যুক্তরাষ্ট্রের Texas অঙ্গরাজ্য জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম Netflix-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের সম্মতি ছাড়াই তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং আসক্তিকর নকশা ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে আটকে রেখেছে।
Ken Paxton, যিনি টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল, অভিযোগ করেছেন যে নেটফ্লিক্স ব্যবহারকারীদের আচরণ সম্পর্কিত কোটি কোটি তথ্য সংগ্রহ করে তা থেকে আয় করেছে। তাঁর ভাষায়, “আপনি যখন নেটফ্লিক্স দেখেন, তখন নেটফ্লিক্সও আপনাকে পর্যবেক্ষণ করে।”
মামলায় বলা হয়েছে, ব্যবহারকারীরা কোন কনটেন্টে ক্লিক করছেন, কতক্ষণ ধরে দেখছেন, কোন ভিডিওর ওপর বেশি সময় অবস্থান করছেন—এসব তথ্য বিস্তারিতভাবে সংরক্ষণ করেছে নেটফ্লিক্স। পাশাপাশি অটো-প্লে (স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী ভিডিও চালু হওয়া) মতো ফিচার ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের, বিশেষ করে শিশুদের, আরও বেশি সময় স্ক্রিনের সামনে ধরে রাখা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে নেটফ্লিক্স শিশু ও পরিবারের কাছ থেকে সংগৃহীত বিপুল তথ্য বাণিজ্যিক ডেটা ব্রোকারদের সঙ্গে শেয়ার করতে শুরু করে, যা থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিলিয়ন ডলার রাজস্ব অর্জন করেছে।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নেটফ্লিক্স একসময় দাবি করেছিল যে তারা অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মতো ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ বা বিক্রি করে না। কোম্পানির সাবেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা Reed Hastings ২০১৯ ও ২০২০ সালে বলেছিলেন, নেটফ্লিক্স ব্যবহারকারীর তথ্য থেকে আয় করে না। কিন্তু টেক্সাসের অভিযোগ অনুযায়ী, বাস্তবে কোম্পানিটি ঠিক উল্টো কাজ করেছে।
নেটফ্লিক্স অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই মামলার কোনো ভিত্তি নেই এবং এতে ভুল ও বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের দাবি, নেটফ্লিক্স ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তাকে গুরুত্ব দেয় এবং যেসব দেশে তারা পরিচালিত হয়, সেসব দেশের তথ্য সুরক্ষা আইন মেনে চলে।
টেক্সাস কর্তৃপক্ষ আদালতের কাছে নেটফ্লিক্সকে টেক্সাসের বাসিন্দাদের কাছ থেকে সংগৃহীত বিভ্রান্তিকর উপায়ে নেওয়া সব তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের প্রোফাইলে অটো-প্লে ফিচার ডিফল্টভাবে বন্ধ রাখারও দাবি করা হয়েছে।
এই মামলা এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলোর ‘আসক্তিকর নকশা’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রতি Meta এবং YouTube-এর বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি মামলার অগ্রগতি এ ধরনের আরও আইনি পদক্ষেপের পথ খুলে দিতে পারে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম