যুক্তরাষ্ট্রে আজ শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২০ ইং

|   ঢাকা - 07:57am

|   লন্ডন - 01:57am

|   নিউইয়র্ক - 08:57pm

  সর্বশেষ :

  ইরানের হামলায় আহত ১১ মার্কিন সেনা   ইভিএমেও জাল ভোট দেওয়া সম্ভব: ইসি রফিকুল   সৌদি আরব থেকে ফিরলেন আরও ১০৯ বাংলাদেশি   সুইডেনে হিজাব পরেই অমুসলিমদের প্রতিবাদ   ভোটের তারিখ পরিবর্তনে সরকারের কোনো আপত্তি নেই: কাদের   ৩১ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র   পোশাক খাতকে ছাড়িয়ে যাবে আইটির আয় : জয়   সোলাইমানি হত্যার দায়ে ট্রাম্পের প্রাণদণ্ড হওয়া উচিত : মার্কিন সাংবাদিক   বিমানের সিটের হাতলে ২৪ কেজি সোনা   বিশ্বের সবচেয়ে বড় বরফ উৎসব   মোদির পিতার নাগরিকত্ব সনদ চাইলেন অনুরাগ কেশপ   সোলাইমানি হত্যার পর ইসরাইলে প্রথম রকেট হামলা   মিরপুর সড়কে গার্মেন্ট কর্মীরা, যানচলাচল বন্ধ   ২৪ বছর পর দেশে ফিরে সড়কে প্রাণ গেল আমেরিকা প্রবাসীর   এবার বলিউডে অভিনয় করবেন ব্রিটিশ অভিনেতা কিরণ রায়

মূল পাতা   >>   বহিঃ বিশ্ব

৬২৯ পাকিস্তানী তরুণীকে কনে হিসেবে চীনে বিক্রি

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৯-১২-০৫ ১০:২৩:১০

নিউজ ডেস্ক: গত ১৮ মাসে ৬২৯ পাকিস্তানী নারী ও তরুণীকে জোর করে কনে হিসেবে চীনে বিক্রির ঘটনা ঘটেছে! পাকিস্তান থেকে অন্য কোন দেশে নারী পাচার সংক্রান্ত এক অনুসন্ধান কমিটির প্রকাশিত একটি তালিকা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ ব্যাপারে কার্যত চুপ রয়েছে পাক সরকার। সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় পাচারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সংবাদ সংস্থা এপি’র অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০১৮ সাল থেকে ২০১৯ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ৬২৯ জন নারীকে কনে হিসেবে চীনে বিক্রি করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসকল নারীর সবাইকেই তাদের পরিবারের সদস্যরাই টাকার লোভে বিক্রি করেছে। আইন অনুযায়ী যা সম্পূর্ণ অবৈধ।

গত জুনে অনুসন্ধানের রিপোর্ট হাতে আসলেও এখন পর্যন্ত পাকিস্তান কার্যত নিরব রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে পাক সরকারের বাণিজ্য সুসম্পর্ক রয়েছে। সম্পর্ক খারাপ হওয়ার ভয়ে সরকারের উপর মহল বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ না নিতে চাপ দিয়ে আসছে।

চলতি বছর পাচারের কাজে যুক্ত ৩১ জন চীনা নাগরিককে আটক করে মামলা দায়ের করে আদালতে তোলা হয়। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে ফয়সালাবাদের একটি আদালত থেকে তারা খালাস পেয়ে যায়।

পাচারকারী দলের ৩১ সদস্যকে আটক করা হলেও পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে সবাই ছাড়া পেয়ে যায়।

মামলার সঙ্গে জড়িত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে যে সকল নারী পুলিশের কাছে মুখ খুলেন তারা পরবর্তীতে আর আদালতে সাক্ষ্য দিতে রাজি হন না। তাদের মধ্যে কেউ পরিবারের চাপে অথবা পাচারকারীদের হুমকিতে নিরব থাকেন। ফলে অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যায়।

পাচার থেকে উদ্ধার হওয়া নারীদের নিয়ে কাজ করা কর্মী সালিম ইকবাল অভিযোগ করেন, সীমান্তে পাচারসহ নানা অপরাধ নিয়ে কাজ করা ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফডিআই) এর পাচার সংক্রান্ত তদন্ত বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়। এফডিআই কর্মকর্তাদের বদলির ঘটনাও ঘটেছে। পাচার বিষয়ে শাসকগোষ্ঠীর কাছে অভিযোগ করলেও তারা সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন না বলে জানান ইকবাল।

এবিষয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এপি’র পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোন মন্তব্য করেন নি।

পাচারের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এপিকে বলেন, সরকারের চাপের কারণে তদন্তকাজ ধীর গতিতে চলছে, ফলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। মানব পাচারের রিপোর্ট থেকে বিরত থাকতে পাকিস্তানি গণমাধ্যমগুলোকেও চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পাচার হওয়া মেয়েগুলোকে সাহায্য করতে কেউ এগিয়ে আসছে না। কোন পদক্ষেপের অভাবে পাচারের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।’

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় পাচার হওয়া নারীর তালিকা বিষয়ে অবগত নয় বলে জানিয়েছে। এপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন ও পাকিস্তান সরকার আইন ও বিধি মেনে স্বেচ্ছায় তাদের জনগণের মধ্যে সুখী পরিবার গঠনে সমর্থন করে পাশাপাশি অবৈধভাবে প্রবেশ করে বিয়ের ব্যাপারেও জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলে।

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ১৯৪ বার

আপনার মন্তব্য