যুক্তরাষ্ট্রে আজ বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২০ ইং

|   ঢাকা - 05:09am

|   লন্ডন - 12:09am

|   নিউইয়র্ক - 07:09pm

  সর্বশেষ :

  স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতির ভাইয়ের গোডাউনে ৬৩০ বস্তা চাল   করোনার মধ্যে বিয়ে করায় সরকারি কর্মকর্তা বরখাস্ত   আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে নেওয়া হয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে   ঢাকায় বাড়ি থেকে করোনা রোগীর ভাইয়ের পলায়ন, সন্ধানে পুলিশের মাইকিং   করোনা: স্পেনে কমছে মৃতের সংখ্যা   করোনায় মারা গেলেন গার্মেন্টস মালিক   যুক্তরাজ্যে ভয়াবহ আকারে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা   নারায়ণগঞ্জ থেকে নীলফামারী যাওয়া পোশাক শ্রমিক করোনা আক্রান্ত   লস এঞ্জেলেসের করোনা সংক্রমণ যে কারণে চীন থেকে ভিন্ন   করোনায় মানসিক দুশ্চিন্তা কাটাতে ‘হেলথ ডেস্ক’ খুলেছে গভর্নর নিউসোম   করোনায় বেকার ভাতার আবেদন করল ১ কোটি লোক   ট্রাম্পের ধন্যবাদের জবাবে যা বললেন মোদি   সব ধরনের চিকিৎসা সেবায় ৬৯ বেসরকারি হাসপাতাল প্রস্তুত   জার্মান নাগরিকরাও ঢাকা ছাড়ছেন   যেভাবে জীবাণুমুক্ত করবেন প্রতিদিনের বাজার

মূল পাতা   >>   নিউইয়র্ক

করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে তিন বাংলাদেশির মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২১ ০৪:০৭:১০

নিউজ ডেস্ক: প্রাণঘাতি করোনা-ভাইরাসে  নিউ ইয়র্কে দুই  ও ভার্জিনিয়া এক বাংলাদেশির মারা গেছেন। শুক্রবার দিনভর এ নিয়ে নানা আলোচনা শেষে বিষয়টি সত্যতা পাওয়া যায়। অভিবাসীদের স্বর্গরাজ্য খ্যাত নিউ ইয়র্ক সিটিতে করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর প্রথমে ছড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে। খবরের সত্যতা যাছাইয়ে চ্যানেল টিটির সাথে অনেকে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। কিন্তু পুরোপুরি সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে খবরটি প্রকাশ করা যায়নি।

অবশেষে নিউ ইয়র্ক সিটিতে দু'জন বাংলাদেশি করোনায় ভাইরাস আক্রান্ত হয়েই মারা গেছেন। এমন তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও একজনের পরিবার বলছেন হার্টের রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তাদের প্রিয়জন। কিন্তু চিকিৎসকরা তার শরীরে করোনার পজেটিভ আলামত পায়।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকে। এ নিয়ে নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটেও কোন তথ্য ভান্ডার নেই। কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফায়জুন্নেসাকে ফোন করেও পাওয়া যাচ্ছে না। চ্যানেল টিটি বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে।

চিরন্তন সত্য এই যে, নিউ ইয়র্ক কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিরা আক্রান্ত হচ্ছেন প্রতিদিনই। কিন্তু খবরটি পরিবারের তরফেই গোপন রাখা হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে ভয় আর উদ্বেগ। সামাজিক ভাবে নিজেরা একঘরে হয়ে পড়ার আশঙ্কা।

অনেকে মনে করছেন, করোনা না হলেও এই সময়ে কেউ মারা গেলে তাকে ধর্মীয় প্রথানুসারে দাফন নিয়েও দেখা দিচ্ছে জটিলতা। তাই কোন কিছুই অন্যের সাথে শেয়ার করতে চাইছেন না কেউ। যদিও একেবারে পরিবারের লোকজন বিষয়গুলো জানতে পারেন।

প্রাণঘাতি কোভিড-১৯ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিশ্বের সব দেশের সরকারই গোপন রাখছে বলে অভিযোগ অনেকের। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য, সিটি ও ফেডারেল সরকার প্রতিদিনই নির্ধারিত ব্রিফিং করেন। যাতে তারা একটা পরিসংখ্যান দেন। তুলে ধরেন কতজন আক্রান্ত হলেন কিংবা কতজন মারা গেছেন অথবা সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। যদিও সরকারি আর গণমাধ্যমের হিসেবে অনেক ব্যবধান থাকে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে খোদ আক্রান্ত ব্যাক্তি ও তার পরিবার চাইছে- বিষয়টি গোপন থাকুক।

শুক্রবার সবশেষ খবরে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন করে ৮ জন'সহ  আক্রান্ত ২২ গিয়ে পৌঁছেছে।  যদিও অসমর্থিত সূত্রে করোনায় আক্রান্ত হওয়া নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশির সংখ্যা আরো বেশী। এছাড়া সিটির ব্রঙ্কসের জ্যাকোবি এবং কুইেন্সর এলমার্স্ট'র মতো হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশিদের বাড়তি চাপও লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্বে মনে হয় এই প্রথম কোন রোগ, যা মানুষ প্রকাশ করতে চাইছে না। প্রকৃতির এই নির্মম বিচার কতদিন পৃথিবীতে বয়ে যাবে..... তা বলা মুশকিল! যেখানে মানুষ অসুস্থ হয়ে অন্যের কাছে দোয়া চাইতেন; সেখানে ভয়াবহ ও মহামারির আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনার ভয়াল থাবাকে লুকিয়ে রাখতে হচ্ছে। এ বাস্তব নির্মমতাকে মেন নেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। বলা চলে- উদ্ভত পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

এদিকে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নিউ ইয়র্কে যে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে; তারা দু'জনই পুরুষ। এমনটি আমরা জানতে পেরেছি। কুইন্সের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এস্টোরিয়া বাসিন্দা একজন। প্রায় বাষট্টি বছরের ওই ব্যাক্তি বৃহস্পতিবার রাতে মারা যান বলে খবর পাওয়া গেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ তথা হার্টের সমস্যা'সহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। তবে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।

অপরদিকে, বাংলাদেশিদের মধ্যে দ্বিতীয় ব্যাক্তি মারা গেলেও তার হাসপাতাল কিংবা এলাকার কথা বলতে রাজি হননি তথ্য প্রদানকারি। কেউ কেউ বলছেন- তিনি উডসাইডের বাসিন্দা। বয়স ৪৮ বছর। তথ্য প্রদানকারি ওই ব্যাক্তি জানান, মৃতের পরিবারের তরফে বারণ আছে। তবে, তিনি করোনায় মারা গেছেন এটা সত্য। বলা হচ্ছে- রোগটির কথা বললে তাতে উক্ত ব্যাক্তির স্বাভাবিক জানাজা ব্যাহত হবে। এই আশঙ্কা থেকেই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি প্রকাশে অনীহা।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে এক বাংলাদেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি একজন নারী বলে খবর পাওয়া গেছে।

মূলত সময় যত গড়াচ্ছে ততই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এমনিতেই এখন ফ্লু সিজন। এপ্রিল (চেরি ফুল ফোটার সময়) মাস, ফলেন মাস। প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে 'ন্যাশনাল চেরি-ফেস্টিভ্যাল' অনুষ্ঠিত হয়। এবছরও ২০ মার্চ শুক্রবার থেকে ১২ এপ্রিল রোববার পর্যন্ত 'চেরি-ফেস্টিভ্যাল' হওয়ার কথা ছিল।

চ্যানেল টিটির সাথে আলাপকালে এক বাংলাদেশি বলেন, এসময়ে সচরাচর সকলের সর্দি-কাশি লেগেই থাকে। কিন্তু বর্তমানে এমন সময় এসেছে; সাধারণ হাঁচি-কাশি আসলেও তা দেয়া যাচ্ছে না। সবাই মনে করে "করোনা ভাইরাস"! সেখানে সত্যিকারে আক্রান্ত ব্যাক্তির পরিবার তার তথ্য লুকিয়ে রাখবে- এটাই স্বাভাবিক।-চ্যানেল টিটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ১৪৫৭ বার

আপনার মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক খবর