যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের আর্থিক অবস্থার বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে ২০২৫ সালের সরকারি পরিসংখ্যানে। ইউএস সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর দেশটির পরিবারের মধ্যম আয় বেড়ে ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ১৯৬৭ সালে এই হিসাব শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বোচ্চ মধ্যম পারিবারিক আয়। একই সময়ে সরকারি হিসাবে দারিদ্র্যের হার কমে ১০ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন।
১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ২০২৫ সালের আয়, দারিদ্র্য ও হেলথ ইন্স্যুরেন্সসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করে সেন্সাস ব্যুরো। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৪ সালের তুলনায় মূল্যস্ফীতি সমন্বিত মধ্যম পারিবারিক আয় বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। মহামারির আগের ২০১৯ সালে এই আয় ছিল ৮৫ হাজার ৩২০ ডলার। অর্থাৎ ওই সময়ের তুলনায় প্রকৃত আয় বেড়েছে, যদিও বৃদ্ধির পরিমাণ খুব বেশি নয়।
আয়ের পাশাপাশি দারিদ্র্যের হারও কমেছে। ২০২৫ সালে প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন নাগরিক সরকারি দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিলেন। ২০২৪ সালের তুলনায় দারিদ্র্যের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট। চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য ২০২৫ সালের সরকারি দারিদ্র্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩২ হাজার ৬৪৯ ডলার।
শিশুদের ক্ষেত্রেও দারিদ্র্যের হার কমে ঐতিহাসিকভাবে নিচে নেমেছে। ২০২৫ সালে শিশুদের সরকারি দারিদ্র্যের হার ছিল ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্যের হার কমে ১৩ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়ায়, যা এই জনগোষ্ঠীর জন্য সেন্সাস ব্যুরোর হিসাবে সর্বনিম্ন। তবে আয় বৃদ্ধির সুফল সব পরিবারের মধ্যে সমানভাবে পৌঁছায়নি। আয় বণ্টনের নিচের দিকে থাকা পরিবারগুলোর আয় একই হারে বাড়েনি বলে সেন্সাসের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
ট্যাক্স ও সরকারি সহায়তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে হিসাব করা Supplemental Poverty Measure বা এসপিএমের হার ছিল ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। সরকারি দারিদ্র্যসীমার তুলনায় এটি আরও বিস্তৃত একটি পরিমাপ। এতে কর, সরকারি সহায়তা, কাজের খরচ, আবাসন ব্যয় এবং চিকিৎসা খরচের মতো বিষয়ও হিসাব করা হয়। সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চিকিৎসা ব্যয়ের প্রভাবেই প্রায় ৭৭ লাখ মানুষ এসপিএম অনুযায়ী দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়ার পরিস্থিতির মুখে পড়েন।
নারীদের আয়েও কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। ২০২৫ সালে পূর্ণকালীন ও সারা বছর কাজ করা নারীদের মধ্যম আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে পুরুষদের আয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। ফলে নারী ও পুরুষের আয়ের ব্যবধান কিছুটা কমেছে। তারপরও নারীরা পুরুষদের প্রতি এক ডলারের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৮৪ সেন্ট আয় করেছেন।
স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রে অবশ্য বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। ২০২৫ সালে প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ মানুষ, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ৭ দশমিক ৯ শতাংশ, পুরো বছর কোনো হেলথ ইন্স্যুরেন্সের আওতায় ছিলেন না। সেন্সাস ব্যুরো জানিয়েছে, ২০২৪ সালের তুলনায় এই হার পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়নি।
তবে পরিবারের মধ্যম আয় রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছালেও এর অর্থ এই নয় যে সব পরিবারের আর্থিক চাপ একইভাবে কমেছে। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকৃত মধ্যম পারিবারিক আয় বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ। অথচ ২০১৩ থেকে ২০১৯ সালের ছয় বছরে একই আয় বেড়েছিল প্রায় ১৯ শতাংশ। অর্থাৎ সাম্প্রতিক সময়ে আয় বৃদ্ধির গতি আগের তুলনায় ধীর ছিল।
সামগ্রিকভাবে ২০২৫ সালের তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে একই সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরছে। একদিকে পরিবারের মধ্যম আয় রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং সরকারি দারিদ্র্যের হার নেমেছে সর্বনিম্নে। অন্যদিকে আয় বৃদ্ধির সুফল সব শ্রেণির পরিবারের মধ্যে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। তাই মার্কিন পরিবারের আর্থিক অবস্থার পূর্ণ চিত্র বুঝতে আয় ও দারিদ্র্যের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়, আয় বণ্টন এবং চিকিৎসা খরচের মতো বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।