যুক্তরাষ্ট্রে আজ সোমবার, ১৯ অগাস্ট, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 10:45am

|   লন্ডন - 05:45am

|   নিউইয়র্ক - 12:45am

  সর্বশেষ :

  পুড়ে যাওয়া বস্তি যেন দর্শনীয় স্থান!   ডেঙ্গু: চব্বিশ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৭০৬   আসামের এনআরসি ও কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল: নেপথ্যে মোদির মুসলিমবিদ্বেষ   কাশ্মীর ইস্যুতে আরব দেশগুলোর নীরবতার নেপথ্য কারণ কী?   কাবুলে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা, নিহত ৬৩   মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর সোহেল’র ইন্তেকাল   ভারতের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার এখন ফ্যাসিস্ট মোদির হাতে : ইমরান খানের হুঁশিয়ারি   রাঙ্গামাটিতে সন্ত্রাসীদের সাথে গুলি বিনিময়ে এক সেনাসদস্য নিহত   বঙ্গবন্ধু ছাড়া বাংলাদেশ কল্পনা করা যায় না: মুক্তিযোদ্বা ডা: সিরাজুল ইসলাম   ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২২৪   কাশ্মীরে বিধি-নিষেধ দ্রুত তুলে দেওয়ার আহ্বান ওআইসির   অরল্যানডোতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা   আ.ন.ম শফিকুল হকের মৃত্যুতে আনোয়ার শাহদাতের শোক   মনের সুখই আসল সুখ   পাইলট যেভাবে বিমানটিকে ভুট্টা ক্ষেতে নামালেন

মূল পাতা   >>   বহিঃ বিশ্ব

ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আসামের মুসলমানরা

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৭-১৫ ১৪:৪৯:৫৫

নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশকারী আখ্যায়িত হওয়া এবং নাগরিকত্ব নিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার দুর্ভোগের কারণে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন ভারতের আসামের মুসলমানরা৷ এর মধ্যে প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ বিরোধীদের৷ খবর ডয়চে ভেলের

সত্তর বছর আগে ভারতের জন্ম নিলেও বিচারিক প্রক্রিয়ায় গিয়ে তিন বছর আটক ছিলেন রেহাত আলী৷ বিজেপি সরকারের মুসলিম-বিরোধী নীতির কারণে কয়েক লাখ মুসলমানের মতো এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় এই নিরক্ষর কৃষক৷

‘‘আমি কখনো কল্পনাও করিনি আমার নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে৷ আমি ভারতের নাগরিক৷ আসামে জন্ম নিয়েছি এবং কয়েক পুরুষ ধরে এখানেই বসবাস করছি,'' এএফপিকে বলেছেন রেহাত আলী৷

গ্রামীণ এই কৃষক ‘বিদেশি শনাক্তকরণ ট্রাইব্যুনালে' প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে না পারায় তাকে বাংলাদেশি ঘোষণা করে আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল৷

উচ্চ আদালতের রায়ে তিন বছরের মাথায় ছাড়া পেয়েছেন রেহাত আলী৷ কিন্তু আইনি লড়াই করতে গিয়ে এর মধ্যে তাকে বিক্রি করতে হয়েছে সমস্ত জমি এবং গবাদিপশু৷ এরপরও অন্যদের তুলনায় নিজেকে ভাগ্যবান মানছেন তিনি৷

আসামে গতবছরের দ্য ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (এনআরসি) নামক খসড়া আইনের কারণে প্রায় ৪০ লাখ আসামবাসীর ভাগ্য ঝুলছে৷ কারণ ১৯৭১ সালের আগে বাবা কিংবা দাদার প্রজন্ম আসামে ছিল, এমন প্রমাণ দিতে পারেনি তারা৷

বিদেশি শনাক্তকরণ ট্রাইব্যুনালে যারা বাদ পড়বে, তারা আপিল করতে পারবেন৷ কিন্তু চলতি মাসের শেষ নাগাদ পর্যন্ত চলা শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চললেও প্রায় ২০ লাখ লোক এর বাইরে থেকে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ কারণ বেশিরভাগ নিরক্ষর মানুষের জন্য ট্রাইব্যুনালের প্রক্রিয়া বুঝা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া যেন দুঃস্বপ্নের মতো৷

শনাক্তকরণ ট্রাইব্যুনালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন সোনা উল্লাহর নাগরিকত্ব প্রমাণ না হওয়ার বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল৷ ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে কারগিল যুদ্ধেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি৷

কাগজপত্রে অমিল থাকার কারণে গত মে মাসে তাকে আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল৷ এমনকি পুলিশ তাঁর পুরাতন ইউনিফর্মও জব্দ করেছিল৷ অবশ্য ব্যাপক প্রতিবাদের পর অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন তিনি৷

নাগরিকত্ব জটিলতা নিরসনে আসামে একশ'টি বিদেশি শনাক্তকরণ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চলছে এবং আরো দু'শটি ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হচ্ছে৷ কর্মকর্তারা অযোগ্য হওয়ায় এসব ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম অনেকটা লটারির মতো বলে অভিযোগ করছেন অধিকারকর্মীরা৷

অনলাইন ম্যাগাজিন স্ক্রল জানিয়েছে, বিদেশি ঘোষণার ক্ষেত্রে সংখ্যার বিচারে ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তাদের হরহামেশায় সরিয়ে দেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার৷

‘‘পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, ট্রাইব্যুনালের যে সদস্য অধিক ব্যক্তিকে বিদেশি ঘোষণা করতে পারেন, তাকে সবচেয়ে বেশি উইকেট-শিকারি বলা হয়ে থাকে,'' ক্রিকেটীয় পরিভাষা ব্যবহার করে বলেন সাবেক একজন ট্রাইব্যুনাল সদস্য৷

খসড়া এনআরসিতে যারা বাদ পড়েছেন, তাদের বেশিরভাগই মুসলিম৷ কারণ এই সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর জন্য নরেন্দ্র মোদীর সরকার এটি চালু করেছে বলে অভিযোগ৷

গত জানুয়ারিতে নাগরিকত্ব নিয়ে একটি আইন পাস করে ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ৷ যাতে বলা হয়, ছয় বছর আগে যারা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে এসেছেন তাদেরকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে৷ তবে মুসলিমরা বাদে৷

আসামের ছয়টি আটক কেন্দ্রে বর্তমানে ৯৩৮ জন লোক বন্দী আছেন৷ তিন হাজার লোকের জন্য আরেকটি কেন্দ্র নির্মাণ করছে সরকার৷ পাশাপাশি প্রতিটিতে এক হাজার লোকের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন নয়টি কেন্দ্র নির্মাণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে তারা৷

অনিশ্চয়তায় দিনাতিপাত করতে হচ্ছে আসামের মুসলমানদের৷ তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাও দেখা দিয়েছে৷

বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এনআরসি-র প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে ৪৪ জন লোক আত্মহত্যা করেছেন৷ যদিও এক্ষেত্রে সরকারি কোনো হিসাব পাওয়া যায় না৷

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ১০২ বার

আপনার মন্তব্য

সাম্প্রতিক খবর