যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাসের অন্যতম বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনায় নিজের দোষ স্বীকার করেছেন সিঙ্গাপুরের এক যুবক। মঙ্গলবার ২২ বছর বয়সী ম্যালোন লাম বিপুল পরিমাণ বিটকয়েন চুরি ও সেই অর্থ পাচারের জন্য অপরাধী চক্র পরিচালনার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।
মার্কিন বিচার বিভাগের (DOJ) তথ্য অনুযায়ী, লাম তার কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে মিলে প্রায় ২৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের বিটকয়েন চুরি করেন। পরে তারা চুরি করা অর্থ বিভিন্ন উপায়ে পাচার করেন।
চুরি করা অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন লাম ও তার সহযোগীরা। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তারা একটি নাইটক্লাবে একেকবারে ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ করতেন। এছাড়া ১ লাখ থেকে ৩৮ লাখ ডলার মূল্যের একাধিক বিলাসবহুল গাড়িও কিনেছিলেন তারা।
এই মামলায় লামের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে তার সাজা ঘোষণার জন্য এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ করেননি মার্কিন জেলা বিচারক কলিন কোলার-কোটেলি।
মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন পিরো বলেন, সাইবার অপরাধের মাধ্যমে কেউ সাম্রাজ্য গড়ে তুললে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে খুঁজে বের করবে, তার কর্মকাণ্ড বন্ধ করবে এবং জবাবদিহির আওতায় আনবে।
প্রতারণা করে ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের মধ্যে এই অপরাধচক্রের কার্যক্রম শুরু হয় এবং অন্তত ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত তা চলতে থাকে। অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও দেশের সহযোগীদের সঙ্গে লামের পরিচয় হয়।
মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, অ্যান হ্যাথাওয়ে, $$$ এবং কিং গ্রিভি নামেও পরিচিত লাম ছিলেন এই চক্রের মূল হোতা। তিনি ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতেন এবং সহযোগীদের মধ্যে বিভিন্ন দায়িত্ব ভাগ করে দিতেন।
চক্রের সদস্যরা প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে গোপন তথ্য সংগ্রহ করতেন। কখনো কখনো তাদের বাড়িতে ঢুকেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এসব তথ্য ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হতো।
চুরি করা অর্থ দিয়ে শুধু গাড়ি বা নাইটক্লাবেই খরচ করা হয়নি। হের্মেসের বার্কিন ব্যাগ, যার প্রতিটির দাম কয়েক দশ হাজার ডলার, বিলাসবহুল ঘড়ি, দামি পোশাক, লস এঞ্জেলেস, দ্য হ্যাম্পটনস ও মিয়ামিতে ভাড়া করা বিলাসবহুল বাড়ি এবং ব্যক্তিগত বিমানের ভাড়াতেও অর্থ ব্যয় করা হয়।
এমনকি নাইটক্লাবের পার্টিতে ভিড়ের মধ্যে দামি বার্কিন ব্যাগ ছুড়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ।
গ্রেপ্তারের পর ভেঙে পড়ে চক্র
লস এঞ্জেলেস ও মিয়ামির নাইটক্লাবের জগতে লাম তার বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টো অর্থ পাওয়ার পর তার বেপরোয়া খরচও নজরে আসে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এফবিআই লাম ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করলে চক্রটির কার্যক্রম ভেঙে পড়ে।
আদালতে লামের প্রথম হাজিরার সময় ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক অ্যালিসিয়া ভ্যালে তার জীবনযাপনকে ১৯৮৬ সালের সিনেমা Ferris Bueller’s Day Off-এর গল্পের সঙ্গে তুলনা করেন। বিচারকের মতে, বিপুল অর্থ পাওয়ার পর লাম লস এঞ্জেলেসের নাইটক্লাবে যাওয়া এবং ৩০টির বেশি বিলাসবহুল গাড়ি কেনাসহ ব্যাপকভাবে অর্থ ব্যয় করেছিলেন।
এ মামলায় লামের আরেক সহযোগী ইভান ট্যানজিম্যানকে চলতি বছরের এপ্রিলে অর্থ পাচারের দায়ে ৭০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। লাম গ্রেপ্তার হওয়ার পর ট্যানজিম্যান প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টাও করেছিলেন বলে জানিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ।