যুক্তরাষ্ট্রে আজ শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 11:16pm

|   লন্ডন - 06:16pm

|   নিউইয়র্ক - 01:16pm

  সর্বশেষ :

  জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন   আমেরিকারপ্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের প্রমাণ মিলেছে   খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া শপথ নেয়ার প্রশ্নই আসে না: মওদুদ   তারেক-জোবাইদার ব্রিটেনের ৩ ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিল ঢাকার আদালত   ভারতের নির্বাচনে বাংলাদেশে যে প্রভাব পড়তে পারে   নুসরাত হত্যা : আ.লীগ নেতা রুহুল আমিন আটক   দেশের গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী   গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ   আল্লাহর রহমতে আ.লীগের জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে : প্রধানমন্ত্রী   নতুন চমক নিয়ে আসছেন এআর রহমান   ইতালিতে বারবিকিউয়ের আগুন থেকে দাবানল, দুই শিক্ষার্থীকে ২৭ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা   দেশেই উৎপাদন হবে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ গাড়ি   বিমানবন্দরে অস্ত্র গুলিসহ উপজেলা চেয়ারম্যান আটক   নুসরাতকে নিয়ে ছোট ভাই রায়হানের আবেগঘন স্ট্যাটাস   কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

মূল পাতা   >>   খেলাধুলা

পাঁচ বছর পর মুক্ত আশরাফুল, ভবিষ্যৎ কী?

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৮-১৩ ১৬:২৭:৪১

নিউজ ডেস্ক: বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগে ২০১৩ সালের জুন মাস থেকে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হন মোহাম্মদ আশরাফুল। তাকে তিন বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞাসহ মোট ৮ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আপিলের পর সেই শাস্তি কমে হয় ২ বছরের স্থগিতসহ ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা। তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০১৬ সালের আগস্টে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরেন। তবে স্থগিত নিষেধাজ্ঞার সময়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ ছিলেন তিনি। সেই নিষেধাজ্ঞা থেকে আজ মুক্ত হলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবথেকে বড় তারকা। এখন থেকে চাইলেই নির্বাচকরা জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করতে পারবেন তাকে! খেলতে পারবেন বিপিএলেও। আন্তর্জাতিক ও বিপিএলে খেলতে কোনো বাঁধা নেই তার। তবে যে পথ থেকে আশরাফুল পাঁচ বছর আগে ছিটকে গেছেন সেই পথে কি আবার ফিরে আসা সম্ভব? পথটা কি এতোটাই মসৃণ। ক্রিকেট বোদ্ধারা বলছেন, এ পথে রয়েছে অনেক কাঁটা! এ পথে অনেক বাঁধা!


কী চাইছেন আশরাফুল?
‘আবার আমি জাতীয় দলে খেলার জন্য বিবেচিত হওয়ার জায়গায় এলাম। আমার একটাই লক্ষ্য জাতীয় দলে ফেরা। গত পাঁচ বছরে আমার একবারও মনে হয়নি যে আমি ফিরতে পারব না। এমন একটি মুহূর্তও আসেনি, যখন আমি কম আত্মবিশ্বাসে ভুগেছি। সব সময়ই মনে হয়েছে আমি জাতীয় দলে ফিরতে পারব। যেভাবেই হোক আমি চাই জাতীয় দলে খেলতে।  আমার লক্ষ্য ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলা। বিশ্বকাপের বাকি ১১ মাস। ১১ মাস তো অনেক সময়। আগামী অক্টোবর থেকে আমাদের ঘরোয়া মৌসুম শুরু। জাতীয় লীগে যদি ভালো খেলি, জানুয়ারিতে বিপিএলে ভালো খেলতে পারলে, এরপর ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে ভালো পারফর্ম করতে পারলে, কেন সম্ভব নয়? সামনে ঘরোয়া ক্রিকেটের যে টুর্নামেন্টেই খেলি না কেন, ভালো পারফরম্যান্স করতে চাই। তাহলেই নির্বাচকরা বিবেচনা করবেন। আর জাতীয় দলে চার সিনিয়র ছাড়া কোনো ব্যাটসম্যানের জায়গা তো পাকা না। তরুণরা তো ভালো খেলছে না। তাই ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেললে অবশ্যই সুযোগ থাকবে। গত প্রিমিয়ার লীগে ৫টি সেঞ্চুরি করেছি। এবার এর চেয়েও ভালো কিছু করতে চাই।’-বলেছেন আশরাফুল।


শুরুটা ইতিবাচক :
গত দুই মৌসুম ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে বেশ সাড়া ফেলেছেন আশরাফুল। সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে রেকর্ড সর্বোচ্চ পাঁচটি সেঞ্চুরির ইনিংস উপহার দিয়েছেন। টানা তিন ম্যাচে সেঞ্চুরি করার অনন্য রেকর্ড গড়েন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও রয়েছে সেঞ্চুরি। ফেরার পর শুরুটা দারুণ না হলেও ইতিবাচক ছিল। অক্টোবরে শুরু হবে জাতীয় ক্রিকেট লিগ। এরপর প্রিমিয়ার লিগ, বিপিএল, বিসিএল। সামনে ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক ম্যাচ। ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়াতে পারলে হয়তো নির্বাচকদের ভাবনায় আসতেও পারেন আশরাফুল।


নির্বাচকদের ভাবনা :
প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু মনে করেন, এই মুহূর্তে জাতীয় দলে ফেরার কোনো সুযোগ নেই আশরাফুলের। শুধু জাতীয় দল নয় ‘এ’ দল কিংবা বিসিবির অন্য কোনো দলেও কোনো সুযোগ নেই তার। মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে দলে ওর কোনো জায়গা নেই। আমাদের যে ফিটনেস লেভেল আছে…এইচপি থেকে শুরু করে ‘এ’ দল এবং জাতীয় দলের ফিটনেস কার্যক্রমের সঙ্গে ও যুক্ত নয়। এ জায়গায় আসতে হলে ওকে কিছু সময় দিতে হবে। এই লেভেলটা যদি থাকে, তাহলে চিন্তা করা যাবে। সুতরাং এ মুহূর্তে আমরা চিন্তাভাবনা করছি না।’


বয়স কি বাঁধা?
জাতীয় দলে ফেরার ক্ষেত্রে বয়স কি বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে আশরাফুলের। গত জুলাইয়ে ৩৪ এ পা দিয়েছেন আশরাফুল। তাকে লড়াই করতে হবে সৌম্য, লিটন, এনামুল, শান্তদের সঙ্গে! পারবেন কি আশরাফুল। যদি পেরেও থাকেন নির্বাচকরা কি তাকে বিবেচনায় আনবেন? মিনহাজুল আবেদীন বয়সকে কোনো বাধা মানছেন না, ‘একজন ক্রিকেটার যদি ফিট থাকে এবং জাতীয় দলে খেলার যোগ্য হয়, অবশ্যই তাকে বিবেচনা করা হবে। আশরাফুলও ব্যতিক্রম নয়।’


শুরুতেই প্রয়োজন ফিটনেস :
এক তামিম ইকবালকে দেখলেই বোঝা যায় ফিটনেস কতটা জরুরী, কতটা উপকারী।  বাড়তি ফিটনেসের কারণে এখন তামিম উইকেটে দীর্ঘসময় ব্যয় করতে পারছেন। উইকেটে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে পারছেন বলেই রানের ফুলঝুরি ছুটিয়ে রান করছেন। শুধু তামিম না জাতীয় দলের সিনিয়র পাঁচ ক্রিকেটারই নিজেদের ফিটনেস নিয়ে সচেতন। মোহাম্মদ আশরাফুলকে দলে ফিরতে হলে শুরুতেই কাজ করতে হবে ফিটনেস নিয়ে। বিষয়টি নিয়ে সচেতন আশরাফুলও, ‘শেষ দুই বছর ফিটনেস নিয়ে অনেক কাজ করেছি। বিশেষ করে গত দুই মাসে প্রায় ৮/৯ কেজি ওজন কমিয়েছি। ফিটনেস লেভেল এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো। বাংলাদেশ দলে ফেরার জন্যই ফিটনেস নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি।'


ভবিষ্যৎ?
মোহাম্মদ আশরাফুলের ভবিষ্যৎ কি হবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে পূর্বের বাংলাদেশ আর বর্তমান বাংলাদেশের এখন অনেক পার্থক্য। কয়েক বছর আগেও একাধিক ক্রিকেটার পারফর্ম না করেও দিনের পর দিন সুযোগ পেয়ে আসতেন। বর্তমান দলে সেই ধারা নেই। পারফরম্যান্স নেই তো দলে জায়গাও নেই! বড় নাম নিয়েও বাদ পড়তে হয়েছে দল থেকে। যেমনটা হয়েছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ক্ষেত্রে। কলম্বোয় শততম টেস্টের ঠিক আগ মুহুর্তে তাকে দলে রাখেনি টিম ম্যানেজম্যান্ট। অথচ এ মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে পরবর্তীতে কত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তাই আশরাফুল বাংলাদেশের সময়ের সেরা দলে জায়গা করে নিতে পারেন কিনা সেটাই দেখার।

অনুপ্রেরণা আমির:
আশরাফুলের তিন বছর আগে অর্থ্যাৎ ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গড়াপেটার অভিযোগে পাঁচ বছর নিষিদ্ধ হন ১৮ বছর বয়সি মোহাম্মদ আমির। পাকিস্তানের বাঁহাতি এ পেসার পরবর্তীতে পাঁচ বছর শাস্তি ভোগ করে ফিরে আসেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। স্বদর্পে ফিরে এসে আমির এখন পাকিস্তানের সবথেকে বড় ভরসার নাম, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অন্যতম সেরা বোলার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসতে মোহাম্মদ আশরাফুলের অনুপ্রেরণা মোহাম্মদ আমির।


বিসিবির ভাবনা :
দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করলে তার জন্যও জাতীয় দলের দরজা খোলা আছে বলে জানিয়েছেন, বিসিবির পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। তার ভাষ্য, ‘এক কথায় বললে, আশরাফুল একটি নাম। এখানে দশ জন ক্রিকেটার যেভাবে জাতীয় দলে আসে সেভাবেই আশরাফুলকে আসতে হবে। আপনারা জানেন যে পাঁচ বছর সে ক্রিকেটের বাইরে ছিল। ঘরোয়া ক্রিকেটের দুটি আসরে সে খেলেছে। কিন্তু সেটি যথেষ্ট নয়। তার ফিটনেসের ব্যাপার আছে। নির্বাচকরা চাইছে তাকে তিন ফরম্যাটেই ভালো করে দেখতে। তার শারীরিক ফিটনেসটা কেমন সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় তাকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। বিপিএলে খেলার জন্য সে এখন মুক্ত।’

বাংলাদেশ জাতীয় দলে ফিরতে যে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে, তা অজানা নয় আশরাফুলের। অনেক দূর যেতে হবে তাকে। অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। বর্তমান সময়ের লিটন, এনামুল, সৌম্য, শান্ত, মিথুনরা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের মান অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছেন। একটা সময় আশরাফুলও ছিলেন ভয়ডরহীন। ভুল পথে পা বাড়িয়ে নিজের ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছেন! সেই ক্যারিয়ার কি আবার শুরু থেকে শুরু করতে পারবেন আশরাফুল। আরেকবার কি লাল-সবুজের জার্সি গায়ে মাঠে নামতে পারবেন। কিংবা সাদা পোশাকে হতে পারবেন উজ্জ্বল ধ্রুবতারা!

এলএবাংলাটাইমস//এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ১৩০৫ বার

আপনার মন্তব্য