যুক্তরাষ্ট্রে আজ রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 03:16pm

|   লন্ডন - 09:16am

|   নিউইয়র্ক - 04:16am

  সর্বশেষ :

  কক্সবাজারে বিএনপি প্রার্থীর গাড়িতে গুলি, শতাধিক আহত   বিএনপি নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন গুলিবিদ্ধ   ১০ মিনিটেই ক্যান্সার শনাক্তের প্রযুক্তি আবিস্কার বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর   নির্বাচনে ভোট কক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচার নয়: সিইসি   যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে হিজাব পরায় মুসলিম ছাত্রী বহিষ্কার   ড. কামালের গাড়িতে হামলার তদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   সার্কের সভা থেকে ভারতীয় কূটনীতিকের ওয়াকআউট   হোয়াইট হাউজের ভারপ্রাপ্ত চিফ অব স্টাফ মুলভানে   ১৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ চেয়ে ঐক্যফ্রন্টের চিঠি   জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি অস্ট্রেলিয়ার   স্বপ্নের সিনেমায় বাংলাদেশকে দেখবে   রোমে সিলেটী নাগরী বর্ণমালার আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন   সুষ্ঠু ভোটের জন্য সরকারকে চাপ দেওয়া উচিত : এইচআরডাব্লিউ   বেআইনি আদেশ মানবেন না: পুলিশকে ড. কামাল   জীবননগরে বিএনপির থানা কার্যালয়সহ ২০টি নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ!

মূল পাতা   >>   স্বদেশ

বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আরও ৫ লাখ রোহিঙ্গা

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২৩ ০৯:৪৫:৪৫

নিউজ ডেস্ক: সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ এখনও থামেনি। সদ্য প্রবেশকারীদের দাবি, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সে দেশের সেনারা এখনও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। যারা এখনও সেখানে আছে তাদের ‘ক্রীতদাস’ বানিয়ে রাখা হয়েছে। নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার অপেক্ষায় আছে রাখাইনের বাকি রোহিঙ্গা সদস্যরা।
রোহিঙ্গাদের প্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের একাধিক ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতারা।
তারা জানিয়েছেন,‘নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে আরও প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার অপেক্ষায় আছে। প্রায় প্রতি রাতে কেউ না কেউ ওপার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। তাদের অধিকাংশই নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসছেন। তিনশ’ রোহিঙ্গা ওপারের সীমান্তের বন-জঙ্গলে প্রবেশ করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার অপেক্ষা করছে বলে খবর পেয়েছেন তারা।’
টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান আবদুল মতলব জানান, ‘রাখাইনের যেসব রোহিঙ্গা এখনও বাংলাদেশে আসতে পারেনি, তাদের আসলে আটকে রাখা হয়েছে। সেনারা তাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে; স্থানীয় হাটবাজারেও তাদের যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে খাবারের সঙ্কটে রয়েছে রোহিঙ্গা সদস্যরা। মানবেতর জীবনযাপনে তাদের বাধ্য করা হচ্ছে। এ কারণে সুযোগ পেলেই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি সদ্য প্রবেশকারীদের বরাত দিয়ে আরও বলেন, ‘সেখানে সেনারা বড় আকারে জুলুম না করলেও ভেতরে ভেতরে কৌশলগত জুলুম চালিয়ে যাচ্ছে। রাখাইনের রাজধানী শিত্তুই বা আকিয়াব, রাথিডং, মংডুসহ পুরো রাজ্যের ১৭টি ‘টাউনশিপে’ পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা আছে। সেখানকার রোহিঙ্গা সদস্যরা যে-হারে খণ্ডখণ্ডভাবে অনুপ্রবেশ করছে, তাতে একদিন সবাই এপারে চলে আসবে।’
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) দেওয়া তথ্য মতে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৭৬৪ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনে নাফনদী পেরিয়ে ৫৩১ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। এর মধ্যে আগস্টে এসেছেন ২৫৬ জন এবং জুলাইয়ে ৪১৩ জন। এরআগে ২০ মে থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন আসা তিন হাজার রোহিঙ্গার সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব প্রবেশকারীরা বেশির ভাগই টেকনাফের সাবরাং ও এর আশপাশের এলাকা থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
তবে রোহিঙ্গা প্রবেশ ঠেকাতে জিরো টলারেন্সে রয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গারা এখনও নৌকা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৩ আগস্ট একটি নৌকায় করে ১২ জন রোহিঙ্গা সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এসময় বিজিবি টহল দলের সদস্যরা তাদের বাধা দেয়। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসের গত শুক্রবার নাফনদী পেরিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের সময় সাত রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা ‘পুশব্যাক’ করা হয়েছে।’তবে ‘একই দিন আরও দুটি নৌকায় করে প্রায় ১২ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে’ বলে দাবি করেছে সীমান্তের বসবাসকারীরা।
এ প্রসঙ্গে বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) টেকনাফ-২ ব্যাটেলিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার বলেন,‘রোহিঙ্গারা এখনও প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সীমান্তে প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনও অবৈধ প্রবেশকারীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’
গত সপ্তাহে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন খাদিজাতুল কোবরা (২৬)। তার বাড়ি মিয়ানমারের বুশিডং (বুথিডং) এলাকার বড়িয়ং গ্রামে। বর্তমানে তিনি কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। খাদিজা বলেন, ‘‘মিয়ানমার সেনারা নারীদের মারধর করে, স্বামীদের ধরে নিয়ে তাদের ‘ক্রীতদাস’র মতো ব্যবহার করছে। রাতে সেনাদের প্রহরী এবং দিনে গৃহকর্মীর কাজ করাচ্ছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরিবার নিয়ে এপারে পালিয়ে এসেছি।’’
গত পাঁচ দিন আগে মেয়ের কানের দুল বিক্রির পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে বাংলাদেশে পাড়ি দেন আবুল হাইর। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সেনারা যাতে না দেখে, সে জন্য ঘর থেকে চুরি করে বের হয়ে সীমান্তে পৌঁছি। সেখানে দেখে মেলে আমাদের মতো অভাগা আরও দুই পরিবারের। তিন পরিবারের মোট ১২ জন উনচিপ্রাংয়ের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করি।’
তিনি জানান, তার গ্রামে আটশ’র উপরে ঘর ছিল। তারা চলে আসার পর বর্তমানে সেখানে পাঁচ ঘর রোহিঙ্গা বসবাস করছে। সেখানে যেসব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যরা রয়েছেন তাদের ওপর সেনারা সুকৌশলে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি হুমকি-ধমকি দিয়ে রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষদের দিয়ে তাদের বিভিন্ন কাজ করিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া সেনারা রোহিঙ্গা সদস্যদের ঠিকমতো ঘর থেকে বের হতে দেয় না, এক প্রকার জিম্মি করে রেখেছে। ফলে সেখানকার রোহিঙ্গা পরিবারগুলো সুযোগ পেলেই বাংলাদেশে চলে আসছে।’
এসব প্রবেশের বিষয়ে টেকনাফ পৌরসভার (ভারপ্রাপ্ত) মেয়র আবদুল্লাহ মনির বলেন, ‘এপারে চলে আসা অনেক রোহিঙ্গা সদস্যরা ওপারের আত্মীয়-স্বজনদের খবর পাঠাচ্ছে যে, আমরা ভাল আছি, তোমরাও চলে আসো। এ কারণেও প্রবেশের চেষ্টা চলছে।’
রোহিঙ্গাদের প্রবেশ চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিউল হাসানও। তবে তিনি বলেন, ‘নতুন করে কোনও রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সীমান্তে কড়া নজরদারি রয়েছে, কেউ প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে ফেরত পাঠানো হবে।’

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৬০৮ বার

আপনার মন্তব্য

সাম্প্রতিক খবর