যুক্তরাষ্ট্রে আজ বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 12:43am

|   লন্ডন - 06:43pm

|   নিউইয়র্ক - 01:43pm

  সর্বশেষ :

  প্রার্থিতা বিষয়ে রিট : তৃতীয় বেঞ্চের বিচারপতির প্রতি খালেদার অনাস্থা   নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না সরকার: কাদের   তুরস্কে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৯, আহত ৪৭   ইলিয়াসপত্নী লুনার মনোনয়ন স্থগিত   মনে হচ্ছে পুলিশ ধানের শীষের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী : বিএনপি   নাসার অ্যাপস প্রতিযোগিতায় শীর্ষ চারে বাংলাদেশ   চট্টগ্রামে আমীর খসরুর গণসংযোগকালে হামলা   নির্বাচন কমিশন থেকে ফেরার পথে বিএনপি নেতা আটক   ব্রাজিলে গির্জায় গোলাগুলি, নিহত ৫   ২৪ ডিসেম্বর মাঠে নামছে সেনবাহিনী   আটকে গেল ২ বিএনপি নেতার নির্বাচন   নেতৃত্ব হারাতে পারেন থেরেসা মে   টুঙ্গিপাড়া থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু শেখ হাসিনার   অনুমোদন পেল বেঙ্গল গ্রুপের নতুন ব্যাংক   দাবানলে সর্বহারা মার্কিন মাহিলার পাশে বাফলা

মূল পাতা   >>   স্বদেশ

২০০৮ থেকে ২০১৮, নৌমন্ত্রীর মাসিক আয় ৫৭ হাজার থেকে বেড়ে ২৭ লাখ

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-১২-০৪ ০৮:১০:১১

নিউজ ডেস্ক: ২০০৮ সালের নভেম্বর মাস—তখনো দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেনি। অন্যান্য প্রার্থীর মতো মাদারীপুর-২ আসন থেকে ওই বছরের ২০ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেন বর্তমান নৌপরিবহনমন্ত্রী ও পরিবহন খাতের নেতা শাজাহান খান। এরপর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগসহ তিনি। তারপর থেকে টানা ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন শাজাহান খান ও তার দল।

১০ বছর আগে যখন শাজাহান খান মনোনয়নপত্র জমা দেন তখন তার মাসিক আয় ছিল ৫৭ হাজার ৮৬ টাকা। তার স্ত্রীর শিক্ষকতা থেকে মাসে আসত পাঁচ হাজার দুইশ টাকা। তখন তাদের স্বামী-স্ত্রীর হাতে নগদ কোনো টাকা ছিল না। বরং ঋণ ছিল ৪৫ লাখ টাকার ওপরে।

দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা শাজাহান খান ও তার স্ত্রীর এখন হাতে নগদই আছে ৪৮ লাখ টাকার ওপরে। কোনো ধরনের ঋণও নেই। এখন শাজাহান খানের মাসিক আয়ও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ লাখ ৮০ হাজার ৩৮ টাকা।

২০০৮ সালে শাজাহান খানের নিজ নামে স্থাবর সম্পদ ছিল তিন স্থানে। এ ছাড়াও দেশের বাড়িতে যৌথ মালিকানায় স্থাবর সম্পদ ছিল এই সাংসদের। বর্তমানে নৌমন্ত্রীর নিজ নামে স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১৫ স্থানে এবং যৌথ মালিকানায় রয়েছে ছয় স্থানে।

১০ বছর আগে নৌমন্ত্রীর স্ত্রীর নামে ছিল দুই স্থানে স্থাবর সম্পদ। বর্তমানে তার স্ত্রীর নামে স্থাবর সম্পদ রয়েছে ১৩ স্থানে।

নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের জমা দেওয়া দেওয়া হলফনামা থেকে এ চিত্র পাওয়া যায়। একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়া এই সাংসদ মাদারীপুর-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

২০০৮ সালে শাজাহান খানের বার্ষিক আয় ছিল ছয় লাখ ৮৫ হাজার ৩৬ টাকা। এই হিসাবে প্রতি মাসে আসত ৫৭ হাজার ৮৬ টাকা। ১০ বছরের ব্যবধানে শাজাহান খানের বার্ষিক আয় তিন কোটি ৩৩ লাখ ৬০ হাজার ৪৫৯ টাকা। এই হিসাবে এখন প্রতি মাসে আসে তার ২৭ লাখ ৮০ হাজার ৩৮ টাকা।

নৌমন্ত্রীর ২০১৮ সালের বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে বছরে আসে দুই লাখ ৩৯ হাজার ৪৩৯ টাকা; ১০ বছর আগে আসত ১৫ হাজার ৩৬ টাকা। ব্যবসা থেকে আসত এক লাখ ৭০ হাজার টাকা; বর্তমানে আসে তিন কোটি তিন লাখ ৬২ হাজার ২৫০ টাকা।

বর্তমানে ব্যাংক আমানত থেকে লাভ আসে দুই লাখ ৯১ হাজার ২০০ টাকা; মন্ত্রী এবং সাংসদ হিসেবে পারিতোষিক ও ভাতা আসে ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ টাকা। আগে অন্যান্য খাত থেকে আসত পাঁচ লাখ টাকা।

২০০৮ সালে যা ছিল
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া শাজাহান খানের হলফনামা অনুযায়ী, তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭১ লাখ ৩৩ হাজার ৩০১ টাকা।

শাজাহান খানের মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ৬০ লাখ ১৮ হাজার ৩৪৮ টাকা। এর মধ্যে তার ব্যাংকে ছিল তিন লাখ ৩৪ হাজার ৬০৪ টাকা, ৫২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৪৪ টাকা মূল্যের একটি জিপ, ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ১০ ভরি অলঙ্কার, এক লাখ ৪৩ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আগ্নেয়াস্ত্র দুই লাখ ১০ হাজার টাকার।

শাজাহান খানের স্ত্রীর ব্যাংকে ছিল ১২ হাজার ৪৭০ টাকা ৬৩ পয়সা, ৪০ লাখ টাকা মূল্যের দুটি বাস, একটি কার ও একটি মাইক্রোবাস, ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ১৫ ভরি অলঙ্কার। তার ওপর নির্ভরশীলদের (স্ত্রী নয়) নামে ব্যাংকে এক হাজার ৩৮৬ টাকা, ১৬ লাখ টাকা মূল্যের একটি বাস।

২০০৮ সালে শাজাহান খানের সম্পদের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ১৪ হাজার ৯৫৩ টাকা। এর মধ্যে তার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া পাঁচ কাঠা কৃষি জমি, শরীয়তপুরে .৬৪ শতাংশ (এক লাখ ৯৯ হাজার ৯৫৩ টাকা) ও মাদারীপুরে আট লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের তিন তলা দালান। এ ছাড়াও দেশের বাড়ি ও যৌথ মালিকানায় এজমালি অকৃষি জমি পেয়েছিলেন।

২০০৮ সালে শাজাহান খানের স্ত্রীর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ঢাকার আনন্দনগরে ১.৫ কাঠা ও ঢাকার পূর্বাঞ্চলে ১০ কাঠা অকৃষি জমি।

এ সময় শাজাহান খানের ঋণ ছিল ৪৫ লাখ ২৯ হাজার ৯৫৩ টাকা।

২০১৮ সালে যা হয়েছে
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, শাজাহান খানের নিজ নামে মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ তিন কোটি চার লাখ ৭৬ হাজার ৭২৪ টাকা। এর মধ্যে নগদ রয়েছে অর্থের পরিমাণ ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৪১৩ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা করা অর্থের পরিমাণ এক কোটি ২৩ লাখ ৫২ হাজার ৩১১ টাকা, দেড় কোটি টাকা দুটি জিপ ও একটি মাইক্রোবাস, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথর নির্মিত অলঙ্কারের মূল্য ৮০ হাজার (২০ তোলা), এক লাখ টাকা মূল্যের টিভি, ফ্রিজ, ওভেন, ফ্যান,আয়রন ও ওয়াশিং মেশিন, এক লাখ টাকা মূল্যের খাট, সোফা, কাঠ, আলমারি, স্টিল আলমারি, ড্রেসিং, ডাইনিং ও তিন লাখ দুই হাজার টাকা মূল্যের একটি বন্দুক ও একটি পিস্তল।

শাজাহান খানের স্ত্রীর মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থের পরিমাণ ২৩ লাখ ৪৮ হাজার ৫৬৪ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা করা অর্থের পরিমাণ ২০ লাখ ৯১ হাজার ৪৩৬ টাকা।

শাজাহান খানের স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষি জমির পরিমাণ ১ একর ৫৫ শতাংশ (৩৩ লাখ টাকা), গৈদী মৌজায় ৪ শতাংশ (ছয় লাখ ৭৩ হাজার দুইশ টাকা) ও মাদারদীতে ৬৩ শতাংশ (২২ লাখ টাকা)।

শাজাহান খানের নিজ নামে অকৃষি জমির মধ্যে রয়েছে শরীয়তপুরে ৬৪ শতাংশ (দুই লাখ ৯৩ হাজার ৩৩৩ টাকা), দিয়াপাড়ায় ২.০৪ শতাংশ (৮৬ হাজার ৯০০ টাকা), রাজৈরে ০.৬৫ শতাংশ (দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা), গঙ্গাবরদীতে ৫ শতাংশ (তিন  লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা), দিয়াপাড়ায় ৩ শতাংশ (এক লাখ ৩২ হাজার টাকা), শিরখাড়ায় ৪.৩৩ শতাংশ (দান পাওয়া) ও ডুমুরিয়ায় ৬০ শতাংশ (১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা)।

যৌথ মালিকানায় শাজাহান খানের নামে অকৃষি জমি রয়েছে শকুনী মৌজায় ১২.০৫ শতাংশ (জমি ও স্থাপনা), হরিকুমারিয়ায় ৫.৫০ শতাংশ, মহিষেরচরে ১৫ শতাংশ, বাড্ডায় ১১৫৪ অযুতাংশ, মহিষেরচরে ৪ শতাংশ ও ৮ শতাংশ। এই যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে প্রার্থীর অংশ যথাক্রমে ৪৫ শতাংশ (এক কোটি ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা), ২০-এর ৯ ভাগ (২৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা), ২-এর ১ ভাগ (ছয় লাখ ৬০ হাজার টাকা), ৩-এর এক ভাগ (৮৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩২ টাকা), ২-এর এক ভাগ (এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা) ও ২-এর ১ ভাগ (তিন লাখ ৩০ হাজার টাকা)।

এ সাংসদের স্ত্রীর নামে স্থাবর সম্পদের পরিমাণ হরিকুমারিয়ায় ২৪ শতাংশ জমির ২৬-এর এক ভাগের মূল্য ছয় লাখ ৪০ হাজার টাকা, মালিগ্রাম মৌজায় ১৭ শতাংশের মূল্য ৬৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা, রাজউক পূর্বাচলে ১০ কাঠা প্লটের মূল্য ২৩ লাখ ৫ হাজার ৬০০ টাকা, চুনকুটিয়ায় ১১৩৪ অযুতাংশের ২-এর এক ভাগের মূল্যের ৫৫ লাখ টাকা, গৈদী মৌজায় ৪৫.৫০ শতাংশের ৬০ ভাগের মূল্য ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, চুনকুটিয়ায় ১৪৮৬ অযুতাংশের অর্ধেকের মূল্য ৬৬ লাখ টাকা, বাড্ডা মৌজায় ৫.৭৫ শতাংশের ১.৪৩৭৫ শতাংশ, বাড্ডা মৌজায় ০২০৮.৫০ অযুতাংশ জমির অর্ধেকের মূল্য দেড় লাখ টাকা, গজারিয়া মৌজায় ৮.৫০ শতাংশ জমির ৬-এর ১ শতাংশ, ৩৭.৫৪ শতাংশ (স্থান পাওয়া যায়নি), ভিটা জমির ১১-এর ১ শতাংশের মূল্য দুই লাখ ৭৮ হাজার টাকা এবং গজারিয়া মৌজায় ৫ শতাংশের ৬-এর ১ ভাগের মূল্য ৮৪ হাজার ৫৯ টাকা।

শাজাহান খানের আবাসিক বা বাণিজ্যিক দালানের মধ্যে একটি নির্মাণাধীন আবাসিক ভবন মূল্য এক কোটি ৩০ লাখ টাকা ও রাজৈর দালের মূল্য ৬৩ লাখ ১০ হাজার টাকা।

শাজাহান খানের বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যে রয়েছে শকুনী মৌজায় ২.৪৫ শতাংশের যৌথ অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ৮৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা, লালমাটিয়া হাউজিংয়ে ১৫৬.২৪ বর্গমিটার ফ্ল্যাটে ০.৪১৫ কাঠা জমি (হেবা প্রাপ্তি), রাজৈর ৫.৭৩ শতাংশের মূল্য ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, রাজৈরে ২ শতাংশের মূল্য ৫০ হাজার টাকা ও রাজৈরে ৩ শতাংশের মূল্য ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

শাজাহান খানের স্ত্রীর নামে বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যে রয়েছে মেরাদিয়া মৌজায় ৮২.৫০ অযুতাংশ জমিতে ১৫৭৬ বর্গফুট ফ্ল্যাটের অর্ধেক অংশের মূল্য ২০ লাখ ৭০ হাজার ৭৫০ টাকা। এ ছাড়াও তার স্ত্রীর প্রিন্টিং প্রেস রয়েছে, যার মূল্য আট লাখ টাকা।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৪২৮ বার

আপনার মন্তব্য