যুক্তরাষ্ট্রে আজ শনিবার, ২০ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 03:22pm

|   লন্ডন - 09:22am

|   নিউইয়র্ক - 04:22am

  সর্বশেষ :

  টাওয়ার হ্যামলেটসকে ‘ট্রাম্পমুক্ত এলাকা’ ঘোষণা : নেতৃত্বে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলর   সিলেটে অর্থমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় ১০ জন আহত   নাইজেরিয়ায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ১২   জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ   রাজশাহীতে প্রথম ফ্লাইওভার নির্মাণের সিদ্ধান্ত   তহবিল সংকটের কারণে ফের শাটডাউনের শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র   ফিলিস্তিনকে সাড়ে ৪ কোটি ডলার খাদ্য সহায়তা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র   নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় জড়িতদের বিচার হবেই : ওবায়দুল কাদের   শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ   হিজাব পরে শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপনে   ক্যান্সার চিকিৎসা গবেষণায় যুগান্তকারী আবিষ্কার   লস এঞ্জেলেসে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত   বাংলাদেশ ডে প্যারেড উপলক্ষে বাফলার ফান্ড রাইজিং অনুষ্ঠিত   ইউরোপে অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরাতে প্রণোদনা দেবে ইইউ   ঢাকায় সাক্ষরতার হার ৭০.৫৪

মূল পাতা   >>   ইসলামী জীবন

ইসলামে ব্যক্তিপূজা হারাম

রুহুল আমীন, নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২৪ ১২:১৭:১১

রুহুল আমীন: গতকাল বিজয় দিবসের এক অনুষ্ঠানে থাকার সৌভাগ্য হয়েছিলো। সেখানে প্রবাসের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করছিলেন। বেশ কয়েক জন মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিতও ছিলেন। আপনাদের সদয় অবগতির জন্য বলছি যে ঐ সময় আমি দাউদকান্দি ও হোমনা এই দুই থানায় প্রধানতঃ মুক্তিযুদ্ধের সংঘটক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলাম। কানাইনগরের মতিন মাষ্টার, মহিষমারির নজরুলসহ অনেকেই ঐ সময় মুক্তির সংগ্রামে বিভিন্নভাবে সক্রিয় ছিলেন। পরে অবশ্য আমিও সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিলাম এবং পাক বাহিনীর সাথে সামনা সামনি যুদ্ধও করেছিলাম। কিন্তু সার্টিফিকেট নেইনি বলে আমি তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হতে পারিনি। অবশ্য আমি হতেও চাইনি। কারণ মুক্তিযুদ্ধ করার জন্য কারো কোন স্বীকৃতি থাকা প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।

সংখ্যা কম হলেও বাংলাদেশে আমার মত বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধা ভাই আছেন। বলাই বাহুল্য যে মুক্তিযুদ্ধ করেছি বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে তৃপ্ত এবং গর্বিত। শুধু তাই নয়, আমি কোনদিনই একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেকে অন্যের কাছে তুলে ধরতে আগ্রহী ছিলাম না। তবে সবাই না জানলেও ঐ সময়কার অনেক মুক্তিযোদ্ধা এবং সংগঠক আমাকে চিনেন এবং জানেন।

যাক বিজয় অনুষ্ঠান উপভোগ করছিলাম। বেশ ভালই লাগছিলো। এক পর্য্যায়ে প্রবাসী এক অধ্যাপিকা বক্তব্য দিতে মঞ্চে উঠলেন। আমরা সবাই করতালি দিয়ে তাকে স্বাগতঃ জানালাম। তিনি  মুক্তযুদ্ধের বর্ণনা দিলেন। ভালই বললেন। উক্ত অধ্যাপিকা তার বক্তব্যের এক পর্য্যায়ে বললেন যে তিনি টিভিতে দেখেছেন যে কোলকাতার কোন এক হিন্দু ব্যক্তি দুই বেলা মোমবাতি জ্বালিয়ে শেখ মুজিবের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অন্যভাবে বলা যায় তাঁর পূজা করেন। অতএব তার মতে আমরা অর্থাৎ বাংলাদেশের সবারই তা করা উচিত। আমরাও যেন হিন্দুদের মত ব্যক্তি পূজা শুরু করি। হিন্দুরা যখন যাকে ইচ্ছা দেবতা বানিয়ে পূজা করতে পারে। তাদের ধর্মে হয়তো এ নিয়ে কোন বাধ্য বাধকতা নেই। অধ্যাপিকা নামে মুসলমান হলেও তিনি নিজে ইচ্ছা করলে ব্যক্তি পূজা করতে পারেন। কেউ তাকে বাধা দিতে পারবে না।

বর্তমান আমেরিকার সংবিধান অনুযায়ী তার সে অধিকার আছে। কিন্তু তিনি অন্য কাউকে ব্যক্তি পূজা করার জন্য  আহ্বান জানাতে পারেন না। অামরা যারা আমেরিকান মুসলমান তারা তার এ বক্তব্যের জন্য তার প্রতি তীব্র ঘৃণা, ক্ষোভ এবং নিন্দা জানাই। তার উচিৎ সবার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া।

ইসলাম ধর্মে ব্যক্তি পূজা  হারাম এবং আমরা যারা এক আল্লাহ্ বিশ্বাস করি তারা এর ঘোর বিরোধী। শুধু তাই নয়, যে সব মুসলমান ব্যক্তি পূজা করেন বা ব্যক্তি পূজা সমর্থন করেন তারা সবাই ইসলামের শত্রু। আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন এবং হেদায়েৎ নসীব করুন। আমরা যেন সব সময় উত্তম কাজের জন্য আদেশ এবং মন্দ কাজের জন্য নিষেধ করে যেতে পারি। আমীন।

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৭৫৯ বার

আপনার মন্তব্য