মার্কিন সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের মৃত্যুর পর তার শূন্য হওয়া সিনেট আসনে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন তার ছোট বোন ডারলাইন গ্রাহাম নরডোন। সোমবার দক্ষিণ ক্যারোলিনার গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নরডোন বলেন, “এটি আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। লিন্ডসি সবসময় আমার পাশে ছিলেন, এখন তার হয়ে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছি।”
গভর্নর ম্যাকমাস্টার বলেন, “লিন্ডসি সবসময় তার ছোট বোনের যত্ন নিয়েছেন। এখন তার অসমাপ্ত কাজ শেষ করার দায়িত্ব ডারলাইন পালন করবেন।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান দলের শীর্ষ নেতারাও নরডোনকে অস্থায়ী উত্তরসূরি হিসেবে নিয়োগের পক্ষে মত দেন। তারা একে প্রয়াত সিনেটরের প্রতি সম্মান জানানোর একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেন।
গভর্নর জানান, ২০২৭ সালে বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত নরডোন সিনেটরের দায়িত্ব পালন করবেন।
গত শনিবার ৭১ বছর বয়সে লিন্ডসি গ্রাহাম মারা যান। প্রাথমিক মেডিকেল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হৃদ্রোগজনিত জটিলতায় তার মহাধমনীর দেয়াল ছিঁড়ে যাওয়ায় (অর্টিক ডিসেকশন) মৃত্যু হয়েছে।
মৃত্যুর আগে তিনি আসন্ন নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের জন্য রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর দলটির কয়েকজন নেতা ইতোমধ্যে সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
লিন্ডসি গ্রাহাম ও ডারলাইন নরডোন ছোটবেলাতেই বাবা-মাকে হারান। মাত্র ১৫ মাসের ব্যবধানে তাদের দুজনেরই মৃত্যু হয়। তখন গ্রাহামের বয়স ছিল ২২ বছর, আর ডারলাইনের বয়স ১৩।
পরে গ্রাহাম আইন বিষয়ে পড়াশোনা এবং বিমান বাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ছোট বোনের দেখভাল করেন। তিনি আইনিভাবেও ডারলাইনকে দত্তক নেন, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে তার সামরিক সুবিধাগুলো বোন পেতে পারেন।
২০১৫ সালে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নরডোন বলেছিলেন, “লিন্ডসি আমার কাছে একই সঙ্গে ভাই, বাবা ও মায়ের মতো।”
দুই সন্তানের জননী ডারলাইন নরডোন পেশায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানে সহায়তাকারী একজন কর্মী। এর আগে তিনি কখনো কোনো নির্বাচিত সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেননি।
তবে ভাইয়ের পুরো রাজনৈতিক জীবনজুড়েই তিনি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। এমনকি একসময় লিন্ডসি গ্রাহাম মজা করে বলেছিলেন, তিনি যদি কখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন, তাহলে তার বোনই ‘ফার্স্ট লেডি’র দায়িত্ব পালন করবেন।
নরডোন ভবিষ্যতে পূর্ণ ছয় বছরের সিনেট নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে প্রথমবারের মতো মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হন লিন্ডসি গ্রাহাম। পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর মাত্র এক দিন আগে তিনি ইউক্রেন সফরে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এবং মৃত্যুর আগের রাতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম