যুক্তরাষ্ট্রে আজ শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 06:34pm

|   লন্ডন - 01:34pm

|   নিউইয়র্ক - 08:34am

  সর্বশেষ :

  নিউইয়র্কে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা   লন্ডনে বিক্ষোভের মুখে মোদি   কোটা সংস্কার আন্দোলন: ঢাবি ক্যাম্পাসজুড়ে ভীতি   কোচিং ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে পদত্যাগ করলেন ছাত্রলীগ নেতা রনি   খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারলেন না বিএনপি নেতারা   প্রবাসীদের ভোটাধিকার দিতে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে: সিইসি   ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, ধসে পড়েছে শতাধিক বাড়িঘর   সৌদিতে সিনেমা হল উদ্বোধন   কিমের সঙ্গে আলোচনা সফল না হলে পদত্যাগ : আবেকে ট্রাম্প   টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় শেখ হাসিনা   বিশ্বের ৯৫ শতাংশ মানুষ দূষিত বায়ু গ্রহণ করছে   বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভারত   আরবদের বিরুদ্ধে আরবেদরই কাজে লাগাতে চাইছেন ট্রাম্প   বিসিবির চুক্তি থেকে বাদ সৌম্য-তাসকিন-সাব্বির   সৌদিতে আবার সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সাত বাংলাদেশির মৃত্যু

মূল পাতা   >>   লস এঞ্জেলেস

কন্সাল জেনারেলের অনুপস্থিতিতে লস এঞ্জেলেসে বিজয় বহর

নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৭-১২-২১ ১৫:১৬:২৯

নিজস্ব প্রতিবেদন: বাংলাদেশের ৪৬তম বিজয় দিবস উপলক্ষে ৭ম বারের মতো বিশাল বিজয় বহর ও মোটর শোভাযাত্রা করল লস এঞ্জেলেসের বাংলাদেশি প্রবাসীরা। জাকজমকপূর্ণ শতাধিক গাড়ির এই বহরে অংশ নেন বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ও তরুণ-বৃদ্ধ, ‍মুক্তিযোদ্ধাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। লাল-সবুজের পতাকা হাতে লাল-সবুজ রঙের পাঞ্জাবী-শাড়ি, সাথে নানা ধরণের প্ল্যাকার্ডে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করেন প্রবাসীরা। গত রবিবার লস এঞ্জেলেসের লিটল বাংলাদেশ এলাকায় এই শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের শোভাযাত্রাটি অাগের সব বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। অন্য সব বছরের তুলনায় এবারের আয়োজনে সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি ছিল। 
 
শোভাযাত্রায় অংশ নেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান ও সিটি কাউন্সিল প্রেসিডেন্টসহ বিশিষ্টজনেরা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে শ্যাটো রিক্রিয়েশন সেন্টারের সামনে জড়ো হতে থাকেন নারী-পুরুষ, তরুণ-শিশুসহ সব বয়সের প্রবাসীরা। সবার হাতে ছিল বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা এবং রং বেরঙের ফেস্টুন-প্ল্যাকার্ড। বেশির ভাগের পরণে ছিল লাল-সবুজ রঙের পোষাক।

উপস্থিতি বাড়ার সাথে সাথে সবাই সারিবদ্ধভাবে গাড়িগুলো রাস্তায় দাঁড় করাতে থাকেন। দুপুর ১২টায় উদ্বোধনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের এই পর্ব পরিচালানায় ছিলেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মুজিব সিদ্দিকী। এসময় তিনি সবাইকে শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান। বিজয় বহরে উপস্থিত হওয়ার জন্য সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস ওম্যান জুডি চু, কংগ্র্যাসম্যান জিমি গোমেজ, এলএ কাউন্সিল মেম্বার মিচ ও ফারেল, এলএ কাউন্টির চিফ অব ফায়ার, কোরিয়ান কমিউনিটির নেতা কমিশনার চেংলি ও ইলাইনিলি, শাহজাহান চৌধুরী, লিন্ডা ল্যকুড।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি কঠিন সময় পার করে মহান বিজয় ও স্বাধীনতা অর্জন করেছে। আজ এই বিজয়ের উদযাপন নিঃসন্দেহে অনেক আনন্দের। আমরাও বাংলাদেশিদের এমন আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আনন্দিত। বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রশংসা করে তারা বলেন,  লিটল বাংলাদেশ কমিউনিটি আসলে ‘লিটল’ নয়, এটি দিনদিন ‘বিগার’ হচ্ছে। দিনদিন এর ব্যপ্তি বাড়ছে। এখানকার বাংলাদেশ কমিউনিটি একটি শক্তিশালী কমিউনিটিতে পরিণত হয়েছে।

শোভাযাত্রা উপলক্ষে লস এঞ্জেলেস ট্রাফিক বিভাগ ঐ এলাকার রাস্তা বন্ধ করে দেয়, শুধু শোভাযাত্রার গাড়ি চলালচল করে। এরপর দুপুর ২টায় ফিতা কেটে ও পায়রা উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন এলএ সিটি কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট ও প্যারেড মার্শাল হার্ব জে উয়েসন। এরপর  প্যারেড কমান্ডার ছিলেন মেজর সাইফ কুতুবী তার অনুমতি নিয়ে প্যারেড শুরু করেন। গাড়ির বহরটি পুরো লিটল বাংলাদেশ এলাকা ঘুরে আবার শ্যাটো রিক্রিয়েশন সেন্টারে এসে শেষ হয়। প্যারেড চলাকালে বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা রাস্তায় পাশে দাঁড়িয়ে প্যারেডকে স্বাগত জানান।

মোটর শোভাযাত্রার বিশেষ আকর্ষণ ছিল আমেরিকার দামি ব্র্যান্ডের ১০/১২টি মোটরসাইকেল। যার নেতৃত্বে ছিলেন বিডি মোটরিস্ট মেহেদী হাসান। যেগুলো প্যারেডের সামনে অবস্থান করে। বহরে আরও আকর্ষণ ছিল ব্রান্ড নিউ ১০টা জিপ। যা স্পন্সর করে এলএ ভিলেজ।

ইংল্যান্ড ইম্পেয়ার এলাকা থেকে বিশাল একটি বহর নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন ‘চন্দ্রবিন্দ’ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 

শোভাযাত্রায় কন্সাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহা উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি আসেনি। তার বদলে কমার্শিয়াল কন্সাল আল মামুনকে পাঠান।কন্সাল জেনারেল উপস্থিত না হওয়ায় প্রবাসীরা ক্ষোব্ধ হন। এব্যাপারে এলএ বাংলাটাইমস থেকে কন্সাল জেনারেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুজন প্রতিনিধি লস এঞ্জেলেসে থাকায় তাদের প্রটোকলে ব্যস্ত ছিলাম, তাই এই বিজয় শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারিনি।’ এছাড়াও আমন্ত্রিত হয়ে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এর আসার কথা থাকলেও তিনি আসেন নি। তবে তিনি বিজয় বহরের উদ্দেশ্যে একটি ভিডিও বার্তা পাঠান।

এবারের শোভাযাত্রায় আরও অংশ নেন কোরিয়ান কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ। তারাও বাংলাদেশের  এমন আয়োজনে অভিভূত হন। তারা বলেন, আমরা সবসময় বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকব।

এরপর আয়োজকদের পক্ষ থেকে লাঞ্চ পরিবেশন করা হয়।

বিকেল ৬টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিজয় বহর আয়োজক কমিটির বিগত দিনের বিভিন্ন কার্যক্রমের উপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর দায়িত্বে ছিলেন মিকায়েল খান রাসেল। এরপর জাতীয় কণ্ঠশিল্পী মিতালী কাজলসহ স্থানীয় শিল্পীরা গান পরিবেশন করে। বিশেষ করে স্থানীয় ব্যান্ড ‘স্বরাজ’-এর পরিবেশনা সবাইকে মুগ্ধ করে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীতের পাশাপাশি বাংলাদেশি আমেরিকান নতুন প্রজন্মের শিশুরা গান, কবিতা ও অভিনয় পরিবশেন করে। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থান করেন জনপ্রিয় উপস্থাপক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মিঠুন চৌধুরী এবং মডেল কন্যা সাদিয়া হক মিমি। অনুষ্ঠান চলাকালে শ্যাটো সেন্টার কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
 
বিজয় বহর উপলক্ষে বিভিন্ন মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।


এলএবাংলাটাইমস/এল/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ২৮১০ বার

আপনার মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক খবর