যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 07:27am

|   লন্ডন - 01:27am

|   নিউইয়র্ক - 08:27pm

  সর্বশেষ :

  সিরিয়ায় সরকারি বাহিনীর বিমান হামলা, নিহত ৯৪   রাশিয়ার চার্চে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৫   তৃতীয়বারের মতো বিয়ে করলেন ইমরান খান   পুরুষের অনুমতি ছাড়া ব্যবসা করতে পারবে সৌদি নারীরা   ভারতে ট্রাম্পের নাম ভেঙ্গে ফ্ল্যাট বিক্রি   ইরানে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান   বিএনপি নির্বাচনে না এলে কিছু করার নেই : সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী   রায়ের কপি পেলেন খালেদার আইনজীবীরা, জামিন আবেদন কাল   কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ ইনকের শীত বস্ত্র বিতরণ   ইতালীতে দু’টি শহীদ মিনারেরই বেহাল অবস্থা   ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেত্রী জয়া আহসান   স্কুলে বন্ধুক হামলার ঘটনায় এফবিআইয়ের কড়া সমালোচনা ট্রাম্পের   ডিসেম্বর নয়, আজকেই অবসরে যান : মুহিতকে বাবলু   নো-ম্যান্স ল্যান্ডে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার প্রস্তুতি মিয়ানমারের!   বাংলাদেশ থেকে কার্গো পরিবহনে বাধা তুলে নিল যুক্তরাজ্য

মূল পাতা   >>   লস এঞ্জেলেস

লস এঞ্জেলেসে অর্থমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ‘কাউয়া ঢুকেছে!’ চলছে কলমযুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৭-১১-০৬ ১৪:৫৫:৪৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিরোনাম দেখে কেউ হয়ত চমকে উঠবেন। কেউ বা বলবেন, এটা কোনো শিরোনাম হলো? কেউ হয়ত প্রতিবেদনের পুরোটা পড়তে চাইবেন। আবার কেউ না বুঝেই শেয়ার করে ফেলবেন! কারও মনে নানা প্রশ্ন দেখা দেবে। ব্যাপক কৌতুল জাগবে মনে। চলুন এবার বিস্তারিত জেনে নেই ব্যাপারটা কী?

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘কাউয়া’ শব্দটি ব্যাপক আলোচিত। সিলেটে এক জনসভায় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ‘আওয়ামীলীগে কাউয়া ঢুকেছে’ বলে মন্তব্য করার পর শব্দটি আলোচনায় আসে। বিশেষ করে আওয়ামীলীগের গ্রুপিং দ্বন্দ্বের ব্যাপারে শব্দটি বেশ আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি লস এঞ্জেলেসে ত্রিধাবিভক্ত আওয়ামীলীগের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দেখে মনে হচ্ছে এখানেও ‘কাউয়া ঢুকেছে!’

লস এঞ্জেলেসে আওয়ামীলীগের গ্রুপিং দ্বন্দ্ব নতুন নয়। সম্প্রতি দুই মন্ত্রীর সফরকে ঘিরে তা আরও প্রকট হয়। গত ১১ অক্টোবর ‘এলএ বাংলাটাইমস’এ “২ মন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে লস এঞ্জেলেসে আওয়ামী শিবিরে উত্তেজনা, তীর কন্সাল জেনারেলের দিকে” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যার একটু প্রতিফলন ঘটে গত ১৮ অক্টোবর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি-এর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।

অর্থমন্ত্রীর লস এঞ্জেলেস সফরের সংবাদ শুনে স্থানীয় আওয়ামীলীগ, বাফলা ও জালালাবাদ সংবর্ধনার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের ৩ গ্রুপের দ্বন্দ্বের কারণে এ নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তাই মন্ত্রী সংবর্ধনা বাতিল করেন। তখন সিলেটি প্রবাসীদের সংগঠন হিসেবে জালালাবাদ মন্ত্রীকে সংবর্ধনায় রাজি করানোর পর আওয়ামীলীগের এক গ্রুপ থেকে মন্ত্রীর কাছে খবর দেওয়া হয় যে, জালালাবাদ বিএনপি পন্থী। এমনকি আওয়ামীলীগের কেউ কেউ জালালাবাদের সংবর্ধনা নিয়ে রক্ত বন্যা বইয়ে দেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দেন। তখন জালালাবাদ কর্তৃপক্ষ জরুরি মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেন, উপদেষ্টা পরিষদ সান দিয়াগো বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে মন্ত্রীর ভুল ভাঙান। এতে নেতৃত্ব দেন শফিকুর রহমান, সালিক সুবহান, লুকু চৌধুরী ও প্রেসিডেন্ট আনোয়ার হোসেন রানাসহ জালালাবাদের কেবিনেট। তখন মন্ত্রী সংবর্ধনায় রাজি হন।
তখন আওয়ামীলীগের সভাপতি শফিকুর রহমান গ্রুপ, সেক্রেটারি ড. রবি আলম গ্রুপ ও অপর গ্রুপের পক্ষ থেকে নেতৃবৃন্দকে মঞ্চে তোলার দাবি করা হয়।

এ নিয়ে সোমবার রাতে এক জরুরি মিটিং ঢাকা হয় জালালাবাদের পক্ষ থেকে। এতে উপস্থিত ছিলেন ৩ উপদেষ্টা শফিকুর রহমান, সালিক সুবহান ও লুকু চৌধুরী, জালালাবাদের কেবিনেট এবং সদস্যবৃন্দ। সবার সম্মতিতে পরেরদিনের অনুষ্ঠানের কার্যসূচি নির্ধারিত হয়। এতে বলা হয়, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে। আবুল মাল আব্দুল মোহিত একজন সিলেটের কৃতি পুরুষ হিসেবে তাকে আমার সংর্বধনা দেব।  যেহেতু এই বিষয় নিয়ে আওয়ামীলীগের গ্রুপিং দ্বন্দ্ব চরমে রয়েছে এজন্য রাজনৈতিক পরিচয় প্রদান করলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। যেহেতু ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারির দুই গ্রুপ বিদ্যমান। তাই সিদ্ধান্ত হয়, কেউ রাজনৈতিক পরিচয় দিতে পারবেন না। যিনি বক্তব্য দেবেন তিনি শুধু জালালাবাদের পরিচয় দেবেন। সবার সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।  

অনুষ্ঠানে শুরুর পর ক্যালিফোর্নিয়া স্টেইট আওয়ামীলীগের সভাপতি শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, আমি এখানে দুটি পরিচয় নিয়ে এসেছি; জালালাবাদের উপদেষ্টার পাশাপাশি আওয়ামীলীগের সভাপতিও। তখন আরেক উপদেষ্টা তার মাইক নিয়ে কেড়ে নেন। এতে উপস্থিতিদের মধ্যে চরম উত্তেজনা শুরু হয়। হাতাহাতিও হয়। পরে জালালাবাদের নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে সিকিউরিটির সাথে ভুল বুঝাবুঝি নিয়ে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রোগ্রাম পন্ড হয়ে যায়।

মন্ত্রীর সংবর্ধনার পর কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এই ঘটনা নিয়ে। এখনও চলছে পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপের পক্ষ থেকে তুমুল কলম যুদ্ধ এখনও অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকায় বিভিন্ন শিরোনামে নিউজ হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এমন কিছুই নেই। কেউ কেউ এটাকে পূঁজি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছেন।

প্রশ্ন আসছে, এলএ বাংলাটাইমস কেন এই অনুষ্ঠানের নিউজ কাভারেজ করেনি? এতে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, এটি একটি নেতিবাচক সংবাদ। যা প্রচার করলে আমাদের লস এঞ্জেলেস কমিউনিটির ভাবমুর্তি নষ্ট হবে। তাই এলএ বাংলাটাইমস এই সংবাদ প্রচার করেনি।

আমরা জানি, ‘লস এঞ্জেলেসে অর্থমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে দফায় দফায় হাতাহাতি’ এরকম একটি শিরোনাম দিয়ে আকর্ষষণীয় নিউজ করলে আমাদের অনেক ভিউওয়ার বাড়ত। অনেক শেয়ার হতো। কিন্তু ফলশ্রুতিতে কমিউনিটির ভাবমুর্তি প্রশ্নবিদ্ধ্ হতো। এমন নেতিবাচক সংবাদ দেশ-বিদেশে প্রচারের কোনো মানে হয় না। তাই এলএ বাংলা এই সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকে।

আমরা দেখেছি, এই ঘটনার পর অনেকে বিভিন্নভাবে নিউজ করেছে। অনেক তীর্যক মন্তব্য প্রচার করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি হচ্ছে। এমনটি আমরা প্রায়ই দেখি। কিছু ব্যক্তি আছে, যারা কমিউনিটির কোনো নেতিবাচক দিক পেলে বিভিন্ন চটকদার শিরোনামে নিউজ করে।
 
জালালাবাদের অনুষ্ঠান নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এটা জামাত-শিবিরের মানুষ করেছে, মুনা-বিএনপির মানুষ করেছে। আচ্ছা তর্কের খাতিরে যদি মেনেও নেই যে এটা সরকার বিরোধী লোক করেছে তাহলে আরেকটা প্রশ্ন পাল্টা করা যায়, বর্তমান সরকারকে একটি অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকার মনে করে বিএনপি-জামাত। সেই সরকারের মন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে কেনো এত সাধ জাগলো বিএনপি-জামাতের লোকদের?

আরেকটি অভিযোগ করা হয়, অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর নাম নেওয়া হয়নি। এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আসলে আমাদের মনে রাখা উচিৎ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির জনক। বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু মানে স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধু মানে লাল সবুজের পতাকা। বঙ্গবন্ধুর নাম সবার উর্ধ্বে। বঙ্গবন্ধুকে বিতর্কের উর্ধ্বে রেখেই আমাদের যেকোনো অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন করা উচিৎ।

বাস্তবতা হচ্ছে, বাফলা কিংবা জালালাবাদ সবাই দেশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এরা সবসময়ই জাতীয় ইস্যুতে অংশগ্রহণ করে। এই তো মাত্র ক’দিন আগে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে বাফলার প্রেসিডেন্ট কন্সুলেট অফিসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তিনি তো আমাদের জানা মতে একজন স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির সমর্থক।

আসলে লস এঞ্জেলেস কমিউনিটিতে একটা রেওয়াজ শুরু হয়েছে, কিছু হলেই বাফলার উপর এসে যায়। অথচ বাফলার মতো সামাজিক কর্মকাণ্ড করে আরো কেউ কি দেখাতে পারবে? দেশে-বিদেশে বাফলা যে সামাজিক ও চ্যারিটির কাজ করছে তা কি আর কেউ করেছে? সম্প্রতি বাফলা দেশে দুই যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাকে পুনর্বাসন সহায়তা বাবৎ প্রায় ৫ লাখ টাকা প্রদান  করেছে, কমিউনিটির জন্য ১০টি করব ক্রয় করেছে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্বচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ প্রদান করছে বাফলা, মাত্র ক’দিন আগে কমিউনটির চাকুরী প্রত্যাশীদের নিয়ে একটি ক্যারিয়ার বিষয়ক কর্মশালা করেছে। এভাবে বাফলা নানা সামাজিক ও উন্নয়মূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে, যা সবারই জানা। বিরোধীতাকারীদের তো এমন কাজের সামর্থ আছে কি না- তা ভেবে সমালোচনা করা উচিৎ।

আসলে অন্যের সমালোচনা করা যত সহজ, কাজ করা তত কঠিন। লস এঞ্জেলেস কমিউনিটিতে  এখন তা-ই চর্চা হচ্ছে। কোনো একটা অনুষ্ঠানের পরই অনেকে ফেইসবুকে বড় বড় পোস্ট করে, কমেন্ট করে। সমালোচনা করেন। বাস্তবে এরা কাজের বেলায় জিরো।


এলএবাংলাটাইমস/এলএ/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ১৮৯৬ বার

আপনার মন্তব্য