আমেরিকা

ফোন ধরতে বাধ্য করা হচ্ছে সুবিধা প্রক্রিয়াকরণে নিয়োজিত কর্মীদের, বাড়ছে সোশ্যাল সিকিউরিটির জট

মার্কিন সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (SSA) সাময়িকভাবে এমন কর্মীদের ফোন-সার্ভিসে নিয়োজিত করছে, যারা সাধারণত ভাতা ও দাবি (claims) প্রক্রিয়াকরণের কাজ করেন। এতে সংস্থাটির চলমান কাজের জট আবারও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মী। একজন SSA কর্মী বলেন, “যে ব্যাকলগ কমাতে আমরা ভালো অগ্রগতি করছিলাম, সেটাই এখন আবার বাড়বে।” তবে সংস্থার একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, এই পুনর্বিন্যাসে দক্ষতা কমবে না। তার ভাষায়, “প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়াগত উন্নতির মাধ্যমে আমরা উল্লেখযোগ্য অপারেশনাল দক্ষতা অর্জন করেছি। এর ফলে ন্যাশনাল ৮০০ নম্বরে গ্রাহকসেবা জোরদার করতে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য “আমেরিকান জনগণকে বিশ্বমানের গ্রাহকসেবা দেওয়া।” কর্মীদের অভিযোগ, যাদের ফোন ধরার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই আগে কখনও এই কাজ করেননি। মাত্র তিন ঘণ্টার প্রশিক্ষণ দিয়ে পরদিনই তাদের ফোন ধরতে বলা হয়েছে। কয়েক বছর আগে যারা ফোনে কাজ করেছিলেন, তারাও তখন মাসের পর মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে অভিজ্ঞ অপারেটরের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। অথচ বর্তমানে যাদের পুনর্নিয়োগ করা হয়েছে, তাদের নিয়মিত কাজে জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই থাকে না। কর্মীরা জানান, কলারদের অনেক প্রশ্ন সম্পর্কে তাদের আংশিক ধারণা থাকলেও পূর্ণ জ্ঞানভিত্তি নেই। কেউ অবসরভাতা নিয়ে কাজ করেন, কেউ প্রতিবন্ধী ভাতা—সব বিষয়ে দক্ষতা নেই। পুনর্নিয়োগের খবর পাওয়ার পরদিন থেকেই ফোন ধরতে শুরু করতে হয়েছে বলে জানান একাধিক কর্মী। আমেরিকান ফেডারেশন অব গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ (AFGE)-এর SSA অধ্যায়ের মুখপাত্র রিচ কুট্যুর বলেন, “ফোন সার্ভিসসহ সব বিভাগেই সংস্থার আরও কর্মী দরকার।” তার আশঙ্কা, দাবি প্রক্রিয়াকরণের কাজ জমে যাবে এবং নতুন ভূমিকায় অপর্যাপ্ত প্রস্তুতির কারণে কর্মীরা হিমশিম খাবেন। তিনি আরও বলেন, “বাইআউট ও ছাঁটাইয়ের হুমকির মাধ্যমে হাজারো অভিজ্ঞ কর্মীকে সংস্থা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে—যা আমাদের ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন জনবল সংকটকে আরও তীব্র করেছে।” SSA প্রশাসক ফ্র্যাঙ্ক বসিগনানো একই ধরনের কৌশল আইআরএসেও (Internal Revenue Service) প্রয়োগ করেছেন বলে জানা গেছে। সেখানে কর মৌসুমে সংকট সামলাতে মানবসম্পদ বিভাগসহ অভিজ্ঞতাহীন কর্মীদের ফোন-সার্ভিসে নামানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইআরএসে ২০ হাজারের বেশি কর্মী কমেছে।
এদিকে SSA কর্মীরা জানান, অনেক ক্ষেত্রে তাদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা সফটওয়্যার অ্যাক্সেস ছিল না। তুষারঝড়জনিত কারণে অফিস বন্ধ থাকায় সমস্যার সমাধানও করা যায়নি। নতুন দায়িত্ব নিয়ে কর্মীদের মধ্যে “আতঙ্ক” তৈরি হয়েছে বলেও জানান তারা। যদিও SSA কর্মকর্তারা কর্মীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে না—এই দাবি সত্য নয়।” সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর্মীরা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও ধারাবাহিক প্রযুক্তিগত সহায়তা পাবেন এবং প্রয়োজনে কলগুলো অভিজ্ঞ কর্মীদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা রয়েছে।
তবু বাস্তবে সফটওয়্যার অপরিচিতি ও সহায়তার অভাবে কল সামলাতে দেরি হচ্ছে বলে জানান কর্মীরা। একজন বলেন, “আমরা চলতে চলতেই শিখছি। এখনও অনেক কিছুতেই আমরা হারিয়ে যাচ্ছি।”   এলএবাংলাটাইমস/ওএম