যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং

|   ঢাকা - 06:03pm

|   লন্ডন - 12:03pm

|   নিউইয়র্ক - 07:03am

  সর্বশেষ :

  প্রতীক বরাদ্দ, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৩শ আসনে ১৮৪১ প্রার্থী   সিডনিতে বিজয় দিবস উদযাপন শুরু   ধানের শীষকে জয়যুক্ত করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে : রোমে বিএনপির সভা   নিউইয়র্কে তিন দিনব্যাপী ফোবানা কনভেনশন ৩০-৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসবেন ম্যাক্রো, না থামলে কড়া পদক্ষেপ   ইইউর অনুমতি ছাড়াই ব্রেক্সিট বাতিল করতে পারবে যুক্তরাজ্য : ইসিজি   বন্ধ ৫৮টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল খুলে দিয়েছে বিটিআরসি   নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানালেন সাকিব   ধানের শীষের প্রচারের নেতৃত্বে ড. কামাল   ট্রাম্পকন্যা দাবি এক পাকিস্তানি তরুণীর!   নির্বাচন সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য করতে ইইউ'র আহ্বান   গৃহশিক্ষকের চোখে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের শৈশব   সোমবার প্রতীক বরাদ্দ   প্রার্থিতা ফিরে পেতে খালেদা জিয়ার রিট   ভারতে ইভিএম নিয়ে বাড়ছে সন্দেহ ও অবিশ্বাস

মূল পাতা   >>   টুকিটাকি

উন্নত বিশ্বে দ্রুত বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা

নিউজ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-২৩ ০৮:৪৯:০১

 আপডেট: ২০১৮-০৯-২৩ ১৪:৩৩:৩১

নিউজ ডেস্ক: গোটা ইউরোপ মহাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কমছে জন্মহার, কমছে শিশু আর এর বিপরীতে দ্রুত বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বাড়ছে ৬০ অথবা তার চেয়ে বেশি বয়সের মানুষের সংখ্যা। অনেক উন্নত দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে গেছে। এক দিকে অগণিত মানুষ প্রাণন্তকর সাধনা করে যাচ্ছে কিভাবে আরো বেশি দিন পৃথিবীতে বেঁচে থাকা যায়, আরেক দিকে অনেক দেশ বয়স্ক মানুষ নিয়ে নানা ধরনের সঙ্কটের মুখোমুখি। জাপানসহ অনেক দেশে বয়স্কদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। উন্নত দেশে পূর্ণ আর্থিক নিরাপত্তা, উন্নত চিকিৎসাসহ বয়স্কদের জন্য যাবতীয় সুযোগ-সুবিধার আয়োজন থাকলেও তাদের প্রধান সমস্যা নিঃসঙ্গতা। অপর দিকে দারিদ্র্য বা অনুন্নত দেশে অধিক বয়স্ক মানুষ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারের লোকজন আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা এবং উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা না থাকায়। এসব দেশে বয়স্করা সাধারণত পরিবারের সাথে থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তাদের বোঝা এবং বিড়ম্বনা হিসেবে দেখা হয়।

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি গড় আয়ু জাপানের মানুষের, ৮৭ বছর। জাপানের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে উন্নত জীবন যাপন পদ্ধতি, সংক্রামক ব্যধি প্রতিরোধ, শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। বেশি দিন বেঁচে থাকার আশায় অনেক দেশের মানুষ জাপানিদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবন যাপন পদ্ধতি মেনে চলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের অনেকেই হয়তো জানেন না জাপান বর্তমানে বয়স্ক মানুষ নিয়ে কী ধরনের সঙ্কটের মুখোমুখি। জাপানে প্রতি বছর যে পরিমাণ মানুষ আত্মহত্যা করে তার মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগের ওপরে রয়েছে বয়স্ক মানুষ। তবে ২০১৫ সালে জাপানে ২৪ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে। জাপানে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে যারা আত্মহত্যা করে তাদের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে যাদের বয়স ৫০ থেকে ৫৯ বছর । দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যাদের বয়স ৮০ বছর বা তার বেশি। তৃতীয় স্থানে রয়েছে যাদের বয়স ৭০ থেকে ৭৯ বছর।

নিঃসঙ্গতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতাসহ বিভিন্ন কারণে উন্নত দেশের বয়স্ক লোকজন নানা ধরনের মানসিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং বয়স্কদের কোনো কোনো আত্মহত্যার খবর প্রায়ই এসব দেশে গভীর বেদনা সৃষ্টি করে।
সিঙ্গাপুরে ২০১৭ সালে আত্মহত্যার ৩৬ ভাগ ঘটে ৬০ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়স্কদের ক্ষেত্রে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৬ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী গড় আয়ুর দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড ৮৩ দশমিক ৪, তৃতীয় সিঙ্গাপুর ৮৩ দশমিক ১, চতুর্থ অস্ট্রেলিয়া ও স্পেন ৮২ দশমিক ৮। এরপরের দেশগুলো হলো আইসল্যান্ড ৮২ দশমিক ৭, ইতালি ৮২ দশমিক ৭, ইসরাইল ৮২ দশমিক ৫, সুইডেন ও ফ্রান্স ৮২ দশমিক ৪ ও দক্ষিণ কোরিয়া ৮২ দশমিক ৩।

আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মরক্কো, মিসর ছাড়া আফ্রিকার বেশির ভাগ দেশের মানুষের গড় আয়ু ৬৫-এর নিচে। এ মহাদেশের অনেক দেশের মানুষের গড় আয়ু ৫০ এর সামান্য বেশি। বিশ্বের সবচেয়ে কম গড় আয়ু আফ্রিকার সিয়েরালিওনে ৫০ দশমিক ১।
বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭১ দশমিক ৮। বিশ্বব্যাপী মানুষের গড় আয়ু ২০১০ থেকে ২০১৫ সালে ছিল ৭১ বছর। এটা ২০৪৫ থেকে ২০৫০ সালে ৭৭ পর্যন্ত পৌঁছবে।

শতকরা হিসাবে সবচেয়ে বেশি বয়স্ক মানুষ রয়েছে জাপানে। জাপানের জনসংখ্যার ২৬ দশমিক ৩ ভাগের বয়স ৬৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি। ২০৩০ সালে এটা ৩২ ভাগ হবে। জাপানে বর্তমানে প্রতি চারজনে একজনের বয়স ৬৫ বা তার চেয়ে বেশি। শতকরা হিসাবে বয়স্ক মানুষের সংখ্যার দিক দিয়ে এর পরের দেশগুলো হলো ইতালি ২২ ভাগ, গ্রিস ও জার্মানি ২১ ভাগ করে, পর্তুগাল, ফিনল্যান্ড ও বুলগেরিয়া ২০ ভাগ করে, সুইডেন, লাটভিয়া ও মাল্টা ২০ ভাগ করে, ফ্রান্স এবং ডেনমার্ক ১৯ ভাগ করে, ক্রোয়েশিয়া, এস্তোনিয়া, লিথুনিয়া, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভেনিয়া ও সুইজারল্যান্ডে ১৮ ভাগ করে বয়স্ক মানুষ রয়েছে মোট জনসংখ্যার। যুক্তরাজ্য ও রোমানিয়ায় রয়েছে ১৭ ভাগ।

জাতিসঙ্ঘের জনসংখ্যা তহবিলের ২০১৭ সালের তথ্য অনুসারে সারা বিশ্বে ৬০ অথবা তার চেয়ে বেশি মানুষের সংখ্যা হলো ৯৬ কোটি ২০ লাখ। এটা মোট জনসংখ্যার ১৩ ভাগ। ৬০ অথবা তার চেয়ে বেশি বয়স্ক মানুষের সংখ্যা প্রতি বছর ৩ শতাংশ হারে বাড়ছে। বর্তমানে এ বয়সী মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি রয়েছে ইউরোপে তথা ২৫ ভাগ। এটা দ্রুত অন্যান্য মহাদেশেও বাড়বে। আফ্রিকা মহাদেশ ছাড়া সারা বিশ্বে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে ৬০ অথবা তার চেয়ে বেশি মানুষের সংখ্যা হবে ২৫ ভাগ। আর ইউরোপে ২০৫০ সালের মধ্যে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫ ভাগে।
বয়স্ক মানুষের সংখ্যা ২০৩০ সালের মধ্যে ১৪০ কোটি এবং ২০৫০ সালে ২১০ কোটি হবে।

ল্যাটিন আমেরিকায় এবং এশিয়ায় বর্তমানে বয়স্ক মানষের সংখ্যা শতকরা ১২ ভাগ। ২০৫০ সালের মধ্যে এটা ল্যাটিন আমেরিকায় ২৫ ভাগ এবং এশিয়ায় ২৪ ভাগ পর্যন্ত বাড়বে।

উত্তর আমেরিকায় বর্তমানে ২২ ভাগ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে ২৮ ভাগ পর্যন্ত বাড়বে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা।
বয়স্ক মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে কম আফ্রিকা মহাদেশে মাত্র ৫ ভাগ। ২০৫০ সালে এটা ৯ ভাগ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কম বয়সী মানুষ সবচেয়ে বেশি রয়েছে আফ্রিকা মহাদেশে। এ মহাদেশে ৬০ ভাগ মানুষের বয়স ২৫ বছরের নিচে । ৪১ ভাগ মানুষের বয়স ১৫ বছরের নিচে। আফ্রিকা মহাদেশে বয়স্ক মানুষ কম থাকার পেছনে রয়েছে এইডস এবং বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে মৃত্যু।

ল্যাটিন আমেরিকায় ২৫ ভাগ মানুষের বয়স ১৫ বছরের নিচে এবং এশিয়ায় ২৪ ভাগ মানুষের বয়স ১৫ বছরের নিচে।
বর্তমানে বিশ্বে ৮০ বছর অথবা তার চেয়ে বেশি বয়স্ক মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৪ কোটি। ২০৫০ সালের এটা তিনগুণ বেড়ে ৪২ কোটি ৫০ লাখে পৌঁছবে। বর্তমানে ৮০ বছর অথবা তার চেয়ে বেশি বয়স্ক মানুষের সংখ্যা শতকরা ১ ভাগ। বর্তমানে একমাত্র সুইডেনে ৮০ বছর বা তার বেশি বয়স্ক মানুষের সংখ্যা শতকরা ৫ ভাগ।

৬০ বছর অথবা তার চেয়ে বেশি বয়স্ক মানুষের সংখ্যা ১৯৫০ সালে ছিল প্রতি ১৫ জনে ১ জন, ২০০০ সালে ৯ জনে ১ জন এবং ২০৫০ সালে এটা প্রতি ৫ জনে ১ জন হবে।

জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ৬০ অথবা তার চেয়ে বেশি বয়স্কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অন্যের ওপর নির্ভরশীল বা পরিবারের সাথে জীবনযাপন করে আফগানিস্তানে। আফগানিস্তানের ৯৩ ভাগ বয়স্ক লোক অন্যের ওপর নির্ভরশীল বা পরিবারের সাথে বাস করেন। আর বয়স্কদের মধ্যে সবচেয়ে কম নির্ভরশীল এবং একাকী জীবন যাপন করেন নেদারল্যান্ডে।

সেখানে মাত্র ২ দশমিক ৩ ভাগ বয়স্ক অন্যের ওপর নির্ভরশীল। বাকিরা সাবলম্বী এবং একাকী জীবন যাপন করেন। তবে পুরুষের তুলনায় বয়স্ক নারীরা বেশি একাকিত্বে ভোগেন। আফ্রিকা এবং ইউরোপে পুরুষের দ্বিগুণ নারী একাকী জীবন যাপন করেন। ১৪৩টি দেশের তথ্যের আলোকে ২০১৭ সালে জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এলএবাংলাটাইমস/আই/এলআরটি

এই খবরটি মোট পড়া হয়েছে ৬৩৩ বার

আপনার মন্তব্য