যুক্তরাষ্ট্রে আজ রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 11:03am

|   লন্ডন - 06:03am

|   নিউইয়র্ক - 01:03am

  সর্বশেষ :

  এবার ফেরদৌস সম্পর্কে কথা বললেন মোদি!   নুসরাত হত্যা: খাল থেকে বোরকা উদ্ধার   সাপের ভয়ে অফিসে যেতে পারছেন না লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট   খালেদা জিয়ার মুক্তির সাথে শপথের সম্পর্ক কী : আমীর খসরু   মোকাব্বিরকে শোকজ করলো গণফোরাম   বাংলাদেশিসহ ৫৯ জন অভিবাসী গ্রিসে আটক   ভারতের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ   আয়ারল্যান্ডে নারী সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা   ফ্লোরিডায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ   জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন   আমেরিকারপ্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের প্রমাণ মিলেছে   খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া শপথ নেয়ার প্রশ্নই আসে না: মওদুদ   তারেক-জোবাইদার ব্রিটেনের ৩ ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিল ঢাকার আদালত   ভারতের নির্বাচনে বাংলাদেশে যে প্রভাব পড়তে পারে   নুসরাত হত্যা : আ.লীগ নেতা রুহুল আমিন আটক

মূল পাতা   >>   বহিঃ বিশ্ব

ভারতে নারীরাই তাদের অধিকারের বিরোধী!

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-১০-১৯ ১৪:৩৮:০৩

নিউজ ডেস্ক: ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ কেরালার সবরীমালা মন্দিরে সব বয়সের নারীদের প্রবেশাধিকার দিয়ে রায় দিয়েছিল। শতাব্দীর প্রাচীন প্রথা ভাঙার মাধ্যম হিসেবে একে যুগান্তকারী রায় হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। তবে এ রায় ঘিরে সংশয়, উৎকণ্ঠা যে ছিল না তা কিন্তু নয়।

ভয়টা ছিল প্রাচীন ধর্মীয় রীতিকে বাঁচাতে মরিয়া হাজার হাজার ভক্ত নিয়ে, যা বাস্তবে রূপ পেয়েছে মন্দিরে প্রবেশ ঠেকানোর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। নিজেদের অধিকারের বিরোধিতা করে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী ভক্ত আন্দোলনে অংশ নেন। যদিও এটা অস্বাভাবিক নয় বলে মত কেরালার বাসিন্দাদের।

রায় ঘোষণার পর কেরালার বাসিন্দা এক নারী বলেছিলেন, ‘দেখবেন, আমরা মেয়েরাই এই প্রথা ভাঙতে পারব না, যতই সুপ্রিম কোর্ট রায় দিক। এটা আমাদের বিশ্বাস যে ১০-৫০ বছর বয়সী মেয়েদের ওই মন্দিরে যাওয়া উচিত নয়।’

রায় দিতে গিয়ে বেঞ্চের একমাত্র নারী বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রাও এই কথাটাই বলেছিলেন যে, ‘ব্যক্তিগত ধর্মবিশ্বাসে আদালতের হস্তক্ষেপ অনুচিত।’

এতদিন সবরীমালা মন্দিরে ১০-৫০ বছর বয়সী নারীদের প্রবেশাধিকার ছিল না। এই বয়সটি নারীদের ঋতুমতী হওয়ার সময়।

সবরীমালায় যে আয়াপ্পার পূজা করা হয়, তিনি আজীবন ব্রহ্মচারী বলেই বিশ্বাস করেন ভক্তরা। সেরকম মন্দিরে রজঃস্বলা নারীরা প্রবেশ করলে ঈশ্বর রাগ করবেন বলে বিশ্বাস করেন হিন্দুদের একটা বড় অংশ। এ ছাড়াও ওই মন্দিরে বার্ষিক পূজা দিতে যাওয়ার আগে ৪১ দিন কঠোর ব্রহ্মচর্য পালন করতে হয় পুরুষদের। তারা কালো পোশাক পরিধান করেন, সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার খান, খালি পায়ে থাকেন, দাড়ি কামান না, আর নারীসঙ্গ তো নৈব নৈব চ।

রজঃস্বলা নারীরা ব্রহ্মচর্য পালন করা পুরুষদের সঙ্গে ওই মন্দিরের পাহাড়ি পথে একই সঙ্গে উঠলে তাদের ব্রহ্মচর্য বিঘ্নিত হতে পারে বলেও ধর্মীয় বিশ্বাস। সুপ্রিম কোর্ট এই সব বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গিয়েই রায় দিয়েছিল।

রায়ের পরে বেশ কিছুটা সময় কেটেছে। প্রতিবাদ, বিক্ষোভ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে। ১৭ অক্টোবর, বুধবার যখন ভগবান আয়াপ্পার বার্ষিক পূজার জন্য পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা ওই প্রাচীন মন্দির খুলেছে, স্বাভাবিকভাবেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক হয়ে ওঠেছে। হাতে গোনা যে কয়েকজন নারী আদালতের নির্দেশের ওপর ভরসা করে মন্দিরে গিয়েছিলেন, তাদের ফিরে আসতে হয়েছে।

রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে নারী বিক্ষোভকারীরাই তল্লাশি চালিয়েছেন কোনো নারী মন্দিরের দিকে এগুচ্ছেন কি না, সেটা দেখতে।

বৃহস্পতিবার পেশাগত কারণে ওই মন্দিরের পাহাড়ি পথ বেয়ে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকার এক নারী ভারতীয় সাংবাদিক। তাকে প্রথমে বাধা দেওয়া হয়। পরে পুলিশ বাহিনী তাকে কর্ডন করে নিয়ে ওপরে উঠছিল। কিন্তু সেখানেও পাথর ছোঁড়া হয়েছিল তার দিকে।

এরণাকুলামের বাসিন্দা শান্তি পিল্লাই আগে কলকাতায় থাকার সুবাদে কিছুটা বাংলা বলতে পারেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের বিশ্বাস যে ১০-৫০ বছর বয়সী মেয়েরা মন্দিরে গেলে ঈশ্বর ক্রুদ্ধ হবেন। এই বিশ্বাস ভাঙতে তো চাই না আমরা! সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে লিঙ্গ সমতার প্রশ্নে- কিন্তু আমরা কি চেয়েছিলাম এই ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা? চাই নি তো!’

শান্তি পিল্লাই নিজে ছোটবেলায় এবং তার মেয়েরাও ১০ বছর বয়স হওয়ার আগেই ওই মন্দিরে গিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় তিনি এবং তার মতো বহু নারীই মেনে নিতে পারছেন না। তার মতে, ‘পাড়ায় পাড়ায় মিছিল হচ্ছে, অনলাইন পিটিশন সই করা হচ্ছে। আমার স্বামী মিছিলে গেছেন, আমি যেতে পারিনি। কিন্তু অনলাইন পিটিশনে সই করেছি। তবে রাস্তায় যেসব ঝামেলা হচ্ছে - সেগুলোর জন্য রাজনৈতিক দলগুলো দায়ী। তারাই ধর্মীয় বিষয়টাকে নিয়ে রাজনীতি করছে।’

শুধু যে কেরালার বাসিন্দাদের একটা অংশ সবরীমালায় নারীদের প্রবেশাধিকারের বিরুদ্ধে, তা নয়। অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে সবরীমালা মন্দির দর্শনে যাওয়া ৫০ পেরোনো এক নারী বলেন, ‘নারীদের প্রবেশের ওপরে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকাই উচিত। কারণ মেয়েদের প্রতিমাসে ঋতুস্রাব হয়। সেই সময়ে মন্দিরে প্রবেশ উচিত নয়।’

নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সুপ্রিম কোর্ট একটা রায় দিল, অথচ একটা বড় অংশের নারীরাই তার বিরোধিতা করছেন। সেটাও হচ্ছে শিক্ষার হারের দিক থেকে ভারতের সব থেকে এগিয়ে থাকা একটি রাজ্য।

কেন নারীরাই লিঙ্গ সমতার এই প্রশ্নে বিরোধিতা করছেন? জানতে চাওয়া হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের নারী আন্দোলনের কর্মী শাশ্বতী ঘোষের কাছে। তিনি বলেন, ‘প্রথমত শিক্ষিত হলেই যে ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে মুক্ত হবেন কোনো নারী বা পুরুষ, তা তো নয়। আবার আমার মতো যারা লিঙ্গ সমতায় বিশ্বাস করি, সংবিধান প্রদত্ত সমানাধিকারে বিশ্বাস করি, কিন্তু ধর্মে বিশ্বাস করি না, আমরা বললেই যে সাধারণ গড়পড়তা নারীদের মনোভাব পাল্টে যাবে, সেটা আশা করা অনুচিত।’

এই মন্দিরে নারীদের প্রবেশাধিকারের বিরোধিতায় কেরালার বিজেপি এবং তাদের যুব সংগঠন আগে থেকেই সরব হয়েছিল। বৃহস্পতিবার হিন্দু পুনরুত্থানবাদী সংগঠন আরএসএস প্রধান মোহন ভগবতও মুখ খুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে। তিনি বলেছেন, ‘নারী পুরুষের সমানাধিকারের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি, তাদের সংগঠনও এটা স্বীকার করে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তো নারীরা নিজেরাই এই নিয়ম পালন করে থাকেন যে সবরীমালা মন্দিরে তারা যাবেন না- প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে এটা।’

‘উচিত ছিল ধর্মগুরুদের সঙ্গে আলোচনা করা, কারণ তারাই তো একমাত্র সঠিক বলতে পারবেন যে কোন ধর্মে কোন বিষয়টা করা উচিত, কোনটা অনুচিত।’

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৪৮৩ বার

আপনার মন্তব্য