প্রায় ৩৪ বছর পর প্রথমবারের মতো কোনো ঘূর্ণিঝড় সরাসরি আঘাত হানতে পারে হাওয়াইয়ে। ক্যাটাগরি-১ হারিকেন ‘লালা’ বর্তমানে হাওয়াইয়ের উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। শনিবার ঝড়টির বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৮০ মাইল বা প্রায় ১৩০ কিলোমিটারে পৌঁছায়।
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে হাওয়াইয়ের বিগ আইল্যান্ডে প্রায় ২৫ ইঞ্চি (৬৩ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত এবং ৩ ফুটের মতো জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিগ আইল্যান্ডে হারিকেন সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে মাউই কাউন্টি, ওহু, কাউয়াই ও নিহাউ দ্বীপে জারি করা হয়েছে ট্রপিক্যাল স্টর্ম সতর্কতা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের জীবনহানির ঝুঁকি রয়েছে—এমন বন্যা, ভূমিধস ও প্রবল বাতাসের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।
বিগ আইল্যান্ডের কাছে ঝড়ের চোখ
শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার আপডেটে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (NHC) জানিয়েছে, লালার ঝড়ের দেয়াল বিগ আইল্যান্ডের দক্ষিণ অংশ ঘেঁষে অতিক্রম করছে।
কেন্দ্রটি জানিয়েছে, শনিবার রাতজুড়ে বিগ আইল্যান্ডে প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। এরপর ঝড়টি পশ্চিম দিকে এগিয়ে হাওয়াইয়ের অন্যান্য দ্বীপে প্রভাব ফেলতে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিম দিকে এগোনোর সময় লালা দুর্বল হয়ে ট্রপিক্যাল স্টর্মে পরিণত হতে পারে। তখন ঝড়টির কেন্দ্র হাওয়াইয়ের অন্যান্য দ্বীপের দক্ষিণ দিক দিয়ে অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (NWS) বিগ আইল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জন্য সবচেয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টিতে বড় ধরনের বন্যা হতে পারে এবং অনেক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হতে পারে।
নদী ও ছোট জলধারাগুলো দ্রুত উপচে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
হাওয়াইয়ের গভর্নর জশ গ্রিন বাসিন্দাদের বিপুল পরিমাণ পানির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, পুরো রাজ্যজুড়ে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও বিপজ্জনক ঢেউয়ের ঝুঁকি রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, বাতিল বহু ফ্লাইট
ঝড়ের প্রভাবে হাওয়াইয়ে প্রায় ৩৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে বিমান চলাচলেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে।
বিগ আইল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর এলিসন ওনিযুকা কোনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৪০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। হিলো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাতিল হয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ ফ্লাইট।
হিলোর বাসিন্দা ও আবহাওয়াবিদ জেনিফার মায়ার্স জানিয়েছেন, ভূমিধসের কারণে কিছু সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে এবং গাছ পড়ে বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে গেছে।
বিবিসিকে তিনি বলেন, তাঁর বাসার সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া ওয়াইলুকু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। নদীর পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পলি মিশে হিলো উপসাগরের স্বাভাবিক নীল পানি এখন লালচে হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।
বিগ আইল্যান্ডের প্রতিটি কাউন্টিতে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
১৯৯২ সালের পর সবচেয়ে বড় আশঙ্কা
১৯৯২ সালে শক্তিশালী ক্যাটাগরি-৪ হারিকেন ইনিকি হাওয়াইয়ে আঘাত হেনেছিল। এতে ছয়জনের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তবে বিগ আইল্যান্ডে সর্বশেষ কোনো হারিকেন সরাসরি আঘাত হেনেছিল প্রায় ১৫৫ বছর আগে।
এদিকে আটলান্টিক অঞ্চলে ২০২৬ সালের হারিকেন মৌসুম তুলনামূলক দুর্বল হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA)। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, স্বাভাবিকের চেয়ে কম শক্তিশালী মৌসুম হওয়ার সম্ভাবনা ৫৫ শতাংশ।
অন্যদিকে গত মাসে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা জুলাই মাসের হিসাবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর বিকাশমান পরিস্থিতি এই উষ্ণতার অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস। জুলাই মাসটি বিশ্বব্যাপী রেকর্ডের দ্বিতীয় উষ্ণতম জুলাইয়ের সঙ্গেও যৌথভাবে অবস্থান করেছে। তাপমাত্রা শিল্প-পূর্ব সময়ের গড়ের চেয়ে ১ দশমিক ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে হাওয়াইয়ের বিগ আইল্যান্ডে প্রায় ২৫ ইঞ্চি (৬৩ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত এবং ৩ ফুটের মতো জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিগ আইল্যান্ডে হারিকেন সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে মাউই কাউন্টি, ওহু, কাউয়াই ও নিহাউ দ্বীপে জারি করা হয়েছে ট্রপিক্যাল স্টর্ম সতর্কতা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের জীবনহানির ঝুঁকি রয়েছে—এমন বন্যা, ভূমিধস ও প্রবল বাতাসের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।
বিগ আইল্যান্ডের কাছে ঝড়ের চোখ
শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার আপডেটে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (NHC) জানিয়েছে, লালার ঝড়ের দেয়াল বিগ আইল্যান্ডের দক্ষিণ অংশ ঘেঁষে অতিক্রম করছে।
কেন্দ্রটি জানিয়েছে, শনিবার রাতজুড়ে বিগ আইল্যান্ডে প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। এরপর ঝড়টি পশ্চিম দিকে এগিয়ে হাওয়াইয়ের অন্যান্য দ্বীপে প্রভাব ফেলতে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিম দিকে এগোনোর সময় লালা দুর্বল হয়ে ট্রপিক্যাল স্টর্মে পরিণত হতে পারে। তখন ঝড়টির কেন্দ্র হাওয়াইয়ের অন্যান্য দ্বীপের দক্ষিণ দিক দিয়ে অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (NWS) বিগ আইল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জন্য সবচেয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টিতে বড় ধরনের বন্যা হতে পারে এবং অনেক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হতে পারে।
নদী ও ছোট জলধারাগুলো দ্রুত উপচে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
হাওয়াইয়ের গভর্নর জশ গ্রিন বাসিন্দাদের বিপুল পরিমাণ পানির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, পুরো রাজ্যজুড়ে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও বিপজ্জনক ঢেউয়ের ঝুঁকি রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, বাতিল বহু ফ্লাইট
ঝড়ের প্রভাবে হাওয়াইয়ে প্রায় ৩৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে বিমান চলাচলেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে।
বিগ আইল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর এলিসন ওনিযুকা কোনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৪০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। হিলো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাতিল হয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ ফ্লাইট।
হিলোর বাসিন্দা ও আবহাওয়াবিদ জেনিফার মায়ার্স জানিয়েছেন, ভূমিধসের কারণে কিছু সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে এবং গাছ পড়ে বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে গেছে।
বিবিসিকে তিনি বলেন, তাঁর বাসার সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া ওয়াইলুকু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। নদীর পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পলি মিশে হিলো উপসাগরের স্বাভাবিক নীল পানি এখন লালচে হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।
বিগ আইল্যান্ডের প্রতিটি কাউন্টিতে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
১৯৯২ সালের পর সবচেয়ে বড় আশঙ্কা
১৯৯২ সালে শক্তিশালী ক্যাটাগরি-৪ হারিকেন ইনিকি হাওয়াইয়ে আঘাত হেনেছিল। এতে ছয়জনের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তবে বিগ আইল্যান্ডে সর্বশেষ কোনো হারিকেন সরাসরি আঘাত হেনেছিল প্রায় ১৫৫ বছর আগে।
এদিকে আটলান্টিক অঞ্চলে ২০২৬ সালের হারিকেন মৌসুম তুলনামূলক দুর্বল হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA)। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, স্বাভাবিকের চেয়ে কম শক্তিশালী মৌসুম হওয়ার সম্ভাবনা ৫৫ শতাংশ।
অন্যদিকে গত মাসে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা জুলাই মাসের হিসাবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর বিকাশমান পরিস্থিতি এই উষ্ণতার অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস। জুলাই মাসটি বিশ্বব্যাপী রেকর্ডের দ্বিতীয় উষ্ণতম জুলাইয়ের সঙ্গেও যৌথভাবে অবস্থান করেছে। তাপমাত্রা শিল্প-পূর্ব সময়ের গড়ের চেয়ে ১ দশমিক ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম