যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 10:26am

|   লন্ডন - 05:26am

|   নিউইয়র্ক - 12:26am

  সর্বশেষ :

  আইসিসি মিয়ানমারে এলে বন্দুক ধরবো : উইরাথু   ২০ বছর পর পার্লামেন্টে ফিরলেন আনোয়ার ইব্রাহিম   নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি সৌদির   চার দিনের সফরে সৌদি আরব যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী   একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ৭০০ কোটি টাকা অনুমোদন   খাশোগি নিখোঁজের ‘বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত’ চায় যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-জার্মানি   গ্রামের একটি তৃণমূল বীরের বাদ্যযন্ত্র নিয়ে কাহিনী   অনুভবে নজরুল: জ্যাকসন হাইটসে শতদলের মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান   হলিউডে দুর্গাপূজা আগামী ১৯, ২০ ও ২১ অক্টোবর   প্র‌তিভার সন্ধা‌নে ইতা‌লীতে শুরু হ‌চ্ছে দি রাইজিং স্টার   এবার মুম্বাইয়ে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান   ড. ইউনুসের কারণে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করেনি বিশ্বব্যাংক : শেখ হাসিনা   অবশেষে বিএনপিকে নিয়ে ‘জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট’র আত্মপ্রকাশ, বিকল্পধারা আউট   খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেও বিচার চলবে   চট্টগ্রামে পাহাড় ও দেয়াল ধসে ৪ জনের মৃত্যু

মূল পাতা   >>   স্বদেশ

বড়পুকুরিয়ার এক লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা ‘গায়েব’, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্র

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-২১ ০৭:১৫:২৬

নিউজ ডেস্ক: দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে তোলা এক লাখ ৪২ হাজার টন কয়লার কোনো হদিস মিলছে না।  বর্তমান বাজার দওে ২২৭ কোটি টাকার কয়লা এখন মজুদ থাকার কথা থাকলেও পরিদর্শন করে তার কিছুই পাওয়া যায়নি।
কয়লা কী হয়েছে, সে বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারছেন ন।  খনি প্রকল্পের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দায়িত্বে অবহেলার জন্য এই চারজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।

নথিপত্রের হিসাব অনুযায়ী, খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা যেখানে স্তূপ করে রাখা হয়, সেখানে মজুদ ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা। অথচ সেখানে এখন এক টন কয়লাও নেই বলে জানান কোম্পানির আরেকজন মহাব্যবস্থাপক।

প্রতি টন কয়লার বর্তমান বাজার মূল্য ১৬ হাজার টাকা। সেই হিসাবে, হদিস নেই ২২৭ কোটি টাকার কয়লার ।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সংলগ্ন কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে চালাতে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হয়। কিন্তু কয়লা সংকটের কারণে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটিতে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটিতে এখন আংশিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছে। অপর ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটিও পূর্ণ শক্তিতে চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সদস্য আবু সাঈদ কয়লা খনি এলাকা গত সোমবার পরিদর্শনে যাওয়ার পর কয়লা গায়েব হওয়ার কথা প্রথমে ধরা পরে।

এই ঘটনায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির (বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও একজন মহাব্যবস্থাপককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেই সাথে আরও একজন মহাব্যবস্থাপক ও উপ-মহাব্যবস্থাপককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে কয়লা খনি কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি তদন্তে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) কামরুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্ল্যানিং) আইয়ুব খান চৌধুরীকে বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে বিসিএমসিএলর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

কয়লা খনি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দিন আহমদকে অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) করে পেট্রোবাংলায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত বছর এপ্রিল মাসে তাকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।

কোম্পানি সেক্রেটারি ও মহাব্যবস্থাপক আবুল কাশেম প্রধানিয়াকে তাৎক্ষণিক বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করে সিরাজগঞ্জে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানিতে পাঠানো হয়েছে।

সাময়িক বরখাস্তকৃত কর্মকর্তারা হলেন, খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) আবু তাহের মো. নূর-উজ-জামান এবং উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) খালেদুল ইসলাম।
এদিকে কয়লার মজুদ না থাকায় এ সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ হতে যাচ্ছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাচালিত তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। এতে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতির আশঙ্কা করছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।

পিডিবি জানায়, কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তিনটি ইউনিট একসঙ্গে চালানো হলে প্রতিদিন পাঁচ হাজার মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন। এখন একটি ইউনিট সংস্কারের জন্য বন্ধ থাকায় প্রতিদিন চার হাজার মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু সব মিলিয়ে বড়পুকুরিয়ায় যে কয়লার মজুদ রয়েছে, তাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কম লোডে চালানো হলেও একসপ্তাহের বেশি চলবে না।

পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ বলেছেন, কয়লা চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি সংকটে পড়তে যাচ্ছে। তবে বিদ্যুতের যেন কোনও সমস্যা না হয়, সেজন্য অন্য কেন্দ্র চালিয়ে সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

পিডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোয় বগুড়া থেকে কিছু বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব। তবে তা দিয়ে পুরো উত্তরাঞ্চলের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।

ওদিকে, সরকার প্রতিবেশী দেশ থেকে কম দামে বিদ্যুৎ আমদানিতেই এখন বেশি জোর দিচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগকে নেপাল ও ভুটানের জলবিদ্যুতে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করার জন্য ইতোমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভারত থেকে এখন প্রতিদিন ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। এর বাইরে আরও ৫০০ মেগাওয়াট আমদানির চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ আশা প্রকাশ করে বলেন, ভারতের কাছ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে সহসা চুক্তি করতে পারবো। তিনি বলেন, এনবিআরের অভিমতের অপেক্ষায় রয়েছি।

এদিকে বর্তমানে, দেশের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বেশি দরে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে। পিডিবি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত দুই অর্থ বছরে দেশে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছ থেকে যথাক্রমে (২০১৫-১৬) ১১ দশমিক ৬৭ টাকা এবং (২০১৬-১৭) ১১ দশমিক ২৩ টাকায় বিদ্যুৎ কিনেছে।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৯০১ বার

আপনার মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক খবর