যুক্তরাষ্ট্রে আজ সোমবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 03:13pm

|   লন্ডন - 10:13am

|   নিউইয়র্ক - 05:13am

  সর্বশেষ :

  এবার মুম্বাইয়ে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান   ড. ইউনুসের কারণে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করেনি বিশ্বব্যাংক : শেখ হাসিনা   অবশেষে বিএনপিকে নিয়ে ‘জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট’র আত্মপ্রকাশ, বিকল্পধারা আউট   খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেও বিচার চলবে   চট্টগ্রামে পাহাড় ও দেয়াল ধসে ৪ জনের মৃত্যু   বাংলাদেশে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারের নিয়োগ সিনেটে অনুমোদন   ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলা, নিহত ১৭   তারেক রহমানকে দেশে ফেরাতে ‘বাংলাপোল থেকে ইন্টারপোল’   ভারতেই দুর্বল হয়ে পড়েছে ‘তিতলি’, বাংলাদেশে ঝরছে অবিরাম বৃষ্টি   আমি সবচেয়ে বেশি উত্যক্তের শিকার : মেলানিয়া   ১৩৬ যাত্রী নিয়ে অলৌকিভাবে রক্ষা পেলো এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান   সিরিয়ার সন্ত্রাসীদেরকে ৫০০ ট্রাক অস্ত্র পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র   জাতীয় ঐক্যের জন্য খসড়া লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে : মান্না   আগামী ৪৮ ঘণ্টা বিশ্বজুড়ে বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট পরিষেবা!   বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিন

মূল পাতা   >>   বহিঃ বিশ্ব

যেভাবে সৌদির ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছলেন বিন সালমান

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-১৭ ১৩:৪৯:৩৬

নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে সৌদি আরবে প্রবল ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে যিনি পরিচিত হয়ে উঠেছেন তিনি হলেন ৩২ বছরের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। কৈশোর বয়স থেকে তিনি তার বাবাকে দেখে এসেছেন।

সৌদি রাজকীয় আর্থিক অবস্থায় অন্যান্যদের চেয়ে গরিব ছিলেন তার বাবা বর্তমান বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ। ক্রাউন প্রিন্সের দাদা আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদের অন্যান্য সন্তানরা যখন সম্পদশালী হচ্ছিলেন তখন তাদের কাছ থেকে সাহায্য পেয়েছিলেন বর্তমান বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ।

সালমান বিন আবদুল আজিজ হলেন সৌদি আরবের বর্তমান বাদশাহ, দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম এবং আল সৌদের প্রধান। তিনি ২০১১ সাল থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তারও আগে ১৯৬৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত রিয়াদের গভর্নর  ছিলেন। তিনি জানুয়ারি ২৩, ২০১৫ তারিখে তার সৎভাই বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজের স্থলাভিষিক্ত হন।

২০১৫ সালে তার বাবা যখন সৌদি আরবের বাদশাহ হন, তখন থেকে মোহাম্মদ বিন সালমানের নাম আলোচনায় আসতে থাকে। ৩২ বছর বয়সে তিনি সৌদি আরবে হয়ে উঠেন প্রবল ক্ষমতাধর। মোহাম্মদ বিন সালমানকে ক্রাউন প্রিন্স পদে আসীন করেন বর্তমান বাদশাহ। ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে যিনি আসীন হন, পরবর্তীতে তিনিই হবেন সৌদি আরবের বাদশাহ। বর্তমান ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্ম ১৯৮৫ সালের ৩১শে আগস্ট। তৎকালীন সৌদি প্রিন্স (বর্তমানে বাদশাহ) সালমান বিন আব্দুল আজিজ-এর তৃতীয় স্ত্রীর বড় সন্তান হচ্ছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত কিং সৌদ ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি আইন শাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজে করেছেন। ২০০৯ সালে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে তার বাবার বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তার বাবা সালমান বিন আব্দুল আজিজ তখন রিয়াদের গভর্নর ছিলেন। ২০১৩ সাল থেকে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতার কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন।

বর্তমান ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান দেশটির দুর্নীতি বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে ও আধুনিক উপায়ে সৌদির অর্থনীতিকে গড়তে চান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বাড়ির মালিক হয়েছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। ২০১৫ সালে ৩২ কোটি ডলার মূল্যে ফ্রান্সের  বিলাস বহুল রহস্যময় বাড়িটি কিনেন তিনি।এছাড়া ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির একটি পেইন্টিং কিনেছেন তিনি। এই পেইন্টিংটি তিনি পরবর্তীতে আরব আমিরাতকে দান করেছেন।

ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ২০৩০ সালকে লক্ষ্য করে সৌদি আরবের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক পদক্ষেপ ঘোষণা করেন।

দেশের বাইরে তিনি তার বাবা সালমান বিন আব্দুল আজিজের প্রতিনিধিত্ব করে বেইজিং, ওয়াশিংটন সফর করেছেন। ওয়াশিংটন সফরে গত মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করেন।

ক্রাউন প্রিন্স সম্পদশালী হয়েছেন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যক্তিগত ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে। রাষ্ট্রের তেল শিল্প থেকে যে আয় হয় তার একটি অংশ নিজেরা ধরে রাখেন। অন্যান্য ব্যবসাগুলো যে গুলো আছে সেগুলোর ওপরও প্রভাব বজায় রাখে। এছাড়া তিনি একটি রাসায়নিক উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। কোম্পানিটির ২০ শতাংশ শেয়ারের মালিক। এই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে রাসায়নিক সরবারহ করে।  সৌদি এয়ারলাইন্স এবং ইউরোপীয় এয়ারবাসের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়। চুক্তিটি পরিচালনা করেন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। চুক্তির আর্থিক বিষয়াবলী সম্পর্কে কেউ মন্তব্য করতে চাইনি। ওই চুক্তি থেকে ১ কোটি ডলার যায় তার পরিবারের হাতে।

প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে থারাওয়াত নামের একটি কোম্পানির উথান ঘটে। থারাওয়াতের প্রধান নির্বাহীর কথা অনুযায়ী, ক্রাউন প্রিন্সের ছোট ভাই  তুর্কি বিন সালমান ওই বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটির ৯৯ শতাংশের মালিক। বাকি একভাগ মালিক ছোট ভাই নাইফ। ২০১৭ সালে তার ছোট ভাই নাইফের কাছ থেকে ওই এক ভাগও কিনে নেন ক্রাউন প্রিন্স। অর্থাৎ কোম্পানিটির ১০০ ভাগই কিনে নিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স।

এদিকে পুরুষানুক্রমে চলে আসা রক্ষণশীল সৌদি আরবকে পুরো মাত্রায় বদলে দিচ্ছেন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুদ্ধ- সবখানেই সংস্কারের ছোঁয়া। শুধু তাই নয়, সৌদিদের জীবনযাপনের মানও বদলে দিতে চান তিনি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবারের বাজেটে নতুন এক প্রকল্পের আওতায় ৩৪.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে সৌদি রাজপরিবার। নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে ‘কোয়ালিটি অব লাইফ প্রোগ্রাম ২০২০’ প্রকল্প ঘোষণা করেছে সৌদি আরবের অর্থনীতি ও উন্নয়ন কাউন্সিল।

৩৪.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কোয়ালিটি অব লাইফ প্রকল্পটি দেশটির অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যকরণ ও তেলনির্ভরতা কমাতে ভিশন ২০৩০-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভিশন ২০৩০ কে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। তিনি সৌদি বাদশাহ সালমানের নেতৃত্বে সৌদি অর্থনীতি, সামাজিক অবস্থান ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

কোয়ালিটি অব লাইফ প্রোগ্রামের আওতায় বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটির ১৩০ বিলিয়ন রিয়ালের মধ্যে ৭০ বিলিয়ন রিয়াল বাণিজ্যিক খাতে বিনিয়োগ করা হবে। এর উদ্দেশ্য ২০২০ সালের মধ্যে তেল ব্যতীত জাতীয় উৎপাদনে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা।

একনজরে ক্রাউন প্রিন্স সালমান বিন সৌদ

 জন্ম: ৩১ আগস্ট, ১৯৮৫

পুরো নাম: মোহাম্মাদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সউদ

পিতা: সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সউদ

মাতা: ফাহদা বিনতে ফালাহ

স্ত্রী: সারা বিনতে মাশহুর বিন আবদুল আজিজ আল সউদ

পড়াশোনা: আইনে স্নাতক (কিং সউদ ইউনিভার্সিটি)

দায়িত্ব পালন: ক্রাউন প্রিন্স অব সৌদি আরব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, চেয়ারম্যান অব এন্টিকরাপশন কমিটি

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৫৪৭ বার

আপনার মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত