যুক্তরাষ্ট্রে আজ রবিবার, ০৭ Jun, ২০২০ ইং

|   ঢাকা - 11:32am

|   লন্ডন - 06:32am

|   নিউইয়র্ক - 01:32am

  সর্বশেষ :

  করোনায় একদিনে গেল আরও ৫৬ প্রাণ, আক্রান্ত ৬২ হাজার ৩৩৮   ঢাকায় করোনা আক্রান্ত সাড়ে ৭ লাখের বেশি: ইকোনমিস্ট   নাসিমের অবস্থা সংকটাপন্ন, ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন   সিলেট সিটির সাবেক মেয়র কামরান করোনায় আক্রান্ত   দেশে প্রতি পাঁচজনের নমুনা পরীক্ষায় একজনের করোনা   ত্বক ফর্সা ক্রিমের বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি বর্ণবাদ বিরোধী পোস্ট, সমালোচনায় প্রিয়াঙ্কা   চট্টগ্রামে বিএসআরএম কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ১, দগ্ধ ৪   বাংলাদেশের করোনা শনাক্ত নিয়ে সন্দেহ বিশেষজ্ঞদের   তাহলে কি ট্রাম্পকে ডুবাচ্ছে করোনা আর বর্ণবাদ   বিক্ষোভের মুখেই জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহার করল ট্রাম্প   এবার বন্ধ হল পুলিশের হাঁটু দিয়ে গলা চেপে ধরা   ট্রাম্পের পেশীশক্তির জবাব দিলেন ওয়াশিংটন মেয়র   লস এঞ্জেলেস পুলিশ প্রধান মাইকেল মুরের পদত্যাগ দাবি   অনলাইন ক্লাশ করতে পারেন যেভাবে   যুক্তরাষ্ট্রে ১৫৪টিসহ মোট ২৬৯টি দোকান বন্ধ করবে ওয়ালমার্ট

মূল পাতা   >>   নিউইয়র্ক

নিউইয়র্কের হাসপাতালে ঠাঁই নেই

৪ রাজ্য ভ্রমণে আবার কঠোর নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ ট্রাম্পের

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০২০-০৩-২৯ ১৩:৩০:৫৭

 আপডেট: ২০২০-০৩-২৯ ১৩:৩১:৫৫

নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে আবার ভ্রমণে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ১৪ দিনের জন্য নতুন করে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়ায় আগে থেকেই লকডাউনে থাকা নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে ফেডারেল অবরোধের প্রস্তাব করেছিলেন প্রেসিডেন্ট। এতে রাজ্য গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাঁকে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৮ মার্চ সকালে তিনটি রাজ্যে ফেডারেল অবরোধ দেওয়ার কথা জানালে তিন রাজ্যের গভর্নর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। গভর্নর কুমো বলেছেন, এর মানে কী? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন আইনগত অধিকারই নেই। এমন ঘোষণা আসলে এ তিন রাজ্যের লোকজন নিজেদের রাজ্যে আটকা পড়বে। দেশের অন্য কোথাও যেতে পারবে না।

পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর আগের অবস্থান থেকে সরে এসে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনকে (সিডিসি) এই তিন রাজ্যের ওপর করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস, ফ্লোরিডা, রোড আইল্যান্ডসহ বেশ কিছু রাজ্য গভর্নর এরই মধ্যে নিজেদের রাজ্যে বাইরে থেকে আসা লোকজনকে ১৪ দিনের স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। রোড আইল্যান্ডে নিউইয়র্কের গাড়ির নম্বর প্লেট দেখলেই আটকানো হচ্ছে। লোকজনকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

এ নিয়ে নিউইয়র্কের গভর্নর বলেছেন, আইন অনুযায়ী নিউইয়র্কের লোকজনের যাতায়াত বাধাগ্রস্ত করার এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ফেডারেল আদালতে তিনি মামলা করবেন।

বিপর্যস্ত নিউইয়র্কের জন্য মার্কিন নৌবাহিনীর ভাসমান হাসপাতাল পাঠিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিউইয়র্কবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, আমরা সঙ্গে আছি এবং শেষ পর্যন্ত পাশে থাকব। যুদ্ধ জাহাজটি ৩০ মার্চ ম্যানহাটনের পিআর ৯০ জলাধারে এসে পৌঁছাবে। ৩১ মার্চ থেকে করোনাভাইরাস নয়, এমন রোগীদেরও চিকিৎসা দেওয়া হবে।

জ্যাভিট সেন্টারসহ নিউইয়র্কের হোটেল, নার্সিং হোম এবং এক্সপো সেন্টারে নির্মিত অস্থায়ী হাসপাতালগুলোতে অন্যান্য রোগীদের স্থানান্তর করা হচ্ছে। নিয়মিত হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের স্থান সংকুলানের কারণেই তা করা হচ্ছে। সব হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স ও ফ্রিজার ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। নিউইয়র্কের হাসপাতালে সাইরেন আর লালবাতি জ্বালিয়ে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স আসছে। মর্গের কাছে থাকা ট্রাকে ওঠানো হচ্ছে মৃতদেহ। ভীতিকর এ পরিস্থিতি দেখে হাসপাতাল কর্মীরাও স্থির থাকতে পারছেন না।

নিউইয়র্কে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ২৮ মার্চ রাত পর্যন্ত ৭২৮ অতিক্রম করেছে। যা একদিন আগে ছিল ৫২৮ জনে। আগামী ২৩ জুন অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের প্রাইমারি নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ওহাইও, জর্জিয়া, কানেকটিকাট, মেরিল্যান্ড, রোড আইল্যান্ড, ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাইমারি স্থগিত ঘোষণা করেছে।

আইসিইউতে থাকা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার হৃদয়বিদারক বর্ণনা দিয়েছেন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল্যাংগন মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড বেলভিউর চিকিৎসক কামিনী দ্যুবে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা খুব কঠিন সময় পার করছে। তারা বেঁচে থাকার লড়াই করছে প্রতি মুহূর্তে। কিন্তু প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে পরিবারের কারও সঙ্গে তাদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

দ্যুবে বলেন, প্রায়ই এমন দেখতে পাচ্ছি যে, একজন করোনা আক্রান্ত রোগী মৃত্যুশয্যায়, তিনি মারা যাচ্ছেন কিন্তু তার পাশে কেউ নেই। যাদের আইসিইউতে রাখা হচ্ছে, তাদের স্বজনদের ভোগান্তি দেখে খুব কষ্ট হচ্ছে। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীরা তাদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ফোনে কান্নাকাটি করছে। তাদের চোখের পানি দেখা খুবই বেদনাদায়ক। আবার এমন অনেকেই আছে যারা মৃত্যুর সময় পরিবারের কাউকেই পাশে পাচ্ছে না। এটা খুবই মর্মান্তিক।

নিউইয়র্কে গত তিন দিনে ৭৯০টি ভেন্টিলেটর শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সিটি মেয়র ও ফেডারেল সরকারের দেওয়া দুই হাজার ভেন্টিলেটরের মধ্যে প্রায় অর্ধেক বিতরণ করা হয়েছে। শহরে আরও ৬০০টি ভেন্টিলেটর সরবরাহ করা হবে। গত সপ্তাহে মেয়র বিল ডি ব্লাজিও ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে মোট ১৫ হাজার ভেন্টিলেটর চাওয়ার পর এসব আসে।

করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত আমেরিকায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৫০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ২২৭ জনের। নিউইয়র্কে ৫৩ হাজার ৪৫৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর মৃত্যু হয়েছে ৮৮৩ জনের। মৃত্যুর মিছিলের দীর্ঘ এই লাইনে বাংলাদেশিরাও আছেন। নিউইয়র্কে করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবায় ১১ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন নিউইয়র্কের অনেক সংবাদকর্মীসহ কমিউনিটির পরিচিতজনেরা। সর্বশেষ সাংবাদিক ফরিদ আলম ও আলোকচিত্রী স্বপন হাই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বপন হাই কিডনি জটিলতা রোগে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন।

ফিলাডেলফিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটির মেডিসিনের অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলো উত্তর আমেরিকাকে বলেন, করোনাভাইরাস সাধারণ ফ্লু জাতীয় ভাইরাস। এই ভাইরাস ফুসফুসের অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করতে পারে।

জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, মানুষ ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার সাত থেকে ১৪ দিনের মধ্যে এই (কোভিড-১৯) রোগে আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত হলে ৮০ শতাংশের অস্বস্তিকর অনুভূতি, হালকা মাথা ব্যথা ও কাশি থাকতে পারে। তারপর ভালো হয়ে যায়। পুরো ভালো হতে ৫ থেকে ৭ অথবা ১৫ দিনও লাগতে পারে। যাদের অবস্থা গুরুতর অবস্থায় পৌঁছায় তাদের শ্বাসকষ্ট হয়। তাদের হাসপাতালে যেতে হয় অক্সিজেন নেওয়ার জন্য। পরিস্থিত আরও হলে ভেন্টিলেটর সাহায্য লাগে। তবে ১০ থেকে ১২ দিনে অনেকেই ভেন্টিলেটর থেকে ভালো হয়ে যায়। আর ১ থেকে ২ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়।

এলএবাংলাটাইমস/এলআরটি/এনওয়াই

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৩৫৯ বার

আপনার মন্তব্য

সাম্প্রতিক খবর