যুক্তরাষ্ট্রে আজ রবিবার, ১৯ অগাস্ট, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 05:59pm

|   লন্ডন - 12:59pm

|   নিউইয়র্ক - 07:59am

  সর্বশেষ :

  স্তন্যপান করিয়ে বিপন্ন শিশুকে বাঁচালেন আর্জেন্টিনার পুলিশ কর্মকর্তা   হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু   সরকার কোনো আন্দোলনকে দানা বেঁধে উঠতে দেবে না : এরশাদ   বিয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন প্রিয়াঙ্কা-নিক   ফিলিস্তিনিদের ঘরে ফেরার আন্দোলনে নিহত ১৬৬   প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ইমরান খান   ফাইনালে পারল না বাংলাদেশি মেয়েরা   মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে : নাসিম   জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান আর নেই   সবচেয়ে বেশি আয় স্কারলেট জোহানসনের   শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার দাবি ড. কামালের   ছাত্র আন্দোলনে ‘গুজব’ ছড়ানোর অভিযোগে কফিশপের মালিক ফারিয়া রিমান্ডে   এবার ট্রাম্পের পুত্রবধূর বিরুদ্ধে অভিযোগ   যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন!   হ্যান্ডশেক না করা সেই সুইডিশ তরুণী মামলায় জিতলেন

মূল পাতা   >>   স্বদেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের গাফিলতি পেলে দায় সরকারের : অর্থ প্রতিমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-১৮ ০৮:০১:২৮

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা সোনার হেরফের নিয়ে অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, জনগণের সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সামান্য গাফিলতি পেলে সে দায় সরকারের। ‘বিষয়টিকে আমরা ছোট করে দেখছি না। সামান্য ফাঁক-ফোকড় দিয়ে বড় ঘটনা ঘটতে পারে। এতে ব্যাংকের কারও গাফিলতি পেলে সে দায় সরকারকে নিতে হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা স্বর্ণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ গভর্নর ফজলে কবির ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বুধবার (১৮ জুলাই) সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিদেশে থাকায় প্রতিমন্ত্রী বুধবার ‘জরুরি’ এই বৈঠক ডাকেন।

তিনি বলেন, পত্রিকায় যে মাত্রায় অনিয়মের খবর এসেছে, ঠিক ওই মাত্রায় কোনো হেরফের হয়নি। হয়ে থাকলেও সামান্য কিছু হয়েছে। আমলাতান্ত্রিক গাফিলতির কারণে সামান্য কিছু হেরফের হয়ে থাকলেও হতে পারে। আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। আরও পর্যালোচনা করে দেখব। যদি কারও কোনো গাফিলতি থাকে তাহলে নিশ্চই তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ভয় পাবার কিছু নেই। ব্যাংকের স্বর্ণ ব্যাংকেই আছে। বাইরে যায়নি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় আশ্বস্ত হয়েছে, যে মাত্রায় পরিবেশিত হয়েছে তা সঠিক নয়, অনেক বড় মাত্রায় এটি এসেছে দুনিয়া কাপাঁনো মাত্রায় আমাদের দেশের জন্য। এটি সঠিক নয়। আমাকে তারা আশ্বস্ত করেছেন এ সম্পর্কে ভয়ের কোনও ব্যাপার নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআর এর প্রধান কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে।

এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার (১৭জুলাই) বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রেস কনফারেন্স করেছে। আপনারা (সাংবাদিকরা) তা ছেপেছেন। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত যে সন্দেহ ছিল, ভিতি ছিল তা কমে এসেছে। তবে সংবাদপত্রে বিষয়টি নিয়ে যে মাত্রায় ছাপা হয়েছে তা সঠিক নয়।’

এমএ মান্নান বলেন, ‘কাজ করলে কিছু ধারণাগত বা জ্ঞানগত ফারাক সৃষ্টি হতে পারে। সব সোনা ঠিক আছে। ঘরেই আছে। এ সম্পর্কে পরিষ্কার হয়ে গেছি আমরা উভয়ে বসছি আরও বসবো, যে পরিমাণের কথা বলা হয়েছে ৯৬৩ কেজি নাকি। তা মোটেই ঠিক নয়। সব সোনা ঠিক আছে, ঘরেই আছে, জনগন বা যে কোন সংস্থা গিয়ে দেখেতে পারে বাংলাদেশে ব্যাংকের দরজা খোলা আছে। ৪০ আর ৮০ নিয়ে ভুল হতেই পারে। আগে সোনা মাপা হতো মান্ধাতার আমলের নিক্তি দিয়ে। এখন আধুনিক পরিমাপক দিয়ে মাপা হয়। তাতেদশমিক ০০০০১ কম-বেশি হয়।’

মন্ত্রী বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী দেশে ফিরলে বিষয়টি সম্ভাব্য সব উপায়ে ক্ষতিয়ে দেখা হবে। জনগণের সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সামান্য গাফিলতির কারণে যদি কিছু ঘটে থাকে তবে সে দায় সরকারের। সরকার সবব্যবস্থা করবে।’

গত দুই বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এনবিআর এর চিঠি চালাচালি হওয়া সত্ত্বেও এ ধরণের ঘটনা কেন ঘটল সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক গাফিলতি আছে, লিখিত চিঠির জবাবএসেছে দেড় মাস পর। আমরা হোল সিস্টেম রিভিউ করবো। সামান্য গাফিলতি পেলেও আইনগতভাবে শাস্তির ব্যবস্থা করবো।’ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ বিষয়টি পর্যালোচনা-পর্যবেক্ষণ করে দেখা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি জেনেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। মুখ্য সচিবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।’ তাবে কী কথা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি তা জানানি।

বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমান, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শহিদুল ইসলাম, এনবিআরের সদস্য কালিপদ হালদারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক রবিউল হাসান জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্ট থেকে সোনা গায়েবের ঘটনা সত্য নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ভল্টেরক্ষিত সোনায় কোনও ধরনের হেরফের হয়নি। জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে নথিভুক্ত করার সময়। শুল্ক গোয়েন্দারা যেভাবে ভল্টে সোনা রেখেছিল, তা সেভাবেই রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে ছয় স্তরের কঠোরনিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি গভর্নরকে ও সেখানে প্রবেশ করতে যথাযথ অনুমতি নিতে হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ এখানে প্রবেশ করতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ত্রুটি বলতে যা আছে, নথিভুক্ত করার সময় ইংরেজি-বাংলার ভুল। এর বাইরে অন্য ত্রুটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নেই। ২২ ক্যারেটের জায়গায় ১৮ ক্যারেট হওয়ার বিষয়টি দু’টিভিন্ন যন্ত্রে পরিমাপের কারণে হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দারা যখন সোনা জমা রাখেন, তখন হয়তো তাদের মেশিনে ২২ ক্যারেট দেখিয়েছিল, কিন্তু আমাদের মেশিনে সেটি ১৮ ক্যারেটই হয়েছিল। চিঠি দিয়ে বিষয়টি শুল্কগোয়েন্দা বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ভূতুড়ে কাণ্ড’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৪১৪ বার

আপনার মন্তব্য