যুক্তরাষ্ট্রে আজ শনিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 05:30pm

|   লন্ডন - 12:30pm

|   নিউইয়র্ক - 07:30am

  সর্বশেষ :

  প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক, অন্তর্দ্বন্দ্বে নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ আদালতের   তুরস্কে চলছে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট কুরআন প্রদর্শনী   যেসব খাবারের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে   মেসিকে ছাড়াই কোপার পরিকল্পনা আর্জেন্টিনার!   বিন সালমানের অপসারণ চাইলেন সৌদির ওলামা পরিষদ   ‘যত বার ওর অফিসে গিয়েছি, তত বারই চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেছেন’   প্রতি দুইদিনে একজন বিলিয়নার তৈরি করে চীন   ভারতে নারীরাই তাদের অধিকারের বিরোধী!   বিকল্পধারা থেকে বি. চৌধুরী ও মাহী চৌধুরীকে বহিষ্কার   ভারতে রাবণ বধ দেখতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ৫০   প্যাটারসনে বাংলাদেশ কমিউনিটি অব নিউজার্সির শোকসভা ও দোয়া মাহফিল   সিলেটের বিশিষ্ট আলেম প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমানের ইন্তেকাল   ইস্তাম্বুলের জঙ্গলে জামাল খাসোগির লাশ!   নিরাপত্তারক্ষীর গুলিতে কান্দাহারের গভর্নর-পুলিশপ্রধান-গোয়েন্দাপ্রধান নিহত   যুক্তরাজ্যসহ তিন দেশের সৌদি সম্মেলন বয়কট

মূল পাতা   >>   স্বদেশ

গুলশানে সিনিয়র নেতাদের বৈঠক : খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দিতে হবে

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০২-১০ ১২:৪৯:২৭

নিউজ ডেস্ক: বেগম খালেদা জিয়াকে পুরাতন ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের একাকী একটি ‘সলিটরি কনফাইনমেন্টে’ রাখা হয়েছে অভিযোগ করে অবিলম্বে তাকে ডিভিশন প্রদানের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। অন্যথায় তার কিছু হলে এর দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে দলটি।

আজ শনিবার রাতে সিনিয়র নেতাদের বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দাবি জানান।

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সিনিয়র নেতাদের এই বৈঠক হয়।

তিনি বলেন, পাঁচজন সিনিয়র আইনজীবী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। আপনারা শুনে বিস্মিত হবেন, তাকে সম্পূর্ণ সলিটারি কনফেইনমেন্টে রাখা হয়েছে। এভানডেন্ট যে কেন্দ্রীয় কারাগার ছিলো যেটাতে এখন কেউ বাস করে না, যার ঘর-বাড়িগুলো পড়ে যাচ্ছে, স্যাঁত স্যাঁতে হয়ে গেছে। সেই কারাগারে তাকে সম্পূর্ণ একা একজন প্রিজনার হিসেবে রাখা হয়েছে। শুনলে আপনারা বিস্মিত হবেন, ব্যথিত হবে সারা জাতি যে, তাকে (খালেদা জিয়া) কোনো ডিভিশন পর্যন্ত দেয়া হয়নি। আমরা অবিলম্বে তাকে ডিভিশন দিয়ে তার প্রাপ্য মর্যাদা ও সব সুযোগ সুবিধা দেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, জেল কোডের মধ্যে খুব পরিস্কার করে বলা আছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বা সাবেক বিরোধী দলের নেত্রী তারা সাথে সাথে ডিভিশন পাবেন। এটার জন্য কোনো অনুমতির দরকার নেই, আদালতের দরকার নেই। জেল কোডে বলা আছে তিনি ডিভিশন পাবেন। অথচ বেগম খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়া হয়নি। অবিলম্বে ডিভিশন দিন। অন্যায় সরকারকে দায়ী থাকতে হবে জেল কোডকে ভঙ্গ করার জন্য।

তিনি বলেন, তার চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা তারা ওইভাবে এখন পর্য়ন্ত করেনি। তিনি ৭৩ বছরের একজন বয়স্ক মানুষ তার যে সার্বক্ষণিক পরিচারিকা যেটা জেল কোডের মধ্যে রয়েছে সেই পরিচারিকাকেও তার সাথে থাকতে দেয়া হয়নি। এ বিষয়গুলো সম্পূর্ণ অমানবিক।

মির্জা ফখরুল জানান, বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বৈঠকে মোবাইলে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য শুনানো হয়।

মহাসচিব বলেন, দলের একটিং চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব টেলিফোনে মাধ্যমে তার বক্তব্য জানিয়েছেন। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার জন্য আহবান জানিয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবার। একই সাথে তিনি দেশে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশ গ্রহনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্যও আহবান জানিয়েছেন।

ফখরুল জানান, সভায় খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়ার নিন্দা এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ সারাদেশে গ্রেপ্তারকৃত নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবির সিদ্ধান্ত হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, বৈঠকে বিভিন্ন নেতা বক্তব্য রাখেন। বেশির ভাগ বক্তার কাছে থেকে যে বিষয়টা এসেছে তা হলো দল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। সভায় আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যে বক্তব্য দিয়েছেন তা দলকে অনুপ্রাণিত করবে। বেগম জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজার দেয়ার জন্য দেশবাসী ধিক্কার দিয়েছে, তারা প্রতিবাদ জানিয়েছে। আমরা দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানাই।

নানা প্রতিকুলতা মধ্যে নিপীড়ন-নির্যাতন উপেক্ষা করে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আইনজীবীদের মাধ্যমে দেশনেত্রী কোনো বক্তব্য বা বার্তা দেননি। আইনজীবীরা আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন।

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বৃহস্পতিবার কারাগারে যাওয়ার পর দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও যুগ্ম মহাসচিবদের এটি প্রথম বৈঠক।
এতে দলীয় প্রধানদের মুক্তিতে ‘আইনগত পদক্ষেপ’ এবং ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলন’ এর কর্মকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈঠকে সভাপতির আসনটি খালি রাখা হয়। সভাপতির আসনে এক পাশে বসেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং অপর পাশে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

দলের মহাসচিব ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আরো ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মীর নাসির, খন্দকার মাহবুব হোসেন, রুহুল আলম চৌধুরী, মাহমুদুল হাসান, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, গিয়াস কাদের চৌধুরী ও শওকত মাহমুদ।

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে সাবিহউদ্দিন আহমেদ, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, আনহ আখতার হোসেইন, জয়নুল আবদিন ফারুক, কামরুল ইসলাম, এম এ কাইয়ুম, সুজাউদ্দিন, আবদুর রশিদ, শাহিদা রফিক, গোলাম আকবর খন্দকার, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, এনামুল হক চৌধুরী, সুকোমল বড়ুয়া, শাহজাহান মিঞা, বিজন কান্তি সরকার, তৈমুর আলম খন্দকার, আবদুস সালাম, মোহাম্মদ শাহজাদা মিয়া, আমিনুল হক। মামুন আহমেদ, আবদুল হালিম ডোনার, আবদুল হাই শিকদার উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হারুনুর রশীদ এবং বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন ও প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বৈঠকে ছিলেন।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি 

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৩৮৫ বার

আপনার মন্তব্য