যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভিজিটর ভিসায় প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করা বিদেশি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, আশ্রয়ের আবেদন করার উদ্দেশ্যে ভিসা নেওয়াকে প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আর ভিসা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণা প্রমাণিত হলে তা বাতিল করার সুযোগ রয়েছে।
পিগট জানান, কতগুলো ভিসা বাতিল করা হবে, সেই সংখ্যা এখনো পরিবর্তনশীল। ধাপে ধাপে এসব ভিসা বাতিল করা হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্তের আওতায় কয়েক লাখ ভিসা পড়তে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন কারণে বিদেশি নাগরিকদের ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
পিগট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে সরকার স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কোনো অধিকার নয়, এটি একটি সুযোগ।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ যৌথভাবে এমন বিদেশিদের শনাক্ত করছে, যারা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের কথা বলে ভিসা নিয়েছেন, কিন্তু পরে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।
এ ধরনের ভিসা দেওয়া হয় এই শর্তে যে আবেদনকারী নির্ধারিত সময় শেষে নিজ দেশে ফিরে যাবেন। B1 ও B2 নামে পরিচিত ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার আবেদনকারীদেরও যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন না করার বিষয়ে অঙ্গীকার করতে হয়।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা B1 ও B2 ভিসাধারীদের মধ্যে যারা আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয়ের আবেদন করছেন, তাদের ভিসা বাতিল করা হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি B1 ও B2 ভিসা পেয়েছেন ব্রাজিলের নাগরিকরা—সংখ্যাটি ১১ লাখের বেশি। এরপর ছিল চীনের মূল ভূখণ্ড, ভারত ও পাকিস্তান। একই বছরে যুক্তরাজ্য ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নাগরিকদের জন্য ৩২ হাজার ৩০০টির কিছু বেশি এ ধরনের ভিসা দেওয়া হয়।
এর আগে চলতি মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ভিসার শর্ত ভঙ্গ, অপরাধে জড়ানো, মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান, প্রতারণা, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি—এসব কারণে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
নতুন ভিসা বাতিলের উদ্যোগ এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি নিয়ে একের পর এক মামলা চলছে।
গত সপ্তাহে এক মার্কিন বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেন। বিচারকের মতে, ওই নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন।
এর আগে জুন মাসে আরেক মার্কিন বিচারক ৩৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগের বিরুদ্ধেও রায় দেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম