যুক্তরাষ্ট্রে আজ শুক্রবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 01:05pm

|   লন্ডন - 08:05am

|   নিউইয়র্ক - 03:05am

  সর্বশেষ :

  নিউইয়র্কে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভা   লন্ডনে বিক্ষোভের মুখে মোদি   কোটা সংস্কার আন্দোলন: ঢাবি ক্যাম্পাসজুড়ে ভীতি   কোচিং ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে পদত্যাগ করলেন ছাত্রলীগ নেতা রনি   খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারলেন না বিএনপি নেতারা   প্রবাসীদের ভোটাধিকার দিতে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে: সিইসি   ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, ধসে পড়েছে শতাধিক বাড়িঘর   সৌদিতে সিনেমা হল উদ্বোধন   কিমের সঙ্গে আলোচনা সফল না হলে পদত্যাগ : আবেকে ট্রাম্প   টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় শেখ হাসিনা   বিশ্বের ৯৫ শতাংশ মানুষ দূষিত বায়ু গ্রহণ করছে   বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভারত   আরবদের বিরুদ্ধে আরবেদরই কাজে লাগাতে চাইছেন ট্রাম্প   বিসিবির চুক্তি থেকে বাদ সৌম্য-তাসকিন-সাব্বির   সৌদিতে আবার সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সাত বাংলাদেশির মৃত্যু

মূল পাতা   >>   নিউইয়র্ক

নিউইয়র্কের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মান্নান আর নেই : কমিউনিটিতে শোক, জানাজায় মানুষের ঢল

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৩-১৫ ১৪:৪৬:০৩

নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী সাঈদ রহমান মান্নান আর নেই। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) দিবাগত ভোররাত সোয়া ২টার দিকে তিনি নিউইয়র্কের নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দূরারোগ্য ক্যান্সারে ভুগছিলেন। নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের অন্যতম পথিকৃত ও সুপ্রতিষ্ঠিত মান্নান সুপার মার্কেট ও গ্রোসারীর স্বত্ত্বাধীকারী সাইদ রহমান মান্নানের মৃত্যু সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নিউইয়র্কের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। এদিকে বুধবার (১৪ মার্চ) বাদ জোহর জ্যাকসন হাইটস মসজিদ ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে (৭৩ স্ট্রিট) তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়ে। জানাজায় নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল শামীম আহসান সহ সর্বস্তরের শত-সহ¯্র প্রবাসী বাংলাদেশী অংশ নেন। জানা শেষে তার মরদেহ নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডস্থ ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিউইয়র্কে ‘মিনি বাংলাদেশ’ হিসেবে পরিচিত জ্যাকসন হাইটসের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী শরিয়তপুর জেলা তথা বৃহত্তর ফরিদপুরের কৃতি সন্তান সাঈদ রহমান মান্নান মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যা সহ বহু আতœীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন (জেবিবিএ)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সৎ, কর্মঠ, হাসিখুশি, স্বল্পভাসী আর বন্ধুবৎসল মানুষ ছিলেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তিনি গুরুতর অসুস্থ অনুভব করলে মধ্য রাতে তাকে এলমহার্স্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর পরই তার মৃত্যুর খবর ফেকবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। এতে পুরো কমিউনিটি শোকাহত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পার্ক ফিউনেরাল হোম-কে তার মরদেহ টেককেয়ার করার দায়িত্ব দেয়া হয়। বুধবার দুপুরে তার মরদেহ মরহুম সাঈদ রহমান মান্নানের প্রিয় ব্যবসাস্থল জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রীটে নিয়ে আসা হলে সেখানে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মরহুম মান্নানের মরদেহ ফিউনোরালের গাড়ী থেকে খাবার বাড়ীর সামনে রাখা হয়। এসময় তার স্ত্রী, কন্যা ও পুত্রদ্বয় শেষবারের মতো মুখ দেখার পর সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশ তাকে শেষবারের মতো দেখতে ভীড় জমান। এসময় প্রবাসীদের ভীড় সমালাতে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশকে বেগ পেতে হয়। এর আগে ৩৭ এভিনিউ থেকে ব্রডওয়ে পর্যন্ত অর্থাৎ ৭৩ স্টীট লোক ও যানবাহন চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়।
পরবর্তীতে জোহরের নামাজ শেষে ৭৩ স্টীটেই নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন হাজী ক্যাম্প মসজিদের ইমাম হাফেজ রফিকুল ইসলাম। জানাজায় নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল শামীম আহসান সহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের শত-সহ¯্র প্রবাসী বাংলাদেশী অংশ নেন। এর আগে মরহুম মান্নানের দুই পুত্র ও কনসাল জেনারেল সহ কয়েকজন শুকাংখী উপস্থিত প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। এসময় বাবাকে স্মরণ করতে গিয়ে মরহুমের দুই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
জানাজা শেষের মরহুম মান্নানের মরদেহ সরাসরি নিউইয়র্কের ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দাফন করা হয়।

৯০ দশকে স্বপ্নের সোনার হরিণের দেশে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়ে নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে ছোট্ট একটি বেকারী দিয়ে ব্যবসা শুরু করা সাঈদ রহমান মান্নান মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছিলেন নিউইয়র্কের অন্যতম সফল ব্যবসায়ী। ১৯৯৬ সালে জ্যাকসন হাইটসের সেভেনটি থার্ড স্ট্রীট ও থার্টি সেভেন এভিনিতে গড়ে তুলেছিলেন ছোট্ট সেই বেকারী। সেই বেকারী দিয়ে যাত্রা শুরু করার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, তাঁকে। স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে গেছেন শীর্ষ পর্যায়ে। ঘটা করে পালনও করেছিলেন মান্নান সুপার মার্কেট ও মান্নান গ্রোসার ২০ বছর পূর্তি। তার এই সফলতার নেপথ্য কারিগর ছিলেন নিজের সহধর্মীনি। মীট কার্টার থেকে শুরু করে সব-প্রতিকূলতাই মোকাবেলা করেছেন স্বামী-স্ত্রী মিলে।

একটি বেকারী আর গ্রোসারী দিয়ে পথচলা শুরু হওয়া মান্নান গ্রোসারী এখন নিউইয়র্কে বাংলাদেশী মালিকানাধীন শীর্ষ চেইন সুপার শপে রূপ নিয়েছে। প্রায় ২২ বছরে মান্নানের ৭টি সুপার মার্কেটে কাজ করছেন অসংখ্য বাংলাদেশী। সোনার হরিণের খোঁজে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো স্বদেশীদের কর্মসংস্থানেও সবার প্রিয় এ ‘মান্নান ভাই’ ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক।

কিন্তু কি ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। মৃত্যুকে হাসি মুখে বরণ করা এই মানুষটি কমিউনিটির কাছে বেঁচে থাকবেন তাঁর কর্ম ও গুনে। মরণব্যাধি ক্যান্সারের সাথে লড়াই করেছেন অতি নীরবে। কিন্তু সে লড়াই ছিল মনের লড়াই। ভেবে নিয়েছেন, পৃথিবীর মায়া ছাড়তেই হবে একদিন। সেটা বুঝতে পেরেই কেমোথেরাপি পর্যন্ত নেননি তিনি। অবশেষে হাসিমুখে আলিঙ্গন করলেন মৃত্যুর মতো কঠিন এক বাস্তবতাকে। পরিণতিতে সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

জানাজায় উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে সাবেক এমপি ও সাপ্তাহিক ঠিকানা’র সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি এম এম শাহীন, সাপ্তাহিক বাঙালী সম্পাদক কৌশিক আহমেদ, সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশনের সিইও আবু তাহের, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর মাহমুদ, এটর্নী মঈন চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুর রহীম হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, সাবেক সহ সভাপতি মনিরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাম এসোসিয়েশন ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম, জেবিবিএ’র এডহক কমিটির প্রধান মহসীন ননী ও সদস্য পিয়ার মোহাম্মদ, জেবিবিএ’র সভাপতি শাহ নেওয়াজ ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান টুকু, জেবিবিএ নেতা হারুন ভূঁইয়া, এডভোকেট শামসুদ্দোহা, মোহাম্মদ সেলিম হারুন, ফাহাদ সোলায়মান, জেবিবিএ’র সাবেক সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী জিকু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম ও তারেক হাসান খান, সিলেট গণদাবী পরিষদের সভাপতি আজিমুর রহমান বুরহান, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, কমিউনিটি নেতা আইনজীবী এন মজুমদার, আব্দুল কাদের চৌধুরী শাহীন, কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, খানস টিউটোরিয়াল-এর সিইও ড. ইভান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

শোক প্রকাশ: এদিকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাঈদ রহমান মান্নানের ইন্তেকালে কমিউনিটির সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। শোক প্রকাশকারী উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন: বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র সভাপতি কামাল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি ডা. ওয়াজেদ এ খান ও সাধারণ সম্পাদক শিবলী চৌধুরী কায়েস, আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি (আইএফসি)-এর চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ইউসুফজাই সালু ও সেক্রেটারী জেনারেল সৈয়দ টিপু সুলতান, যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহমদ, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সভাপতি শেখ হায়দার আলী ও সাধারণ সম্পাদক ইফজাল আহমেদ চৌধুরী  প্রমুখ।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক ষ্টেট আওয়ামী লীগ ও নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ সহ দলের সকল সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম ইউএনএ প্রতিনিধিেিক জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাঈদ রহমান মান্নানের ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন।

ফরিদপুর জেলা কল্যাণ সমিতি ইউএসএ ইনক সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত বিশ্বাস এক শোক বার্তায় বলেন, মরহুম সাঈদ রহমান মান্নাকে প্রবাসের একজন আলোকিত মানুষ হিসেবেই আমরা তাকে জানি। মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি, সেই সাথে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমাবেদনা জানাচ্ছি। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত নসিব করেন এই দোয়া করি।
এছাড়াও নারায়নগঞ্জ জেলা সমিতি ইউএসএ ইন্ক, মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর এসাসিয়েশন ইউএসএ সহ প্রবাসের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।


এলএবাংলাটাইমস/এনওয়াই/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৫৮৭ বার

আপনার মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত

সাম্প্রতিক খবর