যুক্তরাষ্ট্রে আজ সোমবার, ১৭ Jun, ২০১৯ ইং

|   ঢাকা - 11:32pm

|   লন্ডন - 06:32pm

|   নিউইয়র্ক - 01:32pm

  সর্বশেষ :

  নিউজিল্যান্ডে উড়োজাহাজের সংঘর্ষে ২ পাইলট নিহত   কী কথা হলো মোদি-ইমরানের?   ঢাকায় বস্তিতে সাড়ে ৬ লাখ মানুষের বাস   দুর্ঘটনায় মৃত্যু নয়, সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা করা হয় : মির্জা ফখরুল   উজবেকিস্তান পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি   মোহাম্মদ বিন সালমানের বোন ফ্রান্সে বিচারের মুখোমুখি   ‘ইমরান খান ধর্মের প্রতি আন্তরিক’   দুর্নীতি ও অর্থ পাচার নিয়ে সংসদে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ   প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাবুনগরীর প্রতিবাদ   চট্টগ্রামে ১০ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশের এসআই আটক   নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন ক্রাইস্টচার্চে হামলাকারী   ওমান উপসাগরে ট্যাংকারে হামলায় ইরান দায়ী: মার্কিন সামরিক বাহিনী   আবারও সৌদি বিমানবন্দরে হুতিদের হামলা   ঋণনির্ভর বাজেট জনগণের পকেট কাটবে: ফখরুল   প্রয়োজনেই বড় বাজেট: প্রধানমন্ত্রী

মূল পাতা   >>   সিলেট

সিলেটে বিজয়ের পথে বিএনপির আরিফুল

সিলেট প্রতিনিধি, নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৭-৩০ ১৪:৩৭:১২

সিলেট প্রতিনিধি: সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছেন আরিফুল হক চৌধুরী। নানা প্রতিকূলতা ও রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার পর আবারো সিলেট সিটির মেয়রের চেয়ারে বসতে যাচ্ছেন তিনি। সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ও ২০ দল সমর্থিত এই মেয়রপার্থী এগিয়ে চলেছেন বিজয়ের পথে। সোমবার রাত পৌণে ১২টায় নির্বাচন কমিশনের দেয়া হিসেব মতে সিলেট সিটি কর্পেরেশনের ১৩৪টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৩২ট কেন্দ্রের ফলাফলে মেয়রপদে আরিফুল হক চৌধুরী ভোট পেয়েছেন ৯০৪৯৬ টি। তার নিকটম প্রতিদ্বন্দ্বি শাসকদল আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পেয়েছেন ৮৫,৮৭০ ভোট। সরকার দলীয় প্রার্থী সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ৪৬২৬ ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন। দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকলেও আরিফুল হক পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন। আরিফুল হকের প্রাপ্ত ভোট এ দুটি কেন্দ্রের ভোট থেকে ১০৮ কম থাকায় তাৎক্ষণিক বেসরকারীভাবে তাকে নির্র্বাচিত ঘোষণা করা হয়নি বলে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে। তবে তার বিজয়ের ঘোষণা শুধু আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।

২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি কপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে ১৮ দলীয় জোট প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী (টেলিভিশন) মার্কায় এক লাখ ৭ হাজার ৩৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান (আনারস) মার্কায় পেয়েছিলেন ৭২ হাজার ১৭৩ ভোট। কামরানকে ৩৫ হাজার ১৫৭ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে নগর পিতার আসন গ্রহণ করেছিলেন। তখন দীর্ঘ ১৭ বছর যাবৎ আঁকড়ে ধরে রাখা নগরভবনের কর্তৃত্ব হারান আওয়ামী লীগ নেতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। চলতি নির্বাচনে সে আসন ও কর্তৃত্ব পুনরূদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালান তিনি। কিন্তু উন্নয়ন প্রত্যাশী গনজোয়ারে ভেস্তে যায় তার সকল প্রচেষ্টা। অবশেষে মেয়রের পদটি আবারো ফিরে পেতে চলেছেন জননন্দিত বিদায়ী মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। স্থগিত ২ভোট কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ শেষে চুড়ান্তভাবে বিজয়ী ঘোষনা করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নানা ঘটনার সিসিক নির্বাচন
ভোটকেন্দ্র দখল, সংঘর্ষ, গাড়ি ভাংচুর, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপর হামলা ব্যালট ছিনতাই, গুলিবর্ষণ ও গ্রেফতারের মধ্যদিয়ে সোমবার সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে মেয়র কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে মোট ১৯৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৮টা পর্যন্ত ১০৪টি কেন্দ্রের ৯২৬টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের দাবি করা হলেও ভোট গ্রহণকালে ঘটে বহু অঘটন। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে দুপুর ১২টার আগেই ভোট গ্রহণ শেষ হয়ে যায়। ভোটাররা গিয়ে তাদের ভোট পান নি বা ভোট দিতে পারেন নি। অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের বাইরে রেখে কেন্দ্র বন্ধ করে ভোট প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সিলেট সিটির ৫নং ওয়ার্ডের খাসদবির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মদনমোহন কলেজ, বাগবাড়ি এতিম স্কুল প্রভৃতি কয়েকটি ভোটকেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল দেয়া হয়েছে। একই সাথে ভোটকেন্দ্রে যেতে ভোটারদের বাধা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার সকল পৌণে ১০টার দিকে খাসদবির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র দখলে নেন কাউন্সিলর প্রার্থী ও যুবলীগ নেতা রিমাদ আহমদ রুবেল ও তার কর্মীরা। এসময় তারা কেন্দ্রের গেইট বন্ধ করে দিয়ে ব্যালট পেপারে সিল মারতে থাকেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ ঘটনায় প্রায় ১ ঘন্টা ভোট কেন্দ্র বন্ধ ছিল। এসময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পৌণে ১১টার দিকে বিজিবি সদস্যরা কেন্দ্রে উপস্থিত হন।

সকাল ১০টার দিকে নগরের পাঠানটুলা এলাকার শাহাজালাল জামিয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ঐ ভোটকেন্দ্র প্রায় ১৫ মিনিট ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে।

প্রিজাইডিং অফিসার জামিল আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কেন্দ্রের বাইরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রের ভেতরে কোনও সমস্যা হয়নি। পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ১৫ মিনিট পরেই আবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক টিম কেন্দ্রের সামনে উপস্থিত রয়েছে। রেলওয়ে ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাইকালে ৪জনকে গ্রেফতার করা হয়।

অপরদিকে সকাল ১১টার দিকে নগরের ১৮নং ওয়ার্ডের কুমারপাড়ায় কাজী জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেওয়ার ঘটনায় ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এতে বন্ধ হয়ে যায় ভোটগ্রহণ কার্যক্রম। এসময় একটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনায় এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সাময়িক বন্ধ থাকে। দুই কাউন্সিলর প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা কেন্দ্রটি দখল করে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। বখতিয়ার বিবি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে এক শিবির কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। জালভোট ও কেন্দ্র দখল নিয়ে আওয়ামী লীগের সাথে বাদানুবাদের সময় পুলিশ তার পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়াও নগরের উপশহর, দক্ষিণ সুরমা, টিলাগড়, লামাবাজার, বাগবাড়ি, পীর মহল্লা আম্বরখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্দনটুলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, এমসি কলেজ কেন্দ্র, হাতিম আলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ নগরের বেশিরভাগ কেন্দ্র দখল করে বোট দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এসব কেন্দ্রে দুপুর ১২ টার আগেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন্ হয়ে যায়। ভোটাররা পরে গিয়ে আর ভোট দিতে পারেন নি বলে অনেক ভোটার অভিযোগ করেছেন।





এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ১২৮৫ বার

আপনার মন্তব্য

সাম্প্রতিক খবর