ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পেনসাকোলা শহরে স্বাধীনতা দিবস (৪ জুলাই) উদযাপনকে ঘিরে শত শত কিশোর-কিশোরী ও তরুণের জমায়েতে গুলির ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত এবং আরও ৬ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত শহরের ডাউনটাউন এলাকায় বিপুলসংখ্যক কিশোর ও তরুণ জড়ো হয়। শুরুতে অনেকেই আতশবাজি ফোটালেও পরে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত ১টার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা গেলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে।
গুলিবিদ্ধ ১৯ বছর বয়সী তরুণকে ঘটনাস্থলেই সিপিআর (হৃদ্যন্ত্র সচল রাখার জরুরি চিকিৎসা) দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
পেনসাকোলা পুলিশের প্রধান এরিক উইনস্ট্রম নিহত তরুণের মায়ের সঙ্গে দেখা করে বলেন, “তিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখেন। আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
আহত ৬ জনের বয়স ১৬ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং সবাই সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করছে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, এটি টার্গেট করে চালানো হামলা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনায় জড়িত একজন বা একাধিক বন্দুকধারীকে খুঁজে বের করতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ।
স্বাধীনতা দিবসের ভিড় সামাল দিতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত প্রায় ৫০ জন পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছিল। তবুও এমন সহিংস ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পুলিশ প্রধান।
তিনি জানান, সারা রাত জুড়ে অনেক কিশোর ও তরুণকে মারামারি, একে অপরের দিকে আতশবাজি ছোড়া এবং আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতে দেখা গেছে। গুলির ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়—এমন কয়েকটি অভিযোগে রাতেই একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষায়, অভিভাবক ছাড়াই বিপুলসংখ্যক কিশোর-কিশোরীর এমন জমায়েতকে ‘টিন টেকওভার’ বলা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিভিন্ন মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অনেক সময় শুরুতে সাধারণ মনে হলেও পরে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।
শুধু পেনসাকোলা নয়, অরল্যান্ডো, ওয়াশিংটন ডিসি ও নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরেও সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ‘টিন টেকওভার’ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। কিছু এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কিশোরদের জন্য কারফিউও জারি করা হয়েছে।
পেনসাকোলা পুলিশের প্রধান অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে—সেদিকে নজর রাখা জরুরি। এতে তারা সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে দূরে থাকতে পারবে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম