যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার, ২২ মে, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 05:07am

|   লন্ডন - 12:07am

|   নিউইয়র্ক - 07:07pm

  সর্বশেষ :

  দ্বিতীয় বিয়ে বাধ্যতামূলক যেখানে   চীনে মসজিদে মসজিদে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর নির্দেশ   করাচিতে দাবদাহে হিট-স্ট্রোকে ৬৫ জনের মৃত্যু   যুদ্ধক্ষেত্রে সর্বাধুনিক এফ-৩৫ উড়িয়েছে ইসরায়েল   মিলানে ছাত্রলীগের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল   নিউজার্সিতে কুলাউড়া এসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত   তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এবার ৯ জেলায় নিহত ১২   আর্জেন্টিনার চূড়ান্ত দল ঘোষণা   মাদকের আন্ডারওয়ার্ল্ডে ১৪১ গডফাদার   মদিনায় বিমান দুর্ঘটনা থেকে বাঁচলেন ১৫১ বাংলাদেশি   রাজীবের দুই ভাইকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ স্থগিত   বান্দরবানে পাহাড় ধসে ৪ শ্রমিক নিহত   ইবাদতের মৌসুম মাহে রমজান   শান্তিনিকেতনে শুক্রবার হাসিনা-মোদি-মমতার সাক্ষাৎ   ইরানের ওপর ‘ইতিহাসের বড় নিষেধাজ্ঞা’ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মূল পাতা   >>   বহিঃ বিশ্ব

তহবিল সংকটের কারণে ফের শাটডাউনের শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-১৯ ১০:৫৮:৩৮

নিউজ ডেস্ক: ২০১৩ সালের পর আবারও তহবিল সংকটের কারণে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ রাখা বা শাটডাউনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের রিপাবলিকান সদস্যরা দেশটির জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল স্থগিতের প্রস্তাব পাস করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রস্তাবটি সমর্থন করেছেন। উদ্যোগটি কার্যকর করতে শুক্রবার মধ্যরাতে তা সিনেটে পাস করতে হবে। এজন্য রিপাবলিকানদের ডেমোক্র্যাট দলের মাত্র কয়েকজন সদস্যের সমর্থন দরকার পড়বে।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সিনেট অধিবেশনের কয়েকঘণ্টা আগেও মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউন হবে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে টানা ১৬ দিনের জন্য শাটডাউন ঘটেছিল।

আল জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের শাটডাউন কয়েকদিন বলবৎ থাকলেই জাতীয় উদ্যান, জাদুঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা বন্ধ হয়ে যাবে। এমনকি দেশটির পাসপোর্ট ও ভিসা প্রক্রিয়াও বন্ধ থাকবে। এতে দেশটির পর্যটনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আর জাতীয় উদ্যান ও স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউট জাদুঘরও জনসাধারণের জন্য খোলা হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের অনিবন্ধিত অভিবাসীদের সুরক্ষার জন্য একটি বিল নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট দলের সদস্যদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ভেস্তে গেছে। এরপর রিপাবলিকানরা শাটডাউন বিলের উদ্যোগ নেয়। তবে এই উদ্যোগ কার্যকর হলে দুই দলের নেতৃত্বকেই কঠিন মূল্য ‍দিতে হতে পারে।

আর্থিক রেটিংস এজেন্সি ‘স্যান্ডার্ট অ্যান্ড পুওর’ এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ বেথ আন বোভিনো বলেন, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব ফেলবে।   তিনি বলেন, শাটডাউনের প্রত্যক্ষ প্রভাবের মধ্যে রয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় সাত লাখ সরকারি কর্মচারীর উৎপাদন অপ্রয়োজনীয়ভাবে নষ্ট হয়ে যাবে। এই শ্রমিকদের সাময়িক ছুটিতে পাঠানো হবে। অর্থাৎ সরকার কার্যক্রম শুরু করা না পর্যন্ত তাদের বিনা বেতনে ছুটিতে থাকতে হবে। আর তাদের  বেতন দেওয়া হলেও সরকার উৎপাদন বঞ্চিত হবে। তিনি বলেন, কাজ ছাড়া বসে থাকা সময় কখনও ফিরে আসে না।

বোভিনো বলেন, পরোক্ষ ক্ষতির শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হলেন ঠিকাদাররা। ২০১৮ অর্থবছরে ঠিকাদারদের সঙ্গে চার হাজার ৩০০ কোটির বেশি ডলারের চুক্তি করা হয়েছে। শাটডাউন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও অর্থ ছাড় হবে না। এতে অনেক ব্যক্তি নাগরিকের আয় কমে যাবে। খুচরা বেচা-কেনাও কমে যাবে। বোভিনো বলেন, ‘এখন ছুটির মৌসুম চলছে। তাই শাটডাউনের প্রভাব কম তীব্র হবে। তবে ছুটির বিক্রি হিসাব করলে তা জানুয়ারিতেও চলতে থাকে।’

যুক্তরাষ্ট্রে সরকার শাটডাউন হলেও জাতীয় নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ সুরক্ষায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো চালু থাকবে। এর মধ্যে সামরিক বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। গবাদি পশুর স্বাস্থ্য সেবা ও দরিদ্র পরিবারের জন্য ফুড স্ট্যাম্প সুবিধার কোনও ক্ষতি হবে না। কেন্দ্রীয় আদালত চালু থাকলেও কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

২০১৩ সালে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান সদস্যরা বারাক ওবামার স্বাস্থ্য নীতিতে অর্থায়ন না করতে চাওয়ায় ১৬ দিন শাটডাউন ছিল। তার আগে ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ২৭ দিন শাটডাউন চলেছিল। সে বার স্বাস্থ্য বীমা নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতবিরোধের জেরে এমন ঘটনা ঘটেছিল। তার আগের মাস নভেম্বরেই চার দিন সাটডাউন ছিল।

তথ্য উপাত্ত ঘাটলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে কৌশলগতভাবে বেশিরভাগ সময় সপ্তাহের ছুটির দিনে এমন কাজ করে থাকে। যাতে দেশটির অর্থনীতিতে কোনও প্রভাব পড়ে না। ২০১৩ সালের শাটডাউনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছিল। সে বছর দেশটির জিডিপি ছিল ১৬ লাখ কোটি ডলারের বেশি। তবে এবার শাটডাউন হলে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার ক্ষতি হবে। বোভিনো বলেন, বছরের শুরুতেই এমন ক্ষতি পরবর্তীতে ভোগান্তি তৈরি করবে।

তবে গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্যান্ডার্ট অ্যান্ড পুওর আশা প্রকাশ করেছে, এবার সম্ভবত শিাটডাউন হবে না। কারণ হিসেবে বোভিনো বলেন, ‘আমাদের মনে হয়, সরকার একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারবে। ওয়াশিংটনে সবকিছু সুন্দর ও সঠিকভাবে চলছে বলে আমরা বুঝতে পারছি। এই সময়ে সরকার শাটডাউনে প্রতি আগ্রহী হবে না।’


এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৬৮২ বার

আপনার মন্তব্য