়, আর এই আয়ের অর্থ দ্বারাই তিনি পুরস্কার প্রদানের কথা বলে যান। জীবদ্দশায় নোবেল অনেকগুলো উইল লিখেছিলেন, এর মধ্যে সর্বশেষটি লিখেন তার মৃত্যুর মাত্র এক বছর আগে নভেম্বর ২৭, ১৮৯৫ তারিখে। নোবেলের উদ্ভাবনটি ছিল অনেকাংশেই একটি বিস্ফোরক যা প্রভূত ক্ষতির কারণ হতে পারত। তাই যুদ্ধক্ষেত্রে এই ডিনামাইটের ব্যবহার তাঁকে শঙ্কিত করে তোলে। নোবেল পাঁচটি ক্ষেত্রে পুরস্কার দেয়ার জন্য তার মোট সম্পত্তির শতকরা ৯৪ ভাগ দান করে যান। এর মোট পরিমাণ ৩১ মিলিয়ন এসইকে (৩.৪ মিলিয়ন ইউরো, ৪.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। যদিও আলফ্রেড নোবেল এই পুরস্কারের প্রচলন করেছেন, তথাপি তিনি এর কার্যক্রম দেখে যেতে পারেননি। কারণ তার পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণ ছিল না। এছায়াও অন্যান্য বেশ কিছু কারণে নোবেল ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠায় কিছুটা দেরি হয়। প্রথম নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় ১৯০১ সালের ডিসেম্বর ১০ তারিখে।

নোবেলজয়ীরা ঠিক কত টাকা পুরস্কার পান?
১৯০১ সালে পুরস্কারটি চালু হওয়া নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের বলা হয় ‘নোবেল লরিয়েট’। ১৯৮০ সালের আগ পর্যন্ত নোবেল বিজয়ীরা যে পদক পেতেন, সেটা ছিল ২৩ ক্যারেট স্বর্ণের। এরপর থেকে ১৮ ক্যারেট ‘সবুজ স্বর্ণে’র ধাতবের ওপর ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া পদক দেওয়া হচ্ছে নোবেল বিজয়ীদের। এ ছাড়া একটি সনদ এবং মোটা অঙ্কের অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয় সভ্যতার অগ্রযাত্রায় নানাভাবে অবদান রাখা মহানায়কদের। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, নোবেলজয়ীরা ঠিক কত টাকা পুরস্কার পান? ২০১৬ সালে নোবেল বিজয়ীদের নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যা দাঁড়ায় প্রায় আট কোটি টাকা। নোবেল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে নগদ অর্থের পরিমাণ হবে ১১ লাখ ডলার, মানে ৯ কোটি টাকার কিছু বেশি। এ বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর সুইডেনের স্টকহোমে নগদ অর্থপুরস্কার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় নোবেল ফাউন্ডেশন।


এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৫০০ বার

আপনার মন্তব্য