যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব আরও দ্রুত, শক্তিশালী ও ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বিষয়টি ‘দেরি হওয়ার আগেই’ বুঝতে হবে।
রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, “খেলার নিয়ম বদলে গেছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর হামলা চালানো হলে এর জবাব হবে আরও দ্রুত, ভারী ও যন্ত্রণাদায়ক।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর প্রায় এক সপ্তাহের মাথায় এই হুঁশিয়ারি এলো। এর একদিন আগে ওয়াশিংটন জানিয়েছিল, ইরানের হামলার জবাবে তারা দেশটির কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। এর আগে ইরান ওই অঞ্চলের পানিসীমায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা করা একটি মার্কিন রিমোট-নিয়ন্ত্রিত নৌযানে হামলা করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি অস্বীকার করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই খবর “সম্পূর্ণ মিথ্যা”।
ইরানের হুঁশিয়ারির জবাবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ইরান যদি মার্কিন জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস ও ডুবিয়ে দেবে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর গত রোববার যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা শুরু করলে কয়েক মাসের আপেক্ষিক শান্তির অবসান ঘটে।
এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানসহ ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে বলেছেন, নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাত “খুব বেশি দিন” চলবে না। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে দ্রুত সংঘাত শেষ হওয়ার কথা বলে আসছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা আলোচনায় এখন পর্যন্ত স্থায়ী শান্তির কোনো সমাধান আসেনি। নতুন করে কূটনৈতিক সমঝোতারও তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা
বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। জলপথটি ইরানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
তেহরান জানিয়েছে, প্রণালিটির ওপর কোনো না কোনো মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ তারা ধরে রাখতে চায়। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি “খোলা” রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীও প্রণালির দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করছে।
সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুদ্ধের কারণে মার্কিন ভোক্তাদের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসন চাপের মুখে রয়েছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৫ দশমিক ৮৫ ডলারে উঠেছে। এক বছর আগে একই সময়ে এর গড় দাম ছিল ৩ দশমিক ৭১ ডলার।
তবে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছে। আঞ্চলিক পাইপলাইন দিয়েও তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সব মিলিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি তেল সরবরাহ হচ্ছে বলে জানান তিনি।
রোববার তিনি আরও বলেন, শ্রমিক দিবসের পর গ্রীষ্মকালীন জ্বালানির চাহিদা কমতে শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দামও কমে আসতে পারে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম