যুক্তরাষ্ট্রে আজ সোমবার, ১৫ Jul, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 03:00am

|   লন্ডন - 10:00pm

|   নিউইয়র্ক - 05:00pm

  সর্বশেষ :

  রক্তের বিনিময়ে হলেও এরশাদের লাশ পল্লী নিবাসেই দাফন করা হবে : রংপুর মেয়র   সব মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একই ডিজাইনের কবর হবে   কংগ্রেসের ভিন্ন বর্ণের নারীদের ‘দেশে ফিরতে’বললেন ট্রাম্প   নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত এরশাদ   ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আসামের মুসলমানরা   ঢাবি ক্যাম্পাসকে প্লাস্টিকমুক্ত ঘোষণা   মর্মান্তিক: মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কায় বর-কনেসহ নিহত ৯   কুমিল্লায় আদালতের ভেতর আসামির ছুরিকাঘাতে আসামির মৃত্যু   দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে বাংলাদেশের তিন চুক্তি স্বাক্ষর   সুইডেনে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৯   ইংল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপ জয়   এরশাদের মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানাতে সময় লাগবে বিএনপির   এরশাদের সন্তানরা কে কী করেন?   বৃহস্পতিবার সোহেল তাজের ‘আনুষ্ঠানিক ঘোষণা’   আফগানিস্তান সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে তোলপাড়

মূল পাতা   >>   স্বদেশ

দুর্নীতি ও অর্থ পাচার নিয়ে সংসদে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৯-০৬-১৬ ১৫:০৯:০০

নিউজ ডেস্ক: চলমান ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিদলীয় সদস্যরা একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলেছেন।

একই সঙ্গে বিএনপির দুই সাংসদ আবারও একাদশ সংসদের ভোট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যার প্রতিবাদ করেন সরকারি দলের সদস্যরা। এতে সংসদের বৈঠক কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

রোববার বিকেল ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উত্থাপনের পরেই শুরু হয় সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা। প্রথমেই বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও ফারুক খান, জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম ও আওয়ামী লীগদলীয় সদস্য আবদুস শহীদ। এরপর বিএনপিদলীয় সদস্য হারুন অর রশীদ বক্তব্য দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার এবং গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।

এরপর জাতীয় পার্টির সদস্য পীর ফজলুর রহমান বক্তব্যের সুযোগ পেয়ে বিএনপি সরকারের আমলের বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনা ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কথা বলেন।

পুনরায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের একমাত্র সদস্য রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যের শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে শ্রদ্ধা জানানোর কথা বলার পর সরকারি দলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া রুমিনকে একাধিকবার থামিয়ে দিয়ে অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। পরে ডেপুটি স্পিকার রুমিন ফারহানার বক্তব্যের 'অসংসদীয় শব্দ ও বাক্যগুলো' সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এপপাঞ্জ করেন।

রুমিন তার বক্তব্যে বলেন, এখানে যারা আছেন, তারা কয়জন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। কীভাবে এই সংসদে এসেছেন, সেই প্রশ্ন বিবেকের কাছে করুন। তিনি বলেন, গত এক বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়েছে ৪৫০টি। এক দশকে গুম হয়েছে ৬৫০ জনের মতো। এই গুম হওয়া পরিবারের মানুষ এখন একটি লাশ চায়। যেন তাদের জন্য দোয়া করতে পারে।

রুমিন বলেন, অর্থনৈতিক খাত এখন হুমকির মুখে। একেকটা ব্যাংক তুলে দেওয়া হয়েছে একেকটি পরিবারের হাতে। গত ১০ বছরে বিদেশে পাচার হয়েছে সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকা। এই টাকায় মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম, কানাডায় বেগমপাড়া তৈরি হয়। পানামা পেপারে নাম আসে, কিন্তু বিচার হয় না। এ দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক লোপাট হয়, তারও বিচার হয় না।

রুমিনের বক্তব্যের পরপরই আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বিএনপির একজন সংসদ সদস্য শপথ নিয়ে সংসদে এসে সেই সংসদকে অবৈধ বলেন এবং অসংসদীয় কথা বলে গেলেন। এতে প্রমাণ করলেন, তাদের বাজেট নিয়ে যৌক্তিক কোনো সমালোচনা করার অধিকার নেই। তারা বাজেট আলোচনাকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন।

পরে আওয়ামী লীগের সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাকও বিএনপির সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের সমালোচনা ও খণ্ডন করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং এখানে সরকারের কোনো হাত নেই বলেও বক্তব্য দেন তিনি।

এর আগে বিএনপির সদস্য হারুন অর রশীদ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, এই সংসদে যারা আপনাকে সামনে রেখে আপনার তোষামোদি করছে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। তিনি বলেন, যারা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি, জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের আসামি তারাও উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করলে কখনও দেখিনি ওই জামিনের শুনানি হবে তিন মাস পর। দেশের লাখ লাখ মানুষ গায়েবি মামলার আসামি। আমি নিজে ২০টি মামলার আসামি।

সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় আওয়ামী লীগের আবদুস শহীদ বলেন, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। তাকে নিয়ে নানা কটাক্ষ করা হয়। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন, তারা জাতীয় বেইমান। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যাতে কেউ কটাক্ষ করতে না পারে, তার জন্য সংসদে আইন পাসের দাবি জানান সাবেক চিফ হুইপ আবদুস শহীদ।

জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম বলেন, অর্থনীতি পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা সবাই এখন ব্যবসায়ী। অর্থমন্ত্রী ব্যবসায়ী, বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ী, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তি খাতের উপদেষ্টা ব্যবসায়ী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ব্যবসায়ী, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ব্যবসায়ী, খাদ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ী।
সম্পূরক বাজেটের ওপর আরও আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, রুস্তম আলী ফরাজী, গণফোরামের মোকাব্বির খান ও বিএনপির মোশাররফ হোসেন।

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৯৭ বার

আপনার মন্তব্য