যুক্তরাষ্ট্রে আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ অগাস্ট, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 03:27am

|   লন্ডন - 10:27pm

|   নিউইয়র্ক - 05:27pm

  সর্বশেষ :

  নিউজিল্যান্ডে বাড়ি কিনতে পারবে না বিদেশিরা   লিবিয়ায় হত্যার দায়ে ৪৫ জনের মৃত্যুদণ্ড   কোটা সংস্কার আন্দোলন : ইডেন কলেজছাত্রী ৩ দিনের রিমান্ডে   বঙ্গবন্ধু হত্যায় খালেদাও জড়িত: প্রধানমন্ত্রী   ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী আর নেই   আমেরিকার বিপক্ষে তুরস্কের সঙ্গে জার্মান   ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে আমেরিকার তিন শতাধিক গণমাধ্যম   ভুটানকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ   সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ধনীর তালিকায় বাংলাদেশি আজিজ খান   হজ করতে সৌদি আরবে ১ লাখ ২১ হাজার বাংলাদেশী   নিউইয়র্কে লাঞ্ছিত ইমরান এইচ সরকার   ট্রাম্প টাওয়ারের বিরুদ্ধে মামলা   ‘গুজব’ ছড়ানোর অভিযোগে আরও ৩ শিক্ষার্থী গ্রেফতার   আফগানিস্তানে সেনাঘাঁটিতে হামলায় সেনা-পুলিশসহ নিহত ৪৫   অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম নারী সিনেটর মেহরিন

মূল পাতা   >>   বহিঃ বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে সরকার ব্যবস্থায় অচলাবস্থা, নেপথ্য কারণ

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০১-২০ ১১:৩৭:০৯

নিউজ ডেস্ক: সিনেট প্রতিনিধিদের মধ্যে বাজেট নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় ১৯ জানুয়ারি রাত বারোটার পরপরই বন্ধ হয়ে যায় দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রম। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টির পর পরস্পরকে দুষছে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অভিবাসন ইস্যুতে মার্কিন সিনেট কোনও সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রম চালিয়ে নিতে নতুন বাজেট ছাড় করা যায়নি। ওইসব প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ‘ড্রিমার অভিবাসী’খ্যাত তরুণদের জন্য কর্মসূচির প্রশ্নে সমঝোতা না হওয়ার কারণেই এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।  

ফ্লোরিডার মার-ই-লাগো রিসোর্টে ক্ষমতায় যাওয়ার বর্ষপূর্তি উদযাপন করতে যাওয়ার কথা ছিল দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তবে শুক্রবার পুরো দিনটিই কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে সমঝোতার কাজে ব্যয় করেন ট্রাম্প। ওভাল কার্যালয়ে সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ও রিপাবলিকান প্রতিনিধির মধ্যে আলোচনার ব্যবস্থা করা হলেও সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ থেকে দেখা গেছে, বাজেট নিয়ে সিনেটরদের ভাগ হয়ে যাওয়ার মূল কারণ অভিবাসন-নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রস্তাবিত পরিবর্তন। যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ তরুণ অভিবাসীদের সামাজিক সুরক্ষায় ওবামা ঘোষিত ‘ড্রিমার কর্মসূচি’ পরিচালনায় বরাদ্দ অর্থ নিয়ে দুই ভাগে ভাগ হয় সিনেট। ওই কর্মসূচির আওতায় যে আট লাখ তরুণ-তরুণী সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পেয়েছে, তাদের ব্যাপারে কোনও স্থায়ী সমাধানকে সমঝোতার শর্ত হিসেবে তুলে ধরে ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রতিনিধিরা পুরো বিষয়টিকে সাময়িক সমাধান হিসেবে দেখতেই আগ্রহী। এ নিয়ে রিপাবলিকানদের সঙ্গে মতবিরোধ হওয়ায় শেষপর্যন্ত বাজেটের সমঝোতা প্রস্তাব পাশের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ৬০ ভোটও মেলেনি।

ট্রাম্প-শুমার বৈঠকের ব্যাপারে অবগত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুমার মেক্সিকোর দেয়াল নির্মাণ প্রশ্নে আলোচনায় রাজি ছিলেন। সামরিকব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবেও আপত্তি ছিল না তার। বিপরীতে শুমার চেয়েছিলেন একটি সাময়িক সমঝোতায় আসতে। যেন পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে বিস্তৃত পরিসরে সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয়। ওই সূত্রকে উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে শুমারের প্রস্তাবে প্ররোচিত হতেই দেখা গেছে। তিনি প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন রিপাবলিকান নেতাদের এ নিয়ে  বোঝাতে চেষ্টা করবেন। তবে তেমনটা হয়নি।

সিএনবিসি-কে শুমার বলেছেন, ‘সরকারের অচলাবস্থা এড়াতে মেক্সিকোর দেয়াল নিয়েও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলাম। ট্রাম্পই সরে গেছেন’। তিনি বলেন, ‘একে ট্রাম্প শাটডাউন বলা উচিত। কেননা ও ব্যাপারে দায়ী করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে যথার্থ আর কোনও মানুষ নেই।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন, এনবিসি ও ভক্স নিউজসহ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানও সমঝোতা না হওয়ার নেপথ্যে অভিবাসন ইস্যুটিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ড্রিমার প্রকল্পের সমঝোতা না হওয়াই অচলাবস্থার প্রধান কারণ। ওই কর্মসূচির আওতায় কয়েক লাখ অবৈধ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো থেকে বিরত ছিল হোয়াইট হাউস। তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে মূলত তরুণ অনিবন্ধিত অভিবাসীদের সুরক্ষা দিতে চেয়েছিল ওবামা প্রশাসন। এ কর্মসূচির দাফতরিক নাম ‘ডেফারড অ্যাকশন ফর চিলড্রেন অ্যারাইভাল’ (ডিএসিএ)। এ কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, পড়াশোনা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পান প্রায় ৭ লাখ তরুণ। এই তরুণদের বলা হয় ‘ড্রিমার’। তবে গত সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটি সমাপ্তির ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

গত বছর সেপ্টেম্বরেই শেষ হয়ে গিয়েছিল সরকারি ব্যয় বরাদ্দের তারিখ। তবে কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার অভাবে তখন থেকেই স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের মাধ্যমে অচলাবস্থা ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। সবশেষ গত বছর ডিসেম্বরে স্বল্পমেয়াদি ব্যয় বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই সময়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘ড্রিমার’দের জন্য ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত হয়, এরপর আর কর্মসূচিটির জন্য অর্থায়ন করা হবে না।তবে মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য রুল জারি করেছে সান ফ্রান্সিসকোর আদালত। 'ড্রিমার' প্রকল্পের আওতায় আবারও আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শৈশবে বাবা-মায়ের সঙ্গে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো অভিবাসীদের কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে যারা আগে এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন, শুধু তারাই নবায়নের সুযোগ পাবেন।

ভক্স নিউজের খবরে বলা হয়েছে, অভিবাসন প্রশ্নে বর্তমান প্রশাসনের নীতি এসেছিল ট্রাম্প-শুমার আলোচনায়। তবে ডেমোক্র্যাটরা ড্রিমারদের ব্যাপারে ছাড় দিতে নারাজ ছিলেন। ক্যাপিটলে ফিরেই শুমার একটি টেলিফোন কল পান। হোয়াইট হাউস থেকে প্রধান কর্মকর্তা জন কেলি তাকে টেলিফোনে জানান, ট্রাম্পকে দেওয়া তার প্রস্তাব বেশ উদার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও কংগ্রেসের অন্তত ৬ সদস্যের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছে। তারা জানিয়েছে, অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে ঐক্য হয়নি। ৯০ মিনিটের বৈঠকটি নিষ্ফল হয়ে গেছে।

আরেক ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ডেমোক্র্যাট আইন প্রণেতারা চাইছিলেন, ৭০ লাখ ড্রিমার অভিবাসীর ভাগ্য নির্ধারণে একটি কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ। তবে রাজি হননি রিপাবলিকানরা। গত সপ্তাহে ড্রিমারদের জন্য স্বতন্ত্র কর্মসূচি চালু রাখার প্রস্তাবে নিজের অসম্মতির কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল নির্মাণের মতো নিরাপত্তা সুরক্ষার কর্মসূচিতে ড্রিমারদের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। মেক্সিকোর দেয়াল নিয়েও আলাপ করতে রাজি ছিলাম আমরা। তবে ট্রাম্প ড্রিমার অভিবাসীদের জন্য কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে চাননি কোনোমতেই। 

গত সপ্তাহে ট্রাম্প ড্রিমারদের বৈধতা দেওয়ার জন্য একটি কার্যকর চুক্তির জন্য ট্রাম্প উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বসেছিলেন। এক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার আগ্রহ দেখানোর কারণ ছিল সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা ও কয়েক ভিসা কর্মসূচির পরিবর্তন আনা। কিন্তু প্রেসিডেন্ট নাটকীয়ভাবে ওই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বন্ধ করে দেন। ওই সময় তিনি হাইতি বা এল সালভাদোরের মতো দেশের অভিবাসীদের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক ব্যক্তিগত বৈঠকে দেশগুলোকে ‘শিটহোল কান্ট্রিজ’ বলেও মন্তব্য করেন।

গার্ডিয়ানের শনিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রিমার কর্মসূচিটি ৫ মার্চ পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে এই অভিবাসীরা প্রায় সবাই ডেমোক্র্যাটদের ভোটার। ডেমোক্র্যাট রাজনীতির ভেতরে বিপুল চাপ রয়েছে ওই অভিবাসীদের ভাগ্য-নির্ধারণে সক্রিয় হওয়ার। তাই সব মানলেও ড্রিমারদের শঙ্কার মধ্যে রাখতে রাজি নয় তারা। এই ইস্যুতে তারা চান একটি স্থায়ী সমাধান। ড্রিমারদের সুরক্ষায় তারা একটি কার্যকর আইনি রূপান্তর চেয়েছিলেন।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রিপাবলিকানরা সরকারের জন্য একটি স্বল্পমেয়াদি তহবিল বরাদ্দ করানোর চেষ্টা করেন। তারা যুক্তি দেন, অভিবাসন ইস্যু আলাদা আর তা নিয়ে পরেও আলোচনা করা যাবে। দর কষাকষির একপর্যায়ে ডেমোক্র্যাটদের চাপে ফেলতে তারা জনপ্রিয় শিশুস্বাস্থ্য বীমার মেয়াদ আরও ৬ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। ওই বীমা কর্মসূচির আওতায় দেশটির প্রায় ৯০ লাখ শিশু স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকে। এভাবেই সমঝোতার সম্ভাবনাটি ভেস্তে যায়।


এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ১৩৬০ বার

আপনার মন্তব্য