যুক্তরাষ্ট্রে আজ শনিবার, ১৮ অগাস্ট, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 04:50pm

|   লন্ডন - 11:50am

|   নিউইয়র্ক - 06:50am

  সর্বশেষ :

  সবচেয়ে বেশি আয় স্কারলেট জোহানসনের   শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার দাবি ড. কামালের   ছাত্র আন্দোলনে ‘গুজব’ ছড়ানোর অভিযোগে কফিশপের মালিক ফারিয়া রিমান্ডে   এবার ট্রাম্পের পুত্রবধূর বিরুদ্ধে অভিযোগ   যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন!   হ্যান্ডশেক না করা সেই সুইডিশ তরুণী মামলায় জিতলেন   ভারতে বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ৮ শতাধিক   পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, শপথ শনিবার   মিলানে শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন   নিউজিল্যান্ডে বাড়ি কিনতে পারবে না বিদেশিরা   লিবিয়ায় হত্যার দায়ে ৪৫ জনের মৃত্যুদণ্ড   কোটা সংস্কার আন্দোলন : ইডেন কলেজছাত্রী ৩ দিনের রিমান্ডে   বঙ্গবন্ধু হত্যায় খালেদাও জড়িত: প্রধানমন্ত্রী   ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী আর নেই   আমেরিকার বিপক্ষে তুরস্কের সঙ্গে জার্মান

মূল পাতা   >>   স্বদেশ

চলে গেল মুক্তামনি

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৫-২৩ ০১:৫৮:৫৮

নিউজ ডেস্ক: সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন রক্তনালীর টিউমারে আক্রান্ত সাতক্ষীরার মেয়ে মুক্তামনি। মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ কামারবায়সা গ্রামে বাবা-মায়ের সামনেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় ১৩ বছর বয়সী শিশুটি। (ইন্না ইলাইহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘বুধবার সকাল পৌনে আটটার দিকে মুক্তামনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।’ বাদ জোহর পারিবারিক কবরস্থানে মুক্তামনিকে দাফন করা হবে বলে জানান তার বাবা।

বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তামণিকে নিয়ে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তামণির চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন। এরপর গত বছরের ১২ জুলাই মুক্তামনিকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

প্রথমে রোগটিকে বিরল রোগ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরে বায়োপসি করে জানা যায়, তার রক্তনালীতে টিউমার হয়েছে। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে যোগাযোগ করেন বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা। সব রিপোর্ট দেখে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা মুক্তামনির চিকিৎসা করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর ঢামেকের চিকিৎসকরাই তার অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন।

গত বছরের ৫ আগস্ট মুক্তামনির হাতে প্রথম অস্ত্রোপচার হয়। প্রথমে তার হাতের ফোলা অংশে অস্ত্রোপচার করে তা ফেলে দেন চিকিৎসকরা। পরে দুই পায়ের চামড়া নিয়ে দুই দফায় তার হাতে লাগানো হয়। ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালামের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল মুক্তামনির স্কিন গ্রাফটিং (চামড়া লাগানো) অপারেশনে অংশ নেন। পরে মুক্তামনির হাত আবারও ফুলে যাওয়ায়, ফোলা কমানোর জন্য হাতে প্রেসার ব্যান্ডেজ বেঁধে দেওয়া হয়। এর প্রায় পাঁচ মাস পর গত ২২ ডিসেম্বর বাবা-মার সঙ্গে মুক্তামনি নিজ বাড়িতে ফিরে যান।

বেশ কিছুদিন ধরে মুক্তামনির শরীর খারাপ হতে থাকে। ব্যথা আর যন্ত্রণায় প্রতিনিয়ত কান্না-কাটি করে সে। ডান হাতটি ফুলে যায়। দুর্গন্ধসহ হাতের ফোলা অংশ থেকে মাঝে-মধ্যে রক্ত ও সাদা পোকা বের হতে থাকে।

ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসক ডা. সামন্ত লাল সেনের সঙ্গে ফোনে কথা বললে মুক্তার শারীরিক অবস্থার কথা জানান তার বাবা ইব্রাহিম। চিকিৎসক তাকে মুক্তামনির দুইটি ছবি পাঠাতে বলেন। পরে ডাক্তার শারমিন সুমির ইমোতে দুইটি ছবিও পাঠান ইব্রাহিম। ছবি দেখে তার হাতের অবস্থা খারাপ বলে জানান ডা. শারমিন সুমি।

গত বুধবার সামন্ত লাল ফোন করে মুক্তামনির খোঁজ-খবর নিয়ে রোজার পরে আবারও মুক্তামনিকে ঢাকায় নিয়ে আরো কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা জানান। কিন্তু ঢাকায় আসার আগেই কষ্টের জীবন ছেড়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় মুক্তামনি।

এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৬১৯ বার

আপনার মন্তব্য