যুক্তরাষ্ট্রে আজ রবিবার, ১৬ Jun, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 09:47am

|   লন্ডন - 04:47am

|   নিউইয়র্ক - 11:47pm

  সর্বশেষ :

  নিউজিল্যান্ডে উড়োজাহাজের সংঘর্ষে ২ পাইলট নিহত   কী কথা হলো মোদি-ইমরানের?   ঢাকায় বস্তিতে সাড়ে ৬ লাখ মানুষের বাস   দুর্ঘটনায় মৃত্যু নয়, সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা করা হয় : মির্জা ফখরুল   উজবেকিস্তান পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি   মোহাম্মদ বিন সালমানের বোন ফ্রান্সে বিচারের মুখোমুখি   ‘ইমরান খান ধর্মের প্রতি আন্তরিক’   দুর্নীতি ও অর্থ পাচার নিয়ে সংসদে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ   প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাবুনগরীর প্রতিবাদ   চট্টগ্রামে ১০ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশের এসআই আটক   নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন ক্রাইস্টচার্চে হামলাকারী   ওমান উপসাগরে ট্যাংকারে হামলায় ইরান দায়ী: মার্কিন সামরিক বাহিনী   আবারও সৌদি বিমানবন্দরে হুতিদের হামলা   ঋণনির্ভর বাজেট জনগণের পকেট কাটবে: ফখরুল   প্রয়োজনেই বড় বাজেট: প্রধানমন্ত্রী

মূল পাতা   >>   লস এঞ্জেলেস

বাফলার উদ্যোগে বিজয় দিবসের আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-১২-১৮ ১৫:২৭:৩৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলেসে বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেছে ‘বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস এঞ্জেলেস (বাফলা)’। মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করে প্রতিবারের ন্যায় এবারও এই  অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংগঠনটি।
১৫ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় বাফলার নিজস্ব কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রবাসী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রবাসীরা অংশ নেন। 
বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাফলার প্রেসিডেন্ট নজরুল আলম। তিনি তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতা যুদ্ধের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানী, জাতীয় চার নেতা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ সকল বীর শহীদদের স্মরণ করে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং জীবিত সকল মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।  
তিনি বলেন, যেসব মুক্তিযোদ্ধা তাদের জীবন বিলিয়ে দিয়ে আমাদের জন্য একটি দেশ, একটি লাল-সবুজের পতাকা দিয়ে গেছেন। তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার শেষ নেই। তারা দেশটি স্বাধীন করেছিলেন বলেই আজ আমরা আমেরিকার মাটিতে এসে নিজেদের একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে পরিচয় দিতে পারছি। এর চেয়ে গর্বের আর কী হতে পারে? আজকের এই দিনটি তাদের জন্য উৎসর্গকৃত। আমাদের সবার উচিত জীবিত সব মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান জানানো। তাদের ঋণ আমরা শোধ করতে পারব না কিন্তু তাদের ভালোভাবে বেঁচে থাকাটা অন্তত আমরা নিশ্চিত করতে পারি। 


বাফলার সেক্রেটারি জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার শহিদ আলমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাফলার সাবেক প্রেসিডেন্ট  শিপার চৌধুরী,  ডা. আবুল হাসেম, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান, বাফলার সাবেক জেনারেল সেক্রেটারি ইলিয়াস শিকদার, সহিত্যিক কানিজ রাশিদা, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদুজ্জামান বাচ্চু, ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির (একাংশ) সেক্রেটারি বদরুল চৌধুরী শিপলু, কবি হানিফ সিদ্দিকী, বাফলার ভাইস প্রেসিডেন্ট মুর্শেদুল ইসলাম, লে. (অব.) জিয়া, কর্নেল (অব.) ওমর হুদা, জালাবাদের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহতাব আহমদ ও আনন্দমেলার প্রধান উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।
শিপর চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমরা একটি গর্বিত জাতি যে, মাত্র ৯ মাসে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। তবে এই ৯ মাসেও আমাদের বিরাট রক্ত-ঘাম্ দিতে হয়েছে। অসংখ্য মা-বোনের ইজ্জত দিতে হয়েছে। অনেক ত্যাগের এই স্বাধীনতা। মুক্তিযোদ্ধারা একটি স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। সেই স্বপ্ন ছিল, একটি সুখী-সমৃদ্ধশালী, হানাহানি ও বৈষম্যমুক্ত দেশ। কিন্তু আজ বিজয়ের ৪৭ বছর পরও কি আমরা প্রকৃত বিজয় পেয়েছি? প্রকৃত স্বাধীনত পেয়েছি? মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন কি পূরণ হয়েছে?
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশ  একটি সংঘাতের দেশ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। এই বাংলাদেশ কি বঙ্গবন্ধুও চেয়েছিলেন? এই হানাহানি, বিভেদ-অনৈক্য তো কেউ চায়নি। 
তিনি একটি ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, একবার বঙ্গবন্ধুর সাথে আওয়ামীলীগের এক বড় নেতার বিরুধ সৃষ্টি হলো, বঙ্গবন্ধু তাকে ডেকে বুকে বুক মিলিয়ে সমস্যা সমাধান করে নিলেন। অথচ আজ সেই বঙ্গবন্ধুর দলের সরকার সামান্য মতের অমিল পেলেই মানুষকে ঘুম করে ফেলছে, খুন করে ফেলছে! এই অবস্থার অবসান জরুরি। 
তিনি বলেন, আমরা প্রবাসীরা সবসময় দেশ নিয়ে ভাবি। দেশে টাকা পাঠাই। সেই টাকায় দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়। আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ। যেখানে সব দলের-সব মতের মানুষ স্বাধীনভাবে বাস করতে পারবে। তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে।
সহিত্যিক কানিজ রাশিদা তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমাদের নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযোদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। বর্তমানে যেভাবে ইতিহাসের বিকৃতি হচ্ছে এতে পরবর্তী প্রজন্ম ইতিহাস জানতে পারবে না। নতুন প্রজন্মের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধে আমাদের পূর্ববর্তীদের বীরত্বের কাহিনী শোনাতে হবে। তাহলে তারা দেশের প্রতি আরও আকৃষ্ট হবে। দেশকে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হবে। 
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কাজী মাশহুরুল হুদা ও হানিফ সিদ্দিকী।
গান পরিবেশন করেন উপমা সাহা ও বাফলার সেক্রেটারি জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার শহিদ আলম।

এলএবাংলাটাইমস/এলএ/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ১৪১২ বার

আপনার মন্তব্য